আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট এ আপনাকে স্বাগতম

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি
সব প্রশ্ন অর্থনৈতিক আকিকা আকীদা নামায আখিরাত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আদব আখলাক ইতিহাস ঈদ-কুরবানী ঈমান তাওহীদ রিসালাত জানাযা-কবর যিয়ারত জান্নাত-জাহান্নাম জিহাদ তাফসীর ত্বহারাত পবিত্রতা সফর জুমআ তারাবীহ নফল সালাত বিতর পোশাক-পরিচ্ছেদ ফারায়েজ ফিতরা বিচার-আচার বিবাহ-তালাক মানত যাকাত যিকির/দুআ/আমল রোজা লেনদেন শিরক-বিদআত সাধারণ দান-সদকাহ সিরাত/সামায়েল সুন্নাত হজ্জ হাদীস ও উসূলুল হাদীস হালাল হারাম বিবিধ কুরআন হাদীস বাতিল ফিরকা দাওয়াত ও তাবলিগ জাদু-টোনা মসজিদ মুসাফির রমযান সুদ-ঘুষ হালাল ইতিকাফ কাজা/কাফফারা গুনাহ জায়েয তায়াম্মুম ব্যক্তিগত ও তাবলিগ সদকাহ বিদআত কসর তাওবা জিন-পরি ব্যবসা-বাণিজ্য বই অসিয়ত
প্রশ্নঃ 2176
আসসালামু আলাইকুম। আমি বর্তমানে বুয়েটে পড়ছি। আমার খুব ইচ্ছা, যাতে আমি কুরয়ানের অর্থ বুঝতে পারি। আমার এমন একটি বই য়ের পরামর্শ দিলে খুবই খুশি হতাম যার মাধ্যমে আমি সহজে কুরয়ানের বাংলা অনুবাদ করতে পারি। ধন্যবাদ।
24 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না,ভাই কোন বই দ্বারা এটা সম্ভব নয়। আপনাকে একজন অভিজ্ঞ শিক্ষকের তত্বাকধানে আরবী ভাষা শিখতে হবে কুরআন বুঝার জন্য। তিনি যে বই নির্বাচন করেন সেই বইয়ের মাধ্যমে আপনি আরবী ভাষা শিখে কুরআন বুঝতে পারবেন।

প্রশ্নঃ 2173
আসসাল্মু আলাইকুম, জনাব আপনাদের ৫৪৯ নং প্রশ্নের উত্তরে হযরত আয়েশা রা. বলেন, مَنْ حَدَّثَكَ أَنَّ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم رَأَى رَبَّهُ فَقَدْ كَذَبَ وَهْوَ يَقُولُ {لاَ تُدْرِكُهُ الأَبْصَارُ} অর্থ: যে বলবে যে, মুহাম্মাদ সা. তার রবকে দেখেছে সে মিথ্যা বলবে। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, চোখসমূহ তাকে দেখতে পাবে না। যেই হাদিস টির নং উল্লেখ করেছেন সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৩৮০। এটা কোন প্রকাশনীর? আমি যাচাই করতে পারছি না। ধন্যবাদ।
21 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এটা মাকতাবাতুশ শামেলার ফাতহুল বারীর নাম্বার অনুযায়ী। যে কোন প্রকাশনীর ফাতহুল বারীতে মিলাতে পারবেন। কিতাবুত তাওহীদের এর ৪নং বাব। আশা করি পেয়ে যাবেন।

প্রশ্নঃ 2172
আসসালামুয়ালাইকুম! আশা করি ভাল আছেন। আমি একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার। বর্তমানে বিভিন্ন লোগো তে প্রানির ছবি ব্যবহার করা হয়। আবার কোথাও বৃত্ত দিয়ে মানুষের মুখ বোঝানো হয়। কোথাও সরাসরি প্রানির ছবি না থাকলেও বিভিন্ন আকার বা ইঙ্গিতে এরকম বোঝানো হয়। এরকম কি জায়েজ?
21 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, এগুলো জায়েজ নয়। আপনি একটি পরিচ্ছন্ন-হালাল কর্মের সন্ধান করুন। আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ তায়ালা আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমান, সম্মানজনক হালাল রিজিকের ব্যবস্থা করে দিন।

প্রশ্নঃ 2171
আস্ সালামু আলাইকুম, ভাই আমি ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর সাহেবের লিখিত সবগুলো বইয়ের নাম এবং মূল্য সহ একটি লিস্ট চাই। ওনার লিখিত সব বইগুলো আমার পাঠাগারে রাখতে চাই। জাযাকাল্লাহ!
21 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই বিষয়ে জানতে এই নাম্বারে যোগাযোগ করুন: 01730 74 70 01

প্রশ্নঃ 2170
স্ত্রীকে এক তালাক দিলে প্রথম তৌহুরের মধ্যে ফিরিয়ে নিলে বিবাহ করা লাগে না, জানার বিষয় হল স্ত্রী ঔষধ সেবনের মাধ্যমে তৌহুরের মেয়াদ বাড়াতে পার বে কিনা?যদডি বাড়ায় তবে তার হুকুম কি?
21 Jan 2026

ওষুধ সেবন কর তহুরের মেয়াদ বাড়ালে কোন সমস্যা নেই। এই সময়ে ভিতর ফিরিয়ে নিলে বিবাহ করা লাগবে ন। তবে তালাকটি হতে হবে ফিরিয়ে নেয়া যায় এমন তালাক।

প্রশ্নঃ 2169
bidati alem er pichone ki namaz pora jabe?
21 Jan 2026

জামাত ত্যাগ করা যাবে না। কোন ভাল ইমাম না থাকলে বিদাতীর পিছনেই নামায পড়তে হবে।

প্রশ্নঃ 2168
আসসালামু আলাইকুম, ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার এর বই এ হাদিস গুলর যেই রেফারেন্স নং থাকে সেগুলো কোন প্রকাশনীর,অথবা কোথা থেকে আনা হয়েছে? যেমনঃ- স্যার এর রাহে বেলায়েত বইয়ে ৫৭৫ পৃষ্ঠার একটা হাদিস – আয়েশা (রাঃ) বলেন কিছু মানুষ রাসুলুল্লাহ (সঃ) কে গণক – পুরহিতদের বিষয়ে প্রশ্ন করেন । তখন তিনি বলেন, এরা কিছুই নয় । তারা বলেঃ হে আল্লাহর রাসুল তারা তো কখনও কখনও এমন সব কথা বলে যা সত্য বলে প্রমানিত হয় । তখন রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন – জিন ( ফেরেশতাগনের কথাবার্তা থেকে ) একটি সত্য চুরি করে শ্রবণ করে, এরপর সে মুরগীর মত শব্দ করে তা তাঁর ওলির কানের মধ্যে ঢেলে দেয়। তখন জিনের ওলিগন (যাদুকর ) এর সাথে শত মিথ্যা মিশ্রিত করে। বুখারী ( ৭৯- কিতাবুত তিব, ৪৫- বাবুল কাহানাহ ) ৫/২১৭৩), মুসলিম ( ৩৯- কিতাবুস সালাম, ৩৫- তাহ্রীমিল কাহানাহ) ৪/১৭৫০) এই ২১৭৩ ও ১৭৫০ ইসলামিক ফাউনডেশন এর ২১৭৩ ও ১৭৫০ অথবা তাওহীদ পাবলিকেশন এর ২১৭৩ ও ১৭৫০ এর কোনোটার সাথে মিল পাচ্ছি না। এবং কোথায় মিল পাব? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো। আল্লাহ আপনাদের সঠিক উত্তর দেয়ার তৌফিক দান করুক।
21 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার রহ. এর বই এ হাদিস গুলর যেই রেফারেন্স নং থাকে সেগুলো কোন প্রকাশনীর তা বইয়ের শেষে দেয়া আছে। আপনি সেখান থেকে দেখে নেবেন। দ্বিতীয়ত যখন অধ্যায় ও পরিচ্ছেদের কথা উল্লেখ থাকে তখন তো যে কোন লাইব্রেরীর কিতাবে খুঁজে পাওয়া যাবে। যেমন আপনি যেটার কথা উল্লেখ করেছেন।৭৯নং অধায়, যার শিরোনাম কিতাবুত তিব এবং ৪৫ ন্ং পরিচ্ছেদ, যার শিরোনাম, বাবুল কাহানাহ। এভাবে খুঁজলে তো না পাওয়ার কথা নয়। তাছাড়া রাহে বেলায়াতে ভারতীয় নুসখার রেফারেন্সও দেয়া আছে। এটা তো আমাদের সকল মাদ্রাসায় পড়ানো হয়। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 2167
আস-সালামু আলাইকুম, ১। কোন কম্পানিতে ইন্টারভিউ দিতে গেলে পূর্বের কোম্পানির বেতন কত ছিল যানতে চাই, আমি যদি মিথ্যা বলি আমার ওই কোম্পানির বেতন কি হারাম হবে, কারণ আমার পূর্বের কোম্পানির বেতন কম আর যদি সেটা বলি তারা ওর উপর নির্ভর করে বেতন ঠিক করে। ২। কোন বাবা জীবিত থাকাকালিন যদি তার সন্তান মারা যায় মৃতের বাবার সম্পদের অংশীদার কি মৃতের সন্তান পেতে পারে?
21 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

১। বেতন হারাম হবে না, তবে মিথ্যা বলা হারাম।

২। না, পাবে না। তবে দাদার নাতির জন্য ওসিয়ত করে যাওয়া উচিত যাতে অন্যরা তাকে বঞ্চিত না করে।

প্রশ্নঃ 2166
হুজুর, আচ্ছালামু আচ্ছালামু আলাইকুম ওৱা রা্হমাতুল্লাহি ওৱা বারাক্বাতুহু। আপনাদের সঙ্গে যোগযযোগ করতে পেরে আমি বড়ই আনন্দিত। হুজুর, আমি ইছলামিক জ্ঞানের দিক দিয়ে শূন্যের কোঠায়। দারি সম্পর্কে আমি দুজন আলিমের কাছে দুরকম শুনছি। একজন বলছে ছুন্নত আর একজন বলছে ওৱাজিব। কোনটা সঠিক? মে্হেরবানি করে জানালে খুবি খুশী হব। দুজন আলিমই কিন্তু খুবি নির্ভরযোগ্য বি্শ্বাসী। আমি সমালোচনা করচিনা।
21 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দাঁড়ি রাসূলুল্লাহ সা. নিজে রেখেছেন, রাখতে আদশে দিয়েছেন, কোন বধর্মীও যদি দাঁড়ি না রাখতেন তাহলে তিনি তার দিকে তাকাতেন না। এই বিষয়ে হাদীসগুলো আপরি শায়েখ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. লিখিত পোশাক,পর্দা ও দেহসজ্জা বইটিতে বিস্তারিত পাবেন। সুতরাং দাঁড়ি রাখা ইসলামে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যিনি সুন্নত বলেছেন, তার কথার অর্থ হলো সাধারণ সুন্নত নয় বরং খুবই গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। আর যিনি ওয়াজিব বলেছেন, তার ওয়াজিব বলার কারণ হলো রাসূলুল্লাহ সা. নিজে বহু হাদীসে দাড়িঁ রাখার আদেশ করেছেন। নিচের হাদীসটি দেখুন عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ وَفِّرُوا اللِّحَى وَأَحْفُوا الشَّوَارِبَ ، وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا حَجَّ ، أَوِ اعْتَمَرَ قَبَضَ عَلَى لِحْيَتِهِ فَمَا فَضَلَ أَخَذَهُ.অর্থ: নাফে ইবনে উমার রা. থেকে তিনি রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধাচারণ করো, তোমরা দাঁড়ি ছেড়ে দাও এবং গোঁফ কে কটে ফেলো। (নাফে বলেন,) আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমার রা. যখন হজ্ব কিংবা উমরা করতে যেতেন তখন একমুষ্টির উপরের দাঁড়ি কেটে ফেলতেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৮৯২। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। আরো বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া 1004 নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 2165
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ্ । আমি ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ্ জাহাঙ্গীরের গুরুত্বপূর্ণ সব লেকচার একসাথে কিভাবে পেতে পারি? দয়া করে পরামর্শ দেওয়ার অনুরোধ করছি
21 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি প্রফেসর ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহ. এর ইউটিউব চ্যানেলে পাবেন ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্নঃ 2164
হুজুর সালাম রইল। বিতের সালাত কি ভাবে পরব জদি একটু বুজিয়ে বলতেন তাহলে আমরা অনেকে উপকিত হইতাম
21 Jan 2026

আমাদের সমাজে যেভাবে বিতর পড়া হয় সেভাবে পড়বেন। বিতর পড়ার আরো কয়েকটি পদ্ধতি আছে। তিনটি পদ্ধতি শায়েখ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহি. রাহে বেলায়াত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। প্রয়োজনে সেখানে দেখুন।

প্রশ্নঃ 2163
১. সিরাতে রাসুল, ইবনে ইসহাক, অ্যালফ্রেড গিওম এর ইংরেজি সংস্করণ এর ভাষান্তর করেছেন শহিদ আখন্দ এই বইটা কি ভালো হবে এতে কি রেফারেন্স সহ আছে? বা কোন ত্রুটি আছে কি না? অথবা আপনাদের মতে সিরাতে রাসুল এর কোন বই টা ভালো একটু সাজেস্ট করলে ভালো হয়। ২. জানাজার নামাজে কি সুরা ফাতিহা পড়া লাগবে? কুরআন ও হাদিসের রেফারেন্স সহ জানালে উপকৃত হবো? আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিবেন ইনশাল্লাহ।
21 Jan 2026

আপনি যে বইটির কথা উল্লেখ করেছেন সে সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। এই বিষয়ে আপনি আর-রাহীকুল মাখতুম নামক বইটি পড়তে পারেন। ২। জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পড়ার বিষয়ে শায়েখ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রাহে বেলায়াত বইয়ে লিখেছেন, এ সময়ে সূরা ফাতিহা পড়ার বিষয়ে সাহাবীগণ মতভেদ করেছেন। তাবিয়ী তালহা ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আউফ বলেন: صَلَّيْتُ خَلْفَ ابْنِ عَبَّاسٍ عَلَى جَنَازَةٍ فَقَرَأَ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ (وَجَهَرَ) … (فَسَأَلْتُهُ) قَالَ لِيَعْلَمُوا أَنَّهَا سُنَّةٌ (إِنَّهُ مِنْ السُّنَّةِ أَوْ مِنْ تَمَامِ السُّنَّةِ) আমি ইবনু আব্বাস (রা)-এর পিছনে জানাযার সালাত আদায় করি। তিনি সূরা ফাতিহা পাঠ করেন (সশব্দে) … আমি তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলে: যেন তারা জানে যে, এটি সুন্নাত (এটি সুন্নাতের অংশ বা সুন্নাতের পূর্ণতার অংশ)। অন্য হাদীসে আবূ উমামা (রা) বলেন: السُّنَّةُ فِي الصَّلاةِ عَلَى الْجَنَازَةِ أَنْ يَقْرَأَ فِي التَّكْبِيرَةِ الأُولَى بِأُمِّ الْقُرْآنِ مُخَافَتَةً ثُمَّ يُكَبِّرَ ثَلاثًا وَالتَّسْلِيمُ عِنْدَ الآخِرَةِ সালাতুল জানাযায় সুন্নাত নিয়ম প্রথম তাকবীরের পর সূরা ফাতিহা চুপে চুপে পাঠ করা, এরপর তিনটি তাকবীর বলা এবং শেষ তাকবীরের সময় সালাম বলা। হাদীসটি সহীহ।অন্য হাদীসে তাবিয় নাফি বলেন: إِنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ y كَانَ لاَ يَقْرَأُ فِي الصَّلاَةِ عَلَى الْجَنَازَةِ আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রা) সালাতুল জানাযায় কুরআনের কিছুই পাঠ করতেন না। হাদীসটি সহীহ। অন্য সহীহ হাদীসে আবূ সাঈদ মাকবুরী বলেন, আমি আবূ হুরাইরা (রা)-কে প্রশ্ন করলাম, সালাতুল জানাযা কিভাবে আদায় করব। তিনি বলেন: فَإِذَا وُضِعَتْ كَبَّرْتَ فَحَمِدْتَ اللهَ وَصَلَّيْتَ عَلَى نَبِيِّهِ ثُمَّ قُلْتَ: اللّهُمَّ… যখন মৃতদেহ রাখা হবে তখন তাকবীর বলবে, অতপর আল্লাহর হামদ- প্রশংসা করবে, নবী সা.-এর উপর সালাদ পড়বে, অতঃপর দুআ করবে…। সাহাবীগণের মতভেদের কারণে ফকীহগণও মতভেদ করেছেন। অধিকাংশ ফকীহ সালাতুল জানাযায় সূরা ফাতিহা পাঠ আবশ্যক বলেছেন। হানাফী ফকীহগণের মতে প্রথম তাকবীরের পর আল্লাহর গুণবর্ণনা বা সানা পাঠ করতে হবে। তবে হামদ-সানা বা দুআর উদ্দেশ্যে সূরা ফাতিহা পাঠ করা যাবে। মোল্লা আলী কারী, শুরনুবলালী ও অন্যান্য হানাফী ফকীহ এ সময়ে সূরা ফাতিহা পাঠ করা মুস্তাহাব বলেছেন।এভাবে আমরা দেখছি যে, হাদীস ও ফিকহের আলোকে সালাতুল জানাযার প্রথম তাকবীরের পর সূরা ফাতিহা পাঠ করাই উত্তম। রেফারেন্সসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন, রাহে বেলায়াত বইটি।

প্রশ্নঃ 2162
সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যা গ্রন্থ ফাতহুল বারী কি বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে? এর কোন ডাউনলোড লিংক আছে কি?
21 Jan 2026

আমাদের জানা নেই। অনুবাদ না হওয়ারই কথা। আর এটার অনুবাদ পড়েও তেমন কোন উপকার হবে বলে মনেও হয় না।

প্রশ্নঃ 2161
মুসলিম হবার জন্য কি এটা জরুরি যে আল্লাহ কথায় আসে। না শুধু আল্লাহ একজন আসেন এটাই যথেষ্ট?
21 Jan 2026

অন্যান্য সকল জরুরী বিষয়ের সাথে আল্লাহ আছেন এতটুকু বিশ্বাসই মুসলিম হওয়ার জন্য যথেষ্ট।কোথায় আছে এটা জরুরী নয়। তবে এই বিষয়টি সম্পর্কেও সঠিক ধারণা থাকা উচিত।

প্রশ্নঃ 2160
আপনার উপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক। আমার বয়স 21। আমি একটি কম্পিউটার এর দোকানে কাজ করি। ইসলামের বিধিবিধান মেনে চলার অপ্রান চেষ্টা করি। এখন পর্যন্ত আমি আমার বাবা মায়ের মধ্যেই খাওয়া দাওয়া করি। কিন্তু আমার পিতা মাতা কোন এক মাধ্যমে হারাম উপার্জন করে ( এনজিওর মাধ্যমে সুদে টাকা নেয়) কিন্তু কথা হলো এতে কি আমার ইবাদত কবুল না হওয়ার কোন কারণ আছে? আমি অনেক বুঝিয়েছি কাজ হয়নি । এমনকি তারা নামাজও আদায় করে না। যার কারণে আমি খুব পেরেশানিতে আছি। এই মুহুর্তে আমার কি করণীয় আছে একটু জানাবেন।
21 Jan 2026

আপনি ইসলাম অনুযায়ী চলুন। আর তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকুন, এটাই আপনার কাজ। তাদের সাথেই খাওয়া দাওয়া করুন। তবে আপনি টাকা দিয়ে সংসারের খরচে শরীক থাকবেন । আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাকে এই সমস্যা থেকে মুক্ত করেন।

প্রশ্নঃ 2159
আসসালামু আলাইমকুম, বেয়াদবি মাফ করবেন কিছু মনে করবেন না, নিজের সন্তুষ্টির জন্য একটা প্রশ্ন করছি, আমি একেবারেই নতুন আপনাদের ওয়েব সাইট এ। আমাদের প্রশ্নগুলোর উত্তর যিনি দিচ্ছেন তাঁর সম্পর্কে একটু জানতে চাচ্ছিলাম, তাঁর নাম এবং শিক্ষা সম্পর্কে, অর্থাৎ তিনি কোথাথেকে এবং কোন বিষয়ে কতটুকু পড়াশোনা করেছেন। জানি না প্রশ্ন টা করা ঠিক হচ্ছে কি না? আমি আবার ও বলছি কোন প্রকার বেয়াদবি নিবেন না। বেয়াদবি হলেও একজন মুসলমান হিসাবে মাফ করে দিবেন। ধন্যবাদ আল্লাহ্ আপনাদের সবাই কে কবুল করুন, আমীন।
21 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখার জন্য একজনকে দায়িত্ব দেয়া আছে। তবে প্রয়োজন হলে তিনি অন্যদের সাহায্য নিয়ে থাকেন। এর চেয়ে বেশী এখানে লিখতে চাচ্ছি না। প্রয়োজনে 01734717299

প্রশ্নঃ 2158
হুজুর আস্ সালামুআলাইকুম, আমার প্রশ্ন হচ্ছেঃ- (1) সাদকা কি? কিভাবে আমরা সদকা আদায় করবো? কি কি জিনিস দিয়ে সাদকা আদায় করা যায়? এবং বর্তমানে আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সর্বনিম্ন কত টাকা দান করলে তা সাদকা এর ভিতর পড়ে? আমার আম্মা বেশ কিছুদিন হলো ইন্তেকাল করেছে আমি তার জন্য কিছু সাদকা করতে চাই যেন আমার আম্মা তার কবরে এই সাদকার পূর্ণাঙ্গ সওয়াব টুকু পায়। বিস্তারিত জানালে বড়ই উপকৃত হতাশ। ধন্যবাদ।
21 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কৃত দানকে সদকা বলা হয়। এর সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ কোন পরিমাণ নেই। আপনি যাই দান করেন তা সদকা হিসেবে গণ্য। আপনি চেষ্টা করবেন আপনার মায়ের জন্য বেশী পরিমানে দান করা। সদকা আপনি গরীব মানুষকে দিতে পারেন। এছাড়া বিভিন্ন মাদ্রাসা, মসজিদ ব জনকল্যানমূলক কাজে দান-সদকা করতে পারেন।সদকা শব্দটিকে কখনো কখনো যাকাত অর্থে ব্যবহৃত হয়। সেক্ষেত্রে যাকাতের হুকুম প্রযোয্য।

প্রশ্নঃ 2157
আসসালামুআলাইকুম, কারো স্ত্রী যদি বোরকা পরতে অনিহা প্রকাশ করেন, বেপর্দা চলতে চায়, কি করনীয়। ধন্যবাদ।
21 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। পর্দা করতে বাধ্য করতে হবে। না করলে পরিবার ছাড়তে হবে। এক্ষেত্রে উক্ত লোকটি একটি কৌশলের আশ্রয় নিতে পারে। সে স্ত্রীকে বলবে পর্দা না করলে আমি আরেকটা বিয়ে করে তার সাথে থাকবো, তোমার সাথে থাকবো না। এমন করলে দেখবেন ঠিকই পর্দা করবে।

প্রশ্নঃ 2156
আসসালামু আলাইকুম, আমি গরুর ব্যবসা করতে চাই- কিন্তু ধরনটা হলো সরকারের চোখ ফাকি দিয়ে এক এলাকার গরু অন্য এলঅকায় নিতে হবে – এক্ষেত্রে ধরা পড়লে জেল হবে এবং শাস্তিও হবে– ইসলামী মতে ঐ ব্যবসা করাটা কি হালাল হবে?
21 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, এই ভাবে ব্যবসা করা জায়েজ হবে না। আপনাকে ব্যবসা করতে হলে দেশীয় আইন মেনেই ব্যবসা করতে হবে।

প্রশ্নঃ 2155
আস সুন্নাহ ট্রাস্ট এর কি কোন বিকাশ নাম্বার আছে যেখানে টাকা পাঠন যাবে?
21 Jan 2026

এই বিষয়ে আপনি আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের সেক্রেটারী সাহেবের সাথে কথা বলুন। নাম্বার 01718136962

প্রশ্নঃ 2154
আপনি এক ভাইয়ের প্রশ্নের উত্তরে নিম্নলিখিত ভাবে বলিয়াছেন যে- বিতর সুন্নাত কি ওয়াজিব সে বিষয়ে নিচের হাদীসটি দেখুনعَنْ أَبِى أَيُّوبَ الأَنْصَارِىِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم-الْوِتْرُ حَقٌّ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ فَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُوتِرَ بِخَمْسٍ فَلْيَفْعَلْ وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُوتِرَ بِثَلاَثٍ فَلْيَفْعَلْ وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُوتِرَ بِوَاحِدَةٍ فَلْيَفْঅর্থ: আবু আয়্যুব আনসারী রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, বিতর প্রতিটি মুসলিমের উপর আবশ্যক সুতরাং যে ৫ রাকআত আদায় করতে চায়সে তাই করবে, যে তিন রাকআত আদায় করতে চায়যে তাই করবে এবং যে এক রাকআত বিতর আদায় করতে চায় সে তা্ করেবে। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪২৪; সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ১৭১১। শায়খ শুয়াইব আরনাউত রহ.এবং শায়খ আলবানীর রহ.সহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণহাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, الْوِتْرُ حَقٌّ فَمَنْ لَمْ يُوتِرْ فَلَيْسَ مِنَّا الْوِتْرُ حَقٌّ فَمَنْ لَمْ يُوتِرْ فَلَيْسَ مِنَّا الْوِتْرُ حَقٌّ فَمَنْ لَمْ يُوتِرْ فَلَيْسَ مِنَّا বিতর আবশ্যক, যে বিতর পড়বে না সে আমাদের অন্তর্ভক্ত না, বিতর আবশ্যক, যে বিতর পড়বে না সে আমাদের অন্তর্ভক্ত না, বিতর আবশ্যক, যে বিতর পড়বে না সে আমাদের অন্তর্ভক্ত না। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪২১। শায়খ শুয়াইব আরনাউত রহ. হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। হাদীসের ভিত্তিতে ওয়াজিব বলেই মনে হয়। কিন্তু সহীহ আত্-তিরমিযী-প্রথম খন্ড, পর্ব-3 (আবওয়াবুল বিতর- বিতর নামাজ) এ উল্লেখিত অনুচ্ছেদ-2 এর 453 ও 454 তে স্পষ্ট করিয়া উল্লেখ করা হইয়াছে যে, বিতরের নামাজ ফরয নামাজের মত জরুরী নামাজ নয়। বরং এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিষ্ঠিত সুন্নাত নামাজ। -সহীহ। সহীহুত তারগীব-(590) এ সম্পর্কে আপনার মতামত বা বক্তব্য জানতে চাই এবং দয়া করিয়া সবিস্তারে ও রেফারেন্স সহ ব্যাখ্যা করিবেন।
21 Jan 2026

আপনি লিখেছেন যে, স্পষ্ট করিয়া উল্লেখ করা হইয়াছে যে, বিতরের নামাজ ফরয নামাজের মত জরুরী নামাজ নয়। বরং এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিষ্ঠিত সুন্নাত নামাজ। । কে এই কথাটি উল্লেখ করেছে? তার পরিচয় স্পষ্ট করে বলুন।দ্বিতীয়ত, বিতরের নামাজ ফরয নামাজের মত জরুরী নামাজ নয়। এই কথায় তো আমাদের কথা। প্রশ্ন হলো, বিতর সাধারণ সুন্নাতের মত নাকি তার গুরুত্ব বেশী যাকে অনেকে ওয়াজিব বলে। আমরা হাদীস উল্লেখ করে দেখিয়েছি এই নামাযের গুরুত্ব সাধারণ সুন্নাতের চেয়ে বেশী। অনেকে সুন্নাত বলে, এটা ঠিক আছে তবে আমরা ওয়াজিব বলে এটা বুঝাতে চেয়েছি যে, গুরুত্বের দিক দিয়ে বিতর অন্যান্য সুন্নাত নামায থেকে অনেক উপরে।হাদীস থাকলে আর বিস্তারিত রেফারেন্স লাগে না। হাদীস দুটি আবার পড়ুন আর আপনিই সিদ্ধান্ত নিন যে, এটা কোন পর্যায়ের সুন্নাত? আশা করি বুঝতে পেরেছেন। প্রয়োজনে 01734717299

প্রশ্নঃ 2153
Procholito poddotite Namaz aday kora shothik kina bistarito janaben please.
21 Jan 2026

প্রচলিত পদ্ধতি বলতে কী বুঝাচ্ছেন স্পষ্ট করে লিখলে ভাল হয়। আমাদের দেশে সাধারণত যে পদ্ধতিতে নামায পড়া হয় তা সহীহ সুন্নাহ সম্মত।

প্রশ্নঃ 2152
আস্ সালামু আলায়কুম– যদি পেশাবের সাথে বীর্য নির্গত হয় তাহলে কি গোসল ফরজ হবে?
21 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, গোসল ফরজ হবে।

প্রশ্নঃ 2151
আস্ সালামু আলায়কুম– ভাই আমি কাউকে না জানিয়ে উকিলের মাধ্যমে বিয়ে করেছিলাম। আমার পরিবার ও মেয়ের পরিবারের কেউ জানতোনা। একজন মুফতী বলেছিল যে বিয়ে হবে কিন্তু বিয়ের পরে থেকেই সংসারে ঝগড়া শুরু হয় — সংসারে কোন বরকত ছিলনা। এক পর্যkায়ে একদিন ফোনে খুব ঝগড়া বেধে যায় এবং আমার মূখ থেকে বের হয় — এক তালাক- দুই তালাক- তিন তালাক— এমন অবস্থায় কী করণীয়? আমি এবং ঐ মেয়েটা এখন খুব অনুতপ্ত। অনেক আলেম বলেছে যে-বিয়েও হয়েছে তালাকও হয়েছে। এই বিষয়টা একটু খোলাশা করেন। মেয়েটার মানষিক অবস্থা ভালনা। আমিও অনুতপ্ত, দয়া করে একটা পরামর্শ দেন।নতুন করে সবার সামনে আবার বিয়ে করা যাবে কিনা? সমাধান হবে কি না?
21 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালমা। আপনি পরিবারকে না জানালেও বিয়ে বৈধ হয়েছিল। তিন তালাক দেয়ার পর সে চিরদিনের জন্য আপনার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। আপনারা এখন স্বামী-স্ত্রী নন। অবিলম্বে আপনাদের পৃথক হতে হবে। মানুষ মারা গেলে যেভাবে চিরদিনির জন্য পৃথক হয়ে যায় এক্ষেত্রেও তাই। এখন আপনদের একত্রিত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। নতুন করে বিয়ে করলেও হবে না।

প্রশ্নঃ 2150
আসসালামু আলাইকুম, আমার যেকোনো বিষয়ে সন্দেহ হয়, আমার জন্য কোনটা কল্যাণকর হবে আমি বুঝতে পারি না, সিদ্ধান্তও নিতে পারি না। কারন, আমার সব সময়ই ভয় হয় যে,আমার সাথে সব বিষয়েই খারাপ হবে। অনেকে আমাকে এস্তেখারা পড়তে বলছিল, আমি এস্তেখারা নামাজ পড়েছি কিন্তু তা ও আমি বুঝতে পারি না। এখন আমার কি করা উচিৎ?
21 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনাকে চিন্তা বাদ দিতে হবে। স্বাভাবিকভাবে চলবেন। কোন বিষয় সামনে আসলে বড়দের সাথে পরামর্শ করবেন। প্রয়োজনে ইস্তেখারা করবেন, ইস্তেখারা অর্থ কিছু বুঝা নয়, কাজটি আপনার জন্য কল্যানকর না হলে আল্লাহ আপনাকে ঐ কাজ থেকে বিরত রাখবেন। সর্বাবস্থায় আল্লাহর কাছে দুআ করবেন।

প্রশ্নঃ 2149
আচ্ছালামু আলাইকুম ওৱা রাহমাতুল্লাহি ওৱা বারাক্বাতুহু আমি আসসুন্নাহকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। আমি ২/১১/২০১৭ তারিখে একটি প্র্রশ্ন করেছিলাম, তার উত্তর পেলাম। উত্তরটি পেয়ে আমি অত্যন্ত খুশী হয়েছি। খন্দকার ছার মারা গিয়েছে তা আমি প্রশ্ন করার আগে জানিনি। আপনাদের ওৱেভছাইটটি ঘাটাঘাটি করতে করতে ছারের সম্পর্কে এই মর্মান্তিক খবরটি পেয়েছি। ইন্নালিল্লাহি ওৱা ইন্না লিল্লাহি রাজিউন। আমি আজ এক মাস ধরে ছারের বয়ান ইউটিউবে শুনে আসছি। ছারের প্রত্যেকটা বয়ান আমার খুব ভাল লাগে। আমি ছারকে আমার জীৱনকালে কখনো ভুলতে পারবনা। কারণ উনার রেখে যাওৱা ওৱেভছাইটটির মাধ্যমেই আমি জ্ঞান অর্জন করতে পারব। আমার অনেক দিনের অভাব ছারের প্রচেষ্টার মাধ্যমে পূরণ হয়েছে।
21 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি খুশ হয়েছেন যেনে আমরা আল্লাহর শুকরি আদায় করছি। দুআ করবেন যেন, আমরা আপনাদের খেদমতে কাজ করতে পারি।

প্রশ্নঃ 2148
আসসালামু আলাইকুম। আমি একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করছি। হলে থাকি। অনার্স পড়াকালীন সময়ে একবার হলের মেসের (খাবারের মেস) এর দায়িত্ব নিয়েছিলাম। দুমাস মেস ভালভাবে চালানোর পরেও প্রায় ৫০,০০০ টাকা বেঁচে গিয়েছিল। হলের মেস গুলোতে সাধারণত নতুন কমিটিকে বেঁচে যাওয়া টাকা বুঝিয়ে দেয়া হয়না। আমিও নতুন কমিটিকে টাকা বুঝিয়ে না দিয়ে নিজের কাজে ব্যবহার করেছিলাম। এখন খুব অনুতপ্তে ভুগছি। মেসের মেম্বারদের টাকা এভাবে ব্যয় করার কারনে নিজেকে ক্ষমা করতে পারছিনা। এখন কিভাবে এই গুনাহ থেকে মুক্তি পেতে পারি? বি. দ্র. গত দুই বছর যাবত ইসলাম বুঝে বুঝে পালনের চেষ্টা করছি।
21 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যাদের টাকা তাদের কাছে পৌছে দেয়ায় তো সমাধান। যদি কোন ভাবে সম্ভব না হয় তাহলে উক্ত টাকা তাদের নামে দান করে দিবেন। এভাবে আশা করা যায় আপনি মুক্তি পাবেন।

প্রশ্নঃ 2147
গোপনাঙ্গ স্পর্শ করলে উযু কী ভেঙে যায়? এ ব্যাপারে প্রসিদ্ধতর মত কোনটি? জাযাকাল্লাহ।
21 Jan 2026

ভাঙবে না, এটাই শক্তিশালী বলে মনে হয়।

প্রশ্নঃ 2146
আস সালামু আলাইকুম। ফরজ, সুন্নাত, নফল সব নামাযেই কি দরুদের পরে দোয়ায়ে মাসুরা এর পরিবরতে অথবা এর পরে (আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিন আযাবিল কব্রি…) এই দোয়া পরা যাবে? একটু বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব। 🙂
21 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, সব নামাযের মধ্যেই পড়া যাবে।

প্রশ্নঃ 2145
আসসালামু আলাইকুম.. প্রশ্ন : আমার স্বাস্থ মোটা এবং ওজন বাড়ার ও কোমর ব্যাথার কারনে চেয়ারে বসে নামাজ পরি.. আমি দারিয়ে সব কিছু করি.. রুকু ঠিকমত দেই ৷ সিজদার সময় চেয়ারে বসে অর্ধেক ঝুকে সিজদা দেই ও চেয়ারে বসে তাশাহুদ পরি.. আমি সিজদা যদি কষ্ট করে দেইও.. আমি আর দাড়াতে পারিনা এবং ঠিকমত পা ভাজ করে বসতেও পারিনা… আমি খুব মানসিক কষ্ট পাচ্ছি.. আমার নামাজ হচ্ছে কি না? আমাকে কোন সহিহ মাছলা দিয়ে আমাকে উপকৃত করবেন৷
21 Jan 2026

আপনি যতটুকু সম্ভব দাঁড়াবেন এবং চেয়ারে বসে নামায পড়বেন। আমরা দুআ করি আল্লাহ আপনাকে সুস্থ করে দিন।

প্রশ্নঃ 2144
আচ্ছলামু আলাইকুম ওৱা রহমাতুল্লাহি ওৱ বারাক্বাতুহু আস সুন্নাহ ট্রাস্টকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। Dr. Khandaker Abdullah Jahangir Sir কে আমি আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। Sir আমি ইসলাম সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে ইচ্ছা হয়, তাই একটা প্রশ্ন করছি একটি ইসলামিক পত্রিকায় পেয়েছি আল্লহ তাআলা কোন জাতির অবস্থা ততক্ষণ পরিবর্তন করেননা যতক্ষণ না নিজেতদের অবস্থা পরিবর্তন না করেন। আল্লা্হর এই কথাটা পবিত্র আলক্বোরাণের কোথায় আছে?
21 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সূরা রাদ এর ১১ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, إِنَّ اللَّهَ لاَ يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُواْ مَا بِأَنْفُسِهِمْ আল্লহ তাআলা কোন জাতির অবস্থা ততক্ষণ পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না নিজেতদের অবস্থা পরিবর্তন না করেন । আশা করি আপনার উত্তর পেয়েছেন। আরেকটা কথা বলি আপনি মনে হয় জানেন স্যা রা. গত বছর মারা গিয়েছেন।

প্রশ্নঃ 2143
আসসালামু আলাইকুম ১। জামায়েতের নামাযে যেকোনো রাকাতের যদি একটা সিজদাহ পর গিয়ে জামায়েতে অংশগ্রহণ করা হয় তাহলে কি করণীয়? ১ম- পরবর্তী রাকাতের জন্য অপেক্ষা করব? ২য়- তখনই নামাযে অংশগ্রহণ করব? ৩য়- যদি ২য় হয় তাহলে তো একটা সিজদাহ বাদ যাচ্ছে। তখন কি করনীয়? এই সিজদাহ কি আদায় করতে হবে? আর যদি করতে হয় কখন এবং কিভাবে আদায় করতে হবে? আশা করি প্রশ্ন বুঝতে পেরেছেন। ২। ওযু করার পর গান শুনলে বা টিভি দেখলে বা মিথ্যা বললে কি ওযু ভেঙে যায়? আমি যতটুকু জানি ভাঙে না কিন্তু আমাকে একজন বলল আবার ওযু করতে হবে। সঠিকটা জানতে চায়। ৩। মোবাইলে বাংলা অনুবাদসহ কুরআন শরীফ কি শুয়ে শুয়ে পড়া যায়?
21 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

১। তখনই নামাযে অংশগ্রহণ করবেন। তবে এটাকে রাকআত হিসেবে ধরা হবে না। সুতরাং ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর পূর্ণ এক রাকআত আদায় করতে হবে।

২। না, ওযু ভাঙ্গে না। আর ওয়ু ভাঙলেতো সমস্যা ছিল না, ওয়ু করলেই হয়ে যেত। কিন্তু এসব করলে তো মস্তবড় গুনাহ হয়। ওযু করে তো সেই গুনাহ মাফ হয়ে যাবে না। সুতরাং গান শোনা বা টিভি দেখা ছাড়ুন।

৩। হ্যাঁ, পড়া যায়।

প্রশ্নঃ 2142
গত কয়েক দিন ধরে কয়েকটি ফেসবুক পেজ এবং পত্রিকায় দেখলাম যে, ডঃ খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহিমাহুল্লাহ স্যার নাকি রোড এ্যাক্সিডেন্ট এর ইন্তেকাল করেছেন। আমার বিশ্বাস হয়নি। বিষয়টি কতটুকু সঠিক বা মিথ্যা জানাবেন অনুগ্রহ করে। ধন্যবাদ।
20 Jan 2026

হ্যাঁ, ডঃ খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহিমাহুল্লাহ স্যার রোড এ্যাক্সিডেন্ট করে ইন্তেকাল করেছেন।

প্রশ্নঃ 2141
মসজিদে কিংবা মসজিদের মাইকে মৃত সংবাদ/ হারানো বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা যাবে কি? দলিলসহ জানালে উপকৃত হব।
20 Jan 2026

মসজিদে হারানো সংবাদ প্রচার করা যাবে না। হাদীসে এসেছে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, مَنْ سَمِعَ رَجُلاً يَنْشُدُ ضَالَّةً فِى الْمَسْجِدِ فَلْيَقُلْ لاَ رَدَّهَا اللَّهُ عَلَيْكَ فَإِنَّ الْمَسَاجِدَ لَمْ تُبْنَ لِهَذَا যখন কোন মানুষকে শুনবে মসজিদে হারানো বস্তু সম্পর্কে সংবাদ দিতে তখন বলেবে, আল্লাহ যেন, তা তোমাকে না ফিরিয়ে দেন। কোননা মসজিদকে এই কাজের জন্য বানানো হয় নি। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৬৮। তবে মৃত সংবাদ প্রচার করা জায়েজ বলে মনে হয়। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন

প্রশ্নঃ 2140
আসসালামুআলাইকুম শায়েখ (রহ:) এর বয়ান সংকোলন বই আকারে পাওয়া যাবে কি?
20 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। শায়েখ (রহ:)এর বয়ান সংকোলন বই আকারে প্রকাশ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে তবে কাজ শেষ করতে অনেক সময় লাগবে। বই প্রকাশিত হলে আমাদের ওয়েবসাইট, ফেসবুক ও অন্যান্য মাধ্যমে প্রচার করা হবে।

প্রশ্নঃ 2139
আমরা কবর দেখলে যে দোয়া পড়ি আসসালামু আলায়কুম ইয়া আহলাল কুবূর সেটা কি সুন্নাত সম্মত? যদি না হয় তবে সুন্নাত সম্মত দোয়া কোনটি?
20 Jan 2026

রাসূলুল্লাহ সা. মৃত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে বললে আয়েশা রা. বললেন, কিভাবে করব? তখন তিনি বললেন, قُولِى السَّلاَمُ عَلَى أَهْلِ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ وَيَرْحَمُ اللَّهُ الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنَّا وَالْمُسْتَأْخِرِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لَلاَحِقُونَ অর্থ: বল, السَّلاَمُ عَلَى أَهْلِ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ وَيَرْحَمُ اللَّهُ الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنَّا وَالْمُسْتَأْخِرِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لَلاَحِقُونَ মূমিন এবং মুসলিম কবরবাসীদের উপর সালাম। আল্লাহ পূর্ববর্তীদের এবং পরবর্তীদের সকলের উপর দয়া করুন, অচিরেই আমরা তোমাদের সাথে মিলিত হবো ইনশাআল্লাহ। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ২৩০১। আপনি যতটুকু লিখেছেন ততটুকু বললেও হবে তবে আমি যেভাবে লিখলাম সেভাবে দেয়া অধিক ভাল।

প্রশ্নঃ 2138
স্যার, আস্ সালামুআলাইকুম। আমার প্রশ্ন হচ্ছেঃ- (১) আমরা যে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উম্মত, এই উম্মত সম্পর্কে একটু বিস্তারিত জানালে খুবই খুশি এবং উপকৃত হতাম। উম্মত হওয়ার কি কি শর্ত? আমার মত একজন নগন্য মুসলমান প্রিয় নবীজির উম্মত কি না।
20 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রকৃত উম্মত হওয়র জন্য শর্ত হলো কুরআন-সুন্নাহকে যথাযথ অনুসরণ করে ফরজ-ওয়াজিব কাজগুলো আদায় করা, হারাম থেকে বেচেঁ থাকা সকল ভাল কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখার চেষ্টা করা। এসব করলে আমরা রাসূলুল্লাহ সা. এর প্রকৃত উম্মত, অনুসারী হতে পারবো।

প্রশ্নঃ 2137
আসসালামু আলাইকুম। (১) আমার চাচা মারা গেছেন । চাচী ছোট একটি ছেলে নিয়ে গ্রামের বিভিন্ন বাড়ীতে ধান সেদ্দ এর কাজ করে কষ্টে দিন যাপন করছেন। উনি কারো কাছে সাহয্য চান না আত্তসম্মানের খাতিরে। আমি যখন যা পারি চাচাতো ভাই এর হাতে দিয়ে আসি, এক্ষেত্রে চাচি আমার ঐ টাকা নিয়ে থাকেন। এখন আমি যদি তাকে আমার যাকাত এর টাকা দিতে চাই উনি যাকাতে টাকা গ্রহণ করতে আপত্তি করতে পারেন। যদিও টাকা তাদের খুব প্রয়োজন। এক্ষেত্রে তাকে না জানিয়ে যাকাতের টাকা কি দেওয়া যাবে । (২) আমার চাচীকে কি সাদাকাতুল ফিতর দেওয়া যাবে।
20 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার চাচীই আপনার যাকাতের টাকার অধিক হকদার। তাকে দিলে সওয়াব বেশী পাবেন। যাকাতের টাকা উল্লেখ করার দরকার নেই। ফিতরাও দেয়া যাবে। আপনি নিজে দিবেন এবং আপনাদের পরিবারের অন্যদেরকেও দেয়ার জন্য বলবেন। আমরা দুআ করি আল্লাহ আপনার চাচীকে যেন নিরাপদে ভাল রাখেন।

প্রশ্নঃ 2136
assalamualaikum. GP found somporke jante chai. Abdullah Jahangir (R) sir er GP found somporke akti prosno uttor er video ase.Video er link ti palay upokreto hotam!
20 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নিচে লিংক দিয়ে দিলাম

প্রশ্নঃ 2135
আসসালামু আলাইকুম। আমার একটা জিজ্ঞাসা ছিল। শেয়ার মার্কেট থেকে অর্জিত লভ্যাংশ কি হালাল ইনকাম হিসেবে গন্য হবে? কোরআন হাদিসের আলোকে দয়া করে ব্যাখ্যা করবেন। ধন্যবাদ।
20 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কোন প্রকার জুয়া বা সুদ ভিত্তিক কোন কোম্পানির শেয়ার না কিনে অন্য যেগুলোর প্রডাক্ট সাধারণত হালাল সেগুলায় ইনভেস্টমেন্ট করা যাবে। তবে বর্তমানে শেয়ার বিজনেস থেকে বিরত থাকায় একজন মূমিনের জন্য ভাল বলে মনে হয়।

প্রশ্নঃ 2134
ভাই আসছালামু আলাইকুম। আমার একটা বিষয় যানার ছিল, সহি বুখারি শরীফ যে বাংলা তর্জমা করা নেটে PDF ফাইল করা আছে, এটা কি আরবি তে যে বোখারি শরীফের আছে সেটার সাথে হাদিস নং গুলি কি ছিরিয়াল হুবাহুব এক আছে কিনা, যেমন হুজুররা যে বলে বোখারি শরীফের এত নং হাদিসয়ে এটা বর্ণনা আছে। এখন যদি নিজেই একটু পরে দেখতে পারতাম তাহলে অনেক ভাল হয় না। ভাই একটু দয়া করে যদি জানাতেন অনেক উপকার হত।
20 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, ইমাম বুখারী রহ. হাদীসের কোন নাম্বার দিয়ে যান নি। পরবর্তীতে অন্যরা নাম্বার দিয়েছেন। তাই, আরবী হাদীসের নাম্বারও একেক প্রকাশনীর একেক রকম। তবে ফাতহুল বারীতে দেয়া নাম্বার সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃ বলে মনে হয়। যেখানে আরবীতে ঠিক নেই সেখানে আরবীর সাথে বাংলা মিলে যাওয়া খুবই কষ্টকর। তবে যে আরবী দেখে বাংলা করা হয়েছে কোন আলেম যদি সেই আরবীর রেফারেন্সে বলেন তাহলে মিলে যাবে। এটা খুব কমই ঘটে।

প্রশ্নঃ 2133
Assalamualikum, amr prosno ta holo 2 waktao r namaj ak sata aga pora jay kina? jamon ami chittagong thala dhaka jabo 4 tar dika ami chittagong thaka asorar namaj pora rowana hobo kinto onek bus a magriber namajer somoy biroti da na ar fola magriber namaj kaja hoya jay, a karoma ami jabar aga Asor o magriber namaj 4 ta baja ak sata porta parbo kina?
20 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, আসর ও মাগবির এক সাথে পড়তে পারবেন না। তবে মাগরিব ও ইশা একসাথে ইশার সময়ে পড়তে পারেন বলে অধিকাংশ ফকীহ মত দিয়েছেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন

প্রশ্নঃ 2132
আস-সালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্ন হচ্ছে, শুনেছি কবুতর পোষা নাকি ঠিক না? কারণ কবুতর অনেক সময়ই অন্যের ক্ষেতের ফসল বা বীজ খেয়ে ফেলে। যদি কবুতরকে নির্দিষ্ট সময়ে (ক্ষেতে বীজ বপণের সময়) বাড়িতেই খাবার দিয়ে যথা সম্ভব অন্যের শষ্য ক্ষেতে যাওয়া রোধ করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে কি কবুতর পোষা যাবে? আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন, আমীন।
20 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার শোনা ঠিক নয়। তবে অন্যর ক্ষতি যেন না হয় তা সর্বক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, শুধু কবুতরের ক্ষেত্রে নয়।

প্রশ্নঃ 2131
আসসালামু আলাইকুম, একজনের কাছে শুনেছি, ১/ যে ফজর সলাতের পর মাথায় হাত দিয়ে আয়াতুল কুরসি পরলে মাথা ব্যাথা ভাল হয়ে যায়। ২/ বুকে হাত দিয়ে ২১ বার ইয়া সালামু ইয়া সালামু বলতে, ইহার ফজিলত মনে নেই। এগুলো কি রসুল (স) এর সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত বা সহিহ হাদিসে আছে?
20 Jan 2026

এগুলো সহীহ হাদীসে আছে বলে আমাদের জানা নেই। তবে কুরআনের যে কোন আয়াত পড়ে ঝাড়ফুঁক করলে যে কোন ব্যাথা ভাল হওয়া খুবই সম্ভব।

প্রশ্নঃ 2130
আসসালামু আলাইকুম, হঠাৎ করেই কোরবানি ঈদ এর পর থেকে আমার খুব চুল পড়ছে (খুব অস্বাভাবিক ভাবে ) সাথে খুব কাশি,ওষুধ + তুলসী আদা+++ এসব খেয়েও কিছু হচ্ছে না,শরীর খুব ভারী লাগে, শরীর ম্যাজম্যাজ করে জ্বর জ্বর লাগে কিন্তু জ্বর বোঝা যায় না,শরীর ব্যাথা থাকে, মেজাজ খুব খিটমিটে লাগে। দেখে মনের হয় সুস্থ কিন্তু আমি ভিতরে ভিতরে সিক ফীল করি। আর এবাদত-এ মনোযোগ রাখতেই পারি না,খুব কষ্ট করে হয়তো মনোযোগ আনি আবার কি সব অদ্ভত খারাপ কথা যে মনে আসে, আমি রাতে ঘুমানোর আগে সূরা মূলক,আয়তাল কুরসী,সূরা বাকারা ২৮৫,২৮৬,৩ কুল,হেফাজত এর দুআ,সূরা কাফিরুন এগুলা আলহামদুলিল্লাহ পরেই ঘুমাই। তবু প্রতি রাতে স্বপ্ন দেখি,মাঝে মাঝে স্বাভাবিক স্বপ্ন,মাঝে মাঝে ভয়ঙ্কর স্বপ্ন দেখি,সব মনেও থাকে না। অবশ্য ম্যাক্সিমাম স্বপ্ন দেখি ফজর নামাজ পরে সকালে যখন ঘুমাই। ঈদ-এ শশুর বাড়ি থেকে আসার সপ্তাহ খানেক পর আমার স্বামী আমার সায়াও সহ্য করতে পারতো না, এখন আলহামদুলিল্লাহ কিছুটা সহনীয়। তবে সে ইদানিং আলাদা রুম-এ ঘুমায়, বিয়ের ৬ বছর-এ সে এটা কখনো করে নি, অবশ্য সে একদিন বলছিলো তার ঠান্ডা লাগছে,বাবুর যেন ভাইরাস না লাগে তাই। ছেলেটাও খুব খিটমিটে হয়ে গেছে। এসব সমস্যার কি কারণ হতে পারে, আর তার সমাধান কি? প্লিজ আমাদের জন্যে দুআ করবেন আল্লাহ যেন এই সব বিপদ থেকে উদ্ধার করেন এবং গুনাহ মাফ করে দেন। আমার পরিবার-এ ডাক্তার আছে কিন্তু কোনো আলেম নেই,এই সব সম্যসায় পড়লে কাওকে বোঝানোও যায় না, নিজেও ঠিক বুঝে উঠতে পারি না কি করা উচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, জাজাকাল্লাহু
20 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রাত্রে একটু তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে ফজরের পর আর ঘুমাবেন না, তাহলে স্বপ্ন সমস্যার সমাধান হবে। কারণ ফজরের পর কাজের সময়, ঘুমের সময় নয়। তাই এই সময় ঘুমালে অনেকেরই এমন সমস্যা হয়। ফজরের না ঘুমালে আরো একটি সমস্যার সমাধান হবে, সেটা হলো আপনার প্রতি স্বামীর মনোভাব। স্বামী কাজ করবে আর স্ত্রী ফজরের পর ঘুমাবে সেটা অধিকাংশ রক্তে-মাংসে গড়া স্বামীর পক্ষে সহ্য করা অসম্ভব। সুতরাং ফজরের পর বাড়ির কাজ শুরু করুন দেখবেন স্বামী আপনাকে আরো ভাল চোখে দেখবে। ছোট বাচ্চার খিটমিটে হওয়ার কিছু নেই। ওরা এমনই হয়। শেষে বলি স্বামী হৃদয়ের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করুন, তার ভাল লাগা কাজগুলো করুন, যে কাজে বিরক্ত হয় তা এড়িয়ে চলুন। আল্লাহ আপনাদের ভাল রাখুন।

প্রশ্নঃ 2129
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ১। আমার ছেলে কে কুরআন-এ হাফেজ এবং আলেম বানাতে চাই ইন-শা-আল্লাহ । ঢাকায় (উত্তরা) কোন প্রতিষ্ঠান-এ দিলে ভালো হয় এবং কত বছর বয়সে দেওয়া ভালো পরামর্শ চাই। স্যার এর এই https://www.youtube.com/watch?v=g883DJiVgbcfeature=youtu.be বক্তব্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আপনাদের কাছে পরামর্শ চাইছি,স্যার বলছিলেন প্রয়োজনে আপনাদের সাথে যোগাযোগ করার কথা। আমার খুব ভালো লেগেছে আসলে আমরা অনেক কিছুই করতে চাই কিন্তু প্রপার জ্ঞান না থাকার জন্যে অথবা ভালো গাইড লাইন না পেয়ে অনেক সময় তা আমাদের জন্যে কঠিন হয়ে যায় অথবা করা হয় না। আশা করছি ইন-শা-আল্লাহ আপনাদের থেকে গাইড লাইন পাবো। ২। দান/সাদকার উদ্দেশে রাখা টাকা অথবা অন্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র (হতে পারে সেটা পরে দিবো এই নিয়তে রাখা অথবা কারো মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল সে পৌঁছায়ে দিতে পারে নাই ফেরত দিয়েছে ) সেগুলা কি প্রয়োজনে পুনরায় ব্যবহার করা যাবে? জাজাকাল্লাহু
20 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ ১। হিফজ রিফিশনের পরে আপনি খোঁজ খবর নিয়ে একটি ভাল মাদ্রাসায় ভর্তি করে দিবেন। উত্তরায় কোন মাদ্রাসা ভাল সেটা আমাদরে ঠিক জানা নেই। ২। ব্যবহার করা যাবে না, এমন নয় তবে সেগুলো অন্যত্র দান করে দেয়া উত্তম।

প্রশ্নঃ 2128
আসসালামুআলাইকুম। প্রশ্ন: বিতর নামাজে দোয়া কুনুতের পরে এবং যে কোন নামাজের শেষ বৈঠকে দোয়া মাছুরা পড়ার পরে অন্য যে কোন দোয়া কি করা যাবে, যেমন : আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খলাক্বতানি………. রব্বানা লা তুযিগ কুলুবানা……….. রব্বানা আতিনা……. ইত্যাদি ।
20 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কুনুতের সময় দুআ কুনুতই পড়বেন। কুনুতের একাধিক দুআ আছে। আপনি এক বা একাধিক দুআ কুনুত পড়তে পারেন। আর প্রচলিত দুআ মাসূরার পরে অন্য দুআ মাসূরা অর্থাৎ কুরআন-হাদীস উল্লেখিত যে কোন দুআ পড়তে পারেন, আপনি যেগুলো উল্লেখ করেছেন সেগুলোও পড়তে পারেন। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 2127
স্যার লেকচার এ বইয়ের কথা বলেছেন। যেখানে সুন্নাহ ভিত্তিক অনেক দুআ আছে। তাহাজ্জুদ নামাজের দুআ আছে। ঐ বইটার নাম কী?
20 Jan 2026
প্রশ্নঃ 2126
আল্লাহ যার কল্লান চান তার বাহ্যিক সুখ ছিনিয়ে নেন। কিন্তু আমার মনে হই আলহামদুলিল্লাহ্ আমি খুব সুখি। এটার বেপারে একটু যদি বলতেন।
20 Jan 2026

আল্লাহ যার কল্যাণ চান তার বাহ্যিক সুখ ছিনিয়ে নেন-এমন কথা আমি শুনিনি। তবে আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে অনেক সময় বিপদ-আপদ দেন এটা কুরআন শরীফের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ আছে। বিপদে ধৈর্য্য ধরে আল্লাহর কাছে দুআ করতে হবে। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুন।

প্রশ্নঃ 2125
আসসালামুয়ালাইকুম, বিভিন্ন সময় আমরা শুনি নামাজের শেষে সালাম ফিরার আগে দোআ কবুল হয়। নামাজের শেষে তো দোয়া মাসুরা (আল্লাহ হুম্মা ইন্নি জলামতু নাফসি)পড়ি তার পর কি দোআ পড়ব, যে দোআ গুলো সিজদায় পড়ি, বিষয়টি বুঝিয়ে বলবেন।
20 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যে দুআ মাসুরা সাধারণত পড়া হয় সেটা ছাড়াও আপনি কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত যে কোন দুআ পড়তে পারেন। দুআ মাসুরা অর্থ হলো কুরআন বা হাদীসে বর্ণিত দুআ। যে দুআটির কথা আপনি লিখেছেন সেটাও একটি দুআ মাসূরা। সেটা বাদেও আপনি অন্য যে কোন দুআ মাসুরা পড়তে পারেন। একাধিক দুআও পড়া যায়। রুকু ও সাজদাতে তাসবীহ পড়া হয়. এগুলো দুআ নয়। কারণ দুআ হলো যেখানে কিছু চাওয়া হয় আর তাসবীহতে আল্লাহর বড়ত্ব বর্ণনা করা হয়।

প্রশ্নঃ 2124
আস-সালামু আলাইকুম। আমার দাদার ২ জন স্ত্রীর মোট ৯ জন সন্তান। যার মধ্যে ২ জন ছেলে, ৭ জন মেয়ে। তার মোট মাঠে ২২ বিঘা জমি এবং শহরের উপর ২১ শতক জমি ছিলো।যা সে ২য় পক্ষের ৭  ছেলে মেয়েদের ভোগবিলাসে সবই বিক্রি করে ফেলেন, শুধু ১০ শতক জমি অবশিষ্ট থাকে। কিন্তু ১ম পক্ষের ২ ছেলে মেয়েকে কিছুই দেন না। বিভিন্ন চাপে পড়ে,রাগের বশে ১ম পক্ষের ছেলেকে ত্যায্য করেন সব সম্পত্তি থেকে। তিনি বেচে থাকতেই অবশিষ্ট ১০ শতক জমি ২য় পক্ষের ছেলের নামে নামজারি করে যান ২/৩ জন মেয়ের সম্মতিতে।কারণ তিনি বলতেন তার মেয়েরা তার ছেলেকে ভিটেচ্ছেদ করতে পারে। কিন্তু তিনি অন্যায় করেছেন।তার সেই ছেলে আবার তার সেই ১০ শতক জমি তার একমাত্র মেয়ের নামে হেবা করে নামজারি করে দিয়েছেন কারণ তার বোনেরা প্রায়ই তাকে খুন করার ভয় দেখায়। তো এখন সেই মেয়ে,যার নামে ১০ শতক লিখে দিয়েছে সে যদি চায় জমি বাবদ কিছু টাকা যারা বঞ্চিত হয়েছেন তাদের ভাগ থেকে, তাদেরকে দিতে।সেক্ষেত্রে কি গুনাগ মাফ হবে?ভাগ করতে চাইলে সঠিকভাবে বন্টনের উপায় কি?আনুমানিক কত টাকা দিলে সঠিক ফয়সালা হবে?
20 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কিছু টাকা দিলে হবে না। পূর্ণ প্রাপ্য দিতে হবে। ত্যায্য করারও কোন সুযোগ নেই। সুতরাং সেও এখানে পাবে। স্থানীয় কোন আলেমের কাছে গিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে সমাধান জেনে আসবেন। 

প্রশ্নঃ 2100
১. আসালামু আলাইকুম, ফরজ সালাতের সময় ২য় রাকাতে আমার সামনের ব্যক্তি (সম্ভবত ওজু নষ্ট) চলে যায়, সে ক্ষেত্রে আমি নামাজের মধ্যে হাত বাঁধা অবস্থায় হেঁটে গিয়ে সামনের কাতার পুরণ করি, এক্ষেত্রে কি আমার নামাজের কোন সমস্যা হবে ? বা এটা করা কি জায়েজ ?
19 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, আপনার নামাযের কোন সমস্যা হবে না।  ডানে বামে না তাকিয়ে সামনে সোজা গিয়ে কাতার পূরণ করলে নামাযের কোন সমস্যা হবে না। 

প্রশ্নঃ 2123
আমাদের দেশে সালাতের বিভিন্ন স্থানে রাফউল ইয়াদাইন নিয়ে পক্ষে/ বিপক্ষে ঝগড়া হয় কিন্তু সিজদাকালীন সময়ও রাফউল ইয়াদাইন করতে হয় মর্মে অনেক সহিহ হাদিসে পাওয়া যায় সে বিষয়ে জানাবেন। এ হাদিসগুলি কি মানসুক হয়ে গিয়েছে? আমি শাইখ আকতারুল আমান মাদানী এর আলোচনা ইউটিউবে শুনেছি তিনি বলেছেন তিনি আরবে কিছু লোকদের এরুপ করতে দেখেছেন। এ হাদিস মানসুক হয়নি। আমাকে এক আহলে হাদিস আলেম বলেছেন এ হাদিস মানসুক/রহিত হয়ে গেছে। সঠিক বিষয়টি জানালে উপকৃত হব। নিম্নে সিজদাকালীন রাফউল ইয়াদাইন বিষয়ক কিছু হাদিস দেওয়া হলো: ১১৪৬। মুহাম্মাদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) … মালিক ইবনু হুয়ায়রিছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে প্রবেশ করতেন তখন তার হাতদ্বয় উঠাতেন। আর যখন রুকু করতেন ঐরূপ করতেন, আর যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন তখনও ঐরূপ করতেন। আর যখন সিজদা থেকে তাঁর মাথা উঠাতেন তখনও ঐরূপ করতেন। অর্থাৎ তাঁর হাতদ্বয় উঠাতেন। সূনান নাসাঈ (ই:ফা), হাদিসের মানঃ সহিহ সূত্র: বাংলা হাদিস Apps মুসা ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু মুসা বাসরী (রহঃ) … নযর ইবনু কাসীর আবূ সাহল আযদী (রহঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন আব্দুল্লাহ ইবনু তাঊস (রহঃ) মিনার মসজিদে খায়ফে আমার পাশে সালাত আদায় করলেন। যখন তিনি প্রথম সিজদা করতেন এবং সিজদা থেকে মাথা উঠাতেন তখন তিনি তাঁর চেহারা বরাবর তাঁর উভয় হাত উঠাতেন। তা আমার না-পছন্দ হওয়ায় আমি উহায়ব ইবনু খালিদকে বললাম এ ব্যক্তি এমন কিছু করছে যা আমি কাউকে করতে দেখিনি উহায়ব তাঁকে বললেন আপনি এমন কিছু করছেন যা আমরা কাউকে করতে দেখিনি তখন আব্দুল্লাহ ইবনু তাঊস বললেন আমি আমার পিতাকে তা করতে দেখেছি আর আমার পিতা বলেছেন। আমি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাসকে এরূপ করতে দেখেছি। আর আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেছেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এরূপ করতে দেখেছি। সূনান নাসাঈ (ই:ফা), আবু দাউদ হাঃ ৭২৫, সহিহ, [সূত্র: বাংলা হাদিস Apps]
20 Jan 2026

মানসুখ হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। তবে এটা করে ঝগড়াতে নতুন মাত্রা যোগ করা যাবে বলে মনে হয়, সুন্নাত পালন হবে বলে মনে হয় না।

প্রশ্নঃ 2122
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়াবারাকাতুহ – প্রথমে আমার ভুল ক্ষমা করবেন । আমি নামায এর প্রথম তাকবির থেকে শুরু করে সালাম ফিরানো পর্যন্ত কোথায় কোন দোয়া বা কি কি করবো এসম্পর্কে সঠিক তথ্য সংক্ষিপ্ত করে আমায় দোয়া করে জানাবেন । যেমনঃ- ১. রুকুতে কোন দোয়া? ২. সিজদায় কোন দোয়া বা কোনটা পড়বো? ৩. দুই সিজদায় মাঝখানে কোন দোয়া পড়বো? ৪. দ্বিতীয় রাকাত শেষ করে প্রথমে কখন কোন দোয়া বা সুরা তারপর কোন দোয়া পড়বো তারপর কোনদোয়া? এবং অন্যান্য কিছু আমার ভুল ত্রুটি ক্ষমা কবেন ।
20 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনার প্রশ্নের উত্তর লিখে শেষ করা কষ্টকর। তাই আপনি স্থানীও কোন আলেমের কাছ থেকে জেনে নিন। অথবা ফোন করুন 01734717299

প্রশ্নঃ 2121
আসসালামু আলাইকুম। লাশ দাফনের পর কবরে মাটি দেওয়ার সময় একটি দুআ পড়া হয় মিনহা খলাকনাকুম অ ফিহা নুয়িদুকুম অ মিনহা নুখরিজুকুম তারতানউখরা। এটাকি মাসনুন দুআ?
20 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।এই বিষয়ে ইমাম নববী রহ.বলেন, কাজী হুসাইন এবং অন্যান্যরা বলেছেন, তিন বার মাটি দেয়ার পথমবার বলবে মিনহা খলাকনাকুম আর দ্বিতীয়বার বলবে ওফিহা নুয়িদুকুম আর তৃতীবার মাটি দেয়ার সময় বাকী অংশটু টুকু বলবে। قال القاضى حسين والمتولي وآخرون يستحب أن يقول في الحثية الاولي (منها خلقناكم) وفى الثانية (وفيها نعيدكم) وفى الثالثة (منها نخرجكم تارة أخرى) আলমাজমুঈ, ৫/২৯৩। এই বিষয়ে একটি দূর্বল হাদীসও পাওয়া যায়। হাদীসটির হলো عن أبي أمامة قال : لما وضعت أم كلثوم ابنة رسول الله صلى الله عليه و سلم في القبر قال رسول الله صلى الله عليه و سلم { منها خلقناكم وفيها نعيدكم ومنها نخرجكم تارة أخرى } আবু উমামা বলেন, যখন রাসুলুল্লাহ সা. এর কন্যা উম্মে কুলসুমকে কবরে রাখা হলো তখন রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, মিনহা খলাকনাকুম অ ফিহা নুয়িদুকুম অ মিনহা নুখরিজুকুম তারতানউখরা। মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ২২২৪১। তবে ইমাম নববী রহ. বলেছেন, وان كان ضعيفة الاسناد ويعمل بها في الترغيب والترهيب وهذا منها দূর্বল হাদীস অনুযায়ী এই সব ক্ষেত্রে আমল করা যায়। আলমাজমুঈ, ৫/২৯৪। সুতরাং উক্ত দুআটি পড়া যেতে পারে। তবে এটা সুন্নাত বলা কঠিন, কারণ কোন গ্রহনযোগ্য হাদীস নেই।

প্রশ্নঃ 2120
আসালামুআলাইকুম ওয়া রহমাতোল্লাহি ওয়া বারাকাতিহ……পাক পাঞ্জা কি?…..আমার এক বড় ভাই আংটি ব্যবহার করেন, তাতে আরবিতে লেখা আল্লহ মোহাম্মদ ফাতেমা হাসান হুসাইন। আমি বলেছি এই আংটি ব্যবহার করা যাবেনা। তখন সে পাক পাঞ্জা কথাটি উল্লেখ করে। এ সম্পর্কে জানা থাকলে দয়া করে জানাবেন।
20 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই বিষয়ে শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. হাদীসের নামে জালিয়াতি গ্রন্থে লিখেছেন আহল বাইতের মধ্য থেকে রাসূলুল্লাহ সা.-এর সাথে আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসাইন (রা)-কে একত্রিত করে পাঁচজনের একত্রিত বিশেষ মর্যাদা জ্ঞাপক অনেক বানোয়াট ও মিথ্যা কথা পাক-পাঞ্জাতন নামে প্রচলিত আছে। পাক-পাঞ্জাতন বিষয়ক সকল কথা বানোয়াট ও জঘন্য মিথ্যা কথা। আলী ও ফাতিমা- রদিয়াল্লাহু আনহুমা-কে কেন্দ্র করে মুর্খরা অনেক বানোয়াট, আজগুবি ও মিথ্যা কথা রটনা করেছে। যেমন: ফাতিমা (রা) একদিন একটি পাখির গোশত খেতে চান। আলী (রা) অনেক চেষ্টা করেও পাখিটি ধরতে পারেন না। …. জঘন্য মিথ্যা কথা। হাদীসের নামে জালিয়াতি, পৃষ্ঠা নং ৪০৩। উল্লেখ্য শিয়ারা পাক পাঞ্জাতনে বিশ্বাস করে থাকে। আর এদের নামে আংটি ব্যবহার করা সুস্পষ্ট শিরক। কারণ এদের নামে আংটি ব্যবহারের অর্থ হলো আল্লাহ ছাড়া বাকী চার জনও ভাল-মন্দের মালিক বিশ্বাস করা। আর এটা শিরক।

প্রশ্নঃ 2119
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আশা করি আপনারা ভালো আছেন। অনেকদিন হয় কোন প্রশ্ন করা হয় না। চেস্টা করি অন্যের প্রশ্ন করা থেকে নিজের প্রশ্ন খোঁজ করা। আল্লাহ্ সুবহানুতায়ালা আপনাদের চেষ্টা কবুল করুন। আমিন। আজকে জুম্মার খুতবায় ইমাম সাহেব ওয়াজ করলেন আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ব্যপারে। উনি বলল যে, আমাদের নবী হায়াতুন্নবী। কবরে নাকি উনি জিন্দা আছেন। এমনও তার অনেক আশেক আছেন যারা উনার কবরে গিয়ে সালাম দিলে আমাদের নবী যে উত্তর দেন সেটা উনারা শুনতে পায়। আমি যতটুকু জানি সেটা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কবরে গিয়ে সালাম দিলে উনি সালাম এর উত্তরদিয়ে থাকেন কিন্তু এটা আমাদের জগতের কারো শুনার কথা না। আমি জানি কবরে বারজাখ বা মধ্যবর্তী জীবন। কিন্তু এটা মনে করা কি ঠিক যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মত মানে আমরা যেভাবে জীবিত আছি সেভাবে জীবিত আছেন? আর এ আকিদা কি পোষণ করা যাবে? আর হায়াতুন্নবী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই। জাজাকাল্লাহ খইরান ভাই।
20 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনার আকীদা ঠিক আছে। রাসূলুল্লাহ সা. কে দেয়া সালামের উত্তর কোন মানুষ শুনতে পারে এটা ঠিক নয়। হায়াতুল আম্বিয়া বিষয়ে শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তাঁর, ইসলামী আকীদা গ্রন্থে। যার শিরোনাম তাঁর ওফাত বিষয়ক বিতর্ক। পৃষ্ঠা ২২২। সেখানে আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি বলেছেন, অনেক সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে যে, মুমিন বিশ্বের যেখানে থেকেই দরুদ ও সালাম পাঠ করবেন, ফিরিশতাগণ সেই সালাত ও সালাম রাসূলুল্লাহ সা.-এর রাওযা মুবারাকায় পৌঁছিয়ে দেবেন। উপরের হাদীসগুলি থেকে প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ সা.-এর ইন্তেকালের পরে তাঁকে এক প্রকারের জীবন দান করা হয়েছে। এই জীবন বারযাখী জীবন, যা একটি বিশেষ সম্মান ও গায়েবী জগতের একটি অবস্থা। এ বিষয়ে হাদীসে যতটুকু বলা হয়েছে ততটুকুই বলতে হবে। হাদীসের আলোকে আমরা বলব, এই অপার্থিব ও অলৌকিক জীবনে তাঁর সালাত আদায়ের সুযোগ রয়েছে। কেউ সালাম দিলে আল্লাহ তাঁর রূহ মুবারাককে ফিরিয়ে দেন সালামের জবাব দেওয়ার জন্য। রাওযার পাশে কেউ দরুদ বা সালাত পাঠ করলে তিনি তা শুনেন, আর দূর থেকে পাঠ করলে তা তাঁর নিকট পৌঁছানো হয়। এর বেশি কিছুই বলা যাবে না। বাকি বিষয় আল্লাহর উপর ছেড়ে দিতে হবে। বুঝতে হবে যে, উম্মাতের জানার প্রয়োজন নেই বলেই রাসূলুল্লাহ সা. বাকি বিষয়গুলি বলেন নি। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 2118
আসসালামুয়ালাইকুম, স্যার কেমন আসেন। আমার প্রশ্ন: অল্প বয়সে যদি দাড়ি পাকে তাহলে কি আমি দাড়ি কালো করার জন্য রঙ বা কলব ব্যবহার কর্তে পারব? Jjakallahkhair।
20 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রোগের কারণে অল্প বয়সে চুল পাকলে অনেকেই বলেন জায়েজ আছে।

প্রশ্নঃ 2117
আসসালামু আলাইকুম, আপনি এক বক্তিতায় বলেছিলেন নেয়ামুল কোরান বইটা পড়া ঠিক নয়। তাই আমার অনুরোধ …..আপনার কাছে আপনি যদি জনান ঐরকম ধরনের বইয়ের নাম….যেটা গবেষনামূলক শুদ্ধ বই … আমি নেয়ামুল কোরান নায়্য বইয়ের সন্ধানে আছি কিন্তু এই বইতো পড়া যাবে না..তাই যদি শুদ্ধ কোনো ভালো বইয়ের নাম জনান তবে খুব খুব উপকৃত হব। ইনসাআল্লাহ আপনি জানাবেন….আপনার উত্তরের আশায় থাকবো।
19 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি হয়তো জানেন না, শায়েখ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. মারা গেছেন। তাই এভাবে প্রশ্ন করেছেন। যাই হোক ধর্মের সঠিক জ্ঞানের জন্য আপনি ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. এর লেখা ৩০টির মত বই পড়বেন। বই পেতে যোগাযে করুন 01730 74 70 01

প্রশ্নঃ 2116
assalamualaikum, namaz er somoy pant er nicher ongsho vaz kore taknur upor porle namaz hobe kina? (pant vaz kore dile namaz hobe kina?)
19 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বি, নামায হবে, কোন সমস্যা নেই। তবে একটি কথা, অনেকে মনে করে শুধু নামাযের সময় প্যান্ট বা পাজামা টাকনুর উপরে পরতে হয় অন্য সময় না উঠালেও সমস্যা নেই। এটা ভুল চিন্তা। হাদীসে সর্বাবস্থায় টাকনুর উপরে প্যান্টা/পাজামা পরার জন্য বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, مَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ مِنَ الإِزَارِ فَفِي النَّارِ. পরিধেয় বস্ত্রের যে অংশ টাকুনর নিচে থাকবে শরীরের সেই অংশটুকু জাহান্নামে যাবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৭৮৭।

প্রশ্নঃ 2115
আসসালামুয়ালাইকুম, নফল রোজার জন্য সেহেরী খাওয়া নাকি বাধ্যতামূলক? কারন সেহেরী খাওয়া সুন্নত, আর সেই সুন্নত বাদ দিলে নফল (রোজা) আদায় হবে না, আমি এরকম শুনেছি। নফল রোজার জন্য রাত ১২ টায় সেহেরী খেলে সেহেরী আদায় হবে? মেহেরবানী করে উত্তর দিবেন। আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন, আমীন।
19 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কোন রোজার জন্যই সাহরী খাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে খাওয়া সুন্নাত। রাত ১২ টায় খাওয়া হয়। সাহরী খাওয়া নয়। সাহরী বলতে শেষ রাতে খাওয়াকে বুঝায়। তবে যখনই খান বা না খান রোজা হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ 2114
হুজুর আস্সালামুআলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ, আমার নিমোক্ত প্রশ্নের উত্তর দুটি দিলে আমি খুবই উপকৃত হতাম— ১। কাযা নামাজ আদায় করার সঠিক নিয়ম কোনটা বা আমরা কাযা নামাজ কিভাবে আদায় করবো বা কাযা নামাজ আদায়ে ইসলামে কোন বিধি-বিধান আছে কি? বিস্তারিত জানাবেন প্লিজ। ২। আমরা যখন কম্পিউটারে পিডিএফ ফরমেটে বাংলা তাফসীর পড়বো তখন কি অযু অবথা তায়াম্মুম করার প্রয়োজন আছে কি?
19 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কাযা নামায রাসূলুল্লাহ সা. ধারবাহিকভাবে আদায় করেছেন। অর্থাৎ যেটা আগে কাযা হয়েছে সেটা আগে। তারপর পরেরটা। এগুলো অবশ্য কয়েক ওয়াক্ত কাজার ক্ষেত্রে। অনেক নামায কাজা হলেও এভাবে পড়লে ভাল হবে। এর বাইরে বিস্তারিত বিধি বিধান হাদীসে পাওয়া যাবে না। কারণ তখন মুসলিমরা নামায কাজা করতো না। ২। না, পবিত্রতা অর্জন করা ফরজ নয়। তবে করলে ভাল।

প্রশ্নঃ 2113
আসসালামু আলাইকুম। আমার মনে হইছে রাতে আমি বাজে স্বপ্ন দেখেছি (তবে সিউর না), আমি ঘুম থেকে উঠে আমার পোশাকে কোনো দাগ বা ভেজা পায় নাই। তাই আমি গোসল না করে পোশাক না পাল্টায়ে নামায পড়েছি। কিন্তু সন্ধ্যা বেলায় আমি আমার বিছানার চাদরে ভেজা দাগ পাইছি। সারাদিন বাইরে ছিলাম তাই আগে দেখি নাই। তবে আমি সিউর বলতে পারতেছি না এটা কিসের দাগ। এখন আমার প্রশ্ন হলো আমাকে ওই নামায আবার পড়তে হবে? আর যদি তাই হয় তাহলে আমি কি গোনাহগার হয়েছি?
19 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, আপনাকে নতুন করে নামায পড়তে হবে ন।

প্রশ্নঃ 2111
আসসালামু আলাইকুম, আমার ৩০ বৎসর। আমি কুরআন পড়তে পারি। আমার মনের প্রবল ইচ্ছা দ্বীনের দায়ী হব। আপনাদের আস-সুন্নাহ কি কোনো আবরি ভাষা শিখার ব্যবস্থা আছে?
19 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুযোগ নেই। তবে আপনি এই নাম্বারে যোগাযোগ করলে একটা সমাধান পাবেন ইনশাল্লাহ। 01734717299

প্রশ্নঃ 2110
ভোরের আযানে আসসালাতু খাইরুম মিনান নাওম বাক্যটি মহানবী (সা) এর আমলে ছিল না। বরং দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর রাঃ এই বিদয়াত চালু করেন। [রেফারেন্সঃ Muwatta of Malik, Book 3, Hadeeth Number 3.1.8; Al-Farooq by Allama Shibli No mani, page 295, published in Karachi; Muwatta Imam Malik, Dhikr e Adhan. Izalatul Khifa, volume 3, page 328, Sunan e Adhan; Kanz al Ummal volume 4, page 270, Dhikr e Adhan; Seerat al Halabiyah, volume 2, page 303, Dhikr e Adhan; Nail al-Awtar, volume 2, page 43; Sunan al-Kubra, page 425, by al-Beyhaqqi; Tareekh Baghdad, volume 9, page 409; Mishkat al Masabeeh, Volume 1 page 142 মোয়াত্তাতে যা লেখা আছে তা এখানে তুলে ধরছি- একদিন ভোরে মুয়াজ্জিন এসে হজরত ওমরকে ডাকতে লাগল। হজরত ওমর তখন ঘুমাচ্ছিলেন। তো মুয়াজ্জিন তাঁকে ডাকতে লাগলেন এবং বললেন আসসালাতু খাইরুম মিনান নাওম, নামায নিদ্রার থেকেও উত্তম। হজরত ওমরের এই বাক্যটি খুব ভালো লাগল এবং তার পর থেকে তিনি ভোরের আযানের সাথে এই বাক্যটি যুক্ত করার আদেশ দিলেন। এটা কি সত্যিই?
19 Jan 2026

ভোরের আযানে আসসালাতু খাইরুম মিনান নাওম বাক্যটি মহানবী (সা) এর আমলে ছিল। রাসূলুল্লাহ সা. নিজেই এটা শিক্ষা দিয়েছেন। একাধিক সাহাবী থেকে সহীহ সনদে এটি বর্ণিত। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ৫০০, ৫০১; সুনানু নাসাই, হাদীস নং ৬৪৭, সুনানু ইবনু মাজাহ, হাদীস নং ৭১৬। শায়খ শুয়াইব আরনাউত রহ., শায়খ আলবানী রহ.সহ সকল মুহাদ্দিস হাদীসটিগুলোকে সহীহ বলেছেন।

প্রশ্নঃ 2109
আসসালামু আলাইকুম, জুমাআর সলাত সম্পাদনের পর, যদি আমি মসজিদে চার রকাত সলাত আদায় করতে চাই তাহলে কি আমি এক সালামে চার রকাত সালাত আদায় করবো? না দুই রকাত সলাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে, আবার দুই রকাত পড়ব? বিস্তারিত জানাবেন ইনশাআল্লাহ।
19 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।এক সালামেও পড়তে পারেন আবার দুই সালামেও পড়তে পারেন। বাধা ধরা কোন নিয়ম নেই। তবে আমার মনে হয় এক সালামে পড়াই ভাল।

প্রশ্নঃ 2108
আসসালামু আলাইকুম, স্যার, নাভীর নিচের পশম কতখানি মুন্ডন করা কি এবং কতখানি করতে হবে? নাভীর নিচ থেকে শুরু করে দুইপায়ের রানের সাইড থেকে লজ্জাস্থান পর্যন্ত। নাকি কেবল মাত্র লজ্জাস্থান থেকে ডানে / বামে এবং এক/দুই ইঞ্চি উপর পর্যন্ত? সুন্নাহ মোতাবকে দলিল সহ জানালো উপকৃত হব।
19 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীসে শুধু আছে। পরিস্কার করতে হবে। বিস্তারিত নেই। তবে লজ্জাস্থান থেকে ডানে / বামে এবং এক/দুই ইঞ্চি উপর পর্যন্ত করলেই যথেষ্ট হবে বলে মনে হয়।

প্রশ্নঃ 2107
আসসালামুয়ালাইকুম, আল্লাহ আপনাদের এই মহান কাজের জন্য উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমার প্রশ্ন স্বামী-স্ত্রী জামাত করে সালাত আদায় করতে পারবে কিনা?
19 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। পুরুষরা মসজিদে সালাত আদায় করবে, এটাই নিয়ম। তবে এমনটি করতে চাইলে স্বামীর পিছনে স্ত্রীকে দাঁড়াতে হবে।

প্রশ্নঃ 2106
দুআর পরে মুখে হাত বোলানো কি বিদআত?
19 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। শায়েখ বিন বাজ রা. বলেছেন, দুয়ার পর চেহারাতে হাত বোলানো বা মাসেহ করা বিদআত নয়। তবে না করায় ভাল।ইবনে হাজার আসকালানী রহ.সহ অনেক আলেম এটাকে ভাল বলেছেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন:

প্রশ্নঃ 2105
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। ১। যোহরের ফরজ নামাজের আগে ৪ রাকাত সুন্নাত নামাজ পড়ার নিয়ত করে নামাজ পড়তেছি। ২ রাকাতের শেষের দিকে ফরজ নামাজের জন্য জামাত দাঁড়িয়ে গেছে। আমি ২ রাকাতেই সালাম ফিরিয়ে জামাতে অংশগ্রহণ করলাম। আমার প্রশ্ন হলো আমার সুন্নাত কি আদায় হবে বা এমন করা যাবে কি? ২। যোহর নামাজ পড়তে মসজিদে যেয়ে দেখি জামাতের সময় আর বেশি বাকি নাই। আমি সুন্নাত ৪ রাকাত পড়তে গেলে ফরয নামাজ ১ বা ২ রাকাত আমি পাবো না তবে আমি ২ রাকাত পড়তে পারবো ঐ সময়ের ভিতরে। এই সময় আমার কি করা উচিত? ২ রাকাত কি সুন্নাত পড়া যাবে কি অথবা তাহিয়াতুল মসজিদ পড়ব? ৩। ইমাম সাহেবের পিছনে নামাজের সময় যদি আমাদের কোন ওয়াজিব অংশে ভুল হয় (যেমন ২ রাকাত পরে কেউ যদি না বসে উঠে যাই বা আত্তাহিয়াতু পড়তে ভুল হলে বা সিজদা বা রুকু তে তাসবিহ পড়তে ভুল হলে বা যেকোনো ওয়জিব ভুল হলে) কিন্তু ইমাম সাহেব ঠিকভাবে নামাজ পড়িয়েছেন সেক্ষেত্রে আমাদের কি করণীয়? আমাদের কি পুনরায় নামায পড়তে হবে? ৪। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে কি আল্লাহ এর জিকির করা যাবে বা দরুদ শরীফ পড়া যাবে কি? রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মোবাইল এ হেডফোনের মাধ্যমে কুরআন শরীফ বাংলা অনুবাদসহ শুনা যাবে কি?
19 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১ ও ২। আপনি দুরাকাতেই সালাম ফিরিয়ে জামাতে অংশগ্রহন করবেন।হাদীসে আছে রাসূলুল্লাহ সা. যুহরের আগে দুরাকাতো অনেকসময় পড়েছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৩৭।সুতরাং সময় কম থাকলে আপনি দুরাকাতই আদায় করবেন। ৩। আপনার নামায পূর্ণ হয়ে যাবে। নতুন করে নামায পড়তে হবে না।

প্রশ্নঃ 2104
ফজরের সলাতে জামাত শুরু হয়ে গেলে কি সুন্নাতের নিয়ত করা যায়?
19 Jan 2026

এই বিষয়ে সাহাবীদের আমল দুই রকম। কেউ পড়েছেন। কেউ পড়ে পড়েছেন। অর্থাৎ অন্তত এক রাকআত পাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হলে পড়া যাবে বলে অনেকে বলেছেন। আবার অনেকে বলেছেন ঐ সময় না পড়ে সূর্য ওঠার পরে পড়বে। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে রাহে বেলায়াত দেখতে পারেন।

প্রশ্নঃ 2103
আসসালামু আলাইকুম ভাইজান আমি বগুড়া থেকে বলছিলাম, আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে,আমি বর্তমান এ ঢাকা তে একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এ অধ্যায়নরত,আমার কয়েকজন বন্ধু যদি ক্লাস এ না আসে ওরা ওদের রোল আমাকে প্রক্সি দিতে বলে, আমি জানতে চাচ্ছি যে এইটা কি ইসলামিক দৃষ্টিতে হারাম হবে?
19 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই কাজ তো মিথ্যা এবং ধোঁকার অন্তর্ভূক্ত। এটা অবশ্যই হারাম।

প্রশ্নঃ 2093
আসসালামূ আলাইকূম, ভাই আমার অনেক দেনা আছে। এই মুহূর্তে সব শোধ করতে পারছিনা। মহান আল্লাহর কাছে কিভাবে দোয়া করবো।
19 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, রাহে বেলায়াত গ্রন্থে অনেকগুলো ঋণ মু্ক্তির দুআ অছে। আপনি বইটি সংগ্রহ করে দুআগুলো শিখে নিন।

প্রশ্নঃ 2101
হযরত মুহাম্মদ (সা:) বলেছেন যে, যদি কেউ পিতা-মাতার অমতে বিবাহ করে তবে তার বিবাহ বাতিল। আমার প্রশ্ন হল – পিতা-মাতার অমতে বিবাহ কি কোনো ভাবে বৈধ করার উপায় আছে কি না? কুরআন ও সুন্নাহ আনুযায়ী জানাবেন দয়া করে। (তাছাড়া আমার বিবাহ হয়েছে ৪ বছর আামাদের কিছু দিন পর বাচ্চা হবে)
19 Jan 2026

উক্ত হাদীসটি মেয়েদের ক্ষেত্রে। বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া 51 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 2097
ফাজরের 'সলাতের পর সূরাহ ইয়াসিন ও মাগরিবের 'সলাতের পর সূরাতুল ওয়াক্বিয়াহ পাঠ সম্পর্কিত হাদীসগুলি কি গ্রহণযোগ্য?
19 Jan 2026

প্রতি রাতে সূরা ওক্বিয়াহ আমল করলে কি ধন সম্পদ বৃদ্ধি পায় এই অর্থের একটি হাদীস বর্ণিত আছে। তবে হাদিসটি যয়ীফ। হাদীসটি হলোمَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْوَاقِعَةِ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ لَمْ تُصِبْهُ فَاقَةٌ أَبَدًا যে ব্যক্তি প্রতি রাত্রে সূরা ওয়াকিয়া পড়বে, অভাব তাকে স্পর্শ করতে পারবে না। শুয়াবুল ইমান, হাদীস নং ২২৬৯। তবে হাদীসটি যয়ীফ। দেখুন, সিলাসিলাতুয যয়ীফা, হাদীস নং ২৮৯। অভাব মোচনের জন্য আপনি নিম্নের দুআ দুটি বিভিন্ন সময় পড়বেন। প্রথম দুআটি দু্ই সাজদার মাঝে পড়বেন। ১। اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى وَارْحَمْنِى وَاهْدِنِى وَعَافِنِى وَارْزُقْنِى সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭০২৫। رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ সূরা আল-বাকরা, আয়াত নং ২০১। 

ফজরের সালাতের পর সূরা ইয়াসিন পড়ার ফজিলতের কোন গ্রহনযোগ্য হাদীস নেই। কিছু দূর্বল হাদীসে আছে।  

প্রশ্নঃ 2096
আমার স্ত্রী নামাজ পড়ে না, পর্দা করে না। আমার কি পাপ হবে?
19 Jan 2026

জ্বী, আপনার পাপ হবে।  ভালো করার চেষ্টা করুন।   বিয়ের আগে এসব দেখে বিয়ে করতে হয়। বিয়ের পরে একবারে ভালো হবে না। ধীরে ধীরে চেষ্টা করুন। এক সময় ঠিক হয়ে যাবে। 

প্রশ্নঃ 2094
আমাদের দুই জনের মাঝে কথা কাটাকাটি হইতেছিলো মিথ্যা কথা বলা নিয়ে কয়েকদিন যাবত, আমি আজ বিকালে রাগে বলছি যে তুমি মিথ্যা বলবাই আমাকে,আমার তোমাকে দরকার নাই,তুমি নিজে তালাক দেও নাইলে আমারে অধিকার দাও, তখন সে আর কিছু বলে নাই । অনেকক্ষণ পরে আইসা আমাকে কল দিয়ে বলে (ঠিক এভাবেই) তোমাকে অধিকার দিলাম (তালাকের অধিকার বলে নাই), (বলে রাখি,আমরা যে যার বাবার বাসায় থাকি,তাই কলেই কথা হয় সব) পরে আমি কান্নাকটি করি আর তাঁকে বলি যে তুমি বললা কেন, তখন আবার সে বলে থাক সরি অধিরকার উঠায় নিলাম (সে তালাক শব্দ উচ্চারণ ও করে নাই,খালি অধিকার বলছে) তারপর আমি একটু রাগ করেই বললাম যে এইগুলা কি মজা করার জিনিস যে দিলা আবার উঠায় নিলা,তুমি কি চাইছিলা আমি আসলেই বলে দেই! তখন আবার সে বলে,(বল বল শুনি ) তখন আমি বলি যা আমি তোমার তালাক গ্রহণ করলাম।সাথে সাথেই সে বলে যে লাভ নাই আমি উঠায় নিছিলাম। রাতে পরে সে আরো ঘেটে বের করে যে মেবি তালাক হয়ে গেছে,পরে দুই জনই কান্নাকাটি, কারণ আমরা এমন চাই না, কোনো নিয়ত আমাদের নাই,আবার আমাদের বিয়ের সময় তালাকের কোনো শর্ত ও দেয়া নাই ।আমরা কাউকে বলিও নাই এইসব যে হইছে, কিন্তু একটু আগে আমি কান্না করতে করতে আমার আম্মুকে জানাইছি,তিনি বলল উনার এই বিষয়ে জানা নাই । এখন কি আসলেই তালাক হয়ে গেছে?? হয়ে গেলেই বা এখন আমরা কি করবো?? আমরা একসাথে থাকতে চাই, উত্তর দিন প্লিস
19 Jan 2026

আপনারা আপনাদের বিবাহের সব কাগজ নিয়ে স্বশরীরে দুজন কোন বিজ্ঞ আলেমের নিকট উপস্থিত হয়ে সমাধাণ জেনে নিন।

প্রশ্নঃ 2095
আসসালামু আলাইকুম। আমি সম্প্রতি একটি বিষয়ে চিন্তা করছি। আমাদের দেশে অনেক জায়গায় খুব কাছাকাছি একাধিক মসজিদ নির্মিত হয়েছে। লাউডস্পিকার সহজলভ্য হওয়ার কারণে অনেক সময় একসাথে খুব উচ্চস্বরে আজান সম্প্রচার করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে স্পিকার এমনভাবে স্থাপন করা হচ্ছে যে সেগুলো সরাসরি মানুষের বাসার জানালার দিকে মুখ করে থাকে। চারদিক থেকে একযোগে উচ্চ শব্দে আজান ভেসে এলে সেই বাসায় থাকা হৃদরোগী, স্ট্রোক-আক্রান্ত রোগী কিংবা আশপাশে অবস্থিত হাসপাতালের জরুরি রোগীদের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে, তা আমরা সহজেই অনুমান করতে পারি। এ বিষয়ে ইসলাম কী ধরনের দিকনির্দেশনা দেয় এবং এ সম্পর্কিত কোনো আইন বা বিধান আছে কি না—তা জানার আগ্রহ রয়েছে।
19 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আযানের কারণে এরকম সমস্যা হয় আগে শুনি নি।  গরম কালে ফ্যান চলার কারণে এরকম হওয়ার কোন সুযোগ নেই। শীতে বড় শহরগুলোর কোন কোন স্থানে হয়তো এমন হতে পারে। ছোট শহরে এমন হয় না। যদি সত্যিই এমন সমস্যা হয় তাহলে ঐ এলাকার সমসজিদ কমিটিগুলোর উচিৎ নিজেরা বসে মাইক কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। 

প্রশ্নঃ 2085
Ami Amar akjon friend er free fire game id lukaia Nia nisi akhon chaiteo ferot dite parchi NH o onek koshto paise akhon Ami ki korbo kisher maddhome Allahr khoma Pete pari
19 Jan 2026

প্রথম কথা হলো এই ধরণের কোন গেম খেলা যাবে না। এগুলো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এগুলো মানুষকে অস্বাভাবিক বানিয়ে অসামাজিকে রুপান্তিত করো।  দ্বিতীয়ত যা করছেন সে জন্য তার কাছে ক্ষমা চাইবেন।     

প্রশ্নঃ 2086
একজন হাফেজ ১০ মানুষকে জান্নাতে নিতে পারবে এটা কত টুকু সত্য ...?
19 Jan 2026

একজন কুরআনের হাফেজ ১০ জন লোককে জান্নাতে নিয়ে যাবেন এই কথাটি একটি হাদীসে উল্লেখ আছে। হাদীসটি হলো عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ وَاسْتَظْهَرَهُ فَأَحَلَّ حَلاَلَهُ وَحَرَّمَ حَرَامَهُ أَدْخَلَهُ اللَّهُ بِهِ الْجَنَّةَ وَشَفَّعَهُ فِي عَشَرَةٍ مِنْ أَهْلِ بَيْتِهِ كُلُّهُمْ وَجَبَتْ لَهُ النَّارُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَلَيْسَ إِسْنَادُهُ بِصَحِيحٍ . وَحَفْصُ بْنُ سُلَيْمَانَ يُضَعَّفُ فِي الْحَدِيثِ অর্থঃআলী ؓ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি কোরআন তেলওয়াত ও মুখস্থ রেখেছে এর হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম মেনেছে। তাকে আল্লাহ জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তার পরিবারের এমন দশজন লোক সম্পর্কে তার সুপারিশ কবুল করবেন যাদের প্রত্যেকের জন্য জাহান্নাম আবশ্যক ছিলো। সুনানু তিরমিযী হাদীস নং ২৯০৫। ইমাম তিরমিযী রহ. হাদীসটি সম্পর্কে বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ নয়। শায়খ আলবানী রহ. হাদীসটিকে অত্যন্ত যয়ীফ বলেছেন। তবে হাফেজদের মর্যঅদা সম্পর্কে দুটি সহীহ হাদীস নিচে দিয়ে দিলাম: نْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ الْمَاهِرُ بِالْقُرْآنِ مَعَ السَّفَرَةِ الْكِرَامِ الْبَرَرَةِ وَالَّذِي يَقْرَؤُهُ يَتَتَعْتَعُ فِيهِ وَهُوَ عَلَيْهِ شَاقٌّ لَهُ أَجْرَانِ اثْنَانِ অর্থঃ আয়েশা ؓ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, কুরআন মজিদে দক্ষ ব্যক্তি (আখেরাতে) সম্মানিত নেককার লিপিকার ফেরেশতাদের সাথে থাকবে। যে ব্যক্তি ঠেকে ঠেকে কষ্ট করে কুরআন পড়ে সে দুটি পুরষ্কার পাবে। সহীহ মুসলীম হাদীস নং ৭৯৮। حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، أَنْبَأَنَا شَيْبَانُ، عَنْ فِرَاسٍ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ إِذَا دَخَلَ الْجَنَّةَ اقْرَأْ وَاصْعَدْ . فَيَقْرَأُ وَيَصْعَدُ بِكُلِّ آيَةٍ دَرَجَةً حَتَّى يَقْرَأَ آخِرَ شَىْءٍ مَعَهُ অর্থঃআবু সাঈদ আল খুদরী ؓ থেকে বর্ণীত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, কোরআনের বাহককে জান্নাতে প্রবেশকালে বলা হবে, তুমি পাঠ করতে থাকো এবং উপরে আহরন করতে থাকো। অত:পর সে পড়তে থাকবে এবং প্রতিটি আয়াত পড়ার সাথে সাথে একটি স্তর অতিক্রম করবে। এভাবে সে তার জ্ঞাত শেষ আয়াতটি পর্যন্ত পড়বে। সুনানু ইবনু মাজাহ, হাদীস নং ৩৭৮০। শায়খ শুয়াইব আরনাউত রহ. এবং শায়েখ আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

প্রশ্নঃ 2026
আসসালামু আলাইকুম। একবার আমি মানত করি, আমি চাকরি অথবা ব্যাবসা যা ই করিনা কেনো মানতটি পূর্ণ হওয়ার পর থেকে আমি আগামী ৩ বছর আমি প্রতি মাসের ইনকাম থেকে ৫% দান করবো। আর পরবর্তী সারা জীবন ১% করে দান করবো। এখন আমার প্রশ্ন টাকাটা কি আমি প্রতি মাসেই দিতে হবে? নাকি কয়েক মাসের টাকা একসাথে করে যার প্রকৃত দরকার তাকে বেশি করে দান করলেও হবে? আবার যদি প্রতি মাসেই যদি দিতে হয়, তাহলে কয়েক মাস হয়ে গেলেও আমি ঐ উদ্দেশ্যে কোনো দান করিনি, এর জন্য কি করতে হবে?
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কয়েক মাস পর একসাথে দান করতে পারেন, সমস্যা নেই। প্রতি মাসের শেষে দান করা জরুরী নয়। তবে মাস শেষে দান করলে আপনার জন্য হিসাব রাখতে ভালো হবে এবং অনেক ক্ষেত্রে গরীব মানুষদের জন্যও কল্যানকর হবে। 

প্রশ্নঃ 2087
আসসালামু আলাইকুম। আমার বয়স ২৮ বছর। আমি সরকারি চাকরি করি। ২ বছর আগে বিয়ে করেছি। বর্তমানে আমি আমার বাবা মা, স্ত্রী, ভাই এক সাথে থাকি। আমার মামারা আমাদের পাশের বাসায় থাকে। আমার মা বিভিন্ন বিষয় এ মামা দের কথা কে প্রাধান্য দেয়। আমি কিংবা আমার বাবা একটা কথা মা কে বললে সে শুনবে না। অনেক ঝগড়া করেন। কিন্তু মামা রা সেই কথা বললে মা তাদের কথা মেনে নেই। মামারা আমাদের অনেক ভাবে ক্ষতি করেছে। এই ক্ষতির কথা নিয়ে মা কে আমরা সাবধান করতে গেলে সে ঝগড়া করেন। মামা রা আমাদের সাথে কোন খারাপ করলে সেটা মা কে আমরা জানাই। সেটা তেও উনি খেপে জান। আমাকে আর আমার বাবা কে অনেক গালি দেন। আমার এখন কি করা উচিত?
19 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার মা কেন এমন করছে সেটা বোধগম্য নয়। যদি ভাড়া বাসায় থাকেন তাহলে এই বাসা পাল্টে দূরে চলে যান, সমস্যা কিছুটা হলেও কমবে। আর আপনি আপনার মাকে একান্তে নরম করে এগুলো বুঝাবেন, আল্লাহর কাছে দুআ করবেন, ইনশাআল্লাহ সব ঠিক হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ 2092
আস সালামু আলাইকুম। প্রশ্নটা একটু বিস্তারিত, কারণ আমি চাই আপনি আমার অবস্থাটা বুঝুন। আমি আল্লাহর রহমতে হিদায়াত লাভ করি অনেক বছর আগে। যদিও মাদ্রাসায় পড়াশুনা করিনি, তবুও যথাসাধ্য চেষ্টা করি ইসলামের ইলম অনুসন্ধানের, ও সেই ইলমকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর, যাতে আমার আখিরাতটা সুন্দর হয়। সাথে সাথে আমার সহপাঠী, বন্ধু বান্ধবের অন্তরে ইসলামের নূর ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি; উদ্দেশ্য শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তষ্টি। কিন্তু মাঝে মাঝে খুব লজ্জিত ও ফাসিক মনে হয় নিজেকে। কারণ আমি আমার সহপাঠীদেরকে বিভিন্ন কঠিন গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে বারবার সতর্ক করি, সেই গুনাহগুলোতে মাঝে মাঝে নিজেও জড়িয়ে যাই। কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে নফসের ধোকায়, কখনো শয়তানের। তখন নিজের কাছেই মনে হয়, আমি বন্ধুদেরকে দাওয়াত দেই, কিন্তু নিজের পালন করি না। কতোটা পাপিষ্ঠ আমি! কী লাভ, যদি আমি অন্যদেরকে দাওয়াত দেই, আর নিজে পালন না করি। মাঝে মাঝে নির্জনে চোখের পানি ফেলি, আর রবের কাছে দুয়া করি, তিনি যেন আমার কালবকে পরিষ্কার করে দেন। কোনো গুনাহ করার পর খালিস অন্তরে তওবা করি। তওবায় কিছুদিন অটল থাকি। কিন্তু তারপর আবার যে কে সেই। নিজের কাছে মনে হয়, আমি একটা মুনাফিক। কারণ আমার কাজ দ্বারা নিফাকই পরিলক্ষিত হয়। বুক ফেটে কান্না আসে। সালাতে সিজদায় পড়ে থাকি, আর কান্না করি। রাতের বেলা আকাশের পানে চেয়ে আমার রবকে কল্পনা করি আর ভাবি, কিয়ামতের দিন এ গুনাহের ব্যাপারে কী জওয়াব দেব আমি। তবুও গুনাহ করে ফেলি। আপনারা আলেম মানুষ। আপনাদের কিছু মূল্যবান নাসিহাহ ইনশা আল্লাহ আমাকে উপকৃত করবে। কীভাবে আমি বিরত থাকবো পাপকাজ থেকে? আমার জন্য দুয়া করবেন। জাযাকাল্লাহু খাইরান।
19 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার অনুভূতি খুব ভাল। তবে গুনাহ থেকে বাঁচতে হলে আপনাকে আরো দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হতে হবে। মনকে শক্ত করতে হবে।সাথে দুআ তো করতেই হবে। ইনশাআল্লাহ আপনি গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারবেন। আমরা আল্লাহর কাছে দুআ করি আল্লাহ আপনাকে গুনাহমুক্ত জীবন দান করুন।

প্রশ্নঃ 2091
আমরা হানাফিরা সেভাবে সাহু সেজদা করি তার কি কোন সহিহ দলিল আছে? দলিলসহ জানালে উপকৃত হব।
19 Jan 2026

হাদীসে সাহু সাজদা দেওয়ার নিয়ম প্রধানত দুটি। ১. সালাম ফিরানোর পূর্বে। ২. সালাম ফিরানোর পরে। সালাম ফিরানোর পূর্বে সাহু সাজদা দিতে হয় সব কিছু পড়ে দুটি সাজদা দিয়ে তারপর সালাম ফিরানো। আর সালাম ফিরানোর পরে সাহু সাজদা দিলে কী কী পড়তে হবে হাদীসে তা স্পষ্ট নেই। তাই কিছুটা মতভেদ আছে। শেষ বৈঠকে তাশাহুদু পড়া ওয়াজিব আর দরুদ-দু;আ মাসুরা পড়া সুন্নাত তাই তাশাহুদুর পরে সালাম ফিরালেও সহীহ হবে। সুতরাং শুধু তাশাহুদু পড়ে সালাম ফিরালে কোন সমস্যা নেই। এখন বাকী থাকলো একদিকে সালাম ফিরাবে নাকি দুদিকে। স্বাভাবিক নিয়ম হলে সালাম ফিরানোর সময় দুদিকেই সালাম ফিরানো। হানাফী মাজহাবের অধিকাংশ কিতাবে সাহু সাজদা দেওয়ার সময় দুদিকে সালাম ফিরানোর কথাই বলা হয়েছে। তবে সালাতে এক দিকে সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করারও সহীহ হাদীস আছে। ইমাম শাফী রহ. বলেছেন, যার ইচ্ছা এক দিকে সালাম ফিরাবে আর যার ইচ্ছা দুদিকে সালাম ফিরাবে। সুতরাং একদিকে সালাম ফিরিয়ে সাহু সাজদা দিলেও জায়েজ হবে। তবে দুদিকে সালাম ফিরারোটাই ভাল মনে হয়। একদিকে সালাম ফিরানোর হাদীসিট নিম্নরুপ:عَنْ عَائِشَةَ, أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ كَانَ يُسَلِّمُ تَسْلِيمَةً وَاحِدَةً تِلْقَاءَ وَجْهِهِ. হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. একদিবে সালাম ফিরাতেন। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং২৯৬; সুনানু ইবনু মাজাহ, হাদীস নং৯১৯; সহীহ ইবনু খুজা্য়মা, হাদীস নং ৭৩০। শায়খ আলবানী রাহ. বলেছেন হাদীসটি সহীহ ওশায়খ শুয়ািইব আর নাউত রাহ. বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ (সহীহ ইবনে হিব্বান, ১৯৯৫ নং হাদীসের টিকা)। এবং অন্যান্য মুহাদ্দিসগণও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সুতরাং একদিকে সালাম ফিরানোর হাদীসটি যয়ীফ এটা ঠিক নয়। মোটকথা দুদিকে সালাম ফিরানোই ভাল তবে একদিকে সালাম ফিরালেও সালাত সহীহ হবে। আরো জানতে দেখুন, সুনানু তিরমিযী ২৯৬নং হাদীসে ইমাম তিরমিযী রাহ. এর আলোচনা।

প্রশ্নঃ 2090
রসুনের উপর যাকাত দেওয়া যাবে কি?
19 Jan 2026

ভাই, প্রশ্নটা এমন হলে ভাল হতো রসুনের উপর যাকাত দিতে হবে কি? উত্তর হলো ৫ ওসাক অর্থাৎ১৭ মন হলে যাকাত দিতে হবে।

প্রশ্নঃ 2089
আসসালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্ন হল–১-মসজিদের স্থায়ী ইমাম রমজান মাসে খতম পড়ানোর পর যে টাকা হাদিয়া হিসেবে নেয় সেটা কি জায়েজ হবে? অর্থাৎ খতম তারাবী পড়ে টাকা নেওয়া বা দেওয়া কি জায়েয হবে? ২-মসজিদের ইমাম যদি বাবার নাফরমানী করে বা অবাধ্য হয় তাহলে তার পিছনে কি নামাজ হবে?
19 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১। বিষয়টি নিয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ আছে। অনেকেই জায়েজ বলেছেন আবার অনেকেই না জায়েজ বলেছেন। না জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট কোন দলীল নেই। ২। নামায হবে তবে তাকে বাদ দেয়া মসজিদ কমিটির জন্য আবশ্যক।

প্রশ্নঃ 2088
আসসালামুয়া্লাইকুম, আমি যখন রাস্তায় থাকি বা কাজ শেষে বাসে থাকি, মাঝপথে মাগরিব এর আযান দেয়।বাসায় যাওয়ার পর নামাজের সময় থাকে না। ১। বাসে কীভাবে তাইমুম করে নামাজ পড়ব, জানাবেন। ২। বাসে তাইমুম করে নামাজ পড়ার পর, কি আবার ঘরে যাওয়ার পর কাজা নামাজ পরতে হয়?
19 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মাগরিবের নামাযের সময় ১ঘন্টার মত থাকে সুতরাং আপনি যদি এই সময়ের মধ্যে বাসায় যান তাহলে বাসায় এসে পড়বেন। আরেকটি বিষয় হলো আপনার যদি মাঝে মধ্যে এমন হয় তাহলে আপনি রাস্তায় বাস থেকে নেমে মাগরিব পড়ে নিবেন। তবে যদি দীর্ঘ ভ্রমন হয় তখন যাত্রার সময় বাস মাঝে বিরতি দেয়। চেষ্টা করবেন তখন নামায পড়ার জন্য। । মাগরিব শেষ ওয়াক্তে ইশার আগে পড়তে পারেন। কোন ভাবেই যদি বাসের ভিতরে ছাড়া নামায আদায় সম্ভব না হয়। তাহলে যতটা সম্ভবি ক্বিবলামুখি হয়ে সাজদা দিয়ে নামায আদায়ের চেষ্টা করবেন। ইশারা ছাড়া অন্য কোন উপায় যদি না থাকে তাহলে ইশারায় করতে পারবেন। ইশারায় নামায আদায় করলে পূণরায় পড়তে হবে বলে আলেমগণ বলেছেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন:

প্রশ্নঃ 2083
স্যার অনুগ্রহ পূর্বক জানাবেন কি যে, আমাদের দেশে যে সব বাংলা তাফসীর পাওয়া যায় সেগুলো পড়তে কি ওযু অথবা তায়াম্মুম করার প্রয়োজন আছে কি?
18 Jan 2026

প্রতিটি তাফসীরের ভিতরেই যেহেতু কুরআনের আয়াত থাকে তাই ওযু করে নেওয়াটাই ভাল, যাতে আয়াতের গায়ে ওযু ছাড়া হাত না লাগে।

প্রশ্নঃ 2082
১. গত বছর আমার বাবা মারা গেছেন, বাবার জন্য আমরা কি আমল করবো? যেন আমার বাবা বেশি বেশি সওয়াব পায়? ২. আমার বাবার নামে কি কোন Trust খুলতে পারব?
18 Jan 2026

আপনি আপনার পিতার জন্য সর্বাবস্থায় দুআ করবেন। দ্বিতীয়ত তার জন্য দান-সদকা করবেন। আপনি তার উদ্দেশ্যে ট্রাস্ট বানাতে পারেন। তবে সেটা যেন হয় জনকল্যানমূলক এবং ইসলামবিরোধী কাজ সেখানে না হয়।

প্রশ্নঃ 2081
আসসালামু আলাইকুম, আমি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। আমি চলাফেরা করতে পারিনা। স্পাইনাল কর্ড সমস্যা। আর আমার পায়খানা কন্ট্রোল এ নেই। প্রসাবে ক্যাথেটার লাগানো আছে। এই অবস্থায় আমি কিভাবে নামাজ আদায় করব? আমি বসতে পারি কিন্ত নামাজের অবস্থায় বসতে পারিনা। তবে পায়ের রানের নিচে পা রেখে বসতে পারি। আর পায়খানা যেহেতু কন্ট্রোল এ নেই তাই একটু পর পর বায়ু বের হয়। আমার এই অবস্থায় নামাজ পরার সহজ মাসলা জানতে চাই।
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাকে পূর্ণ সুস্থ করে দিন। আপনার জন্য মাসআলা হলো আপনি নামাযের পূর্বে ওযু করে নিবেন তারপর যেভাবে আপনার জন্য সুবিধা হয় সেভাবে নামায পড়বেন। রুকু সাজদা বসে দিবেন যেভাবে সম্ভব হয়। প্রয়োজনে েইশারাতে দিবেন। মোট কথা আপনার সুবিধা অনুযায়ী আপনি নামায পড়বেন।

প্রশ্নঃ 2080
আসসালামুয়ালাইকুম। আমার একজন ভাগিনা আছে তাকে আলেম বানাতে চাঁই, এখন এই ভাগিনাকে কোন মাদরাসাতে ভরতি করাবো?
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। পড়াশোনা ভাল হয় এমন প্রতিষ্ঠিত কোন মাদ্রাসায় ভর্তি করে দিন। আমাদের এখানেও (ঝিনাইদহে) ভর্তি করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 2079
সালাম দেওার সময় কি হাত তুলতে হয়?
18 Jan 2026

না, সালাম দেয়ার সময় হাত তুলতে হয় না।

প্রশ্নঃ 2078
রাসুলের আগমনের পূর্বে সবায় কোন ধর্মের অনুসারি ছিলেন?
18 Jan 2026

রাসূলের আগমনের পূর্বে মানুষ কোন নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারী ছিল না। বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষেরা ভিন্ন ভিন্ন দেব-দেবীর পূজা করত। তবে খুব অল্প সংখ্যক মানুষ তাওহীদের অনুসারী ছিল বলে মনে করা হয়।

প্রশ্নঃ 2077
আসসালামুয়ালাইকুম। আমাদের ধর্মে বৈশাখী মেলায় যািওয়া হারাম, তেমনি কি বই মেলা, বিজ্ঞান মেলা,বানিজ্য মেলাতে যাওয়াও হারাম হবে?
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, বই মেলা, বিজ্ঞান মেলা বা এ জাতীয় মেলাতে যেতে সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 2076
আমার বাড়ি গাজীপুর। থাকি ময়মনসিংহ। বোনের বাসা উত্তরা। গাজীপুর থেকে ময়মনসিংহ ৯০কি.মি। গাজীপুর থেকে উত্তরা ২০-২৫কি.মি। আমি যদি ময়মনসিংহ থেকে সরাসরি উত্তরা(বোনের বাসা)যাই এবং ৫-৭দিন থাকি, তাহলে বোনের বাসায় কি সালাত কসর করতে হবে?
18 Jan 2026

হ্যাঁ, কাজা করতে হবে।

প্রশ্নঃ 2075
আস সালামু আলাইকুম। একবার আমি ওযু করে তারপর একটু শুয়েছি। শোয়ার পর চোখ বন্ধ হয়ে এসেছিল দুই কি তিন মিনিটের জন্য। সাথে সাথে উঠে আমি সেই ওযুতেই সালাত আদায় করি। এখন আমি বুঝতে পারছি না, সেটা কি নিদ্রা ছিল, নাকি তন্দ্রা। সন্দেহে ভুগছি। নিদ্রা হলে তো আমার ওযু ভঙ্গ হয়ে গিয়েছে। তাহলে সালাতও আদায় হবে না। এখন আমার কী করা উচিত? কাযা করবো, নাকি তন্দ্রা ধরে নিয়ে সন্দেহ দূর করে দিব?
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এমন সন্দেহ হলো কাযা করাই ভাল বলে মনে হয়।

প্রশ্নঃ 2074
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমাদের সমাজে একটি কথা প্রচলিত আছে যে, জান্নাতে যেতে হলে পুল সিরাত নামক একটি পুল বা ব্রিজ পার হয়ে সেখানে পৌছতে হবে। এ বিষয়ে কোরাণ বা হাদিস ভিত্তিক কোন দলিল আছে কি? দয়া করে জানাবেন। মা আসসালাম
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সাালাম। কিয়ামতের দিন জাহান্নামের উপর একটি ব্রীজ থাকবে যা পার হয়ে মানুষকে জান্নাত যেতে হবে। এটা বহু সহীহ হাদীসে প্রমাণিত এবং মুসলিম উম্মাহ এই বিষয়ে একমত। যেসব হাদীসে এই বিষেয়ে বর্ণিত আছে তার কয়েকটির তথ্যসূত্র হলো, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৫৭৩, ৭৪৩৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩২৯; সুনানু ইবনু মাজাহ, হাদীস নং ৪২৮০।

প্রশ্নঃ 2073
খোরগোসের গোস্ত খাওয়া কি জায়েয?
18 Jan 2026

খরগোশের গোশত খাওয়া জায়েজ।

প্রশ্নঃ 2072
আসসালামু আলাইকুম। প্রথমেই বলে নিই আপনাদের প্রশ্নোত্তর গুলো থেকে দারুণ উপকৃত হচ্ছি । আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন, সকল নেক প্রচেষ্টাসমূহ কবুল করুন এবং অব্যাহত রাখার তাওফিক দান করুন । আমার আজকের প্রশ্ন ফটোগ্রাফী নিয়ে। ১/ ফটোগ্রাফী এক কথায় কি? হারাম, হালাল না মাকরুহ? ২/ ফটোগ্রাফী কখন হালাল কখন হারাম? আমি জেনেছি একেবারে অতি প্রয়োজনীয় বিষয়াবলীতে যেমন পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র ইত্যাদিতে ছবি ব্যবহার করা যাবে। সেক্ষেত্রে ছবি তোলার মূল হুকুম টা কি হালাল? নাকি এটা একটা হারাম বিষয় যেখানে অতি প্রয়োজনীয়তার খাতিরে অপারগ হয়ে আমরা ছবি তোলার কাজটা করছি? ৩/ সোশ্যাল মিডিয়ায় যেমন ফেসবুকে, ইন্সটাগ্রামে ছেলেদের ছবি দেওয়াটাও হারাম হবে কি না? ৪/ অনেক ফটোগ্রাফার আছেন পোর্ট্রেইট ছবি তোলেন । পেশার খাতিরে কিংবা শখে । এসকল ছবিতে মানুষও থাকে পশু-পাখি-প্রাণীও থাকে । এ ধরনের ছবির ব্যাপারে হুকুম কি? ধরুন একজন শখের স্ট্রিট ফটোগ্রাফার । তার একটা ছবির যদি বর্ণনা দেয়া হয় সেখানে একজন রিকশাওয়ালা, একটা কুকুর, কিছু পথচারী, আকাশে একটা পাখিসহ আরো নানাবিধ প্রাণহীন উপাদান আছে । সেক্ষেত্রে এই ছবিটা হারাম না হালাল? ৫/ যদি হারাম হয় মানুষকে বলার বা বুঝানোর ক্ষেত্রে কি বলা উচিত? রেফারেন্স হিসেবে কোন হাদীসগুলি আসা উচিত? উল্লেখ্য ছবি আঁকা বিষয়ক হাদীসগুলির বিধান ছবি তোলার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য কি না? ছবির তোলার ব্যাপারে শেষ কথা কি? আলেমগণ যেহেতু এ ব্যাপারে মতভেদ করেছেন, সাধারণ মানুষ হিসেবে দুটি মতের কোনটি মানবো এ ব্যাপারে পেরেশানীতে আছি । প্রয়োজনের বাইরে ক্যামেরায় তোলা প্রাণযুক্ত ছবির হুবুহু প্রতিবিম্ব হারাম, এ ব্যাপারটিতে সর্বসম্মতভাবে কোনো ঐক্যমত্য আছে কি না?
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমরা আপনাদের উপকার করতে পারছি জেনে আল্লহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করছি। ১। এক কথায় বলা সম্ভব নয়। ২। একেবারে অতি প্রয়োজনীয় বিষয়াবলীতে যেমন পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র ইত্যাদিতে ছবির প্রয়োজন হলে সেটা হারাম হবে না অর্থাৎ গুনাহ হবে না।৩। যে ছবি বিনা প্রয়োজনে প্রিন্ট করা হয় সেটা হারাম তবে প্রিন্ট করার আগ পর্যন্ত ক্যামেরাতে থাকলে সেটা অধিকাংশ আলেমের মতে হারাম নয় বরং সেটা আয়নার মধ্যে দেখা যাওয়া ছবির মত। সুতরাং সোশ্যাল মিডিয়াতে থাকা ছবি হারাম নয় বলেই অধিকাংশ আলেমের অভিমত। ৪। বিনা প্রয়োজনে প্রিন্ট করতে পারবে না। তবে মোবাইল বা ক্যামেরার মধ্য থাকলে অসুবিধা হবে না। ৫। ছবি আকা আর ছবি তুলে প্রিন্ট করার হুকুম একই। সর্বাবস্থায় মনে রাখতে হবে অপ্রয়োজনে ছবি তোলা একটি অনর্থক কাজে। সুতরাং প্রিন্ট না দিলেও এই বাজে কাজ থেকে প্রতিটি মূমিনের বিরত থাকা উচিত।

প্রশ্নঃ 2071
শিরকে আকবারের ক্ষেত্রে অজ্ঞতা বা Ignorance থাকলে সেটা কি ইরতিদাদ হিসেবে গণ্য হবে? যেমন অনেকে কবরপুজা,পীরপুজা, পীরের কাছে জান্নাত চাওয়া ইত্যাদির শিরক হবার ব্যাপারে যদি শিরককারী অজ্ঞ থাকে, তাহলে সেটা ইরতিদাদ হবে কিনা? তাদেরকে এটা যে শিরক, সে সম্পর্কে অবহিত করার পরও যদি তারা শিরকে লিপ্ত থাকে, তাহলে কি এ অবস্থাকেও অজ্ঞতা বলা যাবে? নাকি সেটা চূড়ান্ত ধর্মত্যাগ বলে গণ্য হবে?
18 Jan 2026

না, চুড়ান্ত ধম্যতাগ তো নয়ই আদৌ ধর্মত্যাগই বলা যাবে না। তবে তারা শিরক নাম বড় গোনাহতে লিপ্ত এটা ঠিক। তাদেরকে ভালভাবে বুঝাতে হবে। বিচার আল্লাহর কাছে।

প্রশ্নঃ 2070
আসসালামু আলাইকুম ! বয়স্ক পুরুষ, মহিলা ও শিশু-কিশোরদের কুরআন ও দীন শিক্ষা-এই বেপারে বিস্তারিত একটু জানাবেন কি? আমি কুরআন সুর করে শিখতে চাই ও হাফেজ হতে চাই ইনশাল্লাহ
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার প্রশ্নটি অস্পষ্ট, আপনি ঠিক কী জানতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। তবে মনে হচ্ছে আপনি কীভাবে এখন হাফেজ হতে পারেন তার উপায় জানতে চেয়েছেন। বয়স্ক মহিলাদের কোন মাদ্রাসা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে বলে আমার জানা নেই। আপনি যেখানে থাকেন সেখানে কোন হাফেজা শিক্ষিকার মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে কুরআন সুন্দর করে শিখতে পারেন এবং হাফেজ হতে পারেন।

প্রশ্নঃ 2069
গাযওয়া ই হিন্দ এই নামে কি কোনো হাদীস আছে, অনুগ্রহ করে জানাবেন।
18 Jan 2026

গাযওয়া হিন্দের বিষয়ে কয়েকটি হাদীস বর্ণিত আছে। তার ভিতর একটি হলো: সাওবান রা. বলেন, قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : عصابتان من أمتي أحرزهما الله من النار عصابة تغزو الهند وعصابة تكون مع عيسى بن مريم عليهما السلام রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, আমার উম্মাতের দুটি দলকে আল্লাহ তায়ালা জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবেন। একটি দল হলেঅ যারা হিন্দুস্থানের গাওয়াতে অংশগ্রহণ করবেন আর অপর দল হলো যারা ইসা. আ. এর সাথে থাকবেন। সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ৩১৭৫; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২২৪৪৯। শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহী বলেলেছন আর শায়খ শুয়াইবর আর নাউত হাসান বলেছেন। এছাড়া আবু হুরাইরা রা. থেকে আরো কয়েকটি হাদীস বর্ণিত আছে। তবে সেগুলোর সনদে দূর্বলতা আছে।

প্রশ্নঃ 2068
১/ আসসালামু আলাইকুম। আমার সার্টিফিকেটে জন্ম তারিখ প্রায় দুই বছর কমানো। এস এস সি বা জন্মসনদপত্র তৈরির সময়(সঠিক সময়টা মনে নাই) আমি জানতে পারি সবাই নাকি বয়স কমিয়ে দেয়। তখন ইসলামের অনুশাসনের মধ্যে সবকিছু ভাবা এবং আমল করার কথা চিন্তা করতে শিখি নাই। তো প্রচলিত নিয়ম মোতাবেক বয়স কমিয়ে দিয়েছি। এখন আমার অনার্স শেষ। কর্মজীবনে ঢোকার সময়। সমস্ত সার্টিফেকেটে সেই কমবয়েস-ই দেয়া আছে। এখন এতবড় মিথ্যা যেটা কি না আমি অনেক পরে এসে উপলব্ধি করতে পারলাম তার বিধান কি হবে? আমি কি সমস্ত সার্টিফিকেট পরিবর্তনের আবেদন করব? উল্লেখ্য আমার জন্ম সনদপত্রেও সেই কমানো জন্মতারিখ-ই দেয়া আছে । সমস্ত কিছু পরিবর্তন করতে গেলে একেবারে জন্মসনদপত্র থেকে শুরু করতে হবে। আমার কি করা উচিত?
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, উত্তর তো আপনার কাছেই আছে। আমরা মিথ্যার সাথে নেই।

প্রশ্নঃ 2067
মহিলারা ঋতুস্রাব অবস্থায় কুরআনের মর্মবানী অর্থাৎ তরজমা, যেখানে আরবীতে কোন কালাম নেই তা স্পর্শ ও পড়তে পারবে কিনা এবং হাদীসও কিনা? আর কুরআন পড়ার এ অবস্থায় কী বিধান?
18 Jan 2026

ঋতুস্রাব অবস্থায় কুরআন তেলাওয়াতের বিষয়ে অধিকাংশ আলেমের মত হলো এই অবস্থায় কুরআন পড়তে পারবে না। তবে তরজামা পড়তে এবং হাদীস পড়তে বা ধরতে কোন সমস্যা নেই। এই বিষয়ে ইমাম তিরমিযী রহ. বলেন, وهو قول أكثر أهل العلم من أصحاب النبي صلى الله عليه و سلم والتابعين ومن بعدهم مثل سفيان [ الثوري ] و ابن المبارك و الشافعي و أحمد و إسحق قالوا لا تقرأ الحائض [ ولا ] الجنب من القرآن شيئا وإلا طرف الآية والحرف ونحو ذلك ورخصوا للجنب والحائض في التسبيح والتهليل অধিকাংশ সাহাবী, তাবেই এবং পরবর্তী অধিকাংশ আলেম যাদের মধ্যে রয়েছেন সুফিয়ান সাউরী, ইবনুল মুবারক, শাফেয়ী, আহমাদ,ইসহাক রা., তাদের মত হলো ঋতুস্রাবী মহিলা এবং গোসল ফরজ এমন ব্যক্তি কুরআন পড়তে পারবে না তবে আয়াতের কোন অংশ বা হরফ পড়তে পারবে। তবে তাসীবহ তাহলীল এর উদ্দেশ্যে কুরআনের কোন আয়াত পড়তে পারবে।সুনানু তিরমিযী হাদীস নং ১৩১ এর আলোচনা। কোন কোন আলেম বলেছেন, ঋতুস্রাব চলাকালীন কুরআন পড়তে পারবে। আর বিষয়ে বর্ণিত একমাত্র হাদীসটি সনদগতভাব দূর্বল।

প্রশ্নঃ 2066
Asslamualaikum, Muhtaram sheikher rahe belaet kitabe ekta hadis porlam muajjin azane ja bole hubahu ta bolar por dorud pora tarpor osilar doa pora . Amr proso hocche amra ki namaze j dorud pori tai porbo? abr onkek k dekhi azaner sese kalema pore kalema porar por amra nobijir nam near pore (sa), boli seta bole osilar doa pore .ekhetre sahabider sunnot jante cai?
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, নামাযের মধ্যকার দরুদ এই সময়ে পড়তে পারেন। রাহে বেলায়াত অনুযায়ী আমল করুন, এটা নিরাপদ হবে।

প্রশ্নঃ 2065
As Salamu alaikum, Muhtaram, I would like to buy these books written by Dr. Abdullah Jahangir Sir, Request you to help me locate where is available. Pls send me the cell no Ma-As salam, Md. Al Amin, 01920606044
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি এই নাম্বারে ফোন করে বিস্তারিত জেনে নিন। 01730 74 70 01

প্রশ্নঃ 2064
বিসমিল্লাহি ফি সাবিলিল্লাহ আলা মিল্লাতি রসিূলিল্লাহ — এটা নাকি জান্নাতের দুআ—অনেকে ফেসবুকে এরকম কথা লিখে থাকে— আসলেই এটা জান্নাতের দুয়া নাকি?
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, এমন কোন দুআ আছে বলে আমাদের জানা নেই। তাছাড়া এই দুআর অর্থও অন্য কোন দুআর সাথে মিলে না।

প্রশ্নঃ 2063
আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন। একটি বিষয়ে জানতে চাচ্ছি। 15 বছর বয়সে একটি মেয়ের বিয়ের পর বাচ্চা নিতে চাইলে এইটা কি ঠীক হবে। এবয়সে তার বাচ্চা নেওয়া কি যুকিপূর্ণ? যদি যুকিপূর্ণ হয় তাহলে কি কোন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারবে ইসলাম কি অনুমতি দেয়। যেহেতু জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি হারাম
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আলহামদুল্লিাহ। ভাই, ঝুকিপূর্ণ কিনা সেটা বুঝতে পারবে তার নিকট আত্নীয়গণ কিংবা কোন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। তবে আমাদের দেশে বর্তমানে এই বয়সে গর্ভবর্তী হওয়া অনেক সময় ঝুঁকির কারণ হয়। ঝুঁকিপূর্ণ হলে অস্থায়ী যে কোন জন্ম নিয়ন্ত্রন পদ্ধতি গ্রহন করতে পারবে, সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 2062
আস-সালামু আলাইকুম। ভাইয়া হুন্ডি ব্যবসা কি জায়েয নাকি না জায়েয জানালে উপকৃত হবে অনেকে দীনি ভাই জায়েয বলেন বিস্তারিত জানতে চাই?
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমরা যতদূর জানতে পেরেছে হুন্ডি হলো সরকারী ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে অর্থ লেনদেনের একটি ব্যবস্থা। সরকারকে ফাঁকি দেয়ার কারণে এটা জায়েজ হবে না।

প্রশ্নঃ 2061
আস সালামু আলাইকুম ঢাকার তাওহীদ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত সহীহ দুআ ঝাড়ফুঁক ও যিকর বইটির তেত্রিশ পৃষ্ঠায় ক্রমিক নং ৭-এ একটি যিকর উল্লেখ করে রেফারেন্স হিসেবে তাবারানী ও সহীহুল জামে ২৬১৫ নং দেওয়া আছে। যিকরটি নিম্নরূপঃ আলহামদু লিল্লাহি আদাদা মা খলাক, আলহামদু লিল্লাহি মিল আ মা খলাক, আলহামদু লিল্লাহি আদাদা মা ফিস সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরজ, আলহামদু লিল্লাহি আদাদা মা আহসা কিতাবুহ, ওয়াল হামদু লিল্লাহি আলা মিল ই মা আহসা কিতাবুহ, ওয়াল হামদু লিল্লাহি আদাদা কুল্লি শাই, ওয়াল হামদু লিল্লাহি মিল আ কুল্লি শাই। সুবহানাল্লাহি আদাদা মা খলাক, সুবহানাল্লাহি মিল আ মা খলাক, সুবহানাল্লাহি আদাদা মা ফিস সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরজ, সুবহানাল্লাহি আদাদা মা আহসা কিতাবুহ, ওয়া সুবহানাল্লাহি আলা মিল ই মা আহসা কিতাবুহ, ওয়া সুবহানাল্লাহি আদাদা কুল্লি শাই, ওয়া সুবহানাল্লাহি মিল আ কুল্লি শাই। জানতে চাইছি যে এটি সহীহ কি না। এ রকমের আর একটি যিকর আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত রাহে বেলায়াত ও রাসুলুল্লাহর (সাঃ) যিকর-ওযীফা বইটির ৯১ পৃষ্ঠায় যিকর নং ১১ তে আছে। তবে যিকরটির কিছু শব্দে আছে ভিন্নতা। আরও একটি যিকর যার ভাষা নিম্নরূপঃ সুবহানাল্লাহি আদাদা মা খলাকা ফিস সামা, ওয়া সুবহানাল্লাহি আদাদা মা খলাকা ফিল আরজ, ওয়া সুবহানাল্লাহি আদাদা মা বাইনা যালিক, ওয়া সুবহানাল্লাহি আদাদা মা হুয়া খলিক। তারপর আল্লাহু আকবর যোগ করে, তারপর আল হামদু লিল্লাহ যোগ করে, তারপর লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ যোগ করে এবং তারপর লা হাওলা ওয়া লা কুও ওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ যোগ করে বাক্যগুলো পাঠ করতে হবে। এই যিকরটির বিবরণ অনেক কিতাবে আছে। এই যিকরটির তাহকীক করা হয়েছে। যিকরটি আমার খুব পছন্দের। কিন্তু তাহকীক রিয়াদুস সালেহীনে মুহাদ্দিস আলবানির মন্তব্যটা বুঝতে পারলাম না। কিতাবটির ১৪৪৯ অথবা ১৪৫০ নং হাদিসে যিকরটি পাওয়া যায়। আলবানি বলেছেন যে হাদিসটির মূল অংশ সহীহ। মূল অংশ বলতে কী বুঝাতে চেয়েছেন? বিস্তারিত জানালে খুশি হবো। আস সালামু আলাইকুম।
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আবু উমামা রা. থেকে এই জিকিরটি শব্দের একটু কম বেশী করে অনেক কিতাবে উল্লেখ আছে। হাদীসটি সহীহ। আপনি যে কোন একটি কিতাব থেকে জিকিরটি মুখস্থ করে পড়তে পারেন। আলবানী রহি. এর তাহকীককৃত রিয়াদুস সালেহীন আমাদের কাছে নেই, তবে তিনি বিভিন্ন কিতাবে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

প্রশ্নঃ 2060
আসসালামু আলাইকুম স্যার, আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। আজকে আপনার একটি ভিডিও ক্লিপ থেকে জানতে পারলাম জনৈক এক লোক ডেভেলপারকে জমির দলিল দিয়ে পেরশানিতে ছিল পরবর্তিতে সে আপনার দেয়া কিছু সহিহ আমল করার কিছুদিনের মধ্যেই দলিল ফেরত পায়। আমিও এরকম একটি সমস্যার মধ্যে আছি। আমার চাচা তার সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করেও সে দখলদারিত্ব ছাড়েনি। উপরন্তু সে আমাদের সম্পত্তি জোড়পূর্বক দখল করে উল্টো আমাদেরকেই বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমরা এখনও মামলা করিনি। মামলা না করে যদি কোন আমলের দ্বারা ফল পাওয়া যায় সেজন্য আপনার কাছে এ ব্যাপারে দিকনির্দেশনা চাই। দয়া করে এমন আমল থাকলে আমাকে দিয়ে উপকৃত করবেন। আপনার শুভাকাঙ্খি। মোহাম্মদ মুজিবুল হক।
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপিনি সম্ভবত এখনো জানেন না যে, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার মারা গেছেন। তাই এই ভাষায় প্রশ্ন করেছেন। আমরা নিশ্চিত জানি না যে, তিনি কোন দুআগুলো লিখে দিয়েছিলেন, তবে মনে করি যে, রাহে বেলায়াত গ্রন্থে বিপদাপদ থেকে উদ্ধারের যে দুআগুলো আছে সেগুলো তিনি লিখে দিয়েছিলেন। আপনি রাহে বেলায়াত থেকে ঐ দুআগুলো পড়ুন। সূচিপত্র দেখলেই বুঝতে পারবেন।

প্রশ্নঃ 2059
ইসলামও এক, কিন্তু দল মতের তো অভাব নাই। আমরা সাধারণ মানুষ কি করবো।
18 Jan 2026

জীবনের সকল ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর বিধান মেনে চলুন। যারা ইসলামকে ভালবাসে তাদেরকে ভালবাসুন। তবে মনে রাখবেন ভুল মানুষের হবে এটাই স্বাভাবিক।

প্রশ্নঃ 2058
আস্সামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। Washing machine নাপাক কাপড় ধুইলে কাপড় কি পাক হয়?
18 Jan 2026

হ্যাঁ, হয়।

প্রশ্নঃ 2057
তাহাজ্জুদ এর নামাজ আদায়ের সুন্নতি নিয়ম জানতে চাই। এবং কখন আদায় উত্তম?
18 Jan 2026

তাহাজ্জুদ নামাযের স্পেশাল কোন নিয়ম নেই। অন্যান্য সুন্নাত নামাযের মত ঘুম থেকে উঠে মধ্য বা শেষ রাতে আদায় করবেন।

প্রশ্নঃ 2056
প্রশ্ন-একটি হাদীসে আছে রাসূল (স:) এর উম্মতের হায়াত ১০০০ বসর। অন্য একটি হাদীসের ইঙ্গিত ১৫০০ বসর। এর মধ্যে ১৪৫১ বসর পার হয়েছে আর সামনে আছে ৪৯ বসর এই হাদীসের আলোকে বুঝা যায় লাসূল (স:) এর উম্মত আগামী ৫০ বসরের মধ্যে সব মারা য়াবে। এব্যপারে আপনাদের মতামত বিস্তারতি জানতে চাই। ১ম হাদীসটি আছে দালায়ালে নবুয়াহ এর মধ্যে ২য় হাদীসটি আছে মুসনাদে আহমাদে মধ্যে।
18 Jan 2026

হাদীসগুলোর আরবী পাঠ লিখে পাঠালে আমাদের জন্য উত্তর দেয়া সহজ হবে। এই ধরণের হাদীস সাধারণত বানোয়াট হয়।

প্রশ্নঃ 2055
আচ্ছালামু আলাইকুম,কেউ যদি ফরজ রোযার কাজা রাখে আর স্ত্রী সহবাসের কারণে তা ভেংগে গেলে তাতে কি গুনাহ হবে আর তার জন্য কি কাফফারা দিতে হবে? উল্লেখ্য আমি বিগত অনেক আগের রোযা গুলা লিস্ট করে কাজা রাখার চেষ্টা করছি।
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রামাজানের কাজা রোজা সহাবাসের মাধ্যমে ভেঙে ফেললে শুধু কাজা করতে হবে কাফফারা দিতে হবে না। এই বিষয়ে ইমাম নববী রহি. বলেন, لو جامع في صوم غير رمضان من قضاء أو نذر أو غيرهما فلا كفارة وبه قال الجمهور وقال قتادة تجب الكفارة في إفساد قضاء رمضان কেউ যদি রমাজানের বাইরে রমাজানের কাজা রোজা, মান্নাতের রোজা কিংবা অন্য কোন রোজা রেখে ভেঙে ফেলে তাহলে অধিকাংশ আলেমের মতে কাফফারা দিতে হবে না। কাতাদাহ রহি. বলেছেন, রমাজানের কাজা রোজা ভাঙলে কাফফারা ওয়াজিব। আলমাজমু শারফিল মুহাজ্জাব, ৬/৩৪৫।

প্রশ্নঃ 2054
সম্প্রতি অনলাইনে দেখলাম, কিছু কুচরিত্রের মুরগী ব্যপারীরা মরা মুরগি জবাই করে বিভিন্ন হোটেলে চালান দেয়। আমার প্রশ্ন, যেহেতু আমাদের জানার উপায় নেই হোটেলের মুরগী বা যেকোনো প্রাণির মাংস হালাল কিনা, বা আল্লাহর নামে জবাই হয়েছে কিনা; তাহলে এগুলো খাওয়ার ব্যাপারে মাসালা জানতে চাই। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুক।
18 Jan 2026

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আমরা মনে করবো হোটেলের মুরগীগুলো হালাল। তবে আপনি নিশ্চিত হন, যে মুরগী গুলো মরা তাহলে আপনি এগুলো খেতে পারবেন না।

প্রশ্নঃ 2053
কেউ যদি ফজরের নামায আদায়ের পর টের পায় যে তার কাপরে নাপাকি ছিল তাহলে কি সেই নামায আবার আদায় করতে হবে? (ঘুমের ভিতর কি হয়েছিল সেই অবস্থা তার স্মরণ নেই, কিন্তু নামাযের পর বুঝতে পারল)
18 Jan 2026

জ্বী, পূনরায় আদায় করতে হবে। নামাযের জন্য পবিত্রতা শর্ত। পবিত্রতা ছাড়া নামায আদায় করলে তা পূনরায় আদায় করতে হয়।

প্রশ্নঃ 2052
কেউ যদি তার স্ত্রীকে যথা নিয়মে (এক বারে ৩ তালাক বা তিন মাসে তিন তালাক) দেয় এবং সময় অতিক্রম হয়ে যায় তবে কি তার পূর্বের স্ত্রীকে পুনরায় বিবাহ করে ফিরিয়ে নিতে পারবে? যদি তার পূর্বের স্ত্রীর অন্য কোথাও বিবাহ না হয়। দলিলসহ জানতে চাই।
18 Jan 2026

তিন তালাক দিলে ইদ্দতের সময় অতিবাহত হোক বা না হোক অন্য কোথাও বিবাহ ছাড়া উক্ত স্ত্রীকে পূনরায় বিবাহ করা জায়েজ নেই। এই বিষয়ে আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, فَإِن طَلَّقَهَا فَلاَ تَحِلُّ لَهُ مِن بَعْدُ حَتَّىَ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ অথাৎ যদি স্বামী স্ত্রীকে (তিন) তালাক দেয় তাহলে সেই স্ত্রী তার জন্য হালাল নয় যতক্ষন না স্ত্রী অন্য স্বামীকে বিবাহ না করে। সূরা বাকারাহ-২৩০। উল্লেখ্য এখানে বিবাহ দ্বারা বিবাহের পর সহবাস উদ্দেশ্য । একটি হাদীস দ্বারা এটা জানা যায়। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৬৩৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫৯৯। সহীহ মুসলিম থেকে হাদীসের আরবী পাঠটি নিচে দিয়ে দিলাম। عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ جَاءَتِ امْرَأَةُ رِفَاعَةَ إِلَى النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- فَقَالَتْ كُنْتُ عِنْدَ رِفَاعَةَ فَطَلَّقَنِى فَبَتَّ طَلاَقِى فَتَزَوَّجْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الزَّبِيرِ وَإِنَّ مَا مَعَهُ مِثْلُ هُدْبَةِ الثَّوْبِ فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَقَالَ أَتُرِيدِينَ أَنْ تَرْجِعِى إِلَى رِفَاعَةَ لاَ حَتَّى تَذُوقِى عُسَيْلَتَهُ وَيَذُوقَ عُسَيْلَتَكِ . قَالَتْ وَأَبُو بَكْرٍ عِنْدَهُ وَخَالِدٌ بِالْبَابِ يَنْتَظِرُ أَنْ يُؤْذَنَ لَهُ فَنَادَى يَا أَبَا بَكْرٍ أَلاَ تَسْمَعُ هَذِهِ مَا تَجْهَرُ بِهِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم-.

প্রশ্নঃ 2051
আমার বাড়ী গাজীপুর। থাকি ময়মনসিংহে। শ্বশুর বাড়ি দারুস সালাম (ফুরফুরা দরবারের পাশে)। গাজীপুর থেকে ফুরফুরার দূরুত্ব প্রায় ৫০ কি.মি.। এখন আমি একই দিনে যদি দারুস সালাম হয়ে ময়মনসিংহ যাই, তাহলে দারুস সালামে থাকাবস্থায় নামাযের ওয়াক্ত হলে কছর করতে হবে কি না?
18 Jan 2026

হ্যাঁ, যদি একা একা নামায পড়েন তাহলে কসর করবেন। আর যদি মসজিদে জামাতের সাথে পড়েন তাহলে তো আর কসর করতে হবে না।

প্রশ্নঃ 2050
আসসালামু আলাইকুম। আমার এক আত্মীয়র সাথে কথা প্রসঙ্গে আসল রসুলুল্লাহ সঃ জীবিত না মৃত। আমি ওফাত হয়েছে রসুলুল্লাহ সঃ বলার পর উনি জানতে চাইলেন ১- তাহলে আমরা উনাকে সালাম কেন দিই? ২- যেকোনো কবর বা পিতামাতা কবর পাশ দিয়ে সালাম দেই কেন যদি ওরা মৃত হয়ে থাকে? উত্তর জানালে উপকৃত হব ইন-শা-আল্লাহ ও উনাকে জানাতে পারব।
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দুনিয়া থেকে আখেরাতে প্রত্যবর্তনের সিড়ি হলো মৃত্যু। রাসূলুল্লাহ সা., এর মৃত্যু হয়েছে এবং সকল মানুষের মৃত্যু হবে। মৃত ব্যাক্তিদের সালাম দেয়ার কারণ হলো রাসূলুল্লাহ সা. মৃত ব্যক্তিদেরকে সালাম দিতে বলেছেন। একজন মূমিনের জন্য এর চেয়ে বেশী কারণ খোঁজা দরকার নেই। রাসূলুল্লাহ সা. মৃত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে বললে আয়েশা রা. বললেন, কিভাবে করব? তখন তিনি বললেন, قُولِى السَّلاَمُ عَلَى أَهْلِ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ وَيَرْحَمُ اللَّهُ الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنَّا وَالْمُسْتَأْخِرِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لَلاَحِقُونَ অর্থ: বল, মূমিন এবং মুসলিম কবরবাসীদের উপর সালাম। আল্লাহ পূর্ববর্তীদের এবং পরবর্তীদের সকলের উপর দয়া করুন, অচিরেই আমরা তোমাদের সাথে মিলিত হবো ইনশাআল্লাহ। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ২৩০১। অর্থাৎ যেহেতু রাসূলুল্লাহ সা. সালাম দিতে বলেছেন তাই আমরা সালাম দিব।

প্রশ্নঃ 2049
১/ ইমেইল মার্কেটিং কি হালাল? ২/ পেশা হিসেবে গ্রাফিক্স ডিজাইন কি হালাল? গ্রাফিক্স ডিজাইনে মানুষের ছবি বা কোনো জীবন্ত বস্তুর ছবি রিটাচ করা মানে সুন্দর করে দেয়া, ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন করে দেয়া এই কাজগুলোর বিধান কিরূপ? গ্রাফিক্স ডিজাইনের ক্লিপিং পাথ কি হালাল কর্মসংস্থানের মধ্যে পড়ে?
18 Jan 2026

১। ধরণ বিস্তারিত জানালে উত্তর দেয়া সহজ হবে। ২। পেশা হিসেবে একটি সচ্ছ কর্ম করা উচিত। ইসলামে বিধি-নিষেধ থাকার সম্ভবনা থাকলে তার ত্যাগ করতে হবে। এই কাজগুলো তেমনই। এই পেশাটি ইসলামের আলোকে সুন্দর-সচ্ছ নয়। সুতরাং আপনার উচিত একটি ভাল কর্মের জন্য চেষ্টা করা।

প্রশ্নঃ 2048
আচ্ছালামু আলাইকুম, ফজরের ফরজ দুই রাকাত নামাজে ইমাম সুরা ফাতিহার পর একই সুরা দুই রাকাতেই পড়িয়েছে। কিন্তু সেজদাহ সাহু করে নাই। এই নামায কি হইছে নাকি আবার আদায় করতে হবে?
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নামায হয়ে গেছে। দুই রাকাতে ভিন্ন ভিন্ন সূরা পড়া আবশ্যক নয়। সাজাদায়ে সাহু দেয়া যাবে না।

প্রশ্নঃ 2047
সূর্যোদয় এর পরে ফজর সালাত পড়লে দুই রাকাত সুন্নাত পড়তে হয় কি না?
18 Jan 2026

হ্যাঁ, দু রাকআত সুন্নত পড়তে হবে। এক সফরে রাসূলুল্লাহ সা. এব সাহাবীগণ সূর্য উদয়ের পর ঘুম থেকে উঠলেন তখন বিলাল রা. আযান দিলেন আর সবাই প্রথমে দুই রাকআত সুন্নাত এরপর দুই রাকআত ফরজ পড়েন। হাদীসের শব্দগুলো হলো وَأَذَّنَ بِلاَلٌ فَصَلَّوْا رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ ثُمَّ صَلَّوُا الْفَجْرَ সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৩৭। হাদীসটি সহীহ। অন্য বর্ণনায় আছে রাসুলুল্লাহ সা. প্রথমে দুই রাকআত সুন্নাত পড়লেন তারপর ফরজ পড়লেন।হাদীসের শব্দগুলো হলো فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ صَلَّى الْغَدَاةَ সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১৫৯৪।

প্রশ্নঃ 2046
আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হলো আমি আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহঃ) সাহেবের রাহে বেলায়েত কিতাবে বিতর সালাতের জন্য ৪টি দোয়া কুনুত দেখলাম। এখন যদি আমি এই ৪টি কুনুত একসাথে পরপর পড়ি, তাহলে কি নামাজের কোন ক্ষতি হবে? আমি চাইছি দীর্ঘ সময় ধরে দোয়া করতে। দয়া করে জানাবেন।
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দুআগুলোর অর্থ অনেকটা একই। তাই একটি পড়াই যথেষ্ট। তবে আপনি একাধিক দুআ একসাথে পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 2045
১০ মুহাররম উপলক্ষ্যে কয়টি রোজা রাখা সুন্নাত? সঠিক নিয়ম জানতে চাই।
18 Jan 2026

একটি রাখলেই সুন্নাত অনুযায়ী আমল হয়ে যাবে। দুটিও রাখতে পারেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৬২।

প্রশ্নঃ 2044
আসসালামুয়ালাইকুম। কেউ একজন সপ্নে তার দাদীকে দেখে যে সে তাকে ডাকছে, বলছে চল আমি তোকে নিতে আসছি। দাদী অনেক আগে মারা গেছেন। এর কোন ব্যাখ্যা থাকলে জানালে খুব খুশি হবে।
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। স্বপ্ন নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই।স্বপ্নকে ঘুমের মধ্যে রেখে আপনি বাস্তব জীবনে কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী চলুন। স্বপ্নের কোন ব্যাখ্যাও আমাদের কাছে নেই।

প্রশ্নঃ 2043
মাসজিদে দুনিয়াবী কথা বলা হারাম, এ হাদীস সম্পর্কে জানতে চাই।
18 Jan 2026

মসজিদ হল, নামায, জিকির, তিলাওয়াত তথা ইবাদতের স্থান। দুনিয়াবী আলাপ আলোচনার স্থান নয়। সুতরাং এখানে অপ্রয়োজনীও কথা না বলা উচিত। তবেস যদি কেউ প্রয়োজনীয় দুনিয়াবী কথা বলে, তাহলে সেটি যদি কারো ইবাদতের বিঘ্ন না ঘটায় এবং অশ্লীল না হয়, তাহলে মস্যা নেই। হযরত আনাস রা.থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- إِنَّ هَذِهِ الْمَسَاجِدَ لَا تَصْلُحُ لِشَيْءٍ مِنْ هَذَا الْبَوْلِ، وَلَا الْقَذَرِ إِنَّمَا هِيَ لِذِكْرِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَالصَّلَاةِ وَقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ অর্থাৎ মসজিদ প্রসাব,নাপাকী ও আবর্জনার উপযুক্ত নয়। বরং মসজিদ হল আল্লাহ তাআলার যিকির ও কুরআন তেলাওয়াতের জন্য। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৮৭। তবে মসজিদে দুনিয়াবী কথা বলা হারাম এই মর্মে কোন হাদীস আছে বলে আমাদের জানা নেই।

প্রশ্নঃ 2042
আসসালামুয়ালাইকুম। আমি আজ ডঃ মুফতি ঈমাম হোসেন সাহেবের এক ইউ টিউব ভিডিও তে দেখলাম আস্তাগফিরুল্লাহ রাব্বি মিনকুল্লি জাম্বিউ এই এস্তেগফার টা নাকি সহিহ না। তাহলে সহিহ কোনটি জানালে খুব উপকার হবে।
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইস্তিগফার অর্থ ক্ষমা প্রার্থনা।আস্তাগফিরুল্লাহ রাব্বি মিনকুল্লি জাম্বি এর অর্থ আমার প্রতিপালক আল্লাহর কাছে সকল গুনাহ থেকে ক্ষমা চাচ্ছি। এটা কেন সহীহ না এটা আমাদের বোধগম্য নয়। তবে সায়্যিদুল ইস্তিগফার পড়া সবচেয়ে ভাল।

প্রশ্নঃ 2041
ওজুতে ঘাড় মাছা করা সুন্নাত কিনা?
18 Jan 2026

ঘাড় মাসেহ করার ব্যাপারে কয়েকটি দূর্বল হাদীস বর্ণিত আছে। তার একটি হলো, قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من توضأ ومسح عنقه لم غل بالأغلال يوم القيامة অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি ওযু করবে এবং ঘাড় মাসেহ করবে কিয়ামতের দিন তাকে শিকল পরানো হবে না। তারীখ আসবাহান, ১/২৪২। এই বিষয়ে বিভিন্ন হাদীসের বিশ্লেষন শেষে মোল্লা আলী কারী হানাফী রাহ. বলেন, قال أئمتنا إن مسح الرقبة مستحب أو سنة অর্থ: আমাদের ইমামগণ বলেছেন, ঘাড় মাসেহ করা মুস্তাহাব অথবা সুন্নাত। আল-আসরারুল মারফুয়াহ, পৃষ্ঠা- ৩১৫।

প্রশ্নঃ 2040
আসসালামু আলাইকুম, অফিস শুরু হয় সকাল ৯ টা থেকে আর বাসাই ফিরি সন্ধার পর। শয়তানের ওসওয়াসায় পড়ে মাঝে মধ্যে লিঙ্গ দিয়ে পিচ্ছিল তরল বের হয় এবং তা আন্ডারওয়্যার ও প্যান্টের মধ্যে লাগে। যেহেতু সন্ধার পর বাসায় ফিরি তাই কাপড় পাল্টানোর সুযোগ নাই । এমতাবস্থায় যোহর, আসর ও মাগরিব – এর নামায আদায় করার হুকুম কি।
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই কাপড় পরে নামায পড়া যাবে না। আপনাকে একটা উপায় বের করতেই হবে যাতে সময় মত সকল ওয়াক্তের নামায পড়তে পারেন। মনে রাখবেন, নামায ফরজ ইবাদাত। নামায ব্যতিত নাজাত পাওয়ার আশা নেই। সুতরাং নামাযকে সর্বাগ্রে নামাযকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আল্লাহ তায়ালা আপনার সমস্যার সমাধান করে দিন।

প্রশ্নঃ 2039
আসসালামুয়ালাইকুম ভাইধন্যবাদ আপনাকে আমার আগের প্রশ্ননের উত্তরের জন্য আমার প্রশ্ন ছিল আমি জেহেরি সালাত এ সুরাহ ফাতিহা না পরে শুনব আর সিররই সালাত(জহর+আসর+ শেষ রাকাত মাগ্রিব অও এশা) এ পরব যেন কুরানের আয়াত আর হাদিসের সমন্বয় হয় । ।আশলে ভাই আমি এই সমন্বয়টা নিজে নিজে করি নাই আমি জাহাঙ্গির স্যর তারপর কামাল উদ্দিন জাফ্রি স্যর উনাদের ভিডিও পাশাপাশি আর কিছু লেকচার শুনেছি। যদি সম্ভব হইয় একটু কষ্ট করে স্যর আর ভিডিওর শেষের অংশ টা দেখে জানাবেন আশলে কিভাবে পরা উচিত যদি আমি পরতে চাই। ধন্যবাদ https://www.youtube.com/watch?v=4SQkRR-L2pU
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি যে পদ্ধতিটি জানতে চেয়েছেন সেটা হলো, ফজর, মাগরিব এবং এশার নামাযের কোন রাকআতেই আপনি ইমামের পিছনে পড়বেন না। জোহার এবং আসরের প্রথম দুই রাকআতে পড়বেন। শেষ দুই বা এক রাকআতে সূরা ফাতিহা পড়া আবশ্যক নয় সুতরাং এই সময় কোন আলমই ইমামের পিছনে পড়াকে আবশ্যক বলেন নি। ইমামের পড়াই যথেষ্ট।

প্রশ্নঃ 2038
আমাদের দেশে আহলে হাদিস মসজিদে প্রতিনিয়ত খুতবা হয় ১ ঘন্টা ১৫ মিনিট কখনো ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট কিন্তু নামাজ হয় ৫ হতে ৭ মিনিট। এটি কি সুন্নাত সম্মত? হলে দলিলসহ জানতে চাই।
18 Jan 2026

দুই রাকআত নামায পড়তে তো ৫-৭ মিনিটই লাগার কথা। বক্তব্য তো লম্বা হতেই পারে। সমস্য কোথায় বুঝলাম না। নামাযের ওয়াক্তের ভিতর নামায পড়লেই তো হলো।

প্রশ্নঃ 2037
১। নামাজের উত্তম সময় কখন? প্রথম/মধ্যম/শেষ-কোনটি? ২। সেজদায় কোন দিকে দৃষ্টি দিতে হবে? ৩। তাশাহুদে কখন ইশারা করতে হবে? ইশারা করার সময় কি আঙ্গুল নাড়াতে হবে না স্থির রাখতে হবে? ৪। ইমাম নামাজে ভুল করলে কিভাবে ইমামকে সংশোধন করতে হবে?
18 Jan 2026

কোন কোন নামায প্রথম ওয়াক্তে পড়া উত্তম। আবার কোন কোন নামায বিলম্ব করে পড়া উত্তম। ইশার নামায বিলম্বে পড়া উত্তম। কেননা একদিন বেশী রাত হওয়ার পর এশার নামায আদায় করে রাসূলুল্লাহ সা.বলেছেন, لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي ، أَوْ عَلَى النَّاسِ وَقَالَ سُفْيَانُ أَيْضًا عَلَى أُمَّتِي – لأَمَرْتُهُمْ بِالصَّلاَةِ هَذِهِ السَّاعَةَ. আমি যদি আমার উম্মাতের উপর (কঠিন হওয়ার) আশংকা না করতাম তাহলে এই সময় (ইশার) নামায পড়ার আদেশ দিতাম। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭২৩৯। গরম বেশী হলে যুহরের সালাত বিলম্ব করে পড়া উত্তম। এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلاَةِ.যখন গরম বেশী হবে তখন (যুহরের) নামায ঠান্ডা অবস্থায় পড়বে। সহীহ বুখরী, হাদীস নং ৫৩৫। অন্যান্য নামাযগুলো প্রথম ওয়াক্তে পড়া উত্তম। ২। এই বিষয়ে হাদীসে স্পষ্ট কিছু নেই। দৃষ্টি সাভাবিক রাখবেন। ৩। ওয়া আলাইকুমুস সালাম। স্যার রহ. ইন্তেকালের পূর্বে এই প্রশ্নের একটি উত্তর আমরা তার তত্বাবাধানে দিয়েছি। যেটা আমাদের দেয়া ০২৪৯ নং প্রশ্নের উত্তর। আমি সেটা আপনার এখানে দিয়ে দিলাম। সাহাবী ওয়াইল ইবনে হুযর বলেন, عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ ، قَالَ : رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ قَدْ حَلَّقَ الإِبْهَامَ وَالْوُسْطَى ، وَرَفَعَ الَّتِي تَلِيهِمَا ، يَدْعُو بِهَا فِي التَّشَهُّدِ আমি রাসূলূল্লাহ সা. কে দেখেছি, তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমা আঙ্গুলি এক সাথে করে গোলাকার করলেন এবং ঐ দুই আঙ্গুলির সাথে যুক্ত আঙ্গুলিটি (শাহাদাৎ আঙ্গুলি) উচুঁ করলেন এবং তা দ্বারা তাশাহুদের মধ্যে দোয়া করলেন। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৯১২। হাদীসটি সহীহ। সহীহ মুসলিমসহ বিভিন্ন কিতাবে এমন অর্থের অনেক হাদীস বহু সাহাবী থেকে বর্ণিত আছে। কোন কোন হাদীসে আঙ্গুল নাড়ানো আবার কোন কোন হাদীসে না নাড়ানোর কথা আছে। এর মধ্যে না নাড়ানোর হাদীসটি সহীহ বলে মনে হয়। হাদীসটি আছে সুনানে আবু দাউদ হাদীস নং ৯৮৯, সুনানু নাসায়ী,হাদীস নং ১২৭০্ । মোট কথা ইশারা করার কথা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত, তবে কখন থেকে ইশারা শুরু করবে, কিভাবে করবে সে ব্যাপারে সর্বাক্যমতে সহীহ কোন দলীল পাওয়া যায় না, এ কারণে ইশারার ধরন নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। সুতরাং যেভাবেই করুন আপনার ইশারার সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। ইশারার একটি সুন্নাত পদ্ধতি পুরো বৈঠকে শাহাদাৎ আঙ্গুলি উচুঁ করে রেখে আঙ্গুল না নাড়িয়ে ইশারা করা। ৪। সুবহানাল্লাহ বলা সুন্নাত।

প্রশ্নঃ 2036
সূরা ফাতিহা পড়া নিয়ে জটিলতা থেকে বাঁচার উপায় কি?
18 Jan 2026

সূরা ফাতিহা পড়া নিয়ে জটিলতা থেকে বাঁচার উপায় হলো ইমামের পিছনে কোন সূরা না পড়ে চুপ থাকা। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 2035
আসসালামুয়ালাইকুম ভাই আমার প্রশ্ন হল নামাজে সুরা ফাতিহা পরা নিয়ে আর আমি জানি এটা নিয়ে মতভেদ আছে। আমি হাদিস গুলো পরেছি আর জাহাঙ্গির স্যার সহ আরো বেশ কিছু হুজুর এর ভিডিও দেখার পর যতটুক বুঝেছি তা হল আমি যদি জেহেরি নামজে থাকি তখন ইমামের কিরাত শুনি তখন সুরা ফাতিহা পরি না আর যখন ইমামের কিরাত শুনা যায় না ( জোহর, আসর, আর মাগরিব+ এশার শেষ রাকাত) তখন সুরা ফাতিহা পরি যেন কুরানের আয়াত আর হাদিসের সমন্বয় করে নামাজ আদায় করতে পারি। আমার এ ভাবে ফাতিহা পরে সালাত আদায় করাটা কি সঠিক আছে কি না? আর যদি কোন ভুল থাকে দয়া করে জানাবেন। ধন্যবাদ।
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কুরআন ও হাদীসের সমন্বয় আপনি নিজে নিজে করলে সেটা বিপজ্জনক হতে পারে। আপনাকে দেখতে হবে আপনার মত সমন্বয় কোন আলেম করেছেন কি না? এখন খোঁজ করুন এমন পান কিনা? আমার মনে হয় নিজে নিজে সমন্বয় না করে যে কোন একটা মত মেনে চলা অধিক নিরাপদ। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 2034
আসসালামু আলাইকুম। শাইখের কাছে আমার একটা বিষয় জানার ছিল। আশা করি উত্তর পাব ইনশা আল্লাহ। মুহাম্মদ ইবনু হাকাম (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন রোগের মধ্যে সংক্রমণ নেই; শুভ-অশুভ লক্ষণ বলে কিছু নেই। পেঁচায় কুলক্ষণ নেই এবং সফর মাসে অকল্যাণ নেই। [বুখারী (ইফাঃ) – ৫৩৪৬] এখানে রোগের মধ্যে সংক্রমণ নেই বলতে কি বুঝানো হচ্ছে? জাযাকাল্লাহ খাইরান।
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সে যুগে কিছু মানুষের বিশ্বাস অনেকটা এরকম হয়েছিল যে, রোগ নিজ ইচ্ছায় একজনের থেকে আরেক জনের কাছে যায়। রাসূলুল্লাহ সা. এই ধারণাকে ছুড়ে ফেলে দেয়ার জন্য বলেছেন রোগের মধ্যে সংক্রমণ নেই । আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 2033
যাদের জীবনে অনেক নামাজ কাযা হয়েছে (১০-১৫ বৎসর) এবং তার কোন সঠিক হিসাব নেই, এই ক্ষেত্রে শুধু তওবা করলে কি হবে নাকি সব কাজা নামাজ আদায় করতে হবে? যদি কাযা নামাজ আদায় করতে হয় তবে তা কিভাবে?
18 Jan 2026

অধিকাংশ আলেমের অভিমত হলো বহুদিন ধরে ইচ্ছাকৃত নমায ছেড়ে দিলে (যাকে অনেকেই উমরি কাজা বলে) উক্ত নামায আদায় করতে হবে। তা সে যত ওয়াক্তই হোক না কেন। আর আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, যেন তিনি ক্ষমা করে দেন। তবে কোন কোন আলেম বলেছেন,উমরি কাজা করা লাগবে না, আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে, মাফ চাইতে হবে। সর্বাবস্থায় যথাসম্ভভ শুধু ফরয সালাতগুলো কাযা আদায় করা উচিত। সাধ্যের মধ্যে কাযা আদায় করার পাশাপাশি বেশি বেশি নফল সালাত আদায় করতে হবে এবং তাওবা ইসতিগফার করতে হবে। প্রত্যেক ওয়াক্তের ফরজ সালাত আদায় করার আগে বা পরে ঐ ওয়াক্তের কাজা নামাগুলো অল্প অল্প করে আদায় করা যেতে পারে। দলীল এবং ইমাম ও ফকীহদের মতামত বিস্তারতি জানতে দেখুন, আলফিকহুল ইসলামিয়্যতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৩৪/২৬; আলফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু, ২/৩০১; আদদুররিল মুযিয়্যাহ শারহু দুররিল বাহিয়্যাহ, ১/১০৮; আল ফিকহ্ আলা মাজাহিবিল আরবা, ১/৭৫৭।

প্রশ্নঃ 2032
আসসালামু আলাইকুম, নামাযে সেজদারত অবস্থায় দোয়ার অনেক ফজিলত। মনে করেন, আমি দুই রাকাত নামযে ২য় রাকাতের শেষ সেজদায় অনেক মাসনুন দোয়া করলাাম। এই সেজদা অন্যান্য সেজদার তুলনায় অনেক লম্বা হয়ে যায়। সকল সেজদার দৈর্ঘ্য সমান থাকে না। এতে কি নামাযের কোন ক্ষতি হবে। আল্লাহ প্রিয় স্যার কে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুক, এবং আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুক। আমিন।
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সমস্যা নেই। তবে মসজিদে জামাতের সাথে নামাযে এমন করতে যাবেন না।

প্রশ্নঃ 2031
আসসালামু আলাইকুম… আমার প্রশ্ন হলো যে, আমরা বেশিরভাগ মানুষই বাথরুমে ওযু, গোসল করি… এতে করে পানি ছিটকে কমটে পড়তে পারে… বাথরুমে গোসল করে বা ওযু করে কি পবিত্রতা অর্জন করা সম্ভব? যদি না হয় তাহলে করণীয় কি?
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বাথরুমে ওজু গোসল করতে কোন সমস্যা নেই।নিশ্চিন্তে বাথরুমে ওযু-গোসল করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 2030
আমার বয়স ৩২, বিবাহিত, আমার একটি পুত্রসন্তান আছে। বর্তমানে আমার বাবা অসুস্থ এই অবস্থায় আমি চাই ফ্যামিলি পরিচালনা করতে, (আমরা ৩ বোন ১ ভাই, সবাই বিবাহিত) আমরা বোনেরা তাদের স্বামীর সাথে আলাদা থাকে । আমি স্ত্রী পুত্র নিয়া বাবা মার সাথে থাকি। আমার বোন, দুলাভাই ও আমার মা চায় যে, মা ফ্যামিলি পরিচালনা করুক এবং আমি আমার বেতনের টাকা মার হাতে তুলে দেই, কিন্তু আমি চাই আমি নিজে ফ্যামিলি পরিচালনা করব। এই পরিস্থিতিতে কোনটা সঠিক?
18 Jan 2026

আপনি আপনার বাবা-মার সাথে পরামর্শ করে পরিবার পরিচালনা করবেন এটাই ভাল।

প্রশ্নঃ 2029
কুরবানীর সাথে ভাগে আকিকা দেওয়া যাবে কিনা? দলিলসহ জানতে চাই।
18 Jan 2026

কুরবাণী ও আক্বীকা একই পশু দ্বারা দেয়া জায়েজ আছে কিনা তা নিয়ে মতভেদ আছে। একদল আলেম বলেন,জায়েজ আছে অন্য অরেক দল বলেন জায়েজ নেই। যারা বলেন জায়েজ আছে তাদের বক্তব্যের মূল ভিত্তি হলো, কুরআনের একটি আয়াত। তা হলো, قُلْ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ অর্থ: আপনি বলুন, নিশ্চয় আমার সালাত, আমার নুসুক আমার জীবন, আমার মরন সবই বিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহরা জন্য। সূরা আন-য়াম, আয়তা ১৬২। উক্ত আয়াতে নুসুক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। আভিধানিক অর্থে নুসুক বলা হয় এমন পশুকে যা আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের জন্য জবেহ করা হয়। দেখুন, আল-মুজামুল ওয়াসীত, পৃষ্ঠা ৯৫৭। আর কুরবানী ও আক্বীকা উভয়টি দ্বারাই যেহেতু আল্লাহ তায়ালা নৈকট্য লাভ উদ্দেশ্য তাই একই পশুতে কুরবানী ও আক্বীকা করা জায়েজ হবে। উল্লেখ হানাফী ও শাফেয়ী মাজহাবের আলেমগন এটাকে জায়েজ বলেছেন। তবে সর্বাবস্থায় মনে রাখতে হবে আকীকা জন্মের সপ্তম দিনে ছাগল বা এ জাতীয় ছোট পশু দিয়ে দেয়া সুন্নত। রাসূলুল্লাহ সা. কিংবা সাহাবীগণ গরু বা উট দিয়ে কখনো আকীকা দেন নি। আমাদের উচিৎ সুন্নাতের অনুসরন করা।

প্রশ্নঃ 2028
আসসালামু আলাইকুম ১। স্বামী-ই যদি পর্দার অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়? তার পরিবার এর নন মাহরাম পুরুষ এর সাথে কথা না বললে রাগ হয়,সঠিক পর্দা করলে বিরক্ত হয়, যে নিজে আল্লাহর হুকুম মানার ব্যাপারে গাফেল, সেই স্বামী অসন্তুষ্ট থাকলে কি বৌ এর গুনাহ হবে? সেই স্বামী অসন্তুষ্ট থাকলে কি বৌ জাহান্নামী হবে? ২। আমি আরবি ভাষা শিখতে চাই,কিভাবে শুরু করলে organized ভাবে শিখা যাবে। এই মুহূর্তে কোনো মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে শেখাটা আমার জন্যে একটু কষ্টকর । যদি কোনো বই এর রেফারেন্স দেন তাহলে খুব ভালো হয়। ৩। আমি অনেক সময় বাচ্চা কে দুআ পরে পিছন এর দিক থেকে ফু দেই (হয়তো ও আমার থেকে অন্য দিকে কাত হয়ে শুয়ে আছে এমন অবস্থায় ) এতে কি কোনো সমস্যা আছে? জাজাকাল্লাহ
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, এতে স্ত্রী গুনাহগার হবে না, এই কারণে স্বামী অসন্তুষ্ট থাকলে স্ত্রী জাহান্নামী হবে না। হাদীসে আছে, لاَ طَاعَةَ فِي مَعْصِيَةٍ إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِي الْمَعْرُوفِ আল্লাহর নাফরমানীর কাজে কাউকে আনুগত্য করা যাবে না, আনুগত্য হবে ভাল কাজে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭২৫৭। ২। একজন ভাল শিক্ষিকার কাছে শেখা শুরু করতে হবে। বই বিষয় নয়, শিক্ষিাকা ভাল হওয়া প্রয়োজন। ৩। অসুবিধা নেই।

প্রশ্নঃ 2027
একটা ছেলে ও একটা মেয়ের মধ্যে বিয়ে করবো এ চুক্তি হয়। মাঝে মধ্যেও কোনো কথাবার্তা বা আলাপ হতো না। অতঃপর বিয়ের বয়স হলে ছেলে তার পরিবারে বিষয়টি জানায়,সব দেখেশুনে ছেলের পরিবার সম্মতি জানায়। মেয়ের পরিবারেও কোনো দ্বিমত ছিল না,তবে তাদের আপত্তি শুধু ছেলেমেয়ে দুজন একই গ্রামের। তারা একই গ্রামে সম্বন্ধ করতে নারাজ। আর এজন্য বিয়েটা হচ্ছে না। এখন ছেলেমেয়ে দুজন পরিবারে না জানিয়ে বা পালিয়ে বিয়ে করে,এতে কোনো অন্যায় হবে? উত্তরটা জানা খুব দরকার।
18 Jan 2026

হ্যাঁ, পালিয়ে বিয়ে করা অন্যায় হবে এবং মেয়ের অভিভাবক ব্যতিত মেযের বিয়ে সহীহ হবে না। যারা এই সমস্যায় পড়েছে তাদের উচিত অভিভাকদের এটা বুঝানো যে, এক গ্রামে বিয়ে হওয়া কোন সমস্যার কারণ নয়। আর আপনার বক্তব্য একটা ছেলে ও একটা মেয়ের মধ্যে বিয়ে করবো এ চুক্তি হয় এটা শয়তানের কাজ। কোন নারী-পুরুষের মধ্যে এমন চুক্তি হতে পারে না।

প্রশ্নঃ 2025
১। প্রশ্ন: আসসালামু আলাইকুম স্যার, প্রশ্ন: সর্বোচ্চ কতদিন পর্যন্ত কসর নামাজ পড়া যাবে এবং কত মাইল দূরে গেলে কসর সালাত আদায় করতে হবে? দলিলসহ জানালে উপকৃত হব। ২। প্রশ্ন: নামাজে রুক, সেজদা এবং তাসাহুদে কোন দিতে দৃষ্টি দেতে হবে, দলিলসহ জানালে উপকৃত হব।
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সহীহ বুখারীতে ইমাম বুখারী রহ. বলেন, وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ ، وَابْنُ عَبَّاسٍ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُم ، يَقْصُرَانِ وَيُفْطِرَانِ فِي أَرْبَعَةِ بُرُدٍ وَهْيَ سِتَّةَ عَشَرَ فَرْسَخًا. ইবনে উমার এবং ইবনে আব্বাস চার বুরদ দূরে সফর করলে সালাত কসর করতেন এবং সিয়াম ত্যাগ করতেন। চার বুরদ হলেঅ ১৬ ফারসাখ। সহীহ বুখারী, ১০৮৬ নং হাদীসের আলোচনায়। আলেমগণের সর্বাক্যমতে ১৬ ফারসাখ দূরে কোথাও সফরের নিয়ত করলে সালাত কসর করতে হয়। আধুনিক হিসাবে ১৬ ফারসাফ ৮০ কি. মিটারের মত। ইবনে বাজ রহি. এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ৮০ কিলোমিটারের মত। আর মাইলের হিসাবে ৪৮ মাইল। দেখুন বিস্তারিত, একটি হাদীসে সূলুল্লাহ সা. বলেছেন তিনি বলেছেন, يَا أَهْلَ مَكَّةَ لاَ تَقْصُرُوا الصَّلاَةَ فِي أَدْنَى مِنْ أَرْبَعَةِ بُرُدٍ হে মক্কাবাসীগণ তোমরা চার বুরদের কমে কসর করবে না। সুনানু দারে কুতনী, হাদীস নং ১৪৪৭। তবে হাদীসটির সনদে সমস্যা আছে। সর্বোচ্চ কতদিন পর্যন্ত কসর নামাজ পড়া যাবে এই বিষয়ে স্পষ্ট কোন হাদীস না থাকায় আলেমদের মাঝে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন হাদীসের ব্যখ্যা করে তারা একাধিক মত পোষন করেছেন। ইমাম আবু হানীফা রহ. এর মতে ১৫ কিংবা তার চেয়ে কম দিনের কম নিয়ত করলে কসর করা যাবে। আর ১৫ দিনের বেশী নিয়ত করলে আদৌ কসর করা যাবে না। ইমাম শাফেয়ী, মালেক রহ.সহ অনেকে বলেছেন ৪দিন অথবা তার কম নিয়ত করলে কসর করবে বেশী হলে আদৌ কসর করবে না। বিস্তারিত জানতে দেখুন মারকাযুল ফাতাওয়া, ফাতাওয়া নং ৬২১৫ এবং এই ঠিকানায় ২। রুকুতে দৃষ্টি কোথায় রাখবে সে বিষয়ে হাদীসে স্পষ্ট কিছু নেই। তবে কয়েকজন তাবেয়ী থেকে বর্ণিত আছে তারা সাজদার স্থানে রাখতে বলছেন। এবং ফকীহগণ এমনই মত দিয়েছেন। মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ৬৫৬২, ৬৫৬৩ এবং ৬৫৬৪। তাশাহুদুর সময় যে হাত দ্বরা ইশারা করা হয় সেই হাতের দিকে নজর রাখবে। রাসূলুল্লাহ সা. এমন করতেন বলে সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে। হাদীসটির মূল পাঠ হলো عن عامر بن عبد الله بن الزبير عن أبيه : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم كان إذا قعد في التشهد وضع كفه اليسرى على فخذه اليسرى وأشار بالسبابة لا يجاوز بصره إشارته সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ১২৭৫, হাদীসটি সহীহ।

প্রশ্নঃ 2024
আসসালামু আলাইকুম। আমাকে কি নিম্নের দোয়াটার বাংলা তরজমাা লবেেন? আমি দোয়াটা আমল করি। লা ইলাহা ইল্লাল লাহু ওয়াদাহু লা শারিকালাহু লাহুল মুলকু ওয়ালহুল হামদু ওহুয়া আলা কুল্লি সাইয়্যিন কাদির।
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দুআটির অর্থ হলো, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তার, প্রসংসা শুধু তার জন্য আর তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।

প্রশ্নঃ 2023
আহলে হাদীসদের কোন বইতে আমাদের হানাফীদেরকে কাফির বা বেদাতী বলেছে?
18 Jan 2026

এই ধরণের প্রশ্নের জন্য আমাদের এই বিভাগটি নয়। জীবন ঘনিষ্ট ইমান ও আমল সম্পর্কীত বিষয়ে আমরা উত্তর দিয়ে থাকি।

প্রশ্নঃ 2022
আসসালামুলাইকুম, ঈশার সলাত দেরি করে পড়া কি ভাল? কারণ বুখারী শরীফের ৫৭১ নং হাদিস (তাওহীদ প্রকাশনী) পড়ে আমার মনেহইছে দেরিতে ঈসার সলাত আদায় করা ভাল। কিন্তু অনেকে বলে না। এই হাদিসের সঠিক দিক টা কি তাহলে? পুরুষেরা জামাতে সলাত পড়তে যায় কিন্তু মেয়েরা সাধারনত ঘরেই সলাত আদায় করে। এক্ষেত্রে মেয়েরা চাইলে এই হাদিসের উপর চলতে পারে।
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, ইশার সালাত দেরী করে পড়া মুস্তাহাব। তবে পুরুষের জন্য জামাতে সালাত আদায় করা জরুরী। তাই মসজিদে যখন জামাত হবে পুরুষেরা মসজিদে যাবেন আর মেয়েরা দেরী করে পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 2021
বর্তমানে মাগরিব নামাযের ওয়াক্ত শুরু হয় ৫টা ৫৪ মিনিটে এবং ইশার নামাযের ওয়াক্ত শুরু হয় ৭টা ১০মিনিটে। প্রশ্ন হলো- মাগরিবের নামায কি ৭ টা ১০ মিনিটের আগ পর্যন্ত আদায় করা যাবে।
18 Jan 2026

হ্যাঁ, মাগরিবের নামায ইশার নামাযের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পড়া যাবে। আপনার প্রশ্নমতে ৭ টা ১০ পর্যন্ত পড়া যাবে।

প্রশ্নঃ 2020
আসসালামু আলাইকুম, আমার আমার প্রশ্ন আমার একটা বন্ধু সম্প্রতি আহলে হাদিস হয়েছে। সে আগে হানাফী মাযহাবে ছিল। এখন আহলে হাদীসদের মত ইবাদত করে। আখেরাতে তার কি কোন সমস্যা হবে?
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইবাদতের মূল উৎস হলো কুরআন ও হাদীস। কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী আমল করলে আখেরাতে কারো সমস্যা হবে না। আপনার বন্ধুরও কোন সমস্যা হবে না। সকল মাজহাবই সুন্নাহ সম্মত সুতরাং আখেরাতে কারো সমস্যা হবে না।

প্রশ্নঃ 2019
সালাতুত তাসবীহ এর বিধান/নিয়ম সম্পর্কে জানতে চাই।
18 Jan 2026

সালাতুত তাসবীহ বিষেয়ে শাায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহি. রাহে বেলায়াত বইয়ে লিখেছেন: যিকিরের মূল চারটি বাক্য: তাসবীহ সুবহানাল্লাহ তাহমীদ আল-হামদু লিল্লাহ, তাহলীল লা- ইলাহা ইল্লল্লাহ এবং তাকবীর আল্লাহু আকবার। সালাতুত তাসবীহ-এর মধ্যে সালাতরত অবস্থায় এ যিকিরগুলো পাঠ করা হয়। চার রাকআত সালাতে প্রতি রাকআতে ৭৫ বার করে চার রাকআতে মোট ৩০০ বার উক্ত যিকিরগুলো আদায় করা হয়। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা, তাঁর চাচা আব্বাস (রা)-কে বলেন: চাচাজি, আমি আপনাকে একটি বিশেষ উপহার ও বিশেষ অনুদান প্রদান করব, যা পালন করলে আল্লাহ আপনার ছোট, বড়, ইচ্ছাকৃত, অনিচ্ছাকৃত, প্রকাশ্য, গোপন সকল গোনাহ ক্ষমা করবেন। তা এই যে, আপনি চার রাকআত সালাত আদায় করবেন। প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহা ও অন্য যে কোনো একটি সূরা পাঠ করবেন। প্রথম রাকআতে সূরা ফাতিহা ও অন্য যে কোনো সূরা পাঠের পর দাঁড়ানো অবস্থায় ১৫ বার বলবেন: سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ للهِ، وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ، وَاللهُ أَكْبَر উচ্চারণ: সুবহা-নাল্লাহ, ওয়াল হামদুলিল্লাহ, ওয়ালা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লা-হু আকবার ।সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ১২৯৯, সুনানু ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৩৮৭। এরপর রুকুতে গিয়ে রুকু অবস্থায় উপরের যিকিরগুলো ১০ বার, রুকু থেকে উঠে দাঁড়ানো অবস্থায় ১০ বার, সাজদা রত অবস্থায় ১০ বার, প্রথম সাজদা থেকে উঠে বসা অবস্থায় ১০ বার, দ্বিতীয় সাজদায় ১০ বার এবং দ্বিতীয় সাজদা থেকে উঠে (বসা অবস্থায়) ১০ বার। এ মোট এক রাকআতে ৭৫ বার (চার রাকআতে মোট ৩০০ বার)। সম্ভব হলে আপনি প্রতিদিন একবার, না হলে প্রতি সপ্তাহে একবার, না হলে প্রতি মাসে একবার, না হলে প্রতি বছর একবার, না হলে সারা জীবনে একবার এ সালাত আপনি আদায় করবেন। সালাতুত তাসবীহ সংক্রান্ত অধিকাংশ হাদীসই অত্যন্ত যয়ীফ সনদে বর্ণিত। একমাত্র এ হাদীসটিকে অনেক মুহাদ্দিস সহীহ হিসাবে গ্রহণ করেছেন। যদিও অনেক মুহাদ্দিস হাদীসটির ভাব ও ভাষা বিষয়েও আপত্তি করেছেন। ইমাম তিরমিযী প্রখ্যাত তাবে-তাবেয়ী আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক (১৮১ হি) থেকে সালাতুত তাসবীহ-এর আরেকটি নিয়ম উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে এ অতিরিক্ত যিকিরগুলো আদায়ের নিয়ম: নামায শুরু করে শুরুর দুআ বা সানা পাঠের পরে ১৫ বার, সূরা ফাতিহা ও অন্য কোনো সূরা শেষ করার পরে ১০ বার, রুকুতে ১০ বার, রুকু থেকে উঠে ১০ বার, প্রথম সাজদায় ১০ বার, দুই সাজাদার মাঝে ১০ বার ও দ্বিতীয় সাজদায় ১০ বার মোট ৭৫ বার প্রতি রাকআতে। অর্থাৎ, এ নিয়মে কিরাআতের পূর্বে ও পরে দাঁড়ানো অবস্থায় ২৫ বার তাসবীহ পাঠ করা হয় আর দ্বিতীয় সাজদার পরে বসা অবস্থায় কোনো তাসবীহ পড়া হয় না। পূর্বের হাদীসে বর্ণিত নিয়মে কিরাআতের পূর্বে কোনো তাসবীহ নেই। দাঁড়ানো অবস্থায় শুধু কিরাআতের পরে ১৫ বার তাসবীহ পড়তে হবে। প্রত্যেক রাকআতে দ্বিতীয় সাজদার পরে বসে ১০ বার তাসবীহ পড়তে হবে। ইবনুল মুবারক বলেন, যদি এ সালাত রাত্রে আদায় করে তবে দু রাকআত করে তা আদায় করবে। অর্থাৎ, দু রাকআত শেষে সালাম ফিরিয়ে আবার দু রাকআত আদায় করবে। আর দিনের বেলায় ইচ্ছা করলে একত্রে চার রাকআত অথবা ইচ্ছা করলে দু রাকআত করেও আদায় করতে পারে। সালাতুত তাসবীহ-এ রুকু ও সাজদায় প্রথমে রুকু ও সাজদার তাসবীহ সুবহানার রাব্বিয়্যাল আযীম ও সুবহানা রাব্বিয়্যাল আলা নূন্যতম তিন বার করে পাঠ করার পরে অতিরিক্ত তাসবীহগুলো পাঠ করতে হবে। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন, শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত রাহে বেলায়াত বইটি।

প্রশ্নঃ 2018
আস-সালামু আলাইকুম। আমার মুখে ৫ টা আঁচিল (Black mole) আছে এই গুলি কি আপরেশন করা যাবে?
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অবশ্যই যাবে। এগুলো অপারেশন করা যাবে না এমন কোন কথা ইসলামে নেই।

প্রশ্নঃ 2017
আমার আলাদা থাকার কোন ইচ্ছাই নেই, কিন্তু আমার মা ও আমার স্ত্রীর মধ্যে সমঝতা করার অনেক চেষ্টা করে আমি কোন সমাধান করতে পারি নি। অতি সামান্য জিনিস নিয়া দুই জনের মধ্যে ঝগড়া হয়, আমি এখন কি করব? আমি আমার মা কে বলেছি যে, আমার স্ত্রীর কাজ যদি আপনার পছন্দ না হয় তবে (ঘরের কাজের জন্য বুয়া আছে, তারপরেও) আমি ঘরের সব কাজ করব, তাও আমার মা মেনেনিতে পারছেন না। অন্যদিকে আমার স্ত্রী এইসব ঘটনার পর আর একসাথে থাকতে চাচ্ছেনা। উল্লেখ্য আমার মা বলেছে আমার শ্বশুর-শাশুড়ি কে এসে তাদের মেয়ের বিচার করতে, কিন্তু আমার শ্বশুর-শাশুড়ি অপমান হওার আশংকায় আমাদের বাড়িতে আসতে চাচ্ছেন না। আমার ৯মাসের একটি পুত্র সন্তান আছে এই পরিস্থিতিতে স্ত্রীকে নিয়ে বাবা-মার থেকে আলাদা থাকা জায়েজ কি? আমি কি করব, খুব মানসিক যন্ত্রণায় আছি, এই চিন্তায় আমার কর্ম জীবন প্রায় ধ্বংসের পথে, একটু তারাতারি জানাবেন প্লিজ?
18 Jan 2026

আপনার প্রশ্ন থেকে বুঝা যাচ্চে আপনার মা একটু বেশী করছে। এ অবস্থায় আপনি তাদের প্রতি পূর্ণ সম্মান ও মর্যাদা বজায় রেখে তাদের প্রতি আপনার সকল দায়িত্ব পালন করে স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা থাকতে পারেন। এটা আপনার স্ত্রীর অধিকার। প্রয়োজনে 01734717299

প্রশ্নঃ 2016
আসসালামু আলাইকুম… আমার ২ টা প্রশ্ন আছে… ১) আমার বয়স ২১… আমি যদি আমার নাম পরিবর্তন করতে চাই তাহলে আমাকে শরীয়াহ অনুযায়ী কি কি করতে হবে? ২) বুকের লোম ছেঁছে ফেলা কি গুনাহ এর কাজ? বড়দের বলতে শুনেছি গুনাহ হবে…
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। শরীয়াহ অনুযায়ী কিছু্ করতে হবে না। দেশীয় আইন অনুযায়ী অনেক কিছুই করতে হবে। বিনা প্রয়োজনে দরকার নেই। ২। অযথা বুকের লোম কেন কাটবেন বোধগম্য নয়। এটা তো বেহুদা কাজ। এর থেকে বিরত থাকা উচিত।

প্রশ্নঃ 2015
বিবাহের পর স্ত্রীকে নিয়া বাবা মার থেকে আলাদা থাকা জায়েজ কি?
18 Jan 2026

পিতা-মাতার খেদমত-সহযোগিতা করা সন্তানের দায়িত্ব। তাদের সুবিধা-অসুবিধা দেখা সন্তানের দায়িত্ব। এই দায়িত্বে অবহেলা করে স্ত্রী নিয়ে আলাদা থাকা হারাম। তবে সকল দায়িত্ব পালন করে স্ত্রী নিয়ে আলাদা থাকতে পারেন।

প্রশ্নঃ 2014
আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হল মেঝেতে নাপাকী শুকিয়ে গেলে এবং তার ওপর (ওযু করে) ভেজা পাঁয়ে হেঁটে গিয়ে জায়নামাজে উঠলে জায়নামাজ কি নাপাক হবে?
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, নাপাক হয়ে যাবে। শুধু শুকিয়ে যাওয়া যথেষ্ট নয়, ভাল করে ধুয়ে দিতে হবে।

প্রশ্নঃ 2013
আসসালামু আলাইকুম, আমার স্ত্রী গতরাতে স্বপ্ন দেখে যে, তার আবার বিবাহ হচ্ছে। একবার বিবাহ হয়েছে আবার কেন বিবাহ? একথা ভেবে সে স্বপ্নের মাঝে অনেক কান্না করেছে। এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা কী হতে পারে? উল্লেখ্য ৩ বছর আগে বাবা মারা যান। তার বাবা মারা যাওয়ার আগে সে এবং তার মা এরকম অদ্ভুত স্বপ্ন দেখতো। তার মতে সামনে কোন বড় বিপদ আছে এবং সেটা আমাকে নিয়ে। এমতাবস্থায় স্বপ্নের ব্যাখ্যা ও আমাদের করণীয় কী জানতে চাই।
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। স্বপ্ন নিয়ে ভাবা বোকার কাজ। নবীদের স্বপ্ন ওহী। আমাদরে স্বপ্ন কিছুই না। অনেক সময় মানুষ যা ভাবে স্বপ্নে তা দেখে আবার অনেক সময় শয়তান খারাপ কিছু দেখায়। সুতরাং স্বপ্ন কিছু না। তাদের বিপদের কোন শঙ্কা নেই। আপনাদের করণীয় শরয়ীতের বিধান অনুযায়ী চলা এবং আল্লাহর কাছে ভাল রাখার দুআ করা।

প্রশ্নঃ 2012
আসসালামুআলাইকুম, আমার একটা প্রশ্ন ছিলো। আমার নামের আগে মোঃ হওয়াতে আমি অনেক জায়গায় প্রশ্নবিদ্ধ হই। নামের আগে মোঃ থাকলে বা না থাকলে কারো ঈমান আমলের বিশেষ কিছু আসে যায় কি? আমার কি এখন উচিত এই নামটি সংশোধন/এফিডেভিট করা? জানালে ভালো হতো। ধন্যবাদ।
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নামের আগে মুহাম্মাদ থাকা বা না থাকা ঈমান-আমলেরে কোন বিষয় নয়। তবে অনেক জায়গায় প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বুঝলাম না। প্রশ্নবিদ্ধ কী হিসাবে তা তো লিখলেন না। সংশোধন করা উচিত তো প্রশ্ন হতে পারে না। সংশোধন করলে সমস্যা হবে কিনা প্রশ্ন সেটা।উত্তর হলো বিশেষ প্রয়োজনে সংশোধন করা যাবে।

প্রশ্নঃ 2011
একজন স্ত্রী তার স্বামীকে কী বলে ডাকতে পারে? স্ত্রী কি স্বামীকে তুমি বা তুই বলকে পারবে?
18 Jan 2026

তুমি বা আপনি বলে ডাকতে পারবে। তবে তুই বলা মূর্খতা এবং অভদ্রতার পরিচয়।

প্রশ্নঃ 2010
আসসালামুয়ালাইকুম প্রতি মাসে ৩টি রোজা রাখার বিধান কি? ১৩,১৪,১৫ তারিখে রোজা রাখতে না পারলে যে কোনো ৩ দিন রোজা রাখলে কি হবে?
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রতি চন্দ্র মাসে তিনদিন রোজা রাখা মুস্তাহাব। এই তিন দিন মাসের যে কোন তিন দিন হতে পারে। তবে উত্তম হলো ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা রাখা। নিচের হাদীসগুলো লক্ষ্য করুন: হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, قَالَ أَوْصَانِي خَلِيلِي بِثَلاَثٍ لاَ أَدَعُهُنَّ حَتَّى أَمُوتَ صَوْمِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَصَلاَةِ الضُّحَى وَنَوْمٍ عَلَى وِتْرٍ. আমার বন্ধু অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সা. আমাকে তিনটি ওসিয়ত করেছেন যা আমি মৃত্যু পর্যন্ত ছাড়বো না। ১, প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা। ২. দুহা বা চাশতের নামায। ৩. ঘুমের পূর্বে বিতর নামায পড়া। উক্ত হাদীসে যে কোন তারিখে তিনটি রোজা রাখার কথা বলা হয়েছে। নিচের হাদীসটিতে ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা রাখার কথা বলা হয়েছে। আবু জার রা. বলেন, قال رسول الله صلى الله عليه و سلم يا أبا ذر ! إذا صمت من الشهر ثلاثة أيام فصم ثلاث عشرة وأربع عشرة وخمس عشرة রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, হে আবু জার! যদি তুমি প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখতে চাউ তাহলে ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা রাখবে। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ৭৬১; সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ২৪২৪ সুতরাং চেষ্টা করবেন এই তিন দিন রোজা রাখার জন্য সম্ভব না হলে আপনি যে কোন তিন দিন রোজা রাখতে পারেন।

প্রশ্নঃ 2009
আসসালামু আলাইকুম… হাত-পায়ের নোখ কাটার পর কি করবো? বড়দের কাছে থেকে শুনেছি এই নোখ মাটিতে পুতে দিতে হবে আর বিচারের দিনে এই নোখ খুজে আনতে হবে… কথাটি কি সত্য?
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালম। বিচারের দিন খুঁজে আনা লাগবে না তবে পরিচ্ছন্নতার স্বার্থে পুতে রাখাই ভাল।

প্রশ্নঃ 2008
ইমামের পিছনে সুরা ফাতিহা না পড়লে নামাজ হবে কি? বা সঠিক নিওম কোনটা?
18 Jan 2026

ইমাম ও একাকী নামায আদায়কারী ব্যক্তির জন্য সূরা ফাতিহা পডতে হবে। তবে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে কি না এই নিয়ে আলেমদের মাঝে কয়েকটি মত রয়েছে। এক. নামাযে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে। দুই. ফজর, মাগরিব ও এশার নামাযে অর্থাৎ যে সব নামাযে স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় সে সব নামাযে সূরা ফাতিহা পড়বে না। অর যে সব নামাযে কুরআন নিঃশব্দে পড়া হয় অর্থাৎ জোহর এবং আসরের নামাযে পড়া মুস্তাহাব। তিন. ফজর, মাগরিব ও এশার নামাযে অর্থাৎ যে সব নামাযে স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় সে সব নামাযে সূরা ফাতিহা পড়বে না। অর যে সব নামাযে কুরআন নিঃশব্দে পড়া হয় অর্থাৎ জোহর এবং আসরের নামাযে পড়া আবশ্যক। চার. কোন সময়ই ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়বে না। যে কোন একটি মতামত অনুযায়ী আমল করলেই নামায স হীহহ হবে। তবেদলীলের আলোকে মনে হয় সরব নামাযে, অর্থাৎ স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামাযে সূরা ফাতিহা পড়া লাগবে না আর নীরব নামাযে, অর্থাৎ নিঃশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামাযে ইমামের পিছনে মুক্তাদিও সূরা পড়বেন। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 10
Apnara ki gopon vabe kono gorib femily sahajjo koren???? Ami akjon meye. Amar duita vai ache bidesh ferot akhon beker tader jonno sahajjer kub proyojon tader ei bekarotto jeno sojjer sima periye geche. Ami bibahito amar sami ache 3 bacca amar samir income mota moti Alhamdulillah. Kintu amar bekar vaider mathar upor tar gorboti bow abong amar ma ache ami jototuk pari sahajjo kori kintu tader sompurno sahajjo korar moto poristiti amar ney tader pora lekha o temon ney bole valo chakri o pacchena. Apnara jodi sompurno khobor niye gopon vabe amar duita vai ke allahor usila hisebe sahajjo koren amar ma ar vabi oder jonno khub valo upokar hobe amar vabi gorvo boti kub osohai tara. Apni onek voye voye apnader kace sahajjer abedon korchi eta amar sami jante parle amar upor rag korbe. Bisoy ta apnar aktu dekben doya kore
16 Dec 2025

আমাদের এখানে বর্তমানে এরকম কোনো প্রজেক্ট চালু নাই বোন। শুকরান জাযাকুমুল্লাহ।

প্রশ্নঃ 2007
আসসালামুয়ালাইকুম, আমি কুরাআন শিখতে চাই, কুরআন এর ভাষা পরলে আমি যেন বুঝতে পারি আল্লাহ কি বোঝাতে চেয়েছেন আপনাদের কি online ভিত্তিক কার্যক্রম আছে বা বাংলাদেশে নির্ভরযোগ্য online প্রতিষ্ঠান? থাকলে জানাবেন। আর আপনারা যদি শুরু করেন তাহলে খুব ভাল হয়।
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই মুহুর্তে আমাদের এই কার্য্যক্রম নেই। আমি আপনার অনুরোধটি কতৃপক্ষকে জানাব ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্নঃ 2006
ক্যাবল ব্যবসা কি জায়েয?
18 Jan 2026

ক্যাবলের মাধ্যমে যা প্রচার হচ্ছে তা না জায়েজ হওয়াই যুক্তিযুক্ত।

প্রশ্নঃ 1971
যদি ইসলামি ব্যাংকে টাকার উপর প্রফিট আসে তাহলে সে প্রফিট দিয়ে কি নিজের কাজে ব্যবহার করা যাবে?
17 Jan 2026

জ্বী, শরীয়াহ সম্মত ব্যাংকের প্রফিট হালাল হবে, ব্যবহার করা যাবে।

প্রশ্নঃ 1973
আসসালামু আলাইকুম স্যার, আমি আমার বিয়ের আগে তালাকের বিধান নিয়ে একটা ভিডিও দেখি, এর পর থেকে তালাকের কথা সবসময় আমার মাথায় ঘোরে আমি এই সমস্যা থেকে কিভাবে ভাবে মুকৃতি পেতে পারি। আমি বর্তমানে বিবাহিত এখনো আমার তালাকের কথা টা মাথায় ঘোরে আমি আমার স্ত্রী কে উদ্দেশ্য কখনো তালাক বলিনি, কিন্তু সবসময় আমার মনে তালাক শব্দ টা ভাসে, আজকে মাগরিব সালাতের সময় আমার বার বার তালাকে কথা মনে হচ্ছিলো, তাই আমি বাইরে এসে জোরে শব্দ করে ৩/৪ তালাক বলি, এখানে আমার তালাক বলার  উদ্দেশ্য ছিলো তালাকে চিন্তা  আমার মাথা থেকে মুছে ফেলা, আমি আমার স্ত্রী কে উদ্দেশ্য তালাক বলিনি,  শব্দ করে তালাক বলার কারণে কি আমার স্ত্রী সাথে তালাক হবে?
17 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, তালাক হবে না। ভবিষ্যতে এমন করবেন না। আল্লাহর কাছে সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য দুঅ করুন। 

প্রশ্নঃ 1975
আমার বাসায় দীর্ঘদিন আগে কিনা শক্ত পলিথিনের কভারযুক্ত একটি কোরআন শরীফ আছে। বর্তমানে, বিশেষ করে শীতকাল হওয়ায় কিনারাগুলো একটু ধাঁরালো হয়ে গেছে। টিস্যু দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করার সময় অসতর্কতা বসত  ধারালো অংশে আঙ্গুল কেটে যায় এবং হালকা রক্ত বের হয়। ঘটনাক্রমে কোরআন শরীফটি দ্রুত তাকের মধ্যে রেখে দেওয়া হয় এবং যথাযতভাবে রাখা হয়নি বলে সম্পূর্ণ অনেকচ্ছাকৃতভাবে তাক থেকে কোরআন শরীফটি পায়ের কাছে পড়ে যায়। এখন আমার করণীয় কি? কাফপারা প্রযোজ্য কিনা? মূল্যবান মতামত জানানোর অনুরোধ রইল।
17 Jan 2026

না, কোন কাফফারা, সদাকা প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে সাবধান হবেন যেন কুরআন শরীফের সাথে এমন না হয়। 

প্রশ্নঃ 1976
১৩ রজব ১৪৪৭ | ০২ নিয়ত ছাড়া ডিভোর্সে স্বাক্ষর, জনাব, আমার বিয়ের প্রায় ৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর গত ১ মাস পূর্বে পরকিয়া সংক্রান্ত কারনে আমার স্ত্রীকে মা ও তাহার দুই মামার কাছে কোর্টের মাধ্যমে তাহাকে বাড়ী নিয়ে যাওয়ার জন্য হস্তান্তর করি। উল্লেখ ছিল যে, তাহাকে বুঝিয়ে সংশোধনের জন্য বাড়ী পাঠানো হয়েছে। আমাদের পরিবারে দুই জন ছেলে সন্তান আছে। একজনের বয়স ৭ ও আরেক জনের বয়স ৪ বছর। আমার পরিবারের চাপে আমি আমার স্ত্রীকে গত ৩০/১১/২০২৫ইং তারিখে কোর্টের ডিভোর্স পত্র উকিল সাহেব নিজে তাহার বাড়ীতে পাটিয়েছি। ডিভোর্স পত্রে স্বাক্ষর করার সময় আমি শুধু চোখে দেখে না পড়ে স্বাক্ষর করি। কিন্তু ডিভোর্স দেওয়া আমার নিয়ত ছিল না। তখন আমার মা উপস্থিত থেকে আমাকে বাধ্য করল স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য । উল্লেখ্য যে ডিভোর্স নামায় তিন তালাক লেখা ছিল। কিন্তু আমি আল্লাহ উপর ভরসা বলতে পারি  আমার স্ত্রীকে নিয়ত ছিল না  তালাক দেই। কিন্তুু আমার মার চাপে তালাকনামা আমি না পড়েই স্বাক্ষর করি। আমার স্ত্রী ডিভোর্স পত্র পাওয়ার পর আমাকে ফোন দেয়। তখন আমি না বুঝে বলেছি যে, তোমার সাথে ইসলামীম বিধান অনুযায়ী কথা বলা হারাম। সে মানতে রাজি না। সে আমার কাছে জীবন ভিক্ষা চায়, আর জীবনে এইরকম কাজ করবে না বলে আমাকে আশ্বাস দেয়। তখন আমি বলেছি যে, তোমার সাথে কথা বলা আমার পক্ষে সম্ভব না। আমি শুধু আমার সন্তানের সাথে কথা বলব। পরবর্তীতে আমাকে না জানিয়ে আমার বাড়ীতে চলে আসে। আমার মা বাবা তাহাকে বাড়ীতে ঢুকতে দেইনি। সে আমার এলাকার কয়েকজন মুরুব্বী আমার স্ত্রীকে আমার নিকট হস্তান্তরের চেষ্ঠা করে। আমি তাদেরকে জানিয়ে দেয়, কোর্টের মাধ্যমে ডিভোর্স পত্র  পাঠিয়ে দিয়েছি। এটা না বুঝে আমি মুরুব্বীদের বলেছি যে, ইসলামের আইন অনুযায়ী তাহাকে গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তখন আমি নিজেকে আমার স্ত্রীর কাছ হইতে সেইভ হওয়ার জন্য থানা হইতে পুলিশ আনি। সে পুলিশ দেখে পালিয়ে রাতের বেলায় বাবার বাড়ী কুমিল্লায় চলে যায়। আমার উল্লেখিত বর্ণনা অনুযায়ী তাহাকে কি আমি আবার পুনরায় আমার পরিবারে আনা যাবে কি। দয়া করে উত্তম সমাধান দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।
17 Jan 2026

নিয়ত ছাড়া ডিভোর্স লেটারে স্বাক্ষর করলে তালাক হবে না। আপনারা সংসার করতে পারবেন শরীয়াহ অনুযায়ী।  কিন্তু নিয়ত যদি না থাকে তাহলে কেন আপনি “তোমার সাথে ইসলামীম বিধান অনুযায়ী কথা বলা হারাম” এ কথা বলেছেনে তা আমার বোধগম্য নয়। নিয়ত থাকলে চিরতরে হারাম। 

প্রশ্নঃ 1977
আমি সোদি আরবে একটি কপি শপে কাজ করি, এখানকার মালিক আমাদেরকে সরকারী নিয়ম অনুযায়ী ঈদের বোনাস,এবং ছুটির টাকা দেয় না।প্রশ্ন হল আমি যদি আমার পাপ্য টাকা দোকানের ক্যশ থেকে নিয়ে নেই সেটা কি আমার জন্য জায়েয হবে?
17 Jan 2026

না, এভাবে নেওয়া জায়েজ হবে না। এটা চুরি হবে। তার জ্ঞাত সারে নিতে হবে। 

প্রশ্নঃ 1978
আসসালামু আলাইকুম, আমার এক পরিচিত আপু বিয়ের গোল্ডে স্টোন, পুতি দেওয়া। তো আপু জুয়েলারি দোকানে দেখালে ওরা বলে এখানে ৩ভরি গোল্ড আছে। আপু সেই হিসেবে যাকাত দিয়েছে।(জমা টাকা সহ যাকাত ফরজ হয়ে গেসিলো) রিসেন্টলি আপু এক জুয়েলারি শপে দেখালে তারা বলে এখানে গোল্ড ৭ভরি আছে। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে আপু আগে ৩ভরির যাকাত দিয়েছে। আপু যে এতো বছর না জেনে যাকাত কম দিছে সেটার কি হবে? আর সেগুলো যদি দিতে হয় তাহলে বর্তমান দামের উপর নাকি যখন বানিয়েছে তখনের দামের উপর দিবে? আমার আপুর বিয়ে হয়েছে ২০০৭'এ। এখনতো অনেক দাম গোল্ডের। কোন দামটার উপর আগের যাকাত গুলো দিবে সেটা প্লিজ বলবেন।আমাকে প্লিজ উত্তর দিয়ে সাহায্য করুন।
17 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। তাকে আরো কয়েকটি দোকানে দেখায়ি কতটুকু স্বর্ণ আছে তা নিশ্চিত হতে হবে। যতটুকু স্বর্ণ আছে বলে নিশ্চিত হবে এখন থেকে সে স্বর্ণের বর্তমান বাজার অনুযায়ী যাকাত দিবে। বিগত বছরগুলোর বাদ পড়া যাকাতও তাকে দিতে হবে। তৎকালীন দাম হিসাব করে দিবে।  https://www.aliftaa.jo/research-fatwas/3821/%D8%AA%D8%AC%D8%A8-%D8%A7%D9%84%D8%B2%D9%83%D8%A7%D8%A9-%D9%81%D9%8A-%D8%A7%D9%84%D8%A3%D9%85%D9%88%D8%A7%D9%84-%D9%88%D8%A5%D9%86-%D9%84%D9%85-%D9%8A%D8%B9%D9%84%D9%85-%D8%A8%D9%87%D8%A7-%D8%B5%D8%A7%D8%AD%D8%A8%D9%87%D8%A7

প্রশ্নঃ 2005
আসসালামু আলাইকুম… কাউকে জন্মদিনে হ্যাপি বার্থডে বা শুভ জন্মদিন বলা খ্রিস্টানদের সংস্কৃতি… কেক কাটাও একই… আমার প্রশ্ন হলো, আমাদের সুন্নাত পদ্ধতি কি? কারো জন্মদিনে কিভাবে উইশ করা, কিভাবে পালন করা যাবে?
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রাসূলুল্লাহ সা. বা সাহাবীদের থেকে জন্মদিন পালনের কোন হাদীস পাওয়া যায় না। সুতরাং জন্মদিন পালনই করা যাবে না। সুন্নাত পদ্ধতির তো প্রশ্নই নেই।

প্রশ্নঃ 2004
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ… Washing Machine এ কোন নাপাক কাপড় ধোয়ার পর যদি পাক কাপড় ধুতে চাই, তবে কি উপায়ে washing mechine পরিষ্কার করতে হবে? অথবা আদৌও washing machine পরিষ্কার করতে হবে কিনা? আপনার নিশ্চয় জানা আছে যে, Washing Machine এ কাপড় ধোয়া শেষ হলে কাপড় ভেজা থাকেনা, কিন্তু ড্রামের গায়ে ভিতরের দিকে ফোটা ফোটা পানি লেগে থাকে। কি করণীয় জানালে উপকৃত হবো ইনশাল্লাহ।
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, ওয়াশিং মেশিন অপবিত্র হবে না। সুতরাং পরিস্কার বা পবিত্র করতে হবে না।

প্রশ্নঃ 2003
আসসালামু আলাইকুম, জ্বী, আমাদের হানাফী মাযহাবের অনেক আলেম বলেন যে আহলে হাদীস রা ইংরেজ আমলে তৈরী হয়েছে, এই কথাটির কি কোনো ভিত্তি আছে? আর কেউ যদি হানাফী থেকে আহলে হাদিস হয়, তাহলে সে পথ ভ্রষ্ট বলে গণ্য হবে? দয়া করে এই প্রশ্নগুলির উত্তর দেবেন। জাযাকাল্লাহু খাইর।
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কে কখন তৈরী হলো এটা অযথা তর্ক। দেখতে হবে কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী কথা হচ্ছে কি না। তবে আহলে হাদীস বর্তমানে যে ফিকহী মাজহাবে রুপ নিয়েছে তার শুরু খুব বেশী দিন নয়। কিন্তু প্রাচীন কাল থেকে অধিকাংশ আলেম প্রসিদ্ধ চার মাজহারেব কোন একটির অন্তভূক্ত থাকার পরও একদল আলেম প্রসিদ্ধ চারমাজহাবের কোনটির ভিতর ছিলেন না।কোন একটি ফিকহী মাজহাব বাদ দিয়ে অন্য একটি গ্রহণ করলে কেও ভ্রান্ত হয় না।

প্রশ্নঃ 2002
যদি পরিধেয় বস্ত্রে সামান্য পরিমাণ ছেড়া-ফাটা থাকে, যার কারণে নাভি হতে হাটু পর্যন্ত অংশের(সতর) সামান্য পরিমান দেখা যায়, তাহলে কি সেটা পরিধান করে সালাত করলে সালাত কবুল হবে?
18 Jan 2026

এমন কাপড় পরিধান করে সালাত আদায় করতে হবে যা পূর্ণ সতর কে আবৃত করে। তবে যদি কোন কারণে সামন্য পরিমাণ দেখা যায় যাকে মানুষ খারার হিসাবে মনে করে না তাহলে সালাত হয়ে যাবে। এ বিষয়ে ইবনে কুদামা হাম্বলী রাহ. বলেন, فَإِنْ انْكَشَفَ مِنْ الْعَوْرَةِ يَسِيرٌ .لَمْ تَبْطُلْ صَلَاتُهُ نَصَّ عَلَيْهِ أَحْمَدُ وَبِهِ قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ যদি সতর সামান্য পরিমান খুলে যায় তাহলে নামায বাতিল হবে না। এমনেই বলেছেন, ইমাম আহামাদ এবং আবু হানীফা রহ.। আল-মুগনী ৩/১০। সামান্য পরিমানের ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন, যাকে সমাজে খারাপ মনে করা হয় না।

প্রশ্নঃ 2001
আস-সালামু আলাইকুম, আমি চন্দন মন্ডল। পশ্চিমবঙ্গ থেকে. আমি জীবনের জন্য সংগ্রাম করছি৷ আমি খুব দরিদ্র ছেলে৷ আমি আমার অর্থনৈতিক অবস্থা নিরাময় করতে চাই তাই দয়া করে আমার অর্থনৈতিক অবস্থা নিরাময়ের জন্য আমাকে কিছু সুন্নাত আমল সম্পর্কে বলবেন?
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ সম্মানজনক হালাল রিজিকের ব্যবস্থা করে দেন। আপনি কুরআনের এই দুআটি বেশী বেশী পড়বেন, رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ এবং হাদীসের এই দুআটি দুই সাজদার মাঝে এবং অন্যান্য সময় পাঠ করুন। اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى وَارْحَمْنِى وَاهْدِنِى وَعَافِنِى وَارْزُقْنِى

প্রশ্নঃ 2000
আসসালামু আলাইকুম, ধূমপান করলে অযু ভেঙ্গে যাবে কি না? ধূমপান করে নামায পড়া যাবে কিনা?
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ধুমপান করলে ওযু ভাঙলে তো সমস্যা ছিল না ওযু করে নিলেই হতো। ধুমপান একটি যঘন্য হারাম কাজ, বড় গুনাহের কাজ। সুতরাং প্রত্যেক মূমিনের উচিত ধুমপান থেকে বিরত থাকা। তবে ওযু ভাঙে না।

প্রশ্নঃ 1999
আসসালামু আলাইকুম, আমরা ওযু করার সময় গার মাছা করতাম, ছোট বেলা থেকে এভাবেই ওযু করা শিখেছি এবং করে আসছি। শাইখ মতিউর রহমান মাদানীর একটা ভিডিও দেখেছি (নিচে লিংক দিয়েছি) ঐখানে এটা বিদাআত বলা হয়েছে। এটার সর্ম্পকে এবং সুন্নাত মত ওযু পদ্ধতি জানালে খুশি হবো। https://www.facebook.com/ILBmedia/videos/820685154723414/?hc_ref=ARRZdrWISJ7sC1TfCVtMR6G6MIRTzK5RsPAIDpdeTx-Ynlmv-VokuiuWVq3r6lHut-k
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ঘাড় মাসেহ করার ব্যাপারে কয়েকটি দূর্বল হাদীস বর্ণিত আছে। তার একটি হলো, قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من توضأ ومسح عنقه لم غل بالأغلال يوم القيامة অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি ওযু করবে এবং ঘাড় মাসেহ করবে কিয়ামতের দিন তাকে শিকল পরানো হবে না। তারীখ আসবাহান, ১/২৪২। এই বিষয়ে বিভিন্ন হাদীসের বিশ্লেষন শেষে মোল্লা আলী কারী হানাফী রাহ. বলেন, قال أئمتنا إن مسح الرقبة مستحب أو سنة অর্থ: আমাদের ইমামগণ বলেছেন, ঘাড় মাসেহ করা মুস্তাহাব অথবা সুন্নাত। আল-আসরারুল মারফুয়াহ, পৃষ্ঠা- ৩১৫। কোন কোন আলেম বিদআত বলেছেন। তবে দলিলের আলোকে বিদআত নয় বলে মনে হয় না। আমরা যেভাবে ওযু করি এটাই সুন্নাত পদ্ধতি।

প্রশ্নঃ 1998
আমার দাদার সম্পদ অবৈধ ভাবে অর্জন ছিল বলে আমার সন্দেহ হয় এমতাবস্থায় আমি আমার বাবার ভাগের ঐ সম্পদ যদি গ্রহণ না করি তবে তা কোন অপরাধ হবে কি না? আবার আমার কোন সম্পদ বা জমি-জমা নাই আমার ছেলেরা সহায় সম্বলহিন অবস্থায় আছে। শরিয়াতের সমাধান কি?
18 Jan 2026

গ্রহণ না করলে তো অপরাধ হবে না। করলে অপরাধ হবে কি না প্রশ্ন সেটা। আপনার দাদার অপরাধের জন্য সাজা পাবেন না। আপনি ঐ জমাজমি নিতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1997
শায়েখ, যেসব শিয়াদের মধ্যে অকাট্য কুফর লক্ষ করা যায়, তাদের উপর তাকফির করা যাবে কী? নাকি এক্ষেত্রে অজ্ঞতাকে ওজর হিসেবে নিয়ে তাদেরকে মুসলিম হিসেবে গণ্য করতে হবে? অজ্ঞতাকে ওজর হিসেবে নিলে তো অনেক কবর পূজারীও তাদের শিরক সম্পর্কে অজ্ঞ, তাই বলে কি তারা মুশরিক না?
18 Jan 2026

মুসলিম হিসাবে দাবিদার যেসব বিভ্রান্ত গোষ্ঠী মুসলিম উম্মাহ কতৃক কাফের হিসাবে স্মীকৃত নয় তাদেরকে কাফের বলা যাবে না। তবে যারা কাফের হিসাবে স্মীকৃত তাদেরকে কাফের বলতে হবে, যেমন কাদিয়ানী।

প্রশ্নঃ 1996
আসসালামুয়ালাইকুম। আমি জানতাম যে সুলুল্লাহ সঃ বললেনঃ আমি তোমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ দুটো জিনিস রেখে যাচ্ছি। এর প্রথমটি হলো আল্লাহর কিতাব এবং অপরটি হলো সুন্নত। এটা কি সহিই হাদিস বা আমার জানাটা কি ঠিক? আমি আরেকটি হাদিস পেলাম। সেটা বলছে এর প্রথমটি হলো আল্লাহর কিতাব এবং অপরটি হলো আমার আহলে বাইত। তাহলে কোনটা সঠিক? হাদিস টি সংক্ষিপ্ত ভাবে নিচে দেওয়া হলো। … (সংক্ষিপ্ত ভাবে) যায়দ (রাঃ) বললেন, রাসুলুল্লাহ সঃ একদা বললেনঃ আমি তোমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ দুটো জিনিস রেখে যাচ্ছি। এর প্রথমটি হলো আল্লাহর কিতাব। এতে হিদায়াত এবং নূর রয়েছে। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কিতাবকে অবলম্বন কর, একে শক্ত করে ধরে রাখো। এরপর কুরআনের প্রতি আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা দিলেন। আর হলো আমার আহলে বাইত। আর আমি আহলে বাইতর ব্যাপারে তোমাদের আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আহলে বাইতর ব্যাপারে তোমাদের আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), হাদিস নং-৬০০৭,৬০১০ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রথম হাদীসটিকে শায়খ আলবানী iরহি. হাসান বলেছেন। অর্থের দিকে থেকে দুটি হাদীসের মধ্যে কোন বৈপরীত্য নেই। কেননা সুন্নাত জানার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হচ্ছে আহলে বাইত তথা নবী পরিবার।সেই কারণে হয়তো তিনি আহলে বাইতের উপর জোর দিয়েছেন।

প্রশ্নঃ 1995
জী, আসসালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্ন হল-বর্তমানে যে networking business গুলো চালু আছে, যেখানে কেউ একজন তার নিচেলোক লাগান এবং নিচের লোকেরা আবার তাদের নিচে লোক লাগায়, এই ভাবে নিচের লোকেরা যে পারিশ্রমিক পায়, তার সামান্য % উপরের ব্যাক্তি কমিশন হিসেবে পান। এই কমিশন বা এ ধরনের কাজ কি জায়েজ আছে শরীয়তে?
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই ব্যবসায় মানুষকে ঠকানো এবং ধোকা দেয়ার আশঙ্কায় আলেমগণ এটিকে হারাম বলেছেন। এবং এই ধরণের ব্যবসায় যে মানুষ প্রতারিত হয় তা যে কোন বিবেকমান ব্যক্তি বর্তমান এই ধরণের কোম্পানীগুলোর দিকে লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারবেন।

প্রশ্নঃ 1994
আমার প্রশ্নঃ বাবা মা সন্তানের, খুশি রাখার জন্য। বাবা মা কি মিথ্যা কাথা বল্লে? গোনাহ হবে।
18 Jan 2026

সত্য কথা বলে কি খুশি রাখা যায় না? মিথ্যা তো মিথ্যাই।

প্রশ্নঃ 1993
সালাতুল আওয়াবীন এর সময় কখন? মাগরিবের পরে নাকি সূর্যোদয়ের পরে?
18 Jan 2026

হাদীস অনুযায়ী সূর্যোদয়ের পরে সালাতুল আওয়াবীন এর সময়।এক হাদীসে আবু হুরায়রা রা. বলেন, أَوْصَانِي خَلِيلِي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِثَلاثٍ: صِيَامِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَرَكْعَتَيْ الضُّحَى (فَإِنَّهَا صَلاَةُ الأَوَّابِيْنَ) وَأَنْ أُوتِرَ قَبْلَ أَنْ أَنَامَ আমার প্রিয়তম বন্ধু (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে তিনটি বিষয়ের উপদেশ দিয়েছেন: (১) প্রত্যেক মাসে তিন দিন সিয়াম পালন, (২) দোহা (চাশত)-এর দু রাকআত সালাত আদায় (কারণ তা সালাতুল আওয়াবীন বা আল্লাহওয়ালাদের সালাত) এবং (৩) ঘুমানোর আগে বিতর আদায়। মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ৭৫৮৬; সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৮১। এই বিষয়ে দলীলসহ বিস্তরিত জানার জন্য রাহে বেলায়াত গ্রন্থের সালাতুদ দোহা বা চাশ্তের নামায অনুচ্ছেদটি দেখুন।

প্রশ্নঃ 1992
আস সালামু আলাকুম । ওষুধ খাবার সময় বিসমিল্লাহ বলার বিধান কি?
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সহীহ হাদীসে খাবার খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ বলার কথা রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ১৮৫৮। ইমাম তিরমিযী রাহ. এবং শায়খ যাহাবী রাহ.সহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সে হিসাবে ওষুধ খাওয়ার আগেও বিসমিল্লাহ বলা সুন্নাত।

প্রশ্নঃ 1991
নবুয়ত ও রিসালাতের মধ্যে পার্থক্য কী?
18 Jan 2026

এই প্রসঙ্গে স্যার রহ. এর একটি আলোচনা তুলে দিলাম। আশা করি এখানে আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর যথাযথ পাবেন। শায়খ ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. বলেছেন, ঈমানের অন্যতম বিষয় আল্লাহর রাসূলগণে বিশ্বাস করা। মানুষের প্রতি মহান স্রষ্টার করুণা অসীম। তিনি তাকে তার দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও গুণাবলী দান করা ছাড়াও তাকে মঙ্গলের পথ প্রদর্শনের জন্য যুগে যুগে বিভিন্ন সমাজের মধ্যে থেকে বিভিন্ন মানুষকে বেছে নিয়ে তাঁদের কাছে ওহীর মাধ্যমে সঠিক পথের সন্ধান দান করেছেন। আল্লাহর মনোনীত এসকল মানুষকে ইসলামের পরিভাষায় নবী বা রাসূল বলা হয়। নবী (النبيّ) অর্থ সংবাদদাতা এবং রাসূল (الرسول) অর্থ প্রেরিত বা দূত। আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী লাভ করে যারা মানুষদেরকে আল্লাহর পথের নির্দেশনা দেন তাঁদেরকে নবী ও রাসূল বলা হয়। তবে সকল নবী-রাসূলের নাম বা পরিচয় আমরা জানি না। এ প্রসঙ্গে ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙঙ্গীর রহ. বলেন, কুরআনে ২৫ জন নবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে: আদম, ইদরীস, নূহ, হুদ, সালিহ, ইবরাহীম, লূত, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব, ইউসূফ, আইয়ূব, শুয়াইব, মূসা, হারূন, ইউনূস, দাউদ, সুলাইমান, ইল্ইয়াস, ইল্ইয়াসা, যুলকিফল, যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা, মুহাম্মাদ (عليهم الصلاة والسلام)। উযাইরকে ইহূদীগণ আল্লাহর পুত্র বলে দাবি করত। কিন্তু কুরআনে তাঁর নবুয়ত সম্পর্কে কিছুই বলা হয় নি। আবূ হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (r) বলেন: مَا أَدْرِيْ أعُزَيْرٌ نَبِيُّ هُوَ أَمْ لاَ আমি জানি না যে, উযাইর নবী ছিলেন কি না। মূসা (আ)-এর খাদিম হিসাবে ইউশা ইবনু নূন-এর নাম হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণিত কোনো সহীহ হাদীসে অন্য কোনো নবীর নাম উল্লেখ করা হয় নি। কোনো কোনো যয়ীফ হাদীসে আদম আ.এর পুত্র শীস-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কুরআন-হাদীস থেকে অন্য কোনো নবীর নাম জানা যায় না। কুরআন কারীমে উল্লিখিত নবী-রাসূলগণকে আমরা নির্দিষ্টভাবে আল্লাহর মনোনীত নবী হিসেবে বিশ্বাস করি। তাঁদের সবাইকে আমরা ভালবাসি ও শ্রদ্ধা করি। আমরা বিশ্বাস করি যে, তারা সবাই নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী পবিত্র মানুষ ছিলেন। তাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পরিপূর্ণভাবে পালন করেছেন। তাঁরা সবাই আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও নবী ছিলেন। এঁদের নবুয়ত বা রিসালত আমরা অস্বীকার করি না। কেউ যদি এঁদের কারো নবুয়ত বা রিসালাত অস্বীকার করে অথবা এঁদের অবমাননা করে তবে সে অবিশ্বাসী বা কাফির বলে গণ্য হবে। কুরআন-হাদীসে যাদেরকে নবী হিসেবে উল্লেখ করা হয় নি তাদের কাউকে আমরা নির্দিষ্টরূপে আল্লাহর মনোনীত নবী বলতে পারি না। অন্য কোনো মানুষের সম্পর্কেই আমরা বলতে পারি না যে, তিনি আল্লাহর নবী ছিলেন। তবে আমরা বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ যুগে যুগে আরো অনেক নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন, যারা আল্লাহর মনোনীত প্রিয় পুত-পবিত্র, নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী বান্দা ছিলেন। তাঁরা তাঁদের প্রতি প্রদত্ত দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করেছেন। তাঁদের নাম বা বিবরণ আমরা জানি না। আল-ফিকহুল আকবার, বঙ্গানুবাদ ও ব্যাখ্যা, পৃষ্ঠা ১৭২।

প্রশ্নঃ 1990
কুরবানির গোশত ও অন্যান্য বিষয়ে কুরআন হাদীস কি বলে? আকিকার নিয়ম কি? বিতর নামাজের নিয়ম কি? দয়াকরে বিস্তারিত জানাবেন।
18 Jan 2026

কুরবানীর গোশত নিজে খেতে হবে এবং আত্নীয় ও গরীবদেরকে খাওয়াতে হেব। চামড়ার টাকা গরীবদেরকে দিতে হবে। এই বিষয়ে শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. লিখেছেন, আল্লাহ বলেন: لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الأَنْعَامِ فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ যেন তারা নিজেদের কল্যাণের স্থানসমূহে হাযির হতে পারে এবং তিনি তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু থেকে যে রিযক দান করেছেন তার উপর নির্দিষ্ট দিনগুলিতে আল্লাহর নাম যিক্র করে। অতঃপর তোমরা তা থেকে খাও এবং দুস্থ-দরিদ্রদেরকে খেতে দাও। হাযেরীন, তাহলে, দুস্থ-দরিদ্রদেরকে খাওয়ানো আগ্রহ ওদ উদ্দেশ্য কুরবানীর অবিচ্ছেদ্য অংশ। কুরবানীর গোশত তিনভাগ করে একভাগ পরিবারের, একভাগ আত্মীয়দের এবং একভাগ দরিদ্রদের প্রদানের রীতি আছে। এরূপ ভাগ করা একটি প্রাথমিক হিসাব মাত্র। যাদের সারা বৎসর গোশত কিনে খাওয়ার মত সচ্ছলতা আছে তারা চেষ্টা করবেন যথাসম্ভব বেশি পরিমান গোশত দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করতে। আর যারা কিছুটা অসচ্ছল এবং সাধারণভাবে পরিবার ও সন্তানদের গোশত কিনে খাওয়াতে পারেন না, তারা প্রয়োজনে পরিবারের জন্য বেশি পরিমান রাখতে পারেন। তবে কুরবানীর আগে আমার পরিবার কি পরিমান গোশত পাবে, অথবা বাজার দর হিসেবে গোশত কিনতে হলে কত লাগত এবং কুরবানী দিয়ে আমার কি পরিমাণ সাশ্রয় হলো ইত্যাদি চিন্তা করে কুরবানী দিলে তা আর কুরবানী হবে না। খুতবাতুল ইসলাম, পৃষ্ঠা নং ৩৮৬। বিতরের নামায অনেক পদ্ধতিতে আদায় করা যায়। আল্লামা ইবনে হাযাম জাহেরী রহ. আল মুহল্লা (২/৮২) বলেছেন, والوتر وتهجد الليل ينقسم على ثلاثة عشر وجها، أيها أفعل أجزأه বিতর ও রাতের তাহাজ্জুদ ১৩ টি পদ্ধতি রয়েছে। যে কোন এক পদ্ধতিতে পড়লেই যথেষ্ট হবে। তার মধ্যে তিনটি পদ্ধতি শায়খ শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রাহে বেলায়াত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আমাদের দেশে সাধারণত যে পদ্ধতিতে বিতর পড়া হয় সেটা সহীহ। এই প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনে হাযাম জাহেরী রহ. আল মুহল্লা (২/৮২) বলেছেন, والثاني عشر: أن يصلي ثلاث ركعات، يجلس في الثانية، ثم يقوم دون تسليم و يأتي بالثالثة، ثم يجلس ويتشهد ويسلم، كصلاة المغرب. وهو اختيار أبي حنيفة ১২নং তিন রাকআত নামায পড়বে, দ্বিতীয় রাকআতে বসবে, এরপর সালাম না ফিরিয়ে উঠবে এবং তৃতীয় রাকআত পড়বে। তারপর বসে তাশাহুদু পড়ে সালাম ফিরাবে মাগরিবের নামাযের মত। আর এটা আবু হানীফা পছন্দ করেছেন। বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া 117 ও 167 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন। আরো দেখুন রাহে বেলায়াত গ্রন্থের বিতর অধ্যায়।

প্রশ্নঃ 1989
আসসালামুয়ালাইকুম আমার প্রশ্ন হল আরাফার রোযার নিয়তের সাথে কেও যদি মানতের রোজার ও নিয়ত করে তাহলে হবে কিনা?
17 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, যে কোন একটার নিয়ত করতে হবে। হ্যাঁ, যদি এমন বলে আমি আরাফার দিন রোজা রাখার মানত করছি তাহলে এমন মানত করতে পারে।

প্রশ্নঃ 1988
আসসালামু আলাইকুম… নির্ভরযোগ্য সীরাতুন নবী বইয়ের লেখকের নামগুলো জানাবেন কি?
17 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি সফিউর রহমান মুবারকপুরী লিখিত আর রাহিকুল মাখতুম পড়তে পারেন। সিরাতে ইবনে হিশামও গ্রহনযোগ্য বলে বিবেচিত।

প্রশ্নঃ 1987
আসরের ওয়াক্ত কখন শুরু হয়? বস্তর ছায়া একগুণ হলে? নাকি দুইগুণ?
17 Jan 2026

্এই নিয়ে আলেমদের মাঝে মতবিরোধ আছে। তবে আপনার দায়িত্ব হলো যখন মসজিদে আসরের জামাত হয় তখন জামাাতের সাথে নামায আদায় করা।

প্রশ্নঃ 1986
একজন শায়েখ বলেছেন যে এক বালতি গাভীর পেশাবে কাপড় ভিজিয়ে নিয়ে সেই কাপড়ে সালাত আদায় করলে সালাত হয়ে যাবে(মানে গাভীর পেশাব পবিত্র)। এখন আমার প্রশ্ন, গরু- গাভীর পেশাব কি সত্যিই পবিত্র?কোন হাদীস পাওয়া যায় এসম্পর্কে?
17 Jan 2026

যে সব প্রাণীর গোশত হালাল তার পেশাব পবিত্র নাকি অপবিত্র এ নিয়ে বিতর্ক আছে। অনেকেই পবিত্র বলেছেন। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. কিছু রোগীকে উটের পেশাব খাওয়ার জন্য বলেছিলেন। এছাড়া এই সব প্রাণী রাখার স্থানে নামায আদায় করার জন্যও তিনি বলেছিলেন। হাদীসগুলো সহীহ। হানাফী আলেমগণ ছোট পর্যায়ের নাজাসাত বলেছেন। কাপড়ের এক চতুর্থাংশে লাগলে মাফ, এর চেয়ে বেশী লাগলে নামায হবে না।

প্রশ্নঃ 1985
আসসালামু আলাইকুম, আমি যদি অমুসলিম ব্যাংকে চাকুরী করি তবে কি আমার আয়-উপার্জন হালাল হবে?
17 Jan 2026

এই ধরণের একটি প্রশ্নের উত্তরে শায়েখ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. তত্ববধানে দেয়া হয়েছিল। সেই উত্তরটি ছিল 0093 নং প্রশ্নের। আমি সেই উত্তরটি এখানে হুবুহু দিয়ে দিলাম। সুদভিত্তিক ব্যাংকে কাজ করে উপার্জিত অর্থ হালাল নয়। তবে শরীয়াহ অনুযায়ী পরিচালিত ব্যাংকে কাজ করে উপার্জিত অর্থ হালাল হবে। কেননা হররত জাবরে রা. বলনে, لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ র্অথ: রাসূলুল্লাহ সা. সুদ গ্রহীতা, দাতা, লখেক, সাক্ষীদ্বয় প্রত্যকেরে উপর লানাত (অভশিাপ) দিয়েছেন এবং বলছেনে (পাপরে দকি থকে) সবাই সমান। সহীহ মুসলমি, হাদীস নং ৪১১৭।

প্রশ্নঃ 1984
আসসালামুয়ালাইকুম, কাউকে জন্বামদিনের শুভেচ্ছা জানালে বা happy birthday বললে কি গুনাহ হবে?
17 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এটা বিধর্মীদের কালচার। সুতরাং পরিত্যাগ করা একান্ত কর্তব্য। গুনাহ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বিস্তারিত জানতে দেখুন

প্রশ্নঃ 1983
আসসালামু আলাইকুম…নামাযের রুকন কয়টি ও কি কি, ফরয, ওয়াজিব ও সুন্নত কি কি, আপনাদের প্রকাশনী থেকে কি কোন নামায শিক্ষার কিতাব বের করবেন। আর আমাদের জাতীয় সংগিত গাওয়া ও শুনা যাবে কি?
17 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নামাযের ফরজ ওয়াজিব জানার জন্য যে কোন ফিকহী কিতাবের নামায অধ্যায় দেখুন। সালাত, দু’আ ও যিকর নামে আস্সুন্নাহ পাবলিকেশন্স এর একটি বই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে— সংগ্রহ করতে যোগাযোগ করুন:01715400640/01791666663/64

জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার ব্যাপারে আলেমদের আপত্তি শুনিনি। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1982
বিপদ- আপদ, বিভিন্ন ধরনের সমস্যার জন্য যেসব দোয়া ও আমল আছে তা জানার জন্য স্যার এর কোন বইটি কিনব?
17 Jan 2026

বিপদ- আপদ, বিভিন্ন ধরনের সমস্যার জন্য যেসব দোয়া ও আমল আছে তা জানার জন্য স্যার এর রাহে বেলায়াত বইটি সংগ্রহ করবেন।

প্রশ্নঃ 1981
আসসালামু আলাইকুম জী, আমার প্রশ্ন হল ১- নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হুজুর পাক বা নবী পাক বলা যাবে কি? ২- কোন মানুষকে হুজুর বা হযরত বলা যাবে কি?
17 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হুজুর পাক বা নবী পাক সাহাবীগণ রা. বলেন নি। সুতরাং এমনটি না বলাই ভাল। ২। জ্বি, বলা যাবে। এটা সম্মানার্থে বলা হয়।

প্রশ্নঃ 1980
আসসালামুয়ালাইকুম! বাংলাদেশের ঈদের আগের দিন আমাদের এখানে ঈদ হয়। কিন্তু আমি সবসময় দেশে কুরবানি দেই। কারন দেশে অনেক গরিব মানুষ আছে, আত্মীয় স্বজন আছে, তাই বন্টন সঠিক হয়। আর এখানে তো খুঁজলেও গরিব মানুষ পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে কুরবানি আর রোজা রাখতে চাইলে কি নিয়মে রাখতে হবে? তাছাড়া দেশে এবং এখানে টাইম — সমস্যা আছে।
17 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি যেখানে আছেন সেখানকার আমলগুলো সেখানকার তারিখ অনুযায়ী করবেন। যেমন, আরাফার রোজা সেখানকার ৯জিলহজ্জ রাখবেন। আর আপনার কুরবানী যেখানে হবে সেখানে সেখানকার তারিখ অনুযায়ী কুরবানী হবে। টেনশনের কোন কারণ নেই। সবই স্বাভাবিক নিয়মে হবে।

প্রশ্নঃ 1979
আব্বা মা হজ্জে গেছে, আমাকে কি উনাদের নামে আবার কুরবানী দিতে হবে?
17 Jan 2026

না, তাদের জন্য আপনাকে কুরবানী দিতে হবে না।

প্রশ্নঃ 1792
আসসালামু আলাইকুম। আমার মায়ের ১১ ভরি স্বর্ণ আছে যার জন্য তিনি যাকাত আদায় করেন। তিনি যদি আমাকে (অবিবাহিত মেয়ে) ৪ ভরি দিয়েন দেন যেটা তিনি আরও কখনও ব্যবহার করবেন না, তাহলে কি আমার মায়ের যাকাত দেওয়ার আর প্রয়োজন আছে?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।  যদি আপনার মা আপনাকে স্থায়ীভাবে দিয়ে দেয় তাহলে তার মালিক আপনি। এখন আপনার মায়ের স্বর্ণ থাকছে ৭ ভরি। শুধু ৭ ভরি স্বর্ণ থাকলে যাকাত ফরজ হয় না। যাকাত দেয়া লাগবে না। 

প্রশ্নঃ 1793
এই মহুর্তে  যদি বাবার সক্ষমতা না থাকে? তাহলে নানি কী তার নাতির আকিকা সম্পন্ন করতে  পারবে?
13 Jan 2026

জ্বী, পারবে। নানী যদি নাতির আকীকা করে দেন তাহলে অসুবিধার কিছু নেই। 

প্রশ্নঃ 1794
আসসালামু আলাইকুম, যদি কোন স্থানে কিছু মানুষ সমবেত হয় এবং নামাজের সময় উপস্থিত হয়। সেখানে কিছু বয়স্ক মানুষ আছেন যাঁদের কোরানের বেশ কিছু অংশ মুখস্থ আছে এবং মোটামুটি সুদ্ধ উচ্চারণ করতে পারেন এবং নামাজের মাসায়েল সম্পর্কে ভালো জানা আছে। কিন্তু তাঁরা মাদ্রাসায় পড়ে নাই। সেখানে একজন হাফেজ আছেন, তাঁর বয়স ১০ বছর, সবেমাত্র কোরানে হাফেজ হয়েছেন, অন্য (মাসায়েল) বিষয়ে পড়াশুনা করেন নাই। সেখানে কে ইমামতি করবেন?
13 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যে বয়স্ক মানুষের কুরআন মোটামুটি শুদ্ধ আছে সে ইমামতি করবেন। অপ্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের ইমামতি নিয়ে ফকীহদের মধ্যে বিতর্ক আছে। 
প্রশ্নঃ 1795
আমার মায়ের নামে ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট আছে। আমার বাবা তাহার জীবন দশায় আমাকে তাহার ফ্ল্যাটের টাকা আমার নামে দিয়ে যায় এবং বলে যায় যে যেহেতু আমার মা আমার ছোট ভাইকে বেশি ভালো বাসে এবং তাহাকে বেশি পরিমান সম্পদ তিনি দিয়ে দেন বিধায় বাবা আমাকে তাহার ফ্ল্যাট নিতে বলেন। বাবা মারা যাওয়ার পর আমার মা তাহার ফ্ল্যাট আমাকে নেওয়ার জন্য এবং বাবার ফ্ল্যাট আমার ছোট ভাইকে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। যেহেতু আমার মায়ের ফ্ল্যাট ১২০০ বর্গফুট এবং বাবার ফ্ল্যাট ১৬৫০ বর্গফুট। আমার মায়ের ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা  হয়েছে বাবার ফ্ল্যাটে এখনো ২০ লক্ষ টাকা প্রদান বাকি আছে যাহার আমার নিকট গচ্ছীত রয়েছে। আমার স্ত্রী এই টাকা ডেভেলপারকে প্রদান করতে বাধা দিচ্ছে। আমি আখিরাতকে ভয় পাই। সংসারের অশান্তীর ভয়ে আমি কিছু বলছি না কিন্তু আমি এর সঠিক পরামর্শ চাই। আমার মা তার ছোট ছেলেকে ভালোবেসে আমাকে সম্পদ ও টাকা থেকে বঞ্চিত করেছে আমি তাহার জন্য কষ্ট পেলেও দাবি রাখিনা। কিন্তু আমি আমার আমানত সঠিক ভাবে সঠিক ব্যক্তির কাছে প্রদান করতে চাই। যদি ফ্ল্যাট বাবদ ২০ লক্ষ টাকা প্রদান না করি তবে কি আমি আল্লাহর কাছে গুনাগার হব? দয়াকরে আমাকে জানাবেন। আমি খুবিই মানষিক কষ্টে আছি।
13 Jan 2026

আপনি উভয় ফ্লাটের মূল্য হিসাব  করবেন। তারপর টাকা দুই ভাগ করবেন। এভাবে ভাগ করে যত টাকা আপনার কাছে বেশী থাকে সেগুলো ডেভেলপারকে দিবেন, বাকী টাকা আপনার ছোট ভাই দিবেন। যেমন, আপনার মায়ের ফ্লাটের দাম উদাহরণস্বরূপ ৪০ লক্ষ টাকা, বাবারটার দাম ৬০ লাখ টাক। দুটো মিলে ১ কোটি টাকা। ভাগ করলে ৫০ লক্ষ হয়। আপনার ফ্লাটের দাম যেহেতু ৪০ লাখ টাকা সে জন্য আপনি আপনার কাছে থাকা ১০ লাখ টাকা রেখে দিবেন আর ১০ লাখ টাকা ডেভেলপারকে দিবেন।  তাহলে আপনার ৫০ লাখ পূর্ণ হবে। আপনার ভাই ডেভেলপারকে বাকী থাকা ১০ লাখ টাকা দিবেন।  এভাবে আপনাদের দুজনরই মূল্যের দিকে  দিয়ে ৫০ লাখ পূর্ণ হবে।  

প্রশ্নঃ 1970
আসসালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্ন হলো –মুহতারাম আমি যেখানে বর্তমানে আছি সেখানে যে মসজিদে আমি নামায পড়ি সেই মসজিদে পার্মানেন্ট কোন ইমাম নেই — যে যখন পারে নামাযের ইমামতি করে — মাঝে মাঝে আমিও ইমামতি করি । এখন প্রশ্ন হল আমি তেমন মাসআলা-মাসায়িল জানিনা, জানার সন্ধানে আছি। ইমামতি করতে হলে কি কি বিষয় খেয়াল রাখতে হয় — সে বিষয়ে বুঝিয়ে বলবেন।
17 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইমামের জন্য অতিরিক্ত কোন শর্ত নেই। তবে তিনি ইমামতির নিয়ত করবেন। আরা নামাযে সাজদায়ে সাহু কখন দিতে হয় একটু জেনে নিবেন। আর বাকী শর্ত অন্য মুসল্লির মতই।

প্রশ্নঃ 1968
আসসালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্ন হলোঃ কেউ যদি মিথ্যা পরিচয়ে ইন্টারনেটে/ফেসবুকে ইসলাম প্রচার করে তাতে কোন অসুবিধা আছে কি?
17 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বী, অসুবিধা আছে। মিথ্যা বলে ইসলাম প্রচারের মুখাপেক্ষী ইসলাম নয়। সুতরাং ইন্টারনেট হোক বা অন্য কোথাও হোক, মিথ্যা বলে ইসলাম প্রচারের কোন সুযোগ নেই। 

প্রশ্নঃ 1969
আসসালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্ন হলো — আমি সাউদি আরবে একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকুরীরত আছি। আমার ডিউটি সকাল ৭ টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। কিন্তু আমার যে কাজ— তা প্রতিদিন ১ বা দেড় ঘন্টা আগে শেষ হয়ে যায় কিন্তু আমরা প্রতিদিন ১০ ঘন্টা কর্মসময় লিখি এমনকি কোনদিন যদি অতিরিক্ত সময় কাজ করি তবে ১ বা দেড় ঘন্টা অভার টাইম লিখি — এখন আমাদের এই কাজটি কি ঠিক হয় কিনা—- কম সময় কাজ করে বেশী সময় খাতায় লেখার ইসলামী বিধান কি?
17 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এখানে দুটো বিষয়। তাহলো কোম্পানীর সাথে আপনার চুক্ত কী? যদি নির্দিষ্ট কাজের হয় তাহলে কাজ শেষ হলে আপনার ডিউটি শেষ। আর যদি সময়ের হয় তাহলে কাজ শেষ হলেও আপনি বাসায় যেতে পারবেন না। সময় শেষ করে যেতে হবে। সময়ের চুক্তি হলে অতিরিক্ত কাজের জন্য টাকা নিতে পারবেন। আর কাজের চুক্তি হলে পারবেন না। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 1907
আমার এক ভাই জানতে চাইছে যে, সে আয় করে এবং তার স্ত্রীর সম্পূর্ণ ভরণ পোষণ দেয়। তার স্ত্রীও আয় করে। কিন্তু তার স্ত্রী তার স্বামীকে এক টাকাও দেয় না, সে যখন বিপদে পড়ে স্ত্রীর কাছে টাকা চায় ,তখন স্ত্রী তাকে টাকা দেয় না। সে বলে কি আমার টাকা তোমাকে দেবো কেন? তোমার দায়িত্ব আমাকে ভরণ পোষণ করা।তাই তুমি আমাকে ভরণপোষণ করবে। সে স্বামীকে টাকা না দিয়ে আজেবাজে জায়গায় টাকা নষ্ট করে।স্ত্রী যে কাজটা করছে এটা কি সঠিক? কোরআন ও হাদিসের আলোকে বুঝিয়ে বলবেন।
15 Jan 2026

জ্বী, স্ত্রী যে স্বামীকে টাকা দেয় না, এটা আইনের দৃষ্টিতে সঠিক। তবে আজে বাজে শরীয়াহ বিরোধী কাজে স্ত্রীর জন্য টাকা খরচ করা সঠিক নয়।  স্বামীর দায়িত্ব স্ত্রীর অর্থনৈতিক দিক পূরণ করা, স্বামীর অর্থনৈতিক দায়িত্ব স্ত্রীর নয়।  আর কোন স্ত্রীর অধিকার নেই স্বামীর অনুমতি ছাড়া চাকুরী করা। স্ত্রী যদি চাকুরী করতে চায় তাহলে স্বামীর অনুমতি নিতে হবে।  স্ত্রী চাকুরী করলে এতটুকু সমস্য হওয়া স্বাভাবিক, সুতরাং সহ্য করার ক্ষমতা অর্জন করতে হবে।                        

প্রশ্নঃ 1967
আস্সালামু আলাইকুম, আমি আরাফাতের দিন রোজা রাখতে চাই। কিন্তু সেটা বাংলাদেশে কি বারে রোজা রাখব? কেননা সৌদি আরবের একদিন পরে আমরা ঈদ বা রোজা করে থাকি। দয়া করে তারিখটা জানাবেন… ধন্যবাদ
17 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আরাফার দিন অর্থাৎ জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ রোজা রাখবেন। সেটা এবছর (২০১৭) আমাদের দেশে শুক্রবার।

প্রশ্নঃ 1966
ভাই আসসালামু আলাইকুম, কুরবানিতে ৭ ভাগ আর ৭ নামের মধ্যে পার্থক্য কি কুরান হাদিছের আলোকে একটু বুঝিয়ে বলবেন?
17 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কথা হলো, একটি গরু সাত জনের পক্ষ থেকে কুরবানী দেয়া যায়। এটা সহীহ হাদীসসম্মত। আপনার প্রশ্ন বুঝতে পারছি না।

প্রশ্নঃ 1965
আসসালামু আলইকুম। প্রতি কোরবানী ঈদে আমরা ভাইরা কেউ 10000 কেউ 15000 বা কেউ 12000 টাকা বাবাকে দিলে বাবা অন্য আরো 2-3 জনের সাথে শরীকে কোরবানী দেয়। আমার ভাইদের আয় রোজগার ভালো, তাই আপতদৃষ্টিতে মনে হয় তাদের উপর ও কোরবানী ওয়াজিব হয়ে আছে।আর আমার উপর ও ঈদের মাাসে বেতন বোনাস মিলে কোরবানী ওয়াজিব হওয়ার উপক্রম। ১. আমার প্রশ্ন হল এইভাবে বাবাকে টাকা দিয়ে, শুধু বাবাই পরিবারের পক্ষ থেকে কোরবানী দিলে আমাদের কোরবানী কি আদাই হবে? ২. আর যেহেতু কোরবানী একটা ইবাদত তাই আমার খুব ইচ্ছা হয় বাবাকে কোরবানীর জন্য টাকা না দিয়ে আমি নিজেই কাউকে শরীক না করে একটা পশু আল্লাহর রাস্তায় কোরবানী দিতে। এই ব্যাপারে সুপরার্মশ আশা করছি? ৩. বাবার এখন আয় রোজগার নেই, আমরা ভাইরা টাকা দিয়ে পরিবার চালাই, তাহলে বাবার কোরবানী না দিলে কি তার গুনাহ হবে? সে ক্ষেত্রে আমরা ভাইরা হয়ত আলাদা আলাদা কোরবানী দিলাম?
17 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১। আপনার প্রত্যেক ভাই আলাদা আলাদা কুরবানী করবে। সেই হিসাব করে প্রতি ভাই যদি কমপক্ষে গরুর এক ভাগের টাকা বাবার কাছে দেন আর তিনি কুরবানীর পশু কেনার এবং কুরবানী দেয়ার বিষয়গুলো দেখাশোনা করেন তাহলে সমস্যা নেই। ২। শরীয়দের দৃষ্টিতে কোন সমস্যা নেই। তবে সামাজিকতা রক্ষার জন্য আপনি আপনার বাবার সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলে ভাল হয়। ৩। না, আপনার বাবা গুনাহগার হবে না।

প্রশ্নঃ 1964
আসসালামু আলাইকুম জি, আমি অনেক আলিম এর কাছে শুনেছি যে ফাজায়েলে আমল নামক কিতাবে শিরক ও বিদআতের কাহিনী আছে, তাই এই কিতাবের তালিম কি মসজিদে করা যাবে বা তাতে অংশগ্রহণ করা যাবে? এই কিতাবে আছে যে রসুলুল্লাহ যে কবরে শুয়ে আছেন, সেই মাটি আল্লাহর আরশের থেকে উত্তম এবং কাবা ঘর থেকেও উত্তম, দুনিয়ার সবকিছু থেকে উত্তম, এই কথাটির কোন ভিত্তি আছে কি?
17 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মানব রচিত সব কিতাবেই ভুল আছে। সুতরাং সর্বাবস্থায় সাবধান থাকতে হবে। ভুলগুলো বাদ দিয়ে সঠিক বিষয় তালিমের ব্যবস্থা করা উচিত।

প্রশ্নঃ 1963
আসসালামু আলাইকুম, আমার একজন হিন্দু বন্ধু আছে। সে আমাকে একটি জামা উপহার দিয়েছিল। আমি তা গ্রহণও করেছিলাম। যখন গ্রহণ করেছিলাম তখন আসলে ইসলাম থেকে অনেক দুরে ছিলাম। প্রশ্ন হচ্ছে আমি কি এই জামা ব্যবহার করতে পারব? যদি না পারি তবে কি তা কি করতে পারি?
17 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, আপনি জামাটি ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রশ্নঃ 1962
আসসালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্ন হলোঃ কুরবানী অংশের সাথে কি আকিকা দেওয়া যাবে? আর আর কুরবানী করার পর যাদের পক্ষ থেকে কোরবানি হবে, তাদের নাম কি বলতে হবে?
17 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এটা সুন্নাত নয়। সুন্নাত হলো শিশু জন্মের সপ্তম দিনে একটি ছোট পশু তথা ছাগল-ভেড়া দিয়ে আকীকা করা।আর কুরাবানী কুরবানীর সময় করা। তবে আলেমদের একাংশ একই পশুতে কুরবানী ও আকীকা জায়েজ বলেছেন। কুরবানীর পরে নাম বলা লাগবে না।

প্রশ্নঃ 1961
আমার এক জনকে ভাল লাগে, কিন্তু সে আমাকে ভালবাসে না, আমি কুন ভাবেই মেনে নিতে পারছি না এই কথাটি, হতাশায় কাটছে দিন, আত্মহত্তা প্রবন হয়ে যাচ্ছি দিন দিন, সবাই বলে আল্লাহ যা করেন ভালর জন্নই করেন, আমি কিছু তেই বুঝাতে পারছি না কথাটা নিজেকে, আমি তাকে ভাল লাগার পর থেকে নিয়মিত নামাজ পরি আগে পরতাম না, অনেক পরিবরতন এসেছে আমার মাঝে, কিছুতেই ভুলতে পারছি না, পিরা দিচ্ছে, আমি অবশ্যই তাকে বিয়ে করতে চাই, হারাম কিছু করার ইচ্ছা নাই, কিভাবে তাকে বুঝাতে পারি কিছুই বুঝতে পারছি না, আমার তাকেই চাই, কি করতে পারি?
17 Jan 2026

আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না, যে আপনাকে চাই না আপনি কেন তার জন্য পাগল হবেন। এটা তো পৃথিবীর স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে। যে আপনাকে কাছে নিতে রাজি নয় আপনি তার কাছে যাওয়ার চিন্তা করাটাও তো চরম পর্যায়ের বোকামী।দ্বিতীয়ত, এই ধরলে ভাল লাগা- ভালবাসাকে ইসলাম সমর্থন করে না। বিয়ের আগে এই ধরণের কাজ-কর্ম অবৈধ। আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন, তিনি যেন আপনার জন্য এমন একজন ছেলের ব্যবস্থা করে যে আপনাকে ভাল বাসবে। আমরাও সেই দুআ করি। যে আপনাকে ভালবাসে না তাকে কাছে টানার চেষ্টা না করে যে ভালবাসে তাকে খোঁজ করুন।

প্রশ্নঃ 1960
আসসালামু আলাইকুম। ১। জন্মদিন পালন এইটা বিধর্মীদের কাছ থেকে এসেছে। এই কারনে আমি কখনও জন্মদিন পালন করি না। তবে সামাজিকতা রক্ষার জন্য কখনও কখনও কারো জন্মদিনের দাওয়াতে যেতে হয়। এই ক্ষেত্রে কি আমি গুনাহগার হচ্ছি?.২। ভোট দিলে কি গুনাহ হবে? কারণ গণতান্ত্রিক নির্বাচন বিধর্মীদের তৈরি করা। উত্তর জানালে উপকৃত হব।
17 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সামাজিকতা রক্ষার জন্যও এখানে যাবেন না। অন্যে কোনভাবে ম্যানেজ করবেন। ২। ভোট দিলে গোনাহ হয় না। অপেক্ষাকৃত ভাল জনকে সমর্থন করবেন ।

প্রশ্নঃ 1959
আসসালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্ন হলো- একটা গরু ২ থেকে ৭ জন ভাগে কুরবানী করা যাবে কিনা? ভাগে কুরবানী করার নিয়ম কি?
17 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। একটি গরু সাত ভাগে কুরবানী দেয়া যাবে। এই বিষয়ে আলেমগণ ঐক্যমত। দুয়েক জন দল ছুট বাদে। সাত জনের পক্ষ থেকে দিবে এই নিয়তই করবে।

প্রশ্নঃ 1958
আসসালামু আলাইকুম। আমি স্যারের একজন ভক্ত। একটা প্রশ্ন: কোরবানির পশু রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই বান্দার সকল গুনাহ মাফ হয়। হাদিসটি কি সহিহ। জানালে খুব খুশি হব।
17 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীসটি উচ্চমানের সহীহ নয়। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ১৫৭২

প্রশ্নঃ 1957
আসসালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্ন হলো- কোরবানি করা আপনারা বলছেন যে–ওয়াজিব। কিন্তু আবু বক্কর, উমর ফারুক অনেক সময় কুরবানি করতেন না। আব্দুল্লাহ ইবনে অমর, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস,বেলাল প্রমুখ সাহাবি থেকে বর্ণনা পাওয়া যায়।
17 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আল্লাহ সূরা কাওসারে কুরবানী করার আদেশ দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, সামর্থ থাকা সত্তেও কুরবানী না করলে ইদগাতে যেন না আসে। আল-মুসাতারক লিল-হাকেম, হাদীস নং ৩৪৬৮। হাদীসটিকে শায়খ আলবানী হাসান বলেছেন। কেউ কেউ সহীহ বলেছেন। সহীহ ওযীফ তারগীব, হাদীস নং ১০৮৭। এসব বিবেচনায় আলেমদের একটি অংশ বলেছেন, ওয়াজিব। কুরআন ও হাদীসের ভাষ্যের দিকে তাকালে ওয়াজিবই মনে হয়। তবে ওয়াজিবটা হলো আমলের দিকে দিয়ে। বিশ্বাসের দিক দিয়ে সুন্নাতই মনে করতে হবে। আর কুরবানী সুন্নাত বলার ফলাফল মধ্যপ্রাচ্য ভোগ করছে। সেখানে সামর্থ থাকা সত্তেও অধিকাংশ মানুষ কুরবানী করে না। সেখানে কুরবানীর ঈদ যে, ধনী-গরীবের মহামিলনের উৎসব সেটা মনেই হয় না। আরেকটি কথা মনে রাখবেন যারা সুন্নাত বলেছেন, তারা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বলেছেন। তাদের নিকট সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ওয়াজিবের স্থানে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। শেষ কথা বলি আপনার নিকট কুরবানী করা সুন্নাত হওয়ার অর্থ যেন এটা না হয় যে, বাচাঁ গেল, যেহেতু সুন্নাত তাহলে আর কুরবানী করা লাগবে না। সাহাবীদের কেউ কেউ করাবনী করেন নি এর থেকে প্রমানিত হয় যে, ফরজ নয়। কারণ কুরআন ও হাদীসের ভাষ্য থেকে ফরজ মনে করারও অবকাশ আছে।

প্রশ্নঃ 1956
আসসালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্ন হলো ১- জুম্মার দিন বাদ আসর কেউ যদি এই দরুদ -আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়ালা আলিহি ওয়াসাল্লিম তাসলীমা পড়ে তাহলে তার জীবনের 80 বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। এর কি কোনো দলিল আছে? ২-গরু কোরবানি করার সঠিক সুন্নতি পদ্ধতি কি?
17 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১। না, কোন দলীল নেই। ২। স্পষ্ট করে প্রশ্নটি করুন। আপনি কী জানতে চাচ্ছেন তা স্পষ্ট নয়।

প্রশ্নঃ 1955
জুমা নামাজ শেষে আমাদের মসজিদে হুজুর মুনাজাত ধরে সেই মুনাজাতে কি আমিও অশংগ্রহন করতে পারবো?
17 Jan 2026

আপনার ইচ্ছা। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আমাদের দেয়া 29 নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 1954
আমার প্রশ্ন, যেখানে রাসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, সকল নব উদ্ভাবিত কাজ থেকে বেঁচে থাকবে, কারণ প্রত্যেক বিদয়াতই পথভ্রষ্টতা, তাহলে কেন ফকীহগণ বিদয়াতকে দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন (হাসানা ও সাইয়িআত) আর কিছু কিছু বিদয়াতকে হাসানা বলে তাকে জায়েজ করেছেন?
17 Jan 2026

পরিভাষায় বিদআত দুই প্রকার নয়। বিদআত সবই পরিতাজ্য। বিস্তারিত জানতে পড়ুন, শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. লিখিত এহ্ইয়াউস সুনান বইটি।

প্রশ্নঃ 1953
মাসিক এর সময় যৌন মিলন করার কোণ উপায় আসে কি?
16 Jan 2026

মাসিকের সময় যৌন মিলন নিষিদ্ধ। কোন উপায় নেই।

প্রশ্নঃ 1952
আসসালামুআলাইকুম,যদি ধনীকারোর কুরবানির পশু হারিয়ে যায় বা মারা যায় তার কি কোন মাসালা আছে?আর গরীব কারোর কুরবানির পশু হারিয়ে যা বা মারা যায় তার মাসালা কি? জানালে খুব উপকার হবে।
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ধনী হলে পূনরায় পশু কিনে কুরবানী করতে হবে। আর গরীব হলে পূনরায় কেনা আবশ্যক নয়।

প্রশ্নঃ 1951
কুরবানি বিষয়ে একটু জানতে চাচ্ছি। আমার স্বামী চাকুরী করে এবং আমিও চাকুরী করি এক্ষেত্রে আমার স্বামী ও আমার পক্ষ থেকে কি আলাদা আলাদা কুরবানি দিতে হবে? আমরা এতদিন দেখে এসেছি যে গরু কুরবানির ক্ষেত্রে ৭ ভাগ দেয়া হয় ৭ জনের পক্ষ থেকে — এটা সহিহ কিনা। এক বাড়ীর ৬ ভাই যদি আয়-উপার্জন করে এবং তাদের যদি আলাদা আলাদা সংসার থাকে সেক্ষেত্রে তাদের কোরবাণী কি নিয়মে হবে? প্রত্যেকে আলাদা আলাদা ভাগ দিবে নাকি সকলে একত্রে টাকা দিয়ে একসাথে কুরবানি দিবে?
16 Jan 2026

আপনি যদি কুরবানীর নেসাব পরিমান সম্পদের মালিক হন তাহলে আপনার উপর কুরবানী ওয়াজিব। আপনার স্বামীকেউ কুরাবনী দিতে হবে, আপনাকেও দিতে হবে। বড় পশু অর্থাৎ গরু, মহিষ, উটে ৭ জন কুরবানী দেয়া যায়, এটা সহীহ এবং সঠিক কথা। উম্মতের কর্মধারা এর উপরই শত শত বছর চলে আসছে। বেশ কিছু সহীহ হাদীসে এই কথা বলা আছে। প্রত্যেকের উপরই কুরবানী ওয়াজিব। গরু হলে এক গরুতে সবাই ভাগি হতে পারে, সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 1950
আপনারা কি বন্যাকবলিত দের সাহায্যে কোন কর্মসূচী গ্রহন করেছেন? যদি করেন তা হলে সেখানে দান করার বাবস্থা কি?
16 Jan 2026

হ্যাঁ, আমরা বন্যা কবলিতদের সাহায্যের জন্য কর্মসূচী গ্রহন করেছি। বিস্তারিত জানতে ফোন করুর 01762629439

প্রশ্নঃ 1949
বিধবার জন্য কোরবানী কি জায়েজ আছে। ছেলে নাই দুইটা মেয়ে আছে উপযুক্ত
16 Jan 2026

প্রত্যেক মুসলিমের জন্য কুরবানী দেয়া জায়েজ। তবে যার নেসাব পরিমাণ সম্পদ আছে তার উপর ওয়াজিব। বিধবার নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার উপরও কুরবানী ওয়াজিব।

প্রশ্নঃ 1948
আমি একজন চিকিৎসক ও হাজী। হিন্দুদেরমধ্যে আমার থাকতে হয়। অনেক হিন্দু ভাইরা আমার নিমন্ত্রণ করে। তাদের বাড়িতে খাওয়া যাবে কি?? আর পূজার চাদার জন্য আসে। চাদা দেওয়া যাবে কি?? আমাকে একটু জানাবেন প্লিজ।
16 Jan 2026

হিন্দুদের বাড়িতে হিন্দুদের হাতের জবেহ করা প্রাণীর গোশত ছাড়া অন্য খাবার খাওয়া জায়েজ। তবে তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করবেন, কিন্তু অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসাবে তাদের গ্রহণ করতে কুরআন শরীফে নিষেধ করা হয়েছে। আর পূজার চাদা দেয়া যাবে না, হারাম। কেনন এতে শিরকে সহায়তা করা হবে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 1947
Assalamulaikum মিসত্তয়াক করে নামায পরলে নামাযে ৭০ গুন বেশী সত্তয়াব হয়। এই হাদিসের তাহকীক জানলে একটু জানাইলে ভাল হয়।
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মিসওয়াক করলে নামাযে ৭০ গুন সওয়াব হয় এই অর্থের হাদীসটি একাধিক সাহবী থেকে একাধিক শব্দে বর্ণিত আছে। যেমন, আস-সুনানুল কুবরা লিল বায়হক্কীতে আছে: صَلاَةٌ بِسِوَاكٍ خَيْرٌ مِنْ سَبْعِينَ صَلاَةً بِغَيْرِ سِوَاكٍ হাদীস নং ১৬৪। মুসনাদে আহমাদে আছেفضل الصلاة بالسواك على الصلاة بغير سواك سبعين ضعفا হাদীস নং এবং ২৬১৮৩। সহীহ ইবনে খুজায়মাতে আছেفضل الصلاة التي يستاك لها على الصلاة التي لا يستاك لها سبعين ضعفا হাদীস নং ১৩৭। প্রতিটি সনদই বিভিন্ন কারণে দুর্বল। মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেন নি। তবে শায়েখ ইবনে কয়্যিম জাইযী রহ. বলেছেন, অনেক সংখ্যক দুর্বল বর্ণনা থাকার কারণে এবং মিসওয়াক করার বিষয়ে সহীহ হাদীসে ব্যাপক গুরুত্ব দেয়ার কারণে ৭০ গুন সওয়াব হওয়া অসম্ভব নয়। বিস্তারিত জানতেصَلاَةٌ بِسِوَاكٍ خَيْرٌ مِنْ سَبْعِينَ صَلاَةً بِغَيْرِ سِوَاكٍ লিখে ইন্টারনেটে সার্স নিতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1946
আসসালামুয়ালাইকুম। আমাকে এক ভাই অনুরুধ করছে আপনাদের কাছে নীচের প্রশ্নগুলি করতে। প্রশ্নগুলি হোলঃ ১। স্বামী ইনকাম করে এবং নিয়মিত কোরবানী করে। স্ত্রী কোন চাকুরী করে না, গৃহিণী। তাহলে স্ত্রী উপর কোরবানী করা কি ওয়াজিব/সুন্নতে মুয়াক্কাদা? উল্লেখ্য যে স্বামীর আর্থিক অবস্থা এমন যে ইচ্ছে করলে স্ত্রীর কোরবানীর খরচ স্বামী যোগাড় করতে পারবে। ২। ভাই এর আর্থিক অবস্থা এখন ভালো নয়, তাই এই বছর কোরবানী দিবেনা কিন্তু আগে নিয়মিত কোরবানী দিত। এই অবস্থায় নিজের স্ত্রীর নামে কোরবানী না দিয়ে ভাই এর নামে কোরবানী দেওয়া কি উত্তম হবে?
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১। স্ত্রীর উপর কুরবানী ওয়াজিব/সুন্নাত কিছুই না। স্বামীর আর্থিক অবস্থা ভাল থাকার কারণে স্ত্রীর উপর কুরবানী ওয়াজিব/সুন্নাত হয় না। ২। ভাই এর আর্থিক অবস্থা এখন ভালো নয়, তাই এই বছর কোরবানী দিবেনা । যদি নাই দেয় তাহলে উত্তম হওয়া না হওয়া কী বুঝলাম না। যার উপর কুরবানী ওয়াজিব তাকে কুরবানী দিতে হবে, উত্তম-অনুত্তমের কিছু নেই। ভাইয়ের উপর ওয়াজিব হলে ভাই নিজের পক্ষ থেকে কুরবানী দিবে। নিজের ওয়াজিব আদায়ের পর অন্য কারো পক্ষ থেকে নফল হিসাবে কুরবানী দিতে পারবে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। প্রয়োজনে 01734717299

প্রশ্নঃ 1945
আসসালামু আলাইকুম… জুমআর সালাত নিয়ে আমার কিছু প্রশ্ন আছে…১)আমাদের দেশের মসজিদে জুমআর সালাত আদায়ের ৩ খুতবা সম্বলিত পদ্ধতি কি সুন্নাহ সম্মত?! যেখানে শুনেছি রাসূল(সঃ) ২ খুতবায় শেষ করতেন… ২) ফরয এর আগে-পরে বাদাল জুমআ ও ক্বাবলাল জুমআ এর ৪ রাকাত কি সুন্নাহ সম্মত?! আমি শুনেছি যে রাসূল(সঃ) ফরযের পূর্বে ২ রাকাত ২ রাকাত করে করে যত ইচ্ছা তত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছিলেন…! আর ফরযের পরে তিনি ঘরে গিয়ে ২ রাকাত আদায় করতেন এবং মসজিদে হলে ৪ রাকাত আদায় করতেন… ৩) এখন আরেকটা প্রশ্ন হলো এই সালাত গুলোর নিয়্যত কি হবে? সুন্নাত নাকি নফল সালাতের?
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ৩ খুতবা সম্বলিত পদ্ধতি এই কথাটি ঠিক নয়। এই ধরণের কথা আপত্তিকর।নিশ্চয় আপনি এই কথাটি নিজ থেকে বলছেন না, কারো থেকে শুনেছেন। জুমুআর খুৎবার আগে মানুষের বুঝার জন্য একটি বাংলা বক্তৃতা হয়। আর জুমুআর খুৎবার আগে বক্তৃতা করা সহীহ সূত্রে সাহাবীদের থেকে প্রমানিত। আবু হুরায়রা রা. রাসূলুল্লাহ সা. খুতবা দিতে আসার পূর্বে মানুষদেরকে হাদীস শুনাতেন বলে হাদীসে বর্ণিত আছে। মুসতাদরক হাকিম, হাদীস নং ৩৬৭। যারা আরবী জানেন তাদের জন্য হাদীসটির মূল পাঠ দিয়ে দিলাম। 7- أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ الْفَقِيهُ ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ الْقَاضِي ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ ، حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ : كَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يَقُومُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِلَى جَانِبِ الْمِنْبَرِ فَيَطْرَحُ أَعْقَابَ نَعْلَيْهِ فِي ذِرَاعَيْهِ ثُمَّ يَقْبِضُ عَلَى رُمَّانَةِ الْمِنْبَرِ ، يَقُولُ : قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : قَالَ الصَّادِقُ الْمَصْدُوقُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، ثُمَّ يَقُولُ فِي بَعْضِ ذَلِكَ : وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ فَإِذَا سَمِعَ حَرَكَةَ بَابِ الْمَقْصُورَةِ بِخُرُوجِ الإِمَامِ جَلَسَ هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ الشَّيْخَيْنِ وَلَمْ يُخَرِّجَاهُ ইমাম হাকীম হাদীসটি বর্ণনা করার পর বলেছেন, এই হাদীস থেকে প্রমাণিত হয়, ইমাম সাহেব খুতবা দিতে আসার পূর্বে হাদীস বর্ণনা করা মুস্তাহাব। রাসূলুল্লাহ সা. জুমুআর ফরজ সালাতের পূর্বে সুন্নাত সালাত আদায়ের জন্য বলেছেন। সহীহ বুখারীর এই হাদীসটি লক্ষ করুন: عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَتَطَهَّرَ بِمَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ ثُمَّ ادَّهَنَ ، أَوْ مَسَّ مِنْ طِيبٍ ثمَّ رَاحَ فَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ اثْنَيْنِ فَصَلَّى مَا كُتِبَ لَهُ ثُمَّ إِذَا خَرَجَ الإِمَامُ أَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الأُخْرَى সালমান ফারসী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন ভালভাবে গোসল করে তেল বা সুগন্ধি ব্যবহার করে (মসজিদে) গমন করবে অতঃপর (মসজিদে) কাউকে না ডিঙিয়ে সাধ্যানুযায়ী নামায পড়বে এবং যখন ইমাম খুতবা দেয়ার জন্য বের হবে তখন চুপ করে তা শুনবে, তার এক জুমুআ থেকে অপর জুমুআর মাঝের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯১০। এই হাদীসে রাকআত সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয় নি। আলেমগণ বলেছেন দুই রাকআত থেকে শুরু করে যত ইচ্ছা পড়বে, যত বেশী পড়বে সওয়াব ততো বেশী হবে। রাকআত সংখ্যার ব্যাপারে বিভিন্ন সাহবী থেকে বিভিন্ন সংখ্যা বর্ণিত আছে। দুই রকআত. চার রাকআত ইত্যাদি। চার রাকআতের বিষয়ে নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন: عبد الرزاق عن الثوري عن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن السلمي قال كان عبد الله يأمرنا أن نصلي قبل الجمعة أربعا وبعدها أربعا حتى جاءنا علي فأمرنا أن نصلي بعدها ركعتين ثم اربعا অর্থ: ( তাবেঈ) আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী বলেন, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে জুমুআর পূর্বে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর আলী রা. আমাদেরকে জুমুআর পর প্রথমে দুই রাকআত এরপর চার রাকআত পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুসান্নাফু আব্দুর রায্যাক, হাদীস নং ৫৫২৫। এই হাদীসটির বিষয়ে শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, وهذا سند صحيح لا علة فيه অর্থ: এটা সহীহ সনদ, তাতে কোন সমস্যা নেই। সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, ১০১৬ নং হাদীসের আলোচনা। উক্ত সহীহ হাদীসটি দ্বারা আমারা জানতে পারলাম যে, প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. চার রাকআত ক্ববলাল জুমুআ ও চার রাকআত বাদালা জুমুআ পড়ার আদেশ দিয়েছেন। উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা আমরা বুঝলাম যে, জুমুআর আগে নামায সুন্নাত, তবে রাসূলুল্লাহ সা. থেকে রাকআত সংখ্যা বিষয়ে কোন কিছু বর্ণিত হয়নি। সুতরাং যে যতটুকু ইচ্ছা করে ততোটুকু পড়তে পারে। দুই দুই রাকআত করে পড়তে পারেন আবার চার রাকআত করেও পড়তে পারেন। জুমুআর শেষেও চার রাকআত পড়তে পারেন। ফরজ ও ওয়াজিব বাদে সব নামাযের নিয়ত এক। নফল সুন্নাত আলাদা করার কোন সুযোগ নেই।

প্রশ্নঃ 1944
শুধু আশুরার দিন রোজা রাখলে গুনাহ হবে কি? সাথে আরেকটি রাখতে চাইলে আগে রাখলে ভাল হবে নাকি পরে রাখলে ভাল হবে?
16 Jan 2026

গুনাহ হবে না। তবে আগে পরে একদিন মিলিয়ে দুদিন রাখা ভাল। হাদীসে এমন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রশ্নঃ 1943
জুমআর নামায মিস হলে বাড়ীতে কত রাকাআত নামায আদায় করবো?
16 Jan 2026

চার রাকআত যুহর পড়বেন।

প্রশ্নঃ 1942
আসসালামু আলাইকুম, জি আমার প্রশ্ন হল ১-আমি হানাফি হয়ে কি রফ উল ইয়াদাইন করে পারি? ২- ফরজ নামাযের পর ইমাম সাহেব যে সম্মিলিত ভাবে মনাজাত করে তা কি বিদাত? নাকি জায়েয? দলিল সহ দয়া করে জানাবেন। জাজাক আল্লাহু খইর।
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১। জ্বী, পারেন। ২। আমাদের দেয়া 29 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 1941
হুজুর ছাড়াই আল্লাহকে সাক্ষী রেখে কবুল বলে ২ জন দুজনকে স্বামী-স্ত্রী ভাবতে শুরু করেছে। এটাকে কি বিবাহ বলা যাবে?
16 Jan 2026

না, এটা বিবাহ নয়। এটা শয়তানের কুমন্ত্রনা।

প্রশ্নঃ 1940
আসসালামু আলাইকুম। আমরা জানি আরবি মীম ও নূন হরফটির উপর তাশদিদ থাকলে গুন্নাহ করা ওয়াজিব। (1.) এখন নামাজের তিলাওয়াতে এই ওয়াজিব টি ছুটে গেলে কী সাহু সিজদাহ ওয়াজিব? (2.) নামাজে কোরআন তিলাওয়াত ব্যাতিত অন্য ক. ওয়াজিব স্থানে যেমন তাশাহুদ এবং খ. সুন্নাত স্হানে যেমন দরুদ ও দোয়া মাসূরা ইত্যাদি স্হানে এই ওয়াজিব গুন্নাহ ছেড়ে দিলে কী সাহু সিজদাহ দিতে হবে? হলে অতীতে যেসব নামাজে এই ভূলগুলো ছিল সেসব নামাজের কী হবে? (1 নং ও 2নংএর জন্য পৃথকভাবে )। (3.) ক. ইচ্ছে করে অথবা খ.কোন জরুরি কারনে নামাজে তাশাহুদের পর দরুদ ও দোয়া মাসূরা না পড়লে কী নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে? অতীতে কিছু নামাজে এমন করলে এখন করনীয় কী? বেশি প্রশ্ন করার জন্য দুঃখিত। আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ওয়াজিব গুন্নাহ ছাড়ার কারণে সাজদায়ে সাহু দিতে হবে না। দরুর ও দুআ মাসূরা পড়া সুন্নাত। সুতরাং ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় দরুদ ও দুআ মাসূরা ছাড়লে নামাযের কোন ক্ষতি হবে না।

প্রশ্নঃ 1939
আমি কুরআনের তাফসীর পড়তে চাই, কোন তাফসীরটি ভাল জানাবেন।
16 Jan 2026

তাফসীরে ইবনে কাসীর পড়তে পারেন। সংক্ষিপ্ত তাফসীরের জন্য তাওযীহুল কুরআন পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 1938
আসসালামু আলাইকুম, ১.আমাদের মসজিদ পুনঃনির্মাণ করতে যেয়ে মসজিদের ভেতরে কয়েকটা কবর পরে গেছে, এখন প্রশ্ন হলো এই মসজিদে নামায হবে কি-না? ২.এলাকার প্রভাবশালীরা মিলে মাস্তান দিয়ে ইমাম সাহেবকে বিদায় করেছে, অপরাধ তিনি মিলাদে কিয়াম করতেন না, এখন নতুন খতিব রাখছেন যিনি তাদের কথা মত চলেন আবার কিরাআতেও সমস্যা, পাঁচ ওয়াক্ত যে পড়ায় তারো একই অবস্থা। এখন প্রশ্ন হলো, বেদাতি আর সূরা ভুল পাঠকারী ইমামের পিছে নামায হবে কি-না? ৩. এক্ষেত্রে আমি কি এলাকার মসজিদ পার করে শহরের মসজিদে জুমআর নামায আদায় করতে পারবো কি-না আর বাড়িতেই ওয়াক্তিয়া নামায পড়তে পারবো কি-না? উল্লেখ্য যে, আমার বাড়ি একেবারে মসজিদের সামনে।
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১। হ্যাঁ, নামায হবে। ২। যদি এমন ভুল পাঠ করে যার দরুন অর্থ পাল্টে যায় তাহলে তার পিছনে নাামায হবে না। ৩। এক্ষেত্রে আপনি শহরের মসজিদে জুমার জন্য যেতে পারেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাযও অন্য মসজিদে পড়বেন যেখানে ইমাম ভাল।

প্রশ্নঃ 1937
আসসালামুয়ালাইকুম, যাকাত এর টাকা দিয়ে কি বন্যার্তদেরকে সাহায্যে দেওয়া যাবে?
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, দেয়া যাবে। তবে তাদের মধ্যে কেউ যাকাতে হকদার না হলে সে নিবে না।

প্রশ্নঃ 1936
আমার এক দোস্ত বিয়ে করেছে আল্লাহকে সাক্ষী রেখে…অর্থাৎ অন্য কোন মানুষ সেখানে ছিলনা…..ছেরৈ ও মেয়ে ২ জনে নিজেরাই কবুল বলেছে… কোন হুজুরও ছিল না . এটা কি ইসলাম অনুমতি দেয়?
16 Jan 2026

না, এটা ইসলাম অনুমোদন করে না।

প্রশ্নঃ 1935
আমি একজন হানাফি, সালাত আদায় করার সবচেয়ে বিশুদ্ধ পদ্ধতি কোনটি? ১) আহলে হাদিস ভাইদের কথা শুনে ও বুখারি শরিফ পড়ে বিতির নামায ১ রাকাত পড়ি –এটা কি ভূল? ২) নামাজ এর শেষে মুনাজাত থেকে বিরত থাকি, শুনেছি এটো বিদাতি কাজ, আমার জানা কি ঠিক? এইগুলি আমার মনে হয় খুব সাধারণ সমস্যা, যদি সঠিক ভাবে জান্তে পার্তাম তাহলে আমল কর্তে অনেক সুবিধা হত।
16 Jan 2026

হানাফী মাজহাবে যেভাবে সালাত আদায় করতে বলা হয়েছে সেটা সুন্নাহ সম্মত। তেমনি অন্য মাজহাবের নামাযগুলোও সুন্নাহ সম্মত। আপনি বুখারী শরীফ পড়ে নামায বদলাতে শুরু করেছেন, এটা ভাল উদাহরণ নয়। এভাবে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত আপনাকে সমস্যায় ফেলতে পারে। বুখারী শরীফের কোথায় আছে আগে কোন নফল নামায না পড়ে এক রাকআত বিতর পড়ার কথা? বিতর তিন রাকআত পড়াই এক রাকআত থেকে উত্তম বলে মনে হয়। মুনাজাত নামাযের অংশ নয় সুতরাং মুনাজাত নিয়ে বাড়াবাড়ী নিস্প্রয়োজন। বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া 0019 নং প্রশ্নের উত্তর। আপনি যেভাবে নামায আদায় করছিলেন সেভাবেই করুন। যাতে ঝামেলা এড়াতে পারেন।প্রয়োজনে 01734717299

প্রশ্নঃ 1934
কাদিয়ানীরা সূরা আরাফের ৩৫ নং আয়াত দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করে নবুওয়তের ক্রমধারা এখন ও বন্ধ হয় নি। আয়াতটির সঠিক ব্যাখ্যা জানতে চাচ্ছি।
16 Jan 2026

আয়াতটির ব্যাখ্যা স্পষ্ট। নবীরা আসলে তাদের কথামত চললে জান্নাত মিলবে, এটাই ব্যাখ্যা। এখানে তো নবী সামনে আসবে বা আসবে না সে সম্পর্কে কিছু বলা হয় নি। পক্ষান্তরে সূরা আহযাবের ৪০ নং আয়াতে মুহাম্মদ সা. কে শেষ নবী স্পষ্ট বলা হয়েছে। মুসলিম বিশ্বের ঐক্যমতে তারা অমুসলিম, সুতরাং তাদের ব্যাখ্যা নিয়ে এত মাথা ঘামানোর দরকার নেই।

প্রশ্নঃ 1933
আসসালামু আলাইকুম… মানুষের ইবাদাত কবুল না হওয়ার শর্ত কি? কেউ যদি হারাম রুজি বাদ দিলো,রিয়াও হয়না তার,গীবতও বন্ধ করলো,সত্য কথা বলা শুরু করলো, মা-বাবার সাথে ভালো ব্যবহার শুরু করলো,সুদ বাদ দিয়ে দিলো… এরপরেও কি কোনো কারণ আছে যার জন্য ইবাদাত কবুল হবেনা?
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইসলামের আদিষ্ট বিষয়গুলো পালন করতে হবে আর নিষিদ্ধ বিষয়গুলো বর্জন করতে হবে এটাই মূল কথা। এরপরও পাপ হয়ে যাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। ভাল কাজ করলে সওয়াব হবে আর খারাপ কাজ করলে সওয়াব হবে। ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য আপনি যে লিস্ট তৈরী করেছেন তা আমরা পাই নি। তবে এগুলো থেকে বেচে থাকা প্রত্যেকের জন্য অপরিহার্য।

প্রশ্নঃ 1932
আস-সালামু আলাইকুম । অপবিত্র কাপড় যদি শরীরে থাকে এবং তা ঘামে ভিজে যায় বা অপবিত্র বিছানায় শুলে যদি তা ঘামে ভিজে যায় তাহলে কি শরীর অপবিত্র হয়ে যাবে?
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, অবিত্র হয়ে যাবে। এবং নামাযের জন্য শরীরের ঐ অংশটুকু ধুয়ে ফেলতে হবে।

প্রশ্নঃ 1931
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ, জনাব, আমার প্রশ্ন হচ্ছে, কেমন করে হস্ত মৈথুন থেকে বিরত থাকবো। এটা একটা কঠিন কাজ আমার কাছে। এটার শাস্তি ও বিরত থাকার উপায়সমুহ বলে দিন।
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আল্লাহকে ভয় করা, জাহান্নামকে ভয় করাই পাপ ছেড়ে দেয়ার প্রথম উপায়। সকল আলেমের নিকট এটা জঘন্য পাপ। পাপের শাস্তি আল্লাহ জাহান্নামে দিবেন। সুতরাং আপনি প্রথমত আল্লাহকে যথাযথ ভয় করুন। দ্বিতীয়ত যদি সামর্থ্য থাকে তাহলে বিবাহ করে নিন। এছাড়া রোজা রাখার পরামর্শ দিয়েছে রাসূলুল্লাহ সা.। বাজার একটা বই পাওয়া যাচ্চে, যার নাম হে আমার ছেলে মূল লেখক ড. আলী তানতাবী। আপনি উক্ত বইটি পড়লে আপনার অনেক উপকার হবে বলে মনে করছি।

প্রশ্নঃ 1930
১. সূরা বাকারার-১৭০ নাম্বার আয়াত ও সূরা আনআমের-১১৬ নাম্বার আয়াত কি এযুগেও মুসলমানদের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে? ২. মুরসাল হাদিস কি? সুনান আবু দাউদ (তাহকিককৃত) ৭৫৯ হাদিসটি বুঝলাম না, হাদিসটির সনদ সহী হলে তা আবার মুরসাল হয় কিভাবে? বুকে হাত বাধার শক্ত/সহী দলিলগুলো কি কি? ৩. সহীহ বুখারী, তাওহীদ প্রকাশনীতে আছে ৭৫৬৩ টি হাদিস, আবার ইফাঃ তে আছে মোট ৭০৫৩ টি হাদিস, এরকম কমবেশি হবার কারণ কি তাওহীদ প্রকাশনী কি মদিনা ইউনিভার্সিটি বা সৌদি কর্তিক ;স্বীকৃতিপ্রাপ্ত? এই প্রকাশনীতে কাদের তত্ত্বাবধানে বই ছাপানো হয়? ৪. হিকমাহ, ইমাম, মসলা মাসায়েল, বায়াত, কাশফ, তাসাউফ এগুলার সংজ্ঞা কি? একটু সহজ কথায় বুঝিয়ে বলবেন কি? ৫. কবরে নেক বান্দাদের যে চারটি প্রশ্নকরা হবে- এ কথাটার দলিল পাচ্ছি না। রেফারেন্সসহ হাদিসটি যদি বলে দিতেন তাহলে অনেক উপকার হত।
16 Jan 2026

এই আয়াত দুটি কোন যুগেই মুসলমানদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়নি এবং এখনো হবে না। এই আয়াত দুটি কাফেরদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে। বর্তমানে ফিকহী বিষয়ে মতভেদ হলে কেউ কেউ মুসলমানদের ক্ষেত্রে এই আয়াতের অপব্যবহার করে, এটা খু্বই মারাত্নক ও জঘন্য ব্যাপার। ২। তাবেঈ যখন সরাসরি রাসূলুল্লাহ সা. থেকে সরাসরি বর্ণনা করে তখন সে হাদীসক মুরসাল বলে। এই ধরণের হাদীসের বর্ণনাকারীগণ ছিকাহ হলে সনদ সহীহ বলে বিবেচিত। তবে মুরসাল হাদীসকে অনেকেই শক্তিশালী দলীল হিসাবে মনে করেন না। বুকে হাত বাধার কোন শক্তিশালী দলীল বা সহীহ হাদীস ভিত্তিক কোন দলীল নেই। বিস্তারিত জানতে দেখুন, শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত বুকের উপর হাত বাধার বিধান বইটি। ৩। হাদীসের লেখকগণ হাদীসের কোন নাম্বার দেন নি। পরবর্তীতে অনেকেই নাম্বার দিয়েছেন। এক্ষেত্রে কেউ কেউ একই বিষয়ের ছোট কোন হাদীসেকে আরেকটার ভিতর ঢুকিয়ে দিয়েছেন আবার কেউ আলাদা রেখেছেন তাই নাম্বারের ক্ষেত্রে এমন তারতম্য হয়েছে। কোন প্রকাশনী সম্পর্কে কোন মন্তব্য করা আমাদের কাজ নয়। ৪। এগুলো স্থানীয় কারো কাছ থেকে জেনে নিন। সর্বশেষ বলি, কুরআন-হাদীস বিশাল এক সাগর। সাগরের গভীরে না গিয়ে সাগর সম্পর্কে মন্তব্য না করা উচিত।

প্রশ্নঃ 1929
জামাতের শুরুতে, মানে…মাগরিবের ও আছরের জামাতের সময় যদি প্রথম ২/১ রাকাত মিস করি পরে রাফুল ইয়াদাইনসহ নামাজ শেষ করবো কিভাবে?
16 Jan 2026

বাকী রাকআতগুলো স্বাভাবিক নিয়মে আদায় করতে হবে। যেসব রাকআত ছুটে গেছে সেসব রাকআতে যেভাবে ইমাম সাহেব কুরআন পাঠ করেছেন সেভাবে কুরআন পাঠ করবে।

প্রশ্নঃ 1928
আসসালামুলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি আমার স্বামীর সাথে যখন বাহিরে যাই তখন অনেককেই দেখি জেনে বা না জেনে কিছু ভুল করছে । যেমন কোন পুরুষ লোক মাটি সেছড়িয়ে লুঙ্গি বা প্যান্ট পরেছে বা অন্য কোন কিছু । তখন আমি আমার স্বামী কে বলি লোকটাকে হাদিস দ্বারা সাবধান করেন । কিন্তু আমার স্বামী তা করে না। তখন আমি বলি যে, আমি লোকটাকে সাবধান করি তাও সে অনুমতি দেয় না। তাই আমিও কিছু বলি না। স্বামী নিষেধ করা পরেও যদি কাউকে সাবধান করি তা কি জায়েজ হবে?
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার স্বামই যতটুকু পারে করুক, আপনার আর এর মধ্যে জড়ানোর দরকার নেই। প্রাই প্রতিটি মানুষই এরকম করে। আপনি যদি এই কাজ শুরু করেন তাহলে আপনার বাইরে যে কাজ করতে যান তা করা হবে না, শুধু সাবধানই করে যেতে হবে। এছাড়া মহিলা পুরুষকে সাবধান করতে গেলে শয়তান এখানে বিভিন্ন ফিৎনা সৃষ্টি করতে পারে।

প্রশ্নঃ 1927
ইমামের পিছনে কেরাত পড়া বাধ্যতা মুলক কি না?
16 Jan 2026

একদল আলেম ও ফকীহ শুধুমাত্র সূরা ফাতিহা পড়াকে বাধ্যতামূলক বলেছেন। আরেক দল পড়তে নিষেধ করেছেন। প্রত্যেকেরই বক্তব্যের ভিত্তি হচ্ছে হাদীস । আপনি যে কোন একটার উপর আমল করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1926
আসসালামুয়ালাইকুম। আমার প্রশ্ন হল পেশাব থেকে পবিত্রতা বিষয়ে। আমি যখন পেশাব শেষ করি এর পর অনেক্ষন অপেক্ষা করি কারন সম্পূর্ণ পবিত্র যেন হওয়া যায়। কিন্তু তারপরও দেখা যায় কিছু ফোটা ফোটা আসে। আবার দেখা যায় একটু পর বন্ধ হয়ে যায়। আবার আসে। আই অবস্থায় আমি যদি পেশাব ধুয়ে চলে আসি আর আর পর যদি আমার অন্তর্বাসে পেশাব লেগে যায় ওই ক্ষেত্রে আমি সালাত আদায়ের আগে কি করতে পারি(কারন আমি যখন অফিস থাকি আবার কাপড় বদলানো সম্ভব নয়) দয়া করে জানাবেন? আমি খুব দিধার মধ্যে থাকি। আমার কোন পেশাব সংক্রান্ত রোগ নেই।
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যদি রোগ না থাকে তাহলে পেশার করে উঠে আসার পর ফোটা ফোটা আসে কিভাবে? যদি রোগ না হয় তাহলে এটা আপনার মানসিক সমস্যা।এক্ষেত্রে করণীয় হলো পেশাবের পর পানি ব্যবহার করে অন্তর্বাসের উপর একটু পানি ছিটিয়ে দেয়া যাতে পেশাব কয়েক ফোটা আবার বের হয়েছে এরক ওয়াসওয়াসা না আসে। তবে যদি নিশ্চিত হন যে, পেশাব কাপড়ে লেগেছে তাহলে ঐ অংশটুকু ধুয়ে নিলেই নামায হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ 1925
আসসলামুআলাইকুম। হাত ও পায়ের নখ স্বাভাবিক (বড় ও ছোটর মাঝামাঝি) থাকা অবস্থায়, নকের কোণের অংশ দ্বারা ত্বক এমন ভাবে ঢাকা থাকে যে তাতে স্বাভাবিক ভাবে ওজুর সময় পানি পৌছেনা। এভাবে ওজু কি হবেনা? নাকি নখের অংশ দ্বারা ত্বক আবৃত থাকায় সেখানে পানি পৌছাতে হবেনা? আর ওজুর সময় নকের কত ভেতরে পানি পৌছানো ওয়াজিব?
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার কথাটা ঠিক বুঝলাম না। স্বাভাবিকভাবে নখের নিচে পানি না পৌছালে নখতো অনেক বড় হওয়া দরকার। এত বড় নখ কেটে ফেলতে হবে তাহলে সহজেই সব জায়াগাতে পানি পৌছাবে। নখের ভিতরের শেষ পর্যন্ত পানি পৌছাতে হবে।

প্রশ্নঃ 1924
আমার এক মুসলিম বন্ধু নাম তার শাহেদ হাসান সে এক হিন্দু মেয়ে জবা বিশ্বাসকে ভালবাসে। উভয়ে নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী গত ৪ঠা আগষ্ট ২০১৭ রোজ শুক্রবার রাত ১১-১০ মিনিটে ফেসবুকের মাধ্যমে বিবাহ করেছে। বন্ধু শাহেদ হাসান পাঁচ ওয়াক্ত নামায রোযা এবং শরীয়াত অনুযায়ী যথাসাধ্য দ্বীনের কাজগুলি সঠিকভাবে করে যাবার চেষ্টা করে। অন্যদিকে জবা বিশ্বাস তার ধর্ম মানে কিন্তু কোন আচার-অনুষ্ঠান করেনা। তবে সে এই বিয়ের পুর্বে উপোষ থেকে শিবমন্দিরে উপস্থিত হয়ে পুরোহিতের মাধ্যমে তার মানত পুজা করেই এ বিয়েতে তাদের ধর্ম অনুযায়ী বিয়ে করেছে। শাহেদ হাসান তার ধর্মানুযায়ী তাকে তিনবার কবুল বলতে বললে জেবা বিশ্বাস যথারীতি তাই করেছে। অন্তর থেকে তারা এখন উভয় উভয়কে স্বামী-স্ত্রী হিসাবে নিজেদের গন্য করে। প্রসঙ্গত: তারা দুজনে দুই জেলায় ব্যবধান প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। শাহেদ হাসান পুর্বে বিবাহ করেছিলো কিন্তু তার স্ত্রী প্রায় সাত বছর আগে ইন্তেকাল করেছেন। তারপর শাহেদ হাসান আর বিবাহ করেননি। শাহেদ হাসান যে পুর্বে বিবাহ করেছিলেন তা জবা বিশ্বাসকে জানিয়েছেন এবং জবা বিশ্বাস সানন্দে তা মেনেও নিয়েছেন। আমার জানামতে তারা এখন অব্দি শারীরিকভাবে মিলিত হয়নি। বিবাহ পুর্ব দেখা সাক্ষাৎ হয়েছে তবে কোন শারীরিক মিলন ঘটেনি। শাহেদ হাসান তাকে এ পথ থেকে ফেরানোর যথেষ্ঠ চেষ্টা নিয়েছে কিন্তু সফল না হওয়াতে বিবাহ করেছে। জবা বিশ্বাস অনার্স তৃতীয় বর্ষে ঢাকা ইডেন কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে। শাহেদ হাসান ব্যবসা করেন। শাহেদ হাসানে আগের পক্ষের দুটি সন্তান আছে। তারা বিবাহ শাদী করে নিজ পরিবারে বসবাস করে। শাহেদ হাসানকে তারা আর্থিক সহযোগিতা করে থাকে। এ বিয়েতে সরেজমিনে কোন সাক্ষী সাবুদ না থাকলেও ফেসবুকের তাদের কাছের বন্ধুরা প্রায় সবাই বিবাহের কথা এবং তারা স্বামী-স্ত্রী এটা জানেন। শাহেদ হাসান এখন জবা বিশ্বাসের সম্পুর্ন ভরন-পোষন দিয়ে আসছে। জবা বিশ্বাস ফাইনাল পরীক্ষা না দেয়া পর্যন্ত এ বিবাহের কথা তার পরিবারের কাছে গোপন রাখতে চাইছে। শাহেদ হাসান জবা বিশ্বাসকে ধর্মান্তরিত হবার জন্য কোন চাপ সৃষ্টি করেননি। তবে তার বিশ্বাস একদিন সে ঠিকই মুসলিম হবে। কারন এর মধ্যেই জবা বিশ্বাস কিভাবে নামায আদায় করতে হয় তা জানতে চেয়েছে। এমতবস্থায় আপনাদের কাছে প্রশ্ন এ বিবাহ কতটুকু বৈধ বলে গণ্য হবে বা পরবর্তী করনীয় কি [উভয়ের জন্য]? দ্বিতীয় প্রশ্ন আমি শুনেছি কোন মুসলিম যদি কোন অমুসলিমকে বিবাহ করেন তাহলে ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী যে মুসলিম অমুসলিমকে বিবাহ করার কারনে তার বংশের পুর্ব পুরুষসহ সে নিজে বিশেষ সওয়াবের অধিকারী হবেন-কথাটি ঠিক? অনুগ্রহ পুর্বক যথাসম্ভব দ্রুত উত্তর প্রত্যাশা করছি। কারন আপনাদের জবাবের উপর ওদের দুজনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এবং স্বামী-স্ত্রীর মিলন ঘটবে।
16 Jan 2026

আপনার বন্ধুর উদ্দেশ্য ভাল, এটা প্রশ্ন থেকে মনে হচ্ছে। তবে কথা হলো কোন মুসলিম কোন হিন্দু মেয়েকে বিবাহ করতে পারবে না। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্ট করে বলেছেন, وَلاَ تَنكِحُواْ الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ وَلأَمَةٌ مُّؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُ তোমরা মুশরিক মহিলাদের বিবাহ করো না যতক্ষন না তারা ঈমান আনে আর একজন মূমিন দাসী এবং মুশরিক থেকে উত্তম যদিও মুশরিক মহিলা তোমাদেরকে বিমোহীত করে। সূরা বাকারা, আয়াত নং ২২১। সুতরাং উক্ত বিয়ে হয় নি। এই বিষয়ে সকল আলেম ও ফকীহ একমত। তবে ঐ মেয়েটি মুসলিম হলে আপনার বন্ধু তার সাথে শরয়ী নিয়মে বিবাহ করতে পারে। ফেসবুকে বিবাহ এটা বিয়ের মত একটি পবিত্র বিষয়ের সাথে মানায় না। সামাজিকভাবে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বিবাহ হওয়া উচিত। দ্বিতীয়ত অমুসলিমকে বিবাহ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: অমুসলিম মুসলিম হওয়ার পর, অমুসলিম থাকা অবস্থায় নয়।

প্রশ্নঃ 1923
আসসালামু আলাইকুম… আমি আগে জানতাম গীবত মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার মতো একটা কাজ!! কিন্তু অজানা বশত আমার সাথে চলাফেরা করা অনেক মানুষের গীবত করে ফেলেছি! এই পাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় টা কি একটু বলবেন?
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যেগুলো হয়ে গেছে তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আর ভবিষ্যতে না করার সংকল্প করুন।

প্রশ্নঃ 1922
ইমাম তিরমিযী সুনান আত তিরমিযীতে অনেক হাদিসের শেষে বলেছেন,হাদিসটি হাসান,সহীহ ও গরীব। এর ব্যাখ্যা কী? একটা হাদীস একই সাথে হাসান,সহীহ ও গরীব হয় কীভাবে?
16 Jan 2026

আপনি এমন পেলে মনে করবেন হাদীসটির সনদে কোন এক পর্যায়ে বর্ণনাকারী একজন। তবে হাদীসটির মান ভাল। আমল ও দলীলযোগ্য। হাদীসিট সহীহ।

প্রশ্নঃ 1921
আসসালামু আলাইকুম। মনে করুন পবিত্রতা বিষয়ে কোন মাসআলা না জানার কারনে আমি অপবিত্র অবস্হায় পূর্বে অনেক নামাজ পড়েছি। এখন মাসআলাটি জানার পর আমাকে কী নামাজগুলো কাযা করতে হবে। উল্লেখ্য নামাজের নির্দিষ্ট কোন সংখ্যাও মনে নেই।
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কোন সমস্যা হয়েছে সেটা নির্দিষ্ট করে লিখুন। নয়তো এভাবে বলা সম্ভব নয়।

প্রশ্নঃ 1920
http://www.najibbd.blogspot.com/2017/04/blog-post_57.html?m=1 উপরের লিংকটির আর্টিকেলের প্রথম কিছু অংশ শাইখ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর(রাহিমাহুল্লাহ) এর আলোচনায় খুব সম্ভব প্রশ্নোত্তর পর্বে শুনেছিলাম। তবে এর পরবর্তী অংশ কোনো আলোচনায় পাইনি। প্রশ্ন হল, লিংকটির আর্টিকেলের শেষাংশ কি সত্যই শাইখ এর বক্তব্য?
16 Jan 2026

জ্বী, শায়েখ বিভিন্ন সময় এই ধরণের বক্তব্য দিতেন এবং এটাও তার বক্তব্যেরই অংশ।

প্রশ্নঃ 1919
আসসালামু আলাইকুম ১। আমার ভাই কুমিল্লাতে একটা চাকরী করে এবং সেখানে ভাই ফ্যামিলী নিয়ে থাকে আর আমি থাকি ঢাকা। এখন আমি যদি সেখানে বেড়াতে যাই (২ বা ৩ দিন) তাহলে কি আমাকে নামায কছর পড়ব? না পূর্ণ নামায পড়ব? আর যদি মসজিদে পড়ি সেক্ষেত্রে কি করব? ২। ঈদের দিন কি কোলাকুলি করা বিদাআত? আর কোলাকুলি কয়বার করা যায় একবার না তিন বার? হাদিসের আলোকে জানাবেন দয়া করে। ৩। জুমআ নামাযে কাবলাল জুমআ বলে আমরা যে ৪ রাকাআত সুন্নত নামায পড়ি এটা কি হাদিস সম্মত?
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনাদের মূল বাড়ী যদি কুমিল্লাতে হয় তাহলে আপনি ওখানে পূর্ণ নামায পড়বেন আর যদি অন্য কোথাও মূল বাড়ী হয় তাহলে কসর করবেন। ইমামের পিছনে সর্বাবস্থায় পূর্ণ নামায পড়তে হয়। ২। ঈদের দিনে কুলাকুলি করার ব্যাপারে কোনা হাদীস পাওয়া যায় না। সুতরাং কুলাকুলি না করাই উত্তম। স্বাভাবিক অবস্থায় কোলাকুলি করার কোন কথা রাসূলুল্লাহ সা. বা সাহাবীদের থেকে পাওয়া যায় না বরং নিষেধাজ্ঞা পাওয়া যায় তবে দূরবর্তী সফর থেকে ফিরে এলে সাহাবীরা কুলাকুলি করতেন বলে হাদীসে পাওয়া যায়। নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন: عن أنس قال كان أصحاب النبي : إذا تلاقوا تصافحوا وإذا قدموا من سفر تعانقوا হযরত আনাস রা. বলেন, রাসূলের সাহাবীরা যখন একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করতেন তখন মুসাফা করতেন আর যখন সফর থেকে ফিরতেন তখন কুলাকুলি করতেন। আল-মুজামুল আওসাত লিত-ত্ববারনী, হাদীস নং ৯৭। শায়খ আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।সিলসিলাতু সহীহা, হাদীস নং ২৬৪৭। সাধারণ অবস্থায় কোলাকুলি করতে রাসূল সা. নিষেধ করেছেন। নিচের হাদীসিটি দেখুন: عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : قُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ ، أَيَنْحَنِي بَعْضُنَا لِبَعْضٍ ؟ قَالَ : لاَ . قُلْنَا أَيُعَانِقُ بَعْضُنَا بَعْضًا ؟ قَالَ : لاَ ، وَلَكِنْ تَصَافَحُوا. হযরাত আনাস রা. বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! একে অপরের দেখা সাক্ষাতের সময় কি ঝুকা যায়? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, কোলাকুলি করা যায়? তিনি বললেন, না । তবে মুসাফাহ করবে। সুনানু ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৭০২। শায়খ আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সুতরাং আমাদের উচিত সফর থেকে ফিরে কোলাকুলি করা অন্যান্য সময় মুসাফা করা। ৩। হ্যাঁ, জুমুআর ফরজ নামাযের আগে চার রাকআত সুন্নাতপড়া হাদীস সম্মত। নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন: عبد الرزاق عن الثوري عن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن السلمي قال كان عبد الله يأمرنا أن نصلي قبل الجمعة أربعا وبعدها أربعا حتى جاءنا علي فأمرنا أن نصلي بعدها ركعتين ثم اربعا অর্থ: ( তাবেঈ) আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী বলেন, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে জুমুআর পূর্বে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর আলী রা. আমাদেরকে জুমুআর পর প্রথমে দুই রাকআত এরপর চার রাকআত পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুসান্নাফু আব্দুর রায্যাক, হাদীস নং ৫৫২৫। এই হাদীসটির বিষয়ে শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, وهذا سند صحيح لا علة فيه অর্থ: এটা সহীহ সনদ, তাতে কোন সমস্যা নেই। সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, ১০১৬ নং হাদীসের আলোচনা। উক্ত সহীহ হাদীসটি দ্বারা আমারা জানতে পারলাম যে, প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. চার রাকআত ক্ববলাল জুমুয়া পড়ার আদেশ দিয়েছেন। তবে চার রাকআত নির্দিষ্ট নয়। কম বেশী করা যাবে। বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া 354 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 1918
যে সকল লোক সুদে জর্জরিত হয়ে গেছে কিন্তু সুদ থেকে মুক্ত হতে পারছেনা। তাদের তেমন সম্পদও নাই যে ঋণ পরিশোধ করবে। এখন তারা কিভাবে ঋণ ও সুদ থেকে মুক্তি পাবে। কোন রকম সংসার খরচ চালাতেও নতুন করে ঋণ নিতে হচ্ছে। মোট কথা ঋণের দুষ্ট চক্রে আটকা পড়ে গেছে। মুক্তির উপায় জানা থাকলে জানিয়ে উপকৃত করবেন। আমিন!
16 Jan 2026

যারা ঋন নেয় তাদের একটা অভ্যাস হয়ে যায় সব সময় ঋন নেয়া। প্রয়োজনে হোক বা অপ্রয়োজনে। সুতরাং ঋন থেকে বাঁচতে হলে প্রথমে এই মানসিকতা বদলাতে হবে। সংসারের স্বাভাবিক খরচ মিটাতে এখন আর আগের দিনের মত কষ্ট হওয়ার কথা নয়। কারণ এখন মানুষের সামনে ছোট-বড় অনেক কাজ, সহজেই সেই কাজ পেতে পারে। সুতরাং স্বাভাবিক খরচের ক্ষেত্রে ঋন নেয়া বাদ দিতে হবে। আর যে ঋন নেয়া হয়েছে সে ঋন অল্প অল্প করে পরিষোধের ব্যবস্থা করতে হবে। সুদ দিবে না, বলবে মূল টাকাটা দিতে পারবো, সুদ দিতে পারবো ন। এতে টাকা যিনি পাবেন তিনি রাগান্বিত হবেন বটে তবে তার টাকার স্বার্থে ঋন গ্রহীতার কোন ক্ষতি করবে না। সর্বাবস্থায় ঋন মুক্তির জন্য আল্লাহ তায়ালার কাছে দুআ করতে হবে।

প্রশ্নঃ 1917
জইফ হাদিস কি কি খেত্রে প্রয়োগ করা জাবে। মুহাদ্দিস গনের মতামত জানাবেন। কে কি মতামত পেশ করেছন হাওলা সহ। কন কিতাব আসে কি এগুলার জন্নে বাংলায়।
16 Jan 2026

শুধুমাত্র ফাজায়েলের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে জইফ হাদীস দ্বারা আমল করা যায় । হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানীসহ বহু মুহাদ্দিস এই মত পোষন করেছেন। শর্তগুলো হলো: ১। হাদীসটি অতিমাত্রায় দুর্বল হবে না। ২।সহীহ হাদীসে উক্ত হাদীসের একটি ভিত্তি থাকতে হবে। যেমন, জুমুআর নামাযের উৎসাহ দিয়ে অনেক সহীহ হাদীস আছে। কোন দুর্বল হাদীসে জুমুআর নামাযে উৎসাহমূলক কোন কিছু বললে সেই হাদীটিকে গ্রহন করা যাবে। কারণ সহীহ হাদীসে জুমুআর নামাযের উৎসাহ দেয়া হয়েছে। ৩। কথাটি বা কাজটিকে রাসূল সা. করেছেন এমন বিশ্বাস করা যাবে না। প্রায় সকল প্রসিদ্ধ উলুমুল হাদীসের কিতাবে এই বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বাংলায় এই ধরণের কোন বই আছে বলে আমার জানা নেই।

প্রশ্নঃ 1916
আসসালামুআলাইকুম । অপবিত্র কাপড় ধোয়ার পর বড় বালতি থেকে অবশিষ্ট পানি (বালতি অর্ধপূর্ন ও উপরের অংশেও পানি ছিটকে পরে) ফেলে দেয়ার পর সেটিতে আবার পূর্ন করে পানিপূর্ন করলে সেই পানি কী পবিত্র? তা দিয়ে কী ওজু হবে? আর, লোহা, কাচ, প্লাষ্টিক, চামড়ার তৈরী কোন কিছুতে তরল নাপাকি লাগলে এবং পরবর্তীতে এমনিতে শুকিয়ে গেলে এগুলো কী পবিত্র হয়?
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অপিত্র পানি ফেলে দেয়ার পর সে পাত্রে পবিত্র পানি রাখলে সে পানি পবিত্র। সমস্যা নেই। লোহা, কাচ ইত্যাদী শক্ত জিনিসে না পাকি লাগলে ভাল করে মুছে ফেলতে হবে অথবো ধুয়ে ফেলতে হবে। শুধু রোদ্রে শুকালে পবিত্র হবে না।

প্রশ্নঃ 1915
কাদিয়ানীরা দাবি করে যে,ঈসা (আ) মৃত্যু বরণ করেছেন। এ সংক্রান্ত একটি লেখার লিঙ্ক উল্লেখ করছি। আশা করি তাদের দাবি খণ্ডন করবেন। http://www.ahmadiyyabangla.org/Ofate%20Isa%20(as).htm
16 Jan 2026

ভাই, আমি উক্ত প্রবন্ধটিতে চোখ বুলালাম।বুঝা যাচ্ছে সাধারণ মানুষ এটি পড়লে কিছুটা সংশয়ে পড়বে। আপনিও হয়তো পড়েছেন। আপনার এবং যারা সংশয়ে পড়েছেন তাদের সংশয় দূরা করার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ। বিস্তারিত আলোচনার করবো না। প্রথমে আমাদের মনে রাখতে হবে মুসলিম উম্মাহ এ ব্যাপারে একমত যে, কাদীয়ানীরা মুসলিম নয়। কিন্তু তারা এই আলোচনাটি এমন পদ্ধতিতে উপস্থাপন করেছে যাতে মনে হচ্ছে তারা মুসলিমদের একটি উপদল বা গ্রুপ। শুরতে ইহুদী এরপর খৃষ্টান তারপর মুসলিমদের দুই ভাগ করে গয়রে কাদীয়ানী আর কাদীয়ানীতে বিভক্ত করেছে। এটা তাদের ধোঁকা। আবার কুরআন, হাদীসের দলীল দিচ্ছে। তারা যদি কুরআন হাদীস মানে তাহলে মুসলিম উম্মাহ কাছে তারা অমুসলিম হবে পরিচিত হবে কেন? মাঝে মাঝে রাসূলুল্লাহ সা. কে খাতামান্নাবীঈন বলা হয়েছে, যার অর্থ হলো শেষ নবী।এটাও তাদের ধোঁকা। তাদের সাথে মুসলিমদের মূল পার্থক্য তো এটাই যে, তারা মুহাম্মাদ সা. কে শেষ নবী মানে না। গোলাম আহমাদ কাদীয়ানীকে নবী মনে করে। দ্বিতীয়ত তারা উদ্দেশ্যমূলক কুরআনের আয়াতের ভুল অর্থ করে মানুষকে সংশয়ে ফেলার চুড়ান্ত চেষ্টা করেছে। আবার এক সহ টাকা পুরস্কার ঘোষনা করে নিজেদের মিথ্যাকে লুকানোর একটা ব্যর্থ চেষ্টা করা করেছে। কুরআনের যে আয়াতটির তারা ভুল অর্থ ও ভুল ব্যাখ্যা করে ইসা আ.কে মৃত বানিয়ে সহ টাকা পুরস্কার ঘোষনা করা হয়েছে সেটা হলো: إِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَيَّ وَمُطَهِّرُكَ مِنَ الَّذِينَ كَفَرُواْ وَجَاعِلُ الَّذِينَ اتَّبَعُوكَ فَوْقَ الَّذِينَ كَفَرُواْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأَحْكُمُ بَيْنَكُمْ فِيمَا كُنتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ ৫৫ স্মরণ করুন, যখন আল্লাহ বললেন, হে ঈসা, নিশ্চয় আমি তোমাকে ওফাত দেব তোমাকে আমার দিকে উঠিয়ে নেব এবং কাফিরদের থেকে তোমাকে পবিত্র করব। আর যারা তোমার আনুগত্য করেছে তাদেরকে কিয়ামত পর্যন্ত অবিশ্বাসীদের উপর প্রধান্য দেব। অত:পর আমার নিকটই তোমাদের প্রত্যবর্তন হবে। তখন আমি তোমাদের মধ্যে মিমাংসা করে দেব, যে ব্যাপারে তোমরা মতবিরোধ কর। সূরা আল-ইমরান, আয়াত ৫৫। উক্ত আয়াতে আল্লাহ বলেছেন ঈসা আ.কে ওফাত দিবেন। কাদীয়ানীরা দাবী করছে যে, ওফাত শব্দটির একমাত্র অর্থ মৃত্যু।কেউ যদি অন্য অর্থ দেখাতে পারে তাহলে সহ টাকা পুরস্কার। এখন আমরা দেখবো যে, ওফাত শব্দটির অন্য কোন অর্থ কুরআন-হাদীস তথা অরবী ভাষায় আছে কি না। কুরআন ও হাদীসে ও আরবী অভিধান থেকে আমরা দেখতে পাই যে, ওফাত শব্দটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহার হয়। ১.মৃত্যু। ২. অবশিষ্ট না থাকা। ৩. পৌছানো। ৪. গণনা করা ৫. ঘুম ইত্যাদি। ঘুম অর্থে ওফাত শব্দটির ব্যবহার আমরা কুরআন শরীফে দেখতে পাই। আল্লাহ তায়ালা বলেন, { وَهُوَ الَّذِي يَتَوَفَّاكُمْ بِاللَّيْلِ [وَيَعْلَمُ مَا جَرَحْتُمْ بِالنَّهَارِ] তিনি ঐ সত্তা যিনি তোমাদেরকে রাতে ওফাত (ঘুম) দেন এবং তোমরা দিনের বেলায় যে সব কাজ করো তিনি তা জানেন। সূরা আনয়াম, আয়াত ৬০। সূরা যুমারের ৪২নং আয়াতেও আল্লাহ তায়ালা ওফাতকে ঘুম অর্থে ব্যবহার করেছেন।সেখানে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, { اللَّهُ يَتَوَفَّى الأنْفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا আল্লাহ মানুষকে ওফাত দেন যখন তারা মৃত্যুবরণ করে আর যারা মৃত্যুবরণ করে না তাদের ওফাত দেন ঘুমের মধ্যে। উক্ত আয়াতে ওফাতকে এক জায়গায় মৃত্যু অর্থে আর আরেক জায়গায় ঘুম অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা দেখছি আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন, তিনি রাতে মানুষের ওফাত দেন। কোন পাগল কি বলবেন যে, রাতে আল্লাহ মানুষের মৃত্যু দেন? সবাই বলেবে ঘুম দেন। আর ঘুমকে এখানে ওফাত শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে। সূরা যুমারের ৪২নং আয়াতেও আল্লাহ তায়ালা ওফাতকে ঘুম অর্থে ব্যবহার করেছেন। সেখানে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, اللَّهُ يَتَوَفَّى الأنْفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا অর্থ: আল্লাহ মানুষকে ওফাত দেন যখন তারা মৃত্যুবরণ করে আর যারা মৃত্যুবরণ করে না তাদের ওফাত দেন ঘুমের মধ্যে। সূরা যুমার, আয়াত নং ৪২। উক্ত আয়াতে ওফাতকে এক জায়গায় মৃত্যু অর্থে আর আরেক জায়গায় ঘুম অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। তাহলে আমার কুরআন থেকে দেখলাম যে, ওফাত শব্দটির অন্য একটি অর্থ স্বয়ং কুরআন শরীফে আছে। এবার আমরা দেখবো হাদীসে মৃত্যু শব্দটিকে ঘুম অর্থে ব্যবহারের উদাহরণ। ঘুম থেকে উঠে রাসূলুল্লাহ সা. যে দুআটি পড়তে বলেছেন তা হলো الْحَمْدُ لله الَّذِي أحْيَانَا بَعْدَمَا أمَاتَنَا وإلَيْهِ النُّشُورُ অর্থ: সমস্ত প্রসংসা সে সত্তার যিনি আমাদেরকে মৃত্যুর পরে জীবন দান করেছেন। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ২৭১১। আচ্ছা বলুন মানুষ যখন ঘুম থেকে ওঠে তখন কী মৃত্যু থেকে জীবন লাভে করে? না, মোটেই না। বরং ঘুমের অচেতনতা থেকে জাগ্রত হয়। এটাকে আল্লাহর রাসূল মৃত্যু বলেছেন। তাহলে বুঝা গের ওফাত বা মৃত্যুকে ঘুম অর্থে ব্যবহার করা কুরআন ও হাদীস থেকে প্রমাণিত। এখন আমরা দেখাবে যে আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করে ( সূরা আল-ইমরান, আয়াত নং ৫৫) তারা মানুষকে বোকা বানাচ্ছে সেই আয়াতের ওফাত শব্দের অর্থের ব্যাপারে মুফাচ্ছিরগণ কী বলেছেন? উক্ত আয়াতের তাফসীরে হাফেজ ইবনে কাসীর রহ. বলেন, قال الأكثرون: المراد بالوفاة هاهنا: النوم، অধিকাংশ মুফাচ্ছিরের মতে এখানে ওফাত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঘুম। তাফসীরে ইবনে কাসীর, সূরা আল-ইমরান, আয়াত ৫৫। সুতরাং আয়াতের মূল অর্থ হলো আল্লাহ তায়ালা ঈসা আ.কে উঠিয়ে নেওয়ার পূর্বে কিছু সময় ঘুম দিয়েছিলেন। দুয়েকজন তাফসীর কারক এটাকে কিছু সময়ের মৃত্যু বলে অভিহিত করেছেন। এটা নয় যে, তাকে আল্লাহ তাঁেক স্বাভাবিক মৃত্যু দান করেছেন। উঠিয়ে নেওয়ার অর্থ এই নয় যে, তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করবেন। ঈসা আ. দুনিয়াতে কত বছর ছিলেন এটা একটি ভিন্ন বিষয়। যত দিনই থাকুন না কেন তাঁর মৃত্যু হয় নি। সহস্র টাকা পুরস্কার এখন আপনি তাদের কাছে চাইতে পারেন। কিন্তু তাদেরকে পাওয়া যাবে না। এটাই মহা সত্য।

প্রশ্নঃ 1914
আসসালামু আলাইকুম। জনৈক ইমাম সাহেব একদিন বললেন, নাফসে মুতমায়িন্নাহ্ এর একটি বৈশিষ্ট্য হলো সবসময় প্রবৃত্তির বিরোধীতা করা। তিনি আরো বললেন, প্রবৃত্তির বিরোধিতা এমন একটি গুন যে যদি এ বৈশিষ্ট্য কোন কাফিরেরও থাকে তাহলে সে সাধক হয়ে যায়। তারপর তিনি নিম্নোক্ত কাহিনী বর্ননা করলেন, একদা খাজা মইনুদ্দীন চিশতির এমন কঠিন অসুখ হয় যে কোনক্রমেই তিনি সেরে উঠেনননা। তার ভক্তরা বলল যে, এক হিন্দু সাধক আছে, সে কোন অসুস্থ্য ব্যাক্তির দিকে তাকালেই সে সুস্হ্য হয়ে যায়। এরপর অনিচ্ছা সত্ত্বেও খাজা মইনুদ্দীন চিশতিকে তার কাছে নিয়ে গেলে সেই সাধক তার দিকে তাকানো মাত্রই তিনি সুস্হ্য হয়ে যান। তাকে( সাধক) এর কারন জিজ্ঞেস করলে সে বলে যে, সবসময় সে প্রবৃত্তির বিরোধিতা করে চলে। পরে সে মুসলিম হয়। এখানে আল্লাহ ব্যাতিত অন্য কেউ সুস্হ্য করার ক্ষমতা রাখে এরকম ধারনা রয়েছে কী? এই ঘটনায় বিশ্বাস কী শিরক? হলে বড় শিরক নাকি ছোট শিরক? এমন ইমামের পেছনে স্বলাত আদায় করা যাবে কী? বিদ্র: উক্ত ইমাম সাহেবকে সহিহ আকীদার বলেই মনে হয়। তিনি কোরআন সুন্নাহর প্রতি খুবই গুরুত্ব দেন। তার অন্য একটি বক্তব্য উল্লেখ করলে হয়তো ধারনাটি পরিস্কার হবে: তিনি বলেছেন, পীর বা ওলীআল্লাহদের কাছে কোন কিছু চাওয়া বৈধ নয় । ওলীরা, নবীগন (আ.) যেমন আল্লাহর কাছেই চাইতেন, আপনারাও আল্লাহর কাছে চাইবেন। শুধুমাত্র ওলীদের কবর জিয়ারত করা বৈধ তবে জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাওয়াও বৈধ নয়। এখন প্রথমোক্ত ঘটনার সাথে শিরক সম্পর্কযুক্ত না হলে এটার (কারো দৃষ্টিতে রোগমুক্ত হওয়আ ) ব্যাখ্যা ও হুকুম কী? যাযাকুমুল্লাহ।
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এভাবে রোগ সারতে পারে। হয়তো যাদুর প্রভাবে এমন হয়। তবে খাজা মইনু্দ্দিন চিশতী রহ. কোন হিন্দু সাধকের কাছে গিয়েছে এটা বিশ্বাস হয় না। তিনি নিজেই তো বড় মাপের মানুষ ছিলেন। রোগ থেকে মুক্ত হওয়ার দুআ-জিকির নিশ্চয় তিনি জানতেন। হিন্দু ডাক্তার কবিরাজের কাছে যেতে পারেন তবে সাধকের কাছে যাবেন এটা অবিশ্বাস্য। তবে আপনি উক্ত ইমাম সাহেবের কাছে উক্ত ঘটনার উৎস সম্পর্কে জানতে পারেন। দ্বিতীয়ত হিন্দু থাক অবস্থায় কিভাবে তিনি নফসে আম্মারা বিপরীত কাজ করলেন। নফসে আম্মারার বিপরীত করলে তো প্রথমেই তাকে মুসলিম হতে হবে। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1913
সরকারী চাকুরীজীবীরা provident fund এ যে টাকা রাখে, Govt. সেই টাকার উপর যে মুনাফা দেয় তা কি হালাল হবে?
16 Jan 2026

সরকার বাধ্যতামূলকভাবে যে টাকা রাখে সেই টাকার উপর সরকারের দেয়া মুনাফা হালাল হবে। চাকুরিজীবীরা নিজ ইচ্ছায় যে টাকা রাখে তার লাভ নেয়া জায়েজ নেই।

প্রশ্নঃ 1912
সুরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াতের মাঝের অংশে বলা হয়েছে কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তার কাছে তার অনুমতি ছাড়া? মাআরেফুল কোরআনের তাফসিরে বলা হয়েছে তবে আল্লাহর কিছু খাস বান্দা আছেন, যারা তার অনুমতি সাপেক্ষে তা করতে পারবেন, অন্যথায় নয়। এর পর রাসুল (সাঃ) এর সর্বপ্রথম সুপারিশ এর ব্যাপারে বলা হয়েছে। – এই কিছু খাস বান্দা তা করতে পারবেন সম্পর্কে জানতে চাই। তারা কারা হতে পারে? এতে কি বায়াত হওয়া / কোন ব্যাক্তি ওছিলা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে?
16 Jan 2026

দেখুন আল্লাহর কাছ প্রিয় এমন কোন বান্দাকে আল্লাহ সুযোগ দিতে পারেন, তার মানে এই নয় ইচ্ছা করলেই পারবে। এই বান্দারা নবী হতে পারেন কিংবা আল্লাহর প্রিয় অন্যরাও হতে পারে। এতে বায়াত হওয়ার কোন সুযোগ সৃষ্টি হয় নি। কারণ ইচ্ছা করলেই তো তারা সুপারিশ করতে পারবে না। বরং প্রচলিত বায়াতকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এই বলে যে, আল্লাহর কাছে অনুমতি ব্যতিত সুপারিশের কোন সুযোগ নেই।

প্রশ্নঃ 1911
আসসালামু আলাইকুম, আমি একটা NGO তে Audit officer হিসাবে আছি, কিন্তু শাখা অফিসগুলোতে প্রায়ই যে সব অনিয়ম হয় সেগুলো আমাকে খুজে বের করতে হয় কিন্তু কি কারনে তারা এই সব অনিয়ম করে তা বের করা খুবই কঠিন, তাই আমি এমন দুআ শিখতে চাই, যা আমাকে এইসব অপরাধ খুজে বের করতে সাহায্য করবে। আমার প্রশ্ন কোন দুআ পড়লে আল্লাহ আমার কাজে সাহায্য করবেন?
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. লিখিত রাহে বেলায়াত বইটি সংগ্রহ করে সেখানে থেকে আপনার প্রয়োজনীও দুআগুলো শিখে নিবেন।

প্রশ্নঃ 1910
আসসালামু আলাইকুম, ইসলামে কণে দেখার নিয়ম? বর কি বিয়ের আগে কণে দেখতে পারবে হাদিস এর আলোকে /দলিল সহ জানাবেন, সীরাতুন্নবী কোন লেখক পড়বো? জাজাকাল্লাহ খাইরান
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিয়ের আগে বর কনেকে দেখে নিবে। তেমনি কনেও বরকে দেখে নিবে। হাদীসে এই ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে। নিচের হাদীসটি দেখুন: عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ كُنْتُ عِنْدَ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَأَخْبَرَهُ أَنَّهُ تَزَوَّجَ امْرَأَةً مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- أَنَظَرْتَ إِلَيْهَا قَالَ لاَ. قَالَ فَاذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّ فِى أَعْيُنِ الأَنْصَارِ شَيْئًا সাহাবী আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্নিত তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মহানবীর সা. নিকট এসে বলল, আমি একজন আনসারী রমণীকে বিয়ে করতে চাচ্ছি। এ কথা শুনে মহানবী সা. বললেন, মেয়েটিকে দেখে নাও। কেননা আনসারীদের চোখে আবার সমস্যা থাকে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫৫০। অন্য হাদীসে আছে, عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ أَرَادَ أَنْ يَتَزَوَّجَ امْرَأَةً ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ : اذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا ، فَإِنَّهُ أَحْرَى أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا ، فَفَعَلَ ، فَتَزَوَّجَهَا আনাস ইবনে মালিক রা. বলেন, মুগিরা ইবনে শুবা রা. একজন নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। এটা শুনে রাসূলূল্লাহ্ সা. তাকে জিজ্ঞাস করলেন, তুমি যাও এবং তাকে দেখে নাও। তোমার এই দর্শন তোমাদের মাঝে দাম্পত্য জীবনের প্রণয়-ভালোবাসা গভীর হবার বড় সহায়ক হবে। তখন তিনি তাই করলেন এবং বিবাহ করলেন। সুনানু ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৮৬৫। শায়খ শুয়াইব আর নাউত এবং শায়খ আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সীরাতুন্নাবীর জন্য আররাহীকুল মাখতুম পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 1909
Assalamu Alaikum warahmatullah. Is my income halal if I work at a non-Muslim bank? Jazakallahumul khair.
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নন-মুসলিম বলতে কী বুঝাচ্ছেন এটা স্পষ্ট নয়। তবে এর অর্থ যদি সুদভিত্তিক ব্যাংক হয় তাহলে উত্তর হলো: হররত জাবের রা. বলেন, لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. সুদ গ্রহীতা, দাতা, লেখক, সাক্ষীদ্বয় প্রত্যেকের উপর লানাত (অভিশাপ) দিয়েছেন এবং বলেছেন (পাপের দিক থেকে) সবাই সমান। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং৪১১৭। সুতরাং এখানে আপনি কিভাবে চাকুরী করবেন? আপনাকেতো এই লানতের ভিতর পড়তেই হবে। সুতরাং আমাদের জন্য আবশ্যক সুদভিত্তিক ব্যাংকে চাকুরী থেকে বিরত থাকা।

প্রশ্নঃ 1908
আসসালামু আলাইকুম। আমি বর্তমানে বুয়েটে পড়ছি। আমার খুব ইচ্ছা, যাতে আমি কুরয়ানের অর্থ বুঝতে পারি। আমার এমন একটি বই য়ের পরামর্শ দিলে খুবই খুশি হতাম যার মাধ্যমে আমি সহজে কুরয়ানের বাংলা অনুবাদ করতে পারি। ধন্যবাদ।
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না,ভাই কোন বই দ্বারা এটা সম্ভব নয়। আপনাকে একজন অভিজ্ঞ শিক্ষকের তত্বাকধানে আরবী ভাষা শিখতে হবে কুরআন বুঝার জন্য। তিনি যে বই নির্বাচন করেন সেই বইয়ের মাধ্যমে আপনি আরবী ভাষা শিখে কুরআন বুঝতে পারবেন।

প্রশ্নঃ 1906
আসসালামু আলাইকুম। ভাই আমি কিছুদিন পর বিয়ে করব ভাবছি তাই এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমার জানা দরকার। ১। স্বামী-স্ত্রী রাতে একসাথে নফল নামাজ পড়া যাবে কিনা? এবং ফরজ নামাজও। ২। শশুর এর কাছে কিছু দাবী করলে সেটাকে যৌতুক বলে কিন্তু শশুর যদি স্বেচ্ছাই কিছু দিতে চাই তবে তার মাসয়ালা কি? ৩। শুনেছি জন্ম নিয়ন্ত্রন পদ্ধতি ইসলামে হারাম তবে সন্তান বিরতির ইসলামী বিধান কি? ৪। বাসর ঘরে এমন কোনো দোয়া বা আমল আছে কি? যা করলে কোনদিন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হবে না ও শয়তান ধোকা দিতে পারবেনা?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
পাশাপাশি দাঁড়িয়ে জামাত করা যাবে না। স্ত্রী পিছনে দাঁড়ালে সমস্যা নেই। নফল-ফরজ একই হুকুম। তবে পুরুষেরা মসজিদে আর মেয়েরা বাড়িতে নামায পড়বে এটাই সুন্নাত। ২।স্বেচ্ছাই কিছু দিলে সমস্যা নেই। ৩। স্থায়ী পদ্ধতি করলে হারাম হবে। প্রয়োজনে স্বাময়ীক কোন পদ্ধতি গ্রহন করলে সমস্যা নেই। ৪। রাহে বেলায়াত গ্রন্থে এসব দুআ ও যিকির বিস্তারিত আছে। আপনি বইটি সংগ্রহ করে পড়ুন।

প্রশ্নঃ 1905
আসসালামুলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি আমার স্বামীর সাথে যখন বাহিরে যাই তখন অনেককেই দেখি জেনে বা না জেনে কিছু ভুল করছে। যেমন কোন পুরুষ লোক মাটি সেছড়িয়ে লুঙ্গি বা প্যান্ট পরেছে বা অন্য কোন কিছু। তখন আমি আমার স্বামী কে বলি লোকটাকে হাদিস দ্বারা সাবধান করেন। কিন্তু আমার স্বামী তা করে না। তখন আমি বলি যে, আমি লোকটাকে সাবধান করি তাও সে অনুমতি দেয় না। তাই আমিও কিছু বলি না। স্বামী নিষেধ করা পরেও যদি কাউকে সাবধান করি তা কি জায়েজ হবে?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার স্বামই যতটুকু পারে করুক, আপনার আর এর মধ্যে জড়ানোর দরকার নেই। প্রাই প্রতিটি মানুষই এরকম করে। আপনি যদি এই কাজ শুরু করেন তাহলে আপনার বাইরে যে কাজ করতে যান তা করা হবে না, শুধু সাবধানই করে যেতে হবে। এছাড়া মহিলা পুরুষকে সাবধান করতে গেলে শয়তান এখানে বিভিন্ন ফিৎনা সৃষ্টি করতে পারে।

প্রশ্নঃ 1904
১. জামাতের শুরুতে, মানে…মাগরিবের ও আছরের জামাতের সময় যদি প্রথম ২/১ রাকাত মিস করি পরে রাফুল ইয়াদাইনসহ নামাজ শেষ করবো কিভাবে?
14 Jan 2026

বাকী রাকআতগুলো স্বাভাবিক নিয়মে আদায় করতে হবে। যেসব রাকআত ছুটে গেছে সেসব রাকআতে যেভাবে ইমাম সাহেব কুরআন পাঠ করেছেন সেভাবে কুরআন পাঠ করবে।

প্রশ্নঃ 1903
আসসালামুলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি আমার স্বামীর সাথে যখন বাহিরে যাই তখন অনেককেই দেখি জেনে বা না জেনে কিছু ভুল করছে। যেমন কোন পুরুষ লোক মাটি সেছড়িয়ে লুঙ্গি বা প্যান্ট পরেছে বা অন্য কোন কিছু। তখন আমি আমার স্বামী কে বলি লোকটাকে হাদিস দ্বারা সাবধান করেন। কিন্তু আমার স্বামী তা করে না। তখন আমি বলি যে, আমি লোকটাকে সাবধান করি তাও সে অনুমতি দেয় না। তাই আমিও কিছু বলি না। স্বামী নিষেধ করা পরেও যদি কাউকে সাবধান করি তা কি জায়েজ হবে?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার স্বামই যতটুকু পারে করুক, আপনার আর এর মধ্যে জড়ানোর দরকার নেই। প্রাই প্রতিটি মানুষই এরকম করে। আপনি যদি এই কাজ শুরু করেন তাহলে আপনার বাইরে যে কাজ করতে যান তা করা হবে না, শুধু সাবধানই করে যেতে হবে। এছাড়া মহিলা পুরুষকে সাবধান করতে গেলে শয়তান এখানে বিভিন্ন ফিৎনা সৃষ্টি করতে পারে।

প্রশ্নঃ 1902
আসসালামু আলাইকুম ১। যদি কোন আত্মীয় বা প্রতিবেশী কুরবানি দিয়েছেন তাহলে কি উনাকে আমাদের কুরবানীর গোস্ত দেয়া যাবে কি? না দিলে কি কোন সমস্যা হবে কি? ২। আমাদের এক আত্মীয় গত কয়েক বছর ধরে আমাদের কুরবানীর গোস্ত নেয় (ক্ষোভের কারনে) না কিন্তু আমরা গোস্ত দিয়ে আসি কিন্তু উনারা ফিরত দেয়। এখন আমাদের করণীয় কি? গোস্ত কি দিবো না দিব না? ৩। কুরবানীর গোস্ত কতদিন রেখে আমরা খেতে পারব? ৪। কুরবানীর গোস্ত কোন অমুসলিম প্রতিবেশী কে বা কোন অমুসলিমকে দেয়া জায়েজ কি?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যে কুরবানী দেয় তাকেও কুরাবনীর গোশত দেয়া যায়। না দিলে সমস্যা হবে কেন? ২। আপনাদের ইচ্ছা। আপনারা আপনাদের সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন। ৩। যত দিন খুশি কুরবানীর গোশত ততদিন রাখা যাবে। ৪। অমুসলিম প্রতিবেশীকেও কুরবানীর গোশত দেয়া যা। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ১৯৪৩।

প্রশ্নঃ 1901
ইমামের পিছনে কেরাত পড়া বাধ্যতা মুলক কি না?
14 Jan 2026

একদল আলেম ও ফকীহ শুধুমাত্র সূরা ফাতিহা পড়াকে বাধ্যতামূলক বলেছেন। আরেক দল পড়তে নিষেধ করেছেন। প্রত্যেকেরই বক্তব্যের ভিত্তি হচ্ছে হাদীস । আপনি যে কোন একটার উপর আমল করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1900
আসসালামুয়ালাইকুম। আমার প্রশ্ন হল পেশাব থেকে পবিত্রতা বিষয়ে। আমি যখন পেশাব শেষ করি এর পর অনেক্ষন অপেক্ষা করি কারন সম্পূর্ণ পবিত্র যেন হওয়া যায়। কিন্তু তারপরও দেখা যায় কিছু ফোটা ফোটা আসে। আবার দেখা যায় একটু পর বন্ধ হয়ে যায়। আবার আসে। আই অবস্থায় আমি যদি পেশাব ধুয়ে চলে আসি আর আর পর যদি আমার অন্তর্বাসে পেশাব লেগে যায় ওই ক্ষেত্রে আমি সালাত আদায়ের আগে কি করতে পারি(কারন আমি যখন অফিস থাকি আবার কাপড় বদলানো সম্ভব নয়) দয়া করে জানাবেন? আমি খুব দিধার মধ্যে থাকি। আমার কোন পেশাব সংক্রান্ত রোগ নেই।
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যদি রোগ না থাকে তাহলে পেশার করে উঠে আসার পর ফোটা ফোটা আসে কিভাবে? যদি রোগ না হয় তাহলে এটা আপনার মানসিক সমস্যা।এক্ষেত্রে করণীয় হলো পেশাবের পর পানি ব্যবহার করে অন্তর্বাসের উপর একটু পানি ছিটিয়ে দেয়া যাতে পেশাব কয়েক ফোটা আবার বের হয়েছে এরক ওয়াসওয়াসা না আসে। তবে যদি নিশ্চিত হন যে, পেশাব কাপড়ে লেগেছে তাহলে ঐ অংশটুকু ধুয়ে নিলেই নামায হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ 1899
আসসলামুআলাইকুম। হাত ও পায়ের নখ স্বাভাবিক (বড় ও ছোটর মাঝামাঝি) থাকা অবস্থায়, নকের কোণের অংশ দ্বারা ত্বক এমন ভাবে ঢাকা থাকে যে তাতে স্বাভাবিক ভাবে ওজুর সময় পানি পৌছেনা। এভাবে ওজু কি হবেনা? নাকি নখের অংশ দ্বারা ত্বক আবৃত থাকায় সেখানে পানি পৌছাতে হবেনা? আর ওজুর সময় নকের কত ভেতরে পানি পৌছানো ওয়াজিব?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার কথাটা ঠিক বুঝলাম না। স্বাভাবিকভাবে নখের নিচে পানি না পৌছালে নখতো অনেক বড় হওয়া দরকার। এত বড় নখ কেটে ফেলতে হবে তাহলে সহজেই সব জায়াগাতে পানি পৌছাবে। নখের ভিতরের শেষ পর্যন্ত পানি পৌছাতে হবে।

প্রশ্নঃ 1898
আমার এক মুসলিম বন্ধু নাম তার শাহেদ হাসান সে এক হিন্দু মেয়ে জবা বিশ্বাসকে ভালবাসে। উভয়ে নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী গত ৪ঠা আগষ্ট ২০১৭ রোজ শুক্রবার রাত ১১-১০ মিনিটে ফেসবুকের মাধ্যমে বিবাহ করেছে। বন্ধু শাহেদ হাসান পাঁচ ওয়াক্ত নামায রোযা এবং শরীয়াত অনুযায়ী যথাসাধ্য দ্বীনের কাজগুলি সঠিকভাবে করে যাবার চেষ্টা করে। অন্যদিকে জবা বিশ্বাস তার ধর্ম মানে কিন্তু কোন আচার-অনুষ্ঠান করেনা। তবে সে এই বিয়ের পুর্বে উপোষ থেকে শিবমন্দিরে উপস্থিত হয়ে পুরোহিতের মাধ্যমে তার মানত পুজা করেই এ বিয়েতে তাদের ধর্ম অনুযায়ী বিয়ে করেছে। শাহেদ হাসান তার ধর্মানুযায়ী তাকে তিনবার কবুল বলতে বললে জেবা বিশ্বাস যথারীতি তাই করেছে। অন্তর থেকে তারা এখন উভয় উভয়কে স্বামী-স্ত্রী হিসাবে নিজেদের গন্য করে। প্রসঙ্গত: তারা দুজনে দুই জেলায় ব্যবধান প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। শাহেদ হাসান পুর্বে বিবাহ করেছিলো কিন্তু তার স্ত্রী প্রায় সাত বছর আগে ইন্তেকাল করেছেন। তারপর শাহেদ হাসান আর বিবাহ করেননি। শাহেদ হাসান যে পুর্বে বিবাহ করেছিলেন তা জবা বিশ্বাসকে জানিয়েছেন এবং জবা বিশ্বাস সানন্দে তা মেনেও নিয়েছেন। আমার জানামতে তারা এখন অব্দি শারীরিকভাবে মিলিত হয়নি। বিবাহ পুর্ব দেখা সাক্ষাৎ হয়েছে তবে কোন শারীরিক মিলন ঘটেনি। শাহেদ হাসান তাকে এ পথ থেকে ফেরানোর যথেষ্ঠ চেষ্টা নিয়েছে কিন্তু সফল না হওয়াতে বিবাহ করেছে। জবা বিশ্বাস অনার্স তৃতীয় বর্ষে ঢাকা ইডেন কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে। শাহেদ হাসান ব্যবসা করেন। শাহেদ হাসানে আগের পক্ষের দুটি সন্তান আছে। তারা বিবাহ শাদী করে নিজ পরিবারে বসবাস করে। শাহেদ হাসানকে তারা আর্থিক সহযোগিতা করে থাকে। এ বিয়েতে সরেজমিনে কোন সাক্ষী সাবুদ না থাকলেও ফেসবুকের তাদের কাছের বন্ধুরা প্রায় সবাই বিবাহের কথা এবং তারা স্বামী-স্ত্রী এটা জানেন। শাহেদ হাসান এখন জবা বিশ্বাসের সম্পুর্ন ভরন-পোষন দিয়ে আসছে। জবা বিশ্বাস ফাইনাল পরীক্ষা না দেয়া পর্যন্ত এ বিবাহের কথা তার পরিবারের কাছে গোপন রাখতে চাইছে। শাহেদ হাসান জবা বিশ্বাসকে ধর্মান্তরিত হবার জন্য কোন চাপ সৃষ্টি করেননি। তবে তার বিশ্বাস একদিন সে ঠিকই মুসলিম হবে। কারন এর মধ্যেই জবা বিশ্বাস কিভাবে নামায আদায় করতে হয় তা জানতে চেয়েছে। এমতবস্থায় আপনাদের কাছে প্রশ্ন এ বিবাহ কতটুকু বৈধ বলে গণ্য হবে বা পরবর্তী করনীয় কি [উভয়ের জন্য]? দ্বিতীয় প্রশ্ন আমি শুনেছি কোন মুসলিম যদি কোন অমুসলিমকে বিবাহ করেন তাহলে ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী যে মুসলিম অমুসলিমকে বিবাহ করার কারনে তার বংশের পুর্ব পুরুষসহ সে নিজে বিশেষ সওয়াবের অধিকারী হবেন-কথাটি ঠিক? অনুগ্রহ পুর্বক যথাসম্ভব দ্রুত উত্তর প্রত্যাশা করছি। কারন আপনাদের জবাবের উপর ওদের দুজনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এবং স্বামী-স্ত্রীর মিলন ঘটবে।
14 Jan 2026

আপনার বন্ধুর উদ্দেশ্য ভাল, এটা প্রশ্ন থেকে মনে হচ্ছে। তবে কথা হলো কোন মুসলিম কোন হিন্দু মেয়েকে বিবাহ করতে পারবে না। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্ট করে বলেছেন, وَلاَ تَنكِحُواْ الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ وَلأَمَةٌ مُّؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُ তোমরা মুশরিক মহিলাদের বিবাহ করো না যতক্ষন না তারা ঈমান আনে আর একজন মূমিন দাসী এবং মুশরিক থেকে উত্তম যদিও মুশরিক মহিলা তোমাদেরকে বিমোহীত করে। সূরা বাকারা, আয়াত নং ২২১। সুতরাং উক্ত বিয়ে হয় নি। এই বিষয়ে সকল আলেম ও ফকীহ একমত। তবে ঐ মেয়েটি মুসলিম হলে আপনার বন্ধু তার সাথে শরয়ী নিয়মে বিবাহ করতে পারে। ফেসবুকে বিবাহ এটা বিয়ের মত একটি পবিত্র বিষয়ের সাথে মানায় না। সামাজিকভাবে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বিবাহ হওয়া উচিত। দ্বিতীয়ত অমুসলিমকে বিবাহ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: অমুসলিম মুসলিম হওয়ার পর, অমুসলিম থাকা অবস্থায় নয়।

প্রশ্নঃ 1897
আসসালামু আলাইকুম… আমি আগে জানতাম গীবত মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার মতো একটা কাজ!! কিন্তু অজানা বশত আমার সাথে চলাফেরা করা অনেক মানুষের গীবত করে ফেলেছি! এই পাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় টা কি একটু বলবেন?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যেগুলো হয়ে গেছে তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আর ভবিষ্যতে না করার সংকল্প করুন।

প্রশ্নঃ 1896
ইমাম তিরমিযী সুনান আত তিরমিযীতে অনেক হাদিসের শেষে বলেছেন,হাদিসটি হাসান,সহীহ ও গরীব। এর ব্যাখ্যা কী? একটা হাদীস একই সাথে হাসান,সহীহ ও গরীব হয় কীভাবে?
14 Jan 2026

আপনি এমন পেলে মনে করবেন হাদীসটির সনদে কোন এক পর্যায়ে বর্ণনাকারী একজন। তবে হাদীসটির মান ভাল। আমল ও দলীলযোগ্য। হাদীসিট সহীহ।

প্রশ্নঃ 1895
আসসালামুআলাইকুম। মনে করুন পবিত্রতা বিষয়ে কোন মাসআলা না জানার কারনে আমি অপবিত্র অবস্হায় পূর্বে অনেক নামাজ পড়েছি। এখন মাসআলাটি জানার পর আমাকে কী নামাজগুলো কাযা করতে হবে। উল্লেখ্য নামাজের নির্দিষ্ট কোন সংখ্যাও মনে নেই।
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কোন সমস্যা হয়েছে সেটা নির্দিষ্ট করে লিখুন। নয়তো এভাবে বলা সম্ভব নয়।

প্রশ্নঃ 1894
আসসালামু আলাইকুম ১। আমার ভাই কুমিল্লাতে একটা চাকরী করে এবং সেখানে ভাই ফ্যামিলী নিয়ে থাকে আর আমি থাকি ঢাকা। এখন আমি যদি সেখানে বেড়াতে যাই (২ বা ৩ দিন) তাহলে কি আমাকে নামায কছর পড়ব? না পূর্ণ নামায পড়ব? আর যদি মসজিদে পড়ি সেক্ষেত্রে কি করব? ২। ঈদের দিন কি কোলাকুলি করা বিদাআত? আর কোলাকুলি কয়বার করা যায় একবার না তিন বার? হাদিসের আলোকে জানাবেন দয়া করে। ৩। জুমআ নামাযে কাবলাল জুমআ বলে আমরা যে ৪ রাকাআত সুন্নত নামায পড়ি এটা কি হাদিস সম্মত?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনাদের মূল বাড়ী যদি কুমিল্লাতে হয় তাহলে আপনি ওখানে পূর্ণ নামায পড়বেন আর যদি অন্য কোথাও মূল বাড়ী হয় তাহলে কসর করবেন। ইমামের পিছনে সর্বাবস্থায় পূর্ণ নামায পড়তে হয়। ২। ঈদের দিনে কুলাকুলি করার ব্যাপারে কোনা হাদীস পাওয়া যায় না। সুতরাং কুলাকুলি না করাই উত্তম। স্বাভাবিক অবস্থায় কোলাকুলি করার কোন কথা রাসূলুল্লাহ সা. বা সাহাবীদের থেকে পাওয়া যায় না বরং নিষেধাজ্ঞা পাওয়া যায় তবে দূরবর্তী সফর থেকে ফিরে এলে সাহাবীরা কুলাকুলি করতেন বলে হাদীসে পাওয়া যায়। নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন: عن أنس قال كان أصحاب النبي : إذا تلاقوا تصافحوا وإذا قدموا من سفر تعانقوا হযরত আনাস রা. বলেন, রাসূলের সাহাবীরা যখন একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করতেন তখন মুসাফা করতেন আর যখন সফর থেকে ফিরতেন তখন কুলাকুলি করতেন। আল-মুজামুল আওসাত লিত-ত্ববারনী, হাদীস নং ৯৭। শায়খ আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।সিলসিলাতু সহীহা, হাদীস নং ২৬৪৭। সাধারণ অবস্থায় কোলাকুলি করতে রাসূল সা. নিষেধ করেছেন। নিচের হাদীসিটি দেখুন: عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : قُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ ، أَيَنْحَنِي بَعْضُنَا لِبَعْضٍ ؟ قَالَ : لاَ . قُلْنَا أَيُعَانِقُ بَعْضُنَا بَعْضًا ؟ قَالَ : لاَ ، وَلَكِنْ تَصَافَحُوا. হযরাত আনাস রা. বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! একে অপরের দেখা সাক্ষাতের সময় কি ঝুকা যায়? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, কোলাকুলি করা যায়? তিনি বললেন, না । তবে মুসাফাহ করবে। সুনানু ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৭০২। শায়খ আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সুতরাং আমাদের উচিত সফর থেকে ফিরে কোলাকুলি করা অন্যান্য সময় মুসাফা করা। ৩। হ্যাঁ, জুমুআর ফরজ নামাযের আগে চার রাকআত সুন্নাতপড়া হাদীস সম্মত। নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন: عبد الرزاق عن الثوري عن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن السلمي قال كان عبد الله يأمرنا أن نصلي قبل الجمعة أربعا وبعدها أربعا حتى جاءنا علي فأمرنا أن نصلي بعدها ركعتين ثم اربعا অর্থ: (তাবেঈ) আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী বলেন, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে জুমুআর পূর্বে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর আলী রা. আমাদেরকে জুমুআর পর প্রথমে দুই রাকআত এরপর চার রাকআত পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুসান্নাফু আব্দুর রায্যাক, হাদীস নং ৫৫২৫। এই হাদীসটির বিষয়ে শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, وهذا سند صحيح لا علة فيه অর্থ: এটা সহীহ সনদ, তাতে কোন সমস্যা নেই। সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, ১০১৬ নং হাদীসের আলোচনা। উক্ত সহীহ হাদীসটি দ্বারা আমারা জানতে পারলাম যে, প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. চার রাকআত ক্ববলাল জুমুয়া পড়ার আদেশ দিয়েছেন। তবে চার রাকআত নির্দিষ্ট নয়। কম বেশী করা যাবে। বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া 354 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 1893
যে সকল লোক সুদে জর্জরিত হয়ে গেছে কিন্তু সুদ থেকে মুক্ত হতে পারছেনা। তাদের তেমন সম্পদও নাই যে ঋণ পরিশোধ করবে। এখন তারা কিভাবে ঋণ ও সুদ থেকে মুক্তি পাবে। কোন রকম সংসার খরচ চালাতেও নতুন করে ঋণ নিতে হচ্ছে। মোট কথা ঋণের দুষ্ট চক্রে আটকা পড়ে গেছে। মুক্তির উপায় জানা থাকলে জানিয়ে উপকৃত করবেন। আমিন!
14 Jan 2026

যারা ঋণ নেয় তাদের একটা অভ্যাস হয়ে যায় সব সময় ঋণ নেয়া। প্রয়োজনে হোক বা অপ্রয়োজনে। সুতরাং ঋণ থেকে বাঁচতে হলে প্রথমে এই মানসিকতা বদলাতে হবে। সংসারের স্বাভাবিক খরচ মিটাতে এখন আর আগের দিনের মত কষ্ট হওয়ার কথা নয়। কারণ এখন মানুষের সামনে ছোট-বড় অনেক কাজ, সহজেই সেই কাজ পেতে পারে। সুতরাং স্বাভাবিক খরচের ক্ষেত্রে ঋণ নেয়া বাদ দিতে হবে। আর যে ঋণ নেয়া হয়েছে সে ঋণ অল্প অল্প করে পরিষোধের ব্যবস্থা করতে হবে। সুদ দিবে না, বলবে মূল টাকাটা দিতে পারবো, সুদ দিতে পারবো ন। এতে টাকা যিনি পাবেন তিনি রাগান্বিত হবেন বটে তবে তার টাকার স্বার্থে ঋণ গ্রহীতার কোন ক্ষতি করবে না। সর্বাবস্থায় ঋন মুক্তির জন্য আল্লাহ তায়ালার কাছে দুআ করতে হবে।

প্রশ্নঃ 1892
জইফ হাদিস কি কি খেত্রে প্রয়োগ করা জাবে। মুহাদ্দিস গনের মতামত জানাবেন। কে কি মতামত পেশ করেছন হাওলা সহ। কন কিতাব আসে কি এগুলার জন্নে বাংলায়।
14 Jan 2026

শুধুমাত্র ফাজায়েলের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে জইফ হাদীস দ্বারা আমল করা যায় । হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানীসহ বহু মুহাদ্দিস এই মত পোষন করেছেন। শর্তগুলো হলো: ১। হাদীসটি অতিমাত্রায় দুর্বল হবে না। ২।সহীহ হাদীসে উক্ত হাদীসের একটি ভিত্তি থাকতে হবে। যেমন, জুমুআর নামাযের উৎসাহ দিয়ে অনেক সহীহ হাদীস আছে। কোন দুর্বল হাদীসে জুমুআর নামাযে উৎসাহমূলক কোন কিছু বললে সেই হাদীটিকে গ্রহন করা যাবে। কারণ সহীহ হাদীসে জুমুআর নামাযের উৎসাহ দেয়া হয়েছে। ৩। কথাটি বা কাজটিকে রাসূল সা. করেছেন এমন বিশ্বাস করা যাবে না। প্রায় সকল প্রসিদ্ধ উলুমুল হাদীসের কিতাবে এই বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বাংলায় এই ধরণের কোন বই আছে বলে আমার জানা নেই।

প্রশ্নঃ 1891
আসসালামু আলাইকুম। অপবিত্র কাপড় ধোয়ার পর বড় বালতি থেকে অবশিষ্ট পানি (বালতি অর্ধপূর্ন ও উপরের অংশেও পানি ছিটকে পরে) ফেলে দেয়ার পর সেটিতে আবার পূর্ন করে পানিপূর্ন করলে সেই পানি কী পবিত্র? তা দিয়ে কী ওজু হবে? আর, লোহা, কাচ, প্লাষ্টিক, চামড়ার তৈরী কোন কিছুতে তরল নাপাকি লাগলে এবং পরবর্তীতে এমনিতে শুকিয়ে গেলে এগুলো কী পবিত্র হয়?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অপবিত্র পানি ফেলে দেয়ার পর, সে পাত্রে পবিত্র পানি রাখলে সে পানি পবিত্র। সমস্যা নেই। লোহা, কাঁচ ইত্যাদি শক্ত জিনিসে নাপাকি লাগলে ভাল করে মুছে ফেলতে হবে অথবা ধুয়ে ফেলতে হবে। শুধু রোদ্রে শুকালে পবিত্র হবে না।

প্রশ্নঃ 1890
কাদিয়ানীরা দাবি করে যে,ঈসা (আ) মৃত্যু বরণ করেছেন। এ সংক্রান্ত একটি লেখার লিঙ্ক উল্লেখ করছি। আশা করি তাদের দাবি খণ্ডন করবেন। http://www.ahmadiyyabangla.org/Ofate%20Isa%20(as).htm
14 Jan 2026

ভাই, আমি উক্ত প্রবন্ধটিতে চোখ বুলালাম। বুঝা যাচ্ছে সাধারণ মানুষ এটি পড়লে কিছুটা সংশয়ে পড়বে। আপনিও হয়তো পড়েছেন। আপনার এবং যারা সংশয়ে পড়েছেন তাদের সংশয় দূরা করার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ। বিস্তারিত আলোচনার করবো না। প্রথমে আমাদের মনে রাখতে হবে মুসলিম উম্মাহ এ ব্যাপারে একমত যে, কাদীয়ানীরা মুসলিম নয়। কিন্তু তারা এই আলোচনাটি এমন পদ্ধতিতে উপস্থাপন করেছে যাতে মনে হচ্ছে তারা মুসলিমদের একটি উপদল বা গ্রুপ। শুরতে ইহুদী এরপর খৃষ্টান তারপর মুসলিমদের দুই ভাগ করে গয়রে কাদীয়ানী আর কাদীয়ানীতে বিভক্ত করেছে। এটা তাদের ধোঁকা। আবার কুরআন, হাদীসের দলীল দিচ্ছে। তারা যদি কুরআন হাদীস মানে তাহলে মুসলিম উম্মাহ কাছে তারা অমুসলিম হবে পরিচিত হবে কেন? মাঝে মাঝে রাসূলুল্লাহ সা. কে খাতামান্নাবীঈন বলা হয়েছে, যার অর্থ হলো শেষ নবী।এটাও তাদের ধোঁকা। তাদের সাথে মুসলিমদের মূল পার্থক্য তো এটাই যে, তারা মুহাম্মাদ সা. কে শেষ নবী মানে না। গোলাম আহমাদ কাদীয়ানীকে নবী মনে করে।

দ্বিতীয়ত তারা উদ্দেশ্যমূলক কুরআনের আয়াতের ভুল অর্থ করে মানুষকে সংশয়ে ফেলার চুড়ান্ত চেষ্টা করেছে। আবার এক সহ টাকা পুরস্কার ঘোষনা করে নিজেদের মিথ্যাকে লুকানোর একটা ব্যর্থ চেষ্টা করা করেছে। কুরআনের যে আয়াতটির তারা ভুল অর্থ ও ভুল ব্যাখ্যা করে ইসা আ.কে মৃত বানিয়ে সহ টাকা পুরস্কার ঘোষনা করা হয়েছে সেটা হলো: إِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَيَّ وَمُطَهِّرُكَ مِنَ الَّذِينَ كَفَرُواْ وَجَاعِلُ الَّذِينَ اتَّبَعُوكَ فَوْقَ الَّذِينَ كَفَرُواْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأَحْكُمُ بَيْنَكُمْ فِيمَا كُنتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ ৫৫ স্মরণ করুন, যখন আল্লাহ বললেন, হে ঈসা, নিশ্চয় আমি তোমাকে ওফাত দেব তোমাকে আমার দিকে উঠিয়ে নেব এবং কাফিরদের থেকে তোমাকে পবিত্র করব। আর যারা তোমার আনুগত্য করেছে তাদেরকে কিয়ামত পর্যন্ত অবিশ্বাসীদের উপর প্রধান্য দেব। অত:পর আমার নিকটই তোমাদের প্রত্যবর্তন হবে। তখন আমি তোমাদের মধ্যে মিমাংসা করে দেব, যে ব্যাপারে তোমরা মতবিরোধ কর। সূরা আল-ইমরান, আয়াত ৫৫। উক্ত আয়াতে আল্লাহ বলেছেন ঈসা আ.কে ওফাত দিবেন। কাদীয়ানীরা দাবী করছে যে, ওফাত শব্দটির একমাত্র অর্থ মৃত্যু।কেউ যদি অন্য অর্থ দেখাতে পারে তাহলে সহ টাকা পুরস্কার। এখন আমরা দেখবো যে, ওফাত শব্দটির অন্য কোন অর্থ কুরআন-হাদীস তথা অরবী ভাষায় আছে কি না। কুরআন ও হাদীসে ও আরবী অভিধান থেকে আমরা দেখতে পাই যে, ওফাত শব্দটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহার হয়। ১.মৃত্যু। ২. অবশিষ্ট না থাকা। ৩. পৌছানো। ৪. গণনা করা ৫. ঘুম ইত্যাদি। ঘুম অর্থে ওফাত শব্দটির ব্যবহার আমরা কুরআন শরীফে দেখতে পাই। আল্লাহ তায়ালা বলেন, وَهُوَ الَّذِي يَتَوَفَّاكُمْ بِاللَّيْلِ [وَيَعْلَمُ مَا جَرَحْتُمْ بِالنَّهَارِ তিনি ঐ সত্তা যিনি তোমাদেরকে রাতে ওফাত (ঘুম) দেন এবং তোমরা দিনের বেলায় যে সব কাজ করো তিনি তা জানেন। সূরা আনয়াম, আয়াত ৬০।

সূরা যুমারের ৪২নং আয়াতেও আল্লাহ তায়ালা ওফাতকে ঘুম অর্থে ব্যবহার করেছেন।সেখানে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, اللَّهُ يَتَوَفَّى الأنْفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا আল্লাহ মানুষকে ওফাত দেন যখন তারা মৃত্যুবরণ করে আর যারা মৃত্যুবরণ করে না তাদের ওফাত দেন ঘুমের মধ্যে। উক্ত আয়াতে ওফাতকে এক জায়গায় মৃত্যু অর্থে আর আরেক জায়গায় ঘুম অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা দেখছি আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন, তিনি রাতে মানুষের ওফাত দেন। কোন পাগল কি বলবেন যে, রাতে আল্লাহ মানুষের মৃত্যু দেন? সবাই বলেবে ঘুম দেন। আর ঘুমকে এখানে ওফাত শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে। সূরা যুমারের ৪২নং আয়াতেও আল্লাহ তায়ালা ওফাতকে ঘুম অর্থে ব্যবহার করেছেন। সেখানে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, اللَّهُ يَتَوَفَّى الأنْفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا অর্থ: আল্লাহ মানুষকে ওফাত দেন যখন তারা মৃত্যুবরণ করে আর যারা মৃত্যুবরণ করে না তাদের ওফাত দেন ঘুমের মধ্যে। সূরা যুমার, আয়াত নং ৪২।

উক্ত আয়াতে ওফাতকে এক জায়গায় মৃত্যু অর্থে আর আরেক জায়গায় ঘুম অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। তাহলে আমার কুরআন থেকে দেখলাম যে, ওফাত শব্দটির অন্য একটি অর্থ স্বয়ং কুরআন শরীফে আছে। এবার আমরা দেখবো হাদীসে মৃত্যু শব্দটিকে ঘুম অর্থে ব্যবহারের উদাহরণ। ঘুম থেকে উঠে রাসূলুল্লাহ সা. যে দুআটি পড়তে বলেছেন তা হলো الْحَمْدُ لله الَّذِي أحْيَانَا بَعْدَمَا أمَاتَنَا وإلَيْهِ النُّشُورُ অর্থ: সমস্ত প্রসংসা সে সত্তার যিনি আমাদেরকে মৃত্যুর পরে জীবন দান করেছেন। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ২৭১১। আচ্ছা বলুন মানুষ যখন ঘুম থেকে ওঠে তখন কী মৃত্যু থেকে জীবন লাভে করে? না, মোটেই না। বরং ঘুমের অচেতনতা থেকে জাগ্রত হয়। এটাকে আল্লাহর রাসূল মৃত্যু বলেছেন। তাহলে বুঝা গের ওফাত বা মৃত্যুকে ঘুম অর্থে ব্যবহার করা কুরআন ও হাদীস থেকে প্রমাণিত। এখন আমরা দেখাবে যে আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করে ( সূরা আল-ইমরান, আয়াত নং ৫৫) তারা মানুষকে বোকা বানাচ্ছে সেই আয়াতের ওফাত শব্দের অর্থের ব্যাপারে মুফাচ্ছিরগণ কী বলেছেন? উক্ত আয়াতের তাফসীরে হাফেজ ইবনে কাসীর রহ. বলেন, قال الأكثرون: المراد بالوفاة هاهنا: النوم، অধিকাংশ মুফাচ্ছিরের মতে এখানে ওফাত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঘুম। তাফসীরে ইবনে কাসীর, সূরা আল-ইমরান, আয়াত ৫৫।

সুতরাং আয়াতের মূল অর্থ হলো আল্লাহ তায়ালা ঈসা আ.কে উঠিয়ে নেওয়ার পূর্বে কিছু সময় ঘুম দিয়েছিলেন। দুয়েকজন তাফসীর কারক এটাকে কিছু সময়ের মৃত্যু বলে অভিহিত করেছেন। এটা নয় যে, তাকে আল্লাহ তাঁেক স্বাভাবিক মৃত্যু দান করেছেন। উঠিয়ে নেওয়ার অর্থ এই নয় যে, তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করবেন। ঈসা আ. দুনিয়াতে কত বছর ছিলেন এটা একটি ভিন্ন বিষয়। যত দিনই থাকুন না কেন তাঁর মৃত্যু হয় নি। সহস্র টাকা পুরস্কার এখন আপনি তাদের কাছে চাইতে পারেন। কিন্তু তাদেরকে পাওয়া যাবে না। এটাই মহা সত্য।

প্রশ্নঃ 1889
আসসালামুআলাইকুম । জনৈক ইমাম সাহেব একদিন বললেন, নাফসে মুতমায়িন্নাহ্ এর একটি বৈশিষ্ট্য হলো সবসময় প্রবৃত্তির বিরোধীতা করা । তিনি আরো বললেন, প্রবৃত্তির বিরোধিতা এমন একটি গুন যে যদি এ বৈশিষ্ট্য কোন কাফিরেরও থাকে তাহলে সে সাধক হয়ে যায় । তারপর তিনি নিম্নোক্ত কাহিনী বর্ননা করলেন, একদা খাজা মইনুদ্দীন চিশতির এমন কঠিন অসুখ হয় যে কোনক্রমেই তিনি সেরে উঠেনননা। তার ভক্তরা বলল যে, এক হিন্দু সাধক আছে, সে কোন অসুস্থ্য ব্যাক্তির দিকে তাকালেই সে সুস্হ্য হয়ে যায়। এরপর অনিচ্ছা সত্ত্বেও খাজা মইনুদ্দীন চিশতিকে তার কাছে নিয়ে গেলে সেই সাধক তার দিকে তাকানো মাত্রই তিনি সুস্হ্য হয়ে যান। তাকে (সাধক) এর কারন জিজ্ঞেস করলে সে বলে যে, সবসময় সে প্রবৃত্তির বিরোধিতা করে চলে। পরে সে মুসলিম হয়। এখানে আল্লাহ ব্যাতিত অন্য কেউ সুস্হ্য করার ক্ষমতা রাখে এরকম ধারনা রয়েছে কী? এই ঘটনায় বিশ্বাস কী শিরক? হলে বড় শিরক নাকি ছোট শিরক? এমন ইমামের পেছনে স্বলাত আদায় করা যাবে কী? বিদ্র: উক্ত ইমাম সাহেবকে সহিহ আকীদার বলেই মনে হয়। তিনি কোরআন সুন্নাহর প্রতি খুবই গুরুত্ব দেন। তার অন্য একটি বক্তব্য উল্লেখ করলে হয়তো ধারনাটি পরিস্কার হবে: তিনি বলেছেন, পীর বা ওলীআল্লাহদের কাছে কোন কিছু চাওয়া বৈধ নয়। ওলীরা, নবীগন (আ.) যেমন আল্লাহর কাছেই চাইতেন, আপনারাও আল্লাহর কাছে চাইবেন। শুধুমাত্র ওলীদের কবর জিয়ারত করা বৈধ তবে জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাওয়াও বৈধ নয়। এখন প্রথমোক্ত ঘটনার সাথে শিরক সম্পর্কযুক্ত না হলে এটার (কারো দৃষ্টিতে রোগমুক্ত হওয়আ) ব্যাখ্যা ও হুকুম কী? যাযাকুমুল্লাহ।
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এভাবে রোগ সারতে পারে। হয়তো যাদুর প্রভাবে এমন হয়। তবে খাজা মইনু্দ্দিন চিশতী রহ. কোন হিন্দু সাধকের কাছে গিয়েছে এটা বিশ্বাস হয় না। তিনি নিজেই তো বড় মাপের মানুষ ছিলেন। রোগ থেকে মুক্ত হওয়ার দুআ-জিকির নিশ্চয় তিনি জানতেন। হিন্দু ডাক্তার কবিরাজের কাছে যেতে পারেন তবে সাধকের কাছে যাবেন এটা অবিশ্বাস্য। তবে আপনি উক্ত ইমাম সাহেবের কাছে উক্ত ঘটনার উৎস সম্পর্কে জানতে পারেন। দ্বিতীয়ত হিন্দু থাক অবস্থায় কিভাবে তিনি নফসে আম্মারা বিপরীত কাজ করলেন। নফসে আম্মারার বিপরীত করলে তো প্রথমেই তাকে মুসলিম হতে হবে। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1888
সরকারী চাকুরীজীবীরা provident fund এ যে টাকা রাখে, Govt. সেই টাকার উপর যে মুনাফা দেয় তা কি হালাল হবে?
14 Jan 2026

সরকার বাধ্যতামূলকভাবে যে টাকা রাখে সেই টাকার উপর সরকারের দেয়া মুনাফা হালাল হবে। চাকুরিজীবীরা নিজ ইচ্ছায় যে টাকা রাখে তার লাভ নেয়া জায়েজ নেই।

প্রশ্নঃ 1887
সুরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াতের মাঝের অংশে বলা হয়েছে কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তার কাছে তার অনুমতি ছাড়া? মাআরেফুল কোরআনের তাফসিরে বলা হয়েছে তবে আল্লাহর কিছু খাস বান্দা আছেন, যারা তার অনুমতি সাপেক্ষে তা করতে পারবেন, অন্যথায় নয়। এর পর রাসুল (সাঃ) এর সর্বপ্রথম সুপারিশ এর ব্যাপারে বলা হয়েছে। – এই কিছু খাস বান্দা তা করতে পারবেন সম্পর্কে জানতে চাই। তারা কারা হতে পারে? এতে কি বায়াত হওয়া / কোন ব্যাক্তি ওছিলা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে?
14 Jan 2026

দেখুন আল্লাহর কাছ প্রিয় এমন কোন বান্দাকে আল্লাহ সুযোগ দিতে পারেন, তার মানে এই নয় ইচ্ছা করলেই পারবে। এই বান্দারা নবী হতে পারেন কিংবা আল্লাহর প্রিয় অন্যরাও হতে পারে। এতে বায়াত হওয়ার কোন সুযোগ সৃষ্টি হয় নি। কারণ ইচ্ছা করলেই তো তারা সুপারিশ করতে পারবে না। বরং প্রচলিত বায়াতকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এই বলে যে, আল্লাহর কাছে অনুমতি ব্যতিত সুপারিশের কোন সুযোগ নেই।

প্রশ্নঃ 1886
আসসালামু আলাইকুম, আমি একটা NGO তে Audit officer হিসাবে আছি, কিন্তু শাখা অফিসগুলোতে প্রায়ই যে সব অনিয়ম হয় সেগুলো আমাকে খুজে বের করতে হয় কিন্তু কি কারনে তারা এই সব অনিয়ম করে তা বের করা খুবই কঠিন, তাই আমি এমন দুআ শিখতে চাই, যা আমাকে এইসব অপরাধ খুজে বের করতে সাহায্য করবে। আমার প্রশ্ন কোন দুআ পড়লে আল্লাহ আমার কাজে সাহায্য করবেন?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. লিখিত রাহে বেলায়াত বইটি সংগ্রহ করে সেখানে থেকে আপনার প্রয়োজনীও দুআগুলো শিখে নিবেন।

প্রশ্নঃ 1885
আসসালামু আলাইকুম, ইসলামে কণে দেখার নিয়ম? বর কি বিয়ের আগে কণে দেখতে পারবে হাদিস এর আলোকে /দলিল সহ জানাবেন, সীরাতুন্নবী কোন লেখক পড়বো? জাজাকাল্লাহ খাইরান
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিয়ের আগে বর কনেকে দেখে নিবে। তেমনি কনেও বরকে দেখে নিবে। হাদীসে এই ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে। নিচের হাদীসটি দেখুন: عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ كُنْتُ عِنْدَ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَأَخْبَرَهُ أَنَّهُ تَزَوَّجَ امْرَأَةً مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- أَنَظَرْتَ إِلَيْهَا قَالَ لاَ. قَالَ فَاذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّ فِى أَعْيُنِ الأَنْصَارِ شَيْئًا সাহাবী আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্নিত তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মহানবীর সা. নিকট এসে বলল, আমি একজন আনসারী রমণীকে বিয়ে করতে চাচ্ছি। এ কথা শুনে মহানবী সা. বললেন, মেয়েটিকে দেখে নাও। কেননা আনসারীদের চোখে আবার সমস্যা থাকে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫৫০। অন্য হাদীসে আছে, عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ أَرَادَ أَنْ يَتَزَوَّجَ امْرَأَةً ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ : اذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا ، فَإِنَّهُ أَحْرَى أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا ، فَفَعَلَ ، فَتَزَوَّجَهَا আনাস ইবনে মালিক রা. বলেন, মুগিরা ইবনে শুবা রা. একজন নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। এটা শুনে রাসূলূল্লাহ্ সা. তাকে জিজ্ঞাস করলেন, তুমি যাও এবং তাকে দেখে নাও। তোমার এই দর্শন তোমাদের মাঝে দাম্পত্য জীবনের প্রণয়-ভালোবাসা গভীর হবার বড় সহায়ক হবে। তখন তিনি তাই করলেন এবং বিবাহ করলেন। সুনানু ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৮৬৫। শায়খ শুয়াইব আর নাউত এবং শায়খ আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সীরাতুন্নাবীর জন্য আররাহীকুল মাখতুম পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 1884
Assalamu Alaikum warahmatullah. Is my income halal if I work at a non-Muslim bank? Jazakallahumul khair.
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নন-মুসলিম বলতে কী বুঝাচ্ছেন এটা স্পষ্ট নয়। তবে এর অর্থ যদি সুদভিত্তিক ব্যাংক হয় তাহলে উত্তর হলো: হররত জাবের রা. বলেন, لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. সুদ গ্রহীতা, দাতা, লেখক, সাক্ষীদ্বয় প্রত্যেকের উপর লানাত (অভিশাপ) দিয়েছেন এবং বলেছেন (পাপের দিক থেকে) সবাই সমান। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং৪১১৭। সুতরাং এখানে আপনি কিভাবে চাকুরী করবেন? আপনাকেতো এই লানতের ভিতর পড়তেই হবে। সুতরাং আমাদের জন্য আবশ্যক সুদভিত্তিক ব্যাংকে চাকুরী থেকে বিরত থাকা।

প্রশ্নঃ 1883
আসসালামু আলাইকুম। আমি বর্তমানে বুয়েটে পড়ছি। আমার খুব ইচ্ছা, যাতে আমি কুরয়ানের অর্থ বুঝতে পারি। আমার এমন একটি বই য়ের পরামর্শ দিলে খুবই খুশি হতাম যার মাধ্যমে আমি সহজে কুরয়ানের বাংলা অনুবাদ করতে পারি। ধন্যবাদ।
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না,ভাই কোন বই দ্বারা এটা সম্ভব নয়। আপনাকে একজন অভিজ্ঞ শিক্ষকের তত্বাকধানে আরবী ভাষা শিখতে হবে কুরআন বুঝার জন্য। তিনি যে বই নির্বাচন করেন সেই বইয়ের মাধ্যমে আপনি আরবী ভাষা শিখে কুরআন বুঝতে পারবেন।

প্রশ্নঃ 1882
আসসালামু আলাইকুম। ভাই আমি কিছুদিন পর বিয়ে করব ভাবছি তাই এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমার জানা দরকার। ১। স্বামী-স্ত্রী রাতে একসাথে নফল নামাজ পড়া যাবে কিনা? এবং ফরজ নামাজও। ২। শশুর এর কাছে কিছু দাবী করলে সেটাকে যৌতুক বলে কিন্তু শশুর যদি স্বেচ্ছাই কিছু দিতে চাই তবে তার মাসয়ালা কি? ৩। শুনেছি জন্ম নিয়ন্ত্রন পদ্ধতি ইসলামে হারাম তবে সন্তান বিরতির ইসলামী বিধান কি? ৪। বাসর ঘরে এমন কোনো দোয়া বা আমল আছে কি? যা করলে কোনদিন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হবে না ও শয়তান ধোকা দিতে পারবেনা?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে জামাত করা যাবে না। স্ত্রী পিছনে দাঁড়ালে সমস্যা নেই। নফল-ফরজ একই হুকুম। তবে পুরুষেরা মসজিদে আর মেয়েরা বাড়িতে নামায পড়বে এটাই সুন্নাত। ২।স্বেচ্ছাই কিছু দিলে সমস্যা নেই। ৩। স্থায়ী পদ্ধতি করলে হারাম হবে। প্রয়োজনে স্বাময়ীক কোন পদ্ধতি গ্রহন করলে সমস্যা নেই। ৪। রাহে বেলায়াত গ্রন্থে এসব দুআ ও যিকির বিস্তারিত আছে। আপনি বইটি সংগ্রহ করে পড়ুন।

প্রশ্নঃ 1881
আসসালামু আলাইকুম ১। যদি কোন আত্মীয় বা প্রতিবেশী কুরবানি দিয়েছেন তাহলে কি উনাকে আমাদের কুরবানীর গোস্ত দেয়া যাবে কি? না দিলে কি কোন সমস্যা হবে কি? ২। আমাদের এক আত্মীয় গত কয়েক বছর ধরে আমাদের কুরবানীর গোস্ত নেয় (ক্ষোভের কারনে) না কিন্তু আমরা গোস্ত দিয়ে আসি কিন্তু উনারা ফিরত দেয়। এখন আমাদের করণীয় কি? গোস্ত কি দিবো না দিব না? ৩। কুরবানীর গোস্ত কতদিন রেখে আমরা খেতে পারব? ৪। কুরবানীর গোস্ত কোন অমুসলিম প্রতিবেশী কে বা কোন অমুসলিমকে দেয়া জায়েজ কি?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যে কুরবানী দেয় তাকেও কুরাবনীর গোশত দেয়া যায়। না দিলে সমস্যা হবে কেন? ২। আপনাদের ইচ্ছা। আপনারা আপনাদের সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন। ৩। যত দিন খুশি কুরবানীর গোশত ততদিন রাখা যাবে। ৪। অমুসলিম প্রতিবেশীকেও কুরবানীর গোশত দেয়া যা। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ১৯৪৩।

প্রশ্নঃ 1880
যদি ঘুমের কারণে ফজরের সালাতের সময় উঠার পর দেখি সূর্যোদয়ের সময় তখন, তাহলে কি সূর্যোদয় শেষ হওয়ার পর কাযা আদায় করবো, নাকি সূর্যোদয় চলাকালীন সময়েই আদায় করবো?
14 Jan 2026

এ বিষয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ আছে। কেউ কেউ বলেন, ঐ সময়েই পড়বে। আবার কেউ কেউ বলেন, সূর্য উঠার পর পড়বে। হাদীসের কারণেই এই মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রশ্নঃ 1879
আসসালামু আলাইকুম… আমি আব্দুর রাজ্জাক সাহেবকে বলতে শুনেছি যে সলাত কেবল অনুমোদিত সময়ে পড়তে হবে… আর ইচ্ছা মতো সলাত পড়ার দুই জায়গা রয়েছে তা হলো জুমআর খুতবার আগে আর কাবা শরীফে… এর বাইরে দিনে রাতে মাত্র ১২ রাকাত বা ১৪ রাকাত পড়া যাবে… উনি ব্যাপারটা এমন ভাবে বলেছেন যেনো মনে হচ্ছে এই ১২ রাকাতের বাইরে আমি আরো নফল সালাত পড়লে তা বিদআত হবে…!! তাই আমি বিষয়টা নিয়ে সন্দিহান…! এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে,এই ১২ রাকাতের বাইরে সওয়াবের আশায় আরো নফল সালাত আদায় করা কি সুন্নাত সম্মত?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অনুমোদিত সময়ে আপনি যত ইচ্ছা নফল নামায পড়তে পারেন। ঐ কথা শুনলে তো তাহাজ্জুদও বাদ হয়ে যায়। কথাটি খুবই বানোয়াট, হাদীস বিরোধী।

প্রশ্নঃ 1878
আসসালামু আলাইকুম ১। কুরবানির মাংস ৩ ভাগ করতে হয়। একভাগ নিজের জন্য, একভাগ গরিব মিসকিন আর একভাগ আত্মীয়দের/প্রতিবেশীর জন্য। এইটা কি সুন্নাত সম্মত? এক আলেমকে বলতে শুনেছি হাদিসে আত্মীয়ের ভাগ বলে কিছু নাই আর যেটা আছে ওইটা জাল, উনি বলেছেন ৩ ভাগ হবে এক ভাগ নিজেরা খাবে, এক ভাগ জমা রাখবে আর একভাগ গরিব মিসকিনকে দিবে। কেউ যদি ইচ্ছা করে তাইলে নিজের ভাগ থেকে আত্মীয়কে দিতে পারে। এই বিষয়ে জানতে চাচ্ছি। তাহলে কি কুরবানির মাংস আত্মীয়ের ভাগ বলে কিছু নাই? ২। আরাফাতের দিন (৯ জিলহাজ্জ) রোযা রাখতে বলেছেন রাসূল (সাঃ)। সৌদিতে যেদিন ৯ জিলহাজ্জ সেদিন আমাদের এখানে ৮ জিলহাজ্জ। এখন আমরা কবে রোযা রাখব আমাদের দেশের ৮ জিলহাজ্জ না ৯ জিলহাজ্জ? আর এবার ৯ জিলহাজ্জ আমাদের দেশে শুক্রবার এক্ষেত্রে কি করনীয়? ৩। আমাকে একজন বলেছে যে, কেউ যদি দৈনিক ১০০০ বার দরুদ শরিফ পাঠ করবে সে একদিন রাসূল (সাঃ) স্বপ্নে দেখবে। এইটা নাকি হাদিসে কুদছি। আমি এই বিষয়টা জানতে চাচ্ছি। ৪। যখন কোন শিশু জন্ম নেয় তখন তার শরীরের ১০টা অংশ আল্লাহ্ এর জিকির করতে থাকে। সে বড় হতে থাকে আর পাপ করতে থাকে এতে তার শরীরের ওই অংশগুলো আল্লাহ্ এর জিকির বন্ধ করে দেয়। সেজন্য ১০ লতিফা দিয়ে ওই অংশগুলোর আল্লাহ্ এর জিকির ফিরিয়ে আনতে হয়। এই বিষয়টার সত্যতা জানতে চাচ্ছি আর একটু বিস্তারিত আলোচনা করলে খুশি হতাম। আমার প্রশ্নে কোন ভুলত্রুটি থাকলে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন। যাযাকাল্লাহ্ খাইরান
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কুরবানীর গোশত তিন ভাগ করা আবশ্যক নয়। আলেমগণ মুস্তাহাব বলেছেন। তবে ঐ আলেম যা বলেছেন এমন কথা কেউ বলেন নি। আপনার পক্ষে বেশী দান করা সম্ভব হলে বেশী করবেন। আবার পরিবারের লোক সংখ্যা বেশী হলে নিজেরা বেশী করে রাখতে পারবেন। কোন নির্দিষ্ট ভাগ ইসলামে করে দেয়া হয় নি। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন, فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ তোমরা কুরবানীর গোশত খাও এবং গরীবদেরকে খাওয়াও। সূরা হাজ্জ, আয়াত ২৮। এখানে তোমরা খাও বলতে আত্নীয়রাও এসে যায়। আল্লাহ ভাল জানেন। ২। আরাফার দিন অর্থ হলো ৯ জ্বিলহজ্জ। যেমনি ভাবে কুরবানীর দিন অর্থ হলো ১০ জ্বিলহজ্জ। সুতরাং আমাদের দেশে ৯ জিলহজ্জ শুক্রবার রোজা রাখতে হবে। কোন কোন আলেম বলেছেন, সৌদি আরবের আরাফার দিন হিসাবে রোজা রাখলেও হবে। ৩। এ ব্যাপারে আমাদের জানা নেই। ৪। এই বিষয়েও আমাদের জানা নেই। এগুলো সুন্নাত থেকে দূরে রাখার কৌশল।

প্রশ্নঃ 1877
কোরবানী ওয়াজীব হওয়ার নেসাবের শর্ত কি কি?ব্যাংক সেভিং একাউন্ট। ডিপিএস একাউন্ট। অন্যের কাছে পাওনা টাকা। জমি বন্ধকি বাবদ অন্যের কাছে নিজের অর্থ জমা। গৃহপালিত পশুর ক্রয় মূল্য বা বর্তমান মূল্য। গাছ-গাছালী চাষযোগ্য জমির মূল্য। বর্তমান মাসিক আয়। নিজের ও পরিবারের দৈনন্দিন খরচ ইত্যাদি হিসাব কিভাবে করা উচিৎ? এর মধ্যে কোনটা শর্তের বাইরে কোনটা শর্তের ভিতরে?
14 Jan 2026

সকল ঋন পরিষোধ করার পর যদি আপনার কাছে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রোপার অথবা সাড়ে সাত তোলা সোনার মূল্য পরিমান টাকা থাকে তাহলে আপনার উপর কুরবানী ওয়াজিব। গাছ-গাছালী ও জমিজমা নেসাবের অন্তর্ভূক্ত নয়।জমি বন্ধক বাবদ জমা রাখা টাকা এবং ব্যাংকে থাকা টাকা নেসাবের মধ্যে অন্তভূক্ত হবে।চাষাবাদ এবং দুধ খাওয়ান পশু বাদে অন্যান্য গৃহ পালিত পশু যেগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে পোষা হয় সেগুলো নেসাবের অন্তর্ভূক্ত। অন্যের কাছে পাওনা টাকাও নেসাবের অন্তর্ভূক্ত।

প্রশ্নঃ 1876
আসসালামু আলাইকুম, আমি প্রতিবছরই আমাদের কুরবানির পশু আমি নিজেই জবাই করি, কিন্তু এ বছর আমার বিবি pregnent সে কথা থেকে শুনছে এ অবস্থায় যাতে আমি কোন কিছু জবাই না করি, এ কথার স ত্য কত টুকু? দয়া করে জানাবেন
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার স্ত্রী যা শুনেছে তা আদৌ সত্য নয়। আপনি জবাই করতে পারেন, কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 1875
হাদিস সহি হবার জন্নে সনদ সহি হয়া বাদে আর কি কি ভাবে হাদিস সহি হই। সাহাবি, তাবেঈন, তাবে তাবেঈন এনাদের জদি কন আমল পাওয়া জাই জার হাদিস সনদ গতভাবে সহি নই। তাহলে কি সেতা সহি হয়ে জাই। আবার কুরান হাদিস থেকে বেশি বেশি নির্দেশনা পাওয়া গেলে সেতার সনদি জদি না থাক্লে, তবু সেতা সহি কি না। বিস্তারিত বলবেন দয়া করে। কন কিতাব থাক্লে বাংলাই বলবেন।
14 Jan 2026

সাধারণ মানুষের এই আলোচনাতে যাওয়া কতটা ফলদায়ক সে বিষয়ে প্রশ্ন আছে। আপনার কোন হাদীসের সহীহ-যয়ীফ জানার ইচ্ছা থাকলে একজন ভাল আলেমের কাছ থেকে জানতে পারবেন। হাদীসে সহীহ হওয়ার জন্য শুধু সনদই যথেষ্ট নয়। আরো শর্ত লাগে যেমন, ঐ হাদীসের বক্তব্য কোন প্রসিদ্ধ হাদীসের বিপরীত হতে পারবে না।বাংলায় পরিপূর্ণ কোন কিতাব আছে কি না জানা নেই। তবে শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহ. লিখিত হাদীসের নামে জালিয়াতি বইয়ের ভূমিকাতে তিনি কিছুটা আলোচনা করেছেন সেটা দেখে নিতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1874
আস-সালামু আলাইকুম। মাজুর ব্যক্তির ক্ষেত্রে (যার খুব সামান্য পরিমাণ প্রস্রাবের ফোটা কিছুক্ষণ পরপর বের হতে থাকে) প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতের আগে কি কাপড় ধুয়ে নিতে হবে বা পরিবর্তন করতে হবে?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বী, কাপড় পরিবর্তন করতে হবে অথবা ধুতে হবে।

প্রশ্নঃ 1873
আসসালামু আলাইকুম, আমার এক বন্ধু ও কয়েকজন মিলে ব্যবসা করে। আমাকে প্রস্তাব দেওয়ার আমি ২ লক্ষ টাকা দিয়েছি। আমি শুধু বিনিয়োগকারী। তারা অর্থ ও শ্রম উভয় দেন। আমাদের মধ্যে কোন চুক্তি নাই যে, আমাকে লাভের কত ভাগ দিবে। লাভের আনুমানিক ধারণা দিয়েছিল। তবে নির্দিষ্ট কোন টাকা দিবে না। লাভ কম হলে কম, বেশী হলে বেশী দিবে। যেমন কখনো ১ বছর পর ৫০,০০০/- দিয়েছে। আবার ৬ মাস পর ২০,০০০/- দিয়েছে। এমতাবস্থায় এই লাভ কি হালাল? হালাল না হলে গৃহীত অর্থ যা আমি খরচ করে ফেলেছি তা কি করতে পারি?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি তাদের সাথে চুক্তি করে নিন যে, লাভের এত শতাংশ আপনি পাবেন। তাহলে সচ্ছ থাকতে পারবেন। তবে যেভাবে নিয়েছেন তাতে নাজায়েজ কিছু হয় নি।

প্রশ্নঃ 1872
আসসালামুয়ালাইকুম ভাই, আমার প্রশ্ন হল পেশাবের করে বার হয়ে আশার পর যদি মনে হয় বা নিশ্ছিত হওয়া যায় কিছু ফোটা পরেচে তাহলে কি সালাত আদায়ের আগে শুধু অই জায়গাতে পানি ছিটিয়ে দিলে হবে আমি হাদিসে পানি ছিটানর কথা পরেছি । কারন ধুএ ফেলা বলতে আশলে কি বুঝায় পুরা টা ধুয়ে ফেলা? এইটা ত সবসময় সম্ভব না আর কাপর বদলানো সবসময় সম্ভব না?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যাদের ভিরত সন্ধেহের রোগ আছে তারা সন্দেহ থেকে বাচার জন্য পেশাবের পর কাপড়ের উপর পানি ছিটিয়ে দিবে। হাদীসে উপরুক্ত কথা বলা হয়েছে। নিশ্চিত হলে পানি ছিটালে হবে না। ধুতে হবে।

প্রশ্নঃ 1871
আসসালামুয়ালাইকুম ভাই আমার প্রশ্ন হল — প্রচলিত তাবলীগ জামাতে কী যাওয়া যাবে?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যাওয়া যাবে, তবে সবার মধ্যেই ভুল-ভ্রান্তি আছে, সেগুলো রাখতে হবে।

প্রশ্নঃ 1870
কুরবানি করার সময় নাম দেয়ার কারণ কি? (বিদ্রঃ আমাদের দেশে সাধারনত ৭ নামে কুরবানি দেয়)
14 Jan 2026

এটা আমাদের দেশের একটা প্রথা। ইসলামের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই।

প্রশ্নঃ 1868
আসসালামু আলাইকুম…আমার প্রশ্ন হল, জান্নাতে কি মানুষের রুহ বা আত্না নাকি দেহ যাবে? যদি দেহ না যায় তাহলে ক্বিয়ামতের দিন কেন আবার পুনরায় নতুন দেহ সৃষ্টি করা হবে?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এসব অপ্রয়োজনীও চিন্তা করে সময় নষ্ট করার কী দরকার? দেহ-রুহ সবই যাবে। এসব চিন্তা বাদ দেয়া জরুরী।

প্রশ্নঃ 1869
আসসালামু আলাইকুম…আমার প্রশ্ন হল, জান্নাতে কি মানুষের রুহ বা আত্না নাকি দেহ যাবে? যদি দেহ না যায় তাহলে ক্বিয়ামতের দিন কেন আবার পুনরায় নতুন দেহ সৃষ্টি করা হবে?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এসব অপ্রয়োজনীও চিন্তা করে সময় নষ্ট করার কী দরকার? দেহ-রুহ সবই যাবে। এসব চিন্তা বাদ দেয়া জরুরী।

প্রশ্নঃ 1867
আসসালামুয়ালাইকুম, দয়া করে পুরো পড়বেন, কাওকে বলতে পারসছিনা তাই, আমার বয়স এখন ৩০ বছর। আমি ngo তে হিসাব বিভাগে আছি। ৪ বছর আগে আমার এক কলিগ আমার সাথে খুব দুস্তামি করত। আমাকে তার মটর সাইকেল এ নিয়া বাসায় পোঁছে দিতে চাইতো । আমি আল্লাহর ভয় এ খুব ছোট বেলা থেকে এ সব থেকে দূরে থাকতাম। আমার অন্যান্য কলিগরা বলত আমি যেন ওই ছেলের সাথে মিশি । তিনি ১ বছর পর সরকারী জব পায় । সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ছিল । ঢাকা চলে যায় । ঈদ এ সব কলিগ এর মত অনাকে ও মেসেজ পাঠাতাম । তেমন যোগাযোগ ছিল না । একদিন ফন করে বলে সে লাইফ পাটনার হিসেবে আমাকে দেখতে চায় । সে তার প্রবলেম এর কথা আমাকে বলবে । আমি খুব চিন্তায় পড়ে যায় । আমি সেদিন তাহাজ্জুত নামাজে দাড়ায় এবং আল্লাহ কে বলি, হে আল্লাহ যদি সে কাওকে পসন্দ করে থাকে আর এখন আমাকে চায় তাহলে মিলিয়ে দিও আর যদি বিবাহিত হয়ে থাকে আমাকে এত বড় শাস্তি দিও না । অনেক কোটী পোটি ছেলে আমার দরকার নাই। এমন ছেলে আমার সঙ্গী দাও আমার জন্য যার কাছে কিছু থাকবে। পরে সে জানায় ১ বছর আগে তার বিয়ে হয়। দু জন দু জন কে বিশ্বাস করে না, তাই তালাক হয়ে যায়। আমি প্রথমে না বলি। তার কিছুদিন পর আমার এক বান্ধবী বলি, সে আমাকে অনেক বুঝায়, যে ছেলেটা তার ভুল বুজতে পেড়েছে। যে হে তু আমার বিয়ার জন্য চেষ্টা করার পর ও হচ্ছে না তাই তার সাথে কথা বলতে। সে ভাই ফোন দিলে আমি কয়েক দিন কথা বলে জানতে পারি যে অনেক মেয়ের সাথে কথা বলে, যে মেয়ে কে পসন্দ করে তারই বিয়ে হয়ে যায় । তার কাজিন দের সাথে অনেক দুস্তা মি করত কিন্তু ৬ মাসের মধ্যে সে মেয়েগুলার বিয়ে হয়ে যায় । সে বলে তাকে প্রায় সময় বিভিন্ন মেয়ের সাথে দেখা করতে, খেতে হয়, কোন মেয়ে কে তার পসন্দ হয় না । ১ বার সে আমার সাথে দেখা করার জন্য অফিসে আসে, আমার সাথে কথা বলার জন্য, আমার মন বলছিল সে আমাকে নিয়া ও ঘুরতে চাবে, খেতে চাবে তাই, আমি অফিস থেকে সে আসার আগেই বেরিয়ে যাই। ২ বার সে দেখা করতে চাইলে আমি বলি, হোটেল রেস্টুরেন্ট এ কোন ছেলেকে নিয়া ঘুরাঘুরি করার অভ্যাস আমার নাই তাই আমি অফিস থেকে আগেই বেরিয়ে গেছি। যদি আসতে চান তাহলে কলিগ হিসেবে বাসায় বেড়াতে আসিয়েন। আমার ছবি চাইলে তাকে জিজ্ঞাসা করি কি করবেন, তিনি বললেন, ছবি কম্পিউটার এ রেখে দিব। কত মেয়ের ছবি রেখেছেন? অনেক মেয়ের ছবি আমার কম্পিউটারে আছে। আমি এসব ছবি দেখি না, আমি শুধু আমার আগের বউ এর ছবি দেখি । আমার খুব রাগ লাগল। আমি যখন বুজতে পারি যে, সে ছেলের প্রতি আমি দুর্বল হয়ে পড়ছি, তখন আমী বলি, ভাই আপনের অভ্যাস আছে তাই আপনার কোণ সমস্যা হবে না, আমার তো অভ্যাস নাই তাই আমার ক্ষতি হবে। আমী ভূল করে ফেলেছী, আমী চাই না আপনার সাথে কোথা বলে আর গুনাহ করতে। আমী তাকে অনেক বুজায় । শেষে বলি, আমী আপনার জন্য মন থেকে দোয়া করি আল্লাহ আপণাকে চোখের শীতল কারী সঙ্গী মিলিয়ে দেক। আপণাকে যেন এতো মেয়ের পিছনে ঘুরতে না হয়। আপনি যেন সত্য, সুন্দর কথা বলতে পারেন। ৩য় বার আবার চট্টগ্রাম আসে । কিন্তু আমি সে দিন গ্রামের বাড়ি ছিলাম । দেখা হয় নাই। পরশু আমি ২টা বাজে ঘুমের মধ্যে দেখি যে সে দোয়াটা আমি তাকে বলছি। কাল জানতে পারলাম সে বিয়ে করেছে। তার সাথে আমার কোণ যোগাযোগ নাই। আমার অন্য কোলীগদের সাথে তার FACE BOOK friend আছে। আমার সাথে আগে ছিল, আমি ব্লক করি দেই, নিজে safe থাকার জন্য। তিনি নেট এ থাকলে সবার কম্পিউটারে তার ছবি দেখা যায়। সবাই আমাকে বলে, আমি নাকি ভূল করি ছি। আমি নাকি ছেলেদের মন বুঝি না। দোষ নাকি আমার। বিয়ে তো আল্লাহর হাতে। যার সাথে জোড়া আছে তার সাথেই তো হয়। আমি খূব কষ্ট পাচ্ছি। সে ভাই এড় সাথে কেন যে কথা বলতে গেলাম। জা আমাকে সব সময় কষ্ট দিচ্ছে। দোয়া করবেন।
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। শয়তান মানুষের চিরশত্রু। সে বিভিন্ন উপায়ে আমাদেরকে গুনাহে লিপ্ত করতে চাই। তার সাথে আপনার কথাবার্তাও শয়তানের একটি কুচক্র। আপনি এই নিয়ে কোন চিন্তা করবেন না। এবং দ্রুত বিয়ে করে ফেলুন। আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাকে ভাল রাখেন।

প্রশ্নঃ 1866
আসসালামু আলাইকুম, বেতের নামায সঠিক ভাবে আদায় করার নিয়ম অথবা পদ্ধতি জানাবেন কি। মামুন, ০১৭১১০৮০৮৯৪, বাংলাদেশ
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমাদের দেশে যেভাবে বিতর নামায পড়া হয় সেটা সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতি। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া 117, 167, 168 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 1865
আসসালামু আলাইকুম, আমরা নামেযের কোন সময় আমার পরিবার এবং আমার জন্য দোয়া করতে পারি। জানাবেন কি। মামুন, ০১৭১১০৮০৮৯৪, বাংলাদেশ
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নামাজের সাজদাতে এবং দরুদ শরীফ পড়ার পর পরিববার ও নিজের জন্য মাসনুন দুআ আরবীতে পাঠ করবেন।

প্রশ্নঃ 1864
আসসালামু আলাইকুম, আমার কোমরে (মেরুদন্ড) এ ২০০৪ (সম্ভবত) অপারেশন করা হয়। ডাক্তারের এর পরামর্শ অনুযায়ি চেয়ারে বসে নামায পরি। আমি অপারেশান এর পরদিন থেকে সুস্থ। ভবিষ্যত এর কথা চিন্তা করে আমি আখনো ডাক্তার এর পরামর্শ অনুযায়ী চেয়ারে বসে নামায পরি। এতে আমার নামায হবে কি না জানাবেন। মামুন, ০১৭১১০৮০৮৯৪
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি আবার এখন ডাক্তারের পরামর্শ নিন। যদি সাজদা দিতে নিষেধ করেন তাহলে। দাঁড়িয়ে নামায পড়বেন, রুকু সাজাদ দাঁড়ানো অবস্থাতেই দিবেন যেভাবে চেয়ারে বসে দেন। রুকুর তুলনায় সাজদাতে মাথা একটু বেশী ঝুকাবেন। যারা দাঁড়াতে বা নিচে বসতে অক্ষম তারাই কেবল চেয়ারে নামায পড়বে।

প্রশ্নঃ 1863
১। সালাতে নজর কোন জাইগায় থাকবে দলিল সহ জানাবেন। ২! মুসাফা করার সময় কয় হাতে করতে হবে। আর পরে হাত বুকে লাগানোর দলিল। ৩! ওযুর সময় ঘাড় মাশেহ করার দলিল
14 Jan 2026

সাজদার স্থানে দৃষ্টি থাকবে। হাদীসে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস নং ৩০১২; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ৬৫৬২, ৬৫৬৩ এবং ৬৫৬৪। ২। দুই হাতেও করতে পারেন এক হাতেও করতে পারেন। ৩।ঘাড় মাসেহ করার ব্যাপারে কয়েকটি দূর্বল হাদীস বর্ণিত আছে। তার একটি হলো, قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من توضأ ومسح عنقه لم غل بالأغلال يوم القيامة অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি ওযু করবে এবং ঘাড় মাসেহ করবে কিয়ামতের দিন তাকে শিকল পরানো হবে না। তারীখ আসবাহান, ১/২৪২। এই বিষয়ে বিভিন্ন হাদীসের বিশ্লেষন শেষে মোল্লা আলী কারী হানাফী রাহ. বলেন, قال أئمتنا إن مسح الرقبة مستحب أو سنة অর্থ: আমাদের ইমামগণ বলেছেন, ঘাড় মাসেহ করা মুস্তাহাব অথবা সুন্নাত। আল-আসরারুল মারফুয়াহ, পৃষ্ঠা- ৩১৫। কোন কোন আলেম বিদআত বলেছেন। তবে দলিলের আলোকে বিদআত নয় বলেই মনে হয়।

প্রশ্নঃ 1862
আসসালামু আলাইকুম, মুহতারাম—সাহুসেজদা কখন করতে হয়? উহার পদ্ধতিটা একটু জানাবেন।
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নামাযের মধ্যে ভুলক্রমে কোন ওয়াজিব বাদ গেলে, কোন কাজ আগে-পিছে হয়ে গেলে সাহু সিজদা দিতে হয়। আমাদের সমাজে যে পদ্ধতিতে সাহু সিজদা করা হয় তা সঠিক। হাদীসে অন্য পদ্ধতিও পাওয়া যায়। বিস্তারিত দলীলসহ জানতে আমাদের দেয়া 1465 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 1861
আসসালামু আলাইকুম… আমি উলংগ অবস্থায় গোসলের সময় ওযু সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি…১) গোসলের শুরুতে উলংগ হয়ে লজ্জাস্থান ধুয়ে এর পর ওযু করে গোসল করলে কি ওযুসহ ফরয গোসল আদায় হয়ে যাবে? ২) যদি উলংগ অবস্থায় করা ওযু, ওযু হিসেবে কবুল না হয় তবে ফরয গোসল হবেনা… আর যদি এই ওযুতেই গোসল হয়ে যায় তাহলে এই ওযুতেও কি সলাত হবে? নাকি নতুন করে ওযু করে সলাত আদায় করতে হবে?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। গোসলের শুরুতে উলংগ হয়ে লজ্জাস্থান ধুয়ে এর পর ওযু করে গোসল করলে ওযুসহ ফরয গোসল আদায় হয়ে যাবে এবং এই সালাত আদায় করা যাবে নতুর করে ওযু করার প্রয়োজন নেই।

প্রশ্নঃ 1860
বাংলা উচ্চারন সহ কুরআন পড়লে কি সোয়াব পাওয়া যাবে নাকি পড়ার অনুমতি নেই?
14 Jan 2026

কুরআন শরীফ আরবী শিখে পড়তে হবে । বাংলা উচ্চারণে কুরআন পড়া যাবে না, এটা নিষিদ্ধ।

প্রশ্নঃ 1859
আসসালামুআলাইকুম। ওজুতে চেহারা ধোয়ার সময় ভ্রুর চুল এই পরিমান যে নিচের চামড়া কিছুটা হলেও দেখা যায়, তাহলে ভ্রুর নিচের চামড়ায় পানি পৌছানো কী জরুরি? চেহারার অংশ কী থুতনির নিচ পর্যন্ত নাকি উপর দিকে গলার শেষ সীমা পর্যন্ত? যাযাকুমুল্লহ।
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভ্রুর নিচে পানি পৌছাতে হবে এবং উপর দিকে গলার শেষ পর্যন্ত ধৌত করবেন।

প্রশ্নঃ 1858
আমি একটি দুয়া পড়ি, যা ১০০ শত ভাগ কারযকর আল্লাহর আশেষ রহমতে, যা ব্যথার দুয়া, ( আউজউবিল্লাহি উয়া কুদ্রাতিহি মিন শার রী মা আজিদু …………। , ) এ ছাড়া আমি আরও কিছু দুয়া শিখতে চাই, যা কোরআন হাদিসে আছে, ১০০ ভাগ অথেন টিক। আমাকে কিছু রোগ ব্যাধি থেকে মুক্ত হওয়ার দুয়া বলুন (কিডনি রোগ, হার্ট, প্রেসার), বিশেষ করে একজিমা থেকে মুক্ত হওয়ার দুয়া বলুন।
14 Jan 2026

আপনি নিচের দুআগুলো পড়তে পারেন। اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى وَارْحَمْنِى وَاهْدِنِى وَعَافِنِى وَارْزُقْنِى সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭০২৫। এই দুআটি দুই সাজদার মাঝখানে এবং অন্যান্য সময় পাঠ করবেন। ৭০২৫ اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَاسَ اشْفِهِ وَأَنْتَ الشَّافِي لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمً সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৭৪৩। বিস্তারিত জানতে দেখুন, শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত রাহে বেলায়াত বইটি।

প্রশ্নঃ 1857
আসসালামু আলাইকুম। ১। আমি নিজে ও আমার পোশাক পবিত্র রাখার যথেষ্ঠ চেষ্টা করি কিন্তু তারপরও মাঝে মাঝে সন্দেহ হয়। যখন সন্দেহ হয় তখন পোশাক পরিবর্তন করার সুযোগ থাকলে পোশাক পরিবর্তন করে নামায আদায় করি কিন্তু মাঝে মাঝে পোশাক পরিবর্তন করার সুযোগ থাকে না তখন কি করব? ২। একজন শাইখ বলেছেন কেউ যদি মাযহাব মানে তাহলে তার ঈমাণ নষ্ট হয়ে যাবে। এটা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি? ৩। কারো কাছে বায়াত হওয়া কি জরুরী?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।শুধু সন্দেহের কারণে পোশাক পরিবর্তন করবেন না। এটা এক ধরণের রোগ আপনি এটা করতে থাকলে এই রোগটি আপনাকে পেয়ে বসবে। ২। ঐ শায়েখ মাজহাবের অর্থ ভুল বুঝেছেন,তাই এমনটি বলেছেন। প্রকৃতপক্ষে ঐ শায়েখও মাজহাব মানে। প্রতিটি মানুষের পক্ষে কুরআন-হাদীস থেকে পড়ে মাসআলা-মাসায়েল জানা সম্ভব নয়। হাদীসের বিশুদ্ধতা নির্ণয় করাও প্রত্যেকের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই মানুষেরা কোন আলেমের থেকে এগুলোে জেনে নিয়ে আমল করে থাকে। এটাকেই সমাজ মাজহাব নাম দিয়েছে। এটা করলে যদি ঈমান নষ্ট হয় তাহলে ঈমান থাকবে কিভাবে? হাদীসের সহীহ যয়ীফ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে অধিকাংশ আলেম পূর্ববর্তী মুহাদ্দিসগণের উপর নির্ভর করে, এর অর্থ হলো তারা পূর্ববর্তী ইমামদের মতামত মানছে তার মাজহাব মানছে। যে শায়েখ বলেছেন তিনিও হয়তো এর ব্যাতিক্রম নন। আসলে সবাই মাজহাব মানে, কেই বুঝতে পারে আর কেউ বুঝেও না বুঝার ভান করে। ৩। সৎ মানুষদের সহচার্যে থাকতে হবে। বায়াত কিছু না।

প্রশ্নঃ 1856
১) সালাতে সালাম ফেরানোর আগে অথবা পরে সাহু সেজদা দেওয়া যায়। কিন্তু আমাদের দেশে যে একপাশে সালাম ফেরানোর পর সেজদা দেওয়া হয়,তা কি সুন্নাতসম্মত? ২) মুতাযিলীরা বিশ্বাস করে কুরআনুল কারীম মাখলুক অর্থাৎ সৃষ্ট। আমি এব্যাপারটা ঠিক বুঝিনি। কুরআনকে মাখলুক বলা দ্বারা ঠিক কী বোঝানো হয়েছে?
14 Jan 2026

নামাযের মধ্যে এক দিকে সালাম ফিরানোর কথাও হাদীসে পাওয়া যায়। হাদীসটি হলো: عَنْ عَائِشَةَ, أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ كَانَ يُسَلِّمُ تَسْلِيمَةً وَاحِدَةً تِلْقَاءَ وَجْهِهِ. হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. একদিবে সালাম ফিরাতেন। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং২৯৬; সুনানু ইবনু মাজাহ, হাদীস নং৯১৯; সহীহ ইবনু খুজা্য়মা, হাদীস নং ৭৩০। শায়খ আলবানী রাহ. বলেছেন হাদীসটি সহীহ ওশায়খ শুয়ািইব আর নাউত রাহ. বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ (সহীহ ইবনে হিব্বান, ১৯৯৫ নং হাদীসের টিকা)। এবং অন্যান্য মুহাদ্দিসগণও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সুতরাং একদিকে সালাম ফিরানো হাদীসসম্মত। বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া 1465 নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 1855
Nabhir niche hat badhar sahi hadiser dololil ki ache? Janale upokrito habo.
14 Jan 2026

নাভীর নিচে হাত বাধার যেমন সহীহ হাদীস নেই তেমনি বুকের উপর বাধারও সহীহ দলীল নেই। সহীহ হাদীসে সাহাবী ওয়ায়েল ইবনে হুজর রা. রাসূলুল্লাহ সা. এর নামাযের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন, ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى অর্থাৎ (রাসূলুল্লাহ সা. ) তাঁর ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখলেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯২৩। সহীহ বুখারীতে এই বিষয়ে বর্ণিত আরেকটি হাদীস হলো, عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ كَانَ النَّاسُ يُؤْمَرُونَ أَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ الْيَدَ الْيُمْنَى عَلَى ذِرَاعِهِ الْيُسْرَى فِي الصَّلاَةِ. قَالَ أَبُو حَازِمٍ لاَ أَعْلَمُهُ إِلاَّ يَنْمِي ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم তাবেঈ আবু হাযিম সাহাবী সাহল ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, মানুষদের আদেশ দেওয়া হতো সালাতের মধ্যে ডান হাত বাম হাতের বাহুর উপর রাখতে। আবু হাযিম বলেন, এই নির্দেশকে তিনি নাবীউল্লাহ সা. এর প্রতি সম্পৃক্ত করেছেন বলেই আমি জানি। সহীহ বুখারী, হাদীস নং৭৪০। হাত রাখার ব্যাপারে সহীহ সূত্রে অনেক সাহাবী থেকে শুধু এতটুকুই জানা যায় অর্থাৎ বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা। হাত রাখার স্থান নিয়ে বর্ণিত হাদিসগুলো একটিও ইলমী গবেষণার আলোকে সহীহ নয়। ইমাম তিরমিযী রহ. এর বক্তব্য আমাদের এই বিষয়ে একটি সঠিক সমাধান দিতে পারে। অন্য একজন সাহাবী থেকে উপরের অনুরুপ একটি হাদীস বর্ণনা করে তিনি বলেছেন, والعمل على هذا عند أهل العلم من أصحاب النبي صلى الله عليه و سلم والتابعين ومن بعدهم يرون ا يضع الرجل يمينه على شماله في الصلاة ورأى بعضهم أن يضعهما فوق السرة ورأى بعضهم أن يضعهما تحت السرة وكل ذلك واسع عندهم অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. এর সাহাবী, তাবেয়ী এবং পরবর্তী আলেমদের নিকট আমল এর উপরই। তারা মনে করেন ব্যক্তি নামাযের মধ্যে তার ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখবে। তাদের কেউ কেউ মনে করেন নাভির উপর রাখবে আবার কেউ কেউ মনে করেন নাভীর নিচে রাখবে। তাদের নিকট উভয় পদ্ধতি গ্রহনের অবকাশ আছে। জামে তিরমিযী,২৫২ নং হাদীসের আলোচনা। সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে আমরা সহজেই বুঝতে পারি যে, এই বিষয়ে মাতামাতি না করে আমাদের উচিৎ যে কোন একটি পদ্ধতির উপর আমল করা। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত সালাতের মধ্যে হাত বাঁধার বিধান বইটি।

প্রশ্নঃ 1854
আসসালামু আলাইকুম। দুঃখিত। আমার পূর্বের প্রশ্নটিতে একুটু ভূল হয়েছিল। সংশোধিত রূপ: রুকু থেকে উঠে সামিআল….দাহ বলার পরে এক তাসবিহ পরিমাণ দাড়িয়ে না থাকলে ও পরে সাহু সিজদাহ না দিলে সালাত কি বাতিল হবে নাকি মাকরুহ হবে? ইমামের এই সমস্যাটি থাকলে তাঁর পেছনে কী মুক্তাদির সালাত হবে? না হলে কী করা উচিত?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রুকু থেকে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়ানো আবশ্যক। এক তাসবীহ পরিমাণ না হলেও সালাতের সমস্যা হবে না। সোজা হয়ে না দাঁড়িয়ে সাজদাতে গেলে বিষয়টি বিনয়ের সাথে ইমাম সাহেবকে বলতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1853
আসসালামু আলাইকুম… আমার প্রশ্ন হচ্ছে অসুস্থ হওয়ার কারণে কেউ যদি একেবারেই সলাত আদায় না করতে পারে সে কি গুনাহগার হবে যখন সে ৫ ওয়াক্ত আদায় করবে বলে ওয়াদাবদ্ধ..?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অসুস্থ হলেই সালাত ছাড়া যাবে না। শুয়ে পড়ে ইশারাতে হলেও নামায পড়তে হবে। তবে এটাও যদি সম্ভব না হয় তাহলে কেবল তার নামায মাফ।

প্রশ্নঃ 1852
রুকু থেকে উঠে সামিআল…….. দাহ বলার পরে এক তাসবিহ পরিমান স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে ও পরে সাহু সিজদাহ না দিলে স্বলাত কি বাতিল হবে নাকি মাকরুহ হবে। ইমামের এই সমস্যাটি থাকলে তাঁর পেছনে কি স্বলাত হবে?
13 Jan 2026

না, সালাতের কোন সমস্যা হবে না। বরং আমাদের সকলের সালাত এমন ধীরস্থীর হওয়া উচিত। এমন ইমামের পিছনেই সালাত আদায় করা দরকার।

প্রশ্নঃ 1851
আসসালামুআলাইকুম। টাইট প্যান্ট -জিন্সের বা অন্যান্য এগুলো পরে কী স্বলাত হবে? এগুলো পরে অনেক স্বলাত পরেছি (স্বাভাবিক কাপড়ের তুলনায় অনেক কম); এখন আর পড়িনা। না হলে, আগের স্বলাতগুলো কী কাযা করতে হবে?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই ধরণের পোশাক সর্বদা বর্জন করা আবশ্যক। তবে সালাতের মধ্যে যতটুকু পরিমাণ ঢাকা ফরজ ততটুকু পরিমমাণ শরীর ঢাকা অবস্থায় সালাত আদায় করলে সালাত কাজা করা লাগবে না। আর যদি ততটুকু পরিমাণ না ঢাকা অবস্থায় সালাত আদায় করেন তাহলে কাজা করতে হবে।

প্রশ্নঃ 1850
Assalamualaikum sir, Amake akjon bollo foroj salah sara j sokol sunnat 5 wakto salah er sate ase ta adai na korle gunah hobe. Asole ata ki thik j gunah hobe. Ami jantam na porle onek sowab theke bonchito hobe. asole konta thik gunah hobe na ki sowab theke bonchito hobe. Jummar salat er age o pore 4 rakat sunnah ki pora joruri? Na porle ki namajer khoti hobe?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার জানা সঠিক। ফরজকে পরিপূর্ণ করতে সুন্নাতের ব্যবস্থা। সুতরাং সুন্নাতে গুরুত্ব অনেক। নিয়মিত সুন্নাত ছাড়া ঠিক নয়। তবে গুনাহ হবে না।

প্রশ্নঃ 1849
আস-সালামু আলাইকুম। আরও একটি প্রশ্ন, আমার সহপাঠী এক ছেলেকে আমার পছন্দ, আমাদের পরাশুনা শেষ হইছে বেশ কয় বছর আগে, গত এক বছর আগে তাকে আমি আমার পছন্দের কথা জানাই কিন্তু সে আমাকে পজিটিভ কিছু বলে নাই,, কিন্তু অবশ্যই আমি তার অযোগ্য না, আগে আমি নামাজ পরতাম না, এর পর থেকে নামাজ পড়া শুরু করসি, যখন যেখানে শুন্সি এই আমল করলে মনের আশা পুরন হয় সেই ভাবে আমল করে চেয়েছি তার সাথে যেন আমার বিয়ে হয় কিন্তু কুন লাভ হয় নি, গত এক মাস ধরে এর জন্য তাহাজ্জুদ এর নামাজ পড়তেসি, শুন্সি তাহাজ্জুদ এর নামাজ পরে আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তা দিয়ে দেয়, এই ধরনের আশা কি পুরন হবে, আমিতো হারাম কিছু চাই নি, তার উপর বাসায় পাত্র দেখা হলে আর কাউকেই আমার পছন্দ হয় না, অনেক সমস্যাতে আছি, বয়স ও অনেক হয়ে যাচ্ছে, মানশিক ভাবে অশান্তিতে আছি, এর জন্য প্রায় সময় খারাপ বেবহার করি অনেকের সাথে
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। পড়াশোন শেষ হওয়ার অর্থ কিন্তেু অনেক ক্ষেত্রে বিয়ের বয়স শেষ অথবা শেষ হওয়ার উপক্রম । আপনি আপনার পরিবারের মাধ্যমে ঐ ছেলের পরিবারকে প্রস্তাব দিন, যদি তারা গ্রহন করে তাহলে ভাল নতুবা আপনি আপনার পরিবারকে অন্য কোথাও বিয়ের ব্যবস্থা করতে বলেুন। সময় নিবেন না, তাহলে কিন্তু আরো বড় সমস্যাতে পড়বেন। আল্লাহর কাছে দুআ করুন একটি যোগ্য পাত্রের জন্য। মনে রাখবেন সব মানুষ সব দিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় না, আপনিও নন, অন্যরাও নয়। সুতরাং সবগুণ কোন ছেলের ভিতর থাকবে এমন না ভেবে দ্রুত বিয়েতে যান। সময় খুবই কম। আল্লাহ আপনাকে ভাল রাখুন।

প্রশ্নঃ 1848
আসসালামু আলাইকুম… আমি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছি… পড়াশুনার আলোচনা করার জন্য মাঝে মাঝে মেয়েদের সাথে কথা বলতে হয়.. কখনো সরাসরি কখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে… এই কথা বলার মাধ্যমে কি আমার যেনা হবে? আমি খুব ভয়ে আছি…
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এমন পড়াশোনা তো না করাই উচিৎ যে পড়াশোনার করার জন্য মেয়েদের সাথে নিয়মিত কথা বলার প্রয়োজন হয়। তাছাড়া মেয়েদের সাথে কথা বলা ছাড়াও পড়াশোনা করা যায়। কথা বলার মাধ্যমেই পরবর্তীতে আপনি গোনাহে জড়িয়ে যেতে পারেন। সুতরাং যে কোন ওযুহাতেই হোক মেয়েদের সাথে কথাবার্তা বন্ধ রাখুন। আল্লাহ অবশ্যই আপনাকে সাহায্য করবেন।

প্রশ্নঃ 1847
বর্তমানে কিছু মানুষ দাবী করেন যে সারা বিশ্বে একই দিনে রোজা রাখতে হবে,ঈদ করতে হবে। এর পক্ষে একজন যুক্তি দিল বাংলাদেশের মানুষ সৌদির পরদিন থেকে রোজা রাখলে বাংলাদেশের বেজোড় রাত্রিগুলো হবে সৌদির জোড় রাত্রি। তাহলে তাদের লাইলাতুল কদর আর আমাদের লাইলাতুল কদরও ভিন্ন ভিন্ন দিনে হয়ে যায়। এই যুক্তি কীভাবে খন্ডন করা যায়?
13 Jan 2026

নিচের হাদীটি লক্ষ্য করুন:عَنْ كُرَيْبٍ أَنَّ أُمَّ الْفَضْلِ بِنْتَ الْحَارِثِ بَعَثَتْهُ إِلَى مُعَاوِيَةَ بِالشَّامِ قَالَ فَقَدِمْتُ الشَّامَ فَقَضَيْتُ حَاجَتَهَا وَاسْتُهِلَّ عَلَىَّ رَمَضَانُ وَأَنَا بِالشَّامِ فَرَأَيْتُ الْهِلاَلَ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ ثُمَّ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فِى آخِرِ الشَّهْرِ فَسَأَلَنِى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ – رضى الله عنهما – ثُمَّ ذَكَرَ الْهِلاَلَ فَقَالَ مَتَى رَأَيْتُمُ الْهِلاَلَ فَقُلْتُ رَأَيْنَاهُ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ. فَقَالَ أَنْتَ رَأَيْتَهُ فَقُلْتُ نَعَمْ وَرَآهُ النَّاسُ وَصَامُوا وَصَامَ مُعَاوِيَةُ. فَقَالَ لَكِنَّا رَأَيْنَاهُ لَيْلَةَ السَّبْتِ فَلاَ نَزَالُ نَصُومُ حَتَّى نُكْمِلَ ثَلاَثِينَ أَوْ نَرَاهُ. فَقُلْتُ أَوَلاَ تَكْتَفِى بِرُؤْيَةِ مُعَاوِيَةَ وَصِيَامِهِ فَقَالَ لاَ هَكَذَا أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- কুরাইব থেকে বর্ণিত যে, উম্মে ফজল বিনত হারেছ তাকে তাকে কোন কাজে সিরিয়ায় মুয়াবিয়া রা. এর কাছে পাঠিয়েছিলেন। কুরাইব বলেন, আমি সিরিয়ায় গিয়ে আমার কাজ শেষ করলাম। আসম সিরিয়ায় থাকা অবস্থায় রমাজানের চাঁদ উঠে। আমি জুমুআর রাত্রে চাঁদ দেখলাম। এরপর মাসের শেষদিকে আমি মদীনায় ফিরলাম। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. চাঁদ প্রসঙ্গে আলাচনা করতে গিয়ে বললেন, তোমরা কোন দিন চাঁদ দেখেছো? আমি বললাম, জুমুআর রাত্রে। তখন তিনি বললেন, তুমি দেখেছো? আমি বললাম, হ্যাঁ এবং অন্য মানুষরাও দেখেছেেএবং রোজা রেখেছে, মুআবিয়া রা.ও রোজা রেখেছে। তখন ইবনে আব্বাস বললেন, আমরা শনিবার রাত্রে চাঁদ দেখেছি। আমরা রোজা রাখতেই থাকবো যতক্ষন না ৩০ টা হয় কিংবা চাঁদ দেখি। আমি বললাম, মুআবিয়া রা. এর চাঁদ দেখা এবং রোজা রাখা কিযথেষ্ট নয়? তিনি বললেন। এভাবেই রাসূলুল্লাহ সা. আমাদের আদেশ দিয়েছেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৫৮০। দেখুন, এই হাদীসে আমরা দেখছি যে, সিরিয়াতে জোড় রাত হলে মদীনায় বিজোড়। সাহাবীরা এটাই মেনে নিয়েছেন যে, দুই জায়াগার তারিখ দুরকম। যারা এইসব ফিতনা ফাসাদ করে বেড়াচ্ছে তার সম্ভবত সাহাবীদের চেয়েও বড় ফকিহ, না কি। যখন যেখানে চাঁদ উঠবে সেখানকার হিসাব সেখানে। আল্লাহর সওয়াবের অভাব নেই যে, দুই রাতে দিতে গেলে টান পড়বে। সাহাবীদের থেকে ধর্ম শিখুন এইসব মূর্খদের কাছে থেকে নয়।

প্রশ্নঃ 1846
আসসালামু আলাইকুম। একটি বাচ্চা ছেলের মা বাবার মধ্যে সম্পর্ক ভালো নয়। বাবা মাদকাসক্ত এবং বাচ্চাকে আদর করে না। এক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের পর মা কি তার বাচ্চাকে নিজের কাছে রাখতে পারে? বাচ্চা সহ অন্যত্র বিয়ে করার বিধান কী?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সন্তানের যাবতীয় খরচের ভার পিতার। প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত নিজের কাছে রেখে দেখা-শোনা করতে পারবে। তবে খরচ পিতার। প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর সন্তান তার পিতার অধীনে চলে যাবে। তবে পিতা-মাতার সম্মতির ভিত্তিতে যে কোন যায়গায় সন্তান থাকতে পারে। মা নতুন বিবাহ করলে নতুন স্বামী আগের স্বামীর সন্তানের দায়িত্ব নিতে বাধ্য নন।

প্রশ্নঃ 1845
আসসালামুআলাইকুম, একটা প্রশ্ন ছিল…… কেউ কারো বিয়ে আটকিয়ে রাখসে, এই ধরনের কথা কতটা বিশ্বাস যোগ্য, এই গুলা কি আসলেই আছে? আমাদের পরিবারে বিয়ে নিয়ে অনেক ঝামেলা হচ্ছে, কেউ কেউ বলছে বিয়ে আটকে রাখসে কেউ, যদি এমন হয় তাইলে করনিয় কি জানতে চাই, আসলে খুব খারাপ অবস্থায় আছি, সমাধান বলে দিলে উপক্রিত হব
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই সব কথাবার্তা ধান্দাবাজদের টাকা-পয়সা কামায়ের কৌশল। এগুলোতে কান দিবেন না। যে কোন সমস্যার কথা আল্লাহর কাছে বলুন। আল্লাহ অবশ্যই বিপদে সাহায্য করবেন। আর বিয়ে না হওয়ার বিভিন্ন সামাজিক কারণ থাকে, সেগুলো সমাধান না হওয়ার কারণে বিয়েতে সমস্যা হতে পারে। যেমন মেয়ের বয়স ৩০ এর বেশী হয়ে গেলে আমাদের সমাজে সমস্যা হয়।

প্রশ্নঃ 1844
আসসালামু আলাইকুম… আমি নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের চেষ্টা করি… কিন্তু কখনো কখনো আমাকে এক শহর থেকে অন্য শহরে যেতে হয়… কখনো ৬ ঘন্টা, কখনো বা ১০ ঘন্টা বা তারও বেশি সময় লাগে … এর মাঝে সময়মতো সালাত আদায় করা সম্ভব হয়ে উঠেনা… তাই মুসাফির কিভাবে এই সালাত আদায় করবে হোক ফজর,যোহর,আসর,মাগরিব বা এশার ক্ষেত্রে অর্থাৎ কোন সালাত কয় রাকাত পড়ব কখন পড়বো? বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে নাকি পরে? মুসাফিরের সালাতকে সম্ভবত কসরের সালাত বলা হয়…
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রতিটি সালাত তার ওয়াক্ত অনুযায়ী সময়মত আদায় করবেন। মাগরিবের সালাত ৩ রাকআত আর অন্যান্য সালাতগুলো ২ রাকআত আদায় করবেন। সালতের সময় দুয়েক মিনিট নয়। ঘন্টার উপরে। সুতরাং আপনি চেষ্টা করলে এর ভিতরে সালাত আদায় করে নিতে পারবেন। কোন কারণে না পারলে পরে পড়ে নিবেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে কসরই করতে হবে।

প্রশ্নঃ 1843
আসসালামুআলাইকুম। আমার একটি কাপড় (প্যান্ট) এ ওয়াশরুমের পানি ছিটকে পড়ে (অনেকটা নিশ্চিত তা অপবিত্র)। ফলে আমি তা খুলে রেখে দেই এবং তা শুকিয়ে যায়। কিছুদিন পরে আমি সেই কাপড় পরে ঘুমাই এবং সেটি পরেই ফজরের নামাজের আগে ওজু করি, ওজুর পানি কাপড়টিতে লাগায় কাপড়টি কিছুটা ভেজা ভেজা হয়ে যায়। তারপর ঘরে এসে আমি নতুন পবিত্র কাপড় পরি। এখন প্রশ্ন হলো, সেই অপবিত্র কাপড়টির ভিজে যাওয়ার কারনে কী আমার শরীর অপবিত্র হয়েছে?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ঐ কাপড়ে নাপাকী থাকার কারণে এটা খুবই সম্ভব যে, নাপাকী আপনার শরীরেও লেগেছে। সুতরাং আপনার জন্য উত্তম হলো ঐ নামাযটি কাযা করা।

প্রশ্নঃ 1842
আস-সালামু আলাইকুম। একটা প্রশ্ন ছিল যেমন কোন একটা ইচ্ছা পুরনের আশায় আমি তাহাজ্জুদের নামাজ পরি তাইলে কি দুয়া চাওয়ার সময় কি শুধু ওই ইচ্ছার কথাই বলব নাকি সব দুয়াই করব?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার ইচ্ছা। তবে সব দুআ এবং সকল মানুষের জন্য দুআ করা উত্তম।

প্রশ্নঃ 1841
আসসালামুলাইকুম ১) ইসলামিক বই ছাড়া অনেক বইয়ের উপর মুর্তি বা প্রানীর ছবি থাকে। এই বইগুলো ঘরে থাকলে কোন সমস্যা হবে কি? আবার অনেক কাপড়ে প্রাণী বা মুর্তির ছবি থাকে এবং কাপড় ছিড়ে ফেলা ছাড়া উপায় থাকে না । সেই ছবি গুলোর উপর দিয়ে যদি সুতা দিয়ে সেলাই করে ছবির আকৃতি নষ্ট করে দেই বা সেলাই করে ঢেকে ফেলি তাহলে হবে? ২) সলাতের সময় পুরা শরীর ঢাকা থাকে কিন্তু অনেক সময় পায়ের আঙ্গুল বা পায়ের পাতার উপরে সামান্য দেখা যায় এক্ষেত্রে কি সলাত ভেঙ্গে যাবে?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বইয়ের উপরের ছবি নষ্ট করে ফেলবেন। ছবি আছে এমন জামা-কাপড় কিনবেন না। ছবি থাকলে আকৃতি নষ্ট করে দিলে সমস্যা নেই। ২। না, এতে সালাত ভঙ্গ হবে না।

প্রশ্নঃ 1840
আসসালামু আলাইকুম… আমার প্রশ্ন হলো, জান্নাতে অনেক মানুষই যাবে…নবী-রাসূলরাও যাবে… তবে সকলের মর্যাদা সমান হবেনা… কেউ উপরের স্তরে, কেউ নিচের স্তরে থাকবে… উপরের স্তরে জায়গা পাওয়ার জন্য যেকোনো মানুষের জন্য কোনো স্পেশাল করণীয় বা আমল আছে কি?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ফরজ দায়িত্বগুলো যথাযথ পালন আবশ্যক, হারাম এবং সন্দেহযুক্ত প্রতিটি বিষয় থেকে বিরত থাকতে হবে। এটা হলেপ জান্নাতে যাওয়ার পথ। এর বাইরে নফল ইবাদাত এবং অন্যান্য ভাল কাজ যে যত করবে তার মর্যাদা তত হবে।

প্রশ্নঃ 1839
সিজদা সাহু করার সহি নিয়ম কি? কখন / কন ভুল এর কারনে সিজদা সাহু দিতে হয়?
13 Jan 2026

নামাযের মধ্যে কোন ওয়াজিব বাদ পড়লে বা কোন রুকন আগ-পিছ হয়ে গেলে তথা যে কোন গুরুত্বপূর্ণ ভুলের জন্য সাহু সিজদা দিতে হয়। সাহু সিজদা সালামের আগে, পরে যে কোন সময় দেয়া যায়। অর্থাৎ তাশাহুদু, দরুদ ও দুআ মাসূরা পড়ে সাহু সিজদা করে সালাম ফিরানো অথবা তাশাহুদু পড়ে কিংবা তাশাহুদুর সাথে দরুরদ ও দুআ মাসূরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে সাহু সিজদা করে আবার পূনরায় সবগুলো পড়ে সালাম ফিরানো। সহীহ হাদীসে উভয় পদ্ধতিই আছে। আমাদের সমাজে সালামের পরে সাহু সিজদা দেয়া হয়, এটা সহীহ হাদীস সম্মত। দেখুন, জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬৫ও ৩৯৫। সাহু সিজদা সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন, আমাদের দেয়া 1465 নং প্রশ্নের উত্তর। 

প্রশ্নঃ 1838
আস সালামু আলাইকু, ভাই আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমি কি বিনা ওজু তে কুরআন শরীফ হাতে নিতে পারব অথবা মুখস্থ থাকলে তা কি পরতে পারবো কোনটা সঠিক নিয়ম তা আমাকে জানান?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিনা ওযুতে কুরআন শরীফ হাতে নিতে পারবেন না। তবে মুখস্থ থাকলে মুখস্থ পড়তে পারবেন। আর গোসল ফরজ হয়ে থাকলে পড়তেও পারবেন না।

প্রশ্নঃ 1837
যে কোন ভাবে, হাত থেকে কোরআন শরীফ নিচে পড়ে গেলে কি করা যায় । কাফফারা বা অন্য কি সমাধান আছে জানাবেন।
13 Jan 2026

কুরআন শরীফকে যথাযথ সম্মানের সাথে রাখা প্রত্যেক মূমিনের কতৃব্য। এরপরও যদি কোন সময় অসম্মান হয়ে যায় তাহলে আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। কোন কাফফারা দিতে হবে না।

প্রশ্নঃ 1836
আল্লাহর ছোট ছোট নাম দিয়ে জিকির পরলে কি ইচ্ছা পুরন হয়? একটু উপায় বলবেন প্লিজ স্যার
13 Jan 2026

ইসলামের বিধি-বিধানগুলো পালন করুন। প্রয়োজন পূরণের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন। আল্লাহ আপনার প্রয়োজন পূরণ করে দিবেন ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্নঃ 1835
আমার দাড়ি রাখার পূর্ন ইচ্ছে আছে। জানি যে, দাড়ি রাখা ওয়াজিব। কিন্তু আমার পরিবার নানা অজুহাতে আমাকে দাড়ি রাখতে নিষেধ করে। তাই বাধ্য হয়ে দাড়ি রাখতে পারছিনা । আমার এতে খুবই ভয় হয় কারন রসুল স. এর আদেশ অমান্য করছি। তাই, আমার ইচ্ছে হলো, কিছুদিন পরে (বর্তমানে একটু চাপের মুখে আছি) সময়টা ভালো হলে, তাদেরকে বুঝিয়ে বলে তারপর দাড়ি রাখবো। আমার প্রশ্ন হলো, শরীয়াতের বিধানের বিপরীতে আপাতত আমার পরিবারের কথা মানার কারনে কী আমার শিরক হোচ্ছে? আমি কি মুশরিক হয়ে যাবো? উল্লখ্য, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আল্লাহর বিধান সত্য ও আমার পরিবারের আদেশ নিতান্তই অজ্ঞতার ফল ও ভ্রান্তি।
13 Jan 2026

শিরক হচ্ছে না তবে রাসূলুল্লাহ সা. এর নির্দেশ অমান্য হওয়া তো ছোট কিছু না।

প্রশ্নঃ 1834
আমাদের মত তরুণদের জন্য স্যার এর উপদেশ কি ছিল? আমরা কোথা থেকে শুরু করবো? কিভাবে শুরু করবো? আমাদের লক্ষ্য—উদ্দেশ্য কি হওয়া উচিৎ?
13 Jan 2026

স্যর রহ. এর প্রতিটি লেখায়, বক্তৃতায় আপনার প্রশ্নের উত্তর পাবেন। সুতরাং সেগুলো সংগ্রহ করে দেখতে থাকুন পড়তে খাকুন।

প্রশ্নঃ 1833
আসসালামু আলাইকুম ছেলেদের গুপ্তাঙ্গ পরিষ্কারের সুন্নতি বিধান কি? বর্তমান বাজারে প্রচলিত লোম দূরীকরণ ক্রিম (যেমনঃ Veet for Men) ব্যবহার করে ছেলেদের গুপ্তাঙ্গের লোম পরিষ্কার করা কি ইসলাম সম্মত? বিশেষকরে যাদের শরীরে লোমের পরিমাণ বেশি। আর পায়ুপথের আশেপাশের লোমগুলো ব্লেড দিয়ে কাঁটাও অনেক কষ্টকর। উত্তর জানালে উপকৃত হব। যাজাকাল্লাহ খাইরান
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যে কোন পরিস্কার করলেই হবে। ব্লেড বা ক্রিম কোনটিতে সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 1832
আসসালামালাইকুম স্যার ….আমি ছোটবেলায় হুজুরের কাছে নামাজ কুরআন শিখেছিলাম…..কিন্তু তারপর আর নামাজ পরি নি.রোজাও রাখি নি. এখন আমার বয়স বিশ…এখন নিয়মিত নামাজ রোজা আদায় করছি….আগের জন্য কি করব?এই গুলোর বলে কাজা হয় না অনেকে বলেন.নফল দারা পুর্ন করতে হয় …এটা কি ঠিক?কাজা কিভাবে করব… আকিকা আমার ছোট বেলায় বাবা আমার আকিকা না করেই নাম দিয়েছিলেন খাদিযা বেগম …আমি পরে মাতবুরি করে অষ্টম শ্রেণিতে উঠে নুপুর লাগিএছি সাথে…এখন আমার স্মার্ট কার্ডেও খাদিযা বেগম নুপুর লিখা…আমি চাই খাদিযা বেগম নামটাই আমার থাক…এখন আকিকা কোন নামে দিব?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আগের বাদ পড়া নামাযগুলো প্রতিদিন কিছু কিছু করে কাজা আদায় করুন। প্রতিটি রোজার বদলে একটি রোজা কাজা করুন। এবং ইচ্ছাকৃত নামায-রোজা ছাড়ার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে থাকুন। আশা করি আল্লাহ তায়ালা আপনাকে ক্ষমা করে দিবেন। আকীকা কী নামের পক্ষ থেকে দিবেন না আপনার নিজের পক্ষ থেকে দিবেন? নাম এখানে কোন বিষয়ই না।

প্রশ্নঃ 1831
আসসালামুয়ালাইকুম। আমার মেয়ের বয়স ৬ মাস, বুকের দুধ এর পাশাপাশি অন্যান্ন হাল্কা খাবার খায়, সে কিছুক্ষণ পর পর প্রসাব বা পায়খানা করে আমার জামা কাপড় নষ্ট করে দেয় ….. নামাজের জন্য কি কাপড় পরিবর্তন কর্তে হবে নাকি পরিষ্কার করে নিলেই হবে?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সঠিক নিয়মে নাপাকী পরিষ্কার করে নিলে নামাযের কোন অসুবিধা হবে না। তবে সতর্কতা হিসেবে নামাযের সময় নতুন একটা পোশাক পরে নামায পড়া ভাল।

প্রশ্নঃ 1830
আসসালামুয়ালাইকুম, আমি সব নামাজের সিজদায় সুবহানা রাব্বিয়িল আলা পড়ে, আরবি দোয়ার পাশাপাশি বাংলা দোয়া পরার চেষ্টা করি । বাংলা দোয়া পড়লে মনে তৃপ্তি পাই। প্রশ্ন ১/ সুন্নত ও নফল নামাজ এ নাকি দোয়া পরা যাবে, কিন্তু ফরজ নামাজের সিজদায় দোয়া পরা যায় না। ২/আরবি দোয়া পড়তে হয়, বাংলা পড়া যাবে না। বিষয় টি জানাবেন।
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যে কোন নামাযের ভিতর আরবীতে কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত দুআ পড়তে হয়। তাই প্রত্যেকের উচিত আরবী দুআ মুখস্ত করা। মুখস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত পড়া যায় বলে আলেমদের মতামত থেকে বোঝা যায়। এই বিষয়ে শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহি. রাহে বেলায়াত গ্রন্থে বলেছেন, মাতৃভাষায় যিকর ও দুআ পাঠ: রাসূলুল্লাহ সা.-এর শেখানো যিকর ও দুআগুলি অর্থ হৃদয়ঙ্গম করে মূল আরবীতে পাঠ করলেই মহান আল্লাহর যিকর ও দুআর প্রকৃত স্বাদ, তৃপ্তি, আনন্দ ও আধ্ম্যাতিকতা লাভ করা যায়। কারণ তাঁর ভাষার যে অপূর্ব কাঠামো ও পূর্ণতা তা কোনোভাবে অন্যভাষায় ভাষান্তর করা যায় না। মালিকী, শাফিয়ী ও হাম্বালী মাযহাবের ফকীহগণ সাধারণভাবে আরবীতে অক্ষম ব্যক্তির জন্য অনারব ভাষায় সালাতের মধ্যে যিকর ও দুআ পাঠ বৈধ বলেছেন। হানাফী মাযহাবের ইমামাগণ আরবীতে অপারগের জন্য সালাতের মধ্যে অনারব ভাষা ব্যবহার বৈধ বললেও পরবর্তী ফকীহগণ তা মাকরূহ বলেছেন। এ প্রসঙ্গে ইমাম সারাখসী বলেন: وَلَوْ كَبَّرَ بِالْفَارِسِيَّةِ جَازَ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ رَحِمَهُ اللَّهُ … وَلاَ يَجُوزُ عِنْدَ أَبِي يُوسُفَ وَمُحَمَّدٍ رَحِمَهُمَا اللَّهُ إلاَّ أَنْ لاَ يُحْسِنَ الْعَرَبِيَّةَ … وَكَذَلِكَ الْخِلاَفُ فِيمَا إذَا تَشَهَّدَ بِالْفَارِسِيَّةِ যদি সালাতের তাকবীর র্ফাসী ভাষায় বলে তবে আবূ হানীফা (রাহ)-এর মতে তা জায়েয হবে। …আবূ ইউসুফ ও মুহাম্মাদের মতে তা জায়েয হবে না, তবে আরবীতে পারঙ্গম না হলে জায়েয হবে। সালাতের মধ্যে তাশাহ্হূদ ফারসীতে পাঠ করা … ক্ষেত্রেও একই মতভেদ । আবূ বাকর সারাখসী, আল-মাবসূত ১/৩৬-৩৭। আরো দেখুন: আালাউদ্দীন সমরকন্দী, তুহফাতুল ফুকাহা ১/১৩০; আলাউদ্দীন কাসানী, বাদাউউস সানাইয় ১/১১২-১১৩। সালাতের মধ্যে অনারব ভাষায় যিকর-দুআ প্রসঙ্গে আল্লামা শামী বলেন: الْمَنْقُولَ عِنْدَنَا الْكَرَاهَةُ … وَظَاهِرُ التَّعْلِيلِ أَنَّ الدُّعَاءَ بِغَيْرِ الْعَرَبِيَّةِ خِلَافُ الْأَوْلَى، وَأَنَّ الْكَرَاهَةَ فِيهِ تَنْزِيهِيَّةٌ… وَلَا يَبْعُدُ أَنْ يَكُونَ الدُّعَاءُ بِالْفَارِسِيَّةِ مَكْرُوهًا تَحْرِيمًا فِي الصَّلَاةِ وَتَنْزِيهًا خَارِجَهَا হানাফী মাযহাবের বর্ণিত মত যে তা মাকরূহ। … বাহ্যত প্রতীয়মান হয় যে, তা অনুত্তম বা অনুচিত পর্যায়ের এবং মাকরূহ তানযীহী। … অনারব ভাষায় দুআ করা সালাতের মধ্যে মাকরূহ তাহরীমী এবং সালাতের বাইরে মাকরূহ তানযীহী হওয়াও অসম্ভব নয়।ইবন আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার (হাশিয়াতু ইবন আবিদীন) ১/৫২১। সামগ্রিক বিচারে প্রত্যেক আগ্রহী মুমিনের উচিত মাসনূন দুআ ও যিকরগুরি অর্থ-সহ আরবীতে মুখস্থ করা এবং সালাতের মধ্যে তা পাঠ করা।একান্ত অক্ষম হলে যতদিন আরবী দুআ মুখস্থ না হয় ততদিন নফল বা তাহাজ্জুদের সালাতের মধ্যে ও সাজদায় মাসনূন দুআগুলির অর্থ মাতৃভাষায় পাঠ করা অনুচিত হলেও নিষিদ্ধ হবে না বলেই আমরা আশা করি। মাসনূন দুআগুলো মুখস্থ না হওয়া পর্যন্ত সালাতের বাইরে বই হাতে দেখে দেখে আরবী দুআ পাঠ করা যায়। প্রয়োজনে শুধু বাংলা অর্থ পাঠ করেও দুআ করা যায়। তবে চেষ্টা করতে হবে মাসনূন আরবী দুআ মুখস্থ করার। আল্লাহই ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1829
আসসালামু আলাইকুম, আমি একজন ইন্ডিয়ান। আমি online এর মাধ্যমে আপনাদের আস-সুন্নাহ ট্রাস্টে আরবী বিষয়ে পড়াশুনা করতে চাই। আমি একজন honours graduate (ইংলিশ)
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, দূরের কাউকে একাডেমিক শিক্ষা দেওয়ার মত সুযোগ আমাদের নেই। আপনি ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো জানতে আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট থেকে প্রকাশিত বইগুলো পড়তে পারেন। ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহি. এর বক্তৃতাগুলো শুনতে পারেন। এতে করে আপনার ইসলামী জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশা করি।

প্রশ্নঃ 1828
আসসালামু আলাইকুম ঈমামের পিছনে সুরা ফাতিহা পড়া নিয়ে স্যার (রা) কোন বই আছে কি? এ বিষয়ে সকল হাদিস গুলো একত্রে নিরপক্ষ ভাবে এনেছেন এমান কোন বই আছে (বাংলা) কি?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, এ বিষয়ে স্যারের কোন বই নেই। এবং বাংলা ভাষায় এমন কোন বই আছে বলে আমার জানা নেই।

প্রশ্নঃ 1827
আমি কিভাবে আরবী ভাষা শিখতে পারি? আমি কুরআন পড়তে পারি, পরামর্শ দিবেন।
13 Jan 2026

আরবী ভাষার শেখার জন্য শায়খ মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ রচিত এসো আরবী শিখি বইটি খুবই কার্যকর। একজন ভাল শিক্ষকের কাছে পড়লে আপনি উপকার পাবেন ইনশাআল্লাহ। প্রয়োজনে 01734717299

প্রশ্নঃ 1826
আস-সালামু আলাইকুম, ১) আমার বয়স ২১ আমার জীবনের পূর্বের সকল ফরয আমল সমূহের (বিশেষ করে সলাত) কাফফারা কিভাবে দিতে হবে? কিভাবে মাফ পাওয়া যাবে? ২) রাসুলুল্লাহ (সঃ) দিনে ৭০ বার তওবা করতেন… তিনি কিভাবে, কোন দোয়া পড়ে করতেন যেখানে একাধিক দোয়া আছে… আমি যদি সাইয়েদ্যুল ইস্তেগফারের দোয়া ৭০ বার পড়ি তাহলে কি আদায় হয়ে যাবে যেখানে সকাল সন্ধ্যায় পড়তে বলা হয়েছে সাইয়্যেদুল ইস্তেগফার…
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কাজা হয়ে যাওয়া সালাতগুলো একটু একটু করে আদায় করার চেষ্টা করুন এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আশা করা যায় তিনি ক্ষমা করে দিবেন। ২। দেখুন, ইস্তিগফার এর অর্থ ক্ষমা প্রার্থনা করা। আপনি যে কোন দুআ দ্বারা কিংবা নিজের ভাষায় ইস্তিগফার করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1825
আস সালামুআলাইকুম। আ,মরা 4-5 জন মিলে একটা সমিতির মত করে কিছু টাকা জমাই। বর্তমানে ঈদ উপলক্ষে আমরা একটা গরু কিনে বর্গা দেয়ার ইচ্ছা করেছি। এখন আমাদের এই সমিতিতে আমার এক জন বন্ধু যুুক্ত হওয়ার জন্য চেষ্টা করতেছে। আমার ওই বন্ধুটি একটি প্রাইভেট ব্যাংক এ চাকরি করে। আপনাদের কাছে প্রশ্ন হল আমাদের সমিতিতে তাকে যুক্ত করা যায়েজ হবে কিনা। যেহেতু সে একটি সুদ বিত্তিক ব্যাংক এ চাকরি করে। আশা করি উত্তর টি জানাবেন।
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জায়েজ হবে, তবে এড়িয়ে যাওয়ায় ভাল, যাতে সে বিষয়টি নিয়ে আবার চিন্তা করার সুযোগ পায়।

প্রশ্নঃ 1824
আসসালামু আলাইকুম, ভাই, একটা মেয়েকে আমি পছন্দ করি। তবে ওই মেয়ের প্রায় এক বছর আগে একজাগায় বিয়ে হয়েছিল কিন্তু কোন কারণবসত এক সপ্তাহের মধ্যে সে চলে আসে এবং আর কোন যোগাযোগ তাদের সাথে করেনি। এই অবস্থাতে আমি কি সেই মেয়েকে বিয়ে করতে পারব? আর যদি না পারি তাহলে করনীয় কি?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। তালাক বা ডিভোর্স ছাড়া শুধু চলে আসলে তাকে বিয়ে করা যাবে না। তালাক প্রাপ্তা হওয়ার পর ইদ্দত পালন শেষ হলে কেবল আপনি তাকে বিবাহ করতে পারবেন। যদি তালাকপ্রাপ্তা না হয় তাহলে তালকের ব্যবস্থা করুন, তারপর ইদ্দত পালন শেষে বিয়ে করতে পারবেন।

প্রশ্নঃ 1823
স্যার আপনার বইটি কিনেছি। কিছুপ্রশ্ন ছিল নামাজ কাজা হলে নাকি নামাজ হয় না কথাটা কি সত্যি? উচ্চারন স্পষ্ট করে পরা উচিত কিন্তু পরতে গিয়ে মুখে জড়তা চলে আসে অই সময় উচ্চারন উলটাপালটা হয় সেই ক্ষেত্রে কি করা যায়? ওযু ছাড়া কি কুন সুড়া পরা যায়?দুয়া পরা যায়?
13 Jan 2026

ইচ্ছাকৃত নামায কাযা করা বিরাট গুনহের কাজ। তবে যেভাবেই কাজা হোক কাজা নামায পড়তে হবে। চেষ্টা করবেন শুদ্ধ উচ্চারণের জন্য।ইনশাআল্লাহ এক সময় ঠিক হয়ে যাবে। ওযু ছাড়া সুরা পড়া যায় তবে কুরআন স্পর্শ করা যায় না।

প্রশ্নঃ 1822
আস সালামু আলাইকুম। আমাদের আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সাহাবি, তাবেয়ী, ইমাম, ফকীহদের আকীদার ভিত্তিতে আমাদেরও আকীদা হল কুরআনুল কারীমে বর্ণিত আল্লাহ তাআলার সিফাত সম্পর্কিত আয়াতগুলোকে কোনরূপ ব্যাখ্যা না করে যেভাবে আছে, সেভাবেই সরল অর্থে গ্রহণ করা। এবং এটাই আমাদের আকীদা বিশুদ্ধকরণের সর্বোত্তম পন্থা। কিন্তু ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) তার সহিহ বুখারীর ৪৭৭২ নং হাদীসের পূর্বে সূরা কাসাসের ৮৮ নং আয়াত উল্লেখ করেন-তাঁর (আল্লাহর) চেহারা ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে। তারপর তিনি এই চেহারা শব্দের ব্যাখ্যা করে একে আল্লাহর রাজত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এটি কি আমাদের আকীদার পরিপন্থি নয়?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিষয়টি নিয়ে আলেমদের মাঝে দুইটি ভাগ। একদল আলেম কোন রকম ব্যখ্যা না করে এগুলোকে আল্লাহর উপর ছেড়ে দেন। আরেকদল ব্যাখ্যা করেন। দুটি দলই আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের অন্তর্ভূক্ত। সুতরাং ইমাম বুখারী রহ এর কথা আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকীদর পরিপন্থি নয়।

প্রশ্নঃ 1821
স্যার আল্লাহর কাছে কেঁদে কেটে কোন জিনিস চাইতে বললেন আপনি,, কিন্তু আমার কোন সময় ই কান্না আসে না, এই ক্ষেত্রে আমি কি করতে পারি?
13 Jan 2026

কান্না না আসলেও আপনি বিনয়ের সাথে আল্লাহর কাছে চাইতে থাকুন। ইনশাআল্লাহ আপনি সফল হবেন।

প্রশ্নঃ 1820
সন্তানসম্ভবা মা এবং দুগ্ধপ্রদানকারী মা তার রোজা কাযা কখন ও কিভাবে আদায় করবে?
13 Jan 2026

রমজান মাসের বাইরে নিষিদ্ধ দিনগুলো ছাড়া যে কোন সময় তারা রমজানের সিয়ামের কাজা করতে পারবেন। সূরা বাকারা, আয়াত নং ১৮৫।

প্রশ্নঃ 1819
আসসালামু আলাইকুম, আমি একটা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসাবে চাকুরী করি যেখানে ছেলে-মেয়েদেরকে একসাথে পড়ানো হয়। আমি জানি এই কাজটা হারাম। আমার প্রশ্ন— আমার উপার্জন কি হারাম হবে?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এটা সত্য যে, এখন চাকুরী পাওয়া কঠিন। তবে আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا যে আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তার জন্য পথ বের করে দেন। সুরা ত্বলাক, আয়াত নং ২। সুতরাং আপনি দ্রুত এই চাকুরীটি ত্যাগ করে অন্য কোন সচ্ছ কর্ম খুুঁজুন। কাজ যদি হারাম হয় তাহলে ঐকাজ থেকে উপার্জিত অর্থ কী হবে সেটা তো সহজ কথা। আমরা আল্লাহর কাছে দুআ করি তিনি আপনার পর্যাপ্ত রিজিকের ব্যবস্থা করে দেন।

প্রশ্নঃ 1818
আসসালামু আলাইকুম, আমি একটা তথ্য জেনেছি —- আমরা যে ক্যাপসুল খাই- তার উপরের আবরণটা ঔষধ কোম্পানীগুলো চিন দেশ থেকে আমদানি করে। ঐ আবরণটা শুকরের চর্বি থেকেও তৈরীই হতে পারে আবার গরুর চর্বি থেকেও হতে পারে। আমার প্রশ্ন এই ঔষধ খাওয়া জায়েজ কি?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমার মনে হয় এসব গুজব, ক্যাপসুলের আবরণ শুকুরের চর্বি দিয়ে হয় এটা সম্ভবত ভুল কথা। এমন হলে তো এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের জানার কথা ছিল। আপনি পরিপূর্ণ নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ক্যাপসুল খেতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1817
আসসালামুআলাইকুম। আমার প্রশ্ন আছরের সালাতের ওয়াক্ত আসলে কখন শুরু হয়? এক আহলে হাদিস ভাই বলছেন যে আমরা যে সময় আদায় করি আর অনেক পূর্বে নাকি ওয়াক্ত আরম্ভ হয় । এখন যেমন আমরা ৫ টায় পড়ি তারা ৪ টার সময় জামাত করতেছেন। এইটা কতটুকু সঠিক?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আসরের সালাতের ওয়াক্ত শুরু হওয়া নিয়ে কিছুট বিতর্ক আছে। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের করণীও হলো মসজিদে যখন জামাত হয় তখন জামাতে সালাত আদায় করা।

প্রশ্নঃ 1816
অনেক সময় অ্যাকজন মানুষ এর পা অপরজন মানুষ এর শরীরে অনিচ্ছায় লেগে ডায়। তখন আমরা যার গায়ে পা লেগেছে তার শরীরে হাত লাগিয়ে চুমু খাই……এ ব্যাপারে সহি বিধান জানাবেন।
13 Jan 2026

এটা দু:খ প্রকাশের একটি সামাজিক মাধ্যম। এখানে দোষের কিছু নেই। আপনি মৌখি দু:খও প্রকাশ করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1815
আসসালামু আলাইকুম শাইখ। আমার ৩টা প্রশ্ন ১। অনেক সময় আমরা মসজিদে নামায পড়তে গেলে একটু দেরি হয়ে যায়, ইমাম সাহেব তেলায়াত শুরু করে দেন। আমরা আল্লাহু আঁকবর বলে হাত বেধে কি সানা পড়বো না ইমাম সাহেবের তেলায়াত শুনব। আবার এমনও হয় যে আমাদের সানা শেষ না হতেই ইমাম সাহেব তেলায়াত শুরু করে দেন সেক্ষেত্রে আমরা কি তেলায়াত শুনব না আগে সানা শেষ করব তারপর তেলায়াত শুনব। ২। যোহর আর আছর নামাযে ইমাম সাহেবের পিছনে প্রথম দুই রাকায়াতে আমরা কি শুধু সূরা ফাতিহা পড়বো না সূরা ফাতিহার পর অন্য সূরাও পড়তে হবে? ৩। ৪ রাকায়াত বিশিষ্ট নামাযে যদি ৩ রাকায়াত পরে গিয়ে জামাত ধরা হয় তাহলে ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পরে বাকি নামায পড়ার বিধানটা জানতে চাচ্ছি। যেমন বাকি নামাযে কই বৈঠক হবে, কই নং রাকায়াতে বৈঠক হবে ইত্যাদি। আর মাগরিব নামাযের বিধানটাও বলে দিয়েন। যাযাকাল্লাহ খাইর
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইমাম সাহে তেলাওয়াত শুরু করে দিলে তেলাওয়াত শুনবেন আর না শুরু করলে সানা পড়বেন। তেলাওয়াত শুরু করে দিলে তেলাওয়াত শুনতে কুরআনে আদেশ করা হয়েছে। ২।এই বিষয়ে ফকীহদের মাঝে বিতর্ক আছে। আপনি যে কোন একটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন। পড়া অথবা না পড়া। ৩। চার রাকআত বিশিষ্ট নামাযের তিন রাকআত না পেলে ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর উঠে সূরা ফাতিহার সাথে আরেকটি সূরা পড়ে রুক সাজাদা দিয়ে বসে তাশাহুদ. দরুদ শরীফ ও দুআ মাসূরা পড়ে নামায শেষে করবেন। মাগরিবেও এক রাকআত না পেলে একই বিধান। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 1814
পুরুষদের জন্য টাকনুর উপরে কাপড় পরা কি ফরয নাকি সুন্নাত? আমি একদিন একজনকে বলেছিলাম এটা ফরয কারন আমার কাছে মনে হয়েছিল যেহেতু এটার জন্য জাহান্নাম এর শাস্তি উল্লেখ করা হয়েছে। আমার ধারনা কি ঠিক?
13 Jan 2026

টাখনুর নিচে কাপর পরলে জাহান্নামে পুড়তে হবে। ফরজ-সুন্নাত যায় হোক এটাই বড় কথা।

প্রশ্নঃ 1813
আসসালামু আলাইকুম! ফিকাহ শাস্ত্রের উপর ভালো কোন লেখকের বই এর নাম বললে উপকৃত হবো।
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বাংলা ভাষায় খুব ভাল পাওয়া দুস্কর। আপনি বাজার থেকে খুঁজে গ্রহনযোগ্য আলেমদের বই সংগ্রহ করতে পারেন। তবে আরবীতে অনেক ভাল বই আছে। যেমন, আল-ফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবা, আল-ফিকহুল ইসলমিয়্যু ও আদিল্লাতুহু ইত্যদি।

প্রশ্নঃ 1812
আস-সালামু ওআলাইকুম। আজ জুম্মার দিন আমাকে ২০০ কিমি দূরে গিয়ে জুম্মার সালাত আদায় করতে হল। যাতায়াতে ১৬ ঘন্টা সময় লাগবে। ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন : জুম্মার সালাত কত রাকাত পড়তে। অন্যান্য ওয়াক্তের সালাত ও কত রাকাত পড়তে হবে জানালে উপকৃত হব ইনশাআল্লাহ।
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ফরজ সালাতগুলো আদায় করবেন। সাথে সাথে ফজরের ফরজের আগে দুই রাকআত, যোহরের আগে দুই বা চার রাকআত, মাগরিবের পরে দুই রাকআত এবং এশার পরে দুই রাকআত সুন্নাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ । বিতর সালাত অবশ্যই আদায় করবেন। এর বাইরে অতিরিক্ত সুন্নাত সালাত আপনি আদায় করতে পারেন। জুমুআর ফরজের পূর্বে দুই বা চার বা তার চেয়ে বেশী রাকআত আপনি আদায় করতে পারেন। পরেও পূর্বের মত আদায় করতে পারেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া 354 নং প্রশ্নের ।

প্রশ্নঃ 1811
১। সুন্নাত গোসল এবং সুন্নাত অজু করার নিয়ম সহি হাদিস এর রেফারেন্স সহ জানালে উপকৃত হবো? ২। নাভির নিচে প্যান্ট পরা, কিন্তু উপরে গেঙ্গি, শার্ট, পাঞ্জাবী পড়া থাকলে নামাজের কোন সমস্যা হবে কি? এই বিষয় গুলো নিয়ে ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহি. স্যার এর অডিও, ভিডিও ওয়াজ অথবা কোন বই এর নাম থাকলে ডাউনলোড লিঙ্ক অথবা বইয়ের নাম জানালে উপকৃত হবো।
13 Jan 2026

গোসল করার সুন্নাত সম্মত পদ্ধতি বিভিন্ন হাদীসে থেকে জানা যায়। প্রথমে হাত ভাল করে ধুয়ে লজ্জাস্থান ধৌত করতে হবে। এরপর ওজু করে গোসল করতে হবে। গোসলের স্থানে পানি জমে গেলে গোসল শেষে দূরে সরে গিয়ে পা ধৌত করতে হবে। পানি জমে না গেলে গোসলের স্থানেই পা ধৌত করবে। নিচের হাদীসেটিতে গোসলের বর্ণনা এসেছে: عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : قَالَتْ مَيْمُونَةُ وَضَعْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَاءً لِلْغُسْلِ فَغَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ ، أَوْ ثَلاَثًا ثُمَّ أَفْرَغَ عَلَى شِمَالِهِ فَغَسَلَ مَذَاكِيرَهُ ثُمَّ مَسَحَ يَدَهُ بِالأَرْضِ ثمَّ مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَغَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ ثُمَّ أَفَاضَ عَلَى جَسَدِهِ ثُمَّ تَحَوَّلَ مِنْ مَكَانِهِ فَغَسَلَ قَدَمَيْهِ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, মায়মুনা রা. বলেন, আমি গোসলের জন্য রাসূলুল্লাহ কাছে পানি নিয়ে আসলাম। তখন তিনি দুই হাত দুই-তিনবার ধৌত করলেন, এরপর তিনি তার লজ্জাস্থান ধৌত করলেন, এরপর দুই হাত মাটিতে লাগিয়ে ধৌত করলেন অত:পর কুলি করলেন ও নাকি পানি দিলেন তারপর চেহারা এবং দুই হাত ধৌত করলেন এরপর পুরো শরীরে পানি ঢাললেন। অত:পর তিনি গোসলের স্থান থেকে সরে গিয়ে দুেই পাই ধৌত করলেন। সহীহ বুখারী হাদীস নং ২৫৭। حُمْرَانَ مَوْلَى عُثْمَانَ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ رَأَى عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ دَعَا بِإِنَاءٍ فَأَفْرَغَ عَلَى كَفَّيْهِ ثَلاَثَ مِرَارٍ فَغَسَلَهُمَا ثُمَّ أَدْخَلَ يَمِينَهُ فِي الإِنَاءِ فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا وَيَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثَلاَثَ مِرَارٍ ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ ثَلاَثَ مِرَارٍ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثُمَّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لاَ يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ. হুমরান বলেন তিনি উসমান রা. একটি পাত্রে পানি নিয়ে আসতে বলেন, (পানি নিয়ে আসার পর) তিনি হাতির কব্জি তিনবার ধৌত করলেন এরপর কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিলেন এরপর চেহারা তিনবার ধৌত করলেন এরপর হাত তিনবার কনুই পর্যন্ত ধৌত করলেন এরপর পা টাকনু পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন। এরপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে আমার এই ওযু করবে এবং এই ওজুতে দুই রাকআত নামায পড়বে তার পূর্বের সকল গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫৯। ২। না, সমস্যা হবে না।

প্রশ্নঃ 1810
আসসালামুলাইকুম আমাদের সমাজে অনেকের এমন আত্মীয় আছে যারা মানুষকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ায় বা উপহার দেয় । কিন্তু তারাই আবার মানুষকে বলে বেড়ায় বা কোন বিষয় নিয়ে মনমালিন্য হলে খাওয়া বা উপহারের খোটা দেয় । এই ধরনের লোকের বাসায় দাওয়াত দিলে কি যাওয়া যাবে বা উপহার দিলে নেয়া যাবে?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আত্নীয়তার সম্পর্ক বজায় রেখে এই ধরণের লোক থেকে দূরে থাকতে হবে।

প্রশ্নঃ 1809
আস সালামু আলাইকুম, আমি যদি নাম প্রকাশ না করে কারো দোষের কথা বলি বা সমালোচনা করি তাতে কি পাপ হবে?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই অযথা কাজ দ্বারা আপনি কী অর্জন করবেন? এই সময় একটু ভাল কথা বলুন, ভাল কাজ করুন।

প্রশ্নঃ 1808
আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আপনি বলেছেন বাংলাদেশে প্রচলিত তাবলীগ হচ্ছে বিদআত। কি কারনে বিদআত দলিল সহ জানালে উপকৃত হবো। এছাড়া সুন্নি এবং শিয়ার মধ্যে পার্থক্য কি কি? শিয়ারা কি মুসলিম?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি বলেছেন বাংলাদেশে প্রচলিত তাবলীগ হচ্ছে বিদআত। এখানে আপনি বলতে আপনি কাকে বুঝিয়েছেন। আমরা তো কখনো একথা বলি নি। শিয়া-সুন্নির ভিতর পার্থক্যসহ আপনার প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর জানতে দেখুন, ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহি.রচিত ইসলামী আকীদা বইটি।

প্রশ্নঃ 1807
সালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্নটি হল, আমি ফজর নামাজ জামাতের সাথে পরতে জেয়ে দেখি ইমাম শাহেব ফরজ নামাজের দিতিয় রাকাতে আছেন এবং আমার মনে হইতেছে যে আমি জদি সুন্নত নামাজ পরা শুরু করি তাহলে ফরজ নামাজ ধরতে পারব না সে ক্ষেত্রে আমার কি করনিয়? ফজরের ফরজ নামাজের পর সুন্নত পরার কনো নিওম আছে নাকি? আশা করি বেপারটা ক্লিয়ার করলে উপক্রিত হবো।
13 Jan 2026

ওয়া আলােইকুমুস সালাম। আপনি এই অবস্থায় সু্ন্নাত পড়বেন না। জামাতে শরীক হবেন। পরে সুর্য উঠার পর সুন্নাত পড়তে হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. নিদের্শনা দিয়েছেন। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ৪২৩। শায়খ জাহাবী ও শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

প্রশ্নঃ 1806
আসসালামুআলাইকুম,, স্যর আমার বাচ্চার বয়ষ দুই বছর আট মাস, ও প্রাই ভয় পাই এবং নিজে নিজে কিছু দেখতে পাই, এমন অবস্থাই হুজুর দেখিয়েছি,, তেল, পানি পড়া দিয়েছে সাথে আল্লাহর কালাম কাগজে লিখে তাবিজ দিয়েছে, সে বিষয়ে আপনি কি বলবেন?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এমন তাবিজকে অনেক আলেম জায়েজ বলেছেন। তবে আমরা মনে করি ঝাড়-ফুঁক দেয়ায় যথেষ্ট তাবিজের দরকার নেই। প্রয়োজনে যা লিখে দিয়েছে তা সকাল সন্ধ্যা পড়ে ফু দেওয়া যেতে পারে।

প্রশ্নঃ 1805
আসসালামু আলাইকুম, জ্বি, আমি শুনেছি অনেক আলিম বলেন সালাতে রুকুতে যাবার সময় ও রুকু থেকে উঠার সময় যে- রাফউল ইয়াদাইন –করা হয় তা মানসূখ বা রহিত হয়ে গেছে। এটা কি সঠিক?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এটা রহিত হয়েছে মর্মে কোন দলীল পাওয়া যায় না। রাসূলুল্লাহ সা. থেকে সালাতের বিভিন্ন পদ্ধতি সহীহ হাদীসে বর্ণিত আছে। এই রাফয়ে ইয়াদাইন বার বার করাও সহীহ হাদীস সম্মত আবার না করাও সহীহ হাদীস সম্মত । এই নিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়।

প্রশ্নঃ 1804
আস্সালামু আলাইকুম, শেইখ আমরা যে মুসলিম দাবি করে থাকি নিজেদেরকে কিন্তু মুসলিমের সংজ্ঞা জানি না প্রায় অনেকেই তারমধ্যে আমিও একজন এখন আমার খুব জানার ইচ্ছা মুসলিমের সংজ্ঞা কি? মুসলিমের করণীয় কি? আমি ভালো মুসলিম কি ভাবে হবো? একটু কষ্ট করে বিস্তারিত জানাবেন।
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মুসলিমের সংজ্ঞা সম্পর্কে রাসূলুল্লাাহ সা. কে একজন জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তার প্রশ্ন ছিল ইসলাম কি? অর্থাৎ মুসলিম কিভাবে হওয়া যায়? হাদীসের অংশটি দেখুন: قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الإِسْلاَمُ قَالَ الإِسْلاَمُ أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ وَلاَ تُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَتُقِيمَ الصَّلاَةَ الْمَكْتُوبَةَ وَتُؤَدِّىَ الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ وَتَصُومَ رَمَضَانَ লোকটি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ, ইসলাম কী? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, ইসলাম হলো যে, তুমি আল্লাহ তায়ালার ইবাদাত করবে এবং তার সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না, ফরজ সালাত আদায় করবে, যাকাত দিবে, হজ্জ করবে এবং রমাজানে রোজা রাখবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫০। এটা হলো মুসলিমের স্বাভাবিক সংজ্ঞা। এর বাইরে প্রকৃত মুসলিম হতে হলে করণীয় যা আমরা কুরআন ও হাদীস থেকে পাই তা হলো পিতা-মাতার সাথে ভাল ব্যবহার করা, সকল হারাম থেকে বেঁচে থাকা, দান-সদকাহ এবং নফল ইবাদাত বেশী বেশী করা, পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্নীয়দের সাতে সু-সম্পর্ক রাখা, মানুষকে সালাম দেয়া, খাবার খাওয়ানো, প্রয়োজনে জিহাদে অংশ দেয়া, স্ত্রী-পুত্রদের দায়িত্ব যথাযথ পালন করা, কর্তব্যে অবহেলা না করা, ভাল কাজে সহযোগিতা করা, খারাপ কাজে থেকে নিজে বিরত থাকা এবং অন্যকে বিরত রাখার চেষ্টা করা ইত্যাদি।আল্লাহ আমাদের সকলকে ভাল মুসলিম হওয়ার তাওফীক দান করুন।

প্রশ্নঃ 1803
আসসালামু আলাইকুম … আমি ক্বওমী ও আলিয়া মাদ্রাসা সম্পর্কে বুঝিনা… এ দুটো সম্পর্কে ডিটেইলস এ একটু বুঝায়ে দিলে খুশি হতাম. যাজাকাল্লাহ…
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, এই বিষয়টি সম্পর্কে আলোচনার স্থান এটি নয়। আপনি স্থানীয় কোন মাদ্রাসায় গিয়ে বিষয়টি বুঝে আসুন।

প্রশ্নঃ 1802
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমার ২ টা প্রশ্নঃ ১। সুদখোর ইমামের পিছনে নামায হবে কি? ২। হজ্জের নিয়তে ব্যাংকে ডিপিএস করা বা হজ্জ প্যাকেজে টাকা জমানো যাবে কি?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নামায হয়ে যাবে, তবে এমন ইমাম পাল্টানো জরুরী। ২। এখানে মূল বিষয় হলো জমানো টাকাতে সুদ আসে কি না? যদি সুদ আসে তাহলে ঐ সুদ নেয়া জায়েজ নয়। আর যদি সুদ না আসে তাহলে সমস্যা নেই। টাকার হেফাজতের জন্য আপনি এগুলো করতে পারেন তবে সুদ নেয়া যাবে না।

প্রশ্নঃ 1801
অনেক বই অনেক দামি বা সহজে পাওয়া যায় না বা বিভিন্ন কারনে কিনা হয় না তাই pdf পড়া যাবে কি?
13 Jan 2026

হ্যাঁ, পড়া যাবে। pdf কপি ইন্টারনেটে দেয়া মানেই হলো পড়ার অনুমতি দেয়া।

প্রশ্নঃ 1800
বিবাহের কবুল কয়বার বলতে হবে একবার না তিন বার
13 Jan 2026

একবার বললেই বিয়ে হয়ে যায়। তিন বার বলা না জায়েজ নয়।

প্রশ্নঃ 1799
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। *আমি একটা ফটোকপির দোকানে কাজ করি। কম্পিউটার কম্পোজও করি। এখানে বিভিন্ন ভালো কাজের পাশাপাশি মন্দির উন্নয়নের দরখাস্ত টাইপ, পালাগানের পোষ্টার ডিজাইন, পূজার দাওয়াতপত্র, লটারি টিকেটসহ অনেককিছু ছাপাতে হয়। যা আমি করতে আমার মন থেকে সায় দেয়না। তবুও এলাকার মানুষ ফেরত দিতে পারিনা এক্ষেত্রে আমার আয় কি হালাল হবে? *আমার কালার প্রিন্টার থাকা সত্বেও আমি ফটো প্রিন্টের কাজ করতে চাইনা। মাঝে মাঝে প্রার্থীর ছবি সহ নানা পরীক্ষার প্রবেশপত্র ছাপাতে হয়। অথবা অন্য দোকান বন্ধ থাকলে আমার নিকটাত্মীয় অথবা একান্ত কাছের মানুষগুলোর প্রয়োজনে ছবি ছাপাতে হয়। এক্ষেত্রে আমার আয় কতটা হালাল?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মন্দির উন্নয়নের দরখাস্ত টাইপ, পালাগানের পোষ্টার ডিজাইন, পূজার দাওয়াতপত্র, লটারি টিকেটসহ অনেক কিছু ছাপানো এবং অন্যান্য না জায়েজ কাজ যেগুলো আপনি লিখেছেন সবই নি:সন্দেহ মন্দকাজে সহযোগিতা। আর আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন,(ولا تعاونوا على الإثم والعدوان) মন্দকর্ম ও সীমালংঘনের কাজে তো একে অপরকে সহযোগিতা করো না। সূরা মায়েদা, আয়াত নং ২। সুতরাং আপনি এই সব পেশা বাদ দিন, হালাল ও সচ্ছ পেশা গ্রহন করুন। আল্লাহ আপনাকে তাওফীক দিন।

প্রশ্নঃ 1798
মিসেস ক এর গত এক বছর ধরে প্রতি মাসে দুই দিন করে পিরিওড হচ্ছে। কখনো আড়াই দিন ও হয়েছে। আবার কখনো দুই দিন পর এক দিন বিরতি দিয়ে আরেক দিন হয়েছে। এক্ষেত্রে সালাত-সিয়াম এর বিধান কী? পিরিওড এর সর্বনিম্ন সময়সীমা তিন দিন। যাদের নিয়মিত তিন দিনের কম হয় তাদের বিধান কী?
13 Jan 2026

পিরিয়ডের সর্বনিম্ন সময় নিয়ে ফকীহদের মাঝে মতভেদ আছে। ইমাম আহমাদ ও ইমাম শাফেয়ী রহি. বলেছেন ১দিন। ইমাম মালেক রহি. বলেছেন সর্বনিম্ন কোন সময়সীমা নেই। ইমাম আবু হানীফা রহ. বলেছেন, ৩ দিন। আপনি যদি আবু হানীফা রহি. এর মত মানেন তাহলে ৩ দিনের কম হলে সেটা পিরিয়ড তথা মাসিক হিসাবে গণ্য হবে না। নামায রোজা চালিয়ে যেতে হবে। তবে দুই দিন হয়ে বন্ধ হয়ে আবার হলে পুরো সময়টা মাসিক হিসাবে গণ্য হবে, কারণ এক্ষেত্রে মোট তিন দিন পার হয়ে যা্য়। আবু হানীফা রহ. এর মত মানার ভিতরেই অধিক সতর্কতা। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন, আল-ফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু ১/৫৪০।

প্রশ্নঃ 1797
৪ রাকাত নামাজের জামাতে কয়েক রাকাত ছুটে গেলে বাকী নামাজ আদায়ের নিয়ম কি?
13 Jan 2026

ভাই, এভাবে প্রশ্ন করলে তো উত্তর দেয়া কঠিন। আপনি নির্দিষ্ট করে লিখুন আপনি কী সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। তবে যদি এক রাকআত না পান তাহলে আপনার করণীয় হলো ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর আপনি উঠে সূরা ফাতিহা এবং সাথে অন্য একটি সূরা পড়ে শেষ বৈঠক করে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করবেন।

প্রশ্নঃ 1790
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। *আমার মন শক্ত হয়ে গেছে। নিজের বিপদেও আমার কান্না আসেনা। আমি কিভাবে আল্লাহর ভয় নিয়ে কাঁদতে পারি? *কিভাবে ইখলাসের সাথে ইবাদত করতে পারি? *কিভাবে রিয়া থেকে মুক্ত থাকতে পারি? *কিভাবে অহংকার থেকে বেঁচে থাকতে পারি?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি রাসূলুল্লাহ সা. এবং সাহাবীদের জীবনী পাঠ করুন। আখেরাতের কথা, জাহান্নামের কথা বেশী বেশী স্মরন করুন। নিজেকে অন্যদের চেয়ে তুচ্ছ ভেবে আল্লাহর কাছে দুআ করতে থাকুন ইনশাআল্লাহ আপনার সমস্যা দূর হয়ে যাবে। অনেক সময় শয়তান মনে এই ধরণের ওয়াসওসা দেয় যে, তোমার ইবাদত রিয়া হচ্ছে, ইখলাসের সাথে হচ্ছে না তাই বেশী কিছু চিন্তা না করে আল্লাহর উদ্দেশ্যে ইবাদত করতে থাকুন।

প্রশ্নঃ 1789
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমার জানার প্রয়োজন ছিল যে, ১। ইমামের পিছনে নামাজে অনেক সময় খেয়াল থাকেনা- অন্য মনষ্ক হয়ে যাই। ইমাম সালাম ফিরানোর সময় হঠাত খেয়াল হয় আমিতো তাশাহুদই পড়িনি। এখন ইমামের পিছনে নামাজে প্রথম অথবা শেষ বৈঠকে যদি তাশাহুদই পড়তে ভুলে যাই সেক্ষেত্রে আমার নামাজ কি পুনরায় পড়তে হবে? নাকি নামাজ হয়ে যাবে? ২। আমি প্রায়ই নামাজে কম বেশি সম্পর্কে সন্দেহে পড়ি কিভাবে এই সন্দেহ দূর করতে পারি? ৩। বিতরের নামাজে শেষ রাকাতে সূরা পাঠের পরে আল্লাহু আকবার দিয়ে হাত উঠাতে ও কুনুত পড়তে ভুলে গেলে কি নামাজ পুনরায় পড়তে হবে? ৪। নামাজে সূরা ফাতিহার পরে অন্য সূরা পড়তে ভুলে গিয়ে রুকুতে গেলে কি নামাজের কোনো ক্ষতি হবে? ৫। আমার নামাজে সকল ভুলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় কারণ আমি নামাজে খেয়াল রাখতে পারিনা। আমি কিভাবে আমার নামাজ আরও খেয়াল দিয়ে মনোযোগের সাথে পড়তে পারি?
13 Jan 2026

ওয়া আালাই কুমুস সালাম। ১। নামায হয়ে যাবে, তবে এটা খুবই বাজে কাজ হবে। কারণ তাশাহুদু পড়া ওয়াজিব। ২। নামাযে মনোযোগ নিয়ে আসার চেষ্টা করুন। বেশী করে আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত নিররযীম পড়ুন। ৩। সাজাদায়ে সাহু দিতে হবে। নামায শেষ করে উঠে পড়লে পূনরায় নামায পড়াই উত্তম হবে। ৪। সাজদায়ে সাহু দিতে হবে। ৫। যে কাজের যত গুরুত্ব সেই কাজে খেয়াল ততো বেশী থাকে। আমার মনে হয় আপনি নামাযকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে পারছেন না। যথাযথ গুরুত্ব দেয়ার চেষ্টা করুন এবং আল্লাহর কাছে বেশী বেশী দুআ করুন ইনশাআল্লাহ আপনার সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ 1788
আসসালামু আলাইকুম… পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর এর শুভেচ্ছা… আমার নাম লিটু আনাম বচন… আমি এবার হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,দিনাজপুর এ কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে ভর্তি হয়েছি… আমাকে দিনাজপুরে প্রায় বছর থেকে পড়াশুনা করতে হবে… আর একাডেমীক পড়াশুনার পাশাপাশি আমি আরবি ভাষা শিখতে চাই… এখানে আমার পরিচিত কেউই/কিছুই নেই… তাই আমার করণীয় কি বা কি কি পড়তে হবে শিখার জন্য বা কাদের দ্বারা সাহায্য পাবো যদি পরামর্শ দিতেন তাহলে উপকৃত হবো…
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি স্থানীয় কোন কওমী মাদ্রাসার সাথে যোগাযোগ করুন। সেখান থেকে আশা করি আপনি একটি পথের সন্ধান পাবেন।

প্রশ্নঃ 1787
হানাফী মতে সাদাকাতুল ফিতর অর্থ দিয়ে আদায় হয়। প্রশ্ন হচ্ছে- ১. এটা কী সুন্নাহ নাকি শুধু জায়েজ? ২. অর্থ দিয়ে আদায় করারা দলীল কী? প্রধান খাদ্য দিয়ে যারা ফিতর এর কথা বলেন তাদের দলীল কী?
13 Jan 2026

এই বিষয়ে করা একটি প্রশ্নের উত্তর নিচে দিয়ে দিচ্ছি, সেখানে আপনিও আপনার উত্তর খুঁজে পাবেন। অর্থ বা টাকা-পয়সা দ্বারা যাকাতুল ফিতর আদায় করার ব্যাপারে ফকীহদের মাঝে দুটি মত বিদ্যমান। হবে এবং হবে না। ইমাম আবু হানিফা, সুফিয়ান সাওরী, উমার ইবনে আব্দুল আযীয, ইবনে তাইমিয়া রহ.সহ প্রমুখ আলেমের নিকট অর্থ দিয়ে আদায় করলে জায়েজ হবে বরং ক্ষেত্রে বিশেষ এটাই উত্তম হবে। পক্ষান্তরে ইমাম মালেক, আহমাদ, শাফী রহ.সহ অধিকাংশ আলেম বলেছন খাদ্য ছাড়া অন্য কোন কিছু দিয়ে আদায় করলে হবে না। যারা বলেন খাদ্য দিয়েই ফিতরা দিতে হবে তাদের দলীল: ইবনে উমার রা. বলেন, রা. فرض رسول الله صلى الله عليه و سلم زكاة الفطر صاعا من تمر أو صاعا من شعير على العبد والحر والذكر والأنثى والصغير والكبير من المسلمين وأمر بها أن تؤدى قبل خروج الناس إلى الصلاة অর্থ: রাসূলুল্লা সা. সদকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন এক সা. (সাড়ে তিন কেজির মত ) খেজুর অথবা জব। স্বাধীণ, গোলাম, নারী, পুরুষ, ছোট-বড় প্রতিটি মুসলিমের উপর। এবং তিনি ঈদের সালাতে বের হওয়ার পূর্বেই ফিৎরা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪৩২। এছাড়া অনেক সহীহ হাদীসে গম, কিসমিস, আখরোট ও খাবারের কথা উল্লেখ আছে। যারা বলেন অর্থ তথা টাকা-পয়সা দিয়ে আদায় করলেও জায়েজ হবে তাদের দলীল: সাহাবী মুআয রা. ইয়ামানবাসীদের বলেন, ائتُوني بعَرْضٍ : ثيابٍ خَميصٍ ، أَو لَبيسٍ في الصدقة ، مكان الشعير والذُّرة ، أَهوَنُ عليكم ، وَخَيْرٌ لأصحاب رسولِ الله -صلى الله عليه وسلم- بالمدينة অর্থ: তোমরা জব এবং ভুট্টার পরবর্তে পোশাক সদকা (যাকাত কিংবা ফিতরা) দাও। কেননা তা তোমাদের জন্য সহজ এবং রাসূলুল্লাহ সা. এর সাহবীদের জন্য কল্যানকর। সহীহ বুখারী, বা-বুল আরযি ফিয যাকাত, ২/১১৬। এছাড়া উমার ইবনে আবদুল আযীয, হাসান বসরী রহ. ফিতরার ক্ষেত্রে মূল্য নিতে বলেছেন বলে বর্ণিত আছে। দেখুন, মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ১০৪৬৯-১০৪৭৩। ১০৪৭০ নং হাদীসটির আরবী পাঠ নিরুপ: حدثنا وكيع ، عن قرة ، قال : جاءنا كتاب عمر بن عبد العزيز في صدقة الفطر : نصف صاع عن كل إنسان ، أو قيمته نصف درهم এ বিষয়ে আরো জানতে দেখুন, আলফিকহুল ইসলাম্যিু ও আদিল্লাতুহু ৩/ ৩৮৩,৩৮৫। বর্তমানে মূল্য দ্বার ফিতরা জায়েজ হওয়া মতটাই বেশী যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়। ঈদের দিন এখন মানুষের ময়দা বা কিসমিস বেশী প্রয়োজন হয় না । বেশী প্রয়োজন হয় চাল, গোশাত, সেমাই-চিন, জামা কাপড় ইত্যাদি। সহীহ হাদীসে অবশ্য খাবারের কথা বলা হয়েছে সে হিসাবে আপনি চাল দিতে পারেন। এখন যদি আমরা সবাই তাদেরকে চাল বা ময়দা দেই তাহলে গরীবরা অন্য জিনিসগুলো কোথায় পাবে? বিতর্কের সূত্রে যদি কেউ বলে এগুলো বিক্রি করে গোশত, সেমাই-চিনি কিনবে তাহলে এটা সবাই স্বীকার করবেন যে, গরীব মানুষেরা এক্ষেত্রে ন্যায্য মূল্য পাবে না। কারণ এসব ক্ষেত্রে নানা জনের নানান রকম দ্রব্য এক হয়ে মান কমে যায়, যার কারণে মূল্যও কমে যায়। সতরাং সাহাবীদের থেকে যেহেতু খাদ্যের বদলে কাপড় দেয়ার কথা উল্লেখ আছে এবং একদল আলেম মুদ্রা দিলেও জায়েজ হবে বলেছেন সেক্ষেত্রে কেউ যদি মুদ্রা দিয়ে যাকাতুল ফিতরা আদায় করে তাহলে বিতর্কে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমাদের যার যেভাবে ভাল লাগবে আমারা সেভাবে ফিতরা আদায় করবো। তবে সব সময় গরীব মানুষের প্রয়োজনটার দিকে বেশী লক্ষল করবো। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফীক দিন। আমীন

প্রশ্নঃ 1786
জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকী ইত্যাদি অনুষ্ঠান গুলো হারাম কেন? কারণ, ১. এই অনুষ্ঠান গুলো জাগতিক কাজ,কেউ ইবাদতের নিয়তে করে না। ২. হাদীসে এই অনুষ্ঠান গুলোর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা নেই। ৩. এই অনুষ্ঠান গুলো পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অংশ হলেও ইহুদী-খৃষ্টান বা কোন ধর্মাবলম্বীর ধর্মীয় রীতি নয়, জাগতিক কাজ। আমার জানামতে উক্ত তিন সূত্রমতে প্যান্ট-শার্ট পড়া বৈধ, তাহলে সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান গুলো কেন অবৈধ?
13 Jan 2026

হাদীস সীমিত আর মানুষের সমস্যা সীমাহীন। এই সীমিত হাদীসে দ্বারা সীমাহীন সমস্যার মোকাবালা করতে হয়ে। ইবনে উমার রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ . যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করলো সে তাদের অন্তর্ভূক্ত। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ৪০৩৩। শায়খ আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। এই কারণে এই অনুষ্ঠানগুলোকে আলেমগণ না জায়েজ বলেছেন। তাছাড়া সাহাবী-তাবেঈগণ এগুলো করেন নি। রাসূল সা.কে তার সর্বাধিক ভালবাসতেন যদি তারা এটাকে কোন ভাল কাজ মনে করতেন তাহলে পালন করতেন। আর পোশাকের বিষয়ে হাদীসের যে নির্দেশনা শার্ট-প্যান্টে তা পালন হয়ে যায়। সাহাবীদের সময়ে এই পোশাকগুলো ছিল না তাই তাদের মতামত আমাদের জানার সুযোগ নেই। ব্যপক প্রচলন হওয়া এবং শরীয়ত বহির্ভূত কোন কিছু না থাকার কারনে আলেমগণ এটাকে পরার অনুমতি দিয়েছেন কিন্তু উতসাহিত করেন নি।

প্রশ্নঃ 1785
আসসালামুয়ালাইকুম। আমার প্রশ্ন হচ্ছে— আমি কিছুদিন আগে সা্উদীআরাবিয়াতে আসছি। এখানে আসতে আমার প্রায় ৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। প্রায় ১লাখ টাকা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া। কিন্তু আমার কোন ইচ্ছা ছিলনা ঋণ নেয়ার কারন ব্যাংককে সূদ দিতে হবে। সূদ হারাম, আমি জানি। আমার বড় ভাই টাকা ম্যানেজ করতে না পারায় অবশেষে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হয়। আমি বড় ভাইকে লোন নিতে নিষেধ করলে তিনি বলেন- জীবন বাচাতে শুকরের মাংস খাওয়াও জায়েজ। আল্লাহ মাফ করে দিবে। এখন আমি এখানে যে আয-উপার্জন করছি এই টাকা হালাল নাকি হারাম হবে?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এভাবে টাকা লোন নেয়া জায়েজ হয় নি। আপনাদের জান বাচানোর মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় নি সুতরাং এমনটি না করার দরকার ছিল। দ্রুত ব্যাংকের টাকা শোধ করে দিন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তবে আপনার ইনকাম হারাম হবে না। আপনার উপার্জন হালাল।

প্রশ্নঃ 1784
বর্তমানে বাজারে যেসব কোমল পানীয় যেমন সেভেন আপ, আরসি, সিপড, পেপসি ইত্যাদি বিশেষ করে ঈদকে কেন্দ্র করে মানুষ যেগুলো কোমল পানীয় খায়, সেগুলো খাওয়া হালাল না হারাম, বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।
13 Jan 2026

এগুলো হালাল। তবে যদি কোন পানীয়তে হারাম কোন বস্তু আছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় তাহলে হারাম হবে।

প্রশ্নঃ 1783
আসসালামু আলাইকুম… আমি অর্থসহ কুরআন হাদিয়া করতে চাচ্ছি… কোন পাবলিকেশন্স এর টা সবচেয়ে উত্তম হবে এ ব্যাপারে যদি পরামর্শ দিতেন…কুরআন রিসার্চ ফাউন্ডেশন নামে একটা প্রতিষ্ঠান বের করে… ওদের থেকে হাদিয়া নেয়া কি উচিত হবে? আমার বিশেষ প্রশ্ন হলো তাফসীর নিয়ে… আমি কুরআনের তাফসীর পড়তে চাচ্ছি বুঝে বুঝে পড়ার জন্য… কোন কোন আলেম তাফসীর লিখেছেন বা কোন কোন পাবলিকেশন্স বের করে আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানিনা… সহী আক্বিদা সম্পন্ন আলেম এর তাফসীর পড়তে চাচ্ছি… আমি কি বাংলাদেশে বাংলায় তাফসীর পাবো..? নাকি আমাকে সৌদি আরব থেকে কিনতে হবে আর আরবি ভাষা শিখতে হবে তাফসীর বুঝার জন্য? যাজাকাল্লাহ…
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। শুধু অর্থসহ হলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনেরটা দিতে পারেন। প্রকৃতপক্ষে তাফসীর বুঝে পড়তে চাইলেতো আরবী ভাষা শিখতেই হবে। তবে যারা আরবী ভাষা জানে না তারা বাংলায় অনুবাদ তাফসীরগ্রন্থগুলো পড়তে পারেন। যেমন, তাফসীরে ইবনে কাসীর, সংক্ষিপ্ত তাফসীরের জন্য তাওযীহুল কুরআন ইত্যাদি।

প্রশ্নঃ 1782
আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন? কিছু প্রশ্ন ছিলঃ-১. সিজদারত অবস্থায় ২ পা অথবা ১ পা মাটি থেকে উপরে উঠে গেলে, সলাত কি ভঙ্গ হয়ে যাবে? বিশেষ করে ২ পা? ২. বিতর সলাত ৩ রাকাত পড়ার-তো অনেকগুলা নিয়ম আছে। যেমনঃ- ২ রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে আলাদা ১ রাকাত পড়া। এইখানে নিয়ত টা কেমন হবে? প্রথমে যে ২ রাকাত পড়া হল এইটা কি সুন্নত নাকি নফল নাকি বিতর সলাত? এইটার নিয়ত কি হবে? আর পরে যে ১ রাকাত আলাদা পড়া হল এইটা কি সলাত?- এইটার নিয়ত কিভাবে হবে? ৩. পাখি যদি কাপড়ে হিসু / হাকু করে দেয়, এবং তা শুকিয়ে গেলে, সেই কাপড় পড়ে কি সালাত পড়া যাবে? যদি সেই অংশটুকু ধোয়া না হয়, তাহলে কি সেইটা নাপাক হিসেবেই গণ্য হবে কি না?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সাজদারত অবস্থায় কোন একমহুর্তের জন্যও যদি পা মাটিতে না লাগে তাহলে সাজদা হবে না। তবে যদি লাগে আবার উঠে যায় তাহলে সমস্যা নেই। ২। আমাদের দেশে যেভাবে সাধারণত পড়া হয়, সালাম না ফিরিয়ে সেভাবে আদায় করুন। জটিলতা থাকবে না। ৩। এই ধরণের সমস্যাতে কাপড় ধোয়ার দরকার নেই। এতে কাপড় নাপাক হয় না।

প্রশ্নঃ 1781
আমার একটি দোকান আসে প্রতি বছর ১৪৪০০ টাকা ভাড়া পাই,যাকাত কি ভাবে দিবো, আম বাগানের আমের যাকাত কি হিসাবে দিবো?
13 Jan 2026

অন্যান্য টাকার সাথে শতকারা আড়াই টাকা হারে দিবেন। আমের দশ ভাগের এক ভাগ দিয়ে দিবেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত বাংলাদেশে উশর বা ফসলের যাকাত : গুরুত্ব ও প্রয়োগ বইটি। প্রয়োজনে ০১৭৩৪৭১৭২৯৯

প্রশ্নঃ 1780
১. অনলাইরে কিভাবে নামাজের ক্যালেন্ডার পব, মোবাইলের জন্য কি কোন সফটওয়ার আছে নামাযের সময় জানার জন্য, অনেক তো আছে এক একেক সফটওয়াররে এককে টাইম দেখায় । কোন সফট ওয়ার বা কোন ক্যালেন্ডার ভালো হবে, আসি সিলেটে থাকি। ২. কোরআন তিলাওয়াত শিখার কি কোন নির্ভযোগ্য ওয়েব সাইট আছে?
13 Jan 2026

ভাই, অনলাইনে কোন ক্যালেন্ডারটি ভাল তা আমার জানা নেই। তবে আপনি মুফতী আমিমুল ইহসান রাহ. কর্তৃক তৈরীকৃত চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডারটি দেখে সময় ঠিক করলে আশা করি সঠিক সময়ে সালাত আদায় করতে পারনেব। ২. কোরআন তিলাওয়াত শেখার নির্ভরযোগ্য কোন ওয়েবসাইট সম্পর্কে আমার ধারণা নেই। তবে আপনি চাইলে, সময়-সুযোগ মিললে আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারি। আমার সাথে যোগাযোগ করতে হলে, ফোনে 01734717299. ইমেইল titumirahmad@gmail.com স্কাইপে Titumir Ahmad

প্রশ্নঃ 1779
আস্সালামু আলাইকুম। জাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে একটি বিষয়ে আমি দুই রকম ফতোয়া পেয়েছি। জানি না কোনটা সঠিক। ১। নেসাবের স্থায়ীত্ব কাল এক বছর পূর্ণ হলে জাকাত ফরজ হবে । এক বছর না হলে আদায় করা ফরজ নয়। ২। অন্যটা হচ্ছে রমজান মাসে শেষে একটি নির্দিষ্ট সময় সমূদয় যে নেসাব হবে তার উপর ফরজ। এমনকি নির্ধারিত দিনটির একদিন আগে অর্জিত হলেও আদায় করতে হবে। দয়া করে দ্রুত সমাধান দিবেন। আস্সালামু আলাইকুম। আল্লাহ হাফেজ।
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রথমটি সঠিক। মাস বিবেচ্য নয়। বরং নিসাবের মালিক হওয়ার এক বছর পর যাকাত ফরজ। যে মাসেই মালিক হবেন পরের বছর ঐমাসে যাকাত দিতে হবে। তবে যাকাত দেয়ার সময় যত সম্পদ আছে সবকিছু হিসাব করে যাকাত দিবেন। যাকাত দেয়ার সময় নেসাবের মালিক হওয়ার সময়কার সম্পদ বিবেচ্য নয় বরং যখন যাকাত দিবেন তখন কত টাকা আছে সেটা বিবেচ্য। প্রয়োজনে 01734717299

প্রশ্নঃ 1778
Assalamuaalaikum. Muhtaramer kace amar prosno hocce …amader dese jei poddhotite bitirer Salah adai kora hoi sei poddhoti ta purapuri sunnat sommoto..jemon titio rakate rukute jawar age ROFul yadain kore tarpor qunot tarpore ruku? R amra jani Allahr Rasul (sa:) koekhti poddhotite bitir adai korece. Akhon ami ki j kono ek poddhotite adai korbo naki amra jesob poddhoti sunnate peaci sei onujae ekek somoi ekek vabe adai korbo? R ekek somoi ekek poddhotite adai korle ulamader motamot ki ektu janaben jekono ek poddhoti beche nie adai korle ki bidat hobe naki?qunuter somoi munazat korbo naki. R bitirer salah ki oajib naki sunnate muakkada? kaza korle ki bidan ektu clear kore diben asa kori jeno samne r didhadonde na pori?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বী, আমাদের দেশে যেভাবে বিতর পড়া হয় তা সুন্নাহ সম্মত। এই বিষয়ে আল্লামা ইবনে হাযাম জাহেরী রহ. বলেছেন, والوتر وتهجد الليل ينقسم على ثلاثة عشر وجها، أيها أفعل أجزأه বিতর ও রাতের তাহাজ্জুদ ১৩ টি পদ্ধতি রয়েছে। যে কোন এক পদ্ধতিতে পড়লেই যথেষ্ট হবে। এরপর তিনি দলীল সহ ১৩ পদ্ধতিই উল্লেখ করেছেন। ১২ নং পদ্ধতি উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, والثاني عشر: أن يصلي ثلاث ركعات، يجلس في الثانية، ثم يقوم دون تسليم و يأتي بالثالثة، ثم يجلس ويتشهد ويسلم، كصلاة المغرب. وهو اختيار أبي حنيفة ১২নং তিন রাকআত নামায পড়বে, দ্বিতীয় রাকআতে বসবে, এরপর সালাম না ফিরিয়ে উঠবে এবং তৃতীয় রাকআত পড়বে। তারপর বসে তাশাহুদু পড়ে সালাম ফিরাবে মাগরিবের নামাযের মত। আর এটা আবু হানীফা পছন্দ করেছেন। আল মুহল্লা (২/৮২)। আরো বিস্তারিত জানতে দেখুন, আমাদের দেয়া 0105 এবং 0153 নং প্রশ্নের উত্তর। যে কোন একটি পদ্ধতিতে আদায় করলেই হবে। একেকে সময় একেক পদ্ধতিতেও আদায় করতে পারেন। বিতর সুন্নাত কি ওয়াজিব সে বিষয়ে নিচের হাদীসটি দেখুন عَنْ أَبِى أَيُّوبَ الأَنْصَارِىِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- الْوِتْرُ حَقٌّ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ فَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُوتِرَ بِخَمْسٍ فَلْيَفْعَلْ وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُوتِرَ بِثَلاَثٍ فَلْيَفْعَلْ وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُوتِرَ بِوَاحِدَةٍ فَلْيَفْ অর্থ: আবু আয়্যুব আনসারী রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, বিতর প্রতিটি মুসলিমের উপর আবশ্যক সুতরাং যে ৫ রাকআত আদায় করতে চায় সে তাই করবে, যে তিন রাকআত আদায় করতে চায় যে তাই করবে এবং যে এক রাকআত বিতর আদায় করতে চায় সে তা্ করেবে। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪২৪; সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ১৭১১। শায়খ শুয়াইব আরনাউত রহ. এবং শায়খ আলবানীর রহ.সহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, الْوِتْرُ حَقٌّ فَمَنْ لَمْ يُوتِرْ فَلَيْسَ مِنَّا الْوِتْرُ حَقٌّ فَمَنْ لَمْ يُوتِرْ فَلَيْسَ مِنَّا الْوِتْرُ حَقٌّ فَمَنْ لَمْ يُوتِرْ فَلَيْسَ مِنَّا বিতর আবশ্যক, যে বিতর পড়বে না সে আমাদের অন্তর্ভক্ত না, বিতর আবশ্যক, যে বিতর পড়বে না সে আমাদের অন্তর্ভক্ত না,বিতর আবশ্যক, যে বিতর পড়বে না সে আমাদের অন্তর্ভক্ত না। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪২১। শায়খ শুয়াইব আরনাউত রহ. হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। হাদীসের ভিত্তিতে ওয়াজিব বলেই মনে হয়। যারা সুন্নাত বলেছেন তারাও গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত বলেছেন। ছুটে গেলে কাজা করার মধ্যে মঙ্গল।

প্রশ্নঃ 1777
আসসালামু আলাইকুম মনের নেক আশা পুরন করার কি কোন সুন্নত আমল আছে? যদি আমল গুলো দিতেন অথবা রেফারেন্স দিতেন তাহলে খুবি উপকৃত হয়তাম।
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. লিখিত রাহে বেলায়াত বইটি সংগ্রহ করে সেখানে থেকে দুগুলো জেনে নিন।

প্রশ্নঃ 1776
হাতের নখ কাটলে কি, গোসল ফরয হয়? চুল কাটলে হকুম কি? এই র্মমে কোন সহীহ হাদিস আছে কি?
13 Jan 2026

নখ বা চুল কাটলে গোসল, ওযু বা তায়াম্মুম কোন কিছু ফরজ হয় না। বরং নখ ও চুল নিয়মিত কাটা সওয়াবের কাজ। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে ইসলাম সব সময় উৎসাহিত করে।

প্রশ্নঃ 1775
As salamualaikum. ami kisu din age “rokomari.com” website e sir khandakar abdullah jahangir er ekta boi dekhlum jar num pobitro bible : porichiti o porjalochona publication as sunnah. ekhon ami jante chai je ei name asolei ki apnader publicationer kono boi ase. thakle ami boi ta kivabe kinte pari. parcel e kivabe apnader boi pabo, jogajog korar upay bolben doya kore. thanks sajjad, dhaka
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, এই নামে স্যার রহি. একটি বই আছে। এটি তাঁর জীবনের সর্বশেষ বই। এই বইটি ছাপাতে যাওয়ার পথে তিনি ইন্তেকাল করেন। বইটি পেতে যোগাযোগ করুন এই নাম্বারে 01961651547

প্রশ্নঃ 1774
আসসালামু আলাইকুম। প্রশ্নঃ বাড়তে থাকা টাকা কি বছরন্তে যাকাতের হিসাব হবে? ধরুন, আমার কাছে ২ লক্ষ টাকা ব্যাংক এ ১ বছর যাবত জমা আছে। এখন প্রতি মাসে আমি ৫ হাজার টাকা করে জমিয়েছি এখন বছর শেষে ৬০ হাজার জমা হয়েছে। এখন কি আমাকে শুধু ২ লক্ষ টাকার যাকাত দিতে হবে নাকি ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার যাকাত দিতে হবে? এবং আপনাদের মাদ্রাসা যদি যাকাত সংগ্রহ করে থাকে তবে দয়া করে আমাকে আপনাদের যাকাত পাঠানোর একাউন্ট নাম্বার গুলো দিবেন। জাযাকাল্লাহ, সাদিক
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনাকে ২লক্ষ ৬০ হাজার টাকার যাকাত দিতে হবে। যাকাত দেয়ার সময় যত টাকা আছে তার হিসাব করে যাকাত দিতে হবে। হ্যাঁ, আমাদের প্রতিষ্ঠান যাকাত সংগ্রহ করে থাকে। আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের কর্মকান্ড দাতাগণের সাহায্য ও অনুদানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ব্যাংকের মা্ধমে অনুদান গ্রহণ করা হয়। ইসলামী ব্যাংক ব্যাংলাদেশ লিমিটেডের ঝিনাইদহ শাখায় আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের তিনটি একাউন্ট রয়েছে:

1. AS SUNNAH TRUST MSA(Regular) Account No. 20501750201900314 Jhenaidah, Br. Jhenaidah, Banngladesh.

2. AS SUNNAH TRUST ZAKAT MSA(Regular) Account No. 20501750201937002 Jhenaidah, Br. Jhenaidah, Banngladesh.

3. As Sunnah Trust Publication MSA Account No. 20501750202520414 Jhenaidah, Br. Jhenaidah, Banngladesh. দুই নম্বরটি যাকাতের টাকা পাঠানোর একাউন্ট।

প্রশ্নঃ 1773
আস সালামু আলাইকুম … আমি আপনাদের ট্রাস্টে দানের টাকা পাঠানোর উপায়টা জানতে চাই। কোন বিকাশ নম্বর বা অন্য কোন উপায় জানাবেন?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি এই নাম্বারে টাকা টাঠাতে পারেন। পাঠানোর আগে এবং পরে যোগাযোগ করে নিবেন। এটা আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের সেক্রেটারী সাহেবের নাম্বার। 01718136962

প্রশ্নঃ 1772
আস-সালামু আলাইকুম,আলহামদুলিল্লাহ, আপনাদের প্রশ্ন /উত্তর পর্বে খুব উপকার পাচ্ছি। আমার প্রশ্ন হলোঃ ১। আমরা ৩ ভাই ও ২ বোন, সবাই বিবাহিত, আমাদের পিতা-মাতা উভয়ই মৃত্যুবরণ করেছেন অথচ আমাদের কারোর আকিকা করা হয়নি। এখন কি আমাদের আকিকা করা জরুরী? জরুরী হলে কি ভাবে করবো? ২। আমরা ৩ ভাই-ই ঢাকায় চাকরি করি এবং যার মত সেই থাকি, আমি বেতন পাই ১৫০০০ টাকা এছাড়া আমার আর কোন ইনকাম নাই। মাস শেষে খরচ বাদে কোন কোন মাসে ১/২ হাজার টাকা থেকে যায়, এ অবস্থাই আমার উপর কি কুরবানী ফরজ হয়েছে? ফরজ না হলেও কি দিতে পারবো? বা না দিলে কোন সমস্য আছে কি না তা জানতে চায়? ৩। উপরোক্ত প্রশ্নের ভিত্তিতে আকিকা / কুরবানী এ দুয়ের কোনটা আগে করা জরুরী? জাঝাকাল্লাহু খয়রান
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জন্মের ৭ম দিনে আক্বীকা করা সুন্নাত। মুসলিম হিসাবে আমাদের সকল সুন্নাত আমল করা উচিত। তবে জরুরী নয়। কারণ আক্বকী না করলে গুনাহ হয় না। আর জরুরি জিনিস বাদ দিলে গুনাহ হয়। ২। আপনার কাছে মোট সাড়ে সাত ভরি রোপার মূল্য সমপরিমাণ নিত্যপ্রয়োজনীৗ খরচ বাদে অতিরিক্ত টাকা যদি থাকে তাহলে আপনার উপর কুরবানী ওয়াজিব। এখন যদি প্রতিমাসে ১/২ টাকা থাকতে থাকতে ঐ পরিমান টাকা হয়ে যায় তাহলে আপনার উপর কুরবানী ওয়াজিব, না হলে ওয়াজিব নয়।কুরবানী যার উপর ওয়াজিব না সে নফল কুরবানী দিতে পারে। ৩। যদি আপনার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয় তাহলে আপনি আক্বীকা দিতে পারেন। আর যদি কুরবানী ওয়াজিব হয় তাহলে অবশ্যই আপনাকে কুরবানী আগে দিতে হবে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 1771
আস-সালামু আলাইকুম ১. সিয়াম থাকা আবস্তা আমার দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত বেরোয়, যদি অজুর জন্য কুলি করি তবু রক্ত বেরোয়, আমার রোজা হবে কি? 2. আমি যেখানে কাজ করি সে হিন্দু। যখন সে পূজা করে তার ঠাকুরে বাসন আমাকে দিয়ে ধোয়ায়, ফুল আনায়, এটা কি করা আমার উচিত? আমি পূজা করিনা বা তার পূজার কিছু খাই না।
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

১। না, রক্ত বের হলে রোজার কোন ক্ষতি হয় না। তবে রক্ত যদি আপনি খেয়ে ফেলেন তাহলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে।

২। এটা গোনাহর কাজে এক ধরণের সহযোগীতা । কুরআনে গোনাহর কাজে সহযোগীতা করতে নিষেধ করা হয়েছে।আপনি এই কাজ থেকে সরে আসুুন। সচ্ছ কোন কাজ খুঁজুন। 

প্রশ্নঃ 1770
Massalam. sir amar ques ta cad deka niya. Amader Banglades a onek a Sodi Arab ar cad dekar opor nirbor kore Roja o Eid palon kore. Sir amar ak Mama ai bocor teke oi niyom palon suru korece. sa ai bisoy a jasim uddin ar kicu lecture o akta boi pore ai siddanto niyaca. Oi boi a nake onek dolil ace.Tar sate onek jubok abar teke sodi onusare Roja o Eid palon korbe.So ai bisoy a amar druto o clear dolil soho ans dorker. Ate amra akta bul pot teke pire asbo. pls
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আসলে তাদের কোন দলীলই নেই। হাদীসে আছে চাঁদ দেখে রোজা রাখতে হবে, ভা্ঙতে হবে। সাহাবীদের আমল থেকে আমরা পাই যে, যে এলাকাতে যখন চাঁদ উঠেছে সে এলাকাতে তখন তারা রোজা রেখেছেন। তবে সারা পৃথিবীর আলেমরা যদি এই বিষয়ে একমত হয় যে, এক দিনে রোজা রাখবে বা ঈদ করবে তাহলে জায়েজ হবে। অন্যথায় এমন করা জায়েজ নয়। নিচের হাদীটি লক্ষ্য করুন: عَنْ كُرَيْبٍ أَنَّ أُمَّ الْفَضْلِ بِنْتَ الْحَارِثِ بَعَثَتْهُ إِلَى مُعَاوِيَةَ بِالشَّامِ قَالَ فَقَدِمْتُ الشَّامَ فَقَضَيْتُ حَاجَتَهَا وَاسْتُهِلَّ عَلَىَّ رَمَضَانُ وَأَنَا بِالشَّامِ فَرَأَيْتُ الْهِلاَلَ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ ثُمَّ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فِى آخِرِ الشَّهْرِ فَسَأَلَنِى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ – رضى الله عنهما – ثُمَّ ذَكَرَ الْهِلاَلَ فَقَالَ مَتَى رَأَيْتُمُ الْهِلاَلَ فَقُلْتُ رَأَيْنَاهُ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ. فَقَالَ أَنْتَ رَأَيْتَهُ فَقُلْتُ نَعَمْ وَرَآهُ النَّاسُ وَصَامُوا وَصَامَ مُعَاوِيَةُ. فَقَالَ لَكِنَّا رَأَيْنَاهُ لَيْلَةَ السَّبْتِ فَلاَ نَزَالُ نَصُومُ حَتَّى نُكْمِلَ ثَلاَثِينَ أَوْ نَرَاهُ. فَقُلْتُ أَوَلاَ تَكْتَفِى بِرُؤْيَةِ مُعَاوِيَةَ وَصِيَامِهِ فَقَالَ لاَ هَكَذَا أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- কুরাইব থেকে বর্ণিত যে, উম্মে ফজল বিনত হারেছ তাকে তাকে কোন কাজে সিরিয়ায় মুয়াবিয়া রা. এর কাছে পাঠিয়েছিলেন। কুরাইব বলেন, আমি সিরিয়ায় গিয়ে আমার কাজ শেষ করলাম। আসম সিরিয়ায় থাকা অবস্থায় রমাজানের চাঁদ উঠে। আমি জুমুআর রাত্রে চাঁদ দেখলাম। এরপর মাসের শেষদিকে আমি মদীনায় ফিরলাম। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. চাঁদ প্রসঙ্গে আলাচনা করতে গিয়ে বললেন, তোমরা কোন দিন চাঁদ দেখেছো? আমি বললাম, জুমুআর রাত্রে। তখন তিনি বললেন, তুমি দেখেছো? আমি বললাম, হ্যাঁ এবং অন্য মানুষরাও দেখেছে েএবং রোজা রেখেছে, মুআবিয়া রা.ও রোজা রেখেছে। তখন ইবনে আব্বাস বললেন, আমরা শনিবার রাত্রে চাঁদ দেখেছি। আমরা রোজা রাখতেই থাকবো যতক্ষন না ৩০ টা হয় কিংবা চাঁদ দেখি। আমি বললাম, মুআবিয়া রা. এর চাঁদ দেখা এবং রোজা রাখা কি যথেষ্ট নয়? তিনি বললেন। এভাবেই রাসূলুল্লাহ সা. আমাদের আদেশ দিয়েছেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৫৮০। দেখুন, সাহাবীদের থেকে আমরা দেখছি যে, তারা এক এলাকার চাঁদ দেখাকে অন্য এলাকার জন্য যথেষ্ট মনে করেন নি। অথচ সিরিয়া এবং মদীনা দু্টোই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত। কেউ যদি যুক্তি দেয় তখন জানা সম্ভব ছিল না তাহলে বলতে হবে কুরবানী ঈদের সময় তো দশ দিন সময় পাওয়া যায় তখন তো রাসূলুল্লাহ সা. বা কোন খলীফা চাঁদ দেখারে খোঁজ নেওয়ার জন্য দিক-দিগন্তে লোকজন পাঠালেন না। যদি বিষয়টি এমনই হতো তাহলে তারা অবশ্যই বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে একসাথে ঈদ করতেন। বরং উল্টো তারা বলেছেন, সিরিয়ায় চাঁদ দেখার সিরিয়বাসীদর জন্য আর মদীনায় দেখা মদীনাবাসীদের জন্য। শায়েখ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. এই প্রসঙ্গে বলেছেন, হাদীস শরীফে চাঁদ দেখে সিয়াম শুরু করার ও শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর অর্থ এ নয় যে, যে কেউ যেখানে ইচ্ছা চাঁদ দেখলেই ঈদ করা যাবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে তার সাক্ষ্য গৃহিত হলে বা চাঁদ দেখা প্রমাণিত হলেই শুধু ঈদ করা যাবে। রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও সমাজের সিদ্ধান্তের উপরেই আমাদের ঈদ পালন করতে নির্দেশ দিয়ে রাসূলুল্লাহ সা. বলেন: الْفِطْرُ يَوْمَ يُفْطِرُ النَّاسُ وَالْأَضْحَى يَوْمَ يُضَحِّي النَّاسُ যে দিন সকল মানুষ ঈদুল ফিত্র পালন করবে সেই দিনই ঈদুল ফিত্র-এর দিন এবং যেদিন সকল মানুষ ঈদুল আযহা পালন করবে সেই দিনই ঈদুল আযহার দিন।সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ৮০২। ইমাম তিরমিযী এবং শাযখ আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। প্রসিদ্ধ তাবিয়ী মাসরূক বলেন, আমি একবার আরাফার দিনে, অর্থাৎ যিলহাজ্জ মাসের ৯ তারিখে আয়েশা (রা)-এর নিকট গমন করি। তিনি বলেন, মাসরূককে ছাতু খাওয়াও এবং তাতে মিষ্টি বেশি করে দাও। মাসরূক বলেন, আমি বললাম, আরাফার দিন হিসাবে আজ তো রোযা রাখা দরকার ছিল, তবে আমি একটিমাত্র কারণে রোযা রাখিনি, তা হলো, চাঁদ দেখার বিষয়ে মতভেদ থাকার কারণে আমার ভয় হচ্ছিল যে, আজ হয়ত চাঁদের দশ তারিখ বা কুরবানীর দিন হবে। তখন আয়েশা (রা) বলেন, اَلنَّحْرُ يَوْمَ يَنْحَرُ الإِمَامُ وَالْفِطْرُ يَوْمَ يُفْطِرُ الإِمَامُ যেদিন ইমাম বা রাষ্ট্রপ্রধান কুরবানীর দিন হিসাবে পালন করবেন সেই দিনই হলো কুরবানীর দিন। আর যেদিন রাষ্ট্রপ্রধান ঈদুল ফিতর হিসেবে পালন করবে সেই দিনই হলো ঈদের দিন।আস-সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্কী, হাদীস নং ৮৪৬৮। মুনযিরী, তারগীব ২/৬৮। মুনযিরী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। হাযেরীন, মুমিনের জন্য নিজ দেশের সরকার ও সংখ্যাগরিষ্ট জনগণের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে ঈদ করা রাসূলুল্লাহ সা.-এর নির্দেশ। অন্য দেশের খবর তো দূরের কথা যদি কেউ নিজে চাঁদ দেখেন কিন্তু রাষ্ট্র তার সাক্ষ্য গ্রহণ না করে তাহলে তিনিও একাকী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বিপরীতে ঈদ করতে পারবেন না। অন্য একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, الصوم يوم تصومون والفطر يوم تفطرون والأضحى يوم تضحون তোমরা সবাই যেদিন রোজা রাখবে সেদিনই রোজা রাখার দিন, তোমরা সবাই যেদিন ঈদুল ফিতর উদযাপন করবে সেদিনই ঈদুল ফিতরের দিন আর তোমরা সবাই যেদিন ঈদুল আযহা উদযাপন করবে সেদিনই ঈদুল আযহার দিন। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ৬৯৭। ইমাম তিরমিযী, রহ. হাদীসটিকে হাসান বলেছেন, আর শায়খ আলবানী রহ. সহীহ বলেছেন। সুতরাং সমাজের মূল স্রোতের বাইরে গিয়ে ঈদ করা হাদীসের লংঘন, না জায়েজ।

প্রশ্নঃ 1769
আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন? আমি যদি সেমাই, চিনি, দুধ, নারকেল, কিসমিস ইত্যাদির সমন্বয়ে ফিতরা আদায় করতে পারবো? জানালে উপকৃত হবো।
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।জ্বী, পারবেন। তবে সেটা যেন ফিতরার সর্বনিম্ন মূল্য অতিক্রম করে।

প্রশ্নঃ 1768
আচ্ছালামু আলাইকুম. স্যার, আমি একটি বিষয় জানতে চাই, স্যার আমি এক জন কাতার প্রবাসী, এখানে একজন লোক মারা,আমরা কয়েক জন মিলে লাশ দেশে পাঠাই, বিদেশ আসার সময়, এক হিন্দু ভদ্রলোকের কাছ থেকে বেশকিছু টাকা শুধে আনে, আমি ব্যাক্তিগত ভাবে টাকাটা দিয়ে দেই, তার ঋণ কি শোধ হবে? কারণ অনেক বলে, এভাবে ঋণ শোধ হবেনা, তোর টাকাটাই বিফলে গেছে। (লোকটির স্ত্রী, 11বছরের মেয়ে, 7/8 মাসের ছেলে, আর2 ভাই আছে ভিন্ন)
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, ঋণ শোধ হয়ে গেছে। যে কোন মানুষ যে কাউকে সাহায্য করতে পারে। এটা তারই একটি উদাহরণ।

প্রশ্নঃ 1767
আসসালামু আলাইকুম: ঈসায়ী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দিন বা তারিখ শুরু হয় রাত ১২:০০ টার পর। ইসলামী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দিন বা তারিখ কখন থেকে শুরু হয়। যেমন: শুক্র বার কখন কোন সময় থেকে শুরু হবে এবং শেষ হবে বা ২১ রমজান কখন থেকে কখন পর্যন্ত?
13 Jan 2026

ইসলামী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দিন শুরু হয় সূর্যাস্তোর পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। ২১ রমজান শুর হয় ২০রোজার ইফতার থেকে।

প্রশ্নঃ 1766
আসসালামুয়ালাইকুম….. আমার ভাগিনা হাফেজ পড়াশোনা করসে ১ পারা মুখস্ত করেছে, এখন আমি চাই সহিহ আকিদায় দ্বীন শিক্ষার জন্য কোন ভাল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমার ভাগিনাকে হাফেজ বানাতে চাই, এই বিষয় বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমাদের ঝিনাইদহ ছাড়া আর কোথাও হিফজ শাখা নেই। আর এখানেও বর্তমানে হিফজ শাখায় ভর্তি বন্ধ। তারপরও যোগাযোগ করতে পারেন এই নাম্বারো 01718136962

প্রশ্নঃ 1765
আমার বয়স ২৭ বছর আমার সন্তান হয়েছে আজ ৫ বছর এবং আমার গ্যাস্ট্রিক খালি পেটে থাকতে পারিনা, গ্যাস বেশি হওয়ায় এবং শরীরের দুর্বলতা বেশী হওয়ায় রোজা রাখতে প্যারি না —এর জন্য কি কাফফারা দিতে হবে?
13 Jan 2026

আপনার এই রোগ থেকে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে পরবর্তীতে এই রোজাগুলোর কাজা করতে হবে। আর যদি সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে তাহলে প্রতি রোজার বিনিময়ে একজন মিসিকিনকে এক দিনের খাবার দিতে হবে। সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৪।

প্রশ্নঃ 1764
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু আলহামদুলিল্লাহ,আমি আগের প্রশ্ন গুলার উত্তর পেয়েছি,আল্লাহ আপনাদের উপর রহমত ও বরকত দান করুন। ১. দৈনন্দিন জীবনের আদব/সুন্নত (খাওয়া, ওযু, গোসল, ওয়াশরুম-এ যাওয়া ইত্যাদি) স্যার এর কোন বইতে পাওয়া যাবে? রাহে বেলায়েত বইতে দুআ গুলা পাই। আসলে অনেক জায়গায় অনেক রকম পড়ি বিভ্রান্ত লাগে,স্যার এর কোনো বইতে পেলে মানসিক শান্তি লাগে যেন সহীহ তা আমল করতে পারি।
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি যে,আমরা আপনাদের খেদমতে কিছু করতে পারছি। এগুলো নিয়ে স্যার রহ. নির্দিষ্ট কোন বই লেখেন নি। তবে খুতবাসহ স্যার রাহ. এর বইগুলো পড়লে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন বিষয় পেতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1763
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, চুলে এবং দাড়িতে কালার করার বিধান আছে কি? থাকলে কি ধরনের কালার করা উত্তম?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কালো বাদে আপনি অন্য কোন কালার করতে পারেন। যেমন লাল, সবুজ।

প্রশ্নঃ 93
আস সালামু আলায়কুম, ইসলামে যুদ্ধ ক্ষেত্রে কোন মুসলিম মারা গেলে তাকে কি শহীদ বলা যাবে? যদি যায় তাহলে এমন আর কোন কোন ক্ষেত্র আছে যেখানে নির্দিষ্ট ব্যাক্তি মারা গেলে তাকে শহীদ বলা যাবে? আমার জানা মতে কোন জায়গায় নেই তারপরও অজানা থাকতে পারে। একটু বিস্তারিত বলবেন দয়া করে।
21 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।  রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,

مَا تَعُدُّونَ الشُّهَدَاءَ فِيكُمْ ؟ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، مَنْ قُتِلَ فِي سَبيلِ اللهِ فَهُوَ شَهِيدٌ . قَالَ: إِنَّ شُهَدَاءَ أُمَّتِي إِذَاً لَقَليلٌ.  قالوا: فَمَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: مَنْ قُتِلَ فِي سَبِيلِ الله فَهُوَ شَهِيدٌ، وَمَنْ مَاتَ فِي سَبِيلِ الله فَهُوَ شَهِيدٌ، وَمَنْ مَاتَ فِي الطَّاعُونِ فَهُوَ شَهِيدٌ، وَمَنْ مَاتَ فِي البَطْنِ فَهُوَ شَهِيدٌ، وَالغَرِيقُ شَهِيدٌ

“তোমরা তোমাদের মাঝে কোন কোন ব্যক্তিকে শহীদ বলে গণ্য কর?” সকলেই বলে উঠল, ’হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে যে নিহত হয়, সেই শহীদ।’ তিনি বললেন, “তাহলে তো আমার উম্মতের মধ্যে শহীদ খুবই অল্প।” লোকেরা বলল, ’তাহলে তাঁরা কে কে হে আল্লাহর রাসূল?’ তিনি বললেন, “যে আল্লাহর পথে নিহত হয় সে শহীদ, যে আল্লাহর পথে মারা যায় সে শহীদ, যে প্লেগ রোগে মারা যায় সে শহীদ, যে পেটের রোগে প্রাণ হারায়, সে শহীদ এবং যে পানিতে ডুবে মারা যায় সেও শহীদ।” সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৫৪। 

এ হাদীস থেকে বুঝা যায়, দূর্ঘটনায় মারা গেলেও আল্লাহ রাসূল সা. তাদের শহীদ বলেছেন। আল্লাহ রাস্তায় স্বাভাবিক মারা গেলেও তাদেরকে শহীদ বলেছেন। তবে এই ধরণের শহীদদেরকে স্বাভাবিক নিয়মে গোসল দিয়ে কাফন পরিয়ে দাফন করতে হবে। সওয়াবের দিক দিয়ে তারা শহীদ হিসেবে গণ্য, দুনিয়ার হুকুমের দিকে দিয়ে নয়। পরিভাষায় এই শহীদদেরকে হুকমী শহীদ বলা হয়। 

আর যারা যুদ্ধে নিহত হয় তারা সর্বোচ্চ স্তরের শহীদ, দুনিয়ার হুকুমের দিক দিয়ে তারা শহীদ হিসেবে গণ্য, তাই  তাদেরকে গোসল ও কাফন ব্যতীত দাফন করতে হবে। পরিভাষায় তাদের হাকীকী শহীদ বলে।  

প্রশ্নঃ 680
আসসালামুআলাইকুম। আমি একজন জেনারেল লাইনের ছাত্র। গত বছর অনার্স শেষ করেছি। আগামী মাস ইন শা আল্লাহ মাস্টার্স করতে বিদেশে যাব। আমি শায়খ ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গির (রহ:) স্যারের ভিডিও দেখি এবং আলহামদুলিল্লাহ এখন দ্বীনের পথে আসার চেষ্টা করছি। আমি চাচ্ছি ইলম অর্জন করতে। কুরআন বিশুদ্ধভাবে কুরআন তেলাওয়াত শিখতে, ফিকহ, সঠিক এবং বেদাতমুক্ত আকিদা এবং মানহাজ শিখতে। যেহেতু খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গির (রহ:) স্যারের লেকচার দেখি তাই আমি চাচ্ছিলাম স্যারের মানহাজ এবং আকিদাহ ফলো করে এমন কোন আলেম অনলাইনে আমার ক্লাস নিবে ডাইরেক্ট one to one. এই বিষয় আপনারা আমাকে কোন সাহায্য করতে পারবেন?
30 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি শায়খ ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ রহি. এর লিখিত বইগুলো সংগ্রহ করবেন এবং পুরোপুরি পড়বেন। এর মাধ্যমে আপনার একটা যোগ্যতা হয়ে যাবে যে, কোন আলেম থেকে আপনার ইলম অর্জন করা দরকার। 
প্রশ্নঃ 752
আসসালামু আলাইকুম উস্তায, একটা প্রশ্ন ছিল, ইন্সুইরেন্স কোম্পানীতে তো চাকরি করা হারাম, আমার এক বন্ধু মেটলাইফ ইন্সুইরেন্স কোম্পানিতে চাকরি পেয়েছে। এখন সে চাচ্ছে যে, অন্য কোথাও চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত এখানে ঢুকে থাকতে এবং নতুন চাকরি খুজতে। আর এখানকার টাকা গুলো খরচ না করে জমা রাখতে। পরে কোথাও দান করে দিবে। আর এখানে ঢুকে থাকলে, এটার অভিজ্ঞতা সে তার সিভি তে যোগ করতে পারবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এটা করা ঠিক হবে কিনা?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এটা খুব ভালো কাজ নয়। তবে মন্দের ভালো হিসেবে করতে পারেন।  টাকাগুলো জমা রাখার দরকার নেই। পাওয়ার সাথে সাথে গরীবদেরকে দিয়ে দিবে। 

প্রশ্নঃ 1351
কোম্পানিতে যারা হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করেন, তাদেরকে কোম্পানির আয়-ব্যয় হিসাব প্রস্তুত করার জন্য সুদ হিসাব করতে হয়। হাতে-লিখে অথবা সফটওয়্যারে-ভাগ করতে হয় যে, "এত এত টাকা ব্যাংক সুদ পাওয়া গেছে।" প্রশ্ন হল এই কাজটি কি "সুদের লেখক এর উপর লানত" এই হাদিস প্রয়োজ্য হবে? অথবা এটা কি কবিরা গুনাহের মধ্যে পড়বে? (উল্লেখ্য: যদি হিসাবরক্ষক সুদ আদান প্রদানের বিষয়ে কোম্পানিকে অনুৎসাহিত করার চেষ্টা করে।)
05 Jan 2026

জ্বী, এটাও “সুদ লেখা”  হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং এই কাজ করা যাবে না। যে কাজের মধ্যে হারাম কিছু নেই কোম্পানীর সেই ধরণের কোন কাজ করবেন। সরাসরি হারাম হয় এমন কোন কাজ করা যাবে না। 

প্রশ্নঃ 1761
আসসালামু আলাইকুম। বিদ্যাবাড়ি বা বিভিন্ন ফেসবুক পেজে যেসব অনলাইন চাকরীর কোচিং এর প্যাকেজ কেনা যায়। এটা যদি ২/৩ জনে মিলে একটা কিনি তাহলে সেটা জায়েজ হবে কি? মানে ২৪০০ টাকার একটা কোর্স ৩ জনে টাকা দিয়ে কিনব। এবং ঐ একটা আইডি থেকে ৩ জনই ক্লাস করবো। এটা কি হারাম হবে?
12 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যারা এই প্রোগাম বিক্রি করে তাদের সাথে কথা বলবেন। তারা যদি তিন জনকে ক্লাস করতে অনুমতি দেয়, তাহলে সমস্যা নেই। যদি অনুমতি না দেয় তাহলে করা যাবে না। 

প্রশ্নঃ 1762
জনাব, আমি ২০১৬ এর ফেব্রূয়ারি থেকে চাকুরী তে আছি। যা পেতাম তাই খরচ হয়ে যেত। জুন মাসে বোনাস সহ আমি প্রায় ৬০ হাজার টাকা পাই। অক্টোবর মাসে আমি একটা ব্যবসা তে ৬০ হজার টাকা বিনিয়োগ করি। জানুয়ারী শেষে বিনিয়োগ ৯০ হাজার টাকা হয়। ২০১৭ এর জানুয়ারীতে আমার হাতে ৬ হাজার টাকা থাকে সর্বসাকুল্যে। মাসিক বেতন যা পাই তা জমতে জমতে এখন আমার কাছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা আছে এবং ধার বাবত আরো ২০ হাজার টাকা পাই। আমি এর মাঝে কিছু এতিম খানা এবং গরীবকে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা দিয়েছি। কি আগে যেসব টাকা দিয়েছি সেগুলো কি যাকাত হিসেবে ধরতে পারবো? আপনার মতামত জানতে চাচ্ছি? আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে রাখুন। আমিন।
13 Jan 2026

আপনার প্রশ্নটা খুব জটিল ভাষায় হয়েছে। আমার মনে হচ্ছে এখন আপনার ব্যবসায় আছে ৯০ হাজার টাকা। নগদ আছে ৭০ হাজার আর ধার পাবেন ২০ হাজার টাকা। মোট ১লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। যদি এমন হয় তাহলে আপনাকে মোট ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার যাকাত দিতে হবে। পূর্বে যে টাকা দান করেছেন যাকাতের নিয়ত না থাকায় তা দ্বারা যাকাত আদায় হবে না। আপনাকে এখন যাকাত আদায় করতে হবে। প্রয়োজনে 01734717299

প্রশ্নঃ 1760
আমার ব্যাংকে ২৫০০০০ টাকা আছে.সাথে সোনা সাডে সাত ভরির কম আছে.আমি শুধু টাকার উপর যাকাত দিয়ে থাকি.তাহলে কি আমাকে সোনার উপরে যাকাত দিতে হবে? আর আমি যদি আগে কখনো ওই টাকার উপর যাকাত না দিয়ে থাকি তাহলে কি আমাকে বকেয়া হিসাবে দিয়ে দিতে হবে?
12 Jan 2026

প্রশ্নোক্তক্ষেত্রে আপনাকে সোনার মূল্য হিসাব করে যাকাত দিতে হবে। শুধু সোনা থাকলে যাকাত দিতে হতো না। সোনার সাথে টাকা থাকার কারণে আপনাকে সোনার মূল্য হিসাব করে যাকাত দিতে হবে। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আমাদের দেয়া 759 নং প্রশ্নের উত্তর। আগে যাকাত দিয়ে না থাকলে বকেয়া যাকাত আপনার উপর দেয়া ফরজ।

প্রশ্নঃ 1759
ওজুতে গাড় মাসেহ করা জায়েয কিনা? আমি শুনেছি এটা নাকি বিদাত? দলিল সহ জানাবেন. ধন্যবাদ।
12 Jan 2026

ঘাড় মাসেহ করার ব্যাপারে কয়েকটি দূর্বল হাদীস বর্ণিত আছে। তার একটি হলো, قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من توضأ ومسح عنقه لم غل بالأغلال يوم القيامة অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি ওযু করবে এবং ঘাড় মাসেহ করবে কিয়ামতের দিন তাকে শিকল পরানো হবে না। তারীখ আসবাহান, ১/২৪২। এই বিষয়ে বিভিন্ন হাদীসের বিশ্লেষন শেষে মোল্লা আলী কারী হানাফী রাহ. বলেন, قال أئمتنا إن مسح الرقبة مستحب أو سنة অর্থ: আমাদের ইমামগণ বলেছেন, ঘাড় মাসেহ করা মুস্তাহাব অথবা সুন্নাত। আল-আসরারুল মারফুয়াহ, পৃষ্ঠা- ৩১৫। কোন কোন আলেম বিদআত বলেছেন। তবে দলিলের আলোকে বিদআত নয় বলেই মনে হয়।

প্রশ্নঃ 1713
আসসালামুলাইকুম, আমার পরিচিত এক লোক ১ টা মেয়ে বাচ্চা পালতে আনছে । যারা পালতে আনছে তারা নিঃসন্তান ছিলো । তাদের অনেক ধণ-সম্পদও আছে। বর্তমানে সেই মহিলা মৃত্যুশয্যায় । যখন সে একটু সুস্থ ছিলো তখন সে বার বার তার এক বিশ্বস্ত ঘনিষ্ট আত্মীয়র কথা বলেছে সে যেন তার মৃত্যুর পর এই পালিত বাচ্চা কে লালন পালন করে বিয়ে দেয় । এখন আমার প্রশ্নঃ ১) যেহেতু এই মহিলা ওসীয়ত করে গেছে সেহেতু তার মৃত্যুর পর তার আত্মীয়র কি এই বাচ্চার দেখাশুনা করা ফরয হয়েছে? ২) কোন কারণে মহিলা কখনোই চায় না এই বাচ্চা তার স্বামীর কাছে থাক। আর মহিলার মৃত্যুর পর যদি তার স্বামী এই বাচ্চা কে তার সেই আত্মীয়কে না দেয় তাহলে তার আত্মীয়র কি কোন পাপ হবে? অথবা এই আত্মীয়র কি করনীয়?
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এটা ওসিয়াত নয়, অনুরোধ। যদি ঐ মহিলা অনুরোধ রক্ষা করে তাহলে ভাল। না করলে গোনাহ হবে না। মৃত্যুপথযাত্রী মহিলার অনুরোধক্রমে যদি ঐমহিলা বাচ্চাটিকে লালন-পালন করতে আগ্রহী হয় তাহলে মৃত্যুপথযাত্রী মহিলার স্বামীর জন্য অবশ্যক যে মহিলাকে তিনি লালন-পালন করার জন্য অনুরোধ করেছেন তার কাছে বাচ্চাটিকে দিয়ে দেয়া। কারণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন মহিলা, তার স্বামী নয়। আর ক্ষেত্রে মিরাছের কোন মাসআলা প্রযোয্য নয়। সুতরাং স্বামীর জন্য বাচ্চাটিকে আটকে রাখা জায়েজ হবে না। যদি মৃত্যুপথযাত্রী মহিলা ঐ বাচ্চার জন্য সম্পদের কোন ওসিয়ত করে তাহলে ঐমহিলার এক তৃতীয়াংশ সম্পদ দ্বারা সেই অসিয়ত পূরণ করা যাবে। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1757
ওজুতে গাড় মাসেহ করা জায়েয কিনা?আমি শুনেছি এটা নাকি বিদাত.দলিল সহ জানাবেন.ধন্যবাদ।
08 Jan 2026

ঘাড় মাসেহ করার ব্যাপারে কয়েকটি দূর্বল হাদীস বর্ণিত আছে।

তার একটি হলো, قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من توضأ ومسح عنقه لم غل بالأغلال يوم القيامة অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি ওযু করবে এবং ঘাড় মাসেহ করবে কিয়ামতের দিন তাকে শিকল পরানো হবে না। তারীখ আসবাহান, ১/২৪২। এই বিষয়ে বিভিন্ন হাদীসের বিশ্লেষন শেষে মোল্লা আলী কারী হানাফী রাহ. বলেন, قال أئمتنا إن مسح الرقبة مستحب أو سنة অর্থ: আমাদের ইমামগণ বলেছেন, ঘাড় মাসেহ করা মুস্তাহাব অথবা সুন্নাত। আল-আসরারুল মারফুয়াহ, পৃষ্ঠা- ৩১৫। কোন কোন আলেম বিদআত বলেছেন। তবে দলিলের আলোকে বিদআত নয় বলেই মনে হয়।

প্রশ্নঃ 1758
শায়েখ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ সাহেব বলেছিলেন, যে সমস্ত খেলাধুলাইয় শরীর চর্চা হয়না মানে শুধু বসে বসে সময় নষ্ট করে আনন্দ নেয়া হয় সেসকল খেলাধুলা হারাম যেমন মোবাইল এ গেমস… এগুলা হারাম!! আমি একজন কম্পিউটার সায়েন্স এর ছাত্র… আমার গেমস খেলতে ভালো লাগে এবং বানাতেও চাই… কিন্তু যদি এই গেমস ই হারাম হয় তাহলে গেমস বানিয়ে আমার উপার্জনও হারাম হবে… আমি আমার উপার্জন হারাম পথে করতে চাইনা…পাশাপাশি আমার শিক্ষক হবার ইচ্ছা আছে…তবে কম্পিউটার সাইয়েন্সের অনেক ফিল্ড…যেকোনো দিকে আমার ভালো লাগতে পারে…যেমন ফটোশপ…ফটো এডিট করা…কিন্তু ইসলামে ছবি তুলাই হারাম যাদের জীবন আছে… তাই এ বিষয়ে পূর্ণ ধারণা জানতে চাচ্ছি…
08 Jan 2026

আপনি কম্পিউটার বিভাগেই সচ্ছ একটি পেশা গ্রহন করুন। যেখানে হারামের কোন সন্দেহ থাকবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,إِنَّ الْحَلاَلَ بَيِّنٌ وَإِنَّ الْحَرَامَ بَيِّنٌ وَبَيْنَهُمَا مُشْتَبِهَاتٌ لاَ يَعْلَمُهُنَّ كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ فَمَنِ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ اسْتَبْرَأَ لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ وَمَنْ وَقَعَ فِى الشُّبُهَاتِ وَقَعَ فِى الْحَرَامِ নিশ্চয় হালালকাজগুলো বলে দেয়া হয়েছে এবং হারামগুলোও বলে দেয়া হয়েছে। এই দুয়ের মাঝে আছে সন্দেহযুক্ত বিষয়। অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। সুতরাংযে সন্দেহ থেকে বেচেঁ থাকবে সে তার ধর্ম ও সম্মানকে মুক্ত রাখবে আর যে সন্দেহের মধ্যে পতিত হবে (অর্থাৎ হালাল নাকি হারাম তা স্পষ্ট হচ্ছে না এমন সন্দেহ যুক্ত কোন কাজ করবে) সে হারাম কাজ করবে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪১৭৮; সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫২। আপনি যেগুলো বলেছেন সেগুলো আসলে সন্দেহযুক্ত বিষয়। একদিলে তাকালে জায়েজ মনে হয় আবার অন্যদিকে তাকালে না জায়েজ মনে হয়। সুতরাং আপনি সকল সন্দেযুক্ত বিষয় থেকে বিরত থাকুন। আল্লাহ আপনাকে তাওফীক দিন।

প্রশ্নঃ 1756
আস্সালামু আলাইকুম। কেমন আছেন? আমি যদি সেমাই,চিনি,দুধ,নারকেল,কিসমিস ইত্যাদির সমন্বয়ে ফিতরা আদায় করতে পারবো? জানালে উপকৃত হবো। বিঃদ্রঃ উল্লেখিত সামান দিলে আমাদের এলাকার গরিব লোকেরা অনেক খুশি হয়।
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, পারবেন। তবে একটি ফিতরার সর্বনিম্ন মূল্যে যেন অতিক্রম করে।

প্রশ্নঃ 1755
রোযা অবস্থায় এহতেলামের কারণে ফরয গোসল করার সময় নাভির ভেতর পানি পৌছাতে হবে কিনা?
08 Jan 2026

শরীরের বাহ্যিক সকল অংশে পানি পৌছাতে হবে। সুতরাং নাভির ভিতরেও পানি পৌছাতে হবে।

প্রশ্নঃ 1754
Ami Jahangir sir er Rahe Belawat boi ta nite chai
08 Jan 2026

যোগাযোগ করে করুন, আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স, ঢাকা অফিস: 01730 74 70 01, 01791 66 66 65, ঝিনাইদহ অফিস: 01791 66 66 63, 01791 66 66 64

প্রশ্নঃ 1752
আসসালামু আলাইকুম। ১। ৪ রাকাত বিশিষ্ট সুন্নাত নামায কি ২ রাকাত ২ রাকাত করে পড়া উত্তম না এক সাথে ৪ রাকাত পড়ায় উত্তম? ২। যখন মসজিদে যাই তখন তাহিয়াতুল মসজিদের এর ২ রাকাত সুন্নাত পড়তে হয়। আমার প্রশ্ন হলো ফরয নামাযের আগে যে সুন্নাত গুলো আছে ঐগুলো পড়লে কি তাহিয়াতুল মসজিদের নামায হয়ে যাবে কি? যেমন ফজর, যোহর (৪ রাকাত)? না তাহিয়াতুল মসজিদের নামায আলাদা ভাবে আগে পড়তে হবে তারপর অন্য সুন্নাত পড়তে হবে? আশা করি আমার প্রশ্ন বুঝতে পেরেছেন।
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

১। ৪ রাকাত বিশিষ্ট সুন্নাত নামায এক সালামে চার রাকআত পড়বেন।

২। সময় থাকলে আগে তাহিয়্যাতুল মসজিদ দুই রাকআত পড়ে নিবেন। সময় না থাকলে ওয়াক্তের সুন্নাতই পড়বেন। তবে ফজরের নামাযের সুন্নাত মসজিদে পড়লে তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়ার দরকার নেই। ফজরের সুন্নাত বাড়িতে পড়লে তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়া যাবে কিনা এই নিয়ে কিছুটা বিতর্ক আছে। আপনি যে কোন একটা পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 1753
আমি পশ্রাব করার পর কুলুপ ব্যবহার করি। তারপর কিছুক্ষণ পর অজু করি, অজু শেষএ দাঁড়ানোর পর দুই থেকে তিন ফুটো পশ্রাব বের হয়, তারপর সম্ভাব্য জায়গায় পানি দিয়ে, আবার অজু করি এবং নামায পরি, আমার অজু ও নামাজ হয়েছে কি?
08 Jan 2026

জ্বী, আপনার ওযু ও নামায হয়ে গেছে। এমন হলে যেখানে পেশার লাগার সম্ভাবনা সেই জায়গাটুকু ভাল করে ধুয়ে নিবেন।

প্রশ্নঃ 1751
আস সুন্নাহ ট্রাস্ট থেকে প্রকাশিত সকল বই একসাথে কিনতে কত টাকা লাগতে পারে যদি বলতেন তাহলে উপকার হয়…আর ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গগীর স্যারের সকল ভিডিও কি আপনাদের কাছে ডিভিডি আকারে পাওয়া যাবে..?
08 Jan 2026

যোগাযোগ করে করুন, আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স, ঢাকা অফিস: 01730 74 70 01, 01791 66 66 65, ঝিনাইদহ অফিস: 01791 66 66 63, 01791 66 66 64

প্রশ্নঃ 1750
Assalaamu alaikum, sir, ami ekjon Indian muslim. Pesay school teacher. Ami hanafi mazhab mene boro hoechi. Tablig er satheo jukto. Kintu amader somajer bohu riti amar shirk, bidat bole mone hoy. Tabligi nisab boitar bohu jaigay amar sondeho lage. Amader hanafi alimder ke jiggasa kore kono sontos jonok uttar pai nai. Tokhon ami Dr Abdullah Jahangir saheber waz youtube e suni. Ami ovivuto hoe jay. Tarpor onar Hadiser name Jaliati boiti pori. Amar mone hoy sarata jibon ami gafel hoe chilam. Mone hoy jeno notun kore musalman hote hobe. Onar sob boi porte lagi. Onar somosto waz download kori. Amar mone hoy amar kache duniar sorbo sera alim uni. Onek derite holeo nijer jibon take sunnate utvasito korte perechi ami unar jonno. Unake khub valobese feli ami .unar intikale ami khub shock pai. Buk fete kanna ase amar. Mohan Allah unake Jannatul Firdous nosib korun . Sir ami assunnah trust er sathe kotha bolte chai. India theke kivabe somvob plz janaben. Onar sob boi ki ekhane pathano jabe plz janan. I love sir Abdullah Jahangir. He is my philosopher and guide. Khub afsos hoy unar sathe kotha bolte parlam na bole. Allah unake valo rakhun . Amin
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার কথাগুলো পড়ে অনেক ভাল লাগলো। আমরাও দুআ করি আল্লাহ যেন স্যার রহ. কে জান্নাত নসী করেন। আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের সেক্রেটারী সাহেবের নাম্বার হলো 01718136962।

ভারতে বই পাঠানোর নির্দিষ্ট কোন নিয়ম আমরা এখনো চালু করতে পারি নাই। আপনি আমাদের ওয়েবসাইড থেকে অনেকগুলো বই ডাউনলোড করে পড়তে পারেন। আমরা আপনার জন্য দুআ করি, আল্লাহ আপনাকে সুস্থ ও নিরাপদে রাখুন।

প্রশ্নঃ 1749
আসসালামু আলাইকুম শাঈখ ১। ইমামের পিছনে নামায পড়ার সময় ইমাম যখন সামি আল্লা-হু লিমান হামিদাহ বলে রুকু থেকে উঠেন তখন আমাদেরও কি এটাই বলে উঠে রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ……ফিহী বলব না আমরা উঠে শুধু রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ………ফিহী বলব? ২। নামাযের মধ্যে যদি প্রসাবের বেগ বা বায়ুর বেগ হয় কিন্তু সেটাকে কন্ট্রোল করে নামায পড়া হয় তাহলে কি নামায হবে বা নামাযের কোনো ক্ষতি হবে কি?
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا ، وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا ، وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ ، وَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا ، وَإِذَا صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا أَجْمَعُونَ আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে তাকে অনুসরণ করার জন্য… যখন তিনি সামিয়াল্লাহুলিমান হামিদাহ বলবেন তখন তোমরা রব্বানা ও লাকাল হামদ বলবে…। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৩৪। সুতরাং মুক্তাদিরা শুধু রব্বানা ও লাকাল হামদ বলবে।

২। অধিক বেগ নিয়ে নামায না পড়াই ভাল।

প্রশ্নঃ 1748
জুম্মার সালাতের আগে ও পরে কত রাকাত সুন্নাত নামাজ আছে?
08 Jan 2026

রাসূলুল্লাহ সা. জুমুআর ফরজ সালাতের পূর্বে সুন্নাত সালাত আদায়ের জন্য বলেছেন। সহীহ বুখারীর এই হাদীসটি লক্ষ করুন: عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَتَطَهَّرَ بِمَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ ثُمَّ ادَّهَنَ ، أَوْ مَسَّ مِنْ طِيبٍ ثمَّ رَاحَ فَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ اثْنَيْنِ فَصَلَّى مَا كُتِبَ لَهُ ثُمَّ إِذَا خَرَجَ الإِمَامُ أَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الأُخْرَى সালমান ফারসী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন ভালভাবে গোসল করে তেল বা সুগন্ধি ব্যবহার করে (মসজিদে) গমন করবে অতঃপর (মসজিদে) কাউকে না ডিঙিয়ে সাধ্যানুযায়ী নামায পড়বে এবং যখন ইমাম খুতবা দেয়ার জন্য বের হবে তখন চুপ করে তা শুনবে, তার এক জুমুআ থেকে অপর জুমুআর মাঝের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯১০। এই হাদীসে রাকআত সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয় নি। আলেমগণ বলেছেন দুই রাকআত থেকে শুরু করে যত ইচ্ছা পড়বে, যত বেশী পড়বে সওয়াব ততো বেশী হবে। রাকআত সংখ্যার ব্যাপারে বিভিন্ন সাহবী থেকে বিভিন্ন সংখ্যা বর্ণিত আছে। দুই রকআত. চার রাকআত ইত্যাদি। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন, আমাদের দেয়া 0469 নং প্রশ্নের উত্তর্। জুমুআর ফরজের পরে দুই, চার বা এর চেয়ে বেশী সংখক রাকআত সুন্নাত সালাত আদায় পারেন। নিচের হাদীসগুলো দেখুন: عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا ، قَالَ : صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْجُمُعَةِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعِشَاءِ আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা. এর সাথে সালাত আদায় করেছি যুহরের আগে দুই রাকআত, যুহরের পরে দুই রাকআত, জুমুআর পরে দুই রাকআত, মাগরিব পরে দুই রাকআত এবং এশার পরে দুই রাকআত। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৬৯। عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمُ الْجُمُعَةَ فَلْيُصَلِّ بَعْدَهَا أَرْبَعًا আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ জুমুআর নামায পড়বে সে যেন তার পরে চার রাকআত আদায় করে । সহীহ মুসলিম হাদীস নং ২০৭৩। উক্ত হাদীসদ্বয়ে আমরা দুই এবং চার রাকআত পড়ার প্রমান পায়। এছাড়া সাহাবীদের থেকে ছয় রাকআত পড়ার কথাও সহীহ হাদীসে পাওয়া যায়। সুন্নাত নামায রাকআত নির্দিষ্ট নয়। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 1747
সাড়ে বায়ান্ন তোলা রোপার দাম কত?
08 Jan 2026

৫০ হাজার টাকার মত। আপনি জুয়েলারী দোকানে গিয়ে শুনে নিলে সবচেয়ে ভাল হয়।

প্রশ্নঃ 1746
তাফসীর ফি যিলালিল কুরআন কতটুকু নির্ভরযোগ্য? আর এর রচয়িতা সাইয়িদ কুতুব শহীদ এর ইলমি যোগ্যতা,আকীদা ও ফিকহি মানহাজ সম্পর্কে জানতে চাই।
08 Jan 2026

কোন যোগ্যতার অভাব তার নেই। তিনি সহী আকীদার মানুষ। তবে মানুষ হিসাবে ভুলভ্রান্তি সবার হয়, তারও হয়েছে।এই বিষয়ে স্যার রহ. এর মতামত জানতে দেখুন, আমাদের দেয়া 0174 ও 395 নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 1745
আসসালামুআলাইকুম আমি এর আগে যাকাত নিয়ে question করে answer পেয়েছিলাম কিন্ত আমি সঠিক ভাবে বুঝতে পারিনি (১৮০৮) আমি আবারও question টা করছি:-সেটা হল আমার কাছে ২৫০০০০টাকা সাথে ৬ ভরি ৮আনার মত gold আছে.এক্ষেএ কি আমাকে দুটোর উপরই যাকাত দিতে হবে?নাকি শুধু টাকার উপর যাকাত দিতে হবে?.উওর টা আবার জানালে উপকৃত হব.ধন্যবাদ
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনাকে দুটোর উপরই যাকাত দিতে হবে। টাকা না থাকলে শুধু স্বর্ণের যাকাত দিতে হতো না। প্রয়োজনে 01734717299

প্রশ্নঃ 1744
আসসালামু আলাইকুম, আমি ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (র.) এর সব বই পড়েছি। আমি বিশ্বাস করি তিনি পুরাপুরি সুন্নতের উপর আমল করতেন। তাই আমি উনাকে অনুস্মরণ করি যেন পুরাপুরি সুন্নতের উপর চলতে পারি। তাই আমি জানতে চাই উনি কিভাবে নামায পড়তেন? ঊনি কি রাফউল ইয়াদায়ন করতেন? জোরে আমিন বলতেন?
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। তিনি সাধারণত হানাফী মাজহাব মেনে চলতেন। এগুলোে করতেন না। এমন প্রশ্ন করবেন না। প্রয়োজনে 01734717299

প্রশ্নঃ 1743
আসসালামুলাইকুম, কেউ আমার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করেছে ভুল বুঝে। আমিও খুব কষ্ট পাইছি। কিন্তু আমি আল্লাহকে বলছিঃ হে আল্লাহ আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম। কিন্তু তার খারাপ ব্যবহারের কথা আমার প্রায় মনে পড়ে কষ্ট পাই। যদিও তার ঐ ব্যবহারের প্রতি আমার কোন অভিযোগ নাই। তার মানে কি আমি তাকে ক্ষমা করতে পারিনি?
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি ক্ষমা করতে পেরেছেন। মন খারপ হতেই পারে। আল্লাহ আপনাকে ভাল রাখুন।

প্রশ্নঃ 1742
মসজিদে প্রথম কাতারে মুসল্লীগণ বসে আছেন তাদের পেছনে অর্থাৎ দ্বিতীয় বা তার পরের কাতারে বসে কুরআন হাতে নিয়ে তেলাওয়াত করা যাবে কিনা?অনেক সময় কোন কোন ভাই সামনে গিয়ে তেলাওয়াত করতে বলেন কারও পেছনে বসে কুরআন তেলাওয়াত নাকি ঠিক না-কথাটি কি সহীহ?
08 Jan 2026

কারও পেছনে বসে কুরআন তেলাওয়াত ঠিক না কথাটি পুরোপুরি ঠিক না। তবে কুরআনের সম্মানার্থে সামনে বসে পড়া ভাল। তবে পিছনে বসেও পড়া যায়।

প্রশ্নঃ 1741
আস্সালামুলাইকুম, আমি আমেরিকায় থাকি,এবং এক সময় টাকা সমস্যা থাকার কারণে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার শুরু করি এবং প্রথম দিকে তা ছিল ০% ইন্টারেস্ট, আলহামদুলিল্লাহ চাকরি পাবার পর আমার বাবা অনেক টাকা লোন ছিল যা শোধ করতে থাকি যার কারণে ব্যাঙ্ক টাকা দিতে দেরি হয় আর ইতি মধ্যে আমার ব্যাঙ্ক ইন্টারেস্ট আসা শুরু করে প্রতি মাসে আমাকে ৩০-৪০ ডলার করে ইন্টারেস্ট দিতে হয়,আমার সামনে ২ টা পথ হয় বাবার লোন শোধ করা নাহয় নিজের টা শোধ করা, আমি সুদ কে ঘৃণা করি, এই ক্ষেত্রে আমার করণীয় কি, আমার কাছে এতো টাকা নেই যে আমি একসাথে শোধ করতে পারি, এই সুদ দেয়া তে আমার অন্যায় হবে?
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই ধরণের লেনদেনে জড়ানোই তো হারাম হয়েছে। এখন তো আর কিছু করার নেই। প্রথমে নিজেরটা শোধ করুন, তারপর বাবারটা।

প্রশ্নঃ 1739
Assalamualaikum! 1.kono mohila ba poros sodo sondorjo rokko ba dekanor jonno porda kore othoba 1ta cheler jonnoy kono meye porda korle ta ki kono shirk hobe, jodi hoy tahole eta kon porjayer shirk? 2.amra onk somoy sodo amader ma-babar boka theke bacar jonny salat aday kori, ete ki kono shirk hobe? 3.kew jodi bandar shate somporkita kono gonah onner maddome khoma ceye ney tahole a ki hobe?
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, পর্দা করা, নামায পড়া এগুলো শিরক হবে না। তবে নিয়তটা পরিবর্তন করলেই তো লৌকিকতা থেকে বেঁচে থাকা যায়।

৩। যদি তিনি মাফ করে দেন তাহলে মাফ হবে।

প্রশ্নঃ 1740
আসসালামু আলাইকুম, আমি আপনাদের এখানে থেকে জানতে পারলাম যে, পুরুষ আর মহিলাদের নামাযের তেমন কোনো পার্থক্য নেই। পুরুষ আর মহিলাদের নামাযের মধ্যে যদি তেমন কোনো পার্থক্য না থাকে তাহলে আমাদের সমাজের বেশিরভাগ মহিলাদের নামায ত্রুটিপূর্ণ (এমনকি আমাদের পরিবারসহ)। এখন আমার প্রশ্ন হল স্যারের বা আপনাদের কাছে এমন কোনো বই আছে যাতে মহিলাদের নামাযের পুর্নাজ্ঞ বিবরণ দলীলসহ আছে। অথবা আপনি একটু বিস্তারিত বললে ভাল হয়। পুরুষ আর মহিলাদের নামাযের পার্থক্য কতটুকু হতে পারে হাদিস অনুযায়ী? কারন আমরা যদি এখন নামায সহি করতে বলি তাহলে কিছু দলিল দেখাতে বলবে বা দেখানো উচিৎ। আশা করি আমার প্রশ্ন বুঝতে পারছেন।
08 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালা্ম। আপনি বুঝতে ভুল করেছেন। পুরুষ ও মহিলার নামাযের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই, এই কথার অর্থ এই নয় যে, আমাদের সমাজের মহিলাদের নামায ত্রুটি পূর্ণ। বরং আমাদের সমাজের মহিলারা সহীহ পদ্ধতিতেই নামায পড়েন। তেমন কোন পার্থক্য নেই, তার অর্থ হলো, তাকবীর, সূরা-কেরাত, তাসবীহ- দুআ সবকিছুতেই মহিলা পুরুষ এক রকম তবে রুকু ও সাজদাতে তারা একটু জড়সড় হবে যা গ্রহনযোগ্য হাদীসে থেকে পাওয়া যায়। তবে পুরুষের মত নামায আদায় করলেও আদায় হয়ে যাবে। ইমাম বুখারী রহ. একজন তাবেয়ীর কথা এভাবে বলেছেন, وكانت أم الدرداء تجلس في صلاتها جلسة الرجل وكانت فقيهة. অর্থ: উম্মে দারদা নামাযের মধ্যে পুরুষের মত বসতেন। তিনি ফকীহ ছিলেন। সহীহ বুখারী, ৮২৭ নং হাদীসের পূর্বে। দেখুন যদি একই রকম হতো তাহলে এভাবে বলা যেত না যে, তিনি পুরুষের মত বসতেন। এভাবে বলা হয়েছে কারণ, অন্য মহিলারা পুরুষের মত বসতেন না, তবে উম্মে দারদা বসতেন। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া 38 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।
প্রশ্নঃ 1738
একজন মহিলার কত ভরি সোনা থাকলে যাকাত দিতে হবে?
08 Jan 2026

শুধু স্বর্ণ থাকলে সাড়ে সাত ভরি হলে যাকাত দিতে হবে। র্স্বর্ণের সাথে রোপা বা টাকা থাকলে সব কিছু মিলে  সাড়ে বায়ান্ন ভরি রোপার মূল্য পৌছালে যাকাত দিতে হবে। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আমাদের দেয়া 507, 508, 510, 539  নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 1737
ব্যাবসা করার জন্য আমার ৩৮০০০০/= টাকা অন্যেদের কাছে দেওয়া আছে। আমাকে কি জাকাত দিতে হবে?
08 Jan 2026

হ্যাঁ, উক্ত টাকার যাকাত দিতে হবে।

প্রশ্নঃ 1736
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্রাহ। ১. আমার বাবার অনেক ঋণ আছে। শোধ করার পর ও আরও ২-৩ লাক টাকা ঋণ আছে । বাবসার কারনে আত্মীয়দের থেকে ১০ -১৫ বছর আগে ঋণ নিয়েছিলো। আমাদের ব্যবসায় লস হবার কারনে দেওয়া হয় নাই। ওরা এমেরিকাতে সেটেল । বর্তমানে প্রতিমাসে কিছু কিছু টাকা প্রদান করা হচ্ছে.। আমি একটা চাকুরী করি প্রায় ৪,০০,০০০/= জমিয়েছি। প্রতি বছর আমি জাকাত দেই.। আমি অবিবাহিতা । আমার প্রায় ২ বড়ি স্বনও আছে যা আমি ফুফু থেকে গিফ পেয়েছি। আমি টাকার উপর জাকাত দেই। স্বর্ণের সাথে টাকা যোগ করে জাকাত কখনও দেই নাই । দিতে হবে কি? ২. যেহেতু আমি বাবার সাথে আছি, আর বাবার ঋণ সবাই মিলে শোধ করছি তাহলে, কি আমার জাকাত ফরয। ৩. অতিরিক্ত কাপড় থাকতে জাকাত দিতে হয় শুনেছি। ৪.আমার আর মায়ের স্বর্ণ মিলেও সাড়ে ৭ বড়ি নাই। আমার মা বলল যেহেতু আমার বিয়ে হয় নাই সেহেতু স্বর্ণ যতই থাকুক আমার জাকাত আসবে না এ বিষয় এ জানাবেন। ৫.ব্যাংক হিসাব এ যা প্রতি মাসে বেতন হিসাবে জমা হয়ে ৪০০০০০/= আছে । এক বছর আগে ব্যাংক হিসাবে ছিল ৩৫০০০০ টাকা । কোন টাকার উপর যাকাত দিব।
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১ ও ৫ । যাকাতের নিসাব স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত ভরি এবং রোপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন ভরি। অর্থাৎ কারো কাছে যদি শুধু স্বর্ণ থাকে তাহলে সাড়ে সাত ভরির কম হলে যাকাত ফরজ হবে না। তেমনি যদি কারো কাছে শুধু রোপা থাকে তাহলে সাড়ে বায়ান্ন ভরির কমে যাকাত ফরজ হবে ন। তবে যদি কারো কাছে স্বর্ণ ও রোপা উভয়টি থাকে তবে নিসাব পরিমান নয় কিন্তু টাকার হিসাবে সেগুলোর মোট মূল্য সাড়ে বায়ান্ন ভরি রোপার মূল্যের সমপরিমাণ হয় তাহলে অধিকাংশ আলেমের মতে তার উপর যাকাত ফরজ। এই বিষয়ে আল-ফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু কিতাবের মধ্যে আছে:ويضم عند الجمهور (غير الشافعية ) أحد النقدين إلى الآخر في تكميل النصاب، فيضم الذهب إلى الفضة وبالعكس بالقيمة، অর্থ: শাফেয়ী মাজাহাবের আলেমগণ বাদে অধিকাংশ আলেমদের নিকটে যাকাতের নিসাব পূর্ণ করার ক্ষেত্রে একটি মুদ্রাকে আরেকটি মুদ্রার সাথে মিলাতে হবে। সুতরাং স্বর্ণকে রুপার সাথে মূল্যে হিসাবে মিলাতে হবে। আল-ফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু ৩/১৮২। বিখ্যাত ফিকহী বিশ্বকোষ আলমাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ এর আলেমগণ বলেছেন,ذَهَبَ الْجُمْهُورُ ( الْحَنَفِيَّةُ وَالْمَالِكِيَّةُ وَهُوَ رِوَايَةٌ عَنْ أَحْمَدَ وَقَوْل الثَّوْرِيِّ وَالأَْوْزَاعِيِّ ) إِلَى أَنَّ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ يُضَمُّ أَحَدُهُمَا إِلَى الآْخَرِ فِي تَكْمِيل النِّصَابِ অধিকাংশ আলেমগণ এই মত পোষন করেছেন যে, যাকাতের নিসাব পূর্ণ করার ক্ষেত্রে স্বর্ণ-রোপ্যকে একে অপরের সাথে মিলাতে হবে। যারা এই মত পোষন করেছেন তাদের মধ্যে আছেন হানাফী ও মালেকী আলেমগন, সাওরী ও আওযায়ী রহ.। এবং ইমাম আহমাদ রহ. থেকেও এক বর্ণনায় তিনি এই মত পোষন করেছেন বলে জানা যায়। আলমাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ ২৩/২৬৭। তদ্রুপ যদি কারো আছে নেসাবের চেয়ে কম স্বর্ণ কিংবা রোপা থাকে সাথে টাকা থাকে আর টাকার হিসাবে সেগুলোর মোট মূল্য যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলার রোপার সমপরিমাণ হয় তাহলে তার উপরেও যাকাত ফরজ। উল্লেখ্য নিসাবের মালিক হওয়ার অর্থাৎ যাকত ফরজ হওয়া পরিমান সম্পদের মালিক হওয়ার এক বছর পর যাকাত আদায় করতে হবে। বছরের মাঝে সম্পদ কমে গেলেও যাকাত দিতে হবে এবং যাকাত দেয়ার সময় যত সম্পদ থাকবে সেটা হিসাব করে আড়াই পার্সেন্ট যাকাত দিতে হব।অর্থাৎ আপনার টাকা থাকার কারণে স্বর্ণকে টাকার মূল্যে হিসাব করে যাকাত দিতে হবে।আর ৪ লক্ষ টাকার যাকাত দিতে হবে। ২। ঐ টাকার মালিক কে? আপনি না আপনার বাবা? যদি মালিক আপনার বাবা হয় তাহলে হিসাব ভিন্ন হবে। ঋন হিসাব করতে হবে। আর যদি আপনি হন তাহলে আপনাকে যাকাত দিতে হবে। একসাথে থাকলেই যে পিতা মালিক হয় তা নয়। ৩। না, অতিরিক্ত কাপড়ের যাকাত দিতে হয় না। ৪। মায়ের সাথে আপনি হিসাব মেলাবেন না। যার যার হিসাব তার তার। বিয়ে না হলে যাকাত দিতে হয় না, এটা ভুল ও অবস্তাব কথা।

প্রশ্নঃ 748
আসসালামুয়ালাইকুম। আমি বাংলায় শিক্ষিত। ভাল আরবি জানিনা। আমাকে ভালো একটি কোরানের তাফসিরে বইএর নাম বলুন যাতে আমি কোরআন সহজে বুজতে পারি।
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, কুরআন ভালভাবে বুঝতে হলে আরবী ভাষা জানার বিকল্প নেই। তাই ভাল হয় যদি আপনি আরবী ভাষা মোটামুটি আয়ত্ব করেন। বাংলা ভাষায় ভাল তাফসীর গ্রন্হ হিসাবে আপনি তাফসীরে ইবনে কাসীরের বাংলা তরজামা পড়তে পারেন। সংক্ষিপ্ত অনুবাদ ও তাফসীরের জন্য শায়খ তকী উসমানী লিখিত তাওযীহুল কুরআন পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 1712
jon proti fitra koto dibo? fitra ki kaddo drobbo diye dewa baddotamulok? sobai jodi kaddo drobbo de oder jonno kosto hoye jai? oraw kaddo drobbo nite chaina, taka dite bole. r taka diye ki fitra adai hobena?
08 Jan 2026

অর্থ দ্বারা যাকাতুল ফিতর আদায় করার ব্যাপারে ফকীহদের মাঝে দুটি মত বিদ্যমান। হবে এবং হবে না। ইমাম আবু হানিফা, সুফিয়ান সাওরী, উমার ইবনে আব্দুল আযীয, ইবনে তাইমিয়া রহ.সহ প্রমুখ আলেমের নিকট অর্থ দিয়ে আদায় করলে জায়েজ হবে বরং ক্ষেত্রে বিশেষ এটাই উত্তম হবে। পক্ষান্তরে ইমাম মালেক, আহমাদ, শাফী রহ.সহ অনেত আলেম বলেছন খাদ্য ছাড়া অন্য কোন কিছু দিয়ে আদায় করলে হবে না। যারা বলেন খাদ্য দিয়েই ফিতরা দিতে হবে তাদের দলীল: ইবনে উমার রা. বলেন, রা. فرض رسول الله صلى الله عليه و سلم زكاة الفطر صاعا من تمر أو صاعا من شعير على العبد والحر والذكر والأنثى والصغير والكبير من المسلمين وأمر بها أن تؤدى قبل خروج الناس إلى الصلاة অর্থ: রাসূলুল্লা সা. সদকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন এক সা. (সাড়ে তিন কেজির মত) খেজুর অথবা জব। স্বাধীণ, গোলাম, নারী, পুরুষ, ছোট-বড় প্রতিটি মুসলিমের উপর। এবং তিনি ঈদের সালাতে বের হওয়ার পূর্বেই ফিৎরা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪৩২। এছাড়া অনেক সহীহ হাদীসে গম, কিসমিস, আখরোট ও খাবারের কথা উল্লেখ আছে। যারা বলেন অর্থ তথা টাকা-পয়সা দিয়ে আদায় করলেও জায়েজ হবে তাদের দলীল: সাহাবী মুআয রা. ইয়ামানবাসীদের বলেন, ائتُوني بعَرْضٍ : ثيابٍ خَميصٍ ، أَو لَبيسٍ في الصدقة ، مكان الشعير والذُّرة ، أَهوَنُ عليكم ، وَخَيْرٌ لأصحاب رسولِ الله -صلى الله عليه وسلم- بالمدينة অর্থ: তোমরা জব এবং ভুট্টার পরবর্তে পোশাক সদকা (যাকাত কিংবা ফিতরা) দাও। কেননা তা তোমাদের জন্য সহজ এবং রাসূলুল্লাহ সা. এর সাহবীদের জন্য কল্যানকর। সহীহ বুখারী, বা-বুল আরযি ফিয যাকাত, ২/১১৬। এছাড়া উমার ইবনে আবদুল আযীয, হাসান বসরী রহ. ফিতরার ক্ষেত্রে মূল্য নিতে বলেছেন বলে বর্ণিত আছে। দেখুন, মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ১০৪৬৯-১০৪৭৩। ১০৪৭০ নং হাদীসটির আরবী পাঠ নিরুপ: حدثنا وكيع ، عن قرة ، قال : جاءنا كتاب عمر بن عبد العزيز في صدقة الفطر : نصف صاع عن كل إنسان ، أو قيمته نصف درهم এ বিষয়ে আরো জানতে দেখুন, আলফিকহুল ইসলাম্যিু ও আদিল্লাতুহু ৩/ ৩৮৩,৩৮৫। বর্তমানে মূল্য দ্বার ফিতরা জায়েজ হওয়া মতটাই বেশী যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়। ঈদের দিন এখন মানুষের ময়দা বা কিসমিস বেশী প্রয়োজন হয় না । বেশী প্রয়োজন হয় চাল, গোশাত, সেমাই-চিন, জামা কাপড় ইত্যাদি। সহীহ হাদীসে অবশ্য খাবারের কথা বলা হয়েছে সে হিসাবে আপনি চাল দিতে পারেন। এখন যদি আমরা সবাই তাদেরকে চাল বা ময়দা দেই তাহলে গরীবরা অন্য জিনিসগুলো কোথায় পাবে? বিতর্কের সূত্রে যদি কেউ বলে এগুলো বিক্রি করে গোশত, সেমাই-চিনি কিনবে তাহলে এটা সবাই স্বীকার করবেন যে, গরীব মানুষেরা এক্ষেত্রে ন্যায্য মূল্য পাবে না। কারণ এসব ক্ষেত্রে নানা জনের নানান রকম দ্রব্য এক হয়ে মান কমে যায়, যার কারণে মূল্যও কমে যায়। সতরাং সাহাবীদের থেকে যেহেতু খাদ্যের বদলে কাপড় দেয়ার কথা উল্লেখ আছে এবং একদল আলেম মুদ্রা দিলেও জায়েজ হবে বলেছেন সেক্ষেত্রে কেউ যদি মুদ্রা দিয়ে যাকাতুল ফিতরা আদায় করে তাহলে বিতর্কে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমাদের যার যেভাবে ভাল লাগবে আমারা সেভাবে ফিতরা আদায় করবো। তবে সব সময় গরীব মানুষের প্রয়োজনটার দিকে বেশী লক্ষল করবো। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফীক দিন। আমীন। জন প্রতি ফিতরা সরকারীভাবে কত নির্ধারন হয়েছে সেটা দেখুন। এলাকাভেদে ফিতরার টাকার পরিমানে তারতম্য হয়ে থাকে। খাদ্য দিয়ে দিলে সাড়ে তিন কোজি জব, খোজুর বা চাল। আর গম দিয়ে দিলে অর্ধেক দেয়া যায়।

প্রশ্নঃ 1719
আসসালামু আলাইকুম, আমার মা এক দোকান থেকে সৌদির খেজুর কিনেছেন। বাসায় দেখি, প্যাকেটের গায়ে লেখা Gift from the government… আর এটাও লেখা Not For Sale এখন এই খেজুর কি আমরা খেতে পারব।
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কিনে ফেলেছেন, এখন না খেয়ে আর কী করবেন। তবে এই ধরণের পন্য ক্রয় থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। কেননা এতে অপরাধে সহায়তা করা হয়। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1734
আমাদের জমিগুলা বর্গা দিয়ে দিই….ওরা আমাদের তিন ভাগের এক ভাগ ধান দেয়, আমরা প্রায় ৩০০ মণ ধান পাই যা দিয়ে আমাদের ১ বছর চলে, মাঝে মাঝে ধান বিক্রি করি টাকার প্রয়োজনে। এখন প্রশ্ন আমাদের কি জাকাত দিতে হবে? দিলে কিভাবে দিবো?
08 Jan 2026

ফসলের জাকাত হলো ফসল যদি বৃষ্টির পানিতে হয় তাহলে ১০ ভাগের একভাগ দিতে হয় আর যদি কৃত্রিম পানিতে হয় তাহলে ২০ ভাগের একভাগ দিতে হয়। অবশ্য যদি ২৫ মন পরিমান হয় তাহলে যাকাত দিতে হবে। বিস্তারিত জানতে দেখুন, শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহি. রচিত বাংলাদেশে উশর বা ফসলের যাকাত : গুরুত্ব ও প্রয়োগ বইটি।

প্রশ্নঃ 1733
ড, জাহাঙ্গীর Khandaker হুজুরের একটা ভিডিও দেখেছি, তিনি বলেছেন যে, একদিন এক লোক আসলেন পুরানো পল্টন এলাকার তার একটি কোটি কোটি টাকা দামের জমি এক ডেভেলপার নিয়ে গিয়েছি, আর ফিরত দেয় না। তখন হুজুর কিছু দোয়া/আমল করতে বলেছিলেন, এক মাস এর মধ্যে ডেভেলপার দলিল ফিরত দিলেন, আমার প্রশন হুজুর কি কি দোয়া কিভাবে পরতে বলেছিলেন? একটু জানালে অনেক উপকার হবে। কয়েকদিন আগে আমি আপনাকে একটি প্রশন করে ছিলাম, প্রশন নাম্বার ১৭৭৩, পড়লে আরও ক্লিয়ার হবেন, আমার ১৫ লক্ষ টাকার বিল পাচ্ছি না, তাই খুব কষ্টে আছি। কি আমল করলে এই বিপদ থেকে উদ্দার হতে পারি।
08 Jan 2026

স্যার রাহি. ঠিক কী কী দুআ করতে বলেছিলেন তা আমাদের জানা নেই। তবে রাহে বেলায়াত বইয়ের নিম্নের দুআগুলো এই ধরণের সমস্যার ক্ষেত্রে আমল করতে হয়। ১৮৭ নং থেকে ১৯২ এবং ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ২৬, ১৫৭ নং দুআ। আপনি আপনার সাধ্যমত আমল করতে থাকুন। বিশেষত ১৮৭ থেকে ১৯২ পর্যন্ত। স্যার রহি. সম্ভবত এই দুআগুলোই আমল করতে বলেছিলেন। প্রয়োজনে 01734717299

প্রশ্নঃ 1732
দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল জানার জন্য বাংলা কি কি কিতাব অধ্যয়ন করা যায়?
08 Jan 2026

এখন বাজারে প্রচুর বই বেরিয়েছে। নামায, যাকাত, হজ্ব ইত্যাদির জন্য আলাদা আলাদা বই বেরিয়েছে। আপনি খোঁজ করে সেগুলো কিনতে পারেন। শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহ. বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ৩০টির মত বই লিখেছেন। আপনি সেখানে থেকে কিছু বই বা সবগুলো কিনতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1731
আস সালামুআলাইকুম আমি আবুধাবি থেকে মো: বায়হান বলছি, আমি যখন আমার স্ত্রী কে বলি আজ থেকে তোমাকে তিন তালাক দিলাম, তখন বা সেই সময় আমার স্ত্রীর রিতুস্রাব ছিল তাহলে তালাক হয়ে যাবে কি? শ্রদ্ধেয় স্যার আমি আপনার কাছে থেকে খুব শিগ্রই উত্তর টা বলে আশা করছি। ধন্যবাদ
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনার প্রশ্নের উত্তর সম্ভবত পেয়েছেন। আপনার স্ত্রী তালাক হয়ে গেছে। আপনারা চিরদিনের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। ঋতুস্রাবের সময় তালাক দেয়া পাপ, তবে তালাক হয়ে যাবে। প্রয়োজনে 01734717299

প্রশ্নঃ 1730
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহী ওয়া বারকাতুহু । ভাই আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে,ডঃ খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহিমাহুল্লাহ স্যার,উনে কি ভাবে নামাজ আদায় করতেন। বুকের উপর হাত বেধে নাকি নাভির নিচে হাত বেধে। আমি জানি দুই ভাবেই নামাজ পরা যায়,কিন্তু স্যার কি ভাবে পতেন? স্যারের আত্মার শান্তি কামনা করছি।
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই ধরণের প্রশ্ন করবেন না। তবে এতটুকু বলে রাখি স্যার সাধারণত হানাফী মাজহাব অনুসরণ করতেন।

প্রশ্নঃ 1729
আসসালামুয়ালাইকুম। একজন এতিম ছেলে মাদ্রাসায় পড়ছে। অভাবের কারনে আর পড়তে পারছেনা। এই তথ্যটি আমি ফেইসবুকে পাওয়ার পর আমি বলছি যে ঐ এতিম ছেলের দায়িত্ব আমি নিব এবং তারপর থেকে তার পড়াশুনার খরচ দিচ্ছি। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমি আমার যাকাতের টাকা দিয়ে ঐ ছেলের পড়াশুনা করাতে পারবো কিনা?
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, আপনি জাকাতের টাকা দিয়ে তার পড়াশোনার খরচ চালাতে পারবেন।

প্রশ্নঃ 1728
আস সালামুআলাইকুম, আমি জানতে চাচ্ছি স্ত্রী তালাক ব্যাপারে আমি আমার স্ত্রী কে এ ভাবে বলেছি আজ থেকে তোমাকে ৩ তালাক দিলাম। -এটাকি তালাক হয়ে যাবে?
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এভাবে যদি না হয় তাহলে আর কীভাবে হবে। তালাক হয়ে গেছে। আপনার চিরদিনের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন।

প্রশ্নঃ 1727
আস সালামু আলাইকুম। আমি বালেগ হওয়ার পর অসাবধানতা আর অবহেলা বশত কয়েক বছরের নামাজ ইচ্ছাকৃতভাবে আদায় করিনি। পরবর্তীতে হেদায়েত পাই আল্লাহর রহমতে। এখন কি আমাকে এই কয়েক বছরের নামাজ কাযা আদায় করতে হবে? (উমরী কাযা নামে সমাজে যেটা প্রচলিত)। কিয়ামতের দিন সবার প্রথমে আমার নামাজের হিসাব নেয়া হবে। নামাজ অসম্পূর্ণ হলে সব আমল ধ্বংস হয়ে যাবে। তাহলে কি আমাকে এই কয়েক বছরের এতগুলো নামাজ কাযা করতে হবে? নাকি আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করলে আল্লাহ মাফ করবেন? (যেহেতু হাদীসে ইচ্ছাকৃত নামাজ বাদের কাযার ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি}
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রাসূলুল্লাহ সা. এর যুগে কোন মুসলমান ইচ্ছাকৃত ভাবে কোন নামাযই কাজা করেন নি সুতরাং ইচ্ছাকৃত ভাবে বছর বছর নামায কাজা করলে কি করতে হবে সে বিষয়ে সহীহ হাদীসে পাওয়া যাবে না। অধিকাংশ আলেমের অভিমত হলো বহুদিন ধরে ইচ্ছাকৃত নমায ছেড়ে দিলে (যাকে অনেকেই উমরি কাজা বলে) উক্ত নামায আদায় করতে হবে। তা সে যত ওয়াক্তই হোক না কেন। আর আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, যেন তিনি ক্ষমা করে দেন। তবে কোন কোন আলেম বলেছেন,উমরি কাজা করা লাগবে না, আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে, মাফ চাইতে হবে। সর্বাবস্থায় যথাসম্ভভ শুধু ফরয সালাতগুলো কাযা আদায় করা উচিত। সাধ্যের মধ্যে কাযা আদায় করার পাশাপাশি বেশি বেশি নফল সালাত আদায় করতে হবে এবং তাওবা ইসতিগফার করতে হবে। দলীল এবং ইমাম ও ফকীহদের মতামত বিস্তারতি জানতে দেখুন, আলফিকহুল ইসলামিয়্যতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৩৪/২৬; আলফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু, ২/৩০১; আদদুররিল মুযিয়্যাহ শারহু দুররিল বাহিয়্যাহ, ১/১০৮।

প্রশ্নঃ 1726
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লহি ওয়া বরকতুহু। এখন অনেক আলেমকে বলতে শুনছি যে, সম্মিলিত মোনাজাত নাকি বিদাআত। আর ফরয নামাজ পর আমরা যে মোনাজাত সেটাও নাকি বিদাআত। এই সম্পর্কে দলিলসহ বিস্তারিত জানতে চাই।
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।নামাযের পর সম্মিলিত মোনাজাতের কোন হাদীস নেই। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আমাদের দেয়া 29 নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 1725
রমজান মাসে স্বামী-স্ত্রি সহবাস করা যাবে কি না?
08 Jan 2026

রোজা থাকা অবস্থায় করা যাবে না। রাতের বেলা করা যাবে।

প্রশ্নঃ 1724
আযান ও একামতেৱ মাঝে হাত উঠিয়ে দুয়া কৱা যাবে কি?
08 Jan 2026

যে কোন দুআ হাত উঠিয়ে করা যায়। দুআতে হাত উঠাতে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। সুতরাং এই সময়ও হাত উঠিয়ে দুআ করা যাবে।

প্রশ্নঃ 1723
তারাবীহ নামাজ ২০ রাকাত এর সহীহ দলিল জানতে চাই, তারাবীহ নামাজ সর্ব্বোচ্চ কত রাকাত?
08 Jan 2026

হযরত উমর রা. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, তার সময়ে লোকেরা মসজিদে জামায়াতের সাথে বিশ রাকআত নামায আদায় করেছেন। হাদীসটি নিম্নরুপ: عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ : كَانُوا يَقُومُونَ عَلَى عَهْدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ فِى شَهْرِ رَمَضَانَ بِعِشْرِينَ رَكْعَةً – قَالَ – وَكَانُوا يَقْرَءُونَ بِالْمِئِينِ ، وَكَانُوا يَتَوَكَّئُونَ عَلَى عُصِيِّهِمْ فِى عَهْدِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ مِنْ شِدَّةِ الْقِيَامِ অর্থ: সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, লোকেরা উমার রা. আমলে রমজান মাসে বিশ রাকআত নামায পড়ত। তিনি বলেন, তারা একশ আয়াত পড়ত। দাড়িয়ে থাকতে কষ্ট হত তাই তারা উসমান রা. এর যুগে লাঠিতে ভর দিত। আস-সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং ৪৮০১। হাদীসটি সহীহ। ইমাম নববী, বদরুদ্দীন আইনি, আল্লামা যাইলায়ী, ইবনে হুমামসহ প্রমূখ মুহাদ্দীস হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। দেখুন, আল-মাজমু আলা শারহিল মুহাজ্জাব ৪/৩২; উমদাতুল কারী ৪/৪৮৫; তাবয়ি-নুল হাকাউক শারহে কানযুদ দাক-য়ীক ২/৩৪৯। তারাবীহ নামাযের গুরুত্ব ও রাকআত সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া 63 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 1722
হালত- আমার বাড়ি গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর পৌরসভায়। থাকি ময়মনসিংহে। বাড়িতে যাওয়ার সময় ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা যাই,যার দূরত্ব ৮৮ কিমি। গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে কালিয়াকৈর পৌরসভার সীমানা শুরু হতে আরও ১৫ কিমি। ১) বাড়িতে যাওয়ার সময় যদি গাজীপুর চৌরাস্তায় ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে পৌছাই,তাহলে জোহরের নামাজের জন্য কি জামাতের অপেক্খা করব না একাকী পড়ে কালিয়াকৈর রওয়ানা হব? ২) যদি একাকী নামায পড়ি তাহলে পুরা নামায পড়তে হবে নাকি কসর হিসেবে ২ রাকাত আদায় করলেই হয়ে যাবে? ৩) নাকি বাসায় গিয়ে পুরো নামায পড়তে হবে? উল্লেখ্য,গাজীপুর চৌরাস্তায় বাস পরিবর্তন করতে হয়। চৌরাস্তা থেকে কালিয়াকৈরের দূরত্ব ১৫ কিমি হলেও জ্যামের কারণে মাঝেমাঝে ২ ঘন্টাও লেগে যায়। হালত-২ যদি জোহরের নামায জামাতের সাথে ময়মনসিংহ থেকে আদায় করার সময় সাথে আসরও একাকী পড়ে রওয়ানা হই,যাতে রাস্তায় গাড়ির সমস্যায় না পড়তে হয়-জায়েয হবে কিনা?
08 Jan 2026

১। আপনি তিনটিই করতে পারেন। নামায সব সময় জামাতে পড়াই উত্তম, তবে সফর হিসাবে আপনি একা একা পড়তে পারেন। একা একা পড়লে কসর করবেন অর্থাৎ দুই রাকআত পড়বেন।যদি জোহরের নামাযের সময় থাকতে থাকেত বাসায় চলে আসেন এবং নামায পড়েন তাহলে পুরো পড়তে হবে। ২। আসরের সময় সন্ধা পর্যন্ত থাকে তাই আপনি গাজীপুরে এসেই আসর পড়বেন। এভাবে দুই নামায একত্রে পড়লে নামায সহীহ হবে কি না তা নিয়ে আলেমদের মাঝে মতভিন্নত্ আছে। সুতরাং এটা ত্যাগ করায় শ্রেয়।

প্রশ্নঃ 1721
আসসালামু আলাইকুম আমি সিরাতুন্নবী (স) পড়তে চাই। আমাকে ভাল প্রকাশনী এবং বই এর নাম বললে খুবই উপকৃত হতাম।
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি শায়খ আব্দুর রহমান মুবারকপুরী লিখিত ‘আর-রাহিকুল মাখতুম” পড়তে পারেন। প্রসিদ্ধ কোনো প্রকাশনা সংস্থারটা কিনবেন।

প্রশ্নঃ 1720
প্রথম ১০ দিন রহমত, মাঝের ১০ দিন মাগফিরাত, শেষ ১০ দিন নাজাত রমজান সম্মন্ধে এটা কি হাদিসের কথা?
08 Jan 2026

এটা হাদীসের কথা। একেবারে বানোয়াট না। তবে হাদীসটি দূর্বল। হাদীসটির মূল পাঠ হলো” وَهُوَ شَهْرٌ أَوَّلُهُ رَحْمَةٌ ، وَأَوْسَطُهُ مَغْفِرَةٌ ، وَآخِرُهُ عِتْقٌ مِنَ النَّارِ অর্থ: রমাজানের প্রথম অংশ রহমত, মাঝের অংশ মাগিরাত এবং শেষের অংশ জাহান্নাম থেকে মুক্তি। সহীহ ইবনে খুজায়মা, হাদীস নং ১৮৮৭; শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং ৩৩৩৬। উক্ত হাদীসে আলী ইবনে জায়েদ ইবন জাদয়ান নামে একজন রাবী আছে। আল্লামা জাহাবী, ইমাম দারা কুতনী, ইমাম অাহমাদসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ তাকে দূর্বল বলেছেন। শায়খ আলবানী রহ. হাদীসটিক দুর্বল বলেছেন। দেখুন,সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, হাদীস নং ৮৭১ । এই অর্থে আরো একটি হাদীস বর্ণিত আছে। সেটিকে শায়খ আলবানী রহ. মুনকার বলেছেন। দেখুন, সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, হাদীস নং ১৫৬৯।

প্রশ্নঃ 1718
আসালামু আলাইকুম। আমার বাবা প্রবাসী। তিনি একটি হোটেলের (রেস্টুরেন্ট) বাবুর্চি হিসেবে কাজ করেন। সেখানে উনাকে শুয়োরের মাংস ধরতে হয় বা রান্না করতে হয়। এখন উনার এইখান থেকে উপার্জিত টাকা হালাল না হারাম।
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন, (ولا تعاونوا على الإثم والعدوان) মন্দকর্ম ও সীমালংঘনের কাজে তো একে অপরকে সহযোগিতা করো না। সূরা মায়েদা, আয়াত নং ২। শুয়োরের গোশত রান্না করা নি:সন্দেহে মন্দকাজে সহযোগিতা। তাই এই কাজ হারাম। এমনকি ঐ হোটেলে বা হারাম কাজ হয় এমন কোথাও অন্য হালাল কাজ করা থেকে বিরত থাকাও একজন মূমিনের একান্ত কর্তব্য। কেননা এটা একধরনের সন্দেহের স্থান। আর রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, إِنَّ الْحَلاَلَ بَيِّنٌ وَإِنَّ الْحَرَامَ بَيِّنٌ وَبَيْنَهُمَا مُشْتَبِهَاتٌ لاَ يَعْلَمُهُنَّ كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ فَمَنِ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ اسْتَبْرَأَ لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ وَمَنْ وَقَعَ فِى الشُّبُهَاتِ وَقَعَ فِى الْحَرَامِ নিশ্চয় হালালকাজগুলো বলে দেয়া হয়েছে এবং হারামগুলোও বলে দেয়া হয়েছে। এই দুয়ের মাঝে আছে সন্দেহযুক্ত বিষয়। অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। সুতরাং যে সন্দেহ থেকে বেচেঁ থাকবে সে তার ধর্ম ও সম্মানকে মুক্ত রাখবে আর যে সন্দেহের মধ্যে পতিত হবে (অর্থাৎ হালাল নাকি হারাম তা স্পষ্ট হচ্ছে না এমন সন্দেহ যুক্ত কোন কাজ করবে) সে হারাম কাজ করবে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪১৭৮। তথ্যসূত্র: মারকাজুল ফাতাওয়া, ফাতাওয়া নং ৬৩৯৭

প্রশ্নঃ 1717
ডা: আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের বিতিরের সালাতের আলোচনা আছে কি? থাকলে ইউটিউবে আপলড করলে ভালো।
08 Jan 2026

বিতর সালাত সম্পর্কে স্যার রহ. রাহে বেলায়াত  বইয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। পৃষ্ঠা ৪১৩-৪৩০।

প্রশ্নঃ 1716
Jummah namaz ar neom jahangir sir ar kon boite pabo. Oddhai soho janaile valo hoi
08 Jan 2026

ঐভাবে বিস্তারিত কোন বইয়ে আছে বলে আমার জানা নেই। তবে খুতবাতুল ইসলাম বইয়ে জুমআ নিয়ে একটা একটা খুতবা আছে। ঐ খুতবাটি দেখতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1715
ধন্যবাদ ভাইয়া। শুধু একটা প্রশ্ন ছিল। ড.আব্দুল্লাহ্ জাহাঙ্গীর(রহ্) স্যার তাহাজ্জুদ আর তারাবীকে একই সালাত মনে করতেন নাকি দুটোকে আলাদা মনে করতেন? জানালে খুব উপকৃত হবো
08 Jan 2026

তারাবীহ তাহাজ্জুদ দুটিকেই তিনি কিয়ামুল্লাইল মনে করতেন। ঘুমের আগে পড়লে সাধারণ কিয়ামুল্লাইল আর ঘুম থেকে উঠে পড়লে তাহাজ্জুদ। রমাজানের কিয়ামুল্লাইলকে তারাবীহ বলা হয়। এটাই শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. এর অভিমত। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আল-ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা ৩৬০-৩৬৭।

প্রশ্নঃ 1714
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, সম্মানিত শায়েখ, আমাদের এলাকার একটি মসজিদের পূর্বদিকের বারান্দায় একজন বুজুর্গের মাযার (আগে মাযার ছিল পরে বারান্দা করতে গিয়ে তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে)৷ অপরদিকে, আরেকটি মসজিদের দক্ষিণদিকের পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত সামান্য অংশ কবরস্থানের জায়গা হিসেবে মতানৈক্য রয়েছে৷ কারোমতে, কবরস্থানের জায়গা, কারোমতে রাস্তার জায়গা নেয়া হয়েছে৷ আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এই দুই মসজিদে নামায পরা আমার জন্য কি জায়েয হবে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো, ইনশাআল্লাহ৷
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নামায জায়েয না হওয়ার কোন কারণ নেই। নামায জায়েয হবে।

প্রশ্নঃ 1711
আমাদের জমিগুলা বর্গা দিয়ে দিই….ওরা আমাদের তিন ভাগের এক ভাগ ধান দেয়, আমরা প্রায় ৩০০ মণ ধান পাই যা দিয়ে আমাদের ১ বছর চলে, মাঝে মাঝে ধান বিক্রি করি টাকার প্রয়োজনে। এখন প্রশ্ন আমাদের কি জাকাত দিতে হবে? দিলে কিভাবে দিবো?
08 Jan 2026

ফসলের জাকাত হলো ফসল যদি বৃষ্টির পানিতে হয় তাহলে ১০ ভাগের একভাগ দিতে হয় আর যদি কৃত্রিম পানিতে হয় তাহলে ২০ ভাগের একভাগ দিতে হয়। অবশ্য যদি ২৫ মন পরিমান হয় তাহলে যাকাত দিতে হবে। বিস্তারিত জানতে দেখুন, শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহি. রচিত "বাংলাদেশে উশর বা ফসলের যাকাত" বইটি।

প্রশ্নঃ 1710
কোরআন না বুঝে পড়লেও প্রত্যেকটি হরফ ১০ নেকি করে ছওয়াব? এই বিষয় বিস্তারিত জানতে চাই।
08 Jan 2026

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছন, مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا لاَ أَقُولُ الم َرْفٌ وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلاَمٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ যে ব্যক্তি কিতাবুল্লাহর একটি হরফ পড়বে তারে একটি সওয়াব হবে আর একটি সওয়াব দশটি সওয়াবের সমান। আমি এমন বলি না যে, আলিফ-লাম-মিম একটি হরফ বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মিম একটি হরফ। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ৩১৫৮। ইমাম তিরমিযীসহ মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। উক্ত হাদীসে অর্থ বুঝার কোন শর্ত করা হয় নি। সুতরাং অর্থ না বুঝে পড়লেও সওয়াব হবে। তবে কুরআনের বক্তব্য বুঝার জন্য অর্থ বুঝে পড়া অপরিহার্য্য।

প্রশ্নঃ 1709
আমি একটি অফিসে ১৫ লক্ষ টাকার বই সরবরাহ করি, কিন্তু দুর্ভাগ্য বশতঃ গত ৩/৪ বছর যাবত আমি আমার বিল পাইনি। তাতে আমার খুব আর্থিক কষ্ট হছে। আমি আমার টাকা কবে পাব, কত টাকা পাব, তার কোন নিশ্চয়তা পাচ্ছি না। এখন আমি জানতে চাইঃ আমার কি এই ১৫ লক্ষ টাকার যাকাত প্রতি বছর দিয়ে যেতে হবে? আমার হাতে ত আমার টাকা টা নাই / কবে পাব তারও কোন ঠিক নাই। এইভাবে কত দিন ঐ টাকার যাকাত দিব? আমি কিন্তু আমার এই টাকার মালিক। একদিন আমি পাবই। যখন পাব তখন থেকে টাকার যাকাত টা দিব নাকি যখন পাব তখন পূর্বের ৩/৪ বছরের বকেয়া হিসাব করে যাকাত দিতে হবে? আমি কি আমল করলে আমি আমার এই বিপদ থেকে উদ্দার হতে পারি। আমার জন্য দোয়া করবেন। নোট উত্তর টা ইমেইল করে ইউটিউব এর লিঙ্ক দেয়া হলে ভাল হবে।
08 Jan 2026

আপনি যদি নিশ্চিত হন যে, আপনি টাকা পাবেন তাহলে আপনাকে প্রতি বছরের যাকাত দিতে হবে। টাকা পাওয়ার পরে দিলেও চলবে। আর যদি এমন হয় যে, আপনি টাকা পেতে পারেন আবার নাও পেতে পারেন এক্ষেত্রে যাকত দিতে হবে কি না বা দিলেও কত দিনের দিতে হবে, এই নিয়ে আলেম ও ফকীহগণের মাঝে মতবিরোধ আছে। আল্লামা ইবনে কুদামা (প্রখ্যাত হাম্বলী ফকীহ) রহ. আল-মুগনী কিতাবের মধ্যে এই প্রশ্নের উত্তরে যা বলেছেন তার সার সংক্ষেপ হলো, এই ক্ষেত্রে দুটি মত। ১। দিতে হবে না। (অর্থাৎ এমন টাক যা পাওয়া যেতে পারে আবার নাও পাওয়া যেতে পারে সেই টাকার যাকাত দেয়া লাগবে না। তবে পাওয়া যাওয়ার পর এক বছর অতিবাহিত হলে সাধারণ নিয়মে যাকাত দিতে হবে। ) ক্বাতাদাহ, আবু ছাওর, ইসহাক রাহ. এবং আহলে ইরাক উক্ত মত পোষন করেন। ২। টাকা হাতে পাওয়ার পর বিগত প্রতিটি বছরের যাকাত দিতে হবে। (অর্থাৎ যদি ধার নেওয়া ব্যক্তির কাছে ৫ বছর টাকা থাকার পর ধার দেওয়া ব্যক্তিকেধারের টাকাপরিষোধ করে তাহলে ৫ বছরের যাকাতই ধার দেওয়া ব্যক্তিকে পরিষোধ করতে হবে। ) সুফিয়ান ছাওরী ও আবু উবাইদ উক্ত মত পোষন করেন। দ্বিতীয় মতটি উল্লেখ করার পর তিনি আরো একটি মতের কথা উল্লেখ করেছেন। সেটা হলো টাকা হাতে পাওয়ার পর এক বছরের যাকাত দিতে হবে। উমার ইবনে আব্দুল আযীয, ইমাম মালেক, হাসান বসরী, আওযায়ীসহ অনেক ফকীহ উক্ত মত পোষন করেছেন। আল-মুগনী, ইবেন কুদামা, ২/৬৩৭। আরবী পাঠ এই, الضرب الثاني : أن يكون على معسر أو جاحد أو مماطل به فهذا هل تجب فيه الزكاة ؟ على روايتين احداهما لا تجب وهو قول قتادة و اسحاق و أبي ثور وأهل العراق لأنه غير مقدور على الانتفاع به أشبه مال المكاتب والرواية الثانية يزكيه اذا قبضه لما مضى وهو قول الثوري و أبي عبيد لما روي عن علي رضي الله عنه في الدين المظنون قال إن كان صادقا فليزكه اذا قبضه لما مضى وروي نحوه عن ابن عباس رواهما أبو عبيد ولأنه مملوك يجوز التصرف فيه فوجبت زكاته لما مضى كالدين على المليء و للشافعي قولان كالروايتين وعن عمر بن عبد العزيز و الحسن و الليث و الأوزاعي و مالك يزكيه اذا قبضه لعام واحد শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বায ওউক্ত মত পোষন করেছেন। ফাতওয়ায়ে ইবনে বায, ইন্টারনেটে দেখুন এবং শুনুনهل تجوز الزكاة في المال الدين الذي ليس عند صاحبه؟ এই প্রশ্নে জবাব। আরো জানতে দেখুন, ইসলাম ওয়েব, ফাতাওয়া নং ১১৯১৯৪। আমাদের দেশে সাধারণত প্রথম মতটি মানা হয়। তবে দ্বিতীয় মতটি মানার ভিতরেই সাবধানতা। তবে আমার পরামর্শ হলো আপনি তৃতীয় মতটি মানবেন। টাকা হাতে পাওয়ার পর এক বছরের যাকাত দিবেন। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1708
আসসালামুআলাইকুম। 1. আমি একটি বাংলা অথ সহ কোরআন শরীফ কিনব। আপনাদের কাছে জানার আগ্রহ হল: কোরআন শরীফ ভালো বাংলা অনুবাদ করা হয়েছে, এমন একটি অনুবাদকের নাম বললে আমার জন্য ভালো হত। 2. কোরআন শরীফ এর ভালো তাফসীর করা হয়েছে এমন 2-1 টি তাফসীরের নাম বলুন।
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি তকী উসমানী হাফিজাহুল্লাহ লিখিত তাহওযীহুল কুরআন কিনতে পারেন। ২। তাফসীরে হিসাবে তাফসীরে ইবনে কাসীর পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 1707
আসসালামু আলাইকুম…। ১। পৃথিবী কোন সময়ে (মানে- সকাল, বিকাল, রাত) ধংস হবে? আমি অনেক আগে শুনছিলাম আছরের সময় নাকি ধংস হবে। । এটা কি সঠিক? যদি সঠিক হয়, তাহলে সারা পৃথিবীতে তো এক সঙ্গে দিন হয় না… তাহলে এটা কিভাবে সম্ভব? ২। সাধারণ মানুষের জন্য তাকলিদ করা কি জরুরী? এবং কেন? ৩। একজন সাধারণ (মূর্খ) অমুসলিমের কিয়ামতের দিন কিভাবে বিচার করা হবে?
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যে প্রশ্নগুলো ঈমান ও আমল সম্পর্কীত সেই সব প্রশ্ন করবেন।সাধারণ মানুষ যারা ধর্মের বিষয়াদী জানে না তাদেরকে অবশ্যই কোন আলেম থেকে বিষয়গুলো জেনে নিতে হবে। কারণ সে তো আর কুরআন হাদীস জানে না। এই অর্থে সকল অজানা মানুষকে তাকলীদ করতে হেব। ৩। আল্লাহর বিষয় আল্লাহর উপর ছেড়ে দিন।

প্রশ্নঃ 1706
এটা কি কোন হাদীসে আছে? রমজানের 30 দিনের 30 ফজিলত 1ম রমজানে = রোজাদারকে নবজাতকের মত নিষ্পাপ করে দেওয়া হয়। 2য় রমজানে = রোজাদারের মা -বাবাকে মাফ করে দেওয়া হয়। 3য় রমজানে = একজন ফিরিস্তা আবারও রোজাদারের ক্ষমার ঘোষনা দেয়। 4র্থ রমজানে = রোজাদারকে আসমানী বড় বড় চার কিতাবের বর্ন সমান সাওয়াব প্রদান করা হয়। 5ম রমজানে= মক্কা নগরীর মসজিদে হারামে নামাজ আদায়ের সাওয়াব দেওয়া হয়। 6ষ্ঠ রমজানে= ফিরিস্তাদের সাথে 7ম আকাশে অবস্থিত বাইতুল মামূর তাওয়াফের সাওয়াব প্রদান করা হয়। 7ম রমজানে= ফিরাউনের বিরুদ্ধে মুসা আঃ এর পক্ষে সহযোগিতা করার সমান সাওয়াব প্রদান করা হয়। 8ম রমজানে =রোজাদারের উপর হযরত ইবরাহীম আঃ এর মতো রহমত- বর্ষিত হয়। 9ম রমজানে= নবী-রাসূলদের সাথে দাড়িয়ে ইবাদতের সমান সাওয়াব দেওয়া হয়। 10ম রমজানে= রোজাদারকে উভয় জাহানের কল্যাণ দান করা হয়। 11তম রমজানে=রোজাদারের মৃত্যু নবজাতকের ন্যায় নিষ্পাপ নিশ্চিত হয়। 12তম রমজানে= হাশরের ময়দানে রোজাদারের চেহারা পূর্ণিমা চাদের মতো উজ্জল করা হবে। 13তম রমজানে=হাশরের ময়দানের সকল বিপদ থেকে নিরাপদ করা হবে। 14তম রমজানে= হাশরের ময়দানে হিসাব-নিকাশ সহজ করা হবে। 15তম রমজানে = সমস্ত ফিরিস্তারা রোজাদারের জন্য দোয়া করে। 16তম রমজানে= আল্লাহপাক রোজাদারকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করেন । 17তম রমজানে= একদিনের জন্য নবীগনের সমান সা্ওয়াব দেওয়া হবে। 18তম রমজানে = রোজাদার এবং তার মা-বাবার প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টির সংবাদ দেওয়া হয়। 19তম রমজানে= পৃথিবীর সকল পাথর- কংকর টিলা- টংকর রোজাদারের জন্য দোয়া করতে থাকে। 20তম রমজানে =আল্লাহরপথে জীবন দানকারী শহীদের সমান সাওয়াব প্রদান করা হয়। 21তম রমজানে = রোজাদারের জন্য জান্নাতে একটি উজ্জল প্রাসাদ নির্মান করা হয়। 22তম রমজানে= হাশরেরা ময়দানের সকল চিন্তা থেকে মুক্ত করা হয়। 23তম রমজানে= জান্নাতে রোজাদারের জন্য একটি শহর নির্মান করা হয়। 24তম রমজানে = রোজাদারের যে কোন 24টি দোয়া কবুল করা হয়। 25তম রমজানে= কবরের শাস্তি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়। 26তম রমজানে =40 বছর ইবাদতের সমান সা্ওয়াব প্রদান করা হয়। 27তম রমজানে= চোখের পলকে ফুলসিরাত পার করে দেওয়া হয়। 28তম রমজানে= জান্নাতের নেয়ামত দ্বিগুন করা হয়। 29তম রমজানে= এক হাজার কবুল হজ্জের সাওয়াব প্রদান করা হয়। 30তম রমজানে= পুরা রমজানের ফজিলত দ্বিগুন করা হয়।
08 Jan 2026

না, এটা হাদীস নয়। জাল-বানোয়াট কথা।

প্রশ্নঃ 1705
assalamualikum, amr akta question silo. chakrir porikkay written pass kore viva te jodi jogagok, suparis dia job neya jabe? viva te j jogajok, korbe tar e niyog hobe.
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এগুলো সর্বাবস্থায় নিষিদ্ধ। তবে আপনার যদি যোগ্যতা থাকে আর এছাড়া উপায় না থাকে তাহলে আপনার ওযর হয়তো আল্লাহ তায়ালা গ্রহণ করতে পারেন। অর্থাৎ সেটা আপনার এবং আল্লাহ তায়ালার মাঝের বিষয়।

প্রশ্নঃ 1704
assalamualikum, amr akta question silo. chakrir porikkay written pass kore viva te jodi jogagok, suparis dia job neya jabe? viva te j jogajok, korbe tar e niyog hobe.
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এগুলো সর্বাবস্থায় নিষিদ্ধ। তবে আপনার যদি যোগ্যতা থাকে আর এছাড়া উপায় না থাকে তাহলে আপনার ওযর হয়তো আল্লাহ তায়ালা গ্রহণ করতে পারেন। অর্থাৎ সেটা আপনার্ এবং আল্লাহ তায়ালার মাঝের বিষয়।

প্রশ্নঃ 1703
আসসালামু আলাইকুম। স্যারের হজ্জের দোয়া, মাসালা উপর কোন বই আছে? না থাকলে অনুগ্রহ করে বাজারে পাওয়া এমন ভাল বই এর নাম জানাবেন।
08 Jan 2026

ওয়াআলাইকুমুস সালাম। না, স্যার রহ. এর এই বিষয়ে কোন বই নেই। তবে আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট থেকে হজ্জ্বের উপর একটি বই প্রকাশ করা হবে ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্নঃ 1702
সূরা বাকারা, আয়াত ৩৮ আল্লাহ্ বলেনঃ আমি হুকুম করলাম, তোমরা সবাই নীচে নেমে যাও…। আমার প্রশ্ন হচ্ছে এখানে সবাই বলতে কি শুধু আদম আঃ ও মা হাওয়া বুঝানো হয়েছে? আমরা সাধারণত সবাই বলতে ২ এর অধিক বুঝি। কোরআনে এমন কোন আয়াত বা হাদিস আছে যে সেখানে বলা হয়েছে বেহেস্তে শুধু আদম আঃ ও মা হাওয়া ছিল, বেহেস্তে ওনাদের কোন সন্তান ছিল না, দুনিয়াতে আসার পর সন্তান জন্ম হলো?
08 Jan 2026

সবাই বলেতে আদম ও হাওয়া আ. উদ্দেশ্য।পূর্ববর্তী দুটি আয়াত থেকে স্পষ্ট যে, সেখানে তাদের সন্তান ছিল না। বরং তার দুজনই ছিলেন আর শয়তান তাদেরকে ধোকা দিলেন ফলে আল্লাহ তাদেরকে সেখান থেকে বের করে দিলেন। আরবীতে দুজনের বা একজনের ক্ষেত্রেও বহু বচবচনের সর্বনাম ব্যবহার হয়।

প্রশ্নঃ 1701
রোযা রেখে কি মুখে ক্রিম ব্যবহার করা যাবে কি?
08 Jan 2026

হ্যাঁ, যাবে। সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 1700
আসসালামুয়ালাইকুম, আমি এর আগে দুই বার কিছু প্রশ্ন করেছিলাম উত্তর পাইনি, বুঝতে পারছি না আমার প্রশ্ন আপনারা পেয়েছেন কিনা? সেই সাথে আর একটা প্রশ্ন করছি – বেনামাযী গরিব এতিম কে জাকাত দেয়া যাবে কিনা?
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার প্রশ্ন আমরা পেয়েছি। অনেক সময় কিছুটা সময় লাগে। আশা করি ধর্য্যের সাথে আমাদের সাথে থাকবেন। এছাড়া আমার যতদূর মনে পড়ে আপনার অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে। হ্যাঁ, বেনামাযী গরিব এতিমকে যাকাত দেয়া যাবে। তবে মুসলিম হতে হবে।

প্রশ্নঃ 1699
সিজদাহ তে কপাল নাক মাটিতে লাগবে নাকি শুধু কপাল দলিল সহ বলবেন।
08 Jan 2026

এই বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। অধিকাংশ আলেমের মতে শুধু কপাল রাখলেই হবে, নাক রাখা ওয়াজিব নয়, সুন্নাত। ইমাম আহমাদসহ আরেকদল আলেমের মতে ওয়াজিব। নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন: عن أبي حميد الساعدي : أن النبي صلى الله عليه و سلم كان إذا سجد أمكن أنفه وجبهته [ من ] الأرض ونحى يديه عن جنبيه ووضع كفيه حذو منكبيه আবু হুমাইদ আস-সাইদী থেকে বর্ণিত যে নবী সা. যখন সাজদা করতেন তখন তিনি নাক ও কপাল ভূমির উপর রাখতেন এবং তাঁর হাতকে প্বার্শ থেকে আলাদা রাখতেন আর হাত রাখতেন কাঁধ বরবার।সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ২৭০। ইমাম তিরমিযীসহ মুহাদ্দীসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করার পর বলেন, والعمل عليه عند أهل العلم أن يسجد الرجل على جبهته وأنفه فإن سجد على جبهته دون أنفه فقد قال قوم من أهل العلم يجزئه وقال غيرهم لا يجزئه حتى على الجبهة والأنف আলেমগণ এই পদ্ধতিতে আমল করতে বলেন যে, ব্যক্তি তার কপাল ও নাকের উপর সাজদা করবে। তবে যদি কেউ শুধু কপালের উপর সাজাদ করে নাক ব্যতিত তাহলে একদল আলেম বলেন, এটা যথেষ্ট হবে আর আরেকদল আলেম বলেন, যথেষ্ট হবে না যতক্ষন না কপাল ও নাকের উপর সাজদা না করবে। সুনানু তিরমিযী ২৭০ নং হাদীসের আলোচনা।

প্রশ্নঃ 1698
Nam ba imail address na dike ki ans. den na. Amer 2 ta qus. er Ans pai nai.
08 Jan 2026

ইমেইল না থাকলে অনেক সময় উত্তর দেয়া হয় না। নাম না থাকলে সমস্যা নেয়। আপনি পুণরায় প্রশ্ন করুন। ইনশাআল্লাহ উত্তর পাবেন।

প্রশ্নঃ 1697
Assalamu Alaikum, Vay gonaher kaj korle ki amol nosto hoy? Jodi hoy tobe sei gonaho gulor nam bolun.
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কুফরী করলে, মুরতাদ হলে আমল নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া অন্যান্য গুনাহ করলে সৎ আমলের সওয়াব নষ্ট হয় না তবে গুনাহের কারণে শাস্তি হতে পারে।

প্রশ্নঃ 1696
ভাই আমি রোজা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি । একজন পরিবার সহ বিদেশে থাকে, দেশের নাম (ফিনল্যান্ড) সেখানে (মাএ 3 ঘন্টা রাত আর 21 ঘন্টা দিনের আলো থাকে) সেখানে তারা কি ভাবে রোজা থাকবে। বিষয়টা খুব জরুরী এবং জটিল, please খুব জরুরী ভাবে জানাবেন। সাথে রেফারেন্স দিলে ভালো হয় please
08 Jan 2026

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কোন আলেমের সাথে পরামর্শ করুন। রোজার সাধারণ নিয়ম সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। এবং আমি জানতে পেরেছি যে, ফিনল্যান্ডর মুসলিমরা ২২ ঘন্টা রোজা রাখছেন।

প্রশ্নঃ 1695
আগামী মে মাসে অফিসিয়াল কাজে ১৫দিন স্কটল্যান্ড ও ৭ দিন ইংল্যান্ডে থাকতে হবে। এমতাবস্থায় রোজার হুকুম কি? রাখতেই হবে নাকি শিথিলতা রয়েছে।
08 Jan 2026

স্কটল্যান্ডের একাধিক শহরে যদি ১৫ দিন থাকেন তাহলে ঐসময় রোজা না রেখে পরে রাখলেও হবে আর ইংল্যান্ডেও রোজা না রেখে পরে রাখা যাবে। উল্লেখ্য সফর অবস্থায় রোজা না রেখে পরে রাখা যায়। শরয়ী দৃষ্টিতে সফর হলো বাড়ি থেকে ৮০ কি. মি দূরে ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করা। ১৫ দিন বা তার চেয়ে বেশী সময় থাকার নিয়ত করলে সে মুসাফির হবে না। তবে একাধিক শহরে ১৫ দিন থাকলে মুসাফির হিসাবে গণ্য হবে।

প্রশ্নঃ 1694
আমার প্রশ্ন হইলো বিয়ে ছাড়া হস্তমৈথুন থেকে বেচে থাকার উপায় কি?
08 Jan 2026

যে কোন গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার প্রধান মাধ্যম হলো তাকওয়া, আল্লাহভীতি। আল্লাহভীতির মাধ্যমে, আল্লাহ তায়ালার আজাবের ভয়ে মানুষ গুনাহ থেকে বিরত থাকে। সুতরাং আল্লাহভীতি হৃদয়ে বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত এক্ষেত্রে হাদীসে বেশী বেশী রোজা রাখতে বলা হয়েছে। আপনি আল্লাহকে ভয় করে চলুন, বেশী বেশী দুআ করুন। আমরা দুআ করি আল্লাহ যেন এই সমস্যা থেকে সবাই রক্ষা করেন।

প্রশ্নঃ 1693
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু ১. আমি প্রতিবার জাকাত আদায় করি ঈদ এর আগে এবার থেকে নিয়ত করছি রোজার শুরুর দিকেই আদায় করার চেষ্টা করবো ইন-শা-আল্লাহ। (রোজার শুরুতে দিলে মানুষ বেশি উপকৃত হয় বলে মনে হচ্ছে) সেক্ষেত্রে আমার করণীয় কি? জাকাত আদায় এর পর যদি বেতন,বোনাস পাই ওটার আবার জাকাত দিতে হবে নাকি এর পরের বছর গুলোতে রোজার শুরুতে হিসাব করে জাকাত আদায় করলেই হবে? ২. ওযুর সময় মাথা মাসেহ করার সঠিক নিয়ম কি?( বিশেষ করে মহিলা দের ক্ষেত্রে)
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার বেতন ও বোনাসের ডাকাত দিতে হবে। নিয়মটা হলো, ঈদের আগে যখন আপনার যাকাতবর্ষ পূর্ণ হবে তখন আপনি আপনার যাকাতের টাকার হিসাব করবেন। এরপর রোজার শুরুতে যত টাকা যাকাত বাবদ দিয়েছেন সেই টাকা মোট টাকা থেকে বাদ দিয়ে বাদ দিয়ে বাদ বাকী টাকা দিয়ে দিবেন। ২। মাথার চার ভাগের একভাগ যে কোন প্রান্ত থেকে মাসেহ করলই হবে।

প্রশ্নঃ 1692
assalamu alaikum, 1. bangla hadis kitab/book (sahi bokhari, moslim, tirmizi) khon prokashanir ta kinbo? 2.dr.abdullah jahangir sir ke allahtala behesta nasib karun. sir er boi aponader kas theke kinesi. stock 10 ti silo. baki golo ki print ase?
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীসের এই কিতাবগুলো ইসলামিক ফাউন্ডেশনেরগুলো কিনবেন। ২। আমাদের কাছে নেই। তবে ঢাকায় বিভিন্ন লাইব্রেরীতে খোঁজ করলে পেতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1691
মেয়েরা কি নন-মাহরাম পুরুষের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারবে? আজকাল ইউটিউবে অনেক মহিলা ক্বারীর তিলাওয়াতের ভিডিও দেখা যায়, এমনকি মেয়েদেরকে বিভিন্ন কুরআন তিলাওয়াতের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেও দেখা যায়, এটা জায়েজ আছে কি?
08 Jan 2026

এগুলো শয়তানের নতুন চক্রান্ত। এসব থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

প্রশ্নঃ 1690
Jara visa r bebsha kore tader tk halal hobe ki?
08 Jan 2026

ভিসার ব্যবসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানালে উত্তর দেয়া সহজ হবে।

প্রশ্নঃ 1689
আসসালামু আলাইকুম, ভাই স্যারের নতুন বয়ান গুলো কেন আপলোড দেওয়া হচ্ছেনা আর অনেক বয়ান আছে যে গুলোর এক পর্ব আছে বাকি গুলা নাই কেন।
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলকে অবহিত করবো।

প্রশ্নঃ 1688
Veter namaz ar sotek neom ke? 1st 2 rakat ar por dareya sura fatahar por takber bola doya kunut pora amra pora thake. ata nake hanafi majhab neyom. ata sotek kena janaben.
08 Jan 2026

হ্যাঁ, এটা সঠিক। প্রয়োজনে রাহে বেলায়াত দেখুন।বিতর সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন, আমাদের দেয়া 117, 167, 168, নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 1687
আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন যাকাতের ক্ষেত্রে নিসাবের পরিমাণ হিসেবে কি স্বর্ণের মূল্য বিবেচ্য হবে না রুপার মূল্য? আমি বিভিন্ন আলেমদের আলচনায় এটা বুঝেছি যে নিসাব ধরতে হবে সর্বনিম্ন মুল্যের সম্পদের মূল্য হিসেবে। সে অর্থে রুপার মূল্য ধরতে হয়। আমি যখন আমার পরিবার পরিজনের নিকট এই কথা বলি তারা আমার সাথে একমত পোষণ করেন না। তাদের কথা স্বর্ণের হিসেব স্বর্ণের আরা রুপার হিসেব রুপার। আমার কাছে তাদের কে বলার মত কোন হাদিস বা ইজমা/কিয়াস বা অন্য কোন দলিল নেই। এ ব্যাপারে আপনাদের সাহায্য কামনা করছি। প্রশ্ন সঠিক ভাবে বুঝাতে আমি কয়েকটি উদাহরণ দিচ্রবেন। আমি আশা রাখছি আস সুন্নাহ ট্রাস্ট আমাকে এই উদাহরণের ভিত্তিতে উত্তর জানাবেন এবং উপযুক্ত দলিলাদি দিয়ে সাহায্য করবেন। উদাহরণ ১ঃ এক ব্যাক্তির নিকট ৫ ভরি স্বর্ণ ও ৫ ভরি রুপা আছে যা ১ বছর অতিবাহিত হয়েছে। তাহলে কি তার উপর যাকাত ফরয হবে? এখানে আমি বুঝেছি যাকাত দিতে হবে। যেহেতু ৫ ভরি স্বর্ণের মূল্য সাড়ে ৫২ ভরি রুপার দামের সমান বা তার বেশি। তাই স্বর্ণ ও রুপা মিলিয়ে যা দাম আসবে তার ২.৫% যাকাত দিতে হবে। আমি কি সঠিক বুঝেছি? উদাহরণ ২ঃ কারো নিকট ১০০০০০ (এক লক্ষ) আছে যা ১ বছর অতিবাহিত হয়েছে। তাহলে কি তার উপর যাকাত ফরয হবে? এক্ষেত্রে আমি বুঝেছি তাকে যাকাত দিতে হবে। কেননা ১ লক্ষ টাকা ৫২.৫ ভরি রুপার দামের চেয়ে বেশি। যদিও ১ লক্ষ টাকায় ৭.৫ ভরি স্বর্ণ পাওয়া যাবেনা কিন্তু নিসাবের সর্বনিন্ম দাম রুপার হিসেবে করলে যাকাত দেওয়া আবশ্যক। উদাহরণ ৩ঃ কারো নিকট শুধু ৩ ভরি স্বর্ণ আছে যা তিনি নিত্য ব্যাবহার করেন। তার কি যাকাত দিতে হবে? আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।
08 Jan 2026

যাকাতের নিসাব স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত ভরি এবং রোপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন ভরি। অর্থাৎ কারো কাছে যদি শুধু স্বর্ণ থাকে তাহলে সাড়ে সাত ভরির কম হলে যাকাত ফরজ হবে না। তেমনি যদি কারো কাছে শুধু রোপা থাকে তাহলে সাড়ে বায়ান্ন ভরির কমে যাকাত ফরজ হবে ন। তবে যদি কারো কাছে স্বর্ণ ও রোপা উভয়টি থাকে তবে নিসাব পরিমান নয় কিন্তু টাকার হিসাবে সেগুলোর মোট মূল্য সাড়ে বায়ান্ন ভরি রোপার মূল্যের সমপরিমাণ হয় তাহলে অধিকাংশ আলেমের মতে তার উপর যাকাত ফরজ।এই বিষয়ে আল-ফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু কিতাবের মধ্যে আছে: ويضم عند الجمهور (غير الشافعية ) أحد النقدين إلى الآخر في تكميل النصاب، فيضم الذهب إلى الفضة وبالعكس بالقيمة، অর্থ: শাফেয়ী মাজাহাবের আলেমগণ বাদে অধিকাংশ আলেমদের নিকটে যাকাতের নিসাব পূর্ণ করার ক্ষেত্রে একটি মুদ্রাকে আরেকটি মুদ্রার সাথে মিলাতে হবে। সুতরাং স্বর্ণকে রুপার সাথে মূল্যে হিসাবে মিলাতে হবে। আল-ফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু ৩/১৮২। বিখ্যাত ফিকহী বিশ্বকোষ আলমাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ এর আলেমগণ বলেছেন, ذَهَبَ الْجُمْهُورُ ( الْحَنَفِيَّةُ وَالْمَالِكِيَّةُ وَهُوَ رِوَايَةٌ عَنْ أَحْمَدَ وَقَوْل الثَّوْرِيِّ وَالأَْوْزَاعِيِّ ) إِلَى أَنَّ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ يُضَمُّ أَحَدُهُمَا إِلَى الآْخَرِ فِي تَكْمِيل النِّصَابِ অধিকাংশ আলেমগণ এই মত পোষন করেছেন যে, যাকাতের নিসাব পূর্ণ করার ক্ষেত্রে স্বর্ণ-রোপ্যকে একে অপরের সাথে মিলাতে হবে। যারা এই মত পোষন করেছেন তাদের মধ্যে আছেন হানাফী ও মালেকী আলেমগন, সাওরী ও আওযায়ী রহ.।এবং ইমাম আহমাদ রহ. থেকেও এক বর্ণনায় তিনি এই মত পোষন করেছেন বলে জানা যায়। আলমাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ ২৩/২৬৭। তদ্রুপ যদি কারো আছে নেসাবের চেয়ে কম স্বর্ণ কিংবা রোপা থাকে সাথে টাকা থাকে আর টাকার হিসাবে সেগুলোর মোট মূল্য যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলার রোপার সমপরিমাণ হয় তাহলে তার উপরেও যাকাত ফরজ। উল্লেখ্য নিসাবের মালিক হওয়ার অর্থাৎ যাকত ফরজ হওয়া পরিমান সম্পদের মালিক হওয়ার এক বছর পর যাকাত আদায় করতে হবে। বছরের মাঝে সম্পদ কমে গেলেও যাকাত দিতে হবে এবং যাকাত দেয়ার সময় যত সম্পদ থাকবে সেটা হিসাব করে আড়াই পার্সেন্ট যাকাত দিতে হব। আপনার উদাহরণগুলোর সিদ্ধান্ত ঠিক আছে। আর কারো কাছে শুধু তিন ভরি স্বর্ণ থাকলে তাকে যাকাত দিতে হবে না। সুতরাং আপনাদের যদি শুধু স্বর্ন থাকে সাতে সাত ভরির কম তাহলে যাকাত দিতে হবে না। তদ্রুপ রোপা যদি থাকে সাড়ে বায়ান্ন ভরির কম তাহলেও যাকাত দিতে হবে না। তবে দুটোই যদি থাকে তাহেল এক সাথে হিসাব করে দেখবেন যে, সাড়ে বায়ান্ন ভরি রোপার মূল্য যত টাকা হয় স্বর্ণ-রোপার মূল্য টাকার হিসাবে তত হয় কি না । যদি হয় তাহলে যাকাত দিতে হবে না হরে হবে না। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 1686
Assalamualikum, Amar biyer jonno patro pokkho asi ferot jay.2, 3 jon hujur amar jonno dekheche. 2 jon bollo amer biya bondho koreche kufri kalam dia. Tara koraner bivinno doa dia amake katiche amake bollo kufri kalam hujur ra pura kataite pare na. Amake base base amol korte bollen.Ami to namaj kalam pori. Job kori, tai khub basi somoy pai na. Ja pai chesta kori. R Kotho kotho amol korte hobe Kufri kalam katbe. Ami kom somoy a basi amol kivabe korbo.Janaben.
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমার মনে হয়, কুফুরী কালাম টালাম কিছু না। আপনার বয়স, কী চাকুরী করেন, লিখলে উত্তর দেয়া সহজ হতো। আমাদের দেশের অনেক মানুষই চাই স্ত্রী হিসেবে এমন মেয়ে ঘরে আসুক যে হবে সহজ-সরল, দুনিয়ার ম্যার-প্যাচ কম বুঝবে এবং মেয়েটে যেন তার নিয়ন্ত্রনে থাকে, তার কথা শোনে। অনেক সময় মেয়েদের বেশী বয়সের কারণে এবং চাকুরীর কারণে অনেক ছেলে তাদেরকে এড়ানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি আপনি ভেবে দেখবেন। আর কুরআনের এই দুআ দুটি সর্বদা পড়বেন। رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا এবং رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

প্রশ্নঃ 1685
1 cha =koto kg (Fitra jonno)
08 Jan 2026

৩ কেজি ৩০০ গ্রামের মত।

প্রশ্নঃ 1684
আসসালামু আলাইকুম, আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাঃ) স্যার এর বঙ্গানুবাদ ইমাম আবু হানিফার রচিত আল ফিখুল আকবর বইটি পড়েছি কিন্তু আমাকে কিছু আলেম বলছেন এই বইটি ইমাম আবু হানিফা (রাঃ) কিতাব এটা প্রমাণিত নয়, আসলে এর কোনটা সত্য তা জানতে চাচ্ছিলাম।
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই কিতাবটি যে আবু হানীফা রাহ. লিখিত তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে এই কিতাবটির নাম মূলত কী তা নিয়ে মতভেদ আছে। এই বিষয়ে ভূমিকার মধ্যে স্যার রহ. আলোচনা করেছেন, আপনি অনুগ্রহ করে সেটা দেখে নিন। আশা করি আপনার প্রশ্ন দূর হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ 1683
আস সালামু আলাইকুম। আসরের সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে ইমাম আবু হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) এর মত হল বস্তুর ছায়া দ্বিগুণ পরিমাণ হলে আসরের শুরু হয়। অন্যদিকে বাকি তিন মুজতাহিদ ইমাম বলেছেন, বস্তুর ছায়া সমপরিমাণ হলে আসরের সময় শুরু হয়। এখন প্রশ্ন হল, কোন মতটা সহিহ হাদীস অনুসারে জোরালো? আমি কোন মতটাকে গ্রহণ করবো? হাদীসের আলোকে ব্যাখ্যা দিয়ে বাধিত করবেন।
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি জামাতে সালাত আদায় করবেন । যখন যেখানে থাকবেন সেখানে মসজিদে যখন আসরের সালাতের জামাত হবে তখন জামাতের সাথে সালাত আদায় করবেন। সহীহ হাদীসের আলেকে প্রত্যেক বস্তুর ছায়া তার মূল ছায়া বাদে একগুণ হলে আসরের সালতের ওয়াক্ত হয়ে যায়। আর ওয়াক্ত বাকী থাকে সূর্য ডুবা পর্যন্ত। সুতরাং আপনি জামাতের সাথে সালাত আদায় করবেন।

প্রশ্নঃ 1682
আসসালামু আলাইকুম। (১) আমি ও আমার বাবা চাকুরি করি। আমি ও আমার বাবা গত রমজান মাসে সিদ্ধান্ত নেই যে আমরা আমদের বাড়ী পাকা করব। এজন্য আমরা আমাদের পারিবারিক খরচ বাদ দিয়ে টাকা সঞ্চয় করা শুরু করি। আমাদের দুইজনের বেতনের টাকা জমে বর্তমানে ২,০০,০০০ (দুই লক্ষ ) টাকা হয়েছে। আমাদের বেতন ছাড়া অন্য কোন আয়ও নেই। বর্তমানে এ টাকা আমার এক মামাকে ধার হিসাবে দেওয়া হয়েছে যা আমাদের বাড়ীর কাজ শুরু করলে ফেরত পাওয়া যাবে। এখন আমাদের এ টাকার যাকাত দিতে হবে কি না, জানালে উপকৃত হব। (২) আমি শুনেছি বিলাসসামগ্রী দ্রবের যাকাত দিতে হয়। এক্ষেত্রে আমার একটা কম্পিউটার আছে (তেমন কোন কাজে লাগে না শখেবসে কিনা) যার মূল্য ৪০,০০০ (চল্লিশ হজার) টাকা এবং (আমার প্রয়োজনীয় দুটি মোবাইলফোন ছাড়া) একটা মোবাইলফোন আছে যার মূল্য ১৫,০০০ (পনের হজার) টাকা। এগুলোর যাকাত দিতে হবে কি না, জানালে উপকৃত হব।
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জাকাতের ক্ষেত্রে দুজনের টাকা একসাথে হিসাব করা যাবে না। কে কত টাকা রেখেছেন সেটা হিসাব করুন। যার টাকা যাকাতের নিসাব অতিক্রম করবে এবং এক বছর অতিক্রম করবে তাকে যাকাত দিতে হবে। যদিও সেই টাকা অন্য কারো কাছে ধার দেয়া থাকে। বাড়ি যতদিন না করবেন ততদিন প্রতিবছর উক্ত টাকার যাকাত দিতে হবে।

২। না, বিলাস-সামগ্রীর যাকাত দিতে হয় না। ফিতরার নিসাবে বিলাস-সামগ্রী ধর্তব্য হয়। সুতরাং জাকাত দেয়ার সময় উক্ত সামগ্রীগুলেঅর যাকাত দিতে হবে না।

প্রশ্নঃ 1681
আসসালামুআলাইকুম আমার একটা প্রশ্ন: আযানের সময় উচ্চ স্বরে বা মাইকে জিকির, কোরআন তেলাওয়াত ও তাফসির মাহফিল করা জায়েজ আছে কি বা এর হুকুম কি? আর আযানের জাওয়াব দেওয়া কি?
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আযানের সময় উচ্চস্বরে এগুলো না করা ভাল। তবে করলে গুনাহ হবে, এমন পাওয়া যায় না। আযানের জওয়াব দেওয়া সুন্নাত।

প্রশ্নঃ 1680
আসসালামুয়ালাইকুম, আমার প্রশ্ন হচ্ছে শুক্রবারে বিয়ে করা কি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত সুন্নত? যদি সুন্নত হয় তবে এ ক্ষেত্রে সামাজিক প্রচলনে দেখা যায় যে, বিয়ে শুক্রবারে হলেও বিয়ে পড়ানো হয় রাতে আর আরবি হিসেবে সন্ধ্যার (চন্দ্র উদয়) পরে দিন (বার) পরিবর্তন হয়ে যায়, অর্থাৎ শনিবার হয়ে যায়। এক্ষেত্রে কি শুক্রবারে বিয়ের সুন্নত আদায় হল?
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, শুক্রবারে বিবাহ করা সুন্নাত নয়। হাদীসে শুক্রবারে বিবাহ করার কথা বলা হয় নি। তবে অনেক আলেম শুক্রবারের বিশেষ ফজিলতের কারণে শুক্রবারে বিবাহ করাকে মুস্তাহাব বলেছেন। শরীয়তের দৃষ্টিতে শুক্রবার হলো বৃহ:বার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত।

প্রশ্নঃ 1679
মহা নবী (সা) এর সাথে বিয়ের সময় আয়িশা (রা) এর বয়স কত ছিল? এক লেখক দাবি করেছেন ১৭-১৮ বছর। তা কতটুকু সত্য। লেখাটির লিংকঃ http://markajomar.com/?p=1569
08 Jan 2026

এই বিষয়ে আয়েশা রা. নিজে একটি হাদীসে বলেন, تَزَوَّجَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا بِنْتُ سِتِّ سِنِينَ অর্থ: নবী সা. আমাকে বিবাহ করেন, তখন আমি ৬ বছরের। সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৩৮৯৪। সুনানু নাসায়ীর বর্ণনা হলো, تزوجني رسول الله صلى الله عليه و سلم وأنا بنت ست ودخل علي وأنا بنت تسع سنين وكنت ألعب بالبنات রাসূলুল্লাহ সা. আমাকে ৬ বছর বয়সে বিবাহ করেন, ৯ বছর বয়সে সংসার শুরু হয় আর এই সময় আমি মেয়েদের সাথে খেলা-ধুলা করতাম। সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ৩৩৭৮। সুতরাং বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

প্রশ্নঃ 1678
ইসলাম বিবাহ বহির্ভূত প্রেম সমর্থন করে না। এটা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই?
08 Jan 2026

প্রেম হলো ব্যাভিচারে লিপ্ত হওয়র সূচনা। আর আল্লাহ তায়ালা কুরআনে ব্যাভিচারের নিকটবর্তী হতে নিষেধ করেছেন। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. তাকানোকে চোখের জিনা, ধরাকে হাতের জিনা বলেছেন। প্রেমের কারণে মানুষ ব্যাভিচারে লিপ্ত হয়ে অনেক সময় হারাম বাচ্চা জন্ম দিয়ে সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্চে। অনেক সময় সেই ছোট শিশুকে নর্দামা, ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে অমানবিক কাজের পাশাপাশি সমাজের স্বাভাবিক অবস্থাকে বিনষ্ট করছে। অনেক সময় প্রেম করে বিয়ে হয় আর এই সংসার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অশান্তির হয়। অনেক সময় তো বিচ্ছেদো হয়ে যায়। তাই প্রত্যেকের উচিত বিবাহ-বহির্ভূত এই নিকৃষ্ট কাজ থেকে বিরত থাকা।

প্রশ্নঃ 1677
k sathe 4 mazhab mana jabe ki. jemon hat badha hanafi moto amin shafi moto. onno masala maleki moto. jodi na mana jai tobe karon bolben. a somporkito kono valo kitab er nam bolben pls.
08 Jan 2026

একজন মুসলিমের জন্য কুরআন-সুন্নাহ মানা ফরজ। সুতরাং একজন মুসলিমকে কুরআন-সুন্নাহই মানতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ মুসলিম এবং সাধারণ আলিমগণ কুরআন-সুন্নাহ থেকে মাসআলা-মাসায়েল জানতে অক্ষম। তাই তাদেরকে এমন কাউকে না কাউকে অনুসরণ করতে হবে যে কুরআন-সুন্নাহ থেকে মাসআলা জানতে সক্ষম। আর এভাবে কাউকে অনুসরণ করার নামই মাজহাব। তার মধ্যে চারটি মাজহাব প্রসিদ্ধ। আর এর কোন একটি মানাই সাধারণ মুসলিমের জন্য নিরাপদ । কোন মাসআলার দলীল যয়ীফ হলে কিংবা অধিকতর শক্তিশালী হলে আপনি কোন বিজ্ঞ আলেমের পরামর্শে সহীহ দলীল অনুযায়ী আমল করতে পারেন তবে কখনোই নিজেই সিদ্ধান্ত নিবেন না। তবে এটাকে আপনি মাজহাব মানা মনে করবেন না, বরং হাদীস মানা মনে করবেন। আর যারাকুরআন-সুন্নাহ থেকে মাসআলা জানতে সক্ষম তাদের তো কাউকে অনুসরণের প্রয়োজন নেই। তবে এমন ব্যক্তি পৃথিবীতে খুব কমই আছে। এই ধরণের একটি প্রশ্নের জবাবেআমাদের দেয়া 0155 নং প্রশ্নের উত্তরে শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. ইংরেজীতে লিখেছিলেন,Madhabs do. They also accept some scholars and follow them. The main duty of a Muslim is to follow the Quran and Sunnah. But the most of the muslims can not study them. So the depend of mazhabs or scholars. You should try your best to study the Quran and sunnah yourself. If not possible, you should follow one Alim and make your decision depending on Sunnah, not on your personal trend or choice. আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 1676
সালাতে কি পায়ের সাথে পা লাগাতে হবে নাকি হাতের সাথে হাত। হাদিস সহি না যইফ এর জন্য মুহাদ্দিসগণের মতামত এর কিতাব এর নাম বলবেন দয়া করে। এগুলা বাংলা /ইংরেজী এ পাওয়া জায় কি না। কুরআন এর সবচেয়ে সহজ সাবলিল এবং নির্ভরযোগ্য তাফসির ২/১ তি নাম বলবেন।
08 Jan 2026

সালাতে লাইন সোজা করতে হবে এবং মাঝে ফাঁকা রাখা যাবে না। হাত-পা লাগানো মুখ্য বিষয় না। হাদীস সহীহ- যয়ীফ জানার জন্য একক কোন কিতাবে নেই, যেখানে আপনি সব হাদীসের হুকুম জানতে পারবেন। আর বাংলায় অনুবাদ হয়েছে তো খুবই খুবই কম। আরবী ভাষার জ্ঞান ছাড়া হাদীসের হুকুম জানা সম্ভব নয়। কুরআনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তাফসীরের কিতাব হলো তাফসীরে ইবনে কাসীর।

প্রশ্নঃ 1671
আসসালামু আলাইকুম……মওলানা আকরাম খাঁ (রহঃ) তার লেখা তাফসীরুল কুরআনে আবু হুরায়রা (রাঃ) বয়স নিয়ে যে আলোচনা করেছেন তা কতটুকু নির্ভর যোগ্য? Screenshot Upload করার কোন option পেলাম না । তাই দয়া করে নিচের লিংকের বইটির ৪০৫ – ৪০৭ পৃষ্ঠা একটু দেখুন- http://www.pathagar.com/book/detail/1664
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।ইমাম ইবনে কুতাইবার বক্তব্য দিয়ে তিনি মূলত বুঝাতে চেয়েছেন যে, আবু হুরায়রা যেহেতু রাসূলের থেকে হাদীস শুনে নি তাই তার হাদীস গ্রহনযেগ্য নয়। একটা একদম ভুল কথা। সাহাবী যদি কোন কথা রাসূলের থেকে না শুনে রাসূলের দিকে সম্পৃক্ত করে বলে তাকে হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষায় মুরসালুস সাহাবী বলে। আর মুরসালুস সাহবী দলীলযোগ্য এবংমানের দিক দিয়ে মুত্তাসিল ( রাসূল সা. থেকে সরাসরি শোনা হাদীসকে মুত্তাসিল বলা হয় হয়) হাদীসের মত। এই প্রসঙ্গে আল্লামা সাখাবী রহ. বলেন,

مرسل الصحابي: هو الخبر الذي أرسله الصحابي الصغير عن النبي - صلى الله عليه وسلم - ; كابن عباس، وابن الزبير، ونحوهما ممن لم يحفظ عن النبي - صلى الله عليه وسلم - إلا اليسير، وكذا الصحابي الكبير فيما ثبت عنه أنه لم يسمعه إلا بواسطة.

মুরসালুস সাহবী অর্থাৎ যে হাদীস কোন ছোট সাহাবী নবী সা. থেকে বর্ণনা করেন”

প্রশ্নঃ 1675
TMSS (সুদী ক্ষুদ্র ঋনদানকারী প্রতিষ্ঠান) কতৃক প্রতিষ্ঠিত TMSS medical college এ “পরিসংখ্যান কর্মকর্তা” পদে চাকুরি কি জায়েজ হবে অর্থাৎ বেতন কি হালাল হবে?
08 Jan 2026

উক্ত মেডিকেল কলেজে আপনার কাজ যদি হালাল হয় তাহলে চাকুরী জায়েজ হবে, বেতন হালাল হবে। কারণ এই প্রতিষ্ঠানের অর্থাৎ মেডেকেল কলেজের আয়ের অংশ থেকে আপনি বেতন পাবেন, আর এই আয় হালাল।

প্রশ্নঃ 1674
আসসালামু আ’লায়কুম, শাইখ। আমার প্রশ্ন দুটি : ১।একজন খতিব সাহেব বলেছেন যে, রাসুল (সা.) এর কথা লেখা নাকি শেষ হবে না, যদিও সব গাছ কলম হয় এবং সব সাগর কালি হয় এমনকি যদি আরও সাগর এর সাথে যুক্ত হয়।এটা কি সঠিক? ২।জামাতে সালাত আদায়ের সময় কোনো ওয়াজিব বাদ পড়লে কি করণীয়?
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কুরআন শরীফে আল্লাহ তায়ালার ব্যাপারে এই কথা বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা. এর বিষয়ে নয়। আয়াতটি দেখুন

وَلَوۡ اَنَّمَا فِی الۡاَرۡضِ مِنۡ شَجَرَۃٍ اَقۡلَامٌ وَّالۡبَحۡرُ یَمُدُّہٗ مِنۡۢ بَعۡدِہٖ سَبۡعَۃُ اَبۡحُرٍ مَّا نَفِدَتۡ کَلِمٰتُ اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَزِیۡزٌ حَکপৃথিবীতে যত বৃক্ষ আছে, সবই যদি কলম হয় এবং সমুদ্রের সাথেও সাত সমুদ্র যুক্ত হয়ে কালি হয়, তবুও তাঁর বাক্যাবলী লিখে শেষ করা যাবে না। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। সূরা লোকমান, আয়াত ২৭।

অন্য জায়গাতে আল্লাহ বলেন,قُلۡ لَّوۡ کَانَ الۡبَحۡرُ مِدَادًا لِّکَلِمٰتِ رَبِّیۡ لَنَفِدَ الۡبَحۡرُ قَبۡلَ اَنۡ تَنۡفَدَ کَلِمٰتُ رَبِّیۡ وَ لَوۡ جِئۡنَا بِمِثۡلِهٖ مَدَدًا আমার রবের কথা লেখার জন্য সমুদ্র যদি কালি হয়ে যায় তবে সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে আমার রবের কথা শেষ হওয়ার আগেই। যদিও এর সাহায্যার্থে অনুরূপ আরো সমুদ্র নিয়ে আসি’। সূরা কাহফ, আয়াত সুতরাং খতিব সাহেবের বক্তব্য সঠিক নয়। অথবা খতিব সাহেব আল্লাহর ব্যাপারেই বলেছেন, আপনি হয়তো শুনতে ভুল করেছেন।

প্রশ্নঃ 1673
আসসালামু আলাইকুম, আমাদের স্থানীয় মসজিদে জুম্মা খুতবাতে মসজিদে এর খাদেম টাকা তুলে থাকেন খুতবা চলা কালে। আমি তাকে প্রশ্ন করি যে হাদিসে এসেছে খুতবার সময় পাশের জন কথা বললে তাকে চুপ থাকো এই কথা বলা জায়েজ নেই। তাহলে আপনারা টাকা তুলেন তা কি জায়েজ হচ্ছে? প্রতি উওরে তিনি বলেন যে, খুদবার ২টি অংশ ইমাম যখন বসে আবার দাঁড়িয়ে খুতবা শুরু করেন ঐ অংশটি হলো দোয়ার অংশ তখন হাটা চলা করা যায়। সঠিক মাসালা জানালে উপকৃত হবো।
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নীচের হাদীসদুটি লক্ষ্য করুন।

أن أبا هريرة أخبره أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال إذا قلت لصاحبك يوم الجمعة أنصت والإمام يخطب فقد لغوتঅনুবাদ-হযরত আবু হুরায়রা রাঃ বলেন-রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-যখন তুমি তোমার পাশের জনকে জুমআর দিন বল-চুপ থাক এমতাবস্থায় যে, ইমাম সাহেব খুতবা দিচ্ছে, তাহলে তুমি অযথা কাজ করলে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৮৯২।

عن أبي الدرداء قال : جلس رسول الله صلى الله عليه و سلم يوما على المنبر فخطب الناس وتلا آية والى جنبي أبي بن كعب فقلت له يا أبي متى أنزلت هذه الآية قال فأبى أن يكلمنى ثم سألته فأبى أن يكلمنى حتى نزل رسول الله صلى الله عليه و سلم فقال لي أبي مالك من جمعتك إلا ما لغيت فلما انصرف رسول الله صلى الله عليه و سلم جئته فأخبرته فقلت أي رسول الله انك تلوت آية وإلى جنبي أبي بن كعب فسألته متى أنزلت هذه الآية فأبى أن يكلمنى حتى إذا نزلت زعم أبى أنه ليس لي من جمعتي إلا ما لغيت فقال صدق أبي فإذا سمعت أمامك يتكلم فأنصت حتى يفرغ 

আবুদ দারদা (রাঃ) বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বারে বসে মানুষের উদ্দেশ্যে খোতবা দিচ্ছিলেন। তিনি একটি আয়াত তেলাওয়াত করলেন। আমার পাশে ছিল উবাই ইবনে কাব। আমি তাঁকে বললাম: উবাই; এ আয়াতটি কখন নাযিল হয়েছে? তিনি আমার সাথে কোন সাড়া দিলেন না। আমি এরপরেও তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তারপরেও তিনি কোন সাড়া দিলেন না। এক পর্যায়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মিম্বার থেকে নামলেন তখন উবাই আমাকে বললেন: তুমি যে অনর্থক কথা বলেছ সেটা ছাড়া তুমি জুমার কোন সওয়াব পাবে না। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নামায শেষ করলেন তখন আমি তাঁর কাছে এসে বিষয়টি জানালাম: তখন তিনি বললেন, উবাই ঠিক বলেছে। যখন ইমাম কথা বলা শুরু করে তখন ইমাম কথা শেষ করা পর্যন্ত চুপ থাকবে”।মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২১৭৭৮, সুনানে ইবেনে মাজাহ, ১১১১। হাদীসটি সহীহ।

সুতরাং ঐ খাদেমের কথা সঠিক নয়। কোন খুতবা চলাকালীন কথা বার্তা বা অন্য কোন কাজ করা যাবে না।

প্রশ্নঃ 1672
Assalamualikum. Ami hsc pass korechi kichudin hoyeche. Ami ekhn higher study’s er jnno bideshe porte jete chai. Ekhn islami shariat bideshe porte jawar khetre ki bole ta jante chacchilam.
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিদেশে পড়াশোনা করতে যেতে বাধা নেই। তবে এমন দেশে বা এমন পরিবেশে যাবেন না যেখানে শরীয়তের আবশ্যিক হুকুমগুলো পালন করতে বাধার সৃষ্টি হয়। ফরজ সালাতগুলো জামাতের সাধে পড়ার সুযোগ থাকে, হারাম বিষয় থেকে বেচেঁ থাকার যথেষ্ট সুযোগ থাকে, চোখের গুনাহ নিয়ন্ত্রনের ভিতরে থাকে এমন প্রতিষ্ঠানে পড়তে যেতে পারেন। অমুসলিম দেশে গেলে অনেক সময় ইমান-আমলে মারাত্মক সমস্যা হয়। তই অমুসলিম দেশেগুলো পরিত্যাগ করা উত্তম।

প্রশ্নঃ 1670
আসসালামু আলাইকুম। আমার একটি প্রশ্নের জবাব দিলে উপকৃত হব, তা হল বাজারে কিছু কাচের বোতল পাওয়া যায় যেগুলো আসলে বিদেশি মদের খালি বোতল। এই ধরনের বোতল খালি অবস্থায় কিনে ভাল করে ধুয়ে পানি পানের জন্য ব্যবহার করা যাবে কি? যাযাকুমুল্লাহ।
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বাজারে এত পানির বোতল থাকতে মদের বোতল পরিস্কার করে কেন পানি পান করতে হবে সেটা বোধগম্য নয়। তবে পরিস্কার করে পবিত্র হলে পানি পান করা যাবে।

প্রশ্নঃ 1669
আমি দ্রুত কুরআন তেলাওয়াত করতে পারি না। এখন রমাদানে যদি অর্থসহ তেলাওয়াত করি,তাহলে হয়তো রমাদানে কুরআন খতম নাও হতে পারে। এমতাবস্থায় আমার জন্য কোনটি ভালো হবে-অর্থসহ তেলাওয়াত করা নাকি শুধু তেলাওয়াত করা।
08 Jan 2026

অর্থসহ তেলাওয়াত করা উত্তম হবে। কুরআন খতম না হলেও সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 1668
হুযুর সাহেব, সালাম নিবেন। আপনার নিকট আমার জিজ্ঞাস্য এই যে, আমি এবং আমার স্ত্রী দুজন ই চাকুরীজীবি। চাকুরির সুবাদে আমরা দুইজন দুই বিভাগে থাকি। আমি একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকি যাহাতে তিনি যখন ছুটি পান তখন আমার সাথে থাকতে পারেন। এবং তিনি নিজ পিত্রালয়ে থেকে তার কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। আমি প্রতি সপ্তাহান্তে শশুর বাড়ি যাই এবং পরবর্তী দিন প্রত্যাবর্তন করি। আমরা দুজন ই দুজনকে চালানোর মত যথেষ্ট ভাল উপার্জন করি। কাজেইঃ ১) আমার স্ত্রী এর প্রতি আমার ভরণপোষণের দায়িত্ব কি রূপ? ২) আমার স্ত্রী এর উপার্জনের উপর আমার কোন হক আছে কি না? ৩) আমি যদি আমার পিতা মাতাকে আমার নিকট কখনো আনতে চাই তাতে আমার স্ত্রী কি কোন মত প্রকাশ করতে পারে কি না ( যেমনঃ আলাদা বাসা নেওয়া, কিংবা না আনা যাবে না। ) এটি বর্তমানে এবং আমি যদি কখনও আমার স্ত্রী এর সাথে একত্রে থাকি তখন মসায়ালা কি হবে? ৪) আমার পিতা মাতার প্রতি তাঁর দায়িত্য ও কর্তব্য কি এবং কি রূপ (আমি আমার পরিবারের প্রথম সন্তান এবং আমার আরও দুই বোন আছে। আমার বাবা নিজের পরিবার চলানোর মত অবস্থাসম্পন্ন)? ৫) তাঁর পিতামাতার প্রতি আমার দায়িত্য ও কর্তব্য কি এবং কি রূপ ( আমার স্ত্রী তাঁর পরিবারের দ্বিতীয় মেয়ে এবং তাহাদের কোন পুত্র সন্তান নাই। তাঁর পিতা গত হয়েছেন এবং তাঁর মাতা নিজের পরিবার চলানোর মত অবস্থাসম্পন্ন। )? দয়া করে হুযুর সাহেব, যতটুকু সম্ভব রেফারেন্স সহকারে উত্তর জানাবেন। নিবেদক, নিয়াজ মোরশেদ।
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। স্ত্রী ধনী হোক গরবী হোক তার ভরন-পোষনের দায়িত্ব স্বামীর। বিদায় হজ্জের ভাষনে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللَّهِ وَلَكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لاَ يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ أَحَدًا تَكْرَهُونَهُ. فَإِنْ فَعَلْنَ ذَلِكَ فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ আর তোমরা তাদের লজ্জাস্থানকে হালাল করেছো আল্লাহর কালিমা দ্বারা… তাদের খাবার-দাবার ও পোশাকের দায়িত্ব তোমাদের ওপর। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৩০০৯, সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ১৯০৭। আলেমদের এ ব্যাপারে ঐক্যমত পোষন করেছেন যে, স্ত্রীর ভরন-পোষনের দায়িত্ব স্বামীর। আলমাউসুয়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৪১/৩৫। ২। স্ত্রীর উপাজর্নের উপর আপনার কোন কর্তৃৃত্ব নেই। তবে যদি তারা খুশিমনে দেয় তাহলে নিতে পারবেন। ৩। স্ত্রী আলাদা বাসায় থাকতে চাইলে তাকে আলাদা বাসায় রাখতে হবে। ৪। আপনার পিতা-মাতার যাবতীয় দায়িত্ব আপনার। অর্থাৎ তাদের দেখাশোনা, সেবা-যত্ন, অর্থনৈতিক সমস্যা থাকলে সেই দায়িত্ব সবই আপনার। তবে যদি আপনার স্ত্রী স্বেচ্ছায় তাদের সেবা-যত্ন দেখাশোনা করে তাহলে সেটা খুবই ভাল কাজ। আল্লাহ অবশ্যই তাকে এজন্য অনেক সওয়াব দান করবেন। ৫। তার পিতা-মাতার দায়িত্ব তার। আপনার নয়। আপনি তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করবেন। আত্নীয়তার সম্পর্ক বজায় রেখে চলবেন। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। শেষে একটা কথা বলি, আপনার স্ত্রী যদি আপনার থেকে ৭৮ কি. মি. দূরে থাকে তাহলে তার জন্য একা একা আপনার কাছে আসা জায়েজ হবে না। আল্লাহ আপনাদের ভাল রাখুন।

প্রশ্নঃ 1667
Assalamualicum,Tahajjut namaz nofol na ki sunnut.(2 ti book a 2 rokom pelam). Ref. shoho janaben.Inshaallah.
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নফল আর সুন্নাত মূলত একই জিনিস। করলে সওয়াব না করলে গুনাহ নেই। তাহাজ্জুদও সেরকম। অবশ্য কুরআনে তাহাজ্জুদকে নফল বলা হয়েছে। وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَّكَ আর রাত্রের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় কর নফল (অতিরিক্ত) হিসাবে। সূরা বনী ইসরাইল, আয়াত ৭৯। সুতরাং এই নিয়ে বাড়াবাড়ি করার দরকার নেই। ফরজ বাদে সকল আমলকে নফল-বা সুন্নাত বলা যায়।

প্রশ্নঃ 1666
ডঃ খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহিমাহুল্লাহ স্যারের বই গুলো কোথা থেকে বা কিভাবে কিনতে পারবো?
08 Jan 2026

আপনি সরাসরি ঝিনাইদহ থেকে সংগ্রহ করতে পারেন। ঢাকা থেকেও সংগ্রহ করতে পারেন। কুরিয়ারে পেতে যোগাযোগ করুন 01734717299

প্রশ্নঃ 1665
আসসালামুআলাইকুম, শায়েখ আশা করি ভাল আছেন। আমি কুরআনের অনুবাদ পড়ার সময় সূরা নুরের এই ৩২ নং আয়াতটা বুঝতে পারি নাই। এখানে সৎকর্মপরায়নদের কথা উল্লেখ করে বলা হয় যে তাদের বিয়ে দিতে তাহলে কি আসৎরা কি বিয়ে করতে পারবে না? বিষয়টা বুঝিয়ে বলবেন প্লিজ… আমার জন্য দোআ করবেন… তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। (সূরা নুর ৩২)
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এখানে যারা সৎ তাদেরকে বিয়ে দিতে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। অসৎদের বিয়ে দেয়া যাবে না এমন কথা আয়াতে বলা হয় নি। কুরআনে সবসময় এই ধরণের বিপরীত অর্থ নেয়া যায় না। ইমাম কুরতুবী বলেছেন, এখানে সৎ বলতে ইমানদার উদ্দেশ্য।

প্রশ্নঃ 1664
আমার এক ফ্রন্ডের দাদী ওকে সালাতুজ তাজবী নামাজ পড়াতে বলেছে। আমার ফ্রেন্ড টা ব্যস্ততার কারনে পড়াতে পারে নাই। দাদীটা এখন অসুস্থ। বলতে গেলে মৃত্যুশয্যায় আছেন। নামাজ আদায় করাতে না পারায় আমার ফ্রেন্ডের কোন গুনাহ হবে? আর এখন আমার ফ্রেন্ডের করনীয় কি?দয়া করে জানাবেন প্লিজ….
07 Jan 2026

দাদী বলেছে সে পড়ে নাই, এখানে গুনাহ হওয়ার কী আছে। সে যদি পড়তে চায় পড়বে। না চায়লে পড়বে না।

প্রশ্নঃ 1663
আসসালামু আলাইকুম। রোজা রেখে ব্লাড দান করতে পারবে? আর এই বিষয়ে স্যারের কোন বক্তব্য আছে কি?দয়া করে জানাবেন।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, রোজা রেখে রক্ত দান করা যায়, কোন সমস্যা নেই। স্যার রহ.-এর এই বিষয়ে কোন বক্তব্য আছে কি না আমার জানা নেই। খোজ করবো পেলে আমাদের ওয়েবসাইডে দিয়ে দিতে বলবো।

প্রশ্নঃ 1662
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। ডঃ খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের একটা লেকচারে শুনেছিলাম যে, উনি বলেছেন যে, আমাদের দেশে যেভাবে তারাবি নামাজ পড়া হয় তারা সবাই ফাসেক। হউক ৮ বা ২০। তারাবি আমাদের মসজিদে ও ঠিক একইভাবে পড়া হয়। গত বছর মসজিদে তারাবি পড়লাম জামাতে। রুকু সেজদাতে ঠিকমতো তাসবীহ তো পড়াই যায় না তার উপর এত দ্রুত গতিতে কোরআনের আয়াত পড়ে যায় যেখানে কোন আবেগই কাজ করে না। তারউপর নিজেকে গুনাহগার মনে হয় যে নামাজ নিয়ে কি আমরা মসকারা করিছিনাতো! অনেক ওয়াজিব ছুটে যায়। আসলে আমি এভাবে নামাজ পড়তে চাই না। কেননা, স্বাভাবিকভাবে আমি যখন নামাজ পড়ি আমি চেস্টা করি নামাজের যত্ন নিতে। তাই আমার স্বাভাবিক নামাজের সাথে কোনভাবেই তারাবির নামাজ মিলাতে পারি না যা আমার জন্য পীড়াদায়ক। আর আমি ফাসেক হতেও চাই না। এমতাবস্থায় আমি যদি ঘরে তারাবি ধীরেসুস্থে মনোযোগী হয়ে পড়ি এতে আসলে কোন বড় ধরনের গুনাহ বা আপত্তি আছে কিনা শরিয়তের দৃষ্টি তে তা জানতে চাই। জাজাকাল্লাহ খইরান স্যারের ভিডিও লিংক https://youtu.be/VRKE07blalI
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। তারাবী নামায সুন্নাত। সুন্নাত নামায বাসায় একাকী পড়লে কোন সমস্যা নেই। বরং এটাই উত্তম।

প্রশ্নঃ 1661
আসসালামুলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, যদি কোন স্বামী কোন রোজাদারকে বাসায় এনে ইফতার করায় তাহলে সে ঐ রোজাদারের পুর্ন সোয়াব পাবে। এক্ষেত্রে তার স্ত্রীও কি ঐ রোজাদারের সোয়াব পাবে নাকি শুধু স্বামী পাবে?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যে ইফতার করাবে সে সওয়াব পাবে। স্ত্রী যদি ইফতারের কাজে সহায়তা করে সেও সওয়াব পাবে। আল্লাহ কাছে সওয়াবের অভাব নেই। আমাদের একটু ভাল কাজের ইচ্ছাই আল্লাহর পক্ষ থেকে সওয়াব পাওয়ার জন্য যথেষ্ট।

প্রশ্নঃ 1660
আমি একটা রেস্টুরেন্ট এ কাজ করি । যদি কেউ আমাকে খুশি হয়ে টিপছ দেয় । তাহলে এটা নেওয়া হালাল নাকি হারাম হবে আমার জন্য উত্তর দিলে উপকৃত হবো
07 Jan 2026

টিপছ কী আমার কাছে অস্পষ্ট। তবে যদি এর অর্থ কিছু টাকা হয় তাহলে মালিক পক্ষের অনুমতি থাকলে জায়েজ আছে।

প্রশ্নঃ 1659
আসসালামু আলাইকুম, আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিলে খুব উপকৃত হব। প্রশ্নটা হলো: সেজদায় সুবহানা রব্বি আল আলা কি বিজোড় সংখ্যাই পড়তে হবে নাকি ইচ্ছে মতো যতবার খুশি পড়া যাবে।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। একটি যয়ীফ হাদীছে কমপক্ষে তিনবার পড়ার কথা বলা হয়েছে। হাদীসটি হলো রাসূল সাঃ বলেন: إِذَا رَكَعَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ سُبْحَانَ رَبِّىَ الْعَظِيمِ وَذَلِكَ أَدْنَاهُ وَإِذَا سَجَدَ فَلْيَقُلْ سُبْحَانَ رَبِّىَ الأَعْلَى ثَلاَثًا وَذَلِكَ أَدْنَاهُ অর্থঃ যখন তোমাদের কেউ রুকু করবে তখন সে যেন তিনবার সুবহানা রাব্বীয়াল আযীম বলে। আর এটা হল সর্বনিম্ম পরিমান। আর যখন সেজদা করে তখন সে যেন তিনবার বলে সুবহানা রাব্বীয়াল আলা। আর এটা হল সর্বনিম্ম পরিমান। সুনানে আবু দাউদ,হাদীস নং ৮৮৬। এর বাইরে সংখ্যা ব্যাপারে কোন সহীহ বা যয়ীফ হাদীস আমাদের জানা নেই। সুতরাং আপনি জোড়- বেজোড় যে কোন সংখ্যক তাসবীহ পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 1658
আস সালামু আলাইকুম। মিসত্তয়াক করে নামায পরলে নামাযে ৭০ গুন বেশী সত্তয়াব হয়। এই হাদিসের তাহকীক জানলে একটু জানাইলে ভাল হয়
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।উক্ত অর্থের হাদীসটি একাধিক সাহবী থেকে একাধিক শব্দে বর্ণিত আছে। যেমন, আস-সুনানুল কুবরা লিল বায়হক্কীতে আছে: صَلاَةٌ بِسِوَاكٍ خَيْرٌ مِنْ سَبْعِينَ صَلاَةً بِغَيْرِ سِوَاكٍ হাদীস নং ১৬৪। মুসনাদে আহমাদে আছে فضل الصلاة بالسواك على الصلاة بغير سواك سبعين ضعفا হাদীস নং এবং ২৬১৮৩। সহীহ ইবনে খুজায়মাতে আছে فضل الصلاة التي يستاك لها على الصلاة التي لا يستاك لها سبعين ضعفا হাদীস নং ১৩৭।প্রতিটি সনদই বিভিন্ন কারণে দুর্বল। মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেন নি। তবে অনেক সংখ্যক দুর্বল বর্ণনা থাকার কারণে এবং মিসওয়াক করার বিষয়ে সহীহ হাদীসে ব্যাপক গুরুত্ব দেয়ার কারণে ৭০ গুন সওয়াব হওয়া অসম্ভব নয়। বিস্তারিত জানতে صَلاَةٌ بِسِوَاكٍ خَيْرٌ مِنْ سَبْعِينَ صَلاَةً بِغَيْرِ سِوَاكٍ লিখে ইন্টারনেটে সার্স নিতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1657
আসসালামু আলাইকুম, এই বইগুলো সম্পর্কে আবদুল্লা জাহাঙ্গীর(রহ) স্যারের অভিমত কেমন ছিল। ১.হায়াতুস সাহাবা-Yusuf kandolovi ২.সীরাতে মুস্তাফা (সা)-idris kandolovi
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমার জানা নেই।

প্রশ্নঃ 1656
আছছালামু আলাইকুম. আল্লাহ পাক আপনাদের এই মহত কাজের উওম প্রতিদান দান করুন। আমার স্বামী স্ত্রীর মধুর মিলন এই বইটিতে স্বামী ও স্ত্রী কোন কোন সময়, কোন কোন দিন সহবাস করতে পারবে না সেটা দেওয়া আছে, কিন্তু সেগুলো আমার কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হচ্ছে না। আমার প্রশ্ন হল প্রকৃত পক্ষে কোন কোন দিন ও কোন কোন সময় স্বামী স্ত্রীর মিলন নিষিদ্ধ? উত্তর দিলে উপকৃত হব। জাঝাকাল্লা খয়ের।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। শুধুমাত্র রোজা ও মাসিকের সময় সহবাস নিষিদ্ধ। এছাড়া সকল সময় বৈধ। এই ধরণের বইতে যা থাকে তার বেশীরভাগই ভুয়া।

প্রশ্নঃ 1655
Hazrat Zakaria (rhm) er lekha Tabligi Nesab boitir fazael e dorud o fazael e sadakat chaptar e bohu shirk bedat ache, eta ki sothik? Boiti ki masjid e talim kora jabe?
07 Jan 2026

এই বইটি সম্পর্কে আমার জানা নেই। শিরক বিদআত থাকলে তো সঠিক হতে পারে না। বর্জন করতে হবে। হাদীসের বই তালিম করা ভাল। যেমন, রিয়াজুস সালিহীন।

প্রশ্নঃ 1654
আসসালামু আলাইকুম। আংকেল আমার প্রশ্ন হল কেউ যদি নিছক শারিরীক ব্যায়ামের উদ্দেশ্যৈ কোন টাকার খেলায় অংশগ্রহণ করে তবে সেটা বৈধ হবে কিনা। যেমন : কেউ এমন একটা ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহন করল যেখানে চুক্তি হয়েছে যে বিজয়ী দল বিজিত দল থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ লাভ করবে।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বৈধ হবে না, এটা জুয়া।

প্রশ্নঃ 1653
পুরুষদের সুন্নাত পোশাক কেমন? পাঞ্জাবি যদি পরে তবে তাঁর নিচে কাটা কেমন হবে আর লম্বা কেমন হবে? হাদিসএর আলকে জানতে চাই। রেফারেঞ্চ সহ জানালে উপকৃত হব।
07 Jan 2026

দেখুন রাসূলুল্লাহ সা. আমাদেরকে মূলত ইবাদত শিখাতে এসেছিলেন, পোশাক পরাতে নয়। তবে তিনি পোশাকের ব্যাপারে একটি মূলনীতি দিয়ে গেছেন, পুরুষ এমন পোশাক পরবে যাতে তার সতর ঢাকা থাকবে। মহিলারাও তাই। বিস্তারিত জানতে দেখুন, ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত কুরআন-সুন্নাহর আলোকে পোশাক, পর্দা ও দেহ-সজ্জা বইটি।

প্রশ্নঃ 1652
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমার কিছু প্রশ্ন আছে ১. হিন্দু ধর্মের কিছু মানুষ সন্যাস নিয়ে আমাদের বাড়িতে ভিখা নিতে আসে দেওয়া যাবে কি? ও তাদের বাড়িতে দাওয়াত খওয়া যাবে কি? ২. দাঁড়ি বিহিন লোকের পিছনে নামাজ হয়না, কিন্তুু দাঁড়ি ওয়ালা যদি কেরত ঠিক ঠাক পড়তে না পারে তবে দাঁড়ি বিহিন পিছনে নামাজ হবে কি? ৩. বড়িতে একের পর এক রোগ বা মসিবত আসে তাহলে এমন কিছু আমল বলে দিবেন যতে মুক্তি পায়? ৪. শুবহাত বিভিন্ন ধরনের সংশয় ও সন্দেহ সৃষ্টি করে, এটা দূর করার উপায় বলবেন?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভিক্ষা দেয় যাবে। হিন্দুদের তথা মুশরিকদের জবেহ করা কোন প্রাণীর গোশত খাওয়া যাবে না তবে তাদের দেয়া শুকনা খাবার খাওয়া যায়। আর দাওয়াত খেতে গেলে তাদের জবেহ করা প্রাণীর গোশত খাওয়ার একটা ঝুকি থাকে তাই না যাওয়ায় ভাল। তবে যদি নিশ্চিত হন যে, এরকম কিছু ঘটবে না তাহলে যেতে পারেন। ২। দাঁড়ি বিহীন লোকের পিছনে নামায হয় না এই কথা ঠিক নয়। তবে দাাঁড়ি নি:সন্দেহ গুরুত্বপূর্ন সুন্নাত। দাঁড়িওয়ালা লোক সহিহ করে কুরআন পড়তে না পারলে দাঁড়িবিহীন যে লোক সহিহ কুরআন পড়তে পারবে সেই নামাযে ইমামতি করবে। ৩। আপনি এই দুআটি সকাল-সন্ধ্যা তিনবার করে পড়বেন بِسْمِ اللَّهِ الَّذِى لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَىْءٌ فِى الأَرْضِ وَلاَ فِى السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ৫০৯০; তিরমিযী, হাদীস নং ৩৩৮৮। হাদিসটিকে ইমাম তিরমিযীসহ মুহাদ্দিসগণ সহীহ বলেছেন। ৪। বেশী বেশী করে আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত নিররযিম পড়বেন। এবং অন্য কাজে বা চিন্তায় মগ্ন হবেন।

প্রশ্নঃ 1651
assalamualaykum owa ramatullah…..Mobile j tk dhar new hoi taa ki shud hisebe gonno hobe? jehetu 10 tk nile 12 tk dite hoi.
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১০ টাকা নিলে তো ১০ টাকায় কেটে নেয়। ১২ টাকা তো নেয় না। যদি নেয় তবুও সুদ হবে না বরং অন্যান্য সেবা বাবদ ২ টাকা নিয়েছে বলে গণ্য হবে।

প্রশ্নঃ 1650
Assalamoalaikom. mohtaram. shear bazare bebsha kora hala naki haram. janale opkar hobe.
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সুদ-ভিত্তিক কোম্পানী না হলে মূলত হালাল। এ বিষয়ে আপনি বিস্তারিত জানতে শায়খ তকী উসমানী হাফিজাহুল্লাহ এর ব্যবসা সংক্রান্ত বইটি সংগ্রহ করে পড়ুন। ওখানে তিনি কোন কোন অবস্থায় জায়েজ কখন জায়েজ নয় বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

প্রশ্নঃ 1649
As salaamu Aalaikum, sir amar prosno holo ekhonkar Iliasi tablig kora jabe ki? Hajrat Zakaria saheber Tabligi nesab boi tate ki jal, joif hadis ebong shirki kotha ache? boiti ki pora jabe?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইলিয়াসি তাবলীগ এই শব্দটি খুবই নোংরা এবং মিথ্যা। হযরত ইলিয়াস রাহ. মানুষকে ইসলামের পথে দাওয়াত দেওয়ার জন্যই এই পদ্ধটি আবিস্কার করেছিলেন। তাবলীগ জামাত এবং অন্যান্য দাওয়াতী প্রতিষ্ঠান এবং যে কোন দায়ী কেউ ভুলত্রুটির ঊধ্বে নয়। তারা মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকছেন এটা নিঃসন্দেহ ভাল কাজ। তাদের ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে, এটা অস্বাভাবিক নয়। সম্ভব হলে উত্তম পন্থায় তাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে পারেন। তবে এই সব ভুল-ত্রুটির কারণে অহেতুক সমালোচনা কোন কাজে আসে না। এই প্রসঙ্গে শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক সহীহ দাওয়াত দেয়ার জন্য অন্য কোন দল বা মতের সমালোচনা মূলত কোনো ভাল ফল দেয় না। এতে এসকল দলের কেউ পরিবর্তনও হয় না। আপনি তাদের সাথে দাওয়াতে কাজে অংশ নিবেন, আপনি ভাল কাজের মধ্যে আছেন। তবে কোন কাজ কুরআন-সুন্নাহর মুখালেফ মনে হলে তা করবেন না। আর বইটি সম্পর্কে আমার জানা নেই। কুরআন-সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক বিষয় থাকলে অবশ্যই পরিহার করতে হবে।

প্রশ্নঃ 1648
আমাদের দেশের সরকারের কোন আন ইসলামিক কাজের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা কি জিহাদ হবে? বা দেশে ইসলামিক সরকার গঠনে সহায়তা করা কি জিহাদ হবে?আমাদের সাধারন মানুষের জন্য এই যুগে সরকারের আন ইসলামিক কাজের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা (কোন ইসলামিক দলের সাথে যুক্ত হয়ে) কি ফরয?বিস্তারিত জানতে চাই।
07 Jan 2026

সংগ্রাম বলতে আপনি যদি সসশ্ত্র যুদ্ধ বুঝান তাহলে তা এক্ষেত্রে নিষেধ। আর যদি চেষ্টা -প্রচেষ্টা বুঝান তাহলে এগুলো শাব্দিক অর্থে জিহাদ। পারিভাষিক অর্থে নয়। পারিভাষিক অর্থে জিহাদ হলো রাষ্ট্রপ্রধানের নেতৃত্বে সসশ্ত্র সংগ্রাম করা। ইসলামী দল বা ইসলামী রাজনীতি দীনি দাওয়াতের একটি অংশ। ফরজ নয় । বর্তমানে সমাজে যারা ইসলামী মূল্যবোধের প্রসার ও প্রতিষ্ঠা চান না, তারা রাজনীতিকে ব্যবহার করে ইসলামী মূল্যবোধের বিকাশ রোধ করেন। এ কারণে ইসলামের বিরুদ্ধে সকল প্রচেষ্টার মুকাবিলা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বিস্তারিত জানতে দেখুন, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত এহ্ইয়াউস সুনান বইয়ের ৪৬৬ পৃষ্ঠ থেকে ৪৭৭ পৃষ্ঠা।

প্রশ্নঃ 1647
sontal hobar por por koronio bisoy gulo jantay chai
07 Jan 2026

সন্তান হওয়ার পর প্রথম দায়িত্ব হলো তাকে আজান শুনানো এরপর মুখে মিষ্টি জাতীয় কিছু দেয়া, ভাল নাম রাখা এবং আকীকা দেয়। عَنْ أَبِي مُوسَى ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ وُلِدَ لِي غُلاَمٌ فَأَتَيْتُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَسَمَّاهُ إِبْرَاهِيمَ فَحَنَّكَهُ بِتَمْرَةٍ وَدَعَا لَهُ بِالْبَرَكَةِ وَدَفَعَهُ إِلَيَّ ، আবু মুসা আশআরী রা. বলেন আমার একটি পুত্র সন্তান জন্ম নিলে আমি তাকে রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে নিয়ে গেলাম তখন তিনি তার নাম রাখলেন ইবরাহীম এরপর তাকে একটি খেজুর দ্বারা তাহনিক করালেন এবং তার জন্য দুআ করলেন। সহীহ বুখারী হাদীস নং ৫৪৬৭।

প্রশ্নঃ 1646
1. akika korar baparay konna holay 1 ta sagol dolil. 2. putro holay 2 ta sagol dolil. 3. putro hoilay 1 ta sagol dolil. 4. putro hoilay 1 ta sagol dia jabay kina
07 Jan 2026

পুত্রসন্তান হলে দুটি ছোট পশু এবং কন্যাসন্তান হলে একটি ছোট পশু আকীকা দিতে হয়। এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, مَنْ وُلِدَ لَهُ وَلَدٌ فَأَحَبَّ أَنْ يَنْسُكَ عَنْهُ فَلْيَنْسُكْ عَنِ الْغُلاَمِ شَاتَانِ مُكَافِئَتَانِ وَعَنِ الْجَارِيَةِ شَاةٌ যার সন্তান হয় আর সে আকীকা দিতে চায় তাহলে সে. পুত্র সন্তানের পক্ষ থেকে দুটি ছাগল এবং কন্যা সন্তানের পক্ষ থেকে একটি ছাগল আকীকা দিবে। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ২৮৪৪; সুনানু তিরমিযী হাদীস নং ১৫১৩ । হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযীসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ সহীহ বলেছেন। তবে পুত্র সন্তানের পক্ষ থেকেও একটি দিলে হবে। নিচের হাদীসটি লক্ষ করুন: عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- عَقَّ عَنِ الْحَسَنِ وَالْحُسَيْنِ كَبْشًا كَبْشًا. ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. হাসান এবং হুসাইনের পক্ষ থেকে একটি করে দু্ম্বা আকীকা দিয়েছেন। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ২৮৪৩। হাদীসটিকে শায়খ আলবানী ও শায়খ শুয়াইব আরনাউত রাহ. সহীহ বলেছেন। আশা করি আপনি আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন।

প্রশ্নঃ 1645
আসসালামুলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ, আমার মা বয়স্ক মানুষ । তার মধ্যে এখনো কিছু অন্ধ বিশ্বাস কাজ করে। তাকে ভাল ভাবে কোরয়ান হাদিসের আলোকে বুঝাতে চাইলে সে ভুল বুঝে কষ্ট পায় বা রাগ করে। বাবা মা কে কষ্ট দেয়া অন্যায় ইসলামে তাই আমার খুব ভয় লাগে। আমি চেষ্টা করি সুন্দর উপায়ে বুঝানো । এর পরেও যদি সে ভুলবুঝে রাগ করে বা কষ্ট পায় তাতে কি আমার পাপ হবে?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বয়স্ক মানুষদের বোঝানো অপেক্ষাকৃত কঠিন। আপনি সুন্দর ভাষায় চেষ্টা করুন। যদি কোন ত্রুটি হয় আমরা দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাকে ক্ষমা করে দেন।

প্রশ্নঃ 1644
নামাযের শেষে সালাম ফিরানোর আগে দুয়া কুনুতের পর কি টাইপ দুয়া পড়া যাবে, মানে কোন কুরয়ান শরিফের আয়াত (যেমন সুরা আল ইম্রানের ২৬-২৭ নাম্বার আয়াত) পড়া যাবে কিনা নাকি কেবল কুরআন শরিফের আয়াত নয়। এমন দুয়া পড়তে হবে? প্লিজ জানাবেন
07 Jan 2026

নামাযের শেষে সালাম ফিরানোর আগে দুআ মাসূরার সময় আপনি কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত যে কোন দুআ পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 1643
আসসালামু আলাইকুম! আমাদের মসজিদে প্রতিবার ফরয নামাজের পর ইমাম সাহেব সম্মিলিতভাবে মোনাজাত করেন। শুনেছি এইভাবে মোনাজাত আল্লাহর রাসূল কখনও করেননি। দয়া করে কুরআন বা হাদীসের আলোকে জানাবেন!
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, এভাবে সম্মিলিত মোনাজাত রাসূলুল্লাহ সা. করেন নি। হাদীসে কোন সাহাবী এভাবে মোনাজাত করেছে বলেও জানা যায় না। এভাবে মোনাজাত না করায় উচিত। তবে যেখানে এভাবে মোনাজাত হয় সেখানে দাঙ্গা-হাঙ্গাম সৃষ্টি করে মোনাজাত তুলে দেয়ার সুযোগ নেই। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া 29 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 1642
আসসালামু আলাইকুম. ১. কোন অফিসের কর্মকর্তা / কর্মচারী অফিসের কোন কাজে বাহিরে গেলে TA এবং DA যে টাকা পাওয়া যায়, তার মধ্যে কিছু টাকা বেচে গেলে কী টাকা কর্মকর্তা / কর্মচারি রাখতে পারবে? ধরুন ঢাকা যাওয়ার জন্য বরাদ্ধ করা হলো, ১০০০ টাকা, আর কেউ যদি ৮০০ টাকায় যাওয়া-আসা ও খাওয়া বাবদ খরছ করল, বাকী ২০০ টাকা কি নিজের কাছে রাখতে পারবে, না কি অফিসে জমা দিতে হবে। নিজের কাছে রাখলে এটা কি হালাল হবে?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। টাকা কিভাবে দেয় সেটা দেখতে হবে। যদি এমন শর্তে দেয় যে যত টাকা লাগবে তার অতিরিক্ত ফেরৎ দিতে হবে আর বেশী লাগলে দেয়া হবে তাহলে খরচের অতিরিক্ত টাকা ফেরৎ দিতে হবে। আর যদি এভাবে দেয় যে, এত টাকা এই ভ্রমনের জন্য বরাদ্দ, বেশী লাগলে দেয়া হবে না তাহলে খরচের অতিরিক্ত টাকা ফেরৎ দিতে হবে না। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। প্রয়োজনে 01734717299

প্রশ্নঃ 1641
নবীজি সা: কে সৃষ্টি না করা হলে পৃথিবী সৃষ্টি করা হতনা এই হাদিস টি অনেকে মুসলিম শরীফের সহীহ হাদিস বলে এই তাদের কি উত্তর দেয়া যায়
07 Jan 2026

এই হাদীসটি মুহাদ্দিসদের সর্বাক্যমতে জাল। মুসলিম শরীফে নেই। যারা বলে তাদেরকে বলবেন, তাহলে মুসলিম শরীফ থেকে দেখাও? এতেই সমাধান হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ 1640
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লহ, মহিলাদের ইতিকাফ সম্মন্ধে জানতে চাচ্ছি। উল্লেখ্য- (আমাদের মা-বোনেরা বাড়িতে ইতিকাফ করতে চাচ্ছে, এতে করেকি ইতিকাফ সহিহভাবে পালন হবে কিনা। কারন, আমরা ইতিমধ্যে সুনতে পেরেছি যে, ইতিকাফ করতে হলে নাকি মসজিদেই যেতেহবে। কিন্তু আমাদের গ্রামাঞ্চলের দিকেতো মহিলাদের মসজিদে নামাজ আদায় করার বা যাওয়ার সুযোগ হয়ে উঠেনা বা ওই পরিবেশ নেই তাই মহিলাদের ইতিকাফের ক্ষেত্রেকি মসজিদেই বসতে হবে নাকি বাড়িতে ইতিকাফ করলেও হবে দয়া করে বিষয়টা সম্মন্ধে সুস্পষ্ট ধারনা দিলে উপকৃত হতাম)…
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মহিলারা বাসায় ই’তিকাফ করার বিষয়ে আলেমদের মাঝে কিছুটা মতভেদ আছে। হানাফী মাজহাবে মহিলাদের বাসায় ই’তিকাফ করতে বলা হয়েছে। সুতরাং আপনার মা-বোনেরা বাসায় ই’তিকাফ করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1639
একজন হিফজ এর ছাত্রী হায়েজ অবস্থায় কুরআন কিভাবে তিলাওয়াত করবে?
07 Jan 2026

হায়েজ অবস্থায় কুরআন তেলাওয়াত করা যাবে না, এটাই অধিকাশ ফকীহ ও আলেমের মত।ঋতুমতী নারী জুনুবি তথা বড় অপবিত্র ব্যক্তির ন্যায়, কারণ উভয়ের উপর গোসল ফরয। আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, ্রأن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يعلمهم القرآن وكان لا يحجزه عن القرآن إلا الجنابة নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে কুরআন শিক্ষা দিতেন, জানাবত ব্যতীত কোনো বস্তু তাকে কুরআন থেকে বিরত রাখত না”। সুনানু ইবনু মাজাহ, হাদীস নং ৫৯৪, সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ১৪৬। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার রহি. হাসান বলেছেন। এই বিষয়ে ইমাম তিরমিযী রহ. বলেন, وهو قول أكثر أهل العلم من أصحاب النبي صلى الله عليه و سلم والتابعين ومن بعدهم مثل سفيان [ الثوري ] و ابن المبارك و الشافعي و أحمد و إسحق قالوا لا تقرأ الحائض [ ولا ] الجنب من القرآن شيئا وإلا طرف الآية والحرف ونحو ذلك ورخصوا للجنب والحائض في التسبيح والتهليل অধিকাংশ সাহাবী, তাবেই এবং পরবর্তী অধিকাংশ আলেম, যাদের মধ্যে রয়েছেন সুফিয়ান সাউরী, ইবনুল মুবারক, শাফেয়ী, আহমাদ,ইসহাক রা., তাদের মত হলো ঋতুস্রাবী মহিলা এবং গোসল ফরজ এমন ব্যক্তি কুরআন পড়তে পারবে না। তবে আয়াতের কোন অংশ বা হরফ পড়তে পারবে। তবে তাসীবহ তাহলীল এর উদ্দেশ্যে কুরআনের কোন আয়াত পড়তে পারবে। সুনানু তিরমিযী হাদীস নং ১৩১ এর আলোচনা। কোন কোন আলেম হায়েজ আবস্থায় মুখস্ত কুরআন পড়াকে বৈধ বলেছেন। তবে না পড়ার ভিতরই অধিক সতর্কতা নিহিত। বিস্তারিত জানতে দেখুন

প্রশ্নঃ 1638
যখন কোনো কিছুই ভালো লাগে না, তখন একজন মুসলমানের কি করা উচিত? -কোরআন শুনা, ইসলামিক লেকচার, etc. এসব করা হয়। এসব ছাড়া আর কি করা যেতে পারে? যখন মনটা একদমই মানতে চায় না?
07 Jan 2026

উপরের কাজগুলো ছাড়াও কোরআন পড়া যেতে পারে, ভালো বন্ধুদের সাথে কোথাও বেড়িয়ে আসতে পারেন। নামায আদায়, যিকির করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1637
আসসালামু আলাইকুম। মুহতারাম, আমাদের এলাকায় সামনে মেম্বার পদ প্রার্থী ভোট হবে। আমাদের বাড়ির পাশে এক বড় ভাইও মেম্বার পদে দাড়িয়েছেন। কিছুদিন আগে হঠাৎ আমাকে রাস্তায় দেখে আমার সাথে বিভিন্ন ইমোশনাল কথা-বার্তা বলে আমার কাছ থেকে তাকে ভোট দেয়ার ওয়াদা নিয়েছেন। আমিও লজ্জায় পড়ে ভোট দিব বলেছি। কিন্তু আমার তাকে ভোট দেবার কোনো ইচ্ছা ছিলোনা এবং নেই। এখন ওয়াদা ভংগ করাতো মুনাফিকির বৈশিষ্ট্য। আমি কি করবো বুঝতে পারছিনা। সে যখন বলেছিল ‘ওয়াদা’ আমিও বলেছিলাম ‘হ্যা ওয়াদা’। কসম করিনি। আমি কি অন্যজনকে ভোট দিতে পারবো? [উনার থেকে আরেকজনকে ভোট দিলে এলাকার উন্নয়ন বেশি হবে বলে মনে করি তাই।] তাকে ওয়াদা দেয়ার পর আমার খুব খারাপ লাগছে যে, তাকে ভোট দিতে হবে; যেহেতু লজ্জায় তাকে না করতে পারিনি। দয়া করে সমস্যার সমাধান দিলে উপকৃত হবো। জাযাকাল্লাহ
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ওয়াদা ভঙ্গ করার কোন সুযোগ নেই। আপনি কৌশেলে এড়িয়ে যেতে পারতেন।

প্রশ্নঃ 1636
আসসালামু আলাইকুম, শাইখ। আমার প্রশ্ন হলো- ১। ভুলে,অনিচ্ছাকৃতভাবে কারও হক নষ্ট করলে কী তার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে? ২। মা-বাবার হকের ক্ষেত্রে কী তাদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে? ৩। বিতর ও ফজরের সুন্নত সালাত কী ওয়াজিব? শেষ প্রশ্নটির বিস্তারিত উত্তর দিলে খুশি হবো। জাযাকাল্লাহু খাইরা।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১। জ্বী, ভুলে,অনিচ্ছাকৃতভাবে কারও হক নষ্ট করলেও তাদের হক পূরণ করে দিতে হবে, তাদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। ২। জ্বী, মা-বাবার হক নষ্ট করলেও তাদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। ৩। আলেম ও ফকীহদের একটি বড় অংশ, বিশেষত হানাফী মাজহাবের আলেমরা বিতরকে ওয়াজিব বলেছেন। কারণ রাসূলুল্লাহ সা. الوتر حق فمن لم يوتر فليس منا قالها ثلاثا বিতর আবশ্যক, যে বিতর আদায় করবে না সে আমাদের অন্তর্ভূক্ত নয়। তিনি তিন বার এই কথা বলেছেন। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪২১। শায়খ শুয়াইব আরনাউত বলেছেন, হাদীসটি হাসান লি গয়রিহি।আবার অনেকে সুন্নাত বলেছেন, হযরত আলী রা. বলেন, إِنَّ الْوِتْرَ لَيْسَ بِحَتْمٍ كَصَلَاتِكُمُ الْمَكْتُوبَةِ، وَلَكِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْتَرَ ثُمَّ، قَالَ: «يَا أَهْلَ الْقُرْآنِ أَوْتِرُوا فَإِنَّ اللَّهَ وِتْرٌ، يُحِبُّ الْوِتْرَ বিতরের নামায তোমাদের ফরয নামাযসমূহের মত অত্যাবশ্যকীয় (ফরয) নামায নয়। বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এ নামায) তোমাদের জন্য সুন্নাতরূপে প্রবর্তন করেছেন। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা বিতর (বেজোড়), তিনি বিতরকে ভালবাসেন। হে কুরআনের বাহকগণ (মুমিনগণ)! তোমরা বিতর আদায় কর। মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ১২৬২। হাদীসটি সহীহ। ফজরের সুন্নাতকেও গুরুত্বের কারণে অনেক আলেম ওয়াজিব বলেছেন।عن عائشةَ رضي الله عنها قالتْ: لم يكُنِ النبيُّ – صلى الله عليه وسلم – على شيءٍ منَ النوافلِ أشَدَّ منْه تعاهُداً على ركعتَيِ الفجرِ. হযরত আয়েশা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু’ রাকআত সুন্নতের প্রতি যেরূপ যত্নবান ছিলেন, সেরূপ অন্য কোন নফল নামাযের প্রতি ছিলেন না। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৬৯।

প্রশ্নঃ 1635
আসসালামু আলায়কুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, আমার ছোট বেলায় আকিকা হয়নি তাহলে এখন কি করবো? আর ছেলে এবং মেয়ের কটি ছাগল লাগবে?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এখন আকীকা করবেন, এটা জায়েজ আছে। ছেলেদের ২টা এবং মেয়েদের ১টি ছাগল লাগবে।

প্রশ্নঃ 1634
আসসালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্ন হচ্ছে, বিয়ে না করলে জান্নাতে যাওয়া যাবে কি? মেহেরবানি করে উত্তর দিলে উপকৃত হবো।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিবাহ রাসূলুল্লাহ সা. এর সুন্নাহ। তিনি বিবাহ করেছেন এবং বিবাহ করার জন্যে উদ্বুদ্ধ করেছেন। বিবাহ চরিত্রকে হেফাজনত, করে দ্বীনকে পরিপূর্ণকরে। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ، مَنِ اسْتَطَاعَ البَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ হে যুবকের দল! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিয়ে করার সামর্থ রাখে সে যেন তা করে নেয়। কারণ বিয়ে চোখ অবনতকারী এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজতকারী। আর যে ব্যক্তি বিয়ে করার সামর্থ রাখে না সে যেন সিয়াম রাখে। কেননা সিয়াম যৌন উত্তেজনাকে কমিয়ে দেয়’’। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫০৬৬। অন্য হাদীসে আল্লাহ রাসূল সা, বলেন, مَنْ رَزَقَهُ اللَّهُ امْرَأَةً صَالِحَةً، فَقَدْ أَعَانَهُ عَلَى شَطْرِ دِينِهِ، فَلْيَتَّقِ اللَّهَ فِي الشَّطْرِ الثَّانِي আল্লাহ যাকে সতী মহিলা দান করল তাকে দ্বীনের অর্ধেক বিষযে সাহায্য করল, অতএব বাকি অর্ধাংশের বিষয়ে যেন সে আল্লাহকে ভয় করে। ” আলমুসতাদর হাকীম, হাদীস নং ২৬৮১। হাদীসটিকে ইমাম জাহাবী সহীহ বলেছেন। এই হাদীসগুলোর আলোকে আমরা বলতে পারি, বিবাহ গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। সক্ষম প্রত্যেক মুসলিমের বিবাহ করা একান্ত উচিত। বিবাহ জান্নাতে যাওয়ার গুরুত্বপূরর্ণ সহায়ক। তবে বিবাহ না করলে জান্নাতে যেতে পারবে না, বিষয়টি এমন না। বিবাহ না করেও যদি কোন মুসলিম নিজের চরিত্রকে হেফাজত করতে পারে, দ্বীনের অন্যান্য বিষয় মেনে চলে তিনি অবশ্যই জান্নাতে যাবেন।

প্রশ্নঃ 1633
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমতুল্লাহ ওয়াবারাকাতুহ। মসজিদে চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করা যাবে? রাসুলুল্লাহ সাঃ কি কখনো মসজিদে চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করেছেন? এ বিষয়ে হাদিস থাকলে দয়া করে জানাবেন।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কোন ব্যক্তি যদি মাটিতে বসে ইশারায় রুকু সাজদা দিয়ে সালাত আদায় করতে পারে তাহলে সে মাটিতে বসেই ইশারাতে রুকু সাজদা দিয়ে সালাত আদায় করবে। আর যদি দাঁড়াতে পারে কিন্তু রুকু সাজদা দিতে পারে না সে ব্যক্তি প্রসিদ্ধ ও গ্রহনযোগ্য মতানুযায়ী দাঁড়িয়ে ইশারাতে রুকু সাজদা দিয়ে সালাত আদায় করবে। দাঁড়িয়ে কিংবা মাটিতে বসে ইশারায় রুকু সাজদা দিয়ে যে ব্যক্তি সালাত আদায় করতে পারবে না সে ব্যক্তিই শুধু চেয়ারে বসে সালাত আদায় করতে পারে। অবশ্য কোন কোন আলেম বলেছেন, দাঁড়াতে অক্ষম হলে এবং বসে রুকু সাজদা দিয়ে সালাত আদায় করতে অক্ষম হলে চেয়ারে বসেও সালাত আদায় শুদ্ধ হবে, উত্তম হলো মাটিতে বসে ইশারা করে সালাত আদায় করা। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন, শায়খ আব্দুল মালেক হাফিজাহুল্লাহ লিখিত এই প্রবন্ধটি চেয়ারে বসে নামায : একটি প্রশ্ন ও তার উত্তর (দারুল উলূম করাচী-এর নতুন ফতওয়ার আলোকে)। মাসিক আলকাউসার, এপ্রিল ২০১৩ আরো বিস্তারিত জানতে দেখুন। 

প্রশ্নঃ 1632
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ, শায়খ আমি একটি প্রজেক্টের অধীনে বিদেশীদের সাথে কাজ করি, আমি সব সময় চেষ্টা করি আমার রিজিককে হালাল রাখার জন্য। আমার বিদেশী বসের কথা মত, তার জন্য আমি প্রায়ই অতিরিক্ত বিল বানিয়ে দেই, যদিও এই ধরনের কাজকে আমি মন থেকে ঘৃণা করি, কিন্তু তার মুখের উপর না বলতে পারি না। এমতাবস্থায় আমার উপার্জন কি হারাম হয়ে যাচ্ছে বা আমি কি কারো হক নষ্ট করছি? এ ছাড়াও ক্যাম্পের ভেতরে থাকার কারনে, দীর্ঘদিন থেকে জুমার নামাজ পড়তে পারি না, কারন করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর, বাহিরে যাওয়া নিষিদ্ধ, এমনকি নামাজের জন্য ও বাহিরে যাওয়া যায় না। এমতাবস্থায় আমার করনীয় কি?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অতিরিক্ত বিল বসানো সম্পূর্ণ অনৈতিক কাজ। এই কাজ আপনার জন্য জায়েজ নেই। জুমার নামায পড়তে না দেওয়া এগুলো তো স্বাভাবিক কোন ব্যাপার নয়। এভাবে চলতে থাকলে তো আপনি ইমান-আমল থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবেন। অতিরিক্ত বিল বসানোর কারণে আপনার আয়ের একটি অংশ হারাম হয়ে যাচ্ছে। নতুন কোন চাকুরীর চেষ্টা করুন, যতদিন না পান এখানে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা থাকলে এখনই এই চাকুরী ছেড়ে দিন।

প্রশ্নঃ 1631
আসসালামুয়ালাইকুম। নামাজে আত্তাহিয়াতু, দরুদ এবং দোয়া মাসুরা তথ আল্লাহুম্মা ইন্নি জলামতু….শেষ করার পর যথাক্রমেঃ রাব্বানা আতিনা ফিদদুনিয়া….ওয়্যক্ববিনা আযাবান্নার,রাব্বির হামহুমা…লা ইলাহা ইল্লাহ আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনাজ্বয়োলিমিন। এই তিনটা দোয়া পড়ার পর সালাম ফিরাইলে কি কোনো ভুল বা বিদয়াত এই জাতীয় কিছু হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি বা বলাটা কতটুকু সঠিক/যুক্তিযুক্ত?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, এতে কোন সমস্যা নেই। বরং যত বেশী দুআ পড়া যায় তত ভালো।

প্রশ্নঃ 1630
আসসালামুআলাইকুম, আমাদের বাসায় শশুড় বাড়ির পারিবারিক ছবি টাংগানো রয়েছে। আমার রুমের ছবি আমি সরিয়ে রাখি, আর বলি যে ঘরে ছবি থাকে সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা আসে না। ছবি সরিয়ে রাখায় আমার শাশুড়ি আমার উপর রেগে আছে আর বলছে আমি ওনাকে অপমান করেছি। এ নিয়ে অনেক সমস্যা হচ্ছে। সেষে আমি আমার স্বামী কে বলেছি, আবার আমার রুমে ছবি লাগানোর জন্য, তাতে শাশুুড়ির মাথা ঠান্ডা হবে । এ বিষয়ে কোরআন হাদীসের সুস্পষ্ট রেফারেনস্ আমার প্রয়োজন। অন লাইন এ এ বিষয়ে রেফান্সে স এ হাদীস নং বা কোরআনের কোন আয়াত আছে, আয়াত নং ্রআমি পাই নাই। রেফারেন্সস দিলে ভালো হত।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই বিষয়ে অনেকগুলো হাদীস বর্ণিত আছে। কয়েটি উল্লেখ করা হলো। عن أبي طلحة رضي الله عنهم : عن النبي صلى الله عليه و سلم قال ( لا تدخل الملائكة بيتا فيه كلب ولا صورة ) আবু তালহা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: لَا تَدْخُلُ الْمَلَائِكَةُ بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ، وَلَا صُورَةٌ “ফেরেশতাগণ ঐ ঘরে প্রবেশ করে না, যে ঘরে কুকুর অথবা ছবি থাকে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩১৪৪ وَعَن ابنِ عبَّاسٍ عَنْ مَيْمُونَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أصبحَ يَوْمًا واجماً وَقَالَ: «إِنَّ جِبْرِيلَ كَانَ وَعَدَنِي أَنْ يَلْقَانِيَ اللَّيْلَةَ فَلَمْ يَلْقَنِي أَمَ وَاللَّهِ مَا أَخْلَفَنِي» . ثُمَّ وَقَعَ فِي نَفْسِهِ جِرْوُ كَلْبٍ تَحْتَ فُسْطَاطٍ لَهُ فَأَمَرَ بِهِ فَأُخْرِجَ ثُمَّ أَخَذَ بيدِه مَاء فنضحَ مَكَانَهُ فَلَمَّا أَمْسَى لقِيه جِبْرِيلَ فَقَالَ: «لَقَدْ كُنْتَ وَعَدْتَنِي أَنْ تَلْقَانِي الْبَارِحَةَ» . قَالَ: أَجَلْ وَلَكِنَّا لَا نَدْخُلُ بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ وَلَا صُورَةٌ فَأَصْبَحَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَئِذٍ فَأَمَرَ بِقَتْلِ الْكلاب حَتَّى إِنه يَأْمر بقتل الْكَلْب الْحَائِطِ الصَّغِيرِ وَيَتْرُكُ كَلْبَ الْحَائِطِ الْكَبِيرِ. ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) মায়মূনাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চিন্তিত অবস্থায় ভোর করলেন এবং বললেনঃ জিবরীল (আ.) এ রাত্রে আমার সাথে সাক্ষাৎ করবেন বলে ওয়া’দা করেছিলেন, কিন্তু সাক্ষাৎ করেননি। আল্লাহর কসম! তিনি তো কখনো আমার সাথে কথা দিয়ে খেলাফ করেননি। অতঃপর তাঁর মনে পড়ল ঐ কুকুর ছানাটির কথা, যা তাঁর তাঁবুর নিচে ছিল। তখনই তিনি তাকে ঐখান থেকে বের করে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। এরপর তাকে বের করে দেয়া হলো। অতঃপর কুকুরটি যে জায়গায় বসা ছিল, তিনি সে জায়গায় কিছু পানি নিজ হাতে নিয়ে ছিটিয়ে দিলেন। পরে যখন বিকাল হলো জিবরীল (আ.) তার সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ গত রাত্রে আপনি আমার সাথে সাক্ষাৎ করার ওয়া’দা করেছিলেন। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, কিন্তু আমরা এমন ঘরে প্রবেশ করি না যে ঘরে কুকুর বা ছবি থাকে। পরের দিন সকালে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমস্ত কুকুর মেরে ফেলার জন্য নির্দেশ দিলেন। এমনকি ছোট ছোট বাগানের কুকুরগুলোকেও মারার হুকুম দিলেন তবে বড় বড় বাগানের কুকুরগুলোকে ছেড়ে দেন। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ২১০৫। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: قدم رسول الله – صلى الله عليه وسلم – من سفر، وقد سترت سهوة لي بقرام فيه تماثيل، فلما رآه رسول الله – صلى الله عليه وسلم – هتكه وتلون وجهه وقال: «يا عائشة: أشد الناس عذابًا عند الله يوم القيامة الذين يضاهون بخلق الله». একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সফর থেকে ফিরে আসলেন, আর আমি আমার ঘরে ছবি যুক্ত কাপড় দ্বারা পর্দা লটকিয়ে ছিলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখে তাঁর মুখ মণ্ডল বিবর্ণ হয়ে যায় এবং তা নষ্ট করে বলেন: হে আয়েশা! যারা কোন জীবের ছবি আঁকাবে কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে তাদের কঠিন আযাব হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৬১০

প্রশ্নঃ 1629
ঈদের নামাযে প্রথম রাকাত ছুটে গেলে করণীয় কী?
07 Jan 2026

ঈদের নামাযের এক রাকাত ছুটে গেলে ইমামের সালামের পর দাঁড়িয়ে আগে সূরা-কিরাত পড়বে এরপর রুকুর আগে অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলবে এবং রুকুতে যাবে। – حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ ، عَنْ أَشْعَثَ ، عَنِ الْحَسَنِ ، قَالَ : يُكَبِّرُ مَعَهُ فِي هَذِهِ مَا أَدْرَكَ مِنْهَا ، وَيَقْضِي الَّتِي فَاتَتْهُ وَيُكَبِّرُ فِيهَا مِثْلَ تَكْبِيرِ الإِمَامِ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ. হাসান বসরী রহি. বলেন, ব্যক্তি নামাযের যতটুক পাবে ইমাম সাহেবের সাথে তাকবীর দিয়ে আদায় করবে এবং যে রাকআত ছুটে গেছে সেটা আদায় করবে, (ছুটে যাওয়া রাকআত আদায় করার সময়) ইমাম সাহেব দ্বিতীয় রাকআতে যেভাবে তাকবীর দিয়েছে সেভাবে তাকবীর দিবে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৫৮৬৩।

প্রশ্নঃ 1628
১। গোসলের ফরজ আদায় না করলে কি গোসল হবে? যদি ফরজ গোসলে ওযু না করে গোসল করি তাহলে কি সেটা পবিত্র হবে? যদি তখন ওই অবস্থায় আমি খাবার খাই তাহলে কি তা হালাল হবে? ২। আমি যে কারণেই হোক বৌ কে তালাক বা ৩ তালাক মুখে দিয়ে ফেলছি তার সামনে। এখন তার সাথে কি সংসার করা জায়েজ কিনা? ৩। অনেক ইসলামিক স্কলার তার মুজা পড়েন কিন্তু তাদের পায়জামা টাখনুর নিচে থাকে?
07 Jan 2026

১। না, গোসলের ফরজ আদায় না করলে ফরজ গোসল শুদ্ধ হবে না। ফরজ গোসলের আগে ওযু করা সুন্নাত। ওযু না করলেও পবিত্রতা অর্জিত হবে। গোসল ফরজ অবস্থায় খাবার খেতে কোন সমস্যা নেই।

২। না, তার সাথে সংসার করা জায়েজ নেই। চার মাজহাবের আলেমগণ এই বিষয়ে একমত।

৩। নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন:عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَرَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ مِنَ الإِزَارِ فَفِي النَّارِ অর্থ: আবু হুরায়রা রা. নবী সা. থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, পরিধেয় বস্ত্রের যে অংশটুকু টাখনুর নিচে থাকবে সেই অংশটুকু জাহান্নামে থাকবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৭৮৭। কে পরলো সেটা দলীল নয়।

প্রশ্নঃ 1627
আমার বাবা মারা যাওয়ার বেশ কয়েক বছর আগে আমাদের গ্রামের বাড়িতে একটা মসজিদ নির্মান করে গেছেন। আমাদের বাড়িতে দুইটা গোষ্ঠী/ বংশ রয়েছে ১) হাওলাদার ২) জোমাদ্দার। মসজিদে উভয় গোষ্ঠি জমি দান করেছে। আমরা হাওলাদার গোষ্ঠির। মসজিদ প্রতিষ্ঠার সময়ে আমার বাবা যেহেতু ওই এলাকায় সুপরিচিত ও সন্মানিত ব্যক্তি ছিলেন এবং বাবার কারণে আমাদের বাড়িটা যেহেতু হাওলাদার বাড়ি নামেই পরিচিত ছিল সে হিসেবে উভয় গোষ্ঠীর মুরব্বিদের সম্মতিক্রমে মসজিদের নাম রাখা হয় দঃ দূর্গাপুর হাওলাদার বাড়ির জামে মসজিদ ও মক্তব নামে। মসজিদের জমির খতিয়ানে এখনও ওই নামেই মসজিদের নাম রয়েছে। বাবা মারা যাওয়ার পরে মসজিদের নাম নিয়ে উভয় গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায়ই বিবাদের সৃষ্টি হয় এবং জোমাদ্দার গোষ্ঠীর লোকেরা নিজেদের ইমেজ ধরে রাখার জন্য হুজুরকে দিয়ে ফতোয়া দিয়ে মসজিদের নাম পরিবর্তন করে বায়তুল আমান জামে মসজিদ নামে মসজিদের নামকরণ করা হয়। হুজুর ফতোয়া দিলেন যে বংশের নামে মসজিদের নামকরণ করা শুদ্ধ বা জায়েজ নয়। আমার প্রশ্ন হলো, হুজুর যে ফতোয়া দিয়েছেন সে বিষয়টা কি ঠিক? মসজিদের পূর্ব নাম অর্থাৎ দঃ দূর্গাপুর হাওলাদার বাড়ির জামে মসজিদ ও মক্তব নাম থাকলে কোনো বাধা আছে কি না?
07 Jan 2026

মসজিদের নামেরে চেয়ে উভয় গোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান হাজার গুন বেশী জরুরী। মসিজদের যদি আদৌ কোন নাম না থাকে তাহলেও কোন সমস্যা নেই। কোন গোষ্ঠীর নামে মসজিদের নাম রাখার চেয়ে ইমাম সাহেবে যে নাম রেখেছেন এমন নাম রাখা অধিক উত্তম। মসজিদের পূর্ব নাম থাকলে যেহেতু শান্তি বাধাগ্রহস্থ হচ্ছে সুতরাং পরের নামটি বহাল থাকুক। জমাদ্দার গোষ্ঠী যেহেতু তাদের নিজের নামে মসজিদের নাম রাখতে বলছে না, সুতরাং তাদের দোষরপ করার প্রয়োজন নেই।

প্রশ্নঃ 1626
আমি একটা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরী করি। কিছু বিশেষ কারনে আমার কোন পৈত্রিক নিবাস বা স্থায়ী আবাস নাই। আমার জন্মের পুর্বে থেকেই বলা চলে আমরা ঢাকায় ভাড়া থাকি। আমার দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। প্রথম কন্যার বয়স আড়াই বছর। জন্ম থেকেই ব্রেইন প্রব্লেম (জন্মের দিন যেমন ছিল এখনো তেমন আছে। শুধু শারিরিক বৃদ্ধি হয়। কোন নড়াচড়াও করতে পারেনা)। দ্বিতীয় কন্যার বয়স দের বছর। সে সুস্থ আছে। দুজনের জন্যই আলহামদুলিল্লাহ। এ দিকে আমার স্ত্রী আবার তিন মাসের অন্তসত্ত্বা। আমার কোন স্থায়ী নিবাস না থাকায় এবং সাহায্য করার লোকের অভাবে তার বাবার বাড়ীতে আছে। আমি শশুর বাড়ীতে এই জন্য কিঞ্চিত অর্থনৈতিক সহায়তা করি। আমি সূদের থেকে বাঁচার জন্য এবং হারাম উপার্জন থেকে বাঁচার জন্য আমার বড় মেয়ের জন্মের পর থেকেই চেষ্টা করে যাচ্ছি। এরজন্য গ্রামের এনজিও সমিতি বন্ধ করে দিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ আমার স্ত্রীও এ ব্যপারে আগ্রহী। মান-অভিমান, স্বার্থ ইত্যাদি কারনে বর্তমানে আমার কোন আপন সাহায্যকারীও নাই যেখানে আমার স্ত্রী সন্তান আমার অবর্তমানে কোন সাহায্য পাবে। নিজের সন্তানদের বিষয় বিবেচনা করে তাদের জন্য এক টুকরো স্থায়ী নিবাস কিংবা মাথা গোজার ঠাই সব সময় আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে তাড়া করে বেড়ায়। এই বিষয়ে কথা বলতেই আমার মসজিদের ইমাম সাহেব বললেন যে, এই অবস্থায় জমি কেনা বা বাড়ী বানানোর জন্য আমি লোন নিতে পারি যদি আমার পরিশোধের সম্ভাবনা বা আয়ের সোর্স থাকে। আমি কি এই লোন বলতে সূদী ব্যাংক থেকে লোন নাাক ধার? যেহেতু আমাকে কেউ এত বিশাল টাকা ধার দিবেনা। কিন্তু আমার সেলারী যে ব্যাংকের মাধ্যমে প্রসেস হয় তারা ৮% সুদে ৫ বছরের জন্য কোন জামানত ছাড়াই লোন দিবে এবং বেতন থেকে মাসে মাসে কেটে নিবে। আমি ইতিমধ্যে তাদের অনেক কাগজে লোনের জন্য স্বাক্ষর করে ফেলেছি তবে চাইলে দু একদিনের মধ্যে হলে প্রসেস বন্ধ করতে পারব বলে মনেহয়। আমি কি এই লোন নিতে পারব? আল্লাহর আইন কি সেই সু্যোগ দেয়? আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!
07 Jan 2026

আমরা আপনার জন্য দুআ করি, আল্লাহ আপনার সমস্যার সমাধাণ করে দিন। সুদভিত্তিক কোন ব্যাংক থেকে ঋন নেওয়া আপনার জন্য এই অবস্থায় জায়েজ হবে না। শুধুমাত্র মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকলে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে সুদ বা হারামে লিপ্ত হতে পারেন। আপনার পরিস্থিতি সে রকম না। তবে যদি কোন ব্যাংক বা আর্থিক সুদবিহীন ঋন দেয় আপনাকে তাহলে নিতে পারেন। অথবা কোন ইসলামী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান আপনার জমি-বাড়ি তাদের টাকায় করে দেন আর আপনি তাদের সেই টাকা নির্ধারিত লাভসহ ধীরে ধীরে দিয়ে দেন তাহলে সেটা ব্যবসা হিসেবে জায়েজ হবে। তবে আপনি টাকা নিয়ে সেই টাকা লাভসহ ফেরত দিতে পারবেন না, এটা সুদ। কোন ক্রমেই সুদে বা হারামে জড়িত হওয়া যাবে না। আল্লাহকে ভয় করে হারাম থেকে বেঁচে থাকতে হবে। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন,وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا (2) وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ যে আল্লাহকে ভয় করবে, আল্লাহ তার একটা রাস্তা বের করে দিবেন। এমন উৎস থেকে রিযিক দান করবেন যা কখানো সে কল্পনাও করে নি। যে আল্লাহর উপর ভরসা করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। সূরা তলাক, আয়াত ২-৩।

প্রশ্নঃ 1625
আসসালামু আলাইকুম শায়েখ। ১প্রশ্ন, আমি একটি মানত করেছি যে, আমার বাবা সুস্থ হলে কিছু দান ও রোজা রাখব কিন্তুু আমার বাবা এখনে অসুস্থ এবং আমি এখন জানতে পারলাম মানত করা ভালো না, আর মানতটা কি মনে মনে করছি নাকি মুখে করছি তাও ঠিক মনে নাই। এখন আমি কি মানত ভাঙতে পারব? কারন আমার মানত পূরন হইনি আর মানতটা কি মুখে করেছি নাকি মনে মনে তাও মনে নাই। ২ প্রশ্ন, মোবাইলের কম্পাস কি কেবলা নির্ধারণে সঠিক হবে? সেটা যে দিকে কিবলা দেখায় সেই দিকে কি কিবলা? আর তা যদি সঠিক হয় তাহলে কিবলা মুখি হয়ে দাড়াঁতে গিয়ে যদি এদিক সেদিক হয়ে যায় তাহলে নামাজ হবে নাকি পুরা একোরেট ভাবে দাড়াঁতে হবে? দয়া করে উত্তর দিবেন। ঝাজাকাল্লাহ
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সঠিক বিষয়টি বুঝান জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার মানত পূরণ করার দরকার নেই। আপনার পিতার সুস্থতার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন এবং দান-সাদকা করুন। ২। মোবাইলের কম্পাস অনেক সময় ভূল হয়। তাই যেখানে থাকেবেন সেখানকার মসজিদকে অথবা স্থানীয় মানুষকে ফলো করে কিবলা নির্ধারণ করবেন। যদি সম্ভব না হয়ে তখন মোবাইলের কম্পাসের সহযোগিতা নিতে পারেন। যে দিকে ক্বিবলা দেখায় সেদিকেই দাঁড়াবেন, হালকা এদিক সেদিক হলে সমস্যা হবে না ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্নঃ 1624
আসসালামু আলাইকুম। বিকাশ মাঝে মাঝে ক্যাশব্যাক দেয়, যেমন বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে ১৬ টাকা রিচার্জ করলে ৫০ টাকা ক্যাশব্যাক, আবার কাউকে বিকাশ অ্্যাপ ব্যবহারের জন্য রেফার করলে করলে রেফারকারি ১০০ টাকা পাবে এধরনের যাবতীয় টাকা নেওয়া জায়েজ আছে কিনা দয়া করে জানাবেন।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিকাশ সুদভিত্তিক একটি ব্যাংক দ্বারা পরিচালিত, তাদের আয়ের মধ্যে হারাম-হালাল আছে। তাই তাকওয়র দাবি হলো এই টাকা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরীবদেরকে দিয়ে দেওয়া, আর যদি না গ্রহনের কোন সুযোগ থাকে তাহলে গ্রহন না করা। তবে তাদের টাকার মধ্যে হারামের সাথে হালাল টাকা থাকার কারণে অনেক আলেম নেওয়া জাযেজ বলেছেন। অনেকে আবার না জায়েজ বলেছেন, কারণ এর ভিতর সুদের হারাম টাকা থাকে। মোটকথা এগুলো থেকে বেঁচে থাকা একজন প্রকৃত মূ’মিনের দায়িত্ব।

প্রশ্নঃ 1623
আসসালামু আলাইকুম। আমি একজন মুসলিম, একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের সাথে যুক্ত। আমার পরিবারও ঐ রাজনৈতিক দলে সাথে যুক্ত। কয়েক দিন ধরে কিছু মানুষ ফতোয়া দিচ্ছে আমরা নাকি কাফের, আমাদের জানাযা হারাম। আমরা তো আল্লাহর রহমতে নামাজ রোজা করি। আমাদের সম্পর্কে এটা বলা কি ঠিক?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ। আপনারা নামায রোজা করেন,এটা খুব ভালো। তবে ইসলাম শুধু নামায রোজা পালন করলেই হবে না। আল্লাহ কুরআনে দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে বলেছেন, شَرَعَ لَكُم مِّنَ الدِّينِ مَا وَصَّىٰ بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَىٰ وَعِيسَىٰ ۖ أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ অর্থঃ “তোমাদের জন্য দ্বীন তথা আনুগত্যের বিধান ধার্য করা হয়েছে যা নূহ (আঃ) কেও নির্দেশ করা হয়েছিল এবং যা তোমার নিকট অহী করেছি এবং যা ইবরাহীম (আঃ), মূসা (আঃ) ও ঈসা (আঃ) কে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, তোমরা দ্বীনকে (ধর্মীয় বিধি বিধান) কায়েম কর (প্রতিষ্ঠা কর) এবং এ বিষয়ে মতবিরোধ করো না। ” (সূরা আশ শূরা:১৩) আর দ্বীন বা ধর্ম আল্লাহর নিকটে শুধুমাত্র ইসলাম। إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ অর্থ: “নিশ্চয় আল্লার নিকট একমাত্র ইসলামই দ্বীন (জীবন বিধান)। ”-(সূরা আলে ইমরান: ১৯) وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ অর্থ: যে ইসলাম ছাড়া অন্য প্রকার আনুগত্যের বিধান চয় তার থেকে সেটা গ্রহণ করা হবে ন। ”-(সূরা আলে ইমরান: ৮৫) আর মুসলিম হিসেবে ইসলামের বিধান আংশিক মানার সুযোগ নেই। আল্লাহ বলেন: ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ ۚ অর্থ: “তোমরা পূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না। ”-(সূরা আল বাকারা: ২০৮) আর ইসলাম কী? এই প্রশ্নের উত্তরে আল্লাহর রাসূল বলেন, الإسلام أن تعبد الله ولا تشرك به شيئا وتقيم الصلاة وتؤتي الزكاة المفروضة وتصوم رمضان অর্থ: ইসলাম হলো আল্লাহর ইবাদত করা, তার সাথে কোন কিছু শরীক না করা, নামায কায়েম করা, যাকাত দেয় এবং রমাজানের রোজা রাখা। ( অন্য একটি হাদীসে হজ্জের কথাও আছে। সহীহ বুখারী,হাদীস নং4499। এই হাদীসে ইসলামের মৌলিক কিছু বিধি বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া কুরআন ও হাদীসে যত বিধি বিধান, আদেশ-নিষেধ করা হয়েছে সবই ইসলাম ধর্ম। আর ধর্মের এই কাজগুলো শুধু ব্যক্তির উপরই ফরজ নয়। এগুলো জনগন যেন মেনে চলে সেটা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের উপরও ফরজ। মূমিনদের গুনাগণ আলোচনা করতে গিয়ে আল্লাহ কুরআনে বলেন, الَّذِينَ إِن مَّكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنكَرِ ۗ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِএরা এমন সব লোক যাদেরকে আমি যদি পৃথিবীতে কর্তৃত্ব-ক্ষমতা দান করি তাহলে এরা নামায কায়েম করবে, যাকাত দেবে, ভালো কাজের আদেশ দেবে এবং খারাপ কাজ নিষেধ করবে (অর্থাৎ ধর্মের সকল বিধি বিধান কায়ম করবে)৷ আর সমস্ত বিষয়ের পরিণাম আল্লাহর হাতে৷ সূরা হজ্জ, আয়াত ৪১। নাময-রোজা জাতীয় ব্যক্তিগত ইবাদতগুলো আমরা সাধারণ মানুষেরা পালন করতে পারি, কিন্তু কুরআনের এমন কিছু বিধান আছে যেগুলো রাষ্ট্রই শুধু প্রতিষ্ঠা করতে পারে। যেমন, সূরা মায়েদার ৩৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে- وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالًا مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ “যে পুরুষ চুরি করে এবং যে নারী চুরি করে তাদের হাত কেটে দাও তাদের কৃতকর্মের সাজা হিসেবে। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি। আল্লাহ পরাক্রান্ত, জ্ঞানময়। ব্যভিচারের শাস্তির বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿ٱلزَّانِيَةُ وَٱلزَّانِي ۡلِدُواْ كُلَّ وَٰحِدٖ مِّنۡهُمَا مِاْئَةَ جَلۡدَةٖۖ وَلَا تَأۡخُذۡكُم بِهِمَا رَأۡفَةٞ فِي دِينِ ٱللَّهِ إِن كُنتُمۡ تُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِۖ وَلۡيَشۡهَدۡ عَذَابَهُمَا طَآئِفَةٞ مِّنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٢﴾ [النور: ٢] “ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী; তাদের প্রত্যেককে তোমরা একশ করে বেত্রাঘাত করবে। আল্লাহর বিধান কার্যকরী করণে তাদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে প্রভাবিত করতে না পারে যদি তোমরা আল্লাহ তা‘আলা ও পরকালে বিশ্বাসী হয়ে থাকো এবং মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে”। [সূরা আন-নূর, আয়াত: ২] আরো একটি আয়াত দেখুন وَ کَتَبۡنَا عَلَیۡهِمۡ فِیۡهَاۤ اَنَّ النَّفۡسَ بِالنَّفۡسِ ۙ وَ الۡعَیۡنَ بِالۡعَیۡنِ وَ الۡاَنۡفَ بِالۡاَنۡفِ وَ الۡاُذُنَ بِالۡاُذُنِ وَ السِّنَّ بِالسِّنِّ ۙ وَ الۡجُرُوۡحَ قِصَاصٌ ؕ فَمَنۡ تَصَدَّقَ بِهٖ فَهُوَ کَفَّارَۃٌ لَّهٗ ؕ وَ مَنۡ لَّمۡ یَحۡکُمۡ بِمَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰهُ فَاُولٰٓئِکَ هُمُ الظّٰلِمُوۡنَ ﴿۴۵﴾ আমি তাদের জন্য তাতে বিধান দিয়েছিলাম যে, জানের বদলে জান, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, কানের বদলে কান, আর দাঁতের বদলে দাঁত। আর জখমের বদলে অনুরূপ জখম। কেউ ক্ষমা করে দিলে তাতে তারই পাপ মোচন হবে। আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিচার ফায়সালা করে না তারাই যালিম। সূরা মায়েদা, আয়াত ৪৫। এই ধরণের বহু ফৌজদারী ও দেওয়ানী বিধান কুরআন হাদীসে আছে। এগুলোই বলে শরীয়াাহ আইন। নীচের আয়তগুলো ভালে করে খেয়াল করুন: ﴿وَمَن لَّمۡ يَحۡكُم بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡكَٰفِرُونَ﴾ [المائ

প্রশ্নঃ 1622
১. আমি নামাযে যাবার পূর্বে দেখেছি কিছু বের হয় নি। নামায থেকে এসে দেখি ছোট একটি দাগ। আমি টেরও পাই নি কখন বের হয়েছে। এমনকি নামায শেষে আমার লিংগের আগাও শুকনো পেয়েছি। আমি কোন উত্তেজনা ও অনুভব করি নাই কারন জামাতে যাবার তাড়ায় ছিলাম। শুধু মোটরসাইকেলে যাবার সময় সামনে একজন নারী পড়েছিলেন। এমতাবস্থায় নামায হবে কি? ২. মযী বের হলে কি ফরজ গোসলের পূর্বে যেমন প্রস্রাব করে লিংগের ভেতরের নাপাকি বের করে নেই, তেমনিভাবে প্রস্রাব করতে হবে? নাকি যেখানে লেগেছে তা ধৌত করলেই হবে? ৩. মযী/মযী লাগা কাপড় ট্যাপের প্রবাহমানপানি দ্বারা ধৌত করার সময় যে পানি নিচে পতিত হয়ে গায়ে এবং আশেপাশে ছিটা আসে এবং গড়িয়ে যাবার সময় পায়ে লাগে, তা কি নাপাক হবে? ৪. মযী কি উত্তেজনা ছাড়া বের হতে পারে এবং বের হলে কি আমি অবশ্যই টের পাবো নাকি নাও পেতে পারি? না টের পেলে কি প্রতি নামাজের আগে চেক করবো? ৫. যুবকদের মযী কি প্রায়ই বের হতে পারে? তাহলে বাইরে/ সফরে থাকাকালীন সময়ে কিভাবে নামাযের জন্য পবিত্রতা অর্জন করবো?
07 Jan 2026

১। মযী নাপাক। তবে ছোট দাগের মত নাপাকী কাপড়ে বা শরীরে থাকলেও নামায সহীহ হবে। নাপাকী একটি পয়সার পরিমাণের চেয়ে বেশী হলে তখন নামায হবে না। এর চেয়ে কম হলে নামায সহীহ হবে। তবে আগে থেকে দেখলে পবিত্র করে নেওয়া উত্তম। ২। লিঙ্গের ভিতের জমে থাকা মযি বাইরে চলে আসার একটা সম্ভাবনা থাকে,তাই প্রস্রাব করে ভালো করে পবিত্র হয়ে নিবেন। ৩। জ্বী, নাপাক মিশ্রিত পানিও নাপাক হয়ে যায়, তাই এই পানি যেন শরীরে বা কাপড়ে না লাগে সেদিকে খেয়াল করবেন। তবে নাপাক কাপড় বা শরীর থেকে দূর হয়ে যাওয়ার পর শরীরে বা কাপড়ে থাকা পানি আর নাপাক থাকে না। সেই পানি শরীরে বা কাপড়ে লাগলে কোন সমস্যা নেই। ৪। মযী উত্তেজনার সাথে বের হয় আবার কখনো কখনো দূর্বল পুরুষদের উত্তেজনা ছাড়াও বের হতে পারে। যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী মযী বের হওয়ার প্রবণতা থাকে তাহলে প্রতি নামাযের আগে চেক করতে হবে। তবে সুস্থ মানুষের অনিয়ন্ত্রিত ভাবে মযী বের হয় না, তাদের কোন সময় চেক করার প্রয়োজন নেই। ৫। অসুস্থ মানুষের কেবল মযী যখন তখন বের হয়, সুস্থ মানুষের এমন হয় না। যদি এটা বেশী বের হওয়ার প্রবণতা থাকে তাহলে নামাযের জন্য বিকল্প কাপড় সঙ্গে রাখতে হবে, এ জন্য ছোট একটি ব্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে। মযী সাধারণত উত্তেজনার কারণে বের হয়, তাই উত্তেজনা আসে এই ধরণের পরিবেশ বর্জন করতে হবে।

প্রশ্নঃ 1621
আস্সালামু আলাইকুম আমার কাছে এক ছেলে আসছে আমার বি,এ পাসের সার্টিফিকেট নিতে, চাকরি নিবে, আসলে সে এস এস সি পাস করছে। আমি ধোঁকা বা পরিচয় গোপন করার বিষয় ইসলামি দৃষ্টি কোন থেকে তাকে দেইনি। বিষয় গুলো সম্পর্কে জানতে চাই
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বী, আপনি ঠিকই করেছেন। এভাবে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে চাকুরী করতে কাউকে সহায়তা করা যাবে না।

প্রশ্নঃ 1620
আস্সালামু আলাইকুম, আমার স্ত্রী মাসিক অবস্থায় ভূলক্রমে ৩ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে ফেলে এখন আমাদের কি করণীয়?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে, ভবিষ্যতে যেন এমন ন হয় খেয়াল রাখবেন।

প্রশ্নঃ 1619
আসসালামু আলাইকুম। অনেক আলেম ছোটো দরূদ হিসাবে এই দুটি পড়া যাবে বলেছে। কিন্তু এটা বেদাত কিনা তা বুঝতে পারছি না। দরূদ হিসাবে ” সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ” অথবা ” আল্লাহুম্মা সাল্লিয়ালা সায়্যিদিনা মোহাম্মদ ” এই দুটি পড়া যাবে নাকি বেদাত হবে?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বী, এই দুটি পড়া যাবে।

প্রশ্নঃ 1618
নয়জন মিলে দুইটা গরু কুরবানী করলে কি হবে?
07 Jan 2026

হ্যাঁ, হবে। জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রা. বলেন, أَنَّ النَّبِىَّ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ الْبَقَرَةُ عَنْ سَبْعَةٍ وَالْجَزُورُ عَنْ سَبْعَةٍ নবী সা. বলেছেন, গরু সাত জনের পক্ষ থেকে এবং উট সাত জনের পক্ষ থেকে। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ২৮১০। শায়খ আলবানী রহ. এবং অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

প্রশ্নঃ 1617
কাউকে দাড়িয়ে কি সম্মান করা যাবে? যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে করা হয় এবং বড় কাউকে দেখলে দাড়িয়ে সালাম দেওয়া।
07 Jan 2026

عن أنس قال : لم يكن شخص أحب إليهم من رسول الله صلى الله عليه و سلم قال وكانوا إذا رأوه لم يقوموا لما يعلمون من كراهيته لذلك আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “সাহাবায়ে কিরামের নিকট রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অপেক্ষা কোন ব্যক্তিই অধিক প্রিয় ছিলো না। অথচ তাঁরা যখন তাঁকে দেখিতেন তখন দাঁড়াতেন না। কেননা, তাঁরা জানতেন যে, তিনি ইহা পছন্দ করেন না। ” সুনানু তিরমিযিو হাদীস নং ২৭৫৪। হাদীসটি সহীহ। সুতরাং এভাবে দাঁড়িয়ে সম্মান জানোনো উচিৎ নয়। তবে

প্রশ্নঃ 1616
নামাজে একই ব্যক্তির আজান, আকামত এবং ইমামতি করা যাবে কিনা?
07 Jan 2026

জ্বী, যাবে।

প্রশ্নঃ 1615
আসসালামু আলাইকুম। আমি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। বাসা থেকে আমার কর্মস্থল ২৭ কিলোমিটার বা ততোধিক দূরত্বে অবস্থিত। আমার ডিউটি টাইম মর্ণিং+ইভিনিং+নাইট শিফট মিলে একটানা ২৪ ঘন্টা । সহজ ভাবে বুঝিয়ে বলতে গেলে, ভোর বেলা কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ২৭ বা ততোধিক কিলোমিটার সফর করে কর্মস্থলে পৌঁছে, সকাল ৯ টা থেকে ডিউটি শুরু করে পরদিন অন্তত সকাল ৯ টা পর্যন্ত (কখনো আরো বেশী সময় পর্যন্ত) নিরবিচ্ছিন্ন ডিউটি করে পূনরায় ২৭ বা ততোধিক কিলোমিটার সফর করে বাসায় ফেরা, এভাবে কোনো সপ্তাহে দু দিন, কোনো সপ্তাহে একদিন আমাকে ডিউটি করতে হয়। অর্থাৎ আসা এবং যাওয়া মিলে ৫৪ বা ততোধিক কিলোমিটার যাতায়াত করে আমি আমার ডিউটি সম্পন্নকরি। এক্ষেত্রে আমি ডিউটিতে থাকা অবস্থায় সাধারন নিয়মে পূর্ন রাকাত সালাত আদায় করে আসছিলাম। কিন্তু কেউ বলছেন এক্ষেত্রে কসর পড়তে হবে, আবার কেউ বলছেন পূর্ন রাকাত পড়তে হবে। কোরআন এবং সুন্নাহ এর আলোকে এ ব্যাপারে মাসালা কি, জানালে উপকৃত হবো।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ৭৮ কিলোমিটারের বেশী দূরে গেলে তখন কসর করতে হয়ে। যাওয়া -আসা মিলে নয়, শুধু যেতেই হবে ৭৮ কিলো। সুতরাং আপনি পূর্ণ নামায আদায় করবেন, কসর করবেন না।

প্রশ্নঃ 1614
ক্লাস ফাইভে থাকার সময়ে (তখন বয়স ৯-১০ বছর) এক আত্নীয়ের বাসায় গিয়ে পড়াশোনা করতাম। সেখানে এক গৃহকর্মী ছিলেন, তখন তার আনুমানিক বয়স ১৩-১৪ হবে। একদিন কোনো এক কথার মাঝে ঠাট্টাবশত আমি ফট করে বলি, “তোমার গায়ের রঙ কালো, তাই তোমার বাচ্চাও কালো হবে!” জবাবে তিনি বলেন, “আপনার কোনো ছেলেমেয়েই হবে না!” আজ ২-৩ বছর যাবত অভিশাপের বিষয়টি মাথায় ঘুরছে। বাসায় এ ব্যাপারে আলাপ করার পরও ছোট ছিলাম এ জাতীয় কথা বলে উড়িয়ে দেয়া হয়। এমতাবস্থায় কি করণীয়?
07 Jan 2026

আল্লাহর কাছে বিপদআপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দুআ করবেন। অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার কারণে আপনার কোন গুনাহ হবে না। আর সেই গৃহকর্মীর এমনটা বলা একেবারই উচিত হয় নি। কোন বস্ত বা ব্যক্তিকে লা’নত বা অভিসম্পাত করা কবীরা গুনাহ্। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে লা’নত করা তাকে হত্যা করার সমতুল্য বলে আখ্যায়িত করেছেন। সাবিত বিন্ যাহ্হাক (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: وَمَنْ لَعَنَ مُؤْمِنًا فَهُوَ كَقَتْلِهِ. ‘‘কোন ঈমানদার ব্যক্তিকে লা’নত করা তাকে হত্যা করার সমতুল্য’’। (বুখারী ৬০৪৭) লা’নত করা তো কোনভাবেই মু’মিনের চরিত্র হতে পারে না। কাউকে লা’নত করা কোন সিদ্দীক তথা বিনা দ্বিধায় নবী আদর্শের সত্যিকার অনুসারী এমনকি সাধারণ কোন মু’মিনেরও বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: لَا يَنْبَغِيْ لِصِدِّيْقٍ أَنْ يَّكُوْنَ لَعَّانًا. ‘‘কোন সিদ্দীকের জন্য উচিৎ নয় যে, সে লা’নতকারী হবে’’। (মুসলিম ২৫৯৭) আব্দুল্লাহ্ বিন্ ’উমর (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: لَا يَكُوْنُ الْـمُؤْمِنُ لَعَّانًا. ‘‘মু’মিন তো কখনো লা’নতকারী হতে পারে না’’। (তিরমিযী ২০১৯) কাউকে লা’নত করলে সে ব্যক্তি লা’নতের উপযুক্ত না হলে উক্ত লা’নত লা’নতকারীর উপরই প্রত্যাবর্তন করবে। উম্মুদ্দারদা’ (রাযিয়াল্লাহু আন্হা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি আবুদ্দারদা’ (রাঃ) কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا لَعَنَ شَيْئًا صَعِدَتِ اللَّعْنَةُ إِلَى السَّمَاءِ، فَتُغْلَقُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ دُوْنَهَا، ثُمَّ تَهْبِطُ إِلَى الْأَرْضِ، فَتُغْلَقُ أَبْوَابُهَا دُوْنَهَا، ثُمَّ تَأْخُذُ يَمِيْنًا وَشِمَالًا، فَإِذَا لَمْ تَجِدْ مَسَاغًا رَجَعَتْ إِلَى الَّذِيْ لُعِنَ، فَإِنْ كَانَ لِذَلِكَ أَهْلًا، وَإِلاَّ رَجَعَتْ إِلَى قَائِلِهَا. ‘‘নিশ্চয়ই কোন বান্দাহ্ কোন বস্ত্তকে লা’নত করলে উক্ত লা’নত আকাশের দিকে উঠে যায়। ইতিমধ্যেই আকাশের দরোজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। তখন তা আকাশে উঠতে না পেরে জমিনের দিকে নেমে আসে। ইতিমধ্যেই জমিনের দরোজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। তখন তা ডানে-বাঁয়ে পথ খোঁজাখুঁজি করে। পরিশেষে কোন ক্ষেত্র না পেয়ে তা লা’নতকৃত ব্যক্তির নিকটই ফিরে আসে। যদি সে উক্ত লা’নতের উপযুক্তই হয়ে থাকে তা হলে তো ভালোই নতুবা তা লা’নতকারীর দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে’’। (আবূ দাউদ ৪৯০৫) লা’নতকারী শহীদ ও সুপারিশকারী হতে পারবে না। আবুদ্দারদা’ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: لَا يَكُوْنُ اللَّعَّانُوْنَ شُفَعَاءَ وَلَا شُهَدَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ. ‘‘লা’নতকারীরা কিয়ামতের দিন কখনো শহীদ ও সুপারিশকারী হতে পারবে না’’। (মুসলিম ২৫৯৮; আবূ দাউদ ৪৯০৭) কেউ কোন বস্ত্ত বা ব্যক্তিকে লা’নত করলে তিনি অন্যের কাছে তাঁর নিজ সম্মান হারিয়ে ফেলেন। ’ইমরান বিন্ ’হুস্বাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: بَيْنَمَا رَسُوْلُ اللهِ فِيْ بَعْـضِ أَسْفَارِهِ، وَامْرَأَةٌ مِنَ الْأَنْصَارِ عَلَى نَاقَةٍ، فَضَجِرَتْ فَلَعَنَتْهَا، فَسَمِعَ ذَلِكَ رَسُوْلُ اللهِ فَقَالَ: خُذُوْا مَا عَلَيْهَا وَدَعُوْهَا، فَإِنَّهَا مَلْعُوْنَةٌ. ‘‘একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর করছিলেন এমতাবস্থায় জনৈকা আন্সারী মহিলা নিজ উটের উপর বিরক্ত হয়ে তাকে লা’নত করলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে সাহাবাদেরকে বললেন: তোমরা তার সকল আসবাবপত্র নামিয়ে লও।

প্রশ্নঃ 1613
আসসালামু আলাইকুম, আমি আমার স্ত্রী নিয়ে চট্টগ্রামে থাকি। আমার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া। আমাদের ৭ মাস আগে বিয়ে হয়েছে। আমি মজা করে তাকে জিজ্ঞেস করেছি যে আমার সাথে সংসার করতে কেমন লাগছে। সে মজা করে বলছে, ভালো লাগছে না, আমি বাড়িতে চলে যাব। বাড়ি বলতে সে বলছে যে, হয় আমার বাড়ি বা তার মায়ের বাসায় থাকবে। তখন, আমি বলেছি যে, সেখানে তো আমাকে পাবে না। তখন সে মজা করে বলেছে যে, স্বামীর দেয়া খাবার খেতে ভাল লাগছে না, তাই চলে যাবে। আমি জানি যে, তালাকের বিষয়ে মজাও করা যায় না। তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করি যে, তুমি কি মজা করে আলাদা হওয়ার কথা বলছ। সে বলছে না আমি সেটা বোঝাই নাই, দুজন দুই জায়গায় থাকার কথা বলছি, আর যদি আলাদা হওয়া বোঝাইও আমি তো তালাকের কথা বলি নাই। তখন থেকে আমার দুশ্চিন্তা হচ্ছে যে, আমাদের মধ্যে কি তালাকের মত কোনো কিছু হয়েছে কিনা। হে শায়েখ, আপনি যদি এ ব্যাপারে আমাকে জানাতেন তাহলে অনেক উপকৃত হতাম।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, তালাকের মত কিছু হয় নি। দুশ্চিন্তা করার কারণ নেই। আল্লাহ আপনাদের ভালো রাখুন।

প্রশ্নঃ 1612
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু। শাইখ আমার নফল ইবাদতের সওয়াব অন্য কাউকে দিতে পারবো কি?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দৈহিক নফল ইবাদতের সওয়াব অন্য কাউকে দেয়া যায় মর্মে কোন হাদীস পাওয়া যায় না। তবে দান সদকা করে তার সওয়াব অন্যকে দেওয়া যায়। হাদীসে আছে, أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُم ، أَخَا بَنِي سَاعِدَةَ تُوُفِّيَتْ أُمُّهُ وَهْوَ غَائِبٌ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ أُمِّي تُوُفِّيَتْ وَأَنَا غَائِبٌ عَنْهَا فَهَلْ يَنْفَعُهَا شَيْءٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ بِهِ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ قَالَ فَإِنِّي أُشْهِدُكَ أَنَّ حَائِطِي الْمِخْرَافَ صَدَقَةٌ عَلَيْهَا. সাদ ইবনে উবাদা রা. এর অনুপস্থিতিতে তাঁর আম্মা মারা গেলেন। তিনি নবী সা. এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার অনুপস্থিতিতে আমার আম্মা মারা গিয়েছেন, যদি আমি তার জন্য কোন কিছু সাদকা করি তাহলে কি তা তাঁর কোন উপকারে আসবে? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, তাহলে আমি আপনাকে সাক্ষী করে বলছি, মিখরাফের আমার বড় খেজুর বাগানটি তার জন্য দান করে দিলাম। সহীহ বুখারী,হাদীস নং ১৭৬২। জামে তিরমিযী, হাদীস নং৩৬৫০। তিরমিযীতে হাদীসটি একটু বিস্তারিত বর্ণিত আছে। আলেমদের একাংশ অবশ্য বলেছেন, দান-সদাকার মত নামায-রোজার সওয়াবও দান করা যাবে। বিস্তারিত জানতে দেখুন

প্রশ্নঃ 1611
আসসালামু আলাইকুম, স্বামী সরকারী নিয়মে তালাকের নোটিশ পাঠাল চেয়ারম্যানের মাধ্যমে যে তিন মাস পর তালাক কার্যকর হবে। এর পর দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে সে তালাক বাতিল করে স্ত্রীকে নিতে চায়। এক্ষেত্রে দুটো ব্যাপার, ক. নোটিশে “এক তালাক” লেখা, খ. নোটিশে “তিন তালাক” লেখা। আমার জানামতে যদি “এক তালাক” লেখা থাকে তবে তো কোনো প্রশ্ন নেই। প্রশ্ন ১: যদি “তিন তালাক” লেখা থাকে তবে কি সে তিন মাস অতিবাহিত হবার আগে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারবে? সে যখন তালাক দিয়েছে তখন এটা মেনেই দিয়েছে যে তিনমাস পর তালাক কার্যকর হবে। সে উকিলের মাধ্যমে নোটিশ পাঠিয়েছে, এক তালাক বা তিন তালাকের বিষয়টি সে অবহিত নয় বা জ্ঞানে নেই, নোটিশ পেপারে লেখার গুরুত্বও সে জানে না। এক্ষেত্রে প্রশ্ন ২. তিন তালাক লেখা থাকলে এটি কি তিন তালাক বলে গন্য হবে?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইসলামী আইনে তালাক দেয়ার পর তা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই। যেহেতু সে লেখার সময় ৩ তালাকের নিয়ত করেছে, তাই তিন তালাক কার্যকর হবে। চার মাজহাবের আলেমদের ঐক্যমতে একসাথে তিন তালাক দিলে তালাকই পতিত হবে। তবে আলেমদের একাংশের মতে একসাথে তিন তালাক দিলে এক তালাক হবে।

প্রশ্নঃ 1610
সাদাকায়ে বিপদ-আপদ দূরীভূত হয়। হাদীসটি সহীহ নাকি জয়ীফ দয়া করে জানাবেন।
07 Jan 2026

হুবুহু এই শব্দে কোন হাদীসে নেই। তবে বিভিন্ন হাদীসের আলোকে বুঝা যায় এই বক্তব্যটি সঠিক।

প্রশ্নঃ 1609
বাচ্চাদের বয়স ২ বছরের বেশি হলে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো কি হারাম? একটু বিস্তারিত জানালে ভালো হয়।
07 Jan 2026

দুই বছর পর বুকের দুধ খাওয়ানো হারাম নয়। কুরআন শরীফের সূরা বাকারার ২৩৩ নং আয়াত, যেখানে বলা হয়েছে মায়েরা শিশুকে পরিপূর্ণ দুই বছর দুধ খাাওয়াবে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দুধ খাওয়ার দ্বারা যে হুকুম আহকাম সাব্যস্ত হয় তা দুই বছরের পর দুধ খেলে হবে না। যেমন, দুধ মা, দুধ ভাই ইত্যাদি। ইমাম কুরতুবী রহ. বলেন, والزيادة على الحولين أو النقصان إنما يكون عند عدم الإضرار بالمولود وعند رضا الوالدين শিশুর ক্ষতি না হলে এবং পিতা-মাতা সন্তুষ্ট থাকলে দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে দু্ই বছরের কম-বেশী করা যায়। তাহসীর কুরতুবী, সূরা বাকারা, আয়াত নং ২৩৩ এর তাফসীর। চার মাজহাবের দলীলভিত্তিক বিখ্যাত কিতাব আল-ফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু তে আছে, فإن استمر الرضاع بعد الحولين لضعف الطفل، فلا مانع منه للحاجة، ولكن لا يترتب عليه أحكامه من التحريم وأخذ الأم المطلقة أجراً عليه. শিশু দুর্বল হলে শিশুর প্রয়োজনে দুই বছরের উপর দুধ খাওয়ানোতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু দুই বছরের উপরে গেলে হারাম (অর্থাৎ দুধ মা, দুধ ভাই বোন ইত্যাদি) হওয়ার হুকুম এবং তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে সন্তানকে দুধ খাওয়ানোর পারিশ্রমিক দেয়া সংক্রান্ত হুকুম সাব্যস্ত হবে না। আল-ফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু ১০/৩৬। বিখ্যাত ফিকহী বোর্ড জান্নাত দায়েমা এর আলেমগণও উক্ত অভিমত ব্যক্ত করেছেন। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। আরো বিস্তারিত জানতে দেখতে পারেন তাফসীরের কিতাবসমূহ থেকে সূরা বাকারার ২৩৩ নং আয়াতের তাফসীর এবং আল-ইসলাম সুয়া ও জওয়াব, প্রশ্ন নং ১৩০১৫৫। আরবী, ইন্টারনেট।

প্রশ্নঃ 1608
আমাদের দেশে যে অনেকে বলে অমুক তরিকায় নামাজ আর তমুক তরিকায় নামায…আসলেও কি নামাযের আলাদা আলাদা কোন তরিকা আছে?আমাদের কে বুঝি তরিকা মেনে চলতে হয়..এই তরিকা বলতে আসলেও কি কুর আন ও হাদিসে কিছু আছে?
07 Jan 2026

নামাযের কিছু কিছু বিষয়ে একাধিক পদ্ধতি সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত। পূর্ববর্তী মুজতাহিদ আলেমগণের কেউ কেউ একটিকে উত্তম বলেছেন আবার আরেক জন আরেকটিকে উত্তম বলেছেন। যেমন: রাফয়ে ইয়াদাইন করা বা না করা। উভয়টিই সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত। ইমাম আবু হানীফা রহ. না করাকে উত্তম বলেছেন। ইমাম শাফেই রহ.সহ অনেকেই করাকে উত্তম বলেছেন। এইগুলো আমাদের দেশের স্বল্পশিক্ষিত মানুষেরা অনেক সময় হয়তো তরীকা বলেন। আমি শুনিনি তবে এমন বলতে পারেন যে, আবু হানীফার তরীকা এমন আর শাাফেয়ীর তরীকা এমন। এখানে বিভ্রান্ত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। প্রয়োজনে 01734717299

প্রশ্নঃ 1607
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমার পিতা গত দুই বছর যাবত প্যারালাইস্ট। তিনি মানষিক ভাবে সুস্থ কিন্তু শারীরিক ভাবে দুবল ও চলাফেরা করতে পারেন না। তিনি সওম পালনে অক্ষম। এখন তার সওম জন্য ইসলামে বিধান কি? কাফফারার বিধান আছে কি (গত সাওম গুলোতে এক জন রোজাদারের সেহরি ও ইফতারের খররচ দেওয়া হয়েছিল) কাফফারার বিধান থাকলে সেটি কিভাবে আদায় করতে হবে।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। তিনি প্রতিটি রোজার বিপরীতে একজন মিসকিনকে এক দিনের খাবার দিয়ে দিবেন। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ আর যাদের জন্য তা (রোজা) কষ্টকর হবে তাদের উপর আবশ্যক হলো ফিদিয়া দেয়া অর্থাৎ একজন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো। সূরা বাকারা, আয়াত নং ১৮৪। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 1606
আসছালামু আলাইকুম। এক লোকের জামাতা হঠাৎ মারা যায়। মৃত্যু ব্যক্তি একটি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। মৃত্যু ব্যক্তির সন্তান তথা পরিবারের ভরণপোষনের জন্য সংস্থা থেকে কিছু টাকার সঞ্চয় পত্র কিনে পোস্ট অফিসে রেখে দেন। ঐ টাকা দিয়ে শুধুমাত্র বাসা ভাড়া (২৩০০০) ও সন্তানদের লেখাপড়া চলে। এছাড়া ঐ পরিবোরের অন্য কোন আয় নেই। প্রশ্ন হলো ঐভাবে তারা টাকা রাখতে পারবে কি না? যদি না পারে তাহলে তারা কিভাবে ব্যবস্থা নিতে পারে? উত্তর দিয়ে বাধিত করবেন।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমরা তাদের জন্য দুআ করি, আল্লাহ যেন তাদেরকে ভাল রাখেন। এভাবে টাকা রেখে যে টাকা পাওয়া যায় তা মূলত সুদ। সুতরাং এই টাকা নেয়া হালাল হবে না। ঐ লোকের আত্নীয়দের উচিত টাকাগুলো কোনভাবে ব্যবসার কাজে লাগিয়ে তাদের সহায়তা করা।

প্রশ্নঃ 1605
Assalamu alikum Ami morhum Dr Abdullah jahangir sir er lecture regular shuni. Allah unake jannat nosib korun. Amar question hoche apnader website teke unar boi gulu download korte ba porte partesina . Ai boi gulu kivabe Pete pari? Specifically unar likha salater bidan ar rahe belayet
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনার প্রশ্ন পেয়ে আমি ওয়েবসাইডে গিয়ে রাহে বেলায়াত বইটি ডাউনলোড করতে গেলাম এবং ডাউনলোড হলো। সুতরাং আপনি চেষ্টা করুন হবে। আর সরাসরি বই পেতে চাইলে যোগাযোগ করুন 01734717299

প্রশ্নঃ 1604
যদি মুসলিম শরিফ ৭৪৭ নং হাদিস অনুযায়ী রুকুতে যাওয়ার আগে ও পরে আবার আল্লাহু আকবার বলে তাকবির বাধি,তবে তা নাকি আমদের তরিকা অনুযায়ী সঠিক হবেনা। এটা কি ঠিক? আসলেও কি তরিকা বলে কিছু আছে? আর উপরের নিয়ম অনুযায়ী নামায পড়া যাবে কিনা নাকি গুনাহ হবে? প্লিজ জানাবেন।
07 Jan 2026

আপনার প্রশ্ন অস্পষ্ট। তবে আমার মনে হচ্ছে আপনি রুকুর আগে ও পরে রাফয়ে ইয়াদাইন তথা হাত তোলা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। এটা করলে কোন সমস্যা নেই।আরো জানতে 01734717299

প্রশ্নঃ 1603
জনাব, ঝিনাইদহের অধিকাংশ মসজিদে আযানের আগে শুর করে আ্উযু বিল্লাহ, বিসমিল্লাহ পড়া হয়, এর পরে আযান দেওয়া হয়, এ ব্যাপারে শরীয়াতের বিধান বা সুন্নাত নিয়ম জানতে চাই।
07 Jan 2026

এটা নাজায়েজ বা হারাম কিছু না। এতে কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 1602
Wife husband k name dhore dakte parbe ki? Jodi na pare tobe ki bhabe dakbe?
07 Jan 2026

ইসলামের দৃষ্টিতে বাধা নেই। তবে আমাদের সমাজ বিষয়টি ভালভাবে গ্রহণ করে না তই বিকল্প চিন্তা করা উচিত। মানুষ যেভাবে ডাকে সেভাবে ডাকবে।

প্রশ্নঃ 1601
মৃতের জানাজার নামাজ কত বার অর্থাৎ একবার অধিক পড়ান যাবে কি-না?
07 Jan 2026

জানাজার নামায একবার পড়াই সুন্নাত। একাধিক পড়া সুন্নাত নয়।

প্রশ্নঃ 1600
আসসালামু আলাইকুম…আমার প্রশ্ন হল, আমার ভাই কিছু দেনা রেখে মৃত্যু বরন করেছেন। আমাকে যে টাকা যাকাত দিতে হবে, সেই যাকাতের টাকা দিয়ে তার দেনা পরিশোধ করা যাবে কিনা?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি আপনার ভাইয়ের সম্পদের যারা ওয়ারিস হয় এমন কাউকে যেমন, তার ছেলে বা মেয়েকে আপনার যাকাতের টাকার মালিক বানিয়ে দিন। সে আপনার ভাইয়ের দেনা শোধ কর দেবে। যিনি যাকাতের টাকা নিবেন তাকে অবশ্যই যাকাতের টাকা নেয়ার মত গরীব হতে হবে। মৃতব্যক্তিকে যাকাত দেয়া যায় না।

প্রশ্নঃ 1599
মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও নির্দেশনা স্যার র এই আলোচনার উপর কোন বই আছে। থাকলে বই এর নাম বলেন।
07 Jan 2026

বই নেই, তবে এই বিষয়ে স্যার রহ. এর একটি লেখা ইন্টারনেটে আছে। শিরোনাম কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জামাআত ও ঐক্য। আমাদের ওয়েবসাইডে গিয়ে লেখাটি পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 1598
আসসালামুয়ালাইকুম। কবরের আজাব নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাই। অনেকে বলেন কবরে নিদ্রা অবস্থায় থাকবে। জান্নাত বা জাহান্নাম হবে শেষ বিচারের পর। কারন সূরা ইয়াসিন, আয়ার নং ৫১-৫২ তে আল্লাহ্ বলেনঃ শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে তখনই তারা কবর থেকে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে চলবে। তারা বলবে হায় আমাদের দুর্ভোগ কে আমাদেরকে নিদ্রাস্থল থেকে উখিত করল? রহমান আল্লাহ তো এরই ওয়াদা দিয়েছিলেন এবং রসূলগণ সত্য বলেছিলেন।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কবরের আজাব সত্য। আলেমগণ এই বিষয়ে একমত। অনেকগুলো হাদীসে কবরের আজাবের বিষয়টি পাওয়া যায়। নিচের হাদীসটি থেকেও কবরের আজাবের বিষযটি জানা যায়। قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى قَبْرَيْنِ فَقَالَ إِنَّهُمَا لَيُعَذَّبَانِ وَمَا يُعَذَّبَانِ مِنْ كَبِيرٍ ، ثُمَّ قَالَ – بَلَى أَمَّا أَحَدُهُمَا فَكَانَ يَسْعَى بِالنَّمِيمَةِ وَأَمَّا أَحَدُهُمَا فَكَانَ لاَ يَسْتَتِرُ مِنْ بَوْلِهِ قَالَ ثُمَّ أَخَذَ عُودًا رَطْبًا فَكَسَرَهُ بِاثْنَتَيْنِ ثُمَّ غَرَزَ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا عَلَى قَبْرٍ ثُمَّ قَالَ لَعَلَّهُ يُخَفَّفُ عَنْهُمَا مَا لَمْ يَيْبَسَا. অর্থ: ইবনে আব্বাস রা. বলেন, একবার নবী সা. দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন, তাদেরকে আযাব দেয়া হচ্ছে তবে বড় কোন পাপের জন্য নয়…(সংক্ষিপ্ত)।সহীহ বুখারী হাদীস নং ১৩৭৮। সুতরাং কবরের আজাবের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নতোলার কোন সুযোগ নেই। এবার আমরা উক্ত আয়াতটির তাফসীর দেখবো। হাফেজ ইবনে কাসীর রহ. এই আয়াতের তাফসীরে বলেন, يعنون: [من] (7) قبورهم التي كانوا يعتقدون في الدار الدنيا أنهم لا يبعثون منها، فلما عاينوا ما كذبوه في محشرهم { قَالُوا يَا وَيْلَنَا مَنْ بَعَثَنَا مِنْ مَرْقَدِنَا } ، وهذا لا ينفي عذابهم في قبورهم؛ لأنه بالنسبة إلى ما بعده في الشدة كالرقاد. যারা দুনিয়াতে থাকা অবস্থায় মনে করতো তারা কবর থেকে আরা তারা উঠবে না যখন তারা হাশরের মাঠে তাদের ধারণাকে মিথ্যা দেখতে পাবে তখন তারা বলবে, হায় আমাদের দুর্ভোগ কে আমাদেরকে নিদ্রাস্থল থেকে উখিত করল। এটা কবরের আজাবের সাথে সাংঘর্ষিক কোন বিষয় নয়, কেননা কবর থেকে উঠার পরে যে আযাব হবে তার তুলনায় কবরের আজাব অনেকটা বিছানার মত। তাফসীরে ইবনে কাসীর, উক্ত আয়াতের তাফসীর, সূরা ইয়াসিন, আয়াত ৫১-৫২। ইবনে কাসীর রহ. এর বক্তব্য থেকে আমরা জানলাম যে, কবরের আযাব জাহান্নামের আযাবের তুলনায় অনেক কম তাই আল্লাহ তায়ালা কুরআনে নিদ্রাস্থল বলেছেন। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 1597
আমরা এখন বিবাহিত আমাদের বিয়ে ছিল লাভম্যারেজ, বিয়ে আগে আমাদের মাঝে আবেগের বসে বা যৌবনের তাড়না শারীরিক সম্পর্ক হয়ে যায়, এখন বুঝতে পেরেছি ইসলামের দৃষ্টিতে অনেক বড় পাপ করে ফেলেছি। এখন শরিয়াহ অনুযাই আমাদের করনীয় কি? দয়া করে জানাবেন।
07 Jan 2026

আপনারা এখন আল্লাহর কাছে ভাল করে তওবা করুন। আ্ল্লাহ অবশ্যই আপনাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। এই নিয়ে বেশী টেনশন করবেন না তবে বেশী বেশী কান্নাকাটি করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবেন ।

প্রশ্নঃ 1595
বর্তমানে কিছু হিজাবী নারী মাথায় স্কার্ফ এভাবে পড়ে যে, মাথা অনেক উঁচু ও স্ফীত দেখায়। এটা হাদীসে নিষিদ্ধ উটের কুজের মত এর অন্তর্ভুক্ত কি না?
07 Jan 2026

স্বাভাবিকের চেয়ে উঁচু যদি হয় তাহলে এমন করা উচিত নয়। হাদীসের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রশ্নঃ 1596
আসসালামু আলাইকুম, আমার মা আর ছোট বোন এবং পরিচিত আরও ৩জন আমার বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন। আমার বাবা এই বিয়েতে ছিলেন না এবং তিনি এই বিয়ে মেনে নিবেন না তাই জানানো হয় নি এখন আমার বিয়েটা কি বাতিল? দয়া করে জানাবেন।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সহীহ হাদীসের ভিত্তিতে অধিকাংশ আলেম ও ফকীহর মতে অভিভাবক ছাড়া মেয়েদের বিবাহ বাতিল। আর আপনার অভিভাবক হলেন আপনার পিতা। তবে হানাফী আলেমগণের মতে প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে অভিভাবক ছাড়াও বিয়ে করতে পারবে। আপনি এই বিষয়ে দলীলসহ বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া 51 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 242
আসসালামু আলাইকুম। আমি অস্ট্রেলিয়া থাকি। অফিসে বড়দিন এবং দিওয়ালি উপলক্ষে দুপুরের খাবারের ব্যবস্তা করা হয়। সাধারণত এটা বড়দিন এবং দিওয়ালি এর এক মাস আগেই হয়। মুসলিম দের জন্য হালাল খাবার রাখা হয়। এই খাবার খাওয়া কি জায়েজ? জাজাকাল্লাহ খাইরান।
25 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অন্য ধর্মের ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে তারা যদি মুসলিমদের হালাল খাবার দেন তাহলে খেতে সমস্যা নেই। তবে তাদের জবেহ করা পশুর গোশত খাওয়া যাবে না। মোট কথা হালাল খাবার, ফলমূল হলে খাওয়া জায়েজ আছে। বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন

প্রশ্নঃ 1594
ছেলেরা মা এর মত হলে, ভাগ্য ভালো হয়। আর মেয়েরা বাবার মত হলে ভাগ্য ভালো হয়। মানুসের মুখের কথা ফল ঠিক দেখা যায়. আসলে কি?
07 Jan 2026

এসব কথা ঠিক নয়। ফল ঠিক দেখা যায় এটাও ঠিক নয়।

প্রশ্নঃ 1593
আসসালামুলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। পারিবারিক সমস্যা অনেক বড় লেখা কষ্ট হলেও পড়বেন দয়া করেঃ আগেই বলে রাখি আমার বোনের পরিবার বা ভাইয়ের পরিবার এমন যে, ইসলামের যে অংশ তাদের সাথে মিলে তা মানবে আর যা মিলবে না তা এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করে। আমার ভাই ঢাকার বাহিরে থাকে কিছুদিন আগে ঢাকায় বদলি হয়েছে। আমার বোন ঢাকায় থাকে, সে নিঃসন্তান ছিলো । তাই সে চাইতো সে আমাকে মানুষ করবে যেন সন্তানের মত তাকে পরবর্তিতে দেখি । সবার সম্মতিতে গ্রাম থেকে এস এস সি পাসেরর পর তারা ঢাকায় এনে ভর্তি করে দেয় । এর কয়েক মাস পড়েই আমার বাবা মারা যায়। এর পর সবাইকে বলি আমি মার সাথে গিয়ে গ্রামে থাকব আমি এখানে থাকব না। আমার মা আর আন্য সবাই আমাকে বুঝিয়ে রাখে। এর পর আমার বোন একটা বাচ্চা পালতে আনে। বাচ্চা আনার ১ বা দেড় বছর পর আমার বোনের মানসিক সমস্যা দেখা দেয় । ততদিনে আমি ইনভার্সিটিতে পড়ি । সে ১০-১৫ দিনের মধ্যেই আবার সুস্থ হয়ে যায় । তার বাসায় যখন আমি ছিলাম তার বাচ্চার কেয়ার তারা অসুস্থ হলে তাদের কেয়ার সংসারে তাকে কাযে হেল্প করা সবই করতাম। তবে আমি ইসলামিক নিয়মগুলো মেনে চলতে চাইলে তারা আমাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করত। ইনভার্সিটিতে পড়াকালীন অবস্থায় নিয়মিত বোরকা পড়া এবং ইসলামের নিয়ম গুলো মানার আরো বেশি চেষ্টা করি। যার কারনে আমার আত্মীয়রা আমাকে নিয়ে অনেক বিষয়ে মিথ্যা কথাও বলত। এক সময় আমার বিয়ে হয়ে যায়। আমার স্বামী সেও কোরয়ান সুন্নাহ মেনে চলার চেষ্টা করে আলহামদুলিল্লাহ। বিয়ের পর আমার পরিবারের সব লোক চায় আমি তাদের কথা মত চলি । চকরি করি। অনেক বিলাসী হই । কিন্তু আমার স্বামী বা আমার কারোই পছন্দ না । সাধারণ জীবনযাপনই আমাদের ভাল লাগে। আমি আমার স্বামির কথা মত চলি বলে তারা আমাকে অবাধ্য থেকে শুরু করে অনেক কিছুই বলে । আমার ভাই তার মধ্যে আছে ভয়ংকর অহংকার । সে চায় বাহিরের লোক আমার বাসায় এনে তাদের দেখাতে যা আমার বোন কেমন রাজকীয় ভাবে থাকে । তারা চায় আমি তাদের কথা মত সংসার চালাই। সামর্থ্য থাকা সত্যেও কিছুই করিনি । শুধু মাত্র দুনিয়ার মোহ থেকে বেচে থাকতে। আমার বোনের মানসিক সমস্যা ১ বা দেড় বছর পর পরই দেখা দেয়। তাদের কাছে থাকাকালীন অবস্থায় ৩ বার এই সমস্যা হইছিলো। তখন আমি আমার মা কেয়ার নিছি । এখন আমার বিয়ে হয়ে গেছে এখনো তারা চায় আমি তাদের ওখানে থেকে তার যন্ত করি। কিন্তু আমার স্বামী সে চায় না আমি ওখানে থাকি কারন তাদের ওখানে ইসলামিক পরিবেশের বড়ই অভাব । বিয়ের পর কোন দিন সে বাসা ছাড়া অন্য কারো বাসায় আমাকে রাখেনি । আবারো আমার বোন অসুস্থ হইছে আমার স্বামী সে আমাকে দেখতে যেতে বলছে আমি গিয়ে দেখে আসছি । কিন্তু তারা চায় আমি ওখানে থেকে তার যত্ন করি । আমার ভায়ের বাসা আমার বোনের বাসার কাছাকাছি । আমার ভগ্নি সে এক কম্পানিতে চাকরি করে । তাকে সহজে ছুটি দেয় না। আমার ভগ্নি পতি যদি ডাঃ কাছে নিতে টাইম না পায় আমার ভাই কে নিতে বলে । আগে আমি আমার মা নিতাম। কিন্তু আমার ভায়ের যথেষ্ট সময় থাকা সত্যেও সে তার বোন কে ডাঃ কাছে নিতে চায় না । কারন তার মান সম্মান নষ্ট হবে ভেবে। তার বোন মানসিক রোগী এটা তার লজ্জার বিষয়। আমি সবসমই আমার বোন কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি । আমার স্বামিও জানে । তারা আমাকে ফোন করে বলে তোমার এখানে থেকে তোমার বোনের যত্ন নেয়া উচিত কারণ তুমি এখানে থেকে পড়ালেখা করছ । বিয়ের পর থেকে আমার বাবার বাড়ি অন্য আত্মীয় দের বাড়ী খুবই কম গেছি । তারা অসুস্থ হলে দেখতে যাই তাছাড়া তেমন যাওয়াই হয়না। তাদের ঐ পরিবেশ কখনো আমার ভাল লাগে না । আমার বোন এখন আবার অসুস্থ হইছে। আমাকে থাকতে যেতে বলে । কিন্তু আমার স্বামী যেতে দেবে না । আমিও স্বামীর অবাধ্য হয়ে যেতে চাই না। আমার কি করা উচিত?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দেখুন, এখানে দুটো দিক। ১. আইনগত। আর ২। মানবিক। আইনগতভাবে আপনার স্বামীর অধিকার আছে আপনাকে অন্য কোথাও যেতে না দেয়ার।সুতরাং তিনি যদি নিষেধ করেন তাহলে আপনি যেতে পারবেন না। আর মানবিক দিক হলো যে কোন ভাবেই হোক আপনি বোনের দেখাশোনা করবেন। প্রয়োজনে স্বামীকে মানবসেবার ইসলামী দিকটি বুঝাবেন। আর সেখানে পর্দার সমস্যা হলে আপনার বাসায় যদি সম্ভব হয় তাকে কিছুদিন রাখতে পারেন। অথবা আপনার আম্মা যেখানে থাকে সেখানে বোনকে নিয়ে গিয়ে সেখানে আপনি সেবা-যত্ন করতে পারেন। আপনার ভাই যা করছে তা সামাজিক এবং ধর্মীয় উভয় দিক থেকেই চরম ভুল।তারা বর্তমান কথিত আধুনিক সমাজের সাথে গা মিলিয়েছে বলেই আপন বোনের অসুস্থাতই তার পাশে দাঁড়াতে পারছে না। আপনিও যেন পর্দার নাম করে আপনজনের সেবা-যত্ন থেকে দূরে না থাকেন। তাহলে কিন্তু ফলাফল একই হবে। আপনার পরিবার যে কথাটি আপনাকে বলছে যে, আপনি অবাধ্য। কথাটি ঠিক নয়। বরং স্বামীর কথা না মেনে তাদের অযৌক্তিক কথা মানলে সেটাই হতো অবাধ্যতা। আর তারা আপনার কাছে ইসলাম বিরোধী যেসব আনুষ্ঠাকিতা রক্ষার দাবী করে তা থেকে বিরত থাকবেন। তাদের এসব কথায় কোন কান দিবেন না। সর্বোপরি আপনি আপনার স্বামীকে বুঝিয়ে যতটুকু সম্ভব বোনের পাশে থাকার চেষ্টা করুন।

প্রশ্নঃ 1592
namaz er modhhe jodi hawa ber hoye jay.. tahole ki namaz noshto hoye jabe?
07 Jan 2026

হ্যাঁ, নামায ও ওযু উভয়ই নষ্ট হয়ে যাবে। নতুন করে ওযু করে নামায পড়তে হবে।

প্রশ্নঃ 1591
আসসালামু আলাইকুম। আমি কিছুদিন আগে একটি ঘটনা শুনি যে এক অবিবাহিতা নারীর গর্ভে অবৈধ ভাবে বাচ্চা চলে আসে। সে খুব ধামাচাপা দিয়ে বাচ্চাটি প্রসব করে এবং প্রসবের পরপরই বাচ্চাটি হত্যা করে। আমার প্রশ্ন এখানে বাচ্চাটির বাবা এবং মা উভয়ই পাপী। কিন্তু বাচ্চাটি তো নিষ্পাপ। এভাবে অবৈধভাবে চলে আসা বাচ্চা এর ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান কি?বাচ্চাটি কোথায় থাকবে এবং সমাজে তার অবস্থান কি হবে। একটু বুঝিয়ে বললে উপকৃত হতাম। ধন্যবাদ।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই বিষয়ে ফাতাওয়া জান্নাত দায়েমা এর মন্তব্য খুবই সুন্দর। তারা বলেছেন, أما ولد الزنا فيلحق نسبا بأمه ، وحكمه حكم سائر المسلمين إذا كانت أمه مسلمة ، ولا يؤاخذ ولا يعاب بجرم أمه ، ولا بجرم من زنا بها ، لقوله سبحانه : ( وَلاَ تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى ) انتهى . ব্যভিচারের কারণে সৃষ্ট বাচ্চার বংশ ধারা তার মায়ের থেকে সাব্যস্ত হবে। তার হুকুম অন্যান্য মুসলিমদের মতই যখন তার মা মুসলিম হবে। তার মায়ের গোনাহ এবং তার মা যার সাথে ব্যভিচার করেছে তার গোনাহের কারণে তাকে শাস্থি দেওয়া হবে না। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, কোন বহনকারী (পাপী) অন্যের বোঝা (পাপ) বহন করবে না। ২২/৩৪। বিস্তারিত জানতে দেখুন আল-ইসলাম সুয়াল ও জওয়াব, প্রশ্ন নং ৮৫০৪৩। (আরবী, ইন্টারনেট) সুতরাং তার সমস্থা দায়ভার তার মায়ের উপর।

প্রশ্নঃ 1590
Assalamualikum, 1.Estekhar namaz hajot namaz keno pora hoy. 2. A 2 namaz er difference ki. 3.Moner basona puroner jonno koraner kono sura ba ayet ache ki.ref soho dile valo hoy.
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইস্তেখারার অর্থ যে ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা একাধিক বিষয়ের মধ্য থেকে একটি বেছে নেয়ার অবকাশ আছে সেখানে আল্লাহর সাথে পরামর্শ করা। আল্লাহর সাথে পরামর্শ না করে কোন কিছু বেছে নেয়া বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা মূমিনের জন্য উচিত নয়।আর হাজাত অর্থ কোন প্রয়োজনীয় জিনিস আল্লাহর কাছে চাওয়া। উভয় নামাযের পার্থক্য এই যে, ইস্তেখারার মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহন করার জন্য আল্লাহর কাছে পরামর্শ করা আর হাজতের ভিতরে নতুন কিছু চাওয়া বা প্রার্থনা করা। উল্লেখ্য যে, সালাতুল হাজত বিষয়ে বর্ণিত হাদীসগুলো দুর্বল। এই বিষয়ে কোন সহীহ বা হাসান হাদীস নেই। ইমাম তিরমিযী সালাতুল হাজাতের হাদীস বর্ণনা করার পর বলেছেন। হাদীসটি গরীব এবং হাদীসটির সনদে সমস্যা আছে। ফাইন ইবনে আব্দুর রাহমান (যিনি হাদীসের একজন রাবী) দুর্বল। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ৪৭৯। ইমাম তিরমিযীর মন্তব্যসহ হাদীসটির মূল পাঠ দিয়ে দিলাম। عن فائدة بن عبد الرحمن عن عبد الله بن أبي أوفى قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم من كانت له إلى الله حاجة أو إلى أحد من بني آدم فليتوضأ فليحسن الوضوء ثم ليصل ركعتين ثم ليثن على الله وليصل على النبي صلى الله عليه و سلم ثم ليقل لاإله إلا الله الحليم الكريم سبحان الله رب العرش العظيم الحمد لله رب العالمين أسئلك موجبات رحمتك وعزائم مغفرتك والغنيمة من كل بر والسلامة من كل إثم لا تدع لي ذنبا إلى غفرته ولا هما إلا فرجته ولا حاجة هي لك رضا إلا قضيتها يا أرحم الراحمين قال أبو عيسى هذا حديث غريب وفي إسناده مقال فائد بن عبد الرحمن يضعف في الحيدث و فائد هو أبو الورقاء মনের বাসনা বলতে কি বুঝাচ্ছেন স্পষ্ট করে লিখলে ভাল হবে। তবে দুনিয়া ও আখেরাতের যে কোন কল্যানের জন্য কুরআনের এই দুআটি পড়বেন। رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ।

প্রশ্নঃ 1587
আসসালামু আলাইকুম। লিচু গাছে মুকুল আসা অবস্থায় বাগান বিক্রি করে দেয়া হল এই শর্তে যে, যখন লিচু আহরণ করা হবে তখন বাগানের ক্রেতা ঐ বাগানের কিছু সংখ্যক লিচু ( যেমন ৫০০০ লিচু) বিক্রেতাকে প্রদান করবে তাহলে এইভাবে বাগান বিক্রি করে উপার্জন করা এবং বিক্রেতার পক্ষে ওই লিচু গ্রহণ করা জায়েয হবে কীনা?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। গাছে মুকুল আসা অবস্থায় অর্থাৎ ফল উপযুক্ত হওয়ার আগে বাগান তথা ফল বিক্রি করা বৈধ নয়, সুতরাং ফল নেয়ার প্রশ্ন নেই। عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الْمُخَابَرَةِ وَالْمُحَاقَلَةِ وَالْمُزَابَنَةِ وَعَنْ بَيْعِ الثَّمَرَةِ حَتَّى تُطْعِمَ وَلاَ تُبَاعُ إِلاَّ بِالدَّرَاهِمِ وَالدَّنَانِيرِ إِلاَّ الْعَرَايَا

প্রশ্নঃ 1589
আস সালামু আলাইকুম। আমার মা ইদানীং পর পুরুষের সাথে রাত কাটায়। আমার বাবা 2 বছর আগে মারা গেছে। এ অবস্থায় আমি কী আমার মায়ের সাথে বেয়াদবি করব? ঐ লোকটিকে আমি শাসন বা বেয়াদবি করতে পারব?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমরা দুআ করি আল্লাহ আপনাকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করুন। এই অবস্থা থেকে উদ্ধার পেতে সম্ভব্য যা যা দরকার আপনি তাই করবেন। প্রয়োজনে সমাজ ও প্রশাসনের সহযোগিতাও নিতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1588
আসসালামুলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ১। বাসায় নন-মাহরাম এর সামনে মাথায় বড় হিজাব পরে মুখ খুলে রেখে স্বাভাবিক কাজ কর্ম করা,কথা বলা যাবে কি? (যদি সবসময় বাসায় নন-মাহরাম থাকে এবং পর্দা সিস্টেম না থাকে) ২। অনিচ্ছাকৃত ভাবে খালি হাত (কাপড় চেঞ্জ করার সময়) লজ্জা স্থানে লাগলে ওযু ভাঙে কি? কেউ কেউ বলে নাভির নিচে হাত লাগলেই ওযু ভেঙে যায়, এটা কি সত্য? ৩। অস্সুন্নাহ ট্রাস্ট-এ জাকাত এর টাকা দেয়া যায় কিনা? দেওয়া গেলে বিকাশ নাম্বার দিলে উপকৃত হবো। জাজাকাল্লাহ
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বাসার বাইরে এবং ভিতরে সব জায়গাতেই পর্দার বিধান একই। সুতরাং যতটা সম্ভব মুখ ঢেকে রেখেই স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে হবে। ২। ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত কোন অবস্থাতেই ওযু ভাঙবে না। যা শুনেছেন তা ভুল। ৩। এই নাম্বারে পাঠাতে পারেন। এটা আমাদের সেক্রেটারী সাহেবের নাম্বার। টাকা পাঠানোর পূর্বে কথা বলে নিবেন। 01718136962

প্রশ্নঃ 1586
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। ১. শাইখ যদি রাতে তাহাজ্জুদ সালাতের নিয়ত করে ঘুমাই, আর অনিচ্ছাকৃত ভাবে, আমাদের দেশের সময় অনুযায়ী ফজরের সালাতের আগে ঘুম ভাঙ্গে, তখন কি করবো? বিতর পরে তারপর ফজরের সুন্নাত পড়বো কি? অনেক সময়, জামাতের সময় হয়ে যায়, তখন আর বিতর সালাত পড়া হয় না। এমন মুহূর্তে করণীয় কি? ২. সামনে রমজান আসছে। ইফতারের সময়সূচীতে, হানাফি ক্যালেন্ডারে কিছু সময় পরে, আর আহলে হাদিসদের ক্যালেন্ডারে কিছু সময় আগে দেউয়া থাকে (বুঝানোর জন্য নাম নেউয়া হল)। আবার হাদিসে, সূর্য ডুবার সাথে সাথে ইফতার করতে বলা হয়েছে। বিলম্ব করতে মানা করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে বলেন, আপনি যদি নিশ্চিত হন, সূর্য ডুবে গেছে, তাহলে ইফতার করবেন। কিন্তু এখন আমরা সাধারন মানুষ, ক্যালেন্ডার দেখে অথবা আজান শুনে ইফতার করি। এখন কারা ইফতার বিলম্ব করে করছে বুঝতে পারছি না। ৩. পুরুষদের জন্য চুলে ও দাড়িতে কালো কলপ লাগানো কি নিষেধ? মহিলারা চুলে কালো কলপ দিতে পারবে কি? যাজাকাল্লাহু খাইরা। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীসে এই সময় শুধুমাত্র দুরাকআত ফজরের সু্ন্নাত আদায় করতে বলা হয়েছে। হাদীসটি লক্ষ্য করুন: عَنْ يَسَارٍ مَوْلَى ابْنِ عُمَرَ قَالَ رَآنِى ابْنُ عُمَرَ وَأَنَا أُصَلِّى بَعْدَ طُلُوعِ الْفَجْرِ فَقَالَ يَا يَسَارُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- خَرَجَ عَلَيْنَا وَنَحْنُ نُصَلِّى هَذِهِ الصَّلاَةَ فَقَالَ لِيُبَلِّغْ شَاهِدُكُمْ غَائِبَكُمْ لاَ تُصَلُّوا بَعْدَ الْفَجْرِ إِلاَّ سَجْدَتَيْنِ . ইয়াসার বলেন, আমি একবার ফজর (সুবহে সাদিক) উদিত হওয়ার পর সালাত আদায় করছিলাম তখন ইবনে উমার রা. বলেন, ওহে ইয়াসার, একদা আমরা এই সময় সালাত আদায় করছিলাম তখন রাসূলুল্লাহ সা. আমাদের কাছে আসলেন এবং বললেন, উপস্থিতরা অনুপস্থিতদের নিকট পৌছে দিবে যে, তোমরা ফজর (সুবহে সাদিক) উদিত হওয়ার পর দুই রাকআত ছাড়া কোন সালাত আদায় করবে না। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ১২৮০, মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ৫৮১১। শায়খ শুয়াইব আরনাউত রহ. এবং শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সুতরাং বিতর সালাত দিনের বেলায় কাজা আদায় করবেন। ২। আপনি আপনার এলকাই যে সূচীটি সর্বাধিক প্রচলিত সেই অনুযায়ী ইফতার করবেন। যে সূচিই মানেন রোজা হয়ে যাবে। ৩। পুরুষ ও মহিলার সবার জন্যই কালো কালি ব্যবহার নিষেধ। তবে রোগের কারণে অল্প বয়সে চুল পাকলে অনেকেই বলেন জায়েজ আছে।

প্রশ্নঃ 1585
মেয়েদের নামাজে কেরআত সম্পকে জানতে চায়? আমি আমার বাসায় একাই থাকি । তাই আমি নামাজ এ জরে জরে সুরা বলি এতে মনোযোগ থাকে নামাজে । উচ্চস্বরে বলেলে কি আমার নামাজ হবে
07 Jan 2026

এই প্রশ্নের উত্তরে শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বায বলেছেন, এক্ষেত্রে নারী-পুরুষের হুকুম একই। নারীর নামাযে শব্দ করে কুরআন পড়তে পারবেন। তবে নন মাহরাম পুরুষ থাকলে নীচু স্বরে পড়বে, ফিৎনার আশঙ্কা থাকার কারণে আওয়াজ করে পড়বে না। https://binbaz.org.sa/fatwas/17622/%D8%AD%D9%83%D9%85-%D8%AC%D9%87%D8%B1-%D8%A7%D9%84%D9%85%D8%B1%D8%A7%D8%A9-%D8%A8%D8%A7%D9%84%D9%82%D8%B1%D8%A7%D8%A1%D8%A9-%D9%81%D9%8A-%D8%A7%D9%84%D8%B5%D9%84%D8%A7%D8%A9-%D8%A7%D9%84%D8%AC%D9%87%D8%B1%D9%8A%D8%A9

প্রশ্নঃ 1584
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। কেমন আছেন শাইখ? আমার প্রশ্ন হলঃ- ১. মসজিদ সালাত পরে বের হউয়ার সময় দেখি, আমার জুতা টা কেউ নিয়ে গিয়েছে আর তারটা রেখে গিয়েছে। জুতা দেখতে তারটা আর আমারটা প্রায় এক-ই রকম। আমার টা একটু সিলাই দেউয়া, আর উনার টা দেখতে খাটি, মনে হল বেশি দিন হয় নাই কিনেছে। কিছুক্ষন অপেক্ষা করে, ইমাম সাহেব কে ঘটনা বললে, উনি বললো, জুতা নিয়ে যেতে পার, জায়েজ আছে। আমি কয়েকবার মসজিদে আবার আসছিলাম, যদি জুতার সন্ধান পাউয়া যায়। কিন্তু তা আর এখন ও পাই নি। আর উনার জুতাও আমি ব্যবহার করছি। এখন এইটা কি করা যেতে পারে, কুরান, সুন্নাহ অনুসারে সমাধান কি? ২. সূফি অর্থ কি? সূফি কারা? এদের আকিদা কি সহিহ? যাজাকাল্লাহু খাইরা। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা ভাল আছে। দুআ করি আল্লাহ আমাদের, আপনাদের সবাইকে ভাল রাখুন। দেখুন, এক্ষেত্রে আপনার করণীও কিছু দিন খোঁজ খবর নেয়া। না পেলে আপনি ব্যবহার করতে পারেন। সূফি অর্থ জানার তেমন কোন দরকার নেই। আপনি কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী চলবেন। সহজ কথায় আগের যুগে কিছু মানুষ সহজ-সরল জীবন-জাপন করতেন, সমাজের কঠিন সমীকরণে তারা প্রবেশ করতেন না তাদেরকে সূফি বলা হতো। বর্ত মানে সূফী নামে যা কিছু করা হয় তার সিংহভাগই ভন্ডামী।

প্রশ্নঃ 1582
আমার বাবা লোন নিয়ে/সিগেরেট বিক্রি করে বাড়ি করেছে, এখন আমি কি আমার বাবার সম্পত্তি ত্যগ করব? যদিও এখন সিগেরেট বিক্রি বাদ দিয়েছে তবুও বাড়িটা সিগেরেটের টাকায়, এখন আমি কি আমার বাবার সম্পত্তি ত্যগ করব?
07 Jan 2026

যদি এই বাড়িটি ত্যাগ করতে পারেন তাহলে সেটা অবশ্যই সবচেয়ে উত্তম সিদ্ধান্ত। তবে আপনার আব্বা যদি তওবা করে এই হারাম কাজ থেকে বেরিয়ে আসে তাহলে আশা করি আল্লাহ তায়ালা অতীতের পাপ ক্ষমা করে দিবেন আর এই বাড়িতে থাকা আপনাদের জন্য বৈধ হবে। আর যে সম্পত্তির সাথে হারামের কোন সম্পর্ক নেই, সেগুলো ত্যাগ করার প্রশ্ন নেই।

প্রশ্নঃ 1583
আমি যে সব মসজিদে সালাত আদায় করি, প্রত্যেক মসজিদে ফরজ সালাতের পর ইমাম সাহেব সহ সকল মুসল্লি হাত তুলে দুয়া করে। এক্ষেত্রে আমার করনিয় কী?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।এভাবে সম্মিলিত মোনাজাত রাসূলুল্লাহ সা. করেন নি। হাদীসে কোন সাহাবী এভাবে মোনাজাত করেছে বলেও জানা যায় না। এখন দেখুন আপনি কী করবেন। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া 29 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 1581
আমি যে সব মসজিদে সালাত আদায় করি, প্রত্যেক মসজিদে ফরজ সালাতের পর ইমাম সাহেব সহ সকল মুসল্লি হাত তুলে দুয়া করে। এক্ষেত্রে আমার করনিয় কী?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনি দয়া করে এই নাম্বারে ফোন করুন 01734717299

প্রশ্নঃ 1580
আমার একটি মোবাইল আছে যে টা বিক্রি করে আমি স্যারের বই গুলা কিনতে চাই এটা কি বৈধ হবে। একটু জানাবেন ।কারণ যার কাছেই বিক্রি করি কিনা সে যদি খারাপ কাজে মোবাইলটি ব্যবহার করে এতে কি আমার আমোল নামায় পাপ উঠবে কি না।
07 Jan 2026

জ্বী, আপনি মোবাইলটা বিক্রি করতে পারেন। কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 1579
আসসালামু আলাইকুম, আমি একজন জেনারেল লাইনের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরিক্ষার্থী। পড়ালেখার অনেক চাপ থাকায় রাত জেগে পড়তে হয়। কিন্তু সুন্নাহ হলো ইশার পর পর ঘুমানো। এক্ষেত্রে আমি ইসলামী জীবনব্যাবস্থা ও সুন্নাহ ঠিক রেখে কিভাবে পড়ালখা চালিয়ে যেতে পারি, দয়া করে উত্তর এর দিবেন।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হযরত আবু বারযা রা. হতে বর্ণিত তিনি বলেন- أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْل العِشَاءِ وَالحَدِيثَ بَعْدَهَا. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার পূর্বে নিদ্রা যাওয়া এবং ইশার পর আলাপচারিতায় লিপ্ত হওয়া অপছন্দ করতেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৪১। তবে প্রয়োজনে এশার পর কথাবার্তা বলার বা পড়াশোন করার অনুমতি আছে। عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- ذَاتَ لَيْلَةٍ صَلاَةَ الْعِشَاءِ فِى آخِرِ حَيَاتِهِ فَلَمَّا سَلَّمَ قَامَ فَقَالَ « أَرَأَيْتَكُمْ لَيْلَتَكُمْ هَذِهِ فَإِنَّ عَلَى رَأْسِ مِائَةِ سَنَةٍ مِنْهَا لاَ يَبْقَى مِمَّنْ هُوَ عَلَى ظَهْرِ الأَرْضِ أَحَدٌ আবদুল্লাহ্

প্রশ্নঃ 1578
আপনাদের কোন কোন বই পরলে জানতে পারবো আকিদা, বেদাআত, শির্ক, নামাজ, সুন্নাত, সম্পর্কে জানতে পারবো?
07 Jan 2026

আকীদা বিষয়ে জানার জন্য ইসলামী আকীদ, সুন্নাত-বিদআত জানার জন্য এহ্ইয়াউস সুনান এবং সুন্নাত এবং নামায জানার জন্য পড়ুন রাহে বেলায়াত

প্রশ্নঃ 1577
স্যারের সব বই গুলার ভাল মানের টার গুলার মোট দাম কতো?
07 Jan 2026

২৫০০- ৩০০০ টাকার মধ্যে হবে।

প্রশ্নঃ 1576
ভুল করে আড্ডা দেওয়ার সময় একটা জেলার লোকেদের সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করে ফেলছি। এখন এই পাপ কিভাবে মুক্ত করতে পারি। সাহায্য করেন।
07 Jan 2026

আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবেন আর ভবিষ্যতে এইসব অযথা কাজ থেকে বিরত থাকবেন।

প্রশ্নঃ 1575
Bank a tk rakhle jodi sudh naoa hoy tahole tk kothay rakhbo?
07 Jan 2026

আপনার প্রশ্ন অস্পষ্ট। তবে মনে হচ্ছে আপনি এটা বলতে চেয়েছেন, ব্যাংকে টাকা রাখা যদি ঠিক না হয় তাহলে কোথায় রাখবো? এই প্রশ্নের উত্তর হলো কোন নিরাপদ ব্যবস্থা না থাকলে আপনি ব্যাংকেই রাখবেন তবে সুদের টাকা গরীব-মিসকিনদের দিয়ে দিবেন।

প্রশ্নঃ 1574
I heard that is some one baby is death theyre father and mother will be jannath?
07 Jan 2026

হ্যাঁ, ছোট বাচ্চা মারা গেলে পিতা-মাতা তাদের কারণে জান্নাতে যাবে। হাদীসে আছে, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, صِغَارُهُمْ دَعَامِيصُ الْجَنَّةِ يَتَلَقَّى أَحَدُهُمْ أَبَاهُ – أَوْ قَالَ أَبَوَيْهِ – فَيَأْخُذُ بِثَوْبِهِ – أَوْ قَالَ بِيَدِهِ – كَمَا آخُذُ أَنَا بِصَنِفَةِ ثَوْبِكَ هَذَا فَلاَ يَتَنَاهَى – أَوْ قَالَ فَلاَ يَنْتَهِى – حَتَّى يُدْخِلَهُ اللَّهُ وَأَبَاهُ الْجَنَّةَ মুসলিমদের ছোট সন্তানেরা জান্নাতের পাখি হবে, সে তার পিতার সাথে সাক্ষাত করবে এবং তার পিতার কাপড় বা হাত ধরে টানতে থাকবে এভাবে আল্লাহ তাকে এবং তার পিতাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৬৮৭০। এই বিষয়ে আরো বহু হাদীস বর্ণিত আছে।

প্রশ্নঃ 1573
আসসালামু আলাইকুম আমি ফজরের নামাজের পর মাঠে খেলতে যাই। মাঠে কিছু ভাইয়েরা খেলা ক্রিকেট খেলে। তো সেই খেলায় কিছু ভাই টাকা বা লিটার লাগায় মানে বাজি ধরে সবাই যে লাগায় তা নয় যার যার ইচ্ছা ধরে। তাদের সাথে আমার খেলা ঠিক হবে কি? যদিও আমি শরির চর্চা বা আনন্দের জন্য খেলতে যাাই।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি শরীর চর্চার উদ্দেশ্যে বাজি না ধরে খেলতে পারেন তবে না খেলাই ভাল মনে হচ্ছে। আপনি অন্য কোথাও খেলুন যেখানে এই সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 1572
আসসালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্ন যাকাত সম্পর্কেঃ মনে করুন আমার ব্যাংকে ২ লক্ষ টাকা জমা আছে ১ বছর যাবৎ। আমি চাচ্ছি এই টাকার যাকাত দিতে। কিন্তু প্রতিমাসে আমি ৫ হাজার টাকা করে গত একবছরে ৬০ হাজার টাকা জমা করলাম। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমাকে কি ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার যাকাত দিতে হবে নাকি শুধু ১ বছর জমা থাকা ২ লক্ষ টাকার যাকাত দিতে হবে। আমি এই প্রশ্ন করছি কারণ আমার ৬০ হাজার টাকার বয়স ১ বছর হয় নাই। আশা করছি আমার প্রশ্ন বুঝাতে পেরেছি।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য নিসাবের মালিক হওয়া শর্ত। নিসাবের মালিক হওয়ার পর একবছর পর আপনার কাছে এখন যে সম্পদ থাকবে তার সব টাকার উপর যাকাত আসবে। অর্থাৎ বছরের শুরুতে আপনার কাছে যদি ১লাখ টাকা থাকে আর বছরের শেষে যদি ৫ লাখ টাকা থাকে তাহলে আপনাকে ৫ লাখ টাকার যাকাত দিতে হবে। সুতরাং আপনাকে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার জাকাত দিতে হবে। এটা সর্বসম্মত মাসআলা।

প্রশ্নঃ 1571
আসসালামু আলাইকুম। আমি রাসুলুল্লাহ (সা) এর উপর দরুদ বা সালাম বলার সময় সীরাতের অনেক ঘটনা মনে করার চেষ্টা করি, এতে তার উপর মহব্বত সৃষ্টি হয়। এটা কি বিদআত?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, এটা বিদআত নয়। বরং এটা ভাল।

প্রশ্নঃ 1570
আসসালামু আলাইকুম, ঈমান ঠিক রাখার উপাায় কি? শয়তানের হাত থেকে বাচার উপায় কি? মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জাতে আল্লাহর পথে চলতে পারি তার প্রাত্থিক কিছু আমল বললে খুসি হাতাম।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ঈমান ঠিক রাখতে হবে আমলের মাধ্যমে। ফরজ ইবাদাতগুলো সঠিক সময়ে সঠিক নিয়মে আদায় করতে হবে। নফল ইবদাত ও দান-সদকা বেশী বেশী করতে হবে। সকাল-সন্ধ্যার ও অন্যন্য সময়ের জিকির-দুআগুলো যতটা সম্ভব বেশী আদায় করতে হবে। মানুষদেরকে ইসলামের পথে দাওয়াত দিতে হবে। বিভন্ন জিকির, দুআ ও আমল জানতে পড়ুন ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত রাহে বেলায়াত বইটি।

প্রশ্নঃ 1569
আসসালামুআলাইকুম, ভাই আমি US এ তে থাকি, আমরা এখানের super shop থেকে regular chicken কিনে খেতে পারবো কিনা। কেউ কেউ বলে, খাওয়া যাবে কারণ তারা আহালে হাদিস যারা মুরগি কাটে। এছাড়াও তারা মেশিনে কাটার সময় কোন কিছুরই নাম নেয় না।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আহলে হাদীস হওয়া কোন সমস্যা নয়। কাটার সময় ইচ্ছাকৃত বিসমিল্লাহ ছেড়ে দিলে খাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে বিতর্ক আছে।আশা করছি খেলে কোন গোনাহ হবে না তবে যদি নিজে মুরগী কিনে জবেহ এর কোন ব্যবস্থা থাকে তাহলে কিনে বিসমিল্লাহ বলে জবেহ করে খাবেন।

প্রশ্নঃ 1568
অনলাইন মার্কেটিং যেমন spc, LT এবং evaly এখানে টাকা বিনিয়োগ করে অর্থ উপার্জন করা হালাল না হারম?
07 Jan 2026

এগুলো সব মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কারখানা। এইসব প্রতিষ্ঠানের সাথে কোন সম্পর্ক রাখবেন না। বিনিয়োগ করবেন না, পণ্য ক্রয়ও করতে যাবেন না।

প্রশ্নঃ 1567
আসসালামু আলাইকুম, আমার চাকরির কারণে আমাকে সারা বছর ঢাকায় থাকতে হয়, মানে হচ্ছে আমি আমার বাড়ি থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে বসবাস করি। ২-১ বছর পর পর বাড়ি আসি এবং বাড়িতে সরবচ্চ ৫-৭ দিন অবস্থান করি। এখানে আমার প্রস্ন হচ্ছে যে আমি যখন বারিতে অবস্থান করব তখন কি নামাজ কছর হিসাবে আদায় করা যাবে অথবা স্বাভাবিক নিওমে পরলে কন সমসা আছে কি?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নিজ বাড়িতে অল্পদিনের জন্য হলেও স্বাভাবিক নিয়মে নামায পড়তে হবে। কসর করা যাবে না।

প্রশ্নঃ 1566
আমাদের সমাজে SPC নামে অনলাইন মার্কেটিং ব্যবসার প্রচলন চলছে। এমনি এটা সমাজের প্রায় সবায়’ই করছে। মার্কেটিংটা হচ্ছে আমাকে 700 টাকা দিয়ে একটি আইডি কিনতে হয় তাদের কোম্পানির নিয়মানুযায়ী কোম্পানিতে সংযুক্ত হতে। তারপর এই আইডিতে ৫ টি ভিডিও আসে। এই ভিডিও দেখার পর ২ টাকা করে পাওয়া যায় (ভিডিও ভালো)। তারপর আমার তিনটি শাখার তৈরি হয় যেগুলার প্রত্যেকটিতে সদস্য (আইডি বিক্রি করতে পারলে)আমার রেফারেন্সে জয়েন করাতে পারলে টাকা পাওয়া যায়। তারপর উনি আবার সদস্য জয়েন করাতে পারলে উনিও টাকা পাবে আমিও টাকা পাবো। এভাবে ২০ জেনারেশন পর্যন্ত টাকা পাওয়া যাবে প্রত্যেকটা শাখাতে। একসময় নির্দিষ্ট সংখ্যক আইডি জয়েন করাতে পারলে স্টার দেওয়া হয়। ১ স্টার,২ স্টার,৩ স্টার এরকম ৭স্টার পর্যন্ত রয়েছে। ১ স্টার করতে পারলে ১০ হাজার টাকা বেতন। এরকম ৭ স্টার হলে গাড়ি দেওয়া হয়। যা এমএলএম বা মাল্টিলেভেল মার্কেটিং এর মতোই~ এরকম ব্যবসা কি হালাল না হারাম?
07 Jan 2026

না, এই ধরণের ব্যবসা জায়েজ না। 

প্রশ্নঃ 1564
বিভিন্ন ব্যাংক থেকে শর্ত সাপেক্ষে ( ভালো ফলাফল+তাদের সদস্য হতে হবে) অথবা শর্ত ছাড়া ( সদস্য হতে হবে না শুধু ভালো ফলাফল করলেই হবে) যে বৃত্তি দেয়া হয় এটা নেয়া কি ঠিক? যদি ঠিক না হয় তাহলে A নামের শিক্ষার্থী ওইটা নিতে চায় না কিন্তু তার পিতা মাতা তাকে নিতে বাধ্য করলে কি করা উচিত?
07 Jan 2026

সুদভিত্তিক ব্যাংক হলে কোন বিত্তবান বাবার সন্তানরা এই টাকা বৃত্তির টাকা নিতে পারবে না। । গরীব অসহায় হলে সেটা ভিন্না কথা।

প্রশ্নঃ 1565
আস-সালামু আলাইকুম, আমার কেরাত শুদ্ধ না। আমি মিল করে দেখলাম অনেক ভুল। আমি ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করতেছি। কিন্তু আমার মনোযোগ শুধু কেরাত হছে না এই দিকে থাকে। এটি নামাজ ভঙ্গের কারন। ফলে আমার মনে হচ্ছে আমার নামায হচ্ছে না। দিন দিন নামাযের আগ্রহ এর জন্য কমে জাচ্ছে। আমার শিরকসহ সব গুনাহ আছে। আমি ঠিক মতো আন্তরিক হতে পারছি না। আমি আমার সব গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে আন্তরিক হতে পারছি না। আমার গুনাহের কাজের আগ্রহ বেড়ে গেছে। আমি এখন এর থেকে ফিরতে চাই।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। ভালো কুরআন পড়তে পারে এমন কারো কাছে কয়েক দিন পড়লেই তো আপনার কেরাত শুদ্ধ হয়ে যায়। সেটা না করে কেন আপনি অন্য দিকে ছুটছেন, তা বোধগম্য নয়। এসব মানসিক সমস্যা থেকে উদ্ধার পাওয়ার একটাই সহজ সমাধান সব কিছু বাদ দিয়ে নামায আদায় করা যায় এমন পরিমাণ কয়েকটি সূরা দ্রুত শুদ্ধ করে শিখে ফেলুন।

প্রশ্নঃ 1562
চার রাকাত ফরজ নামাজের একরাকাত হয়ে গেলে,আমি নামাজে যোগ দেই। ইমাম সাহেব যখন চতুর্থ রাকাতে তাশাহুদ,দুরুদ এবং দোয়া মাছুরা পড়ে তখন আমি ও কি তাসাহুদ, দুরুদ ও দোয়া মাছুরা পড়বো। জানালে অনেক উপকৃত হবো।
07 Jan 2026

যদি আপনার কোন রাকআত ছুটে যায় অর্থাৎ ইমাম সাহেবের সাথে সব রাকআত না পান সে অবস্থায় ইমামের শেষ বৈঠকে আপনি শুধু তাশাহুদু পড়তে পারেন, সেক্ষেত্রে ধীরে ধীরে একটু লম্বা করে পড়ে ইমাম সাহবের সালাম ফিরানোর আগে শেষ করবেন। অথবা স্বাভাবিক নিয়মে তাশাহুদু, দরুদ, দুআ মাসূরা সব কিছু পড়বেন।

প্রশ্নঃ 1563
আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হচ্ছে – আমার বাবা ২টা বিয়ে করেছে আমার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী মানে আমার সৎ মা তিনি কি আমার জন্য মাহরাম নাকি গায়রে মাহরাম
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার সৎ মা আপনার জন্য মাহরাম।

প্রশ্নঃ 1558
আসসালামু আলাইকুম, আমি একটি বেসরকারি কোম্পানিতে হিসাবরক্ষক পদে চাকরি করি, আমাদের কোম্পানিটি একটি গার্মেন্টস পন্য উৎপাদনকারী একটি টেক্সটাইল কোম্পানি, বর্তমানে প্রায় প্রতিটি কোম্পানিতে ব্যাংকে লেনদেনের ক্ষেত্রে জামানত হিসাবে কিছু ফিক্সড ডিপোজিট করা লাগে, আমাদের কোম্পানিতে এ রকম কিছু এফ ডি আর বা ফিক্সট ডিপোজিট আছে, এছাড়াও আমাদের কোম্পানির লাভের কিছু অংশ এফ ডি আর করা আছে ও কিছু লোন আছে, যেহেতু আমি হিসাবরক্ষক তাই এই এফ ডি এর সুদ ও লোনের সুদের হিসেব আমার রাখতে হয়। আমার প্রশ্ন হলো, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ. রাসূল সা. সুদ দাতা, গ্রহীতা, লেখক, সাক্ষীদ্বয় সবার উপর লানাত দিয়েছেন এবং বলেছেন, তারা সবাই সমান। সহীহ মুসলিম, ৪১৭৭। আমি উপরে লিখেছি আমাদের কোম্পানিটি টেক্সটাইল কোম্পানি, তাহলে কি আমিও এই পাপের অন্তর্ভুক্ত হবো কিনা?
07 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সুদের হিসাব রাখলে উক্ত হাদীসের পাপের অন্তর্ভূক্ত হবে। তবে এই কোম্পানীর অন্য পদে চাকুরী করতে কোন সমস্যা নেই। সরাসরি সুদের সাথে যুক্ত এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
প্রশ্নঃ 1561
গত বছর ২ মে,আমি যাকাত প্রদান করি। সেজন্য এবছর ২মে আমার যাকাত প্রদান করার সময় এক বছর পূর্ণ হয়। কিন্তু বর্তমানে আমার কিছু টাকা ব্যবসার কাজে লাগানো আছে। যা ফেরত পেতে অন্তত আরো দুই এক মাস লাগবে। এক্ষেত্রে ব্যবসার টাকা হাতে পেয়ে আমি যাকাত দিতে ইচ্ছুক । ইসলাম কি আমাকে সেই সুযোগ দিয়েছে? জানালে উপকৃত হব
07 Jan 2026

যাকাতে বছর হিসাব হয় আরবী বছর অনুযায়ী। যেমন, মহররম মাসের এক তারিখে যাকাত দিলে পরের বছর মহররমের এক তারিখে আবার যাকাত দিতে হবে। বিলম্বে যাকাত দেয়া জায়েজ আছে। তবে সঙ্গে সঙ্গে দেয়া উত্তম।

প্রশ্নঃ 1560
আমরা ২ ভাই ১ বোন বাবার রেখে যাওয়া ৫ কাঠা জমি আর মায়ের ১ কাঠা জমি কে কতটুকু পাবেন জানালে উপকৃত হতাম।
07 Jan 2026

আপনাদের জমিকে মোট ৫ ভাগ করবেন। আপনি পাবেন ২ ভাগ, আপনার ভাই ২ ভাগ আর আপনার বোন এক ভাগ।

প্রশ্নঃ 1559
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহ। আমার প্রশ্ন হলো: আমি আলেমদের কাছ থেকে যতটুকু জেনেছি যে, নিসাব পরিমাণ সম্পদ যদি এক বছর কারো অধীনে বা আয়ত্বে থাকে তাহলে এক বছর পূর্ণ হলে সে তার পুরো সম্পদ/অর্থের উপর যাকাত দিবেন। কিন্তু যদি এমন হয় যে, নিসাব পরিমাণ সম্পদ অর্জনের ১১ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর, অর্থাৎ এক বছর হবার একমাস পূর্বে বা যে কোন সময় যদি কোন প্রয়োজনে অর্থ খরচ হয়ে যায় তাহলে তো আর নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকল না। সেক্ষেত্রে কি আবার যখন নিসাব পরিামাণ সম্পদের মালিক হবে তখন থেকে এক বছর হিসেব করতে হবে? দয়া করে জানাবেন। উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম। জাযাকাল্লাহ খায়রান। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহ।
07 Jan 2026

সম্পদ নিসাব পূর্ণ হওয়ার এক বছর পর যাকাত আদায় করতে হয়। কোন কারণে এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগে যদি নিসাবের চেয়ে কমে যায় তাহলে আর যাকাত দিতে হবে না। পরবর্তীতে নিসাবের মালিক হলে এক বছর পর যাকাত আদায় করতে হবে।

প্রশ্নঃ 1557
আসসালামু আলাইকুম, আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাঃ) স্যার এর বঙ্গানুবাদ ইমাম আবু হানিফার রচিত আল-ফিকহুল আকবার বইটি পড়েছি কিন্তু আমাকে কিছু আলেম বলছেন এই বইটি ইমাম আবু হানিফা (রাঃ) কিতাব এটা প্রমাণিত নয়, আসলে এর কোনটা সত্য তা জানতে চাচ্ছিলাম।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই কিতাবটি যে আবু হানীফা রাহ. লিখিত তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে এই কিতাবটির নাম মূলত কী তা নিয়ে মতভেদ আছে। এই বিষয়ে ভূমিকার মধ্যে স্যার রহ. আলোচনা করেছেন, আপনি অনুগ্রহ করে সেটা দেখে নিন। আশা করি আপনার প্রশ্ন দূর হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ 1552
ইসলামে গান বাদ্যযন্ত্র হারাম?
07 Jan 2026

আলেমগণের সর্বাক্যমতে মিউজিক বা বাদ্যযন্ত্র হারাম। আবু আমির রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّونَ الْحِرَ وَالْحَرِيرَ وَالْخَمْرَ وَالْمَعَازِفَ

অর্থ: আমার উম্মতের মধ্যে অবশ্যই এমন একটি দল বা সম্প্রদায় আত্বপ্রকাশ করবে যারা ব্যভিচার (জিনা),রেশম, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে। … সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৫৯০।

উক্ত হাদীসের আলোকে সকল আলেম একমত যে, মিউজিক হারাম। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন, فَذَهَبَ الْأَئِمَّةُ الْأَرْبَعَةُ : أَنَّ آلَاتِ اللَّهْوِ كُلَّهَا حَرَامٌ . وَلَمْ يَذْكُرْ أَحَدٌ مِنْ أَتْبَاعِ الْأَئِمَّةِ فِي آلَاتِ اللَّهْوِ نِزَاعًا

চার ইমাম এই মত পোষন যে, সকল বাদ্যযন্ত্র হারাম। … অনুস্মরণীয় কোন আলেম এ ব্যাপারে দ্বিমত করেন নি। মাজমাউল ফাতাওয়া, ১১/৫৭৬। শাইখ আলবানী রহ. বলেন, اتفقت المذاهب الأربعة على تحريم آلات الطرب كلها চার মাজহাব এ ব্যাপারে ঐক্যমত পোষন করেছে যে, সমস্ত বাদ্যযন্ত্র হারাম। সিলসিলাতুস সহীহাহ, ১/৯০। ৯১ নং হাদীসের আলোচনায়। আর গান যদি বাদ্যযন্ত্র মুক্ত হয় আর গানের কথা ইসলাম বিরোধী না হয় তাহলে সেই গান জায়েজ।

প্রশ্নঃ 1556
নিজে নিজে কি কেউ মুসলিম হতে পারে।
07 Jan 2026

জ্বী, নিজে নিজে মুসলিম হতে পারে। কারো কাছে গিয়ে কালিমা পড়া মুসলিম হওয়ার জন্য আবশ্যক নয়।

প্রশ্নঃ 1554
আসসালামু ওয়ালাইকুম। আমি সামনের রমজান মাসে দুইবার কোরআন খতম দেওয়ার নিয়ত করেছিলাম। এখন কোনো কারণে মনে হচ্ছে সেটা সম্ভব হবে না। আমি তাড়াহুড়ো করে দুইবার শেষ না করে শুদ্ধ ভাবে সময় নিয়ে একবার শেষ করতে চাই। এতে কি আমার কোনো গুনাহ হবে?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, গোনাহ হবে না। সুন্দর করে একবার পড়া উত্তম হবে ।

প্রশ্নঃ 1553
আসসালামু আলাইকুম। হুজুর আমি আর আমার বাবা, আমাদের একটাই জমি ছিলো সেটা বিক্রি করে ঢাকা তে একটা দোকান দিছি। আমরা ইন্ডাস্টিয়াল বেল্ট বিয়ারিং চেইন সাপ্লাই করি। দোকান দেওয়ার প্রথম কয়েক মাস ভালো চলছে। কিন্তু কয়েকটা পার্টি চলে যাওয়াতে ২/৩ মাস থেকে দোকানে কোন বিক্রি নাই। হুজুর কোন আমল বা দোয়া আছে যেটা করলে আমাদের দোকানের মালামাল বিক্রি হবে। আমার জন্য দোয়া করবেন।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনে কোন লাইব্রেরী থেকে একটি “রাহে বেলায়াত” বই সংগ্র করবেন। সেখানে আপনার উপযোগী অনেক দোয়া পাবেন। সেগুলো আমল করবেন।

প্রশ্নঃ 1551
আসসালামু আলাইকুম শায়েখ, আজকে অযুর সময় নাকে পানি দিতে গিয়ে অনিচ্ছায় কিছুটা পানি মুখের গভীরে চলে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে তার পুরোটাই (ইন-শা-আল্লাহ) কুলি করে ফেলে দেই। পানি গলায় পৌছেছিলো কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহের মধ্যে আছি। রোজা রেখে সাবধানের সাথে মুখের মধ্যে যে কুলি করি পানিটা তার চেয়ে একটু ভেতরে গিয়েছিলো কিন্তু গলায় পৌছেছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে কিন্তু পেটে যায় নি এব্যাপারে নিশ্চিত। এ অবস্থায় আমার কি রোজা ভেঙ্গে গেছে? আর এক্ষেত্রে কি কাফফারা দিতে হবে? আর কাফফারা দিলে কি রমজানের এই রোজার সমান সওয়াব পাবো? জাজাকাল্লাহ খাইরান
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অনিচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভেঙে গেলে কাজা করতে হয়, কাফফারা দিতে হয় না। আপনি ঐ রোজার বদলে একটি রোজা রেখে দিবেন।

প্রশ্নঃ 1550
আমাদের শিক্ষিত সমাজে বর্তমানে সন্তান নেয়াকে মানুষ বোঝা মনে কর, সন্তান নেওয়ার কথা বললেই তারা খরচের ফিরিস্তি শুনিয়ে দেয়। আমার প্রশ্ন হল কোন স্বামী ও স্ত্রী যদি সুস্থ থাকে এবং অন্য কোন পারিপাশ্বিক সমস্যা না থাকে শুধুমাত্র টাকা খরচের হিসাবের জন্য সন্তান কম নেয়া জায়েয আছে কিন?
07 Jan 2026

না, অভাবের চিন্তা করে, আমি সন্তানদের খাওয়াব কীভাবে, পরাব কীভাবে, এই চিন্তা থেকে যদি কেউ জন্ম নিয়ন্ত্রণ করেন, তাহলে সেটি সম্পূর্ণ হারাম। কারণ রিজিকের মালিক হলেন আল্লাহ রাব্বুলআলামিন, রিজিকদাতা আল্লাহতায়ালা। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন, ٱلشَّيْطَٰنُ يَعِدُكُمُ ٱلْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُم بِٱلْفَحْشَآءِ ۖ وَٱللَّهُ يَعِدُكُم مَّغْفِرَةً مِّنْهُ وَفَضْلًا ۗ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٌ শয়তান তোমাদেরকে দারিদ্রতার ভয় দেখায় এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয় এবংআল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা ও অনুগ্রহের ওয়াদা করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সুবিজ্ঞ। সূরা বাকারাহ, আয়াত ২৬৮। সুতরাং শয়তানের ধোকায় পড়ে কিছুতেই অভাব অনটনের ভয়ে জন্মবিরতী করা যাবে না।

প্রশ্নঃ 1549
আস-সালামু-আলাইকুম, ছোটবেলাতে এরকম শুনেছি যে,কোনো ভালো কাজের আগে “বিসমিল্লাহ” বললে পুরো কাজের সময় ধরে সওয়াব হয়। আসলেই কি তাই? সওয়াব পাওয়ার শর্ত ও আমরা কিভাবে দিনের প্রতিটা ভালো কাজের ভিতর সওয়াব পেতে পারি?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মুসলিম শুধু ভালো কাজই করবে, কোন মন্দকাজ করবে না। মন্দকাজ হয়ে গেলে আল্লাহর কাছে তওবা করবে ক্ষমা চাইবে। কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা বা আল্লাহর নাম নেয়া সুন্নাত। বিসমিল্লাহ বলে কাজ শুরু করলে সুন্নাতের সওয়াব পাবে। মুসলিম ভালো কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করলে ভালো কাজরে সওয়াব পাবে। বিসমিল্লাহ পড়লে পুরো সময় ধরে সওয়াব হয় বিষয়টি এরকম না। আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রত্যাশা নিয়ে আমরা সকল ভালো কাজ করবো, এতে আমাদের সওয়াব হবে।

প্রশ্নঃ 1540
আমার বোন লেখাপড়া করে নি। ছোটকাল থেকে একরোখা ছিলো বুঝতেও পারে নি। এখন আমি ট্রাই করতেছি পড়ানোর বাসায় নিজে নিজে, কিন্তু তারপরও বুঝে না। এই অবস্থায় খারাপ ব্যবহার বা নেগেটিভ কথাবার্তা বললে কি গোনাহ হবে? আর লেখাপড়া করে নাই এই জন্য বিয়ে হবে না বা সমস্যা হবে এইসব চিন্তা করা কি ঠিক? অনেক চিন্তায় আছি তাকে নিয়ে, এই অবস্থায় ভাই হিসাবে আমার কি করা উচিত। উল্লেখ্য আমার বাবা মারা গেছেন
07 Jan 2026

যদি সকল শ্রমিকের মাঝে বিলি করা সম্ভব হয় তাহলে সেটাই করতে হবে। আর যদি সম্ভব না হয় তাহলে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে আপনারা খেতে পারবেন।

প্রশ্নঃ 1548
আস সালামু আলাইকুম, কেউ মাসবুক হলে ইমাম সাহেবকে রুকুতে অথবা সেজদায় পেলে কি তাকবির তাহরীমা দিয়ে আগে হাত অল্প সময়ের জন্য হাত বাধবে তারপরে ইমামকে অনুসরণ করবে নাকি শুধু তাকবির তাহরীমার পরে হাত না বেধেই ইমামকে অনুসরণ করবে?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যে কোন একটি করলেই হবে। অল্প সময়ের জন্য বেঁধে তারপর নতুন করে তাকবীর দিয়ে ইমামের কাজ অনুস্বরণ করা ভালো দেখাই। হাত না বাঁধলেও সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 1547
আসসালামু আলাইকুম, যে সকল পণ্যের বিক্রয় মূল্য অনির্ধারিত এবং অনিশ্চিত যেমন কাপড়ের দোকানে একটি শার্টের দাম কখনো 300 টাকা কখনো সেই শার্টটি 500 টাকায় বিক্রি হয়। আবার এই শার্টগুলো বাজারে একসাথে সব বিক্রি করতে গেলে 100 টাকা করে পাওয়া যাবে; উপরন্তু শার্ট এর ক্রয় মূল্য ছিল দেড়শ টাকা! এখন যাকাতের হিসেবে কোন টাকার অংকটি বিবেচনায় আনব! আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আমিন।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কাপড় ব্যবসায়ীরা কাপড়ের ক্রয়মূল্য ধরে যাকাত দিবেন। মনে করুন, দোকানে যে পরিমাণ কাপড় আছে তার ক্রয় মূল্য ১ লক্ষ টাকা তাহলে সে ২৫০০ টাকা যাকাত দিবে।

প্রশ্নঃ 6
আমার বয়স ২৭, আমার পিতা ২ বিয়ে করেছেন, প্রথম পরিবারের ভরণপোষণ তিনি আজীবন ঠিকঠাক ভাবে আদায় করেছেন, এবং তিনি প্রথম পরিবারের সাথে থাকেন, আমি যখন ছোট ১১ বছর বয়স তখন তিনি আমাদেরকে ছেড়ে চলে যায় আম্মুকে মিথ্যা পরকিয়ার অপবাদ দিয়ে, পরে আম্মু চাকরি করতেন, আর আমাকে আমার পিতা শুধু আমার হোস্টেলের খরচ টুকু দিতেন, আর আমার ছোট ভাই তখন তার বয়স ৫ নানুর বাড়ি থাকতো তার খরচ আম্মু বহন করত, ৮ বছর পর তিনি পুনরায় আমাদেরকে বাসা ভাড়া করে দিয়ে ১০বছর ভরণপোষণ চালিয়েছেন, তারপর তিনি আবার চলে যান, আর আসেনি, বড় ব্যবসায়ী উনার ধনসম্পদের কোন কমতি নেই, আমি ছোটখাটো চাকরি করে মাসে ১৫হাজার টাকা ইনকাম করে বাসা ভাড়া দেওয়ার পর তেমন কিছু থাকেনা,উনি প্রথম পরিবারের সাথেই আছেন, শরীয়ত অনুযায়ী উনার ভাস্য হলো আর কোন দায়বদ্ধতা নেই আমাদের উপর, এবং হানাফি ফিক্বহেও ছেলে সন্তানের ১৫বছরের পিতার কোন দায়বদ্ধতা নেই, এবং উনার সম্পদ উনি যাকে ইচ্ছে তাকে দিতে পারবেন, এই মাসআলার ভিত্তিতে সব সম্পদ প্রথম পরিবারকে হেবা করে দিয়েছে, আমি আমার মা ছোট ভাই এবং সংসারের খরচ বহন করছি যেভাবেই হোক কারণ আমার দায়িত্ব। আমার প্রশ্ন হলো; ১-বালেগ সন্তান যদি ধনি পিতার চেয়ে গরীব হয় তখন শরীয়তের সমাধান কি?(যদিও শরীয়ত অনুযায়ী বৈধ ফয়সালাটি উনি নিয়েছেন) ২-আর উনি উনার সম্পদ হেবা করার বিষয়টি শরীয়ত মেনে করেছেন, এই ক্ষেত্রে যারা আমার মত বাস্তুভিটা থাকার স্থায়ী কোন জায়গা নাই শরীয়ত কোন সমাধান দিয়েছে কিনা? ৩-প্রতি বছর উনি অনেক দান সদকা করেন, সেগুলো আমাদের নেওয়া বৈধ হবে কিনা? ৪- বেশ কয়েক জন মাদ্রাসা পড়ুয়ার খরচ উনি অতীতে বহন করেছেন (যখন আমার ছোট ভাইকে আমার আম্মা চালাতো) এবং বর্তমানেও অনেকের বহন করেন, এই ক্ষেত্রে উনার এই আচরণের জন্য শরীয়তের নির্দেশনা কি? ৫-শেষবার চলে যাওয়ার পর আম্মুর সাথে ৬বছরে কোন কথা বলেনি, এবং আমাদের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ রাখতে অস্বস্তি বোধ করেন, (শরীয়ত অনুযায়ী বাধ্য নই যোগাযোগের ব্যপারটা) এই ধরণের অসহায় মহিলাদের ক্ষেত্রে শরীয়তের সহায় কি? [বি:দ্র: বাংলাদেশের সবাই হানাফি ফিক্বহ্ অনুযায়ী চলি, তাই শরীয়ত বলতে হানাফি মাযহাবের ফয়সালা উদ্দেশ্য]
09 Dec 2025

আপনার পিতার সঠিক কাজ করেন নি। তিনি তার দুই পরিবারের সন্তানদের এক চোখে দেখবেন। মারা যাওয়ার পর তার সম্পদ শরীয়াহ অনুযায়ী ওয়ারিশরা পাবে। জীবিত থাকা কালীণ যদি সন্তানদের দেন তাহলে সবাইকে সমান ভাবে দিবেন। তবে যদি কেউ অর্থনৈতিকভাবে দূর্বল হয় তাহলে জীবতি থাককালীণ তাকে অন্য সন্তানদের থেকে একটু বেশী দিতে পারেন। তবে মারা যাওয়ার পর এই সুযোগ আর থাকবে না। সবাই শরীয়াহ অনুযায়ী মিরাছ পাবে।  প্রথম পরিবারের সন্তানদের তিনি হেবা করে অন্যদের বঞ্চিত করার অধিকার ইসলাম তাকে দেয় নি। হেবা করলে সকল সন্তানকে করতে হবে। নিজের সন্তানদের পথে বসিয়ে বাইরে দান করার এই কথাও ইসলাম কাউকে বলে নি। রবং দান করার ক্ষেত্রেও ভারসাম্যতা রক্ষা করেতে হাদীসে নির্দেশে দেয়া হয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো তিনি কিছু মানবেন না। কারণ কোন জিদ বশত তিনি  এই ধরণের কাজ করেছেন। আমার পরামর্শ হলো আপনি আপনার পিতার সাথে সরাসরি কথা বলে, বুঝিয়ে এগুলোর সমাধাণ করেন। আল্লাহর কাছে দুআ করবেন। আমরা দুআ করি আল্লাহ তায়ালা আপনার আব্বাকে সঠিক বুঝ দান করুন। 

প্রশ্নঃ 1545
মসজিদ স্থানান্তরিত করার হুকুম কি? মসজিদ স্থানান্তরিত করা হলে সেই মসজিদে নামাজ হবে না। এ কথা কি সত্য?
07 Jan 2026
প্রয়োজনে মসজিদে স্থানান্তর করতে সমস্যা নেই। স্থানান্তরিত মসজিদ অন্যান্য মসজিদের মতই, নামাযে সমস্যা নেই। তবে পূর্বে মসজিদ যেখানে ছিলে সেই জায়গা মসজিদ হিসেবে থাকবে, সেটা পবিত্র রাখতে হবে। এই বিষয়ে ভিন্নমতও আছে। তবে মসজিদ হিসেবে পবিত্র রাখার মধ্যেই অধিক সতর্কতা।
প্রশ্নঃ 1546
আমি একটি কোম্পানিতে চাকরি করি। সেখানে ইফতার খাওয়ায় এবং ইফতার যখন দেয় তখন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে দেয়। ওই পরিমাণে আমরা কর্মীদের মধ্যে বিতরণ করার পরেও আমাদের (৯ থেকে ১০ জন) জন্য বরাদ্দকৃত পরিমাণের চেয়ে বেশি থেকে যায় সেগুলো খাওয়া জায়েজ হবে কিনা? মানে অতিরিক্ত খাবার যেগুলো থাকে সেগুলো কি আমরাই শুধু খাবো নাকি সবার (শ্রমিক) মধ্যে বিলি করে দেবো?
07 Jan 2026

যদি সকল শ্রমিকের মাঝে বিলি করা সম্ভব হয় তাহলে সেটাই করতে হবে। আর যদি সম্ভব না হয় তাহলে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে আপনারা খেতে পারবেন।

প্রশ্নঃ 1544
সেহরি সময় শেষ হওয়ার ১ মিনিট পর আমি পানি পান করেছি। টাইমের ব্যাপারে আমি অবগত ছিলাম না। আমার রোজার কি সমস্যা হবে?
07 Jan 2026

জ্বী, ঐ রোজাটি কাজা করতে হবে। অর্থাৎ ঐ রোজাটি না হওয়ার কারণে আরেকটি রোজ রাখবেন।

প্রশ্নঃ 1543
প্রিয় শায়েখ,আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু । আমি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করি, সেই প্রতিষ্ঠানটি কয়েক মাস পরে বন্ধ হয়ে যাবে। উল্লেখ্য যে, অত্র প্রতিষ্ঠানটি একটি ৩য় পক্ষ ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হবার পিছনে কিছু অসাধু কর্মকর্তার দূর্নীতি জরিত। তাদের কয়েক জনের এই চুরি বা দূর্নীতির জন্য ১ম পক্ষ তাদের চুক্তি থেকে সরে এসেছে এবং তাদের কার্যক্রম বন্ধের মেইল বার্তা ও চিঠি প্রেরণ করেছে। এমতাবস্থায় উক্ত প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিক যারা রয়েছেন তারা কি শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের পাওনাদি টাকা পয়সা নিতে পারবে। শ্রম আইন অনুযায়ী ৩ মাসের বেসিক সেলারী, সার্ভিস বেনিফিট (১ বছরের জন্য ১ মাসের বেসিক) এই টাকা গুলো নেয়া বৈধ্য হবে। অথবা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোন প্রকার সুযোগ সুবিধা না দিতে চায় তা আন্দলোনের মাধ্যমে আদাইয় করে নেয়া বৈধ হবে কিনা? নোটঃ আমি অনেক জায়গায় আমার এই প্রশ্নটি প্রেরণ করেছি কিন্তু কোন উত্তর পাইনি। আশা করছি আপনাদের থেকে পাবো। আমাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ হবার সময় ঘনিয়ে আসছে। আমরা হয়তবা কেউ কেউ সঠিক উত্তর এর জন্য নিজেদেরকে সুবিধা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হবো অথবা ঐ অসাধু চক্রের ন্যায় আমরাও হালাল-হারাম না বুঝে উল্লেখিত পাওনাদি নেয়ার জন্য উদগ্রিব হবো। তাই জনাব আপনার নিকট আকুল আবেদন এই যে, আমি এবং আমাদের এই উত্তরটি প্রদানের মাধ্যমে উপকৃত করবেন।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বী, শ্রম আইন অনুযায়ী আপনারা সুবিধা গ্রহন করতে পারবেন। না দিতে চাইলে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 1542
আসসালামু আলাইকুম হুজুর, ইউটিউব দেখার সময় ছোট ছোট ভিডিও গুলাতে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক মানে সিম্পল বাজনা ইউজ করা হয়, ভিডিওর টপিক যদিও ভালো তবুও ঐ ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের কারণে ভিডিওটি দেখা যাবে কিনা?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই ধরণের ভিডিও দেখবেন না। যেখানে কোন সমস্যা নেই তেমন ভিডিও দেখবেন।

প্রশ্নঃ 1541
আসসালামু আলাইকুম। আমার নাম মাসুদ খান। আমার বয়স ১৯। আমি বিজ্ঞান বিভাগে কলেজে পড়ি। আমার কয়েকটি প্রশ্ন ছিল: ১. আমার বয়স ১৯ এই বয়সে দাড়ি কি আমাকে রাখতে হবেই? না কি এখন না-রাখলেও হবে। যদি না রাখলে হয় তাহলে কিভাবে কাটতে হবে? ব্লেড দিয়ে কাটবো না মেশিন দিয়ে কাটবো। ২. আমি ছোট বেলা থেকেই ইসলামিক আইনগুলো মানতে চেস্টা করি এমন কি আমি ১বছর যাবত সব ধরনের গান শুনা থেকে বিরত আছি। তো আল্লাহ তায়ালা আমাকে একটা সমস্যা দিয়েছেন সেটা হলো আমি ঘন ঘন বিছানায় পস্রাব করে ফেলি যেটা আমার জীবনকে দুর্বিষহ করে দিচ্ছে। কোন নামাজ কালাম পড়তে পারি না আমার মনে হয় আমার জন্য আমার ঘরটাও নাপাক হয়ে যাচ্ছে। এখন আমার করণীয় কি? এভাবেই কি জীবনটা কাটাবো? ৩.আমি মনে হয় হানাফি কারন সবাই বলে। তো আমি সব আলেমদের বক্তব্য শুনে দেখলাম বুকে হাত বেধে নামাজ পড়া বেশি প্রমানিত। আমি কি হানাফি মাযহাবের পাশাপাশি বুকে হাত বেধে নামাজ পড়তে পারবো? কারন আমাকে কয়েকজন বললো, যেকোনো একটি মাযহাব নাকি মানতে হবে, তা না হলে না কি নামাজ হবে না।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দাঁড়ি সকল মুসলিমদেরকে রাখতে হবে। আপনাকেও রাখতে হবে। দাঁড়ি না রাখার কোন সুযোগ নেই। রাসূলুল্লাহ সা. দাঁড়ি রাখতে আদেশ দিয়েছেন, দাঁড়ি নিজে রেখেছেন, দাঁড়ি কাটতে নিষেধ করেছেন। এই বিষয়ে নিচের হাদীসটি লক্ষ করুন: عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ وَفِّرُوا اللِّحَى وَأَحْفُوا الشَّوَارِبَ ، وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا حَجَّ ، أَوِ اعْتَمَرَ قَبَضَ عَلَى لِحْيَتِهِ فَمَا فَضَلَ أَخَذَهُ.অর্থ: নাফে ইবনে উমার রা. থেকে তিনি রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধাচারণ করো, তোমরা দাঁড়ি ছেড়ে দাও এবং গোঁফ কে কটে ফেলো। (নাফে বলেন,) আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমার রা. যখন হজ্ব কিংবা উমরা করতে যেতেন তখন একমুষ্টির উপরের দাঁড়ি কেটে ফেলতেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৮৯২। ২। আপনি একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন। পাশাপাশী রোগমুক্তির দোআগুলো পড়তে থাকুন। ইনশাআল্লাহ সব ঠিক হয়ে যাবে। আমার আল্লাহর কাছে দুআ করি আল্লাহ আপনাকে পরিপূর্ণ সুস্থতা দান করুন। ৩। যে একটি মাজহাবে মেনে চলায় ভালো। তবে বুকে হাত বেঁধে নামায পড়তে কোন সমস্যা নেই। এটা মাজহাবের বড় কোন বিষয় নয়।

প্রশ্নঃ 1539
মাকরূহ ওয়াক্তে মসজিদে উপস্থিত হলে তাহিয়াতুল মসজিদ স্বলাত পড়া যাবে কী? নাকি মাকরূহ ওয়াক্ত অতিক্রম হওয়া পর্য্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে?
07 Jan 2026

এই বিষয়ে ফকীহদের মাঝে কিছুটা মতভেদ আছে। মাকরুহ ওয়াক্তে তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়াকে অনেকে জায়েজ বলেছেন। আবার অনেকে পড়তে নিষেধ করেছেন। শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বাজ রহি. বলেছেন, মাকরুহ ওয়াক্তে এই সালাত আদায় করা যাবে, এটা অধিকতর বিশুদ্ধ মত। বিস্তারিত জানতে

প্রশ্নঃ 7
আসসালামু আলাইকুম। কেউ যদি সচরাচর সদকা করে না কিন্তু বিপদের সমায় সদকা করে তার উসিলায় দোয়া করে বিপদ দূর হওয়ার জন্য তাহলে কি শিরক হবে? কিন্তু বিপদে সদকার কথা বলা হয়েছে। তাহলে কখন শিরক হবে আর কখন শিরক হবে না?
12 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমসুস সালাম।  আল্লাহ তায়ালার উদ্দেশ্যে সদকা করলে কোন সময় শিরক হবে না। বিপদের সময় বা অন্য সময় কোন সময়ই শিরক হবে না। আপনি সম্ভবত শিরক বিষয়ে কিছুটা মানসিক সমস্যার মধ্যে আছেন। যদি এমন হয় তাহলে সমস্যার সমাধাণ করে নিন। 

প্রশ্নঃ 8
সামনে তো নির্বাচন, নির্বাচনে যদি আমি জেনে শুনে এমন ব্যক্তি অথবা দলকে ভোট দিই যে ভবিষ্যতে খারাপ কাজ করবে তাহলে কি তাকে ভোট দেওয়ায় আমার গুনাহ হবে? আর যদি এমন হয় যে আমি জানি সবাই খারাপ তাই কোনো ভালো প্রার্থী বা দল না পেয়ে আমার ভোটাধিকার প্রয়োগ না করলে আমার কি পাপ হবে? কারণ ভোট দেওয়া রাষ্ট্রীয় অধিকার।
14 Dec 2025

না,  বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ভোট না দিলে গুনাহ হবে না। তবে ভোট দিতে চাইলে আপনার দৃষ্টিতে সবচেয়ে তাকওয়াবান ব্যক্তিকে ভোট দিবেন।  দলের ক্ষেত্রে দেখবেন যে দল ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা চায় সেই দলের প্রার্থীকে ভোট দিবেন। 

প্রশ্নঃ 1538
মুসলিম হয়ে সব ধর্মের উপাসনালয়ে দুয়া চাওয়া, শান্তি কামনা করা, উপাসনা করার নির্দেশ করা কতটুকু শরীয়তসম্মত?
07 Jan 2026

সব ধর্মের উপাসনালয়ে দুআ চাইলে সে মুশরিক, সে মুসলিম নয়। মুসলিম নামধারী কেউ এটা করলে সে মুশরিক হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ 1537
আসসালামু আলাইকুম, আমি পর্তুগালের লিসবনে থাকি, আমি যেহেতু গাড়ী চালাতে পারি তাই আমি এখানে উবার ইটসে খাবার ডেলিভারির কাজ করতে চাচ্ছি, তবে যেহেতু এখানে রেস্টুরেন্টের বেশিরভাগ খাবার হলো হারাম সেহেতু আমি খাবার ডেলিভারি দিতে পারি কিনা, ইসলাম আমারে এটা অনুমতি দেয় কিনা দয়া করে জানাবেন।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, হারাম খাবার ডেলিভারীর কাজ করা জায়েজ হবে না। আপনি অন্য কোন হালাল পেশা গ্রহণ করুন। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন,(ولا تعاونوا على الإثم والعدوان) মন্দকর্ম ও সীমালংঘনের কাজে তোমরা একে অপরকে সহযোগিতা করো না। সূরা মায়েদা, আয়াত নং ২।

প্রশ্নঃ 673
বর্তমানে বিবাহ আনুষ্ঠানে দেখা যায় বন্ধুরা সবাই বর/কনে বা দুজনকেই ঘিরে দাড়িয়ে এক হাত তাদের মাথার উপর রেখে আশির্বাদের ভঙ্গীতে ছবি তুলে। তাদের মতে তারা দুয়া দিচ্ছে নব দম্পতিকে। এটার বিধান কি হবে? এই সংস্কৃতির উৎস কি? এটা কি শির্ক হবে? বিস্তারিত ফাতওয়া আশা করছি।
30 Dec 2025

এগুলো মুসলিম কালচার নয়। হিন্দুয়ানী কালচার। এভাবে দুআ করার কোন বৈধতা ইসলামে নেই। পর্দা রক্ষার ক্ষেত্রে এটা অন্তরায়। সর্বক্ষেত্রে পূর্ণ পর্দার করতে হবে। ধর্মজ্ঞানহীন কথিত শিক্ষিতদের মধ্যে  এই ধরণের কালচার স্থান পেয়েছে। ধর্মীয় জ্ঞান রাখেন এমন মানুষেরা এগুলো করে না। 

প্রশ্নঃ 1536
আসসালামুয়ালাইকুম আমি কিভাবে জানবো যে আমার ইমান আছে। কারণ আমি অনেক পাপ করেছি। এমন কোন পাপ নেই যা আমি করিনি। আমি নামাজের প্রতি অমনোযোগী। আমি শুধু জানতে চাই কিভাবে বুঝবো যে আমার, ঈমান আছে।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি যদি আল্লাহকে ইলাহ হিসেবে মেনে নেন, মুহাম্মাদ সা. কে শেষ নবী হিসেবে বিশ্বাস করেন, আসমানী কিতাবেগুলো বিশ্বাস করেন, ফেরেশতা আছে বিশ্বাস করেন, আখেরাত- আখেরাতের হিসাব নিকাশ বিশ্বাস করেন, তাকদীর বা ভাগ্যে বিশ্বাস করেন তাহলে বুঝবেন আপনার ঈমান আছে। যেহেতু আপনার পাপের অনুভূতি আছে এটাও প্রমাণ আপনার ঈমান আছে। নামাযের প্রতি মনোযোগী হওয়ার চেষ্টা করুন, ধর্মীয় বই বেশী পড়ুন, আলেমদের ওয়াজ শুনুন, ভালো মানুষদের সাথে থাকুন, হারাম থেকে রিবত থাকুন আর আল্লাহর কাছে বেশী করে দুআ করুন, আল্লাহ যেন খাঁটি মূ’মিন হিসেবে আপনাকে কবুুল করে।

প্রশ্নঃ 1535
Assalamualikom আমি একজন ছাত্র । সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে । তো এই সুবাদে আমি স্টুডেন্ট পড়াই । গত February তে কিছু স্টুডেন্ট আমাকে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য মডেল টেস্ট নিতে বলে । সেই হিসেবে আমি তাদের মডেল পরীক্ষার জন্য ২৫০০ টাকা নির্ধারণ করি 12 টি পরীক্ষার জন্য । তো এই হিসেবে তারা একটা পরীক্ষা দেয় এবং সেই সাথে আমি এডভান্স পেমেন্ট সবার কাছ থেকে নিয়ে নিই। এরপর তাদের প্রেসার বেড়ে যাওয়ায় তারা আমাকে বলে যে ভাইয়া আমরা এই পরীক্ষাগুলো আরো পরে দিব। তাদের প্রেসার বাড়ার কারণ হলো মেডিকেল এক্সাম সামনে ছিল। তো তারা আমাকে বলল যে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার পরে এক্সাম গুলো আবার দিবে। তো আমি এটা মেনে নিলাম। এখন গত কয়েকদিন আগে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় সেখানের একজন মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। তো সে আমাকে ফোন দিয়ে বলতেছে যে ভাই আমি আর একজন এক্সাম দিব না । আমি মেডিকেলে ভর্তি হয়ে যাব । পেমেন্ট রিফান্ড করে দেন। শাইখ এখন আমার করণীয় কি? শরীয়াহ আমাকে কি বলে? উল্লেখ্য টাকা রিফান্ড করার কোন কথা তাদের সাথে আমার আগে ছিল না । আমিতো সেই টাকা অলরেডি খরচ করে ফেলেছি। কারণ এটা অনেকদিন আগের বিষয় ছিল। এখন আল্লাহ্ না করুন তাকে টাকা রিফান্ড করলে বাকিরাও যদি একই কথা বলে তাহলে এটা তো আমার জন্য খুবই কঠিন হয়ে যাবে সবার টাকা রিফান্ড করা।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যদি সেই টাকা তাদের পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজে খরচ করেন তাহলে তাদের টাকা ফেরত দেওয়া লাগবে না, তাদের জন্য যা কিনেছেন সেগুলো তাদের দিয়ে দিবেন। আর যদি নিজের ব্যক্তিগতকাজে খরচ করেন তাহলে তাদের টাকা ফেরত দিতে হবে, তাদের পরীক্ষা সংক্রান্ত কোন কাজ না কারণে আপনি পরীক্ষার কারণে কোন পারিশ্রমিকও পাবেন না।

প্রশ্নঃ 1534
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته ০১: আমি ওষুধের ব্যবসা করতে চাই এবং সেবার উদ্দেশ্যে বেশি ছাড় দিয়ে ওষুধ বিক্রি করতে চাই। এতে যদি কোন দোকানদার কাষ্টমার হারান তবে আমার গুনাহ হবে কিনা। ০২: জন্মবিরতিকরণ জাতীয় ওষুধ ও পণ্য বিক্রি করা হালাল কিনা? ০৩: একটা ওষুধের পেকেটে যা লেখা ঐটাই কি রাখতে হবে? নাকি ছাড় দেয়া যাবে?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

১। বেশী ছাড় দিতে সমস্যা নেই। তবে বেশী ছাড় দিলে ব্যবসা শেষ পর্যন্ত না টিকার সম্ভাবনা থাকে। বাজার যেভাবে চলে সেভাবে ব্যবসা করলে স্থায়ীত্ব পাবেন।

২। এ জাতীয় ওষুধের ব্যবহার হারাম হালাল হওয়াটা ব্যবহার বা সেবনকারীর উপর বর্তায়। দোকানে বিক্রি করলে সমস্যা হবে না ইনশাআল্লাহ।

৩। প্যাকেটের গায়ে যা আছে তা নিলে তো আর ছাড় দেয়া হবে না। অবশ্যই ছাড় দেয়া যাবে।

প্রশ্নঃ 1533
আসসালামু আলাইকুম, মুহাম্মাদ (সঃ) সুন্নত, নফল নামাজ সর্বদা বাড়িতে আদায় করতেন আমিও এই সুন্নত মেনে চলতে চাই কিন্তু মসজিদে ঢোকার পর বসার আগে ২ রাকাত নামাজ পড়তে হয় এ ক্ষেত্রে আমি কি করতে পারি, যেহেতু সুন্নত নফল নামাজ বাড়িতেই পড়তে পারলেই ভাল হয়। প্রশ্ন হচ্ছে মসজিদের এই ২ রাকাত নামাজ যেকোন এক সময় পড়লেই হবে নাকি পাঁচ ওয়াক্তই মসজিদে গেলেই পড়তে হবে? সঠিক এবং সুন্দর একটা উত্তর আশা করছি।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, إذا دخَلَ أحدُكم المسجدَ فليركَعْ رَكْعَتَيْنِ قبْلَ أنْ يجلسَ. যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে তখান বসার পূর্বে ২ রাকআত নামায আদায় করবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৩৩। সুতরাং যখনই মসজিদে প্রবেশ করবেন বসার আগে ২ রাকআত নামায পড়বেন, এটা সুন্নাত। যত বার প্রবেশ করবেন ততবার পড়বেন। অন্যান্য সুন্নাত নামাযগুলো বাড়িতে পড়া উত্তম। মসজিদে প্রবেশের নামায বাড়িতে পড়ে আসা যাবে না।

প্রশ্নঃ 1532
সম্মানিত শায়েখ,আমি খুবই হতাশার মধ্যে আছি। কিছুদিন হল আমি ইসলামের দিকে আল্লাহর আনুগত্য করার জন্য ফিরে এসেছি। আমার যত খারাপ অভ্যাস বা কাজ ছিল তা আস্তে আস্তে ত্যাগ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু এরই মাঝখানে আমি শয়তানের নেক সুরতের ধোকার মধ্যে পতিত হলাম। কত কষ্টদায়ক, জঘন্য যে এই ওয়াস ওয়াসা তা যদি আমি আপনাকে বোঝাতে পারতাম। আগে ওযু নিয়ে, নামাযের রাকাত নিয়ে, নামাযের কেরাত নিয়ে ওয়াস ওয়াসা হত, আলহামদুলিল্লাহ এখন আর ওগুলো হয়না। যত ওয়াস ওয়াসা কে আমি পাত্তা না দেই,এবং সেগুলো থেকে কাটিয়ে উঠি। নতুন করে আরেকটা বাসা বাধে। এইরকম আমার প্রায় ৬ মাস ধরে চলছে। আমার সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীও মাঝে মাঝে রাগ করে। আমি প্রায় নিয়মিত জিকির করি, লা হাউলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লাবিল্লাহ পড়ি। বিতাড়িত শঅয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। তার পরও আমার নফসের গোলামি থেকে এবং এই ওয়াস ওয়াসা থেকে নিজেকে সরাতে পারছিনা। আমার শুধু মনে হয় এটা মনে হয় নাপাক, এই আমার হাত বুঝি নাপাক। বার বার পা ধুতে ধুতে আমার পায়ে ঘা এর মত হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে মনে হয় আমার দ্বীন এত কঠিন এবং কষ্ট দায়ক তো নয়। এই সময়ে শুধু ধৈর্য ধরে আল্লাহর দয়ার আশায় রয়েছি। এবার প্রশ্নে আসি- ১. কিভাবে এই ওয়াসওয়াসা থেকে পুরো পুরি বের হব? অনেকে বলে ওয়াসওয়াসা কে পাত্তা না দিতে। যদি আমি পাত্তা না দেয় তাহলে দেখা যায় অনেক সময় নাপাকি লেগেছে কিনা এটা নিয়ে সন্দেহ হলে যদি সন্দেহ কে পাত্তা না দিয়ে ওই কাপড় পরে ইবাদাত করি এবং যদি সত্যিই নাপাকি লেগে থাকে যে বিষয়ে আমি শিয়র না তাহলে কি করব?
07 Jan 2026

জ্বী, ওয়াসওয়াসা বা সন্দেহকে পাত্তা দেওয়া যাবে না। নাপাকী লেগেছে কিনা সন্দেহ হলে মনে করবেন নাপাকী লাগেনি। যদি নাপাকী লাগার বিষয়ে নিশ্চিত হন তাহলেই কেবল পাক হবেন। সন্দেহ হলে, মনে করবেন সবকিছু ঠিক আছে। হাত পা সুন্নাত অনুযায়ী ৩ বার ধৌত করবেন, মনের ভিতর যতই সন্দেহ আসুক, তিন বারের বেশী ধৌত করবেন না। এগুলোর পাশাপাশি আল্লাহর কাছে দুআ করবেন। আমরাও আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনার এই সমস্যা দূর করে দেন।

প্রশ্নঃ 1531
আসসালামু আলাইকুম। নামায এর সময় টুপি পড়া কি বাধ্যতামূলক? মানে টুপি না পড়ে নামায পড়লে, নামায আদায় হয় না? সওয়াব পাওয়া যায় না? আর হাফ হাতা শার্ট পড়ে নামায পড়লে নাকি নামায মাকরূহ হয়? অনুগ্রহ করে উত্তর জানাবেন। জাজাকাল্লাহ খাইরান
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রাসূলুল্লাহ সা. এবং তাঁর সাহাবীগণ সাধারণত অধিকাংশ সময় টুপি পরে থাকতেন, তবে সব সময় থাকতেন এমনো না, হাদীস থেকে এগুলো জানা যায়। আল্লাহভীরু মানুষেরাও সাধারণত সব সময় টুপি পরে থাকেন। মোটকথা টুপি মুসলিমদের একটা ঐতিহ্যবাহী পোশাক। এটা নামাযের কোন পোশাক নয়। সুতরাং টুপি পরার সাথে নামায হওয়া বা না হওয়ার কোন সম্পর্ক নেই। অন্যান্য সময় টুপি না পরে শুধু নামাযের সময় টুপি পরলে নামাযে বেশী সওয়াব হবে এমন কোন হাদীস নেই। অধিকাংশ সময় টুপি পরলে রাসূল সা. এর সুন্নাত হিসেবে সওয়াব পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ। হাফহাতা শার্ট আল্লাহভীরু মুসলিমদের পোশাক নয়। তাকওয়াবান প্রত্যেকের উচিত হাফহাতা শার্ট পরা বর্জন করা। তাকওয়া প্রকাশ পায় এমন পোশাক পরা উচিত। তবে নামাযের কোন ক্ষতি হবে না।

প্রশ্নঃ 1530
কোন মুসলিম নারী বা পুরুষ মারা গেলে মাহরুম নয় এমন নারী বা পুরুষ কি তার মুখ দেখতে পারবে?
07 Jan 2026

জীবিত থাকাকালীন যাদের দেখা জায়েজ মারা যাওয়ার পরও তাদের দেখা জায়েজ আর জীবিত থাকাকালীন যাদের দেখা জায়েজ নেই মারা গেলেও তাদের দেখা জায়েজ নেই।

প্রশ্নঃ 1529
আসসালামুআলাইকুম। আমরা অফিসে সালাত আদায় করি। মোটামুটি দুই কাতার হয়। তবে সামনে জায়গা কম থাকায় ইমাম সাহেব প্রথম কাতারের একটু অর্থাৎ ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি এগিয়ে দাঁড়ায়। এখন দেখা গেল সালাত শেষ হলে ইমাম মুক্তাদিদের সম্মুখে ঘুরে বসে। এবং তাতে দেখা যায় ইমামের সোজা ২য় কাতারে এক মুসল্লি তার বাকি নামায গুলো আদায় করে। সামনের কাতার ইমাম সোজা ফাঁকা। এভাবে কী ঠিক। দলিল সহ জানাবেন।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সালাত শেষে ইমাম কোথায় গেল বা থাকলো এটা কোন বিষয় না। সালাত অবস্থায় ইমাম সাহেব অন্যদের সামনে থাকবেন। যায়গা না থাকলে এক কাতার সামনে না গিয়ে একটু সামনে এগিয়ে গিয়ে সালাত আদায় করা যায়। এমনকি জায়গা না থাকলে মুসল্লিদের মাঝেও দাঁড়ানো যায়। শা য়খ উসাময়মিন রহ. বলেন, تقدم الإمام على المأمومين سنة، فإذا كان لا يمكن لضيق المكان فلا بأس أن يكون بينهم في الوسط. ইমাম মুসল্লিাদের সামনে দাড়াবেন, এটাই সুন্নাত, তবে যখন জায়গা না থাকলে তখন মুসল্লিদের মাঝে দাঁড়াতে কোন সমস্যা নেই। মাজমাউল ফাতাওয়া, জামাতে নামায পরিচ্ছেদ।

প্রশ্নঃ 1528
আসসালামু আলাইকুম! জাহেল বা জাহিল অর্থ কি?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জাহিল শব্দের অর্থ মূর্খ।

প্রশ্নঃ 1527
সৌদি বাদশাহ ফাহদ কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স থেকে প্রকাশিত কুরআন অনুবাদ ও তাফসীর বইয়ের দোকানগুলোতে পাওয়া গেলে, তা ক্রয় করা জায়েয হবে কিনা? সৌদি থেকে সংগ্রহ করা সবার জন্য তো সম্ভবপর নয়।
07 Jan 2026

যেগুলো বিনামূ্ল্যে বিতরণের জন্য দেয়া হয় সেগুলো বিক্রি করা জায়েজ নেই। তেমনিভাবে এগুলো কেনাও হারাম কাজে এক ধরণের সহযোগিতা। তাই এগুলো ক্রয় থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে খুব প্রয়োজন হলে আশা করি আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন।

প্রশ্নঃ 1526
আসসালামু আলাইকুম! আজকাল আমাদের দেশের প্রায় প্রতিটি পণ্যের প্যাকে বিভিন্ন মানুষ বা জন্তুর ছবি থাকে। যেমন সাবানের প্যাকে, চকোলেটের প্যাকে, বিভিন্ন পণ্যের প্যাকে। আমার কথা হলো ঘরের মধ্যে মানুষ বা জন্তুর ছবি থাকলে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেননা এটা সত্য। তাহলে আমরা কি করবো? বাধ্য হয়ে তো বিভিন্ন পণ্য কিনতে হয়।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি প্যাকেটি ময়লা ফেলার স্থানে ফেলে দিবেন। আর যথা সম্ভব চেষ্টা করবেন এই ধরণের পন্য না কেনার জন্য।

প্রশ্নঃ 1525
Benamaji husbend er sathe songsar kora jayej kina.ai obosthai amar ki kora uchit?
07 Jan 2026

সংসার তো করতেই হবে। তাছাড়া এখন যাবেন কোথায়। তবে স্ত্রী যদি স্বামীকে নামাযের গুরুত্ব বোঝাতে পারে তাহলে সামান্য বিবেক আছে এমন স্বামীর পক্ষে নামায ত্যাগ করার কথা নয়। স্ত্রী নিজে এবং কৌশলে অন্যান্যদের দ্বারা নামাযের শরয়ী গুরুত্বের বিষয়টি স্বামীকে ভালভাবে বুঝানো দরকার। আল্লাহ তাওফীক দিন।

প্রশ্নঃ 1524
খেলাধূলার ক্ষেত্রে ইসলামী মূলনীতি কী? কোন কোন খেলা বৈধ এবং কোন কোন খেলা অবৈধ?দাবা এবং ক্যারম খেলা কি বৈধ? কেউ কেউ বলে আঙ্গুল দ্বারা যেসব খেলা হয় সেসব নাকি নিষিদ্ধ?
07 Jan 2026

খেলাধুলার ক্ষেত্রে ইসলামের মূলনীতি নিম্নরূপ: খেলাধুলা প্রধানত দুই ধরনের। ১। জিহাদেন জন্য সহায়ক এমন খেলাধুলা। যেমন সাতার, তীর চালনা, ঘোড়া চালনা ইত্যাদি। এগুলো জায়েজ। ২। জিহাদের জন্য সহায়ক নয় এমন খেলাধুলা। এগুলো আবার দুই প্রকার। ১। হাদীসে নিষেধাজ্ঞা আছে এমন খেলা।যেমন পাশা খেলা। সহীহ মুসলিমের হাদীসে (হাদীস নং ২২৬০) রাসূলুল্লাহ সা. এই খেলা থেকে নিষেধ করেছেন। সুতরাং এই ধরনের খেলা হারাম। ২। হাদীসে নিষেধাজ্ঞা নেই এমন খেলা। এগুলো আবার দুই ভাগে বিভক্ত। ১। এমন খেলা যাতে হারাম জিনিসের উপস্থিতি থাকে বা প্রয়োজন হয়।যেমন বিভিন্ন ধরনের প্রতিমূর্তি এবং প্রাণীর ছবি। এই খেলাগুলো হারাম। ২। কোন হারাম জিনিস থাকে না। যেমন ফুটবল, ক্রিকেট, টেবিল টেনিস ইত্যাদি। এই ধরনের খেলা কয়েকটি শর্তসাপেক্ষে জায়েজ। ১। জুয়া থেকে মুক্ত হতে হবে। অর্থাৎ বাজি ধরে খেলতে পারবে না। ২। আল্লাহ তায়ালার যিকির থেকে বিরত রাখবে না। যেমন, নামায থেকে রিবত রাখবে না। এবং অন্যান্য ওয়াজিব আনুগত্য থেকেও বিরত রাখবে না। যেমন পিতামাতার দেখাশোনা, সন্তানদের খোঁজখবর নেয়া ইত্যাদি। ৩। খেলোয়াড় তার অধিকাংশ সময় খেলাধুলার পিছনে লাগাবে না। মানুষের মাঝে খেলোয়াড় হিসাবে প্রসিদ্ধ হবে না। খেলাকে পেশা হিসাবে গ্রহণ করবে না। খেলাকে পেশা হিসাবে গ্রহন করার বিষয়ে কুরআনে সতর্ক করে বলা হয়েছে الَّذِينَ اتَّخَذُواْ دِينَهُمْ لَهْوًا وَلَعِبًا وَغَرَّتْهُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا فَالْيَوْمَ نَنسَاهُمْ كَمَا نَسُواْ لِقَاء يَوْمِهِمْ هَذَا যারা তাদের ধর্মকে খেলাধুলারূপে গ্রহণ করবে এবং দুনিয়ার জীবন যাদেরকে ধোঁকায় ফেলবে আজ আমি তাদেরকে ভুলে যাবে যেমনভাবে তারা আজকের সাক্ষাতকে (কিয়ামতকে) ভুলে গিয়েছিল। সূরা আরাফ, আয়াত নং ৫১। ৪। খেলার কোন নির্দিষ্ট সময় থাকবে না। যেমন ৬০ মিনিটি, তিন ঘন্টা ইত্যাদি। এই হলো সংক্ষেপে খেলাধুলার মূলনীতি। তথ্যসূত্র, আল-ইসলাম সুয়াল ও জওয়াব, প্রশ্ন নং ২২৩০৫। (ইন্টাননেট, আরবী)। সুতরাং কেরাম খেলা যদি আল্লাহর যিকির ও বান্দার প্রতি কর্তব্য থেকে উদাসীন না করে তাহলে উপরের চারটি শর্তসাপেক্ষে বৈধ। আর দাবা খেলায় যেহেতু বিভিন্ন প্রতিমূর্তি ব্যবহার হয় তাই হারাম হবে। দাবা খেলার বিষয়ে শায়খ উসায়মিন রহ. বলেছেন, الشطرنج متى شغل عما يجب باطنا أو ظاهرا حرم باتفاق العلماء كما لو شغل عن واجب كالصلاة ، أو ما يجب من مصلحة النفس أو الأهل ، أو الأمر بالمعروف أو النهي عن المنكر أو صلة الرحم أو بر الوالدين ، أو ما يجب فعله من نظرٍ في ولاية أو إمامة أو غير ذلك من الواجبات ، فإنه حرام بإجماع المسلمين . وكذلك إذا اشتمل على محرم كالكذب أو اليمين الكاذبة أو الخيانة أو الظلم أو الإعانة عليه أو غير ذلك من المحرمات فإنه حرام بإجماع المسلمين). أما إذا لم يشغل عن واجب ولم يتضمن محرماً ، فقد اختلف العلماء في حكمه ، فذهب جمهور العلماء (أبو حنيفة ومالك وأحمد وبعض أصحاب الشافعي) إلى تحريمه أيضاً সংক্ষিপ্ত তরজামা হলো, দাবা যদি মানুষকে তার ওয়াজিব কাজগুলো থেকে বিরত রাখে তাহলে সকল আলেমের মতে হারাম। ওয়াজিব কাজ আল্লাহর হকের ক্ষেত্রে হতে পারে আবার বান্দার হকের ক্ষেত্রেও হত পারে।আর যদি ওয়াজিব কাজগুলো থেকে বিরত না রাখে তবুও অধিকাংশ আলেমের মতে হারাম। যেসব আলেম হারাম বলেছেন তাদের মধ্যে রয়েছে ইমাম আবু হানীফা, মালেক, আহমাদ রহ. এবং শাফেয়ী মাজাহাবের অনেক আলেম। মাজমউল ফাতাওয়া ৩২/২১৮-২৪০।তথ্যসূত্র, আল-ইসলাম সুয়াল ও জওয়াব, প্রশ্ন নং ১৪০৯৫। (ইন্টাননেট, আরবী)। সাহবীদের থেকেও দাবা খেলা হারাম হওয়াব ব্যাপারে বক্তব্য আছে। সুতরাং দাব খেলা বৈধ নয়। মোট কথা কিছু খেলা শর্তসাপেক্ষে জায়েজ । কিন্তু বর্তমানে এই সব খেলা মানুষদেরকে আল্লাহর জিকির থেকে বিরত রাখছে, বিভেদের কারণ হচ্ছে, ইচ্ছা অনিচ্ছায় অনেক হারামের ভিতর লিপ্ত করছে। সুতরাং খেলাধুলা থেকে বিরত থাকার মধ্যেই কল্যান ও বরকত। আশা করি আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়েছে। বিস্তারিত জানতে উক্ত তথ্যসূত্রগুলো দেখতে পারেন। সেখানে আরো বিস্তরিত দলীলসহ আছে।

প্রশ্নঃ 1523
ইমাম আবু হানিফা (রহমাতুল্লাহ) এর যত জীবনী বই এবং ইন্টারনেট ডকুমেন্ট পাওয়া যায়, প্রায় সবখানে বলা থাকে, তিনি রমজানে দিনে একবার রাতে একবার কোরান খতম করতেন, রসুল (সাঃ) যেখানে উনার এক সাহাবীকে (রাঃ) তিন দিনের কমে শেষ করতে অনুমতি দেননি, সেখানে এই আমলের গুরুত্ব কি? আর আসলে এক রাতে কোরান খতম দেওয়া সম্ভব নাকি ৯-১০ ঘন্টায়? আমার প্রশ্ন, ইমামে আজম সম্পর্কে এইরকম এট্রিবিউশন গুলো কি সত্য? না হলে যারা এই মিথ্যা দেদারছে প্রচার করে তাদের মাকছাদ কি?
07 Jan 2026

এটা ঠিক যে, এই কথাটি ইমাম আবু হানীফা রহ. ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। তবে কোন গ্রহনযোগ্যসূত্রে এই কথাটির সত্যতা আমরা পাইনি। এই কথা বলে যারা ইমাম আবু হানীফা রহ. মর্যাদ বৃদ্ধি করতে চান তারা আসলে না বুঝে এমনটি করেন। হাদীসের পূর্ণ অনুসরনের মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত মর্যাদা। আমাদের সকলের হাদীসই অনুসরণ করা উচিত।

প্রশ্নঃ 1522
আমাকে হিজড়াদের ব্যাপারে বলুন?
07 Jan 2026

হিজড়ারা অন্যদের মতই মানুষ। অন্যান্য মানুষ যে সব অধিকার ভোগ করে তারাও সেই সব অধিকার ভোগ করবে। অন্যান্য মানুষদের জন্য যেমন আল্লাহ তায়ালার হুকুম আহকাম মানা ফরজ তাদের জন্যও ফরজ। ছেলে-মেয়েরা যেমন পিতার থেকে সম্পদ পায় হিজড়ারাও পাবে। নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে প্রশ্ন থাকলে স্পষ্ট করে বলুন।

প্রশ্নঃ 1521
আস-সালামুআলাইকুম। আমি বিতর নামাযের সঠিক নিয়ম সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি। তিন রাকাআত বিতর নামায কি এক বৈঠকে শেষ করতে হবে নাকি দুই বৈঠকে?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিতর নামাযের অনেকগুলো সুন্নাহ সম্মত নিয়ম রয়েছে। তিনটি নিয়মসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন, শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত রাহে বেলায়াত বইটি, পৃষ্ঠা ৪১৩-৪১৭। এক বৈঠকে শেষ করলেও করতে পারেন আবার দুই বৈঠকও করতে পারেন। নিচের হাদীসটি দেখুন عن سعد بن هشام أن عائشة حدثته : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم كان لا يسلم في ركعتي الوتر অর্থ: আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. বিত্রের দুই রাকআতে সালাম ফিরাতেন না। সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং ১৬৯৮। মুসতাদরক হাকিম, হাদীস নং ১১৩৯। ইমাম জাহবী এবং হাকিম রহ. বলেছেন, হাদীসটি বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী। এই হাদীস থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় তিনি দ্বিতীয় রাকআতে বসতেন। কেননা যদি নাই বসেন তাহলে সালাম ফিরানোর বিষয়টি আসে না। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1520
১। জর্দা ছাড়া পান খাওয়া কি হারাম? আমি যে মসজিদে নামজ পড়ি সেই মসজিদের ইমাম নিয়মিত পান খায়। তার পিছনে কি নামাজ আদায় করা যাবে? ২। একটা বিষয় আমি আজো পরিস্কার হতে পারিনি সেটা হলো- ইমামের পিছনে নামাজ আদায় করার সময় কি আমাকেও সুরা ফাতেহা পড়তে হবে? হোক সেটা জোহর (নিম্নস্বরে) বা মাগরীব (উচ্চস্বর) এর নামাজ। সুরা ফাতিহা এবং সাথে যে কোন সুরা পড়া ওয়াজিব। তবে কি আমি ইমামের পিছনে যদি সুরা না পড়ি সেক্ষেত্রে আমার নামাজ হবে না?
07 Jan 2026

১। পান খাওয়া হারাম নয়। তবে জর্দ্দা খাওয়াকে অনেক আলেমই হারাম বলেছেন। সুতরাং পান খেলে সেই ইমামের পিছনে নামায পড়া জায়েজ, কোন সমস্যা নেই।

২। ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে কি না এই নিয়ে আলেমদের মাঝে কয়েকটি মত রয়েছে। সুতরাং আপনি পড়তে পারেন আবার না পড়লেও সমস্যা নেই। হানাফী মাজহাবে না পড়তে বলা হয়েছে। শাফেয়ী মাজহাবে সকল সালাতে এবংহাম্বলী মাজহাবে জোহর ও আসরে পড়তে বলা হয়েছে। প্রত্যেকের পক্ষেই সহীহ হাদীস আছে।

প্রশ্নঃ 1519
আসসালামুলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ১। নামাজে (ফরজ, সুন্নাত, নফল সব নামাজেই ) সালাম ফেরানোর আগে কি রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া . . ., রাব্বানা জালামনা আনফুসানা . . ., রাব্বির হামহুমা . . ., রাব্বি হুবলি মিনাস . . .,দুআ ইউনুস এই দুআ গুলো পড়া যাবে? মানে কুরআন হাদিস এর যেকোনো দুআ কি পড়তে পারি? ২। রুকু করার সময় দৃষ্টি কোথায় রাখতে হবে? ৩। আজকাল কিছু টিন আছে যেগুলা তে প্রাণীর ছবি থাকে যেমন মুরগি মার্কা, এরাবিয়ান হর্স ঢেউটিন ইত্যাদি, এগুলা দিয়ে যদি কেউ ঘরের চাল বানায় (অজ্ঞতা বসত অথবা দ্বীনের ব্যাপারে উদাসীন হবার করণে) তাহলে সেই ঘরে নামাজ পড়লে কি নামাজ হবে? এক্ষেত্রে সিলিং দিলে কি সমস্যার সমাধান হবে? জাজাকাল্লাহ
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত যে কোন দুআ পড়তে পারবেন।

২। রুকুর সময় এবং সকল সময় সাজদার স্থানে দৃষ্টি রাখবেন। হাদীসে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস নং 3012।

৩। নামায হবে তবে ছবিগুলো মুছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রশ্নঃ 1518
ইযহারুল হক-স্যারের অনুবাদিত বইটী কিভাবে পাব? বইটি এখন বাজারে নেই। ইসলামিক ফাউন্ডেশন কি আবার বইটী রিপ্রিন্ট করবে বা আপনারা করবেন? স্যারের কিছু বই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না কবে নাগাদ পাওয়া যাবে?
07 Jan 2026

আগামী রমজান (2017) নাগাদ স্যারের সকল বই বাজারে আসবে ইনশাআল্লাহ। তবে ইজহারুল হক ইসলামিক ফাউন্ডেশান ছাপবে কিনা আমরা জানি না। তবে বিষয়টি আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলব যে, ইযহারুল হক আমাদের এখান থেকে ছাপার কোন ব্যবস্থা করা যায় কি না।

প্রশ্নঃ 1517
হোমিও ঔষধ সেবন করা কি হারাম? আমি যতটুকু জানি এতে অ্যালকোহল মিশানো থাকে।
07 Jan 2026

না, হোমিও ঔষধ সেবন করা জায়েজ। সকল এ্যালকোহল মদ নয়।

প্রশ্নঃ 1516
যারা বিবাহিত তাদের সম্পর্কে বিদেশে জীবন যাপন স্ত্রী ছাড়া ইসলামী আইন কি বলে, পরিবারের সদস্য সবসময় দেশে আসতে না করে এবং আমরা বাড়িতে ফেরার পর কী করবো দেশে আসতে নিরূত্সাহ করে, আমি কি দেশে ফিরে আসতে পারবো বাবা এবং পরিবার অনুমতি ছাড়া।
06 Jan 2026

স্ত্রীর অনুমতি থাকলে বিদেশে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর থাকতে পারবেন। অনুমতি না থাকলে পারবেন না। আপনি দেশে আসার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের সাথে পরামর্শ করতে পারেন। স্ত্রী চলে আসতে বললে চলে আসবেন। বিষয়টি বাবা-মাকে বুঝানোর চেষ্টা করবেন।

প্রশ্নঃ 1515
আসসালামু আলাইকুম । আমার পুকুরে 40 মন মাছ উৎপাদিত হয়েছে । এই মাছ থেকে যদি 4 মন উশর আদাই করি এবং বাকি 36মন এর বিক্রিত টাকা ব্যাংকে জমা রাখি তবে জমা কৃত টাকার বছর শেষে যাকাত দিতে হবে কী। আর যদি 40মন এর উশর না দিয়ে পুরো 40মন এর বিক্রিত টাকা থেকে যাকাত যদি দেই তাহলে এখন এর উশর আদায় করতে হবে কী। না এখন উশর আদায় করতে হবে আর বছর শেষ জমা টাকা থেকে যাকাত দিতে হবে।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রশ্ন করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। উশর দিতে হয় গাছের ফসলের । মাছের উসর দিতে হয় না। পুকুরে যে মাছ চাষ করা হয় তা সাধারণত দু ধরনের। এক. ব্যবসার উদ্দেশ্যে। যেখানে মাছ চাষের লক্ষ্য হলো মাছ উৎপাদন করে বিক্রি করা। সেটা মাছের পোনা হতে পারে আবার বড় মাছও হতে পারে। দুই. ব্যবসার উদ্দেশ্যে নয়। বরং এখানে লক্ষ্য হচ্ছে পরিবারে খাওয়া। আর যদি কিছু বেশী থাকে তাহলে বিক্রী করবে। প্রথম প্রকারের হুকুম হলো মাছকে ব্যবসায়িক পণ্য হিসাবে গন্য করা হবে। এবং পুকুরে থাকা অবস্থাতেই একটা আনুমানিক হিসাব ধরে যাকাত দিতে হবে। অর্থাৎ আপনি যখন যাকাত দিবেন তখন অন্যান্য টাকা পয়সার সাথে মাছের মূল্য যোগ করে শতকারা আড়াই টাকা হারে যাকাত দিবেন। দ্বিতীয় প্রকারের হুকুম হলো মাছ বিক্র করার পর ঐ টাকা আপনার অন্যান্য টাকার সাথে যুক্ত হয়ে যাবে। অর্থাৎ যখন যাকাত দিবেন তখন শতকারা আড়াই টাকা যাকাত দিয়ে দিবেন। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। আপনি এই অনুযায়ী চিন্তা করুন কী করবেন। মনে হচ্ছে আপনি ব্যবসার উদ্দেশ্যে মাছ চাষ করছেন। সুতরাং আগেই আপনার যাকাত দেয়া প্রয়োজন ছিল। তবে এখন যে টাকা আপনার মাছ বিক্রি করে হয়েছে তার যাকাত দিবেন আপনার অন্যান্য টাকা পয়সার সাথে হিসাব কর একসাথে। প্রয়োজনে 01734717299

প্রশ্নঃ 1514
আসসালামুয়ালাইকুম। আমার মনে প্রায়ই কিছু অবানতর প্রশ্ন জাগে। যেমনঃ ১। কে নবী বা কে রাসুল তা কিভাবে নির্ধারন হলো? অনেকের থেকে শুনছি যে যাদের কাছে অহি আসে তারাই কি নবী। এটা যদি সত্যি হয় তবে মরিয়ম আঃ কে কেন নবী বলা হয় না? আল্লাহ বলেনঃ আর যখন ফেরেশতা বলল হে মারইয়াম!, আল্লাহ তোমাকে পছন্দ করেছেন এবং তোমাকে পবিত্র পরিচ্ছন্ন করে দিয়েছেন। আর তোমাকে বিশ্ব নারী সমাজের উর্ধ্বে মনোনীত করেছেন। হে মারইয়াম! তোমার পালনকর্তার উপাসনা কর এবং রুকুকারীদের সাথে সেজদা ও রুকু কর। এ হলো গায়েবী সংবাদ, যা আমি আপনাকে পাঠিয়ে থাকি। আর আপনি তো তাদের কাছে ছিলেন না, যখন প্রতিযোগিতা করছিল যে, কে প্রতিপালন করবে মারইয়ামকে এবং আপনি তাদের কাছে ছিলেন না, যখন তারা ঝগড়া করছিলো। যখন ফেরেশতাগণ বললো, হে মারইয়াম আল্লাহ তোমাকে তাঁর এক বানীর সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম হলো মসীহ-মারইয়াম-তনয় ঈসা, দুনিয়া ও আখেরাতে তিনি মহাসম্মানের অধিকারী এবং আল্লাহর ঘনিষ্ঠদের অন্তর্ভূক্ত। সুরা ইমরান ৩:৪২-৪৫ এই আয়াত সমূহ প্রমাণ করে যে মরিয়ম আঃ এর কাছে অহি আসছিল। ২। মহিলা কোন নবী নেই বা হতে পারবেন না। এটা কি কোরআনে কোথাও বলা আছে? ৩। আল্লাহ্ বলেনঃ হে মারইয়াম! তোমার পালনকর্তার উপাসনা কর এবং রুকুকারীদের সাথে সেজদা ও রুকু কর সুরা ইমরান ৩:৪৩ এই আয়াত কি মহিলাদের জামাতে নামাজ পড়ার দলিল হতে পারে? ৪। আমাকে এক শিয়া ভাই বলছিল যে আমীন শব্দটি সূরা ফাতিহার পর কোরআনে নাই। এই শব্দটি খিস্টানরা ব্যবহার করে। তাদের চক্রান্তেই মুসলমানেরা আমীন অতিরিক্ত যোগ করছে। আমি নিজেও চেক করছি। সূরা ফাতিহার পর আমীন নেই। আমীন শব্দটি কোরআনে কোথাও আছে কি? আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুক।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। শায়খ ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. বলেছেন, ঈমানের অন্যতম বিষয় আল্লাহর রাসূলগণে বিশ্বাস করা। মানুষের প্রতি মহান স্রষ্টার করুণা অসীম। তিনি তাকে তার দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও গুণাবলী দান করা ছাড়াও তাকে মঙ্গলের পথ প্রদর্শনের জন্য যুগে যুগে বিভিন্ন সমাজের মধ্যে থেকে বিভিন্ন মানুষকে বেছে নিয়ে তাঁদের কাছে ওহীর মাধ্যমে সঠিক পথের সন্ধান দান করেছেন। আল্লাহর মনোনীত এসকল মানুষকে ইসলামের পরিভাষায় নবী বা রাসূল বলা হয়। নবী (النبيّ) অর্থ সংবাদদাতা এবং রাসূল (الرسول) অর্থ প্রেরিত বা দূত। আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী লাভ করে যারা মানুষদেরকে আল্লাহর পথের নির্দেশনা দেন তাঁদেরকে নবী ও রাসূল বলা হয়। তবে সকল নবী-রাসূলের নাম বা পরিচয় আমরা জানি না। এ প্রসঙ্গে ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙঙ্গীর রহ. বলেন, কুরআনে ২৫ জন নবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে: আদম, ইদরীস, নূহ, হুদ, সালিহ, ইবরাহীম, লূত, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব, ইউসূফ, আইয়ূব, শুয়াইব, মূসা, হারূন, ইউনূস, দাউদ, সুলাইমান, ইল্ইয়াস, ইল্ইয়াসা, যুলকিফল, যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা, মুহাম্মাদ (عليهم الصلاة والسلام)। উযাইরকে ইহূদীগণ আল্লাহর পুত্র বলে দাবি করত।কিন্তু কুরআনে তাঁর নবুয়ত সম্পর্কে কিছুই বলা হয় নি। আবূ হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: مَا أَدْرِيْ أعُزَيْرٌ نَبِيُّ هُوَ أَمْ لاَ আমি জানি না যে, উযাইর নবী ছিলেন কি না। মূসা (আ)-এর খাদিম হিসাবে ইউশা ইবনু নূন-এর নাম হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণিত কোনো সহীহ হাদীসে অন্য কোনো নবীর নাম উল্লেখ করা হয় নি। কোনো কোনো যয়ীফ হাদীসে আদম আ. এর পুত্র শীস-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কুরআন-হাদীস থেকে অন্য কোনো নবীর নাম জানা যায় না। কুরআন কারীমে উল্লিখিত নবী-রাসূলগণকে আমরা নির্দিষ্টভাবে আল্লাহর মনোনীত নবী হিসেবে বিশ্বাস করি। তাঁদের সবাইকে আমরা ভালবাসি ও শ্রদ্ধা করি। আমরা বিশ্বাস করি যে, তারা সবাই নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী পবিত্র মানুষ ছিলেন। তাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পরিপূর্ণভাবে পালন করেছেন। তাঁরা সবাই আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও নবী ছিলেন। এঁদের নবুয়ত বা রিসালত আমরা অস্বীকার করি না। কেউ যদি এঁদের কারো নবুয়ত বা রিসালাত অস্বীকার করে অথবা এঁদের অবমাননা করে তবে সে অবিশ্বাসী বা কাফির বলে গণ্য হবে। কুরআন-হাদীসে যাদেরকে নবী হিসেবে উল্লেখ করা হয় নি তাদের কাউকে আমরা নির্দিষ্টরূপে আল্লাহর মনোনীত নবী বলতে পারি না। অন্য কোনো মানুষের সম্পর্কেই আমরা বলতে পারি না যে, তিনি আল্লাহর নবী ছিলেন। তবে আমরা বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ যুগে যুগে আরো অনেক নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন, যারা আল্লাহর মনোনীত প্রিয় পুত-পবিত্র, নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী বান্দা ছিলেন। তাঁরা তাঁদের প্রতি প্রদত্ত দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করেছেন। তাঁদের নাম বা বিবরণ আমরা জানি না। আল-ফিকহুল আকবার, বঙ্গানুবাদ ও ব্যাখ্যা, পৃষ্ঠা ১৭২। অমরা জানলাম, ওহী পাওয়া এবং তা প্রচার করার দায়িত্ব যারা পালন করবেন তারা নবী-রাসূল আ.। মারইয়াম আ. এর ক্ষেত্রে শুধু তাকে কিছু বিষয় আল্লাহ তায়ালা জানিয়েছেন, তাঁকে সেগুলো প্রচার করতে বলেন নি। সুতরাং তিনি সর্বাক্যমতে নবী নন। ২। নবী-রাসূল আর আসবেন না। সুতরাং মহিলা নবী হতে পারে কী পারে না এই প্রশ্ন এখন অবান্তর। এখন দেখতে হবে নবী রাসূলদের নামের যে তালিকা কুরআন-হাদীসে আছে সেখানে কোন মহিলা নবীর নাম আছি কী না এবং কুরআন-হাদীসে কোন মহিলা নবী এসেছেন মর্মে কোন তথ্য আছে কী না। নবী রাসূলদের যে নামের তালিকা কুরআন-হাদীস থেকে পাওয়া যায় তাতে কোন মহিলা নবীর নাম নেই। এবং কুরআন বা হাদীসে কোন মহিলা নবী হয়েছেন মর্মে কোন তথ্য নেই। সুতরাং মহিলা নবী নেই এটা বলা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। এবং সকল আলেম এ ব্যাপারে ঐক্যমত। ৩। দেখুন, আমরা মুহাম্মদ সা. এর উম্মাত। মুহাম্মাদ সা. আমাদেরকে ইবাদতে যাবতীয় নিয়ম-কানুন শিখিয়েছেন। তিনি মহিলারা জামাতে যাবে কী যাবে না তাও স্পষ্ট করে বলেছেন, সুতরাং মুহাম্মদ সা. মহিলাদের জামাতে নামাযের ব্যাপারে কী বলেছেন সেটা আমাদের কাছে মুখ্য। মারইয়াম আ. এর কাছে কী হুকুম এসেছে সেটা মুখ্য নয়। মহিলাদের জামাতে নামায পড়া জায়েজ। না জায়েজ নয়। রাসূলুল্লাহ সা. এই বিষয়ে বলেছেন, لاَ تَمْنَعُوا النِّسَاءَ أَنْ يَخْرُجْنَ إِلَى الْمَسَاجِدِ ، وَبُيُوتُهُنَّ خَيْرٌ لَهُنَّ তোমরা মহিলাদেরকে মসজিদে যাওয়া থেকে বাধা দিও না তবে তাদের ঘর তাদের জন্য উত্তম। মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ৫৪৭১; সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ৫৬৭; সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯০০; সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১০১৭। সুতরাং মহিলাদের জামাতে যাওয়র হুকুম রাসূল সা. এর বক্তব্য থেকে জানুন। মারইয়াম আ. এর উপর আরোপিত হুকুম থেকে নয়। ৪। দেখুন, কুরআনে অসংখ্য বার বলা হয়েছে, আল্লাহ এবং তার রাসূলকে অনুসরন কর।وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا রাসূল যা নিয়ে আসে তা গ্রহন কর যা থেকে নিষেধ করেতে তা প্রত্যখ্যা কর,তা থেকে বিরত থাকে। সূরা হাশর, আয়াত ৭। সুতরাং কুরআন যেমন মুসলমানের দলীল হাদীসও তেমনি মুসলমানের দলীল। আপনার প্রশ্ন থেকে মনে হচ্ছে কেউ আপনার কাছে হাদীসকে হালকা করে ্উপস্থাপন করেছে। একটি জিনিস মনে রাখবেন হাদীস ছাড়া কুরআনের ্উপর আমল করা কিছুতেই সম্ভব নয়। যেমন, সালাত। কুরআনে শুধু সালাত কায়েমের কথা বলা হয়েছে, বিস্তারিত কিছু বলা হয় নি। আমীন বলার কথা কুরআনে নেই। তবে সহীহ হাদীসে আছে। সুতরাং আমীন বলা ইহুদী চক্রান্ত নয় বরং নিষেধ করাই ইহুদী চক্রান্ত। আর শিয়া জাতির উৎপত্তিই তো ইহুদী চক্রান্ত থেকে। সুতরাং শিয়া মতের কারো কাছ থেকে ধর্ম শিখতে যাবেন না, তারা আপনাকে চক্রান্তে ফেলে দেবে যেভাবে তার চক্রান্তের শিকার হয়েছে। এবার আমীন বলা সংক্রান্ত হাদীসটি দেখুন, عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِذَا قَالَ الإِمَامُ {غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ ، وَلاَ الضَّالِّينَ} فَقُولُوا آمِينَ ، فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلاَئِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ. হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যখন ইমাম গয়রিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দোয়াল্লিন বলবে তখন তোমরা আমীন বলো। যার আমীন বলা ফেরেস্তাতের আমীন বলার সাথে মিলে যাবে তার পূর্বের সকল গোনাহ মাফ হয়ে যাবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৮২, ৪৪৭৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৪০। সুতরাং আমীন বলাকে ইহুদী চক্রান্ত বলা কতো বড় শিয়া চক্রান্ত একটু চিন্তা করুন। আর আমীন শুধু মানুষ বলে না ফেরেস্তারাও বলে। আপনি ধর্ম সংক্রান্ত কোন আলোচনা শিয়াদের সাথে করতে যাবেন না। কারণ এতে আপনি বিভ্রান্তিতে পড়ে যেতে পারেন। শিয়াদের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন শায়েখ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহ রচিত ইসলামী আকীদা এবং আল-ফিকহুল আকবার বই দুটি। শেষে আবারে আপনাকে বলি কুরআন ও হাদীস মিলেই ইসলাম। শুধু কুরআন দ্বারা সবকিছু জানা সম্ভব নয়। সুতরাং হাদীস যেন আপনার কাছে হালকা না হয়ে যায়। যদি উত্তরটি পান তাহলে আমাকে জানাবেন। অথবা ফোন করবেন 01734717299

প্রশ্নঃ 1513
Assalamualaikum, Amar sami amak 1talak dia akta notice e pthai. 3 mas por talak karjokor koye jai. Se akon onno mohilar sathe songsar korce. Ami amar sami ke fire pate chai. Islam e ki kono kisu upai ace take firiye anar. Ami onnek buzaci but tini fire nai. Apnara ki kono babe amak sahajjo korte eparen.
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আল্লাহর কাছে দুআ করুন। আর যেহেতু সে আপনাকে চাচ্ছে না তাহলে আপনি কেন তার জন্য সময় নষ্ট করছেন। আমার মনে হয় আপনার বিকল্প ভাবা উচিত। আপনি নামাযে এবং অন্যান্য সময় আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন আল্লাহ তালাকে আপনাকে একটি উত্তম বিনিময় দান করেন। আমরাও এই দুআ করি।

প্রশ্নঃ 1512
আমি প্যান্ট টাকনুর উপরে পড়লাম কিন্তু মোজা পরে টাকনু ঢাকলাম তাহলে কি সেটা হারাম হবে? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন।
06 Jan 2026

না, মোজা পরে টাকনু ঢাকলে কোন সমস্যা নেই। বরং মোজার উপর মাসেহ করার জন্য শর্তসমূহের একটি হলো মোজা দ্বারা টাকনু ঢাকতে হবে।

প্রশ্নঃ 1511
ইস্তিখারার পর আমি অনেক সপ্নই দেখলাম জেগুলা নরমাল ছিল। কিন্তু কালকে একটা সপ্ন দেখলাম যে আমি একটা লিফ্ট এ উঠার পর লিফ্টা একটা অন্ধকার জায়গা দিয়ে জায় কিন্তু আবার অখান থেকে বের হএ আলোতে চলে আসে। এর মানে কি?
06 Jan 2026

গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় সামনে আসলে রাসূলুল্লাহ সা. দুরাকাত নামায পড়ে একটি দুয়া পড়তে বলেছেন। এটাই ইস্তেখারার নামায। এখানে তো স্বপ্ন দেখা বা অন্য কোনভাবে ফলাফল জানতে পারবেন তা বলা হয় নি।এই বিষয়ে বর্ণিত হাদীসটি দেখলে বিষয়টি আপনার সামনে পরিস্কার হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। হাদীসটি হলো عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا ، قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُعَلِّمُنَا الاِسْتِخَارَةَ فِي الأُمُورِ كَمَا يُعَلِّمُنَا السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ يَقُولُ إِذَا هَمَّ أَحَدُكُمْ بِالأَمْرِ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ مِنْ غَيْرِ الْفَرِيضَةِ ثُمَّ لِيَقُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ فَإِنَّكَ تَقْدِرُ ، وَلاَ أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ ، وَلاَ أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلاَّمُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي ، أَوْ قَالَ عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ – فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي ، أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ – فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِي قَالَ : وَيُسَمِّي حَاجَتَهُ অর্থ: হযরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. (গুরুত্বপূর্ণ) কাজ সমূহের ক্ষেত্রে আমাদের ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন যেমন আমাদেরকে কুরআন শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন, যখন তোমাদের কেউ কোন (গুরুত্বপূর্ণ) কাজের ইচ্ছা করে সে যেন ফরজ ব্যতিত দুরাকাত নামায পড়ে অতঃপর এই দুআটি পাঠ করে اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ فَإِنَّكَ تَقْدِرُ ، وَلاَ أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ ، وَلاَ أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلاَّمُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي ، أَوْ قَالَ عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ – فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي ، أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ – فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِي قَالَ : وَيُسَمِّي حَاجَتَهُ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৬৬ উক্ত হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে, গুরুত্বপূর্ণ কাজের পূর্বে দুই রাকআত নফল নামায পড়ে উক্ত দুআটি পড়তে হবে। আশা করা যায় আল্লাহ তায়ালা এর মাধ্যমে উত্তম ও ভাল কাজটি আমাদের ভাগ্যে নির্ধারণ করবেন। স্বপ্ন দেখা কিছু না। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।আরো বিস্তারিত জানতে দেখুন, রাহে বেলায়াত বইটির ৪৩১-৪৩২ পৃষ্ঠা।

প্রশ্নঃ 1510
১/ একজন মুসলমান যা কিছু করে তা সবকিছু কি ইবাদত যেমন- হালাল রিয়িক অনুসন্দান করা বা চাকরির জন্য পড়াশুনা করা, দুনিয়াবি যে কোন কাজ করা,অব্যশই খারাপ কাজ নয়।
06 Jan 2026

হ্যাঁ, একজন মুসলিম সহীহ নিয়তে রাসূলুল্লাহ সা. সুন্নাত অনুযায়ী যা কিছু করেন সব কিছেই এক ধরনের ইবাদত। হাদীসে বিভিন্ন সময় ভাল কাজগুলোকে সদকাহ বলা হয়েছে।

প্রশ্নঃ 1509
অনেক আলেম ইমাম বলে বিদআত ২ প্রকার…… তার মধ্যে বিদাআতে হাসানা সমাজে ভালো অর্থে প্রচলিত আছে এবং এটি নেকির কাজ…… কিন্তু বিদআত তো বিদআত ই হয় এর আবার ভালো খারাপ কি, একটু বুঝিয়ে বলবেন?
06 Jan 2026

বিদআতের কোন প্রকারভেদ নেই। বিদআত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, مَنْ أَحْدَثَ فِى أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ যে আমাদের এই ধর্মে নতুন কিছু প্রবেশ করাবে যা তাতে ছিল না তাহলে সেটা প্রত্যাখ্যাত। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৫৮৯; শরহে সুন্নাহ,হাদীস নং ১০৩। সুতরাং ধর্মের নামে নতুন উদ্ভাবিত সকল কর্মই বিদআত। আর সকল বিদআতই প্রত্যাখ্যাত। বিদআতের মধ্যে হাসানাহ বলতে কিছু নেই। বিস্তারিত জানতে দেখুন, শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. লিখিত এহ্ইয়াউস সুনান বইটি।

প্রশ্নঃ 1508
ak sathe 4 mazhab mana jabe ki. jemon hat badha hanafi moto amin shafi moto. onno masala maleki moto. jodi na mana jai tobe karon bolben. a somporkito kono valo kitab er nam bolben pls.
06 Jan 2026

দেখুন, আমাদের জন্য কুরআন হাদীস মোতাবেক চলা ফরজ। কুরআন ও হাদীস থেকে যারা সরাসরি মাসআলা জানতে পারে না তাদের জন্য বিভিন্ন বিষয়ে আলেমদের মতামত নিতে হয়, সেটাই মাজহাব নামে স্বীকৃত। সুতরাং সাধারন মানুষ যখন কোন সমস্যায় পড়বে তখন যে কোন আলেমের নিকট থেকে শুনে সে অনুযায়ী কাজ করবে। আপনি যদি কুরআন হাদীস ও হাদীস পড়ে কোন মতামত আপনার নিকট শক্তিশালী মনে হয় তাহলে আপনি কোন বিজ্ঞ আলেমের সাথে পরামর্শ করে আপনার নিকট শক্তিশালী দলীল অনুযায়ী আপনি আমল করতে পারেরন।তবে এই নিয়তে নয় যে, এটা হানাফী মাজহাব আর এটি অন্য মাজহাব। মোটকথা বিভিন্ন মাজহাব মানা নয় আপনার কাছে হাদীসের দৃষ্টিতে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী মত যেটা সেটা আপনি পালন করতে পারেন। এটা কোন মাজহাবে আছে সেটা দেখার বিষয় নয়। তবে সাধারণ মানুষরে জন্য কোন একটি মাজহাব মেনে চলা তার জীবন-যাপনের জন্য সহজতর।

প্রশ্নঃ 1507
নিচের কোনটি সঠিক? কোনটি বলা যাবে? ১/ উচ্চারণ আল্লা-হুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদু মিল আস সামা-ওয়া-তি ওয়া মিল আল আরফি ওয়া মিল আ মা- শিত মিং শাইয়িম বাদু আহলাছ ছানাফ্রি ওয়াল মােজদি আহ:াকু মা-কু-লাল আবদু ওয়া কুলুনা- লাকা আবদুন, আল্লা-হুম্মা লা- মা-নি অ্যা লিমা- আত্ত্বেইতা ওয়ালা- মুত্বিয়া লিমা- মানা তা ওয়ালা- ইয়ান্ফায় যাল জাদি মিংকাল জাদ। ২/ উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা, রাব্বানা- লাকাল হামদু, মিল আস সামা-ওয়া-তি ওয়া মিলআল আরদি ওয়া মিলআ মা- বাইনাহুমা, ওয়া মিলআ মা- শিতা মিন শাইয়িান বা আদ, আহলাস সানা-ই ওয়াল মােজদি । লা- মা-নিআ লিমা- আ আত্মাইতা, ওয়ালা- মুঅত্ৰিয়া লিমামানা আতা, ওয়ালা- ইয়ানফাউ যােল জাদি মিনকাল জাদু।
06 Jan 2026

উক্ত দুআটি বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত আছে। আপনি যে কোন একটা পড়তে পারেন। তবে নিচেরটা পড়াই বেশী ভাল বলে মনে হচ্ছে। আদ-দুআ লিত তবরানী, হাদীস নং ৫৫৫। এছাড়াও সহীহ মুসলিমসহ বিভিন্ন কিতাবে দুআটি একটু বেশী বা কম শব্দে বর্ণিত আছে।

প্রশ্নঃ 1506
ইস্তিখারা করার পর আমাদের মন যা বলে তাই কি হবে? আর কতদিনের মদ্ধে এর ফল পাব?
06 Jan 2026

ইস্তিখারা করার অর্থ হলো আল্লাহর নিকট উত্তম ও সঠিক বিষয়টি চাওয়া। আল্লাহ যেন উত্তম বিষয়টি ফয়সালা করেন এটা প্রার্থনা করা। এখানে মন কিছু বলা বা ফলাফল পাওয়ার কিছু নেই। ইস্তেখারা করলে আল্লাহ কল্যানকর ও সঠিক বিষয়টি আশা করা যায় নির্ধারন করবেন।

প্রশ্নঃ 1505
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, ১) ঈশার সালাত সন্ধার কিছু সময় পরই শুরু হয়। কিন্তু সালাত রাত ৮-১০ টার মধ্যে বা তারো পরে পড়া হয়। ঈশার সালাতের সময় শুরু হয়েছে এবং আমি নিয়তও রেখেছি কিছু সময় পর সালাত আদায় করে নিব। কিন্তু সালাত আদায় করার আগেই হঠাত পিরিয়ড শুরু হল। এই অবস্থায় কি এই ঈশা ও বিতর সালাত পিরিয়ড সেরে গেলে কাযা আদায় করে নিতে হবে? আর পাপ হবে নাকি যেহেতু একটু দেরি করে আদায় করার চিন্তা করেছিলাম? ২) একটানা ২-৩ পিরিয়ড থাকে। এরপর আরো ২-৩ দিন থেকে থেকে পিরিয়ড থাকে অর্থাৎ কয়েক ঘন্টা পিরিয়ড অফ থাকে আবার পিরিয়ড চলে আসে। যখন অফ থাকে তখন যদি সালাতের সময় হয় তাহলে কি আমাকে ঐ সময়ের জন্য পবিত্র হয়ে সালাত আদায় করতে হবে? যদিও পুরোপুরি সেরে যেতে ৫-৬ দিন সময় লাগে।
06 Jan 2026

যে কোন সালাতের সময় হওয়ার পর যদি একরাকআত সালাত আদায় করা যায় এমন সময়ের পর পিরিয়ড আসে তাহলে ঐ ওয়াক্তের সালাত কাযা আদায় করতে হবে। হাদীসে আছে, من أدرك ركعة من الصلاة فقد أدرك الصلاة যে সালাতের এক রাকআত পেল সে সালাত পেল।সুতরাং আপনি ঐ ওয়াক্তেন ইশার নামায পবিত্র হওয়ার পর কাযা আদায় করবেন। ২। পুরোপুরে সেরে যাওয়ার পর আপনি সালাত শুরু করবেন। পিরিওডের হুকুম আহকাম বিস্তারিত জানতে দেখুন, আল-ইসলাম সুয়াল জওয়াব, প্রশ্ন নং 70488 (আরবী, ইন্টারনেট)।

প্রশ্নঃ 1504
১/ অনেক সময় কোন নিজন জায়গায় প্রসাব করতে বসলে প্রসাব পাঁয়ে এসে পড়ে বা কাপড়ে এসে পড়ে যায় তাহলে কি গোসল করতে হবে নাকি পাঁ ধুয়ে ফেলতে হবে নাকি পুরো কাপড় ধুতে হবে? দয়া করে উত্তরটা দিবেন।
06 Jan 2026

না, গোসল করতে হবে না। শরীরের বা কাপড়ের যেখানে পেশাব লাগবে সেখানে ভাল করে ধুয়ে নিবেন।

প্রশ্নঃ 1503
আসসালামু আলাইকুম, আমি আমার মা, ছোট বোন এবং পরিচিতি আরও ৪ জন সহকারে কাজীর বাড়ী গিয়ে বিয়ে করি এ বিয়েতে আমার বাবার সম্মতি নেই। এখন এই বিয়েটি বৈধ। অনুগ্রহ করে জানাবেন
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমু সালাম। অধিকাংশ আলেমের মতে অভভাবকের অনমতি ব্যতিত মেয়েদের বিবাহ বৈধ নয়। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া 51 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 1502
আসসালামু আলাইকুম, ইনশাআল্লাহ, আমি প্রতি মাসে কিছু টাকা দান করে আপনাদের নেক কাজের অংশীদার হতে চাই। আমি কিভাবে আপনাদের কাছে টাকা পাঠাতে পারি একটু জানাবেন? ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহঃ) সবগুলো বই ডাক যোগে অথবা কুরিয়ারে কিভাবে পেতে পারি?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আল্লাহ আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন। আমাদের কাছে টাকা পাঠাতে চাইলে বিকাশে এই নাম্বারে পাঠাতে পারেন। এটা আমাদের সেক্রেটারী সাহেবের নাম্বার। 01718136962। এছাড়া ব্যাংকের মাধ্যমেও পাঠাতে পারেন। ইসলামী ব্যাংক ব্যাংলাদেশ লিমিটেডের ঝিনাইদহ শাখায় আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের তিনটি একাউন্ট রয়েছে। আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী যে কোন একটাতে পাঠাতে পারেন। একাউন্টগুলো হলো:

1. AS SUNNAH TRUST MSA(Regular) Account No. 20501750201900314 Jhenaidah, Br. Jhenaidah, Bangladesh.

2. AS SUNNAH TRUST ZAKAT MSA(Regular) Account No. 20501750201937002 Jhenaidah, Br. Jhenaidah, Bangladesh.

3. As Sunnah Trust Publication MSA Account No. 20501750202520414 Jhenaidah, Br. Jhenaidah, Bangladesh. বইয়ের জন্য এই নাম্বারে যোগাযোগ করুন: 01734717299

প্রশ্নঃ 1501
১। কি কি কাজ ও কথার মাধ্যমে শিরক হয় অর্থ্যাৎ ছোট বড় সব ধরনের শিরকের সিরিয়ালি লিস্ট দিবেন দয়া করে? ২। নফল সালাতের পর হাত তুলে দোয়া করা যায়। তবে যদি হাত না তুলে সিজদায় গিয়ে বাংলা ও আরবি যে কোন ভাবে দোয়া করি তাহলে কি করা যাবে?
06 Jan 2026

১। ভাই, শিরক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. এর ইসলামী আকীদা এবং তাঁর বঙ্গাবানুবাদকৃত আল-ফিকহুল আকবার বই দুটি অধ্যায়ন করুন। সব লিষ্ট এখানে দেয়া সম্ভব নয়। এক কথায় বলা যায় আল্লাহ ব্যাতিত অন্য কারো কাছে চাওয়া এই নিয়তে যে সে আল্লাহর কাছ থেকে নিয়ে এসে দেবে থেকে শুরু করে আল্লাহ কোন সিফাত বা গুন অন্য কারো মাঝে আছে বিশ্বাস করা এবং আল্লাহর সত্তার সাথে কাউকে শরীক করা সবকিছুই শিরক।

২। সাজদাতে আরবী মাসনুন দুআ করবেন। তবে আরবী দুআ শেখার আগ পর্যন্ত বাংলাতে অর্থাৎ মাতৃভাষাতে দুআ করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1500
আচ্ছালামু আলাইকুম,আমার অফিসের দুই কর্মচারীর একজনের নাম সাত্তার আর একজনের নাম সামাদ। তাদের কে শুধু এই নামে ডাকলে কি গোনাহ হবে? নাকি আব্দুস সাত্তার এবং আব্দুস সামাদ বলে ডাকতে হবে? বস্তুত বাংলাদেশে অনেকের নাম ই এরকম। সেক্ষেত্রে এই বিধান টা জানা খুব জরূরী মনে হচ্ছে আমার কাছে।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমাদের দেশে কিছু মানুষের নাম এমন আছে যাদের নামের শুরুতে আবদ শব্দটি আছে। কিন্তু মানুষ তাদেরকে ডাকার সময় আবদ শব্দটি বাদ দিয়ে দেয়। এতে গুনাহ হয় এটা বলা কঠিন তবে এভাবে না ডেকে আবদ্ শব্দটি সহকারে ডাকা ভাল এবং উত্তম ও সতর্কতা।

প্রশ্নঃ 1499
মোবাইলে বাচ্চার বমি লেগেছে। মোবাইল কিভাবে পাক করা যায়?
06 Jan 2026

মুছে পরিস্কার করলেই পবিত্র হয়ে যাবে। পানি দিয়ে ধোয়া লাগবে না।

প্রশ্নঃ 1498
ইস্তিখারা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি?
06 Jan 2026

কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা বিষয় সামনে আসলে দু রাকআত নফল সালাত আদায় করে নিম্নের দুআটি পড়তে রাসূলুল্লাহ সা. সাহবী রা. দেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। সহীহ বুখারী হাদীস নং ১১৬৬। نِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ فَإِنَّكَ تَقْدِرُ، وَلاَ أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ ، وَلاَ أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلاَّمُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي ، فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي ، – فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِي

প্রশ্নঃ 1497
আসসালামু আলাইকুম । শায়েখ কেমন আছেন?আমি একটা বিষয় নিয়ে কিছুদিন ধরে ভাবছি। বিষয়টি হলো। আমরা রাসুল(সাঃ)এর কর্ম জীবন কে সুন্না হিসাবে যানি। আবার আমাদের আকাবিরের কর্ম গুলোও আকাবির দের সুন্না বলে যানি। এখন একটা বিষয় যে,আমরা হাদিস ও ইসলামী ইতিহাস থেকে জানতে পারি,রাসুল(স:)ও সাহাবায়ে কেরামদের অনেকেরই পোষাক ছিলো সেলাই/ তালি দেওয়া। এবং উনারা সাধারন জীবন যাপন কে পছন্দ করতেন। এখন আমার জানার বিষয়,আমাদের আলেম উলামা এই বিষয় নিয়ে কোন আলোচনা করেন না কেন। এটি কি সুন্নার মধ্য পরে না। এক গ্লাস পানি পান করতে হলে যেখানে রাসুল(স:) এর পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। সেখানে পোষকের এই বিষয় নিয়ে সমাজে কোন অলোচনা নেই কেন। বিষয় টি ক্লিয়ার করলে খুব উপকৃত হতাম ইনশাল্লাহ।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমরা আল্লাহর রহমতে ভাল আছি। দুআ করি আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে ভাল রাখেন। দেখুন, সাধারন জীবন-জাপন করা সুন্নাত। সেলাই/ তালি দেওয়া জামা কাপড় পরা নয়। সেই সময়ের সাধারণ জীবন-জাপন আর এখনকার সাধারণ জীবন জাপন এক নয়। এখন কেউই সাধারণ জীবন-জাপন হিসেবে সেলাই/ তালি দেওয়া জামা কাপড় পরে না। এখন সাধারণ জীবন-জাপন হিসেবে মানুষ যে ধরণের কাপড় ব্যবহার করে সেটাকেই আমাদের গুরুত্ব দেয়া উচিত। আরো একটা বিষয় মনে রাখবেন ইসলাম পোশাকের ব্যপারে স্পষ্ট কোন পোশাকের নাম বলে দেয় নি। বরং একটি নীতিমালা দিয়েছে যে, পুরুষ এমন পোশাক পরবে আর মহিলা এমন পোশাক পরবে। বিস্তারিত জানতে দেখুন, ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. এর লেখা কুরআন-সুন্নাহর আলোকে পোশাক, পর্দা ও দেহ-সজ্জা বইটি।

প্রশ্নঃ 1496
চিল্লা দেওয়া টিক কিনা?
06 Jan 2026

মানুষদের উপর মূল দায়িত্ব হলো কুরআন ও হাদীসের কথা মানুষের কাছে পৌছানো। সেই দায়িত্ব পৌছাতে অনেকে অনেক পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। চিল্লা সেই সব পদ্ধতির একটি। সুতরাং চিল্লা দিতে কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 1495
রাহে বেলায়েত এর পিডিএফ প্রয়োজন ছিল, কি ভাবে পেতে পারি?
06 Jan 2026

আপনি আমাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে বই এ ক্লিক করবেন তারপর দেখাবেন ফিকহ ও আমল নামে একটি অপশন আসবে। সেখানে ক্লিক করলে অনেকগুলো বই পাবেন তার সাথে মাঝের দিকে রাহে বেলায়াত পূর্ণ পাবেন।

প্রশ্নঃ 1494
আস সালামু আলাইকুম, শায়েখ, আমাদের জন্য কি আপেল সাইডার ভিনেগার (Apple Cider Vinegar) খাওয়া হালাল হবে? অন্নান্য ভিনেগারের হুকম কী হবে? জানালে উপকৃত হবো, ইনশা-আল্লাহ ৷
06 Jan 2026

উক্ত পানীয়টিসম্পর্কে আমাদের জানাশোনা কম। ইন্টারনেট থেকে যে তথ্য পেলাম তাতে আপেল সাইডার ভিনেগার হারাম হওয়ার কোন কারণ আছে বলে মনে হচ্ছে না। বিস্তারিত জানিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে আরো সহজ হবে।

প্রশ্নঃ 1493
আমার একটি মাসাআলাহ জানার ছিল… আমরা বাজার থেকে বিভিন্ন ধরনের বডিস্প্রে কিনে ব্যবহার করি, আসলে এগুলো ব্যবহার করা কি হালাল না হারাম?
06 Jan 2026

সাধারণত এগুলো হালাল। তবে কোন স্প্রে তে যদি এমন কোন পদার্থ থাকা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় যা ব্যবহার করা মুসলমানের জন্য হারাম, যেমন, শুকুরের শরীরের কিছু তাহলে সেই স্প্রে ব্যবহার করা জায়েজ হবে না।

প্রশ্নঃ 1492
ননইসলামিক রাষ্ট্রে কি যাকাত দিতে হবে? যদি যাকাত দিতে হয়, আমরা কোন পদ্ধতিতে দিব?
06 Jan 2026

হ্যাঁ, ননইসলামিক রাষ্ট্রেও জাকাত দিতে হবে। শতকারা আড়াই পার্সেন্ট হারে মুসলিম গরীবদেরকে যাকাত দিবেন। বিস্তারত জানতে দেখুন, ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহ. রচিত বাংলাদেশে উশর বা ফসলের যাকাত : গুরুত্ব ও প্রয়োগ বইটি।

প্রশ্নঃ 1491
আসসালামু আলাইকুম, ১ জন লোক ফাইভ স্টার হোটেলের ড্রাইভার বা টেকনিশিয়ান হিসেবে চাকরি করে। যেখানে মদ কেনা বেচা হয়। তার উপার্জন কি হারাম?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমু সালাম। তার উপার্জন হালাল। তবে অন্য কোন উপায় থাকলে এমন প্রতিষ্ঠানে চাকুরী না করা উচিত।

প্রশ্নঃ 1490
পা ছুঁয়ে সালাম করা যাবে? বিয়ের পরে অনেক শ্বশুর-শাশুরি বাধ্য করে পা ছুঁয়ে সালাম করার জন্য, কি করবো?
06 Jan 2026

পা ছুঁয়ে সালাম করা ইসলামী সংস্কৃতি নয়। সুতরাং এটা বর্জন করা উচিত। আপনি কৌশলে এটা এড়িয়ে যাবেন।

প্রশ্নঃ 1489
দাড়িতে কোর মেরে সমান করে রাখা যাবে কিনা?
06 Jan 2026

আপনার প্রশ্নটি অস্পষ্ট । শুদ্ধ বানানে স্পষ্ট করে আবার লিখুন।

প্রশ্নঃ 1488
আপেল সাইডার ভিনেগার (Apple Cider Vinegar) খাওয়া কি হালাল?
06 Jan 2026

উক্ত পানীয়টি সম্পর্কে আমাদের জানাশোনা কম। ইন্টারনেট থেকে যে তথ্য পেলাম তাতে উক্ত পানীয়টি হারাম হওয়ার কোন কারণ আছে বলে মনে হচ্ছে না। বিস্তারিত জানিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে আরো সহজ হবে।

প্রশ্নঃ 1487
As salamu alaikum, assa sir er boi assunnahtrust theke nile kono discount ase? sir er lekha oshadharon tar kisu boi ami porechi. reply dile khushi hobo.
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এখান থেকে নিলে বইয়ের গায়ে যে মূল্য লেখা আছে তার অর্ধেক দামে পাবেন। অন্য জায়গায় হয়তো আরো বেশী নিবে। আরো জানতে যোগাযোগ করুন 01734717299

প্রশ্নঃ 1486
আসসালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্ন ঘুষ দেয়া নিয়ে, আমার এক পরিচিত কারখানায় কাজ করে, কিছুদিন হলো কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, কারখানার মালিকরা মিলে চাচ্ছে যারা বন্ধ করেছে সবাই মিলে কিছু টাকা ঘুষ দিবে যাতে কারখানা আবার শুরু করা যায়, কিন্তু আমার ওই পরিচিত লোকের কাছে এই পরিমাণের টাকা নেই যে ওখানে দিবে, তাই সে আমার কাছে টাকা ধার চেয়েছে, বলেছে কারখানা শুরু হলে শোধ করে দিবে, কিন্তু আমি যেহেতু জেনেছি যে সে এই টাকাটা ঘুষের জন্যে ব্যবহার করবে, সেখানে তাকে টাকা দিয়ে সাহায্য করলে আমিও এই ঘুষ দেয়াতে শরীক হওয়ে যাচ্ছি কিনা?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার প্রশ্নটি অস্পষ্ট। কে কারখানা বন্ধ করেছে, কেন করেছে কিছু লেখেন নি। বিস্তারিত লিখে পাঠালে আমাদের জন্য উত্তর দেয়া সহজ হবে। অথবা 01762629405 ফোন করুন।

প্রশ্নঃ 1485
আস সালামু আলাইকুম, জুম্মার ফরজ নামাযের আগের চার রাকাত সুন্নত কি বাসায় পড়া যায়?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ফরজ সালাত বাদে অন্য সকল সালাত বাড়িতে পড়া যায় এবং বাড়িতে পড়াই উত্তম। সুতরাং জুমআর আগের সুন্নাতও বাড়ি পড়তে পারেন। এই বিষয়ে অনেকগুলো হাদীস বর্ণিত আছে। তার মধ্যে একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, فَصَلُّوا أَيُّهَا النَّاسُ فِي بُيُوتِكُمْ فَإِنَّ أَفْضَلَ الصَّلاَةِ صَلاَةُ الْمَرْءِ فِي بَيْتِهِ إِلاَّ الْمَكْتُوبَة.হে লোকসকল! তোমরা বাড়িতে সালাত আদায় করো, কেননা ফরজ সালাত বাদে সকল সালাত নিজ বাড়িতে পড়া সর্বোত্তম। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৩১। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন, শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত রাহে বেলায়াত গ্রন্থের ৩৯০-৩৯২। এছাড়া জুমুআর দিন মসজিদে এসে সুন্নাত সালাত আদায় করার কথাও হাদীসে আছে।

প্রশ্নঃ 1484
১। প্রতিষ্ঠিত সরকার দেশে অবস্থিত জনগনের কি যাকাত দিতে হবে, প্রেক্ষাপট (বাংলাদেশ) আমরা তো সরকার কে টাক্স দেই। টাক্স কি যাকাত হবে? ২। ফসলের যাকাত দেওয়া সঠিক বিধান কুরআন ও সুন্নার আলোকে জানতে চাই?
06 Jan 2026

ট্যাক্স যাকাত নয়। যাকাত প্রাপ্যদেরকে যাকাত দেয়া ফরজ। আর ট্যাক্স দেশ চালতে সহযোগিতা। দুটি বিষয়কে এক করা যাবে না। সরকার না চাইলে ট্যাক্স নাও নিতে পারেন। তবে যাকাত অবশ্যই দিতে হবে। ২। ফসলের যাকাতের ক্ষেত্রে সংক্ষেপ কথা হলো ১৭ মনের মতো ফসল হলে যাকাত দিতে হবে। কতটুকু দিতে হবে কিভাবে দিতে হবে বিস্তারিত জানতে পড়ুন শায়খ ড. আব্দুল্লহ জাহাঙ্গীর রহ.রচিত বাংলাদেশে উশর বা ফসলের যাকাত : গুরুত্ব ও প্রয়োগ বইটি।

প্রশ্নঃ 1483
আসসালামুলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, কেউ আমাকে তার ১টা বই পড়তে দিয়েছিলো। বইটা পরবর্তীতে ফেরত দিতে ভুলে গেছিলাম। তার সাথে আমার সম্পর্ক খাপার হওয়ার কারণে কোনভাবেই বইটা আর ফেরত দেয়া সম্ভাব না। বড় ফিতনার সম্ভাবনা আছে। বইটা যদি আর নাই দেই তাহলে কি আমি ঋণি থাকব? বইটা আমি নিজ থেকে কখনোই চাইনি সে নিজ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবেই পড়তে দিয়েছিলো।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। তিনি আপনাকে বইটা পড়তে দিয়েছিলেন, উপহার দেন নি। তাই আপনাকে অবশ্যই বইটি ফিরিয়ে দিতে হবে। অন্য কারো মাধ্যমে আপনি বইটি ফিরিয়ে দিন।

প্রশ্নঃ 1482
পুরুষ এর জন্য কি কোন অবস্থায় GOLD ব্যবহার করা জায়েয আছে? এক ভাই এর কাছ থেকে শুনলাম উনি নাকি হাদিস এ কিছু কারণ পেয়েছে যে সব কারণে GOLD ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু আমি রাসুল (সাঃ) এর হাদিস জানি যেখানে উনি রেশমি কাপড় আর GOLD কে পুরুষ এর জন্য হারাম বলেছেন। দয়া করে রেফারেন্স দিয়ে এই বিষয়ে যত সহি, জাল এবং জয়িফ হাদিস আছে আমাকে জানাবেন। কারণ ওই ভাই কে রেফারেন্স ছাড়া বলে লাভ হবে না।
06 Jan 2026

না, পুরুষ মানুষে কোন অবস্থাতেই স্বর্ণ ব্যবহার করতে পারবে না। এই ব্যাপারে আলিমগণ একমত। হাদীসের প্রতিটি কিতাবে এই সম্পর্কে বহু হাদীস বিদ্যমান। সব হাদীস লেখা সম্ভব নয়। শুধু একটা হাদীস দিয়ে দিচ্ছি। আর আপনি তাকে বলুন কোথায় পরা হালাল হওয়ার ব্যাপারে বলা হয়েছে। এবার হাদীসটি দেখুন: عن أبي موسى أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال : إن الله عز و جل أحل لإناث أمتي الحرير والذهب وحرمه على ذكورها আবু মুসা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা আমার উম্মাতের মহিলাদের জন্য স্বর্ণ ও রেশমকে হালাল করেছেন এবং পুরুষদের জন্য সেগুলোকে হারাম করেছেন। সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ৫২৬৫; মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ১৯৫২৫। হাদীসটিকে শায়খ আলবানী, শায়খ শুয়াইব আরনাউত রহ.সহ সকল মুহাদ্দিসগণ সহীহ বলেছেন। এই হাদীসে স্পষ্ট বলা হয়েছে স্বর্ণ মুসলিম পুরুষদের জন্য হালাল নয়। এবং এব্যাপরে কোন মতভেদও নেই। ঐ ব্যক্তি কেন এমন বলেছেন তা বোধগম্য নয়।

প্রশ্নঃ 1481
আসসালামু আলাইকুম। আমাদের দেশে অনেকে ফরজ সালাতের পর মাথায় বা কপালে হাত দিয়ে কি যেন একটা দুয়া পরে (আমি অনেক ইমাম সাহেবকেও দেখেছি), কিন্তু একি সাথে আমি অনেক আলেমের মুখেও শুনেছি এটা সুন্নাহ সম্মত নয় । বিষয়টির ব্যাপারে সত্যিয়ই দলিল আছে কি না? থাকলে জানতে চাচ্ছি।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এ ব্যাপারে কোন সহীহ দলীল আছে বলে আমাদের জানা নেই।

প্রশ্নঃ 1480
Assalamualaikum . Amader library ase. sekhane amra Quran majid bikri kori. amar prosno hocche sob somoi oju thake na . oju chara dorle ki gunah hobe?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কুরআন শরীফ সরাসরি স্পর্শ করলে অবশ্যই পবিত্র অবস্থায় থাকতে হবে। তবে আপনি অন্য কোন কাগজ দ্বারা কুরআন শরীফ ধরে ক্রেতাকে দিলে কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 1479
As Salamu Alaikum, Dr. Abdullah Janangir (Rahimahullah) sir er boigulo theke masnun dua o dhikr gulo niye apple and android mobile application korle valo hoi. Jazak Allahu khairan
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।সুন্দর পরামর্শ দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।আমি বিষয়টি কতৃপক্ষকে জানাব।আশা করি দ্রুত একটি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রশ্নঃ 1478
Assalamualiqum. Mohtaram. Porokalay/akheratay kono musolmanki tar babmayer sakkhat pabay/chintay parbay? Maassalam.
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বী, পারবে। কিয়ামতের দিন বা আখেরাতে মানুষ তাদের পরিচিতদের চিনতে পারবে। এই বিষয়ে কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, فَإِذَا جَاءتِ الصَّاخَّةُ (33) يَوْمَ يَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ أَخِيهِ (34) وَأُمِّهِ وَأَبِيهِ (35) وَصَاحِبَتِهِ وَبَنِيهِ অত:পর যখন বিরাট আওয়াজ (কিয়ামত) আসবে, সেদিন মানুষ পালিয়ে যাবে তার ভাই থেকে, তার মা ও তার বাবা থেকে, তার স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি থেকে। সূরা আবাসা, আয়াত ৩৩-৩৫। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 1477
আমার বাড়ি নাগেশ্বরী, কাজের জন্য ঢাকায় থাকি,দুই ঈদে বাড়ি যাই, বাড়ী গেলে নামায কি কসর হবে নাকি পুরা নামায পড়তে হবে?
06 Jan 2026

বাড়ি গেলে নামায পুরো পড়বেন।কসর করবেন না।কসর করতে হয় যখন বাড়ি থেকে ৪৮ মাইল দূরে কোথাও ১৫ দিনের কম দিন থাকার নিয়তে যায় তখন।তবে আপনি বাড়িতে আসার পথে রাস্তায় কসর করবেন।

প্রশ্নঃ 1476
১/ তারাবীহ্ সালাত সারা মাস কি জামাতে পড়তে হবে নাকি মাঝে মাঝে একাই পড়তে হবে? আর জামাতে পড়লে খুব দ্রুত রুকু সিজদা এবং কুরআন তিলাওয়াত করে তাহলে কি সালাত হবে? ২/ আমি শুনেছি যে, তারাবীহ্ ও তাহাজ্জুদ একই সালাত এবং ৮ রাকাত কি পড়া যায়? সঠিক কোনটি? কুরআন ও হাদিসের আলোকে জানতে চাই।
06 Jan 2026

ভাই, এই বিষয়ে স্যার রহ. এর তত্বাবধানে একটি প্রশ্নের উত্তর দেয় হয়েছিল। আমি সেই উত্তরটি এখানে দিয়ে দিচ্ছি। প্রশ্নটি ছিল 0053 নং প্রশ্ন। তারাবীহ বা রামাদানের কিয়ামুল লাইল: রামাদানে কিয়ামুল্লাইল আদায়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) অন্য সময়ের থেকে অধিক তাকিদ প্রদান করেছেন। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه অর্থ: যে ব্যক্তি রমজান মাসে ঈমানের সাথে সওয়াবের নিয়তে নামায পড়বে তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। 1 এজন্য রামাদানের কিয়ামুল্লাইলকে উম্মাতের আলিমগণ অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সুন্নাত মুআক্কাদা বলে গণ্য করেছেন। সাহাবীগণ রামাদানে তাঁর পিছনে জামাআতে কিয়ামুল্লাইল পালন করতে অতীব আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু ফরয হওয়ার আশঙ্কায় তিনি একাকী তা আদায় করতেন এবং সাহাবীদেরকে এভাবে আদায় করতে পরামর্শ দেন। 2 পাশাপাশি তিনি জামাআতে রামাদানের কিয়াম আদায়ের ফযীলতে বলেন: مَنْ قَامَ مَعَ الإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ كُتِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ যে ব্যক্তি ইমামের কিয়ামুল্লাইল শেষ করা পর্যন্ত ইমামের সাথে কিয়ামুল্লাইল আদায় করবে তার জন্য পুরো রাত কিয়াম পালনের সাওয়াব লেখা হবে। 3 ইমাম তিরমিযী ও শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেনে। সাহাবীগণ ও পরবর্তী প্রজন্মের মুসলিমগণ রামাদানের কিয়ামুল্লাইল আদায়ের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। যেহেতু শেষ রাতে উঠে তা আদায় করা অনেকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়, এজন্য অনেকেই সালাতুল ইশার পরেই মসজিদে বা বাড়িতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করে ঘুমাতেন। যারা কুরআনের ভাল কারী বা হাফিয ছিলেন না তারা অনেক সময় কোনো ভাল কারী বা হাফিযের পিছনে মসজিদে বা বাড়িতে ছোট জামাত করে তা আদায় করতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে ও তাঁর ওফাতের পরে প্রায় কয়েক বৎসর এভাবেই চলে। খলীফা উমার (রা) লক্ষ্য করেন যে, এভাবে মদীনার মসজিদে নববীতে ছোট ছোট জামাতে বা পৃথকভাবে একাকী অনেকেই সালাতুল ইশার পরে কিয়ামুল্লাইল আদায় করছেন। তখন তিনি সাহাবী উবাই ইবন কাবকে বলেন, মানুষেরা দিবসে সিয়াম পালন করেন, কিন্তু অনেকেই ভাল হাফিয বা কারী নন; কাজেই আপনি তাদেরকে নিয়ে জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করেন। পাশাপাশি তিনি সুলাইমান ইবন আবী হাসমাহ (রা) নামক অন্য সাহাবীকে মহিলাদের নিয়ে মসজিদের শেষ প্রান্তে পৃথক জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করার নির্দেশ দেন। মহিলাদের জামাতের ইমামতি তামীম দারী (রা) নামক অন্য সাহাবীও করতেন। খলীফা উসমান ইবন আফ্ফনের (রা) সময়ে তিনি সুলাইমান ইবন আবী হাসমাহ (রা)-এর ইমামতিতে পুরুষ ও মহিলাদের এক জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায়ের ব্যবস্থা করেন। 4 অধিকাংশ মানুষ জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করতে থাকেন। তবে অনেক সাহাবী, তাবিয়ী ও যারা ভাল হাফিয ও আবিদ ছিলেন তারা সালাতুল ইশার পরে অথবা মধ্য রাতে ও শেষ রাতে একাকী রামাদানের কিয়ামুল্লাইল আদায় করতেন। সহীহ হাদীসে হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. স্বয়ং সাহাবীদের কে নিয়ে কয়েক দিন রমজানের এই বিশেষ নামায তথা তারাবীহ নামায পড়েছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০১২। রাসূল সা. থেকে সহীহ সনদে ঐরাতগুলোর তারাবীহর রাকআত সংখা নিয়ে কোন হাদীস বর্ণিত নেই। মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে রাসূল সা. ২০ রাকআত পড়েছেন মর্মে যে হাদীসটি বর্ণিত আছে তা সর্বাক্যমতে দূর্বলু। কারন ঐ হাদিসের সনদে আবু শায়বা ইবরাহীম ইবনে উসমান নামে একজন রাবী আছেন যাকে ইমাম আহমাদ, বুখারী, আবু দাউদ সহ সকল মুহাদ্দিস দূর্বল কিংব মাতরুক (পরিত্যক্ত) বলেছেন। 5 সহীহ হাদীস প্রমাণিত যে, রাতের নামাযে রাসূলুল্লাহ সা. এর রাকআত সংখা বিভিন্ন রকম ছিল। নিচে সংক্ষেপে বর্নণা করা হল: عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَقَالَتْ مَا كَانَ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ ، وَلاَ فِي غَيْرِهَا عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًا ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ قَالَ يَا عَائِشَةُ إِنَّ عَيْنَيَّ تَنَامَانِ، وَلاَ يَنَامُ قَلْبِي অর্থ: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান হযরত আয়েশা রা.কে জিজ্ঞাসা করেন, রমাদান মাসে রাসূলুল্লাহ সা.এর নামায কেমন ছিল? তিনি বললেন, তিনি রামাদান এবং অন্য সময়ে ১১রাকআতের বেশী বাড়াতেন না। তিনি প্রথমে ৪ রাকআত পড়তেন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতায় বিস্মিত হবে। এরপর আবার ৪ রাকআত পড়তেন। তুমি তার সোন্দর্য ও দীর্ঘতায় বিস্মিত হবে। এরপর ৩ রাকআত পড়তেন। ……….. 6হযরত আয়েশা রা. থেকে অন্য বর্নণায় আছে: عن عائشة قالت : كان النبي صلى الله عليه و سلم يصلي من الليل تسع ركعات [ قال ] وفي الباب عن أبي هريرة وزيد بنخالد والفضل بن عباس অর্থ: হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. রাত্রে ৯ রাকআত পড়তেন ।7 ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাসান সহীহ আর শাইখ আলবানী বলেছেন, সহীহ। আয়েশা রা. থেকে আরেক বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. কোন কারণে রাতের বেলায় নামায না পড়তে পারলে দিনের বেলায় ১২ রাকআত পড়তেন। জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৪৪৫। হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযী ও শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। عن ابن عباس قال : كان النبي صلى الله عليه و سلم يصلي من الليل ثلاث عشر [ ركعة হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা, রাতে ১৩ রাকআত নামায পড়তেন। 8 ইমাম তিরমিযী ও শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। বর্ণনা বিভিন্ন প্রকার হওয়ার কারণে ইমাম তিরমিযী বলেছেন, وأكثر ما روي عن النبي صلى الله عليه و سلم في صلاة الليل ثلاث عشرة ركعة مع الوتر وأقل ما وصف من صلاته بالليل تسع ركعات রাতের নামাযের ব্যাপারে নবী সা. থেকে যা বর্ণনা করা হয় তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী হল বিতরসহ ১৩ রাকআত আর সবচেয়ে কম হল ৯ রাকআত। উপরের আলোচনা থেকে আমরা নিশ্চিত করেই বলতে পারি যে, রাতের নামায, রামাদান মাসে হোক কিংব অন্য সময় হোক রাসূলুল্লাহ সা. রাকআত সংখা নির্দিষ্ট করেননি। সাহবীদের থেকেও তারাবীর রাকআত সংখা নিয়ে বর্ণনা গুলোর মধ্যে ভিন্নতা আছে। নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল: হযরত উমর রা. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, তার সময়ে লোকেরা মসজিদে জামায়াতের সাথে বিশ রাকআত নামায আদায় করেছেন। হাদীসটি নিম্নরুপ: عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ : كَانُوا يَقُومُونَ عَلَى عَهْدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ فِى شَهْرِ رَمَضَانَ بِعِشْرِينَ رَكْعَةً – قَالَ – وَكَانُوا يَقْرَءُونَ بِالْمِئِينِ ، وَكَانُوا يَتَوَكَّئُونَ عَلَى عُصِيِّهِمْ فِى عَهْدِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ مِنْ شِدَّةِ الْقِيَامِ অর্থ: সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, লোকেরা উমার রা. আমলে রমজান মাসে বিশ রাকআত নামায পড়ত। তিনি বলেন, তারা একশ আয়াত পড়ত। দাড়িয়ে থাকতে কষ্ট হত তাই তারা উসমান রা. এর যুগে লাঠিতে ভর দিত। 9 ইমাম নববী, বদরুদ্দীন আইনি, আল্লামা যাইলায়ী, ইবনে হুমাম সব প্রমূখ মুহাদ্দীস হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। 10 তবে শায়খ আলবানী ও আব্দুর রহমান মুবারকপুরী এই দুই আহলে হাদীস আলেম বলেছেন হাদীসটি সহীহ নয়। তাদের কথা ইলমের দৃষ্টিতে গ্রহনযোগ্য নয়। এই হাদীসটির বক্তব্যকে সমর্থন করে অনেক গুলো দূর্বল ও সনদ বিচ্ছিনন হাদীস (যে হাদীসের সনদ থেকে কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে যায় তাকে সনদ বিচ্ছিন্ন বা মুনকাতি হাদীস বলে)। তার কিছু নিচে দেয় হল: ১। উক্ত সাহবী (সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে) দূর্বল সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন, كنا نقوم في زمان عمر بن الخطاب بعشرين ركعة والوتر অর্থ: আমরা উমার রা. যুগে বিশ রাকআত নামাযপড়তাম ও বিতর পড়তাম। মারিফাতুস সুনান লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং১৩৬৫। ২। ইয়জিদ ইবনে রুমান থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, كَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فِي رَمَضَانَ بِثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ رَكْعَةً অর্থ: মানুষেরা উমার ইবনে খাত্তারব রা. এর সময় তেইশ রাকআত (বেতার সহ) নামায পড়ত। 11 ইয়াজিদ ইবনে রুমান উমার রা. কে পাননি তাই হাদীসটির সনদ মুনকাতি। 12 ৩। আব্দুর রহমান আস সুলামী হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণনা করেন যে, دَعَا الْقُرَّاءَ فِى رَمَضَانَ ، فَأَمَرَ مِنْهُمْ رَجُلاً يُصَلِّى بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً. قَالَ : وَكَانَ عَلِىٌّ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ يُوتِرُ بِهِمْ অর্থ: তিনি (আলী রা.) যারা কোরআন পড়তে পারে তাদেরকে ডাকলেন। তারপর তাদের একজনকে লোকদেরকে নিয়ে বিশ রাকআত নামায পড়াতে আদেশ দিলেন। আব্দুর রহমান আসসুলামী বলেন, আলী রাযি. তাদেরকে নিয়ে বিতর পড়লেন। 13 এই হাদীসটির সহীহ বা যয়ীফ হওয়ার ব্যাপারে কোন বায়হাক্কী রহ. কোন মন্তব্য করেন নি। এই কিতাবের ৪৮০৫ নং হাদীসে পৃথক সনদে আলী রা. থেকে বিশ রাকআত তারাবীহ পড়ার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন বলে বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে তিনি দূর্বল বলেছেন। এছাড়াও আরো অনেকগুলো সনদ দূর্বল হাদীস বিভিন্ন কিতাবে উল্লেখ আছে। এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, হযরত উমার রা. এর যুগ থেকে বিশ রাকআত তারাবীহ সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত এবং অনেকগুলো দূর্বল হাদীস একে সমর্থন করছে, সুতরাং আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, বিশ রাকআত তারাবীহ সুন্নাহ সম্মত। সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে অন্য হাদীসে বর্ণিত আছে যে, উমার রা. উবাই ইবনে কাব এবং তামীম দারেমীকে আট রাকআত তারাবীহ পড়ানোর জন্য আদেশ দিয়েছেন। যার আরবী জানেন তাদের জন্য হাদীসটির মূল পাঠ নিম্নরুপ: عَنْ مَالِكٍ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ ، أَنَّهُ قَالَ : أَمَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ وَتَمِيمًا الدَّارِيَّ أَنْ يَقُومَا لِلنَّاسِ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً قَالَ : وَقَدْ كَانَ الْقَارِئُ يَقْرَأُ بِالْمِئِينَ ، حَتَّى كُنَّا نَعْتَمِدُ عَلَى الْعِصِيِّ مِنْ طُولِ الْقِيَامِ ، وَمَا كُنَّا نَنْصَرِفُ إِلاَّ فِي فُرُوعِ الْفَجْرِ মুয়ত্তা মালেক, হাদীস নং ৩০২। হাদীসটির সনদ সহীহ। সহীহ সনদে সাহাবী সাইব ইবরে ইয়াযীদ থেকে আরো একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। হাদীসটি নিম্নরুপ: عبد الرزاق عن داود بن قيس وغيره عن محمد بن يوسف عن السائب بن يزيد أن عمر جمع الناس في رمضان على أبي بن كعب وعلى تميم الداري على إحدى وعشرين ركعة يقرؤون بالمئين وينصرفون عند فروع الفجر অর্থ: উমার রা. মানুষদেরকে একত্র করে উবাই ইবনে কাব এবং তামীম দারেমীকে ২১ রাকআত পড়ানোর জন্য ইমাম বানিয়ে দিলেন। তারা শত শত আয়াত পাঠ করতেন এবং ফজরের সময় ফিরে আসতেন। মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ৭৭৩০। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, সাহাবীগণও মনে করতেন না যে, তারবীহর নামায নির্দিষ্ট । তবে অধিকাংশ আলেম তারাবীহ নামায ২০ রাকআত আদায় করারা পক্ষে মত দিয়েছেন। নিচে চার মাজাহাব ও অনুসৃত আলেমগণের মতামত সংক্ষেপে বর্ণনা করা হল: ১। ইমাম বায়হাক্কী রহ বলেছেন, দুই বর্ণনার (আট ও বিশ) মাঝে এভাবে সমন্বয় কারা যায় যে, প্রথমে তারা আট রাকআত পড়ত পরে বিশ রাকআত পড়ত। আসসুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং ৪৮০২। রাকআত সংখা নিয়ে চার মাযহাব ও অন্যান্য ইমামগণের বক্তব্য: ২। হানাফী মাজহাব: يُسْتَحَبُّ أَنْ يَجْتَمِعَ النَّاسُ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ بَعْدَ الْعِشَاءِ فَيُصَلِّيَ بِهِمْ إمَامُهُمْ خَمْسَ تَرْوِيحَاتٍ ، كُلُّ تَرْوِيحَةٍ بِتَسْلِيمَتَيْنِ ، وَيَجْلِسَ بَيْنَ كُلِّ تَرْوِيحَتَيْنِ مِقْدَارَ تَرْوِيحَةٍ ، ثُمَّ يُوتِرَ بِهِمْ অর্থ: মুস্তাহাব হলো লোকেরা রমজান মাসে ইশার পরে একত্রিত হবে এং ইমাম তাদেরকে নিয়ে পাঁচটি বিরতি দিয়ে নামায পড়বেন আর প্রত্যেকটি বিরতি হবে দুই সালাম বিশিষ্ট (অর্থাৎ বিশ রাকআত)। প্রত্যেক দুই বিরতির মাঝে সমপরিমান সময় বসে থাকবেন । এরপর তিনি তাদেরকে নিয়ে বিতর পড়বেন। হেদায়া ১/৭০14 ৩। মালেকী মাজহাব: মালেকী মাজহাবের প্রবীণ আলেম আল্লামা বাজী রহ. তার রচিত মুয়ত্তার ব্যাখ্যা গ্রন্থে (১/২০৮) তারবীহ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, وروى نافع مولى ابن عمر : أنه أدرك الناس يصلون بتسع وثلاثين ركعة. يوترون بثلاث. وهو الذى اختاره مالك অর্থ: মাওলা ইবনে উমার নাফে রহ. বর্ণনা করেন যে, তিনি মানুষদেরকে ৩৯ রাকআত নামায পড়তে দেখেছেন। তারা তিন রাকআত বিতর পড়ত । আর ইমাম মালেক রহ. এটাই পছন্দ করেছেন। 15 ৪। শাফেয়ী মাজহাব: ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেন, فَأَمَّا قِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ فَصَلاَةُ الْمُنْفَرِدِ أَحَبُّ إلى منه وَرَأَيْتهمْ بِالْمَدِينَةِ يَقُومُونَ بِتِسْعٍ وَثَلاَثِينَ وَأَحَبُّ إلى عِشْرُونَ لأَنَّهُ روى عن عُمَرَ وَكَذَلِكَ يَقُومُونَ بِمَكَّةَ وَيُوتِرُونَ بِثَلاَثٍ অর্থ: রমজানের নামায একাকী পড়াই আমার নিকট উত্তম। আমি মদীনাবাসীদেরকে দেখেছি তারা ৩৯ রাকআত পড়ে । তবে বিশ রাকআত আমার নিকট অধিক প্রিয়। কেননা উমার রাযি. থেকে তা প্রামানিত। আর এমনই (২০ রাকআত) পড়ে মক্কাবাসীগন। আর তারা তিন রাকআত বিতর পড়ে। 16 ৫। হাম্বলী মাজহাব: প্রখ্যত হাম্বলী আলোম ইবনে কুদামা আল মুকাদ্দেসী (৬২০হি.) বলেন, قَالَ ( وَقِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ عِشْرُونَ رَكْعَةً يَعْنِي صَلَاةَ التَّرَاوِيحِ وَهِيَ سُنَّةٌ مُؤَكَّدَةٌ অর্থ: রমজানের মাসের নাময অর্থাৎ তারবীহ বিশ রাকআত। এবং তা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। 17 শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার রহ. বলেন, فَإِنَّهُ قَدْ ثَبَتَ أَنَّ أبي بْنَ كَعْبٍ كَانَ يَقُومُ بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً فِي قِيَامِ رَمَضَانَ وَيُوتِرُ بِثَلَاثِ . فَرَأَى كَثِيرٌ مِنْ الْعُلَمَاءِ أَنَّ ذَلِكَ هُوَ السُّنَّةُ ؛ لِأَنَّهُ أَقَامَهُ بَيْن الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَلَمْ يُنْكِرْهُ مُنْكِرٌ অর্থ: এটা সাব্যস্ত যে, উবাই ইবন কাব রাযি. মানুদেরকে নিয়ে রমজানে বিশ রাকআত তারাবী ও তিন রাকআত বিতর পড়িয়েছিলেন। অধিকাংশ আলেম এটাকেই সুন্নত মনে করেন। কেননা তিনি তার করেছিলেন মুহাজির ও আনসারদের উপস্থিতিতে আর তার কোন রকম আপত্তি করেন নি। মাজমউল ফাতাওয়া ২৩/ ১১২। উপরের আলোচনা থেকে আমরা দেখতে পাই যে, তারাবীহ নামায রাসূলুল্লাহ সা. থেকে সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত। যারা বেশী কোরআন পড়তে পারেন তারা বাড়িতে একা একা উক্ত নামায পড়বে। আর তারাবীহর রাকআত সংখা বিশ হযরত উমার রা. থেকে সহীহ সনদে সাব্যস্ত। আর অধিকাংশ আলেমও বিশ রাকআতকে সুন্নাত মনে করেন। তবে শাইখ আলবানী সহ কোন কোন আলেম আট রাকআতের মত গ্রহন করেছেন। সুতরাং আমাদের মত সাধারণ মানুষদের কর্তব্য হল অধিকাংশ আলোম যে বিষয়টিকে সুন্নাত বলেছেন সেটা মেনে নেয়া এবং সেই অনুযায়ী আমল করা। তবে কেউ যদি এর কম বা বেশী পড়তে চান তাতে কোন অসুবিধা নেই। এমনটিই বলেছেন বিশেষজ্ঞ আলেমগণ। কেননা এটা সুন্নত নামায, রাকআত সংখা উদ্দেশ্য নয়। আরো জানতে ড.খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত আল-ফিকহুল আকবার দেখুন।

প্রশ্নঃ 1475
আসসালামু আলাইকুম,আমি আগের উত্তরগুলো পেয়ে খুব খুশি হয়েছি কারণ আপনারা খুব দ্রুত উত্তরগুলো দিচ্ছেন। আল্লাহ্ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন এবং আল্লাহ্ আপনাদের এই মহৎ কাজটি চালিয়ে যাওয়ার জন্য তোৈফিক দিন (আমিন)। ১/ এমন কি কোন পাপ আছে যেটা করলে আগের সমস্ত আমল নষ্ট হয়ে যায়? ২/ যিনি উত্তরগুলো দিচ্ছেন উনার শিক্ষাগত যোগ্যতা দয়া করে বলবেন? আর পারসোনাল ইমেইল-এ তো উত্তরগুলো পাচ্ছি না এই সাইটে এসেই তো দেখতে হচ্ছে কেন দয়া করে বলবেন?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আগের সমস্ত আমল কিভাবে নষ্ট হয় এই বিষয়ে বেশ কিছু আয়াত আছে। সেগুলোর মূল বক্তব্য হলো মুসলিম থেকে মুরতাদ হলে গেলে বা আল্লাহর কুরআনকে অস্বীকার করলে তার সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে যায়। আমি দুটি আয়াত এখানে দিয়ে দিচ্ছি: وَمَن يَرْتَدِدْ مِنكُمْ عَن دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُوْلَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَأُوْلَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ (217) যারা তাদের ধর্মত্যাগ করে (ইসলম ধর্ম) কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে তাদের দুনিয়ার ও আখেরাতে সমস্ত আমল নষ্ট হয়ে যাবে, তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী। এবং সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। সূরা বাকারাহ, আয়তা ২১৭। إِنَّ الَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ حَقٍّ وَيَقْتُلُونَ الِّذِينَ يَأْمُرُونَ بِالْقِسْطِ مِنَ النَّاسِ فَبَشِّرْهُم بِعَذَابٍ أَلِيمٍ (21) أُولَئِكَ الَّذِينَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَمَا لَهُم مِّن نَّاصِرِينَ (22) নিশ্চয় যারা আমার নিদর্শণসমূহকে অস্বীকার করবে, নবীদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করবে এবং মানুষদের মধ্য থেকে যারা ন্যায়নীতির কথা বলে তাদেরকে হত্যা করবে তাদেকে আপনি যন্ত্রনাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দিন। তারাই হলো ঐ সমস্ত লোক দুনিয়াতে এবং আখেরাত যাদের আমল নষ্ট হয়ে যাবে এবং তাদের কোন সাহায্যকারী নেই। সূরা আল-ইমরান, আয়াত ২১-২২। ২। প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখার জন্য একজনকে দায়িত্ব দেয়া আছে। তবে প্রয়োজন হলে তিনি অন্যদের সাহায্য নিয়ে থাকেন। এর চেয়ে বেশী এখানে লিখতে চাচ্ছি না। প্রয়োজনে 01734717299

প্রশ্নঃ 1474
আসসালামুয়ালাইকুম, হুজুর আমি একটা মারাত্নক সমস্যার ভিতড় আছি। আমার বয়স ২৭, আমি অবিবাহিত এবং বেকারত্তের জন্য আপাদত বিয়ে করা সম্ভব না (পারিবারিক অবস্থানুযায়ী বেকারত্ব ঘুচলেও আমার মনে হয় আগামী ২/৩ বছরেও সম্ভব হবে না) এবং আমি আল্লাহর রহমতে কোন দিন কোন হারাম সম্পর্কেও জড়াইনি। কিন্তু মাঝে মাঝে যৌন-উত্তেজনার প্রকোপ এত বেশি হয় যে মাথা কাজ করে না, সেই সময় ইসলামি কঠিন আইন কানুনের জন্য বিশেষ করে জেনার কঠিন শাস্তির বিধানের জন্য আল্লাহকে পর্যন্ত দোষারোপ করি। আইন কানুন সব ভেঙ্গে বেরিয়ে আসতে ইচ্ছা করে, মনের ভিতড় নামাজ নিয়েও বিদ্রোহ জাগে মনে হয় নামাজ পড়ে কি হবে নামাজ আর পড়ব না এই ভাবে জিদ করে বসে থাকি। শেষে আবার মনে হয় এখন যদি মারা যাই তবে বেনামাজি হিসেবে মরতে হবে তখন আবার নামাজ পড়ি। মনে হয় আল্লাহ ধর্মীয় আইন দিয়ে আমাদেরকে শুধু কষ্ট দিচ্ছে অথচ দিব্যি যারা ইসলামি আইন মানে না তারা সারাজীবন জেনাসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আবার ঠিকই অল্পবয়সে বিয়েও করে। মনের ভিতড় এই অবস্থা চলতে থাকে ঘুমানোর আগপর্যন্ত, ঘুম থেকে জাগার পর আবার আমি স্বাভাবিক তখন আর সেই বিশ্রী চিন্তা মাথায় থাকে না। কি ভাবে এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে পারি।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, সমস্যা আমরা তৈরী করি আর দোষ দেই আল্লাহকে। আল্লাহ তায়ালাতো আমাদেরকে বলেন নি যে, কথিত এই পড়াশোনা শেষ না করে বিয়ে করা যাবে না। যদি বলেন, কর্মের সংস্থান নেই তাহলে বলবো সাতাশ বছর বয়সে চাকরী ছাড়া কি আর কোন কর্মের সংস্থান করা যায় না? আল্লাহ কি বলেছেন যে, বাংলাদেশের ৪০ বছর ধরে পড়াশোনার পর যে চাকুরী হবে তারপর বিয়ে করতে হবে? আবার আপনি লিখেছেন, কর্মসংস্থান হলেও পারিবারিক কারণে বিয়ে করা সম্ভব নয়? এর জন্যও কি আল্লাহ দায়ী? দায়ী তো পরিবার। ভাল করে বুঝুন, আল্লাহ তায়ালা বিয়ের কোন বয়স নির্ধারণ করে দেন নি। এবং নির্দিষ্ট কোন কর্ম করতে হবে তাও বলেন নি। আপনার বয়স ২৭ বছর আপনি যে কোন হালাল কাজ করে বিয়ে করতে পারেন। যদি পিতা-মাতা বিয়ে দিতে না চায় তবুও আপনি বিয়ে করতে পারবেন। তবে আপনার এখন করণীও হলো পিতা-মাতাকে বিষয়টি যে কোনভাবে বুঝানো। যদি তার বোঝে ভাল না বুঝলে কোন কর্মের ব্যবস্থা করে আপনি বিয়ে করে নেবেন। কথিত চাকুরী নামক কর্মসংস্থান আল্লাহ তায়ালা বাধ্য করেন নি। যাদের কথা আপনি বলছেন যে, তারা অল্প বয়েসে বিয়ে করে তারা কিন্তু চাকুরী নামক কর্মের পিছনে ঘুরছে না। আশা করি বুছতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 1473
I am using inhalar for my asthma disease. Can I use inhalar during saom (roza)?
06 Jan 2026

এই ভিডিওটা দেখলে আপনি উত্তর পাবেন। 

প্রশ্নঃ 1472
আমাদের দেশে আজকে আরবি মাসের ১৩তারিখ, আবার সউদি আরবে আজকে ১৪ তারিখ। সউদির আরাফা অনুযায়ী আরাফার রোযা রাখি। তাহলে আজকে ১৪তারিখের রোযা গেল নাকি ১৩তারিখের। প্লিজ জবাবের অপেক্ষা…
06 Jan 2026

এক্ষেত্রে সহজ ও নিরাপদ হলো যখন যেখানে থাকবেন তখন সেখানকার তারিখ হিসাব করা। সউদি আরাফা অনুযায়ী যদি রোজা রাখেন তাহলে সউদি অনুযায়ী আজকের তারিখ হিসাব করবেন। হয়তো একদিন বা দুইদিন বেশী হবে।

প্রশ্নঃ 1471
Assalamualikum.Ques: wife husband k nam dhore dakte parbe?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। শরয়ী দৃষ্টিতে কোন সমস্যা নেই। এই বিষয়ে জানতে ইউটিউবে সার্চ করুন এই শিরোনামে স্বামী কি বলে ডাকা যাবে কিনা, নাম ধরা যাবে কিনা? ডঃ আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর

প্রশ্নঃ 1470
আসসালামু ওয়ালাইকুম। সার এর লেখা মোট কইটা বই আছে, এবং সব বই এর মোট কতো টাকা মুল্লো হই জানালে খুশি হতাম। বই গুলা সব একসাথে কিনলে আপনারা কি কনো ডিস্কাউন্ট দিবেন। বই কি কুরিয়ারে পাউয়া যাবে?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। স্যার রহ. এর লেখা বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৩০টি। মূল্য প্রায় ২৫০০ টাকা। কুরিয়ারে পেতে যোগাযোগ করুন 01715400640

প্রশ্নঃ 1469
আসসালামু আলাইকুম। সালাতের ভিতরে বা বাইরে কুরআন তেলাওয়াতের সময় সুরা সিরিয়াল অনুযায়ী না হলে কি কোনো সমস্যা হবে?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, কোন সমস্যা নেই। তবে সালাতের ভিতরে সিরিয়াল অনুযায় পড়াকে অনেকে ভাল বলেছেন।

প্রশ্নঃ 1468
যে সব রাজনৈতিক দল ব্যভিচারিনী বা পতিতালয়ের লাইসেন্স দেয়, সুদী ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়, মদের লাইসেন্স দেয়, কোরআনে বর্নিত আল্লাহর আইন বাদ দিয়ে নিয়েই আইন তৈরি করে যা আল্লাহর আইন বিরুধী, তাদেরকে সমর্থন করলে কিংবা সেই সব দলের কর্মী হলে ঈমান থাকবে?
06 Jan 2026

কুরআন-হাদীসের অকাট্য দলীল দ্বরা সাব্যস্ত বিধানকে কেও অস্বীকরা করলে তার ঈমান থাকবে না। তবে যদি অস্বীকার না করে কিন্তু মানে না তাহলে সে গুনাগগার হবে কিন্তু বেঈমান হবে না। সুতরাং কেউ যদি মনে করে মদ হালাল, আল্লাহর আইন অচল তাহলে তার ঈমান থাকবে না। আপনি সবকর্মকে এভাবে বিশ্লেষণ করুন।

প্রশ্নঃ 1467
আসসালামু আলাইকুম, ১। সহিহ দুয়া কুনুত কোনটা সেটা দয়া করে বলবেন,আমি আল্লাহ হুম্মা ইন্না নাস্তা ইনুকা ওয়া নাস্তাগফিরুকা ওয়া নু মিনুবিকা … এই দুআ পড়ি কিন্তু দ্বীনি তালিম-শুধু বোনদের জন্য (প্রশ্ন ও উত্তর) এই পেজ এর অ্যাডমিন আপু নিচের দুআ টা দিয়েছেন। আসলে কোনটা সহি? ২। নাপাক কাপর ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুলে কি একবার ধুলেই হয়?নাকি তিন বার করে ধুতে হবে? কেউ কেউ বলেন ধুয়ে এমন ভাবে চিপ্তে হবে যেন কাপড় থেকে আর পানি বার না হয়!! আসলে কাপড় পাক করার সঠিক পদ্ধতি কি? দ্বীনি তালিম-শুধু বোনদের জন্য ( প্রশ্ন ও উত্তর) এই পেজ এর অ্যাডমিন আপু নিচের কথা গুলা লিখেছেন যতক্ষন ক্লিন না হয় ধুতে পারবেন। ৩ বার ধুতে হবে এর বেশি বা কম করা যাবে না এমন কোন নিয়ম শরিয়তে নেই,পেশাব এর ক্ষেত্রে ২ বার ধুয়ে নেন… একবার পেশাব দূর করার জন্য আরেকবার পরিস্কার পানিতে। ৩। দ্বীনি তালিম-শুধু বোনদের জন্য ( প্রশ্ন ও উত্তর) এই পেজ আমার কাছে ভালোই মনে হয়। আবার ইসলামিক একাডেমী তে পড়াশুনা নেই জন্যে কিছু কিছু ব্যাপারে confused থাকি,পেজ টার ব্যাপারে কিছু বলবেন দয়া করে। জাজাকাল্লাহু খাইরান
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। উভয় দুআ কুনুতই সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত। আপনি আগে থেকে যেটা পড়ছেন সেটা আছে মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, ৩/১১০-১২১; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, ২/৩০১, ৩১৪-১৩৫ এবং অন্যান্য গ্রন্থে। ২। যতক্ষন না আপনি নিশ্চিত হবেন যে, অবিত্রতামুক্ত হয়েছেন ততক্ষন ধুতে হবে। তিনবারে পবিত্র না হলে আরো বেশী বার ধুতে হবে। তবে সাধারণত তিনবারে পবিত্র হয়ে যায় তাই অনেকেই তিনবারের কথা বলেন। ৩। এই পেজ সম্পর্কে আমাদের জানা নেই।

প্রশ্নঃ 1466
আসসালামু আলাইকুম, পুরুষ ও মহিলারা কি তাদের গোপনাঙ্গের লোম, বগলের লোম পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে Laser Treatment পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারবে? যাতে করে একটা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এই কাজের ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে পারি। এই পদ্ধতিটি গ্রহণ করলে রাসূল (সাঃ) এর সুন্নাতকে খাটো করা হবে কি?এবং পায়ু পথের আশেপাশের লোম পরিষ্কার করা বা পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে Laser Treatment পদ্ধতি গ্রহণ করা যাবে কি?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আমি এই বিষয়ে যথেষ্ট চেষ্টা করেও ইমাম পর্যায়ের কোন আলেমের বক্তব্য জানতে পারি নি। তবে আমার মনে হয় জায়েজ হবে। পরে জানতে পারলে আপনি জানিয়ে দেব।

প্রশ্নঃ 1465
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, সাহু সিজদার বিস্তারিত নিয়ম জানালে খুবই উপকৃত হতাম। আমি বেশ কিছু আলেমের বক্তব্যে জানলাম যে দুইদিকে সালাম ফিরিয়ে দুই সিজদা দিয়ে আবার দুইদিকে সালাম ফেরাতে হবে। আবার দুই সিজদা দিয়ে দুইদিকে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করলেও সাহু সিজদা হবে। আমাদের ছোটকাল থেকে রীতি একদিকে সালাম দিয়ে দুইটি সিজদা দিয়ে আবার তাশাহহুদ, দুরুদ, দুয়া মাসুরা পড়ে উভয়দিকে সালাম দিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে। আমি খুবই দিধাদন্দে আছি। তাই দয়া করে সাহু সিজদার বিস্তারিত নিয়ম জানালে খুবই উপকৃত হতাম।
06 Jan 2026

হাদীসে সাহু সাজদা দেওয়ার নিয়ম প্রধানত দুটি।১. সালাম ফিরানোর পূর্বে। ২. সালাম ফিরানোর পরে। সালাম ফিরানোর পূর্বে সাহু সাজদা দিতে হয় সব কিছু পড়ে দুটি সাজদা দিয়ে তারপর সালাম ফিরানো। আপনি যেটা বলেছেন, এতে কোন মতাভেদ নেই। আর সালাম ফিরানোর পরে সাহু সাজদা দিলে কী কী পড়তে হবে হাদীসে তা স্পষ্ট নেই। তাই কিছুটা মতভেদ আছে। আপনি যে পদ্ধতিটি উল্লেখ করেছেন সেটা তার মধ্যে একটি।আরো একটি হলো আমরা ছোটকাল থেকে যা করছি। শেষ বৈঠকে তাশাহুদু পড়া ওয়াজিব আর দরুদ-দু;আ মাসুরা পড়া সুন্নাত তাই তাশাহুদুর পরে সালাম ফিরালেও সহীহ হবে। সুতরাং শুধু তাশাহুদু পড়ে সালাম ফিরালে কোন সমস্যা নেই। এখন বাকী থাকলো একদিকে সালাম ফিরাবে নাকি দুদিকে। স্বাভাবিক নিয়ম হলে সালাম ফিরানোর সময় দুদিকেই সালাম ফিরানো। হানাফী মাজহাবের অধিকাংশ কিতাবে সাহু সাজদা দেওয়ার সময় দুদিকে সালাম ফিরানোর কথাই বলা হয়েছে। তবে সালাতে এক দিকে সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করারও সহীহ হাদীস আছে। ইমাম শাফী রহ. বলেছেন, যার ইচ্ছা এক দিকে সালাম ফিরাবে আর যার ইচ্ছা দুদিকে সালাম ফিরাবে। সুতরাং একদিকে সালাম ফিরিয়ে সাহু সাজদা দিলেও জায়েজ হবে। তবে দুদিকে সালাম ফিরারোটাই ভাল মনে হয়। একদিকে সালাম ফিরানোর হাদীসিট নিম্নরুপ:عَنْ عَائِشَةَ, أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ كَانَ يُسَلِّمُ تَسْلِيمَةً وَاحِدَةً تِلْقَاءَ وَجْهِهِ. হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. একদিবে সালাম ফিরাতেন। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং২৯৬; সুনানু ইবনু মাজাহ, হাদীস নং৯১৯; সহীহ ইবনু খুজা্য়মা, হাদীস নং ৭৩০। শায়খ আলবানী রাহ. বলেছেন হাদীসটি সহীহ ওশায়খ শুয়ািইব আর নাউত রাহ. বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ (সহীহ ইবনে হিব্বান, ১৯৯৫ নং হাদীসের টিকা)। এবং অন্যান্য মুহাদ্দিসগণও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। মোটকথা দুদিকে সালাম ফিরানোই ভাল তবে একদিকে সালাম ফিরালেও সালাত সহীহ হবে।

প্রশ্নঃ 1464
শাইখ মতিউর রহমান (উনাকে খাট করার জন্য বলতেছিনা) বললেন তাশাহুদ পড়ে এক দিকে সালাম ফিরিয়ে সাহু সেজদা করার হাদিসটি নাকি জঈফ। উনার আলোচনা শুনে আমি এখন দ্বিধাগ্রস্ত। সাহু সেজদা করার নিয়ম টা হাদিস থেকে বিস্তারিত বললে ভাল হত?
06 Jan 2026

হাদীসে সাহু সাজদা দেওয়ার নিয়ম প্রধানত দুটি। ১. সালাম ফিরানোর পূর্বে। ২. সালাম ফিরানোর পরে। সালাম ফিরানোর পূর্বে সাহু সাজদা দিতে হয় সব কিছু পড়ে দুটি সাজদা দিয়ে তারপর সালাম ফিরানো। আর সালাম ফিরানোর পরে সাহু সাজদা দিলে কী কী পড়তে হবে হাদীসে তা স্পষ্ট নেই। তাই কিছুটা মতভেদ আছে। শেষ বৈঠকে তাশাহুদু পড়া ওয়াজিব আর দরুদ-দু;আ মাসুরা পড়া সুন্নাত তাই তাশাহুদুর পরে সালাম ফিরালেও সহীহ হবে। সুতরাং শুধু তাশাহুদু পড়ে সালাম ফিরালে কোন সমস্যা নেই। এখন বাকী থাকলো একদিকে সালাম ফিরাবে নাকি দুদিকে। স্বাভাবিক নিয়ম হলে সালাম ফিরানোর সময় দুদিকেই সালাম ফিরানো। হানাফী মাজহাবের অধিকাংশ কিতাবে সাহু সাজদা দেওয়ার সময় দুদিকে সালাম ফিরানোর কথাই বলা হয়েছে। তবে সালাতে এক দিকে সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করারও সহীহ হাদীস আছে। ইমাম শাফী রহ. বলেছেন, যার ইচ্ছা এক দিকে সালাম ফিরাবে আর যার ইচ্ছা দুদিকে সালাম ফিরাবে। সুতরাং একদিকে সালাম ফিরিয়ে সাহু সাজদা দিলেও জায়েজ হবে। তবে দুদিকে সালাম ফিরারোটাই ভাল মনে হয়। একদিকে সালাম ফিরানোর হাদীসিট নিম্নরুপ:عَنْ عَائِشَةَ, أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ كَانَ يُسَلِّمُ تَسْلِيمَةً وَاحِدَةً تِلْقَاءَ وَجْهِهِ. হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. একদিবে সালাম ফিরাতেন। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং২৯৬; সুনানু ইবনু মাজাহ, হাদীস নং৯১৯; সহীহ ইবনু খুজা্য়মা, হাদীস নং ৭৩০। শায়খ আলবানী রাহ. বলেছেন হাদীসটি সহীহ ওশায়খ শুয়ািইব আর নাউত রাহ. বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ (সহীহ ইবনে হিব্বান, ১৯৯৫ নং হাদীসের টিকা)। এবং অন্যান্য মুহাদ্দিসগণও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সুতরাং একদিকে সালাম ফিরানোর হাদীসটি যয়ীফ এটা ঠিক নয়।মোটকথা দুদিকে সালাম ফিরানোই ভাল তবে একদিকে সালাম ফিরালেও সালাত সহীহ হবে। আরো জানতে দেখুন, সুনানু তিরমিযী ২৯৬ নং হাদীসে ইমাম তিরমিযী রাহ. এর আলোচনা।

প্রশ্নঃ 1463
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ! ভাই আমার দুইটি প্রশ্ন। ১. জামাতে যদি (জুমআ বাদে) শেষ বৈঠক পাই তাহলে কি আমি জমাতের সলাত পেলাম? নাকি শেষ বৈঠক পেলে আর জমাতে শরিক হবো না? যদি আমি শুনেছি বা হাদিসে পড়েছি জুমআ সলাতে এক রাকাত না পেলে যোহর পড়তে। আসলে এটা কি সব সলাতের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নাকি জুমআ তে? আরেকটা প্রশ্ন। আমরা জানি হস্ত মৈথুন ইসলামে হারাম। আচ্ছা এটা কি ইজমা দ্বারা হারাম নাকি এ নিয়ে মতভেদ আছে? আমি বিবাহিত। যদিও হস্ত মমৈথুন করি নানা কিন্তু স্ত্রীর পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে মাঝে মাঝে খুব উত্তেজিত হয়ে যাই স্ত্রীর সংস্পর্শ থাকলে। আপনি জানেন এটা খুবই স্বাভাবিক। এমতাবস্থায় যদি আমার স্ত্রীর আলিঙ্গন এ আমি উত্তেজিত হয়ে হস্তমৈথুন করি তাহলে কি কোন সমস্যা আছে? দয়া করে জানাবেন। জাযাকাল্লাহ
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জুমুআসহ সকল সালাতরে শষে বঠৈক পলেে আপনি জামাতে শরীক হবনে। তবে জুমুআর সালাতে কোন রাকআত না পলেে জুমুআর দুই রাকআত আদায় করতে হবে না কি জোহররে চার রাকআত আদায় করতে হবে এই নয়িে আলমেদরে মাঝে মতভদে আছ। ইমাম আবু হানীফা বলছেনে, তাশাহুদর আগে শরীক হলে জুমুআর দুই রাকআত আদায় করবে আর অন্যান্য ইমামগণ বলছেনে,জোহররে চার রাকআত সালাত আদায় করব। তবে আপনি যটো বলছেনে জুমুআর সালাতে এক রাকআত না পলেে যোহর পড়তে হবে এটা ঠকি নয়। নচিরে হাদীসটি দখেুন: عن أبي هريرة : عن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال : من أدرك من صلاة الجمعة ركعة فقد أدرك الصلاة আবু হুরাইরা রা. রাসূলুল্লাহ সা. থকেে র্বণনা করছেনে, তনিি বলছেনে, যে ব্যক্তি জুমুআর সালাতরে এক রাকআত পলে সে সালাত পলে। সহীহ ইবনে খুজায়মা, হাদীস নং ১৮৫০।হাদীসটি সহীহ। সুতরাং এক রাকআত পলেে যুহর পড়তে হয় এই কথা ঠকি নয়। ২। কুরআন ও হাদীসরে আলোকে হস্তমথৈুন হারাম। দুই একজন আহলে জাহরে আলমে জায়জে বলছেনে কন্তিু এই মত বাতলি, তবে মুহাক্ককি আলমেগন বলছেনে, যদি জনিার (ব্যভিচারে) আশংকা হয় তাহলে হারাম হবে না। পবত্রি কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলছেনে, وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ (৫) إِلاَّ عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ (৬) فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاء ذَلِكَ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْعَادُونَ (৭) আর যারা তাদরে লজ্জাস্থানকে হফোজত কর। ে তবে তাদরে স্ত্রী ও দাশীদরে ক্ষত্রেে সমস্যা নইে। তখন তারা নন্দিতি হবে না। সুতরাং যারা এদরে ছাড়া অন্য কোন মহলিাকে (যাৈন চাহদিা পূরণরে জন্য) খুঁজবে তারা সীমালংঘনকারী। সূরা মূমনিুন, আয়াত:৫,৬,৭ উক্ত আয়াত দ্বারা ইমাম শাফয়েী (র.) হস্তমথৈুন হারাম হওয়ার দলীল পশে করছেনে। আয়াতগুলো উল্লখে করার পর তিনি বলছেনে, فَكَانَ بَيِّنًا في ذِكْرِ حِفْظِهِمْ لِفُرُوجِهِمْ إلاَّ على أَزْوَاجِهِمْ أو ما مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ تَحْرِيمُ ما سِوَى الأَزْوَاجِ وما مَلَكَتْ الأَيْمَانُ ثُمَّ أَكَّدَهَا فقال عز وجل {فَمَنْ ابْتَغَى وَرَاءَ ذلك فَأُولَئِكَ هُمْ الْعَادُونَ} فَلاَ يَحِلُّ الْعَمَلُ بِالذَّكَرِ إلاَّ في الزَّوْجَةِ أو في مِلْكِ الْيَمِينِ وَلاَ يَحِلُّ الاِسْتِمْنَاءُ وَاَللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ শাফয়েী বলনে, স্ত্রী ও দাশী ছাড়া অন্য কোথাও যৌন চাহদিা পূরণ করা যাবে না এ কথার মধ্যে প্রমাণ রয়েছে যে, স্ত্রী ও দাশী ছাড়া অন্য যে কোন জায়গায় যৌনর্কম হারাম। এরপর আল্লাহ তায়ালা বিষয়টি আরো জোরালো করে বলছেনে, সুতরাং যারা এদের ছাড়া অন্য কোন মহলিাকে (যৌন চাহদিা পূরণরে জন্য) খুঁজবে তারা সীমালংঘনকারী। ফলে স্ত্রী ও দাশী ছাড়া যৌনর্কম হালাল হবে না এবং হস্তমথৈুন হালাল হবে না। আল্লাহ তায়ালা ভাল জাননে। কতিাবুল উম্ম, (ইমাম শাফী র.) হস্তমথৈুন অধ্যায় ৫/৯৪ আল্লামা ইবনে তাইময়িা রহ. বলনে, أَمَّا الِاسْتِمْنَاء بِالْيَدِ فَهُوَ حَرَامٌ عِنْدَ جُمْهُورِ الْعُلَمَاءِ وَهُوَ أَصَحُّ الْقَوْلَيْنِ فِي مَذْهَبِ أَحْمَد وَكَذَلِكَ يُعَزَّرُ مَنْ فَعَلَهُ . وَفِي الْقَوْلِ الْآخَرِ هُوَ مَكْرُوهٌ غَيْرُ مُحَرَّمٍ وَأَكْثَرُهُمْ لَا يُبِيحُونَهُ لِخَوْفِ الْعَنَتِ وَلَا غَيْرِهِ وَنُقِلَ عَنْ طَائِفَةٍ مِنْ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ أَنَّهُمْ رَخَّصُوا فِيهِ لِلضَّرُورَةِ : مِثْلَ أَنْ يَخْشَى الزِّنَا فَلَا يُعْصَمُ مِنْهُ إلَّا بِهِ وَمِثْلَ أَنْ يَخَافَ إنْ لَمْ يَفْعَلْهُ أَنْ يَمْرَضَ وَهَذَا قَوْلُ أَحْمَد وَغَيْرِهِ . وَأَمَّا بِدُونِ الضَّرُورَةِ فَمَا عَلِمْت أَحَدًا رَخَّصَ فِيهِ . وَاَللَّهُ أَعْلَمُ র্অথ:অধকিাংশ আলমেরে নকিট হস্তমথৈুন হারাম আর হাম্বলী মাজহাবরে বশিদ্ধ র্বণনা এটাই। যে এমন করে সে নন্দিার পাত্র। অন্য র্বণনাযয় মাকরুহ, হারাম নয়। অধকিাংশ আলমে কোন সময়ই এর বধৈতা দনেনি চাই ব্যভচিাররে ভয় হোক বা অন্য কোন কারনে হোক। তবে একদল সাহাবী এবং তাবঈে থকেে র্বণতি আছ, তারা প্রয়োজনরে সময় এটাকে বৈধতা দিয়েছেন। যেমন ব্যভিচারের ভয়, রোগাক্রান্ত হওয়ার ভয়। আর এটাই আহমাদ এবং অন্যান্যদের মত। আর আমি এমন কাউকে দেখেনি যে বিনা প্রয়োজনে এই বিষয়টির বৈধতা দিয়েছেন। মাজমুউল ফাতাওয়া,২৪/২২৯। বাবু সুয়লিা আনলি ইসতমিনা-ই।

প্রশ্নঃ 1462
আসসালামু ওয়ালাইকুম। প্রচলিত নিয়মে সেজদাতে মহিলারা যেভাবে মাটিতে কুনুই সহ হাত বিছিয়ে দেয় তা কি বিদাত? কারন অনেকে বলে এভাবে সেজদা করা জায়েজ নয়! ধন্যবাদ।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মহিলারা রুকু সাজদা দেয়ার সময় জড়সড় হওয়ার বিষয়টি হাদীস দ্বারা প্রমানিত। আলেম ও মুজতাহিদগণও তাই বলেছেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া 38 নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 1461
আসসালামু আলাইকুম। আমি বিবাহ করেছি এক বছর আগে মেয়ের অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া তবে তার মা আমাদের এই বিবাহ দিয়েছেন। এর আগে দুই বার আমার অভিভাবকে পাঠিয়েছিলাম বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে তার বাবা বলেছিল আমাদের পড়ালেখা শেষে আমাদের বিয়ে দিবা। আমার উদ্দেস্য ছিলো তাকে ছহি ইসলাম শিখানো । আমি এখনো তার সাথে ফোনে যোগাযগ রাখি। মেয়ের পিতা জানে না। আমি কি করব?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অভিভাবক ছাড়া মেয়েদের বিবাহ জায়েজ আছে কি না তা নিয়ে বিতর্ক আছে। যদি জায়েজ আছে ধরে নেয়া হয় তাহলেও এই ধরণের বিয়েতে অনেক জটিলতা সৃষ্টি হয়। আপনাদের যেহেতু বিবাহ হয়ে গেছে এখন আপনার অভিভাবকদের বিষয়টি বলে সবকিছু ফয়সালা করে ফেলুন। আর আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা চান। বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া 51 নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 1460
আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্নঃ নিচের দুয়া গুলি একটি poster এ দেখতে পেলাম। এগুলির প্রতিটার দলিল আছে কি না আনতে চাই। ১. প্রতিদিন ১০ বার ফজরের সালাতের পর দুরুদ পাঠ করলে তার রুহ নবী ও সিদ্দিকিন দের মত সহজ ভাবে বের হবে। ২. যে প্রতি সালাতের পর সুরা তাওবার শেষ দুই আয়াত পরবে, সে হাশরের দিন রাসুল (সঃ) এর শাফায়েত পাবে, বিপদে পড়লে বিপদ দূর হবে, সে দিন মৃত্যু হলে শহিদী মৃত্যু হবে… ৩. কোন ব্যক্তির মৃত্যুর পর যদি ১০০০ বার বিসমিল্লাহ … পায় তবে তাকে আল্লাহ পাক তার ছায়ায় স্থান দিবেন। ৪. রাতে যে ব্যক্তি সুরা আল ইমরানের শেষ দশ আয়াত পরবে সে সারা রাত তাহাজ্জুদের নেকি পাবে। ৫. যে প্রতি সালাতের পর সুরা সাফফাতের ১৮০-১৮২ আয়াত পরবে, তাকে যথেষ্ট পরিমাব নেকি দেয়া হবে। যাকাল্লাহু খাইর।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এতগুলো প্রশ্ন একসাথে করলে উত্তর দেয়া কঠিন। আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তরে বলছি হাদীসে আছে সকাল সন্ধা ১০ বার করে দরুদ পাঠ করলে রাসূলুল্লাহ সা. এর শাফায়াত তার নসীব হবে। সহীহুত তারগীব ১/৩৪৫। এর বাইরে কোন ফজিলত আছে কি না আমাদের জানা নেই।

প্রশ্নঃ 1459
আমার গ্রামে কাকরাইলের তাবলিগ জামাতের পক্ষ থেকে একটি মারকাজ করা হচ্ছে । সেখানে মাদ্রাসা ও মসজিদ থাকবে । তাবলিগের কাজ হবে। এই মারকাজে কি জমি ও টাকা দেয়া আমার জন্য জায়েজ হবে?
06 Jan 2026

মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণ শ্রেষ্ঠ কাজের অন্যতম। অবশ্যই আপনি তাতে টাকা ও জমি দিতে পারবেন।

প্রশ্নঃ 1458
আসসালামু আলাইকুম স্যার, গতকাল আমাদের এখানে ইছালে ছওয়াব মাহফিল গেলো। সেখানে ছারছিনা শরিফের পির এসে ওয়াজ করার পুর্বে প্রথমে বলল জিকির দিয়ে শুরু করব আমরা, তা উনি বলল, সলাতের নিয়াত আছে, রোজার নিয়াত আছে তেমনি জিকিরের ও নিয়াত আছে। তাই আপনারা আমার সাথে এই নিয়াত করুন, আমি আমার ক্বলবের মোতাওয়াজা করছি, আমার ক্বলব আমার পিরের মোতায়াজা করছে আমার পিরের ক্বলব আল্লাহ্ আরশ এর দিকে মোতায়াজ্জা করে আমি জিকির করছি অবশ্য আরো বাড়তি কথা ছিলো বলতে পারছি না। স্যার, আমরা জানি উচ্চস্বরে সম্মিলিত জিকির এমনিতেই সুন্নাতের খেলাফ তার উপর জিকির একটা বৈধ ইবাদত আর ইবাদতের ক্ষেত্রে যদি আমার মন আমার পিরের দিকে ধাবিত করি আল্লাহ্ সুবহানুতায়ালার দিকে না করে সেটা কি শিরক হবে না? যদি শিরক হয় তাহলে, আমার প্রশ্ন আমার চাচা সহ অনেকেই ছারছিনা শরিফের মুরিদ (আমি নই) মাঝে মাঝে আমাদের মসজিদের ইমাম না থাকলে আমার চাচা জমাত সলাত পড়ায়। (যদিও উনার পড়া শুদ্ধ না) তো এমন আকিদা পোষণকারী যেকোন লোকের পিছনে জমাতে সলাত পড়ার ব্যাপারে জানতে চাচ্ছি। দয়া করে জানাবেন।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমস সালাম। জিকির করার এমন নিয়ত বা নিয়ম কুরআন হাদীসে নেই। এটা শিরক। এমন লোকের পিছনে সালাত আদায় করা ঠিক নয়। তবে উপায় না থাকলে জামাত ত্যাগ করবেন না, পড়া যদি এতটুকু সহীহ হয় যে, অর্থ পাল্টে যায় না তাহলে তার পিছনেই সালাত আদায় করবেন।

প্রশ্নঃ 1457
আসসালামু আলাইকুম। আমি ইক্বামতে দ্বীন এবং আমার করণীয় সম্পর্কে জানতে চাই।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমাদের করণীয় হলো ব্যক্তিগত জীবনে ইসলাম মেনে চলা । আর অন্যদেরকে ইসলাম অনুযয়ী চলার জন্য দাওয়াত দেয়া। দাওয়াতের বিভিন্ন মাধ্যম আছে, সুযোগ মত সকল মাধ্যমে অংশ নেয়া।

প্রশ্নঃ 1456
আস সালামু আলাইকুম! অফিস থেকে প্রভিডেন্ট ফান্ড এর টাকা দেয়া হয় এটা নেয়া কি যায়েজ?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সরকার যে টাকা বাধ্যতামূলক রেখে দেয় তা লাভসহ নেয়া জায়েজ। তবে নিজে থেকে কিছু রাখলে তার লাভ নেয়া হারাম।

প্রশ্নঃ 1455
আসসালামু আলাইকুম, ধন্যাবাদ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য। আল্লাহুম্মা ইন্নি আব্দুকা……ওয়া জাহাবা হামনি এই দুয়াটি যদি পুরোটা লিখে দিতেন এবং কিভাবে আমল করতে হয় টা যদি বলে দেন তাহলে খুব উপকার হয়। আমার কাছে রাহে বেলায়াত বই টি নেই। বইটি আমি অতি শীঘ্রই কিনবো। রাহে বেলায়াত বইটি কোথায় পাওয়া যায় জানালে ভালো হয়।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আমি দুআটির আরবী পাঠ দিয়ে দিলাম। আপনি যদি আরবী না পড়তে পারেন তাহলে আরবী জানে এমন কারো থেকে জেনে নিবেন। اللَّهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ ابْنُ عَبْدِكَ ابْنُ أَمَتِكَ ، نَاصِيَتِي بِيَدِكَ ، مَاضٍ فِيَّ حُكْمُكَ ، عَدْلٌ فِيَّ قَضَاؤُكَ ، أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ ، سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ ، أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ ، أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ ، أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي عِلْمِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ ، أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ رَبِيعَ قَلْبِي ، وَنُورَ بَصَرِي ، وَجِلاَءَ حُزْنِي ، وَذَهَابَ هَمِّي সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং ৯৭২। হাদীসটিকে শায়খ আলবানী রহ. সহীহ বলেছেন। শায়খ শুয়াইব আর নাউত রহ.ও সহীহ বলেছেন। তবে ইমাম দার কুতনী যয়ীফ বলেছেন। তবে হাদীস আমলযোগ্য হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ নেই। আপনি কোন দু;খ কষ্টের সম্মুখিন হলে এই দুআটি বারবার পড়বেন। নফল সালাতের সাজাদতে পড়বেন, দুআ মাসূরার সময় পড়বেন এবং অন্যান্য সময় পড়বেন। তাহলে আল্লাহ আপনার সমস্যা দূর করে দিবেন। রাহে বেলায়াত বইয়ের জন্য যোগাযযোগ করুন: 01711152954

প্রশ্নঃ 1454
সম্পদ ফিরে পাওয়ার আমল কি?
06 Jan 2026

আপনি এই দুআটি বেশী বেশী পাঠ করুন। إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ اللَّهُمَّ أْجُرْنِى فِى مُصِيبَتِى وَأَخْلِفْ لِى خَيْرًا مِنْهَا সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২১৬৫।

প্রশ্নঃ 1453
আসসালামু আলাইকুম! শুনেছি মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কসর করেছেন ৩ মাইল ও ৪৮ মাইল এর দূরত্বে এটা কতটুকু সত্য? আর আমি শহরে বাড়ি থেকে ৩ মাইল দূরত্বে গেলে কি কসর করা যাবে?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। তিন মাইল নয়, তিন দিনের দূরত্ব পরিমান গেলে সফর করতে হয়। যার পরিমান সর্বাক্যমতে ৪৮ মাইল বা ৭৮ কি,মি। আপনি তিনমাইল দূরে গেলে কসর করতে পারবেন না। তবে যদি ৭৮ কি.মি বা তার চেয়ে দূরে কোথাও যান তাহলে রাস্তায় কসর করতে পারবেন।

প্রশ্নঃ 1452
আসসালামু আলাইকুম। অহংকার,হিংসা,রিয়া এগুলো থেকে বাচার কোন সহীহ দোয়া থাকলে জানাবেন। আবদুল্লা জাহাঙ্গীর স্যারের বই পড়েছি কিন্তু একটা বিষয় ক্লিয়ার হতে পারছি না। ফরজ নামাজের পড়ে একা একা হাত তুলে দোয়া করলেও কি বিদআত হবে? উল্লেখ্য হাত তুলে দোয়া করতে মনের আকুতি মিনতি ভালভাবে প্রকাশ করা যায়
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এগুলো থেকে বাাঁচার একটি উপায় সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে আর তা হলো পরস্পর সালাম দেয়া। এর বাইরে কোন দুআ আছে কি না আমাদের জানা নেই। ফরজ নামাজের পরে একা একা হাত তুলে দোয়া করলে কি বিদআত হবে না।

প্রশ্নঃ 1451
আসসালামু আলাইকুম, মনের বাসনা ও দোয়া কবুলের জন্য সুন্নাতি আমল গুলো জানালে উপকৃত হব। ধন্যবাদ
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি ইজমে আজম দ্বারা দুআ করুন। বিস্তারিত জানতে দেখুন, ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত রাহে বেলায়াত বইটি।

প্রশ্নঃ 1450
আসসালামু আলাইকুম। নামাজের স্থায়ী সময়সূচীতে ওয়াক্ত শুরুর সময় আছে কিন্তু কোন সালাত কত সময় পর্যন্ত পড়া যাবে তা নেই। আবার কতটুকু সময় নামাজ নিষিদ্ধ তাও জানা দরকার। এব্যাপারে সারা বছরের জন্য নীতিমালাটা জানানোর অনুরোধ করছি। জাযাকাল্লাহু খাইরান।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সালাতের শেষ সময়ের ব্যাপারে সারা বছরের নীতিমালা নিম্নে দেওয়া হলো: ফজরের শেষ সময় সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত। জোহরের শেষ সময় আসরের সময় শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত। আসরের শেষ সময় সূর্য অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত। মাগরিবের শেষ সময় ইশার সালাতের সময় হওয়ার আগ পর্যন্ত আর ইশার শেষ সময় ফজরের সালাতের সময় শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 1449
আচ্ছালামু আলাইকুম, জীবনে অনেক বার ই কসম দিয়ে রক্ষা করতে পারি নাই। এর সংখ্যা যে কত তা ঠিক জানি ও না। এখন এর কাফফারা আমার কিভাবে আদায় করা উচিত?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মানুষ অনেক সময় কসম করে রক্ষা করতে পারে না। এর বদলা হিসাবে আল্লাহ তায়ালা কাফফারার ব্যবস্থা করেছেন। একাধিক বিষয়ে কসম ভাঙলে কাফফারা একাধিক দিতে হবে। আপনি একটা অনুমান করে নির্ধারণ করুন কতটি কসম আপনি ভেঙেছেন সেই হিসাবে সামর্থ অনুযায়ী আপনি কাফফারা দেবার চেষ্টা করুন। আর আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি আপনাকে ক্ষমা করে দিবেন। কাফফারা হলো: দশজন ফকির-মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো। খাবারের মান হবে নিজের পরিবারের লোকজন যেমন খাবার খেয়ে থাকে। অথবা দশজন ফকির-মিসকিনকে কাপড় দেয়া। প্রত্যেককে কমপক্ষে এতটুকু কাপড় দেয়াযার দ্বারা নামাজ আদায় করা যায়। অথবা একজন কৃতদাস মুক্ত করা। যদি এর কোনোটি সম্ভব না হয়, তাহলে ধারাবাহিকভাবে তিনদিন রোজা রাখতে হবে। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, لاَ يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِن يُؤَاخِذُكُم بِمَا عَقَّدتُّمُ الأَيْمَانَ فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ ذَلِكَ كَفَّارَةُ أَيْمَانِكُمْ إِذَا حَلَفْتُمْ وَاحْفَظُواْ আল্লাহ তায়ালা অনর্থক শপথের জন্য তোমাদেরকে দায়ী করবেন না। কিন্তু যেসব শপথ তোমরা ইচ্ছাকৃতভাবে কর, সে সবের জন্য তিনি তোমাদের দায়ী করবেন। এর কাফফারা হলো, দশজন ফকির-মিসকিনকে মধ্যম ধরনের খাবার দান, যা তোমরা তোমাদের পরিজনদের খেতে দাও। অথবা তাদেরকে কাপড় দান কিংবা একজন কৃতদাস মুক্তি। আর যার সামর্থ্য নেই, তার জন্য তিনদিন রোজা রাখা। এটাই তোমাদের কসমের কাফফারা। [সুরা মায়িদা : ৮৯] আল্লাহ তায়লা ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1448
১৪৪৪ নাম্বার উত্তরের জন্য ধন্যবাদ । আমি ভেবেছিলাম আপনারা আমার উপর বিরক্ত হয়েছিলেন। আল্লাহ পাক আপনাদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমার আরেকটি প্রশ্ন হল, জাঝাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদাম মা হুয়া আহালুহ এই দরুদটির কোন দলিল আছে কি?
06 Jan 2026

ভাই, আপনাকেও আল্লাহ তায়ালা উত্তম প্রতিদান দিন যে, আপনি ধৈর্য্যসহ অপেক্ষা করেছেন। আসলে সব প্রশ্নের উত্তর সবসময় জানা থাকেনা আবার জানার থাকলেও দলীল সামনে না থাকলে দেয়া যায় না, কারণ আল্লাহর কাছে আমাদের সবকিছুর ব্যাপারে জবাবদিহিতা আছে। আপনার প্রশ্নওটি ছিল এরকম আমি জানতাম হাদীসটির কিছু অংশ নেই কিন্তু অন্য আলেমের মতামত খুঁজতে ছিলাম আর এতেই দেরী হয়ে গেছে। আপনার আজকের প্রশ্নের বিষয়ে বলি এই কথাটি হাদীসে আছে। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. এই কথাটি বলতে বলেছেন। হাদীসটির আরবী পাঠ হলো: عَنِ ابْنِ عَبَّاسِ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ قَالَ جَزَى اللَّهُ عَنَّا مُحَمَّدًا مَا هُوَ أَهْلُهُ أَتْعَبَ سَبْعِينَ مَلَكًا أَلْفَ صَبَاحٍ মুসনাদুশ শামিয়্যিন, ইমাম তবারনী, হাদীস নং ২০৭০। তবে শায়খ আলবানীসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ বলেছেন, হাদীসটি যয়ীফ জিদ্দান অর্থাৎ খুবই দুর্বল। দেখুন, যয়ীফ তারগীব ও তারহীব, হাদীস নং ১০৩৬।

প্রশ্নঃ 1447
Assalamualikum, Halal rijik pawar jonoo kon amol korbo?
06 Jan 2026

ওয়া আলাই কুমুস সালাম। হালাল রিজিক পাওয়ার জন্য এবং যে কোন প্রয়োজনের জন্য এই দুআটি বারবার পাঠ করবেন, رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ এবং নিচের এই দুআটি দুই সাজদার মাঝে এবং অন্যান্য সময় পাঠ করুন। اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى وَارْحَمْنِى وَاهْدِنِى وَعَافِنِى وَارْزُقْنِى আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমান সম্মানজনক হালাল রিজিকের ব্যবস্থা করে দেন।

প্রশ্নঃ 1446
আস্সালামু আলাইকুম সকাল সন্ধ্যায় ৭ বার আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান্নার পড়ার হাদীসটা কি সহীহ? titumirahmad@gmail.com এই এড্রেস-এ একটা মেইল করেছিলাম। একটু দেখবেন প্লিজ।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। উক্ত হাদীসটিকে অধিকাংশ মুহাদ্দিস যয়ীফ বলেছেন। তবে দুএক জন হাসানও বলেছেন। আমল করা যাবে কোন সমস্যা নেই। আমি দু:খিত যে, বেশ কিছু দিন ই মেইল খুলি নাই। আমি আপনার সমস্যার কথা পড়েছি, অল্প কিছু দিনের মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর পাবেন ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্নঃ 1445
1.Majur namaji chair e bosey namajey Table e ba balishe sejda Jayej kina? 2.Eka namajey ayatey bhul holey abong char rakater prothom boithokeTasahud er por dorud path korley sahu sejda kortey honey ki? Plz clarify. M.Yunus
06 Jan 2026

না, চেয়ারে বসে বা অন্য কোন ভাবে সাজদার সময় মাটি ছাড়া কোন কিছুর উপর সাজদা করা যাবে না। মাটিতে সাজদা না করতে পারলে যতটুকু সম্ভাব মাথা নিচু করবে। ২। আপনার প্রশ্নটি স্পষ্ট নয়। তবে প্রথম বৈঠকে ভুল করে তাশাহুদুর পরে দরুদ পড়লে সাজদায়ে সাহু দিতে হবে।

প্রশ্নঃ 1444
Assalamu Alaikum, Muhtaram, I want to know about authenticity and reference of the following dua: (a) Allahumma antassalam waminkassalam walaika yarjiussalam hayina rabbana bissalam wadkhilna darussalam tabarakta rabbana watalaita ya jal zalali walikram. (b) Inna lillahi wainna ilaihi rajiun, allahumma ajirnee fi musibati, wakhlufli khairumminha. Please give me the original arabic spelling of the above dua. Zajhaakumullah khair.
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রথম দুআটির কিছু অংশ হাদীসে পাওয়া যায় আর কিছু অংশ হাদীসে পাওয়া যায় না। যে অংশটুকু হাদীসে পাওয়া যায় তার আরবী পাঠ হলো: اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং১৩৬২। যে অংশটুকু হাদীসে পাওয়া যায় না তা হলো وَإِلَيْك يَرْجِعُ السَّلَامُ فَحَيِّنَا رَبَّنَا بِالسَّلَامِ وَأَدْخِلْنَا دَارَك السَّلَامَ । বিশিষ্ট মুহাদ্দিস শায়খ জাযারী (মৃত্যু ৮৩৩হি.) বলেছেন, এটুকুর কোন ভিত্তি নেই। দেখুন, তুহফাতুল আহওযী, ১/৩৩০; শরহে মুসনাদু আবু হানীফা ১/ ৯৪। দুই নং দুআটির আরবী পাঠ হলো: إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ اللَّهُمَّ أْجُرْنِى فِى مُصِيبَتِى وَأَخْلِفْ لِى خَيْرًا مِنْهَا সহীহ মুসলিম হাদীস নং ২১৬৫।

প্রশ্নঃ 1443
Asalamualikum. do you have any islamic education centre in sylhet?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, আমাাদের কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিলেটে নেই।

প্রশ্নঃ 1442
ফটো তুলা যায়েজ কিনা?
06 Jan 2026

বিনা কারণে ছবি তুলে প্রিন্ট করা জায়েজ নেই। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৯৬৩ ।অযথা ছবি তোলাও উচিৎ নয়।

প্রশ্নঃ 1441
আসসালামু আলাইকুম, চাকুরীর পরীক্ষার জন্য কি আমল করবো। দয়া করে কষ্ট করে দোয়াটি বলবেন রাহে বেলায়েত এর পৃষ্ঠা নং বলবেন না। জাযাকাল্লাহ।
06 Jan 2026

ওয়া আলাই কুমুস সালাম। চাকরীর জন্য এবং যে কোন প্রয়োজনের জন্য এই দুআটি বারবার পাঠ করবেন, رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ এবং এই দুআটি দুই সাজদার মাঝে এবং অন্যান্য সময় পাঠ করুন। اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى وَارْحَمْنِى وَاهْدِنِى وَعَافِنِى وَارْزُقْنِى

প্রশ্নঃ 1440
আসসালামু আলাইকুম ওয়াহ রহমাতুল্লাহ। আমি আমার শ্বাশুরীর কাছ থেকে নগদ 15000/- টাকা হাওলাদ নিয়ে ছিলাম কিন্তু ১ বছর পর আমার শ্বাশুড়ীর বাড়ীতে হঠাৎ অন্য প্রসঙ্গে কথা বলার মধ্যে আমি শ্বাশুড়ীকে বললাম মা আপনি আমার কাছে যে 15000/- টাকা পাবেন। আমার মনে আছে আমি একটু সুস্থ্য হলে আপনার ঐ টাকা দিয়ে দেব। কিন্তু আমার শ্বাশুড়ী বলল ঐ টাকা আমি তোমাকে দিয়েছি ওই টাকা ফেরত দেওয়া লাগবে না। এমতাবস্থায় মাকে কি ঐ টাকা ফেরত দেওয়াই লাগবে না কি আমাকে অন্য কিছু করা লাগবে। এ প্রসঙ্গে যদি আমি আমাকে জানাতেন তাহলে উপকৃত হতাম।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, আপনাকে আর ঐ টাকা ফেরৎ দিতে হবে না। অন্য কিছুও করতে হবে না। ঐ টাকার মালিক আপনি।

প্রশ্নঃ 1439
আস সালামু আলাইকুম, হজ্জের সময় আরাফার ময়দানে যোহর ও আসর এর সালাত কসর ও জমা করে পড়তে হবে কিনা বিস্তারিত জানালে খুশি হব। ধন্যবাদ
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দুটি বিষয়েই আলেমদের মাঝে মতভেদ আছে। তবে নিচের নিয়মটি অনুসরণ করা আমাদের জন্য উপযোগী বলে মনে হয়। আরাফার ময়দানে ইমাম সাহেবের পিছনে জোহর এবং আসর একসাথে জোহরের সময় আদায় করতে হবে। ইমাম সাহেব যেভাকে আদায় করবেন মুক্তাদিও সেভাবে আদায় করবেন। ইমাম সাহেবের পিছনি না পড়ে একা একা পড়লে একসাথে পড়তে হবে না আলাদাকরে জোহরের সময়ে জোহর এবং আসরের সময় আসর পড়তে হবে সে বিষয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ আছে। তবে একসাথে আদায় করাটাই উত্তম বলে মনে হয়। একাকী পড়লেও কসর করবে। মক্কাবাসী এবং মক্কার বাইরে সবার জন্য এই হুকম প্রযোজ্য ।

প্রশ্নঃ 1438
আসসালামু আলাইকুম ওজুতে কুলি এবং নাক ধোত কি এক বার পানি নিয়ে করতে হবে নাকি আলাদা করে কুলি আলাদা করে নাকে পানি দিতে হবে।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দুটি পদ্ধতিই হাদীসে আছে। তবে আলাদা আলাদা পানি ব্যবহার করাটা পরিচ্ছন্নাতার জন্য ভাল বলে মনে হয়।

প্রশ্নঃ 1437
ফিকহুস সুনান ওয়াল আছার বইটির ডাউনলোড লিংক পাওয়া যাবে কি? দয়া করে জানাবেন
06 Jan 2026

এই বইটির ডাউনলোড লিংক আমরা দিই নি। অন্য কেউ দিয়েছে কি না আমাদের জানা নেই।

প্রশ্নঃ 1436
আসসালামু আলাইকুম ভাই। আশা রাখি ভালো আছেন।ভাই, আমি আলহামদুলিল্লাহ্ নিয়মিত যখন সলাতে যাই তখন মসজিদে ঢোকার পুর্ন দোয়া পড়ে ঢুকি আবার যখন বের হই তখনও পড়তে পড়তে বের হই। এক্ষেত্রে আমি মসজিদের মুল ফটক ব্যবহার করি। কিন্তু আমার এক বন্ধু বলল মসজিদে ঢোকার ক্ষেত্রে নাকি যেখান থেকে পায়ের জুতা খোলা হয় সেখান থেকেই দোয়া পড়তে হবে। এখন আমাদের মসজিদে ঢোকার তিনটি স্তর প্রথমে জুতা খুলে তারপর বারান্দা তারপর মূল ফটক। এখন আমার প্রশ্ন আসলে কোন নিয়মটা বেস্ট। জাযাকাল্লাহ!
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। স্বাভাবিকভাবে মসজিদসমূহে জুতা খুলার স্থানের পর থেকেই নামাযের জায়গা শুরু হয়, তাই জুতা খুলার স্থান থেকেই দুআ পড়া ভাল বলে মনে হয়।

প্রশ্নঃ 1435
আস-সালামু আলাইকুম ১. কিছু দিন ধরে আমার মনের ভিতর রাসুল (সাঃ) সম্পর্কে খারাব ধারণার উদভব ঘটছে যা আমাকে আনেক কষ্ট দিচ্ছে আমি এগুলি মনে করতে চাইছিনা, আমি রব্বানা লা তুজি কুলুবানা পড়ছি কিন্তুু কোন ভাবেই আমার পিছন ছাড়ছেনা এখন কি করতে পারি?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রাসূলুল্লাহ সা. এর জীবনে তো এমন কিছু নেই, যার কারণে তার প্রতি খারাপ ধারণা করা যায়। কাফেররাও তো তাকে আল-আমীন উপাধী দিয়েছে। সুতরাং কেন আপনার মনে তাঁর সম্পর্কে খারাপ ধারণা আসছে তা বুঝতে পারছি না। আপনাকে বলি কোন বিষয়েই গভীর চিন্তাভাবনা করবেন না। সকল কাজে এবং কথায় স্বাভাবিকতা বজায় রাখুন। বেশী করে দুআ করুন। আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত নিররযীম বেশী বেশী পড়ুন। ইনশাআল্লাহ আপনি এই মানসিক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

প্রশ্নঃ 1434
Assala mu Alaikum. Ranna Korar age Bismillah Hirrahmanir Rahim na bolle oi ranna kora khaowar ki haram hobe?
06 Jan 2026

ওয়াআলাইকুমুস সালাম। না, রান্নার আগে বিসমিল্লাহ না বললে ঐ খাবার হারাম হবে না। তবে প্রতিটি কাজের শুরুতেই বিসমিল্লাহ বলা সুন্নাত।

প্রশ্নঃ 1433
আচ্ছালামু আলাইকুম, সুরা ওয়াকিয়া নিয়মিত আমল করলে অভাব তাকে স্পর্শ করবেনা এই কথাটার সত্যতা কতটুক? আর অভাব মোচন করার আমল কি?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই অর্থের একটি হাদীস বর্ণিত আছে। তবে হাদটি যয়ীফ। হাদীসটি হলো مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْوَاقِعَةِ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ لَمْ تُصِبْهُ فَاقَةٌ أَبَدًا যে ব্যক্তি প্রতি রাত্রে সূরা ওয়াকিয়া পড়তে অভাব তাকে স্পর্শ করতে পারবে না। শুয়াবুল ইমান, হাদীস নং ২২৬৯। তবে হাদীসটি যয়ীফ। দেখুন, সিলাসিলাতু যয়ীফা, হাদীস নং ২৮৯। অভাব মোচনের জন্য আপনি নিম্নের দুআ দুটি বিভিন্ন সময় পড়বেন। প্রথম দুআটি দু্ই সাজদার মাঝে পড়বেন। ১। اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى وَارْحَمْنِى وَاهْدِنِى وَعَافِنِى وَارْزُقْنِى সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭০২৫। رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ সূরা আল-বাকরা, আয়াত নং ২০১। আমরা আপনার জন্য দুআ করি অল্লাহ আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমান সম্মানজনক হালাল রিজিকের ব্যবস্থা করে দিন।

প্রশ্নঃ 1432
Assalamu alaikum namazer age jokhon takbir dawa hoi tokhon hat badha thakbe naki sara thakbe,jodi badha thake tahole kono problem ase ki? Ami Tafsir ibna kasir ar bangla onubad kinta chai, kon publisher ar ta valo hobe? previous question ar answear dawar jonno dhonnobad.Allah apnader uttom protidan dan korun.
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই সময় হাত রাখার বিশেষ কোন নিয়ম নেই। বাধা রাখলেও সমস্যা নেই, ছেড়ে রাখলেও সমস্যা নেই। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত তাফসীরে ইবনে কাসীর কিনবেন।

প্রশ্নঃ 1431
hujur ar ki kunu duar boi ase?thakle name ta bolben ar sylhet a book kuthay pabo.
06 Jan 2026

হ্যাঁ, আছে। নাম রাহে বেলায়াত বইটি পেতে যোগাযোগ করুন: 01730 74 70 01, 01791 66 66 63, 01791 66 66 64, 01791 66 66 65

প্রশ্নঃ 1430
আমার প্রশ্ন ছিল আমার উপার্জনের উপর। আমি বর্তমানে এখন একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে IT and Broadcast Engineer হিসেবে কর্মরত আছি। আমি জানতে চাই আমার পেশা কি হালাল? আনুগ্রহ করে আমার প্রস্নের উত্তর দিলে অনেক উপকৃত হব। আমি youtube থেকে ডঃ খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের অনেক লেকচার শুনেছি। উনার কাছথেকে শুনতে পারলে খুব ভাল লাগত কিন্তু আল্লাহতালা উনাকে নিয়ে গেছেন। আপনাদের কাছে সঠিক উত্তরটাই পাব আসা করি। ধন্যবাদ ।
06 Jan 2026

ভাই, টেলিভিশনের প্রায় পুরো অনুষ্ঠানই ইসলাম বহির্ভূত। তাই এক প্রশ্নের জবাবে স্যার রহ. বলেছিলেন টেলিভিশন বিক্রি করা জায়েজ নেই। সুতরাং আমার মনে হয় আপনার এই কাজের অর্থ হলো আপনি হারাম কাজে সহযোগিতা করছেন, যদিও আপনি সরাসরি হারামে জড়িত নয়। আপনার জন্য এই চাকুরী ত্যাগ করায় কল্যানকর বলে মনে হয়।

প্রশ্নঃ 1429
Assalamualaikum, jonab amader muslim society te akn dekha jay j biye walima ak shate hoy. Half payment thake bor er pokko theke r Half payment koner pokko theke. Ete jodi konnar pokker kunu apotthi na thake . Tahole ki walimar sunnot aday hobe . Jodi kosto kore janan tahole kub e upokrito hobo. Zazaka-Allahu-Khaira
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, একটি বিষয় লক্ষ্য করুন। ওয়ালিমা করবে ছেলের পরিবার। মেয়ের পরিবার নয়। এই ওয়ালিমা করার ক্ষেত্রে কেউ যদি তাদের আর্থিক সহায়তা করে তাহলে করতে পারে। স্বাভাবিক সহযোগিতার মত। এক্ষেত্রে মেয়ের পরিবার এবং অন্যান্য যে কোন মানুষ সমান। তবে প্রথা মানতে গিয়ে যদি মেয়ের পরিবার থেকে ছেলের পরিবার কিছু গ্রহন কর বা মেয়ের পরিবার দেয় তাহলে জায়েজ হবে না। কারণ এতে সমস্যা দুটি। এক. ইসলাম বিরোধী এই ধরনের প্রথা মানাকে ইসলাম সমর্থন করে না। দুই, অনেক সময় মেয়ের পরিবার অনিচ্ছা বা আর্থিক সচ্চলতা না থাকা সত্ত্বেও শুধু প্রথার কারণে দিতে বাধ্য হয়। এটা যৌতুকেরই একটা প্রকার। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। এক্ষেত্র মেয়ের পরিবারের কেউ থাকা না থাকা সমান।

প্রশ্নঃ 1428
আসসালামু ওয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমার প্রশ্নটা হলঃ আমার আম্মাকে আমি যখন আমার কোন ব্যরথতার কথা বলি বা পরিক্ষা দিতে রওনা দেই তখন তিনি আমাকে Òআল্লাহ ভরসাÓ বলে সান্তনা দিয়ে থাকেন বা দোয়া করেন। এটাকে যদি আমি দোয়া মনে করি এবং এ দোয়ার করনে আল্লাহ আমাকে সাহায্য করবেন বিশ্বাস করি তাহলে আমার কোন গোনাহ হবে কিনা? সান্তনা দেয়ার জন্য এর থেকে উত্তম কোন দোয়া থাকলে জানাবেন যা থেকে আমি ও আম্মা দুজনই উপকৃত হতে পারি। জাযাকাল্লাহ
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, এতে কোন গুনাহ হবে না। বরং প্রতিটি কাজেই মুসলিম আল্লহর উপর ভরসা করবে। পিতা-মাত সন্তানদের জন্য নিজ ভাষায় আবেগ নিয়ে আল্লাহ তায়ালার কাছে দুআ করবেন।

প্রশ্নঃ 1427
আসছালামু আলাইকুম ভাই বীতর নামাজে কুনুত পড়ার আগে কি রফুল ইয়াদাইন করতে হবে। এ সম্পর্কিত কি কোন হাদিস আছে থাকলে সনদ টা জানাবেন।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।তাকবীর দিয়ে কুনুত পড়ার বিষয়ে একটি হাদীসে বর্ণিত আছে, كَانَ عَبْدُ اللهِ لَا يَقْنُتُ إِلَّا فِي الْوِتْرِ، وَكَانَ يَقْنُتُ قَبْلَ الرُّكُوعِ، يُكَبِّرُ إِذَا فَرَغَ مِنْ قِرَاءَتِهِ حِينَ يَقْنُتُ অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. শুধু বিতরের সালাতেই কুনুত পড়তেন। আর তিনি রুকুর পূর্বে কুনুত পড়তেন। যখন কুরআন পড়া শেষ করতেন তখন তাকবীর দিয়ে কুনুত পড়তেন। শরহে মুশকিলিল আছার, হাদীস নং ৪৫০৪, ১১/৩৭৪। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাতে (হাদীস নং ৭০২১)ভিন্ন সনদে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে অনুরুপ বর্ণিত আছে। উভয় হাদীসের সনদে দূর্বলতা আছে। তবে দ্বিতীয় হাদীসটি প্রথম হাদীসের বক্তব্যকে সমর্থন করায় শায়খ শুয়াইব আর নাউত প্রথম হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। দেখুন: শরহে মুশকিলিল আছার, ১১/৩৭৪। এই হাদীসে আমরা দেখছি সাহবী ইবনে মাসউদ কুনুত পড়ার পূর্বে তাকবীর দিতেন। কুনুতের সময় উমার রা. হাত উঠাতেন বলে বর্ণিত আছে। হাদীসটি হলো, عَنْ أَبِى عُثْمَانَ قَالَ : صَلَّيْتُ خَلْفَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَرَأَ ثَمَانِينَ آيَةً مِنَ الْبَقَرَةِ ، وَقَنَتَ بَعْدَ الرُّكُوعِ ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى رَأَيْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهِ ، وَرَفَعَ صَوْتَهُ بِالدُّعَاءِ حَتَّى سَمِعَ مَنْ وَرَاءَ الْحَائِطِ অর্থ: আবী উসমান রহ. বলেন, আমি উমার রা. এর পিছনে নামায আদায় করলাম তিনি সূরা বাকারাহ থেকে আশিটি আয়াত তেলাওয়াত করলেন। তিনি রুকুর পরে কুনুত পড়লেন এবং তার দুহাত উত্তোলন করলেন এমন কি আমি তার বগলের সাদা অংশ দেখে ফেললাম। তিনি এতো উচ্চস্বরে দোয়া করলেন যে, দেয়ালের পিছনে যারা আছে তারাও শুনতে পেলো। আস-সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং৩২৭৪। একই হাদীস আরো দুটি সনদে তিনি উল্লেখ করেছেন। দেখুন ৩২৭৩ এবং ৩২৭৫ নং হাদীস। ৩২৭৫ নং হাদীসের পরে ইমাম বায়হাক্কী রহ. বলেছেন, وَهَذَا عَنْ عُمَرَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ صَحِيحٌ এটা উমার রা. থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত। উপরের হাদীসটি আরো বর্ণিত আছে মুসান্নিফে ইবনে আবি শায়বাতে। হাদীস নং ৭১১৪ এবং ৭১১৫। এই হাদীসটির সমস্ত বর্ণনাগুলো একত্র করলে দেখা যায় এটা ফজরের নামাযের ঘটনা। আর বিভিন্ন সনদে হাদীসটি বর্ণিত হওয়ায় হাদীসটি সহীহ কিংবা হাসান পর্যায়ের হবে। এই হাদীস থেকে বুঝা যায় দুআ কুনুত পড়ার সময় হাত উঠানো যায়। তবে হাত উঠিয়ে তিনি আমাদের দেশের মোনাজাত করার মত করতেন না কান পর্যন্ত উঠাতেন তা স্পষ্ট নয়। কোন কোন সাহবী থেকে বর্ণিত আছে যে, তারা মোনাজাতের মত করে হাত তুলতেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আমাদের দেয়া ১৬৭ ও ১১৭ নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 1426
আসসালামু আলাইকুম, আমি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩য় বর্ষে পড়ি । প্রায় ১ মাস হলো আমি দাড়ি রাখছি এবং নিয়ত করেছি যেকোনো অবস্থাতেই দাড়ি আর কাটবনা। কিন্তু দেশের সার্বিক পরিস্তিতির কারণে আমার বাবা-মা ভীষণ ভাবে আমাকে নির্দেশ দিয়েছে যে, আমাকে দাড়ি কাটতেই হবে। এবং এরজন্য তারা আমার সাথে কর্কশ ব্যবহার ও করছে। প্রথম অবস্থায় আমার বড় আপা রাজি ছিল, এমন পরিস্তিতির কারণে সেও এখন আমাকে দাড়ি কাটার জন্য বলছে। এককথায়, আমার পরিবারের বাবা-মা, ভাই-বোন কেউ আমার সাথে একমত না। আমি এখন ঢাকাতেই আছি। কিছু দিনের মধ্যে বাড়িতে যাবো। তখন হয়তো তারা আমাকে একপ্রকার বাধ্য করে ফেলবে দাড়ি কাটার জন্য। এখন আমি কি করতে পারি? নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকবো নাকি বাবা-মা এর সিদ্ধান্ত মেনে নেবো? এ বিষয়ে শরীয়তের সিদ্ধান্ত কি? দয়া করে একটু দ্রুত জানাবেন…
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বিভিন্ন জায়গায় বলেছেন, তিনি মূমিনদের পরীক্ষা নিবেন। সূরা বাকারা, আয়াত। দাড়ি রাখলে অনেক সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয় এটা ঠিক। এটাকে পরীক্ষার অংশ হিসেবেই মনে করা উচিৎ। আর মূমিনকে নিজের ঈমানের পরিচয় দিতে হলে এসব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতেই হবে। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,لاَ طَاعَةَ فِي مَعْصِيَةٍ إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِي الْمَعْرُوفِ. গুনাহের কাজে কারো আনুগত্য করা যাবে না, আনুগত্য হবে ভাল কাজের ক্ষেত্রে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭২৫৭। িদাড়ি কাটা একটি গুনাহের কাজ সুতরাং কারো খুশি করার জন্য দাড়ি কাটা যাবে না, মা-বাবাকে খুশি করার জন্যও না। কুরআনেও আল্লাহ তায়লা এই বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেছেন, وَإِن جَاهَدَاكَ عَلى أَن تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا যদি তারা (পিতা-মাতা) তোমাকে আমার সাথে কাওকে শরীক করার ব্যাপারে চাপাচাপি করে তাহলে তাদের আনুগত্য করবে না, তবে দুনিয়ায় তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করবে। সূরা লুকমান, আয়াত ১৫। আপনি আপনার পিতা-মাতাকে বিষয়টি বুঝান যে, প্রকৃত মুমিন হতে হলে এতটুকু ত্যগ স্বীকার করতেই হবে। দেশের আরো লক্ষ লক্ষ মানুষ দাড়ি রেখেছে। বিপদ-আপদ দূর করার মালিক আল্লাহ তায়ালা। দুআ করতে থাকুন। আমরাও আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনার এই সমস্যা দূর করে দেন।

প্রশ্নঃ 1425
নামাজে কি কোন জায়-নামাজের দোয়া আছে সনদ সহ জানাবেন। আর না থাকে এখানে কোন দোয়া পরলে সে টা কি বেদাত?
06 Jan 2026

জায়নামাযে দাড়ানোর সময় যে দুআটি প্রচলিত আছে সে দুআটি এসময় পড়ার কথা হাদীসে নেই। এবং বিশেষ কোন দুআ এসময় আছে বলে আমাদরে জানা নেই।

প্রশ্নঃ 1424
Assalamu alaikum wa rahmatullah. Shomosto Proshongsha Akmatro Mohan AllahSubhanataallaher.Taar Oshes Doya O Shanti Kamona Kori Islamer Shebay Ei Mohot Kormer Jonno.Islamer Ei Sheber Jonno Mohan Allah Aapnader Kobul Korun. Aamin. Q:- Namajer Aadayer Shomoy Jodi Navir Nich Theke Taknor Upor Porjonto Pant, Pajama Othoba Lunggi Dara Aabrito Thake Abong Shart,T-Shart Othoba Paanjabi Dara Navi Dhaka Thake Tahole Ki Namaz Shuddo Hobe? #Please Give me Answer.
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যা, নামায শুদ্ধ হবে। নাভী সহ হাটুর নিচ পর্যন্ত ঢাকা থাকলেই পুরুষের জন্য নামায সহীহ হবে। নারীর জন্য হাত মুখ ও পা বাদে পুরো শরীর ঢাকতে হবে।

প্রশ্নঃ 1423
আসসালামুয়ালাইকুম,প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি বড় প্রশ্ন করার জন্য। আমি এস্তেখারার ফলাফল নিয়ে সংশয়ে আছি। আমি রাহে বেলায়েত বই থেকে চাকরির ব্যাপারে এস্তেখারা করেছিলাম। আমি পড়াশুনা শেষ করে গভঃ চাকরির জন্য পড়াশুনা করছি আর বেসরকারি চাকরির চেষ্টা করছি। প্রথমে এক জায়গায় চাকরির জন্য চেষ্টা করলাম এবং সেখানে অনেক সিনিয়র পোষ্টের এক জনের রেফারেন্স ছিল এবং উনিও আমার ব্যাপারে যথেষ্ট আগ্রহী ছিলেন। মনে হচ্ছিল চাকরিটা হওয়া নিশ্চিত, তারপর আমি এস্তেখারা করলাম তার পর থেকে উনি হঠাৎ করে ওনার মোবাইল বন্ধ করে দিলেন প্রায় ২ সপ্তাহ। এর পর থেকে উনি ফোন দিলে ব্যস্ত আছি বলে এড়িয়ে যেতেন। আবার আরেকটা চাকরির ব্যাপারে এস্তেখারা করলাম তারপর সেই চাকরির জন্য এমন সব কন্ডিশন দিল যে নিজেই আর অগ্রসর হয়নি। এভাবে গত ৮ মাসে যে কয়টা চাকরির জন্য চেষ্ট করেছি সব কয়টার ক্ষেত্রেই এস্তেখারা করেছি এবং সবকয়টাই কোন না কোন ভাবে আমার হাত ছাড়া হয়েছে। এমনও হয়েছে যার রেফারেন্সে যাব সে নিজেই ওই কোম্পানি ছেড়ে অন্য কোম্পনিতে চলে গেছে। এখন আমার এস্তেখারার প্রতি ভীতি জন্মেছে, মনে হয় এস্তেখারা করলেই আমি আর চাকরি পাব না। দয়া করে আমাকে এর সমাধান দেন। আমি কি কোন ভূল করছি নাকি আদৌ ঐ চাকরিগুলো আমার জন্য ভালো ছিল না। আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুক। আমীন
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাকে একটি উত্তম কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেন। আমার মনে হয় উক্ত চাকুরীগুলো আপনার জন্য কল্যানকর ছিল না,তাই ইস্তেখারা করার কারণে উক্ত চাকুরীগুলো আপনার হয় নি। যাই হোক ভয় পাওয়ার কারণ নেই। দুআ করতে থাকুন এবং চেষ্টা করতে থাকুন, ইনশাআল্লাহ আপনি সফল হবেন।

প্রশ্নঃ 1422
ঝিনুক থেকে তৈরি চুন কি হালাল?
06 Jan 2026

জ্বি, হালাল।

প্রশ্নঃ 1421
ami govt job kori... job pabar age manot korechilam job pele rajarbagh dorbarshorif a 1st month er salary theke 8000 taka dibo. kintu ajo dewa hoye otheni. akhn amr ki koronio?
06 Jan 2026

আপনি উক্ত মান্নত করার দ্বারা চরম অপরাধ করেছেন। প্রথমত: রাজারবাগীরা কঠিন শিরক ও বিদআতে লিপ্ত। সুন্নাত অনুসারী আলেমগণ তাদের ভ্রষ্ট ও ভ্রষ্টতার প্রচার এবং প্রসারকারী হিসাবে বিবেচনা করে। তাদের সাথে কোন ধরনের সম্পর্ক রাখা জায়েজ হবে না। দ্বিতীয়ত: মান্নত আল্লাহ তায়ালার নামে করতে হয়। কোন দরবার বা মসজিদে নয়। কোন দরবারে বা মসজিদে বা অন্য কোথাও মান্নত করা সুস্পষ্ট শিরক। তৃতীয়ত: আপনার করা মান্নত নাজায়েজ হওয়ার কারণে আপনাকে মান্নত পূর্ণ করতে হবে না। চতুর্থত: আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া হিসাবে কিছু টাকা আপনি আল্লাহর রাস্তায় খরচ করতে পারেন। সেটা হতে পারে কোন মাদ্রসায় দান কিংবা কোন গরীব মানুষকে সদকা, মসজিদ বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে সহায়তা ইত্যাদি।

প্রশ্নঃ 1420
আসসালামু ওয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমার প্রশ্নটা হলঃ- আমি বিবাহের সময় রসূল (সঃ) এর কথা মত করার চেষ্টা করেছিলাম। তিনি বলেছেন প্রায় কাছাকাছি যে, সুন্দরী হতে হবে, সম্পদশালী হতে হবে, নতুবা দ্বীনদার হতে হবে, িএর মধ্যে আমি দ্বীনদার বেছে নিয়েছিলাম। এবং তাকে বিবাহ করেছিলাম। কিন্তু বিয়ের মাত্র দুই তিন মাসের মধ্যে আমার অবাধ্য হওয়া, পর্দা করতে আদেশ দিলে পর্দা তেমন করে না, আমার পিতা-মাতার খেদমত করতে চায় না। অতঃপর আমি তার বাপের বাড়ীতে খবর দিলে তারা আসতে চায় না। তারা বলে তোমরা মিলেমিশে থাক, আর না পারলে আমার মেয়েকে ঘাড় ধরে রাস্তায় বের করে দাও। আমি যদি আমার স্ত্রীকে তার বাপের বাড়ীতে রেখে আসতে চায় তবুও সে যেতে চায় না। তার বাপের বাড়ী থেকে তার মা, বাবা, ভাই, বোন ও দুলাভাই এসে বুঝিয়েছে যে তুমি তোমার স্বামীর কথা শোন। সে যেভাবে বলে তুমি তাই কর কিন্তু সে তাদের কথাও ব্রুখেপ করে না। পরবর্তীতে আমি আমার পৌরসভাতে বিচার দেই সমস্যা সমাধানের জন্য কিন্তু তার বাবা, মা কেউই এই বিচারে আসেনি। তাছাড়া আমি বারংবার চেষ্টা করেও তাকে ভাল করতে পারিনি। পরবর্তীতে আমি তাকে এক তালাক, দুই তালাক পর্যন্ত দেয়। তাকে দুই তালাক দেওয়ার পর আমি দ্বিতীয় বিবাহ করি। পরবর্তীতে সে যখন মামলা মোকদ্দমা করবে বলে হুমদি দেয় তখন আমি আমার বন্ধুর সাহায্যে নকল কোর্টথেকে তালাকের একটা ফটোকপি তাকে দিলে সে আমাকে বলে তুমি আমাকে একে বারে ছেড়ে দিও না, তুমি দ্বিতীয় বিবাহ করেছ তাকে নিয়ে থাক, মন চাইলে আমার এখানে আসবা ও মন চাইলে ভরণ পোষণ দিও না চাইলে দিতে হবে। ইত্যাদি। এখন প্রশ্ন হল ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক আমি কি কি করব, আর কি করব না? সে বিষয়ে জানালে খুবই উপকৃত হব।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনার প্রশ্নের একটি বিষয় অস্পষ্ট। সেটা হলো নকল কোর্ট থেকে তালাকের একটা ফটোকপি দ্বারা আপনি কী বুঝিয়েছেন? তালাক পতিত হতে হলে কোর্টের প্রয়োজন নেই। আপনি যদি উক্ত কাগজে তালাক দিয়েছেন মর্মে স্বাক্ষর করেন তাহলে তো তালাক হয়ে যাওয়ার কথা। তখন তো আপনার রাখার কোন সুযোগ থাকবে না। আর যদি তালাক না হয়ে থাকে তাহেল বিগত দিনের ভুলের জন্য তাকে ক্ষমা করে দিয়ে রেখে দেয়ায় আপনার জন্য কল্যানকর হবে বলে আমাদের মনে হয়। আল্লাহ আপনাকে এর উত্তম ্প্রতিদান দিবেন। আপনি বিষয়টি বিস্তারিত জানতে আমাদের আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের হাদীস বিভাগের প্রধান মুফতী জাকারিয়া বিন আব্দুল ওয়াহহাব হাফিজাহুল্লাহর সাথে কথা বলতে পারেন। তাঁর ফোন নং 01818529415

প্রশ্নঃ 1419
আসসালামু আলাইকুম। সহিহ মুসলিমে একটা দোয়া আছে। আল্লাহুমা আউযুবিকা মিন আল আযযি ওল কাছালি…(মুসলিম ২৭২২) আমার প্রশ্ন হলো দোয়াটা অনেক বড়, তাই আমি অর্ধেক মুখস্ত করেছি। আমি যখন দোয়াটার অর্ধেক সিজদা বা অন্য সময় পাঠ করি তখন কেন জানি মনে হয় দোয়াটা কবুল হচ্ছে না । অন্য দোয়া পাঠ করলে যেমন ঈমানের প্রশান্তি পাই এটাতে তেমন পাই না। মনে হয় অন্তর আরো কঠিন হয়ে যায়। এটা কি শয়তানের ওসওয়াসা নাকি অর্ধেক এভাবে পাঠ করা নিষেধ আছে। উল্লেখ্য অর্ধেক মুখস্ত করলেও অর্থের দিক দিয়ে সমস্সা নাই। আশা করি জানাবেন
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অর্ধেক পড়লেও কোন সমস্যা নেই। আপনি নিশ্চিন্তে পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 1418
আচ্ছালামু আলাইকুম, সফরে থাকলে কসরে বিতর পড়তে হবে কি?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীসে আছে রাসূলুল্লাহ সা. সফর অবস্থাতেও বিতর আদায় করতেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১০০০। সুতরাং সফরে বিতর আদায় করা্ উচিৎ। হাদীসটির মূল পাঠ হলো 1000- حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ : حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ بْنُ أَسْمَاءَ عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِي السَّفَرِ عَلَى رَاحِلَتِهِ حَيْثُ تَوَجَّهَتْ بِهِ يُومِئُ إِيمَاءً صَلاَةَ اللَّيْلِ إِلاَّ الْفَرَائِضَ وَيُوتِرُ عَلَى رَاحِلَتِهِ

প্রশ্নঃ 1417
কিছু ভাই বিশ্বাস করে আমাদের রাসুল(দঃ) নূরের তৈরি। আমাকে একটু পবিত্র কোরআন শরিফ এবং হাদিসের আলোকে এর ব্যাখ্যা দিলে ওই ভাইকে বুজাতে সুবিধা হত।
06 Jan 2026

যারা এমন বিশ্বাস করে তাদেরকে আপনি বুঝাতে পারবেন না। কারণ এই ভ্রান্ত বিশ্বাসের পক্ষে সাফাই গাওয়ার জন্য মানুষের অভাব নেই। বরং আপনি বলুন রাসূল সা. নূরের তৈরী কোথায় আছে? তারা আপনাকে দলীল দিবে। তবে আপনি মনে রাখবেন প্রতিটি দলীলই বানোয়াট হাদীস।

প্রশ্নঃ 1416
আসসালামু আলাইকুম। আমি একটি মেয়েকে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তিতে তার পরিবার আমাকে আমার পরিবারকে রাজি করানোর শর্ত দিয়েছে। আমার পরিবার রাজি হয়নি। ফলে বিয়ে করা সম্ভব হয়নি। আমার আব্বা আম্মা অন্য কয়েকটি দেখলেও বিভিন্ন কারণে বিয়ে সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় আমার হজ্জ্ব পালন করার মত পর্যাপ্ত টাকা আছে। ২০১৭ সালের হজ্জ্ব কার্যক্রম ডিসেম্বর/ জানুয়ারীতে শুরু হবে ইনশা আল্লাহ। বিয়ে করলে হজ্জ্ব করার টাকা নাও থাকতে পারে বা আমি আমার পরিবার থেকে প্রচণ্ড বাধা পাওয়ার আশঙ্কা করছি। এ অবস্থায় হজ্জ্ব কার্যকম শুরু হলে আমি কি আমার বাবা মা কে না জানিয়ে হজ্জ্বে যাওয়ার জন্য আবেদন করব যদি এ সময়ের মধ্যে আমার বিয়ে না হয়? আমার জিম্মায় কি হজ্জ্ব ফরজ হয়ে গেছে?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি যাই করবেন পিতা-মাতার সাথে আলোচনা করেই করবেন। হজ্জে যেতে চাইলে বাবা-মার সাথে আলোচনা করেই যান। আপনার যদি হজ্জে যাওয়ার মত পর্যাপ্ত অর্থ ও অন্যান্য বিষয়াদি থাকে তাহলে আপনার উপর হজ্জ ফরজ।

প্রশ্নঃ 1415
আমার একটা সমস্যা, আমি প্রায় ১ বছর যাবত একটি সমস্যা নিয়ে আছি, দরেন কোনো মানুষের শরীরে এমন এক রোগ হল যা দেখাতে অনেক ভয় লাগে আমার, তখন আমার মনে খালি একটাই চিন্তা আসে যদি এই রোগটি আমার হয় এইসব চিন্তা ভাবনা আসে, এর কারণে আমি ঠিক মতে লেখা পরা করতে পারি না, নামাজ পরতে পারি এবং সকল কাজে অমনোজুগিতা, আর আমার এমন একটা ভয় আসে সারাখন যদি আমার হয়, এর একটা সমাধান দেন এতে আমার অনেক উপকার হবে, আমি কি সয়তানের দুকায় পরছি নাকি? আর এছারা আমার মনে এমন চিন্তা ভাবনা আসে যা আমার অনেক খারাপ লাগে যা ইমান চলার পথে? এটা কতটুক সত্যা আমাকে বলেন? যাতে মহান আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করেন আমিন।
06 Jan 2026

ভাই, এগুলো শয়তানের ওয়াসওসা। আপনি এসব নিয়ে কোন চিন্তা করবেন না। নিচের দুআটি প্রতিদিন সকাল সন্ধায় ও অন্যান্য সময় পড়বেন। اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ. সহীহ বুখারীতে (হাদীস নং ২৮৯৩ ও ৬৩৬৯) উল্লেখ আছে রাসূলুল্লাহ সা. এই দুআটি খুব বেশী পড়তেন।

প্রশ্নঃ 1414
Assalamu alaikum wa rahmatullah. Shokal O Shondhay Sura Hashor Path Korar Hadis Ti Ki Sahih Or Joief?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। সুনানু তিরমিযী থেকে হাদীসটির মূল পাঠ হলো: 2922- حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ ، قَالَ : حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ طَهْمَانَ أَبُو العَلاَءِ الخَفَّافُ قَالَ : حَدَّثَنِي نَافِعُ بْنُ أَبِي نَافِعٍ ، عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبِحُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ : أَعُوذُ بِاللَّهِ السَّمِيعِ العَلِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ وَقَرَأَ ثَلاَثَ آيَاتٍ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الحَشْرِ وَكَّلَ اللَّهُ بِهِ سَبْعِينَ أَلْفَ مَلَكٍ يُصَلُّونَ عَلَيْهِ حَتَّى يُمْسِيَ ، وَإِنْ مَاتَ فِي ذَلِكَ اليَوْمِ مَاتَ شَهِيدًا ، وَمَنْ قَالَهَا حِينَ يُمْسِي كَانَ بِتِلْكَ الْمَنْزِلَةِ. هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ ، لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الوَجْهِ. সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং 2922; মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং 20321 ইমাম তিরমিযী হাদীসটি যয়ীফ হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। আর শায়খ শুয়াইব আরনাউত এবং শায়খ আলবানী রহিমাহুমুল্লাহ হাদীসটিকে যয়ীফ বলেছেন।

প্রশ্নঃ 1413
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রোজা রাখা যাবে কি?
06 Jan 2026

ঈদে মিলাদুন্নাবী বলতে শরীয়তে কিছু নেই। এটা পালন করা জঘন্য বিদআত। রাসূলুল্লাহ সা. এর জন্ম কোন তারিখে হয়েছিল তাও সঠিকভাবে জানা যায় না এবং জন্মদিন পালন করাকেও ইসলাম অনুমোদন করে না। সাহবীরা রাসূলুল্লাহ সা. এর এবং নিজেদের জন্মদিন পালন করেন নি। সুতরাং এ দিন উপলক্ষে রোজা রাখরে সওয়াব হবে না বিদআতের গুনাহ হতে পারে।

প্রশ্নঃ 1412
আসসালামু আলাইকুম। আমাদের মাসজিদের ইমাম সাহেব বললেন, রুকু ও সিজদার তাজবিহ মনে মনে পরতে হয়, কারো তাজবিহ যদি পাশের জনের কান পর্যন্ত যায় ত তার সালাত নষ্ট হয়ে যাবে। বেপারটা কি এতটাই কঠিন? আমিতো প্রায়ই পাশের মুসল্লির তাজবিহ কিছু কিছু শুনতে পাই! যাযাকুমুল্লাহ।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, ব্যাপারটি মোটেও এত কঠিন নয়। মনে মনে পড়তে গিয়ে অন্যের কানে যেতে পারে এটা খুবই স্বাভাবিক। তবে অন্য কারো সালাতে সমস্যা সৃষ্টি যেন না হয় সে বিষয়টিও খেয়াল রাখা উচিত। আর সালাত নষ্ট হওয়ার কোন বিষয় এখানে নেই।

প্রশ্নঃ 1411
আসসালামু আলাইকুম, আমি জানি যে ব্যাংকএর যে সুদের টাকা সেটা সোয়াবাদের আশা না করে গরিব-মিসকিন কে দিতে হবে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমি কি সোয়াবের আশা না করে এই সুদের টাকা কোন এতিমখানা বা মাদ্রাসায় দিতে পারবো?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।এতিমখানায় দিতে হবে এই বলে যে, এই টাকাগুলো এতিমদের খরচের জন্য ব্যয় করতে হবে। সাধারণ ফান্ডে দেয়া যাবে না। তদ্রুপ মাদ্রাসায় দেয়া যাবে এই শর্তে যে, এই টাকা গরীব ছাত্রদের জন্য খরচ করতে হবে, জেনারেল ফান্ডে নেয়া যাবে না।

প্রশ্নঃ 1410
আস সালামু আলাইকুম আমার প্রশ্ন হল, কোন কারনে ঈমাম খুব দ্রুত সালাত শেষ করার ফলে মুসল্লিরা তাশাহুদ পড়ার পর দূরুদে ঈবরাহীম পড়ে শেষ করতে পাড়েনি। এতে নামাযের কোন ক্ষতি হবে কি?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দরুদ পড়া ফরজ-ওয়াজিব কিছু নয়। সুতরাং কোন কারণে দরুদ না পড়লে নামাযের কোন ক্ষতি হবে না।

প্রশ্নঃ 1409
আমার প্রশ্ন হল, মাঝে মাঝে আমাদের বাস journey করতে হয় এবং অনেক সময় বিশেষ করে আসরের সময় বাস নামাজের বিরতির জন্য দাঁড়ায় না। সেক্ষেত্রে অজু না থাকলে বাসে কি করে সালাত পরতে হবে? আমার এক ভাই জানতে চেয়েছিল জানালার গ্লাসে তায়াম্মুম করা যাবে কিনা? আমি বলেছি scholar দের কাছে জেনে জানাব। তাই উত্তর টি আপনার কাছে জানতে চাই। যাযাকাল্লাহ।
06 Jan 2026

ভাই বর্তমানে পানি সংগ্রহ করা খুবই সহজ। যেমন আপনি বাসে ্ওঠার সময় ওজুর জন্য এক বোতল পানি নিয়ে উঠতে পারেন। যদি না নিয়ে উঠেন তাহলে বাসের হেলপার বা অন্য কাউকে বলবেন এক বোতল পানি কিনে নিয়ে আসতে। তায়াম্মুম তখন করা যায় যখন পানি পাওয়া অসম্ভব বা পানি ব্যবহার করা অসম্ভব। এক্ষেত্রে একটিও পাওয়া যাচ্ছে না। তবে যদি তায়াম্মুম করার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তাহলে বাসের জানালার গ্লাসের ধুলা দিয়েও তায়াম্মুম করা যাবে।

প্রশ্নঃ 1408
আস সালামু আলাইকুম ১। কাপড়ে নাপাকী লাগলে কমপক্ষে তিন ধোয়া এবং প্রতিবার ধোয়ার পর উত্তমরূপে নিংড়িয়ে নিতে হবে… এই ধরণের কথা কি ঠিক? (হাদিস দারা নাপাকী দূর করার সঠিক নিয়ম কি?) ২। (বিছানার) কাপড়ে নাপাকী (বীর্য,প্রসাব) শুঁকে গেলে, তার উপর বসলে বা ঘুমালে নিজের পরিধানকৃত কাপড় কি নাপাক হবে? (আর ওই পরিধানকৃত কাপড় দারা কি সালাত আদায় করা যাবে?) ৩। নাপাকী শুকনো কাপড়ের উপর বসা বা ঘুমনো সম্পর্কে ইসলামের বিধান কি? আশাকরি একটু বিস্তারিত বলবেন। জাজাকাল্লাহ
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নাপাকী কয়েক ধরনের। কিছু নাপাকির শরীর আছে। যেমন পায়খানা, রক্ত ইত্যাদি। এমন নাপাকী থেকে পবিত্রতা অর্জনের নিয়ম হলো নাপাকী দূর করতে হবে। সংখ্যা কোন বিবেচ্য নয়। আবার কিছু নাপাকি আছে যার কোন শরীর নেই এবং লাগলে বুঝা যায় না। যেমন, পেশাব, মদ ইত্যাদি। এগুলো থেকে পবিত্রতা অর্জনের নিয়ম হলো যতক্ষন প্রবল ধারণা না হবে যে, নাপাকী আর নেই ততক্ষ ধুতে হবে । তবে ফকীহগণ তিনবারের কথা বলেন কারণ তিনবার দ্বারা সাধারণত পবিত্র হয়ে যায়। নাপাকী শুকিয়ে গেলে তার উপর শুকনা কাপড়ে বসলে সমস্যা নেই, তবে ভিজা কাপড়ে বসলে কাপড় নাপাক হয়ে যাবে। সুতরাং নাপাকীর উপর ভিজা কাপড়ে বসলে বা ঘুমালে কাপড় নাপাক হওয়ার কারণে ঐ কাপড়ে সালাত হবে না তবে শুকনা কাপড়ে বসলে বা ঘুমালে সালাত আদায় করতে কোন অসুবিধা নেই। আশা করি আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন।

প্রশ্নঃ 1407
আমি কাজের দক্ষতা অর্জনের জন্য বেশির ভাগ সময়ই পাইরেসি এ-বুক এবং ভিডিও লেসন এর সহায়তা নিয়েছি। এখন আমার প্রশ্ন হলো, আমি যদি ঐ অর্জিত জ্ঞান দ্বারা কাজ করে উপার্জন করি; তাহলে আমার উপার্জিত অর্থ কি হারাম হিসেবে গণ্য হবে?
06 Jan 2026

না, হারাম হবে না।

প্রশ্নঃ 1406
১. সরকারী সঞ্চয় পত্র থেকে যে মুনাফা পাওয়া যায় ঐ টাকা দিয়ে কি আয়কর দেওয়া যাবে? ২. আমি আমার ব্যাংক একাউন্ট থেকে ১৬৮২ টাকা সুদ পেয়েছি এবং ব্যাংক আমার একাউন্ট থেকে ৭৪৭ টাকা কেটে নিয়েছে বিভিন্ন খরচ বাবদ। আমার এখন করণীয় কি?
06 Jan 2026

সরকারী সঞ্চয় পত্র কয়েক প্রকারের বলে আমরা জানতে পেরেছি। আপনি কী ধরনের সঞ্চয় পত্র ক্রয় করবন তা বিস্তারিত জানালে উত্তর দেয়া সহজ হবে। ২। আপনি ১৬৮২ টাকা গরীব মানুষকে সওয়াবের নিয়ত ছাড়া দিয়ে দিবেন। আর বিভিন্ন খরচ বাবদ যা কেটে নিয়েছে তা আপনার মূল টাকা থেকে দিতে হবে।

প্রশ্নঃ 1405
১. সরকারী সঞ্চয় পত্র ক্রয় করলে কিছটা আয়কর ছাড় পাওয়া যায়, এক্ষেত্রে আমি সরকারী সঞ্চয় পত্র ক্রয় করতে পারব কিনা? আর সরকারী সঞ্চয় পত্র থেকে যে মুনাফা পাওয়া যায় তা দিয়ে আয়কর প্রদান করতে পারব কিনা? অনুরুপ ভাবে ডিপিএস খুলে আয়কর ছাড় নেওয়া যাবে কিনা? ইসলামের দৃষ্টিতে জানালে উপকৃত হবো । ২. মনে করেন ০১/০৭/২০১৬ তারিখে আমার কাছে এক লাখ টাকা আছে, ৩০/০৬/২০১৭ তারিখে আমার কাছে হলো তিন লাখ টাকা। এখন আমাকে কত টাকার যাকাত দিতে হবে? এক লাখ টাকার না তিন লাখ টাকার?
06 Jan 2026

সরকারী সঞ্চয় পত্র কয়েক প্রকারের বলে আমরা জানতে পেরেছি। আপনি কী ধরনের সঞ্চয় পত্র ক্রয় করবন তা বিস্তারিত জানালে উত্তর দেয়া সহজ হবে। ২। আপনাকে তিন লাখ টাকার যাকাত দিতে হবে। নিসাব পূর্ণ হলে আপনার উপর যাকাত ফরজ হবে। আর এক বছর পর যখন যাকাত দিবেন তখন আপনার কাছে যত টাকা আছে পুরো টাকার যাকাত দিবেন।

প্রশ্নঃ 1404
আস সালামুআলাইকুম। একাকী ফরজ নামাজ পড়ার সময় যদি দেখি কিছু ভাই পরে এসে জামাত করে নামাজ পরতেছে, তাহলে কি আমি আমার নামাজ ছেড়ে দিয়ে তাদের সাথে জামাতে শরিক হতে পারব কি না? আর যদি পারি তাহলে আমার নামাজ ছেড়ে দেয়ার কোন পদ্ধতি আছে কি না? আশা করি উত্তর টি জানাবেন।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি আপনার সালাত শেষ করবেন। জামাতে শরীক হবেন না। অবশ্য মসজিদের মূল জামাত হলে সালাত ভেঙ্গে দিয়ে জামাতে শরীক হবেন।

প্রশ্নঃ 1403
আস-সালামুআলাইকুম। নামাজ কসর করার সময় আমি শুধু ফরজ নামাজ গুলো কসর করি। বাকি সুন্নত নামাজ গুলো পরি না, এখন এক্ষেত্রে ইসলামিক বিধান কি হবে? আমাকে কি সুন্নত নামাজ ও পড়তে হবে নাকি না পরলে ও চলবে? আশা করি দলিল সহকারে জানাবেন?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, যেখানে সফরের কষ্টের কথা চিন্তা করে শরীয়ত ফরজকে কমিয়ে অর্ধেক করে দিয়েছে সেখানে সুন্নাত না পড়লে সমস্যা হবে, এটা কী কোন যুক্তিযুক্ত কথা হলো? এর আবার দলীলও দরকার! সুন্নাত সালাত ফরজেরর পরিপূরক। আপনি সর্বাবস্থায় কমবেশী সুন্নাত-নফল সালাত আদায় করার চেষ্টা করবেন।

প্রশ্নঃ 1402
১/ ফজরের ফরয সালাতের পর কেউ বসে যিকির/কুরআন পড়লে পূণ হজ্জ ও পূণ ওমরার নেকী পাবে (তিরমিযী হাদীস/৯৭১)। আমি শহরে থাকি। শহরের মসজিদগুলো ফজরের সালাতের পর বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে আমি কি আমার ঘরে এই আমল করতে পারি? ২/ জামায়াতে ৩য়/৪থ রাকাতে শরীক হলে অন্য রাকাতগুলোতে কি অন্য সূরা মিলাতে হবে? এবং সুন্নাত সালাতে ৩য়/৪থ রাকাতে কি অন্য সূরা মিলাতে হবে? ৩/ রুকু থেকে উঠে এবং দুই সিজদার মাঝে আমাদের নবী দীঘক্ষণ দোয়া করতেন দোয়াগুলো কি কি দয়া করে জানাবেন?
05 Jan 2026

জ্বী, এসব আমল আপনি ঘরে বসে করতে পারেন। কোন সমস্যা নেই। ২। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর উঠে আপনি প্রথম দুরাকআতে সূরা ফাতিহার সাথে সূরা মেলাবেন। বাদবাকী রাকআতে শুধু সূরা ফাতিহা পড়বেন। সু্ন্নাত নামাযের সকল রাকআতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মেলাবেন। ৩। ভাই, এই বিষয়টি বিস্তারিত জানতে শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত রাহে বেলায়াত বইয়ের ৩৩৭-৩৮২ দেখুন।

প্রশ্নঃ 1401
Assalamu alaikum vai. amake sir ar rahebelayet boi tir download link diben please.
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নিচে ডাউনেলোড লিংকে দেয়া হলো। সমস্যা হলে আমাদের মূলওয়েবসাইটে গিয়ে বই এ ক্লিক করুন। এরপর সেখানে ফিকহ ও আমল ক্লিক করুন। এখানে কয়েকটি বইয়ের পর রাহে বেলায়াত পুরো বইয়ের ডাউনলোড অপশন পাবেন। https://assunnahtrust.org/wp-content/uploads/2014/10/Rahe-Belayet_1.pdf

প্রশ্নঃ 1400
আসসালামুয়ালাইকুম, হুজুর আমি এমন একটা বিষয়ে দ্বিধাদন্ধে পরেছি যে এটার জন্য আমার ঈমান নিয়ে সংশয় দেখা দিচ্ছে। আমি আল্লাহর কাছে যে বিষয় নিয়ে দোয়া করি সেটাই বৃথা যায়। যা কিছু পেতে চাই তা নিয়ে দোয়া করলে সেটা আর হয় না। মাঝখানে দোয়া করাই ছেড়ে দিয়েছিলাম কিন্তু রাহেবেলায়েত বই এ দেখলাম দোয়া করা পরিত্যাগ করা উচিত না। কিন্তু দোয়া করে লাভ কি? ধরুন সবাই কোন একটা চাকরির জন্য চেষ্টা করছে, চাকরি কার হবে? যে বেশি পরিশ্রম করেছে সেই, তাহলে এখানে দোয়ার ভূমিকা কি? আর যদি দোয়ার ভূমিকা থাকে তাহলে বিধর্মী কারো চাকরি হওয়ার কথা না। কারন তারা তো আল্লাহর কাছে দোয়া না করে অন্য কোথাও দোয়া করে, কিন্তু চাকরি তো সব ধর্মের পরিশ্রমি লোকেরাই পায়। আবার অনেক সময় শুনি ভাগ্যে যা আছে মানুষ তাই পায়, তাহলেও এখানে দোয়ার বিষয় আসছে না। এইসব কিছু আমার মনের ভিতড় দারুন যন্ত্রনা সৃষ্টি করে। অনুগ্রহ করে উত্তর দিবেন।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, পৃথিবী তার গতিতে চলবে। এখান আল্লাহ তায়ালা মুসলিম-অমুসলিম সকলকে রিযিক দান করবেন। মূল ফয়সালা হবে আখেরাতে। সুতরাং এখানে আল্লাহ মুসলিমকে রিযিক দেবেন আর অন্যদেরকে দেবেন না এটা ঠিক নয়। এমন হলে তো কিয়ামতে বিচারের দরকার ছিল না, বিচার দুনিয়াতেই হয়ে যাবে। এই পৃথিবীর ধন-সম্পদ আল্লাহ তায়ালার কাছে একটি মাছির ডানার পরিমান মূল্যেরও না।সুতরাং পৃথিবীকে তার গতিতে চলতে দিতে হবে। দ্বিতীয়ত আপনার দুআ সঙ্গে সঙ্গে কবুল হয়ে যাবে বিষয়টি এমন নয়। তবে দুআ কবুল হতে অনেক সময় সময় লাগে সুতরাং আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে। যেমনটি আল্লাহ তায়লা সূরা আসরে বলেছেন। দুআর ভুমিকা অবশ্যই আছে। তবে তার চেয়েও বেশী গুরুত্বপূর্ণ হলো ধৈর্য। আপনি ধৈর্য ধরুন একদিন ফল পাবেন। হতে পারে আজকের কষ্টের বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা আখেরাতে আপনার জন্য বিরাট পুরুস্কার রেখে দিয়েছেন। আল্লাহ তো কুরআন শরীফে বলেছেন, তিনি মুমিনদের ধণসম্পদ নষ্টকরার দ্বারা, ভয় দ্বারা এমনকি জীবনে নিয়ে নিয়েও পরীক্ষা নেন। সুতরাং ভাই অস্থির হবেন না, সবর করুন। একদিন আল্লাহ তায়ালা আপনাকে উত্তম প্রতিফল দিবেন ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্নঃ 1399
যাকাতের টাকা হিসাব করার সময় কি ডিপোজিটে যে টাকা জমা হচ্ছে তা ধরতে হবে? উদাহরণ স্বরুপ- প্রতিমাসে ৫০০০ টাকা ১০ বছর মেয়াদী ডিপোজিটে জমা রাখি যেটা শুরু করা হয়েছে জানুয়ারী ২০১৭ থেকে।
05 Jan 2026

হ্যাঁ, হিসাব করতে হবে। কেননা সে টাকার মালিক পুরোপুরিভাবে আপনি।

প্রশ্নঃ 1398
সালাতে সুরা ফাতিহা এর আগে কি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলা বাধ্যতামূলক (সকল রাকাতে)?
05 Jan 2026

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলা সুন্নত, না বললেও সালাত আদায় হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ 1397
আস সালামুআলাইকুম। সম্প্রতি আমি বাংলাদেশ ফিনেন্স Ministry অধীনে একটি NGO Social Development Foundation (SDF) এ IT তে একটি চাকরি পেয়েছি। আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন হল এই ধরনের NGO তে আমার চাকরি করা ইসলামিক কোন বিধি নিষেদ আছে কিনা? আমি অনেক আগে শুনেছিলাম NGO তে চাকরি করা বৈধ নই। উল্লেখ্য যে আমি বর্তমানে একটি private University – র IT তে কর্মরত আছি। এখানকার পরিবেশ টাও (ছেলে মেয়েদের ফ্রি মিক্সিং) খুব বেশি সুখকর নয়। এই ব্যাপারে আমাকে একটি সু-উপদেশ দিলে উপকৃত হব। https://www.sdfbd.org/ ওদের অফিচিয়াল সাইট উপরের লিঙ্ক এ ক্লিক করলে বিস্তারিত পাবেন।
05 Jan 2026

ওয়াআলাইকুমুস সালম। এই এন জি ও এর কাজ কী তা সংক্ষেপে জানালে ভাল হতো। যাই হোক সুদভিত্তিক অর্থনৈতিক লেনদেন করে এমন কোন এনজিও তে কোন ধরনের চাকুরী করা জায়েজ হবে না। তবে তারা যদি সমাজ উন্নয়নমূলক অন্য কোন কাজ করে তাহলে জায়েজ হবে। ছেলে-মেয়ে একসাথে থাকলে সেখানে চাকুরীও না জায়েজ তবে সুদভিত্তিক এনজিওদের চেয়ে সেখানেই ভাল। আপনি কোন সচ্ছ কর্মসংস্থানেরে খোঁজ করুন। আমরা আল্লাহর কাছে দুআ করি যেন তিনি আপনাকে একটি ভাল কর্মের ব্যবস্থা করে দেন।

প্রশ্নঃ 1396
আসসালামু আলাইকুম। ভুত বিষয়ক কল্প কথা শোনা, কি যায়েজ?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না-জায়েজ নয়। তবে অহেতুক সময় নষ্ট করা ঠিক নয়।

প্রশ্নঃ 1395
নিচের হাদিস টির সত্যতার ব্যপারে চাইঃ একদা রাসুলে পাক ( সা:) মৌমাছিকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কি ভাবে মধু তৈরী কর? মৌমাছি বিনয়ের স্বরে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ (সা:) আমি বাগানে গিয়ে হাজার রকমের ফুলের রস চুষে নেই। পেটের ভিতর একত্রিত ও মিশ্রিত করে বের করলে তা মধুতে পরিণত হয়। রাসুলে করীম (সা:) বললেন, অনেক ফুলের রস তো টক ও তিক্ত। কিন্তু সব মধু মিষ্টি হয় কেন? মৌমাছি উত্তরে বললো, গুপত চুঁ খানীমে বর আহমদ দরুদ, মী শুওয়াদ শীরীনে ওয়া তালখী রারে বৌদ। __অর্থ্যাৎ- আমাকে আল্লাহ তায়ালা কুদরতী ভাবে শিক্ষা দিয়েছে যে, বাগান থেকে ফুলের রস নিয়ে বাসায় আসার সময় যেন আপনার উপর দরুদ শরীফ পাঠ করি। আর ঐ দরুদ শরীফের বরকতেই মধু মিষ্টি হয় এবং এ মধু সকল রোগের শেফা হয়। __সুবহানাল্লাহ !!!!(মসনবী_শরীফ)
05 Jan 2026

দেখুন, মসনবী শরীফ কোন হাদীসের কিতাব নয়। সুতরাং মসনবীতে থাকা না থাকার কোন অর্থ নেই। এই ধরণের কোন হাদীস আছে বলে মনে হয় না। তারপরও যদি কেউ আরবী পাঠ দেন তাহলে খঁজে দেখা যেতে পারে।

প্রশ্নঃ 1394
আসসালামু আলাইকুম। আমার এক হিন্দু বন্ধু তার বিয়েতে আমাকে দাওয়াত দিয়েছেন। দাওয়াত রক্ষা করা না করা নিয়ে আমি সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছি। একজন মুসলিম কি একজন বিধর্মীর সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারেন? শরীয়ত কি বিধান জানায়? আমাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করুন দয়া করে। বিয়ের অনুষ্ঠান আগামী রবিবার। তাই আপনাদের দ্রুত সাহায্য কামনা করছি। আল্লাহ্ আপনাদের মঙ্গল করুন।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অনেক সময় আমাদরে দেশে হিন্দুদের বিয়েতে মুসলিমদের জন্য আলাদা খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করা হয়, এমন হলে কোন অসুবিধা নেই। এর বাইরে হিন্দুদের হাতে জবাই করা কোন পশুর গোশত খাওয়া মুসলিমের জন্য হালাল নয়। আলাদা ব্যবস্থা না থাকলে এই সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই এখানে যাওয়া যাবে না। তবে শুকনা খাবার খেতে কোন অসুবিধা নেই। সামাজিকতা রক্ষার জন্য হিন্দুদের বিয়েতে যেতে সমস্যা নেই। তবে খাবার যেন হালাল হয়।

প্রশ্নঃ 1393
ফরজ নামাজের পরে সম্মিলিত মুনাজাত?
05 Jan 2026

নামাযের পরে জামাতবদ্ধ মুনাজাত গত কয়েকশত বৎসর যাবৎ চালু হয়েছে। তাতে কোনো প্রকারের ফযীলত আছে বলে আমি জানতে পারি নি। রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবীগণের যুগে এইরূপ মুনাজাতের প্রচলন ছিল না বিধায় কোনো কোনো আলিম একে বিদআত বলেছেন। আমরা জানি যে, নামাযের পরে মুনাজাত করা ও মুনাজাতে হাত উঠানোর ফযীলত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। একাকী মুনাজাত করলে এই দুইটি ফযীলতই পলিত হয়। সমবেতভাবে মুনাজাত করার কোনো ফযীলত হাদীসে উল্লেখ করা হয় নি। এক্ষেত্রে আমাদের আশা হলো, একজন মুনাজাত করবেন এবং সমবেত সকলেই আমিন বলবেন, এতে হয়ত আল্লাহ সকলের আবেদনে মুনাজাতটি কবুল করবেন। এ জন্য অবশ্যই ইমামকে জোরে জোরে সবাইকে শুনিয়ে মুনাজাত করতে হবে। এতে মাসবূক মুসাল্লীদের নামায আদায় বিঘ্নিত যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। আর ইমাম যদি মনে মনে মুনাজাত করেন তবে তো কিছুই হলো না। ইমাম একাকী মুনাজাত করলেন। মুক্তাদিগণ কিছুই না করে হাত তুললেন ও নামালেন। পক্ষান্তরে একাকী মুনাজাত করলে নিজের মনের আবেগ ও প্রয়োজন অনুসারে মুনাজাত করা যায়। এতে মুনাজাতের ফযীলত ও মূল উদ্দেশ্য পুরোপুরি সাধিত হয়, কিন্তু কারো নামাযের ক্ষতি হয় না। এভাবে আমরা বুঝতে পারছি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাতই উত্তম। কিন্তু আমরা বিষয়টিকে উল্টে ফেলেছি। বিস্তারিত জানত দেখুন আমাদের দেয়া 29 নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 1392
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। ১. কর্ম ব্যস্ততার কারণে প্রতিদিন যোহেরের নামাযের প্রথম চার রাকাত সুন্নত পড়া হয় না, এ ক্ষেত্রে হুকুম কী? ২. রুমের মধ্যে দরজা লাগিয়ে নামায আদায় করার সময় যদি কেউ কয়েক বার ডাকা-ডাকি করে এ ক্ষেত্রে কি নামাযে মধ্যে তার ডাকের উত্তর দেয়া যাবে, না কি উত্তর দিলে নামায ভেঙে যাবে? ৩. মসজিদে ফরজ নামায আদায়ের কতক্ষণের মধ্যে ঘরে এসে সুন্নত আদায় করা যায়? ধন্যবাদ
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রাসূলুল্লাহ সা. জোহরের চার রাকআত সুন্নাত সালাত নিয়মিত আদায় করতেন বলে সহীহ হাদীসে আছে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৮২। যেসব সুন্নাত রাসূলুল্লাহ সা. নিয়মিত আদায় করতেন তা নিয়মিত ছেড়ে দেয়া মূমিনের জন্য উচিত নয়। ২। প্রয়োজনে উ্ত্তর নিতে হবে। তবে নামায ভেঙ্গ যাবে, পূনরায় নামায পড়তে হবে। ৩। এক্ষেত্রে কোন বাধা-ধরা নিয়ম নেই।

প্রশ্নঃ 1391
মুহতারামঃ আসসালামু আলাইকুম। আমাদের দেশে বিভিন্ন ওয়াজ মহাফিলে বক্তারা একে অন্যের (এক আলেম অন্য আলেমের) সমালোচনা করে থাকেন, যা মাঝে মাঝে খুবই আপত্তিকরও হয়। বিশেষ করে ড. জাকির নায়েক এই আক্রমনের শিকার বেশি হন (অথচ তিনি বাংলাদেশের কোন আলেম সম্পর্কে কক্ষনো কটু কথা বলেন বলেছে বলে যানা যায় না)। কোন বক্তা এই ধরনের বক্তব্য দিতে থাকলে সেই ওয়াজ মহাফিলে থাকা ঠিক হবে কি? নাকি তার ওয়াজ শুনলে গিবত/অপবাদ শুনার গুনাহ হবে? যাযাকুমুল্লাহ
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। শুধু ওয়াজ মাহফিলের বক্তা নয়, যারাই এমন কাজে লিপ্ত হবে তাদেরকে ত্যাগ করতে হবে। সম্ভব হলে সাধ্যমত প্রতিবাদও করবেন।

প্রশ্নঃ 1390
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবরের উপর খেজুরের ডাল পূতে ছিলেন কেন?
05 Jan 2026

রাসূলুল্লাহ সা. একবার দুটি কবরে ডাল পুতেছিলেন। কেন এমন করেছিলেন তা হাদীসেই আছে। তিনি বলেছেন, যতদিন ডাল দুটি ভিজা থাকবে ততদিন তাদের কবরের আযাব হবে না। আলআদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং ৭৩৫। হাদীসটিকে শায়খ আলবানী রাহ. সহীহে বলেছেন। তবে মনে রাখবেন রাসূলুল্লাহ সা. কোনভাবে জেনেছিলেন যে, ডাল পুতলে কবরের আজাব হবে না।আর অন্যদের জন্য জানার কোন সুযোগ নেই তাই ডাল পুতলে কবরের আযাব মাফ হবে এমন বিশ্বাস রাখা যাবে না।

প্রশ্নঃ 1389
আসসালামু আলাইকুম, আমার আব্বা ৭ মাস আগে মারা গিয়েছেন। আমার চাচারা তার চল্লিশা করার জন্য উদ্গ্রিব ছিল। বিভিন্ন কারনে তা পিছে যায়। এখন তারা এটা করতে চান। আমি জানি এটা বিদাআত এবং আমি ইহা চরমভাবে ঘৃনা করি। আমি তাদেরকে এই ব্যাপারে নসিহত করি নাই (এটা আমার পক্ষে একটু কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে)। এখন আমার প্রশ্ন হল, যেহেতু ৭ মাস পেরিয়ে গেসে তাই এটা কি আমি শুধুমাত্র মুসলিমদের খাওয়ানোর নিয়তে করতে পারি? আর এই চল্লিশা কোন পর্যায়ের পাপ আমাকে একটু জানাবেন।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, অনেক সময় সামাজিক অবস্থার কারণে আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়। আপনি যেমন পড়েছেন। আপনি যেহেতু জানেন যে, এটা বিদআত সুতরাং আপনি নিয়ত করবেন মানুষকে খাওয়ানো যেমনটি সহীহ হাদীসে মানুষকে খাওয়াতে বলা হয়েছে। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ১৮৮৫। আপনার পিতার জন্য মানুষকে খাওয়াচ্ছেন এমন নিয়তই করবেন না। আশা করি সমস্যা থেকে মুক্ত থাকবেন।

প্রশ্নঃ 1388
আপনাদের অফিসিয়াল যোগাযোগ নম্বরটা দয়া করে দেবেন। আপনাদের বইতে কত % কমিশন?
05 Jan 2026

আমাদের অফিসের নাম্বার হলো 01762629439। ৫০% এর মত।

প্রশ্নঃ 1387
১। কর্ম ব্যস্ততার কারনে যোহরের প্রথম ৪ রাকাত সুন্নত পড়া না গেলে (প্রতিদিন) এর হুকুম কি? ২। যখন দরজা লাগিয়ে রুমের ভিতর নামায আদায় করি, তখন কেউ যদি কয়েক বার ঢাকা ঢাকি করে নামাযের মধ্যে তার উত্তর দেয় যয়েজ হয় না কি? ৩। ফরজ নামায মসজিদে আদায় করে, কতক্ষনের মধ্যে ঘরে এসে সুন্নত আদায় করার বিধান রয়েছে?
05 Jan 2026

১। হাদীসে আছে, عَنْ عَائِشَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يَدَعُ أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْغَدَاةِ.হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সা. জোহরের পূর্বে ৪ রাকআত এবং ফজেরর পূর্বে দুই রাকআত ছাড়তেন না। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৮২। মুমিনের জন্য উচিত হলো সুন্নাতের অনুসরণ। সুতরাং নিয়মিত ছেড়ে দেয়া ঠিক হবে নয়। ২। প্রয়োজনে উত্তর দিতে হবে তবে নামাযের মধ্যে উত্তর দিলে নামায ভেঙ্গে যাবে। নতুন করে নামায শুরু করতে হবে। ৩। কোন বাধা-ধরা নিয়ম নেই। সুবিধামত আদায় করবেন।

প্রশ্নঃ 1386
আমি স্যারের সব গুলো বই কিনতে চাই কয়েক সেট বিভিন্ন ব্যক্তি ও মসজিদে দেওয়ার জন্য। ১ সেটের মূল্য কত পড়বে। জনালে কৃতজ্ঞ হব।
05 Jan 2026

ভাই, বর্তমানে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত বই নেই। কিছু দিনের ভিতর ছেপে আসবে ইনশাআল্লাহ। দাম পড়বে ২২০০ টাকার মত ।

প্রশ্নঃ 1385
Amader Bashai ekti amgaach achay jaytay mukul dhorechay. Kintu protibochori elekar dusto lokera bishesh koray neshakhor kichu lok eshay jor koray othoba na janiye am peray niye jai. Eta niye proti bochori amaderkay fetna fasaday joratay hoi. Emotabosthai, fetna fasad thekay mukti petay, mukulshoho ami gachti ketay feltay chachchi. Gachti kata jabaykina dolilsoho janalay khushi hobo.
05 Jan 2026

ভাই, দলীল কোথায় প্রয়োজন আর কোথায় প্রয়োজন না এটা কিন্তু জানতে হবে। ইবাদাতের ক্ষেত্রে দলীল প্রয়োজন আর অন্যান্য ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার দলীল প্রয়োজন। আপনি যে প্রশ্ন করেছেন সেটা ইবাদত নয়। সুতরাং এক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার দলীল প্রয়োজন। আর এক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার কোন দলীল নেই। সুতরাং গাছ কাটতে সমস্যা নেই। তবে গাছের মুকুল আসা মাত্রই তার আম বিক্রি করে দেয়া হাদীসে নিষেধাজ্ঞা আছে, এমনটি করা যাবে না। বুঝতে সমস্যা হলে 01734717299

প্রশ্নঃ 1384
আসসালামুআলাইকুম মুফতি সাহেব। আমি কয়েক দিন যাবত বড় একটা সমস্যায় আছি। পরিচিত বড় আলেম নাই বলে আমার সমস্যার সমাধান খুজে পাচ্ছি না। সমস্যা হলো আমাদের মসজিদের ইমাম কিছু কিছু সূরায় ভুল করে। তার মতো এত ভুল আমি অন্য কোনো ইমামের মাঝে পাইনি। একটা উদাহরন দেই:তিনি সূরা শামস এর শেষ আয়াতে বলেছিল ওয়ালা ইয়া খফুনা উক বা হা। (না) টা বাড়তি বলছে। তাকে অনেক ভুল ধরেছি, একটা ঠিক করলে আরেকটা বের হয়। তিনি আআসলে হাফেজ না। তাকে বলছি সূরা রিভিসন দেন। তিনি হয়তো দেন না আর নইলে তার মনে থাকে না। ঐদিন উপরোক্ত ষামস সূরার ভুল ধরে সব মুসল্লির সামনে অপমান করছি। যাতে শুধরাই। এরকম ইমামের পিছনে নামাজ পড়ার ইচ্ছা নাই। আমাদের পাশের গ্রামে মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে অনেকে বলে বাড়ির কাছের মসজিদ রেখে দুরের মসজিদে গেলে গুণাহ হবে। আবার কেউ বলে ইমামের নামাজ ভুল হলেও তোমার নামাজ হয়ে যাবে। অন্য মসজিদে গেলে খারাপ দেখা যায়। তো আমাদের মসজিদের ঐ ইমামের পিছনে বাধ্য হয়ে নামাজ পগতে হয়। নামাজ পপগা অবস্হায় শুধু সন্দেহ হয় যে এএর পপিছনে নামাজ হবে না। এখন আমি কি করি?একাকী নামাজ পড়া আমি পছন্দ করি না। এখন কি করব মুফতি সাহেব?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনার জন্য প্রথম কাজ হলো উক্ত ইমাম সাহেবের পড়া কোন ভাল আলেমকে শোনানো। তিনি যদি মনে করেন, এভাবে পড়লে নামায হয় না, তাহলে আপনি কৌশলে মুসল্লিদের বিষয়টি বুঝান। যদি সমাধান হয় তাহলে তো ভাল আর যদি না হয় তাহলে আপনি অন্য কোন মসজিদে নামায আদায় করুন। এতে আপনার কোন গুনাহ হবে না বরং যাওয়ায় অপরিহার্য। একাকী নামায পড়বেন না। অন্য মসজিদ দূল হলেও সেখানে যাবেন।

প্রশ্নঃ 1383
ইসলামে হালালা/হিল্লা বিয়ে করার বিধান কি আছে? যদি কেউ ফতুয়া দেয় হালালা/হিল্লা বিয়ে দেওয়ার জন্য এবং যার জন্য দেওয়া হয় এই দুজন এর জন্য ইসলাম এ কি কোন শাস্তির কথা বলা হয়েছে? যদি কোন বেক্তির স্ত্রী তাকে divorce পত্র পাঠানোর পর সে গ্রহন না করে। কিন্তু স্ত্রী যোগাযগ না রাখার কারনে স্বামী যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কোন লাভ হয় নি। যার ফলে দের বছর পর্যন্ত তাদের মাঝে যোগাযোগ বিছিন্ন থাকে। এখন স্ত্রী আবার সংসার করতে রাজি হয়েছে। এখন কি তারা সংসার করতে পারবে? যদি পারে তাহলে কি ভাবে? কোরয়ান ও হাদিসের দলিল দিয়ে জানালে উপক্রিত হব। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুক।
05 Jan 2026

হিল্লা বিয়ে বলতে ইসলামে কিছু নেই। সমাজে হিল্লা বিয়ে বলে যা চালু রয়েছে তা হারাম। এ সম্পর্কে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, لعن رسول الله صلى الله عليه و سلم المحل والمحلل له রাসূলুল্লাহ সা. হালালকারী এবং যার জন্য হালাল করা হয় তার উপর লানাত দিয়েছেন। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ১১২০। ইমাম তিরমিযীসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। যে ফতোয় দেয় সে তো অজ্ঞতার কারণে দেয়। না জেনে ফতোয়া দেয়া নিষেধ। ২। দেখুন, ডিভোর্স বা তালাক মেয়েরা দিতে পারে না। তালাক দেওয়র অধিকার একমাত্র পুরুষের। তবে পুরষ তথা স্বামী যদি স্ত্রীকে ডিভোর্স নেওয়ার অধিকার দিয়ে থাকে তাহলে মেয়েরা তালাক নিতে পারবে। যেভাবে তালাক নিবে সেভাবে তাদের উপর হুকুম আহকাম প্রয়োগ হবে। এক তালাক নিলে এক তালাকের হুকুম। বেশী নিলে সে হুকুম। বায়ান নিলে বায়ানের হুকুম আর রজয়ী নিলে তার হুকুম। কিভাবে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছে তা জানিয়ে লিখুন অথবা স্থানীয় কোন আলেমের নিকট হতে বিস্তারিত জেনে নিন।

প্রশ্নঃ 1382
40 diner chilla sommondhe jante chai. Hadis Quran aloke bolben In Sha Allah.
05 Jan 2026

৪০ দিন চিল্লা অর্থাৎ ৪০ দিনের জন্য বাড়ির বাইরে গিয়ে আল্লাহর পথে মানুষকে ডাকা তাবলীগ জামাতের একটি কর্মসূচী। যেমন, আমরা মাদ্রাসায় নিয়ম করেছি যে, ৩০ দিন পর ছাত্ররা ২দিন ছুটি পাবে। এখানে কুরআন-হাদীসের কী দরকার বুঝলাম না। তারা তো বলেন না যে, ৪০ দিনের কম হলে বা বেশী হলে গুনাহ হবে অথবা কুরআন হাদীসে ৪০ দিন যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এটা একটা সাংগঠনিক নিয়ম মাত্র। এমন নিয়ম অন্যান্য সকল সংঠনের আছে। যেমন দুই বছর পর পর সম্মেলন করা ইত্যাদি। আপনার যদি ইচ্ছা হয় এর চেয়ে বেশী দিনের জন্য যান, কেউ আপনাকে বাধা দিবে না। তবে যখন কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করা হয় তখন তার নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়, এটাই দুনিয়ার নিয়ম। সুতরাং এই নিয়ে অহেতুক গবেষণা নিষ্প্রয়োজন। আশা করি আপনার উত্তর পেয়েছেন।

প্রশ্নঃ 1381
আমাদের অফিসের মসজিদের জায়গা কম থাকার কারনে মাঝে মাঝে ইমামকে সামান্য একটু সামনে রেখে আমরা ইমামের সাথে কাতার সোজা করে দাঁড়াই। যাতে করে একটা নামাজের কাতার বেশি হওয়ার সুযোগ হয়। মাঝে মাঝে কিছু নামাজের ওয়াক্তে মুসল্লি কম হয়, অথবা দ্বিতীয় জামাতে মুসল্লির সংখ্যা কম হয়। কিন্তু তখন ও পিছনে যায়গা খালি রেখে ওই অল্প সংখ্যক মুসল্লি ইমামের সাথেই প্রায় একি কাতারে দাঁড়ায়। অথচ ইমাম কে সামনে রেখে পিছনের কাতারে মুসল্লি দাঁড়ালেও মুসল্লিদের পিছনে আরও এক কাতার হবে এমন যায়গা খালি থাকে। এখন আমার প্রশ্ন হল, পিছনে যায়গা খালি রেখে একি কাতারে ইমামের সাথে দাঁড়িয়ে নামাজ পরলে নামাজের কোন ক্ষতি হবে কি না? এই ব্যাপারে আপনাদের ইসলাম সম্মত মতামত আশা করছি। আস সালামু আলাইকুম।
05 Jan 2026

যদি জায়গা থাকে তাহলে ইমাম সাহেব সামনে দাঁড়াবেন।আপনি যেভাবে উল্লেখ করেছেন সেভাবে দাঁড়ালেও নামায হবে। তবে এটা উচিত নয়।

প্রশ্নঃ 1380
একটা প্রশ্ন ছিলো স্যার। নামাজের সঠিক নিয়ম কি। এবং তা সঠিক প্রমান হের সাথে প্রেশ করবেন। উত্তরটা জানাবেন…please
05 Jan 2026

আপনার এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য তো একটা বই লেখা দরকার।সংক্ষেপে আপনার প্রশ্নের উত্তর হলো, আমারা যেভাবে নাময পড়ি এটা সঠিক। একটা কথা মনে রাখবেন, নামাযের কোন কোন কাজের একাধিক পদ্ধতি সুন্নাহ দ্বারা প্রমানিত, সেসব কাজের বিষয়ে মতবিরোধে লিপ্ত হওয়া কাম্য নয়। যেমন, রাফয়ে ইয়াদাইন করা বা না করা। উভয়টিই সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত। ভাই, নামাযের নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে জানার থাকলে লিখবেন।

প্রশ্নঃ 1379
এস্তেন্জা করার সঠিক পদ্ধতি কি? আমার অনেক সময় লাগে। মনে সন্দেহ দূর হতে চায় না।
05 Jan 2026

যাদের মনে সন্দেহ থাকে তাদের জন্য ইস্তেনযা করার সঠিক পদ্ধতি হলো ইস্তেনযা করে পানি ব্যবহার করে কাজ শেষ করা। আর কিছু করা লাগবে না, মনে যায় আসুক। কিছু ভাবা যাবে না। ভাবলেই সন্দেহ আসবে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 1378
আসসালামুয়ালাইকুম। এক পীর সাহেবের অনুসারী তার বয়ানে জিকির করতে করতে লাফা লাফি করার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে একটি হাদিস পেশ করলেন, যার সারমর্ম এই যে রাসুল্লাল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আয়েশার (রা) ঘরে ছিলেন, কিন্তু যখন আযান হল তখন তার চেহারা পরিবর্তিত হয়ে গেল, তিনি কাওকে চিনতে পারছিলেন না, এমনকি আয়েশাকেও না, তিনি বললেন আয়েশা কে? যখন বলা হল, বিনতু আবি বকর, তিনি (সঃ) বললেন আবু বকর কে? যখন বলা হল, বিন আবু কুহাফা, তিনি বললেন আবু কুহাফা কে? … ইত্যাদি ইত্যাদি। ভিডিও লিঙ্কঃ https://www.youtube.com/watch?v=oy84l5SQ23k এখানে উল্লেখ্য যে আমি একটি হাদিস পরেছিলাম যেখানে আযান শুনার পর রাসুল্লাল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চেহারা পরিবর্তিত হওয়ার কথা ছিল কাওকে না চিনার কথা ছিল না। এ ব্যপারে সহিহ হাদিসটি জানতে চাই, এবং লিঙ্ক এর ভিডিওটিতে যে হাদিস বয়ান করা হয়েছে তার সত্যতা জানতে চাই, যাযাকুমুল্লাহ।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন: সুয়াইদ ইবনে গাফলাহ. বলেন,


كان النبي صلى الله عليه و سلم إذا سمع الأذان كأنه لا يعرف أحدا من الناس নবী সা. যখন আযান শুনতেন তখন তার এমন অবস্থা হত যেন তিনি কাউকে চিনতেন না। সিলসিলাতুদ যয়ীফাহ, হাদীস নং ৫৯৬৫।হাদীসটি মুরসাল, অর্থাৎ তাবেয়ী সরাসরি রাসূল সা. থেকে বর্ণনা করেছেন, সাহাবীর নাম উল্লেখ নেই। এছাড়াও হাদীসটির একজন বর্ণনাকারী যয়ীফ। হযরত আয়েশা রা. থেকেও এমন হাদীস বর্ণিত আছে। তবে সেই হাদীসটিতেও সমস্যা আছে। বিস্তারিত দেখুন, সিলসিলাতুদ যয়ীফাহ, হাদীস নং ৫৯৬৫। যাই হোক হাদীসে শুধু এতটুকুই বর্ণিত আছে। এর বাইরে যা যা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট। তবে উক্ত বক্ত এটা বানান নি বলে মনে হয়। কারণ অনেক আগে থেকেই বহু বক্তা সনদ বিহীন এই জাল গল্পটি প্রচার করেন। এটা এমনই এক বানোয়াট গল্প যে, কোন জাল বানোয়াট হাদীসের কিতাবেও নেই। উক্ত যয়ীফ বা মুনকার হাদীসে যেটা আসে সেটা হলো আযান শুনলে বা নামাযের সময় হলে এমন অবস্থা হত যে রাসূল যেন কাউকে চিনতেন না। হাদীসে যেন শব্দটি উল্লেখ আছে। যেন চিনতেন না আর চিনতেন না কিন্তু এক নয়। আরেকটি বিষয় হাদীসটি যদি সত্য হয় তাহলে আযান শুনে তিনি কাউকে চিনতেন না। এমন নয় যে, কোন আউলিয়ার গল্প শুনে চিনতেন না। আরো একটি বিষয়, হাদীসে শুধু ঐ না চেনা পর্যন্তই, লাফালাফি-ঝাপাঝা িপ তো অনেক দূরের কথা। ইসলামকে ও রাসূলকে সবচেয়ে বেশী ভালবাসতেন সাহাবীরা, আমাদের এমন ভাবা উচিত নয় যে, আমরা তাদের চেয়েও এশকের সাগরে বেশী হাবুডুবু খাচ্ছি। আশা করি আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন।

প্রশ্নঃ 1377
আমাদের সমাজে দেখা যায় মেয়েরা বিয়ের দিন পার্লারে সাজগুজ করে বেগানা পুরুষের সামনেই থাকে যদিও সে অন্যসময় পর্দা করে। আর সেদিন নামাজও পরেনা। এইটা কি ঠিক?
05 Jan 2026

পর্দা ও নামায সব সময় ফরজ। বিয়ের দিনে বাদে অন্যান্য দিন ফরজ এরকম নয়। সুতরাং বিয়ের দিন হোক বা অন্য দিন হোক পর্দা ও নামায ফরজ। ফরজ বিধান ছাড়লে কবিরা গুনাহ হয়।

প্রশ্নঃ 1376
আস সালামু আলাইকুুম প্রশ্ন ১: আমার বাবা গত শুক্রবার খুতবা শোনা অবস্থায় মসজিদে ইন্তেকাল করেছেন ৷ এতে কি তিনি কোনোপ্রকার উপকৃত হবেন? প্রশ্ন ২: সন্তান হিসেবে তার জন্য আমরা কী কী এবং কীভাবে করতে পারি যাতে তিনি পরকালে উপকৃত হন?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নেক আমলরত অবস্থায় মারা যাওয়া নি:সন্দেহে ভাল। এর চেয়ে বেশীকিছু আমাদের না বলা উচিৎ। আল্লাহ ভাল জানেন। ২। মানুষ নেক সন্তান রেখে গেলে সন্তানের সওয়াবের একটি অংশ তিনি এমনিতেই পান। নিচের হাদীসটি দেখুন: عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلاَّ مِنْ ثَلاَثَةٍ إِلاَّ مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ আবু হুরায়রা রা. বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যখন মানুষ মারা যায় তখন তার সকল আমল বন্ধ হয়ে যায় তবে তিনটি আমল ব্যাতিত। ১. সদাকায়ে জারিয়া, ২. এমন ইলম যার মাধ্যমে মানুষ উপকার পায়, ৩. সৎ ছেলে যে তার জন্য দুআ করে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৩১০। সুতরাং আপনাদের উচিৎ ইসলামের বিধিবিধান অনুযায়ী চলা, যত বেশী সম্ভব ভাল কাজ করা এবং দুআ করা। । এছাড়া কয়েকটি হাদীসে পিতা-মাতার জন্য রাসূলুল্লাহ সা. দান-সদকা করতে বলেছেন। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা.বলেন, ، أَنَّ رَجُلاً قَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أُمِّي افْتُلِتَتْ نَفْسَهَا وَأُرَاهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ أَفَأَتَصَدَّقُ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ تَصَدَّقْ عَنْهَا একজন লোক নবী সা. কে বললেন, আমার আম্মা মারা গেছেন। আমি ধারণা করছি যদি তিনি কথা বলতে পারতেন তাহলে দান সাদকা করতেন। আমি কি তার জন্য দান করবো? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, হ্যাঁ, তাঁর জন্য দান করো। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৬০। অন্য আরেকটি হাদীসে আছে, أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُم ، أَخَا بَنِي سَاعِدَةَ تُوُفِّيَتْ أُمُّهُ وَهْوَ غَائِبٌ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ أُمِّي تُوُفِّيَتْ وَأَنَا غَائِبٌ عَنْهَا فَهَلْ يَنْفَعُهَا شَيْءٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ بِهِ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ قَالَ فَإِنِّي أُشْهِدُكَ أَنَّ حَائِطِي الْمِخْرَافَ صَدَقَةٌ عَلَيْهَا সাদ ইবনে উবাদা রা. এর অনুপস্থিতিতে তাঁর আম্মা মারা গেলেন। তিনি নবী সা. এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার অনুপস্থিতিতে আমার আম্মা মারা গিয়েছেন, যদি আমি তার জন্য কোন কিছু সাদকা করি তাহলে কি তা তাঁর কোন উপকারে আসবে? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, তাহলে আমি আপনাকে সাক্ষী করে বলছি, মিখরাফের আমার বড় খেজুর বাগানটি তার জন্য দান করে দিলাম। সহীহ বুখারী,হাদীস নং ১৭৬২। জামে তিরমিযী, হাদীস নং৩৬৫০। তিরমিযীতে হাদীসটি একটু বিস্তারিত বর্ণিত আছে। সুতরাং সন্তানদের উচিৎ পিতা-মাতার জন্য নেক আমল করা, দুআ করা, দান-সদকা করা, পিতা-মাতার বন্ধু ও আত্নীয়দের সাথে ভাল ব্যবহার করা ইত্যাদি।

প্রশ্নঃ 1375
Magriber Azaner somoy light on kora Islam e halal or haram? Thanks
05 Jan 2026

মাগরিবের নামাযের সময় এবং যে কোন সমসয় লাইট জ্বালানো বা নেভানো জায়েজ। কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 1374
আসসালামুআলাইকুম। আমার কিছু আত্মীয় সুদী কারবারে জড়িত। তারা যখন বাসায় কোনো খাবার নিয়ে আসেন, আমি এবং আমার বোন সেই খাবার না খাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তারা জানে না আমরা এসব খাবার খাই না। তারা প্রায়ই আমাদের জন্য প্রচুর খাবার নিয়ে আসেন। অবস্থা এমন যে তাদেরকে আমাদের পক্ষে নিষেধ করা সম্ভব না। এই খাবারগুলো পরবর্তীতে নষ্ট হয়। আমার প্রশ্ন হচ্ছে এক্ষেত্রে কোনটা উত্তম তাদের আনা খাবার খাওয়া নাকি খাবার নষ্ট করা?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এক্ষেত্রে আপনার প্রথম করণীয় কৌশলে তাদেরকে সুদ থেকে বিরত থাকতে বলা। সুদের গুনাহের ভয়াবহতা তাদেরকে বোঝানো। সরাসরি সম্ভব না হলে যেভাবে সম্ভব সেভাবে। আর তাদের খাবার আপনি গরীব মানুষদেরকে তাদের অগোচরে দিয়ে দিবেন। আপনারা খাবেন না আবার নষ্টও করবেন না। আশা করি সমাধান পেয়েছেন।

প্রশ্নঃ 1373
kon hadith er man kemon, sohih, hasan, joif etc amon kono apps ase ki. or aigulo kothai pabo.
05 Jan 2026

কোন হাদীসের মান কেমন তা জানতে হলে অবশ্যই আরবী ভাষা জানা থাকতে হবে। আরবী ভাষা না জানলে এটা সম্ভব নয়। বর্তমানে অধিকাংশ হাদীসের সহীহ যয়ীফ নির্ণয় করা হয়ে গেছে। আরবী ভাষা জানলে আপনি এসব কিতাব দেখে জানতে পারবেন। হাদীসের মান জানতে ইন্টারনেটেরও সহায়তা নেয়া যায়। তবে এখানেও আরবী ভাষা শর্ত। অন্যান্য ভাষায় এই কাজ খুব কমই হয়েছে। আরো জানতে চাইলে 01734717299

প্রশ্নঃ 1372
ইসলামে কি এমন কোন নিয়ম আছে? পুর্ব, পশ্চিম, উত্তর বা দক্ষিন যে কোন এক মুখি করে ঘড় তুলতে হবে? বা কোন মুখি ঘড়ে বরকত বেশি? হাদিস বা কুরআনে কি এমন কোন দিকের কথা উল্লেখ আছে? থাকলে জানাবেন এবং না থাকলে ও জানাবেন? আমিন
05 Jan 2026

আমার জানা মতে এমন কোন নির্দেশনা নেই।

প্রশ্নঃ 1371
জায়নামাযের দোয়া ছাড়া কী নামায হবে?
05 Jan 2026

জায়নামাযের কোন দুআ নেই, তাই জায়নামাযের দুআ ছাড়া নামায হওয়া না হওয়ার কোন প্রশ্ন নেই। আমাদের দেশে জায়নামাযের দুআ নামে কুরআনের যে আয়াতটি পড়া হয় ঐ দুআটি জায়নামাযের দুআ মর্মে কোন হাদীস নেই।

প্রশ্নঃ 1370
আসসালামুআলাইকুম । আমার একটি বেক্তিগত প্রশ্ন হল– স্বামী এবং স্ত্রী কাপড়ের উপর দিয়ে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ভাবে যদি উভয়ের লজ্জাস্থান মিলিত করে তাহলে কি তাদের উপর গোসল ফরজ হবে? আশা করি উত্তর টি জানাবেন।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অধিকাংশ আলেমের মতে কাপড়ের উপর দিয়ে যদি সহবাস করে আর লিঙ্গের উপরিভাগ প্রবেশ করে তাহলে গোসল ফরজ। কোন কোন আলেম বলেছেন ফরজ নয়। আবার আরেকদল আলেম বলেছেন, যদি এভাবে স্বাদ পাই তাহলে গোসল ফরজ হবে অন্যথায় নয়। তবে তারা বলেন, গোসল করায় সতর্কতা।ইমাম নববী রহ. বলেন,ولو لف علي ذكره حرقة وأولجه بحيث غابت الحشفة ولم ينزل ففيه ثلاثة أوجه حكاها الماوردى والشاشي في كتابيه والروياني وصاحب البيان وغيرهم الصحيح وجوب الغسل عليهما وبه قطع الجمهور لان الاحكام متعلقة بالايلاج وقد حصل (والثاني) لا يجب الغسل ولا الوضوء لانه أولج في خرقة ولم يلمس بشرة وصححه الروياني قال وهو اختيار الحناطى (الثالث) ان كانت الخرقة غليظة تمنع اللذة لم يجب وان كانت رقيقة لا تمنعها وجب যদি ব্যক্তি তার লিঙ্গের সাতে কাপড় জড়ায় এবং তা প্রবেশ করায় এভবে যে, লিঙ্গের অগ্রভাব ভিতরে প্রবেশ করে কিন্তু বীর্জপাত হয় না সেক্ষেত্রে কী হুকুম তা নিয়ে তিনটি মতামত আছে। ..১। পুরুষ-মহিলা উভয়ের উপর গোসল ফরজ হবে, অধিকাংশ আলেম এটাই বলেছেন আর এটাই সহীহ ও সঠিক কথা। ২। গোসল ফরজ হবে না। ৩। যদি কাপড়টি মোটা হয় যা সহবাসের স্বাদ গ্রহনে বাধা দেয় তাহলে গোসল ফরজ হবে না আর যদি পাতলা হয়, সহবাসের স্বাদ গ্রহনে প্রতিবন্ধক না হয় তাহলে ফরজ হবে। আলমাজমুউ শারহুল মুহাজ্জাব, ২/১৩৪। হানাফী ফকীহ ইবনে নুজাইম রহ. বলেন, وَلَوْ لَفَّ على ذَكَرِهِ خِرْقَةً وَأَوْلَجَ ولم يُنْزِلْ قال بَعْضُهُمْ يَجِبُ الْغُسْلُ لِأَنَّهُ يُسَمَّى مُولِجًا وقال بَعْضُهُمْ لَا يَجِبُ وَالْأَصَحُّ إنْ كانت الْخِرْقَةُ رَقِيقَةً بِحَيْثُ يَجِدُ حَرَارَةَ الْفَرْجِ وَاللَّذَّةَ وَجَبَ الْغُسْلُ وَإِلَّا فَلَا وَالْأَحْوَطُ وُجُوبُ الْغُسْلِ في الْوَجْهَيْنِ যদি কেউ তার লিঙ্গে কাপড় জড়ায় এবং (মহিলার যৈানাঙ্গে) প্রবেশ করায় আর বীর্জপাত না হয় তাহলে একদল আলেম বলেছেন, গোসল ওয়াজিব হবে, আরেকদল বলেছেন, ওয়াজিব হবে না। তবে সঠিক কথা হলো, যদি কাপড়টি চিকন হয় আর সে সহবাসের স্বাদ পায় তাহলে গোসল ওয়াজিব হবে, অন্যথায় হবে না। তবে সতর্কতা হলো উভয় অবস্থাতেই (কাপড় মোটা হোক চিকন হোক, সহবাসের স্বাদ পাক বা না পাক) গোসল করা। বাহরুর রায়েক ১/৬৩ মোটকথা অধিকাংশ আলেমের মতে ফরজ। যারা ফরজ বলেন না তারাও বলেন যে, গোসল করার ভিতরেই সতর্কতা। আল্লাহ ভাল জানেন। আরো জানতে দেখুন, মারকাজুল ফাতাওয়া (ইন্টারনেট, অরবী), ফাতাওয়া নং ১৫২১৬১।

প্রশ্নঃ 1369
আমি গার্মেন্টস এ হিসাব রক্ষক হিসেবে চাকুরী করি। এতে আমাকে সুদ ঘুষ এর হিসাব রাখতে হয়। আমার এ চাকুরী ক্ষেত্র প্রাপ্ত বেতন কি হালাল হবে? কারন আমার জানা মতে সুদ ঘুষ এর সাথে জড়িত সবাই সমান অপরাধী (দাতা, গ্রহীতা, এবং যে সাক্ষী থাকে)। আমার মনে হচ্ছে আমি এখানে সাক্ষী রুপে আছি। দয়া করে হাদিস এর ব্যাখ্যা দিয়ে জানালে উপকৃত হবো। আমার এক বন্ধুর বউ মা হতে পারবে না। সে কি কোন ভাবে বাচ্ছা দত্তক নিতে পারবে? যদি নিতে পারে তাহলে ওর কি করনীয়? আমি অনেক লোকজন কে ইসলাম এর বিভিন্ন হারাম নিয়ে বললে তারা রেগে যায়। যেমন (জর্দা, সিগারেট) খাওয়া হারাম। এ ক্ষেত্রে আমার কি করনীয়? উত্তর দেওয়ার জন্য আল্লাহ আপনাকে জাযাকাল্লাহু খাইরান জাযাকাল্লাহু খাইরান দান করুক।
05 Jan 2026

ভাই, আপনার চাকুরী সম্পর্কে ইতিপূর্বে পরামর্শ দিয়েছে। সংক্ষেপে বলব, আপনি দ্রুত অন্য কোন সচ্ছ আয়ের উৎস বের করুন। আপনি সুদের সাথে যুক্ত না থাকলেও সাক্ষী ও লেখক হিসেবে গুনাহগার হয়ে যাচ্ছেন। দত্তক বলতে এখন যা বোঝানো হয় তা ইসলামসম্মত নয়। অর্থাৎ সন্তান দত্তক নিলে তা নিজের সন্তানের মত মনে করা যাবে না। ঐ সন্তান তার থেকে মিরাছ পায় না। সন্তান ছেলে হলে বড় হলে দত্তক নেয়া মায়ের সাথে পর্দা করতে হবে। তেমনি মেয়ে হলে দত্তক নেয়া বাবার সাথে পর্দা করতে হবে। তবে কোন অসহায় বাচ্চাকে তারা লালন-পালন করতে পারবে এবং মাতৃ-পিতৃ স্নেহে তাকে বড় করতে পারবে। তাদের জন্য সম্পদের ওসীয়ত করে যাবে। ্এগুলো ইসলামে জায়েজ। মোট কথা আপনার বন্ধু কোন বাচ্চাকে লালন-পালন করতে পারবে এবং তাকে বাড়ি-ঘর, জমি-জাতি দিতে পারবে কিন্তু তার থেকে পর্দা করতে হবে। নিজের বাচ্চার মত মারা যাওয়ার পর ঐসন্তান মিরাছ পাবে না কিন্তু আপনার বন্ধু ঐ সন্তানের জন্য ওসিয়ত করে গেলে তার এক তৃতীয়াংশ সম্পদ থেকে ওসিয়ত পূরণ করতে হবে। মানুষকে কৌশলের সাথে ইসলামের নিষিদ্ধ বস্তুগুলো থেকে বিরত থাকতে বলতে হবে। তারা রেগে যায় এমনভাবে কোন কিছু বলতে হয় না। আল্লাহ তায়ালা কুরআন শরীফে বলেছেন, ادْعُ إِلِى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِতুমি কৌশলের সাথে এবং ভাল কথা বলে মানুষকে তোমার রবের পথে আহ্ববান করো। সূরা, নাহল, আয়াত ১২৫। সুতরাং আপনা করণীয় হলো, এমনভাবে বুঝিযে বলবেন যে, তারা অপনার কথা না শুনলেও রাগ যেন না করে।

প্রশ্নঃ 1368
আচ্ছালামু আলাইকুম, বিপদে পড়ে কেহ যদি আল্লাহর উয়াস্তে গরু মানত করেন তাহা হলে ঐ গরুর মাংস মানত কারি খাইতে পারবে কি। এবং ধনী মানুষ খাইতে পারবে কি?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মানতের মাংষ মানতকারী এবং ধনীরা খেতে পারবে না। শুধু গরীবরা খাবে।

প্রশ্নঃ 1367
বাচ্চাদেরকে কাঁধে নিতে পারবো কিনা? আমাকে একজন বলছে যে কাঁধে ফেরেশতা থাকে। তাই কাঁধে বাচ্চা নেওয়া যাবে না। এই নিয়ে হাদিস বা কোরআনের কোন নির্দেশ আছে কিনা বা বাচ্চাদেরকে কাঁধে নিতে কোন নিষেধ আছে কিনা?
05 Jan 2026

বাচ্চাদের কাঁধে নিতে কোন সমস্যা নেই। যিনি একথা বলেছেন তিনি তার মস্তিস্কপ্রসূত কথা বলেছেন।

প্রশ্নঃ 1366
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। কেমন আছেন ভাই? আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমি আমার ছোট ভাই টিকে নামাজ পড়ার জন্য আমার সাথে মসজিদে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি কিন্তু আমার বাবা মা এতে অনেকটা বাধা প্রদান করে … এর ফলে ছোট ভাইটি যেতে আর ইচ্ছুক হয়না … ভাইটার বয়স হচ্ছে ১০ বছর ….. … বাবা মা ও কিছু বলে না …. আমি আর তাকে বলিনা… এমতবস্তায় কি আমার কাজটি কি গুনাহের পর্যায়ে পড়বে …
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি আপনার পিতা-মাতাকে বুঝাতে চেষ্টা করুন যে, ১০ বছর বয়সেই শিশুদের নামাযের জন্য চাপ দিতে রাসূলুল্লাহ সা. আদেশ দিয়েছেন। আপনার ছোট ভাইকেও নামাযের গুরুত্ব বুঝাতে চেষ্টা করুন। ছেড়ে দেবেন কেন, চেষ্টা করতে থাকুন।

প্রশ্নঃ 1365
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার প্রশ্ন হল, মহিলাদের কি ওরস মাহফিলে যাওয়া জায়েজ আছে? ফরিদপুরের ওরস মাহফিল।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বর্তমানে নারী-পুরুষ কারো জন্যই কোন ওরস মাহফিলে যাওয়া জায়েজ নেই। ওরস মাহফিলগুলো বর্তমানে শিরকের আস্তানা। এখান মানুষ সেখানে যাই জীবিত বা মৃত পীরের কাছে বিভিন্ন সমস্যর সমাধান চাওয়ার জন্য, এটা শিরক।

প্রশ্নঃ 1363
আসসালামু আলাইকুন, হযরত আমি জানতে চাচ্ছি ফজরের পর মাকরুহ ওয়াক্ত কত সময়?১০ মিনিট না ২৩ মিনিট। দয়া করে জানাবেন।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعَتَيْنِ وَعَنْ لِبْسَتَيْنِ وَعَنْ صَلاَتَيْنِ نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْفَجْرِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَبَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَعَنِ اشْتِمَالِ الصَّمَّاءِ وَعَنْ الاِحْتِبَاءِ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ يُفْضِي بِفَرْجِهِ إِلَى السَّمَاءِ وَعَنِ الْمُنَابَذَةِ وَالْمُلاَمَسَةِ অর্থ: আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. দুই সময় সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। ফজরের সালাতের পর যতক্ষন না সূর্য উদিত হয়…। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৮৪। অর্থাৎ সূর্য পুরোপুরি ওঠার পর সালাত আদায় করা যাবে, মাকরুহ হবে না। এ বিষয়ে আমি আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের হাদীস বিভাগের প্রধান মুফতী জাকারিয়া বিন আব্দুল ওয়াহহাব হাফিজাহুল্লাহ বলেছেন, সূর্য পুরোপুরি ওঠার পর নামায পড়া যাবে। পুরোপুরি উঠতে ২৩ মিনিট সময় লাগে না, আরো কম সময় লাগে। আসা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 1364
আসসালামুলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ, আমার এক পরিচিত লোক ৬ মাস বয়সী ১ টা মেয়ে বাচ্চা কিনে এনেছে । মেয়েটার বাবা জন্মের আগে বা জন্মের কয়েক দিনের মধ্যেই মারা গেছে । মেয়েটার মা এখনো জীবিত আছে কিনা আল্লাহ জানে। কোন যোগাযোগ নাই। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছেঃ ১) পিতৃহিন কোন শিশুকে যখন কোন ধনীলোক লালন পালন করতে আনে তখনো কি সে এয়াতিম থাকে? ২) বড় হলে এই শিশুকে কি বলে দিতে হবে তাকে পালতে আনা হয়েছিলো? নাকি গোপন রাখলে সমস্যা নেই। ৩) পালতে আনা বাবা মার কারণে যদি এই সন্তান উতশৃঙ্খল বা খারাপ হয় এর জন্য শুধু এই পালতে আনা বাবা মা ই দায়ী থাকবে নাকি জন্ম দাতা পিতা মাতাও দায়ী থাকবে?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। হ্যাঁ, সে এতিম থাকে। পালক পিতা থেকে সে ওয়ারিস হবে না। তবে পালক পিতা চাইলে তার জন্য ওসিয়ত করে যেতে পারে। ২। গোঁপন রাখাই ভাল, এতে বাচ্চাটির মনোবল চাঙ্গা থাকে। ৩। যার জন্য উচ্ছৃঙ্খল হবে সে দায়ী থাকবে।

প্রশ্নঃ 1362
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আশা করি পরম করুণাময় আল্লাহ্ সুবহানু তায়ালার অশেষ রহমতে ভালো আছেন। স্যার, আমার ২টা প্রশ্ন। ১। আমার এক বন্ধুর আর্থিক সমস্যা চলছে। ওর কিছু টাকার প্রয়োজন। আমি সাধারণত রমজানে যাকাত দিয়ে থাকি। আমার কাছে কিছু নেসাব পরিমান টাকা আছে এবং আশা করছি ইংশায়াল্লাহ আগামী বছর রমজান পর্যন্ত থাকবে। আমি চাচ্ছি ওর বর্তমান অসুবিধার কারনে একটা রাউন্ড ফিগার হিসাব করে যাকাতের নিয়াতে ওকে যাকাত দিতে পারব কিনা? পরবর্তিতে যদি এর চেয়ে বেশি হলে বাকিটা পুর্ন করে দেবো। এটা কি করা যাবে? ২। ইমাম সাহেব ছালাত পড়ানোর সময় সূরা ফাতেহার পর মিনিমাম কয়টা আয়াত পড়া আবশ্যক? যেমন একদা এশার ছলাতে উনি প্রথম রাকায়াতে সূরা বাকারার ২৮৪ ও ২৮৫ নং আয়াত পড়লেন তারপর দ্বিতীয় রাকায়াতে ২৮৬ নং আয়াত পড়লেন। এতে কোন সমস্যা আছে কিনা। ইমাম সাহেবকে এই প্রশ্নের উত্তরে বলল যে আয়াত যদি ছোট সূরার কয়েকটা আয়াতের মত হয় তাহলে এক সেই এক আয়াত দিয়েই পড়া যাবে কোন অসুবিধে হবে না। আল্লাহ্ সুবহানুতায়ালা আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমিন।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।


১। জ্বী, আপনি এখন যাকাত দিতে পারবেন। বছর পূর্ণ হওয়ার আগেও যাকাত দেয়া যায়। বছর শেষে আরো কিছু টাকা জমা হলো সে টাকার যাকাত দিয়ে দিবেন।

২। ইমাম সাহেবের বক্তব্য সঠিক। একটি বড় আয়াত পড়লেই হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ 1361
আকীকা দেওয়ার বিধান ও নিয়ম জানতে চাই ।
05 Jan 2026

শিশু জন্মের সপ্তম দিনে আকীকা করা সুন্নাত। ছেলে শিশুর জন্য দুটি ছোট পশু (ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি) এবং মেয়ে শিশুর জন্য একটি ছোট পশু আকীকা করবেন। অবশ্য হাদীসে ছেলে শিশুর জন্য একটা দিলেও চলবে বলে উল্লেখ আছে। গরু বা বড় পশু দিয়ে রাসূলুল্লাহ সা. বা সাহাবীরা আকীকা দিয়েছেন বলে জানা যায় না।

প্রশ্নঃ 1360
আসসামুঅলাইকুম, আলহামদুলিল্লাহ আপনাদের প্রশ্নপর্বে খুব উপকার পাচ্ছি, আমার আজকের প্রশ্ন: আমি পূর্বের অফিস (Private co. Ltd) থেকে চাকরি ছাড়ার সময় কিছু স্টেশনারী (২/৩টা কস টেপ, ১টা সুতার বান) সেখানকার দ্বায়িত্বরত ব্যক্তির অনুমতিতে নিয়ে এসেছিলাম, ঐ দ্বায়িত্বরত ব্যক্তি উর্দ্ধাতন কারোর অনুমতি নিয়েছিল কিনা বা তিনি নিজের তত্ববধানে আমাকে দিয়েছিলো কিনা সেটা জানিনা । এটাতে কোন পাপ হবে? পাপ হলে এখন কি করনিও আছে? এছাড়াও আমার পড়াশুনার জন্য আমি সেখানথেকে মাঝে মাঝে কলম, কিছু পেপার, পিন ব্যবহার করতাম, এখন সে সব কাজের জন্য খারাপ লাগে মনে হয় ভুল হয়েগেছে এখন কি করতে পারি?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি ঐ অফিস থেকে যে সব জিনিসপত্র নিয়ে এসেছেন বা ব্যবহার করেছেন তার একটি আনুমানিক মূল্য নির্ধারন করুন। এরপর যতটাকা হয় তা ঐ অফিসে দিয়ে আসুন। এতে আপনি দায়মুক্ত হয়ে যাবেন এবং আত্নিক প্রশান্তি অনুভব করবেন।

প্রশ্নঃ 1359
I want to buy some authentic islamic books for my 6 years age son. can u help me? pls give answere.
05 Jan 2026

আপনি আবু তাহের মিসবাহ হাফিজাহুল্লাহ লিখিত, শিশুদের জন্য "শিশু সিরিজ" সংগ্রহ করতে পারেন। যেখানে বিভিন্ন বিষয়ে ১০টি বই আছে।

প্রশ্নঃ 1358
মুহতারামঃ আসসালামু আলাইকুম।আমার প্রশ্ন হলঃ ছোট পাত্রে হাত ঢুকিয়ে পানি নিয়ে ওযু করা যাবে কিনা? নাকি একবার পাত্রে হাত ঢুকালে পানি ঝুটা হয়ে যাবে? যাযাকাল্লাহ।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাত পবিত্র থাকলে ছোট পাত্রে হাত ঢুকিয়ে পানি নিয়ে ওযু করা যাবে, কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 1357
আসসালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্ন হচ্ছে ইশরাকের নামাযের সঠিক সময় কোনটি, সূর্যদোয়ের 12 মিনিট পর না 23 মিনিট পর। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য কিতাবে আমি দুই রকমের সময় পেয়েছি। সঠিক উত্তরটি দলিল সহকারে জানালে কৃতজ্ঞ থাকব। আমার ও আমর পরিবারের জন্য এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعَتَيْنِ وَعَنْ لِبْسَتَيْنِ وَعَنْ صَلاَتَيْنِ نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْفَجْرِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَبَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَعَنِ اشْتِمَالِ الصَّمَّاءِ وَعَنْ الاِحْتِبَاءِ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ يُفْضِي بِفَرْجِهِ إِلَى السَّمَاءِ وَعَنِ الْمُنَابَذَةِ وَالْمُلاَمَسَةِ অর্থ: আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. দুই সময় সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। ফজরের সালাতের পর যতক্ষন না সূর্য উদিত হয়…। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৮৪। অর্থাৎ সূর্য পুরোপুরি ওঠার পর সালাত আদায় করা যাবে, মাকরুহ হবে না। এ বিষয়ে আমি আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের হাদীস বিভাগের প্রধান মুফতী জাকারিয়া বিন আব্দুল ওয়াহহাব হাফিজাহুল্লাহ বলেছেন, সূর্য পুরোপুরি ওঠার পর নামায পড়া যাবে। পুরোপুরি উঠতে ২৩ মিনিট সময় লাগে না, আরো কম সময় লাগে। আসা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 1356
আস্সালামু আলাইকুম, ভাই আমার প্রশ্ন হলো আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব উচ্চ স্বরে যিকির করেন এবং মুসল্লিরাও তার সাথে সাথে সম্মিলিতভাবে যিকির করেন। যেমন:1. লা ইলাহা ইল্লালাহ্ 2. ইল্লালাহ্ই ল্লালাহ্ 3. আল্লাহু আল্লাহ্ 4.লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ এভাবে সম্মিলিতভাবে উচ্চ স্বরে যিকির করা ইসলামে যায়েজ কি না?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জায়েজ, তবে সুন্নাত হলো একা একা নিম্নস্বরে জিকির করা।

প্রশ্নঃ 1355
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। ১৩৫৬ নং প্রশ্ন তে বলা হয়েছে যে গার্মেন্টস এ কাজ পাওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গ্রাহক কে ঘুষ দিতে হয়। যার হিসাব আমাকে রাখতে হয় যেহেতু আমি হিসাব রক্ষক হিসেবে কাজ করছি। এবং এই প্রতিষ্ঠান টি যদি bank এর lone ধারা গঠিত হয়, তা হলে এখানে কাজ করে যে বেতন পাচ্ছি তা কি হালাল হবে? কারন আমার জানা অনুযায়ী সুদ বা ঘুষ এর এর সাথে জড়িত সকল বেক্তি সমান অপরাধি। অর্থাৎ সুদ ( গ্রহিতা, দাতা, এবং যে সাক্ষী থাকে)। আমার সন্দেহ হচ্ছে আমি আমার চাকুরী তে সাক্ষী রুপে আছি কিনা? তাই দয়া করে হাদিস এর উদাহরণ সহ জানালে উপকৃত হব। (১) হারাম জানার পরেও বাবা মা যদি বলে চাকুরী টা কর। তখন কি করার? জাযাকাল্লাহু খইরান।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার কাজ অবশ্যই হারাম কাজে সহযোগিতা তাই আপনার উচিত অন্য একটি সচ্ছ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা । যতদিন না হয় ততদিন এই প্রতিষ্ঠানে থাকতে পারেন। লোন নিয়ে কোম্পানি করলে সেখানে কাজ করা হারাম নয়। নিশ্চিত হারামা জানার পরে পিতা-মাতার অনুরোধেও সেই কাজ করা যাবে না।

প্রশ্নঃ 1354
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। কেমন আছেন ভাই? আমার মেজো ভাই প্রায় ৩-৪ বছর হয়েছে বিয়ে করেছে। তারা একে অপরকে আগে থেকেই পছন্দ করতো। ভাই একটি সরকারি চাকুরি করতো কিন্তু পরবর্তীতে বেতনের অবহেলার কারণে চাকুরিটা ছেড়ে দেয়। অর্থাৎ সে তখন বেকার। তখনি-ই বিয়েটা পারিবারিক ভাবেই হয়েছে। বাবা মোহরানা ৪ লক্ষ টাকা ধার্য করেছে এবং তা থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকার উপহারসামগ্রী মেয়েকে দিয়েছে। বাকি থাকলো তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা। যা এখনোও পরিশোধ করা হয় নি। কিন্তু মোহরানা ধার্য করার আগেই ভাই বাবাকে ১ লক্ষ টাকা ধার্য করতে বলেছিল। কিন্তু বাবা একমত হলেও মোহরানা ধার্যের সময় মেয়ে পক্ষের বাবা বেশি ডিম্যান্ড করার কারণে বাবা হয়তো বিষয়টা বুজতে না পেরে এই রকম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। বাবা খুব-ই নরম মনের মানুষ। ভাই এই বিষয়টা নিয়ে বাবার সাথে মন খারাপ করেছে। আমি তখন ইসলাম সম্পর্কে জানতে শুরু করেছিলাম। তাই বিয়ের বিধি-বিধান সম্পর্কে এতটা আমিও জানতাম না। তাও, আমার স্বল্প জ্ঞান দিয়ে তাদের বুঝানোর চেষ্টা করেছি। যাই হোক, আমরা যৌথ পরিবারে থাকি। যেখানে পর্দার বিষয়ে ভাবীরা সচেতন নয়। স্বাভাবিক ভাবেই কিছু দিন হাসি-খুশি সংসার হলেও, কিছু দিন পর ভাই ভাবীর মাঝে রাগ, অভিমান, জঘরার সৃষ্টি হয়। ভাবীও অনেক সময় রাগ করে মারাত্মকভাবে নিজেই নিজের ক্ষতি করতে চায়। ব্লেড দিয়ে হাত ও কাটে। ভাইও সে সময় বেকারত্ব জীবন কাটাচ্ছিল। এমতাবস্থায় তারোও মন খারাপ থাকতো বিধায় স্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভালো মতন কথা-বার্তাও বলতো না। এইরকম অবস্থা চলাকালীন সময়ে একদিন ভাবী একটি চিঠি লিখে বাসা থেকে না বলে তাদের বাসায় চলে যায়। এইরকম অবস্থা ভাই, ছোটবেলায় সিনেমা-নাটকে দেখতাম। আর এইবার বাস্তবে নিজ পরিবারে দেখলাম। খুব-ই দুঃখ লাগছে এই বিষয়গুলা দেখে। আমার বাবা-চাচারা ভাবীকে আনতে গেলে তারা বলেঃ- ছেলে কোন চাকরি পেলে ২ বছর পড়ে মেয়েকে দিবে। অনেক দিন যাবার পর মেয়ের বাবা আবার বলে, ছেলে, মেয়েকে নিয়ে থাকতে চাইলে, মেয়ের বাবার নিজস্ব একটা বাসা আছে সেইখানে থাকতে হবে, ছেলের পরিবারের সাথে থাকতে তারা দিবেই না। বিষয়টা আমার পরিবার, ভাইকে আর জানাই নি। কারন সে তা মানবে না বরং আরো রাগ করবে। ২ বছর তো হয়ে গেলো, ভাই অনেকবার বলছে, ভাবীর সাথে অন্য কোন ছেলের সাথে রিলেশন চলছে। মানুষও ভাবীকে অন্য ছেলের সাথে দেখেছে। কথাগুলার সত্যতা কতটুকু তা আমি জানি না। এমতাবস্থায়, এইসব জানার পর আমার ভাই ও পরিবার, এই সম্পর্ক রাখতে চাচ্ছে না। কিন্তু, বাকি যে ৩,৫০,০০০ টাকা মোহরানা যা এখনো পরিশোধ করা হয় নি, তা আমার বাবার জন্য দেয়া খুব-ই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর ভাই তো মাত্র নতুন একটা চাকরী পেয়েছে। তার পক্ষেও এত টাকা দেওয়া সম্ভব না। এখন আমার পরিবারের কি করা উচিত? মানুষ বলে, এমনেই চুপ করে বসে থাকো, তাদের প্রয়োজনে এমনিতেই সরে যাবে। কিন্তু আমি এই কথাটার সাপোর্ট করি না। আমি সবার ছোট ছেলে, আমার কথার মূল্যায়ন হয়তো সবাই দেয় না। আল্লাহ্ আমায় মাফ করুন। তাই আমি চাই, আপনি ভাই কুরআন-হাদিস অনুসারে সমাধান দেন। জাযাকাল্লাহু খাইরান। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ভাল রাখুন। এই ধরণের বিয়েতে এমন ঘটনা খুবই স্বাভাবিক। এখন যদি আপনার ভাই তাকে তালাক দেয় কিংবা তারা তালাকি নিয়ে নেয় তবুও মোহরানার টাকা আপনার ভাইকে দিতেই হবে। এটা শরয়ী আইন। তবে মেয়ে যদি তালাক নিয়ে নেয় আর মোহরানার টাকা ক্ষমা করে দেয় তা হলে আপনাদের টাকা দেয়া লাগবে না। আমার মনে হয় কিছুদিন অপেক্ষা করা ভাল, মেয়ে যদি না আসতে চাই তাহলে তারা মোহরানার দাবী ছেড়ে দিয়ে মেয়েকে তালাক নিয়ে নেবে। মনে রাখতে হবে বিয়ে হয়ে গেলে মোহরানা দেয়া বাধ্যতামূলক। তবে মেয়ে যদি মাপ করে দেয় তাহলে মাপ হয়ে যায়।

প্রশ্নঃ 1353
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। কেমন আছেন ভাই? আমার প্রশ্ন হল, তায়াম্মুম এর সহিহ নিয়মটা কি? তায়াম্মুম এর জন্য কি মাটিতে হাত রাখা বাধ্যতামূলক? ঘড়ের ভিতরে টাইস বা পাকার উপর হাত রাখলে হবে কি, বিশেষ করে যখন গাড়িতে থাকলে তখন তায়াম্মুম কিভাবে করবো? কনুই পর্যন্ত হাত মুছাটা এই হাদিস টা কিছু বইয়ে জয়ীফ লেখা দেখলাম। সহিহ সম্পূর্ণ নিয়মটা কি? জাযাকাল্লাহু খাইরান। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ। আমরা ভাল আছি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ভাল রাখুন। তায়াম্মুমের জন্য শর্ত হলো মাটি বা মাটি জাতীয় কোন কিছুর ্উপর হাত রেখে ধুলা নিয়ে মুখ ও হাত মাসেহ করা। টাইলস এর উপর ধুলা থাকলে বা গাড়ীর জানালাতে ধুলা থাকলে সেখানে হাত রেখেরও তায়াম্মুম করা যায়। কতটুকু মাসেহ করতে হবে তা নিয়ে কিছুটা বিতর্ক আছে তবে কুনুই পর্যন্ত করার ভিতরই অধিক সতর্কতা ও উত্তম বলে মনে হয়। তাই আমাদের কনুই পর্যন্ত মাসেহ করাই উচিৎ।

প্রশ্নঃ 1349
আস্সা লামু আলাইকুম। আপনাদের অধীনে কোনো মাদ্রাসাj পরিচালিত হয় কিনা? পরিচালিত হলে, দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন। আল্লাহ আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন। আমীন। । ।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, আমাদের অধীনে কয়েকটি ছোট বড় মাদ্রাসা পরিচালিত হয়। ঝিনাইদহ আমাদের মূল কেন্দ্র। বিস্তারিত জানতে ফোন করুন, 01718136962

প্রশ্নঃ 1352
আমি গার্মেন্টস এ হিসাব রক্ষক হিসেবে চাকুরী করি। এতে আমাকে সুদ ঘুষ এর হিসাব রাখতে হয় এবং এখানে মহিলা শ্রমিক কাজ করে। আমার এ চাকরিক্ষেত্র প্রাপ্ত বেতন কি হালাল হবে? জনৈক ব্যাক্তি বলেছেন নারী থাকার কারনে হালাল হারাম নিয়ে সন্দেহ হয়ে গেল। আর আমি রাসুল (সঃ) এর হাদিস জানি যে উনি সন্দেহ কে চুরান্ত হারাম বলেছেন। এই বেপারে আপনার অভিমত কি? দয়া করে জানাবেন। উপরোক্ত বিষয়দ্বয়ের;ক্ষেত্র যদি বাবা মা বাধ্য করে তাহলে কি হারাম জেনেও কাজ করা ঠিক হবে?
05 Jan 2026

সুদ-ঘুষের হিসাব রাখতে হয় বলে আসলে কী বুঝাচ্ছেন তা স্পষ্ট নয়। আর মহিলা শ্রমিক থাকার কারণে আপনার কোন সমস্যা নেই। হালাল হবে।

প্রশ্নঃ 1350
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। কেমন আছেন ভাই? আমার প্রশ্ন হল, জীবনে আমি অনেক সালাত পড়ি নাই। ১২-২০ বছরের মাঝে অনেক ফরজ সালাত অবহেলাবশত বা এখন যতটা বুঝি সেই সময় এতটা সচেতন না হওয়ায় অনেক ফরজ সালত ত্যাগ করেছি। যার কোন সঠিক হিসেব আমি দিতে পারবো না। আর ফরজ সালাত ত্যাগ করার যে বিধান হাদিস ও পূর্বের ইমামরা বলেছে, এই নিয়ে খুব-ই ভীত। প্রশ্ন হলঃ- আমার ছুটে যাওয়া ফরজ সালাত এখন কি করবো? অনেকে বলে উমরি কাজা পড়তে !! এই বিষয়টা আমি বুজতে পারলাম না। কুরআন ও সহিহ হাদিস অনুসারে সমাধান চাচ্ছি? জাযাকাল্লাহু খাইরান। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। উমরি কাজা মানে আগের নামায কাজা করা। বছর বছর যারা নামায কাজা করেছে তাদের নামাযের কাজা করাকে উমরি কাজা বলে। এ্টা বিশেষ কিছু না। এবার আপনার মূল প্রশ্নে আসি। আপনি কখনোই নিরাশ হবেন না, আগে বুঝতেন না, এখন বুঝেছেন। পূর্বের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আর প্রতি নামাযের পরে বা আগে ঐ ওয়াক্তের পিছনের এক দিনের নামায পড়ুন। যেমন, আসরের সময় আসরের একটু আগে গিয়ে পূর্বের এক দিনের চার রাকআত সালাত আদায় করুন। এছাড়া নামাযের সময় যে সব সুন্নাত পড়া হয় সেগুলো একটু কমিয়ে পূর্বের ঐ ওয়াক্তের এক দিনের সালাত পড়তে পারেন। এভাবে আপনি চেষ্টা করতে থাকুন। আমরা দুআ করি আল্লাহ আপনাকে ধর্মের উপর অটল রাখুন। তবে চিন্তা করবেন না,নিরাশ হবেন না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, তিনি অবশ্যই ক্ষমা করবেন।

প্রশ্নঃ 1348
আসসালামুআলাইকুম । আমি জানি আল্লাহর নামে কসম করলে সেটা পুরন করতে হয়, নচেৎ কসমের কাফফারা দিতে হয়। কিন্তু কিছু কসম কথার ছলে বা এমনি এমনি করে ফেলি। এই সব কসম আল্লাহর নামে করা হয় না । যেমনঃ আমি এটা আর করবোনা, আমি এটা আর খাব না, আমি অমুক জায়গায় যাবো না, কিন্তু মনের উদ্দেশ্য কিন্তু এটা থাকে না। একটু পরে যে কাজটা করবোনা বলছি সেই কাজটাই আবার করছি। এখন প্রশ্ন হল এই রকম কসমের জন্য কি আমাদের কসম ভাঙ্গার কাফফারা দিতে হবে?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, এটা কসম নয়, সুতরাং কাফফারা দিতে হবে না।

প্রশ্নঃ 1347
স্যার, সূরা ফাতিহা তে সিরতাল মুসতাকিম কিন্তু বলার সময় সিরতাল মুসতাকিন পড়া হয় কেন?মুস্তাকিম আর মুস্তাকিন এ কোন পার্থক্য আছে? ;আমার মুস্তাকিম উচ্চারন করি, তাতে কি এটা সহিহ নয়?
05 Jan 2026

সিরতাল মুসতাকিম হবে, সিরতাল মুসতাকিন হবে না।

প্রশ্নঃ 1345
আসসালামুয়ালাইকুম, আমি এক সময় ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজে কর্মরত ছিলাম। বর্তমানে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজে আছি। (মরহুম) আব্দুল্লাহ্ জাহাঙ্গীর স্যারের কয়েকটি বই আমার সংগ্রহে আছে। আমি তাঁর পুরো সেট বই পেতে আগ্রহী। যেকোন উপায়ে আমি টাকা পাঠাতে পারব, ইনসা আল্লাহ। আমার এই উপকারটুকু করলে আমি চির কৃতজ্ঞ থাকব। আপনারা সম্মত হলে আমি বইয়ের তালিকা পাঠাব। ইতি, আপনার বিশ্বস্ত খন্দকার সালাহ্উদ্দীন আহাম্মদ, সহকারী অধ্যাপক, রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ, সারদাহ, রাজশাহী। মোবাইল: ০১৭১৫-৬০১৪৩৬
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনি এই নাম্বারে যোগাযোগ করুন, ইনশাআল্লাহ আপনার সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। +8801730747001

প্রশ্নঃ 1346
আসসালামু আলাইকুম। আমার বয়স ২২ বছর, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়াশোনা শেষ করতে আরও তিন বছর সময় লেগে যাবে। পরিবারে বিয়ের ব্যাপারে কোনো উদ্যগ নেই কিন্তু আমি বিয়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। আল্লাহর রহমতে ইতমধ্যে একজন দ্বীনদার ছেলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব আসছে। ছেলেটিকে আমি চিনি ও জানি। বিয়ের ব্যাপারে সে আমার পরিবারের সাথে কথা বলেছে এবংসার্বিকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছে। আল্লাহর রহমতে সবাই রাজি বাবার ছেলেও পছন্দ কিন্তু আমার বাবা এখন বিয়ে দিতে রাজি নন। তাকে অনেক বোঝানো হয়েছে কিন্তু আমার পড়াশোনা শেষ না হওয়ার আগে তিনি কোনমতেই বিয়ে দিতে রাজি নন। কিন্তু আমি পাপ থেকে বেচে থাকতে চাই। এ ক্ষেত্রে যদি বিয়ে করলে সেটা বৈধ হবে কিনা?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম, আমরা আপনার জন্য দোয়া করি। আল্লাহ যেন আপনাকে এই সমস্যা থেকে মুক্ত করেন। মেয়েরা অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে বিয়ে করবে। এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। তবে অভিভাবক যদি বিয়ে দিতে অনাগ্রহী হয়, আর মেয়ে গুনাহে লিপ্ত হওয়ার আশংকা করে, তাহলে সে নিজে বিয়ে করতে পারবে। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا অর্থাৎ মেয়েরা ওলীদের চেয়ে নিজের ব্যাপারে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৪২১। الأيم অর্থ স্বামীহীন মহিলা, পূর্বে স্বামী থাকুক বা না থাকুক। আলমজামুল ওয়াসীত।

প্রশ্নঃ 1344
আসসালামুয়ালাইকুম, অসংখ্য ধন্যবাদ 1284 নাম্বার প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য। আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দান করুন, আমীন। এখন আমল করার আগে কিছু ব্যপার নিয়ে দ্বিধায় পরেছি তাই 1309 প্রশ্নোত্তর থেকেই আবার প্রশ্ন করছি। কম্পানির জব, আমার ফিল্ডের সরকারি জব, ও বি,সি,এস এই তিনটা সেক্টরের ভিতড় আমার কোন দিকে চেষ্টা করা উচিত এটা জনার জন্য কিভাবে এস্তেখারা করব- ১) তিনটা উদ্দ্যেশ্য এর জন্য কি একে একে তিনবার এস্তেখারা করব? তিনবারে করলে কত দিন পর পর করব? ফলাফল কি ভাবে বুঝব। ২) নাকি তিনটা উদ্দ্যেশ্যকে টার্গেট করে একবারেই করব? এ ক্ষেত্রেও ফলাফল কি ভাবে বুঝব। ৩) রাহেবেলায়েত সহ বিভিন্ন হাদিস বই এ এস্তেখারার দোয়া বিভিন্ন রকম। যদিও সবগুলোর বাংলা অর্থ কাছাকাছি। সহি দোয়া কোনটা? উল্ল্যেখ্য যে এর আগে বেশ কয়েকটা কম্পানির জবের জন্য চেষ্টা করেছি এবং প্রত্যেকবার এস্তেখারা করেছি, দেখা গেছে ২/৩টা চাকরি হওয়ার খুব বেশি সম্ভাবনা ছিল কিন্তু যেই এস্তেখারা করেছি সেই চাকরি হঠাৎ করেই হাত ছাড়া হয়ে গেছে এবং আমি এখনো বেকার আছি। তাই ধিরে ধিরে আমার মনে বিশ্বাস জন্মেছে আল্লাহ বোধহয় আমার জন্য অন্য কিছু নির্ধারন করেছেন, সেক্ষেত্রে আমি সেই দিকে অগ্রসর না হলে আমার শুধু শুধু সময় নষ্ট হবে। এজন্যই এভাবে সবগুলো সেক্টর নিয়ে যাচাই করার চেষ্টা করছি।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি সবগুলোকে টার্গেট করে কয়েকবার ইস্তেখারা করুন। রাহে বেলায়াতের দুআটি পড়বেন। আমরা একটি ভুল বুঝের ভিতরে আছি। তা হলো আমরা মনে করি ফলাফল যে কোন ভাবে বুঝতে হবে। আসলে মূল বিষয় হলো এর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে চাওয়া হয় যে, ভাল হলে ব্যবস্থা করবেন আর খারাপ হলে সরিয়ে নিবেন। এখানে নিজে ফলাফল বুঝবে বিষয়টি এরকম নয়। আবার অনেকে ঘুমের সময় ইস্তেখারা করাকে বাধ্যতামূলক মনে করে, এটাও ঠিক নয়। বরং যে কোন সময় দুরাকআত নামায পড়ে উক্ত দুআটি পড়বেন। কয়েক দিন পড়বেন। বুঝতে সমস্যা হলে ফোন করুন 01762629405

প্রশ্নঃ 1343
assalamualikum. eider rater kono ibadot ki asa hadiser aloka janaben.ater gorotto koto tuku.
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, ঈদের রাতে স্পেশাল কোন আমল গ্রহনযোগ্যসূত্রে পাওয়া যায় না। তবে কোন জাল-বানোয়াট বর্ণনা আছে।

প্রশ্নঃ 1341
আসসালামু আলাইকুম… পরিচ্ছদঃ ৩২. মুখমণ্ডলে মারার নিষেধাজ্ঞা ৬৪১৭। নাসর ইবনু আলী আল যাহযামী (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আর ইবনু হাতিম বর্ণিত হাদীসেও নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন তার ভাইকে প্রহার করে সে যেন তার চেহারা আঘাত করা থেকে বেঁচে থাকে। কেননা, আল্লাহ তাআলা আদম (আলাইহিস সালাম) কে তার নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। সহি মুসলিমের এই হাদিসটির ব্যাখ্যা কি? এখানে নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করা বলতে কি বুঝানো হয়েছে?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। উক্ত কথাটির ব্যাখ্যা সম্পর্কে ইমাম নববী রহ. বলেন, وَأَنَّ مِنْ الْعُلَمَاء مَنْ يُمْسِك عَنْ تَأْوِيلهَا ، وَيَقُول : نُؤْمِن بِأَنَّهَا حَقٌّ ، وَأَنَّ ظَاهِرهَا غَيْر مُرَاد ، وَلَهَا مَعْنَى يَلِيق بِهَا ، وَهَذَا مَذْهَب جُمْهُور السَّلَف ، وَهُوَ أَحْوَط وَأَسْلَم একদল আলেম উক্ত কথাটির কোন ধরণের ব্যাখা থেকে বিরত থেকে বলেছেন, আমরা বিশ্বাস করি এটা সত্য, তবে বাহ্যিক অর্থ উদ্দেশ্য নয়। নিশ্চয় এর একটি উপযোগী অর্থ আছে। এটাই অধিকাংশ সালাফদের (পূর্ববর্তী আলেমগণের ) মতামত। এটাই অধিকতর নিরাপদ ও সতর্কতাপূর্ণ কথা।

যেসব আলেম কথাটির ব্যাখা করেন তাদের বক্তব্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ااخْتَلَفَ الْعُلَمَاء فِي تَأْوِيله فَقَالَتْ طَائِفَة : الضَّمِير فِي ( صُورَته ) عَائِد عَلَى الْأَخ الْمَضْرُوب ، وَهَذَا ظَاهِر رِوَايَة مُسْلِم ، وَقَالَتْ طَائِفَة : يَعُود إِلَى آدَم ، وَفِيهِ ضَعْف ، وَقَالَتْ طَائِفَة : يَعُود إِلَى اللَّه تَعَالَى ، وَيَكُون الْمُرَاد إِضَافَة تَشْرِيف وَاخْتِصَاص كَقَوْلِهِ تَعَالَى : { نَاقَة اللَّه } وَكَمَا يُقَال فِي الْكَعْبَة : بَيْت اللَّه وَنَظَائِره . وَاَللَّه أَعْلَم .

আলেমগণ কথাটির ব্যখ্যা সম্পর্কে মতভেদ করেছেন, কেউ কেউ বলেছেন, সর্বনামটি প্রহৃত ভাইয়ের দিকে ফিরবে (অর্থাৎ প্রহৃত ব্যক্তিকে প্রহারকারীর আকৃতিতে সৃষ্টি করা হয়েছে। ) সহীহ মুসলিমের বাহ্যিক বর্ণনা দ্বারা এটাই বুঝা যায়। আবার কেউ কেউ বলেছেন, আদমের আ. দিকে ফিরবে। তবে এটা দূর্বল মত। অন্য আরেকদল আলেম বলেছেন, সম্মানসূচকভাবে আল্লাহর দিকে সর্বনামটি ফেরানো হয়েছে। যেমন কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আল্লাহর উটনী । কাবা ঘরের ক্ষেত্রে বলা হয় বাইতুল্লাহ তথা আল্লাহর ঘর। আশা করি আপনি উত্তর পেয়েছেন।

প্রশ্নঃ 1342
আসসালামুআলাইকুম আমার প্রশ্ন হলো (১),যানবাহনে চলাচলের সময় নামাজের নিয়ম কি? বিশেষ করে গাড়িতে চলার সময়। (২)আমি একজন চাকুরীজীবী। অফিস থেকে ফেরার পথে আসর নামাজ অথবা মাগরিবের নামাজের সময় গাড়িতে থাকতে হয়। অনেক সময় অজু করাও থাকে না। অজুর প্রয়োজন হয়। নামাজের টাইম হলে গাড়ি থেকে নেমে নামাজ আদায় করে আবার গাড়িতে উঠা খুব অসুবিধা হয় এবং অনেক সময় অপচয় হয়। এই অবস্থায় আমার কি করনিয়ো দয়া করে জানাবেন। (৩) ফজরের ফরজ নামাজ শেষে সূর্য উদয়ের আগে সময় থাকলে ফজরের সুন্নত পরা যাবে কি না? না কি সূর্য উদয়ের পরে সুন্নত নামাজ পরতে হবে?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ফরজ নামায যানবাহনে পড়বেন না। এমন ভাবে সফর করবেন যেন, যানবাহনে থাকা কালীনে কোন নামাযের ওয়াক্ত শেষ না হয়ে যায়। (২) অফিস থেকে ফেরার সময় আসরের নামায পড়ে গাড়ীতে উঠবেন (জামায়াতের সময় না হলে প্রথম ওয়াক্ততেই একা একা আসর পড়বেন। ) এরপর মাগরিব শেষ ওয়া্ক্তে অর্থাৎ এশার সালাতের সময় শুরু হওয়ার পুর্ব মুহুর্তে আদায় করবেন। আর যদি নিজস্ব গাড়ী হয় তাহলে পথিমধ্যে যেখানে যে নামাযের জামাতের সময় হবে সেখানে কোন মসজিদে গাড়ী থেকে নেমে নামায আদায় করবেন, এক্ষেত্রে কোন শিথীলতা নেই। কুরআন ও হাদীসে ওয়াক্তমত নামায পড়ার আদেশ দেয়া হয়েছে। (৩) ফজরের সুন্নাত না পড়ে থাকলে সূর্য উদয়ের পর পড়বে। কেননা হাদীসে ফজরের ফরজ সালাতের পর সূর্য উঠার আগ পর্যন্ত অন্য কোন নামায পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। সহীহ বুখারী হাদীস নং ৫৮৪।তবে পড়লেও আদায় হয়ে যাবে। তবে সূর্য উদয়ের পর পড়াই উত্তম। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। সমস্যা হলে যোগাযোগ করুন: 01734717299 এই নাম্বারে।

প্রশ্নঃ 1340
আল্লাহর সাথে ওয়াদা করে ওয়াদা ভঙ্গ করলে এর কাফ্ফারা কী? দয়াকরে জানাবেন।
05 Jan 2026

জ্বী, কাফফারা দিতে হবে। কাফফারা হলো দশজন মিসকিনকে মধ্যম মানের খাবার খাওয়ানো অথবা দশ জন মিসকিনকে জামা-কাপড় দেয়া। এগুলো না পারবেল তিনটি রোজা রাখা। আলকুরআন, সূরা মায়িদাহ, আয়াত নং ৮৯।

প্রশ্নঃ 1339
স্যার আসসালামুয়ালাইকুম আমার জানার বিষয়টি হল যে নামাজে দাঁড়ানোর সহিহ পদ্ধতি কোনটি? চার বা আট আঙুল ফাঁকা রেখে নাকি সুবিধা অনুযায়ী?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। চার বা আট আঙ্গুল ফাঁকা করে নয় স্বাভাবিক ভাবে সুবিধা অনুযায়ী দাাঁড়ানোই নামাযে দাঁড়ানোর সহীহ পদ্ধতি।

প্রশ্নঃ 1338
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ! আশা করি আল্লাহর দয়ায় ভালো আছেন। স্যার, আপনাদের এই প্রশ্ন উত্তর গুলো অনেক হেল্পফুল আমাদের মতো নগন্যদের জন্য। আল্লাহ সুবহানুতায়ালা আপনাদেরকে এর উত্তম প্রতিদান দিন। আমিন। স্যার আমি শুধু এখানে নিজে প্রশ্নই করি না, সাথে সাথে সবগুলো প্রশ্ন উত্তরগুলো পড়ে থাকি। যাই হউক সে সুবাদে একটি প্রশ্নোত্তর দেখলাম। আমার প্রশ্ন হলো এশারের পরতো আমরা সাধারণত দুই রাকাত সুন্নাত ও তারপর বিতির পড়ে থাকি। যদি নিন্মোক্ত আমলটি করি তাহলে কি সুন্নাতের পর এক সালামে চাররাকাত নাকি দুই সালামে চার রাকাত সলাত পড়ে সব শেষে তিন রাকাত বিতর পড়ব? জাযাকাল্লাহু খইরান।
05 Jan 2026

ওয়াআলাইকুমুস সালাাম। আমরা আপনাদেরকে সাহায্য করতে পারছি জেনে আল্লাহ তায়াল শুকরিয়া আদায় করছি। দুআ করবেন আমরা যেন এই কাজটি অব্যাহত রাখতে পারি। আপনার প্রশ্নের উত্তর। আপনি একটু বুঝতে ভুল করেছেন। তা হলো হাদীসের অর্থ হলো ইশার ফরজের পর চার রাকআত সুন্নাত পড়া, দুই রাকআত সুন্নাতের পর চার রাকআত নয়। অর্থাৎ ফরজ পড়ে চার রাকআত সুন্নাত পড়বেন। সালাম কয়টি হবে তা স্পষ্ট হাদীসে নেই সুতরাং যে কোন একটির উপর আমল করলেই হবে। তারপর বিতির পড়তে পারেন। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 1336
apnader 7,8,9 dec..ar waze mafel ki hoby? ami Dhaka thky 1st time asbo sudu sir k valobase ti..sir ar jonno doya korty asbo….ami onr youtbe video gulo daky motivate hoise,,onk kisu jaty parse …1 year valo e jasselo bt akhon kamon jano soitany dorsa,,prblm hossa…ki korbo busty parse na,,kharap kj ar prote agr moto base tany,,parly help koren
05 Jan 2026

হ্যাঁ, ইনশাআল্লাহ,মাহফিল উক্ত তারিখে মাহফিল হবে। আমরা প্রস্তুতি শুরু করেছি। আপনি আসবেন,আপনাকে আসার দাওয়াত রইলো।

ভাই, আপনি পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামাতের সাথে পড়ুন এবং আল্লাহর কাছে দুআ করুন, আশা করি আপনি সকল হারাম কাজ থেকে বেঁচে থাকতে পারবেন।

প্রশ্নঃ 1337
আসসালামুলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ যখন কারো উপর রোজা করা ফরজ হল কিন্তু সে তার জীবনের প্রথম দিকের কয়েক বছর রোজা করল না । তাহলে হলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি কি তাকে ঐ সব রোজা কাযা করে দিতে হবে? এটা পিরিয়ড কারণে ভাংতি রোজা না । সারা মাসের ভাংতি রোজা । আর এরকম কয়েক বছরের রোজা ।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, প্রতিটি রোজারই কাজা করতে হবে। কাফফারা দিতে হবে না।

প্রশ্নঃ 1335
আসসালামু আলাইকুম, জাজাকাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ আমি আপনাদের কাছে অনেক প্রশ্ন করি এবং সব প্রশ্নের উত্তর আপনারা খুব সুন্দর করে বিনয়ের সাথে দিয়ে থাকেন। আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমি দুইটা খুব পার্সোনাল ব্যাপারে হাদিস এর আলোকে আপনাদের পরামর্শ নিতে চাই, যদি দয়া করে আপনাদের কোনো মেইল id দিতেন যেখানে আমি সমস্যার কথা বলতে পারতাম। আমি দুঃখিত এটা চাওয়া হয়তো ঠিক হচ্ছে না কিন্তু এখানে তো সবার জন্যে ওপেন তাই এখানে লিখতে চাইছি না।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমরা আপনাদের উপকার করতে পারছি জেনে আল্লাহ তায়ালার শুকরি আদায় করছি। দুআ করবেন যেন, আমরা আপনার খেদমত করতে পারি। নিচে আমি আমার ই-মেইল ঠিকানা নিয়ে দিলাম। titumirahmad@gmail.com

প্রশ্নঃ 1334
আমার শাইখ শোয়াইব আহম্মদ সারের মোবাইল নাম্বর লাগবে। আমি সিংগাপুর থেকে আব্দুল্লাহ জাগাঙ্গীর সারের অনলাইন ভক্ত
05 Jan 2026

1913918328

প্রশ্নঃ 1331
আসসালামুআলাইকুম। আমি জেনেছি অমুসলিম নারীদের সামনেও পর্দা করতে হয়। তাদের সামনে পর্দার বিধান এবং গাইরে মাহরামদের সামনে পর্দার বিধান কি একই রকম? যেমন, বিয়ের অনুষ্ঠানে কনে যদি অমুসলিম নারীদের সামনে সামান্য সাজগোজ করে, বিয়ের জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরে কিন্তু পা থেকে মাথা পর্যন্ত ঢেকে রাখে এবং কেবল মুখ ও হাতের কবজি থেকে আংগুল পর্যন্ত খোলা রাখে তাহলে কি কনের গুনাহ হবে? উল্লেখ্য কনেকে এই অবস্থায় কোনো গাইর মাহরাম দেখতে পারবে না। শুধু বিধর্মী নারীদের সামনে এমন অবস্থার বিধান জানতে চাচ্ছি।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, আপনি উক্ত পোশাকে অমুসলিম মহিলাদের সামনে যেতে পারবেন।

প্রশ্নঃ 1333
কিছু প্রশ্ন অনেকদিন ধরে মনে মনে ঘুরপাক খাচ্ছে, কিন্তু কোনমতেই সঠিক উত্তর পাচ্ছি না ৷ আশা করি কোরআন-হাদীসের আলোকে সঠিক উত্তর পাব ৷ কোন প্রশ্ন যদি ভুলকরে করে থাকি তাহলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি ৷ ১ – ইসলামে তো বিধবা বিবাহ জায়েজ যতদূর জানি ৷ এখন কথা হচ্ছে কোন বিধবার যদি একাধিক সন্তান থাকে এবং ঐ বিধবা যদি আবারও বিয়ে করে তাহলে ঐসব সন্তান কি বিধবার সাথেই থাকবে নাকি বিধবার মৃত স্বামীর আত্নীয় যেমন বাবা-মা, ভাই-বোন, চাচা-চাচীর সাথে থাকবে? আর ঐসব সন্তানদের কে লালন-পালন করবে? এক জায়গায় দেখেছিলাম যে বিধবা নাকি আবার বিয়ে করলে আগের ঘরের সন্তানদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায় মানে সন্তানরা বিধবা থেকে আলাদা হয়ে যায় এটা কি ঠিক? আর বিধবা যদি আবার বিয়ে করতে চায় কিন্তু সন্তানরা বাধা দেয় তখন বিধবার করণীয় কি? সে কি ঐসব সন্তানদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে আবার বিযে করতে পারবে? আর সন্তানরা যদি মেনে নেয় তখন বিধবার নতুন স্বামীকে কি তারা বাবা বলে সম্বোধন করবে? আর নতুন স্বামীর এক্ষেত্রে করণীয় কি? ২- স্বামী কি স্ত্রীর আগের ঘরের সন্তানদের ভরনপোষণ দিতে বাধ্য?
05 Jan 2026

১। সন্তানের ভরন- পোষন ও লালন-পালনের যাবতীয় দায়িত্ব পিতার। সুতরাং তালাক হওয়ার পর সন্তানের দায়ত্ব পিতার। সন্তান ছোট থাকলে তাকে দেখ-ভাল করার নৈতিক দায়িত্ব মায়ের। বিধবা বিবাহ করলে আগের সন্তানদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয় না। এমনকি ঐ মহিলা মারা গেলে তার সম্পদে সকল স্বামীর সন্তানেরা ওয়ারিস হবে। বিধবা বিয়ে করতে চাইলে সন্তানদের বাধা দেয়া উচিৎ নয়। বিবাহ মানুষের চরিত্রকে হেফাজত করে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তা্ই বাধা দেয়া জায়েজ নয়। সম্পর্ক ছিন্ন করে বিয়ে করার দরকার নেই, সম্পর্ক ঠিক রেখেই বিয়ে করবে। বিধবার নতুন স্বামীকে তারা বাবা বললে কোন গুনাহ হবে না, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাবাই বলা উচিৎ, যাতে স্বাভাবিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে। নতুন স্বামী তাদেরকে সন্তানের মতই মনে করবে তবে নতুন স্বামীর থেকে ঐ সন্তানেরা আইনত কোন মিরাছ পাবে না। ২। না, স্বামী স্ত্রীর আগের ঘরের সন্তানদের ভরন-পোষণ দিতে বাধ্য নয়। বাকী প্রশ্নুগলো একটা একটা করে আবার করবেন।

প্রশ্নঃ 1326
আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন ভাই? আমার প্রশ্ন হল, কিছু কিছু ইস্তেঞ্জার স্থান এমন যে, পবিত্রতার জন্য টিস্যু ব্যবহার করার পর, পানি নিতে গেলে দেখা যায়, মাটিতে পড়া পানিগুলার ছিটা আসে কাপড়ে । এমন স্থানে পানি নেওয়ার বিধান কি? আবার যে স্থানে পানি নেই বা পানি শেষ হয়ে গেছে, তখন কি করবো? জাযাকাল্লাহ। আসসালামু আলাইকুম।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, পবিত্রতা অর্জন করা ফরজ। সেটা শুধু টিস্যু দ্বার হতে পারে, শুধু পানি দ্বারাও হতে পারে। আর দুটিকে এক সাথে ব্যবহার করাকে ফকীহগণ উত্তম বলেছেন। সুতরাং টিস্যু ব্যবহারের দ্বারাই আপনার পবিত্রতা অর্জন হয় যাবে। এখন যদি পানি ব্যহবহার করতে গিয়ে পানির ছিটা কাপড়ে আসে তাহলে পানি ব্যহার করবেন না। পানি না থাকলে বা পানি শেষ হয়ে গেলে শুধুমাত্র টিস্যু দ্বারাই পবিত্রতা অর্জন করবেন। এটাই যথেষ্ট।

প্রশ্নঃ 1332
আসসালামু আলাইকুম। আমার বোনের বিয়ের পর থেকে সে প্রায়ই তার বিয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে দুঃস্বপ্ন দেখছে। সে আমাকে জানিয়েছে একই বিষয়ে সে ঘন ঘন দুঃস্বপ্ন দেখছে। আমি নিজেও ওর বিয়ের পর থেকে ওর সংসার জীবন নিয়ে দুঃস্বপ্ন দেখছি নিয়মিত। দুঃস্বপ্ন কাউকে বলতে হয় না বলে আমরা শেয়ার করিনি কী স্বপ্ন দেখছি। আমার বোন বিয়ের পর শারীরিকভাবেও বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। আমাদের আত্মীয় স্বজনের মাঝে অনেকেই কবিরাজের কাছে গিয়ে জাদুটোনা, তাবিজ করায় অভ্যস্ত। এমন কি হতে পারে কেউ আমার বোনকে জাদুটোনা করেছে? যদি করে থাকে তাহলে আমাদের করণীয় কী?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রাত ঘুমানোর সময় কিছু কুরআন পাঠ করতে করবনে, বিশেষত সূরা ফালাক, নাস, আয়াতুল কুরসী। এগুলো পড়ে ঘুমালে আশা করি বাজে স্বপ্ন দেখবেন না। সকাল সন্ধায় এই দুআটিও নিয়মিত পড়বেন, بِسْمِ اللَّهِ الَّذِى لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَىْءٌ فِى الأَرْضِ وَلاَ فِى السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ হাদীসে আছে যে ব্যক্তি সকাল সন্ধা এই দুআ তিনবার পাঠ করবে তাকে কোন মুসবত স্পর্শ করতে পারবে না। আর যাদু-টোনা করতে পারে এমন আশংকা থাকলে ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত রাহে বেলায়াত বইয়ের ৫৯০-৫৯৭ পর্যন্ত পড়ুন এবং সে অনুযায়ী আমল শুরু করুন। সর্বদা আল্লহর কাছে দুআ করুন। আশা করি আপনারা এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

প্রশ্নঃ 1330
Assalamualiqum. Share market-e invest kora jibika orjon halal hobay kina janalay upokrito hobo. Maasaalaam.
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হালাল হবে না তা বলছি না তবে বর্তমানে শেয়ার বিজনেস থেকে বিরত থাকায় একজন মূমিনের জন্য ভাল বলে মনে হয়।

প্রশ্নঃ 1322
আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন ভাই? আমার প্রশ্ন হল, কিছু কিছু ইস্তেঞ্জার স্থান এমন যে, পবিত্রতার জন্য টিস্যু ব্যবহার করার পর, পানি নিতে গেলে দেখা যায়, মাটিতে পড়া পানিগুলার ছিটা আসে কাপড়ে । এমন স্থানে পানি নেওয়ার বিধান কি? আবার যে স্থানে পানি নেই বা পানি শেষ হয়ে গেছে, তখন কি করবো? জাযাকাল্লাহ। আসসালামু আলাইকুম।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, পবিত্রতা অর্জন করা ফরজ। সেটা শুধু টিস্যু দ্বার হতে পারে, শুধু পানি দ্বারাও হতে পারে। আর দুটিকে এক সাথে ব্যবহার করাকে ফকীহগণ উত্তম বলেছেন। সুতরাং টিস্যু ব্যবহারের দ্বারাই আপনার পবিত্রতা অর্জন হয় যাবে। এখন যদি পানি ব্যহবহার করতে গিয়ে পানির ছিটা কাপড়ে আসে তাহলে পানি ব্যহার করবেন না। পানি না থাকলে বা পানি শেষ হয়ে গেলে শুধুমাত্র টিস্যু দ্বারাই পবিত্রতা অর্জন করবেন। এটাই যথেষ্ট।

প্রশ্নঃ 1329
assalamuallikum. ami honos 3rd year pori.ami koran, hadis, sahi koran nia porasona korta chi.ami chittagong thaki. kotai ai sub porta parbo.
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালম। আপনি স্থানীয় কোন মহিলা (কওমী) মাদ্রাসায় যোগাযোগ করুন। আশা করি পড়াশোনার সুযোগ পাাবেন।

প্রশ্নঃ 1328
Assalamualaikum. Jonab mohila der hair cut k Islam shomorthon kore? Kunu mohila jodi degine kore hair cut kore but tahole ki gunah hobe?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মহিলারা যদি স্বামীকে আনন্দ দেয়ার উদ্দেশ্যে সামান্য চুল কাটে তাহলে জায়েজ আছে। এই বিষয়ে নিচের হাদীসটি দেখুন: عَنْ أَبِى سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ أَنَا وَأَخُوهَا مِنَ الرَّضَاعَةِ فَسَأَلَهَا عَنْ غُسْلِ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- مِنَ الْجَنَابَةِ فَدَعَتْ بِإِنَاءٍ قَدْرِ الصَّاعِ فَاغْتَسَلَتْ وَبَيْنَنَا وَبَيْنَهَا سِتْرٌ وَأَفْرَغَتْ عَلَى رَأْسِهَا ثَلاَثًا. قَالَ وَكَانَ أَزْوَاجُ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- يَأْخُذْنَ مِنْ رُءُوسِهِنَّ حَتَّى تَكُونَ كَالْوَفْرَةِ. অর্থ: আবী সালামা ইবনে আব্দুর রহমান বলেন, আমি এবং আমার দু্ধ ভাই আয়েশা রা. এর কাছে আসলাম। … তিনি (আবু সালামা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্ত্রীগণ চুল কাটতেন এমনকি তা ওফরার মত হয়ে যেত। (ওফরা বলঅ হয় এমন চুলকে যা কানের লতি বরাবর হয়)। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৫৪ সুতরাং কোন মহিলা যদি স্বামীর উদ্দেশ্যে সামান্য চুল কাটে তাহলে না জায়েজ হবে না। তবে যদি অন্য কাউকে দেখানোর উদ্দেশ্যে বা অন্য কোন ধর্মের মানুষদের বা পুরুষের অনুকরণে করে তাহলে তা হারাম হবে। কেননা রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ . যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে সে তাদের অন্তর্ভূক্ত। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ৪০৩৩। হাদীসটি সহীহ। অন্য হাদীসে আছে, ليس منا من تشبه بالرجال من النساء ولا من تشبه بالنساء من الرجال অর্থ: যেসব মহিলা পুরুষের সাদৃশ্যতা অবলম্বন করবে এবং যেসব পুরুষ মহিলার সাদৃশ্যতা অবলম্বন করে তারা আমাদের দলভূক্ত না। মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৬৮৭৫। শায়খ শুয়াইব আর নাউত বলেছেন, হাদীসটি সহীহ। আশা করে আপনি আপনার উত্তর পেয়েছেন।

প্রশ্নঃ 1327
Babar takar/sompoder one third dan/osiot korte parbe. Aita ki BABA tar nijer waresh der maje korte parbe naki waresh bade onno ke kora lagbe.
05 Jan 2026

কোন ব্যক্তি মারা যাওয়র সময় ওসিয়ত করলে তার একতৃতীয়াংশ সম্পদ থেকে ওসিয়ত পূরণ করতে হয়। তবে যারা তারা সম্পদেও ওয়ারিস হয় তাদের ব্যাপারে ওসিয়ত গ্রহনযোগ্য নয়। অর্থাৎ তাদের ব্যাপারে ওসিয়ত করলে তা কার্যকর হবে না। যেমন, সন্তান, পিতা-মতা ইত্যাদী। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَعْطَى كُلَّ ذِى حَقٍّ حَقَّهُ فَلاَ وَصِيَّةَ لِوَارِثٍ . নিশ্চয় আল্লাহ তায়াল প্রত্যেককে তার হক দিয়েছেন, আর ওয়ারিসের জন্য ওসিয়ত নেই। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ২৮৭২; সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ২১২০; সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ৩৬৪১। হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযীসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ সহীহ বলেছেন।

প্রশ্নঃ 1325
assalamu alaikum, amar ak porichito bhai october/november (2016) mashe tar wife ar shathe onek jhogra hoy. ak porjaye oi bhai tar wife ke bolen tomar ar shathe ar ghor korbona. tini akotha rager mathay bolen. abong tini janten na osposto shobdo/bakko dara talak hoye jete pare. ar oi bhai ai kotha bolar shomoy tar niyot talaker silo kina tate uni shondihan. ar 4-5 din por tara abar mile jay. kintu ajke (18-01-2017) abaro onek raga ragi hoy. abong ak porjaye oi bhai abaro rag kore tar wife ke bole felen tumi ghor theke ber hoye jau, tar wife abaro jiggesh koren je tumi ki sure? tini bolen ai bar final, tumi chole jau. ai bar oi bhai janen je osposto shobdo/bakko dara talak hoye. kintu tini bolen niyot talaker silo na. abaro jeggesh korle tini confuse hoye jan tar niyoter bepare. ullekkho je tar wife akhon pregnent (1 mash 7 din). akhon ki talak karjokor hobe? hole total koy talak hoyese?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অস্পষ্ট শব্দে তালাক দেয়াকে আরবীতে কিনায় শব্দে তালাক বলে। আর কিনায়া শব্দ ব্যবহার করলে নিয়ত থাকা জরুরী। নিয়ত না থাকলে তালাক হয় না। তালাকের নিয়ত থাকলে এক তালাকে বায়ান পতিত হবে। অর্থা্ৎ তাদেরকে পূনরায় বিবাহ করতে হবে। ঐ লোক যদি প্রথমবার এবং দ্বিতীয়বার, দু্বারই তালাকের নিয়ত করে তাহলে মোট দুই তালাক হবে। আর যদি প্রথম বার নিয়ত না করে তাহলে এক তালাক হবে। আর যদি কোন বারই তালাকের নিয়ত না করে তাহলে কোন তালাকই হবে না। নিয়তের ব্যাপারে সন্দেহ হলে বিবাহ করে নেবে। আলইনায়াহ শারহুল হিদায়াহ ৫/১৯৯: আলজাওহারুন নায়্যিরাহ,৪/১১৫। উল্লেখ্য ব্যক্তি মোট তিন তালাকের মালিক। মোট তিনবার তালাক দিলে সেই স্ত্রী আর ফিরিয়ে নেয়া যায় না।

প্রশ্নঃ 1323
assalamu alaikum, kono bekti amake salam dear por ami salam ar jobab dilam. tarpor shathe sathe ami ki oi bektike abar salam dite parbo? aktu bujhie bolben
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সালাম হলো একে অপরের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করা। যখন একজন সালাম দিবেন আর অপরজন সালামের উত্তর দিবেন তখনতো উভয়েই একেঅপরের জন্য দুআ করলেনই তখন আবার সালাম দেয়ার কী দরকার। অনেকে না বুঝে এমন করেন, এটা করার কোন অর্থ নেই, এটা একটি অহেতুক কাজ। তবে দিলে গুনাহ হবে বিষয়টি কিন্তু এমন নয়।

প্রশ্নঃ 1324
Assalamualikum, Question korar koto din por Answer net a powajay. Biye ki Foroz na ki Sunnot, Reference shoho janale valo hoy. Rahebalayet book ti koyti khondo ache janaben.
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আমরা যতদ্রুত সম্ভব উত্তর দেয়ার চেষ্টা করি। ভাগ্য যদি ভাল হয় ঐ দিনই পেয়ে যেতে পারেন। বাংলা অক্ষরে লিখবেন তাহলে দ্রুত উত্তর পাবেন। রাহে বেলায়াত বইয়ের খন্ড একটিই। বিয়ে কখনো ফরজ, কখানো সুন্নাত কখনো আবার নিষেধ তবে স্বাভাবিক ভাবে যার সামর্থ্য আছে তার জন্য বিয়ে করা সুন্নাত। নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন: عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ : النِّكَاحُ مِنْ سُنَّتِي ، فَمَنْ لَمْ يَعْمَلْ بِسُنَّتِي, فَلَيْسَ مِنِّي ، وَتَزَوَّجُوا ، فَإِنِّي مُكَاثِرٌ بِكُمُ الأُمَمَ ، وَمَنْ كَانَ ذَا طَوْلٍ فَلْيَنْكِحْ ، وَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَعَلَيْهِ بِالصِّيَامِ ، فَإِنَّ الصَّوْمَ لَهُ وِجَاءٌ. হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, বিবাহ আমার সুন্নাত, তাই যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত অনুযায়ী আমল করলো না সে আমাদের অন্তভূক্ত না। তোমরা বিবাহ করো, কেননা আমি বেশী উ্ম্মতের কারণে গর্ব করবো। যার সামর্থ্য আছে সে যেন বিবাহ করে আর যার সামর্থ নেই সে যেন রোজা রাখে। কেননা রোজা যৌবনকে দমনকারী। সুনানু ইবনু মাজাহ, হাদীস নং১৮৪৬।হাদীসটিকে শায়খ আলবানী হাসান বলেছেন। এই ধরণের আরো অনেক হাদীস রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণিত আছে। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. যেহেতু বিয়ে করতে বলেছেন তাই সামর্থ্য থাকলে করে ফেলুন, দেরী করারা দরকার নেই। ফরজ, সুন্নাত না নফল ওসব দেখার কী প্রয়োজন আছে বলুন। আপনি মুমিন তাই রাসূলুল্লহ সা. কে অনুসরণ করুন। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ভাল রাখুন।

প্রশ্নঃ 1317
আস সালামু আলাইকুম। আপনাদের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থাকলে জানালে উপকৃত হব, আমার খুব ইচ্ছা আল্লাহর কাছে সওয়াব পাওয়ার আশায়, আপনাদের দ্বীনের এই মেহনতি কাজে মাসে মাসে সামান্য কিছু দান করতে।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। 01402900600 

প্রশ্নঃ 1321
gorvabosthay sustho savabik nekkar sontan pawar jjonno ki ki amol kora uchit? r 1st mase ek sura 2nd mase ek sura avabe ki 10 maser jonno alada alada sura porar kono niyom ache ki?
05 Jan 2026

না, প্রতি মাসে এক এক সূরা করে পড়ার কোন নিয়ম নেই। তবে আপনি বেশী বেশী কুরআন পাঠ করবেন।

প্রশ্নঃ 1320
As salamu alaikum. ami mohilader gorvokalin kono amol ache kina jante cheyechilam. kintu kono uttor pelam na.
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি বেশী বেশী কুরআন পাঠ করবেন। সমস্ত খারাপ কথা ও কাজ এড়িয়ে চলবেন। মায়েদের কথা ও কাজের একটা প্রভাব গর্ভের সন্তানের উপর পড়ে এটা স্বীকৃত বিষয়।

প্রশ্নঃ 1319
Assalamu alaikum Apnader ai mohat kajer jonno Allah subhanu oatala uttom protidan dan korun. Amer question holo – Imam nirbachoner conditions gulo ki ki?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালা। আল্লাহ আপনাদেরক এবংআমাদের সবাইকে ভাল রাখুন। ইমাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম দেখবেন তেলাওয়াত বিশুদ্ধ আছে কি না এবং নামাযের জন্য সাধারণ প্রয়োজন মাসআলাগুলো জানে কি না। সম্ভব হলে একজন আলেমকে ইমাম নির্বাচন করবেন, যিনি কোন মাদ্রাসা থেকে পড়া শেষ করেছেন। এরপর সুন্নাত অনুযায়ী তিনি তার জীবন ও পরিবার পরিচালনা করেন কি না এগুলো দেখবেন। মোটামুটি এতটুকুই বলা যায়।

প্রশ্নঃ 1318
আচ্ছালামু আলাইকুম, মোবাইলে কুরান তেলাওয়াত শুনে শুনে কি অন্য কোন কাজ করা যাবে যেমন পড়া শুনা বা লিখালিখির কাজ?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কুরআনের সম্মানার্থে এমনটি না করায় শ্রেয়।

প্রশ্নঃ 1315
আমার একটি স্টুডিও আছে। তো এখানে পাসফোট, স্টাম ও অন্যান্য সাইজের ছবি করতে হয়। আমার ব্যবসা হালাল হবে কি? যে উত্তরটা দেবেন তার পরিচয় দেবেন?
05 Jan 2026

আপনি ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. এই বিষয়ে কী বলেছেন তা জানতে এই লিংকে যান। 

প্রশ্নঃ 1316
in the day of kiamah kaba will go jannah and every masjid with every pepole who build it will go with it. is it true?
05 Jan 2026

এটি কোন হাদীসে আছে বলে আমাদের জানা নেই। তবে যিনি মসজিদ নির্মান করবেন তার জন্য আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে মসজিদের মত বাড়ি নির্মাণ করবেন বলে সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৫০।

প্রশ্নঃ 1314
আসসালামুয়ালাইকুম। আমি বেলজিয়ামে থাকি। অনেকে দেখি ইমামতি করার সময় সূরা ফাতেহার শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম শব্দ করে পড়ে। আমি অনলাইন কোরআনে দেখেছি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সূরা ফাতিহার আয়াত হিসাবে লিখা আছে। আসলে কি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সূরা ফাতিহার আয়াত? যদি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সূরা ফাতিহার আয়াত হয় তবে বাংলাদেশের ইমাম সাহেব কেন বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম শব্দ করে পড়ে না?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সূরা ফাতিহার আয়াত কিনা তা নিয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ আছে। কেই বলেন, সূরা ফাতিহার আয়াত কেউ বলে না। যারা আয়াত মনে করেন এবং যারা তাদের অনুসরণ করেন তারা শব্দ করে পড়েন । আর যারা সূরা ফাতিহার আয়াত মনে করেন না এবং যারা তাদের অনুসরণ করেন তারা নি:শব্দে পড়েন । উভয়টির যে কোন একটির উপর আমল করলেই নামায সহীহ হবে।

প্রশ্নঃ 1312
আমি যদি কোন দোকানে নগদ টাকা ইনভেস্ট করি এবং ঐ টাকা দিয়ে যা লাভ আসবে তার থেকে যদি আমাকে কিছু টাকা লাভ দেয় সেটা কি সুদ হবে?
05 Jan 2026

না, সুদ হবে না। তবে আপনি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার শর্ত করতে পারবেন না। আপনারা চুক্তি এভাবে করবেন যে, উক্ত টাকা থেকে যা লাভ হবে তার এত শতাংশ আপনি আর এত শতাংশ আমি। যেমন, একশ টাকাতে ৪০ টাকা আপনি আর ৬০ টাকা আমি।

প্রশ্নঃ 1313
আসসালামু আলাইকুম, গাভিকে কৃত্রিম প্রজনন করানো শরিয়া মোতাবেক কি বৈধ..?
05 Jan 2026

হ্যাঁ, বৈধ।

প্রশ্নঃ 1311
আসসালামুআলাইকুম, আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার একটা টিভি অনুষ্টানে বলে ছিলেন একজন কে স্যার মনের ইচ্ছে পূরনে হাদিস সম্মত আমাল দিয়ে ছিলেন, আমি ঐ আমাল জানতে চাই কি ভাবে পাব বা স্যার এর কোন বই এ পাব। একটু জানালে উপকৃত হব।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি স্যারের রহ. লেখা রাহে বেলায়াত বইট দেখুন।

প্রশ্নঃ 1310
মহিলারা নামাজে হাত কিভাবে রাখবে? মাটিতে মিশিয়ে নাকি মাটি থেকে উচু করে। তোমরা কুকুরের নায় সিজদা করো না মোটামুটি এই মর্মে একটা হাদিস শোনার পর মনে এই প্রশ্ন এসেছে। তারপর www.islamqa.info/en এ দেখতে গিয়ে আরো দ্বিধা দ্বন্দে পড়ে গিয়েছি। নিচের লিংকগুলা থেকে জানতে পারলাম মহিলা ও পুরুষের নামাজের পার্থক্যএর হাদিস গুলা নাকি যঈফ। https://islamqa.info/en/38162 – এই লিঙ্ক থেকে জানতে পারলাম যদি কোন পুরুষ দেখার সম্ভবনা না থাকে তবে মহিলারা পুরুষের মতই সালাত আদায় করবে, নতুবা জড়সড় হয়ে করবে। https://islamqa.info/en/9276 – আর এই লিঙ্ক থেকে জানতে পারলাম, ইবনে আবি শাইবা রহ. তার আল মুসান্নাফে পূর্ববর্তী কিছু বুজুর্গের কথা নিয়ে এসেছেন যেগুলো দ্বারা নারী ও পুরুষের নামাজের পার্থক্য আছে বলে বোঝা যায়। আর তারপরে আরও কিছু বুজুর্গের কথা নিয়ে এসেছেন যার দ্বারা নারী ও পুরুষের নামাজে পার্থক্য নাই বলে বোঝা যায়। তবে লিঙ্কের উত্তরদাতার মতে এক্ষেত্রে বুজুর্গদের কথা কোন দলিল না বরং আল্লাহ ও তার রাসুল সাল্লালহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথাই দলিল। হানাফি মাযহাব অনুসারে উপরোক্ত বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা সহকার বুঝিয়ে দিলে উপকৃত হব। আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা আপনাদের উত্তম বিনিময় দান করুন।
05 Jan 2026

পুরুষ ও মহিলাদের নামাযের মাঝে মৌলিকেোকন পার্থক্য নেই। দুয়েকেটি পার্থক্য হাদীস ও সাহাবীদের কথা-কাজ থেকে পাওয়া যায়। তবে কোন মহিলা যদি পুরুষের মত করে নামায পড়ে তার নামায হয়ে যাবে। এই বিষয়ে ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. বেঁচে থাকাকালীন একটি প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছিল। সেটি এখানে হুবুহু দিয়ে দিলাম। (38) প্রশ্নে উল্লেখিত হাদীসে পুরুষ ও মহিলার নামাযের মাঝে পার্থক্য না করা হলেও অন্যান্য অনেক হাদীসে, ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ী গণের কথার আলোকে জানতে পারি যে, কিছু কিছু বিষয়ে পুরুষ এবং মহিলার নাামাযের মাঝে পার্থক্য রয়েছে । নিম্নে কয়েকটি দলীল উল্লেখ করা হল। হাদীসের আলোকেঃ أخبرناه أبو بكر محمد بن محمد أنبأ أبو الحسين الفسوي ثنا أبو علي اللؤلؤي ثنا أبو داود ثنا سليمان بن داود أنبأ بن وهب أنبأ حيوة بن شريح عن سالم بن غيلان عن يزيد بن أبي حبيب : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم مر على امرأتين تصليان فقال إذا سجدتما فضما بعض اللحم إلى الأرض فإن المرأة ليست في ذلك كالرجل অর্থঃ (ইমাম বায়হাকী রহঃ ) আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মাদ এর সুত্রে তাবেয়ী য়াযীদ ইবনে আবী হাবীব এর থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নামাযরত দুই মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন । তখন তাদেরকে (সংশোধনের উদ্দেশে) বললেন, যখন সেজদা করবে তখন শরীর যমীনের সাথে মিলিয়ে দিবে । কেননা মহিলারা এ ক্ষেত্রে পুরুষের মত নয়। (সুনানে কুবরা ২ খন্ড, ২২৩ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ৩০১৬। ) প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ আওনুল বারী (১/৫২০) তে লিখেছেন উল্লেখিত হাদীসটি সকল ইমামের উসূল অনুযায়ী দলীল হিসাবে পেশ করার যোগ্য । حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن عَبْدِ اللَّهِ الْحَضْرَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَتْنِي مَيْمُونَةُ بنتُ حُجْرِ بن عَبْدِ الْجَبَّارِ بن وَائِلِ بن حُجْرٍ، قَالَتْ: سَمِعْتُ عَمَّتِي أُمَّ يَحْيَى بنتَ عَبْدِ الْجَبَّارِ بن وَائِلِ بن حُجْرٍ، عَنْ أَبِيهَا عَبْدِ الْجَبَّارِ، عَنْ عَلْقَمَةَ عَمِّهَا، عَنْ وَائِلِ بن حُجْرٍ، قَالَ: جِئْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: فساق الحديث . وفيه : يا وائل بن حجر: إِذَا صَلَّيْتَ فَاجْعَلْ يَدَيْكَ حِذَاءَ أُذُنَيْكَ، وَالْمَرْأَةُ تَجْعَلُ يَدَيْهَا حِذَاءَ ثَدْيَيْهَا. অর্থঃ হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ) বলেন আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর দরবারে হাজির হলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন হে ওয়াইল ইবনে হাজ্র ! যখন তুমি নামাজ শুরু করবে তখন কান বরাবর হাত উঠাবে । আর মহিলারা হাত উঠাবে বুক বরাবর । (আল মুজামুল কাবীর, তাবারানী ২২/২৭২, হাদীসটি হাসান। ) সাহাবায়ে কেরামের আছারের আলোকে عن أبي إسحاق عن الحارث عن علي قال : إذا سجدت المرأة فلتحتفز ولتلصق فخذها ببطنها অর্থঃ হযরত আলী রাঃ বলেন মহিলা যখন সেজদা করবে তখন সে যেন খুব জড়সড় হয়ে সেজদা এবং উভয় উরু পেটের সাথে মিলিয়ে রাখে । মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক ৩/১৩৮ অনুচ্ছেদ মহিলার তাকবীর, কিয়াম, রুকু ও সিজদা । মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ২/৩০৮ তাবেয়ীগণের কথার আলোকেঃ قال هشيم : أخبرنا شيخ لنا قال :قال سمعت عطاء سئل عن المرأة كيف ترفع يديها في الصلاة ؟قال حذو ثديها অর্থঃ হযরত আতা ইবনে আবি রাবাহ এর কাছে জানতে চাওয়া হল নামাযে মহিলা কতটুকু হাত উঠাবে? তিনি বললেন বুক বরাবর । (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১/২৭০। ) মোটকথা, রাসূল সাঃ এর হাদীস, ছাহাবায়ে কেরামের কথা ও তাবেয়ীগণের ফাতাওয়ার আলোকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বুঝা যায়, মহিলাদের নামাজ কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুরুষের নামায থেকে ভিন্ন। আর এই ভিন্নতার ভিত্তি হল মহিলাদের সতর ও পর্দার অধিক সংরক্ষণের বিবেচনা ।

প্রশ্নঃ 1309
আসসালামু আলাইকুম, ০১। অনেকে বিশেষ করে নারীরা সিজদার সময় মাটিতে দুই হাত বিছিয়ে দেয়। এই কাজটা হারাম। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তুমি যখন সিজদা করবে তখন তোমার হাতে তালুদ্বয় (যমীনে) রাখবে আর দুই কনুই উঁচু করে রাখবে। সহীহ মুসলিম। অন্য হাদীসে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন দুই হাতকে কুকুরের মতো বিছিয়ে না দেয়। বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ, তিরমিযী। আমরা মেয়েরা তো কনুই পায়ের সাথে মিশিয়েই নামাজ পড়ি,যতটা সম্ভব জড়সড় হয়ে। ….কোনটা সঠিক দয়া করে জানাবেন? ছেলে মেয়ের নামাজে কি আসলেই কোনো পার্থক্য নেই? থাকলে কি কি? ০২। সাইয়্যেদুল এস্তেগফার : যে ব্যক্তি এই এস্তেগফার সকালে পড়বে, অতপর সন্ধ্যায় আগেই তার মৃত্যু হলে সে জান্নাতী হবে। অনুরুপভাবে কেউ সন্ধ্যায় পাঠ করে সকালের পূর্বেই মারা গেলে সে জান্নাতি হবে। এটা কি সহি?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
০১। মহিলা ও পুরুষের মাঝে নামাযে মৌলিক কোন পার্থক্য নেই। তবে রুক, সিজদা ইত্যাদী সময়ে অধিকতর পর্দা রক্ষার্থে এক অঙ্গের সাথে অন্য অঙ্গ মিলিয়ে রাখা ভাল। অধিকাংশ ফকিহ ও ইমামের মত এটাই । হাদীসেও এর ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বিস্তারিত জানতে আমাদের দেওয়া ৩৮ নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

০২। জ্বী এটা সহীহ হাদীসে আছে। হাদীসটির নাম্বার দিয়ে দিলাম। হাদীসটি সহীহ বুখারীতে আছে। হাদীস নং ৬৩০৬

প্রশ্নঃ 1308
আসসালামু আলাইকুম উত্তর দেবার জন্যে ধন্যবাদ। সেই সাথে আমি খুব-ই দুঃখিত আমি আসলে ঠিক মতো বোঝাতে পারিনি। আমার পুর্বের কয়েক বছরের ফরজ কাজ্বা রোজা আছে যেগুলি ফরজ রোজার ভাংতি পিরিয়ড এর সময় করতে পারিনি,কিন্তু সেগুলা আমি পরে আর করিনি আমি এখন করতে চাই এক্ষেত্রে আমি কিভাবে তা আদায় করবো? একজায়গায় পড়েছি কাজ্বা আদায় এর পাশাপাশি প্রত্যেক কাজ্বা রোজার বিনিময়ে একজন মিসকিন খাওয়াতে হবে। আমার প্রশ্ন মিসকিন কে কি একবেলা নাকি ৩ বেলা খাওয়াতে হবে? আর টাকা দিতে চাইলে বর্তমান বাংলাদেশ এর প্রেক্ষাপট-এ মোট কত টাকা দিতে হবে প্রতি রোজার জন্যে? পুর্বের কয়েক বছরের কাজ্বা আদায়ের সহি পদ্ধতি কি? দয়া করে জানাবেন। আমি একান্তভাবে আশা করছি, আপনারা আমার এ প্রশ্নের জবাব দিবেন। কারণ উত্তরটি জানার জন্য আমার অন্তর ব্যাকুল হয়ে আছে। আমি শিগ্রই রোজা গুলি করতে চাই।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি যতটি রোজা ভেঙেছেন ততটি রোজা রাখবেন। ধরুন কয়েক বছর মিলে আপনার ২৫ টি রোজা কাজা হয়েছে তাহলে আপনি ২৫ টি রোজা রাখবেন। কোন টাকা পয়সা বা খাবার-দাবা দিতে হবে না। আপনি যা শুনেছেন তা ভুল শুনেছেন।

প্রশ্নঃ 1307
আসসালামু আলাইকুম। ১৩০৬ নাম্বার উত্তরে যে চার রাকাত নামাজের কথা আছে, তা কি এক সালামেই পড়বো নাকি দুই রাকাত করে পড়বো। ঈশার পর আমরা যে দুই রাকাত সুন্নাত পড়ি সেটা কি তখন না পড়লেও হবে। এই চার রাকাতের পর শুধু এক রাকাত বিতির পড়লে কি হবে?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যখন চার রাকআত পড়বেন তখন দুই রাকআত হয়ে যাচ্ছেই। না পড়লেও হবে এই প্রশ্ন তো অবান্তর। ্উক্ত চার রাকআতের পর এক রাকআত বিতর পড় হবে তবে সুন্নাত হলো আরো কিছু নামায পড়ে তার পর পড়া । নিচের হাদীসটি দেখুন: عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ بِتُّ فِي بَيْتِ خَالَتِي مَيْمُونَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ زَوْجِ النَّبِيِّ : وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عِنْدَهَا فِي لَيْلَتِهَا فَصَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ ثُمَّ جَاءَ إِلَى مَنْزِلِهِ فَصَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ ثُمَّ نَامَ ثُمَّ قَامَ ثُمَّ قَالَ نَامَ الْغُلَيِّمُ ، أَوْ كَلِمَةً تُشْبِهُهَا ثُمَّ قَامَ فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ فَجَعَلَنِي عَنْ يَمِينِهِ فَصَلَّى خَمْسَ رَكَعَاتٍ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ نَامَ حَتَّى سَمِعْتُ غَطِيطَهُ ، أَوْ خَطِيطَهُ ، ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার খালা, রাসূলুল্লাহ সা. এর স্ত্রী মায়মুনা রা. এর গৃহে রাত কাটালাম। সে দিন রাসূলুল্লাহ সা. তার কাছে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সা. ইশার (ফরজ) নামায পড়ে তার ঘরে আসলেন এবং চার রাকআত নামায পড়লেন। এরপর তিনি ঘুমালেন তারপর আবার উঠে নামায পড়লেন এবং বললেন, শিুশুটি ঘুমিয়ে পড়েছে। অত:পর তিনি আবার উঠলেন এবং আমিও তার সাথে উঠলাম এবং তাঁর বাম দিকে নামাযে দাঁড়ালাম। তিনি আমকে ডান দিকে দাঁড় করালেন এবং ৫ রাকআত নামায পড়লেন তার আবার দুই রাকআত পড়লেন (ফজরের দুই রাকআত সুন্নাত) এর আবার তিনি হালকা ঘুমালেন তারপর ফজরের নামাযের উদ্দে্শ্যে মসজিদে গেলেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৭। সুতরাং বিতর পড়ার আগে আরো কিছু নামায পড়বেন। আর না পড়লে বিতর তিন রাকআত পড়াই ভাল। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1306
আসসালামু আলাইকুম, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, যে ব্যক্তি ইশার পরে চার রাকাত সালাত আদায় করে, এটা তার জন্য লায়লাতুল ক্বদরে চার রাকাত সালাত আদায় করার মতোই। মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহঃ ২/৩৪২। আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন, ইশার পরে চার রাকাত সালাত লায়লাতুল ক্বদরে চার রাকাত সালাত আদায় করার মতোই। মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহঃ ২/৩৪২। হাদিস টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবেন ।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। উভয় হাদীসের বর্ণনাকারীগণ ছীকাহ।

এছাড়া আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকেও উক্ত অর্থের হাদীস সহী সনদে বর্ণিত আছে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং৭৩৫৩। উক্ত হাদীসের সমর্থনে একটি হাদীস সহীহ বুখারীতে আছে। সেখানে আছে রাসূলুল্লাহ সা. ইশার পরে চার রাকআত সালাত আদায় করেছেন। হাদীস নং ১১৭।

অর্থাৎ চারকাত পড়ার বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সা. থেকে সহীহভাবে প্রমানিত আর ফজিলতের বিষয়টি সাহাবীদের থেকে সহীহভাবে প্রমানিত। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আল-ইসলাম সুয়াল ও জওয়াব, প্রশ্ন নং ১৭৫৯১৪ (আরবী)।

প্রশ্নঃ 1305
জনাব আসসালামুআলাইকুম, আমার প্রশ্ন হচ্ছে: জুম্মার খুতবা এবং বয়ান কি মাইকে দেওয়া যাবে যাতে বাড়িতে বসে মহিলারা শুনতে পান? মজজিদের ভিতরে সাউন্ড বক্স এ সাধারনত দেওয়া হয়ে থাকে? কেউ কেউ বলছেন এটি ফিতনা সৃষ্টি করবে। দয়া করে জানাবেন।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালমা। হ্যাঁ, জুমুআর বয়ান মাইকে দেয়া জায়েজ আছে। কী ফিৎনা সৃষ্টি হবে বুঝলাম না। বর্তমানে অনেক মসজিদে মাইকে খুৎবা দেয়া হয়। আমাদের ”আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর আস-সুন্নাহ মাসজিদ কমপ্লেক্স” -এ ও  খুৎবা-বয়ান মাইকে দেয়া হয়।

প্রশ্নঃ 1304
আলহামদুলিল্লাহ, আমি আমার গত প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি,একটা জায়গায় আর একটু পরিষ্কার হতে চাই,আমার গত প্রশ্নটি ছিল, আসসালামু আলাইকুম, একটা বিয়ে সংক্রান্ত বিষয় জানতে চাচ্ছিলাম,জানালে খুব উপকৃত হতাম। ছাত্র অবস্থায় পাত্রপাত্রীর দুই পরিবারের সম্মতিতে আকদ করে রাখাটা জায়েজ হবে কিনা? বিয়ের পর যেহেতু স্ত্রীর ভরণপোষণ স্বামীর নেয়ার কথা তাই এক্ষেত্রে যেহেতু ছাত্র অবস্থায় বিয়ে হচ্ছে তাই যদি ব্যাপারটা দুই পরিবারের সম্মতির ভিত্তিতে এমন হয় যে আকদ টা হয়ে থাকবে, চাকরী পাওয়া পর্যন্ত ছেলের খরচ ছেলের বাবার আর মেয়ের খরচ মেয়ের বাবার অর্থাৎ আগে যেমন চলছিল তেমন, ছেলে চাকরী পেলে একটা ওয়ালীমাহ করে মেয়েকে বাসায় নিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে চাকরী না পাওয়া পর্যন্ত ছেলে মেয়ে সহ অবস্থান ও করবে না। আগের মত পড়ালেখা করে যাবে। হয়ত কথাবার্তা,দেখা সাক্ষাত ইত্যাদি হবে। এভাবে বিয়ে জায়েজ হবে কি না? এক্ষেত্রে যদি ছেলে মেয়ে নিজের ইচ্ছায় পড়ালেখার সময়টা শেষ হওয়া পর্যন্ত আলাদা থাকতে চায় সেক্ষেত্রে কি হবে? এখানে ওই ১২০ দিনের স্ত্রী থেকে আলাদা থাকতে পারবে না ওই নিয়মটি প্রযোজ্য হবে? আর হলে যারা বিয়ে করে স্ত্রীকে রেখে ৪ মাসের বেশি বাইরে থাকে তারা কি হারাম কাজ করে?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। স্ত্রীর অনুমতিতে দিলে ৪ মাসের পরেও স্বামী বাইরে থাকতে পারে। সুতরাং আপনারাও পড়া লেখা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আলাদা থাকতে পারবেন। তবে আলাদা না থাকাটাই শরীয়তের কাম্য।

প্রশ্নঃ 1299
আস্ সালামু আলাইকুম। *** প্রশ্নঃ (১) আমার জানামতে, আমার দাদা দাদী, বাবা মায়ের এবং আমার নিজের আকীকা করা হয়নি এবং আমি নিজে আমার সন্তানের আকীকা করি নি। এখন প্রশ্ন হলোঃ # বর্তমানে উক্ত আকীকাগুলো আদায় করলে তা আদায় হবে কিনা? # বর্তমানে উক্ত আকীকাগুলো করা কতটা জরুরী? # বর্তমানে উক্ত আকীকাগুলোর টাকা দিয়ে অন্য কোন ইসলামিক কাজ করা যাবে কিনা? মহান আল্লাহ্ আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন। আমীন ।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আক্বীকা দেয়া সুন্নাত। ফরজ, ওয়াজিব না। সন্তান জন্মের ৭ম দিনে আক্বীকা দেয়া সুন্নাত। কেউ ্উক্ত সময় না দিলে পরে দেয়া জায়েজ বলে আলেমগণ বলেছেন। আক্বীকার টাকা দিয়ে অন্য কোন কাজ করলে আক্বীকা দেয়া হলো না, এটা আক্বীকা নয়। যেমন কুরবানীর টাকা দান করলে কুরবানী হয় না।

প্রশ্নঃ 1303
আসসালামুয়ালাইকুম। আজকাল প্রায়ই দেখা যায় স্কুল/কলেজে বা বিভিন্ন সাষ্কৃতি অনুষ্ঠান কোরআন তেলোয়াত দিয়ে শুরু করে এবং পরে নাচ-গান দিয়ে প্রোগ্রাম শেষ করা হয়। পশ্ন হচ্ছেঃ নাচ-গানের প্রোগ্রাম কি বিসমিল্লাহ্ পড়ে কোরআন তেলোয়াত দিয়ে শুরু করা ঠিক বা জায়েজ কিনা?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দেখুন, এই কাজটি কুরআনের সাথে চরম বেয়াদবী। এর মাধ্যমে কুরআনকে হেয় করা হয়। সুতরাং এটা কোন মূমিনের জন্য করা জায়েজ নেয়।

প্রশ্নঃ 1302
আচ্ছালামু আলাইকুম, দূর যাত্রায় যেমন এক দিনের কোন যাত্রায় এদেশে কোন মাহরাম মহিলা সাথে নিয়ে গেলে মহিলার সালাত কিভাবে আদায় করা যাবে? পুরুষের জন্য মসজিদ আছে,কাজেই সফরে তারা সেখানেই নেমে সালাত আদায় করতে পারে,কিন্তু মহিলাদের জন্য কোন ব্যবস্থা না থাকায় এই প্রেক্ষিতে মহিলাদের কি করা উচিত?সাপোস চট্টগ্রাম থেকে খুলনার যেতে প্রায় একদিন চলে যায়। কাজেই কোন না কোন ওয়াক্ত মহিলার সালাত রাস্তায় পড়তেই হবে! এবেপারে যদি একটু বিস্তারিত বলতেন খুব ভাল হতো।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই সমস্যার সমাধান খুবই সহজ। আপনি যখন মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করবেন তখন মাহরাম মহিলাকেউ উক্ত মসজিদে নিয়ে গিয়ে একপ্রান্তে সালাত আদায় করাবেন। এতে শহরাঞ্চলে কেউ আপত্তি করবে না। তবে গ্রামে হয়ত কেউ না জেনে আপত্তি করতে পারে। আমি নিজেও এভাবে করি। আল্লাহর রহমতে কেউ আপত্তি জানায় না। বরং প্রসংশা করে। এমন কি কোথাও মসজিদ না থাকলে যে কোন স্থানে বা খোলা মাঠেও মহিলা সালাত আদায় করতে পারে।

প্রশ্নঃ 1301
আসসালামুলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। সারাদিন আমাকে ভাল মন্দ যে যা বলে সব আমি আমার স্বামীকে বলে দেই। এবং কথাগুলো আমার আর আমার স্বামীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। অন্যের কথাগুলো আমি আমার স্বামীকে বলি এটা কি আমার জন্য কোন পাপ হয়?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দেখুন কথা অনেক ধরনের হয়। কিছু কথা হয় গীবত। কিছু হয় অন্যের প্রসংশা আবার কিছু কথা হয় এসবের কিছু না। অহেতুক কথা। গীবত হলে না জায়েজ,হারাম। প্রসংশা হলে সমস্যা নেই। আপনি বাকীগুলো এভাবে বিশ্লেষন করুন।

প্রশ্নঃ 1300
আসসালামু আলাইকুম, আমার সাহু সেজদা বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর টি পেয়েছি। হয়ত আমার জ্ঞ্যানের সল্পতার জন্য বিষয়টি ক্লিয়ার করে বুজতেছিনা। জাযাকাল্লহু খইর। আমাকে শুধু এতটুকু বলেন আমাদের বর্তমান সমাজে যে ভাবে সাহু সেজদা করার নিয়ম প্রচিলত (আশা করি নিয়ম টি আপনাদের জানা আছে) এটা সহিহ কিনা, সহিহ হলে আলহামদুলিল্লাহ ভাল, আর সহিহ না হলে এর উত্তম পদ্ধতি টি সাধারন ভাবে বলে দিলে ভাল হত।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, সহীহ। এভাবেই করুন। তবে অন্যান্য পদ্ধতিতেও করা যায়।

প্রশ্নঃ 1298
আসসালামু আলাইকুম। আংকেল আমার প্রশ্ন হল, انت ومالك لابيك এর প্রকৃত ব্যাখা কী? আমার সব সম্পদ যদি আমার পিতা নিয়ে নেন তবে কি তিনি গুনাহগার হবেন না? আমার ভাই যদি আমাকে কিছু পাঠায় আর আমার পিতা যদি তা থেকে আমার বোনকে কিছু দিতে বলে তবে কি আমি সেটা দিতে বাধ্য থাকব?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, আপনার সম্পদ আপনার পিতা নিতে পারবেনা, এই হাদীসে সেই অনুমতি দেয়া হয়নি। এই হাদীসে ব্যাখ্যায় আল্লামা বদরুদ্দীন আইনি বলেছেন, أنت ومالك لأبيك أي في البر لا في القضاء واللزوم এই হাদীসটি ভাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোয্য, বিচারের ক্ষেত্রে, আবশ্যক করার ক্ষেত্রে প্রযোয্য নয়। উমদাতুল কারী,১৪/৭২২। একই ধরনের কথা বলেছেন আল্লামা আব্দুল মালেক ইবনে বাত্তল, তিনি বলেছেন, أنت ومالك لأبيك يريد فى البر والمطاوعة لا فى اللازم ولا فى القضاء .অর্থাৎ তুমি ও তোমারা সম্পদ পিতার এই হাদীস হাদীসটি ভাল ব্যবহার এ্বং আনুগত্যের ক্ষেত্রে প্রযোয্য, বিচারের ক্ষেত্রে নয়। শরহু সহীহীল বুখারী লি ইবনে বাত্তল ৩/৫৪৪। মোটকথা হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্যে আপনি সর্বদা পিতা-মাতার সাথে ভাল ব্যবহার করবেন। তাদের আনুগত্য করে চলবেন। অর্থনৈতিক প্রয়োজনে তাদের পাশে দাঁড়াবেন। আল্লহ তায়লা ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1297
আসসালামুআলাইকুম! Onugroho kore bolben ki je, Dr.Abdullah Jahanggir Sir er boi Sylhet shohorer kothay pa-ooa jabe? Jazakallah!
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহিমাহুল্লাহর এর বই সিলেটে পাওয়া যাবে, সালেহ বুক স্টোর, আন্দরকিল্লাহ, সিলেট।

প্রশ্নঃ 1296
আস-সালামু আলাইকুম। আমার বিগত প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য আপনাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আজকের প্রশ্নঃ আমি একজন সরকারি কর্মচারী। বিগত প্রায় ১৫ বছর যাবত চাকুরীরত রয়েছি। আমি বিভিন্ন সময়ে অফিসের কাগজ, কলমসহ অন্যান্য স্টেশনারি মাঝে মাঝে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছি। অথবা অফিসের প্রিন্টার হতে ব্যক্তিগত বিভিন্ন কিছু প্রিন্ট করেছি। এখন প্রশ্ন হলোঃ # এতে আমার কী ধরনের গুনাহ হয়েছে? # এ গুনাহ হতে আমাকে কিভাবে ক্ষমা লাভ করতে পারি?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি আনুমানিক কিছু টাকা সরকারী কোষাগারে দিতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1295
আসসালামুআলাইকুম। ডঃ খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের লেখা বই, প্রবন্ধ, বয়ান এবং প্রশ্নোত্তরসমূহ একত্রে স্মার্টফোন এপস আকারে প্রকাশ করা যায় কি?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। ভাই কাজ চলছে ইনশাআল্লাহ। পাবেন।

প্রশ্নঃ 1294
dhaka theke ami kivabe apnar book buy korte parbo akto janaben
05 Jan 2026

ঢাকার-দারুস সালাম ফুরফুরা দরবার শরীফ, বাংলা বাজার, বাইতুল মুকাররম এইস্থানগুলোতে ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত বইগুলো পাওয়া যায়। আরও বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন: 01715-400640

প্রশ্নঃ 1291
Assalamualikum, Where can I get books of AssunnahTrust from Dhaka?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালামু ওয়া রহমাতুল্লাহ। ঢাকার-দারুস সালাম ফুরফুরা দরবার শরীফ, বাংলা বাজার, বাইতুল মুকাররম এইস্থানগুলোতে ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত বইগুলো পাওয়া যায়।

প্রশ্নঃ 1292
1.Biya ar jonno onek bai, bonder patro ba patre na pale oneke somossa hoy.karon, boyos bere jay.Ajonno oneke hujurer kase gele bole biya bondo kora ache, jiner asor ache,biya nosto onek kisu.katate hobe. Katale o abar onno huhurer kase gele bole kateni. Islamic neom k bole. 2.Ajonno ke kora jete pare. 3.Allah to korane bolese ami protek manus k joray joray sisti koresi.Thahole onek bai, bon to jora kuje pay na.Aber pele o devorse hoa jay.A besoy a jante chai.
05 Jan 2026

এগুলো সব মিথ্যা বানোয়াট কথা। বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে, জ্বিন-পরী লাগেব এগুলো তাদের ব্যবসার জন্য বলা। আমাদের উচিৎ যে কোন সমস্যার জন্য সালাতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার কাছে সমাধান চাওয়া। বিয়ের জন্য নিচের দুআ দুটি সব সময় পড়বেন, সুন্নাত-নফল সালাতের সাজদাতে এবং সকল সালাতের দুআ মাসূরার সময়ও দুআ দুটি পড়বেন। উভয় দুআই কুরআনের আয়াত। رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا এবং رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

প্রশ্নঃ 1269
আসসালামু আলাইকুম, আমি এক ভাইকে দেখলাম বেশ সুন্নতি লেবেল(লম্বা দাড়ি, টুপি, যোব্বা) পরা আছে এবং তাকে নামাজও পড়তে দেখলাম, কিন্তু পরে দেখলাম একটা সেলুনে(খোঁজ নিয়ে দেখলাম নিজের সেলুন) আরেক ভাইকে ক্লিন সেভ করাচ্ছে। বিষয়টি দেখে আমি একটু হতবাক হয়েছি, -তার এ কাজ টা কতটুকু ঠিক বা শারীয়াসম্মত?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সেভ করানো কাজ করা কারো জন্যই শরয়তসম্মত নয়। তবে চুলা কাটানো জায়েজ। সে হয়ত জানে না, আপনি তাকে সতর্ক করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1290
আসসালামু আলাইকুম, আমি পদার্থ বিজ্ঞানের একজন ছাত্র। আমার অনেক আগে থেকেই ইচ্ছা ছিল, বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষক হওয়া। কিন্তু আমি কিছুদিন আগে এক মুরব্বির কাছে শুনলাম যে, যে প্রতিষ্ঠানে ছেলে মেয়ে একসাথে পড়ে পর্দা ছাড়া সে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা না জায়েজ। এর পর আমি ইন্টারনেট এ একটি ইসলামিক আস্কিং সাইটের মাধ্যমে জানলাম, তারা ও মোটামোটি একই কথা বলছেন। শুধু চাকরি করা না, পড়াশুনা ও নিষিদ্ধ। আমি এই বিষয়ে একটু জানতে চাই? আমি স্যার কে অনেক সম্মান করতাম। আল্লাহ তাকে বেহেশত দান করুন। আমাকে এই বিষয়ে একটু জানাবেন। আমি কি কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসাবে চাকরি করতে পারবো? বিঃ দ্রঃ- কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় ছেলে মেয়ে একসাথে বা শুধু মহিলা কলেজ হতে পারে। আমাকে এই বিষয়ে একটু জানাবেন। আলহামদুলিল্লাহ।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এমন কোন প্রতিষ্ঠানে আপনি যাবেন না যেখানে ছেলে-মেয়ে একসাথে পড়াশোনা করে অর্থাৎ সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এটাই কুরআন-সুন্নাহর অভিমত। ছেলে এবং মেয়েরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে কাজ করবেন না। ছেলেরা মেয়েদের সাথে কাজ করবে না তেমনি মেয়েরাও ছেলেদের সাথে কাজ করবে না। অল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1289
https://www.youtube.com/watch? v=UbzqeI_u040list=PLqZYWxnFPJvAth8JBgd6Me8xNvOiByfdPindex=12 Ei Video link e j hadisti bornona kora hoyeche er Kitaber nam Number ta bolben?
05 Jan 2026

এই হাদীসটি হুবহু আমি একটি হাদীসে পাই নি। তবে কয়েকটি হাদীসে একসাথে উক্ত লফযগুলো পেয়েছি। তার একটি হলো এই হাদীসটি এখানে মানুষের করণীয় অংশটি আছে। হাদীসটি আল-মুসতাদর লিল হাকিম কিতাবে আছে, হাদীস নং ৮৬০০। হাদীসটি সহীহ। 8600 – أخبرنا أبو عبد الله محمد بن عبد الله الزاهد الأصبهاني ثنا أحمد بن مهران بن خالد الأصبهاني ثنا عبيد الله بن موسى أنبأ يونس بن أبي إسحاق عن هلال بن خباب عن عكرمة عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال : كنت جالسا عند النبي صلى الله عليه و سلم فذكر الفتنة أو ذكرت له فقال : إذا الناس قد مرجت عهودهم و خفت أماناتهم و صاروا هكذا و شبك بين أصابعه فقمت إليه فقلت كيف أصنع عند ذلك يا رسول الله جعلني الله فداك ؟ قال : أملك عليك لسانك و أجلس في بيتك و خذ ما تعرف و دع ما تنكر وعليك بخاصة نفسك و دع أمر العامة هذا حديث صحيح الإسناد و لم يخرجاه تعليق الذهبي قي التلخيص : صحيح নিচের হাদীসটিতে পিতা এবং আত্নয়দের হত্যা করার কথা বলা হয়েছে। হাদীসটি আছি সুনানু আবু ইলা কিতাবে। হাদীস নং ৭২৩৪। হাদীসটি সহীহ। عن أبي موسى : قال رسول الله – صلى الله عليه و سلم – إن بين يدي الساعة الهرج قلنا : وما الهرج قال : القتل القتل حتى يقتل الرجل جاره وابن عمه وأباه قال : فرأينا من قتل أباه زمان الأزارقة قال حسين سليم أسد : إسناده صحيح এই অর্থের আরো অনেক হাদীস অনেক সাহাবী থেকে বিভিন্ন কিতাবে উল্লেখ আছে।

প্রশ্নঃ 1288
Assalamu Alaikum admin. Amra jani sahih hadis Onusare Bidati Imam er pichone namaj porle hobena. Bidatir Pichone Namj pora ki jayej ar jodi bidati Imam chara ase pashe kono mosjid na thake tahole kivabe namaj porbo?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কেন সহীহ হাদীসে আছে বিদআতী ইমামের পিছনে নামায পড়া যাবে না সেটা রেফারেন্সসহ বললে উত্তর দেয়া সহজ হতো। যাই হোক, আপনি চেষ্টা করবেন সহীহ আক্বীদার ইমামের পিছনে নামায পড়ার। যদি সম্ভব না হয় তাহলে বিদআতি ইমামের পিছনেই নামায পড়বেন। জামাতা ত্যাগ করবেন না। এটাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বীদা।

প্রশ্নঃ 1287
মাগরিবের সালাতের সময় জামাতে দুই রাকাত না পেলে, সালাত আদায়ের নিয়ম কি? (একটু বিস্তারিত বুঝিয়ে বললে খুব ভাল হত)
05 Jan 2026

ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর আপনি উঠবেন। তারপর সূরা ফাতিহাসহ আরেকটি সূরা পড়ে রুকু-সাজদা দিয়ে বসবেন এবং তাশাহুদু পড়বেন এরপর দাঁড়াবেন। তারপর সূরা ফাতিহার সাথে আরেকটি সূরা পড়ে রুক-সাজদা দিয়ে শেষ বৈঠকের মাধ্যমে সালাত শেষ করবেন।

প্রশ্নঃ 1286
আমি এখন অর্নাস তৃতীয় বর্ষ এ পড়ি। এখন আমি ইসলামিক বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পড়াশুনা করতে চাই। এরকম কি কোন প্রতিষঠান আছে, তা জানতে চাই?
05 Jan 2026

আপনি স্থানীয় কোন মহিলা কওমী মাদ্রাসাতে যোগাযোক করতে পারেন। আশা করি আপনি পড়াশোনার সুযোগ পাবেন।

প্রশ্নঃ 1285
Assalamualikum, Ami 4 years NGO te (accountant) job kori.Ami unmerried,joto traning or office er kaje baire gele kokhono borka khuli nai.But aber amader workshop cox bazar hoy tai 9 talay amra thaktem 11 tala workshop hoto tai borka na pore full hata threepis mathai hijab ba orna pore meeting kori.cox bazar theke aser din amer pura muk a bisfora te ami vugchi.Borka na pore three pis pore shotor dhakay ki ami allahortorof theke shasti pai bole amer maze maze mone hoy.Aber mone hoy borka na porle ki hobe ami to shothor dhakesi.A bepare apner montobbo ki janaben.
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। পুরো শরীল পোশাক দ্বারা ঢাকতে হবে, এটাই পর্দা। বিশেষ নামের কোন পোশাক উদ্দেশ্য নয়। প্রয়োজনে মুখ খুললে আশা করি আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দিবেন। তবে মুখ ঢাকতে হবে এটাই অধিকাংশ ফকিহের মত।

প্রশ্নঃ 1284
আসসালামুয়ালাইকুম, আমি একটা ব্যাক্তিগত (অনেকটা অদ্ভুত) সমস্যা নিয়ে শায়খকের শরনাপন্ন হয়েছি। আমি গ্রাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ার, আমার ক্যারিয়ার কোন দিকে নেব সেটা বুঝতে পারছি না। আমার সামনে কম্পানির জব, আমার ফিল্ডের সরকারি জব এবং বি.সি.এস এই তিন রকমের জবের সুযোগ আছে (যদি আল্লাহ তৌফিক দেন)। এখন আমি কোন সেক্টরের দিকে যাব বা কোন সেক্টর আমার জন্য ভালো হবে সেটাই ঠিক করতে পারছি না। একবার মনে হয় কম্পানির জবে ভালো বেতন পায়া যাবে কিন্তু জব সিকিউরিটি নেই, আবার সরকারি জবের জন্য চেষ্ট করব শেষে যদি চাকরি না হয় তখন কি করব? আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এমন কি কোন আমল আছে যার দ্বারা আল্লাহ আমাকে সঠিক (যেটা আমার জন্য উপযুক্ত) পথ দেখাবেন। এস্তেখারা কি এ ব্যপারে উপযোগী হবে? এ ব্যপারে হিসনুল মুসলিমিন নামের একটা এন্ড্রয়েড এপস এ দেখলাম সুরা আল-কাহফ এর ১০ এর নাম্বার আয়াতের (রব্বানা থেকে শুরু) কথা বলছে, এটা কি ঠিক?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বী, আপনি ইস্তিখারা করেন। আশা করা যায় আল্লাহ তায়ালা আপনাকে একটি সঠিক পথ দেখাবেন।

প্রশ্নঃ 1283
আস সালাম মুয়ালাইকুম, ভাই আমার প্রশ্ন হলো আমি যেখানে থাকি এখানে মসজিদ নেই জুমার নামাজ হবে কি?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আপনি প্রশ্নটি আরো স্পষ্ট করলে ভাল হতো। কোন দেশে আছেন, মসজিদ কত দূরে, আপনার কতজন মুসলিম আছেন ইত্যাদি। তবে আপনার জন্য যদি মসজিদে যাওয়া সাধারণভাবে সম্ভব না হয় এবং যেখানে থাকেন সেখানে কোন স্থানে জুমার নামাযের জামাত কায়েম করার কোন সুযোগ না থাকে তাহলে জুহরের নামায পড়বেন। আর সম্ভব হলে জুমুআর নামায পড়বেন।

প্রশ্নঃ 1282
আসছালামু আলাইকুম, (আলহামদুলিল্লাহ) আপনাদের প্রশ্নপর্বে খুব উপকার পাচ্ছি। আমার আজকের প্রশ্ন জিহাদ সম্পর্কে: ১। জিহাদ কি? কখন জিহাদ করা প্রয়োজন? বর্তমান পরিস্থিতিতে কি মুসলীম উম্মাহর জিহাদ করার সময় এসেছে?, না এসে থাকলে আমাদের বর্তমান পরিস্থিতিতে(চারিদিকে মুসলীমদের নির্যাতন, আল্লহর আইনের বিরুদ্ধে আইন) করনীয় কিছু আছে? ২। https://www.youtube.com/watch?v=468poH-U6wk এই লিংকে শাইখ তামিম আল-আদনানী যেভাবে জিহাদের দিকে মুসলীম তরুনদের ডাকছে সেভাবে ডাকা কি ঠিক হচ্ছে? তিনি, আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) যাকাতের ব্যাপার নিয়ে যাদের সাথে জিহাদের ঘোষনা দিতে চেয়েছিল তার রেফারেন্স দিয়েছেন সেটা কতটুকু সত্য? ৩। ইসলামে জিহাদের সঠিক ব্যাখ্যা সম্পর্কে কোন বই আছে?, থাকলে বইটার নামটা বললে উপকৃত হবো। ৪। আমার এক পরিচিত ভাই বাংলাদেরশ পুলিশে চাকরি করে, সে আমাকে বলে (এভাবে বুঝাতে চেয়েছেন..) রাসূল সাঃ যে ভাবে জিহাদ করেছে কালেমার দাওয়াত নিয়ে সে ভাবে আমাদের জিহাদ করা প্রয়োজন। তিনি বলেছেন বর্তমান বিশ্বে অধিকাংশ আলেম সুন্নত, নফল নিয়ে বিরোধ করছে এবং নতুন নতুন দল তৈরি করছে অথচ এসব ছোটখাটো ব্যাপারে রাসূল সাঃ বিবাদ করতে নিষেধ করেছন এবং এক হতে বলেছেন। এসব আলেমরা শুধু কালেমা পড়তে রাজি বাস্তব জীবনে বাস্তবায়ীত করতে রাজি না । আর এসব অলেমরা জিহাদের ব্যাপারে কোন কথা বলে না অথচ তা (জিহাদ করা) ফরজ। আমি তাকে বলেছি আমাদের তো (রাসূল সাঃ, ওমর রাঃ, আবু বকর রাঃ, উসমান রাঃ, আলী রাঃ) এনাদের মত নেতা নেই যে জিহাদের ডাক দিবে, তো এখন আমারা কার নেতৃত্বে জিহাদ করবো? একা একা তো জিহাদ করা যায় না । যদিও তার অনেক প্রশ্নের জবাব আমি দিতে পারিন, …. তবে আমি বলেছি আমাদের দেশে যারা বড় বড় আলেম আছে তাদের সাথে এ ব্যাপার নিয় কথা বলতে হবে তাহলে সমাধানে আসা যাবে এবং শুধু নিজের বিবেচনায় কোন সিদ্ধানে যাওয়া ঠিক হবে না । দয়াকরে আমার এ প্রশ্নের উত্তরগুলো দিলে মনের দিক থেকে খুব উপকার পেতাম, কারণ খুব দিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছি!!
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমরা আপনাদের উপকার করতে পারছি জেনে আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করছি। আপনার সবগুলো প্রশ্নের উত্তর একটি বইয়ে পাবেন। বইটির নাম ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ । লেখক, শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ.। আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স, ঝিনাইদহ থেকে প্রকাশিত। তবে সংক্ষেপে উত্তর হলো: জিহাদ হলো ইসলামী রাষ্ট্রকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করার যুদ্ধ। তবে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে যে কোন চেষ্টা প্রচেষ্টাকে শাব্দিক অর্থে জিহাদ বলা যেতে পারে, পারিভাষিক অর্থে নয়। জিহাদ হতে হবে রাষ্ট্রপ্রধানের নেতৃত্বে। হাদীসে আছে,وَإِنَّمَا الإِمَامُ جُنَّةٌ يُقَاتَلُ مِنْ وَرَائِهِ রাষ্ট্র প্রধান হলেন ঢাল, লড়াই হবে তাকে সামনে রেখে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৯৫৭। এর বাইরে কোন ধরনের যুদ্ধকে বা লড়াইকে জিহাদ বলা যাবে না। সুতরাং রাষ্ট্রপ্রধান যখন জিহাদের জন্য বলবেন তখন জিহাদ ফরজ হবে। আর আমাদের কাজ হলো জিহাদের সুযোগ আসলে জিহাদ করা। আর সকলকে ইসলামরে পথে দাওয়াত দেয়া, আহ্ববান করা। দাওয়াতের প্রতিটি সাইডে কাজ করার জন্য চেষ্টা করা। অসহায় মানুষদের সাধ্যানুযায়ী আর্থিক ও মানসিক সাহায্য করা। আবু বকর রা. জিহাদের ঘোষনা দিয়েছিলেন শতাভাগ সত্য। তিনি রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন জিাহাদের ঘোষনা দিতেই পারেন। তবে তার ঘোষনাটি ছিল তার প্রজাদের মাঝে যারা যাকাত দিতে অস্বীকার করেছিল তাদেরকে শাস্থির ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে। তার ঘোষনার সাথে সাধারণ মানুষের ঘোষনাকে মিলিয়ে ফেলা যাবে না। আলেমদের সমালোচনা ভাল মানুষদের কাজ নয়। তাও আবার ঢালাওভাবে সকল আলেমের সমালোচনা। তিনি জিহাদের অর্থ না বুছে শুধু তাদেরকে দোষারোপ করছেন। আলেমদের পক্ষে যা যা করা সম্ভব বা দায়িত্ব তা আমাদের দেশের আলেমগণ সর্বদা করে থাকেন। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন।

প্রশ্নঃ 1281
Asalamualikum orahmatullah amader Mosjid a sohih akidai salat adai korle onake kana gusa kore tobe ami oye sob care kori na kintu amader alakai manus k sohih akidai aante hole ki doroner podokkhep nita pari apnar shotik answerer opekhai roilam
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সহীহ আকীদার সালাত তো হয় না। সালাত সহীহ পদ্ধতিতে হয়। আমাদের দেশের মানুষ তো সহীহ পদ্ধতিতেই সালাত আদায় করে। আপনি আবার কোন সহীহ পদ্ধতি নিয়ে আসছেন সেটা স্পষ্ট নয়। যারা সালাত আদায় করে না তাদেরকে কিভাবে মসজিদে নিয়ে আসা যায় সেই চিন্তা করুন, যারা সালাত আদায় করছে তাদের সালাত সহীহ আকীদায় নিয়ে যাওয়ার চিন্তা করার প্রয়োজন নেই।

প্রশ্নঃ 1280
Assalamualaikum warahmatullah. Sir, আজকে একটি শহরের মসজিদে জোহর সলাত পড়ার আগে ইমাম সাহেব বললেন যে, সলাতের কিছু মাছায়েল জানা আমাদের দরকার। তারপর উনি বললেন যে কেউ দলিল চাইলে উনি দিবেন। কোন সমস্যা নেই। তারপর সবার উদ্দেশ্য বলল যে যারা টাই পড়েন তারা টাইটা খুলে সলাত পড়বেন। কেননা, গলায় টাই পড়া মাকরুহে তাহরিমি। এখন আমার প্রশ্ন টাই পড়ে সলাত পড়া কি আসলেই মাকরুহে তাহারিমি? নাকি ব্যক্তি বিদ্বেষ এর কারনে এই ফতোয়া। আর সলাতের ঠিক আগে এই ধরনের বিতর্কিত মাসায়ালা বলা কতটুকু যোক্তিক? কেননা, তার এই বিতর্কিত মাসায়ালা বা নতুন ফতোয়া আমার সলাতে আমার খুসু নস্ট করেছে। তাই আমি মনে হয়তো আরো মুসল্লিদের খুসুও নস্ট হতে পারে।যাই হউক আমি আপনাদের থেকে হক কথাটাই টাই পেয়ে থাকি বলে আমি মনে করি। আশা করি নিরাশ করবেন না। আর একটা প্রশ্ন। কোন মসজিদে যদি জামাত মিস করি তাহলে তারপর কয়েকজন মুসল্লি মিলে যদি সেই মসজিদের বারান্দায় আরেকটা জমাত করি তাহলে কি ইকামত দিতে হবে নাকি হবে না। আমি জানতাম একা সলাত পড়লেও ইকামত দিয়ে পড়া ভালো। কিন্তু একজন বলল একই মসজিদে দ্বিতীয় জমাত করলে নাকি একামত দেয়া যাবে না। আসলে সঠিক কোনটি? দয়াকরে জানিয়ে বাধিত করবেন। জাযাকাল্লাহ খইরান।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রতিটি মুসলিমের উচিৎ এমন পোশাক পরা যাতে তার ধর্মীয় পরিচয় ফুটে উঠে। আমরা যাকে বলি তাকওয়া প্রকাশ পায় এমন পোশাক। টাই মুসলিমদের পোশাক নয়, তাকওয়া প্রকাশ পায় এমন পোশাক নয়। তাই একান্ত বাধ্য না হলে প্রতিটি মুসলিমের টাই বর্জন করা উচিৎ। তবে টাই পরা সাধারণভাবে না জায়েজ নয়। আলেম সমাজের উচিৎ এমন কোন কাজ না করা যার দ্বারা সাধারণ মানুষ তাদের থেকে দূরে সরে যায়। ২। এটা একটি বিতর্কিত বিষয়। আপনি যে কোন একটির উপর আমল করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1279
While praying magrib/ isha / fazar salat alone, can anyone recite surah silently?
05 Jan 2026

হ্যাঁ, একাকি নামায পড়লে যে সব নামাযে জোরে সূরা পড়তে হয় সেসব নামাযে আস্তে আস্তে সূরা পড়লেও জায়েজ হবে তবে জোরে পড়াই ভাল।

প্রশ্নঃ 1278
হুযুর যদি একটু বলতেন? যে অহংকারমুক্ত থাকা যায় কিভাবে?
05 Jan 2026

ইসলামী বিধি বিধান মেনে চলুন। নিজেকে সব সময় ছোট মনে করবেন। মনে মনে এমন ভাববেন আমি জানি না কে আল্লাহর কাছে প্রিয়। যাকে আমি ঘৃনা করছি সেও আল্লাহ কাছে প্রিয় হতে পারে।

প্রশ্নঃ 1277
ইসলামি ব্যাংক এর Mudaraba Monthly Profit Deposit Account (MMPDA) নামে একটি সেবা/ পণ্য রয়েছে, যেখানে হিসাবধারীর জমাকৃত টাকার উপর মাসিক মুনাফা দেয়া হয় । তাদের ঘোষণা অনুযায়ী জমানো টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগ করে মুনাফা প্রদান করা হয় । প্রশ্ন হচ্ছে এই মুনাফা কি সুদের আওতামুক্ত ও হালাল? ২) সরকারি প্রাইজ-বন্ডের লটারির টাকা কি হালাল? ৩) বাংলাদেশে এমন কোন প্রতিষ্ঠান আছে কি যারা সুদ-মুক্ত কর্জ প্রদান করে?
05 Jan 2026

১। যদি প্রকৃতপক্ষেই ব্যবসায় বিনিয়োগ করে মুনাফা করে তাহলে উক্ত টাকা নেয়া জায়েজ আছে। সুদ হবে না। ২। না, সরকারী প্রাইজবন্ডের লটারীর টাকা হালাল নয়। এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ আলেম মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া একটি প্রবন্ধে বলেছেন, প্রাইজবন্ড : সরকার প্রাইজবন্ড ছাড়ে। যা যে কোনো ব্যাংক থেকে ভাঙ্গানো যায়। একটা নির্ধারিত মেয়াদের পর লটারীর মাধ্যমে ড্র করা হয়। এরপর বিজয়ীদেরকে পুরস্কার দেওয়া হয়। এই পুরস্কারটাই রিবা নাসিয়্যাহ বা সুদ। প্রাইজবন্ড ক্রয়ের মাধ্যমে ব্যাংককে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। আর ব্যাংক প্রাইজ বা পুরস্কার দেয়ার নামে ক্রেতাকে সুদ দিচ্ছে।রিবার প্রচলিত কয়েকটি রূপ মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া, মাসিক আলকাউসার, জুন-জুলাই ২০১৫, শাবান-রমযান ১৪৩৬। ৩। এমন কোন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আমার জানা নেই। ইসলামী ব্যাংকসমূহে যোগাযোগ করতে পারেন,তারা হয়তো আপনাকে কোন সঠিক পথ বের করে দিবেন।

প্রশ্নঃ 1276
আসসালামু আলাইকুম। ১. এখনকার magician রা যে যাদু দেখায়, (যা প্রধানত মানুষের বিনোদনের জন্যে, এবং জীনের মাধ্যমে না এবং কারো ক্ষতিকর কিছু না করে) তা দেখা এবং শিখা এবং তার মাধ্যমে আয় করা কি জায়েজ আছে? ২. ঢাকার এক মসজিদের সালাত আদায় করার আগে ইমাম সাহেব কিছু মাসআলা নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে বললেন যে অবস্থা যদি এমন হয় যে বাসে বা অন্য বাহনে সালাতের সময় চলে যাচ্ছে কিন্তু অজু নেই, এবং তায়াম্মুমের ও সুযোগ নেই, তবে সালাতের রুকু সিজদার মত অঙ্গভঙ্গি করবে কিন্তু দুয়া-জিকির বা সুরা পাঠ করবে না এবং পরে এই সালাতের কাজা আদায় করবে? এই মাসালাটা কি দলিল ভিক্তিক? আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। যাদু শেখা, প্রদর্শন করা, কোনটিই জায়েজ নেই। আলেমগণ এই বিষয়ে একমত। উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন। ২. পানি এবং মাটি একটিও না পেলে কি করতে হবে এটা কোন হাদীস থেকে পাওয়া যায় না। কারণ সাহাবীরা এমর পরিস্থিতির সম্মুখিন হন নি। যেহেতু হাদীস নেই তাই এই সময় কী করতে হবে তা নিয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ আছে। কেই বলেছেন, ঐ ওয়াক্তের সালাত আদায় করতে হবে না, কেউবা বলেছেন, ঐ অবস্থাতেই অপবিত্র অবস্থায় আদায় করতে হবে আবার কোন কোন আলেম বলেছেন, আপনি যে ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন সেটা। যে কোন একজন আলেমের মত মানলেই ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাবে।

প্রশ্নঃ 1275
পুরুষ এর জন্য কি কোন অবস্থায় GOLD ব্যবহার করা জায়েয আছে? এক ভাই এর কাছ থেকে শুনলাম উনি নাকি হাদিস এ কিছু কারণ পেয়েছে যে সব কারণে GOLD ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু আমি রাসুল (সাঃ) এর হাদিস জানি যেখানে উনি রেশমি কাপড় আর GOLD কে পুরুষ এর জন্য হারাম বলেছেন। দয়া করে রেফারেন্স দিয়ে এই বিষয়ে যত সহি, জাল এবং জয়িফ হাদিস আছে আমাকে জানাবেন। কারণ ওই ভাই কে রেফারেন্স ছাড়া বলে লাভ হবে না।
05 Jan 2026

না, পুরুষ মানুষে কোন অবস্থাতেই স্বর্ণ ব্যবহার করতে পারবে না। এই ব্যাপারে আলিমগণ একমত। হাদীসের প্রতিটি কিতাবে এই সম্পর্কে বহু হাদীস বিদ্যমান। সব হাদীস লেখা সম্ভব নয়। শুধু একটা হাদীস দিয়ে দিচ্ছি। আর আপনি তাকে বলুন কোথায় পরা হালাল হওয়ার ব্যাপারে বলা হয়েছে। এবার হাদীসটি দেখুন: عن أبي موسى أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال : إن الله عز و جل أحل لإناث أمتي الحرير والذهب وحرمه على ذكورها আবু মুসা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা আমার উম্মাতের মহিলাদের জন্য স্বর্ণ ও রেশমকে হালাল করেছেন এবং পুরুষদের জন্য সেগুলোকে হারাম করেছেন। সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ৫২৬৫; মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ১৯৫২৫। হাদীসটিকে শায়খ আলবানী, শায়খ শুয়াইব আরনাউত রহ.সহ সকল মুহাদ্দিসগণ সহীহ বলেছেন। এই হাদীসে স্পষ্ট বলা হয়েছে স্বর্ণ মুসলিম পুরুষদের জন্য হালাল নয়। এবং এব্যাপরে কোন মতভেদও নেই। ঐ ব্যক্তি কেন এমন বলেছেন তা বোধগম্য নয়।

প্রশ্নঃ 1274
আসসালামু আলাইকুম। আমাদের দেশে অনেকে ফরজ সালাতের পর মাথায় বা কপালে হাত দিয়ে কি যেন একটা দুয়া পরে (আমি অনেক ইমাম সাহেবকেও দেখেছি), কিন্তু একি সাথে আমি অনেক আলেমের মুখেও শুনেছি এটা সুন্নাহ সম্মত নয় । বিষয়টির ব্যাপারে সত্যিয়ই দলিল আছে কি না? থাকলে জানতে চাচ্ছি।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এ ব্যাপারে কোন সহীহ দলীল আছে বলে আমাদের জানা নেই।

প্রশ্নঃ 1273
Assalamualaikum . Amader library ase . sekhane amra Quran majid bikri kori . amar prosno hocche sob somoi oju thake na . oju chara dorle ki gunah hobe?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কুরআন শরীফ সরাসরি স্পর্শ করলে অবশ্যই পবিত্র অবস্থায় থাকতে হবে। তবে আপনি অন্য কোন কাগজ দ্বারা কুরআন শরীফ ধরে ক্রেতাকে দিলে কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 1272
As Salamu Alaikum, Dr. Abdullah Janangir (Rahimahullah) sir er boigulo theke masnun dua o dhikr gulo niye apple and android mobile application korle valo hoi. Jazak Allahu khairan
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।সুন্দর পরামর্শ দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।আমি বিষয়টি কতৃপক্ষকে জানাব। আশা করি দ্রুত একটি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রশ্নঃ 1271
Assalamualiqum. Mohtaram. Porokalay/akheratay kono musolmanki tar babmayer sakkhat pabay/chintay parbay? Maassalam.
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বী, পারবে। কিয়ামতের দিন বা আখেরাতে মানুষ তাদের পরিচিতদের চিনতে পারবে। এই বিষয়ে কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, فَإِذَا جَاءتِ الصَّاخَّةُ (33) يَوْمَ يَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ أَخِيهِ (34) وَأُمِّهِ وَأَبِيهِ (35) وَصَاحِبَتِهِ وَبَنِيهِ অত:পর যখন বিরাট আওয়াজ (কিয়ামত) আসবে, সেদিন মানুষ পালিয়ে যাবে তার ভাই থেকে, তার মা ও তার বাবা থেকে, তার স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি থেকে। সূরা আবাসা, আয়াত ৩৩-৩৫। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 1270
আমার বাড়ি নাগেশ্বরী, কাজের জন্য ঢাকায় থাকি,দুই ঈদে বাড়ি যাই, বাড়ী গেলে নামায কি কসর হবে নাকি পুরা নামায পড়তে হবে?
05 Jan 2026

বাড়ি গেলে নামায পুরো পড়বেন।কসর করবেন না।কসর করতে হয় যখন বাড়ি থেকে ৪৮ মাইল দূরে কোথাও ১৫ দিনের কম দিন থাকার নিয়তে যায় তখন।তবে আপনি বাড়িতে আসার পথে রাস্তায় কসর করবেন।

প্রশ্নঃ 1268
১/ তারাবীহ্ সালাত সারা মাস কি জামাতে পড়তে হবে নাকি মাঝে মাঝে একাই পড়তে হবে? আর জামাতে পড়লে খুব দ্রুত রুকু সিজদা এবং কুরআন তিলাওয়াত করে তাহলে কি সালাত হবে? ২/ আমি শুনেছি যে, তারাবীহ্ ও তাহাজ্জুদ একই সালাত এবং ৮ রাকাত কি পড়া যায়? সঠিক কোনটি? কুরআন ও হাদিসের আলোকে জানতে চাই।
05 Jan 2026

ভাই, এই বিষয়ে স্যার রহ. এর তত্বাবধানে একটি প্রশ্নের উত্তর দেয় হয়েছিল। আমি সেই উত্তরটি এখানে দিয়ে দিচ্ছি। প্রশ্নটি ছিল 63 নং প্রশ্ন। তারাবীহ বা রামাদানের কিয়ামুল লাইল: রামাদানে কিয়ামুল্লাইল আদায়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) অন্য সময়ের থেকে অধিক তাকিদ প্রদান করেছেন। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه অর্থ: যে ব্যক্তি রমজান মাসে ঈমানের সাথে সওয়াবের নিয়তে নামায পড়বে তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। 1 এজন্য রামাদানের কিয়ামুল্লাইলকে উম্মাতের আলিমগণ অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সুন্নাত মুআক্কাদা বলে গণ্য করেছেন। সাহাবীগণ রামাদানে তাঁর পিছনে জামাআতে কিয়ামুল্লাইল পালন করতে অতীব আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু ফরয হওয়ার আশঙ্কায় তিনি একাকী তা আদায় করতেন এবং সাহাবীদেরকে এভাবে আদায় করতে পরামর্শ দেন। 2 পাশাপাশি তিনি জামাআতে রামাদানের কিয়াম আদায়ের ফযীলতে বলেন: مَنْ قَامَ مَعَ الإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ كُتِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ যে ব্যক্তি ইমামের কিয়ামুল্লাইল শেষ করা পর্যন্ত ইমামের সাথে কিয়ামুল্লাইল আদায় করবে তার জন্য পুরো রাত কিয়াম পালনের সাওয়াব লেখা হবে। 3 ইমাম তিরমিযী ও শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেনে। সাহাবীগণ ও পরবর্তী প্রজন্মের মুসলিমগণ রামাদানের কিয়ামুল্লাইল আদায়ের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। যেহেতু শেষ রাতে উঠে তা আদায় করা অনেকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়, এজন্য অনেকেই সালাতুল ইশার পরেই মসজিদে বা বাড়িতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করে ঘুমাতেন। যারা কুরআনের ভাল কারী বা হাফিয ছিলেন না তারা অনেক সময় কোনো ভাল কারী বা হাফিযের পিছনে মসজিদে বা বাড়িতে ছোট জামাত করে তা আদায় করতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে ও তাঁর ওফাতের পরে প্রায় কয়েক বৎসর এভাবেই চলে। খলীফা উমার (রা) লক্ষ্য করেন যে, এভাবে মদীনার মসজিদে নববীতে ছোট ছোট জামাতে বা পৃথকভাবে একাকী অনেকেই সালাতুল ইশার পরে কিয়ামুল্লাইল আদায় করছেন। তখন তিনি সাহাবী উবাই ইবন কাবকে বলেন, মানুষেরা দিবসে সিয়াম পালন করেন, কিন্তু অনেকেই ভাল হাফিয বা কারী নন; কাজেই আপনি তাদেরকে নিয়ে জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করেন।

পাশাপাশি তিনি সুলাইমান ইবন আবী হাসমাহ (রা) নামক অন্য সাহাবীকে মহিলাদের নিয়ে মসজিদের শেষ প্রান্তে পৃথক জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করার নির্দেশ দেন। মহিলাদের জামাতের ইমামতি তামীম দারী (রা) নামক অন্য সাহাবীও করতেন। খলীফা উসমান ইবন আফ্ফনের (রা) সময়ে তিনি সুলাইমান ইবন আবী হাসমাহ (রা)-এর ইমামতিতে পুরুষ ও মহিলাদের এক জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায়ের ব্যবস্থা করেন। 4 অধিকাংশ মানুষ জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করতে থাকেন। তবে অনেক সাহাবী, তাবিয়ী ও যারা ভাল হাফিয ও আবিদ ছিলেন তারা সালাতুল ইশার পরে অথবা মধ্য রাতে ও শেষ রাতে একাকী রামাদানের কিয়ামুল্লাইল আদায় করতেন। সহীহ হাদীসে হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. স্বয়ং সাহাবীদের কে নিয়ে কয়েক দিন রমজানের এই বিশেষ নামায তথা তারাবীহ নামায পড়েছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০১২। রাসূল সা. থেকে সহীহ সনদে ঐরাতগুলোর তারাবীহর রাকআত সংখা নিয়ে কোন হাদীস বর্ণিত নেই। মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে রাসূল সা. ২০ রাকআত পড়েছেন মর্মে যে হাদীসটি বর্ণিত আছে তা সর্বাক্যমতে দূর্বলু। কারন ঐ হাদিসের সনদে আবু শায়বা ইবরাহীম ইবনে উসমান নামে একজন রাবী আছেন যাকে ইমাম আহমাদ, বুখারী, আবু দাউদ সহ সকল মুহাদ্দিস দূর্বল কিংব মাতরুক (পরিত্যক্ত) বলেছেন। 5 সহীহ হাদীস প্রমাণিত যে, রাতের নামাযে রাসূলুল্লাহ সা. এর রাকআত সংখা বিভিন্ন রকম ছিল। নিচে সংক্ষেপে বর্নণা করা হল: عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَقَالَتْ مَا كَانَ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ ، وَلاَ فِي غَيْرِهَا عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًا ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ قَالَ يَا عَائِشَةُ إِنَّ عَيْنَيَّ تَنَامَانِ، وَلاَ يَنَامُ قَلْبِي অর্থ: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান হযরত আয়েশা রা.কে জিজ্ঞাসা করেন, রমাদান মাসে রাসূলুল্লাহ সা.এর নামায কেমন ছিল? তিনি বললেন, তিনি রামাদান এবং অন্য সময়ে ১১রাকআতের বেশী বাড়াতেন না। তিনি প্রথমে ৪ রাকআত পড়তেন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতায় বিস্মিত হবে। এরপর আবার ৪ রাকআত পড়তেন। তুমি তার সোন্দর্য ও দীর্ঘতায় বিস্মিত হবে। এরপর ৩ রাকআত পড়তেন। ……….. 6হযরত আয়েশা রা. থেকে অন্য বর্নণায় আছে: عن عائشة قالت : كان النبي صلى الله عليه و سلم يصلي من الليل تسع ركعات [ قال ] وفي الباب عن أبي هريرة وزيد بنخالد والفضل بن عباس অর্থ: হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. রাত্রে ৯ রাকআত পড়তেন ।7 ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাসান সহীহ আর শাইখ আলবানী বলেছেন, সহীহ। আয়েশা রা. থেকে আরেক বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. কোন কারণে রাতের বেলায় নামায না পড়তে পারলে দিনের বেলায় ১২ রাকআত পড়তেন। জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৪৪৫। হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযী ও শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। عن ابن عباس قال : كان النبي صلى الله عليه و سلم يصلي من الليل ثلاث عشر [ ركعة হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা, রাতে ১৩ রাকআত নামায পড়তেন। 8 ইমাম তিরমিযী ও শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। বর্ণনা বিভিন্ন প্রকার হওয়ার কারণে ইমাম তিরমিযী বলেছেন, وأكثر ما روي عن النبي صلى الله عليه و سلم في صلاة الليل ثلاث عشرة ركعة مع الوتر وأقل ما وصف من صلاته بالليل تسع ركعات রাতের নামাযের ব্যাপারে নবী সা. থেকে যা বর্ণনা করা হয় তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী হল বিতরসহ ১৩ রাকআত আর সবচেয়ে কম হল ৯ রাকআত।

উপরের আলোচনা থেকে আমরা নিশ্চিত করেই বলতে পারি যে, রাতের নামায, রামাদান মাসে হোক কিংব অন্য সময় হোক রাসূলুল্লাহ সা. রাকআত সংখা নির্দিষ্ট করেননি। সাহবীদের থেকেও তারাবীর রাকআত সংখা নিয়ে বর্ণনা গুলোর মধ্যে ভিন্নতা আছে। নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল: হযরত উমর রা. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, তার সময়ে লোকেরা মসজিদে জামায়াতের সাথে বিশ রাকআত নামায আদায় করেছেন। হাদীসটি নিম্নরুপ: عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ : كَانُوا يَقُومُونَ عَلَى عَهْدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ فِى شَهْرِ رَمَضَانَ بِعِشْرِينَ رَكْعَةً – قَالَ – وَكَانُوا يَقْرَءُونَ بِالْمِئِينِ ، وَكَانُوا يَتَوَكَّئُونَ عَلَى عُصِيِّهِمْ فِى عَهْدِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ مِنْ شِدَّةِ الْقِيَامِ অর্থ: সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, লোকেরা উমার রা. আমলে রমজান মাসে বিশ রাকআত নামায পড়ত। তিনি বলেন, তারা একশ আয়াত পড়ত। দাড়িয়ে থাকতে কষ্ট হত তাই তারা উসমান রা. এর যুগে লাঠিতে ভর দিত। 9 ইমাম নববী, বদরুদ্দীন আইনি, আল্লামা যাইলায়ী, ইবনে হুমাম সব প্রমূখ মুহাদ্দীস হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। 10 তবে শায়খ আলবানী ও আব্দুর রহমান মুবারকপুরী এই দুই আহলে হাদীস আলেম বলেছেন হাদীসটি সহীহ নয়। তাদের কথা ইলমের দৃষ্টিতে গ্রহনযোগ্য নয়। এই হাদীসটির বক্তব্যকে সমর্থন করে অনেক গুলো দূর্বল ও সনদ বিচ্ছিনন হাদীস (যে হাদীসের সনদ থেকে কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে যায় তাকে সনদ বিচ্ছিন্ন বা মুনকাতি হাদীস বলে)। তার কিছু নিচে দেয় হল:

১। উক্ত সাহবী (সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে) দূর্বল সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন, كنا نقوم في زمان عمر بن الخطاب بعشرين ركعة والوتر অর্থ: আমরা উমার রা. যুগে বিশ রাকআত নামাযপড়তাম ও বিতর পড়তাম। মারিফাতুস সুনান লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং১৩৬৫। ২। ইয়জিদ ইবনে রুমান থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, كَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فِي رَمَضَانَ بِثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ رَكْعَةً অর্থ: মানুষেরা উমার ইবনে খাত্তারব রা. এর সময় তেইশ রাকআত (বেতার সহ) নামায পড়ত। 11 ইয়াজিদ ইবনে রুমান উমার রা. কে পাননি তাই হাদীসটির সনদ মুনকাতি। 12 ৩। আব্দুর রহমান আস সুলামী হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণনা করেন যে, دَعَا الْقُرَّاءَ فِى رَمَضَانَ ، فَأَمَرَ مِنْهُمْ رَجُلاً يُصَلِّى بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً. قَالَ : وَكَانَ عَلِىٌّ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ يُوتِرُ بِهِمْ অর্থ: তিনি (আলী রা.) যারা কোরআন পড়তে পারে তাদেরকে ডাকলেন। তারপর তাদের একজনকে লোকদেরকে নিয়ে বিশ রাকআত নামায পড়াতে আদেশ দিলেন। আব্দুর রহমান আসসুলামী বলেন, আলী রাযি. তাদেরকে নিয়ে বিতর পড়লেন। 13 এই হাদীসটির সহীহ বা যয়ীফ হওয়ার ব্যাপারে কোন বায়হাক্কী রহ. কোন মন্তব্য করেন নি। এই কিতাবের ৪৮০৫ নং হাদীসে পৃথক সনদে আলী রা. থেকে বিশ রাকআত তারাবীহ পড়ার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন বলে বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে তিনি দূর্বল বলেছেন।

এছাড়াও আরো অনেকগুলো সনদ দূর্বল হাদীস বিভিন্ন কিতাবে উল্লেখ আছে। এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, হযরত উমার রা. এর যুগ থেকে বিশ রাকআত তারাবীহ সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত এবং অনেকগুলো দূর্বল হাদীস একে সমর্থন করছে, সুতরাং আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, বিশ রাকআত তারাবীহ সুন্নাহ সম্মত। সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে অন্য হাদীসে বর্ণিত আছে যে, উমার রা. উবাই ইবনে কাব এবং তামীম দারেমীকে আট রাকআত তারাবীহ পড়ানোর জন্য আদেশ দিয়েছেন। যার আরবী জানেন তাদের জন্য হাদীসটির মূল পাঠ নিম্নরুপ: عَنْ مَالِكٍ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ ، أَنَّهُ قَالَ : أَمَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ وَتَمِيمًا الدَّارِيَّ أَنْ يَقُومَا لِلنَّاسِ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً قَالَ : وَقَدْ كَانَ الْقَارِئُ يَقْرَأُ بِالْمِئِينَ ، حَتَّى كُنَّا نَعْتَمِدُ عَلَى الْعِصِيِّ مِنْ طُولِ الْقِيَامِ ، وَمَا كُنَّا نَنْصَرِفُ إِلاَّ فِي فُرُوعِ الْفَجْرِ মুয়ত্তা মালেক, হাদীস নং ৩০২। হাদীসটির সনদ সহীহ। সহীহ সনদে সাহাবী সাইব ইবরে ইয়াযীদ থেকে আরো একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। হাদীসটি নিম্নরুপ: عبد الرزاق عن داود بن قيس وغيره عن محمد بن يوسف عن السائب بن يزيد أن عمر جمع الناس في رمضان على أبي بن كعب وعلى تميم الداري على إحدى وعشرين ركعة يقرؤون بالمئين وينصرفون عند فروع الفجر অর্থ: উমার রা. মানুষদেরকে একত্র করে উবাই ইবনে কাব এবং তামীম দারেমীকে ২১ রাকআত পড়ানোর জন্য ইমাম বানিয়ে দিলেন। তারা শত শত আয়াত পাঠ করতেন এবং ফজরের সময় ফিরে আসতেন। মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ৭৭৩০। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, সাহাবীগণও মনে করতেন না যে, তারবীহর নামায নির্দিষ্ট । তবে অধিকাংশ আলেম তারাবীহ নামায ২০ রাকআত আদায় করারা পক্ষে মত দিয়েছেন। নিচে চার মাজাহাব ও অনুসৃত আলেমগণের মতামত সংক্ষেপে বর্ণনা করা হল:

১। ইমাম বায়হাক্কী রহ বলেছেন, দুই বর্ণনার (আট ও বিশ) মাঝে এভাবে সমন্বয় কারা যায় যে, প্রথমে তারা আট রাকআত পড়ত পরে বিশ রাকআত পড়ত। আসসুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং ৪৮০২। রাকআত সংখা নিয়ে চার মাযহাব ও অন্যান্য ইমামগণের বক্তব্য: ২। হানাফী মাজহাব: يُسْتَحَبُّ أَنْ يَجْتَمِعَ النَّاسُ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ بَعْدَ الْعِشَاءِ فَيُصَلِّيَ بِهِمْ إمَامُهُمْ خَمْسَ تَرْوِيحَاتٍ ، كُلُّ تَرْوِيحَةٍ بِتَسْلِيمَتَيْنِ ، وَيَجْلِسَ بَيْنَ كُلِّ تَرْوِيحَتَيْنِ مِقْدَارَ تَرْوِيحَةٍ ، ثُمَّ يُوتِرَ بِهِمْ অর্থ: মুস্তাহাব হলো লোকেরা রমজান মাসে ইশার পরে একত্রিত হবে এং ইমাম তাদেরকে নিয়ে পাঁচটি বিরতি দিয়ে নামায পড়বেন আর প্রত্যেকটি বিরতি হবে দুই সালাম বিশিষ্ট (অর্থাৎ বিশ রাকআত)। প্রত্যেক দুই বিরতির মাঝে সমপরিমান সময় বসে থাকবেন । এরপর তিনি তাদেরকে নিয়ে বিতর পড়বেন। হেদায়া ১/৭০14

৩। মালেকী মাজহাব: মালেকী মাজহাবের প্রবীণ আলেম আল্লামা বাজী রহ. তার রচিত মুয়ত্তার ব্যাখ্যা গ্রন্থে (১/২০৮) তারবীহ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, وروى نافع مولى ابن عمر : أنه أدرك الناس يصلون بتسع وثلاثين ركعة. يوترون بثلاث. وهو الذى اختاره مالك অর্থ: মাওলা ইবনে উমার নাফে রহ. বর্ণনা করেন যে, তিনি মানুষদেরকে ৩৯ রাকআত নামায পড়তে দেখেছেন। তারা তিন রাকআত বিতর পড়ত । আর ইমাম মালেক রহ. এটাই পছন্দ করেছেন। 15

৪। শাফেয়ী মাজহাব: ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেন, فَأَمَّا قِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ فَصَلاَةُ الْمُنْفَرِدِ أَحَبُّ إلى منه وَرَأَيْتهمْ بِالْمَدِينَةِ يَقُومُونَ بِتِسْعٍ وَثَلاَثِينَ وَأَحَبُّ إلى عِشْرُونَ لأَنَّهُ روى عن عُمَرَ وَكَذَلِكَ يَقُومُونَ بِمَكَّةَ وَيُوتِرُونَ بِثَلاَثٍ অর্থ: রমজানের নামায একাকী পড়াই আমার নিকট উত্তম। আমি মদীনাবাসীদেরকে দেখেছি তারা ৩৯ রাকআত পড়ে । তবে বিশ রাকআত আমার নিকট অধিক প্রিয়। কেননা উমার রাযি. থেকে তা প্রামানিত। আর এমনই (২০ রাকআত) পড়ে মক্কাবাসীগন। আর তারা তিন রাকআত বিতর পড়ে। 16

৫। হাম্বলী মাজহাব: প্রখ্যত হাম্বলী আলোম ইবনে কুদামা আল মুকাদ্দেসী (৬২০হি.) বলেন, قَالَ ( وَقِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ عِشْرُونَ رَكْعَةً يَعْنِي صَلَاةَ التَّرَاوِيحِ وَهِيَ سُنَّةٌ مُؤَكَّدَةٌ অর্থ: রমজানের মাসের নাময অর্থাৎ তারবীহ বিশ রাকআত। এবং তা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। 17 শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার রহ. বলেন, فَإِنَّهُ قَدْ ثَبَتَ أَنَّ أبي بْنَ كَعْبٍ كَانَ يَقُومُ بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً فِي قِيَامِ رَمَضَانَ وَيُوتِرُ بِثَلَاثِ . فَرَأَى كَثِيرٌ مِنْ الْعُلَمَاءِ أَنَّ ذَلِكَ هُوَ السُّنَّةُ ؛ لِأَنَّهُ أَقَامَهُ بَيْن الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَلَمْ يُنْكِرْهُ مُنْكِرٌ অর্থ: এটা সাব্যস্ত যে, উবাই ইবন কাব রাযি. মানুদেরকে নিয়ে রমজানে বিশ রাকআত তারাবী ও তিন রাকআত বিতর পড়িয়েছিলেন। অধিকাংশ আলেম এটাকেই সুন্নত মনে করেন। কেননা তিনি তার করেছিলেন মুহাজির ও আনসারদের উপস্থিতিতে আর তার কোন রকম আপত্তি করেন নি। মাজমউল ফাতাওয়া ২৩/ ১১২। উপরের আলোচনা থেকে আমরা দেখতে পাই যে, তারাবীহ নামায রাসূলুল্লাহ সা. থেকে সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত। যারা বেশী কোরআন পড়তে পারেন তারা বাড়িতে একা একা উক্ত নামায পড়বে। আর তারাবীহর রাকআত সংখা বিশ হযরত উমার রা. থেকে সহীহ সনদে সাব্যস্ত। আর অধিকাংশ আলেমও বিশ রাকআতকে সুন্নাত মনে করেন। তবে শাইখ আলবানী সহ কোন কোন আলেম আট রাকআতের মত গ্রহন করেছেন। সুতরাং আমাদের মত সাধারণ মানুষদের কর্তব্য হল অধিকাংশ আলোম যে বিষয়টিকে সুন্নাত বলেছেন সেটা মেনে নেয়া এবং সেই অনুযায়ী আমল করা। তবে কেউ যদি এর কম বা বেশী পড়তে চান তাতে কোন অসুবিধা নেই। এমনটিই বলেছেন বিশেষজ্ঞ আলেমগণ। কেননা এটা সুন্নত নামায, রাকআত সংখা উদ্দেশ্য নয়। আরো জানতে ড.খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত আল-ফিকহুল আকবার দেখুন।

প্রশ্নঃ 1267
আসসালামু আলাইকুম,আমি আগের উত্তরগুলো পেয়ে খুব খুশি হয়েছি কারণ আপনারা খুব দ্রুত উত্তরগুলো দিচ্ছেন। আল্লাহ্ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন এবং আল্লাহ্ আপনাদের এই মহৎ কাজটি চালিয়ে যাওয়ার জন্য তোৈফিক দিন (আমিন)। ১/ এমন কি কোন পাপ আছে যেটা করলে আগের সমস্ত আমল নষ্ট হয়ে যায়? ২/ যিনি উত্তরগুলো দিচ্ছেন উনার শিক্ষাগত যোগ্যতা দয়া করে বলবেন? আর পারসোনাল ইমেইল-এ তো উত্তরগুলো পাচ্ছি না এই সাইটে এসেই তো দেখতে হচ্ছে কেন দয়া করে বলবেন?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আগের সমস্ত আমল কিভাবে নষ্ট হয় এই বিষয়ে বেশ কিছু আয়াত আছে। সেগুলোর মূল বক্তব্য হলো মুসলিম থেকে মুরতাদ হলে গেলে বা আল্লাহর কুরআনকে অস্বীকার করলে তার সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে যায়। আমি দুটি আয়াত এখানে দিয়ে দিচ্ছি: وَمَن يَرْتَدِدْ مِنكُمْ عَن دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُوْلَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَأُوْلَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ (217) যারা তাদের ধর্মত্যাগ করে (ইসলম ধর্ম) কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে তাদের দুনিয়ার ও আখেরাতে সমস্ত আমল নষ্ট হয়ে যাবে, তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী। এবং সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। সূরা বাকারাহ, আয়তা ২১৭। إِنَّ الَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ حَقٍّ وَيَقْتُلُونَ الِّذِينَ يَأْمُرُونَ بِالْقِسْطِ مِنَ النَّاسِ فَبَشِّرْهُم بِعَذَابٍ أَلِيمٍ (21) أُولَئِكَ الَّذِينَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَمَا لَهُم مِّن نَّاصِرِينَ (22) নিশ্চয় যারা আমার নিদর্শণসমূহকে অস্বীকার করবে, নবীদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করবে এবং মানুষদের মধ্য থেকে যারা ন্যায়নীতির কথা বলে তাদেরকে হত্যা করবে তাদেকে আপনি যন্ত্রনাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দিন। তারাই হলো ঐ সমস্ত লোক দুনিয়াতে এবং আখেরাত যাদের আমল নষ্ট হয়ে যাবে এবং তাদের কোন সাহায্যকারী নেই। সূরা আল-ইমরান, আয়াত ২১-২২। ২। প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখার জন্য একজনকে দায়িত্ব দেয়া আছে। তবে প্রয়োজন হলে তিনি অন্যদের সাহায্য নিয়ে থাকেন। এর চেয়ে বেশী এখানে লিখতে চাচ্ছি না। প্রয়োজনে 01734717299

প্রশ্নঃ 1266
আসসালামুয়ালাইকুম, হুজুর আমি একটা মারাত্নক সমস্যার ভিতড় আছি। আমার বয়স ২৭, আমি অবিবাহিত এবং বেকারত্তের জন্য আপাদত বিয়ে করা সম্ভব না (পারিবারিক অবস্থানুযায়ী বেকারত্ব ঘুচলেও আমার মনে হয় আগামী ২/৩ বছরেও সম্ভব হবে না) এবং আমি আল্লাহর রহমতে কোন দিন কোন হারাম সম্পর্কেও জড়াইনি। কিন্তু মাঝে মাঝে যৌন-উত্তেজনার প্রকোপ এত বেশি হয় যে মাথা কাজ করে না, সেই সময় ইসলামি কঠিন আইন কানুনের জন্য বিশেষ করে জেনার কঠিন শাস্তির বিধানের জন্য আল্লাহকে পর্যন্ত দোষারোপ করি। আইন কানুন সব ভেঙ্গে বেরিয়ে আসতে ইচ্ছা করে, মনের ভিতড় নামাজ নিয়েও বিদ্রোহ জাগে মনে হয় নামাজ পড়ে কি হবে নামাজ আর পড়ব না এই ভাবে জিদ করে বসে থাকি। শেষে আবার মনে হয় এখন যদি মারা যাই তবে বেনামাজি হিসেবে মরতে হবে তখন আবার নামাজ পড়ি। মনে হয় আল্লাহ ধর্মীয় আইন দিয়ে আমাদেরকে শুধু কষ্ট দিচ্ছে অথচ দিব্যি যারা ইসলামি আইন মানে না তারা সারাজীবন জেনাসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আবার ঠিকই অল্পবয়সে বিয়েও করে। মনের ভিতড় এই অবস্থা চলতে থাকে ঘুমানোর আগপর্যন্ত, ঘুম থেকে জাগার পর আবার আমি স্বাভাবিক তখন আর সেই বিশ্রী চিন্তা মাথায় থাকে না। কি ভাবে এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে পারি।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, সমস্যা আমরা তৈরী করি আর দোষ দেই আল্লাহকে। আল্লাহ তায়ালাতো আমাদেরকে বলেন নি যে, কথিত এই পড়াশোনা শেষ না করে বিয়ে করা যাবে না। যদি বলেন, কর্মের সংস্থান নেই তাহলে বলবো সাতাশ বছর বয়সে চাকরী ছাড়া কি আর কোন কর্মের সংস্থান করা যায় না? আল্লাহ কি বলেছেন যে, বাংলাদেশের ৪০ বছর ধরে পড়াশোনার পর যে চাকুরী হবে তারপর বিয়ে করতে হবে? আবার আপনি লিখেছেন, কর্মসংস্থান হলেও পারিবারিক কারণে বিয়ে করা সম্ভব নয়? এর জন্যও কি আল্লাহ দায়ী? দায়ী তো পরিবার। ভাল করে বুঝুন, আল্লাহ তায়ালা বিয়ের কোন বয়স নির্ধারণ করে দেন নি। এবং নির্দিষ্ট কোন কর্ম করতে হবে তাও বলেন নি। আপনার বয়স ২৭ বছর আপনি যে কোন হালাল কাজ করে বিয়ে করতে পারেন। যদি পিতা-মাতা বিয়ে দিতে না চায় তবুও আপনি বিয়ে করতে পারবেন। তবে আপনার এখন করণীও হলো পিতা-মাতাকে বিষয়টি যে কোনভাবে বুঝানো। যদি তার বোঝে ভাল না বুঝলে কোন কর্মের ব্যবস্থা করে আপনি বিয়ে করে নেবেন। কথিত চাকুরী নামক কর্মসংস্থান আল্লাহ তায়ালা বাধ্য করেন নি। যাদের কথা আপনি বলছেন যে, তারা অল্প বয়েসে বিয়ে করে তারা কিন্তু চাকুরী নামক কর্মের পিছনে ঘুরছে না। আশা করি বুছতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 1265
I am using inhalar for my asthma disease. Can I use inhalar during saom (roza)?
05 Jan 2026

এই ভিডিওটা দেখলে আপনি উত্তর পাবেন। 

প্রশ্নঃ 1264
ami ki amar wife er sathe jamate namaj aday korte parbo?
05 Jan 2026

আপনি মসজিদে জামাতে নামায পড়বেন। স্ত্রীর সাথে নয়। তবে কোন কারণে স্বামী স্ত্রী একসাতে নামায পড়লে স্ত্রী পিছনে দাঁড়াবে, এক কাতারে নয়।

প্রশ্নঃ 1263
আসসালামুলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ আমাদের সমাজে অনেক নাতি নাতনি তাদের দাদা দাদি বা নানা নানি কে নিয়ে দুষ্টামি ফাজলামি কথা বার্তা বলে অথবা দাদা দাদি বা নানা নানি তাদের নাতি নাতনিদের সাথে ঐরূপ কথা বার্তা বলে । এটা কি ইসলামে জায়েজ? দাদা দাদি বা নানা নানি এরা কি মাহারামের পর্যায়ে পরে?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দাদা-দাদী ও নানা- নানী তো মাহরামই। মাহরামের পর্যায় পড়ার তো কিছু নেই। কী ধরণের কথা বলা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট করে প্রশ্ন করুন।

প্রশ্নঃ 1262
নামাযে বসা অবস্থায় দুই পা এর অবস্থান কেমন থাকবে? পায়ের আঙ্গুল এর অবথসান কেমন থাকবে?
05 Jan 2026

নামাযে কিভাবে বসবে এই নিয়ে আলেমদের মাঝে কিছুটা মতভেদ আছে। একদল আলেম বলেন, শেষ বৈঠকে বাম পা ডানদিক থেকে বের করে দিবে এবং ডান পা সোজা রাখবে। আর প্রথম বৈঠকে ডান পা বিছিয়ে তার উপর বসবে আর বাম পা সোজা রাখবে। অবশ্য দু রাকআত বিশিষ্ট নামাযের ক্ষেত্রে তারা ডান পায়ের উপর বসতে বলেছেন। আবার আরেক দল বলেন, উভয় বৈঠকে ডান পায়ের উপর বসে বাম পা সোজা রাখবে। এই মতভেদটি মুস্তাহাব কেন্দ্রিক। যেভাবেই বসেন প্রত্যেকের মতে নামায হয়ে যাবে। উভয় মতের পক্ষে সহীহ হাদীস আছে।

প্রশ্নঃ 1261
Assalamualaiqum. Ami lokmokhey sunechi jay sunnat o nafal namaj basal pora uttom. Er sopokkhayki kono sohih dolil achay? Keo jodi Ajan sunar por, oi oakter sunnat namaj (jeti forojer agay portay hoi) basai poray mosjiday jai taholay ki shay mosjiday giye foroj namajer agay tahiatul wujuur namaj portay parbay? (Orthath shekhetray foroj namajer agay sunnat namaj porar niyom thakleo, foroj namajer agay tahiatul wujuu hoye gelo jar agay sunnat pora holo). Dolil soho bishoyti jantay parlay khushi hobo. Maassalam.
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ফরজ সালাত বাদে অন্য সকল সালাত বাড়িতে পড়া উত্তম। এই বিষয়ে অনেকগুলো হাদীস বর্ণিত আছে। তার মধ্যে একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, فَصَلُّوا أَيُّهَا النَّاسُ فِي بُيُوتِكُمْ فَإِنَّ أَفْضَلَ الصَّلاَةِ صَلاَةُ الْمَرْءِ فِي بَيْتِهِ إِلاَّ الْمَكْتُوبَة.হে লোকসকল! তোমরা বাড়িতে সালাত আদায় করো, কেননা ফরজ সালাত বাদে সকল সালাত নিজ বাড়িতে পড়া সর্বোত্তম। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৩১। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন, শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত রাহে বেলায়াত গ্রন্থের ৩৯০-৩৯২। বাড়িতে ওয়াক্তের সুন্নাত পড়ে এসে মসজিদে অন্যান্য সুন্নাত সালাতও পড়তে পারবেন। এতে কোন অসুবিধা নেই।

প্রশ্নঃ 1260
আচ্ছালামুআলাইকুম। জনাব,আপনাদের আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট নামক এই ওয়েব সাইট থেকে আমি আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহেমাহুমুল্লাহ) স্যারের কিছু বই ডাউন লোড করেছি। কিন্তু পড়তে গিয়ে বেশ বিব্রত হচ্ছি। এত অসুবিধা হচ্ছে,বারংবার বাধা প্রাপ্ত হচ্ছি, সে জন্য এখন আমি অন্য ওয়েব সাইড থেকে একই বই ডাউন লোড করার জন্য ভাবছি। কারণঃ-আপনারা বই এর পেজের পৃষ্ঠার শেষ দিকে যে,www.assunnahtrust.com লিখে দিয়েছেন ওটা ঠিক আছে। কোরানের আলো ওয়েব সাইডের ওনাদের বই গুলোতে হুবুহু আছে। তাতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু,আপনারা পৃষ্ঠার মাঝামাঝি যে আসসুন্নাহ ট্রাস্ট লিখে দিয়েছেন ওটার জন্যই সমস্যা হচ্ছে। কারণ, ওটা ইমেজ হলে সমস্যা ছিল না! ওটা আপনারা দিয়েছেন টেক্স বা ওয়েব লিন্ক হিসাবে। যার ফলে,পড়তে গিয়ে একটু মাউসের চাপ লাগলেই আপনাদের ওয়েব পেইজে কানেক্ট হওয়ার উপক্রম হয়……….জানি না এটা কেমন চিন্তা-ভাবনার ফসল। তবে বলাই বাহুল্য যে, সেবা মানেই হতে হবে বাঁধাহীন। সরল পথের দিকে আহ্বান করে পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখাটা বোধগম্য নহে। আশা করি এ ব্যাপারে ভেবে দেখার আজ্ঞা হবে। যাযাকাল্লাহু খাইরান, সাউদি,রিয়াদ থেকে, মাহবুব আলম
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নির্ভেঝাল খেদমতই আমাদের উদ্দেশ্য। এই কারণেই তো অন্যরাও আমাদের বইগুলো তাদের ওয়েবসাইটে দিতে পারছে। আমরা এগুলো করেছি পাঠকদের উপকারের জন্যই । তবে যদি এতে সমস্যা হয় তাহলে অবশ্যই আমরা সবচেয়ে ভাল যেটা হয় সেটা করবো। আপনাদের পরমর্শ আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। আক্রমনাত্নক কোন কথা কোন মূমিনের কাছ থেকে কাম্য নয়।

প্রশ্নঃ 1259
১/ হাশরের মাঠে মানুষের ৭২/৭৩ কাতার হবে বলে জানি কিন্তু প্রশ্ন হল শুধু মুসলমানদের মধ্যে কি ৭২/৭৩ কাতার হবে নাকি ইহুদী খ্রিন্টান ও সকল মানুষের মধ্যে? ২/ দয়া করে আপনার নাম ও আপনার মোবাইল নাম্বার দিবেন কারণ লিখতে সমস্যা হয়?
05 Jan 2026

হাদীসে আছে। وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً অর্থাৎ আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ২৬৪১।ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন এবং শায়খ শুয়াইব আর নাউ্ত হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। মুহাদ্দিসগণ বলেছের, এখানে উম্মত বলেত যারা নিজেদেরকে মুসলিম দাবি করে তারা্ উদ্দেশ্য। অন্য ধর্মের অনুসারীরা নয়। তুহফাতুল আহওয়াযী, ৬/৪৪০। ভাই, মোবাইলে প্রশ্ন করার জন্য এই নাম্বারে যোগাযোগ করুন 01762629405।

প্রশ্নঃ 1258
১/ যয়ীফ হাদীস এর আমল কি করা যাবে? ১২৪০ নং প্রশ্নের উত্তর থেকে জানতে পারলাম যে শুরা হাশরের আমলটা যয়ীফ। আমি যে মসজিদে সালাত পড়ি সেই মসজিদের ইমাম হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে দাওরা করেছে তিনি বললেন যে যয়ীফ হাদীস আমল করা যাবে। তাই তিনি নিয়মিত ফজরের সালাতের পর মুসুল্লিদেরকে নিয়ে শুরা হাশরের আমল করে?
05 Jan 2026

এই ধরণের আমলের ক্ষেত্রে হাদীস যয়ীফ হলেও আমল করা করা যায় বলে আলেমরা বলেছেন। তবে মুসল্লিদেরকে নিয়ে একসাথে সারা বছর করা উচিৎ নয়। বরং সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত আমলগুলোকে আরো বেশী গুরুত্ব দেয়া উচিত।

প্রশ্নঃ 1257
আসসালামুলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ ১) সুদ লেনদেন হয় এমন ব্যাংকে চাকরি করা কি হারাম? জদিও এটা হয় দারোয়ান বা ঝাড়ুদার থেকে অফিসারের পদবী ২) সফটওয়্যার কম্পানিতে যদি প্রজেক্ট পাওয়ার জন্য ঘুষ দেয় তবে সেখানে চাকরি করা কি হারাম? অথবা জযি তারা কোন সুদি ব্যাংকে টাকা রেখে সেখান থেকে কর্মচারীদের বেতন দেয় তবে কি তা হারাম হবে? ৩) আমার প্রতিবেশি যিনি আমার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ও তারা সুদি ব্যাংকে চাকরি করে, তাদের বাসায় দাওয়াত দিলে কি খাওয়া যাবে? আর তাদের বাসায় যদি খাওয়া হারামই হয় তবে আমাদের কি করা উচিত? দাওয়াতে না গেলে আবার বিশাল দ্বন্দ সৃষ্টি হবে। মনোমালিন্য, ঝগড়া ঝাটি ইত্যাদি।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সুদভিত্তিক ব্যাংকে যে কোন প্রকারের চাকুরীকেই আলেমগণ হারাম বলেছেন। ২। হ্যাঁ, এমন কোম্পানীতে চাকুরী করা যাবে। ৩। প্রথমে আপনার কাজ হলো, যেভাবেই হোক তাদেরকে বলা যে, আপনাদের আয় হালাল নয়। আর আপনার সমস্যার সমাধান অনেক আলেম এভাবে দিয়েছেন যে, যা খাবেন তার মূল্য সদকা করে দিবেন।

প্রশ্নঃ 1256
আসসালামুলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ১) প্রায় সময় সাদা স্রাব নির্গত হয়। সালাতে শুরু করেছে হঠাত সাদা স্রাব চলে আসছে তখন সালাত ছেড়ে দিয়ে ওযু করে এসে আবার সালাতে দাড়ায় । কখনো কখনো ৪ রাকাত সালাতে ৩ বার ওযু করতে হয়েছে । সাদা স্রাব নির্গত হওয়ার পর যদি ওযু না করেই সালাত পড়ে তাহলে কি সালাত হবে? ২) বাসে লং জার্নি করার সময় হঠাত অসুস্থতার কারণে প্রসাব বের হয়ে কাপড়ে লেগে যায়। তখন জহর সালাতের টাইম ছিলো । ওযু করার মত পানি না থাকলেও তায়াম্মুম করার মাটি ছিলো । ঐ অবস্থায় তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করলে কি সালাত হত?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রায় সময় সাদাস্রাব নির্গত হওয়া একটি রোগ, যেমনি ভাব ইস্তেহাযা একটি রোগ। রাসূলুল্লাহ সা. ইস্তেহাজাগ্রস্থ মহিলাদের নামাযের পূর্বমূহুর্তে ওযু করে নামায পড়ার নিদের্শ দিয়েছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২২৮। আলেম ও ফকীহগণ এই হাদীসের উপর ভিত্তিকরে বলেছেন, সাদাস্রাব যাদের নিয়মিত বের হয় সেসব মহিলারাও নামাযের আগে ওযু করে নামায পড়বে এবং ঐ ওয়াক্তের যাবতীয় ফরজ ও নফল নামায পড়তে পারবে। নামাযের ভিতর বের হলেও কোন সমস্যা নেই। বিস্তারিত জানতে দেখুন, মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে উসায়মিন, ১/ ২৮৪-২৮৬; আল-ইসলাম সওয়াল জওয়াব, প্রশ্ন নং ৪৪৯৮০। (আরবী)। আরবীতে প্রশ্নটি হলো هل السائل الأبيض الذي يخرج من المرأة ينقض الوضوء ؟.।

প্রশ্নঃ 1255
Assalamualikum: Choker dristy sokty branor ki kono amol asa? Janala upokoritro hobo.
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। চোখের দৃষ্টি শক্তির জন্য কোন আলাদা দুআ আছে বলে জানা নেই। তবে নিচের দুআটি রাসূলুল্লাহ সা. করতেন। হাদীসটি সহীহ মুসলিমে উল্লেখ আছে, হাদীস নং ১৮৩৫। اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِى قَلْبِى نُورًا وَفِى لِسَانِى نُورًا وَاجْعَلْ فِى سَمْعِى نُورًا وَاجْعَلْ فِى بَصَرِى نُورًا وَاجْعَلْ مِنْ خَلْفِى نُورًا وَمِنْ أَمَامِى نُورًا وَاجْعَلْ مِنْ فَوْقِى نُورًا وَمِنْ تَحْتِى نُورًا. اللَّهُمَّ أَعْطِنِى نُورًا দুআটির সংক্ষিপ্ত অর্থ হলো: হে আল্লাহ, আপনি আমার অন্তরে নূর দান করুন, আমার জিহ্ববাতে নূর দান করুন, আমার কানে নূর দান করুন, আমার চোখে নূর দান করুন, আমার সামনে পিছনে নূর দান করুন, আমার উপরে ও নীচে নূর দান করুন এবং আমাকে নূর দান করুন। সুতরাং এই দুআটি আপনি পড়তে পারেন। আশা করি উত্তর পেয়েছেন।

প্রশ্নঃ 1254
আমাদের দেশে আজকে আরবি মাসের ১৩তারিখ, আবার সউদি আরবে আজকে ১৪ তারিখ। সউদির আরাফা অনুযায়ী আরাফার রোযা রাখি। তাহলে আজকে ১৪তারিখের রোযা গেল নাকি ১৩তারিখের। প্লিজ জবাবের অপেক্ষা…
05 Jan 2026

এক্ষেত্রে সহজ ও নিরাপদ হলো যখন যেখানে থাকবেন তখন সেখানকার তারিখ হিসাব করা। সউদি আরাফা অনুযায়ী যদি রোজা রাখেন তাহলে সউদি অনুযায়ী আজকের তারিখ হিসাব করবেন। হয়তো একদিন বা দুইদিন বেশী হবে।

প্রশ্নঃ 1251
আসসালামুয়ালাইকুম। আমার ছোট ভাই মাদ্রাসায় পড়ে। এখন সমাপনী পরিক্ষা দিচ্ছে। চট্টগ্রামে ভাল সহিহ আকিদার কোন মাদ্রাসা আছে কি? যেখানে ও সহিহ দীনের জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। আস সুন্নাহর কোন মাদ্রাসা আছে কি? জাজাকাল্লাহু খাইর। আশা করি উত্তর দিবেন।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমাদের একটাই প্রতিষ্ঠান স্থান: আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, ঝিনাইদহ। আমাদের কোন শাখা চট্টগ্রামে নেই।  বিস্তারিত জানতে www.assunnahtrust.org

প্রশ্নঃ 1252
আসসালামু আলাইকুম রাহেবেলায়েত বইয়ের বিভিন্ন বিষয়ের দোয়াগুলো (নামাজের দোয়া না) তাহাজ্জুত এবং অন্যান্য নফল নামাজের সাজদাহতে পাঠ করতে বেশি উৎসাহিত করা হয়েছে। এখন আমি যদি তাহাজ্জুতে উঠতে না পারি সে ক্ষেত্রে নফল নামাজ ছাড়াও ফরজ নামাজের আগে পরে যে সুন্নত নামাজ পড়া হয় এবং বেতেরের নামাজের সাজদাহ ও শেষ বৈঠকে কি দোয়া গুলো পাঠ করা যাবে? আল্লাহ আপনাদের এই সেবার উত্তম প্রতিদান দান করুন, আমীন।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বী, আপনি সকল নফল-সুন্নাত সালাতে উক্ত দুআগুলো পাঠ করতে পারবেন।

প্রশ্নঃ 1250
আসসালামু আলাইকুম। মুনাফিকি থেকে বাঁচার জন্য কোন দোয়া বা আমল থাকলে জানতে চাই। আল্লাহ আপনাদের রহম করুন…
05 Jan 2026

মুনাফেকী থেকে বাঁচতে হলে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামাতের সাথে আদায় করুন। হাদীসে যেসব কাজকে মুনাফেকীর আলামত বলা হয়েছে অর্থঅৎ মিথ্যা বলা, ওয়াদা ভঙ্গ করা, গালি দেয়া পরিহার করুন। ইসলামের সকল বিধি-বিধান যথাসাধ্য পালন করুন। আল্লাহ আমাদের সকলকে ইমানের উপর থাকার তাওফিক দান করুন।

প্রশ্নঃ 1249
স্যারের কিছু বই আমার খুবই দরকার। বই গুলো কিভাবে অথবা কোথায় থেকে সংগ্রহ করতে পারবো যদি বলতেন তাহলে খুবই উপকৃত হতাম।
05 Jan 2026

আপনি এই নাম্বারগুলোতে যোগাযোগ করুন: আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স, ঢাকা অফিস: 01730 74 70 01, 01791 66 66 65 ঝিনাইদহ অফিস: 01791 66 66 63, 01791 66 66 64

প্রশ্নঃ 1248
আসসালামু আলাইকুম, নাউজুবিল্লাহিমিন জালিক বলার অর্থ কি?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। কোন খারাপ কাজ বা কথা শুনলে বলা হয় উক্ত বাক্যটি। যার অর্থ হলো আমি উক্ত কাজ বা কথা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

প্রশ্নঃ 1247
১২২৭ নং প্রশ্নের হাদিসটি হুজুর বুখারী শরিফ দিয়ে মিলিয়ে খেদলাম সেখানে আবুল ওয়ালিদ (রঃ) এর হাদীস রহিয়াছে। সঠিকটি জানালে খুশী হব।
05 Jan 2026

আপনি হয়ত জানেন না, প্রতিটি বইয়ের হাদীসের নাম্বার এক রকম না। আমি যেটা দিয়েছি ফাতহুল বারী কিতাবের নাম্বার অনুযায়ী দিয়েছি। আমি আপনার জন্য অধ্যায় ও পরিচ্ছেদের নাম দিয়ে দিলাম। পরিচ্ছেদ:باب أَفْضَلِ الاِسْتِغْفَارِ. অধ্যায়: كتاب الدعوات. সমস্যা থাকলে জানাবেন: 01734717299

প্রশ্নঃ 1246
আসসালামু আলাইকুম, আমরা কয়েকজন মিলে কিছু টাকা দিয়ে একটি জমি বন্ধক নিয়ছি। এই জমি আর একজন কে ৩০ হাজার টাকা চুক্তিতে ১ বছরের জন্য দিয়েছি। এভাবে জমি বন্ধক নিয়ে নির্দিষ্ট টাকায় ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাউকে চুক্তিতে দেওয়া কি বৈধ? দলিল সহ উত্তর দিলে খুবই উপকৃত হব।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আলেমদের সর্বাক্যমতে আপিনি যেটা বলেছেন অর্থাৎ বন্ধক রাখা জমি বন্ধক রাখা এটা জায়েজ নেই। এমনকি আপনি এ জমি চাষাবাদ করে তার ফসলের নিতে পারবেন না। এই জমি থেকে কোন ধরণের উপকার আপনি নিতে পারবেন না। এই জমি থেকে উৎপাদিত ফসলের মালিক হবে জমির মালিক। আপনি চাষাবাদ করতে চাইলে জমির মালিকের কাছে থেকে অনুমতি নিয়ে চাষাবাদ করতে পারবেন, তখন চাষাবাদের পারশ্রমিক আপনারা নিবেন। এই প্রসঙ্গে ইমাম বাইহাক্কী রহ. বলেন, وروينا عن فضالة بن عبيد ، أنه قال : كل قرض جر منفعة فهو وجه من وجوه الربا ، وروينا عن ابن مسعود ، وابن عباس ، وعبد الله بن سلام ، وغيرهم في معناه (রাসূলের সাহাবী) ফুজালা ইবনে উবাইদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এমন প্রতেক ঋন যা ঋনদাতাকে উপকার করে তা সুদের একটি প্রকার। সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, ইবনে আব্বাস,আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম,এবং অন্যান্যদের থেকে এই ধরণের কথা বর্ণিত আছে। সুনানুল কুবারা, হাদীস নং ২৫২৫। অন্যান্য ইমামদের মতামত ও দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন, আল-ইসলাম সুয়াল ও জবাব, প্রশ্ন নং 140078। প্রশ্নটি হল هل يجوز للمرتهن الانتفاع بالرهن ؟

প্রশ্নঃ 1243
আসসালামু ওয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। হুজুর আমার প্রশ্নটা হলোঃ- (১) আমি একটা বাড়ীতে টিউশনি করি। আমি যে বাচ্চাকে পড়াই তাকে নামাজ পড়ানো শেখাতে প্রথমে- আমি তাকে বললাম জায়নামাজের বিছানা ফেলানোর সময় ইন্নি ওয়াযাহাতু অজিহা লিল্লাযি ফাতারাহ সামাহ ওয়াতিওয়াল আরদা হানিফা মিনাল মুশরিকিন বলতে কিন্তু এই কথাটি তার মা জানতে পেরে, আমাকে বলল, আপনি আমার বাচ্চাকে এসব শিখাবেন না। কারণ রসূল (সঃ) এসব করেনি। তিনি বললেন, নামাজের নিয়ত মুখে বলতে নেই এটা মনে মনে বলতে হয়, আর সূরা কিরাত ও আল্লাহুআকবর, সামিয়াল্লা হুলিমান হামিদা এগুলো মুখে বলতে হয়। হুজুর সঠিক কি সহি হাদিস ও দলিল দ্বারা আমাকে জানালে খুশি হব। (২) আর তিনি বললেন বেতর নামাজ এর দ্বিতীয় বৈঠকের সময় তাশাহুদ না পড়ার জন্য। এটা আমার জানা ছিল না। সহি হাদিস ও কুরআন দ্বারা আমাকে জানালে উপকৃত হব।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
১। জায়নামাজের বিছানা ফেলানোর সময় ইন্নি ওয়াযাহাতু অজিহা লিল্লাযি ফাতারাহ সামাহ ওয়াতিওয়াল আরদা হানিফা মিনাল মুশরিকিন বলতে হয় মর্মে কোন হাদীস নেই। নিয়ত মনের বিষয় মুখের বিষয় নয়। রাসূলুল্লাহ সা. এবং সাহাবীদের থেকে পাওয়া যায় না যে, তারা আমাদের মত নাওয়াতু… বলে নিয়ত করেছে। তাসবীহগুলো মুখে বলতে হয়ে।

২। বিতর নামাযের দ্বিতীয় বৈঠকে তাশাহুদু পড়তে হবে। সকল সালাতের প্রতিটি বৈঠকে তাশাহুদু পড়তে হবে। হাদীসে আছে,

فَإِذَا جَلَسَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلاَةِ فَلْيَقُلِ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا ، وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ

রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ সালাতের মধ্যে বসবে সে যেন বলে, আত্তাহিয়্যাতু… ( তাশাহুদু শেষ পর্যন্ত । সহীহ বুখারী. হাদীস নং ৬২৩০। উক্ত হাদীসে ব্যাপকভাবে সকল বৈঠকে তাশাুহুদু পড়তে বলা হয়েছে। এখন যদি কেউ বলে বিতর সালাতে পড়তে হবে না তার জন্য আলাদা দলীল প্রয়োজন, এমন কোন দলীল আছে বলে আমার জানা নেই। আল্লাহ আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন।

প্রশ্নঃ 1245
আসসালামুয়ালাইকুম শায়খ আমি একটি পারিবারিক ব্যাপারে দিদ্ধায় আছি। আমি বি,এস,সি ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছি এবং আপাদত চাকরি খুজছি। আমি উচ্চ শিক্ষার জন্য দেশের বাইরে (আমেরিকা) যেতে চাই, কিন্তু আমার মা বাবা (বিশেষ করে মা) চান উচ্চ শিক্ষার চিন্তা বাদ দিয়ে দেশেই চাকরি ব্যাবস্থা করে দ্রুত বিয়ে করি। এর পরেও যদি পড়াশুনা করতে চাই তবে সেটা যেন বিয়ের পরে করি। কিন্তু বিয়ের পরে স্ত্রীকে রেখে দেশের বাইরে যেয়ে ৪/৫ বছর থাকা এটা চরম অমানবিক ও অন্যায় হবে, আর এরকম আমি কখনোই করব না। এখন ব্যাপারট এমন হয়েছে বিয়ে করলে উচ্চ শিক্ষা হবে না, আর উচ্চ শিক্ষা করতে চাইলে আপাদত বিয়ে হবে না (যা আমার বাবা মা চান না)। এদিকে আমার বর্তমান বয়স ২৭ (আসল)। এখন আমার কি করা উচিত? আমি যদি আমার ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দেই তবে কি পাপ হবে? নাকি বাবা মা র ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিয়ে বিয়ে করে নেয়া উচিত?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রাসূলুল্লাহ সা. পিতা-মাতার কথা উপেক্ষা করে জিহাদের যেতেও নিষেধ করেছেন। তাহলে আপনি উচ্চশিক্ষার জন্য কেন তাদের কথা উপেক্ষা করে বিদেশে যাবেন? আপনার উচিৎ হলো দেশে থেকেই কাজ করা।

প্রশ্নঃ 1244
আসসালামু আলাইকুম। আলহামদুলিল্লাহ্। আমার গত প্রশ্নগুলোর উত্তর পেয়েছি। ভাই আমি বলেছিলাম আমি একটা কম্পিউটারের দুকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করি। যেইখানে বিভিন্ন ব্যাংক এ আবেদন করা হয়। আপনি বলেছিলেন, আপনি কম্পিউটারে যে কাজ করছেন তা সরাসরি অপরাধ নয় তবে অপরাধে কিছুটা হলেও সহযোগিতা। ভাই, এইখানে কাজ করার পাশাপাশি অন্য কাজের সন্ধানে চেষ্টা করছি। তবে বর্তমানে যেহেতু এখনো এই দুকানে আছি, তাই আমি কোন ব্যাংক এর আবেদন আর এখন করি না। দুকানের অন্যরা করে। আমি বাদ দিয়েছি। তবে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করি। যেহেতু, কলেজের পাশেই দুকান। স্কুল, কলেজে ভর্তির জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের ছবি জমা দিতে হয়। এখন তাদের এই প্রয়োজনের স্বার্থে, তাদের ১টা ছবি স্ক্যান করে পাসপোর্ট বা স্ট্যাম্প সাইজের ছবি প্রিন্ট করে দেই। যাকে ছবি থেকে ছবি প্রিন্ট করে দেওয়া বলা হয়। এইটা কি আমি করতে পারবো? যেহেতু, এখানে প্রয়োজনের স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। এইটাও কি অপরাধ বলে গণ্য হবে !! যাযাকাল্লাহ। আসসালামু আলাইকুম।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জাতীয় এবং আন্তর্যাতিক বিভিন্ন কাজের জন্য বর্তমানে ছবির প্রয়োজন হয়। এই ধরনের প্রয়োজনে ছবি তোলা বা প্রিন্ট দেয়া না জায়েজ নয়। আপনি এটা করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1242
This Question from one of my Brother and I need also = কোন স্ত্রী যদি রাগের মাথায় তার স্বামীকে ৩ বার তালাক বলে তাহলে কি তালাক হয়ে যাবে? দলিলসহ জানতে চাই।
05 Jan 2026

ভাই, তালাক তো কেউ ভালবেসে দেয় না, রাগের মাথাতেই দেয়। যেভাবেই তালাক দিক পতিত হবে। রাগের মাথায় তালাক দিলে হবে না আর রাগ না হলে হবে এমন কোন পার্থক্য কুরআন হাদীসে নেই। তালাক দিলে হবে এটাই বলা আছে। এটা এমন একটি বিষয় যার দলীল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে খুব প্রয়োজন হরে সূরা বাকারা ২২৯ এবং ২৩০ নং আয়াত দেখতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1241
আসসালামু আলাইকুম, একটা বিয়ে সংক্রান্ত বিষয় জানতে চাচ্ছিলাম,জানালে খুব উপকৃত হতাম। ছাত্র অবস্থায় পাত্রপাত্রীর দুই পরিবারের সম্মতিতে আকদ করে রাখাটা জায়েজ হবে কিনা? বিয়ের পর যেহেতু স্ত্রীর ভরণপোষণ স্বামীর নেয়ার কথা তাই এক্ষেত্রে যেহেতু ছাত্র অবস্থায় বিয়ে হচ্ছে তাই যদি ব্যাপারটা দুই পরিবারের সম্মতির ভিত্তিতে এমন হয় যে আকদ টা হয়ে থাকবে, চাকরী পাওয়া পর্যন্ত ছেলের খরচ ছেলের বাবার আর মেয়ের খরচ মেয়ের বাবার অর্থাৎ আগে যেমন চলছিল তেমন, ছেলে চাকরী পেলে একটা ওয়ালীমাহ করে মেয়েকে বাসায় নিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে চাকরী না পাওয়া পর্যন্ত ছেলে মেয়ে সহ অবস্থান ও করবে না। আগের মত পড়ালেখা করে যাবে। হয়ত কথাবার্তা,দেখা সাক্ষাত ইত্যাদি হবে। এভাবে বিয়ে জায়েজ হবে কি না?
05 Jan 2026

হ্যাঁ, জায়েজ হবে। তবে স্বামী-স্ত্রী সহ-অবস্থঅন করতে পারবে না এমন শর্ত প্রযোয্য হবে না। তারা স্বামী-স্ত্রীর মত অবস্থান করতে পারবেন। এবং এটা পরিপূর্ণ বিয়ে বলে গণ্য হবে। স্ত্রীর দায়িত্ব স্বামীর তবে অন্যরা দিলে সেটা ইহসান, ভাল কাজের অন্তর্ভূক্ত।

প্রশ্নঃ 1240
আমি জানি কছর নামাজের বিধান কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না একটা বিষয় সেটা হল আমি যে কোম্পানিতে চাকরি করে সেটার কাজ প্রায় জায়গাতে ৭/১২ দিন মানে ১৫ দিনের কম একেক সময় একেক জায়গায় যেতে হয় কিন্তু বাড়িতে যাওয়া হয় না মানে বাড়িতে ১/২ মাস পরপর যাওয়া হয়॥ তাহলে আমি যেখানে অবস্থান করতেছি সেখানে কি কছর নামাজ আদায় করতে হবে কি না? স্থান পরিবর্তন হলেও সেটা ৪৮ মাইলের বেশী হয়। যেমন ধরেন, বাড়ি সিরাজগঞ্জ আসলাম ঢাকা ২ দিন থাকলাম তারপর সিলেট ১ দিন পর আবার সুনামগঞ্জ ৫ দিন পর আবার সিলেট ॥ সঠিক উত্তরটা বলবেন প্লিজ।
05 Jan 2026

আপনার বাড়ি সিরাজগঞ্জ হলে আপনি ঢাকায় গিয়ে কসর করবেন ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করলে, সিলেটে গিয়েও কসর করবেন ১৫ দিনের কম থাকলে, সুনমগনন্জ গিয়েও যদি ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করেন তাহলেও কসর করবেন, তেমনি আপনার বাড়ি থেকে ৪৮ মাইল দূরে কোন শহরে গিয়ে ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করলে কসর করবেন। বিভিন্ন শহরে যদি ১৫ দিনের কমে থাকেন সব মিলে যদি কয়েক মাস হয় তবুও আপনি মুকিম হবেন না, মুসাফিরই থাকবেন, কসর করবেন।

প্রশ্নঃ 1239
দীন শিক্ষা ও আত্মশুদ্ধির জন্যে আসসুন্নাহ ট্রাস্টে আসা যাবে কি?
05 Jan 2026

অবশ্যই আসবেন। আমরা আপনাকে আসার অমন্ত্রন জানায়। মাসিক মাহফিলসমূহে আসবেন। বাৎসরিক মাহফিলে আসবেন। সময়-সুযোগ হলেই আসবেন। প্রতি ইংরেজী বছরের ডিসেম্বরের প্রথম বুধ, বৃহঃবাার ও শুক্রবার আমাদের বার্ষিক মাহফিল হয়।

প্রশ্নঃ 1238
মুসলিম মরার পর কি লিখবো? মরহুম না রাহেমুল্লা। এবং এর অর্থ কি?
05 Jan 2026

মরহুম, রাহিমাহুল্লাহ, রাহমাতুল্লাহি আলাইহি যে কোন একটি বলতে পারেন। প্রতিটি শব্দের অর্থ একই।

প্রশ্নঃ 1237
আসসালামুয়ালাইকুম, ইসলাম ধর্মের রীতি অনুযায়ী যদি হিন্দু মেয়ে ও মুসলিম ছেলের বিয়ে দেয়া হয় তবে সেই বিয়ে কি বৈধ হবে? তাদের স্বামী স্ত্রীর দাম্পত্য সম্পর্ক কি হালাল হবে? তাদের যদি কোন সন্তান হয় তবে সেই সন্তান কি বৈধ হবে নাকি অবৈধ হবে?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, হিন্দু মেয়ে এবং মুসলিম ছেলের মাঝে কিংবা হিন্দু ছেলে এবং মুসলিম মেয়ের মাঝে বিয়ে জায়েজ হবে না, হারাম। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, وَلَا تَنْكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ وَلَأَمَةٌ مُؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ وَلَا تُنْكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا وَلَعَبْدٌ مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ তোমরা কোন মুশরিক মেয়েকে বিয়ে করো না, যতক্ষন না তারা ইমান আনে….. এবং তোমরা কোন মুসলিম মেয়েকে মুশরিকদের সাথে বিয়ে দিয়ো না…। সূরা বাকারা, আয়াত নং ২২১।

প্রশ্নঃ 1236
আচ্ছালামু আলাইকুম হুজুর। একটা প্রশ্ন। আমার আম্মা গত রমজানে অসুস্থতার জন্য ১১টি রেজা রাখতে পারেননি। আমার ইচ্ছা আমি আমার আম্মার অসম্পূর্ণ রোজা গুলো রেখে পুরণ করে দিব। আমার এক বন্ধু বল্লেন আমি যদি কারো জন্য রোজা রাখি সেটা হবেনা। আমি এখন পর্যন্ত ৩টি রোজা রেখেছি। আমি কি আমার আম্মার জন্য রোজা রাখতে পারবো না? ইসলাম এ ব্যপারে কি বলে? জানালে উপকৃত হব।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার বন্ধু যা বলেছেন সেটাই সঠিক। আপনার আম্মা রোজা রাখতে না পারলে তিনিই পরবর্তীতে কাজা করবেন, আপনি করলে হবে না। কুরআনে স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে অসুস্থাতার কারণে রোজা রাখতে না পাররে পরে তার কাজা করবে।

প্রশ্নঃ 1235
কাঁকড়া আর চিংড়ি মাছ খাাওয়ার বিধান কি? সবাই মাকরুহ বলে। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিস্তারিত জানতে চাঁই।
05 Jan 2026

চিংড়ি খাওয়া জায়েজ। তবে কাকড়া নিয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। একদল আলেম বলেছেন জায়েজ এবং অন্যদল বলেছেন মাকরুহ। আমাদের দেশে আমরা কাকাড়াকে ঘৃনা করি, পোকা-মাকড় এর অন্তর্ভূক্ত। মাকরুহহ হওয়াটাই যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়। এই বিষয়ে স্যারের এই আলোচনাটি শুনুন।  

প্রশ্নঃ 1234
আসসালামু আলাইকুম, আপানদের ওয়েব সাইটে প্রশ্নোত্তরগুলা সার্চ করার অপশন নাই। সার্চ অপশন এবং ক্যাটাগরি অনুসারে ব্রাউজ করার অপশন থাকলে ভালো হত। আমি নিজেও একজন ডেভেলপার। আপনারা চাইলে আমি বিনা পারিশ্রমিকে করে দিতে রাজি আছি। আরেকটা বিষয় জানাবেন। আমি যদি প্রশ্নোত্তর গুলো কপি করি তাহলে আপত্তি আছে কিনা?
05 Jan 2026

ওয়া আলােইকুমুস সালাম। সার্চ করার অপশন একেবারে নেই তা নয়। তবে বেশ সমস্যা আছে। আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। আপনি যদি এই নাম্বারে যোগাযোগ করেন তাহলে আমরা আপনার সহযোগিতা গ্রহণ করতে পারবো। 01762629410 কপি করতে চাইলে সমস্যা নেই। তবে এখান থেকে নিয়েছেন সেটা বলবেন।

প্রশ্নঃ 1233
ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের ইসলামে ফসলের চাষাবাদ/উশর সম্পর্কিত বই ডাউনলোড লিংক কি?
05 Jan 2026

আমাদের ওয়েবসাইটে খোঁজ করুন। দেয়া থাকলে পাবেন। দেয়া না থাকলে অপেক্ষা করুন।

প্রশ্নঃ 1232
মানুষের মুখে শুনি কয়েকজন আল্লাহ ভিরু লোকদের দিয়ে যদি কেও মনের আশা পুরনের জন্য দুরুদে নারিয়া ৪৪৪৪ বার পড়ায় তা আল্লাহ চাহেন তো পুরণ হয়। আমি যদি তা নিজে নিজে পড়ি এবং তা কতটুকু ভুমিকা পালন করবে?
05 Jan 2026

এটা সম্পূর্ণ জাল কথা। আপনি এই আমল করা থেকে বিরত থাকুন।

প্রশ্নঃ 1231
আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন ভাই? ১. নফল বা সুন্নত রোযার জন্য কেউ যদি পূর্ব থেকে নিয়ত করে না রাখেন, আর ঘুম থেকে উঠে ফযরের ওয়াক্ত হয়ে যাওয়ার পরেও রোযা থাকার নিয়ত করতে চান, তাহলে কি সিয়াম হবে?
05 Jan 2026

হ্যাঁ, হবে দুপুরের আগে নিয়ত করলেই নফল রোজা হবে।

প্রশ্নঃ 1230
সুরা ফাতিহার পর আমিন বলা কি সুন্নাত? সুন্নাত যদি না হয় তাহলে কি জানালে খুশি হব?
05 Jan 2026

সহীহ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. সূরা ফাতিহার পরে আমীন বলতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। সুতরাং আমীন বলা সুন্নাত।

প্রশ্নঃ 1229
আমি বিগত ০৩ বৎসর যাবৎ যাকাত আদায়। ইতিপূর্বে আমার উপর যাকাত ফরয থাকলেও তা পরিশোধ করা হয় নি। সেজন্য আমি অনুতপ্ত। বিগত দিনের যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে আমি কী করতে পারি?
05 Jan 2026

আপনি একটা অনুমান করে বিগত দিনের যাকাত দিয়ে দিবেন। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন।

প্রশ্নঃ 1228
আসসালামু আলাইকুম! ১। সন্তানের আকিকা করতে পিতা যদি টাকা দিতে না পারে তাহলে সন্তানের চাচা, দাদী, ফুফুর টাকা দিয়ে আকিকার আয়োজন করলে তা যায়েয হবে কী? ২। আকিকা করার সঠিক সময় কোনটি? ৩। জুমার নামাজ কত রাকাত ও কি কি?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

১। হ্যাঁ, পিতা ছাড়া অন্যরা টাকা দিলেও আকীকা জায়েজ হবে।

২। জন্মের ৭ম দিনে আকীকা দিবে। যেমন, শুক্রবার জন্ম নিলে পরের শুক্রবার।

৩। জুমুআর ফরজ নামায দুই রাকআত। এটা নির্ধারিত। হাদীসে জুমুআর ফরজ নামাযের আগে পরের সুন্নাত-নফল নামাযের রাকআত সংখ্যা নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। বরং সহীহ হাদীসে আছে খুতবা আরম্ভ হওয়া পর্যন্ত সুন্নাত নামায পড়বে। জুমুআর পরে কোন কোন হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. চার রাকআত পড়ার কথা বলেছেন (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২০৭৪), আবার কোন কোন হাদীসে আছে তিনি দুই রাকআত পড়েছেন (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৬৯)। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে সহীহ সনদে উল্লেখ আছে তিনি ফরজের আগে চার রাকআত পড়তে বলেছেন। আপনি যতটুকু পারবেন পড়বেন। আল্লাহ আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন।

প্রশ্নঃ 1227
আসসালামু আলাইকুম, সায়্যিদুল ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দুয়া নামে একটা দুয়া আছে আন্তরিক বিশ্বাসের সাথে কেউ যদি প্রতিদিন সকাল (ফযরের পরে) ও সন্ধ্যায় (আসর বা মাগরিবের পরে) পড়ে আর সে ঐদিন মারা যায় ইনশা আল্লাহ সে জান্নাতে যাবে। এটা কি সহীহ হাদিস?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। হ্যাঁ, হাদীসটি সহীহ। হাদীসটির মূলপাঠ দিয়ে দিলাম। হাদীসটি সহীহ বুখারীতে আছে। হাদীস নং ৬৩০৬ 6306- حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ بُرَيْدَةَ عَنْ بُشَيْرِ بْنِ كَعْبٍ الْعَدَوِيِّ ، قَالَ : حَدَّثَنِي شَدَّادُ بْنُ أَوْسٍ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم سَيِّدُ الاِسْتِغْفَارِ أَنْ تَقُولَ اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي اغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ قَالَ ، وَمَنْ قَالَهَا مِنَ النَّهَارِ مُوقِنًا بِهَا فَمَاتَ مِنْ يَوْمِهِ قَبْلَ أَنْ يُمْسِيَ فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ ، وَمَنْ قَالَهَا مِنَ اللَّيْلِ وَهْوَ مُوقِنٌ بِهَا فَمَاتَ قَبْلَ أَنْ يُصْبِحَ فَهْوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ.

প্রশ্নঃ 1226
কোরবানির সাথে কি আকিকা দেয়া যাবে?
05 Jan 2026

একই পশু দ্বারা কুরবানী ও আক্বীকা দেয়া রাসূলুল্লাহ সা. কিংবা সাহাবীদের থেকে পাওয়া যায় না।আক্বীকা সন্তান জন্ম হওয়ার আনন্দ আর কুরবানী ভিন্ন আনন্দ, দুটিকে এক করে ফেলা উচিৎ নয়। আমাদের উচিৎ সুন্নাত অনুযায়ী আলাদা দিনে আলাদা পশু দ্বারা আক্বীকা করা । তবে ফকিহগণ বলেছেন যদি কেউ একই পশু দ্বারা কুরবানী ও আক্বীক দেই তাহলে জায়েয হবে।

প্রশ্নঃ 1225
আসসালামু আলাইকুম। মসজিদে থাকা ও খাওয়া যাবে কীনা। যদি যায় তবে কুরআন হাদিস দিয়ে যানাবেন ।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সমজিদে থাকা ও খাওয়া জায়েজ। এই বিষয়ে অগনিত হাদীস বর্ণিত আছে। সেসব হাদীসে আমরা দেখতে পাই যে, সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ সা. এর যুগে মসজিদে খেতেন এবং ঘুমাতেন কিন্তু কোন দিন তিনি নিষেধ করেন নি বা অপছন্দ করেন নি। নিচের হাদীস তিনটি দেখলে বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। ১। عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَنَامُ وَهُوَ شَابٌّ عَزْبٌ لَا أَهْلَ لَهُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَسْجِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلّ আব্দুল্লাহ্ ইবনু ওমর (রাঃ) অবিবাহিত যুবক ছিলেন, যিনি রাসূল (ছাঃ)-এর যুগে মসজিদে ঘুমাতেন। সুনানু নাসাঈ, হাদীস নং ৭২২।

শায়খ আলবানীসহ মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। ২। عَبْدَ اللهِ بْنَ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ الزُّبَيْدِيَّ ، يَقُولُ : كُنَّا نَأْكُلُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ فِي الْمَسْجِدِ الْخُبْزَ وَاللَّحْمَ. মসজিদে খাওয়া-দাওয়া করাও বৈধ। ছাহাবী আব্দুল্লাহ বিন হারেছ (রাঃ) বলেন, আমরা রাসূল (ছাঃ)-এর যামানায় মসজিদে রুটি ও গোশত খেতাম। সুনানু ইবনু মাজাহ, হাদীস নং ৩৩০০; সহীহ ইবনু হিব্বান, হাদীস নং ১৬৫৭। শায়খ শুয়াই আরনাউত এবং শায়খ আলবানী রহিমাহুমাল্লহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। হযরত সাহল ইবনে সাদ রা. বলেন, جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ بَيْتَ فَاطِمَةَ فَلَمْ يَجِدْ عَلِيًّا فِي الْبَيْتِ، فَقَالَ: أَيْنَ ابْنُ عَمِّكِ؟ قَالَتْ: كَانَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ شَيْءٌ فَغَاضَبَنِي فَخَرَجَ فَلَمْ يَقِلْ عِنْدِي، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ لِإِنْسَانٍ: انْظُرْ أَيْنَ هُوَ، فَجَاءَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، هُوَ فِي الْمَسْجِدِ رَاقِدٌ، فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ وَهُوَ مُضْطَجِعٌ قَدْ سَقَطَ رِدَاؤُهُ عَنْ شِقِّهِ وَأَصَابَهُ تُرَابٌ، فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ يَمْسَحُهُ عَنْهُ، وَيَقُولُ: قُمْ أَبَا تُرَابٍ، قُمْ أَبَا تُرَابٍ. একদিন রাসূলুল্লাহ সা. হযরত ফাতেমার ঘরে এসে আলীকে (রা.) পাননি। জিজ্ঞেস করলেন, আলী কোথায়? ফাতেমা বললেন, আমাদের দুজনে মধ্যে কিছু রাগারাগি হয়েছে। ফলে তিনি রাগ করে এখানে বাইরে চলে গেছেন। রাসূলুল্লাহ সা. একজনকে বললেন, তাকে একটু খুঁজে দেখ কোথায়। লোকটি এসে জানাল, আলী মসজিদে ঘুমিয়ে আছেন। রাসূলুল্লাহ সা. এসে দেখলেন আলী শুয়ে আছেন। শরীর এক পাশ থেকে চাদর পড়ে গেছে। আর গায়ে ধুলো-বালি লেগে রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা. তাঁর গায়ের বালি ঝেঁড়ে দিচ্ছেন আর বলছেন আবু তোরাব উঠ উঠ। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৪৪১। উপরুক্ত হাদীসগুলো দ্বারা আমরা জানতে পারলাম মসজদে থাকা খাওয়া জাযেজ। সাহবীদের কর্ম।

প্রশ্নঃ 1224
Assalamu Alaikum. Mutaram, please let me know about Imam Mahdi (A.)
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

ইমাম মাহদী সম্পর্কে শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. আল ফিকহুল আকবার গ্রন্থে আলোচনা করেছেন। আমি সেখান থেকে সার-সংক্ষেপ উপস্থাপন করবো। বিস্তারিত জানতে মূল বইটি দেখুন। বিভিন্ন হাদীসে কিয়ামতের পূর্বে ইমাম মাহদীর আবির্ভাবের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো কোনো হাদীসে বিষয়টিকে ঈসা মাসীহের অবতরণ ও দাজ্জালের সাথে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদীস, ফিকহ ও আকীদার পরিভাষায় ইমাম শব্দটি খলীফা বা রাষ্ট্রপ্রধান শব্দের সমার্থক। মাহদী অর্থ হেদায়াত-প্রাপ্ত। এজন্য পারিভাষিকভাবে ইমাম মাহদী অর্থ আল্লাহর পক্ষ থেকে হেদায়াত-প্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধান। রাসূলুল্লাহ সা. তাঁর পরের খলীফাগণকে খুলাফা রাশিদীন মাহদিয়্যীন বা মাহদী রাশিদ খলীফা বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ থেকে আমরা জানি যে, খুলাফায়ে রাশিদীন সকলেই মাহদী বা হেদায়াতপ্রাপ্ত ছিলেন। তবে শেষ যুগে আরো একজন মাহদী রাষ্ট্রপ্রধান ক্ষমতাগ্রহণ করবেন বলে বিভিন্ন হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

মাহদীর কথা উল্লেখ করে কোনো হাদীস সহীহ বুখারী বা সহীহ মুসলিমে নেই। অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে এ বিষয়ক হাদীসগুলো সংকলিত। এ বিষয়ে কিছু সহীহ হাদীসের পাশাপাশি অনেক যয়ীফ হাদীস বিদ্যমান এবং অগণিত জাল হাদীস এ বিষয়ে প্রচারিত হয়েছে। এখানে এ বিষয়ক কয়েকটি গ্রহণযোগ্য হাদীস উল্লেখ করছি। প্রথম হাদীস: আব্দুল্লাহ ইবন মাসঊদ বলেন, রাসূলুল্লাহ সা.বলেন: لَوْ لَمْ يَبْقَ مِنَ الدُّنْيَا إِلاَّ يَوْمٌ لَطَوَّلَ اللَّهُ ذَلِكَ الْيَوْمَ حَتَّى يَبْعَثَ فِيهِ رَجُلاً مِنِّى أو مِنْ أَهْلِ بَيْتِى (يَمْلِكَ الْعَرَبَ/ يلي رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ بَيْتِى) يُوَاطِئُ اسْمُهُ اسْمِى وَاسْمُ أَبِيهِ اسْمَ أَبِى يَمْلأُ الأَرْضَ قِسْطًا وَعَدْلاً كَمَا مُلِئَتْ ظُلْمًا وَجَوْرًا দুনিয়ার যদি একটি দিনও বাকি থাকে তবে আল্লাহ সে দিনটিকে দীর্ঘায়িত করে আমার বংশধর থেকে এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন যার নাম ও পিতার নাম আমার নাম ও আমার পিতার নামের মতই হবে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করবেন, আরবদের উপর রাজত্ব গ্রহণ করবেন জুলুম পূর্ণ পৃথিবীকে ইনসাফে পূর্ণ করবেন। হাদীসটি সহীহ।

দ্বিতীয় হাদীস: আবূ সায়ীদ খুদরী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেন: الْمَهْدِىُّ مِنِّى أَجْلَى الْجَبْهَةِ أَقْنَى الأَنْفِ يَمْلأُ الأَرْضَ قِسْطًا وَعَدْلاً كَمَا مُلِئَتْ جَوْرًا وَظُلْمًا يَمْلِكُ سَبْعَ سِنِينَ মাহদী আমার (বংশধর) থেকে, তার কপাল চুলমুক্ত (মাথার সম্মুখভাগে চুল থাকবে না) এবং নাক চিকন। সে অত্যাচারে পরিপূর্ণ দুনিয়াকে ন্যায়পরায়ণতায় পূর্ণ করবে। সে সাত (অন্য বর্ণনায়: নয়) বছর রাজত্ব করবে। হাদীসটি সহীহ। তৃতীয় হাদীস: উম্মু সালামা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেন: يَكُونُ اخْتِلاَفٌ عِنْدَ مَوْتِ خَلِيفَةٍ فَيَخْرُجُ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ هَارِبًا إِلَى مَكَّةَ فَيَأْتِيهِ نَاسٌ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ فَيُخْرِجُونَهُ وَهُوَ كَارِهٌ فَيُبَايِعُونَهُ بَيْنَ الرُّكْنِ وَالْمَقَامِ وَيُبْعَثُ إِلَيْهِ بَعْثٌ مِنَ الشَّامِ فَيُخْسَفُ بِهِمْ بِالْبَيْدَاءِ بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ فَإِذَا رَأَى النَّاسُ ذَلِكَ أَتَاهُ أَبْدَالُ الشَّامِ وَعَصَائِبُ أَهْلِ الْعِرَاقِ فَيُبَايِعُونَهُ بَيْنَ الرُّكْنِ وَالْمَقَامِ ثُمَّ يَنْشَأُ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ أَخْوَالُهُ كَلْبٌ فَيَبْعَثُ إِلَيْهِمْ بَعْثًا فَيَظْهَرُونَ عَلَيْهِمْ وَذَلِكَ بَعْثُ كَلْبٍ وَالْخَيْبَةُ لِمَنْ لَمْ يَشْهَدْ غَنِيمَةَ كَلْبٍ فَيَقْسِمُ الْمَالَ وَيَعْمَلُ فِى النَّاسِ بِسُنَّةِ نَبِيِّهِمْ -صلى الله عليه وسلم- وَيُلْقِى الإِسْلاَمُ بِجِرَانِهِ إِلَى الأَرْضِ فَيَلْبَثُ سَبْعَ سِنِينَ/ تِسْعَ سِنِينَ، ثُمَّ يُتَوَفَّى وَيُصَلِّى عَلَيْهِ الْمُسْلِمُونَ একজন খলীফার মৃত্যুর সময় মতভেদ হবে। তখন মদীনার একজন মানুষ পালিয়ে মক্কায় চলে আসবে। তখন মক্কার কিছু মানুষ তার কাছে এসে তাকে বের করে আনবে। তার অনিচ্ছা ও অপছন্দ সত্ত্বেও তারা হাজার আসওয়াদ ও মাকাম ইবরাহীমের মধ্যবর্তী স্থানে তার বাইয়াত করবে। সিরিয়া থেকে একটি বাহিনী তার বিরুদ্ধে প্রেরণ করা হবে। মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী বাইদা নামক স্থানে এ বাহিনী ভূমিধ্বসে ধ্বংস হবে। যখন মানুষেরা তা দেখবে তখন সিরিয়া থেকে আবদালগণ এবং ইরাক থেকে দলেদলে মানুষ এসে হাজার আসওয়াদ ও মাকাম ইবরাহীমের মধ্যবর্তী স্থানে তার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবে। এরপর কুরাইশ বংশ থেকে একব্যক্তি তার (মাহদীর) বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, যার মাতুল হবে কালব বংশের। এ ব্যক্তি একটি বাহিনী তার (মাহদীর) বিরুদ্ধে প্রেরণ করবে।

কিন্তু মাহদীর বাহিনী কালব গোত্রের বাহিনীকে পরাজিত করবে। কালব গোত্রের গনীমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) বণ্টনে যে উপস্থিত থাকবে না সে দুর্ভাগা। তখন সে (মাহদী) সম্পদ বণ্টন করবে এবং মানুষদের মধ্যে তাদের নবীর আ. সুন্নাত অনুসারে কর্ম করবে। আর পৃথিবীর বুকে ইসলাম সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। সে সাত (অন্য বর্ণনায়: নয়) বৎসর এভাবে থাকবে। এরপর সে মৃত্যুবরণ করবে এবং মুসলিমগণ তার সালাতুল জানাযা আদায় করবে। হাদীসটির বিশুদ্ধতার বিষয়ে মুহাদ্দিসগণ মতভেদ করেছেন। আল্লামা ইবনুল কাইয়িম ও অন্যান্য মুহাদ্দিস হাদীসটিকে হাসান এবং সহীহ পর্যায়ের বলে উল্লেখ করেছেন। পক্ষান্তরে শাইখ আলবানী হাদীসটিকে যয়ীফ বলে উল্লেখ করেছেন। চতুর্থ হাদীস: আবূ সায়ীদ খুদরী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেন: يَكُونُ فِي أُمَّتِي الْمَهْدِيُّ إِنْ قُصِرَ فَسَبْعٌ وَإِلَّا فَتِسْعٌ فَتَنْعَمُ فِيهِ أُمَّتِي نِعْمَةً لَمْ يَنْعَمُوا مِثْلَهَا قَطُّ تُؤْتَى أُكُلَهَا وَلَا تَدَّخِرُ مِنْهُمْ شَيْئًا وَالْمَالُ يَوْمَئِذٍ كُدُوسٌ فَيَقُومُ الرَّجُلُ فَيَقُولُ يَا مَهْدِيُّ أَعْطِنِي فَيَقُولُ خُذْ আমার উম্মাতের মধ্যে মাহদী আসবে। কম হলে সাত (বছর), না হলে নয় (বছর)। তখন আমার উম্মাতের মধ্যে নিয়ামত সর্বজনীন হবে। তারা এমনভবে প্রাচুর্য ও নিয়ামত ভোগ করবে যা তারা ইতোপূর্বে কখনোই ভোগ করে নি। উম্মাতকে সকল প্রাচুর্য দেওয়া হবে এবং মাহদী তাদেরকে না দিয়ে কিছুই সঞ্চিত করে রাখবে না। তখন সম্পদ হবে অফুরন্ত। কোনো ব্যক্তি যদি বলে, হে মাহদী, আমাকে প্রদান করুন তবে মাহদী বলবে: তুমি নিয়ে যাও। হাদীসটি হাসান। পঞ্চম হাদীস: উম্মু সালামা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেন: الْمَهْدِيُّ مِنْ عِتْرَتِي مِنْ وَلَدِ فَاطِمَةَ মাহদী আমার বংশের, ফাতিমার বংশধর থেকে। হাদীসটি সহীহ। ষষ্ঠ হাদীস: সাওবান (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেন: يَقْتَتِلُ عِنْدَ كَنْزِكُمْ ثَلَاثَةٌ كُلُّهُمْ ابْنُ خَلِيفَةٍ ثُمَّ لَا يَصِيرُ إِلَى وَاحِدٍ مِنْهُمْ ثُمَّ تَطْلُعُ الرَّايَاتُ السُّودُ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ فَيَقْتُلُونَكُمْ قَتْلًا لَمْ يُقْتَلْهُ قَوْمٌ ثُمَّ ذَكَرَ شَيْئًا لَا أَحْفَظُهُ فَقَالَ فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَبَايِعُوهُ وَلَوْ حَبْوًا عَلَى الثَّلْجِ فَإِنَّهُ خَلِيفَةُ اللَّهِ الْمَهْدِيُّ তোমাদের সংরক্ষিত সম্পদ নিয়ে তিন ব্যক্তি লড়াই করবে, তিনজনই খলীফার সন্তান। তাদের তিনজনের একজনও তা অধিকার করতে পারবে না। এরপর পূর্ব দিক থেকে কাল পতাকাসমূহের উদয় হবে, তখন তারা তোমাদেরকে এমনভাবে হত্যা করবে যেভাবে ইতোপূর্বে কেউ করে নি। এরপর তিনি কিছু বললেন, যা আমি মনে রাখতে পারি নি। এরপর বলেন: যখন তোমরা তা দেখবে তখন তার বাইয়াত করবে। বরফের উপরে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও বাইয়াত করবে; কারণ সেই আল্লাহর খলীফা মাহদী।

ইমাম বাযযার, হাকিম নাইসাপূরী, যাহাবী, বূসীরী, সুয়ূতী ও অন্যান্য মুহাদ্দিস হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আলবানী হাদীসটি শেষ বাক্যটিকে যয়ীফ বলেছেন। বুখারী ও মুসলিম সংকলিত কয়েকটি হাদীস ইমাম মাহদী প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য করেছেন আলিমগণ। আবূ হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেন: كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا نَزَلَ ابْنُ مَرْيَمَ فِيكُمْ وَإِمَامُكُمْ مِنْكُمْ তোমরা কি জান তোমাদের কী অবস্থা হবে যখন মরিয়মের পুত্র ঈসা যখন তোমাদের মধ্যে অবতরণ করবেন আর তখন তোমাদের ইমাম হবেন তোমাদেরই মধ্যকার একজন। অন্য হাদীসে জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: لاَ تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِى يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ – قَالَ – فَيَنْزِلُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ -صلى الله عليه وسلم- فَيَقُولُ أَمِيرُهُمْ تَعَالَ صَلِّ لَنَا. فَيَقُولُ لاَ. إِنَّ بَعْضَكُمْ عَلَى بَعْضٍ أُمَرَاءُ. تَكْرِمَةَ اللَّهِ هَذِهِ الأُمَّةَ আমার উম্মাতের কিছু মানুষ হক্কের উপরে বিজয়ী থেকে লড়াই করে চলবে কিয়ামত পর্যন্ত। তিনি বলেন: অতঃপর মরিয়মের পুত্র ঈসা (আ) অবতরণ করবেন তখন তাদের আমীর বলবে: আসুন আমাদের জন্য ইমাম হয়ে সালাত আদায় করুন। তিনি বলবেন: না, আপনারা একে অপরের উপর আমীর, এটি এ উম্মাতের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মাননা। এ সকল হাদীসের আলোকে আলিমগণ বলেন যে, ইমাম মাহদীর সময়েই ঈসা (আ) অবতরণ করবেন এবং তাঁরই ইমামতিতে তিনি সালাত আদায় করবেন। উপরের হাদীসগুলো থেকে আমরা নিম্নের বিষয়গুলো জানতে পারি:

(ক) ইমাম মাহদী বলতে একজন হেদায়াতপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধান বুঝানো হয়েছে। যিনি রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করে বিশ্বে প্রাচুর্য, শান্তি, ইনসাফ ও ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে।

(খ) তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বংশধর এবং ৭ বা ৯ বৎসর রাজত্ব করবেন।

(গ) তার রাজত্বকালেই ঈসা (আ) অবতরণ করবেন।

(ঘ) তার ইমামত, খিলাফত বা শাসন আরবদেশ কেন্দ্রিক হবে।

(ঙ) তার ক্ষমতাগ্রহণের পূর্বে ক্ষমতা নিয়ে যুদ্ধবিগ্রহ হবে। বাইতুল্লাহর পাশে তার বাইয়াত হবে। সিরিয়া, ইরাক ও পূর্বদিক থেকে তার পক্ষে যোদ্ধারা আসবে।

(চ) এ রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতাগ্রহণ, বাইয়াত ইত্যাদি বিষয়ে মুমিনের কোনো দায়িত্ব নেই। এগুলো ঘটবে বলে রাসূলুল্লাহ সা. জানিয়েছেন। তবে যখন তার বিরোধী সৈন্যবাহিনী ভূমিধ্বসে ধ্বংস হবে, সিরিয়া, ইরাক ও পূর্ব দিকের সেনাবাহিনী তাঁর বাহিনীতে যোগ দিবে এবং সামগ্রিকভাবে তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে বা মুসলিম উম্মাহ তাঁকে স্বীকার করে নিবে, তখন মুমিনের দায়িত্ব রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর বাইয়াত করা। এজন্য ইমাম মাহদী প্রসঙ্গে ইমাম সুফিয়ান সাওরী বলেন: لو مر ببابك فلا تبايعه حتى يجتمع الناس عليه যদি তিনি তোমার দরজা দিয়ে গমন করেন তবুও তুমি তাঁর বাইয়াত করবে না; যতক্ষণ না সকল মানুষ তাঁর বিষয়ে একমত হয়।

প্রশ্নঃ 1223
আমরা যে ডাক্তার, ইঙ্গিনিয়ারিং, পড়ি এতে কি সোয়াব আছে? আর কুরান হাদিসে কি এর সম্পর্কে কিছু বলা আছে? জানেলা খুবি উপকার হবে.
05 Jan 2026

সহীহ হাদীসে আছে কাজের সওয়াব নিয়তের উপর নির্ভরশীল। সুতরাং আপনি যদি মানবসেবার উদ্দেশ্যে এই সব বিদ্যা অর্জন করেন তাহলে অবশ্যই সওয়াব হবে। আবার কুরআন হাদীস যদি দুনিয়া অর্জনের জন্য কেউ শিক্ষা করে তাহলে অবশ্যই সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

প্রশ্নঃ 1222
আসসালামু আলাইকুম! জুমার নামাজে দুই রাকাত ফরজ ব্যতীত কয় রাকাত সুন্নাত ও নফল নামাজ আদায় করতে হয়?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীসে জুমুআর ফরজ নামাযের আগে পরের সুন্নাত-নফল নামাযের রাকআত সংখ্যা নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। বরং সহীহ হাদীসে আছে খুতবা আরম্ভ হওয়া পর্যন্ত সুন্নাত নামায পড়বে। জুমুআর পরে কোন কোন হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. চার রাকআত পড়ার কথা বলেছেন (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২০৭৪), আবার কোন কোন হাদীসে আছে তিনি দুই রাকআত পড়েছেন (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৬৯)। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে সহীহ সনদে উল্লেখ আছে তিনি ফরজের আগে চার রাকআত পড়তে বলেছেন। আপনি যতটুকু পারবেন পড়বেন। আল্লাহ আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন।

প্রশ্নঃ 1221
মুহাম্মদ সঃ কি সর্বশ্রেষ্ঠ নবী? কোরআনে কি কোথাও এটা বলা আছে?
05 Jan 2026

প্রথমেই আমাদের মনে রাখা দরকার শরীয়তের দলীল সাব্যস্ত হয় কুরআন ও সুন্নাহ তথা হাদীস দ্বারা। শুধু কুরআন দ্বারা নয়। সুতরাং সব হুকুম কুরআনে থাকতে হবে এরকম নয়। বরং কুরআনে বিষয়সমূহের সারকথা আনা হয় আর হাদীসে তার ব্যাখ্যা করা হয়। যেমন সালাত। কুরআনে শুধু সালাত আদায়ের কথা বলা হয়েছে। আর হাদীসে তার বিস্তারিত বিধিবিধান আলোচিত হয়েছে। সুতরাং সবকিছু কুরআনে থাকতে হবে বিষয়টি এমন নয়। সকল ইমাম ও আলেম একমত যে, রাসূলুল্লাহ সা. সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। কুরআনে স্পষ্টভাবে একথাটি না থাকলেও বহু জায়গায় ইঙ্গিত করা হয়েছে। বিশেষত বহু জায়গায় বলা হয়েছে মুহাম্মাদ বিশ্বের সকল মানুষের জন্য প্রেরিত। অন্য কোন নবীকে বিশ্বের সকল মানুষের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে কুরআনে এমন কথা নেই। সহীহ হাদীসে স্পষ্টভাবেই উল্লেখ আছে মুহাম্মাদ সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। নীচের হাদীসটি লক্ষ করুন: عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ فُضِّلْتُ عَلَى الأَنْبِيَاءِ بِسِتٍّ أُعْطِيتُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ وَأُحِلَّتْ لِىَ الْغَنَائِمُ وَجُعِلَتْ لِىَ الأَرْضُ طَهُورًا وَمَسْجِدًا وَأُرْسِلْتُ إِلَى الْخَلْقِ كَافَّةً وَخُتِمَ بِىَ النَّبِيُّونَ . অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, আমাকে ছয়টি জিনিস দ্বারা নবীদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে, আমাকে দেয়া হয়েছে জামিউল কালিম (অল্প কথায় অনেক কিছু ব্যক্ত করার যোগ্যতা), আমাকে ভয় (মুহাম্মাদ সা. কে দেখে কাফেরদের ভয় পাওয়া উদ্দেশ্য) দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে, আমার জন্য গণীমত হালাল করা হয়েছে, আমার জন্য সমস্ত ভুমি কে সাজদার জায়গা বানানো হয়েছে, আমাকে সকল সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে এবং আমার দ্বারা নবীদের আগমনের ধারা শেষ হয়েছে। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ৫২৩। দেখুন এই হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. স্পষ্ট করেই বলেছেন তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। শ্রেষ্ঠত্বের একটি কারন হলো তাকে সকল সৃষ্টির হেদায়াতের জন্য পাঠানে হয়েছে। কুরআনে এই গুনটির কথা বহু জায়াগায় বলা হয়েছে যে, মুহাম্মাদ সা. কে সমস্ত সৃষ্টি জগাতের উদ্দেশ্যে পাঠানে হয়েছে। যেমন সূরা সাবা, আয়াত ২৮, সূরা আরফ, আয়াত ১৫৮, সূরা ফুরকান আয়াত, ১। এছাড়া শ্রেষ্ঠত্বের আরেকটি কারণ হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে তিনি শেষ নবী। কুরআনেও এটা বলা হয়েছে। দেখুন সূরা আহযাব, আয়াত ৪০। আশা করি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। আরো দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন, আল-ইসলাম সুয়াল ও জবাব, প্রশ্ন নং ৮৩৪১৭ (আরবী)।

প্রশ্নঃ 1220
আসসালামু আলাইকুম। আমার আব্বা মনের ভুলেও নামাজ পড়তে চায় না। বললে আরো কথা কাটাকাটি করে। তবুও অনেকভাবে বলেছি। এইজন্য আমি তার সাথে (প্রয়োজন ছাড়া) বলিনা। এতে কি আমার গোনাহ হবে।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

কথা বাদ দেয়ার প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিক কথা বলবেন। আপনার দায়িত্ব শুধু দাওয়াত পৌছে দেয়া । কোন অবস্থাতেই খারাপ ব্যবহার করবেন না। দুআ করতে থাকুন, ইনশাআল্লাহ আপনি সফল হবেন ।

প্রশ্নঃ 1219
Please informed me about assunah trust mahfil (year and month)
05 Jan 2026

৭ ৮ ৯ ডিসেম্বর ২০১৬ইং। ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্নঃ 1218
আসসালামু আলাইকুম …আমার প্রশ্ন হচ্ছে … আমার বাবা মা দুইজনই লোকজনের সামনে অনেক ইনসাল্ট করে…যা আমার কাছে খুবই খারাপ লাগে…কিছু বললেই অনেক বকা খেতে হয়..আমি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নীরবতা পালন করি …মাঝে মধ্যে অনেক উচ্চ কন্ঠে কথা বলি … আর খোঁটা দেয় …যেমন খাবার নিয়ে, টাকা নিয়ে ইত্যাদি …. পরিবারের কাছ থেকে র্সাপোট জিনিস টা পাইনা… আমি জানি মা বাবা সর্ম্পকে খারাপ মন্তব্য করা উচিত না….তাই আমি রহমানের কাছে মাফ চাই… জানার কারণে আমি প্রশ্ন করলাম… ইসলাম এই ব্যাপারে কি বলে?…আসসালামু আলাইকুম
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

বাবা-মা থেকে কোন খারাপ কাজ প্রকাশ পেলে আল্লাহ তায়ালার কাছে দুআ করতে হবে এবং এমন কোন কৌশল অবলম্বন করে তাদেরকে সংশোধন করতে হবে যাতে তারা কোন কষ্ট না পায়। আপনি হতাশ হবেন না, ইনশাআল্লাহ একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। হতাশ হওয়া শয়তানের কাজ। এবং কোন অবস্থাতেই বাবা-মার সাথে খারাপ আচরণ করবেন না। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন, فَلاَ تَقُل لَّهُمَآ أُفٍّ وَلاَ تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلاً كَرِيمًا তোমরা পিতা-মাতাদেরকে উফ শব্দ পর্যন্ত বলো না এবং তাদের সাথে কোমল ভাষা কথা বলো।সূরা বনীইসরাইল, আয়াত ২৩।

প্রশ্নঃ 1217
আস সালামু আলায় কুম । আগের প্রশ্ন গুলার উত্তর দেওয়ার জন্য জাঝাকাল্লাহ খাইরান। আগের প্রশ্ন এ জিজ্ঞাসা করেছিলাম ছবি বিষয় । আপনাদের পরামর্শ মত এখন ইন শা আল্লাহ মানুষ ও প্রাণী এর ছবি ছাড়া কাজ করার চেষ্টা করতেছি। আমার জন্য দোয়া করবেন। আজকের প্রশ্ন হল আপনারা হয়তবা জানেন যে, ওয়েবসাইট এর এইচটিএমএল বা ওয়ার্ডপ্রেস থিম ও ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন বানানো যায় যেটা নিজের বা অন্য কোন মার্কেট প্লেস এ বিক্রয় করা হয়। আর এই বিক্রয় এড় পর ফ্রী সাপোর্ট ও দিতে হয় যেমন ধরেন বাজারে টিভি ফ্রিজ কেনার পর বিক্রয় উত্তর সেবা থাকে সে রকম। আমার প্রশ্ন হল আমি যদি ইসলামের সকল বিধি বিধান মেনে থিম বা প্লাগিন বানাই এবং বিক্রয় করি কিন্তু যেহেতু আমি জানি না কে আমার থিম বা প্লাগিন কিন্তেছে বিক্রয় এর পর দেখা গেল ক্রেতা কোন গানের সাইট বা ভিডিও এর সাইট বা ইসলাম এ নিষিদ্ধ কোন জিনিস এর সাইট এ আমার থিম বা প্লাগিন টা ব্যাবহার করবে যদিও আমি তাদের উদ্দেশ্য করে ওগুলা বানাই নাই । এখন যদি তারা সাপোর্ট চায় আর আমি সাপোর্ট দেই তাহলে কি আমি গুনাহ গার হব? এ সম্পর্কে ইসলামের বিধি বিধান কি বা আমার কি করনিয় আছে?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন জেনে আমাদের অনেক ভাল লাগলো। আমরা আল্লাহ তায়ালার শুকরী আদায় করছি। আপনি উক্ত ব্যবসা করতে পারবেন, জায়েজ আছে। যেমন, কম্পিউটারের ব্যাবসা জায়েজ। তবে যদি সুযোগ থাকে তাহলে এমন ব্যবসা করা উচিৎ যা সর্বদিক থেকে পরিচ্ছন্ন থাকে।হালাল-হারামের সন্দেহের কোন অবকাশ না থাকে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন।

প্রশ্নঃ 1216
আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন ভাই? ১. ডঃ মুফতি মোহাম্মাদ ইমাম হোসাইন – উনি কি আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের সঙে জড়িত বা স্যার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহঃ) এর ছাত্র ছিলেন? উনার ইলম সম্পর্কে একটু জানতে চাচ্ছি। ২. ওজু করার পর যদি লজ্জাস্থানে চোখ যায়, বা সালাতের মাঝে লজ্জাস্থানে হাত লাগে তাহলে ওজু বা সালাত কি ভঙ্গ হবে, এই সম্পর্কে বিজ্ঞ আলেমগন কি বলেছেন? আসসালামু আলাইকুম।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

আলহামদুলিল্লাহ। আমরা আল্লাহর রহমতে ভাল আছি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ভাল রাখুন। ডঃ মুফতি মোহাম্মাদ ইমাম হোসাইন আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের সাথে জড়িত নন। এবং তার সম্পর্কে আমাদের কোন কিছু জানা নেই।

২। ওজু করার পর লজ্জাস্থানে চোখ গেলে ওযু ভেঙ্গে যায় না। আর লজ্জাস্থানে কোন আবরণ ছাড়া হাত লাগলে ইমাম শাফী রহ. বলেছেন ওযু ভেঙ্গে যাবে। অন্যা্ন্য আলেমদের অভিমত হচ্ছে, ওযু ভাঙ্গে না। নামাযের মধ্যে এবং বাইরে লজ্জাস্থানে হাত লাগার হুকুম এক।

প্রশ্নঃ 1215
Assalamolikum, আমাদের মসজিদে যখন জমায়েতে নামাজ আরম্ভ একামত সুরু করে দিলেও কিছু লোক বসে থাকে যতখণ না হ্যাঁ আলাল ফালা বলা হচ্ছে,এটা সম্পর্কে কিছু যানাবেন?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

কিছু মানুষ না বুঝে এমন করে থাকে। ইকামতের শুরুতেই মুসল্লিরা দাড়িয়ে যাবে এবং কাতার সোজা করবে। সাহাবীদের আমল এমনই ছিল। তাঁরা একামত শুরু হওয়ার সাথে সাথে দাঁড়িয়ে কাতার সোজা করতেন। আর কাতার সোজা করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাসূলুল্লাহ সা. এই ব্যাপারে আদেশ দিয়েছেন। নিচের হাদীসদুটি দেখুন: .১عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ الصَّلاَةَ كَانَتْ تُقَامُ لِرَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَيَأْخُذُ النَّاسُ مَصَافَّهُمْ قَبْلَ أَنْ يَقُومَ النَّبِىُّ -صلى الله عليه وسلم- مَقَامَهُ হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. কে দেখা গেলে ইকামত শুরু করা হত। আর তিনি তাঁর জায়গায় পৌছানোর পূর্বেই লোকেরা তাদের কাতার গ্রহন করতেন (অর্থাৎ কাতার সোজা করে দাড়িয়ে থাকতেন)। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬০৬।

উল্লেখ্য সহীহ মুসলিমের এই স্থানে এই বিষয়ে আরো কয়েকটি হাদীস বর্ণিত আছে যা উক্ত হাদীসের বক্তব্যকে সমর্থন করে। .২عن بن جريج قال أخبرني بن شهاب أن الناس كانوا ساعة يقول المؤذن الله أكبر الله أكبر يقيم الصلاة يقوم الناس إلى الصلاة فلا يأتي النبي صلى الله عليه و سلم مقامه حتى يعدل الصفوف ইবনে জুরাইজ বলেন, আমাকে ইবনে শিহাব বলেছেন যে, মুয়াজ্জিন আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার বলে ইকামত শুরু করা মাত্রই লোকেরা নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে যেত এবং রাসূলুল্লাহ সা. নিজের জায়গায় পৌছাতে পৌছাতে কাতার সোজা হয়ে যেত। মুসান্নফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ১৯৪২।

হাদীসটির সনদে সাহাবীর নাম নেই তাই হাদীসটি মাকতু। তবে উপরে বর্ণিত সহীহ হাদীস এই বক্তব্যকে সমর্থন করছে। উপরুক্ত হাদীসদ্বয় দ্বারা আমারা জানতে পারছি যে, স্বাভাবিক অবস্থায় ইকামতের শুরুতেই মুক্তাদীরা নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে যাবে এবং দ্রুত কাতার সোজা করবে। আরো জানতে দেখুন, আমাদের দেয়া 66 নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 1214
আমি যদি আয়কর না প্রদান করি তবে কি আমি আল্লাহ তায়ালার দরবারে গুনাহগার হবো?অথবা সুদের টাকা দিয়ে যদি আমি আয়কর প্রদান করি তবে কি আমি পাপী হবো? উল্লেখ্য, আমি আল্লাহ তায়ালার খুশির জন্য যাকাত প্রদান করে থাকি।
05 Jan 2026

রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে যদি অর্থের প্রয়োজন হয় তাহলে সরকার সেটা জনগণের কাছে থেকে নিতে পারে। সুতারাং আয়কর না দিলে আপনার গুনাহ হবে, কঠিন গুনাহ হবে। সুদের টাকা আপনার নিজের টাকা নয়। তাই সুদের টাকা দিয়ে আয়কর দেয়া যাবে না। আল্লাহ তায়ালার খুশির জন্য যাকাত দেন, ভাল কথা, সাথে সাথে সুদের লেনদেনও বর্জন করতে হবে। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন।

প্রশ্নঃ 1213
আসসালামু আলাইকুম। স্যার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহঃ) (আল্লাহ্ উনাকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন), উনার লেখা ও কথায়, আলহামদুলিল্লাহ্ আমি অনেক অনুপ্রানিত হয়েছি। ১. স্যার সহিহ হাদিস থেকে বলেছিলেন রাতে ঘুমানোর আগে কিছু নফল সালত পড়ে অন্তত ঘুমাতে। আমি রাত প্রায় ১১ টার দিকে ঘুমানোর আগে দুই দুই করে চার রাকাত অথবা অন্তত মাত্র দুই রাকাত নফল সালাত পড়ি। তারপর সবশেষে মাত্র ১ রাকাত বিতর পড়ি। শুধু মাত্র ১ রাকাত। তবে মাঝে মাঝে ১ রাকাত না পড়ে ৩ রাকাত বিতর পড়ি । দ্বিতীয় রাকাতে না বসে একটানা তিন রাকাত পড়ি অথবা দুই রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে পড়ে এক রাকাত পড়ি। এইভাবে আমি অন্যান্য সহিহ হাদিসের উপরও আমল করি । আমার প্রশ্ন হল, এশার ফরজ ও সুন্নাত সালাত পড়া শেষ করে শুধু মাত্র ১ রাকাত বিতর পড়তে পারবো কি? কারন অনেক সময় কোন প্রয়োজন থেকে যায়। আর রাতের সালাত বা কিয়ামুল লাইল শেষ করে সবশেষে শুধু মাত্র ১ রাকাত বিতর পড়া যাবে কি? আমি যতটুকু জানতে পেরেছি, বিতর সালাত ১ রাকাতও পড়া যায়। লেখা বড় হওয়ার কারণে আমি এইখানে হাদিসগুলা উল্লেখ করলাম না। ২. রুকুর পড়ে দু হাত তুলে দুয়া কুনুত পড়ার পড়ে মাসনূন দুয়া পড়া যাবে কি? যেমনঃ- আল্লাহর প্রশংশা, রাসুল (সাঃ) এর প্রতি সালাম ও দুরুদ, সেজদায় ও সালাম ফিরানোর আগে – পড়ে যে দুয়াগুলা পড়ি ইত্যাদি পড়া যাবে কি? আসসালামু আলাইকুম।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনি রাহে বেলায়াত থেকে বিতর সংক্রান্ত আলোচনাটি পড়লে আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর দলীলসহ জানতে পারবেন। ৪১৩ নং পৃষ্ঠ থেকে শুরু (সর্বশেষ সংস্করণ)। সংক্ষেপে উত্তর হলো, বিতর সালাত রাসূলুল্লাহ সা. শেষ রাত্রে কিয়ামুল্লাইল আদায় করার পর পড়তেন। এটাই সবচেয়ে উত্তম। স্যার যেটা বলেছেন ঘুমানোর আগে পড়া এটা যারা শেষ রাত্রে উঠতে পারবে না তাদের জন্য। কোন নফল সালাত ছাড়া রাসূলুল্লাহ সা. এক রাকাত বিতর পড়েছেন বলে আমার জানা নেই। তবে এক রাকআত পড়ার অনুমতি সহীহ হাদীসে আছে। শুধু বিতর পড়লে অন্তত তিন রাকআত পড়াই ভাল বলে মনে হয়। দুআ কুনুত নিদিষ্ট কোন দুআ নয়। ঐসময় যে কোন দুআ পড়া যায়। অনেকগুলো দুআ এক সঙ্গেও পড়া যায়। আবারো বলছি আপনি রাহে বেলায়াতের বিতর অধ্যায় পড়ুন। আপনার সমস্যা আর থাকবে না।

প্রশ্নঃ 1212
wife er proti valobasa baranor kono todbir amol ache ki?
05 Jan 2026

না, আমাদের কাছে কোন রোগের কোন তদবীর নেই। তবে রাসূলুল্লাহ সা. তাঁর স্ত্রীদের সাথে যেমন ব্যবহার করেছেন, তাঁর স্ত্রীরাও তাঁর সাথে যেমন ব্যবহার করেছেন তেমন করলে স্বামী-স্ত্রীর একে-অপরের প্রতি ভালবাসে গভীর হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। হাদীস অধ্যায়ন করলে এগুলো জানা যাবে।

প্রশ্নঃ 1211
আপন ভাই-বোনের মধ্যে বিয়ে ইসলামে নাজায়েজ। পবিত্র কোরআনে সূরা ফাতির এর আয়াত নং ৪৩ এবং সুরা রুম এ আয়াত নং ৩০ আল্লাহ বলেনঃ আল্লাহর রীতি-নীতিতে বা আল্লাহর বিধানে কোন পরিবর্তন পাবে না বা পরিবর্তন নেই। তাহলে আমার প্রশ্নঃ আদম আঃ এর সন্তানদের ক্ষেত্রে কি ভাবে ভাই-বোন (এক জোড়ার একজনের সাথে অন্য জোড়ার একজন) এর মধ্যে বিয়ে হয়েছিল? আসলে কি ভাই-বোন এর মধ্যে বিয়ে হয়েছিল? যদি এই ঘঠণা সত্যি হয় তবে কোরআনে বা হাদিসে কোথায় এটা বলা আছে? বিস্তারিত জানতে চাই। আর যদি সত্যি না হয় তবে কিভাবে বংশ বৃদ্ধি হয়েছিল?
04 Jan 2026

আপনি যে দুটি আয়াতের কথা উল্লেখ করেছেন সেখানে কোথাও নেই আল্লাহর বিধানে কোন পরবর্তন হবে না। এই ধরনের মিথ্যা ও অপূর্ণাঙ্গ কথার দ্বারা বিপদগামীরা মুসলিমদেরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। দেখা যাক সেখানে কী আছে: সূরা রুম এর ৩০ নম্বর আয়াতের একটি অংশ হলো: لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّه এর বাংলা সরল অর্থ: আল্লাহর সৃষ্টিতে কোন পরিবর্তন নেই। তাফসিরকারকগণ বলেছেন এর অর্থ হলো: মানুষ যখন জন্ম নেয় তখন মানুষ ইসলাম ধর্মের উপরই জন্ম নেয়। পরে বাবা-মারা তাকে অন্য পথে নিয়ে যায়। এই যে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে ইসলাম ধর্মের উপর সৃষ্টি করেন তাতে কোন পরিবর্তন নেই। অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা কাউকে ইসলামের উপর সৃষ্টি করেন আবার কাউকে অন্য ধর্মের উপর সৃষ্টি করেন তা নয়। বরং এক্ষেত্রে সবাই সমান, আল্লাহর এই কাজে কোন পরিবর্তন করেন না। এবার আসি সূরা ফাতির প্রসঙ্গে। উক্ত আয়াতটি হলো فَهَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا سُنَّتَ الْأَوَّلِينَ فَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّتِ اللَّهِ تَبْدِيلًا আয়াতটির বাংলা অর্থ হলো: তারা কি পূর্ববর্তীদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য করে না? তুমি আল্লাহর কর্মপন্থায় কোন পরিবর্তন পাবে না। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণ বলেছেন,যে সব জাতি পূর্বে আল্লাহর নিদর্শন, আল্লাহর বিধানকে মিথ্যা বলেছে তাদেরকে আল্লাহ তায়ালা শাস্থি দিয়েছেন। এখানে আল্লাহ তায়ালা কাফেরদেরকে হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, তারা যেন পূর্ববর্তীদের শাস্তির বিষয়টি মনে রাখে, তারা যদি পূর্ববর্তীদের মত আল্লাহর বিধানকে অস্বীকার করে তাহলে তাদেরও শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। আর যারাই আল্লাহর বিধানকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে তাদেরই শাস্তির সম্মুখী হতে হবে আল্লাহ তায়ালার এই রীতিতে কোন পরিবর্তন নেই। অর্থাৎ কাফেরদের ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালার বিধান হলো তাদেরকে শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। আল্লাহ তায়ালার এই বিধানে এই রীতিতে কোন পরিবর্তন হবে না। বিস্তারিত জানতে দেখুন, তাফসীরে ইবনে কাসীর, উক্ত আয়াতের তাফসীর। এবার দেখবো শরয়ী বিধানের ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা কোন পরিববর্তন করেন কি না: আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: مَا نَنسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِّنْهَا أَوْ مِثْلِهَا আয়াতটির সরল অর্থ হলো: আমি যে আয়াতই রহিত করি কিংবা ভুলিয় দেই তখন তার পরিবর্তে দান করি তার চেয়ে উত্তম বা তারম মত কোন আয়াত। তাফসীরকারকগণ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন: আল্লাহ তায়ালা কখনো কখনো আগের বিধানকে রহিত করে নতুন বিধান চালু করেন। তাহলে বুঝা গেলা শরয়ী আহাকামের পরিবর্তন হতে পারে। বিস্তারিত জানতে দেখুন, তাফসীরে ইবনে কাসীর, উক্ত আয়াতের তাফসীর। আপনি যে দুটি আয়াত উল্লেখ করছেন এমন আরো একটি আয়াত কুরআনে আছে। সেটি সম্পর্কে্ও আলোচনা করছি, যাতে আপনার ভুল ভেঙ্গে যায়। আয়াতটি হলোالَّذِينَ آمَنُواْ وَكَانُواْ يَتَّقُونَ (63) لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَياةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ لاَ تَبْدِيلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ আয়াতটির অর্থ হলো: যারা ঈমান এনেছে এবং মুত্তকি তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়া এবং আখেরাতে সুসংবাদ। আল্লাহর কথায় কোন পরিবর্তন নেই। এটাই সফলতা। সূরা ইউনুস,আয়াত ৬৩,৬৪। এই আয়াতে আল্লাহর কথায় কোন পরিবর্তন নেই অর্থ হলো মূমিনদের জন্য যে দুনিয়া এবং আখেরাতে আল্লাহ তায়ালা কল্যান রেখে দিয়েছেন, মুমিনরা জান্নাতে যাবে আল্লাহ তায়ালার এই কথায় বা বিধানে কোন পরিবর্তন নেই। ভাই সবশেষে একটা পরামর্শ দেই, কুরআনের কোন আয়াত সম্পর্কে মন্তব্য করার পূর্বে তাফসীরসহ আয়াতটি ভালভাবে পড়া উচিৎ। আর আদম আঃ সময় বিধান ছিল ভাইবোন বিয়ে হওয়া জায়েজ। এটা শরয়ী বিধান। সুতরাং পরিবর্তন হওয়া কোন সমস্যা নয়। আশা করি আপনার মনের সংশয় দূর হবে। এরপরও কোন অস্পষ্টতা থাকলে পূনরায় প্রশ্ন করবেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন।

প্রশ্নঃ 1210
আচ্ছালামু আলাইকুম,ভাইয়া,রাস্তায় মাইকে মসজিদের জন্য টাকা চাওয়া বা বাসে লোকদের কাছে গিয়ে মসজিদের জন্য টাকা চাওয়ায় কতটুক শরীয়ত সম্মত? একটু ভাল করে দলীল দিয়ে বুঝিয়ে দিলে অন্যদের ও বেপার টা বোঝাতে পারতাম!
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মসজিদ তৈরীতে অংশগ্রহন মহান কাজ। কোন এলাকায় মসজিদ না থাকলে সেখানে মসজিদ নির্মানের জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে যে এলাকার মসজিদ স্বাভাবিক ভাবে সে এলাকার মানুষরাই মসজিদ নির্মানের ব্যায় বহন করবেন। তবে বাইরের কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করলে তাতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু রাস্তায়, বাসে মসজিদের নামে টাকা সংগ্রহ করা এগুলো ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করার শামিল। এতে স্পষ্টতই মনে হয় ইসলাম ধর্ম এমন ভিক্ষার মুখাপেক্ষী। আর অন্য ধর্মের লোকেরা এতে করে ইসলামকে হেয় করার সুযোগ পায়। এভাবে চাদা তুলে মসজিদ নির্মান করার আদেশ ইসলাম কাউকে করে নি। সুতরাং এই ঘৃন্য কাজ থেকে আমাদের বিরত থাকা একান্ত আবশ্যক। ভিক্ষা করে মসজিদ নির্মান করে সেখানে নামায আদায় করা ইসলামের কাঙ্খিত বিষয় নয়।

প্রশ্নঃ 1209
আমি যদি বেতর নামাজ ১ রাকাত আদায় করি তাহলে সুরা ফাতিহার পর কোন সুরা পড়ব? সুরা এখলাস পড়লে সহি হবে কি না?
04 Jan 2026

সূরা ফাতিহার পর কোন নামাযেই নির্দিষ্ট কোন সূরা নেই। আপনি যে কোন সূরা পড়তে পারেন। তবে বিতর নামায তিন বা তাহাজ্জুদ সহ আরো বেশী রাকআত পড়া উচিৎ।

প্রশ্নঃ 1208
আসসালামু আলাইকুম। ভাই আমি একটা বিষয়ে খুব চিন্তিত। আমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ২য় বর্ষে পড়াশুনা করছি। যখন H.S.C পাস করেছিলাম তখন অনেক জায়গায় ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পায় নি। সর্বশেষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলাম এবং চান্স পেয়েছিলাম। কিন্তু এইখানেই আমার প্রশ্ন? যখন কোন জায়গায় চান্স পাচ্ছিলাম না ও বিরাট প্রতিযোগিতার কারণে, বাবা তার বন্ধু কে নিয়ে যে কলেজে পড়ছি সেই কলেজের প্রিন্সিপাল স্যার এর সাথে দেখা করে। আমার বাবার বন্ধু আর প্রিন্সিপাল স্যার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। তাই উনাকে সুপারিশ করা হয়েছিল। উনি বলেছিলেন আমাকে পরীক্ষা দিতে। আর আমার বাবাকে তেমন কোন আশা দেয় নি। যখন চলে আসছিল তখন ;প্রিন্সিপাল স্যার উনার বন্ধুকে ডাক দিয়ে একান্তভাবে বলেছিল, এইসব কাউকে না বলতে, উনি কাজটা করে দিবেন। এইখানে কোন টাকা পয়সা কোন ধরনের লেনদেন হয় নি। শুধু ভালো সম্পর্কের কারণে একে অপরকে Request করা হয়েছিল যেন চান্স পায়। কারন তখন প্রচুর প্রতিযোগিতা ছিল।কিন্তু ভাই, আমি এইসবের কোন কিছুই জানতাম না। আমি আমার মত পরীক্ষা দিয়েছিলাম আর জানতাম আমি পরীক্ষা দিয়েই চান্স পেয়েছি। কিন্তু বেশ অনেকদিন আগে আমার বাবা ভাইদের সাথে এক কথোপকথনে হটাৎ এই কথা বলে। যা আমি আমার রুম থেকে শুনে ফেলেছিলাম। আজ প্রায় ২ বছর চলছে আমি এই কলেজে পড়ছি। আমি চাই না কোন হারাম পথে নিজেকে পরিচালিত করতে। আর এটাও চাই না, আমার বাবা আমার জন্য নিজে কোন গুনাহের মধ্যে লিপ্ত থাকুক। আমার এই কলেজ থেকে B.B.A আর M.B.A শেষ করতে আরো প্রায় ৩ বছর লাগতে পারে। এখন আমি কি করবো? এমন সমধান চাই, যেটাতে কারো গুনাহ হবে না… আল্লাহ্ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন। আসসালামু আলাইকুম।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রিন্সিপাাল সাহেব কী ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তা স্পষ্ট নয়। অনেক সময় তাদের হাতে কিছুটা এমন ক্ষমতা থাকে যে, তাদের আত্নীয়দের মধ্য থেকে যোগ্যতাসম্পন্য কোন ছেলের ব্যাপারে তিনি সুপারিশ করার অধিকার রাখেন। এমন হলে তো সমস্যা নেই। আর যদি তিনি অন্যায়ভাবে কিছু করে থাকনে তাহলে তার দায়ভার তার উপরই বর্তাবে। আশা করি আপনি গুনাহগার হবেন না। আপনি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবেন যদি কোন ত্রুটি হয়ে থাকে তিনি যেন ক্ষমা করে দেন।

প্রশ্নঃ 1207
আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন? আমার বিগত প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার জন্য জাযাকাল্লাহ । ১. মানত করা সম্পর্কে কুরআন ও সহিহ হাদিস কি বলে? ২. ওসিয়ত সম্পর্কে ভাই জানতে চাই? হাদিসে ওসিয়ত করা সম্পর্কে বা কাদের ওসিয়ত করতে উৎসাহ দেয়া হয়েছে? পরিবারের প্রধানঃ- বাবা-মার জন্য কি রকম ওসিয়ত করা উচিত? যেমনঃ- সালত, যাকাত, সিয়াম, হাজ্জ পালন, হারাম সকল কিছু ত্যাগ করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকা ইত্যাদি ওসিয়ত করা যাবে কি, বিস্তারিত জানানোর অনুরোধ জানাচ্ছি। জাযাকাল্লাহ ।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

১. মানুষ বিভিন্ন বিপদাপদে মানত করে থাকে। আর হাদীস মুতাবেক মানত না করে দান করাই উত্তম। মানত হলো শর্ত সাপেক্ষ দান: এটি হলে আমি এটি করব। আর দান বা সাদাকা হলো নিঃশর্ত দান। মানত না করে দান করাই উত্তম। মান্নত করতে রাসূল সা. নিষেধ করেছেন। ইবনে উমার রা. বলেন, : نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ، عَنِ النَّذْرِ قَالَ إِنَّهُ لاَ يَرُدُّ شَيْئًا وَإِنَّمَا يُسْتَخْرَجُ بِهِ مِنَ الْبَخِيلِ অর্থ: নবী সা. মান্ত করা থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, মান্ত কোন কিছু কে বাধা দিতে পারে না। এদ্বারা শুধুমাত্র কৃপনের থেকে কিছু সম্পদ বের করা হয়। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৬০৮। এমন অর্থের আরো হাদীস অন্যান্য সাহাবী থেকে বর্ণিত আছে। সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে, সদকা অর্থাৎ নফল দান বিপদ আপদ থেকে মুক্ত রাখে। এবিষয়ে একটি হাদীস উল্লেখ করা হলো, حُذَيْفَةَ قَالَ : كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ عُمَرَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، فَقَالَ أَيُّكُمْ يَحْفَظُ قَوْلَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْفِتْنَةِ قُلْتُ أَنَا كَمَا قَالَهُ قَالَ إِنَّكَ عَلَيْهِ ، أَوْ عَلَيْهَا لَجَرِيءٌ قُلْتُ فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَوَلَدِهِ وَجَارِهِ تُكَفِّرُهَا الصَّلاَةُ وَالصَّوْمُ وَالصَّدَقَةُ وَالأَمْرُ وَالنَّهْيُ অর্থ: সাহাবী হুযায়ফা রা. বলেন, আমরা উমার রা. এর কাছে বসেছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের কে ফিৎনার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সা. এর হাদীস মুখস্ত রেখেছ? আমি বললাম, আমি, তিনি (রাসূলুল্লাহ সা.) যেভাবে বলেছেন ( সেভাবে মুখস্ত রেখেছি);। উমার রা. বললেন, তুমি তো খুব সাহসী মানুষ। আমি বললাম, (রাসূল সা. বলেছেন,) পরিবার, ধন সম্পদ, সন্তান সন্ততি এবং প্রতিবেশীদের নিয়ে মানুষ যে ফিতনা বা বিপদ আপদে পড়ে নামায, রোজা, দান সদকা, সৎ কাজের আদেশ ও অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ তা দূর করে দেয়। সহীহ বুখারী, হাদীস নং হাদীস নং ৫২৫। এই বিষয়ে সহীহ ও যয়ীফ সনদে আরো অনেক হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীস থেকে স্পষ্ট যে, দান সদকা সকল প্রকার বিপদ আপদ থেকে মুক্ত রাখে। উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে, শরীয়তের দৃষ্টিতে মান্নত কাম্য নয় বরং দান সদকা করা শরীয়তের দৃষ্টিতে কাম্য। তবে সর্বাবস্থায় মানত করলে তা পূরণ করতে হবে। কুরআনের অনেক আয়াত ও বহু হাদীসে দান করার জন্য ব্যাপক উৎসাহ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন। ২. পিতা-মাত সন্তানদেরকে ভাল পথে থাকার জন্য অসিয়ত করবেন। হাদীসে আছে রাসূলুল্লাহ সা. মানুষকে কুরআন মানতে ওসিয়ত করেছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৭৪০। অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, সম্পদশালী যে মুসলিম ওসিয়ত করতে চায় তার জন্য উচিৎ নয় ওসিয়ত নামা লিখতে দুই দিনের বেশী অপেক্ষা করা। مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَهُ شَىْءٌ يُرِيدُ أَنْ يُوصِىَ فِيهِ يَبِيتُ لَيْلَتَيْنِ إِلاَّ وَوَصِيَّتُهُ مَكْتُوبَةٌ عِنْدَهُ সম্পদশালী যে মুসলিম ওসিয়ত করতে চায় তার জন্য উচিৎ নয় ওসিয়ত নামা লিখতে দুই দিনের বেশী অপেক্ষা করা। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪২৯১। সুতরাং মুসলিমদের জন্য উচিত নিজের সন্তানদের জন্য ভাল কাজের ওসিয়ত করা এবং কিছু সম্পদ আল্লাহ রাস্তায় দান করার ওসিয়ত করা। আপনার দুআ করবেন যেন আমরা আপনাদের উপকারে কাজ করতে পারি।

প্রশ্নঃ 1206
আসসালামু আলাইকুম ১. তসবীহ টিপে জিকির করা কি বিদআত? ২. কোন ব্যক্তি কোমরে ব্যাথার কারণে রুকু সেজদা ঠিকমত করতে পারে না। তাহলে কি সে পুরো নামাজ চেয়ারে বসে পরতে পারবে?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১। শায়খ ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. বলেছেন, যিকর গণনার জন্য দানা বা তাসবীহ্ ব্যবহার করা না জায়েজ বা বিদআত নয়। তবে হাতের আঙ্গুল দ্বারা গণনা করা উত্তম দলীলসহ এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন রাহে বেলায়াত ২৩০-২৩৩ পৃষ্ঠা। ২। কোন ব্যক্তি যদি মাটিতে বসে ইশারায় রুকু সাজদা দিয়ে সালাত আদায় করতে পারে তাহলে সে মাটিতে বসেই ইশারাতে রুকু সাজদা দিয়ে সালাত আদায় করবে। আর যদি দাঁড়াতে পারে কিন্তু রুকু সাজদা দিতে পারে না সে ব্যক্তি প্রসিদ্ধ ও গ্রহনযোগ্য মতানুযায়ী দাঁড়িয়ে ইশারাতে রুকু সাজদা দিয়ে সালাত আদায় করবে। দাঁড়িয়ে কিংবা মাটিতে বসে ইশারায় রুকু সাজদা দিয়ে যে ব্যক্তি সালাত আদায় করতে পারবে না সে ব্যক্তিই শুধু চেয়ারে বসে সালাত আদায় করতে পারে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন, শায়খ আব্দুল মালেক হাফিজাহুল্লাহ লিখিত এই প্রবন্ধটি চেয়ারে বসে নামায : একটি প্রশ্ন ও তার উত্তর (দারুল উলূম করাচী-এর নতুন ফতওয়ার আলোকে)। মাসিক আলকাউসার, এপ্রিল ২০১৩। আপনি এভাবে বিষয়টি চিন্তা করুন।

প্রশ্নঃ 1205
আস সালামু আলায় কুম শায়েখ।আগের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। জাঝাকাল্লাহ খাইরান। আমি ওয়েব ডেভেলপার ওয়েব সাইট তৈরির কাজ করি । আমার প্রশ্ন হল ১. ওয়েব সাইট তৈরি করতে বিভিন্ন ছবি বেবহার করতে হয়? যেখানে মেয়ে, ছেলে, বিভিন্ন পশু পাখি বা আরও অনেক জিনিস এর ছবি থাকে । এখন মেয়েদের ছবি বেবহার করা যাবে না সেটা জানি কিন্তু ছেলে বা পশু পাখি এর ছবি বেবহার এর ক্ষেত্রে শরীয়তের বিধি বিধান কি? ২. আমাকে যদি কোন ক্লাইন্ট হায়ার করে সব ছবি সে দেয়। আমার কাজ শুধু সাইট টা তৈরি করে দেওয়া তাহলে কাজ টা কি আমার জন্য হালাল হবে? ৩. নিউজ সাইট গুলার জন্য কি বিধান । কারন সেখানে তো প্রায় সব খবর এর সাথে ছবি দিতেই হয় । ছেলে, মেয়ে পশু পাখি এর ছবি বেবহার করা হয়?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনাকেও ধন্যবাদ, আমাদের সাথে থাকার জন্য। এগুলো আধুনিক বিষয়। এসব বিষয়ে মতামতরে ভিন্নতা থাকতে পারে। আমরা যেটা মনে করি সেটা হলো:

১। মানুষ বা পশু-পাখির ছবি ছাড়াও সুন্দর ডিজাইনে ওয়েবসাইড তৈরী করা যায়, প্রানী ব্যতীত গাছ-পালা এবং অন্যান্য দৃশ্যের মাধ্যমেই ওয়েবাসাইড তৈরী করা উচিত। হয়তো অনেকেই জায়েজ বলবেন তবে এগুলো বর্জন করায়ে শ্রেয়।

২। বিষয়তো একই দাড়ালো, কাজতো সেই ছবি কেন্দ্রিকই করছেন। এমনটি না করার মধ্যেই সতর্কতা।

৩। নিউজ সাইটগুলোতে নিউজের জন্য কিছু ছবির প্রয়োজন হয়, যে ছবিগুলো নিউজেরই অংশ, প্রয়োজনের কারণে এগুলোতে সমস্যা হবে না ইনশাআল্লাহ। তবে এর বাইরে অতিরিক্ত ছবি বর্জন করা উচিত। একজন মূমিনের উচিৎ সন্দেহের বিষয়গুলো থেকেও দূরে থাক। আপনারা দুআ করবেন যেন আমরা এই কাজ অব্যাহত রাখতে পারি।

প্রশ্নঃ 1204
Assalamo alikum, dr khandokar abdullah jahangir sir er rochito 19 ti book ekottre pete chai ba ki vabe pabo ektu janaben.
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি এই নাম্বারে যোগাযোগ করলে বিস্তারিত জানতে পারবেন। 01730 74 70 01, 01791 66 66 63, 01791 66 66 64, 01791 66 66 65

প্রশ্নঃ 1203
Assalamolikum. আপনাদের কোন Whatsapp Number থাকলে যনাবেন।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। WhatsApp Number- 01762629410

প্রশ্নঃ 1202
Assalamolikum, sir এর লেখা বই গুলি কি ভাবে পাব india থেকে?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি নিম্নের নাম্বারে ফোন করুন। বিস্তারিত জানতে পারবেন। 01730 74 70 01, 01791 66 66 63, 01791 66 66 64, 01791 66 66 65

প্রশ্নঃ 1201
আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন ভাই? আমার প্রশ্নগুলো হল, ১. কেউ যদি জন্মবার্ষিকী/মৃত্যুবার্ষিকী/বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে দাউয়াত দেয়, সেই দাওয়াতে যাওয়া যাবে কি? আর এইসব পালন করা ইসলামের দৃষ্টিকোণে কেমন? ২. সুদখুর/ঘুষখুর অর্থাৎ হারাম রিযিকে লিপ্ত ব্যাক্তির দেয়া কোন উপহার বা তার দেয়া দাওয়াতে যাওয়া যাবে কি? ৩. ৩য় প্রশ্নটাও পারস্পরিক, আমার মামারা হিন্দু ধর্মাবলম্বীর অনুসারী। আমি তাদেরকে দাওয়াত দেয়ার জন্য ডঃ জাকির নায়েক স্যার-এর লেকচারগুলো দেয়ার নিয়ত করেছি। উনাদের জন্য আপনাদের কাছে দুয়া প্রার্থী। আমার মামা যদি কোন পোষাক উপহার দেয় তা পড়া যাবে কি? আল্লাহ্ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন ভাই। আসসালামু আলাইকুম।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ। জন্মবার্ষিকী বা মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা্ ইসলাম অনুমোদন করে না। রাসূলুল্লাহ সা. বা সাহাবীরা রা. কেউ কখনো কারো জন্ম বা মৃত্যুর্বার্ষিকী পালন করেন নি। সুতরাং এই উপলক্ষে আয়োজত অনুষ্ঠান বর্জন করতে হবে। ২। না, সুদখোর, ঘুশথোরের কোন উপহার নেয়া যাবে না এবং তার বাড়িতে খাওয়া যাবে না। স্যার রহ. বহুবার একথা বলেছেন। ৩। আপনি বৃহত্তর স্বার্থে তাদের উপহার নিতে পারেন। তাছড়া টাকা হালাল হলে বিধর্মীদের দেয়া শুকনা খাবার এবং উপহার নেয়া জায়েজ। ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আল্লাহ আপনাকে কবুল করুন, ভাল রাখুন।

প্রশ্নঃ 1200
আসসালামু ওয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমার প্রশ্ন একদিন নবী মোস্তফা রাস্তা দিয়ে হাইটা যাই, হরিণ একটা বাধা ছিল গাছেরই তলায় বলে কোন হাদীছ অথবা কোরআন এর আয়াত আছে কি না।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কুরআনে নেই। হাদীসে আছে বলেও আমাদের জানা নেই।

প্রশ্নঃ 1199
Assalamu alaikum, ami proti soptahe akta roja rakhte chai. so, soptahe kon dinti roja rakhar jonno uttom and kano?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি তাদেরকে অনুরোধ করবেন তারা যেন শরীয়া-বিরোধী কোন ছবি না দেন। তাতে যদি কাজ না হয় তাহলে আপনি এমন লেখা পাঠাবেন যে লেখাতে শরীয়া-বিরোধী কোন ছবি দেয়ার সুযোগই থাকবে না।

প্রশ্নঃ 1198
আসসালামু আলাইকুম। আমি একটি অনলাইন পত্রিকার জন্য লেখা পাঠাই। লেখার কনটেন্টে শরীয়া বিরোধী কিছু থাকে না। কিন্তু সেসব লেখায় পত্রিকার এডিটিং প্যানেল নিজেদের পছন্দ মত ছবি সংযুক্ত করে। তাদের সংযুক্ত করা কিছু ছবিতে বেপর্দা নারী থাকে। আমার প্রশ্ন হল আমার লেখার জন্য ছবি বাছাই করায় আমার কোনো ভূমিকা নেই। এরপরও কি এসব ছবির জন্য আমার গুনাহ হবে?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি তাদেরকে অনুরোধ করবেন তারা যেন শরীয়া-বিরোধী কোন ছবি না দেন। তাতে যদি কাজ না হয় তাহলে আপনি এমন লেখা পাঠাবেন যে লেখাতে শরীয়া-বিরোধী কোন ছবি দেয়ার সুযোগই থাকবে না।

প্রশ্নঃ 1197
আসসালামু আলাইকুম। ধরুন আমি ১জন ব্যবসায়ী। ১টা পন্য আমার ১০টাকা কেনা আছে। সেটা আমি সরবোচ্চ কত টাকা লাভে বিক্রয় করতে পারব? আমি যদি সেটা ২০টাকা বিক্রি করি সেটা কতটুকু শরিয়ত সম্মত হবে?
04 Jan 2026

ওয়াআলাইকুমুস সালাম। ইসলাম পন্যের লাভের অংকটা নির্ধারণ করে দেয় নি। এটি নির্ভর করে স্থান, কালের উপর। কারো উপর জুলুম না হয়ে যায় এর প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।

প্রশ্নঃ 1196
Rahe belayet book ta chittagong er kothaie pabo.onek libery te kujlam pelam na.dowa kora aktu bolten ki kora pabo ar apnader theka collect korte hola kivabe nibo coriar servise e boi near bebosta ki acha?Rahe belayet book ta chittagong er kothaie pabo.onek libery te kujlam pelam na.dowa kora aktu bolten ki kora pabo ar apnader theka collect korte hola kivabe nibo coriar servise e boi near bebosta ki acha?
04 Jan 2026

ভাই, আপনি শুধুে এই 01730747001 নাম্বারটিতে ফোন দিবেন। তাহলেই বই সম্পর্কীত যাবতীয় তথ্য পাবেন। আপনি বই কোথায় কিভাবে পাবেন সবকিছু জানতে পারবেন। 

প্রশ্নঃ 1195
চাকরী পেতে কি কি আমল করতে হবে? যদি জানাতেন তাহলে খুব উপকৃত হতামচাকরী পেতে কি কি আমল করতে হবে? যদি জানাতেন তাহলে খুব উপকৃত হতাম
04 Jan 2026

চাকরীর জন্য এবং যে কোন প্রয়োজনের জন্য ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত রাহে বেলায়াত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো নফল সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। এছাড়া কুরআনের এই দআটিও বারবার পড়বেন, رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ এবং হাদীসের এই দুআটি দুই সাজদার মাঝে এবং অন্যান্য সময় পাঠ করুন। اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى وَارْحَمْنِى وَاهْدِنِى وَعَافِنِى وَارْزُقْنِىচাকরীর জন্য এবং যে কোন প্রয়োজনের জন্য ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো নফল সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। এছাড়া কুরআনের এই দআটিও বারবার পড়বেন, رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ এবং হাদীসের এই দুআটি দুই সাজদার মাঝে এবং অন্যান্য সময় পাঠ করুন। اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى وَارْحَمْنِى وَاهْدِنِى وَعَافِنِى وَارْزُقْنِى

প্রশ্নঃ 1193
Assalamu Alaikum Vai. Amar proshno hocce, 1. রাসুল (সাঃ) এর উপর কিভাবে সালাম ও দুরুদ একত্রে পড়বো? স্যার এর রাহে বেলায়াত বইটিতে স্যার পর্যায়ক্রমে অনেক দুয়াই উল্লেখ করেছেন কিন্তু উনি কোনটা পড়তে বলতেছেন এইটা বুঝতেছি না। দয়া করে এইখানে সালাম ও দুরুদ একত্রে দেওয়া যাবে এইরকম একটা সহজ দুয়া দেন? আর দুরুদে ইব্রাহিম কি সাধারনভাবে হাত তুলে দুয়া করার শুরুতে পড়া যাবে? 2. আমি, আমার বাবা-মা, ভাই ও ভাবিদের নিয়ে যৌথ পরিবারে একত্রে বসবাস করি। বাসার ভিতর চলাফেরার রাস্তা একটাই, রান্না-বান্নাও এক-ই রান্নাঘরে করা হয়। এমতাবস্থায় পর্দা টা কিভাবে পালন করবে সবাই? আমার ভাবীরা বাইরে কোথাও বেরাতে গেলে বোরখা পড়ে কিন্তু বাসায় আমাদের সামনে সাধারনভাবেই চলাফেরা করে বিধায় একে অপরকে দেখা যায়। এইক্ষেত্রে পরিবারের প্রধান বাবা-মার কি করা উচিত ও আমাদের পুরষদের কি করা উচিত? এইরকম পরিবারে নিজ স্ত্রী কে নিয়ে বসবাস, চলাফেরা ও খাওয়া-দাওয়া কিভাবে করা যায়? Assalamu Alaikum Vai. Jazakallah
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, রাহে বেলায়াত বইয়ের ১৯২ পষ্ঠায় (নতুন সংস্করণ) সালাত ও সালাম একত্র করে দেয়ার জন্য দুটি মাসনূন বাক্য উল্লেখ করেছেন। তার একটি হলো صلى الله على رسوله وسلم. সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১২৩৭। আপনার কাছে যেহেতু রাহে বেলায়াত আছে তাই সেখান থেকে উচ্চারণ ও অর্থ দেখে নিবেন। পর্দা ফরজ। পর্দা অবশ্যই পালন করতে হবে। আপনাদের বাড়ির অবস্থান কিরূপ আমরা তো জানি না। স্থানীয় কোন বিজ্ঞ আলেমকে নিয়ে গেলে হয়তো একটা পরিকল্পনা দিবেন যা অনুস্বরণ করে বাড়ীতে সামান্য সংস্কার করে পুরুষদের রাস্তা আলাদা এবং মহিলাদের রাস্তা আলাদা কনে নিবেন। রান্নাঘরটি এমন আড়াল করে দিবেন যেন সেখা কে আছে দেখা না যায়। পরিবারের সবার যদি ইচ্ছা থাকে তাহলে পর্দা রক্ষা করে চলা কোন কঠিন ব্যাপার নয়। আমরা আল্লাহর কাছে দুআ করি তিনি যেন আপনাদের সমস্যার সমাধান করে দেন।

প্রশ্নঃ 1192
আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন ভাই? আমার প্রশ্নগুলো হল, ১. আমি একটা কম্পিউটারের দোকানে কাজ করি। এইখানে বিভিন্ন ব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে হয়। পাশাপাশি পাসপোর্ট ছবি থেকে ছবি বের করে দেই। কোন ফ্যাশন ওয়ালা ছবির কাজ করি না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এইরকম ছবির কাজ করা যাবে কি এবং ব্যাংক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করবো কি? – কেননা বেশিরভাগ ব্যাংক-ই সুদভিত্তিক? ২. আমি বিকেলে আমার স্টুডেন্ট কে পড়াই। কিন্তু তার পরিবার ও আমার কাজের জন্য পড়ার সময়টা পরিবর্তন করতে পাচ্ছি না। প্রায় ৪ টা থেকে পড়ানো শুরু করলে দেখা যায় আসরের সালাত মিস যায়। তাই ৩.১৫ তে আহলে হাদিস মসজিদে সালাত পড়ে তার পর পড়াতে যাই। কিন্তু সালাতের সময় নির্ধারণী ক্যালেন্ডারে দেখি, হানাফি ক্যালেন্ডারে ৩.৫০ এর পড়ে আসরের ওয়াক্ত হয় এবং সালাত শুরু হয় ৪.১৫ তে। আর আহলে হাদিস ক্যালেন্ডারে দেখি ৩ টার পড়েই ওয়াক্ত হয়ে যায় এবং সালাত শুরু হয় ৩.১৫ তে। এখন এর সমাধান স্যার কি দিয়েছেন ভাই? জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন ভাই? আমার প্রশ্নগুলো হল, ১. আমি একটা কম্পিউটারের দোকানে কাজ করি। এইখানে বিভিন্ন ব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে হয়। পাশাপাশি পাসপোর্ট ছবি থেকে ছবি বের করে দেই। কোন ফ্যাশন ওয়ালা ছবির কাজ করি না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এইরকম ছবির কাজ করা যাবে কি এবং ব্যাংক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করবো কি? – কেননা বেশিরভাগ ব্যাংক-ই সুদভিত্তিক? ২. আমি বিকেলে আমার স্টুডেন্ট কে পড়াই। কিন্তু তার পরিবার ও আমার কাজের জন্য পড়ার সময়টা পরিবর্তন করতে পাচ্ছি না। প্রায় ৪ টা থেকে পড়ানো শুরু করলে দেখা যায় আসরের সালাত মিস যায়। তাই ৩.১৫ তে আহলে হাদিস মসজিদে সালাত পড়ে তার পর পড়াতে যাই। কিন্তু সালাতের সময় নির্ধারণী ক্যালেন্ডারে দেখি, হানাফি ক্যালেন্ডারে ৩.৫০ এর পড়ে আসরের ওয়াক্ত হয় এবং সালাত শুরু হয় ৪.১৫ তে। আর আহলে হাদিস ক্যালেন্ডারে দেখি ৩ টার পড়েই ওয়াক্ত হয়ে যায় এবং সালাত শুরু হয় ৩.১৫ তে। এখন এর সমাধান স্যার কি দিয়েছেন ভাই? জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।
04 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ। আমরা ভাল আছি। আমরা দুআ করি আল্লাহ আপনাকেও ভাল রাখুন। আপনি কম্পিউটারে যে কাজ করছেন তা সরাসরি অপরাধ নয় তবে অপরাধে কিছুটা হলেও সহযোগিতা। তাই আপনি এমন একটি প্রতিষ্ঠান খুঁজে কাজ করার চেষ্টা করুন যে প্রতিষ্ঠানে এতটুকু সহযোগিতারও কোন অবকাশ নেই। আর আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাব হলো আপনাকে অবশ্যই জামাতে সালাত আদায় করতে হবে। আপনার সমস্যার কারণে আপনি প্রথম জামাতেই (আপনার ভাষায় আহলে হাদীস মসজিদে) সালাত আদায় করে নিবেন। অন্যান্য মাজহাবেও আসরের সালাত আগেই আদায় করা হয়, সুতরাং এই সময় আসরের সালাত আদায় করলে কোন সমস্যা নেই।ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ। আমরা ভাল আছি। আমরা দুআ করি আল্লাহ আপনাকেও ভাল রাখুন। আপনি কম্পিউটারে যে কাজ করছেন তা সরাসরি অপরাধ নয় তবে অপরাধে কিছুটা হলেও সহযোগিতা। তাই আপনি এমন একটি প্রতিষ্ঠান খুঁজে কাজ করার চেষ্টা করুন যে প্রতিষ্ঠানে এতটুকু সহযোগিতারও কোন অবকাশ নেই। আর আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাব হলো আপনাকে অবশ্যই জামাতে সালাত আদায় করতে হবে। আপনার সমস্যার কারণে আপনি প্রথম জামাতেই (আপনার ভাষায় আহলে হাদীস মসজিদে) সালাত আদায় করে নিবেন। অন্যান্য মাজহাবেও আসরের সালাত আগেই আদায় করা হয়, সুতরাং এই সময় আসরের সালাত আদায় করলে কোন সমস্যা নেই।ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ। আমরা ভাল আছি। আমরা দুআ করি আল্লাহ আপনাকেও ভাল রাখুন। আপনি কম্পিউটারে যে কাজ করছেন তা সরাসরি অপরাধ নয় তবে অপরাধে কিছুটা হলেও সহযোগিতা। তাই আপনি এমন একটি প্রতিষ্ঠান খুঁজে কাজ করার চেষ্টা করুন যে প্রতিষ্ঠানে এতটুকু সহযোগিতারও কোন অবকাশ নেই। আর আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাব হলো আপনাকে অবশ্যই জামাতে সালাত আদায় করতে হবে। আপনার সমস্যার কারণে আপনি প্রথম জামাতেই (আপনার ভাষায় আহলে হাদীস মসজিদে) সালাত আদায় করে নিবেন। অন্যান্য মাজহাবেও আসরের সালাত আগেই আদায় করা হয়, সুতরাং এই সময় আসরের সালাত আদায় করলে কোন সমস্যা নেই।ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ। আমরা ভাল আছি। আমরা দুআ করি আল্লাহ আপনাকেও ভাল রাখুন। আপনি কম্পিউটারে যে কাজ করছেন তা সরাসরি অপরাধ নয় তবে অপরাধে কিছুটা হলেও সহযোগিতা। তাই আপনি এমন একটি প্রতিষ্ঠান খুঁজে কাজ করার চেষ্টা করুন যে প্রতিষ্ঠানে এতটুকু সহযোগিতারও কোন অবকাশ নেই। আর আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাব হলো আপনাকে অবশ্যই জামাতে সালাত আদায় করতে হবে। আপনার সমস্যার কারণে আপনি প্রথম জামাতেই (আপনার ভাষায় আহলে হাদীস মসজিদে) সালাত আদায় করে নিবেন। অন্যান্য মাজহাবেও আসরের সালাত আগেই আদায় করা হয়, সুতরাং এই সময় আসরের সালাত আদায় করলে কোন সমস্যা নেই।
প্রশ্নঃ 1190
আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে, আমি যখন কলেজে ভর্তি হই তখন কলেজ কর্তৃপক্ষ শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য আমার থেকে টাকা আদায় করে। অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমি টাকা প্রদান করতে বাধ্য হয়। আমি কখনও শহিদ মিনারে ফুল দিই না এবং এটি নির্মাণও সমর্থন করি না। এমতাবস্থায় আমি যে টাকা প্রদান করেছি তাতে কি আমার গুনাহ হবে?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ। আমরা ভাল আছি। আমরা দুআ করি আল্লাহ আপনাকেও ভাল রাখুন। আপনি কম্পিউটারে যে কাজ করছেন তা সরাসরি অপরাধ নয় তবে অপরাধে কিছুটা হলেও সহযোগিতা। তাই আপনি এমন একটি প্রতিষ্ঠান খুঁজে কাজ করার চেষ্টা করুন যে প্রতিষ্ঠানে এতটুকু সহযোগিতারও কোন অবকাশ নেই। আর আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাব হলো আপনাকে অবশ্যই জামাতে সালাত আদায় করতে হবে। আপনার সমস্যার কারণে আপনি প্রথম জামাতেই (আপনার ভাষায় আহলে হাদীস মসজিদে) সালাত আদায় করে নিবেন। অন্যান্য মাজহাবেও আসরের সালাত আগেই আদায় করা হয়, সুতরাং এই সময় আসরের সালাত আদায় করলে কোন সমস্যা নেই।ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ। আমরা ভাল আছি। আমরা দুআ করি আল্লাহ আপনাকেও ভাল রাখুন। আপনি কম্পিউটারে যে কাজ করছেন তা সরাসরি অপরাধ নয় তবে অপরাধে কিছুটা হলেও সহযোগিতা। তাই আপনি এমন একটি প্রতিষ্ঠান খুঁজে কাজ করার চেষ্টা করুন যে প্রতিষ্ঠানে এতটুকু সহযোগিতারও কোন অবকাশ নেই। আর আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাব হলো আপনাকে অবশ্যই জামাতে সালাত আদায় করতে হবে। আপনার সমস্যার কারণে আপনি প্রথম জামাতেই (আপনার ভাষায় আহলে হাদীস মসজিদে) সালাত আদায় করে নিবেন। অন্যান্য মাজহাবেও আসরের সালাত আগেই আদায় করা হয়, সুতরাং এই সময় আসরের সালাত আদায় করলে কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 1191
আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে, আমি যখন কলেজে ভর্তি হই তখন কলেজ কর্তৃপক্ষ শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য আমার থেকে টাকা আদায় করে। অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমি টাকা প্রদান করতে বাধ্য হয়। আমি কখনও শহিদ মিনারে ফুল দিই না এবং এটি নির্মাণও সমর্থন করি না। এমতাবস্থায় আমি যে টাকা প্রদান করেছি তাতে কি আমার গুনাহ হবে?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কোন ধরণের অন্যায় কাজে টাকা-পয়সা দেয়া অবশ্যই অপরাধ এবং গুনাহের কাজ। এখন যদি বাধ্য হয়ে দিতেই হয় তাহলে মনে মনে ঘৃনা করতে হবে এবং আল্লাহর কাছে অপারগতার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কোন ধরণের অন্যায় কাজে টাকা-পয়সা দেয়া অবশ্যই অপরাধ এবং গুনাহের কাজ। এখন যদি বাধ্য হয়ে দিতেই হয় তাহলে মনে মনে ঘৃনা করতে হবে এবং আল্লাহর কাছে অপারগতার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।

প্রশ্নঃ 1189
হাদীসে আসে পতি সুম ওবৃহশ পতি বারে আল্লাহ্ মানুসদের মাপ করে দেন। তবে যার আততীয়ের সাথে ঝগড়া আছে তাকে মাপ করেন না হুলডে রেখে দেন। তাহলে হজ কে্রে কি মাপ নেয়া জাবে। বা হজ কোন কাজে আসবে।
04 Jan 2026
বান্দার হকের সাথে সম্পৃক্ত পাপগুলো বান্দার কাছ থেকে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া মাফ হওয়া কঠিন। আত্নীয়দের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা বড় গুনাহ। এটা বান্দান হকের সাথেও সম্পৃক্ত। এক্ষেত্রে করণীয় হলো ঝগড়া-ঝামেলা মিটিয়ে ফেলা। বান্দর হক ছাড়া অন্যান্য ছোট-বড় গুনাহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উপলক্ষে ক্ষমা করে থাকেন। তবে প্রতিটি সৎ আমলের প্রতিফল আল্লাহ দিবেন। একটি পাপের কারণে অন্য আমলের সওয়াব থেকে আল্লাহ বঞ্চিত করবেন না। আত্নীয়দের সাথে ঝগড়া থাকলে সালাত-সাওম-হজ্জ্ব কোন কাজে আসবে না এমন নয়। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন।
প্রশ্নঃ 1188
আসসালামু আলাইকুম, আল ফিকহুল আকবর কি ইমাম আবু হানিফার বই. শুনলাম এই বই নিয়ে ইখতেলাফ আছে আকিদার জন্য কয়েকটা ভাল বই এর নাম বললে খুশি হতাম।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আল-ফিকহুল আকবার নিয়ে মতভেদ থাকলেও ঐ বইয়ের বক্তব্য নিয়ে মতেভেদ নেই। এই বইয়ের ব্যাখ্যা করেছেন শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ.। আপনি স্যারের ব্যাখ্য সম্বলিত এই বইটি কিনতে পারেন। স্যার রহ. এর আরো একটি বই আছে। নাম ইসলামী আকীদা। আপনি এই বইটিও পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 1187
সঠিক আমল সম্বলিত কিছু বইয়ের নাম জানালে উপকৃত হতাম
04 Jan 2026

ভাই, আপনি ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. এর লিখিত বইগুলো সংগ্রহ করুন। এই বইগুলো বাংলা ভাষায় সঠিক আমল সম্বলিত খুবই ভাল হয়। বইগুলো সংগ্রহ করতে ভিজিট করুন

প্রশ্নঃ 1186
আস-সালামু আলাইকুম, ১. সূরা ইয়াসিন মা/বাবার কবরের পশে ৪১ দিন তেলোয়াত করলে কবরের আজাব মাফ হয়, এটা কি সহি হাদিস? যদি সহি হয় তাহলে মেয়েরা এই আমল কিভাবে করবে? মেয়েরা তো ৪১ দিন একটানা তেলোয়াত করতে পারবে না যদি মুখস্ত না থাকে। আর কবরের পাশেই তেলোয়াত করতে হবে নাকি ঘরে বসেও করলে হবে? ২. স্যার এর সকল ওয়াজ -মাহফিল,প্রশ্নোত্তর/ সকল প্রোগ্রাম এর ভিডিও / অডিও এর সিডি / ডিভিডি কি পাওয়া যাবে? যদি পাওয়া যায় তাহলে কিভাবে সংগ্রহ করতে পারি? জাজাকাল্লাহ
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার প্রথম প্রশ্নের (৪১বার সূরা ফাতিহা পড়লে মা-বাবা কবরের আযাব মাফ হয় বলে কোন সহীহ কিংবা যয়ীফ হাদীস বর্ণিত হয় নি। এটা একটি জাল-বানোয়াট কথা। তবে কুরআন পাঠসহ আপনার অন্যান্য যে কোন নেক আমলের সওয়াবের একটি অংশ পিতা-মাতা পাবে বলে সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে। স্যার এর সকল ওয়াজ -মাহফিল, প্রশ্নোত্তর / সকল প্রোগ্রাম এর ভিডিও / অডিও এর সিডি / ডিভিডি সংগ্রহ করতে ঝিনাইদহে আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের অফিসে যোগাযোগ করুন। ইউটিউবেও অনেক কিছু পাবেন।

প্রশ্নঃ 1185
মুহতারাম, আসসালামুআলাইকুম। আমার কিছু প্রশ্নের উত্তর পাই নি। আমার একটি প্রশ্ন আছে যে সরকারি চাকরি শেষে প্রাপ্ত পেনশনে তো সুদ হয়ত অনেক ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে সেটা কি হালাল হবে নাকি হারাম? আরো ১টু জানার ইচ্ছা ছিল যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা সুদ ভিত্তিক হওয়ায় যদি সেখানে চাকরি করা হারাম হয় বা সুদের সাথে সম্পর্ক আছে জন্য হারাম হয় তাহলে আমরা তো সবাই সেদিক থেকে কোন না কোনোভাবে সুদের সাথে সম্পর্কিত আছিই। । কারন আমাদের সরকারী অর্থনীতি ব্যবস্থাই তো সুদ ভিত্তিক।আমরা চাইলেই এখান থেকে বের হতে পারব না। আমার মনে হয় এর দায়ভার পুরটাই সরকারের। । আর বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চাকরি পাওয়া টা আসলেই অনেক কঠিন যদিওবা সবার রিজিক এর মালিক আল্লাহ সুবহানাহুতাআলা। সেদিক থেকে সরকারি চাকরিতে ব্যাংক ১টি লোভনীয় সেক্টর। ১এ খুব ভালো বেতন তার উপর অন্যান্য সুবিধা যেমন নিজের বাড়ি বা এলাকা থেকে চাকরি করা যায়। এমতাবস্থায় আসলে কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারছি না। দয়া করে আরো ভালো পরিষ্কার করে বলবেন।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই 1131 নং প্রশ্রের উত্তরে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে। আবারো দিচ্ছি। টাকা যতদিন ব্যক্তির হাতে না আসবে ততদিন তার মালিক ব্যক্তি নয়। পেনশেনের টাকা সরাকরের তহবিলে থাকে চাইলেও চাকুরীজীবি ব্যক্তি তা গ্রহন করতে পারে না। তাই তার সুদ হওয়া না হওযার বিষয়টি ব্যক্তির উপর আসবে না। আলেমগণ এই টাকাকে সুদ বলেন নি। এই বিষয়ে একটি প্রশ্রের জবাবে স্যার রহ. বলেছেন, একটি প্রশ্নের উত্তরে স্যার রহ. বলেছেন, প্রভিডেন্ট ফান্ডের ইন্টারেস্ট অধিকাংশ আলেমের মতে সুদ নয়, হালাল। তবে কোন কোন আলেম হারাম বলেছেন। তবে হারাম নয় বলেই মনে হয়। 0224 নং প্রশ্নের উত্তরে। ব্যাংকে চাকুরী জায়েজ কি না, এ সম্পর্কে স্যার রহ. এর তত্বাবধানে এখান থেকে অন্তত তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে। 0093 নং প্রশ্নের উত্তরটি আমি হুবুহ দিয়ে দিলাম। (104) সুদভিত্তিক ব্যাংকে কাজ করে উপার্জিত অর্থ হালাল নয়। তবে শরীয়াহ অনুযায়ী পরিচালিত ব্যাংকে কাজ করে উপার্জিত অর্থ হারাম হবে না। কেননা হররত জাবরে রা. বলনে, لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ র্অথ: রাসূলুল্লাহ সা. সুদ গ্রহীতা, দাতা, লখেক, সাক্ষীদ্বয় প্রত্যকেরে উপর লানাত (অভশিাপ) দয়িছেনে এবং বলছেনে (পাপরে দকি থকে) সবাই সমান। সহীহ মুসলমি, হাদীস নং ৪১১৭। আর আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হলো আপনার জন্য উচিৎ হবে মাহরাম ব্যাংকার আত্নীয়ের বাসায় টাকা দিয়ে খাওয়া দাওয়া করা। উল্লেখ্য প্রশ্নের দ্বিতীয় অংশটি ছিল ব্যাংকার (সুদ ভিত্তিক) আত্নীয়ের বাসায় নিয়মিত থেকে খাওয়া যাবে কি না? স্যার বলেছেন, টাকা দিয়ে খেতে হবে। 106 নং প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকে ডাটা এন্ট্রি চাকুরী জায়জে কি না? উত্তরটি আমি হুবহু দিয়ে দিলাম। 106 না। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সুদভিত্তিক কোন ব্যাংকে এই পদে চাকুরী করা কারো জন্য জায়েয হবে না এবং এখান থেকে উপার্জিত অর্থ কারো জন্য হালাল নয়। হররত জাবের রা. বলনে, لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ র্অথ: রাসূলুল্লাহ সা. সুদ গ্রহীতা, দাতা, লখেক, সাক্ষীদ্বয় প্রত্যকেরে উপর লানাত (অভিশাপ) দিয়েছেন এবং বলেছেন (পাপরে দিক থেকে) সবাই সমান। সহীহ মুসলমি, হাদীস নং ৪১১৭। আর প্রশ্নোক্ত কাজটি সুদ লেখার অন্তর্ভূক্ত। সুতরাং আমাদরে জন্য আবশ্যক এমন চাকুরী থকেে বিরত থাকা। 82 নং প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকুরী জায়েজ কি না? উত্তর ছিল একই রকম। এখন আসি দ্বিতীয় বিষয়ে আপনি বলেছেন যেহেতু সরকারের সকল অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সুদ ভিত্তিক তাহলে কোন সেক্টরেই কর্ম কর জায়েজ হবে না। আপনার এই চিন্ত সঠিক নয়। আপনার কাজ হলো কাজ করা, যার কাজ করবেন তিনি কোথা থেকে অর্থ দিবেন সেটা তার ব্যাপার তবে আপনি যে কাজটি করছেন সেটা হালাল হতে হবে। অন্যান্য সেক্টর হালাল কাজের অন্তভূক্ত আর ব্যাংকে যে কাজটি করছেন সেই কাজটিই স্বয়ং হারাম। অর্থাৎ ব্যাংকের কাজই তো সুদ লেখা, সাক্ষী থাকা, যাবতীয় কাজই সুদ বিষয়ক আর এগুলো হাদীসের আলোকে সব হারাম। সুদের দায়ভার সরকারের কিন্তু সুদ লেখা এবং সুদের অন্যান্য কাজের দায়ভার আপনারও। আরো একটা উদাহরণ দিই। মনে করেন আপনি কোন দোকানে চাকুরী করেন। দোকানের মালিক মাস শেষে আপনাকে সম্মানী দেবেন। তিনি কোথা থেকে দিবেন সেটা আপনার দেখার বিষয় নয়। কিন্তু ঐ দোকানে যা কিছু বিক্রি করা হয় তা হালাল কি না তা আপনাকে দেখতে হবে। যেমন, যদি মদের দোকান হয় তাহলে আপনার জন্য ঐ দোকানে কাজ করা জায়েজ হবে না। হালাল পন্য হলে জায়েজ। সুদ মদ থেকেও নিকৃষ্ট। সুদভিত্তিক ব্যাংক মদের দোকানের থেকেও নিকৃষ্ট। মদের দোকানে যেমন কাজ করা জায়েজ নেই এক কাথায় বলতে গেলে সুদের দোকানেও কাজ করা জায়জ হবে না। এরপরও অস্পষ্টতা থাকলে 01734717299 যোগাযোগ করুন।

প্রশ্নঃ 1184
পিতা যদি তার সম্পত্তি ছেলেদের না দেয় তাহলে ছেলেদের কি করনীয়?
04 Jan 2026
পিতা যদি ছেলেদের সম্পত্তি না দেয় তাহলে ছেলেদের কিছুই করণীয় নেই তবে পিতা এই কারণে বিরাট গুনাগগার হবে। পিতা যাকে অন্যায়ভাবে সম্পদ দিয়েছে সে যদি সেই সম্পদ তার ওয়ারিসদের মাঝে যথানিয়মে বন্টন করে দেন আর ওয়ারিসরাগণ তথা ছেলে-মেয়েরা তাদের পিতাকে মাফ করে দেন তবে আল্লাহ চাইলে মাফ করতেও পারেন।
প্রশ্নঃ 1182
আসসালামু আলাইকুম। আমার আব্বুর কাছে এক গরীব হিন্দু পূজার জন্য নারিকেল চেয়েছিল। তো আমার আব্বু ঐ লোকটিকে নারিকেল দিয়েছিল। এতে কি আমার আব্বু গোনাহগার হবে?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। পূজার জন্য নারিকেল দিলে বড় ধরণের গুনাহ হবে। কারণ পূজাতে আল্লাহর সাথে শিরক করা হয় আর কোন কিছু দিলে শিরকে সহযোগিতা করা হয়। পূজার জন্য কোন ধরণের সহযোগিতা করা যাবে না। তবে খাওয়ার জন্য দিলে বা পূজা বাদে অন্য কোন কাজের জন্য দিলে গুনাহ হবে না বরং সওয়াব হবে।

প্রশ্নঃ 1183
আসসালামু আলাইকুম। ভাই আমার প্রশ্ন হল নামাজে হাত বাধার সঠিক নিয়ম কোনটা? যদি আমাকে একটু পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিতেন।
04 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নামাযে হাত বাঁধতে হবে এটা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু কোথায় বাঁধতে হবে সে বিষয়ে গ্রহনযোগ্য কোন হাদীস পাওয়া যায় না। তবে সাহাবী এবং তৎপরবর্তী আলেমগণ কোথায় বাঁধতেন তা ইমাম তিরমিযী (রহ.) নিন্মেক্ত বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়। তিনি বলেন, وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ يَرَوْنَ أَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ يَمِينَهُ عَلَى شِمَالِهِ فِى الصَّلاَةِ. وَرَأَى بَعْضُهُمْ أَنْ يَضَعَهُمَا فَوْقَ السُّرَّةِ. وَرَأَى بَعْضُهُمْ أَنْ يَضَعَهُمَا تَحْتَ السُّرَّةِ. وَكُلُّ ذَلِكَ وَاسِعٌ عِنْدَهُمْ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী, তাবেয়ী ও পরবর্তী আহলে ইলমের কর্মধারা এমনই । অর্থাৎ তাঁরা নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখাকে নামাযের নিয়ম মনে করতেন। তাঁদের কতক নাভির উপরে এবং কতক নাভির নীচে রাখাকে উত্তম মনে করতেন। তবে উভয় পদ্ধতিই তাঁদের সকলের মতে বৈধ ছিল। (জামে তিরমিযী ২/৩৩, হাদীস-২৫২- এর আলোচনায়)। অর্থাৎ হাত বাধান দুটি পদ্ধতি সাহাবীদের থেকে প্রমাণিত। এক. নাভীর উপর। দুই. নাভীর নিচে। আপনি যে পদ্ধতিতেই আমল করেন সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। এ নিয়ে কারো থেকে অহেতুক বিতর্ক কাম্য নয়।
প্রশ্নঃ 1180
কিছুদিন আগে আমি একটি প্রশ্ন করেছিলাম। প্রশ্নটি ছিল অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি হারাম?। কিন্তু প্রশ্নটি করার সময় পর্যাপ্ত তথ্য না দেয়ায় আপনারা উত্তর দিতে পারেননি। অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং: [ Amazon Associates is one of the first online affiliate marketing programs and was launched in 1996. The Amazon Associates program has a more than 12 year track record of developing solutions to help website owners, Web developers, and Amazon sellers make money by advertising millions of new and used products from Amazon.com and its subsidiaries, such as Endless.com and SmallParts.com. When website owners and bloggers who are Associates create links and customers click through those links and buy products from Amazon, they earn referral fees. Its free to join and easy to use. Provide customers the convenience of referring them to a trusted site where they can immediately purchase the products you advertise on your site. And when they do, you can earn up to 10% in referral fees. Take advantage of various Amazon retail promotions and leverage our newly created advertising features to drive traffic and earn referrals. ] বাংলাতে বিস্তারিত জানতেঃ- https://www.youtube.com/watch?v=4NAbKt4dn5E
04 Jan 2026

যিনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করেন তিনি মূলত ক্রেতাকে তার পন্য খুজে দিতে এবং বিক্রেতাকে তার পন্য প্রচার করতে সাহায্য করেন। এবং তিনি শ্রম ও টাকা পয়সা খরচে করেন এই কাজের জন্য। সুতরাং এটা জায়েজ। এম্যাজান বা যে কোম্পানীর। তবে কোন ধরণেন তথ্য গোপন বা ছলচাতুরীর আশ্রয় নিলে জায়েজ হবে না। বিস্তারিত দেখুন, মারকাযুল ফাতাওয়া, ফাতাওয়া নং ১৯৪৬৫৯।

প্রশ্নঃ 1179
Sir, Could you please add me (FB) to get upload continue from this page and share my friends and family for getting spiritual knowledge. May Allah bless us to get valuable benefits from this page. Ameen. Thanks. Mujib
04 Jan 2026

আপনি এই LINK ওপেন করে লাইক দিন। আপনি আমাদের সকল পোস্ট পাবেন ইনশাআল্লাহ।


প্রশ্নঃ 1177
Jibon er nana shomosshar jonno sunnah vittik kitab konte.
04 Jan 2026

মানুষ জীবন চলার পথে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকে। হবে এটাই স্বাভাবিক। কোন সমস্যা সামনে আসলে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে। সমাধানের বাহ্যিক চেষ্টাও চালিয়ে যেতে হবে। এসব সমস্য সমাধানের জন্য আল্লাহর সাহায্য কিভাবে আমরা চাইতে পারি সে বিষয়ে একটি চমৎকার বই লিখেছেন আমাদের শায়েখ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ.। বইটির নাম রাহে বেলায়াত। প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য মাত্র ২০০ টাকা। আপনি বইটি সংগ্রহ করবেন।

প্রশ্নঃ 1178
১) অজুর পানি না মুছার মধ্যে কোন ফজিলত আছে কি? ২) অজুর পর দাড়িয়ে পানি পান করার ফাজায়েল জানতে চাই ।
04 Jan 2026

শরীর থেকে ওযুর পানি মুছা এবং ওযুর পানি দাঁড়িয়ে পান করা জায়েজ। এর কোন ফজিলত আছে বলে আমাদের জানা নেই। তবে বসে পান করাই উত্তম।

প্রশ্নঃ 1176
আসসালামু আলাইকুম হুন্ডি ব্যবসা কি শরীয়ত সম্মত? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো। আল্লাহ হাফেজ
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমরা যতদূর জানতে পেরেছে হু্ন্ডি হলো সরকারী ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে অর্থ লেনদেনের একটি ব্যবস্থা। সরকারকে ফাঁকি দেয়ার কারণে এটা জায়েজ হবে না।

প্রশ্নঃ 1175
আসসালামু আলাইকুম Ami ekjon italy probasi ;prai choto bela thekei ami italy thaki Ami kicu din jaboth hijab pori kintu muk kula rakhi ami kono makeup kori na, Ami dr. Khandakar abdullah sir er ekti boktobbe sune chi eta kora jabe Kintu ami aro koi ekjonke jighes korechi tara amake bolche eta guna hobe karon muk holo sundorjer prodan ongcho. Ekhon ami bujte parchi na ki kora amar jonno valo hobe doia kore ki iktu bujie bole diben plz.
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমরা এটা জানতে পেরে খুশী যে, আপনি পর্দা করা শুরু করেছেন। আমরা দুআ করি আল্লাহ আপনাকে দীনের পথে অবিচল রাখুন। মুখ খুলে রাখার বিষয়ে আলেমগণ কিছুটা মতভেদ করেছেন। অনেক আলেম বলেছেন মুখ খুলে রাখা জায়েজ আছে। আবার অনেকেই না জায়েজ বলেছেন। তবে ঢেকে রাখা যে উত্তম এবং অধিক সতর্কতা এই বিষয়ে সবাই একমত। তাই আপনার জন্য উচিৎ হলো বিতর্কের মধ্যে না থেকে উ্ত্তমটির উপর আমল করা অর্থাৎ মুখ ঢেকে রাখা। মুখই যেহেতু সৌন্দর্য প্রকাশের প্রধান মাধ্যম সুতরাং এই ফিৎন-ফাসাদের যুগে মুথ ঢেকে রাখা যে ভাল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

প্রশ্নঃ 1169
ভূমিকাঃ আমাদের সমাজে অনেক ভদ্রলোক অন্যকে গালি দেন অথবা গালি না দিলেও অভিশাপ দেন, তাদের বুঝিয়ে বলতে গেলে তারা বলেন আল্লাহ গালি দিয়েছেন সাথে অভিশাপ ও দিয়েছেন, রাসুলুল্লাহ (সাঁঃ) গালি দিয়েছেন, অভিশাপ দিয়েছেন, অন্যের নাম বিকৃত করেছেন, আমিও করবো, বাংলাদেশের যে আলেম রা করে তারাও ঠিক করে এসব কাজ ঘটনা ১; আমাদের মহল্লায় মসজিদের ইমাম বক্তব্যের ভেতর কুরান ও হাদিস থেকে উল্লেখ করে বলেন – কাউকে গালি দেয়া, নাম বিকৃত করা ঠিক না, সে যতই পাপী হোক, মৃত্যুর পর সমালোচনা বা খারাপ নাম করা ঠিক নয়, কারণ তাদের সাজা তারা পেয়ে গেছে। ইত্যাদি। যারা জাহানারা ইমাম কে জাহান্নামের ইমাম যাদি। কুদ্রতে খুদা কে গজবে খুদা বলেন এটা তাদের ভুল। ঘটনা ২ঃ এখন ভূমিকায় উল্লেখিত ভদ্র রা অই ইমামের সমালোচনা ও গীবত করেন, তারা বলেন ——- যেহেতু আরব রা এক লোকের নাম আবুল হাকাম রেখেছিলো, কিন্তু রাসুল (সাঁঃ ) তার নাম আবু জেহেল করে দিয়েছিলন সেহেতু ঘটনা ১ এর আলেম দের উক্ত সমালোচনা নাম বিকৃতি ঠিক আছে। —— যেহেতু বদর যুদ্ধের পর রাসুল (সাঁঃ) আবু জেহেলের বাড়ি পায়খানা ঘোষণা করেছিলেন সাহেতু মৃত ব্যক্তিদের নামে সমালোচনা ঠিক আছে, মসজিদের ইমামের কথা ভুল । ইত্যাদি। (1067) * প্রশ্ন ** এই ২ যেহেতু কতটুকু সত্য, বা এর ব্যাখ্যা কি? আর সুরাহ হুজুরাতের ১১ নং আয়াত থেকে শুরু হওয়া নিয়ম গুলোর সাথে এর মিল অমিল কি? দয়া করে বিস্তারিত বলবেন। উল্লেখ্য যে, উপরক্ত ভুমিক্যায় উল্লেখিত সমস্যা এক ভদ্রের নয়, সারা সমাজে ফিতনা বেড়ে যাচ্ছে, দল তো আছেই, যেমন ইমাম তাবলীগই দলে ছিলেন তাই সব অন্যরা তার সমালোচনা বেশি করছে। এসব ভালো লাগছেনা। প্রশ্ন উত্তরটা পেলে যদি কিছু করতে পারি । আর হা সম্ভব হইলে সরাসরি দাওয়াতে শযতেদিতে পারেন বা এই রিকোয়েস্ট মাথায় রাখতে পারেন ভবিষ্যতে,। স্থান মনিরাম্-পুর যশোর। জাঝাকাল্লাহ।
04 Jan 2026

আপনার প্রশ্নে কয়েকটি বিষয় আছে।

১. গালি দেয়া, ২. লানাত দেয়া, ৩. নাম বিক্রিত করা।

প্রথমে আমরা গালি দেয়ার বিষয়ে আলোচনা করবো। তবে শুরুতেই আপনাকে বলে রাখ প্রতিটি ক্ষেত্রেই মুসলিম এবং অমুসলিমের ক্ষেত্রে ভাগ আছে। মুসলিমকে গালি দেয়া গুনাহের কাজ। রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, ، عَنْ زُبَيْدٍ ، قَالَ : سَأَلْتُ أَبَا وَائِلٍ ، عَنِ الْمُرْجِئَةِ فَقَالَ : حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ وَقِتَالُهُ كُفْرٌ অর্থ: মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসেকী (গুনাহের কাজ) এবং তাকে হত্যা করা কুফুরী কাজ। এই হাদীস থেকে স্পষ্ট যে, কোন মুসলিমকে গালি দেয়া জায়েজ নেই। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৮।

আর অমুসলিম হলেও তাকে গালি দেয়া যাবে না। নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন: حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ مُسْلِمٍ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ أَتَى النَّبِىَّ -صلى الله عليه وسلم- أُنَاسٌ مِنَ الْيَهُودِ فَقَالُوا السَّامُ عَلَيْكَ يَا أَبَا الْقَاسِمِ. قَالَوَعَلَيْكُمْ قَالَتْ عَائِشَةُ قُلْتُ بَلْ عَلَيْكُمُ السَّامُ وَالذَّامُ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَا عَائِشَةُ لاَ تَكُونِى فَاحِشَةً অথ: আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, কিছু ইহুদী নবী সা. কাছে এসে বলল, السَّامُ عَلَيْكَ يَا أَبَا الْقَاسِمِ (তোমাদের উপর মৃত্যু আসুক, সালামের পরিবর্তে এই কথা তারা বলেছিল। ) তখন রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, তোমাদের উপরও। আয়েশা রা. বলেন, তখন আমি বললাম, বরং তোমাদের উপর মৃত্যু এবং বেইজ্জতি আসুক। তখন রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, হে আয়েশা! তুমি (তাদের মত) অশ্লীল কাজকারী হয়ো না। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৫৭৮৬।

তবে কোন অমুসলিম যদি মুসলমানদের সাথে যুদ্ধ লিপ্ত থাকে বা শত্রুতায় লিপ্ত থাকে তাহলে তাকে গালি দেয়া জায়েজ। এই বিষয়ে ইমাম সানয়ানী বলেন, وفي مفهوم قوله المسلم دليل على جواز سب الكافر فإن كان معاهدا فهو أذية له وقد نهى عن أذيته فلا يعمل بالمفهوم في حقه وإن كان حربيا جاز سبه إذ لا حرمة له وأما الفاسق فقد اختلف العلماء في جواز سبه بما هو مرتكب له من المعاصي فذهب الأكثر إلى جوازه لأن المراد بالمسلم في الحديث الكامل الإسلام والفاسق ليس كذلك এই হাদীসে (মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসেকী) মুসলিম উল্লেখ থাকার কারণে এই কথা বুঝে আসে যে, কাফেরকে গালি দেয়া জায়েজ। তবে যদি কাফের ইসলামী রাষ্ট্রে ট্যাক্সের বিনিময়ে থাকে তাহলে গালি দেয়া হবে তাকে কষ্ট দেয়া আর কষ্ট দেয়া ইসলামে নিষিদ্ধ। সুতরাং তার ক্ষেত্রে গলি দেয়া জায়েজ কথাটি প্রযোজ্য নয়।

তবে যদি কোন কাফের মুসলিমদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত থাকে তাহলে তাকে গালি দেয়া জায়েজ।আর সর্বদা পাপাচারে লিপ্ত থাকা ফাসেককে গালি দেয়া জায়েজ কিনা সে বিষয়ে মতভেদ আছে। তবে অধিকাংশ আলেম জায়েজ বলেছেন। কেননা হাদীসে মুসলিম দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পরিপূর্ণ মুসলিম। আর ফাসেক পরিপূর্ণ মুসলিম নয়। সুবুলুস সালাম ৪/১৮৮। এখান থেকে বুঝে আসে মুসলিম ও ট্যাক্স দিয়ে থাকা কাফের এবং যুদ্ধ বা শত্রুতারত কাফেরের হুকুম এক নয়। অর্থাৎ আবু জাহেল এবং মুসলিমের হুকুম এক নয়।

এবার লানাত বিষয়ে আলোচনা করা যাক: মুসলিমকে লানাত করা নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ومن لعن مؤمنا فهو كقتله অর্থ: যে ব্যক্তি কোন মুমিনকে লানাত করলো তাহলে সে যেন তাকে হত্যা করলো। সহীহ বুখারী হাদীস নং ৬০৪৭। কাদেরকে লানত করা যাবে এই বিষয়ে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন, وَاللُّغَةُ تُجَوِّزُ مُطْلَقًا لِمَنْ لَعَنَهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ ؛ وَأَمَّا لَعْنَةُ الْمُعَيَّنِ فَإِنْ عُلِمَ أَنَّهُ مَاتَ كَافِرًا جَازَتْ لَعْنَتُهُ . وَأَمَّا الْفَاسِقُ الْمُعَيَّنُ فَلَا تَنْبَغِي لَعْنَتُهُ ؛ { لِنَهْيِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُلْعَنَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حِمَارٍ الَّذِي كَانَ يَشْرَبُ الْخَمْرَ } مَعَ أَنَّهُ قَدْ لَعَنَ شَارِبَ الْخَمْرِ عُمُومًا مَعَ أَنَّ فِي لَعْنَةِ الْمُعَيَّنِ – إذَا كَانَ فَاسِقًا أَوْ دَاعِيًا إلَى بِدْعَةٍ – نِزَاعٌ যাদেরকে আল্লাহ আর তাঁর রাসূল লানাত দিয়েছেন তাদেরকে লানাত করা নি:শর্তভবে জায়েজ। এবং নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তি যদি কাফের হয়ে মারা যায় তাকেও লানাত করা জায়েজ।

আর কোন ফাসেককে নির্দিষ্ট করে লানাত করা উচিত নয়, কারণ নবী সা. আব্দুল্লাহ ইবনে হিমার, যিনি মদ পান করেছিলেন, তাকে লানাত করতে নিষেধ করেছিলেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৭৮০। )তবে ব্যাপকভাবে মদপানকারীর উপর তিনি লানাত করেছিলেন। (ব্যাপকভাবে অর্থাৎ এমন বলা মদপানকারীদের উপর আল্লাহর লানাত হোক। ) এর সাথে যখন কোন ফাসেক ব্যক্তি নিজের কাজকে সমর্থন করবে এবং কোন বিদআতি নিজের বিদআতের দিকে অন্যদের আহ্ববান করবে তখন তাকে লানাত করা জায়েজ কিনা এই বিষয়ে বিতর্ক আছে। (অর্থাৎ একদল জায়েজ বলেন আরেক দল না-জায়েজ বলেন। )মাজমাউল ফাতওয়া ৬/৫১১।

তাহলে আমরা বলতে পারি মুসলিমকে লানাত দেয়া নিষিদ্ধ তবে বিদআতের দিকে আহ্বান কারী বিদআতী এবং পাপকাজের সমর্থনকারী ও অন্যেকে পাপকাজের দিকে আহ্বানকারী ব্যক্তিকে লানাত দেয়া অনেক আলেমের মতে জায়েজ। আর কাফিরকে মারা যাওয়ার পরও লানাত করা জায়েজ। সুতরাং এক্ষেত্রে কাফের আর মুসলিমকে এক করলে চলবে না। নাম বিকৃত করা যাবে ইসলামে নিষিদ্ধ।

আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, وَلا تَنَابَزُوا بِالأَلْقَابِ بِئْسَ الاِسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الإِيمَانِ وَمَن لَّمْ يَتُبْ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ তোমরা কারো নামকে বিকৃত করো না, ইমান গ্রহনের পর তা খুবই নিকৃষ্ট কাজ। যে তাওবা করবে না সে জালিম। সূরা হুজুরত, আয়াত নং ১১। উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারলাম কোন মূমিন মুসলিমকে গালি দেয়া যাবে না, লানাত করা যাবে না এবং তাদের নাম বিকৃত করা যাবে না।

তবে কাফিরদেকে ক্ষেত্রে সকল ক্ষেত্রে হুকুম এক নয়। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সা. কাউকে (অবশ্যই শত্রতারত কাফেরকে) লানাত করেছেন বা নাম বদলে দিয়েছেন সেই জন্য আমাদের জন্য (কোন মূমিনের ক্ষেত্রে) জায়েজ বিষয়টি এমন ভাবা ঠিক নয়্। তবে কোন পাপাচারী যদি মানুষকে পাপের দিকে আহ্বান করে,মানুষকে খারাপ পথে নিয়ে যায় তাহলে সেটা জনগনে সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন, এতে কোন গোনাহ নেই বরং সওয়াবের কাজ।

এই বিষয়ে ইমাম নববী বলেন, باب ما يباح من الغيبة اعلم أن الغيبة تباح لغرض صحيح شرعي لا يمكن الوصول إليه بها وهو ستة أسباب: – ৃ الرابع: تحذير المسلمين من الشر ونصيحتهم، وذلك من وجوه: منها جرح المجروحين من الرواة والشهود، وذلك جائز بإجماع المسلمين، بل واجب للحاجة …জেনে রাখা উচিত যে, শরয়ী প্রয়োজনে গিবত বৈধ, যখন গিবত ছাড়া সেই প্রয়োজন সম্ভব নয়। এই প্রয়োজন মোট ছয় প্রকার। ….৪। মুসলিমদেরকে অকল্যান থেকে সতর্ক করা এবং নসীহত করার উেেদ্দশ্যে। রিয়াদুস সালেহীন, বা-বু মা ইউবাহু মিনাল গিবাত, ১৫৩০ নং হাদীসের পূর্বে।

আবু জাহেল, জাহান্নামের ইমাম এবং গজবে খুদাকে এভাবে ব্যখ্যা করতে হবে।অর্থাৎ এভাবে নাম বলে তাদের অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকার জন্য জাতিকে সতর্ক করা হয়েছে। নাম বিকৃত করা উদ্দেশ্য নয়। এছাড়া আমরা দেখেছি যে, সাধারণ মূমিন এবং কাফের বা চরম পর্যায়ের ফাসেকের হুকুম এক নয়, চরম পর্যায়ের ফাসেককে গালি দেয়াও অধিকাংশ আলেম জায়েজ বলেছেন। আর মারা যাওয়ার পর মুমিনের দোষত্রুটি নিয়ে আলোচনা করা উচিৎ নয়।

তবে এখানেও মনে রাখতে হবে কাফের বা চরম পর্যায়ের ফাসেক এই হুকুমের অন্তভূক্ত নয়। আপনার প্রশ্ন থেকে যা মনে হয়েছে সেখানে মানুষ নিষিদ্ধ দলাদলীতে লিপ্ত, মুসলিমদের ঐক্যের সার্থে এর থেকে বিরত থাকা দরকার। আল্লাহ সবচেয়ে ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1174
আসসালামু আলাইকু। আমার একটি প্রশ্নের উত্তর দয়া করে জানাবেন কী? প্রশ্নটি হল কোন যুবক যুবতী নিজেদের কে দাম্পত্য জীবনে আবদ্ধ করতে চাইলে এতে উভয় পরিবারের মধ্যে বনাবনী না বলে উক্ত যুবক যুবতী আল্লাহ্ র কাছে সাহায্য চাওয়া কি জায়েজ?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যে কোন হালাল কাজে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া যায়। বিবাহের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সকলের উচিৎ অভিভাবকের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া। উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েরা আবেগের কারণে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে পারে যা ভবিষ্যৎ জীবনে তাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। পক্ষান্তরে বয়সে প্রবীণ ব্যক্তিরা দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে ভুল করেন। সুতরাং বিবাহে অভিভাবকের রাজী থাকা না থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাত্র-পাত্রীর পরিবারের মাঝে যদি বনাবনি না হয় তাহলে তো অশান্তি প্রথম থেকেই শুরু হলো। এমন সংসারে কি শান্তির আশা করা যায়? আশা করি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 1173
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ প্রিয় এডমিন ভাই। আশা করি পরম করুনাময় আল্লাহ সুবহানু তায়ালার রহমতে ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ্আ মিও ভাল আছি। ভাই, এর পুর্বে আমি আপনার কাছে জানতে চেয়েছিলাম শেয়ার বা স্টক বিজনেস করা যাবে কি যে কোম্পানি গুলা সরাসরি সুদের লেনদেন করে না। আপনার উত্তর হ্যা ছিলো। জাযাকাল্লাহ খইরান। ভাই, আজকে আমার যে প্রশ্ন তাহলো, আমি শেয়ার ব্যবসা করে থাকি টেকনিক্যাল ও ফান্ডামেন্টাল বেজের উপর।তারপর আমি যথেষ্ট সময় পরিশ্রম দিয়ে দিয়ে একটা শেয়ার আমাকে নির্বাচন করতে হয় শেয়ারটা থেকে আমি কি প্রফিট করতে পারব নাকি পারব না। আর আমাকে এ কাজটি মানে টেকনিক্যাল এনালাইসিস শিখতে দির্ঘ ৪/৫ বছর ও যথেষ্ট শ্রম লেগেছে।এখন আমার প্রশ্ন হলো কেউ আমাকে বলল ভাই আপনি আমাকে এখানে সাহায্য করবেন আমি এর বিনিময়ে একটা পারসেন্ট দিবো। মানে আমি তাকে ব্যবসা করিয়ে দিবো আর এর বিনিময়ে উনি আমাকে যেমন ১০% প্রফিট দিলো তার ১০০% প্রফিট থেকে। তা ও আবার উনার প্রফিট করার পর। এই শর্তে। আর লস হতে পারে সেটা আমি অন্য কোন শেয়ার দিয়ে পুষিয়ে দিবো এই শর্তে। তারপর ও এই ব্যবসায় লস করতে হবে এই মন-মানসিকতায় ইনভেস্টমেন্ট করতে হবে এটাও শর্ত থাকবে। যেহেতু আমরা টেকনিক্যাল এনালাইসিস করে শেয়ার buy sell করে থাকি সেহেতু সাধারণত তেমন লস গুনতে হয় না। এককথায় টোটালি পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে আমি কি কাউকে এভাবে শেয়ারে ইনভেস্টমেন্ট করিয়ে একটা পারসেন্টিস নিতে পারি? আসলে এটাই আমার প্রশ্ন স্যার। প্লিজ জানাবেন। আল্লাহ্সু বহানুতা য়ালা আপনাকে জাযাখায়ের দান করুন। আমিন।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এখানে বিষয়টি এমন দাড়াচ্ছে যে, আপনারা দুজন মিলে ব্যবসা করছেন। তবে আপনার কাজ একটা আর তার কাজ আরেকটা। এটা জায়েজ হবে বলেই মনে হচ্ছে। তবে আরো একটু পরিচ্ছন্ন এভাবে করা যায় যে, আপনি ব্যবসার অংশীদার না হয়ে তাকে কাজ করে দেয়ার বিনিময়ে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক নিবেন। যেমন, আমি এই কাজটি করে দেব আমাকে এত টকা দিতে হবে। বিষটি আরো বিস্তারিত জানতে এই না্ম্বারে ফোন করতে পারেন, 01818529415

প্রশ্নঃ 1172
রুকু থেকে মাথা তুলে সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ, রাববানা অলাকাল হামদ বার বার পড়া যায়? জাহাঙ্গীর স্যারের ওয়াজ অনুযায়ী তো বলা যায় Video Link : https://www.youtube.com/watch?v=ExgVEZ5Uh0Qfeature=youtu.bet=12m22s
04 Jan 2026

এ ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসগুলোতে বলা হয়েছে রাব্বানার লাকাল হামদ বলবে। সংখ্যা বলা হয়নি। এর থেকে সাধারণত এক বারই বুঝা যায়। তবে এটা ঠিক রাসূলুল্লাহ সা. এর সালাত অনেক সময় লম্বা হতো। তিনি অনেক বেশি দুআ পড়তেন। তবে স্বাভাবিকভাবে একবারই পড়তেন বলে হাদীসগুলো থেকে প্রতীয়মান হয়।

প্রশ্নঃ 1168
As-salamu Alaikum. I want to buy some books. Could you please let me know, what are the best option to pay by online or available methods?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনি এই নাম্বারে যোগাযোগ করলে বই ক্রয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন: 01734717299

প্রশ্নঃ 1170
Assalamualaikum. Informed from a facebook source that some successor and poor ashek of Rasulluah (swt) performed hijrot to Sindhu due to zulm in Arab. They got shelter from Hindu King Dahir. Then Muslim sultan performed zulm on Dahir and his family. My question is that whether zulm in Arab on them is authentic or did those people do anything wrong? Any references.
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। ইতিহাস থেকে জানা যায়, সিংহলের শাসক কর্তৃক হাজ্জাজের কাছে প্রেরিত উপঢৌকন জলদস্যুরা লুট করে মুসলিম বিধবা নারী ও শিশুবাহী আরব জাহাজ দেবল বন্দরে আটকে রাখে। এই খবর পেয়ে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আক্রান্ত জাহাজ, শিশু ও নরনারীদের মুক্তির জন্য সিন্ধুর রাজা দাহিরের কাছে চিঠি লিখেন। কিন্তু দাহির তাতে কোনো কর্ণপাত করেননি। এতে হাজ্জাজ ক্ষুব্ধ হয়ে মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে দাহিরের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এভাবেই সিন্ধুর শেষ হিন্দু রাজা দাহিরের পতনের মধ্য দিয়ে মুহাম্মদ বিন কাসিম সেখানে ইসলামের ঝাণ্ডা তুলে ধরেন। এটা হলো দাহিরের রাজ্যে বা দাহিরের উপর আক্রমনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। আপনি যেটা বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সা. কিছু মানুষকে সিন্ধুতে হিজরত করার অনুমতি দিলে তারা সেখানে গেলে দাহির তাদের আশ্রয় দেয়। আর পরবর্তীতে মুসলিম খলীফা এই কারণে তাকে শাস্থি দেয়। এটা সম্পূর্ণ যুক্তিবহির্ভূত এবং ইতিহাসের বিপরীত কথা। মুসলিম খলীফা মুসলিমদের আশ্রয় দেওয়ার কারণে কাওকে শাস্থি দিবে, এটা মানা যায় না। আর দাহিরের মত একজন অত্যাচারী লোক মুসলিমদের সাহায্য করবে, এটাও হতে পারে না। সুতরাং আপনি যে ঘটনা উল্লেখ করেছেন তা কোন বিচারেই সঠিক হতে পারে না।

প্রশ্নঃ 1166
আচ্ছালামু আলাইকুম। স্ত্রীর আব্বা-আম্মাকে মানে শ্বশুর-শ্বাশরীকে আব্বা এবং আম্মা নামে ডাকা কি জায়েজ?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আব্বা-আম্মা না বলে কী বলবেন? জায়েজ আছে আর এটাই উচিৎ। নয়তো সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হবে। কারণ তখন আপনার স্ত্রীও আপনার পিতা-মাতাকে আব্বা-আম্মা বলবে না।

প্রশ্নঃ 1165
মনে করুন একজন ২-৩ ঘন্টার জন্য মুখের ভিতর কোন রকম পানি ঢোকাতে পারবে না, কুলি করতে পারবে না। কিন্তু এই অবস্থায় তার নামাযের সময় হয়ে গেল। আর ২-৩ ঘন্টার মধ্যে নামাযের ওয়াক্তও চলে যাবে। এমতাবস্থায় কুলি করা ছাড়া বাকী সব কিছু করলে কি তার উযু হবে? অর্থাৎ কুলি ছাড়া উযু করে কি সে নামায আদায় করতে পারবে?
04 Jan 2026

হ্যাঁ, পারবে। ওজর থাকলে কুলি না করলেও কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 1164
আমি কিছু টাকা না বুঝে ইসলামী শাহাজালাল ব্যাংকে ডিপোজিট করে বিদেশে আসছি। আগামী বছর ইনশাল্লাহ দেশে যাব। আমি সুদ নিতে চাইনা। এখন সুদের টাকা কি করব? জানালে খুশি হব।
04 Jan 2026

সুদের টাকা আপনি সাওয়াবের নিয়ত ব্যতিত কোন গরীব-অসহায় ব্যক্তিকে দিয়ে দিবেন।

প্রশ্নঃ 1163
ইমাম সাহেব রুকুতে থাকা অবস্থায় জামাতে শরীক হলে রুকুর কতটুকু সময় ইমামের সাথে পেলে ওই রাকাত নামাজের রাকাতের হিসাবে গণ্য হবে?
04 Jan 2026

একমুহুর্ত পেলেই রাকআত পেয়েছে বলে গণ্য হবে।

প্রশ্নঃ 1161
মৃতের নাম এ কুরআন খানি, মিলাদ, চারদিনে খাওয়ানো, আর চল্লিশা বা চৌঠা এগুলি পালন করা কি ইসলামে জায়েজ? কোরআন-হাদিসের আলোকে জানতে চাই?
04 Jan 2026

এগুলো সবই জঘন্য বানোয়াট ও খেলাফে সুন্নাত কাজ। সাহবী, তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ী ও পূর্ববর্তী মুসলিমগণ কখনো মৃত্যু দিবস কিংবা জন্মদিবসে কিংবা মৃত্যু উপলক্ষ কোন অনুষ্ঠান আয়োজ করেননি, খাবার বিতরণ করেননি। এমন অনুষ্ঠানের খাবার গ্রহণ করার এবং খাবার বিতরণ করার অর্থই হলো এই সুন্নাত বিরোধী কাজকে সহায়তা করা সুতরাং এমন খানা খাওয়া আমাদের বর্জন করতে হবে। বিস্তারিত জানতে পড়ুন, প্রফেসার ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত এহইয়াউস সুনান বইটি।এগুলো সবই জঘন্য বানোয়াট ও খেলাফে সুন্নাত কাজ। সাহবী, তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ী ও পূর্ববর্তী মুসলিমগণ কখনো মৃত্যু দিবস কিংবা জন্মদিবসে কিংবা মৃত্যু উপলক্ষ কোন অনুষ্ঠান আয়োজ করেননি, খাবার বিতরণ করেননি। এমন অনুষ্ঠানের খাবার গ্রহণ করার এবং খাবার বিতরণ করার অর্থই হলো এই সুন্নাত বিরোধী কাজকে সহায়তা করা সুতরাং এমন খানা খাওয়া আমাদের বর্জন করতে হবে। বিস্তারিত জানতে পড়ুন, প্রফেসার ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত এহইয়াউস সুনান বইটি।

প্রশ্নঃ 1160
আস সালামু আলাইকুম। ১. আমি পূর্বে ইমামের পিছনে জামাতে সালাত আদায় করার সময় সিররী / যেহেরী কোন নামাজেই সুরা ফাতেহা পরতাম না। কিন্তু স্যার এর একটা আলোচনা শুনার পর থেকে জোহর এবং আসর এর সালাতের প্রতি রাকাতেই সুরা ফাতেহা পাঠ করি। এবং মাগরিব ও এশার সালাতের পরের ১ এবং ২ রাকাতে ফাতেহা পাঠ করি। অধিকাংশ সময় আমি সুরা ফাতেহা পুরো-পুরি পাঠ করতে পারি না, তার আগেই ইমাম সাহেব রুকুতে চলে যান, যার দরুন ওই অবস্থায় আমি ও রুকুতে চলে যাই। বিশেষ করে পরের ২ রাকাতে এটা হয়ে থাকে। আপনাদের কাছে প্রশ্ন হল উক্ত কারনে আমার নামাজের কোন ক্ষতি হচ্ছে কি না? ২. আমার ২য় প্রশ্ন হল আমি যতটুকু জানি কোরআন পাঠ আউজুবিল্লাহ দিয়ে শুরু করতে হয়। এখন প্রশ্ন হল, আমি জোহরের সালাতের ২য় রাকাতে এসে শরীক হলে সুরা ফাতেহা পাঠের আগে কি আউজুবিল্লাহ দিয়ে শুরু করব, নাকি বিস্মিল্লাহহির রাহমানির রাহিম বলে শুরু করলেই হবে? আশা করি উত্তর গুলো জানাবেন। জাজাকাল্লাহু খইর।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

১। আপনি শুধু জোহর ও আসরে পড়বেন অন্য সময় পড়বেন না।

আর একটা কথা বলি সমাজে প্রচলিত আমলটি যদি সুন্নাহসম্মত হয় তাহলে তা থেকে সরে না আসা উচিৎ, এতে অনেক জটিলতা সৃষ্টি হয়, যেমন আপনি পড়েছেন। স্যার বলেছেন, জোহর আসরে পড়তে আপনি অন্য সময়ও পড়া শুরু করেছেন। আপনি শেষ দুরাকাতে কিছু পড়বেন না।

২। এগুলো পড়া না পড়ার উপর নামায সহীহ হওয়া নির্ভর করে না। আপনি যে কোন একটা করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1159
আসসালামু আলাইকুম। আস সুন্নাহ ট্রাস্ট এইরকম প্রশ্ন উত্তর এর সুযোগ করে দেওয়ায় অনেক কিছু জানা সম্ভব হয়। আল্লাহ্ আপনাদের এই দাওয়াত কে কবুল করুন। জাযাকাল্লাহ ……আমি অধ্যাপক মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম। স্যার এর যেভাবে নামায পড়তেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বইটিতে একটা লেখা পড়েছি। বইটি পরিমার্জনে উপাধ্যক্ষ হাফেয মাহমুদুল হাসান আল মাদানী, ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী, ড. আবু বকর মুহাম্মদ যাকারিয়া মজুমদার, ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, মুহাদ্দিষ শাহ মুহাম্মাদ ওয়ালী উল্লাহ স্যার রাও রয়েছেন। **** কথাটি হলঃ- রাসুল (সাঃ) রাফলইয়াদাইন করতেন মর্মে ৩৩ টির মত সহিহ হাদিস রয়েছে। ইমাম বুখারি রাফলইয়াদাইন এর পক্ষে সহিহ ও দইফ মিলিয়ে মোট ১৯৮ টি হাদিস জমা করেছেন। অপরদিকে রাফলইয়াদাইন না করার পক্ষেও দলিল রয়েছে। সেটি সাহাবি ইবনে মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তবে এর সংখ্যা মাত্র ১ টি। আর দুর্বল হাদিস ও সহিহ আছার মিলিয়ে এর পক্ষে আরো ৪/৫ টা বর্ণনা পাওয়া যায়। সার-সংক্ষেপ হল, রাফলইয়াদাইনের পক্ষের হাদিস সংখ্যা অনেক বেশি, এগুলোর শুদ্ধতা ও সাউয়াবও অনেক বেশি। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন, হাদিস সহিহ হলে এটাই আমারি মাজহাব। অতএব হানাফি হলেও এমন একটা সুন্নাত আমলের মধ্যে মাজহাবের কোন সমস্যা নেই। রাফলইয়াদাইন এর মাসাআলাটি সর্বসম্মতক্রমে সুন্নাত। আর এ মাসাআলাটি নিয়ে পরস্পর বিভক্ত হয়ে যাওয়া গুনাহের কাজ। সুতরাং, এ ব্যাপারে কেউ যেন কারো উপর খড়গহস্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। (ভাই এই কথাটা কি সঠিক জানাবেন ইমাম ইবনুল কাইয়িম (র.) বলেছেন, রাসুল (সাঃ) আজীবন রাফলইয়াদাইন করেছেন (যাদুল মাআদ)। বিষয়টি নিয়ে একে অপরকে কটাক্ষ না করি। বিশেষ করে আমরা যারা দীর্ঘদিন যাবত রাফলইয়াদাইনে অভ্যস্ত নই তারাও মনে দ্বিধা-সংকোচ না রেখে রাসুল (সাঃ) এর সুন্নাত অনুসরণকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেই । বর্তমানে এইসব অনেক আলেমগন রাফলইয়াদাইন এর ব্যাপারে প্রচুর গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই সম্পর্কে ডঃ খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার কি বলেছেন? এখন সকল আলেম, হাদিস, স্থান ও ওপরের সব কিছু বিবেচনা করে স্যার একজন মুসলিমকে কি করতে বলেছেন? সব সময় সব জাইগাতেই কি রাফলইয়াদাইন করবে? **** নূরুল ইসলাম স্যার এর বইটিতে বিতর সম্পর্কে এইও বলেছেন যে, রুকুর আগে, দুয়া কুনুত পড়ার শুরুতে তাকবিরে তাহরিমার মত পুনরায় দু হাত উঠানো অর্থাৎ রাফলইয়াদাইন করা এবং সে সময় আল্লহু আকবার বলে তাকবির দেউয়ার পক্ষে কোন সহিহ হাদিস খুজে পাউয়া যায় না। কাজেই এইটা করা অনুচিত। ভাই আপনাদের উত্তরের অপেক্ষায় রলাম….. ভালো ভালো আলেমরা বলে সঠিক আবার ভালো ভালো আলেমরাই বলে বেঠিক। ভাই শয়তানের বিরাট ওয়াস ওয়াসায় আছি। আল্লাহ এ থেকে আপনাদের ও আমাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমিন। আসসালামু আলাইকুম।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, এটা একটি পুরানো বিতর্ক, এই বিষয়ে আমরা আর জল ঘোলা করতে চাই না। আপনি যাই করুন হাদীস অনুযায়ী হলে আপনার সালাত সুন্নাহ অনুযায়ী হবে। স্যার রহ.এই আলোচনা দুটি দেখলে আপনার কাছে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে। আমি ইউটিউবের ঠিকানা দিয়ে দিলাম। https://www.youtube.com/@SunnahTrust/

প্রশ্নঃ 1157
মুহতারাতামঃ আসসালামু আলাইকুম। ইদানিং facebook এ একটি post এ একটি হাদিস দেখতে পেলাম যাতে লিখা আছে যে ব্যক্তি রাতে ডান কাতে শুয়ে একশতবার সুরা এখলাস পাঠ করবে কেয়ামতের দিন তার পারওয়ারদিগার তাকে ডেকে বলবেন হে বান্দা তুমি ডান দিক দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ কর (হাদিসে কুদসি)। এই হাদিসটি কি সহিহ?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দীসটির মূল পাঠ হলো: 2898 – حدثنا محمد بن مرزوق البصري حدثنا حاتم بن ميمون أبو سهل عن ثابت البناني عن أنس بن مالك : عن النبي صلى الله عليه و سلم قال من قرأ كل يوم مائتي مرة قل هو الله أحد محي عنه ذنوب خمسين سنة إلا أن يكون عليه دين وبهذا الإسناد عن النبي صلى الله عليه و سلم قال من أراد أن ينام على فراشه فنام على يمينه ثم قرأ قل هو الله أحد مائة مرة إذا كان يوم القيامة يقول له الرب يا عبدي أدخل على يمينك الجنة قال أبو عيسى هذا حديث غريب من حديث ثابت عن أنس وقد روي هذا الحديث من غير هذا الوجه أيضا عن ثابت قال الشيخ الألباني : ضعيف হাদীসটি যয়ীফ বা দূর্বল। ইমাম তিরমিযী এদিকে ইশারা করেছেন। এবং শায়খ আলবানী রহ. দূর্বল বলেছেন। আরো দেখুন, ফাতাওয়া জান্নাত দায়েমাা, ফাতাওয়া নং ২১৬৮৩।

প্রশ্নঃ 1156
নামযের সহল তাসবীহ সমূহের বাংলা অর্থ কি দয়া করে দিতে পারবেন?
04 Jan 2026

রুকর তাসবীহর অর্থ আমার মহান প্রতপালকের পবিত্রতা ঘোষনা করছি। সাজদার তাসবীহর অর্থ আমার সুমহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষনা করিছ। বাদবাকীগুলো নির্দিষ্টভাবে জিজ্ঞাসা করুন।

প্রশ্নঃ 1155
Assalamualaiqum. Muhtaram. Ami khubi bektigoto ekti somosya niye aj prosno korchi. Somosyati etotatai tibro akar dharon korechay jay ersomadhan ashu proyojon. Somosyati nimnorup: Ami biye korechi aj prai 12 bochorer uporay. Kintu ekhono ami amar strir proti etotibro sharirik akorshon onuvob kori jay prai proti ratei amar strir sarhay amar ontorongo hotay hoi. Opordikay amar stri tar thik ultu. O khub olos prokrihir o ghum katuray. Tai amar sathay sharirik melameshai o prai onagrohi thakay ebong majhay majhay khubi birokto hoi. Shei ratgulutay amar khubi osthirota o chotfotanitay nirghum onosthai katay. Ami ekti private firm e chakri kori bidhai etay amar khubi oshubidha hocchay. Amar dhorjo barar jonyo ami Allahar kachay prie doa kori. Eniye amar strir satheo onekbar kotha hoechay. O bolay or diabetes achay bolay or erokom hoi. Kintu ami jani eta or oloshota thekay. Kenona sharirik somporko korlay voray uthay gusol kora, onekhhon jegay thaka ur kachay jhamela monay hoi. Emonki ami Officay jaor somoyo okay ami jagroto paina- ghumiye thakay. Eobosthai ami ki kortay pari?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনারা দুজনই কোন যৌনরোগ ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখান। আপনি যেটা করছেন সেটাও স্বাভাবিক নয়। আবার সে যেটাকে ঝামিলা মনে করছে সেটাও তার জন্য উচিৎ নয়। আর আল্লাহর কাছে বেশী বেশী সাহায্য চান। আমরা আপনাদের জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাদের এই সমস্যা দূর করে দেন।

প্রশ্নঃ 1154
পুরুষ ও মহিলাদের নামাযে পার্থক্য কি কি?
04 Jan 2026

প্রশ্নে উল্লেখিত হাদীসে পুরুষ ও মহিলার নামাযের মাঝে পার্থক্য না করা হলেও অন্যান্য অনেক হাদীসে, ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ী গণের কথার আলোকে জানতে পারি যে, কিছু কিছু বিষয়ে পুরুষ এবং মহিলার নাামাযের মাঝে পার্থক্য রয়েছে । নিম্নে কয়েকটি দলীল উল্লেখ করা হল। হাদীসের আলোকেঃ أخبرناه أبو بكر محمد بن محمد أنبأ أبو الحسين الفسوي ثنا أبو علي اللؤلؤي ثنا أبو داود ثنا سليمان بن داود أنبأ بن وهب أنبأ حيوة بن شريح عن سالم بن غيلان عن يزيد بن أبي حبيب : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم مر على امرأتين تصليان فقال إذا سجدتما فضما بعض اللحم إلى الأرض فإن المرأة ليست في ذلك كالرجل অর্থঃ (ইমাম বায়হাকী রহঃ ) আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মাদ এর সুত্রে তাবেয়ী য়াযীদ ইবনে আবী হাবীব এর থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নামাযরত দুই মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন । তখন তাদেরকে (সংশোধনের উদ্দেশে) বললেন, যখন সেজদা করবে তখন শরীর যমীনের সাথে মিলিয়ে দিবে । কেননা মহিলারা এ ক্ষেত্রে পুরুষের মত নয়। (সুনানে কুবরা ২ খন্ড, ২২৩ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ৩০১৬। ) প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ আওনুল বারী (১/৫২০) তে লিখেছেন উল্লেখিত হাদীসটি সকল ইমামের উসূল অনুযায়ী দলীল হিসাবে পেশ করার যোগ্য । حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن عَبْدِ اللَّهِ الْحَضْرَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَتْنِي مَيْمُونَةُ بنتُ حُجْرِ بن عَبْدِ الْجَبَّارِ بن وَائِلِ بن حُجْرٍ، قَالَتْ: سَمِعْتُ عَمَّتِي أُمَّ يَحْيَى بنتَ عَبْدِ الْجَبَّارِ بن وَائِلِ بن حُجْرٍ، عَنْ أَبِيهَا عَبْدِ الْجَبَّارِ، عَنْ عَلْقَمَةَ عَمِّهَا، عَنْ وَائِلِ بن حُجْرٍ، قَالَ: جِئْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: فساق الحديث . وفيه : يا وائل بن حجر: إِذَا صَلَّيْتَ فَاجْعَلْ يَدَيْكَ حِذَاءَ أُذُنَيْكَ، وَالْمَرْأَةُ تَجْعَلُ يَدَيْهَا حِذَاءَ ثَدْيَيْهَا. অর্থঃ হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ) বলেন আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর দরবারে হাজির হলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন হে ওয়াইল ইবনে হাজ্র ! যখন তুমি নামাজ শুরু করবে তখন কান বরাবর হাত উঠাবে । আর মহিলারা হাত উঠাবে বুক বরাবর । (আল মুজামুল কাবীর, তাবারানী ২২/২৭২, হাদীসটি হাসান। ) সাহাবায়ে কেরামের আছারের আলোকে عن أبي إسحاق عن الحارث عن علي قال : إذا سجدت المرأة فلتحتفز ولتلصق فخذها ببطنها অর্থঃ হযরত আলী রাঃ বলেন মহিলা যখন সেজদা করবে তখন সে যেন খুব জড়সড় হয়ে সেজদা এবং উভয় উরু পেটের সাথে মিলিয়ে রাখে । মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক ৩/১৩৮ অনুচ্ছেদ মহিলার তাকবীর, কিয়াম, রুকু ও সিজদা । মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ২/৩০৮ তাবেয়ীগণের কথার আলোকেঃ قال هشيم : أخبرنا شيخ لنا قال :قال سمعت عطاء سئل عن المرأة كيف ترفع يديها في الصلاة ؟قال حذو ثديها অর্থঃ হযরত আতা ইবনে আবি রাবাহ এর কাছে জানতে চাওয়া হল নামাযে মহিলা কতটুকু হাত উঠাবে? তিনি বললেন বুক বরাবর । মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১/২৭০। মোটকথা, রাসূল সাঃ এর হাদীস, ছাহাবায়ে কেরামের কথা ও তাবেয়ীগণের ফাতাওয়ার আলোকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বুঝা যায়, মহিলাদের নামাজ কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুরুষের নামায থেকে ভিন্ন। আর এই ভিন্নতার ভিত্তি হল মহিলাদের সতর ও পর্দার অধিক সংরক্ষণের বিবেচনা ।

প্রশ্নঃ 1152
আচ্ছালামু আলাইকুম,অনেক সময় বাসে দূর যাত্রায় নামাযের সময় বিরিতি না দিলে বাসের মধ্যেই সীটে বসে ইশারায় নামায আদায় করে ফেলি! এতে কি কোন সমস্যা আছে নাকি?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দূরের যাত্রার সময় বাস মাঝে বিরতি দেয়। চেষ্টা করবেন তখন নামায পড়ার জন্য। এছড়া যুহরের সালাতে শেষ ওয়াক্তে বা প্রথম ওয়াক্তে পড়তে পারেন। মাগরিবও শেষ ওয়াক্তে ইশার আগে পড়তে পারেন। কোন ভাবেই যদি বাসের ভিতরে ছাড়া নামায আদায় সম্ভব না হয়। তাহলে যতটা সম্ভবি ক্বিবলামুখি হয়ে সাজদা দিয়ে নামায আদায়ের চেষ্টা করবেন। ইশারা ছাড়া অন্য কোন উপায় যদি না থাকে তাহলে ইশারায় করতে পারবেন। তবে এমন মনে হয় হয় না।

প্রশ্নঃ 1150
Assalamualaiqum. Mohtaram. Ekjon sadharon musolmaner jonyo jekono ekti majhaber sob masala mana wajib ba sunnat ba mustahab hoyar beparay ki kono izma hoyechay? (Mohtaram, majhab na namanar bishoye kono prosno korchina, prosno korchi jekono ek majhab thekei ekjon sadharon musolmaner sokol masala neyar beparay badhyobadhokota kototuku? Orthath, Safi majhaber kono sadharon Musolman, jodi besh koekti masalar beparay Hanafi majhaber onusoron koray, taholy ki shay wajib othoba sunnat othoba mustahab torok korlo? Mohtaram, bisrinkhola thekay sadharon musolmankay mukto korar jonyo onekay jukti diye thaken jay ekjon sadharon musolmaner jekono ekti majhaber sokol masalai takay grohon korthay hobay, echara ar kono jukti, dolil ba bekkha thaklay janaben. Mohtaram, apni hoitoba bolben, kono ek majhab onusoronkari kono sadharon musolman jesob masalai durbolota achay segulu alemder sohih dolil vittitik bisleshoner bibechonai palon korbay kintu seti jodi onyo majhaber sathay milay jai taholay kintu tar dui majhab onusoron kora kora holo).
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, সত্য কথা বলতে কি প্রতিটি সাধারণ মুসলিমই মাজাহাব মানে। মাজহাব অর্থ হলো নিজে না জানার কারণে কারো থেকে জেনে মেনে চলা। এবার আসি আপনার মূল প্রশ্নে, মানুষের জন্য মূল দায়িত্ব হলো কুরআন-হাদীস মানা। আর কুরআন-হাদীস মানার জন্য মাজহাব একটি নিরাপদ মাধ্যম। কোন মাসআলাতে কোন মাজহাবের দলীল দুর্বল হলে অভিজ্ঞ কোন আলেমের পরামর্শে আপনি সঠিক মতটি গ্রহন করতে পারেন। এতে আপনার মাজহাব মানাতে কোন সমস্যা হবে ন। এমনকি ওটা যদি অন্য কোন মাজহাবের সাথে মিলে যায় তবুও সমস্যা নেই। প্রতিটি মাজহাবে এমন কিছু মাসআলা আছে যেগুলো সেই মাজহাবের আলেমগণ আমল করেন না বরং অন্য মাজহাবের মতামত গ্রহন করেন। যদি কিছু মাসআলতে অন্য মাজহাব মানলে মাজহব পরিবর্তন হয়ে যায় তাহলে বলতে হবে তারা মাজহাব পরিবর্তন করেছেন, আসলে তো বিষয় এ রকম নয়। এছাড়া আমাদের ইমামগণের মধ্যেই তো অনেক মাসআলায় মতভেদ আছে। তবে মাজহাবের বাইরে কোন কিছু করতে গেলে অবশ্যই বিজ্ঞ কোন আলেমের পরামর্শ নিতে হবে।

প্রশ্নঃ 1149
Sir, Assalamu alaikum, Ami apnader web site (assunnahtrust) theke kono boi PDF file download korte partecina, Ami a bepare apnader kass theke help chasci,
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালমা। আপনি এই নাম্বারে যোগাযোগ করুন: 01730 74 70 01, 01791 66 66 63, 01791 66 66 6৪, 01791 66 66 65

প্রশ্নঃ 1148
আসসালামু আলাইকুম, আমার আজকের প্রশ্ন রাজনৈতিক দলে যোগ দেয়া নিয়ে, কোথাকার কোন পরিবেশ জানিনা, দয়া করে পরিবেশ বিন্নটা অনুযায়ী মাসায়েল আলাদা হইলে তাও উল্লেখ করবেন – কারণ এটাও প্রশ্নের ২য় পার্ট;প্রশ্ন ১নিচের ৩ হাদিস সব ইসলামি দলেই ব্যাবহার করছে বাংলাদেশে, ও তারা দলের দিকে ডাকছে- দাওয়াত বলতে তারা দলে যাওয়া বুঝাচ্ছে, তারা বলছে দলে না ঢুকলে নামাজ পড়া না পড়া স্বাধীনতায় থাকে কিন্তু দলে ঢুকলে সে নামাজ কাজা করেনা- তাহলে প্রশ্ন হলও – এই ৩ হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা কি বা এই হাদিস থেকে আমরা সঠিক কি কি আমল করতে পারি সুন্নাত অনুযায়ী? * হাদিস গুলো নিম্নরূপঃ হযরত আবু দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এরশাদ করেছেন কোন জঙ্গল কিংবা জনপদে তিনজন লোকও যদি বসবাস করে এবং সেখানে তারা যদি (জামাতবদ্ধভাবে) নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা না করে তবে তাদের উপর শয়তান অবশ্যই আধিপত্য বিস্তার করবে। অতএব জামায়াতবদ্ধ হয়ে থাকা তোমাদের অবশ্য কর্তব্য। কেননা পাল থেকে বিচ্ছিন্ন ছাগলকে নেকড়ে বাঘ সহজেই খেয়ে ফেলে। কেউ যদি মনে করে, জামাতবদ্ধ বা সংগঠিত হয়ে থাকার প্রয়োজন নেই- তাহলে তার জন্য উপরোক্ত দৃষ্টান্তই যথেষ্ট। সুতরাং শয়তানের আক্রমণ থেকে নিজের ঈমান ও আমলকে হেফাজত করতে হলে সংঘবদ্ধ জীবন যাপন করতে হবে। নতুবাঃযে ব্যক্তি সংগঠন থেকে এক বিঘত পরিমাণ বাইরে চলে গেল, সে ইসলামের রজ্জুকে তার গলদেশ থেকে খুলে ফেললো, যতক্ষণ না সে পুনরায় এসে যোগ দেবে। দল ছারা ইমাম নেই, ইমাম ছারা ইসলাম নাই, আনুগত্য ছারা দল নেই এরকম একটি হাদিস (হযরত হারেসুল আশআরী থেকে বর্ণিত, মুসনাদে আহমদ,তিরমিজী। ) তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকতেই হবে যারা মানবজাতিকে কল্যাণের পথে ডাকবে। সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অন্যায় ও অসৎ কাজে বাধা প্রদান করবে। আর এরাই হবে সফলকাম। সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন ২ঃ অনেকে কিসব পরিবেশ পরিস্তিতি এর দোহাই দেয়, কেউ বলে ডান হাত না হয় বাম হাত দিয়ে খেতে হবে। দয়া করে এই বিষয়ে আর্টিকেল লিখে প্রকাশ করুন অথবা থাকলে উত্তরের সাথে বইয়ের নাম টিও রেফার করে দিলে কৃতজ্ঞ থাকবো।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কুরআন-হাদীসে মুসলিমদের ঐক্যের কথা বলা হয়েছে। দলে দলে ভাগ হতে হবে বলা হয় নি। বরং দলাদলি করতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে আধুনিক রাজনীতি দীনী দাওয়াতের একটি অংশ। এই দাওয়াত অংশ নেয়া অবশ্যই ভাল কাজ। তবে অন্য দল যারা মানুষকে ইসলামের দিকে আহ্ববান করছে তাদেরকে ঘৃনা করা খারাপ কাজ। নিজেদেরকে একে অপরের পরিপূরক মনে করতে হবে। বিস্তারিত জানতে পড়ুন, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. এর লেখা কুরআন সুন্নাহর আলোকে জামায়াত ও এক্য এবং তার বই ইসলামের নামে জঙ্গিবাদএহইয়াউস সুনান

প্রশ্নঃ 1132
Assalamualaikum Baba vi ar onumoti sara ki kono meye biye korte pare. Se jodi prapto boyoska hoi.
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। পিতা-মাতা তথা অভিভাবক (আরবীতে ওলি) ছাড়া মেয়েদের বিবাহের বিষয়ে স্যার রহ. বেঁচে থাককালীন একটি প্রশ্নের উত্তর তাঁর তত্বাবধানে দেয়া হয়েছিল। যা ছিল আমাদের দেয়া 51 নং প্রশ্নের উত্তর। সেটা এখানে দিয়ে দিলাম।

ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের বিধান। বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামী শরীয়তে এব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাসূল সা. এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। পারিবারিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অধিকাংশ ইমাম ও ফকীহগণের নিকট ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ নেই। তবে ইমাম আবু হানীফা রহ. সহ কতিপয় ফকীহ বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে জায়েজ বলেছেন। প্রখ্যাত মালেকী ফকীহ আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে রুশদ আন্দালুসী র. বলেন,

اختلف العلماء هل الولاية شرط من شروط صحة النكاح أم ليست بشرط؟ فذهب مالك إلى أنه لا يكون النكاح إلا بولي وأنها شرط في الصحة في رواية أشهب عنه وبه قال الشافعي وقال أبو حنيفة وزفر والشعبي والزهري: إذا عقدت المرأة نكاحها بغير ولي وكان كفؤا جاز وفرق داود بين البكر والثيب فقال باشتراط الولي في البكر وعدم اشتراطه في الثيب

অর্থ: বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী শর্ত কি শর্ত নয় এই বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম মালেক র. মত পোষন করেছেন যে, ওলী ছাড়া বিবাহ হবে না। বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য (ওলী) শর্ত। এমন মতই পোষন করেছেন ইমাম শাফেয়ী রা.। ইমাম আবু হানীফা, জুফার, শাবী ও জুহরী র. বলেছেন, যদি মহিলা ওলী ছাড়া বিবাহ করবে আর স্বামী যদি তার কুফু(সর্বদিক দিয়ে যোগ্য)হয় তাহলে জায়েজ হবে। বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ২/৮(শামেলা)।

এই সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন, আলমাবসুত লিস-সারখসী, ৬/৫৩; আলমাউসায়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৭/৯৪ও ৩১/৩২১; আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবা ৪/৪৫। কিতাবুল উম্ম লিশ-শাফেয়ী,৭/১৫৬। যে ইমামগন ওলী ছাড়া বিবাহ বাতিল বলেছেন তাদের দলীল: আবু মুসা আশয়ারী রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, অর্থাৎ ওলী ছাড়া বিবাহ নয়। لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِىٍّ আবু দাউদ, হাদীস নং ২০৮৭; তিরমিযী, হাদীস নং ১১০১;মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৯৭৬১। হাদীসটি সহীহ।

শায়খ আরনাউত এবং আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত অন্য হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন,

أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ অর্থাৎযে মহিলা ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করবে তার বিবাহ বাতিল। তিনি ৩ বার তা বলেছেন। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১১০২; মুসনাদে আহমাদ,হাদীস নং ২৫৩৬৫। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন আর শায়খ শুয়াইব আরনাউত সহীহ বলেছেন। উপরক্ত হাদীস সমূহের ভিত্তিতে ইমাম মালেক, শাফেয়ী, আহমাদ র. সহ অধিকাংশ আলেম ওলী ছাড়া বিবাহকে বাতিল বলেছেন।

যে সব ইমাম ও ফকীহ ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ বলেছেন তাদের দলীল: তাবেঈদের মধ্যে ইমার জুহরী ও শাবী এরপরে ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ, মুহাম্মাদ, জুফার সহ কিছু সংখক মুজতাহিদ কিছু শর্ত সাপেক্ষে ওলী ছাড়া বিবাহ কে জায়েজ বলেছেন। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১.কুফু হতে হবে। ২.মেয়েটি বালেগা, বুঝমান হতে হবে। আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবায়া,৪/৪৫; আলমাবসুত লিস-সারাখসী,৬/৬১ ও ৫/১৬। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

فلا جناح عليكم فيما فعلن في أنفسهن بالمعروف

অর্থাৎ মহিলারা নিজেদের ব্যাপারে সৎ ভাবে যা করবে (বিয়ের ক্ষেত্রে) সে বিষয়ে তোমাদের কোন দোষ নেই। সূরা বাকারাহ-২৩৪ অন্য এক আয়াতে তালাক সম্পর্কে আলোচনার এক পর্যায়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, تنكح زوجا غيره. حتى অথাৎ যতক্ষন না তারা অন্য স্বামীকে বিবাহ না করে। সূরা বাকারাহ-২৩০।

অন্য প্রসংগে আল্লাহর বাণী, فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ অর্থাৎ তোমরা তাদেরকে তাদের স্বামীদের কে বিবাহ করা থেকে বাধা দিবে না। সূরা বাকারাহ-২৩২ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا অর্থাৎ মেয়েরা ওলীদের চেয়ে নিজের ব্যাপারে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৪২১। الأيم অর্থ স্বামীহীন মহিলা, পূর্বে স্বামী থাকুক বা না থাকুক। আলমজামুল ওয়াসীত।

বর্তমান সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৌদী আলেম শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আলমুনজিদ ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের ক্ষেত্রে বলেছেন, المسألة اجتهادية ، واختلف فيها الأئمة ، فإنه إذا كان أهل بلد يعتمدون المذهب الحنفي كبلادكم وبلاد الهند وباكستان وغيرها ، فيصححون النكاح بلا ولي ، ويتناكحون على هذا، فإنهم يقرّون على أنكحتهم ، ولا يطالبون بفسخها অর্থাৎ এটি একটি ইজতিহাদি মাসআলা, ইমামগণ এক্ষেত্রে ইখতিলাফ করেছেন।

সুতরাং যে সব দেশের মানুষেরা হানাফী মাজহাবের উপর নির্ভর করে, ওলী ছাড়া বিবাহকে বৈধ মনে করে এবং এভাবে তাদের বিয়ে হয় যেমন, ভারত, পাকিস্থান ইত্যদি, তাহলে তাদের বিবাহের স্মীকৃতি দেয়া হবে । বাতিল করতে বলা হবে না। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, শরীয়তে বিবাহে মেয়েদের জন্য ওলী থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সাধারণভাবে যৌবনের শুরুতে যুবক-যুবতী সহজেই বয়সের উন্মাদনায় বিভ্রান্ত হয় এবং নিজের চোখের ভাল লাগার উপর নির্ভর করেই সঙ্গী পছন্দ করে। বিবাহের ক্ষেত্রে চোখের পছন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবন ও আগত প্রজন্মের কল্যাণের কথাও চিন্তা করতে হবে। এজন্য ইসলামে বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর মতমতের সাথে অভিভাবকের মতামতেরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

সুতরাং মেয়েদের জন্য আবশ্যক হলো ওলীর অনুমতি নিয়ে বিবাহ করা। আর আমাদের উচিৎ বিবাহের সময় মানুষদের কে ওলীর অনুমতির বিষয়ে উৎসাহিত করা,ওলী ছাড়া বিয়ে করতে নিষেধ করা এবং ওলী থাকার কল্যান বর্ণনা করা। যারা ইতিমধ্যে ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করেছে তাদের বিষয়ে কথা হলো যেহেতু তারা একটি ফিকহী মত গ্রহন করেছেন আর বিষয়টি ইজতিহাদী এবং ইখতিলাফী তাই তাদেরকে নতুন করে বিবাহ করতে হবে না। তবে এই ঘৃনিত কাজের জন্য তাদের লজ্জিত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1145
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া শরিয়ত এর বিধান আছে কি, থাকলে কার কাছ থেকে জানা উচিত?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। স্বপ্ন সম্পর্কে গবেষনা না করাই উচিত। ব্যাখ্যা চাওয়ারও দরকার নেই। ভাল স্বপ্ন দেখলে ভাল আর খারপা স্বপ্ন শয়তানে পক্ষ থেকে আসে এমন বিশ্বাস থাকতে হবে। আমরা এখানে স্বপ্নের ব্যাখা দেই না। স্বপ্ন সম্পর্কে আরো জানতে আমাদের দেয়া 88 নম্বর প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 1158
আসসালামুয়ালাইকুম। আমি একজন ভার্সিটি পড়ুয়া ছাত্র। আমি জান্তে চাই যে তবলীগ জামাতের কিতাবাদিতে কোন শিরক বিদাত আছে কিনা? আর আমাদের কাছে কোরান ও সহিহ হাদিসের গ্রন্থ এবং রিয়াদুস সালিহিনের মত কিতাব থাকা সত্তেও সুধু তাদের আলেমদের লেখা বই পড়া তাদের জন্ন কততা সঠিক। যখন কিনা এগুলতে অনেক কিচ্ছা কাহিনি আছে। দয়া করে জানাবেন।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সহীহ গ্রন্থের তালিম দেয়ায় উচিৎ। এরচেয়ে বেশী কিছু বলার নেই।

প্রশ্নঃ 1153
হুজুরের সারাজীবনের লেকচারগুলো একটা বই আকারে বের করবেন বলেছিলেন মনেহয়। ওটা কি করা হচ্ছে?
04 Jan 2026

দুআ করেন। এখনো কাজ শুরু করা যায় নি। ইনশাআল্লাহ হবে।

প্রশ্নঃ 1151
চিংড়ি খাওয়া কি হালাল?
04 Jan 2026

চিংড়ি খাওয়া কি হালাল?

প্রশ্নঃ 1147
computer এ গেম খেলা যাবে কি?
04 Jan 2026

সমস্যা নেই। তবে জরুরী কাজ বাদ দিয়ে এসব করা অর্থহীন।

প্রশ্নঃ 1146
ফাতাওয়া বিভাগঃ জামি আ রহমানিয়া আরাবিয়া, সাতমসজিদ, মুহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭ ইনারা লিখছেন … কোন প্রাণির ভিডিও করা, সংরক্ষণ করা এবং দেখা সবই নাজায়েজ ও গুনাহের কাজ । শরয়ী প্রয়োজোন ছাড়া ইসলামি আলোচনা, মাহফিল ইত্যাদির ভিডিও করা সংরক্ষণ করা, দেখা সবই নাজায়েজ চাই তা যত বড় দীনী কাজই হোক না কেন। দয়া করে বুঝিয়ে বলবেন ।
04 Jan 2026

আমরা মনে করি ইসলামী আলোচনা বা মাহফিলের ভিডিওতে কোন সমস্যা নেই। ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সাহেব একাধিক আলোচনায় বলেছেন, ভিডিও চিত্র যদি ভাল বিষয়ে হয় তাহলে সেটা জায়েজ বলেই তিনি মনে করেন। অন্যান্য অনেক নির্ভরযোগ্য আলেমও এই মত পোষন করেন। আর যেহেতু এগুলো তারা লিখেছে সুতরাং ব্যাখ্যা তাদের কাছেই চাওয়া উচিৎ।

প্রশ্নঃ 1144
আসসালামুয়ালাইকুম, মা/বাবার কবর এর পাশে সন্তান ৪১ দিন সূরা ইয়াসিন তেলোয়াত করলে কবরের আজাব মাফ হয় এটা কি সত্য? যদি সত্য হয় তাহলে কবর এর পাশেই কি পড়তে হবে নাকি ঘরে বসে পড়লেও হবে? আর মেয়েরা যদি এই আমল করতে চায় কিভাবে করবে, ৪১ দিন একটানা করা তো মেয়েদের পক্ষে সম্ভব না।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ৪১বার সূরা ফাতিহা পড়লে মা-বাবা কবরের আযাব মাফ হয় বলে কোন সহীহ কিংবা যয়ীফ হাদীস বর্ণিত হয় নি। এটা একটি জাল-বানোয়াট কথা। তবে কুরআন পাঠসহ আপনার অন্যান্য যে কোন নেক আমলের সওয়াবের একটি অংশ পিতা-মাতা পাবে বলে সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে।

প্রশ্নঃ 1143
আস-সালামু আ লাইকুম ক্ষমা করবেন আমি একসাথে ৩ টা প্রশ্ন করছি ১. স্বামী কে দ্বীন এর পথে আনার জন্যে বিশেষ কোনো আমল এবং দুআ আছে কি? দয়া করে জানালে উপকৃত হবো ইন-শাহ -আল্লাহ। ২. স্বামীর ভাই/বোন এর ছেলের সামনে কেমন পর্দা করা উচিত? ৩. স্বামীর নাম ধরে ডাকার ব্যাপারে ইসলাম কি বলে? আমি কোথায় যেন পড়েছিলাম নাম ধরে ডাকা বেয়াদবি এটা কি সত্য? আমি এটাই মেনে চলি কিন্তু অনেকে বলে এমন কিছু বলা নেই।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। স্বামীকে দ্বীনের পথে আনার বিশেষ কোন আমল আছে বলে আমার জানা নেই। তবে আপনি আপনার দু:খ কষ্টের কথা আল্লাহকে বলে মন থেকে দুআ করতে থাকুন। আমরা দুআ করি আল্লাহ আপনার এই সমস্যা দূর করেন। ২। তাদের সামনে শরয়ী পর্দা করতে হবে। মাহরাম ছাড়া সকলের পর্দার একই হুকুম। ৩। স্বামীর নাম ধরে ডাকা ইসলামী বিধান অনুযায়ী সমস্যা নয়। তবে সমাজ যদি এটাকে খারাপ মনে করে তাহলে বিরত থাকাই উচিৎ।

প্রশ্নঃ 1142
আস সালামু আলা্ইকুম! ইসলামে সন্তান দত্তক নেয়া যায়েজ কী? দয়া করে আল কোরআন বা হাদীসের আলোকে জানাবেন।
04 Jan 2026

আসসালামু আলাইকুম। সন্তান পালক নেয়ার বা দত্তক নেয়ার কোনো শরয়ী বিধান ইসলামে নেই। অর্থাৎ কেউ কোনো শিশুকে দত্তক নিলে ইসলাম তাকে তার সন্তান হিসেবে গণ্য করে না। বরং সন্তান সবসময় তার আসল পিতার দিকেই সম্পৃক্ত হবে। কোনো গরীব শিশুকে সাহায্য করণার্থে তাকে ভরণপোষণ করা একটি সৎ কাজ, নি:সন্দেহে। তবে এতে সত্যিকার অর্থেই সে তার বাবা হয়ে যায় না। দত্তক নেয়া শিশুটি তার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে না। এবং পর্দার ক্ষেত্রেও তা কোনো প্রভাব ফেলবে না। অর্থাৎ শিশুটি ছেলে হলে বড় হয়ে তাকে দত্তক নেয়া মায়ের সাথে পর্দা করতে হবে। আবার মেয়ে হলে তাকে দত্তক নেয়া পিতার সাথে পর্দা করতে হবে এবং সে তাকে দত্তক নেয়া পিতার ছেলের সাথে বিবাহও করতে পারবে। কারণ শরীয়তে এ সম্পর্ক কখনোই বংশীয় সম্পর্কে পরিণত হয় না। তৎকালীন আরব সমাজে পালকপুত্রকে নিজের পুত্র মনে করা হতো্।এই বিশ্বাসকে বাতিল গণ্য করে আল্লাহ তায়ালা বলেন, وَمَا جَعَلَ أَدْعِيَاءَكُمْ أَبْنَاءَكُمْ ذَٰلِكُمْ قَوْلُكُم بِأَفْوَاهِكُمْ وَاللَّهُ يَقُولُ الْحَقَّ وَهُوَ يَهْدِي السَّبِيلَ এবং তোমাদের পোষ্যপুত্রদেরকে তোমাদের পুত্র করেননি। এগুলো তোমাদের মুখের কথা মাত্র। আল্লাহ ন্যায় কথা বলেন এবং পথ প্রদর্শন করেন। (৩৩:৪) হ্যাঁ, কেউ চাইলে সে তার জীবদ্দশায় তার পালক সন্তানের জন্য অসীয়ত করে যেতে পারে, এটা বরং উত্তম। এতে তার মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি তার পালক সন্তান পাবে। তবে সে সম্পদের ওয়ারিস হবে না। এই বিষয়ে আল্লাহ বলেন, وَأُوْلُو الأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَى بِبَعْضٍ فِي كِتَابِ اللَّهِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُهَاجِرِينَ إِلاَّ أَن تَفْعَلُوا إِلَى أَوْلِيَائِكُم مَّعْرُوفًا অর্থ: আল্লাহর কিতাব অণুসারে আনসার ও মুহাজিরগণ থেকে নিকটাত্নীয়গণ পরস্পর অধিক নিকটবর্তী। তবে তোমরা তোমাদের বন্ধুদের ব্যাপারে ভাল কোন ব্যবস্থা করতে পারো। সূরা আহযাব, আয়াত ৬। মুফাসসিরগণ বলেছেন, এক সময় মুহাজিরগণ ও আনসারগণ একে অপরের ওয়ারিস হতো। এই আয়াতটি সেই বিধান রহিত করে দেয়। ইবনে কাসীর, উক্ত আয়াতের তাফসীর।

প্রশ্নঃ 1141
আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন? আমার জানার বিষয়গুলো হচ্ছে, ১. একটা লিফলেটে দেখলাম লিখা আছে যে, রাসূলে আকরাম (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, যে বেক্তি জুমুআর দিনে আছরের নামজের পর নিজ জায়গা হতে উঠার পূর্বে এই দুরুদ শরীফ ৮০ বার পাঠ করবে তার আমল নামায় ৮০ বছর ইবাদতের সাওয়াব লেখা হয় এবং ৮০ বছরের গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। (তাবরানী, হাবীবিশ শফী পৃ: ২৮৪) আল্লা-হুম্মা ছল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়ালা আলিহী ওয়া সাল্লিম তাসলিমা। এইটা কি সহীহ আমলযোগ্য জানাবেন? ২. মহিলাদের সালাত পড়ার সময় পায়ের টাকনুর নিচের অংশগুলো ও কুনুই থেকে কব্জী পর্যন্ত অংশগুলো খুলা থাকলে বা দেখা গেলে সালাত হবে কি? আসসালামু আলাইকুম। জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। ১। উক্ত দরুদ এবং উক্ত দরুদের ফজিলত সম্পর্কে সহীহ বা যয়ীফ কোন হাদীসই বর্ণিত নেই। যা বলা হয় সবই বানোয়াট জাল কথা। তবে জুমুআর দিনের দুআ কবুল হওয়ার বিষয়টি সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। ২। শুধু কব্জী খোলা রাখতে পারে, কুনুই থেকে নয় এবং টাখনুসহ কাপড় পরতে হবে। টাকনু ঢাকা থাকার পরে আরো নিচের অংশ তথা পায়ের পাতা খোলা রাখতে পারবে। অর্থাৎ তাদের সতর হলো পুরো শরীর, হাতের কব্জী ও মুখ ছাড়া। পায়ের পাতা খোলা রাখাতে সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 1140
শিয়াদের ব্যাপারে বিস্তারিত কিভাবে জানতে পারি?
04 Jan 2026

শিয়াদের ব্যাপারে শায়খ ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. সংক্ষেপে সুন্দর ও চমৎকার আলোচনা করেছেন ইসলামী আকীদা বইয়ের ৬০৫-৬১৫ পৃষ্ঠায়। এছাড়া মাওলানা হেমায়েত উদ্দিন ইসলামী আকীদা ও ভ্রান্তমতবাদ বইয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। আপনি এগুলো পড়তে পারেন। এছাড় বাজারে ভাল লেখকের কোন বই আছে কি না খোঁজ করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1139
রুকু থেকে মাথা তুলে সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ, রাববানা অলাকাল হামদ বার বার পড়া যায়?
04 Jan 2026

এই তাসবীহগুলো একবার পড়াই সুন্নাত। আপনি বার বার পড়বেন না।

প্রশ্নঃ 1138
একজন বললো সুদের টাকাই টয়লেট বানানো যাই কথাটা কি ঠিক?
04 Jan 2026

তিনি আসলে কী বলেছেন তা বিস্তারিত জানালে ভাল হতো। একটু ভাবুন, আপনার বাড়িতে টয়লেট নেই। আপনার ব্যাংকে অনেক টাকা আছে, সেই টাকার সুদ থেকে আপনি টয়লেট বানাবেন এটা কি জায়জ হবে? মোটেও না। আদৌ জায়েজ হবে না। তবে অনেকে বলেন, কোন জনকল্যানমূলক প্রতিষ্ঠানে টয়লেট সুদের টাকা দিয়ে বানানো যেতে পারে।

প্রশ্নঃ 1137
আস সালামু আলাকুম। সরকারী বা বেসরকারী অফিসে প্রভিডেন্ট ফান্ড দেয়া হয় এটা যায়েজ কী? দয়া করে আল কোরআন বা হাদীসের আলোকে জানাবেন।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। একটি প্রশ্নের উত্তরে স্যার রহ. বলেছেন, প্রভিডেন্ট ফান্ডের ইন্টারেস্ট অধিকাংশ আলেমের মতে সুদ নয়, হালাল। তবে কোন কোন আলেম হারাম বলেছেন। তবে হারাম নয় বলেই মনে হয় 240 নং প্রশ্নের উত্তরে।

প্রশ্নঃ 1136
মহিলাদের নামাযের ক্ষেত্রে মোজা দিয়ে পা ঢাকা কি জরুরী? মানে শুধু পায়ের পাতা খোলা থাকলে কি নামায হবেনা?
04 Jan 2026

পা মোজা পরলে ভালো। তবে না পরলেও সমস্যা নেই। পায়ের পাতা ঢেকে পোশাক পরবেন।

প্রশ্নঃ 1135
আসসালামু আলাইকুম। আমি একটা দোকানে চাকরি করি কিন্তু দোকান মালিক সুদের টাকায় দোকান পরিচালনা করে। কিছু কিনতে হলে সুদের টাকা দিয়ে কিনে।দোকানের বিবরন: ফটো স্টুডিও, কসমেটিকস, কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার। আমি ট্রেনিং সেন্টারে কাজ করি। এমতাবস্থায় আমার উপার্জন কি হারাম?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি যেহেতু ট্রেনিং সেন্টারে কাজ করেন আর আপনার কাজটি হালাল তাই ঐ দোকানে আপনার চাকুরী করা জায়েজ হবে। তবে আপনি একটি পরিচ্ছন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরী খুঁজতে থাকুন। খোঁজ পেলে সেখানে চলে যাবেন। আল্লহ আপনার আয়-রোজগারে বরকত দান করুন।

প্রশ্নঃ 1134
Assalamu Alaikum. Muhtaram, can you give me reference about Ahad-Nama, Dua-e Gonjol Arosh, Dua-e Habibi and Dua-e Jamila
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দোয়ায়ে গঞ্জল আরশ. দোয়য়ে আহমাদ নামা, দোয়ায়ে জামিলা এবং দোয়ায়ে হাবীবা নামে সমাজে যা কিছু প্রচলিত আছে সবই ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দুআ। এগুলোর কোন দলীল নেই সুতরাং রেফারেন্স কোথাথেকে দেব। তবে এগুলো যে বানোয়াট তার দলীল আছে। বিস্তারিত জানতে দেখুন, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত হাদীসের নামে জালিয়াতি বইটির ৬১৬-৬১৭ পৃষ্ঠা।

প্রশ্নঃ 1119
কামেরা দিয়ে জীবজন্তুর ছবি তুললে সেটা কি ছবি অংকনকারীর গুনাহের পর্যায়ে পড়বে?
04 Jan 2026

অযথা ছবি তোলা একটা অনর্থ কাজ। প্রয়োজন হলে ছবি তুলতে পারেন। আর প্রয়োজন ছাড়া ছবি তুলে প্রিন্ট করলে তার অংকন করার মত গুনাহ বলে আলেমগণ মনে করেন।

প্রশ্নঃ 1133
আসসালামু আলাইকুম, ভাই সায়খ নাসীরুদ্দিন আলবানী সম্পর্কে কিছু কথা পড়লাম, উক্ত ব্যাপারটা মিথ্যা হলে বিস্তারিত যুক্তি ও দলিল সহ জানাবেন দয়াকরে, তাহলে খুবই উপকার হবে আমার। *** নাসীরুদ্দিন আলবানী ইমাম বোখারী (রহঃ) সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন যে ইমাম বুখারি নাকি একজন অমুসলিম। ইমাম বোখারী (রহঃ) বোখারী শরীফের কিতাবুত তাফসীর এ সূরা কাসাস এর ৮৮ নং আয়াতের যে ব্যাখ্যা করেছেন, সে সম্পর্কে নাসীরুদ্দিন আলবানী লিখেছে, এ ধরণের ব্যাখ্যা কোন মুমিন- মুসলমান দিতে পারে না। তিনি বলেন, এ ধরণের ব্যাখ্যা মূলতঃ কুফরী মতবাদ তাতীলের অন্তর্ভূক্ত। [ফাতাওয়াশ শায়েখ আলবানী, পৃষ্ঠা-৫২৩, মাকতাবাতুত তুরাছিল ইসলামী, প্রথম প্রকাশ ১৯৯৪ খ্রি.] তিনি নাকি এরকম আরও অনেক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন সহিহ আলেম গনের ব্যাপারে। এই ব্যাপারটা আমাকে বিভ্রান্তিতে ফেলেছে । অপেক্ষায় থাকলাম আপনার উত্তরের । নামঃ রানা খান, ঠিকানাঃ ১১০/৩ দক্ষিন বাড্ডা, ঢাকা।
04 Jan 2026

ওয়া আলা্কুমুস সালাম। ভাই, আমি জানি না শায়খ আলবানী রাহ. ইমাম বুখারীর রাহ. ব্যাপারে এমন বলেছেন কি না। তবে তিনি যদি বলেও থাকেন এ ধরণের ব্যাখ্যা কোন মুমিন- মুসলমান দিতে পারে না। তিনি বলেন, এ ধরণের ব্যাখ্যা মূলতঃ কুফরী মতবাদ তাতীলের অন্তর্ভূক্ত। তবুও তাঁর এই কথা দ্বারা কিছুতেই এই অর্থ নেয়া যাবে না যে তিনি বলেছেন, ইমাম বুখারী একজন অমুসলিম। যদি ধরে নিই ইমাম বুখারী এমন ব্যাখ্যঅ করেছেন তাহলে তা ভুল। মানুষ ভুল করে তিনিও ভুল করেছেন। তার ব্যাখ্যা কুফুরী ব্যাখ্যা হতে পারে, তিনি ভুল করে এটা করেছেন। তাই বলে ইমাম বুখারী অমুসলিম হয়ে গেল বিষয়টি এরকম মনে করার কারণ নেই। অনেক মানুষই তো কুফুরীমূলক কথা বলে, শিরকপূর্ণ কাজ করে তাই বলে কি তাদের কাফের বা মুশরিক বলা যায়। যায় না। শায়খ আলাবনী মনে করছেন তার কাজটি কুফুরী তাই তিনি এমন বলেছেন। তার এই বক্তব্য থেকে এই কথা বের করা যে, তিনি ইমাম বুখারীকে অমুসলিম বলেছেন তাহলে এটা তার উপর জুলুম হবে। আর এটা বাস্তবসম্মতও নয়। তিনি ইমাম বুখারী রহ. কিতাব থেকে হাদীস নিয়ে বিভিন্ন মাসআলায় দলীল দিয়েছেন। তিনি যদি অমুসলিম কনে করতেন তাহলে কি তাঁর কিতাবের হাদীস দিয়ে দলীল দিতেন? তবে তার এই কথা (যদি তিনি বলে থাকেন) এ ধরণের ব্যাখ্যা কোন মুমিন- মুসলমান দিতে পারে না। তিনি বলেন, এ ধরণের ব্যাখ্যা মূলতঃ কুফরী মতবাদ তাতীলের অন্তর্ভূক্ত। এটা সঠিক কিন সেটা ভিন্ন বিষয়। আল্লাহ আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন।

প্রশ্নঃ 1131
Assalamualaikum. Sorkari bank a job korar bepare dr.khandaker abdullah jahangir ডঃখোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহিমাহুল্লাহ ki motamot diyecen? Onar video clip doya kore amk share korben.. ami suneci bivinno khan theke j bank a chakri kora haram.. bank a job kora jdi haram hoy taile seta kivabe kno? Amn to na j jara chakri korce tara sud khasse.. tara to porisrom korei mas sese tk nisse.. sud er jonno to tara dayi hote pare na.. ejonno sorkar dayi.. tahole sob sorkari chakri e to dekhte gele haram .. karon amdr sorkar bebosthai to sud vittik.. sekhetre solution ki? Plz taratari janaben..
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, এই সম্পর্কে স্যার রহ. এর তত্বাবধানে এখান থেকে অন্তত তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে। 0093 নং প্রশ্নের উত্তরটি আমি হুবুহ দিয়ে দিলাম। 0093 সুদভিত্তিক ব্যাংকে কাজ করে উপার্জিত অর্থ হালাল নয়। তবে শরীয়াহ অনুযায়ী পরিচালিত ব্যাংকে কাজ করে উপার্জিত অর্থ হারাম হবে না। কেননা হররত জাবরে রা. বলনে, لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ র্অথ: রাসূলুল্লাহ সা. সুদ গ্রহীতা, দাতা, লখেক, সাক্ষীদ্বয় প্রত্যকেরে উপর লানাত (অভশিাপ) দয়িছেনে এবং বলছেনে (পাপরে দকি থকে) সবাই সমান। সহীহ মুসলমি, হাদীস নং ৪১১৭। আর আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হলো আপনার জন্য উচিৎ হবে মাহরাম ব্যাংকার আত্নীয়ের বাসায় টাকা দিয়ে খাওয়া দাওয়া করা। উল্লেখ্য প্রশ্নের দ্বিতীয় অংশটি ছিল ব্যাংকার (সুদ ভিত্তিক) আত্নীয়ের বাসায় নিয়মিত থেকে খাওয়া যাবে কি না? স্যার বলেছেন, টাকা দিয়ে খেতে হবে। 0095 নং প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকে ডাটা এন্ট্রি চাকুরী জায়জে কি না? উত্তরটি আমি হুবহু দিয়ে দিলাম। 0095 না। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সুদভিত্তিক কোন ব্যাংকে এই পদে চাকুরী করা কারো জন্য জায়েয হবে না এবং এখান থেকে উপার্জিত অর্থ কারো জন্য হালাল নয়। হররত জাবের রা. বলনে, لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ র্অথ: রাসূলুল্লাহ সা. সুদ গ্রহীতা, দাতা, লখেক, সাক্ষীদ্বয় প্রত্যকেরে উপর লানাত (অভিশাপ) দিয়েছেন এবং বলেছেন (পাপরে দিক থেকে) সবাই সমান। সহীহ মুসলমি, হাদীস নং৪১১৭। আর প্রশ্নোক্ত কাজটি সুদ লেখার অন্তর্ভূক্ত। সুতরাং আমাদরে জন্য আবশ্যক এমন চাকুরী থকেে বিরত থাকা। 0072 নং প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকুরী জায়েজ কি না? উত্তর ছিল একই রকম। এখন আসি দ্বিতীয় বিষয়ে আপনি বলেছেন যেহেতু সরকারের সকল অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সুদ ভিত্তিক তাহলে কোন সেক্টরেই কর্ম কর জায়েজ হবে না। আপনার এই চিন্ত সঠিক নয়। আপনার কাজ হলো কাজ করা, যার কাজ করবেন তিনি কোথা থেকে অর্থ দিবেন সেটা তার ব্যাপার তবে আপনি যে কাজটি করছেন সেটা হালাল হতে হবে। অন্যান্য সেক্টর হালাল কাজের অন্তভূক্ত আর ব্যাংকে যে কাজটি করছেন সেই কাজটিই স্বয়ং হারাম। অর্থাৎ ব্যাংকের কাজই তো সুদ লেখা, সাক্ষী থাকা, যাবতীয় কাজই সুদ বিষয়ক আর এগুলো হাদীসের আলোকে সব হারাম।

প্রশ্নঃ 1130
ভরণ পোষণ এর সামর্থ্য না থাকলে ইসলামিক উপায় কি পরিবার পরিকল্পনা করা যাবে?ভরণ পোষণ এর সামর্থ্য না থাকলে ইসলামিক উপায় কি পরিবার পরিকল্পনা করা যাবে?
04 Jan 2026

ভরন-পোষন করতে পারবে না এই ভয়ে কারো জন্য পরিবার পরিকল্পনা তথা জন্ম নিয়ন্ত্রন জায়েজ নেই। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন,وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلَاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَإِيَّاكُمْ إِنَّ قَتْلَهُمْ كَانَ خِطْئًا كَبِيرًا তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে অভাবের ভয়ে হত্যা করো না, আমি তাদের এবং তোমাদের রিযিক দান করি। নিশ্চয় তাদের হত্যা করাটা হবে বড় গোনাহ। সূরা বনী-ইসরাইল, আয়ত,৩১। সূরা আনয়ামের ১৫১ নং আয়াতেও আল্লাহ তায়ালা এমনটি বলেছেন।

প্রশ্নঃ 1128
ওযু করার শুরুতে পানি খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহ না বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম বলতে হবে । যে কোন একটি বললে কি সমস্যা আছে।
04 Jan 2026

অর্থ না জানার কারণে এমন প্রশ্ন আমাদের মনে আসে। দেখুন, বিসমিল্লাহ অর্থ আল্লাহর নামে আর পুরোটার অর্থ পরম করুনাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবার বলুন দুইটার মধ্যে কি পার্থক্য। পুরো পড়লে আল্লাহ তায়ালার দুইটা গুন বলা হয়। সুতরাং আপনি যা ইচ্ছা পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 1129
আস-সালামু আলাইকুম! মুহতারাম, আমি শীয়াদের একটি গ্রুপ থেকে তাহরিফ-এ কুরান সম্পর্কে একটি Note পাই,যেখানে আহলে সুন্নার আলিমদের এব্যাপারে দোষারোপ করা হয়েছে (দলীল সহ)। আমি এব্যাপারে সঠিক তথ্য এবং দলীল ভিত্তিক জবাব জানতে ইচ্ছুক আপনার কাছে। এব্যাপারে আপনার সহযোগিতা আশা করতে পারি কি?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনি উক্ত নোটে কী পড়েছেন? কী দলীল সেখানে আছে? বিস্তারিত জানালে আমাদের জন্য উত্তর দেয়া সহজ হবে। তবে সংক্ষেপে আপনাকে বলি শিয়াদের অনেকেই মনে করে বর্তমান কুরআন বিকৃত কুরআন। তাদের এমন বিশ্বাস কুফরী। আল্লাহ তায়াল কুরআনে বলেছেন, إِنَّانَحۡنُنَزَّلۡنَاٱلذِّكۡرَوَإِنَّالَهُۥلَحَٰفِظُونَ ا নিশ্চয় আমরা কুরআন নাযিল করেছি, আর আমরা স্বয়ং তার হিফাযত-কারী। সূরা আল-হিজর, আয়াত: ৯। সুতরাং যদি বলা হয় কুরআন বিকৃত হয়ে গেছে তাহলে বলতে হবে আল্লাহ তায়ালা কুরআনকে হেফাজত করতে পারেন নি। নাউযুবিল্লাহ। অথবা বলতে হবে কুরআন মিথ্যা, কারণ আল্লাহ তায়ালা বলেছেন হেফাজত করবেন পরে আর হেফাজত করেন নি। নাউযুবিল্লাহ। কোনটিই গ্রহনযোগ্য নয়। সুতরাং কুরআন বিকৃত হয়েছে এটা মিথ্যা ও ভুল কথা। কুরআন বিকৃত হওয়ার পক্ষে তারা যে দলীলই দিক তা অগ্রহনযোগ্য বলেই বিবেচিত হবে। তাদের এসব মিথ্যা, প্রতারণা পূর্ণ কোন নোট বা বই না পড়া্ই আমাদের জন্য কল্যানকর। আমরা আল্লহর কাছে দুআ করি আল্লাহ যেন আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন।

প্রশ্নঃ 1127
1. The Imams of Macca and Madina will remain in right path, they will not be misguided even in the dark times. Is it a sahih hadith? If yes, please give me the reference. 2. I saw most of the Imams (almost all) offered their salah in keeping their hands just under the chest, not under navel. What is your opinion?
04 Jan 2026

১। এই ধরণের কোন হাদীস আছে বলে মনে হয় না। তবে আপনি আরবী পাঠ পেলে জানালে আমাদের জন্য সহজ হবে। আমরা বহু চেষ্টা করেও পাই নি। আর সালাতে মধ্যে হাত বাধার ব্যাপারে সহীহ হাদীস আছে। তবে কোথায় রাখতে হবে তা কোন সহীহ হাদীসে নেই। তবে সাহাবী-তাবেয়ীগণ হাত কোথায় বাঁধতেন তা ইমাম তিরমিযী (রহ.) নিন্মেক্ত বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়। তিনি বলেন, وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ يَرَوْنَ أَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ يَمِينَهُ عَلَى شِمَالِهِ فِى الصَّلاَةِ. وَرَأَى بَعْضُهُمْ أَنْ يَضَعَهُمَا فَوْقَ السُّرَّةِ. وَرَأَى بَعْضُهُمْ أَنْ يَضَعَهُمَا تَحْتَ السُّرَّةِ. وَكُلُّ ذَلِكَ وَاسِعٌ عِنْدَهُمْ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী, তাবেয়ী ও পরবর্তী আহলে ইলমের কর্মধারা এমনই । অর্থাৎ তাঁরা নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখাকে নামাযের নিয়ম মনে করতেন। তাঁদের কতক নাভির উপরে এবং কতক নাভির নীচে রাখাকে উত্তম মনে করতেন। তবে উভয় পদ্ধতিই তাঁদের সকলের মতে বৈধ ছিল। (জামে তিরমিযী ২/৩৩, হাদীস-২৫২- এর আলোচনায়)। সুতরাং নাভীর নিচে বা উপরে এক জায়গায় বাঁঁধলেই সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ 1126
আসসালামু আলাইকুম। আমার পরিবার থেকে আমাকে কোনদিন নামাজ পড়াও শিখাইনি। ইসলাম সম্পর্কে যা শিখেছি তা সম্পুর্ন আল্লাহর ইচ্ছায়। দীর্ঘদিন যাবত পাচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সহিত আদায় করি। এখন আমি অনার্স ২য় বর্ষে পড়াশোনা করি। মাঝে মাঝে আপনাদের আস সুন্নাহ ট্রাস্টের মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে যাই। কিন্তু এখানকার ছাত্রদের দেখে আমার খুব আফসোস হয়। কেন আমি এদের মত হতে পারলাম না? এই আফসোস আমাকে দিন দিন কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। কি করব বুঝতে পারছিনা। এখন খুব খুব মনে চায় একজন ভালো আলেম হতে। কিন্তু এখন কি তা সম্ভব?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনার ইচ্ছাটা খুবই ভাল ও কল্যানকর। আপনার ইচ্ছা পূরণ অসম্ভব নয়। তবে সবার যে আলেম হতে হবে বিষয়টি এরকমও নয়, আপনি আপনার জায়গায় থেকে ইসলামের খেদমত করতে পারেন। আপনি যেহেতু আমাদের মসজিদে মাঝে মধ্যে জুমুআর নামায পড়নে তাই আপনার জন্য উচিৎ হলো আমাদের খতীব সাহেব তথা আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের হাদীস বিভাগের প্রধান শায়খ জাকারিয়া বিন আব্দুল ওয়াহহাব এর সাথে দেখা করে তার পরামর্শ নেয়া। আশা করি আপনি সঠিক পথের সন্ধান পাবেন। আমরা দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাকে দীনের দায়ী হিসাবে কবুল করেন।

প্রশ্নঃ 1125
ইসলাম ধর্মে কি সন্তান ত্যায্য করে দেবার উপায়/বিধান/নিয়ম রয়েছে?
04 Jan 2026

সন্তানকে ত্যাজ্য করার অনুমতি ইসলামে নেই। পিতা-মাতার দায়িত্ব হলো সন্তানকে ছোটবেলা থেকে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা। ৭ বছর বয়স থেকেই সালাতে অভ্যস্ত করে তোলা। সবার সাথে ভাল ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা করা। পিতা-মাতা যদি তাদের এসব দায়িত্ব পালন করেন আশা করা যায় সন্তান ভুল পথে যাবে না। এরপরও যদি সন্তন বিপথগামী হয় তার দায়-দায়িত্ব সন্তানের, পিতা-মাতার নয়। তবে কোন অবস্থাতেই সন্তানকে ত্যাজ্য করার অনুমতি ইসলাম দেয় নি।

প্রশ্নঃ 1124
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমি জানতে চাচ্ছি মওলানা আকরাম খাঁ (রহঃ) তার লেখা তাফসীরুল কুরআনে আবু হুরায়রা (রাঃ) যে অভিযোগ করেছেন তা কত টুকু সত্য? (ওনার উক্ত বইয়ে পরেছিলাম আবু হুরায়রা (রাঃ) ৬ বছর বয়সে রাসুল (সাঃ) কাছে প্রথম আসেন)
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কী অভিযোগ করেছেন আমার জানা নেই। বিস্তারিত জানালে উত্তর দিতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্নঃ 1118
Assalamu Alaikum. Kemon Achen Vai Apnara? Amar prosno gulo holo : ১. মাছবূক মানে কি? জামাতে যদি কোন রাকাত ছুটে যায় তাহলে ইমাম সালাম ফিরানোর পর আমি উঠে পড়বো। তখন কি আমাকে ছানা, আউজুবিল্লাহও পড়তে হবে? ২. আমার ফুপা অসুস্থ। বেশির ভাগ সময় বিছানায় শুইয়ে থাকতে হয়। তাই পবিত্র হয়ে থাকা তার জন্য একটু কষ্টদায়ক হয়। আর আমার ফুপিকে বার বার অপবিত্র কাপড়গুলা ধুতে হয়। যার কারনে কাপড় ধোয়ার সময় ঐ পানি ফুপির কাপড়েও লাগে, কাপড় ধুয়ার সময় উনার কাপড়ে ছিটকাও আসে যা অনেক সময় বুঝাও যায় না। এজন্য সালত পড়ার জন্য বার বার কাপড় পরিবর্তন করতে হয়। এখন ঐ কাপড় পড়েই কি সালাত আদায় করতে পাড়বে অথবা এর সমাধান কি জানাবেন। Assalamu Alaikum. JazakAllahu Khairan.
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই আমরা ভাল আছি, আশা করি আপনারাও ভাল আছেন। 

০১. আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তর হলো মুসল্লি যদি জামাতে নামায পড়তে গিয়ে এক বা একাধিক রাকআত না পায় তাহলে ঐ মুসল্লিকে মাসবুক বলে। মাসবুক ব্যক্তি ছানা ও আউযুবিল্লাহ পড়বে।

২। আপনার ফুপির উচিত যখন তিনি নাপাক কাপড় ধুবেন তখন আলাদা কাপড় পরে নিবেন। ধোয় শেষ হলে আবার ভাল কাপড় পরবেন। এছাড়া সামান্য একটু পানি লাগলে কাপড় নাপাক হয় না।

প্রশ্নঃ 1123
ফজরে ঘুম থেকে উঠে দেখি পরনের গেঞ্জি / লুঙ্গির মধ্যে মশার রক্ত লেগে আছে। আর উক্ত জামা পরিবর্তন না করেই নামাজ পরে ফেলছি। প্রশ্ন হল এতে করে কি নামাজ আদায় হয়েছে? মশার রক্ত জামায় লেগে জাওয়া নিয়ে ভিন্ন কোন মাসালা থাকলে আশা করি জানাবেন?
04 Jan 2026

আপনার নামায সহীহ হয়েছে। চিন্তা করার দরকার নেই। মশার রক্তে কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 1122
আমরা অফিস কলিগ ৯-১০ মিলে একটা সমিতির মত করে মাসে মাসে কিছু টাকা জমা করে কিছু বছর পর জমি কিনার ইচ্ছা আছে। টাকা গুলো ব্যাংক এ হয়ত fixed deposit করে রাখা হবে। যেহেতু fixed deposit করে রাখবে, তাই এখানে সুদের বিষয় টা জড়িত। তাই আপনার কাছে প্রশ্ন হল এই রকম সমিতিতে আমি একজন শেয়ার পাটনার হিসেবে থাকা টা উচিত হবে কিনা?
04 Jan 2026

যদি সুদ থেকে প্রাপ্ত টাকা ব্যাংক থেকে গ্রহণ করে নিজেদের জমি কেনার বা অন্য কোন কাজে লাগান তাহলে সেটা জায়েজ হবে না, হারাম হবে। আর যদি সুদের টাকা কোন গরীব-মিসকিনকে দিয়েদেন আর বাকী টাকা দিয়ে জমি কেনেন তাহলে জায়েজ হবে। অর্থাৎ যদি উক্ত টাকা গরীব-মিসকিনদের দিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয় তাহলে আপনি এই সমিতিতে থাকতে পারবেন অন্যথায় এই সমিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আপনি অন্যদেরকে সুদের কুফল সম্পর্কে জানালে আশা করি তারা জমি কেনার ক্ষেত্রে সুদের টাকা পরিত্যাগ করবে।

প্রশ্নঃ 1121
আসসালামূআলাইকুম? ভাই আমার ১ তারিখ হতে পরিক্ষা শুরু হবে আর পরিক্ষা ১টা থেকে হবে ৫ পযন্ত হবে, এর মাঝে আমার যুহর ও আছরের স্বলাত পরতে মিস হয়ে যাবে। এখন কি আমি ফজরের স্বলাত আদায় করে তারপর যুহর ও আছর স্বলাত আদায় করতে পারব ঐ সময়ই? তা না হলে কিভাবে কখন ঐ দুই ওয়াক্ত স্বলাত আদায় করব? হাদিসের রেফারেন্স সহকারে বলবেন ভাই?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এখন দুপুর বারোটার আগেই যুহরের সালাতের ওয়াক্ত এসে যায়। সুতরাং আপনি যুহরের সালাত আদায় করার পর পরীক্ষা দিতে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করবেন। আর আসরের সময় থাকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত, তাই পরীক্ষা শেষ করে আপনি আসরের সালাত আদায় করবেন। দলীল জানতে নিচের হাদীস দুটি লক্ষ করুন: عن جابر بن عبد الله : أن جبريل أتى النبي صلى الله عليه و سلم يعلمه مواقيت الصلاة فتقدم جبريل ورسول الله صلى الله عليه و سلم خلفه والناس خلف رسول الله صلى الله عليه و سلم فصلى الظهر حين زالت الشمس অর্থ: হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, একদা জিব্রিল আ. এসে নবী সা.কে সালাতের সময় শিক্ষা দিলেন। জিব্রিল আ. সবার সামনে দাঁড়ালেন, রাসূলুল্লাহ সা. তার পিছনে দাড়ালেন এবং মানুষেরা রাসূলুল্লাহ সা. এর পিছনে দাঁড়ালেন। তিনি যুহরের সালাত আদায় করলেন সূর্য ঢলে যাওয়ার পরপর। সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ৫১৩, মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ১৪৫৭৮। হাদীসটিকে মুহাদ্দিসগণ সহীহ বলেছেন। عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصُّبْحِ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ الصُّبْحَ ، وَمَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ الْعَصْرَ. অর্থ: আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন.. যে ব্যক্তি সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে আসরের এক রাকআত পাবে সে আসরের সালাত পেয়েছে বলে গণ্য হবে। সহীহ বুখারী হাদীস নং ৫৭৯; সহীহ ইবনে খুজায়মা, হাদীস নং ১৫৮৩। আশা করি আপনি আপনার উত্তর পেয়েছেন।

প্রশ্নঃ 1120
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। ভাই সবাই বলে জ্ঞান অর্জন করা ফরজ কিন্তু কোন জ্ঞান? কিসের জ্ঞান? কী পরিমাণ জ্ঞান কখন? কিভাবে? কেন? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হতাম? আবার কোন জ্ঞান অর্জন করা হারাম? কেন হারাম? তাও যদি বলেন
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্ঞান অর্জন করা ফরজ এটা একটি হাদীসের অংশ। হাদীসটি হলো, .. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ : طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ অর্থ: হযরত আনাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য ফরজ..। সুনানু ইবনু মাজাহ, হাদীস নং ২২৪।মুহাদ্দিসগণ বলেছেন হাদীসটির সনদ দূর্বল। তবে অর্থ সহীহ বলে তারা উল্লেখ করেছেন। এই হাদীসের ব্যখ্যা করতে গিয়ে প্রখ্যাত ফিকহী সংস্থা লাজনাহ দায়েমা এর আলেমগণ বলেছেন العلم الشرعي على قسمين : منه ما هو فرض على كل مسلم ومسلمة ، وهو معرفة ما يصحح به الإنسان عقيدته وعبادته ، وما لا يسعه جهله ، كمعرفة التوحيد ، وضده الشرك ، ومعرفة أصول الإيمان وأركان الإسلام ، ومعرفة أحكام الصلاة ، وكيفية الوضوء ، والطهارة من الجنابة ، ونحو ذلك ، وعلى هذا المعنى فسِّر الحديث المشهور ( طلب العلم فريضة على كل مسلم ) والقسم الآخر : فرض كفاية ، وهو معرفة سائر أبواب العلم والدين ، وتفصيلات المسائل وأدلتها ، فإذا قام به البعض سقط الإثم عن باقي الأمة الشيخ عبد العزيز بن باز ، الشيخ عبد الله بن غديان ، الشيخ عبد العزيز آل الشيخ ، الشيخ صالح الفوزان ، الشيخ بكر أبو زيد فتاوى اللجنة الدائمة ( 12 / 90 ، 91 ) অর্থ: শরয়ী জ্ঞান দুই প্রকার: প্রথম প্রকারের জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর জন্য ফরজ। তা হলো সে সব বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা যার মাধ্যমে মানুষ নিজের আক্বীদা-বিশ্বাস এবং ইবাদত সহীহভাবে করবে। তাওহীদ ও শিরক সম্পর্কে অর্জন করা, ইমানের উসূল (মূল বিষয়বস্তু) এবং ইসলামের রুকুনগুলো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, সালাতের হুকুম আহকাম জানা, ওযু করার পদ্ধতি সম্পর্কে অর্জন করা, অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জন করার পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। এই অর্থেই প্রসিদ্ধ হাদীস জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য ফরজ এর ব্যাখা করতে হবে। … ফাতওয়া লাজনাহ দায়েমা, ১২/৯০-৯১। আশা করি আপনি বুঝতে পেরেছেন জ্ঞান অর্জন করা ফরজ বলতে কোন জ্ঞান বুঝানো হয়েছে। তবে এগুলো বিস্তারিত জানা ফরজ নয়, বরং যতুটুকু সাধারণ ভাবে মুসলিম হিসাবে জীবন-জাপন করতে প্রয়োজন হয় ততটুকু ফরজ। বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করা কিছু মানুষের জন্য ফরজ। যারা অন্যদেরকে প্রয়োজনে সাহায্য করবে। এটাকে আলেমগণ শরয়ী জ্ঞানের দ্বিতীয় প্রকার বলেছেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আল-ইসলাম সুয়াল ও জওয়াব, ফাতাওয়া নং ৯৫৮৯৭। (ইন্টারনেটে, আরবী)। যে জ্ঞান আপনাকে কুফর ও শিরকের দিকে নিয়ে যাবে, ইসলাম থেকে দূরে ঠেলে দিবে এই ধরনের জ্ঞান অর্জন করা হারাম। এছাড়া অন্যান্য জ্ঞান অর্জন করা জায়েজ। যেমন, ডাক্তারী বিদ্যা,প্রকৌশল বিদ্যা ইত্যাদী।

প্রশ্নঃ 1117
ইসলামী বিধান মতে জমি বন্ধক নেয়া বা দেয়ার নিয়ম-কানুন কি?
04 Jan 2026

ইসলামী বিধানমতে জমি বন্ধক দেয়ার ও নেয়ার নিয়ম হলো, বন্ধক দাতা যে টাকা গ্রহিতার কাছে থেকে নিবেন প্রতি বছর ফসলের বিনিময়ে সে টাকা থেকে একটি যৈাক্তিক পরিমাণ টাকা কমে যাবে। যেমন যদি কেউ ১লক্ষ টাকার বিনিময়ে একটি জমি বন্ধক রাখলো। আর ঐ জমিতে ১০হাজার টাকার ফসল প্রতি বছর হয় তাহলে প্রতি বছর এক লাখ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা কমে যাবে। উল্লেখ্য ফসলের দাম নির্ধারনের ক্ষেত্রে কিছুটা কমবেশী করা যেতে পারে, তবে অযৈাক্তিক কোন দাম যেন নির্ধারণ না করা হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া এই ধরনের কোন চুক্তি করা যেতে পারে, যেখানে ফসলের বিনিময়ে জমির মালিক অর্থ পাবে। বর্তমানে আমাদের দেশে যা করা হয় অর্থাৎ টাকা নিয়ে যতদিন টাকা দিতে পারবে না ততদিন জমির ফসল বন্ধকগ্রহিতার এরপর যখন টাকা দিবে তখন পূর্ণ টাকা নিয়ে জমি ফিরিয়ে দেয়া এটা সম্পূর্ণ সুদ। এই সুদ থেকে আমাদের অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

প্রশ্নঃ 1116
কোরবাণী ও আক্বীকার শর্ত ও গোশত বন্টন সম্পর্কে জানতে চাই।
04 Jan 2026

কুরবানী ও আক্বকীর গোশতকে তিন ভাগ করে একভাগ নিজেদের জন্য, একভাগ আত্নীয়স্বজনদের জন্য এবং আরেকভাগ গরীব-মিসকিনদের দেয়াকে আলেমগণ মুস্তাহাব বলেছেন। পরিবার বড় হলে বেশী গোশত রাখাতে কোন অসুবিধা নেই। তবে সর্বাবস্থায় চেষ্টা করতে হবে যত বেশী সম্ভব গরীবদেরকে দিতে হবে। সব গোশত রেখে দিলেও কুরবানী ও আক্বকী আদায় হয়ে যাবে। তবে এটা নৈতিকতা বিরোধী।

প্রশ্নঃ 1114
জোহর ও আছর এর নামায জামাতে পড়ার সময় মুক্তাদির জন্য সুরা ফাতিহা পড়া ওয়াজিব কিনা?
04 Jan 2026

এটা পুরাতন প্রশ্ন । এই বিষয়ে ইমামদের মধ্যে মতভেদ আছে। কেউ কেউ ওয়াজিব বলেছেন আবার কেউ কেউ পড়তে নিষেধ করেছেন। প্রত্যেকের পক্ষে সহীহ দলীল আছে।

প্রশ্নঃ 1112
ভাই একটা প্রশ্ন ছিল। আমার এক ফ্রন্ডের দাদী ওকে সালাতুজ তাজবী নামাজ পড়াতে বলেছে। আমার ফ্রেন্ড টা ব্যস্ততার কারনে পড়াতে পারে নাই। দাদীটা এখন অনেক অসুস্থ। বলতে গেলে মৃত্যুশয্যায় আছেন। নামাজ আদায় করাতে না পারায় আমার ফ্রেন্ডের কোন গুনাহ হবে? আর এখন আমার ফ্রেন্ডের করনীয় কি?দয়া করে জানাবেন প্লিজ…
04 Jan 2026

ভাই, সালাতুত তাসবীহ পড়াতে বলেছেন এর অর্থ বুঝলাম না। এটা কাউকে পড়ানো যায় না, নিজে পড়তে হয়। আপনার প্রশ্ন যদি হয় পড়তে বলেছেন তাহলে উত্তর হলো সে যদি পড়তে চায় এখনো পড়তে পারে আর না পড়ার কারণে গুনাহ হবে না। তবে যদি সে প্রতিশ্রুতি দেয় তাহলে প্রতিশ্রুদি ভঙ্গের গোনাহ হতে পারে। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন।

প্রশ্নঃ 1115
আসসালামু আলাইকুম, ১. আমরা হোটেলে যে সকল মাংস খেয়ে থাকি সেগুলো তো আমরা জানিনা আল্লাহর নাম নিয়ে জবাই করা হয়েছে কিনা। সেক্ষেত্রে এইগুলো খাওয়া কি হারাম হবে? ২. আমরা অনেক সময় হয়তো মনের অজান্তে কিংবা অনিচ্ছায় শিরকী কথাবার্তা বলে ফেলি। এর ফলে আল্লাহ্ পাক কি আমাদের জাহান্নামে দিবেন? আর এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কি হবে?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

১. মুসলিম দেশে মুসলিম মালিক কর্তৃক পরিচালেত হোটেলগুলোর মাংস হালাল বলে্ ধরে নিতে হবে। তবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত কোন তথ্য থাকলে অর্থাৎ আল্লাহর নামে জবেহ করা হয়নি নিশ্চিতভাবে জানা থাকলে খাওয়া হারাম হবে। অমুসলিমদেশ সমূহে হালাল মাংসের হোটেল খোঁজ করে সেখানে খেতে হবে।

২. এমন হয়ে গেলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, আশা করি তিনি ক্ষমা করে দিবেন। সতর্ক থাকতে হবে শিরকী কোন কথা-বার্তা যেন কোন অবস্থাতেই মুখে না আসে।

প্রশ্নঃ 1113
apnader pdf book ki share kora zabe?
04 Jan 2026

আমাদের কিছু বইয়ের পি ডি এফ কপি আছে। যেগুলো আমাদের ওয়েসবাইড থেকে ডাউনলোড করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1111
আশুরার দিনে শোক পালন জায়েজ কি না? (তাজিয়া মিছিল, ফুলের মালা, বাঁশ, কালো পতাকা, ছেলে মেয়ে একত্রে রালী)?
04 Jan 2026

আশুরার দিন সিয়াম পালন করার কথা হাদীসে আছে। তাজিয়া মিছিল, ফুলের মালা, বাঁশ, কালো পতাকা, ছেলে মেয়ে একত্রে রালী সবই নব-সৃষ্ট জঘন্য বিদআত। প্রতিটি মূমিনের জন্যই এসবে থেকে দূরে থাকা একান্ত প্রয়োজন।

প্রশ্নঃ 1109
আসসালামু আলাইকুম । আমার প্রিয় হুজুর তো আর দুনিয়াতে নেই তাই আপনি কে আমি জানি না তবে আশা করছি আপনিও আল্লাহর খাচ বান্দা । দয়া করে আমাকে কিছু আমল শিখায়া দিন । আমার প্রশ্ন:কিছুদিন যাবৎ শয়তান আমাকে একটি ওয়াচ ওয়াচা দিচ্ছে সেটা হলো আল্লাহ্কে গালি দিতে মনে চাচ্ছে কিন্তু আমি অন্তরে আল্লাহকে গালি দিচ্ছি না শুধু অন্তরে গালি ওয়াচ ওয়াচা দিচ্ছে,আমি সাথে সাথেই অনেক তাওবা পাঠ করছি তবুও শয়তানের ঐই ধোকা থেকে আমি রক্ষা পাচ্ছি না এখন আমাকে এমন আমল শিখিয়ে দিন যাতে ঐই ওয়াচ ওয়াচা থেকে বাঁচতে পারি! ধন্যবাদ!
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, এটা শয়তানে কাজ। আপনি

أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

নিয়মিত বারবার পাঠ করতে থাকুন, ইনশাআল্লাহ আপনি এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। শয়তান ধোকা দিলে রাসূলুল্লাহ সা. উপরুক্ত দুআটি পড়তে বলেছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬১১৫।

প্রশ্নঃ 1110
Muhtaram assalamualaiqum. Amader HAZZ kafelate alim der moddhe entire bisoye motoved dekha diyeche ar take holo tawafe ifada te romol korar bisoye, Ekjon bollen tawafe ifada te romol kora sunnah, kintu Saudi arab email bili kora onek boite abong Islam QA website e ta nishedh kora hoyeche, Actual bisoy ti dolil soho janale upokrito hobo. Alim saheb aro bollen tawafer somoy kabar dike takano Zayej na. Kothatir sottota jante chai Zazakallahul khair
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যে তাওয়াফের পর সায়ী করতে হবে সে তাওয়াফেই শুধু রমল করতে হবে। যে তাওয়াফের পর সায়ী নেই সে তাওয়াফে রমলও করতে হবে না।সুতরাং আপনি যদি প্রথমেই তাওয়াফে কুদুমের পর সায়ি করেন তাহলে আপনাকে কুদুমের মধ্যে রমল করতে হবে। আর যদি আপনি তাওয়াফে ইফাদার পরে সায়ী করেন তাহলে তাওয়াফে ইফাদাতে রমল করতে হবে। তাওয়াফে কুদুমের পর সায়ি করলে তাওয়াফে ইফাদাতে রমল করতে হবে না।

প্রশ্নঃ 1108
Assalamualaiqum. Muhtaram, omuslimderkay ki Qurbanir ghusto deya jabay?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, কুরবানীর গোশত অমুসলিমকে দেয়া জায়েজ।

প্রশ্নঃ 1107
মাধ্যমিক বিদ্যালয় (ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি কিংবা দ্বাদশ শ্রেনি পর্যন্ত যেখানে ছাত্র-ছাত্রি উভয় আছে), এই ধরনের বিদ্যালয়ে চাকুরি করা কতটুকু ইসলাম সম্মত।
04 Jan 2026

ইসলাম নারী-পুরুষের (বালেগ হওয়র পর) অবাধ মেলামেশাকে হারাম করেছে। কুরআন শরীফে মেয়েদেরকে পর্দার সাথে চোখ নিম্নগামী করে এবং পুুরুষদেরকে চোখ নিম্নগামী করে চলতে বলা হয়েছে। আর এই প্রত্যেকটি নির্দেশই ছেলে-মেয়ে একসাথে পড়লে উপেক্ষিত থাকে।

এখন আপনিই বলুন, এমন বিদ্যালয়ে চাকুরী করা কতটুকু শরীয়ত সম্মত হতে পারে?

প্রশ্নঃ 1105
আল্লাহ ইমানদারের জান মাল জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করেছেন ………যারা মারে ও মরে । তাবলিগ ওয়ালা রা প্রথম অংশটুকু বলে তাবলিগে বের হতে বলে । আসলে কি কথা টিক।
04 Jan 2026

উক্ত আয়াতে জিহাদের কথা বলা হয়েছে। তাবলীগে বের হওয়া আর জিহাদ (পারিভাষিক জিহাদ অর্থাৎ যদ্ধ) কে মিলিয়ে ফেলা ঠিক নয়।

প্রশ্নঃ 1103
নামাজ পরতে পরতে মাথায় কাল দাগ পরে যায় এটা কি ভাল লক্ষণ না খারাপ..?
04 Jan 2026

এটা ভাল-খারাপ কিছু নয়। এটা ন্যাচারাল বিষয়। সম্ভবত মানুষের ত্বকের ভিন্নতার কারণে এমনটি হয়ে থাকে।

প্রশ্নঃ 1102
আসসালামু আলাইকুম! বিভিন্ন সময় আমার প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য assunnahtrust বা এর সংশ্লিষ্ঠ সবাইকে জাযাক আল্লাহ খায়ের!
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনারা দুআ করবেন যেন আমরা এই কার্যক্রমটি চালিয়ে যেতে পারি।

প্রশ্নঃ 1100
আসসালামু আলাইকুম আমি তাবলীগে যাওয়ার নিয়েত করেছি, এই বিষয়ে আমার নিয়েত টা কেমন হবে, তাবলীগের নিয়ম কানুন কতটুকু গুরুত্ত দিব, এর উপর (রাহিমুল্লাহর) কোন পরামর্শ জানালে উপকৃত হতাম। আমি তাকেই নিরপেক্ষ মনে করি। তার অনুসারিদের ও তাই মনে করি।
04 Jan 2026

ওয় আলাইকুমুস সালাম। ইসালামের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌছাতে হবে। আর এই দাওয়াত পৌছানোর একটি মাধ্যম হলো তাবলীগে যাওয়া। আপনি যেতে পারেন। তবে মানুষ ভুলত্রুটির উর্ধ্বে নয়। ইসলাম সম্পর্কে যে যা বলবে তাই মানতে হবে এমন না মনে করে কিছুটা যাচাই করার মানসিকতা রাখবেন। আল্লাহ আপনাকে কবুল করুন।

প্রশ্নঃ 1101
ফরজ নামাজ ৪ রাকাত হলে ৪ রাকাতেই কি সুরা পড়বো? ৪ রাকাত সুন্নাত নামাজে ৪ রাকাতেই কি সুরা মিলাতে হবে?
04 Jan 2026

ফরজ নামাযে প্রথম দুই রাকআতে সূরা ফাতিহার সাথে সূরা মিলাবেন। ্এবং অন্যন্য সকল নামাযে (ওয়াজিব, সুন্নাত, নফল) প্রতি রাকআতে সূরা ফাতিহার সাথে সূরা মেলাবেন।

প্রশ্নঃ 1099
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ নামাযে কোন সুরার ১টি আয়াত ছুটে গেলে কি বড় ধরনের গোনা হবে।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, নামাযে কোন সূরার ১টি আয়াত ছুটে গেলে কোন গোনাহ হবে না। বড় ছোট কোন গোনাহ হবে না ।

প্রশ্নঃ 1098
আসসালামু আলাইকুম! ১। মিউজিক বিহীন নিজে নিজে গান গাওয়া যায়েজ কি? ২। কেউ যদি ওযু করে গান গায় তাহলে ওযু ভেঙ্গে যাবে? ৩। গোসল করার পর তোয়ালে পরে ওযু করা যাবে কী? দয়া করে কুরআন বা হাদীসের আলোকে জানাবেন!
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। গানের কথা ভাল হলে,কুরআন-হাদীস বিরোধী না হলে কোন সমস্যা নেই। ওযু করে গান গাইলে ওযু ভাঙে না। গোসল করার পর ওযু করতে রাসূলুল্লাহ সা. নিষেধ করেছেন। গোসলই পবিত্রতা অর্জনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। তবে কোন কারণে ওযু না থাকলে তোয়ালে পরে ওযু করা যাবে।

প্রশ্নঃ 1097
১. আমার মনে মাঝেমধ্যে শিরকী, কুফরী চিন্তা-ভাবনা উদয় হয়। আবার যখন আল্লাহ পাকের কথা স্মরণ করি তখন কেমন যেন একটা ছবি আমার চোখে ভেসে ওঠে। কিন্তু আমিতো জানি আল্লাহ পাকের কোনো ছবি-মুর্তি নেই। আমি বুঝতে পারি যে, এগুলো বিশ্বাস করলে আমার ঈমান ধ্বংস হয়ে যাবে। আমার প্রশ্ন হছে যে, যখন এই বিষয়গুলি যখন আমার মনে আসে তখন আমার ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে কিনা? ২. আমরা যারা সাধারণ মুসলিম অনেকেই ছোট শিরকের মধ্যে ডুবে আছি। তো প্রশ্ন হচ্ছে যে, বারবার অনিচ্ছাকৃতভাবে শিরক করে যদি প্রতিবারই তাওবা করি তাহলে কি মহান আল্লাহ মাফ করবেন?
04 Jan 2026

কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী চলার চেষ্টা করুন। এইসব চিন্তা, প্রশ্ন একদম মাথায় আনবেন না, আপনার ইমান ঠিকই আছে, আপনি সঠিক পথের উপর আছেন। তওবা যদি নির্ভেজাল মনে করে তাহলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন তবে প্রানপণ চেষ্টা করবেন যেন পূনরায় পাপ কাজে না জড়ান।

প্রশ্নঃ 1095
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ জাজাকাল্লাহ খাইরান,আমি আমার আগের প্রশ্ন গুলোর উত্তর পেয়েছি। আমার আজকের প্রশ্ন : ওষুধ খাওয়ার সময় কি বলে খেতে হবে? বিসমিল্লাহ নাকি অন্য কোনো দুআ আছে? অন্য কোনো দুআ থাকলে সেইটা কি?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমরা আপনাদের খেদমত করতে পারছি জেনে আল্লাহ তায়ালার শুকরি আদায় করছি। আপনি সম্ভবত এর আগে এই প্রশ্নটির সাথে আরো একটি প্রশ্ন করেছিলেন আল্লাহ কোথায় এই ব্যাপারে। দুটি প্রশ্রের উত্তর এক সাথে দিয়ে দিচ্ছি।

১. ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ওষুধ খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহ বলবেন।

২. আল্লাহ কোথায় আছে সে সম্পর্কে হাফেজ ইবনে কাসীর বলেন,

فللناس في هذا المقام مقالات كثيرة جدا، ليس هذا موضع بسطها، وإنما يُسلك في هذا المقام مذهب السلف الصالح: مالك، والأوزاعي، والثوري، والليث بن سعد، والشافعي، وأحمد بن حنبل، وإسحاق بن راهويه وغيرهم، من أئمة المسلمين قديما وحديثا، وهو إمرارها كما جاءت من غير تكييف ولا تشبيه ولا تعطيل

আসমান ও জমিনকে আল্লাহ ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, এই ছয় দিনের ব্যস্ততার পর আল্লাহ তাআলা আরশের উপর সমাসীন হন। আল্লাহ আরশের উপর সমাসীন এ স্থানে লোকেরা বহু মতামত পেশ করেছেন বহু জল্পনা-কল্পনা করেছেন। এগুলর ব্যাখ্যা দেওয়ার সুজোগ এখানে নেই। এ ব্যাপারে আমরা শুধু মাত্র পূর্ববর্তী সহীহ আমলকারী বিজ্ঞজনদের মতামত অবলম্বন করেছি। তারা হচ্ছেন ইমাম মালিক, আওযায়ী, সাউরী,লায়েস ইবন সাদ, শাফিঈ, আহমাদ ইবন হাম্বল, ইসহাক ইবন রাহওয়াহ এবং ইসলামের নবীন ও প্রবীন গ্রহণযোগ্য মুসলিম ইমামগন।

আর তাদের মতামত হচ্ছে এই যে, কোন রকম সাদৃশ্য স্থাপন ছাড়াই এইটার(আল্লাহ আরশে সমাসীন এইটার) উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। মোট কথা যা কিছু আল্লাহ তাআলা বলেছেন ওইটাকে কোন খেয়াল ও সন্দেহ ছাড়াই মেনে নিতে হবে এবং কোন চুল-চেরা বিশ্লেষণ করা চলবে না তাফসীরে ইবনে কাসীর, সূরা আরাফ, আয়াত নং ৫৪।

অর্থাৎ আল্লাহ বলেছেন তিনি আরশে সুতরাং কোন প্রকার বিশ্লেষণ ছাড়াই মেনে নিতে হবে যে আল্লাহ আরশে সমাসীন এবং আল্লাহ আরশে সমাসীন এইটার কোন সাদৃশ্য ও কল্পনা করা যাবে না কেননা কোন কিছুই তার মত নয়। এই বিষয়ে ইমাম মালেক রহ.কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,

الاستواء معلوم والكيفية مجهولة، والسؤال عنه بدعة، والايمان به واجب

আল্লাহ তাআলার আরশে ইস্তিওয়া এর বিষয়টি জানা যায়, কিন্তু অবস্থা অজানা। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা বিদআত। আর এ বিষয়ে ঈমান রাখা ওয়াজিব। তাফসীরে মানার. সূরা আল-ইমরান আয়াত নং৭। আশা করি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। আর আপনি ছেলেকে যা বলেছেন তা বলতে পারেন।

এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত আল-ফিকহুল আকবার, বঙ্গানুবাদ ও ব্যাখ্য এবং ইসলামী আকীদা বইটি। আমার আপনার ছেলের জন্য দুআ করি আল্লাহ তাকে দীনের দায়ী হিসাবে কবুল করুন।

প্রশ্নঃ 1096
মোবাইল এ বিয়ে করলে নাকি বিয়ে হইনা? তাইলে যারা প্রবাসে আছেন (মেয়ে) তাদের কেও বিয়ে করতে চাইলে তারা কি করতে পারে? এ ব্যাপার শরিয়ত এর বিধান কি? দয়া করে জানালে খুশি হবো।
04 Jan 2026

মোবইল বিয়ে হয় কি হয় না সে প্রশ্নের উত্তর জানার আগে বলুন ছেলে এবং মেয়ে দুই দেশে থেকে বিয়ে করবে কোন প্রয়োজনে? বিয়ে করে যে সব প্রয়োজনে তার কোন কিছু দুই দেশে থেকে কি পূরণ করা সম্ভব? তাহলে মোবাইলে বিয়ে করা কি নিরেট নির্বু্দ্ধিতা নয় কি? এবং দেশে এসে বিয়ে করা সঠিক কাজ না মোবাইলে বিয়ে করে জটিলতা পাকানো সঠিক? আমাকে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাঠান তারপর আমি আপনাকে বাকী কথাগুলো বলবে। বিজ্ঞ আলেমগণ এই সব মোবাইলে বিয়ে কে চরম ঘৃনা করেন।

প্রশ্নঃ 1094
নিচের হাদিসটি কি সহি? রেফারেন্স সহ বিস্তারিত জানতে চাই। তিন শ্রেনীর মানুষের উপর জান্নাত হারাম। ১। যারা নেশাদার দ্রব্য পান করে, যেমন গাঁজাখোর, মদখোর, জুয়ারিখোর, ফেন্সিডিলখোর,বিড়িখোর,হিরোইন খোর,মদখোর, আলাখোর,জর্দাখোর ইত্যাদি। ২। যারা পিতামাতার অবাদ্য তারা জান্নাতে যাবে না। ৩। দাউস, অর্থাত যে ব্যাক্তি তার পরিবারে পর্দ চালু রাখেনি।
04 Jan 2026

নিচের হাদিসটি কি সহি? রেফারেন্স সহ বিস্তারিত জানতে চাই। তিন শ্রেনীর মানুষের উপর জান্নাত হারাম। ১। যারা নেশাদার দ্রব্য পান করে, যেমন গাঁজাখোর, মদখোনিচের হাদিসটি কি সহি? রেফারেন্স সহ বিস্তারিত জানতে চাই। তিন শ্রেনীর মানুষের উপর জান্নাত হারাম। ১। যারা নেশাদার দ্রব্য পান করে, যেমন গাঁজাখোর, মদখোর, জুয়ারিখোর, ফেন্সিডিলখোর,বিড়িখোর,হিরোইন খোর,মদখোর, আলাখোর,জর্দাখোর ইত্যাদি। ২। যারা পিতামাতার অবাদ্য তারা জান্নাতে যাবে না। ৩। দাউস, অর্থাত যে ব্যাক্তি তার পরিবারে পর্দ চালু রাখেনি।র, জুয়ারিখোর, ফেন্সিডিলখোর,বিড়িখোর,হিরোইন খোর,মদখোর, আলাখোর,জর্দাখোর ইত্যাদি। ২। যারা পিতামাতার অবাদ্য তারা জান্নাতে যাবে না। ৩। দাউস, অর্থাত যে ব্যাক্তি তার পরিবারে পর্দ চালু রাখেনি।

প্রশ্নঃ 1093
মুহতারাম, আসসালামুয়ালাইকুম। মসজিদে নববী, রিয়াজুল জান্নাহ এবং আস্হাবে সুফফা এরিয়াতে সালাত এবং দুয়া করার ফজিলত দলিল সহ জানাবেন।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীসটি লক্ষ্য করুন:

1196- حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ ، عَنْ يَحْيَى ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ ، قَالَ : حَدَّثَنِي خُبَيْبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَا بَيْنَ بَيْتِي وَمِنْبَرِي رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ وَمِنْبَرِي عَلَى حَوْضِي

আবু হুরায়রা (রা) রাসুলুল্লাহ (সা:) থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেন: আমার ঘর ও মিম্বারের মাঝখানের জায়গাটি জান্নাতের রওজা (বাগান) সমুহের একটি রওজা (বাগান), আর আমার মিম্বরটি আমার হাওজের উপরে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৯৬।

এই হাদিস দ্বারা রওজার বিশেষ মর্যাদা বুঝা যায়। তবে রওজায় সালাত আদায় করার বিশেষ ফজিলতে কোন হাদিস রাসুলুল্লাহ (সা:) থেকে বর্ণিত হয়েছে বলে জানা নেই। এই জায়গার বিশেষ মর্যাদা থাকার কারনে মানুষ এখানে সালাত আদায় করার জন্য ভিড় জমায় ।

কোন কোন আলেম এই জায়গায় সালাত আদায় করলে জায়গার ফজিলতের কারনে সওয়াব বেশী হবে বলে মন্তব্য করেছেন। তবে সওয়াব বেশী হওয়ার জন্য দলিল প্রয়োজন। আর আহলে সুফ্ফার লোকেরা যেখানে ছিল ঐ জায়গার ফজিলতে কোন হাদিস বর্ণিত হয়েছে বলে জানা নেই। কোন আলেম এই জায়গার কোন গুরুত্ব দিয়েছেন বলেও জানা নেই।

প্রশ্নঃ 1092
আসসালামু আলাইকুম। বিভিন্ন ইন্টারনেট সাইটে নিচের হাদীসটির উদ্ধৃত্তি দেয়। হাদীসটির বিশুদ্ধতা জানতে চাই…. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন নারীকে বিবাহ করবে (কেবল) তার ক্ষমতার কারণে আল্লাহ তাআলা তার অসহায়ত্বই বৃদ্ধি করবেন। যে ব্যক্তি কোন নারীকে বিবাহ করবে তার সম্পদের লোভে, আল্লাহ তাআলা তার দারিদ্র্যই বৃদ্ধি করবেন, যে ব্যক্তি কোন নারীকে বিবাহ করবে তার বংশমর্যাদার কারণে আল্লাহ তাআলা তার হীনতাই বৃদ্ধি করবেন আর যে ব্যক্তি কোন নারীকে বিবাহ করবে নিজ দৃষ্টি সংযতকরণ, চরিত্রের হেফাযত ও আত্মীয়তা রক্ষার উদ্দেশ্যে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য তার স্ত্রীকে এবং স্ত্রীর জন্য তাকে কল্যাণময় করবেন। (তবারানী, আলআওসাত, হাদীস : ২৩৪২)
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। উক্ত হাদীসটি যয়ীফ জিদ্যান তথা চরম পর্যায়ের দূর্বল হওয়ার ব্যাপারে মুহা্িদ্দসগণ একমত। কোন কোন মুহাদ্দিস জাল বলেছেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন, সিলসিলাতুত যয়ীফাহ, হাদীস নং ১০৫৫; আল-ইসলাম সুয়াল ও  ওয়াাব, ফতোয়া নং২৩০২০২; মারকাযুল ফাতওয়া, ফাতওয়া নং ৩২২৭২।

প্রশ্নঃ 1091
নিচের হাদিসটি কি সহি? রেফারেন্স সহ বিস্তারিত জানতে চাই ।আযান ও ইকামতের মাঝে দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না
04 Jan 2026

আপনার উল্লেখিত হাদীসটির আরবী পাঠ হলো:

عن أنس بن مالك قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم الدعاء لا يرد بين الأذان والإقامة। 

সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ২১২; মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ১২৬০৬।

হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী সহীহ বলেছেন। শায়খ শুয়াইব আরনাউত ও শায়খ আলবানীসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণও সহী বলেছেন।

প্রশ্নঃ 1089
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। যদি জামাতে বা একা নামাজ পরার পর হটাত মনে পরে যে পরনের কাপড় বা শরীল পাক ছিল না। তখন কি করনীয়? এই নাপাকি যদি ফরজ গোসল সম্পর্কিত হয় বা পোচ্ছাব বা পায়খানা জনিত হয় তাহলে কি মাসয়ালা ভিন্ন হবে?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। কাপড় বা শরীর নাপাক থাকা অবস্থায় নামায আদায় করলে পূণরায় কাপড় ও শরীর পবিত্র করে নামায আদায় করতে হবে। নামায সহীহ না হওয়ার দিক দিয়ে সব সমান।

প্রশ্নঃ 1090
৩য় লিঙ্গ (হিজড়া) সম্পর্কে ইসলামের বিধান কি? সে যদি স্বাভাবিক পুরুষের মত মসজিদে গমন করে, তবে মসজিদের অন্যান্য পুরুষ মুসল্লির প্রতি তার কামনার উদ্রেক হতে পারে, এক্ষেত্রে সে কি করবে?
04 Jan 2026

হিজড়াও দুই প্রকার। কিছু দেখতে পুরুষের মত আবার কিছু মহিলার মত। যারা দেখতে পুরুষের মত তারা মসজিদে আসবে আর অন্যরা বাড়িতে পড়বে।

প্রশ্নঃ 1088
আসসালামু আলাইকুম। আমি ফজরের সময় বাসা থেকে সুন্নত পড়ে মসজিদে গিয়ে দেখলাম এখনো ফরজ নামাজ শুরু হতে কিছু দেরী হবে। তখন কি তাহিয়াতুল মসজিদের দুই রাকাত সুন্নত পড়তে পারবো নাকি বসে থাকব?অনেকে বলে ফজরের ফরজ ও সুন্নতের মাঝে কোন নামাজ নাই।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীসে ফজরের সুন্নাতের পর নামায পড়তে নিষেধ করা হয়েছে, আবার অন্য হাদীসে মসজিদে এসে নামায পড়তে বলা হয়েছে। এই কারণে বিষয়টি ইজতিহাদী হয়ে গেছে। সাহবীদের মধ্যেও এই বিষয়টিতে দুটি মত ছিল। পড়বে এবং পড়বে না। আপনি যে কোন একটির উপর আমল করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1086
আসসালামু আলাইকুম। ১. জামাতের সালাতে নিয়াত বাধার পর হেটে সামনের কাতারের ফাকা জায়গায় যাওয়া যাবে কিনা? গেলে কতটুকু পর্যন্ত হাটা যাবে? কেননা বড় জামাতে বিশেষ করে আমি দেখেছি মাসজিদুল হারামে বা নববিতে প্রায়ই নিয়াত বাধার পর সামনের কাতারের ফাকা জায়গা পুরন করতে হলে মাঝে মাঝে চার-পাচ কাতারও হাটতে হয়। সেক্ষেত্রে তা করা জায়েজ হবে কিনা? ২. জামাতের সালাতে মুক্তাদিদের কেও ভুলে তাশাহুদের পর দুরুদ ও দুয়া মাসুরা পরতে ভুলে গেলে এবং ইমামের সাথে সাথে সালাম ফিরালে সালাত কি সঠিক হবে? না আবার একাকি পরতে হবে? যাযাকুমুল্লাহ।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১. সামনের কাতার পূরণ করে সালাতের নিয়ত করা উচিৎ। তবে নিয়ত বাধার পর যদি সামনের কাতার ফাঁকা দেখে তাহলে সালাতের ভিতর হেঁটে গিয়ে কাতার সোজা করতে পারবে বলে আলেমগণ বলেছেন। শায়খ উসায়মিনসহ অন্যান্য আলেম উক্তমত পোষন করেছেন। বিস্তারিত জানতে ইন্টারনেটে শায়খ উসায়মিন রহ. এই প্রশ্নের উত্তরটি দেখুন। إذا رأى المصلي أمامه فرجة فماذا يفعل؟ এবং এই প্রশ্নের উত্তরটি। – حكم الحركة في الصلاة لسد فرجة في الصف দরুদ এবং দুআ মাসূরা না পড়রে সালাতের কোন ক্ষতি হবে না।

প্রশ্নঃ 1085
অন্ধ কারে নামাজ পড়া যাবে?
04 Jan 2026

অন্ধকার স্থানে নামায পড়াতে কোন সমস্যা নেই। নিচের হাদীসটি লক্ষ করুন,

عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهَا قَالَتْ: كُنْتُ أَنَامُ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرِجْلاَيَ، فِي قِبْلَتِهِ فَإِذَا سَجَدَ غَمَزَنِي، فَقَبَضْتُ رِجْلَيَّ، فَإِذَا قَامَ بَسَطْتُهُمَا، قَالَتْ: وَالبُيُوتُ يَوْمَئِذٍ لَيْسَ فِيهَا مَصَابِيحُ

অর্থ: হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাঃ এর সামনে ঘুমিয়ে থাকতাম। তখন আমার দুপা থাকতো তার সামনের দিকে। যখন তিনি সেজদা দিতে চাইতেন, তখন আমাকে [আলতু] খোঁচা দিতেন, আমি তখন পা গুটিয়ে নিতাম। আবার যখন তিনি দাঁড়িয়ে পড়তেন, তখন পা বিছাতাম। আয়শা রাঃ বলেন, সে সময় আমাদের ঘরে কোন বাতি ছিল না। সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৩৮২।

প্রশ্নঃ 1083
আল্লাহুম্মা বারিক লি ফিল মউত ও ফি মা বাদাল মউত দোয়াটির সঠিক দলিল জানতে চাই ।
04 Jan 2026

যে হাদীসটিতে দুআটি উল্লেখ আছে সে হাদীসটি সনদসহ নিম্নরুপ: 7676 – حدثنا محمد بن موسى الإصطخري ثنا الحسن بن كثير حدثتني نضرة بنت جهضم بن عبد الله بن أبي الطفيل القيسية عن أبيها عن يحيى بن أبي كثير عن ابي سلمة بن عبد الرحمن عن عائشة قالت قلت يا رسول الله ليس الشهيد إلا من قتل في سبيل الله فقال يا عائشة إن شهداء أمتي إذا لقليل من قال في يوم خمسة وعشرين مرة اللهم بارك في الموت وفيما بعد الموت ثم مات على فراشه أعطاه الله أجر شهيد হাদীসটি আলমুজামুল আলওসাত লি-ত্ববারানী কিতাবে উল্লেখ আছে। হাদীস নং ৭৬৭৬। হাদীসটি সহীহ বা গ্রহনযোগ্য নয়। হাদীসটি সম্পর্কে ইমাম হাইছামী রহ. বলেন, وفيه من لم أعرفهم এই হাদীসের মধ্যে কিছু রাবীকে আমি চিনি না।

প্রশ্নঃ 826
আসসালামু আলাইকুম, আশা করি আপনারা ভালো আছেন। কুরআনে বর্ণিত হূর (হূরুল আইন) সম্পর্কে একটি বিষয়ে আমি স্পষ্টতা জানতে চাই। কুরআনে উল্লেখিত হূর কি কেবলমাত্র নারী সত্তা, নাকি তারা লিঙ্গ-নিরপেক্ষ (gender-neutral)? আমি ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.)-এর একটি ব্যাখ্যার কথা জেনেছি, যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে কুরআনে ব্যবহৃত শব্দ ও আরবি ভাষাগত দৃষ্টিকোণ থেকে হূর শব্দটি লিঙ্গ-নিরপেক্ষ অর্থ বহন করতে পারে, এবং পরবর্তী ব্যাখ্যাগুলোতে একে প্রধানত নারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া আমার আরেকটি প্রশ্ন হলো—যদি হূর শব্দটি লিঙ্গ-নিরপেক্ষ হয়, তাহলে কি পুরুষ ও নারী উভয় মুমিনই তাদের প্রাপ্তির অন্তর্ভুক্ত হবেন? কারণ কুরআনে জান্নাতের নিয়ামত বর্ণনার সময় সাধারণত “মুমিনগণ”, “মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী” অথবা “যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে”—এই ধরনের সাধারণ সম্বোধন ব্যবহার করা হয়েছে, যা স্পষ্টভাবে উভয় লিঙ্গকেই অন্তর্ভুক্ত করে। হূর-এর উল্লেখও কি এই সাধারণ সম্বোধনের ধারাবাহিকতার মধ্যেই পড়ে? এ বিষয়ে কুরআনের আয়াত, আরবি ভাষার ব্যবহার এবং নির্ভরযোগ্য তাফসিরের আলোকে আপনাদের ব্যাখ্যা জানতে আগ্রহী। সম্ভব হলে অনুগ্রহ করে প্রাসঙ্গিক কুরআনের আয়াত ও আলেমদের মতামতের রেফারেন্স উল্লেখ করবেন। আপনাদের সময় ও দিকনির্দেশনার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। জাযাকাল্লাহু খাইরান।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।  কুরআনে বর্ণিত “হুর” নারী সত্তা। এই বিষয়ে কোন মতভেদ নেই। সব তাফসীর গ্রন্থতেই হুরদের নারী বলা হয়েছে। শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বাজ রাহি. বলেন, الحور العين نساء، نساء لا يعلم مقدار حسنهن وجمالهن إلا الذي خلقهن  হুর হলো নারী। এমন নারী যার সৌন্দর্যের পরিমাণ শধুমাত্র তিনিই জানেন যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন (অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা)। শায়েখের বক্তব্য বিস্তারিত জানতে দেখুন


প্রশ্নঃ 1084
আল্লাহু সুবহানাহু ওয়া তালার নিকট প্রার্থনা করি স্যার ডঃ খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ) প্রবর্তিত এই অনলাইন সেবাটি যেন চিরকাল থাকে। মুহতারাম, আল্লাহু জাল্লা জালালুহু ওয়া আম্মা নাওয়ালুহু ওয়া জাল্লা সানাউহু ওয়া তাকদ্দাসাত আস্মাউহু ওয়া আজমা শানুহু ওয়া লা ইলাহা গইরুহু … এই জিকির এর ফযিলাত ও দলিল জানতে চাই। মেহেরবানি করে জানাবেন। জাঝাকুমুল্লাহ খাইর।
04 Jan 2026

আমরাও আল্লাহর কাছে দুআ ও প্রার্থনা করি আমরা যেন আপনাদের জন্য আল্লহ তায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কিছু হলেও করতে পারি। এই জিকিরের বিষয়ে শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. হাদীসের নামে জালিয়াতি বইয়েরর (নতুন সংস্করণ) ৬১৩ পৃষ্ঠায় বলেছেন, (এই দুআর সম্পর্কিত ফজিলত উল্লেখ করার পর) এগুলো সবই ভিত্তিহীন কথা যা রাসূলুল্লাহ সা. এর নামে বলা হয়েছে। বিস্তারিত জানতে মূল বইটি দেখুন। এই দুআ যে পড়তে হবে তাও কোন গ্রহনযোগ্য হাদীসে উল্লেখ নেই। ফজিলত তো দূরের কথা।

প্রশ্নঃ 1082
আমার মা আসুস্থ, তিনি জানতে চান তাসাহুদে বসার ক্ষেত্রে মেয়েদের ডান ও বাম পা যেভাবে রাখা হয়, ঠিক তার উল্টাভাবে বাম ও ডান পা রাখা যাবে কি ?
04 Jan 2026

আমার মা আসুস্থ, তিনি জানতে চান তাসাহুদে বসার ক্ষেত্রে মেয়েদের ডান ও বাম পা যেভাবে রাখা হয়, ঠিক তার উল্টাভাবে বাম ও ডান পা রাখা যাবে কি ।

প্রশ্নঃ 1080
আখলাক ভালো করার কোনো কোরান ও সুন্না মোতাবেক কোনো দুআ আছে?
04 Jan 2026

আপনি ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত "রাহে বেলায়াত" বইটি দেখুন, ওখানে আপনার কাঙ্খিত সংকল দুআ পাবেন ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্নঃ 1081
Assalamualaiqum. Muhtaram, omuslimderkay ki Qurbanir ghusto deya jabay?
04 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, কুরবানীর গোশত অমুসলিমকে দেয়া জায়েজ।

প্রশ্নঃ 1079
বিতির নামাজ পড়ার নিয়মগুলো কি কি? দলিলসহ দিবেন। কুনুত পড়ার আগে কি হাত উঠাতে হবে।
04 Jan 2026

বিতর নামাযের অনেকগুলো নিয়ম আছে। আমাদের দেশে যে নিয়মে বিতর পড়া হয় তাও সহীহ। বিতরের মোট বারটি পদ্ধতি উল্লেখ করেছেন ইবনে হাযাম জাহেরী তার বিখ্যাত আল-মুহাল্ল কিতাবে। তার ভিতর তিনটি নিয়ম ড. শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রাহে বেলায়াত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। উক্ত নিয়মগুলোসহ বিতর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন রাহে বেলায়াত ৪২৩-৪৩০ পৃষ্ঠা। এছাড়া আমাদের দেয়া 0105, 0153 নং প্রশ্নের উত্তরে আপনি অনেক তথ্য জানতে পারবেন। সেগুলো দেখতে পারেন। কুনুতের সময় হাত উঠানো: ফজরের নামাযের কুনুতের সময় উমার রা. হাত উঠাতেন বলে বর্ণিত আছে। হাদীসটি হলো, عَنْ أَبِى عُثْمَانَ قَالَ : صَلَّيْتُ خَلْفَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَرَأَ ثَمَانِينَ آيَةً مِنَ الْبَقَرَةِ ، وَقَنَتَ بَعْدَ الرُّكُوعِ ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى رَأَيْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهِ ، وَرَفَعَ صَوْتَهُ بِالدُّعَاءِ حَتَّى سَمِعَ مَنْ وَرَاءَ الْحَائِطِ. অর্থ: আবী উসমান রহ. বলেন, আমি উমার রা. এর পিছনে নামায আদায় করলাম তিনি সূরা বাকারাহ থেকে আশিটি আয়াত তেলাওয়াত করলেন। তিনি রুকুর পরে কুনুত পড়লেন এবং তার দুহাত উত্তোলন করলেন এমন কি আমি তার বগলের সাদা অংশ দেখে ফেললাম। তিনি এতো উচ্চস্বরে দোয়া করলেন যে, দেয়ালের পিছনে যারা আছে তারাও শুনতে পেলো। আস-সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং৩২৭৪। একই হাদীস আরো দুটি সনদে তিনি উল্লেখ করেছেন। দেখুন ৩২৭৩ এবং ৩২৭৫ নং হাদীস। ৩২৭৫ নং হাদীসের পরে ইমাম বায়হাক্কী রহ. বলেছেন, وَهَذَا عَنْ عُمَرَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ صَحِيحٌ এটা উমার রা. থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত। উপরের হাদীসটি আরো বর্ণিত আছে মুসান্নিফে ইবনে আবি শায়বাতে। হাদীস নং ৭১১৪ এবং ৭১১৫। এই হাদীসটির সমস্ত বর্ণনাগুলো একত্র করলে দেখা যায় এটা ফজরের নামাযের ঘটনা। আর বিভিন্ন সনদে হাদীসটি বর্ণিত হওয়ায় হাদীসটি সহীহ কিংবা হাসান পর্যায়ের হবে। এই হাদীস থেকে বুঝা যায় দুআ কুনুত পড়ার সময় হাত উঠানো যায়। তবে হাত উঠিয়ে তিনি আমাদের দেশের মোনাজাত করার মত করতেন না কান পর্যন্ত উঠাতেন তা স্পষ্ট নয়। কোন কোন সাহবী থেকে বর্ণিত আছে যে, তারা মোনাজাতের মত করে হাত তুলতেন। আশা করি আপনি আপনার উত্তর পেয়েছেন।

প্রশ্নঃ 1078
আমি ব্যাক্তিগতভাবে তাবলীগ জামাত কে পছন্দ করি এবং মাঝে মাঝে সময় লাগাই। অনেক ওলামায়ে কেরামকে দেখেছি এই কাজের সাথে লেগে আছেন এবং অনেক মেহনত করছেন। আবার কিছু আলেমকে এর কড়া সমালোচনা করতে দেখেছি। আমরা যারা সাধারন মুসলিম, আমাদের কোরআন- সুন্নাহ এর গভীর এলেম নাই, আমরা কোন পথে যাই । যদি আসসুন্নাহ ট্রাস্ট এর সম্মানিত ওলামায়ে কেরামগণকে এই প্রশ্নের মাধ্যমে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে থাকি তাহলে আমি আল্লাহর ওয়াস্তে ক্ষমা প্রার্থী।
04 Jan 2026

তাবলীগ জামাত এবং অন্যান্য দাওয়াতী প্রতিষ্ঠান এবং যে কোন দায়ী কেউ ভুলত্রুটির ঊধ্বে নয়। তারা মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকছেন এটা নিঃসন্দেহ ভাল কাজ। তাদের ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে, এটা অসাভাবিক নয়। সম্ভব হলে উত্তম পন্থায় তাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে পারেন। তবে এই সব ভুল-ত্রুটির কারণে অহেতুক সমালোচনা কোন কাজে আসে না। এই প্রসঙ্গে শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক সহীহ দাওয়াত দেয়ার জন্য অন্য কোন দল বা মতের সমালোচনা মূলত কোনো ভাল ফল দেয় না। এতে এসকল দলের কেউ পরিবর্তনও হয় না। আপনি তাদের সাথে দাওয়াতে কাজে অংশ নিবেন, আপনি ভাল কাজের মধ্যে আছেন। তবে কোন কাজ কুরআন-সুন্নাহর মুখালেফ মনে হলে তা করবেন না।

প্রশ্নঃ 1077
১.অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি হারাম? ২.ডিজিটাল / ইন্টারনেট মার্কেটিং কি হারাম? ৩.গুগল অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে টাকা আয় করা কি হারাম?
04 Jan 2026

এগুলোর ধরন বিস্তারিত জানালে উত্তর দিতে সহজ হবে। শুকরান।

প্রশ্নঃ 1076
আসসালামুয়ালাইকুম। মুহতারাম, কোন একটি নির্দিষ্ট মাযহাক অনুসারে আমল করা কি সকলের জন্য ওয়াজিব? যদি সকলের জন্য ওয়াজিব না হয় তাহলে এমন কোন মাপকাঠি বা শিক্ষাগত যোগ্যতা কি নির্দিষ্ট আছে যাদের কাছে যাওয়া ওয়াজিব? উত্তর ওয়া আলাইকুমুস সালাম। একজন মুসলিমের জন্য কুরআন-সুন্নাহ মানা ফরজ। সুতরাং একজন মুসলিমকে কুরআন-সুন্নাহই মানতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ মুসলিম এবং সাধারণ আলিমগণ কুরআন-সুন্নাহ থেকে মাসআলা-মাসায়েল জানতে অক্ষম। তাই তাদেরকে এমন কাউকে না কাউকে অনুসরণ করতে হবে যে কুরআন-সুন্নাহ থেকে মাসআলা জানতে সক্ষম। আর এভাবে কাউকে অনুসরণ করার নামই মাজহাব। তার মধ্যে চারটি মাজহাব প্রসিদ্ধ। আর এর কোন একটি মানাই সাধারণ মুসলিমের জন্য নিরাপদ । কোন মাসআলার দলীল যয়ীফ হলে আপনি কোন বিজ্ঞ আলেমের পরামর্শে সহীহ দলীল অনুযায়ী আমল করতে পারেন তবে কখনোই নিজের সিদ্ধান্ত নিবেন না। আর যারা কুরআন-সুন্নাহ থেকে মাসআলা জানতে সক্ষম তাদের তো কাউকে অনুসরণের প্রয়োজন নেই। তবে এমন ব্যক্তি পৃথিবীতে খুব কমই আছে। এই ধরণের একটি প্রশ্নের জবাবে আমাদের দেয়া 0155 নং প্রশ্নের উত্তরে শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. ইংরেজীতে লিখেছিলেন, What you do is the same that the followers of Madhabs do. They also accept some scholars and follow them. The main duty of a Muslim is to follow the Quran and Sunnah. But the most of the muslims can not study them. So the depend of mazhabs or scholars. You should try your best to study the Quran and sunnah yourself. If not possible, you should follow one Alim and make your decision depending on Sunnah, not on your personal trend or choice.।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। একজন মুসলিমের জন্য কুরআন-সুন্নাহ মানা ফরজ। সুতরাং একজন মুসলিমকে কুরআন-সুন্নাহই মানতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ মুসলিম এবং সাধারণ আলিমগণ কুরআন-সুন্নাহ থেকে মাসআলা-মাসায়েল জানতে অক্ষম। তাই তাদেরকে এমন কাউকে না কাউকে অনুসরণ করতে হবে যে কুরআন-সুন্নাহ থেকে মাসআলা জানতে সক্ষম। আর এভাবে কাউকে অনুসরণ করার নামই মাজহাব। তার মধ্যে চারটি মাজহাব প্রসিদ্ধ। আর এর কোন একটি মানাই সাধারণ মুসলিমের জন্য নিরাপদ । কোন মাসআলার দলীল যয়ীফ হলে আপনি কোন বিজ্ঞ আলেমের পরামর্শে সহীহ দলীল অনুযায়ী আমল করতে পারেন তবে কখনোই নিজের সিদ্ধান্ত নিবেন না। আর যারা কুরআন-সুন্নাহ থেকে মাসআলা জানতে সক্ষম তাদের তো কাউকে অনুসরণের প্রয়োজন নেই। তবে এমন ব্যক্তি পৃথিবীতে খুব কমই আছে। এই ধরণের একটি প্রশ্নের জবাবে আমাদের দেয়া 0155 নং প্রশ্নের উত্তরে শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. ইংরেজীতে লিখেছিলেন, What you do is the same that the followers of Madhabs do. They also accept some scholars and follow them. The main duty of a Muslim is to follow the Quran and Sunnah. But the most of the muslims can not study them. So the depend of mazhabs or scholars. You should try your best to study the Quran and sunnah yourself. If not possible, you should follow one Alim and make your decision depending on Sunnah, not on your personal trend or choice.

প্রশ্নঃ 1075
আসসালামু আলাইকুম! ফোনে কথা বলার শুরুতে Hello বলা যাবে কী? শুনেছি সৌদি ফাতওয়া বোর্ড এটা বলা হারাম ঘোষণা করেছে। জাজাক আল্লাহ খায়ের!
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যালো বললে কোন সমস্যা আছে বলে মনে হয় না।

প্রশ্নঃ 1074
আসসালামু আলাইকুম। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে শিক্ষাবৃত্তি দিয়ে থাকে। মেধার ভিত্তিতে এগুলো দিয়ে থাকে। এগুলো কি বৈধ হবে?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সুদ-ভিত্তিক ব্যাংক থেকে দেয়া মেধাবৃত্তি নেয়া জায়েজ নেই। কারণ তাদের সকল আয়ের মূল হলো সুদ।

প্রশ্নঃ 1073
মুহতারাম আসসালামু আলাইকুম। প্রশ্ন: আমি কোন এক সময় Business করার জন্য আমার এক নিকট আত্ত্বিয়ার কাছ থেকে সুদে কিছু টাকা নিয়ে Business করি শুরু থেকেই আমি জানতাম এটা গুনাহের কাজ এবং সব সময় আমি তওবা করতাম এবং আর কখনো এধরনের পাপ করবো না বলে মনস্থির করি তার পরেও একই পাপ বারবার হয়ে যায় আল্লাহ মাফ করুন। এখন প্রশ্ন হলো যখন কারো কাছ থেকে সুদে টাকা নেই তখন তার সাথে আমার একটি চুক্তি হয়। এখন আমি যদি তাকে সুদের টাকা না দিয়ে শুধু আসল টাকা ফেরত দেই এবং সে যদি সুদের টাকার দাবি না ছারেন তাহলে আমার কি করনীয়। দয়া করে রেফারেন্সসহ জানাবেন। মা-আসসালাম।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি জেনে-শুনে গুনাহতে লিপ্ত হয়েছেন। সুদের উপর টাকা নিয়েছেন। এখান আমরা আপনাকে কী বলব? দেখেন, সে যদি সুদ ছাড়া টাকা নিতে রাজী হয় তাহলে তো ভাল, আর নিতে রাজী না হলে দ্রুত সুদসহ টাকা পরিষোধ করেন, এছাড়া আর কী করার আছে। তবে সুদ-দেয়া নেয়া গুনাহ,সুতরাং আপনাকে গুনাহের ভাগ নিতেই হবে। আপনি আল্লাহর কাছে তাওবা করুন, ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকুন,যেন তিনি আপনাকে ক্ষমা করে দেন। আমরাও এই দুআ করি।

প্রশ্নঃ 1072
তাজবীদ সহকারে কুরআন পাঠ করা কতটা জরুরি?
04 Jan 2026

অর্থের পরিবর্তন যেন না হয় এতটুকু তাজবীদের সাথে কুরআন পড়া আবশ্যক, একান্ত জরুরী। এর বাইরে যতটা সম্ভব ভাল করে পড়ার চেষ্টা করবেন।

প্রশ্নঃ 1071
তাহাজ্জুদ নামাজ কি প্রতিদিন এবং কোনো বন্ধ না দিয়া পড়া জায়েজ আছে?
04 Jan 2026

হ্যাঁ, তাহাজ্জুদ নামায প্রতিদিন কোন বিরতী ছাড়া পড়া জায়েজ আছে।

প্রশ্নঃ 1070
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ১. বাচ্চা দের অনেকেই নগদ টাকা,অলংকার,জামা কাপড় উপহার দেয়। এই টাকা বাবা মা তাদের প্রয়োজনে/সংসার এর প্রয়োজনে/বাচ্চার জন্যে খরচ করতে পারবে কি? ২. উপহার পাওয়া জামাকাপড় অন্য কাউকে দান বা উপহার দিতে পারবে কি? ৩. উপহার পাওয়া অলংকার বাবা মা ব্যবহার করতে বা অন্য কাউকে উপহার দিতে পারবে কিনা?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বাচ্চাদের উপহার দেয়া টাকা পয়সা বাব-মা নিজেদের সাংসারিক প্রয়োজনে খরচ করতে পারবে না তবে বাচ্চার জন্য খরচ করতে পারবে। তেমনি উপহার দেয়া জামা কা্পড় অলংকারের মালিকও বাচ্চা, বাবা-মা তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।

প্রশ্নঃ 1069
আসসালামু আলাইকুম। নামাজ নিয়ে আমার ৩ টা প্রশ্ন: ১.স্যার এর একটা ভিডিও তে শুনলাম নামাজে মেয়েদের মুখ এবং হাত ছাড়া সারা শরীর ঢেকে রাখা ফরজ,তাহলে কি পায়ের পাতাও ঢেকে রাখা ফরজ? ২.আমি রুকু থেকে সেজদাহ তে যাবার সময় আল্লাহু আকবার বলে বসি তারপর আবার আল্লাহু আকবার বলে সেজদাহ করি। তেমনি ভাবে আল্লাহু আকবার বলে সেজদাহ থেকে বসি,আবার আল্লাহু আকবার বলে বসা থেকে উঠে দাঁড়াই। এই ২ বার করে বলা তে কি আমার নামাজ নষ্ট হয়ে যায়? ৩.বাসায় সাধারণত চুলটা একটু উঁচু করেই পাঞ্চ ক্লিপ দিয়ে বেঁধে রাখি,এভাবেই নামাজের বড় হিজাব পরে নামাজ পড়ি। এভাবে কি নামাজের কোনো ক্ষতি হয়? উটের কুঁজের মতো যে হিজাব এর কথা বলা হয় (কঠিন গুনাহ) এটা একটু বুঝিয়ে বলবেন দয়া করে। আসলে মেয়েদের চুল বাধার সুন্নাহ পদ্ধতি কি?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১. পা সতরের অংশ কিন তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছ। একদল আলেম বলেন, সতরের অংশ। আরেক দল বলেন, অংশ নয়। হানাফী মাজহাবের আলেমগণের মতে অংশ নয়। সুতরাং পায়ের পাতা না ঢাকলেও নামায সহীহ হয়ে যাবে। তবে ঢেকে রাখা ভাল। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আল-ইসলাম সুয়াল ও জওয়াব, ফতোয়া নং 193034(আরবী)। ২. আপনি একবারই আল্লাহু আকবার বলবেন, দুবার বলবেন না। আপনার নামায নষ্ট হযেছে তা আমি বলবো না তবে সু্ন্নাত হলো একবার বলা। আপনি দুবার বলা থেকে অবশ্যই বিরত থাকবেন। ৩. এভাবে চুল বেঁধে নামায সহীহ হবে। বাইরে বের হওয়ার সময় চুল উপরের দিকে উঠিয়ে বাধবেন না। চুল কিভাবে বাঁধবেন বিস্তারিত জানতে দেখুন, শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত কুরআন-সুন্নাহর আলোকে পোশাক, পর্দা ও দেহ-সজ্জা বইটি।

প্রশ্নঃ 1068
আসসালামু আলাইকুম! ১। শ্বশুর শ্বাশুড়ীকে সেবা করা কি বউয়ের উপর ফরয, নাকি নফল? ২। স্বামী কি তাকে স্বামীর মায়ের বাবা মায়ের সেবা করতে বাধ্য করতে পারবে? ৩। স্ত্রী যদি শ্বশুর শ্বাশুড়ীর সাথে না থেকে স্বামীর সাথে আলাদা বাড়ি বা বাসায় থাকতে পারবে? এক্ষেত্রে যদি থাকে তাহলে স্বামীর কি গুণাহ হবে? ৪। একজন স্ত্রীর হ্বক কি কি? উত্তরগুলো জানা খুবই জরুরী। ইসলামের আলোকে জানালে উপকৃত হবো।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, প্রথমেই আপনাকে বলি আইন আর কর্তব্যের মাঝে আপনাকে ভাগ করতে হবে। শান্তিতে বসবাস করতে হলে আপনাকে কর্তব্য পালন করতে হবে শুধু আইন মানলে শান্তি আসবে ন। আপনার স্ত্রী আইনত তার শ্বশুর-শ্বাশুড়ীর খেদমত করতে বাধ্য নন কিন্তু তার কর্তব্য হলো তাদের খেদমত করা। আপনার ভাষায় ফরজ নয় নফল। সুতরাং স্বামী বাধ্য করতে পারবে না তবে উৎসাহিত করবে, বিষয়টির গুরুত্ব স্ত্রীকে বুঝাবে। স্ত্রীর হক সমূহের অন্যতম একটি হলো স্ত্রী যদি পৃথম বাড়িতে থাকতে চাই তাহলে তার সেই দাবী স্বামীকে মানতে হবে। তবে এক্ষেত্রে পিতা-মাত যেন অসন্তুষ্ট না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে অর্থাৎ পিতা-মাতকে বিষয়টি ভালভাবে যে কোন উপায়ে বুঝাতে হবে। স্ত্রীর কয়েকটি হক হলো তার খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের ব্যবস্থা স্বামীকে করতে হবে। তার সাথে যৌন-কার্যকালাপ করতে হবে ইত্যাদি।

প্রশ্নঃ 1067
আসসালামু আলাইকুম। আসসুন্নাহ ট্রাস্ট এর সম্মানিত ওলামায়ে কেরাম এর নিকট দোয়ার দরখাস্ত। ইয়া আউয়ালাল আউয়ালিন- ইয়া আখিরল আখিরীন- ইয়া যাল কুয়াতাল মাতীন- ইয়া রহীমাল মাসাকীন- ইয়া আরহামার রহিমীন … এই জিকির এর সঠিক আরবি বানান, ফযিলাত ও দলিল জানতে চাই। মেহেরবানি করে জানাবেন।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার দুআর আরবী পাঠ হলো: يَا أَوَّلَ الأَوَّلِينَ يَا آخِرَ الآخَرِينَ ذَا الْقُوَّةِ الْمَتِينَ وَيَا رَاحِمَ الْمَسَاكِينِ وَيَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ। একটি হাদীসে আছে ফাতেমা রা. রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে খাবার চাইলে তিনি তাকে এই দুআ পড়তে বলেন, এর বাইরে অন্য কোন ফজিলত আছে বলে আমাদের জানা নেই। । হাদীসটির আরবী পাঠ নিম্নরূপ: عَنْ سُوَيْدِ بْنِ غَفَلَةَ قَالَ أَصَابَتْ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَاقَةٌ فَقَالَ لِفَاطِمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا لَوْ أَتَيْتِ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلْتِيهِ وَكَانَ عِنْدَ أُمِّ أَيْمَنَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا فَدَقَّتِ الْبَابَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لأُمِّ أَيْمَنَ إِنَّ هَذَا لَدَقُّ فَاطِمَةَ وَلَقَدْ أَتَتْنَا فِي سَاعَةٍ مَا عَوَّدَتْنَا أَنْ تَأْتِيَنَا فِي مِثْلِهَا فَقُومِي فَافْتَحِي لَهَا الْبَابَ قَالَتْ فَفَتَحْتُ لَهَا الْبَابَ فَقَالَ يَا فَاطِمَةُ لَقَدْ أَتَيْتِنَا فِي سَاعَةٍ مَا عَوَّدْتِنَا أَنْ تَأْتِينَا فِي مِثْلِهَا فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ هَذِهِ الْمَلائِكَةُ طَعَامُهَا التَّسْبِيحُ وَالتَّحْمِيدُ وَالتَّمْجِيدُ فَمَا طَعَامُنَا قَالَ وَالَّذِي بَعَثَنِي بِالْحَقِّ مَا اقْتَبَسَ فِي آلِ مُحَمَّدٍ نَارٌ مُنْذُ ثَلاثِينَ يَوْمًا وَقَدْ أَتَانَا أَعْنُزٌ فَإِنْ شِئْتِ أَمَرْتُ لَكِ بِخَمْسَةِ أَعْنُزٍ وَإِنْ شِئْتِ عَلَّمْتُكَ خَمْسَ كَلِمَاتٍ عَلَّمَنِيهِنَّ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلامُ آنِفًا قَالَتْ بَلْ عَلِّمْنِي الْخَمْسَ كَلِمَاتٍ الَّتِي عَلَّمَكَهُنَّ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلامُ قَالَ قُولِي يَا أَوَّلَ الأَوَّلِينَ يَا آخِرَ الآخَرِينَ ذَا الْقُوَّةِ الْمَتِينَ وَيَا رَاحِمَ الْمَسَاكِينِ وَيَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ قَالَ فَانْصَرَفَتْ حَتَّى دَخَلَتْ عَلَى عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا فَقَالَتْ ذَهَبْتُ مِنْ عِنْدِكِ إِلَى الدُّنْيَا وَأَتَيْتُكَ بِالآخِرَةِ قَالَ خَيْرًا يَأْتِيكِ خَيْرًا يَأْتِيكِ তবে হাদীসটি বিভিন্ন কারণে যয়ীফ।হাদীসটিকে ইমাম জাহাবীসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ যয়ীফ বা দূর্বল বলেছেন। হাদীসট সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে এই ঠিকানায় যেতে পারেন

প্রশ্নঃ 1066
আসসালামু আলাইকুম, আমাদের গ্রামে গরু বর্গা দেয়ার নিম্মক্ত পদ্ধতিটি চালু আছে। একজন ব্যক্তি ২০,০০০ টাকায় একটি গরু ক্রয় করে সেই গরুটি অন্য আরেকজনের নিকট বর্গা দেয়। আর শর্ত থাকে এমন… বর্গা নেয়া ব্যক্তি গরুটি লালন পালন করবে আর কিছু সময় পর গরুটি বিক্রি করলে, বিক্রি কৃত টাকা থেকে গরুর আসল মালিকের ২০,০০০ টাকা বাদ দিয়ে বাকি টাকা ২ জন সমান করে ভাগ করে নিবে। আপনার কাছে প্রশ্ন হল, এই ভাবে কি গরু বর্গা দেয়া শরীয়ত সম্মত কিনা? আশা করি উত্তর টি জানাবেন? আর জায়েজ হলে তো ভাল, জায়েজ না হলে শরীয়তের উত্তম বেবস্থা টাও জানালে উপকৃত হব।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল রহ. এর মতে উক্ত পদ্ধতি জায়েজ আছেে। এই বিষয়ে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন, وَلَوْ دَفَعَ دَابَّتَهُ أَوْ نَخْلَةً إلَى مَنْ يَقُومُ بِهِ وَلَهُ جُزْءٌ مِنْ ثَمَانِيَةٍ صَحَّ، وَهُوَ رِوَايَةٌ عَنْ أَحْمَدَ অর্থ: যদি কোন ব্যক্তি কাউকে পশু কিংবা গাছ লালন-পালন বা দেখা-শোনার উদ্দেশ্যে দেয় আর তার জন্য তার (পশুর বা ফলের) একটি অংশ নির্ধারণ করা হয় তাহলে সহীহ হবে। এটা ইমাম অহমাদ থেকে বর্ণিত। হানাফী মাজহাবে জায়েজ নেই। তবে হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী রহঃ বলেছেন-এ পদ্ধতিটি হাম্বলী মাযহাবে জায়েজ। তাই কোন এলাকায় যদি এটি ব্যাপক প্রচলন হয়, আর এ ছাড়া আর কোন পদ্ধতি সহজ না হয়, তাহলে উক্ত পদ্ধতিটি হাম্বলী মাযহাব অনুযায়ী আমাদের মাযহাবেও জায়েজ হিসেবে করা যাবে। {ইমদাদুল ফাতওয়া-৩/৩৪২-৩৪৩} সুতরাং বর্তমানে এটা জায়েজ হিসাবেই ধরা হবে,তবে বিরত থাকা উত্তম।

প্রশ্নঃ 1065
মুহতারাম, নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠার এবং কম ঘুমিয়ে (৩ -৪ ঘণ্টা ঘুমিয়ে) শরীর সুস্থ রাখার কোন আমল আছে কি? বিশেষ করে, কিয়ামুল্লাইল এর অভ্যাস কিভাবে করা যেতে পারে? মেহেরবানি করে পরামর্শ দিবেন।
04 Jan 2026

কিয়ামুল্লাইল এর জন্য আপনাকে ঘুম খুব একটা কমাতে হবে না। আপনি একটু আধা ঘন্টা বা ৪৫ মিনিট আগে ঘুমাবেন আর ফজরের সালাতের সময় শুরু হওয়ার ৩০-৪০ মিনিট পূর্বে ঘুম থেকে উঠবেন। দশ মিনিটে পবিত্র হয়ে সালাত শুরু করবেন। ফজর শুরুর আগ পর্যন্ত ২০-৩০ মিনিট সময় পাবেন। এভাবে আপনি কিয়ামুল্লাইল নিয়মিত আদায় করতে পারেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কিয়ামুল্লাইল আদায় করার তাওফীক দিন।

প্রশ্নঃ 1064
আসসালামুয়ালাইকুম। মুহতারাম, হাজ্জ পরবর্তী চল্লিশ দিন দুআ বা ইবাদাত কবুলের কোন দলিল আছে কি? হাদিস থেকে জানাবেন।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই ধরনের কোন হাদীস আছে বলে আমাদের জানা নেই।

প্রশ্নঃ 1063
চার রাকাত সুন্নাত নামাজে সুরা ফাতেহার পর ১ম রাকাতে সুরা ইখলাস, ২য় রাকাতে সুরা ফীল, ৩য় রাকাতে সুরা নাস এবং শেষ রাকাতে সুরা মাউন পড়লে কোন সমস্যা আছে কি? রাকাতের ক্রম এর সাথে আয়াত বা সুরার ক্রম এর সামঞ্জস্য রাখার ব্যাপারে মাসআলা জানতে চাই।
04 Jan 2026

সূরার ধারাবাহিকতা রক্ষা করাকে আলেমগণ মুস্তাহাব বলেছেন। তবে ক্রম বা ধারাবাহিকতা রক্ষা না করলে নামাযের কোন ক্ষতি হবে না।

প্রশ্নঃ 1062
দাস-প্রথা বা মানুষ কেনা বেচা ইসলাম সমর্থন করে কি? এ ব্যাপারে মাসআলা জানতে চাই। কোরআন ও সুন্নাহ এর আলোকে দাস-প্রথা সম্পর্কে বাংলায় লিখিত কোন বই আছে কি? মেহেরবানি করে জানাবেন । জাঝাকাল্লাহ খাইর।
04 Jan 2026

ইসলাম দাস-প্রথা সমর্থন করে না। তবে সে সময় দাস প্রথার ব্যপকতা থাকার কারণে ইসলাম পুরোপুরিভাবে এটা নিষিদ্ধ করে নি। কিন্তু দাস আজাদ তথা স্বাধীন করার জন্য বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করেছে। সাহাবাগণ ব্যাপকভাবে দাস তথা গোলাম আজাদ করেছেন। এবং ইসলাম ধর্মে বিভিন্ন পাপের কাফফারা সরূপ গোলাম আজাদ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই বিষয়ে মুহাম্মাদ কুতুব রাহ. লিখিত বাংলায় অনুবাদকৃত ভ্রান্তির বেড়াজালে ইসলাম বইটিতে খুবই চমৎকার আলোচনা করা হয়েছে। আপনি অবশ্যই বইটি সংগ্রহ করে পড়বেন।

প্রশ্নঃ 1061
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, বাংক থেকে লোন নিয়ে কি বাডি করা যাবে?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সুদের চু্ক্তিতে ব্যাংক থেকে ঋন নিয়ে বাড়ি করা যাবে না।

প্রশ্নঃ 1060
আসসালামুয়ালাইকুম। মুহতারাম, দয়া করে জানাবেন চাকুরী পাওয়ার জন্য কোন দুআ পড়বো?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।চাকরীর জন্য এবং যে কোন প্রয়োজনের জন্য রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো নফল সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। এছাড়া কুরআনের এই দআটিও বারবার পড়বেন, رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ এবং রুটি রুজির বরকতের জন্য এই দুআটি দুই সাজদার মাঝে এবং অন্যান্য সময় পাঠ করুন। اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى وَارْحَمْنِى وَاهْدِنِى وَعَافِنِى وَارْزُقْنِى

প্রশ্নঃ 1059
আসসালামুয়ালাইকুম। মুহতারাম, সহবাস porobirti ফরজ গুসলের পর কনো isttir গোপনাঙ্গ (ভাগিনা) ঠেকায় যদি যৌন তাড়না চারাই কিছু পরিমান তরল (গলাটাই ধরনের) বেরিয়ে যাই, tobeki আবার তাকায় ফরজ ঘোষল কর্তায় হুবাই, নাকি শুধু উজু করেই নামাজ পরোটায় পারবেও?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ওযু করে নামায পড়লেই হবে, এমনই মনে হচ্ছে। কারণ ঐ রক্ত তো মাসিক নয়। তাই তাকে গোসল করতে হবে না।

প্রশ্নঃ 1058
আসসালামুয়ালাইকুম। মুহতারাম, কোন কোন বইতে ডায়াবেটিস, কিডনী রোগ, গুপ্তাঙ্গের রোগ ইত্যাদীর জন্য পৃথক পৃথক আমল ও দুআ আছে। শরিয়াতসম্মত বা সুন্নাহসম্মত কোন আমল ও দুআ থাকলে সেগুলো জানাবেন দয়া করে।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত রাহে বেলায়াত গ্রন্থটির ষষ্ঠ অধ্যায়টি পড়ুন সেখানে রোগব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়ার অনেকগুলো সহীহ দুআ উল্লেখ আছে।

প্রশ্নঃ 1057
স্যার আজকে আমাদের এলাকায় একটু দুরবর্তি স্থানে একটি ঈদগাহ পুরো জায়গাজুরেই কবরস্থান যদিও মাঝখানে একটি দেয়াল আছে। এতে কি আসলে কি কোন সমস্যা আছে? যদি বিষয়টা মারাত্মক অনুচিত হয় ইসলামি শরিয়তে তাহলে আমি এই ঈদগাহ কমিটিকে বিষয়টা অবগাহ করব ইন শা আল্লাহ্ জাযাকাল্লাহ!
04 Jan 2026

না, এতে কোন সমস্যা নেই। তাদের নামাযের কোন্ ক্ষতি হবে না।

প্রশ্নঃ 1056
প্রিয় স্যার আশা করছি আল্লাহ্ সুবহানুতায়ালার অশেষ রহমতে ভালো আছেন। স্যার আপনাদের এই দ্বীনি কাজ আল্লাহ্ সুবহানুতায়ালা কবুল ও মঞ্জুর করুন। আমিন। স্যার, আমি একটা শহরের মসজিদে দেখলাম যে অজু করার স্থানে একটা টুথ পাউডার এর পেকেট দেয়া আছে যাহাতে অজু করার আগে কোন মুসল্লি চাইলে একটু আংগুল দিয়ে দাত ব্রাস করে তারপর অজু করে নিতে পারে। বিষয়টা দেখে আমার ভালোই লাগল। তাই আমি ভাবলাম আমার মহোল্লার মসজিদে অজুর স্থানে কয়েকটা টুথ পাউডার দিয়ে দিলে তো ভালোই হয়। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম দিবো। কিন্তু হঠাৎ মনে পড়ল নবীজির (সঃ) সুন্নত তো অজু বা সলাতের আগে মেসওয়াক করা। এখন যদিও ভালো কাজ কিন্তু হতে পারে খেলাফে সুন্নাত। তাই আমি আসলে ডিসিশন নিতে পারছি না এটা করা ঠিক হবে কিনা। আপনার একান্ত মতামত চাই। আল্লাহ্ সুবহানুতায়ালা আপনাকে জাযাখায়ের দান করুন। আমিন।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি চাইলে করতে পারেন। শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহ. বলতেন এখানে পরিস্কার করাই মূল উদ্দেশ্য। আর এটা টুথ পাওডার এবং আঙ্গল দ্বারা হতে পারে। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1055
আসসালামু আলাইকুম। আমি একটি ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে জড়িত। এই সংগঠনে যাকাতের টাকা সংগ্রহ করা হয় এবং বিভিন্ন কাজে ব্যয় করা হয়। তারা বলে এই টাকাটা জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ খাতে গ্রহন করা হয়। এভাবে টাকাটা গ্রহন করা কি প্রকৃত পক্ষে শরীয়াতসম্মত হচ্ছে?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। কুরআনে কারীমের ফি সাবিল্লিাহ বলতে জিহাদকারীদেরকে বুঝানো হয়েছে। এটাই মুফাসসিরদে মত। পরবর্তী কোন কোন আলেম বলেছেন যে কোন দ্বীনি কাজই উদ্দেশ্যে। এটা ঠিক নয়। বিস্তারতি জানতে তাফসীরগ্রন্থগুলো দেখতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1054
স্কুল অথবা কলেজে শিক্ষকতা করা যাবে কি, যেখানে ছেলে ও মেয়েদের এক সাথে ক্লাস নিতে হয়।
04 Jan 2026

নারী-পুরুষের অবাধ মেলা-মেশা ইসলাম সমর্থন করে না। তাই এই ধরনের প্রতিষ্ঠান চাকুরী থেকে বিরত থাকা দরকার। একান্ত বাধ্য না হলে এমন প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করা উচিৎ। আর একান্ত বাধ্য হলে অন্য প্রতিষ্ঠান চাকুরী খোঁজ করতে থাকুন আর এখানে প্রয়োজনীও সতর্কতার সাথে কাজ করতে থাকুন। এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান।

প্রশ্নঃ 1053
Gopononanger rog thekay rokkha petay onekay ekti dua (Yaa Maliku, Yaa Qudduso) poray thakay. Etikii sunnah sommpto, jayej ba najayej? Kono Sohih, Hassan ba Joif Hadis daraki eti promanito?
04 Jan 2026

রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়ার অনেকগুলো সহীহ দুআ রাহে বেলায়াত গ্রন্থে উল্লেখ আছে। আপনি সেগুলো দেখতে পাবেন। আপনি যে আমলের কথা বলেছেন তা আমরা কোন সহীহ বা যয়ীফ হাদীসে পাই নি।

প্রশ্নঃ 1052
আসসালামুয়ালাইকুম। আমি বিতর নামাজ প্রথমে ২ রাকাত পড়ে সালাম ফিরে পরে ১ রাকাত পড়ি। ১ রাকাতে সূরা ফাতিহা এবং অন্য সুরার পর পরই দোয়া কুনুত রুকুর আগে পড়ি। এখন মনে হচ্ছে যে অন্য সূরা এবং দোয়া কুনুত একই সূরা। মাজখানে তাকবির বা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পড়ি না। আমার নিয়ম কি ঠিক আছে? আমার প্রশ্ন নিচে দেওয়া হল। বিতর নামাজে দোয়া কুনুত পড়তে ভুলে গেলে কি সাহু সিজদা দিতে হবে? দোয়া কুনুত পড়ার আগে কি বিসমিল্লাহির রাহ মানির রাহিম পড়তে হবে? দোয়া কুনুত পড়ার আগে (ফাতিহা+অন্য সুরার পর পরই) আল্লাহু-আকবর বলতে হবে? আল্লাহু-আকবর বলে প্রচলিত নিয়ম অনুযাই হাত তুলতে হবে?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কোন আমলই না জেনে করা আমারদের জন্য ভাল কাজ নয়। আমল করার অগে আমাদের উচিৎ বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞাত ব্যক্তির নিকট থেকে জেনে নেয়া। এবার আপনার প্রশ্নে আসি। ১. হ্যাঁ, সাজদায়ে সাহু ওয়াজি হবে। ২. না, পড়তে হয় না। ৩. হ্যাঁ, আল্লাহু আকবার বলতে হবে। ৪. প্রচলিত নিয়মে তুললেও সহীহ হবে। আবার ভিন্ন নিয়মও আছে। তাকবীর দিয়ে কুনুত পড়ার বিষয়ে হাদীসটি লক্ষ্য করুন, كَانَ عَبْدُ اللهِ لَا يَقْنُتُ إِلَّا فِي الْوِتْرِ، وَكَانَ يَقْنُتُ قَبْلَ الرُّكُوعِ، يُكَبِّرُ إِذَا فَرَغَ مِنْ قِرَاءَتِهِ حِينَ يَقْنُتُ অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. শুধু বিতরের সালাতেই কুনুত পড়তেন। আর তিনি রুকুর পূর্বে কুনুত পড়তেন। যখন কুরআন পড়া শেষ করতেন তখন তাকবীর দিয়ে কুনুত পড়তেন। শরহে মুশকিলিল আছার, হাদীস নং ৪৫০৪, ১১/৩৭৪। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাতে (হাদীস নং ৭০২১)ভিন্ন সনদে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে অনুরুপ বর্ণিত আছে। উভয় হাদীসের সনদে দূর্বলতা আছে। তবে দ্বিতীয় হাদীসটি প্রথম হাদীসের বক্তব্যকে সমর্থন করায় শায়খ শুয়াইব আর নাউত প্রথম হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। দেখুন: শরহে মুশকিলিল আছার, ১১/৩৭৪। এই হাদীসে আমরা দেখছি সাহবী ইবনে মাসউদ কুনুত পড়ার পূর্বে তাকবীর দিতেন। বিতর পড়ার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে দেখুন রাহে বেলায়াত গ্রন্থের বিতর সম্পর্কীত আলোচনা। এছাড়াও আমাদের দেয়া 167 এবং 117 নং প্রশ্নের উত্তর দেখতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1051
ইসলামে কি ৪ এর অধিক বিয়ে করা যাবে? আমি ওমানে দেখেছি একজন ওমানী ৪ এর অধিক বিয়ে করেছে? আপনি এটাকে কিভাবে দেখবেন?
04 Jan 2026

ভাই, চার জনের বেশী স্ত্রীকে একসাথে রাখা যাবে না। বিয়ে চারের অধিক না করা বলতে এটা বুঝানো হয়েছে। পক্ষান্তরে যদি কেই চার স্ত্রীর কাউকে তালাক দিয়ে আবার আরেকটা বিয়ে করে তাহলে সমস্যা নেই। এই হিসাবে কোন পরিসংখ্যান নেই।

প্রশ্নঃ 1050
আচ্ছালামু আলাইকুম। ইদানীং Street Dawah নামে একটা কার্যক্রম দেখতে পাচ্ছি। যেখানে দেখেছি, কিছু ভাইএরা রাস্তায় বিধর্মী মেয়েদের সরাসরি ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছে! এভাবে বিপরীত লিঙ্গের কাউকে রাস্তায় সরাসরি দাওয়াত দেওয়াটা রাসূল (সঃ) এবং তার সাহাবাদের জীবন থেকে কতটুক প্রমাণিত? মানে এটা কি জায়েজ?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রয়োজনে মেয়েদের সাথে কথা বলা জায়েজ। আর একজন অমুসলিমেকে ইসলামের দাওয়াত দেয়া খুবই প্রয়োজন। সুতরাং এটা না জায়েজ হওয়ার কোন কারণ আছে বলে মনে হচ্ছে না। তবে দাওয়াত দানকারী যেন কোন ধরনের ফিৎনাতে না পড়েন সেদিকে খেয়াল করতে হবে।

প্রশ্নঃ 1049
আস-সালামু আলাইকম। আমি period থেকে ভাল হয়ে বারদিন পর আবার period হই, এই অবস্থা য় আমি এটাকে অসুস্থতা ধরে নামায পরি। এটা কি আমি ঠিক করলাম না গুনাহ করলাম। খুবই tension এ আছি। medical science বলে 21 -29 দিনের মধ্যে period হয় সেটা normal .plz আমার উত্তরটা দিবেন।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমস সালাম। আপনার যদি কোন পিরিয়ডের কোন অভ্যাস না থাকে তাহলে আপনি ১২ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত ইস্তিহাযা (রোগ) ধরবেন এবং এই দিনগুলো আপনার নামায পড়তে হবে। ১৬দিন থেকে আপনি পিরিয়ড তথা মাসিক ধরে নামায পড়বে না। বিস্তারিত জানতে স্থানীয় কোন আলেমের নিকট যোগাযোগ করুন। দুই পিরিয়ডের মাঝে সর্বনিম্ন সময় ১৫ দিন।

প্রশ্নঃ 1048
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ! স্যার ই-কমার্স বা অনলাইন ব্যবসা করা কি ইসলামিক শরিয়াহ সম্মত? ইসলামিক শরিয়াহ ব্যবসা নিয়ম? ১ টা পণ্য ক্রয়ের কত লাভে বিক্রি করা যায়।
04 Jan 2026

ওয়া আলা্ইকুমুস সালাম। অনলাইনে ব্যবসা করা জায়েজ, না জায়েজের কিছু নেই। লাভের ক্ষেত্রে ইসলামম কোন % নির্ধারণ করেনি। স্থান কাল পাত্র অনুযায়ী মানুষের উপর কোন জুলুম যেন না হয় সেদিকে খেয়াল করতে হবে।

প্রশ্নঃ 1047
Assalamu Alaikum. Amar prosno holo – * ২ অথবা ১ রাকাত বিশিষ্ট সালাতে তাওয়াররুক হবে? ** কোন ব্যক্তি সালাত পড়াকালীন সময় তার সামনে দিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। কিন্তু ঠিক কতটুকু পরিমাণ ব্যবধান থাকলে তার সামনে দিয়ে যাওয়া যাবে?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। তাওয়াররুক কারা করবে কখন করবে তা নিয়ে আলেমদের মাঝে মতবিরোধ আছে। একদল আলেম বলেন, পুরুষরা করবে না আর মহিলারা করবে। আরেক দল বলেন, সালাত চার রাকআত হলে প্রথম বৈঠকে করবে না দ্বিতীয় বৈঠকে করবে আর দুই রাকআত বিশিষ্ট হলে করবে না।অন্য আরেক দল বলেন, শেষ বৈঠকে করবে, সালাত যে কয় রাকআত বিশিষ্ট হোক না কেন। যারা বলেন, পুরুষেরা তাওয়াররুক করবে না তাদের দলীল, وَكَانَ يَقُولُ فِى كُلِّ رَكْعَتَيْنِ التَّحِيَّةَ وَكَانَ يَفْرِشُ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَيَنْصِبُ رِجْلَهُ الْيُمْنَى রাসূলুল্লাহ সা. প্রতি দুই রাকআতে তাশাহুদু পড়তেন এবং তিনি তার বাম পা কে বিছাতেন এবং ডান পা কে উঁচু করে রাখতেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৩৮। অন্য হাদীসে আছে, عن وائل بن حجر قال : قدمت المدينة قلت لأنظرن إلى صلاة رسول الله صلى الله عليه سولم فلما جلس يعني للتشهد افترش رجله اليسرى ووضع يده اليسرى يعني على فخذه اليسرى ونصب رجله اليمنى অর্থ : ওয়ায়েল ইবনে হুজর বলেন, আমি মদীনায় গেলাম এবং রাসূলুল্লাহ সা. এর সালাত লক্ষ করতে লাগলাম, যখন তিনি তাশাহুদের জন্য বসতেন তখন বাম পা কে বিছাতেন এবং বাম হাতকে বাম রানের উপর রাখতেন এবং ডান পা কে উঁচু করে রাখতেন। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ২৯২। হাদীসটি সহীহ। এই দুই হাদীসের আলোকে তারা বলেন সালাতের ভিতর পুরুষেরা তাওয়াররু্ক করবে না। হানাফী মাজহাবের অভিমত এটাই । আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের আমল এটাই। যারা বলেন, শেষ বৈঠকে করবে, সালাত যে কয় রকআত বিশিষ্ট হোক না কেন তাদের দলীল,রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, وَإِذَا جَلَسَ فِي الرَّكْعَةِ الآخِرَةِ قَدَّمَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَنَصَبَ الأُخْرَى وَقَعَدَ عَلَى مَقْعَدَتِهِ যখন শেষ বৈঠকে বসবে তখন বাম পা কে অগ্রবর্তী করবে আর অ্ন্য পা কে (ডান পা কে) উচুঁ করবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৮২৮। শাফেয়ী মাজহাবের আলেমগণের অভিমত এটাই। উপরের হাদীসগুলোকে সমন্বয় করে আরেক দল বলেন, সালাত দুই রাকআত বিশিষ্ট হলে তাওয়াররুক করবে না, আর চার রাকআত বিশিষ্ট হলে শেষ বৈঠকে তাওয়াররুক করবে। হাম্বলী মাজাহাবের মত। শায়খ বিন বায, উসমায়মিন রহ.ও এই মত পোষন করেন। যারা তাওয়াররুক করতে চান তাদের জন্য এই মতটিই সবচেয়ে উপযোগী বলে মনে হয়। বিস্তারতি জানতে দেখুন, আল-ইসলাম সুয়াল জওয়াব, ফতাওয়া নং ১০৩৮৮৬ ও মারকাযুল ফাতাওয়া, ফাতাওয়া নং ৩৫৯৪৩। নামাযরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাওয়া জায়েজ নেই। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, لَوْ يَعْلَمُ الْمَارُّ بَيْنَ يَدَيِ الْمُصَلِّي مَاذَا عَلَيْهِ لَكَانَ أَنْ يَقِفَ أَرْبَعِينَ خَيْرًا لَهُ مِنْ أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ قَالَ أَبُو النَّضْرِ لاَ أَدْرِي أَقَالَ أَرْبَعِينَ يَوْمًا ، أَوْ شَهْرًا، أَوْ سَنَةً নামাযরত ব্যক্তির সামানে দিয়ে যাতায়াতকারী ব্যক্তি যদি জানতো এতে কি পরিমাণ গুনাহ হয় তাহলে সে সামনে দিয়ে যাওয়ার চেয়ে চল্লিশ ( দিন,মাস কিংবা বছর উদ্দেশ্য, বর্ণনা স্পষ্ট নয়) দাঁড়িয়ে থাকাকে উত্তম মনে করত। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫১০। মুসনাদে বায-যারে (হাদীস নং ৩৭৮২)আছে চল্লিশ বছর। তবে সামনে কতুটুকু পরিমান জায়গার মধ্যে যেতে পারবে না সে বিষয়ে মতভেদ আছে। হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন, وَاخْتُلِفَ فِي تَحْدِيدِ ذَلِكَ فَقِيلَ إِذَا مَرَّ بَيْنَهُ وَبَيْنَ مِقْدَارِ سُجُودِهِ ، وَقِيلَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ قَدْرَ ثَلَاثَةِ أَذْرُعٍ وَقِيلَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ قَدْرَ رَمْيَةٍ بِحَجَرٍ অর্থ: এর সীমা নিয়ে মতভেদ আছে। কারো মতে, সিজাদা দেয়ার স্থান পর্যন্ত, কেউ কেউ বলেন, তিন হাত, আবার কেউ কেউ বলেন, পাথর নিক্ষেপ করলে যতুটুকু যায় সেই পরিমাণ। ফাতহুল বারী, ১/৫৮৫ (শামেলা)। এজন্য সর্বদা সালাতরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাওয়া পরিহার করবেন। একান্ত বাধ্য হলে অন্তত দু কাতার দূর থেকে যাবেন।

প্রশ্নঃ 1046
আসসালামু আলাইকুম! দাড়ি রেখে কতটুক পর্যন্ত কাটা যাবে? সেইভ করলে কি কবীরা গুণাহ না সাগীরা গুনাহ? ইসলামের আলোকে জানতে চাই! ধন্যবাদ
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দাড়ি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহ. বলেছেন, দাড়ি পুরুষের জন্য বিশেষ সৌন্দর্য ও পৌরুষ প্রকাশক। রাসূলুল্লাহ সা. নিজে বড় দাড়ি রাখতেন, উম্মাতকে বড় দাড়ি রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং দাড়ি ছোট করতে এবং মুণ্ডন করতে নিষেধ করেছেন।রাসূলুল্লাহ সা.-এর আকৃতির বর্ণনায় আলী (রা) বলেন, كان عـظـيـم اللـحـيـة তিনি অনেক বড় দাড়ির অধিকারী ছিলেন। হাদীসটি হাসান। ইবনু হিব্বান, আস-সহীহ ১৪/২১৬-২১৭; আল-মাকদিসী, আল-আহাদীস আল-মুখতারাহ ২/৩৬৯; হাইসামী, মাওয়ারিদুয যামআন ৭/২১-২২; আলবানী, সহীহুল জামি ২/৮৭৩। মুসলিম সংকলিত অন্য হাদীসে জাবির ইবনু সামুরা (রা) বলেন, كان كـثـيـر شـعـر اللـحـيـة রাসূলুল্লাহ সা.-এর দাড়ি ছিল বেশি বা ঘন। মুসলিম, আস-সহীহ ৪/১৮২৩। ইয়াদিয আল-ফারিসী বর্ণিত ও আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা) অনুমোদিত হাদীসে তিনি বলেন, قـد مـلأت لحـيته ما بيـن هذه إلى هذه، قد مـلأت نحـره তাঁর দাড়ি তাঁর বক্ষ পূর্ণ করে ফেলেছিল। হাদীসটি হাসান। তিরমিযী, আশ-শামাইল, পৃ. ৩৫১; আলবানী, মুখতাসারুশ শামাইল, পৃ.২০৮-২০৯। এভাবে আমরা দেখছি যে, রাসূলুল্লাহ সা. বড় দাড়ি রেখেছেন।তিনি দাড়ির যত্ন নিতেন এবং বেশি বেশি দাড়ি পরিপাটি করতেন ও আঁচড়াতেন। সাহাবীগণও এভাবে বড় দাড়ি রাখতেন বলে বিভিন্ন হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তিনি দাড়িতে খেযাব ব্যবহার করেন নি বলেই অধিকাংশ বর্ণনার আলোকে বুঝা যায়। কারণ তাঁর দাড়ি প্রায় সবই কাল ছিল। মাথায় গোটা বিশেক চুল এবং নিচের ঠোটের নিচের দাড়িগুচ্ছের (বাচ্চা দাড়ির) মধ্যে গোটা দশেক দাড়ি মাত্র সাদা হয়েছিল। এছাড়া দু কানের পাশে কলির কিছু চুল পাকতে শুরু করেছিল। ইবনু হাজার আসকালানী, ফাতহুল বারী ৬/৫৭-৫৭২। তৎকালীন যুগে মুশরিক ও অগ্নি উপাসকদের মধ্যে দাড়ি ছোট করে রাখা বা দাড়ি মুণ্ডন করার রীতি প্রচলিত ছিল। রাসূলুল্লাহ e তাঁর উম্মাতকে বিশেষভাবে এ সকল অমুসলিম সম্প্রদায়ের বিরোধিতা করতে এবং বড় দাড়ি রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাদীসে আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা.বলেছেন, خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ أَحْـفُوا (انْهَكُوا) الشَّوَارِبَ وَأَوْفُوا (أَعْـفُوا) اللِّـحَى (أَمَرَ e بِإِحْفَاءِ الشَّوَارِبِ وَإِعْفَاءِ اللِّحْيَةِ) তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা কর, গেঁফগুলি ছেটে ফেল বা ছোট কর এবং দাড়িগুলি বড় কর (অন্য বর্ণনায়: তিনি গোঁফ ছাটতে এবং দাড়ি ছাটা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। ) বুখারী, আস-সহীহ ৫/২২০৯; মুসলিম, আস-সহীহ ১/২২২। অন্য বর্ণনায় তাবিয়ী নাফি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ وَفِّرُوا اللِّحَى وَأَحْفُوا الشَّوَارِبَ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا حَجَّ أَوِ اعْتَمَرَ قَـبَضَ عَلَى لِحْـيَتِهِ فَمَا فَضَلَ أَخَذَهُ তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা কর, দাড়ি বাড়াও বা বড় কর এবং গোঁফ খাট কর। নাফি বলেন, ইবনু উমার (রা) যখন হজ্জ অথবা উমরা পালন করতেন, তখন (হজ্জ বা উমরা পালনের শেষে মাথার চুল মুণ্ডন করার সময়) নিজের দাড়ি মুষ্টি করে ধরতেন এবং মুষ্টির অতিরিক্ত দাড়ি কর্তন করতেন। বুখারী, আস-সহীহ ৫/২২০৯। ফকীগণের মতামত: (১) ফকীহগণ একমত যে দাড়ি রাখা ইবাদত (ফরয, ওয়াজিব অথবা সুন্নাত)। তবে এ ইবাদতের সীমার বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন। কেউ বলেছেন দাড়ির দৈর্ঘের কোনো সীমা নেই। যত বড়ই হোক তা ছাটা যাবে না। শুধু অগোছালো দাড়ি ছাটা যাবে। কেউ বলেছেন এ ইবাদতের সীমা একমুষ্টি পর্যন্ত। এর অতিরিক্ত দাড়ি কেটে ফেলাই সুন্নাত। (২) ফকীহগণ সকলেই দাড়ি কাটা বা মুণ্ডন করা নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন (হারাম বা মাকরূহ তাহরীমী)। (৩) অনেক ফকীহ একমুষ্টির অতিরিক্ত দাড়ি কাটা বৈধ, উত্তম বা ওয়াজিব বলে উল্লেখ করেছেন। (৪) কোনো মুহাদ্দিস, ফকীহ, ইমাম বা আলিম এক মুষ্টির কম দাড়ি রাখার সুস্পষ্ট অনুমতি দিয়েছেন বলে জানা যায় না। যারা দাড়ি থেকে কিছু ছাটার অনুমতি দিয়েছেন তাদের প্রায় সকলেই সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, একমুষ্টির অতিরিক্তই শুধু কাটা যাবে। দ্বিতীয়-তৃতীয় শতকের কোনো কোনো ফকীহ মুষ্টির কথা উল্লেখ না করে সামান্য ছাটা যাবে, বা মুশরিকদের অনুকরণ না হয় এরূপ ছাটা যাবে বলে উল্লেখ করেছেন। আবূ ইউসূফ, কিতাবুল আসার ১/২৩৪; ইবনু আবী শাইবা, আল-মুসান্নাফ ৫/২২৫; ইবনু আব্দুল র্বার, আত-তামহীদ ২৪/১৪৫-১৪৬; নববী, শারহু সহীহি মুসলিম ৩/১৪৯; কাসানী, বাদাইউস সানাইয় ২/৩২৭; মারগীনানী, হিদাইয়া ১/১২৩; ইবনুল হুমাম, শারহু ফাতহিল কাদীর ২/৩৫২; ইবনু হাজার, ফাতহুল বারী ১০/৩৫০; আইনী, আল-বিনাইয়া শারহুল হিদাইয়া ৩/৬৮২; ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ, মানারুস সাবীল ১/২১; মারয়ী ইবনু ইউসূফ, দলীলুত তালিব ১/২১; মুহাম্মাদ হাজাবী, আল-ইকনা ১/২০; শাওকানী, নাইলুল আওতার ১/১১০-১১২, ১৩৬; মুনাবী, ফাইদুল কাদীর ১/১৯৮, ৫/১৯৩; মুবারকপূরী, তুহফাতুল আহওয়াযী ৮/৩৬-৩৯। (৫) প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের মধ্যে হাম্বালী ও শাফিয়ী মাযহাবের আলিমদের মতে দাড়ি যত বড়ই হোক তা ছাটা বা কাটা যাবে না; কারণ রাসূলুল্লাহ সা.তা বড় করতে ও লম্বা করতে নির্দেশ দিয়েছেন, কোনোভাবে তা কাটতে বা ছাটতে অনুমতি দেন নি। হাম্বালী মাযহাবের অন্য একটি বর্ণনা ও মালিকি মাযহাব অনুসারে একমুষ্টির অতিরিক্ত দাড়ি কর্তন করা বৈধ বা মুবাহ।হানাফী মাযহাবের দৃষ্টিতে একমুষ্টির অতিরিক্ত দাড়ি কর্তন করাই সুন্নাত। কুরাআন-সুন্নাহর আলোকে পোশাক পর্দা ও দেহসজ্জা পৃষ্ঠা, ৩৩৬-৩৫১ (সংক্ষেপিত)। বিস্তারিত জানতে দেখুন, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত, আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স ঝিনাইদহ থেকে প্রকাশিত কুরআন-সুন্নাহর আলোকে পোশাক, পর্দা ও দেহ-সজ্জা বইটি। পৃষ্ঠা ৩৩৬-৩৫১।

প্রশ্নঃ 1045
আমি যতদূর জানি বিয়ে করা সবার জন্য ফরয না। আমার প্রশ্ন হলো বিয়ে না করলে ইসলামের আলোকে বা বিধানে কোনো সমস্যা আছে কী? দয়া করে আল কুরআন ও হাদীসের আলোকে জানাবেন।
04 Jan 2026

আপনার যদি সামর্থ থাকে তাহলে অবশ্যই আপনি বিয়ে করবেন। মুমিনে উচিৎ রাসূলুল্লাহ সা. এর সুন্নাতের অনুসরণ করা, জায়েজ খুঁজে বোড়ানো নয়। এক ব্যক্তি যিনি বিয়ে না করে বেশী বেশী ইবাদত করতে চাইলেন, এই কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, وَأَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي. অর্থ: আমি মহিলাদেরকে বিয়ে করেছি,সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে উপক্ষা করবে সে আমার দলভূক্ত নয়। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫০৬৩। অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেন,: النِّكَاحُ مِنْ سُنَّتِي ، فَمَنْ لَمْ يَعْمَلْ بِسُنَّتِي, فَلَيْسَ مِنِّي ، وَتَزَوَّجُوا ، فَإِنِّي مُكَاثِرٌ بِكُمُ الأُمَمَ ، وَمَنْ كَانَ ذَا طَوْلٍ فَلْيَنْكِحْ ، وَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَعَلَيْهِ بِالصِّيَامِ ، فَإِنَّ الصَّوْمَ لَهُ وِجَاءٌ. বিয়ে আমার সুন্নাত, যে আমার সুন্নাত অনুযায়ী আমল করে না সে আমার দলভূক্ত নয়। তোমরা বিয়ে করো, কেননা আমি বেশী সংখক উম্মতের কারণে গর্ব করবো। যার সামর্থসু থাকে সে যেন বিয়ে করে, আর যার সামর্থ নেই সে যেন রোজা রাখে। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ১৮৪৬। হাদসটিকে শায়খ আলবানী হাসান বলেছেন। সুতরাং সবার জন্য ফরজ নয় এই অজুহাতে বিয়ে থেকে দূরে থাকা ঠিক হবে না।

প্রশ্নঃ 1044
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ স্যার। আমি যখন একা একা হাটি তখন মুখস্ত তেলোয়াত পড়তে ইচ্ছে করে মনে মনে। আসলে এভাবে হেটে হেটে অনুচ্চস্বরে তেলোয়াত পড়া যাবে কি?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জী যাবে। কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 1043
Assalamu Alaikum, Amar Islami Bank Bangladesh Limited (IBBL) e akti sonchoyi account ache. Amar proshno hosse, jomakrito taka theke je interest asbe ta grohon boidho hobe kina? Tara (IBBL) dabi kore je tara islami shariah maintain kore.
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যদি বাস্তবেই ব্যাংকটি ইসলামী শরয়ত মেনটেইন করে তাহলে জায়েজ হবে। অন্যথায় হবে না। আপনি খোঁজ নিয়ে দেখুন, যদি শরীয়ত মেনে চলে তাহলে ভাল, অন্যথায় নিবেন না।

প্রশ্নঃ 1042
আসসালামু আলাইকুম, আমরা গোপনে বিয়ে করেছি প্রায় ৭ বছর। বিয়ের ২ বছর পর মেয়ের বাবা-মা জানলে তারা সম্মতি দেয়। কিন্তু আমার পরিবারে আমার ছোট বোন ছাড়া আজ পর্যন্ত কেউ জানেনা বা আমি জানায়নি। উল্লেখ্য, বিয়ের পরেও আমরা যার যার পরিবারের সাথে থেকে আসছি। সম্প্রতি আমার পরিবার মেয়ের পরিবারকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু আমার পরিবার কে বলা সম্ভব না যে আমরা পূর্বে বিয়ে করেছি। এখন নতুন করে বিয়ে পড়া যাবে কি? পূর্বের বিয়ের কি হবে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো। আল্লাহ হাফেজ
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নতুন করে বিয়ে পড়ানো একটি আনুষ্ঠিনিকতা মাত্র। এর কোন কার্যকারিতা নেই। এতে আপনার আগের বিয়ের কোন ক্ষতি হবে না। আপনি চিন্তা করবেন না। নুতন করে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্য করুন। তবে এভাবে পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করা ঠিক নয়।

প্রশ্নঃ 1041
বাবা, বড় ভাই বা চাচা জীবিত থাকা সত্তেও কোন নারী যদি একাকী বা পালিয়ে বিয়ে করে তাহলে ঐ বিয়ে কি বৈধ হবে?
04 Jan 2026

আপনার প্রশ্নের জন্য শুকরান, ওলী (অভিভাবক) ছাড়া মেয়েদের বিবাহের বিধান: বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামী শরীয়তে এব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাসূল সা. এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। পারিবারিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অধিকাংশ ইমাম ও ফকীহগণের নিকট ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ নেই। তবে ইমাম আবু হানীফা রহ. সহ কতিপয় ফকীহ বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে জায়েজ বলেছেন। প্রখ্যাত মালেকী ফকীহ আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে রুশদ আন্দালুসী র. বলেন, اختلف العلماء هل الولاية شرط من شروط صحة النكاح أم ليست بشرط؟ فذهب مالك إلى أنه لا يكون النكاح إلا بولي وأنها شرط في الصحة في رواية أشهب عنه وبه قال الشافعي وقال أبو حنيفة وزفر والشعبي والزهري: إذا عقدت المرأة نكاحها بغير ولي وكان كفؤا جاز وفرق داود بين البكر والثيب فقال باشتراط الولي في البكر وعدم اشتراطه في الثيب অর্থ: বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী শর্ত কি শর্ত নয় এই বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম মালেক র. মত পোষন করেছেন যে, ওলী ছাড়া বিবাহ হবে না। বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য (ওলী) শর্ত। এমন মতই পোষন করেছেন ইমাম শাফেয়ী রা.। ইমাম আবু হানীফা, জুফার, শাবী ও জুহরী র. বলেছেন, যদি মহিলা ওলী ছাড়া বিবাহ করবে আর স্বামী যদি তার কুফু (সর্বদিক দিয়ে যোগ্য) হয় তাহলে জায়েজ হবে। বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ২/৮(শামেলা)। এই সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন, আলমাবসুত লিস-সারখসী, ৬/৫৩; আলমাউসায়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৭/৯৪ও ৩১/৩২১; আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবা ৪/৪৫। কিতাবুল উম্ম লিশ-শাফেয়ী,৭/১৫৬। যে ইমামগন ওলী ছাড়া বিবাহ বাতিল বলেছেন তাদের দলীল: আবু মুসা আশয়ারী রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন,لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِىٍّ অর্থাৎ ওলী ছাড়া বিবাহ নয়।আবু দাউদ, হাদীস নং ২০৮৭; তিরমিযী, হাদীস নং ১১০১;মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৯৭৬১। হাদীসটি সহীহ। শায়খ আরনাউত এবং আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত অন্য হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ অর্থাৎযে মহিলা ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করবে তার বিবাহ বাতিল। তিনি ৩ বার তা বলেছেন। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১১০২; মুসনাদে আহমাদ,হাদীস নং ২৫৩৬৫। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন আর শায়খ শুয়াইব আরনাউত সহীহ বলেছেন। উপরক্ত হাদীস সমূহের ভিত্তিতে ইমাম মালেক, শাফেয়ী, আহমাদ র. সহ অধিকাংশ আলেম ওলী ছাড়া বিবাহকে বাতিল বলেছেন। যে সব ইমাম ও ফকীহ ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ বলেছেন তাদের দলীল: তাবেঈদের মধ্যে ইমার জুহরী ও শাবী এরপরে ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ, মুহাম্মাদ, জুফার সহ কিছু সংখক মুজতাহিদ কিছু শর্ত সাপেক্ষে ওলী ছাড়া বিবাহ কে জায়েজ বলেছেন। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১.কুফু হতে হবে। ২.মেয়েটি বালেগা, বুঝমান হতে হবে। আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবায়া,৪/৪৫; আলমাবসুত লিস-সারাখসী,৬/৬১ ও ৫/১৬। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, فلا جناح عليكم فيما فعلن في أنفسهن بالمعروف অর্থাৎ মহিলারা নিজেদের ব্যাপারে সৎ ভাবে যা করবে (বিয়ের ক্ষেত্রে) সে বিষয়ে তোমাদের কোন দোষ নেই। সূরা বাকারাহ-২৩৪ অন্য এক আয়াতে তালাক সম্পর্কে আলোচনার এক পর্যায়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, تنكح زوجا غيره. حتى অথাৎ যতক্ষন না তারা অন্য স্বামীকে বিবাহ না করে। সূরা বাকারাহ-২৩০। অন্য প্রসংগে আল্লাহর বাণী, فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ অর্থাৎ তোমরা তাদেরকে তাদের স্বামীদের কে বিবাহ করা থেকে বাধা দিবে না। সূরা বাকারাহ-২৩২ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا অর্থাৎ মেয়েরা ওলীদের চেয়ে নিজের ব্যাপারে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৪২১। الأيم অর্থ স্বামীহীন মহিলা, পূর্বে স্বামী থাকুক বা না থাকুক। আলমজামুল ওয়াসীত। বর্তমান সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৌদী আলেম শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আলমুনজিদ ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের ক্ষেত্রে বলেছেন, المسألة اجتهادية ، واختلف فيها الأئمة ، فإنه إذا كان أهل بلد يعتمدون المذهب الحنفي كبلادكم وبلاد الهند وباكستان وغيرها ، فيصححون النكاح بلا ولي ، ويتناكحون على هذا ، فإنهم يقرّون على أنكحتهم ، ولا يطالبون بفسخها অর্থাৎ এটি একটি ইজতিহাদি মাসআলা, ইমামগণ এক্ষেত্রে ইখতিলাফ করেছেন। সুতরাং যে সব দেশের মানুষেরা হানাফী মাজহাবের উপর নির্ভর করে, ওলী ছাড়া বিবাহবে বৈধ মনে করে এবং এভাবে তাদের বিয়ে হয় যেমন, ভারত, পাকিস্থান ইত্যদি, তাহলে তাদের বিবাহের স্মীকৃতি দেয়া হবে । বাতিল করতে বলা হবে না। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, শরীয়তে বিবাহে মেয়েদের জন্য ওলী থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণভাবে যৌবনের শুরুতে যুবক-যুবতী সহজেই বয়সের উন্মাদনায় বিভ্রান্ত হয় এবং নিজের চোখের ভাল লাগার উপর নির্ভর করেই সঙ্গী পছন্দ করে। বিবাহের ক্ষেত্রে চোখের পছন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবন ও আগত প্রজন্মের কল্যাণের কথাও চিন্তা করতে হবে। এজন্য ইসলামে বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর মতমতের সাথে অভিভাবকের মতামতেরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সুতরাং মেয়েদের জন্য আবশ্যক হলো ওলীর অনুমতি নিয়ে বিবাহ করা। আর আমাদের উচিৎ বিবাহের সময় মানুষদের কে ওলীর অনুমতির বিষয়ে উৎসাহিত করা,ওলী ছাড়া বিয়ে করতে নিষেধ করা এবং ওলী থাকার কল্যান বর্ণনা করা। যারা ইতিমধ্যে ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করেছে তাদের বিষয়ে কথা হলো যেহেতু তারা একটি ফিকহী মত গ্রহন করেছেন আর বিষয়টি ইজতিহাদী এবং ইখতিলাফী তাই তাদেরকে নতুন করে বিবাহ করতে হবে না। তবে এই ঘৃনিত কাজের জন্য তাদের লজ্জিত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1040
আস-সালামু আলাইকুম মুহতারাম, আমি একটি বিষয়ে আপনার কাছে জানতে চাই, প্রশ্ন : স্বামী ও স্ত্রী র রক্তের গ্রুপ একি হয় তাহলে সন্তান নেয়ার পর সন্তানের কোন সমস্যা হতে পারে কিনা? ইসলাম কি বলে, আমার স্ত্রী স্কুলে পড়ে ওখানের এক শিক্ষক নাকি বলেছে ব্লাড গ্রুপ একি হলে মারাত্মক সমস্যা হতে পারে, আমি নিজে এসব বিশ্বাস করিনা, জানালে উপকৃত হব।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। স্বামী ও স্ত্রীর রক্ত একই গ্রুপ এক হলে কোন ইসলামের দৃষ্টিতে কোন সমস্যা আছে বলে আমাদের জানা নেই।

প্রশ্নঃ 1039
Assalamualaikum Wa rahmatullah… ভাই, আশা করি ভালো আছেন। আপনাদের এই প্রশ্ন উত্তর বিভাগটা খুবই উপকার হচ্ছে। আমি একজন সাধারণ মুসলিম। তাই অনেক কিছুই আপনাদের থেকে জানতে পারছি।আলহামদুলিল্লাহ্! আল্লাহ্ পাক আপনাদের জাযাখায়ের দান করুন।আমিন। ভাই আমি বিবাহিত! আমি সাধারণত সহবাস করার পর আমার লজ্জাস্থান একটা কাপরের টুকরো দিয়ে ভালো করর মুছে তারপর ঘুমিয়ে পড়ি। আলসেমির কারনে অজু করা হয় না। এতে কি আমার কোন গুনাহ হচ্ছে? দয়া করে জানাবেন।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, ভাই, গুনাহ হচ্ছে না। তবে ধুয়ে নিয়ে ঘুমানো ভাল। রাসূলুল্লাহ সা. ধুয়ে ঘুমানোর পরামর্শ দিয়েছেন। অনেক সময় না ধোয়ার কারণে রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنَامَ وَهْوَ جُنُبٌ غَسَلَ فَرْجَهُ وَتَوَضَّأَ لِلصَّلاَةِ. অর্থ: জুনুবী ব্যক্তি (সহবাসের কারলে অপবিত্র ব্যক্তি) যখন ঘুমাতে চাইবে তখন সে যেন তার লজ্জাস্থান ধয়ে নেয় এবং নামাযের ওযুর মত ওযু করে নেয়। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৮৮। সুতরাং আমাদের উচিত হাদীস অনুযায়ী ধুয়ে নেয়া। তবে না ধুলে গুনাহ হবে না।

প্রশ্নঃ 1038
আস-সালামু আলাইকুম, ওজুর সময় ঘাড় মাসেহ করা সুন্নাহ না বিদআত? রেফারেন্স সহ উত্তরটা দিলে খুবই উপকৃত হতাম। জাযাকাল্লাহ খাইরান
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। স্যার রহ. বেঁচে থাকাকালীন এই বিষয়ে তাঁর তত্বাবধানে একটি প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছিল । প্রশ্ন নং ১৮৮। সেটা এখানে দিয়ে দিলাম। ঘাড় মাসেহ করার ব্যাপারে কয়েকটি দূর্বল হাদীস বর্ণিত আছে। তার একটি হলো, قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من توضأ ومسح عنقه لم غل بالأغلال يوم القيامة অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি ওযু করবে এবং ঘাড় মাসেহ করবে কিয়ামতের দিন তাকে শিকল পরানো হবে না। তারীখ আসবাহান, ১/২৪২। এই বিষয়ে বিভিন্ন হাদীসের বিশ্লেষন শেষে মোল্লা আলী কারী হানাফী রাহ. বলেন, قال أئمتنا إن مسح الرقبة مستحب أو سنة অর্থ: আমাদের ইমামগণ বলেছেন, ঘাড় মাসেহ করা মুস্তাহাব অথবা সুন্নাত। আল-আসরারুল মারফুয়াহ, পৃষ্ঠা- ৩১৫। কোন কোন আলেম বিদআত বলেছেন। তবে দলিলের আলোকে বিদআত নয় বলেই মনে হয়।

প্রশ্নঃ 1037
হুজুর ভাল আছেন আমার নানা মারা গেছেন আমার মামারা ৪০ দিনের দীন জানা জার সব মানুষ কে খানা খাওয়াবে অনেক ব লছে এটা নাকি বেদাত আমরা এখন কি করব আপনি আমাকে একটা পরমশ দিবেন
04 Jan 2026

আলহামদুলিল্লাহ। হ্যাঁ, এটা বিদআত। এই জঘন্য বিদআত থেকে দূরে থাকা আবশ্যক। মূমিনের জন্য প্রত্যেকটি কাজে সুন্নাতের অনুসরণ করা জরুরী। রাসূলুল্লাহ সা., তাঁর সহাবী, তাবেয়ী এবং তাবে তাবেয়ীদের যুগে মানুষ মারা গেলে আমাদের দেশের মত খানাপিনার কোন আয়োজন করা হতো না। এমনকি কারো ইন্তেকালের পর তাঁরা তার জন্য দোয়া করার উদ্দেশ্যেও কোথাও একত্র হননি। সুতরাং খানার আয়োজন করা, খান খাওয়া সুন্নাত নয়। কুরআনে কারীমে মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। হাদীস শরীফে মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা, দোয়া ও দান-সদকা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তাঁদের উদ্দেশ্যে জীবিত ব্যক্তির এ সকল কর্মের সাওয়াব তারাঁ লাভ করবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মৃত ব্যক্তির দায়িত্বে হজ্জ পালন বাকী থাকলে তা তাঁর পক্ষ থেকে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, وَالَّذِينَ جَاؤُو مِن بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالإِيمَانِ وَلا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلاًّ لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَّحِيمٌ অর্থ: (মূমিনদের থেকে যারা মারা যায় )তাদের পরে যারা দুনিয়াতে আসবে তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের এবং যারা ঈমাণের সাথে আমাদের অগ্রগামী হয়েছে তাদের ক্ষমা করে দাও আর আমাদের হৃদয়ে মূমিনদের ব্যাপারে কোন বিদ্বেষ সৃষ্টি করো না। নিশ্চয় আপনি সহনশীল দয়াময়। সূরা হাশর, আয়াত ১০। হাদীস শরীফে আছে, বুরদাতা রা. বলেন, كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ يُعَلِّمُهُمْ إِذَا خَرَجُوا إِلَى الْمَقَابِرِ ، كَانَ قَائِلُهُمْ يَقُولُ : السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ ، نَسْأَلُ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ রাসূলুল্লাহ সা. মানুষদেরকে শিক্ষা দিতেন, যখন তারা কবরের কাছে যাবে তখন বলবে, হে মূমিন, মুসলিম ঘরবাসী তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ চাহে তো আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হবো। আমরা আমাদের জন্য এবং তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৫৪৭। শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আবু হুরয়রা রা. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, إذا مات الإنسان انقطع عنه عمله إلا من ثلاثة إلا من صدقة جارية أو علم ينتفع به أو ولد صالح يدعو له যখন মানুষ মারা যায় তখন তার আমল তার বন্ধ হয়ে যায় তবে তিনটি ( আমল চলতে থাকে), সাদকায়ে জারিয়া, উপকারী ইলম (জ্ঞান), সৎ সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৬৩১। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা.বলেন, ، أَنَّ رَجُلاً قَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أُمِّي افْتُلِتَتْ نَفْسَهَا وَأُرَاهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ أَفَأَتَصَدَّقُ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ تَصَدَّقْ عَنْهَا একজন লোক নবী সা. কে বললেন, আমার আম্মা মারা গেছেন। আমি ধারণা করছি যদি তিনি কথা বলতে পারতেন তাহলে দান সাদকা করতেন। আমি কি তার জন্য দান করবো? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, হ্যাঁ, তাঁর জন্য দান করো। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৬০। অন্য আরেকটি হাদীসে আছে, أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُم ، أَخَا بَنِي سَاعِدَةَ تُوُفِّيَتْ أُمُّهُ وَهْوَ غَائِبٌ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ أُمِّي تُوُفِّيَتْ وَأَنَا غَائِبٌ عَنْهَا فَهَلْ يَنْفَعُهَا شَيْءٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ بِهِ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ قَالَ فَإِنِّي أُشْهِدُكَ أَنَّ حَائِطِي الْمِخْرَافَ صَدَقَةٌ عَلَيْهَا সাদ ইবনে উবাদা রা. এর অনুপস্থিতিতে তাঁর আম্মা মারা গেলেন। তিনি নবী সা. এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার অনুপস্থিতিতে আমার আম্মা মারা গিয়েছেন, যদি আমি তার জন্য কোন কিছু সাদকা করি তাহলে কি তা তাঁর কোন উপকারে আসবে? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, তাহলে আমি আপনাকে সাক্ষী করে বলছি, মিখরাফের আমার বড় খেজুর বাগানটি তার জন্য দান করে দিলাম। সহীহ বুখারী,হাদীস নং ১৭৬২। জামে তিরমিযী, হাদীস নং৩৬৫০। তিরমিযীতে হাদীসটি একটু বিস্তারিত বর্ণিত আছে। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, মানুষ মারা গেলে বাড়িতে আনুষ্ঠানিক কোন খাওয়া দাওয়ার আয়োজন সুন্নাহ সম্মত নয়। আর সুন্নাতের বাইরের কোন কাজের দ্বারা সওয়াবের আশা করা যায় না।আর যদি সওয়াব হয়ও তবুও ঐ এক বেলা খাওয়ানোর সওয়াব অথচ হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ সা. আমাদেরকে সদকায়ে জারিয়ামূলক দান সাদকার কথা বলেছেন। আর ৪০ দিন করা স্পষ্ট বিদআত। আপনার প্রশ্নের উত্তরে বলছি, এই ধরনের সুন্নাহ বিরোধী, বিদআত কাজ বর্জন করুন। সুন্নাহের দিকে ফিরে আসুন। এ সম্পর্কে শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. বলেছেন, মৃত্যু পরবর্তী জীবনের সফলতা, মুক্তি, শান্তি ও নেয়ামত লাভের ইচ্ছা ও চেষ্টা সকল ধর্মের অনুসারিগণই করেন। এই জাতীয় সকল কর্ম একান্তই ধর্মীয় ও বিশ্বাসভিত্তিক। বিভিন্ন জাতির মধ্যে ধর্মহীনতা ও অজ্ঞানতার প্রসারের ফলে এ বিষয়ে অনেক কুসংস্কার ও উদ্ভট ধারণা বিরাজমান। যেমন, অনেক সমাজে মনে করা হয়, মৃতের জীবত আত্মীয়স্বজনের দান, খাদ্য প্রদান বা কিছু অনুষ্ঠান পালনের উপরে মৃতব্যক্তির পারলৌকিক মুক্তি নির্ভরশীল। ইসলামে এ সকল কুসংস্কারের মূলোৎপাটন করা হয়েছে। ইসলামের শিক্ষা অনুসারে মানুষের পারলৌকিক মুক্তি, শান্তি ও সফলতা নির্ভর করে তার নিজের কর্মের উপরে। সৎকর্মশীল মানুষের মৃত্যুর পরে বিশ্বের কোথাও কিছু না করা হলে, এমনকি তাঁর দেহের সৎকার করা না হলেও তাঁর কিছুই আসে যায় না। অপরদিকে জীবদ্দশায় যিনি শিরক, কুফর, ইসলাম বিরোধিতা, ইসলামের বিধিনিষেধের ও ইসলামী কর্ম ও আচরণের প্রতি অবজ্ঞা, জুলুম, অত্যাচার, অবৈধ উপার্জন, ফাঁকি, ধোঁকা ইত্যাদিতে লিপ্ত থেকেছেন তার জন্য তার মৃত্যুর পরে বিশ্বের সকল মানুষ একযোগে সকল প্রকার শ্রাদ্ধ, অনুষ্ঠান, প্রার্থনা ইত্যাদি করলেও তার কোনো লাভ হবে না। তবে যদি কোনো ব্যক্তি বিশুদ্ধ ঈমানসহ ইসলামের ছায়াতলে থেকে সৎকর্ম করে মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে জীবিত ব্যক্তিগণ তাঁর জন্য প্রার্থনা করলে প্রার্থনার কারণে দয়াময় আল্লাহ তাঁর সাধারণ অপরাধ ক্ষমা করতে পারেন বা তাকে সাওয়াব ও করুনা দান করতে পারেন। এছাড়া এই ধরনের মানুষের কল্যাণের উদ্দেশ্যে কোনো জীবিত মানুষ দান বা জনকল্যাণমূলক কর্ম করলে সেই কর্মের সাওয়াব করুনাময় আল্লাহ উক্ত মৃতব্যক্তিকে প্রদান করতে পারেন। এই ধরনের কর্মকে সাধারণত আরবিতে ঈসালে সাওয়াব ও ফারসিতে সাওয়াব রেসানী বলা হয় যার অর্থ: সাওয়াব পৌঁছানো। তাহলে আমরা দেখছি যে, মানুষের মুক্তি নির্ভর করে মূলত নিজের কর্মের উপর। তবে বিশুদ্ধ ঈমানদার সৎ মানুষদের জন্য দোয়া ও দান করা যায়। কুরআন কারীমে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। হাদীস শরীফে মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা, দোয়া ও দান-সদকা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের উদ্দেশ্যে জীবিত ব্যক্তির এ সকল কর্মের সাওয়াব তাঁরা লাভ করবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মৃতের দায়িত্বে হজ্জপালন বাকি থাকলে তা তাঁর পক্ষ থেকে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এগুলি সাধারণ নির্দেশনা ও ফযীলতমূলক হাদীস। এখন আমাদের দেখতে হবে রাসূলুল্লাহ r ও তাঁর সাহাবায়ে কেরাম এই ফযীলতের কর্মটি কী-ভাবে পালন করেছেন। অর্থাৎ এই কর্মটির ক্ষেত্রে সুন্নাত কী তা জানতে হবে। এখানে উল্লেখ্য যে, দোয়া বা দান-সদকার জন্য কোনো প্রকার সমাবেশ, অনুষ্ঠান বা দিন তারিখের কোনো প্রকারের ফযীলত বা গুরুত্ব আছে সে কথা কোনো হাদীসে কখনো বলা হয়নি। এছাড়া কুরআন খতম, কালেমা খতম ইত্যাদি ইবাদত পালন করে মৃত ব্যক্তিদের জন্য সাওয়াব দান করলে তাঁরা এ সকল ইবাদতের সাওয়াব পাবেন বলে কোনো হাদীসে কোনো প্রকারে বলা হয়নি। রাসূলুল্লাহ সা. ও সাহাবীদের যুগে কারো ইন্তেকালের পরে তার জন্য দোয়া করার উদ্দেশ্যে পরবর্তী সময়ে কখনো কোনোভাবে তাঁরা জমায়েত হননি। কারো মৃত্যু হলে নিকটাত্মীয়গণের জন্য তিনি দিন শোক প্রকাশের বিধান রয়েছে ইসলামের। এই তিন দিনে সমাজের মানুষেরা মৃতের আত্মীয়গণকে সমবেদনা জানাতে ও শোক প্রকাশ করতে তাঁদের বাড়িতে আসতেন। এছাড়া মৃত ব্যক্তির জানাযার নামাযের ও দাফনের পরে আর কখনো তাঁকে কেন্দ্র করে ৩ দিনে, ৭ দিনে, ৪০ দিনে বা মৃত্যুদিনে বা অন্য কোনো সময়ে মাসিক, বাৎসরিক বা কোনোভাবে তাঁর কবরের কাছে, অথবা বাড়িতে বা অনুষ্ঠানকারীর বাড়িতে বা অন্য কোথাও কোনোভাবে তাঁরা কোনো অনুষ্ঠান করেননি বা কোনো জমায়েতও করেননি। মৃত ওলী, প্রিয়জন বা বুজুর্গের জন্য দোয়া ও ঈসালে সাওয়াবের ক্ষেত্রে তাঁদের সুন্নাত ছিল ব্যক্তিগতভাবে দোয়া করা এবং সুযোগ সুবিধা ও আগ্রহ অনুযায়ী ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের জন্য দান-সাদকা ও হজ্ব ওমরা বা কুরবানি করা। সুযোগমত কোন প্রকারের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া তাঁদের কবর যিয়ারত করে তাঁদেরকে সালাম দেওয়া ও তাঁদের জন্য দোয়া করা। রাসূলুল্লাহ সা. -এর ইন্তেকালের পরে প্রায় একশত বৎসরের মধ্যে খুলাফায়ে রাশেদীন ও সাহাবীগণ একটিবারও তাঁর কুলখানী, ইসালে সাওয়াব, ওরস ইত্যাদি উপলক্ষ্যে তাঁর ওফাত দিনে বা অন্য কোনো দিনে, কোনো রকম দিন নির্ধারণ করে বা না-করে, মদীনায় বা অন্য কোথাও কখনোই কোনো অনুষ্ঠান, সমাবেশ, মাহফিল, খানাপিনা কিছুই করেননি। মৃত বুজুর্গ বা প্রিয়জনদের জন্য দোয়া করার ও সাওয়াব প্রেরণের আগ্রহ ও প্রয়োজনীয়তা তাঁদের ছিল। এবিষয়ের হাদীসগুলি তাঁরা জানতেন। এজন্য জমায়েত হওয়া, বিভিন্ন দিনে, নিয়মিত বা অনিয়মিত মৃতের কবরে, বাড়িতে বা অন্য কোথাও কোনো অনুষ্ঠান করা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল। কিন্তু কখনই তাঁরা তা করেননি। তাঁরা সকল প্রকারের জমায়েত, আনুষ্ঠানিকতা বর্জন করেছেন। কোনো প্রকারের দিন তারিখ মাস বার পালন-করা বর্জন করেছেন। সকল প্রকারের কুলখানী, ওরস, জমায়েত বা অনুষ্ঠান তাঁরা বর্জন করেছেন। তাঁরা ব্যক্তিগত ও অনানুষ্ঠানিক দোয়া ও দানকেই এ সকল ক্ষেত্রে একমাত্র পদ্ধতি বলে মনে করেছেন। প্রকৃতপক্ষে মৃত বুজুর্গ বা প্রিয়জনের জন্য সদা সর্বদা সুযোগ ও আবেগ অনুসারে দোয়া করাই ছিল তাঁদের স্থায়ী ও নিয়মিত সুন্নাত। এছাড়া কোনো কিছুই তাঁরা নিয়মিত করেননি। কারো পিতামাতা বা কোনো আপনজন ইন্তিকাল করলে হয়ত ইন্তিকালের পরেই তাঁদের জন্য কিছু দান করেছেন, জমি ওয়াকফ করেছেন বা অনুরূপ জনকল্যণমূলক কোনো কাজ করেছেন। কেউ বা তাঁদের হজ্ব বাকি থাকলে হজ্ব আদায় করে দিয়েছেন। কখনো মৃত ব্যক্তির বন্ধুদেরকে হাদিয়া প্রদান করেছেন বা ছাগল জবেহ করে তার গোশত তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে তাদেরকে ইকরাম করেছেন মৃত ব্যক্তির ইকরামের অংশ হিসেবে। ঈসালে সাওয়াব বা মৃতের জন্য সাওয়াব প্রেরণের জন্য সর্বদা দোয়া করাই ছিল তাঁদের নিয়মিত সুন্নাত। এখন আমাদের সমাজে মৃতব্যক্তিদের জন্য দোয়ার উদ্দেশ্যে অথবা তাদের জন্য দান-সদকার সময়ে বিভিন্ন পদ্ধতিতে আমরা জমায়েত হই ও অনুষ্ঠান করি। এ সকল অনুষ্ঠান নিঃসন্দেহে খেলাফে-সুন্নাত বা সুন্নাত বিরোধী। বিভিন্ন ওজর ও অজুহাতের এগুলি জায়েয বলা হয়েছে। কিন্তু অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে যে, কেউ যদি পূর্ণ সুন্নাত অনুযায়ী অনানুষ্ঠানিকভাবে দান-সাদকা ও দোয়া করেন তাহলে অনেক মুসলমান তাঁর কর্মকে খুবই অপছন্দ করবেন। এভাবে তাঁরা রাসূলুল্লাহ সা. -এর সুন্নাতকে অপছন্দ করছেন। এহ্ইয়াউস সুনান, পৃষ্ঠা ৩৮৮-৩৯১। বিস্তারিত জানতে এই বইটির ৩৮৮-৩৯৯ পৃষ্ঠা দেখুন।

প্রশ্নঃ 1036
আমরা অনেক সময় নিজের চাওয়া পাওয়ার হিসেব মিলাতে গিয়ে নিজের ভাগ্য কে দোষারোপ করি। আমার ভাগ্য খারাপ, আমার দুর্ভাগ্য, এই জাতীয় কথা বলা কি গুনাহ?
04 Jan 2026

গুনাহ হবে এমন বলা যায় না, তবে এজাতীয় কথা না বলাই উচিৎ।

প্রশ্নঃ 1035
আসসালামু আলাইকুম, ১। আমি জানি যে স্বামী-স্ত্রী জামায়াতে সালাত আদায় করতে গেলে- প্রথমে স্বামী এবং নিচের কাতারে স্ত্রী দাড়াবে। কিন্তু যদি জামায়াতে নাহয়ে এমনি সুন্নত বা নফল সালাত পড়ার সময় একই কাতারে দুজনের মধ্য ফাকা রেখে দাড়িয়ে যার মত সেই পড়া যাবে কি? ২। শশুর-শাশুড়িকে বাব- মা ডাকা, এ ব্যাপারে শরিয়াতের বিধান কি? কি বলে ডাকা বা সম্মোধন করা উত্তম?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জামাতের ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রী পিছনে দাড়ানো শর্ত। জামাত ছাড়া এ শর্ত প্রযোয্য নয়। সুতরাং স্বামী-স্ত্রী সুন্নাত বা নফল নামায পাশাপাশি পড়তে পারবে, সমস্যা নেই। শ্বশুর- শাশুড়িকে বাবা-মা ডাকা যাবে, না-জায়েজ নয়। এবং এভাবেই ডাকা উচিৎ। কেননা অনেক সময় এই নিয়ে পরিবারে সমস্যা হতে পারে।

প্রশ্নঃ 1034
আমি মাঝে মাঝে আমাদের অফিসে নামাজের ইমাম হিসেবে নামাজ আদায় করি, আমি যখন রুকুতে থাকি, মাঝে মাঝে কিছু ভাই নামাজ পড়তে এসে তারাহুড়া করে রুকুতে শামিল হওয়ার চেষ্টা করে। তাই, আমি ইচ্ছা করে রুকুতে একটু বেশি সময় নিই ওই ভাইদের রুকুতে শরীক করার জন্য। আপনার কাছে প্রশ্ন হল, নামাজের মধ্যে ইচ্ছাকৃত এই কাজটি করার জন্য আমার নামাজের কোন ক্ষতি হল কিনা? বা নামাজের মধ্যে এই রকম করা জায়েজ হবে কিনা? আশা করি জানাবেন।
04 Jan 2026

না, ভাই, এতে কোন সমস্যা নেই। বরং ইমামদের উচিৎ রুকু সাজদাতে একটু বিলম্ব করা। আপনি এমনিতেই রুকু সাজদায় একটু বিলম্ব করবেন। ইমাম তিরমিযী বলেন, وروي عن عبد الله بن المبارك أنه قال أستحب للإمام أن يسبح خمس تسبيحات لكي يدرك من خلفه ثلاث تسبيحات আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক বলেন, ইমামের জন্য মুস্তাহাব হলো তাসবীহ পাঁচবার পরা যাতে মুক্তাদিরা অন্তত তিনবার পড়তে পারে। সুনানু তিরমিযী, ২৬১ নং হাদীসের আলোচনা। এছাড়া সহীহ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. ইমামকে মুক্তাদিদের দিকে লক্ষ রাখতে বলেছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭০৪।

প্রশ্নঃ 1033
আচ্ছালামু আলাইকুম,আপনাদের কাছে একটা প্রশ্ন এসেছিল এরকম, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ! স্যার বিকাশের ব্যবসা করা কি ইসলামিক শরিয়াহ সম্মত? আর আপনাদের উত্তর ছিল এরকম, ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিকাশের ব্যবসা শরীয়তসম্মত। জায়েজ, সমস্যা নেই। বিস্তারিত জানতে দেখুন, মাসিক আলকাউসার,অক্টোবর ২০১৩, যিলহজ্ব ১৪৩৪ থেকে মুফদত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ হাফিজাহুল্লাহ এর লেখা এই প্রবন্ধটি মোবাইল ব্যাংকিং : পর্যালোচনা ও শরঈ দৃষ্টিকোণ। এরপর আমি মাসিক আল-কাউসারের ওই প্রবন্ধে গেলাম,সেখানে দেখলামঃ ********এখন পর্যন্ত যে সেবাসমূহ মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানিগুলো দিচ্ছে তা নিম্নরূপ : ১. এক স্থান থেকে অন্য স্থানে টাকা প্রেরণ। ২. মোবাইল ফোন রিচার্জ। ৩. মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্টে জমা টাকা এজেন্ট থেকে উত্তোলন। ৪. মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্টে জমা টাকা ব্যাংকের এটিএম থেকে উত্তোলন। ৫. মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্টের টাকা ব্যাংক একাউন্টে এবং ব্যাংক একাউন্টের টাকা মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্টে স্থানান্তর। ৬. নির্ধারিত দোকানপাট ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধ সুবিধা। ৭. দেশের বাইরে বসবাসরত আপনজন কর্তৃক প্রেরিত অর্থ (রেমিটেন্স) গ্রহণ। এছাড়া একাউন্টধারী কর্তৃক নিজ হিসাবের স্থিতি, মিনি স্টেটম্যান্ট দেখার সুবিধাও রয়েছে। ******(মাসিক আলকাউসার) এখানে আমি এতো কিছু এজন্য উল্লেখ করলাম কারণ, বিকাশের একটা অন্যতম সুবিধা এখানে দেওয়া হয়নি এবং তা হলোঃ বিকাশ জমানো টাকার উপর নিদৃষ্ট পরিমাণ সুদ দেয় এই একটা সুবিধাই কি বিকাশ নাজায়েয হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিকাশে টাকা পাঠানো, নেয়া ইত্যাদি এগুলোকে জায়েজ বলা হয়েছে। যে সুদ দেয় তাকে জায়েজ বলা হয় নি। যেমন, সুদ ভিত্তিক ব্যাংকগুলোতে আপনি টাকা রাখতে পারেন, এতটুকু আপনার জন্য প্রয়োজনে জায়েজ। কিন্তু সেখান থেকে আপনি লোন নিতে পারবেন না, ব্যাংকে রাখা টাকার সুদ আপনি নিতে পারবেন না। বিকাশ সুদ দেয় তাই বিকাশে কোন ধরনের লেনদেন করা যাবে না এমন নয়। আপনি বিকাশ থেকে কোন সুদ পেলে কোন গরীব মানুষকে সওয়াবের নিয়তে দান করে দিবেন। বিকাশ ছাড়াই যদি লেনদেন করতে পারেন তাই করবেন।

প্রশ্নঃ 1032
Jonab, Assalamu alaikum. ami fb te akta meyer sathe porichito hoi. Meyeti dharmik, namaj kalam nofol roja sob palon kore agulo bivinno prosner maddhome jante pari. Actually ami khutai khutai ber kori tar amol gulo. Amra chatting e kortam kotha boltam na. Tarpor amr valo lagle ami take biyer prostab dei. She barite janate bole. ami tar ma vai der sathe kotha boli tara amr joggotai sontusto o hoi. amr family thekeo raji hoi.kintu biyer jonno shomoy chawya hoi. kintu er moddhe amra ake onno ke valobeshe feli……….r familite raji korate dui akta mitthar ashroy nei……….jemon amr shomoy dorkar 2 bosor kintu she bolte bole je 1 bosor boliyen pore ami manage kore nibo…..abar amr salary say 10000 she bolte bole 15000….amio tai boli…avabe kisu mitthar ashroy nei. Jokhon tar bari te raji hoi tokhon meye tir sathe amar mobile a kotha shuru hoi. Amra islami jibon japoner khettre du jonei akmot r biyetao islami sunnat mote biye korbo, a kothai raji hoi. akhon prosno hosse… 1.Avabe biye korata ki islami shoriyot mote grohonio ba jayez hobe? 2.amra kotha boltesi akhon regular….she khettre shoriyoter bidhan ki?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি ইসলামী অনুযায়ী চলতে চাচ্ছেন জানতে পেরে আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। আমরা দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাকে সঠিক পতে পরিচালিত করেন। এবার আপনার প্রশ্নের উত্তরে আসি। প্রথম কথা হলো বিয়ে এভাবে ছেলে-মেয়ের মধ্যে কথা বলা্ শরীয়তে নিষিদ্ধ। আপনি অবিলম্বে তার সাথে কথা বলা পরিত্যাগ করুন। দ্বিতীয় বিষয় হলো, আপনারা এখনই বিয়ে করে ফেলুন। পরিবারকে বলুন আমরা এখনই আকদ করে রাখতে চাই, যাতে আমরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি, কথা-বার্তা বলতে পারি। এখাকে বিয়ে করতে সমস্যা নেই, তবে সমস্যা হলো ঐ মেয়ের সাথে আপনার কথা বলা। ফেসবুকে হোক কিংবা সরাসরি হোক, লিখিত হোক বা মৌখিক হোক কোন গায়রে মাহরাম যুবতী মেয়ের সাথে আপনি অপ্রয়োজনীও কথা বলতে পারবেন না। সুতরাং আপনারা বিয়ে করে ফেলুন এবং অতীত কর্মের জন্য আল্লাহ তায়ালার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন।

প্রশ্নঃ 1031
Travel koto din er hole Qasar salat porte hobe? 4 days or 15 days.
04 Jan 2026

১৫ দিনের কম থাকার নিয়তে ৭৮-৭৯ কিলোমিটার পথ দূরের কোথাও গেলে কসর করতে হবে। ১৫দিনের বেশী হলে কসর করবে না। তবে রাস্তায় উভয় অবস্থাতেই অর্থাৎ ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত হোক কিংবা বেশী হোক কসর করবে।

প্রশ্নঃ 1030
লোগো ডিজাইন করা কি হারাম?
04 Jan 2026

লোগো ডিজাইন করা মূলত হারাম নয়। তবে তাতে যদি শরীয়তের দৃষ্টিতে আপত্তিকর কিছু থাকে তাহলে জায়েজ হবে না।

প্রশ্নঃ 1029
আমরা যে বাসায় ভাড়া থাকি এই বাসায় উঠার পর থেকেই দেখছি আমার বাসার অথবা বাড়িওলার বাসার অথবা দারোয়ান এর সংসার এ (অন্য ভাড়াটিয়াদের সাথে যোগাযোগ নেই) অসুখ যেন লেগেই থাকে। আমার সন্দেহ হয় বাড়ি টা ভালো না মানে বাড়িটা ভালো জায়গায় পরে নাই,হতে পারে নাপাক জায়গায় বাড়ি করা হয়েছে অথবা অন্য কিছু । রোগ -ব্যাধি তো আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে আবার এটাও তো ঠিক খারাপ জায়গাও তো হয় যেমন আমরা মনে করি শশান খারাপ জায়গা,খারাপ জীন থাকে। আসলেই খারাপ জায়গা বলে কিছু কি আছে? আমার এই খারাপ মনে করা বা ধারণা করাটা কি পাপ হইতেছে?
04 Jan 2026

আপনি যেটা মনে করছেন সেটা কুসংস্কার ছাড়া কিছু নয়। খারাপ জায়গাতে বাড়ি হওয়ার কারনে রোগ-ব্যাধি হচ্ছে এই ধারণা অমূলক। আর এই ধরনের খারাপ জায়গা বলতে কিছু নেই। আপনি আল্লাহর কাছে দুআর করুন যেন, তিনি সব ধরণের রোগ- ব্যধি দূর কর দেন। আমরাও আপনার জন্য দুআ করছি।

প্রশ্নঃ 1028
আমার ব্যাঙ্ক-এ FDR আছে যার ইন্টারেস্ট এর টাকা আমি গরিব দের দিয়ে দেই। আমার প্রশ্ন এই ইন্টারেস্ট এর টাকা দূর সম্পর্কের আত্মীয় বা শশুর বাড়ির আত্মীয় যদিও তারা তেমন অভাবী না আবার তেমন সচ্ছল -ও না তাদের কে কি দেয়া যাবে?
04 Jan 2026

ভাই, সুদ থেকে প্রাপ্ত টাকার কোন খাতে ব্যায় করতে হবে তা কুরআন-সুন্নাতে পাওয়া যাবে না। যেহেতু সেটা আপনার টাকা না তাই আলেমগণ বলেছেন, এগুলো গরীবদের দিয়ে দিতে হবে। আপনি গরীবদেরকে দিবেন। আপনি যাদের কথা উল্লেখ করেছেন তাদের না দেওয়াটাই ভাল। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1027
আসসালামু আলাইকুম, আমি যখন নিজ এলাকায় অবস্থান করি তখন নিয়মিত জামায়াতের সাথে নামায আদায় করি, কিন্তু যখন অন্য এলাকায় অবস্থান করি তখন ঠিকমত নামায আদায় হয়না . এমতাবস্থায় আমার করণীয় কি এবং যে নামায আদায় হলোনা সেক্ষেত্রে করণীয় কি বুঝিয়ে বলবেন. ওয়াসসালাম
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি যেখানে থাকবেন সেখানেই মসজিদে গিয়ে নামায আদায় করবেন। মনকে দৃঢ় করুন যে, যেখানে যে অবস্থাতেই থাকুন না কেন নামায ছাড়বেন না। কোন কারণে মসজিদে না যেতে পারলে যেখানে থাকবেন সেখানেই নামায আদায় করবেন। নামায ছেড়ে দেয়া কোন অবস্থাতেই গ্রহনযোগ্য নয়। তবে কোন কারনে যদি নামায কখনো ছুটে যায় তাহলে যত দ্রুত সম্ভব আদায় করে নিতে হবে। যেটাকে আমাদের দেশে কাযা নামায বলা হয়।

প্রশ্নঃ 1026
Assalamualilkum….bahi dariye kiam kore somporke jante cai. Amar ek bondu kurane hafiz she bollo dariye kiam kara jayej ace
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, দাঁড়ানোর নামই তো আরবীতে কিয়াম । যাহোক আপনি যেটা জানতে চেয়েছেন তা আমরা বুঝতে পেরেছি। এই দাঁড়ানো বা কিয়াম বিদআত। রাসূলুল্লাহ সা. এর জন্মের প্রায় হাজার বছর পর এই প্রথা চালু হয়েছে। সুতরাং এই আনুষ্ঠানিকতা বর্জন করা উচিত। বিস্তারিত জানতে দেখুন শায়েখ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত এহ্ইয়াউস সুনান বইটির শেষ অধ্যায়, বিশেষ করে ৫৩২-৫৩৩ পৃষ্ঠা।

প্রশ্নঃ 1025
Assalamualaikum, amar vai amr biye tik koreche 6mnth por date tik koreche. Ami and jar shate biye tik hoyeche amra 2jn family te bolechilam tahole akth porie deyar jonno. But koekjn reltv boltese akth porale naki 3mnth er moddhe konna k husband er bari tule nite hoy ajonno engagement poranur jonno. Islam er ashole nirdesh ta ki akth and engagement shompor k . R biye arkokom eto delay korle ki gunah hobe. Doa kore ans dile kub e upokrito hobo. Zazaka-Allahu-Khaira
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১। ইসলামী পরিভাষায় আকদ অর্থ হলো ইজাব (বিবাহের প্রস্তাব) এবং কবুল (প্রস্তাবগ্রহন) এর মাধ্যমে বিবাহ সম্পূর্ণ হওয়া। অর্থা আকদ হওয়া মানে বিবাহ হয়ে যাওয়া। পক্ষান্তরে engagement একটি বিধর্মী কালচার। কন্যাকে আংটি পরানোকে engagement বলা হয়। এর সাথে বিবাহের কোন সম্পর্ক নেই। ইসলাম এই ধরনের অনুষ্ঠানের কোন স্থান নেই। ২। আকদ হলে তিন মাসের মধ্যে কন্যাকে স্বামীর বাড়ি যেতে হয় এটা একটা কুসংস্কারমূলক কথা । ইসলাম এই ধরনের কোন নির্দেশ দেয় নি। ইসলামের নির্দেশনা হলো বিবাহের পর স্ত্রীর ভরন-পোষনের দায়িত্ব স্বামীর। যদি মেয়ের বাবা বা ছেলের বাবা বা অন্য কেউ স্বেচ্ছায় মেয়ের ভরন-পোষনের দায়িত্ব নেন তাহলে কোন সমস্যা নেই। যেমন, আপনার প্রশ্ন অনুযায়ী আপনার পিতা আপনাকে ৬ মাস নিজ বাড়িতে রেখে আপনার সকল দায়িত্ব পালন করতে পারেন যেটা মূলত আপনার স্বামীর উপর আবশ্যক। সুতরাং আপনারা এখন বিয়ে করতে পারেন। এবং ৬মাস বা তার চেয়েও বেশী সময় আপনি পিত্রালয়ে বসবাস করতে পারেন। আর এটাই আপনাদের জন্য কল্যানকর মনে হচ্ছে।

প্রশ্নঃ 1024
assala-mualaikum, ;Q1: na jene shirk korle ki hoy oi obosty marajay tahole ki hobe? Q2: na jene namje vol kirat porle tar namaz hobe?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১. না জেনে শিরক বলতে আপনি কি বুঝাচ্ছেন সেটা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। কারো কাছে যদি ইসলামের দাওয়াত একেবারই না পৌছায় তাহলে আল্লাহ তার উপরে সাধ্যের বাইরে কোন কিছু চাপাবেন না। আর যদি ছোট ছোট শিরক করে যেটা কবীর গুনাহের পর্যায়ের তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করতে পারেন আবার শাস্থিও দিতে পারেন। ছোট শিরক যেমন, কোন কিছুর মধ্যে অকল্যান আছে এমন বিশ্বাস করা ইত্যাদি। ২. না জেনে নামাযের ক্বিরাতে ভুল করার পর যখন জানতে পারবে নামাযে ভুল পড়েছে তখন পূনরায় নামায পড়েব। কারণ ঐ নামায তার হয় নি। অবশ্য ভুল এমন হতে হবে যে ভুল করার কারণে অর্থ পাল্টে যায়। আপনি আরো স্পষ্ট করে প্রশ্ন করবেন। আল্লাহ তায়ালা ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1023
আসসালামু আলাইকুম! ইসলামে পায়ে ধরে সালাম করার নিয়ম আছে কী? কাউকে না করলেও নিজের মা বাবাকে করা যাবে কী বা কাকে করা যাবে? কারণ মায়ের পায়ের নিচে তো সন্তানের বেহেশত। কোরআন ও হাদীসের আলোকে জানা্লে উপকৃত হবো।
03 Jan 2026

এই বিষয়ে শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীল রহ. এহ্ইয়াউস সুনান বইয়ে বলেছেন, কদমবুসীর রীতি: একজন মুসলমানের সাথে অন্যের দেখা হলে সালাম দেওয়া বা আস-সালামু আলাইকুম বলা ও উত্তর প্রদান করা ইসলামী সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ সা. -এর দরবারে তাঁর ২৩ বৎসরের নবুয়তী জিন্দেগিতে তাঁর লক্ষাধিক সাহাবীর কেউ কেউ দুই একবার এসেছেন। কেউ কেউ সহস্্রাধিকবার এসেছেন। এসকল ক্ষেত্রে তাঁদের সুন্নাত ছিল সালাম প্রদান। কখনো কখনো দেখা হলে তাঁরা সালামের পরে হাত মিলিয়েছেন, বা মুসাফাহা করেছেন। দুএকটি ক্ষেত্রে তাঁরা একজন আরেক জনের হাতে বা কপালে চুমু খেয়েছেন বা কোলাকুলি করেছেন। যয়ীফ বা অনির্ভরযোগ্য কয়েকটি ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনায় দেখা যায় কেউ রাসূলুল্লাহ সা. -এর পায়ে চুমু খেয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সা. ২৩ বৎসরের নবুয়তী জিন্দেগিতে লক্ষ মানুষের অগণিতবার আগমনেরে ঘটনার মধ্যে মাত্র ৪/৫টি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। সেই বর্ণনাগুলি প্রায় সবই যয়ীফ বা দুর্বল ও অনির্ভরযোগ্য। এ সকল ঘটনায় কোনো সুপরিচিত সাহাবী তাঁর পদচুম্বন করেননি, করেছেন নতুন ইসলাম গ্রহণ করতে আসা কয়েকজন বেদুঈন বা ইহুদি, যারা দরবারে থাকেনি বা দরবারের আদব ও সুন্নাত জানত-না। আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, ফাতেমা, বেলাল (রা) ও তাঁদের মতো অগণিত প্রথম কাতারের শত শত সাহাবী প্রত্যেকে ২৩ বৎসরে কমপক্ষে ১০ হাজার বার তাঁর দরবারে প্রবেশ করেছেন। কিন্তু কেউ কখনো একবারও তাঁর কদম মুবারকে চুমু খাননি বা সেখানে হাত রেখে সেই হাতে চুমু খাননি। কাজেই উপরোক্ত ৩/৪টি ব্যতিক্রম ঘটনার আলোকে বড়জোর পায়ে চুমু খাওয়া জায়েয বলা যেতে পারে। আমরা বলতে পারি বিশেষ ক্ষেত্রে আবেগের ফলে বা ক্ষমা চাওয়ার জন্য যদি কেউ কারো পা জড়িয়ে ধরে বা পায়ে চুমু খায় তা না-জায়েয হবে না। কিন্তু এই লক্ষ লক্ষ ঘটনার মধ্যে ব্যতিক্রম ৩/৪ টি ঘটনাকে যদি আমরা সুন্নাত মনে করি তাহলে নিঃসন্দেহে তা মূল সুন্নাতকে নষ্ট করবে। যা আমাদের সমাজে ঘটছে। অনেককেই মুখে সালাম দেওয়ার চেয়ে কদমবুছির গুরুত্ব বেশি প্রদান করি। অনেকে কদমবুছিকেই সালাম করা বলি। অনেকে মুখে সালাম প্রদান করি-না শুধু কদমবুছি করি। একবার চিন্তা করুন। রাসূলুল্লাহ সা. -এর ২৩ বৎসরের নবুয়তী জীবনের প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অগণিত ভক্ত সাহাবী তাঁর দরবারে আসছেন। দরবারে বসে আছেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সা., আল্লাহর মহত্ত্বম শ্রেষ্ঠতম খলীল ও হাবীব, যার ভক্তি ও ভালবাসা আল্লাহর কাছে নাজাতের অন্যতম ওসীলা। তাঁর দরবারে আসছেন মানব ইতিহাসের অতুলনীয় ভক্তবৃন্দ, যারা জীবনের ঊর্ধ্বে ভালবেসেছেন, ভক্তি করেছেন ও সম্মান প্রদর্শন করেছেন রাসূলুল্লাহ সা. -কে। এই দরবারের এসব আগন্তুকের কেউই কদমবুসী বা কমদমুছি করছেন না। সবাই এসে সালাম দিয়ে দরবারে বসছেন। সালাম দিয়ে দরবার ত্যাগ করছেন। কখনো হয়ত মোসাফাহা হচ্ছে। এই হলো দরবারে নববী। ২৩ বৎসরের দরবারে শুধুমাত্র তিন চার জন্য নবাগত, দরবারের সুন্নাতের সাথে অপরিচিত মানুষ পায়ে চুমু খেয়েছেন বলে কোনো কোনো হাদীসে জানা যায়। এবার আমাদের একটি দরবার বা মাজলিস চিন্তা করি। দরবারে বসে আসেন একজন ধর্মীয় নেতা, দরবারে প্রতিদিন আসছেন অগণিত ভক্ত। প্রতিটি আগন্তুক আগমনের সঙ্গে সঙ্গে সালাম করছেন, মুসাফাহা করছেন, এরপর হাতে বা পায়ে চুমুখাচ্ছেন। প্রতিটি আগন্তুক বা অধিকাংশ আগন্তুক ভক্তির প্রাবল্যে ও মুক্তির আকুতিতে নেতার পদযুগর স্পর্শ করে নিজেকে ধন্য করছেন।দুটি দরবারের চিত্র কি এক হলো? একজন সুন্নাত প্রেমিক সুন্নী মুসলিমের মনে কি কষ্ট লাগবে-না যে রাসূলে আকরামের সা. দরবারের সুন্নাত নষ্ট হয়ে মৃত্যবরণ করছে দেখে। আমাদের কেউ হয়ত বলবেন : অসুবিধা কি? সালাম তো প্রচলিত আছেই। আমরা শুধু অতিরিক্ত একটি জায়েয কাজ প্রচলন করেছি। সুন্নাত প্রেমিকের কাছে অনেক অসুবিধা আছে। জায়েয কাজকে সুন্নাত বা রীতিতে পরিণত করার ফলে রাসূলুল্লাহ সা. -এর দরবারের সুন্নাতটি মৃত্যুবরণ করেছে। তাঁর দরবারের পরিপূর্ণ সুন্নাতটি এখন অর্ধেক সুন্নাতে পরিণত হয়েছে। তাঁর ১৬ আনা আমাদের কাছে ৮ আনা হয়ে গেল! আমরা এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছি যে, এ সকল দরবারে বা সমাজের কোথাও যদি কেউ যদি নবীজির সা. দরবারের পরিপূর্ণ সুন্নাতের উপর আমল করে, অর্থাৎ সাহাবীদের মতো শুধু সালাম করে দরবারে বসে পড়ে বা মাঝে মাঝে মুসাফাহা করে, তাহলে তাকে শুধু অপূর্ণ নয় বরং খারাপ মনে করা হবে। এখন চিন্তা করুন আমরা রাসূলুল্লাহ সা. -এর সুন্নাত অপছন্দ করার ক্ষেত্রে কোথায় চলে গেছি! হয়ত আমাদের কারো একথাও মনে হতে পারে : কী আশ্চর্য, শ্রেষ্ঠ নবী, শ্রেষ্ঠ হাদী, শ্রেষ্ঠ মুরশিদ আল্লাহর খলীল ও হাবীব মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা., যার ভক্তি ও ভালবাস ঈমান ও নাজাত তাঁকে কদমবুছি বা কদমমুছি করছেন-না আবু বকর, ওমর, ওসমান, আলী, আবু হুরাইরা, সালমান, আবু দারদা, বিলাল ও অগণিত মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণ (রাদিআল্লাহু আনহুম), এমনকি তাঁর আহলে বাইত, তাঁর কলিজার টুকরা সন্তানগণ, ফাতেমা, হাসান, হুসাইন কেউই তাঁর কদমবুছি বা কদম মুছি করছেন না। তাঁরা আবার কেমন ভক্ত, কেমন মুহেব্বীন? লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ! প্রথম যুগের মহান অনুসারীরা সুন্নাত ও জায়েযের পার্থক্য বুঝতেন। সুন্নাতের স্তর বুঝতেন। সাহাবীদের দরবার দেখুন। আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, হাসান, হুসাইন (রাদিআল্লাহু আনহুম) প্রমুখ হাজার হাজার সাহাবীর দরবার দেখুন। সালামই পরিপূর্ণ সুন্নাত। উপরের দুই চারিটি ঘটনার উপর নির্ভর করে কোথাও তাঁরা পায়ে চুমু খাওয়ার প্রচলন করেননি। প্রথম যুগের তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীগণের অবস্থাও তা-ই ছিল। এহইয়াস সুনান, পৃষ্ঠা, ৩৮৬-৩৮৮। পিতা-মাতার ক্ষেত্রেও একই হুকুম। আল্লাহ তায়ালা ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1022
আসসালামু আলাইকুম। আমি একজন তরুন ডাক্তার। আল্লাহর মেহেরবানীতে আমি ইসলাম পালনের চেষ্টা করি। আমি স্ত্রী হিসেবে একজন ধার্মিক মেয়েকে চাচ্ছি। আমার পরিবার একটি মেয়েকে পছন্দ করেছে। মেয়েটি একটি কওমী মাদ্রাসায় দাওরা হাদিস পড়ছে। আমার কি এটাতে আগানো উচিত হবে?আমি নিজে কখনো মাদ্রাসায় পড়িনি এবং সালাফী বক্তাদের অনুসরন করি।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আল্লাহর শুকরিয়া যে, আপনি একজন ধার্মিক মেয়েকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন। আপনি মেয়েটিকে বিয়ে করতে পারেন, আশা করি এটা আপনার জন্য কল্যানকর হবে। আপনি সালাফী বক্তাদের অনুসরন করেন আর আপনার স্ত্রী হয়তো হানাফী আলেমদের অনুসরন করবে। কোন কোন আমলের বিষয়ে একাধিক সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি রয়েছে, সেক্ষেত্রে আপনি তার উপর নিজের মতামত চাপাতে যাবেন না। আবার সে কোন কিছু বললে আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে। মূল দায়িত্ব আপনার। আমরা আপনার জন্য দুআ করি যেন তিনি আপনাদের সুখের সংসার উপহার দেন।

প্রশ্নঃ 1021
ভাই, আমি বিবাহিত। আমার পুর্বে হস্তমৈথুন করার অভ্যাসটা ছিলো। এটা অবশ্য এখন নেই। কিন্তু আমার স্ত্রী যখন তার বাবার বাড়ি বেড়াতে যায় তখন আমি একলা হয়ে যাই। যদিও হস্তমৈথুন করি না। কিন্তু যখন ফেসবুকে ভালো লেকচারের ভিডিওগুলা দেখার সময় মাঝে মাঝে কিছু খারাপ ভিডিও এসে পড়ে।এমতাবস্থায় আমার সেই ভিডিওগুলা দেখতে মন চায়। কিন্তু পরবর্তীতে খুব খারাপ লাগে এই ভেবে যে এটা ঠিক হয়নি। আমিতো গুনাহের কাজ করলাম। তখন তওবা করে থাকি। কিন্তু শরীর খুব খারাপ লাগে ইচ্ছে করে হস্তমৈথুন করি। আমার স্ত্রী আমার বাড়িতে থাকলে এই সমস্যা হয় না। আমি কি করতে পারি বা এমন কোন আমল আছে যা আমাকে আমার এমন জৈবিক চাহিদাকে দমন করে রাখবে? আর ইসলামিক দৃস্টিতে হস্তমৈথুন করা বৈধ নাকি টোটালি অবৈধ? প্লিজ জানাবেন।
03 Jan 2026

ভাই, আপনার জন্য আমল হলো যখন আপনার স্ত্রী আপনার কাছে থাকবে না তখন আপনি ফেসবুক-ইন্টারনেট ব্যবহার একদম করবেন না। আপনার লেকচার শুনতে ইচ্ছা করলে আগে থেকে ডাউনলোড করে রেখে শুনবেন। এটা্ই আপনার জৈবিক চাহিদা দমনের আমল। অর হস্তমৈথুন কারা টোটালী হারাম। কোন কোন আলেম বলেছেন, ব্যভিচারের আশংকা থাকলে হস্তমৈথুন ব্যভিচারের চেয়ে কম গুনাহ। আমরা আপনার জন্য দুআ করি তিনি যেন আপনাকে এই সমস্যা থেকে পরিত্রান করেন।

প্রশ্নঃ 1020
Mohtaram, assalamu alaikum. Is there any Kitab regarding SALAT with reference? With rewards.
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, সালাতের কিছু বিষয় আছে এমন যার একাধিক পদ্ধতি সহীহ হাদীসসম্মত। বাজারে বাংলা ভাষাতে সম্ভবত এমন কোন বই নেই যেখানে এই একাধিক পদ্ধতি দলীলসহ বর্ণনা করা হয়েছে। কিছু বই আছে যেখানে একটা পদ্ধতিই শুধু দলীলসহ উল্লেখ আছে। যেমন, শায়খ ইলিয়াস ফয়সাল রচিত নবীজীর নামায, শায়খ আলাবানী রহ. রচিত সিফাতুস সালাত যেটা বাংলাতে রাসূলুল্লাহ সালাত নামে বের হয়েছে। এই দুটি বই একত্রে পড়লে আশা করি আপনি সালাত বিষয়ে অনেক কিছু জানতে পারবেন। এছাড়া ড. আসাদুল্লাহ আলগালীব লিখিত একটি সালাতের বইও বাজারে পাওয়া যায়। তবে এগুলোর কোনটিতেই সকল সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি একত্রিত করা হয় নি।

প্রশ্নঃ 1019
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ! স্যার বিকাশের ব্যবসা করা কি ইসলামিক শরিয়াহ সম্মত?
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিকাশের ব্যবসা শরীয়তসম্মত। জায়েজ, সমস্যা নেই। বিস্তারিত জানতে দেখুন, মাসিক আলকাউসার,অক্টোবর ২০১৩, যিলহজ্ব ১৪৩৪ থেকে মুফদত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ হাফিজাহুল্লাহ এর লেখা এই প্রবন্ধটি মোবাইল ব্যাংকিং : পর্যালোচনা ও শরঈ দৃষ্টিকোণ।

প্রশ্নঃ 1018
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ! স্যার শেয়ার এর ব্যবসা করা যাবে কি যদি আমি কোন প্রকার জুয়া বা সুদ ভিত্তিক কোন কোম্পানির শেয়ার না কিনে অন্য যেগুলোর প্রডাক্ট সাধারণত হালাল সেগুলায় কি ইনভেস্টমেন্ট করা যাবে? আরেকটা প্রশ্ন আমি কি কাউকে ব্যবসা করার জন্য টাকা দিতে পারি কন্টাক্ট অনুযায়ী? যেমন কেউ আমাকে বলল তাকে ১০০০০ টাকা দিলে সে সেই ব্যবসা থেকে যদি লাভ হয় তাহলে সে লাভের এতো % পাবে। আর যদি লস হয় তাহলে তাকেও লস গুনতে হবে। সে খেত্রে কি ঐ লোক আসলে কি ব্যবসা করবে বা কোথায় আমার টাকা ইনভেস্টমেন্ট করবে সেটা যাচাই করা আমার জন্য জরুরী? আর মুদারাবা বা ইসলামিক শরিয়তে ব্যবসায় খুঁটিনাটি জানার জন্য আমাকে পারলে কারো লেকচার বা কোন সাইটের বা কোন ভালো বই থাকলে প্লিজ একটু হেল্প করলে অনেক খুসি হবো স্যার। জাযাকাল্লাহ খইর!
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কোন প্রকার জুয়া বা সুদ ভিত্তিক কোন কোম্পানির শেয়ার না কিনে অন্য যেগুলোর প্রডাক্ট সাধারণত হালাল সেগুলায় ইনভেস্টমেন্ট করা যাবে। কাউকে ব্যবসা করার জন্য টাকা দিয়ে আপনি শতকারা হিসাবে তার থেকে লস/ লাভের ভাগী হলে এটা জায়েজ হবে। তবে এভাবে বললে জায়েজ হবে না যে, আমি ১০০০০টাকা দিলাম তুমি প্রতি মাসে আমাকে ২০০টাকা দিবে । আপনি যেভাবে বলেছেন সেভাবে আপনি কাউকে ব্যবসার জন্য টাকা দিতে পারেন। ব্যবসা সংক্রান্ত শায়খ ত্বকী উসমানী হাফিজাহুল্লাহর একটি বইয়ের বাংলা অনুবাদ বের হয়েছে। সম্ভবত বইটি ছয় খন্ডে সমাপ্ত । আপনি সেটি সংগ্রহ করতে পারেন। প্রতিটি খন্ডের নাম আলাদা। সবগুলো একসাথে ক্রয় করা যাবে।

প্রশ্নঃ 1017
আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে, পিতা মাতা জীবিত থাকা অবস্থায় যদি সন্তান তার পিতা-মাতার নামে দান করে তাহলে সে সওয়াব কি পিতা-মাতা পাবে?
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। পিতা-মাতা জীবিত থাকলেও সন্তান তাদের পক্ষ থেকে দান করলে তারা তার সওয়াব পাবে।

প্রশ্নঃ 1016
Rokomari.com theke ki sir er boi gula pawa jabe? oikhane ki price thik ache?
03 Jan 2026

পাওয়া যাবে তবে দাম পড়বে বেশী। আপনি আমাদের এখান থেকে সরাসরি নিলে অনেক কম দামে পাবেন। রকমারী ১৫% কমিশনে বিক্রি করে আর আমাদের এখানে ৪০-৫০% কমিশনে বিক্রি করা হয়। আমাদের সাথে যোগাযোগের নাম্বার, 01730 74 70 01, 01791 66 66 63, 01791 66 66 64, 01791 66 66 65

প্রশ্নঃ 1015
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ! আমি একজন হাই প্রেশারের রোগি। আমি একটা ঔষধ সেবন করি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। কিন্তু আমার সমস্যা হলো আমি যে ঔষধ টা সেবন করি এমন একটা ঔষধ যেটা আমার অনেক প্রব্লেম করে, যেমন আমার আচরণগত সমস্যা ও সলাতে আমার খুসুখুজু নস্ট হয়। লোকদের সাথে আমার আচরণ খারাপ হয়। আবার যদি সেটা সেবন না করি তাতেও প্রেশার বেড়ে যায়। এমন দ্বিমুখী সমস্যায় ভুগতেছি। এমতাবস্থায় আসলে আমার করনীয় কি বিশেষ করে ইসলামিক দৃস্টিতে? আর অন্যান্য ঔষধ ও সাধারণত আমার জন্য কার্যকরী না। প্লিজ জানিয়ে বাধিত করবেন। জাযাকাল্লাহ খইর!
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাকে সুস্থ রাখেন। আপনি ঐ ওষুধটা সেবন করুন। যেহেতু আপনি বুঝতে পারছেন এই ওষুধ সেবন করার কারণে আপনার আচরণ খারাপ হয়ে যাচ্ছে সুতরাং আপনি নিজেকে নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করুন। সালাতে মনোনিবেশ করার চেষ্টা করুন। সুন্নত সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় আল্লাহর কাছে বেশী করে দুআ করুন। আশা করি আপনার সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ 1014
Muhtaram assalamualaiqum. amar prosno holo ekdin amader ekjon alim sommilitisommilito munajat korte giye ek porjaye dua korchilen evabe je aacute a Allah aponar kudtkudroti paye dhore khoma chachhi Amar proshno holo ai vasate dua kora jayez kina
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, এই ধরনের কথার মধ্যে না জাযেজ কোন কিছু তো পাচ্ছি না। মানুষ আবেগের কারণে এমনটি বলতে পারে, এতে দোষের কিছু নেই। না জায়েজ হওয়ার জন্য যে সমস্ত দলীল দরকার এখানে তেমন কিছু আছে বলে আমার জানা নেই। মানুষ পা ধরে ক্ষমা চাওয়াকে ক্ষমা চাওয়ার শেষ স্তর মনে করে তাই হয়তো তিনি বলেছেন, আল্লাহর কুদরতি পায়ে ধরে ক্ষমা চাচ্ছি। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1013
আমি ঢাকাই পড়ি। আমি ১০-১২ দিনের জন্য বাড়ী যাই। তখন কী কসর পড়তে হবে।
03 Jan 2026

না, বাড়িতে গিয়ে কসর করবেন না। পূর্ণ সালাত আদায় করবেন। বাড়ি থেকে অন্য কোথাও গেলে কসর করতে হয়, বাড়িতে গেলে কসর করা যায় না।

প্রশ্নঃ 1012
আসসালামুআলাইকুম, ফজরের সুন্নাত ফরজের আগে না পড়তে পাড়লে,ফরজের পর সূর্য উদয়ের আগে পড়া যাবে কি? না সূর্য উদয়ের পর পড়তে হবে। দয়া করে জানাবেন।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সূর্য উদয়ের পরেই পড়বেন। সহীহ হাদীসে রাসূলু্ল্লাহ সা. এমনই বলেছেন। সনানু তিরমিযী, হাদীস নং ৩৮৮+। অবশ্য ছুটে যাওয়া আশংকা থাকলে ফরজের পরপরও আদায় করা যায়। বিস্তারিত জানতে দেখুন, রাহে বেলায়াত পৃষ্ঠা ৩৯৪-৩৯৫।

প্রশ্নঃ 1011
Assalamualaiqum. Amar proshno holo mohilara ki Zanazar salat porbe? Kenona masjidul harame proti wakto salater por Zanazar salat hoy. Sei somoy mohilara ki korbe? Zanazar salat porbe? Zazakallahul khair
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মহিলারা জানাযার সালাতে অংশ নিবে কিনা সে বিষয়ে সাহাবদের মাঝে কিছুটা মতভেদ আছে। যার ইবনে মাসউদ রা. এবং ইবনে উমার রা. বিষয়টিকে অপছন্দ করেছেন আবার ইবনে আব্বাস রা. নুমতি দিয়েছেন। ইমাম কুরতুবী বলেছেন অধিকাংশ আলেমের নিকট মাকরুহ তানযীহ। ইমাম মালেক রহ. অনুমতি দিয়েছেন আর ইমাম আবু হানীফা রা. বলেছেন, মহিলাদের জন্য জানাযাতে অংশ নেয়া উচিত নয়। এই বিষয়ে উমদাতুল কারী গ্রন্থে ইমাম বদরুদ্দীন আইনি যা বলেছেন তার মূল পাঠ হলো, وقال القرطبي ظاهر الحديث يقتضي أن النهي للتنزيه وبه قال جمهور أهل العلم وقال ابن المنذر روينا عن ابن مسعود وابن عمر وعائشة وأبي أمامة أنهم كرهوا ذلك للنساء وكرهه أيضا إبراهيم والحسن ومسروق وابن سيرين والأوزاعي وأحمد وإسحاق وقال الثوري اتباع النساء الجنائز بدعة وعن أبي حنيفة لا ينبغي ذلك للنساء وروى إجازة ذلك عن ابن عباس والقاسم وسالم والزهري وربيعة وأبي الزناد ورخص فيه مالك وكرهه للشابة وعند الشافعي مكروه وليس بحرام উমদাতুল কারী, ১২/২৬০-৬১। অধিকাংম আলেমের মতামতের ভিত্তিতে মনে হয় সাধারণ অবস্থায় মহিলাদের জানাযার সালাতে অংশ না নেয়াটাই ভলো, অংশ নেয়া হারাম বা নিষিদ্ধ নয়। তবে মসজিদুল হারামে ফরজ সালাতের পর জানাযা আসলে মহিলারা অংশ নেয়াটা্ই উচিত বলে মনে হয়। নিচের হাদীসটি লক্ষ করুন: عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ عَائِشَةَ لَمَّا تُوُفِّيَ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَتْ ادْخُلُوا بِهِ الْمَسْجِدَ حَتَّى أُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَأُنْكِرَ ذَلِكَ عَلَيْهَا فَقَالَتْ وَاللَّهِ لَقَدْ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى ابْنَيْ بَيْضَاءَ فِي الْمَسْجِدِ سُهَيْلٍ وَأَخِيهِ قَالَ مُسْلِم سُهَيْلُ بْنُ دَعْدٍ وَهُوَ ابْنُ الْبَيْضَاءِ أُمُّهُ بَيْضَاءُ আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান আয়েশা রা. থেকে বর্ণণা করেন যে, যখন সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রা. ইন্তেকাল করেন তখন আয়েশা রা. বললেন, তোমরা তাকে মসজিদে নিয়ে আসো যাতে আমি তার জানাযার সালাতে অংশ নিতে পারি। কেউ কেউ বিষয়টি (মসজিদে জানাযার সালাত) অপছন্দ করলো, তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কসম রাসূলুল্লাহ সা. বায়দার দুই ছেলে সুহাইল এবং তার ভাইয়ের জানাযার সালাত মসজিদে পড়িয়েছিলেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৬১৭। এই হাদীসে আমরা দেখতে পাচ্ছি আয়েশা রা. মসজিদে জানাযার সালাতে অংশ নিয়েছিলেন। সুতরাং যারা মসজিদের ভিতরে আছেন সে সব মহিলাদের জন্য সালাতে অংশ নেয়াটাই ভাল, তবে অংশ না নিলেও কোন সমস্যা নেই। শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ বলেছেন, জানাযার সালাত পুরুষ মহিলা উভয়ের জন্য শরীয়তসম্মত। জানাযার সালাতে অংশ নেয়ার যে বিশেষ ফজিলতের কথা সহীহ হাদীস সমূহে উল্লেখ আছে তা সবার জন্য সমান। আল-ইসলাম সুয়াল ও জবাব, প্রশ্ন নং192960। বিস্তারিত জানতে দেখুন, মারকাযুল ফাতাওয়া (ইন্টারনেট, আরবী), ফতোয়া নং ৮১০৪। আল্লাহ তায়ালা ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1010
আমি এবং আমার স্ত্রী দুজনই জব করি। আমাদের দুজনেরই কুরবানী করা ওয়াজিব। আমাদের ২টা বেবি আছে। আমি জানি যে গরুতে ৭ নামে কুরবানী করা যায় এবং নাবালক শিশুদের নামেও কুরবানী দেওয়া যায়। এখন আমরা একটা গরু ২ নামে কুররানী দিলে ভাল হবে? নাকি একটা গরুতে শিশুদের নাম সহ ৪ চার নামে কুরবানী দিলে ভাল হবে? উত্তম কোনটা? আমাদের প্রিয় নবী সাঃ কিংবা কোন সাহাবী কি নাবালক শিশুদের নামে কুরবানী দিয়েছেন? এই রকম কোন হাদিস কি আছে?
03 Jan 2026

আপনি ইচ্ছা করলে আপনার নাবালক ছেলে-মেয়েদের পক্ষ থেকেও কুরবানী করতে পারেন। এবং সেটাই উত্তম হবে। হাদীসে পরিবারের পক্ষ থেকে কুরবানী করার কথা আছে। অবশ্য নাবালক কথাটি কোন হাদীসে স্পষ্টে উল্লেখ আছে বলে আমার জানা নেই। হাদীসটি দেখুন: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يُضَحِّيَ، اشْتَرَى كَبْشَيْنِ عَظِيمَيْنِ، سَمِينَيْنِ، أَقْرَنَيْنِ، أَمْلَحَيْنِ مَوْجُوءَيْنِ، فَذَبَحَ أَحَدَهُمَا عَنْ أُمَّتِهِ، لِمَنْ شَهِدَ لِلَّهِ، بِالتَّوْحِيدِ، وَشَهِدَ لَهُ بِالْبَلاَغِ، وَذَبَحَ الآخَرَ عَنْ مُحَمَّدٍ، وَعَنْ آلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ র্অথ: রাসূলুল্লাহ সা. যখন কুরবানী দয়োর ইচ্ছা করতনে তখন দুটি বশিাল বড় সাইযরে সুন্দর দখেতে খাসী করা কাটান দওেয়া পুরুষ মষে বা ভড়ো ক্রয় করতনে। তাঁর উম্মতরে যারা তাওহীদ ও তাঁর রসিালাতরে সাক্ষ দয়িছেতে তাদরে পক্ষ থকেে একটি কুরবানী করতনে এবং অন্যটি মুহাম্মাদ সা. এবং মুহামাদ সা. এর পরবিাররে পক্ষ থকেে কুরবানী করতনে। ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩১২২; মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ২৫৮২৫। হাদীসটি হাসান।

প্রশ্নঃ 1009
কোন প্রকাশনীর হাদিসের বাংলা অনুবাদ সবচেয়ে ভাল, লেখক কে, প্রকাশ স্থান, জানাবেন। গবেষণারর জন্য কোরাআনের বাংলা বা ইংরেজি কোন অনুবাদ ভাল
03 Jan 2026

আমরা আপনা জন্য দুআ করি আল্লাহ আপনাকে ইসলামের জন্য কবুল করুন। আপনি নিজের ব্যক্তিগত আমলের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত কুরআন এবং হাদীসের অনুবাদ পড়তে পারেন। শায়খ তকী উসমানী কুরআনের ইংরেজী অনুবাদ করেছেন, সেটা পড়তে পারেন। তবে এসব পড়বেন নিজের আমলে জন্য। গবেষনার জন্য নয়। গবেষনার জন্য অবশ্যই আপনাকে আরবী ভাষার গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আরবী ভাষা না জেনে অনুবাদ নির্ভর গবেষনা করলে আপনি সফল হবেন না, নিজেও বিভ্রান্তিতে পড়বেন আর অন্যদেরকেও ফেলবেন। আরো বিস্তারিত জানার জন্য ভাল কোন আলেমের সাথে যোগাযোগ করুন।

প্রশ্নঃ 1008
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ! ভাই, আমার এক বন্ধুর প্রশ্ন ছিলো ওর পায়ে একটা কাটা থেকে সামান্য রক্ত বের হয়ে গড়িয়ে পড়েছিলো সলাতের সময়। এখন ওর সলাতের কোন ক্ষতি হয়েছে কিনা? যদি হয়ে থাকে এমতাবস্থায় ওর করনীয় কি? সলাত কি ক্বাযা করবে? নাকি সলাত হয়ে গেছে? আমি জেনেছি কাটা ছেঁড়া বা ক্ষতস্থান থেকে রক্ত পুজ পানি বের হলে বা গড়িয়ে পড়লেও নাকি সলাতের কোন সমস্যা নেই আর ইমাম আবু হানিফার রঃ এর ফিকহে অজু নস্ট হয়ে যায়। এখেত্রে আমার ফ্রেন্ডের জন্য বেস্ট অপশন কোনটি বা আমরা আসলে কোনটা বেশি প্রাধান্য দিবো। জাযাকাল্লাহ খইর
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। শরীর থেকে রক্ত বের হয়ে গড়িয়ে পড়লে ওযু নষ্ট হয়ে যাবে কিনা তা নিয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ আছে। একদল বলেন, নষ্ট হবে আরেক দল বলেন হবে না। প্রত্যেক দলের হাদীস থেকে দলীল আছে। আমাদের দেশে নষ্ট হবে এই মতটিকে সাধারনত মেনে চলা হয়। এই মতটা মানাই অধিককত শতর্কতা বলে মনে হয়। আপনার বন্ধু আগামীতে যেন এমন অবস্থায় আর সালাত আদায় না করে। যেটা হয়ে গেছে আশা করি আল্লাহ তায়ালা কবুল করে নিবেন।

প্রশ্নঃ 1007
Assalamualiqum. Kono Bangladeshi Hajji jodi Makkah-tay tar Hajjerr jony poshu Qurbani dei, tobay takay ki Bangkadeshay Qurbani Eid-er somoy tar namay arekti Qubani ditay hobay?
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, বাংলাদেশে তার কুরবানী দেয়ার প্রয়োজন নেই।

প্রশ্নঃ 1006
আসসালাম ওয়া আলাইকুম ওয়া রহ-মাতুল্লাহ, সাদাকা হচ্ছে নিজের (নিজের অধিনস্থদের) জানের জন্য নিজের মাল থেকে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা, তাই নয় কি? তাহলে কি আমার মা আমার টাকায় আমার বিবাহিত বোনের জন্য সাদাকা করতে পারবেন যদিও আমার আয়ের প্রতিটা পয়সায় আমার পিতা-মাতার সম্পূর্ণ হক আছে। আমার বোন যেহেতু বিবাহিত তাহলে সে যার জিম্মাদারিতে আছে (যেমন তার স্বামী, ছেলে) তাদের মাল থেকে তার জানের সাদাকা দেয়া যাবে? আমি হয়তো স্পষ্ট করে বুঝাতে পারি নাই, আমাকে ক্ষমা করবেন। টাকা বড় কথা নয় সাহিহ তারিকা জানতে চাওয়া মুল বিষয়। দয়া করে জানায়ে বাধিত করবেন। জাযাকাল্লাহ খইর, ওয়া আলাইকুম আসসালাম।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনি যে সদাকার বিষয়ে প্রশ্ন করেছেন সেটা ঈদুল ফিতরের শেষে সদকাতুল ফিতরের বিষয়ে বলা হয়েছে। অধিনস্ত বলতে নিজের না বালেগ ছেলে-মেয়ে এবং দাস-দাসী উদ্দেশ্য। বোন বা অন্যান্য আত্নীয়রা নয়। এমনকি নিজের স্ত্রীর এবং বালেগ ছেলে মেয়ের পক্ষ থেকেও এই সদকা দেয়া ওয়াজিব নয়। এই সদকা ওয়াজিব। এর বাইরে আপনি যে কোন নফল সদকা যে কারো জন্য করতে পারেন কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 1005
আসসালামু আলাইকুম, আমার একটিু প্রশ্ন ছিল। প্রশ্ন টি হলো, পুকুরের মাছ মরে ভেসে উঠলে সেই মাছ খাওয়া হালাল না হারাম?
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মরা মাছ খাওয়া জায়েজ। সুতরাং মাছ যে ভাবেই মারা যাক খাওয়া জায়েজ আছে। পুকুরে ভেসে ওঠা মরা মাছ খাওয়াও জায়েজ।

প্রশ্নঃ 1004
আসসালামু আলাইকুম, বাংলাদেশ ইসলামী দাওয়াহ সেন্টার এর পক্ষ থেকে আপনাদেরকে ধন্যবাদ যে আপনারা দ্বীনের দাওয়াত ও মুসলিমের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছেন। আল্লাহ তাআলার কাছে দোআ করি যাদে আপনারা দ্বীনের সঠিক দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন ।আজ বাংলাদেশ ইসলামী দাওয়াহ সেন্টার এর পক্ষ থেকে আপনাদেন কাছে একটি প্রশ্ন করছি।আমরা আশা করছি আপনারা প্রশ্নের উত্তর আমাদের ই-মেইল এর মাধ্যমে দিবেন। প্রশ্নঃ দাঁড়ি রাখার বিধান কি আর দাঁড়ির রাখার সীমা বা কি পরিমাণ দাঁড়ি লম্বা করতে হবে?
03 Jan 2026

দাঁড়ি পুরুষের জন্য বিশেষ সৌন্দর্য ও পৌরুষ প্রকাশক। রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে বড় দাঁড়ি রাখতেন, উম্মাতকে বড় দাঁড়ি রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং দাঁড়ি ছোট করতে এবং মুণ্ডন করতে নিষেধ করেছেন।রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আকৃতির বর্ণনায় আলী (রা) বলেন, كان عـظـيـم اللـحـيـة তিনি অনেক বড় দাড়ির অধিকারী ছিলেন। হাদীসটি হাসান। ইবনু হিব্বান, আস-সহীহ ১৪/২১৬-২১৭; আল-মাকদিসী, আল-আহাদীস আল-মুখতারাহ ২/৩৬৯; হাইসামী, মাওয়ারিদুয যামআন ৭/২১-২২; আলবানী, সহীহুল জামি ২/৮৭৩। মুসলিম সংকলিত অন্য হাদীসে জাবির ইবনু সামুরা (রা) বলেন, كان كـثـيـر شـعـر اللـحـيـة রাসূলুল্লাহ সা.-এর দাড়ি ছিল বেশি বা ঘন। মুসলিম, আস-সহীহ ৪/১৮২৩। ইয়াদিয আল-ফারিসী বর্ণিত ও আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা) অনুমোদিত হাদীসে তিনি বলেন, قـد مـلأت لحـيته ما بيـن هذه إلى هذه، قد مـلأت نحـره তাঁর দাড়ি তাঁর বক্ষ পূর্ণ করে ফেলেছিল। হাদীসটি হাসান। তিরমিযী, আশ-শামাইল, পৃ. ৩৫১; আলবানী, মুখতাসারুশ শামাইল, পৃ.২০৮-২০৯। এভাবে আমরা দেখছি যে, রাসূলুল্লাহ সা. বড় দাড়ি রেখেছেন।তিনি দাড়ির যত্ন নিতেন এবং বেশি বেশি দাড়ি পরিপাটি করতেন ও আঁচড়াতেন। সাহাবীগণও এভাবে বড় দাড়ি রাখতেন বলে বিভিন্ন হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তিনি দাড়িতে খেযাব ব্যবহার করেন নি বলেই অধিকাংশ বর্ণনার আলোকে বুঝা যায়। কারণ তাঁর দাড়ি প্রায় সবই কাল ছিল। মাথায় গোটা বিশেক চুল এবং নিচের ঠোটের নিচের দাড়িগুচ্ছের (বাচ্চা দাড়ির) মধ্যে গোটা দশেক দাড়ি মাত্র সাদা হয়েছিল। এছাড়া দু কানের পাশে কলির কিছু চুল পাকতে শুরু করেছিল। ইবনু হাজার আসকালানী, ফাতহুল বারী ৬/৫৭-৫৭২। তৎকালীন যুগে মুশরিক ও অগ্নি উপাসকদের মধ্যে দাড়ি ছোট করে রাখা বা দাড়ি মুণ্ডন করার রীতি প্রচলিত ছিল। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর উম্মাতকে বিশেষভাবে এ সকল অমুসলিম সম্প্রদায়ের বিরোধিতা করতে এবং বড় দাড়ি রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাদীসে আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা.বলেছেন, خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ أَحْـفُوا (انْهَكُوا) الشَّوَارِبَ وَأَوْفُوا (أَعْـفُوا) اللِّـحَى (أَمَرَ e بِإِحْفَاءِ الشَّوَارِبِ وَإِعْفَاءِ اللِّحْيَةِ) তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা কর, গেঁফগুলি ছেটে ফেল বা ছোট কর এবং দাড়িগুলি বড় কর (অন্য বর্ণনায়: তিনি গোঁফ ছাটতে এবং দাড়ি ছাটা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। ) বুখারী, আস-সহীহ ৫/২২০৯; মুসলিম, আস-সহীহ ১/২২২। অন্য বর্ণনায় তাবিয়ী নাফি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ وَفِّرُوا اللِّحَى وَأَحْفُوا الشَّوَارِبَ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا حَجَّ أَوِ اعْتَمَرَ قَـبَضَ عَلَى لِحْـيَتِهِ فَمَا فَضَلَ أَخَذَهُ তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা কর, দাড়ি বাড়াও বা বড় কর এবং গোঁফ খাট কর। নাফি বলেন, ইবনু উমার (রা) যখন হজ্জ অথবা উমরা পালন করতেন, তখন (হজ্জ বা উমরা পালনের শেষে মাথার চুল মুণ্ডন করার সময়) নিজের দাড়ি মুষ্টি করে ধরতেন এবং মুষ্টির অতিরিক্ত দাড়ি কর্তন করতেন। বুখারী, আস-সহীহ ৫/২২০৯। ফকীগণের মতামত: (১) ফকীহগণ একমত যে দাড়ি রাখা ইবাদত (ফরয, ওয়াজিব অথবা সুন্নাত)। তবে এ ইবাদতের সীমার বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন। কেউ বলেছেন দাড়ির দৈর্ঘের কোনো সীমা নেই। যত বড়ই হোক তা ছাটা যাবে না। শুধু অগোছালো দাড়ি ছাটা যাবে। কেউ বলেছেন এ ইবাদতের সীমা একমুষ্টি পর্যন্ত। এর অতিরিক্ত দাড়ি কেটে ফেলাই সুন্নাত। (২) ফকীহগণ সকলেই দাড়ি কাটা বা মুণ্ডন করা নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন (হারাম বা মাকরূহ তাহরীমী)। (৩) অনেক ফকীহ একমুষ্টির অতিরিক্ত দাড়ি কাটা বৈধ, উত্তম বা ওয়াজিব বলে উল্লেখ করেছেন। (৪) কোনো মুহাদ্দিস, ফকীহ, ইমাম বা আলিম এক মুষ্টির কম দাড়ি রাখার সুস্পষ্ট অনুমতি দিয়েছেন বলে জানা যায় না। যারা দাড়ি থেকে কিছু ছাটার অনুমতি দিয়েছেন তাদের প্রায় সকলেই সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, একমুষ্টির অতিরিক্তই শুধু কাটা যাবে। দ্বিতীয়-তৃতীয় শতকের কোনো কোনো ফকীহ মুষ্টির কথা উল্লেখ না করে সামান্য ছাটা যাবে, বা মুশরিকদের অনুকরণ না হয় এরূপ ছাটা যাবে বলে উল্লেখ করেছেন। আবূ ইউসূফ, কিতাবুল আসার ১/২৩৪; ইবনু আবী শাইবা, আল-মুসান্নাফ ৫/২২৫; ইবনু আব্দুল র্বার, আত-তামহীদ ২৪/১৪৫-১৪৬; নববী, শারহু সহীহি মুসলিম ৩/১৪৯; কাসানী, বাদাইউস সানাইয় ২/৩২৭; মারগীনানী, হিদাইয়া ১/১২৩; ইবনুল হুমাম, শারহু ফাতহিল কাদীর ২/৩৫২; ইবনু হাজার, ফাতহুল বারী ১০/৩৫০; আইনী, আল-বিনাইয়া শারহুল হিদাইয়া ৩/৬৮২; ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ, মানারুস সাবীল ১/২১; মারয়ী ইবনু ইউসূফ, দলীলুত তালিব ১/২১; মুহাম্মাদ হাজাবী, আল-ইকনা ১/২০; শাওকানী, নাইলুল আওতার ১/১১০-১১২, ১৩৬; মুনাবী, ফাইদুল কাদীর ১/১৯৮, ৫/১৯৩; মুবারকপূরী, তুহফাতুল আহওয়াযী ৮/৩৬-৩৯। (৫) প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের মধ্যে হাম্বালী ও শাফিয়ী মাযহাবের আলিমদের মতে দাড়ি যত বড়ই হোক তা ছাটা বা কাটা যাবে না; কারণ রাসূলুল্লাহ সা.তা বড় করতে ও লম্বা করতে নির্দেশ দিয়েছেন, কোনোভাবে তা কাটতে বা ছাটতে অনুমতি দেন নি। হাম্বালী মাযহাবের অন্য একটি বর্ণনা ও মালিকি মাযহাব অনুসারে একমুষ্টির অতিরিক্ত দাড়ি কর্তন করা বৈধ বা মুবাহ।হানাফী মাযহাবের দৃষ্টিতে একমুষ্টির অতিরিক্ত দাড়ি কর্তন করাই সুন্নাত। বিস্তারিত জানতে দেখুন, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত, আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স ঝিনাইদহ থেকে প্রকাশিত কুরাআন-সুন্নাহর আলোকে পোশাক পর্দাও দেহসজ্জা বইটি। পৃষ্ঠা ৩৩৬-৩৫১।

প্রশ্নঃ 1003
আজ আরবি মাস অর্থাৎ জিলহজ মাসের কতো তারিখঃ. …? জিলহজ মাসের ৯ তারিখ যে নফল রোযা আছে…সেটা কি হজ্জের আগের দিন হিসেব করে করতে হবে না কি আমাদের দেশে জিলহজ মাসের যে দিন ৯ তারিখ হবে সে দিন করতে হবে….কারণ সৌদি আরবে যে দিন ৯ তারিখ আমাদের সে দিন ৮ তারিখ…? উত্তর টা জরুরি ভিত্তিতে দিবেন বলে আশা রাখি…..আল্লাহ আপনাকে ভালো রাখুন, আমিন
03 Jan 2026

অধিকাংশ আলেমের নিকট স্থানীয় তারিখ অনুযায়ী ৯ জিলহজ্জ রোজা রাখবে। তবে কেউ কেউ বলেছেন, হাজীরা যেদিন আরাফায় থাকবে সেদিন রোজা রাখবে। স্থানীয় তারিখ যাই হোক না কেন। বিস্তারিত জানতে এই ঠিকানায় স্যার রহ. এর এই ভিডিওটি দেখুন। শিরোনাম: ইয়াওমুল আরাফার রোজা কি আরবদেশের সাথে মিলিয়ে রাখবো? অথবা আমাদের দেয়া 0161নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন। আজ (আমি যেদির উত্তর দিচ্ছি), রবিবার, জিলহজ্জ মাসের ৮ তারিখ।

প্রশ্নঃ 1002
assalamo allikum ami rafadayen kortachi kintu amar parar lokera khub gura ar rafadayen korla tara amaka samalochana korba ami ki kori jodi khakhono kakhono rafadayen kori abar khokono na kori asubidha acha? ar amader masjida sakal belai salatul farz ar para ya nabi salam ali ka,ar salato salam para hai, ami suna chilum khandokar sir bola chilen ya nabi salam alika beyadabi, abar masjida samasto musalli para ami na porla amar upar fatwa diba amar satha tara valo vaba misba na, samalochanao korba .daya kora apni amaka aman akta process bolen jata ami tader satha thaakta para kintu bidat thaka banchta pari amra pori ya nabi salam alika
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি স্যার রহ. এর এই ভিডিও ক্লিপটি দেখুন। শিরোনাম: নামাজে হাত কোথায় রাখবো

প্রশ্নঃ 1001
আসসালামুওলাইকুম, শাইখ, সব এলকোহল মদ নয়, একটু ব্যাখ্যা করবেন দয়া করে।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। এই বিষয়ে শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রা. একটি প্রশ্রে উত্তরে বলেছেন এলকোহল একটি কেমিক্যাল টার্ম, এ দ্বারা সর্বদা মদ বুঝানো হয় না। পারফিউমে ব্যবহৃত এলকোহল সাধারণত মাদক হয় না, অনেক সময় বিষাক্ত হয়, যা পান করলে মাতাল না হলেও মৃত্যু হতে পারে। এ ধরনের এলকোহল মিশ্রিত পারফিউম ব্যবহার বা এলকোহল মিশ্রিত পানি দিয়ে জীবানুমুক্ত হওয়া ইত্যাদি বৈধ। এতে দেহ বা পোশাক নাপাক হবে না।

প্রশ্নঃ 1000
আসসালামু আলাইকুম! চট্টগ্রামে মানুষের মৃত্যুর পর ৪দিনের ফাতেহা বা চল্লিশ দিনের ফাতেহা (গরু জবা্খই করে খাওয়ানো) হয়। এটা সম্পর্কে ইসলামের বিধান কি? এটা যায়েজ কী? দয়া করে কোনআন বা হাদীসের আলোকে জানালে উপকৃত হবো।
03 Jan 2026

এই সব অনুষ্ঠান করা সুন্নাহ ভিরোধী কাজ। রাসূলু্ল্লাহ সা. ও তার সাহাবীগণ এসব করেন নি। এ সম্পর্কে শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. বলেছেন, মৃত্যু পরবর্তী জীবনের সফলতা, মুক্তি, শান্তি ও নেয়ামত লাভের ইচ্ছা ও চেষ্টা সকল ধর্মের অনুসারিগণই করেন। এই জাতীয় সকল কর্ম একান্তই ধর্মীয় ও বিশ্বাসভিত্তিক। বিভিন্ন জাতির মধ্যে ধর্মহীনতা ও অজ্ঞানতার প্রসারের ফলে এ বিষয়ে অনেক কুসংস্কার ও উদ্ভট ধারণা বিরাজমান। যেমন, অনেক সমাজে মনে করা হয়, মৃতের জীবত আত্মীয়স্বজনের দান, খাদ্য প্রদান বা কিছু অনুষ্ঠান পালনের উপরে মৃতব্যক্তির পারলৌকিক মুক্তি নির্ভরশীল। ইসলামে এ সকল কুসংস্কারের মূলোৎপাটন করা হয়েছে। ইসলামের শিক্ষা অনুসারে মানুষের পারলৌকিক মুক্তি, শান্তি ও সফলতা নির্ভর করে তার নিজের কর্মের উপরে। সৎকর্মশীল মানুষের মৃত্যুর পরে বিশ্বের কোথাও কিছু না করা হলে, এমনকি তাঁর দেহের সৎকার করা না হলেও তাঁর কিছুই আসে যায় না। অপরদিকে জীবদ্দশায় যিনি শিরক, কুফর, ইসলাম বিরোধিতা, ইসলামের বিধিনিষেধের ও ইসলামী কর্ম ও আচরণের প্রতি অবজ্ঞা, জুলুম, অত্যাচার, অবৈধ উপার্জন, ফাঁকি, ধোঁকা ইত্যাদিতে লিপ্ত থেকেছেন তার জন্য তার মৃত্যুর পরে বিশ্বের সকল মানুষ একযোগে সকল প্রকার শ্রাদ্ধ, অনুষ্ঠান, প্রার্থনা ইত্যাদি করলেও তার কোনো লাভ হবে না। তবে যদি কোনো ব্যক্তি বিশুদ্ধ ঈমানসহ ইসলামের ছায়াতলে থেকে সৎকর্ম করে মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে জীবিত ব্যক্তিগণ তাঁর জন্য প্রার্থনা করলে প্রার্থনার কারণে দয়াময় আল্লাহ তাঁর সাধারণ অপরাধ ক্ষমা করতে পারেন বা তাকে সাওয়াব ও করুনা দান করতে পারেন। এছাড়া এই ধরনের মানুষের কল্যাণের উদ্দেশ্যে কোনো জীবিত মানুষ দান বা জনকল্যাণমূলক কর্ম করলে সেই কর্মের সাওয়াব করুনাময় আল্লাহ উক্ত মৃতব্যক্তিকে প্রদান করতে পারেন। এই ধরনের কর্মকে সাধারণত আরবিতে ঈসালে সাওয়াব ও ফারসিতে সাওয়াব রেসানী বলা হয় যার অর্থ: সাওয়াব পৌঁছানো। তাহলে আমরা দেখছি যে, মানুষের মুক্তি নির্ভর করে মূলত নিজের কর্মের উপর। তবে বিশুদ্ধ ঈমানদার সৎ মানুষদের জন্য দোয়া ও দান করা যায়। কুরআন কারীমে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। হাদীস শরীফে মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা, দোয়া ও দান-সদকা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের উদ্দেশ্যে জীবিত ব্যক্তির এ সকল কর্মের সাওয়াব তাঁরা লাভ করবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মৃতের দায়িত্বে হজ্জপালন বাকি থাকলে তা তাঁর পক্ষ থেকে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এগুলি সাধারণ নির্দেশনা ও ফযীলতমূলক হাদীস। এখন আমাদের দেখতে হবে রাসূলুল্লাহ r ও তাঁর সাহাবায়ে কেরাম এই ফযীলতের কর্মটি কী-ভাবে পালন করেছেন। অর্থাৎ এই কর্মটির ক্ষেত্রে সুন্নাত কী তা জানতে হবে। এখানে উল্লেখ্য যে, দোয়া বা দান-সদকার জন্য কোনো প্রকার সমাবেশ, অনুষ্ঠান বা দিন তারিখের কোনো প্রকারের ফযীলত বা গুরুত্ব আছে Ñ সে কথা কোনো হাদীসে কখনো বলা হয়নি। এছাড়া কুরআন খতম, কালেমা খতম ইত্যাদি ইবাদত পালন করে মৃত ব্যক্তিদের জন্য সাওয়াব দান করলে তাঁরা এ সকল ইবাদতের সাওয়াব পাবেন বলে কোনো হাদীসে কোনো প্রকারে বলা হয়নি। রাসূলুল্লাহ r ও সাহাবীদের যুগে কারো ইন্তেকালের পরে তার জন্য দোয়া করার উদ্দেশ্যে পরবর্তী সময়ে কখনো কোনোভাবে তাঁরা জমায়েত হননি। কারো মৃত্যু হলে নিকটাত্মীয়গণের জন্য তিনি দিন শোক প্রকাশের বিধান রয়েছে ইসলামের। এই তিন দিনে সমাজের মানুষেরা মৃতের আত্মীয়গণকে সমবেদনা জানাতে ও শোক প্রকাশ করতে তাঁদের বাড়িতে আসতেন। এছাড়া মৃত ব্যক্তির জানাযার নামাযের ও দাফনের পরে আর কখনো তাঁকে কেন্দ্র করে ৩ দিনে, ৭ দিনে, ৪০ দিনে বা মৃত্যুদিনে বা অন্য কোনো সময়ে মাসিক, বাৎসরিক বা কোনোভাবে তাঁর কবরের কাছে, অথবা বাড়িতে বা অনুষ্ঠানকারীর বাড়িতে বা অন্য কোথাও কোনোভাবে তাঁরা কোনো অনুষ্ঠান করেননি বা কোনো জমায়েতও করেননি। মৃত ওলী, প্রিয়জন বা বুজুর্গের জন্য দোয়া ও ঈসালে সাওয়াবের ক্ষেত্রে তাঁদের সুন্নাত ছিল ব্যক্তিগতভাবে দোয়া করা এবং সুযোগ সুবিধা ও আগ্রহ অনুযায়ী ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের জন্য দান-সাদকা ও হজ্ব ওমরা বা কুরবানি করা। সুযোগমত কোন প্রকারের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া তাঁদের কবর যিয়ারত করে তাঁদেরকে সালাম দেওয়া ও তাঁদের জন্য দোয়া করা। রাসূলুল্লাহ r -এর ইন্তেকালের পরে প্রায় একশত বৎসরের মধ্যে খুলাফায়ে রাশেদীন ও সাহাবীগণ একটিবারও তাঁর কুলখানী, ইসালে সাওয়াব, ওরস ইত্যাদি উপলক্ষ্যে তাঁর ওফাত দিনে বা অন্য কোনো দিনে, কোনো রকম দিন নির্ধারণ করে বা না-করে, মদীনায় বা অন্য কোথাও কখনোই কোনো অনুষ্ঠান, সমাবেশ, মাহফিল, খানাপিনা কিছুই করেননি। মৃত বুজুর্গ বা প্রিয়জনদের জন্য দোয়া করার ও সাওয়াব প্রেরণের আগ্রহ ও প্রয়োজনীয়তা তাঁদের ছিল। এবিষয়ের হাদীসগুলি তাঁরা জানতেন। এজন্য জমায়েত হওয়া, বিভিন্ন দিনে, নিয়মিত বা অনিয়মিত মৃতের কবরে, বাড়িতে বা অন্য কোথাও কোনো অনুষ্ঠান করা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল। কিন্তু কখনই তাঁরা তা করেননি। তাঁরা সকল প্রকারের জমায়েত, আনুষ্ঠানিকতা বর্জন করেছেন। কোনো প্রকারের দিন তারিখ মাস বার পালন-করা বর্জন করেছেন। সকল প্রকারের কুলখানী, ওরস, জমায়েত বা অনুষ্ঠান তাঁরা বর্জন করেছেন। তাঁরা ব্যক্তিগত ও অনানুষ্ঠানিক দোয়া ও দানকেই এ সকল ক্ষেত্রে একমাত্র পদ্ধতি বলে মনে করেছেন। প্রকৃতপক্ষে মৃত বুজুর্গ বা প্রিয়জনের জন্য সদা সর্বদা সুযোগ ও আবেগ অনুসারে দোয়া করাই ছিল তাঁদের স্থায়ী ও নিয়মিত সুন্নাত। এছাড়া কোনো কিছুই তাঁরা নিয়মিত করেননি। কারো পিতামাতা বা কোনো আপনজন ইন্তিকাল করলে হয়ত ইন্তিকালের পরেই তাঁদের জন্য কিছু দান করেছেন, জমি ওয়াকফ করেছেন বা অনুরূপ জনকল্যণমূলক কোনো কাজ করেছেন। কেউ বা তাঁদের হজ্ব বাকি থাকলে হজ্ব আদায় করে দিয়েছেন। কখনো মৃত ব্যক্তির বন্ধুদেরকে হাদিয়া প্রদান করেছেন বা ছাগল জবেহ করে তার গোশত তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে তাদেরকে ইকরাম করেছেন মৃত ব্যক্তির ইকরামের অংশ হিসেবে। ঈসালে সাওয়াব বা মৃতের জন্য সাওয়াব প্রেরণের জন্য সর্বদা দোয়া করাই ছিল তাঁদের নিয়মিত সুন্নাত। এখন আমাদের সমাজে মৃতব্যক্তিদের জন্য দোয়ার উদ্দেশ্যে অথবা তাদের জন্য দান-সদকার সময়ে বিভিন্ন পদ্ধতিতে আমরা জমায়েত হই ও অনুষ্ঠান করি। এ সকল অনুষ্ঠান নিঃসন্দেহে খেলাফে-সুন্নাত বা সুন্নাত বিরোধী। বিভিন্ন ওজর ও অজুহাতের এগুলি জায়েয বলা হয়েছে। কিন্তু অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে যে, কেউ যদি পূর্ণ সুন্নাত অনুযায়ী অনানুষ্ঠানিকভাবে দান-সাদকা ও দোয়া করেন তাহলে অনেক মুসলমান তাঁর কর্মকে খুবই অপছন্দ করবেন। এভাবে তাঁরা রাসূলুল্লাহ r -এর সুন্নাতকে অপছন্দ করছেন। এহইয়াউস সুনান, পৃষ্ঠা ৩৮৮-৩৯১। বিস্তারিত জানতে এই বইটির ৩৮৮-৩৯৯ পৃষ্ঠা দেখুন।

প্রশ্নঃ 999
আসসালামু আলাইকুম! এলকোহল তো পারফিউম এ থাকে। এটা ব্যবহার করে নামাজ পড়া যাবে কী?
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সব এলকোহলই মদ নয়, হারাম নয়। সাধারনত পারফিউমগুলোতে যে এলকোহল থাকে তা হালাল। সুতরাং এতে নামাযের কোন সমস্যা হবে না। তবে যদি আপনি নিশ্চিত হন যে,কোন এলকোহলে মদ আছে বা হারাম কিছু আছে তাহলে তা ব্যহার করবেন না। নামাযতো পড়বেনই না।

প্রশ্নঃ 998
আসসালামু আলায়কুম, আমি জানতে চা্ই যে, যখন বাড়ীতে সালাত আদায় করবো তখন আযান দিয়ে সুন্নাত নামায আদায় করলাম তারপর ইকামাত দিয়ে ফরয সালাত আদায় করলাম, এটা সঠিক নিয়ম হলো? আর যেসব নামায নিঃশব্দে পড়া হয় সেই সব নামাযে নিয়াত করার পরে আল্লাহু আকবার বলার সময় রুকুতে যাবার সময় রুকু থেকে উঠার সময় দুয়া আর নামাজের বাকি সময়ে ইমাম সাহেব যেমন বলেন সেই রকম করবো নাকি চুপ থকিবো।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ফরজ নামায সমসজিদে গিয়ে পড়বেন। বিনা-কারণে বাড়িতে ফরজ নামায পড়া ঠিক নয়। বাড়িতে পড়লে আপনি যা লিখেছেন সেই নিয়মে পড়া ঠিক আছে। আর্ একা একা নামায পড়লে ফজর, মাগরিব ও ইশার সালাতে সূরা স্বশব্দে পড়বেন, জোহর ও আসরের নামাযে নি:শব্দে পড়বেন যেভাবে ইমাম সাহেব মসজিদে পড়েন। একা একা নামায পড়লে সূরা না পড়ে চুপ করে থাকলে নামায হবে না। আমি দু:খিত যে, আপনাকে মোবাইল নাম্বারটা দিতে ভুলে গিয়েছিলাম। মোবাইল নাম্বারটা হলো, 01961651547

প্রশ্নঃ 997
আসসালামু আলাইকুম. কুরবানি ঈদে আমাদের সমাজের ঈমাম/মুনশি গরু জবাই করে। জবাই করার সময় যার নামে কুরবানি হবে তার নাম আগে বলে। পরিবারের অভিভাবক বা বাবার নাম বলতে হয়। তার পরে ইমাম/মুনশি কিছু একটা মুখে পড়ে গলায় ছুরি চালায় মানে জবাই করে। এটাই কি সঠিক নিয়ম। নাকি শুধু বিসমিল্লাহ আল্লাহ আকবার বলে জবাই করতে হবে/ একটু বুঝিয়ে বলবেন।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে জবেহ করলেই জবেহ সহীহ হয়ে যাবে । তবে কোন কোন হাদীসে উল্লেখ আছে রাসূলুল্লাহ সা. কুরবানীর পশু জবেহ করার সময় নিচের দুআগুলো পড়তেন: إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ عَلَى مِلَّةِ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا ، وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ ، إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لاَ شَرِيكَ لَهُ ، وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ ، اللَّهُمَّ مِنْكَ وَلَكَ ، وَعَنْ مُحَمَّدٍ وَأُمَّتِهِ بِاسْمِ اللهِ ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ । সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ২৭৯৫; আসসুনানুল কুররা, ইমাম বায়হাক্কী, হাদীস নং ১৯৬৫৭। হাদীসটিকে শায়খ শুয়াইব আরনাউত হাসান্ বলেছেন। শায়খুল ইসলাম ইবতে তায়মিয়া রহ. এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি উপরের দুআগুলো পড়তে বলেছেন। তিনি এর সাথে আরো কিছু যোগ করেছেন। দেখুন, মাজমাউল ফাতাওয়া, ২৬/৩০৯। সুতরাং আপনাদের ইমাম সাহেব কোন ভুল আমল করেন না। আল্লাহ তাঁকে এবং আপনাকে কুরআন-সুন্নাহর উপর অটল রাখুন।

প্রশ্নঃ 996
সরকারি চাকরির পেনসন নেয়া জায়েজ হবে কি? ১। সরকার প্রতিমাসে বেতনের কিছু অংশ কেটে রাখে। তারপর চাকুরীর বয়স শেষ হইলে এই টাকার সুদ শমেদ পেনসন দেয়। ২। এককালীন নিলে পুরা টাকা দেয়। আর অর্ধেক পেনসন নিলে, বাকি টাকা ব্যাংক এ রেখে মাসিক পেনসন দেয়। যা এই টাকার সুদ থেকে আসে। ৩। আরার সরকার বিভিন্ন হারাম কাজের জন্য লাইসেন্স দিয়ে থাকে। সেই টাকা থেকে বেতন দেয়া হয়। এবং পেনসন এর টাকা এর অর্থায়ন এও হয়ে থাকে। ৪। সুদ ভিত্তিক এই বেতন কি হালাল হবে? ৫। যদি তা না হয়, তবে কি সরকারি চাকুরী করা জায়েজ হবে? ৬। যদি জায়েজ হয়, তবে পেনসন নেয়া কি জায়েজ হবে?
03 Jan 2026

সরকারী চাকুরী জায়েজ। বেতন থেকে যে টাকা সরকার রেখে চাকুরী শেষে দেয় তা সুদসহ নেয়া জায়েজ। এটা তার জন্য সুদ হিসাবে গণ্য নয়। তবে চাকুরী শেষে পুরা টাকা না নিয়ে অর্ধেক টাকা নিলে তার থেকে যে সুদ আসে তা নেয়া জায়েজ নেই। অথা্ৎ আপনার ২নাম্বার প্রশ্নে যে বিষয়টি বলেছেন তা জায়েজ নেই। আশা করি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 995
আসসালামু আলাইকুম. মুনাজাতের শেষে মুখ মাসেহ করা জায়েয কি? দয়া করে কোনআন বা হাদীসের আলোকে জানালে উপকৃত হবো।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।এই বিষয়ে শায়েখ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রাহে বেলায়াত বইয়ের ১৪২ পৃষ্ঠাযা বলেছেন: দুআর শেষে মুখমণ্ডল মোছা: দুআ বা মুনাজাতের সময় হাত উঠানোর বিষয়ে যেরূপ অনেকগুলি সহীহ হাদীস পাওয়া যায়, দুআ শেষে হাত দুটি দ্বারা মুখমণ্ডল মোছার বিষয়ে তদ্রুপ কোনো হাদীস পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে দুই একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে অত্যন্ত দুর্বল সনদে। একটি হাদীসে বলা হয়েছে : إِذَا فَرَغْتُمْ فَامْسَحُوا بِهَا وُجُوهَكُمْ দুআ শেষ হলে তোমরা হাত দুটি দিয়ে তোমদের মুখ মুছবে। হাদীসটি আবু দাউদ সংকলিত করে বলেন : এ হাদীসটি কয়েকটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, সবগুলোই অত্যন্ত দুর্বল ও একেবারেই অচল। এ সনদটিও দুর্বল। আবূ দাউদ (৮-কিতাবুল বিতর, ২৩-বাবুদ দুআ) ২/৭৮, (ভারতীয় ১/২০৯). মুসতাদরাক হাকিম ১/৭১৯। অন্য হাদীসে উমার ইবনু খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ r إِذَا رَفَعَ يَدَيْهِ فِي الدُّعَاءِ لَمْ يَحُطَّهُمَا حَتَّى يَمْسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ রাসূলুল্লাহ r যখন দুআয় হস্তদ্বয় তুলতেন তখন হস্তদ্বয় দ্বারা মুখ না মুছে তা নামাতেন না।তিরমিযী (৪৯-কিতাবুদ দাআওয়াত, ১১-বাব..রাফইল আইদী) ৫/৪৩২, নং ৩৩৮৬, (ভা. ২/১৭৬)। তৃতীয় হিজরীর প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আবু যুরআ (মৃ. ২৬৪ হি) বলেন: হাদীসটি মুনকার বা একেবারেই দুর্বল। আমার ভয় হয় হাদীসটি ভিত্তিহীন বা বানোয়াট। একারণে কোনো কোনো আলিম দুআর পরে হাত দুটি দিয়ে মুখ মোছাকে বিদআত বলেছেন। কারণ এ বিষয়ে একটিও সহীহ, হাসান বা অল্প দুর্বল কোনো হাদীস নেই। এছাড়া দুআর সময় হাত উঠানো সাহাবী ও তাবেয়ীগণের যুগে পরিচিত ও প্রচলিত ছিল, কিন্তু দুআ শেষে হাত দিয়ে মুখ মোছার কোনো প্রকার উল্লেখ পাওয়া যায় না।সুয়ূতী, ফাদ্দুল বিয়া, পৃ. ৫২-৫৩; আলবানী, ইরওয়াউল গালীল ২/১৭৮; সাহীহাহ ২/১৪৪-১৪৫। অপরদিকে ইবনু হাজার আসকালানী (৮৫২ হি) বলেন, হাদীসটির সনদ দুর্বল হলেও অনেকগুলো সূত্রে বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হওয়ার কারণে মূল বিষয়টিকে গ্রহণযোগ্য বা হাসান বলা উচিত। ইবনু হাজার, বুলুগুল মারাম, পৃ. ২৮৪। সুনানে তিরমিযীর কোনো কেনো পাণ্ডুলিপিতে দেখা যায় যে ইমাম তিরিমিযী হাদীসটি হাসান বা সহীহ বলেছেন। কিন্তু ইমাম নববী (৬৭৬ হি) বলেন যে, সুনানে তিরমিযীর সকল নির্ভরযোগ্য ও প্রচলিত কপি ও পাণ্ডুলিপিতে ইমাম তিরমিযীর মতামত হিসেবে উল্লেখ আছে যে, হাদীসটি গরীব। ইমাম নববীও এ বিষয়ক সকল হাদীস যয়ীফ বলে উল্লেখ করেছেন।নাবাবী, অল-আযকার,পৃ. ৫৬৯। ৬ষ্ঠ হিজরী শতকের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফকীহ ইমাম বাইহাকী (৫৬৮ হি) বলেন : দুআ শেষে দু হাত দিয়ে মুখ মোছার বিষয়ে হাদীস যয়ীফ, তবে কেউ কেউ সে হাদীসের উপর আমল করে থাকে। বাইহাকী, আস-সুনানুল কুবরা ২/২১২। ইমাম আব্দুর রাজ্জাক সানআনী (২১১ হি) তার উস্তাদ ইমাম মামার ইবনু রাশিদ ১৫৪ হি) থেকে ইমাম ইবনু শিহাব যুহরী (১২৫ হি) থেকে বিষয়টি বর্ণনা করে বলেন: কখনো কখনো আমার উস্তাদ মামার এভাবে দুআর শেষে মুখ মুছতেন এবং আমিও কখনো কখনো তা করি।আব্দুর রাজ্জাক সানাআনী, আল-মুসান্নাফ ২/২৪৭। এ থেকে বুঝা যায় যে তাবিয়ীগণের যুগে কেউ কেউ দুআ শেষে এভাবে মুখ মুছতেন। এভাবে আমরা দেখি যে, দুআর সময় হাত উঠানো যেরূপ প্রমাণিত সুন্নাত, দুআ শেষে হাত দুটি দিয়ে মুখমণ্ডল মুছা অনুরূপ প্রমাণিত বিষয় নয়। এ বিষয়ে দুএকটি দুর্বল হাদীস আছে, যার সম্মিলিত রূপ থেকে কোনো কোনো আলিমের মতে এভাবে মুখ মোছা জায়েয বা মুস্তাহাব। আল্লাহই ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 994
মৃত মানষের নামে কি কুরবানী দেয়া উচিৎ? দলিল সহ জানাবেন
03 Jan 2026

{ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَاضَيْتُمْ بِهِ مِنْ بَعْدِ الْفَرِيضَةِ} অর্থ: “মোহর নির্ধারনের পরে তোমরা সন্তুষ্ট হয়ে যা করবে তাতে কোন দোষ নেই। ” সূরা নিসা, আয়ত নং ৪। বিস্তারিত জানতে দেখুন, ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত “খুতবাতুল ইলাম” বইটির বিবাহ সম্পর্কীত খুতবাটি। আল্লাহ তায়ালা ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 993
সুদ খোরের সাথে কুরবানি দেওয়া যাবে কি?
03 Jan 2026

কুরবানীর পশু যদি কেউ হারাম টাকা দিয়ে কিনে তাহলে তার সাথে ভাগাভাগি কর কুরবানী দেয়া জায়েজ নেই। অর্থাৎ একটি গরু যদি কয়েকজন মিলে কুরবানী দেয় আর তাদের কোন একজনের টাকা হারাম হয় তাহলে কারো কুরবানী জায়েজ হবে না। যদি আপনার আশংকা হয় সে সুদের টাকা দিয়ে কুরবানীতে ভাগ রেখেছে তাহলে তার সাথে কুরবানী করবেন না। যদি নিশ্চিত হন কুরবানীর পশু কেনার ক্ষেত্রে সে হালাল টাকা দিয়েছে তাহলে কুরবানী হয়ে যাবে। আর সুদ যে মহাগুনাহ তা বলাল অপেক্ষা রাখে না।

প্রশ্নঃ 992
আপনাদের মাদরাসাটা কোথায় অবস্থিত? আপনাদের বাচ্চা ভর্তি সংক্রান্ত নিয়মাবলী জানাবেন।
03 Jan 2026

আমাদের মাদরাসা ঝিনাইদহে অবস্থিত। আমাদের এখানে তাহফীজ বিভাগে ৭/৮ বছেরের বাচ্চা নেয়া হয়। কিতাব বিভাগে ৫ম শ্রেণী পড়ার পর নেয়া হয়। নূরানী বিভাগে শিশু শ্রেণী থেকে ভর্তি করা হয়। বিস্তারিত জানতে ফোন করুন: 01716489818

প্রশ্নঃ 991
আমার এক বন্ধু, সে ও তার স্ত্রী কোন এক কারনে পারিবারিক ভাবে ৩/৪ বছর আগে বিবাহবিচ্ছেদ (তালাক)করে। এখন তারা নিজেদের ভুলগুলো বুঝতে পেরে আবার তারা নতুন করে বিয়ে করতে চাচ্ছে। এখন কি তারা নতুন করে বিয়ে করতে পারবে। ইসলামের বিধানে এখন তাদের করনিয় কি? সুরা বাকারার ২২৮-২৪০ আয়াতের ব্যাখ্যা কি এই বিয়ের অনুমতি দেয়?
03 Jan 2026

উল্লিখিত নারীরা ছাড়া অন্যদেরকে তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে, যে স্বীয় সম্পদ দ্বারা প্রয়াসী হবে তাদের সাথে বিবাহবন্ধনে, ব্যভিচারে নয়। অতএব তাদের নিকট থেকে তোমরা যে আনন্দ উপভোগ করেছ (সে কারণে) তাদের ধার্যকৃত মোহর তাদেরকে প্রদান করবে। আর মোহর নির্ধারিত থাকার পরও কোনো বিষয়ে পরস্পর সম্মত হলে তাতে তোমাদের কোনো অপরাধ হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। -সূরা নিসা : ২৪

প্রশ্নঃ 990
আসসালামু আলায়কুম, এই পেজের এডমিন এর পরিচয় জানতে চাই–।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই পেজের এ্যডমিনের নাম তিতুমীর আহমাদ। তিনি কুরআন শরীফ হিফজ করার পর বেফাকের অধীনে দাওরায়ে হাদীস শেষ করে স্যার রহ. এর প্রতিষ্ঠানে দুই বছর আদতাখাসসুস ফি উলূমিল হাদীস বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। এরপর স্যারের অধিনে প্রায় ২ বছর এই পেজের এ্যাডমিনের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানেও করছেন। আরো জানতে 01792108768।

প্রশ্নঃ 989
আসসালামু আলায়কুম, দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির জন্য কি আমল করবো?
03 Jan 2026

واحل لكما ما وراء ذلكم ان تبتغوا باموالكم محصنين غير مسافحين فما استمتعتم به منهن فاتوهن اجورهن فريضة ولا جناح عليكم فيما تراضيتم به من بعد الفريضة ان الله كان عليما حكيما

প্রশ্নঃ 988
আসসালামুআলাইকুম, পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াতে সেজদার আয়াত পাঠ করেছি। আবার তখন সূর্যও পুরোপুরি উঠে নাই। (মানে তখন সূর্য উঠতেছে) তাহলে আমি সেজদা টা কখন আদায় করব? যখন পাঠ করেছি তখনি নাকি সূর্য পুরোপুরি উঠার পর?
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুুস সালাম। সূর্য পুরোপুরি উঠার পর করবেন।

প্রশ্নঃ 987
আচ্ছালামু আলাইকুম,সফরে থাকা অবস্থায় আমি কি সালাত জমিয়ে আদায় করতে পারবো? মানে জোহর আর আসর দুই রাকাত আলাদা করে আসরের সময়ে এবং মাগরীব ও ইশা যথাক্রমে তিন রাকাত ও দুই রাকাত ইশার টাইমে কি এভাবে জমিয়ে পড়া যাবে?
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি জোহরের নামায পড়বেন জোহরের শেষ সময়ে আর আসরের নামায পড়বেন আসরের শেষ সময়ে। তদ্রুপ মাগরিব পড়বেন মাগরিবের শেষ সময়ে আর ইশা পড়বেন প্রথম সময়ে। এই নিয়মটা উত্তম। এর বাইরে আপনি যে পদ্ধতিটি জানতে চেয়েছেন তা নিয়ে আলেমদের মাঝে বিতর্ক আছে।

প্রশ্নঃ 986
Please see below answer from your website, But my question is is there any rule in islam to make / call 3 talak at a time? Please replay what in rule in quaran hadis about talak?
03 Jan 2026

ক সময়ে তিন তালাক দিলে, এক বাক্যে দিক কয়েক বাক্যে দিক, প্রসিদ্ধ চার ইমাম এবং অন্যান্য প্রায় সকল আলেমের নিকট তিন তালাকই পতিত হব। তাকে ফিরিয়ে নেয়ার কোন সুযোগ নেই। তবে যদি পরে অন্যত্র বিয়ে হওয়ার পর সেই স্বামী মারা যাই অথবা সেখান থেকে তালাকপ্রাপ্ত হয় তাহলেই কেবল আগের স্বামীর সাথে বিয়ে করত পারবে। সূরা বাকারা, আয়াত ২৩০।

প্রশ্নঃ 985
আসসালামুয়ালাইকুম। ইহরাম অবস্থায় গুছলের সময় যদি কে্উ শুরুটায় অজু করে এবং এরপর গুছলের মাঝে পরিষ্কার হয় অথবা গা মুছার পরে যদি গোপন অঙ্গে স্পর্শ লাগায় তাহলেও কি অজু থাকবে? এই অবস্থায় উমরাহ করলে কি উমরাহ হবে? যদি উমরাহ না হয় তবে এখন আমি কি করতে পারি? এটি কি আমার মূল হজ্জের কোন ক্ষতি করবে? উক্ত উমরাহ শেষ করে এখন আমি মুল হাজ্জ করার জন্য মক্কাতে অবস্থান করছি। বিষয়টি নিয়ে আমি খুবি দুশ্চিন্তায় আছি।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। না, আপনার ওযু নষ্ট হয় নি। আপনার ওমরাহ হয়ে গেছে, কোন সমস্যা নেই। আপনি চিন্তা করবেন না। আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ আপনার হজ্জকে কবুল করুন।

প্রশ্নঃ 984
আমরা ৪ ভাই বাবা মার অধীনে আছি, মানে এখনও আমাদের ৪ ভাইয়ের মধ্যে কেউ আলাদা হই নাই। ২ ভাই বিবাহিত। এর মধ্যে ২ ভাই চাকুরী করি, আর এক জন বিজনেস করে, বাকি জন এখনও ছাত্র। আপনার কাছে প্রশ্ন হল আমাদের পরিবারের শুধু আমার বাবা কোরবানি দিলে কি আমাদের সবার কোরবানি আদায় হয়ে যাবে? অবশ্য বাবা কে কোরবানির জন্য আমরা ৩ ভাই টাকা দিয়ে থাকি। আমাদের কে কি আলাদা ভাবে কোরবানি করতে হবে? আশা করি উত্তর টি জানাবেন।
03 Jan 2026

আপনারা তিন ভাইয়ের যদি ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে আর সে সম্পদ যদি কুরবানীর নিসাব পরিমান হয় তাহলে আপনাদের প্রত্যেকের উপর কুরবানী ওয়াজিব। শুধু আপনার পিতার পক্ষ থেকে কুরবানী দেয়া যথেষ্ট নয়। তবে যদি আপনারা নিসাব পরিমান সম্পদের মালিক না হন তাহলে কোন সমস্যা নেই। নিসাব হলো সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা কিংবা এই মূল্য পরিমান টাকা-পয়সা কিংবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থাকা। আপনার প্রশ্ন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন, আমাদের দেয়া 974 নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 983
বে-নামাজির সাথে কোরবান দেওয়া যায়েজ কিনা? সমাজে অনেকে ছেলে-মেয়ের নামে কোরাবান দেয়। মা-বাবা নামাজ পড়লেও ছেলে-মেয়ে নামাজ পড়ে না। এই ক্ষেত্রে বে-নামাজি ছেলে-মেয়ের নামে এক সাথে কোরবান হবে কিনা?
03 Jan 2026

কুরবানী দিতে হয় আল্লাহর নামে, ব্যক্তির পক্ষ থেকে। নামায না পড়া বিরাট গুনাহ, তবে বে-নামাযী কুরবানী দিলে তা সীহহ হবে না বা বে-নামাযীর পক্ষ থেকে কেউ কুরবানী দিলে হবে না বিষয়টি এরকম নয়। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 982
আসসালামু আলাইকুম, ১. আমরা জানি সূর্য উদয়ের সময় নামাজ পরা হারাম এবং ২৩ মিনিট পর নামাজ পরতে হবে। আবার জানি নিয়মিত নামাজী যখন ঘুম থেকে উঠবে তখনি ফহরের নামাজ পরে নিবে। তখন যদি সূর্য উদয়ের টাইম হয়? এর সঠিক মাসআলা কি? ২.সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় নামাজ পরা হারাম এবং ২৩ মিনিট অগে থেকে নামাজ পরা বন্ধ করতে হবে। আবার জানি মাগরিবের আজান পর্যন্ত আসর নামাজ পরতে পারবে যদি ওজর থাকে। তখন যদি সূর্য অস্ত যাওয়ার টাইম হয়? সঠিক মাসআলা কি? দয়া করে জানাবেন…
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১। যদি কোন ব্যক্তি সূর্য উদয়ের সময় ঘুম থেকে উঠে তাহলে সে কখন ফজরের নামায পড়বে তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে দুইটি মত বিদ্যমান। অনেক আলেম বলেন, তখনই পড়বে। আবার একদল আলেম বলেন সূর্য পুরোপুরি উঠার পর অর্থাৎ ২৩ মিনিট পরে পড়বে। যারা বলেন, সূর্য উঠার সময়ই পড়বে তাদেল দলীল: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ليس في النوم تفريط إنما التفريط في اليقظة فإذا نسي أحدكم صلاة أو نام عنها فليصلها إذا ذكرها অর্থ: ঘুমের মধ্যে কোন ধরপাকড় নেই, ধরপাকড় জাগ্রত অবস্থার মধ্যে। যখন তোমাদের মধ্য থেকে কোন ব্যক্তি নামাযের কথা ভুলে যায় কিংবা নামাযের সময় ঘুমিয়ে থাকে তাহলে যখন তার স্বরণ আসবে তখন সে নামায আদায় করবে। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ১৭৭; সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ৬১৫। হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযীসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ সহীহ বলেছেন। অপরদিকে যারা বলেন সূর্য পরিপূর্ণ ওঠার পর পড়বে তাদের দলীল: عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ الْجُهَنِىَّ يَقُولُ ثَلاَثُ سَاعَاتٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَنْهَانَا أَنْ نُصَلِّىَ فِيهِنَّ أَوْ أَنْ نَقْبُرَ فِيهِنَّ مَوْتَانَا حِينَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ بَازِغَةً حَتَّى تَرْتَفِعَ وَحِينَ يَقُومُ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ حَتَّى تَمِيلَ الشَّمْسُ وَحِينَ تَضَيَّفُ الشَّمْسُ لِلْغُرُوبِ حَتَّى تَغْرُبَ অর্থ: উকবা ইবনে আমের রা. বলেন, তিনটি সময়ে রাসূলুল্লাহ সা. আমাদেরকে নামায আদায় করতে এবং জানাযা করতে নিষেধ করেছেন। সূর্য ওঠার সময় যতক্ষন না পরিপূর্ণ উঠে উঁচু হয়, ঠিক দুপুর বেলা যতক্ষন না সূর্য হেলে পড়ে এবং সূর্য অস্ত যাওয়ার মুহুর্তে যতক্ষনা সূর্য ডুবে যায়। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯৬৬। অন্য হাদীসে আছে রাসূলুল্লাহ সা. মক্কার রাস্তায় শেষ রাত্রে বিশ্রাম নেয়ার সময় সূর্য উঠে গেলে তিনি সেখান থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে পরিপূর্ণভাবে উঠার পর সাহাবীদেরকে নিয়ে নামায আদায় করেছিলেন। মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং ২৮। ইমাম আবু হানীফা রহ. দ্বিতীয় মতটি পোষনকারীদের অন্যতম। আপনি ইমাম আবু হানীফা রহ. এর মতামত অনুযায়ী চলতে পারেন। তবে প্রথম মতটি কেউ মানলে তাকে তিরস্কার করবেন না। ২। সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় ঐদিনের আসরের নামায সর্বক্যমতে আদায় করা যাবে। দলীলসহ উক্ত মাসআলাগুলো বিস্তারিত জানতে দেখুন, আল-ফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু, ১/৫৯৫-৬০০। সুনানু তিরমিযী, ১৭৭ নং হাদীসের নিচে ইমাম তিরমিযীর আলোচনা।

প্রশ্নঃ 981
আসসালামু আলায়কুম, আমি পাশ্চিমবঙ্গ থেকে বলছি, আমি স্যারের ওয়াজ খুব ভালবাসি, স্যার যদি জীবিত থাকতেন তাহলে তার সাথে দেখা করতে বাংলাদেশে যাবার ইরাদা করেছিলাম .আমি স্যার আর ব্বইগুলো কিনতে চাই, ইন্ডিয়াতে কি পাওয়া যাবে? যদি আপনারা পাঠিয়ে দেন তো আমি উপকৃত হবো, হাদিয়া ও পাঠাবার খরচ আমি কিভাবে আপনাদের দেব?
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে আমাদের বই নিতে চান জানতে পেরে আমরা আল্লাহ শুকরিয়া আদায় করছি। ভাই, দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি আমাদের এখান থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিদেশে বই পাঠানোর কোন ব্যবস্থা নেই। আমাদের কিছু বইয়ের পিডিএফ আছে আপনি আমাদের ওয়েবসাইড থেকে ডাউনলোড করতে পারেন। বাকীগুলোও পিডিএফ আকারে বের হবে ইনশাআল্লাহ। আমি আপনাকে একটি নাম্বার দিচ্ছি, এখানে যোগাযোগ করলে হয়তো তিনি আপনার কাছে বই পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 979
আস সালামু আলাইকুম প্রশ্ন: আমি আমার ভাইকে ৪ লক্ষ টাকা ধার দিয়েছি। তিন/চার বছরের আগে সে তা পরিশোধ করতে পারবেনা। এমতাবস্থায় আগামী রমজানে আমার যাকাত হিসাবের সময় ধার দেয়া টাকা গণ্য করব কী?
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। যেটাকা পাবেন বলে আপনি নিশ্চিত সে টাকার যাকাত দেওয়া আবশ্যক। প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনি রমযানে যখন যাকাতের হিসাব করবেন, তখন ধার দেওয়া টাকাসহ হিসাব করেই যাকাত দিতে হবে।

প্রশ্নঃ 978
গোসল করার আগে অজু করে এর পর গোসল করার সময় কাপড়ের উপর দিয়ে লজ্জাস্থানে স্পর্শ লাগলে কি অজু নষ্ট হয়ে যাবে? এবং আবার অজু করতে হবে কি না?
03 Jan 2026

না, এতে ওযুর কোন সমস্যা হবে না।

প্রশ্নঃ 977
আসসালাম ওয়া আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, ১। ইসলামিক দৃষ্টিতে দিন-মোহর কি? ২। দিন-মোহর কেন দিতে হয়? ৩। দিন-মোহর কি দিতেই হবে নাকি স্ত্রী মাফ করে দিলে দেয়া লাগবে না বা দিন-মোহর যদি ১,০০,০০০ টাকা থাকে তাহলে কি ১০,০০০ টাকা দিয়ে বাকিটা মাফ করানো যায়? দিন-মোহর সম্বন্ধে আরো কিছু তথ্য দিয়ে উপকৃত করবেন। প্রশ্নের উত্তরগুলো কুর’আন এবং হাদিসের আলোকে জানতে চাই। প্রশ্ন বেশি হয়ে গেলে মাফ করবেন। জাযাকাল্লাহ খইর।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইসলামের দৃষ্টিতে দেন মোহর ফরজ। ইসলামের যে বিধানগুলো স্বয়ং আল্লাহ তাআলা বারবার বিভিন্ন আয়াতে বয়ান করেছেন ঐসব বিধানের অন্যতম হচ্ছে নারীর মোহর। কত প্রসঙ্গে কতভাবে যে আহকামুল হাকিমীন আল্লাহ এই বিধানটি বয়ান করেছেন! বিবাহ-বন্ধনের প্রসঙ্গে, বিবাহ-বিচ্ছেদের প্রসেঙ্গ, ঈমানদার ব্যক্তি ও সমাজের বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে, জাহেলী-সমাজের বর্বরতা রোধ প্রসঙ্গে মোটকথা অনেকভাবে অনেক জায়গায় মোহরের বিধান বর্ণনা করেছেন। তাই কুরআন মজীদে যেমন আছে এর আইন ও বিধানগত দিক তেমনি আছে নৈতিক ও মানবিক দিক, যা মুমিনের চিন্তা ও মস্তিষ্কের পাশাপাশি আলোড়িত করে তার কলব ও হৃদয়কেও। এই সকল কিছুর সাথে মুমিন নর-নারীকে স্মরণ করানো হয়েছে আল্লাহর আদালত ও বিচার-দিবসের অমোঘ সত্যের কথা। 

প্রশ্নঃ 976
আস্সালামুআলাইকুম, ক্যামেরা ক্রয়-বিক্রয়, ভাড়া ও মেরামত ব্যবসা কি হালাল হবে? জানালে খুবই উপকৃত হব। আল্লাহ হাফেজ।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। এক্ষেত্রে মূলনীতি হলো যে জিনিসের ব্যবহার হারাম ও হালাল উভয় কাজে সমান ভাবে কিংবা হালাল কাজে বেশী হয় সেই জিনিসের ব্যবসা এবং সেই জিনিসের প্রতিষ্ঠানে চাকুরী জায়েজ। ক্যামেরা যেহেতু ভাল ও খারাপ কাজে সমানভাবেই ব্যবহৃত হয় আর জিনিসটি বর্তমানে অনেক সময় প্রয়োজন হয় তাই ক্যমেরা বিক্রয় ও মেরামত জায়েজ বলেই মনে হয়। তবে এই ব্যবসা থেকে বেচেঁ থাকতে পারলেই ভাল।

প্রশ্নঃ 975
ইসলামী শরীয়াতে উমরী কাযার বিধান কি? যদি কেউ ইচ্ছা করে বছরের পর বছর শিরকী পথে চলার পর সুন্নাতের পথে আসে তখন কি বিগত বছরের না আদায় করা সমস্ত ফরজ নামাযের উমরী কাযা এখনই আদায় করকে হবে?
03 Jan 2026

অধিকাংশ আলেমের অভিমত হলো বহুদিন ধরে ইচ্ছাকৃত নমায ছেড়ে দিলে (যাকে অনেকেই উমরি কাজা বলে) উক্ত নামায আদায় করতে হবে। তা সে যত ওয়াক্তই হোক না কেন। আর আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, যেন তিনি ক্ষমা করে দেন। তবে কোন কোন আলেম বলেছেন,~ উমরি কাজা করা লাগবে না, আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে, মাফ চাইতে হবে। সর্বাবস্থায় যথাসম্ভভ শুধু ফরয সালাতগুলো কাযা আদায় করা উচিত। সাধ্যের মধ্যে কাযা আদায় করার পাশাপাশি বেশি বেশি নফল সালাত আদায় করতে হবে এবং তাওবা ইসতিগফার করতে হবে। দলীল এবং ইমাম ও ফকীহদের মতামত বিস্তারতি জানতে দেখুন, আলফিকহুল ইসলামিয়্যতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৩৪/২৬; আলফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু, ২/৩০১; আদদুররিল মুযিয়্যাহ শারহু দুররিল বাহিয়্যাহ, ১/১০৮; আল ফিকহ্ আলা মাজাহিবিল আরবা, ১/৭৫৭।

প্রশ্নঃ 974
আচ্ছালামু আলাইকুম,কুরবানী ওয়াজীব হওয়ার শর্ত কি? মানে কোন ব্যক্তি কত টাকা কি রকম ইনকাম করলে বা সব খরচের পর কত টাকা থাকলে তার উপর কুরবানী ওয়াজীব হয়? আর সেক্ষেত্রে কত টাকা মিনিমাম ইনকাম করলে অন্যের সাথে ভাগে কুরবানী দেওয়া যায়? একটু ডিটেইল জানাবেন প্লীস।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কুরবানী একটি বড় ইবাদাত। কুরআনে সূরা কাউসারে কুরাবনী করতে আদেশ করা হয়েছে এবং অনেকগুলো সহীহ হাদীসে কুরবানী করার জন্য উৎসাহ দেয়া হয়েছে, সামর্থ থাকা সত্ত্বেও কুরবানী পরিত্যাগকারীকে ধমক দেয়া হয়েছে। কুরাবনী দেয়া অধিকাংশ আলেমের মতে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও করবানী না করা মাকরুহ। এই বিষয়ে বিখ্যাত ফিকহী বিশ্বকোষ আল-মাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ এর ভাষ্য হলো, ذَهَبَ جُمْهُورُ الْفُقَهَاءِ ، وَمِنْهُمُ الشَّافِعِيَّةُ وَالْحَنَابِلَةُ ، وَهُوَ أَرْجَحُ الْقَوْلَيْنِ عِنْدَ مَالِكٍ ، وَإِحْدَى رِوَايَتَيْنِ عَنْ أَبِي يُوسُفَ إِلَى أَنَّ الأُْضْحِيَّةَ سُنَّةٌ مُؤَكَّدَةٌ . وَهَذَا قَوْل أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَبِلاَلٍ وَأَبِي مَسْعُودٍ الْبَدْرِيِّ وَسُوَيْدِ بْنِ غَفَلَةَ وَسَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَعَطَاءٍ وَعَلْقَمَةَ وَالأْسْوَدِ وَإِسْحَاقَ وَأَبِي ثَوْرٍ وَابْنِ الْمُنْذِرِ অর্থ: অধিকাংশ ফকীহ মত পোষন করেছেন যে, কুরবানী সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। তাদের মধ্যে আছেন, শাফেয়ী ও হাম্বলীগণ, ইমাম মালেক (দুই মতের মধ্যে প্রাধান্যপ্রাপ্ত), আবু ইউসুফ (এক মতানুযায়ী) রহ.। একই মত পোষন করেছেন, আবু বকর রা., উমার রা., বিলাল রা., আবু মাসউদ আল-বাদারী, সুয়াইদ ইবনে গফলাহ, সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব, আাতা, আলকামাহ, আসওয়াদ, ইসহাক, আবু সাওর ইবনে মুনযির। আল-মাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৫/৭৬। কেননা রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, إِذَا دَخَلَتِ الْعَشْرُ وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّىَ فَلاَ يَمَسَّ مِنْ شَعَرِهِ وَبَشَرِهِ شَيْئًا অর্থ: যখন জ্বিলহজ্জের দশ তারিখ আসবে আর তোমাদের কেউ কুরবানী করতে চাইবে তখন সে যেন তার চুল এবং চামড়ার কোন কিছু স্পর্শ না করে। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৫২৩২। উক্ত হাদীসে কুরবানী করাকে চাওয়া তথা ইচ্ছা এর উপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সুতরাং কুরবানী ওয়জিব নয় সুন্নাত। নচিরে হাদীস দুটি লক্ষ্য করুন: عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ هِشَامٍ ، وَكَانَ قَدْ أَدْرَكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَذَهَبَتْ بِهِ أُمُّهُ زَيْنَبُ ابْنَةُ حُمَيْدٍ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ بَايِعْهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم هُوَ صَغِيرٌ فَمَسَحَ رَأْسَهُ وَدَعَا لَهُ ، وَكَانَ يُضَحِّي بِالشَّاةِ الْوَاحِدَةِ عَنْ جَمِيعِ أَهْلِهِ র্অথ: আব্দুল্লাহ ইবনে হশিাম থকেে র্বণতি (তিনি রাসূলুল্লাহ সা. কে পয়েছেলিনে), তারা আম্মা যায়নাব বনিতে হুমাইদ তাকে রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে নয়িে গয়িছেলিনে। তনিি রাসূলুল্লাহ সা. কে বললনে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি ওকে বায়াত করুন। তখন রাসূলুল্লাহ সা. বললনে, সে তো ছোট। তিনি তার মাথায় হাত বুলয়িে দলিনে এবং তার জন্য দোয়া করলনে। আর তনিি তার পরবিাররে সকলরে পক্ষ থকেে একটি ছাগল দ্বারা কুরবানী করছেলিনে। সহীহ বুখারী হাদীস নং ৭২১০। أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يُضَحِّيَ ، اشْتَرَى كَبْشَيْنِ عَظِيمَيْنِ ، سَمِينَيْنِ ، أَقْرَنَيْنِ ، أَمْلَحَيْنِ مَوْجُوءَيْنِ ، فَذَبَحَ أَحَدَهُمَا عَنْ أُمَّتِهِ ، لِمَنْ شَهِدَ لِلَّهِ ، بِالتَّوْحِيدِ ، وَشَهِدَ لَهُ بِالْبَلاَغِ ، وَذَبَحَ الآخَرَ عَنْ مُحَمَّدٍ ، وَعَنْ آلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ. র্অথ: রাসূলুল্লাহ সা. যখন কুরবানী দয়োর ইচ্ছা করতনে তখন দুটি বশিাল বড় সাইযরে সুন্দর দখেতে খাসী করা কাটান দওেয়া পুরুষ মষে বা ভড়ো ক্রয় করতনে। তাঁর উম্মতরে যারা তাওহীদ ও তাঁর রসিালাতরে সাক্ষ দয়িছেতে তাদরে পক্ষ থকেে একটি কুরবানী করতনে এবং অন্যটি মুহাম্মাদ সা. এবং মুহামাদ সা. এর পরবিাররে পক্ষ থকেে কুরবানী করতনে। ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩১২২; মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ২৫৮২৫। হাদীসটি হাসান। এই হাদীস দুটরি ভত্তিতিে ইমাম মালকে, ইমাম আহমাদ,ইমাম শাফয়েী রাহ. প্রমুখ ফকীহ বলনে একটি পরবিাররে পক্ষ থকেে একটি কুরবানী যথষ্টে হব। ইমাম শাফয়েী রহ. আরো বলনে, প্রত্যেকের জন্য জীবনে একবার কুরবানী দেয়া সুন্নাত। দখেুন, সুনানু তরিমযিী, হাদীস নং ১৫০৫; তুহফাতুল আহওযী, ১৪২৫ নং হাদীসরে আলোচনা; মুয়াত্তা মালকি,হাদীস নং ১০৩৩। হানাফী মাজাহাবের আলেমগণের মতে কুরবানী ওয়াজিব। এই বিষয়ে বিখ্যাত ফিকহী বিশ্বকোষ আল-মাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ এর ভাষ্য হলো, وَذَهَبَ أَبُو حَنِيفَةَ إِلَى أَنَّهَا وَاجِبَةٌ . وَهَذَا الْمَذْهَبُ هُوَ الْمَرْوِيُّ عَنْ مُحَمَّدٍ وَزُفَرَ وَإِحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ عَنْ أَبِي يُوسُفَ . وَبِهِ قَال رَبِيعَةُ وَاللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ وَالأَْوْزَاعِيُّ وَالثَّوْرِيُّ وَمَالِكٌ فِي أَحَدِ قَوْلَيْهِ অর্থ: আবু হানিফা রাহ. এর মতে কুরবানী ওয়াজিব। আরো যে সব ফকহী উক্তমত পোষন করেছেন তারা হলেন, ইমাম মুহাম্মাদ, আবু ইউসুফ ((এক মতানুযায়ী), যুফার রহ.। অন্যান্যদের মধ্যে এই মত পোষন করেছেন, রবি, লাইস ইবনে সাদ, আওযায়ী, ছাওরী এবং ইমাম মালেক রহ. (এক মতানুযায়ী)। আল-মাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৫/৭৭। তাদের দলীল হলো রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, : مَنْ كَانَ لَهُ سَعَةٌ ، وَلَمْ يُضَحِّ ، فَلاَ يَقْرَبَنَّ مُصَلاَّنَا. অর্থ: যার সামর্থ আছে অথচ কুরবানী করছে না সে যেন ঈদগাহে (সালাত আদায় করতে) না আসে। সুনানু ইবনু মাজাহ, হাদীস নং ৩১২৩; আল-মুসতাদরক, ইমাম হাকিম, হাদীস নং ৭৫৬৫। হাদীসটিকে ইমাম হাকীম ও শায়খ যাহাবী রহ. সহীহ বলেছেন এবং শায়খ আলবানী হাসান বলেছেন। সামর্থ্যবান ব্যক্তিকে আমাদের দেশে নিসাব পরিমান মালিক বলা হয়। হানাফী মাজহাব অনুযায়ী সামর্থ্য আছে অর্থাৎ নিসাবের অধিকারী প্রত্যেকের উপর কুরবাণী ওয়াজিব। এক পরিবারের একাধিক সদস্যদের সামর্থ্য থাকলে প্রত্যেকের উপরই কুরবানী ওয়াজিব। এই বিষয়ে ইমাম ও আলেমগণের মতামত এবং তাদের দলীল বিস্তারিত জানতে দেখুন, আল-ফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু, ৪/২৪৫-৪৬; আল-মাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৫/৭৬-৭৭; আল-ফিকহ আলা মাজাহিবির আরবা, ১/১১০৭। এবার আসি আপনার মূল প্রশ্নের উত্তরে। যার কুরবানী করার সামর্থ্য বা সক্ষমতা আছে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব বা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। সামর্থ্য বা সক্ষমতা কোন ব্যক্তির আছে তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। এই বিষয়ে আল-ফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু এর ভাষ্য হলো, والمقصود بالقدرة عند الحنفية، هو اليسار أي يسار الفطرة ، وهو أن يكون مالكاً مئتي درهم الذي هو نصاب الزكاة، أو متاعاً يساوي هذا المقدار زائداً عن مسكنه ولباسه، أو حاجته وكفايته هو ومن تجب عليه نفقتهم والقادر عليها عند المالكية: هو الذي لا يحتاج إلى ثمنها لأمر ضروري في عامه. ولو استطاع أن يستدين استدان. والمستطيع عليها عند الشافعية : هو من يملك ثمنها زائداً عن حاجته وحاجة من يعوله يوم العيد وأيام التشريق، لأن ذلك وقتها، مثل زكاة الفطر، فإنهم اشترطوا فيها أن تكون فاضلة عن حاجته مَمونة يوم العيد وليلته فقط.والقادر عليها عند الحنابلة: هو الذي يمكنه الحصول على ثمنها ولو بالدين، إذا كان يقدر على وفاء دينه অর্থ: হানাফী আলেমদের নিকট সক্ষমতা দ্বারা উদ্দেশ্য কারো কাছে তার এবং তার অধিনস্থ অন্যান্যদের বাসস্থান, পোশাক এবং নিতপ্রয়োজনীও দ্রব্যাদির বাইরে ২০০ দিরহাম রোপা বা এই পরিমান সম্পদ থাকা। (২০০ দিরহাম হলো সাড়ে বায়ান্ন তোলা রোপা)। মালেকীদের নিকট কারো কাছে যদি নিত্য প্রয়োজনীও ব্যায় মেটানোর পর কুরাবানী দেয়ার মত সম্পদ থাকে, যা এক বছরের মধ্যে তার প্রয়োজন হবে না তাহলে সে সক্ষম বলে বিবেচিত। শাফেয়ী আলেমদের নিকট কুরবানীর দিনগুলোতে যদি কোন ব্যক্তির কাছে নিত্য প্রয়োজনীও ব্যায় মেটানোর পর কুরবানী দেয়ার মত সম্পদ থাকে তাহলে সেই সামর্থবান ব্যক্তি। হাম্বলীদের নিকট যদি কোন ব্যক্তি কুরবানী দেয়ার মত সম্পদ অর্জন করতে পারে সে সামথ্যবান ব্যক্তি । এমনকি ঋন নিয়ে কুরবানী করে যদি ঋন পরিষোধ করতে সক্ষম হয় তাহলে সেও তাদের নিকট কুরবানী করতে সক্ষম বলে বিবেচিত। আল-ফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু, ৪/২৫০। আরো জানতে দেখুন, আল-মাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৫/৮০; আল-ফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবা ১/১১০৯। হানাফী মাজহাবে সক্ষম ব্যক্তির (অর্থাৎ কুরবানীর নেসাব পরিমান সম্পদ আছে এমন ব্যক্তির) পরিচয় আরো বিস্তারিত এভাবে বলা যায়: প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তষ্কি সম্পন্ন প্রত্যকে মুসলমি নর-নারী, যে ১০ যলিহজ্ব ফজর থকেে ১২ যলিহজ্ব র্সূযাস্ত র্পযন্ত সময়রে মধ্যে (নিত্য)প্রয়োজনরে অতরিক্তি (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান এবং অন্যান্য জরুরী জিনিসপত্ররে অতরিক্তি)নিসাব পরমিাণ সম্পদরে মালিক হবে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজবি। টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা, অলঙ্কার, বসবাস ও খোরাকরি প্রয়োজন আসে না এমন জমি প্রয়োজন অতরিক্তি বাড়ি, ব্যবসায়কি পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কুরবানীর নসোবরে ক্ষত্রেে হসিাবযোগ্য। আর নিসাব হল র্স্বণরে ক্ষত্রেে সাড়ে সাত (৭.৫)ভরি রূপার ক্ষত্রেে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি, টাকা-পয়সা ও অন্যান্য বস্ত্তর ক্ষত্রেে নিসাব হল এর মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যরে সমপরমিাণ হওয়া। আর সোনা বা রূপা কিংবা টাকা-পয়সা এগুলোর কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নিসাব পরমিাণ না থাকে কিন্তু প্রয়োজন অতরিক্তি একাধকি বস্ত্ত মিলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যরে সমপরমিাণ হয়ে যায় তাহলওে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজবি। – আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানযি়া ১৭/৪০৫(মাসিক আলকাউসার, অক্টোবর, ২০১২ থেকে নেয়া)। আমাদের দেশে সাধারণত হানাফী মাজাহাবের মতামত মেনে চল হয় তাহলে আপনার জন্য হানাফী মাজাহাবরের মতামত অনুযায়ী চলাই উচিত হবে। তাছাড়া সুন্নাত বলার কারণে অনকে দশেে কুরাবনীর মত এই মহা সওয়াবরে কাজ থকেে মানুষ দূরে সরে যাচ্ছ। আর কুরআনে কুরবানী করতে আদশে দয়ো হয়ছে। সুতরাং কুরবানী ওয়াজবি বলার মধ্যইে সতর্কতা। অন্যের সাথে কুরবানী করার ক্ষেত্রে মিনিমাম ইনকাম ধর্তব্য নয় বরং আপনার সক্ষমতা আছে কি নেই এটাই ধর্তব্য। সামর্থ্য থাকলে আপনি একাও দিতে পারেন আবার অন্যের সাথ ভাগেও দিতে পারেন। আল্লাহ ভাল জাননে।

প্রশ্নঃ 972
আসসালামু আলাইকুম, ১। ফরজ,সুন্নত,নফল যে কোন নামাজে সালাম ফিরানোর আগে (১)আল্লা-হুম্মা আইন্নি আলা জিকরিকা ওযা শুকরিকা…., (২) আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা…., (৩) আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান্নার…., (৪) আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা আফুউন…., (৫) রাব্বির হাম হুমা কামা ……, (৬) আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবিল ক্বাবরি, ওয়ামিন আজাবি জাহান্নাম, ওয়ামিন ফিতনাতিল মাহইয়ায়া ওয়াল মামাতি, ওয়ামিন শাররি ফিতনাতি মাসিহিদ দাজ্জাল। (৭) রব্বানা আতিনা ফিদ দুনইয়া…, এ দুয়াগুলা কি পড়া যাবে? যদি আমি ইমাম বা মুক্তাদি হয়? ২। কুরআনে বর্নিত যে দূয় গুলি আমরা পড়ি তার আগে কি আল্লা-হুম্মা যোগ করে পড়তে হয়, যদি তাই হয় তবে সেটা কি আবশ্যিক? জাজাকাল্লাহু খয়রান.
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, আপনি উক্ত দুআগুলো যে কোন নামাযে সালাম ফিরানোর আগে পড়তে পারেন। আর কুরআনে বর্ণিত দুআর আগে আল্লাহুম্মাে যোগ করার প্রয়োজন নেই।

প্রশ্নঃ 973
সরকারি চাকরিতে (জি পি এফ ) সাধারণ ভবিষত টাকা জমানো সর্ম্পকে জানতে চাই?
03 Jan 2026

যে টাকাটা সরকার বাধ্যতামূলকভাবে রেখে দেয় সেেই টাকা এবং তার থেকে যে লাভ দেয় তা নেয়া জায়েজ। আর নিজ থেকে অতিরিক্ত যে টাকা যা চাকুরীজীবিগণ রাখেন সেই টাকাটা নিবে, সেই টাকা থেকে প্রাপ্ত লাভ নেয় জায়েজ হবে না।

প্রশ্নঃ 971
আসসালামু আলাইকুম, আমার বাবা, মা নাই, বাবার যে জমি ছিল তা বাবার অসুস্থতার জন্য সব বন্ধক রাখা হয়। বড় ভাই চাকরি করে, তার মত সে তার স্ত্রী ও ২ ছেলে নিয়ে ঢাকায় থাকে । আমার মেঝ ভাইও ঢাকায় চাকরি করে সেও একা থাকে, আমি নিজেও একটা প্রতিষ্ঠানে ১৫০০০টাকা বেতনের চাকরি করি ও পড়ি, পড়া ও থাকা খাওয়ার খরচ দিয়ে আমার কাছে কোন মাসে ১/২ হাজার টাকা থাকে আবার কোন মাসে থাকে না । আমার প্রশ্ন হলঃ এ আবস্থায় আমার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব হবে কিনা? বা আমার তিন ভাই মিলে কি কুরবানী করতে হবে? এ আবস্থায় কুরবানীর ব্যাপারে আমার একা বা আমাদের কি করনীয়?
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমি এই বিষয়ে কয়েকজন আলেমের সাথে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, সতর্কতাবশত কুরাবনী দেয়া উচিৎ। অল্প টাকা দিয়ে আপনি একটি ছাগল কিনে কুরবাণী দিয়ে দিবেন।

প্রশ্নঃ 970
আসসালামুআলাইকুম, পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াতে সেজদার আয়াত পাঠ করেছি। আবার তখন সূর্যও পুরোপুরি উঠে নাই। (মানে তখন সূর্য উঠতেছে) তাহলে আমি সেজদা টা কখন আদায় করব? যখন পাঠ করেছি তখনি নাকি সূর্য পুরোপুরি উঠার পর?
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুুস সালাম। সূর্য পুরোপুরি উঠার পর করবেন।

প্রশ্নঃ 968
দাড়ি রাখার সুন্নাত তরিকা সম্পরকে জানতে চাই ।
03 Jan 2026

দাঁড়ি রাখা মূমিনের একান্ত কর্তব্য। রাসূলুল্লাহ স. দাঁড়ি রাখতে আদেশ দিয়েছেন, দাঁড়ি নিজে রেখেছেন, দাঁড়ি কাটতে নিষেধ করেছেন। এই বিষয়ে নিচের হাদীসটি লক্ষ করুন: عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ وَفِّرُوا اللِّحَى وَأَحْفُوا الشَّوَارِبَ ، وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا حَجَّ ، أَوِ اعْتَمَرَ قَبَضَ عَلَى لِحْيَتِهِ فَمَا فَضَلَ أَخَذَهُ.অর্থ: নাফে ইবনে উমার রা. থেকে তিনি রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধাচারণ করো, তোমরা দাঁড়ি ছেড়ে দাও এবং গোঁফ কে কটে ফেলো। (নাফে বলেন,) আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. যখন হজ্ব কিংবা উমরা করতে যেতেন তখন একমুষ্টির উপরের দাঁড়ি কেটে ফেলতেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৮৯২। সুতরাং মুমিনের দায়িত্ব হলো দাঁড়ি লম্বা করে কম পক্ষে একমুষ্টি করে রাখা। বিস্তারিত জানতে ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত কুরআন-সুন্নাহর আলোকে পোশাক, পর্দা ও দেহ-সজ্জা বইয়ের ৫ম অধ্যায়ের দাড়ির পরিচ্ছেদটি দেখুন।

প্রশ্নঃ 967
একটি ঘটনা সঠিক কিনা? ওমর রা: জানাজা পড়াচ্ছিলেন – এক লোকের, যাকে রাসুল স: জান্নাতি বলেছিলেন, জানাজার সময় লাশের পা নড়ছিলো, মাজা নড়ছিলো, শেষে কাফন উঠিয়ে দেখে সাপে খাচ্ছে… (ইলা আকিরিল কিসসা)
03 Jan 2026

রাসূলুল্লাহ স. যাকে জান্নাতে সংবাদ দিয়ে ছিলেন তার আজাব হবে এটা সঠিক বলে মেনে নেয়া যায় না। এটা বানোয়াট বলেই মনে হচ্ছে। হাদীসে বা ইতিহাসে এমন কোন ঘটনা সহীহ বা ্গ্রহনযোগ্য সূত্রে উল্লেখ আছে বলে আমারদের জানা নেই। আরবী পাঠসহ জানালে বিষয়টি বিশ্লেষণ সহজ হবে।

প্রশ্নঃ 966
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ভাই। আশা করি পরম করুনাময় আল্লাহ্ সুবহানুতায়ালার অশেষ রহমতে ভালো আছেন। ভাই, আমার ফুফা কথা প্রশংগে বলে যে নবী কারীম সঃ এর উসিলা করে দোয়া করতে হবে। উনি এটা বুঝাইছে যে যা কিছু চাইতে হয় আল্লাহ্ সুবহানুতায়ালার কাছে নবীর মাধ্যমে চাইতে হবে। আমি বললাম যে না ফুফা যা কিছুই চাইতে হয় সরাসরি আল্লাহর কাছেই হবে। উনি বলেন কোরআনে আল্লাহ বলছেন আল্লাহর রসুল কে অনুসরণ করো। আমি বললাম অনুসরণ করা আর উসিলা করে আল্লাহর কাছে চাওয়া এক জিনিস না। আমরা যা কিছুই চাইব একমাত্র আল্লাহর কাছেই চাইব এখানে কাউকেই উসিলা করা যাবে না। তারপর আমি বললাম যদি কেউ হযরত মোহাম্মদ সঃ এর কাছেও কিছু চায় তাহলে সে শির্ক করল। উল্টো উনার ভাব আর অভিব্যক্তি এমন করল মনে হলো আমিওই শির্ক করছি। উনি ভাবছে হয়ত আমার আকিদাই ভুল বা আমি বিশাল ভুলের মধ্য আছি। আসলে অনেক আলেম উলামা ও অন্যান্য বই পত্র পড়ে আমি এই আকিদাই পোষন করি যে আমরা সেই হাদিস অনুসারে যদি একটা জুতার ফিতাও চাইতে হয় তাহলে পরম করুনাময় আল্লাহর নিকট চাই আর রসুল হলো আমাদের মডেল তাকে ১০০% অনুসরণ করে জীবন সাজাবো আর আমার প্রিয় নবী মোহাম্মাদ সঃ কে আমার পরিবারের সদস্যদের থেকেও বেশি ভালো বাসব। প্রিয় নবী সঃ আমার শ্রেস্ট মডেল। আর এ দুয়াও করি আল্লাহ যেনো আমার নবীকে (সঃ) কেয়ামতের ময়দানে আমাদের নাজাতের উসিলা করে দেয়। আমার প্রশ্ন হলো ভাই, আমার আকিদা কি সহীহ? আমি কোন ভুলের মধ্য নেইতো? দয়াকরে আমাকে একটু জানিয়ে বাধিত করবেন। আল্লাহ সুবহানুতায়ালা আপনাকে জাযাকাল্লাহ দান করুন। আমিন।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনার আকীদা ঠিক আছে। তবে রাসূলুল্লাহ স. ওসীলা করে দুআ চাওয়া আর রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে কোন কিছু চাওয়া কিন্তু এক নয়। জীবিত ব্যক্তির কাছে সরাসরি দুনিয়ার কোন জিনিস যেমন, টাক পয়সা ইত্যাদী চাওয়া যেতে পারে তবে অপার্থিব কোন বিষয় যেমন, রোগ থেকে সুস্থতা কামনা, চিন্তামুক্ত থাকা কামনা এগুলো শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার কাছেই চাইতে হবে। অর মৃত ব্যক্তির কাছে পার্থিব, অপাথিভব কোন কিছু্ চাওয়া যাবে না, শিরক হবে। আর রাসূলুল্লাহ সা. ওসীলা কর দুআ চাওয়া শিরক নয়, জায়েজ আছে। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. এর পরামর্শে এক ব্যক্তি তাঁর ওসীলা দিয়ে দুআ করেছেন বলে উল্লেখ আছে। সুনানু তিরমিযী. হাদীস নং ৩৫৭৮। হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী এবং শায়খ আলবানী রহ. সহীহ বলেছেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া 36 নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 964
১) মাঝে মাঝে খুব সামান্য পরিমাণ মজি বের হয়ে যায়, যার ফলে আন্ডারউইয়ার এর অল্প অংশ (মটর দানা পরিমাণ) ভিজে যায় । কর্মক্ষেত্রে থাকা অবস্থায় কাপড় পরিবর্তন করা বা ধোয়া সম্ভব হয় না । এই পরিস্থিতিতে নামাজ পড়তে হলে করনীয় কি? ২) মাসবুক ব্যাক্তি ইমামের উভয় সালাম ফিরানো শেষ হবার পূর্বেই দাড়াতে পারবে কি? অনেক কে দেখা যায় প্রথম সালাম শেষ হলেই দাড়িয়ে যায় । ৩) একাকি নামাজের সময়, নামাজের মধ্যে কত রাকাত হয়েছে ভুলে গিয়ে কোন সিদ্ধান্তে উপনীত না হতে পারলে কি করতে হবে?
03 Jan 2026

এতটুকু ভিজলে সমস্যা নেই। এই অবস্থায় নামায হয়ে যাবে। তবে আপনি চেষ্ট করবেন ঐ অংশটুকু ধয়ে নিতে। ২। দুই দিকে সালাম ফিরানোর পরই দাড়ানো উচিত তবে এক দিকে সালাম ফিরানোর পর দাঁড়ালেও নামায হয়ে যাবে। ৩। নামাযে রাকআতের সংখ্য মনে না থাকলে করণীয় সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ذَا شَكَّ أَحَدُكُمْ فِى صَلاَتِهِ فَلَمْ يَدْرِ كَمْ صَلَّى ثَلاَثًا أَمْ أَرْبَعًا فَلْيَطْرَحِ الشَّكَّ وَلْيَبْنِ عَلَى مَا اسْتَيْقَنَ ثُمَّ يَسْجُدُ سَجْدَتَيْنِ যখন তোমদের কেউ নামাযের মদ্ধে সন্দেহে পড়বে য, সে কত রাকআত পড়েছে তিন না চার রাকাত, তখন সে সন্দেহকে দূর করে তার নিশ্চিত বিশ্বাসের উপর আমল করবে (অর্থাৎ কমটার উপরে)। এরপর দুইটা (সাহু) সাজদা দিবে। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১৩০০। অন্য হাদীসে স্পষ্ট আছে, وَإِذَا شَكَّ فِى الاِثْنَتَيْنِ وَالثَّلاَثِ فَلْيَجْعَلْهَا اثْنَتَيْنِ ، وَإِذَا شَكَّ فِى الثَّلاَثِ وَالأَرْبَعِ فَلْيَجْعَلْهَا ثَلاَثًا দুই এবং তিন নিয়ে সন্দেহ হলে দুই রাকআত মনে করে বাকী নামায আদায় করবে আর তিন ও চার রাকআত নিয়ে সন্দেহ হলে তিন রাকআত ধরে নিয়ে বাকী এক রাকআত আদায়করবে। । আস-সুনানুল কুবরা লিল বাযহাক্কী, হাদীস নং ৩৯৬৯। হাদীসটি সহীহ।

প্রশ্নঃ 963
আসসালামু আলাইকুম, ১. একটি হাদিস এমন শুনেছি, সফর এর সময় নিজের এরিয়া থাকা কালীন নামাজের সময় হলে নামাজ কসর না করে সম্পূর্ণ নামাজ আদায় করতে হয়। নিজের এরিয়া ছেড়ে গেলে এরপর নামাজ কসর করতে হয়। (হাদিসের রেফারেন্স টা আমার জানা নেই)। আমি ঢাকার মিরপুর এ বসবাস করি। আমি বাড়িতে যাওয়ার সময় মিরপুর থেকে সায়দাবাদ গিয়ে আমার ফেনী জেলার গাড়ীতে উঠি। আপনার কাছে প্রশ্ন হল আমি কসর কোথায় থেকে শুরু করব, সায়দাবাদ এর পর থেকে নাকি মিরপুর এরিয়া ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে? তেমনি ভাবে আমার বাড়ী ফেনী জেলা থেকে আরো ১৫ কি.মি. পরে। তাহলে আমি ফেনীতে নেমে কসর করব নাকি ফেনীতে চলে গেলে আর কসর করা লাগবে না পূর্ণ নামাজ পরতে হবে। ২. আরেকটি প্রশ্ন হল এশার নামাজ আমার সফরের সময় কসর হয়েছিল। অর্থাৎ সফরের সময় পরলে কসর পরা লাগতো। কিন্তু তখন না পরে বাড়িতে চলে গেলে, বাড়িতে গিয়ে কি সেই এশার নামাজ কসর করব নাকি পূর্ণ নামাজ পড়ব? আশা করি আমার প্রশ্ন দুটি বুজতে পেরেছেন। আপনাদের কাছ থেকে এর সঠিক উত্তর আশা করতেছি। জাজাকাল্লাহু খাইর।
03 Jan 2026

ওয়া-আলাইকুমুস সালাম। সফরসম দূরত্বের উদ্দেশে নিজ এলাকার বসতি ত্যাগ করলে অর্থাৎ গ্রামের অধিবাসী নিজ গ্রাম ছাড়লে, শহরের অধিবাসী শহর ত্যাগ করলে এবং সিটি শহরে বসবাসকারী সিটি শহর থেকে বের হওয়ার পর থেকে মুসাফির গণ্য হবে। যে সীমানা থেকে মুসাফির বলে গণ্য হয়েছিল; সেই সীমাতে প্রবেশের পর থেকেই মুকীম হয়ে যাবে। সুতরাংআপনি কসর শুরু করবেন ঢাক শহর পর হওয়ার পর। আর ফেনীতে গিয়ে নিজ গ্রামে প্রবেশের আগ পর্যন্ত। কসর করবেন। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া ১১নং প্রশ্নের উত্তর; মাসিক আলকাউসার, ডিসেম্বর, ২০১৩, প্রশ্ন নং ২৯৮০। আপনি যদি ওয়াক্তের মধ্যেই বাড়ি চলে আসেন তাহলে পুরো নামায আদায় করবেন। আর যদি পরে বাড়ি আসেন তাহলে কসর করবেন। অর্থাৎ বাড়িতে দুই রাকআত পড়বেন। এক্ষেত্রে মূলনীতি হলো সফর কাজা হওয়া নামায কসর করতে হবে, আর মুকীম অবস্থায় কাজা হওয়া নামায পুরা পড়তে হবে, যে অবস্থাতেই থাকুন না কেন।

প্রশ্নঃ 960
আচ্ছালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্ন হলো, আমি দাড়ি সুন্দর করার জন্য মুখের সাইডের দুই পাশে একটু সাইজ করতে পারবো কি?
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দাঁড়ি সাইজ করতে তো নিষেধ করা হয়নি। নিষেধ হলো একমুষ্টির নিচে কাটা। আপনি একমুষ্টি পরিমান রেখে সাইজ করতে পারেন। দাঁড়ি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত কুরআন-সুন্নাহর আলোকে পোশাক, পর্দা ও দেহ-সজ্জা বই টি।

প্রশ্নঃ 959
আসসালামু আলাইকুম, আমি ওবায়দুল্লাহ সোহাগ, আমি ঢাকাতে থাকি। আমি শুনেছি যে কোন মেয়ে যদি বাবার অনুমতি ছাড়া বিয়ে করে তাহলে ইসলামি বিধানুযায়ি সে বিয়ে বাতিল। কিন্তু কথা হলো যখন এই বিষয়টি আমি স্থানীয় এক আলেমের কাছে জানতে চাইলাম তখন তিনি বললেন এটা জায়েয। দয়া করে বিষয়টি জানাবেন।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আপনার প্রশ্নের জন্য শুকরান, ওলী (অভিভাবক, বাবা থাকলে বাবা, না থাকলে অন্য কেউ) ছাড়া মেয়েদের বিবাহের বিধান: বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামী শরীয়তে এব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাসূল সা. এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। পারিবারিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অধিকাংশ ইমাম ও ফকীহগণের নিকট ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ নেই। তবে ইমাম আবু হানীফা রহ. সহ কতিপয় ফকীহ বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে জায়েজ বলেছেন। প্রখ্যাত মালেকী ফকীহ আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে রুশদ আন্দালুসী র. বলেন, اختلف العلماء هل الولاية شرط من شروط صحة النكاح أم ليست بشرط؟ فذهب مالك إلى أنه لا يكون النكاح إلا بولي وأنها شرط في الصحة في رواية أشهب عنه وبه قال الشافعي وقال أبو حنيفة وزفر والشعبي والزهري: إذا عقدت المرأة نكاحها بغير ولي وكان كفؤا جاز وفرق داود بين البكر والثيب فقال باشتراط الولي في البكر وعدم اشتراطه في الثيب অর্থ: বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী শর্ত কি শর্ত নয় এই বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম মালেক র. মত পোষন করেছেন যে, ওলী ছাড়া বিবাহ হবে না। বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য (ওলী) শর্ত। এমন মতই পোষন করেছেন ইমাম শাফেয়ী রা.। ইমাম আবু হানীফা, জুফার, শাবী ও জুহরী র. বলেছেন, যদি মহিলা ওলী ছাড়া বিবাহ করবে আর স্বামী যদি তার কুফু (সর্বদিক দিয়ে যোগ্য)হয় তাহলে জায়েজ হবে। বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ২/৮ (শামেলা)। এই সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন, আলমাবসুত লিস-সারখসী, ৬/৫৩; আলমাউসায়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৭/৯৪ও ৩১/৩২১; আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবা ৪/৪৫। কিতাবুল উম্ম লিশ-শাফেয়ী,৭/১৫৬। যে ইমামগন ওলী ছাড়া বিবাহ বাতিল বলেছেন তাদের দলীল: আবু মুসা আশয়ারী রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, অর্থাৎ ওলী ছাড়া বিবাহ নয়। لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِىٍّ আবু দাউদ, হাদীস নং ২০৮৭; তিরমিযী, হাদীস নং ১১০১;মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৯৭৬১। হাদীসটি সহীহ। শায়খ আরনাউত এবং আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত অন্য হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ অর্থাৎযে মহিলা ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করবে তার বিবাহ বাতিল। তিনি ৩ বার তা বলেছেন। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১১০২; মুসনাদে আহমাদ,হাদীস নং ২৫৩৬৫। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন আর শায়খ শুয়াইব আরনাউত সহীহ বলেছেন। উপরক্ত হাদীস সমূহের ভিত্তিতে ইমাম মালেক, শাফেয়ী, আহমাদ র. সহ অধিকাংশ আলেম ওলী ছাড়া বিবাহকে বাতিল বলেছেন। যে সব ইমাম ও ফকীহ ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ বলেছেন তাদের দলীল: তাবেঈদের মধ্যে ইমার জুহরী ও শাবী এরপরে ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ, মুহাম্মাদ, জুফার সহ কিছু সংখক মুজতাহিদ কিছু শর্ত সাপেক্ষে ওলী ছাড়া বিবাহ কে জায়েজ বলেছেন। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১.কুফু হতে হবে। ২.মেয়েটি বালেগা, বুঝমান হতে হবে। আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবায়া,৪/৪৫; আলমাবসুত লিস-সারাখসী,৬/৬১ ও ৫/১৬। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, فلا جناح عليكم فيما فعلن في أنفسهن بالمعروف অর্থাৎ মহিলারা নিজেদের ব্যাপারে সৎ ভাবে যা করবে (বিয়ের ক্ষেত্রে) সে বিষয়ে তোমাদের কোন দোষ নেই। সূরা বাকারাহ-২৩৪ অন্য এক আয়াতে তালাক সম্পর্কে আলোচনার এক পর্যায়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, تنكح زوجا غيره. حتى অথাৎ যতক্ষন না তারা অন্য স্বামীকে বিবাহ না করে। সূরা বাকারাহ-২৩০। অন্য প্রসংগে আল্লাহর বাণী, فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ অর্থাৎ তোমরা তাদেরকে তাদের স্বামীদের কে বিবাহ করা থেকে বাধা দিবে না। সূরা বাকারাহ-২৩২ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا অর্থাৎ মেয়েরা ওলীদের চেয়ে নিজের ব্যাপারে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৪২১। الأيم অর্থ স্বামীহীন মহিলা, পূর্বে স্বামী থাকুক বা না থাকুক। আলমজামুল ওয়াসীত। বর্তমান সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৌদী আলেম শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আলমুনজিদ ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের ক্ষেত্রে বলেছেন, المسألة اجتهادية ، واختلف فيها الأئمة ، فإنه إذا كان أهل بلد يعتمدون المذهب الحنفي كبلادكم وبلاد الهند وباكستان وغيرها ، فيصححون النكاح بلا ولي ، ويتناكحون على هذا ، فإنهم يقرّون على أنكحتهم ، ولا يطالبون بفسخها অর্থাৎ এটি একটি ইজতিহাদি মাসআলা, ইমামগণ এক্ষেত্রে ইখতিলাফ করেছেন। সুতরাং যে সব দেশের মানুষেরা হানাফী মাজহাবের উপর নির্ভর করে, ওলী ছাড়া বিবাহবে বৈধ মনে করে এবং এভাবে তাদের বিয়ে হয় যেমন, ভারত, পাকিস্থান ইত্যদি, তাহলে তাদের বিবাহের স্মীকৃতি দেয়া হবে । বাতিল করতে বলা হবে না। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, শরীয়তে বিবাহে মেয়েদের জন্য ওলী থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণভাবে যৌবনের শুরুতে যুবক-যুবতী সহজেই বয়সের উন্মাদনায় বিভ্রান্ত হয় এবং নিজের চোখের ভাল লাগার উপর নির্ভর করেই সঙ্গী পছন্দ করে। বিবাহের ক্ষেত্রে চোখের পছন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবন ও আগত প্রজন্মের কল্যাণের কথাও চিন্তা করতে হবে। এজন্য ইসলামে বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর মতমতের সাথে অভিভাবকের মতামতেরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সুতরাং মেয়েদের জন্য আবশ্যক হলো ওলীর অনুমতি নিয়ে বিবাহ করা। আর আমাদের উচিৎ বিবাহের সময় মানুষদের কে ওলীর অনুমতির বিষয়ে উৎসাহিত করা,ওলী ছাড়া বিয়ে করতে নিষেধ করা এবং ওলী থাকার কল্যান বর্ণনা করা। যারা ইতিমধ্যে ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করেছে তাদের বিষয়ে কথা হলো যেহেতু তারা একটি ফিকহী মত গ্রহন করেছেন আর বিষয়টি ইজতিহাদী এবং ইখতিলাফী তাই তাদেরকে নতুন করে বিবাহ করতে হবে না। তবে এই ঘৃনিত কাজের জন্য তাদের লজ্জিত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 958
আসসালামু আলাইকুম, আমি একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি তে চাকরী করি। এখানের ৯০% মেয়ে উগ্র আর অশালিন ভাবে জামা কাপড় পরে ইউনিভার্সিটি তে আসে। আর ছেলে মেয়েদের বেলাল্লাপনা একটা নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার। এই সব দেখে মাঝে মাঝে মন থেকে খুব ঘৃণা আসে। কিন্তু মুখ বুঝে সহ্য করা ছাড়া কোন উপায় থাকে না। আপনার কাছে প্রশ্ন হল এই জায়গায় চাকরী করে আমার উপার্জনকৃত টাকা হালাল নাকি হারাম আশা করি জানাবেন ২. অশ্লীল কিছু দেখা থেকে নিজের চোখ কে হিফাজতের জন্য কোন দোয়া থাকলে আমাকে বলুন।জাজাকাল্লাহু খাইর।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এমন পরিবেশে দিনের পর দিন থাকা অবশ্যই ইসলামের দৃষ্টিতে অপরাধ। আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনার জন্য ভাল পরিবেশে একটা চাকুরীর ব্যবস্থা করে দেন। আপনি অন্য কোথাও চাকুরী খুঁজতে থাকুন। যেখানে পরিবেশ ভাল, শালীনভাবে চলাচল করতে পারবেন। এর আগ পর্যন্ত এখানেই থাকুন এবং যতটা সম্ভব নিজেকে এসব থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করুন। আল্লাহর কাছে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকুন। আল্লাহকে ভয় করে চললে অবশ্যই আল্লাহ তায়লা একটা উত্তম পন্থা বের করে দেবেন, আল্লাহ কুরআনে এটা বলেছেন। আল্লাহ হাফিজ।

প্রশ্নঃ 957
আচ্ছালামু আলাইকুম,আমি যতদূর জীনেছি রাসূল (সঃ) সাহাবাদের কাছ থেকে কবিতা শুনতেন,অনেক সাহাবীদের কথাও শুনেছি যে তারা কবিতা লিখতেন। কিন্তু একটা হাদীসে দেখলাম, আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ নিজের পেট কবিতা দ্বারা ভর্তি করার তুলনায় পুঁজ দ্বারা ভর্তি করা যে কোন ব্যক্তির জন্য উত্তম। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)। আসলে বেপার টা ক্লীয়ার হচ্ছেনা। কবিতার ক্ষেত্রে শরীয়ত কি বলে? এটা কি জায়েজ নাকি নাজায়েজ?
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, যে কবিতার ভাষা ভাল-সুন্দর, ইসলামের সাথে কোন বিরোধ নেই এই ধরনের কবিতা পাঠ জায়েজ। আর যে কবিতার ভাষা ভাল নয়, ইসলাম বিরোধী তাহলে জায়েজ হবে না। নিচের হাদীসটি দেখুন: ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : الشِّعْرُ بِمَنْزِلَةِ الْكَلاَمِ ، حَسَنُهُ كَحَسَنِ الْكَلامِ ، وَقَبِيحُهُ كَقَبِيحِ الْكَلامِ

প্রশ্নঃ 956
স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেশত এই বিষয়ে হাদিসটি কতুটুকু সঠিক? আর এই বিষয় সম্পর্কিত কোন হাদিস আছে কিনা?
03 Jan 2026

এটি হাদীস নয় । স্ত্রীর প্রতি স্বামীর হক বা স্বামীর আনুগত্য বিষয়ে অনেকে উপরের কথাকে হাদীস হিসেবে পেশ করে থাকে। যার আরবী হল, الجنة تحت أقدام الأزواج । কিন্তু এ শব্দ-বাক্যে কোনো হাদীস পাওয়া যায় না। সুতরাং এটিকে হাদীস হিসেবে বলা যাবে না। তবে কিছু বর্ণনায় এর মর্মার্থ পাওয়া যায়। মুআত্তা মালেক”

প্রশ্নঃ 955
৯২৫ নাম্বার প্রশ্নের জবাবের জন্য ধন্যবাদ। আমি অত্যন্ত সংকটময় সময় পার করছি। আমার বাসায় মা-বাবার সাথে আমার স্ত্রীর সম্পর্কের আরও অবনতি হয়েছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে আমার স্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, সে অত্যন্ত মুখরা, বদমেজাজি ও অহঙ্কারি যা বিবাহের পূর্বে আমার জানা ছিল না। আমার মা-বাবার ইচ্ছা আমি হয় তাকে পরিত্যাগ করি আর না হয় তাদের থেকে আলাদা হয়ে যাই। এই কঠিন পরিস্থিতিতে আমি আসসুন্নাহ ট্রাষ্ট এর সম্মানিত ওলামায়ে কেরাম এর নিকট বিশেষ দোয়াপ্রারথী। মাঝে মাঝে সুইসাইড এর চিন্তা মাথায় চলে আসে । এমতাবস্থায় আমার করনীয় কি? আমি চাচ্ছি সে নিজ থেকে আমার কাছে মুক্তি চাক। এমন কোন আমল বা তদবির আছে কি যা করলে সে নিজেই ডিভোর্স চাইবে?
03 Jan 2026

ভাই, আমরা আপনার জন্য দুআ করি, আল্লাহ যেন আপনাকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। আপনার কাছে রাহে বেলায়াত বই থাকলে সেখান থেকে বিপদমু্ক্তির কিছু কিছু দুআ পাঠ করুন। যেমন, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ২৬, ১৫৭, ১৩৫, ১৮৫ নং জিকিরগুলো। বিবাহ বিচ্ছেদ খুবই বেদনাদায়ক কাজ। সর্বদিক থেকে চেষ্টা করার পর এই নিয়ে ভাবতে হবে। দুই পরিবারের মুরুব্বীরা বসে সমাধানের চেষ্টা করতে পারে। আপনিও একান্ত মূহুর্তে বুঝাতে পারেন। তবে আপনাকে আরো সময় নিয়ে ভাবতে হবে। কোন উপায় যদি বের করা যায় তাহলে বিবাহ টিকিয়ে রাখার তাহলে তাই করতে হবে। এই বিষয়টি নিয়ে পরামর্শের জন্য আপনি নিচের নাম্বারে ফোন করুন। নাম্বারটি আমাদের হাদীস বিভাগের প্রধানের। আশা করি তিনি আপনাকে সঠিক পরামর্শ দিবেন। 01818529415

প্রশ্নঃ 953
আস-সালামু আলাইকুম। হুজুর আমি জান্নাতের স্ত্রী সম্পরকে জানতে চাই। হুজুর আমি একজনকে পছন্দ করি। আমাদের মাঝে সম্পর্ক ছিল না, তেমন যোগাযোগও ছিল না। কিন্তু আমি সর্বদা ওকে বিয়ে করার নিয়ত নিয়েই ছিলাম। সম্পর্ক এ জড়ানোর ইচ্ছাও আমার ছিল না কারন বিবাহবহির্ভূত হারাম সম্পর্ক আমি সমর্থন করি না। আমার স্বপ্ন ছিল আমি ওকে নিয়েই ইহকালে পরকালের জন্য প্রস্তুত হব। সত্যি বলতে আমি ওকে স্ত্রী হিসেবে সাথে নিয়েই জান্নাতে যাব এমন নিয়ত ছিল। দুর্ভাগ্যজনক ওর বিয়ে আমার সাথে হয়নি, কিন্তু আমি এখনো ওকে নিয়েই জান্নাতে যেতে চাই। আমি একটি হাদিসে পেয়েছি পছন্দের স্বামির সাথে স্ত্রী জান্নাতে যাবে যদি দুজনই জান্নাতে যায়। আরেকটি মতামত পেয়েছি শেষ স্বামির সাথে জান্নাতে যাব। কিন্তু কোথাও পাইনি ইহকালের স্বামি ছাড়া অন্য কারো সাথে জান্নাতে যাবে যদি বিবাহিত এবং দুজনই জান্নাতে যায়। হুজুর আমি জানতে চাই আমি কি তাহলে ওকে জান্নাতে স্ত্রী হিসাবে পাব না যদি আমি জান্নাতে যাই এবং ওকে জান্নাতে স্ত্রী হিসাবে চাই? বিভিন্নরকম মতামত যা অধিকাংশ ওকে স্ত্রী হিসাবে না পাওয়ার পক্ষে মতামত দেখে আমি সত্যি হতাশ হয়ে পড়েছি কারন বিশ্বাস ছিল জান্নাতে ওকে স্ত্রী হিসাবে পাব। হুজুরের কাছে আমার জন্য দুয়ার অনুরোধ রইল।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, জান্নাতে আপনি যা চাবেন তাই পাবেন। মানুষের সকল চাহিদা জান্নাতে পূরণ করবেন আল্লাহ তায়ালা। অন্য একজনে স্ত্রীকে নিয়ে এমন ভাবা কোন মূমিনের কাজ হতে পারে না। এভাবে যদি ভাবতে থাকেন তাহলে কখনো পাপে জড়িয়ে পড়তে পারেন। সুতরাং এইসব ভাবনা অবিলম্বে ছেড়ে দিন। কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী জীবনকে পরিচালিত করুন, আপনার সকল চাওয়া জান্নাতে পূরণ করা হবে।

প্রশ্নঃ 952
এক্সট্রিম সিচুয়েশন এ বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য দোয়া করা যাবে কি?
03 Jan 2026

এক্সট্রিম সিচুয়েশনটা কি বিস্তারিত লিখে পাঠান। তাহলে উত্তর দেয়া সহজ হবে।

প্রশ্নঃ 951
৯৪৬ নাম্বার প্রশ্নের দ্বিতীয় অংশে আমার আসলে যেটা জানার ইচ্ছা ছিল, ছোট এস্তেঞ্জা করার পর যদি কেবলমাত্র ঢিলা বা টিস্যু ব্যবহার করা হয় এবং পানি ব্যবহার না করা হয় আর তারপর যদি ঘামে আন্ডারউইয়ার ভিজে যায় তাহলে কোন সমস্যা হবে কিনা।
03 Jan 2026

না, ঢিলা বা টিস্যু দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করার পর ঘামে িআন্ডারওয়ার ভিজে গেলে কোন সমস্যা হবে না। এই অবস্থায় সালাত আদায় করা যাবে।

প্রশ্নঃ 949
মানুষ এবং প্রানীর অথবা জীব-জন্তুর এনিমেশন তৈরি করা কি বৈধ?
03 Jan 2026

এই বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতাভেদ আছে। শিশুদের জন্য এমনিশেন তৈরী করাকে অনেক আলেম বৈধ বলেছেন। আবার অনেকে নাজায়েজ বলেছেন। তবে এসব থেকে বিরত থাকার মধ্যেই সতর্কতা।

প্রশ্নঃ 948
আসসালামু আলাইকুম, ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের মুখ, হাত এবং পা ঢাকার নিয়ম কি? ইহরাম অবস্থায় মুখ ঢাকার সহজ পদ্ধতি কি?নিজের অজান্তেই খুসকির সাথে চূল ঝরলে বা ওযুর সময় দাড়ি খিলাল করতে দাড়ি ঝরলে দম দিতে হবে কিনা দয়া করে জানাবেন।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইহরাম অবস্থায় মুখ ঢাকা তথা কাপড় লাগিয়ে মুখ ঢাকা নিষেধ। তাই, এমন ভাবে মুখ ঢাকতে হবে যাতে মুখে কাপড় না লাগে। বর্তমানে ইহরাম অবস্থায় মুখ ঢাকার জন্য বাজারে বিশেষ ধরের টুপি পাওয়া যায় সেগুলো সংগ্রহ করতে পারেন। হাত ও পা ঢাকবেন না। না, এই সব কারণে দম ওয়াজিব হবে না।

প্রশ্নঃ 947
Aslamualikum. আমি কোনো এক দিন সারাদিন ২৪ গন্টা বাস এ সিলাম। আমার ৫ ওয়াক্ত সালাত পরতে পারি নি। পরের দিন সালাত আদায় করলে গোনাহ হবে কি?
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিনা কারণে সালাত পরিত্যাগ করলে অবশ্যই গুনাহ হবে। আর যদি গ্রহনযোগ্য কারণ বশত সময়মত না আদায় করতে পারেন তাহলে গুনাহ হবে না। তবে উভয় অবস্থাতেই কাজা করতে হবে। দলীলসহ জানতে দেখুন আমাদের দেয়া ২৪৭ নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 946
ক) প্রস্রাব করার কত সময় পর পানি খরচ করা যাবে? খ) যদি প্রস্রাব করার পর পানি খরচ না করা হয় এবং পরিধেয় বস্ত্র ঘামে ভিজে যায়, তাহলে কি তা নাপাক হয়ে যাবে?
03 Jan 2026

প্রস্রাব করার পর পানি, ঢিলা বা টিস্যু দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করতে হবে। কত সময় পর কেন প্রশ্ন করছেন এটা বুঝতে পারছি না। প্রস্রাব শেষ হওয়ার সাথে সাথে পবিত্রতা অর্জর করতে হবে। যদি কারো সঙ্গে সঙ্গে পানি খরচ করলে প্রস্রাব বের হবে বলে সন্দেহ হয় তাহলে উঠে টিস্যু ব্যবহা করে পানি ব্যবহার করবে। তবে হাটাহাটি পরিত্যাগ করবে, এটা ভাল দেখা যায় না। ঘাম নাপাক নয়, পাক বা পবিত্র। সুতরাং ঘামের কারণে কোন কিছু অপবিত্র হবে না।

প্রশ্নঃ 945
আসসালামুয়ালাইকুম, আমার প্রশ্ন হল: আমার যদি জামাতে কোন রাকাত ছুটে যায় যেমন জহরের সালাতের ২রাকাত ছুটে গেল তখন আমি কি ইমাম এর সাথে ২রাকাত পরার পর ইমাম এর সাথে সালাম ফিরিয়ে তাঁরপর দাড়িয়ে সালাত পূর্ণ করব নাকি ইমাম এর সাথে সালাম না ফিরিয়ে দাড়িয়ে বাকী নামায আদায় করবো?
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সালাম না ফিরিয়ে বাকী রাকআতগুলো আদায় করবেন। তবে ভুল করে সালাম ফিরিয়ে ফেললে কোন সমস্যা নেই। তারপর উঠে বাকী রাকআতগুলো আদায় করবেন।

প্রশ্নঃ 944
আসসালামু আলাইকুম, তাযকিয়া ই নফস্, আত্মার পরিশুদ্ধি কিভাবে অর্জন করা যাবে জানিয়ে উপকৃত করবেন।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমস সালাম। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সা. কে পাঠিয়েছেন মানুষকে তাযকিয়া করার জন্য। সুতরাং তাযকিয়া ই নফস অর্জন করতে হলে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ অনুসারে জীবন পরিচালনা করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি একজন সহীহ আকীদার আলেমের পরামর্শ নিয়ে চললে ভাল হবে। তিনি কুরআন ওসহীহ সুন্নাহর ভিত্তিতে আপনাকে করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো ঠিক করে দিবেন। তবে বর্তমোনে তাযকিয়া নফস এর নামে অনেক ইসলাম বিরোধী কাজকর্ম শুরু হয়েছে, এগুলো থেকে সাবধান থাকবেন।

প্রশ্নঃ 943
ইয়া হায়্যু ইয়া কাইউম বিরাহ্মাতিকা আস্তাগীস, আস্লিহ্লী শানি কুল্লাহু অলা তাকিলনী ইলা নাফসি তারফাতা আইন। — এই দোয়াটির সহী রেফারেন্স জানতে চাচ্ছি । কঠিন বিপদের সময় আল্লাহ পাকের সাহায্য কামনা বিষয়ক দোয়া ও আমল সম্পরকে জানাবেন দয়া করে।
03 Jan 2026

হ্যাঁ, এই দুআটি সহীহ। সহীহ হাদীসে বর্ণিত । আস-সুনানুল কুবরা, ইমাম নাসায়ী,হাদীস নং ১০৩৩০; মুসনাদু বাযযার,হাদীস নং৬৩৮৩। আল্লামা হাইসামী রাহ. বলেছেন, হাদীসটির রাবীগণ সহীহাইনের রাবী, উসমান ছাড়া। তবে তিনিও ছিকাহ। মাজমাউজ জাও-য়িদ, হাদীস নং ১৭০০৮। শায়খ আলবানী রাহ. সনদ সহীহ। হাদীসটি হাসান। সহীহ তারগীব ও তারহীব, হাদীস নং ৬৬১। কঠিন বিপদের সময় আল্লাহ পাকের সাহায্য কামনা বিষয়ক দোয়া ও আমল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত রাহে বেলায়াত

প্রশ্নঃ 942
দাঁড়িয়ে পানি পান করলে গুনাহ হবে কি? হাটতে হাটতে কোন হালকা নাস্তা যেমন ঝাল্মুড়ি, বাদাম ইত্যাদি খাওয়া কি জায়েজ আছে?
03 Jan 2026

হযরত আনাস রা. এবং আবু সাইদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত এই হাদীসটি দেখুন: أَنَّ النَّبِىَّ -صلى الله عليه وسلم- زَجَرَ عَنِ الشُّرْبِ قَائِمًا নবী সা. দাড়িয়ে পান করার কারণে ধমক দিয়েছেন। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৫৩৯৩. ৫৩৯৬। আবার কিছু কিছু হাদীসে অনুমতির বিষয়টি পাওয়া যায়।

প্রশ্নঃ 941
আসসালাম ওয়া আলাইকুম জনাব, চাশতের সালাহর ব্যাপারে আমাকে কুরআন এবং হাদিসের আলোকে তা আদায় করার পদ্ধতি, ফাজিলাত এবং তা প্রমানিত কিনা জানালে উপকৃত হবো । জাযাকাল্লাহ খইর মুহাম্মাদ রাশিদ খালেদ
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। চাশতের সালাত তথা ফজরের পর সূর্য উঠে গেলে যে সালাত আদায় করা হয় তা সহীহ সুন্নাহ সম্মত। এই বিষয়ে নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো: আনাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: مَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ فِي جَمَاعَةٍ ثُمَّ قَعَدَ يَذْكُرُ اللَّهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَانَتْ لَهُ كَأَجْرِ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ … تَامَّةٍ تَامَّةٍ تَامَّةٍ যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামাআতে আদায় করে বসে বসে আল্লাহর যিকির করবে সূর্যোদয় পর্যন্ত, এরপর দুই রাকআত সালাত আদায় করবে, সে একটি হজ্ব ও একটি ওমরার সাওয়াব অর্জন করবে: পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ (হজ্ব ও ওমরা)। হাদীসটি হাসান। তিরমিযী (আবওয়াবুস সালাত, ৫৯-..জলূস ফিল মাসজিদ…) ২/৪৮১, নং ৫৮৬, (ভারতীয় ১/১৩০); আলবানী, সহীহুত তারগীব ১/২৬০। আবু উমামমাহ ও উতবাহ ইবনু আবদ (রা) বলেন, রাসূলুলুল্লাহ সা. বলেছেন: مَنْ صَلَّى صَلاَةَ الصُّبْحِ فِيْ جَمَاعَةٍ ثُمَّ ثَبَتَ حَتَّى يُسَبِّحُ للهِ سُبْحَةَ الضُّحَى كَانَ لَهُ كَأَجْرِ حَاجٍّ وَمُعْتَمِرٍ تَامًّا لَهُ حَجُّهُ وَعُمْرَتُهُ যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামাতে আদায় করে বসে থাকবে দোহার (চাশ্তের) সালাত আদায় করা পর্যন্ত, সে একটি পূর্ণ হজ্ব ও একটি পূর্ণ ওমরার মতো সাওয়াব পাবে। হাদীসটি হাসান। আলবানী, সহীহুত তারগীব ১/২৬১। এভাবে বসতে না পারলেও দোহার সালাত পৃথকভাবে আদায়ের জন্য হাদীসে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা. নিজে মাঝে মাঝে দোহার (চাশতের) সালাত আদায় করতেন। যে কোনো মুসলিম, ফজরের জামাতের পরে যিক্র করুন বা না করুন, সূর্যোদয়ের পর থেকে দ্বি-প্রহরের মধ্যে দু-চার রাকআত দোহার সালাত আদায় করলেই বিভিন্ন হাদীসে বর্ণিত অশেষ সাওয়াব ও বরকতের আশা করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন, শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত রাহে বেলায়াত বইটি, পৃষ্ঠা, ৪৯৪-৪৯৮।

প্রশ্নঃ 940
কিডনি বিকল মুমূর্ষু রোগীকে কিডনি প্রদান করা জায়েজ আছে কিনা?
03 Jan 2026

হ্যাঁ, কিডনি বিকল মুমূর্ষ রোগীকে কিডনি প্রদান করা জায়েজ আছে। তেমান রক্তের প্রয়োজন এমন রোগীকে রক্ত দেয়া জায়েজ। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন: দাওয়াতুল হক্ক (ইন্টানরেনেটে) এই শিরোনামে حكم التبرع بالدم وحكم التبرع بالاعضاء للغير؟। এবং আল-ইসলাম সুয়াল ও জবাব (আরবী), ফতোয়া নং ২৩২০।

প্রশ্নঃ 939
আচ্ছালামু আলাইকুম,আমি আমার এক বিধর্মী বন্ধুকে একটা কোরান হাদীয়া দিয়েছিলাম,মানে কোরান ইংরেজী ট্রান্সলেশন সহ। কুরান স্পর্শ করাটা যেহেতু পবিত্রতার সাথে সম্পৃক্ত,আমার তাকে তা দেওয়া জায়েজ হয়েছে কি?
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বী, আপনার কুরআন শরীফ হাদীয়া দেয়া জায়েজ হয়েছে। আল্লাহ আপনার এই ভাল কাজ কবুল করুন।

প্রশ্নঃ 938
আস সালামু আলায় কুম শায়েখ, আরবী সঠিক উচ্চারন সহ সেখার জন্য অনলাইন এ কোন ফ্রী সাইট সম্পর্কে জানাবেন দয়া করে। অনলাইন এ অনেক গুলা আছে কিন্তু কোনটা সঠিক ভাবে শেখাচ্ছে সেই বিষয় সন্ধেহ কাজ করে। এজন্য জানতে চাচ্ছি আপনাদের বিশ্বস্ত কোন সাইট আছে কিনা?জাঝাকাল্লাহ খাইরান।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, আমাদের এই ধরনের কোন কার্যক্রম নেই।

প্রশ্নঃ 937
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, আমি আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের যোগাযোগের নাম্বার চাচ্ছি। যেটাতে যোগাযোগ করতে পারবো আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের সাথে।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমাদের অফিসের নাম্বার হলো 01716489818। এথানে যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য নিতে পারবেন।

প্রশ্নঃ 936
আচ্ছালামু আলাইকুম, ভাইয়া মসজিদে গিয়ে যদি কোন নামায না পড়ে সরাসরি বসে পড়ি তাহলে কি গুনাহ হবে? যেহেতু হাদীসে এসেছে কেউ মসজিদে প্রবেশ করে দু রাকাত নামায না পড়ে যেনো না বসে। আর আমদের আহলে হাদীসের ভাইয়েরা এটা অনেক স্ট্রিক্টলী ফলো করে যা দেখে মনে হয় যে মসজিদে প্রবেশ করে কেউ বসে পড়লে গুনাহ হয়ে যাবে। প্লীস একটু জানান।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীসে মসজিদে প্রবেশ করে না বসে দুরাকআত নামায পড়ার কথা রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন । মূমিনের উচিৎ রাসূলুল্লাহ সা.এর সুন্নাত অনুযায়ী জীবনকে পরিচালিত করা। তবে এটা সুন্নাত নামায, না পড়লে গুনাহ হবে এমন কথা কেউ বলেন নি।

প্রশ্নঃ 935
ক) রক্ত বিক্রি করা জায়েজ আছে কিনা? খ) শরীরের অঙ্গ যেমন কিডনি বিক্রি করা জায়েজ আছে কিনা?
03 Jan 2026

ক. আলেম ও ফকীহগণ এ ব্যাপারে একমত যে, রক্ত বিক্রি করা জায়েজ নেই, হারাম। সাহবী আবু জুয়াইফা রা. বলেন, إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ ثَمَنِ الدَّمِ নবী সা. রক্তের মূল্য নিতে নিষেধ করেছেন। সহীহ বুখারী হাদীস নং ২২৩৮। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন, والمراد تحريم بيع الدم كما حرم بيع الميتة والخنزير وهو حرام إجماعا أعني بيع الدم وأخذ ثمنه (এই হাদীস দ্বারা) উদ্দে্শ্য হলো রক্ত বিক্রি হারাম। যেমন মৃত জন্তু এবং শুকুর বিক্রি হরাম। আর রক্ত বিক্রি করা এবং রক্ত বিক্রি করে মূল্য গ্রহণ করা সকলের নিকট হারাম। ফাতহুল বারী, ৪/৪২৭। উক্ত হাদীসের আলোচনা। সুতরাং রক্ত বিক্রি করা যাবে না। খ.মানুষের শরীরের অঙ্গের মালিক মানুষ নয়। আর মালিকান বিহীেন কোন কিছু বিক্রি কর হারাম। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন,(ইন্টারনেটে) তরিকুল ইসলাম (আরবী), ما حكم بيع الأعضاء والدم على المذاهب الأربعة এই প্রশ্নের উত্তর। মারকাজুল ফাতাওয়া, ফাতাওয়া নং ৬৩২।

প্রশ্নঃ 934
শোক দিবস পালন করা কি জায়েজ?
03 Jan 2026

রাসূলুল্লাহ সা. জীবিত থাকাকালীন বহু সাহাবী মারা গিয়েছিলেন, তিনি কোন দিন কারো জন্য শোক দিবস পালন করেন নি, মৃত্যু বার্ষিকীও পালন করেন নি। রাসূলুল্লাহ সা. এর মৃত্যুর পর প্রায় ১০০ বছর সাহাবীরা দুনিয়াতে ছিলেন তারা রাসূলুল্লাহ সা. বা অন্য কারো জন্য শোক দিবস পালন করেন নি, তাঁর মৃত্যুবাষিকীও পালন করেন নি। তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ী এবং পরবর্তী আলেমগণও শোক দিবস পালন করেন নি। যে কাজ রাসূলুল্লাহ সা. সাহাবী-তাবেয়ীগণ করেন নি তার আমাদের জন্য করা উচিৎ নয়। জায়েজ না খুঁজে আমাদের সুন্নাত খুঁজা উচিৎ। আর সুন্নাত হলো পালন না করা।

প্রশ্নঃ 933
আস সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হল খাবার খাওয়ার পর কি প্লেটে হাত ধোয়া যাবে?
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। খাবারের পর প্লেটো হাত ধোয়া যাবে।এতে কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 932
সদ্য বিবাহিত এক ব্যাক্তি আমার কাছে জানতে চেয়েছে মোহরানার বিধান সম্পর্কে। বিবাহের কিছু দিন আগে ছেলে পক্ষের লোক গিয়েছিল মেয়ের ওভিভাবকের কাছে বিয়ের বিষয়ে কথা বলতে,সিদ্ধান্ত হল ছেলে বিয়েতে কোন যৌতুক নিবেনা শরীয়তের যাবতীয় নিয়ম মেনেই এই বিবাহ সম্পন্ন হবে । কথা বলার একপর্যায় মেয়ের বাবার সাথে মোহরানা বিষয়ে কথা হয়। মেয়ের বাবা ৬০ হাজার টাকা মোহরানা নির্ধারণ করায় রাজি হন। কিন্তু বিবাহের দিন মেয়ে পক্ষের লোকযন কিছুতেই ৬০ হাজার টাকা মোহরানা মেনে নেয়নি বরং তারা ছেলের কাছে ৫লক্ষ টাকা মোহরানা দাবি করেন এ সময় মেয়ের বাবা ছিল নিরব। এতে ছেলে পক্ষের সম্মতি নাথাকা সত্তেও তারা ৫লক্ষ টাকা মোহরানা নির্ধারণ করে বিবাহ রেজিষ্ট্রি করে জাবিতীয় কাজ সমাপ্ত করেন। ছেলের পক্ষে ৫লক্ষ টাকা মোহরানা পরিশধ করা কখনই সম্ভবনা। এবিষয়ে হানাফি মাযহাবের দলিলসহ সমাধান চাই।
03 Jan 2026

আপনার প্রশ্ন থেকে এটা স্পষ্ট যে, কাবিননামাতে ৫ লক্ষ টাকা লেখা হয়েছে আর ছেলে তাতে স্বাক্ষর করেছে। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে লেখাটায় মোহরের সর্বশেষ চুক্তি বলে গণ্য হবে। যেহেতু ছেলে তাতে স্বাক্ষর করেছে তাই মোহর ৫ লক্ষ টাকায় নির্ধারিত হয়ে গেছে। তবে স্বামী ও স্ত্রী যদি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে স্বামী স্ত্রীর থেকে মোহর কমিয়ে নেয় তাহলে সেটা সর্বক্যমতে জায়েজ হবে। উক্ত সমস্যাতে এটাই সমাধানের পথ। বাদাইস সানাই্উস কিতাবে আছে, وَتَجُوزُ الزِّيَادَةُ فِي الْمَهْرِ إذَا تَرَاضَيَا بِهَا وَالْحَطُّ عَنْهُ إذَا رَضِيَتْ بِهِ ؛ لِقَوْلِهِ تَعَالَى : { وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَاضَيْتُمْ بِهِ مِنْ بَعْدِ الْفَرِيضَةِ অর্থ: মোহরের ক্ষেত্র্রে কম-বেশী কর জায়েজ হবে যখন তারা দুজন (স্বামী-স্ত্রী) রাজী থাকবে। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, মোহর নির্ধারনের পরে তোমরা সন্তুষ্ট হয়ে যা করবে তাতে কোন দোষ নেই।সূরা নিসা, আয়ত নং ৪।বাদা্ইউস সানাইয়া, ৬/১৯। আল্লামা কামাল ইবনে হুমাম বলেছেন, وَثَبَتَ صِحَّةُ الْحَطِّ شَرْعًا فِي الْمَهْرِ بِقَوْلِهِ تَعَالَى { وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَاضَيْتُمْ بِهِ مِنْ بَعْدِ الْفَرِيضَةِ } فَبَيَّنَ أَنَّهُمَا إذَا تَرَاضَيَا بَعْدَ تَقْدِيرِ الْمَهْرِ عَلَى حَطِّ بَعْضِهِ أَوْ زِيَادَتِهِ جَازَ অর্থ: শরীয়তে মোহর কম করার বিষয়টি সাবস্ত আছে। কেননা, কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, মোহর নির্ধারনের পরে তোমরা সন্তুষ্ট হয়ে যা করবে তাতে কোন দোষ নেই।সূরা নিসা, আয়ত নং ৪। এই আয়াতটি বর্ণনা করছে যে, যখন তারা দুজন (স্বামী ও স্ত্রী) মোহর নির্ধারনের পর মোহর কম-বেশী করা উপর রাজী থাকবে তখন তা জায়েজ হবে। ফাতহুল কাদীর, ১৫/২৮০। আল্লাহ তায়ালা ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 931
Assalamualaikum warahmatullah sir. আশা করি আল্লাহ সুবহানুতায়ালার অশেষ রহমতে ভালো আছেন। স্যার একটা ছোট্ট প্রশ্ন ছিলো। যদি ফ্রি থাকেন, স্যার আজ এশার সলাত পড়ার সময় ইমাম সাহেব মাঝ বৈঠকে একটু সময় নিয়েছিলো আর আমার মনে হয় উনি দুরুদে ইব্রাহিম ও দোয়ায়ে মাছুরাও পড়েছিলো যার কারনে উনি সহু সাজদা দেন। অবশ্য আমি ভেবেছিলাম উনি সহু সাজদা দিবেন না। তারপর শেষ বৈঠকে আমিও দুরুদে ইব্রাহিম পড়ার পর উনি এক সালাম দিয়ে দ্রুত আবার সাজদায় যান মানে সহু সাজদা দেন। তারপর আমি ও তার সাথে সাথে সাজদায় যাই। সমস্যা হলো আমি উনার সাথে এক সালাম না দিয়েই সহু সাজদা করি। এজন্য আমি ভাবছি যে ইমাম সাহেব এর সাথে এক সালাম না ফেরানোয় কি আমার নামাজের কোন ক্ষতি হলো কিনা। তাই আমি এশার ফরয সলাতের পর সুন্নত ও বেতের পড়িনি। এই বিষয়টা জেনে পড়ব ভাবছি। স্যার দয়া করে জানাবেন? জাযাকাল্লাহু খইর
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আপনার সালাত হয়ে গেছে। ইমাম সাহেবের সাথে সালাম না ফিরিয়ে সাজদাতে যাওয়ায় আপনার সালাত নষ্ট হয়ে যায় নি। কারণ সালাম ফেরানো ওয়াজিব। ইমামের সাথে থাকা অবস্থায় কোন ওয়াজিব ছুটে গেলে নামায বাতিল হয় না।তবে কোন ফরজ ছুটে গেলে সঙ্গে সঙ্গে সেটা আদায় করে নিবেন। যেমন, ইমাম সাহেবের সাথে যদি একটি সাজাদা ছুটে যায় তাহলে নিজে নিজে আদায় করে নেবেন। আর আপনার জন্য সুন্নত ও বিতর ছেড়ে দেয়া ঠিক হয় নি। আপনার সন্দেহের কারণে অন্তত নিজে নিজে আবার ফরজ সালাত আদায় করার পর সুন্নাত ও বিতর সালাত আদায় করা দরকার ছিল।

প্রশ্নঃ 930
Assalamualaikum warahmatullah sir. আশা করি আল্লাহ সুবহানুতায়ালার অশেষ রহমতে ভালো আছেন। স্যার একটা ছোট্ট প্রশ্ন ছিলো। যদি ফ্রি থাকেন, স্যার আজ এশার সলাত পড়ার সময় ইমাম সাহেব মাঝ বৈঠকে একটু সময় নিয়েছিলো আর আমার মনে হয় উনি দুরুদে ইব্রাহিম ও দোয়ায়ে মাছুরাও পড়েছিলো যার কারনে উনি সহু সাজদা দেন। অবশ্য আমি ভেবেছিলাম উনি সহু সাজদা দিবেন না। তারপর শেষ বৈঠকে আমিও দুরুদে ইব্রাহিম পড়ার পর উনি এক সালাম দিয়ে দ্রুত আবার সাজদায় যান মানে সহু সাজদা দেন। তারপর আমি ও তার সাথে সাথে সাজদায় যাই। সমস্যা হলো আমি উনার সাথে এক সালাম না দিয়েই সহু সাজদা করি। এজন্য আমি ভাবছি যে ইমাম সাহেব এর সাথে এক সালাম না ফেরানোয় কি আমার নামাজের কোন ক্ষতি হলো কিনা। তাই আমি এশার ফরয সলাতের পর সুন্নত ও বেতের পড়িনি। এই বিষয়টা জেনে পড়ব ভাবছি। স্যার দয়া করে জানাবেন? জাযাকাল্লাহু খইর
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আপনার সালাত হয়ে গেছে। ইমাম সাহেবের সাথে সালাম না ফিরিয়ে সাজদাতে যাওয়ায় আপনার সালাত নষ্ট হয়ে যায় নি। কারণ সালাম ফেরানো ওয়াজিব। ইমামের সাথে থাকা অবস্থায় কোন ওয়াজিব ছুটে গেলে নামায বাতিল হয় না।তবে কোন ফরজ ছুটে গেলে সঙ্গে সঙ্গে সেটা আদায় করে নিবেন। যেমন, ইমাম সাহেবের সাথে যদি একটি সাজাদা ছুটে যায় তাহলে নিজে নিজে আদায় করে নেবেন। আর আপনার জন্য সুন্নত ও বিতর ছেড়ে দেয়া ঠিক হয় নি। আপনার সন্দেহের কারণে অন্তত নিজে নিজে আবার ফরজ সালাত আদায় করার পর সুন্নাত ও বিতর সালাত আদায় করা দরকার ছিল।

প্রশ্নঃ 929
Assalamualaikum. Is there any reference in Quran or Hadith that the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) is Habib (friend) of Allaah? Please provide evidence for what you say. Thanks, Md. Raquib Azam, email: raquib2@yahoo.com
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বি, ভাই, হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. হাবিবুল্লাহ এ কথা উল্লেখ আছে। রাসূলুল্লাহ সা. নিজেই বলেছেন, আমি হাবিবুল্লাহ। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬১৬। তবে হাদীসটি যয়ীফ। হাদীসটির পাঠ- حدثنا علي بن نصر بن علي حدثنا عبيد الله بن عبد المجيد حدثنا أبي صالح عن سلمة بن وهرام عن عكرمة عن ابن عباس قال : جلس أصحاب رسول الله صلى الله عليه و سلم ينتظرونه قال فخرج حتى إذا سمعهم يتذاكرون فسمع حديثهم فقال بعضهم عجبا أن الله عز و جل اتخذ من خلقه خليلا اتخذ إبراهيم خليلا وقال آخر ماذا بأعجب من كلام موسى كلمه تكليما وقال آخر فعيسى كلمة الله وروحه وقال آخر آدم اصطفاه الله فخرج عليهم فسلم وقال قد سمعت كلامكم وعجبكم أن إبراهيم خليل الله وهو كذلك وموسى نجي الله وهو كذلك وعيسى روح الله وكلمته وهو كذلك وآدم اصطفاه الله وهو كذلك ألا وأنا حبيب الله ولا فخر وأنا حامل لواء الحمد يوم القيامة ولا فخر وأنا أول شافع وأول مشفع يوم القيامة ولا فخر وأنا أول من يحرك حلق الجنة فيفتح الله لي فيدخلنيها ومعي فقراء المؤمنين ولا فخر وأنا أكرم الأولين والآخرين ولا فخر قال أبو عيسى هذا حديث غريب قال الشيخ الألباني : ضعيف তবে সহীহ হাদীসে তাবেয়ী মাসরুক রাহ. রাসূলুল্লাহ সা. কে হাবিবুল্লাহ বলেছেন। মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ২৬০৮৬। হাদীসটির মূল পাঠ: – حدثنا عبد الله حدثني أبى ثنا إسحاق بن يوسف قال ثنا مسعر عن عمرو بن مرة عن أبى الضحى عن مسروق قال حدثتني الصديقة بنت الصديق حبيبة حبيب الله المبرأة : ان رسول الله صلى الله عليه و سلم كان يصلي ركعتين بعد العصر فلم أكذبها تعليق شعيب الأرنؤوط : حديث صحيح হাদীসটিকে শায়খ শুয়াইব আরনাউত এবং শায়খ আলবানী সহীহ বলেছেন।

প্রশ্নঃ 928
Aslamualaikum, Bank এ MIS system এ কোনো টাকা রাখলে, Bank মাসিক একটা নির্দিষ্ট একটা টাকা সুদ হিসাবে দেয়। সময় শেষে আসল টাকা দিয়ে দেয়। আবার হয়তো FIXED DEPOSIT করে রাখলে, সময় শেযে আসল টাকা র সাথে সুদ দিলো. 10000(মূলধন) সময় শেষে 15000(মুলধন+ সুদ)। এইরকম স্কীমে টাকা রাখার ব্যাপারে একটু বলবেন? Rahemul khandaker
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রথম পদ্ধতিটি হারাম। সুদ হিসাবে গন্য। আর দ্বিতীয় পদ্ধতি অর্থাৎ ফিক্সড ডিপোজিট ইসলামী ব্যাংকে হলে জায়েজ হবে যদি ঐ ব্যাংক প্রকৃত অর্থেই ইসলামী শরীয়াহ মেনে চলে। ইসলামী শরীয়াহ মেনে না চললে শুধু্ ইসলামী ব্যাংক নাম দিলেই জায়েজ হবে না। আপনাকে খোঁজ খবর নিতে হবে তার শরীয়াহ মেনে চলছে কিনা। আর সুদভিত্তিক ব্যাংকে হলে হারাম হবে। মোটকথা: সুদ ভিত্তিক ব্যাংকে হলে উভয় পদ্ধতিই হারাম। আর প্রকৃত ইসলামী ব্যাংক হলে দ্বিতীয়টি জায়েজ। কারণ সুদ ভিত্তিক ব্যাংকগুলো টাকা সুদে লাগায় আর প্রকৃত ইসলামী ব্যাংকগুলো টাকা দিয়ে ব্যবসা করে। আর প্রথম পদ্ধতিটি কোন ইসলামী ব্যাংকে থাকতে পারে না। কারণ ব্যবসার অংশিদারিত্বের ক্ষেত্রে মাসিক নির্দিষ্ট টাকা দেয়ার চুক্তি জায়েজ নেই।

প্রশ্নঃ 927
আস-সালামুআলাইকুম। আমি আল্লাহর রহমতে টাখনুর উপরে কাপর পরি। কিন্তু পায়ে মোজা পরলে সেটা নিচ থেকে টাখনুর উপরে উঠে আসে। আমার প্রশ্ন হল টাখনু ডেকে মোজা পরার ফলে আমার কি গুনাহ হবে? আশা করি উত্তর টি জানাবেন।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। পরিধেয় বস্ত্র টাখনুর নিচে পরলে সমস্যা, মোজা টাখনুর উপরে গেলে সমস্যা নেই। মোজা তো টাখনুর ্উপরই যাবে এটাই স্বাভাবিক। গুনাহ হওয়ার কোন প্রশ্ন নেই।

প্রশ্নঃ 926
আসসালামুয়ালাইকুম। ১.আমার জানা মতে বুখারি শারীফ -এ হাদিসের সংখ্যা ৭৩৩৯৭ . কিন্তু আমি বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশনীতে দেখলাম ৭০৫৩ টি, আসলে কোনটি সঠিক। ২. আমি আরবী ব্যাকরণ বুঝার জন্য কি করতে পারি?
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইমাম বুখারী রহ. হাদীসে কোন নাম্বার দিয়ে যান নাই। পরবর্তীতে অনেকেই নাম্বার দিয়েছে। আর একেকজনের নাম্বার একেকে রকম হয়েছে। সুতরাং সবগুলই সঠিক বলে ধরে নিতে হব। তবে মনে রাখবেন হাদীস কিন্তু সব কিতাবে সমানই আছে। ফাতহুল বারী অনুযায়ী হাদীস সংখ্যা ৭৫৬৩। আরবী ভাষা না জানলে এবং ইলমে হাদীস সম্পর্কে না জানলে এই বিষয়টি বুঝা কঠিন। আরো বিস্তারিত জানতে ফোন করুন: 01734717299। কোন শিক্ষক ব্যাতিত আরবী ব্যাকরণের বই দিয়ে আপনি আরবী শিখতে পারবেন না। একজন শিক্ষকের শরনাপন্ন হন এবং তার কাছে পরামর্শ নিন আপনি কোন বই কিনবেন।

প্রশ্নঃ 925
আমার স্ত্রীর সাথে আমার মা-বাবার বনিবনা হয় না। আমার পিতা আমার স্ত্রীকে পরিত্যাগ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এক্ষেত্রে আমার করনীয় কি?
02 Jan 2026

ভাই, বনাবনি হয় না হওয়ার কারণ কিন্তু আপনি কিছু্ লেখেন নি। অনেক সময় বাবা-মা পুত্রবধুর প্রতি অন্যায় আচরণ করেন আর পুত্রবধু যখন সেই আচরণ সহ্য করেন না তখন পিতা-মতা পুত্রবধুর প্রতি বিরাগভাজন হয়ে যায়। এমন কিছু হলে সে ক্ষেত্রে তালাক দেয়ার প্রশ্নই আসে না। আর যদি স্ত্রীর দোষ হয়ে থাকে তাহলে দোষটা কোন পর্যায়ের তা দেখতে হবে। যদি সে শরীয়তের কোন বিষয় লংঘন করে, তাকে বলা সত্ত্বেও ফিরে না আসে সেক্ষেত্রে তালাক দেয়া যেতে পারে। আর যদি স্বাভাবিক কোন অন্যায় করে থাকে তাহলে তো আর তাকে তালাকের মত বিশাল শাস্থি দিতে পারেন না। মনে রাখবেন তালাক দিলে খুব ভেবে চিন্তে দিতে হবে। আর এক তালাকের বেশী দেয়া যাবে না যাতে পরবর্তীতে ফিরিয়ে নিতে হলে কোন সমস্যা না হয়। আপনি বিস্তারিত কারণ লিখে পাঠালে আমাদের জন্য উত্তর দেয়া সহজ হবে।

প্রশ্নঃ 924
আসসালামু আলাইকুম, আমি জানতে চাই যে, মেয়ের বাবা যদি মেয়ের বিয়ের অনুমতি দিয়ে দেন কিন্তু মেয়ের বাবা বয়ষ্ক এবং অসুস্থ হবার কারণে যদি মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত হতে না পারেন (মেয়ের বাবার বাড়ী বরিশাল, বিয়ে হবে ঢাকাতে), তাহলে মোবাইলে মেয়ের বাবার অনুমতি নিয়ে অন্য কেউ বিয়ে পড়াতে পারবেন কিনা? আর এই ক্ষেত্রে বিয়ের দিন শুধু ছেলে কবুল করলেই হবে, নাকি মেয়েকেও কবুল বলতে হবে? (আমি জানি যে মেয়েকে স্বাক্ষীর সামনে কবুল বলতে হয় না) ধন্যবাদ।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মেয়ের বাবার অনুমতি হলেই হবে, উপস্থিত থাকা জরুরী নয়। বিয়ের ক্ষেত্রে এক পক্ষ থেকে প্রস্তাব করতে হয় আর আরেক পক্ষ থেকে গ্রহন করতে হয় যাকে আমরা ইজাব-কবুল বলি। মেয়ের অনুমতি নিয়ে যদি কেউ প্রস্তাব করে আর ছেলে তা কবুল বলে গ্রহন করে এতে বিয়ে হয়ে যাবে। মেয়ের কবুল বলা শর্ত নয়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত বিয়ে হয়ে যাবে। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 923
আসসালামুয়ালাইকুম। খরগোশ খাওয়া জায়েজ কিনা জানতে চাই?
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। খরগোশ খাওয়া জায়েজ।

প্রশ্নঃ 922
স্যার… আমার মেয়ের বয়স দুই বছর। শুরু থেকেই রাতে ঘুমায় না। ঘুম পড়লেও কিছুক্ষন পর খুব কান্না করে জেগে যায়। আমি আয়তাল কুরসী, সূরা ফাতিহা,সূরা ইখলাস, ফালাক,নাস এবং সূরা বাকারার শেষের দুই আয়াত পরে ফুঁক দেই ….. কিন্তু তার পরও একই অবস্হা। তাবিজ ব্যবহার শির্ক জানি….তাই ব্যবহার করি না। দুই বছর যাবত একই অবস্তা.. অনুগ্রহ করে সাহায্য করবেন স্যার।
02 Jan 2026

আমরা দুআ করি আল্লাহ আপনার এই সমস্যা দূর করে দিন। আপনি আপনার বর্ণিত আমলগুলোর পাশাপাশি সকল বিকাল সাতবার এই দুআটি পড়ে শিশুকে ফুঁক দিবেন। রাতে যখন ঘুম ভেঙে যাবে তখনও এই দুআ বারবার পড়ে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করবেন। حَسْبِىَ اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ

প্রশ্নঃ 921
আসসালামু আলাইকুম জনাব আমার প্রশ্ন—– ১) চাকরি পাওয়ার জন্য কোন আমল করবো? ২) আমি অফিস বা বাজার থেকে বাসায় আসলে আমার স্ত্রী আগুন স্পর্শ করতে বলে, এতে নাকি জিন পরী থাকলে চলে যাবে— এটা কি জায়েজ আছে? ৩) আল্লাহকে কিভাবে সর্বোচ্চ খুশী করে দুনিয়া থেকে যেতে পারবো এমন একটি আমল জানাবেন।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিপদ-সংকটে সবর করার মধ্যেই রয়েছে মূমিনের সফলতা। অনেক সময় আল্লাহ তায়ালা এই বিপদাপদ দ্বরা তাঁর প্রিয় বান্দাদের পরীক্ষা করেন। সুতরাং আপনি দুঃশ্চিন্তা করবেন না। আল্লাহর কাছে দুআ করুন আশা করি আপনার সমস্যা দূর হয়ে যাবে। আপনি রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো নফল সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। এছাড়া কুরআনের এই দআটিও সালাতে এবং অন্যান্য সময় বারবার পড়বেন, رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনার সব সংকট দূর করে দেন।

প্রশ্নঃ 920
স্যার এর লিখিত ঈদের তাকবীর বইটির pdf ফাইল কি পাওয়া যাবে?
02 Jan 2026

ঈদের তাকবীর বইটিএখনো পিডিএফ এই মহুর্তে পাওয়া যাবে না তবে দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। কিছু দিনের ভিতরই পাবেন ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্নঃ 919
Aslamualaikum, Bank এর MIS/FD সুদ খাওয়া কী হারাম।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সকল ধরণের সুদই হারাম। তবে প্রশ্নটির বিষয়বস্তু একটু বিস্তারিত বর্ণনা করল উত্তর দেয়া সহজ হয়। আপনি বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে পূনরায় প্রশ্নটি করবেন।

প্রশ্নঃ 918
(সমাজে প্রচলিত নিচের ৪ টি ঘটনা সঠিক ঘটনা কিনা? দয়া করে জানাবেন -(আমি সংক্ষিপ্ত ভাবে বলছি) ১. শাদ্দাদের বেহেশত এর ঘটনা। মৃত্যু বেহেশতে ১ পা বাইরে ১ পা রেখে, দিন রাতের মাঝে সন্ধ্যায়য়। ২. নুহ (আ:) এর প্লাবনে বুড়ির ঘটনা। তাকে নিতে ভুলে যান, বুড়ি টের পায়নি প্লাবন শেষ। ৩. এক ঘন্টা সৃষ্টি নিয়ে চিন্তায় ৬০ হাজার বছর ইবাদতের সমান সাওয়াব। ৪. ওয়ায়েস কুরুনি (রা:) এর দাত ভাঙার ঘটনা। তিনি নাকি রাসুল (স:) এর কোন দাত ভেংগেছিলো বুঝতে না পেরে নিজের সব সেই মহব্বতে… আর যদি এই ৪ বিষয় রিলেটেড কোন অন্য বা ভিন্ন সঠিক বর্ণনা থাকে তবে তাও জানাবেন। ইনশাআল্লা। আলহামদুলিল্লাহ্। জাযাকাল্লাহ খাইর
02 Jan 2026

প্রশ্নে উল্লেখিত প্রতিটি বর্ণনায় বানোয়াট। কুরআন বা গ্রহনযোগ্য কোন হাদীসে এই সব কথা নেই। এগুলো বর্ণনা করা বা বিশ্বাস করা যাবে না।

প্রশ্নঃ 917
ভাই ইজহারুল হক Izhar ul-Haqq বইটির বাংলা pdf ফাইল download করার link দিলে খুব উপকৃত হতাম।
02 Jan 2026

ইযহারুল হক বইয়ের pdf কপি বর্তমানে আমাদের কাছে নেই।

প্রশ্নঃ 916
Dear Sir, I live in Manchester, UK and I was wanting to buy all the books written or edited by Dr Abdullah Jahangir. Could you please advice me what to do in this regard? regards, Rishad
02 Jan 2026

ভাই, বিদেশে বই পাঠানোর কোন ব্যবস্থা আমাদের এখানে নেই। আপনি আপনার দেশীয় কোন আত্নীয়ের মাধ্যমে বই কিনতে পারেন। যে আপনার কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারবে। আরো বিস্তারিত জানতে এই নাম্বারে ফোন করুন: 01730 74 70 01

প্রশ্নঃ 915
ইযহারুল হক বইয়ের pdf দরকার।
02 Jan 2026

ইযহারুল হক বইয়ের PDF লিংক আমাদের কাছে নেই।

প্রশ্নঃ 914
আস সালামু আলাইকুম, রাহে বেলায়েত ব্ইটির সম্পূর্ণ অধ্যায় সম্বলিত pdf ফাইলটি দরকার। আপনাদের website থেকে ১টা ডাউনলোড করেছি, সেটা শুধু ৬ষ্ঠ অধ্যায়, আমি পুরা বইটা চাই।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলের সাথে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, আপনি যা পেয়েছেন তার নিচেই পুরো বইয়ের লিংক আছে।

প্রশ্নঃ 913
সুদী ব্যাংক থেকে টাকা লোন নেওয়া বৈধ হবে কি?
02 Jan 2026

সহীহ হাদীসে সুদ দেয়া নেয়া দুটাকেই হারাম করা হয়েছে। সুদী ব্যাংক থেকে লোন নিলে তো আপনাকে সুদ দিতে হবে। এখন দেখুন আপনার জন্য হালাল হয় কিনা?

প্রশ্নঃ 912
আসসালামু আলাইকুম জনাব। আশা করি সুস্থ্যতার সাথে এ দ্বীনী কাজ করে যাচ্ছেন। একটি সহযোগিতার প্রয়োজন ছিল... ওয়ায়েস কুরুনীর বিষয়ে মাগফুর, মারহুম ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের একটি লেকচার ছিলো। ওটার লিংক দেয়া যাবে? জাযাকাল্লাহ....
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নিচে লিংক দেয়া হলো। সমস্য হলে সার্স দিবেন এটা লিখ নবীর প্রেমে ওয়াস করনি ৩২ দন্ত গুনি-গুনি সব দন্ত উপাড়িলেন উহু করলেন না, এ মিথ্যা গল্পের ..

প্রশ্নঃ 911
আসসালামুআলাইকুম, আমরার জানি নামাজে তাকবিরে তাহরিমা বলা ফরজ। যখন ইমামের সাথে জামাতে নামাজ পরবে তখন মুসল্লির তাকবিরা তাহরিমা বলতে হবে কিনা? এক রাকাত পরে নামাজ শুরু করলে তখন কি করতে হবে?
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, যখন ইমামের সাথে নামায পড়বেন তখনও তাকবীর তাহরীমা ফরজ। এক রাকআত বা কয়েক রাকআত হয়ে যাওয়াার পরে আসলেও তাকবীরে তাহরীমা ফরজ। মোটকথা সর্বাবস্থায় তাকবীরে তাহরীমা ফরজ। তাকবীরে তাহরীমা ব্যতিত নামায সহীহ হবে না।

প্রশ্নঃ 910
আরাফার দিনের এবং জিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনের সুন্নত আমল অনুগ্রহ করে জানাবেন।
02 Jan 2026

ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার রহ. জ্বিলহজ্ব মাসের আমল সম্পর্কে খুতবাতুল ইসলাম কিতাবে বলেছেন, বিভিন্ন সহীহ হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে, যুলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয়। সহীহ বুখারী অন্যান্য গ্রন্থে সংকলিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الأَيَّامِ يَعْنِي أَيَّامَ الْعَشْرِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ وَلا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ যুলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনে নেক আমল করা আল্লাহর নিকট যত বেশি প্রিয় আর কোনো দিনের আমল তাঁর নিকট তত প্রিয় নয়। সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর পথে জিহাদও কি এ দশদিনের নেক আমলের চেয়ে আল্লাহর নিকট প্রিয়তর নয়? তিনি বলেন, না, আল্লাহর পথে জিহাদও প্রিয়তর নয়, তবে ঐ ব্যক্তি ছাড়া, যে ব্যক্তি নিজের প্রাণ ও সম্পদ নিয়ে জিহাদে বেরিয়ে গেল এবং কোনো কিছুই আর ফিরে এলো না (সম্পদও শেষ হলো, সেও শহীদ হলো)।সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৬৯; সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ২৪৪০। অন্য হাদীসে তিনি বলেন: أَفْضَلُ أَيَّامِ الدُّنْيَا الْعَشْرُ، يَعْنِيْ عَشْرَ ذِيْ الْحَجَّةِ দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি ফযীলতের দিন হলো যুলহাজ্জ মাসের প্রথম এ দশ দিন। হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ৩/২৫৩, ৪/১৭; আলবানী, সহীহহুত তারগীব ২/১৫। হাসীসটি সহীহ। বিস্তারিত জানতে দেখুন, খুতবাতুল ইসলাম বইয়ের জ্বিলকদ মাসের শেষ খুতবা। আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, يُكَفِّرُ السَّنَةَ الْمَاضِيَةَ وَالْبَاقِيَةَ তা পূর্বের ও পরের এক বছরের গোনাহের কাফফারা। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ২৮০৪। যিনি যেখানে থাকবেন সেখান কার ৮ জ্বিলহজ্জ্ব এই রোজা রাখবেন। আবার কোন কোন আলেম বলেছেন, হাজীরা যেদিন আরাফাতে থাকবেন সেদিন এই রোজা রাখতে হবে। যে কোন একদিন রাখলেই হযে যাবে আশা করা যায়।

প্রশ্নঃ 909
আসসালামু আলাইকুম, আমার শশুর দীর্ঘদিন ধরে মুদিখানার দোকান চালায়(ব্যবসা করে), তিনি দোকানে বিড়ি, সিগারেট, কোকাকোলা… বিক্রি করে। আমার প্রশ্ন, এ ভাবে কি রোজগার হালাল হবে, না হারাম হবে? যদি হারাম হয় তাহলে আমার শশুর আমাকে দাওয়াত করলে সে দাওয়াতে কি যাওয়া(খাওয়া দওয়া করা) যাবে? আমরা স্বামী-স্ত্রী, শশুরের এসব দ্রব্য বিক্রি বন্ধের জন্য কি করতে পারি? দয়াকর একটু পরামর্শ দিবেন।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনারা তাকে বুঝিয়ে বলবেন এসব না বিক্রি করার জন্য। আর তার ব্যবসার এই জিনিসগুলো বিক্রি থেকে অর্জিত লাভ শুধু হালাল নয়, বাকীগুলো হালাল। একটি মুদি দোকানে কত শতাংশ লাভ এর থেকে হয়? হয়ত এক শতাংশও নয়। সুতরাং তার বাড়িতে খাওয়া দাওয়াতে আশা করি কোন সমস্য হবে না। তবে এই সব পন্য বিক্রি বর্জন করা একজন মূমিনের একান্ত দায়িত্ব।

প্রশ্নঃ 908
আচ্ছালামু আলাইকুম, দুই পক্ষই রাজি এই শর্তে কোন হুজুর যদি দুইজন সাক্ষীর (পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ) উপস্থিতিতে কোন রেজিট্রেশন (কাবিন) এবং মোহরনা নির্ধারণ ছাড়াই পাত্র-পাত্রীকে কবুল পড়িয়ে বিয়ে দেয়,তাহলে কি ওই বিয়ে হয়ে যাবে?
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, বিবাহ হয়ে যাবে। রেজিষ্ট্রেশন বিবাহের জন্য শর্ত নয়। তবে বর্তমানে নিরাপত্তার জন্য এটা জরুরী হয়ে পড়েছে। তবে মোহরানা নির্ধারন না করলেও মহরে মিছিল দিতে হবে।

প্রশ্নঃ 907
পবিত্র কোরআনে বার বার জিহাদের জন্য বলা হয়েছে। বর্তমানে আমরা কিভাবে জিহাদ করতে পারি?
02 Jan 2026

শরয়ী পরিভাষায় জিহাদ দ্বারা উদ্দেশ্যে কিতাল অর্থাৎ যদ্ধ। আর সেটা হতে হবে রাষ্টের নিয়ন্ত্রনে। হাদীসে আছে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, الإِمَامُ جُنَّةٌ يُقَاتَلُ مِنْ وَرَائِهِ অর্থাৎ ইমাম (রাষ্ট্রপ্রধান) হলেন ঢাল, তাকে সামনে রেখে যুদ্ধ করতে হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৯৫৭। সুতরাং শরয়ী পারিভাষিক জিহাদের সিদ্ধান্ত নিবে রাষ্ট্র প্রধান। রাষ্ট্র ব্যতিত একাকি বা দল বেঁধে কোন ধরনের লড়াইকে জিহাদ বলা যাবে না। এটা সন্ত্রাস বলে বিবেচিত হবে। তবে শাব্দিক অর্থে যে কোন ভাল কাজ করার চেষ্টা,যে কোন গুনাহ থেকে বেঁচে থাকাও জিহাদ হিসাবে গণ্য। আল্লাহ ভাল জানেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ বইটি।

প্রশ্নঃ 906
আমি গোসল করার সময় আগে পূর্ণাংগ রূপে ওযু করি,তারপর গোসল করি। কিন্তু গোসল করার সময় আমার মাঝে মাঝে লজ্জাস্থান স্পর্শ করা হয়ে যায় মানে তা পরিষ্কার করার জন্য। আমি যতদূর জেনেছি,লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে নাকি ওযু ভেঙ্গে যায়। এখন আমার প্রশ্ন হলো,এই গোসলের পর সালাত পড়ার জন্য আমার আবার অজু করার দরকার আছে কি না? যেহেতু লজ্জাস্থান স্পর্শ করার কারণে ঐ মাসালার আলোকে আমার অযু ভেঙ্গে গিয়েছে!
02 Jan 2026

সহীহ হাদীসের ভিত্তিতে এই বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। তবে লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে ওযু না ভাঙ্গার মতটিই শক্তিশালী বলে মনে হয়। আপনি যদি এই মতটি মানেন তাহলে কোন সমস্যা নেই। আর যদি ভেঙ্গে যায় এই মতটি মানেন তাহলে আপনাকে নতুন করে ওযু করতে হব।

প্রশ্নঃ 905
১) আমার স্ত্রী আমার বাবা মায়ের সাথে বেয়াদবি করলে আমার গুনাহ হবে কিনা? ২) আমার স্ত্রীর সম্পদ তার বিনা অনুমতিতে খরচ করতে পারব কিনা?
02 Jan 2026

আপনার প্রশ্রয়ে আপনার স্ত্রী আপনার বাব-মায়ের সাথে বেয়াদবি করলে আপনার গুনাহ হবে। অন্যথায় হবে না। স্ত্রীর সম্পদ বিনা অনুমতিতে খরচ করা যাবে না।

প্রশ্নঃ 904
আস্সালামুআলাইকুম, আমি অসুস্থ মানুষের সুস্থতার জন্য কোনো বিশেষ নামাজ আছে কিনা তা জানার জন্য আপনাদের কাছে এসেছি। আমার এক বন্ধু ব্লাড ক্যান্সার এ আক্রান্ত। বর্তমান পরিস্থিতি এমন যে ডাক্তাররা কোনো আশা রাখতে পারছেন না। বিদেশে নিলে তার চিকিৎসা খরচ এতো বেশি যেটা সম্ভব কিনা আমি জানি না আর তাতে লাভ হবে কিনা নিশ্চিত না। এখন তার সুস্থতা তো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এর হাতে আর মানুষের হায়াৎ তো উনি ঠিক করেন। আল্লাহ এর কাছে বিশেষ ভাবে চাইলে আল্লাহ তা পূরণ করতেও পারেন আমি যতটুকু জানি। এখন ওর সুস্থতা কামনার জন্য এমন কি কোনো বিশেষ নামাজ আছে যেটা হয়তো আল্লাহ কবুল করতে পারেন।অন্তত হায়াৎ আরো অনেক দিন যেন লম্বা হয়। একমাত্র আল্লাহ এর মিরাকেল ছাড়া আর কোনো কিছুই আমাদের করার নেই বলেই মনে করি। আমি দুশ্চিন্তাগ্রস্থ এবং দুঃখিত। আপনাদের জ্ঞান এর সহযোগিতা কামনা করছি।আল্লাহ আমাদের সবার কল্যাণ করুক।আমিন।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমরা তার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন তাবে পরিপূর্ণ সুস্থতা দান করেন। অসুস্থতার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বান্দার গুনাহ ক্ষমা করেন বলে হাদীসে এসেছে। অসুস্থতা থেকে সুস্থ হওয়ার জন্য বিশেষ কোন নামায আছে বলে আমরা পাই নি। তবে তাহাজ্জুদ নামাযের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় আল্লাহর কাছে দুআ করবেন। এছাড়া সুস্থতা চাওয়ার কিছু দুআ রাসূলুল্লাহ সা. আমাদেরকে শিখিয়েছেন। নিচে দুটি দুআ দিয়ে দিলাম। ১। اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى وَارْحَمْنِى وَاهْدِنِى وَعَافِنِى وَارْزُقْنِى । উচ্চারণ: আল্লাহুমমাগফির লি ওয়ার হামনি ওয়াহ দিনি-ওয়াআ-ফিনি-, ওয়ার ঝুকনি। অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমার উপর দয়া করুন, আমাকে হেদায়াত দান করুন, আমাকে সুস্থ রাখুন এবং রিযিক দান করুন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭০২৫।দুআটি দুই সাজদার মাঝে ও অন্যান্য সময় পাঠ করবে। ২। أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ اشْفِ وَأَنْتَ الشَّافِي لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৬৭৫। এই দুআটি নামাযের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় পাঠ করবে। বিপদ-আপদ ও রোগ ব্যাধি থেকে মুক্তি লাভের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন. ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত রাহে বেলায়াত বইটি।

প্রশ্নঃ 903
আমাদের অফিসের ক্যান্টিনে একটা নির্বাচন হয়ে থাকে যে পরের বছর কারা দায়িত্তে থেকে ক্যান্টিন পরিচালনা করবেন। আমার প্রশ্ন হল এই নির্বাচনে আমি কি কোন হিন্দু ভাই কে ভোট দিতে পারবো কি না?
02 Jan 2026

যোগ্যতার অধিকারী আল্লাহভীরু কোন মুসলিমকে ভোট দেয়ায় উত্তম। এতে আপনাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও বৃদ্ধি পাবে। তবে কোন অমুসলিমকে এক্ষেত্রে ভোট দিলে গুনাহ হবে বলে মনে হয় না।

প্রশ্নঃ 902
জনাব, আস্সলামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। আমি একটি ব্যাক্তিগত বিষয় সর্ম্পকে জানতে চাচ্ছি যে, আমি বিবহীত এবং আমার একটি ছেলে সন্তান আছে যার বয়স মাত্র ১০মাস চলতেছে। বিগত ৪/৫ মাস ধরে আমার স্ত্রীর নিয়মিত পিরিয়ড হয়ে আসছে, তার হিসাব অনুসারে গত জুলাই মাসের ২২ তারিখ ছিল ওর পিরিয়ডের সমায় কিন্তু এখনও হয়নি(আজ ১৬ অগাস্ট)। সহবাসের সময় আমরা সেইফ পিরিয়ড মেন্টেন করি/চেষ্টা করি। আমার প্রশ্ন হচ্ছে-এমতাবস্থায় সে যদি কনসিভ করে থাকে তাহলে আমার এই ছোট (১০মাস বয়সি) বাচ্ছার একটু সমস্যা হবে বলে আমার স্ত্রী ধারণা করে, কিন্তু সে এখনও নিশ্চিত নয় যে সে কনসিভ করছে কি না। সে আমার কাছে জানতে চায় যে ইসলামী শরীয়তে কোন সুযোগ আছে কি না দুই বাচ্ছার মাঝখানে বিরতি নেয়ার? যদি সে কনসিভও করে। আমি আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি যে- ইসলমী শরীয়তের বিধান অনুসারে একটি বাচ্ছা নেয়ার অনন্ত কত মাস /বছর পর্যন্ত বিরতী নেয়া যায়? এবং আমি নিশ্চিত নয় যে আমার স্ত্রী কনসিভ করছে কি না, এমতাবস্থায় কি কোনধরনের ঔষুধ সেবন করা যাবে কি না? শরীয়তের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা করলে খুবই উপকৃত হব।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। যদি কনাসিভ কর ফেলে তাহলে গর্ভপাত করার কোন সুযোগ নেই। একটু কষ্ট হলেও মেনে নিতে হবে। তবে মায়ের জীবনের আশংকা থাকলে সেক্ষেত্রে কেবল গর্ভপাত করতে পারেন। আপনি পরীক্ষা করান। যদি কনসিভ করে থাকে তাহলে তা ফেলে দেওয়ার জন্য কোন ঔষুধ সেবন করতে পারবেন না। আর যদি কনসিভ না করে তাহলে অন্য কোন সমস্যা থাকলে সে সমস্যার জন্য ঔষুধ সেবন করতে পারবে। একটি বাচ্চা নেয়ার পর এতটুকু সময় বিলম্ব করে আরেকটি নিতে হবে যাতে আগের বাচ্চার এবং মায়ের স্বাস্থগত কোন সমস্যা না হয়। ইসলাম এক্ষেত্রে কোন সময়সীমা নির্ধারণ কর দেয় নি। এই বিষয়ে ইউটিউবে ড. আব্দুল্লঅহ জাহাঙ্গীর স্যারের রহ. একটি আলোচনা আছে। শিরোনাম: গর্ভের সন্তান কখন নষ্ট করা যায় একটু কষ্ট করে দেখে নিলে আপনাদের জন্য ভাল হবে ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্নঃ 901
আসসালামু আলাইকুম, আমি একজন ফ্রীল্যান্সার ওয়েব ডিজাইনার। আমি যেহেতু অনলাইনে কাজ করি সেই জন্য মাঝে মাঝে খ্রীষ্টান ধর্মের কিছু কিছু ধর্মীয় ওয়েব সাইট তৈরী করতে হয়। এখন এই জন্য কি আমার কোন গুনাহ হবে? যাযাকাল্লাহ খাইরান
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই কাজের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে খৃষ্টান ধর্ম প্রচার কাজে সাহায্য করা হচ্ছে। তাই আপনার উচিত দ্রুত এই কাজ বর্জন করা। আপনি অন্য কোন নির্ভেজাল হালাল পেশা খুঁজুন। আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাকে প্রয়োজন পরিমাণ হালাল রিযিকের ব্যবস্থা করে দেন।

প্রশ্নঃ 900
আচ্ছালামু আলাইকুম,বাজারে প্রচলিত কোমল পানীয় খাওয়া জায়েজ আছে কি?
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যদি নিশ্চিত ভাবে জানা যায় যে. কোন ব্যান্ডের কোমল পানিতে হারাম কোন দ্রব্য আছে তাহলে তা খাওয়া জায়েজ হবে না। এছাড়া জায়েজ। তবে শক্তিবর্ধক পানীয়গুলোতে মদের উপস্থিতি আছে বলে অনেকেই মনে করেন। তাই এগুলো বর্জন করা উচিত। নিশ্চিত হলে খাওয়া হারাম।

প্রশ্নঃ 899
আসসালামুয়ালাইকুম। আমি একজন বিক্রয় প্রতিনিধি হিসাবে একটি খাদ্য এবং পানীয় কোম্পানিতে কাজ করি। খাদ্য ও পানীয় মানুষের জীবন ধারনের জন্য অতিব জরুরি। প্রায় প্রতিটি কোম্পানি তাদের পণ্য টেলিভিশনে প্রচার করতে মেয়েদের এবং সঙ্গীত ব্যবহারকরে থাকে। কিন্তু আমার কাজ শুধুমাত্র বিক্রয় করা। খুচরা ব্যবসায়ীরাও শুধুমাত্র বিক্রয়ে জড়িত। আমাদের সকল পণ্য হালাল। এই পেশা বা ব্যবসা কি হারাম?
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, এই পেশা আপনার জন্য হারাম নয়, হালাল। তবে যারা এই গুনাহের কাজের সাথে জড়িত তারা ভুল পথে আছে।

প্রশ্নঃ 898
জীনের আছর থেকে রক্ষার জন্য বাড়ী বন্ধ করা যায় কিভাবে?
02 Jan 2026

জীনের আসর থেকে রক্ষার জন্য প্রথম কাজ হলো কুরআন-সুন্নাহ অনুসারে জীবন পরিচালনা করা। এছাড়া হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. জীন থেকে রক্ষা পাওয়ার বিভিন্ন দুআ শিখিয়েছেন। তবে বাড়ি বন্ধ করার ব্যাপারে কোন হাদীস আমরা পাই নি। দুআগুলো জানতে ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত রাহে বেলায়ত বইয়ের শেষ অধ্যায় দেখুন। তার মধ্যে একটি দুআ হলো সূরা ইখলাস. ফালাক ও নাস তিনবার করে সকাল সন্ধা তেলাওয়াত করা। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 897
নিন্মোক্ত হাদিসসমূহ কোন কিতাবের কত নম্বর হাদিস? তোমরা দ্বীনকে খাটি করো, অল্প আমলেই নাজাত পাবে
02 Jan 2026

হাদীসটি হাকীম রহ. সংকলিত আল-মুসতাদররক কিতাবে বর্ণিত আছে। হাদীস নং ৭৮৪৪। তবে হাদীসটি যয়ীফ। ইমাম যাহাবী রহ. বলেছেন, হাদীসটি সহীহ নয়। হাদীসটির মূল পাঠ নিম্নরূপ: حدثنا أبو العباس محمد بن يعقوب ثنا بحر بن نصر حدثنا عبد الله بن وهب أخبرني يحيى بن أيوب المصري عن عبيد الله بن زحر عن الوليد بن عمران عن عمرو بن مرة الجملي عن معاذ بن جبل رضي الله عنه : أنه قال لرسول الله صلى الله عليه و سلم حين بعثه إلى اليمن : يا رسول الله أوصني قال : اخلص دينك يكفك العمل القليل هذا حديث صحيح الإسناد و لم يخرجاه تعليق الذهبي قي التلخيص : غير صحيح“

প্রশ্নঃ 896
আস্সালামু আলাইকুম, শ্রদ্ধেয় হজু্র . ১) মাইয়েতের জানাজা সম্পর্কে জানতে চাই। ক) সহি হাদিস অনুসারে মাইয়েতের জানাজা কয়বার হতে পারে? গায়েবি জানাজা বা একাধীক জানাজা শরীয়া সম্মত কি? খ) যদি একাধীক জানাজা শরীয়ত সম্মত হয় তাহলে এক ব্যক্তি একাধিক জানাজায় অংশ নিতে পারবে কি? ২) জিলহাজ মাসের নফল/সুন্নত রোজা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন। আব্দুর রহিম /নাটোর/০১৭১২৬৬৯০২৭
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সহীহ হাদীস অনুযায়ী একাধিক জানাযা করার কোন সুযোগ নেই। রাসূলুল্লাহ সা. কারো একাধিক জানাযা করেছেন বরে জানা যায় না। তবে কোন কোন আলেম এই শর্তে একাধিক জানাযার অনুমতি দিয়েছেন যে, যারা পূর্বের জানাযাতে অংশ নেয় নি তারা অংশ নিবে। গায়েবানা জানাযা্ও সুন্নাহসম্মত নয় । এই বিষয়ে শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সা. এর বেশি আমল ও কম আমলের মধ্যে সামাঞ্জস্য না-রাখার ফলে খেলাফে-সুন্নাতের মধ্যে নিপতিত হওয়ার আরেকটি উদাহরণ গায়েবানা জানাযার রীতি প্রচলন করা। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় তাঁর অগণিত সাহাবী, আত্মীয়স্বজন ও আপনজন মৃত্যু বরণ করেছেন। অনেকেই তাঁর থেকে দূরে জিহাদের ময়দানে, বন্দি অবস্থায় বা দূরের কোনো শহরে বা গ্রামে অবস্থানকালে ইন্তেকাল করেছেন। কেউ তাঁর কাছে থেকে ইন্তেকাল করলে তিনি সাধারণত তাঁর জানাযা পড়তেন। তিনি কখনো কারো মৃতদেহের অনুপস্থিতিতে তার জানাযা পড়াননি। শুধুমাত্র একটি ব্যতিক্রম ছিল আবিসিনিয়ার শাসক নাজাশীর ইন্তেকাল। সাহাবীগণ আবিসিনিয়ায় হিজরত করলে তাঁদের সংস্পর্শে এসে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর দেশে আর কেউ ইসলাম গ্রহণ করেনি। যেদিন নাজাশী ইন্তেকাল করেন সেই দিনই রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবীগণকে তাঁর ইনতেকালের সংবাদ প্রদান করেন এবং গায়েবানা জানাযার নামায আদায় করেন। জীবনে সর্বদা যা বর্জন করেছেন এই একটি ঘটনায় তিনি তা করলেন। তাহলে আমরা কী বলব ও কী করব? আমরা বলতে পারি যে, বিষয়টি তাঁর জন্য খাস ছিল। আল্লাহ তাআলা নাজাসীকে মর্যাদা প্রদান করে তাঁর মৃতদেহ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চাক্ষুস করে দেন এবং তিনি জানাযা আদায় করেন। অথবা বলতে পারি যে, বিশেষ পরিস্থিতিতে যদি কোনো মুসলমান এমন কোনো দেশে ইন্তেকাল করেন যেখানে কোনোভাবে তাঁর জানাযা আদায় করা হবে না, সেক্ষেত্রে মুসলিম দেশের প্রধান বিশেষভাবে তাঁর জন্য জানাযা আদায় করবেন। কিন্তু কোনো অবস্থায় আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একদিনের কাজকে আমাদের রীতি বানিয়ে নিতে পারি-না। তাহলে তাঁর সবসময়ের রীতি আমরা বর্জন করব। এভাবেই আমরা বিদআতের মধ্যে নিপতিত হব। এহইয়াউস সুনান, পৃষ্ঠা ৩৭৪। স্যার রহ. জ্বিলহজ্ব মাসের আমল সম্পর্কে খুতবাতুল ইসলাম কিতাবে বলেছেন, বিভিন্ন সহীহ হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে, যুলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয়। সহীহ বুখারী অন্যান্য গ্রন্থে সংকলিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الأَيَّامِ يَعْنِي أَيَّامَ الْعَشْرِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ وَلا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ যুলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনে নেক আমল করা আল্লাহর নিকট যত বেশি প্রিয় আর কোনো দিনের আমল তাঁর নিকট তত প্রিয় নয়। সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর পথে জিহাদও কি এ দশদিনের নেক আমলের চেয়ে আল্লাহর নিকট প্রিয়তর নয়? তিনি বলেন, না, আল্লাহর পথে জিহাদও প্রিয়তর নয়, তবে ঐ ব্যক্তি ছাড়া, যে ব্যক্তি নিজের প্রাণ ও সম্পদ নিয়ে জিহাদে বেরিয়ে গেল এবং কোনো কিছুই আর ফিরে এলো না (সম্পদও শেষ হলো, সেও শহীদ হলো)।সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৬৯; সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ২৪৪০। অন্য হাদীসে তিনি বলেন: أَفْضَلُ أَيَّامِ الدُّنْيَا الْعَشْرُ، يَعْنِيْ عَشْرَ ذِيْ الْحَجَّةِ দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি ফযীলতের দিন হলো যুলহাজ্জ মাসের প্রথম এ দশ দিন। হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ৩/২৫৩, ৪/১৭; আলবানী, সহীহহুত তারগীব ২/১৫। হাসীসটি সহীহ। বিস্তারিত জানতে দেখুন, খুতবাতুল ইসলাম বইয়ের জ্বিলকদ মাসের শেষ খুতবা।

প্রশ্নঃ 895
কুরবানী এবং আকিকা নিয়ে স্যার এর কোনো বিস্তারিত আলোচনা অথবা বই অথবা কোনো টপিকস আছে কি? লিংক দিলে উপকৃত হবো
02 Jan 2026

কুরবানী নিয়ে স্যার রহ এর আলোচনার জন্য খুতবাতুল ইসলাম বইয়ের জিলহাজ্ব মাসের প্রথম খুতবা দেখুন। আর আকিকা বিষয়ে স্যার রাহ .এর তত্ববাধানে আমাদের দেয়া 136 ও 200 নং প্রশ্নের উত্তর দেখতে পারেন। এছাড়া ইউটিউবে কুরবানী-আকিকা নিয়ে স্যার রহ, এর কিছু ভিডিও ক্লিপ আছে। সেগুলোও দেখতে পারেন।

প্রশ্নঃ 894
Could you please talk about sons responsibility to parents and responsibility of parents as well? @ Dr. Khandaker Abdullah Jahangir
02 Jan 2026

পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের অধিকার ও সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার অধিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন, শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত খুতবাতুল ইসলাম বইটির ২০৭ -২১২ এবং ২১৫-২২০পৃষ্ঠা। সংক্ষেপে এতটুকু বলা যায় পিতা-মাতাকে সম্মান করা, প্রয়োজনে সবধরনের সহযোগিতা করা সন্তানের দায়িত্ব আর সন্তানকে সু-সন্তানরুপে গড়ে তোলা, সাধ্যমত তাদের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে মজবুত করা পিতা-মাতার দায়িত্ব।

প্রশ্নঃ 893
Salam. One of my relative got pregnant within few months of her marriage. She is a working woman.when she came to know that the baby is a girl,Her mother in law started torture her mentally. Her husband did not spend any money for her treatment and forced her to continue her job.they did not take any care during pregnancy. Her daughter was born at her father house and when she go back to her husband home after 4 months mental torture started again and she was forced to leave home with her baby. After few months they send devorce letter.her husband did not bear any cost of the child. According to islam will such people be punished in this world or in akhirat? If so what is the punishment
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। বোন! আসলে ছেলে হওয়া অথবা মেয়ে হওয়া এটি মহান আল্লাহর সিদ্ধান্ত। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ছেলে,আর যাকে ইচ্ছা মেয়ে দান করেন। আবার কাউকে তিনি কোন সন্তান ই দেন না। যদি আপনার রিলেটিভের মেয়ে সন্তানের কারণেই তার উপরে যুলুম-নির্যাতন করা হয়ে থাকে,তাহলে তারা মূলত মহান আল্লাহর উপরেই রাগ প্রকাশ করছে যে,আল্লাহ তুমি মেয়ে দিয়ে ভুল করেছ!!!নাউজুবিল্লাহি মিন যালিক। তাদের একথা ও মনে রাখা উচিত আধুনিক ডাক্তারগণ বলেছেন যে,মেয়ে হওয়ার জন্য স্বামী দায়ী,মানে স্বামীর কারনে ই মেয়ে সন্তান পেটে আসে। প্রশ্নের বিবরন অনুযায়ী মেয়ে সন্তান প্রসব করার কারনে নির্যাতন করা,তালাক দেওয়া তাদের বড় ধরনের জুলুম হয়েছে,মানুষের অধিকার হরণ করেছে। এই জন্য অত্যাচারিত ব্যক্তির নিকট ক্ষমা না চাইলে কিয়ামতের দিন তারা মহান আল্লাহর দরবারে ধৃত হবে। ইসলামের দৃষ্টিতে সন্তান যতদিন দুধ পান করবে ততদিন তার মায়ের নিকট থাকবে,এবং এরপর ও সন্তান যদি মায়ের নিকট থাকতে চায় তাহলে থাকতে পারবে। তবে সর্ব হালতে সন্তান প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত যাবতীয় খরচ পিতাকে ই বহন করতে হবে। যদি পিতা এ ক্ষেএে কোন ধরণের খামখেয়ালী করেন, তাহলে তিনি অবশ্যই সন্তানের অধিকার খর্ব করার অপরাধে মহান আল্লাহর নিকট ধৃত হবেন। ইসলামী আইন অনুযায়ী স্বামী সন্তানের যাবতীয় খরচ বহন করব। আল্লাহ আপনাদের সহায় হোক এবং আপনাদেরকে উত্তম বিনিময় দান করুক। আমিন।

প্রশ্নঃ 892
At 1st I pray to Allah for jahangir. Allah will give him Jannat. My questio is : 1.It is not permissible to make Majar / paka kabr. But Why we made Pakka Majar of Rasul e Karim (pbuh). 2. We belive Quran is a book of Allah. If the Allah Is author of Quran So, Why it is start with Bismillaher rahmaner rahim?
02 Jan 2026

আল্লাহ আপনার দোয়া কবুল করুক। ১.ইসলামে কবর পাকা করা নিষিদ্ধ যা অনেক সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। হাদীসে নববীর এই শিক্ষার আলোকেই কোন সাহাবী কবর পাকা করেননি,বরং পাকা উঁচু কবর সমান করে দিতেন। কিন্তু নবী সা.এর কবরের ইতিহাস একটু ভিন্ন। সংক্ষেপে বলছি, নবীগণের ব্যাপারে নিয়ম হল, যেখানে তারা মারা যান তাদেরকে সেখানেই দাফন করতে হয়,এ বিষয়ে কিছু হাদীস রয়েছে। রাসুল সা. তার বিবি হযরত আয়েশা রা. গৃহে ইন্তেকাল করেছেন,তাই তাকে সেখানেই দাফন করা হয়। এবং রাসূল সা. এর ইন্তিকালের পর থেকে আমরণ (৫৮হি.) তিনি সেই ঘরেই ছিলেন,কারন তার অন্য কোন ঘর ছিল না। হযরত আয়েশা( রা.) এর ঘর ছিল, মদিনার মসজিদে নববীর দক্ষিন পূর্ব পাশে, একেবারে মসজিদের দেয়ালের সাথে। ইসলামের প্রচার – প্রসারের সাথে সাথে মসজিদের মুসল্লির সংখ্যা বাড়তে থাকে,যার কারণে মসজিদে নববী সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ওমর রা. ও ওসমান রা. এর খেলাফতের সময়ে মসজিদে নববী উত্তর,দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে বাড়ানো হয়,কিন্তু পূর্ব দিকে নবী সা. এর বিবিদের ঘর থাকার কারণে তা বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়নি। পরবতীর্তে নবী সা. এর সকল বিবিদের ইন্তেকালের পর বিশিষ্ট তাবেয়ী ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ রাহ মদীনার মসজিদে নববীর পূর্বদিকে বৃদ্ধি করেন,এতে নবী সা. এর কবর মসজিদের ভিতরে চলে আসে।আর নবীজীর কবরের উপর সর্বপ্রথম গুম্বুজ দেওয়া হয় ৬৭৮ হি. সুলতান মানসুরের নির্দেশে। মূলতঃ বলা যায় মসজিদের গুম্বুজ দিতে গিয়ে কবরের উপরে একটি পড়ে যায়। আর তাঁর কবরের উপর মাটি আছে। কবর মূলত পাকা নয়্ আশা করি উত্তর পেয়েছেন। আল্লাহ ভাল জানেন। ২.বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে শুরু করা ইহা আল্লাহর কালাম হওয়ার বিষয়ে সংশয়ের প্রশ্নই আসে না,কারনঃ মহান আল্লাহ কোরআনের আরো অনেক জায়গায় বলেছেনঃ কালাল্লাহু (আল্লাহ তায়ালা বলেন)। মূলতঃআল্লাহ তায়ালা এখানে নিজ সত্তাকে থার্ড পারসন হিসেবে উল্লেখ করেছেন,যা প্রত্যেক ভাষায় ব্যবহার হয়। আশা করি উত্তরটা বুঝতে পারবেন। মহান আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 891
আমি আপনাদের ০১৭৬২৬২৯৪১০ নাম্বার টিতে কল করছি কিন্তু আমার ফোন কেটা দিয়া হই। । যাহোক আমি ডাক্তার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার এর সব গুলা বই কিনতে চাই। কোথাই পাবো সে ব্যাপারে দয়া করে সাহায্য করেন একটু। আমি ঢাকাতে থাকি আজিমপুরে, বাড়ি যশোর,ঝিকরগাছা । আর একটা প্রশ্ন আমি আপনাদের আসসুন্নাহ trust এ আসলে কি আপনারা আমাকে প্রতিষ্ঠান টি দেখতে অন্যান্য বই কিনতে দিবেন? অনুমতি পেলে আমি ১৭ সেপ্টেম্বর এর দিকে আসতে চাই যশোর নাভারন থেকে । আমাকে দয়া করে এই ২টা ব্যাপারেই সাহায্য করবেন বলে আশা রাখছি আপনাদের কাছে …।
02 Jan 2026

ভাই, আমরা আপনার কল্যান কামনা করছি। আমাদের প্রতিষ্ঠান যে কোন লোক দেখতে আসতে পারেন, আপনিও পারেন। তবে ১৭ সেপেটম্বর ২০১৬ আমাদের প্রতিষ্ঠানের কিছু বিভাগ ঈদুল আযহার ছুটির কারনে বন্ধ থাকবে। তবে আপনি ঐদিন আপনি বই কিনতে পারবেন এবং খোলা থাকা বিভাগসমূহ দেখতে পারবেন। বাইরে থেকে বই কিনতে হলে যোগাযোগ করুন এই নাম্বারে 01730 74 70 01, 01791 66 66 63, 01791 66 66 64, 01791 66 66 65

প্রশ্নঃ 890
আসসালামুয়ালাইকুম, আমার প্রশ্ন হলো- ১. ধুমপান (smoking) করা কি হারাম? ২. ধুমপান (smoking) করে নামায পরলে কি নামায হবে? ৩. ধুমপানকারী (smoker) ইমামের পিছনে নামায পরলে কি নামায হবে?
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ধুমপানের মাধ্যমে শরীরের ক্ষতি হয় আর অর্থের অপচয় হয়। এর মধ্যে ক্ষতি ছাড়া কোন কল্যানকর কিছু নেই। তাই বিশ্বের অধিকাংশ আলেমের নিকট ধুমপান হারাম। কোন কোন আলেম অবশ্য মাকরুহ বলেছেন। শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. বেচেঁ থাক কালীন আমি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, হারাম। আমি বলালাম অনেকে যে, মাকরুহ বলে? তিনি তখন বললেন, সিগারেটের কথা স্পষ্ট হাদীসে উল্লেখ না থাকায় অনেকে মাকরুহ বলেন। তবে মুল বিষয় একই সকল আলেমই ধুমপানকে মূলত হারামই মনে করেন। কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না। কোন একটি পাপ কাজ করলে অন্য ভাল কাজ কবুল হবে না বিষয়টি এমন নয়। ভাল কাজের সওয়াব মানুষ পাবে। তবে এমন ধুমপানকারী ইমামের পিছনে সালাত না করে যিনি করেন না এমন ইমামের পিছনে সালাত আদায় করবেন । আর যদি সম্ভব না হয় তাহলে ঐ ইমামের পিছনেই আদায় কর হবে। জামাত ত্যাগ করা যাবে না।

প্রশ্নঃ 889
আমার বাসা মোহাম্মদপুর, ঢাকা। আজান শোনা যায় না। সহীহ চিরস্থায়ী ক্যালেনডার জানতে চাই। যোহর শেষ সময় ও আসরের সময় নিয়ে মতভেদ আছে। সঠিক কোনটি।
02 Jan 2026

আপনি মুফতী আমিমুল ইহসাল রা. এর প্রস্তুতকৃত চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডার অনুসরণ করুন। যোহরের শেষ সময় নিয়ে মতভেদ আছে। আপনি প্রথম সময়ে যোহর আদায় করুন। আর আসরের ব্যাপারেও ঐ ্ক্যালেন্ডার অনুসরণ করুন। দেখুন ঐ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আসরের সালাত আদায় করলে সকল আলেমের কাছে গ্রহনযোগ্য হবে। মতভেদের কারণে কোন সমস্য হবে না। আর আগে পড়লে মতভেদের ভিতরে পড়ে যাবেন। যতটা সম্ভব মতভেদ এড়িয়ে যাওয়ায় ভাল।

প্রশ্নঃ 888
গতবার যখন প্রশ্ন করেছিলাম তখন আপনি নিচের বর্ণিত উত্তর দিয়েছিলেন। [শায়েখ, আমি সাত বছর রমযান মাসের সিয়াম পালন করি নি। তাহলে আমি কি ভাবে সিয়াম কাযা আদায় করব? আপনি উক্ত কাজের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আর প্রতিটি রোজা কাজা করুন। অর্থাৎ আপনাকে ২১০টির মত রোজা রাখতে হবে।] এখন আমার প্রশ্ন হল আমি কি একসাথে ৩০টি করে রোজা কাজা আদায় করব, নাকি মোট ২১০টি (যেভাবেই হোক -যেমন প্রথম মাসে ১০, দ্বিতীয় মাসে ১৩…।) অর্থাৎ কি নিয়মে আদায় করব?
02 Jan 2026

মোট ২১০টি রোজা রাখবেন। এক সাথেও রাখতে পারেন আবার ভেঙে ভেঙেও রাখতে পারেন। আপনি যেটা বলেছেন (যেভাবেই হোক -যেমন প্রথম মাসে ১০, দ্বিতীয় মাসে ১৩………। )

প্রশ্নঃ 887
আমি এক লোকের জন্য কাজ করি । তার ওয়েবসাইটের আর্টিকেল লিখে দেই। এইবার সে আমাকে কিছু কাজ দিছে। কাজগোল হলো কিছু লোকের জীবনী ছোট করে লিখে দেয়া যেমন – খেলোয়াড়, ব্যাবসায়ী, গায়ক, মডেল, অভিনেতা- অভিনেত্রী, সাংবাদিক ইত্যাদি । আমার প্রশ্ন হচ্ছে তাদের জীবনী লেখা কি হালাল /হারাম হবে? বিদ্রো: আমি তাদের কারো কাজে উৎসাহ দেয়া মূলক কোনো কিছু লিখি নাহ।
02 Jan 2026

ইসলাম ও মুসলিমদের ইমান ও আমলের ক্ষতি হয় এমন কোন কাজ করা ঠিক হবে না। এখন দেখুন আপনার কাজ দ্বারা এমন কিছু হচ্ছে কি না? সাধারণভাবে কারো জীবনী লেখা দোষের কিছু না। তবে মডেল অভিনেতাদের জীবনী লিখে দেয়া তো অবশ্যই আপত্তিকর। যদি এটা এড়িয়া যাওয়া যায় তাহলে না করাই উচিৎ। আর যদি বাধ্য হন তাহলে আপতত করুন আর অন্য কোন পেশা খুঁজুন।

প্রশ্নঃ 886
শায়েখ, আমি যদি বরিশাল থেকে ঢাকাতে যাই (১৫ দিনের কম থাকার উদ্দেশ্যে), তবে কি আমার জন্য সালাত কসর করতে হবে? সেখানে তো মসজিদ রয়েছে, তাহলে আমি কিভাবে সলাত কসর করব? ( ঘরে বসে কসর করব নাকি মসজিদে কসর করব ) মসজিদে কসর করলে কিভাবে করব?
02 Jan 2026

বরিশাল থেকে ঢাকায় ১৫ দিনের কম থাকার উদ্দেশ্যে গেলে ঢাকায় কসর করতে হবে। তবে জেনে রাখা দরকার কসর করতে হয় যখন একা একা সালাত আদায় করা হয়। মসজিদে যদি জামাতের সাথে সালাত আদায় করেন তাহলে আপনি কসর করবেন না। আবার মসজিদে যদি জামাতের সাথে আদায় না করেন তাহলে কসর করতে হবে। সর্বাবস্থায় জামাতের সাথে সালাত আদায় করাই উচিৎ। কসর হলো চার রাকআত বিশিষ্ট সালাতগুলো দুই রাকআত পড়া। বিস্তারিত স্থানীয় কোন আলেমের কাছ থেকে জেনে নিন।

প্রশ্নঃ 885
শায়েখ, ইউটিউবে কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড নাশিদ/বাদ্য-যন্ত্রবিহীন সংগীত পাওয়া যায়। সে গুলো কি শোনা বৈধ হবে?
02 Jan 2026

গানের কথাগুলো শরীয়াহসম্মত হলে বাদ্যবিহীন গানে কোন সমস্যা নেই, শোনা যাবে।

প্রশ্নঃ 884
শায়েখ, আপনাদের এই ওয়েব সাইটের ফাতওয়া গুলো হুবহু কপি করে অন্য কোন ওয়েবসাইটে প্রচার করা যাবে?
02 Jan 2026

হুবুহ কপি না করে নিজের মত করে সম্পাদনা করে লিখেবনে। যেমন, আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের ওয়েব সাইডে আছে —এটা– করা যাবে।

প্রশ্নঃ 883
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন; কোরআন শরীফে ৩০ আয়াত বিশিষ্ট একটি সূরা আছে, যা তার তেলাওয়াতকারীকে ক্ষমা করে না দেয়া পর্যন্ত তার জন্য সুপারিশ করতেই থাকবে। সূরাটি হলো তাবারাকাল্লাযী
02 Jan 2026

প্রথম হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী এবং শায়খ আলবানী হাসান বলেছেন। দ্বিতীয় হাদীসটিকেও ইমাম তিরমিযী হাসান বলেছেন।

প্রশ্নঃ 882
আসসালামু আলাইকুম, সালাতুত তাসবীহ নামক নামাজ সুন্নাত সম্মত কিনা? এবং এই নামাজ কমপক্ষে বছরে ১ বা জীবনে ১ বার পড়া নিয়ে যে হাদীস আছে তা কি?এই নামাজ থাকলে তার সঠিক পদ্ধতি কি?
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. বলেছেন, সালাতুত তাসবীহ: যিকিরের মূল চারটি বাক্য: তাসবীহ সুবহানাল্লাহ তাহমীদ আল-হামদু লিল্লাহ, তাহলীল লা- ইলাহা ইল্লল্লাহ এবং তাকবীর আল্লাহু আকবার। সালাতুত তাসবীহ-এর মধ্যে সালাতরত অবস্থায় এ যিক্রগুলো পাঠ করা হয়। চার রাকআত সালাতে প্রতি রাকআতে ৭৫ বার করে চার রাকআতে মোট ৩০০ বার উক্ত যিক্রগুলো আদায় করা হয়। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ e তাঁর চাচা আব্বাস (রা)-কে বলেন: চাচাজি, আমি আপনাকে একটি বিশেষ উপহার ও বিশেষ অনুদান প্রদান করব, যা পালন করলে আল্লাহ আপনার ছোট, বড়, ইচ্ছাকৃত, অনিচ্ছাকৃত, প্রকাশ্য, গোপন সকল গোনাহ ক্ষমা করবেন। তা এই যে, আপনি চার রাকআত সালাত আদায় করবেন। প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহা ও অন্য যে কোনো একটি সূরা পাঠ করবেন। প্রথম রাকআতে সূরা ফাতিহা ও অন্য যে কোনো সূরা পাঠের পর দাঁড়ানো অবস্থায় ১৫ বার বলবেন: سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ للهِ، وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ، وَاللهُ أَكْبَر উচ্চারণ: সুবহা-নাল্লাহ, ওয়াল হামদুলিল্লাহ, ওয়ালা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লা-হু আকবার । (পূর্বোক্ত যিকর নং ৫, ৪, ১ ও ১০ একত্রে)। এরপর রুকুতে গিয়ে রুকু অবস্থায় উপরের যিক্রগুলো ১০ বার, রুকু থেকে উঠে দাঁড়ানো অবস্থায় ১০ বার, সাজদা রত অবস্থায় ১০ বার, প্রথম সাজদা থেকে উঠে বসা অবস্থায় ১০ বার, দ্বিতীয় সাজদায় ১০ বার এবং দ্বিতীয় সাজদা থেকে উঠে (বসা অবস্থায়) ১০ বার। এ মোট এক রাকআতে ৭৫ বার (চার রাকআতে মোট ৩০০ বার)। সম্ভব হলে আপনি প্রতিদিন একবার, না হলে প্রতি সপ্তাহে একবার, না হলে প্রতি মাসে একবার, না হলে প্রতি বছর একবার, না হলে সারা জীবনে একবার এ সালাত আপনি আদায় করবেন। সালাতুত তাসবীহ সংক্রান্ত অধিকাংশ হাদীসই অত্যন্ত যয়ীফ সনদে বর্ণিত। একমাত্র এ হাদীসটিকে অনেক মুহাদ্দিস সহীহ হিসাবে গ্রহণ করেছেন। যদিও অনেক মুহাদ্দিস হাদীসটির ভাব ও ভাষা বিষয়েও আপত্তি করেছেন। ইমাম তিরমিযী প্রখ্যাত তাবে-তাবেয়ী আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক (১৮১ হি) থেকে সালাতুত তাসবীহ-এর আরেকটি নিয়ম উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে এ অতিরিক্ত যিক্র আদায়ের নিয়ম: নামায শুরু করে শুরুর দুআ বা সানা পাঠের পরে ১৫ বার, সূরা ফাতিহা ও অন্য কোনো সূরা শেষ করার পরে ১০ বার, রুকুতে ১০ বার, রুকু থেকে উঠে ১০ বার, প্রথম সাজদায় ১০ বার, দুই সাজাদার মাঝে ১০ বার ও দ্বিতীয় সাজদায় ১০ বার মোট ৭৫ বার প্রতি রাকআতে। অর্থাৎ, এ নিয়মে কিরাআতের পূর্বে ও পরে দাঁড়ানো অবস্থায় ২৫ বার তাসবীহ পাঠ করা হয় আর দ্বিতীয় সাজদার পরে বসা অবস্থায় কোনো তাসবীহ পড়া হয় না। পূর্বের হাদীসে বর্ণিত নিয়মে কিরাআতের পূর্বে কোনো তাসবীহ নেই। দাঁড়ানো অবস্থায় শুধু কিরাআতের পরে ১৫ বার তাসবীহ পড়তে হবে। প্রত্যেক রাকআতে দ্বিতীয় সাজদার পরে বসে ১০ বার তাসবীহ পড়তে হবে। ইবনুল মুবারক বলেন, যদি এ সালাত রাত্রে আদায় করে তবে দু রাকআত করে তা আদায় করবে। অর্থাৎ, দু রাকআত শেষে সালাম ফিরিয়ে আবার দু রাকআত আদায় করবে। আর দিনের বেলায় ইচ্ছা করলে একত্রে চার রাকআত অথবা ইচ্ছা করলে দু রাকআত করেও আদায় করতে পারে। সালাতুত তাসবীহ-এ রুকু ও সাজদায় প্রথমে রুকু ও সাজদার তাসবীহ সুবহানার রাব্বিয়্যাল আযীম ও সুবহানা রাব্বিয়্যাল আলা নূন্যতম তিন বার করে পাঠ করার পরে অতিরিক্ত তাসবীহগুলো পাঠ করতে হবে। রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা ৪৩১-৪৩৪।

প্রশ্নঃ 881
আসসালামু আলাইকুম, ১. ইহরাম অবস্থায় কি জুতা বা সেন্ডেল (যার উপরিভাগ ঢাকা) তা কি পড়া যাবে? না কি ফিতাওয়ালা সেন্ডেলই পড়তে হবে? পুরুষ ও মহিলা ঊভয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি জানাবেন।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। মুহরিম ব্যক্তি এমন জুতা বা স্যান্ডেল পরবে না যা পরলে টাখনু ঢেকে যায়। টাখনু ঢেকে যায় এমন জুতা বা মোজা পরা নিষেধ। উপরিভাগ ঢাকলে কোন সমস্যা নেই। টাখুন ঢাকা হলে হাদীসে নিষেধ আছে। নিচের হাদীসটি দেখুন: عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَجُلاً قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ مَا يَلْبَسُ الْمُحْرِمُ مِنَ الثِّيَابِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : لاَ يَلْبَسُ الْمُحْرِمُ الْقَمِيصَ ، وَلاَ السَّرَاوِيلَ ، وَلاَ الْبُرْنُسَ ، وَلاَ الْخُفَّيْنِ إِلاَّ أَنْ لاَ يَجِدَ النَّعْلَيْنِ فَلْيَلْبَسْ مَا هُوَ أَسْفَلُ مِنَ الْكَعْبَيْنِ আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একজন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সা. কে জিজ্ঞাসা করলেন, মুহরিম ব্যক্তি কি ধরনের পোশাক পরিধান করবে? তখন নবী সা. বললেন, মুহরিম ব্যক্তি জামা,পাগড়ি, পায়জামা, টুপী এবং মোজা। যদি তার জুতা (টাখনুর নিচে থাকে এমন জুতা উদ্দেশ্য) না থাকে তা হলে মোজা পরবে, তবে মোজা দুটি পায়ের গিরার নিচ হতে কেটে নিবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৭৫৪। উপরের হাদীসে আমরা দেখছি টাখনু ঢেকে যায় এমন মোজা পরতে রাসূলুল্লা স. নিষেধ করেছেন।

প্রশ্নঃ 880
সাহু সিজদা করার নিয়ম কি? আমাদের দেশে প্রচলিত নিয়ম (শেষ বৈঠকে শুধু আত্তাহিয়্যাতু পড়ে, শুধু ডান দিকে একবার সালাম ফিরিয়ে দুইটা সিজদা দিয়ে আবার আত্তাহিয়্যাতু দুরুদ পড়ে সালাম ফিরানোর নিয়ম) সঠিক কিনা বিস্তারিত জানতে চাই। অন্য কোন নিয়ম থাকলে কোন নিয়ম সবচেয়ে ভাল বলে আপনাদের মনে হয়?
02 Jan 2026

হ্যাঁ, আমাদের দেশে প্রচলিত নিয়মটিও সহীহ। সাহু সাজদার আরো নিয়ম আছে। তার একটি হলো সাহু সাজদা দিয়ে দুই দিকে সালাম ফিরানো।

প্রশ্নঃ 879
আসসালামু আলাইকুম, দয়া করে প্রশ্নের উত্তরটা দিয়ে উপকৃত করবেন। প্রশ্নটি হলো: কোনো বয়স্ক লোক পেনশনের টাকা ফিক্সড করে রেখে যদি ঐ টাকার লভ্যাংশ দিয়ে সংসার পরিচালনা করেন তা কতটা বৈধ হবে? কারণ ঐ লোকের কাজ করার মতো ক্ষমতা নাই এবং উপার্জনক্ষম কোন সন্তানও নাই। এক্ষেত্রে তাদের করনীয় কি। একটু কষ্ট করে জানাবেন
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার প্রশ্ন দেখে মনে হচ্ছে ব্যাংকে টাকা রেখে সেই টাকার সুদ দিয়ে সংসার চালানো যাবে কি না তা জানতে চেয়েছেন। ভাল করে মনে রাখবেন এটা লভ্যাংশ নয়। এটা সুদের অংশ। ব্যবসাতে লাভ হয়, এটা হালাল। সুদের টাকা লাভ নয়, এটা হারাম। অন্য কোন হালাল ব্যবসা করতে হবে। অবিলম্বে এই কাজ ছাড়তে হবে।কুরআনে আছে, (অর্থ যে) আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তাকে রাস্তা বের করে দেন। সূরা ত্বলাক, আয়ত নং ২।

প্রশ্নঃ 878
আসসালামু আলাইকুম, আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিলে খুব উপকৃত হব। প্রশ্নটা হলো: সেজদায় সুবহানা রব্বি আল আলা কি বিজোড় সংখ্যাই পড়তে হবে নাকি ইচ্ছে মতো যতবার খুশি পড়া যাবে।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিজোড় সংখায় পড়তে হবে বলে কোন নির্ভরযোগ্য হাদীসে বর্ণিত হয় নি। তবে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাঃ থেকে বর্ণীত আছে যে, রাসূল সাঃ বলেন: : إِذَا رَكَعَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ سُبْحَانَ رَبِّىَ الْعَظِيمِ وَذَلِكَ أَدْنَاهُ وَإِذَا سَجَدَ فَلْيَقُلْ سُبْحَانَ رَبِّىَ الأَعْلَى ثَلاَثًا وَذَلِكَ أَدْنَاهُ অর্থঃ যখন তোমাদের কেউ রুকু করবে তখন সে যেন তিনবার সুবহানা রাব্বীয়াল আযীম বলে। আর এটা হল সর্বনিম্ম পরিমান। আর যখন সেজদা করে তখন সে যেন তিনবার বলে সুবহানা রাব্বীয়াল আলা। আর এটা হল সর্বনিম্ম পরিমান। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৮৮৬। এই হাদীসটিতেও সমস্যা আছে। ইমাম আবু দা্উদ রহ. বলেছেন, মুরাসাল। শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, যয়ীফ। অন্যান্য সহীহ হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যত খুশি ততবার পড়তে পারবে। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আমাদের দেয়া ১৩ নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 877
বিবাহের বয়সসীমা ইসলামী আইন অনুযায়ী কত? বর্তমানে প্রত্যেক পরিবারেই এটা বলা হয় যে, প্রতিষ্ঠিত না হয়ে বিয়ে করা যাবে না। লেখাপড়া শেষ করে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে বয়স ৩৫ বছর হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে পরিবারের সম্মতি ছাড়া বিয়ে করা যাবে কিনা? বিবাহের বয়স হলে পরিবারের থেকে বিবাহ না দিলে প্রতিষ্ঠিত হবার আগমূহূর্ত পর্যন্ত যত আপরাধ হবে তার দায়ভার কি পরিবারের উপর বর্তাবে কিনা? আশা করি আমার প্রশ্নটি বুঝতে পেরেছেন।
02 Jan 2026

ইসলাম বিবাহের কোন বয়স নির্ধারণ করে দেয় নি। এটি স্থান কাল পাত্রের চাহিদা অনুযায়ী হবে। বয়স হয়ে গেলে মা-বাবার উচিত ছেলে-মেয়েদের বিবাহের ব্যবস্থা করা। যদি তারা অবহেলা করেন তাহলে তাদেরকে কৌশলের সাথে বুঝাতে হবে। এরপরও যদি তারা রাজী না হয় তাহলে ছেলেরা অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই বিবাহ করতে পারবে। ছেলেদের বিবাহরে ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতি শর্ত নয়। তবে মেয়েদের ক্ষেত্রে হাদীসে অভিভাবক ব্যতিত বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে। আর মেয়েদের ক্ষেত্রে এমন সমস্যা হয়ও কম। মা-বাবার অবহেলার কারণে সন্তানোর গুনাহের কাজে জড়ালে পিতা-মাতা অবশ্যই গুনাহগার হবে।

প্রশ্নঃ 876
১ দিরহাম = কত টাকা? বিবাহের সর্বনিন্ম দেনমোহর কত?
02 Jan 2026

বর্তমানে এক দিরহাম বাংলাদেশী মুদ্রায় ২৫০ টকার মত। বিবাহের সর্বনিম্ন মোহর নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। হানাফী মাজাহাবের আলেমগণ বলেছেন ১০ দিরহমা।

প্রশ্নঃ 875
আজকাল দেখা যায় কিছু লোক ফট্রোগ্রাফি করছে, পেশাদারি নয় বরং অপেশাদারি। যেমন- তারা কোন বিশেষ স্থানে গিয়ে কারনে বা অকারনে ছবি তুলছে। এই রকম ফট্রোগ্রাফি কি ইসলামে বৈধ?
02 Jan 2026

এই ধরনের অপ্রয়োজনীও কাজ ছাড়তে হবে। বর্তমানে সেলফী তুলতে গিয়ে অনেকে মারাও যাচ্ছে। যদি এই ছবি প্রিন্ট করা হয় তাহলে তা জায়েজ হবে না।

প্রশ্নঃ 874
আসসলামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ, মুহতরাম, আমি আমার ব্যক্তিগত ইনকাম ও সম্পদের একটি বিবরণ পেশকরছি এবং তার যাকাতের পরিমান সর্ম্পকে জানতে চাই- ১. আমার স্ত্রীর ব্যবহারের গহনা সর্ব মোট ২ভরী (র্স্বণ) ২. আমার এটি ৪০,০০০/= টাকার FDR (IBBL) ৩. ৪০০০ হাজার টাকার DPS (মাসিক জমা কারি) ৪. এছাড়া ব্যবহারের কিছূ আসবাস পত্র ছাড়া আর কিছু নেই। আমি একটি প্রইভেট কোঃ কাজ করি- মাসিক যা বেতন পাই তা বাসা ভাড় এবং সংসারের খরচ বহন ও DPS এর মধ্যে শেষ হয়ে যায়। এছাড়া আমার আর কোন ইনকাম র্সোস নেই। এং উপরোক্ত সবকিছু আমার হালাল ইনকাম দ্বারা র্অজিত। আমার এই সম্পদের কি ধরনের যাকাত দিতে হবে বা হবে না বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব। জযাকাল্লাহ খাইর।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার প্রশ্ন অস্পষ্ট। বিস্তারিত জানতে ফোন করুন: 01762629505

প্রশ্নঃ 873
assalamualaikum, তাহাজুদ সালাতে দেখে দেখে কোরান পড়া যাবে কি?
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। নফল সালাত তথা তাহাজ্জুদের সালাতে কোরআন মুখস্ত পড়াই সুন্নাত। তবে একটি হাদীসে আছে وَكَانَتْ عَائِشَةُ يَؤُمُّهَا عَبْدُهَا ذَكْوَانُ مِنَ الْمُصْحَفِ অর্থ: আয়েশা রা. এর গোলাম যাকওয়ান কুরআন থেকে দেখে দেখে পড়ে (তারাবীহ সালাতে) তাঁর ইমাম হয়ে সালাত পড়িয়েছিলেন। সহীহ বুখারী, ৬৯২ নং হাদীসের পূর্বে; মুসান্নাফ ইবনু আবি শায়বা, হাদীস নং ৭২৯৪। হাদীসটিকে ইবনে হাজার আসকালানী, ইমাম বাইহাক্কীসহ মুহাদ্দিগণ হাসান বলেছেন। এই হাদীসের ভিত্তিতে অধিকাংশ ওলামায়ে কিরাম নফল তথা তাহাজ্জুদের সালাতে কোরআন দেখে পড়াকে জায়েয বলে থাকেন। তবে হানাফী ফকীহগণ সব সালাতের বিষয়েই নাজায়েয বলে থাকেন।

প্রশ্নঃ 872
সন্তানের উপর মা-বাবা অন্যায় ভাবে মনে কষ্ট নিলে সে ক্ষেত্রে সন্তানের পাপ হবে কি? আর নিজের স্ত্রীর উপর কার অধিকার বেশী তার স্বামীর বাবা- মায়ের নাকি তার স্বামীর?
02 Jan 2026

না, সন্তানের উপর মা-বাবা অন্যায়ভাবে মনে কষ্ট নিলে সে ক্ষেত্রে সন্তানের কোন গুনাহ হবে না। নিজের স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার বেশী। স্ত্রী স্বামীর পিতা-মাতাকে যে খেদমত করেন তা তার উপরে ফরজ নয় বরং অনুগ্রহ। তবে স্ত্রীর উচিত হলো স্বামীর পিতা-মাতাকে মুরুব্বী মনে করে যতটা সম্ভব খেদমত করা। এতেই সংসারে শান্তি থাকে এবং বরকত হয়।

প্রশ্নঃ 871
সালাতরত অবস্থায় মহিলাদের পা এর টাকনুর নিচের অংশ খোলা থাকলে কি সালাতে কোন সমস্যা হবে?
02 Jan 2026

না, কোন সমস্যা হবে না।

প্রশ্নঃ 870
আল্লাহর অবস্থান সম্পর্কে যদি কারও ভুল জ্ঞান থাকে ( যেমন- আল্লাহ সবত্র বিরাজমান), তাহলে কি সে সালাত অথবা সিয়াম ত্যাগ করার মত গুনাহগার হবে?
02 Jan 2026

আল্লাহ সম্পর্কে এমন বিশ্বাস থাকাটা গোমরাহী, গুনাহের কাজ। তবে অন্য কোন গুনাহের সাথে এর তুলনা করা নিস্প্রয়োজন।

প্রশ্নঃ 869
শায়েখ, আমি সাত বছর রমযান মাসের সিয়াম পালন করি নি। তাহলে আমি কি ভাবে সিয়াম কাযা আদায় করব?
02 Jan 2026

আপনি উক্ত কাজের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আর প্রতিটি রোজা কাজা করুন। অর্থাৎ আপনাকে ২১০টির মত রোজা রাখতে হবে।

প্রশ্নঃ 868
১। অনেকে বলেন যেসব কাজ হারাম ওইগুলাই কবিরা গুনাহ। আর কবিরা গুনাহ তাওবা ছাড়া কবুল হয় না। এইটা কি সঠিক? তাওবা করার সঠিক নিয়ম কি? ২। তাখনুর নিচে প্যান্ট পড়া কি কবিরা গুনাহ? নাকি মাকরুহে তাহরিমি?
02 Jan 2026

১. কবীরা গুনাহ তাওবা ছাড়া ক্ষমা হয় না এই কথা পুরোপুরি ঠিক না। কিছু কবীরা গুনাহ তাওবা ছাড়া ক্ষমা করা হয় না। যেমন, শিরক। এর বাইরে যিনা, মদ খাওয়া ইত্যাদি আল্লাহ তায়ালা তাওবা ছাড়াও ক্ষমা করতে পারেন। তবে মুমিনের উচিত সকল গুনাহ থেকে তাওবা করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। তাওবা করার সঠিক নিয়ম হলো কৃত কাজের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং ভভিষ্যতে ঐকাজে জড়িত না হওয়ার দৃঢ় ইচ্ছ করা। এভাবে আল্লাহ তালার কাছে ক্ষমা চাওয়া। ২. টাখনুর নীচে প্যান্ট পরা কবিরা গুনাহ কি মাকরুহ তা জানার দরকার যতটুকু তার চেয়ে বেশী দরকার এই হাদীসটি মনে রাখা: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ مِنَ الإِزَارِ فَفِي النَّارِ. অর্থ: আবু হুরায়রা রা. নবী সা. থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, পরিধেয় বস্ত্রের যে অংশটুকু টাখনুর নিচে থাকবে সেই অংশটুকু জাহান্নামে থাকবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৭৮৭। এখন দেখুন জাহান্নাম থেকে বাঁচবেন না কবীরা গুনাহ-মাকরুহে তাহরীমি খুঁজে বেড়াবেন।

প্রশ্নঃ 867
১। দোয়া কবুলের সময় কোনগুলো? এমন কেউ কি আছে যার দোয়া শতভাগ কবুল হয়? ২। অনেক সময় ক্লাস চলাকালীন সময়ে বা পরীক্ষা থাকার কারনে জামাতে নামাজ পড়া সম্ভব হয় না। পরবর্তীতে একাকী নামাজ পড়তে হয়। এতে কি গুনাহ হবে?
02 Jan 2026

১. দুআ কবুলের বিশেষ সময়গুলো হলো: শেষ রাত, পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ সালাতের পর, আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়, রমযান মাস, ফরজ বা নফল সিয়াম অবস্থায়, ইফতারের সময়, যমযমের পানি পান করার সময়, শুক্রবারদিন মাগরিবের পূর্বমূহুর্তে ইত্যাদি। ২. সর্বাবস্থায় আমাদের জামাতে নামায আদায় করা উচিত। একান্ত সম্ভব না হলে একাকী পড়বেন। আশা করি গুনাহ হবে না।

প্রশ্নঃ 866
১. বাসা থেকে কতদূর ভ্রমন করলে মুসাফির হবে? ২. কুরআনে আল্লাহর পথে দান বলতে কি বুঝানো হয়েছে?
02 Jan 2026

১. বাসা থেকে ৪৮ মাইল তথা ৭৮-৭৯ কিলোমিটার দূরত্বে সফর করার নিয়ত করে বের হলে নিজ এলাকার বাইরে গেলে মুসাফির হিসাবে গন্য হবে। তবে যেখানে যাবে সেখানে যদি ১৫ দিনের বেশী থাকার নিয়ত করে তাহলে সেখানে মুসাফির হিসাবে গন্য হবে হবে না। তবে পথের মধ্যে মুসাফির হিসাবে গন্য হবে। আর ১৫ দিনের কম সময় থাকার নিয়ত করলে সেখানেও মুসাফির হিসাবে গন্য হবে। ২. আল্লহর পথে দান কয়েক প্রকারের। কিছু দান আবশ্যক। যেমন, যাকাত, ফিতরা ইত্যাদি। আবার কিছু দান ঐচ্ছিক। যেমন, কোন গরীবকে বা কাউকে টাকা-পয়সা, খাবার-দাবার, জামা-কাপড় ইত্যাদি দেয়া, কুরবানীর গোশতের একটা অংশা গরীবদের-আত্নীয়স্বজনদের দেয়া ইত্যাদি। সবই আল্লাহর পথে দান হিসাবে গন্য। এমন কি নিজ পরিবারের জন্য খরচ করাকেউ দান হিসাবে হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ কোন দান সম্পর্কে জানতে চাইলে বিস্তারিত লিখে পূনরায় প্রশ্ন করুন।

প্রশ্নঃ 865
১. কোন কাপড়ে যদি বীর্য লেগে শুকিয়ে যায় ওই কাপড় পড়ে নামাজ পড়া যাবে কি? কিভাবে? ২. একাকী থাকলে ভয় বা শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকার জন্য কি দোয়া পড়তে হবে?
02 Jan 2026

কাপড়ে বীর্য লাগলে ভাল করে ধুয়ে নিবেন। এরপর সেই কাপড়ে নামায পড়বেন। শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচতে পড়ুন: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ. উ্চ্চারণ: আউযু বি কালিমাতিল্লাহিত তা-ম্মাতি মিন কুল্লি শায়ত্বনিন ও হাম্মাতীন ও মিন কুল্লি আইনিন লা-ম্মাতিন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৩৭১।

প্রশ্নঃ 864
১. কুরআনের বাংলা ভাষায় সবচেয়ে ভাল তাফসীরের নাম কি? কুরআনের যেমন তাফসীর আছে হাদিসেরও কি এমন তাফসীর আছে? বাংলা ভাষায়? তার নাম কি? নেটে কি pdf পাওয়া যায়? আপনাদের নিজস্ব ছাত্র-ছাত্রী বাদে বাহিরের কেউ কি আপনাদের আসসুন্নাহট্রাস্টে এলেম শিখতে পারবে? তার উপায় কি? ২.প্রস্রাব-পায়খানা থেকে পবিত্র হওয়ার সঠিক পদ্ধতি কি?
02 Jan 2026

১. আপনি কুরআনের তাফসীরের জন্য তাফসীরে ইবনে কাসীর পড়তে পারেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে। হাদীসের ব্যাখ্যগ্রন্থ আছে। তবে বাংলা ভাষায় কুরআনের তাফসীরের মত হাদীসের ব্যাখ্যার গ্রহনযোগ্য কোন ব্যাখ্যাগ্রন্থ নেই। আরবীতে এবং উর্দুতে অনেক আছে। এই মুহুর্তে আমাদের ছাত্র-ছাত্রী ছাড়া একাডেমিকভাবে অন্যদের লেখা-পড়ার কোন সুযোগ নেই। ২. সহীহ হাদীস অনুযায়ী প্রস্রাব পায়খানা থেকে পবিত্র হওয়া যায় পানি কিংবা ঢিলা দ্বারা। বর্তমানের টিস্যুও ঢিলা হিসাবে গন্য। তবে উভয়টি একসাথে ব্যবহার করাকে ফকীহগণ উত্তম বলেছেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া ৮৬ নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 863
হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন যে, আমার কথা যে মানলো না, তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই (সে আমার উম্মত নয় এই হাদিসটির প্রমাণসহ এমন কোন হাদিস থাকলে দয়া করে আমাকে দিবেন।
02 Jan 2026

কুরআন শরীফে আল্লাহ তায়ালা বহু জায়গায় রাসূলুল্লাহ সা. কে মানতে বলেছেন। তাঁকে মানার উপরই ইসলাম ধর্মের ভিত্তি। তাঁর কথা না মেনে তার উম্মত থাকবেন এটা কি হতে পারে? এখানে হাদীসে দরকার কেন বুঝতে পারছি না।

প্রশ্নঃ 862
মেহেদী দুই ধরনের। ১। শুকিয়ে উঠে যায়। ২। শুকিয়ে উঠে যায় না বরং স্থায়ীভাবে লেগে থাকে। এখানে গাছের মেহেদি কোনটা আর বাজারের মেহেদি কোনটা? পুরুষরা যদি গাছে মেহেদি নেয় তাহলে কি কোনো সমস্যা অনেকে বলে মেহেদি নেওয়া সুন্নাত এই কথাটি কি সত্য?
02 Jan 2026

গাছের মহেদেী কখনো শুকিয়ে উঠে যায় না। বাজারের মহেদীর মধ্যে কয়েক ধরনের থাকতে পারে । আমরা মূলনীতিটি বলছে। গাছের মেহেদী পুরুষেরা দাঁড়িতে নিতে পারবে। শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. তাঁর পোশাক পর্দা ও দেহ-সজ্জা বইয়ে বলছেনে, তিনি (রাসূলুল্লাহ সা.) দাঁড়িতে খেযাব ব্যবহার করেন নি বলেই অধিকাংশ বর্ণনার আলোকে বুঝা যায়। কারণ তাঁর দাঁড়ি প্রায় সবই কাল ছিল। মাথায় গোটা বিশেক চুল এবং নিচের ঠোটের নিচের দাঁড়িগুচ্ছের (বাচ্চা দাঁড়ির) মধ্যে গোটা দশেক দাঁড়ি মাত্র সাদা হয়েছিল। এছাড়া দু কানের পাশে কলির কিছু চুল পাকতে শুরু করেছিল। ইবনু হাজার আসকালানী, ফাতহুল বারী ৬/৫৭-৫৭২।

প্রশ্নঃ 861
আসসালামু আলাইকুম। হুজুর আমি শুনেছি যে কেউ যদি অপবিত্র অবস্তায় নামায পরে তাহলে সে কাফের হয়ে যায়। এখন আমার সমস্যা হচ্ছে যে,আমি বাসা থেকে বের হলে কোথাও প্রস্রাব করলে পানি দিয়ে প্রবিত্রতা অরজন করি । কিন্তু পানি নেওয়ার পরে প্যান্ট পরার পর প্রস্রাবের কিছু কাপরে লেগে যাচ্ছে। এজন্য কাফের হবার ভয়ে নামায(যোহর,আছর, মাগরীব) পরতে পারছি না। আবার নামাজ না পরলে ও কাফের হয়ে যাব,আমি কি করব। আমাকে একজন বলেছে বিসমিল্লাহ বলে তিনবার কাপর এর এক কোনা ধুলে কাপর পাক হয়ে যায়। একথা কি ঠিক। আর প্রস্রাব এর পর কিভাবে প্রবিত্রতা অরজন করবো? যদি জানাতেন।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। অপবত্রি অবস্থায় সালাত আদায় করলে সালাত সহীহ হবে না। কাফরে হবে এই কথা ঠিক নয়। আপনি প্রেসাব করার পর পানি ব্যবহাররে র্পূবে টিস্যু ব্যবহার করবেন। আশা করি এমন করলে আপনার পোশাক অপবত্রি হবে না।

প্রশ্নঃ 860
আসসালামু আলাইকুম। অনেক সময় অজু থাকে না, অথবা যান বাহনে থাকি আর এই এ অবস্থায় মোবাইলে কোরআন শরিফের তিলাওয়াত শুনার সময় সিজদার আয়াত শুনলে সেটার জন্য কি তেলাওয়াতের সিজদা আদায় করতে হবে? আশা করি উত্তর টি জানাবেন।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, রেকর্ড শুনলে তেলাওয়াতের সিজদা দেয়া লাগবে না। তবে লাইভ অনুষ্ঠানে সিজদার আয়াত শুনলে সিজদা দিতে হবে।

প্রশ্নঃ 859
আস্সালামু আলাইকুম, শ্রদ্ধেয় হুজুর. সালাম ইসলামি আদব। সালাম-মুসাফা শেষে শ্রদ্ধা-ভক্তি যানাতে/দেখাতে ইসলামি আকিদা কি বা কেমন? হাতে চুমু খাওয়া বা কপালে চুমু খাওয়া বা কেমন?. . . দয়া করে জানাবেন। আব্দুর রহিম/ নাটোর / 01712669027
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বী, হাতে বা কপাল চুমু খাওয়া রাসূলুল্লাহ সা. থেকে এবং সাহাবীদের থেকে সহীহসূত্রে প্রমানিত। সুতরাং হাতে বা কপালে চুমা দেয়া কোন বিদআত নয়। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩০৩, ১২৪১; ফাতহুল বারী, ১১/৫৭ ( ৫৯১ নং হাদীসের আলোচনা।

প্রশ্নঃ 858
আসসালামু আলাইকুম। অফিস টাইমে আমার স্ত্রীর সাথে কথা বলার সময় মাঝে মাঝে ১-২ ফোঁটা পানি (বীর্য না) বের হয়ে আমার আন্ডার ওয়ার ভিজে যায় । এমতবস্থায় আমি পানি দিয়ে আন্ডার ওয়ার এর সামান্য ওই অংশ টুকু ধুয়ে ফেলি। আর আন্ডার ওয়ার শুকানোর আগেই জামাতের টাইম হয়ে যায় বলে জামাতে শরিক হয়ে নামাজ পরে ফেলি। আপনার কাছে প্রশ্ন হল, ওই অংশটুকু ধোয়ার ফলে আমার কাপড় কি পাক হইতেছে? আর ওই অবস্থায় নামাজ পরলে আমার নামাজের কি কোন ক্ষতি হচ্ছে? আশা করি আমাকে উত্তরটি জানাবেন।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি খুব ভাল করে ধুয়ে নিবেন। আপনি যতক্ষন না নিশ্চিত হন যে নাপাক নেই ততক্ষন ধুবেন। এভাবে আপনার পোশাক নামাযের উপযোগী হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ 857
আসসালামু আলাইকুম। আমি ফোন দিতে গিয়ে সাহস পাইনি যাহোক আমি ইবি ছাত্র, সারের একটি বক্তব্যে শুনে মেসেজ দিলাম দয়া করে জানাবেন কি যে আসসুন্নাহ ট্রাস্ট এর পক্ষ থেকে মেমোরি কার্ড ক্রয় করতে পাওয়া যাবে কিনা? এবং পাওয়া গেলে তার ফিচার কি এবং কিভাবে পেতে পারি?
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, এখানে মেমোরী কার্ড পাওয়া যায় না তবে মেমোরী কার্ড নিয়ে আসলে স্যারের ওয়াজ নিয়ে যেতে পারবেন।

প্রশ্নঃ 856
আসরের নামাজের সময় শুরু হয় কখন? আর কোনো বস্তুু তার সমপরিমাণ ছায়া দিলে আসরের সময় শুরু হয়। এ কথা কী সহহি? দয়া করে জানাবেন।
02 Jan 2026

জ্বী, কোন বস্তুর ছায়া তার মূল ছায়া ব্যতিত সম পরিমান হলে আসরের সালাতের সময় হয়ে যায় বলে সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে। জামে তিরমিযী, হাদীস নং ১৪৯।তবে আসরের সালাতের সময় কখন শুরু হয় তা নিয়ে ফকীহদের মাঝে দুটি মত আছে। ১. মূল ছায়া ব্যতিত কোন বস্তুর ছায়া তার সমপরিমান হলে। ২. মূল ছায়া ব্যতিত কোন বস্তুর ছায়া তার দ্বিগুণ হলে।

প্রশ্নঃ 855
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। হিল্লা বিবাহ সম্পর্কে জানতে চাই
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হিল্লা বিবাহ হারাম। হাদীসে রাসূলুল্লাহ (স.) বলছেনে, لَعَنَ اللَّهُ الْمُحَلِّلَ وَالْمُحَلَّلَ لَه র্অথ: হিল্লা বিয়েতে অংশগ্রহণকারী পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের উপর আল্লাহর লানাত। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ২০৭৮। হাদীসটি সহীহ।

প্রশ্নঃ 854
একজন মুমিন পুরুষের জন্য খারাপ ও চরিত্রহীন মহিলাকে হারাম করা হয়েছে এ সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসে কি বলা হয়েছে?
02 Jan 2026

এই কথা এসেছে একটি আয়াতরে মর্ম বুঝার ক্ষেত্রে মতানৈক্যের কারণে। আয়াতটি হলো সূরা নূরের ২৪ নং আয়াত। আপনি আয়াতটির অর্থ দেখুন। আর সঠিক তাফসীর ও ব্যাখ্যা সম্পর্কে ইমাম বাগাবী বলেছেন, قال أكثر المفسرين: الخبيثات من القول والكلام للخبيثين من الناس. { وَالْخَبِيثُون } من الناس، { لِلْخَبِيثَاتِ } من القول، [والكلام] (২) ، { وَالطَّيِّبَاتُ } من القول، { لِلطَّيِّبِينَ } من الناس ، { وَالطَّيِّبُونَ } من الناس، { لِلطَّيِّبَاتِ } من القول، والمعنى: أن الخبيث من القول لا يليق إلا بالخبيث من الناس والطيب لا يليق إلا بالطيب من الناس، فعائشة لا يليق بها الخبيثات من القول لأنها طيبة رضي الله عنها فيضاف إليها طيبات الكلام من الثناء الحسن [وما يليق بها] (৩) . অধিকাংশ মুফাসসির বলেছেন, খারাপ কথা খারাপ লোকদের জন্য উপযোগী আর খারাপ লোক খারাপ কথার উপযোগী এবং ভাল কথা ভাল লোকদের উপযোগী আর ভাল লোকেরা ভাল কথার উপযোগী। অর্থাৎ খারাপ কথা খারাপ লোকের উপযোগী আর ভাল কথা ভাল লোকের উপযোগী। আয়েশা রা. এর সাথে কোন অশ্লীলতা যুক্ত হতে পারে না, কেননা তিনি পবিত্র। তার ব্যপারে ভাল কথাই বলতে হবে এবং তার উপযোগী কথাই বলতে হবে। এই ব্যখাটা নেয়ায় উত্তম। তাহালে জটিলতা থাকে না। এর বাইরে খারাপ লোকের জন্য খারাপ স্ত্রী এবং খারাপ মহিলার জন্য খারাপ স্বামী এই ব্যাখ্যা নিলে কিছুটা জটিলতা আছে। কোন কোন মুফাসসির অবশ্য এই ব্যাখ্যটাও করেছেন। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 853
বর্তমানে আমাদেরকে কিভাবে জিহাদ করা উচিত? ডা. জাকির নায়েককে পিস টিভিতে বলতে শুনেছি, আমি জিহাদ করছি। তার কথাটা কতটুকু সঠিক বলে আপনাদের মনে হয়?
02 Jan 2026

রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রনে শত্রুবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করাকে ইসলামী পরিভাষায় জিহাদ বলে। সুতরাং জিহাদ একা একা করা যায় না, জিহাদ হয় রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রনে।আর জিহাদের শাব্দিক অর্থ চেষ্টা করা। জাকির নায়েক সাহেবের জিহাদকে শাব্দিক অর্থে নিতে হবে। পারিভাষিক অর্থে নেয়ার কোন সুযোগ নেই। বিস্তারিত জানার জন্য ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ বইটি পড়ন।

প্রশ্নঃ 852
আস-সালামুআলাইকুম। ১. সাধারনত কবর জিয়ারত করতে গেলে সেখানে সুরা ফাতিহা, সুরা নাস, সুরা ফালাক, সুরা ইখলাছ পরে দরূদ শরীফ পাঠ করে মৃত দের জন্য দোয়া করা হয়ে থাকে। আমাদের সমাজে এটাই বহুল প্রচলিত আমল হিসেবে জারি আছে। আমার প্রশ্ন হল এই প্রকারের কবর জিয়ারত কি সুন্নত সম্মত। যদি না হয় তাহলে আসা করি সুন্নত সম্মত পদ্ধতি টি জানাবেন। ২. আমার ২য় প্রশ্ন হল কোরআন শরিফ পাঠ করে অথবা অন্য কোন সূরা পাঠ করে সেটার সওয়াব মৃতদের কাছে কি হাদিয়া সরুফ পাঠানো যায়?
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনার দুটি প্রশ্নের মূল কথা হলো কুরআন পাঠের সওয়াব মৃত ব্যক্তি পাবে কি না? সূরা ফাতিহা… ইত্যাদি মূলত পাঠ করা হয় এই উদ্দেশ্যে যে, সওয়াব মৃত ব্যক্তি পাবে। এই বিষয়ে শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সা. ও তাঁর সাহাবীগণ কখনো মৃতের জন্য কুরআন খতম, কালেমা খতম ইত্যাদি অনুষ্ঠান করেন নি। এগুলির সওয়াব মৃতব্যক্তি পাবেন বলে কোন হাদীসে বলা হয়নি। তবে, অনেক আলেম বলেছেন যে, যেহেতু দান, দোয়া, হজ্জ ইত্যাদিও সওয়াব মৃতব্যক্তি পাবেন বলে হাদীসে বলা হয়েছে, সেহেতু আমরা আশা করতে পারি যে, কুরআন তেলাওয়াত, যিকির, তাসবীহ ইত্যাদি ইবাদতের সওয়াব তাঁরা পাবেন। এহইয়াউস সুনান, পৃষ্ঠা ৩৯১। বিস্তারিত জানতে দেখুন উক্ত কিতাবের ৩৮৮-৪০০ পৃষ্ঠা।

প্রশ্নঃ 851
আস-সালামুআলাইকুম, আমার আম্মু স্বপ্নে প্রায়ই মৃত আত্তিয়দেরকে দেখেন। স্বপ্নে মৃতদেরকে দেখার বিষয়ে কোন দলিল আসে কি? এটি কি অর্থ বহন করে? আর এ ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কি?
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। স্বপ্ন নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই। এক্ষেত্রে কোন করনীও নেই। ভাল স্বপ্ন দেখলে আলহামদুলিল্লাহ ভাল। খারাপ স্বপ্ন শয়তান দেখায় বলে হাদীসে বর্ণিত আছে।

প্রশ্নঃ 850
ইসলামী দল বা ইসলামের নামে রাজনীতি করা ইসলাম সম্মত কি – না জানালে উপকৃত হবো
02 Jan 2026

ইসলামী দল বা ইসলামী রাজনীতি দীনি দাওয়াতের একটি অংশ। সুতরাং এটা ইসলাম সম্মত। বর্তমানে সমাজে যারা ইসলামী মূল্যবোধের প্রসার ও প্রতিষ্ঠা চান না, তারা রাজনীতিকে ব্যবহার করে ইসলামী মূল্যবোধের বিকাশ রোধ করেন। এ কারণে ইসলামের বিরুদ্ধে সকল প্রচেষ্টার মুকাবিলা করাও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।বিস্তারিত জানতে দেখুন, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত এহইয়াউস সুনান বইয়ের ৪৬৬ পৃষ্ঠ থেকে ৪৭৭ পৃষ্ঠা।

প্রশ্নঃ 849
খারাপ পুরুষদের জন্যূ রয়েছে খারাপ নারী ও মুমিন পুরুষের জন্য রয়েছে ভালো চরিত্রে নারী মুমিন পুরুষের জন্য খারাপ চরিত্রের নারীকে হারাম করা হয়েছে এই সম্পর্কে কুরআনে ও হাদিসে কি বলা আছে?
02 Jan 2026

খারাপ পুরুষদরে জন্য রয়ছেে খারাপ নারী ও মুমিন পুরুষরে জন্য রয়ছেে ভালো চরত্রিরে নারী। মুমিন পুরুষরে জন্য খারাপ চরত্রিরে নারীকে হারাম করা হয়ছে। এই কথা এসেছে একটি আয়াতরে মর্ম বুঝার ক্ষেত্রে মতানৈক্যের কারণে। আয়াতটি হলো সূরা নূরের ২৪ নং আয়াত। আপনি আয়াতটির অর্থ দেখুন। আর সঠিক তাফসীর ও ব্যাখ্যা সম্পর্কে ইমাম বাগাবী বলেছেন, قال أكثر المفسرين: الخبيثات من القول والكلام للخبيثين من الناس. { وَالْخَبِيثُون } من الناس، { لِلْخَبِيثَاتِ } من القول، [والكلام] ، { وَالطَّيِّبَاتُ } من القول، { لِلطَّيِّبِينَ } من الناس ، { وَالطَّيِّبُونَ } من الناس، { لِلطَّيِّبَاتِ } من القول، والمعنى: أن الخبيث من القول لا يليق إلا بالخبيث من الناس والطيب لا يليق إلا بالطيب من الناس، فعائشة لا يليق بها الخبيثات من القول لأنها طيبة رضي الله عنها فيضاف إليها طيبات الكلام من الثناء الحسن [وما يليق بها] . অধিকাংশ মুফাসসির বলেছেন, খারাপ কথা খারাপ লোকদের জন্য উপযোগী আর খারাপ লোক খারাপ কথার উপযোগী এবং ভাল কথা ভাল লোকদের উপযোগী আর ভাল লোকেরা ভাল কথার উপযোগী। অর্থাৎ খারাপ কথা খারাপ লোকের উপযোগী আর ভাল কথা ভাল লোকের উপযোগী। আয়েশা রা. এর সাথে কোন অশ্লীলতা যুক্ত হতে পারে না, কেননা তিনি পবিত্র। তার ব্যপারে ভাল কথাই বলতে হবে এবং তার উপযোগী কথাই বলতে হবে। এই ব্যখাটা নেয়ায় উত্তম। তাহালে জটিলতা থাকে না। এর বাইরে খারাপ লোকের জন্য খারাপ স্ত্রী এবং খারাপ মহিলার জন্য খারাপ স্বামী এই ব্যাখ্যা নিলে কিছুটা জটিলতা আছে। কোন কোন মুফাসসির অবশ্য এই ব্যাখ্যটাও করেছেন। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 848
আস-সালামুআলাইকুম। আমাদের এলাকায় কিছু ভাই VOIP Busniess এর সাথে জড়িত। এবং এতে তারা রাতারাতি অনেক টাকার মালিক হইতেছেন। আমার প্রশ্ন হল এই Busniess এর ইনকাম হালাল নাকি হারাম। সামান্য একটু ব্যাখ্যা করে জানালে উপকৃত হব।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমরা জানতে পেরেছি এই বিজনেস দুই প্রকারের। ১.সরকারী কোন ধরনের কর ফাঁকি না দিয়ে ব্যবসা করা। এটা জায়েজ। ২. সরকারী কর ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা করা। এটা না জায়েজ । আপনি যদি আপনাদের এলাকার ভাইদের ব্যবসার বিস্তারিত বিবরণ লিখে পাঠান তাহলে আমরা নির্দিষ্টভাবে উত্তর দিতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্নঃ 847
ভাই বোনের বিবাহ হারাম। একই মা কিন্তু বাবা দুইটা অথ্যৎ দুই বাবার দুই সন্তান এমন ভাই বোনের বিবাহ কি জায়েজ?
02 Jan 2026

একই মা কিন্তু বাবা দুইটা অথ্যৎ দুই বাবার দুই সন্তান এমন ভাই বোনের বিবাহ জায়েজ নেই।

প্রশ্নঃ 846
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আপনারা সবাই কেমন আছেন? আমার সালাত সম্পর্কে কিছু কথা আপনাদের সঙে শেয়ার করছি । আমার কোথাও ভুল হলে দয়া করে সংশোধন করে দিবেন। ১. রফলইয়াদাইন ১ বার করা এবং ১ বারের বেশি করা দুইটাই সহিহ হাদিস সম্মত। সেই ক্ষেত্রে আমি দুইটাকেই ভালোবাসি এবং মহাব্বত করি। কারো সঙে দ্বন্দে লিপ্ত হই না। হাদিসের মতন আমাদেরকেও উদার হতে হবে। দ্বন্দে লিপ্ত হওয়া মানে শয়তানকে সুযোগ করে দেয়া, এছাড়াও আরোও অনেক সমস্যাও হতে পারে। আমার সমাজে প্রায় সবাই হানাফি মাজহাবের। সমাজের ঐক্যের দিকে গুরুত্ব দিয়ে আমি জামাতের সাথে সালাত পড়াকালীন সময়ে রফলইয়াদাইন করি না। কারন ঐক্য রক্ষা করা খুব-ই গুরুত্বপূর্ণ, যা স্যার খুব সুন্দর করে বুঝিয়েছেন। তবে রফলইয়াদাইন ১ বারের বেশি করা সম্পর্কে যেহেতু প্রচুর সহিহ হাদিস আছে, সেই ক্ষেত্রে আমি বাসায় মাঝে মাঝে নফল ইবাদত/একাকী যে কোন সালাত পড়ার সময় রফলইয়াদাইন করি। আবার যেইখানে রফলইয়াদাইন মানুষ বেশি করে সেইখানে আবার রফলইয়াদাইন করি। এতে আমার কোন ভুল হয়ে থাকলে, দয়া করে সংশোধন করে দিবেন। ২. রুকু থেকে উঠার পর পুনরায় হাত বাঁধা এবং হাত ছেড়ে দেওয়া – এই দুইটা হাদিস আমাকে বুঝিয়ে দিবেন? এইক্ষেত্রে দুইটাই সঠিক হলে, আমি বাসায় মাঝে মাঝে এই ২ টা হাদিসের উপর আমল করতে পাব কি? স্যার এর প্রতিষ্ঠিত মসজিদ/মাদরাসা/দ্বীনী কাজে/এতিমদের সাহায্য করার জন্য আপনাদের কোন Bkash নাম্বার থাকলে, নাম্বারটা দয়া করে দিবেন। আপনাদের সকলকে আল্লাহ্ উত্তম প্রতিদান দান করুন। আপনাদের সকলের প্রতি আমার মহাব্বত, ভালোবাসা, দুয়া ও সালাম জানাচ্ছি। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রথম প্রশ্নে আপনি যেটা বলেছেন সেটা করতে পারেন। কোন সমস্যা নেই। ২। রুকু থেকে উঠে হাত বাধা বা ছাড়ার ব্যাপারে স্পষ্ট করে কোন হাদীসে বলা নেই তবে পূর্ব থেকে হাত ছেড়ে দেয়ার উপরই আমল হয়ে আসছে। বর্তমানে কোন কোন আলেম হাত বাধার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে হাত না বাধাটাই ভাল বলে মনে হয়। আমি আমাদের প্রতিষ্ঠানের সেক্রেটারী সাহেবেন নাম্বার দিয়ে দিচ্ছি। আপনি টাকা পয়সা দিতে চাইলে উনার সাথে আলাপ করে দিবেন। ০১৭১৮১৩৬৯৬২।

প্রশ্নঃ 845
আস-সালামুআলাইকুম। আমার কাছে এই বেলায় এসে প্রায় মনে হইতেছে, অনেক সময় জীবনের চলতি পথে অনেক মানুষের ছোট-খাট কিছু হক আমার ধারা নষ্ট হয়েছে। (যেমন- বাজার-ঘাটে, বাসে চড়ার সময়, মানুষের সাথে অন্য কোন লেনদেনের ক্ষেত্রে) ১-২-৫-১০ টাকার কম বেশি করেছি। হয়ত পরে দিব বলে আর দেয়া হয় নি। ওই মানুষ গুলো কেও আমি আর খুঁজে বের করতে পারব না। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যাদের হক আমার দ্বারা নষ্ট হয়েছে তাদের নামে আল্লাহর রাস্তায় কিছু টাকা দান করে দিব। আপনার কাছে আমার জিজ্ঞাসা হল মাসজিদে কি তাদের নামে টাকা দান করা যাবে? যদি না যায় তাহলে কোথায় দান করলে উনারা উপকৃত হবেন? দানের খাত গুলো জানালে খুবই উপকৃত হব। আর দান কি অল্প অল্প করে বিভিন্ন খাতে দেয়া যাবে, নাকি এক জায়গায় সব টাকা দান করতে হবে? জাযাকাল্লাহু খইর।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আল্লাহর পথে আপনার এভাবে ফিরে আসা খুবই প্রসংসনীয়। আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাকে ক্ষমা করেন এবং দীনের পথে অটুট রাখেন। হ্যাঁ, মাসজিদে তাদের নামে টাকা দান করা যাবে । অন্যান্য গরীব অসহায়দেরও দান করা যাবে।দান অল্প অল্প করে বিভিন্ন খাতে দেয়া যাবে এবং এক জায়গায় সব টাকাও দান করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 844
আমার অফিসের আমাদের ব্যবহারিত টয়লেট গুলো হাই কমোডের। প্রসাব করতে গেলে প্রায় সময় দেখি কমোডের যে কবার টার উপরে বসবো সেই কবার টির মধ্যে পানি ছিটানো থাকে। আমি বুজতে পারি না এটা কি প্রসাব নাকি কুলুখের পানি। এমতবস্থায় সেখানে আর বসে প্রসাব করতে পারি না, বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়ে প্রসাব করতে হয়। আমার প্রশ্ন হল এতে কি আমার গুনাহ হইতেছে? বাসা অথবা অন্যান্য স্থানে আমি বসেই প্রসাব করি। এবং বসে প্রসাব করতেই পছন্দ করি। বিঃদ্রঃ আমার ভার্সিটি তে স্টুডেন্টদের জন্য কিছু টয়লেটে আছে। যেটাতে বসে প্রসাব করা যায়। কিন্তু অধিকাংশ সময়ই সেখানে স্টুডেন্টদের আনা-ঘোনা থাকে। এবং ওরা বিভিন্ন কথাবার্তায় ও হাসি তামাশায় লিপ্ত থাকে, আর ওখানে আমাদের কে দেখলে বিভ্রত হয়। যার দরুন সেখানে আমাদের যাওয়া হয় না। আশা করি উত্তর জানাবেন।
02 Jan 2026

আপনি যদি বুঝতে না পারেন যে, এটা পেশাব না পানি তাহলে একটু পানি দিয়ে স্থানটি ধুয়ে নিবেন। এরপর বসবেন। এটা কোন সমস্যা বলে তো মনে হচ্ছে না। তবে সত্যই যদি কোন সময় বসে পেশাব করা সমস্য হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে পেশাব করা যেতে পারে।

প্রশ্নঃ 843
কোন কোন প্রাণী খাওয়া হালাল এবং কোন কোন প্রাণী খাওয়া হারাম? এক্ষেত্রে ইসলামের মূলনীতি কী?
02 Jan 2026

কোন কোন প্রাণী খাওয়া হালাল এই বিষয়ে মূলনীতি হলো কুরআনের এই আয়াত: الْيَوْمَ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُ অর্থ: আমি তোমাদের জন্য উত্তম প্রাণী হালাল করেছি। সূরা মায়েদা, আয়াত নং ৫। কোন কোন প্রাণী খাওয়া হারাম এই বিষয়ে কুরআনে বলা হয়েছে: حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالْدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ وَالْمُنْخَنِقَةُ وَالْمَوْقُوذَةُ وَالْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيحَةُ وَمَا أَكَلَ السَّبُعُ إِلاَّ مَا ذَكَّيْتُمْ وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ وَأَن تَسْتَقْسِمُواْ بِالأَزْلاَمِ ذَلِكُمْ فِسْقٌ الْيَوْمَ يَئِسَ الَّذِينَ كَفَرُواْ مِن دِينِكُمْ فَلاَ تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِينًا فَمَنِ اضْطُرَّ فِي مَخْمَصَةٍ غَيْرَ مُتَجَانِفٍ لِّإِثْمٍ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ তোমাদরে জন্য হারাম করা হয়ছেে মৃত প্রাণী, রক্ত ও শূকররে গোশত এবং যা আল্লাহ ভন্নি কারো নামে যবহে করা হয়ছে,ে গলা চপিে মারা জন্তু, প্রহারে মরা জন্তু, উঁচু থকেে পড়ে মরা জন্তু, অন্য প্রাণীর শঙিরে আঘাতে মরা জন্তু এবং যে জন্তুক,ে হিংস্র প্রাণী খয়েছে,ে তবে যা তোমরা যবহে করে নয়িছে তা ছাড়া, আর যা র্মূতি পূজার বদেতিে বলি দয়ো হয়ছেে এবং জুয়ার তীর দ্বারা বণ্টন করা হয়, এগুলো গুনাহ। (সূরা মায়দো : ৩) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- نَهَى عَنْ كُلِّ ذِى نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ وَعَنْ كُلِّ ذِى مِخْلَبٍ مِنَ الطَّيْرِ রাসূলুল্লাহ সা. হিংস্র প্রাণী এবং থাবা দিয়ে শিকার করে এমন প্রাণীর গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫০১৫ সমুদ্রের প্রাণীর ব্যপারে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ অর্থ: সমুদ্রের পানি পবিত্র এবং তার মৃতপ্রাণী হালাল। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ৮৩; জামে তিরমিযী হাদীস নং ৬৯। ইমাম তিরমিযীসহ সকল মুহাদ্দিস হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। তবে ফকীহদের মধ্যে মতভেদ আছে সমুদ্রের হিংস্র প্রাণীর ব্যাপারে। কারণ পূর্বের হাদীসে আমরা দেখেছি হিংস্র প্রানী খেতে নিষেধ করা হয়েছে।মোটামুটি মূলনীতি এটাই। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 842
আসসালামুয়ালাইকুম, হুজুর সাহেব নামায এর জন্য যে সব দুআর কথা বলেন… ঐ সব দুআগুলো কোন কিতাবে পাওয়া যাবে যদি একটু বলতেন —খুব উপকার হয়ত।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত সহীহ মাসনুন ওযীফা অথবা রাহে বেলায়াত গ্রন্থটি সংগ্রহ করুন। ওখানে সব দুআ আছে। প্রথমটিতে সংক্ষেপে আর দ্বিতীয়টিতে বিস্তারিত। প্রয়োজনে 01788 99 99 68 কল করুন।

প্রশ্নঃ 841
আসসালামু আলাইকুম। নিজেকে রাগ থেকে নিয়ন্ত্রন করে তার উপর সবর করার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করার একটি সুন্নত আমল আমাকে বলে দিন? আল্লাহর কাছে যে দোয়া করলে নিজের সবর এর ক্ষমতা বেশি হয়, এই রকম একটি দোয়া আমাকে বললে উপকৃত হব। জাযাকাল্লাহু খাইর।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রাগ নিয়ন্ত্রনের জন্য আপনি এই দুয়াটি পড়বেন: أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ উচ্চারণ: আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত-নিররজি-ম। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬১১৫। আর আল্লাহর কাছে নিজের ভাষায় দুআ করুন যেন বিপদাপদে বেশী সবর করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 840
রিজিক বাড়ানোর কি কোনো আমল বা দুআ আছে? বিস্তারিত জানাবেন
02 Jan 2026

রিজিক বাড়ানো এবং বরকতের জন্য এই দুআটি দুই সাজদার মাঝে এবং অন্যান্য সময় পাঠ করুন। اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى وَارْحَمْنِى وَاهْدِنِى وَعَافِنِى وَارْزُقْنِى বিস্তারিত জানতে রাহে বেলায়াত দেখুন।

প্রশ্নঃ 839
হাতে মেহেদি নিলে কি নামাযের কোন ক্ষতি হয়? অনেকে বলে যে হাতে মেহেদি নিলে যত দিন মেহেদির রং থাকে তত দিন নামায হয় না এইটা কি সত্য?আমি না জেনে মেহেদি নিয়ে ফেলেছি এখন কি আমার নামাযের কোন ক্ষতি হবে?
02 Jan 2026

মেহেদী দুই ধরনের। ১। শুকিয়ে উঠে যায়। ২। শুকিয়ে উঠে যায় না বরং স্থায়ীভাবে লেগে থাকে। প্রথম প্রকারের মেহেদীর নেয়ার পর শুকিয়ে উঠে না যাওয়া পর্যন্ত ওযু হবে না সুতরাং নামাযও হবে না। আর দ্বিতীয় প্রকারের মেহেদীতে কোন সমস্যা নেই। তবে মেহেদী নিবে মেয়ে মানুষ, পুরুষ নয়। পুরুষ দাড়িতে মেহেদী নিতে পারে। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 838
আসসালামু আলাইকুম, আমার মোবাইলে পবিত্র আল কুরআনের সফটওয়্যার ও আল হাদিসের সফটওয়্যার ইন্সটল করা আছে। মোবাইল সাথে থাকা অবস্থায় টয়লেটে গমন করা যাবে কি? মোবাইল সাথে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন বাজে কথা/মোবাইলে বাজে কথা বললে পবিত্র কুরআন অবমাননার বা অন্য কোন গুনাহ হবে কি? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো।
02 Jan 2026

ওয়াআলাইকুমুস সালাম। মোবাইলের স্কীনে কুরআন বা হাদীস রাখা অবস্থায় টয়লেটে যাওয়া যাবে না। স্কীনে না থাকলে সমস্যা নেই। আজে বাজে তথা কুরআন-সুন্নাহতে নিষিদ্ধ কোন ধরনের কথা মোবাইলে বলুন আর বাইরে বলুন গোনাহ হবে।

প্রশ্নঃ 837
দ্রুত বিবাহের এবং নেক স্ত্রী বিয়ে করার কোনো আমল আছে? থাকলে তা কি?
02 Jan 2026

আপনি এই দুআটি সালাতের সাজদাতে দুই সাজদার মাঝে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করবেন। رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا (74 সূরা ফুরকান, আয়তা ৭৪।

প্রশ্নঃ 836
প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ ( সাঃ ) এর জীবনি নিয়ে ভালো বই কি? যেই বইয়ের মধ্যে রাসূলের নবুয়াত প্রাপ্তির পূর্ব থেকে আলোচনা করা হয়েছে
02 Jan 2026

আপনি আররাহিকুল মাখতুম পড়বেন। এটা রাসূলুল্লাহ সা. এর জীবনী নিয়ে ভাল ও স্বীকৃত বই।

প্রশ্নঃ 835
মুহতারামঃ আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্নঃ ১. হজে গিয়ে প্রথম বাইতুল্লাহ বা কাবা দেখার পর মনে মনে যে নিয়াত করবে সে দুয়া পূরন হবে বলে একটি কথা প্রচলিত আছে। এর সত্যতা জানতে চাই। ২. হজের পর মদিনায়, মাসজিদে নববিতে একাধারে চল্লিশ ওয়াক্ত সালাত আদায় করার কোন significance হাদিসে আছে কিনা, থাকে জানতে চাই। আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন। আমিন।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। দুইটি বিষয়েই হাদীস আছে। তবে উভয় হাদীসই চরম পর্যায়ের দূর্বল। তবে একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ স. বলেছেন, مَنْ صَلَّى لِلَّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا فِى جَمَاعَةٍ يُدْرِكُ التَّكْبِيرَةَ الأُولَى كُتِبَتْ لَهُ بَرَاءَتَانِ بَرَاءَةٌ مِنَ النَّارِ وَبَرَاءَةٌ مِنَ النِّفَاقِ অর্থ: যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার জন্য ৪০ দিন জামায়আতে তাকবীরে উলার সাথে সালাত আদায় করবে যে জাহান্নাম থেকে এবং নিফাকী থেকে মু্ক্তি পাবে। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ২৪১। শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, হাদীসটি হাসান।

প্রশ্নঃ 834
Forex halal or haram in islam? Assalamualikum…. I am a Muslim and I have a question ……… I am really confused about that…… I am from Bangladesh and actually my question is about income and investment related…. My question is As a Muslim invest on FOREX (Foreign Exchange Market) is halal or haram? If you properly know about it than answer the question otherwise not….. and why halal or haram please explain … you can answer in Bangla or English.. Please give me the right answer if you know as soon as possible… Because for Muslim halal income must be needed for get jannat …
02 Jan 2026

ভাই, স্যার বেচেঁ থাকা কালীণ তার তত্ববধানে ফরেক্স বিষয়ে একটি প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছিল। আমি সেই লেখাটিই এখানে দিয়ে দিলাম। আরো কিছু জানতে চাইলে আবার প্রশ্ন করবেন। ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমরা জানতে পেরেছে যে, অনেক দেশের সন্ট্রোল ব্যাংক র্কতৃক তাদরে মুদ্রার একটা ইন্টারস্টে রটে থাক। ে আপনি ফরক্সে ট্রডে করলে সইে ইন্টারস্টে রটে আপনার বলোয়ও প্রযোজ্য হব। ে এই ইন্টারস্টে মুসলমিদরে জন্য হারাম। এই ঝামলো দূর করার জন্য প্রায় সব ব্রোকার আজকাল ইন্টারস্টে ফ্রি একাউন্ট / ইসলামকি একাউন্ট / মুসলমি ফ্রন্ডেলি একাউন্ট সার্পোট করে যখোনে ঐ ইন্টারস্টে হসিাব হয় না। তাহলে সন্ট্রোল ব্যাংক ইন্টারস্টে যটো হারাম সটো থকেে মুক্ত থাকা যায়। মুদ্রা ব্যবসার ক্ষেত্রে মূল বিষয় হল একই মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে মূল্য কম বেশী করা যাবে না। সমান হতে হবে। যেমন বাংলাদেশী টাকা ১০ টাকা ১১ টাকার দ্বারা বিক্রি করা যাবে না। ১০ টাকা ১০টাকাতেই বিক্রি করতে হবে। আর সমান সমান করে লেনদেন করলেও নগদ হতে হবে, বাকীতে হলে জায়েজ হবে না। মুদ্রা ভিন্না হলে লেনদেনের ক্ষেত্রে মূল্য কম বেশী করা যাবে। তবে শর্ত হলো নগদ লেনদেন হতে হবে। যেমন ১ ডলার বাজার মূল্য ৮০/৯০/১০০ যাই হোক বিক্রয় করা যাবে। তবে এই লেনদেন হতে হবে নগদ, বাকীতে হলে জায়েজ হবে না। যেমন কোন মাসের ১ তারিখ ডলার দিবেন আর টাকা নিবেন ২০ তারিখে এটা জায়েজ নেই। ডলার বুঝে পেয়ে টাকা বুঝে দিতে হবে, একই মাজলিসে। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, الذَّهَبُ بِالذَّهَبِ وَالْفِضَّةُ بِالْفِضَّةِ وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ وَالْمِلْحُ بِالْمِلْحِ مثلاً بِمثلٍ سَوَاءً بِسَوَاءٍ يَدًا بِيَدٍ فَإِذَا اخْتَلَفَتْ هَذِهِ الأَصْنَافُ فَبِيعُوا كَيْفَ شِئْتُمْ إِذَا كَانَ يَدًا بِيَدٍ অর্থ: স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রোপার বিনিময়ে রোপার বিনিময়ে রোপা, গমের বিনিময়ে গম, জবের বিনিময়ে জব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর, লবনের বিনিময়ে লেনদেন হতে হবে সমান সমান, নগদ নগদ। আর যখন এই শ্রেনীগুলো ভিন্ন্ হবে (অর্থাৎ স্বর্ণের বিনিময়ে রোপা বা খেজুরের বিনিময়ে জব) তাহলে যেভাবে ইচ্ছা বিক্রি কর তবে নগদ নগদ।সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪১৪৭। আরো দেখুন, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২১৭৫।

প্রশ্নঃ 833
মোহতারাম, জেনেছি, যে মহান আল্লাহর অনুগ্রহে কিছু মানুষ এ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবেন যে, তাকে কবরদেশে সুওয়াল জাওয়াবের সম্মুখীন হতে হবে না। ১) শহিদ ২) সীমান্তরক্ষী সৈনিক ৩) যিনি মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪) আপাদমস্তক আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ওপর সত্যনিষ্ঠ আস্থা ও বিশ্বাসের অধিকারী সত্যবাদী সিদ্দিক ৫) অপ্রাপ্ত বয়সে কোনো শিশু মারা গেলে ৬) পাগল ও বোকা লোক ৭) যে জুমার দিনে বা রাতে মারা যাবে ৮) যে প্রতি রাতে আল্লাহর রহমত প্রাপ্তির প্রত্যাশায় সুরা তাবারাকাল্লাযি তিলাওয়াত করবে। উল্লিখিত বর্ণনা সঠিক কিনা?
02 Jan 2026

কিছু মানুষ আছে যারা কবরের আজাব ও পরীক্ষা থেকে মুক্ত থাকবে বলে বিভিন্ন হাদীসে বলা হয়েছে। কবরে সওয়াল জওয়াবের মুখোমুখী হবে না, হাদীসে এমন স্পষ্ট নেই। তারা হলেন, ১. আল্লাহর রাস্তায় সীমান্ত পাহারাদার। ২. শহীদ। ৩. যিনি নিয়মিত সূরা মূলক তেলাওয়াত করেন। ৪. পেটের অসুখে যিনি মারা যান। ৫.জুমুআর দিনে বা রাত্রে মারা যাওয়া ব্যক্তি । হাদীসগুলো গ্রহনযোগ্য। পাগলও মাপ পাবে। অপ্রাপ্ত বয়স্তক শিশুর ব্যপারে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। কেউ বলেন, কবরে প্রশ্ন করা হবে, আবার কেউ বলেন, হবে না।

প্রশ্নঃ 832
Assalamualaikum, betir salat a doa kunut vule naporle ke sohu sijda korte hobe na ki na korle namaj hobe? Jajakalallah…
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দুয়া কুনুত পড়তে ভুলে গেলে সাজদায়ে সাহু করা ওয়াজিব।

প্রশ্নঃ 831
আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হল আমি হজ্জের প্রশিক্ষনের একটি ভিডিওতে শুনলাম trainer বললেন যে মুজদালিফাতে রাত্রিযাপন কালে যেহেতু তাহাজ্জুত সালাত নেই, তাই বিতিরও পড়তে হবে না, যেহেতু বিতির সালাত তাহাজ্জুতেরই অংশ। বিষয়টির সহিহ কিনা জানতে চাই (যেহেতু বিষয়টি আমার কাছে নতুন মনে হল তাই প্রশ্ন করলাম) যাযাকুমুল্লাহ, জিয়া
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মুজদালিফাতে রাত্রীযাপন কালে বিতর নামায পড়তে হবে বলে অধিকাংশ আলেম বলেছেন। শায়খ আলবানীসহ কিছু আলেম বলেছেন পড়া লাগবে না। তবে পড়ার ভিতরেই অধিক সতর্কতা। যারা বলেন পড়া লাগবে না তাদের দলীল: হযরত জাবের রা. বলেন, أَتَى الْمُزْدَلِفَةَ فَصَلَّى بِهَا الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ بِأَذَانٍ وَاحِدٍ وَإِقَامَتَيْنِ وَلَمْ يُسَبِّحْ بَيْنَهُمَا شَيْئًا ثُمَّ اضْطَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- حَتَّى طَلَعَ الْفَجْرُ অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. মুজদালিফাতে এসে মাগরিব ও এশার সালাত এক আজান এবং দুই ইকামতে আদায় করলেন। দুই সালাতের মাঝে তিনি আর কোন সালাত আদায় করেন নি। এরপর রাসূলুল্লাহ সা. ঘুমালেন। এভাবে ফজর হয়ে গেল। … সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩০০৯। এই হাদীসে এশার সালাতের পর ঘুমিয়েছেন বলে উল্লেখ আছে। তাই এই আলেমগণ মনে করছেন তিনি বিতর সালাত পড়েন নি। অবশ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই যে, তিনি বিতর সালাত আদায় করেন নি। আব্দুল্লাহ বিন বাযসহ অধিকাংশ আলেমের মতে পড়তে হবে। দলীল: আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন أَوْصَانِي خَلِيلِي صلى الله عليه وسلم بِثَلاَثٍ صِيَامِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَرَكْعَتَيِ الضُّحَى ، وَأَنْ أُوتِرَ قَبْلَ أَنْ أَنَامَ অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. আমাকে অসিয়ত করেছেন তিনটি জিনিসের অসিয়ত করেছেন (অন্য বর্ণনায়: কখনো না ছাড়ার অসিয়ত করেছেন)। ১. প্রতি মাসে তিনিটি করে রোজা। ২.ফজরের পূর্বের দুই রাকআত সালাত। ৩. ঘুমের পূর্বে বিতর সালাত। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৮১। এই হাদীসে বিতরের কথা বলা হয়েছে কোন সময় ছাড়া যাবে না। এই হাদীস থেকে আরো একটি বিষয় বুঝে আসছে। তা হলো বিতর তাহাজ্জুদের অংশ নয়। অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, مَنْ خَافَ أَنْ لاَ يَقُومَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ فَلْيُوتِرْ أَوَّلَهُ وَمَنْ طَمِعَ أَنْ يَقُومَ آخِرَهُ فَلْيُوتِرْ آخِرَ اللَّيْلِ যে ব্যক্তি ভয় করবে যে, সে শেষ রাত্রে উঠতে পারবে না সে যেন প্রথম রাত্রেই বিতর পড়ে আর যে আশা করে যে, সে শেষ রাত্রে উঠতে পারবে সে শেষ রাত্রে বিতর পড়বে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮০২। এই হাদীসে স্পষ্ট বলা হয়েছে প্রথম রাত্রেও বিতর পড়া যায় সুতরাং রাসূলুল্লাহ সা. যে বিতর পড়েন নি তাওতো স্পষ্ট বলা যাচ্ছে না। তাছড়া ঐ হাদীসে স্পষ্ট নেইও যে, তিনি বিতর পড়েন নি। এই সব দলীলের ভিত্তিতে অধিকাংশ আলেম বলেন, সব সময়ই বিতর সালাত আদায় করতে হবে। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 830
আচ্ছালামু আলাইকুম,আমার প্রশ্ন হলোঃ ১) আমার একটা মেয়ের সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে। দুই পরিবার ই রাজি,কিন্তু সমস্যা হলো তারা আধুনিক সিস্টেমে বিয়ের অনুষ্ঠান করতে চায়,তা বাদে বর্তমানে বিয়ের যা যা কুপ্রথা আছে সবি ফলো করতে চায়। আমার প্রশ্ন হলো,ঠিক এই অবস্থায় যদি এগুলো আমরা প্রতিরোধ না করতে পারি,তবে আমরা নিজেরা বিয়ে করতে পারবো কি না দুই পরিবারের গার্ডিয়ানের অনুপস্থিতি ব্যতীত। আর যেহেতু দুই পরিবারের ই বিয়েতে সম্মতি আছে,সেহেতু আমাদের বিয়ে জায়েজ হবে কি না? ২) আর একটা বেপার হলো,যদি গার্ডিয়ান যে দেন-মোহর ফিক্সড করে,আর স্বামী-স্ত্রী সমঝোতা করে যদি অন্য কোন মোহর গার্ডিয়ানের অজান্তে ফিক্সড করে তবে দ্বিতীয়টা দেওয়া কি জায়েজ হবেনা? মানে স্ত্রী যেটা নিতে চায়,যদিও গার্ডিয়ানেরা এর কিছুই জানেনা।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আপনাদের ইসলামের পথে অবিচল থাকার তাওফিক দিন। অঅপনার দুজন অটুট থাকুন এ কথার উপরে যে আমরা ইসলাম বিরোধী কোন ধরনের অনুষ্ঠান চাই না, আমরা ইসলামী পরিবেশে বিবাহ চাই। আর সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় দুআ করতে থাকুন। ইনশাআল্লাহ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আপনারা আলাদাভাবে বিয়ে করলেও বিয়ে হযে যাবে তবে পরিবারের সাথে বিয়ে করাই উত্তম। এতেই কল্যান নিহিত। আপনারা তাদের বুঝাতে থাকুন এবং নিজেদের বক্তব্যে অটল থাকুন। আল্লাহ আমাদের সকল বিষয়কে সহজ করে দিন।

প্রশ্নঃ 829
আস সালামু আলাইকুম, আমার একটু উসামা খোন্দকার ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করা দরকার।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ফোন করুন: ০১৭৬২৬২৯৪০০

প্রশ্নঃ 828
আসসালামু আলাইকুম, আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার এর বইগুলা আমার লাগবে, বগুড়া বা রাংপুর এ কি পাওয়া যাবে? কোথায় এবং কিভাবে পাব?
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি যোগাযোগ করুন। আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স, ঢাকা অফিস: 01730 74 70 01, 01791 66 66 65 ঝিনাইদহ অফিস: 01791 66 66 63, 01791 66 66 64

প্রশ্নঃ 827
Q 1: চার রাকাত নামাজে, দুই রাকাত নামাজ পরে আত্তাহিয়াতুর পর কি দুরুদে ইব্রাহিম পড়া যাবে? Q 2: নিষিদ্ধ সময় কি তাহিয়াতুল মসজিদ নামাজ পড়া যাবে? Q 3: নিষিদ্ধ সময় কি তাহিয়াতুল ওযু নামাজ পড়া যাবে?
02 Jan 2026

না, পড়া যাবে না। শুধু আত্তাহিয়্যাতু পড়বেন।আপনি যে নামাযগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করেছেন এই নামাযগুলো নিষিদ্ধ ওয়াক্তে পড়া যাবে কিনা তা নিয়ে আলেম ও ফকীহগণের মাঝে মতভেদ আছে। তবে না পড়াই ভাল বলে মনে হয়। তবে যদি কেউ পড়ে তাকে দোষারোপ করা যাবে না।

প্রশ্নঃ 825
আস্সলামু আলাইকুম, শ্রদ্ধেয় হুজুর, হাদিস কোরান এর আলোকে শবগুজার রাত সম্পর্কে জানতে চাই। টংগি ইস্তেমা মাঠে প্রতি বৃহস্পতি বার বিশেষ ভাবে এই রাত পালন করা হয়। শবগুজার রাত কি হাদিস কোরান সম্মত না বিদাত? যানিয়ে বাধিত করবেন। আব্দুর রহিম/নাটোর/01712669027
01 Jan 2026

সহীহ হাদীসে বৃহ:বার রোজা রাখার কথা আছে। এর বাইরে এই রাতকে বিশেষভাবে পালন করারা কোন দলীল আমারা পাই নি।

প্রশ্নঃ 824
আমাদের ধারণা আমার ছোট বোনের উপর আমাদের এক আত্মীয় জাদু করছে । তার বিয়ার বয়স হইসে কিন্তু বিয়ে হচ্ছে নাহ । সে একাকী থাকতে পসন্দ করে, চুপ চাপ থাকতে চায়, কারো সাথে কথা বলতে চায় নাহ, মেজাজ খিটখিটে থাকে, সব সময় মাথা বেথা থাকে, বিয়ের কথা বললে রেগে যায়। এখন আমরা কি করতে পারি?
01 Jan 2026

আমরা তার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন যাবতীয় বিপদ থেকে তাবে হেফাজত করেন। । আপনারা নিম্নের দুআ গুলো তাকে পড়তে বলবেন অথবা আপনারা পড়ে ফুঁক দিবেন। ইনশাআল্লাহ কোন কিছু তাকে কোন ক্ষতি করতে পারবে না। ১। بِسْمِ اللهِ الَّذِيْ لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِيْ الأرْضِ وَلاَ فِيْ السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ العَلِيْمُ উচ্চারণ : বিসমিল্লা-হিল লাযী লা- ইয়ার্দুরু মাআ ইসমিহী শাইউন ফিল আরদি ওয়া লা- ফিস সামা-ই, ওয়া হুআস সামীউল আলীম। অর্থ : আল্লাহর নামে (আরম্ভ করছি), যাঁর নামের সাথে জমিনে বা আসমানে কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না। উসমান (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যদি কোনো বান্দা সকালে ও সন্ধ্যায় তিন বার করে এই দুআটি পাঠ করে তবে সে দিনে ও ঐ রাতে কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না। হাদীসটি সহীহ। তিরমিযী (৪৯-কিতাবুদ্দাআওয়াত, ১৩-বাব..ফিদ্দুআ ইযা আসবাহা..) ২/১৭৬; মুসতাদরাক হাকিম ১/৬৯৫, হাইসামী, মাওয়ারিদুয যামআন ৭/৩৭২-৩৭৭। ২। أُعِيْذُكُمْ [أَعُوْذُ] بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لامَّةٍ উচ্চারণ : উঈযুকুম {নিজের জন্য পড়লে: আঊযু} বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিওঁ ওয়া হা-ম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি আইনিল লা-ম্মাহ। অর্থ: আমি তোমাদেরকে আশ্রয়ে রাখছি (অথবা, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি) আল্লাহর পরিপূর্ণ কথাসমূহের, সকল শয়তান থেকে, সকল ক্ষতিকারক পোকামাকড় ও প্রাণি থেকে এবং সকল ক্ষতিকারক দৃষ্টি থেকে। রাসূলুল্লাহ সা.এ বাক্যগুলো দ্বারা হাসান (রা) ও হুসাইন (রা)- কে হেফাজত করাতেন। তিনি বলতেন, ইবরাহীম (আ) এ বাক্যদ্বারা তার দু সন্তান ইসমাঈল ও ইসহাককে (আ) হেফাজত করাতেন। বুখারী (৬৪-কিতাবুল আম্বিয়া, ১২-বাব ইয়াযিফ্ফুন)। সকল মুমিন পিতা ও মাতার উচিত সকাল ও সন্ধ্যায় এ বাক্যগুলো পাঠ করে সন্তানদের ফুঁক দেওয়া ও দুআ করা। এছাড়া প্রত্যেকে নিজের হিফাযতের জন্য সকাল সন্ধ্যায় দুআটি পাঠ করবেন। ৩। সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ। আবূ সাঈদ খুদরী (রা) বলেন: রাসুলুল্লাহ সা. মানুষের এবং জিনের নযর থেকে হিফাযতের বিভিন্ন দুআ পাঠ করতেন। যখন সূরা ফালাক ও সূরা নাস নাযিল হলো তখন তিনি অন্যান্য সকল দুআ বাদ দিলেন। হাদীসটি সহীহ। ইবন মাজাহ (৩১-কিতাবুত তিব্ব, ৩২-বাবুল আইন) ২/১১৬১ (ভারতীয় ২/২৫১)। আরো বিস্তারিত জানতে পড়ুন, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত, রাহে বেলায়াত গ্রন্থের ৬ষ্ঠ অধ্যায়।

প্রশ্নঃ 823
আছসালমু ওয়ালাইকুম আমার পচনো হলো আমি একজনের কাছে কিচু মোটা অংকের টাকা পেতাম একন তার কাচথেক নিতে পারছিনা বা তাকে কিছু বলতে পারছি না এখন আমি টাকা টা কি ভাবে পেতেপারি আমাকে একটু জানাবেন আমি একজন সাধারন খেটেখাওয়া মানুষ উওর টির অপেকায়রয়লাম আললাহাফে
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাকে এই সমস্যা থেকে মুক্ত করেন। আপনি এই দুআটি সালাতের সাজাদাতে, শেষে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ، اللَّهُمَّ أْجُرْنِيْ فِيْ مُصِيْبَتِيْ وَأَخْلِفْ لِيْ خَيْرًا مِنْهَا উচ্চারণ: ইন্না- লিল্লা-হি ওয়া ইন্না- ইলাইহি রা-জিঊন। আল্লা-হুম্মাঅ্ জুরনী ফী মুসীবাতী ওয়া আখলিফ লী খাইরাম মিনহা-। অর্থ: নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় তাঁর কাছেই আমরা ফিরে যাব। হে আল্লাহ আপনি আমাকে এ বিপদ মুসিবতের পুরস্কার প্রদান করুন এবং আমাকে এর পরিবর্তে এর চেয়ে উত্তম কিছু প্রদান করুন। উম্মুল মুমিনীন উম্মু সালামাহ (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে সা.বলতে শুনেছি, যদি কোনো মুসলিম বিপদগ্রস্ত হয়ে এ কথাগুলো বলে তাহলে আল্লাহ তাকে অবশ্যই উক্ত ক্ষতির পরিবর্তে উত্তম বিষয় দান করে ক্ষতিপূরণ করে দিবেন। উম্মু সালামাহ বলেন, আমার স্বামী আবু সালামাহর মৃত্যুর পরে আমি চিন্তা করলাম, আবু সালামার চেয়ে আর কে ভাল হতে পারে! … তারপরও আমি এ কথাগুলো বললাম। তখন আল্লাহ আমাকে আবু সালামার পরে রাসূলুল্লাহকে সা. স্বামী হিসাবে প্রদান করেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২১২৫। এছাড়াও আপনি আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত রাহে বেলায়াত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ২৬, ১৫৭ নং যিক্র পাঠ করে দুআ করবেন। মহান আল্লাহর ইসম আযম ও দরুদ সাধ্যমত বেশি করে পড়বেন এবং পড়ার ফাঁকেফাঁকে নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে দুআ করবেন। উল্লেখ্য আপনি সুন্নাত-নফল সালাতের সাজদাতে, দুই সাজদার মাঝে, শেষ বৈঠকে, সালাতের বাইরে বিভিন্ন সময়ে উক্ত দুআগুলো পাঠ করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 822
আস-সালামুআলাইকুম। আমার প্রশ্ন হল আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহিমাহুল্লাহ স্যার কি বিতির এর সালাত ৩ রাকাত পরতেন? আর যদি ৩ রাকাত পরে থাকেন তাহলে ২য় রাকাতের তাশাহুদের পরের ১রাকাত এ উনার আমল টা জানালে উপকৃত হতাম। (৩য় রাকাতে সুরা মিলানোর পর পুনরায় হাত তুলে তাকবির তাহরিমা করতেন কিনা, কুনুত কি মুনাজাতের মত হাত তুলে পরতেন নাকি হাত ধরা অবস্থায় পরতেন, কুনুত রুকুর আগে নাকি পরে পরতেন, এবং কোন কুনুত টি বেশি পরতেন। ) আশা করি আমার প্রশ্নের উত্তর পাবো।
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। স্যার রহ. ফরজ সালাত ছাড়া অন্য কোন সালাত সাধারণত মসজিদে পড়তেন না। আর তাঁকে আমরা কখনোই মসজিদে বিতর সালাত আদায় করতে দেখি নি। সুতরাং তাঁর ব্যক্তিগত আমল সম্পর্কে বলতে পারবো না। তবে তিনি উভয় পদ্ধতিকেই সুন্নাহ সম্মত বলতেন। বিতির সালাতের আদায় পদ্ধতিতে নিয়ে তিনি রাহে বেলায়াত গ্রন্থের ৪১৩-৪৩০ পৃষ্ঠায় সুন্দর আলোচনা করেছেন। আপনি দেখে নিতে পারেন।

প্রশ্নঃ 821
১। ওজু শেষ করে কালিমা শাহাদাত আসমানের দিকে তাকিয়ে পড়তে হয় – এইটা কি সহিহ হাদিস সম্মত? নাকি শুধু কালিমা শাহাদাত পড়লেই হবে? ২। দুই সেজদার মাঝে আমি দুয়াটি এইভাবে পড়িঃ- আল্লাহুমাগফিরলী, ওয়ারহামনি, ওয়াহদিনী, ওয়াজবুরনী, ওয়া আফিনি, ওয়ার যুকনী, ওয়ার ফাঅ নী। এইভাবে পড়া যাবে? ৩। আমাদের সমাজে দেখা যায়, কারো শরীরে পা লাগলে, সঙে সঙে তাকে হাত দিয়ে ছুঁয়ে সালাম করেন। এইটা কি কোরআন ও সহিহ হাদিস সম্মত? এক্ষেত্রে আমাদের করনীয় কি?
01 Jan 2026

শুধু কালিমা শাহাদাত পড়লেই হবে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৭৬। জ্বী, দুই সাজদার মাঝের এই দুআটি এভাবে পড়লেই হবে।হাদীসে বিভিন্নভাবে দুআটি পড়ার কথা এসেছে। কারো শরীরে পা লাগলে আমাদের দু:খ প্রকাশ করা উচিত। হাত দিয়ে ছুঁয়ে সালাম করার প্রয়োজন নেই।

প্রশ্নঃ 819
আসসালামু আলাইকুম। আউজুবিল্লাহ হিমিনাশশাইতোনির রাজিম। বিসমিল্লাহ-হিররাহ মানির রাহিম। (৩) বার পরার পর সুরা হাশর এর শেষ ৩ আয়াত পরলে সারাদিনের অনেক ফজিলতের কথা জানতে পারছি। আবার অনেকে বলতেছে এই আমালের নাকি ভিত্তি নাই আর হাদিস টা নাকি জঈফ। জঈফ হাদিসের উপর ভিত্তি করে আমল করলে কি কোন নেকি পাওয়া যাবে কিনা? সঠিক বিষয় টা জানালে উপকৃত হব?
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। এই বিষয়ে বর্ণিত হাদীসটি যইফ। এ সব ক্ষেত্রে যইফ হাদীসের উপর আমল করা যায় বলে মুহাক্কিক আলেমগণ মত দিয়েছেন। ফজিলত যদি নাও পান তেলাওয়াতের সওয়াব পাবেন । আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 820
আসসালামুয়ালাইকুম। মানসিক প্রশািন্তর জন্য কোন দুআ আছে কি? থাকলে জানাবেন। উপকৃত হব।
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি সকাল-সন্ধার যিকির কিছু কিছু আমলা করতে থাকুন। ইনশাআল্লাহ আপনার দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যাবে। নিচের দুআটিও পাঠ করবেন। حَسْبِيَ اللهُ لا إِلَهَ إِلاَّ هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ উচ্চারণ: হাসবিয়াল্লা-হু, লা- ইলাহা ইল্লা- হুআ, আলাইহি তাওয়াক্কালতু, ওয়া হুআ রাব্বুল আরশিল আযীম। (সূরা তাওবা: ১২৯ আয়াত) অর্থ: আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, আমি তাঁরই উপর নির্ভর করেছি, তিনি মহান আরশের প্রভু। উম্মু দারদা (রা) বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় ৭ বার এ আয়াতটি পাঠ করবে আল্লাহ তাঁর দুশ্চিন্তা, উৎকণ্ঠা ও সমস্যা মিটিয়ে দেবেন। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ৫০৮৩। শায়খ শুয়াইব আরনাউত বলেছেন, হাদীসটির বর্ননাকারীগণ ছিকাহ। তবে এটা সাহাবীর বক্তব্য।

প্রশ্নঃ 818
বিঃদ্রঃ নিচের প্রশ্নের উত্তরটা আমার খুব তাড়াতাড়ি দরকার। দয়াকরে…আমারা স্বামী-স্ত্রী দুজনে practicing Muslim এবং আলহামদুলিল্লাহ আমাদের মধ্যে কোন ঝগড়া বা অসুখী কার্যক্রম নেই। কিন্তু আমার শাশুড়ি তার মেয়েকে (আমার স্ত্রী) অন্য ছেলের সাথে বিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে আমার স্ত্রী ও আমার মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট বা আমাদের বিচ্ছেদর জন্য তাবিজ করছে। এখন আমরা কি ভাবে এসব কাজ থেকে তাকে (আমার শাশুড়ি) বা আমরা মু্ক্ত থাকতে পারি? আমার কি করতে পারি? জাজাকাল্লাহ খাইর
01 Jan 2026

আমরা আপনাদের জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন যাবতীয় বিপদ থেকে আপনাদের হেফাজত করেন। আপনারা যেহেতু বিষয়টি জেনে গিয়েছেন তাই এই বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়াও আপনাদেন জন্য সহজ হবে। আপনারা এই দুআগুলো পড়বেন। ইনশাআল্লাহ কোন কিছু আপনাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। ১। بِسْمِ اللهِ الَّذِيْ لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِيْ الأرْضِ وَلاَ فِيْ السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ العَلِيْمُ উচ্চারণ : বিসমিল্লা-হিল লাযী লা- ইয়ার্দুরু মাআ ইসমিহী শাইউন ফিল আরদি ওয়া লা- ফিস সামা-ই, ওয়া হুআস সামীউল আলীম। অর্থ : আল্লাহর নামে (আরম্ভ করছি), যাঁর নামের সাথে জমিনে বা আসমানে কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না। উসমান (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যদি কোনো বান্দা সকালে ও সন্ধ্যায় তিন বার করে এই দুআটি পাঠ করে তবে সে দিনে ও ঐ রাতে কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না। হাদীসটি সহীহ। তিরমিযী (৪৯-কিতাবুদ্দাআওয়াত, ১৩-বাব..ফিদ্দুআ ইযা আসবাহা..) ২/১৭৬; মুসতাদরাক হাকিম ১/৬৯৫, হাইসামী, মাওয়ারিদুয যামআন ৭/৩৭২-৩৭৭। ২। أُعِيْذُكُمْ [أَعُوْذُ] بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لامَّةٍ উচ্চারণ : উঈযুকুম {নিজের জন্য পড়লে: আঊযু} বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মাতি মিন কুলি শাইতানিওঁ ওয়া হা-ম্মাহ, ওয়া মিন কুলি আইনিল লা-ম্মাহ। অর্থ: আমি তোমাদেরকে আশ্রয়ে রাখছি (অথবা, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি) আল্লাহ পরিপূর্ণ কথাসমূহের, সকল শয়তান থেকে, সকল ক্ষতিকারক পোকামাকড় ও প্রাণি থেকে এবং সকল ক্ষতিকারক দৃষ্টি থেকে। রাসূলুল্লাহ সা.এ বাক্যগুলো দ্বারা হাসান (রা) ও হুসাইন (রা)- কে হেফাজত করাতেন। তিনি বলতেন, ইবরাহীম (আ) এ বাক্যদ্বারা তার দু সন্তান ইসমাঈল ও ইসহাককে (আ) হেফাজত করাতেন। বুখারী (৬৪-কিতাবুল আম্বিয়া, ১২-বাব ইয়াযিফ্ফুন)। সকল মুমিন পিতা ও মাতার উচিত সকাল ও সন্ধ্যায় এ বাক্যগুলো পাঠ করে সন্তানদের ফুঁক দেওয়া ও দুআ করা। এছাড়া প্রত্যেকে নিজের হিফাযতের জন্য সকাল সন্ধ্যায় দুআটি পাঠ করবেন। ৩। সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ। আবূ সাঈদ খুদরী (রা) বলেন: রাসুলুল¬াহ সা. মানুষের এবং জিনের নযর থেকে হিফাযতের বিভিন্ন দুআ পাঠ করতেন। যখন সূরা ফালাক ও সূরা নাস নাযিল হলো তখন তিনি অন্যান্য সকল দুআ বাদ দিলেন। হাদীসটি সহীহ। ইবন মাজাহ (৩১-কিতাবুত তিব্ব, ৩২-বাবুল আইন) ২/১১৬১ (ভারতীয় ২/২৫১)। আরো বিস্তারিত জানতে পড়ুন, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত, রাহে বেলায়াত গ্রন্থের ৬ষ্ঠ অধ্যায়।

প্রশ্নঃ 816
শায়েখ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর তার লেকচার-এ বলেছিলেন যে- রাসুল (স) আমাদেরকে পাঁচটি পাপ থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। ১। সমাজে যখন অশ্লিলতা বেরে যাবে, তখন আল্লাহ তাদের কে গজব হিসেবে নতুন রোগ দিবেন। (হাদিস টা আমার মনে নেই, তবে মুল বক্তব্য হয়ত ঠিক আছে। শায়েখ আপনি সম্পূর্ণ হাদিছটি উল্লেখ করলে উপকৃত হব।
01 Jan 2026

পূর্ণ হাদীসটি নিম্নরুপ: – حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ الدِّمَشْقِيُّ ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَبُو أَيُّوبَ ، عَنِ ابْنِ أَبِي مَالِكٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ ، قَالَ : أَقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ ، فَقَالَ : يَا مَعْشَرَ الْمُهَاجِرِينَ خَمْسٌ إِذَا ابْتُلِيتُمْ بِهِنَّ ، وَأَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ تُدْرِكُوهُنَّ لَمْ تَظْهَرِ الْفَاحِشَةُ فِي قَوْمٍ قَطُّ ، حَتَّى يُعْلِنُوا بِهَا ، إِلاَّ فَشَا فِيهِمُ الطَّاعُونُ ، وَالأَوْجَاعُ الَّتِي لَمْ تَكُنْ مَضَتْ فِي أَسْلاَفِهِمُ الَّذِينَ مَضَوْا وَلَمْ يَنْقُصُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ ، إِلاَّ أُخِذُوا بِالسِّنِينَ ، وَشِدَّةِ الْمَؤُونَةِ ، وَجَوْرِ السُّلْطَانِ عَلَيْهِمْ. وَلَمْ يَمْنَعُوا زَكَاةَ أَمْوَالِهِمْ ، إِلاَّ مُنِعُوا الْقَطْرَ مِنَ السَّمَاءِ ، وَلَوْلاَ الْبَهَائِمُ لَمْ يُمْطَرُوا. وَلَمْ يَنْقُضُوا عَهْدَ اللهِ ، وَعَهْدَ رَسُولِهِ ، إِلاَّ سَلَّطَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ غَيْرِهِمْ ، فَأَخَذُوا بَعْضَ مَا فِي أَيْدِيهِمْ. وَمَا لَمْ تَحْكُمْ أَئِمَّتُهُمْ بِكِتَابِ اللهِ ، وَيَتَخَيَّرُوا مِمَّا أَنْزَلَ اللَّهُ ، إِلاَّ جَعَلَ اللَّهُ بَأْسَهُمْ بَيْنَهُمْ অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. আমাদের মাঝে এসে বললেন, পাঁচটি পাপে যখন তোমরা লিপ্ত হবে (তখন তোমরা আযাবে আক্রান্ত হবে)। আমি এগুলোতে তোমাদের লিপ্ত হওয়া থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। ১। মানুষে প্রকাশ্য অশ্লীলতায় (ব্যাভিচারে) লিপ্ত হবে। তখন তাদের মাঝে এমন রোগ প্রকাশ পাবে, যে রোগ সম্পর্কে তাদের পূর্বপুরুষেরা জানত না। ২। মানুষ ওজনে কম দিবে। তখন তারা দূভিক্ষতে আক্রান্ত হবে। অভাব অনটনে আক্রান্ত হবে। ৩। মানুষ যাকাত দিবে না। তখন বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যাবে। চতুস্পদ পশু না থাকলে বৃষ্টি একদম বন্ধ হয়ে যেত। ৪। মানুষ আল্লাহ এবং তার রাসূলের সাথে কৃত অঙ্গিকার (বিধর্মীদের সাথে কৃত চুক্তি উদ্দেশ্য) লঙ্ঘন করবে তখন আল্লাহ তায়ালা অন্যদের (ইসলামের শত্রদের) থেকে কোন শত্রুকে শাসক হিসাবে চাপিয়ে দিবেন। আর তারা মুসলিমদের সম্পদ আত্মসাত করবে। ৫। তাদের শাসকরা আল্লাহর কিতাব দ্বারা ফয়সালা করবে না, আল্লাহ যে আইন অবতীর্ণ করেছেন তার দ্বারা বিচার করবে না। তখন আল্লাহ তায়ালা তাদের মাঝে বিপদ-মুসিবত দিবেন। সুনানু ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪০১৯। শায়খ শুয়াইব আরনাউত এবং শায়খ আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। আল্লামা বুসিরি রহ. বলেছেন, হাদীসটি আমলযোগ্য।

প্রশ্নঃ 814
দুই সেজদার মাঝের দুআ (আল্লাহুমাগফিরলী, ওয়ারহামনি, ওয়াহদিনী … … ) কি আমি দুই সেজদার মাঝে বার বার পড়তে পারবো?
01 Jan 2026

জ্বী, বার বার পড়তে পারবেন। কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 817
শাইখ, আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন? সিরাতের উপর নির্ভরযোগ্য কয়েকটি বইয়ের নাম জানালে খুব উপকৃত হতাম। আর সংক্ষিপ্ত তাফসির হিসেবে তাফসির তাইসিরুল কোরআন বইটা কেমন হবে দয়া করে জানাবেন। জাযাকাল্লাহ খাইরান।
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সিরাতের উপর নির্ভরযোগ্য একটি বই হলো আর-রাহীকুল মাখতুম।তাইসিরুল কুরআন নামে কোন কিতাবের কথা আমাদের জানা নেই। আপনি সংক্ষিপ্ত তাফসীরের জন্য শায়খ তাকী উসমানী লিখিত, মাকতাবাতুল আশরাফ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত তাওযীহুল কুরআন পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 815
আমি বিবাহিত, তবে আমার স্ত্রী আমার কাছে থাকে না, তাই আমি মাঝে মাঝে আমার স্ত্রীর সাথে কথা বলতে বলতে হ্স্তমৈথুন করে ফেলি, আমি জানি এটা পাপ, তবুও মাঝে মাঝে নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে পারি না। এখন আমি কী করতে পারি। আমার পাপ হয়ে যাচ্ছে, এমন করার ইচ্ছা না থাকলেও আমার এমন হয়ে যায়, পরামর্শ চাই।
01 Jan 2026

আপনি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। স্ত্রীকে আপনার কাছে নিয়ে যাওয়র চেষ্টা করুন অথবা অল্প কয়েকদিন পর পর বাড়ি যাতায়াত করুন। । আর ফোনে আলাপ করার সময় বৈবাহীক বিষয়ে আলাপ করবেন না। স্বভাবিক কথা বার্তা বলবেন।

প্রশ্নঃ 813
আসসালামুয়ালাইকুম। আপনাদের এই প্রশ্নোত্তর সেশন জন্য আমরা খুবেই উপকৃত হচ্ছি। বিভিন্ন বিষয় জানতে পারছি। আল্লাহ্ আপনাদের চেষ্টা কবুল করুক। আমীন। নিম্নক্তো দুটি দোয়া বিভিন্ন জনে আমল করে এবং কিছু কিছু অনলাইন নিউজ পেপারে আমল করার জন্য বলা হয়েছে। কিন্ত হাদিস নং বা কোন কিতাব কিছু লিখা নাই। আমারা প্রশ্ন হচ্ছেঃ প্রশ্ন ০১ঃ আল্লাহুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিউল উম্মি ওয়ালা আলিহি ওয়াসাল্লিম তাসলিমা এই দোয়া টি পড়লে কি ৮০বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যায়? হাদিসটি কি সহি? প্রশ্ন ০২ঃ লা ইলাহা ইল্লালাহ ওয়াহদাহু লাশারীকালাহু আহাদান সামাদান লামইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ ওয়ালাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ; এই দোয়া টি পড়লে কি ২০ লাখ নেকি পাওয়া যায়? হাদিসটি কি সহি?
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ। আপনানারা উপকৃত হচ্ছেন জেনে আমরা আনন্দিত।দুআ করবেন আল্লাহ যেন আমাদের এই চেষ্টা টুকু কবুল করেন এবং অব্যহত রাখার তাওফিক দেন। এবার আপনার প্রশ্নের উত্তরে আসি। ১। এই দুআটি পড়লে ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হয় এমন কোন কথা কোন হাদীসে নেই। সহীহ, যয়ীফ,মাউযু কোন হাদীসেই নেই। তবে এটা আমাদের সমাজে প্রসিদ্ধ কথা। কথাটি ইমাম গাজ্জালী তার ইহইয়াউ উলূমিদ্দিন কিতাবে সনদ ছাড়া হাদীস হিসাবে উল্লেখ করেছেন। এটা কোন হাদীস নয় সুতরাং এই আমল করা যাবে না। তবে অন্য একটি দরুদের কথা হাদীসে আছে যেটা পড়লে ৮০ বাার পড়লে ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হয়। তবে সেই হাদীসটিও দুর্বল। আরো বিস্তারিত জানতে দেখুন, ফাতাওয়া জান্নাত দায়েমা, ফাতাওয়া নং ১৯৬০৯; মারকাযুল ফাতাওয়া, ফাতাওয়া নং ৭৫৩৮৬। ২। এই হাদীসটি ইবনু আদি রহ. আলকামীল গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। হাদসটির আরবী পাঠ হলো: । قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من قال لا إله إلاَّ الله وحده لا شريك له أحدًا صمدا لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفوا أحد عشر مرات كتب الله تعالى له ألفي ألف حسنة ومن زاد زاده الله تعالى. হাদীসটি সর্বাক্যমতে দূর্বল। কারণ হাদীসটির একজন রাবী হলেন, ফায়িদ আবুল ওরকা। মুহাদ্দিসগণ তাকে মাতরুক (যার হাদীিস দলীল হিসাবে গ্রহন করা যায় না, বরং পরিতাজ্য। ) বলেছেন। এছাড়া কোন কোন হাদীসে ৪০ লাখ, ২০হাজার ইত্যদি বলা হয়েছে। দুআ সামান্য পবিবর্তন আছে। তবে প্রতিটি হাদীসই চরম পর্যায়ের যয়ীফ। বিস্তরিত জানতে দেখুন, আল ইসলাম সুয়াল জাওয়াব, মুহাম্মাদ সালেহ আলমুনাজ্জিদ, ফাতাওয়া নং ২০৯৭৭৪। (আরবী)।

প্রশ্নঃ 812
প্যান্ট নাভির নিচে, কিন্তু গায়ে শার্ট রয়েছে; এতে কি সালাতে কোন সমস্যা হবে?
01 Jan 2026

সালাত আদায়কালীন সময়ে যদি নাভীর নিচের কোন অংশ বের না হয় তাহলে কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 811
আসসালামুয়ালাইকুম। সম্প্রতি ডাঃ জাকির নায়েক এর এক প্রশ্ন উত্তর নিয়ে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মতামত দিচ্ছেন। প্রশ্নটি হচ্ছে মহানবী সাঃ এর কাছে শাফাআত চাওয়া নিয়ে। বোখারী শরীফে (তাহহিদ প্রকাশনী) আছেঃ হাদিস নং-৩৩৫। জাবির ইব্নু আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-বলেনঃ আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে, যা আমার পুর্বে কাউকেও দান করা হয়নি। (১) আমাকে এমন প্রভাব দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে যে, একমাস দূরত্বেও তা প্রতিফলিত হয়; (২) সমস্ত যমীন আমার জন্য পবিত্র ও সালাত আদায়ের উপযোগী করা হয়েছে। কাজেই আমার উম্মতের যে কোন লোক ওয়াক্ত হলেই সালাত আদায় করতে পারবে; (৩) আমার জন্য গানীমাতের মাল হালাল করে দেওয়া হয়েছে, যা আমার পূর্বে আর কারো জন্য হালাল করা হয়নি; (৪) আমাকে (ব্যাপক) শাফাআতের অধিকার দেওয়া হয়েছে (৫) সমস্ত নবী প্রেরিত হতেন কেবল তাঁদের সম্প্রদায়ের জন্য, আর আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে সমগ্র মানব জাতির জন্য। (৪৩৮, ৩১২২; মুসলিম ৫/১, হাঃ ৫২১ আহমাদ ১৪২৬৮) (আ.প্র. ৩২৩, ই.ফা. ৩২৮) প্রশ্নঃ মহানবী সাঃ এর কাছে শাফাআত চাওয়া যাবে কিনা? চাইলে শিরক হবে কিনা?
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মহানবী সা. এর কাছে শাফায়াত চাওয়া যাবে না। তেমনি অন্য কোন ওফাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছেও শাফায়াত চাওয়া যাবে না। মানুষ মারা গেলে তার কোন কিছু করার ক্ষমতা থাকে না। কারো কথাও শুনতে পারে না। সুতরাং এটিা শিরক হবে । দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন: আল-ইসলাম, সুয়াল ও জওয়াব, মুহাম্মাদ সালেহ আলমুনাজ্জিদ, ফতোয়া নং ১৩২৬২৪ (আরবী)। উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যাসহ শাফায়াত বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা, পৃষ্ঠা নং ৩২১-৩২৮।

প্রশ্নঃ 810
আসসালামু আলাইকুম । হুজুর প্রশ্ন টা হয়ত অপ্রাসঙ্গিক। তবুও বিষয় টা জানার একান্ত প্রয়োজন। স্বামী-স্ত্রী সহবাস না করে উলঙ্গ অবস্থায় যদি উভয়ে উভয়ের লজ্জাস্থানে চুমু খায়, এবং হাত দ্বারা স্পর্শ করে এবং এতে বীর্য পাত না হয় তাহলে কি তাদের উপর গোসল ফরজ হবে? এবং এই অবস্থায় নামাজ পরা যাবে কি না?
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। লজ্জাস্থানে চুমু দেয়া একটি নষ্ট কাজ, বাজে, রুচিহীন কাজ। এর থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে আপনি যা বলেছেন এর কারণে গোসল ফরজ হবে না। নামায পড়া যাবে।

প্রশ্নঃ 809
ইহুদী দের সাথে কি ব্যবসা করা যাবে যাবে বিশেষ করে যারা ইসরাইল এ থাকে বা ইসরাইল কে সাপোর্ট করে। যেহেতু ইসরাইল আমাদের নিরীহ প্যালেস্টাইন এর ভাই বোন দের হত্যা করতেছে । আর আমরা যদি ইসরাইল কে সাপোর্ট করা কোন ইহুদীদের সাথে ব্যবসা করি তাহলে দেখা গেল আমাদের ব্যবসা দারা অর্জিত অর্থ দিয়ে আমদের ভাই বোনদের হত্যা করতেছে । বিস্তারিত জানাবেন আশাকরি। আর অমুসলিম দের সাথে ব্যবসা বা কাজ করার শরীয়ত এর বিধান কি?
01 Jan 2026

অন্য ধর্মের লোকদের সাথে সাধারণ ব্যবসা বা লেনদেনে মুসলিমদের কোন সমস্যা নেই। তবে সেই ব্যবসার লাভের টাকা যদি তারা মুসলিমদের ক্ষতি করার পিছনে খরচ করে তাহলে আলেম ও ফকীহগণ বলেছেন তাহলে তাদের সাথে ব্যবসা করা যাবে না, জায়েজ নেই।

প্রশ্নঃ 808
Assalamu Alaikum, Dear Huzur, In Recent days some criticism arises against Dr. Zakir Naik. But I like him very much and I honor him as a very intellectual person in recent Islamic world, according to my knowledge his total activities are very nice for spreading Islam. Even our honorable Sir Abdullah Jahangir worked with him too. Please give us your valuable comments about Dr. Zakir Naik and his Peace TV. Salam again. Abdur Rahim/Natore/01712669027
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। এই সম্পর্কে স্যার রহ. এর একটি বক্তব্য দেখার জন্য অনুরোধ করছি। এই শিরোনামে ইউটিউবে সার্স করবেন ডা. জাকির নায়েক নাকি ইহুদীদের দালাল?

প্রশ্নঃ 807
আমাদের সমাজে তাবলীগ নামে একটি জামাআত রয়েছে। যারা নির্দিষ্ট এলাকার মসজিদ থেকে বিভিন্ন এলাকার মসজিদে গিয়ে থাকেন। যার সময়সীমা ৩ দিনের জামাআত অথবা ৪০ দিনের এক চিল্লা ইত্যাদি। যার মাধ্যমে দেখা যাই, এখানে গিয়ে অনেকের মাঝে পরিবর্তন আসে। আবার তাবলিগের বইগুলোকে নিয়ে অনেক বিতর্কিত কথা শুনেছি, যা কিনা কোরআন ও সহিহ হাদিস সম্মত নয় !! এখন আমার প্রশ্ন হল ৩ দিনের জামাআত অথবা ৪০ দিনের এক চিল্লায় গিয়ে এইসব বইগুলো থেকে তালিম করার সুন্নাহ সম্মত বিধান কি? স্যার এই সম্বন্ধে কি বলেছেন, জানালে খুব ই উপকার হয়।
01 Jan 2026

সুন্নাত বিধান তো স্পষ্ট কুরআন-হাদীসের সহীহ কথাগুলো মানুষদেরকে বলতে হবে। জেনে শুনে কোন বাতিল কথা মানুষদেরকে বলা যাবে না। কোনটা সঠিক এবং সঠিক নয় তা মানুষদেরকে স্পষ্ট করে দিতে হবে। তাদের কিছু ভাল বইও আছে, সেগুলো তালীম করুন। যেমন, মুন্তাখাবুল হাদীস।

প্রশ্নঃ 806
আসসালামু আলাইকুম, আমি সূরা ফাতিহা ঠিক মত উচ্চারণ আয়ত্ব করতে এখনো পারি নাই, চেষ্টা আছে । আমি সূরা টি জানি । আমি কি সূরা টি পড়বো না সুবহানাল্লাহ পড়বো সালাতে?
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রশ্নটি করার পর তো কয়েক দিন কেটে গেছে। এতো দিনে তো সূরা ফাতিহা ভালভাবেই শিখে ফেলা হয়ে গেছে মনে হয়। না হলেও আপনি সূরা ফাতিহাই পড়বেন।

প্রশ্নঃ 805
ঘুম থেকে সঠিক সময়ে বা তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য উঠার কোনো দুআ আছে কি?
01 Jan 2026

আপনি নিজের মত করে আল্লাহর কাছে ঘুম থেকে সময়মত উঠার জন্য দুআ করবেন। আর আধুনিক যন্ত্রগুলোর সাহায্য নিবেন।

প্রশ্নঃ 804
প্রশ্ন হলো,মহিলাদের জন্য কি একই মাসআলা? আসসালামুয়ালাইকুম। অনেক সময় স্ত্রীর সাথে কথা বলাতে (স্পর্শ না করেই) কিংবা বাহিরে কোন মেয়েকে অশ্লীল অবস্থায় দেখলে নিজের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং কিছুক্ষনপর বীর্য এর মত পানি চলে আসছে কিন্তু বের হয়ে পড়েনাই। এই অবস্থায় গোসল ফরজ হয়েছে কি? ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, গোসল ওয়াজিব হবে না। যদি ঐ পদার্থটা বের হয় তবুও গোসল ওয়াজিব হবে না, ওযু করতে হবে।
01 Jan 2026

হ্যাঁ, মহিলা পুরুষ সবার জন্যই এক মাসআলা।

প্রশ্নঃ 803
আল কুরআনে ১. সূরা ইয়াসিন ২. সূরা আর রহমান ৩. সূরা আল ফাতিহা ৪. সূরা আল মূলক ৫. সূরা ওয়াকিয়া ৬. সূরা নূহ ৭. সূরা আল জুমা ৮. সূরা মুজাম্মিল ৯. সূরা নাবা। প্রতিদিন এই সূরাগুলো পড়লে কি উপকার আছে। দয়াকরে আল হাদীসের আলোকে জানাবেন। মহান আল্লাহ পাক আপনাদের আস-সুন্নাহ ট্রাস্টকে কবুল করুক। আমীন!
01 Jan 2026

কুরআন পড়াতো সওয়াবের কাজ। প্রতিটি হরফে সওয়াব সুতরাং উপকার তো হবেই । অপনার যদি স্পেশাল কোন ফজিলত সম্পর্কে জানতে ইচ্ছা হয় তাহলে বিস্তারিত লিখে পাঠান। কোন ফজিলত কোন সূরা ইত্যাদী। প্র্রশ্ন ছোট করবেন দয়া করে।

প্রশ্নঃ 802
আস্সালামুআলাইকুম, সিজদাতে গিয়ে কোরানিক দুআ গুলি সরাসরি করা যাবে কি। নাকি এর আগে আল্লাহুম্মা যোগ করে পড়তে হবে। যেমন-(আল্লাহুম্মা) রাব্বানা ফাগফিরলানা যুনুবানা ওয়া কাফফির আন্না সাইয়ি আতিনা ওয়া তাওয়াফফানা মা আল আবরার।
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বী, সরাসরি করা যাবে। কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 801
আসসালামু আলাইকুম! নিন্মের বাণীটি কি হাদীস নাকি কোরআনের আয়াত? কোরআনের আয়াত হলে তার সূরা আয়াত নম্বর কত আর হাদিস হলে কোন কিতাবের, কত অধ্যায়ের, কত নম্বর হাদিস? *বাণী- তোমার দ্বীনকে খাঁটি করো, অল্প আমলেই নাজাত পাবে। ধন্যবাদ
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। উক্ত বাণীটি হাদীসের। হাদীসটির আরবী পাঠ দেখুন: اخلص دينك يكفك العمل القليل । মুসতাদরক হাকিম, হাদীস নং ৭৮৪৪। তবে হাদীসটি সহীহ নয়, যয়ীফ। হাফেজ জাহাবী রাহ. বলেছেন, সহীহ নয় (তালীক, মুসাতাদরক) আর শায়খ আলবানী রাহ. বলেছেন যয়ীফ (সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, হাদীস নং ২১৬০।

প্রশ্নঃ 800
আসসালামু আলাইকুম। উমরি কাযা সম্পরকে জানতে চাই। এর দলিল কি কুরআন সুন্নাতে আছে? থাকলে তা বিস্তারিত জানতে চাই। যদি না থাকে তবে আমার জীবনের এত অগনিত কাযা সালাত কি করে আদায় করব? যাযাকুমুল্লাহ।
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই সম্পর্কে কুরআনে কিছু নেই। আর রাসূলুল্লাহ সা. এর যুগে কোন মুসলমান ইচ্ছাকৃত ভাবে কোন নামাযই কাজা করেন নি সুতরাং ইচ্ছাকৃত ভাবে বছর বছর নামায কাজা করলে কি করতে হবে সে বিষয়ে হাদীসে পাওয়া যাবে না। অধিকাংশ আলেমের অভিমত হলো বহুদিন ধরে ইচ্ছাকৃত নমায ছেড়ে দিলে (যাকে অনেকেই উমরি কাজা বলে) উক্ত নামায আদায় করতে হবে। তা সে যত ওয়াক্তই হোক না কেন। আর আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, যেন তিনি ক্ষমা করে দেন। কোন কোন আলেম বলেছেন,উমরি কাজা করা লাগবে না, আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে, মাফ চাইতে হবে। সুতরাং সর্বাবস্থায় যথাসম্ভভ শুধু ফরয সালাতগুলো কাযা আদায় করা উচিত। সাধ্যের মধ্যে কাযা আদায় করার পাশাপাশি বেশি বেশি নফল সালাত আদায় করতে হবে এবং তাওবা ইসতিগফার করতে হবে। দলীল এবং ইমাম ও ফকীহদের মতামত বিস্তারতি জানতে দেখুন, আলফিকহুল ইসলামিয়্যতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৩৪/২৬; আলফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু, ২/৩০১; আদদুররিল মুযিয়্যাহ শারহু দুররিল বাহিয়্যাহ, ১/১০৮; আল ফিকহ্ আলা মাজাহিবিল আরবা, ১/৭৫৭।

প্রশ্নঃ 799
আসসলামু আলাকুম। নামাজে টুপি পরা কী সুন্নত? যদি সুন্নত না হয় তাহলে পরা হয় কেন? দয়া করে উত্তর টা জলদি দেওয়ার চেস্টা করিবেন
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রাসূলুল্লাহ সা. ও সাহাবীগণ স্বাভাবিক পোশাক হিসাবে টুপি পরতেন বলে অনেক হাদীসে পাওয়া যায়। কখনো কখনো তারা টুপি ছাড়াও চলাফেরা করতেন। শুধু নামাযের জন্য টুপি পরা সুন্নাত এই মর্মে কোন হাদীস আমরা পাই নি। তবে টুপি পরে নামায পড়া নামাযের প্রতি অনেক সময় মনোযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক। তাই আমাদের উচিত টুপি পরেই নামায পড়া। আল্লাহ তায়ালা ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 798
১। অনেকে বলে যে চুল কালার করলে নামায় হয় না(সাদা চুল কলপ বা অন্য কিছু ব্যবহার করে) এই সম্পকে কোন হাদীস আছে? ২। কারোর গায়ে লাথি লগলে কুরআন ও হাদীসের আলোকে কি করতে হবে?
01 Jan 2026

সাদা চুল কালো করলে নামায হয় নাএই কথা ঠিক নয়। তবে বয়সের কারণে চুল পাকলে সেই চুলে কালার করা না জায়েজ। কারো গায়ে লাথি লাগেল যে যদি অপমানিত বোধ করে তাহলে তার কাছে দু:খ প্রকাশ করবেন।

প্রশ্নঃ 797
আসসালামুয়ালাইকুম, আমি অনেক দিন থেকে এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য বিভিন্ন TV চ্যানেল গুলতে Try করেছি কিন্তু ফোনের লাইন পাইনি। তাই আজ এই সাইটে Try করছি আশা করি উত্তরটা পাবো ইনশাল্লাহ। প্রশ্নটা হল- SIBL একটি ইসলামি ব্যাংক। আর ইসলামি ব্যাংক জেনেই আমি আমার কিছু টাকা এই ব্যাংককে FDR করে রেখেছি। এই ভেবে যে, আমার টাকা যেমন নিরাপদে থাকবে আবার বৈধ বা হালাল ভাবে কিছু লাভ ও পাবো। আমি জানতে চাই যে, আমার এই FDR এর বিপরীতে তিন মাস অন্তর অন্তর যে লভ্যাংশ পাই তা থেকে আমি জাকাত দিতে পারব কিনা ও মসজিদ নির্মাণ কাজে এই টাকা ব্যাবহার করা যাবে কিনা? আসলে আমি সুদ থেকে বাঁচতে চাই। ঘরে টাকা রাখা ও নিরাপদ নয়। আমাদের দেশের ইসলামি ব্যাংকগুলো কি সঠিক পথে আছি? যদি না থাকে তবে এই লভ্যাংশ নিজে জন্য ব্যাবহার করা গুনাহ হবে? বা এই লভ্যাংশ আমি কি কাজে লাগাতে পারি? ভালো থাকুন
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নিরাপত্তার স্বার্থে আপনি ব্যাংকে টাকা রাখতে পারেন। হালাল টাকা দিয়ে আপনি যাকাত দিতে পারেন, মসজিদ নির্মানেও সহযোগিতা করতে পারেন। ইসলামী ব্যাংকগুলো ইসলামী শরীয়াহ অনুসরণ করে বলে দাবী করে। সে হিসাবে আপনার লাভ হালাল টাকা। তবে অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো তাদের অঙ্গিকার রক্ষা করতে পারে না। তাই সতর্কতা হিসাবে আপনার জন্য উচিত হলো লাভের টাকা গরীবদের মাঝে সওয়াবের নিয়ত ছাড়া বিলিয়ে দেয়া। যাকাত দেবেন এমন টাকা দিয়ে যাতে কোন প্রকারের সন্দেহ নেই। মসজিদ নির্মানেও এমন টাকা দেয়া উচিত যেখানে হারামের কোন সন্দেহ নেই।

প্রশ্নঃ 796
সফরে থাকা অবস্থায় সালাত ছুটে গেছে, সফর শেষ এখন ক্বাযা করবো কিভাবে? কসর ক্বাযা করবো নাকি পূর্ণ সালাত ক্বাযা করবো?
01 Jan 2026

সফরে থাকা অবস্থায় সালাত ছুটে গেলে কাযা করতে হবে কসর হিসাবে। পূর্ণ সালাত আদায় করবেন না।

প্রশ্নঃ 795
আসসালামুআলাইকুম, কুরআনের তাফসির (ব্যাখ্যা সহ) পড়তে চাই। কোন সাজেশন দিবেন প্লীজ। আহসান প্রকাশনীর (মাওলানা মুহাম্মদ মুসা অনুঅনূদিত) কুরআনের বাংলা অনুবাদ পড়ে শেষ করলাম। কিন্তু এখন আরো বিস্তারিত আলোচনা সহ অনুবাদ পড়তে চাই।
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি কুরআনের তাফসীরেরর জন্য মাও. মুহিউদ্দিন খান রহ. অনুদিত মারেফুল কুরআন এবং তাফসীরে ইবনে কাসির পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 794
Question 1: Is this dua authentic according to Hadith to become rich? The dua للّٰهُمَّ أَعِنِّيْ بِالْعِلْمِ وَزَيِّنِّيْ بِالْحِلْمِ وَأَكْرِمْنِيْ بِالتَّقْوٰى وَجَمِّلْنِيْ بِالْعَافِيَةِ Transliteration: ALLAHUMMA AGNINI BIL ILMI, (Oh Allah! Enrich us via Knowledge) WAZAYYINNI BIL HILMI (Oh Allah! Adorn us with a sense of humility/gentleness) WA AKRIMNA BI TAQWA (Oh Allah! Deem us noble with Taqwa/Piety) WAJAMMILNI BIL AFIYAH (Oh Allah! Beautify us by keeping us in a state of well being/healthy) Question 2: May I receite Allahumag firli war hamni wahdini war jukni … … more and more at the mddle of two suujud?
01 Jan 2026

প্রথম দুআটি হাদীসে বর্ণিত আছে। তবে সনদে দুর্বলতা আছে। অর্থ সুন্দর পড়লে পড়তে পারেন। (আলহিলমু লি আবীদ দুনিয়া)। আর দ্বিতীয় দুআটি দুই সাজদার মাঝে এবং অন্যান্য সময় পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 793
আসসালামু আলাইকুম। হিন্দু সহপাঠীর বাড়ীতে বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াতে যাওয়া ও খানা খাওয়ার বিধান জানালে ভালো হয়।
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হিন্দদের জবেহ করা পশুর গোশত খাওয়া মুসলিমদের জন্য হারাম। আর বিবাহের অনুষ্ঠানে এমন পশুর গোশত পরিবেশন খুবই স্বাভাবিক। সুতরাং হিন্দুদের বিবাহ অনুষ্ঠানে যাওয়া যাবে না। তবে যদি মুসলিমদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকে, যেখানে হালাল খাবরের ব্যবস্থা আছে সেখানে যাওয়া যেতে পারে।

প্রশ্নঃ 792
আসসালামু আলাইকুম, আমার ৩ টা প্রশ্ন আছে — ১) আমার বাবা প্রায় সময় মিথ্যা কথা বলে, এখন এক কথা, একটু পরে আরেক কথা—এজন্য কী করতে পারি? ২) ছো্টশিশিুর প্রতি যেন কারো নজর না লাগে এজন্য কি কোন দুআ আছে? ৩) আমার স্ত্রীর কোমরে লোহার টুক্রা বাধা, কারন কোমরে লোহা রাখলে নাকি জ্বীন পরি আসে না, এটা কি ইসলামিক ভাবে জায়েজ?
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১। আপনার পক্ষে যদি সম্ভব হয় তাকে মিথ্য বলার কুফল বুঝাবেন। নাহলে অন্য কাউকে দিয়ে বুঝাবেন। তবে কোন অবস্থাতেই তার সাথে খারাপ আচরণ করবেন না। আল্লাহর কাছে দুআ করতে থাকুন, কান্নাকাটি করতে থাকুন। আল্লাহ চাই তো তিনি এই বদঅভ্যাস ছেড়ে দিবেন। ২। শিশুদেরকে নিচের এই দুআ পড়ে ঝাড়-ফুঁক করবেন, হাদীস শরীফে আছে রাসূলুল্লাহ সা. হাসান-হুসাইনকে এই দুআ পড়ে ঝাড়-ফুক করেছেন। أُعيذُك بكلماتِ الله التامّة، من كلِّ شَيطان وهامَّةِ، ومِنْ كُلِّ عَينٍ لامَّةٍ، উচ্চারণ: উই-যুকা বি কালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মাতি মিন কুল্লি শায়ত্ব-নিন ও হা্-ম্মাতিন ও মিন কুল্লি আইনিন লা-ম্মাতিন। অর্থ : আমি তোমার বিষয়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি সকল শয়তান থেকে, বিষাক্ত প্রাণী থেকে এবং বদ-নজর থেকে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩১৯১; সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৭৩৭। ৩। এইভাবে লোহা বেঁধে রাখা যাবে না, হারম, শিরক। হাদীসে শরীফে এইসব লোহা ইত্যাদি বাঁধাকে শিরক বলা হয়েছে। জিন থেকে বাঁচার জন্য উপরের দুআটি পড়তে পারেরন তবে প্রথম শব্দে কা বাদ দিয়ে পড়বেন। এছাড়া এই দুআটিও সকাল সন্ধা তিন বার করে পড়তে পারেন: بِسْمِ اللَّهِ الَّذِى لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَىْءٌ فِى الأَرْضِ وَلاَ فِى السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ হাদীস শরীফে আছে যে ব্যক্তি সকলে এই দুআ তিনবার পড়বে সন্ধা পর্যন্ত কোন কিছু তাকে ক্ষতি করতে পারবে না আবার সন্ধায় তিনবার পড়বে কোন কিছু সকাল পর্যন্ত তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। সুনানু তিরমীযি, হাদীস নং ৩৩৮৮; সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ৫০৯০; সুনানু ইবনু মাজাহ, হাদীস নং ৩৮৬৯। ইমাম তিরমিযীসহ সকল মুহাদ্দিস হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সুতরাং দুআ পড়তে বলুন, লোহা-লক্কড় বাদ দিন। লোহা-লক্কড়ে কোন লাভ হবে না বরং গুনাহ হবে।

প্রশ্নঃ 791
আসসালামুয়ালাইকুম। আমাকে এক ভাই বলেতেছে যে আমাদের ওজু হয়না, আর ওজু না হলে নামাজ হবে না। কারন কোরআনে ৫ নং সুরা মায়েদা, আয়াত নং ০৬ বলা হয়েছেঃ ওজুতে মুখমন্ডল ও হস্তসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত কর এবং মাথা ও পদযুগল মাসেহ কর। অথচ আমারা ওজুতে পা ধৌত করি যেটা কিনা কোরআনের আয়াতের বিরুদ্ধে যায়। এই জন্য পা মাসেহ না করলে ওজু হবে না। এই বিষয় বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, তাহলে তো আপনার ঐ ভাই ছাড়া কুরআন কেউ বুঝে নাই আর আপনার ঐ ভাইয়ের নামায ছাড়া পৃথিবীর কোন মুসলিমের নামায হয় না। আর আপনার ঐ ভাই যদি মসজিদে নামায পড়ে তাহলে তার নামযও হবে না কারণ তার মতানুযায়ী ইমাম সাহেবেরও ওযু হয়নি । আসলে তিনি কুরআন বুঝেন নি। আরবী ভাষা সম্পর্কে তার কোন জ্ঞানও নেই। তিনি যদি কুরআনের গ্রহনযোগ্য কোন তরজামাও পড়তেন তাহলেও এই মসস্যা হতো না। কুরআনে শুধু অঙ্গের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে গিয়ে মাথা মাসেহ পর পায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যার আরবী ভাষার সামান্য জ্ঞান আছে সে বুঝতে পারবে যে, মুখ ও হাত ধোয়ার বিধানের সাথে পা ধোয়ার বিধান একত্রিত হবে, কারণ এই তিনটি অঙ্গের ইরাব ( আরবী ব্যকরণ অনুযায়ী যের যবার পেশ ইত্যাদী দেয়ার বিধান) এক। প্রতিটিই নসব হয়েছে (এখনে নসব হয়েছে যবর দ্বারা)। আর মাথার ইরব ভিন্ন। মাথার ইরাব হয়ে হয়েছে জ্বর দ্বারা ( এখানে জ্বর হয়েছে যের দ্বারা। আপনিও আরবী জানা কারো সহযোগিতা নিয়ে বিষয়টি দেখতে পারেন। সুতরাং সবার নামাযই হয় শুধু তার নামাযই হয় না। তবে আপনাকে বলে রাখি পথভ্রষ্ট শিয়ারা কুরআন এই বিধানটি অপব্যাখ্যা করেন, বলেন পা মাসেহ করতে হবে, আপনার ঐ ভাই শিয়া হয়ে গেল কিনা বা শিয়াদের কারো খপ্পরে পড়লো কিন সেটাও কিন্তু দেখার বিষয়। আর আপনি আয়াতের যে অনুবাদ দিয়েছেন তা সঠিক নয়। গ্রহনযোগ্য কোন অনুবাদে এমন অনুবাদ করা হয় নি। অনুবাদ কেমন হবে দেখুন: তোমরা যখন নামাযের জন্য দাঁড়াবে তোমরা তোমাদের (পুরো) মুখমন্ডল ও কনুই পর্যন্ত তোমাদের হাত দুটো ধুয়ে নেবে, অত:পর তোমাদের মাথা মাসে করবেে এবং পা দুটো গোড়ালী পর্যন্ত (ধুয়ে নেবে)। কোরআন শরীফ, সহজ সরল বাংলা অনুবাদ, হাফেজ মুনির উদ্দিন আহমাদ। আল কোরআন একাডেমী লন্ডন। আরো একটি অনুবাদ দেখুন: তোমরা যখন নামাযের জন্য উঠবে তখন নিজেদের চেহারা ও কনুই পর্যন্ত নিজেদের হাত ধুয়ে নিবে, নিজেদের মাথাসমূহ মাসেহ করবেে এবং টাখনু পর্যন্ত নিজেদের পা (-ও ধুয়ে নেবে)। । তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন, মূল: শায়খ ত্বকী উসমানী, বঙ্গানুবাদ: মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম। মাকতাবাতুল আশরাফ, ঢাকা।

প্রশ্নঃ 790
আমাদের দেশে আসর নামাজের জন্য যে সময়টা দেয়া থাকে তার আগে পর্যন্ত কি যোহর নামাজ পরা যাবে (কোন কারণে দেরি হয়ে গেলে)? অন্য দেশে আসর নামাজের সময় বেশ আগেই হয়ে যায়। তাহলে আমাদের দেশের টাইম কি ঠিক?
01 Jan 2026

যুহরের সালাতের সময় শেষ হলে আসরের সালাতের সময় শুরু হয়। যুহরের সালাতের সময় কখন শেষ হয় এই বিষয়ে হাদীসের আলোকে আলেমদের মধ্যে দুটি মত বিদ্যমান। এক. কোন বস্তুর ছায়া তার মূল ছায়া বাদে তার সমপরিমাণ হওয়া। এটা অধিকাংশ আলেমের মত এবং হাদীসের আলোকে অধিকগ্রহনযোগ্য বলে মনে হয়। দুই, মূল ছায়া বাদে দ্বিগুন হওয়া। আমাদের দেশে এই মতটি মেনে চলা হয়। সুতরাং আপনার উচিৎ হলো কোন বস্তুর ছায়া তার মূল ছায়া বাদে সমপমিান হওয়ার আগেই যুহরের সালাত আদায় করা। এর চেয়ে দেরী করা ঠিক হবে না। এর ভিতরেই সতর্কতা। কোন কারণে দেরী হয়ে গেলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আদায় করে নিবেন। আর আসরের সালাত আমাদের দেশে যে সময়ে পড়া হয় সে সময়ে আদায় করার ভিতরই অধিক সতর্কতা। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 789
আসসালামু আলাইকুম। কিছুদিন আগে আমার বাবা ইন্তেকাল করেছেন। এখন প্রতিবেশিরা কেউ কেউ আমার মাকে নিম্মোক্ত জিনিসগুলো করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন বারবার। ১। চল্লিশ দিন পর্যন্ত ঘর থেকে বের হওয়া যাবেনা। ২। প্রথম কিছুদিন নাকের ফুল পড়া যাবেনা ৩। চল্লিশ দিন পর্যন্ত হাতের চুড়ি পড়া যাবেনা। ৪। চল্লিশা পালন সম্পর্কে আগ্রহ এবং পরামর্শ দান। কি করা উচিত আমাদের শরীয়তের দৃষ্টিকোন থেকে ব্যাখা এবং মাসলা দিবেন অনুগ্রহ করে। ধন্যবাদ।
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কোন মহিলার স্বামী মারা গেলে এমহিলার জন্য ৪মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করা ফরজ। এই সমসয়ে সে অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে যেতে পারবে না। সাজসজ্জা তথা সুন্দর পোশাক পরা, অলংকার পরা ও সুগন্ধি ব্যবহার পরিত্যাগ করবে। আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলেন, তোমাদের মধ্যে থেকে যারা মারা যায় আর স্ত্রী জীবিত থাকে এই অবস্থায় ঐ স্ত্রীরা নিজেদেরকে চারমাস দশদিন আটকে রাখবে। وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا {البقرة: 234 তোমাদের মধ্যে থেকে যারা মারা যায় আর স্ত্রী জীবিত থাকে এই অবস্থায় ঐ স্ত্রীরা নিজেদেরকে চারমাস দশদিন আটকে রাখবে। সুরা বাকারাহ, আয়াত ২৩৪। অবশ্য মহিলা যদি গর্ভবতী হয় তাহলে তার ইদ্দত হলো বাচ্চা প্রসব হওয়া পর্যন্ত। সূরা ত্বলাক, আয়াত নং ৪। আপনার আম্মার জন্য শরীয়তের দৃষ্টিতে এগুলো করা আবশ্যক। ৪০ দিন হয় ১৩০ দিন ইদ্দত পালন করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 788
Can my wife lives with her parents with my permission?
01 Jan 2026

হ্যা, আপনার স্ত্রী আপনার অনুমতিতে তার পিতামাতার সাথে বসবাস করতে পারবেন।

প্রশ্নঃ 787
ইচ্ছা করে কেউ স্ত্রীর সহবাস করে তার রোযা ভেঙে যায়। তবে সে যদি না যেনে এই কাজ করে তাহলে কি তার রোযা ভেঙে যাবে? তবে সে যদি এ বিষয় জানার পর আল্লাহর কাছ নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চায়।
01 Jan 2026

একজন রোজাদারের উচিৎ রোজা সম্পর্কীত মাসআলাসমূহ ভালভাবে জেনে নেয়া। অধিকাংশ আলেমের মতে সহবাস করলে রোজা ভঙ্গ হবে। এটা যে ব্যক্তি জানে না, যে যদি সহবাস করে, তাহলে তার রোজা ভঙ্গ হবে না । কাযা ও কাফফারা কোন কিছু ওয়াজিব হবে না। কোন কোন আলেম বলেছেন. কাজা ও কাফফারা ওয়াজিব হবে। তবে যদি জানে যে সহবাস করলে রোজা ভঙ্গ হয় কিন্তু কাফফারা ওয়াজিব এটা না জানে। তাহলে কাযা ও কাফফারা দুটোই ওয়াজিব হবে। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন, মারকাযুল ফাতাওয়া, ফাতাওয়া নং ১২৫৭৬৭ ও ২৪০৩২। আল্লাহ ভাল জানেন। আর ভুল করে ক্ষমা চাইলে অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করবেন।

প্রশ্নঃ 786
নারীদের কপালে টিপ পড়া কি বৈধ? টিপ কি হিন্দুদের সিঁদুর বা ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে সম্পৃক্ত? টিপ নাকি ইব্রাহীম (আ) এর সময়ে কিছু ভ্রষ্টা নারী থেকে এসেছে? বর্তমানে দুই ধরনের টিপ রয়েছে। ১.বড় আকৃতির যা কপালের মাঝখানে পড়া হয়। ২.ছোট আকৃতির যা দুই ভ্রুর মাঝখানে পড়া হয়। কোনটা বৈধ বা অবৈধ? দলীলসহ বিস্তারিত জানতে চাই।
01 Jan 2026

এই ধরনের একটি প্রশ্ন সম্পর্কে স্যার বেচেঁ থাক কালীন আমি স্যারের সাথে আলোচনা করেছিলাম। তিনি যা বলেছেন তা আমি একজনকে লিখে জানিয়ে ছিলাম। সেই লেখাটি এখন আমি আপনার জন্য দিয়ে দিলাম। তিনি বলেছিলেন, সিদুর হিন্দুদের ধর্মের অংশ। টিপা তেমন নয়। তবে এটা ইসলামী সাজ-সজ্জার অন্তর্ভূক্ত নয়। যেহেতু টিপ সিদুরের মত মনে হয় তাই অনেক আলেম এটাকে হারাম বলেছেন। তবে এটা হারাম নয় বলেই মনে হয়। তারপরও মুসলিম মেয়েদের টিপ না পরাই ভাল । তিনি আরো বলেছিলেন, এটা ভারতীয় সংস্কৃতির অংশ। মুসলিম সংস্কৃতির অংশ নয়। আমি মনে করি, মুসলিম মেয়েদের টিপ পরিহার করা একান্ত আবশ্যক। কোন দীনদার মহিলাকে আমি টিপ পরতে শুনিনি । টিপ ইব্রাহীম আ. এর সময়ে কিছু ভ্রষ্ট নারী থেকে এসেছে এই সম্পর্কে স্যার রহ. বলেছিলেন, এটা বানোয়াট কথা। সব ধরনের টিপ সম্পর্কে একই কথা।

প্রশ্নঃ 785
বাসাবাড়ি মর্ডগেজ দেয়া নেয়া সম্পর্কে ইসলামের আলোকে বিস্তারিত জানতে চাই।
01 Jan 2026

যে কোন বন্ধকের ক্ষেত্রে ইসলামী নিয়ম হলো বন্ধক দেয়া জিনিসের দ্বারা বন্ধ গ্রহীতা কোন ধরণের উপকার নিতে পারবে না। যদি উপকার নেয় তাহলে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অর্থাৎ যদি কেউ ২০০০ হাজার টাকার বিনিময়ে কারো কাছে বাড়ি বন্ধক দেয় তাহলে বন্ধক গ্রহীতার জন্য জায়েজ নেই সেই ঘরে থাকা বা ভাড়া দেয়া। তবে যদি থাকা বা ভাড়া দেয়ার বিনিময়ে প্রতিমাসে কিছু টাকা কাটা যায়, যেমন প্রতিমাসে দুই হাজার টাকা কাটা যাবে এমন চুক্তি হলো, তাহলে থাকা বা ভাড়া দেয়া জায়েজ হবে। আমাদের দেশে সাধারণত যেটা হয় অর্থা বন্ধক গ্রহীতা বন্ধকী সম্পত্তি ভোগ করে আর এর বিনিময় কোন কিছু দেয় না, যখন বন্ধকদাতা তার টাকা ফেরৎ দেয় তখন বন্ধকী সম্পত্তি দিয়ে দেয়, এটা জায়েজ নেই। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 784
কোন ইসলামিক টিভি চ্যানেলে যাকাত দেওয়া যাবে কি? পিস টিভি তো দাবি করেছে অনেক বিজ্ঞ মুফতি ফতোয়া দিয়েছেন যে দেওয়া যাবে। এটা যাকাতের আটটি খাতের কোন খাতের মধ্যে পড়বে? বিষয়টি কুরআন-সুন্নাহর দলীল এবং সমকালীন ইসলামিক স্কুলারদের মতামত সহ জানতে চাই।
01 Jan 2026

না, যাকাত কোন ইসলামিক টেলিভিশনে দেওয়া যাবে না। কোন প্রতিষ্ঠান যেমন, মসজিদ. মাদ্রাসা বা কোন ধরণের ইসলামী প্রতিষ্ঠানেও দেওয়া যাবে না। উল্রেখ্য মাদ্রাসাসমূহ যাকাতের টাক সংগ্রহ করে মাদ্রসার গরীব ছাত্রদেরকে দিয়ে থাকে।যাকাত পাবে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান নয়। এটাই আলেম, ইমাম, মুহাদ্দিস এবং মুফাসসিরগণের অভিমত। তবে আটটি খাতের একটি খাত وفي سبيب لله দ্বারা পরবর্তী যগের দুয়েক জন আলেম বলেছেন, যে কোন কল্যানকর কাজে যাকাত দেয়া যাবে। তাদের এই কথা সম্পর্কে বিখ্যাত ফকহী ও মুফতী শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বায রহ. বলেন,الصحيح أن المراد بقوله سبحانه: ﴿ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ ﴾ عند أهل العلم هم الغزاة والجهاد في سبيل الله، فلا تصرف في المساجد ولا المدارس عند جمهور أهل العلم. وذهب بعض المتأخرين إلى جواز صرفها في المشاريع الخيرية، ولكنه قول مرجوح؛ لأنه يخالف ما دلت عليه الأدلة، ويخالف ما مضى علمه أهل العلم. مجموع فتاوى ابن باز(14/297) সহীহ কথা হলো وفي سبيب لله দ্বারা আলেমদের নিকট উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী। মসজিদ-মাদরাসায় অধিকাংশ আলেমমের নিকট যকাত দেয় জায়েজ হবে না। পরববর্তী যুগের কতিপয় আলেম মনে করেন কল্যানকর যে কোন কাজে যাকাত দেয়া যায়। কিন্তু তাদের কথা অগ্রহনযোগ্য. দুর্বল। কেননা এই কথা (কুরআন ও হাদীসের) দলীল যা বলে তার বিপরীত। এবং আলেমগণ যে পথে চলেছেন তারও বিপরীত পথ। মাজমাউ ফাতাওয়া ইবনে বাজ, ১৪/২৯৭। আশা করি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 783
পরিবারের অনুমতি ছাড়া ২ জনের ইচ্ছায় বিয়ে কি কবুল হয়?
01 Jan 2026

আপনার প্রশ্ন অস্পষ্ট। স্পষ্ট করে লিখুন কি জানতে চান। পিতা-মাতার অনুমতি ব্যতিত বিবাহরে বিষয়ে জানতে আমাদের দেয়া ৫১ নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 782
আপন ভাইকে ধার দেওয়া টাকার যাকাত দিতে হবে কি? (যা পাওয়া যেতে পারে নাও পারে)
01 Jan 2026

ধার দেওয়া টাক যা পাওয়া যেতে পারে আবার নাও যেতে পারে এক্ষেত্রে যাকত দিতে হবে কি না বা দিলেও কত দিনের দিতে হবে, এই নিয়ে আলেম ও ফকীহগণের মাঝে মতবিরোধ আছে। আল্লামা ইবনে কুদামা (প্রখ্যাত হাম্বলী ফকীহ) রহ. আল-মুগনী কিতাবের মধ্যে এই প্রশ্নের উত্তরে যা বলেছেন তার সার সংক্ষেপ হলো, এই ক্ষেত্রে দুটি মত। ১। দিতে হবে না। (অর্থাৎ এমন টাক যা পাওয়া যেতে পারে আবার নাও পাওয়া যেতে পারে সেই টাকার যাকাত দেয়া লাগবে না। তবে পাওয়া যাওয়ার পর এক বছর অতিবাহিত হলে সাধারণ নিয়মে যাকাত দিতে হবে। ) ক্বাতাদাহ, আবু ছাওর, ইসহাক রাহ. এবং আহলে ইরাক উক্ত মত পোষন করেন। ২। টাকা হাতে পাওয়ার পর বিগত প্রতিটি বছরের যাকাত দিতে হবে। (অর্থাৎ যদি ধার নেওয়া ব্যক্তির কাছে ৫ বছর টাকা থাকার পর ধার দেওয়া ব্যক্তিকে ধারের টাকা পরিষোধ করে তাহলে ৫ বছরের যাকাতই ধার দেওয়া ব্যক্তিকে পরিষোধ করতে হবে। ) সুফিয়ান ছাওরী ও আবু উবাইদ উক্ত মত পোষন করেন। দ্বিতীয় মতটি উল্লেখ করার পর তিনি আরো একটি মতের কথা উল্লেখ করেছেন। সেটা হলো টাকা হাতে পাওয়ার পর এক বছরের যাকাত দিতে হবে। উমার ইবনে আব্দুল আযীয, ইমাম মালেক, হাসান বসরী, আওযায়ীসহ অনেক ফকীহ উক্ত মত পোষন করেছেন। আল-মুগনী, ইবেন কুদামা, ২/৬৩৭। আরবী পাঠ এই, الضرب الثاني : أن يكون على معسر أو جاحد أو مماطل به فهذا هل تجب فيه الزكاة ؟ على روايتين احداهما لا تجب وهو قول قتادة و اسحاق و أبي ثور وأهل العراق لأنه غير مقدور على الانتفاع به أشبه مال المكاتب والرواية الثانية يزكيه اذا قبضه لما مضى وهو قول الثوري و أبي عبيد لما روي عن علي رضي الله عنه في الدين المظنون قال إن كان صادقا فليزكه اذا قبضه لما مضى وروي نحوه عن ابن عباس رواهما أبو عبيد ولأنه مملوك يجوز التصرف فيه فوجبت زكاته لما مضى كالدين على المليء و للشافعي قولان كالروايتين وعن عمر بن عبد العزيز و الحسن و الليث و الأوزاعي و مالك يزكيه اذا قبضه لعام واحد শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বায ওউক্ত মত পোষন করেছেন। ফাতওয়ায়ে ইবনে বায, ইন্টারনেটে দেখুন এবং শুনুন هل تجوز الزكاة في المال الدين الذي ليس عند صاحبه؟ এই প্রশ্নে জবাব। আরো জানতে দেখুন, ইসলাম ওয়েব, ফাতাওয়া নং ১১৯১৯৪। আমাদের দেশে সাধারণত প্রথম মতটি মানা হয়। তবে দ্বিতীয় মতটি মানার ভিতরেই সাবধানতা। তবে আমার পরামর্শ হলো আপনি তৃতীয় মতটি মানবেন। টাকা হাতে পাওয়ার পর এক বছরের যাকাত দিবেন। নিজের ভাই কিংবা অন্য কেউ যাকেই আপনি টাকা ধার দেন একই বিধান। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 781
আসসালামুয়ালাইকুম, আমার কয়েকটি প্রশ্ন আছে। তা নিম্নরূপ ; ১। কোন সন্তান যদি বাবা মার পকেট থেকে টাকা চুরি করে ওই টাকা নিজে খরচ করে বা খায় তাহলে কি তা হারাম হবে? ২। বর্তমানে সুদ্মুক্ত লেনদেন করার জন্য কোন ব্যাংক আছে ঢাকা তে? ৩। গোসল ফরজ অবস্থায় ফরজ সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গেলে গোসল না করে নামাজ পড়া যাবে কি? ফরজ গোসল কেউ যদি অবহেলা করে দেরি করে করে তাহলে কি গুনাহ হবে?এই অবস্থায় মারা গেলে তার কি পরিনতি হবে?হস্তমৈথুন কি ইসলামে জায়েজ আছে? ৪। কুরআনের বাংলা ভাষায় সবচেয়ে ভাল তাফসীরের নাম কি? কুরআনের যেমন তাফসীর আছে হাদিসেরও কি এমন তাফসীর আছে? বাংলা ভাষায়? তার নাম কি? নেটে কি pdf পাওয়া যায়? আপনাদের নিজস্ব ছাত্র-ছাত্রী বাদে বাহিরের কেউ কি আপনাদের আসসুন্নাহট্রাস্টে এলেম শিখতে পারবে? তার উপায় কি? ৫। প্রস্রাব-পায়খানা থেকে পবিত্র হওয়ার সঠিক পদ্ধতি কি? ৬। কোন কাপড়ে যদি বীর্য লেগে শুকিয়ে যায় ওই কাপড় পড়ে নামাজ পড়া যাবে কি? কিভাবে? ৭। একাকী থাকলে ভয় বা শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকার জন্য কি দোয়া পড়তে হবে? ৮। বাসা থেকে কতদূর ভ্রমন করলে মুসাফির হবে? ৯। কুরআনে আল্লাহর পথে দান বলতে কি বুঝানো হয়েছে? ১০। দোয়া কবুলের সময় কোনগুলো?এমন কেউ কি আছে যার দোয়া শতভাগ কবুল হয়? ১১। অনেক সময় ক্লাস চলাকালীন সময়ে বা পরীক্ষা থাকার কারনে জামাতে নামাজ পড়া সম্ভব হয় না । পরবর্তীতে একাকী নামাজ পড়তে হয় । এতে কি গুনাহ হবে? ১২। অনেকে বলেন যেসব কাজ হারাম ওইগুলাই কবিরা গুনাহ । আর কবিরা গুনাহ তাওবা ছাড়া কবুল হয় না । এইটা কি সঠিক?তাওবা করার সঠিক নিয়ম কি? ১৩ । তাখনুর নিচে প্যান্ট পড়া কি কবিরা গুনাহ? নাকি মাকরুহে তাহরিমি? ১৪। চুল কাঁটার কোন সুন্নতি পদ্ধতি আছে কি?
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রথমে বলি ভাই, এক সাথে এত প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয় না। আপনার প্রথম তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিব। বাকীগুলো দুটি দুটি করে আবার করবেন। ১। সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তার যাবতীয় খরচের দায়ভার তার পিতার। এরপরে সন্তানের দেখাশোনা পিতার দায়িত্ব নয়, তবে অনেক সময় কর্তব্য হয়ে দাড়ায়। পিতা যদি তার দায়িত্বে- কর্তব্যে অবহেলা করে তাহলে এমন কিছু করলে আশা করা যায় সমস্যা হবে না। এছাড়া এমন করা ঠিক হবে না। তবে বাবা -মার পকেট থেকে টাকা নেয়া অন্যায় হলেও অন্যের পকেট থেকে নেয়ার মত অন্যায় নয়। ২। ইসলামী ব্যাংগুলোতে আপনি চাইলে সুদ মুক্ত লেনদেন করতে পারবেন। ৩। না. গোসল ফরজ অবস্থায় সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গেলেও গোসল ছাড়া সালাত আদায় করা জায়েজ হবে না। ফরজ গোসল করতে যদি কেউ এমন দেরী করে যে, সালাতের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায় তাহলে তার গুনাহ হবে। এ অবস্থায় মারা গেলে সে সালাত আদায় না করে মারা গেল এই । এর বাইরে আলাদা কোন গুনাহ হবে না। মনে রাখবেন গোসল ফরজ হলে গোসল করতে হয় সালাত বা্ এ জাতীয় ইবাদতের জন্য যেগুলো পবিত্রতা অর্জন ব্যতিত সহীহ হয় না। গোসল করা কোন ইবাদত নয়। গোসল না করা গুনাহ নয়। গুনহ হলো ইবাদত না করা। হস্তমৈথুন জায়েজ নেই, হারাম। তবে অনেক আলেম বলেছেন, ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া থেকে হস্তমৈথুন কম গুনাহ। অন্য প্রশ্নগুলো পূনরায় করুন অথাব ফোন করুন ০১৭৯২১০৮৭৬৮।

প্রশ্নঃ 780
সুরা ফাতিহা না পড়লে নামায হয না (সহীহ বুখারী তাওহীদ প্রকাশনি 1ম খণ্ড 367 পৃঃ হাদিস নং 756) আমার প্রশ্ন জামাতে নামায পড়তে গিয়ে যদি দেখি ইমাম সাহেবের সুরা ফাতিহা তেলওয়াত শেষ তখন কি আমি একা সূরা ফাতিহা পড়ে নিব? অনেকে বলে ইমাম সাহেব পড়লে পিছনে যারা নামায পড়ে তাদের পড়া হয়ে যায় এই কথার কী কোন সহীহ হাদিস আছে? প্রমাণ সহ উত্তর দিবেন দয়া করে
01 Jan 2026

ভাই, এটা অনেক পুরাতন প্রশ্ন। ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়া বিষয়ে ফকীহদের মতামত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া ১৪০ নং প্রশ্নের উত্তর। ইমামের পিছনে সূরা পড়তে হলে কখন পড়তে হবে এই নিয়ে যারা পড়তে বলেন তাদের মাঝেও অনেক মতভেদ আছে। আপনাকে যারা বলেছে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করুন, এই অবস্থায় আপনি কি করবেন। যে সব সালাতে স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় সেসব সালাতে ইমামের পিছনে সূরা ফাতহা পড়তে হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে। হাদীসসহ বিস্তারিত দেখুন, আমদের দেয়া ২৫৯ নং প্রশ্নের উত্তরে। ইমাম পড়লে পিছনে যারা পড়ে তাদের পড়া হয়ে যায় এই মর্মে দুটি হাদীস নিচে আলোচনা করছি: হযরত জাবের রা. বলেন, রাসূলূল্লাহ সা. বলেছেন, مَنْ كَانَ لَهُ إِمَامٌ، فَقِرَاءَتُهُ لَهُ قِرَاءَةٌ অর্থযা: র ইমাম থাকবে ইমামের পড়াই তার পড়া। মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ১৪৬৬৩। হাদীসটিকে শায়খ শুয়াইব আরনাউত (তালীক মুসনাদ আহমাদ) ও শায়খ আলবানী রহ. (ইরওয়াউল গলীল, হাদীস নং ৫০০) হাসান বলেছেন। অপর একটি হাদীসে তাবেয়ী নাফে বলেন, عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ إِذَا سُئِلَ: هَلْ يَقْرَأُ أَحَدٌ خَلْفَ الإِمَامِ؟ يقول: إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ خَلْفَ الإِمَامِ فَحَسْبُهُ قِرَاءَةُ الإِمَامِ، وَإِذَا صَلَّى وَحْدَهُ فَلْيَقْرَأْ، قَالَ: وَكَانَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ لاَ يَقْرَأُ خَلْفَ الإِمَامِহযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. এর কাছে যখন জানতে চাওয়া হতো ইমামের পিছনে কি মুক্তাদি পড়বে? তখন তিনি বলতেন, যখন তোমাদের কেউ ইমামের পিছনে সালাত আদায় করবে তখন ইমামের পড়াই তার জন্য যথেষ্ট। আর যখন একাকী সালাত আদায় করবে তখন পড়বে। নাফে বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমার ইমামের পিছনে পড়তেন না। মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হাদীস নং ১৯২। হাদীসটি সহীহ। ইমাম মালেক রহ. অবশ্য বলেছেন, এটা স্বশব্দে কুরআন পড়া সালাতে ক্ষেত্রে প্রযোয্য। হাদীসে স্পষ্টভাবে এটা উল্লেখ নেই। স্যার রহ. স্বশব্দে পড়া হয় এমন সালাতে সূরা ফাতিহ না পড়া এবং নি:শব্দে পড়া হয় এমন সালাত সূরা ফাতিহা পড়ার কথা বলতেন।সাহাবী আবু হুরায়রা রা. বিষয়টি এভাবেই বলেছেন, عن أبي هريرة : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم انصرف من صلاة جهر فيها بالقراءة فقال هل قرأ معي أحد منكم آنفا ؟ فقال رجل نعم يا رسول الله قال إني أقول مالي أنازع القرآن ؟ ! قال فانتهى الناس عن القراءة مع رسول الله صلى الله عليه و سلم فيما جهر فيه رسول الله صلى الله عليه و سلم من الصلوات بالقراءة حين سمعوا ذلك من رسول الله صلى الله عليه و سلم অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, একদা স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামায শেষ করে রাসূল (সা.) ফিরে তাকিয়ে বললেন, তোমাদের কেউ কি একটু আগে আমার সাথে পড়েছে? তখন একজন লোক বললেন, হ্যাঁঁ, ইয়া রাসূলূল্লাহ। এরপর রাসূল (সা.) বললেন, আমার সাথে কুরআন নিয়ে ঝগড়া করা হচ্ছে কেন? আবু হুরায়রা বলেন, এরপর থেকে যে সব নামাযে রাসূল (সা.) স্বশব্দে কুরআন পড়তেন তখন মানুষেরা পড়া থেকে বিরত থাকতেন। তিরমিযী: হাদিস নং ৩১২। ইমাম তিরমিযী (র.) বলেছেন, হাদীসটি হাসান আর শায়খ আলবানী বলেছেন, সহীহ। তবে কেউ যদি সূরা ফাতিহা ইমামের পিছনে পড়তে চা্ই তার অনুমতি আছে। আদেশ নয়। অন্য একটি হাদীস থেকে তা আমরা দেখতে পাই। عن محمد بن أبي عائشة عن رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه و سلم قال قال النبي صلى الله عليه و سلم : لعلكم تقرءون والإمام يقرأ مرتين أو ثلاثا قالوا يا رسول الله انا لنفعل قال فلا تفعلوا الا ان يقرأ أحدكم بفاتحة الكتاب অর্থ: মুহাম্মাদ ইবনে আয়েশা একজন সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সা.) একদা বললেন, সম্ভবত তোমরা ইমামের পড়া অবস্থায ইমামের সাথে সূরা পড়, তিনি দুই তিনবার এই কথা বললেন। তখন সাহাবীর বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ আমরা এমন করি। তখন তিনি বললেন, তোমরা এমন করবে না, তবে তোমাদের যে কেউ সূরা ফাতিহা পড়তে পারো। মুসনাদে আহমাদ: হাদীস নং ১৮০৯৫ ও আস-সুনানুল কুবরা: হাদীস নং ৩০৩৯। শুয়াইব আরনাউত বলেছেন, হাদীসের সনদ সহীহ, ইমাম বায়হাক্কী বলেছেন, সনদটি ভাল, শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, هذا إسناد جيد এটা ভাল সনদ। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 779
আসসালামু আলা ওয়ালায়কুম. আমি জানি আল্লাহতায়ালা শিরক কখনও মাফ করবেন না…। আর এটাও জানি যে যারা আল্লাহতায়ালা ব্যতীত অন্য কারোর এবাদাত করবেন তাদের আল্লাহতায়ালা জাহান্নাম এ নিক্ষেপ করবেন… এখন আমার প্রশ্ন হল যাদের কাছে আল্লাহতায়ালার তওহীদবাদের দাওয়াত পৌছবেনা তাদের কি হবে?
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রকৃতিগতভাবেই প্রতিটি মানুষের অন্তরে এটা আছে যে, সৃষ্টিকর্তা একজন আছেন। যিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। আর আল্লাহ তায়ালা সাধ্যের অতিরিক্ত কোন কিছু মানুষের উপর চাপান নি। এখন সত্যই যদি কারো কাছে ইসলামের দাওয়াত না পৌছায় অবশ্যই আল্লাহ তার প্রতি জুলুম করবেন না। এই বিষয়টি আল্লাহর উপরই ছেড়ে দিই। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফীক দিন। আমীন।

প্রশ্নঃ 778
মুহতারামঃ আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্নঃ ১. মাঝে মাঝে facebook এ রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর জুতার ছবি দেখা যায় (post কারির দাবি, সত্যি কিনা যানি না) post কারি আবার বলে থাকেন আমিন লিখুন। আমার প্রশ্ন হল রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর জুতা কি এখনো কোথাও সংরক্ষিত আছে? আর যদি থাকে তার ভক্তি করা যাবে কি? ২. বিভিন্ন সিরাত গ্রন্থে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর যে বংশ পরিচয় আদম (আ) পরযন্ত দেয়া হয় তা কতটুকু পর্যন্ত সহিহ? ৩. তাহাজ্জুত বা চাস্তের সালাতে (যা সাধারনত একা একা পরা হয়) কেরাত জোড়ে না আস্তে পরা উত্তম। যাযাকুমুল্লাহ
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালম। ছবিগুলোতে জুতার মডেল দেখে মনে হয় না এটা রাসূলুল্লাহ সা. এর জুতা। আল্লাহ ভাল জানেন। কোন বস্তুর বিষয়ে যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এটা রাসূলুল্লাহ সা. এর ব্যবহার্য কোন কিছু তাহলে সেটার প্রতি সম্মান জানানো উচিৎ। ভক্তি নয়, ভক্তি হলো তো পূজার আরেক নাম। ২। এটার সত্য মিথ্যা জানার কোন উপায় নেই। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. এই ব্যাপারে কিছু বলেন নি। ইমাম মালেক রহ. এই সব বর্ণনা করাকে অপছন্দ করতেন। তবে আনেকেই বর্ণনা করেছেন। ৩। যে কোন ভাবে পড়তে পারেন। তাহাজ্জুদে নীরবে -স্বরবে দুই ধরনের কথাই হাদীসে আছে।

প্রশ্নঃ 777
আসাালামু আলাইকুম। যদি স্ত্রীর সহবাস ছাড়া রোযা খাকা অবস্তায় বীর্যপাত হয় সেইটা যদি ইচ্ছা কৃত ভাবে হয় তাহলে কি রোযার কোন ক্ষতি হয়? প্রমাণ সহ বলবেন দয়া করে।
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রথমে আপনাকে বলি স্ত্রী সহবাস বাদে যে কোন ভাবে ইচ্ছাকৃত বীর্জ বের করা সব সময় হারাম। সুতরাং এর থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি কেউ রোজা রেখে ইচ্ছাকৃত এমন করে তাহলে তার রোজা ভেঙ্গে যাবে। কাজা ও কাফফারা দুইটাই ওয়াজিব হবে। স্ত্রী সহবাস আর ইচ্ছাকৃত বের করার একই হুকুম। নিচের হাদীসটি দেখনু: هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ، الْحَسَنَةُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعمِائَة ضِعْفٍ، قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ: إِلَّا الصَّوْمَ، فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَطَعَامَهُ مِنْ أَجْلِي অর্থ: আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, মানুষের প্রতিটি আমলের সওয়াব ১০ থেকে ৭০০গুন বৃদ্ধি করা হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তবে রেজা ভিন্ন, কেননা তা আমার জন্য আর আমি তার প্রতিদান দেব, রেজাদার আমার জ্ন্যই খাবার ও শাহওয়াতকে ( যৌন উত্তেজিত হয়ে সহবাস বা এ জাতীয় কিছু করা ) বর্জন করেছে। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১১৫১। আর ইচ্ছাকৃত বীর্জপাত শাহওয়াত বর্জন নয় । সুতরাং তার রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। কাজা ও কাফফারা্ উভয়টিই ওয়াজিব হবে। আরেকটি কথা বলি, যেখানে দলীল দরকার আমরা সেখানে দলীল দিই। তবে যেখানে প্রয়োজন নেই সেখানে দেই না। এটা এমন একটি বিষয় যেখানে দলীলের দরকার নেই। আপনি বলেছেন তাই দিলাম।

প্রশ্নঃ 776
Assalammualikum, 01. What I understand about Zakat : In the Islamic Shariah, if a person possesses 612.35 grams of silver or 87.479 grams of gold or any currency that equals the value of this amount of gold or silver, and this wealth remains in his possession for a complete Lunar year then it will be Waajib to pay Zakah on it. However there is a huge difference between the amount of 612 grams of gold 87 grams of silver, which should be taken into consideration for giving zakat? 02. I have read some of your answers about Fitra, I have a very quick question, and if I am;giving Fitra in amount of money it would be equivalent to 3 kg of dates, right? And finally do I need to pay my servants Fitra too? Zajakallah
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, ইসলামী শরীয়ত যাকাতের নিসাব নির্ধারন করেছে যে. যদি শুধূ স্বর্ণ থাকে তাহলে সাড়ে সাত ভরি আর যদি শুধু রোপা থাকে তাহলে সাড়ে বায়ান্ন ভরি। আর যদি মুদ্রা বা অন্য কিছু থাকে তাহলে এই সোনা-রোপার মধ্যে যেটার মূল্য দ্বারা নিসাব ধরলে গরীবের জন্য সহায়ক হবে সেটার মূল্য ধরে ম্রদার নিসাব নির্ধারণ করতে হবে। এটা ঠিক যে, সোনা ও রোপার মাঝে ব্যবধান বিরাট। কিন্তু শরীয়তপ্রণেতা তো আমাদের মাঝে নেই সুতরাং এখন বিষয়টি এমনই থাকবে। আর তখন হয়তো দুটি নিসাবই মূল্যের দিক দিয়ে কাছাকাছি ছিল। হ্যা, টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করলেও হবে। এই বিষয়েও একটি প্রশ্নের উত্তর আমরা দিয়েছি। আপনি ০৭৩৯ নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন। আর নিজের কর্মচারীকে ফিৎরা দেয়া যাবে।

প্রশ্নঃ 775
স্যার (র) এর লেকচারে শুনেছিলাম জিহাদ ফরয হওয়ার জন্য দুটি শর্ত। ১। রাষ্ট্রের অধীনে হওয়া ২। রাষ্ট্র প্রধানের অনুমতি থাকা। বিষয়টি কুরআন-সুন্নাহর দলীলসহ বিস্তারিত জানতে চাই।
01 Jan 2026

ভাই, আপনি স্যার রহ. এর লেখা ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ বইটি পড়ুন, তারপও যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে করবেন।

প্রশ্নঃ 774
আমার জানা মতে একজন বালক এর জন্য ১০ বছর থেকে রোজা ফরয হয়। উপরের তত্ত্ব-মতে আমার ৬ বছরের রোজা কাযা রয়েছে। এখন আমি সেই ৬ বছরের রোজা কিভাবে আদায় করবো?
01 Jan 2026

১০ বছর থেকে নয়, যখন আপনি বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) হয়েছেন তখন থেকে আপনার উপর সিয়াম ফরজ। ছেলেরা সাধারনত ১২-১৪ বছরের মধ্যে বালেগ হয়্। আপনার যে কয় দিন রোজা রাখেন নি সে কয় দিন রোজা রেখে দিবেন। রমজান বাদে বছরের যে কোন সময় রাখলেই হবে। এভাবে হিসাব করে আপনি বিগত দিনের সিয়াম পালন করবেন।

প্রশ্নঃ 772
নামায শেষে এক সাথে মোনাজাত করা কি বেদাত? নামাযের সময় কোথায় হাত বাধাসব চেয়ে বেশিউত্তম? সহীহ হাদিসের প্রমাণ সহ উত্তরটি দিবেন দয়া করে।
01 Jan 2026

মোনাজাতের বিষয়ে আমাদের দেয়া ৭৪ নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন। নামাযের সময় হাত বাধার বিষয়ে কোন সহীহ হাদীস নেই। নাভির নিচে বা উপরে বাধতে পারেন।সাহাবী ও তাবেঈরা কোথায় বাঁধতেন তা ইমাম তিরমিযী (রহ.) নিন্মেক্ত বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়। তিনি বলেন, وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ يَرَوْنَ أَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ يَمِينَهُ عَلَى شِمَالِهِ فِى الصَّلاَةِ. وَرَأَى بَعْضُهُمْ أَنْ يَضَعَهُمَا فَوْقَ السُّرَّةِ. وَرَأَى بَعْضُهُمْ أَنْ يَضَعَهُمَا تَحْتَ السُّرَّةِ. وَكُلُّ ذَلِكَ وَاسِعٌ عِنْدَهُمْ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী, তাবেয়ী ও পরবর্তী আহলে ইলমের কর্মধারা এমনই । অর্থাৎ তাঁরা নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখাকে নামাযের নিয়ম মনে করতেন। তাঁদের কতক নাভির উপরে এবং কতক নাভির নীচে রাখাকে উত্তম মনে করতেন। তবে উভয় পদ্ধতিই তাঁদের সকলের মতে বৈধ ছিল। (জামে তিরমিযী ২/৩৩, হাদীস-২৫২- এর আলোচনায়) সাহাবী ও তাবেয়ীগণের আমল থেকে বোঝা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো নাভির নীচে হাত বাঁধতেন, কখনো নাভির উপরে। কিন্তু বুকে হাত বাঁধার কথা কোনো সহীহ হাদীসে নেই এবং তা কোন সাহাবী বা তাবেয়ীর আমল দ্বারাও প্রমাণিত নয়। বিস্তারিত জানতে পড়ুন ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত সালাতে হাত বাধার বিধান বইটি।

প্রশ্নঃ 773
আমার জানা মতে একজন বালক এর জন্য ১০ বছর থেকে রোজা ফরয হয়। উপরের তত্ত্ব-মতে আমার ৬ বছরের রোজা কাযা রয়েছে। এখন আমি সেই ৬ বছরের রোজা কিভাবে আদায় করবো?
01 Jan 2026

১০ বছর থেকে নয়, যখন আপনি বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) হয়েছেন তখন থেকে আপনার উপর সিয়াম ফরজ। ছেলেরা সাধারনত ১২-১৪ বছরের মধ্যে বালেগ হয়্। আপনার যে কয় দিন রোজা রাখেন নি সে কয় দিন রোজা রেখে দিবেন। রমজান বাদে বছরের যে কোন সময় রাখলেই হবে। এভাবে হিসাব করে আপনি বিগত দিনের সিয়াম পালন করবেন।

প্রশ্নঃ 771
নামাযের মধ্যে দুই রাকাত পর ও শেষ বৈঠকে আঙুল ইশারা কি একবার করতে হবে না কি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ইশারা করতে হবে? দলিল সহ প্রমাণ দিবেন
01 Jan 2026

মোনাজাতের বিষয়ে আমাদের দেয়া ৬৪ নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন। নামাযের সময় হাত বাধার বিষয়ে কোন সহীহ হাদীস নেই। নাভির নিচে বা উপরে বাধতে পারেন।সাহাবী ও তাবেঈরা কোথায় বাঁধতেন তা ইমাম তিরমিযী (রহ.) নিন্মেক্ত বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়। তিনি বলেন, وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ يَرَوْنَ أَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ يَمِينَهُ عَلَى شِمَالِهِ فِى الصَّلاَةِ. وَرَأَى بَعْضُهُمْ أَنْ يَضَعَهُمَا فَوْقَ السُّرَّةِ. وَرَأَى بَعْضُهُمْ أَنْ يَضَعَهُمَا تَحْتَ السُّرَّةِ. وَكُلُّ ذَلِكَ وَاسِعٌ عِنْدَهُمْ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী, তাবেয়ী ও পরবর্তী আহলে ইলমের কর্মধারা এমনই । অর্থাৎ তাঁরা নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখাকে নামাযের নিয়ম মনে করতেন। তাঁদের কতক নাভির উপরে এবং কতক নাভির নীচে রাখাকে উত্তম মনে করতেন। তবে উভয় পদ্ধতিই তাঁদের সকলের মতে বৈধ ছিল। (জামে তিরমিযী ২/৩৩, হাদীস-২৫২- এর আলোচনায়) সাহাবী ও তাবেয়ীগণের আমল থেকে বোঝা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো নাভির নীচে হাত বাঁধতেন, কখনো নাভির উপরে। কিন্তু বুকে হাত বাঁধার কথা কোনো সহীহ হাদীসে নেই এবং তা কোন সাহাবী বা তাবেয়ীর আমল দ্বারাও প্রমাণিত নয়। বিস্তারিত জানতে পড়ুন ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ.রচিত সালাতে হাত বাধার বিধান বইটি।

প্রশ্নঃ 770
ফিতরা কিভাবে দিতে হবে? টাকা দিয়ে নাকি খাদ্য দিয়ে?
01 Jan 2026

খাদ্য দিয়ে দিলে সকল আলেমের মতে ফিতরা আদায় হয়ে যাবে। তবে অর্থ দ্বারা যাকাতুল ফিতর আদায় করার ব্যাপারে ফকীহদের মাঝে দুটি মত বিদ্যমান। হবে এবং হবে না। ইমাম আবু হানিফা, সুফিয়ান সাওরী, উমার ইবনে আব্দুল আযীয, ইবনে তাইমিয়া রহ.সহ প্রমুখ আলেমের নিকট অর্থ দিয়ে আদায় করলে জায়েজ হবে বরং ক্ষেত্রে বিশেষ এটাই উত্তম হবে। পক্ষান্তরে ইমাম মালেক, আহমাদ, শাফী রহ.সহ অধিকাংশ আলেম বলেছন খাদ্য ছাড়া অন্য কোন কিছু দিয়ে আদায় করলে হবে না। যারা বলেন খাদ্য দিয়েই ফিতরা দিতে হবে তাদের দলীল: ইবনে উমার রা. বলেন, রা. فرض رسول الله صلى الله عليه و سلم زكاة الفطر صاعا من تمر أو صاعا من شعير على العبد والحر والذكر والأنثى والصغير والكبير من المسلمين وأمر بها أن تؤدى قبل خروج الناس إلى الصلاة অর্থ: রাসূলুল্লা সা. সদকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন এক সা. (সাড়ে তিন কেজির মত ) খেজুর অথবা জব। স্বাধীণ, গোলাম, নারী, পুরুষ, ছোট-বড় প্রতিটি মুসলিমের উপর। এবং তিনি ঈদের সালাতে বের হওয়ার পূর্বেই ফিৎরা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪৩২। এছাড়া অনেক সহীহ হাদীসে গম, কিসমিস, আখরোট ও খাবারের কথা উল্লেখ আছে। যারা বলেন অর্থ তথা টাকা-পয়সা দিয়ে আদায় করলেও জায়েজ হবে তাদের দলীল: সাহাবী মুআয রা. ইয়ামানবাসীদের বলেন, ائتُوني بعَرْضٍ : ثيابٍ خَميصٍ ، أَو لَبيسٍ في الصدقة ، مكان الشعير والذُّرة ، أَهوَنُ عليكم ، وَخَيْرٌ لأصحاب رسولِ الله -صلى الله عليه وسلم- بالمدينة অর্থ: তোমরা জব এবং ভুট্টার পরবর্তে পোশাক সদকা (যাকাত কিংবা ফিতরা) দাও। কেননা তা তোমাদের জন্য সহজ এবং রাসূলুল্লাহ সা. এর সাহবীদের জন্য কল্যানকর। সহীহ বুখারী, বা-বুল আরযি ফিয যাকাত, ২/১১৬। এছাড়া উমার ইবনে আবদুল আযীয, হাসান বসরী রহ. ফিতরার ক্ষেত্রে মূল্য নিতে বলেছেন বলে বর্ণিত আছে। দেখুন, মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ১০৪৬৯-১০৪৭৩। ১০৪৭০ নং হাদীসটির আরবী পাঠ নিম্নরুপ: حدثنا وكيع ، عن قرة ، قال : جاءنا كتاب عمر بن عبد العزيز في صدقة الفطر : نصف صاع عن كل إنسان ، أو قيمته نصف درهم এ বিষয়ে আরো জানতে দেখুন, আলফিকহুল ইসলাম্যিু ও আদিল্লাতুহু ৩/ ৩৮৩,৩৮৫। বর্তমানে মূল্য দ্বার ফিতরা জায়েজ হওয়া মতটাই বেশী যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়। ঈদের দিন এখন মানুষের ময়দা বা কিসমিস বেশী প্রয়োজন হয় না । বেশী প্রয়োজন হয় চাল, গোশাত, সেমাই-চিন, জামা কাপড় ইত্যাদি। সহীহ হাদীসে অবশ্য খাবারের কথা বলা হয়েছে সে হিসাবে আপনি চাল দিতে পারেন। এখন যদি আমরা সবাই তাদেরকে চাল বা ময়দা দেই তাহলে গরীবরা অন্য জিনিসগুলো কোথায় পাবে? বিতর্কের সূত্রে যদি কেউ বলে এগুলো বিক্রি করে গোশত, সেমাই-চিনি কিনবে তাহলে এটা সবাই স্বীকার করবেন যে, গরীব মানুষেরা এক্ষেত্রে ন্যায্য মূল্য পাবে না। কারণ এসব ক্ষেত্রে নানা জনের নানান রকম দ্রব্য এক হয়ে মান কমে যায়, যার কারণে মূল্যও কমে যায়।সতরাং সাহাবীদের থেকে যেহেতু খাদ্যের বদলে কাপড় দেয়ার কথা উল্লেখ আছে এবং একদল আলেম মুদ্রা দিলেও জায়েজ হবে বলেছেন সেক্ষেত্রে কেউ যদি মুদ্রা দিয়ে যাকাতুল ফিতরা আদায় করে তাহলে বিতর্কে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমাদের যার যেভাবে ভাল লাগবে আমারা সেভাবে ফিতরা আদায় করবো। তবে সব সময় গরীব মানুষের প্রয়োজনটার দিকে বেশী লক্ষল করবো। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফীক দিন। আমীন

প্রশ্নঃ 769
বেহেশতী জেওর বইটি কতটুকু নির্ভরযোগ্য? ইসলামের প্রাথমিক বিধি-বিধান জানার জন্য বাংলায় লিখিত বা অনূদিত কয়েকটি বইয়ের নাম জানতে চাই।
01 Jan 2026

জ্বী, বেহেশতী জেওর ইসলামের প্রাথমিক জ্ঞান লাভের জন্য পড়া যেতে পারে। ড. স্যার রহ. এমন্ই বলেছেন। স্যারর বই গুলো পড়লেও আপনার অনেক জ্ঞান চলে আসবে।

প্রশ্নঃ 768
যাকাতুল ফিতরের পরিমান কত এবং তা রমযানের কত তারিখ থেকে দেওয়া যায়? কুরআন-সুন্নাহ এবং আয়িম্মায়ে মুজতাহিদদের মতামত সহ বিস্তারিত জানতে চাই।
01 Jan 2026

সদাকাতুল ফিতর গম বা আটা বাদে অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে এক সা, যা বর্তমান মাপে সাড়ে তিন কেজির মত। আর গম বা আটার ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। কেউ বলেন. অর্ধ সা (এক কেজি সাতশ গ্রামের মত), আবার কেউ বলেন, এক সা। যারা এক সা বলেন তাদের দলীল, ইবনে উমার রা. বলেন, রা. فرض رسول الله صلى الله عليه و سلم زكاة الفطر صاعا من تمر أو صاعا من شعير على العبد والحر والذكر والأنثى والصغير والكبير من المسلمين وأمر بها أن تؤدى قبل خروج الناس إلى الصلاة অর্থ: রাসূলুল্লা সা. সদকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন এক সা. (সাড়ে তিন কেজির মত ) খেজুর অথবা জব। স্বাধীণ, গোলাম, নারী, পুরুষ, ছোট-বড় প্রতিটি মুসলিমের উপর। এবং তিনি ঈদের সালাতে বের হওয়ার পূর্বেই ফিৎরা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪৩২। প্রতিটি বস্তুর ক্ষেত্রে যেহেতু এক সা সুতরাং গমের ক্ষেত্রেও এক সা হবে। উল্লেখ্য রাসূলুল্লাহ সা. থেকে স্পষ্ট নেই যে, গমের ক্ষেত্রে কতটুকু দিতে হবে। আর যারা বলেন অর্ধ সা (এক কেজি সাতশো গ্রামের মত) তাদের দলীল: ইবনে উমার রা. বলেন, فرض النبي صلى الله عليه و سلم صدقة الفطر أو قال رمضان على الذكر والأنثى والحر والمملوك صاعا من تمر أو صاعا من شعير فعدل الناس به نصف صاع من بر অর্থ: রাসূলুল্লা সা. সদকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন (কিংবা ইবনে উমার বলেনে, রমজান মাসে ফরজ করেছেন) এক সা. (সাড়ে তিন কেজির মত ) খেজুর অথবা জব। স্বাধীণ, গোলাম, নারী, পুরুষ, ছোট-বড় প্রতিটি মুসলিমের উপর। আর লোকেরা এর স্থলে অর্ধ সা (প্রায় এক কেজি সাতশো গ্রাম) গম দিতো। সহীহ বুখারী হাদীস নং ১৪৪০। এই হাদীসে আমরা স্পষ্ট জানতে পারলাম যে, সাহাবীরা অর্ধ সা গম দিতেন। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সা. থেকে ফিতরার ক্ষেত্রে গমের পরিমান স্পষ্ট বর্ণিত নেই তবে সাহাবীদের থেকে স্পষ্ট বর্ণিত আছে যে অর্ধ সা। আর প্রথম হাদীস থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, ঈদের সালাতে আসার পূর্বেই যাকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে। উক্ত হাদীস থেকে যাকাতুল ফিতর ইদুল ফিতরের দিন দেওয়া উত্তম বলে হাদীস থেকে মন হয়। তবে ঈদের দুই-পাঁচ দিন আগেও দিতে পারেন। এর আগে দেওয়া ঠিক হবে না। কেননা এই দানের নামই যাকাতুল ফিতর। আগে দিলে তারা ঈদুল ফিতরের আনন্দের কাজে তারা নাও ব্যবহার করতে পারে।

প্রশ্নঃ 767
যদি কোনো যুবক ছেলের রাত্রে সপ্নদোষ হলো, আর এমন অবস্থায় ফরাজের সালাত আদায় করা যাবে কি?
01 Jan 2026

না, স্বপ্নদোষ হলে গোসল করা ফরজ। গোসল ছাড়া কোন সালাতই আদায় করা যাবে না।

প্রশ্নঃ 766
আসালামুআলাইকুম, ভাই, আমি প্রবাসে আছি। এই জানুয়ারি মাসে বিয়ে করেছি। আমার স্ত্রী দেশে আছে এখন। হঠাৎ করেই কিছুদিন যাবত আমার স্ত্রী অসাভাবিক আচরন করছে। খুবই রাগারাগী বা খুবই চুপচাপ কারো সাথে কথা বলতে চায় না এমন। আমার শাশুড়ি ভাবছে জ্বিন বা কেও তাবিজ করেছে কিনা! আমার স্ত্রী ছোট থাকতে খেলার সময় কি যেন একটা দেখতে পেয়েছিল তাকে দেখে হাসছে। পরে আমার শশুড় কে বললে শশুড় কিছুই দেখতে পায় না। পরে শশুর আমার স্ত্রী কে সেখানে নিয়ে গেলে শশুড় কিছু দেখতে পায় না। কিন্তু আমার স্ত্রী কি যেন একটা ভঙ্কর কিছু দেখে ভিশন ভয় পায়। এখন নাকি বার বার সেই কথা মনে করে খুব জেদ করছে। আর আমার কথা শুনলেই রেগে যাচ্ছে । আমার শাশুড়ি পরেজগার মহিলা তবে তিনি কবিরাজের আশ্রয় নিতে চাচ্ছে। এই অবস্থায় ইসলামিক ভাবে আমি কি করতে পারি। জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আমার মনে হচ্ছে এই সব জ্বীন বা এ জাতীয় কিছু না। আপনি জানুয়ারীতে বিয়ে করে বাইরে চলে গিয়েছেন এটাই মূল কারণ। আপনি দেশে চলে আসেন সব ঠিক হয়ে যাবে। এমন ঘটনা বহু ঘটে। আপনার কাছে নতুন হতে পারে আমাদের কাছে নতুন নয়। বিয়ে করে কয়েক মাস পরে বিদেশ চলে যাবেন এটা খুব অন্যায়। যদি বিদেশ চলে যাবেন তাহলে বিয়ে করলেন কেন? বিদেশ গিয়ে থাকলে বিয়ে করে কি লাভ? বিদেশ থেকে এসেই করতে পারতেন। আপনার স্ত্রীর রাগ মূলত আপনার উপর। সে মুখে বলে পারছে না তাই অভিনয় করে দেখাচ্ছে। যেটা আপনিও বলেছেন, আপনার কথা শুনলে রেগে যাচ্ছে।

প্রশ্নঃ 765
যাকাতুল ফিতর নিয়ে হানাফী ও সালাফী আলিমদের দুই ধরনের মত দেখা যাচ্ছে। যাকাতুল ফিতর কি খাদ্য দিয়ে দেওয়া জরুরী? নাকি অর্থ দিয়েও দেয়া যাবে? কুরআন-সুন্নাহ ও আয়িম্মায়ে মুজতাহিদদের মতামত সহ বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।
01 Jan 2026

অর্থ দ্বারা যাকাতুল ফিতর আদায় করার ব্যাপারে ফকীহদের মাঝে দুটি মত বিদ্যমান। হবে এবং হবে না। ইমাম আবু হানিফা, সুফিয়ান সাওরী, উমার ইবনে আব্দুল আযীয, ইবনে তাইমিয়া রহ.সহ প্রমুখ আলেমের নিকট অর্থ দিয়ে আদায় করলে জায়েজ হবে বরং ক্ষেত্রে বিশেষ এটাই উত্তম হবে। পক্ষান্তরে ইমাম মালেক, আহমাদ, শাফী রহ.সহ অধিকাংশ আলেম বলেছন খাদ্য ছাড়া অন্য কোন কিছু দিয়ে আদায় করলে হবে না। যারা বলেন খাদ্য দিয়েই ফিতরা দিতে হবে তাদের দলীল: ইবনে উমার রা. বলেন, রা. فرض رسول الله صلى الله عليه و سلم زكاة الفطر صاعا من تمر أو صاعا من شعير على العبد والحر والذكر والأنثى والصغير والكبير من المسلمين وأمر بها أن تؤدى قبل خروج الناس إلى الصلاة অর্থ: রাসূলুল্লা সা. সদকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন এক সা. (সাড়ে তিন কেজির মত ) খেজুর অথবা জব। স্বাধীণ, গোলাম, নারী, পুরুষ, ছোট-বড় প্রতিটি মুসলিমের উপর। এবং তিনি ঈদের সালাতে বের হওয়ার পূর্বেই ফিৎরা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪৩২। এছাড়া অনেক সহীহ হাদীসে গম, কিসমিস, আখরোট ও খাবারের কথা উল্লেখ আছে। যারা বলেন অর্থ তথা টাকা-পয়সা দিয়ে আদায় করলেও জায়েজ হবে তাদের দলীল: সাহাবী মুআয রা. ইয়ামানবাসীদের বলেন, ائتُوني بعَرْضٍ : ثيابٍ خَميصٍ ، أَو لَبيسٍ في الصدقة ، مكان الشعير والذُّرة ، أَهوَنُ عليكم ، وَخَيْرٌ لأصحاب رسولِ الله -صلى الله عليه وسلم- بالمدينة অর্থ: তোমরা জব এবং ভুট্টার পরবর্তে পোশাক সদকা (যাকাত কিংবা ফিতরা) দাও। কেননা তা তোমাদের জন্য সহজ এবং রাসূলুল্লাহ সা. এর সাহবীদের জন্য কল্যানকর। সহীহ বুখারী, বা-বুল আরযি ফিয যাকাত, ২/১১৬। এছাড়া উমার ইবনে আবদুল আযীয, হাসান বসরী রহ. ফিতরার ক্ষেত্রে মূল্য নিতে বলেছেন বলে বর্ণিত আছে। দেখুন, মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ১০৪৬৯-১০৪৭৩। ১০৪৭০ নং হাদীসটির আরবী পাঠ নিম্নরুপ: حدثنا وكيع، عن قرة، قال : جاءنا كتاب عمر بن عبد العزيز في صدقة الفطر : نصف صاع عن كل إنسان ، أو قيمته نصف درهم এ বিষয়ে আরো জানতে দেখুন, আলফিকহুল ইসলাম্যিু ও আদিল্লাতুহু ৩/ ৩৮৩,৩৮৫। বর্তমানে মূল্য দ্বার ফিতরা জায়েজ হওয়া মতটাই বেশী যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়। ঈদের দিন এখন মানুষের ময়দা বা কিসমিস বেশী প্রয়োজন হয় না । বেশী প্রয়োজন হয় চাল, গোশাত, সেমাই-চিন, জামা কাপড় ইত্যাদি। সহীহ হাদীসে অবশ্য খাবারের কথা বলা হয়েছে সে হিসাবে আপনি চাল দিতে পারেন। এখন যদি আমরা সবাই তাদেরকে চাল বা ময়দা দেই তাহলে গরীবরা অন্য জিনিসগুলো কোথায় পাবে? বিতর্কের সূত্রে যদি কেউ বলে এগুলো বিক্রি করে গোশত, সেমাই-চিনি কিনবে তাহলে এটা সবাই স্বীকার করবেন যে, গরীব মানুষেরা এক্ষেত্রে ন্যায্য মূল্য পাবে না। কারণ এসব ক্ষেত্রে নানা জনের নানান রকম দ্রব্য এক হয়ে মান কমে যায়, যার কারণে মূল্যও কমে যায়।সতরাং সাহাবীদের থেকে যেহেতু খাদ্যের বদলে কাপড় দেয়ার কথা উল্লেখ আছে এবং একদল আলেম মুদ্রা দিলেও জায়েজ হবে বলেছেন সেক্ষেত্রে কেউ যদি মুদ্রা দিয়ে যাকাতুল ফিতরা আদায় করে তাহলে বিতর্কে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমাদের যার যেভাবে ভাল লাগবে আমারা সেভাবে ফিতরা আদায় করবো। তবে সব সময় গরীব মানুষের প্রয়োজনটার দিকে বেশী লক্ষল করবো। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফীক দিন। আমীন

প্রশ্নঃ 764
আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হল আলুর খোসা পানিতে জাল দিয়ে রস বের করে সাদা চুল কাল করার একটা উপায় আছে, এই উপায় অবলম্বন করে চুল কাল করা জায়েজ হবে কিনা? যাযাকাল্লাহ।
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দেখুন! হাদীসে চুল কালো করতে নিষেধ করা হয়েছে। বলা হয়নি এভাবে কালো করা নিষেধ আর এভাবে জায়েজ সুতরাং যে কোন ভাবেই হোক না কেন চুল কালো করা জায়েজ হবে না।

প্রশ্নঃ 763
সহীহ হাদিস অনুসরণ করতে গিয়ে যদি ফেতনার সৃষ্টি হয় তখন আমর কি করা উচিত?
01 Jan 2026

সহীহ হাদীস মানলে তো ফিৎনা হয় না, ফিৎনা হয় যখন সমাজে সহীহ হাদীস মোতাবেক কোন আমল চালু থাকে আর বিকল্প আরেকটি সহীহ হাদীস দ্বারা আমল শুরু হয় তখন। আপনি এই বিষয়টি ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (র.) এর মুখ থেকে জানতে ইউটিউবে সার্স করুন নামাযে হাত কোথায় রাখব শিরোনামে।

প্রশ্নঃ 762
আসসালামু আলাইকুম, জিন আসর করেছে মনে হলে আমরা কি আমল করতে পারি?
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বীনদের থেকে বাচাঁর এবং জ্বীন লাগরে কি করতে হবে বিস্তারিত জানতে দেখুন ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত রাহে বেলায়াত গ্রন্থের ৬ষ্ঠ অধ্যায়।

প্রশ্নঃ 761
তাবিজ, মাল্লি, অষ্টধাতু বাঁধা কি শিরক? সহীহ হাদিস কি স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা আছ যে এটা শিরক? এর সহীহ হাদীসের দলিল সহ প্রমাণ পাঠাবেন দয়া করে।
01 Jan 2026

অসংখ্য হাদীসে তাবিজ ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে, তাবিজকে শিরক বলা হয়েছে। আমি শুধু একটি হাদীস উল্লেখ করছি, বাকীগুলো ড. খোনন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত রাহে বেলায়াত বইয়ের ৬ষ্ঠ অধ্যায় থেকে জেনে নিবেন। সাহাবী উকবা ইবনে আমির আলজুহানী রা. বলেন, أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَقْبَلَ إِلَيْهِ رَهْطٌ، فَبَايَعَ تِسْعَةً وَأَمْسَكَ عَنْ وَاحِدٍ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، بَايَعْتَ تِسْعَةً وَتَرَكْتَ هَذَا؟ قَالَ: إِنَّ عَلَيْهِ تَمِيمَةً فَأَدْخَلَ يَدَهُ فَقَطَعَهَا، فَبَايَعَهُ، وَقَالَ: مَنْ عَلَّقَ تَمِيمَةً فَقَدْ أَشْرَكَ অর্থ: একদল মানুষ রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে আগমন করলেন। তিনি তাদের নয় জনের বাইয়াত গ্রহন করেন এবং একজনের বাইয়াত গ্রহন থেকে বিরত থাকেন। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি নয় জনের বাইয়াত গ্রহন করলেন কিন্তু একে পরিত্যাগ করলেন? তিনি বললেন, এর দেহে একটি তাবিজ রয়েছে । তখন তিনি তার হাত ঢুকিয়ে তাবিজটি ছিড়ে ফেলেন। এরপর তিনি বাইয়াত গ্রহন করেন এবং বলেন, যে তাবিজ ঝুলালো সে শিরক করলো। মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ১৪৪২২। হাদীসটিকে মুহাদ্দিগণ সহীহ বলেছেন। তাবিজ সংক্রান্ত বিস্তারিত জানতে উক্ত বইটি দেখুন।

প্রশ্নঃ 760
আসসালামু আলাইকুম । আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের এলাকার মসজিদে রমজান এর শেষ ১০ দিন জমাতে তাহাজ্জুত পড়ান হয় রাত ১.৩০ এর সময় হাদিস এই ব্যাপারে কি বলে? যদি একটু বিস্তারিত বলতেন?
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রমাজানে কিয়ামুল লাইল (রাতের নামায) জামায়াতের সাথে রাসূলুল্লাহ সা. তিন বা চার দিন পড়িয়েছেন বলে বুখারী-মুসলিমসহ অন্যান্য গ্রন্থে উল্লেখ আছে। তাহাজ্জুদ কিয়ামুল লাইলরই অংশ। সুতরাং তাহাজ্জুদ জামায়াতের সাথে পড়াতে কোন সমস্যা নেই বরং সুন্নাত।

প্রশ্নঃ 759
আসসালামু আলাইকুম, আমার কাছে ১.৫ ভরি স্বর্ণ ও ১ ভরি রৌপ্য এবং ডিপিএস এ ৮৪ হাজার টাকা আছে সে ক্ষেত্রে কি আমি শুধু টাকার যাকাত দেব নাকি স্বর্ণ রৌপ্যর দাম যোগ করে তারপর যাকাত হিসাব করবো?
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। সোনা, রোপার মুল্য টাকায় হিসাব করবেন এরপর যে টাকা আছে তার সাথে যোগ করে একশত টাকায় আড়াই টাকা হিসাবে যাকাত দিবেন।

প্রশ্নঃ 758
Gold and Cash takar jakat ki alada? jodi gold 7.5 vorir niche hoy and bank e kichu cash taka thake tahole ki shudhu cash takar jakat dite hobe?
31 Dec 2025

সোনার বর্তমান বাজার মূল্য হিসাব করে টাকাগুলো তার সাথে যোগ করে একলক্ষে আড়াই হাজার তখা শতকার আড়াই টাকা হারে যাকাত দিতে হবে।

প্রশ্নঃ 757
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ আমাকে একজন বোন বলেছেন, প্রতি ফরজ নামাজের পর যদি কেউ সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি এবং সুরা এমরান এর ১৮,২৬,২৭,আয়াত পড়ে তাহলে অনেক ফজিলতের কথা বলেছেন – আল্লাহ গোপন চোখ্ দিয়ে তার প্রতি ৭০ বার রহমতের দৃষ্টি দান করেন। এই আমলটা কতটা সহীহ — এটা কি করা যাবে?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদিসটি জাল, ভিত্তিহীন। ইবনে হিব্বান (র:) (আল মাজরুহীন ১/২১৮) তবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পর আয়াতুল কুরসী পড়ার বিষয়ে রাসুল (সা:) থেকে বর্ণিত আছে তিনি বলেন যে ব্যাক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরে আয়াতুল কুরসী পড়বে সে মৃত্যুর সাথে সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তাবারানী, আল-মুজামুল কাবীর, হাদীস নং ৭৫৩২। হাদীসটি সহীহ। আর অন্যান্য আয়াত সম্পর্কে যে ফাজায়েল বলেছেন এগুলো সম্পর্কে আমাদের জানা নেই।

প্রশ্নঃ 756
আসসালামু আলাইকুম। স্বামী ও বউ কারন বসত কত দিন আলাদা থাকতে পারবে। যদি তারা পাপাচারে লিপ্ত না হয়। যেমন স্বামী বিদেশে থাকে। এই পরযায়ে শরীয়তের মাসআলা কী? কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জানিয়ে বাধিত করবেন।
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। স্বামী ওযরের কারনে বা নিজের, অথবা পরিবারের ফরজ (জিবিকা উপার্জন) আদায়ের জন্য স্ত্রী থেকে দীর্ঘ সময় দূরে থাকলে পাপী বা শাস্তির যোগ্য অপরাধী বলে গণ্য হবেনা। আর ওযর বা কোন ফরজ আদায়ের জন্য যদি না হয় তাহলে স্ত্রীর থেকে অনুমতি নিতে হবে, অনুমতি দিলে দীর্ঘ সময় দুরে থাকা যাবে। অন্যথায় দীর্ঘ সময় দুরে থাকার কারনে স্ত্রীর হক্ব নষ্টকারী হিসাবে পাপী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধী বলে গণ্য হবে। আর স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া ৪/৬ মাস দুরে থাকা যাবে। ওমর (রা:) তার মেয়ে হাফসাকে (রা:) জিজ্ঞাসা করলেন মেয়েরা সর্বোচ্ছ কতদিন স্বামী থেকে দুরে থাকতে পারে? তখন হাফসা (রা:) বললেন ৪/৬ মাস, উমর (রা:) বললেন, আমি কাউকে ৪/৬ মাসের বেশী সেনাবাহিনীতে আটকিয়ে রাখবনা। (বায়হাক্বী, সুনান ১৭৬২৮) তবে সর্বাবস্থা স্ত্রীকে বুঝিয়ে অনুমতি নিয়ে যাওয়াই ভালো।

প্রশ্নঃ 755
হিজরাদের ব্যপারে ইসলাম কি বলে? কেন হিজরা সন্তান হয়?
31 Dec 2025
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষ ও জীন জাতীকে সৃষ্টি করার পাশাপাশি তাদের কর্মের হিসাব নিকাশের কথা ও বলেছেন। যার কর্ম ভাল, মহান আল্লাহ তাকে জান্নাত প্রদান করবেন। আর যার কর্ম মন্দ তাকে জাহান্নামে শাস্তি করবেন। এ কথা তো সকলের জানা হিজড়ারা মানুষ। মানুষ মাত্রই তার আখারাতে হিসাব -নিকাশ হবে। হিজড়াদের মধ্যে যার পুরুষের দিকটা প্রবল তাকে পুরুষ হিসেবে ধরা হবে, আর যার মাঝে মহিলার দিকটা প্রবল তাকে মহিলা হিসেবে ধরা হবে। এর উপর ভিত্তি করে তারা যাবতীয় ইসলামের বিধি-বিধান পালন করবে। আর এ বিষয়ে ভালভাবে জানার জন্য দক্ষ ডাক্তারের পরামর্শ জরুরী। মানুষ হিসেবে হিজড়ারা এমন সকল অধিকার ভোগ করবে, যা অন্য সকল মানুষ ভোগ করে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে ছেলে কিংবা মেয়ে কিংবা হিজড়া কিংবা কোন কিছুই দেন না। কারণ অনুসন্ধান করা বোকামী।
প্রশ্নঃ 753
ইসলামে হিজরাদের অধিকার ও করতব্য?
31 Dec 2025

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষ ও জীন জাতীকে সৃষ্টি করার পাশাপাশি তাদের কর্মের হিসাব নিকাশের কথা ও বলেছেন। যার কর্ম ভাল, মহান আল্লাহ তাকে জান্নাত প্রদান করবেন। আর যার কর্ম মন্দ তাকে জাহান্নামে শাস্তি করবেন। এ কথা তো সকলের জানা হিজড়ারা মানুষ। মানুষ মাত্রই তার আখারাতে হিসাব -নিকাশ হবে। হিজড়াদের মধ্যে যার পুরুষের দিকটা প্রবল তাকে পুরুষ হিসেবে ধরা হবে, আর যার মাঝে মহিলার দিকটা প্রবল তাকে মহিলা হিসেবে ধরা হবে। এর উপর ভিত্তি করে তারা যাবতীয় ইসলামের বিধি-বিধান পালন করবে। আর এ বিষয়ে ভালভাবে জানার জন্য দক্ষ ডাক্তারের পরামর্শ জরুরী। মানুষ হিসেবে হিজড়ারা এমন সকল অধিকার ভোগ করবে, যা অন্য সকল মানুষ ভোগ করে।

প্রশ্নঃ 754
Assalamuwalikum owarahmatullah. I have three question. It would be great to have all three answers. Here I go 1. Need to know details of Salatul Tajbeeh Namaz according to Sunnah. Does it permitted in Islam? 2. Can we touch Quran without having Wadu? if not then how can Islam permitted to give it non Muslim as a gift? 3. Its about Shab-e-Qadar. We all know shab-e-qadar can be found in any odd numbered nights of last ten days of ramadan like 21, 23, 25, 27, 29. The Holy Quran was sent down from Loh-e mehfooz to earth on that particular night, it was an exact time. So if we consider that time how can we consider region such as America, Bangladesh etc. as because when they (American) have 21st night of Ramadan we might passing 20nd Ramadan. Hope you understand my point. How you clarify this issue? Thanks
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১। সালাতুস তাসবীহ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন রাহে বেলায়তা। সংক্ষেপে শুধূ বলি এই বিষয়ে বর্ণিত হাদীসটিতে দুর্বলতা আছে। ২। শরয়ী হুকুম পালন করবেন মুসলিমরা । অমুসলিমরা নন। সুতরাং মুসলিমরা পবিত্রতা অর্জন ছাড়া কুরআন স্পর্শ করতে পারবে না। অমুসলিমরাতো আর ইসলাম মেনে চলবেন না সুতরাং তাদের ক্ষেত্রে এই প্রশ্নে অবান্তর। তার কুরআন স্পর্শ করলে আলাদা কোন গুনাহ হবে না। মূল গুনাহ মুসলিম না হওয়া। ৩। রাসূলুল্লাহ সা. ও সাহাবীদের কর্ম থেকে আমরা শিক্ষা পায় নিজ নিজ অঞ্চলের চাঁদ দেখে চাঁদের সাথে সম্পর্কীত ইবাদত পালন করার। সুতরাং যে যেখানে থাকবেন সেখানকার চাঁদের তারিখ অনুযায়ী আমল করবেন। বাকী চিন্তা আল্লাহর, আমাদের নয়। সওয়াবতো দিবেন আল্লাহ, তার কাছে সওয়াবের কোন অভাব নেই।

প্রশ্নঃ 751
ফিৎরা কী? কেন দেওয়া হয়? কারা দিবে? কাদেরকে দিবে?
31 Dec 2025

রমজান মাসের শেষে ঈদের পূর্বে ইসলামী শরীয়ত কতৃক আদেশকৃত বিশেষ দানকে ফিতরা বলে। ইসলাম চাই ইসলামী উৎসবগুলোতে ধনী-গরীব সবাই যেন শামিল হয়। এই কারণে প্রতিটি উৎসবের সময়ই কিছু কিছু দান-সদকা করতে ইসলাম আদেশ করে অথবা উৎসাহ দেয়। অসংখ্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. ফিতরা দিতে বলেছেন। ফিৎরা দেয়া আবশ্যক। যারা নিত্য প্রয়োজনীয় সম্পদ (বাসস্থান ও খাদ্যখাবার ) বাদে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রোপা বা সাড়ে সাত তোলা সোনার মালিক কিংবা ঐ পরিমাণ সোনার বা রুপার মূল্যমানের নগদ টাকা বা অন্য কোন সম্পদের মালিক তারা ফিতরা দিবে। যারা এর চেয়ে কম পরিমান সম্পদের মালিক তারা ফিতরা পাবে । বিস্তারিত জানতে স্থানীয় কোন আলেমের নিকট জিজ্ঞাসা করুন। বিস্তারিত জানতে

প্রশ্নঃ 750
আসসালামু আলাইকুম স্যার যেনা থেকে বাচার কোন দুয়া আছে। আমি এক হাদিস শুনেছিলাম। এক তরুন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর কাছে এসে বলেছিলেন উনি যেন যেনার অনুমতি দেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম তাকে যেনার ফলাফল বুঝিয়ে দেন এবং একটি দুয়া শিখিয়ে দেন। আমি অই দুয়াটা জানতে চাচ্ছিলাম। আপনি বাংলা কিংবা আরবিতে বলে আমি মুখস্ত করে নিতাম। ধন্যবাদ।
31 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। রাসুলুল্লাহ সা.এর নিকট যে যুবক এসেছিল,রাসুল সা. তাকে যেনার ফলাফল বলার পাশাপাশি তার জন্য দোয়া করছিলেন। দোয়াটি ছিল: اللهم اغفر ذنبه وطهر قلبه وحصن فرجه মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ২২২৬৫। শায়খ শুয়াইব আরনাউত বলেছেন, হাদীসটির সনদস সহীহ।এই দোয়াটি যদি আপনি নিজের জন্য করতে চান তাহলে এই ভাষায় করবেনঃ ا للهم اغفر لي ذنبي وطهر قلبي وحصن فرجي আল্লাহুম্মাগফির লি যানবী ওয়া তহহির কালবী ওয়া হাছছিন ফারজী। অর্থঃ হে আল্লাহ!তুমি আমার গুনাহ ক্ষমা কর,আমার অন্তরকে পবিত্র কর এবং আমার গোপন অংগকে হেফাজত কর।
প্রশ্নঃ 749
মুহতারামঃ আসসালামু আলাইকুম। আমার এক বন্ধুর মা মারা গিয়েছে গতকাল। সে আমাকে একটা প্রশ্ন করেছিল, তা এই যে রমজানে কোন সাধারন মুমিন মারা গেলে এর কোন special significance আছে কি না? আমরা ছোট বেলায় শুনতাম রোজার মাধ্যে মারা গেলে কবরের আজাব হয় না। এটা সহিহ কিনা? যাযাকাল্লাহ।
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রমজান মাসে মারা গেলে কোন ফজিলত আছে বলে হাদীস থেকে জানা যায় না তবে রোজা অবস্থায় মারা যাওয়া ব্যক্তি সম্পর্কে রাসূলূল্লাহ সা. বলেছেন, وَمَنْ صَامَ يَوْمًا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোযা রাখে অত:পর রোজা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ২৩৩২৪। মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

প্রশ্নঃ 747
আসসালামুয়ালাইকুম, ৪ রাকাত সুন্নাত নামাজের প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলাতে হবে কি না?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, সুন্নাত-নফল সালাতের প্রতি রাকআতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলাতে হবে।

প্রশ্নঃ 746
আস সালামু আলায়কুম………আমি ছাত্র ও চাকুরীহজীবি হিসাবে ১০ বছর ধরে চট্রগ্রাম আছি। আমি ব্যাচেলর বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি। আমার এই থাকাটা কি পার্মানেন্ট নাকি অস্থায়ী? আমার বারি চট্রগ্রাম থেকে ৮০ কিঃমিঃ দূরে, গ্রামে আব্বা আম্মারা সবাই থাকে। আমি যদি চট্রগ্রাম থেকে বাড়ীতে যাই নামাজ কসর করতে হবে কি? কয়দিন পর্যন্ত কসর করে পড়তে হবে? যদি সকালে গিয়ে বিকালে চট্রগ্রাম চলে আসি তাহলে কি উভয় জায়গাতেই নামাজ কসর করতে করতে হবে?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। চট্টগ্রামে আপনি যদি স্থায়ীভাবে থাকেন তাহলে বাড়ি এসে কসর করবেন। আপনি স্থায়ীভাবে আছেন না স্বাময়ীক আছেন সেটা আপনি জানেন। শুধু লেখাপড়ার জন্য কোথাও থাকলে সেটা মোটেও স্থায়ীভাবে থাকা নয়। স্থায়ীভবে না থাকলে বাড়ি আসলে আপনি পূর্ণ সালাত আদায় করবেন। যতটুকু সময়ের জন্যই আসুন না কেন। আর রাস্তায় থাকাকালীন কসর করবেন। যদি স্থায়ীভবে চট্টগ্রাম থাকেন তাহলে গ্রামে কসর করবেন। ১৫দিনের বেশী থাকার নিয়ত হলে পূর্ণ সালাত আদায় করবেন।

প্রশ্নঃ 745
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লহ। আমি ২টি হাদীসের পূর্ণাঙ্গ দলিল চাই। আর এই দলিল হতে হবে বাংলা অনুবাদকৃত পিডিএফ হাদীস গ্রন্থের দলিল, যাতে করে আমি সহজেই খুজে পাই। কেননা আরবী হাদীস গ্রন্থের দলিল হলে তো মিলাতে পারব না। হাদীস ২টি সংক্ষেপে লিখলাম- ১. কল্যাণের পথে আহ্বানকারীও কল্যাণকারীর সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। ২. প্রত্যেক বিদআতই পথভ্রষ্টতা। আর এটা মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়।
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই আমার কাছে পিডিএফ হাদীসগ্রন্থ নেই।প্রথম হাদীসটি পেতে দেখূন সহীহ মুসলিম হাদীস নং ২৬৭৪। আরবী পাঠ নিম্নরুপ: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ:مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى، كَانَ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ، لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا، وَمَنْ دَعَا إِلَى ضَلَالَةٍ، كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الْإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَهُ، لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثَامِهِمْ شَيْئًا দ্বিতীয় হাদীসটি পেতে দেখুন: সহীহ ইবনে খুজায়মা, হাদীস নং ১৭৮৫। মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আরবী পাঠ নিম্নররুপ عن جابر بن عبد الله قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول في خطبته, يحمد الله, ويثني عليه بما هو له أهل, ثم يقول:من يهد الله فلا مضل له, ومن يضلل فلا هادي له, إن أصدق الحديث كتاب الله, وأحسن الهدي هدي محمد, وشر الأمور محدثاتها, وكل محدثة بدعة, وكل بدعة ضلالة, وكل ضلالة في النار, ثم يقول:بعثت أنا والساعة كهاتين, وكان إذا ذكر الساعة احمرت وجنتاه, وعلا صوته, واشتد غضبه كأنه نذير جيش:صبحتكم الساعة ومستكم, ثم يقول:من ترك مالا فلأهله, ومن ترك دينا أو ضياعا فإلي أو علي, وأنا ولي المؤمنين

প্রশ্নঃ 744
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আমি মোঃ আমির হোসেন মিজান। আমি ময়মনসিংহ থেকে লিখছি। কেমন আছেন? আমার প্রশ্ন হলোঃ- ১. জামআতে ইমাম সাহেব কে রুকুতে পেলে, আমি কত তাসবিহ পরিমাণ বলতে পারলে ঐ রাকাতটি পাব? নাকি বিষয়টি তাসবিহ- এর সঙে জড়িত নয়? রুকু পেলেই কি রাকাত পাওয়া যাবে? ২. জামআতে ইমামের সাথে শেষ ১ বা ২ অথবা ৩ রাকাত পেলে, ইমাম তার শেষ বৈঠকে থাকাকালীন আমি কি শুধু আত্তাহিয়্যাতু পড়বো? নাকি দুরুদ শরীফ সহ দোআ মাসূরা সবগুলোই পড়বো? ৩. যখন ইমাম মনে মনে নিঃশব্দে কিরাআত পড়েন (যেমনঃ- যোহর ও আসরের প্রথম ২ রাকাত), তখন মুক্তাদি কি শুধু সূরা ফাতিহা পড়বে, নাকি সঙে অন্য কোনো সূরাও পড়বে? ৪. জুমআর দিন মসজিদে ইমাম সাহেব, জুমআর ২ রাকাত ফরয নামাজের আগে ৪ রাকাত সুন্নাত নামাজ পড়তে বলে। এ সম্পর্কে কি কোন সহীহ হাদিস রয়েছে? জুমআর ২ রাকাত ফরয নামাজের আগে সুন্নাহ সম্মত সালাত পড়ার বিধান কি? ৫. আমি জেনেছি, ওজু শেষ করে কালিমা শাহাদাত আসমানের দিকে তাকিয়ে পড়তে হয় – এইটা কি সহিহ হাদিস সম্মত? নাকি শুধু কালিমা শাহাদাত পড়লেই হবে? ৭. আমাদের সমাজে দেখা যায়, কারো শরীরে পা লাগলে, সঙে সঙে তাকে হাত দিয়ে ছুঁয়ে সালাম করেন। এইটা কি কোরআন ও সহিহ হাদিস সম্মত? এক্ষেত্রে আমাদের করনীয় কি? ৮. আমাদের সমাজে তাবলীগ নামে একটি জামাআত রয়েছে। যারা নির্দিষ্ট এলাকার মসজিদ থেকে বিভিন্ন এলাকার মসজিদে গিয়ে থাকেন। যার সময়সীমা ৩ দিনের জামাআত অথবা ৪০ দিনের এক চিল্লা ইত্যাদি। যার মাধ্যমে দেখা যাই, এখানে গিয়ে অনেকের মাঝে পরিবর্তন আসে। আবার তাবলিগের বইগুলোকে নিয়ে অনেক কথা শুনেছি, যা কিনা কোরআন ও সহিহ হাদিস সম্মত নয়! এখন আমার প্রশ্ন হল ৩ দিনের জামাআত অথবা ৪০ দিনের এক চিল্লায় গিয়ে এইসব বইগুলো থেকে তালিম করার সুন্নাহ সম্মত বিধান কি? স্যার এই সম্বন্ধে কি বলেছেন, জানালে খুব ই উপকার হয়।
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনি একসাথে ৮টি প্রশ্ন করেছেন। আগামীতে একসাথে দুইটির বেশী প্রশ্ন করবেন না। প্রশ্ন বেশী হলে উত্তর যথাযথভাবে দেয়া অনেক সময় সম্ভব হয় না। চারটি প্রশ্নের উত্তর দিলাম।বাকীগুলো আবার করবেন। ১।ইমামের সাথে রুকু পেলেই মুক্তদি রাকআত পেয়েছে বলে গণ্য হবে। তাসবীহ পরিমান শর্ত নয়। সকল আলেম ও ইমাম এই বিষয়ে একমত যে, রুকু পেলেই রাকআত পেয়েছে বলা ধরা হবে। বর্তমানে কিছু মানুষ না বুঝে বলছে সূরা ফাতিহা না পড়ে শুধু রুকু পেলে রাকআত পাওয়া হবে না । এটা সম্পূর্ণ ভুল কথা। এই বিষয়ে দলীলসহ বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া ০০৬৮ নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন। ২। আপনি তাশাহুদু ধীরে ধীরে পড়বেন যেন ইমামের সালাম ফিরানো পর্যন্ত পড়তে পারেন। আর সবগুলো পড়লেও নামাযেন কোন ক্ষতি হবে না। ৩। পড়লে শুধু সূরা ফাতিহা পড়বেন। অন্য কোন সূরা পড়বেন না। তবে কোন কিছু না পড়লেও নামায হবে বলে অনেক আলেম মত দিয়েছেন। ৪। জ্বী, জুমুআর দিন ফরজ নামাযের পূর্বে চার রাকআত সুন্নাত পড়া সহীহ হাদীস সম্মত । জুমুআর ফরজ নামাযের আগে সুন্নাত পড়ার বিষয়ে স্যার রহ. এর ইন্তেকালের পূর্বে একটি প্রশ্নের উত্তর তাঁর তত্ববধানে দেয়া হয়েছিল। সেটা এখন আপনার জন্য দিয়ে দিলাম। এখানে বিস্তারিত আলোচনা আছে। রাসূলুল্লাহ সা. জুমুআর ফরজ সালাতরে র্পূবে সুন্নাত সালাত আদায়রে জন্য বলছেনে। সহীহ বুখারীর এই হাদীসটি লক্ষ করুন: عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَتَطَهَّرَ بِمَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ ثُمَّ ادَّهَنَ ، أَوْ مَسَّ مِنْ طِيبٍ ثمَّ رَاحَ فَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ اثْنَيْنِ فَصَلَّى مَا كُتِبَ لَهُ ثُمَّ إِذَا خَرَجَ الإِمَامُ أَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الأُخْرَى সালমান ফারসী রা. থকেে র্বণতি, তনিি বলনে, রাসূলূল্লাহ সা. বলছেনে, যে ব্যক্তি জুমুআর দনি ভালভাবে গোসল করে তলে বা সুগন্ধি ব্যবহার করে (মসজদি)ে গমন করবে অতঃপর (মসজদি)ে কাউকে না ডঙিয়িে সাধ্যানুযায়ী নামায পড়বে এবং যখন ইমাম খুতবা দয়োর জন্য বরে হবে তখন চুপ করে তা শুনব,ে তার এক জুমুআ থকেে অপর জুমুআর মাঝরে সব গুনাহ মাফ করে দয়ো হব। ে সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯১০। এই হাদীসে রাকআত সংখ্যা নর্দিষ্টি করা হয় ন। ি আলমেগণ বলছেনে দুই রাকআত থকেে শুরু করে যত ইচ্ছা পড়ব,ে যত বশেী পড়বে সওয়াব ততো বশেী হব। ে রাকআত সংখ্যার ব্যাপারে বভিন্নি সাহবী থকেে বভিন্নি সংখ্যা র্বণতি আছ। ে দুই রকআত. চার রাকআত ইত্যাদ। ি চার রাকআতরে বষিয়ে নচিরে হাদীসটি লক্ষ্য করুন: عبد الرزاق عن الثوري عن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن السلمي قال كان عبد الله يأمرنا أن نصلي قبل الجمعة أربعا وبعدها أربعا حتى جاءنا علي فأمرنا أن نصلي بعدها ركعتين ثم اربعا. র্অথ: ( তাবঈে) আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী বলনে, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদরেকে জুমুআর র্পূবে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত নামায পড়ার নর্দিশে দয়িছেনে। এরপর আলী রা. আমাদরেকে জুমুআর পর প্রথমে দুই রাকআত এরপর চার রাকআত পড়ার নর্দিশে দয়িছেনে। মুসান্নাফু আব্দুর রায্যাক, হাদীস নং ৫৫২৫। এই হাদীসটরি বষিয়ে শায়খ আলবানী রহ. বলছেনে, وهذا سند صحيح لا علة فيه র্অথ: এটা সহীহ সনদ, তাতে কোন সমস্যা নইে।সলিসলিাতুয যয়ীফাহ, ১০১৬ নং হাদীসরে আলোচনা। উক্ত সহীহ হাদীসটি দ্বারা আমারা জানতে পারলাম য,ে প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. চার রাকআত ক্ববলাল জুমুয়া পড়ার আদশে দয়িছেনে। উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা আমরা বুঝলাম য,ে জুমুআর আগে নামায সুন্নাত, তবে রাসূলুল্লাহ সা. থকেে রাকআত সংখ্যা বষিয়ে কোন কছিু র্বণতি হয়ন। ি সুতরাং যে যতটুকু ইচ্ছা করে ততোটুকু পড়তে পার। ে একজন সাহবী থকেে চার রাকআত পড়ার নর্দিশে এসছেে তাই নঃিসন্দহেে বলা যায় চার রাকআতও পড়া যায় এবং এটাও সুন্নাত। জুমুআর পরে সুন্নত নামায সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানতি। সুতরাং জুমুআর পরে নামায পড়া সুন্নাত। আমাদরেকে সুন্নাতরে অনুস্বরণ করতে হবে।

প্রশ্নঃ 743
আসসালামুয়ালাইকুম। প্রশ্নঃ আমার সাথে কয়েকজন কাদিয়ানী (আহমদী মুসলিম জামাত) ফ্রেন্ড আছে, তারা আমাকে প্রায়ই দাওয়াত দেয়। এখন কাদিয়ানীদের বাসায় ইফতার করা যাবে কিনা? আরেকটা প্রশ্ন হচ্ছে কাদিয়ানী ইমামের পিছনে নামাজ পড়া যাবে কিনা?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মুসলিম বিশ্বের সকল আলেম একমত কাদীয়ানীরা মুসলিম নয়। আর ইফতার একটি ইবাদাত। আপনি কেন একটি ইবাদতের কাজে অন্যধর্মের মানুষদের সাথে জড়াবেন? আপনি ওখানে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। যারা মুসলিম নয় তাদের পিছনে আবার নামায কিসের? মনে রাখবেন কাদীয়ানী একটি বিশেষ ধর্ম। সুতরাং কাদীয়ানীসহ অন্য কোন ধর্মের পিছনে মুসলমানের নামায হবে না।

প্রশ্নঃ 742
আসসালামু আলাইকুম। আল্লাহ্ স্যার কে জান্নাত নসীব করুন। আমার প্রশ্ন হলঃ কারো কাজ-কারবার অথবা কথা বার্তায় মনে কষ্ট এলে তার বিরুদ্ধে যদি কারো কাছে গীবত না করে, নিজে নিজেই বিরক্তি প্রকাশ করি (যেমনঃ একজনের একটা কাজ আমার খুব বেশি মাত্রায় অপছন্দনিয় হল। সে আমার কাছ থেকে চলে যাওয়ার পর আমি নিজে নিজেই বিরক্তি সহ কারে বললাম, বেটা আবুল মার্কা কথা বলে, ফালতু কথা বলে, মাথার মধ্যে কিছুই নাই) এই জাতীয় কথা আমি নিজে নিজেই বকলাম। জনাবের কাছে আমার প্রশ্ন হল, এতে কি আমি গুনাহগার হবে? জানতে পারলে খুব উপকৃত হব। কারন এটা আমার ক্ষেত্রে বেশি পরিমান হয়ে থাকে।
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমরাও দুআ স্যার রহ. যেন জান্নাতবাসী হোন। কারো দোষত্রুটি অন্যের কাছে বললে তখন গীবত হবে, গুনাহ হবে। নিজে নিজে বললে গুনাহ হবে না। তবে এসব থেকেও বিরত থাকাই ভাল। কারণ এটা একটি অনর্থক কাজ আর কুরআনে সূরা মুমিনুনে আল্লাহ তায়ালা অনর্থক কাজ থেকেও বিরত থাকতে বলেছেন।

প্রশ্নঃ 741
আসসালামু আলাইকুম, ১। ফরজ, সুন্নত, নফল যে কোন সালাতে সালাম ফিরানোর আগে আততায়হিয়িতু, দুরুদ, দোয়া মা সূরার সাথে আর কোনো দোয়া পড়া য়ায়? যদি অন্য দোয়া পড়া যায় তাহলে কি কি পড়া যাবে, দয়াকরে হাদিসসহ জানাবেন? ২। সালাতে সূরা ফাতেহার পরে অন্য কোন সূরা মিলানোর সময় যদি কোন আয়াত বাদ পড়ে বা উচ্চারনে সমস্যা হয় বা আয়াত ওলট পালাট হলে সালাত কি বাতিল হবে, না সাহুসিজদা দিলে হবে? একই ভুল যদি আততায়হিয়িতু, দুরুদ, দোয়া মা সূরার সময় হয় তাহলে কি করতে হবে?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহামাতুল্লাহ। ১। দুআ মাসূরা অর্থ হলো কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত দুআ। আপনি যে কোন দুআ মাসূরা অর্থাৎ কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত যে কোন দুআ সালাতের মধ্যে সালামের পূর্বে পড়তে পারেন। একধিক দুআ মাসূরাও পড়তে পারেন। কেননা রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন فَإِذَا قَعَدَ أَحَدُكُمْ فِى الصَّلاَةِ فَلْيَقُلِ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِىُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ فَإِذَا قَالَهَا أَصَابَتْ كُلَّ عَبْدٍ لِلَّهِ صَالِحٍ فِى السَّمَاءِ وَالأَرْضِ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ثُمَّ يَتَخَيَّرُ مِنَ الْمَسْأَلَةِ مَا شَاءَ অর্থ: যখন তোমাদের কেউ সালাতের মধ্যে বসে সে যেন বলে, আত্যাহিয়্যাতু লিল্লাহি…. আবদুহু ও রসূলুহু অত:পর সে যা ইচ্ছা করবে তাই চাইবে। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৯২৪। এই হাদীস দ্বারা আমরা বুঝতে পারি আমাদের যা কিছু প্রয়োজন আমরা তা আল্লাহর কাছে এই সময় চাইতে পারবে। আমরা যে দুআ মাসূরাটি সাধারণত সালাতের মধ্যে পড়ি তা ছাড়া আরো অনেক দুআ রাসূলুল্লাহ সা. এই সময়ে পড়ার জন্য শিক্ষা দিয়েছেন। তার একটি হলো, (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৫২) اللَّهُمَّ إِنِّى أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ ২। সাহু সিজদা দিলেই হবে।

প্রশ্নঃ 740
আমি স্যারের ১৮ টি বই কিনতে চাই। আপনারা পরিবহনে পাঠিয়ে দিলে আমি দাম পরিশোধ করে নিব। কন্ডিশনে কুরিয়ার করবেন নাকি অগ্রিম টাকা দেওয়া লাগবে? আমার ঠিকানা আগ্রাবাদ, চট্রগ্রাম। কুরিয়ার খরচ সহ বইগুলির দাম কত হবে?
31 Dec 2025

এই নাম্বারে ফোন করুন। সকল সমস্যার সমাধান পাবেন। কোন চিন্তা করবেন না। স্বল্পমূল্যে পাবেন। যোগাযোগ করুন। আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স, ঢাকা অফিস: 01730 74 70 01, 01791 66 66 65 ঝিনাইদহ অফিস: 01791 66 66 63, 01791 66 66 64

প্রশ্নঃ 739
মনে করুন আমি ছোট নাপাকি অবস্থায় আছি, এমতাবস্থায় আমি যদি কম্পিউটার কিংবা স্মার্টফোন থেকে দেখে দেখে কুরআন পড়ি তাহলে কি কোন আপত্তি আছে? নাকি ওযৃ করে পড়াটাই উত্তম? যেহেতু মুখস্থ পড়ছি না, অর্থাৎ দেখে দেখে পড়ছি?
31 Dec 2025

সমস্যা নেই,তবে স্কীনে হাত লাগাবেন না। তবে ওযু করে নেয়া তো নি:সন্দেহে উত্তম।

প্রশ্নঃ 737
আসসালামু আলাইকুম, আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গির স্যারের কাছে আমার প্রশ্ন ছিল যে কম্পিউটার এনিমেশন এর কাজ করা কি হারাম? আমি কম্পিউটার এনিমেশন এর কাজ করি। এই ব্যপারে বিস্তারিত জানালে খুশি হব। ধন্যবাদ।
31 Dec 2025

সমস্যা নেই, তবে স্কীনে হাত লাগাবেন না। তবে ওযু করে নেয়া তো নি:সন্দেহে উত্তম।

প্রশ্নঃ 738
মুহতারামঃ আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্নঃ প্রতি বছরই ঈদে ভারতীয় নাইকাদের বা টিভি সিরিয়ালের চরিত্রের নামে dress বের হয়, যেমন এর আগে বের হয়েছিল কিরনমালা এবার বের হয়েছে দুর্গা। আমার প্রশ্ন হল, দুর্গা নামের এই dress কেনা বা পরা যাবে কিনা? যাযাকুমুল্লাহ।
31 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। বর্তমান পৃথিবীর অধিকাংশ আলেম ওলামা বলে থাকেন যে, কম্পিউটার এনিমেশন তথা কার্টুন অংকন করা যা ছোট শিশুরা দেখে বিনোদন হিসেবে তা বৈধ। তাই বলা যায় যে, আপনার কর্ম বৈধ। তবে আপনাকে মনে রাখতে হবে অশ্লীল কার্টুন অংকন করা কোন ভাবেই জায়েয হবে না। আল্লাহ ই ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 736
১। চলার পথে(রাস্তায়) কোন প্রানি (গরু/ছাগল..) বাঁধা থাকলে তার দড়ি ডিঙ্গিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে হাদিসে কোন নিষেধ আছে কি? ২। জামাতের সালাতে কোন রাকাত/একরাকাত না পেলে ইমাম ছালাম ফিরানোর পর সে রাকাত পূর্ন করতে হয়, কিন্তু কেউ যদি মনের ভুলে ইমামের সাথে দুই পাশেই ছালাম ফিরিয়ে ফেলে এবং সাথে সাথে বা কিছু সময় পরে মনে পড়ে যে তার এ রাকাত পূর্ন করা হয়নি, তাহলে কি পুরো সালাত পূনরায় আদায় করতে হবে? না আগের সালাতই হয়ে যাবে?
31 Dec 2025

১। না, এ ব্যাপারে হাদীসে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। ২। সালাম ফিরিয়ে ফেললেও কোন সমস্যা নেই। কারো সাথে কথা বলার আগ পর্যন্ত তার যদি ভুলের কথা মনে আসে তাহরে দাঁড়িয়ে সালাত পূর্ণ করবে। আর যদি কথা বলে ফেলে তাহলে পুরো সালাত পূনরায় আদায় করতে হবে।

প্রশ্নঃ 734
আসসালামু আলাইকুম। পবিত্র কুরআনের সূরা নিসার ৯৭ নং আয়াতের ব্যাখ্যা টা কি? এই আয়াতের আলোকে বর্তমানে শরীয়তের কোন কারণ ছাড়া অমুসলিম দেশে বসবাসের বিধান কি হবে?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। সুরা নিসার উল্লেখিত আয়াতের সারকথা হল, কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন এলাকায় বসবাস করে যেখানে দ্বীন পালন করা যায় না, এবং অন্য কোন ভূখন্ডে বসবাস করার ক্ষমতা তার আছে, যেখানে দ্বীন পালনের পরিবেশ রয়েছে, তাহলে তার জন্য সে ভূখন্ডে বসবাস করা হারাম যেখানে দ্বীন পালনের পরিবেশ নেই। অমুসলিম দেশে বসবাসের জন্য নিম্নলিখিত শর্তাবলী আবশ্যকঃ ১. শুধুমাত্র দ্বীন প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যে সফর করা। ইহা অনেক বড় সাওয়াবের কাজ। ২.নিজের উপর এতটুকু নির্ভরতা জরুরী যে, অমুসলিমদের সাথে উঠা-বসার কারণে ঈমানের কোন দূর্বলতা আসবে না। ৩. যে দেশে বসবাস করবে, সেখানে দ্বীন পালনের স্বাধীনতা থাকতে হবে। জামাতে সালাত আদায়ের পরিবেশ, জুমার সালাত আদায়ের পরিবেশ ইত্যাদী। কেননা ইচ্ছা করে নিজকে এমন পরিবেশে নিয়ে যাওয়া বৈধ নয় যেখানে উল্লেখিত ইবাদাত পালন করা যাবে না। ৪. অমুসলিমদের সাথে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক করা ইসলামী শরীয়াতে হারাম। অনেকদিন বসবাসের ফলে সম্পর্ক সাধারণত অনেক গভীর হয়ে যায়। ৫. শুধুমাএ ব্যবসার উদ্দেশ্যে অমুসলিম দেশে ততদিন থাকা বৈধ, যতদিন ব্যবসার প্রয়োজনীয়তা থাকে। বিঃ দ্রঃ মুসলিম কোন দেশে যদি বসবাসের এবং জীবিকা নির্বাহের সুযোগ থাকে, তাহলে কোন মুসলমান বিশেষ করে দ্বীনদার মুসলমানদের জন্য অমুসলিম দেশে বসবাস করা মোটেই উচিত হবে না।

প্রশ্নঃ 735
কেউ যদি শুধু ওযুর ফরয আদায় করে (ইচ্ছা করে বা অনিচ্ছাই যেমন- ব্যস্ততার কারণে, কিংবা জামাত শুরু হয়ে গেছে এই কারণে তাড়াতাড়ি করে সে শুধু ওযুর ফরয আদায় করল) তাহলে কি তার ওযু হয়ে যাবে? এরপর সে কি সালাত আদায় করতে পারবে?
31 Dec 2025

ফহীহগণ বলেছেন হয়ে যাবে। সালাত আদায় করতে পারবে।

প্রশ্নঃ 733
Assalamu Alaikum, বিতির নামাজ সম্পরকে জানতে চাচ্ছিলাম, রাসুল (স) বলেন : তোমরা বিতিরের নামাজ মাগরিবের মত পড় না বরং অবিচ্ছিন্ন ভাবে পড়, এর মানে কি ২ রাকাত পড়ার পর আত্তাহিয়্যাতু না পড়েই দাড়িয়ে গিয়ে ৩ রাকাত শুরু করা? আর দুয়া কুনুত রুকুর আগে নাকি পরে পড়ব? বিতির নামাজ কি ১ রাকাত পড়া যায়?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। না, মাগরিবের মত পড় না এর অর্থ হলো তিন রাকআত পড়ো না এর সাথে আরো দুই বা ততোধিক রাকআত পড়ো। অর্থাৎ তাহাজ্জুদের সাথে বিতর পড়। দুআ কুনুত রুকুর আগে পড়বেন। বিতর নামায রাসূলুল্লাহ সা. কখনো শুধু এক রাকআত পড়েন নি। তাহা্জ্জুদ পড়তে পড়তে শেষে গিয়ে একরাকআত দিয়ে পুরা নামাযকে বিতর বানিয়েছেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আমাদের দেয়া ১১৭ নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 732
ফজর নামায এর পর নাকি মুনাজাত করতে নাই? আল্লাহর কাছে কিছু চাইতে নাই….কিন্তু আমরা তো জানি দিবার মালিক আল্লাহ যা চাওয়ার তার কাছেই চাইব তাহলে নামায শেষে মুনাজাতে চাওয়া যাবেনা কেন? যদি তাই হয় তাহলে কোখন ও কিভাবে চাইব?
31 Dec 2025

আপনি যা লিখেছেন তা ঠিক নয়। আপনি ফজরসহ সব নামাযের পরে এবং যে কোন সময় আল্লাহর কাছে দুআ, মুনাজাত করতে পারেন। ফরজ নামাযের পর দুআ কবুল হওয়ার একটি বিশেষ সময় বলে হাদীসে এসেছে।

প্রশ্নঃ 731
আসসালামু আলাইকুম, আশা করি ভাল আছেন। স্যার, আমি একটি বিষয় জানতে চাঁই। যদি কেউ রোজা রাখার জন্য সেহেরি খেতে দেরি করে ফেলে, যেমন আযান দিতেছে তখন সে খাবার খাচ্ছে এবং আযান শেষ হবার আগে তার খাবার শেষ হয়ে গেল। এখন তার রোজা কি হবে?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। সেহরীর শেষ সময় হলো সুবহে সাদিক উদিত হওয়া। মুয়জ্জিন সাহেব সঠিক সময়ে আযান দেন তাহলে সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার পরে দিবেন। তখন খেলে রোজা হবে না তবে সারাদিন কিছু খাওয়া যাবে না। এবং পরে কাজা করতে হবে, কাফফারা করতে হবে না।

প্রশ্নঃ 730
আসসালামু আলাইকুম, ইসলামি ফাউন্ডেশন এর সময়সূচীতে ৩ মিনিট পরে ইফতার এর টাইম দেয়া আছে । আমরা কখন ইফতার করবো? জানালে উপকৃত হব।
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আপনি যদি নিশ্চিত হনি তিন মিনিট আগেই ইফতারর সময় হয়ে গেছে সেক্ষেত্রে তিন মিনিট আগেই করতে পারেন। তবে সংক্ষগরিষ্ট মানুষের সাথে থাকাই নিরাপদ।

প্রশ্নঃ 729
Assalamu Alaikum Dear Huzur, which Salah are better According to Sunnah, Tarabi or Tahajjad? According to my knowledge after midnight Allah come down in lower Sky (Asman) and ask Human being whatever you want? Anybody want Anything? Usually Tahajjad Salah time after midnight (Before Salah of Fazr). I like Tahajjad Salah more than Tarabi, please give me correct knowledge according to Sunnah to perform better Amol and clarify according Sunnah which is better Salah, Tarabi or Tahajjad? Sincerely yours Abdur Rahim/Natore/01712669027
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নিচের হাদীসটি লক্ষ করুন: عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ أَنَّهُ قَالَ خَرَجْتُ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، لَيْلَةً فِي رَمَضَانَ إِلَى الْمَسْجِدِ فَإِذَا النَّاسُ أَوْزَاعٌ مُتَفَرِّقُونَ يُصَلِّي الرَّجُلُ لِنَفْسِهِ وَيُصَلِّي الرَّجُلُ فَيُصَلِّي بِصَلاَتِهِ الرَّهْطُ فَقَالَ عُمَرُ إِنِّي أَرَى لَوْ جَمَعْتُ هَؤُلاَءِ عَلَى قَارِئٍ وَاحِدٍ لَكَانَ أَمْثَلَ ثُمَّ عَزَمَ فَجَمَعَهُمْ عَلَى أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ ثُمَّ خَرَجْتُ مَعَهُ لَيْلَةً أُخْرَى وَالنَّاسُ يُصَلُّونَ بِصَلاَةِ قَارِئِهِمْ قَالَ عُمَرُ نِعْمَ الْبِدْعَةُ هَذِهِ وَالَّتِي يَنَامُونَ عَنْهَا أَفْضَلُ مِنَ الَّتِي يَقُومُونَ يُرِيدُ آخِرَ اللَّيْلِ ، وَكَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ أَوَّلَه অর্থ: আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল কারী থেকে বর্ণিত তিন বলেন, আমি উমার রা. এর সাথে রমাযানের এক রাতে মসজিদে গেলাম। তখন মানুষেরা বিচ্ছিন্নভাবে সালাত আদায় করছিল। উমার রা. বললেন, আমি মনে করছি যে, যদি আমি এদেরকে কোন একজন কারীর (কুরআন তেলাওয়াতকারী) পিছনে একত্র করে দিই তাহলে খুব ভাল হবে। এরপর তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন এবং উবাই ইবনে কাবকে ইমাম বানিয়ে মানুষদেরকে তার পিছনে একত্র কর দিলেন (জামাত করে দিলেন)। এরপর আরেক দিন রাত্রে আমি তার সাথে বের হলাম, তখন মানুষেরা তাদের ইমামের সাথে জামাাতে সালাত আদায় করছিল। তখন (তা দেখে) উমার রা. বললেন, কতই না সুন্দর ব্যবস্থা তবে যারা এখন ঘুমাচ্ছে তারা এখন যারা সালাত পড়ছে তাদের থেকে উত্তম। তিনি বলতে চেয়েছেন, শেষ রাত্রে যারা সালাত আদায় করে (এখন ঘুমিয়ে) তাদের কথা। মানুষেরা সাধারনত প্রথম রাত্রে সালাত আদায় করত। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০১০। রমাজান মাসে রাত্রে সালাত আদায় করা বিশেষ সওয়াবের কাজ। আর প্রথম রাত্রী থেকে শেষ রাত্রী উত্তম, আমরা হাদীস থেকে সেটা জানতে পারলাম। প্রথম রাত্রে যেটা আদায় করা হয় পরিভাষায় তাকে তারাবীহ বলে আর শেষ রাত্রে যা আদায় করা হয় তাকে তাহাজ্জুদ বলে। রাতের সালাত একা একা শেষ রাতে আদায় করায় অধিক সওয়াবের কাজ।

প্রশ্নঃ 728
মুহতারামঃ আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমার প্রশ্নঃ ১. আমি একবার তাবলিগে গিয়ে একটি দুয়া শিখেছিলাম, তা হল মনজিল করারা দুয়া (কোন স্থানে নেমে কিছু সময় বা দিন থাকার ইচ্ছা)। দুয়াটি হলঃ রাব্বি আনজিলনি মুনজালাম মুবারাকাও ওয়া আন্তা খাইরুল মুনজিলিন (সুরা মুমিনুন এর আয়াত), আমার প্রশ্ন দুয়াটি মাসনুন কিনা, দলিল সহ জানতে চাই। ২. ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন market এ raffle draw করছে। (specific amount এর shopping করলে), এটা জায়েজ কিনা? যাযাকুমুল্লাহ।
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যেহেতু এটা কুরআনের দুআ এবং এক নুহ আ; কে নিরাপদ স্থান গিয়ে আল্লাহ পড়তে বলেছেন তাই আপনি এটা পড়তে পারেন। রাফেল ড্র ্এর বিষয়ে আমি মুফতী কাজী ইবরাহীম হা.ফি. এর সাথে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, এর থেকে বিরত থাকা উচিৎ। এর মাধ্যমে নিম্নমানের জিনিস বেশী দাম নেয়াসিহ বিভিন্ন ধরণর ধোকা রয়েছে আর ইসলাম যে কোন ধরনের ধোকা থেকে বিরত থাকতে বলেছে তাই এটা বর্জন করা উচিৎ।

প্রশ্নঃ 688
আস সালামু আলাইকুম স্যার আপনার কাছে একটি ছোট প্রশ্ন আমি কিভাবে সত্যের উপর টিকে থাকবো সমাজ আজ শিরিক বিদাতে কলুষিত এখন আমি কি করতে পারি।
31 Dec 2025

এই ভিডিওটা দেখলে আপনি উত্তর পাবেন।

প্রশ্নঃ 727
Im using a commercial Bank as a locker, not have any interets interest also please note that we [ Me my husband ] love to live with Sahi -Sunnah of Hazrat Mohammad [Sw.] We are doing take the Bank given interest give them the in-able /poor/baggers. Is this the correct we are doing or please advise how we can keep save our halal income.
31 Dec 2025

প্রয়োজনে ব্যাংকে টাকা রাখতে পারেন তবে ঐ টকার যে, সুদ হবে তা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া কোন গরীব মানুষকে দিয়ে দিবেন। তবে সর্বাবস্থায় অন্য কোন সুযোগ থাকলে ব্যাংকে যে কোন ধরণের লেনদেন থেকে বিরত থাকা উচিত।

প্রশ্নঃ 726
আমার ভাল একটা চাকুরী দরকার, বর্তমান চাকুরীর বেতনে পরিবার চালাতে কষ্ট হইতাছে, বর্তমান চাকুরিটি বেশী ভাল না, চুক্তিভিত্তিক কাজ, এ অবস্থায় আমি ভালও চাকুরী পাওয়ার জন্য কি আমল করতে পারি?
31 Dec 2025

আমরা দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাকে এই সমস্যা থেকে নাজাত দেন। আপান রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো সুন্নাত সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। এছাড়া এই দুআটিও সুন্নাত সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বারবার পড়বেন, رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ এবং এই দুআটি দুই সাজদার মাঝে বেশী বেশী পাঠ করুন: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى وَارْحَمْنِى وَاهْدِنِى وَارْزُقْنِى. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭০২৩।

প্রশ্নঃ 725
কোন সুদী ব্যাংক এ চাকুরী করা কোন ব্যাক্তির মেয়েকে, কোন দ্বীন পালন করা ব্যাক্তির বিবাহ করলে শরীয়তের দিক থেকে কোন বিধিনিষেধ আছে কি? এখানে উল্লেখ্য মেয়ের বাবা মেয়ের জামাইকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়াবে, উনার সামর্থ্য আছে ইনি হয়তো উনার মেয়ের জামাইকে কোন কিছু উপহার দিলেন। এগুলা বিবেচনা করে উত্তর দিবেন আশা করি।
31 Dec 2025

দ্বীন পালনকারী ব্যক্তির জন্য এমন বিবাহ বর্জন করা উচিত। কারণ যিনি ব্যাংকে চাকুরী করেন তার সব কিছুর ভিতরই সুদ ঢুকে যায়। তবে যদি শ্বশুরের সাথে কোন অর্থনৈতিক যোগাযোগ না থাকে সেক্ষেত্রে অসুবিধা নেই। তবে এটা কঠিন।

প্রশ্নঃ 724
মুহতারামঃ আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্নঃ ১. জামাতের সালাতে কোন কারনে কাতার থেকে কেও চলে গেলে ফাকা জায়গা কিভাবে পুরন করতে হবে? ডানে বা বায়ের মুক্তাদি ডানে বা বায়ে সরে আসবে না কি ফাকাই থাকবে, ন্নাহর আলোকে জানতে চাই। ২. ইদানিং facebook এ একটি পাথরের মুরতি দেখা যায় যেখানে লিখা আছে তা লুত (আ) এর স্ত্রী, যে কিনা পাথর হয়ে গিয়েছিল, ঘটনাতা কি সাত্যি? যাযাকাল্লাহু খাইর।
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, فإذا قمتم إلى الصلاة فاعدلوا صفوفكم وسدوا الفرج অর্থ: যখন তোমরা সালাতে দাঁড়াবে তখন কাতার সোজা করবে এবং ফাঁক জায়গা পূর্ণ করো। এই হাদীসের ভিত্তিতে ফকীহগণ বলেছেন, যখন কাতারে থেকে কোন লোক বের হয়ে যাবে তখন অন্যরা তা পূর্ণ করবে। ফাঁকা রাখবে না। ২। এই সব বাজে কথা।

প্রশ্নঃ 723
একজন পুরুষ কেন 4টার বেশি বিবাহ করতে পারবে না। কারন আমাদের সময় থেকে আরো আগে মানুষ ৪টার বেশি বিবাহ করত এবং এতে তাদের কোন সমস্যা হত না।
31 Dec 2025

কুরআনে বিবাহের সংখা চারটিতে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে তাই পারবে না।

প্রশ্নঃ 722
ফরজ সালাতের পর ঈমাম সাহেবের সাথে সম্বলিত মুনাজাত করা যাবে কী?
31 Dec 2025

এই বিষয়ে আমাদের দেয়া ২৯ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দেখুন। সংক্ষেপে বলি রাসূলুল্লাহ সা. বা সাহাবীদের থেকে এটা পাওয়া যায় না

প্রশ্নঃ 721
Assalmu Alaikum, Thanks a lot for the reply of my previous question regarding Iftar time of Siam. Dear Huzur, Please let me know: 1) Murid of Peer according to Sunnah 2) Why all Peer has separate Tarika? Tarika of Peer conflict with Quran and Sunnah? If no conflict why every Peer Tarkia is separated from other Peer? 3) What are the activities in Peer system not follow the rules of Quran and Sunnah Your kind clarification will be very helpful to know the real things of Islam. Salam again, Abdur Rahim /Natore/ 01712669027
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। ভাই এই বিষয়ে স্যার রহ.এ র একটি ভিডিও লেকচার আছে। ঐটা শুনলে আপনার প্রশ্নের বিষয়টি আপনার কাছে স্পষ্ট হবে। ইউটিউবে গিয়ে এই শিরোনামে সার্চ দিন। পীরের হাত বাইয়াত শরীয়তের বিধান জানতে চাই। চমৎকার আলোচনা, আপনার খুব ভালো লাগবে ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্নঃ 720
আস্সালামু আলাইকুম। জনাব,আমি সৌদি আরবে থাকি, আমার রুম থেকে কর্মস্থলের দুরুত্ব ৭০ কিঃ মিঃ। আমাকে প্রত্যেক দিন সকালে যেতে হয় এবং সন্ধায় কাজ শেষে বাসায় ফিরে আসতে হয়। আমি কি কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় নামাজ কসর করবো?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কসর আপনি তখনই করতে পারবেন যখন আপনি আধুনিক হিসাব অনুযায়ী ৭৮ কি, মি দূরে সফর করবেন। আপনি তো ৭০ কি. মি. দূরে যান । সুতরাং এখানে কসর করতে পারবেন না।

প্রশ্নঃ 719
আসস্লামুয়ালিকুম… আমি আনওয়ার হুসাইন চট্রগ্রাম থেকে … আমার প্রশ্ন হল… আমার অফিস ছুটি হয় ৪:৩০, অফিসের গাড়ীতে করে বাসায় যেতে মাগরিবের সময় হয়ে যায়, এখন আমি যদি ৪:২০এ আসরের নামাজ পড়ি, আমার নামাজ হবে কি?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বী, আপনি এমন পরিস্থিতিতে ৪.২০ মিনিটে পড়তে পারবেন। গাড়ীতে না পড়ে পড়ে যাওয়ায় আপনার জন্য হুকুম। হাদীস অনুসারে এ সময়ে অধিকাংশ ফকীহর নিকট আসরেরর নামাযের সময় হয়ে যায়।

প্রশ্নঃ 718
কাপড়ের যাকাত সম্বন্ধে জানতে চাচ্ছিলাম
31 Dec 2025

আপনি যদি কাপড়ের ব্যবসা করেন তাহলে মোট কত টাকার কাপড় আছে হিসাব করে শতকারা আড়াই টাকা অর্থাৎ এক লাখে আড়াই হাজার টাকা যাকাত দিবেন। তবে তার আগে দেখতে হবে আপনি যাকাতের নিসাবের অধিকারী কিনা। আপনার কাপড়ের মূল্য যদি বর্তমান বাজারে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্যের সমপরিমাণ হয় আর তা যদি আপনার কাছে এক বছর থাকে তাহলে আপনি নিসাবের অধিকারী।

প্রশ্নঃ 717
ডঃ খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহিমাহুল্লাহ এর লিখিত কতটি বই প্রকাশিত হয়েছে? এবং সবগুলো কত টাকায় পাওয়া যাবে একটু জানাবেন। ।
31 Dec 2025

দুই হাজার টাকার ভিতরেই সব বই পাবেন। বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন। আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স, ঢাকা অফিস: 01730 74 70 01, 01791 66 66 65 ঝিনাইদহ অফিস: 01791 66 66 63, 01791 66 66 64

প্রশ্নঃ 716
আসসালামু-আলাইকুম, বিয়ে উপলক্ষে যদি বারিতে ১ দিন এর জন্য lighting (আলোকবাতি) করা হয় এটা জায়েজ হবে কি?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমাদের সব সময় সুন্নত অনুসন্ধান করা উচিত জায়েজ নয়। বিয়ে উপলক্ষে আলোকসজ্জা করা সুন্নাত তো নয়ই বরং বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুসরণ। এসব বর্জন করুন।

প্রশ্নঃ 715
আসসালামু আলাইকুম? আচ্ছা ভাই একই গ্রন্থের ভিতরে প্রকাশনী ভিন্ন হওয়ার কারনে হাদিস কেন কম বেশি হয়? বিস্তারিত জানাবেন। ইনশা আল্লাহ
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ ভাই, প্রকাশনী ভিন্ন হওয়ার কারণে হাদীসের নাম্বার দেয়ার ক্ষেত্রে কখনো কখনে কম বেশী হয়। হাদীস কমবেশী হয় না। যেমন, কোন কোন সময় রাসূলুল্লাহ স. থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করারা পর সে বিষয়ে কোন একজন সাহাবীর কথা কিতাবে থাকে। এখন নাম্বার দেয়ার ক্ষেত্রে কোন কোন গ্রন্থে রাসূলের কথাকে এবং সাহাবীর কথাকে দুইট হাদীস বানিয়ে নাম্বার দেয় আবার কোন কোন কিতাবে উভয়টিকে একই নাম্বারের অধিনে নিয়ে আসা হয়। এভাবে বিভিন্ন কারণে নাম্বারের কমবেশী হয়, মূল হাদীস খুব কমই কমবেশী হয়।

প্রশ্নঃ 714
আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্নঃ রুগী দেখতে গিয়ে যে দুয়া পড়ি (আস আলুল্লাহাল আজিম…আইয়াস্ফিয়াক), তা কি রুগীকে ধরে বা touch করে পরতে হয়? বা পড়ে রুগীর উপর কি দম করতে হয়? যদি আমি দুরের রুগীর শেফার জন্যে দূর থেকে পড়ি তবে কি ঠিক হবে? যাযাকুমুল্লাহ।
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীসে শুধু সাত বার পড়ার কথা আছে। টাচ করা বা দম করার কথা নেই। তাই আমাদের শুধু পড়াই উচিৎ।

প্রশ্নঃ 713
আসসালামুয়ালাইকুম, আমি আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার এর বেশ কিছু বই সংগ্রহ করেছি কিন্তু বাজারে সকল বই পাওয়া যায়না। আমি স্যার এর সকল বই সংগ্রহ করতে চাঁই আমি নারায়াগঞ্জ মেঘনা ঘাট থাকি। আমি কিভাবে বইগুলো সংগ্রহ করতে পারি?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। তাহলে আপনি ওখানে থেকেই কুরিয়ারে সকল বই সল্প খরচে পেয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ। যোগাযোগ করুন। আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স, ঢাকা অফিস: 01730 74 70 01, 01791 66 66 65 ঝিনাইদহ অফিস: 01791 66 66 63, 01791 66 66 64

প্রশ্নঃ 712
আসসালামুয়ালাইকুম, ১. যদি বেতের নামাজে দুয়া কুনুত ভুলে না পড়া হয় তাহলে কী সাহু সিজদা দিতে হবে? সাহু সেজদা ছাড়া পরে থাকলে কি নামাজ আবার পরতে হবে না কি নামাজ হয়ে যাবে? ২. তারাবি নামাজ যদি এশার পর ৮ রাকাত এবং সেহেরীর আগে ৪,৬,৮ এবং ১ রাকাত বেতের নামাজ পড়া হয় তাহলে কি পুরোটা তারাবিহ হিসাবে গন্য হবে?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যদি কুনুত না পড়েন আর সময় থাকে নতুন করে সালাত আদায় করার তাহলে নতুন করে আদায় করবেন। আপনি তারাবীর যে নিয়ম বলেছেন সেভাবে আদায় করলেও হবে। কোন সমস্যা নেই। বরং শেষ রাতে এবং একা একা আদায় করাকেই হাদীসে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

প্রশ্নঃ 711
আসসালামু আলাইকুম। হুজুর কেমন আসেন? আমি মালেশিয়া থাকি। এখানে অনেক মুসলিম ভাইদেরকে দেখি দাড়িয়ে প্রসাব করে ওদেরকে জিজ্ঞাসা করলে বলে দাড়িয়ে প্রসাব করা নাকি জায়েজ আছে, তাই হুজুর আমার প্রশ্ন হল দাড়িয়ে প্রসাব করা কি জায়েজ?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। দাঁড়িয়ে পেশাব করলে গুনাহ হবে না তবে কাজটা উচিত নয়। একটি হাদীসে আছে রাসূলুল্লাহ সা. একবার দাঁড়িয়ে পেশাব করেছিলেন। এছাড়া সকল হাদীসে বসে পেশাব করার কথা বলা হয়েছে। সাহাবীদের আমলও বসে পেশাব করা। একজন মুসলিমের উচিৎ রাসূলের এবং সাহাবীদের সন্নাতকে আকড়ে ধরা।

প্রশ্নঃ 710
আসসালামু আলাইকুম হযরত; আমি একজন থেকে দুই লক্ষ টাকা পাই। বিগত তিন বছর ধরে ঘুরতেছি। সে দিবেনা তাও বলেনা; কিন্তু টাকা ব্যবস্থা করেও দিতে পারছেনা। এমতাবস্থায় আমি ও আমার পরিবার খুব পেরেশানীতে আছি। তাই আমার জিজ্ঞাসা হল, সুন্নাহ অনুযায়ী কিভাবে আমি আল্লাহর কাছে এই পেরেশানীর বিষয়ে বলব এবং পেরেশানী থেকে মুক্তি পেতে পাব? কিভাবে দোয়া করব? আর নামাজে সিজদাহরত অবস্থায় কি নিজের আকুতি বলা যাবে, যদি বলা যায় সেটা কি নফল নামাজগুলোতে নাকি ফরজ নামাজের সিজদাহতেও বলা যাবে? তখন কি সুবহানা রাব্বিয়াল আলা বলে তারপর আমার আকুতিগুলো বলব?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিপদ-সংকটে সবর করার মধ্যেই রয়েছে মূমিনের সফলতা। অনেক সময় আল্লাহ তায়ালা এই বিপদাপদ দ্বরা তাঁর প্রিয় বান্দাদের পরীক্ষা করেন। সুতরাং আপনি দুঃশ্চিন্তা করবেন না। আল্লাহর কাছে দুআ করুন আশা করি আপনার সমস্যা দূর হয়ে যাবে। আপনি রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো যে কোন সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। এছাড়া কুরআনের এই দআটিও সালাতে এবং অন্যান্য সময় বারবার পড়বেন, رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনার সব সংকট দূর করে দেন।

প্রশ্নঃ 709
আস-সালামু আলায়কুম, সম্প্রতি আমি ইসলামে পর্দা বইটার কিয়দংশ পড়েছি। আমি বইটিতে পেলাম যে, মহিলাদের সুগন্ধি বা এককথায় বডি স্প্রে ব্যবহার করা জায়েজ নাই। এই গরমে আমরা অনেকেই বডি স্প্রে ব্যবহার করি শুধু গরমের দূর্গ্ধন্ধ থেকে বাঁচার জন্য এবং তা মোটেও কড়া গন্ধ নয়। আর আমাদের বোরকা একটা হওয়াতে তা প্রতিদিন ধোয়া সম্ভব ও নয়। এই অবস্থায় আমরা কি করব বা কি করণীয়? জানিয়ে দুশ্চিন্তামুক্ত করুন। (যাদের শুধু একটা বোকরা আছে)।
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ছেলেরা আকর্ষিত হবে সেই কারণে মেয়েদের সুগন্ধিযুক্ত কোন কিছু মেখে বাইরে যেতে হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. নিষেধ করা হয়েছে। আপনি যা লিখেছেন সে অনুযায়ী যদি আরেকটি বোরকাতে সমস্যার সমাধান হয় তাহলে আরেকটি বোরকার ব্যবস্থা করা উচিত। বর্তমান সময়ে এটা কোন কঠিন ব্যাপার না। তারপও যদি কারো একান্তই না থাকে তাহেল এতটুকু পরিমাণ বডি স্প্রে ব্যবহার করবেন যার গন্ধ বাইরে ছড়াবে না।

প্রশ্নঃ 708
আসসালামু আলাইকুম, ১। আমি চার রাকআত তাহাজ্জুদ পড়ি আর এক রাকআত বিতর পড়ি এটা হবে কি? ২। আসসালামু আলাইকুম, ভাই্, জামায়াতে যেতে দেরি হওয়ার কারনে আমার প্রথম রাকায়াত ছুটে যায় । আমি দ্বিতীয় রাকায়াত থেকে নামাজ সুরু করি, ২ রাকায়াত পর ইমাম সাহেব আত্যাহিয়াতু পরার জন্য বসেন,এখন কি আমিও আত্যাহিয়াতু পরব? আমার তো এক রাকাত হয়েছে, প্রথম রাকায়াত ছুটে গাছে। এমনি ভাবে ইমাম সাহেব ৪ রাকায়াত পর যখন আত্যাহিয়াতু পরবে থকন ত আমার তিন রাকায়াত হবে তখনও কি আমি আত্যাহিয়াতু পড়ব?যদি আমি উপরের দুই জায়গাতেই পড়ি তাহলে ইমাম সাহেব এর সালাম ফিরানোর পর আমি বাকি এক রাকায়াত পরার পর ও কি আত্যাহিয়াতু পড়ব? তাহলে কিন্তু আমার আত্তাহিয়াতু তিনবার হয়ে যাচ্ছে … আর ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর আমি যখন এক রাকায়াত পড়ব তখন কি সুধু সূরা ফাতিহা পড়ব নাকি ফাতিহার সাথে আরও একটি সূরা পড়ব? বিসয় টি আমাকে জানাবেন খুবই দরকার। ৩। বুখারি শরীফ কোন পাবলিকেশন এরটা কিনতে পাড়ি?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালম। জ্বি, আপনি চার রাকআত তা্হাজ্জুদ আর এক রাকআত বিতর পড়তে পারেন। নামাযে যোগ দেয়ার পর ইমাম সাহেব যা যা করবে আপনি তাই তাই করবেন। আত্তহিয়্যাতু তিনবার কেন চারবা হলেও দোষ নেই। শেষ রাকআতে আপনি সূরা ফাতিহার সাথে অন্য একটি সূরা পড়বেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বুখারী শরীফ কিনবেন।

প্রশ্নঃ 707
আসছালামু আঁলাইকুম। আমাদের দেশের অনেক আলেমই মহিলাদের জামাআতে সলাত আদায়ে নিরুতসাহিত করেন। আমি যতটুকু জানি বিষয়টা ঠিক নয়। এই প্রথম আমাদের গ্রামে ঈদের জামাআতে মহিলাদেরও সলাত আদায়ের ব্যবস্থা করছি। বিষয়টি যদি খোলাসা করেন? তাহলে ভালো হয়।
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মহিলাদের মসজিদে জামায়াতে আসা দায়িত্ব নয় বরং বাড়িতে সালাত আদায় করায় তাদের জন্য উত্তম। তবে তাদের জন্য সুযোগ আছে যদি মসজিদে ব্যবস্থা থাকে মহিলাদের সালাতের। হাদীসে রাসূলুল্লা সা. বলেছেন, لاَ تَمْنَعُوا نِسَاءَكُمُ الْمَسَاجِدَ وَبُيُوتُهُنَّ خَيْرٌ لَهُنَّ অর্খ: তোমরা তোমাদের মহিলাদের মসজিদে যেতে বাধা দিও না, তবে তাদের বাড়ি তাদের জন্য উত্তম। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ৫৬৭; মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ৫৪৭১। হাদীসটি সহীহ। শায়খ আলবান ও শায়খ শুয়াইব আরনাউতসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।হযরত আয়েশার রা.বলেন, لَوْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- رَأَى مَا أَحْدَثَ النِّسَاءُ لَمَنَعَهُنَّ الْمَسْجِدَ كَمَا مُنِعَتْ نِسَاءُ بَنِى إِسْرَائِيلَ অর্থ: যদি রাসূলুল্লা সা. মহিলাদের বর্তমান কাজকর্ম দেখতেন তাহলে তাদেরকে মসজিদে যেতে নিষেধ করতেন যেমন ভাবে বনি ইসরাইলের মেয়েদের নিষেধ করা হয়েছিল। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১০২৭; সুনানু আবু দাউদ,হাদীস নং ৫৬৯; সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৮৬৯। ভাই ্এর বিপরীতে এখটি হাদীসও নেই যেখানে মহিলাদের জামাতে আসার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাহলে আপনিই বলুন, আপনি উৎসাহিত করবেন না নিরুৎসাাহিত করবেন? তবে আমরা কিছুই করব না। হাদীসে যেমন আছে তেমন করব। আসলে বাধা দেব না তবে বলবো বাড়িতে পড়াই উত্তম। ইদগাহে যেতে সহীহ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. মহিলাদের উৎসাহ দিয়েছেন। সুতরাং পর্দাসহ ব্যবস্থা থাকলে যেতে পারে।

প্রশ্নঃ 706
আমার প্রশ্ন হোল আপনি এর আগে কোন এক জায়গায় বলছিলেন যে, আমরা যে জানি ১৮ হাজার মাখলুকাতের কথা এটা নাকি ভুল? যে হাদিস থেকে এই থেকে এই কথা আসসে তা নাকি বানোয়াট? আপনি কি একটু কষ্ট করে আপনার এই কথার প্রমান দিতে পারেন সত্য সুন্নাহের আলোকে কি রেফারেন্স দিয়ে উত্তর দেবেন?
31 Dec 2025

কবলাল জুমুআ অর্থই হলো জুমুআর ফরজের আগের নামায। যদি নাই থাকে তাহলে যত খুশি পড়া যায় কিভাবে? আসলে তারা বলতে চান আমাদের দেশে যে চার রাকআত পড়া হয়ে এই সংক্রান্ত হাদীস দুর্বল। তবে তাদের কথা ঠিক নয়। তার যাকে বেশী মানেন সেই শায়খ আলবানীর রহ. বলেছেন সহীহ। এই সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের উত্তর ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহ. ্এর তত্বাবধানে দিয়েছিলাম। সেই উত্তরটিই আপনার জন্য দিয়ে দিলাম। আশা করি আপনি তৃপ্ত হবেন। রাসূলুল্লাহ সা. জুমুআর ফরজ সালাতের পূর্বে সুন্নাত সালাত আদায়ের জন্য বলেছেন। সহীহ বুখারীর এই হাদীসটি লক্ষ করুন: عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَتَطَهَّرَ بِمَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ ثُمَّ ادَّهَنَ ، أَوْ مَسَّ مِنْ طِيبٍ ثمَّ رَاحَ فَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ اثْنَيْنِ فَصَلَّى مَا كُتِبَ لَهُ ثُمَّ إِذَا خَرَجَ الإِمَامُ أَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الأُخْرَى সালমান ফারসী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন ভালভাবে গোসল করে তেল বা সুগন্ধি ব্যবহার করে (মসজিদে) গমন করবে অতঃপর (মসজিদে) কাউকে না ডিঙিয়ে সাধ্যানুযায়ী নামায পড়বে এবং যখন ইমাম খুতবা দেয়ার জন্য বের হবে তখন চুপ করে তা শুনবে, তার এক জুমুআ থেকে অপর জুমুআর মাঝের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯১০। এই হাদীসে রাকআত সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয় নি। আলেমগণ বলেছেন দুই রাকআত থেকে শুরু করে যত ইচ্ছা পড়বে, যত বেশী পড়বে সওয়াব ততো বেশী হবে। রাকআত সংখ্যার ব্যাপারে বিভিন্ন সাহবী থেকে বিভিন্ন সংখ্যা বর্ণিত আছে। দুই রকআত. চার রাকআত ইত্যাদি। চার রাকআতের বিষয়ে নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন: عبد الرزاق عن الثوري عن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن السلمي قال كان عبد الله يأمرنا أن نصلي قبل الجمعة أربعا وبعدها أربعا حتى جاءنا علي فأمرنا أن نصلي بعدها ركعتين ثم اربعا. অর্থ: ( তাবেঈ) আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী বলেন, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে জুমুআর পূর্বে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর আলী রা. আমাদেরকে জুমুআর পর প্রথমে দুই রাকআত এরপর চার রাকআত পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুসান্নাফু আব্দুর রায্যাক, হাদীস নং ৫৫২৫। এই হাদীসটির বিষয়ে শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, وهذا سند صحيح لا علة فيه অর্থ: এটা সহীহ সনদ, তাতে কোন সমস্যা নেই।সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, ১০১৬ নং হাদীসের আলোচনা। উক্ত সহীহ হাদীসটি দ্বারা আমারা জানতে পারলাম যে, প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. চার রাকআত ক্ববলাল জুমুয়া পড়ার আদেশ দিয়েছেন। উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা আমরা বুঝলাম যে, জুমুআর আগে নামায সুন্নাত, তবে রাসূলুল্লাহ সা. থেকে রাকআত সংখ্যা বিষয়ে কোন কিছু বর্ণিত হয়নি। সুতরাং যে যতটুকু ইচ্ছা করে ততোটুকু পড়তে পারে। একজন সাহবী থেকে চার রাকআত পড়ার নির্দেশ এসেছে তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় চার রাকআতও পড়া যায় এবং এটাও সুন্নাত। জুমুআর পরে সুন্নত নামায সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত। সুতরাং জুমুআর পরে নামায পড়া সুন্নাত। আমাদেরকে সুন্নাতের অনুস্বরণ করতে হবে।

প্রশ্নঃ 705
খাবার খাওয়ার সময় বসার নিয়ম বা সুন্নাত বা তরীকাহ গুলী কি?
31 Dec 2025

বিভিন্ন সহীহ হাদীসের উপর ভিত্তি করে হাফেজ ইবনে হাজার রহ. বলেছেন, فالمستحب في صفة الجلوس للاكل أن يكون جاثيا على ركبتيه وظهور قدميه أو ينصب الرجل اليمني ويجلس على اليسرى অর্থ: খাবারগ্রহন কারীর বসার ক্ষেত্রে মুস্তাহাব হলো, হাঁটুর উপর ভর করে দুই পায়ের উপর বসা কিংবা ডান পা সোজা করে (উচুঁ) করে বাম পায়ের উপর বসা। ফাতহুল বারী, ৯/৫৪২। আর অন্য একটি সহীহ হাদীস থেকে আরেকটি পদ্ধতি জানা যায় সেটা হলো উভয় হাটু উঠিয়ে বসা। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৪৫২।

প্রশ্নঃ 704
আসসালামুয়ালাইকুম। প্রশ্নঃ ঔষধ খাওয়া কিংবা ঔষধ খাওয়ার জন্য সুস্থ্য হওয়া মনে করা কি শিরক? ইসলামে ঔষধ খাওয়ার বিষয়টি বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব। আরেকটা প্রশ্নঃ স্যারের মৃত্যুরপর এইসব প্রশ্নের উত্তর কে/কারা দেন? ওনাদের পরিচিতি জানাবেন কি? আল্লাহ্ আপনাদের খেদমত কবুল করুক। আমীন।
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমু স সালাম। ঔষুধ খাওয়া বা অন্য কোন জায়েজ চিকিৎসা নেয়া কোন অন্যায় নয়। বরং সুন্নত। কোন মুসলিম এমন চিন্তা কর না যে ঔষধই তাকে ভাল করেছে। সে সব সময় মনে করে ঔষুধের মাধ্যমে আল্লাহ তাকে ভাল করেছে। হ্যাঁ, যদি কেউ মনে করে ঔষধই তাকে ভাল করেছে তাহলে শিরক হবে। স্যার রহ. ইন্তেকালের পূর্বে যারা এই দায়িত্বে ছিল তারাই আছে। তবে স্যার যে কাজ করতেন সে কাজ করেন আমাদের এখান কার আলেমগণ। বিস্তারিত জানতে 01792108768

প্রশ্নঃ 703
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু আমার প্রশ্ন হলোঃ- ১. তাশাহুদে শাহাদাত আঙ্গুল উঠানোর সঠিক নিয়ম কি? বিশেষ করে ইশারা ও নাড়ানোর সঠিক পদ্ধতি কি? আমি হাদিসে, দোআ করা ও তা নাড়ানো এমনটা শুনেছিলাম। এবং স্যার এর একটি ভিডিও লেকচারে, উনি বিতর্কিত বিষয়গুলো তুলে ধরার এক পর্যায়ে এইটার কথা বলেছিলেন এবং উনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তুলেন বলেছিলেন। বিষয়টি একটু বুঝিয়ে বলবেন Please ২. সাহু সেজদা করার সঠিক নিয়ম কি? ▶ আত্তাহিয়্যাতু পড়ে ডান দিকে ১বার সালাম ফিরিয়ে ২টি সেজদা করে পুনঃরায় পুরু তাশাহুদ পড়ে ডানে বামে সালাম ফিরানো নাকি – ▶ আত্তাহিয়্যাতু, দুরুদ শরিফ, দোআ মাসুরা সম্পূর্ণ পড়ে ২টি সেজদা করে তারপর ডানে বামে সালাম ফিরানো? কোনটা সঠিক ও সুন্নাহ সম্মত? ৩. দুয়া কুনুত এবং বিতর সালাত ৩ রাকাত পড়ার সঠিক ও সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতি কোনটি? ▶ ২ রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে তারপর ১ রাকাত পড়া? এইক্ষেত্রে প্রথম ২ রাকাত কি নফল সালাত এবং শেষ ১ রাকাত বিতরের নিয়ত করে পড়তে হবে? ▶ মাগরিবের মতন করে ৩ রাকাত পড়া? এইক্ষেত্রে একটা হাদিসে, বিতরকে মাগরিবের মতন করে পড়তে মানা করা হয়েছে শুনেছিলাম। বিষয়টি একটু বুঝিয়ে বলবেন Please ▶ কোথাও না বসে একটানা ৩ রাকাত পড়া। অর্থ্যাৎ, ২য় রাকাতে না বসে, শুধুমাত্র শেষ রাকাতে বসা। কোনটা সঠিক ও সুন্নাহ সম্মত? ৪. ৩য় রাকাতে দুয়া কুনুতের আগে যে তাকবীর দেয়া হয়, আমি শুনেছি এইটা সঠিক নয় – বিষয়টি একটু বুঝিয়ে বলবেন Please ৫. দুয়া কুনুত রুকুর আগে বা পড়ে কখন পড়া উত্তম? এইক্ষেত্রে রুকুর আগে পড়লে হাত উঠিয়ে মুনাজাতের মতন করে পড়তে হবে নাকি হাত বেঁধে পড়তে হবে? এবং রুকুর পড়ে পড়লে কিভাবে পড়বো এবং দুয়া শেষে মুখে হাত মাসেহ করার বিধান কি? এই ছিল আমার প্রশ্ন। অনুগ্রহ করে প্রশ্নানুসারে, স্যার এর দেয়া উত্তরগুলা আমাকে বললে খুব-ই উপকার হয়। স্যার এর সঙে দেখা করার ও অনেক কিছু জানার অনেক আগ্রহ ছিল। আল্লাহ্ তাআলা উনাকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন এবং আপনাদেরকেও উত্তম বিনিময় দান করুন। আমিন আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আঙ্গুল দ্বারা ইশারার বিষয়ে স্যার রহ. এর তত্বাবধানে দেয়া একটি প্রশ্নের উত্তর নিচে দিচ্ছি। এখান থেকে আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন। এটা আমাদের দেয়া ২৪৯ নং প্রশ্নের উত্তর। সাহাবী ওয়াইল ইবনে হুযর বলেন, عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ ، قَالَ : رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ قَدْ حَلَّقَ الإِبْهَامَ وَالْوُسْطَى ، وَرَفَعَ الَّتِي تَلِيهِمَا ، يَدْعُو بِهَا فِي التَّشَهُّدِ আমি রাসূলূল্লাহ সা. কে দেখেছি, তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমা আঙ্গুলি এক সাথে করে গোলাকার করলেন এবং ঐ দুই আঙ্গুলির সাথে যুক্ত আঙ্গুলিটি (শাহাদাৎ আঙ্গুলি) উচুঁ করলেন এবং তা দ্বারা তাশাহুদের মধ্যে দোয়া করলেন। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৯১২। হাদীসটি সহীহ। সহীহ মুসলিমসহ বিভিন্ন কিতাবে এমন অর্থের অনেক হাদীস বহু সাহাবী থেকে বর্ণিত আছে। কোন কোন হাদীসে আঙ্গুল নাড়ানো বা নাড়ানোর কথা আছে। এর মধ্যে না নাড়ানোর হাদীসটি সহীহ বলে মনে হয়। হাদীসটি আছে সুনানে আবু দাউদ হাদীস নং ৯৮৯, সুনানু নাসায়ী,হাদীস নং ১২৭০্ । মোট কথা ইশারা করার কথা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত, তবে কখন থেকে ইশারা শুরু করবে, কিভাবে করবে সে ব্যাপারে সর্বাক্যমতে সহীহ কোন দলীল পাওয়া যায় না, এ কারণে ইশারার ধরন নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। সুতরাং যেভাবেই করুন আপনার ইশারার সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। ইশারার একটি সুন্নাত পদ্ধতি পুরো বৈঠকে শাহাদাৎ আঙ্গুলি উচুঁ করে রেখে আঙ্গুল না নাড়িয়ে ইশারা করা। আর আপনি মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ নাম রাখতে পানের কোন সমস্যা নেই। সাজদায়ে সাহু সালামের আগে পরে দুই সময়ই দেয়া যায়। যে কোন একটি পদ্ধতি অনুসরন করলেই সুন্নাত আদায় হবে। উভয় পদ্ধতির হাদীসই সুনানু তিরমিযীতে আছে। তবে একদিকে সালাম ফেরানোর চেয়ে দু্ দিকে ফিরানো উত্তম। আর একদিকের কথাও হাদীসে আছে। স্যার এমনই বলতেন। বিতর সালাত নিয়ে আপনি যে সব প্রশ্ন করেছেন ইনশাআল্লাহ তার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর পাবেন স্যার রহ. এর ইন্তকাল পূর্ব তার তত্বাবধানে দেয়া ১০৩ এবং ১৫৪ নং প্রশ্নের উত্তর দেখলে। যেখানে অনেক বিষয় তিনি নিজ হাতে লিখেছেন। যেমন, বিতর কে মাগরিবের মত করো না আর অর্থ হলো মাগরিবের মত তিন রাকআত করো না বরং আরো কিছু রাকআত মিলিয়ে পাঁচ বা আরো বেশী করো। সবই পাবেন এই দুটি প্রশ্নের উত্তর দেখলে। তারপরও কোন প্রশ্ন থাকলে জানাবেন। আর আমরা প্রশ্নোত্তরের ক্ষেত্রে সবসময় স্যারের চিন্তাধারাকে মেনে চলব ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্নঃ 702
আসসালামুয়ালাইকুম। আমি বেলজিয়ামে থাকি। এখানে ইন্টারনেটে টাইম অনুযায়ী সুর্য্য ডুবার পরও আলো থাকে, যেন মনে হয় সুর্য্য ডুবেনাই। স্থানীয় মসজিদে ইফতারীর সময় ইন্টারনেটে পাওয়া সুর্য্য ডুবার টাইম থেকে ৫ মিঃ পরে। এখন আমার জন্য স্থানীয় মসজিদের ইফতারির টাইম ফলো করা উচিৎ নাকি ইন্টারনেটে পাওয়া সুর্য্য ডুবার টাইম ফলো করা উচিৎ?
31 Dec 2025

স্থানীয় মসজিদের ইফাতেরর সময় ফলো করবেন।

প্রশ্নঃ 701
আল্লাহর ওয়াস্তে ফজর এর ২ রাকাত ফরজ নামায পরতেছি আউভাবে মনে মনেভাবে নিওত করলে কি বিদাত হবে?
31 Dec 2025

না, বিদআত হবে না। এটাই নিয়ম মনে মনে থাকবে যে আমি অমুক ওয়াক্তের ফরজ সালাত আদায় করছি।

প্রশ্নঃ 700
ঢাকায় ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার এর বইগুলো কোথায় পাওয়া যাবে? জানালে উপকৃত হব।
31 Dec 2025

আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স, ঢাকা অফিস: 01730 74 70 01, 01791 66 66 65 ঝিনাইদহ অফিস: 01791 66 66 63, 01791 66 66 64 ও ফুরফুরা শরীফ, মিরপুর। ওখানে যোগাযোগ করুন।

প্রশ্নঃ 699
হুজুর আমার নাম ইয়াসিন। আমার বাড়ি কোলকাতায়। আমার প্রশ্ন হল সবেবারাত এবং সবেকদর সময় দল্ল বদ্ধ ভাবে কবর যিয়ারাত করা যাবে। হাদিস টা একটু পাঠিয়ে দিন।
31 Dec 2025

ভাই, শবে কদর বা বরাতে দলবদ্ধ হয়ে কবর জিয়ারতের কোন হাদীস নেই। আমাদের ওয়েব সাইডে এ সম্পর্কে লেখা আছে। দেখে নিতে পারেন।

প্রশ্নঃ 698
This is the case of one of my sisters: আমার কেস টা হলোঃ আমি শশ্বর,শাস্বরি,ননদ আর দেবরের সাথে ঢাকায় থাকি। আমার স্বামি থাকে আশুগঞ্জ,ওইখানে তার চাকরী। আমার এই ঢাকার বাসায় আমার শশ্বর,শাস্বরি,ননদ সারাদিন আমাকে বাপ-মা তুলে গালি দেয়। আমার ননদ এর বয়স ৩০ বছর, সে অবিবাহিত,সে যখন অফিস থেকে বাসায় ফেরে আমাকে বকতে থাকে। আমি স্বামীকে একথা গুলো বললেও সে আমাকে চুপ থাকতে বলে। উল্লেখ্য যে আমার স্বামী আমাকে তার কাছে ও নিতে চায়না। আমার ভরন-পোষণ আমার শস্বুর বাড়ির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়,কারণ আমার স্বামী টাকা পেয়ে সব তার মাকে দিয়ে দেয়। সে সপ্তাহে দুই দিন বাসায় আসে। আমরা কোন প্রাইভেট কথা বলতে পারিনা,সবি তাদের সামনে বলতে হয়। আর এই দুইদিনের সারাদিন সে বন্ধুদের সাথে কাটায় আর আমার সাথে তার রাতে দেখা হয়। আর এখানে তারা আমার সব প্রাইভেট বেপারে ও হস্তক্ষেপ করে এমনকি আমি কবে বাচ্চা নেব সে বেপারেও। প্রসংগত, আমার স্বামী ওইভাবে নামায পড়েনা, আমি যতটুক পারি তাকে বোঝাই। ঠিক এই মুহুর্তে তার সাথে আমার কন্টিনিউ করাটা খুব কোঠিন হয়ে যাচ্ছে। ইসলামিক উপায়ে আমার এখন কি করা উচিত?
31 Dec 2025

আপনি বিষটি নিয়ে আপনার স্বামীর সাথে একান্ত মূহুর্তে আলোচনা করুন। আপনার পিতা-মাতার সাথেও আলোচনা করুন আর দুআ করতে থাকুন। বিশেষ করে নিচের দুআ গুলো : রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো সুন্নাত সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। এছাড়া কুরআনের এই দুআ দুটিও সুন্নাত সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বারবার পড়বেন, رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ এবং رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

প্রশ্নঃ 697
প্রিয় এডমিন ভাই, আমি স্যারের অনেক ভক্ত। উনায় বিদায় সত্যি অনেক বেদনাদায়ক! আল্লাহ্ আজওয়াজাল উনাকে বেহেস্ত নসিব করুন! আমিন। আমার একটা প্রশ্ন ছিলো ভাই এডমিন। আমাদের প্রায় সকল মসজিদেই তারাবীহ সলাত দ্রুত পড়ায়। বিশেষ করে খতমে তারাবীহ। আর সুরা তারাবীহ কেমনে পড়ায় জানি না। তবে মনে হয় সুরা তারাবীহ খতমে তারাবীহর থেকে একটু স্লো হতে পারে। শায়েখের কথায় বুঝা গেলো খতমে তারাবীহ পড়তে গিয়ে সওয়াবের আশায় আমরা সাধারণত গুনাহই করছি। এখন কথা হচ্ছে, এখেত্রে আমার করনীয় কি? আমি ফাসেকি করতে চাচ্ছি না। আমি সুরা জামাত পড়ব নাকি বাড়িতে সলাত পড়ব। যদি বাড়িতে পড়ি তাহলে সাধারনত যদি প্রতি রাকাতে আমি ৫ মিনিট সময়ও নিই( যেহেতু আমার বড় বড় সুরাগুলো এখনও মুখস্ত নেই) ১০০ মিনিট বা প্রায় পৌনে দুই ঘন্টা সময় বা ২ ঘন্টায় আমার ২০ রাকাত সলাত পড়তে সময় লাগবে। আমার জন্য বেস্ট অপশন কোনটা? ১! সুরা তারাবীহ জামাতে আদায় করা। ২! বাড়িতে নিজে সলাত আদায় করা ধীরেসুস্থে। দয়া করে জানালে খুসি হবো। জাজাকাল্লাহ।
31 Dec 2025

আপনার মত অনেকেই এমন সালাতে তৃপ্তি পায় না। আপনার প্রশ্ন দেখে মনে হচ্ছে আপনার বাড়িতে সালাত আদায় করাই উত্তম। আপনি বাড়িতেই পড়ুন। হাদীসে একাকী তারাবীহ সালাত আদায়কেই উত্তম বলা হয়েছে। ইচ্ছা থাকা সত্বেও সময় কম থাকার কারনে বিস্তারিত বলতে পারলাম না বলে দু:খিত।

প্রশ্নঃ 696
কেউ নফল বা সুন্নত নামাজ পড়তে থাকলে ঐ সময় তার পিছনে জামাতে ফরজ পড়া যাবে কিনা?
31 Dec 2025

বিষয়টি নিয়ে আলেমগনের মাঝে মতভেদ আছে। তবে আমাদের দেশে পড়া না যাওয়ার মতটির উপর আমল করা হয়।

প্রশ্নঃ 695
কত দিনের মধ্যে যাকাতের টাকা পরিশোদ করতে হয়?
31 Dec 2025

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করবেন। মনে রাখবেন যাকাতের যে টাকা দিবেন তা তাদের হক।

প্রশ্নঃ 694
Assalamu alikum Shaik amar ammi khub mota.mati te bose namaz porle khub komor jontrona hoy.uni ki chair a bose namaz porte parbe?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নামাযে যখন দাঁড়ানোর সময় তখন তিনি দাড়াবেন। আর বসার সময় চেয়ারে বসে ইশারায় রুকু সাজদাহ দিবেন।

প্রশ্নঃ 693
আসসালামুয়ালাইকুম, মুহতারামের কাছে আমার প্রশ্ন, আমার এলাকার তাবলিগ ভায়েরা তাবলিগে যাওয়ার জন্য আমাকে অনেক উৎসাহ দেয় এবং আমি অনেকবার তাদের সাথে ৩দিনের তাবলিগে গিয়েছিলাম….এখন তারা আমাকে ৪০ দিনের জন্য অনেক উৎসাহ দিচ্ছে …কিন্তু আমি দেখেছি তারা অনেক জাল ও জয়ীফ হাদিসের উপর আমল করে এবং সেগুলো বলে দাওয়াত দেয়। এমত অবস্থায় কি আমি তাবলিগে যাব? মুহতারাম আমাকে একটু বুজিয়ে বলবেন কারন আমি আপনের কিছু বক্তব্য শুনার পরে কিছু কিছু গুমরাহী থেকে ফিরে এসেছি। সবই আল্লাহর ইচ্ছা তাই আপনের উপর আমার আস্থা আছে আশা করি আপনি এখন আমাকে কিছু ভাল পরামর্শ দেবেন….
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি হয়তো জানেন স্যার ইন্তকাল করেছেন। এসব ক্ষেত্রে স্যারের বক্তব্য ছিল এরকম যে, আপনি যেতে পারেন তবে জাল-যইফ থেকে আপনি বেচেঁ থাকবেন। মুমিনেন দায়িত্ব হলো সর্বাবস্থায় মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্ববান করা। তবে এটা একটা পদ্ধতি মাত্র। আপনি যেতে পারেন।

প্রশ্নঃ 692
আসসালামুয়ালাইকুম, মুহতারামের কাছে আমার প্রশ্ন, আমি পুরান ঢাকার লালবাগে প্লাস্টিকের ব্যাবসা করি….আমি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কোম্পানীর কাছ থেকে প্লাস্টিক ক্রয় করে থাকি…..আমি যে প্লাস্টিক ক্রয় করি তা হচ্ছে দালালের মাধ্যমে…তো আমার প্লাস্টিক ক্রয়ের পরে ঐ ক্রয়কৃত প্লাস্টিক আমি আবার আমার মত করে প্রস্তুত করার কারনে সেটা ব্যবহার করা থাকে থাকে মানে resycel, প্রস্তুত করার সময় দালাল আমাকে অনেক সাহায্য করে আবার অনেক সময় করেও না, তাঁরপর আমি ঐ প্লাস্টিক বিক্রয় করার পরে সেই দালালকে প্রতি কেজিতে ২/৩/৫ টাকা করে দেই, এখন এটা কি হারাম না হালাল?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালম। এখানে হারামের কিছু দেখছি না, আপনি দালালকে আপনার ্প্রতিনিধি মনে করবেন। আর যেহেতু সে আপনার কাজ করছে তাই তাকে কিছূ পারিশ্রমিক আপনি দিচ্ছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কোন বিজ্ঞ আলেমের সাথে আলাপ করলে ভাল হয়।

প্রশ্নঃ 691
Assalamualaikum.Sir, I want to buy a Bangla Meaning Al-Quran. Which writer is better. Please informe me immediately.
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি শায়খ ত্বকী উসমানী রচিত আর মাকতাবাতুল আশরাফ থেকে বাংলায় প্রকাশিত তাওযীহুল কুরআন পড়তে পারেন। এছাড়া মাওলানা মুহিউদ্দীন খান অনুতিদ মারেফুল কুরআন দেখতে পারেন তাফসীর জনান জন্য।

প্রশ্নঃ 690
রসুল (সা.) বলেন : তোমাদের প্রত্যেকেই একজন দায়িত্বশীল। আর (কেয়ামত দিবসে) তোমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। দয়া করে এই হাদিসের পূর্ণ দলিলটা জানাবেন।
31 Dec 2025

হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমসহ বহু কিতাবে আছে। দেখূন,সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৮৯৩, ২৪০৯, ২৭৫১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৮২৮। পূর্ণ হাদীসটির আরবী পাঠ নিম্ররূপ: عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ كُلُّكُمْ رَاعٍ وَزَادَ اللَّيْثُ قَالَ يُونُسُ كَتَبَ رُزَيْقُ بْنُ حُكَيْمٍ إِلَى ابْنِ شِهَابٍ – وَأَنَا مَعَهُ يَوْمَئِذٍ بِوَادِي الْقُرَى – هَلْ تَرَى أَنْ أُجَمِّعَ وَرُزَيْقٌ عَامِلٌ عَلَى أَرْضٍ يَعْمَلُهَا وَفِيهَا جَمَاعَةٌ مِنَ السُّودَانِ وَغَيْرِهِمْ وَرُزَيْقٌ يَوْمَئِذٍ عَلَى أَيْلَةَ فَكَتَبَ ابْنُ شِهَابٍ – وَأَنَا أَسْمَعُ – يَأْمُرُهُ أَنْ يُجَمِّعَ يُخْبِرُهُ أَنَّ سَالِمًا حَدَّثَهُ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ يَقُولُ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ الإِمَامُ رَاعٍ وَمَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَالرَّجُلُ رَاعٍ فِي أَهْلِهِ وَهْوَ مَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ فِي بَيْتِ زَوْجِهَا وَمَسْؤُولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا وَالْخَادِمُ رَاعٍ فِي مَالِ سَيِّدِهِ وَمَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ- قَالَ وَحَسِبْتُ أَنْ قَدْ قَالَ – وَالرَّجُلُ رَاعٍ فِي مَالِ أَبِيهِ وَمَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَمَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ.

প্রশ্নঃ 689
espected sir Salam.is the munafa of Paribarik sonchoypotro of Bangladesh bank halal or harm? Regards
31 Dec 2025

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে কোন ধরণের মুনাফায় হারাম। কারণ ব্যাংটির আয়ের উৎসই তো হারাম টাকা। তারা মানুষের টাকা সুদে লাগায় এরপর সুদ থেকে মুনাফা দেয়।

প্রশ্নঃ 687
আসসালামু আলাইকুম। আমার বয়স ৩৩। আমি সামুদা কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেড এ ২০১৩ এর ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ থেকে প্রসেস কেমিস্ট পদে চাকরি করছি মুন্সিগঞ্জ এ। আমার দুই ভাই ভাবিসহ ঢাকায় থাকা। আমার বাবা মা মেহেরপুরে বাড়িতে থাকেন। ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে আমার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের আগে খোজ নিয়ে জানতে পারি মেয়ে মডারন, তার মা ঝগড়াটে, তার বাবার যৌন কেলেংকারি আছে ও খারাপ লোক। কিনতু আমার বাবা মা আমাকে বোঝায় যে মেয়ে ভাল ও নামাজ এবং পরদা করে। আমার উপর তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ সৃষটি করে। আমি এস্তেখারা করে কিছুতেই তাকে বিয়ে করতে ইচ্ছে করছিল না। কিন্তু শেষ পরযনত আমি সেখানে যেতে বাধ্য হয়। সেখানে গিয়ে আমি মেয়েটাকে ভালভাবে বুঝতে পারিনি। আমি যে প্রশ্নগুলো করি তার ইতিবাচক উত্তর দেয়। যেমন নামাজ পরে, পরদা কতে ইত্যাদি। ঐ দিনই আমার বিয়ে পড়িয়ে দেয়া হয়। আরো কিছু মিথ্যা তথ্য দেয়। কিনতু বিয়ের পর দেখা গেল যে অজু গোসল এর ফরজ, নামায এর পদ্ধতি, সুরা কিছুই জানে না। আমার খুব মন খারাপ হয়ে গেল। তারপর অনেক ভেবে চিনতে সংসার করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তার সাথে প্রথম তিন মাস মেলামেশা করতে পেরেছিলাম। কিন্তু এরপর থেকে আমাকে অপছন্দ ও বিচ্ছেদ চায়তে শুরু করল। এর চার মাস পর তার সাথে আমার বিচছেদ হয়ে গেল। গত মাসে আমি একটি মেয়েকে পছনদ করেছি। মেয়েটি ধারমিক, পাচ ওয়াকত নামাজ পড়ে। সকালে কুরআন পড়ে। তার মা মারা গেছে এবং কিছুটা গরিব। সে ইংরেজিতে অনারস মাস্টারস করে একটি ইসকুল এ চাকরি করে। মেয়েটির একটি ছেলের সাথে বিয়ে হয়েছিল বছর দুই আাগে এবং বিচছেদ হয়েছে বছরখানেক। ছেলেটি ধারমিক ছিল না এবং মেয়েটিকে পরদা করতে বাধা দিত ও দূরব্যবহার করতো। আমি এস্তেখারা করে তাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু আমার বাবা মা একটি এইচএসসি পরীক্ষারথী মেয়ের সাথে বিয়ে দিতে চায়। তার খোজ নিয়ে জানতে পেরেছি সে ঝগড়াটে, কলেজে চিতকার চেচামেচি করে যদিও আমার বাবা তাকে ধারমিক বলছে। তার বাবার আরথিক অবস্থা ভাল এবং মাসজিদের ইমাম। আবার আমি যাকে পছন্দ করেছি তার পিতাও মাসজিদের ইমাম। আমি যাকে পছন্দ করেছি তার সাথে আমার বাবা মা কিছুতেই দিবে না এবং আমার বাবা মা যাকে পছন্দ করেছে তাকে আমি বিয়ে করতে মোটেও ইচছুক না। আমার পছনদের মেয়েকে আমি নিজে দেখেছি এবং সেও আমাকে পছনদ করেছে। তার বাবা ভাইরাও আমার সাথে তাকে বিয়ে দিতে চায়। তার চরিত্র সম্পরকে প্রায় সবাই ভাল বলেছে। কেউ কেউ তাকে কিছুটা অসুস্থ বলেছে। এ অবসথায় আমি যদি বাবা মাকে না জানিয়ে তাকে বিয়ে করি তাহলে কি আমার অপরাধ হবে। আশা করি দ্রুত উত্তর দিবেন। তাহলে আমি কৃতজ্ঞ থাকব ইনশা আল্লাহ।
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিবাহের ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতি নেয়া মেয়েদের জন্য আবশ্যক। ছেলেদের জন্য অভিভাবকের অনুমতি নেয়া ইসলামের দৃষ্টিতে আবশ্যক নয়। আপনি আপনার পিতা-মাতাকে রাজী করাতে চেষ্টা করুন। না হলে আপনি তাদের অনুমতি ছাড়ই বিবাহ করতে পারবেন।

প্রশ্নঃ 686
আসসালামু আলাইকুম আমি আপনার লেখা বইগুলির pdf ডাউনলোড করেছি, কিন্তু বইগুলিতে রেফারেন্স নাই…. রেফারেন্সের নম্বর আছে কিন্তু নিচে কোন refference নেই…. এরকম কেন?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। স্যার রহ. পিডিএফ ফাইলে রেফারেন্স দিতে নিষেধ করেছিলেন। তাই দেয়া হয়নি।

প্রশ্নঃ 685
আসলামুঅলাইকুম। সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার আযান ও আকামত দেওয়ার বিধান কি? এবং শরিয়তে আর কি বিধান কি? জরুরী ভিত্তিতে জানালে উপকৃত হব
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীসে আছে, আবু রফা বলেন, رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- أَذَّنَ فِى أُذُنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِىٍّ – حِينَ وَلَدَتْهُ فَاطِمَةُ – بِالصَّلاَةِ. অর্থ: আমি রাসূলুল্লাহ সা. কে দেখলাম হুসাইনের কানে আযান দিচ্ছে, যখন ফাতেমা রা. তাকে জন্মদেন। সুনানু আবু দাউদ, হাদীসনং৫১০৭ ; সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং১৫১৪। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। শায়খ আলবানী বলেছেন হাসান। সুতরাং আযান দেয়া সুন্নাত। তবে ইকামতের কথা সহীহ হাদীসে উ্ল্লেখ নেই।

প্রশ্নঃ 684
আমার প্রশ্ন হোল আপনি এর আগে কোন এক জায়গায় বলছিলেন যে, আমরা যে জানি ১৮ হাজার মাখলুকাতের কথা এটা নাকি ভুল? যে হাদিস থেকে এই থেকে এই কথা আসসে তা নাকি বানোয়াট? আপনি কি একটু কষ্ট করে আপনার এই কথার প্রমান দিতে পারেন? সত্য সুন্নাহের আলোকে কি রেফারেন্স দিয়ে উত্তর দেবেন?
31 Dec 2025

কোন হাদীসে তো নেই ১৮ হাজার মাখলুকাতের কথা তাহলে রেফারেন্স আসবে কোথা থেকে? আপনিই বলুন কোন হাদীসে আছে? রেফারেন্স দিন।

প্রশ্নঃ 683
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। কেমন আছেন? আমার প্রশ্ন হলোঃ- ১. রোজা রাখার জন্য নিয়ত করতে হয়। কিন্তু এই নিয়ত এর জন্য কোন নির্দিষ্ট দুয়া পড়তে হয় কি? যেমন- আমাদের দেশে রোযার সময়সূচীতে রোযার নিয়ত করার দুয়া, ইফতারের দুয়া দেয়া থাকে? আর আমরা সেইগুলো পড়ে রোজা ও ইফতার করি। এইটা কি আমরা সুন্নাহ সম্মত করছি? এ সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) কিভাবে রোযার নিয়ত ও ইফতার করতেন? ২. আর রাতে সেহরিতে না জাগতে পারলে এবং না খেয়ে রোজা রাখলে – এইক্ষেত্রে কি রোজা হবে? এক্ষেত্রে নতুন করে কোন নিয়ত মনে মনে রাখতে হবে কি? এই ছিল আমার প্রশ্ন। অনুগ্রহ করে প্রশ্নানুসারে, স্যার এর দেয়া উত্তরগুলা আমাকে বললে, উনি এই সম্বন্ধে কি বলেছেন, জানালে খুব ই উপকার হয়। আল্লাহ্ তাআলা স্যার কে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন এবং আপনাদেরকেও উত্তম বিনিময় দান করুন।
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। রেজার যে নিয়্যাত দেয়া আছে তা বলে রোজায় থাকবেন না। তবে ইফতারের দুআ পড়া যেতে পারে। রাতে সেহরী না খেতে পারলেও রোজা হবে।

প্রশ্নঃ 682
যাদু-টোনা কারীকে ধ্বংস করার আমল কি? ঘরে যাদু টোনার যে যব উপাত্ত গোপন ভাবে রাখা আছে টা বের করার উপায় কি?
31 Dec 2025

রাসূলুল্লাহ সা. বিভিন্ন সময় যাদু-টোনা ধ্বংস করার বিভিন্ন দুআ শিখিয়েছেন। যেমন, সূরা নাস-ফালাক পড়া ইত্যাদী।বিস্তারিত জানতে দেখুন ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত রাহে বেলায়াত গ্রন্থের নতুন সংস্করনের ৬ষ্ঠ অধ্যায় ।

প্রশ্নঃ 681
আসসালামু আলায়কুম, আমি একটি পাপ কাজ বার বার করতাম। অনেক চেষ্টার পরও ছাড়তে পারিনাই। একদিন আল্লাহর নামে শপথ করেছিলাম যে, এই পাপ কাজ আর করবনা, কিন্তু কিছুদিন পর আবার আমি পাপ কাজটি করে ফেলি, আমর প্রশ্ন হলো এখন আমাকে কিভাবে এটার কাফফারা দিতে হবে?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কসমের কাফফারা নিম্নরূপ : (তিনটির যে কোন একটি) (১) দশজন মিসকীনকে খানা খাওয়ানো। (২) দশজন মিসকীনকে সালাত আদায় করতে পারে এতটুকু পোশাক দেয়া। (৩) ত্রটিমুক্ত একজন মুমিন দাস মুক্ত করে দেয়া। কাফফারা আদায়কারী তিনটির যে কোন একটি বেছে নিবে। যদি উল্লেখিত কোন একটি না পায় তাহলে একাধারে তিন দিন রোযা রাখবে। ইরশাদ হচ্ছে : لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا عَقَّدْتُمُ الْأَيْمَانَ (المائدة:৮৯) আল্লাহ তাআলা তোমাদের কসমগুলোর মধ্যে অর্থহীন কসমের জন্যে পাকড়াও করবেন না। কিন্তু তিনি তোমাদেরকে ঐ কসকমসমূহের জন্যে পাকড়াও করবেন, যেগুলোকে তোমরা (ভবিষ্যত বিষয়ের প্রতি) দৃঢ় কর, (অর্থাৎ ইচ্ছাকৃত শপথ)। (সুরা মায়েদাহ :৮৯) সুতরাং এর কাফফারা হচ্ছে দশজন অভাবগ্রস্থকে (মধ্যম ধরণের) খাদ্য প্রদান করা, যা তোমরা নিজ পরিবারের লোকদেরকে খাইয়ে থাক, কিংবা তাদেরকে (মধ্যম ধরণের) পরিধেয় বস্ত্র দান করা কিংবা একটা গোলাম বা বাঁদী মুক্ত করে দেয়া, আর যে ব্যক্তি সমর্থ না রাখে, সে একাধারে তিন দিন রোযা রাখবে। এটা তোমাদের কসমের কাফফারা।

প্রশ্নঃ 679
আসসালামু আলাইকুম। আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে একত্রে কিছু টাকা জমা করি। কিছু দিন পর আমাদের একজন বন্ধু মারা যায়। সে কোন নমিনী ঠিক করে যায় নি। এখন তার বাবা আমাদের সাথে ব্যবসা চালিয়ে যেতে চাচ্ছেন। উল্লেখ্য তার মা, ভাই, বোন ও সন্তানসম্ভবা স্ত্রী রয়েছে। এমতাবস্থায় আমাদের কি করা উচিৎ? আমরা কি তার ছোট ভাইকে জমাকৃত সহ অংশীদার হিসেবে নিব নাকি জমাকৃত টাকা বন্টন করে দিব? বন্টন করতে হলে কিভাবে করব, আমাদের দায়িত্ব কতটুকু? দয়া করে জানাবেন।
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আপনাদের উচিত হল, আপনারা আপনাদের মৃত বন্ধুর টাকা তার পরিবারের লোকদের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া।পরিবারের উচিত হল সেই টাকাসহ মৃতব্যক্তির রেখে যাওয়া সকল সম্পদ ইসলামী মিরাসের নিয়ম অনুসারে বন্টন করা। উল্লেখ্য যে, সম্পদ বন্টনের ক্ষেত্রে সম্ভব্য সন্তানও মিরাসের অংশ পাবে।


প্রশ্নঃ 678
নবী করীম (সাঃ) নামাজে কোন দরুদ পড়তেন? তিনি কী দরুদে মুহাম্মাদ (আমরা নামাজে যে দরুদ পড়ি) পড়তেন?
30 Dec 2025

সাহবীগণ রাসূলুল্লাহ (সা.) কে জিজ্ঞসা করলেন, আমরা সালাতে কিভাবে আপনার উপর দরুদ পড়বো তখন তিনি তাদেরকে আমরা সালাতে যে দরুদ পড়ি তা শিক্ষা দেন। বুখারী, মুসলিমসহ অন্যান্য কিতাবে হাদীসগুলো উল্লেখ আছে। তবে শব্দ কোথাও কমবেশী আছে। বিস্তারিত দেখুন রাহে বেলায়াত গ্রন্থে। পৃষ্ঠা ১৭৪-১৭৮।

প্রশ্নঃ 677
আসসালামু আলাইকুম। আমার জানার বিষয় হলো ১. জোহরের নামাজে আমি ইমাম সাহেবের সাথে শেষ দুরাকাত পেলাম। তা হলে আমি কিভাবে নামাজ পড়ব? আমার কী সূরা ফাতিহার সাথে কোন সূরা পড়তে হবে? ২. আমি আসরের নামাজে ইমাম সাহেবের সাথে ২য় রাকাতে মরীক হলাম, আমি যে রাকাত(১ম) নামাজ পাইনি তা কিভাবে পড়ব? জাযাকাল্লাহ, মো: আহ্সান হাবীব হাসান
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালম।

১। জ্বি, আপনি সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা পড়বেন।

২। আপনি ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর উঠে একরাকআত আদায় করবেন। সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলাবেন।

প্রশ্নঃ 663
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ আমার একমাত্র ছেলেটি বাকপ্রতিবন্ধী। তার মুখের ভাষা বা কথা আনার জন্য কুরআন বা হাদীসে বিশেষ কোন দুআ আছে কিনা? জানাবেন।
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আসলে অটিজম এমন একটি মানসিক রোগ উনবিংশ শতাব্দির পূর্বে যার নাম শুনা যায় নি। বর্তমানে এর কিছু চিকিৎসা বের হলেও তেমন উন্নত চিকিৎসা আমাদের জানা মতে এখনো বের হয়নি।আপনি রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো নফল সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। এছাড়া কুরআনের এই দআটিও সালাতে এবং অন্যান্য সময় বারবার পড়বেন, رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনার সব সংকট দূর করে দেন।


প্রশ্নঃ 675
আসসালামু আলাইকুম। ভাই আমার একটি প্রশ্ন, আমাদের দেশে প্রচলিত আছে যে, ঔষধ খাওয়ার সময়ে আল্লাহু সাফি আল্লাহু মাফ বলা। এটা কি ঠিক? জানামতে আল্লাহু মাফি অর্থ নাই (নাউযুবিল্লাহ) প্লিজ দয়া করে দিন
30 Dec 2025

ওয়া আলাকুমুস সালাম। হাদীসে কোথাও নেই ঔষুধ খাওয়ার সময় এমন বলতে হয়। এটা একটা বানোয়াট আমল। তবে আল্লাহ তো শাফী অবশ্যই।

প্রশ্নঃ 670
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ মায়ের সম্পদ বন্টনের ইসলামী নিয়ম কি? বিস্তারিত বর্ণনা জানতে চাই।
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। ১.যিনি মারা গেলেন তার যদি স্বামী জীবিত থাকে, এবং মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান না থাকে তাহলে স্বামী পাবে সমস্ত সম্পদের দুই ভাগের এক ভাগ। ২.আর যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান থাকে তাহলে স্বামী পাবে চার ভাগের এক অংশ। আর বাকী অংশ পাবে সন্তানেরা। মৃতব্যক্তি কাদেরকে রেখে মারা গেলেন, তা বিস্তারিত জানা ব্যতিত আমরা মিরাসের সঠিক হিসাব দিতে পারছি না। বিস্তারিত জানতে পরবর্তীতে আবার প্রশ্ন করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 674
কোন বিবাহিত মেয়ে যদি তার কওমি মাদ্রাসার হুজুরদের সাথে হাস্য রসিকতা করে তবে কি ঐ মেয়ের স্বামী দাইয়ুস হবে? এক্ষেত্রে স্বামীর করণীয় কি? স্বামী কি ঐ মেয়েকে মাদ্রাসায় পড়ানো বাদ দেওয়াবে? জানিয়ে উপকৃত করবেন।
30 Dec 2025

কওমী, আলীয়া, স্কুল, কলেজ বা ইউনিভার্সিটি যেখানেই হোক কোন মুসলিম প্রাপ্ত বয়স্ত মেয়ের জন্য গায়রে মাহরাম কোন পুরুষের সাথে হাস্য-রসিকতা জায়েজ নেই। কেউ এমন করলে তা থেকে বিরত রাখতে যা যা করার তা করতে হবে। আপনার প্রশ্নের উত্তরে বলছি, আপনি পড়ানো বাদ দিতে পারেন।

প্রশ্নঃ 672
নামাযের সিজদারত অবস্থায় সুবহানা রাব্বিয়াল আলা ৩ বার পড়ার পরে, বাংলায় দোআ করা যাবে কিনা দয়া করে কোরআন ও হাদিসের আলোকে জানাবেন
30 Dec 2025

আপনি বাংলায় যে দুআ করবেন তার অর্থ সম্বলিত কোন মাসনুন দুআ শিখে নিন। মাসনুন দুআ পাঠ করবেন। তবে যতদিন শিখতে না পারবেন ততদিন মাসনুন দুআর অর্থ সম্বলিত কোন বাংলা দুআ নফল নামাযের সাজদায়পাঠ করতে পারেন। এটাই শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহ. এর অভিমত। এর বাইরে ভিন্নমতও আছে।

প্রশ্নঃ 671
আসসামুওলাইকুম। আমার একটা বিষয় জানার ছিল। বর্তমানে অনেক স্থানে দেখা যায় কৃত্রিম ভাবে বৃষ্টির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এবং আমরা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জানতে পরেছি বর্তমানে দুবাইয়ে বৃষ্টির জন্য পাহাড় তৈরি করতেছে। এই সম্পর্কে শরিয়তের বিধান কি? এটা কি করা যাবে? নাকি ইসলামে এমনটি করা নিষেধ আছে?
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, এই বিষয়ে ইসলামে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই।

প্রশ্নঃ 669
আসসালামু আলাইকুম আমি ঢাকায় থাকি, Dr.Khandaker Abdullah Jahangir ডঃ খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহিমাহুল্লাহ এর বই গুলো কিনতে চাই, দয়াকরে হাদিয়া সহ লিস্ট এবং কিভাবে কোথায় পাব জানাবেন?
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দয়া করে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য যোগাযোগ করুন আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স, ঢাকা অফিস: 01730 74 00 01, 01791 66 66 65 ঝিনাইদহ অফিস: 01791 66 66 63, 01791 66 66 64

প্রশ্নঃ 668
যখন ইকামাত দেওয়া হয়, তখন আমাদের করণীয় কি?
30 Dec 2025

ইকামতের জবাব দেয়া।

প্রশ্নঃ 667
যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে এক ওয়াক্ত ছলাত ছেড়ে দিল তাকে কি কাফের বলা যাবে? যেমন সে চার ওয়াক্ত পড়ে আর ইচ্ছা করে বা কুপৃবৃত্তির কারণে বা কষ্টের কারণে অর্থাৎ শরীয়তী কারণ ছাড়াই এক ওয়াক্ত ছলাত পড়ে না। যারা শুধু জুমুআর ছলাত আদায় করে, আর মাঝে মাঝে ছলাত আদায় করে যেমন রমজান মাস আসলে পড়ে, পরে আর পড়ে না, তাকে কি কাফের বলা যাবে? আসলে ছলাত ত্যাগকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রে কাফির বলার মূলনীতি কি? কাফির হলে কি সে ইসলাম খেকে বেরিয়ে গেল? এরূপ ব্যক্তি আবার কিভাবে ইসলামে প্রবেশ করবে?
30 Dec 2025

সালাত তরক করলেই কাউকে কাফের বলা যাবে না। কখন মানুষকে কাফের বলা যায় জানতে পড়ুন, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা বইয়ের ৫১৭-৫২১ পৃষ্ঠা।

প্রশ্নঃ 666
আসসালামু আলাইকুম। আমি জানতে চাই যে আমার নাম (মো: রকিবুল ইসলাম রকিব) ইসলামী শরীআ অনুযায়ী জায়েজ কি না? রকিব নামে কেউ আমাকে ডাকলে সেটা শিরক হবে কিনা? দয়া করে একটু কারণ ও ব্যাখ্যা সহ বলবেন।
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, এতে কোন সমস্যা হবে না। শিরক হবে না।

প্রশ্নঃ 665
শাহাদত আঙ্গুল দ্বারা সালাতের সময় ইশারা করা: আচ্ছালামু ওয়া আলাইকুম ! স্যারের বই এবং অন্যান্য আলেমদের বই পড়ে এটা বুঝতে পেরেছি, স্বয়ং নবী করিম (দ:) এটা করতেন। আমার প্রশ্ন হলো কতক্ষণ? কোন জায়গা দেখছি পুরা বৈঠক পর্যন্ত। কেউ বলছে লা-ইলাহা ইল্লালাহু পর্যন্ত। আবার কেউ বলছে দোআ মাসুরা পর্যন্ত। স্যারের বইতে দেখলাম নবী করিম (দ:) ঐ সময় আঙ্গুলের দিতে তাকিয়ে থাকতেন। কিন্তু কতক্ষন? আমি দ্বিধা-দ্বন্দের মধ্যে আছি। অনুগ্রহ করে স্বত্বর জানাবেন। আল্লাহ হাফেজ। [ইসলামে পথ থেকে একটি নক্ষত্র ঝরে গেল। আল্লাহপাক উনাকে বেহেস্ত নসীব করুন]
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। স্যার রহ. ইন্তেকালের পূর্বে এই প্রশ্নের একটি উত্তর আমরা তার তত্বাবাধানে দিয়েছি। যেটা আমাদের দেয়া ০২৪৯ নং প্রশ্নের উত্তর। আমি সেটা আপনার এখানে দিয়ে দিলাম। সাহাবী ওয়াইল ইবনে হুযর বলেন, عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ ، قَالَ : رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ قَدْ حَلَّقَ الإِبْهَامَ وَالْوُسْطَى ، وَرَفَعَ الَّتِي تَلِيهِمَا ، يَدْعُو بِهَا فِي التَّشَهُّدِ আমি রাসূলূল্লাহ সা. কে দেখেছি, তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমা আঙ্গুলি এক সাথে করে গোলাকার করলেন এবং ঐ দুই আঙ্গুলির সাথে যুক্ত আঙ্গুলিটি (শাহাদাৎ আঙ্গুলি) উচুঁ করলেন এবং তা দ্বারা তাশাহুদের মধ্যে দোয়া করলেন। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৯১২। হাদীসটি সহীহ। সহীহ মুসলিমসহ বিভিন্ন কিতাবে এমন অর্থের অনেক হাদীস বহু সাহাবী থেকে বর্ণিত আছে। কোন কোন হাদীসে আঙ্গুল নাড়ানো বা নাড়ানোর কথা আছে। এর মধ্যে না নাড়ানোর হাদীসটি সহীহ বলে মনে হয়। হাদীসটি আছে সুনানে আবু দাউদ হাদীস নং ৯৮৯, সুনানু নাসায়ী,হাদীস নং ১২৭০্ । মোট কথা ইশারা করার কথা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত, তবে কখন থেকে ইশারা শুরু করবে, কিভাবে করবে সে ব্যাপারে সর্বাক্যমতে সহীহ কোন দলীল পাওয়া যায় না, এ কারণে ইশারার ধরন নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। সুতরাং যেভাবেই করুন আপনার ইশারার সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। ইশারার একটি সুন্নাত পদ্ধতি পুরো বৈঠকে শাহাদাৎ আঙ্গুলি উচুঁ করে রেখে আঙ্গুল না নাড়িয়ে ইশারা করা।

প্রশ্নঃ 664
আসসালামু আলাইকুম, আমার স্ত্রী বর্তমানে সন্তানসম্ভবা, আমি মালেশিয়াতে আছি, আমি যে ডাক্তারের কাছে আছি উনি একজন খ্রিস্টান। আমি যতটুকু জানি ডেলিভারির সময় ঐখানে পুরুষ থাকবে। এ ক্ষেত্রে ইসলামের কি বিধান— আমি কি জানতে পারি?
30 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আসলে অটিজম এমন একটি মানসিক রোগ উনবিংশ শতাব্দির পূর্বে যার নাম শুনা যায় নি। বর্তমানে এর কিছু চিকিৎসা বের হলেও তেমন উন্নত চিকিৎসা আমাদের জানা মতে এখনো বের হয়নি।আপনি রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো নফল সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। এছাড়া কুরআনের এই দআটিও সালাতে এবং অন্যান্য সময় বারবার পড়বেন, رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনার সব সংকট দূর করে দেন।

প্রশ্নঃ 662
আমি প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের সকল বই এর তালিকা জানতে চাই।
30 Dec 2025

আপনি বইয়ের লিস্ট, দাম এবং সংগ্রহ করার উপায় জানতে ফোন করুন: আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স, ঢাকা অফিস: 017307470001, 01791 66 66 65 ঝিনাইদহ অফিস: 01791 66 66 63, 01791 66 66 64

প্রশ্নঃ 660
ফযরের সুন্নাত যদি কাযা হয়ে যায় তাহলে কি সেই কাযা আদায় করতে হবে?
30 Dec 2025

এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সা. বলেনঃ من لم يصل ركعتي الفجر فليصلهما بعد ما تطلع الشمس যে ব্যক্তি ফজরের সালাতের সুন্নাত পড়েনি, সে যেন তা সূর্য উদয়ের পর আদায় করে। সুনানু তিরমিযি, হাদীস নং ৪২৩ হাদীসটি সহীহ।সুতরাং সুন্নত হলো সূর্য উদয়ের পরে পড়া। তবে আগে পড়লেও হয়ে যাবে বলে অন্য একটি হাদীস থেকে জানা যায়। বিস্তারিত জানতে দেখুন, রাহে বেলায়াত এর সালাত সংক্রান্ত অধ্যায়।

প্রশ্নঃ 661
আসসালামুয়ালাইকুম, স্যারের কতগুলো বই আছে? সব বইয়ের দাম সহ নাম কি একটুু দয়া করে পাওয়া যাবে …আর বই গুলো কোথায় পাওয়া যাবে … স্যারের বইগুলো কেনার ইচ্ছা হচ্ছে ।
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বইয়ের নাম, দাম এবং কিভাবে সংগ্রহ করবেন জানতে ফোন করুন: আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স, ঢাকা অফিস: 01788 99 99 68, 01791 66 66 65 ঝিনাইদহ অফিস: 01791 66 66 63, 01791 66 66 64

প্রশ্নঃ 659
আসসালামু ওয়ালাইকুম, প্রশ্ন: আমি একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করি। একটা মেয়ের সাথে আমার ১৩ বছরের সম্পর্ক (দুর থেকে দেখা বা ফোনে কথা বলা)। মহান আল্লাহে পক্ষ থেকে আমাদের উভয়ের ভিতর দ্বীনের কিছু ইলম আসায় (আলহামদুলিল্লাহ) এখন জানি যে এ সম্পর্ক শরিয়াত সম্মত না বা হারাম, যদিও আমাদের ভিতরে কখনও কোন গোপন কার্যকলাপ হয় নি। আমরা দু জনেই যথা নিয়মিত নামায বা অন্যান্য ইবাদত করি (মুসলিম হিসাবে যা করা দরকার) আমাদের উভয়ের বিয়ের বয়স হয়ে গেছে। তাই এ পাপ থেকে তাওবা করে আমরা উভয়ে এখন বিয়ের মাধ্যমে আমাদের সম্পর্ককে বৈধ করতে ইচ্ছুক। মেয়ের বাব মা আমাকে ভালো হিসেবে চেনে ও জানে, কিন্ত আমার সাথে তাদের মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজি না বরং তারা তাকে বিয়ের জন্য অন্য কোন ধনি বা সরকারি চাকুরীজীবী ছেলে ঠিক করেছে বা করছে। (অনেকের জানা মতে সে ছেলের চরিত্র ভালো না এবং দ্বীনদ্বার না, যদিও মেয়ে দ্বীনদ্বার এবং মেয়ে নিজেই ছেলের খারাবি সম্পর্কে জানে)। তাই আমরা কোন উপায় না পেয়ে মেয়ের একমাত্র ছোট ভাই (১৯) এবং পরিচিত এক ভাই-এ দুজনকে মেয়ের পক্ষে স্বাক্ষী (স্ব-ইচ্ছায়) রেখে আমারা কোর্টম্যারেজ করি, এখন আমাদের বিয়ে কি বৈধ হবে? অতপরঃ মেয়ের পিতা মাতা যদি মেনে নেয় তাহলে কি বৈধ হবে? যদি না নেয়, সেক্ষেত্র দুজনে একসাথে সংসার করতে চাইলে আমাদের কি করা উচিৎ? (আমি এই দ্বীনদ্বার মেয়েকে স্ত্রী হিসেবে পাইতে ভিষন আগ্রহী!!) বিঃ দ্রঃ -নিচের লিংকে শাইখ আব্দুল্লাহ আল কাফীর লেখা পড়ে আমি উপরের সিদ্ধানত নিয়েছিলাম । মেয়ের পিতা মাতাকে রাজী করানোর জন্য কি করা যেতে পারে, একটু পরামর্শ দেওয়া যাবে কি? যখন তারা রাসূলের হাদীস মানছে না – রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, إِذَا خَطَبَ إِلَيْكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَزَوِّجُوهُ إِلَّا تَفْعَلُوا تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ عَرِيضٌ তোমাদের নিকট যদি এমন পাত্র বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে আসে যার দ্বীনদারী ও চরিত্র তোমাদের নিকট পছন্দসই, তবে তার সাথে তোমাদের কন্যাদের বিবাহ দিয়ে দাও। যদি তোমরা এরূপ না কর (দ্বীনদার ও চরিত্রবান পাত্রকে প্রত্যাখ্যান কর এবং তাদের সাথে কন্যাদের বিবাহ না দাও) তবে এর কারণে পৃথিবীতে অনেক বড় ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি হবে। (তিরমিযী) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কুমারী মেয়েকে তার সম্মতি ছাড়া বিয়ে দেয়া যাবে না। * তারা মেয়ের পছন্দ ও আমার দেওয়া প্রস্তাব কোনটাই মানছে না । * সুতরাং আমি আর কি করতে পারি, কি করে তাদের রাজি করাতে পারি, যদিও আমার কোন সমস্যা নেই, ঐ দ্বীনদার মেয়েকে পাওয়ার সকল যোগ্যতা আমার আছে । *যদি আবার বিয়ে করতে হয়, তাহলে আগের দেনমোহর কি ঠিক রাখতে হবে, না নতুন করে বাধতে হবে?
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। স্যার রহ. বেঁচে থাকাকালীন এমন একটি প্রশ্নের জবাবে যা লেখা হয়েছিল তা নিচে দেওয় হলো: অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে সাংসারিক জীবনে অনেক অশান্তি হয়। তাই অভিভাবকের অনুমতি ব্যতিত বিবাহ করা উচিৎ নয়। হাদীসে অভিাভাবক ছাড়া মেয়েদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে।তবে একটি সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে, الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলা তার নিজের ব্যাপারে অভিভাবক থেকে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫৪ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে সাংসারিক জীবনে অনেক অশান্তি হয়। তাই অভিভাবকের অনুমতি ব্যতিত বিবাহ করা উচিৎ নয়। হাদীসে অভিাভাবক ছাড়া মেয়েদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে।তবে একটি সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে, الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলা তার নিজের ব্যাপারে অভিভাবক থেকে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫৪১। এই হাদীসের ভিত্তিতে অনেক ফকিহ বলেছেন, অভিভাবক ছাড়াও প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলারা বিবাহ করতে পারবে। সুতরাং যে সমাজে এই মতটি প্রচলিত সেখানে অভিভাবক ছাড়া বিয়ে হয়ে গেলে এটাকে সহীহ হয়েছে বলেই ধরে নিতে হবে। কিন্তু যাদের বিয়ে হয়নি তাদের ক্ষেত্রে অভিভাবক ছাড় বিয়ে হবে না এ কথাই বলতে হবে। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া ৫১ নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 658
স্যারের লেকচারে শুনেছিলাম,স্যার তাফসীর লিখতে চেয়েছিলেন। কাজ কি শুরু করেছিলেন?স্যারের অপ্রকাশিত কোন বই থাকলে, সে বিষয়ে জানতে চাই।
30 Dec 2025

স্যার রহ. ইন্তেকালের পর তাঁর লেখা একটি চমৎকার বই বের হয়েছে। নাম পবিত্র বাইবেল পরিচিতি ও পর্যালোচনা । আপনি সংগ্রহ করতে পারেন। তাফসীর বিষয়ে শুরু করেছিলেন। কিছু হয়েছিল।

প্রশ্নঃ 657
ইকামাতে হাইআলাল সলা বলল সময় নামাজে দাডানো কী সুনন্দা সম্মত?
30 Dec 2025

ইকামতের সময় কখন দাঁড়ানো সুন্নত তা আলোচনা করা হলো: ইকামতের শুরুতেই মুসল্লিরা দাড়িয়ে যাবে এবং কাতার সোজা করবে। সাহাবীদের আমল এমনই ছিল। তাঁরা একামত শুরু হওয়ার সাথে সাথে দাঁড়িয়ে কাতার সোজা করতেন। আর কাতার সোজা করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাসূলুল্লাহ সা. এই ব্যাপারে আদেশ দিয়েছেন। তবে ইমাম সাহেব মসজিদে আসার পূর্বে মুক্তাদীদের নামাযে দাড়াতে রাসূল (স.) নিষেধ করেছেন। এই কারনে অধিকাংশ আলেমের মতে ইমাম সাহেব না থাকা অবস্থায় মুক্তাদীরা ইকামতের সময় নামাযে দাড়াবে না। দলীল নিম্নরুপ: .১عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ الصَّلاَةَ كَانَتْ تُقَامُ لِرَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَيَأْخُذُ النَّاسُ مَصَافَّهُمْ قَبْلَ أَنْ يَقُومَ النَّبِىُّ -صلى الله عليه وسلم- مَقَامَهُ হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. কে দেখা গেলে ইকামত শুরু করা হত। আর তিনি তাঁর জায়গায় পৌছানোর পূর্বেই লোকেরা তাদের কাতার গ্রহন করতেন (অর্থাৎ কাতার সোজা করে দাড়িয়ে থাকতেন)। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬০৬। উল্লেখ্য সহীহ মুসলিমের এই স্থানে এই বিষয়ে আরো কয়েকটি হাদীস বর্ণিত আছে যা উক্ত হাদীসের বক্তব্যকে সমর্থন করে। .২عن بن جريج قال أخبرني بن شهاب أن الناس كانوا ساعة يقول المؤذن الله أكبر الله أكبر يقيم الصلاة يقوم الناس إلى الصلاة فلا يأتي النبي صلى الله عليه و سلم مقامه حتى يعدل الصفوف ইবনে জুরাইজ বলেন, আমাকে ইবনে শিহাব বলেছেন যে, মুয়াজ্জিন আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার বলে ইকামত শুরু করা মাত্রই লোকেরা নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে যেত এবং রাসূলুল্লাহ সা. নিজের জায়গায় পৌছাতে পৌছাতে কাতার সোজা হয়ে যেত। মুসান্নফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ১৯৪২। হাদীসটির সনদে সাহাবীর নাম নেই তাই হাদীসটি মাকতু। তবে উপরে বর্ণিত সহীহ হাদীস এই বক্তব্যকে সমর্থন করছে। উপরুক্ত হাদীসদ্বয় দ্বারা আমারা জানতে পারছি যে, স্বাভাবিক অবস্থায় ইকামতের শুরুতেই মুক্তাদীরা নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে যাবে এবং দ্রুত কাতার সোজা করবে। কাতার সোজা করার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সা. খুবই গুরুত্ব দিতেন। এই বিষয়ে অনেক হাদীস বর্ণিত আছে। নিচে একটি হাদীস উল্লেখ করা হল। النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ يَقُولُ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَتُسَوُّنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ وُجُوهِكُمْ অর্থ: সাহাবী নুমান বিন বাশীর বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা অবশ্যই তোমাদের কাতার সোজা করবে অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করে দিবেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং৭০৭ তবে ইমাম সাহেব উপস্থিত না থাকলে অধিকাংশ আলেমের নিকট মুক্তাদীরা দাড়াবে না। ইমাম সাহেবকে দেখার পর দাড়াবে। এই বিষয়ে স্পষ্ট হাদীস আছে। عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ تَقُومُوا حَتَّى تَرَوْنِي وَعَلَيْكُمْ بِالسَّكِينَةِ আব্দুল্লাহ ইবনে আবি কাতাদাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল (স.) বলেছেন, যখন নামাযের ইকামত দেয়া হবে তখন তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত দাড়াবে না। চুপ করে বসে থাকবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৩৮। উপরের আলোচনা থেকে আমারা বুঝতে পারলাম যে, জামায়াতে সালাত আদায় করার সময় মুক্তাদীরা ইকামতের শুরুতেই দাড়াবে এবং কাতার সোজা করবে তবে ইমাম সাহেব উপস্থিত না থাকলে ইমাম সাহেব আসার পর দাঁড়াবে। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 656
এই আমল সম্বন্ধে জানতে চাই? লিঙ্ক সবার নিচে দিলাম। দারিদ্র থেকে মুক্তি লাভের পরীক্ষিত আমল হযরত ইমাম মালেক (রহ.) হজরত ইবনে উমর [রা.] থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার এক ব্যক্তি হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললো: ইয়া রাসুলাল্লাহ! ﷺ দুনিয়া আমার থেকে বিমুখ হয়েছে এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শণ করেছে। রাসুল ﷺ বললেন, তুমি কি ফেরেশতাদের দোয়া ও আল্লাহর সব সৃষ্টিজীবের তাসবীহ পড় না? যে তাসবীহের কারণে তাদেরকে রিজিক দেয়া হয়? সুবহে সাদেকের সময় তুমি সে তাসবীহ একশবার করে পড়বে, তাহলে দেখবে দুনিয়া তোমার কাছে তুচ্ছ হয়ে আসবে। লোকটি চলে গেল। এবং এ দোয়াটি পড়তে লাগল। কিছুদিন পরে আবার সে ফিরে এসে বললো ইয়া রাসুলাল্লাহ! ﷺ আমার কাছে এত অধিক সম্পদ জমা হয়েছে যেগুলো হেফাজত করার মত কোনো জায়গা আমার কাছে নেই। [জিয়াউন্নবী-৫/৯০২] আরবি দোআঃ سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم أستغفر الله বাংলা উচ্চারণঃ সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম। আসতাগফিরুল্লাহ। অর্থঃ আল্লাহ তায়ালা সব অসম্পূর্ণতা থেকে পবিত্র এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁরই। মহান আল্লাহ পবিত্র। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করছি। [মুসনাদে আবু ইয়ালা-৬৬৭১, ইবনুস সুন্নি-৫৫১, ইবনে কাসির-৫/১৩৭, মুসতাদরাকে হাকেম-১৮৮৬, তারগিবুত তারহিব-২৮১৫ এর বরাতে-রূহুল মাআনী-৮/২৬৬, জিয়াউন্নবী-৫/৯০২ ] https://www.facebook.com/photo.php?fbid=1079408535433698set=pb.100000936849495.-2207520000.1463748360.type=3theater
30 Dec 2025

উক্ত হাদীসটি সর্বাক্যমতে দুর্বল। দুর্বল হাদীস দ্বরা দলীল দেয়া যায় না। তবে শর্তানুসারে আমল করা যায়।

প্রশ্নঃ 655
Can I reciting quran without ozu? JajakAllah
30 Dec 2025

ওযু ছাড়া কুরআন পড়া যায় তবে ধরা যায় না।

প্রশ্নঃ 654
সময় কম থাকায় যোহর সালাতের ফরজের আগে ২ রাকাত নামাজ পরের ২ রাকাতের পরে পরে ২ রাকাত পরলে জোহরের আগের ৪ রাকাত আদায় হবে কিনা?
30 Dec 2025

আপনি এভাবে পড়তে পারেন, কোন সমস্যা নেই। তবে ঐ চার রাকআত আদায় করতে চাইলে পরে চার রাকআত একবারে আদায় করতে হবে।

প্রশ্নঃ 653
মুহতারাম, আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্নঃ ওয়েস্টার্ন দেশের মত ইদানিং কালে সমকামিতার অভিশাপ বাংলাদেশে ও ছড়িয়ে পরেছে। তাদের অধিকার নিয়ে কিছু লোক কাজ করতে গিয়ে আল্লাহর বিধানকে অমান্ন করছে। এটাকে তারা অপরাধ মনে করছে না বরং অধিকার মনে করছে। এমাতবস্থায়, এই সম লোক মারা গেলে, তারা যদি আমাদের আত্তীয় বা প্রতিবেশি হয় তবে কি তাদের জানাজায় আমরা অংশ নিতে পারব? বা তাদের জন্য দুয়া করা জায়েজ হবে? কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জানতে চাই।
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। যারা এই বিষয়টি অপরাধ মনে করে না তারা ইসলামের দৃষ্টিতে মুসলিম নয়। সুতরাং তাদের জানাযা পড়া যাবে না। আর যদি তারা বিষয়টিকে অপরাধ মনে করে তবুও তাদেরকে বর্জন করা উচিত, যাতে তারা এই গর্হিত কাজ থেকে ফিরে আসে। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, مَنْ وَجَدْتُمُوهُ يَعْمَلُ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ فَاقْتُلُوا الْفَاعِلَ وَالْمَفْعُولَ بِه অর্থ: যাদেরকে তোমরা দেখবে লূত আ. এর সম্প্রদায় যে কাজ করেছে সেই কাজ করতে (সমকাম করতে) তাহলে তোমরা উভয়কেই হত্যা করবে। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং১৪৬৫; সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৪৬৪। হাদীসটির সনদ নিয়ে কথা আছে। তবে শায়খ আলবানী সহীহ বলেছেন। হাসান বসরী, আতা ইবনে আবী রবাহ, ইমাম আবু হানীফা রহ.সহ অনেকে এই হাদীসটির উপর আমল করার কথা বলেছেন।


প্রশ্নঃ 652
আসসালামু আলাইকুম। আমি একজন ছাত্র। একটি বেসরকারি ইউনিভার্সিটিরে পড়াশোনা করছি। আমি পড়াশোনার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করি। এতে আলহামদুল্লিহ আমি মোটামুটি ভালোই টাকা আয় করি। এই টাকা দিয়ে আমি পড়াশোনা করছি এবং অন্য অন্য কাজে ব্যয় করছি। আমার ব্যাংক এ ১ লাক্ষ টাকার মত আছে গত ১ বছর যাবত। আমার কি এই ১ লাক্ষ টাকার যাকাত দিতে হবে। আমার যে টাকা আছে তাতে ৭.৫ ভরি সোনার মূল্য হয় না কিন্তু ৫২.৫ তোলা রূপার মূল্য মনে হয় হবে। ১। যদি আমার যাকাত প্রদান করতে হয় তাহলে কত টাকা যাকাত দিতে হবে? আর যাকাতের নিয়ম টা হাদিসের আলোকে বিস্তারিত জানতে চাই। ২। ব্যাংক এ টাকা থাকলে বছরে একটা সুদ আছে। আমি সেটা হিসাব করে রাখি। এই সুদের টাকা আমি কোথায় দান করবো? মসজিদের কি দান করা যাবে? ৩। বিদেশ থেকে টাকা অনলে ব্যাংক গুলো রেমিটেন্স দেয় এই রেমিটেন্স এর টাকা হালাল না হারাম? যাযাকাল্লাহ খায়ের
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনাকে যাকাত দিতে হবে। একশ টাকাতে আড়াই টাকা হিসাব করে যাকাত দিতে হবে। ব্যাংকের সুদের টাকা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া কোন গরীব-মিসকিনকে দিয়ে দিবেন, মসজিদে দেয়া যাবে না। আপনার তৃতীয় প্রশ্নটি স্পষ্ট নয়। স্থানীয় কোন আলেমের কাছে থেকে জেনে নিন।

প্রশ্নঃ 651
একজন ব্যক্তি, যে ব্যবসা করতে অক্ষম, সে যদি কিছু টাকা পোস্ট অফিসে রাখে এবং ওই টাকার যাকাত প্রদান করে, তাহলে কি ওই টাকা থেকে যে লভ্যাংশ পাওয়া যাবে তা গ্রহণ করা বৈধ হবে?
30 Dec 2025

না, ঐ টাকার লভ্যাংশ সুদ বলে গন্য। তাকে ঐটাকার যাকাত দিতে হবে তবে সুদ নিতে পারবে না।

প্রশ্নঃ 650
If a muslim want to follow ABDUL QADER ZILANI (R) INSTEAD OF Shariah then what would be the answer?
30 Dec 2025

কোন মুসলিম শরীয়ার পরিবর্তে আব্দুল কাদের জিলানীকে অনুসরণ করলে সে তো আর মুসলিম থাকে না। তবে যদি কোন সাধারণ মুসলিম ফিকহের ক্ষেত্রে কোন বড় আলেমকে অনুসরণ করতে চা্ই সমস্যা নেই। আমার মনে হয় ঐলোকটি দ্বিতীয় কথাটি বলতে চেয়েছেন।

প্রশ্নঃ 647
Dear Sir, As Salamu Walaikum. My company dedudct income tax every month from my salary. Should i need to give ZAKAT again? What is the rule? Can you please tell or where can i get the solution?
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালম। হ্যাঁ, আপনার যাকাত দিতে হবে। শতকারা আড়াই টাকা হারে যাকাত দিতে হবে।

প্রশ্নঃ 649
জনাব, ধরুন আমার কাছে ১ বছর ধরে ব্যাংক কে গচ্ছিত ৪০০০০০/= টাকা আছে। তাছাড়া আরও ১৬৫০০০/= আমি মানুষকে ধার হিসেবে দিয়েছি যার সময়কাল ১ বছর হয়নি। তাহলে আমার কি ৪০০০০০ এর উপর যাকাত দিতে হবে নাকি (৪০০০০০+১৬৫০০০)= ৫৬৫০০০ টাকার উপর যাকাত দিতে হবে? দয়া করে উত্তরটি জানাবেন ।
30 Dec 2025

যাকাত নিসাব পূরণ হওয়ার পর যাকাত দেয়ার সময় যে সম্পদ থাকে তার যাকাত দিতে হয়ে। সুতরাং আপনি 565000 টাকার যাকাত দিবেন।

প্রশ্নঃ 648
আসসালামুয়ালাইকুম। অনেক সময় স্ত্রীর সাথে কথা বলাতে (স্পর্শ না করেই) কিংবা বাহিরে কোন মেয়েকে অশ্লীল অবস্থায় দেখলে নিজের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং কিছুক্ষনপর বীর্য এর মত পানি চলে আসছে কিন্তু বের হয়ে পড়েনাই। এই অবস্থায় গোসল ফরজ হয়েছে কি?
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, গোসল ওয়াজিব হবে না। যদি ঐ পদার্থটা বের হয় তবুও গোসল ওয়াজিব হবে না, ওযু করতে হবে।

প্রশ্নঃ 646
Assalamu Aleykum, I am very fond of his lectures.. I like him very much… how to get his books? Masuk
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুম সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। যোগাযোগ করুন। আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স, ঢাকা অফিস: 01788 99 99 68, 01791 66 66 65 ঝিনাইদহ অফিস: 01791 66 66 63, 01791 66 66 64

প্রশ্নঃ 643
Assalamu Alaikum Dear Huzur,Please prescribe hair style according to Hadith, if any one continuously shave hair of head, is it Sunnah?Please clarify Hair Style of Muslim according to Hadith and Sharia.Sincerely yours
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিধর্মীদের সাথে, মহিলা পুরুষের সাথে, পুরুষ মহিলার সাথে এবং ফাসেক-ফুজ্জারদের সাথে সাদৃশ্য হয় এমন কোন হেয়ার স্টাইল গ্রহনযোগ্য নয়। এর বাইরে যে কোন স্টাইল গ্রহনযোগ্য। রাসূলুল্লাহ সা. সাধারনত বাবরী চুল রাখতেন। বিস্তারিত জানতে ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত আর আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত কুরআর-সুন্নাহর আলোকে পোশাক, পর্দা ও দেহ-সজ্জা বইটি দেখুন। শামাইলে তিরমিযী বইটিও দেখতে পারেন।

প্রশ্নঃ 645
after iftar we can late for magrib salah.how long?
30 Dec 2025

ইফতারের পরই মাগরিবের সালাত আদায় করবেন। বিনা কারণে দেরী করবেন না। তবে সালাতের সময় সাথে প্রায় ১ ঘন্টা।

প্রশ্নঃ 644
ঢাকা শহরে আমি কিভাবে আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের ব্ইগুলো কিনতে পারি?
30 Dec 2025

ফুরফুরা শরীফের লাইব্রেরী, মিরপুর । যোগাযোগ করুন।

প্রশ্নঃ 642
কাযা নামাযের বিস্তারিত বিধিবিধান জানতে চাই
30 Dec 2025

নামায কাজা কম হোক বেশী হোক আদায় করতে হবে। শুধু ফরজগুলো আদায় করতে হবে। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া ২৪৭নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 640
কোন দিন হাত ও পায়ের নখ এবং গুপ্তাংশের লোম কাটা উত্তম? নাকি যে কোন দিন কাটা যায়। আর হাত ও পায়ের নখ কেটে কি যেখানে-সেখানে ফেলা যাবে, নাকি কোন নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলা উচিত?
30 Dec 2025

যে কোন দিন এগুলো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা যায়। এ ব্যাপারে হাদীসে কোন নির্দিষ্ট কোন দিনের কথা বলা নেই। তবে রাসূলুল্লাহ সা. বৃহস্পতি ও শুক্রবার পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতেন। এগুলো নির্দিষ্ট এক জায়গায় ফেলা উচিৎ।

প্রশ্নঃ 641
আমি বিশ্বাস করি আল্লাহর কাছে চাইতে কোন মাধ্যম প্রয়োজন হয় না। আমরা প্রতি মোনাজাতে তাই কামনা করতেছি, কোন মাধ্যমের কাছে তো চাই না। হে আল্লাহ— বলেই সব চাওয়া একমাত্র আল্লাহর কাছেই চাই। কেন মাধ্যম দরকার? কিন্তু তাদের সাথে যুক্তি- তর্কে পারা যাবে না, বাস্তবতার সাথে কিছু ব্যাপার দাড় করিয়ে দিয়ে – তারা বলে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সরাসরি দেখা করতে পার? না; তাহলে মাধ্যম দরকার হয়। একজন বলে যতই দোয়া করেন দোয়া আল্লাহর কাছে পৌছাবে না, নবী র দুরুদ পাঠ না করলে, তারা বলতে চায় এটাও মাধ্যম। নবী আমাদের জন্য সুপারিশ কেন করবে বলেন তো? ওমুক বাবা এটা করতে বলছে, ওমুক বাবা এটা নিষেধ করেছে। রোগ হলে ডাক্তারদের কাছে কেন যেতে হয়? আল্লাহর ক্ষমতা ও বাস্তবতা নিয়ে নানান যুক্তি উপস্থাপন করা, ইত্যাদি ইত্যাদি, নানান যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। তাদের কে কিভাবে বোঝানো যাবে একটু বলবেন কি?
30 Dec 2025

আপনি আপনার বিশ্বাসের উপর অটল থাকুন। তাদের এমন কথার জবাবে আপনি বলবেন: ১। প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা শুনতে পান না তাই মাধ্যম লাগে। আল্লাহ সবার কথা শুনতে পান তাই মাধ্যম লাগে না। কুরআনে যে আমাকে ডাকবে আমি তার ডাকে সাড়া দিবো। وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ । সূরা বাকারাহ, আয়াত ১৮৬। দরুদ পাঠ না করলে দুআ কবুল হয় না এটাও ঠিক না । কুরআনের এই আয়াতে আল্লাহ বলেছেন বান্দা ডাকলেই অর্থাৎ দুআ করলেই আমি সাড়া দেব। তাহলে দরুদ জরুরী কেন হবে বলুন? তবে দরুদ পড়া অনেক সওয়াবের কাজ। কোন বাবার কথাতো আর দলীল নয় দলীল কুরআন-সুন্নাহ, সাহাবীদের কাজ। রোগ হলে ডাক্তারের কাছে যাওয়া এটাই সুন্নাত। রোগ হলে আল্লাহর কাছে দুআ করতে হবে আর চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। মনে রাখবেন দুআ একটি ইবাদত, তা সুন্নাহ নির্দেশিত পন্থাতেই হতে হবে। অসুস্থাতা থেকে সুস্থতা একটা জাগতিক কাজ এখানে জাগতিকভাবেই সমাধান করতে হবে। তবে আল্লাহ তায়ালার কাছেতো দুআতো করতেই হবে। বিষয়টি বিস্তারিত জানতে আপনি ড. আব্দুল্লঅহ জাহাঙ্গীর রচিত কুরআন সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা বইটি পড়ুন। ওখানে আপনার সব প্রশ্নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আছে।

প্রশ্নঃ 639
আল্লাহ্ শব্দের বাদ দিয়ে আমরা বলি আল্লা। এমন আরও অনেক শব্দ আছে যেমন-বিসমিল্লাহ্ এর জায়গায় বলি বিসমিল্লা, আলহামদুলিল্লাহ্ এর জায়গায় বলি আলহামদুলিল্লা, সুবহানাল্লহ এর জায়গায় বলি সুবহানাল্ল ইত্যাদি। এমন বললে কি গুনাহ হবে না?
30 Dec 2025

ইচ্ছা করে এমন করা উচিত হবে না। এভাবে উচ্চারণ করলে সুবহানাল্লাহ এবং জাতীয় অন্যান্য শব্দ বললে যে সওয়াব হয় তা পাওয়া যাবে না। আল্লাহ শব্দের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত এমন করা অবশ্যই গুনাহ । তবে না জেনে কে্উ এমন করলে আশা করা যায় তিনি গুনাহগার হবেন না।

প্রশ্নঃ 638
সালাতে প্রথম রাকাতে কি সূরা নাস পড়া যাবে না? অর্থাৎ শেষের দিকের সূরা কি আগে পড়া যায় না? ধরুন, দুই রাকাত সালাত আদায় করছি। আর এই দুই রাকাতে সূরা ফালাক এবং সূরা নাস পড়বো। আর এই ক্ষেত্রে প্রথম রাকাতে সূরা ফালাক ও দ্বিতীয় রাকাতে সূরা নাস পড়তে হবে। ব্যাপারটা কি এই রকম। সূরা মিলানোর ব্যাপারে বিস্তারিত দলিলসহ জানাবেন।
30 Dec 2025

প্রথম রাকআতে সূরা নাস পড়লে নামাযের তেমন কোন ক্ষতি হবে না। ফকীহগণ মাকরুহ বলেছেন। তবে নি:সন্দেহ হয়ে যাবে । কুরআনের যে কোন সূরা পড়লেই নামায হবে। সূরা মিলানোর জন্য আলাদা কোন দলীল প্রমান লাগবে না।

প্রশ্নঃ 636
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ । আল্লাহ কে সপ্নে দেখা কি সম্ভব? ঈমাম আবু হানিফা (রহ) আল্লহ কে অনেক বার নাকি সপ্নে দেখেছেন? তিনি কি তার বইতে লিখেছেন?
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সহীহ হাদীসের ভিত্তিতে আলেমগণ বলেছেন যে, স্বপ্নে আল্লাহকে দেখা সম্ভব। তবে তার পদ্ধতি আমরা জানি না। নিচের হাদীসটি দেখুন: عن عبد الرحمن بن عائش الحضرمي : أنه حدثه عن مالك بن يخامر السكسكي عن معاذ بن جبل رضي الله عنه قال احتبس عنا رسول الله صلى الله عليه و سلم ذات غداة عن صلاة الصبح حتى كدنا نتراءى عين الشمس فخرج سريعا فثوب بالصلاة فصلى رسول الله صلى الله عليه و سلم وتجوز في صلاته فلما سلم دعا بصوته قال لنا على مصافكم كما أنتم ثم انفتل إلينا ثم قال أما إني سأحدثكم ما حبسني عنكم الغداة إني قمت من الليل فتوضأت وصليت ما قدر لي فنعست في صلاتي حتى استثقلت فإذا أنا بربي تبارك وتعالى في أحسن صورة فقال يا محمد قلت لبيك رب قال فيم يختصم الملأ الأعلى ؟ قلت لا أدري قالها ثلاثا قال فرأيته وضع كفه بين كتفي حتى وجدت برد أنامله بين ثديي فتجلى لي كل شيء وعرفت فقال يا محمد قلت لبيك رب قال فيم يختصم الملأ الأعلى ؟ قلت في الكفارات قال ما هن ؟ قالت مشي الأقدام إلى الحسنات والجلوس في المساجد بعد الصلوات وإسباغ الوضوء حين الكريهات قال فيم قلت إطعام الطعام ولين الكلام والصلاة بالليل والناس نيام قال سل قلت اللهم إني أسألك فعل الخيرات وترك المنكرات وحب المساكين وأنت تغفر لي وترحمني وإذا أردت فتنة قوم فتوفني غير مفتون أسألك حبك وحب من يحبك وحب عمل يقرب إلى حبك قال رسول الله صلى الله عليه و سلم إنها حق فادرسوها ثم تعلموها অর্থ: …আমি ঘুম থেকে উঠলাম এবং ওযু করে সালাত শুরু করলাম। একপর্যায়ে আমি সালাতের মধ্যে তন্দ্রাচ্ছন্ন হলাম এমনকি পুরোপুরি ঘুমিয়ে গেলাম। হঠাৎ দেখি আমি আমার প্রতিপালকের সামনে..। (অনুবাদ আংশিক)। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ৩২৩৫। ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। তিনি আরো বলেন, আমি মুহাম্মাদকে (ইমাম বুখারী) এই হাদীসটির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, হাসান সহীহ। ইমাম নববী বলেন, قَالَ الْقَاضِي : وَاتَّفَقَ الْعُلَمَاء عَلَى جَوَاز رُؤْيَة اللَّه تَعَالَى فِي الْمَنَام وَصِحَّتهَا অর্থ: কাযী ইয়ায বলেন, আলেমগণ এ ব্যাপার একমত যে, স্বপ্নে আল্লাহকে দেখা এবং তা সঠিক হওয়া সম্ভব। ইমাম নববী, শরহে মুসলিম ৭/ ৪৫৭। ইমাম আবু হানীফা রহ. থেকে আল্লাহকে দেখার ঘটনাটি সহীহসূত্রে বর্ণিত হয়নি। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আলইসলাম সুয়াল-জওয়াব, মুহাম্মদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ, ফতোয়া নং ১৫৮৬০৬।


প্রশ্নঃ 637
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ আশা করি আল্লাহর রহমতে ভাল আছেন… আমার একটি প্রশ্ন হলো–ইন্টারনেটে এখন অনেক সময় দেখা যায় যে অনেকে শবে বরাত, শবে মেরাজ, শবে কদর কে বিদাআত বলে.. এ ব্যাপারে কি বলেন? আপনি কুরান হাদিস এর আলোকে বিবরণ দিন?
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।শবে বরাত, কদর, মেরাস সবগুলোর হুকুম এক নয়। নিচে সংক্ষেপে আলোচনা কর হলো: ১। শবে বরাত। হাদীসে লায়লাতুন নিসফি মিন শাবান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই রাতের বিশেষ মর্যাদা আছে বলে সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে। কোন ইবাদতের কথা সহীহ হাদীছে উল্লেখ নেই তবে যয়ীফ হাদীসে উল্লেখ আছে। ২। শবে কদর। কুরআনে ও সহীহ হাদীসে লায়লাতুল কদর বলে উল্লেখ আছে। এই রাতে জেগে থেকে ইবাদত করা সওয়াবের কাজ। ৩। শবে মেরাজ। রাসূলুল্লাহ সা. এর মেরাজ হয়েছে। তবে কবে হয়েছে তা অজানা। সুতরাং এই দিনের কোন ভিত্তি নেই। সবগুলো বিষয়ে দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত খুতবাতুল ইসলাম বইটি।

প্রশ্নঃ 635
ফরজ নামাজের সেজদায় রাব্বানা আতিনা পড়া যাবে কি?
30 Dec 2025

সহীহ হাদীসে সাজদাতে দুআ করার কথা বলা হয়েছে। সালাত নির্দিষ্ট করা হয়নি ফরজ বা সুন্নত। সুতরাং কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত যে কোন দুআ পড়া যাবে ।

প্রশ্নঃ 634
Should we pray tahajjud for every day or Should we give break 1/2 days.
30 Dec 2025

আপনি যদি প্রতিদিন পড়তে পারেন তাহলে তা নিঃসন্দেহ ভাল। ২/১ দিন পর পরও পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 633
ওযু করার সময় ডান হাত দিয়ে পা ধোঁয়া যাবে না, অর্থাৎ বাম হাত ব্যাবহার করেই দুই পা ধৌত করতে হবে। এই কথাটা কি ঠিক?
30 Dec 2025

না, কথাটি ঠিক নয়।

প্রশ্নঃ 632
আস সালামু আলাইকুম। ফেসবুকের মাধ্যমে রাসুল (সঃ) এর মৃত্যু পূর্ব একটি ঘটনা পোস্ট করা হচ্ছে। এখানে বলা হয়েছে যে মালাকুল মউত রাসুল (সঃ) এর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করছেন জান মোবারক কবচ করার জন্য। মালাকুল মউত এও বলছেন যে এ পর্যন্ত কোন মানুষের জান কবচের জন্য কোন অনুমতির প্রয়োজন হয়না তবে আল্লাহর নির্দেশে তিনি নবীজির (সঃ) কাছে অনুমতি চাইছেন।রাসুল (সঃ) যদি অনুমতি না দেন তবে মালাকুল মউত যেন ফিরে যান। আপনার অবগতির জন্য ফেসবুকের পোস্ট টি আপনার মেসেজ অপশনে সংযুক্ত করেছি। এই ঘটনা কি সহিহ হাদিস দ্বারা সমর্থিত? নাক জাল? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ থাকবো।
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। উক্ত হাদীসট আলমজামুল কাবীর লিতত্ববরনী গ্রন্হের ২৮২১ নং হাাদীস। হাদীসটি সহীহ বা হাসান নয় যয়ীফ বা জাল পর্যায়ের। মুহাদ্দিসগণ এমনই বলেছেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন ইন্টারনেটে, আল-ইসলাম, সুয়াল ও জাওয়াব, মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ, ফতোয়া নং ৭১৪০০।

প্রশ্নঃ 631
দেশ প্রেম ঈমানের অঙ্গ এমন একটি হাদিস প্রচলিত আছে। তবে আমি এটাও শুনেছি এটা একটি জাল হাদিস । এটা কি আসলেই জাল হাদিস?
30 Dec 2025

হ্যাঁ, এটা জাল হাদীস।

প্রশ্নঃ 630
আসসালামুআলাইকুম, স্যার, আমার প্রশ্ন হলো ফরজ মহান আল্লাহর ঘোষিত, সুন্নত রাসুল (স:) এর। কিন্তুু ওয়াজিবের উৎস কি এবং কখন থেকে ওয়াজিব চালু হয়, দয়া করে জানাবেন। আবিদুল ইসলাম বাকেরগঞ্জ, বরিশাল
30 Dec 2025

ওয়া আলইকুমুস সালাম। সকল ফকীহ এই পরিভাষাটি ব্যবহার করেন না। তারা শুধু ফরজ আর সুন্নাতের কথাই বলেন। তবে অনেকেই ওয়াজিব পরিভাষা ব্যবহার করেন। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সুন্নাতের মধ্যে যে কাজগুলো রাসূলুল্লাহ সা. বেশী গুরুত্ব দিয়েছেন সেগুলো। যেমন, বিতর সালাত। ইমাম আবু হানীফা রা. যুগ থেকেই এই পরিভাষার ব্যবহার পাওয়া যায়।

প্রশ্নঃ 629
আসসালামু আলাইকুম, আমার নাম মোহাম্মদ রেজাউল করিম মাসুম, আমি ইউনিভার্সিটি তে চারুকলায় পড়ালেখা করেছি, ছবি আঁকা গুনার কাজ যে দিন থেকে ভাল ভাবে বুজতে পারি সে থেকে প্রাণী এবং মানুষের ছবি আঁকা ছেড়ে দিয়েছি । এখন আমি চাকরি করি গ্রাফিক ডিজাইন এ, আমি ইসলাম মেনে চলার চেষ্টা করছি, ইসলাম এর নিয়ম কানুন গুলো আমার মত পাপী র পক্ষে যতটুকু মানা সম্বভ চেষ্টা করছি । কিন্তু চাকরি আর ডিজাইন শিখার কারনে মানুষ সহ বিভিন্ন ধরনের ছবি এডিট করে ডিজাইন করতে হয়, এই বিষয়টি ইদানিং আমাকে বেশি ভাবাচ্ছে, এতে কি আমি গুনাগার হবো? আমি কারো কাছে শেয়ার ও করতে পারছি না যেহেতু আমার জীবিকা এইটা দিয়ে। আমি যেহেতু ডিজাইন এ জব করি সে ক্ষেত্রে আমার করণীয় কি হবে? মেহেরবানী করে যদি কোন পরামসশ দিতেন।
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি যতদ্রুত সম্ভব এই পেশা ছেড়ে দিন। কারণ কোন প্রাণীর ছবি কাগজে আসলেই গুনাহ হয় বলে সহীহ হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় আমরা আপনার জন্য দুআ করি যেন আল্লাহ আপনাকে হালালভাবে চলার তাওফীক দেন।

প্রশ্নঃ 628
Can I give my Zakat money to build Mosjid? In my village, our Mosjid is re-constructing. During this Eid-ul-azha, My villagers wanted to announce a amount for building our Mosjid from me, thats why I had to declare 5000 taka to give them for this purpose. Although I had given some amount already for this purpose. Now they want 5000 taka more as a regular chada (Bengali). When I had to declare to give them 5000 taka, I didnt have wish(niot) that I will give it from my Zakat. Now my question – Can I give this total 10000/- taka from my Zakat money? If not total, then what amount? Please explain in detail. Thanks, Md. Ear Ali Molla
30 Dec 2025

যাকাতের টাকা মসজিদে দেয়া যাবে না। যাকাতের টাকা দিয়ে মসজিদ-মাদরাসা বানানো যাবে না। ব্যক্তিকেই যাকাত দিতে হয়।

প্রশ্নঃ 627
কোন মেয়ে তার স্বামীকে তালাক দিলে, ৪ মাস পরে তারা চাইলে আবার সংসার করতে পারবে কি?
30 Dec 2025

আপনার প্রশ্ন অস্পষ্ট । তবে যদি তিন তালাক না হয় পরবর্তীতে নতুন করে বিবাহের মাধ্যমে ঘর-সংসার করতে পারবে।

প্রশ্নঃ 626
দেন মোহর বাকি রেখে বিকাহ করা কি জ্য়েজ? বিস্তারিত জানাবেন। ধন্যবাদ
30 Dec 2025

হাদীসে বিয়ের আগেই দেন মোহর পরিশোধের কথা আছে। তবে পরে দিলেও হবে বলে ফকীহগণ বলেছেন।

প্রশ্নঃ 625
আসসালামু আলাইকুম, আমাদের এলাকার জনৈক পীর সাহেব বলেছেন প্রত্যেক ব্যাক্তির জন্য তার ইনকামের ২.৫% বা ৪০ টাকায় ১ টাকা আল্লাহর পথে দান করা ফরজ। এবং যার ফসল হবে তার জন্য ফসলেরও একটা অংশ দান করতে হবে। তিনি এর দলীল স্বরুপ সুরা বাকারার ২৬৭ নম্বর আয়াতটি উল্লেখ করেছেন। ঐ পীর কতটুকু সঠিক বলেছেন আপনার মুল্যায়ন জানতে চাই।
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রত্যেক ব্যক্তি নয়, নিসাব পরিমান সম্পদের অধিকারী ব্যক্তির ২.৫% বা ৪০ টাকায় ১ টাকা যাকাত দেয় ফরজ। পীরসাহেব হয়ত সেটাই বলেছেন। ফসলেরও যাকাত দিতে হবে। ফসলের যাকাতের নিসবসহ বিস্তারিত জানতে দেখূন ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহ. রচিত বাংলাদেশে উশর বা ফসলের যাকাত বইটি ।

প্রশ্নঃ 624
ফরয সালাত আদায়ের সময় যদি মুক্তাদির কোন ভুল হয়, যেমন- সে অমনোযোগী হওয়ার কারনে সূরা ফাতিহা পড়ল না অথবা রুকুর তাসবিহ কিংবা সিজদার তাসবিহ একবার ও বলল না, এই ক্ষেত্রে কি তার সালাত বাতিল বলে গণ্য হবে? তাকে কি আবার নতুন করে সালাত আদায় করতে হবে?
30 Dec 2025

আপনি যে কারণগুলো উল্লেখ করেছেন সেগুলোর জন্য নতুন করে সালাত আদায় করা লাগবে না।

প্রশ্নঃ 623
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, মুহতারাম আমার বাসায় আমার বাবার ছবি টাঙানো আছে এবং কিছু মাটির খেলনা আছে, এখন আমার বাসায় কি নামায আদায় করা যাবে?
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ছবি টানিয়ে রাখা বা মাটির পুতুল ঘরে রাখা মারাত্নক গুনাহের কাজ। তবে নামায হবে।

প্রশ্নঃ 622
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, শরীরের লোম কাটা বা পরিস্কার করার ইসলামী বিধান কি?
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, বিনা প্রয়োজনে শরীরের লোম কাটা উচিৎ হবে না, জায়েজ নেই।

প্রশ্নঃ 621
আসসালামুয়ালাইকুম,আশা করি আল্লাহ্ তাআলার দয়ায় ভালো আছেন। আমি জানতে চাঁই যে নিঃসন্তান দম্পতির সন্তান লাভের জন্য কোন বিশেষ আমল আছে কিনা? দয়া কোরে জানাবেন।
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমার দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাদেরকে এই সমস্যা থেকে নাজাত দেন। আপনারা রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো সুন্নাত সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। এছাড়া কুরআনের এই দুআ দুটিও সুন্নাত সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বারবার পড়বেন, رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ এবং رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

প্রশ্নঃ 620
আসসালামুয়ালাইকুম, তাহাজ্জুদ নামাজ এর বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাই…।
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। তাহাজ্জুদ নামায দুই দুই রাকআত করে ঘুম থেকে উঠে পড়বেন। রাসূলুল্লাহ সা. থেকে ৮ এবং তার চেয়ে বেশী রাকআত পড়ার কথা সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে। তাহাজ্জুদের পর বিতর নামায পড়া উত্তম। বিস্তারিত জানতে হাদীসের কিতাব সমূহে কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ অধ্যায়গুলো দেখতে পারেন।

প্রশ্নঃ 619
Assalamu alaikum Prof. I have two questions: 1. Is it mandatory to follow anyone madhab? Please, Prof. explain or suggest to me one authentic book on madhab. 2. Last time I have seen some youtube video one alem (popular alem) said to another alem (popular alem) is kafir, munafiq or agent of Yehudi, Christian etc. Now, I dont understand who is really follow sunnah. So, please suggest to me some authentic books.
30 Dec 2025

মাজহাব বিষয়ে স্যারের রহ. মতামত জানতে আমাদের দেয়া ১৬৯নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন। ২। আমাদের উচিৎ ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করা। যারা এমন বলেন তারা সঠিক বলেন না। মানুষ কখন কাফের হয় জানতে দেখুন, স্যারের ইসলামী আকীদা বইটি।

প্রশ্নঃ 618
আসসালামু-আলাইকুম। প্রশ্নঃ ইসলামে রাজনীতি আছে। কোরআন সুন্নাহ ও সলফে-সলেহীনদের মতে একজন মুসলিম কিভাবে রাজনীতি করবে অথবা তার পদ্ধতি কি হবে?
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, ইসলামে রাজনীতি আছে। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে একজন মুসলিম কিভাবে রাজনীতি করবে বিস্তারিত জানতে দেখুন, ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত, আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা বইয়ের ৪৪৬-৪৭৭ পৃষ্ঠা। এখানে বিষয়টি আলোচনা করা কষ্টকর।


প্রশ্নঃ 617
আসসালামুয়ালাইকুম, https://www.facebook.com/shadakfeni/posts/1420388521320499?__mref=message_bubble আমার দেয়া লিঙ্ক এ যে ঘটনাটি দেয়া আছে এবং যে গাছটির ছবি দেয়া আছে সত্য কিনা দয়া করে একটু জানাবেন
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এটা সত্য মর্মে কোন তথ্য আমরা পাই নি।

প্রশ্নঃ 616
sir Assalamu Alikum. I am student of Engineering. Sometimes it happens that i lose my concentration on my work, study though it is time to do work but then i usually go to internet and wast my time. in this situation can i offer Nafal Salah and in Sizdha, can i pray to Allah (swt) to prevent me from Saetan and guide me to concentrate in my work? jazāk Allāhu khayran.from Dhaka.
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অফিস সময়ে অফিসের কাজ করাই আপনার দায়িত্ব। অফিসের কাজ ফাঁকি দিয়ে অন্য কিছু করা আপনার জন্য জায়েজ নেই। নফল ইবাদতের মাধ্যমে এই গুনাহ মাফ হবে না।

প্রশ্নঃ 615
Assalamu Alaikum, Dear Huzur, We see some people raise their hand and pray before iftar time, is it according to Sunnah or Bidah (invention)? Is it (before Iftar of Siam) special time to accept Dua (prayer)? Clarify please to follow the Sunnah. Salam again Abdur Rahim / Natore / 01712669027
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রা. বলেন, অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ইফতারের সময় রোজাদার ব্যক্তির দুআ প্রত্যাখ্যাত হয় না। قال رسول الله صلى الله عليه و سلم إن للصائم عند فطره لدعوة ما ترد অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ইফতারের সময় রোজাদার ব্যক্তির দুআ প্রত্যাখ্যাত হয় না। অর্থ: রাবী ইবেন মুলাইকাহ বলেন, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আমর ইবেন আস ইফতারের সময় এই দুআ করতেন, أفطر اللهم إني أسألك برحمتك التي وسعت كل شيء أن تغفر لي সুনানু ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৭৫৩। আল্লামা বুসিরি বলেন, সনদ সহীহ। তিনি যাওয়িদ এর মধ্যে কারণসহ ষিয়টি বর্ণনা করেছেন। শায়খ শুয়াইব আরনাউত বলেছেন, হাসান। শায়খ ফুয়াদ আবুদল বাকী বলেছেন, সহীহ। তবে শায়খ আলবানী যয়ীফ বলেছেন। তার অনুসরন করে কিছু মানুষ যয়ীফ বলেন। তবে অন্য সকলের বিপরীতে শায়খ আলবান রহ. এর কথা গ্রহনযোগ্য নয়। সুতরাং ইফতারের পূর্বে আপনি দুআ করতে পারেন। এছাড়া অন্য একটি সহীহ হাদীসে রোজাদারের দুআ কবুল মর্মে উল্লেখ আছে।

প্রশ্নঃ 614
যে প্রকাশ্যে শিরিক করে তাকে কি যাকাত দেয়া যাবে?
30 Dec 2025

অনেক মুসলিমই ছোট খােটো শিরকে যুক্ত। অকাট্যভাবে মুশরিক প্রমানিত হওয়ার পূর্বে তাকে যাকাত দেয়া যাবে।

প্রশ্নঃ 613
শাইখ আব্দুর রউফের বইয়ে একটি হাদীস পড়লাম। রাসুলুল্লাহ(স) বলেছেন, আহলে হাদীসদের সভাব হবে তারা কোন কাজের ক্ষেত্রে বলবে রাসুলুল্লাহ(স) বলেছেন তাই এ কাজটি কর, রাসুলুল্লাহ(স) এভাবে করতেন তাই করতেন তাই এভাবে কর। ( মিফতাহুল জান্নাত বিল ইহতিজাজে ফিস সুন্নাত, পৃ: ৬৮, ইমাম সুয়ুতি) এই হাদিসের সনদের তাহকীক জানতে চাই। দলিলসহ জানাবেন। জাযাকাল্লাহু খাইরহ।
30 Dec 2025

রাসূলুল্লাহ সা. এর যুগে আহলে হাদীস নামে কোন পরিভাষা ছিল না। সুতরাং হাদীসের ভিতর আহলে হাদীস শব্দ আসতে পারে না। আর যে কিতাবের রেফারেন্স দিয়েছেন হাদীসের ক্ষেত্রে এমন কিতাবের রেফারেন্স গ্রহনযোগ্য নয়। তারপরও যদি কথিত এই হাদীসটির আরবী পাঠ দিতে পারেন তাহলে দেখা যাবে।

প্রশ্নঃ 612
ইসলাম কি জঙ্গীবাদকে সমর্থন করে? অনেকের মতে ইসলাম গুপ্তহত্যা, বোমা হামলা, শত্রুর ওপর হামলা করতে গিয়ে নিরীহ মানুষ মারা ইত্যাদিকে সমর্থন করে। এ ধারণা কি সঠিক? জঙ্গীরা একটি ঘটনা উল্লেখ করেন সেটা হল : একদা এক সাহাবী তার স্ত্রীকে হত্যা করেছিল কারণ সে রাসুল (সা) এর ব্যাপারে কটুক্তি করেছিল। অতঃপর সে রাসুল (সা) এর কাছে গিয়ে ঘটনা বর্ণনা করলে তিনি সেই সাহাবীকে ধন্যবাদ জানান। তারা এর মাধ্যমে বোঝাতে চায় ইসলাম এসব হামলাকে সমর্থন করে। তাদের ধারণা অনৈসলামিক রাষ্ট্রেও এমনটা করতে কোন সমস্যা নেই, ইবনে তাইমিয়াও নাকি এমনটাই বলেছেন। দয়া করে কুরআন হাদিসের দলিলসহ প্রশ্নগুলোর উত্তর দিবেন। আল্লাহ আপনাদেরকে সঠিক পথে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।
30 Dec 2025

ইসলাম সন্ত্রাস, গুপ্তহত্যা বা এ জাতীয় বিচারবহির্ভূত হত্যা সমর্থন করে না। এগুলো ইসলামে হারাম। শত্রুর উপর হামলা করতে গিয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা জঘণ্যতম পাপ। জঙ্গবীদ এখন ব্যপক অর্থে ব্যবহার করা হয়। ইসলামের বৈধ জিহাদকেও অনেক সময় জঙ্গীবাদ বলে চালিয়ে দেয়া হয়। তবে কোন ধরনের সন্ত্রাসমূলক কর্মকান্ড ইসলাম সমর্থন করে না। রাসূলুল্লাহ সা. এর বিরুদ্ধে যদি কেউ কটুক্তি করে আর অন্য কেউ শুনে তা সহ্য করতে না পেরে হামলা করে তাকে হত্যা করে তাহলেও হত্যাকারী ব্যক্তির বিচার হবে। তবে আদালত যদি এর সত্যতা পাই তাহলে তাকে খালাস দিবেন। তবে আদালতে তাকে যেতেই হবে। প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনাটিও সে রকম। তিনি হত্যা করার পর রাসূলুল্লাহ সা. বিচারের মাধ্যমে তাকে খালাস দিয়েছেন। মোটকথা আইন হাতে তুলে নেয়ার ক্ষমতা কারো নেই। বিচার করবে রাষ্ট্র, আদালত। বিস্তারিত জানতে দেখুন, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহ. রচিত ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ বইটি। 

প্রশ্নঃ 611
সালাতে কুরআন তিলাওয়াতের সময় যেখানে চার আলিফ, তিন আলিফ, দুই আলিফ টান সেখানে যদি আমি শুধু এক আলিফ টান দিই বা একদম টান না দিয়ে পড়ি তাহলে কি ভুল হবে? টান কম-বেশি হওয়ার দরুন কি অর্থের বিকৃতি হতে পারে? এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাই?
30 Dec 2025

একেবারে টান না দিলে অবশ্যই ভুল হবে। টান দেওয়া বা না দেওয়ার কারনে অর্থের বিকৃতি হয়। তবে কম-বেশী দেয়ার কারণে ভুল হবে না।

প্রশ্নঃ 610
জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বশেষ জান্নাতির ফযিলতের হাদিসটির পূর্ণ দলিলটি চাই, দয়া করে জানাবেন।
30 Dec 2025

হাদীসটি বুখারীতে হাদীসে। হাদীস নং ৮০৬। হাদীসটির আরবী পাঠ নিম্নরুপ: حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ قَالَ : أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، قَالَ : أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ وَعَطَاءُ بْنُ يَزِيدَ اللَّيْثِيُّ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ أَخْبَرَهُمَا أَنَّ النَّاسَ قَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ هَلْ نَرَى رَبَّنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ هَلْ تُمَارُونَ فِي الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ لَيْسَ دُونَهُ سَحَابٌ ؟ قَالُوا : لاَ يَا رَسُولَ اللهِ ، قَالَ : فَهَلْ تُمَارُونَ فِي الشَّمْسِ لَيْسَ دُونَهَا سَحَابٌ؟ قَالُوا : لاَ قَالَ فَإِنَّكُمْ تَرَوْنَهُ كَذَلِكَ يُحْشَرُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَقُولُ مَنْ كَانَ يَعْبُدُ شَيْئًا فَلْيَتَّبِعْ فَمِنْهُمْ مَنْ يَتَّبِعُ الشَّمْسَ وَمِنْهُمْ مَنْ يَتَّبِعُ الْقَمَرَ وَمِنْهُمْ مَنْ يَتَّبِعُ الطَّوَاغِيتَ وَتَبْقَى هَذِهِ الأُمَّةُ فِيهَا مُنَافِقُوهَا فَيَأْتِيهِمُ اللَّهُ فَيَقُولُ أَنَا رَبُّكُمْ فَيَقُولُونَ هَذَا مَكَانُنَا حَتَّى يَأْتِيَنَا رَبُّنَا فَإِذَا جَاءَ رَبُّنَا عَرَفْنَاهُ فَيَأْتِيهِمُ اللَّهُ فَيَقُولُ أَنَا رَبُّكُمْ فَيَقُولُونَ أَنْتَ رَبُّنَا فَيَدْعُوهُمْ فَيُضْرَبُ الصِّرَاطُ بَيْنَ ظَهْرَانَيْ جَهَنَّمَ فَأَكُونُ أَوَّلَ مَنْ يَجُوزُ مِنَ الرُّسُلِ بِأُمَّتِهِ ، وَلاَ يَتَكَلَّمُ يَوْمَئِذٍ أَحَدٌ إِلاَّ الرُّسُلُ وَكَلاَمُ الرُّسُلِ يَوْمَئِذٍ اللَّهُمَّ سَلِّمْ سَلِّمْ وَفِي جَهَنَّمَ كَلاَلِيبُ مِثْلُ شَوْكِ السَّعْدَانِ هَلْ رَأَيْتُمْ شَوْكَ السَّعْدَانِ قَالُوا نَعَمْ قَالَ فَإِنَّهَا مِثْلُ شَوْكِ السَّعْدَانِ غَيْرَ أَنَّهُ لاَ يَعْلَمُ قَدْرَ عِظَمِهَا إِلاَّ اللَّهُ تَخْطَفُ النَّاسَ بِأَعْمَالِهِمْ فَمِنْهُمْ مَنْ يُوبَقُ بِعَمَلِهِ وَمِنْهُمْ مَنْ يُخَرْدَلُ ثُمَّ يَنْجُو حَتَّى إِذَا أَرَادَ اللَّهُ رَحْمَةَ مَنْ أَرَادَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ أَمَرَ اللَّهُ الْمَلاَئِكَةَ أَنْ يُخْرِجُوا مَنْ كَانَ يَعْبُدُ اللَّهَ فَيُخْرِجُونَهُمْ وَيَعْرِفُونَهُمْ بِآثَارِ السُّجُودِ وَحَرَّمَ اللَّهُ عَلَى النَّارِ أَنْ تَأْكُلَ أَثَرَ السُّجُودِ فَيَخْرُجُونَ مِنَ النَّارِ فَكُلُّ ابْنِ آدَمَ تَأْكُلُهُ النَّارُ إِلاَّ أَثَرَ السُّجُودِ فَيَخْرُجُونَ مِنَ النَّارِ قَدِ امْتَحَشُوا فَيُصَبُّ عَلَيْهِمْ مَاءُ الْحَيَاةِ فَيَنْبُتُونَ كَمَا تَنْبُتُ الْحِبَّةُ فِي حَمِيلِ السَّيْلِ ثُمَّ يَفْرُغُ اللَّهُ مِنَ الْقَضَاءِ بَيْنَ الْعِبَادِ وَيَبْقَى رَجُلٌ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ وَهْوَ آخِرُ أَهْلِ النَّارِ دُخُولاً الْجَنَّةَ مُقْبِلٌ بِوَجْهِهِ قِبَلَ النَّارِ فَيَقُولُ يَا رَبِّ اصْرِفْ وَجْهِي ، عَنِ النَّارِ قَدْ قَشَبَنِي رِيحُهَا وَأَحْرَقَنِي ذَكَاؤُهَا فَيَقُولُ هَلْ عَسَيْتَ إِنْ فُعِلَ ذَلِكَ بِكَ أَنْ تَسْأَلَ غَيْرَ ذَلِكَ فَيَقُولُ لاَ وَعِزَّتِكَ فَيُعْطِي اللَّهَ مَا يَشَاءُ مِنْ عَهْدٍ وَمِيثَاقٍ فَيَصْرِفُ اللَّهُ وَجْهَهُ ، عَنِ النَّارِ فَإِذَا أَقْبَلَ بِهِ عَلَى الْجَنَّةِ رَأَى بَهْجَتَهَا سَكَتَ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَسْكُتَ ثُمَّ قَالَ يَا رَبِّ قَدِّمْنِي عِنْدَ بَابِ الْجَنَّةِ فَيَقُولُ اللَّهُ لَهُ أَلَيْسَ قَدْ أَعْطَيْتَ الْعُهُودَ وَالْمَوَاثِيقَ أَنْ لاَ تَسْأَلَ غَيْرَ الَّذِي كُنْتَ سَأَلْتَ فَيَقُولُ يَا رَبِّ لاَ أَكُونُ أَشْقَى خَلْقِكَ فَيَقُولُ فَمَا عَسَيْتَ إِنْ أُعْطِيتَ ذَلِكَ أَنْ لاَ تَسْأَلَ غَيْرَهُ فَيَقُولُ لاَ وَعِزَّتِكَ لاَ أَسْأَلُ غَيْرَ ذَلِكَ فَيُعْطِي رَبَّهُ مَا شَاءَ مِنْ عَهْدٍ وَمِيثَاقٍ فَيُقَدِّمُهُ إِلَى بَابِ الْجَنَّةِ فَإِذَا بَلَغَ بَابَهَا فَرَأَى زَهْرَتَهَا وَمَا فِيهَا مِنَ النَّضْرَةِ وَالسُّرُورِ فَيَسْكُتُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَسْكُتَ فَيَقُولُ يَا رَبِّ أَدْخِلْنِي الْجَنَّةَ فَيَقُولُ اللَّهُ وَيْحَكَ يَا ابْنَ آدَمَ مَا أَغْدَرَكَ أَلَيْسَ قَدْ أَعْطَيْتَ الْعَهْدَ وَالْمِيثَاقَ أَنْ لاَ تَسْأَلَ غَيْرَ الَّذِي أُعْطِيتَ فَيَقُولُ يَا رَبِّ لاَ تَجْعَلْنِي أَشْقَى خَلْقِكَ فَيَضْحَكُ اللَّهُ – عَزَّ وَجَلَّ – مِنْهُ ثُمَّ يَأْذَنُ لَهُ فِي دُخُولِ الْجَنَّةِ فَيَقُولُ تَمَنَّ فَيَتَمَنَّى حَتَّى إِذَا انْقَطَعَتْ أُمْنِيَّتُهُ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ تَمَنَّ كَذَا وَكَذَا أَقْبَلَ يُذَكِّرُهُ رَبُّهُ حَتَّى إِذَا انْتَهَتْ بِهِ الأَمَانِيُّ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى لَكَ ذَلِكَ وَمِثْلُهُ مَعَهُ قَالَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ لأَبِي هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُمَا إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : قَالَ اللَّهُ لَكَ ذَلِكَ وَعَشَرَةُ أَمْثَالِهِ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ لَمْ أَحْفَظْ مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ قَوْلَهُ لَكَ ذَلِكَ وَمِثْلُهُ مَعَهُ قَالَ أَبُو سَعِيدٍ إِنِّي سَمِعْتُهُ يَقُولُ ذَلِكَ لَكَ وَعَشَرَةُ أَمْثَالِهِ.


প্রশ্নঃ 609
আসসালামু আলাইকুম, আস সুন্নাহ, বা কিতাব আস সুন্নাহ বইটি কি ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ.এর ছেলের কিতাব? এই কিতাবটি কি মক্কা ও মদিনার আলিমগন দ্বারা স্বীকৃত? এর ভিতরে যে কথা গুলো আছে তা কি ইসলামী আক্কীদা পরিপন্থি নয়? কয়েকজন আলেম/মুফতি এই বইয়ের বরাত দিয়ে বলছেন এটাই মক্কা ও মদিনার আলিমগন এর আক্কীদা এবং কুরান এবং হাদিস এর পরেই তারা এই ভ্রান্ত কিতাব এর গুরুত্ব দেয়। এই কিতাব সম্পরকে জানতে চাই।
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আসসুন্নাহ কিতাবটি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের ছেলে আব্দুল্লাহ কর্তৃক আকিদার বিষয়ে লিখা একটি কিতাব। কিতাবটির প্রথম অধ্যায়টি জাহমিয়া সম্প্রদায়ের আকিদার বিরুদ্ধে লিখা হয়েছে, সম্ভবত তাই খতিব বাগদাদী, ইমাম জাহবী ও অন্যান্য ইমামগন কিতাবটির নাম আররদ্দ আলাল জাহমীয়া বলে উল্লেখ করেছেন। এটি আকিদার বিষয়ে একটি গ্রহনযোগ্য কিতাব। কোন কিতাব গ্রহণযোগ্য হওয়ার অর্থ এই নয় যে তাতে কোন ভুল থাকতে পারেনা। কিতাবটি ড: মুহাম¥দ বিন সাঈদ উম¥ুল ক্বুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষকের অধিনে তাহক্বিক করে এর উপর ডক্টরেট অর্জন করেছেন। ড: মুহাম¥দ বিন সাঈদ তার তাহক্বিকে এই কিতাবের সকল হাদিস ও প্রত্যেক কথার প্রামান্যতা নিয়ে পর্যালোচনা করেছেন। আপনি এই বইটি সংগ্রহ করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 605
আসসালামুয়ালাইকুম, সালাতের জামাত শুরু হয়ে জাবার পরে গিয়ে জামাতের দুই রাকাত পেলাম। এখন বাকি দুই রাকাতে কি সুধু সুরা ফাতিহা দিয়ে আদাই করবো নাকি সুরা ফাতিহা এর সাথে অন্য সুরা মিলিয়ে আদাই করবো। ধন্যবাদ।
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সূরা ফাতিহাসহ অন্য সূরা পড়বেন।

প্রশ্নঃ 607
Assalamu Alaikum Sir, I am Masud From Oman. Last Week I Called u regarding our Land. One of Developer company taken our Land to make a Bulding within 2 years.They told us Wiithin 2 years they will give us flat but already six years finish developer are not giving us any flat. Now we are in very bad condition. I am expecting ur honourable acvice. Regards. Masud
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার জমিতে যদি কোন কিছুই না করে থাকে জমি ফেরত নিন। আর যদি সামান্য কিছু কাজ করে ফেলে রেখেছে কাজও সম্পুর্ন করেছনা, জমিও ছাড়ছেনা এমন হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিন। আর বেশী বেশী নফল নামাযে সিজদায় গিয়ে দোয়া করতে থাকুন। নিম্নের দুআটি বেশী বেশী পড়তে থাকুন, আল্লাহ তায়ালা সহজ করে দিবেন ইনশা আল্লাহ। اَللَّهُمَّ لاَ سَهْلَ إِلاَّ مَا جَعَلْتَهُ سَهْلاً وَأَنْتَ تَجْعَلُ الْحَزْنَ إِذَا شِئْتَ سَهْلاً উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা, লা- সাহলা ইল্লা- মা- জাআলতাহূ সাহলান। ওয়া আনতা তাজআলুল হাযনা ইযা- শিয়্তা সাহলান। অর্থ : হে আল্লাহ আপনি যা সহজ করেন তা ছাড়া কিছুই সহজ নয়। আর আপনি ইচ্ছা করলে সুকঠিনকে সহজ করেন। হাদীসটি সহীহ। [সহীহ ইবনু হিব্বান ৩/২৫৫, মাকদিসী, আহাদীস মুখতারাহ ৫/৬২, ৬৩; আলবানী, সাহীহাহ ৬/৯০২। ]

প্রশ্নঃ 604
bus এর মাঝে থাকার সময় নামায কাযা হলে কি ইশার সাথে আসর, মাগরিব কসর হিসেবে পড়তে হবে?
30 Dec 2025

আসসালামুয়ালাইকুম, সালাতের জামাত শুরু হয়ে জাবার পরে গিয়ে জামাতের দুই রাকাত পেলাম। এখন বাকি দুই রাকাতে কি সুধু সুরা ফাতিহা দিয়ে আদাই করবো নাকি সুরা ফাতিহা এর সাথে অন্য সুরা মিলিয়ে আদাই করবো। ধন্যবাদ

প্রশ্নঃ 606
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, মুহতারাম আমার বয়স প্রায় ২৪ বছর, আমি মাদরাসাতে পড়াশুনা করতে অনেক আগ্রহী, কিছু ভাল পরামর্শ দিবেন আশা করি–
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার যে আবেগ তা অবশ্যই প্রশংসনীয়, তবে এ আবেগ ধরে রাখা অনেক কঠিন। আর মাদ্রাসায় পড়া ফরজ নয়, দ্বীনের প্রয়োজনীয় মাসআলা মাসায়েল শেখা কোরান শরিফ শুদ্ধকরে পড়া ফরজ। আর কোরান বুঝার জন্য এখন বাংলা অনুবাদ কোরান পাওয়া যায় তা কিনে পড়তে পারেন। আর হাদিসের অনুবাদও পাওয়া যায়। আপনি একজন আলেমের তত্বাবধানে তেকে পড়া লেখা চালিয়ে যান। ইনশা আল্লাহ দ্বীন জানা ও মানা সহজ হয়ে যাবে। তবে সতর্ক করছি নিজে নিজে বড় আলেম হওয়ার চেষ্টা করবেন না, আলেমত হতে পারবেনই না বরং গোমরা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

প্রশ্নঃ 603
সরকারী চাকুরীর provident fund এর টাকার সূদ কি হারাম?
30 Dec 2025

বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে অধিকাংশ আলেম বলেন হারাম হবে না।

প্রশ্নঃ 602
সালাত শেষে ঈমামের সাথে মুনাজাত করা জাবে কী. সহি আকিদার আলেমগন বলেছেন আমার রাসূল এই মুনাজাত করেননি. তাহলে আমাদের ইমাম মুনাজাত করলে আমারা কী করবো?
30 Dec 2025

আপনার ভাল না লাগলে আপনি করবেন না। বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া ২৯ নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 601
আমি অসুস্থতার কারণে নামাজে যেতে পারি নাই – এইটা বলা কি শির্ক হবে? কি কি কথা শির্কের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে?
30 Dec 2025

না, এই কথার কারণে শিরক হবে না। শিরক বিষয়ে বিস্তরিত জানতে পড়ুন ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত কুরআন-সুন্নাহের আলোকে ইসলামী আকীদা বইটি।

প্রশ্নঃ 600
আস-সালামু আলাইকুম, আমি ১০ বৎসর যাবত ঢাকাতে বসবাস করি, আমার মা বাবা থাকে দিনাজপুরে আমার জন্ম রাজশাহিতে। এখন আমি যদি দিনাজপুর অথবা রাজশাহিতে কোন কারনে যাই তাহলে কি নামাজ কসর করতে হবে? আমার সলাত কসর সম্পর্কে কিছুটা জানা আছে।
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। দিনাজপুরে বা রাজশাহীতে যদি আপনার থাকার স্থায়ী বাড়ি থাকে তাহলে আপনি কসর করবেন না অন্যথায় কসর করবেন। তবে আপনি যা লিখেছেন শুধু তার ভিত্তিতে কোন সঠিক সমাধান দেয়া সম্ভব নয়। আপনি স্থানীয় কোন আলেম থেকে বিস্তারিত জেনে নিন।

প্রশ্নঃ 599
আসসালামু আলাইকুম, আমার নাম মোহাম্মাদ মনির হুসাইন। আমি অনেক ঋণগ্রস্থ একজন মানুষ। আমার বাবা ও বড় ভাইসহ আরো অনেক মানুষ আমার নিকট টাকা পাবে। আমিও অনেক টাকা আমার চাচাতো ভাই ও বন্ধুদের কাছ থেকে পাব। আমাকে প্রতিদিন সবাই টাকার জন্য ফোন দেয় আর এই জন্য আমি ঠিক মতো এবাদতও করতে পারিনা। মনযোগ হারিয়ে ফেলি। আর আমি যাদের কাছে টাকা পাব তাঁরাও আমাকে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে দিনের পর দিন ঘোরাচ্ছে। এই অবস্থায় আমি কি কি আমল কিভাবে কিভাবে করলে এই কঠিন বিপদ থেকে মুক্তির আশা করতে প্যারি? আমার প্রশ্নের উত্তরটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পেলে খুব এ উপকৃত হতাম।
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিপদ-সংকটে সবর করার মধ্যেই রয়েছে মূমিনের সফলতা। অনেক সময় আল্লাহ তায়ালা এই বিপদাপদ দ্বরা তাঁর প্রিয় বান্দাদের পরীক্ষা করেন। সুতরাং আপনি দুঃশ্চিন্তা করবেন না। আল্লাহর কাছে দুআ করুন আশা করি আপনার সমস্যা দূর হয়ে যাবে। আপনি রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো নফল সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। এছাড়া কুরআনের এই দআটিও সালাতে এবং অন্যান্য সময় বারবার পড়বেন, رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনার সব সংকট দূর করে দেন।

প্রশ্নঃ 598
আসসালামু আলাইকুম, স্যার ইসলামী ব্যাংকে টাকা ডিপজিট এবং ডিপিএস করা জায়েজ হবে কি? উত্তরটা জানালে উপকৃত হব ।
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইসলামী ব্যাংক যদি আপনার টাকা ইসলামী পদ্ধতিতে ব্যবাসাতে লাগায় তাহলে জায়েয হবে। তবে অধিকাংশ সময়েই তা হয় না। স্যার রহ. এই ধরণের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন জায়েয হবে না।

প্রশ্নঃ 597
স্যার আমি এই মাস থেকে সুন্নতি style এ টাখনুর উপরে pant পড়া শুরু করেছি। সাধারনত pant নাভির নিচে চলে যায়। কিন্তু সেই অংশ shirt দিয়ে ঢাকা থাকে, এতে কি কোন সমস্যা হবে?
30 Dec 2025

শার্ট দিয়ে ঢাকা থাকলে কোন সমস্যা নেই। তবে প্যান্ট এমন হওয়া উচিৎ যা নাভীর না আসে।

প্রশ্নঃ 596
আসসালামুয়ালাইকুম, মুহতারাম আমরা সবাই জানি ফরয নামায ১৭ রাকাত এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে সুন্নাত নামায ৫ওয়াক্ত নামাজে কত রাকাত এবং প্রতি ওয়াক্তেই কি সুন্নাত নামায আছে?
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, প্রতি ওয়াক্ততেই সুন্নাত নামায আছে। যেমন, ফজরের নামাযে ফরজের আগে দুই রাকআত, যুহরের আগে চার বা দুই পরে দুই ইত্যাদি। এগুলোর কিছু অপেক্ষাকৃত বেশী গুরুত্বপূর্ণ আবার কিছু কম গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি স্থানীয় কোন আলেম থেকে বিস্তারিত জেনে নিন।

প্রশ্নঃ 595
আসসালামু আলাইকুম। আমার একটা প্রশ্ন আছে আপনার কাছে। প্রশ্ন হলঃ কোন মহিলার সন্তান না হলে সে কি কোন এতিম ছেলে নিজের সন্তানের মত লালন পালন করতে পারবে? এক্ষেত্রে ইসলামের বিধান কি?
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। লালন-পালন করতে পারবেন। তবে সন্তান যদি ছেলে হয় তাহলে প্রাপ্ত বয়স্ক হলে তার সাথে পর্দা করতে হবে। তবে যদি ঐ মহিলার থেকে দুধপান করেন তাহলে সমস্যা হবে না। আর যদি পালিত সন্তান মেয়ে হয় তাহলে ঐ মহিলার স্বামীর সাথে প্রাপ্ত বয়স্ক হলে পর্দা করতে হবে। তবে দুধ খেলে পর্দা করতে হবে না। সুতরাং পালিত শিশুর বয়স দুই বছর হওয়ার পূর্বেই দুধ খাইয়ে দেওয়া উচিৎ। যাতে পর্দার সমস্যা না হয়। তবে ঐ সন্তান মিরাসের হকদা হবে না। তবে তার জন্য ওসিয়ত করা যেতে পারে।

প্রশ্নঃ 594
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, যদি কোনো অসুস্থ মানুষ মাটিতে বসে নামাজ পড়তে চান তাহলে ইশারায় সিজদা করতে হলে হাত কোথায় রাখতে হবে? মাটিতে নাকি হাটুর উপর?
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইশারায় সাজদা দেয়ার সময় হাত হাঁটুর উপর রাখবেন।

প্রশ্নঃ 593
মুহতারামঃ আসসালামু আলাইকুম। আমি youtube এর একটি ভিডিওর লিঙ্ক দিলাম। please শুনে মতামত দিবেন। এই ভিডিও তে দাবি করা হয়েছে তার তথাকথিত মুরশেদ এতদিন বাংলাদেশ এ আসার ইজাজত রাসুল (স) এর কাছ থেকে পান নি তাই আসতে পারেন নি, এর পর রাসুল (স) ইজাজত দিলে এসেছেন। এবং রাসুল (স) নাকি বলেছেন (সরাসরি তারা রাসুল (স) এর আওয়াযে শুনেছেন) তাদের কে কাবুল করআ হয়েছে। https://www.youtube.com/watch?v=pScDTfAco2g
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. বেঁচে থাকা কালীন এই প্রশ্নের বিষয়ে তাঁর সাথে আলোচনা করেছিলাম। তিনি আমাকে যা বলেছিলেন তার সারকথা নিম্নরুপ: আমরা সবাই জানি মুহাম্মাদ সা. এর উম্মতদের মধ্যে মর্যাদার দিক দিয়ে সাহাবীদের স্থান সর্বাগ্রে। পৃথিবীর কোন ওলী, কোন দরবেশ বা আলেম মর্যদার দিকে দিয়ে সাহাবীদের সমান নয়। কুরআন ও হাদীসে সাহাবীদের মর্যাদার বিষয়টি বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। এবার নিচের হাদীস তিনটি ভালভাবে লক্ষ্য করুন,

১। عَنْ أَبِي سَعِيدٍ ، قَالَ : اسْتَأْذَنَ أَبُو مُوسَى عَلَى عُمَرَ فَقَالَ : السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَأَدْخُلُ ؟ قَالَ عُمَرُ : وَاحِدَةٌ ، ثُمَّ سَكَتَ سَاعَةً ، ثُمَّ قَالَ : السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَأَدْخُلُ ؟ قَالَ عُمَرُ : ثِنْتَانِ ، ثُمَّ سَكَتَ سَاعَةً فَقَالَ : السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَأَدْخُلُ ؟ فَقَالَ عُمَرُ : ثَلاَثٌ ، ثُمَّ رَجَعَ ، فَقَالَ عُمَرُ لِلْبَوَّابِ : مَا صَنَعَ ؟ قَالَ : رَجَعَ ، قَالَ : عَلَيَّ بِهِ ، فَلَمَّا جَاءَهُ ، قَالَ : مَا هَذَا الَّذِي صَنَعْتَ ؟ قَالَ : السُّنَّةُ ، قَالَ : آلسُّنَّةُ ؟ وَاللَّهِ لَتَأْتِيَنِّي عَلَى هَذَا بِبُرْهَانٍ أَوْ بِبَيِّنَةٍ أَوْ لأَفْعَلَنَّ بِكَ ، قَالَ : فَأَتَانَا وَنَحْنُ رُفْقَةٌ مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ : يَا مَعْشَرَ الأَنْصَارِ أَلَسْتُمْ أَعْلَمَ النَّاسِ بِحَدِيثِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ؟ أَلَمْ يَقُلْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الاِسْتِئْذَانُ ثَلاَثٌ ، فَإِنْ أُذِنَ لَكَ ، وَإِلاَّ فَارْجِعْ فَجَعَلَ القَوْمُ يُمَازِحُونَهُ ، قَالَ أَبُو سَعِيدٍ : ثُمَّ رَفَعْتُ رَأْسِي إِلَيْهِ فَقُلْتُ : فَمَا أَصَابَكَ فِي هَذَا مِنَ العُقُوبَةِ فَأَنَا شَرِيكُكَ. قَالَ : فَأَتَى عُمَرَ فَأَخْبَرَهُ بِذَلِكَ ، فَقَالَ عُمَرُ : مَا كُنْتُ عَلِمْتُ بِهَذَا

আবূ সাঈদ (রা.) হতে র্বণতি, তনিি বলনে, আবূ মূসা (রা.) উমর (রা.)-এর নকিট অনুমতি চযে়ে বলনে, আসসালামু আলাইকুম, আমি কি আসতে পার? উমর (রা.) বলনে, এক। আবূ মূসা (রা.) কছিুক্ষণ চুপ থাকলনে। তনিি আবারও সালাম দিয়ে বলনে, আমি কি ভতিরে আসতে পার? উমর (রা.) বলনে, দুই। তারপর আবূ মূসা (রা.) অল্প সময় নীরবতা অবলম্বন করলনে। তনিি আবার বললনে, আসসালামু আলাইকুম, আমি কি আসতে পার? উমর (রা.) বললনে, তিনি এবার চলে যতেে লাগলনে। উমার (রা.) প্রহরীকে জজ্ঞিসে করলনে, তিনি কি করছনে? প্রহরী বলল, তিনি চলে গছেনে। তিনি বললনে, তাকে আমার নিকট ফিরিয়ে নিয়ে এসো। তারপর তিনি উমারের সামনে এলে তিনি প্রশ্ন করলনে, আপনি এরকম করলনে কনে? তিনি বললনে, আমি সুন্নাত পালন করছে। উমর (রা.) বললনে, সুন্নাত পালন করছেনে? আল্লাহর কসম! এর সপক্ষে আপনাকে দলীল-প্রমাণ উপস্থাপন করতে হব, তা না হলে আমি আপনার ব্যবস্থা করছি (র্অথাৎ- শাস্তি দবি)। র্বণনাকারী বলনে, তারপর তনিি (আবূ মূসা) আমাদরে নকিট আসলনে। আমরা কয়জন আনসার বন্ধু একসাথে বসে ছলিাম। তনিি বললনে, হে আনসার সম্প্রদায়! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস সর্ম্পকে কি তোমরা সবার চাইতে বশেি জ্ঞাত নও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলনেনি যে, তিনবার অনুমতি চাইতে হব? তারপর তোমাকে অনুমতি দলিে তো দলি, নতুবা ফরিে যাব। উপস্থতি লোকজন তার সাথে কৌতুক করতে লাগল। আবূ সাঈদ (রা.) বলনে, এবার আমি মাথা তুলে তার দকিে তাকালাম এবং বললাম, আপনার উপর এ ব্যাপারে কোন শাস্তি হলে আমি আপনার অংশীদার হব। রাবী বলনে, তারপর তিনি উমাররে নিকট এসে এ ঘটনা বললনে। উমার (রা.) বললনে, আমি এ সর্ম্পকে জানতাম না। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ২৬৯০।হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযীসহ মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

২। عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ أَنَّهُ قَالَ جَاءَتِ الْجَدَّةُ إِلَى أَبِى بَكْرٍ الصِّدِّيقِ تَسْأَلُهُ مِيرَاثَهَا فَقَالَ مَا لَكِ فِى كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى شَىْءٌ وَمَا عَلِمْتُ لَكِ فِى سُنَّةِ نَبِىِّ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- شَيْئًا فَارْجِعِى حَتَّى أَسْأَلَ النَّاسَ. فَسَأَلَ النَّاسَ فَقَالَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ حَضَرْتُ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- أَعْطَاهَا السُّدُسَ. فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ هَلْ مَعَكَ غَيْرُكَ فَقَامَ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ فَقَالَ مِثْلَ مَا قَالَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَৃ

অর্থ: ক্ববিসা ইবনে যুয়াইব রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একজন দাদী আবু বকর সিদ্দিক রা. এর কাছে এসে তার মিরাস চাইলেন। তখন তিনি বলেন, কুরআনে তোমার (মিরাস পাওয়ার) বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই, হাদীসেও তোমার বিষয়ে কিছু আছে বলে আমি জানি না। তুমি ফিরে যাও, আমি লোকদের কাছে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি। তিনি লোকদের কাছে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন তখন মুগিরা ইবনে শুবা রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে উপস্থিত ছিলাম, তিনি দাদীকে এক ষষ্ঠমাংস দিয়েছেন। আবু বকর রা. বলেন, তুমি ছাড়া আর কেউ কি বিষয়টি জানে? তখন মুহাম্মাদ ইবনে সালামা দাঁড়ালেন এবং মুগিরা যেমন বলেছেন তেমন বললেন। … সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ২১০১; সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ২৮৯৬।হাদীসটির সকল বর্ণনাকারীকেই মুহাদ্দিসগণ ছিকাহ বলেছেন। হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী হাসান সহীহ বলেছেন। তবে ক্ববিসা আবু বকর রা. পেয়েছেন কিনা তা নিয়ে বিতর্ক আছে। হাদীসটির উপর আমল সহীহ হওয়ার বিষয়ে সকল আলেম একমত।

৩। عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- أَرْسَلَتْ إِلَى أَبِى بَكْرٍ الصِّدِّيقِ تَسْأَلُهُ مِيرَاثَهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْهِ بِالْمَدِينَةِ وَفَدَكٍ وَمَا بَقِىَ مِنْ خُمْسِ خَيْبَرَ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ إِنَّمَا يَأْكُلُ آلُ مُحَمَّدٍ – -صلى الله عليه وسلم- – فِى هَذَا الْمَالِ وَإِنِّى وَاللَّهِ لاَ أُغَيِّرُ شَيْئًا مِنْ صَدَقَةِ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- عَنْ حَالِهَا الَّتِى كَانَتْ عَلَيْهَا فِى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- وَلأَعْمَلَنَّ فِيهَا بِمَا عَمِلَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَأَبَى أَبُو بَكْرٍ أَنْ يَدْفَعَ إِلَى فَاطِمَةَ شَيْئًا فَوَجَدَتْ فَاطِمَةُ عَلَى أَبِى بَكْرٍ فِى ذَلِكَ – قَالَ – فَهَجَرَتْهُ فَلَمْ تُكَلِّمْهُ حَتَّى تُوُفِّيَتْ

উরবা ইবনে যুবায়রে র্বণনা করছেনেৃ আয়শা হতে র্বণতি ফাতমিা রাসুলুল্লাহ-এর সম্পদ হতে তার প্রাপ্য মীরাছ এর দাবী করে আবু বকর এর নকিট পাঠালনে, যা আল্লাহ তালা রাসুলুল্লাহ কে মদীনা ও ফদিাক এর ফাই এবং খায়বাররে অবশষ্টি এক-পঞ্চমাংশ হতে প্রদান করছেলিনে। তখন আবু বকর বললনে, রাসুলুল্লাহ বলে গয়িছেনে, আমাদরে নবীদরে পরত্যিক্ত সম্পদে কোন মীরাছ বন্টন করা হবে না। কনেনা আমাদরে রাখয়িা যাওয়া সকল কছিু ছদকা হয়ে যাব। মোহাম্মদ এর পরবিারর্বগ তা হতে ভরণ পোষণ গ্রহণ করব। আমি আল্লাহর শপথ করে বলতছে, মুহাম্মদ এর আমলে ছদকাহর যে ব্যবস্থা জারী ছলি, তা আমি পরর্বিতন করব না। এই ব্যপারে আমি সইে কাজই করব যা রাসুলুল্লাহ করে গয়িছেনে। অতএব আবু বকর ফাতমিা কে তা হতে মীরাছ প্রদান করতে অস্বীকার করলনে। যার ফলে ফাতমো রাগান্বতি হয়ে আবু বকর এর সাথে সংস্রব ত্যাগ করলনে। তনিি মৃত্যূ র্পযন্ত তার সাথে আর কোন কথাই বলনে নাই। … সহীহ মুসলমি, হাদীস নং ৪৬৭৯। আমরা প্রথম হাদীসে দেখছি, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন তিনবার অনুমতি চাওয়ার পর অনুমতি না দিলে ফিরে যাও এটা উমার রা. জানতেন না। আবু মুসা রা. যখন বললেন তখন তিনি তাঁকে এর স্বপক্ষে সাক্ষী হাজির করতে বললেন। তিনি বলেন নি দাঁড়াও আমি রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছ থেকে বিষয়টি জেনে নিই। যদি মৃত্যুর পর রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছ থেকে কোন কিছু জেনে নেয়া সম্ভব হতো তাহলে উমার রা. তাই করতেন। একজন প্রথম সারীর সাহাবীর পক্ষে যখন এটা সম্ভব নয় তখন কোন ওলীর পক্ষে কি এটা সম্ভব? দ্বিতীয় হাদীসে আমরা দেখছি, দাদীর মিরাছ পাওয়া বিষয়ে আবু বকর রা. জানা ছিল না। যখন একজন দাদী মিরাস দাবী করল তখন তিনি বললেন, আমি লোকদের কাছে জিজ্ঞাসা করে দেখি। যদি মৃত্যুর পর রাসূলুল্লাহ সা. এর সাথে কথা বলার সুযোগ থাকতো তাহলে তো তিনি বলতেন, দাঁড়াও, আমি রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে শুনে দেখি। আবু বকরের মত সাহাবী, ইসলামের প্রথম খলীফার পক্ষে মৃত্যুর পরে রাসূলের সাথে কথা বলা যেখানে অসম্ভব সেখানে কোথায় ওলী আর কোথায় মুরশিদ? এভাবে তৃতীয় হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারি, ফাতিমা রা.কে মিরাস দিতে অস্বীকার করায় তিন আবু বকর রা. এর সাথে কথা বলা পর্যন্ত বন্ধ করে দেন। তার অর্থ হলো ফাতেমা রা. মনে করতেন তিনি মিরাসের হকদার। কিন্তু তিনি কখনো তো রাসূলুল্লাহ সা. এর কবরের কাছে গিয়ে জানতে গেলেন না মিরাস পাবেন কিনা? তিনি তো রাসূলুল্লাহ সা. এর সবচেয়ে আদরের মেয়ে ছিলেন। তাহলে কি রাসূলের কাছে ফাতেমার চেয়েও ঐসব কথিত পীর-মুরশিদ বেশী প্রিয়? উপরের আলোচনা থেকে আশা করি বুঝতে পেরেছেন, রাসূলুল্লাহ সা. এর ওফাতের পরে কোন বিষয়ে তার সাথে আলোচনা করার দাবী করা সম্পূর্ণ ভন্ডামী, কুসংস্কার ও মিথ্যা কথা। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এই ধরনের পীর-মুরশিদ থেকে হেফাজত করুন।

প্রশ্নঃ 592
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ, বিশ্বখ্যাত ইমাম ও প্রখ্যাত অলি হযরত আবদুল ওহাব শারানী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বর্ণনা করেছেন- كل من كان متعلقا بنبى او رسول اوولى فلابد ان يحضره وياخذه بيده فى الشدائد- অর্থাৎ যে কেউ কোন নবী-রসূল বা ওলীর সাথে সম্পৃক্ত হবে অবশ্যই উক্ত নবী-রসূল ও ওলী তার (ভক্তের) কঠিন বিপদ-আপদে উপস্থিত হয়ে সমস্ত আপদ-বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। (এ ক্ষমতা আল্লাহ্ তাআলা তাঁদেরকে দান করেছেন। কাজী সানা উল্লাহ্ পানি পত্থি রহমাতুল্লাহি আলায়হি বর্ণনা করেন- আউলিয়ায়ে কেরাম তাদের ভক্তদের সাহায্য এবং শক্রদের শাস্তি প্রদান করেন। [তাফসীরে মাজহারী] হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রহমাতুল্লাহি আলায়হি তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন, ওলীকুলের সম্রাট হুজুর গাউসে পাক সৈয়্যদুনা আবদুল কাদের জিলানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ইরশাদ করেন- من استغاث بى فى كربة كشفت عنه ومن نادانى باسمى فى شدة فرجت عنه- অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোন দুঃখ ও মুসিবতে আমার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে, তার দুঃখ-বেদনা দূর হয়ে যাবে, আর যে বিপদের মুহূর্তে আমার নাম নিয়ে আমাকে আহ্বান করবে সে বিপদ হতে রক্ষা পাবে। মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলায়হি এও বলেছেন, হুজুর গাউসে পাকের এই পবিত্র কালাম (বাণী) পরীক্ষা করা হয়েছে, অতঃপর তা বিশুদ্ধভাবে পরীক্ষত ও প্রমাণিত হয়েছে। [নুযহাতুল হাতিরিল ফাতির ফী মানাকিবে আশ্শায়খ আবদিল কাদির জিলানী রাদ্বি.] আপনি কি দয়া করে শায়ককে জিজ্ঞাসা করবেন উপরের তথ্যগুলো সঠিক কিনা?
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

শায়খ রা. মারা যাওয়ার পূর্বে এই প্রশ্নের বিষয়ে আমি তাঁর সাথে আলোচনা করেছিলাম। তিনি যা বলেছেন তার সারকথা হলো: ইসলাম আমাদের দেশে দুই ধরনের।একটি কথিত ওলী-আউলিয়াদের বাণী নির্ভর ইসলাম আর একটি হলো কুরআন-সুন্নাহ নির্ভর ইসলাম। আপনি যদি প্রথম প্রকারের ইসলাম মানেন তাহলে এই প্রশ্নের বিষয়ে আপনার সাথে আমাদের কোন কথা নেই আর যদি দ্বিতীয় প্রকারের ইসলাম মানেন অর্থাৎ কুরঅঅন-সুন্নাহ নির্ভর ইসলাম মানেন তাহলে লক্ষ্য করুন: তিনি কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা বইয়ের ৪৩০ পৃষ্ঠা বলেছেন, আল্লাহ কাউকে কোনরূপ ক্ষমতা প্রদান করেন নি। মহান আল্লাহ সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেছেন যে, তিনি কখনোই কাউকে এরূপভাবে ক্ষমতা দেন নি। মহান আল্লাহ বলেন:

وَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ وَلِيٌّ مِنَ الذُّلِّ وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا

বল, প্রশংসা আল্লাহরই যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেন নি, তাঁরা ক্ষমতায়-রাজত্বে কোনো শরীক নেই এবং যিনি দুর্দশাগ্রস্ত হন না যে- কারণে তাঁর অভিভাবকের বা সাহায্যকারীর প্রয়োজন হতে পারে। সুতরাং সসম্ভ্রমে তাঁর মাহাত্ম্য ঘোষণা কর। সূরা (১৭) বানী ইসরাঈল: ১১১ আয়াত। আরো দেখুন: সূরা (১৮) কাহাফ: ২৬ ও সূরা (১৩) রাদ: ৪১ আয়াত। এক আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন:

قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ لا يَمْلِكُونَ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلا فِي الأَرْضِ وَمَا لَهُمْ فِيهِمَا مِنْ شِرْكٍ وَمَا لَهُ مِنْهُمْ مِنْ ظَهِيرٍ

বল, তোমরা আহ্বান কর তাদেরকে যাদেরকে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে (ইলাহ) মনে করতে, তারা আকাশ-মণ্ডলী এবং পৃথিবীতে অণুপরিমাণ কিছুর মালিক নয় এবং এতদুভয়ে তাদের কোনো অংশও নেই এবং তাদের কেউ মহান আল্লাহর সহায়কও নয়। সূরা (৩৪) সাবা: ২২ আয়াত। এ বিষয়টি সকল মুশরিকের সকল উপাস্যের বিষয়েই প্রযোজ্য। মুর্তি, প্রতিমা, তারকা, ফিরিশতাগণ, নবীগণ, ওলীগণ, জিন্নগণ বা অন্য যাদেরই ইবাদত করত মুশরিকগণ সকলের ক্ষেত্রেই উত্তর একই। তাঁরা কেউই আসমানের বা যমিনের এক অনুপরিমাণ মালিকানা রাখেন না। আসমান-যমিনের কোথাও তাদের কোনো অংশীদারিত্ব নেই এবং মহান আল্লাহ তাদের কারো সহযোগিতার প্রত্যাশী নন, কেউ তাকে কোনোরূপে সাহায্য সহযোগিতা করেন না। অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন:

ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ لَهُ الْمُلْكُ وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ مَا يَمْلِكُونَ مِنْ قِطْمِيرٍ

তিনিই আল্লাহ তোমাদের প্রতিপালক। রাজত্ব-মালিকানা তাঁরই। এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তারা তো খেজুরের আঁটির আবরণেরও মালিক নয়। সূরা (৩৫) ফাতির: ১৩ আয়াত। খৃস্টানগণ ঈসা মাসীহ (আ)-কে মহান আল্লাহর যাত বা সত্তার অংশ ও অবতার (এড়ফ রহপধৎহধঃব) হিসেবে ইবাদত করে। এ ছাড়া তারা মরিয়ম (আ)-কে সান্তা বা মহান আল্লাহর বিশেষ করুণাপ্রাপ্ত ওলী হিসেবে ইবাদত করে। তার মুর্তিতে বা ফিলিস্তিনে বিদ্যমান তার কবরে সাজদা করে, মানত করে, তার আশীর্বাদ ও বর প্রার্থনা করে। মহান আল্লাহ তাদেরকে বিশ্ব পরিচালনায় কিছু ক্ষমতা দিয়েছেন বলে তারা বিশ্বাস করে। মহান আল্লাহ তাদের মানবত্ব ও অক্ষমতা বর্ণনা করে বলেন:

مَا الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ إِلا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ وَأُمُّهُ صِدِّيقَةٌ كَانَا يَأْكُلانِ الطَّعَامَ انْظُرْ كَيْفَ نُبَيِّنُ لَهُمُ الآَيَاتِ ثُمَّ انْظُرْ أَنَّى يُؤْفَكُونَ قُلْ أَتَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لا يَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّا وَلا نَفْعًا وَاللَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

মরিয়ম-তনয় মাসীহ তো কেবল একজন রাসূল; তার পূর্বে বহু রাসূল গত হয়েছে এবং তার মাতা সত্যনিষ্ঠ ছিল। তারা উভয়ে খাদ্যাহার করত। দেখ, তাদের জন্য আয়াত কিরূপ বিশদভাবে বর্ণনা করি, আরো দেখ, তারা কিভাবে সত্য বিমুখ হয়! বল, তোমরা কি আল্লাহ ব্যতীত এমন কিছুর ইবাদত কর যার কোনোই ক্ষমতা নেই তোমাদের ক্ষতি করার বা উপকার করার? আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। সূরা (৫) মায়িদা: ৭৫-৭৬ আয়াত। উক্ত আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি আল্লাহ তায়ালা কোন ওলী বা কোন ব্যক্তিকে এমন কোন ক্ষমতা প্রদান করেন নি যার মাধ্যমে সে মৃত থাকা অবস্থায় স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে কাউকে কোন ধরনের সাহায্য করতে পারে। বরং এই ধরনের সাহায্য আল্লাহ তায়ালার কাজ। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে সাহায্য চাওয়া সম্পর্কে তিনি উক্ত বইয়ের ৪০৩ ও ৪৯৮ পৃষ্ঠায় বলেন, প্রার্থনা করা বা ডাকার বিষয়বস্তু দুই প্রকারের হতে পারে। এক প্রকার লৌকিক বা জাগতিক সাহায্য-সহযোগিতা যা মানুষ স্বাভাবিকভাবে করতে পারে। এ সকল বিষয় প্রকৃতিগতভাবে একজন মানুষ আরেকজনের নিকট চেয়ে থাকে এবং মানুষ জাগতিকভাবে তা প্রদান করতে পারে। যেমন, কারো কাছে টাকাপয়সা চাওয়া, সাহায্য চাওয়া, পানিতে পড়ে গেলে উঠানোর জন্য সাহায্য চাওয়া, মাথার বোঝা পড়ে গেলে উঠাতে সাহায্য চাওয়া, ইত্যাদি, ইত্যাদি অগণিত। জাতি, ধর্ম, বিশ্বাস ও অবিশ্বাস নির্বিশেষে সকলেই এ ধরনের সাহায্য প্রার্থনা করে। দ্বিতীয় প্রকার প্রার্থনা বা ডাকা অলৌকিক বা অপার্থিব। জাগতিক মাধ্যম ও উপকরণ ছাড়া অলৌকিক সাহায্য, ত্রাণ ইত্যাদি প্রার্থনা করা। এ জাতীয় প্রার্থনা শুধুমাত্র কোনো ধর্মের অনুসারী বা বিশ্বাসী করেন। বিশ্বাসী কেবলমাত্র আল্লাহ ঈশ্বর বা সর্বশক্তিমান বলে যাকে বিশ্বাস করেন, অথবা যার সাথে ইশ্বরের বিশেষ সম্পর্ক ও যার মধ্যে ঐশ্বরিক ক্ষমতা আছে, তার কাছেই এরূপ প্রার্থনা করেন বা তাকেই এভাবে ডাকেন। দৃশ্যমান বা অদৃশ্য উপস্থিত কোনো মানুষ, জিন্ন বা ফিরিশতার কাছে লৌকিক ও জাগতিক সাহায্য ও ত্রাণ প্রার্থনা করা যায়। কিন্তু অলৌকিক ত্রাণ একমাত্র মহান আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে চাওয়া যায় না। দূরে অবস্থিত বা অনুপস্থিত কারো কাছে লৌকিক বা অলৌকিক সাহায্য চাওয়া এবং উপস্থিত বা অনুপস্থিত কারো কাছে অলৌকিক সাহায্য চাওয়া শিরক। নুমান ইবনু বাশীর (রা) বলেন, নবীজী বলেন : الدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ দুআ বা প্রার্থনাই ইবাদত। একথা বলে তিনি কুরআনের আয়াত পাঠ করলেন (সূরা গাফির (মুমিন) : ৬০):

وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ

তোমাদের প্রভু বলেন: তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব বা তোমাদের প্রার্থনা পূরণ করব। নিশ্চয় যারা আমার ইবাদত থেকে অহঙ্কার করে (আমার কাছে প্রার্থনা না করে) তারা শীঘ্রই লাঞ্ছিত অপমানিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তিরমিযী, আস-সুনান ৫/২১১; আবু দাউদ, আস-সুনান ২/৭৬; ইবনু মাজাহ, আস-সুনান ২/১২৫৮; ইবনু হিব্বান, আস-সুনান ৩/১৭২; হাকিম, আল-মুসতাদরাক ১/৬৬৭। হাদীসটি সহীহ। দুআ, কেন্দ্রিক শিরকের বিষয়ে শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলবী (রাহ) বলেন: মুশরিকগণ আল্লাহ ছাড়া অন্যদের নিকট হাজত বা প্রয়োজন মেটানোর জন্য সাহায্য প্রার্থনা করত। অসুস্থ ব্যক্তির সুস্থতা, দরিদ্র ব্যক্তির সচ্ছলতা ইত্যাদি প্রয়োজনে তারা তাদের নিকট প্রার্থনা করত। এ সকল উদ্দেশ্য পূরণ হওয়ার জন্য তারা তাদের নামে মানত করত। তারা আশা করত যে, এ সকল মানতের মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে এবং বিপদাপদ কেটে যাবে। তারা বরকত লাভের উদ্দেশ্যে এ সকল উপাস্যের নাম পাঠ করত। একারণে আল্লাহ তাদেরকে নির্দেশ দিলেন যে, তারা সালাতের মধ্যে বলবে: إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ আমরা শুধু তোমরই ইবাদত করি, শুধু তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। সূরা (১) ফাতিহা: ৪ আয়াত। মহান আল্লাহ বলেন: فَلا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا সুতরাং আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাউকে ডেক না। সূরা (৭২) জিন্ন: ১৮ আয়াত। একটি উদাহরণ থেকে আমরা লৌকিক ত্রাণ প্রার্থনা বা ডাকা এবং শিরকী ত্রাণ প্রার্থনা বা ডাকার মধ্যে পার্থক্য বুঝার চেষ্টা করি। মনে করুন আমার গরুটি পালিয়ে যাচ্ছে। আমি সামনে কোনো মানুষ দেখে বা কোনো মানুষ থাকতে পারে মনে করে চিৎকার করে বললাম, ভাই, আমার গরুটি একটু ধরে দেবেন! অথবা আমি পথ চিনতে পারছি না, তাই কোনো মানুষকে দেখে অথবা কোনো বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে ভিতরে মানুষ আছে অনুমান করে চিৎকার করে বলছি, ভাই অমুক স্থানে কোন দিক দিয়ে যাব একটু বলবেন! এখানে আমি লৌকিক সাহায্য প্রার্থনা করছি। ঐ মানুষের মধ্যে কোনো অলৌকিকত্ব বা ঐশ্বরিক গুণ কল্পনা করছি না। ঐ ব্যক্তির ব্যক্তিগত পরিচয়ও আমার কাছে কোনো গুরুত্ব বহন করে না। আমি জানি যে, স্বাভাবিকভাবে একজন মানুষ একটি গরু ধরতে পারে বা উক্ত স্থানের একজন বাসিন্দা স্বাভাবিকভাবে পথটি চিনবে বলে আশা করা যায়। এজন্য আমি তার থেকে এই লৌকিক সাহায্য প্রার্থনা করছি। যদি কোথাও এই প্রকারের জাগতিক সমস্যা হয় এবং সেখানে কোনো মানুষজন না থাকে তাহলে উপস্থিত অদৃশ্য ফিরিশতাগণের নিকটও সাহায্য চাওয়া যেতে পারে বলে একটি দুর্বল সনদের হাদীস থেকে জানা যায়। মুমিন জানেন যে, আল্লাহর অগণিত ফিরিশতাগণ পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছেন। এছাড়া অদৃশ্য সৃষ্টি জীনেরাও বিভিন্ন স্থানে চলাচল করে। উপরের পরিস্থিতিতে যদি কোনো দৃশ্যমান মানুষকে না দেখে তিনি অদৃশ্য ফিরিশতা বা জ্বিনের কাছে লৌকিক সাহায্য চান তাহলে তা জায়েয হবে। কারণ তিনি কোনো নির্দিষ্ট সৃষ্টির মধ্যে ঈশ্বরত্ব বা অলৌকিকত্ব কল্পনা করছেন না। তথায় কোন্ ফিরিশতা আছেন বা কোন্ জ্বিন রয়েছেন তাও তিনি জানেন না বা জানা তার কাছে কোনো গুরুত্ব বহন করে না। তিনি জানেন যে, এখানে কোনো ফিরিশতা বা জ্বিন থাকতে পারেন। আল্লাহর অন্য কোনো বান্দাকে দেখছি না, কাজেই এখানে উপস্থিত আল্লাহর অদৃশ্য বান্দাদের কাছে একটু সাহায্য চেয়ে দেখি কী হয়। ইবনু মাসঊদ (রা) থেকে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন:

إِنَّ لِلهِ عَزَّ وَجَلَّ مَلاَئِكَةً سِوَى الْحَفَظَةِ يَكْتُبُوْنَ مَا سَقَطَ مِنْ وَّرَقِ الشَّجَرِ فَإِذَا أَصَابَ أَحَدَكُمْ عَرْجَةٌ بِأَرْضِ فَلاَةٍ فَلْيُنَادِ أَعِيْنُوا عِبَادَ اللهِ يَرْحَمُكُمُ اللهُ تَعَالَى

বান্দার সাথে তার সংরক্ষণে নিয়োজিত ফিরিশতাগণ ছাড়াও আল্লাহর অনেক ফিরিশতা আছেন যারা সারা বিশ্বে কোথায় কোন গাছের পাতা পড়ছে তাও লিখেন। যদি তোমাদের কেউ কোনো নির্জন প্রান্তরে আটকে পড়ে বা অচল হয়ে পড়ে তাহলে সে ডেকে বলবে: হে আল্লাহর বান্দাগণ তোমরা সাহায্য কর, আল্লাহ তোমাদের রহমত করুন। ইবনু আবী শাইবা, আল-মুসান্নাফ ৬/৯১, আবু ইয়ালা, আল-মুসনাদ ৯/১৭৭, তাবারানী, আল-মুজামুল কাবীর ১০/২১৭, ১৭/১১৭, বাইহাকী, শুআবুল ঈমান ১/১৩৮, ৬/১২৮, হাইসামী, মাজমাউয় যাওয়াইদ ১০/১৩২, মুনাবী, ফাইযুল কাদীর ১/৩০৭, শওকানী, তুহফাতুয যাকিরীন, পৃ. ১৫৫, আলবানী, যায়ীফাহ ২/১০৮-১১০, নং ৬৫৫, যায়ীফুল জামিয়, পৃ. ৫৫, ৫৮, নং ৩৮৩, ৪০৪। হাদীসটির সনদ যয়ীফ। এ প্রকার লৌকিক বা জাগতিক সাহায্য প্রার্থনা করার ক্ষেত্রে যদি কেউ অনুপস্থিত কাউকে ডাকেন বা অনুপস্থিত কারো কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন তাহলে তা শিরক হবে। যেমন, কারো রিকশা উল্টে গেছে বা গাড়িটি খাঁদে পড়েছে, তখন স্বাভাবিক লৌকিক কর্ম যে, সে কাউকে দেখতে পাক বা না পাক, সে চিৎকার করে সাহায্য চাইবে: কে আছ একটু সাহায্য কর। এখানে সে লৌকিক সাহায্য চাচ্ছে। কিন্তু যদি সে এ সময়ে সেখানে অনুপস্থিত কোনো জীবিত বা মৃত মানুষকে ডাকতে থাকে তাহলে সে শিরকে লিপ্ত হবে। কারণ সে মনে করছে, অনুপস্থিত অমুক ব্যক্তি সদা সর্বদা সবত্র বিরাজমান বা সদা সর্বদা সকল স্থানের সবকিছু তার গোচরিভূত। কাজেই, তিনি দূরবর্তী স্থান থেকে আমাকে দেখতে পাচ্ছেন বা আমার ডাক শুনতে পাচ্ছেন এবং দূর থেকে অলৌকিকভাবে আমার বিপদ কাটিয়ে দেওয়ার মতো অলৌকিক ক্ষমতা তার আছে। এভাবে সে একটি নির্দিষ্ট সৃষ্টির মধ্যে অলৌকেকত্ব, ঐশ্বরিক শক্তি বা মহান আল্লাহর গুণাবলী আরোপ করে শিরকে নিপতিত হয়েছে। এছাড়াও সে মহান আল্লাহর ক্ষমতাকে ছোট বলে মনে করেছে। এ প্রার্থনাকারী বা আহ্বানকারী ঐ বিশেষ ব্যক্তির মধ্যে যে ক্ষমতা কল্পনা করেছে তা একান্তভাবেই মহান আল্লাহর জন্য নির্ধারিত। এ প্রাথনাকারী এই গুণাবলীকে শুধুমাত্র আল্লাহর বলে মনে করে না। সে বিশ্বাস করে যে, এই ক্ষমতার মধ্যে আল্লাহর শরীক আছে। এই ক্ষমতাটি যেমন আল্লাহর আছে, তেমনি অমুক ব্যক্তিরও আছে। তবে সে সম্ভবত তার কল্পনার মানুষটির ক্ষমতাকে এ ক্ষেত্রে আল্লাহর ক্ষমতার চেয়ে বেশি বা দ্রুত বলে বিশ্বাস করে। এজন্যই সে আল্লাহকে না ডেকে তাকে ডেকেছে। এক্ষেত্রে মুশরিকদের দাবি যে, এ সকল খাজা বাবা, সাঁই বাবা, মা, সান্তা, সেন্ট, ফিরিশতা বা জ্বিনদেরকে আল্লাহই ক্ষমতা প্রদান করেছেন। ক্ষমতা মূলত আল্লাহরই, তিনি এদেরকে কিছু বা সকল ক্ষমতা প্রদান করেছেন। শিরকের হাকীকাত বিষয়ে শাহ ওয়ালি উল্লাহ (রাহ)-এর বক্তব্যে আমরা তা দেখেছি। উক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, মৃত কোন ওলীর কাছে কোন ধরনের সাহায্য চাওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে সুস্পষ্ট শিরক। উক্ত বক্তব্য তাঁরা দিয়েছেন কি না তা স্পষ্ট নয়। তবে যদি তাঁরা দিয়ে থাকেনও তাহলে আমরা বলবো মানুষ ভুলের উর্ধ্বে নয়। আমরা তাদের শ্রদ্ধা করি, ভালবাসি। আল্লাহ তাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে জান্নাত তাদের বাসস্থান বানান। আমীন।

প্রশ্নঃ 591
আসসালামু আলাইকুম, সার ইসলামী ব্যাংকে টাকা ডিপজিট এবং ডিপিএস করা জায়েজ হবে কি? উত্তরটা জানালে উপকৃত হবো ।
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইসলামী ব্যাংক যদি আপনার টাকা ইসলামী পদ্ধতিতে ব্যবসাতে লাগায় তাহলে জায়েয হবে। তবে অধিকাংশ সময়েই তা হয় না। স্যার রহ. এই ধরণের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন জায়েয হবে না।

প্রশ্নঃ 590
মার মা গত ৬ বছর আগে মারা যায়,মা মারা যাবার পর ৮ মাসের মধ্যে বাবা ২য় বিয়ে করে । প্রথম প্রথম সৎ মায়ের আচরন ভাল ছিল । গত ৩ বছর যাবত সৎ মা আমাদের সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করে । আমাদের খাওয়া, কথা বলা কিছুই দেখতে পারে না,সারা দিন পেনপেন করে,আমি কিছুই বলতাম না । আমার ছোট ভাই মাঝে মধ্যে উওর দিত । এ অবস্থায় আমি আল্লাহর রহমতে বিয়ে করি, বিয়ে করার পর সৎ মা আমার স্ত্রীর সাথে ও খারাপ ব্যবহার শুরু করে,অফিস থেকে গিয়ে প্রায় সময় দেখতাম আমার স্ত্রী কানতেছে । এ সব কিছু আমার বাবার সামনে করত, আমার বাবা কিছুই বলত না । এ অবস্থায় গত রমজানে আমি বাবার সামনে নিজে নিজে চিৎকার শুরু করে দিই । এতে আমার বাবা কান্না শুরু করে দেয় । যে আমি কেন সৎ মায়ের সামনে আর বাবার সামনে চিৎকার করলাম, পরে আমি রাগ নিয়ন্ত্রন করে ক্ষমা চেয়ে নিই,যেহেতু আল্লাহ বলছে মা বাবা যেন উহ শব্দ না করে তাই ।কিছু দিন পর সৎ মা আবার আমার স্ত্রীর সাথে খারাপ আচরন শুরু করে । এতে আমার বাবা আমার ছোট ভাই আর আমাকে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে বলে এক মাসের সময় দিয়ে দেয়, বাবা বলে এ ভাবে চলতে থাকলে বর রকম সমস্যা হতে পারে তাই আলাদা বাসা নিয়ে থাক, আমি মাযে মধ্যে গিয়ে দেখে আসব । আলহামদুলিল্লাহ, এর কিছু দিন পরে আমার ছেলে জন্ম গ্রহন করে, কিন্তু ৩ মাস হয়ে গেলেও আমার বাবা এক বারও আমাদের দেখতে আসে নাই । গত কয়েক দিন আগে আমার ছেলে কে দেখতে আসে, এসে বলে আমি নাকি টাকা খাওয়ার জন্য আমার ছোট ভাইকে নিয়ে আসছি, অথছ বাবা নিজে ওকে বের করে দিছে । এর পর বলে আমরা কেন ওনার বাসায় যাই নাই, অথছ বাসায় যেতে ওনি নেষেধ করছে.পূর্বে থেকেও আমার বাবা প্রায় সময় মিথ্যা কথা বলে । এখন আমার বাবা আমার সাথে আর কথা বলে না, আমি ও ভয়ে কল দিই না যে ওনি আবার আমার নামে মিথ্যা কিছু অপবাদ দিয়ে দিবে,আমার বিয়ের সময় খাওয়া খরচের টাকা বাবা বহন কর বে বলছে, এখন ওনি বলে আমি নাকি ওনাকে টাকা দিতেছি না । এখন আমার প্রশ্ন হল আমার কি করা উচিত?
30 Dec 2025

আপনি আপনার পিতার সাথে ভাল ব্যবহার করবেন, প্রয়োজনীও সহযোগিতা করবেন। আপনি আপনারমত আলাদাই থাকুন আর ছোট ভাইয়ের প্রতি আপনার দায়িত্বও পালন করুন। আল্লাহর কাছে দুআ করতে থাকুন।

প্রশ্নঃ 589
Can I read Quranic Duas in the Sujud? Is it Ok?
30 Dec 2025

হ্যঁ, আপনি সুন্নত-নফল সালাতের সাজাদর মধ্যে কুরআন-হাদীসরে দুআ পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 588
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আকীকাহ-এর জন্য গরু ও ছাগলের মধ্যে কোনটি উত্তম?
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ছাগল উত্তম। গরু আকীকার কথা হাদীসে নেই।

প্রশ্নঃ 587
আসসালামু আলাইকুম? শায়েখ আমরা কি ভাল প্রার্থী কে ভোট দেব না?
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। ভোট আপনার অধিকার। আপনি ভোট দিলে ভাল প্রার্থীকে দিবেন।

প্রশ্নঃ 586
আসসালুঅলাইকুম। আমার একটা প্রশ্ন ছিল। অনেকেই সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার আগে আগত সন্তানের জন্য বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করে থাকে। অনেকেই সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার আগে কেনাকাটা ক্রয় করতে নিষেধ করে। ইসলামিক দৃষ্টিতে আগে কেনাকাটা করতে নিষেধ আছে কি?
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইসলামের দৃষ্টিতে কোন সমস্যা নেই। যে মনে করে আগে কিনতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে মানুষ একবারে সবকিছু কিনতে পারে না। তাই আগ থেকেই অল্প অল্পে করে কিনে, এতে কোন অসুবিধা নেই।

প্রশ্নঃ 585
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ১. ওজু করার মাঝা মাঝি / অজু শেষ করার আগে যদি বায়ু নির্গত হয় তাহলে কি আবার প্রথম থেকে অজু করতে হবে? ০২. বর্তমানে আমরা নামাজ পড়তে মুখে নিয়াত উচ্চারণ করিনা কিন্তু যদি আমি ইমাম হয়ে নামাজ পরতে চাঁই তাহলে কিভাবে নিয়াত করবো?
30 Dec 2025

হ্যাঁ, প্রথম থেকে শুরু করতে হবে। ইমাম হয়ে নামায পড়ালে মনে মনে এটা রাখবেন যে, আপনি ইমাম।

প্রশ্নঃ 584
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, স্যার আমার প্রশ্ন হচ্ছে- ফান / মজাদার অডিও / ভিডিও দেখা বা শুনা ইসলামে জায়েজ কি না?
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। ইসলামের দৃষ্টিতে নিষেদ্ধ নয় এমন কোন দৃশ্য বা সংলাপ না থাকলে দেখা যাবে, সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 583
আসসালামু আলাইকুম…স্যার ক্যামন আছেন? স্যার আমার প্রশ্ন হল স্ত্রীরা কি স্বামীর পাজরের হার থেকে তৈরী? যদি তৈরীই হয় তাইলে যে পুরুষের একাধিক বিয়া হয় তার সব স্ত্রীই কি তার স্বামীর পাজরের হাড় থেকে তৈরী? আর যে নারীর একধিক বিয়ে হয় আর তালাক হয় বা স্বামি মারা যায় তাহলে সে কোন স্বামীর পাজরের হার থেকে সৃষ্টি? plzzz জানাবেন স্যার…
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি হয়তের জানেন স্যার ইন্তেকাল করেছেন। আমার দুআ আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নতুল ফেরদাউস দান করেন। এই ধরনের প্রশ্নের ক্ষেত্রে স্যার রহ. বলতেন এগুলো জানা মানুষের জন্য কোন প্রয়োজন নেই। কারণ ্এগুলো আমলের সাথে সম্পৃক্ত নয়। স্যার আরো বলতেন, এইসব প্রশ্ন মনে নিয়ে আসে শয়তান। আমরা শুধু এতটুকু বলব,হাদীসে আছে,স্ত্রীরা স্বামীদের পাজরের হাড় থেকে তৈরী। আবু হুরায়রা সূত্রে ইমাম বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: اسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ فَإِنَّ الْمَرْأَةَ خُلِقَتْ مِنْ ضِلَعٍ وَإِنَّ أَعْوَجَ شَيْءٍ فِي الضِّلَعِ أَعْلَاهُ، فَإِنْ ذَهَبْتَ تُقِيمُهُ كَسَرْتَهُ، وَإِنْ تَرَكْتَهُ لَمْ يَزَلْ أَعْوَجَ فَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ তোমরা নারীদের ব্যাপারে কল্যাণকামী হও, কারণ নারীকে পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, পাঁজরের মধ্যে উপরের হাড্ডি সবচেয়ে বেশী বাঁকা। যদি তা সোজা করতে চাও ভেঙ্গে ফেলবে, ছেড়ে দিলেও তার বক্রতা যাবে না। অতএব নারীদের ব্যাপারে কল্যাণকামী হও। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৩১; সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৩৭২০। আর বাকী বিষয়গুলো আল্লাহর উপর ছেড়ে দেয়।

প্রশ্নঃ 582
শায়েখ, আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের কোন বক্তব্য বা তার ফতোয়াগুলো কি আমরা অন্য কোন ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে পারবো?
30 Dec 2025

আপনি আপনার আলোচনায় স্যার রহ. এর কোন বক্তব্য কিংবা ফতোয়া নিয়ে আসতে পারেন। স্বতন্ত্রভাবে কোন কথা বা ফতোয়া অন্য কোন ওয়ব সাইডে দেবেন না।

প্রশ্নঃ 581
আসসালামুয়ালাইকুম, স্যার, আমার বড় ভাই একজন নেশাগ্রস্থ মানুষ, সে প্রায় ১৫ বছর যাবৎ নেশা করে আসছে। আমার বাবা মার মনে সে অনেক কষ্ট দিয়েছে, এখন আমার বাবা জীবিত নেই, আমার বাবা তার জন্য অনেক খরচ করেছে,মান সম্মানের অনেক ঘাটতি হয়েছে আর আমার বাবা কার কারনে ইন্তেকালের আগে ২/৩ বার হার্টএটাক করেছে। সে এখন আমাদের পুরা পরিবারের সবার সাথে অনেক খারাপ আচারণ করে, অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে আর সে তার স্ত্রীকেও অনেক মার-ধর করে। সে অনেকবার ভাবীকে এমন মার মেরেছে যে ওনাকে হসপিটালে নিয়ে জেতে হয়েচে, তার মুখে অনেক ইনজুরির দাগ বসিয়ে দিছে। আমার ভাই তার ছোট্ট ছেলেকেও মার-ধর করকে দিধাবোধ করে না……আমরা যদি প্রতিবাদ করি তাহলে আমাদেরকেও মার-ধর করতে আসে, অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে এবং সব থেকে বেশী কষ্বাট দেয় আমার মাকে স্যার আমাদের কষ্ট আমরা মেনে নেই কিন্তু নিজের চোখের সামনে নিজের মাকে এমন ভাবে গালি গালাজ করে যে তা মানতে মানতে ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলেছি । এখন আর সহ্য হয়না, আমার আমার প্রশ্ন হচ্চে, আমরা কি করতে পারি এখন?
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সন্তানদেরকে ছোট থেকে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা না দিলে এমন পরিনতি অনেককেই ভোগ করতে হয়। যাইহোক যা হবার হয়েছে। এখন আপনাদের উচিৎ আপনাদের বংশের মুরব্বীদেরকে নিয়ে বসে বিষয়টি কিভাবে সমাধান করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করা। সে যেখানে থাকে সেখান থেকে আপনার অন্য কোথাও চলে যেতে পারেন অথবা তাঁকে পাঠিয়ে দিতে পারেন। যে কোন ভাবে চেষ্টা করুন তাকে চিকিৎসা করিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার। আল্লাহ আপনাদের সমস্য সমাধান করে দিন।

প্রশ্নঃ 580
আপনাদের কি ফেনী জেলায় কোন মাদরাসা আছে?
30 Dec 2025

না, সেখানে আমাদের কোন মাদরাসা নেই।

প্রশ্নঃ 579
ফরজ সালাতের পর ঈমাম সাহেবের সাথে সম্বলিত মুনাজাত করা যাবে কী?
30 Dec 2025

এ বিষয়ে দলীল-প্রমাণসহ আমরা আমাদের দেয়া ২৯ নং প্রশ্নের উত্তরে আলোচনা করেছি। আপনি দয়া করে সেটা দেখুন। তবে সংক্ষেপে বলি হাদীসে এমন কোন প্রমান নেই যে, সাহাবীরা ফরজ নামাযের পরে সম্মিলিত মুনাজাত করেছেন।

প্রশ্নঃ 578
আসসালামু আলাইকুম, স্যার, আমার একটা প্রশ্ন আছে। প্রশ্নটি নিম্ন রূপ আমি জুম্মার সালাত আদায় করার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে মসজিদ গামী হয়েছি। এখন আমি একটি হিন্দু এলাকার মধ্য দিয়ে সেই মসজিদের দিকে রওনা হয়েছি। এখন পথিমধ্যে দেখি যে কিছু মানুষ রাস্তার পাশের একটি চাপকলে কিছু একটা করছে। তাদের মধ্যে একটি অল্পবয়সী ছেলে (১০-১৩ বছর) বালতিতে পানি তুলে গোসল করছে। এখন আমি বেশ দূর থেকে দেখছি যে, সে যখনি পানি মাথায় বা শরীরে ডালছে, তখনি কিছু পানি এসে রাস্তায় পড়ছে। এখন আমি যখন তাদের অতিক্রম করা শুরু করলাম তখনি আমার মনে হলো কিছু পানি ছিটে আমার গায়ে এসে পড়েছে। আমি স্বাভাবিক ভাবে হেটে মসজিদে যেয়ে সালাত আদায় করে আসলাম। কিন্তু সে ঘটনার পর থেকে আমার মনে সন্দেহ কাজ করছে যে, ওই পানি (ছিটে আসা পানি ) আমার কাপড়ে লেগে আমার কাপড়কে না পাক করে দিল কিনা? আর ওই অবস্থায় নামাজ আদায় করাতে, আমার নামাজ ঠিক ভাবে হলো কিনা? এখন স্যার, আমাকে এই বিষয় সম্পর্কে একটু জানাবেন। আল্লাহ হাফেজ
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার নামায হয়ে গেছে। গোসলের পানি নাপাক নয়। গোসলের পানি দিয়ে অন্য কেউ অযু-গোসল করতে পারবে কিন তা নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে গোসলের পানি কারো গায়ে বা কাপড়ে লাগলে কোন সমস্যা নেই। আপনি কোন চিন্তা করবেন না।

প্রশ্নঃ 577
আসসালামুয়ালাইকুম। আমি গ্রাফিক ডিজাইনার । আমার অনেক সময় ওয়েব সাইট বেনার ও বিভিন্ন দরনের ছবি, লোগো তৈরি করতেয হয় buyer এর জন্য। এই বেনার গুলতে অনেক সময় মেয়েদের বিভিন্ন দরনের ছবি দিতে হয়। আবার অনেক সময় গ্রাফিক এর প্রইজনিও কিছু খুজতে নেট আ গেলে খারাফ কিছু চোখ এ পরে যাই। অনেক সময় হারাম জিনিশ এর add বানাতে হই ঝেমন মদের দখানের লোগো, শুকরের দখানের লোগো, বেনের ইত্যাদি। এখন আমি ছাই হালাল ভাবে উপারজন করতে। এগুলা করা কি হারাম হবে? বা আমি কি ভাবে আমার পেশা চালাতে পারি? এবং করনীয় কি। ধন্যবাদ
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মূমিনের জন্য এই ধরনের কাজ করা জায়েজ নয়। এই কাজের মাধ্যমে মানুষকে গুনাহের কাজে উৎসাহিত করা হয়। আর কুরআনে গুনাহের কাজে উৎসাহিত করতে নিষেধ করা হয়েছে। আপনি কোন হালাল পেশায় আত্ননিয়োগ করুন।

প্রশ্নঃ 576
আসসালামু আলাইকুৃম আমার পিতা কিছু ধান বিক্রি করেছেন এই শর্তে যে, তিনি এখন দাম গ্রহণ করবেন না। যখন প্রয়োজন হবে তখন বাজারে ঐ ধানের যে দাম থাকবে সেই দামে মূল্য গ্রহণ করবেন। মূলতঃ বাড়িতে ধান রাখার জায়গা না থাকায় বাজারের মূল্য বৃদ্ধির সুযোগ গ্রহণ করার জন্য এভাবে বিক্রি করেছেন। এটি জায়েজ হবে কিনা?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, এই শর্তে ধান বিক্রি করা যাবে না। বরং ধানের দাম নির্দিষ্ট করতে হবে। এভাবে বিক্রি ঝপড়া ফাসাদের একটা কারণ। ইসলাম সব ধরণের ঝগড়া ফাসাদকে নির্মূল করতে চাই।

প্রশ্নঃ 575
আমি নতুন বিয়ে করেছি। আমার ইচ্ছে ছিলো ওয়াইফকে নিয়ে হজ্ব পালন করার, বর্তমানে আমার হজ্ব পালনের এবিলিটি নেই। কিন্তু আমার বাবার এবিলিটি আছে আমাদেরকে হজ্বে পাঠানোর, এখন আমি বাবার টাকায় হজ্ব না করে নিজে ওমরা পালন করতে চাচ্ছি।ওমরা করার সামর্থ্য এখন আমার আছে। হজ্ব পালন না করে ওমরা করলে কি কোন গুনাহ হবে কিনা?
29 Dec 2025

না, এতে কোন সমস্যা নেই। তবে হজে যাওয়ার সামর্থ থাকলে আগে হজ করা উচিৎ।

প্রশ্নঃ 574
আমার দুই ছেলে জমজ জন্ম হয়েছে বয়স প্রায় পাঁচ বছর আকীকা করা হয় নাই। এখন! করা যাবে কি?
29 Dec 2025

জন্মের ৭দিনের সময় আকীকা দেয়া সুন্নত। তবে এই সময়ে না দিতে পারলে অন্য যে কোন সময় দিতে পারেন।

প্রশ্নঃ 573
আমি একজন অবিবাহিত বেকার যুবক। আল্লাহর কাছে হালাল জীবিকা কিভাবে চাইব? যার ফলে আমি একটা পরিবার গঠন করতে পারি।
29 Dec 2025

আপনি হালাল জীবিকার জন্য কুরআনের এই দআটি নফল নামাযের সাজদায়, দুআ মাসূরার সময় এবং অন্যান্য সময় বারবার পড়বেন, رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ এবং হাদীসের এই দুআটি দুই সাজদার মাঝে এবং অন্যান্য সময় পাঠ করুন। اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى وَارْحَمْنِى وَاهْدِنِى وَعَافِنِى وَارْزُقْنِى এছড়াও যে কোন প্রয়োজনের জন্য রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো নফল সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। আল্লাহ আপনার সমস্যা দূর করে দিন।

প্রশ্নঃ 572
আসসালামু আলইকুম। আমার প্রশ্ন হলো অমুসলিম যদি কোনো কিছু রান্না করে আমাদেরকে দেয়, সেটা আমারা কি খেতে পারব। এমন অবস্থা হয় এক সাথে খেতে বসলে জোড় করে প্লেটে ডেলে দেয়।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অমুসলিমদের রান্না খাওয়া মূলত না জায়েজ নয়। তবে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে যবেহ করা কোন পশু বা পাখির গোশত খাওয়া হারাম। সুতরাং অমুসলিম কেউ যদি কোন পশু বা পাখি যবেহ করে তাহলে সেই গোশত খাওয়া মুসলিমের জন্য জায়েজ নেই। এর বাইরে শুকনা খাবার এবং সাধারণ তরকারী খেতে সমস্যা নেই। তবে এগুলো এড়িযে যাওয়া সম্ভব হলে এড়িয়ে যাওয়ায় ভাল এবং উত্তম।

প্রশ্নঃ 571
কোন ভালো কাজ করার পরে মনের মধ্যে খুশি খুশি লাগে? এটা কি আহঙ্কার? সেক্ষেত্রে কি করনীয়?
29 Dec 2025

না, কোন ভাল কাজ করে মনের মধ্যে ভাল লাগা, খুশি লাগা অহঙ্কার নয়। শয়তান অনেক সময়্ এমন ধারনা দিযে আমাদেরকে ভাল কাজ থেকে দূরে রাখতে চাই। আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাকে বেশী বেশী ভাল কাজ করা তাওফিক দেন। আমীন।

প্রশ্নঃ 570
আসসালামু আলাইকুম । শায়েখ! আপনার নামে এক দ্বীনি ভাই অনেক অভিযোগ করল। তার মধ্যে মুয়াম্মাল ইবনু ইসমাঈল নামক একজন সিক্বাহ রাবীকে ইমাম বুখারীর বরাতে মুনকারুল হাদীস বানিয়েছেন। ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এর মতন একজন যঈফুল হাদীসকে অগণিত যঈফ সনদে তাদীল প্রকাশ করেছেন। এগুলো কেন হলো? জবাব দানে আপনার মর্জি হয়।
29 Dec 2025

ইমাম আবু হানীফা যঈফুল হাদীস এটা সর্ম্পর্ণ ভুল, অইলমী কথা। বিশেষ এক শ্রেনীর লোক আবু হানীফার নামে না জেনে কথা বলেন। আলফিকহুল আকবারের ভুীমকা পড়ুন, আবু হানীফা সম্পর্কে জানতে পারবেন। কোন কিতাবের কোথায় মুয়াম্মাল ইবনু ইসমাইল কে সিকাহ বানিয়েছেন তা লিখে প্রশ্ন করুন। শুধু এতটুকু লেখায় যথেষ্ট নয়্।

প্রশ্নঃ 569
আস্ সালামু আলাইকুম, আমার একটি প্রশ্ন আছে দয়াকরে উত্তর দিবেন। প্রশ্ন: নফল নামাজ পড়ে আল্লাহ্র কাছে সাহায্য চাওয়া ভাল, নাকি ইজতেমার মোনাজাতে অংশ নেওয়া ভাল। আর যদি এমন হয় যে আমার কোনো কাছের লোক আমাকে ডাকলো তাকে কোনো কাজে সহযোগিতা করার জন্য। তখন আমার জন্য কোনটা করা ঠিক হবে, ১। ইজতেমার মোনাজাতে যাওয়া ২। খুব কাছের লোকটার সাথে যেয়ে তাকে সহযোগিতা করা
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালম। কুরআনে আল্লাহ তাআলা নামায এবং সবরের মাধ্যমে সাহায্য চাইতে বলেছেন। সুতরাং নামাযের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়াই আপনার জন্য উত্তম। মুনজাতে অংশগ্রহনের জন্য কোথাও যাওয়া সাহাবী, তাবেয়ীদের থেকে পাওয়া যায় না। আপনি ইজতেমায় ওয়াজ-নসীহত শুনতে যেতে পারেন। মানুষের প্রয়োজনে তাকে সাহায্য করা অবশ্যই কোথাও মুনাজাতে অংশ নেয়ার চেয়ে উত্তম। মুনজাতে অংশ নেয়া কোন ধরণের সওয়াবের কাজ এমন কথাও ঠিক নয়। তবে সাধারণভাবে দুআ করা কুরআন নির্দেশিত নেক আমল।

প্রশ্নঃ 568
তারাতারি বিয়ে করার জন্য কোন কোন দুয়া পড়ব?
29 Dec 2025

নিম্নের দুআ দটি পড়বেন: رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ 1 رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا2 .

প্রশ্নঃ 567
আসসালামুয়ালাইকুম। ঈশার সালাতে কসর ২ রাকাত পরার সময় ভুলে দিতীয় রাকাতে সালাম ফিরানোর বদলে দাঁড়িয়ে যাই। সুরা ফাতেহা পরার পর মনে হয়। এমাতবস্থায়, কি করা উচিত? তিন রাকাত পরে সাহু সিজদাহ সহ সালত শেষ করব? নাকি চার রাকাত পুরা করে সাহু সিজদাহ সহ সালত শেষ করব? যাযাকুমুল্লাহ
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালম।আপনার উপর কর্তব্য হচ্ছে দ্বিতীয় রাকাআতের বসায় ফিরে যাওয়া। এবং সাজদায়ে সাহু দিয়ে নামায শেষ করা।

প্রশ্নঃ 566
আসসলামু আলাইকুম, জনাব, আমি জনাব ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাঙীর সাহেবের পূস্তক গোল আপনাদের কাছ থেকে কি ভাবে পাব কুরিয়ার মাধ্যমে তা জানালে ঊপকৃত হব।
29 Dec 2025

আপনি কুরিয়ারযোগে স্যার রহ, এর বই পেতে পারেন। নিম্নের নাম্বারে যোগাযোগ করুন: 01788 99 99 68, 01791 66 66 63, 01791 66 66 64, 01791 66 66 65 আর ঢাকতে থাকলে ফুরাফুরা শরীফের মাদ্রাসাসংলগ্ন লাইব্রেরীতে পাবেন। চট্টগ্রামেও কিছু লাইব্রেরীতে পাওয়া যায়। আর ঝিনাইদহ থাকলে আমাদের এখান থেকে নিয়ে যাবেন।

প্রশ্নঃ 565
Assalamu Alaikum Dear Huzur, please advise Iftary time of Siam. Now world is digital and everything calculate accurately. So As per Weather-Forecast of Bangladesh Meteorological Department, if Sun set time 6.47pm (today; Wednesday; 2016-06-15), then I suppose to take Ittar on 6.47PM. PM? Salam again Abdur Rahim/Natore/01712669027
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার রহ. তাঁর খৃতবাতুল ইসলাম বইয়ের মধ্যে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সা.-এর সুন্নাত সুর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা। তিনি এত তাড়াতাড়ি ইফতার করতেন যে, অনেক সময় সাহাবীগণ বলতেন, হে আল্লাহর রাসূল, সন্ধ্যা হোক না, এখনো তো দিন শেষ হলো না! তিনি বলতেন, সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই ইফতার করতে হবে। বিভিন্ন হাদীসে রয়েছে যে, সাহাবীগণ সর্বদা শেষ সময়ে সাহরী খেতেন এবং সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করতেন। রাসূলুল্লাহ সা. বলেন: لا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْفِطْرَ যতদিন মানুষ সুর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে তাড়াতাড়ি ইফতার করবে ততদিন তারা কল্যাণে থাকবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৫৭। إِنَّا مَعْشَرَ الأَنْبِيَاءِ أُمِرْنَا بِتَعْجِيْلِ فِطْرِنَا وَتَأْخِيْرِ سُحُوْرِنَا আমরা নবীগণ আমাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রথম সময়ে ইফতার করতে ও শেষ সময়ে সাহরী খেতে। আলমুজামুল কাবীর লিত-ত্ববরনী, হাদীস নং ১১৩২৩। হাদীসটির সনদ সহীহ। উক্ত আলোচনার ভিত্তিতে আমরা বলতে পারি যে, সূর্য অস্ত যাওয়ার পরেই আমরা ইফতার করতে পারি। তবে সূর্য অস্ত যেতে কয়েক মিনিট সময় লাগে। ৬.৪৭ যদি অস্ত যাওয়া শুরু হয় তাহলে অস্ত যেতে ৬.৫০ লেগে যেতে পারে। ৬.৫0 সময় ইফতার করা যেতে পারে। আমাদের দেশের ইফতারের সময়সূচী নির্ধারন করা হয় সতার্কতামূলক ৩ মিনিট যোগ করে। তাই একটু সময় বেশী মনে হয়। মোটকথা সূর্য অস্তমিত হয়ে গিয়েছে এটা নিশ্চিত হওয়ার পর আপনি ইফতার করতে পারেন আর এটাই সুন্নাত।

প্রশ্নঃ 564
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ সুর্য ওঠার পরে ইশরাক নামাজ পড়ার পরে আরও নামাজ পড়তে চাইলে কী নিয়ত করতে হবে? শুধু নফল নিয়ত করলে কি হবে?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সাধারণ নফল নামাযের নিয়ত করবেন। মনে রাখবেন নিয়ত মনের বিষয়ে মুখে করার বিষয় নয়। মনে এটা রাখতে হবে যে আমি নফল নামায পড়ছি।

প্রশ্নঃ 563
আসসালামু ওয়ালাইকুম, আমি একটি মেয়েকে পছন্দ করি, আমি যথেষ্ট দ্বীন মেনে চলার চেস্টা করি (মুসলিম হিসাবে যা করা দরকার)। আমারা একে অপারকে বিয়ে (আমরা পড়াশুনা শেষ করেছি এবং আমি চাকরি করি) করতে চাই কিন্তু মেয়ের পিতা মাতা রাজি না থাকায় আমরা কোন উপায় না পেয়ে মেয়ের একমাত্র ছোট ভাই (১৯) এবং পরিচিত এক ভাই-এ দু জনকে মেয়ের পক্ষে স্বাক্ষী (স্ব-ইচ্ছায়) রেখে আমারা কোর্টম্যারেজ করি, এখন আমাদের বিয়ে কি বৈধ হবে? অতপরঃ মেয়ের পিতা মাতা যদি মেনে নেয় তাহলে কি বৈধ হবে?
29 Dec 2025

অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে সাংসারিক জীবনে অনেক অশান্তি হয়। তাই অভিভাবকের অনুমতি ব্যতিত বিবাহ করা উচিৎ নয়। হাদীসে অভিাভাবক ছাড়া মেয়েদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে।তবে একটি সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে, الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলা তার নিজের ব্যাপারে অভিভাবক থেকে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫৪১। এই হাদীসের ভিত্তিতে অনেক ফকিহ বলেছেন, অভিভাবক ছাড়াও প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলারা বিবাহ করতে পারবে। সুতরাং যে সমাজে এই মতটি প্রচলিত সেখানে অভিভাবক ছাড়া বিয়ে হয়ে গেলে এটাকে সহীহ হয়েছে বলেই ধরে নিতে হবে। কিন্তু যাদের বিয়ে হয়নি তাদের ক্ষেত্রে অভিভাবক ছাড় বিয়ে হবে না এ কথাই বলতে হবে। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া ৪৮৮ নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 562
Assalamu Alaikum.Huzur please clarify as per Sahi Hadith.1) illala, illala, illala … Is it Zikir? 2) What is Halkaye Zikir? Sincerely yours
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইল্লাল্লাহ জিকির সুন্নাহসম্মত নয়। বিস্তারিত জানতে দেখুন ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত, আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত এহইয়াউস সুনান বইয়ের ৩১৩ নং পৃষ্ঠা।হালকায়ে জিকির অর্থ জিকিরের মসজিলস বা জিকিরের বৈঠক।

প্রশ্নঃ 561
আসসালামু আলাইকুম, আমাদের মসজিদের ইমাম একবার বলেছেন বুখারীতেও জাল যইফ হাদিস আছে। কিন্তু আমার জ্ঞান বুখারী ও মুসলিম শরীফে কোন যইফ হাদিস আনা হয়নি। আসলে কি তাই? যইফ হাদিস থাকলে তার রেফারেন্স কি দেয়া যাবে?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি ঐ ইমাম সাহেবকেই জিজ্ঞাসা করুন বুখারীর কোন হাদীসটি জাল বা যয়ীফ। আমাদের জানামতে বুখারী ও মুসলিম কোন জাল-যইফ নেই।

প্রশ্নঃ 560
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, ধনবান হওয়ার জন্য কোন দুআ আছে কি? যা সবসময় পড়া যাবে? আপনার রাহে বেলায়াত ও কুরআনে থাকলে জানাবেন? বর্তমানে খুব টাকা পয়সার সমস্যায় আছি। মহান আল্লাহ আপনাকে অনেক জ্ঞান বৃদ্ধি করুন। আমিন।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি এমন দুআ করেন যেন আল্লাহ তায়ালা আপনাকে প্রয়োজন পরিমান সম্মানজনক রিজিক দান করেন। রিচ ম্যান হওয়ার দুআ করার দরকার নেই। প্রয়োজনী পরিমান রিযিকের জন্য আপনি কুরআনের এই দুআটি নফল নামাযের সাজদাতে, দুআ মাসূরার সময়ে এবং অন্যান্য সময় বারবার পড়বেন, رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ এবং হাদীসের এই দুআটি দুই সাজদার মাঝে এবং অন্যান্য সময় পাঠ করবেন, اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى وَارْحَمْنِى وَاهْدِنِى وَعَافِنِى وَارْزُقْنِى এছাড়া রাহে রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো নফল সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করবেন। আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমান হালাল রিযিক দান করুন।

প্রশ্নঃ 559
আসসালামু আলাইকুম। প্রশ্ন ১ঃ আমি তুর্কিতে থাকি। এইখানে যখন সবাই মিলে সম্মিলিত দরূদ পাঠ করে তখন তারা সুরে সুরেঃ আল্লাহুম্মা সাল্লিয়ালা সাইয়্যেদেনা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিন উম্মিয়ি, ওয়া আলা আলীহি ওয়া আসহাবি ওয়া সাল্লিম এই দরূদ এর কোণ দলীল কি হাদীস থেকে পাওয়া যায়? তাদের সাথে এইভাবে দরূদ পড়া যাবে কিনা। আমাদের জানা মতে সাঃ এবং নামাযের দরূদ এই ২টাই জানি। প্রশ্ন ২ঃ এইখানে অনেক্ষেত্রে ইমাম খুব দ্রুত নামায আদায় করে। এমন ও হয়েছে যে সিজদায় যাওয়ার পর (আমি) হাই উঠানোর কারনে একবার ও তসবিহ পড়ার আগেই ইমাম সিজদাহ শেষ করে উঠে যান। সেক্ষেত্রে আমি সিজদাহ মিস করে ফেললাম এবং সিজদাহ মিস করার কারনে আমাকে কি ঐ রাকআত আবার পড়া লাগবে নাকি ইমাম উঠে গেলেও আমি ৩বার তাসবিহ পড়ে তারপর উঠবো। বাংলাদেশে যেখানে দ্রুত তারাবীর নামায পড়া হয় সেখানেও এরকম হওয়ার সম্ভবনা আছে। প্রশ্নের উত্তর যদি ইমেইলের মাধ্যমে দিতেন তাহলে খুব ভালো হত। জাজাকাল্লাহু খাইরান। A F M Suaib Akhter PhD Student Department of Computer and Information Engineering Sakarya University Sakarya, Turkey
29 Dec 2025

ওয়াআলাইকুমুস সালাম। শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. তাঁর বিখ্যত গ্রন্থ রাহে বেলায়েত এ হাদীসে বর্ণিত শব্দ ছাড়া অন্য শব্দে দরুদ বা সালাত-সালাম পড়া সম্পর্কে বলেন, সালাত ও সালামের বাক্যাবলির রূপরেখা: আমরা দেখেছি, মুমিন যে কোনো ভাষায় ও বাক্যে আল্লাহর যিকর বা প্রার্থনা করলে তিনি মূল ইবাদতের সাওয়াব ও ফল পেতে পারেন। তবে মুমিনের শ্রেষ্ঠ বাসনা সকল বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অনুকরণ করা। যিকর ও দুআর ক্ষেত্রে তাঁর শেখানো বা আচরিত বাক্যগুলো হুবহু ব্যবহার মুমিনের সর্বোচ্চ কাম্য ও দায়িত্ব। এতে সাওয়াব ও কবুলিয়্যাতের আশা অনেক বেশি। সাহাবী-তাবিয়ীগণ মাসনূন বাক্যাবলি ব্যবহারের পাশাপাশি কখনো কখনো অন্যান্য বাক্য ব্যবহার করতেন। তবে সুন্নাতের ব্যতিক্রম বাক্য দ্বারা যিকর, দুআ বা দরুদ-সালাম পালন রীতিতে পরিণত করলে মাসনূন বাক্যাবলির প্রতি অনীহা এবং এ বিষয়ক সুন্নাতের প্রতি অবজ্ঞার মনোভাব জন্ম নেয়, মাসনূন বাক্যাবলি বা সুন্নাতের মৃত্যু ঘটে এবং এভাবে খেলাফে সুন্নাত থেকে বিদআতের জন্ম হয়। এ মূলনীতির ভিত্তিতে মাসনূন বাক্যগুলোর অর্থবোধক যে কোনো বাক্যে রাসূলুল¬াহ সা.কে সালাত ও সালাম জানানো যেতে পারে। তবে মাসনূন বাক্যাবলির ব্যবহার সর্বোত্তম। রাহে রেলায়াত, সর্বশেষ সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১৯২-১৯৩। তিনি এহইয়াউস সুনান গ্রন্থের ২৯৯ পৃষ্ঠায় বলেছেন, অপর দিকে যারা সালাত-সালাম পাঠ করেন তাদের মধ্যেও অনেক খেলাফে-সুন্নাত কাজ রয়েছে। যেমন, সমবেতভাবে সমস্বরে দরুদ ও সালামপাঠ করা…। দরুদ সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় বিস্তারিত জানতে উক্ত বইদুটির সালত ও সালাম সংক্রান্ত আলোচনা ভালভাবে পড়ুন। অর্থাৎ হাদীসে বর্ণিত বাক্যে সালাত-সালাম অর্থাৎ দরুদ পড়া সবচেয়ে উত্তম। তবে হাদীসের বাক্যের সাথে মিল রেখে অন্য শব্দেও দরুদ পড়লে সওয়াব হবে। আর সমস্বরে দরু পড়া খেলাফে সুন্নাত কাজ। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 558
আসসালামুয়ালাইকুম। আমদের মাসজিদের ইমাম সাহেব হাদিস বললেন, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাহ বিল্লাহ এই কালেমেটি ৯৯ টি রোগের ওষুধ, যার একটি রোগ হল দুশ্চিন্তা, যদিও তিনি হাদিসের reference উল্লেখ করেন নি। হাদিস টি সহিহ কি না এবং হলে এর reference জানতে চাই। যাযাকুমুল্লাহ।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। হাদীসটি মুসতাদরক হাকিম (হাদীস নং ১৯৯০) এবং আলমুজামুল আওসাত (হাদীস নং৫০২৮)। হাদীসটির মধ্যে একজন বর্ণনাকারী আছেন যার নাম বিশর ইবন রাফে। তিনি যয়ীফ। সুতরাং হাদীসটির সনদ দূর্বল।

প্রশ্নঃ 557
আসসালামুয়ালাইকুম, স্যার আমার প্রশ্ন হল একজন সাবালক ছেলে এবং মেয়ে নিজেরা কাজি অফিস এ গিয়ে বিয়ে করে, ইসলামিক আইনে এই বিয়ে কি ইসলাম এ গ্রহনযোগ্য? ছেলে এবং মেয়ে দুজনের বাবা-মা জীবিত আছেন তবে উনারা বিয়ে সম্পর্কে জানে না। দয়া করে আমার প্রশ্নের উত্তর দিলে উপকৃত হবো।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে সাংসারিক জীবনে অনেক অশান্তি হয়। তাই অভিভাবকের অনুমতি ব্যতিত বিবাহ করা উচিৎ নয়। হাদীসে অভিাভাবক ছাড়া মেয়েদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে।তবে একটি সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে, الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলা তার নিজের ব্যাপারে অভিভাবক থেকে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫৪১। এই হাদীসের ভিত্তিতে অনেক ফকিহ বলেছেন, অভিভাবক ছাড়াও প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলারা বিবাহ করতে পারবে। সুতরাং যে সমাজে এই মতটি প্রচলিত সেখানে অভিভাবক ছাড়া বিয়ে হয়ে গেলে এটাকে সহীহ হয়েছে বলেই ধরে নিতে হবে। কিন্তু যাদের বিয়ে হয়নি তাদের ক্ষেত্রে অভিভাবক ছাড় বিয়ে হবে না এ কথাই বলতে হবে। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া ৪৮৮ নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 556
আসসালামু আলাইকুম হুজুর আমি অনেক বছর ৮-১০ বা তার বেশী বছর নামাজ পড়িনি। আমি মাঝে পড়তাম তা খুবি কম জুমাবার ও মাঝেমধ্যে পড়িনি। তার জন্য আমি ভিষণ অনুতপ্ত, আমি কিভাবে ওই নামাজের কাজা পড়তে পারি? আমি অনেক কে জিজ্ঞেস করেছি এই বিষয়ে কেউ বলেছে হে পড়তে হবে প্রতি নামাজের সাথে ফরজ নামাজ এর কাজা, আবার কেউ বলে লাগবে না আপনি শুধু নফল পড়েন তাতেই হয়ে যাবে। হুজুর আমি জাহান্নাম থেকে বাঁচতে চাই আমি কি করতে পারি, আমি খুবি চিন্তিত, আমাকে একটু যদি বলেন আমি কি করব? দয়া করে জানাবেন।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। অধিকাংশ আলেমের অভিমত হলো বহুদিন ধরে ইচ্ছাকৃত নমায ছেড়ে দিলে (যাকে অনেকেই উমরি কাজা বলে) উক্ত নামায আদায় করতে হবে। তা সে যত ওয়াক্তই হোক না কেন। আর আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, যেন তিনি ক্ষমা করে দেন। তবে কোন কোন আলেম বলেছেন,উমরি কাজা করা লাগবে না, আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে, মাফ চাইতে হবে। সর্বাবস্থায় যথাসম্ভভ শুধু ফরয সালাতগুলো কাযা আদায় করা উচিত। সাধ্যের মধ্যে কাযা আদায় করার পাশাপাশি বেশি বেশি নফল সালাত আদায় করতে হবে এবং তাওবা ইসতিগফার করতে হবে। আপনি কোন চিন্তা করবেন না। যথা সম্ভব ভাল কাজ করার চেষ্টা করুন এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা চাইতে থাকুন, অবশ্যই তিনি ক্ষমা করবেন। আমরা আপনার জন্য দুআ করি যেন তিনি আপনাকে সঠিক পথে অবিচল রাখেন এবং ক্ষমা করে দেন। দলীল এবং ইমাম ও ফকীহদের মতামত বিস্তারতি জানতে দেখুন, আলফিকহুল ইসলামিয়্যতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৩৪/২৬; আলফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু, ২/৩০১; আদদুররিল মুযিয়্যাহ শারহু দুররিল বাহিয়্যাহ, ১/১০৮; আল ফিকহ্ আলা মাজাহিবিল আরবা, ১/৭৫৭।

প্রশ্নঃ 555
Yeaa haiu yeaa qaium bi rahmatika astaagith. Ai doa sohi ki na jante cai.
29 Dec 2025

বিভিন্ন হাদীসে দুআটি উল্লেখ আছে। হাদীসগুলোকে শায়খ আলবানী রহ. হাসান বলেছেন। সুতরাং এই দুআটি পড়া যাবে। দুআটি সহীহ।

প্রশ্নঃ 554
আমি একজন ব্যবসায়ী বাকী নগদ দুটোতেই বিক্রয় করি নগদে যেটা ১০টাকায় বিক্রয় করি বাকীতে সেটা ১২টাকায় বিক্রয় করি কারণ- ১। টাকা দেবে ১৫দিন,১মাস,৬মাস পরে। ২। টাকা দেয়ার সময় কিছু কম দেয়। এখন এটাকি সুদের পর্যায় পরে শরীয়তে কি এভাবে বিক্রয়ের কোন নিষেধ আছে?
29 Dec 2025

না, এটা সুদ হবে না। তবে বিষয়টি ক্রেতাকে বললে ভাল হয়।

প্রশ্নঃ 553
পবিত্র কোরআন শরীফ নাযিল হয়েছে ওহী আকারে মোহাম্মদ (স) উপরে, দরুদ শরীফ কিভাবে এসেছে এবং কে রচনা করেছেন? জানালে উপকৃত হবো
29 Dec 2025

দরুদ শরীফ রাসূলুল্লাহ সা. আমাদেরকে শিখিয়ে গেছেন। বিভিন্ন সহীহ হাদীসে দরুদ শরীফ তথা সালাত-সালাম শিক্ষা দেয়া হয়েছে।

প্রশ্নঃ 552
আসসালামু আলাইকুম, স্যার, আমি আমার আগের প্রশ্নের সাথে কিছু যোগ করতে চাই। আমি যে মেয়েকে বিয়ে করতে চাই তাকে আমার মা গতকাল বলে এসেছে তুমি আমার ছেলের পথ থেকে সরে যাও। তোমাকে আমার ছেলে ছাড়া কেউ পছন্দ করছে না। আমি তার সাথে গত মাসের ২১ তারিখের আগে সর্বশেষ কথা বলেছিলাম। তাতে আমার কাছে তাকে ধার্মিকা ও শরীয়ত সমপরকে অবহিতা মনে হয়েছে। কখনই তাকে মানসিক প্রতিবন্ধী মনে হয়নি। তাকে যখন দেখি আমার মনে হয়নি তার ভ্রূ প্লাক। তাকে আমার কাছে অনেক সুন্দরী মনে হয়েছে ও লম্বাও আমার কাছাকাছি মনে হয়েছে। অথচ আমার মা আমাকে বলেছে তার ভ্রূ প্লাক করা, খাটো, পাগল, মেকআপ করা বলেছে। আমার জানামতে সে নেকাবসহ বোরখা পরে। আমার সাবেক স্ত্রীর সাথে বিয়ের আগের দিন তার ছবি দেখে বলেছিলাম সে ভ্রু প্লাক করে। কিন্তু তখন এটাকে গুরুত্ব দেয়নি। বলেছিল বিয়ের পর নিষেধ করলে ঠিক হয়ে যাবে। তার মেকআপ ছিল অথচ বিয়ের আগ পর্যন্ত আমার মা ভাবি কেউই বুঝতে পারেনি। আমি আমার মাকে প্রায় দেড়মাস আগে আমার পছন্দের মেয়েটিকে দেখতে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু আমার মা আমার অনুরোধ রাখেনি। তাদের পছন্দের মেয়েকে আমার উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টার সাথে সাথে আমার পছন্দের মেয়ের প্রতি আমার দু্রবলতা বেড়েছে। তাকে গতকাল চরমভাবে অপমান করার কারণে আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। তার স্কুলে গিয়ে তাকে এভাবে অপমান করাটা আমাকে ভীষণভাবে পীড়িত করছে। আমি তাকে মার্চ এর ৪ তারিখে দেখেছিলাম। আমি তার লেখাপড়া, চাকরি প্রভৃতি জানার পর আমার নিজের বরণনা দিয়ে বললাম আমি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়লেও আমি নিজেকে সাধ্যমত নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছি ও আমি ক্লাস ফোর থেকে নামাজ পড়ি। সে বলল মানুষের ঈমানটাই আসল। আমি এটা শুনে খুব খুশি হলাম। আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে অনারস মাষ্টারস করেছি অথচ আমার পিতামাতা আমার মতামতের মূল্য দেয়না। এখন আমি কি করব স্যার? তারা আমাকে হুমকি দিচ্ছে ঐ মেয়েকে বিয়ে করলে তারা আমার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করবে। আমি আমার পিতামাতাকে হারাতে চাই না আবার এই কষ্টও সহ্য করতে পারছি না।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আপনার পিতামাতকে লোভী ও ধর্মবিমূখ মনে হচ্ছে। মেয়েটিকে হুমকি দেয়া তার জন্য বড় ধরনের অপরাধ। আপনি সবর করুন। নিচের দু্আগুলো পড়ুন। ইনশাআল্লাহ একটা সমাধান পাবেন। তবে তাদের কথামত ধর্মহীন কোন মেয়েকে অবশ্যই বিয়ে করবেন ন। আপনার পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করার অধিকার আপনার আছে। আপনি রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো নফল সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। এছাড়া কুরআনের এই দআটিও সালাতে এবং অন্যান্য সময় বারবার পড়বেন, رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনার সব সংকট দূর করে দেন।

প্রশ্নঃ 551
Assalamu Alaikum.. Sir.. Bangladesh e amra kicu engineer biddut ba power sector e kaj kori…. eta emon ekta sector je ekhane 24 hrs manuske biddut ba power supply dite hoy… icca thaka sotteo amader onek somoy namaj kaja hoye jay duty r karone… emonki amra prayoi jumar namaje shorik hote pari na…..obosthata emon je chaileo alada kore juma namaj pora somvob noy… emonki alada kore jamat koreo porte pari na.. ekhetre Islam er dristite amader koroniyo ki?…… 2. amar jodi samortho thake tahole ami ki ei job change korar jonne try korbo?… reality hocce ami Jodi chole jai tahole amar post e notun ekjonke niyog deya hobe ebong takeo namaj sacrifice kore duty korte hobe….. 3… duty r jonne evabe regular namaj sacrifice somporke Islam ki bole?…..আমি স্কুল কলেজ ভার্সিটি লাইফ থেকে ৫ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করার চেষ্টা করতাম আর এখন জামাত ত দূরে ঠিক সময় মত নামাজই আদায় করতে পারিনা .সারা দেশে বিদ্দুত কেন্দ্রে অনেক ইঞ্জিনিয়ার চাকরি করে, আমাদের নামাজের বাপারে আপনার পক্ষ থেকে কিছু নসিহত আশা করছি .. Sir.. uttorguli jana khub joruri….
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যে যেখানে যে অবস্থায়ই থাকুন না কেন নামায আপনার উপর ফরজ।দেখুন, নামায পড়তে বেশী সময় লাগে না। উক্ত কাজ করার মাঝেও নামায আদায় করা যায়। আপনি যেখানে থাকবেন, যে অবস্থায় থাকবেন সেখানেই নামাযের সময় হলে নামায পড়ে নিবেন। এটাও যদি সম্ভব না হয় তাহলে এই চাকরী আপনাকে ছেড়ে দিতে হবে, কারণ এমন কাজ করা যাবে না যা আল্লাহর ইবাদত থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। আপনি আগে নিজের চিন্তা করুন, তারপর অন্যের। কোন অজুহাতেই নিয়মিত নামায ছাড়া যাবে না। জুমুআর নামাযের আযান হলে সব কাজ বন্ধ করে দিতে হবে, এটা কুরআনে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ। সর্বশেষ কথা হলো আপনার যদি সুযোগ থাকে তাহলে উক্ত চাকুরী ছেড়ে দেওয়ায় আপনার জন্য কল্যানকর হবে বলে মনে হয়। আমরা দুআ করি আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন।

প্রশ্নঃ 550
Does prophet Muhammad sallallahuwalaihi wasallam saw Allah with his eyes?
29 Dec 2025

বিষয়টি নিয়ে আলেমদের মাঝে মাঝে মতভেদ আছে। তবে অধিকাংশ সাহাবীর মত ও প্রসিদ্ধ মত হলো দেখেন নি। একজন সাহাবী থেকে দেখেছেন মর্মে বর্ণিত আছে। তবে হাদীসটির সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসগণ আপত্তি করেছেন। হযরত আয়েশা রা. বলেন, مَنْ حَدَّثَكَ أَنَّ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم رَأَى رَبَّهُ فَقَدْ كَذَبَ وَهْوَ يَقُولُ {لاَ تُدْرِكُهُ الأَبْصَارُ} অর্থ: যে বলবে যে, মুহাম্মাদ সা. তার রবকে দেখেছে সে মিথ্যা বলবে। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, চোখসমূহ তাকে দেখতে পাবে না। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৩৮০। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 549
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। বিয়ের পর মা বাবা চায় ছেলের বউ তাদের কাছেই থাকুক, তাদের একমাত্র উদ্দেশ হল এতে করে তাদের কাজের চাপ কমবে, আবার ছেলে চায় আমি বিয়ে করছি স্ত্রীর সাথে একটু সুন্দর এবং হালাল সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য। আর এই জন্য বউ কে তার কর্মস্থলের বাসায় নিয়ে যেতে চায়। ছেলের পক্ষে প্রতি সপ্তায় বা ১৫ দিনে বাড়ীতে আসা সম্ভবপর নয়। আসলে ও দেড় মাস বা ২ মাস পর আসতে হয়। আমার বেক্তিগত উপলব্ধি হল স্বামী-স্ত্রী আলাদা আলাদা থাকলে আন্তরিকতা বাড়ে না বরং সেটা অনেক কমতে থাকে। এখন বাবা মার অমত বা হালকা রাগ থাকলে ও কি ছেলে তার স্ত্রীকে তার কর্মস্থলের বাসায় নিয়ে যেতে পারবে কি না হজরতের কাছে পরামর্শ আশা করছি।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। স্বামীর কাছে থাকা স্ত্রীর অধিকার। সুতরাং উপুরুক্ত ক্ষেত্রে আপনি আপনার স্ত্রীকে আপনার কাছে নিয়ে যেতে পারবেন। এতে মা-বাবার রাগ করা অন্যায়। আপনার পিতা-মাতাকে বিষয়টি বুঝান। এক্ষেত্রে পিতা-মাতার সাথে যেন খারাপ আচরণ না হয়ে যায় সেটাও খোয়াল রাখতে হবে।

প্রশ্নঃ 548
আসসালামু আলাইকুম, আমাদের সমাজে দেখা যায়, বিয়ের আগে বাবা মা ভাই বোন দাদা দাদি প্রায় সবাই একসাথে বা এক বাসা/বাড়িতে থাকেন। ছেলেরা বিয়ের পর বাবা মা সহ বউ নিয়ে একসাথে থাকতে চায়, কিন্তু বউ হয়তো চায়না বা স্বচ্ছন্দ বোধ করেনা, আবার বাবা মা প্রায় দেখা যায় ছেলে বউ এর সাথেই থাকতে চায়, অনেক সময় ছেলেরাও দেখা যায় রোমান্স এর কথা চিন্তা করে বউকে নিয়ে একা আলাদা বাসা নিয়ে থাকার চিন্তা করে। এসব ক্ষেত্রে সুন্নাহর দৃষ্টিভংগি কি? সাহাবী রাদিয়াল্লাহু তাবেঈ তাবেতাবেঈ রাহিমাহুল্লাহু আযমাঈনগণের সুন্নত কি? শায়েখের কাছে বিষয়গুলো বিস্তারিত জানতে সবিনয় অনুরোধ করছি।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এক্ষেত্রে পৃথক সংসার হওয়াটাকেই ইসলাম সমর্থন করে। ইচ্ছার বইরে এভাবে একসাথে থাকা অশান্তির অন্যতম কারণ। এই বিষয়ে শায়খ আশরাফ আলী থানভী রহ. বলেন, এই জামানায় একান্নভুক্ত থাকার কারণেই পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি হয়। কাজেই শুরুতেই ফ্যাসাদ লাগার আগেই পুত্র ও বধূকে পৃথক করে দেয়া সমীচীন। অন্যথায় যখন ফ্যাসাদ লাগবে তখন পৃথকও করে দিতে হবে আবার সু-সম্পকও নষ্ট হয়ে গেল। তুহফাতু জাওযাইন। ফিকহুন নিসা, পৃষ্ঠা, ৪৬০। ছেলের উচিত হলো কোনভাবে তার পিতা-মাতাকে বিষয়টি বুঝানো। এক্ষেত্রে পিতা-মাতার সাথের যেন খারাপ আচরণ না হয়ে যায় সেটাও খোয়াল রাখতে হবে।

প্রশ্নঃ 547
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ । আমি অনেক আলেমের মুখ থেকেই শুনেছি বিয়ের পর ছেলের স্ত্রী কে দিয়ে ছেলের মা জোর পূর্বক কাজ করাতে পারবে না। যদি পুত্র বধু স্ব-ইচ্ছায় করে সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু আমাদের সমাজের বাস্তবতা একবারেই বিপরীত। বাবা-মা রা ছেলে কে বিয়ে করানো উদ্দেশই থাকে, সংসারের কাজের বোঝা মেয়েটির গাঁড়ে চাপানোর জন্য। এক্ষেত্রে ছেলের কি ভূমিকা থাকা উচিত, যখন সে দেখে তার স্ত্রীর উপর ফজর এর পর থেকে রাত্রে গুমানোর আগ পর্যন্ত দাদীর কাজের আবদার, মার কাজের হুকুম, বাবার কাজের হুকুম, সংসারের রান্না বান্না, তার উপর ছোট বাচ্চার লালন পালন নিয়ে অই বেচারিকে সবাই বেতিবেস্ত করে রাখে। মা বাবা কে কিছু বললে উনারা positive অর্থে না নিয়ে উল্টা বুজে ছেলের উপর রাগ করেন, আবার ছেলের বউ কে ও সন্দেহ করে থাকেন। হজরতের কাছ থেকে এই বিষয়ে সু পরামর্শ আশা করছি। যাজাকাল্লহু খাইরন।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। শ্বশুর-শাশুড়ীর সেবা করা বা কাজে সাহায্য করা পুত্রবধূর আইনত দায়িত্ব নয়, তবে নৈতিক দায়িত্ব।শ্বাশুড়ীর জন্য জায়েয নেই তার উপর কোন কাজ চাপিয়ে দেয়া। আপনি যে সমস্যার কথা বলেছেন তা আমাদের সমাজের জটিল সমস্যাসমূহের অন্যতম। এর প্রতিকারের জন্য শ্বশুর-শাশুড়ীকে কোনভাবে জানাতে এবং বুঝাতে হবে যে, শ্বশুর-শাশুড়ীর বা পরিবারের অন্য কারো সেবা করা মৌলিকভাবে পুত্রবধুর দায়িত্ব নয়, করলে সেটা অনুগ্রহ। বরং এ সেবা পুত্রের উপর বর্তায়। পুত্রের পক্ষ থেকে তার বধু যদি এ সেবা করে তাহলে সেটা তার অনুগ্রহ। শ্বশুর-শাশুড়ী যদি পুত্র-বধূর সেবাকে এর দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়ন করে তাহলে পুত্র-বধুর প্রতি তারা প্রীত হবে এবং তার প্রতি তারা ন্যায্য আচরণ করবেন। ছেলে কোন অবস্থাতেই নিজের স্ত্রীর উপর যা তার দায়িত্ব নয়, তা চাপাতে পারবে না। ছেলের উচিত হলো তার পিতা-মাতাকে বিষয়টি বুঝানো। এক্ষেত্রে পিতা-মাতার সাথের যেন খারাপ আচরণ না হয়ে যায় সেটাও খোয়াল রাখতে হবে। এই সমস্যা থেকে বেঁচে থাকার আরেকটি উপায় হলো পৃথক সংসার করা। কারণ যৌথ সংসার এই অশান্তির অন্যতম কারণ। এই বিষয়ে শায়খ আশরাফ আলী থানভী রহ. বলেন, এই জামানায় একান্নভুক্ত থাকার কারণেই পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি হয়। কাজেই শুরুতেই ফ্যাসাদ লাগার আগেই পুত্র ও বধূকে পৃথক করে দেয়া সমীচীন। অন্যথায় যখন ফ্যাসাদ লাগবে তখন পৃথকও করে দিতে হবে আবার সু-সম্পকও নষ্ট হয়ে গেল। তুহফাতু জাওযাইন। ফিকহুন নিসা, মাওলানা হেমায়েত উদ্দিন, পৃষ্ঠা, ৪৬০।

প্রশ্নঃ 546
বিতির সালাত যদি কাযা হয়ে যায় তাহলে কি সেই কাযা আদায় করতে হবে?
29 Dec 2025

নিচের হাদীসটি দেখুন: عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- كَانَ إِذَا فَاتَتْهُ الصَّلاَةُ مِنَ اللَّيْلِ مِنْ وَجَعٍ أَوْ غَيْرِهِ صَلَّى مِنَ النَّهَارِ ثِنْتَىْ عَشْرَةَ رَكْعَةً অর্থ: হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. থেকে যখন কোন কারণে রাতের নামায ছুটে যেত তখন তিনি বার রাকআত আদায় করতেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭৭৭। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সা. সাধারণত রাতে বিতরসহ এগার রাকআত আদায় করতেন। আর কোন কারণে না পড়তে পারলে দিনের বেলায় বার রাকআত পড়তেন। সুতরাং এই হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, রাতের বেলায় কেউ বিতর আদায় না করলে দিনের বেলায় সাধারণ অভ্যাসের চেয়ে এক রাকআত বেশী আদায় করবেন। আপনি যদি বিতর তিন রাকআত পড়েন তাহলে দিনের বেলায় চার রাকআত নামায পড়বেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আল-ইসলাম সুয়াল ও জাওয়াব, শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ, ফাতওয়া নং ৬৫৬৯২।

প্রশ্নঃ 545
স্যার, আস-সালামু-আলাইকুম. আমি বেশ কয়েকজন বক্তাকে বলেতে শুনেছি যে কোন এক সাহাবী নামাজের মাধ্যমে তিনি তার মৃত সন্তানকে জীবিত করেছেন। এব্যাপারে আপনার মতামত জানেতে চাই
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিষয়টি কোন সহীহ কিংবা যয়ীফ হাদীসে আমরা পাই নি। আর এই ধরনের ঘটনা জাল হওয়াটাই যুক্তিযুক্ত। আল্লাহ তায়ালা ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 544
আসসালামুলাইকুম। আমার প্রথম প্রশ্ন হল, ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গির (র) সারের পর এখন কে প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন? দিতীয় প্রশ্ন হল একটি বইতে দেখলাম আল্লাহর নামের ফাজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে সংকলক আল্লাহর বিভিন্ন নামের ১০০ বার বা ৭০ বার জিকিরে বিভিন্ন ফজিলত বর্ণনা করেছেন। এগুলোর কোনটার দলিল আছে কি না? এবং শুধু আল্লাহর বিভিন্ন নাম ধরে জিকির করা যাবে কিনা? যেমন ইয়া রাহমানু, ইয়া রাহিমু, ইয়া রাজ্জাকু ইত্তাদি? যাযাকুমুল্লাহ
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। স্যার রহ. বেঁচে থাকা কালীন কিছু ব্যক্তিকে প্রশ্নের উত্তর লেখার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। যারা উত্তর লিখে স্যার রহ. কে দেখাতেন, কোন সমস্যা থাকলে তিনি ঠিক করে দিতেন আর না থাকলে সেভাবেই রেখে দিতেন। বর্তমানে আগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। তবে যে প্রশ্নের উত্তরের ক্ষেত্রে কোন সমস্যা পরিলক্ষিত হবে সে ক্ষেত্রে ট্রাস্টের পক্ষ একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে, যাদের কাছে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করতে হবে। উক্ত কমিটিতে আছেন, মুফতি জাকারিয়া বিন আব্দুল ওয়াহাব, বিভাগীয় প্রধান, উলুমুল হাদীস বিভাগ, জামিয়াতুস সুন্নাহ, ঝিনাইদহ এবং মুফতি মুহাম্মাদ শহিদুল্লাহ, বিভাগীয় প্রধান, কিতাব বিভাগ, জামিয়াতুস সুন্নাহ, ঝিনাইদহ। এছাড়া অন্য কোথাও হতে সাহায্য নেয়া হলে তার পরিচিতি উত্তরের শেষে দেয়া হয়। যেমনটি আপনি আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরের ক্ষেত্রে দেখতে পাবেন। আল্লাহ তায়ালার কোন নাম ধরে ১০০ বার বা ৭০ বার জিকির করার কোন ফজিলত হাদীসে নেই। আর শুধু আল্লাহর বিভিন্ন নাম ধরে যেমন, ইয়ার রাহিমু, ইয়া রাহমানু ইত্যদি বলে জিকির করা যাবে না। এভাবে যিকির করা মর্মে কোন হাদীস বর্ণিত হয় নি। তবে কেউ এভাবে আল্লাহকে ডাকলে জায়েজ হবে। দেখুন আল-ইসলাম সুয়াল ও জাওয়াব, শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ, ফাতওয়া নং ১২৭৩১৬, ২২৪৫৭।

প্রশ্নঃ 543
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ আমার অফিস এর বস একজন কবর পুজারী . আমি তাকে বলি যে এটা বড় গুনাহ, এমনকি রসুল (স.) এর কবরেও কোনকিছু চাওয়া যাবেনা। কবরের মৃতের কোন ক্ষমতা নাই . তিনি আমাকে বলেন হ্যাঁ, জানি জানি কবরের মানুষের কনো ক্ষমতা নাই কিন্তু তিনি মিথ্যা বলেছেন তাঁরপরও মাজারে যান। এখন আমার প্রশ্ন হল এটা তো মুশরিকিকাজ। তাই কোন মুশরিক এর সাথে জব করা জায়েজ হবে কি না? জানালে উপকৃত হব।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। তাঁর সাথে চাকরী করতে আপনার কোন সমস্যা নেই। অন্য কোন ধর্মের কোন ব্যাক্তির সাথে কাজ করা যাবে না এমন কোন কথা ইসলামে নেই । তাছাড়া উনি মুশরিক এটাও বলা যাবে না। তবে তার কাজ নিশ্চিতভাবেই শিরক।

প্রশ্নঃ 542
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ কোন লেখকের বাংলা অনুবাদ করা কুরআন ভাল?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই প্রশ্নের উত্তর যখন লিখছি তখন স্যার আল্লাহ সান্নিধ্যে চলে গেছেন। তবে স্যার রহ. বলতেন সংক্ষিপ্ত তাফসীরসহ অনুবাদের জন্য ত্বকী উসমানী হাফি. লিখিত তা্ওযিহুল কুরআন আর বিস্তারিত তাফসীরসহ অনুবাদের জন্য ইবনে কাসীর পড়েব।

প্রশ্নঃ 541
আস-সালামু আলাইকুম, অনেকেই ইসলাম এর কথা বলতে গিয়ে অন্য ধর্মের দেবতাদের খারাপ কথা বলে, এটা সম্পর্কে ইসলাম কি বলে? কুরআন ও সহিহ হাদিস এর আলোকে উত্তরটা দিলে খুশি হব।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন, وَلَا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ فَيَسُبُّوا اللَّهَ عَدْوًا بِغَيْرِ عِلْمٍ অর্থ: যারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ডাকে (ইবাদত করে) তোমার তাদেরকে গালি দিয়ো না, কেননা না জানার কারণে হয়তো তারা আল্লাহকেই গালি দিবে। সুরা আনয়াম ১০৮। এই আয়াতে আল্লাহ ব্যাতিত অন্য কোন ইলাহ কিংবা দেবদেবীর উপাস্যদের গালী দিতে নিষেধ করা হয়েছে। সুতরাং কারো জন্য উচিত নয় দেবদেবীর কিংবা অন্য কোন ইলাহ বা উপাস্যদের ব্যাপারে খারাপ কথা বলা। তবে দেবদেবী যে ইলাহ হওয়ার যোগ্যত রাখে না এটা যুক্তির সাথে বলা যাবে বরং বলতে হবে। কুরআনুল কারীমের বহু আয়তে মূর্তি যে ইলাহ হওয়ার যোগত্য রাখে না সেই বিষয়ে উদাহরণ দিয়ে বুঝানো হয়েছে। নিচের আয়তটি লক্ষ করুন: وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّهُ كَانَ صِدِّيْقاً نَّبِيًّا، إِذْ قَالَ لِأَبِيْهِ يَا أَبَتِ لِمَ تَعْبُدُ مَا لاَ يَسْمَعُ وَلاَ يُبْصِرُ وَلاَ يُغْنِي عَنكَ شَيْئاً، يَا أَبَتِ إِنِّي قَدْ جَاءنِيْ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَمْ يَأْتِكَ فَاتَّبِعْنِيْ أَهْدِكَ صِرَاطاً سَوِيّاً، يَا أَبَتِ لاَ تَعْبُدِ الشَّيْطَانَ إِنَّ الشَّيْطَانَ كَانَ لِلرَّحْمَنِ عَصِيّاً، يَا أَبَتِ إِنِّيْ أَخَافُ أَن يَمَسَّكَ عَذَابٌ مِّنَ الرَّحْمَن فَتَكُوْنَ لِلشَّيْطَانِ وَلِيّاً-(مريم ৪১-৪৫)- তুমি এই কিতাবে ইবরাহীমের কথা বর্ণনা কর। নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন সত্যবাদী ও নবী। যখন তিনি তার পিতাকে বললেন, হে আমার পিতা! তুমি তার পূজা কেন কর, যে শোনে না, দেখে না এবং তোমার কোন উপকারে আসে না?)। হে আমার পিতা! আমার কাছে এমন জ্ঞান এসেছে, যা তোমার কাছে আসেনি। অতএব তুমি আমার অনুসরণ কর। আমি তোমাকে সরল পথ দেখাব। হে আমার পিতা! শয়তানের পূজা করো না। নিশ্চয়ই শয়তান দয়াময়ের অবাধ্য। হে আমার পিতা! আমি আশংকা করছি যে, দয়াময়ের একটি আযাব তোমাকে স্পর্শ করবে, অতঃপর তুমি শয়তানের বন্ধু হয়ে যাবে।-মারিয়াম ৪১-৪৫

প্রশ্নঃ 540
আসসালামুয়ালাইকুম, আমি জাহিদুল, জনাব আমি জানতে চাচ্ছি যে; একজন সাবালক ছেলে আর একজন সাবালিকা মেয়ে যদি কাজি অফিসে গিয়ে নিজেদের পুর্ণ সম্মতিতে;বিয়ে করে (তাদের পরিবার এই বিয়ের কথা জানে না) তাহলে কি এই বিয়েটা ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী জায়েজ হবে? ঐ ছেলে আর মেয়ে কি নিজেদেরকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে; পরিচয় দিতে পারবে? পুরোপুরি ভাবে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে চলাফেরা করতে পারবে?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অভিভাবকের পরামর্শ ছাড়া বিবাহের অনেক ক্ষতিকর দিক রয়েছে। অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েরা আবেগের কারণে অনকে সময় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। এটা সর্বজন স্বীকৃত। এছাড়া অনুমতি ছাড়া মেয়েদের বিবাহ করাকে রাসূলুল্লাহ সা. নিষেধ করেছেন। সুতরাং কোন ছেলে-মেয়ের জন্য উচিত নয় অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করা। বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া ৪৮৮নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 539
আস-সালামু আলাইকুম। নারীর ব্যবহৃত অলংকারে যাকাতের নিসাব কতটুকু, কি পরিমান অলংকার থাকলে যাকাত দিতে হবে, কতটুকু দিতে হবে দলিল সহ বলবেন দয়াকরে.
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নারীর ব্যবহৃত অলংকারে যাকাতের আলাদা কোন নিসাব নেই। বরং সাধারণভাবে সোনা-রুপার যে নিসাব সেই নিসাবই ধর্তব্য। আর যাকাতের নিসাব হলো সোনার ক্ষেত্রে সাড়ে সাত ভরি আর রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন ভরি। নিসাব পরিমান সোনা-রুপার মালিক হওয়ার এক বছর পর আড়াই পার্সেন্ট হারে যাকাত দিতে হবে। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন, বাংলাদেশে উশর বা ফসলের যাকাত গুরুত্ব ও প্রয়োগ; ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.) ২৯-৪৩ পৃষ্ঠা।

প্রশ্নঃ 538
আস সালামু ওয়া লাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, কুরআন সুন্নাহ এর আলোকে সহিহ সালাত, শায়খ এর এমন কোন বই আছে কি? থাকলে নাম বা লিংক টা দিলে উপকৃত হব ।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না এই বিষয়ে শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. এর কোন বই নেই।

প্রশ্নঃ 537
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করা ও স্পষ্টভাবে কথাবলা বা না তুতলিয়ে কথা বলার জন্য কোন সুন্নাতি দুআ আছে কি?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর জন্য আপনি পড়তে পারেন, কোরআনে বর্ণিত নিম্নের দোয়াটি- رَّبِّ زِدْنِي عِلْماً رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي বিশেষ করে ফরজ নামাযের পর,নামাযের সিজদায়, আরো যে সব সময় দোয়া কবুল হয় বলে হাদিস বর্ণিত হয়েছে সে সব সময় বেশী বেশী করে দোয়াটি পড়তে পারেন। ইনশা আল্লাহ উপকার হবে।

প্রশ্নঃ 536
প্রশ্ন ১) স্যার জোহর আর আসরের সালাতে ইমাম সাহেবের পিছনে আমি শুধু সুরা ফাতিহা পড়ি। আমার প্রশ্ন হলো-প্রথম দুই রাকাতে আমি সুরা ফাতিহার সাথে অন্য কোনো সুরা মিলাবো কি? প্রশ্ন ২) বিতরের নামায এক রাকাত পড়লে কোন সমস্যা আছে কি? প্রশ্ন ৩) সুর্যদয়ের টাইম যদি ৫ঃ৩০ হয় তবে কি এরপরের ২৩ মিনিট মানে ৫ঃ৫৩ এর পর নামায পড়বো নাকি এই ২৩ মিনিট হলো ৫ঃ৩০ এর আগের ১২ মিনিট আর পরে ১১ মিনিট? সূর্যাস্তের ক্ষেত্রে নিয়মটা কি? প্রশ্ন ৪) আপনি আপনার মুনাযাত ও নামায বই এ সেজদাহ এর মধ্যে যেসব দোয়ার উল্লেখ করেছেন তা কি ফরজ নামাযের ক্ষেত্রে পড়তে পারবো?
29 Dec 2025

১। আপনি যদি পড়তে চান,তাহলে শুধু মাত্র সুরা ফাতিহা পড়তে পারেন। ইমামের সাথে সুরা ফাতিহা ব্যতিত অন্য কোন সুরা মিলানোর প্রয়োজন নেই।

২। এক রাকাত বলতে মূলত কোন নেই। রাসুল সা. শুধুমাত্র এক রাকাত সালাত পড়েছেন যার আগে কোন নফল সালাত পড়েননি এমন বর্ণনা পাওয়া যায় না। হাদীসের আলোকে আপনি যা করতে পারেন তা হল, ২ রাকাত নফল সালাত পড়ে আপনি সালাম ফিরাবেন অতঃপর ১ রাকাত সালাত পড়বেন। হাদীসের আলোকে এমনটি করাই জোরালো বলে মনে হয়। বিতর সালাত বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন, রাহে রেলায়াত পৃষ্ঠা ৪১৩-৪১৭।

৩। সূর্যদয়ের পর থেকেই হিসাব শুরু হবে,এর আগ থেকে নয়। কুরআনে এবং হাদীসে উল্লেখিত যে কোন দুআ ফরজ নামাযের ক্ষেত্রে পড়তে পারবেন।

প্রশ্নঃ 535
আমি প্রতিদিন দিনে রাতে বিভিন্ন দোয়া, দুরুদ ও কুরআনের সুরা পড়ি। এভাবে সবসময় দোয়া করা যাবে কিনা,আর এরকম সবসময় দোয়া করা কি সুন্নাতের পরিপন্থী হবে,দয়াকরে জানাবেন।
29 Dec 2025

দিনে-রাতে সবসময় দোয়া, দরুদ ও কোরআন তিলাওয়াতসহ যে কোন ধরণের যিকিরে মশগুল থাকা অনেক বড় সাওয়াবের কাজ। ত বে রাসুল সা. যে সময়ে যে যিকর ও দোয়া করছেন সে সময়ে সে দোয়া ও যিকর করলে অনেক সাওয়াব ও নেকী অর্জন করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়তে পারেন,প্রফেসর ড.আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহ. লিখিত রাহে বেলায়েত এর শেষ অধ্যায়।

প্রশ্নঃ 534
আসসালামু আলাইকুম। শায়েখ এর কাছে আমার একটি প্রশ্ন.হযরত বিলাল (রা:) শিন উচ্চারণ করতে গেলে ছীন হত।তাই রাসুল(স.) বলেছেন, বিলালের ছীন ই তোমাদের শিন। এই হাদীসটি কি সহীহ? শুকরান…
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীসটি সর্বাক্যমতে জাল বা বানোয়াট।মোল্লা আলী ক্বারী রাহ.সহ আরো অনেক মুহাদ্দিস হাদীসটিকে জাল বলেছেন।

প্রশ্নঃ 533
Aslamualaikum. ভাত খাওয়ার সময় ডান হাত দিয়ে পানি সূন্নত। কিন্তু পালন না করলে কী গোনা হবে? একই হাতে ভাত খাওয়া আর পানি খেলে পানির পাত্র খারাপ দেখতে হয়। খারাপ দেখা সূন্নাত এর খেলাপ না? এ বিষয়ে একটু বলতেন?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। ডান হাত দিয়ে খাওয়াই সুন্নাত। দুএকবার যদি কেউ বাম হাত দিয়ে পানি পান করে, তাহলে গুনাহ হবে,এটা বলা মশকিল কিন্তু কাজটি যে অনুত্তম এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু যদি কেউ নিয়মিত বাম হাতে পান করার অভ্যাস গড়ে তোলে তাহলে তা হবে সুন্নাত বিরোধিতা, আর এমনটি হলে তো গুনাহ হবেই। পানি পান করার সময় ডান হাতের উপরে গ্লাস রেখে বাম হাতে ধরে, পান করা যেতে পারে, তাহলে ডান হাতে পান করছে বলেই ধরা হবে।

প্রশ্নঃ 532
Assalamu Alaikum, Dear Sir, Please let me know the observation process of shab e meraj night. Are there any special Salah or Ebadad on this Night? Sincerely Yours
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রাসুল স.এর মিরাজ হয়েছে সত্য, তবে মিরাজের তারিখ নিয়ে উলামাদের মধ্যে অনেক মতানৈক্য রয়েছে। মিরাজের রাতকে কেন্দ্র করে কোন ইবাদাত অথবা কোন বিশেষ সালাত সহীহ অথবা যয়ীফ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়।

প্রশ্নঃ 531
হুজুর শব্দের অর্থ কি? হুজুর শব্দটি কোথা থেকে এসেছে? কাউকে হুজুর বলা যাবে কি?
29 Dec 2025

আরবীতে হাদের শব্দের বহুবচন হুদুর বা হুদ্দার। যার অর্থ উপস্থিত। কিন্তু শব্দটি ফার্সী, উর্দূ ও বাংলা ভাষায় সম্মানসূচক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ হিসেবে কাউকে হুজুর বলার অর্থ হল, জনাব বা সাহেব। উপমহাদেশে যারা কাউকে হুজুর বলেন তারা মূলতঃ ফার্সী, উর্দূ ও বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত অর্থে বলেন, আরবী উপস্থিত অর্থে ব্যবহার করেন না। সুতারাং কাউকে হুজুর বলা জায়েয। রাসুল সা. এর শানে এই শব্দ ব্যবহার খেলাফে সুন্নাত এটা না বলাই ভাল। তবে রাসুল সা.এর ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ, নবীউল্লাহ,হাবিবুল্লাহসহ আরো সে সব নাম যা হাদীসে বর্নিত হয়েছে সেগুলো ব্যবহার করা উচিত ।

প্রশ্নঃ 530
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, আমার ভাইয়ার সন্তান হবে। ছেলে সন্তান হলে তাকে আযানের ধ্বনি শোনাতে হয় নাকি মেয়ে হলেও? জানলে উপকৃ্ত হব……ভাল থাকবেন
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। ছেলে হউক অথবা মেয়ে হউক সকল ক্ষেএে আযানের ধ্বনি শোনানো সুন্নাত।

প্রশ্নঃ 529
আসসালামু আলাইকুম আমি স্যারের কিছু বই পেতে চাই, ঢাকা থেকে কিভাবে কিনতে পারবো?
29 Dec 2025

আপনি আমাদের ঢাকা পাবলিকেশন্সের অফিস থেকে সংগ্রহ করতে পারেন। ঢাকা আস-সুন্নাহ পাবলিকশন্সের ঠিকানা: আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স, ৪৮ প্যারিদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা।  01730747001

প্রশ্নঃ 528
আসসালামুয়ালাইকুম। আমি ৩ বছর আগে বাবা মাকে না জানিয়ে বিয়ে করি। আমাদের বিয়ের উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহ্ এর সন্তুষ্টি। কারন আমরা জিনা থেকে বাঁচতে চেয়েছি এবং দুইজন এক সাথে জান্নাতে যেতে চাই। আমরা পরস্পর পরস্পর কে দ্বীনের ব্যাপারে সাহায্য করি। এবং আল্লাহ্ এর আদেশ নিষেধ মেনে চলার চেষ্টা করি। আমি আমার বাবার বাড়িতে থাকি এবং আমার স্বামী তার বাবার বাড়িতে। আমরা এক সাথে থাকি নাহ। সপ্তাহে ২-৩ দিন দেখা করি। পড়াশুনা শেষ করে আর ২ বছর পর পারিবারিকভাবে বিয়ে করব ইন শা আল্লাহ্। কিন্তু কিছুদিন আগে জানতে পারি আমাদের বিয়ে হয়নি। এরপর আমরা ২ জন এ বিভিন্ন হুজুর, আমার স্বামী যে মসজিদে নামাজ পরে তার ইমাম কে জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন বিয়ে হয়েছে। অনুমতি নেয়া সুন্নত তবে বিয়ে অবৈধ হয়নি। আমি খুবই মানসিক চাপ এ আছি। আমি জিনাহ করতে চাইনা। আমি ওকে নিয়ে জান্নাতে যেতে চাই। আমি আল্লাহ্ কে ভয় করি। আমার স্বামী বলেছেন এই বিয়ে না হলে আমরা স্বামী স্ত্রী এর মতো থাকব নাহ। ও কখনই আমাকে জোর করবে নাহ হারাম দিকে। আলহামদুলিল্লাহ সে খুবই ভালো মানুষ। দয়া করে আমাদের করনীয় কি জানাবেন। আমি আপনার ভিডিও দেখি, অনেক অজানা বিষয় জানি। আপনাকে অনেক বিশ্বাস নিয়ে জিজ্ঞাশা করছি। বিয়ে কি হয়েছে? না হলে আমরা কিভাবে আবার বিয়ে করতে পারব? আমাদের গুনাহ হয়েছে কি?দয়া করে আমাকে তাড়াতাড়ি জানাবেন। আমি এই চাপ থেকে বাঁচতে চাই। জাঝাকাল্লাহ খইর।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে সাংসারিক জীবনে অনেক অশান্তি হয়। তাই অভিভাবকের অনুমতি ব্যতিত বিবাহ করা উচিৎ নয়। হাদীসে অভিাভাবক ছাড়া মেয়েদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে।তবে একটি সহীহ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলা তার নিজের ব্যাপারে অভিভাবক থেকে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫৪১। এই হাদীসের ভিত্তিতে অনেক ফকিহ বলেছেন, অভিভাবক ছাড়াও প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলারা বিবাহ করতে পারবে। সুতরাং যে সমাজে এই মতটি প্রচলিত সেখানে অভিভাবক ছাড়া বিয়ে হয়ে গেলে এটাকে সহীহ হয়েছে বলেই ধরে নিতে হবে। কিন্তু যাদের বিয়ে হয়নি তাদের ক্ষেত্রে অভিভাবক ছাড় বিয়ে হবে না এ কথাই বলতে হবে। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া ৪৮৮ নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 527
আসসালামুয়ালাইকুম-আমার রাহে বেলায়াত বইতে ১৮৮ ও ১৯২ নং যিকির নাই, দয়া করে দিবেন কি?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নিচে যিকির দুটি দেয়া হলো, যিক্র নং ১৮৮: কঠিন কর্মকে সহজ করার দুআ اَللَّهُمَّ لاَ سَهْلَ إِلاَّ مَا جَعَلْتَهُ سَهْلاً وَأَنْتَ تَجْعَلُ الْحَزْنَ إِذَا شِئْتَ سَهْلاً উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা, লা- সাহলা ইল্লা- মা- জা আলতাহূ সাহলান। ওয়া আনতা তাজ আলুল হাযনা ইযা- শিয়্তা সাহলান। অর্থ : হে আল্লাহ আপনি যা সহজ করেন তা ছাড়া কিছুই সহজ নয়। আর আপনি ইচ্ছা করলে সুকঠিনকে সহজ করেন। হাদীসটি সহীহ। সহীহ ইবনু হিব্বান ৩/২৫৫, মাকদিসী, আহাদীস মুখতারাহ ৫/৬২, ৬৩; আলবানী, সাহীহাহ ৬/৯০২। যিক্র নং ১৯২: বিপদ-কষ্টে নিপতিত ব্যক্তির দুআ إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ، اللَّهُمَّ أْجُرْنِيْ فِيْ مُصِيْبَتِيْ وَأَخْلِفْ لِيْ خَيْرًا مِنْهَا উচ্চারণ: ইন্না- লিল্লা-হি ওয়া ইন্না- ইলাইহি রা-জিঊন। আল্লা-হুম্মাঅ্ জুরনী ফী মুসীবাতী ওয়া আখলিফ লী খাইরাম মিনহা-। অর্থ: নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় তাঁর কাছেই আমরা ফিরে যাব। হে আল্লাহ আপনি আমাকে এ বিপদ মুসিবতের পুরস্কার প্রদান করুন এবং আমাকে এর পরিবর্তে এর চেয়ে উত্তম কিছু প্রদান করুন। উম্মুল মুমিনীন উম্মু সালামাহ (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে (সা.) বলতে শুনেছি, যদি কোনো মুসলিম বিপদগ্রস্ত হয়ে এ কথাগুলো বলে তাহলে আল্লাহ তাকে অবশ্যই উক্ত ক্ষতির পরিবর্তে উত্তম বিষয় দান করে ক্ষতিপূরণ করে দিবেন। উম্মু সালামাহ বলেন, আমার স্বামী আবু সালামাহর মৃত্যুর পরে আমি চিন্তা করলাম, আবু সালামার চেয়ে আর কে ভাল হতে পারে! … তারপরও আমি এ কথাগুলো বললাম। তখন আল্লাহ আমাকে আবু সালামার পরে রাসূলুল্লাহকে (সা.) স্বামী হিসাবে প্রদান করেন। মুসলিম (১১-কিতাবুল জানাইয, ২-বাব মা ইউকালু ইনদাল মুসীবাহ) ১/৬৩১-৬৩২ (ভা ১/৩০০)।

প্রশ্নঃ 526
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহ মাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ। শাইখ আমার একটা প্রশ্ন ।রাকআত ছুটে যাওয়া ফরজ নামায কি?ভাবে আদায় করব এবং সুরা সহ। যেমন যোহর ৪ রাকআত আমি পাইচি ১ রাকআত অথবা ২ রাকআত অথবা ৩ রাকআত। মাগরিবের ৩ রাকআতের ১ রাকআত। ফাতিহা সহ সুরাগুলি কিবাবে পড়তে হবে। জাযাকাল্লাহু খাইর। যানালে আমার অনেক উপকার হবে । এতে আমার যদি কোন বুল হলে আমি কি করব । বিতির নামায ১ রাকআত আদায় করলে কি হবে। আমি দুবাই থেকে মোঃ বেলায়েত হোসেন বলছি।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রাকআত ছুটে গেলে ইমাম সাহেবের সালাম ফিরানোর পর আপনি উঠবেন। ওঠার পর প্রথম রাকআতে সূরা ফাতিহা এবং অন্য একটি সূরা পড়বেন। দ্বিতীয় রাকআতেও সূরা ফাতিহার সাথে অন্য একটি সূরা পড়বেন। তবে তৃতীয় রাকআতে শুধু সূরা ফাতিহা পড়বেন। অর্থাৎ ওঠার পর এমনভাবে সালাত শুরু করবেন যেন আপনি সালাত প্রথম থেকে শুরু করেছেন। তবে বৈঠকের ক্ষেত্রে পূর্বের রাকআত ধর্তব্য হবে, অর্থাৎ আপনি ইমামের সাথে এক রাকআত পেলে আপনি উঠে এক রাকআত পড়ে বৈঠক করবেন। পূর্বে কোন ভুল করে থাকলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবেন। শুধু এক রাকআত সালাত আদায় করার বিষয়টি হাদীসে পাওয়া যায় না। হাদীসে যেটা আছে সেটা হলো রাসূলুল্লাহ সা. তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করতে করতে যখন দেখতেন ফজরের সময় হয়ে গেছে তখন তিনি তাহাজ্জুদ সালাতের সাথে এক রাকআত অতিরিক্তি করে বিতর করতেন। এই ভাবে করা যায়। বিতর সালাত বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন, রাহে বেলায়াত গ্রন্থের ৪১৩-৪১৭ পৃষ্ঠা। এই বিষয়ে আপনি হাদীসের কিতাবগুলোতে বিতর অধ্যায়ও দেখতে পারেন।

প্রশ্নঃ 525
I have to stay Dhaka for my education purpose. If i go back to my hometown which exceeds 77 km i mean distance for Qasr is applicable and have a intention not ta stay for 15 days, will i have to pray Qasr? My parents live in my hometown. Sheikh, help me. JazakAllah.
29 Dec 2025

বাড়ি থেকে ৭৭ কি.মি দূরে কোথাও ১৫দিনের কম দিন থাকার নিয়ত করলে কসর ওয়াজিব হয়। কিন্তু অন্য কোথাও অস্থায়ীভাবে থাকলে সেখান থেকে বাড়ি আসলে সে পূর্ণ সালাতই আদায় করবে। যেমন আপনি পড়াশোনার জন্য ঢাকাতে থাকেন। আপনি যদি ১৫ দিনের কম থাকার নিয়তে ঢাকা যান তাহলে আপনি ঢাকাতে কসর করবেন। কিন্তু যখন বাড়িতে আসবেন তখন আপনি মুকিম হয়ে যাবেন অর্থাৎ পূর্ণ সালাত আদায় করবেন, যতটুকু সময়ই থাকুন না কেন। উল্লেখ্য বাড়ি আসার পথে কোথাও সালাত আদায় করলে সেক্ষেত্রে অবশ্য কসর করবেন।

প্রশ্নঃ 524
আসসালামু আলাইকুম। ফরয সালাতে প্রথম দুই রাকাতের কোন এক রাকাতে ফাতিহার পর সুরা মিলাতে ভুলে গেলে কি সাজদায়ে সাহু ওয়াজিব হলে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জানতে চাই। যাজাকুমুল্লাহ
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ফরজ সালাতের প্রথম দুই রাকআতে সূরা ফাতিহার সাথে কোন একটি সূরা মেলানো সহীহ হাদীসের সকল ইমাম ও ফকীহের নিকট আবশ্যক। সুতরাং এই সময় সূরা না মেলানো একটি বড় ধরনের ভুল। আর হাদীসে এসেছে রাসূলুল্লাহ সা. সালাতের ভিতর কোন ভুল হয়ে গেলে সাজদায়ে সাহু দিতেন। নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন: عن عمران بن حصين : أن النبي صلى الله عليه و سلم صلى بهم فسها فسجد سجدتين ثم سلم সাহাবী ইমরান ইবনে হুসাইন বলেন, নবী সা. ইমাম হয়ে লোকদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি ভুল করলেন এবং সাজদায়ে সাহু দিলেন এরপর সালাম ফিরালেন। সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং ১২৩৬। হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযী ও শায়খ আলবানীসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

প্রশ্নঃ 523
আসসালামু আলাইকুম, স্যার আমি একটি মেয়েকে পছন্দ করি। মেয়েটির পরিবারের সার্বিক অবস্থা আমার পরিবার থেকে নিচে। আমার বাবা-মা দুজনেই মাদরাসায় উচ্চশিক্ষিত। কিন্তু মেয়ে কিংবা মেয়ের পরিবারের কেউই মাদরাসায় শিক্ষিত নয় তবে তারা ইসলামী বিধান তথা নামাজ-রোযা-পর্দা এগুলো পালন করে সঠিকভাবে। তাদের মধ্যে আকিদাগত তথা পীরবাদ এমন কোনো সমস্যাও পাই নি। তাদের গ্রামের বাড়ি আমাদের থেকে বহুদূরে। আমার বর্তমান সমস্যা হলো আমি মেয়েটিকে বিবাহ করতে চাই। কিন্তু আমার বাবা-মা এই মেয়ের ব্যাপারে রাজি নয়। তাদের আপত্তি মেয়ের গ্রামের এলাকা ও তাদের পারিবারিক অবস্থা তথা নন-আলেম ও আর্থিক এইগুলো। কিন্তু আমি মেয়েকে অনেক পছন্দ করি। তার চরিত্র ও দ্বীনী বিষয় আমাকে আকৃষ্ট করেছে। এইক্ষেত্রে আমার করণীয় কি?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিবাহ এমন একটি বিষয় যেখানে মুরুব্বীদের মতামত মেনে চলা একান্ত কর্তব্য। তারা বহুদিন ধরে সংসার করার কারণে তাদের মধ্যে এই বিষয়ে অনেক অভিজ্ঞতা সৃষ্টি হয়। এই অভিজ্ঞতার আলোকে তারা বুঝতে পারেন কেমন পরিবারের বা কেমন ছেলে-মেয়েকে বিবাহ করা উচিৎ। যারা এখনো বিবাহ করেন নি তারা এই অভিজ্ঞতা পাবে কোথায়? আপনাদের ন্যায় বয়সের ছেলে-মেয়েরা আবেগের কারণে অনেক সময় এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে যা পরববর্তীতে সারা জীবনের কান্না হয়ে দাঁড়ায়। ং সুতরাং যেহেতু আপনার বাবা-মা এই বিবাহে রাজি নয় তাই আপনার জন্য উচিৎ হলো এখান থেকে সরে আসা। আশা করি এর ভিতরে আল্লাহ আপনার জন্য কল্যান রেখেছেন। আমরা আপনার জন্য দুআ করি যেন আল্লাহ আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার তাওফিক দেন।

প্রশ্নঃ 522
আস সালামু আলাইকুম। অনেকে রাস্তাঘাটে ভুয়া কবর বানিয়ে সেখানে সালাম দেয়, চুমু খায়। ভুয়া কবর সম্পর্কে একটি হাদীস শুনেছি যা হচ্ছে: মান যারা কবরান বিলা মাকবূরিন কাআন্নামা আবাদাস সানাম। কিন্তু এ হাদীসটি কোন কিতাবে আছে, সহীহ না জাল তা জানতে পারি নি। দয়া করে যদি হাদীসটির তাহকীক জানান উপকৃত হতাম।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এটা কোন হাদীস নয়। সহীহ জাল কোন কিতাবেই হাদীসটি পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রশ্নঃ 521
Assalamualaikum. My quesition is as follows : Can I give zakat to a patient for his treatment in hospital because he/she is very poor and cannot bear the expenses?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বী, আপনি আপনার নিকট যে কোন আত্মীয়কে যাকাত দিতে পারেন। কোন সমস্যা নেই। তবে পিতা-মাতা, ছেলে-মেয়ে এবং স্ত্রীকে দিবেন না

প্রশ্নঃ 520
Assalam mu oaliekum..Quantum method somporke details jante chai..onek alem er prosonsha koren.ami onek confusion a acen…kindly janan?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। একজন মূমিনের জন্য উচিৎ হলো কুরআন ও সুন্নাহর সামনে নিজেকে সমর্পন করা। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে নিজের জীবনকে পরিচালিত করা। সাহাবী তাবেঈগণ ধ্যান করেন নি। করার প্রয়োজনও মনে করেন নি। অনেক সময় এর মাধ্যমে মানুষ কুরআন-হাদীস ছেড়ে বিপথে চলে যায়। সুতরাং মূমিনের জন্য আবশ্যক এই সব বাজে কাজ পরিহার করা। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন।

প্রশ্নঃ 519
আচ্ছালামু আলাইকুম. আপ নার কাছে আমার একটা প্রশ্ন, দয়া করে উত্তর দিলে খুশি হব। নাবী ( সঃ ) যখন মেরাজ থেকে আসেন আল্লাহ পাক ৫ ওয়াক্ত সালাত ২ রাকাত করে ফরজ ছিল। হাদিস মুসলিম এবং বুখারীতে আছে, কিন্তু পরে কখন এবং কিভাবে আছর, যোহ্র,এবং এশা ওয়াক্তে ৪ রাকাত এবং মাগরিবে ৩ রাকাত সালাত ফরজ হয়েছে তা দলিল সহ বিস্তারিত জানাবেন?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রথমে সালাত দুই রাকআত করে ফরজ ছিল। তবে মাগরিব প্রথম থেকেই তিন রাকআত ছিল। নিচের হাদীসটি দেখুন: عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَتْ: كَانَ أَوَّلَ مَا افْتُرِضَ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّلَاةُ : رَكْعَتَانِ رَكْعَتَانِ، إِلَّا الْمَغْرِبَ، فَإِنَّهَا كَانَتْ ثَلَاثًاৃ হযরত আয়েশা রা. বলেন, প্রথমে রাসূলুল্লাহ সা. এর উপর সালাত দুই দুই রাকাআত করে ফরজ হয়েছিল। তবে মাগরিব ব্যতিত। কেননা তা তিন রাকাতই ছিল…। মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২৬৩৮১। শায়খ শুয়াইব আরনাউতসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। এরপর হিজরত করে মদীনায় যাওয়ার পর ফজর বাদে অন্যান্য সালাতের রাকআত সংখা বৃদ্ধি করা হয়। নিচের হাদীসটি দেখুন: عَنْ عَائِشَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، قَالَتْ فُرِضَتِ الصَّلاَةُ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ هَاجَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَفُرِضَتْ أَرْبَعًا وَتُرِكَتْ صَلاَةُ السَّفَرِ عَلَى الأُولَى. আয়েশা রা. বলেন, সালাত দুই রাকআত করে ফরজ ছিল। অত:পর নবী সা. হিজরত করলেন তখন চার রাকআত করে ফজর হলো আর সফরের ক্ষেত্রে পূর্বের অবস্থাতেই থাকলো। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৯৩৫। عَنْ عَائِشَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، قَالَتْ فُرِضَتِ الصَّلاَةُ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ هَاجَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَفُرِضَتْ أَرْبَعًا وَتُرِكَتْ صَلاَةُ السَّفَرِ عَلَى الأُولَى উক্ত হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, সালাত প্রথমে দুই রাকআত করে ফরজ ছিল। এ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সা. মদীনায় হিজরত করেন। তারপর সাধারন অবস্থায় যুহর, আসর ও এশার সালাত চার রাকআত করা হয়।আরো জানতে দেখুন, ফাতহুল বারী; ইবনে হাজার আসকালানী রহ., ১/৪৬৪।

প্রশ্নঃ 518
মেয়েদের সুগন্ধি ব্যবহার নিষেধ । আমার প্রশ্ন হচ্ছে বাজারে যে সব নারিকেল তেল আছে এতে সুগন্ধি আছে তাহলে কি ব্যবহার করবে?
29 Dec 2025

মুসলিম মহিলাদের জন্য পোশাকে বা শরীরে সুগন্ধি মেখে বাইরে বের হতে রাসূলুল্লাহ সা. বিশেষভাবে নিষেধ করেছেন। আবূ মূসা আশআরী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা.বলেছেন: أَيُّـمَا امْـرَأَةٍ اسْتَـعْـطَـرَتْ فَـمَـرَّتْ عَلَى قَـوْمٍ لِـيَـجِـدُوا مِـنْ رِيـحِـهَا فَـهِـيَ زَانِـيَـةٌ যদি কোনো মহিলা সুগন্ধি মেখে মানুষের মধ্যে প্রবেশ করে, যেন মানুষেরা তার সুগন্ধ অনুভব করে, তবে সেই মহিলা ব্যভিচারিণী। সুনানু তিরমযী, হাদীস নং ৫১২৬। হাদীসটির সনদ সহীহ। এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. সকল ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সুগন্ধি মেখে গমন করতে নিষেধ করেছেন। মহিলার জন্য বাজার, বিবাহ অনুষ্ঠান, মসজিদ, ওয়ায-মাহফিল, কর্মস্থল বা যে কোনো স্থানে দেহে অথবা পোশাকে সুগন্ধি ব্যবহার করে গমন করা এ হাদীসের আলোকে নিষিদ্ধ ও কঠিন হারাম। সুতরাং নারিকেল তেলের ভিতরেও যদি এমন সুগন্ধি থাকে যা মানুষ অনুভব করে তাহলেও এটাও হারাম হবে।

প্রশ্নঃ 517
আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন? প্রথমেই আপনাকে অনেক ধন্যবাদ জানাব, ইসলামের পথে মানুষকে আহব্বান করার জন্য। আল্লাহ আপনার এই দাওয়াতকে কবুল করুন এবং ইসলামের পথে আপনার জ্ঞানকে বাড়িয়ে দিন এবং আমাদেরকে বিভিন্ন জানা-অজানা বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন। আমীন। আমার প্রশ্ন হল : জামাআতে যখন সালাত পড়ি, তখন বিশেষ করে ফজর, মাগরিব ও এশার সালাতে ইমাম সাহেব জোরে কিরাত পড়েন। তখন আমি মুক্তাদি কি সূরা ফাতিহা পড়বো? কেননা আমি জেনেছি যে, যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পড়লো না, তার সালাত হয় না। এই ক্ষেত্রে আমি বড় বড় আলেমদের অনেক মত ই দেখেছি। আপনি আমাকে সবচেয়ে ভালো মতটি ও নিঃসন্দেহে সালাত পড়তে পাড়বো এমন মতটি বলেন। আমি একটা হাদিসেও পেয়েছিলাম যে, শুধু সূরা ফাতিহা পড়ার কথা। বিষয়টি একটু বুঝিয়ে বলবেন Please. আল্লাহ্ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমিন.
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিষটি নিয়ে আলেম ও ইমামগণের মাঝে বিভিন্ন মতামত বিদ্যমান। তবে এই বিষয়ে ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার রহ. সহীহ হাদীসের আলোকে যে মতামত পেশ করতেন তা হলো স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন সালাতে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়বে না আর নি:শব্দে পড়া হয় এমন সালাতে পড়বে। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া ২৭৬ নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 516
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: আমি দেশের বাইরে থাকি আমি আপনের অনেক ভিডিও দেখেছি আমি মাঝে মাঝে জাকির নায়েক এর ভিডিও দেখি . আমার প্রশ্ন: আমরা যারা দেশের বাইরে থাকি তাদের অনেকে বিবাহিত পারিবারিক আর্থিক প্রয়োজনে দেশের বাইরে থাকি আমাদের বিবাহিত জীবনে খুব কম সময় আমরা পরিবারের সাথে থাকি- এটা কি হারাম নাকি?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিবাহ করে স্ত্রীকে দেশে রেখে যাওয়ার ফলে সমাজে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।বিষয়টি অস্বীকার করার কিছু নেই। তাই বিশেষ প্রয়োজন ছড়া এভাবে বছরের পর বছর বিদেশ থাকা অনুচিৎ, তবে হারাম হবে না।

প্রশ্নঃ 515
শহীদ কাকে বলে?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সাধারণভাবে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধরত নিহত ব্যক্তিই শহীদ হিসাবে বিবেচিত আর শহীদদের সাথে সংশ্লিষ্ট হুকুম সমূহ এমন ব্যক্তির ক্ষেতেই প্রযোয্য। এছাড়া সহীহ হাদীসে আরো অনেক ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সা. শহীদ হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন পেটের পীড়া ও মহামারীতে মারা যাওয়া ব্যক্তি, নিজের সম্পদ রক্ষার্থে যিনি মারা যান, ডুবে মারা যাওয়া ব্যক্তি, কোন কিছুতে চাপা পড়ে মারা যাওয়া ব্যক্তি, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় মারা যায় (যেমন সালাত আদায় কিংবা ইলম শিক্ষার উদ্দেশ্যে বের হওয়া ব্যক্তি), সন্তানের প্রসবের সময় যে মহিলা মারা যায়, সাপে কামড়ে মারা যাওয়া ব্যক্তি, হিংস্র পশুর আক্রমনে মারা যাওয়া ব্যক্তি, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে মারা যাওয়া ইত্যাদি। তবে জিহাদ কর মারা যাওয়া ব্যক্তিই সর্বোত্তম শহীদ। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৪৮০, ৫৭৩৩; সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ৫০৪৯, ৫০৫০। আরো বিস্তারিত জানতে দেখুন, শায়খ ত্বকীউদ্দিন নদবী, তালীক মুয়াত্তা মালিক, ২/৮১, হাদীস নং ৩০১।

প্রশ্নঃ 514
Is it LEGITIMATE to use Alcoho-free perfume/deodorant?
29 Dec 2025

হ্যাঁ, অ্যালকোহলমুক্ত সুগন্ধি ব্যবহার জায়েজ। কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 513
আসসালামুয়ালাইকুম, ৩ বছর আগে আমি বাবা মা কে না জানিয়ে বিয়ে করি। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল হালাল সম্পর্ক করা এবং জিনা থেকে বাঁচা। কিছুদিন আগে বিভিন্ন জায়গা থেকে শুনি এই বিয়ে বৈধ নয়। যেহেতু আমি এবং আমার স্বামী আল্লাহ কে ভয় করি আমরা বিভিন্ন মাদ্রাসার হুজুর দের এ বেপারে জিজ্ঞেস করলে তারা বলে বিয়ে বৈধ। আমরা গুনাহ থেকে বাঁচতে চাই। দয়া করে আমাদের সঠিক ফতোয়া দিন। এবং করনীয় কি জানান।
29 Dec 2025

অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে সাংসারিক জীবনে অনেক অশান্তি হয়। তাই অভিভাবকের অনুমতি ব্যতিত বিবাহ করা উচিৎ নয়। হাদীসে অভিাভাবক ছাড়া মেয়েদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে।তবে একটি সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে, الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলা তার নিজের ব্যাপারে অভিভাবক থেকে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫৪১। এই হাদীসের ভিত্তিতে অনেক ফকিহ বলেছেন, অভিভাবক ছাড়াও প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলারা বিবাহ করতে পারবে। সুতরাং যে সমাজে এই মতটি প্রচলিত সেখানে অভিভাবক ছাড়া বিয়ে হয়ে গেলে এটাকে সহীহ হয়েছে বলেই ধরে নিতে হবে। কিন্তু যাদের বিয়ে হয়নি তাদের ক্ষেত্রে অভিভাবক ছাড় বিয়ে হবে না এ কথাই বলতে হবে। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া ৪৮৮ নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 512
আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন? মহানবী (সাঃ) এর জন্মদিন পালন করার সুন্নত উপায় ওই দিন রোজা রাখা, এছাড়া তিনি প্রতি সোমবার রোজা রাখতেন । এখন প্রস্ন হল আমাদের নিজেদের জন্মদিনে কি আমরা রোজা করতে পারব এবং প্রতি সোমবারের মত নিজেদের জন্মবারেও কি প্রতি সপ্তাহে ওই দিন রোজা রাখা যাবে?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১. রাসূলুল্লাহ সা. জন্মবার পালন করেছেন, জন্মদিন নয়। রাসূলুল্লাহ সা. সোমবার জন্মগ্রহণ করেছেন এবং নবুওয়াত পেয়েছেন। তাই তিনি রোজা রেখে এইবার পালন করেছেন। আপনি যদি জন্মবার পালন করতে চান তাহলে আপনকে নবুওয়াত পেতে হবে। এটা সম্ভব নয়্। ২. রাসূলুল্লাহ সা. জন্মবার পালন করেছেন, কিন্তু কোন সাহাবী পালন করেন নি। যদি রাসূলুল্লাহ সা. ব্যতিত অন্য কারো জন্মবার পালন করার অনুমতি থাকতো তাহলে সাহাবীরা নিজেদের জন্মবার পালন করতেন। কারণ সাহাবীগন রা. ছিলেন তাঁর আদর্শ অনুসরনের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী তৎপর। সুতরাং কেউ যদি নিজের জন্মবার পালন করে সেটা হবে সুস্পষ্ট বিদআত। তাই এই কাজ করবেন না।

প্রশ্নঃ 511
নিয়ত তো অন্তরে করতে হয় অর্থাৎ নিয়ত পড়তে হয় না। যাই হোক মনে করুন আমি কোন ওয়াক্তের সালাতের ইমামতি করব, আর এই ক্ষেত্রে আমি কিভাবে নিয়ত করব? যেহেতু আমি তখন ইমাম হয়ে সালাত আদায় করব।
29 Dec 2025

নিয়ত হচ্ছে হ্নদয়ের ইচ্ছা। সুতরাং ইচ্ছাটাই এখানে মুখ্য। মুখে নিয়ত করা না করা কোন বিষয় নয়। মুখে নিয়ত করার কথা হাদীসে উল্লেখ নেই তাই মুখে নিয়তের বিশেষ কোন ফজিলত নেই। ইমামতি করার সময় আমি নামায পড়াচ্ছি এতটুকু মনে রাখতে হবে।

প্রশ্নঃ 510
আমার কাছে সাড়ে ৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং এক ভরি রোপার অলঙ্কার রয়েছে। এখন জাকাত ফরজ হবে কিনা? আর হলে সোনা নাকি রোপার দামের ভিত্তিতে যাকাত প্রদান করতে হবে? যাকাত কি অলঙ্কারের মালিক আদায় করবে নাকি তার পক্ষ থেকে স্বামী/পিতা আদায় করবে? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।
29 Dec 2025

স্বর্ণ এবং রূপার মূল্য টাকায় হিসাব করে শতকরা আড়াই % হারে যাকাত দিতে হবে। যাকাত সম্পদের মালিকের উপর আদায় করা ফরয। তার পক্ষ থেকে অন্য কেউ আদায় করলেও হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ 509
রুকু এবং তাশাহুদে নজর (দৃর্ষ্টি) কোথায় রাখবো?
29 Dec 2025

রুকুতে দৃষ্টি কোথায় রাখবে সে বিষয়ে হাদীসে স্পষ্ট কিছু নেই। তবে কয়েকজন তাবেয়ী থেকে বর্ণিত আছে তারা সাজদার স্থানে রাখতে বলছেন। এবং ফকীহগণ এমনই মত দিয়েছেন। মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ৬৫৬২, ৬৫৬৩ এবং ৬৫৬৪। তাশাহুদুর সময় যে হাত দ্বরা ইশারা করা হয় সেই হাতের দিকে নজর রাখবে। রাসূলুল্লাহ সা. এমন করতেন বলে সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে। সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ১২৭৫, হাদীসটি সহীহ।

প্রশ্নঃ 508
সারে সাত ভরি স্বর্ণের কম হলেও কি যাকাত দিতে হবে? আর আমরা তো জানি যে কারো কাছে যদিসারে সাত ভরি স্বর্ণ থাকে এবং এগুলো এক বছর অতিক্রম করে তখন তাঁর যাকাত দিতে হয়,,, প্লীজ একটু বুঝিয়ে বলবেন,, যাঝাকাল্লাহ খাইর
29 Dec 2025

যাকাতের ক্ষেত্রে স্বর্ণের নিসাব হলো স্বর্ণ সাড়ে সাত ভরি হতে হবে। এবং এক বছর থাকতে হবে। এর কম হলে স্বর্ণের যাকাত দিতে হবে না।

প্রশ্নঃ 507
স্যার আসসালামু আলাইকুম। অলংকার কত ভরি হলে যাকাত দিতে হবে। আমি আগে জেনেছিলাম সাড়ে সাত ভরি সোনা হতে হবে। কিন্তু এখন শুনলাম অলংকার থাকলেই যাকাত দিতে হবে।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। যাকাতের ক্ষেত্রে স্বর্ণের নিসাব হলো স্বর্ণ সাড়ে সাত ভরি হতে হবে। এবং এক বছর থাকতে হবে। এর কম হলে স্বর্ণের যাকাত দিতে হবে না।

প্রশ্নঃ 506
আসসালামুয়ালাইকুম, স্যার আপনার কাছে দোয়া ও অবস্থা পরিবর্তনের আমলের জ্ঞান প্রার্থী। স্যার আমি গ্রাজুয়েশন শেষ করে বেশ কয়েক মাস ধরে বেকার আছি, এ দিকে আমাকে সাপোর্ট দিতে গিয়ে আমার বাবা (অবসর প্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবি) ঋনগ্রস্থ হয়েছেন ও আমার পরিবার আর্থীক ভাবে সংকটে পড়েছে। এটা আমাকে প্রচন্ড রকমের মানুষিক পীড়া দেয়। স্যার এমন কোন কি আমল আছে যার মাধ্যমে আল্লাহ আমার ডাক শুনবেন এবং আমাকে চাকরি লাভ সহ ঋন পরিশোধ ও পরিবারের পাশে দাড়াতে তৌফিক দান করবেন? আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমীন
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিপদ-সংকটে সবর করার মধ্যেই রয়েছে মূমিনের সফলতা। অনেক সময় আল্লাহ তায়ালা এই বিপদাপদ দ্বরা তাঁর প্রিয় বান্দাদের পরীক্ষা করেন। সুতরাং আপনি দুঃশ্চিন্তা করবেন না। আল্লাহর কাছে দুআ করুন আশা করি আপনার সমস্যা দূর হয়ে যাবে। আপনি রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো নফল সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। এছাড়া কুরআনের এই দআটিও সালাতে এবং অন্যান্য সময় বারবার পড়বেন, رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনার সব সংকট দূর করে দেন।

প্রশ্নঃ 505
শরীর নাপাক থাকলে কালিমা পড়া যাবে কি? এবং আল্লাহ্র কাছে কোন পার্থনা করা যাবে কি?
29 Dec 2025

হ্যাঁ, শরীর নাপাক থাকলেও কালিম পড়া যাবে এবং প্রার্থনা করা যাবে।কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 504
Sir Salam.I want to know about hadith in bokhari that if someone isnt here the sound or smell so his odu will not broke. What does that means. If some is feel something come still is odu is valid.
29 Dec 2025

উক্ত হাদীসটি যারা সন্দেহের রোগে আক্রান্ত তাদের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন। সাভাবিক সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে নয়। সুস্থ মানুষ কোনভাবে বিষয়টি নিশ্চিত রূপে বুঝতে পারলেই তার ওযু ভেঙ্গে যাবে। তবে শুধুমাত্র সন্দেহ হলে ওযু ভাঙ্গবে না।

প্রশ্নঃ 503
May peace of almighty Allah(swt) be upon you.Actually I need suggestion or help.I am an engineering student.I can read quran.Now I wanna understand the meaning.Is there any book or any resource from where I can understand the arabic grammer and understand the meaning.
29 Dec 2025

আরবী ভাষা এবং ব্যকরণ শিখতে হলে আপনাকে অবশ্যই একজন শিক্ষকের সাহায্য নিতে হবে। শুধু বই দ্বারা আরবী ভাষা শেখা সম্ভব নয়। আরবী শেখার প্রাথমিক পর্বে আপনি শায়খ আবু তাহের মিসবাহ রচিত এসো আরবী শিখি বইটি পড়তে পারেন। আল্লাহ তায়ালা আপনার সৎ ইচ্ছা কবুল করুন।

প্রশ্নঃ 502
আসসালামু আলাইকুম। একজন মৃত পুরুষের চেহারা কি একজন বেগানা মহিলা দেখতে পারবে? একজন বয়স্ক মৃত মহিলার চেহারা কি একজন বেগানা পুরুষ দেখতে পারবে? স্যার দয়া করে উত্তর দুটি জানাবেন।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এ ক্ষেত্রে জীবতদের ব্যপারে যে হুকুম মৃতদের ব্যাপরেও সেই হুকুম। অর্থাৎ মৃত পুরুষের চেহারা যে কোন নারী দেখতে পারবে। মৃত মহিলা বয়স্ক হলে আশা করা যায় পুরুষ মানুষ দেখলে সমস্যা হবে না।

প্রশ্নঃ 501
আমার সালাম নিবেন। হুজুর আমার প্রশ্ন। কোন ব্যাক্তি সরকারী চাকুরীর পর যে প্রভিডেন্ট ফান্ড এর টাকা পান, তা যদি পেনশন স্কেলে সরকারী বা বেসরকারী ব্যাংক এ রেখে প্রতি মাসে মুনাফা উঠান। ব্যাংক থেকে উত্তলিত মাসিক মুনাফার টাকাতে তার সংসার চলে। তিনি বছর শেষে ব্যাংক এ রক্ষিত টাকার উপর যাকাত ও দেন । আমার প্রশ্ন। সেই ব্যাক্তির এই টাকা কি হালাল হবে নাকি সুদ হবে? যেহেতু এটা পেনশন এর টাকা আর সরকারী পেনশন স্কেলেই ব্যাংক এ রাখা আছে। আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন হলোঃ তার এই জমানো ব্যাংক এর টাকার উপর যদি যাকাত দেয় সেই যাকাত কি হবে? হুজুর এই ধারার উপর কিছু মতভেদ আমি পেয়েছি তাই আপনার কাছে সবিনয়ে জানতে চেয়েছি। আপনি একটু কোরআনের আর হাদিসের আলোকে বললে আমারা খুব উপকৃত হবো।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এভাবে টাকা রেখে তার থেকে প্রাপ্ত মুনাফা সুদ । সুতরাং এভাবে মুনাফা নেয়া যাবে না। আর মূল টাকার উপর অবশ্যই যাকাত দিতে হবে।

প্রশ্নঃ 500
Dear Sir, My question is do I need to make Niaht in Salah? or only my intention will be enough. I was making Niaht in Arabic before, but recently I was told it is Bidat. Rasulullah did not do it. Secondly, where I will find how to do every steps of Salah accoring to Hadith? Kind regadrs, Ashraf
29 Dec 2025

নিয়ত হচ্ছে হ্নদয়ের ইচ্ছা। সুতরাং ইচ্ছাটাই এখানে মুখ্য। মুখে নিয়ত করা না করা কোন বিষয় নয়। মুখে নিয়ত করার কথা হাদীসে উল্লেখ নেই তাই মুখে নিয়তের বিশেষ কোন ফজিলত নেই। বর্তমানে বাংলা ভাষায় এই বিষয়ে কোন ভাল বই আছে বলে মনে হয় না। রাহে বেলায়াতএ সালাত বিষয়ে একটি অধ্যায় আছে। সালাত বিষয়ে একটি বই বাংলা ভাষায় আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত হবে ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্নঃ 499
স্যার কারো শারীরিক প্রব্লেম থাকলে সে কি দাড়িয়ে প্রসাব করতে পারবে এবং সে কি শুধু টিস্যু ব্যবহার করতে পারবে পানি ছারা?
29 Dec 2025

হাঁ, শরীরে সমস্যার কারণে বসে প্রসাব করা কষ্টকর হলে দাঁড়িয়ে প্রসাব করতে পারবে। শুধু টিস্যু দ্বারা যদি পবিত্রতা অর্জন হয়ে যায়। তাই শুধু টিস্যু ব্যবহার করতে পারবেন। তবে পানি ব্যবহারের বিশেষ ফজিলত হাদীসে উল্লেখ আছে।

প্রশ্নঃ 498
আসসালামু আলাইকুম, হজ্জ, উমরা, যিয়ারাত by ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এই বইটা থেকে কতটুকু আমল করা যাবে। এখানে পৃষ্ঠা ৬১ – ৮১ পর্যন্ত অনেকগুলো দোয়া আছে, এগুলো কি সহি?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। বইটিতে অনেক উপকারী বিষয় আছে। আবার অনেক মনগড়া আমলের কথাও আছে। এই দুআগুলো হাদীস সম্মত নয়।

প্রশ্নঃ 497
আসসালামু আলাইকুম আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের দেশে জুম্মার খুথবার আগে অনেক সময় ওয়াজ হয় এটা কি বিদআত। জুম্মার ২ রাকাত নামাজ এর আগে কাবলাল জুম্মা ৪ রাকাত পড়ব নাকি ২ রাকাত করে নফল পড়ব।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

না, এটা বিদআত নয়। জুমুআর খুৎবার আগে বক্তৃতা করা সহীহ সূত্রে সাহাবীদের থেকে প্রমানিত। মুসতাদরক হাকিম, হাদীস নং ৩৬৭। রাসূলুল্লাহ সা. জুমুআর ফরজ সালাতের পূর্বে সুন্নাত সালাত আদায়ের জন্য বলেছেন। সহীহ বুখারীর এই হাদীসটি লক্ষ করুন:

عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَتَطَهَّرَ بِمَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ ثُمَّ ادَّهَنَ ، أَوْ مَسَّ مِنْ طِيبٍ ثمَّ رَاحَ فَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ اثْنَيْنِ فَصَلَّى مَا كُتِبَ لَهُ ثُمَّ إِذَا خَرَجَ الإِمَامُ أَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الأُخْرَى

সালমান ফারসী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন ভালভাবে গোসল করে তেল বা সুগন্ধি ব্যবহার করে (মসজিদে) গমন করবে অতঃপর (মসজিদে) কাউকে না ডিঙিয়ে সাধ্যানুযায়ী নামায পড়বে এবং যখন ইমাম খুতবা দেয়ার জন্য বের হবে তখন চুপ করে তা শুনবে, তার এক জুমুআ থেকে অপর জুমুআর মাঝের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯১০। এই হাদীসে রাকআত সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয় নি। আলেমগণ বলেছেন দুই রাকআত থেকে শুরু করে যত ইচ্ছা পড়বে, যত বেশী পড়বে সওয়াব ততো বেশী হবে। রাকআত সংখ্যার ব্যাপারে বিভিন্ন সাহবী থেকে বিভিন্ন সংখ্যা বর্ণিত আছে। দুই রকআত. চার রাকআত ইত্যাদি। চার রাকআতের বিষয়ে নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন:

عبد الرزاق عن الثوري عن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن السلمي قال كان عبد الله يأمرنا أن نصلي قبل الجمعة أربعا وبعدها أربعا حتى جاءنا علي فأمرنا أن نصلي بعدها ركعتين ثم اربعا.

অর্থ: (তাবেঈ) আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী বলেন, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে জুমুআর পূর্বে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর আলী রা. আমাদেরকে জুমুআর পর প্রথমে দুই রাকআত এরপর চার রাকআত পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুসান্নাফু আব্দুর রায্যাক, হাদীস নং ৫৫২৫। এই হাদীসটির বিষয়ে শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, وهذا سند صحيح لا علة فيه অর্থ: এটা সহীহ সনদ, তাতে কোন সমস্যা নেই।সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, ১০১৬ নং হাদীসের আলোচনা। উক্ত সহীহ হাদীসটি দ্বারা আমারা জানতে পারলাম যে, প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. চার রাকআত ক্ববলাল জুমুয়া পড়ার আদেশ দিয়েছেন। উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা আমরা বুঝলাম যে, জুমুআর আগে নামায সুন্নাত, তবে রাসূলুল্লাহ সা. থেকে রাকআত সংখ্যা বিষয়ে কোন কিছু বর্ণিত হয়নি। সুতরাং যে যতটুকু ইচ্ছা করে ততোটুকু পড়তে পারে। দুই দুই রাকআত করে পড়তে পারেন আবার চার রাকআত করেও পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 496
১. মহিলাদের কি নাখ ফোরানো ফরজ? নাখ না ফোরালে কি গুন্নাহ হবে। ২. আখিকা দেয়ার পদ্ধতি কি? গরু দিয়ে কি আখিকা দেয়া যাবে? কুরবানির সাথে কি আখিকা দেয়ব যাবে?
29 Dec 2025

নাক ফোড়ানো ফরজ ওয়াজিব সুন্নত নফল কিছুই না। বরং কোন কোন ফকীহ নাজায়েজ বলেছেন। এখনো সৌদি আরবসহ মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশের মেয়েরা নাক ফোড়ায় না।তবে অধিকাংশ আলেমের নিকট নাক ফোড়ালে গুনাহ হবে না। জায়েজ আছে। আরো জানতে পড়ন আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত পোশাক পরিচ্ছেদ ও দেহ সজ্জা বইটি। শিশু জন্মের ৭ম দিনে ছোট পশু অর্থাৎ ছাগল, ভেড়া কিংবা দুম্বা আল্লাহর নামে জবাই করতে হবে। ছেলে শিশুর ক্ষেত্রে ২টি পশু আর মেয়ে শিশুর ক্ষেত্রে ১টি পশু জবাই করতে হবে। তবে ছেলের ক্ষেত্রেও একটি দেয়া যায়। হাদীসে একটির কথাও উল্লেখ আছে। গরু দিয়ে আকীকার কথা স্পষ্ট হাদীসে নেই। সুতরাং আমাদের উচিৎ সুন্নাহ অনুসারে ছোট পশু দিয়ে আকীকা দেয়া। তবে অনেক আলেম বলেছেন গরু দিয়ে আকীকাও জায়েজ আছে।কুরবানী একটি আনন্দ আর শিুশু জন্ম আরেকটি আনন্দ। সুতরাং দুটি আনন্দকে এক করে ফেলা উচিৎ নয়। তবে জায়েজ আছে বলে অনেক আলেম বলেছেন।

প্রশ্নঃ 495
Assalamualaikum, Amar Dadi goto 2 years dhore coma te achen, khub koste achen . amra amar dadir jonno ki dua korte pari? amra ki unake amader amol dite parbo? Unar jonno amra ki korte pari?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

আপনারা তার জন্য দুআ করবেন। আমরাও তাঁর জন্য দুআ করছি আল্লাহ যেন তাকে সুস্থ করে দেন। এছাড়া তার জন্য দান সদকা করতে পারেন। সহীহ হাদীসে আছে দান সদকা বিপদাপদ দূর করে। নিচের হাদীসটি দেখুন:

حُذَيْفَةَ قَالَ : كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ عُمَرَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، فَقَالَ أَيُّكُمْ يَحْفَظُ قَوْلَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْفِتْنَةِ قُلْتُ أَنَا كَمَا قَالَهُ قَالَ إِنَّكَ عَلَيْهِ ، أَوْ عَلَيْهَا لَجَرِيءٌ قُلْتُ فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَوَلَدِهِ وَجَارِهِ تُكَفِّرُهَا الصَّلاَةُ وَالصَّوْمُ وَالصَّدَقَةُ وَالأَمْرُ وَالنَّهْيُ

অর্থ: সাহাবী হুযায়ফা রা. বলেন, আমরা উমার রা. এর কাছে বসেছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের কে ফিৎনার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সা. এর হাদীস মুখস্ত রেখেছ? আমি বললাম, আমি, তিনি (রাসূলুল্লাহ সা.) যেভাবে বলেছেন (সেভাবে মুখস্ত রেখেছি)। উমার রা. বললেন, তুমি তো খুব সাহসী মানুষ। আমি বললাম, (রাসূল সা. বলেছেন,) পরিবার, ধন সম্পদ, সন্তান সন্ততি এবং প্রতিবেশীদের নিয়ে মানুষ যে ফিতনা বা বিপদ আপদে পড়ে নামায, রোজা, দান সদকা, সৎ কাজের আদেশ ও অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ তা দূর করে দেয়। সহীহ বুখারী, হাদীস নং হাদীস নং ৫২৫। এই বিষয়ে সহীহ ও যয়ীফ সনদে আরো অনেক হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীস থেকে স্পষ্ট যে, দান সদকা সকল প্রকার বিপদ আপদ থেকে মুক্ত রাখে। নিচের দুআটি পড়ে আপনার দাদীকে ঝাড়ফুঁক করবেন:

اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَاسَ اشْفِهِ وَأَنْتَ الشَّافِي لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৭৪২ এবং ৫৭৪৩। আরো বিস্তারিত জানতে রাহে বেলায়াত বইয়ের ৬ষ্ঠ অধ্যায় দেখুন।

প্রশ্নঃ 494
নামাজের কাতার থেকে শিশু-কিশোরদের সরিয়ে দেয়া কতটুকু সঠিক? হাঁটুর উপর কাপড় উঠে গেলে কি ওজু ভেঙে যায়?
29 Dec 2025

শিশু-কিশোররা নামাযে কোন অসুবিধার সৃষ্টি না করলে তাদেরকে কাতার থেকে বের করে দেয়া ঠিক নয়। তবে তারা নামাযের পিছনের কাতারে দাঁড়াবে বলে হাদীসে উল্লেখ আছে। হাঁটুর উপর কাপড় তুললে ওযু ভঙ্গ হবে না, কিন্তু গুনাহ হবে। কারণ হাঁটুর উপরিভাগ সতরের অন্তভূক্ত।

প্রশ্নঃ 493
যদি কোন মুসলিম ছেলে মেয়ে তাদের অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া (কোর্ট মেরেজ) বিয়ে করে তাহলে কি তাদের সাংসারিক জীবনে যেনার পাপ হবে? তাছাড়া তাদের মেলামেশার ফলে যে সন্তান হবে সেটা কি জারজ/অবৈধ বলা যাবে? দয়া করে একটু বিস্তারিত বলবেন…
29 Dec 2025

অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে সাংসারিক জীবনে অনেক অশান্তি হয়। তাই অভিভাবকের অনুমতি ব্যতিত বিবাহ করা উচিৎ নয়। হাদীসে অভিাভাবক ছাড়া মেয়েদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে।তবে একটি সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে,

الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا

প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলা তার নিজের ব্যাপারে অভিভাবক থেকে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫৪১। এই হাদীসের ভিত্তিতে অনেক ফকিহ বলেছেন, অভিভাবক ছাড়াও প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলারা বিবাহ করতে পারবে। সুতরাং যে সমাজে এই মতটি প্রচলিত সেখানে অভিভাবক ছাড়া বিয়ে হয়ে গেলে এটাকে সহীহ হয়েছে বলেই ধরে নিতে হবে। কিন্তু যাদের বিয়ে হয়নি তাদের ক্ষেত্রে অভিভাবক ছাড় বিয়ে হবে না এ কথাই বলতে হবে। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া ৪৮৮ নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 492
আসসালামু আলাইকুম হুজুর, Middle ক্লাস familyr মানুষ তাদের সেভিংস অনেক সময় ফিক্সড deposit করে রাখে ভবিষ্যতের জন্য, Islamic শরিয়াহ মতে এটা কতটুকু জায়েজ? ফিক্সড deposit এর ইন্টারেস্ট (লভ্যাংশ) দরিদ্রদের মাঝে বন্টন করে দিলে কি গুনাহ থেকে মুক্তি মিলবে? দয়া করে আমাকে এর উত্তর জানাবেন। ধন্যবাদ !
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। fixed deposit করা হারাম। সুতরাং এর থেকে বিরত থাকতে হবে। কোন কারণে হারাম সম্পদ হাতে আসলে তা সওয়াবের নিয়ত ব্যতিত দরিদ্রদেরকে দিয়ে দিতে হবে।

প্রশ্নঃ 491
আসসালামু আলাইকুম, স্যার, এক ওয়াক্ত নামায কাযা করলে ২ কোটি ৮৮ লাখ বছর জাহান্নামে থাকতে হবে। এটা কি সাহিহ?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

না, উক্ত কথা সহীহ নয়। এমন কোন কথা হাদীসে বর্ণিত নেই। তবে নামায না পড়লে কাফের হয়ে যাবে এমন কথা সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে।

প্রশ্নঃ 490
আসসালামু আলাইকুম, স্যার, অজুর আগে মেসওয়াক করে নামায আদায় করলে ৭০ গুন বেশী সাওয়াব। এটা কি সাহিহ হাদিস?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

মেসওয়াক করে নামায পড়লে ৭০গুন সওয়াব হবে মর্মে বর্ণিত হাদীসটি সহীহ নয়, যয়ীফ। তবে শায়েখ ইবনুল কায়্যুম রা. বলেছেন, মেসওয়াকের ফজিলত বিষয়ে যত হাদীস বর্ণিত হয়েছে তাতে মনে হয় এমনটি হওয়া সম্ভব। দেখুন, আলমানরুল মুনিফ, হাফেজ ইবনুল কায়্যুম।

প্রশ্নঃ 489
Assalamu Alaikum Sheikh. I would like to know keeping money in Bangladesh post sonchoy potro (tin mas ontor munafa vitik or pensioners bond)? Jazakallah
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

এটা সুদের অন্তভূক্ত। এই কাজ থেকে বিরত থাকুন।

প্রশ্নঃ 488
আমার প্রশ্ন হল -মেয়ে যদি বাবা-মাকে না জানিয়ে বিবাহ করে তাহলে বিবাহ শুদ্ধ হবে কি না?
29 Dec 2025

হাদীসে মেয়েদেরকে অভিভাবক ছাড়া বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে। সুতরাং মেয়েদের জন্য উচিৎ হবে না মা-বাবাকে না জানিয়ে বিবাহ করা।

ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের বিধান। বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামী শরীয়তে এব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাসূল সা. এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। পারিবারিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অধিকাংশ ইমাম ও ফকীহগণের নিকট ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ নেই। তবে ইমাম আবু হানীফা রহ. সহ কতিপয় ফকীহ বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে জায়েজ বলেছেন। প্রখ্যাত মালেকী ফকীহ আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে রুশদ আন্দালুসী র. বলেন,

اختلف العلماء هل الولاية شرط من شروط صحة النكاح أم ليست بشرط؟ فذهب مالك إلى أنه لا يكون النكاح إلا بولي وأنها شرط في الصحة في رواية أشهب عنه وبه قال الشافعي وقال أبو حنيفة وزفر والشعبي والزهري: إذا عقدت المرأة نكاحها بغير ولي وكان كفؤا جاز وفرق داود بين البكر والثيب فقال باشتراط الولي في البكر وعدم اشتراطه في الثيب

অর্থ: বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী শর্ত কি শর্ত নয় এই বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম মালেক র. মত পোষন করেছেন যে, ওলী ছাড়া বিবাহ হবে না। বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য (ওলী) শর্ত। এমন মতই পোষন করেছেন ইমাম শাফেয়ী রা.। ইমাম আবু হানীফা, জুফার, শাবী ও জুহরী র. বলেছেন, যদি মহিলা ওলী ছাড়া বিবাহ করবে আর স্বামী যদি তার কুফু (সর্বদিক দিয়ে যোগ্য) হয় তাহলে জায়েজ হবে। বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ২/৮(শামেলা)। এই সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন, আলমাবসুত লিস-সারখসী, ৬/৫৩; আলমাউসায়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৭/৯৪ও ৩১/৩২১; আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবা ৪/৪৫। কিতাবুল উম্ম লিশ-শাফেয়ী,৭/১৫৬। যে ইমামগন ওলী ছাড়া বিবাহ বাতিল বলেছেন তাদের দলীল: আবু মুসা আশয়ারী রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, অর্থাৎ ওলী ছাড়া বিবাহ নয়। لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِىٍّ আবু দাউদ, হাদীস নং ২০৮৭; তিরমিযী, হাদীস নং ১১০১;মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৯৭৬১। হাদীসটি সহীহ। শায়খ আরনাউত এবং আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত অন্য হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন,

أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ

অর্থাৎযে মহিলা ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করবে তার বিবাহ বাতিল। তিনি ৩ বার তা বলেছেন। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১১০২; মুসনাদে আহমাদ,হাদীস নং ২৫৩৬৫। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন আর শায়খ শুয়াইব আরনাউত সহীহ বলেছেন। উপরক্ত হাদীস সমূহের ভিত্তিতে ইমাম মালেক, শাফেয়ী, আহমাদ র. সহ অধিকাংশ আলেম ওলী ছাড়া বিবাহকে বাতিল বলেছেন। যে সব ইমাম ও ফকীহ ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ বলেছেন তাদের দলীল: তাবেঈদের মধ্যে ইমার জুহরী ও শাবী এরপরে ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ, মুহাম্মাদ, জুফার সহ কিছু সংখক মুজতাহিদ কিছু শর্ত সাপেক্ষে ওলী ছাড়া বিবাহ কে জায়েজ বলেছেন। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১.কুফু হতে হবে। ২.মেয়েটি বালেগা, বুঝমান হতে হবে। আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবায়া, ৪/৪৫; আলমাবসুত লিস-সারাখসী,৬/৬১ ও ৫/১৬। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

فلا جناح عليكم فيما فعلن في أنفسهن بالمعروف

অর্থাৎ মহিলারা নিজেদের ব্যাপারে সৎ ভাবে যা করবে (বিয়ের ক্ষেত্রে) সে বিষয়ে তোমাদের কোন দোষ নেই। সূরা বাকারাহ-২৩৪ অন্য এক আয়াতে তালাক সম্পর্কে আলোচনার এক পর্যায়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

تنكح زوجا غيره. حتى

অথাৎ যতক্ষন না তারা অন্য স্বামীকে বিবাহ না করে। সূরা বাকারাহ-২৩০। অন্য প্রসংগে আল্লাহর বাণী,

فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ

অর্থাৎ তোমরা তাদেরকে তাদের স্বামীদের কে বিবাহ করা থেকে বাধা দিবে না। সূরা বাকারাহ-২৩২ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন,

الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا

অর্থাৎ মেয়েরা ওলীদের চেয়ে নিজের ব্যাপারে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৪২১। الأيم অর্থ স্বামীহীন মহিলা, পূর্বে স্বামী থাকুক বা না থাকুক। আলমজামুল ওয়াসীত। বর্তমান সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৌদী আলেম শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আলমুনজিদ ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের ক্ষেত্রে বলেছেন,

المسألة اجتهادية ، واختلف فيها الأئمة ، فإنه إذا كان أهل بلد يعتمدون المذهب الحنفي كبلادكم وبلاد الهند وباكستان وغيرها ، فيصححون النكاح بلا ولي ، ويتناكحون على هذا ، فإنهم يقرّون على أنكحتهم ، ولا يطالبون بفسخها

অর্থাৎ এটি একটি ইজতিহাদি মাসআলা, ইমামগণ এক্ষেত্রে ইখতিলাফ করেছেন। সুতরাং যে সব দেশের মানুষেরা হানাফী মাজহাবের উপর নির্ভর করে, ওলী ছাড়া বিবাহবে বৈধ মনে করে এবং এভাবে তাদের বিয়ে হয় যেমন, ভারত, পাকিস্থান ইত্যদি, তাহলে তাদের বিবাহের স্মীকৃতি দেয়া হবে । বাতিল করতে বলা হবে না। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, শরীয়তে বিবাহে মেয়েদের জন্য ওলী থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণভাবে যৌবনের শুরুতে যুবক-যুবতী সহজেই বয়সের উন্মাদনায় বিভ্রান্ত হয় এবং নিজের চোখের ভাল লাগার উপর নির্ভর করেই সঙ্গী পছন্দ করে। বিবাহের ক্ষেত্রে চোখের পছন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবন ও আগত প্রজন্মের কল্যাণের কথাও চিন্তা করতে হবে। এজন্য ইসলামে বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর মতমতের সাথে অভিভাবকের মতামতেরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সুতরাং মেয়েদের জন্য আবশ্যক হলো ওলীর অনুমতি নিয়ে বিবাহ করা। আর আমাদের উচিৎ বিবাহের সময় মানুষদের কে ওলীর অনুমতির বিষয়ে উৎসাহিত করা,ওলী ছাড়া বিয়ে করতে নিষেধ করা এবং ওলী থাকার কল্যান বর্ণনা করা। যারা ইতিমধ্যে ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করেছে তাদের বিষয়ে কথা হলো যেহেতু তারা একটি ফিকহী মত গ্রহন করেছেন আর বিষয়টি ইজতিহাদী এবং ইখতিলাফী তাই তাদেরকে নতুন করে বিবাহ করতে হবে না। তবে এই ঘৃনিত কাজের জন্য তাদের লজ্জিত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 487
আস সালামুআলাইকুম : ১. জুমার ২ রাকাত ফরয নামাযের আগে আমরা যে ৪ রাকাআত কাবলাল জুমা পরি এটা কি সাহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত? ২. আমাদের মসজিদে অনেক মুমিন ভাইকে বলতে শুনি ৪ রাকাআত বাদাল জুমা না পড়লে গুনাহ হবে এটা কতটুকো সত্য?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

রাসূলুল্লাহ সা. জুমুআর ফরজ সালাতের পূর্বে সুন্নাত সালাত আদায়ের জন্য বলেছেন। সহীহ বুখারীর এই হাদীসটি লক্ষ করুন:

عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَتَطَهَّرَ بِمَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ ثُمَّ ادَّهَنَ ، أَوْ مَسَّ مِنْ طِيبٍ ثمَّ رَاحَ فَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ اثْنَيْنِ فَصَلَّى مَا كُتِبَ لَهُ ثُمَّ إِذَا خَرَجَ الإِمَامُ أَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الأُخْرَى

সালমান ফারসী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন ভালভাবে গোসল করে তেল বা সুগন্ধি ব্যবহার করে (মসজিদে) গমন করবে অতঃপর (মসজিদে) কাউকে না ডিঙিয়ে সাধ্যানুযায়ী নামায পড়বে এবং যখন ইমাম খুতবা দেয়ার জন্য বের হবে তখন চুপ করে তা শুনবে, তার এক জুমুআ থেকে অপর জুমুআর মাঝের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯১০। এই হাদীসে রাকআত সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয় নি। আলেমগণ বলেছেন দুই রাকআত থেকে শুরু করে যত ইচ্ছা পড়বে, যত বেশী পড়বে সওয়াব ততো বেশী হবে। রাকআত সংখ্যার ব্যাপারে বিভিন্ন সাহবী থেকে বিভিন্ন সংখ্যা বর্ণিত আছে। দুই রকআত. চার রাকআত ইত্যাদি। চার রাকআতের বিষয়ে নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন:

عبد الرزاق عن الثوري عن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن السلمي قال كان عبد الله يأمرنا أن نصلي قبل الجمعة أربعا وبعدها أربعا حتى جاءنا علي فأمرنا أن نصلي بعدها ركعتين ثم اربعا.

অর্থ: ( তাবেঈ) আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী বলেন, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে জুমুআর পূর্বে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর আলী রা. আমাদেরকে জুমুআর পর প্রথমে দুই রাকআত এরপর চার রাকআত পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুসান্নাফু আব্দুর রায্যাক, হাদীস নং ৫৫২৫। এই হাদীসটির বিষয়ে শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন,

وهذا سند صحيح لا علة فيه

অর্থ: এটা সহীহ সনদ, তাতে কোন সমস্যা নেই।সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, ১০১৬ নং হাদীসের আলোচনা। উক্ত সহীহ হাদীসটি দ্বারা আমারা জানতে পারলাম যে, প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. চার রাকআত ক্ববলাল জুমুয়া পড়ার আদেশ দিয়েছেন। উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা আমরা বুঝলাম যে, জুমুআর আগে নামায সুন্নাত, তবে রাসূলুল্লাহ সা. থেকে রাকআত সংখ্যা বিষয়ে কোন কিছু বর্ণিত হয়নি। সুতরাং যে যতটুকু ইচ্ছা করে ততোটুকু পড়তে পারে। একজন সাহবী থেকে চার রাকআত পড়ার নির্দেশ এসেছে তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় চার রাকআতও পড়া যায় এবং এটাও সুন্নাত। জুমুআর পরে সুন্নত নামায সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত। সুতরাং জুমুআর পরে নামায পড়া সুন্নাত। আমাদেরকে সুন্নাতের অনুস্বরণ করতে হবে।

প্রশ্নঃ 486
আস সালামুআলাইকুম, বিড়াল ক্রয় বিক্রয় জায়েজ কি না? জাজাকাল্লাহুখিরান।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

এই বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ বিদ্যমান।আলেমদের অনেকেই জায়েজ বলেছেন। কিন্তু সহীহ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. কুকুর, বিড়াল ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪০৯৮। তবে পাহার বা এ জাতীয় কোন প্রয়োজনে ক্রয়-বিক্রয় জায়েজ বলে মনে হয়।

প্রশ্নঃ 485
মুহতারামঃ আসসালামুয়ালাইকুম। আমার প্রশ্ন হল মহিলারা হায়েয অবস্থায় শোবার সময় সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস পরে শরির মাসাহ করতে পারবে কিনা? যাযাকুমুল্লাহ।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

অধিকাংশ আলেমের মতে হায়েজ ও নিফাসের সময় কুরআন পড়া বৈধ নয়। তবে দুআ ও জিকির হিসাবে পড়াকে তারা জায়েজ বলেছেন। যেহেতু শোবার সময় শরীর মাসেহ করার জন্য সূরাগুলো পড়া হয় দুআ হিসাবে তাই নাজায়েজ হবে না।

প্রশ্নঃ 484
আমি কিভাবে আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের সকল অডিও ভিডিও পেতে পারি?
29 Dec 2025

আপনি দু’ভাবে পেতে পারেন। সরাসরি আমাদের এখানে এসে অথব ইউটিউবের মাধ্যমে। এছাড়া আমাদের ওয়েবসাইডেও অডিও ভিডিও নামে দুটা জায়গা আছে। ওখান থেকেও পেতে পারেন।

প্রশ্নঃ 483
আসসালামু আলাইকুম, ১. ওমরার সম্পূর্ণ নিয়ম কি (সফরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত)? ২. প্রতি চক্কর (তাওয়াফ) এর সময় কি আলাদা আলাদা দোয়া পরতে হয়।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

উমরা আদায়ের নিয়মঃ ক) মক্কায় প্রবেশের পর মিকাত থেকে ইহরাম করে মক্কা পৌঁছানর পরে গোছল করা মুসাহাব, কারণ রাসুলুল্লাহ (সঃ) তা করেছিলেন। এরপর মসজিদে প্রবেশ করিয়ে বলবেনঃ

بسم الله والصلاة والسلام على رسول الله، أعوذ بالله العظيم وبوجهه الكريم، وسلطانه القديم، من الشيطان الرجيم، اللهم افتح لى أبواب رحمتك.

বিসমিল্লাহ, ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহর উপর দরুদ ও সালাম। আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে মহান আল্লাহর, তাঁর সম্মানিত চেহারা, তাঁর অনাদি ক্ষমতার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ আপনি আমার জন্য আপনার রহমতের – কল্যাণের দরজাগুলো খুলে দিন। খ) তাওয়াফের নিয়মঃ – কাবাঘরের কাছে পৌঁছে উমরা পালনকারী তালবিয়া (লাব্বাইকা…) পাঠ বন্ধ করবেন। এরপর হাজরে আসওয়াদের (কাল পাথরের) কাছে পৌঁছে সম্ভব হলে بِسْمِ اللهِ وَاللهُ أَكْبَرُ. বিসমিল্লাহি ওয়া আল্লাহু আকবার বলে তাতে হাত দিয়ে স্পর্শ করবেন এবং চুমু দিবেন। ভীড় থাকলে ঠেলাঠেলি করে মানুষকে কষ্ট দেয়া ঠিক হবেনা। বরং সম্ভব হলে শুধুমাত্র হাত দিয়ে বা লাঠি দিয়ে স্পর্শ করবেন এবং হাতে বা লাঠিতে চুমু দিবেন। যদি তাও সম্ভব না হয় তাহলে দুর থেকে হাত দিয়ে اللهُ أَكْبَرُ আল্লাহ আকবার বলে ইশারা করবেন, ঈশারা করার পর হাতে চুমা খাবেন না। – এরপর কাবা শরীফকে বামে রেখে তাওয়াফ শুারু করবেন। – রুকনে ইয়েমানী বা কাবাঘরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে পৌঁছানর পর সম্ভব হলে بِسْمِ اللهِ وَاللهِ أَكْبَرُবিসমিল্লাহি ওয়া আল্লাহ আকবার বাاللهُ أَكْبَرُ আল্লাহ আকবার বলে রুকনে ইয়েমানীকে স্পর্শ করবেন। তাকবীল একবারই বলতে হবে। ভীড়ের কারণে রুকনে ইয়েমানী স্পর্শ করা সম্ভব না হলে স্বাভাবিক ভাবে তাওয়াফ করে এগিয়ে যাবেন। হাত দিয়ে রুকনে ইয়েমানীর দিকে ঈশারা করার দরকার নেই, হাদীসে তা বলা হয়নি। – তাওয়াফ করার সময়ে কোন নির্দিষ্ট দোয়া নেই। কাজেই তওয়াফ কারা কালীন কুরআন তিলাওয়াত, বা তাসবীহ-তাহলীল বা জিকির করতেন পারেন, বা যে কোন ভাষায় যে কোন দোয়া করতে পারেন। শুধুমাত্র প্রতি চক্করের শেষে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর শেখান নীচের দোয়া বলবেনঃ

 [البقرة ২০১] رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّار

রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতান, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতান, ওয়া ক্কিনা আযাবান নার। হে আমাদের প্রভু, পামাদেরকে দুনিয়ার (পার্থিব) জীবনে কল্যাণ ও মঙ্গল দান কারন, পরকালের জীবনকে কল্যাণ ও মঙ্গলময় করুন এবং আমাদেরকে দোযখের শাস্তি থেকে রক্ষ করুন। এই তাওয়াফের সময় কেবল পুরুষদের জন্য নিচের দুটি বিষয় সুন্নাতঃ ১) ইদতিবা অর্থাৎ গায়ে জড়ান চাদরের মধ্যভাগ ডান বগলের নিচে রেখে দুই প্রান্ত বাম কাঁধের উপরে রাখা। এতে ডান কাঁধ খোলা থাকবে। সাত চক্কর তাওয়াফের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এভাবে করা সুন্নাত। তবে তাওয়াফ ছাড়া অন্য সময়ে ইদতিবা করবেন না, স্বাভাকিব ভাবে দুই কাঁধ ঢেকে চাদর পরবেন। বিশেষতঃ নামাজের সময়ে অবশ্যই দুই কাঁধ ঢেকে রাখবেন। ২) রমল, অর্থাৎ দৌড়ানর ভঙ্গিতে ছোট পদক্ষেপে তাওয়াফ করা। সাত চক্করের মধ্যে শুধু প্রথম ৩ চক্করে রমল করতে হবে। বাকী ৪ চক্করে স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন। – ৭ চক্কর তাওয়াফের পর সম্ভব হলে মাকামে ইব্রাহীমের পিছনে, অথবা হারামের যে কোন স্থানে ২ রাকাত নামায আদায় করবেন। প্রথম রাকাতে সুরা কাফিরুন ও দ্বিতীয় রাকাতে কুল হুয়াল্লাহ আহাদ সরা পড়া সুন্নাত। – নামাযের পর সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদে ডান হাত দিয়ে তা স্পর্শ করা সুন্নাত। এরপর সায়ী করার জন্য সাফার দিকে যাবেন। গ) সায়ী করার নিয়মঃ সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে করণীয়ঃ – সম্ভব হলে সাফা পাহাড়ের উপরে ওঠা উত্তম, অসুবিধা হলে এর পাদদেশে দাঁড়াবেন এবং নিচের আয়াতটি পড়বেনঃ

 [البقرة ১৫৮] إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ.

ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআইরিল্লাহ, ফামান হাজ্জাল বাইতা আওইতামারা ফালা জুনাহা আলাইহি আঁইয়াত্তাওয়াফা বিহিমা ওয়ামান তাতওয়াআ খাইরান ফাইন্নাল্লাহা শাকিরুন আলীম। নিশ্চয় সাফা এবং মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন সমুহের অন্তর্ভুক্ত, কাজেই যে ব্যক্তি হজ্জ বা উমরা করবে তাঁর জন্য এদুয়ের মাঝে সায়ী করা অনুচিত হবে না। আর যদি কেউ বেশী করে ভাল কাজ করে তাহলে আল্লাহ কৃতজ্ঞ ও জ্ঞানী। – এরপর মুস্তাহাব হল কিবলামুখি হয়ে বলবেঃ الحَمْدُ لِلّهِ اللهُ أَكْبَرُ আলহামদু লিল্লাহ আল্লাহু আকবার। এরপর বলবেঃ

لَاإلَهَ إلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ. لَا إِلَهَ إلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَاشَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الًمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِيْ وَيُمِيْتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٌ. لَا إلَهَ إِلَّا اللهُ، وَحْدَهُ، أَنْجَزَ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ.

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলক, ওয়ালাহুল হামদু, ইয়ুহয়ী ওয়া ইয়ুমীতু, অহুয়া আলা কুাল্লি শাইয়িন কাদীর। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু, আনজাযা ওয়াদাহু, ওয়া নাসারা আবদাহু, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু। অর্থাৎঃ আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ, নেই তিনি একক, তাঁর কোন শরীক বা অংশীদার নেই। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসা তাঁরই, তিনিই জীবন দেন, মৃত্যু দেন এবং তিনি সর্বশক্তিমান। আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তিনি একক, তিনি তাঁর ওয়াদা বাস্তবায়িত করেছেন,তাঁর বান্দাকে বিজয়ী করেছেন এবং তিনি একাই সকল বিরোধী শক্তিকে পরাজিত করেছেন। এরপর হাত তুলে ইচ্ছামত আল্লাহর কাছে দোয়া চাইবেন। সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ীর সময়ে করণীয়ঃ – সাফা থেকে নেমে হেঁটে মারওয়ার দিকে যেতে হবে সবুজ চিহ্ণের কাছে এলে পুরুষেরা দৌড়াবেন দ্বিতীয় সবুজ চিহ্ণ পর্যন্ত। এরপর স্বাভাবিকভাবে হেঁটে মারওয়া পাহাড়ে পৌঁছে উপরে বর্ণিত তাকবীর, তাহলীল ও দোয়ার পর সেখান থেকে সাফার দিকে এগোতে হবে। মহিলারা সর্বদা স্বভাবিকভাবে হাঁটবেন, তাদের জন্য দৌড়ান সুন্নাত নয়। – সাফা থেকে মারওয়া পর্যন্ত গেলে এক বার সায়ী হয়, আবার মারওয়া থেকে সাফা গেলে আরেক সায়ী হয়। এভাবে ৭ বার সায়ী করতে হবে। এতে সাফা থেকে শুরু হবে এবং মাওয়াতে গিয়ে শেষ হবে। – সায়ী করার সময় যত বেশী সম্ভব দোয়া ও যিকর করা উচিত। এছাড়া ওজু অবস্থায় সায়ী করা উচিত। তবে ওজু ছাড়াও সায়ী জায়েজ হবে, কিন্তু তাওয়াফ ওজু ছাড়া হবেই না। ঘ) সায়ীর পরে করণীয়ঃ ৭ বার সায়ী করার পর পুরুষেরা মাথা টাক করাবেন, অথবা চুল ছাঁটাবেন। পুরুষদের জন্য টাক করা উত্তম। তামাত্তু কারীর জন্য ছাঁটানো উত্তম, তিনি হজ্জের পরেটাক করবেন। টাক করা বা ছাঁটনো উভয় ক্ষেত্রেই পুরো মাথার চুল কাটতে বা ছাঁটতে হবে। আংশিক ছাঁটানো বা কাটানো জায়েজ নয়। মেয়েরা সর্বাবস্থায় নখ পরিমাণ চুল ছাঁটবেন।

প্রশ্নঃ 482
সারে সাত ভরি স্বর্ণের কম হলেও কি যাকাত দিতে হবে..? আর আমরা তো জানি যে কারো কাছে যদিসারে সাত ভরি স্বর্ণ থাকে এবং এগুলো এক বছর অতিক্রম করে তখন তাঁর যাকাত দিতে হয়,,, প্লীজ একটু বুঝিয়ে বলবেন,, যাঝাকাল্লাহ খাইর
29 Dec 2025

যাকাতের ক্ষেত্রে স্বর্ণের নিসাব হলো স্বর্ণ সাড়ে সাত ভরি হতে হবে। এবং এক বছর থাকতে হবে। এর কম হলে স্বর্ণের যাকাত দিতে হবে না।

প্রশ্নঃ 481
১. ইমাম সাহেব সুন্নাত সালাত (ফজর, যোহর এর সুন্নাত) আদায় না করে কি ফরয সালাতের ইমামতি করতে পারবেন না? দেখা যাচ্ছে ইমাম সাহেব যখন আসলেন তখন সুন্নাত সালাত আদায় এর জন্য পর্যাপ্ত সময় নাই। অর্থাৎ জামাতের সময় হয়ে গেছে। ২. কোন কারনে ইমাম সাহেবের এক ওয়াক্ত বা কয়েক ওয়াক্ত নামায কাযা হয়ে গেছে এবং তার এই কাযা নামায আদায় করা হয় নি। এমতাবস্থায় কি তিনি অন্য ওয়াক্তের নামাযের ইমামতি করতে পারবেন? অর্থাৎ কাযা নামায ব্যতিরেকে কি অন্য ওয়াক্তের নামাযের ইমামতি করা যায়?
29 Dec 2025

ইমাম সাহেব সুন্নাত সালাত না পড়লেও সালাতে ইমামতি করতে পারবেন। কোন সমস্যা নেই। কাজা নামায ব্যতিরেকে অন্য ওয়াক্তের নামাযের ইমামতিতে কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 480
আস সালামু আলাইকুম, স্যার ১. পহেলা বৈশাখ এ মঙ্গল শোভাযাত্রায় যে মূর্তিগুলো আনা তা হয় তা পূজার উদ্দেশ্যে নয় বা এই মূর্তিগুলো থেকে কিছু চাওয়ার আশাও করা হয় না বরং মিত্র পক্ষ এবং শত্রু পক্ষের চিহ্ন হিসাবে ব্যবহার করা হয় তথাপিও এই শোভাযাত্রায় অংশগ্রহন করা শিরক কেন? ২. পহেলা বৈশাখ বা অন্যান্য সময়ে যে কোন ধরনের মুখোশ ব্যবহার করাই কি হারাম? যদি কেউ যুদ্ধের সময় কোন পশুর মুখোশ বা শিরস্ত্রানে শিং বা এই জাতীয় কিছু ব্যবহান করে, সেটা কি হারাম হবে?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

১. প্রথমত, শোভাযাত্রায় মঙ্গল হয় এই বিশ্বাস কুফরী। এটা শিরকী চিন্তা। মঙ্গলের মালিক আল্লাহ তায়ালা। শোভযাত্রার মাধ্যমে মঙ্গল হয় এটা বস্তু পূজার অন্তর্ভূক্ত। দ্বিতীয়ত, মূর্তিগুলোর কাছে চাওয়া হয় না, পূজা করা হয় না, এটা একশতভাগ ঠিক কিন্তু এটা হিন্দুদের ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ, তাই এটা হারাম হবে। বিধর্মীদের ধর্মের সাথে সাদৃশ্য হয় এমন যে কোন কিছু হারাম। এছাড়া হাদীসে আমরা যে কোন ধরনের প্রাণীর মূর্তি থেকে বিরত থাকার কথা দেখতে পায় । নিচের হাদীসগুলো লক্ষ করুন:

১.عَنْ أَبِى الْهَيَّاجِ الأَسَدِىِّ قَالَ قَالَ لِى عَلِىُّ بْنُ أَبِى طَالِبٍ أَلاَّ أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- أَنْ لاَ تَدَعَ تِمْثَالاً إِلاَّ طَمَسْتَهُ وَلاَ قَبْرًا مُشْرِفًا إِلاَّ سَوَّيْتَهُ

অর্থ: হযরত আবী হায়্যায র. বলেন, আমাকে আলী রা. বললেন, আমি কি তোমাকে এমন একটি বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করব না যে বিষয়ে রাসূল সা. আমাকে উৎসাহিত করেছেন? সেটা হলো তুমি দেখা মাত্র মূর্তি ভেঙ্গে ফেলবে আর উঁচু কবর সমান করে দিবে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৮৭।

২.قَالَ عَمْرُو بْنُ عَبَسَةَ السُّلَمِىُّ فَقُلْتُ وَبِأَىِّ شَىْءٍ أَرْسَلَكَ قَالَ ্র أَرْسَلَنِى بِصِلَةِ الأَرْحَامِ وَكَسْرِ الأَوْثَانِ وَأَنْ يُوَحَّدَ اللَّهُ لاَ يُشْرَكُ بِهِ شَىْءٌ

অর্থ: হযরত আমর ইবনে আবাসাহ আস-সুলামী রা. বলেন আমি রাসূল সা. কে বললাম, আল্লাহ তায়ালা কি দায়িত্ব দিয়ে আপনাকে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন, তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখার জন্য, মূর্তিভাঙ্গার জন্য আর আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠার জন্য যে, তার সাথে কাউকে শরীক করা হবে না। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৯৬৭।

৩.أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- ্র أَتَانِى جِبْرِيلُ فَقَالَ إِنِّى كُنْتُ أَتَيْتُكَ الْبَارِحَةَ فَلَمْ يَمْنَعْنِى أَنْ أَكُونَ دَخَلْتُ عَلَيْكَ الْبَيْتَ الَّذِى كُنْتَ فِيهِ إِلاَّ أَنَّهُ كَانَ فِى بَابِ الْبَيْتِ تِمْثَالُ الرِّجَالِ وَكَانَ فِى الْبَيْتِ قِرَامُ سِتْرٍ فِيهِ تَمَاثِيلُ وَكَانَ فِى الْبَيْتِ كَلْبٌ فَمُرْ بِرَأْسِ التِّمْثَالِ الَّذِى بِالْبَابِ فَلْيُقْطَعْ فَيَصِيرَ كَهَيْئَةِ الشَّجَرَةِ وَمُرْ بِالسِّتْرِ فَلْيُقْطَعْ وَيُجْعَلْ مِنْهُ وِسَادَتَيْنِ مُنْتَبَذَتَيْنِ يُوَطَآنِ وَمُرْ بِالْكَلْبِ فَيُخْرَجْ فَفَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- وَكَانَ ذَلِكَ الْكَلْبُ جَرْوًا لِلْحَسَنِ أَوِ الْحُسَيْنِ تَحْتَ نَضَدٍ لَهُ فَأَمَرَ بِهِ فَأُخْرِجَ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَفِى الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَأَبِى طَلْحَةَ

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, আমার নিকট জিব্রীল আ. এসে বললেন, একটু আগে আমি আপনার কাছে এসেছিলাম কিন্তু আপনার কাছে আপনার ঘরে আমাকে প্রবেশ করতে বিরত রেখেছিল ঘরের দরজায় থাকা মানুষের প্রতিমূতি, ঘরের ভিতরে থাকা ছবি যুক্ত পর্দা এবং কুকুর। সুতরাং আপনি দরজায় থাকা প্রতিমূর্তির ব্যাপারে নির্দেশ দিন যেন কেটে ফেলা হয় তখন সেটা গাছের আকৃতির মত হয়ে যাবে। আর পর্দার ব্যাপারে নির্দেশ দিন যেন তা কেটে ফেলা হয় এবং পাপোশ বানানো হয়। আর কুকুরটিকে বের করতে বলেন। তখন রাসূল সা. তা করলেন। আর কুকুরটি ছিল হাসান বা হুসাইনের, সেটি তাদের খাটের নিচে ছিল। তিনি তা বের করার নির্দেশ দিলেন আর তা বের করা হল। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৮০৬।

ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ আর শাইখ আলবানী বলেছেন, সহীহ। এই হাদীসটিতে সুস্পষ্ট যে ইবাদতের নিয়তে কিংবা ভ্রান্ত বিশ্বাস ছাড়াও কোন মূর্তি বা পুতুল রাখা যাবে না। কেননা উক্ত ঘরে কোন মূর্তি ইবাদতের জন্য বা ভ্রান্ত বিশ্বাসে যে রাখা হয়নি এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। উপরের হাদীসগুলোর ভিত্তিতে আলেমগণ একমত যে, যে কোন প্রাণীর এবং মানুষের যে কোন ধরনের পুতুল বা মূর্তি হারাম এবং শিরকের অন্তভূক্ত। তৃতীয়ত, শত্রু ও মিত্র পক্ষের চিহ্ন হিসাবে মূর্তি ব্যবহার করা এটা হিন্দুদের ধর্মের অংশ। কারণ হিন্দু ধর্ম মতে, অশুভ শক্তির বিনাশ আর ধর্ম রক্ষায় যুগে যুগে দেবতাদের আবির্ভাব হয়েছে। তেমনি অসুর কূলের হাত থেকে দেবগণকে রক্ষায় দেবী দুর্গার আগমন ঘটে। পৃথিবীতে যখনই ধর্মের গ্লানি হয় এবং পাপ বৃদ্ধি পায় তখনই দেবতারা শরীর ধারণ করে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন। তেমনি অসুর শক্তির হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে দেবতাদের তেজরশ্মি থেকে আবির্ভূত হন দেবী দুর্গা। অসুরদের অত্যাচারে দেবতাদের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। ব্রহ্মার বর পেয়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল অসুররাজ মহিষাসুর। যুদ্ধে অসুর বাহিনীর কাছে পরাস্ত হয়ে সিংহাসন হারিয়েছিলেন দেবতা ইন্দ্র। স্বর্গে দেবতাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। সমস্যার সমাধানের জন্য ভগবান বিষ্ণুর দ্বারস্থ হন দেবতারা।

কিন্তু মহিষাসুরকে রুদ্ধ করার কৌশল খুঁজে পাচ্ছিলেন না কেউই। কারণ ব্রহ্মার বর অনুযায়ী কোনো পুরুষ বা দেবতারা মহিষাসুরকে বধ করতে পারবে না। সেই কারণেই অসুর নিধনে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরের তেজ থেকে জন্ম হয় মহামায়ার। ইনিই দুর্গা। একজন দেবতা দুর্গাকে অস্ত্র দিলেন, অন্যজন দিলেন বাহন। এরপর যুদ্ধে দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করেন। (দৈনিক আমাদের সময় ১২-১০-২০১৫ইং) অর্থাৎ হিন্দুদের দেবতাদের শত্রু অসুর তথা অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে অসুরদের থেকে দেবতাদের রক্ষা করেন দেবী দুর্গা। এই কারণেই হিন্দুরা দেবী দুর্গার পূজা করেন।এখন আপনি চিন্তা করুন, শত্রু ও মিত্র পক্ষের চিহ্ন হিসাবে মূর্তি ব্যবহার করাকে আপনি কি বলবেন? এটা সুস্পষ্ট শিরক। ২। প্রয়োজনে মুখোশ ব্যবহার করা জায়েজ। যুদ্ধের ময়দানে মানুষের মুখোশ পরা যেতে পারে। কিন্তু প্রাণীর সাথে সাদৃশ্য এমন কোন মুখোশ পরা যাবে না। উপরের হাদীসগুলো থেকে স্পষ্ট।সাহাবীগণ এমন শিংসহ মুখোশ পরেছেন বলে জানা যায় না। পহেলা বৈশাখ শত শত বছর ধরে পালন হয়ে আসছে কিন্তু বৈশাখী পূজা শুরু হয়েছে অল্প কিছু দিন।আরো জানতে পড়ুন, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের লেখা প্রবন্ধ পহেলা বৈশাখ। ইন্টারনেট থেকেও পড়া যাবে আবার খুতবাতুল ইসলাম বই থেকেও পড়া যাবে। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 479
1) May I recite Tashahud out of prayer to send Salam to Prophet Mohammad? 2) Is Arabic month Rojob better than Shobe Qodor? 3) Suggest me a Bangla Islamic Book where I can get Duas for day- night and Dua after salat Thank You in advance
29 Dec 2025

১। সালাতের বাইরে সালাম পাঠানোর জন্য তাশাহুদু পড়ার কথা কোন হাদীসে নেই। আপনি অন্যভাবে সালাতের বাইরে রাসূলুল্লাহ সা. এর উপর সালাম পাঠাবেন।

২। না, রজব মাস শবে কদর থেকে উত্তম নয়।

৩। আপনি সালাতের পরে দুআ ও জিকির বিষয়ে এবং অন্যান্য দুআ ও জিকির সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ন, আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত রাহে বেলায়ত বইটি।

প্রশ্নঃ 478
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ, আমার এক রক্ত সম্পর্কীয় আত্নীয় হযরত উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নিয়ে বাজে ধারনা পোষণ করেন। তাকে জীবিত অবস্থায় ১০ জন সাহাবীর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্তির হাদীসটি দেখিয়ে সতর্ক করলে তিনি এই হাদীসের ব্যাপারে আমার মনে সংশয় সৃষ্টির চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে বুখারী ও মুসলিমে উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে জান্নাতী হিসেবে যে সব হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো তার সামনে পেশ করি। তখন তিনি দাবী করেন হাদীস হচ্ছে শুধুমাত্র কুরআনের ব্যাখ্যা, কুরআনের ব্যাখ্যা দেয়া ছাড়াও নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনে অসংখ্য কথা বলেছেন, অসংখ্য কাজ করেছেন। এগুলো হাদীসের অন্তর্গত নয়। তিনি বলেন উসমানকে (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) জান্নাতী হিসেবে ঘোষনা করা আল্লাহর কোনো মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হয়ে থাকতে পারে। যেমন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রুমা কূপ খননের জন্য উসমানকে (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) অনুরোধ করলে তিনি তা রাখেননি। কিন্তু পরবর্তীতে যখন এই কুপ খননকারীর জান্নাত প্রাপ্তির ঘোষনা দেন তখন উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) কুপ খনন করে দেন। পরিশেষে তিনি এই কথা বলেন যে যদি উসমান জান্নাতে যায় তাহলে জাহান্নামে যাওয়ার মত মানুষ থাকবে না আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এই ব্যাক্তির সাথে রক্ত সম্পর্কীয় আত্নীয়তা, সামাজিক ও অন্যান্য সম্পর্ক রক্ষার ব্যাপারে কি করণীয়? তার সাথে আমি কিরূপ আচরণ করবো? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন। জাঝাকুমুল্লাহু খাইরান।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

আপনার আত্মীয়কে প্রশ্ন করুন, তিনি কুরআন বিশ্বাস করেন কি না? তিনি কি কুরআনকে অধিক নির্ভরযোগ্য মনে করেন না ইতিহাসকে? মহান আল্লাহ কুরআন কারীমে বলেছেন:

وَالسَّابِقُونَ الأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُم بِإِحْسَانٍ رَّضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُواْ عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ

প্রথম অগ্রগামী মুহাজিরগণ ও আনসারগণ, এবং যারা তাদের সুন্দরভাবে অনুসরণ করেছে আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট এবং আল্লাহ তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাত…। (সূরা তাওবা: ১০০ আয়াত) কুরআনের এ আয়াতটি নিশ্চিত করে যে, খাদিজা, আলী, আবূ বকর, উসমান, যুবাইর ইবনুল আওয়াম ও অন্যান্য সকল মুহাজির সাহাবী যারা প্রথম অগ্রগামী হিসেবে ইসলাম গ্রহণ করেন তাঁদের উপর আল্লাহ সন্তুষ্ট এবং তাঁদের জন্য আল্লাহ জান্নাত প্রস্তুত করে রেখেছেন। কুরআনের এ সাক্ষ্যর পরেও যে ব্যক্তি তার জান্নাতী হওয়ায় সন্দেহ পোষণ করেন তিনি মূলত কুরআনের বাণীকেই বিশ্বাস করেন না। যারা বিশ্বাস করেন যে, আলী বংশের একজন ইমাম বা পীরের সাহচর্যে যেয়ে একজন মানুষ এক দিনেই বড় বুজুর্গ হয়ে যেতে পারে, অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে দীর্গ ২৩ বৎসর জীবন কাটিয়েও সাহাবীগণ ঈমান শিখতে পারেন নি তিনি মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেই অবমাননা করেন। শীয়া মতবাদ অনুসারে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যর্থ নবী ছিলেন মুহাম্মাদ (সা.)! নাউযু বিল্লাহ! তিনি দীর্ঘ ২৩ বছর জীবনপাত করেও মাত্র এক ডজনের বেশি মানুষকে ঈমান শেখাতে পারেন নি। উসমান (রা) বা অন্যান্য সাহাবীদের বিরুদ্ধে বর্ণিত ঘটনাবলি সবই তাঁদের মৃত্যুর প্রায় ১৫০/২০০ বছর পরে জনশ্রুতি নির্ভর ঐতিহাসিক বর্ণনার মাধ্যমে লিপিবদ্ধ। প্রায় সকল বর্ণনায় শীয়া ঐতিহাসিকদের বর্ণনা বা সংকলন। নিম্নের বিষয়গুলো লক্ষ্য করুন: নিম্নের বিষয়গুলো লক্ষ্য করুন: রাসূলুল্লাহ সা.-এর পরিজন ও বংশধরের প্রতি এ ভালবাসা ও ভক্তি কখনোই তাঁর সহচর ও সাহাবীগণের প্রতি ভালবাসার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কিন্তু শীয়াগণ পরিবার ও বংশধরের ভালবাসার নামে সাহাবীগণের প্রতি বিদ্বেষ, ঘৃণা ও কুৎসা রটনায় লিপ্ত হয় এবং সাহাবীগণের প্রতি বিদ্বেষকে ঈমানের অংশ বানিয়ে নেয়। তারা ইহূদীদের ষড়যন্ত্রে বিভ্রান্ত হয়ে সাহাবীগণকে ইসলামের শত্র বলে গণ্য করে। তারা নবী-পরিবারের ভালবাসাকে সাহাবীগণের ভালবাসার পরিপন্থী বলে গণ্য করে। এ বিষয়ে অগণিত মিথ্যা তারা প্রচার করে। গত কয়েক শতাব্দী যাবত পাশ্চাত্য-প্রাচ্যবিদগণও সাহাবীগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন। এ সকল প্রচারের একটিই উদ্দেশ্য: ইসলামের মর্মমূলে আঘাত করা ও ইসলামের সৌধকে ভেঙ্গে ফেলা। সাহাবীগণের সততা প্রশ্নবিদ্ধ হলে ইসলামের সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়; কারণ কেবলমাত্র তাঁদের মাধ্যমেই ইসলাম প্রচারিত হয়েছে। সাহাবীগণের সততায় অবিশ্বাস করার অর্থ রাসূলুল্লাহ সা.-এর নবুওয়ত অবিশ্বাস করা। যারা মনে করেন যে, অধিকাংশ সাহাবী স্বার্থপর, অবিশ্বাসী বা ধর্মত্যাগী ছিলেন, তাঁরা নিঃসন্দেহে মনে করেন যে, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা. একজন ব্যর্থ নবী ছিলেন (নাঊযূ বিল্লাহ!)। লক্ষ মানুষের সমাজে অজ্ঞাত অখ্যাত দু-চার জন মুনাফিক থাকা কোনো অসম্ভব বিষয় নয়। কিন্তু সুপরিচিত সাহাবীগণের সততায় সন্দেহ পোষণ করলে রাসূলুল্লাহ সা.-এর ব্যর্থতার দাবি করা হয়। একজন ধর্ম প্রচারক যদি নিজের সহচরদের হৃদয়গুলিকে ধার্মিক বানাতে না পারেন, তবে তিনি কিভাবে অন্যদেরকে ধার্মিক বানাবেন! তাঁর আদর্শ শুনে, ব্যবহারিকভাবে বাস্তবায়িত দেখে ও তাঁর সাহচর্যে থেকেও যদি মানুষ সততা অর্জন করতে না পারে, তবে শুধু সে আদর্শ শুনে পরবর্তী মানুষদের সততা অর্জনের কল্পনা বাতুলতা মাত্র। আজ যিনি মনে করেন যে, কুরআন পড়ে তিনি সততা শিখেছেন, অথচ মুহাম্মাদ সা.-এর কাছে কুরাআন পড়ে, জীবন্ত কুরআনের সাহচর্যে থেকেও আবূ বকর, উমার, উসমান, আবূ হুরাইরা, আমর ইবনুল আস, মুআবিয়া, আবূ মূসা আশআরী রা. বা অন্য কোনো সাহাবী সততা শিখতে পারেন নি, তিনি মূলত মুহাম্মাদ সা.-এর নবুওয়তকেই অস্বীকার করেন। শীয়াগণ কাউকে দেবতা ও কাউকে দানব বানিয়েছেন। দুটি বিষয়ই মানবীয় প্রকৃতির সাথে সাংঘর্ষিক। মানবীয় দুর্বলতার সাথে সততার কোনো বৈপরীত্য নেই। সাহাবীগণ মানুষ ছিলেন; মানবীয় দুর্বলতার ঊর্ধ্বে ছিলেন না। মানবতার সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষকের সাহচর্যে মানুষের মধ্যে সর্বোচ্চ সততা ও বেলায়াত তাঁরা অর্জন করেছিলেন। কোনো স্কুলের সফলতা যেমন ছাত্রদের পাশের হারের উপর নির্ভর করে, তেমনি ধর্মপ্রচারকের সফলতা নির্ভর করে তাঁর সাহচর্য-প্রাপ্তদের ধার্মিকতার উপর। কাজেই নুবুওয়াতে বিশ্বাসের অনির্বার্য দাবি সাহাবীগণের সততায় বিশ্বাস। আর এ বিশ্বাসই নিশ্চিত করেছে কুরআন ও হাদীস। এখানে সংক্ষেপে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করছি: (১) কুরআনে বারবার সাহাবীগণের প্রশংসা করা হয়েছে, তাঁদের ধার্মিকতার সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।মক্কা বিজয়ের পূর্বের ও পরের সকল সাহাবীকে জান্œাতের সুসংবাদ প্রদান করে আল্লাহ বলেন:

لا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُولَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنَ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلا وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ

তোমাদের মধ্যে যারা (মক্কা) বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং সংগ্রাম করেছে তারা এবং পরবর্তীরা সমান নয়; তারা মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ তাদের চেয়ে যারা পরবর্তীকালে ব্যয় করেছে এবং সংগ্রাম করেছে। তবে আল্লাহ উভয়কেই কল্যাণের (জান্নাতের) প্রতিশ্রতি দিয়েছেন।সূরা (৫৭) হাদীদ: ১০ আয়াত। রাসূলুল্লাহসা.এর সকল সাহাবীর ঢালাও প্রশংসা করে ও তাঁদের ধার্মিকতা, সততা ও বিশ্বস্ততার ঘোষণা দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন:

وَلَكِنَّ اللَّهَ حَبَّبَ إِلَيْكُمْ الإِيمَانَ وَزَيَّنَهُ فِي قُلُوبِكُمْ وَكَرَّهَ إِلَيْكُمْ الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ أُوْلَئِكَ هُمْ الرَّاشِدُونَ

কিন্তু আল্লাহ তোমাদের নিকট ঈমানকে প্রিয় করেছেন এবং তাকে তোমাদের হৃদয়গ্রাহী করেছেন। তিনি কুফ্র, পাপ ও অবাধ্যতাকে তোমাদের নিকট অপ্রিয় করেছেন। তারাই সৎপথ অবলম্বনকারী। সূরা (৪৯) হুজুরাত, ৭ আয়াত। সাহাবীগণের মধ্যে মতভেদ হয়েছে এবং কখনো কখনো যুদ্ধবিগ্রহ হয়েছে। ভুল বুঝাবুঝি, সামাজিক প্রেক্ষাপট, ষড়যন্ত্র ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে দুজন সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তির মধ্যে বিরোধ, মামলা বা যুদ্ধ হতে পারে। শুধু যুদ্ধ বা বিরোধের কারণে কাউকে অপরাধী বলা যায় না। যুদ্ধবিগ্রহ ঐতিহাসিক সত্য। তবে সেগুলিতে কার কি ভূমিকা ছিল সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ক ইতিহাস লেখা হয়েছে ঘটনার প্রায় ২০০ বৎসর পর শীয়া মতবাদ প্রভাবিত আব্বাসী শাসনামলে শীয়াগণের বর্ণনার উপর নির্ভর করে। কুরআন ও হাদীস সাহাবীগণের মর্যাদা ও সততা নিশ্চিত করেছে। এ সকল যুদ্ধবিগ্রহের অযুহাতে তাঁদের কারো নামে কুৎসা রটনা বা বিদ্বেষ পোষণ করার অর্থ কুরআন ও হাদীসের অগণিত নির্দেশনা জনশ্রতির কারণে বাতিল করে দেওয়া। কোনো কোর্টে যদি কোনো দলের নেতৃস্থানীয় কাউকে অপরাধী বলে রায় দেওয়া হয় তবে সে দলের অনুসারীরা রায়কে মিথ্যা বলবেন কিন্তু নেতার সততায় বিশ্বাস হারাবেন না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ অতি-সাম্প্রতিক বিষয়। তারপরও সকলেই শুধু ইতিহাস বিকৃতির কথা বলেন। ঐতিহাসিকরা যদি কোনো নেতার অপরাধের অনেক তথ্য পেশ করেন তবুও তার অনুসারীরা সে তথ্য বিশ্বাস করবেন না। তাহলে মুমিন কিভাবে রাসূলুল্লাহ সা.-এর সহচরদের বিষয়ে কুরআন প্রমাণিত সততার সাক্ষ্যের বিপরীতে ইতিহাসের বর্ণনার উপর নির্ভর করবেন? আমরা শুধু এতটুকুই বলব যে, যুদ্ধ বিগ্রহ ঘটেছে, কিন্তু কার কী ভূমিকা তা আমরা এতদিন পরে ইতিহাসের বর্ণনার উপর নির্ভর করে নির্ধারণ করতে পারব না। তবে কুরআন ও হাদীসের বর্ণনার উপর নির্ভর করে আমরা তাঁদের পরিপূর্ণ সততা ও বেলায়াতে বিশ্বাস করি। আমরা মনে করি যে, তাঁদের যুদ্ধ-বিগ্রহ ইত্যাদি ভুল বুঝাবুঝি ও ইজতিহাদী মতপার্থক্যের কারণেই ঘটেছে। এতে তাঁদের তাকওয়া ও বেলায়াত (আল্লাহর ওলী হওয়ার মর্যাদা) ক্ষতিগ্রস্থ হয় নি।

আরেকটি বিষয় দেখুন, যদি ইহূদীদেরকে প্রশ্ন করা হয়: শ্রেষ্ঠ মানুষ কারা? তারা একবাক্যে বলবেন: আমাদের নবী মূসার (আ) সহচরগণ। যদি খৃস্টানদেরকে প্রশ্ন করা হয়: শ্রেষ্ঠ মানুষ কারা? তারা একবাক্যে বলবেন: আমাদের নবী ঈসার (আ) হাওয়ারী-সহচরগণ। আর যদি শীয়াদেরকে প্রশ্ন করা হয় নিকৃষ্ট-ঘৃণ্যতম মানুষ কারা? তবে তারা একবাক্যে বলবেন: আমাদের নবী মুহাম্মাদ সা.এর সহচরগণ!! শীয়াদেরকে প্রশ্ন করুন: সবচেয়ে ভাল মানুষ কারা? তারা বলবেন: আলী (রা)-এর সাথীগণ। তাদেরকে প্রশ্ন করুন: সবচেয়ে খারাপ মানুষ কারা? তারা একবাক্যে বলবেন: মুহাম্মাদ সা.-এর সাথীগণ!! কাউকে ভালবাসার অতি স্বাভাবিক প্রকাশ তার সাথে জড়িত সকলকে ভালবাসা ও সম্মান করা। এমনকি তাদের কোনো অপরাধ প্রমাণিত হলেও অজুহাত খুঁজে তা বাতিল করতে চেষ্টা করা। কারণ প্রিয়তমের সাথীদেরকে খারাপ কল্পনা করতে মন মানে না। আর কারো সঙ্গীসাথীকে সর্বোচ্চ ঘৃণা করার সুনিশ্চিত অর্থ ঐ ব্যক্তির প্রতি ভালবাসা না থাকা। কাজেই মুহাম্মাদ সা.-এর সাথীদেরকে পথভ্রষ্ট প্রমাণ করা ও তাঁদেরকে ঘৃণা করা যাদের ধর্মের মূল ভিত্তি তাঁদের থেকে মুহাম্মাদ সা.-এর হাদীস বা দীন শিক্ষা করা কি সম্ভব? যদি তিনি তার অবস্থান থেকে ফিরে না আসেন তাহলে তাকে সামাজিকভাবে বয়কট করুন। তার সাথে উঠা-বসা লেনদেন বন্ধ করুন।

প্রশ্নঃ 477
আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন? মহানবী (সাঃ) এর জন্মদিন পালন করার সুন্নত উপায় ওই দিন রোজা রাখা, এছাড়া তিনি প্রতি সোমবার রোজা রাখতেন। এখন প্রশ্ন হল আমাদের নিজেদের জন্মদিনে কি আমরা রোজা করতে পারব এবং প্রতি সোমবারের মত নিজেদের জন্মবারেও কি প্রতি সপ্তাহে ওই দিন রোজা রাখা যাবে?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

১. রাসূলুল্লাহ সা. জন্মবার পালন করেছেন, জন্মদিন নয়। রাসূলুল্লাহ সা. সোমবার জন্মগ্রহণ করেছেন এবং নবুওয়াত পেয়েছেন। তাই তিনি রোজা রেখে এইবার পালন করেছেন। আপনি যদি জন্মবার পালন করতে চান তাহলে আপনকে নবুওয়াত পেতে হবে। এটা সম্ভব নয়্।

২. রাসূলুল্লাহ সা. জন্মবার পালন করেছেন, কিন্তু কোন সাহাবী পালন করেন নি। যদি রাসূলুল্লাহ সা. ব্যতিত অন্য কারো জন্মবার পালন করার অনুমতি থাকতো তাহলে সাহাবীরা নিজেদের জন্মবার পালন করতেন। কারণ সাহাবীগন রা. ছিলেন তাঁর আদর্শ অনুসরনের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী তৎপর। সুতরাং কেউ যদি নিজের জন্মবার পালন করে সেটা হবে সুস্পষ্ট বিদআত। তাই এই কাজ করবেন না।

প্রশ্নঃ 476
আস-সালামু আলাইকুম। ১. কোন স্বামী যদি তালাক না দেয় কিন্তু তার স্ত্রী যদি ডিভোর্স দেয় তারা কি পরবর্তীতে সংসার করতে পারবে? ২. কোন মেয়ের বয়স যদি ২৭ বছর হয়, সে যদি কোন ছেলেকে বিয়ে করে পরিবারকে না জানিয়ে অথবা পরিবারের লোকেরা এখন জানলে মানবে না কিন্তু পরে জানলে মেনে নিবে - যেহেতু বিয়ের আগে প্রেম তরা পাপ তাইজন্য বিয়ে করবে - তাহলে কি তাদের বিয়ে বৈধ হবে? পরবর্তীতে পরিবারের লোকদের সামনে কি তাদের আবার বিয়ে করতে হবে? ছেলে-মেয়ে ২ জনেই নামাজ পড়ে, মেয়েটি পর্দা করে এবং ইসলামী আইন মানতে চায় - ঐ মেয়ের ইবাদত কী আল্লাহ কবুল করবেন?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১। স্বামী স্ত্রীকে তালাক (ডিভোর্স) নেয়ার অধিকার দিলে স্বামী তালাক না দিলেও স্ত্রী নিজেকে নিজে তালাক নিতে পারেন। এক্ষেত্রে স্ত্রীর তালাকই চূড়ান্ত বলে গণ্য। তবে আপনি স্থানীয় কোন আলেমের সাথে এই বিষয়ে কথা বলুন। তিনি বিস্তারিত শুনে সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন।আপনি যতটুকু লিখেছেন শুধু এতটুকুতে কোন ফয়সালা দেয়া সম্ভব নয়। ২। পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করা হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে। আর এভাবে বিয়ে করলে পরবর্তীতে বিভিন্ন জটিলাত সৃষ্টি হয়। তাই তাদের জানিয়েই বিয়ে করা উচিত। তবে একান্ত বাধ্য হয়ে এমন করলে আশা করা যায় বিয়ে হয়ে যাবে এবং তার ইবদাত আল্লাহর নিকট কবুল হবে।

ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের বিধান। বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামী শরীয়তে এব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাসূল সা. এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। পারিবারিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অধিকাংশ ইমাম ও ফকীহগণের নিকট ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ নেই। তবে ইমাম আবু হানীফা রহ. সহ কতিপয় ফকীহ বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে জায়েজ বলেছেন। প্রখ্যাত মালেকী ফকীহ আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে রুশদ আন্দালুসী র. বলেন,
اختلف العلماء هل الولاية شرط من شروط صحة النكاح أم ليست بشرط؟ فذهب مالك إلى أنه لا يكون النكاح إلا بولي وأنها شرط في الصحة في رواية أشهب عنه وبه قال الشافعي وقال أبو حنيفة وزفر والشعبي والزهري: إذا عقدت المرأة نكاحها بغير ولي وكان كفؤا جاز وفرق داود بين البكر والثيب فقال باشتراط الولي في البكر وعدم اشتراطه في الثيب
অর্থ: বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী শর্ত কি শর্ত নয় এই বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম মালেক র. মত পোষন করেছেন যে, ওলী ছাড়া বিবাহ হবে না। বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য (ওলী) শর্ত। এমন মতই পোষন করেছেন ইমাম শাফেয়ী রা.। ইমাম আবু হানীফা, জুফার, শাবী ও জুহরী র. বলেছেন, যদি মহিলা ওলী ছাড়া বিবাহ করবে আর স্বামী যদি তার কুফু (সর্বদিক দিয়ে যোগ্য) হয় তাহলে জায়েজ হবে। বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ২/৮(শামেলা)। এই সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন, আলমাবসুত লিস-সারখসী, ৬/৫৩; আলমাউসায়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৭/৯৪ও ৩১/৩২১; আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবা ৪/৪৫। কিতাবুল উম্ম লিশ-শাফেয়ী,৭/১৫৬। যে ইমামগন ওলী ছাড়া বিবাহ বাতিল বলেছেন তাদের দলীল: আবু মুসা আশয়ারী রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, অর্থাৎ ওলী ছাড়া বিবাহ নয়। لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِىٍّ আবু দাউদ, হাদীস নং ২০৮৭; তিরমিযী, হাদীস নং ১১০১;মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৯৭৬১। হাদীসটি সহীহ। শায়খ আরনাউত এবং আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত অন্য হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন,
أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ
অর্থাৎযে মহিলা ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করবে তার বিবাহ বাতিল। তিনি ৩ বার তা বলেছেন। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১১০২; মুসনাদে আহমাদ,হাদীস নং ২৫৩৬৫। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন আর শায়খ শুয়াইব আরনাউত সহীহ বলেছেন। উপরক্ত হাদীস সমূহের ভিত্তিতে ইমাম মালেক, শাফেয়ী, আহমাদ র. সহ অধিকাংশ আলেম ওলী ছাড়া বিবাহকে বাতিল বলেছেন। যে সব ইমাম ও ফকীহ ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ বলেছেন তাদের দলীল: তাবেঈদের মধ্যে ইমার জুহরী ও শাবী এরপরে ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ, মুহাম্মাদ, জুফার সহ কিছু সংখক মুজতাহিদ কিছু শর্ত সাপেক্ষে ওলী ছাড়া বিবাহ কে জায়েজ বলেছেন। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১.কুফু হতে হবে। ২.মেয়েটি বালেগা, বুঝমান হতে হবে। আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবায়া, ৪/৪৫; আলমাবসুত লিস-সারাখসী,৬/৬১ ও ৫/১৬। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
فلا جناح عليكم فيما فعلن في أنفسهن بالمعروف
অর্থাৎ মহিলারা নিজেদের ব্যাপারে সৎ ভাবে যা করবে (বিয়ের ক্ষেত্রে) সে বিষয়ে তোমাদের কোন দোষ নেই। সূরা বাকারাহ-২৩৪ অন্য এক আয়াতে তালাক সম্পর্কে আলোচনার এক পর্যায়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, تنكح زوجا غيره. حتى অথাৎ যতক্ষন না তারা অন্য স্বামীকে বিবাহ না করে। সূরা বাকারাহ-২৩০। অন্য প্রসংগে আল্লাহর বাণী,
فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ
অর্থাৎ তোমরা তাদেরকে তাদের স্বামীদের কে বিবাহ করা থেকে বাধা দিবে না। সূরা বাকারাহ-২৩২ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا অর্থাৎ মেয়েরা ওলীদের চেয়ে নিজের ব্যাপারে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৪২১। الأيم অর্থ স্বামীহীন মহিলা, পূর্বে স্বামী থাকুক বা না থাকুক। আলমজামুল ওয়াসীত। বর্তমান সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৌদী আলেম শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আলমুনজিদ ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের ক্ষেত্রে বলেছেন,
المسألة اجتهادية ، واختلف فيها الأئمة ، فإنه إذا كان أهل بلد يعتمدون المذهب الحنفي كبلادكم وبلاد الهند وباكستان وغيرها ، فيصححون النكاح بلا ولي ، ويتناكحون على هذا ، فإنهم يقرّون على أنكحتهم ، ولا يطالبون بفسخها
অর্থাৎ এটি একটি ইজতিহাদি মাসআলা, ইমামগণ এক্ষেত্রে ইখতিলাফ করেছেন। সুতরাং যে সব দেশের মানুষেরা হানাফী মাজহাবের উপর নির্ভর করে, ওলী ছাড়া বিবাহবে বৈধ মনে করে এবং এভাবে তাদের বিয়ে হয় যেমন, ভারত, পাকিস্থান ইত্যদি, তাহলে তাদের বিবাহের স্মীকৃতি দেয়া হবে । বাতিল করতে বলা হবে না। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, শরীয়তে বিবাহে মেয়েদের জন্য ওলী থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণভাবে যৌবনের শুরুতে যুবক-যুবতী সহজেই বয়সের উন্মাদনায় বিভ্রান্ত হয় এবং নিজের চোখের ভাল লাগার উপর নির্ভর করেই সঙ্গী পছন্দ করে। বিবাহের ক্ষেত্রে চোখের পছন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবন ও আগত প্রজন্মের কল্যাণের কথাও চিন্তা করতে হবে। এজন্য ইসলামে বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর মতমতের সাথে অভিভাবকের মতামতেরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সুতরাং মেয়েদের জন্য আবশ্যক হলো ওলীর অনুমতি নিয়ে বিবাহ করা। আর আমাদের উচিৎ বিবাহের সময় মানুষদের কে ওলীর অনুমতির বিষয়ে উৎসাহিত করা,ওলী ছাড়া বিয়ে করতে নিষেধ করা এবং ওলী থাকার কল্যান বর্ণনা করা। যারা ইতিমধ্যে ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করেছে তাদের বিষয়ে কথা হলো যেহেতু তারা একটি ফিকহী মত গ্রহন করেছেন আর বিষয়টি ইজতিহাদী এবং ইখতিলাফী তাই তাদেরকে নতুন করে বিবাহ করতে হবে না। তবে এই ঘৃনিত কাজের জন্য তাদের লজ্জিত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 463
আসসালামুয়ালাইকুম হাজরে-আসওয়াদ সম্পর্কে আমাকে বলবেন? সঠিক ইতিহাস জানাবেন দয়া করে ! আমার বউ হিন্দু ধর্ম পরিবরতন করে মুসলিম হইছে তাই আমরা সঠিক ইতিহাস জানতে চাই ।
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
হাজরে আসওয়াদ আরবী শব্দ। যার অর্থ হলো কালো পাথর। হযরত ইবরাহীম আ. সর্বপ্রথম কাবা ঘরে এই পাথরটি স্থাপন করনে। তখন পাথরটি সাদা ছলি। মানুষরে পাপ গ্রহন করার কারণে তা কালো হয়ছেে বলে হাদীস শরীফে উল্লখে আছ। হজ্বে গয়িে এই পাথর র্স্পশ করে চুমা দেয়া মুস্তাহাব। প্রখ্যাত ঐতহিাসকি মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক বলনে, যখন গৃহ নির্মাণ কাজে কিছুটা অগ্রসর হলো, তখন ইসমাঈল আ. পিতা ইবরাহীম আ.-এর পায়ের নিচে একটি পাথর রেখে দিলেন। যার ওপর দাঁড়িয়ে তিনি নির্মাণ কাজ করতেন। আর ইসমাঈল আ. কাবার বিভিন্ন কোনে অসমাপ্ত কাজ পূর্ণ করতেন। অবশেষে নির্মাণ কাজ বর্তমান হাজরে আসওয়াদ এর স্থান পর্যন্ত এলে, ইবরাহীম আ. ইসমাঈল আ.কে লক্ষ্য করে বললেন- আমি একটি পাথরের টুকরো চাই যা আমি এই স্থানটিতে রাখবো। লোকেরা দেখে বুঝবে যে, তাওয়াফ এই স্থানটি থেকে শুরু হবে। পিতার নির্দেশে ইসমাঈল আ. পাথর খুজতে গিয়ে পাথর হাতে ফিরে আসার পূর্বেই জিবরাঈল আ. হাজরে আসওয়াদ নিয়ে উপস্থিত হন।
আল্লাহ তাআলা নূহ আ.-এর প্লাবনের সময় পাথরটিকে মক্কায় অবস্থিত আবু কুবাইস পাহাড়ে সংরক্ষণ করেন এবং ঘোষণা দেন, আমার খলীল ইবরাহীমকে যখন আমার ঘর নির্মাণ করতে দেখবে, তখন তাঁর নিকট পাথরটি পৌঁছে দিবে। (বর্ণনাকারী বলেন) তারপর ইসমাঈল আ. ফিরে এসে পিতাকে লক্ষ্য করে বললেন, এ পাথর আপনি কোথা থেকে লাভ করলেন? উত্তরে বললেন, পাথরটি আমার নিকট এমন এক ব্যক্তি নিয়ে এসেছে, যিনি আমাকে তোমার পাথরটি গ্রহণ হতে বিমুখ করে দিয়েছে। আর তিনি হলেন সম্মানিত জিবরাঈল আ.। তারপর হাজরে আসওয়াদকে যখন তার স্বীয় স্থানে প্রতিস্থাপন করা হলো। তখন ইবরাহীম আ. তার চার পার্শ্ব পাকা করে দিলেন। এবং তখন থেকেই তার অত্যাধিক শুভ্রতার দ্বারা চারপাশকে ঝলমলে করে রাখতো। যেন তার জ্যোতি পূর্ব-পশ্চিম, ডানে-বামে ঠিকরে পড়ছে। (বর্ণনাকারী আরো বলেন: হাজরে আসওয়াদ এত আলোকময় ছিলো যে, মনে হতো কাবা ঘৃহের চার পার্শ্ব থেকে যেন তার দ্যুতি দিয়ে পুরো বিশ্বকে আলোকিত করে ফেলবে। আখবারুল মক্কা, আবুল ওয়ালিদ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ, ১/৪০-৪১। হাজরে আসওয়াদ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
نزل الحجر الأسود من الجنة وهو أشد بياضا من اللبن فسودته خطايا بني آدم
হাজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে এসেছে। তার রঙ দুধের চেয়ে বেশি সাদা ছিলো। এরপর বনী আদমের পাপরাশি তাকে কালো বানিয়ে দিয়েছে। [জামে তিরমিযী : ৮৭৭ হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ অলাবনীও সহীহ বলেছেন। অন্য হাদীসে আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. বলেন,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- كَانَ لاَ يَسْتَلِمُ إِلاَّ الْحَجَرَ وَالرُّكْنَ الْيَمَانِىَ
অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. হাজরে আসওয়াদ এবং রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ করে চুমা দিতেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩১২২; সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৬০৯। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া দরকার যে, উক্ত পাথরকে ইবাদত বা পূজা হিসাবে সম্মান দেয়া হয় না। বরং জান্নাতের স্মৃতি চিহ্ন হিসাবে তাকে ভালবাসা হয়, সম্মান দেয়া হয়। যেমন আপনার বাবা মারা গেলে তার কোন ব্যবহৃত জিনিসকে স্মৃতি হিসেবে আপনার চুমা দেয়া বা ভালবাসা কিংবা আপনার পিতা-মাতাকে আপনার ভালবেসে চুমা দেয়া। এগুলোকে যেমন ইবাদত হিসাবে সম্মান দেয়া হয় না বরং স্মৃতি চিহ্ন হিসাবে বা ভালবাসার চিহ্ন হিসাবে সম্মান দেয়া হয় তেমনি ঐ পাথরটিকেও শুধমাত্র জান্নাতের স্মৃতি চিহ্ন হিসাবেই সম্মান দেয়া হয়, ভালবাসা হয়। এর বাইরে সেটা একটা পাথর ছাড়া আর কিছুই নয়। যেমনটি বলেছেন হযরত উমার রা. এই হাদীসটিতে :
عَنْ عُمَرَ أَنَّهُ جَاءَ إِلَى الْحَجَرِ الأَسْوَدِ فَقَبَّلَهُ فَقَالَ إِنِّي أَعْلَمُ أَنَّكَ حَجَرٌ لاَ تَضُرُّ وَلاَ تَنْفَعُ وَلَوْلاَ أَنِّي رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يُقَبِّلُكَ مَا قَبَّلْتُكَ
অর্থ: হযরত উমার রা. একবার হাজরে আসওয়াদের নিকট আসলেন এবং চুম্বন করলেন অত:পর বললেন, আমি জানি যে, তুমি একটি পাথর, তোমার কোন ক্ষতি করার ক্ষমতা নেই, উপকার করারও ক্ষমতা নেই। যদি আমি রাসূলুল্লাহ সা. কর্তৃক তোমাকে চুম্বন করতে না দেখতাম তাহলে তোমাকে চুম্বন করতাম না। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫৯৭। আশা করি আপনি আপনার উত্তর পেয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা আপনাদের ইসলামের পথে অবিচল রাখুন।
প্রশ্নঃ 462
আসসালামুয়ালাইকুম হুজুর, আমার প্রশ্ন হল রাব্বি নাম রাখা জায়েজ হবে কিনা? রাব্বি নামে কেউ আমাকে ডাকলে সেটা শিরক হবে কিনা। বিস্তারিত জানালে খুশি হব। আল্লাহ আপনাকে নেক হায়াত দান করুন।
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
রাব্বি নাম রাখবেন না। আবদুর রাব্ব রাখতে পারেন। সেক্ষেত্রে আব্দুর রব্ব বলে ডাকতে হবে, রব বলে ডাকা যাবে না।
প্রশ্নঃ 461
এক হিন্দু ভাই কথায় কথায় বললেন, ১৯৭১ এ যুদ্ধের সময় গনীমতের মাল বলে বলে বাংলাদেশের মুসলমানরা এদেশের হিন্দুদের গরু ছাগল বিভিন্ন খাদ্য বস্তা ইত্যাদি নিয়ে যেত! কিচ্ছু বলা যেতনা! আমি হিন্দু ভাইকে বুঝালাম ঐটা সন্ত্রাস, ধর্মব্যবসা। ইসলাম নয়। শায়েখের কাছে গনীমতের মাল কি আর ৭১ সালের ঐ ধরনের ঘটনা কি মালে গনীমত? বিস্তারিত জানতে চাই। এতে অমুসলিমদেরকে দাওয়াত দিতে বেশ উপকার হবে।
29 Dec 2025
না, ১৯৭১ সালের হিন্দুদের সম্পদ গনীমতের সম্পদ নয়। কারণ যুদ্ধের ময়দানে বিরোধী পক্ষের ফেলে যাওয়া সম্পদই কেবল গনীমতের সম্পদ হিসাবে গন্য।আরো সহজে বললে মুসলিম বাহিনী কাফের বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে কাফের বাহিনী পরাজিত হয়ে চলে যাওয়ার সময় যেসব সম্পদ যুদ্ধের ময়দানে রেখে যায় সেগুলোই হলো গনীমতের সম্পদ। এর বাইরে বিজিত এলাকার যে কোন সম্পদ নেয়ায় লুটপাট এবং সন্ত্রাস হিসাবে গণ্য।
প্রশ্নঃ 460
স্যার, কেঁউ যদি আমাকে জাদু-টোনা করে তাহলে আমি কি করে বুঝবো যে আমাকে জাদু-টোনা করা হইছে। যদি জাদু-টোনা করে থাকে তাহলে তার প্রতীকার কি?
29 Dec 2025
যাদু-টোনার কারণে বিভিন্ন সমস্যা হয়। যেমন বিভিন্ন রোগব্যাধি হয়, মানসিক সমস্যা হয়। যাদু-টোনা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় এবং এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত রাহে বেলায়াত গ্রন্তটির ষষ্ঠ অধ্যায়।
প্রশ্নঃ 459
আমার প্রশ্ন টা হচ্ছে … আমার বন্ধুদের কে ইসলামের দাওয়াত দেবার সময় অনেক ক্ষেত্রে আমাকে হাদিস বলতে হয়…কিছু ক্ষেত্রে আমি সম্পূর্ণ হাদিস টা বলতে পারিনা কিন্তু হাদিসের মুল ভাবটা আমি তাকে বোঝাতে পারি…এখেত্রে সম্পূর্ণ হাদিস না বলার কারনে কি আমার গুনাহ হবে…
29 Dec 2025
পূর্ণ হাদীস না বললেও সমস্যা হবে না তবে আপনি বলার চেষ্টা করবেন পূর্ণ হাদীস বলার। আল্লাহ আপনাকে তাওফীক দিন।
প্রশ্নঃ 458
Assalamualaikum, Sir, Im a software engineer working at a software firm. The firm has many clients among those there are a number of banks. Currently I am developing software for our bank clients. The software I am developing is not directly related to calculating riba (interest). For example, I am developing a reporting software through which the business organization will submit there business reports to Bangladesh bank. I am developing another software for a bank through which the customer can pay their mobile bill, utility bill …. like this type of things. My question – Is my salary HALAL? I talked to my CEO to change my project but unfortunately there is no opportunity currently available. Im also trying for another job. But most of the firms have banks, insurances as their clients. Please clarify few other things if possible : – Firstly, I am working at a software firm not at a Bank directly. Second if I work in that part of the software which is not directly related to reba based transactions – is it allowed or not?
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আপনার কাজের সাথে সুদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। তাই এটাকে হারাম বলা কঠিন। অন্য কোনো সুযোগ না থাকলে এ চাকরী করা যাবে বলেই মনে হয়।
প্রশ্নঃ 457
আমার প্রশ্ন নিচের অংশ নিয়ে। ………যে সময়ের ঘটনা এটা তখন কি ক্রিতদাসীর সাথে সহবাসে বাভিচার হত না? আমি অনেক মন কষ্টে আসি দয়া করে আমাকে একটু বুঝিয়ে বলবেন আসলে কি? আমরা জানি বাভিচার এর শাস্তি অনেক কঠিন সেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসবেন এটা কিভাবে হয়? এরপর সাহাবী আব্দুল্লাহ্ ইবনে রাওয়াহা যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এ ঘটনা সবিস্তারে বর্ণনা করলেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন ভাবে হাসলেন যে, তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত দৃস্টিগোচর হয়েছিল। link: http://www.quraneralo.com/how-we-can-protect-ourselves-from-lies/ প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ্ ইবনে রাওয়াহা রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার তাঁর স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তার ক্রিতদাসীর সাথে সহবাসে লিপ্ত হয়। তাঁর স্ত্রী হঠাৎ তাদেরকে ঐ অবস্থায় দেখে ফেলেন এবং রাগের মাথায় দা নিয়ে কোপাতে আসে। কিন্তু ইত্যবসরে তিনি তাঁর কর্ম সম্পাদন করে ফেলেছেন। তাঁর স্ত্রী এসে বললেন যে, যদি আমি তোমাদেরকে ঐ অবস্থায় পেতাম তাহলে তোমার মাথা কেটে ফেলতাম। তিনি বললেন: আমি কি করেছি? তাঁর স্ত্রী বললেন: যদি সত্যিই তুমি কিছু না করে থাক, তাহলে এখন এ অবস্থায় কুরআন পাঠ করতে পারবে কি? আব্দুল্লাহ্ ইবনে রাওয়াহা সাথে সাথে পড়া শুরু করলেন: شهدت بأن وعد الله حق = وأن النار مثوى الكافرينا وأن العرش فوق الماء طاف = وفوق العرش رب العالمينا وتحمله ملائكة كرام = ملائكة الإله مقربينا [1] মূলতঃ এটা ছিল একটি কবিতার কিছু অংশ। কিন্তু তাঁর স্ত্রী এর মাঝে আর কুরআনের মাঝে পার্থক্য বুঝতেন না। বরং যখন তিনি পড়ছিলেন তখন তাঁর স্ত্রী মনে করেছিলেন যে, কুরআন পড়ছে। আর যদি সে এ অবস্থায় কুরআন পড়তে পারে তাহলে নিশ্চয় সে কাউকে স্পর্শ করে নি। অবশেষে তাঁর স্ত্রী বললেন যে, আমি আল্লাহর কিতাবের উপর বিশ্বাস স্থাপন করলাম এবং আমার দেখাটাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করলাম। এরপর সাহাবী আব্দুল্লাহ্ ইবনে রাওয়াহা যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এ ঘটনা সবিস্তারে বর্ণনা করলেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন ভাবে হাসলেন যে, তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত দৃস্টিগোচর হয়েছিল।
29 Dec 2025
উক্ত ঘটনাটি যে হাদীসে বর্ণিত আছে সেই হাদীসটি যয়ীফ (দুর্বল), সহীহ নয়। সুতরাং এই ঘটনাটি সত্য এটা বলা যাবে না।এই ধরনের হাদীস দ্বারা কোন ধরনের দলীল দেয়া যায় না। তবে তৎকালীন সময়ে সকল সমাজে এবং সকল দেশে দাস-দাসীর প্রচলন ছিল। ইসলাম চেয়েছে এই ব্যবস্থা না থাকুক। কারণ বিভিন্ন গোনাহের কাফ্ফারা হিসাবে দাস-দাসী স্বাধীন করার হুকুম ইসলাম দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা. বিভিন্ন হাদীসে দাস-দাসীকে স্বাধীন করার কথা বলেছেন, স্বাধীন করার ফজিলত বর্ণনা করেছেন। সাহাবীগণ হাজার হাজার দাস-দাসীকে স্বাধীন করে দিয়েছেন, এমনকি অনেক সময় অন্যের কাছ থেকে কিনেছেনই এই উদ্দেশ্যে যে,তাকে স্বাধীন করে দিবেন। কিন্তু তৎকালীন বিশ্বপরিস্থিতির কারণে পুরোপুরি রুপে এই ব্যবস্থা নিষিদ্ধ করা হয় নি। মালিক কর্তৃক দাসীর সাথে সহবাস করা বৈধ ছিল। তবে অন্যের দাসীর সাথে বৈধ নয়। আর এটা ছিল ঐ দাসীর স্বাধীন হওয়ার পথে একধাপ উন্নতি। কারণ যখন মালিক তার দাসীর সাথে সহবাস করতো আর তার থেকে কোন সন্তান হতো তখন ঐ মালিকের জন্য জায়েজ ছিল না ঐ দাসীকে বিক্রি করা। তার সামনে দুটি পথ ছিল। হয়তো তাকে স্ত্রী হিসাবে রেখে দেওয়া অথবা স্বাধীন করে দেয়া। আর ঐ সন্তানও মালিকের সন্তান হিসাবে গন্য হতো এবং স্বাধীন হতো। অর্থাৎ দাসীর সাথে সহবাসের অনুমতি ছিল মূলত স্বাধীন হওয়ার একটি প্রক্রিয়া। সুতরাং এটা আদৌ ব্যাভিচার নয়। (এছাড়া ব্যভিচারের সন্তান কখনো ব্যাভিচারকারীর সন্তান হিসাবে গণ্য হয় না। ) বরং মানুষে যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে তারই একটি ব্যবস্থা। আশা করি আপনি মূল বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।
প্রশ্নঃ 456
আসসালামুয়ালাইকুম, আমাদের বাপ চাচাদের পরিবার অনেক বড়, আমার বাবা তার ভাইদের সাহায্যের জন্য একটা ঠিকাদারি ব্যাবসা শুরু করেছিলেন, আমার এক চাচা সেখানে বিভিন্ন দূর্নীতি করছে, গ্রাহক এবং কর্মচারীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি, টাকা দিয়ে চাকরি দেওয়া, টাকা না দিলে হুমকি দেওয়া । আমার বাবা খুব নরম দিল, আমার চাচু বয়সে অনেক ছোট হয়েও আব্বুর কোন কথা শুনে না। চাচু ছোটবেলা থেকেই আমাদের সাথে ছিল, আমার সব চাচুর মধ্যে সেই আমার সবচেয়ে প্রিয় ছিল, এখন তার এমন কাজকর্ম দেখে খুব কষ্ট লাগে, আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকি । নিজের ভাই বলে আব্বু তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যাবস্থা নিতে পারছে না, আবার অন্যায় সহ্যও করতে পারছে না ।কঠোর হলে আরও বিগড়ে যেতে পারে, আবার নরম করে বোঝালেও বুঝে না, পাত্তাই দেয় না, আবার মাঝে মাঝে কান্নাকাটি করে মাফ চায় । এই পরিস্থিতিতে আমাদের একটা উপদেশ দেন হুজুর । আমরা পরিবারের সবাই খুব মানসিক কষ্টে আছি
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
হারাম থেকে বাঁচার জন্য আপনাদের ব্যবসা পৃথক করুন। আপনার চাচা এ সকল হারাম কর্মের মাধ্যমে যা উপার্জন করছেন তা ভয়ঙ্কর হারাম। আপনাদের ন্যূনতম দায়িত্ব নিজেদের সম্পদকে হারাম থেকে বিচ্ছিন্ন করা।
প্রশ্নঃ 455
স্যার, নামাজে যখন তেলাওয়াত করা হয় তখন যদি আমি নামাজে অংশ নেই তাহলে কি আমি সানা পড়বো নাকি তাকবির দিয়ে তেলাওয়াত শুনবো?
29 Dec 2025
নামাযে তেলাওয়াত শুরু হওয়ার পর অংশ নিলে তেলাওয়াত শুনবেন। সানা পড়বেন না।
প্রশ্নঃ 454
আলহামদুলিল্লাহ, আমি খুবই আনন্দিত যে আমার আগের দুইটি প্রশ্নেরই উত্তর পেয়েছি। আজ আমি জানতে চাই – ১. ইমাম সাহেব সুন্নাত সালাত (ফজর, যোহর এর সুন্নাত) আদায় না করে কি ফরয সালাতের ইমামতি করতে পারবেন না? দেখা যাচ্ছে ইমাম সাহেব যখন আসলেন তখন সুন্নাত সালাত আদায় এর জন্য পর্যাপ্ত সময় নাই। অর্থাৎ জামাতের সময় হয়ে গেছে। ২. কোন কারনে ইমাম সাহেবের এক ওয়াক্ত বা কয়েক ওয়াক্ত নামায কাযা হয়ে গেছে এবং তার এই কাযা নামায আদায় করা হয় নি। এমতাবস্থায় কি তিনি অন্য ওয়াক্তের নামাযের ইমামতি করতে পারবেন? অর্থাৎ কাযা নামায ব্যতিরেকে কি অন্য ওয়াক্তের নামাযের ইমামতি করা যায়?
29 Dec 2025
শুকরান জাযাকুমুল্লাহ। আপনি প্রশ্নের উত্তর পাওয়াতে আমরাও আনন্দিত।
(১) ইমামতি করতে পারবেন, সুন্নাত না পড়লেও সমস্যা নেই।
(২) আপনি সালাতের ইমাম, মনের ভিতর এই বিষটি রাখবেন।
প্রশ্নঃ 453
আসসালামুয়ালাইকুম হুজুর আমার প্রশ্ন হল: ১. আমি এরকম ছোট ছোট আমাল বা দুয়া সম্পর্কে জানতে চাঁই যা করলে সকল কাজে আল্লাহর রহমত পাব? ২. আমি কুরাআন ভালভাবে পড়তে পারি না।যতটুকু পারি ততটুকু দিয়ে প্রতিদিন পড়ি ও ইন্টারনেট থেকে কুরআন শুনে কিছু কিছু মুখস্ত করার চেষ্টা করি ও সেই মুখস্ত অংশ দিয়ে নামায পড়ি - এতে কি কোন সমস্য আছে? ৩. এরকম কয়েকটা সূরার কথা বলবেন কি যা পড়লে বা শুনলে বিশেষ ফযিলত পাব?
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
রহমত ও ফজিলতের ছোট-বড় দুআ ও জিকিরের জন্য পড়ন আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত রাহে বেলায়াত বইটি। ৬৫৬ পৃষ্ঠা এই বইটিতে আছে ২৫০টিরও বেশী দুআ, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মূল্যবান তথ্য ও প্রাত্যহিক জীবনে অতীব প্রয়োজনীও অনেক মাসআলার সমহার। কুরআন শিখে সালাতের ভিরত পড়লে কোন সমস্যা নেই। তবে কুরআন ভালভাবে শেখার জন্য একজন শিক্ষকের সাহায্য নিতে হবে। একাকী কুরআন সহীহভাবে শেখা যায় না। তদ্রুপ ইন্টারনেটের মাধ্যমেও ভালভাবে শিখতে পারবেন বলে আদৌ মনে হয় না।
প্রশ্নঃ 452
জামাআত ১ কাতার পূরা হয়ে গিয়েছ। ১ জন বাকি আছে সামনের কাতারে জায়গা নেই। দীতিয় কাতারে কী একা দাড়াবে না কী? বিস্তারিত জানতে চাই।
29 Dec 2025
লোকটি চেষ্টা করবে পূর্বের কাতারে ঢুক পড়ার। যদি সম্ভব না হয় তাহলে সামনের কাতার থেকে একজনকে টেনে তার সাথে দাড়াবে। একটি হাদীসে এমন আছে, তবে হাদীসটি যয়ীফ। মুসনাদ আবু ইলা, হাদীস নং ১৫৮৮। তবে এতে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে (আমাদের বাংলাদেশে এই মাসআলাটি বেশীরভাগ লোক না জানার কারণে অনেক সময় সমস্যা সৃষ্টি হয়) একাকীই দাড়াবে। পূর্বের কাতারে দাঁড়ানোর সক্ষমতা সত্ত্বেও পিছনের কাতারে নামায পড়তে হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে। একজন এমন করলে রাসূলুল্লাহ সা. তাকে পূণরায় নামায পড়তে বলেছিলেন। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ৬৮২। হাদীসটি সহীহ।
প্রশ্নঃ 451
আসসালামু আলাইকুম শপথের কাফফারা হিসাবে ৩ টি রোজা রাখলেই কি হবে? একজন ব্যাক্তি জামাতে নামাজ পড়ার জন্য ১ বার শপথ করলো কিন্তু তার অনেকগুলো নামাজ মিস হয়ে গেল তাহলে কি তাকে প্রতীটির জন্য ৩টি করেই রোজা রাখতে হবে? সেই রোজা রোজা রেখে যদি কেউ মিথ্যা কথা বলে তার রোজা হবে নাকি হবে না?
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
উক্ত শপথ ভঙ্গের জন্য তাকে একবারই কাফফারা দিতে হবে, প্রতি ওয়াক্ত নামাযের জন্য নয়। কাফফারা হলো দশজন মিসকীনকে তৃপ্তিসহ দু বেলা খানা খাওয়াতে হবে। অথবা এর মূল্য দান করে দিতে হবে কিংবা দশজনের প্রত্যেককে এক জোড়া করে কাপড় দিতে হবে। আর এ দুটির সামর্থ্য না থাকলে ধারাবাহিকভাবে তিনটি রোযা রাখতে হবে। মিথ্যা বলা মহা গুনাহ। তবে মিথ্যা বললে রোজা ভঙ্গ হবে না।
প্রশ্নঃ 450
মুহতারাম: আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমার প্রশ্নঃ ফজরে ও মাগরিবের সালতের পর সুন্নাত যিকির হিসাবে ৩ বার করে ইখলাস, ফালাক ও নাস পরতে হয়, তা কিভাবে পরব? একবার করে ইখলাস, ফালাক ও নাস পরে তিন বার repeat করব? নাকি তিন বার ইখলাস পরে, তিন বার ফালাক ও তার পর তিন বার নাস পরব? কোন পদ্ধতি উত্তম? যাযাকুমুল্লাহ
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
যে কোন পদ্ধতিতে পড়লেই হবে। তবে হাদীসের ভাষ্য থেকে মনে হয় তিনবার ইখলাস এরপর তিনবার ফালাক তারপর তিনবার নাস পড়াই উত্তম।
প্রশ্নঃ 449
পিয়াজ রসুন স্টক করা যাবে কি?
29 Dec 2025
স্টকের কারণে কৃত্তিম সংকট সৃষ্টি হয়ে দাম বৃদ্ধি পেয়ে মানুষ ভোগান্তিতে পড়লে জায়েজ নেই। অন্যথায় জায়েজ।
প্রশ্নঃ 448
আসছালামু আঁলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমার গ্রামের বাড়ীতে 40/50 বছর আগের প্রতিষ্ঠা করা মসজিদ।মসজিদ সংলগ্ন মাঠে ২০০০ সাল থেকে ঈদের নামাজ পড়ি।নামাজের সময় মসজিদ (আংশিক) পিছনে পড়ে। যদি আমরা মসজিদটাকে ৬ থেকে ৮ হাত পশ্চিমে পিছিয়ে নেই। তাহলে সব সুন্দর হয়।এরি ধারা বাহিকতায় সাদা কাগজে ছবি এঁকে স্যারের সাথে পরামর্শ করি। স্যার বলেছিলেন ফিকহি বিষয়ে একটু ঝামেলা আছে, তবে করা যাবে। বর্তমানে স্থানান্তরিত (নির্মানাধীন) মসজিদএর বেড়ার কাজ চলছে এবং আশা আছে স্যারকে দিয়ে উদ্বোধন করার। বর্তমানে অনলাইনে দেখছি বা শুনছি মসজিদ স্থানান্তর করা জায়েজ নাই। যেহেতু জায়েজ নাজায়েজ এর প্রশ্ন। সেহেতু আমার প্রশ্ন হলো আমাদের কাজটি কতটুকু ঠিক? আর এ ব্যাপারে আমার ভুমিকাটা ছিল একটু বেশী। তাই নিজেকে অপরাধি মনে হচ্ছে। আশা করি জলদি উত্তর দানে বাধিত করবেন।
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
স্যার তো বলেছেনই এই বিষয়ে একটু ঝামিলা আছে অর্থাৎ এখানে মত দুইটি। জায়েজ এবং না জায়েজ। স্যার যেহেতু বলেছেন সমস্যা নেই তাই অন্য কোন দিকে কান দেয়ার দরকার নেই। তবে যদি স্থানান্তরিত না করলে তেমন কোন সমস্যা না হয় তাহলে না করার মধ্যেই অধিক সতর্কতা। (এ্যাডমিন)
প্রশ্নঃ 447
পাড়াগায়ে ক্রিকেট খেলা উপলক্ষে সবাই মিলে টাকা তুলে খাবার আয়োজন করা যাবে কি?
29 Dec 2025
না, এভাবে সবাই মিলে টাকা তুলে খাবার আয়োজনে কোন সমস্যা নেই।
প্রশ্নঃ 446
আস সালামু আলাইকুম সায়েখ এই আমল টা পেয়েছি । এটা কি সহি আমল জানাবেন দয়া করে। দারিদ্রতা থেকে মুক্তি লাভের পরীক্ষিত আমল…হযরত ইমাম মালেক (রহ.) হজরত ইবনে উমর [রা.] থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার এক ব্যক্তি হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললো: ইয়া রাসুলাল্লাহ! ﷺ দুনিয়া আমার থেকে বিমুখ হয়েছে এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শণ করেছে। রাসুল ﷺ বললেন, তুমি কি ফেরেশতাদের দোয়া ও আল্লাহর সব সৃষ্টিজীবের তাসবীহ পড় না? যে তাসবীহের কারণে তাদেরকে রিজিক দেয়া হয়? সুবহে সাদেকের সময় তুমি সে তাসবীহ একশবার করে পড়বে, তাহলে দেখবে দুনিয়া তোমার কাছে তুচ্ছ হয়ে আসবে। লোকটি চলে গেল। এবং এ দোয়াটি পড়তে লাগল। .কিছুদিন পরে আবার সে ফিরে এসে বললো ইয়া রাসুলাল্লাহ! ﷺ আমার কাছে এত অধিক সম্পদ জমা হয়েছে যেগুলো হেফাজত করার মত কোনো জায়গা আমার কাছে নেই। [জিয়াউন্নবী-৫/৯০২] আরবি দোআঃ سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم أستغفر الله বাংলা উচ্চারণঃ সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম। আসতাগফিরুল্লাহ। :অর্থঃ আল্লাহ তায়ালা সব অসম্পূর্ণতা থেকে পবিত্র এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁরই। মহান আল্লাহ পবিত্র। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করছি।
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
না, আমলটি সহীহ নয়। উক্ত হাদীসটি মাওযু।সকল মুহাদ্দিস হাদীসটিকে মাওযু বা জাল বলেছেন। আল-লায়াইল মাসনুয়াহ, ২/২৮৭; তানযীহুশ শারিআতিল মারফুয়াহ ২/৩৮৯।
প্রশ্নঃ 445
আস্-সালামুআলাইকুম। ১. রিযিক প্রাপ্ত হওয়ার আমল কি কি আছে? সূরা ওয়াকিয়া প্রতিদিন পরলে রিযিক বারবে এমন শুনেছিলাম, কোন সহীহ হাদিসে আছে কি? bus এর মাঝে থাকার সময় নামায কাযা হলে কি ইশার সাথে আসর, মাগরিব কসর হিসেবে পড়তে হবে? কোন আমল বেশি করলে আল্লাহ রিযিকের ব্যবস্থা তাড়াতাড়ি করবেন?
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
রিযিকের জন্য এই দুআটি দুই সাজদার মাঝে এবং অন্যান্য সময় বারবার পাঠ করুন।
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى وَارْحَمْنِى وَاهْدِنِى وَعَافِنِى وَارْزُقْنِى
এছাড়া কুরআনের এই দুআটিও নামাযে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পড়বেন,
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
এবং যে কোন প্রয়োজনের জন্য রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো নফল সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় পাঠ করতে থাকুন। আর সূরা ওয়াকীয়া পড়ার হাদীসটি যয়ীফ তবে আপনি পড়তে পারেন।
প্রশ্নঃ 444
আসসালামু আলাইকুম। স্যারের কাছে আমার প্রশ্ন, আমার ভাই তার বউকে ঝগড়ার পর তার মায়ের সামনে তিন তালাক বলেছে। এরপর ভাবির মা তার মেয়েকে নিয়ে চলে গেছেন। এই তালাক কি হয়ে গেছে? নাকি ভাবিকে ফেরত আনার কোন উপায় আছে? এক্ষেত্রে বিধান কি?
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
হ্যাঁ, আপনার ভাবী তালাক হয়ে গেছে। তাকে ফিরিয়ে নেয়ার কোন উপায় নেই। তবে যদি ঐমহিলার অন্য কোথাও পরবতীর্তে বিয়ে হয় আর সেই স্বামী তাকে তালাক দেয় অথবা মারা যায় তাহলে আপনার ভাই তাকে বিয়ে করতে পারবে। এছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ নেই।
প্রশ্নঃ 443
আসসালামু আলাইকুম আমার ১টি প্রশ্ন জানতে চাইতেছি.দয়াকরে উওর দিলে খুশি হব. প্রশ্ন টা হল, বিয়ে কার সাথে হবে সেটা কি আল্লাহ (swt) আগে থেকে দায্ (টিক)করে রেকে চেন?এবং বিয়ে তারাতারি হবার জন্য কি কোন বিশেষ আমল আছে?কারণ আমার পারিবারিক ভাবে এবং মেয়ের সম্মতিতে আমার বিয়ে টিক হয়েছিল হটাত করে মেয়ে বলে আমি confuse জানিনা কি করব। এর আগে ২/৩ অন্য জায়গাতে আমাকে দেখে না বলে দেয়।
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
সব বিষয়ই আল্লাহ তায়ালার কাছে নির্ধারিত আছে।দ্রুত বিবাহের জন্য রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো নফল সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। এছাড়া কুরআনের এই দুআ দুটিও সালাতে এবং অন্যান্য সময় বারবার পড়বেন,
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ এবং رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
আল্লাহ আপনাকে উক্ত সমস্যা থেকে মুক্তি দিন।
প্রশ্নঃ 442
আসসালামু আলাইকুম, ১.মাজহাব মানতে হবে অ্যাই রকম কি কোনো বাধ্যবাঁধকতা আছে, না থাকলে ক্যানো মানব? ২. তারাবির নামায কয় রাকাত পরতে হবে? এর স্বপক্ষে কোন সাহি হাদিস আছে?
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
সাধারণ মানুষ এবং এমন আলেম যারা কুরআন ও হাদীস থেকে মাসআলা বের করতে পারে না তাদেরকে কোন না কোন আলেমের মতামত অনুযায়ী চলতে হয়। কোন হাদীস সহীহ, কোনটা সহীহ নয়, কোন হাদীসের ব্যাখ্যা কি হবে, কুরআনের কোন আয়াতের তাফসীর বা ব্যখ্যা কি হবে এইসব বিষয়ে কোন না কোন আলেমের মতামত তাকে শুনতে হয়। আর এটাই মাজহাব মানা। সুতরাং এমন মানুষদের জন্য মাজহাব মানা ছাড়া কেন বিকলপ নেই। এবং এমন প্রত্যেকেই মাজহাব মানে। হয়ত সে প্রসিদ্ধ চার মাজহাব মানে কিংবা অন্য কোন আলেমের মতামত মেনে চলে। এই বিষয়ে অনেকগুলো স্যারের ভিডিও ক্লিপ আছে, সেগুলো দেখলে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে। তারাবীহ বা রামাদানের কিয়ামুল লাইল: রামাদানে কিয়ামুল্লাইল আদায়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) অন্য সময়ের থেকে অধিক তাকিদ প্রদান করেছেন। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه
অর্থ: যে ব্যক্তি রমজান মাসে ঈমানের সাথে সওয়াবের নিয়তে নামায পড়বে তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০০৯ এজন্য রামাদানের কিয়ামুল্লাইলকে উম্মাতের আলিমগণ অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সুন্নাত মুআক্কাদা বলে গণ্য করেছেন। সাহাবীগণ রামাদানে তাঁর পিছনে জামাআতে কিয়ামুল্লাইল পালন করতে অতীব আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু ফরয হওয়ার আশঙ্কায় তিনি একাকী তা আদায় করতেন এবং সাহাবীদেরকে এভাবে আদায় করতে পরামর্শ দেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৬১। পাশাপাশি তিনি জামাআতে রামাদানের কিয়াম আদায়ের ফযীলতে বলেন:
مَنْ قَامَ مَعَ الإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ كُتِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ
যে ব্যক্তি ইমামের কিয়ামুল্লাইল শেষ করা পর্যন্ত ইমামের সাথে কিয়ামুল্লাইল আদায় করবে তার জন্য পুরো রাত কিয়াম পালনের সাওয়াব লেখা হবে। জামে তিরমিযী হাদীস নং ৮০৬। হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযী ও শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেনে। সাহাবীগণ ও পরবর্তী প্রজন্মের মুসলিমগণ রামাদানের কিয়ামুল্লাইল আদায়ের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। যেহেতু শেষ রাতে উঠে তা আদায় করা অনেকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়, এজন্য অনেকেই সালাতুল ইশার পরেই মসজিদে বা বাড়িতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করে ঘুমাতেন। যারা কুরআনের ভাল কারী বা হাফিয ছিলেন না তারা অনেক সময় কোনো ভাল কারী বা হাফিযের পিছনে মসজিদে বা বাড়িতে ছোট জামাত করে তা আদায় করতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে ও তাঁর ওফাতের পরে প্রায় কয়েক বৎসর এভাবেই চলে। খলীফা উমার (রা) লক্ষ্য করেন যে, এভাবে মদীনার মসজিদে নববীতে ছোট ছোট জামাতে বা পৃথকভাবে একাকী অনেকেই সালাতুল ইশার পরে কিয়ামুল্লাইল আদায় করছেন। তখন তিনি সাহাবী উবাই ইবন কাবকে বলেন, মানুষেরা দিবসে সিয়াম পালন করেন, কিন্তু অনেকেই ভাল হাফিয বা কারী নন; কাজেই আপনি তাদেরকে নিয়ে জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করেন। পাশাপাশি তিনি সুলাইমান ইবন আবী হাসমাহ (রা) নামক অন্য সাহাবীকে মহিলাদের নিয়ে মসজিদের শেষ প্রান্তে পৃথক জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করার নির্দেশ দেন। মহিলাদের জামাতের ইমামতি তামীম দারী (রা) নামক অন্য সাহাবীও করতেন। খলীফা উসমান ইবন আফ্ফনের (রা) সময়ে তিনি সুলাইমান ইবন আবী হাসমাহ (রা)-এর ইমামতিতে পুরুষ ও মহিলাদের এক জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায়ের ব্যবস্থা করেন। মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান, আল-মুআত্তা (আব্দুল হাই লাখনবী, আত-তালীক আল-মুমাজ্জাদ-সহ) পৃ ১/৩৫৫; ইবনু আবী শাইবা; আল-মুসান্নাফ ২/২২২। অধিকাংশ মানুষ জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করতে থাকেন। তবে অনেক সাহাবী, তাবিয়ী ও যারা ভাল হাফিয ও আবিদ ছিলেন তারা সালাতুল ইশার পরে অথবা মধ্য রাতে ও শেষ রাতে একাকী রামাদানের কিয়ামুল্লাইল আদায় করতেন। সহীহ হাদীসে হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. স্বয়ং সাহাবীদের কে নিয়ে কয়েক দিন রমজানের এই বিশেষ নামায তথা তারাবীহ নামায পড়েছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০১২। রাসূল সা. থেকে সহীহ সনদে ঐরাতগুলোর তারাবীহর রাকআত সংখা নিয়ে কোন হাদীস বর্ণিত নেই। মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে রাসূল সা. ২০ রাকআত পড়েছেন মর্মে যে হাদীসটি বর্ণিত আছে তা সর্বাক্যমতে দূর্বলু। কারন ঐ হাদিসের সনদে আবু শায়বা ইবরাহীম ইবনে উসমান নামে একজন রাবী আছেন যাকে ইমাম আহমাদ, বুখারী, আবু দাউদ সহ সকল মুহাদ্দিস দূর্বল কিংব মাতরুক (পরিত্যক্ত) বলেছেন। দেখুন, তাহযীবুত তাহযীব, ১/১২৫, তরজামা ২৫৭। সহীহ হাদীস প্রমাণিত যে, রাতের নামাযে রাসূলুল্লাহ সা. এর রাকআত সংখা বিভিন্ন রকম ছিল। নিচে সংক্ষেপে বর্নণা করা হল:
عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَقَالَتْ مَا كَانَ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ ، وَلاَ فِي غَيْرِهَا عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًا ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ قَالَ يَا عَائِشَةُ إِنَّ عَيْنَيَّ تَنَامَانِ ، وَلاَ يَنَامُ قَلْبِي
অর্থ: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান হযরত আয়েশা রা.কে জিজ্ঞাসা করেন, রমাদান মাসে রাসূলুল্লাহ সা.এর নামায কেমন ছিল? তিনি বললেন, তিনি রামাদান এবং অন্য সময়ে ১১রাকআতের বেশী বাড়াতেন না। তিনি প্রথমে ৪ রাকআত পড়তেন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতায় বিস্মিত হবে। এরপর আবার ৪ রাকআত পড়তেন। তুমি তার সোন্দর্য ও দীর্ঘতায় বিস্মিত হবে। এরপর ৩ রাকআত পড়তেন। ……….. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০১৩। হযরত আয়েশা রা. থেকে অন্য বর্নণায় আছে:
عن عائشة قالت : كان النبي صلى الله عليه و سلم يصلي من الليل تسع ركعات [ قال ] وفي الباب عن أبي هريرة وزيد بنخالد والفضل بن عباس
অর্থ: হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. রাত্রে ৯ রাকআত পড়তেন । জামে তিরমিযী, হাদীস নং৪৪৩। হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাসান সহীহ আর শাইখ আলবানী বলেছেন, সহীহ। আয়েশা রা. থেকে আরেক বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. কোন কারণে রাতের বেলায় নামায না পড়তে পারলে দিনের বেলায় ১২ রাকআত পড়তেন। জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৪৪৫। হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযী ও শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
عن ابن عباس قال : كان النبي صلى الله عليه و سلم يصلي من الليل ثلاث عشر ركعة
হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা, রাতে ১৩ রাকআত নামায পড়তেন। জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৪৪২। হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযী ও শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। বর্ণনা বিভিন্ন প্রকার হওয়ার কারণে ইমাম তিরমিযী বলেছেন,
وأكثر ما روي عن النبي صلى الله عليه و سلم في صلاة الليل ثلاث عشرة ركعة مع الوتر وأقل ما وصف من صلاته بالليل تسع ركعات
রাতের নামাযের ব্যাপারে নবী সা. থেকে যা বর্ণনা করা হয় তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী হল বিতরসহ ১৩ রাকআত আর সবচেয়ে কম হল ৯ রাকআত। উপরের আলোচনা থেকে আমরা নিশ্চিত করেই বলতে পারি যে, রাতের নামায, রামাদান মাসে হোক কিংব অন্য সময় হোক রাসূলুল্লাহ সা. রাকআত সংখা নির্দিষ্ট করেননি। সাহবীদের থেকেও তারাবীর রাকআত সংখা নিয়ে বর্ণনা গুলোর মধ্যে ভিন্নতা আছে। নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল: হযরত উমর রা. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, তার সময়ে লোকেরা মসজিদে জামায়াতের সাথে বিশ রাকআত নামায আদায় করেছেন। হাদীসটি নিম্নরুপ:
عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ : كَانُوا يَقُومُونَ عَلَى عَهْدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ فِى شَهْرِ رَمَضَانَ بِعِشْرِينَ رَكْعَةً – قَالَ – وَكَانُوا يَقْرَءُونَ بِالْمِئِينِ ، وَكَانُوا يَتَوَكَّئُونَ عَلَى عُصِيِّهِمْ فِى عَهْدِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ مِنْ شِدَّةِ الْقِيَامِ
অর্থ: সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, লোকেরা উমার রা. আমলে রমজান মাসে বিশ রাকআত নামায পড়ত। তিনি বলেন, তারা একশ আয়াত পড়ত। দাড়িয়ে থাকতে কষ্ট হত তাই তারা উসমান রা. এর যুগে লাঠিতে ভর দিত। আস-সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং ৪৮০১। হাদীসটি সহীহ। ইমাম নববী, বদরুদ্দীন আইনি, আল্লামা যাইলায়ী, ইবনে হুমাম সব প্রমূখ মুহাদ্দীস হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। দেখুন, আল-মাজমু আলা শারহিল মুহাজ্জাব ৪/৩২; উমদাতুল কারী ৪/৪৮৫; তাবয়ি-নুল হাকাউক শারহে কানযুদ দাক-য়ীক ২/৩৪৯। তবে শায়খ আলবানী ও আব্দুর রহমান মুবারকপুরী এই দুই আহলে হাদীস আলেম বলেছেন হাদীসটি সহীহ নয়। তাদের কথা ইলমের দৃষ্টিতে গ্রহনযোগ্য নয়। এই হাদীসটির বক্তব্যকে সমর্থন করে অনেক গুলো দূর্বল ও সনদ বিচ্ছিনন হাদীস (যে হাদীসের সনদ থেকে কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে যায় তাকে সনদ বিচ্ছিন্ন বা মুনকাতি হাদীস বলে)। তার কিছু নিচে দেয় হল: ১। উক্ত সাহবী (সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে) দূর্বল সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كنا نقوم في زمان عمر بن الخطاب بعشرين ركعة والوتر
অর্থ: আমরা উমার রা. যুগে বিশ রাকআত নামাযপড়তাম ও বিতর পড়তাম। মারিফাতুস সুনান লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং১৩৬৫। ২। ইয়জিদ ইবনে রুমান থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,
كَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فِي رَمَضَانَ بِثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ رَكْعَةً
অর্থ: মানুষেরা উমার ইবনে খাত্তারব রা. এর সময় তেইশ রাকআত (বেতার সহ) নামায পড়ত। মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং ৩০৩। ইয়াজিদ ইবনে রুমান উমার রা. কে পাননি তাই হাদীসটির সনদ মুনকাতি। (উমদাতুল কারী ৪/৪৮৫)। ৩। আব্দুর রহমান আস সুলামী হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণনা করেন যে,
دَعَا الْقُرَّاءَ فِى رَمَضَانَ ، فَأَمَرَ مِنْهُمْ رَجُلاً يُصَلِّى بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً. قَالَ : وَكَانَ عَلِىٌّ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ يُوتِرُ بِهِمْ
অর্থ: তিনি (আলী রা.) যারা কোরআন পড়তে পারে তাদেরকে ডাকলেন। তারপর তাদের একজনকে লোকদেরকে নিয়ে বিশ রাকআত নামায পড়াতে আদেশ দিলেন। আব্দুর রহমান আসসুলামী বলেন, আলী রাযি. তাদেরকে নিয়ে বিতর পড়লেন। আসসুনানুল কুরবা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং ৪৮০৪। এই হাদীসটির সহীহ বা যয়ীফ হওয়ার ব্যাপারে কোন বায়হাক্কী রহ. কোন মন্তব্য করেন নি। এই কিতাবের ৪৮০৫ নং হাদীসে পৃথক সনদে আলী রা. থেকে বিশ রাকআত তারাবীহ পড়ার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন বলে বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে তিনি দূর্বল বলেছেন। এছাড়াও আরো অনেকগুলো সনদ দূর্বল হাদীস বিভিন্ন কিতাবে উল্লেখ আছে। এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, হযরত উমার রা. এর যুগ থেকে বিশ রাকআত তারাবীহ সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত এবং অনেকগুলো দূর্বল হাদীস একে সমর্থন করছে, সুতরাং আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, বিশ রাকআত তারাবীহ সুন্নাহ সম্মত। সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে অন্য হাদীসে বর্ণিত আছে যে, উমার রা. উবাই ইবনে কাব এবং তামীম দারেমীকে আট রাকআত তারাবীহ পড়ানোর জন্য আদেশ দিয়েছেন। যার আরবী জানেন তাদের জন্য হাদীসটির মূল পাঠ নিম্নরূপ:
عَنْ مَالِكٍ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ ، أَنَّهُ قَالَ : أَمَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ وَتَمِيمًا الدَّارِيَّ أَنْ يَقُومَا لِلنَّاسِ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً قَالَ : وَقَدْ كَانَ الْقَارِئُ يَقْرَأُ بِالْمِئِينَ ، حَتَّى كُنَّا نَعْتَمِدُ عَلَى الْعِصِيِّ مِنْ طُولِ الْقِيَامِ ، وَمَا كُنَّا نَنْصَرِفُ إِلاَّ فِي فُرُوعِ الْفَجْرِ
মুয়ত্তা মালেক, হাদীস নং ৩০২। হাদীসটির সনদ সহীহ। সহীহ সনদে সাহাবী সাইব ইবরে ইয়াযীদ থেকে আরো একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। হাদীসটি নিম্নরূপ :
عبد الرزاق عن داود بن قيس وغيره عن محمد بن يوسف عن السائب بن يزيد أن عمر جمع الناس في رمضان على أبي بن كعب وعلى تميم الداري على إحدى وعشرين ركعة يقرؤون بالمئين وينصرفون عند فروع الفجر
অর্থ: উমার রা. মানুষদেরকে একত্র করে উবাই ইবনে কাব এবং তামীম দারেমীকে ২১ রাকআত পড়ানোর জন্য ইমাম বানিয়ে দিলেন। তারা শত শত আয়াত পাঠ করতেন এবং ফজরের সময় ফিরে আসতেন। মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ৭৭৩০। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, সাহাবীগণও মনে করতেন না যে, তারবীহর নামায নির্দিষ্ট । তবে অধিকাংশ আলেম তারাবীহ নামায ২০ রাকআত আদায় করারা পক্ষে মত দিয়েছেন। নিচে চার মাজাহাব ও অনুসৃত আলেমগণের মতামত সংক্ষেপে বর্ণনা করা হল: ১। ইমাম বায়হাক্কী রহ বলেছেন, দুই বর্ণনার (আট ও বিশ) মাঝে এভাবে সমন্বয় কারা যায় যে, প্রথমে তারা আট রাকআত পড়ত পরে বিশ রাকআত পড়ত। আসসুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং ৪৮০২। রাকআত সংখা নিয়ে চার মাযহাব ও অন্যান্য ইমামগণের বক্তব্য: ২। হানাফী মাজহাব:
يُسْتَحَبُّ أَنْ يَجْتَمِعَ النَّاسُ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ بَعْدَ الْعِشَاءِ فَيُصَلِّيَ بِهِمْ إمَامُهُمْ خَمْسَ تَرْوِيحَاتٍ ، كُلُّ تَرْوِيحَةٍ بِتَسْلِيمَتَيْنِ ، وَيَجْلِسَ بَيْنَ كُلِّ تَرْوِيحَتَيْنِ مِقْدَارَ تَرْوِيحَةٍ ، ثُمَّ يُوتِرَ بِهِمْ
অর্থ: মুস্তাহাব হলো লোকেরা রমজান মাসে ইশার পরে একত্রিত হবে এং ইমাম তাদেরকে নিয়ে পাঁচটি বিরতি দিয়ে নামায পড়বেন আর প্রত্যেকটি বিরতি হবে দুই সালাম বিশিষ্ট (অর্থাৎ বিশ রাকআত)। প্রত্যেক দুই বিরতির মাঝে সমপরিমান সময় বসে থাকবেন । এরপর তিনি তাদেরকে নিয়ে বিতর পড়বেন। হেদায়া ১/৭০। বিস্তারিত জানতে দেখুন: ফাতহুল কদীর ২/৪৪৬। ৩। মালেকী মাজহাব: মালেকী মাজহাবের প্রবীণ আলেম আল্লামা বাজী রহ. তার রচিত মুয়ত্তার ব্যাখ্যা গ্রন্থে (১/২০৮) তারবীহ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন,
وروى نافع مولى ابن عمر : أنه أدرك الناس يصلون بتسع وثلاثين ركعة. يوترون بثلاث. وهو الذى اختاره مالك
অর্থ: মাওলা ইবনে উমার নাফে রহ. বর্ণনা করেন যে, তিনি মানুষদেরকে ৩৯ রাকআত নামায পড়তে দেখেছেন। তারা তিন রাকআত বিতর পড়ত । আর ইমাম মালেক রহ. এটাই পছন্দ করেছেন। দেখুন: আত-তারাবীহ, লেখক: আতিয়্যাহ মুহাম্মাদ সালিম, পৃষ্ঠা ১৫৯-১৬০। ৪। শাফেয়ী মাজহাব: ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেন,
فَأَمَّا قِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ فَصَلاَةُ الْمُنْفَرِدِ أَحَبُّ إلى منه وَرَأَيْتهمْ بِالْمَدِينَةِ يَقُومُونَ بِتِسْعٍ وَثَلاَثِينَ وَأَحَبُّ إلى عِشْرُونَ لأَنَّهُ روى عن عُمَرَ وَكَذَلِكَ يَقُومُونَ بِمَكَّةَ وَيُوتِرُونَ بِثَلاَثٍ
অর্থ: রমজানের নামায একাকী পড়াই আমার নিকট উত্তম। আমি মদীনাবাসীদেরকে দেখেছি তারা ৩৯ রাকআত পড়ে । তবে বিশ রাকআত আমার নিকট অধিক প্রিয়। কেননা উমার রাযি. থেকে তা প্রামানিত। আর এমনই (২০ রাকআত) পড়ে মক্কাবাসীগন। আর তারা তিন রাকআত বিতর পড়ে। কিতাবুল উম্ম লিশ শাফেয়ী ১/১৪২। ৫। হাম্বলী মাজহাব: প্রখ্যত হাম্বলী আলোম ইবনে কুদামা আল মুকাদ্দেসী (৬২০হি.) বলেন,
قَالَ وَقِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ عِشْرُونَ رَكْعَةً يَعْنِي صَلَاةَ التَّرَاوِيحِ وَهِيَ سُنَّةٌ مُؤَكَّدَةٌ
অর্থ: রমজানের মাসের নাময অর্থাৎ তারবীহ বিশ রাকআত। এবং তা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। আল মুগনী ফি ফিকহী ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল ৩/৩৮৭। ৬। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার রহ. বলেন,
فَإِنَّهُ قَدْ ثَبَتَ أَنَّ أبي بْنَ كَعْبٍ كَانَ يَقُومُ بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً فِي قِيَامِ رَمَضَانَ وَيُوتِرُ بِثَلَاثِ . فَرَأَى كَثِيرٌ مِنْ الْعُلَمَاءِ أَنَّ ذَلِكَ هُوَ السُّنَّةُ ؛ لِأَنَّهُ أَقَامَهُ بَيْن الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَلَمْ يُنْكِرْهُ مُنْكِرٌ
অর্থ: এটা সাব্যস্ত যে, উবাই ইবন কাব রাযি. মানুদেরকে নিয়ে রমজানে বিশ রাকআত তারাবী ও তিন রাকআত বিতর পড়িয়েছিলেন। অধিকাংশ আলেম এটাকেই সুন্নত মনে করেন। কেননা তিনি তার করেছিলেন মুহাজির ও আনসারদের উপস্থিতিতে আর তার কোন রকম আপত্তি করেন নি। মাজমউল ফাতাওয়া ২৩/ ১১২। উপরের আলোচনা থেকে আমরা দেখতে পাই যে, তারাবীহ নামায রাসূলুল্লাহ সা. থেকে সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত। যারা বেশী কোরআন পড়তে পারেন তারা বাড়িতে একা একা উক্ত নামায পড়বে। আর তারাবীহর রাকআত সংখা বিশ হযরত উমার রা. থেকে সহীহ সনদে সাব্যস্ত। আর অধিকাংশ আলেমও বিশ রাকআতকে সুন্নাত মনে করেন। তবে শাইখ আলবানী সহ কোন কোন আলেম আট রাকআতের মত গ্রহন করেছেন। সুতরাং আমাদের মত সাধারণ মানুষদের কর্তব্য হল অধিকাংশ আলোম যে বিষয়টিকে সুন্নাত বলেছেন সেটা মেনে নেয়া এবং সেই অনুযায়ী আমল করা। তবে কেউ যদি এর কম বা বেশী পড়তে চান তাতে কোন অসুবিধা নেই। এমনটিই বলেছেন বিশেষজ্ঞ আলেমগণ। কেননা এটা সুন্নত নামায, রাকআত সংখা উদ্দেশ্য নয়। বিস্তারিত জানতে ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত আল-ফিকহুল আকবার দেখুন।
প্রশ্নঃ 441
আসসালামু আলাইকুম। আপনের একটা ওয়ায শুনি ও আমল করি। আমলটা হলো প্রতিদিন কুরআন পড়ি ্রএবং অনুবাদ বুঝার চেষ্টা করি।কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো আমি যখন সফরে থাকি তখন এই কাজটি করতে পারি না। তাহলে আমার কি করা উচিৎ?
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আপনি চেষ্টা করবেন সব সময় পড়ার। আল্লাহ আপনাকে তাওফীক দিন।
প্রশ্নঃ 440
আসসালামুআলাইকুম, স্যার, আমার প্রশ্ন হলো ব্যাংক বা বীমা থেকে প্রাপ্ত সুদের টাকা নিজেদের বাসা বাড়ির কাজে লাগানো হয়েছে। এখন সেই সুদের টাকা ইসলামের মাসআলা অনুযায়ী ব্যায় করতে চাই। প্রাপ্ত সুদের সম পরিমাণ টাকা ব্যায় করলেই হবে না কোন কাফফারা দিতে হবে? কোন কোন খাতে সুদের টাকা ব্যায় করা যাবে? দয়া করে দলিল সহকারে জানাবেন। আবিদুল ইসলাম, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল।
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
সুদের টাকা আপনি গরবীদেরকে সওয়াবের নিয়ত ছাড়া দিয়ে দিবেন। কাফফারা দিতে হবে না, প্রাপ্ত সুদের সমপরিমান টাকা দিয়ে দিবেন।রাসূলুল্লাাহ সা. নিষেধ করার পর তাঁর বেঁচে থাকা সময়ের মধ্যে কোন মানুষ সুদ নেয় নি। সুতরাং হাদীসে এই বিষয়ে কোন নির্দেশান পাওয়া যাবে না। সুদের টাকা মূলত অন্যের টাকা। যেহেতু মালিক পাওয়া যাচ্ছে না তাই গরীবদেরকে দিয়ে দিতে হবে। হাদীসে এর কোন খাত উল্লেখ নেই।
প্রশ্নঃ 439
মুহতারামঃ আসসালামু আলাইকুম। ১. ফযরের ওয়াক্তে এমন সময় ঘুম থেকে উঠেছি যে ওযু করতে করতে সময় মাত্র শেষ হয়েছে। এখন আমি কি সাথে সাথেই ফযরের সালাত আদায় করব, নাকি ২৩ মিনিট আপেক্ষা করে সালাত আদায় করব? ২. সাহু সিজদা করার সঠিক পদ্ধাতি হাদিসের আলোকে জানতে চাই। আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান কারুক। আমিন
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আপনি সূর্য পুরোপুরি উদিত হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ ২৩ মিনিট অপেক্ষা করবেন। সাহু সিজদা সালামের আগে, পরে যে কোন সময় দেয়া যায়। অর্থাৎ তাশাহুদু, দরুদ ও দুআ মাসূরা পড়ে সাহু সিজদা করে সালাম ফিরানো অথবা তাশাহুদু পড়ে কিংবা তাশাহুদুর সাথে দরুরদ ও দুআ মাসূরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে সাহু সিজদা করে আবার পূনরায় সবগুলো পড়ে সালাম ফিরানো।সহীহ হাদীসে উভয় পদ্ধতিই আছে। আমাদের সমাজে সালামের পরে সাহু সিজদা দেয়া হয়, এটা সহীহ হাদীস সম্মত। দেখুন, জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬৫ও ৩৯৫।
প্রশ্নঃ 438
আসসালামু আলাইকুম। শায়েখ! আপনার আস্ -সুন্নাহ্ ট্রাষ্ট থেকে কোন মাসিক পত্রিকা বের করার কোন উদ্দ্যেগ আছে কি?
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
জী হ্যাঁ আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট থেকে মাসিক পত্রিকা বের করার ইচ্ছা আছে। আপনারা দুআ করেন শ্রীর্ঘই পত্রিকা বের করা হবে ইনশাআল্লাহ ।
প্রশ্নঃ 437
আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হল গোসল ফরজ অবস্থায় মোবাইলে বা ল্যাপটপে ওয়াজ শোনা যাবে কিনা? যাযাকুমুল্লাহ।
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, যাবে।
প্রশ্নঃ 436
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ সূদী ব্যাংকে account করিয়ে দেয়া জায়েজ হবে কি? আমি personally এই ব্যাংকে service করতাম। এখন ছেড়ে দিয়েছি। কিন্ত বাইরে থেকে account করিয়ে দেওয়ার সুযোগ আছে। আমি করতে চাইছি না,কিন্তু আমার এক দাদা বলছেন যে সুধুমাত্র account করে দেওয়াতে কোনো সমস্যা নেই..যুক্তি হিসাবে তিনি বলছেন..সাধারন মানুষের যেহেতু account করা এই india তে প্রায় বাধ্যতামুলক,সেহেতু তাদের ভোগান্তি থেকে বাচাতে এটা জায়েজ হবে…তাই শায়েখ প্লিজ উত্তর দেবেন…
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
শুধুমাত্র ভোগান্তি থেকে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে এ্যাকাউন্ট করা হলে আশা করি আপনার গুনাহ হবে না। তবে যদি কোন ধরনের সুদের লেনদেন করবে বলে আপনি জানতে পারেন তাহলে আপনি এ্যাকাউন্ট করে দিবেন না।
প্রশ্নঃ 435
আসসালামু আলাইকুম। আমি ২০১০-২০১২ সালে দুটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে শিক্ষকতা করেছিলাম, তারপর বিদেশ থেকে পিএইচডি করে এখন দেশে ফিরে এসেছি। এখন আবার শিক্ষকতা করবো কি করবো না সেজন্য পরামর্শ চাচ্ছি। আমি যতদূর জানি যেসব ইউনিভার্সিটিতে ছেলে-মেয়েরা একসাথে ক্লাসরুমে বসে, সেখানে শিক্ষকতার কাজ করলে ইনকাম হালাল হবে, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে অনৈসলামিক পরিবেশে কাজ করার জন্য মাকরুহ হবে (মেয়েদের সাথে মেলামেশার অনুপাতে)। সমস্যা হলো আমাদের দেশের প্রায় সব ইউনিভার্সিটিতেই এই ব্যবস্থা বিদ্যমান। আমার চাকরির অভিজ্ঞতা বলে যে যদিও আমি দৃষ্টি নিচু রাখি, তারপরও ছাত্রীদের পড়া বুঝানোর সুবিধার্থে কিছুটা হলেও তাদের দিকে (ইচ্ছাকৃতভাবে) তাকাতে হয়; তদুপরি পরীক্ষার হলে ডিউটি, ল্যাব পরিচালনা ইত্যাদি কাজে অনেক ক্ষেত্রে ছাত্রীদের সাথে ইনডিভিজুয়ালি ডিল করতে হয়। অপরপক্ষে শিক্ষকতা পেশার পজিটিভ দিকগুলো নিম্নরূপঃ (১) অন্যান্য চাকরির তুলনায় অবসর সময় বেশি পাওয়া যায় যেটা ইসলামের প্রচার-প্রসারে কাজে লাগানো যায়, (২) শিক্ষকতার চাকরিতে সম্মান পাওয়া যায় যেটা ইসলামের দাওয়াতি কাজে ব্যবহার করা যায়, (৩) ভালো বেতন পাওয়া যায় যেখান থেকে ইসলামের কাজে লাগানো যায়। আমার প্রায় আড়াই বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা ছিল এই যে দিনশেষে মনে খচখচ করে যে আমি ইচ্ছাকৃতভাবেই এমন চাকরিতে এসেছি যেখানে দৃষ্টি ১০০% হেফাজত করা যায় না (এ প্রসঙ্গে আরেকটি পয়েন্ট বিবেচনায় নিতে পারেনঃ আল্লাহ্র রহমতে আমার পারিবারিক আর্থিক অবস্থা ভালো)। শাইখ, যদি পজিটিভ-নেগেটিভ বিবেচনা করে চাকরির পরামর্শ দেন তাহলে দয়া করে বলবেন যে কিভাবে আমি মনের এই খচখচানি দূর করতে পারি। বিস্তারিত উত্তর দিলে কৃতজ্ঞ থাকবো। জাযাকাল্লাহু খাইরা।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আপনার সচেতনতা ও তাকওয়ার অনুভূতির জন্য আপনাকে মুবারকবাদ জানাচ্ছি। দুআ করি, আল্লাহ আপনার চেষ্টা কবুল করুন এবং তাওফীক দান করুন। আমার মনে হয়, আপনি শিক্ষকতার চাকরি দিয়ে শুরু করুন। যদি মোটামুটি তাকওয়া বজায় রাখা সম্ভব হয় তবে কন্টিনিউ করুন। না হলে বিকল্প কর্ করতে হবে। আর আপনাদের মত যোগ্য মানুষের ইনশা আল্লাহ বিকল্প কর্র অসুবিধা হবে না। আল্লাহর তাওফীক আপনার সাথে থাকুক।
প্রশ্নঃ 434
মুহতারাম, আসসালামুআলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহ। আমাদের মত সাধারন মানুষ যাদের দ্বীনি এলেম প্রায় নেই তারা ধর্ম পালনে বেশ সমস্যার মধ্যে পড়ি।দুই প্রকার বিষয় নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে ইদানিং খুব দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ। প্রথম হলঃ তাবলিগ, জামায়াতে ইসলাম ও আহলে হাদিস। আহলে হাদিস ও জামায়াতের দৃষ্টিতে তাবলীগ ইসলামের ক্ষতি করছে কারন তাবলীগ সৎ কাজের উপদেশ দেয় ঠিকই কিন্তু অসৎ কাজের নিষেধ করেনা। আর আহলে হাদিসের ভাইয়েরাতো তাবলীগ ওয়ালাদের বিদয়াতী ও জাহান্নামি বরতে দ্বিধা করেনা। আমি ব্যক্তিগতভাবে জামায়াতে ইসলামিকে অপছন্দ করি অনেক কারনে সেগুলো না হয় এখানে আনলামনা। দ্বিতীয় হলঃ হানাফি এবং আহলে হাদিস। আহলে হাদিসের দৃষ্টিতে হানাফিদের নামাজই হবেনা। আবার হানাফিদের দৃষ্টিতে আহলে হাদিস গোড়া এবং ভুল পথে। আবার আহলে হাদিস মনে করে যে, হানাফিদের আমলকৃত বেশিরভাগ হাদিসই জাল। অর্থ্যাৎ, এই দুই দলের একদল আরেক দলকে প্রতিনিয়তঃ ঘায়েল করার চেষ্টায় ব্যস্ত। এই অবস্থায় আমরা কি করব- (১) তাবলীগ, জামায়াতে ইসলাম বা আহলে হাদিসের কোনটা সঠিক এবং কোনটা ভুল? (২) হানাফি বা আহলে হাদীসের কোনটা সঠিক এবং কোনটা ভুল? দয়া করে জানালে উপকৃত হব।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আপনি যে সমস্যার কথা বলেছেন সেটি মুসলিম উম্মাহর অন্যতম সমস্যা। এ বিষয়ে আমাদের অনেকগুলো ভিডিও ক্লিপ বিদ্যমান। সুযোগ থাকলে সেগুলো দেখুন। এছাড়া এহইয়াউস সুনান বইটি পড়ন। ঈদের তাকবীর ও হাত বাঁধার বিধান বই দুটিও পড়তে পারেন। সংক্ষেপে আমার পরামর্শ হলো: (১) সকল দলীয় চেতনা পরিহার করুন। তবলীগ, জামাত, আহলে হাদীস, হানাফী সকলকেই মুসলিম হিসেবে মহব্বত করুন এবং সকলের ভাল কাজে সহযোগিতা, অংশগ্রহণ ও দুআ করুন। (২) আহলে হাদীস আলিমদের অনেক কিছুই ভাল, কিন্তু খুঁটিনাটি ফিকহী বিষয় নিয়ে প্রান্তিক ঝগড়া উম্মাতের বিভক্তির অন্যতম কারণ। আমার মতে মূলধারার হানাফী মতের সাথে থাকুন। পাশাপাশি যে সকল বিষয়ে হানাফী মতের দলিল দুর্বল বলে মনে হয় সে বিষয়ে আপনার সাধ্যমত অনুসন্ধান করুন। আপনি নিশ্চিত হলে সহীহ হাদীসের উপর আমল করুন। তবে অন্য আমলকে কখনোই বাতিল বলবেন না। (৩) উপরের বইগুলো পড়ার পরে আপনার কোনো পরামর্শ বা প্রশ্ন থাকলে যোগাযোগ করবেন। আল্লাহ ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 433
আসসালামু আলাইকুম, আমি কুরআনের বাংলা তাফসীর সংগ্রহ করে পড়তে চাই। কোন তাফসীরটি তুলনামূলকভাবে অধিক উত্তম হবে পরামর্শ দিলে উপকৃত হব। জাজাকাল্লাহু খাইরান
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি তাফসীরে ইবনে কাসীর পড়বেন। এটিই তুলনামূলভাবে অধিক উত্তম। অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীরের জন্য শায়খ ত্বকী উসমানী লিখেত তাওযীহুল কুরআন পড়তে পারেন।
প্রশ্নঃ 432
যাকাত কিসে কিসে দিতে হবে? ডায়মন্ড এর জন্য কি জাকাত দিতে হবে? হলে কি হিসাবে বা কত ভাগ (%) দিতে হবে? বিস্তারিত জানাবেন।
28 Dec 2025
সংক্ষেপে বলা যায় স্বর্ন, রোপা, টাকা-পয়সা, ব্যবসার মাল, উৎপাদিত ফসল, পশু ইত্যাদির যাকাত দিতে হয়। ডায়মন্ডেরও যাকাত দিতে হবে। কারো কাছে থাকা ডায়মন্ডের মুল্য যদি প্রচলিত মুদ্রায় সাড়ে বায়ান্ন ভরি রোপার মূল্যের সমপরিমাণ হয় তাহলে শতকারা আড়াই পার্সেন্ট হারে যাকাত দিতে হবে। পশু বাদে অন্যান্য পণ্যের যাকাতও আড়েই পার্সেন্ট হারে দিতে হয়। পশুর ক্ষেত্রে হুকুম ভিন্ন। উল্লেখ্য নিসাবের মালিক হওয়ার অর্থাৎ যাকত ফরজ হওয়া পরিমান সম্পদের মালিক হওয়ার এক বছর পর যাকাত আদায় করতে হবে। বছরের মাঝে সম্পদ কমে গেলেও যাকাত দিতে হবে এবং যাকাত দেয়ার সময় যত সম্পদ থাকবে সেটা হিসাব করে আড়াই পার্সেন্ট যাকাত দিতে হব।
প্রশ্নঃ 431
আসসালামু আলাইকুম। অনেক বিজ্ঞ আলেম গন বলেন যে টিসু পেপার ব্যব হার করা বিদাত বা নাজায়েজ। কিন্তু আমার প্রস্রাব করার পরেও একটু একটু প্রস্রাব বের হয়। টিসু পেপার নিয়ে কিছুক্ষন অপেক্ষা করলে প্রস্রাব বের হওয়া বন্ধ হয়। এই অবস্থায় আমি যদি টিসু পেপার ব্যবহার না করে সরাসরি পানি দিয়ে ধুয়ে নিই তাহলে কি কাপড় পাক থাকবে? আমি যতদুর জানি, প্রস্রাব কাপড়ে লাগলে পবিত্রতা থাকে না। ধন্যবাদ।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
পানি কিংবা টিস্যু পেপার যে কোন একটি দ্বারাই পবিত্রতা অর্জিত হয়। তবে উভয়টি একসাথে ব্যবহার করাকে ফকিহগণ উত্তম বলেছেন। আপনার যদি এমন মনে হয় শুধু পানি ব্যবহার করলে পরে প্রসাব বের হবে তাহলে টিস্যু ব্যবহারের পর পানি ব্যবহার করবেন।টিস্যু ব্যবহার না জায়েজ নয়। রাসূলুল্লাহ সা. এবং পরবর্তীরা ঢিলা ব্যবহার করতেন। বর্তমানে ঢিলার স্থানে টিস্যু ব্যবহার করা হয়। তবে টিস্যু নিয়ে হাটাহাটি করবেন না। যতটা সম্ভব বসেই টিস্যু ব্যবহার করবেন। একান্ত প্রয়োজন হলে দাঁড়াতে পারেন তবে হাটাহাটি করবেন না। রাসূলুল্লাহ সা. কিংবা সাহাবীদের থেকে হাটাহাটির বিষয়টি পাওয়া যায় না। অনেকেই এই হাটাহাটিকে বিদআত বলেছেন।
প্রশ্নঃ 430
We generally known that zakat for ornaments have to be given if someone have got 7 vori gold….I want to know about that… I m confused by watching the lecture of Dr Abdullah Jahangir sir….
28 Dec 2025
যাকাতের নিসাব স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত ভরি এবং রোপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন ভরি। অর্থাৎ কারো কাছে যদি শুধু স্বর্ণ থাকে তাহলে সাড়ে সাত ভরির কম হলে যাকাত ফরজ হবে না। তেমনি যদি কারো কাছে শুধু রোপা থাকে তাহলে সাড়ে বায়ান্ন ভরির কমে যাকাত ফরজ হবে ন। তবে যদি কারো কাছে স্বর্ণ ও রোপা উভয়টি থাকে তবে নিসাব পরিমান নয় কিন্তু টাকার হিসাবে সেগুলোর মোট মূল্য সাড়ে বায়ান্ন ভরি রোপার মূল্যের সমপরিমাণ হয় তাহলে তার উপর যাকাত ফরজ। তদ্রুপ যদি কারো আছে নেসাবের চেয়ে কম স্বর্ণ কিংবা রোপা থাকে সাথে টাকা কিংবা অন্য কোন সম্পদ থাকে আর টাকার হিসাবে সেগুলোর মোট মূল্য যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলার রোপার সমপরিমাণ হয় তাহলে তার উপরেও যাকাত ফরজ। উল্লেখ্য নিসাবের মালিক হওয়ার অর্থাৎ যাকত ফরজ হওয়া পরিমান সম্পদের মালিক হওয়ার এক বছর পর যাকাত আদায় করতে হবে। বছরের মাঝে সম্পদ কমে গেলেও যাকাত দিতে হবে এবং যাকাত দেয়ার সময় যত সম্পদ থাকবে সেটা হিসাব করে আড়াই পার্সেন্ট যাকাত দিতে হব।
প্রশ্নঃ 429
রাসূলুল্লাহ সা. গোসলের পর ওযু করতেন না। সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ২৫২; আবু দাউদ, হাদীস নং ২৫০; তিরমিযী, হাদীস নং ১০৭। ইমাম তিরমিযীসহ মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। প্রশ্ন হলঃ এই গোসল কি স্বাভাবিক গোসল নাকি ফরজ গোসল নাকি শরিয়াত সম্মত অন্য কোন পদ্ধতি। ফরজ গোসল কি যে কোন সময় করা যা নাকি শুধু শারীরিক অপবিত্রতার পরে করতে হয়, বিস্তারিত । প্লিজ
28 Dec 2025
উক্ত হাদীসে ফরজ গোসলের কথাই বলা হয়েছে। তবে এখনো মূল কথা হলো যদি কেউ ফরজ গোসলের মত করে গোসল করে তাহলে তাকে আর ওযু করতে হবে না। কিছু অপবিত্রতার কারণে গোসল ফরজ হয়। গোসল যদি ফরজই না হয় তাহলে ফরজ গোসল করবেন কিভাবে? তবে ফরজ গোসলের মত গোসল করা যায়।
প্রশ্নঃ 428
আসসালামু আলাইকু। কদমবুছি করা, কি জায়েজ?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
এটা একটি কুসংস্কার। কোন মূমিনের কদমবুচি করা উচিৎ নয়। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত এহইয়াউস সুনান, পৃষ্ঠা ৩৮৬-৩৮৮।
প্রশ্নঃ 427
Question 1: Seven years ago a muslim lady got married with a hindu boy making him muslim . Now there is a son in that family. The problem is that the lady has observed along seven years that the boy doesnt only say prayer anytime but also doesnt keep raja during Ramadan. Now the lady is in doubt that wheter the boy had been a muslim in a real sense. As a result of that the lady has asked the boy to make the document and take the clearance from any concerned authority stating that he had been a muslim. But the boy says that I will do it later but not now. Some extra information : The boy has not any job right now and is beared totally by the income of that lady. The boy goes to visit his hindu family whenever he gets time. . In this condition what the lady can or should do…
28 Dec 2025
আপনার প্রশ্ন থেকে স্পষ্ট যে, ঐ ছেলে প্রকৃতপক্ষে মুসলিম হয় নি। শুধুমাত্র বিয়ের জন্য মুসলিম হয়েছি এ কথা বলেছে। আপনি প্রথমে যত দ্রুত সম্ভব তার থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন, তালাক নয়, তার থেকে আলাদা থাকা শুরু করবেন। এরপর তাকে বলবেন, তার বিষয়টি স্পষ্ট করতে। যদি সে প্রকৃত পক্ষে মুসলিম হয়, ইসলামী আইন-কানুন মেনে চলে তাহলে আলহামদুলিল্লাহ। পুনরায় সংসার শুরু করবেন। আর যদি মুসলিম না হয় তাহলে তালাক ডিভোর্স দিবেন। কোন মুসলিম মেয়ের জন্য জায়েজ নেই হিন্দু ধর্মের কোন ছেলের সাথে বিবাহ করা।
প্রশ্নঃ 426
শায়েখ কুরআন সুন্নার আলোকে ফরজ গোসলের নিয়ম টা জানাবেন? রুজি রুটির/চাকরির বেবস্থা করার জন্য আর রুজি রুটির বরকত পাওয়ার জন্য সুন্নাতি দোয়ার আমল জানাবেন? জাঝাকাল্লাহ খাইরান
28 Dec 2025
গোসলের পূর্বে প্রথমে দুই হাত ভাল করে ধৌত করতে হবে। এরপর লজ্জাস্থান ধৌত করতে হবে। তারপর সালাতের ওযুর মত ওযু করতে হবে। ওযুর পর মাথায় পানি ঢালতে হবে তারপর শরীরে।এরপর পুরো শরীরে তিনবার পানি ঢালতে হবে। সহীহ হাদীসে এমনটিই বর্ণিত আছে।
عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا اغْتَسَلَ مِنَ الْجَنَابَةِ بَدَأَ فَغَسَلَ يَدَيْهِ ثُمَّ يَتَوَضَّأُ كَمَا يَتَوَضَّأُ لِلصَّلاَةِ ثُمَّ يُدْخِلُ أَصَابِعَهُ فِي الْمَاءِ فَيُخَلِّلُ بِهَا أُصُولَ شَعَرِهِ ثُمَّ يَصُبُّ عَلَى رَأْسِهِ ثَلاَثَ غُرَفٍ بِيَدَيْهِ ثُمَّ يُفِيضُ الْمَاءَ عَلَى جِلْدِهِ كُلِّهِ
অর্থ: হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. যখন জানাবাতের (ফরজ) গোসল করতেন তখন প্রথমে হাত ধৌত করতেন তারপর ওযু করতেন যেভাবে নামাযে ওযু করেন এরপর পানির মধ্যে আঙ্গুল ডুবাতেন এবং তা দ্বারা চুল খিলাল করতেন। অতঃপর মাথায় তাঁর হাত দ্বারা তিন অঞ্জলী পানি মাথায় ঢালতেন। তারপর তিনি তার পুরো শরীরে পানি ঢালতেন। সহীহ বুখারী হাদীস নং ২৪৮। আরো দেখুন, সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ১০৩, ১০৪; সুনানু ইবনে মাজাহ হাদীস নং ৫৭৩। প্রতিটি হাদীসই সহীহ। চাকরীর জন্য এবং যে কোন প্রয়োজনের জন্য রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো নফল সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। এছাড়া কুরআনের এই দআটিও বারবার পড়বেন,
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
এবং রুটি রুজির বরকতের জন্য এই দুআটি দুই সাজদার মাঝে এবং অন্যান্য সময় পাঠ করুন।
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى وَارْحَمْنِى وَاهْدِنِى وَعَافِنِى وَارْزُقْنِى
প্রশ্নঃ 425
দেন মহর কেও যদি বিয়ের সময় না দিতে পারেন,বা পরে দিতে চান এ বেপারে ইসলাম কি বলে। অনেকের দেখা যাই তার বউ এর থেকে মাফ চেয়ে নেন। এ বেপারে বিস্তারিত জানতে চাচ্ছি।
28 Dec 2025
হাদীসে বিয়ের সময়ই মহর দেয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে পরে দিলেও হবে। মাফ চাওয়া যাবে না। কারণ অনেক সময় সামাজিক চাপের করণে স্ত্রী মুখে মাফ করার কথা বলে বটে কিন্তু মূলত সে মাফ করে না।
প্রশ্নঃ 424
আচ্ছা আমি কি কোন অমুসলিম এর জন্য দুআ করতে পারবো? দুআটি এরকম -হে আল্লাহ তুমি তাকে হেদায়েত কর
28 Dec 2025
জ্বী, পারবেন। এতে কোন সমস্যা নেই। আমাদের প্রত্যেকেরই এরকম দুআ করা উচিত।
প্রশ্নঃ 423
আসসালামু আলাইকুম, সম্মানিত স্যার, আপনার মঙ্গল কামনা করি সব সময়। আল্লাহ আপনার দ্বিনের সহীহ প্রচারকে কবুল করুক। আমিন। আমার প্রশ্ন, কোনো ইমামের পেছনে নামাজ পড়া যাবেনা তার মধ্যে কি কি ত্রুটি থাকলে এবং এরকম ত্রুটি কারো মধ্যে পাওয়া গেলে তার পেছনে নামাজ পড়ে তারপর আলাদা ভাবে নিজে নিজে নামাজ আদায় করা দরকার আছে কিনা? এবং মুফতি জসিমউদ্দিন রাহমানি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি? ইমেইলে জানালে উপকৃত হবো ইনশাআল্লাহ।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
কোন ইমামের মধ্যে সুস্পষ্ট এবং দ¦্যর্থহীন কুফর-শিরক পাওয়া গেলে তার পিছনে নামায আদায় করা যাবে ন। এর বাইরে ইমাম পাপী হলেও তার পিছনে নামায পড়তে হবে। আরেকটি বিষয় হলো ইমাম যদি সালাতে এভাবে কুরআন পড়ে যে, কুরআনের অর্থ পরিবর্তন হয় না তাহলে পূনরায় নামায পুনরায় পড়ার দরকার নেই। তবে যদি অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায় তাহলে পূনরায় সালাত আদায় করতে হবে। যদি কোন মসজিদের নিয়মিত নিযুক্ত ইমাম পাপী হন তবে তার নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ পাপী হবেন। সাধারণ মুসল্লি যদি অন্য কোন ভাল ইমামের পিছনে সালাত আদায়ের সুযোগ পান তাহলে ভাল, নইলে এরুপ পাপী ইমামের পিছনেই সালাত আদায় করতে হবে। নেককার ইমামের পিছনে সালাত আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন কুফর-শিরক না পাওয়া পর্যন্ত কোনো অজুহাতে জামাআত বা জুমুআ ত্যাগ করা যাবে না। ঐক্য বজায় রেখে উত্তম ইমামের জন্য চেষ্টা করতে হবে। আর আপনি যে শিরকের কথা উল্লেখ করেছেন সম্ভবত তা এমন নয় যে, তার পিছনে সালাতই আদায় করা যাবে না। কারণ শিরকের অনেক পর্যায় আছে। সব শিরকই এই পর্যায়ের নয় যে, শিরক কারীর পিছনে সালাত আদায় করা যাবে না। প্রসিদ্ধ কালামবিদ ইমাম আবুল হাসান আশয়ারী র. (৩২৪হি.) বলেন,
ومن ديننا أن نصلي الجمعة والأعياد وسائر الصلوات والجماعات خلف كل بر وفاجر كما روى أن عبد الله بن عمر رضى الله عنهم كان يصلي خلف الحجاج
অর্থ: আর আমাদের দীনের অন্যতম দিক যে, আমরা জুমুয়ার সালাত, ঈদগুলো এবং অন্যান্য সকল সালাত এবং জামাআত নেককার ও বদকারের পিছনে আদায় করি। যেমনিভাবে বর্ণিত আছে,আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের পিছনে সালাত আদায় করতেন (মুসান্নিফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস নং ১৪১৭৫)। আল-ইবানাহ আন উসূলিদ দিয়ানাহ, ১/২০। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে পড়ন ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার রচিত আল-ফিকহুল আকবার পৃষ্ঠা ৩৩৭-৩৭৯ এবং রাহে বেলায়াত পৃষ্ঠা ৫৬৩-৫৬৮
প্রশ্নঃ 422
আসসালামু আলাইকুম। আপনার রাহেবেলায়েত বইটি পড়ি এবং ওয়াজ শুনে সেই অনুযায়ী আমল করার চেষ্টা করি। কিন্তু তারপরও জীবনের সঙ্কট কাটছেনা। বর্তমানে আমি অনেক সঙ্কটপূর্ণ অবস্থায় আছি। মাঝে মাঝে মনে হয় আমার নেকির চাইতেও গুনাহ মনে হয় অনেক বেশি। তাই হয়তো অনেক দুআ পড়ার পরেও জীবনের সঙ্কট কাটছেনা। কি করলে মহান আল্লাহ পাক আমার দুয়া কবুল করবেন তা যদি একটু জানান অনেক উপকার হবে।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
বিপদ-সংকটে সবর করার মধ্যেই রয়েছে মূমিনের সফলতা। অনেক সময় আল্লাহ তায়ালা এই বিপদাপদ দ্বরা তাঁর প্রিয় বান্দাদের পরীক্ষা করেন। সুতরাং আপনি দুঃশ্চিন্তা করবেন না। আল্লাহর কাছে দুআ করুন আশা করি আপনার সমস্যা দূর হয়ে যাবে। আপনি রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো নফল সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। এছাড়া কুরআনের এই দআটিও সালাতে এবং অন্যান্য সময় বারবার পড়বেন,
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনার সব সংকট দূর করে দেন।
প্রশ্নঃ 421
আসসালামু আলাই্কুম, আমার কিছু জরুরী প্রশ্ন ছিল, যা নিয়ে আমি বেশ কিছুদিন যাবত সমস্যার মধ্যে আছি। দয়া করে সমাধান দিয়ে আমার উপকার করবেন। ১) আমার দাদা-দাদি মাজার ভক্ত ছিলেন। উনাদের কবরে জিয়ারত করা এবং উনাদের জন্য ইস্তেগফার করা কি জায়েজ হবে? উনারা বিশ্বাস করতেন মাজার উছিলা দিয়ে আল্লাহর কাছে চাইলে অনেক কাজে সফল হওয়া যায় বা মাজারে মানত করলে পরীক্ষায় পাশ করা যায়। এসব কি শিরক? ২) নামাজের ওয়াক্তে আমি যদি এমন কোনো স্থানে থাকি যেখানের আশে পাশের মসজিদের ইমাম মাজার সমর্থক, তবে কি আমার ঐ মুহুর্তে সেই ইমামের পেছনে নামাজ পড়া জায়েজ হবে? নাকি বাসায় গিয়ে পড়ব? আমার কাছে স্পষ্ট প্রমাণ নেই ঐ ইমামরা শিরকে লিপ্ত কি না।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
মাজারের উসিলা দিয়ে আল্লাহর কাছে চাওয়া, মাজারে মান্নত করা নিঃসন্দেহ শিরকী কাজ। তবে শুধু এই কাজের জন্য আপনার দাদা-দাদী মুশরিক হয়ে যান নি, তারা না জেনে এমনটি করেছেন। সুতরাং তাদের কবার জিয়ারত করা, তাদের জন্য ইস্তেগফার করাতে কোন সমস্যা নেই। বরং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, তাদের জন্য দুআ করা আপনার দায়িত্ব। তাকফীর তথা কাফের কখন হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন, ইসলামী আকীদা, পৃষ্ঠা ৫১৭-৫২১। দ্ব্যর্থহীন শিরকে লিপ্ত হওয়ার নিশ্চিত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত এরুপ পাপী ইমামের পিছনে সালাত আদায় করতে হবে। বাড়িতে পড়া যাবে না। জামাত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে পাপী ইমামের পিছনে সালাত বিষয়ে আমাদের দেয়া অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখুন।
প্রশ্নঃ 420
আমি জানতে চাই ইফতেখার নামে কোন নামায আছে নাকি?
28 Dec 2025
আপনি সম্ভবত ইস্তেখারার নামাযের বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। হ্যাঁ, হাদীস শরীফে এই নামাযের কথা উল্লেখ আছে।গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় সামনে আসলে রাসূলুল্লাহ সা. দুরাকাত নামায পড়ে একটি দুয়া পড়তেন, এটাই ইস্তেখারার নামায। নিচের হাদীসটিতে থেকে আপনি বিষয়টি বিস্তারিত জানতে পারবেন।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا ، قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُعَلِّمُنَا الاِسْتِخَارَةَ فِي الأُمُورِ كَمَا يُعَلِّمُنَا السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ يَقُولُ إِذَا هَمَّ أَحَدُكُمْ بِالأَمْرِ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ مِنْ غَيْرِ الْفَرِيضَةِ ثُمَّ لِيَقُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ فَإِنَّكَ تَقْدِرُ ، وَلاَ أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ ، وَلاَ أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلاَّمُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي ، أَوْ قَالَ عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ – فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي ، أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ – فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِي قَالَ : وَيُسَمِّي حَاجَتَهُ
অর্থ: হযরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. (গুরুত্বপূর্ণ) কাজ সমূহের ক্ষেত্রে আমাদের ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন যেমন আমাদেরকে কুরআন শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন, যখন তোমাদের কেউ কোন (গুরুত্বপূর্ণ) কাজের ইচ্ছা করে সে যেন ফরজ ব্যতিত দুরাকাত নামায পড়ে অতঃপর এই দুআটি পাঠ করে
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ فَإِنَّكَ تَقْدِرُ ، وَلاَ أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ ، وَلاَ أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلاَّمُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي ، أَوْ قَالَ عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ – فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي ، أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ – فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِي قَالَ : وَيُسَمِّي حَاجَتَهُ
সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৬৬ উক্ত হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে, গুরুত্বপূর্ণ কাজের পূর্বে দুই রাকআত নফল নামায পড়ে উক্ত দুআটি পড়তে হবে। এটাই ইস্তিখারা। আরো বিস্তারিত জানতে দেখুন, রাহে বেলায়াত বইটির ৪৩১-৪৩২ পৃষ্ঠা।
প্রশ্নঃ 419
১. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করা কতটুকু সুন্নাত সম্মত? ২. আমাদের নবীর আমলে মহিলারা মসজিদে গিয়ে কি সালাত আদায় করত? ৩. মা আয়েশা রা. মসজিদে গিয়ে কি সালাত আদায় করতেন?
28 Dec 2025
রাসূলুল্লাহ সা. মহিলাদের বাড়িতে সালাত আদায় করাকে উত্তম বলেছেন। তবে তাদেরকে তিনি মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সা. এর আমলে মহিলারা মসজিদে যেতেন বলে সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে। আয়েশা রা. মহিলাদের মসজিদে যাওয়া অপছন্দ করতেন। নিচের হাদীসদুটি লক্ষ্য করুন
عن بن عمر عن النبي صلى الله عليه و سلم قال : لا تمنعوا النساء أن يخرجن إلى المساجد وبيوتهن خير لهن
অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. থেকে বর্নিত, নবী সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা মহিলাদেরকে মসজিদে যেতে বাধা দিও না। তবে তাদের ঘরই তাদের জন্য উত্তম। মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ৫৪৭১; সুনানু আবি দাউদ, হাদীস নং ৫৬৭। হাদীসটি সহীহ। শায়খ শুয়াইব আরনাউত এবং শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
عَنْ يَحْيَى – وَهُوَ ابْنُ سَعِيدٍ – عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهَا سَمِعَتْ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- تَقُولُ لَوْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- رَأَى مَا أَحْدَثَ النِّسَاءُ لَمَنَعَهُنَّ الْمَسْجِدَ كَمَا مُنِعَتْ نِسَاءُ بَنِى إِسْرَائِيلَ قَالَ فَقُلْتُ لِعَمْرَةَ أَنِسَاءُ بَنِى إِسْرَائِيلَ مُنِعْنَ الْمَسْجِدَ قَالَتْ نَعَمْ
অর্থ: ইয়াহইয়া ইবনে সাইদ, আমরাহ বিনতে আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করনে যে,তিনি আয়েশা রা. কে বলতে শুনেছেন, যদি রাসূলুল্লাহ সা, মহিলাদের বর্তমান অবস্থা দেখতেন তাহলে তাদেরকে মসজিদে যেতে নিষেধ করতেন। যেমনিভাবে বনি-ইসরাইলের মহিলাদের নিষেধ করা হয়েছিল। ইয়াহহিয়া ইবনে সাইদ বলেন, আমি আমরাহকে বললাম, বনি-ইসরাইলের মহিলাদেরকে কি মসজিদে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০২৭। উপরের হাদীসদুটি থেকে একথাও স্পষ্ট যে, মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার অনুমতি আছে তবে ঘরে সালাত আদায় করাই তাদের জন্য উত্তম এবং রাসূলুল্লাহ সা. এর যুগে এবং পরবতীর্তে অনেক মহিলাই মসজিদে সালাত আদায় করতো।
প্রশ্নঃ 418
আসসালামু আলাইকুম, স্যার আপনার কাছে আমারেএকটি প্রশ্ন হল তাকদীর বা ভাগ্য কি? . আমাদের ভবিষ্যৎ কি হবে তাকি আগে থেকেই আল্লাহ নির্ধারিত করে দিয়াছে? যেমন আমি পরীক্ষা তে ফেল করলাম আমি কি বলতে পারব যে পড়ালেখা করিনি এই জন্য পাস করলামনা নাকি বলব তাকদিরে ছিলনা তাই পাস করতে পারলাম না।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আল্লাহর বিশেষণের বিষয়ে বৈপরীত্য কল্পনার একটি দিক তাকদীর। কুরআন ও হাদীস থেকে আমরা আল্লাহর অনাদি-অনন্ত, সর্বব্যাপী জ্ঞানের কথা, তাঁর ক্ষমতা ও ইচ্ছার কথা জানতে পারি এবং পাশাপাশি আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতা, ন্যায়বিচার ও করুণার কথা জানতে পারি। অনেকে এ দু বিশেষণের মধ্যে বৈপরীত্য কল্পনা করেছেন। প্রথম বিশেষণের মাধ্যমে আমরা জানি যে, মহান আল্লাহ অনাদিকাল থেকে তাঁর সৃষ্টির মধ্যে কে, কখন, কিভাবে কি কর্ম করবে তা সবই জানেন। আমরা কুরআন ও হাদীসের মাধ্যমে জানি যে, মহান আল্লাহ তাঁর এ জ্ঞান লাওহে মাহফুযে লিপিবদ্ধ করে রাখেন। আমরা আরো জানি যে, মহান আল্লাহর রুবূবিয়্যাতের ন্যূনতম দাবি যে, তাঁর জ্ঞানের অগোচরে ও ইচ্ছার বাইরে পৃথিবীতে কিছুই ঘটতে পারবে না। এ থেকে কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, তাহলে মানুষ যা কিছু করে তা আল্লাহর নির্দেশেই করে, কাজেই মানুষের কর্মের জন্য তাকে অপরাধী বলে গণ্য করা যায় না। এরা মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা, আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতা ও কর্মফল বিষয়ক আয়াত ও হাদীসগুলো বিভিন্ন ব্যাখ্যা করে বাতিল করেন। অপরদিকে কেউ কেউ মনে করেন যে, আল্লাহর জ্ঞান, লিখন ও ইচ্ছার এ সকল বিষয় তাঁর ন্যায়পরায়ণতার বিশেষণের সাথে সাংঘর্ষিক। কাজেই ন্যায়পরায়ণতার বিশেষণ গ্রহণ করে অন্যান্য বিশেষণ ব্যাখ্যা করে বাতিল করতে হবে। আসলে এ সবই আল্লাহর বিশেষণকে মানুষের বিশেষণের সাথে তুলনা করার ফল। আল্লাহর ক্ষেত্রে তাঁর সর্বব্যাপী জ্ঞান, লিখনি ও ইচ্ছার সাথে মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা, ও ন্যায়বিচারের কোনোরূপ বৈপরীত্য নেই। মুমিন সরল ও সহজ অর্থে উভয় প্রকারের বিশেষণ বিশ্বাস করবেন। সমন্বয়ের জন্য এ বিষয়ক মূলনীতি অনুসরণ করবেন। কোনোভাবেই একটি প্রমাণ করার জন্য অন্যটি ব্যাখ্যা করে বাতিল করবেন না।
তাকদীরে বিশ্বাস অর্থ আল্লাহর জ্ঞান ও আল্লাহরন্যায়পরায়ণতা উভয় বিশেষণে সমানভাবে বিশ্বাস করা। আল্লাহর নির্ধারণে অবিশ্বাস করলে আল্লাহর জ্ঞান ও ক্ষমতায় অবিশ্বাস করা হয়। আর মানুষের স্বাধীন ইচ্ছায় অবিশ্বাস করলে আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতা ও করুণায় অবিশ্বাস করা হয়। এ অবিশ্বাসের শুরু মহান আল্লাহর বিশেষণ ও কর্মকে মানুষের বিশেষণ বা কর্মের মত বলে বিশ্বাস করা থেকে। আল্লাহর সকল বিশেষণ সমানভাবে প্রত্যয়ের সাথে বিশ্বাস করলে এ বিষয়ে কোনো অস্পষ্টতা থাকে না। একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে। মনে করুন, আল্লাহর নির্ধারণ যে, বিষ মৃত্যু আনে। মানুষকে আল্লাহর জ্ঞান দান করেছেন যে, বিষ মৃত্যু আনে। এরপরও কেউ বিষ পান করলে সে মৃত্যু বরণ করবে। তবে তা আল্লাহর ইচ্ছা ও জ্ঞান অনুসারে ঘটবে। আল্লাহ তাঁর অনন্ত জ্ঞানে জানেন যে, নির্দিষ্ট ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ে স্বেচ্ছায়, বাধ্য হয়ে, জেনে বা না-জেনে বিষ পান করবে। তিনি তাঁর এ জ্ঞান লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি ইচ্ছা করলে ঐ ব্যক্তির ইচ্ছা শক্তি হরণ করে তাকে বিষপান থেকে বিরত রাখতে পারেন বা বিষের ক্রিয়া নষ্ট করে বিষপানকারীকে মৃত্যু থেকে রক্ষা করতে পারেন। আল্লাহর জ্ঞান, লিখনি বা তাকদীর অনুসারে বিষপানকারীর মৃত্যু আসবে অথবা আসবে না। বিষপানকারী বিষপানে তার ইচ্ছা, অনিচ্ছা ও কর্ম অনুসারে পাপ বা পুণ্য লাভ করবে। বিস্তারিত জানতে পড়ুন, আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত কুরআন সুন্নাহের আলোকে ইসলামী আকীদা পৃষ্ঠা,৩৩৯-৩৪৭; আল ফিকহুল আকবার পৃষ্ঠা ১৭৮-১৮৩।
প্রশ্নঃ 417
আমার প্রশ্ন : (১) সলাতে রফউল ইয়াদাইন করলে কি সলাত হবেনা? (২) নবী (স) কি প্রথম যুগে রফউল ইয়াদাইন করেছেন আর শেষ দিকে করেন নাই? (৩) নবী (স) এর যুগে কি কেউ বগলে মূর্তি রাখত বলে নবী (স) রফউল ইয়াদাইন করেতন?
28 Dec 2025
জ্বী, সালাতে রফউল ইয়াদাইন করলে নামায হবে। তদ্রুপ না করলেও সালাত হবে। উভয়টিই সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত। নবীয়্যুল্লাহ সা. প্রথম যুগে রফউল ইয়াদাইন করেছেন আর শেষে করেন নি এমন কোন প্রমান হাদীসে নেই। বগলে মূর্তি রাখার কথাটি ভিত্তিহীন।
প্রশ্নঃ 416
কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক যদিও দেশের সুদী অর্থনীতির নেতৃত্ব দিয়ে থাকে, এর অধিকাংশ বিভাগের (প্রায় ৭৫%) কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সুদের কোন সম্পর্ক নেই অর্থাৎ সুদ গ্রহণ, প্রদান, সুদের হিসাব-নিকাশকরণ, লেখা, সাক্ষী হওয়া ইত্যাদি ব্যতিরেকেই এখানে পুরো ক্যারিয়ার চাকুরি করা সম্ভব। এমতাবস্থায়, উক্ত প্রতিষ্ঠানে সুদের সাথে সরাসরি সম্পর্কহীন বিভাগে কাজ করা শরীয়াহ্-সম্মত হবে কি? বিশেষ করে এমন কারো জন্য যার চাকুরিতে প্রবেশের বয়স-সীমা (সরকার নির্ধারিত) শেষ হয়েছে।
28 Dec 2025
আপনার কাজের সাথে সুদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। তাই এটাকে হারাম বলা কঠিন। অন্য কোনো সুযোগ না থাকলে এ চাকরী করা যাবে বলেই মনে হয়। তবে সাধারণ নিয়ম হলো যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এক শাখার কর্মকর্তাকে অন্য শাখায় বদলী করা হয়। এভাবে আপনাকে যে কোনো সময়ে সুদ লেখা বা সুদের হিসাবের মধ্যে প্রবেশ করতে হতে পারে। সর্বাবস্থায় এটি বর্জন করতে পারলে ভাল।
প্রশ্নঃ 415
আমার পিতা একজন সরকারী ব্যাংকের (সূদভিত্তিক) কর্মকর্তা। আমি বি এস সি চতুর্থ বর্ষের একজন ছাত্র (KUET)। বাসা কুষ্টিয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয় খুলনাতে হবার দরুন আমি বিশ্ববিদ্যালয় এর হল এ থাকি। আমি আমার যাবতীয় খরচ আমার পিতার কাছ থেকেই নিয়ে থাকি। যেহেতু আমার পিতার আয় হালাল নয় সেহেতু আমি নিয়্যাত রেখেছি যে আমি তার কাছ থেকে যত টাকাই নিচ্ছি সেটা ঋণ হিসেবে নিচ্ছি। আল্লাহ তৌফিক দিলে আমি পড়াশোনা শেষে এই ঋণ ধীরে ধীরে মিটিয়ে দিব। আমি পড়াশোনার ক্ষতির ভয় এবং অনেকটা অলসতার কারনে সেভাবে টিউশনি খুজি নাই। এখন আমার প্রশ্ন স্যারের কাছে এভাবে পিতার কাছ থেকে ঋণ এর নিয়্যাত এ মাসিক টাকা নেওয়া আমার জন্য হালাল হচ্ছে কিনা?
28 Dec 2025
ঋণের নিয়তে টাকা নিলে কোন অসুবিধা নেই। তবে সুযোগ থাকলে আপনার পিতাকে হারাম বাদ দিয়ে কোন হালাল পেশায় যোগ দেয়ার জন্য বলবেন ।
প্রশ্নঃ 414
Assalamualaikum My niece is 8 years old. She received birthday invitation from her freind. Is she allowed to attend the birthday party with her mother? JazakAllahu Khair.
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
ইসলামে জন্মদিন পালন বলতে কিছু নেই । এটা অন্য ধর্মের মানুষ কর্তৃক সৃষ্ট। সুতরাং কোন মূমিনের জন্য উচিৎ নয় জন্মদিন পালন করা, কারো জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া, কাউকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো কিংবা শুভেচ্ছার জবাব দেয়া।
প্রশ্নঃ 413
স্বামী সংসারবিমুখ হলে মেয়েদের কি করনীয়?
28 Dec 2025
আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাকে এই সমস্যা থেকে মুক্ত করেন।আপনি ভালবাসা ও আদরসোগাহের মাধ্যমে স্বামীকে বুঝাতে থাকুন। আর রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো নফল সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। এছাড়া কুরআনের এই দআটিও বারবার পড়বেন, رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
প্রশ্নঃ 412
আসসালামু আলাইকুম স্যার। ইকামতের জবাব মুসল্লী দিতে পারবে কিনা। জাযাকাল্লাহু খইরান।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
জ্বী, ইকামতের জবাব মুসল্লি দিতে পারবে, ইকামতের জবাব দেয়া মুস্তাহাব।
প্রশ্নঃ 411
আস-সালামু আলাইকুম, আমাদের এখানে একজন বক্তা বলছেন যে, রসূলুল্লাহ (স:) ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত পেয়েছে এ কথাটি সম্পূর্ন ভুল। তিনি বলেন রসূলুল্লাহ (স:) নবুয়ত পেয়েছিলেন তখন যখন আদম (আঃ) কেও সৃষ্টি করা হয় নি। কিন্ত একজনকে জীঞ্জাসা করায় তিনি বললেন ৫ টি জগৎ আছে রসূল(সঃ) রূহের জগতে সবার আগে নবুয়ত পেয়েছিলেন কিন্ত দুনিয়ার জগতে ৫৭০ খৃঃ জন্ম গ্রহন করার পর ৪০বছর বয়সে ৬১০খৃঃ নবুয়ত পান। আমি জানতে চাচ্ছি আসলে কোন সঠিক সমাধান কি? আর জগৎ কতগুলি? ৫টা না তার কম বেশি।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
একটি হাদীসের ভুল ব্যাখার কারণে এই নিয়ে কিছুটা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। মূলত এটা কোন জটিল বিষয় নয়। এবং এ নিয়ে চিন্তা করা মূমিনের কাজও নয়। হাদীসটি হলো,
عن أبي هريرة قال قالوا : يا رسول الله متى وجبت لك النبوة ؟ قال وآدم بين الروح والجسد
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, কখন আপনার জন্য নবুওয়াত সাব্যস্ত হয়েছে? তিনি বলেন, তখন আদাম শরীর ও রুহ এর মাঝে ছিল। (অর্থাৎ তখনো আদম আ. কে সৃষ্টি করা হয় নি)। জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬০৯। হাদীসটি সহীহ। হাদীসে যেটা বলা হয়েছে সেটা ছিল আল্লাহ তায়াল নির্ধারন সংক্রান্ত রুহের জগতের বিষয়, দুনিয়ার বিষয় নয়। রুহের জগতে আমাদের সবাইকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তার মানে এই নয় যে, তখন আমাদের জন্ম হয়েছিল। সুতরাং এটা বলা যাবে না যে, রাসূলুল্লাহ সা. তখনই নবুওয়াত পেয়েছিলেন বরং তাঁর জন্য নবুওয়াত আল্লাহ নির্ধারন করেছিলেন আর দুনিয়াতে জন্ম নেয়ার পর ৪০ বছর বয়সে নবুওয়াত পেয়েছিলেন। বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে জগতের সংখ্যা বিভিন্ন হতে পারে, এই নিয়ে চিন্ত করা নিস্প্রয়োজন।
প্রশ্নঃ 410
আসসালামু আলাইকুম, আমি সফটওয়্যার প্রোগ্রামার। British American Tobacco (সিগারেট কোম্পানি) এর সফটওয়ারের কিছু কাজের প্রস্তাব পেয়েছি। কাজের ধরন হচ্ছে, সিগারেট তৈরির মেশিনের যাবতীয় স্ট্যাটাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি কম্পিউটারে জমা হয়। নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর, সেই কম্পিউটার থেকে আমার তৈরি সফটওয়ার, তথ্য সংগ্রহকরে অন্য একটি স্থানে রাখবে। সেই ক্ষেত্রে আমার কি উক্ত সফটওয়ারের ইনকাম হালাল হবে? উল্লেখ্য- আমার সিগারেট কারখানায় যেতে হবে না। ইন্টারনেটের মাধ্যমেই এই কাজটি করতে হবে।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
সাধারণভাবে মেশিন পরিচালনার প্রোগ্রাম তৈরি অবৈধ নয়। তবে যেহেতু প্রোগ্রামটি শুধুই সিগারেট তৈরিতে ব্যবহার হবে সেহেতু এটিতে অংশগ্রহণ না করাই ভাল মনে করছি। আল্লাহ আপনার হালাল ইনকামে বরকত দান করুণ।
প্রশ্নঃ 409
মুহতারাম, আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্নঃ আমি বিতিরের সালাত দুই নিয়তে (২+১) পরি। প্রশ্ন হল, প্রথম দুই রাকাত পরার সময় মনে মনে কি নিয়ত করব? বিতিরের দুই রাকাত না কি রাতের সালাতের দুই রাকাত? আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন। আমিন
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
যে কোন আমলের ক্ষেত্রেই সমাজে প্রচলিত কোন সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতির বাইরে অন্য কোন সুন্নাতের অনুসরন করতে হলে তা ভাল করে জেনে নেয়া জরুরী। আপনার নিয়াত এমন থাকবে যে, আমি শেষে এক রাকআত বিতর পড়ব তার পূর্বে দুই রাকআত পড়ছি।
প্রশ্নঃ 408
হজরত আসসালামুয়ালাইকুম। আমার কিছু প্রশ্ন অনেক দিন যাবত মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল। এইরকম একটা ফ্লাট ফরম পেয়ে অনেক উপকৃত হলাম। আমি বিয়ে করেছি ১ বছর ৩-৪ মাস হয়েছে। বিয়ের সময় আমার অনিচ্ছা সত্ত্বেও ফেমেলি আর সামাজিকতার চাপে পড়ে বড় অনুষ্ঠান করতে হয়েছে। আর ওই সময় ফেমেলির ঋণ ছাড়া ও আমার বেক্তিগত ঋণ হয়েছে ১ লক্ষ ২০ হাজার এর মত। উপরন্তু, বিয়ের পর ফেমেলির ঋণ শোধ করার জন্য ও আমাকে আরও ১০-১৫ হাজার টাকা ঋণ করা লাগছে। আমি ২০ হাজার টাকা বেতনে একটা চাকরি করি ঢাকাতে, সাথে আমার ছোট ভাই থাকে তার খরচ ও আমাকে বহন করতে হয়। আবার মাসে মাসে বাড়িতে ও টাকা দিতে হয়। যার দরুন আমার ঋণের টাকাটা শোধ করতে আমাকে ধারুন হিম-শিম খেতে হচ্ছে। এই দিকে বাড়িতে টাকা না দিলে বাবা আমার উপর অনেক রেগে থাকে, আমার ঋণের কথা বললে উনি কোন গুরুত্ব দেয় না। আমার বিশাস হয়তেছে আমি এই ঋণ নিয়ে মারা গেলে (আল্লাহ না করুক) আমার ফেমেলি এটার দায়িত্ব নিবে না। যদিও এই ঋণ আমি উনাদের প্রয়োজনে করতে বাধ্য হয়েছি। হজরতের নিকট আমার প্রশ্ন হল, আমি কি আপতত বাড়িতে টাকা না দিয়ে আগে আমার ঋণের টাকা টা পরিশোধ করব কিনা, এতে উনাদের মনে কষ্ট আসলে ও? আমি টাকা না দিলেও আল্লাহর রহমতে উনারা বাড়িতে চলতে তেমন অসুবিধা হবে না। আমি যদি কোন মাসে কর্জ করে উনাকে টাকা দেই, পরের মাসে উনি আবার টাকা চাইবে, আমি আগের কর্জ টা শোধ করছি কিনা সেটা উনি এক বার ও জিজ্ঞেস করবেনা। যাজাকাল্লাহু খাইরন।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আল্লাহ আপনাকে এই সমস্যা থেকে মুক্ত করুন। ঋন পরিষোধ জরুী। যেহেতু আপনার টাকা ছাড়াই আপনার পিতা-মাতার চলতে কোন অসুবিধা নেই তাই আপনি আদরের সাথে বিষয়টি তাদেরকে বুঝাতে চেষ্টা করুন। আশা করি তারা আপনার সমস্যার কথা বুঝবেন। তবে কোন অস্থাতেই তাদের সাথে খারাপ আচরণ করবেন না। পিতামাতার অসুবিধা না হলে ঋণ পরিশোধ করুন। তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করুন। তারা রাগ করলে বা খারাপ ব্যবহার করলে নীরব থাকুন।
প্রশ্নঃ 407
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: পরিচিত একজন, জলদি বিয়ে হওয়ার জন্যে আমল করেন ইয়া ফাত্তাহ্ নামাযের শেষে পড়েন। এটা কি সঠিক? জলদি,বিয়ে হওয়ার জন্যে কোনও আমল আছে কি?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
ইয়া ফাত্তাহ বলে জিকির বা দুআ করার ব্যাপারে কোন হাদীস নেই, তবে আল্লাহ তায়ালার যে কোন নাম দ্বারা জিকির বা দুআ করা জায়েজ। দ্রুত বিবাহের জন্য রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো নফল সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। এছাড়া কুরআনের এই দুআ দুটিও বারবার পড়বেন,
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ এবং رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
প্রশ্নঃ 406
আমি মো: মতিউর রহমান। পাক্শ, ঈশ্বরদী, পাবনা মোবা:-০১৭৪৯-৬৭৮১২১ ক) প্রশ্ন :-ঈমাম শাফিই (র:) এর মাযহাবের কোন ঈমামের পিছনে, হানাফি মাযহাবের কোন ব্যাক্তির নামায আদাই হবে কিনা? খ) ৪ মাযহাব বলতে কি বুঝানো হয়েছে? গ) মাযহাবের কারনে আমলের কোন ভিন্নতা আছে কিনা, থাকলে কি কি?
28 Dec 2025
ইসলামের প্রথমযুগ থেকেই অর্থাৎ সাহাবীদের আমল থেকেই ফিকহী বিভিন্ন বিষয়ে আলেমগণের মাঝে মতভেদ বিদ্যমান। এই মতভেদের কারণ কুরআন ও হাদীসের ব্যাখ্যার ভিন্নতা কিংবা একই বিষয়ে কয়েক ধরনের সহীহ হাদীস থাকা। আর ফিকহী এই মতভেদের ্নামই মাজহাব। প্রথমদিকে অনেকগুলো মাজহাব বিদ্যমান ছিল। এরপর কালের পরিক্রমায় প্রসিদ্ধ চারটি মাজহাব ছাড়া বাকীগুলো প্রায় হারিয়ে গেছে। প্রসিদ্ধ চারটি মাজহাব হলো হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী, হাম্বলী। এক মাজহাবের ইমামের পিছনে অন্য যে কোন মাজহাবের অনুসারীর নাময সহীহ হবে। মাজহাবের কারণে অর্থাৎ কুরআন ও হাদীসের ব্যাখ্যঅর ভিন্নতার কারণে এবং অনেক ক্ষেত্রে একই বিষয়ে কয়েক ধরনের হাদীস থাকার কারণে আমলের মাঝেও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। আর এর কোন নির্দিষ্ট সংখা নেই। মনে রাখবেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য কুরআন ও সুন্নাহ মানা। মাজহাব কুরআন সুন্নাহ মানার একটি মাধ্যম। আর সাধারণ মানুষের পক্ষে কোন একটি মাজহাব (তা এই চার মাজহাব হোক কিংবা অন্য কোন একজন আলেমের মত হোক) মানতেই হয়, কেননা তার পক্ষে কুরআন হাদীস থেকে সরাসরি জানা সম্ভব নয়।
প্রশ্নঃ 405
আসসালামু আলাইকুম। আমার নাম সাজ্জাদ, আমার পরিছিত একজন আল্লাহর নামে শপথ করেছে যে সে প্রতিদিন জামাতে প্রথম রাকাতসহ আদায় করবে।কিন্তু সে তা পারে নি।তাকে কি কাফফারা দিতে হবে। ।পরপর কয়েক্তি ছারার কারনে কি প্রতির জন্য আলাদাভাবে দিতে হবে?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
জ্বী, কসম ভাঙ্গার কারণে তাকে কাফফারা দিতে হবে। কাফফারা হলো দশজন মিসকিনকে দুবলো খাবার প্রদান করা। অথবা দশজন মিসকিনকে একসেট করে কাপড় প্রদান করা। কাফফারা একবারই দিতে হবে।
প্রশ্নঃ 404
মুহতারামঃ আসসালামুয়ালাইকুম। আমার প্রশ্ন হল বদ্ধ খাচায় পাখি (love bird) পালন করা জায়েজ কিনা। কোরান ও হাদিসের আলকে জানাবেন। যাযাকুমুল্লাহ।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
যদি খাবার-দাবার ঠিকমত দেন, প্রয়োজনীও যত্ম করেন তাহলে আশা করা যায় না জায়েজ হবে না।
প্রশ্নঃ 403
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ, আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালোই আছেন। আমার নিকটাত্নীয়দের মধ্যে একজন শিয়া আলেম এবং ঐতিহাসিকদের লিখা পড়ে জান্নাতী সাহাবী উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেন। আমি তাকে সতর্ক করে আবু দাউদের আশারায়ে মুবাশশেরা সংক্রান্ত হাদীসটি দেখালে তিনি হাদীসটি সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি আমাকে পালটা প্রশ্ন করেন- ১। উসমান (رضي الله عنه) নবীজি ﷺ কে আল্লাহ ও রাসূলের আইনের বাইরে গিয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার বায়আত নিতে বাধ্য করেছিলেন। ২। উসমান (رضي الله عنه) এর খিলাফতকালে তিনি রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন পদে তার আত্নীয়দের নিয়োগ দেন, এই ব্যাপারে অন্যান্য সাহাবীগণ (رضي الله عنهم) তার কাছে কৈফিয়ত তাইলে তিনি বলেন, আল্লাহ বলেছেন তোমরা রক্তের সম্পর্ককে অস্বীকার করো না। আমি আমার আত্নীয়দের প্রতি ইনসাফ করেছি, মুহাম্মদ ﷺ তার আত্নীয়দের ঠকিয়েছেন (نعوذ بالله من ذلك)। ৩। জান্নাতে যাওয়ার জন্য সাহাবীগণ (رضي الله عنهم) ইসলাম গ্রহণের পর থেকে আমৃত্যু প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। জীবিত অবস্থায় জান্নাতে যাওয়ার সুসংবাদ ঐ সময়ে অতি গুরুত্বপূর্ণ খবর হওয়ার কথা। ১০ জন সাহাবীর (رضي الله عنهم) জান্নাতে যাওয়ার হাদীসটা বুখারী বা মুসলিমে আসলো না কেনো? উসমান (رضي الله عنه) এর মত এমন জঘন্য একজন মানুষকে (نعوذ بالله من ذلك) আল্লাহ কিভাবে জীবিত অবস্থাতেই জান্নাতের সুসংবাদ দিলেন?উঠবে না। দয়া করে আমাকে এমন কিছু বাংলা/ইংরেজী/আরবী বই এর নাম বলুন যেখানে উসমান (رضي الله عنه) এবং অন্যান্য সাহাবাগনের (رضي الله عنهم) উপর আরোপিত সকল মিথ্যাচারের যথোপযুক্ত জবাব দেয়া হয়েছে। ভালো থাকবেন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ, جزاك اللهُ خيرًا
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আপনার বন্ধুকে প্রশ্ন করুন, তিনি কুরআন বিশ্বাস করেন কি না? তিনি কি কুরআনকে অধিক নির্ভরযোগ্য মনে করেন না ইতিহাসকে? মহান আল্লাহ কুরআন কারীমে বলেছেন:
وَالسَّابِقُونَ الأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُم بِإِحْسَانٍ رَّضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُواْ عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
প্রথম অগ্রগামী মুহাজিরগণ ও আনসারগণ, এবং যারা তাদের সুন্দরভাবে অনুসরণ করেছে আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট এবং আল্লাহ তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাত…। (সূরা তাওবা: ১০০ আয়াত) কুরআনের এ আয়াতটি নিশ্চিত করে যে, খাদিজা, আলী, আবূ বকর, উসমান, যুবাইর ইবনুল আওয়াম ও অন্যান্য সকল মুহাজির সাহাবী যারা প্রথম অগ্রগামী হিসেবে ইসলাম গ্রহণ করেন তাঁদের উপর আল্লাহ সন্তুষ্ট এবং তাঁদের জন্য আল্লাহ জান্নাত প্রস্তুত করে রেখেছেন। কুরআনের এ সাক্ষ্যর পরেও যে ব্যক্তি তার জান্নাতী হওয়ায় সন্দেহ পোষণ করেন তিনি মূলত কুরআনের বাণীকেই বিশ্বাস করেন না। যারা বিশ্বাস করেন যে, আলী বংশের একজন ইমাম বা পীরের সাহচর্যে যেয়ে একজন মানুষ এক দিনেই বড় বুজুর্গ হয়ে যেতে পারে, অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে দীর্গ ২৩ বৎসর জীবন কাটিয়েও সাহাবীগণ ঈমান শিখতে পারেন নি তিনি মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেই অবমাননা করেন। শীয়া মতবাদ অনুসারে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যর্থ নবী ছিলেন মুহাম্মাদ (সা.)! নাউযু বিল্লাহ! তিনি দীর্ঘ ২৩ বছর জীবনপাত করেও মাত্র এক ডজনের বেশি মানুষকে ঈমান শেখাতে পারেন নি। উসমান (রা) বা অন্যান্য সাহাবীদের বিরুদ্ধে বর্ণিত ঘটনাবলি সবই তাঁদের মৃত্যুর প্রায় ১৫০/২০০ বছর পরে জনশ্রুতি নির্ভর ঐতিহাসিক বর্ণনার মাধ্যমে লিপিবদ্ধ। প্রায় সকল বর্ণনায় শীয়া ঐতিহাসিকদের বর্ণনা বা সংকলন। নিম্নের বিষয়গুলো লক্ষ্য করুন: রাসূলুল্লাহ সা.-এর পরিজন ও বংশধরের প্রতি এ ভালবাসা ও ভক্তি কখনোই তাঁর সহচর ও সাহাবীগণের প্রতি ভালবাসার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কিন্তু শীয়াগণ পরিবার ও বংশধরের ভালবাসার নামে সাহাবীগণের প্রতি বিদ্বেষ, ঘৃণা ও কুৎসা রটনায় লিপ্ত হয় এবং সাহাবীগণের প্রতি বিদ্বেষকে ঈমানের অংশ বানিয়ে নেয়। তারা ইহূদীদের ষড়যন্ত্রে বিভ্রান্ত হয়ে সাহাবীগণকে ইসলামের শত্র বলে গণ্য করে। তারা নবী-পরিবারের ভালবাসাকে সাহাবীগণের ভালবাসার পরিপন্থী বলে গণ্য করে। এ বিষয়ে অগণিত মিথ্যা তারা প্রচার করে। গত কয়েক শতাব্দী যাবত পাশ্চাত্য-প্রাচ্যবিদগণও সাহাবীগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন। এ সকল প্রচারের একটিই উদ্দেশ্য: ইসলামের মর্মমূলে আঘাত করা ও ইসলামের সৌধকে ভেঙ্গে ফেলা। সাহাবীগণের সততা প্রশ্নবিদ্ধ হলে ইসলামের সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়; কারণ কেবলমাত্র তাঁদের মাধ্যমেই ইসলাম প্রচারিত হয়েছে। সাহাবীগণের সততায় অবিশ্বাস করার অর্থ রাসূলুল্লাহ সা.-এর নবুওয়ত অবিশ্বাস করা। যারা মনে করেন যে, অধিকাংশ সাহাবী স্বার্থপর, অবিশ্বাসী বা ধর্মত্যাগী ছিলেন, তাঁরা নিঃসন্দেহে মনে করেন যে, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা. একজন ব্যর্থ নবী ছিলেন (নাঊযূ বিল্লাহ!)। লক্ষ মানুষের সমাজে অজ্ঞাত অখ্যাত দু-চার জন মুনাফিক থাকা কোনো অসম্ভব বিষয় নয়। কিন্তু সুপরিচিত সাহাবীগণের সততায় সন্দেহ পোষণ করলে রাসূলুল্লাহ সা.-এর ব্যর্থতার দাবি করা হয়। একজন ধর্ম প্রচারক যদি নিজের সহচরদের হৃদয়গুলিকে ধার্মিক বানাতে না পারেন, তবে তিনি কিভাবে অন্যদেরকে ধার্মিক বানাবেন! তাঁর আদর্শ শুনে, ব্যবহারিকভাবে বাস্তবায়িত দেখে ও তাঁর সাহচর্যে থেকেও যদি মানুষ সততা অর্জন করতে না পারে, তবে শুধু সে আদর্শ শুনে পরবর্তী মানুষদের সততা অর্জনের কল্পনা বাতুলতা মাত্র। আজ যিনি মনে করেন যে, কুরআন পড়ে তিনি সততা শিখেছেন, অথচ মুহাম্মাদ সা.-এর কাছে কুরাআন পড়ে, জীবন্ত কুরআনের সাহচর্যে থেকেও আবূ বকর, উমার, উসমান, আবূ হুরাইরা, আমর ইবনুল আস, মুআবিয়া, আবূ মূসা আশআরী রা. বা অন্য কোনো সাহাবী সততা শিখতে পারেন নি, তিনি মূলত মুহাম্মাদ সা.-এর নবুওয়তকেই অস্বীকার করেন। শীয়াগণ কাউকে দেবতা ও কাউকে দানব বানিয়েছেন। দুটি বিষয়ই মানবীয় প্রকৃতির সাথে সাংঘর্ষিক। মানবীয় দুর্বলতার সাথে সততার কোনো বৈপরীত্য নেই। সাহাবীগণ মানুষ ছিলেন; মানবীয় দুর্বলতার ঊর্ধ্বে ছিলেন না। মানবতার সর্বশ্্েরষ্ঠ শিক্ষকের সাহচর্যে মানুষের মধ্যে সর্বোচ্চ সততা ও বেলায়াত তাঁরা অর্জন করেছিলেন। কোনো স্কুলের সফলতা যেমন ছাত্রদের পাশের হারের উপর নির্ভর করে, তেমনি ধর্মপ্রচারকের সফলতা নির্ভর করে তাঁর সাহচর্য-প্রাপ্তদের ধার্মিকতার উপর। কাজেই নুবুওয়াতে বিশ্বাসের অনির্বার্য দাবি সাহাবীগণের সততায় বিশ্বাস। আর এ বিশ্বাসই নিশ্চিত করেছে কুরআন ও হাদীস। এখানে সংক্ষেপে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করছি: (১) কুরআনে বারবার সাহাবীগণের প্রশংসা করা হয়েছে, তাঁদের ধার্মিকতার সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।মক্কা বিজয়ের পূর্বের ও পরের সকল সাহাবীকে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করে আল্লাহ বলেন:
لا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُولَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنَ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلا وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ
তোমাদের মধ্যে যারা (মক্কা) বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং সংগ্রাম করেছে তারা এবং পরবর্তীরা সমান নয়; তারা মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ তাদের চেয়ে যারা পরবর্তীকালে ব্যয় করেছে এবং সংগ্রাম করেছে। তবে আল্লাহ উভয়কেই কল্যাণের (জান্নাতের) প্রতিশ্রতি দিয়েছেন।সূরা (৫৭) হাদীদ: ১০ আয়াত। রাসূলুল্লাহসা.এর সকল সাহাবীর ঢালাও প্রশংসা করে ও তাঁদের ধার্মিকতা, সততা ও বিশ্বস্ততার ঘোষণা দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন:
وَلَكِنَّ اللَّهَ حَبَّبَ إِلَيْكُمْ الإِيمَانَ وَزَيَّنَهُ فِي قُلُوبِكُمْ وَكَرَّهَ إِلَيْكُمْ الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ أُوْلَئِكَ هُمْ الرَّاشِدُونَ
কিন্তু আল্লাহ তোমাদের নিকট ঈমানকে প্রিয় করেছেন এবং তাকে তোমাদের হৃদয়গ্রাহী করেছেন। তিনি কুফ্র, পাপ ও অবাধ্যতাকে তোমাদের নিকট অপ্রিয় করেছেন। তারাই সৎপথ অবলম্বনকারী। সূরা (৪৯) হুজুরাত, ৭ আয়াত। সাহাবীগণের মধ্যে মতভেদ হয়েছে এবং কখনো কখনো যুদ্ধবিগ্রহ হয়েছে। ভুল বুঝাবুঝি, সামাজিক প্রেক্ষাপট, ষড়যন্ত্র ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে দুজন সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তির মধ্যে বিরোধ, মামলা বা যুদ্ধ হতে পারে। শুধু যুদ্ধ বা বিরোধের কারণে কাউকে অপরাধী বলা যায় না। যুদ্ধবিগ্রহ ঐতিহাসিক সত্য। তবে সেগুলিতে কার কি ভূমিকা ছিল সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ক ইতিহাস লেখা হয়েছে ঘটনার প্রায় ২০০ বৎসর পর শীয়া মতবাদ প্রভাবিত আব্বাসী শাসনামলে শীয়াগণের বর্ণনার উপর নির্ভর করে। কুরআন ও হাদীস সাহাবীগণের মর্যাদা ও সততা নিশ্চিত করেছে। এ সকল যুদ্ধবিগ্রহের অযুহাতে তাঁদের কারো নামে কুৎসা রটনা বা বিদ্বেষ পোষণ করার অর্থ কুরআন ও হাদীসের অগণিত নির্দেশনা জনশ্রতির কারণে বাতিল করে দেওয়া। কোনো কোর্টে যদি কোনো দলের নেতৃস্থানীয় কাউকে অপরাধী বলে রায় দেওয়া হয় তবে সে দলের অনুসারীরা রায়কে মিথ্যা বলবেন কিন্তু নেতার সততায় বিশ্বাস হারাবেন না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ অতি-সাম্প্রতিক বিষয়। তারপরও সকলেই শুধু ইতিহাস বিকৃতির কথা বলেন। ঐতিহাসিকরা যদি কোনো নেতার অপরাধের অনেক তথ্য পেশ করেন তবুও তার অনুসারীরা সে তথ্য বিশ্বাস করবেন না। তাহলে মুমিন কিভাবে রাসূলুল্লাহ সা.-এর সহচরদের বিষয়ে কুরআন প্রমাণিত সততার সাক্ষ্যের বিপরীতে ইতিহাসের বর্ণনার উপর নির্ভর করবেন? আমরা শুধু এতটুকুই বলব যে, যুদ্ধ বিগ্রহ ঘটেছে, কিন্তু কার কী ভূমিকা তা আমরা এতদিন পরে ইতিহাসের বর্ণনার উপর নির্ভর করে নির্ধারণ করতে পারব না। তবে কুরআন ও হাদীসের বর্ণনার উপর নির্ভর করে আমরা তাঁদের পরিপূর্ণ সততা ও বেলায়াতে বিশ্বাস করি। আমরা মনে করি যে, তাঁদের যুদ্ধ-বিগ্রহ ইত্যাদি ভুল বুঝাবুঝি ও ইজতিহাদী মতপার্থক্যের কারণেই ঘটেছে। এতে তাঁদের তাকওয়া ও বেলায়াত (আল্লাহর ওলী হওয়ার মর্যাদা) ক্ষতিগ্রস্থ হয় নি। আরেকটি বিষয় দেখুন, যদি ইহূদীদেরকে প্রশ্ন করা হয়: শ্রেষ্ঠ মানুষ কারা? তারা একবাক্যে বলবেন: আমাদের নবী মূসার (আ) সহচরগণ। যদি খৃস্টানদেরকে প্রশ্ন করা হয়: শ্রেষ্ঠ মানুষ কারা? তারা একবাক্যে বলবেন: আমাদের নবী ঈসার (আ) হাওয়ারী-সহচরগণ। আর যদি শীয়াদেরকে প্রশ্ন করা হয় নিকৃষ্ট-ঘৃণ্যতম মানুষ কারা? তবে তারা একবাক্যে বলবেন: আমাদের নবী মুহাম্মাদ সা.এর সহচরগণ! শীয়াদেরকে প্রশ্ন করুন: সবচেয়ে ভাল মানুষ কারা? তারা বলবেন: আলী (রা)-এর সাথীগণ। তাদেরকে প্রশ্ন করুন: সবচেয়ে খারাপ মানুষ কারা? তারা একবাক্যে বলবেন: মুহাম্মাদ সা.-এর সাথীগণ! কাউকে ভালবাসার অতি স্বাভাবিক প্রকাশ তার সাথে জড়িত সকলকে ভালবাসা ও সম্মান করা। এমনকি তাদের কোনো অপরাধ প্রমাণিত হলেও অজুহাত খুঁজে তা বাতিল করতে চেষ্টা করা। কারণ প্রিয়তমের সাথীদেরকে খারাপ কল্পনা করতে মন মানে না। আর কারো সঙ্গীসাথীকে সর্বোচ্চ ঘৃণা করার সুনিশ্চিত অর্থ ঐ ব্যক্তির প্রতি ভালবাসা না থাকা। কাজেই মুহাম্মাদ সা.-এর সাথীদেরকে পথভ্রষ্ট প্রমাণ করা ও তাঁদেরকে ঘৃণা করা যাদের ধর্মের মূল ভিত্তি তাঁদের থেকে মুহাম্মাদ সা.-এর হাদীস বা দীন শিক্ষা করা কি সম্ভব?
প্রশ্নঃ 402
আসসালামু আলাইকুম, কুনুতে নাযিলা পড়ার বিধান জানতে চাচ্ছি। দোয়া করে ইমেইলে জবাব দিলে খুশী হব। ধন্যবাদান্তে, সাজ্জাদ সালাদীন। পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
সমাজ, রাষ্ট্র বা উম্মাতের কোনো কঠিন বিপদ, রোগব্যাধি বা বিপর্যয়ের সময় ফজরের সালাতে এবং প্রয়োজনে সকল সালাতের শেষ রাকআতের রুকু থেকে উঠে দাঁড়ানোর পর সমবেত মুসল্লীদের নিয়ে দুআ করাকে কুনুতে নাযেলা বলা হয়। এটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। আমাদের সমাজে অনেকেই মনে করেন যে, হানাফী মাযহাবে এরূপ কুনুত বৈধ নয়। চিন্তাটি অজ্ঞতাপ্রসূত। হানাফী ফকীহগণ বলেন, বিপদ-বিপর্যয় ছাড়া কুনুতে নাযেলা পাঠ করবে না। তবে বিপদ-বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে ফজরের সালাতে ও অন্যান্য সালাতে কুনুতে নাযেলা পাঠ করবে। আল্লামা আলাউদ্দীন হাসকাফী হানাফী (১০৮৮ হি) বলেন:
ولا يقنت لغيره إلا لنازلة فيقنت الإمام في الجهرية وقيل في الكل
বিতর ছাড়া অন্য কোনো সালাতে কুনুত পাঠ করবে না; তবে বিপদ-বিপর্যয়ের সময় সশব্দে কুরআন পাঠের সালাতে (ফযর, মাগরিব, ইশা) ইমাম কুনুত পাঠ করবেন। দ্বিতীয় মতে সকল সালাতেই কুনুত পাঠ করবেন। হাসকাফী, আদ-দুররুল মুখতার (বৈরুত, দারুল ফিক, ১৩৮৬) ২/১১। এ কথার ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবন আবিদীন শামী উল্লেখ করেছেন যে, অধিকাংশ হানাফী ফকীহ বিপদ-বিপর্যয়ের সময় শুধু ফজর সালাতে কুনুত পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। কেউ কেউ সশব্দ সালাতগুলোতে কুনুত পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। যারা বলেছেন যে, সালাতুল ফজরের কুনুত মানসূখ বা রহিত হয়েছে তাদের কথার অর্থ সাধারণ অবস্থায় বিতর ছাড়া অন্য সালাতে কুনুত পাঠ রহিত হয়েছে। তবে বিপদাপদ বা বিপর্যয়ের সময় ফজরের বা সশব্দের সালাতে কুনুত পাঠ সুন্নাত। ইমাম যদি মনে মনে কুনুত পড়েন তবে মুক্তাদীও মনে মনে পড়বেন। আর ইমাম যদি সশব্দে কুনুত পড়েন তবে মুক্তাদী আমীন বলবেন। আর নাযিলা বা বিপদাপদের কুনুত শেষ রাকাতের রুকুর পড়ে পড়তে হবে। ইবন আবিদীন শামি, রাদ্দুল মুহতার (হাশিয়াতু ইবন আবিদীন) ২/১১। একাধিক দুআ কুনুত হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে। চারটি দুআ কুনুতসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন, রাহে বেলায়াত পৃষ্ঠা-৪২০-৪৩১।
প্রশ্নঃ 401
আসসালামুয়ালাইকুম। জানি যে রসূল সঃ কয়েক ভাবে বেতের সালাত আদায় করতেন। তাহলে আমরাও কি একেক সময় একেক ভাবে বেতের সালাত পড়তে পারব?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
জ্বী, একেক সময় একেক পদ্ধতিতে আপনি বিতর সালাত আদায় করতে পারেন। তবে যে পদ্ধতিতেই পড়বেন ভাল ভাবে শিখে নিবেন, জেনে নিবেন। পদ্ধতিটি যেন সুন্নাহ সম্মত হয়।
প্রশ্নঃ 400
বর্তমানে জানাজার নামাজ পরা নিয়ে বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি দেখা দিচ্ছে (তাকবীর নিয়ে, সূরা ফাতিহা পড়া না পড়া নিয়ে, ২য় তাকবীর এর পর পটিত কোনটি আসল দোয়া সেটি নিয়ে)। স্যার এর কাছে বিনীত ভাবে অনুরধ থাকল, আমাদেরকে রাসুল (সঃ) এর সুন্নতের আলোকে জানাজার নামাজ কিভাবে পড়বো সে বিষয়ে বললে আমরা অনেক উপকৃত হব। জাযাকাল্লাহু খাইরান
28 Dec 2025
জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পড়া এবং না পড়া উভয় প্রকার আমলই সাহবীদের থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত। একাধিক দুআও সহীহ হাদীসে বর্ণিত আছে, আমাদের সমাজে সাধারণত যেটা পড়া হয় সেটাও সহীহ। । সুতরাং বিভ্রান্ত হওয়ার কোন কারণ নেই। যে কোন এক পদ্ধতিতে জানাযা পড়লেই জানাযা আদায় হয়ে যাবে। বিস্তারিত জানতে দেখুন, রাহে বেলায়াত ৪৩৪-৪৪৪।
প্রশ্নঃ 399
আসসালামু আলাইকুম স্যার। তাফসীর ইবনে আব্বাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই। সহীহ ভাবে বর্ণিত কিনা । কোন প্রকাশনী থেকে নিতে পারব। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমিন।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
তাফসীরে ইবনে আব্বাস নামে হযরত আব্বাস রা. কোন গ্রন্থ রচনা করেন নি। অন্য কোন ব্যক্তিও করেন নি। পরবর্তীতে বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে ইবনে আব্বাস রা. এর বক্তব্যগুলো সংগ্রহ করে এই গ্রন্থটি লেখা হয়েছে। এর ভিতর সহীহ আছে, যয়ীফ আছে, জাল বা বানোয়াট কথা বার্তাও আছে।
প্রশ্নঃ 398
আস-সালামু আলাইকুম স্যার। প্রশ্নঃ ব্যবসায়ের বিভিন্ন পণ্যের ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে তামাকজাতীয় বিড়ি-সিগারেট, জর্দা, গুল ইত্যাদি ক্রয়-বিক্রয় করলে মোট মুনাফা হালাল হবে কিনা।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
হালাল পন্যের মুনাফা হালাল আর হারাম পন্যের মুনাফা হারাম। সুতরাং মোট মুনাফা হালালা হবে না। এই সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের উত্তর আমরা আগে দিয়েছি।
প্রশ্নঃ 397
শায়েখ,আমার একটি প্রশ্ন দয়া করে উত্তর দিবেন-ওয়াহদাতুল উজুত এর ব্যপারে যার আকিদা আল্লাহ্ সবজায়গায় বিরাজমান, আল্লাহ নিরাকার, তার পিছনে নামাজ পড়া যাবে কি না?
28 Dec 2025
সুস্পষ্ট ও র্দ্ব্যথহীন কুফর-শরিক পাওয়া গলেে তার পছিনে সালাত আদায় করা যাবে না। ওয়াহদাতুর উজুত নিঃসন্দহে কুফরী আকীদা। অনকেে না বুঝে এমন বশ্বিাস করনে। তাই এমন ব্যক্তকিে কাফরি বলা মুশকলি।কোন ব্যক্তরি মধ্যে সুস্পষ্ট ও র্দ্ব্যথহীন কুফর-শরিক না পাওয়া র্পযন্ত কোনো অজুহাতে জামাআত বা জুমুআ ত্যাগ করা যাবে না। ওয়াহদাতুল উজুত ও আল্লাহ সর্বত্র বরিাজমান দুটি আকীিদা এক নয়। আমাদরে দশেে অনকেইে মনে করনে আল্লাহ র্সত্র বরিাজমান। আপনি যদি তাকে প্রশ্ন করেন যে, তিনি কি সাপ, ব্যাং বা মাছরি মাথার মধ্যে বা বাথরুমরে মধ্যওে বরিাজমান তবে তনিি তা অস্বীকার করবনে, বরং বলবনে তার জ্ঞান বা ক্ষমতা সর্বত্র বরিাজমান। এরূপ ব্যক্তরি আকীদা ভুল তবে তনিি মুশরকি বা কাফরি নন। মহান আল্লাহ বলনে:
وَهُوَ اللَّهُ فِي السَّمَاوَاتِ وَفِي الأَرْضِ
তিনিই আল্লাহ আসমান সমূহরে মধ্যে এবং পৃথবিীতে (সূরা আনআম-৩)। সাধারণত এ আয়াতরে ভুল র্অ বা ব্যাখ্যা এক্ষত্রেে ব্যবহার করা হয়। আর কুরআন বা হাদীসরে ব্যাখ্যার ভুল জনতি আকীদার কারণে মানুষকে বভ্রিান্ত বলা যায়, কন্তিু কাফরি বলা যায় না। আপনি যদি অন্য কোন ভাল ইমামের পিছনে সালাত আদায়ের সুযোগ পান তাহলে ভাল, নইলে এরুপ পাপী ইমামের পিছনেই সালাত আদায় করতে হবে। নেককার ইমামের পিছনে সালাত আদায় করার চেষ্টা করতে হবে। প্রসদ্ধি কালামবদি ইমাম আবুল হাসান আশয়ারী র. (৩২৪হি.) বলনে,
ومن ديننا أن نصلي الجمعة والأعياد وسائر الصلوات والجماعات خلف كل بر وفاجر كما روى أن عبد الله بن عمر رضى الله عنهم كان يصلي خلف الحجاج
অর্থ: আর আমাদের দীনের অন্যতম দিক যে, আমরা জুমুয়ার সালাত, ঈদগুলো এবং অন্যান্য সকল সালাত এবং জামাআত নেককার ও বদকারের পিছনে আদায় করি। যেমনিভাবে বর্ণি ত আছে, আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফরে পছিনে সালাত আদায় করতনে (মুসান্নফিে ইবনে আবী শায়বা হাদীস নং ১৪১৭৫)। আল-ইবানাহ আন উসূলদি দয়িানাহ, ১/২০। দলীলসহ বস্তিারতি জানতে পড়ুন ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার রচতি আল-ফিকহুল আকবার পৃষ্ঠা ৩৩৭-৩৭৯ এবং রাহে বলোয়াত পৃষ্ঠা ৫৬৩-৫৬৮।
প্রশ্নঃ 396
আসসালামু আলাইকুম, আমি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আমার সাথে একটা মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আমি শুধু মাত্র আল্লাহর রাস্তায় আসার জন্য অই মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছি। তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করেছি। আমার কি এতে কোন গুনাহ হবে? আমার খারাপ লাগছে মেয়েটার জন্য কিন্তু শুধু মাত্র আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়ে মেয়েটার সাথে আমি সম্পর্ক ছিন্ন করেছি। আমি তো একজনকে কষ্ট দিচ্ছি। ধন্যবাদ
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
না, এতে আপনার কোন গুনাহ হবে না বরং আপনার সওয়াব হবে এবং আপনি সঠিক কাজই করেছেন। বিগত দিনের গুনাহের জন্য আপনি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ তায়ালা আপনাকে কুরআন-সুন্নাহের পথে অবিচল রাখুন এবং সবর করার তাওফীক দিন।
প্রশ্নঃ 395
আপনি সাইয়্যিদ কুতুবের ফী যিলালিল কুরআন পড়তে বলেন,অথচ অনেক আলিম এতে খারেজী চিন্তা-চেতনা ও আরো বিভিন্ন প্রকারের বহু ভুল আছে বলে দাবী করেন। এ ব্যাপারে কিছু বলবেন কি?
28 Dec 2025
আমরা বিষয়টি মোটেও বুঝি না। মানুষের রচিত কোনো গ্রন্থ কি নির্ভুল হতে পারে? কোনো বই পড়তে বলার অর্থ কি বইটি বা লেখককে নির্ভুল বলে মনে করা? কোনো গ্রন্থে ভুল থাকলে কি তা নিষিদ্ধ হয়? মূল কথা হলো, মুমিনকে সকল বিষয় যাচাই করতে হবে। প্রত্যেক আলিম তাঁর সাধ্যমত লিখতে চেষ্টা করেছেন এবং কেউই ভুলের উর্ধ্বে নন। তফসীরে জালালাইনে এমন কিছু ইহুদি বর্ণনা বিদ্যমান যা নবীগণের নিষ্পাপত্ব বিষয়ক ইসলামী আকীদার সাথে সাংঘর্ষিক। তাফসীরে তাবারীতে জাল হাদীস রয়েছে। তাফসীরে কাশশাফে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকীদা শক্তভাবে খ-ন করে মুতাযিলী আকীদা প্রমাণ করা হয়েছে এবং আহলুস সুন্নাতের নিন্দা করা হয়েছে। হাদীসের অনেক গ্রন্থে জাল হাদীস রয়েছে। প্রসিদ্ধ আলিমগণের অনেক গ্রন্থেই কিছু আপত্তিকর বা বিতর্কিত তথ্য বিদ্যমান।
প্রশ্নঃ 394
স্ত্রী কি স্বামীর জৈবিক চাহিদা সুন্দরভাবে পূরণ হওয়ার জন্য যে কোন ধরণের খোলামেলা পোশাক স্বামীর সামনে পড়তে পারে?
28 Dec 2025
হ্যাঁ, আসতে পারে। স্বামীর সামনে স্ত্রীর কোন পর্দা নেই। বরং স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে অন্তরঙ্গতা ও জৈবিক আনন্দ বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা সুন্নাহ নির্দেশিত সাওয়াবের কর্ম।
প্রশ্নঃ 393
হুজুর আমার প্রশ্ন হল যখন কেউ নামাজের ইমামতি করে তখন ঐ ইমামের নিয়ত কি ভিন্ন হবে নাকি আমরা সাধারণত যেই ভাবে করি সেইভাবে হবে?
28 Dec 2025
দেখুন নিয়ত অর্থ হলো মনের সংকল্প। আমাদের সমাজে নিয়ত হিসাবে যা কিছু প্রচলিত তা হাদীসে নেই। ইমামের জন্য নিয়ত হলো তিনি নামায পড়াচ্ছেন এতটুকু সংকল্প তার মনে মনে থাকা।
প্রশ্নঃ 392
Asalamualikum. Brother how are you. This is zilani. I have a question to you regarding name of new born baby. I am interested to keep my son name with my name. So i choose a name for my kid ( muhammad muballigh ibn zilani ). If you kindly letting me know is this name is ok then it will be very helpful for me.
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
জ্বী, আপনি আপনার ছেলের নাম মুহাম্মাদ মুবাল্লিগ ইবনে জিলানী রাখতে পারেন। এছাড়া মুহাম্মাদ ইবন জিলানী বা মুুবাল্লিগ ইবন জিলানী রাখতে পারেন। আল্লাহ আপনাদের ভাল রাখুন।
প্রশ্নঃ 391
আসসালামুয়ালাইকুম, আমি একটি প্রাইভেট উনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রি্ক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছি। বর্তমানে কম্পানির চাকরি গুলো রেফারেন্স ছাড়া হয়না বললেই চলে, রেফারেন্স না থাকলে ইন্টারভিউ এর জন্যেই ডাকে না। এমতাবস্থায় আমিও যদি কারো রেফারেন্স বা সুপারিশের মাধ্যমে চাকরি নেই তাহলে সেটা কি জায়েয হবে? কোন কম্পানি যদি ফ্রীজ, মোবাইল, আয়রন এই গুলো উৎপাদনের পাশাপশি টিভি ও বানায় তাহলে কি সেই কম্পানিতে কাজ করা ঠিক হবে? সেই কম্পানির ফ্যাক্টরিতে কাজ করলে অন্যান্য প্রোডাক্টের সাথে টিভি উৎপাদনের সাথেও থাকতে হবে। আবার সেই কম্পানির সার্ভিসিং এ কাজ করলে অন্যান্য প্রোডাক্টের সাথে টিভির ও সার্ভিসিং করতে হবে। এ দিকে টিভি মানুষ ভাল কাজে ব্যাবহার করবে না, এটা সবাই জানে। এরকম কম্পানিতে চাকরি পেলে করা যাবে কি?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তির যোগ্যতা সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদানই মূলত রেফারেন্স। যোগ্য ব্যক্তির জন্য সত্য সুপারিশ ইসলামের উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। যদি আপনার যোগ্যতা থাকে তাহলে কারো সুপারিশে চাকরী হলে তা না জায়েজ হবে না। তবে ঘুষ দেয়া সর্বাবস্থায় হারাম।
প্রশ্নঃ 390
স্যার, আমি আপনের রাহে বেলায়েত, এহায়েয়াউস শুনান বইদুটি পড়েছি এবং youtube এ আপনের সকল presentation দেখেছি। আমার জীবন পরিবর্ত ন হয়েছে, আমের দুইটি প্রশ্ন আছে, ১- একাকি ফরজ নামাজ পড়ার সময় দুআ মাসুরা পড়ার পর আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়া যাবে কি? ২- একাকী ফরজ নামাজ পড়ার পর হাত তুলে মোনাজাত করা যাবে কী? ৩-তাহাজ্জত নামাজ এ সালাম ফিরানোর পর হাত তুলে মোনাজাত করা যাবে কী? ৪- দুনিয়ার কোন সমস্যার জন্য আল্লাহর কাছে কীভাবে চাইবো? ফরজ নামাজে সালাম ফিরানোর আগে নাকি তাহাজ্জুদ নামাজে?
28 Dec 2025
ফরজ সালাত জামাতের সাথে পড়া একান্ত জরুরী। বিনাওজওে একাকী ফরজ সালাত আদায় করা খুবই অনুচিৎ ও গুনাহের কাজ। ফরজ সালাতে শেষ বৈঠকে দরুদ শরীফের পর আপনি একাধিক দুআ মাসূরা পাঠ করতে পারেন। মনে রাখবেন হাদীসে কিংবা কুরআনে বর্ণিত দুআই হলো দুআ মাসূরা। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী দুআ মাসূরা আপনি পাঠ করবেন। তবে নিজের পক্ষ থেকে বানানো কোন দুআ পাঠ করবেন না। ফরজ কিংবা সুন্নাত যে কোন সালাতের শেষে এবং অন্যান্য সময় হাত তুলে মুনাজাত করা যায়। হাত তোলা মুনাজাতের একটা আদবও বটে। তবে রাসূলুল্লাহ সা. যখন হাত তুলেছেন তখন হাত তোলা আর যখন তুলেন নি তখন না তোলায় সুন্নাত । আর নামাযের পর রাসূলুল্লাহ সা. হাত না তুলে বিভিন্ন দুআ ও জিকির পাঠ করতেন। দুনিয়ার প্রয়োজনের জন্য আপনি কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত যে কোন দুআ ফরজ কিংবা সুন্নাত সালাতে দরুদ শরীফের পর পড়তে পারেন। সুন্নাত সালাতের মধ্যে ও সিজদাতেও এই সব দুআ পড়তে পারেন। আরবীতে দুআ না জানা থাকলে অনুচিত হলেও সুন্নাত সালাতের মধ্যে ও সিজদাতে মাসনূন দুআর অর্থ নিজ ভাষায় পাঠ করতে পারেন আর দ্রুত মাসনুন দুআ মুখস্ত করে নেবেন। তবে ফরজ সালাতের মধ্যে দুআ মাসূরা ব্যতিত কোন দুআ পাঠ করবেন না। বিস্তারিত জানতে দেখুন, রাহে বেলায়াত বইটি পড়ন।
প্রশ্নঃ 389
আসসালামু আলাইকুম, শাইখ আমি এক গুনাহ গার বান্দা। গত ৪ জানুয়ারির ভুমিকম্পের পর আমার মনে তিব্র মৃত্যু ভিতি কাজ করে। এরপর থেকে আমি সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দেয় এবং নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। আমার এক মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক আছে। ইসলামে প্রেম করা হারাম। আমি তার সাথে সম্পর্ক রাখার জন্য নিজেকে অনেক অপরাধি মনে হয়। জিবনে কারর মনে কষ্ট দেয় নাই এই কারনে অই মেয়ের মনেও কষ্ট দিতে পারছিনা। এদিকে আমি যে সর্ব শক্তিমান আল্লাহর কাছে গুনাহগার হয়ে যাচ্ছি। আমি জানি অই মেয়ের সাথে সম্পর্ক রাখা আমার উচিত না। কিন্তু আমি পারছি না সম্পর্ক ভাংতে। আমি জানি আপনি বলবেন সম্পর্ক ভেঙ্গে দিতে। কিন্তু এটা আমি পারছি না। শয়তান বার বার আমাকে প্রতারিত করছে। আপনি আমাকে পরামর্শ দিন আমি কি করবো
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
বিবাহপূর্ব সম্পর্ক ইসলামে হারাম। আর আপনি হারাম জানার পরও এইং কাজে লিপ্ত থাকবেন এটা খুবই অন্যায়। আপনি বিয়ে করে নিতে পারেন। অন্যথায় মোবাইল পরিবর্তন করুন, ঐ মেয়ের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিন। এ ব্যাপারে শক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহন করুন। আল্লাহ তায়াল কুরআনে বলেছেন,
وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا
যে আল্লাহকে ভয় করবে আল্লাহ তার জন্য পথ খুলে দিবেন। সূরা ত্বলাক, আয়াত ২ং। সুতরাং আমরা আশা করি যদি আপনি আল্লাহকে ভয় করে এই গুনাহ থেকে বিরত হন তাহলে আল্লাহ তায়ালা আপনার জন্য কোন কল্যানকর পথের ব্যবস্থা করে দিবেন । আল্লাহর কাছে গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য দুআ করুন। আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ আপনাকে সবধরনের গুনাহর কাজ থেকে বিরত থাকার তাওফীক দিন।
প্রশ্নঃ 388
Assalamualaikum. I want to know if you can help me to find or know any Raqi in khulna district. My family is suffering a lot with magic or may be jinn possesion. Alhamdulillah we are not using any taweej. but we need guidance. Can you please provide any information about any Raqi. Jazakallah Khairan
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
জিন ও যাদুগ্রস্ত রোগীকে চিকিৎসা ও ঝাড়ফুঁকের কিছু মাসনূন ও জাযেজ দুআ ও জিকির আছে। সেগুলো আমল করলে ইনশাআল্লাহ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এই দুআ ও জিকিরগুলো সহ বিস্তারিত জানতে দেখুন, দেখুন রাহে বেলায়াত ৫৯০-৫৯৭ পৃষ্ঠা।
প্রশ্নঃ 387
In Jannah, if a man gets numerous Hur, so what will be to Woman. My question is whether a woman will get or not.
28 Dec 2025
কুরআনে বলা হয়েছে যে, তাদেরকে জোড়া বানিয়ে দেওয়া হবে হুরের সাথে। আরবী ও অন্যান্য লিঙ্গ সচেতন ভাষায় সাধারণ বিধিবিধানে পুংলিঙ্গ ব্যবহার করেই বিধিবিধান প্রদান করা হয়। এরপরও হুর শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ নয়। নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই শব্দটি ব্যবহৃত হয়। আর মানবীয় প্রকৃতির সাথে একটি সুসমঞ্জস। মানুষ প্রকৃতিগতভাবে আত্মা ও মনের শান্তির জন্য জোড়া চায়। জান্নাতে মহান আল্লাহ তাদেরকে জোড়া প্রদান করবেন; যেন তারা মানবীয় প্রকৃতির প্রশান্তি ও পরিতৃপ্তির পূর্ণতা লাভ করতে পারে। এছাড়া কুরআনে আল্লাহ তায়ালা আরো বলেছেন,
وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِي أَنْفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ
অর্থ: তোমাদের জন্য সেখানে (জান্নাতে) থাকবে যা তোমরা চাহিদা করবে এবং যা তোমরা দাবি করবে। সূরা হা-মীম সাজদাহ, আয়াত নং ৩১। এখানে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টই বলেছেন জান্নাতীদের চাহিদা অনুযায়ী সবকিছুই সেখানে থাকবে। সুতরাং এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করা অবান্তর।
প্রশ্নঃ 386
Hi, In my village, our Mosjid is re-constructing. During this Eid-ul-azha, My villagers wanted to announce a amount for building our Mosjid from me, thats why I had to declare 5000 taka to give them for this purpose. Although I had given some amount already for this purpose. Now they want 5000 taka more as a regular chada(Bengali). When I had to declare to give them 5000 taka, I didnt have wish(niot) that I will give it from my Zakat. Now my question – Can I give this total 10000/- taka from my Zakat money? If not total, then what amount? Please explain in detail. Thanks, Md. Ear Ali Molla
28 Dec 2025
যাকাতের টাকা বা সম্পদ মসজিদে দেয়া জায়েজ নেই। কোন ব্যাক্তিকে মালিক বানিয়ে দেয়া যাকাতের সম্পদের জন্য শর্ত। সুতরাং যাকাতের টাকা আপনি মসজিদে দিতে পারবেন না।
প্রশ্নঃ 385
সহীহ সুন্নাত আমলের জন্য কোন কোন বই পড়তে পারি?
28 Dec 2025
আপনি আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত প্রত্যেকটি বই সংগ্রহ করুন। এই গুলো পড়ন। সাথে সাথে রিয়াজুস সালেহীন এবং এজাতীয় অন্যান্য বই পড়ুন।
প্রশ্নঃ 384
m.facebook.com/notes/ijharul-islam-al-kawsary/ইমাম-মালিক-রহ-এর-নামে-জাহাঙ্গীর-স্যারের-ভিত্তিহীন-আকিদা-প্রচার/394422344040517/?refid=21_rdrহানাফি নামা পরিত হ্ ওয়া আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের একটা পলিটিক্স। জ্যাঁ তার বিভিন্ন বক্তব্যে বুঝা যায়। অথচ তিনি নিজেই একজন আহলে হাদিসের কাণ্ডারী m.facebook.com/notes/ijharul-islam-al-kawsary/ইমাম-আবু-হানিফা-রহ-কে-যেভাবে-জাহমী-মুতাজেলী-বানালেন-খোন্দকার-আব্দুল্লাহ-জাহাঙ্গী/382678515214900/?refid=21_rdr m.facebook.com/notes/ijharul-islam-al-kawsary/ইমাম-শাফেয়ী-রহ-এর-আকিদার-নামে-জাহাঙ্গীর-স্যারের-জাল-বর্ণনা-প্রচার/382987215184030/?refid=21_rdr আসসালামু আলাইকুম, স্যার সম্পর্কে ইযহারুল হক্ব কাউসারী এই ধরণের মন্তব্য করছেন এবং খারাপ কথাও, এর জবাব আমার দরকার, আমাকে উত্তর দিন স্যার দয়া করে আর এই মিথ্যুকদের মিথ্যা ও জালিয়াতি ফাস করে দিন এর আগেও ইবনে তাইমিয়া নিয়ে মিথ্যাচার করে সে ধরা খেয়েছিল, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুণ আমীন
28 Dec 2025
আমি (এ্যাডমিন) আপনার প্রশ্নটি নিয়ে স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, আমি কখনো নিজেকে হানাফী কিংবা আহলেহাদীস বা কিংবা অন্য কোন মাজহাবী হিসেবে পরিচয় দেয় নি। সুতরাং আমাকে কারো কান্ডারী বা অন্য কিছু বানানো সুস্পষ্ট মিথ্যাচার। মিথ্যাচারের বিচার আল্লাহ তায়ালার কাছে।
প্রশ্নঃ 383
আসসালামুয়ালাইকুম। স্বামী মারা গেলে স্ত্রীর কি ঘরে ৪০ দিন থাকা বাধ্যতামুলক? এই ব্যপারে ইসলামের সঠিক বিধান কি?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
স্বামী মারা গেলে স্ত্রীকে চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করতে হবে। এই সময়ে বিনা প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে যেতে পারবে ন। প্রয়োজনে বাইরে গেলেও রাত্রে অবশ্যই বাড়িতে থাকতে হব। তবে যদি গর্ভবতী হয় তাহলে সন্তান প্রসব পর্যন্ত ইদ্দত পালন করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا فَعَلْنَ فِي أَنفُسِهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ
অর্থ: তোমাদের মধ্যে কেউ স্ত্রী রেখে মারা গেলে ঐ স্ত্রী নিজেকে চার মাস দশদিন আটকে রাখবে। … সূরা বাকরাহ, আয়াত নং ২৩৪।
প্রশ্নঃ 382
আসসালামুয়ালাইকুম। ছেলে ও মেয়ের অবৈধ সম্পর্কের এক পর্যায় একটা ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। পরে তারা বিবাহ করে। এখন এই ছেলে কি জারয সন্তান হবে তাদের বিবাহের পরও?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
অবৈধ সম্পর্কের ফলে জন্ম নেয়া সন্তানের নসব অর্থাৎ বংশ তার পিতার (যার ঔরসে জন্ম) থেকে সাব্যস্ত হবে না । জারজ হিসাবেই সাব্যস্ত হবে। তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে এখানে অপরাধ বাবা-মায়ের, সন্তানের কোন অপরাধ নেই, তাই সন্তানকে কোন প্রকারের হেয় করা যাবে না। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
: أَيُّمَا رَجُلٍ عَاهَرَ بِحُرَّةٍ أَوْ أَمَةٍ فَالوَلَدُ وَلَدُ زِنَا لاَ يَرِثُ وَلاَ يُورَثُ.
যখন কোন লোক কোন স্বাধীন মহিলা কিংবা বাদীর সাথে ব্যভিচার করে তাহলে সে সন্তান হবে ব্যভিচারের সন্তান… । সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ২১১৩। শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, হাদীসটি সহীহ।
প্রশ্নঃ 381
মুহতারামঃ আসসালামুআলাইকুম। আমার প্রশ্নঃ দামাত বারাকাতুহুম এর মানে কি? কোন আলেম বা অন্য কাউকে (দাঃ বাঃ) দামাত বারাকাতুহুম বলা জায়েজ হবে কি?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
দামাত বারাকাতুহুম অর্থ হলো তার বরকত অব্যহত থাকুক। কথাটি বলা অবৈধ নয়। তবে এরূপ বলা সুন্নাতও নয়। আমাদের উচিত আমাদের মন, রুচি, ভক্তি, দুআ সবকিছুকে সুন্নাতের অনুগত করা। সাহাবী-তাবিয়ীগণ তাদের উস্তাদ ও বুজুর্গদের ক্ষেত্রে কখনোই এরূপ দুআ ব্যবহার করতেন না। তাঁরা রহমত, মাগফিরাত, তাওফীক ইত্যাদির দুআ করতেন। মৃত ও জীবিত উভয় প্রকারের বুজুর্গের ক্ষেত্রেই রাহিমাহুল্লাহ, গাফারাল্লাহু লাহু, রাদিয়া আনহু। এছাড়া হফিযাহুল্লাহ, ওয়াফ্ফাকাহুল্লাহ, ইত্যাদি দুআ করা যেতে পারে। অনেক সময় বহুল প্রচলনের কারণে আমাদের মনে হয় দামাত বারাকাতুহুম না বলে মাসনুন দুআ বললে আদব কম হলো। আর এরূপ চিন্তাই বিদআতের রাজপথ।
প্রশ্নঃ 380
১) মোবাইল সার্ভিসিং কি হালাল ব্যবসা? ২) কম্পিউটার সার্ভিসিং কি হালাল ব্যবসা? জরুরী ভিত্ততে জানাবেন। কুরআন হাদিসের ভিত্ততে উত্তর দিবেন।
28 Dec 2025
মোবাইল ও কম্পিউটার সার্ভির্সি হালাল কাজ। কোন সমস্যা নেই।
প্রশ্নঃ 379
Assalamualikum.sir, muntakhaf Hadith by m.Muhammad eusuf kantalavi,what is read by tabling, is it,s all Hadith sahih.please let me know.
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
মুন্তাখাবুল হাদীস একটি ভাল হাদীসগ্রন্থ। অধিকাংশ হাদীসই সহীহ বা হাসান পর্যায়ের। কিছু যয়ীফ হাদীসও বিদ্যমান। অধিকাংশ হাদীসের বইই এরূপ। বইটি পড়তে কোন সমস্যা নেই। কোনো হাদীসের বিষয়ে সন্দেহ বা প্রশ্ন হলে মুহাদ্দিসদের সিদ্ধান্ত জানতে হবে। মুমিন সর্বদা তথ্য যাচাই করে গ্রহণ করেন।
প্রশ্নঃ 378
Assalamualaikum would you mind to inform me something about the Kerat we recite during Salah? why we recite sometimes loudly sometimes silently (Johor-Asor)? is there any logic/reason behind that? or only were following as written in Hadith?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
ইবাদত রাসূলুল্লাহ সা. এর শেখানো পদ্ধতিতেই হতে হবে। আর হাদীস দ্বারা এই পদ্ধতিটি প্রমানিত। অর্থাৎ ফজর, মাগরিব ও এশার সালাতে স্বশব্দে পড়া এবং জোহর ও আসরের সালাতে নি:শব্দে পড়া। না, ভাই। হাদীসের কোন অংশ বাদ দিয়ে বলা হয় নি। প্রকৃতপক্ষে এ অর্থে কয়েকটি হাদীস রয়েছে। আমরা একটি হাদীসের মর্মার্থ বা সার সংক্ষেপ বলেছিলাম আর এবং আপনি অন্য হাদীস ভেবেছেন। উক্ত ভিডিওতে নিম্নের দুটি হাদীসের র্মর্ম সংক্ষেপে বলা হয়েছিল:
عن أبي هريرة : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم انصرف من صلاة جهر فيها بالقراءة فقال هل قرأ معي أحد منكم آنفا ؟ فقال رجل نعم يا رسول الله قال إني أقول مالي أنازع القرآن ؟ ! قال فانتهى الناس عن القراءة مع رسول الله صلى الله عليه و سلم فيما جهر فيه رسول الله صلى الله عليه و سلم من الصلوات بالقراءة حين سمعوا ذلك من رسول الله صلى الله عليه و سلم
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, একদা স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামায শেষ করে রাসূল (সা.) ফিরে তাকিয়ে বললেন, তোমাদের কেউ কি একটু আগে আমার সাথে পড়েছে? তখন একজন লোক বললেন, হ্যাঁঁ, ইয়া রাসূলূল্লাহ। এরপর রাসূল (সা.) বললেন, আমার সাথে কুরআন নিয়ে ঝগড়া করা হচ্ছে কেন? আবু হুরায়রা বলেন, এরপর থেকে যে সব নামাযে রাসূল (সা.) স্বশব্দে কুরআন পড়তেন তখন মানুষেরা পড়া থেকে বিরত থাকতেন। তিরমিযী: হাদিস নং ৩১২। ইমাম তিরমিযী (র.) বলেছেন, হাদীসটি হাসান আর শায়খ আলবানী বলেছেন, সহীহ। এই হাদীসে সূরা ফাতিহা পড়ার কথা বলা হয় নি। শায়খ আলবানী রহ. নামাযে সূরা ফাতিহার পড়ার বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন এভাবে:
( انصرف من صلاة جهر فيها بالقراءة ( وفي رواية : أنها صلاة الصبح ) فقال : ( هل قرأ معي منكم أحد آنفا ) فقال رجل : نعم أنا يا رسول الله فقال : إني أقول : ( ما لي أنازع ) . [ قال أبو هريرة : ] فانتهى الناس عن القراءة مع رسول الله صلى الله عليه وسلم – فيما جهر فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم بالقراءة – حين سمعوا ذلك من رسول الله صلى الله عليه وسلم [ وقرؤوا في أنفسهم سرا فيما لا يجهر فيه الإمام ] )
একদা স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামায শেষ করে ( কোন কোন বর্ণনায় ফজরের নামায) রাসূল (সা.) ফিরে তাকিয়ে বললেন, তোমাদের কেউ কি একটু আগে আমার সাথে পড়েছে? তখন একজন লোক বললেন, হ্যাঁঁ, ইয়া রাসূলূল্লাহ। এরপর রাসূল (সা.) বললেন, আমার সাথে কুরআন নিয়ে ঝগড়া করা হচ্ছে কেন? (আবু হুরায়রা বলেন,) এরপর থেকে যে সব নামাযে রাসূল (সা.) স্বশব্দে কুরআন পড়তেন তখন মানুষেরা পড়া থেকে বিরত থাকতেন। (এর যে সব নামাযে ইমাম স্বশব্দে কুরআন পড়েন না সেই নামাযে তারা মনে মনে কুরআন পড়তেন। এরপর তিনি আরো বলেন,
,وله شاهد من حديث عمر وفي آخرة ما لى أنازع القرآن ؟ !أما يكفى أحدكم قراءة إمامه ؟ إنما جعل الإمام ليؤتم به, فإذا قرأ فأنصتوا رواه البيهقى فى كتاب وجوب القراءة فى الصلاة كما فى الجامع الكبير للسيوطى
(৩/৩৩৪/২. এই হাদীসটির অর্থকে সমর্থন কারী (শাহেদ) আরো একটি হাদীস আছে যা উমার রা. থেকে বর্ণিত। সেই হাদীসটির শেষে আছে কেন আমার সাথে ঝগড়া করা হচ্ছে? তোমাদের কারো কারো জন্য কি তার ইমামের কুরআন পাঠ যথেষ্ঠ নয়? নিশ্চয় ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে তাকে অনুস্মরণের জন্য সুতরাং তিনি যখন পড়বেন তখন তোমরা চুপ থাকবে। হাদীসটি ইমাম বাইহাক্কী বর্ণনা করেছেন কিতাবু উযুহিল কিরআত ফি আস-সালাত গ্রন্থে। এই কথা উল্লেখ আছে ইমাম সূয়ুতিরি আলজামিউল কাবীর কিতাবে। (সিফাতুস সালাত ৭১ পৃষ্ঠা। মুদ্রণ -১৯৮৭ ইংরেজী) একই ধরণের নির্দেশ নিচের হাদীসটিতেও দেয়া হয়েছে।
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- صَلَّى الظُّهْرَ فَجَعَلَ رَجُلٌ يَقْرَأُ خَلْفَهُ بِسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ أَيُّكُمْ قَرَأَ أَوْ أَيُّكُمُ الْقَارِئُ فَقَالَ رَجُلٌ أَنَا. فَقَالَ قَدْ ظَنَنْتُ أَنَّ بَعْضَكُمْ خَالَجَنِيهَا
ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত যে, বাসূল সা. যুহরের নামায পড়ছিলেন,তখন এক ব্যক্তি তাঁর পিছনে সাব্বিহ-সমা রব্বিকা… এই সূরা পড়তে শুরু করল, যখন রাসূল সা. নামায শেষে পিছনে ফিরলেন তখন বললেন তোমাদের মধ্যথেকে কে পড়ল কিংবা তোমাদের মধ্যে পাঠকারী কে? একজন লোক বললেন আমি। রাসূল সা. বললেন, আমি মনে মনে ভাবছিলাম, কে আমাবে কষ্ট দিেেচ্ছ। সহীহ মুসলিম: হাদীস নং ৩৯৮। এই হাদীসটিতেও পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। সূরা ফাতিহা পড়ার কথা বলা হয় নি। এগুলোর বিপরীতে কোনো কোনো হাদীসে সূরা ফাতিহা পড়ার কথা বলা হয়েছে। এ অর্থে দুটি হাদীস বিদ্যমান। প্রথম হাদীসটি অজ্ঞাত নামা একজন সাহাবী থেকে এবং দ্বিতীয়টি উবাদা ইবনুস সামিত (রা) থেকে। প্রথম হাদীসটি সহীহ এবং দ্বিতীয় হাদীসটি দুর্বল। প্রথম হাদীসটি নিম্নরুপ:
عن محمد بن أبي عائشة عن رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه و سلم قال قال النبي صلى الله عليه و سلم : لعلكم تقرءون والإمام يقرأ مرتين أو ثلاثا قالوا يا رسول الله انا لنفعل قال فلا تفعلوا الا ان يقرأ أحدكم بفاتحة الكتاب
অর্থ: মুহাম্মাদ ইবনে আয়েশা একজন সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সা.) একদা বললেন, সম্ভবত তোমরা ইমামের পড়া অবস্থায ইমামের সাথে সূরা পড়, তিনি দুই তিনবার এই কথা বললেন। তখন সাহাবীর বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ আমরা এমন করি। তখন তিনি বললেন, তোমরা এমন করবে না, তবে তোমাদের যে কেউ সূরা ফাতিহা পড়তে পারো। মুসনাদে আহমাদ: হাদীস নং ১৮০৯৫ ও আস-সুনানুল কুবরা: হাদীস নং ৩০৩৯। শুয়াইব আরনাউত বলেছেন, হাদীসের সনদ সহীহ, ইমাম বায়হাক্কী বলেছেন, সনদটি ভাল, শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, هذا إسناد جيد এটা ভাল সনদ। দ্বিতীয় হাদীস:
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ كُنَّا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فِى صَلاَةِ الْفَجْرِ فَقَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَثَقُلَتْ عَلَيْهِ الْقِرَاءَةُ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ لَعَلَّكُمْ تَقْرَءُونَ خَلْفَ إِمَامِكُمْ قُلْنَا نَعَمْ هَذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ لاَ تَفْعَلُوا إِلاَّ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَإِنَّهُ لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِهَا
অর্থ: উবাদা ইবনে সামেত রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা রাসূল সা. এর পিছনে ফজরের নামায পড়ছিলাম। রাসূল সা.সূরা পড়ছিলেন কিন্তু পড়া তাঁর জন্য কষ্টকর হয়ে যাচ্ছিল। নামায শেষে তিনি বললেন, সম্ভবত তোমরা ইমামের পিছনে পড়ছিলে। আমরা বললাম হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন, শুধু সূরা ফাতিহা পড়বে, কেননা যে তা না পড়বে তার নামায হবে না। আবু দাউদ: হাদীস নং৮২৩, তিরমিযী: হাদীস নং৩১১। বিভিন্ন কারণে হাদীসটি দূর্বল। তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হল ১. এই হাদীসের সনদে মাকহল নামে একজন মুদাল্লীস রাবী আছেন,যিনি এখানের মুয়ানয়ান বর্ণনা করেছেন। আর মুদাল্লীস রাবীর মুয়ানয়ান বর্ণিত হাদীস দলীল যোগ্য নয়। ২. তিনি একেক সময় একেক জন থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী যদিও হাদীসটি বর্ণনার পর হাসান বলেছেন কিন্তু মহাদ্দিসগনের তাহকীক মুতাবেক হাদীসটি যয়ীফ । আলবানী রহ. যয়ীফ বলেছেন। তাহকীক সহ বিস্তারিত জানার দেখুন যয়ীফ আবু দাউদ ১/৩১৭। উপরের আলোচনা থেকে আশা করি আপনি মূল বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।
প্রশ্নঃ 377
assalamualikum. I want to know hadis of tirmizi about Alaahs 99 names. is it sahih hadis and all Allahs name is right? also i want to make clear that if someone mamorize hole quran without understandig is he get reward according hadith.
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আপনি যে হাদীসটির কথা উল্লেখ করেছেন সেটি একই সনদে অনেকগুলো কিতাবে বর্ণনা করা হয়েছে। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫০৭; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং ৮০৮; মুসতাদরক হাকীম, হাদীস নং ৪১। সনদসহ হাদীসটির কিছু অংশের মূল আরবী পাঠ হলো (তিরমিযী থেকে নেয়া)
; حدثنا إبراهيم بن يعقوب الجوزجاني حدثني صفوان بن صالح حدثنا الوليد بن مسلم حدثنا شعيب بن أبي حمزة عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة قال :قال رسول الله صلى الله عليه و سلم إن لله تعالى تسعة وتسعين اسما من أحصاها دخل الجنة
এই হাদীসের বিষয়ে ইাম তিরমিযী বলেন,
هذا حديث غريب حدثنا به غير واحد عن صفوان بن صالح ولا نعرفه إلا من حديث صفوان بن صالح وهو ثقة عند أهل الحديث
অর্থ: এই হাদীসটি গরীব, সফওয়ান থেকে অনেকেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে সফওয়ান ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেছেন বলে জানা যায় না।আর সে মুহাদ্দিসদের নিকট ছিকাহ। অর্থাৎ ইমাম তিরমিযীর বক্তব্য হলো হাদীসটির সনদ গ্রহনযোগ্য। ইমাম যাহাবী রহ. বলেন,
لم يخرجا الأسامي لتفرد الوليد بها وليس ذا بعلة فالوليد أوثق وأحفظ من أبي اليمان وعلي بن عياش
অর্থ: ইমাম বুখারী ও মুসলিম (আল্লাহ তায়ালার) নামগুলো উল্লেখ করেননি কারন ওলীদ (একজন রাবী) একাকী বর্ণনা করেছেন। তবে এটা কোন ইল্লত (সমস্যা) নয়। কেননা ওলীদ আবিল ইয়ামান এবং আলী ইবনে আয়্যাশ থেকে অধিক ছিকাহ এবং ভাল মুখস্ত রাখেন। (উল্লেখ্য যে, সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে (আল্লাহ তায়ালার) নামগুলো ছাড়া হাদীসটি আবু হুরায়রা রা. থেকে অন্য সনদে বর্ণিত আছে। ইমাম জাহাবী সেদিকে ইশারা করেছেন)। এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ইমাম যাহাবী রহ. হাদীসটির সনদকে সহীহ মনে করেছেন। শায়খ শুয়াইব আরনাউত বলেন, قال شعيب الأرنؤوط : رجاله ثقات অর্থ: হাদীসটির রাবীগণ ছিকাহ। (সহীহ ইবনে হিব্বান এর তালীক)। উল্লেখ্য আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, হাদীসটির সনদ সহীহ। তবে উল্লেখিত নামগুলো হাদীসের অংশ কিনা এই নিয়ে বিতর্ক আছে। এই বিষয়ে মুহাদ্দিস মুহম্মাদ ইবনে ইসমাইল আমীর সানয়ানী (মৃত্যু ১১৮২ হি.) বলেন,
…وساق الترمذي وابن حبان الأسماء والتحقيق أن سردها إدراج من بعض الرواة اتفق الحفاظ من أئمة الحديث أن سردها إدراج من بعض الرواة …
তিরমিযী ও ইবনে হিব্বান নামগুলো উল্লেখ করেছেন। তবে গবেষনালব্ধকথা হলো যে, এই নামগুলো কোন এক রাবী কর্তৃক হাদীসের মধ্যে প্রবেশ করেছে। হাফেজে হাদীসগণ একমত যে, এই নামগুলো কোন একজন রাবী থেকে হাদীসের মধ্যে প্রবেশ করা হয়েছে। সুবুলুস সালাম, ৪/১০৮। তবে এই হাদীসে উল্লেখিত নামগুলো আল্লাহ তায়ালার নাম এবং এই নামগুলে ব্যতিত আল্লাহ তায়ালার আরো নাম আছে। এই নামগুলো ছাড়া আল্লাহ তায়ালার কোন নাম নেই বিষয়টি এমন নয়।
প্রশ্নঃ 376
বর্তমানে দেখা যায় যে, মৃত ব্যাক্তির মাটি দেয়া কে কেন্দ্র করে সময়ের অভাবে ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারনে দোওয়া পড়ে ঝুড়িতে মাটি দেওয়া এবং ওই মাটি কবরের উপরে ঢেলে দেওয়া হয় তা কেমন? এরুপ মাটি দিলে কি সওয়াব অর্জন হবে? কুরান সুন্নাহ ও ফিকহা কিতাবের দলিল দিয়ে জনালে খুব উপকৃত হব।
28 Dec 2025
এই কাজটি বিদআত। এর থেকে বিরত থাকতে হবে।
প্রশ্নঃ 375
assalamualaikum, 1/ amar prosno holo ami jodi salat porar khetre hata kata jama pore salat pori tahole ki amar salat hobe. 2/ are ekti proshno holo taknur upore pant ba payjama porar khetre ami jodi baj kore kore pant ba payjama pori tahole ki kono problem hobe …
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
হাতা কাটা জামা পরে সালাত আদায় করা যাবে, কোন সমস্যা নেই। আর পাজামা বা প্যান্ট ভাজ করে পরলেই হাদীসের নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচা যাবে।
প্রশ্নঃ 374
ami dr.abdullah jahangir sir er aih-ea-us sunan, rahe balayet, monajat o namaj boi porasi and bar bar portesi . amer mone namajer modhe dua monajat bisoea kiso prosno jagase kindly sir amake answer diben khob bipode asi, ai dua / monajat korte gea bid-at na hoea jai? 1. eaka or jamat e foroj namaj sese dua masura porer por onno kono dua pora jabe ki? or allah r kase banglai kono kiso chaoa jabe ki? 2. eaka foroj namaj porar por haat tule monajat kora jabe ki? 3. tahajoot namaj e dua masura porer por salam firanor agae allahr kase banglai kiso chaoa jabe ki? naki salam firanor por haat tule masnoon dua pore banglai allahor kase kiso chaite hobe?
28 Dec 2025
দু’আ মাসূরা অর্থ কুরআন কিংবা হাদীস শরীফে বর্ণিত দুআ। সুতরাং ফরজ সালাতের শেষ বৈঠকে আপনি এক বা একাধিক দুআ মাসূরা পড়তে পারেন। তবে দুআ মাসূরা ব্যতিত অন্য কোন দুআ কিংবা বাংলায় দুআ করা যাবে না। আর ফরজ নামায শেষে আপনি হাত তুলে দুআ করতে পারবেন, কোন সমস্যা নেই।
প্রশ্নঃ 373
শায়েখ বা শাইখ মানে কি? কাদেরকে শায়েখ বা শাইখ বলা হয়?
28 Dec 2025
শায়খ শব্দটির শাব্দিক অর্থ হলো বৃদ্ধ, বয়স্ক লোক, প্রধান ব্যাক্তি ইত্যাদী। তবে ইসলাম সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে শায়খ বলা হয়। অন্যান্য ক্ষেত্রেও তার ব্যবহার আছে।
প্রশ্নঃ 372
কাফের আর মুশরিক এর মধ্যে পার্থক্য কি? কাফের এবং মুশরিক কাকে বলা হয়?
28 Dec 2025
কুফর আরবী শব্দ। কুফর এর আভিধানিক অর্থ হলো অবিশ্বাস, অস্বীকার, অকৃতজ্ঞতা ইত্যাদি। ইসলামী পরিভাষায় আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের (সা.) উপর এবং ঈমানের রুকনগুলোতে বিশ্বাস না থাকাকেই কুফর বলে। শিরক শব্দটিও আরবী। শিরক এর আভিধানিক অর্থ হলো অংশীদার করা বা বানানো, সহযোগী বানানো ইত্যদী। আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে আল্লাহর কোনো বিষয়ে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করা বা আল্লাহর প্রাপ্য কোনো ইবাদত আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য পালন করা বা আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকাকে ইসলামী পরিভাষায় র্শিক বলে। ইসলামী পবিভাষায় বিশ্বাসের অবিদ্যমানতাই কুফর বা অবিশ্বাস। আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের উপর এবং ঈমানের রুকনগুলিতে বিশ্বাস না থাকাকেই ইসলামের পরিভাষায় কুফর বলে গণ্য। অস্বীকার, সন্দেহ, দ্বিধা, হিংসা, অহংকার, ইত্যাদি যে কোন কারনে যদি কারো মধ্যে ঈমান বা দৃঢ় প্রত্যয়ের বিশ্বাস অনুপস্থিত থাকে তবে তাকে ইসলামী পরিভাষায় কুফর বলে গণ্য করা হয়। অনুরুপভাবে মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে কোনো বিষয়ে তাঁর সমতুল বা সমকক্ষ বা তাঁর সাথে তুলনীয় বলে বলে বিশ্বাস করার মাধ্যমে আল্লাহর একত্ব ও অতুলনীয়ত্ব অস্বীকার করাও কুফর। তবে এ পর্যায়ের কুফরকে ইসলামের পরিভাষায় শিরক বলা হয়।
কুফর ও শিরক পরস্পর অবিচ্ছ্যেভাবে জড়িত। কাউকে কোনোভাবে কোনো বিষয়ে মহান আল্লাহর সমকক্ষ বা তুলনীয় মনে করার অর্থই তাঁর একত্বে অবিশ্বাস বা কুফরী করা। আল্লাহর তাওহীদ ও রাসূলগণের দাওয়াতে অবিস্বাস না করে কেউ শিরক করতে পারে না। কাজেই মুশরিক মাত্রই কাফের বলে গণ্য হবে। অপরদিকে কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ না মেনে ঈমানের কোনো রুকন অবিশ্বাস করলে তা শুধু কুফ্র বলে গণ্য। সুতরাং কাফের মাত্রই মুশরিক নয়। যেমন যদি কেউ আল্লাহর অস্তিত্বে বা তাঁর প্রতিপালনের একত্বে অবিশ্বাস করে বা মুহাম্মাদ (সা.) এর রিসালাত, খাতমুন নবুওয়াত ইত্যাদি অস্বীকার করে তবে তা কুফ্র হলেও বাহ্যত তা শিরক নয়। কারণ এরুপ ব্যক্তি সুস্পষ্ট ভাবে কাউকে আল্লাহর সাথে তুলনীয় দাবি করছে না। তবে প্রকৃতপক্ষে এরুপ কুফরের সাথেও শিরক জড়িত। কারন এরুপ ব্যক্তি কোন না কোন ভাবে এ জড় বিশ্বকে মহান আল্লাহর মত অনাদি-অনন্ত বলে বিশ্বাস করছে, বিশ্ব পরিচালনায় প্রকৃতি বা অন্য কোন শক্তিকে বিশ্বাস করছে।
প্রশ্নঃ 371
Assalamu alikum.. Amr nam farjana …amr proshno ta holo bitor namz ar j niyom ta apnara bolsan ta ame sothik vaba bujta parsi na.. Amra toh 2 rakata bosa attahiyatu pori o 3 rakata fatihar satha onno surah miliya pora abr takbir dai Allahu Akbar 3 br boli tr por dua kunut pori nd sijda diya attahiyatu durud soreef o dua a masura pora salam firiya salat sas kori.. Akhon amak doya kora sothik niyom ta sundor vaba bujiya bolun jata ame nij sothik vaba abong amr poribarar sobi k sothik niyom ta bolta pare.. Tahola ame khub e upokito hobo.. Assalamu alikum..
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আমাদের দেশে যেভাবে বিতর নামায পড়া হয় সেভাবে পড়বেন। আপনি যেভাবে বর্ণনা করেছেন তা ঠিক আছে। তবে তৃতীয় রাকআতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য একটি সূরা মিলানোর পর একবার তাকবীর বলবেন। তিনবার নয়।
প্রশ্নঃ 370
আসসালামু আলাইকুম। স্বামী মারা গেলে, স্ত্রী যদি স্বামীর জন্য দুয়া করে তা নাকি কাজে আসে না?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
স্বামীর জন্য স্ত্রী দুআ করলে, স্ত্রীর জন্য স্বামী দুআ করলে এবং যে কোন মুসলিমের জন্য অন্য মুসলিমের দুআ কাজে আসবে। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
وَالَّذِينَ جَاؤُو مِن بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالإِيمَانِ وَلا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلاًّ لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَّحِيمٌ
অর্থ: (মূমিনদের থেকে যারা মারা যায় )তাদের পরে যারা দুনিয়াতে আসবে তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের এবং যারা ঈমাণের সাথে আমাদের অগ্রগামী হয়েছে তাদের ক্ষমা করে দাও আর আমাদের হৃদয়ে মূমিনদের ব্যাপারে কোন বিদ্বেষ সৃষ্টি করো না। নিশ্চয় আপনি দয়ার্দ্র দয়াময়। সূরা হাশর, আয়াত ১০। সুতরাং আমাদের উচিৎ আমাদের সকল আত্মীয় স্বজন ও সকল মুসলিমের জন্য দুআ করা ।
প্রশ্নঃ 369
☯ আপনার রচিত হাদিসের নামে জালিয়াতি ☯ মাসিক আলকাউসারের তত্ত্বাবধায়ক মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক রচিত প্রচলিত ভূল ☯ ফুরফুরার পীর আল্লামা আবু জাফর সিদ্দিকি (রাহ) রচিত এবং আপনার তাহকিক কৃত আল মাউযূয়াত ☯ তাওহিদ পাবলিকেশন প্রকাশিত; যঈফ ও জাল হাদিস সিরিজ;তাহকিক সূনান ইবনে মাজাহ বই গুলোতে যেসকল হাদিস সমূহকে জাল বা যঈফ বলা হয়েছে এবং ☯ মোহাম্মাদ নাছিরুদ্দিন আলবানী (রহ) তিরমিযী শরিফ, মেশকাত শরিফ ও আবূদাউদ শরিফ তাহ্বক্বিক করে যেসকল হাদিসকে জাল বা যঈফ বলেছেন, সে হাদিস সমূহকে নিশ্চিন্তে জাল বা যঈফ বলা যাবে কি? আমরা কি নিশ্চিন্তে এসব হাদিস গুলুকে বর্জন করতে পারি?
28 Dec 2025
যে হাদীসগুলোকে এই কিতাবগুলোর প্রতিটিতেই জাল বা যয়ীফ বলা হয়েছে সেগুলো নিশ্চিতভাবেই আপনি জাল বা যয়ীফ বলতে পারেন। আর যে হাদীসগুলোর বিষয়ে মতবিরোধ আছে সেগুলোকে আপনি নিজে আমল করার ক্ষেত্রে জাল বা যয়ীফ বলেই মনে করবেন তবে অন্য কাউকে বলতে যাবেন না যে, এগুলো জাল বা যয়ীফ।
প্রশ্নঃ 368
বিবাহের সুন্নাত পদ্ধতি জানতে চাই? বিশেষ করে বিয়ে পরানোর পদ্ধতি।
28 Dec 2025
দু’জন পুরুষ সাক্ষী কিংবা একজন পুরুষ আর দুইজন মহিলার সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিবাহ পড়াতে হবে। সাক্ষীগন দেখবেন বর ও কনে বিবাহে সম্মত কিনা। কনের কাছে তারা সরাসরি জিজ্ঞসা করবে অথবা কনের পক্ষ থেকে কোন উকিল (প্রতিনিধি) আসলে তার কাছে থেকেও জেনে নিতে পারবে। এরপর বিবাহের খুৎবা দিতে হবে।
প্রশ্নঃ 367
আসসালামুয়ালাইকুম, স্যার, পড়াশুনার ওজরে কি নামাজ ঘরে পড়া জায়েয আছে? যেমন ফজরের নামাজ ও এশার নামাজ (৬ষ্ঠ তলা থাকি)। দোয়া কুন্নত তো একটি দোয়া সুতরাং এটা বেতেরের নামাজ ছাড়াও অন্য যে কোন নফল নামাজে শেষ বৈঠকে পড়া যাবে কি না? বা পড়লে শরিয়ত বহির্ভূত হবে কিনা?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
জামাতে নামায পড়ার জন্য রাসূলুল্লাহ সা. সহীহ হাদীসে খুবই গুরুত্বারোপ করেছেন। আলেমগন জামাতে নামায পড়াকে ওয়াজিব কিংবা ওয়াজিব পর্যায়ের সুন্নত বলেছেন। সুতরাং পড়শুনার ওযরে ঘরে ফরজ নামায পড়া যাবে না। দুআ কুনুত নফল নামাযের শেষ বৈঠকে এবং সাজদাতে পড়া যাবে।
প্রশ্নঃ 366
assalamualaikum, I am addicteda very common bad habit, and that is mustarbration I cant abandone it. It start from my childhood and still continue. Now my age is 26, jobless(graduation complete) so i cant marry now. According to Islam and sunnah, how can i over come this bad habit?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম
কুরআন ও হাদীসের আলোকে হস্তমৈথুন হারাম, তবে যদি ব্যভিচারের আশংকা থাকে তাহলে একটু শিথিলতা আছে। এর থেকে বিরত থাকার জন্য প্রয়োজন মনের দৃঢ় ইচ্ছা । আপনি নামাযের সিজাদয় এবং অন্যান্য সময়ে আল্লাহর কাছে দুআ করুন এবং এর থেকে বিরত থাকার দৃঢ় ইচ্ছা করুন, ইনশাআল্লাহ আপনি এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। সামর্থ থাকলে বিবাহ করে নিন। । আমরা দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাকে এই কাজ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দিন।
প্রশ্নঃ 365
মুহতারাম আস-সালামু আলাইকুম। আপনার রাহে বেলায়াত বই পড়ে জানতে পারি যে-এখন যেভাবে যিকির করা হয় তা রাসুল (স.) এর জামানায় ছিল না। আমার প্রশ্ন: বুখারি শারীফ দুআ চ্যাপ্টার হাদিস নং: ৬৪০৮, হাদিসটি বুঝিয়ে বলবেন।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আপনি ভাল করে রাহে বেলায়াতের শেষ অধ্যায় তথা মাজলিসে জিকর ও জিকিরের মাজলিস পড়ুন। ইনশাআল্লাহ আপনার প্রশ্নের সমাধান হয়ে যাবে।
প্রশ্নঃ 364
আসসালামু আলাইকুম, আমি বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবসা ফরেক্স সর্ম্পকে জানতে চাচ্ছি। এটা হালাল না হারাম? যাযাকাল্লাহ, সাদিক
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আপনি এই ব্যবসার ধরণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে পুনরায় প্রশ্ন করুন।
প্রশ্নঃ 363
আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে একটা অনলাইন সাইট এ দুইটা প্রোগ্রামিং কোর্স ফ্রী দিচ্ছে এখন আমি কি ঐ কোর্স গুলা কি নিতে পারবো এতে কি শরীয়তের কোন বিধি নিশেধ আছে? কুরআন সুন্নার আলোকে জানালে উপকৃত হব?
28 Dec 2025
আপনার প্রশ্নটি অস্পষ্ট । কোন বিষয়ের কোর্স ফ্রী দিচ্ছে তা দ্বারা কী কাজ হবে, স্পষ্ট করে লিখুন। তবে সে গুলো জায়েজ বিষয়ে হলে কোন সমস্যা নেই।
প্রশ্নঃ 362
আসসালামু আলাইকুম, হাতে কোন পাথরের আংটি পরা জায়েজ কি? ধন্যবাদ
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
না, পাথরের আংটি পরাতে কোন সমস্যা নেই। তবে আংটি কোন সমস্যা দূর করতে পারে এমন বিশ্বাস করলে শিরক হবে।
প্রশ্নঃ 361
Asalam waleikum. Is Paan haram? Also is tayamum ok in a work environment? I work in a factory in USA and they dont allow time for namaz so in a short time I do namaz. Can you masah in normal socks. Im a female. Thank you
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
পান একটি গাছের পাতা। এটা হারাম নয়। তবে র্জ্দ্দা যা তামাক থেকে উৎপন্ন হয় তা হারাম বলেই অধিকাংশ আলেম মনে করেন। আর এটাই যক্তিযুক্ত, কারণ জর্দ্দা মূলত তামাক আর তা শরীরের ক্ষতি করে। হ্যাঁ, আপনি চামড়ার মোজার উপর কিংবা মোটা কাপড়ের মোজার উপর মাসেহ করতে পারবেন। নামাযের সময় সময় কম থাকলে শুধু ফরজ নামায আদায় করবেন।
প্রশ্নঃ 360
মহিলা, পুরুষ ও নাবালক ছেলেমেয়েদের জানাজার নামাযের ক্ষেত্রে নীয়তে ও নামাযে কোন পার্থক্য আছে কী? থাকলে, সেগুলো কীকী দয়া করে জানাবেন ।
28 Dec 2025
নিয়ত হলো মনের সংকল্প। আপনার সামনে যার জানাযা আসবে আপনার মনে তাঁর জানাযার নিয়তই হবে।আমাদের সমাজে নিয়তের নামে যা কিছু প্রচলিত তা হাদীসে নেই। সুতরাং নিয়তের পার্থক্য বলে কিছু নেই।আর মহিলা ও পুরুষের জানাযার নামাযে কোন পার্থক্য নেই। তেমনি না বালক ছেলে মেয়েদের জানাযার নামাযে কোন পার্থক্য নেই। তবে না বালক ছেলে-মেয়েদের জন্য হাসান বসরী রহ. আলাদা দুআ করতেন মর্মে বুখারীতে বর্ণিত আছে। জানাযা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন, রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা নং ৪৩৪-৪৪৪।
প্রশ্নঃ 359
আস সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন : আমি রোগবালাই (ঠান্ডা, এজমা, এল্যারজি জনিত) থেকে নিজেকে সুস্থ রাখার দোয়া তাবিজ করে আমার শরীরে রাখি, কিন্তু যখন শুনলাম তাবিজ শরীরে রাখা যাবে না,তখন খুলে ফেলি। কিন্তু আমার সমস্যার সমাধান হচ্ছে না বরং আগের মতই আছে। এখন আমি ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি আর কি কি আমল (দোয়া) করতে পারি?
28 Dec 2025
ওয়া আলইকুমুস সালাম।
আমরা আপনার জন্য দআ করি যেন আল্লাহ আপনাকে সুস্থ করে দেন। ঔষুধ খাওয়ার পাশাপাশি আপনি রাহে বেলায়াত বইয়ের ২২৮, ২২৯, ২৩০, ২৩১, ২৩২ নং দুআ গুলো নফল নামাযের সাজদাতে এবং বিভিন্ন সময় পড়তে থাকুন।
প্রশ্নঃ 358
মোবাইল, ট্যাব, বা কম্পিউটারে যদি কুরান বাংলা, তেলাওয়াত, হাদিস বই, ওয়াজ মাহাফিল, ইসলামিক বই থাকে তাহলে তা কি নাপাক অবস্তাই ধরা বা মোবাইল নিয়ে কি বাথরুমে ঢোকা যাবে?
28 Dec 2025
না, মোবাইলের ভিতর এই সব থাকলে নাপাক অবস্থায় ধরতে তবা মোবাইল নিয়ে বাথরুমে যাওয়াতে কোন সমস্যা নেই। তবে যদি স্কীনে যদি এগুলো থাকে তাহলে স্কীন থেকে সরিয়ে বাথরুম যাবেন।
প্রশ্নঃ 357
বর্তমানে আমাদের সমাজে দেখা যায়, সবাই ধনী বা সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করতে চায়, দ্বীনদার মেয়ে খুব কম চায়। কিন্তু আমি দ্বীনদার মেয়ে বিয়ে করতে চাই। আমাকে এমন কোন দোয়া বলতে পারেন যেটা পড়লে দ্বীনদার মেয়ে বিয়ে করতে পারব?
28 Dec 2025
আপনি নফল নামাযের সাজদায় এবং অন্যান্য সময় কুরআনে বর্ণিত নিচের দুআ দুটি তেলাওয়াত করতে থাকুন। আমরা দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাকে নেক স্ত্রী দান করে।
১. رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
উচ্চারণ: রব্বানা- হাবলানা- মিন আঝও-জিনা ও যুররিয়্যাতিনা- কুররতা আইনিন ওয়াজ আলনা- লিল মুত্তাক-না ইমামা। সূরা ফুরক্বন-৭৪। অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের কে দান করুন এমন স্ত্রী এবং সন্তান যারা আমাদের চোখের প্রশান্তি হবে। এবং আপনি আমাদেরকে মুত্তকীনদের ইমাম বানিয়ে দিন।
২. رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চরণ: রব্বানা- আ-তিনা ফিদদুনইয়া হাসানাহ ও ফিল আখিরতে হাসানাহ ও ক্বিনা- আযা-বান না-র।
প্রশ্নঃ 356
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওবারাকাতুহ। রাসুল (সা:) এর পিতা মাতা কোন নবীর অনুসরন করেছেন?তারা কি মুসলিম ছিলেন? www.facebook.com/ahanif520
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
দেখূন, একজন মূমিনের জন্য এই সব প্রশ্নের পিছনে পড়া অপ্রয়েজনীও। কুরআন হাদীস নির্দেশিত পথে জীবন পরিচালনা করাই আমাদের কাজ। আর আপনার প্রশ্নের উত্তরে বলছি এই বিষয়ে হাদীসে কিছু বলা নেই।
প্রশ্নঃ 355
আসসালামুয়ালাইকুম, স্যারের কাছে আমার কিছু প্রশ্ন ছিল, বিয়ের জন্য আমার মা বাবা ছেলে দেখছেন, তাদের একজনকে পছন্দও হয়েছে, তারা সেখানে কথা আগাতে চান। কথা বলা অথবা প্রশ্ন করার সুযোগ যদি আমি পাই তাহলে কি কি ব্যাপারে প্রশ্ন করা উচিত? এবং কিভাবে করা উচিত? ছেলের বাবা সুদী ব্যাংকে চাকরী করতো কিন্তু জামাতে নামাজ পড়ে, ছেলে ডাক্তার এবং তার ইনকাম হালাল। তবে তার দাঁড়ি নাই, আচার ব্যাবহার ভালো, নামাজী। এই ছেলেকে কি বিয়ে করতে অসুবিধা আছে?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
হ্যাঁ, এই ছেলেকে আপনি বিবাহ করতে পারেন, কোন অসুবধা নেই। দাঁড়ির বিষয়টি বিয়ের পরে সমাধান করে নিবেন। আপনি তাঁকে বলবেন আমাকে ইসলামী হুকাম-আহকাম পূর্ণরূপে পালন করতে দিতে হবে। এছাড়া আপনার ব্যক্তিগত কোন প্রয়োজনীও বিষয় থাকলে তাও জেনে নিবেন।
প্রশ্নঃ 354
আসসালামুআলাইকুম। আমার প্রশ্নঃ ১. জুমাআর ফরজ সালাতের আগে ৪ রাকাত সুন্নাহ (যাকে কাবালাল জুমাআ বলা হয়) তা কি obligatory সুন্নাহ। হাদিসের আলকে জানতে চাই। ২. বিতির নামাজে কুনুত পরে রুকুতে না গিয়ে ভুলে সরাসরি সিজদায় চলে গেলে কি করতে হবে? আবার নিয়াত বেধে পুনরায় সালাত আদায় করতে হবে? নাকি সিজদা থেকে উঠে আবার রুকু করে সিজদা করে সাহু সিজদা দিয়ে সালাত শেষ করতে হবে? যাযাকাল্লাহু খাইর।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
obligatory বা আবশ্যক সুন্নাত বলতে কিছু নেই, বরং সব সুন্নাতই unobligatory অর্থাৎ আবশ্যকতার অন্তভূক্ত নয়, তবে অনেক করলে সওয়াব আছে। রাসূলুল্লাহ সা. জুমুআর ফরজ সালাতের পূর্বে সুন্নাত সালাত আদায়ের জন্য বলেছেন। সহীহ বুখারীর এই হাদীসটি লক্ষ করুন:
عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَتَطَهَّرَ بِمَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ ثُمَّ ادَّهَنَ ، أَوْ مَسَّ مِنْ طِيبٍ ثمَّ رَاحَ فَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ اثْنَيْنِ فَصَلَّى مَا كُتِبَ لَهُ ثُمَّ إِذَا خَرَجَ الإِمَامُ أَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الأُخْرَى
সালমান ফারসী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন ভালভাবে গোসল করে তেল বা সুগন্ধি ব্যবহার করে (মসজিদে) গমন করবে অতঃপর (মসজিদে) কাউকে না ডিঙিয়ে সাধ্যানুযায়ী নামায পড়বে এবং যখন ইমাম খুতবা দেয়ার জন্য বের হবে তখন চুপ করে তা শুনবে, তার এক জুমুআ থেকে অপর জুমুআর মাঝের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯১০। এই হাদীসে রাকআত সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয় নি। আলেমগণ বলেছেন দুই রাকআত থেকে শুরু করে যত ইচ্ছা পড়বে, যত বেশী পড়বে সওয়াব ততো বেশী হবে। রাকআত সংখ্যার ব্যাপারে বিভিন্ন সাহবী থেকে বিভিন্ন সংখ্যা বর্ণিত আছে। দুই রকআত. চার রাকআত ইত্যাদি। চার রাকআতের বিষয়ে নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন:
عبد الرزاق عن الثوري عن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن السلمي قال كان عبد الله يأمرنا أن نصلي قبل الجمعة أربعا وبعدها أربعا حتى جاءنا علي فأمرنا أن نصلي بعدها ركعتين ثم اربعا.
অর্থ: ( তাবেঈ) আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী বলেন, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে জুমুআর পূর্বে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর আলী রা. আমাদেরকে জুমুআর পর প্রথমে দুই রাকআত এরপর চার রাকআত পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুসান্নাফু আব্দুর রায্যাক, হাদীস নং ৫৫২৫। এই হাদীসটির বিষয়ে শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, وهذا سند صحيح لا علة فيه অর্থ: এটা সহীহ সনদ, তাতে কোন সমস্যা নেই।সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, ১০১৬ নং হাদীসের আলোচনা। উক্ত সহীহ হাদীসটি দ্বারা আমারা জানতে পারলাম যে, প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. চার রাকআত ক্ববলাল জুমুয়া পড়ার আদেশ দিয়েছেন। উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা আমরা বুঝলাম যে, জুমুআর আগে নামায সুন্নাত, তবে রাসূলুল্লাহ সা. থেকে রাকআত সংখ্যা বিষয়ে কোন কিছু বর্ণিত হয়নি। সুতরাং যে যতটুকু ইচ্ছা করে ততোটুকু পড়তে পারে। একজন সাহবী থেকে চার রাকআত পড়ার নির্দেশ এসেছে তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় চার রাকআতও পড়া যায় এবং এটাও সুন্নাত। আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হলো সাজদা থেকে উঠে রুকু করে পূনরায় সাজদা করতে হবে। এবং সাজদায়ে সাহু দিয়ে নামায শেষ করতে হবে।
প্রশ্নঃ 353
আসসালামু আলাইকুম, আমি বর্তমানে একটি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। পারিবারিক কিছু সমস্যার কারনে আমার পড়ার খরচ আমার বাবা আর বহন করছেন না। পড়া লেখা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমার খালা আমাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করছেন। পেশায় আমার খালা একটি প্রাইভেট ব্যাংকের চাকরিজীবি। ব্যাংকের বেতনের টাকা আমার খরচ করা হালাল হবে কিনা এই ব্যাপারে খুব চিন্তিত। উত্তর দিয়ে সাহায্য করলে কৃতজ্ঞ থাকবো। জাযাকাল্লাহু খাইরান।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আপনি ইসলামি বিধান অনুযায়ী চলতে চান এই জন্য আপনাকে শুকরিয়া। আমরা দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাকে কবুল করেন। আপনার প্রশ্নের উত্তরে বলছি সুদভিত্তিক কোন ব্যাংকে চাকুরী করে থাকলে ঐ বেতন আপনার খালার জন্য হারাম। তবে আপনি ঋন হিসাবে তার কাছে থেকে টাকা নিতে পারেন।
প্রশ্নঃ 352
পরীক্ষার সময় আমি কাউকে দেখাই না কারন এটা প্রতারণা। আমার বন্ধুরা তাই বলছে তুই না দেখ কিন্তু আমাদের বলেদে আমি তাদের বলছি এ তে আমার গুনা হবে। কিন্তু তারা বলে, পরীক্ষ হলে আর এক জন কে সাহায্য করলে গুনাহ হবে না। তারা এর উওর জানতে চেয়েছে। আজ জানালে উপকৃত হতাম।
28 Dec 2025
পরীক্ষার হলে দেখা বা দেখানো উভয়টিই না জায়েজ, অন্যায়। এই কাজ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
প্রশ্নঃ 351
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: নামাজে রাফউল ইয়াদাইন করা কি রহিত হয়ে গেছে?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
নামাযের মধ্যে শুধু প্রথমে একবার রাফয়ে ইয়াদাইন করা এবং একাধিকবার করা দুটোই সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত। কোনটিই রহিত হয়ে যায়নি। রাসূলুল্লাহ সা. এর ইন্তেকালের পর সাহাবীদের মধ্যে উভয়প্রকারের আমালই বিদ্যমান ছিল। একাধিতক কার রাফয়ে ইদায়ন রহিত হলে তো কোন সাহাবী এমন আমল করতেন না। দুটো আমলই যেহেতু সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত তখন এই নিয়ে বিতর্ক ত্যাগ করা অপরিহার্য্য।
প্রশ্নঃ 350
আসসালামু আলাইকুম। আমার নাম সাজ্জাদ। আমার পরিছিত একজন আল্লাহর নামে শপথ করেছে যে সে প্রতিদিন জামাতে প্রথম রাকাতসহ আদায় করবে।কিন্তু সে তা পারে নি।তাকে কি কাফফারা দিতে হবে। ।পরপর কয়েক্তি ছারার কারনে কি প্রতির জন্য আলাদাভাবে দিতে হবে।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
জ্বী, কসম ভাঙ্গার কারণে তাকে কাফফারা দিতে হবে। কাফফারা হলো দশজন মিসকিনকে দুর্বল খাবার প্রদান করা। অথবা দশজন মিসকিনকে একসেট করে কাপড় প্রদান করা। কাফফারা একবার দিতে হবে।
প্রশ্নঃ 349
আসসালামু আলাইকুম। আমরা 6-7 জন স্টাফ-বাসে অফিসে যাই। আমাদের এক ভাই প্রতিদিন অফিস যাওয়ার পথে গাড়িতে বুখারী, মুসলিম, আবু দা্উদ ইত্যাদি হাদীস কিতাবের বাংলা অনুবাদ থেকে 5-6টি হাদীস পড়ে শুনান।দু-একজন অভিমত দেন যে এভাবে চলন্ত গাড়িতে হাদীসের তালিম করলে হাদীসের অসম্মান করা হয়।আমরা কী করব বুঝতে পারছি না। এ বিষয়ে আপনার নিকট শরীয়তের কুরআন হাদীসের আলোকে আলোকে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা আশা করছি।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
না, এতে হাদীসের প্রতি অসম্মানের কিছু নেই। আপনারা এভাবে হাদীসের তালীম করছেন এটা খুবই আনন্দের বিষয়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে দীনের উপর চলার তাওফীক দিন।
প্রশ্নঃ 348
ব্যাংকে চাকরি করার ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান কি? ব্যাংকে চাকরি করে ইনকাম করলে তা কি হারাম ইনকাম হবে?
28 Dec 2025
ইসলামী শরীয়াহ মুতাবেক পরিচালিত ব্যাংক সমূহে চাকরী করা জায়েজ। আর সুদভিত্তিক ব্যাংক সমূহে চাকরী করা জায়েজ নেই। সুদভিত্তিক ব্যাংকে চাকরীর ইনকাম হারাম হবে।
প্রশ্নঃ 347
আস্সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্নটা হল আঙ্গুল ফুটানো নিয়ে। আমি দীর্ঘ দিন যাবত একটি বিষয় লক্ষ্য করিয়াছি যে, আজকাল বেশির ভাগ মানুষ তাদের আঙ্গুল এত বেশি পরিমানে ফুটিয়ে থাকেন যা অনেকটাই তাদের কাছে নেশার মত হয়ে গেছে। অনেকে নামাজের সালাম ফিরানোর সাথে সাথে আঙ্গুল ফুটানোর জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পরেন। আঙ্গুল না ফুটিয়ে তারা যেন মোটেও স্বস্তি পাচ্ছেন না। এই ভাবে আঙ্গুল ফুটানোর উপর ইসলামের কোন বিধি নিষেধ আছে কিনা, দয়া করে জানালে খুবই উপকৃত হইব। ধন্যবাদান্তে, মোঃ জাহাঙ্গীর খান, কুনিয়া, তারগাছ, গাজীপুর।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
নামাযে সমস্যা সৃষ্টি করে এমন যাবতীয় বস্তু থেকেই আমাদের বিরত থাকতে হবে। নামাযের ভিতর আঙ্গুল ফোটানোর ব্যাপারে একটি যয়ীফ হাদীসে নিষেধাজ্ঞার কথা এসছে। নামাযের সালামের পরে আঙ্গুল ফুটানো যাবে না এই মর্মে কোন হাদীস আমাদের জানা নেই। তবে বিনা প্রয়োজনে মসজিদে এই ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা উচিৎ।
প্রশ্নঃ 346
আসসালামু আলাইকুম স্যার। মুদি বা চা বা পান বা সুপার স্টোর ইত্যাদি ব্যবসায়ে সিগারেট, বিড়ি, গুল, জর্দা, ভেজাল মাল ইত্যাদি বিক্রিত মূনাফা এবং ব্যবসায়ের অন্যান্য দ্রব্যর বিক্রিত মূনাফার সাথে মিশ্রিত করে আয় করলে উক্ত সমষ্টি আয়ের বিধান কি হবে? এমতাবস্থায় কুরআন ও সহীহ্ সুন্নাহর আলোকে বিধান ও উক্ত সমস্যা সমাধানের উপায় কি জানালে খুবই উপকৃত হব। – জাযাকাল্লাহু খইরান।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আমাদের উচিৎ যে কোন ধরনের হারাম ব্যবসা থেকে বিরত থাকা। কেননা হালাল ব্যবসার মধ্যে আল্লাহ বরকত দান করেন আর হারামের মধ্যে কোন বরকত থাকে না। আপনার প্রশ্নের উত্তরে বলছি মোট মুনাফর যতটুকু হালাল পন্যের ব্যবসা থেকে অর্জিত ততটুটু হালাল আর যতটুটু হারাম পন্যের ব্যবসা থেকে অর্জিত ততটুকু হারাম। সমাধানের উপায় খুবই সহজ। সিগারেট এবং এ জাতীয় পন্যগুলো বিক্রি বন্ধ করে দিতে হবে, এতে আপনার কোন ক্ষতি হবে না। মানুষ না না বুঝে মনে করে হারাম ব্যবসা ছেড়ে দিলে তার আয় কমে যাবে, এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারনা। বরং হারাম থেকে মুক্ত সম্পদের ভিতরেই কল্যান ও বরকত।
প্রশ্নঃ 345
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর চাই, অনুগ্রহ পূর্বক বিস্তারিত ভাবে উত্তর দিবেন আমি যতদূর জানি, মাদ্রাসার ফাজেল (বি.এ) ক্লাশ থেকে শুরু করে কামেল (এম.এ) পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তকে জুমার নামাযের প্রথম শর্ত হিসাবেই বলা হয়েছে যে, ইসলামী রাষ্ট্রের খলিফা বা তার প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকলে জুমা বৈধ হবে না। সেখানে আরও বলা আছে, যে এলাকায় ইসলামের শাসন কায়েম আছে সেখানেই জুমা পড়তে হবে। এবং শরীয়াহ মোতাবেক যে কোন দণ্ড প্রয়োগ করার ক্ষমতাধারী ব্যক্তিরাই জুমার নামাযের ইমামতি করার অধিকার রাখেন। যারা এ কথার সমালোচনা করেন তাদেরকে অনুরোধ করব তারা যেন ফেকাহর যেকোন গ্রন্থ, যেমন- হেদায়াহ (১ম খণ্ড জুমা অধ্যায়, পৃঃ ১৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ), ফেকাহ ই কুদুরি, কাজী খান, মুহিত এ সুরুক্সি থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক শ্রেণীর ইসলাম শিক্ষার যে কোন বই পড়ে দেখেন। . অথচ বিশ্বের সর্বত্র মসজিদের ইমামরা মসজিদ কমিটির দুই পয়সার কেনা গোলাম বৈ কিছু নয়, যদিও তারাই আবার জুমার নামাযের ইমামতি করেন। মাদ্রাসায় লেখা পড়া করার সুবাদে তারা খুব ভালো করেই অবগত আছেন যে, তাদের জুমা তো দুরের কথা ওয়াক্তিয়া নামাযের ইমামতি করানোরও কোন যোগ্যতাও নেই। কারণ ইমাম শব্দের অর্থই হচ্ছে নেতা বা শাসক। অথচ এই সব দুই পয়সার মোল্লারাই ইমাম সেজে মসজিদ কমিটির সুদখোর, ঘুষখোর নেতা সাহেবদের কাছে চাকরী বাচানোর জন্য সদা সর্বদা কাচুমাচু হয়ে থাকেন। ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী কোন দণ্ড দেওয়া দূরে থাক, একটা টিকটিকির মুন্ডুপাত করার ক্ষমতাও কি এরা রাখেন? . জুমা এবং ঈদের নামাযের যে শর্তগুলো দেওয়া আছে তা না থাকলে জুমা এবং ঈদের নামায যে সহীহ্ হয় না এ ব্যাপারে তারা ভালো করেই জানেন। তাই তারা জুমার দিনে স্বতন্ত্রভাবে ফরজের পরে চার রাকাত এহতিয়াতুয যোহর পড়েন। অর্থাৎ পাছে জুমা কবুল না হয় এই সন্দেহে তারা গোপনে এহতিয়াতুয যোহর পড়েন। এহেন কর্ম করে একই সাথে তারা আল্লাহ এবং সরলপ্রাণ মুলমানদের সাথে ধোঁকাবাজি করে চলছেন। এর প্রমাণ স্বরূপ বলা যায়, তাদের অনুসরণীয় আলেম হাকীমুল উম্মত হিসাবে পরিচিত মাওলানা আশরাফ আলী থনভীর মাসআলা মাসায়েলের বই বেহেশতী জেওরের ২য় খণ্ডের জুমা অধ্যায়ের ২৫৮-২৫৯ পৃষ্ঠার ৬ নং মাসলায় বলা হয়েছে যদি কোন আলেম সন্দেহ বশতঃ জুমার পর এহতিয়াতুয যোহর (আখেরী যোহর) পড়িতে চায়, তবে এইরূপে পড়িবে যেন কেহ জানিতে না পারে। এখানে আমার প্রশ্ন, জুমার মত ইসলামের অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সাধারণ মুসলমানদেরকে জানতে না দিয়ে তা গোপন করার উদ্দেশ্য কী? যাইহোক, সন্দেহ নেই যে ফিকাহ বইগুলিতে জুমআর ব্যাপারে যে মাসআলাগুলি লেখা আছে তা সত্য কিন্তু এ সত্যগুলি এখন বইয়ে রেখে লাভ কী? সব জায়গায় তো মিথ্যার জয়জয়াকার, কাজেই বই থেকেও সত্যগুলি উঠিয়ে কিছুটা আধুনিক(!) করা যায় না? (যেহেতু সত্যগুলি ইমাম সাহেবরাই মানছেন না, অহেতুক আমাদের মাঝে বিতর্ক রেখে লাভ কী?)
28 Dec 2025
ইসলামের মূল দলিল কুরআন এবং সুন্নাহ। কুরআন এবং হাদীসে জুমআ পড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে কিন্তু রাষ্ট্র প্রধান বা রাষ্ট্র প্রধানের প্রতিনিধির উপস্থিতি শর্ত করা হয়নি। সুতরাং জুমআ সহিহ হওয়ার জন্য রাষ্ট্র প্রধান বা রাষ্ট্র প্রধানের প্রতিনিধির উপস্থিতির শর্ত জুড়ে দেয়া কোনো মতেই সমচিত নয়। আর আপনি যে কিতাবগুলোর উদ্ধৃতি দিয়েছেন এগুলোই হানাফী ফিকহের একমাত্র কিতাব নয়। অন্যান্য সমস্ত হানাফী ফিকহের কিতাবের আলোকে একথা বুঝা যায় যে, রাষ্ট্র প্রধান বা রাষ্ট্র প্রধানের প্রতিনিধির উপস্থিতির অর্থ হলো জুমআর ইমাম রাষ্ট্র প্রধান নিয়োগ দিবে অথবা জুমআর ইমামের ইমামতিতে রাষ্ট্র প্রধানের সম্মতি থাকবে। আমাদের দেশের মধ্যে জুমআ যেভাবে হচ্ছে রাষ্ট্র প্রধানের সম্মতি তাতে রয়েছে। এটা রাষ্ট্র প্রধানের প্রতিনিধির স্থলাভিষিক্ত বলা যায়। আমরা খুব সংক্ষেপে আপনাকে কিছু দিকনির্দেশনা উপস্থাপন করলাম। বিস্তারিত জানতে ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে আমরা এ বিষয়ে কিছু লেখব।
প্রশ্নঃ 344
আসসালামু আলাইকুম। আমি ২০১০-২০১২ সালে দুটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে শিক্ষকতা করেছিলাম, তারপর বিদেশ থেকে পিএইচডি করে এখন দেশে ফিরে এসেছি। এখন আবার শিক্ষকতা করবো কি করবো না সেজন্য পরামর্শ চাচ্ছি। আমি যতদূর জানি যেসব ইউনিভার্সিটিতে ছেলে-মেয়েরা একসাথে ক্লাসরুমে বসে, সেখানে শিক্ষকতার কাজ করা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম না হলেও অপছন্দনীয়। সমস্যা হলো আমাদের দেশের প্রায় সব ইউনিভার্সিটিতেই এই ব্যবস্থা বিদ্যমান। আমার চাকরির অভিজ্ঞতা বলে যে যদিও আমি দৃষ্টি নিচু রাখি, তারপরও ছাত্রীদের পড়া বুঝানোর সুবিধার্থে কিছুটা হলেও তাদের দিকে (ইচ্ছাকৃতভাবে) তাকাতে হয়। অপরপক্ষে শিক্ষকতা পেশার পজিটিভ দিকগুলো নিম্নরূপঃ (১) অন্যান্য চাকরির তুলনায় অবসর সময় বেশি পাওয়া যায় যেটা ইসলামের প্রচার-প্রসারে কাজে লাগানো যায়, (২) শিক্ষকতার চাকরিতে সম্মান পাওয়া যায় যেটা ইসলামের দাওয়াতি কাজে লাগানো যায়, (৩) ভালো বেতন পাওয়া যায় যেখান থেকে ইসলামের কাজে লাগানো যায়। আমার প্রায় আড়াই বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা হলো এই যে দিনশেষে মনে খচখচ করে যে আমি ইচ্ছাকৃতভাবেই এমন চাকরিতে এসেছি যেখানে দৃষ্টি ১০০% হেফাজত করা যায় না (এ প্রসঙ্গে আরেকটি পয়েন্ট বিবেচনায় নিতে পারেনঃ আল্লাহ্র রহমতে আমার পারিবারিক আর্থিক অবস্থা ভালো)। শাইখ, যদি পজিটিভ-নেগেটিভ বিবেচনা করে চাকরির পরামর্শ দেন তাহলে দয়া করে বলবেন যে কিভাবে আমি মনের এই খচখচানি দূর করতে পারি। বিস্তারিত উত্তর দিলে কৃতজ্ঞ থাকবো। জাযাকাল্লাহু খাইরান।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
ভাই আপনার আল্লাহ ভীতির যে অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে সেজন্য আপনাকে মোবারকবাদ। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, اتقوا الله مااستطعتم তোমরা আল্লাহকে তোমাদের সাধ্যমত ভয় কর। আসলে আপনি যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, সে সমস্যাটি শুধুমাত্র ইউনিভার্সিটিতে নয়, যেমন, হাট-বাজার, যানবাহনসহ সর্বক্ষেত্রেই এ সমস্যাটি রয়েছে। আপনি এ ক্ষেত্রে যে বিষয়টির প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখবেন, তা হলো যথাসম্ভব আপনার কর্মস্থলে দৃষ্টি হেফাযত করবেন, তথা দৃষ্টি অবনত রাখবেন। বিশেষ কোনো প্রয়োজনে যদি আপনাকে ছাত্রীদেরকে কিছু বুঝাতে হয় তাহলে আপনি বিশেষ কারোর প্রতি দৃষ্টিপাত না করে সামগ্রিকভাবে ক্লাসের দিকে তাকিয়ে বা তাদের থেকে প্রশ্ন শুনে ছাত্রদের দিকে তাকিয়ে আপনার পাঠদান করতে পারেন। আশা করি আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে ক্ষমা করবেন।
প্রশ্নঃ 343
আসসালামু আলাইকুম আমরা বেশিরভাগ সময় বাথরুম এ অজু করে থাকি। কিন্তু আমি শুনেছি অজুর শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা জরুরি। কিন্তু বাথরুমের মত জায়গাতে কি করে বিসমিল্লাহর জিকির করব। এ ক্ষেত্রে করনীয় কি? আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আমিন।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
যে সব বাথরুমে ওযুর ব্যবস্থা আছে সেখানে ওযুর শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়লে কোন অসুবিধা হবে না। শুধুমাত্র বাথরুম করা অবস্থায় কোন যিকির করা যাবে না।
প্রশ্নঃ 342
আসসালামু আলাইকুম আমার প্রশ্নঃ ১। ঈসা আ এর সাথে ইমাম মাহাদির দেখা হওয়ার কোন সহিহ হাদিস আছে কিনা। আল্লাহ আপনার উত্তম বদলা দান কারুন
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
প্রথমত, পশ্চিম দিকে কবে সূর্য উঠবে, দাজ্জাল কবে আসবে, ঈসা আ: এর সঙ্গে ইমাম মাহদীর দেখা হবে কি না এই ধরনের ভবিষ্যতের বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করা একজন মূমিনের জন্য অবান্তর। তবুও আপনার প্রশ্নের উত্তরে বলছি এ বিষয়ে স্পষ্ট কোন কিছু হাদীসে উল্লেখ নেই তবে একটি হাদীসে উল্লেখ আছে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا نَزَلَ ابْنُ مَرْيَمَ فِيكُمْ وَإِمَامُكُمْ مِنْكُمْ
অর্থ: তোমাদের কেমন লাগবে যখন ইবনে মারইয়াম (ইসা আ.) তোমাদের কাছে আসবেন অথচ তোমাদের ইমাম তোমাদের মধ্য থেকেই হবে? অনেক আলেম বলেন, এখানে তোমাদের ইমাম বলতে ইমাম মাহদীকে বুঝানো হয়েছে।
প্রশ্নঃ 341
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতু্ল্লাহ প্রতিবার প্রস্রাব এর পর, ভালভাবেই টিস্যু ব্যবহার করি। কিন্তু এরপরেও প্রায়ই গোপনাঙ্গে প্রস্রাবের ফোটা জমা হয়। এমনকি ৩০/৪০ মিনিট পরেও দেখা যায় যে, গোপনাঙ্গের মুখে সামান্য প্রস্রাব জমা হয়ে আছে। এইসব কারণে নামাজের সমস্যা হয়। মসজিদ থেকে এসে, কাপড় পরিবর্তনের সময় দেখা যায় যে, আন্ডারপ্যান্টে প্রস্রাব এর ফোটা লেগে সামান্য ভিজে গিয়েছে। আমার নামাজ আদায় হল, কি হলনা… এই নিয়ে শংশয়ে থাকি। মাঝে মাঝে এইসব কারণে, একবার অজু করে এসে… আবার অজু করতে হয়। এখন আমার কি করা উচিৎ, প্লিজ একটু জানাবেন।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
প্রথমত এই বিষয়টির সমাধানের জন্য আপনাকে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন করতে হবে । দ্বিতীয়ত আপনি নামাযের এক থেক দুন্টা পূর্বে প্রস্রাব করবেন এবং নামাযের পূর্বে নতুন পোশাক পরে নামায পড়বেন। কোন কারণে যদি নতুন পোশাক পরতে না পারেন তাহলে পোশাকের উক্ত জায়গাটুকু ধুয়ে নিবেন। এটাও যদি সম্ভব না হয় আর নামাযের জামাত শুরু হয়ে যায় তাহলে আশা করা যায় অল্প প্রস্রাব লাগলে নামাযে কোন সমস্যা হবে না।
প্রশ্নঃ 340
আসসালামু আলাইকুম আমি এক তাফসির কিতাবে পরেছি জান্নাতে ঈসা (আ) এর মা মারিয়াম (আ) এর সাথে রাসুলুল্লাহ (স) এর বিয়ে হবে। হাদিসটা সহিহ কিনা জানতে চাই। আল্লাহ আপনাকে উত্তম বদলা দান করুন। আমিন
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
এই বিষয়ে বর্ণিত সমস্ত হাদীসই যয়ীফ কিংবা মুনকার, সহীহ বা গ্রহনযোগ্য পর্যায়ের নয়। বিস্তারিত জানতে দেখুন, সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, হাদীস নং ৮১২ এবং ৫৮৮৫।
প্রশ্নঃ 339
মুহতারাম, আসসালামু আলাইকুম আমি বাংলাদেশের একটি ইসলামী ব্যাংকে চাকুরী করি। সুদমুক্ত ব্যাংক লেনদেনের নিয়মে পরিচালিত এই ব্যাংকে কিছু অসাধু অফিসারের কারনে সুদের লেনদেন হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ব্যাংকের উধ্বতন কর্মকর্তাগণ এই ধরনের সুদ বন্ধের ব্যপারে শিথিলতা প্রদর্শন করে। তারপর সুদের দারা অর্জিত আয় ব্যাংকের মূল আয়ের সাথে একিভুত হয়। যদিও ব্যাংকের সকল পর্যায়ের অফিসারগণ সুদের সাথে সরাসরি জড়িত নয় তবে বিষয়টা কারো অজানা নয় । অর্থাৎ প্রায় সবাই স্বীকার করে যে আমাদের আয়ের সবটুকু সুদ মুক্ত নয় এক্ষেত্রে এই ধরনের ব্যাংকে চাকুরি করা হালাল হবে কি? আর এক্ষেত্রে আমি কি করতে পারি? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
ইসলামী ব্যাংকসমূহে শরয়ী বিধিবিধান মেনে চলার সুযোগ আছে। তাই আপনি আপনার কাছের লেনদেনগুলো সুদমুক্তভাবে করুন। আপনি যদি আপনার কাজের মধ্যে সুদের কোন লেনদেন করেন তাহলে আপনার বেতন হারাম হবে না। আল্লাহ আমদের সবাইকে ইসলামী বিধিবিধান অনুযায়ী চলার তাওফীক দিন।
প্রশ্নঃ 338
আসসালামুআলাইকুম আমার দুটি কন্যা সন্তান। বড় কন্যা ও জামাই দুজনেই থুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পি এইচ ডি ডিগ্রি নিয়ে বর্তমানে অষ্ট্রেলিয়া স্বামীর সাথে বসবাস করছে। তার স্বামীও অষ্ট্রেলিয়া থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নিয়েছে। প্রসঙ্গতঃ স্বামী সনাতন ধর্মলাম্বী এবং বিয়ের সময়ও হিন্দু হিসাবে রেজিষ্ট্রি করে দুজনে বিয়ে করে। এটা আমাদের অগোচরে হয়েছে। তবে রেজিষ্ট্রি হয়েছে-এটা নিশ্চিত। ২০০৮ ইং সালে দুজনে স্কলারশীপ নিয়ে বিদেশ যাবার সময় আমাদের জানালে আমরা বিষয়টি মেনে নিই। আজ দু বছর জামাই হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়সহ অন্যান্য মুসলিম ধর্ম নিয়ম মোতাবেক পালন করে আসছে। হাদিস বা ধর্ম সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে আমাকে জানায়। আমি আপনার আসসুন্নাহ ট্রাষ্টের ওয়েব সাইট তাকে দিয়েছি। আমার প্রশ্ন- সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে ঠিকই কিন্তু পাসপোর্ট সংক্রান্ত ঝামেলার কারনে নাম পরিবর্তন করতে পারছেন না। তারা ওখানকার সিটিজেনশীপ পাইনি। আবার ছেলে বাবা এখন পর্যন্ত কিছুই জানে না। তাদের দুবছরের একটি ছেলে আছে। এমতবস্থায় তাদের বৈবাহিক জীবন কি সিদ্ধ? অনুগ্রহ পুর্বক সত্বর আমার করনীয় সম্পর্কে একটি নির্দেশনা দিলে এ বান্দার অশেষ উপকার হতো। বলাবাহুল্য আমি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামাতের সাথে আদায় করে থাকি। সমাজ আমাকে হাই প্রোফাইলের একজন ব্যক্তি মনে করে। আমাদের পরিবার ফুরফুরা শরীফের তরীকা অনুযায়ী ধর্মআ পালন করে আসছে। আল্লাহ হাফেজ।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আলহামদুলিল্লাহ। আপনার জামাতা ইসলাম গ্রহন করেছেন, ইসলামী বিধিবিধান মেনে চলছেন জানতে পেরে আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। আল্লাহ আপনাদের ইসলামের পথে চলার পথকে সহজ করে দিন। তবে সনাতন ধর্মাবলম্বী কোন ছেলের সাথে কোন মুসলিম মেয়ের বিবাহ জায়েজ নেই। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
لاَ تُنكِحُواْ الْمُشِرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُواْ وَلَعَبْدٌ مُّؤْمِنٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ
তোমারা (তোমাদের মেয়েদেরকে) মুশরিকদের সাথে বিবাহ দিয়ো না যতক্ষন তারা মূমিন হয় আর একজন মূমিন দাস একজন মুশরিক থেকে উত্তম যদিও সে তোমাদের কাছে অধিক পছন্দের। সূরা বাকারাহ, আয়াত ২২১। সুতরাং তাদের বিয়ে শরীয়ত অনুযায়ী সহীহ হয় নি যদিও ছেলেটি পরে মুসলমান হয়েছে। তাই তাদের জন্য আবশ্যক শরয়ী বিধান অনুযায়ী পূনরায় বিবাহ করা। তবে এই নিয়ে চিন্তিত হবেন না কেননা পূনরায় বিবাহের জন্য পূনরায় রেজিস্ট্রি করার প্রয়োজন নেই । আপনারা একান্ত পারিবারিকভাবে বিষয়টির সমাধান করতে পারেন। পরিবারের দুই জন পুরুষ কিংবা একজন পুরুষ আর দুই জন মহিলার সামনে (যারা সাক্ষী হবেন) ইজাব কবুল করলেই ইসলামী আইন অনুযায়ী বিবাহ হয়ে যাবে। এভাবে তাদের দুজনের বিবাহের ব্যবস্থা করুন। আল্লাহ আমাদের সকলের বিগত দিনের গুনা ক্ষমা করুন।
প্রশ্নঃ 337
কেমন আছেন? আলহামদুলিল্লাহ। আমি আমার এক আপুর মাধ্যমে আপনার সম্পর্কে জানার পর আপনার ওয়েবসাইট এবং পেইজ ফলো করে অনেক কিছু জানতে পারছি। এখন আপনার কাছে আমার একটা প্রশ্ন আছে। প্রশ্ন টা করার আগে আপনাকে বিস্তারিত বলার প্রয়োজন মনে করতেছি। আমি যে আপুটার কাছ থেকে আপনার সম্পর্কে শুনেছিলাম ওনি আমার আপন বোন না, তবে আমি ওনাকে আমার আপন বড় বোনের মত ভালবাসি। আমার কোন আপন বড় বোন নাই তাই আপুর অভাব টা অনেক বেশি ফিল করতাম। ওনার সাথে আমার পরিচয় ইন্টারনেটে। প্রায় ৮ বছর ধরে আপুর সাথে আমার পরিচয়। আমাদের ভাই বোনের সম্পর্ক টা অনেক ভাল। আপু আমাকে তার আপন ছোট ভাইয়ের মত ভালবাসে। আপু থাকে যশোরে আর আমি চট্রগ্রাম এ থাকি। গতবার আপু হজ্ব করে আসার পর একটু টেনশনে আছে। আপু এখন পর পুরুষদের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে প্রায়। আমার সাথে কথা বলে কম। আপুর ভয় হয় আমাদের ভাই বোনের সম্পর্ক যদি আল্লাহর পছন্দ না হয় তাহলে আপুর গুনাহ হবে। এখন কথা হচ্ছে আমার আর আপুর ভাই বোনের সম্পর্ক এর জন্য কি গুনাহ হবে? সত্যি বলতে আমি আপুকে আমার আপন বড় বোনের মত ভালবাসি। আমি এখন কি করব জানাবেন প্লিজ। উল্লেখ্য আমি আগে শুক্রবার ছাড়া নামায তেমন একটা পড়তাম না। আপুর কারনে আল্লাহর রহমতে আমি ৫ওয়াক্ত নামায পড়ি। আমার আর আপুর ভাই বোনের সম্পর্কের জন্য কি গুনাহ হবে? আমাকে ফেইসবুক অথবা ইমেল করে জানালে খুশি হব
28 Dec 2025
আলহামদুলিল্লাহ। আপু ডাকার কারনে উক্ত মহিলা আপনার জন্য মাহরাম হয়ে যান নি। একজন গায়রে মাহরাম মহিলার সাথে যে সব বিধি-বিধান মেনে চলতে হয় উক্ত মহিলার ক্ষেত্রে সে সব বিধি-বিধান প্রযোজ্য হবে। আর কোন গায়রে মাহরাম মহিলার সাথে বিনা প্রয়োজনে কথা বলা জায়েজ নেই। কথা বলার প্রয়োজন হলে পর্দার মধ্য থেকে কথা বলতে হবে। আপনি নামায পড়ন, ইসলাম পুরোপুরি মেনে চলার চেষ্টা করুন। আল্লাহ আপনাকে তাওফীক দিন।
প্রশ্নঃ 336
আসসালামু আলাইকুম আমি বি সি এস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। নামাজ নিয়মিত সকল ওয়াক্ত পড়া হয় না। আপনি যদি সুন্নতের আলোকে আমাকে জীবন চালানোর জন্য একটা রুটিন দেন তা আমার জন্য খুব ভাল হয় মেনে চলার জন্য। যদিও আপনার সময় নষ্ট হবে তবুও স্যার আমার জন্য কষ্ট হলেও দেন। আমি নিজেকে আর পরিচালনা করতে পারছি না। এমন একটা রুটিন দিয়েন যা আমি ইনশাআল্লাহ ম্রত্যুর আক পযন্ত মেনে যেতে পারি। আমি হতাশার মধ্যে চলে যাচ্ছি। এখন আমার কি করা উচিত বুঝতে পারছি না।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
মহান আল্লাহ মানুষকে ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। পালনযোগ্য রুটিন বানানোর জন্য আপনার প্রকৃতি জানা দরকার। তবে সাধারণভাবে আপনার জন্য উচিত হলো নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা, সালাতের সাজদার মধ্যে আল্লাহর সাথে কথা বলা ও আল্লাহর কাছে নিজের সফলতার জন্য দুআ করা, সকাল, সন্ধ্যা ও রাতের সামান্য কিছু দুআ ও ওযীফা করা। হতাশা একটি মহাপাপ। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশা থেকেই হতাশার জন্ম। হতাশা ও অলসতা থেকে মুক্তির কিছু দুআ আছে। রাহে বেলায়াত থেকে দুআগুলো শিখে নিয়ে সালাতের সাজদায় ও অন্যান্য সময়ে পড়তে থাকুন।
প্রশ্নঃ 335
আসসালামু আলাইকুম আমার বয়স ২৬ বছর। আমি (এইস এস সি) পড়াকালীন পাচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতাম। এখন নামাজ হয় কোনো সময় তিন বা কোনো সময় দুই ওয়াক্ত। আমি অনেক চেস্টা করেও অনেক গোপন পাপ ছাড়তে পারছি না। এখনও বিবাহ হয়নি। এ অবস্থায় আমি মুনাফেক হয়ে গেছি কি না জানাবেন। আমি নিজেকে সম্পুন ইসলামের মধে আনার জন্য কি করব, বিস্তারিত জানাবেন। আমি খুব ভয়ে থাকি, নিজের ক্যরিয়য়ার নিয়ে। আমি নিজেকে কিভাবে বদলাতে পারি। আমি সব সময় ভয় পায় যে আমি মারা গেলে জাহান্নামে চলে যাব। এখন কি করা উচিত, নিজেকে ভাল করার জন্য।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আপনি যে পাপকে পাপ মনে করছেন এটাই প্রমাণ যে, আপনি মূমিন, মুনাফিক নন। আপনি জামাতে সালাত আদায় করার এবং সবধরনের গুনাহ ছেড়ে দেয়ার দৃঢ ইচ্ছা করুন। সালাতের সাজদার ভিতর আপনার সমস্যার কথা আল্লাহর কাছে বলুন। ইনশাআল্লাহ আপনি সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।
প্রশ্নঃ 334
নামাজের মধ্যে যে শইতান ধোকা দেই তার নাম কি ওতার অর্থ কি? দয়া করে জানালে উপকৃত হব
28 Dec 2025
নামাযের মধ্যে যে শয়তান ধোকা দেয় তার নাম খিনযিব। নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন: –
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ الْبَاهِلِىُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِىِّ عَنْ أَبِى الْعَلاَءِ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ أَبِى الْعَاصِ أَتَى النَّبِىَّ -صلى الله عليه وسلم- فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الشَّيْطَانَ قَدْ حَالَ بَيْنِى وَبَيْنَ صَلاَتِى وَقِرَاءَتِى يَلْبِسُهَا عَلَىَّ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- ্র ذَاكَ شَيْطَانٌ يُقَالُ لَهُ خِنْزِبٌ فَإِذَا أَحْسَسْتَهُ فَتَعَوَّذْ بِاللَّهِ مِنْهُ وَاتْفِلْ عَلَى يَسَارِكَ ثَلاَثًا قَالَ فَفَعَلْتُ ذَلِكَ فَأَذْهَبَهُ اللَّهُ عَنِّى
অর্থ: উসমান ইবনে আবিল আস রা. রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ শয়তান আমার এবং আমার সালাত ও তেলাওয়াতের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, সালাতকে সন্দেহপূর্ণ করে দেয়। তখন রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, ওটা শয়তান, তার নাম খিনযিব যখন তুমি এমনটি অনুভব করবে তখন আল্লাহ কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে (আউযুবিল্লাহ পড়বে) এবং বাম দিবে তিনবার থুঁতু ফেলবে। তিনি বলেন, আমি এমন করতাম আর আল্লাহ আমার থেকে তাকে দূর করে দিতেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৮৬৮। সুতরাং শয়তান সালাতের ভিতর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে উপরুক্ত আমল করতে হবে।
প্রশ্নঃ 333
স্ত্রী যদি স্বামীর অজান্তে বা অনিচ্ছায় বা অসন্তুষ্টিতে স্বামীর টাকা খরচ করে ফেলে বা কোন সম্পদ নষ্ট করে ফেলে তার হুকুম কী? স্ত্রী যদি অন্য কারো টাকা বা সম্পদ নিয়ে এমন কিছু করে ফেলে তার হুকুম কী?
28 Dec 2025
স্বামী যদি স্ত্রীর বা ছেলে-মেয়ের প্রয়োজনীও খরচ না দেয় তাহলে স্ত্রী স্বামীর অনুমতি ব্যতিত তার সম্পদ থেকে প্রয়োজনীও খরচ করতে পারবে। আর যদি অন্যায়ভাবে স্বামী বা অন্য কারো সম্পদ নষ্ট করে তাহলে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
প্রশ্নঃ 313
আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন? আলহামদুলিল্লাহ। আমি আমার এক আপুর মাধ্যমে আপনার সম্পর্কে জানার পর আপনার ওয়েবসাইট এবং পেইজ ফলো করে অনেক কিছু জানতে পারছি। এখন আপনার কাছে আমার একটা প্রশ্ন আছে। প্রশ্ন টা করার আগে আপনাকে বিস্তারিত বলার প্রয়োজন মনে করতেছি। আমি যে আপুটার কাছ থেকে আপনার সম্পর্কে শুনেছিলাম ওনি আমার আপন বোন না, তবে আমি ওনাকে আমার আপন বড় বোনের মত ভালবাসি। আমার কোন আপন বড় বোন নাই তাই আপুর অভাব টা অনেক বেশি ফিল করতাম। ওনার সাথে আমার পরিচয় ইন্টারনেটে। প্রায় ১২ বছর ধরে আপুর সাথে আমার পরিচয়। আমাদের ভাই বোনের সম্পর্ক টা অনেক ভাল। আপু আমাকে তার আপন ছোট ভাইয়ের মত ভালবাসে। গতবার আপু হজ্ব করে আসার পর একটু টেনশনে আছে। আপু এখন পর পুরুষদের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে প্রায়। আমার সাথে কথা বলে কম। আপুর ভয় হয় আমাদের ভাই বোনের সম্পর্ক যদি আল্লাহর পছন্দ না হয় তাহলে আপুর গুনাহ হবে। এখন কথা হচ্ছে আমার আর আপুর ভাই বোনের সম্পর্ক এর জন্য কি গুনাহ হবে? সত্যি বলতে আমি আপুকে আমার আপন বড় বোনের মত ভালবাসি। আমি এখন কি করব জানাবেন প্লিজ। উল্লেখ্য আমি আগে শুক্রবার ছাড়া নামায তেমন একটা পড়তাম না। আপুর কারনে আল্লাহর রহমতে আমি ৫ওয়াক্ত নামায পড়ি। আমার আর আপুর ভাই বোনের সম্পর্কের জন্য কি গুনাহ হবে?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আলহামদুলিল্লাহ। আপু ডাকার কারনে উক্ত মহিলা আপনার জন্য মাহরাম হয়ে যান নি। একজন গায়রে মাহরাম মহিলার সাথে যে সব বিধি-বিধান মেনে চলতে হয় উক্ত মহিলার ক্ষেত্রে সে সব বিধি-বিধান প্রযোজ্য হবে। আর কোন গায়রে মাহরাম মহিলার সাথে বিনা প্রয়োজনে কথা বলা জায়েজ নেই। কথা বলার প্রয়োজন হলে পর্দার মধ্য থেকে কথা বলতে হবে। আপনি নামায পড়ন, ইসলাম পুরোপুরি মেনে চলার চেষ্টা করুন। আল্লাহ আপনাকে তাওফীক দিন।
প্রশ্নঃ 332
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: নামাযে কোথায় হাত বাধতে হবে? নাভির উপরে নাকি বুকের উপরে? নাভির উপরে হাত বাধা যাবেনা তার সহীহ প্রমাণ চাই।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
সহীহ হাদীসে শুধু হাত বাঁধার কথা বলা হয়েছে। কোথায় বাঁধতে হবে তা বলা হয় নি। বিভিন্ন যয়ীফ হাদীসে হাত নাভীর নিচে বা উপরে বাঁধার কথা বলা হয়েছে। যে কোন এক জায়গায় বাঁধলেই সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। বিতর্ক পত্যিাগ আবশ্যক। বিস্তারিত জানতে পড়ন আস-সুন্নহ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত সালাতের মধ্যে হাত বাঁধার বিধান পুস্তকটি।
প্রশ্নঃ 331
আসসালামু আলাইকুম আমার প্রশ্নটি অনেক বড় কিন্ত দয়া করে আমাকে তারাতারি উত্তর দিলে ভাল হয় কারন এ নিয়ে আমার পরিবারে অনেক সমস্যা হচ্ছে,আমার বোন তার বয়স ১৮ সে তার মা, বাবা, ভাই বা মুরব্বি কাউকে না জানিয়ে কাজি অফিসে একটি ছেলেকে বিয়ে করে যে কিনা কোন ভাবেই আমার বোনের সাথে কুফু হয়না,মেয়ের বাবা ঘটনা জানার পর অনেক কান্নাকাটি করে এবং বকা দেয়,বাবার কান্না আর জোরাজুরিতে মেয়েটি ছেলেটি তে তিন তালাক মুখে দেয় এবং কাজির কাছে গিয়ে লিখিতও কাগজে তালাক দেয়,পরবর্তীতে ছেলেকে এনে ছেলের মায়ের সামনে তালাকের জন্য জোর করা হয় এবং ছেলেটি লিখিতভাবে তিন তালাকে বায়েন দিয়ে সাক্ষর করে এবং তার মাও সাক্ষি হিসেবে সাক্ষর করে। এখন এরা ২ জন কি কোন ভাবে ২ জনের জন্য বৈধ করা যাবে?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
প্রশ্ন থেকে বুঝা যায় যে, তাদেরকে এভাবে বাধ্য করা হয়নি যে, তালাক না দিলে তাদের হত্যা করা হবে কিংবা শারীরিক কোন ক্ষতি করা হবে। বরং পিতা-মাতার জোর অনুরোধে ছেলে -মেয়ে একে অপরকে তালাক দিয়েছে। সুতারাং তাদের দুজনকে একে অপরের জন্য বৈধ করার কোন সুযোগ নেই। ঐ মেয়ের যদি অন্য কোথাও বিয়ে হয় আর ঐ স্বামী যদি তাকে তালাক দেয় কিংবা ঐ স্বামী যদি মারা যায় তাহেল তখন আগের স্বামীর সাথে তার বিবাহ হালাল হবে। এছাড়া দ্বিতীয় কেনি পথ নেই। তালাক একটি স্পর্শকাতর বিষয়, সুতরাং ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তালাকের বিষয়ে মাসলাগুলোর ব্যাপারেও সাধারণ ধারণা থাকা দরকার। এক তালাকেই তালাক হয়ে যায়, তালাকের জন্য তিন তালাকের প্রয়োজন হয় না। আর এক তালাক, দুই তালাকের ক্ষেত্রে পুনরায় ফিরিয়ে নেয়া যায়। তিন তালাকের ক্ষেত্রে এটা সম্ভব নয়।
প্রশ্নঃ 330
আমি অনলাইন এ ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর কাজ করি। আর আমার এই কাজ সাধারণত বিধর্মী দের সাথে করতে হয় এই কাজ করা কি জায়েজ? ২য় প্রশ্নঃ কাজ পাওয়ার সুবিধার জন্য আমেরিকান পরিচয় এ কাজ করি যদিও আমার বায়েররা এ বিষয় আমাকে কিছু বলেনি তারা শুদু কাজ চায় এটা কি আমার করা জায়েজ? বলে রাখা ভাল আমি কোন প্রতারনা করছি না তাদের আমি বলছি না যে আমি আমেরিকান।
28 Dec 2025
আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তরে বলছি কাজ যদি জায়েজ হয়ে থাকে তাহলে বিধর্মীদের সাথে কাজ করলে কোন অসুবিধা নেই। আর কাজ যদি জায়েজ না হয় তাহলে মুসলিম ও মুসলিম কারো সাথেই জায়েজ হবে না। আর দ্বিতীয় প্রশ্নটি অস্পষ্ট। আমেরিকান পরিচয় কিভাবে দেন তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়।তবে যদি কোন প্রতারণা না করেন তাহলে কোন অসুবিধা নেই।
প্রশ্নঃ 329
আসসালামু আলাইকুম- স্যার। প্রশ্ন-বর্তমানে আমাদের দেশের প্রাইভেট ব্যাংক গুলোর সাথে বিভিন্ন কোম্পানী সার্ভিস প্রদান করে থাকে। এমতাবস্থায় সুদী ব্যাংকের সাথে সিকিউরিটি গার্ড, এটিএম লোডিং, ক্যাশ ক্যরিং, এমএলএসএস, কোম্পানী বা ব্যক্তিগত কারেন্ট এ্যাকাউন্ট করা ইত্যাদি লেনদেন করার ব্যাপারে কুরআন ও সহীহ্ সুন্নাহর আলোকে মাসায়ালা বা ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য বিশেষ আবেদন করছি।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
সুদভিত্তিক ব্যাংকগুলো অনেকটা মদের দোকানের মত। মদ বিক্রেতার বাড়িতে কাজ করা যায় কিন্তু মদের দোকানে কাজ করা জায়েজ নেই। তাই এই সব লেনদেন থেকে বিরত থাকায় শ্রেয়। অন্যদিকে এই কাজগুলোর সাথে সুদ লেখা বা সুদের সাক্ষ্য দেয়ার কোন বিষয় নেই যা থেকে বিরত থাকতে হাদীসে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাই না জায়েজ বলাও কঠিন। তবে সর্বাবস্থায় এই সকল লেনদেন বা কাজ থেকে বিরত থাকা একজন মূমিন মুসলিমের জন্য একান্ত কর্তব্য।
প্রশ্নঃ 328
মুহতারাম আসসালামু আলাইকুম। আমি বাংলাদেশের একটি ইসলামী ব্যাংকে চাকুরী করি। সুদমুক্ত ব্যাংক লেনদেনের নিয়মে পরিচালিত এই ব্যাংকে কিছু অসাধু অফিসারের কারনে সুদের লেনদেন হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ব্যাংকের উধ্বতন কর্মকর্তাগণ এই ধরনের সুদ বন্ধের ব্যপারে শিথিলতা প্রদর্শন করে। তারপর সুদের দারা অর্জিত আয় ব্যাংকের মূল আয়ের সাথে একিভুত হয়। যদিও ব্যাংকের সকল পর্যায়ের অফিসারগণ সুদের সাথে সরাসরি জড়িত নয় তবে বিষয়টা কারো অজানা নয়। অর্থাৎ প্রায় সবাই স্বীকার করে যে আমাদের আয়ের সবটুকু সুদ মুক্ত নয় এক্ষেত্রে এই ধরনের ব্যাংকে চাকুরি করা হালাল হবে কি? আর এক্ষেত্রে আমি কি করতে পারি? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
ইসলামী ব্যাংকসমূহে শরয়ী বিধিবিধান মেনে চলার সুযোগ আছে। তাই আপনি আপনার কাছের লেনদেনগুলো সুদমুক্তভাবে করুন। আপনি যদি আপনার কাজের মধ্যে সুদের কোন লেনদেন করেন তাহলে আপনার বেতন হারাম হবে না। আল্লাহ আমদের সবাইকে ইসলামী বিধিবিধান অনুযায়ী চলার তাওফীক দিন।
প্রশ্নঃ 327
ইস্তেখারার নামাজ কি? কেন ও কখন পড় হয়?
28 Dec 2025
গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় সামনে আসলে রাসূলুল্লাহ সা. দু রাকাত নামায পড়ে একটি দুয়া পড়তেন, এটাই ইস্তেখারার নামায। নিচের হাদীসটিতে থেকে আপনি বিষয়টি বিস্তারিত জানতে পারবেন।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا ، قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُعَلِّمُنَا الاِسْتِخَارَةَ فِي الأُمُورِ كَمَا يُعَلِّمُنَا السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ يَقُولُ إِذَا هَمَّ أَحَدُكُمْ بِالأَمْرِ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ مِنْ غَيْرِ الْفَرِيضَةِ ثُمَّ لِيَقُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ فَإِنَّكَ تَقْدِرُ ، وَلاَ أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ ، وَلاَ أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلاَّمُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي ، أَوْ قَالَ عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ – فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي ، أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ – فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِي قَالَ : وَيُسَمِّي حَاجَتَهُ
অর্থ: হযরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. (গুরুত্বপূর্ণ) কাজ সমূহের ক্ষেত্রে আমাদের ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন যেমন আমাদেরকে কুরআন শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন, যখন তোমাদের কেউ কোন (গুরুত্বপূর্ণ) কাজের ইচ্ছা করে সে যেন ফরজ ব্যতিত দুরাকাত নামায পড়ে অতঃপর এই দুআটি পাঠ করে
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ فَإِنَّكَ تَقْدِرُ ، وَلاَ أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ ، وَلاَ أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلاَّمُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي ، أَوْ قَالَ عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ – فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي ، أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ – فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِي قَالَ : وَيُسَمِّي حَاجَتَهُ.
সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৬৬ উক্ত হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে, গুরুত্বপূর্ণ কাজের পূর্বে দুই রাকআত নফল নামায পড়ে উক্ত দুআটি পড়তে হবে। এটাই ইস্তিখারা। আরো বিস্তারিত জানতে দেখুন, রাহে বেলায়াত বইটির ৪৩১-৪৩২ পৃষ্ঠা।
প্রশ্নঃ 326
হুজুর, আসসালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্ন: নামাযে আমরা সুরা ফাতেহার পর অন্য সুরা বা আয়াত পাঠ করি। সুরা ফাতেহার পর যে সুরা গুলি পাঠ করি তার কোন ধারা বাহিকতা আছে কি না। যেমন কুরানের সিরিয়াল নম্ব্রর অনুযায়ী প্রথমে পরের সুরা পরে তার আগের সুরা পাঠ করা যাবে কি না। যদি না যায়, কখনো ভুল হলে তার সংশোধন কিভাবে করব। দয়া করে যানাবেন।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
নামাযে সূরার ধারাবাহিকতা রক্ষা না করে পড়লে নামাযের কোনই ক্ষতি হবে না। নমাযে সূরার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ফরজ ওয়াজিব কিছু না। তবে ফরজ নামাযে সূরার ধারবাহিকতা রক্ষা করাকে অনেকেই মুস্তাহাব বলেছেন। নফল-সুন্নাতের ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা নেই।
প্রশ্নঃ 325
আসসালামুআলাইকুম। আলহামদুল্লিল্লাহ স্যার এর লেকচারগুলো খুব সহজভাবে বুঝা যায়। আলহামদুল্লিল্লাহ আামি নিয়মীত কুরআন, হাদীস, ইসলামীক বই পড়ি, ইসলামীক লেকচার শুনি, কিন্তু আমি একজন দায়ী হতে চাই। আমরা যারা মাদ্ররাসায় পরি নি, তাদের জন্য কী কোন ডিপলোমা কোস আছে। আমি স্যারের আল্লাহর পথে দাওয়া বইটি পড়েছি। আমার জন্য এখন কোন সুযোগ আছে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দ্বীন শিক্ষার?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আমরা আল্লাহার কাছে দুআ করি যেন তিনি আপনাকে দায়ী হিসাবে কবুল করেন। আমরা এই বিষয়ে একটি অনলাইন ডিপ্লোমা কোর্স চালু করার পরিকল্পনা করছি। সিলাবাস নির্ধারণ এবং অন্যান্য কাজ চলছে। দুআ করতে থাকুন যেন অচিরেই এটা করা সম্ভব হয়।
প্রশ্নঃ 324
আস-সালামু আলাইকুম। সাধারণভাবেও কি ছেলে-পুরুষ দের দেখা হারাম? শাইখদের ভিডিও লেকচার দেখা হারাম হবে। আমি সাধারণত অডিওই শুনি, কিন্তু অনেক সময় সামননে পড়লে দেখি। মেয়েদের দেখার মত ই হারাম হবে কি?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
না, ভিডিওতে বা সরাসরি কোন পুরুষকে শালীন পোশাকে অর্থাৎ পুরুষের জন্য শরীরের যতটুকু পরিমান ঢাকা ফরজ এমন পোশাকে দেখলে কোন গোনাহ হবে না। অনেক হাদীসে বর্ণিত আছে মহিলারর রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে এসে সরাসরি প্রশ্ন করত। সুতরাং মহিলাদের জন্য পুরুষদের দেখা হারাম নয়। তবে খারাপ কোন চিন্তা মাথায় আসলে অবশ্যই না জায়েজ হবে। আরো জানতে দেখুন, পোষাক, পর্দা ও দেহ-সজ্জা বইটির চতুর্থ অধ্যায়।
প্রশ্নঃ 323
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: আমি HSC পরীক্ষার্থী, আমার লেখাপড়াতে মনোযোগ এবং মেধা দিন দিন কমে যাচ্ছে। আমাকে এমন কিছু দুয়া শিখিয়ে দিন যা আমি সিজদা এর সময় পড়বো যাতে আমার পরা লেখা ভাল হয়।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আমরা আপনার জন্য দুআ করি, আল্লাহ আপনার এই সমস্যা দূর করুন। প্রথমত আপনি যাবতীয় গুনাহের কাজ ত্যাগ করতে চেষ্টা করুন এবং আপনার সমস্যার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন। আর নিচের দুআ দুটি নফল নামাযের সাজদার মধ্যে এবং অন্যান্য সময় পাঠ করতে থাকুন।
১. رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّن لِّسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي
বাংলা উচ্চারণ: রব্বিশ রহলি- ছদরি- ওয়া ইয়াসসিরলি- ওয়াহলুল উকদাতাম মিন লিসানি- ইয়াফকহু কওলি-। অর্থ: হে আমার প্রভু, আমার বক্ষকে উন্মেচিত করুন, আমার জন্য আমার বিষয়াদি সহজ করে দিন, আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন যাতে আমার কথা মানুষ বুঝতে পারে।
২. رَّبِّ زِدْنِي عِلْمًا
উচ্চারণ: রব্বি যিদ নি- ইলমা-। অর্থ: হে আমার রব্ব আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।
প্রশ্নঃ 322
স্যার, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু। এই লিঙ্কের ভিডিও-র আনুমানিক ৫৪মিনিট ২০সেকেন্ড-এর অংশে এই বক্তা বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু অলাইহিওয়াসাল্লাম (একবার ) দাড়িয়ে পেশাব করেছেন, কথাটা কি সত্য? https://www.youtube.com/watch?v=ZUe3BBE_sh4ebc=ANyPxKpi9p-Gu0fu0O_hduPVqXUrMceIovnRy6NxcFclDrhYYaANTVCksOP4omFWDxDqRJ_fZZdv আশাকরি উত্তর দিয়ে বাধিত করবেন। সাইফুল ইসলাম হাওলাদার, টোকিও, জাপান
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
হ্যাঁ, একটি হাদীসে উল্লেখ আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. একবার দাঁড়িয়ে পেশাব করেছিলেন। জামে তিরমিযী হাদীস নং ২৬। তবে ঐ একবারই তিনি এমনটি করেছিলেন। অন্যান্য সকল হাদীসে তিনি বসে পেশাব করেছেন বলে উল্লেখ আছে। এমন কি আয়েশা রা. বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সা. দাঁড়িয়ে পেশাব করেছিলেন একথা বিশ্বাস করবে না। জামে তিরমিযী, হাদীস নং ২৯। সুতরাং সাধারণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে পেশাব করা উচিৎ নয়। তবে বিশেষ কোন প্রয়োজনে এমনটি করলে অনুচিৎ হবে না।
প্রশ্নঃ 321
আসসালামু আইলাকুম হুজুর কারো মৃত্যুর কিছু দিন পর দুয়া করা মানুষ কে দাওাত করে খাওয়ানো কি বিদাত? এর কুরআন এবং সুন্নাহ এর দলিল কি?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
কোন কাজ সুন্নাত হওয়ার জন্য শরয়ী দলীল প্রয়োজন। এই ধরনের খাওয়ানোর কথা কোন হাদীসে উল্লেখ নেই। রাসূলুল্লাহ সা. তাঁর সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাবে তাবেয়ীদের যুগে মানুষ মারা গেলে আমাদের দেশের মত খাওয়া-দাওয়ার কোন আয়োজন করা হতো না। এমনকি কারো ইন্তেকালের পর তাঁরা তার জন্য দোয়া করার উদ্দেশ্যেও কোথাও একত্র হননি। সুতরাং খানার আয়োজন করা, খান খাওয়া সুন্নাত নয়। কুরআনে কারীমে মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। হাদীস শরীফে মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা, দোয়া ও দান-সদকা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তাঁদের উদ্দেশ্যে জীবিত ব্যক্তির এ সকল কর্মের সাওয়াব তারাঁ লাভ করবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মৃত ব্যক্তির দায়িত্বে হজ্জ পালন বাকী থাকলে তা তাঁর পক্ষ থেকে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
وَالَّذِينَ جَاؤُو مِن بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالإِيمَانِ وَلا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلاًّ لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَّحِيمٌ
অর্থ: (মূমিনদের থেকে যারা মারা যায় )তাদের পরে যারা দুনিয়াতে আসবে তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের এবং যারা ঈমাণের সাথে আমাদের অগ্রগামী হয়েছে তাদের ক্ষমা করে দাও আর আমাদের হৃদয়ে মূমিনদের ব্যাপারে কোন বিদ্বেষ সৃষ্টি করো না। নিশ্চয় আপনি সহনশীল দয়াময়। সূরা হাশর, আয়াত ১০। হাদীস শরীফে আছে, বুরদাতা রা. বলেন,
كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ يُعَلِّمُهُمْ إِذَا خَرَجُوا إِلَى الْمَقَابِرِ ، كَانَ قَائِلُهُمْ يَقُولُ : السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ ، نَسْأَلُ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ
রাসূলুল্লাহ সা. মানুষদেরকে শিক্ষা দিতেন, যখন তারা কবরের কাছে যাবে তখন বলবে, হে মূমিন, মুসলিম ঘরবাসী তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ চাহে তো আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হবো। আমরা আমাদের জন্য এবং তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৫৪৭। শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আবু হুরয়রা রা. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
إذا مات الإنسان انقطع عنه عمله إلا من ثلاثة إلا من صدقة جارية أو علم ينتفع به أو ولد صالح يدعو له
যখন মানুষ মারা যায় তখন তার আমল তার বন্ধ হয়ে যায় তবে তিনটি ( আমল চলতে থাকে), সাদকায়ে জারিয়া, উপকারী ইলম (জ্ঞান), সৎ সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৬৩১। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা.বলেন,
،أَنَّ رَجُلاً قَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أُمِّي افْتُلِتَتْ نَفْسَهَا وَأُرَاهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ أَفَأَتَصَدَّقُ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ تَصَدَّقْ عَنْهَا
একজন লোক নবী সা. কে বললেন, আমার আম্মা মারা গেছেন। আমি ধারণা করছি যদি তিনি কথা বলতে পারতেন তাহলে দান সাদকা করতেন। আমি কি তার জন্য দান করবো? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, হ্যাঁ, তাঁর জন্য দান করো। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৬০। অন্য আরেকটি হাদীসে আছে,
أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُم ، أَخَا بَنِي سَاعِدَةَ تُوُفِّيَتْ أُمُّهُ وَهْوَ غَائِبٌ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ أُمِّي تُوُفِّيَتْ وَأَنَا غَائِبٌ عَنْهَا فَهَلْ يَنْفَعُهَا شَيْءٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ بِهِ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ قَالَ فَإِنِّي أُشْهِدُكَ أَنَّ حَائِطِي الْمِخْرَافَ صَدَقَةٌ عَلَيْهَا
সাদ ইবনে উবাদা রা. এর অনুপস্থিতিতে তাঁর আম্মা মারা গেলেন। তিনি নবী সা. এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার অনুপস্থিতিতে আমার আম্মা মারা গিয়েছেন, যদি আমি তার জন্য কোন কিছু সাদকা করি তাহলে কি তা তাঁর কোন উপকারে আসবে? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, তাহলে আমি আপনাকে সাক্ষী করে বলছি, মিখরাফের আমার বড় খেজুর বাগানটি তার জন্য দান করে দিলাম। সহীহ বুখারী,হাদীস নং ১৭৬২। জামে তিরমিযী, হাদীস নং৩৬৫০। তিরমিযীতে হাদীসটি একটু বিস্তারিত বর্ণিত আছে। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, মানুষ মারা গেলে বাড়িতে আনুষ্ঠানিক কোন খাওয়া দাওয়ার আয়োজন সুন্নাহ সম্মত নয়। আর সুন্নাতের বাইরের কোন কাজের দ্বারা সওয়াবের আশা করা যায় না।আর যদি সওয়াব হয়ও তবুও ঐ এক বেলা খাওয়ানোর সওয়াব অথচ হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ সা. আমাদেরকে সদকায়ে জারিয়ামূলক দান সাদকার কথা বলেছেন। আপনার প্রশ্নের উত্তরে বলছি, এই ধরনের সুন্নাহ বিরোধী কাজে অংশ গ্রহনের অর্থ হলো এই কাজকে উৎসাহিত করা সুতরাং এমন অনুষ্ঠান বর্জন করাই আপনার জন্য উত্তম। প্রচলিত সুন্নাহ বিরোধী যে কোন মিলাদ মাহফিল যাওয়া ও খাওয়া থেকে বিরত থাকা একজন মূমিনের জন্য আবশ্যক। শিয়ারা প্রথম মিলাদ শুরু করে বলে ইতিহাসে জানা যায়। বিস্তারিত জানতে পড়ুন, প্রফেসার ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত এহইয়াউস সুনান বইটির ৩৮৮ থেকে ৩৯৬ পৃষ্ঠা এবং খুতবাতুল ইসলাম বইটির ১৯নং খুতবা।
প্রশ্নঃ 320
কোন মেয়ে যদি আশালীন পোশাক পরে রাস্তা দিয়ে যায়,। যদি তার উপর আমাদের চোখ পড়ে তাহলে কি আমাদের গুনাহ হবে? আর ২য় বার ঐ মেয়েটার দিকে তাকানোকে ইসলাম এর দৃষ্টিতে কি জানাবেন প্লিজ।
28 Dec 2025
না, কোন মেয়ের দিকে হঠাৎ চোখ পড়ে গেলে যদি তৎক্ষণাৎ দৃষ্টি সংযত করা হয় তবে কোন গোনাহ হবে না। কারণ এর থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। তবে পূণরায় তার দিকে তাকানো হারাম হবে। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেন,
قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ
অর্থ: আপনি মূমিনদের বলেন যেন তারা তাদের চোখকে হেফাজত করে। সূরা নূর, আয়াত ৩০। হাদীসে আছে রাসূলুল্লাহ সা. আলী রা. কে বলেন,
يَا عَلِىُّ لاَ تُتْبِعِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ فَإِنَّ لَكَ الأُولَى وَلَيْسَتْ لَكَ الآخِرَةُ
অর্থ: আলী! তুমি একবার দেখার পর আরেকবার দেখো না কেননা প্রথমবার তোমার জন্য মাফ দ্বিতীয়বার নয়। সুনানু তিরমিয়যী, হাদীস নং ২৭৭৭; আবু দাউদ হাদীস নং ২১৫১; মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ১৩৭৩। ইমাম তিরমিযীসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।
প্রশ্নঃ 319
আসসালামু আলাইকুম স্যার আমি একটি টিশার্ট কম্পানীর জন্য অনলাইনে টিশার্ট ডিজাইন ও বিক্রয়ের জন্য বিজ্ঞাপন দেই। আমার প্রশ্ন হল ডিজাইনে কোনো বের ছবি সংযুক্ত করা কি বৈধ হবে? আর মেয়েদের জন্য টিশার্ট ডিজাইন ও বিজ্ঞাপন দেয়া কি বৈধ হবে? (সকল ক্রেতা মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের অধিবাসী)
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
হাদীসে প্রাণীর ছবির ব্যাপারে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আছে। রাসূলুল্লাহ সা.বলেন,
إِنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا عِنْدَ اللهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْمُصَوِّرُونَ
অর্থ: কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে কঠিন আজাবের সম্মুখীন হবে ছবি অংকনকারী। সহীহ বুখারী,হাদীস নং ৫৯৫০। অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেন,
من صور صورة في الدنيا يكلف يوم القيامة ان ينفخ فيه الروح وليس بنافخ
যে ব্যক্তি দুনিয়ায় ছবি আঁকবে কিয়ামতের দিন তাকে তার (ঐ ছবির ) মধ্যে প্রান দেয়ার জন্য বলা হবে আর সে প্রান দিতে পারবে না। মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ২১২৬। শায়খ শুয়াইব আরনাউত বলেছেন, সনদ সহীহ।
প্রশ্নঃ 318
masjider 2nd floor er 1st katar er soyab same hbe ki ground floor er mto?
28 Dec 2025
দ্বিতীয় তলার প্রথম কাতার প্রথম তলার শেষ কাতারের পরের কাতার হিসেবে গণ্য। প্রথম কাতারের যে ফজিলত আছে তা দ্বিতীয় তলার প্রথম কাতারের ক্ষেত্রে প্রযোয্য নয়।
প্রশ্নঃ 317
আসসালামু আইলাকুম ১. হুজুর কারো মৃত্যুর কিছু দিন পর দুয়া করা মানুষ কে দাওাত করে খাওয়ানো কি বিদাত? এর কুরআন এবং সুন্নাহ এর দলিল কি? ২. মিলাদ এর খাবার খাওা কি হারাম? যদি হারাম হয় এবং কাউ যদি খাবার দেন কি করব? ৩. এই মিলাদ কুরআন এবং সুন্নাহ এ না থাকে তাহলে ক এই মিলাদ বানালও?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
কোন কাজ সুন্নাত হওয়ার জন্য শরয়ী দলীল প্রয়োজন। এই ধরনের খাওয়ানোর কথা কোন হাদীসে উল্লেখ নেই। রাসূলুল্লাহ সা. তাঁর সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাবে তাবেয়ীদের যুগে মানুষ মারা গেলে আমাদের দেশের মত খাওয়া-দাওয়ার কোন আয়োজন করা হতো না। এমনকি কারো ইন্তেকালের পর তাঁরা তার জন্য দোয়া করার উদ্দেশ্যেও কোথাও একত্র হননি। সুতরাং খানার আয়োজন করা, খান খাওয়া সুন্নাত নয়। কুরআনে কারীমে মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। হাদীস শরীফে মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা, দোয়া ও দান-সদকা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তাঁদের উদ্দেশ্যে জীবিত ব্যক্তির এ সকল কর্মের সাওয়াব তারাঁ লাভ করবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মৃত ব্যক্তির দায়িত্বে হজ্জ পালন বাকী থাকলে তা তাঁর পক্ষ থেকে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
وَالَّذِينَ جَاؤُو مِن بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالإِيمَانِ وَلا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلاًّ لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَّحِيمٌ
অর্থ: (মূমিনদের থেকে যারা মারা যায়) তাদের পরে যারা দুনিয়াতে আসবে তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের এবং যারা ঈমাণের সাথে আমাদের অগ্রগামী হয়েছে তাদের ক্ষমা করে দাও আর আমাদের হৃদয়ে মূমিনদের ব্যাপারে কোন বিদ্বেষ সৃষ্টি করো না। নিশ্চয় আপনি দয়ার্দ্র দয়াময়। সূরা হাশর, আয়াত ১০। হাদীস শরীফে আছে, বুরদাতা রা. বলেন,
كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ يُعَلِّمُهُمْ إِذَا خَرَجُوا إِلَى الْمَقَابِرِ ، كَانَ قَائِلُهُمْ يَقُولُ : السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ ، نَسْأَلُ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ
রাসূলুল্লাহ সা. মানুষদেরকে শিক্ষা দিতেন, যখন তারা কবরের কাছে যাবে তখন বলবে, হে মূমিন, মুসলিম ঘরবাসী তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ চাহে তো আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হবো। আমরা আমাদের জন্য এবং তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৫৪৭। শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আবু হুরয়রা রা. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
إذا مات الإنسان انقطع عنه عمله إلا من ثلاثة إلا من صدقة جارية أو علم ينتفع به أو ولد صالح يدعو له
যখন মানুষ মারা যায় তখন তার আমল তার বন্ধ হয়ে যায় তবে তিনটি ( আমল চলতে থাকে), সাদকায়ে জারিয়া, উপকারী ইলম (জ্ঞান), সৎ সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৬৩১। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা.বলেন,
،أَنَّ رَجُلاً قَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أُمِّي افْتُلِتَتْ نَفْسَهَا وَأُرَاهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ أَفَأَتَصَدَّقُ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ تَصَدَّقْ عَنْهَا
একজন লোক নবী সা. কে বললেন, আমার আম্মা মারা গেছেন। আমি ধারণা করছি যদি তিনি কথা বলতে পারতেন তাহলে দান সাদকা করতেন। আমি কি তার জন্য দান করবো? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, হ্যাঁ, তাঁর জন্য দান করো। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৬০। অন্য আরেকটি হাদীসে আছে,
أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُم، أَخَا بَنِي سَاعِدَةَ تُوُفِّيَتْ أُمُّهُ وَهْوَ غَائِبٌ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ أُمِّي تُوُفِّيَتْ وَأَنَا غَائِبٌ عَنْهَا فَهَلْ يَنْفَعُهَا شَيْءٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ بِهِ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ قَالَ فَإِنِّي أُشْهِدُكَ أَنَّ حَائِطِي الْمِخْرَافَ صَدَقَةٌ عَلَيْهَا
সাদ ইবনে উবাদা রা. এর অনুপস্থিতিতে তাঁর আম্মা মারা গেলেন। তিনি নবী সা. এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার অনুপস্থিতিতে আমার আম্মা মারা গিয়েছেন, যদি আমি তার জন্য কোন কিছু সাদকা করি তাহলে কি তা তাঁর কোন উপকারে আসবে? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, তাহলে আমি আপনাকে সাক্ষী করে বলছি, মিখরাফের আমার বড় খেজুর বাগানটি তার জন্য দান করে দিলাম। সহীহ বুখারী,হাদীস নং ১৭৬২। জামে তিরমিযী, হাদীস নং৩৬৫০। তিরমিযীতে হাদীসটি একটু বিস্তারিত বর্ণিত আছে। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, মানুষ মারা গেলে বাড়িতে আনুষ্ঠানিক কোন খাওয়া দাওয়ার আয়োজন সুন্নাহ সম্মত নয়। আর সুন্নাতের বাইরের কোন কাজের দ্বারা সওয়াবের আশা করা যায় না।আর যদি সওয়াব হয়ও তবুও ঐ এক বেলা খাওয়ানোর সওয়াব অথচ হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ সা. আমাদেরকে সদকায়ে জারিয়ামূলক দান সাদকার কথা বলেছেন। আপনার প্রশ্নের উত্তরে বলছি, এই ধরনের সুন্নাহ বিরোধী কাজে অংশ গ্রহনের অর্থ হলো এই কাজকে উৎসাহিত করা সুতরাং এমন অনুষ্ঠান বর্জন করাই আপনার জন্য উত্তম। প্রচলিত সুন্নাহ বিরোধী যে কোন মিলাদ মাহফিল যাওয়া ও খাওয়া থেকে বিরত থাকা একজন মূমিনের জন্য আবশ্যক। শিয়ারা প্রথম মিলাদ শুরু করে বলে ইতিহাসে জানা যায়। বিস্তারিত জানতে পড়ুন, প্রফেসার ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত এহইয়াউস সুনান বইটির ৩৮৮ থেকে ৩৯৬ পৃষ্ঠা এবং খুতবাতুল ইসলাম বইটির ১৯নং খুতবা।
প্রশ্নঃ 316
(From Dr.Arjullah Mohammad Hossain,Maldives:) I need one answer: after taking bath, again ablution need for prayer . And if anyone touch with bear hand genital organ, ablution breakdown or not Sir, Pls explain because i found this internet so confuse before i knew after bath no need ablution if i had intention to pray after bath and ablution will not bresk by toch private part but internet different..
28 Dec 2025
كان رسول الله صلى الله عليه و سلم لا يتوضأ بعد الغسل অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. গোসলের পর ওযু করতেন না। সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ২৫২; আবু দাউদ, হাদীস নং ২৫০; তিরমিযী, হাদীস নং ১০৭। ইমাম তিরমিযীসহ মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
প্রশ্নঃ 315
আসসালামু আলাইকুম। আল্লাহর রসুল কত বছর বয়ষে নবুয়াত পেয়েছিলেন? একজন আলেম কে বলতে শুনলাম যখন আসমান, জমীন, ও কোন নবী কে সৃষ্টি করা হয়নি তখন আল্লাহর রসুল কে সৃষ্টি করেছেন। আর এটি বোখারী শরিফের হাদীস বলছেন। আপনার কাছে জানতে চাই।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
যখন আসমান, জমীন ও কোন নবী কে সৃষ্টি করা হয়নি তখন আল্লাহর রসুল কে সৃষ্টি করছেনে এমন কথা কোন হাদীসে বলা হয় নি। এটা ভুল কথা। আর বুখারীতেও নেই অন্য কোন হাদীসের কিতাবেও নেই। এটা একটা হাদীসে ভুল ব্যাখ্যা। হাদীসটি হলো,
عن أبي هريرة قال قالوا : يا رسول الله متى وجبت لك النبوة ؟ قال وآدم بين الروح والجسد
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, কখন আপনার জন্য নবুওয়াত সাব্যস্ত হয়েছে? তিনি বলেন, তখন আদাম শরীর ও রুহ এর মাঝে ছিল। (অর্থাৎ তখনো আদম আ. কে সৃষ্টি করা হয় নি)। জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬০৯। হাদীসটি সহীহ। হাদীসে যেটা বলা হয়েছে সেটা ছিল আল্লাহ তায়ালা নির্ধারন সংক্রান্ত রুহের জগতের বিষয়, দুনিয়ার বিষয় নয়। রুহের জগতে আমাদের সবাইকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তার মানে এই নয় যে, তখন আমাদের জন্ম হয়েছিল। সুতরাং এটা বলা যাবে না যে, রাসূলুল্লাহ সা. তখনই নবুওয়াত পেয়েছিলেন বরং তাঁর জন্য নবুওয়াত আল্লাহ নির্ধারন করেছিলেন। আর দুনিয়াতে জন্ম নেয়ার পর ৪০ বছর বয়সে নবুওয়াত পেয়েছিলেন।
প্রশ্নঃ 314
allah has 99 names and who memorised it he will go to jannah.in tirmiji is this hadis is sahih and every name in this hadis is ok. i heard about this hadis that there is some problem of allahs name.
28 Dec 2025
আপনি যে হাদীসটির কথা উল্লেখ করেছেন সেটি একই সনদে অনেকগুলো কিতাবে বর্ণনা করা হয়েছে। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫০৭; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং ৮০৮; মুসতাদরক হাকীম, হাদীস নং ৪১। সনদসহ হাদীসটির কিছু অংশের মূল আরবী পাঠ হলো (তিরমিযী থেকে নেয়া) ;
حدثنا إبراهيم بن يعقوب الجوزجاني حدثني صفوان بن صالح حدثنا الوليد بن مسلم حدثنا شعيب بن أبي حمزة عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة قال :قال رسول الله صلى الله عليه و سلم إن لله تعالى تسعة وتسعين اسما من أحصاها دخل الجنة এই হাদীসের বিষয়ে ইাম তিরমিযী বলেন, هذا حديث غريب حدثنا به غير واحد عن صفوان بن صالح ولا نعرفه إلا من حديث صفوان بن صالح وهو ثقة عند أهل الحديث
অর্থ: এই হাদীসটি গরীব, সফওয়ান থেকে অনেকেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে সফওয়ান ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেছেন বলে জানা যায় না।আর সে মুহাদ্দিসদের নিকট ছিকাহ। অর্থাৎ ইমাম তিরমিযীর বক্তব্য হলো হাদীসটির সনদ গ্রহনযোগ্য। ইমাম যাহাবী রহ. বলেন,
لم يخرجا الأسامي لتفرد الوليد بها وليس ذا بعلة فالوليد أوثق وأحفظ من أبي اليمان وعلي بن عياش
অর্থ: ইমাম বুখারী ও মুসলিম (আল্লাহ তায়ালার) নামগুলো উল্লেখ করেননি কারন ওলীদ (একজন রাবী) একাকী বর্ণনা করেছেন। তবে এটা কোন ইল্লত (সমস্যা) নয়। কেননা ওলীদ আবিল ইয়ামান এবং আলী ইবনে আয়্যাশ থেকে অধিক ছিকাহ এবং ভাল মুখস্ত রাখেন। (উল্লেখ্য যে, সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে (আল্লাহ তায়ালার) নামগুলো ছাড়া হাদীসটি আবু হুরায়রা রা. থেকে অন্য সনদে বর্ণিত আছে। ইমাম জাহাবী সেদিকে ইশারা করেছেন)। এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ইমাম যাহাবী রহ. হাদীসটির সনদকে সহীহ মনে করেছেন। শায়খ শুয়াইব আরনাউত বলেন, قال شعيب الأرنؤوط : رجاله ثقات অর্থ: হাদীসটির রাবীগণ ছিকাহ। (সহীহ ইবনে হিব্বান এর তালীক)। উল্লেখ্য আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, হাদীসটির সনদ সহীহ। তবে উল্লেখিত নামগুলো হাদীসের অংশ কিনা এই নিয়ে বিতর্ক আছে। এই বিষয়ে মুহাদ্দিস মুহম্মাদ ইবনে ইসমাইল আমীর সানয়ানী (মৃত্যু ১১৮২ হি.) বলেন,
…وساق الترمذي وابن حبان الأسماء والتحقيق أن سردها إدراج من بعض الرواة اتفق الحفاظ من أئمة الحديث أن سردها إدراج من بعض الرواة …
তিরমিযী ও ইবনে হিব্বান নামগুলো উল্লেখ করেছেন। তবে গবেষনালব্ধকথা হলো যে, এই নামগুলো কোন এক রাবী কর্তৃক হাদীসের মধ্যে প্রবেশ করেছে। হাফেজে হাদীসগণ একমত যে, এই নামগুলো কোন একজন রাবী থেকে হাদীসের মধ্যে প্রবেশ করা হয়েছে। সুবুলুস সালাম, ৪/১০৮। তবে এই হাদীসে উল্লেখিত নামগুলো আল্লাহ তায়ালার নাম এবং এই নামগুলে ব্যতিত আল্লাহ তায়ালার আরো নাম আছে। এই নামগুলো ছাড়া আল্লাহ তায়ালার কোন নাম নেই বিষয়টি এমন নয়।
প্রশ্নঃ 312
আমার বয়স ২৬ বছর। আমার বিগত জীবনে অনেক মানুষের থেকে টাকা লোন করেছিলাম এবং অনেক অধিকার নষ্ট করেছি। ওই সকল লোকদের অনেকের সাথে যোগাযোগ করারও আর কোনো মাধ্যম নাই।আর যাদের সাথে যোগাযোগ আছে তাদের লোন বা অধিকার ফিরিয়ে দিতে আমি সচেষ্ট, কিন্তু বর্তমানে আমার আর্থিক অবস্থা তেমন নয়। যখনই সম্ভব হবে পরিশোধ করে দিবো। আমার জন্য আপনি কি উপদেশ দিবেন। আমি জাহান্নাম থেকে বাচতে চাই, কবর আজাব থেকে বাচতে চাই। আমার জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন আমাকে মাফ করে দেন।
28 Dec 2025
আপনি যাদের অধিকার নষ্ট করেছেন তাদেরকে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেবার যথাসাধ্য চেষ্টা করুন। আর আল্লাহ তায়ালার কাছে সাহায্য ও ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিজের অসুবিধা ও কষ্ট স্বীকার করে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে থাকুন। এতে আপনার তাওবার আন্তরিকতা প্রমাণিত হবে। আশা করি আল্লাহ তায়ালা আপনাকে ক্ষমা করে দিবেন। আমরা আপনার জন্য দোয়া করি যেন আল্লাহ তায়ালা আপনাকে ক্ষমা করে দেন।
প্রশ্নঃ 311
আমাদের এলাকার মসজিদের ঈমাম একজন সুন্নি। যার আকিদা হল নবিজী হাজির নাজির্। নবিজী গায়েব জানেন। তিনি নূরের তৈরি এবং ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা বৈধ। এখন প্রশ্ন হল এই ঈমামের পিছনে সালাত আদায় করা যাবে কি?
28 Dec 2025
জামাতে নামায আদায় করা আবশ্যক। সুতরাং ইমাম সাহেব গোনাহগার হলেও তার পিছনেই নামায আদায় করতে হবে যতক্ষন না সে স্পষ্ট কোন শিরকে বা কুফরে না লিপ্ত হোন, যেমন কবরে সিজদা করা। কবরে সিজদা করে এমন লোকের পিছনে নামায পড়া হারাম। না, প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিতে আপনার জন্য যাকাতের টাকা গ্রহন করা জায়েজ হবে না। কারণ যাকাত প্রদানের সময় যাকাত গ্রহীতাকে সম্পদের মালিক বানাতে হয় আর আপনি নিলে সেটা হচ্ছে না। তবে যদি মালিক আপনাকে উকিল (মাধ্যম) বানিয়ে আপনার কাছে আপনার এলাকার গরীবদের জন্য যাকাতের টাকা প্রেরন করে তাহলে জায়েজ হবে। অথবা আপনি যদি বলেন, আমি এই টাকা নেব না, গ্রামে গরীব মানুষদেরকে দেব আর মালিক দেন তাহলে জায়েজ হবে।
প্রশ্নঃ 310
শায়েখ, আমরা পরকালে জান্নাতে বা জাহান্নামে আমরা কত সময় থাকব? এর কি কোন শেষ আছে আমরা জান্নাতে বা জাহান্নামে সারা জীবন বেচে থাকবো এটা বললে কি আল্লাহ তায়ালার সাথে তুলনা হয়ে যায় বা পরকালের জীবনে আমাদের কোন শেষ হবে না আল্লাহ তায়ালার ও কোন শেষ নেই তাহলে এটা কি তার অসিম সত্তার সাথে তুলনা করা হয়? আসলে পরকালে আমাদের জীবনের কি কোন শেষ আছে? আমি এই ভিডিও https://www.youtube.com/watch?v=HS8CD4VKWoY পেয়েছি যেখানে এক প্রস্নের জবাবে ডঃ জাকির নায়েক বলছেন যে আমরা জান্নাতে forever থাকবো আর আল্লাহর সত্তা etternal বা never end দুইটা একনা। এখন আল্লাহ তায়ালার সাথে যে আমাদের তুলনা হবে না সেটা বুঝেছি কিন্তু তার উত্তর এ তিনি বলছেন যে আমরা যেমন বলি forever আমি বাংলাদেশে থাকবো মানে যত দিন বাচব ততদিন ঠিক তেমনি পরকালে forever বলতেও সেটা আল্লাহ তায়ালা যত দিন চাইবেন তত দিন যদিও সেটা এই দুনিয়ার চেয়ে অনেক অনেক গুন বেশি হবে কিন্তু সেটা আল্লাহ তায়ালার মত শেষ বিহিন না বা মানে নিদিষ্ট আছে যেটা আল্লাহ জানেন । কিন্তু আমি এই হাদিস এ পরেছি যে আবু ইসহাক জানিয়েছেন যে, আগার তাকে আবু সাঈদ খুদরী ও আবু হুরায়রার (রাঃ) সুত্রে হাদীস শুনিয়েছেন, তারা উভয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। পরকালে একজন ঘোষণাকারী বেহেস্তবাসীদেরকে লক্ষ্য করে ঘোষণা করবেন, তোমাদের জন্য সুসংবাদ এই যে, তোমরা সুস্ততা লাভ করবে এরপর আর কখনো অসুস্ত ও রোগগ্রস্ত হবে না। এবং তোমাদের জন্য সুসংবাদ, তোমরা জীবন লাভ করবে আর কখনো মৃত্যু বরণ করবে না। এবং তোমাদের জন্য সুসংবাদ, তোমরা যৌবন লাভ করবে এরপর আর কখনো বৃদ্ধ হবে না। তোমাদের জন্য সুসংবাদ, তোমরা সুখী হবে এরপর আর কক্ষনও কোন কস্ত-ক্লেশের সম্মুখীন হবে না। (সহিহ মুসলীম ৮ম – ৬৯৫১)। আসলে বিষয় টা কী এই হাদীস অনুযায়ী যদি মৃত্যু না হয় তাহলে পরকালে জীবন কাল নিদিষ্ট হবে কিভাবে? কুরআন হাদিসের আলোকে উত্তর দিলে খুব উপকৃত হব। এ বিষয় টা নিয়ে সন্দেহে ভুখতেছি। আর বলা হয় ছেলেরা জান্নাতে গেলে হুর পাবে সঙ্গী হিসাবে । তাহলে মেয়েরা কি পাবে? দুনিয়াতে যারা স্বামী স্ত্রী তারা উভয় যদি জান্নাতে যায় তাহলে তাদের জান্নাতে সম্পর্ক কি হবে? আর এক জন পুরুষ ৭০ বা ৭২ টা হুর পাবে সঙ্গী হিসাবে এটা কত তুকু হাদীস সম্মত? কুরআন হাদিসের আলোকে এ বিষয় ও উত্তর দিলে খুব উপকৃত হব। হুসাইন আহমেদ, খুলনা।
28 Dec 2025
আল্লাহ তায়ালা অনাদী ও অনন্ত। সুতরাং মানুষ জান্নাতে অনন্ত কাল থাকলেও আল্লাহর সমকক্ষ নয়। জান্নাতে নারী পুরুষ উভয়ের জন্য সঙ্গী থাকবে । পুরষদের জন্য প্রয়োজনীও সঙ্গী বা সেবক পুরুষরা পাবেন তেমনি মহিলাদের জন্যও আল্লাহ তায়ালা প্রয়েজনীও সঙ্গী ও সেবকের ব্যবস্থা করবেন। কারো অসন্তুষ্টির কোন বিষয় সেখানে থাকবে না। সুতরাং পুরুষরা হুর পাবে নারীরা কী পাবে এই ধরনের প্রশ্ন মাথায় নিয়ে আসার কোন প্রয়োজন নেই। একটি হাদীসে জান্নাতীদের জন্য ৭২ জন স্ত্রী থাকার কথা উল্লেখ আছে।তবে হাদীসটি যয়ীফ। হাফেজ ইবনে হাজার রহ., শায়খ শুয়াইব আরনাউত, শায়খ আলবানী রহ. হাদীসটিকে যয়ীফ বলেছেন। দেখুন সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ২৫৬২। তবে অন্য হাদীসে শহীদদের ৭২ জন স্ত্রী থাকার কথা আছে। হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী এবং শায়খ আলবানী সহীহ বলেছেন। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ১৬৬৩।
প্রশ্নঃ 309
assalamualaikum, Sir, I have seen your couple of videos on youtube and I liked those. Specially I loved the question answering videos. Following that, I have a question to you. Question is- If I see a dream that, somebody is talking with me but the person who is talking with me is invisible. The invisible person is saying that, he is satisfy with my activities and jobs what I am doing. The sound of invisible person is very joyful and happy and seems to me that he is very happy about me. The invisible person also said to me to continue the SALAT as I am doing so, he will keep me in Jannat. In my dream, I predicted that was the sound of almighty ALLAH and the invisible person also said he is Almighty ALLAH. As far I now, Saitan will not do this kind of job in dream to make me good. The sound was really from almighty ALLAH? So, I am Confused that, is there any meaning of this dream or any relation to my life? What should I do now? Is it meaningless dream or meaningful? Sir, I need your kind reply and suggestions. Eagerly waiting for your reply. My e-mail address is hmnhoq@yahoo.com. Thanks. Assalamualaikum.
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
ভাল স্বপ্ন দেখলে ভাল। খারাপ কোন স্বপ্ন দেখলে দুশ্চিন্তার কোন অর্থ নেই ।খারাপ স্বপ্নের কথা বলতে হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে। সর্বাবস্থায় স্বপ্ন নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই। আপনি কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ী চলার চেষ্টা করুন। নবীদের স্বপ্ন ওহী হিসাবে গণ্য। অন্যান্য মানুষের স্বপ্নের ব্যাপারে হাদীসের স্পষ্ট নির্দেশনা আছে। নিচে দলীলসহ বিস্তারিত আলোচনা করা হল: নবী রাসূলদের স্বপ্ন ওহী। তাঁরা স্বপে যা দেখেন তা সত্য। ইবনে আব্বাস রা. বলেন, رؤيا الأنبياء وحي অর্থ: নবীদের স্বপ্ন ওহী। আলমুসতাদরিক লিল-হাকীম, হাদীস নং ৩৬১৩। হাকীম রহ. বলেন, হাদীসটি বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ। কিন্তু তারা বর্ণনা করেনি। ইমাম যাহাবী তালখীস এর মধ্যে বলেছেন, হাদীসটি বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী। হযরত আয়েশা রা. বলেন,
أَوَّلُ مَا بُدِئَ بِهِ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْوَحْيِ الرُّؤْيَا الصَّادِقَةُ فِي النَّوْمِ فَكَانَ لاَ يَرَى رُؤْيَا إِلاَّ جَاءَتْ مِثْلَ فَلَقِ الصُّبْحِ
যার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে প্রথম ওহী আসা শুরু হয় তা হল সত্য স্বপ্ন। তিনি যা দেখতেন ভোরের আলোর মত তা সত্য হত। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৯৮৩। ইমাম বখারী রহ. তার সহীহ গ্রন্থে বলেছেন,
قَالَ عَمْرٌو سَمِعْتُ عُبَيْدَ بْنَ عُمَيْرٍ يَقُولُ : إِنَّ رُؤْيَا الأَنْبِيَاءِ وَحْيٌ ثمَّ قَرَأَ :{إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ}
আমর বলেছেন, আমি উবায়েদ ইবনে উমায়েরকে বলতে শুনেছি, নিশ্চয় নবীদের স্বপ্ন ওহী। এরপর তিনি কুরআনের উপরুক্ত আয়াত তেলাওয়াত করেন। (উবায়েদ ইবনে উমায়ের ইবনে আব্বাসের ছাত্র) । সহীহ বুখারী হাদীস নং ৮৫৯। উপরুক্ত দলীলসমূহ দ্বারা স্পষ্ট যে, নবীদের স্বপ্ন ওহী ও সত্য। উম্মতের সকলে এ ব্যাপারে একমত। আমরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্বপ্ন দেখি। এই সব স্বপ্নের ব্যাপারে আমাদের কি বিশ্বাস রাখতে সে বিষয়ে আবু সাইদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
إِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ رُؤْيَا يُحِبُّهَا فَإِنَّمَا هِيَ مِنَ اللهِ فَلْيَحْمَدِ اللَّهَ عَلَيْهَا وَلْيُحَدِّثْ بِهَا ، وَإِذَا رَأَى غَيْرَ ذَلِكَ مِمَّا يَكْرَهُ فَإِنَّمَا هِيَ مِنَ الشَّيْطَانِ فَلْيَسْتَعِذْ مِنْ شَرِّهَا ، وَلاَ يَذْكُرْهَا لأَحَدٍ فَإِنَّهَا لاَ تَضُرُّهُ
তোমাদরে কউে যদি এমন স্বপ্ন দখেে যা সে পছন্দ কর,ে তাহলে জানবে যে তা আল্লাহর পক্ষ থকেে দখোনো হয়ছে। তখন সে যনে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করে ও অন্যদরে কাছে র্বণনা কর। আর যদি স্বপ্ন অপছন্দরে হয়, তাহলে বুঝে নবেে এটা শয়তানরে পক্ষ থকেে হয়ছে। তখন সে শয়তানরে ক্ষতি থকেে আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় র্প্রাথনা করবে আর এ স্বপ্নরে কথা কারো কাছে বলবে না। কারণ খারাপ স্বপ্ন তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৯৮৫ আবু কাতাদাহ রা থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ مِنَ اللَّهِ فَإِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ مَا يُحِبُّ فَلاَ يُحَدِّثُ بِهَا إِلاَّ مَنْ يُحِبُّ وَإِنْ رَأَى مَا يَكْرَهُ فَلْيَتْفِلْ عَنْ يَسَارِهِ ثَلاَثًا وَلْيَتَعَوَّذْ بِاللَّهِ مِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشَرِّهَا وَلاَ يُحَدِّثْ بِهَا أَحَدًا فَإِنَّهَا لَنْ تَضُرَّهُ
সত্য স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে । যখন তোমাদের কেউ এমন স্বপ্ন দেখে যা সে ভালবাসে তাহলে তাহলে তা এমন লোকদের কাছেই শুধু বলবে যে তাকে ভালবাসে। আর যদি এমন স্বপ্ন দেখে যা সে অপছন্দ করে তাহলে বাম দিকে তিন বার থুথু ফেলে এবং আল্লাহর কাছে শয়তানের অনিষ্ঠতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবে। আর এই স্বপ্নের কথা কারো কাছে বলবে না। কেননা তা তার কোন ক্ষতিকরতে পারবে না। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৬১। হযরত জাবির রা. বলেন,
جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ رَأَيْتُ فِى الْمَنَامِ كَأَنَّ رَأْسِى قُطِعَ. قَالَ فَضَحِكَ النَّبِىُّ -صلى الله عليه وسلم- وَقَالَ ্র إِذَا لَعِبَ الشَّيْطَانُ بِأَحَدِكُمْ فِى مَنَامِهِ فَلاَ يُحَدِّثْ بِهِ النَّاسَ
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামরে কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি স্বপ্নে দখেছে, আমার মাথা কটেে ফলো হয়ছে। এ কথা শুনে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হসেে ফলেলনে। আর বললনে : ঘুমরে মধ্যে শয়তান তোমাদরে কারো সাথে যদি দুষ্টুমি কর, তবে তা মানুষরে কাছে বলবে না। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৬৮। হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
إن الرؤيا تقع على ما تعبر و مثل ذلك رجل رفع رجله فهو ينتظر فهو متى يضعها فإذا رأى أحدكم رؤيا فلا يحدث بها إلا ناصحا أو عالما
অর্থ: স্বপ্ন ব্যখ্যা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হয়। তাই যখন তোমাদের কেউ স্বপ্ন দেখে সে যেন কল্যানকামী ব্যক্তি ও আলেম ব্যাতিত অন্য কারো নিকট তা বর্ণনা না করে। মুসতাদরিকে হাকেম, হাদীস নং ৮১১৭। হাকেম রহ. বলেছেন হাদীসটর সনদ সহীহ। আল্লামা জাহাবী রহ. তালখীস এর মধ্যে হাদীরটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ আলবানীও বলেছেন, হাদীসটি সহীহ। (সহীহ ও জয়ীফ জামিউস সগীর, হাদীস নং ২৪৯২) উপরের হাদীসগুলোতে থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, ভাল স্বপ্ন আল্লাহ তায়ালার দান। ভাল স্বপ্ন দেখলে আল্লাহর প্রসংসা করতে হবে এবং প্রিয় মানুষদেরকে বলা যবে । খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে হয়। এমন স্বপ্ন দেখলে বাম দিকে তিন বার থুথু ফেলতে হবে এবং শয়তানের অকল্যান থেকে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে। আর খারাপ স্বপ্ন কারো কাছে বলা যাবে না। তবে মনে রাখতে খারাপ স্বপ্ন দেখলে মানুষের কোন ক্ষতি হয় না বা তা মানুষকে কোন ক্ষতি করতে পারে না। এই অর্থের আরো হাদীস বিভিন্ন সাহাবী থেকে সহীহসূত্রে বর্ণিত আছে। হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : الرُّؤْيَا الْحَسَنَةُ مِنَ الرَّجُلِ الصَّالِحِ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ
রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, সৎ লোকদের থেকে ভাল স্বপ্ন নবুওয়াতের ৪৬ ভাগের এক ভাগ। (অর্থাৎ সত্য স্পষ্ট)। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৯৮৩। কোন হাদীসে ৪৫ ভাগের একভাগ আবার কোন হাদীসে ৭০ ভাগের এক ভাগের কথাও বর্ণিত আছে। এই হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম নববী বলেন, আল্লামা খাত্তবী রহ. বলেছেন
وانما كانت جزءا من أجزاء النبوة في حق الأنبياء دون غيرهم وكان الأنبياء صلوات الله وسلامه عليهم يوحي اليهم في منامهم كما يوحي اليهم في اليقظة
অর্থ: এটা নবীদের ক্ষেত্রে প্রযোয্য, অন্যান্যদের ক্ষেত্রে নয়। কেননা নবীদের নিকট জাগ্রত অবস্থায় যেমন ওহী আসত তেমনি ঘুমের ভিতরেও আসত। শরহে নববী আলা মুসলিম, হাদীস নং ২২৬৪। এই হাদীসের অবশ্য অন্যান্য ব্যাখ্যাও আছে। অনেকে এই হাদীসের অপব্যাখ্যা করে ওলী, দরবেশ কিংব আল্লাহর প্রিয় মানুষদের স্বপ্নকে দলীল হিসাবে সাব্যস্ত করতে চায়। কিন্তু এটা ঠিক না। নবী-রাসূণগণ বাদে অন্যদের স্বপ্ন দলীল হতে পারে না, সুন্নত হতে পারে না। স্বপ্নের মাধ্যমে কোন ইবাদত সাব্যস্ত হয় না, তদ্রুপ স্বপ্নের মাধ্যমে কোন হাদীসের সত্যতাও যাচাই করা যায় না। স্বপ্ন একান্ত ব্যক্তিগত আবেগ অনুভুতির ব্যাপার। কাশফ, ইলহামের ব্যাপারেও একই কথা প্রযোয্য। এই বিষয়ে আরো জানতে পড়ুন ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত এহ্ইয়াইস সুনান বইয়ের ২০৮ থেকে ২১৪ পৃষ্ঠা । আল্লহ তায়ালা আমাদের সঠিক বিষয় বুঝার তাওফীক দিন, আমীন।
প্রশ্নঃ 308
আস্সালামু আলাইকুম আমার মা একজন চাকুরিজীবি হওয়ায় অনেক সুদি ব্যাংকের সাথে জরিত মানে লোন নেয়। কিন্তু আমি তার সন্তান হওয়ায় খুব কষ্ট লাগে কারণ আমি ইসলামিক নির্দেশনা পালন করার চেষ্টা করি। আমি অনেক বদরাগী একটুতেই রেগে যাই। আমি তাকে কিভাবে বুঝাব যে সুদযুক্ত ব্যাংকের সাথে লেনদেন করা উচিত নয়।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
মায়ের সাথে সদাচারণ সর্ব অবস্থায় ফরয। কোনোভাবেই মায়ের সাথে খারাপ আচরণ করা যাবে না। সম্ভব হলে আদবের সাথে তাকে বুঝাবেন। যেমন, মা, আমি তোমার সাথেই জান্নাতে থাকতে চাই, তুমি সুদের সাথে জড়িত হলে তো জান্নাতে তোমাকে পাব না, মা তুমি সুদ থেকে মুক্ত হও। পাশাপাশি দুআ করতে থাকুন। আল্লাহ আপনার মাকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করুন।
প্রশ্নঃ 307
পরীক্ষার হলে কেউ যদি আমার টা দেখে লেখে বা আমি যদি কাউ কে দেখাই। আমি যদি কারো টা দেখে লিখি তবে? ভাই, জনাব, উওর টা দিলে সারা জীবনের জন্য উপকার হবে।
27 Dec 2025
পরীক্ষায় কাউকে খাতা দেখানো কিংবা অন্যের খাতা দেখে লেখা দুটোই অন্যায়। এর থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
প্রশ্নঃ 306
১.আমাকে কিছু ভাল কুরআনের তাফসীর এবং এ সংক্রান্ত কিছু বইয়ের নাম বলুন, যাতে আমি তা থেকে সহীহ বুঝ নিতে পারি? ২.আমাকে কিছু ভাল হাদিস কিতাবএবং এ সংক্রান্ত কিছু বইয়ের নাম বলুন, যাতে আমি তা থেকে সহীহ বুঝ নিতে পারি? উওরের আশায় রইলাম
27 Dec 2025
তরজামা এবং সংক্ষিপ্ত তাফসীরের জন্য আপনি মাওলানা ত্বকী উসমানী রচিত মাওলানা হাবিবুর রহমান অনূদিত তাওযীহুল কুরআন পড়তে পারেন। বিস্তারিত তাফসীরের জন্য হাফেজ ইবনে কাসীর রচিত তাফসীরুল কুরআনীল আযীম (তাফসীরে ইবনে কাসীর) পড়তে পারেন। হাদীস পড়ার ক্ষেত্রে আপনি কুতুবে সিত্তা পড়বেন। এছাড়া রিয়াদুস সালেহীন এবং অন্যান্য বিষয়ভিত্তিক হাদীসের কিতাব পড়তে পারেন।
প্রশ্নঃ 305
আসসালামু আলাইকুম শায়খ! আমার জানার বিষয় হলো, একজন বিবাহিত পুরুষ, যার একজন স্ত্রীতে তার জৈবিক চাহিদা পূরণ হচ্ছে না এবং তিনি মারাত্বকভাবে যে কোন যিনামূলক বা অশ্লীল কাজে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেন। এখন আমরা সবাই অবগত যে,সামাজিকভাবে একাধিক বিবাহকে খুবই ঘৃণিত চোখে দেখা হয়, এ কাজে বাধা দেয়া হয় এবং মানসিক ভাবে হেয় করা হয়। এ অবস্থায় অনেক পুরুষই ইচ্ছা থাকলেও বিষয়টা চেপে রাখতে চাইলেও, বিভিন্ন রকম কষ্টে পতিত হয়ে থাকেন। তাই সকল কারণগুলোতে অনেকে দ্বিতীয় বিবাহ করতে পারেন না এবং কেউ কেউ দ্বীন মানতে চাওয়ার পরেও অশ্লীল কাজে না পেরে জড়িত হয়ে পড়েন। এখন এ ধরণের পুরুষদের করণীয় কী?সে কিভাবে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন?
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আমরা আপনার জন্য দোয়া করি আল্লাহ যেন আপনাকে এই সমস্যা থেকে মুক্তি দেন। দেখুন, আমাদের সকলেরই জানা যে, দি¦তীয় বিয়ের কারণে ব্যক্তি ও তার পরিবার বিভিন্ন পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যার সম্মুখীন হয়। শুধু নিজের নয় পরিবারের অন্যদের কথাও চিন্তা করতে হবে। সুতরাং এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। অনেক ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাই আপনার প্রথম কাজ হলো আপনার এই সমস্যটি আপনার স্ত্রীকে বুঝিয়ে বলা। তার কোন মানসিক বা শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া। যদি সে বুঝতে না চাই তাহলে ভাল কোন আলেমের নিকট নিয়ে যান যে তাকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলবে। এরপরও যদি সমস্যর সমাধান না হয় তাহেল আজকাল অনেকেই গোঁপনে দ্বিতীয় বিয়ে করছে আপনি সেরকম করতে পারেন। এতে আশা করি আপনি পারিবারিক ও সামাজিক অসুবিধার সম্মুখীন হবেন না।
প্রশ্নঃ 304
আসসালামু আলাইকুম ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর সারের কাছে এই বিষয়টা জানতে চাচ্ছি ফরেক্স ব্যবসা । ইহা কি হালাল না হারাম? কুরআন ও হাদিসের আলোকে উত্তর দিলে অত্যান্ত খুশি হবো। আমি নিজে কিছু ইনভেস্ট করেছি এখন আমি কি এটা করেবো না বন্ধ করে দিবে। আমি ইউরো ইসডি ডলার ক্রয়-বিক্রয় করি। দীঘ মেয়াদি লেনদেন করি।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
প্রশ্নটি আরো স্পষ্ট করে করলে ভাল হতো। যাই হোক আমরা জানতে পেরেছে যে, অনেক দেশের সেন্ট্রাল ব্যাংক কর্তৃক তাদের মুদ্রার একটা ইন্টারেস্ট রটে থাক। আপনি ফরক্সে ট্রডে করলে সইে ইন্টারস্টে রটে আপনার বলোয়ও প্রযোজ্য হব। এই ইন্টারেস্ট মুসলমিদরে জন্য হারাম। এই ঝামলো দূর করার জন্য প্রায় সব ব্রোকার আজকাল ইন্টারেস্ট ফ্রি একাউন্ট / ইসলামকি একাউন্ট / মুসলমি ফ্রন্ডেলি একাউন্ট সার্পোট করে যখোনে ঐ ইন্টারেস্ট হসিাব হয় না। তাহলে সেন্ট্রাল ব্যাংক ইন্টারেস্ট যত হারাম সেটা থকেে আমরা মুক্ত। মুদ্রা ব্যবসার ক্ষেত্রে মূল বিষয় হল একই মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে মূল্য কম বেশী করা যাবে না। সমান হতে হবে। যেমন বাংলাদেশী টাকা ১০ টাকা ১১ টাকার দ্বারা বিক্রি করা যাবে না। ১০ টাকা ১০টাকাতেই বিক্রি করতে হবে। আর সমান সমান করে লেনদেন করলেও নগদ হতে হবে, বাকীতে হলে জায়েজ হবে না। মুদ্রা ভিন্না হলে লেনদেনের ক্ষেত্রে মূল্য কম বেশী করা যাবে। তবে শর্ত হলো নগদ লেনদেন হতে হবে। যেমন ১ ডলার বাজার মূল্য ৮০/৯০/১০০ যাই হোক বিক্রয় করা যাবে। তবে এই লেনদেন হতে হবে নগদ, বাকীতে হলে জায়েজ হবে না। যেমন কোন মাসের ১ তারিখ ডলার দিবেন আর টাকা নিবেন ২০ তারিখে এটা জায়েজ নেই। ডলার বুঝে পেয়ে টাকা বুঝে দিতে হবে, একই মাজলিসে। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
الذَّهَبُ بِالذَّهَبِ وَالْفِضَّةُ بِالْفِضَّةِ وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ وَالْمِلْحُ بِالْمِلْحِ مثلاً بِمثلٍ سَوَاءً بِسَوَاءٍ يَدًا بِيَدٍ فَإِذَا اخْتَلَفَتْ هَذِهِ الأَصْنَافُ فَبِيعُوا كَيْفَ شِئْتُمْ إِذَا كَانَ يَدًا بِيَدٍ
অর্থ: স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রোপার বিনিময়ে রোপার বিনিময়ে রোপা, গমের বিনিময়ে গম, জবের বিনিময়ে জব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর, লবনের বিনিময়ে লেনদেন হতে হবে সমান সমান, নগদ নগদ। আর যখন এই শ্রেনীগুলো ভিন্ন্ হবে (অর্থাৎ স্বর্ণের বিনিময়ে রোপা বা খেজুরের বিনিময়ে জব) তাহলে যেভাবে ইচ্ছা বিক্রি কর তবে নগদ নগদ।সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪১৪৭। আরো দেখুন, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২১৭৫।
প্রশ্নঃ 303
আস্সালামু আলাইকুম স্যার আমি খুবই হস্তমৈথুন করি এটা যেনেও যে ইসলাম এটাকে সমর্থন করে না। এখন আমি এই খারাপ কাজটা পুরোপুরি বন্ধ করতে চাই। তাই আমাকে ইসলামিক উপায় বলে দিন।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
খারাপ কাজ ত্যাগ করার জন্য হৃদয়ের প্রবল ইচ্ছাই যথেষ্ট।আপনি ধীরে ধীরে এই গুনাহের কাজটি ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা করুন। ইনশাআল্লাহ আপনি এই কাজটি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারবেন। যদি সম্ভব হয় আপনি বিবাহ করে নিন। আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দিন।
প্রশ্নঃ 302
আস্সালামুআলাইকুম শায়েখ আমি নামায আদায় করি আবার গান বাজনা শুনি এখন আমার কি নামায হবে?
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
গান-বাজনা শুনা কঠিন গুনাহ। গান-বাজনা মানুষকে কাজের প্রতি অমনযোগী করে তোলে এবং ইবাদতের প্রতি অনীহা সৃষ্টি করে। তাই গান-বাজনা শুনা পরিহার করা আবশ্যক তবে এ কারণে নামায হবে না বিষয়টি এরকম নয়। নামায হয়ে যাবে, নামাযের ফরযিয়্যাত আদায় হয়ে যাবে।
প্রশ্নঃ 301
আস্সালামুআলাইকুম শায়েখ ভালো আছেন। আমি ট্রেণে যাত্রারত অবস্থায় ওযু বা তায়াম্মুম করার ব্যবস্থা না পেলে কি করব। যেমন ফযরের নামায পরতে পারলাম না তাহলে কি যোহরের সাথে একসাথে পরে নেয়া যাবে কি?
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আলহামদুল্লিাহ। দেখুন, যদি অবস্থা এমন হয় যে, আপনি নামাযের সময় ট্রেনে ভ্রমন করবেন তাহলে ট্রেনে উঠার সময় পানি বা মাটি সঙ্গে নিয়ে উঠবেন। আর ট্রেনেও পানির ব্যবস্থা থাকে। আর আপনি পানি বা মাটি সঙ্গে না নিলে বা ট্রেনেও পানির ব্যবস্থা না থাকলে আপনার কাজ হলো ট্রেনের গায়ে অনেক ধূলা-বালি থাকে সেখান থেকে তায়াম্মুম করা। আশা করি আপনি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
প্রশ্নঃ 300
Is Hayatus Sahabah Written by Maulana Yusuf (R) ok?
27 Dec 2025
হ্যাঁ, এটি একটি ভাল বই। সাহাবীদের জীবনী জানতে আপনি এই বইটি পড়তে পারেন।
প্রশ্নঃ 299
Is Ahkame Jindegi ok to read? If there is anything that we need to be concerned about this book please let us know. Could you please suggest me any other book with the same context as Ahkame Jinde
27 Dec 2025
সাধারণ পাঠকদের বইটি সতর্কতা এবং সচেতনতার সাথে পাঠ করা উচিত। আপনি আস-সুন্নাহ পালিকেশসন্স থেকে প্রকাশিত বইসমূহ এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য লেখকের বই পড়তে পারেন।
প্রশ্নঃ 298
What is the origin of prevailing darud except darude Ibrahim
27 Dec 2025
মুমিন যে কোনো ভাষায় ও বাক্যে আল্লাহর যিকর বা প্রার্থনা করলে তিনি মূল ইবাদতের সাওয়াব ও ফল পেতে পারেন। তবে মুমিনের শ্রেষ্ঠ বাসনা সকল বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সা. এর অনুকরণ করা। যিকর ও দুআর ক্ষেত্রে তাঁর শেখানো বা আচরিত বাক্যগুলো হুবহু ব্যবহার মুমিনের সর্বোচ্চ কাম্য ও দায়িত্ব। এতে সাওয়াব ও কবুলিয়্যাতের আশা অনেক বেশি। সাহাবী-তাবিয়ীগণ মাসনূন বাক্যাবলি ব্যবহারের পাশাপাশি কখনো কখনো অন্যান্য বাক্য ব্যবহার করতেন। তবে সুন্নাতের ব্যতিক্রম বাক্য দ্বারা যিকর, দুআ বা দরুদ-সালাম পালন রীতিতে পরিণত করলে মাসনূন বাক্যাবলির প্রতি অনীহা এবং এ বিষয়ক সুন্নাতের প্রতি অবজ্ঞার মনোভাব জন্ম নেয়, মাসনূন বাক্যাবলি বা সুন্নাতের মৃত্যু ঘটে এবং এভাবে খেলাফে সুন্নাত থেকে বিদআতের জন্ম হয়। এ মূলনীতির ভিত্তিতে মাসনূন বাক্যগুলোর অর্থবোধক যে কোনো বাক্যে রাসূলুল্লাহ সা.কে সালাত ও সালাম জানানো যেতে পারে। তবে মাসনূন বাক্যাবলির ব্যবহার সর্বোত্তম। দরুদে ইবরহীম ছাড়াও আরো কিছু দরুদ বা সালাত হাদীসে উল্লেখ আছে। আসমা বিনতে আবু বাকর রা. সর্বদা বলতেন, صَلَّى اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ وَسَلَّمَ সাল্লাল্লাহু আলা- রসূলিহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ তাঁর রাসূলের উপর সালাত ও সালাম প্রেরণ করুন। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ৩০৬৩। আরো একটি হলো মাসনূন সালাত হলো,
اللهم صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَنْزِلْهُ الْمَقْعَدَ الْمُقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা, স্বাল্লি আলা- মুহাম্মাদিন, ওয়া আনযিলহুল মাক্বআদাল মুর্ক্বারাবা ইনদাকা ইয়াওমাল ক্বিয়ামাহ। অর্থ: হে আল্লাহ মুহাম্মাদের উপর সালাত (দরুদ) প্রেরণ করুন এবং তাঁকে কিয়ামতের দিন আপনার নৈকট্যপ্রাপ্ত অবস্থানে অবতীর্ণ করুন। রুআইফি বিন সাবিত আনসারী (রা) বলেন: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন:
مَنْ قَالَ … وَجَبَتْ لَهُ شَفَاعَتِي
যে ব্যক্তি উপরের কথাগুলো (সালাতটি) বলবে, তার জন্য আমার শাফায়াত পাওনা হবে। হাদীসটির সনদে একজন দুর্বল রাবী রয়েছেন, তবে আল্লামা হায়সামী ও মুনযিরী হাদীসটিকে হাসান বা গ্রহণযোগ্য বলেছেন। মুসনাদে আহমাদ ২/৩৫২, তাবারানী, আল-মুজামুল কাবীর ৫/২৫-২৬; আল-মুজামুল আউসাত ৩/৪৫৬, নং ৩২৯৭, হাইসামী, মাজমাউয যাওয়ায়িদ ১০/১৬৩, মুনযিরী, আত-তারগীব ২/৫০২-৫০৩। দরুদে ইবরাহীমীর তিনটি আরবী পাঠসহ আরো কিছু মাসনুন দরুদ এবং দরুদ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন, আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত রাহে বেলায়াত ১৭৩-১৯৫ পৃষ্ঠা।
প্রশ্নঃ 297
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: আমি যদি কারো হক নষ্ট করে থাকি কিন্তু তারা জানেনা বা ধারনা করতে পারে যে আমি এমন কাজ করতে পারি। আমার মনে অনুশোচনা আসার পরে আমি লোক-লজ্জার ভয়ে এই কথা প্রকাশ করতে পারছিনা এবং আমি চেষ্টা করছি গোপনে তাদের জন্য দান করে দিতে বা যেভাবে তাদের হক নষ্ট করেছি সেইভাবে যথা সম্ভব পুণরায় তা ফেরত দিতে তবে সকলেন প্রাপ্য এবং সকল পরিমাণ সঠিক ভাবে দিতে পারছিনা বা মনে নাই সঠিক হিসাব। এমতাবস্থায় আমি কি করতে পারি। যদি এই গোনাহর কথা প্রকাশ্যে না আনতে চাঁই। নাকি সকলের কাছে বলে ক্ষমা প্রার্থনা চাঁইতে হবে
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
বান্দার হক নষ্ট করলে বান্দার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আপনি যাদের হক নষ্ট করেছেন তাদের কাছে ক্ষমা চান এবং যথাসম্ভব তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে দিন। লজ্জা করবেন না। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
وَاللَّهُ لا يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ
অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা সত্য বিষয়ে করেন না। সূরা আহযাব, আয়াত ৫৩। অসুবিধা হলে সাধারণভাবে ক্ষমা চান। যেমন ভাই, ইচ্ছায় অনিচ্ছায় অনেক ভুল ভ্রান্তি হয়ে যায়, মাফ করে দিবেন। আর ক্ষতিপূরণটা কৌশলে দিতে পারেন, হাদিয়া হিসেবে বা অন্য কোনো ভাবে। সর্বাবস্থায় দুনিয়ার একটু ধিক্কার বা লজ্জা আখিরাতের ধিক্কার বা লজ্জার চেয়ে অনেক সহজ। দোয়া করি, আল্লাহ আপনাকে তাওফীক দান করুন।
প্রশ্নঃ 296
Asalam waleikum. Is Paan haram? Also is tayamum ok in a work environment? I work in a factory in USA and they dont allow time for namaz so in a short time I do namaz. Can you masah in normal socks. Im a female. Thank you
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
পান একটি গাছের পাতা। এটা হারাম নয়। তবে র্জ্দ্দা যা তামাক থেকে উৎপন্ন হয় তা হারাম বলেই অধিকাংশ আলেম মনে করেন। আর এটাই যক্তিযুক্ত, কারণ জর্দ্দা মূলত তামাক আর তা শরীরের ক্ষতি করে। হ্যাঁ, আপনি চামড়ার মোজার উপর কিংবা মোটা কাপড়ের মোজার উপর মাসেহ করতে পারবেন। নামাযের সময় সময় কম থাকলে শুধু ফরজ নামায আদায় করবেন।
প্রশ্নঃ 295
প্রয়োজন বোধে জ্ঞান আহরনের জন্য সূদুর চীন দেশে যাও -এই হাদীসটি কি সহী?
27 Dec 2025
অধিকাংশ মুহাদ্দিস হাদীসটিকে জাল বলে উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ একে অত্যন্ত দূর্বল বলে উল্লেখ করেছেন। সনদ বিচারে দেখা যায় দুজন অত্যন্ত দূর্বল রাবী, যারা মিথ্যা হাদীস বর্ণনা করতেন শুধুমাত্র তারাই হাদীসটিকে রাসূলুল্লাহ সা. এর কথা হিসাবে প্রচার করেছেন। আরো দেখুন ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার লিখিত: ”হাদীসের নামে জালিয়াতি” [পৃষ্ঠা-৪৫০।]
প্রশ্নঃ 294
যেখান পুরুষ ও মহিলা একসঙ্গে কাজ করে সেখানে মুসলিমদের কাজ করতে ইসলাম নিসেধ করে; কিন্তু আমাদের দেশে প্রায় সবসরকারি ও বেসরকারি কর্মক্ষেত্রে ছেল ও মেয়ে একসঙ্গে কাজ করে। এক্ষেত্রে আমাদের কি করা উচিত? একই বাপার স্কুল, কলেজ ও ইউনিভার্সিটিতেও দেখা যাই
27 Dec 2025
নারী-পুরুষ এক সাথে কাজ করা জায়েজ নেই। যদিও নারী পর্দার সাথে থাকে। কারণ দেহের পর্দার পাশাপাশি মনের পর্দাও জরুরী। তবে একান্ত বাধ্য হলে পূর্ণ পর্দার সাথে কাজ করা যেতে পারে। একই বিধান স্কুল কলেজের ক্ষেত্রেও। একান্ত বাধ্য না হলে পুরুষদের মধ্যে কোনো অবস্থাতেই চাকরী করা ঠিক নয়। পোশাকের পর্দা ছাড়াও পর্দার একটি বড় দিক নারী পুরুষের একত্রে অবস্থান বর্জন করা। একান্ত বাধ্য হলেই শুধু নিজের পোশাকের পরিপূর্ণ পর্দাসহ চাকরী করবেন এবং সাথে সাথে পুরুষ সহকর্মীদের সাথে বা পাশে বসা ও তাদের সাথে খোশগল্প সম্পূর্ণ বর্জন করবেন। এরূপ গল্পগুজব ক্রমান্বয়ে অন্তর থেকে তাকওয়া দূর করে দেয়, এমনকি পারিবারিক জীবনও ভাল লাগে না; বরং কর্মস্থলে এসে গল্প করতেই অধিক ভাল লাগে। এগুলো মুমিন-মুমিনার জন্য অত্যন্ত কঠিন অবক্ষয়।
প্রশ্নঃ 293
হাইয়া আলাস সালাহ বলার সময় নামাজে দাড়ানো কি সুন্নাহ সম্মত?
27 Dec 2025
তাকবার তাহরীমার পূর্বেই কাতার সোজা করে নামাযের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহন করতে হবে। তাই ইকামত শুরু হওয়ার সাথে সাথেই দাঁড়িয়ে কাতার সোজা করতে হবে। ইকামতের শুরুতেই মুসল্লিরা দাড়িয়ে যাবে এবং কাতার সোজা করবে। সাহাবীদের আমল এমনই ছিল। তাঁরা একামত শুরু হওয়ার সাথে সাথে দাঁড়িয়ে কাতার সোজা করতেন। আর কাতার সোজা করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাসূলুল্লাহ সা. এই ব্যাপারে আদেশ দিয়েছেন। তবে ইমাম সাহেব মসজিদে আসার পূর্বে মুক্তাদীদের নামাযে দাড়াতে রাসূল (স.) নিষেধ করেছেন। এই কারনে অধিকাংশ আলেমের মতে ইমাম সাহেব না থাকা অবস্থায় মুক্তাদীরা ইকামতের সময় নামাযে দাড়াবে না। দলীল নিম্নরূপ:
১. عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ الصَّلاَةَ كَانَتْ تُقَامُ لِرَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَيَأْخُذُ النَّاسُ مَصَافَّهُمْ قَبْلَ أَنْ يَقُومَ النَّبِىُّ -صلى الله عليه وسلم- مَقَامَهُ
হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. কে দেখা গেলে ইকামত শুরু করা হত। আর তিনি তাঁর জায়গায় পৌছানোর পূর্বেই লোকেরা তাদের কাতার গ্রহন করতেন (অর্থাৎ কাতার সোজা করে দাড়িয়ে থাকতেন)। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬০৬। উল্লেখ্য সহীহ মুসলিমের এই স্থানে এই বিষয়ে আরো কয়েকটি হাদীস বর্ণিত আছে যা উক্ত হাদীসের বক্তব্যকে সমর্থন করে।
২. عن بن جريج قال أخبرني بن شهاب أن الناس كانوا ساعة يقول المؤذن الله أكبر الله أكبر يقيم الصلاة يقوم الناس إلى الصلاة فلا يأتي النبي صلى الله عليه و سلم مقامه حتى يعدل الصفوف
ইবনে জুরাইজ বলেন, আমাকে ইবনে শিহাব বলেছেন যে, মুয়াজ্জিন আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার বলে ইকামত শুরু করা মাত্রই লোকেরা নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে যেত এবং রাসূলুল্লাহ সা. নিজের জায়গায় পৌছাতে পৌছাতে কাতার সোজা হয়ে যেত। মুসান্নফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ১৯৪২। হাদীসটির সনদে সাহাবীর নাম নেই তাই হাদীসটি মাকতু। তবে উপরে বর্ণিত সহীহ হাদীস এই বক্তব্যকে সমর্থন করছে। উপরুক্ত হাদীসদ্বয় দ্বারা আমারা জানতে পারছি যে, স্বাভাবিক অবস্থায় ইকামতের শুরুতেই মুক্তাদীরা নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে যাবে এবং দ্রুত কাতার সোজা করবে। কাতার সোজা করার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সা. খুবই গুরুত্ব দিতেন। এই বিষয়ে অনেক হাদীস বর্ণিত আছে। নিচে একটি হাদীস উল্লেখ করা হল।
النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ يَقُولُ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَتُسَوُّنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ وُجُوهِكُمْ
অর্থ: সাহাবী নুমান বিন বাশীর বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা অবশ্যই তোমাদের কাতার সোজা করবে অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করে দিবেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং৭০৭ তবে ইমাম সাহেব উপস্থিত না থাকলে অধিকাংশ আলেমের নিকট মুক্তাদীরা দাড়াবে না। ইমাম সাহেবকে দেখার পর দাড়াবে। এই বিষয়ে স্পষ্ট হাদীস আছে।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ تَقُومُوا حَتَّى تَرَوْنِي وَعَلَيْكُمْ بِالسَّكِينَةِ
আব্দুল্লাহ ইবনে আবি কাতাদাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল (স.) বলেছেন, যখন নামাযের ইকামত দেয়া হবে তখন তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত দাড়াবে না। চুপ করে বসে থাকবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৩৮। উপরের আলোচনা থেকে আমারা বুঝতে পারলাম যে, জামায়াতে সালাত আদায় করার সময় মুক্তাদীরা ইকামতের শুরুতেই দাড়াবে এবং কাতার সোজা করবে তবে ইমাম সাহেব উপস্থিত না থাকলে ইমাম সাহেব আসার পর দাঁড়াবে। আল্লাহ ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 292
আস্সালামু আলাইকুম আমি একজন ছাত্র হিসেবে লেখাপড়ায় ভালো করতে চাই এখন আত্মবিশ্বাস কিভাবে সুন্নাহসম্মতভাবে বাড়াব?
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আপনি রাহে বেলায়াত বইটি সংগ্রহ করুন। ওখানে অনেক দুয়া-জিকির আছে। আপনি সেখান থেকে সকাল সন্ধার দুয়া-জিকির গুলোসহ অন্যান্য দুয়া নিয়মিত পাঠ করুন। ইনশাআল্লাহ আপনার আত্ম বিশ্বাস বাড়বে।
প্রশ্নঃ 291
স্যার আস্সালামুআলাইকুম আমি সপ্নদোষের ব্যাপারে জানতে চাই যে যদি রাতে আমার সপ্নদোষ হয় তাহলে তো আমাকে ফজর নামায আদায় করতে হয় তো ওযু করাটাই তো কষ্টের ব্যাপার সেখানে গোসল করা বাধ্যতামুলক কি না?
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
হ্যাঁ, স্বপ্নদোষ হলে গোসল করা অবশ্যক। তবে শুধু স্বপ্ন দেখলেই গোসল ফরজ হয় না বরং সিক্ততা অনুভব করলেই কেবল গোসল ওয়াজিব হবে। আয়েশা রা. বলেন,
سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- عَنِ الرَّجُلِ يَجِدُ الْبَلَلَ وَلاَ يَذْكُرُ احْتِلاَمًا قَالَ يَغْتَسِلُ . وَعَنِ الرَّجُلِ يَرَى أَنَّهُ قَدِ احْتَلَمَ وَلاَ يَجِدُ الْبَلَلَ قَالَ لاَ غُسْلَ عَلَيْهِ
রাসূলুল্লাহ সা. কে জিজ্ঞাসা করা হলো এমন লোক সম্পর্কে যে (ঘুম থেকে উঠার পরে) সিক্ততা দেখে কিন্তু তার স্বপ্নদোষের কথা মনে নেই, তিনি বললেন, সে গোসল করবে। এবং এমন লোক সম্পর্কে যে স্বপ্ন দেখে কিন্তু সিক্ততা পাই না, তিনি বলেন তার উপর গোসল ফরজ নয়। … সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং২৩৬; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১১৩। শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন হাদীসটি সহীহ আর শায়খ শুয়াইব আরনাউত বলেছেন,হাদীসটি হাসান লিগয়রিহী। এই হাদীস দ্বারা স্পষ্ট বুঝা গেল যে, স্বপ্ন দোষ হলে তথা ঘুমের পরে বস্ত্রে সিক্ততা পাওয়া গেলে গোসল অপরিহার্য। তবে গোসল করলে যদি অসুস্থ হওয়ার প্রবল আশংকা থাকে তাহলে তায়াম্মুম করেও নামায পড়া যাবে। তবে প্রথমে ওযু করে নিতে হবে।
প্রশ্নঃ 290
আচ্ছালামুউলাইকুম আচ্ছালাম। স্যার,আমার কন্যা এক হিন্দু ছেলেকে রেজিষ্ট্রি আমার অগোচরে বিয়ে করে। আমি তাদের মেনে নিয়েছি। তৎপরবর্তী তারা স্কলারশীপ নিয়ে বিদেশে চলে যায়। মেয়ে ও জামাই দুজনেই পি এই ডি ডিগ্রি সম্পন্ন করে বিদেশেই অবস্থান করছে। বিদেশ যাবার দুই বছর পর জামাই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আমার জানামতে পাচ ওয়াক্ত সালাত আদায়সহ ইসলামের অন্যান্য নির্দেশ পালন করছে। তাদের একটি ছেলে হয়েছে। তার আকিকাও দেযা হয়েছে। জামাই দাড়ি রেখে চেষ্টা করে সব সুন্নত পালন করতে। বিদেশে থাকার কারনে পাসপোর্ট সমস্যার কারনে তার হিন্দু নামটিই রয়ে গেছে। তবে মনে প্রানে সে নিজেকে একজন খাটি মুসলমান মনে করে। আমার প্রশ্ন এ বিয়ে এবং তার এ নাম রাখা ইসলাম মোতাবেক সঠিক কিনা? নাহলে কি করা উচিৎ? বলাবাহুল্য সে ধর্মীয় কোন ব্যাপারে প্রশ্ন থাকলে আমার কাছে জানতে চাই। যেমন তার ছেলের মুসলমানী কিভাবে দেবে। তার ছেলে এখন দু বছর বয়স। আমি আজ আপনাদের আলসুন্নাহ ট্রাষ্টের ওয়েবসাইট তাকে পাঠিয়েছি এবং কি কি করতে হবে -তা সব এখানে পাবে বলে জানিয়েছি। নিজের মনের শান্তির জন্য এ প্রশ্নের উত্তর আমার জানা প্রয়োজন। অনুগ্রহ করে দ্রুত (বাংলায়)জানালে বড় উপকার হয়। আমার ইমেইল আইডি দিয়েছি।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
যদি হিন্দু নামের মধ্যে শিরক জাতীয় কোন কিছু না থাকে তাহলে উক্ত নাম রেখে দেওয়া জাযেজ হবে। যেমন নিমাই, দুলাল, বাবু, শিমুল। আর যদি শিরক জাতীয় কোন কিছু থাকে তাহলে জায়েজ হবে না। যেমন কৃষ্ণ দাস। এই অবস্থায় পাসপোর্টে নাম বদল করা সম্ভন না হলেও নিজেদের ভিতর তাকে একটি ভাল নামে পরিচিত হতে হবে। বর্তমানে ইহুদী ও খৃষ্টানদের মাঝেও খাৎনা চালু আছে, বিশেষ করে ইহুদীদের মাঝে। তাই স্থানীয় যে কোন হাসপাতালে গিয়ে খাৎনা করানো যাবে।
প্রশ্নঃ 289
রিয়াদুস স্বালেহীন গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ কোনটি পড়া উত্তম হবে? (অনুবাদক ও প্রকাশণী জানতে চাই)
27 Dec 2025
আপনি গ্রহনযোগ্য যে কোন আলেমের অনুবাদ পড়তে পারেন। ড. সাইফুল ইসলাম অনূদিত বইটিও পড়া যেতে পারে।
প্রশ্নঃ 288
আসসালামু আলাইকুম। আমাকে অফিস এর কাজে মাঝে মাঝে দেশের বাইরে যেতে হয়। গত কিছু দিন আগে চায়না যেতে হয়েছিল। সেখানে গিয়ে আমরা যথা সম্ভব হালাল খাবার (বিশেষ করে মুস্লিম রেস্তুরা) খুজে খাবার চেষ্টা করেছি।কিন্তু একদিন সকালের নাস্তায় fried rice খাই যাতে শুকরের মাংশ ছোট ছোট করে দেয়া ছিল যা আমরা বুঝতে পারিনি। তবে আমাদের GUIDE এইটা বলার সাথে সাথে আমারা plate এর খাবার ফেলে দেই। আমারপ্রশ্ন হল আমাদের উক্ত অবস্থায় কি বমি করে যে অংশ খেয়েছিলাম তা ফেলে দেয়া উচিত ছিল? কেননা আমি এক হাদিসে শুনেছি আবু বকর (রা) একবার সদকার মাল ভুলে খেয়ে ফেলার পর জানতে পেরে বমি করে ফেলেছিলেন।আমার দিতীয় প্রশ্ন হল আমারা এই সকল দেশে গেলে চেষ্টা করি হালাল খাবার (বিশেষ করে পাওরুটি, কেক, বিস্কিট ইত্তাদি) খেতে। কিন্তু শুনেছি তারা শুকরের চরবি নানা খাবারে use করে, কিন্তু কোব কেকে বা রুটিতে করে তাতো জানা সম্ভব হয় না। সেখেত্রে এই সমস্ত পাওরুটি, কেক, বিস্কিট ইত্তাদি খাওয়া কি জায়েজ হবে? আল্লাহআপনাকেউত্তমপ্রতিদানদানকারুন। আমিন।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
হ্যাঁ। হারাম কোন কিছু খেলে বমি করে ফেলা উচিৎ। এমন পরিস্থিতিতে আপনি শুকনা খাবার খাবেন। শুকনা খাবারের প্যাকেটে উপকরণ লেখা থাকে সেটা দেখে নেবেন। হারাম কোন কিছু থাকলে খাবেন না। আর হারাম কোন কিছু না থাকলে আশা করি নাজায়েজ হবে না।
প্রশ্নঃ 287
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: আমি একজন উনিভার্সিটির ছাত্র, হল এর মসজিদ এ নামাজ পড়ি কিন্তু আমাদের হলের মসজিদের ইমাম সাহেবের কুরআন তেলাওয়াত অশুদ্ধ। এক্ষেত্রে আমি একাকি ঘরে সালাত আদায় করলে সেটা জায়েজ হবে কিনা?
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
যদি ইমাম সাহেবের কুরআন পড়া এতটা অশুদ্ধ হয় যে অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায় তাহলে আপনাকে জামাতে নামায পড়ার পর পূনরায় একাকী নামায পড়তে হবে। আর যদি অর্থ পরিবর্তন না হয় তাহলে জামাতে নামায পড়বেন। এবং নতুন করে নামায পড়ার প্রয়োজন নেই। সর্বক্ষেত্রে জামাত আবশ্যক।
প্রশ্নঃ 286
আসসালামু আলাইকুম, আমি মহাম্মাদ আল আমিন। আমি স্যার এর একজন ভক্ত এবং নিয়মিত youtube এ স্যার এর লেকচার শুনি। স্যার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গির নামাজে সুরা ফাতেহা পড়া সম্পর্কে বলেছেন যে, ইমাম যখন চুপ থাকবে তখন মুক্তাদি সুরা ফাতেহা পড়বে আর ইমাম যখন কেরাত পড়বে মুক্তাদি তখন শুনবে।আমি জার্মানি তে থাকি। আমার পাশের রুম এর এক বড়ভাই আছেন ।ঊনি আজ বলল যে ইমাম যখন চুপ থাকবে তখন মুক্তাদি সুরা ফাতেহা পড়বে আর ইমাম যখন কেরাত পড়বে মুক্তাদি তখন শুনবে। এটা নাকি কুরআন হাদিস এর কথাও নেই। উলটা এরকম পরলে নাকি বেদাত হবে। অনুগ্রহ করে হাদিস ও কুরআন এই সমস্যার সমাধান দিলে উপকৃত হবো।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আপনি কী বলতে চেয়েছেন তা অস্পষ্ট। সূরা ফাতিহা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা হলো ইমাম যে সব নামাযে স্বশব্দে কুরআন পড়ে অর্থাৎ ফজর,মাগরিব ও ইশার নামাযে মুক্তাদিগণ ইমামের পিছনে কুরআন থেকে কোন কিছু পড়বে না আর যে সব নামাযে নিঃশব্দে কুরআন পড়েন সে সব নামাযে কুরআন পাঠ করবে। এই পদ্ধতিটি সহীহ হাদীস দ্বরা প্রমানিত। সাহবী হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রা. বলেন,
كُنَّا نَقْرَأُ فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ خَلْفَ الإِمَامِ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الأُولَيَيْنِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَسُورَةٍ, وَفِي الأُخْرَيَيْنِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ
আমরা জোহর ও আসরের প্রথম দু রাকআতে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা এবং শেষ দু রাকআতে শুধু সূরা ফাতিহা পাঠ করতাম। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৮৪৩। শায়খ আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। এই হাদীসটি থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, জোহর ও আসরের নামাযে কুরআন পড়তে হবে আর অন্যান্য নামাযে চুপ থাকতে হবে। না, ভাই। হাদীসের কোন অংশ বাদ দিয়ে বলা হয় নি। প্রকৃতপক্ষে এ অর্থে কয়েকটি হাদীস রয়েছে। আমরা একটি হাদীসের মর্মার্থ বা সার সংক্ষেপ বলেছিলাম আর এবং আপনি অন্য হাদীস ভেবেছেন। উক্ত ভিডিওতে নিম্নের দুটি হাদীসের র্মর্ম সংক্ষেপে বলা হয়েছিল:
عن أبي هريرة : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم انصرف من صلاة جهر فيها بالقراءة فقال هل قرأ معي أحد منكم آنفا ؟ فقال رجل نعم يا رسول الله قال إني أقول مالي أنازع القرآن ؟ ! قال فانتهى الناس عن القراءة مع رسول الله صلى الله عليه و سلم فيما جهر فيه رسول الله صلى الله عليه و سلم من الصلوات بالقراءة حين سمعوا ذلك من رسول الله صلى الله عليه و سلم
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, একদা স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামায শেষ করে রাসূল (সা.) ফিরে তাকিয়ে বললেন, তোমাদের কেউ কি একটু আগে আমার সাথে পড়েছে? তখন একজন লোক বললেন, হ্যাঁঁ, ইয়া রাসূলূল্লাহ। এরপর রাসূল (সা.) বললেন, আমার সাথে কুরআন নিয়ে ঝগড়া করা হচ্ছে কেন? আবু হুরায়রা বলেন, এরপর থেকে যে সব নামাযে রাসূল (সা.) স্বশব্দে কুরআন পড়তেন তখন মানুষেরা পড়া থেকে বিরত থাকতেন। তিরমিযী: হাদিস নং ৩১২। ইমাম তিরমিযী (র.) বলেছেন, হাদীসটি হাসান আর শায়খ আলবানী বলেছেন, সহীহ। এই হাদীসে সূরা ফাতিহা পড়ার কথা বলা হয় নি। শায়খ আলবানী রহ. নামাযে সূরা ফাতিহার পড়ার বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন এভাবে:
( انصرف من صلاة جهر فيها بالقراءة ( وفي رواية : أنها صلاة الصبح ) فقال : ( هل قرأ معي منكم أحد آنفا ) فقال رجل : نعم أنا يا رسول الله فقال : إني أقول : ( ما لي أنازع ) . [قال أبو هريرة : ] فانتهى الناس عن القراءة مع رسول الله صلى الله عليه وسلم – فيما جهر فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم بالقراءة – حين سمعوا ذلك من رسول الله صلى الله عليه وسلم [ وقرؤوا في أنفسهم سرا فيما لا يجهر فيه الإمام ])
একদা স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামায শেষ করে ( কোন কোন বর্ণনায় ফজরের নামায) রাসূল (সা.) ফিরে তাকিয়ে বললেন, তোমাদের কেউ কি একটু আগে আমার সাথে পড়েছে? তখন একজন লোক বললেন, হ্যাঁঁ, ইয়া রাসূলূল্লাহ। এরপর রাসূল (সা.) বললেন, আমার সাথে কুরআন নিয়ে ঝগড়া করা হচ্ছে কেন? (আবু হুরায়রা বলেন,) এরপর থেকে যে সব নামাযে রাসূল (সা.) স্বশব্দে কুরআন পড়তেন তখন মানুষেরা পড়া থেকে বিরত থাকতেন। (এর যে সব নামাযে ইমাম স্বশব্দে কুরআন পড়েন না সেই নামাযে তারা মনে মনে কুরআন পড়তেন। এরপর তিনি আরো বলেন,
,وله شاهد من حديث عمر وفي آخرة ما لى أنازع القرآن ؟ !أما يكفى أحدكم قراءة إمامه ؟ إنما جعل الإمام ليؤتم به, فإذا قرأ فأنصتوا رواه البيهقى فى كتاب وجوب القراءة فى الصلاة كما فى الجامع الكبير للسيوطى
(৩/৩৩৪/২. এই হাদীসটির অর্থকে সমর্থন কারী (শাহেদ) আরো একটি হাদীস আছে যা উমার রা. থেকে বর্ণিত। সেই হাদীসটির শেষে আছে কেন আমার সাথে ঝগড়া করা হচ্ছে? তোমাদের কারো কারো জন্য কি তার ইমামের কুরআন পাঠ যথেষ্ঠ নয়? নিশ্চয় ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে তাকে অনুস্মরণের জন্য সুতরাং তিনি যখন পড়বেন তখন তোমরা চুপ থাকবে। হাদীসটি ইমাম বাইহাক্কী বর্ণনা করেছেন কিতাবু উযুহিল কিরআত ফি আস-সালাত গ্রন্থে। এই কথা উল্লেখ আছে ইমাম সূয়ুতিরি আলজামিউল কাবীর কিতাবে। (সিফাতুস সালাত ৭১ পৃষ্ঠা। মুদ্রণ -১৯৮৭ ইংরেজী) একই ধরণের নির্দেশ নিচের হাদীসটিতেও দেয়া হয়েছে।
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- صَلَّى الظُّهْرَ فَجَعَلَ رَجُلٌ يَقْرَأُ خَلْفَهُ بِسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ أَيُّكُمْ قَرَأَ أَوْ أَيُّكُمُ الْقَارِئُ فَقَالَ رَجُلٌ أَنَا. فَقَالَ قَدْ ظَنَنْتُ أَنَّ بَعْضَكُمْ خَالَجَنِيهَا
ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত যে, বাসূল সা. যুহরের নামায পড়ছিলেন,তখন এক ব্যক্তি তাঁর পিছনে সাব্বিহ-সমা রব্বিকা… এই সূরা পড়তে শুরু করল, যখন রাসূল সা. নামায শেষে পিছনে ফিরলেন তখন বললেন তোমাদের মধ্যথেকে কে পড়ল কিংবা তোমাদের মধ্যে পাঠকারী কে? একজন লোক বললেন আমি। রাসূল সা. বললেন, আমি মনে মনে ভাবছিলাম, কে আমাবে কষ্ট দিেেচ্ছ। সহীহ মুসলিম: হাদীস নং ৩৯৮। এই হাদীসটিতেও পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। সূরা ফাতিহা পড়ার কথা বলা হয় নি। এগুলোর বিপরীতে কোনো কোনো হাদীসে সূরা ফাতিহা পড়ার কথা বলা হয়েছে। এ অর্থে দুটি হাদীস বিদ্যমান। প্রথম হাদীসটি অজ্ঞাত নামা একজন সাহাবী থেকে এবং দ্বিতীয়টি উবাদা ইবনুস সামিত (রা) থেকে। প্রথম হাদীসটি সহীহ এবং দ্বিতীয় হাদীসটি দুর্বল। প্রথম হাদীসটি নিম্নরুপ:
عن محمد بن أبي عائشة عن رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه و سلم قال قال النبي صلى الله عليه و سلم : لعلكم تقرءون والإمام يقرأ مرتين أو ثلاثا قالوا يا رسول الله انا لنفعل قال فلا تفعلوا الا ان يقرأ أحدكم بفاتحة الكتاب
অর্থ: মুহাম্মাদ ইবনে আয়েশা একজন সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সা.) একদা বললেন, সম্ভবত তোমরা ইমামের পড়া অবস্থায ইমামের সাথে সূরা পড়, তিনি দুই তিনবার এই কথা বললেন। তখন সাহাবীর বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ আমরা এমন করি। তখন তিনি বললেন, তোমরা এমন করবে না, তবে তোমাদের যে কেউ সূরা ফাতিহা পড়তে পারো। মুসনাদে আহমাদ: হাদীস নং ১৮০৯৫ ও আস-সুনানুল কুবরা: হাদীস নং ৩০৩৯। শুয়াইব আরনাউত বলেছেন, হাদীসের সনদ সহীহ, ইমাম বায়হাক্কী বলেছেন, সনদটি ভাল, শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, هذا إسناد جيد এটা ভাল সনদ। দ্বিতীয় হাদীস:
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ كُنَّا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فِى صَلاَةِ الْفَجْرِ فَقَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَثَقُلَتْ عَلَيْهِ الْقِرَاءَةُ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ لَعَلَّكُمْ تَقْرَءُونَ خَلْفَ إِمَامِكُمْ قُلْنَا نَعَمْ هَذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ لاَ تَفْعَلُوا إِلاَّ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَإِنَّهُ لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِهَا
অর্থ: উবাদা ইবনে সামেত রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা রাসূল সা. এর পিছনে ফজরের নামায পড়ছিলাম। রাসূল সা.সূরা পড়ছিলেন কিন্তু পড়া তাঁর জন্য কষ্টকর হয়ে যাচ্ছিল। নামায শেষে তিনি বললেন, সম্ভবত তোমরা ইমামের পিছনে পড়ছিলে। আমরা বললাম হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন, শুধু সূরা ফাতিহা পড়বে, কেননা যে তা না পড়বে তার নামায হবে না। আবু দাউদ: হাদীস নং ৮২৩, তিরমিযী: হাদীস নং ৩১১। বিভিন্ন কারণে হাদীসটি দূর্বল। তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হল ১. এই হাদীসের সনদে মাকহল নামে একজন মুদাল্লীস রাবী আছেন,যিনি এখানের মুয়ানয়ান বর্ণনা করেছেন। আর মুদাল্লীস রাবীর মুয়ানয়ান বর্ণিত হাদীস দলীল যোগ্য নয়। ২. তিনি একেক সময় একেক জন থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী যদিও হাদীসটি বর্ণনার পর হাসান বলেছেন কিন্তু মহাদ্দিসগনের তাহকীক মুতাবেক হাদীসটি যয়ীফ । আলবানী রহ. যয়ীফ বলেছেন। তাহকীক সহ বিস্তারিত জানার দেখুন যয়ীফ আবু দাউদ ১/৩১৭। উপরের আলোচনা থেকে আশা করি আপনি মূল বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।
প্রশ্নঃ 285
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: আমি এবং আমার মা, পারিবারিক আর্থিক দরকারের জন্য গয়না বন্ধক দিয়ে কয়েক লাখ টাকা সুদে লাগিয়েছিলাম তখন আমার বয়স অনেক কম ছিলো, আমি মাত্র ক্লাস ১০ এ পড়তাম। . সেই লোকগুলো ৩-৪ মাস টাকার লাভ দিয়ে, এখন প্রায় ৩ বছর ধরে আর লাভ দিচ্ছেনা বা আসলও ফেরত দিচ্ছে না. কুরআন সুন্নাহ জানতে পেরে আমরা তৌবা করেছি এবং লাভ এর টাকা মাফ করে দিয়েছি, তবে আমরা ব্যাংক এর কাছে ঋণগ্রস্ত, এবং আমাদের ঋণ দিনে দিনে বাড়ছে। আর অপর দিকে, তারা আমাদেরকে আমাদের আসল টাকাও দিচ্ছে না. এখন এই ক্ষেত্রে আমি বা আমার মা কি করতে পারি?
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আপনারা সুদে টাকা খাটানোর পর গ্রাহকদের কাছে থেকে যে টাকা সুদ হিসাবে নিয়েছেন তা মূল টাকা থেকে বাদ দিন। এখন যে টাকা অবশিষ্ঠ থাকবে সেটাই আপনাদের প্রাপ্য টাকা। আপনারা গ্রাহকদের বলুন যে, তাদের পূর্ণ টাকা দিতে হবে না বরং সুদ হিসাবে যা দিয়েছে তা বাদে বাকী টাকা দিতে হবে। এমন করলে আশা করি তারা আপনাদের টাকা ফেরৎ দিবে। আর আপনারাও ব্যাংকের ঋন পরিষোধ করতে পারবেন।
প্রশ্নঃ 284
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: বিয়ের মহর পরে দেওয়া যাবে কি? দেওয়া গেলে কত দিনের মধ্যে দিতে হবে। সেটার জন্যে বউকে কি সময় বলে দিতে হবে? কতটুকু পরে দেওয়া যাবে? মহর হিসেবে কি কি জিনিস দেওয়া যাবে? মেয়ের বাবা নাই, সেক্ষেত্রে কাকা বা মামার মধ্যে কে উকিল হতে পারবেন? কাকা আসতে না পারলে মামা কি উকিল হতে পারবেন? ওলিমা ১, ২ বছর পরে করা যাবে কি? অলিমা তে কি গোশ্ত কিনে অলিমা করা যাবে?
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
হাদীসে বিয়ের সময়ই মহর দেয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ফকীহগণ বলেছেন পরে দিলেও হবে। এক্ষেত্রে পরিমাণ ও সময় নির্দিষ্ট করা নেই। টাকা-পয়সা, গহন বা যে কোন সম্পদ দ্বারা মোহর দেয় যায়। পিতার অনুপস্থিতিতে চাচা-মামা উকিল হতে পারবে। ওলিমা কত দিনের মধ্যে করতে হবে এ ব্যাপারে একটি যয়ীফ হাদীস আসে। হাদীসটি হলো রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
الْوَلِيمَةُ أَوَّلَ يَوْمٍ حَقٌّ ، وَالثَّانِيَ مَعْرُوفٌ ، وَالثَّالِثَ رِيَاءٌ وَسُمْعَةٌ
ওলিমা প্রথম দিনই হওয়া দরকার, দ্বিতীয় দিনেও ভাল আর তৃতীয় দিনে লোক দেখানে। (সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৭৪৭; সুনানু ইবনে মাজাহ,হাদীস নং ১৯১৫। হাদীসটি সর্বাক্যমতে যয়ীফ। হাদীসটি যেহেতু দূর্বল তাই আমরা বলতে পারি প্রথম দুই দিনের ভিতর ওলিমা করা সবচেয়ে ভাল। এই সময়ে করতে না পারলে যতটা সম্ভব দ্রুত করবে।
প্রশ্নঃ 283
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: ১. কুরআনে জের, জবর, পেশ যুক্ত করেছেন হাজ্জাজ বিন ইউসুফ – ইনি কি সেই যিনি আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা) কে হত্যা করেছিল? ২. উমরা বা হাজ্জ এ গিয়ে বেশি বেশি তাওয়াফ করা ভাল নাকি অন্যান্য নফল ইবাদাত? তাওয়াফ এর ক্ষেত্রে কি বাবা,মা, স্ত্রি সকলের পক্ষ থেকে করা যাবে? ৩. হাজ্জ বা উমরাহ বিষয়ে স্যার এর একটি বই বের হওয়ার কথা ছিল, সেটি কি বের হয়েছে?
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ
১। কুরআন শরীফে মূলত হরকত লাগিয়েছেন হযরত আলী রা.। হাজ্জাহ বিন ইউসুফও কিছু কাজ করেছেন। অন্য দিকে আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়েরসহ অনেক নেককার মানুষকে তিনি শহীদ করেছেন।
২। হজ্বের সময় বেশী তাওয়াফ করাই উত্তম।
৩। জি, হজ্জের আধ্যাত্মিক শিক্ষা – সংগ্রহ করুন।
প্রশ্নঃ 282
আস্সালামুআলাইকুম আমি শুনেছি যে মিউজিক বা গান হারাম। তো স্যার আমার প্রশ্ন হলো গান শুনতে তো ভালো লাগে। এটার দৈহিক কি কোনো ক্ষতি আছে? তাহলে এটা কেন হারাম?
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আলেমগণের সর্বাক্যমতে মিউজিক বা বাদ্যযন্ত্র হারাম। আবু আমির রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّونَ الْحِرَ وَالْحَرِيرَ وَالْخَمْرَ وَالْمَعَازِفَ
অর্থ: আমার উম্মতের মধ্যে অবশ্যই এমন একটি দল বা সম্প্রদায় আত্ম প্রকাশ করবে যারা ব্যভিচার (জিনা),রেশম, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে। … সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৫৯০। উক্ত হাদীসের আলোকে সকল আলেম একমত যে, মিউজিক হারাম। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন,
فَذَهَبَ الْأَئِمَّةُ الْأَرْبَعَةُ : أَنَّ آلَاتِ اللَّهْوِ كُلَّهَا حَرَامٌ . وَلَمْ يَذْكُرْ أَحَدٌ مِنْ أَتْبَاعِ الْأَئِمَّةِ فِي آلَاتِ اللَّهْوِ نِزَاعًا
চার ইমাম এই মত পোষন যে, সকল বাদ্যযন্ত্র হারাম। … অনুস্মরণীয় কোন আলেম এ ব্যাপারে দ্বিমত করেন নি। মাজমাউল ফাতাওয়া, ১১/৫৭৬। শাইখ আলবানী রহ. বলেন,
اتفقت المذاهب الأربعة على تحريم آلات الطرب كلها
চার মাজহাব এ ব্যাপারে ঐক্যমত পোষন করেছে যে, সমস্ত বাদ্যযন্ত্র হারাম। সিলসিলাতুস সহীহাহ, ১/৯০। ৯১ নং হাদীসের আলোচনায়। গানবাদ্য মানুষকে কর্মবিমূখ করে তোলে, অলস বানায়। গান এক ধরনের নেশার সৃষ্টি করে, যার কারণে কাজে মন বসে না। সবচেয়ে বড় কথা গানবাদ্য আল্লাহ তায়ালার ইবদত থেকে দূরে ঠেলে দেয়, ইবাদতে স্বাদ পাওয়া যায় না। এসব বিভিন্ন কারণে গান হারাম। তাই প্রতিটি মূমিন মুসলিমের জন্য আবশ্যক হলো গান-বাজনা পরিহার করা। আল্লাহ আমাদেরকে তাওফিক দিন।
প্রশ্নঃ 281
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: আমি বিবাহের পূর্বে আমর হবু স্ত্রিকে কথা দিয়ে ছিলাম বিবাহের পর তাকে আমি শহরে রাখব কিন্তু আমি এখন বাড়ী তৈরী করার আশা পোষন করায় আমার আব্বা আম্মা গ্রামের জমিতেই বাড়ী করার জন্য বলছেন কোনভাবেই আমি শহরে বাড়ী করি তিনারা চান না এখন আমার স্ত্রিও নাছোড় বান্দি কোনভাবেই ওনি গ্রামে থাকবেন না, আমার তেমন সামার্থও নাই যে দুইটা বাড়ি করবো এখন আমি না পারছি স্ত্রির সাথে কৃত ওয়াদা রক্ষা করতে না পারছি আব্বা আম্মা কে কষ্ট দিতে। কুরআন হাদিসের আলোকে যদি জানাতেন আমার এখন করণীয় কি? তবে আমি অনেক উপকৃত হতাম।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আপনার যদি শহরে বাড়ি করার সামর্থ না থাকে তাহলে সেখানে বাড়ি ভাড়া নিতে পারেন। পিতা-মাতাকে বুঝাতে থাকুন। দোয়া করুন। ইনশাআল্লাহ সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
প্রশ্নঃ 280
মুহতারাম, আস সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: আমি একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট। আমর শিক্ষার প্রয়োজেনে মানুষের কঙ্কাল কিনতে হয় কিন্তু ১ম বর্ষে র পর অর্থাৎ ৩য় বর্ষের গেলে কঙ্কাল আর প্রয়োজন হয়না। তাই এটা এখন আমি বিক্রী করতে চাই, যেমন অন্যরা করে । কিন্তু আমি এটা কিনেছিলাম ২৪০০০ টাকা দিয়ে যার বর্তমান মূল্য ৩০০০০ টাকা। আমি কি এটা ৩০০০০ টাকায় বিক্রি করতে পারবো? অনেক আলেম বলেন – কঙ্কাল বিক্রি করা জায়জ নাই? সঠিক সমাধান চাই।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
শিক্ষার উপকরণ হিসেবে কঙ্কাল বেচাকেনা জায়েজ আছে তাই আপনি বিক্রী করতে পারবেন। দাম কোন বিষয় নয়, বাজার দর অনুযায়ী বিক্রী করা যাবে। সুতরাং আপনি ৩০ হাজার টাকায় বিক্রী করতে পারবেন।
প্রশ্নঃ 278
I live in UK. It is very difficult to make Wadu when I go outside. Some times no facilities for Wadu. My question If I wash Hand, Head face according to Sunna (In a basin), Can I do Massa on feet? If Yes? Then how? Jajak-Allah.
27 Dec 2025
আপনি অফিসে আসার পূর্বে ওযু অবস্থায় চামড়ার মোজা অথবা কাপড়ের মোটা মোজা পরে নেবেন। এই অবস্থায় পা মাসেহ করবেন আর অন্যান্য অঙ্গ ধুবেন। আশা করি সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।
প্রশ্নঃ 279
স্যার আস-সালামু আলাইকুম, আশা করি আপনি খুব ভালো আছেন। আমার প্রশ্নের উত্তর তাড়াতাড়ি দিলে ভালো হতো। আমি মেডিটেশন করতে চাই। এটা কি শিরয়ত সম্মত কি না জানতে চাই। এটা কি কোনো শির্ক হবে কিনা। আর আমি একজন ছাত্র তাই আমার লেখাপড়ার জন্য আত্মবিশ্বাস দরকার। তাই আত্মবিশ্বাস বাড়ার জন্য আমাকে সুন্নাহ সম্মত কিছু নিয়ম বলুন। আশা করি আমার প্রশ্নের উত্তর আপনি খুব দ্রুত দিবেন।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালালাম।
আপনি মেডিটেশনে যাবেন। এর অনেক ক্ষতিকর দিক রয়েছে। বরং আপনি সুন্নাহ সম্মত দুয়া ও যিকিরে মনোনিবেশ করুন। এর মাধ্যমে আপনি আল্লাহ তায়ালার প্রিয়পাত্র হয়ে উঠবেন আর আপনার আত্নবিশ্বাসও বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ।
প্রশ্নঃ 277
আসসালামু আলাইকুম স্যর আমার প্রশ্ন হলো কুরআনে কেনো আল্লাহার নামের সঙ্গে পুরুষ লিঙ্গ বাচক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে । যেমন সুরা ইখলাশ আয়াত নং ১
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
স্ত্রীবাচক শব্দ না হলে আরবী ভাষাষ পুরুষবাচক সর্বনামই ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্নঃ 276
আসসালামু আলাইকুম, সালাতের ঐক্য নামের একটা ভিডিও তে দেখলাম আপনি বলছেন রাসুল স: এর পিছনে কিরাত পরার পর জিজ্ঞাসা করলেন তোমরা কি কিরাত পড়ছ? সাহাবারা বলল হা তখন রাসুল স: বললেন তোমরা এখন থেকে আর পরবেনা। হাদিস তো এখানেই শেষ না পরের কথা টুকু কেন বললেন না। সেটাই তো আসল কথা। তোমরা কিরাত পরবেনা ফাতেহা ছাড়া।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
না, ভাই। হাদীসের কোন অংশ বাদ দিয়ে বলা হয় নি। প্রকৃতপক্ষে এ অর্থে কয়েকটি হাদীস রয়েছে। আমরা একটি হাদীসের মর্মার্থ বা সার সংক্ষেপ বলেছিলাম আর এবং আপনি অন্য হাদীস ভেবেছেন। উক্ত ভিডিওতে নিম্নের দুটি হাদীসের র্মর্ম সংক্ষেপে বলা হয়েছিল:
عن أبي هريرة : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم انصرف من صلاة جهر فيها بالقراءة فقال هل قرأ معي أحد منكم آنفا ؟ فقال رجل نعم يا رسول الله قال إني أقول مالي أنازع القرآن ؟ ! قال فانتهى الناس عن القراءة مع رسول الله صلى الله عليه و سلم فيما جهر فيه رسول الله صلى الله عليه و سلم من الصلوات بالقراءة حين سمعوا ذلك من رسول الله صلى الله عليه و سلم
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, একদা স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামায শেষ করে রাসূল (সা.) ফিরে তাকিয়ে বললেন, তোমাদের কেউ কি একটু আগে আমার সাথে পড়েছে? তখন একজন লোক বললেন, হ্যাঁঁ, ইয়া রাসূলূল্লাহ। এরপর রাসূল (সা.) বললেন, আমার সাথে কুরআন নিয়ে ঝগড়া করা হচ্ছে কেন? আবু হুরায়রা বলেন, এরপর থেকে যে সব নামাযে রাসূল (সা.) স্বশব্দে কুরআন পড়তেন তখন মানুষেরা পড়া থেকে বিরত থাকতেন। তিরমিযী: হাদিস নং ৩১২। ইমাম তিরমিযী (র.) বলেছেন, হাদীসটি হাসান আর শায়খ আলবানী বলেছেন, সহীহ। এই হাদীসে সূরা ফাতিহা পড়ার কথা বলা হয় নি। শায়খ আলবানী রহ. নামাযে সূরা ফাতিহার পড়ার বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন এভাবে:
نصرف من صلاة جهر فيها بالقراءة ( وفي رواية : أنها صلاة الصبح) فقال : (هل قرأ معي منكم أحد آنفا) فقال رجل : نعم أنا يا رسول الله فقال : إني أقول : ( ما لي أنازع). [قال أبو هريرة :] فانتهى الناس عن القراءة مع رسول الله صلى الله عليه وسلم – فيما جهر فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم بالقراءة – حين سمعوا ذلك من رسول الله صلى الله عليه وسلم [وقرؤوا في أنفسهم سرا فيما لا يجهر فيه الإمام] )
একদা স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামায শেষ করে ( কোন কোন বর্ণনায় ফজরের নামায) রাসূল (সা.) ফিরে তাকিয়ে বললেন, তোমাদের কেউ কি একটু আগে আমার সাথে পড়েছে? তখন একজন লোক বললেন, হ্যাঁঁ, ইয়া রাসূলূল্লাহ। এরপর রাসূল (সা.) বললেন, আমার সাথে কুরআন নিয়ে ঝগড়া করা হচ্ছে কেন? (আবু হুরায়রা বলেন,) এরপর থেকে যে সব নামাযে রাসূল (সা.) স্বশব্দে কুরআন পড়তেন তখন মানুষেরা পড়া থেকে বিরত থাকতেন। (এর যে সব নামাযে ইমাম স্বশব্দে কুরআন পড়েন না সেই নামাযে তারা মনে মনে কুরআন পড়তেন। এরপর তিনি আরো বলেন,
,وله شاهد من حديث عمر وفي آخرة ما لى أنازع القرآن ؟ !أما يكفى أحدكم قراءة إمامه ؟ إنما جعل الإمام ليؤتم به, فإذا قرأ فأنصتوا رواه البيهقى فى كتاب وجوب القراءة فى الصلاة كما فى الجامع الكبير للسيوطى
(৩/৩৩৪/২. এই হাদীসটির অর্থকে সমর্থন কারী (শাহেদ) আরো একটি হাদীস আছে যা উমার রা. থেকে বর্ণিত। সেই হাদীসটির শেষে আছে কেন আমার সাথে ঝগড়া করা হচ্ছে? তোমাদের কারো কারো জন্য কি তার ইমামের কুরআন পাঠ যথেষ্ঠ নয়? নিশ্চয় ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে তাকে অনুস্মরণের জন্য সুতরাং তিনি যখন পড়বেন তখন তোমরা চুপ থাকবে। হাদীসটি ইমাম বাইহাক্কী বর্ণনা করেছেন কিতাবু উযুহিল কিরআত ফি আস-সালাত গ্রন্থে। এই কথা উল্লেখ আছে ইমাম সূয়ুতিরি আলজামিউল কাবীর কিতাবে। (সিফাতুস সালাত ৭১ পৃষ্ঠা। মুদ্রণ -১৯৮৭ ইংরেজী) একই ধরণের নির্দেশ নিচের হাদীসটিতেও দেয়া হয়েছে।
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- صَلَّى الظُّهْرَ فَجَعَلَ رَجُلٌ يَقْرَأُ خَلْفَهُ بِسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ أَيُّكُمْ قَرَأَ أَوْ أَيُّكُمُ الْقَارِئُ فَقَالَ رَجُلٌ أَنَا. فَقَالَ قَدْ ظَنَنْتُ أَنَّ بَعْضَكُمْ خَالَجَنِيهَا
ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত যে, বাসূল সা. যুহরের নামায পড়ছিলেন,তখন এক ব্যক্তি তাঁর পিছনে সাব্বিহ-সমা রব্বিকা… এই সূরা পড়তে শুরু করল, যখন রাসূল সা. নামায শেষে পিছনে ফিরলেন তখন বললেন তোমাদের মধ্যথেকে কে পড়ল কিংবা তোমাদের মধ্যে পাঠকারী কে? একজন লোক বললেন আমি। রাসূল সা. বললেন, আমি মনে মনে ভাবছিলাম, কে আমাবে কষ্ট দিেেচ্ছ। সহীহ মুসলিম: হাদীস নং ৩৯৮। এই হাদীসটিতেও পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। সূরা ফাতিহা পড়ার কথা বলা হয় নি। এগুলোর বিপরীতে কোনো কোনো হাদীসে সূরা ফাতিহা পড়ার কথা বলা হয়েছে। এ অর্থে দুটি হাদীস বিদ্যমান। প্রথম হাদীসটি অজ্ঞাত নামা একজন সাহাবী থেকে এবং দ্বিতীয়টি উবাদা ইবনুস সামিত (রা) থেকে। প্রথম হাদীসটি সহীহ এবং দ্বিতীয় হাদীসটি দুর্বল। প্রথম হাদীসটি নিম্নরুপ:
عن محمد بن أبي عائشة عن رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه و سلم قال قال النبي صلى الله عليه و سلم : لعلكم تقرءون والإمام يقرأ مرتين أو ثلاثا قالوا يا رسول الله انا لنفعل قال فلا تفعلوا الا ان يقرأ أحدكم بفاتحة الكتاب
অর্থ: মুহাম্মাদ ইবনে আয়েশা একজন সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সা.) একদা বললেন, সম্ভবত তোমরা ইমামের পড়া অবস্থায ইমামের সাথে সূরা পড়, তিনি দুই তিনবার এই কথা বললেন। তখন সাহাবীর বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ আমরা এমন করি। তখন তিনি বললেন, তোমরা এমন করবে না, তবে তোমাদের যে কেউ সূরা ফাতিহা পড়তে পারো। মুসনাদে আহমাদ: হাদীস নং ১৮০৯৫ ও আস-সুনানুল কুবরা: হাদীস নং ৩০৩৯। শুয়াইব আরনাউত বলেছেন, হাদীসের সনদ সহীহ, ইমাম বায়হাক্কী বলেছেন, সনদটি ভাল, শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, هذا إسناد جيد এটা ভাল সনদ। দ্বিতীয় হাদীস:
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ كُنَّا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فِى صَلاَةِ الْفَجْرِ فَقَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَثَقُلَتْ عَلَيْهِ الْقِرَاءَةُ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ لَعَلَّكُمْ تَقْرَءُونَ خَلْفَ إِمَامِكُمْ قُلْنَا نَعَمْ هَذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ لاَ تَفْعَلُوا إِلاَّ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَإِنَّهُ لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِهَا
অর্থ: উবাদা ইবনে সামেত রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা রাসূল সা. এর পিছনে ফজরের নামায পড়ছিলাম। রাসূল সা.সূরা পড়ছিলেন কিন্তু পড়া তাঁর জন্য কষ্টকর হয়ে যাচ্ছিল। নামায শেষে তিনি বললেন, সম্ভবত তোমরা ইমামের পিছনে পড়ছিলে। আমরা বললাম হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন, শুধু সূরা ফাতিহা পড়বে, কেননা যে তা না পড়বে তার নামায হবে না। আবু দাউদ: হাদীস নং৮২৩, তিরমিযী: হাদীস নং৩১১। বিভিন্ন কারণে হাদীসটি দূর্বল। তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হল ১. এই হাদীসের সনদে মাকহল নামে একজন মুদাল্লীস রাবী আছেন,যিনি এখানের মুয়ানয়ান বর্ণনা করেছেন। আর মুদাল্লীস রাবীর মুয়ানয়ান বর্ণিত হাদীস দলীল যোগ্য নয়। ২. তিনি একেক সময় একেক জন থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী যদিও হাদীসটি বর্ণনার পর হাসান বলেছেন কিন্তু মহাদ্দিসগনের তাহকীক মুতাবেক হাদীসটি যয়ীফ । আলবানী রহ. যয়ীফ বলেছেন। তাহকীক সহ বিস্তারিত জানার দেখুন যয়ীফ আবু দাউদ ১/৩১৭। উপরের আলোচনা থেকে আশা করি আপনি মূল বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।
প্রশ্নঃ 275
সরকারি চাকরি করতে গিয়ে নিজের অনিচ্ছা সত্ত্বেও কি রাষ্ট্রীয় শিরক্ করা যাবে? সরকারি চাকরির পুলিশ ভেরিফিকেশনে অনিচ্ছা সত্ত্বেও যদি পুলিশকে ঘুষ দেয়া লাগে, তাহলে চাকরি ও বেতন কি হালাল হবে?
27 Dec 2025
ঘুষ সর্ববাস্থায় হারাম। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকুরী না হলে ঘুষ দিয়ে চাকুরী নিলে বেতন হালাল হবে, হারাম হবে না। তবে এজন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আপনি যদি কোন কারনে বাধ্য হন তাহলে এর জন্য আল্লাহ কাছে তওবা করবেন। যোগ্যতা থাকা সত্তে¡ও যোগাযোগ ছাড়া চাকরী যদি না হয় তাহলে যোগাযোগের (ঘুষের) মাধ্যমে চাকরী নিলে আশা করা যায় বেতনের টাকা হারাম হবে না তবে ঘুষের গোনাহর জন্য আপনাকে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে, মাফ চাইতে হবে।
প্রশ্নঃ 274
আসসালামু আলাইকুম, জনাব খেলার দ্বারা (ক্রিকেট, ফুটবল) টাকা ইনকাম করা কি হালাল/জায়েয? ইসলামে এর বিধান কি? জানাবেন।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
খেলা যদি জায়েজ হয় তাহলে খেলার জন্য পারশ্রমিক নেয়া জায়েজ। আর জায়েজ না হলে পারিশ্রমিক নেয়াও না জায়েজ।
প্রশ্নঃ 273
কোনো হিন্দু উর্ধতন কর্মকর্তার অধিনে মুসলমান অধঃস্তন কর্মকর্তা চাকুরি করলে,মুসলমান কর্মকর্তা সেই হিন্দু উর্ধতন কর্মকর্তাকে কিভাবে সন্মান করবেন। উল্লেখ্য আমরা মুসনমানের ক্ষেত্রে সালাম দিয়ে থাকি। তাহলে হিন্দুর ক্ষেত্রে কি করব?
27 Dec 2025
এক্ষেত্রে আপনি শুভ সকাল, শুভ সন্ধা, আদাব এজাতীয় শব্দ বলতে পারেন।
প্রশ্নঃ 272
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: আমার পিতামাতা যদি হারাম উপায়ে টাকা কামাই করে অ্যান্ড আমি যদি সেই খাবার খেয়ে ইবাদত করি তাহলে কি কবুল হবে?
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
সন্তান যদি ছোট হয়ে তাহলে সন্তানের ভরন- পোষণের দায়িদ্ব পিতা-মাতার। এই সময়ে পিতা-মতার হারাম উপার্জনের কারণে সন্তানের কোন সমস্যা নেই। আর বড় হলে সন্তান নিজে উপার্জন করবে, পিতা-মাতার হারাম উপার্জনের খাবার খাবে না।
প্রশ্নঃ 271
আমরা যেকোনো অসুখে ভুগলে ডাক্তার কিছু থেকে বাধা করেন কেউ কেউ বলে এসব খাবারের কি কোনো ক্ষমতা আছে যে তোমার রোগ বাড়িয়ে দিবে এটা কি শির্ক হবে কি না
27 Dec 2025
না, এতে শিরক হবে না।
প্রশ্নঃ 270
স্যার রাতে অনেক আজে বাজে সপ্ন দেখে ফযয়ের সালত মিস হলে কি করব। দয়াকয়ে জানাবেন।
27 Dec 2025
ঘুমের শুরুতে দুআ পড়বেন। একটি দোয়া হলো,
بِاسْمِكَ رَبِّى وَضَعْتُ جَنْبِى وَبِكَ أَرْفَعُهُ إِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِى فَارْحَمْهَا وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ
সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ৫০৫২। হাদীস সহীহ। এছাড়াও সহীহ বুখারীর হাদীসে আছে রাসূলুল্লাহ সা. সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস একবার করে পড়ে দুহাত একত্র করে ফু দিয়ে শরীরে বুলতেন, এভাবে তিনবার করতেন। দোয়া পড়ার পর এলার্ন দিয়ে ঘুমাবেন। আশা করি আপনি যথাসমায়ে ঘুম থেকে উঠতে পারবেন।
প্রশ্নঃ 269
জুমআর সালাতে পূর্বে একবার বাংলায় এবং একবার আরবিতে অর্থাৎ দুবার খুৎবা দেয়া কি বেদায়াত?
27 Dec 2025
না, এভাবে প্রথমে বাংলায় বক্তব্য দিয়ে পরে আরবীতে খুৎবা দিলে কোন সমস্যা নেই। বরং আমাদের দেশের মানুষের জন্য ভাল। আর এমন করাই উত্তম।
প্রশ্নঃ 268
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: ১. এশার সালাত জামাতে গিয়ে শেষ ২ অথবা ১ রাকাত পেলে বাকি ২ অথবা ৩ রাকাত নিজে কিভাবে পড়বো সহিহ হাদিস এর আলোকে জানাবেন। ২.জামাতে ফরজ সালাতে সুরা ফাতিহা কি নিজে পড়বো নাকি শুনবো?
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
১। দুই রাকআত পেলে বাকী দুই রাকআতের প্রতি রাকআতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য একটি সূরা পাঠ করবেন। আর এক রাকআত পেলে এক রাকআত পড়ে বসে তাশাহুদু পড়বেন। এরপর বাকী দুই রাকআত পড়বেন। আপনার নিজে আদায় করা প্রথম দুই রাকআতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা পড়বেন।
২। এ বিষয়ে আলেমদের মাঝে কয়েকটি মত আছে। পড় না পড়র উভয় অবস্থাতেই নামায হবে। ইমাম ও একাকী নামায আদায়কারী ব্যক্তির জন্য সূরা ফাতিহা পডতে হবে। তবে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে কি না এই নিয়ে আলেমদের মাঝে কয়েকটি মত রয়েছে রয়েছে। এক. নামাযে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে। দুই. ফজর, মাগরিব ও এশার নামাযে অর্থাৎ যে সব নামাযে স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় সে সব নামাযে সূরা ফাতিহা পড়বে না। অর যে সব নামাযে কুরআন নিঃশব্দে পড়া হয় অর্থাৎ জোহর এবং আসরের নামাযে পড়া মুস্তাহাব। তিন. ফজর, মাগরিব ও এশার নামাযে অর্থাৎ যে সব নামাযে স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় সে সব নামাযে সূরা ফাতিহা পড়বে না। অর যে সব নামাযে কুরআন নিঃশব্দে পড়া হয় অর্থাৎ জোহর এবং আসরের নামাযে পড়া আবশ্যক। চার. কোন সময়ই ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়বে না। দলীলের আলোকে মনে হয় সরব নামাযে, অর্থাৎ স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামাযে সূরা ফাতিহা পড়া লাগবে না আর নীরব নামাযে, অর্থাৎ নিঃশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামাযে ইমামের পিছনে মুক্তাদিও সূরা পড়বেন। দলিলসহ বিস্তারিত আলোচনা ইনশা আল্লাহ পরবর্তীতে ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে প্রচার করা হবে।
প্রশ্নঃ 267
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: পুরুষ ও মহিলার নামাজের মাঝে কি কোনো পার্থক্য আছে? কেউ বলে কোন পার্থক্য নাই। আর কেউ বলে পার্থক্য আছে। দলিল সহ ব্যাখ্যা জানতে চাই।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
মহিলা ও পুরুষের মাঝে নামাযে মৌলিক কোন পার্থক্য নেই। তবে রুক, সিজদা ইত্যাদী সময়ে অধিকতর পর্দা রক্ষার্থে এক অঙ্গের সাথে অন্য অঙ্গ মিলিয়ে রাখা ভাল। অধিকাংশ ফকিহ ও ইমামের মত এটাই । হাদীসেও এর ইঙ্গিত পাওয়া যায়। হাদীসে পুরুষ ও মহিলার নামাযের মাঝে পার্থক্য না করা হলেও অন্যান্য অনেক হাদীসে, ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ী গণের কথার আলোকে জানতে পারি যে, কিছু কিছু বিষয়ে পুরুষ এবং মহিলার নাামাযের মাঝে পার্থক্য রয়েছে । নিম্নে কয়েকটি দলীল উল্লেখ করা হল। হাদীসের আলোকেঃ
أخبرناه أبو بكر محمد بن محمد أنبأ أبو الحسين الفسوي ثنا أبو علي اللؤلؤي ثنا أبو داود ثنا سليمان بن داود أنبأ بن وهب أنبأ حيوة بن شريح عن سالم بن غيلان عن يزيد بن أبي حبيب : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم مر على امرأتين تصليان فقال إذا سجدتما فضما بعض اللحم إلى الأرض فإن المرأة ليست في ذلك كالرجل
অর্থঃ (ইমাম বায়হাকী রহঃ ) আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মাদ এর সুত্রে তাবেয়ী য়াযীদ ইবনে আবী হাবীব এর থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নামাযরত দুই মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন । তখন তাদেরকে (সংশোধনের উদ্দেশে) বললেন, যখন সেজদা করবে তখন শরীর যমীনের সাথে মিলিয়ে দিবে । কেননা মহিলারা এ ক্ষেত্রে পুরুষের মত নয়। (সুনানে কুবরা ২ খন্ড, ২২৩ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ৩০১৬। ) প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ আওনুল বারী (১/৫২০) তে লিখেছেন উল্লেখিত হাদীসটি সকল ইমামের উসূল অনুযায়ী দলীল হিসাবে পেশ করার যোগ্য ।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن عَبْدِ اللَّهِ الْحَضْرَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَتْنِي مَيْمُونَةُ بنتُ حُجْرِ بن عَبْدِ الْجَبَّارِ بن وَائِلِ بن حُجْرٍ، قَالَتْ: سَمِعْتُ عَمَّتِي أُمَّ يَحْيَى بنتَ عَبْدِ الْجَبَّارِ بن وَائِلِ بن حُجْرٍ، عَنْ أَبِيهَا عَبْدِ الْجَبَّارِ، عَنْ عَلْقَمَةَ عَمِّهَا، عَنْ وَائِلِ بن حُجْرٍ، قَالَ: جِئْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: فساق الحديث . وفيه : يا وائل بن حجر: إِذَا صَلَّيْتَ فَاجْعَلْ يَدَيْكَ حِذَاءَ أُذُنَيْكَ، وَالْمَرْأَةُ تَجْعَلُ يَدَيْهَا حِذَاءَ ثَدْيَيْهَا.
অর্থঃ হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ) বলেন আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর দরবারে হাজির হলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন হে ওয়াইল ইবনে হাজ্র ! যখন তুমি নামাজ শুরু করবে তখন কান বরাবর হাত উঠাবে । আর মহিলারা হাত উঠাবে বুক বরাবর । (আল মুজামুল কাবীর, তাবারানী ২২/২৭২, হাদীসটি হাসান। ) সাহাবায়ে কেরামের আছারের আলোকে
عن أبي إسحاق عن الحارث عن علي قال : إذا سجدت المرأة فلتحتفز ولتلصق فخذها ببطنها
অর্থঃ হযরত আলী রাঃ বলেন মহিলা যখন সেজদা করবে তখন সে যেন খুব জড়সড় হয়ে সেজদা এবং উভয় উরু পেটের সাথে মিলিয়ে রাখে । মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক ৩/১৩৮ অনুচ্ছেদ মহিলার তাকবীর, কিয়াম, রুকু ও সিজদা । মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ২/৩০৮ তাবেয়ীগণের কথার আলোকেঃ
قال هشيم : أخبرنا شيخ لنا قال :قال سمعت عطاء سئل عن المرأة كيف ترفع يديها في الصلاة ؟قال حذو ثديها
অর্থঃ হযরত আতা ইবনে আবি রাবাহ এর কাছে জানতে চাওয়া হল নামাযে মহিলা কতটুকু হাত উঠাবে? তিনি বললেন বুক বরাবর । মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১/২৭০। মোটকথা, রাসূল সাঃ এর হাদীস, ছাহাবায়ে কেরামের কথা ও তাবেয়ীগণের ফাতাওয়ার আলোকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বুঝা যায়, মহিলাদের নামাজ কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুরুষের নামায থেকে ভিন্ন। আর এই ভিন্নতার ভিত্তি হল মহিলাদের সতর ও পর্দার অধিক সংরক্ষণের বিবেচনা ।
প্রশ্নঃ 266
আসসালামু আলাইকুম! ১ নং প্রশ্ন: আমার নাম শিশির, এখন এই নামটা আমি পাল্টাতে চাচ্ছি।মুহাম্মদ আল আব্দুল্লাহ আমার কি কি করতে হবে? আর যেই নামটা (মুহাম্মদ আল আআব্দুল্লাহ) বললাম সেটা কি রাখা যাবে? অনেকে বলেছেন যে ছেলে আর বাবা ( আমাদের রসুল আর তার পিতা) নাম একসাথে!! আর ২ নং প্রশ্ন: আমি শেইখ সুদাইস কে সালাতে শেষ বইঠকে শাহাদত আংগুলি নাড়াতে দেখলাম, এটা কি সহিহ? আর সহিহ হলে আমার নজর কি আমি আংগুলের দিকে রাখবো না সিজদাহর জায়গায়। আর অনেকে বলছেন যে, তুমি আংগুল নাড়ালে পাশের মুছল্লির নামাজের সমস্যা হবে। মানে অর চোখ ও আমার আংুলের দিকে আসবে। হুজুর দয়া করে একটি মাসনুন পদ্ধতি বলুন। জাজাকাল্লাহ খইর!
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
সাহাবী ওয়াইল ইবনে হুযর বলেন,
عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ ، قَالَ : رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ قَدْ حَلَّقَ الإِبْهَامَ وَالْوُسْطَى ، وَرَفَعَ الَّتِي تَلِيهِمَا ، يَدْعُو بِهَا فِي التَّشَهُّدِ
আমি রাসূলূল্লাহ সা. কে দেখেছি, তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমা আঙ্গুলি এক সাথে করে গোলাকার করলেন এবং ঐ দুই আঙ্গুলির সাথে যুক্ত আঙ্গুলিটি (শাহাদাৎ আঙ্গুলি) উচুঁ করলেন এবং তা দ্বারা তাশাহুদের মধ্যে দোয়া করলেন। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৯১২। হাদীসটি সহীহ। সহীহ মুসলিমসহ বিভিন্ন কিতাবে এমন অর্থের অনেক হাদীস বহু সাহাবী থেকে বর্ণিত আছে। কোন কোন হাদীসে আঙ্গুল নাড়ানো বা নাড়ানোর কথা আছে। এর মধ্যে না নাড়ানোর হাদীসটি সহীহ বলে মনে হয়। হাদীসটি আছে সুনানে আবু দাউদ হাদীস নং ৯৮৯, সুনানু নাসায়ী,হাদীস নং ১২৭০। মোট কথা ইশারা করার কথা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত, তবে কখন থেকে ইশারা শুরু করবে, কিভাবে করবে সে ব্যাপারে সর্বাক্যমতে সহীহ কোন দলীল পাওয়া যায় না, এ কারণে ইশারার ধরন নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। সুতরাং যেভাবেই করুন আপনার ইশারার সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। ইশারার একটি সুন্নাত পদ্ধতি পুরো বৈঠকে শাহাদাৎ আঙ্গুলি উচুঁ করে রেখে আঙ্গুল না নাড়িয়ে ইশারা করা। আর আপনি মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ নাম রাখতে পানের কোন সমস্যা নেই।
প্রশ্নঃ 265
মহিলাদের সালাম দেয়া?
27 Dec 2025
ঘরে মাহরাম মহিলার সাথে কথা বলার প্রয়োজন হলে সালামের মাধ্যমে কথা শুরু করতে হবে। অন্যথায় গাইরে মাহরাম মহিলাদেরকে সালাম দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
প্রশ্নঃ 264
আমি আমার স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে, তার ভাই চাচা ও নানার উপস্থিতিতে এক বৈঠকে তালাক দিয়েছি। কিন্তু তালাক দিতে আমার মন চাইছিলো না, আমি খুব কান্না করেছিলাম, খুব কষ্ট হচ্ছিলো, কিন্তু উপস্থিত সকলের পিড়াপীড়িতে তালাকনামায় সিগনেচার করতে এবং মুখে বলতে বাধ্য হয়েছিলাম, আমাকে যা বলতে শিখিয়ে দিয়েছিল আমি তাই বলেছি, আমি বলেছি আমি রোকসানাকে তিন তালাক, বাইন তালাক দিলাম। তালাকের পর থেকেই আমি খুব অনুতপ্ত এবং খুব কষ্ট পাচ্ছি। আমি কি কোনভাবে আমার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে পারবো?
27 Dec 2025
এই স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার কোন পদ্ধতি নেই। যদি কোথাও ঐ স্ত্রীর বিবাহ হয় আর ঐ স্বামী মারা যায় কিংবা তালাক দেয় তাহলে কেবলমাত্র ঐমহিলাকে বিবাহ করতে পারেন। দ্বিতীয় কোন পথ নেই। সমাজে যা প্রচলিত আছে তা নাজায়েজ, হারাম।
প্রশ্নঃ 263
আসসালামু আলাইকুম। স্যার আমার বাসা ঝিনাইদহে। আমাদের এলাকাতে বিজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কুরআন শরীফ শেখার প্রচলন আছে। এইটি শুদ্ধ কি না? আমি ১ টা কুরআন (অনুবাদ সহ) কিনতে চাই? কোনটা কিনলে ভাল হয় জানাবেন দয়া করে।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আপনি মাওলানা ত্বকী উসমানী রচিত বাংলায় অনূদিত তাওযীহুল কুরআন কিনতে পারেন।
প্রশ্নঃ 262
Assalamu Walikum, I am a smoker. And I do pray as well. In this situation is my pray will be accepted to Allah?
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
ধূমপান বড় ধরনের গোনাহ। ধূমপান থেকে বিরত থাকা সকল মূমিনের জন্য একান্ত অপরিহার্য বিষয়। তবে ধূমপান করলে অন্যান্য ইবাদত কবুল হবে না এই কথা ঠিক নয়। অন্যান্য ইবাদত কবুল হবে। আল্লাহ আমাদের সব ধরনের খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখুন।
প্রশ্নঃ 261
কুরআনের তাফসীর কোন লেখকের কিনব?
27 Dec 2025
তাফসীরে ইবনে কাসির, মারেফূল কুরআন কিনতে পারেন। সংক্ষিপ্ত তাফসীরের জন্য তাওযীহুল কুরআন কিনতে পারেন।
প্রশ্নঃ 260
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমি একটা প্রশ্ন কয়েক জন আলেমকে করেছি কিন্তু পরিপূর্ণ উত্তর পাই নাই। আমি কলেজ এ পড়ি, আমি genarel লাইনে এ পড়াশুনা করছি। আমি কোনো আলিয়া মাদ্রাসাতে পড়ি নাই। কিন্তু এখন আমার ইচ্ছা অনার্স শেষ হলে ইনশা আল্লাহ্ islamic studies নিয়ে B.A. to PHD করব ইনশা আল্লাহ্। এখন স্যার আমার question হল যে আমি islamic studies নিয়ে পড়লে কি সঠিক দাওয়াতী কাজ করতে পারবো? আর যদি ভালো দায়ী হওয়া যায় তাহলে কোন ইউনিভার্সিটি তে পড়লে ভালো হবে? স্যার আমি আপনার কাছ থেকে একটা উপদেশ চাচ্ছি।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
হ্যাঁ, আপনি এইচ এস সি এর পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজে পড়ে দাওয়াতি কাজ করতে পারেন। তবে একজন গবেষক আলেম হতে হলে আরবী ভাষা ভালভাবে শিখতে হবে।দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনি আরবী ভাষা শিখতে পারবে না। আপনাকে কোন ভাল শিক্ষকের তত্বাবধানে শিখতে হবে। আর বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শিখতে পারবেন। আল্লাহ তায়ালা আপনার মনের নেক অশা পূরণ করুন।
প্রশ্নঃ 259
আমার প্রশ্ন হলো: রাসুলের জীবনী বা সিরাত সম্পর্কিত বাংলা ভাষায় কোন কিতাব পড়লে আমি উপকৃত হতে পারব। ইনশাল্লা
27 Dec 2025
আপনি রাসূলুল্লাহ সা. এর জীবন সম্পর্কে জানতে বাংলায় অনূদিত আররাহিকুল মাখতুম পড়তে পারেন।
প্রশ্নঃ 258
assalamu Alaikum. I am a fan of Assunah Trust Dr. Abdullah Jahangir Sir. I have a question to Sir regarding Witr Salah. I offer 3 rakah Witr Salah (two rakahs at a time 1 rakah seperately). Can I offer 2 rakahs of Witr Salah in mosque half an hour later 1 rakah at home?
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
না, দুই রাকআত মসজিদে আর এক রাকআত বড়িতে, বিতর নামায এভাবে হবে না।
প্রশ্নঃ 257
বিভিন্ন ইসলামি দল ইউনিওয়ান ও উপজেলা নির্বাচনে মহিলা প্রর্থী মননয়ন দিচ্ছে….যদিও তারা পর্দা মেনে চলছে। তার পরোকি বর্তমান এটা জায়েয
27 Dec 2025
এ বিষয়ে বিতর্ক আছে। তবে আমরা মনে করি মহিলাদের এই ধরনের নির্বাচন থেকে বিরত থাকা দরকার। কারণ পর্দা শুধু দেহের নয়, মনের পর্দাও রক্ষা করা জরুরী। একজন মহিলা নির্বাচন করলে বা নির্বাচিত হলে প্রধানত পুরুষদের সাথই তার কাজকর্ম করতে হয়। আর পুরুষদের সাথে একসঙ্গে কাজ করার মারত্নক ফল আমাদের সকলেরই জানা। শুধু দেহের পর্দা দ্বারা এই কুফল রোধ করা যাবে না। তাই আমরা মনে করি এটা জায়েজ নেই।
প্রশ্নঃ 256
আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হলঃ খতমতারাবীর ইমামতি করে বিনিময় বা হাদিয়া নেওয়া জায়েয কিনা? কুরআন ও সুন্নাহ্ র আলোকে জাতে চাই
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
সাহাবী, তাবেয়ীগণ তারাবী পড়িয়ে কোন অর্থ নেননি। অনেকেই মনে করেন এটা কুরআনের বিনিময় নেয়া হয় আর সবার মতে কুরআনের বিনিময় নেয়া জায়েজ নেই। যাই হোক সর্বাবস্থায় তারবী পড়িয়ে টাকা-পয়সা না নেওয়টাই উত্তম বলে মনে হয়।
প্রশ্নঃ 246
আসসালামু আলাইকুম। দয়া করে আমাকে যত দ্রুত সম্ভব নিম্নোক্ত বিষয় সম্পর্কে কি বিধান হবে জানাবেনঃ- আমার একজন বন্ধু ছয় বছর ধরে একজনের সাথে প্রেম করছে এবং সে এখন মেয়েটিকে বিয়ে করতে চাচ্ছে এই উদ্দেশ্যে যে তাদের ভিতর পাপ যেন আর না হয়। ভবিষ্যৎ এ পরিবারের সবাই তাদের বিয়েটাকে মেনে নেবে বলে আশা রাখে কিন্তু এই মুহুর্তে মেয়ের বা ছেলের পরিবারের কাছে বিষয়টি গোপন থাকবে। এমতাবস্থায় মেয়ের পক্ষে কোন অভিভাবক না থাকলে বিয়ে শরিয়ত সম্মত হবে কিনা?
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
এই বয়সে ছেলে মেয়েরা আবেগের কারণে এবং অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। তাই পিতা-মাতার সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ায় সবার জন্য কল্যানকর। সুতরাং ছেলে-মেয়েদের জন্য উচিৎ হলো অভিভাবক ছাড়া বিবাহ না করা। আর হাদীসে মেয়েদের অভিভাবক ছাড়া বিবাহ নিষেধ করা হয়েছে। সুতরাং তাদের জন্য এভাবে বিবাহ করা ঠিক হবে না। আপনার প্রশ্নের জন্য শুকরান ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের বিধান। বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামী শরীয়তে এব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাসূল সা. এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। পারিবারিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অধিকাংশ ইমাম ও ফকীহগণের নিকট ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ নেই। তবে ইমাম আবু হানীফা রহ. সহ কতিপয় ফকীহ বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে জায়েজ বলেছেন। প্রখ্যাত মালেকী ফকীহ আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে রুশদ আন্দালুসী র. বলেন,
اختلف العلماء هل الولاية شرط من شروط صحة النكاح أم ليست بشرط؟ فذهب مالك إلى أنه لا يكون النكاح إلا بولي وأنها شرط في الصحة في رواية أشهب عنه وبه قال الشافعي وقال أبو حنيفة وزفر والشعبي والزهري: إذا عقدت المرأة نكاحها بغير ولي وكان كفؤا جاز وفرق داود بين البكر والثيب فقال باشتراط الولي في البكر وعدم اشتراطه في الثيب
অর্থ: বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী শর্ত কি শর্ত নয় এই বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম মালেক র. মত পোষন করেছেন যে, ওলী ছাড়া বিবাহ হবে না। বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য (ওলী) শর্ত। এমন মতই পোষন করেছেন ইমাম শাফেয়ী রা.। ইমাম আবু হানীফা, জুফার, শাবী ও জুহরী র. বলেছেন, যদি মহিলা ওলী ছাড়া বিবাহ করবে আর স্বামী যদি তার কুফু (সর্বদিক দিয়ে যোগ্য) হয় তাহলে জায়েজ হবে। বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ২/৮(শামেলা)। এই সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন, আলমাবসুত লিস-সারখসী, ৬/৫৩; আলমাউসায়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৭/৯৪ও ৩১/৩২১; আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবা ৪/৪৫। কিতাবুল উম্ম লিশ-শাফেয়ী,৭/১৫৬। যে ইমামগন ওলী ছাড়া বিবাহ বাতিল বলেছেন তাদের দলীল: আবু মুসা আশয়ারী রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, অর্থাৎ ওলী ছাড়া বিবাহ নয়। لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِىٍّ আবু দাউদ, হাদীস নং ২০৮৭; তিরমিযী, হাদীস নং ১১০১;মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৯৭৬১। হাদীসটি সহীহ। শায়খ আরনাউত এবং আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত অন্য হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন,
أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ
অর্থাৎযে মহিলা ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করবে তার বিবাহ বাতিল। তিনি ৩ বার তা বলেছেন। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১১০২; মুসনাদে আহমাদ,হাদীস নং ২৫৩৬৫। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন আর শায়খ শুয়াইব আরনাউত সহীহ বলেছেন। উপরক্ত হাদীস সমূহের ভিত্তিতে ইমাম মালেক, শাফেয়ী, আহমাদ র. সহ অধিকাংশ আলেম ওলী ছাড়া বিবাহকে বাতিল বলেছেন। যে সব ইমাম ও ফকীহ ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ বলেছেন তাদের দলীল: তাবেঈদের মধ্যে ইমার জুহরী ও শাবী এরপরে ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ, মুহাম্মাদ, জুফার সহ কিছু সংখক মুজতাহিদ কিছু শর্ত সাপেক্ষে ওলী ছাড়া বিবাহ কে জায়েজ বলেছেন। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১.কুফু হতে হবে। ২.মেয়েটি বালেগা, বুঝমান হতে হবে। আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবায়া, ৪/৪৫; আলমাবসুত লিস-সারাখসী,৬/৬১ ও ৫/১৬। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
فلا جناح عليكم فيما فعلن في أنفسهن بالمعروف
অর্থাৎ মহিলারা নিজেদের ব্যাপারে সৎ ভাবে যা করবে (বিয়ের ক্ষেত্রে) সে বিষয়ে তোমাদের কোন দোষ নেই। সূরা বাকারাহ-২৩৪ অন্য এক আয়াতে তালাক সম্পর্কে আলোচনার এক পর্যায়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
تنكح زوجا غيره. حتى
অর্থাৎ যতক্ষন না তারা অন্য স্বামীকে বিবাহ না করে। সূরা বাকারাহ-২৩০। অন্য প্রসংগে আল্লাহর বাণী,
فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ
অর্থাৎ তোমরা তাদেরকে তাদের স্বামীদের কে বিবাহ করা থেকে বাধা দিবে না। সূরা বাকারাহ-২৩২ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন,
الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا
অর্থাৎ মেয়েরা ওলীদের চেয়ে নিজের ব্যাপারে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৪২১। الأيم অর্থ স্বামীহীন মহিলা, পূর্বে স্বামী থাকুক বা না থাকুক। আলমজামুল ওয়াসীত। বর্তমান সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৌদী আলেম শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আলমুনজিদ ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের ক্ষেত্রে বলেছেন,
المسألة اجتهادية واختلف فيها الأئمة ، فإنه إذا كان أهل بلد يعتمدون المذهب الحنفي كبلادكم وبلاد الهند وباكستان وغيرها، فيصححون النكاح بلا ولي ، ويتناكحون على هذا ، فإنهم يقرّون على أنكحتهم ، ولا يطالبون بفسخها
অর্থাৎ এটি একটি ইজতিহাদি মাসআলা, ইমামগণ এক্ষেত্রে ইখতিলাফ করেছেন। সুতরাং যে সব দেশের মানুষেরা হানাফী মাজহাবের উপর নির্ভর করে, ওলী ছাড়া বিবাহবে বৈধ মনে করে এবং এভাবে তাদের বিয়ে হয় যেমন, ভারত, পাকিস্থান ইত্যদি, তাহলে তাদের বিবাহের স্মীকৃতি দেয়া হবে । বাতিল করতে বলা হবে না। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, শরীয়তে বিবাহে মেয়েদের জন্য ওলী থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণভাবে যৌবনের শুরুতে যুবক-যুবতী সহজেই বয়সের উন্মাদনায় বিভ্রান্ত হয় এবং নিজের চোখের ভাল লাগার উপর নির্ভর করেই সঙ্গী পছন্দ করে। বিবাহের ক্ষেত্রে চোখের পছন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবন ও আগত প্রজন্মের কল্যাণের কথাও চিন্তা করতে হবে। এজন্য ইসলামে বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর মতমতের সাথে অভিভাবকের মতামতেরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সুতরাং মেয়েদের জন্য আবশ্যক হলো ওলীর অনুমতি নিয়ে বিবাহ করা। আর আমাদের উচিৎ বিবাহের সময় মানুষদের কে ওলীর অনুমতির বিষয়ে উৎসাহিত করা,ওলী ছাড়া বিয়ে করতে নিষেধ করা এবং ওলী থাকার কল্যান বর্ণনা করা। যারা ইতিমধ্যে ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করেছে তাদের বিষয়ে কথা হলো যেহেতু তারা একটি ফিকহী মত গ্রহন করেছেন আর বিষয়টি ইজতিহাদী এবং ইখতিলাফী তাই তাদেরকে নতুন করে বিবাহ করতে হবে না। তবে এই ঘৃনিত কাজের জন্য তাদের লজ্জিত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 255
আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হলঃ ১। জামাতে সালাতের সময় শেষ বইঠকে মুক্তাদি ভুলে শুধু মাত্র তাসাহুদ পরলে (দুরুদ ও মাসুরার দুয়া পরতে ভুলে গেলে) কি করবে? ইমামের সাথে সালাম ফিরিয়ে সালত শেষ করলে কি তার জন্য যথেস্ট হবে? ২. গাইরে মাহারাম মহিলাদের সাথে রাস্থায় দেখা হলে সালাম দেয়ার বিধান জানতে চাই। (এর মাঝে অনেকে বেপরদাও থাকে) আল্লাহ আপনাদের নেক আমলে বরকত দান করুন।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
১। হ্যাঁ, শুধু তাশাহুদু পড়লেই নামায হয়ে যাবে।
২। গায়রে মাহরাম মহিলার সাথে কথা বলার প্রয়োজন হলে সালামের মাধ্যমে কথা শুরু করতে হবে। অন্যথায় গাইরে মাহরাম মহিলাদেরকে সালাম দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
প্রশ্নঃ 254
আসসালামু আলাইকুম। আল্লাহর রহমতে আমি আপনার একজন ভক্ত পাঠক। আল্লাহ স্বপ্নে একবার আপনার সাথে দেখা করার সুযোগ দিয়েছেন। বর্তমানে আমি কানাডার টরন্টো শহরে পরিবার সহ বসবাস করছি। টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করা হারাম সংক্রান্ত একটি হাদিস ফেসবুক/মুফতি আব্দুর রাজ্জাক সাহেবের বক্তব্য থেকে নজরে আসায় আমি অনেক আগে থেকেই হাদিসটি আমল করার চেষ্টা করেছি। শীতপ্রধান এই দেশে যেখানে মাইনাস ৩০/৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকে, এক দেড় ফুট উচু স্নোতে রাস্তা ভরে থাকে, শরীরের কোন অংশ খোলা রেখে বাহির হওয়া যায় না, এখানে টাখনুর উপরে কাপড় পরিধানের হাদিস কিভাবে আমল করব? আর পায়ে মোজা থাকলে এটার বিধানই বা কি হবে? দয়াকরে জানাবেন ইনশাআল্লাহ।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আপনার আন্তরিকতা ও তাকওয়া-প্রচেষ্টার জন্য আপনাকে মুবারকবাদ। আল্লাহ আপনার চেষ্টা কবুল করুন। পায়ের আবরণ হিসেবে অবশ্যই মোজা পরবেন। মোজা টাখনু আবৃত হলে বা আরো উপরে হলে কোনোই অসুবিধা নেই। শীতের দেশের জন্য উপযোগী যে কোনো মোজা আপনি পরতে পারেন। তবে মোজা পরার পরেও প্যান্ট বা পাজামা টাখনুর উপরে রাখতে হবে।
প্রশ্নঃ 253
আসসালামুআলাইকুম …শাইখ কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহ্ রহমতে ভাল আছেন. শাইখ আমি আপনার কাছ থেকে জানতে চাচ্ছি গবাদি পশু গরু ছাগল (গাভী ) বদ নজর বা জাদু টুনা থেকে হেফাজতে চিকিৎসা কি জানালে উপকিত হব. আসসালামুআলাইকুমল
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
যার থেকে নজর লেগেছে তাকে গোসল করিয়ে সেই পানি গরু,ছাগলের (রোগীর) গায়ে ছিটিয়ে দিবে। এছাড়া নিম্নের দোয়াটি পাঠ করেও রোগীর গায়ে ফুঁ দিতে পারেন।
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ
হাদীসে আছে, ইবনে আব্বাস রা. বলেন, নবী সা. হাসান ও হুসাইনকে হেফজাত করাতেন এবং বলতেন তোমাদের পিতা তা দ্বারা (উক্ত দোয়ার দ্বারা) ইসমাইল ও ইসহাককে হেফাজত করতেন। বুখারী, হাদীস নং ৩৩৭১। সূরা ফালাক, সূরা নাস পড়ে গরু ছাগলের গায়ে ফুঁ দিয়েও বদনজর থেকে বাঁচা যায়। উল্লেখ্য এই দুআগুলো পড়ে মানুষরাও বদনজর থেকে হেফাজত থাকতে পারে। বিস্তারিত জানতে রাহে বেলায়াত শেষ অধ্যায়টি দেখুন।
প্রশ্নঃ 252
আসসালামুআলাইকু ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমার প্রশ্নএকজন মহিলা সন্তান প্রসাব করলে তাকে কত দিন পর নামায আদায় করতে হবে? ৪১ দিনে নাকি তার আগে?
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
সন্তান প্রসাব করার পর রক্ত থেকে পবিত্র হলেই সে নামায আদায় করবে। পবিত্র হওয়ার পর থেকেই তার উপর নামায ফরজ। ৪০ দিন অপেক্ষা করা যাবে না। তবে যদি ৪০ দিনে পবিত্র হয় তাহলে ৪০ দিন পর নামায আদায় শুরু করবে। আর ৪০ দিন পরেও যদি রক্ত অব্যাহত থাকে তাহলেও ৪০ দিন পর থেকে নামায পড়তে হবে।
প্রশ্নঃ 251
انْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ, قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : خُذُوا الْعَطَاءَ مَا دَامَ عَطَاءً ، فَإِذَا كَانَ رِشْوَةً عَلَى الدِّينِ فَلا تَأْخُذُوهُ وَلَسْتُمْ بِتَارِكِيهِ, يَمْنَعُكُمْ مِنْ ذَلِكَ الْفَقْرُ وَالْمَخَافَةُ, أَلا إِنَّ رَحَى بَنِي مَرْجٍ قَدْ دَارَتْ, أَلا وَإِنَّ رَحَى الإِيمَانِ دَائِرَةٌ, فَدُورُوا مَعَ الْكِتَابِ حَيْثُ مَا دَارَ, أَلا وَإِنَّ الْكِتَابَ وَالسُّلْطَانَ سَيَفْتَرِقَانِ, فَلا تُفَارِقُوا الْكِتَابَ, أَلا إِنَّهُ سَيَكُونُ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ يَقْضُونَ لأَنْفُسِهِمْ مَالا يَقْضُونَ لَكُمْ, إِنْ عَصَيْتُمُوهُمْ قَتَلُوكُمْ وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ أَضَلُّوكُمْ . قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ نَصْنَعُ ؟ قَالَ : كَمَا صَنَعَ أَصْحَابُ عِيسَى بْنِ مَرْيَمَ نُشِرُوا بِالْمَنَاشِيرِ وَحُمِلُوا عَلَى الْخَشَبِ, مَوْتٌ فِي طَاعَةِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنْ حَيَاةٍ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ মুহতারাম, আচ্ছালামু আলা্ইকুম, উপরোক্ত হাদীসটি সহীহ না জঈফ? জঈফ হলে তার ভিত্তি কি? যদি কুরআন ও অন্য কোন হাদীসের সাথে এর কোন সংঘর্ষ আছে কি না? এবং এই হাদীস গ্রহণ করা যাবে কি না? দয়াকরে জানাবেন। উম্মে ত্বা-হা, কুয়েত হতে।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
উক্ত হাদীসটি ইমাম তবারনী আল-মুজামূল কাবীর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। হাদীস নং ১৬৫৯৯। হাদীসটি বিভিন্ন কারনে যয়ীফ। প্রথমত যে ব্যক্তি হাদীসটি সাহাবী মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি তাঁর থেকে শোনেন নি। তার নাম ইয়াজিদ ইবনে মারছাদ। এছাড়া এই হাদীসের একজন বর্ণনাকারীর (তার নাম ওদীন ইবনে আতা) ব্যাপারে বিতর্ক আছে। আল্লামা হায়ছামী উক্ত হাদীসটির বিশ্লেষনে বলেছেন,
رواه الطبراني . ويزيد بن مرثد لم يسمع من معاذ والوضين بن عطاء وثقه ابن حبان وغيره وضعفه جماعة وبقية رجاله ثقات
ইমাম তবারনী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইয়াজিদ ইবনে মারছাদ মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে শুনেন নি। আর ওদীন ইবনে আতাকে ইবনে হিব্বান এবং অনেকেই ছিকাহ বলেছেন আর একদল মুহাদ্দিস তাকে দূর্বল বলেছেন। মাজমাউজ জাও-ইদ, হাদীস নং ৯২০৮।
সুতরাং উক্ত হাদীসটিকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না।
প্রশ্নঃ 250
মুহতারাম আস সালামু আলাইকুম। জান্নাতে যাওয়ার জন্য হাদীসের আালোকে কিছু কাজের কথা জানতে চাই।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
হাদীসে আছে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সা. কে বলেন,
يا رسول الله! نبئني بما يباعدني من عذاب الله، ويدخلني الجنة .قال تعبدُ الله ولا تشركُ به شيئاً وتقيمُ الصلاة المكتوبة وتؤدّي الزكاة المفروضة وتصومُ رمضان وتحجّ وتعتمرُ وانظر ما تحبّ من النّاس أن يأتوه إليك فافعله بهم وما كرهت أن يأتوه إليك فذرهم منه
অর্থ: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে এমন কিছু আমল সম্পর্কে অবহিত করুন যা আমাকে আল্লাহর আযাব থেকে বিরত রাখবে এবং জান্নাতের নিকটবর্তী করবে। তখন তিনি রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোন কাউকে শরীক করবে না, ফরজ নামায যথাযথ ভাবে আদায় করবে, ফরজ যাকত আদায় করবে, রমজান মাসে রোজা রাখবে, হজ্ব ও ওমরা করবে এবং তুমি মানুষদের থেকে যে ধরনের আচার-ব্যবহার আশা করো তাদের সাথে সে ধরনের আচার-ব্যবহার করো আর তাদের থেকে যে ধরনের আচার-ব্যবহার অপছন্দ করো তুমি তাদের সাথে সে ধরনের আচার-ব্যবহার পরিহার করো। আল-কুনা ওয়াল আসমা লিদ-দুলাবি, হাদীস নং২৮৯; সিলসিলাতুস সহীহা, হাদীস নং ৩৫০৮।
হাদীসটির সনদগত ভাবে দূর্বল তবে এই কথাগুলো বিভিন্ন সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত। উক্ত হাদীস থেকে জান্নাতে যাওয়ার জন্য প্রয়েজনিও আমলসমূহ জানতে পারলাম। এগুলোর সাথে সর্বপ্রকার হারাম ও মাকরুহ কাজ থেকে বিরত থাকা, পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সু-স্পর্ক রাখা, বান্দার হক আদায় করা, সন্দেহপূর্ণ কাজ থেকে বিরত থাকা, মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা, বেশী বেশী নফল নামায ও রোজা রাখা, নামাযের পরে ও অন্যান্য সময়ের মাসনুন দোয়াগুলো যথা সমায়ে পড়া, জিকির করা ইত্যাদি নেক আমল আমাদের জান্নাতে যাওয়ার পথকে সুগম করবে ইনশাআল্লাহ।
প্রশ্নঃ 249
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: জান্নাতে যাওয়ার জন্য হাদিসের আলোকে কিছু কাজের কথা জানতে চাঁই।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
পুরুরষেরা স্বর্ণের অলংকার পরতে পারবে না কিন্তু মহিলাদের জন্য স্বর্ণালংকার পরার কোন নিষেধাজ্ঞা হাদীসে নেই। নিচের হাদীসদুটি লক্ষ্য করুন:
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِى حَبِيبٍ عَنْ أَبِى أَفْلَحَ الْهَمْدَانِىِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زُرَيْرٍ – يَعْنِى الْغَافِقِىَّ – أَنَّهُ سَمِعَ عَلِىَّ بْنَ أَبِى طَالِبٍ – رضى الله عنه – يَقُولُ إِنَّ نَبِىَّ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- أَخَذَ حَرِيرًا فَجَعَلَهُ فِى يَمِينِهِ وَأَخَذَ ذَهَبًا فَجَعَلَهُ فِى شِمَالِهِ ثُمَّ قَالَ ্র إِنَّ هَذَيْنِ حَرَامٌ عَلَى ذُكُورِ أُمَّتِى
হযরত আলী রা. বলেন, একদা নবী সা. রেশম তুল ধরলেন এবং সেটা ডান হাতে রাখলেন ও এবং স্বর্ণ তুলে ধরলেন এবং সেটা বাম হাতে রাখলেন। অত:পর বললেন, অবশ্যই এই দুটি বস্তু আমার উম্মাতের পুরুষদের জন্য হারাম। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ৪০৫৯; সুনানু নাসায়ী হাদীস নং ৫১৪৪-৪৫-৪৬। হাদীসটি সহীহ। শায়খ আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِى هِنْدٍ عَنْ أَبِى مُوسَى الأَشْعَرِىِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ حُرِّمَ لِبَاسُ الْحَرِيرِ وَالذَّهَبِ عَلَى ذُكُورِ أُمَّتِى وَأُحِلَّ لإِنَاثِهِمْ
অর্থ: আবু মুসা আশয়ারী রা. বলেন, রেশমের পোশাক ও স্বর্ণালংকর আমার উম্মতের পুরুষদেন জন্য হারাম করা হয়েছে আর মহিলাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ১৮২৪। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, সহীহ। এই সহীহ হাদীসদুটির মাধ্যমে স্পষ্ট যে, মহিলাদের জন্য স্বর্ণালংকার পরা জায়েজ। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন।
প্রশ্নঃ 248
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। সুন্নাহ্ অনুসারে দোরুদ কয়টি ও কি কি?
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীস শরীফে অনেকগুলো দরুদ বর্ণিত আছে। ছয়টি মাসনূন দরুদ সহ দরুদ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন, আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত রাহে বেলায়ত বইটির ১৭৩-১৯৮পৃষ্ঠা।
প্রশ্নঃ 247
মুহতারামঃ আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্নঃ আমার জিবনের অনেক ওয়াক্ত সালত কাজা হয়ে গিয়েছে যার কোন হিসাব নেই। আমি কি ভাবে তা আদাই করব? বেশি বেশি নফল পরে না কি উমরি কাজার আদায় করে? উমরি কাজার বিসয়ে কি সহিহ হাদিস আছে? আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান কারুন। আমিন।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
রাসূলুল্লাহ সা. এর যুগে কোন মুসলমান ইচ্ছাকৃত ভাবে কোন নামাযই কাজা করেন নি সুতরাং ইচ্ছাকৃত ভাবে বছর বছর নামায কাজা করলে কি করতে হবে সে বিষয়ে সহীহ হাদীসে পাওয়া যাবে না। অধিকাংশ আলেমের অভিমত হলো বহুদিন ধরে ইচ্ছাকৃত নমায ছেড়ে দিলে (যাকে অনেকেই উমরি কাজা বলে) উক্ত নামায আদায় করতে হবে। তা সে যত ওয়াক্তই হোক না কেন। আর আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, যেন তিনি ক্ষমা করে দেন। তবে কোন কোন আলেম বলেছেন,উমরি কাজা করা লাগবে না, আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে, মাফ চাইতে হবে। সর্বাবস্থায় যথাসম্ভভ শুধু ফরয সালাতগুলো কাযা আদায় করা উচিত। সাধ্যের মধ্যে কাযা আদায় করার পাশাপাশি বেশি বেশি নফল সালাত আদায় করতে হবে এবং তাওবা ইসতিগফার করতে হবে। দলীল এবং ইমাম ও ফকীহদের মতামত বিস্তারতি জানতে দেখুন, আলফিকহুল ইসলামিয়্যতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৩৪/২৬; আলফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু, ২/৩০১; আদদুররিল মুযিয়্যাহ শারহু দুররিল বাহিয়্যাহ, ১/১০৮; আল ফিকহ্ আলা মাজাহিবিল আরবা, ১/৭৫৭।
প্রশ্নঃ 245
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ. ১. কোন বেক্তি তার আপন ভাবির চিকিতসার জন্য তাকে না জানিয়ে যাকাতের টাকা দিতে পারবে কি না? ২. জামাতে সালাত আদায়ের কোন মুকটাদি কোন কারনে ভুলে শেষ রাকাতে তাসাহুদ এর পর দুরুদ ও দুয়া মাসুরা পরতে ভুলে গেলে কি করবে? আবার সালাত আদায় করবে? না তার সালাত হয়ে গেছে? আল্লাহ আপনাকে উত্তম যাযা দান কারুন। আমিন
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
১। আপন ভাবি যদি যাকাত পাওয়ার যোগ্য হয় তাহলে তাকে যাকাতের সম্পদ দিতে কোন বাধা নেই। আপন ভাইকেও যাকাতের সম্পদ দেয়া যায় যদি তিনি যাকাতের সম্পদ নেয়ার হকদার হন।
২। এই অবস্থায় আপনার নতুন করে সালাত আদায় করা লাগবে না।
প্রশ্নঃ 244
ALLAH gift me son. I want to call him with a Islamic name with good meaning.
27 Dec 2025
রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
إِنَّ أَحَبَّ أَسْمَائِكُمْ إِلَى اللَّهِ عَبْدُ اللَّهِ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ
অর্থ: নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালার নিকট সবচেয়ে উত্তম নাম হলো আব্দুল্লাহ, আব্দুর রহমান। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৭০৯। এছাড়াও আরো সুন্দর অর্থ বিশিষ্ট অনেক নাম আছে। আপনি সেগুলো রাখতে পারেন।
প্রশ্নঃ 243
অযূতে ঘাড় মাসেহ করার বিধান জানতে চাই ।
27 Dec 2025
অযুতে ঘাড় মাসেহ করার ব্যাপারে কোন সহীহ হাদীস পাওয়া যায় না। তবে কয়েকটি যয়ীফ হাদীসে এ বিষয়টি পাওয়া যায়। তাই এই বিষয়টিকে কোন কোন আলেম মুস্তাহাব বলেছেন, আবার কোন কোন আলেম বিদআত বলেছেন। কুলি আর নাকে পানি এক সাথেও করা যায় আবার আালাদা আলাদাও করা যায়, দুই ধরনের হাদীসই আছে। আপনার যেভাবে সুবিধা হয় সেভাবে করবেন। আর ঘাড় মাসেহ করার ব্যাপারে কয়েকটি দূর্বল হাদীস বর্ণিত আছে। তার একটি হলো,
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من توضأ ومسح عنقه لم غل بالأغلال يوم القيامة
অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি ওযু করবে এবং ঘাড় মাসেহ করবে কিয়ামতের দিন তাকে শিকল পরানো হবে না। তারীখ আসবাহান, ১/২৪২। এই বিষয়ে বিভিন্ন হাদীসের বিশ্লেষন শেষে মোল্লা আলী কারী হানাফী রাহ. বলেন,
قال أئمتنا إن مسح الرقبة مستحب أو سنة
অর্থ: আমাদের ইমামগণ বলেছেন, ঘাড় মাসেহ করা মুস্তাহাব অথবা সুন্নাত। আল-আসরারুল মারফুয়াহ, পৃষ্ঠা- ৩১৫। কোন কোন আলেম বিদআত বলেছেন। তবে দলিলের আলোকে বিদআত নয় বলেই মনে হয়।
প্রশ্নঃ 126
আস্ সালামুআলাইকুম। আমরা কারো মৃত্যুতে শুনি এটাই তার হায়াত ছিল অর্থাৎ আল্লাহর ফয়সালা। কিন্তু যারা আত্মহত্যা করেন তাদেরকে কেন জাহান্নামে নিক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। তাহলে কি তাদের মৃত্যু আল্লাহর ফয়সালা নয়? ফয়সালা হলে কেনই বা তাকে শাস্তি দেওয়া হবে?
22 Dec 2025
অযুতে ঘাড় মাসেহ করার ব্যাপারে কোন সহীহ হাদীস পাওয়া যায় না। তবে কয়েকটি যয়ীফ হাদীসে এ বিষয়টি পাওয়া যায়। তাই এই বিষয়টিকে কোন কোন আলেম মুস্তাহাব বলেছেন, আবার কোন কোন আলেম বিদআত বলেছেন। কুলি আর নাকে পানি এক সাথেও করা যায় আবার আালাদা আলাদাও করা যায়, দুই ধরনের হাদীসই আছে। আপনার যেভাবে সুবিধা হয় সেভাবে করবেন। আর ঘাড় মাসেহ করার ব্যাপারে কয়েকটি দূর্বল হাদীস বর্ণিত আছে। তার একটি হলো,
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من توضأ ومسح عنقه لم غل بالأغلال يوم القيامة
অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি ওযু করবে এবং ঘাড় মাসেহ করবে কিয়ামতের দিন তাকে শিকল পরানো হবে না। তারীখ আসবাহান, ১/২৪২। এই বিষয়ে বিভিন্ন হাদীসের বিশ্লেষন শেষে মোল্লা আলী কারী হানাফী রাহ. বলেন,
قال أئمتنا إن مسح الرقبة مستحب أو سنة
অর্থ: আমাদের ইমামগণ বলেছেন, ঘাড় মাসেহ করা মুস্তাহাব অথবা সুন্নাত। আল-আসরারুল মারফুয়াহ, পৃষ্ঠা- ৩১৫। কোন কোন আলেম বিদআত বলেছেন। তবে দলিলের আলোকে বিদআত নয় বলেই মনে হয়।
প্রশ্নঃ 241
আসসালামু আলাইকুম। শায়খ! কেমন আছেন?শায়খ এক ভাই আমাকে প্রশ্ন করলেন,উনি সৌদিতে থাকে। ওখানে নাকি ছোট-বড় অনেক মহিলা বাসায় স্বামীর সামনে বা মাহরামদের সামনে প্যান্ট-শার্ট ও গেঞ্জি ইত্যাদি পড়ে। আবার বাজারেও নাকি বিক্রী করে। আমি জানতাম এগুলো হারাম,কারণ পুরুষের সাথে সাদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু উনি বলার পরে,আমি সৌদিতে থাকা প্রবাসী কিছু শায়খকে প্রশ্ন করার পরে উনারা এটাকে জায়িয ফতোয়া দিলেন?এখন শায়খ আপনার মত কী? যদি জায়িয হয়,তাহলে এটা কি পুরুষের সাথে সাদৃশ্য নয়?
25 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
সাদৃশ্য নির্ভর করে ব্যবহারের উপরে। পাকিস্তানের নারী-পুরুষ সকলেই সেলোয়ার-কামীস পরেন। পার্থক্য ডিজাইন ও কালারে। ইউরোপের নারী-পুরুষ সকলেই প্যান্ট-শার্ট জাতীয় পোশাক পরেন। পার্থক্য ডিজানইন ও কাপড়ে। সৌদি আরবের মানুষেরাও আমাদের দেশের মতই মানুষ। ভাল মানুষের চেয়ে খারাপ মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি।সৌদি আরবের আলিমগণও পুরুষালি পোশাক হারাম বলেন। তবে অনেকেই তা মানে না
প্রশ্নঃ 240
Is Interest of General Provident Fund halal?
25 Dec 2025
প্রভিডেন্ট ফান্ডের ইন্টারেস্ট অধিকাংশ আলেমের মতে সুদ নয়, হালাল। তবে কোন কোন আলেম হারাম বলেছেন। তবে হারাম নয় বলেই মনে হয়।
প্রশ্নঃ 239
if my hindu classmade says subhabijaya happy dewali etc than what can I do? if I am saying same to you though it is not from heart only for friendship, is it jayej?
25 Dec 2025
না, এর উত্তর কোন অযুহাতেই এভাবে দেয়া যাবে না। আপনি কিছুই বলবেন না অথবা বলবেন আপনি ভাল থাকুন এজাতীয় শব্দ।
প্রশ্নঃ 238
আস্সালামু আলাইকুম মুহতারাম । মহান আল্লাহর নিকট আপনার জন্য আমার মনের অন্তস্থল থেকে আপনার জন্য দোয়া করি আল্লাহ তায়ালা যেন আপনাকে নেক হায়াত দান করেন। আপনি যেন এই উম্মাতে মোহাম্মিদির পরকালিন মুক্তির জন্য আরো বেশি করে মেহনত করতে পারেন। অতপর…আমার কাছে আপনার রচিত প্রায় 18 টি কিতাব সহ অসংখ্য ভিডিও বক্তব্য সংগ্রহে রয়েছে যা থেকে আমি নিয়মিত অধ্যয়ন এবং শ্রবন করি। ফলশ্রুতিতে মহান আ্ল্লাহর অশেষ রহমতে তার একজন নেক বান্দা হওয়ার পথটা এখন আমার কাছে খুব পরিস্কার হয়েছে এবং হচ্ছে। তো তার ই ধারাবহিকতায়…. মোহতারামের নিকট আমার প্রশ্ন প্রসাব/পায়খানা থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য আমরা পানি ও টিস্যু ব্যবহার করি। আমি অনেক বক্তার বক্তব্য থেকে জানতে পেরেছি যে একই সাথে পানি ও টিস্যু ব্যবহার করাটা সুন্নাত সম্মত নয়। আর দ্বিতীয়তঃ পানি থাকলে টিস্যু ব্যবহার না করাই উত্তম। তাদের অনেক কেই আপনি চেনেন। আর আমাকে বর্তমানে যে বিষয়টা খুব পেরেশানীতে রেখেছে সেটা হল প্রসাব করার পর আমরা টিস্যু নিয়ে যে হাটাহাটি করি এটাও নাকি সুন্নাত সম্মত নয়। তাহলে ব্যাক্তিগত ভা্বে আমার কাছে মনে হয় যে আমি যদি টিস্যু নিয়ে প্রসাবের পর হাটাহাটি করিও তারপর ও মনে হয় যেন কিছু নাপাকি আমার কাপড়ে লেগে যাচ্ছে। তো জনাব মেহেরবানি করে যদি আমাকে এই প্রসাব পায়খানা থেকে পবিত্র হওয়ার বিষেয়ে একটা সুন্নাত সম্মত দিকনির্দেশনা অবশ্যই বিস্তারিত দিতেন তাহলে এই অধম চির কৃতঞ্জ হতাম।
24 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
পানি ও টিস্যু উভয়টি একসাথে ব্যবহার করাই উত্তম। তবে যে কোন একটি দ্বারাই পবিত্রতা অর্জিত হবে। দলীলসহ জানতে আমাদের দেয়া ০০76 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন। টিস্যু ধরে হাটাহাটি করার কোন দলীল পাওয়া যায় না। তাই একান্ত প্রয়োজন না হলে হাটাহাটি করার দরকার নেই। আর আপনি যেটা লিখেছেন ব্যাক্তগিত ভ্বাে আমার কাছে মনে হয় যে আমি যদি টস্যিু নয়িে প্রসাবরে পর হাটাহাটি করওি তারপর ও মনে হয় যনে কছিু নাপাকি আমার কাপড়ে লেগে যাচ্ছে এটা শয়তানের ধোকা। আপনি টিস্যু এবং পানি উভয়টি ব্যবহার করুন। হাটাহাটি পরিহার করুন। ইনশাআল্লাহ আপনার পবিত্রতা যথায়থ ভাবে অর্যিত হবে।
প্রশ্নঃ 237
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: নামাজ শিক্ষার জন্য আমার একটি ভাল বই দরকার।
24 Dec 2025
আস-সুন্নাহ পালিকেশন্স থেকে প্রকাশিত হয়েছে, মা-শা-আল্লাহ। সংগ্রহ করুন।
প্রশ্নঃ 236
আসসালামু আলাইকুম! আমার প্রশ্নটা হলো আমি (ছেলে) তাকবিরে তাহরিমাতে হাত কতদূর উঠাবো? আপনি কোনটার পরামর্শ দেন? আর আপনি personally কতটুক পর্যন্ত হাত উঠান? জানালে উপকৃত হতাম! জাযাকাল্লাহ খাইর!!!
24 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। তাকবীরে তাহরীমাতে হাত কাঁধ কিংবা কান পর্যন্ত উঠাতে হবে। যে কোন একটি পদ্ধতিতে আমল করলেই সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। নিচের হাদীসদুটি দেখুন:
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِىُّ وَسَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِى شَيْبَةَ وَعَمْرٌو النَّاقِدُ وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ وَابْنُ نُمَيْرٍ كُلُّهُمْ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ – وَاللَّفْظُ لِيَحْيَى قَالَ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ – عَنِ الزُّهْرِىِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- إِذَا افْتَتَحَ الصَّلاَةَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِىَ مَنْكِبَيْهِ وَقَبْلَ أَنْ يَرْكَعَ وَإِذَا رَفَعَ مِنَ الرُّكُوعِ وَلاَ يَرْفَعُهُمَا بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ.
অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা. কে দেখেছি, যখন তিনি সালাত শুরু করতেন তখন দুই হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন…। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৮৮৭।
حَدَّثَنِى أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِىُّ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ نَصْرِ بْنِ عَاصِمٍ عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- كَانَ إِذَا كَبَّرَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِىَ بِهِمَا أُذُنَيْهِ وَإِذَا رَكَعَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِىَ بِهِمَا أُذُنَيْهِ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ فَقَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ.
অর্থ: মালিক ইবনে হুয়াইরিস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. যখন তাকবীর দিতেন তখন দুই হাত কান পর্যন্ত উঠাতেন…। সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৮৯১। উপরের হাদীসদ্বয় দ্বারা স্পষ্ট যে, যে কোন পদ্ধতিতে হাত উঠালেই সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। তবে কান পর্যন্ত উঠালে উভয় হাদীসের উপরই আমল হয়ে যায়।
প্রশ্নঃ 235
কোন বক্তব্ব রাখার আগে বিসমিল্লাহ বলা সুন্নাহ না আলহামদুলিল্লাহ বলা উচিত? সুন্নার আলকে জানালে খুশি হব।
24 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রাসূলুল্লাহ সা. হামাদ দ্বারা বক্তব্য শুরু করতেন মর্মে অনেকগুলো হাদীস বর্ণিত আছে। তাই হামদ দ্বারা বক্তব্য শুরু করা উচিত। নিচের হাদীসটি দেখুন:
عَنْ جَابِرٍ ، قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُومُ ، فَيَخْطُبُ ، فَيَحْمَدُ اللَّهَ ، وَيُثْنِي عَلَيْهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ، وَيَقُولُ : مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلاَ مُضِلَّ لَهُ ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلاَ هَادِيَ لَهُ ، إِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللهِ ، وَخَيْرَ الْ هَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ ، وَشَرَّ الأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا ، وَكُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ ، وَكَانَ إِذَا ذَكَرَ السَّاعَةَ احْمَرَّتْ وَجْنَتَاهُ ، وَعَلاَ صَوْتُهُ ، وَاشْتَدَّ غَضَبُهُ كَأَنَّهُ مُنْذِرُ جَيْشٍ، صَبَّحَكُمْ مَسَّاكُمْ . مَنْ تَرَكَ مَالاً فَلِلْوَرَثَةِ ، وَمَنْ تَرَكَ ضَيَاعًا أَوْ دَيْنًا فَعَلَيَّ وَإِلَيَّ ، وَأَنَا وَلِيُّ الْمُؤْمِنِينَ.
অর্থ: জাবের রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. খুতবা দেয়ার জন্য দাঁড়ালেন। অতঃপর আল্লাহর হামদ ও ছানা করলেন…। মুসনাদু আহমাদ হাদীস নং ১৫০২৬। শায়খ শুয়াইব আর-নাউত বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ। এই হাদীসে আমরা দেখতে পাচ্ছি রাসূলুল্লাহ সা. হামাদ দ্বারা বক্তব্য শুরু করেছেন। আরো অনেকগুলো সহীহ হাদীসে এমনটি বর্ণিত আছে। দেখুন, সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ৩২৭৮; সহীহ মুসলিম হাদীস নং ২০৪৫।
প্রশ্নঃ 234
সালাত বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোন বইগুলো (বাংলা) দেখতি পারি? এ বিষয়ে আপনার বই কবে বাজারে আসবে?
24 Dec 2025
নিরপেক্ষ ভাবে লেখা বাংলা নামাযের বই চোখে পড়ে না। এই বিষয়ে আস-সুন্নাহ পালিকেশন্স থেকে একটি বই শীঘ্রই বাজারে আসবে ইনশাআল্লাহ।
প্রশ্নঃ 233
আচ্ছালামু আলায়কুম । আমি দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যানের জন্য হিসনুল মুসলিম, ডঃ আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর এর রাহে বেলায়েত এবং ইসলাম হাউজ ডট কম থেকে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) শিখানো মাসনূন দোয়া সমূহ প্রতিদিন সকল ফরজ নামাজের পর এবং সকাল সন্ধ্যায় করি । আমার সকল সমস্যায় হাজত নামাজ এবং ইস্তেখারা নামাজের মাধ্যমে এবং মাঝে মাঝে দুই রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ পরে দোয়ার মাধ্যমে এবং সিয়ামরত অবস্থায় দোয়া করে দুনিয়ার সমস্যা গুলির সহজ সমাধানের জন্য আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করি । কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমি দুনিয়ার সমস্যার জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে যে দোয়াগুলি করছি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার বিপরীতটি ঘটছে । ডঃ আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর এর নিকট আমার প্রশ্ন হচ্ছে এ অবস্হায় আমার কি করা উচিত? আর এ রকম সমস্যা গুলি কারো সাথে শেয়ার করলে গুনাহ হবে কিনা?
24 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
সমস্যা কারো সাথে শেয়ার করলে গুনাহ হবে না। আর হতাশ না হয়ে দুআ করতে হবে। দুআ কবুলের কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা দূর করতে হবে। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। পাশাপাশি জাগতিক পথে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
প্রশ্নঃ 232
আসসালামু আলায়কুম । শাইখ আসরের সলাত কখন পড়া উত্তম? আমার কাছে একটা সলাতের চিরস্হায়ী সময়সূচি আছে, সেখানে আসরের সলাত আমাদের দেশের আযানের প্রায় একঘণ্টা পূর্বে হয় এবং আমি একটা হাদিস পড়েছি, সেখানে ফজরের ও আসরের সলাত দ্রুত আদায় করতে বলা হয়েছে । এক্ষেত্রে আসরের সলাত কখন পড়ব?
24 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আসরের সালাত মসজিদে জামাআতের সাথে আদায় করবেন ।উল্লেখিত দুটি সময়ের যে কোন সময় আসরের সালাদ আদায় করা যায়। তবে সর্বাবস্থায় জামাআতের সাথে আদায় করা জরুরী।
প্রশ্নঃ 231
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: এলাকার মসজিদের ঈমাম যদি সবসময় হাতেগুনা কয়েকটা সূরা (৫-৬ টা) দিয়েই ৫ ওয়াক্ত নামাজ পরান, ফরজ নামাজের পরে হাত তুলে মুনাজাত করান, আখেরি ওয়াক্তে নামাজ পরান এবং নামাজে দ্রুত রুকু ও সিজদা দেন তবে কি এই অজুহাতে জামাত ত্যাগ করা যাবে? বিশেষ করে সেই ব্যাক্তি তার বিপরিতে ইনফিরাদী নামাজ পরলে অধিক সুন্নতের কাছাকাছি হতে পারে।
24 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, এই অজুহাতে জামাআত ত্যাগ করা জায়েজ হবে না। ইমাম পাপী হলেও তার পিছনে নামায পড়তে হবে। জামাআতে নামায পড়া আবশ্যক। যদি কোন মসজিদের নিয়মিত নিযুক্ত ইমাম পাপী হন তবে তার নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ পাপী হবেন। সাধারণ মুসল্লি যদি অন্য কোন ভাল ইমামের পিছনে সালাত আদায়ের সুযোগ পান তাহলে ভাল, নইলে এরুপ পাপী ইমামের পিছনেই সালাত আদায় করতে হবে। নেককার ইমামের পিছনে সালাত আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন কুফর-শিরক না পাওয়া পর্যন্ত কোনো অজুহাতে জামাআত বা জুমুআ ত্যাগ করা যাবে না। ঐক্য বজায় রেখে উত্তম ইমামের জন্য চেষ্টা করতে হবে। আর আপনি যে শিরকের কথা উল্লেখ করেছেন সম্ভবত তা এমন নয় যে, তার পিছনে সালাতই আদায় করা যাবে না। কারণ শিরকের অনেক পর্যায় আছে। সব শিরকই এই পর্যায়ের নয় যে, শিরক কারীর পিছনে সালাত আদায় করা যাবে না। প্রসিদ্ধ কালামবিদ ইমাম আবুল হাসান আশয়ারী র. (৩২৪হি.) বলেন,
ومن ديننا أن نصلي الجمعة والأعياد وسائر الصلوات والجماعات خلف كل بر وفاجر كما روى أن عبد الله بن عمر رضى الله عنهم كان يصلي خلف الحجاج
অর্থ: আর আমাদের দীনের অন্যতম দিক যে, আমরা জুমুয়ার সালাত, ঈদগুলো এবং অন্যান্য সকল সালাত এবং জামাআত নেককার ও বদকারের পিছনে আদায় করি। যেমনিভাবে বর্ণিত আছে,আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের পিছনে সালাত আদায় করতেন (মুসান্নিফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস নং ১৪১৭৫)। আল-ইবানাহ আন উসূলিদ দিয়ানাহ, ১/২০। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে পড়ন ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার রচিত আল-ফিকহুল আকবার পৃষ্ঠা ৩৩৭-৩৭৯ এবং রাহে বেলায়াত পৃষ্ঠা ৫৬৩-৫৬৮
প্রশ্নঃ 230
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: ১. কুরান তিলাওয়াত এর ক্ষেত্রে বিশ্ববিখ্যাত কারী আল আফাসী এর সূর (মাকামাত) ও ঊচ্ছারন (তাজবিদ) এর হুবুহু অনুকরন করা জাবে কিনা? ২. অন্যান্য মুসলিম দেশের কারিদের দেখি তেলাওয়াত এর সময় অর্থের দিকে খেয়াল করে আয়াত কে ভেঙ্গে ভেঙ্গে পরেন যা আমাদের দেশের হাফিজ বা ক্বারীগণ করেন না… এক্ষেত্রে করণীয় কি? ৩. কুরান তেলাওয়াত এর নিয়ম, বিভিন্ন ইমামদের মতামত এবং মাকামাত-তাজবিদ এর উদ্ভাবন বিষয়ে কি কোন বাংলা বই আছে?
24 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
সহীহ ভাবে কুরআন তেলাওয়াত করে এমন যে কোন ক্বারীকে তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে অনুকরণ করেত কোন সমস্যা নেই। অর্থ বুঝে তেলাওয়াত করা নিঃসন্দেহে উত্তম। তাজবীদের বিভিন্ন বই বাজারে পাওয়া যায় তবে শুধু বই দ্বারাই সহীহ তেলাওয়াত শেখা সম্ভব নয়, বিশুদ্ধ তেলাওয়াত একজন ভাল ক্বারী সাহেবের কাছ থেকে শিখতে হবে।
প্রশ্নঃ 229
১। আমার সালাম দেয়ার অভ্যাস আছে, এখন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি এমন সময় একজন মানুষ আসতেছে আর অন্যপাশ দিয়ে আমার এক সমবয়সী যাচ্ছে। আমি লোকটাকে সালাম দিলাম। পরে আমার মনে উদয় হইলো ওই পোলা টা এখন কত ভাল কইবো আমারে,পরক্ষনেই আবার মাথায় আসলো হায় হায় এইটা আমি কি ভাবলাম। ২। আমি যখন নামাজ পড়ি একটু আস্তে ধিরেই পড়ি, যখন মনে হয় যে মসজিদে কেউ আমার নামাজ দেখে তখন আমার মনে হয় যে আরেকটু সুন্দর করি, সাথে সাথেই আবার মনে মনে বলি এইটা আমি কি ভাবলাম। তখন নামাজ একটু দ্রুত পড়ার চেষ্টা করি যেন লোক দেখানো টা প্রাধান্য না পায় অথবা স্বাভাবিক ভাবেই পড়তে থাকি। আবার পাশে কোন ছোট ভাইকে নিয়ে নামাজ পড়লে ভাবি আমার নামাজ তা একটু সুন্দর করি তাইলে ও আমার টা দেইখা শিখবে। সাথে সাথেই ভাবি এইটা মনে হয় ঠিক হবেনা। ৩। বাসায় কোরান পড়ার সময় যদি কেউ বাসায় আসে তখন ভাবি যে আরেকটু সুন্দর করে পড়ি পরে ভাবি না তাইলেত লোক দেখানো হয়ে যাবে। ৪। ওযু করার সময় তো রাসুলুল্লাহ (স) হাত পা মুখ কচলাইয়া ধুইতো তাই আমিও চেষ্টা করি কচলানোর। কিন্তু আমার পাশে কেউ থাকলে মনে হয় যে একটু বেশিক্ষণ কচলাই। পরে ভাবি ধুর এইসব চিন্তা আসে কেন খালি। এইরকম আরো অনেক উদাহরণ আছে।
24 Dec 2025
এগুলো শয়তানের কুমন্ত্রনা। এতে আপনার কোন ক্ষতি হবে না। সব আমলই আপনি সুন্দর করে করার চেষ্টা করুন।আপনাকে আল্লাহ তায়ালা সঠিক পথে অবিচল রাখুন। মানুষকে দেখানোর জন্য আমল করা বা সুন্দর করা যেমন অবৈধ, রিয়া হয়ে যাবে ভয়ে কোনো আমল বাদ দেওয়াও অবৈধ। বিশেষত যে কাজ প্রকাশ্যে করাই সুন্নাত সে কাজ প্রকাশ্যেই করবেন। যেমন সালাম প্রদান। রিয়ার ভয় শয়তানের ওয়াস ওয়াসা।
প্রশ্নঃ 228
আজ থেকে তিন বছর পূর্বে ইসমোতারা রানার সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে বসে, কয়েক মাস পর পারিবারিকভাবে ও আনুষ্ঠানিকভাবে আবার ইসমোতারাকে নিয়ে যায়। কিছু দিন পর ইসমোতারার মা ও রানার মায়ের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপর রানার মা ইসমোতারাকে তার পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেয়। রানাও কোন খোজ খবর নেয় না। ইসমোতারা নিজের ভরণ পোষন দাবি করে কোর্টে রানার বিরুদ্ধে কেস করে। বর্তমানে কেস চলছে,২ বছরেও কোন রায় হয় নি। এমতাবস্থায় অন্যত্র রিকাত নামের একটি ছেলের সাথে ইসমোতারা বিয়ে বসতে চাচ্ছে। যেহেতু রানার সাথে দীর্ঘ দিন যোগাযোগ নাই, তাই (৪/৫ মাস) Back Date এ রানাকে Divorce দিয়ে (চলতি তারিখে) রিকাতের সাথে বিয়ে রেজিস্ট্রী করে রাখলে (অবশ্য ৪/৫ মাস পরে কবুল পড়ানো হবে) ইসলামী শরীয়াতে বিবাহ হবে কি না?
24 Dec 2025
বিয়ের ক্ষেত্রে ইজাব-কবুল মূল শর্ত। আর তালাকপ্রাপ্তা নারীর ক্ষেত্রে এই ইজাব কবুলটি হতে হবে পূর্বের স্বামী কর্তৃক তালাক দেয়ার তিন মাসিক পর। ব্যাক ডেটে তালাক গ্রহনযোগ্য নয়। রেজিস্ট্রি ইসলামের দৃষ্টিতে জরুরি নয়, তবে নিরাপত্তার জন্য একটি ভাল বিষয়। সুতরাং ইসমোতারার জন্য এখন করণীয় হলো শরীয়ত মোতাবেক তালাক গ্রহন করা এবং তিন মাসিক পর ইজাব কবুলের মাধ্যমে অন্য কারো সাথে বিয়েতে বসা। ব্যাক ডেটে কিছু করাই মিথ্যা। আর ব্যাক ডেটে তালাক বা বিবাহ অবৈধ।
প্রশ্নঃ 227
স্যার, যদি ঈদের নামাজে ইমাম ২য় রাকাতে ঈদের নামাজের তাকবির না দিয়েই রুকু তে চলে যায়, এবং মুক্তাদিরা লোকমা দেওয়ার পরে তাকবির দেয়,তোহলে সে ক্ষেত্রে নামাজের কোন ক্ষতি হবে কিনা? আর ঈদের নামাজে সাহু সিজদা দেওয়া যাবে কিনা? জানতে চাই।
24 Dec 2025
বিষয়টি বিস্তারিত জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন: ঈদের সালাতে ভুল হলে কি সাহু সিজদাহ দিতে হবে?
প্রশ্নঃ 226
আসসালামু আলাইকুম। স্যার কেমন আছেন? আপনার সাইটের youtube channel এ দ্বীন প্রতিষ্টা এর ৪ পর্বের আলোচনা আছে। যা ইসলামিক টিভি তে টেলিকাস্ট হয়েছিল। অই প্রোগ্রামের চতুর্থ পর্বে ভিডিওতে ৮ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড পরে বলেছিলেন মক্কার অধিকাংশ মানুষ ইসলামে আসার পর রাস্ট্র প্রতিষ্টা হয়েছিল। কিন্তু আর রাহিকুল মাখতুম এ আছে মক্কা রাষ্ট্র প্রতিষ্টার সময় অধিকাংশ মানুষ কাফের ছিল। এই ব্যাপার একটু ক্লিয়ার করবেন কী? আমি চিটাগং এ থাকি। আপনার সরাসরি যোগাযোগ করতে পারলে আরও ভাল হত। জাযাকাল্লাহ খায়ের। আসসালামু আলাইকুম
24 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
বিষয়টি জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন: মক্কার অধিকাংশ মানুষ ইসলাম আসার পর ইসলাম গ্রহণ করেছিল নাকি ইসলামী রাষ্ট প্রতিষ্ঠার পরও কাফিরদের
প্রশ্নঃ 225
রফউল ইয়াদাইন এর ব্যাপারে কিছু কথা জানতে চাই।
24 Dec 2025
রফউল ইয়াদাইনের অর্থ হাত উঠানো। বিভিন্ন হাদীসে রফউল ইয়াদাইন সম্পর্কে আমরা জানতে পারি। কোনো হাদীসে একবার, কোনো হাদীসে তিনবার, কোনো হাদীসে চারবার, পাঁচবার রফউল ইয়াদাইন করার কথা আছে। সবগুলোই সহিহ। যেকোনো একটি পদ্ধতি অবলম্বন করলেই সুন্নাহ অনুসরণ করা হবে। বিস্তারত জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুন। রফেউল ইয়াদাইন নিয়ে ঝগড়ার নিরসন ! !
প্রশ্নঃ 224
মুহতারাম, আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হলো, আমাদের একটি হাফেজি মাদরাসা আছে, এখানকার বেশির ভাগ ছাত্রই এতিম। এটি বিভিন্ন কালেকশন, সাদাতাহ, মাদরাসার দোকান ও আমাদের অর্থ নৈতিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। এখানে এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং থাকার কারনে সাদাকার টাকা সহ অন্যান্য জিনিস জমা হয়। এক্ষেত্রে সাদাকার অর্থ মাদরাসা ও এতিমদের জন্য কোন কোন খাতে ব্যয় করা যাবে? বিস্তারিত জানাবেন।
24 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
যাকাত, ফিৎরা, কুরবানীর চামড়া, মান্নতের টাকা অর্থাৎ যে গুলো গরীবদের হক সেগুলো তাদের জন্যই ব্যায় করতে হবে। যেমন তাদের খাবার, পোশাক, বইপত্র ক্রয় ইত্যাদি। এই টাকা দিয়ে মাদ্রাসার উন্নয়নমূলক কোন কাজ করা যাবে না। দোকানভাড়ার টাকা এবং অন্যান্য সাধারণ দানের টাকা দিয়ে মাদ্রাসার উন্নয়নমূলক কাজ (যেমন, ঘর-বাড়ি তৈরী) ও শিক্ষকদের বেতন দেয়া যাবে।
প্রশ্নঃ 223
মুহতারাম, আস সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: ইসলাম সম্পর্কে জানা এবং হিদায়েত এর পথে চলার ক্ষেত্রে জাহাঙ্গির স্যার এর ভুমিকা আমার জীবনে ব্যাপক। স্যার এর সবগুল বই আমার সংগ্রহে আছে এবং আমি তা নিয়মিত অধ্যায়ণ করি। অতপর আমার জানার বিষয় হল: ১. ঈসলামের ইতিহাস সম্পর্কিত সবচেয়ে সহিহ বই কোনটি কোনটি?ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত ঈসলামের ঈতিহাস মাওলানা আকবার শাহ খান নাজিদাবাদি বইটি কি পরা যাবে? ২. আমি PRIVATE JOB করি, বাছর দুই-তিনেক আগে নিয়ত করি যে জীবনের শেষদিন পুর্যন্ত কুরান হিফজ করতে থাকব….সেমতে চেষ্টা করে প্রাই ৬০ টি সুরা মুখস্ত করেছি (আলহামদুলিল্লাহ). কিন্তু যেহেতু আমি তহাজ্জুদ আদায় করকে পারি না এবং হিফজ করতে যথেষ্ঠ সময় লাগে, তাই এখন হিফজ মনে রাখা কঠি হয়ে গেছে। ফলে আমাকে নতুন হিফজ করার চেয়ে পুরাতনগুলো রিভাইজ করতে বেশি সময় দিতে হয়…এই অবস্থায় আমার করণীয় কি? (আমার বয়স ৩২, আমি বিবাহিত এবং আমার ১টি ছেলে আছে যর বয়স ৭ বছর বাক্তিগত জীবনে দ্বীন-ইসলামপালনের ক্ষেত্রে পরামর্শ দিবেন
24 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
১। হ্যাঁ, উক্ত বইটি পাঠ করা যেতে পারে।
২। আপনি কুরআন যতটুকু মুখস্ত করেছেন তা ভালভাবে মুখস্ত রাখুন। আর বাকিটুকু আপনার সামর্থনাযুয়ী হিফজ করার চেষ্টা করুন। এরপরও যদি কোন অংশ ভুলে যান তাহলে আশা করা যাই আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দিবেন।
প্রশ্নঃ 222
আমাদের সমাজে যেসব এনজিও বা বীমা কোমপানীগুলো ছড়িয়ে রয়েছে তাদের কাছ থেকে টাকা ঊঠানো বা সনঞচয়ী হিসাবে টাকা জমা রাখা এবং তাদের নীতি অনুসারে যেকোন আরথিক লেনদেন কি ইসলামি শরিয়ত কি অনুমোদন দেয়? জানালে খুবই উপকার হয়।
24 Dec 2025
সুদ ভিত্তিক কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে যে কোন ধরনের আর্থিক লেনদেন হারাম। সুতরাং সুদ ভিত্তিক কোন এনজিও বা বীমা কোম্পানীর সাথে আপনি উক্ত আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন না।
প্রশ্নঃ 221
আমাদের সমাজে যেসব এনজিও বা বীমা কোমপানীগুলো ছড়িয়ে রয়েছে তাদের কাছ থেকে টাকা ঊঠানো বা সনঞচয়ী হিসাবে টাকা জমা রাখা এবং তাদের নীতি অনুসারে যেকোন আরথিক লেনদেন কি ইসলামি শরিয়ত কি অনুমোদন দেয়? জানালে খুবই উপকার হয়।
24 Dec 2025
সুদ ভিত্তিক কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে যে কোন ধরনের আর্থিক লেনদেন হারাম। সুতরাং সুদ ভিত্তিক কোন এনজিও বা বীমা কোম্পানীর সাথে আপনি উক্ত আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন না।
প্রশ্নঃ 220
আস-সালামু আলাইকুম। মহিলারা কি বাবা মা বা সজন্ দের কবর জিয়ারাত করতে পারবে? নাবি (স) এর কবর জিয়ারাত করতে পারবে?
24 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। অধিকাংশ আলেম ও ফকীহর মত হলো, মহিলাদের জন্য কবর জিয়ারত করার অনুমতি নেই। তবে অনেক আলেম বলেছেন, দুয়েক বার করা জায়েজ আছে। দেখুন, আল-ফিকহিয়্যাতুল ইসলামিয়্যু ওয়া আদিল্লাতুহু, ২/৬৮০; আলমাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ; ২৪/৪৪; হাশিয়াতু রদ্দিল মুখতার, ২/৬২৬। যারা বলেন অনুমতি নেই তাদের দলীল নিম্নের হাদীস:
حدثنا قتيبة حدثنا أبو عوانة عن عمر بن أبي سلمة عن أبيه عن أبي هريرة : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم لعن زوارات القبور
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. কবর জিয়ারতকারী মহিলাদের লানত করেছেন। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ১০৫৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৮৪৩৩। । হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী সহীহ বলেছেন, শায়খ শুয়াইব আর নাউত এবং শায়খ আলাবনী হাসান বলেছেন। উক্ত হাদীসের ভিত্তিতে অধিকাংশ আলেম ও ফকীহ বলেন, মহিলাদের জন্য কবর জিয়ারত করা জায়েজ নেই। তবে কোন কোন ফকীহ বৈধতা দিয়েছেন। তাদের দলীল হলো: হযরত আশো রা. এর ঘরে একবার রাসূলুল্লাহ সা. রাত্রে ছিলেন। মধ্যরাতে হঠাৎ তিনি দেখলেন রাসূলুল্লাহ সা. ঘরে নেই, তিনি তাকে কবর স্থানে পেলেন। সেখানে এক পর্যায়ে হযরত আয়েশা রা. রাসূলুল্লাহ সা. কে বললেন,
كَيْفَ أَقُولُ لَهُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ্র قُولِى السَّلاَمُ عَلَى أَهْلِ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ وَيَرْحَمُ اللَّهُ الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنَّا وَالْمُسْتَأْخِرِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لَلاَحِقُونَ
অর্থ: ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি তাদের (কবরবাসীদের) কি বলব? তখন তিনি বললেন,বল! মূমিন ও মুসলিম কবরবাসীদের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি বর্ষিত হোক। আমাদের পরবর্তী এবং পূববর্তীদেও উপর আল্লাহ দয়া করুন। ইনশাআল্লাহ আমরাও তোমাদের সাথে যুক্ত হব। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৩০১। প্রথমে উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণনা করার পর এই বিষয়ে ইমাম তিরমিযী বলেন,
وقد رأى بعض أهل العلم أن هذا كان قبل أن يرخص النبي صلى الله عليه و سلم في زيارة القبور فلما رخص دخل في رخصته الرجال والنساء وقال بعضهم إنما كرهت زيارة القبور للنساء لقلة صبرهن وكثرة جزعهن
অর্থ: একদল আলেম মনে করেন যে, এটা ছিল নবীয়্যূল্লাহ সা. কর্তৃক মানুষেরকে কবর জিয়ারতের অনুমতি দেয়ার পূর্বে। যখন তিনি অনুমতি দিয়েছেন তখন পুরুষ মহিলা উভয়েই এই হুকুমের অন্তুভূক্ত হবে। আরেকদল আলেম বলেন, মহিলাদের জন্য কবর জিয়ারত করা মাকরুহ হবে, কেননা তাদের ধৈর্য্য কম এবং অস্থিরতা বেশী। সুনানু তিরমিযী, ১০৫৬ নং হাদীসের আলোচনা। উল্লেখ্য যে, রাসূলুল্লাহ সা. এর কবর জিয়ারত করা সবার মতে জায়েজ আছে। শেষ কথা: মহিলাদের মন নরম, তাদের ধৈর্য্য কম. তারা অল্পতেই কান্নকাটি শুরু করে দেয় সুতরাং তাদের কবর জিয়ারত না করতে যাওয়াটা নিঃসন্দেহ উত্তম। মালেকী মাজহাবের প্রসিদ্ধ আলিম আল্লামা ইবনে আব্দুল বার বলেন,
ولا خلاف في إباحة زيارة القبور للرجال وكراهيتها للنساء
অর্থ: পুরুষদের জন্য কবর জিয়ারত বৈধ হওয়ার এবং মহিলাদের জন্য মাকরুহ হওয়ার ব্যপারে কোন মতবিরোধ নেই। দেখুন: আল-ইসতিযকার, ১/১৮৪।
প্রশ্নঃ 219
আসসালামু আলাইকুম! ঊস্তাদ! আমি আপনার নিয়মিত শ্রোতা এবং আপনার বইগুলির একজন পাঠক। আমি আপনার খুতবা সম্পর্কিত বইটি পড়ছিলম। মাশাল্লাহ এখানে আপনি গভির পর্জালচোনা করেছেন। আমার প্রশ্ন হল মাতৃভাষায় খুতবা দেওয়ার অভিমতটি বাংলাদেশ এর অনেক আলেম সহজ ভাবে মেনে নিতে চাবেন না। যেমন আমি http://ahlehaqmedia.com/ আহ্লেহাক্মেদিয়া। চম এ খুতবা বিশৈয়ক পস্ত গুল দেখছিলাম। ষেখানে আলেম গন এর কতর বিরধিতা করেছেন। এবং তাদের সপক্কে অনেক জুক্তি দেখিয়েছেন। ঊস্তাধ! এখন আমার প্রস্ন হচ্ছে জে ঐক্ক রক্ষার খেত্রে কি এই বিসৈ নিয়া আমি তাদের সাথে আলছনা আরিয়ে জেতে পার্ব? জাযাকাল্লাহ খাইর!
24 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
ঐক্য রক্ষার খাতিরে আলোচনা করতে গিয়ে আপনি ঐক্য রক্ষা করতে পারবেন বলে মনে হয় না। সুতরাং এই সব থেকে আপনার বিরত থাকায় উচিৎ।
প্রশ্নঃ 217
আসসালামু আলাইকুম আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে, যে সকল মেয়েদের সময় মত বিয়ে হচ্ছে না তাদের জন্য সুন্নত সম্মত কি কি ইবাদাত রয়েছে? যা থেকে তারা এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারে ।
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
সকল ফরজ নামাযের পর আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। তাহাজ্জুদ নামায আদায় করে আল্লাহর কাছে দোয়া করা যেতে পারে, কারণ এই সময় দোয়া কবুল হয় বলে সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে। সকাল বিকাল যে সব মাসসনুন দোয়া আছে সেগুলো পাঠ করা যায়। । রাহে বেলায়াত গ্রন্থেও ১৮৮ ও ১৯২ নং দোয়া পড়বেন। সহীহ মাসনুন ওযীফা গ্রন্থে সকাল বিকালের মাসনুন দোয়াগুলো সহজে পাওয়া যায়। আল্লাহ আমাদেরকে সকল বিপদাপদ থেকে নিরাপদে রাখুন।
প্রশ্নঃ 216
আস-সালামূ আলাইকুম, মাননীয় মহতারামের কাছে আমি একটি সমস্যার সমাধানের জন্য পরামর্শ চাছিছ,আমার সমস্যাটা হচেছ আমি আগে ঠিক মত নামাজ রোজা এবং ইসলামী নিয়ম নীতি ঠিক মত মানতাম না,এখন আল্লাহতালার রহমতে নামাজ রোজা এবং ইসলামী সকল নিয়মনীতি মেনেচলার চেষ্টা করতেছি,এখন আমার ইসএী এইসব পছনদ না আমার মুখে দাড়ি তার পছনদ না, এখন সে আমার কাছে তালাক পয্নতো চায়,আমার দুইটি ছেলে মেয়ে আছে,আর আমি থাকি সোদিতে। কি করিবো আমার মাথায় কোন কাজ করিতেছে না,আমাকে কোরআন এবং হাদীছ এর আলোকে একটা পরামশ্ দিলে খুব উপকৃত হবো। জেজাকআললাহ খায়ের।
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
দাঁড়ি কাটা হারাম। কোন অবস্থাতেই দাঁড়ি কাটা জায়েজ নয়। আপনি আপনার স্ত্রীকে ইসলামের হুকুম আহকাম বুঝাতে থাকুন। প্রয়োজনে এমনও বলতে পারেন যে, দাঁড়ি কাটতে পারি তবে আমি অন্য মেয়েদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক রাখব। মোটকথা, আপনি কৌশলে বুঝাতে থাকুন। কোন অবস্থাতেই স্ত্রীর কথা শুনে দাঁড়ি কাটা উচিৎ হবে না।
প্রশ্নঃ 215
মুহতারাম, আস সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: শিশুরা অসুস্থ হলে কী দুআ পড়তে হয়?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
অসুস্থতা থেকে সুস্থ হওয়ার জন্য বিভিন্ন দোয়া হাদীস শরীফে আছে। বিস্তারিত জানতে রাহে বেলায়াত নতুন সংস্করনের ২২৮ নং যিকির থেকে২৩৯ নং যিকির পর্যন্ত দেখুন। আল্লাহ সবাইকে সুস্থ রাখুন।
প্রশ্নঃ 214
আস সালামু আলাইকুম। কবর জিয়ারতের সময় কুরাআন তিলাওয়াত করা জায়েজ কিনা? আমরা বাবা মার কবর জিয়ারতে গিয়ে কি পরব? সুন্নার আলোকে জানতে চাই। আল্লাহ আপনাকে উত্তম যাযা দান করুন। আমিন
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
কবর জিয়ারত সময় সালাম দিতে হবে। তবে সাহাবীরা কিংবা রাসূলুল্লাহ সা. কবর জিয়ারতের সময় কুরআন তেলাওয়াত করেছেন বলে কোন সহীহ হাদীসে পাওয়া যায় না। কবর জিয়ারতের সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতি জানতে আমাদের দেয়া ৭৭ নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন। কবর জিয়ারতের পাঁচটি দোয়া সহ বিস্তারিত জানতে দেখুন: রাহে বেলায়াত গ্রন্থের ৬০৬-৬১২ পৃষ্ঠা।
প্রশ্নঃ 213
এখনকার ফুরফুরা শরীফ সম্পর্কে আপনার মতামত কি?
23 Dec 2025
ফুরফুরার প্রথম ও মূল পীর আবু বকর সিদ্দিকী রহি. মারা গেছেন ১৯৩৯ ইং সনে। এরপর তার সন্তানগণ বহু পথ ও মতে বিভক্ত হয়েছেন। তাঁর বড় ছেলে ছিলেন আব্দুল হাই সিদ্দিকী। তিনি ১৯৭৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার বড় ছেলে ছিলেন আব্দুল কাহহার সিদ্দীকী। তিনি ২০০৬ সালে মৃত্যু বরণ করেন। আব্দুল কাহ্হার সিদ্দীকী শিরক-বিদআতের কঠোর বিরোধী ছিলেন। তার দরবার ও ভক্তদের মধ্য থেকে দিন শিরক বিদআত উৎখাতের জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেন। তাঁর ছেলে আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী পিতার স্থলে কাজ করছেন। তিনিও শিরক বিদআত থেকে মুক্ত থাকতে সদা-সচেষ্ট। তবে এর পাশাপাশি বর্তমানের ফুরফুরার মূল পীর আবু বকর সিদ্দিকীর বংশধরদের মধ্যে অনেকেই বিদআতের পক্ষে সোচ্চার। বিস্তারিত জানতে ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর লিখিত ফুরফুরার পীর আবু জাফর সিদ্দিকী রচিত আল মাউযুআত বইটি পড়ন।
প্রশ্নঃ 212
আসসালামুয়ালিকুম। আমার প্রস্নঃ বাজারে আহ্ লে হাদিসের প্রতি ওপেন চেলেঞ্জ নামে একটি বই পাওয়া যায়। তাতে এক্ টা হাদিসের উদ্রিতি দেয়া আছেঃ জাবের ইবনে সামুরা (রা) থেকে বরনিত, রাসুল (সা) সাহাবা কেরামদের রাফাউল ইয়াদাঈন করতে দেখে বললেন, আমি তোমাদেরকে রাফাউল ইয়াদাঈন করতে দেখছি। মনে হচ্ছে যেন তোমাদের হাত গুলো দুস্ট ঘোড়ার লেজ এর মত। নামাজে শান্ত থাক। (মুসলিম) আমার প্রশ্নঃ এই হাদিস কি রুকু সিজদায় রাফাউল ইয়াদাঈন এর কথা বলা হয়েছে? না কি অন্ন কিছু?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
সাহাবী জাবের ইবনে সামুরা রা. থেকে উক্ত হাদীসের কয়েকটি মতন (বর্ণনা ) রয়েছে। নিচে দুটি বর্ণনা দেওয়া হল। এখান থেকে বিষয়টি আমাদের জন্য স্পষ্ট হবে।
১। عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَقَالَ ্র مَا لِى أَرَاكُمْ رَافِعِى أَيْدِيكُمْ كَأَنَّهَا أَذْنَابُ خَيْلٍ شُمْسٍ اسْكُنُوا فِى الصَّلاَةِ
অর্থ: জাবের ইবনে সামুরা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. আমাদের কাছে আসলেন। এরপর বললেন, কি হলো, আমি তোমাদের দেখছি তোমরা দুষ্ট ঘোড়ার লেজের মত তোমাদের হাতগুলো উঠাচ্ছ, নামাযে শান্ত থাক। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৯৬।
২। عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَكُنَّا إِذَا سَلَّمْنَا قُلْنَا بِأَيْدِينَا السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ فَنَظَرَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَقَالَ ্র مَا شَأْنُكُمْ تُشِيرُونَ بِأَيْدِيكُمْ كَأَنَّهَا أَذْنَابُ خَيْلٍ شُمُسٍ إِذَا سَلَّمَ أَحَدُكُمْ فَلْيَلْتَفِتْ إِلَى صَاحِبِهِ وَلاَ يُومِئْ بِيَدِهِ
অর্থ: জাবের ইবনে সামুরা রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা. এর সাথে নামায পড়ছিলাম। যখন আমরা সালাম ফিরালাম তখন আমরা আমাদের হাত দ্বারা ইশারা করে বললাম, আস-সালামু আলাইকুম, আস-সালামু আলাইকুম। তখন রাসূলুল্লাহ সা. আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমাদের কি হল! হাত দ্বারা ইশারা করছ, যেন দুষ্ট ঘোড়ার লেজ। যখন তোমাদের কেউ সালাম ফিরাবে তখন তার পাশের লোকের দিকে তাকাবে, হাত দ্বারা ইশারা করবে না। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ৯৯৯।
উপরুক্ত হাদীস দুটি দ্বারা স্পষ্ট যে, নামাযে সালাম ফিরানোর সময় সাহাবীরা হাত উঠাতেন আর রাসূলুল্লাহ সা. তা করতে নিষেধ করেছেন। তবে রুকু সিজদাহতে রাফউল ইয়াদাইন করা না করা উভয় ক্ষেত্রেই সহীহ হাদীস আছে। এই নিয়ে বিতর্ক ত্যাগ করা উচিত।
প্রশ্নঃ 211
আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হল কারো কিছু হারিয়ে গেলে বা চুরি হয়ে গেলে, কে চুরি করেছে সেটা জানার জন্ন বিভিন্ন তন্ত্র-মন্ত্রের আশ্রয় নেয়া হয়, স্মভবত এগুলোতে জিনদের ব্যবহার করা হয়। এটা কি শরীয়ত সম্মত এবং এই তন্ত্র-মন্ত্রে কি বিশ্বাস করা যাবে? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন।
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
বিচারের ক্ষেত্রে এই সব তন্ত্র-মন্ত্রের ফয়সালার কোন স্থান নেই। আর এভাবে চোর ধরা তথা গায়েবের খবর জানার চেষ্টা করা সে যেভাবেই হোক, কুরআনের আয়াত দ্বারা হোক কিংবা অন্য কোন মন্ত্র দ্বারা হোক সম্পূর্ণ হারাম ও কুফুরী কাজ। এছাড়াও অনেক সময় এটা মানুষের মাঝে ঝগড়া-ফাসাদের কারণ হয়, তাই এই এই কাজ থেকে আমাদের বিরত থাকা আমাদের জন্য অপরিহার্য।
প্রশ্নঃ 210
মুহতারাম আস সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: নজর থেকে বাচার জন্য কোন জিনিসের মাধ্যমে শিশূদের ঝাড়-র্ফুক করা, যেমন—শুকনা মরিচ, কপালে কাল টিপ দেয়া — এ ব্যাপারে ইসলামে কোন বাধা আছে কি? থাকলে হাদিস এর রেফারেঞ্চ সহ জান্তে চাই।
23 Dec 2025
বদ-নযর থেকে শিশুকে বাঁচানোর জন্য সূরা ফালাক, সূরা নাস পড়ে ঝাড়ফুঁক করতে পারেন। এছাড়াও আরো কিছু দোয়া হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে। বিস্তারিত জানতে দেখুন রাহে বেলায়াত (মার্চ-২০১৩ইং সংস্করন), শেষ অধ্যায়। কপালে টিপ পরার মাধ্যমে শিশুর কোনই উপকার হয় না। এটা একটি কুসংস্কার। এটা পরিহার করতে হবে।
প্রশ্নঃ 209
আস্সালামু আলাইকুম, কেমন আছেন, একটি ব্লগে দেখলাম একজন চরম ভাবে রাসুলের হাদিসের প্রতি ওনিহা সেই বলছে কোরআনে সালাতের কথা বলা হয়েছে কিন্তু কোন ওক্তে কয় রাকাত পড়তে হবে তা নেই এমন কি সে বলে তোমরা যে হাদিসের কথা বলো তাতেও নেই সুতরাং নিজের ইচ্ছা মাপিক রাকাত পড়া যাবে ওক্ত সমূহে। । এমন চরম অনিহা পুর্ণ কথা মানতে পারছি না তাই অনুগ্রহ করে কোরআন ও হাদিস থেকে দলিল গুলো দিয়ে উপকৃত করুন।
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীসে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের রাকআত সংখা উল্লেখ আছে। ইসলাম সম্পর্কে চরম অজ্ঞ কিংবা ইসলামের চরম শত্রু, এমন লোকেরাই কেবল এধরনের মন্তব্য করতে পারে। নিচে সংক্ষেপে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হলো: নিচের উল্লেখিত এই হাদীস দ্বারা আমারা জানতে পারি যে, ফজরের নামায দুই রাকআত, জোহর, আসর, ঈশা চার রাকআত আর মাগরিব তিন রাকআত। হাদীসটি হলো:
عَنْ عَائِشَةَ ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : قَالَتْ : كَانَ أَوَّلَ مَا افْتُرِضَ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّلاَةُ : رَكْعَتَانِ رَكْعَتَانِ، إِلاَّ الْمَغْرِبَ ، فَإِنَّهَا كَانَتْ ثَلاَثًا ، ثُمَّ أَتَمَّ اللَّهُ الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ وَالْعِشَاءَ الآخِرَةَ أَرْبَعًا فِي الْحَضَرِ ، وَأَقَرَّ الصَّلاَةَ عَلَى فَرْضِهَا الأَوَّلِ فِي السَّفَرِ تعليق شعيب الأرنؤوط : إسناده حسن من أجل ابن إسحاق
অর্থ: হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্নিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. এর উপর প্রথমে দুই দুই রাকআত করে নামায ফরয হয়েছিল, তবে মাগরিব তিন রাকআত ছিল। এরপর আল্লাহ তায়ালা সাধারণ সময়ে (সফর বাদে) জোহর, আসর ও ঈশা চার রাকআত পূর্ণ করে দেন। আর সফর অবস্থায় পূর্বের বিধান বহাল রাখলেন। মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ২৬৩৮১। শায়খ শুয়াইব আরনাউত হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আরো কিছু হাদীস নিচে উল্লেখ করা হলো যে সব হাদীস থেকে আমরা বিভিন্ন ওয়াক্তের নামাযের রাকআত সংখা জানতে পারি:
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- فِى الْحَضَرِ وَالسَّفَرِ فَصَلَّيْتُ مَعَهُ فِى الْحَضَرِ الظُّهْرَ أَرْبَعًا وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ وَصَلَّيْتُ مَعَهُ فِى السَّفَرِ الظُّهْرَ رَكْعَتَيْنِ وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ وَالْعَصْرَ رَكْعَتَيْنِ وَلَمْ يُصَلِّ بَعْدَهَا شَيْئًا وَالْمَغْرِبَ فِى الْحَضَرِ وَالسَّفَرِ سَوَاءً ثَلاَثَ رَكَعَاتٍ لاَ تَنْقُصُ فِى الْحَضَرِ وَلاَ فِى السَّفَرِ وَهِىَ وِتْرُ النَّهَارِ وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ. قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ
ইবনে উমার রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা. এর সাথে সফরে এবং সাধারণ সময়ে নামায পড়েছি। আমি তার সাথে সাধারণ অবস্থায় যোহর চার রাকআত পড়েছি। এবং তারপর দুই রাকআত পড়েছি। আমি তাঁর সাথে সফরে জোহর দুই রাকআত পড়েছি এবং তারপর দুই রাকআত পড়েছি। এরপর আর কিছু তিনি কোন নামায পড়েন নি। আর মাগরিব সফর ও সাধারণ উভয় অবস্থায় তিন রাকআত পড়েছি। সফরে এবং সাধারণ অবস্থা কোন সময়ই তা কম করা হয় না আর সেটা হলো দিনের বিতর এবং তারপর দুই রাকআত পড়েছি। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ৫৫৫। ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান। উক্ত হাদীস থেকে আমরা জানতে পারলাম জোহরের নামায চার রাকআত আর মাগরিবের নামায তিন রাকআত। আর এই নামাযেরগুলোর পরে দু রাকআত করে সুন্নাত আছে।
عَنْ قَيْسِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ رَأَى رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- رَجُلاً يُصَلِّى بَعْدَ صَلاَةِ الصُّبْحِ رَكْعَتَيْنِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- صَلاَةُ الصُّبْحِ رَكْعَتَانِ فَقَالَ الرَّجُلُ إِنِّى لَمْ أَكُنْ صَلَّيْتُ الرَّكْعَتَيْنِ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا فَصَلَّيْتُهُمَا الآنَ. فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم-
অর্থ: কাইস ইবনে আমর বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. একজন লোককে দেখলেন, ফজরের নমাযের পর দুই রাকআত নামায পড়ছে। তখন রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, ফজরের নামায তো দুই রাকআত। তখন লোকটি বলল, আমি এর পূর্বের দুই রাকআত পড়িনি তাই এখন তা পড়ছি। তখন রাসূলুল্লাহ সা. চুপ থাকলেন। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ১২৬৯। হাদীসটি সহীহ। উক্ত হাদীস থেকে আমরা জানতে পারলাম ফজরের নামায দুই রাকআত।
عَنْ أَنَسٍ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ صَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالْمَدِينَةِ الظُّهْرَ أَرْبَعًا وَالْعَصْرَ بِذِي الْحُلَيْفَةِ رَكْعَتَيْنِ وَسَمِعْتُهُمْ يَصْرُخُونَ بِهِمَا جَمِيعًا
অর্থ: আনাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, (বিদায় হজ্জের সফরের সময়) রাসূল সা. মদিনায় যোহর সালাত চার রাকআত আদায় করেন। (সফর শুরু করে) যুল হুলাইফা পৌঁছানোর পর তথায় আসর সালাত (কসর হিসেবে) দু রাকআত আদায় করেন। আমি শুনলাম সাহাবীগণ হজ্জ ও উমরার জন্য একত্রে (কিরান হজ্জের) তালবিয়া পড়ছেন চিৎকার করে। । সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫৪৮। উক্ত হাদীস থেকে আমরা জানতে পারলাম জোহর নামায চার রাকআত ও আসরের নামায সফর অবস্থায় দুই রাকআত। এছাড়াও বিভিন্ন হাদীসের কিতাবে নামাযের রাকআত সংখা নিয়ে অনেক হাদীস উল্লেখ আছে। উল্লেখ্য এখানে আমরা পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ নামায সমূহের রাকআত সংখা নিয়ে আলোচনা করেছি। সুন্নত নামায নিয়ে নয়। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, কোন ওয়াক্তে নামায কত রাকআত তা হাদীসে বিষদভাবে বর্ণিত আছে। এছাড়াও এটা রাসূলুল্লাহ সা. থেকে এখন পর্যন্ত উম্মতের কর্মধারা দ্বারা প্রমানিত। সুতরাং কারো কথায় বিভ্রান্ত হওয়ার কোন কারণ নেই।
প্রশ্নঃ 208
ইসলামী নেতা নির্বাচনের পদ্ধতি কি? হযরত উমর (রা), হযরত ওসমান(রা), হযরত আলী (রা) কোন পদ্ধতিতে খলিফা নির্বাচিত হয়ে ছিল? দুটি প্রশ্নের উত্তর কামনা করছি।
23 Dec 2025
রাসূলুল্লাহ সা.-এর আগমনের সময় সমগ্র বিশ্বের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ছিল মূলত বংশতান্ত্রিক। রাষ্ট্রের মালিক রাজা। তার অন্যান্য সম্পদের মতই রাষ্ট্রের মালিকানাও লাভ করবে তার বংশধরেরা। রাজ্যের সকল সম্পদ-এর মত জনগণও রাজার মালিকানাধীন। রাজা নির্বাচন বা রাজ্যপরিচালনা বিষয়ে তাদের কোনো মতামত প্রকাশের সুযোগ বা অধিকার নেই। রাসূলুল্লাহ সা. সর্বপ্রথম একটি আধুনিক জনগণতান্ত্রিক পরামর্শ-ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। এ ব্যবস্থার দুটি বিশেষ দিক ছিল:
(১) রাজা ও প্রজার সম্পর্ক মালিক ও অধীনস্থের নয়, বরং মালিক ও ম্যানেজারের। তবে মালিক রাজা নন। রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। রাজা তাদের খলীফা বা প্রতিনিধি বা ম্যানেজার হিসেবে তা পরিচালনা করবেন। জনগণই তাকে মনোনিত করবেন এবং জনগণ তাকে সংশোধন বা অপসারন করবেন।
(২) রাষ্ট্রপ্রধান নির্ধারণ করা একটি জাগতিক কর্ম এবং তা জনগণের কর্ম। জনগণের পরামর্শের ভিত্তিতে তা সম্পন্ন হবে। পরামর্শের ধরন নির্ধারিত নয়। যুগ, দেশ ও জাতির অবস্থা অনুসারে তা পরিবর্তিত হতে পারে। ইসলামী ব্যবস্থায় পূর্ববর্তী শাসক কাউকে মনোনয়ন না দিয়ে বিষয়টি জনগণের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দিতে পারেন। অথবা জনগণের পরামর্শ ও স্বীকৃতির ভিত্তিতে যোগ্য কাউকে মনোনয়ন দিতে পারেন। সবচেয়ে বেশি যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয় নি; কারণ সবচেয়ে যোগ্য নির্ণয়ে সমাজে অকারণ সংঘাত তৈরি করে। ইসলামে জনগণের পরামর্শ ও স্বীকৃতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরামর্শ ও স্বীকৃতি থাকলে নিজ পুত্র বা বংশের কাউকে পরবর্তী শাসক হিসেবে মনোনয়ন দিতে কোনোভাবে নিষেধ করা হয় নি। মূলত বিষয়টি দেশ, কাল ও সমাজের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এ ব্যবস্থার আওতায় রাসূলুল্লাহ সা. কাউকে মনোনিত না করে উম্মাতকে সরাসরি নির্বাচনের মুখোমুখি রেখে যান। আবূ বকর (রা) নেতৃবৃন্দের সাথে পরামর্শক্রমে উমারকে (রা) পরবর্তী শাসক হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে যান। উমার (রা) ৬ জনের একটি কমিটিকে মনোনয়ন দেন, যারা জনগণের পরামর্শের ভিত্তিতে তাঁদের মধ্য থেকে উসমানকে (রা) মনোনয়ন দেন। উসমান (রা)-এর শাহাদতের পরে মদীনার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ পরামর্শের মাধ্যমে আলী (রা)-কে শাসক মনোনিত করেন। আলী (রা) তাঁর ইন্তেকালের পূর্বে তাঁর পুত্র হাসান (রা)-কে পরবর্তী শাসক হিসেবে মনোনয়ন দেন।
প্রশ্নঃ 207
video lecture on aqida
23 Dec 2025
আকীদা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে স্যারের লিখিত বই ইসলামী আকীদা, আল-ফিকহুল আকবারএ্হইয়াউস সুনান বইগুলো পড়ুন। এই বর্তমানে আকীদা ও এ্হইয়াউস সুনান এর উপর স্যারের ক্লাস চলছে। আপনি আমাদের চ্যানেলে গিয়ে ভিডিওগুলো দেখতে পারেন। https://www.youtube.com/user/SunnahTrust
প্রশ্নঃ 206
আসসালামু আলায়কুম। দাড়ি না রাখলে তার দিকে রসুলুল্লাহ সঃ ঘৃনাভরে তাকাতেন না, এমন কোন দলিল আছে কি? থাকলে দয়া করে ইনবক্সে জানাবেন।
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
হ্যাঁ, এই বিষয়টি একটি হাদীস থেকে বুঝা যায। নিচে এই বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো: রাসূলুল্লাহ সা. নিজে দাড়ি রেখেছেন। দাড়ি রাখতে আদেশ করেছেন। দাড়ি কাটতে নিষেধ করেছেন। এবং দাড়িবিহীন মানুষকে তিনি অপছন্দ করতেন। এই বিষয়ে দুটি হাদীস নিচে দেয়া হল:
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- ্র خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ أَحْفُوا الشَّوَارِبَ وَأَوْفُوا اللِّحَى
অর্থ: ইবনে উমার রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেণ, তোমরা মুশরিকদের বিপরীত করো, গোঁফ কাটো আর দাড়ি ছেড়ে দাও। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬২৫; সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৮৯৩। ইমাম তাবারী তার সনদে উদ্ধৃত করেছেন যে, পারস্যের সম্রাট রাসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট দুজন দূত প্রেরণ করেন:
دخلا على رسول اللهصلى الله عليه وسلم وقد حلقا لحاهما وأعفيا شواربهما فكره النظر إليهما ثم أقبل عليهما فقال من أمركما بهذا قالا أمرنا بهذا ربنا يعنيان كسرى فقال رسول الله لكن ربي قد أمرني بإعفاء لحيتي وقص شاربي
উক্ত দূতদ্বয়ের দাড়ি মুণ্ডিত ছিল ও গোঁফ বড় ছিল। তারা রাসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট প্রবেশ করলে তিনি তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করতে অপছন্দ করেন। এরপর তিনি তাদের দিকে তাকিয়ে বলেন, তোমাদেরকে এরূপ করতে কে নির্দেশ দিয়েছে? তারা বলে, আমাদের প্রভু অর্থাৎ সম্রাট। তিনি বলেন, কিন্তু আমার প্রভু আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন আমার দাড়ি বড় করতে এবং গোঁফ কাটতে তারীখুল উমামি ওয়াল মুলূক, ২/১৩৩। এই হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারি রাসূল (সা.) দাড়ি কাটাকে অত্যন্ত ঘৃণা করতেন।
প্রশ্নঃ 205
আস্সালামু আলাইকুম। স্যার, ১। আমাদের সমাজে হিল্লা বিয়ের প্রচলন দেখা যায়,কোরআন ও হাদীসের আলোকে এর কোন বৈধতা আছে কী? ২। জ্বীন সমন্ধে কোরআনে সূরা আছে, আবার এ দেশের অনেক বড় বড় ওলামায়ে কেরাম গণ জ্বীন পালেন,জ্বীনের সাথে কথা বলেন কাউকে আবার জ্বীনে ধরেন- কোরআন হাদীসের আলোকে এটা কতটুকু যুক্তি সম্মত?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ
১। না, হিল্লা বিয়ে নামে আমাদের সমাজে যা প্রচলিত আছে তা হারাম। ইসলামে এর কোন ভিত্তি নেই। রাসূলুল্লাহ সা. একে কঠিন ভাবে নিষেধ করেছেন।
২। জ্বীন আল্লাহ তায়ালার একটি সৃষ্টজীব। কুরআন হাদীস থেকে এটা স্পষ্ট। আর তারা বিভিন্ন সময়ে কারণে অকারণে মানুষের ক্ষতি করে থাকে এটাও সত্য। বিস্তারিত জানতে দেখুন, রাহে বেলায়াত বইটির ২০১৩ ইং সংস্করনের শেষ অধ্যায়। 
প্রশ্নঃ 204
আমি খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গির শায়েখ এর অনেক বই পড়েছি। আমার প্রশ্ন পুরুষ ও মহিলাদের নামাজে কি কি পার্থক্য আছে? বিশেষ করে রুকু ও সিজদাহ ও বৈঠকের ক্ষেত্রে। দলিল্ভিত্তিক জানতে পারলে উপক্রিত হব। রাহে বেলায়েত বইটিতে খুজেছি কিন্তু পাইনি। সারের নামাজ বিষয়ে কোন বই আছে কি?
23 Dec 2025
প্রশ্নে উল্লেখিত হাদীসে পুরুষ ও মহিলার নামাযের মাঝে পার্থক্য না করা হলেও অন্যান্য অনেক হাদীসে, ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ী গণের কথার আলোকে জানতে পারি যে, কিছু কিছু বিষয়ে পুরুষ এবং মহিলার নাামাযের মাঝে পার্থক্য রয়েছে । নিম্নে কয়েকটি দলীল উল্লেখ করা হল। হাদীসের আলোকেঃ
أخبرناه أبو بكر محمد بن محمد أنبأ أبو الحسين الفسوي ثنا أبو علي اللؤلؤي ثنا أبو داود ثنا سليمان بن داود أنبأ بن وهب أنبأ حيوة بن شريح عن سالم بن غيلان عن يزيد بن أبي حبيب : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم مر على امرأتين تصليان فقال إذا سجدتما فضما بعض اللحم إلى الأرض فإن المرأة ليست في ذلك كالرجل
অর্থঃ (ইমাম বায়হাকী রহঃ ) আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মাদ এর সুত্রে তাবেয়ী য়াযীদ ইবনে আবী হাবীব এর থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নামাযরত দুই মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন । তখন তাদেরকে (সংশোধনের উদ্দেশে) বললেন, যখন সেজদা করবে তখন শরীর যমীনের সাথে মিলিয়ে দিবে । কেননা মহিলারা এ ক্ষেত্রে পুরুষের মত নয়। (সুনানে কুবরা ২ খন্ড, ২২৩ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ৩০১৬। ) প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ আওনুল বারী (১/৫২০) তে লিখেছেন উল্লেখিত হাদীসটি সকল ইমামের উসূল অনুযায়ী দলীল হিসাবে পেশ করার যোগ্য ।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن عَبْدِ اللَّهِ الْحَضْرَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَتْنِي مَيْمُونَةُ بنتُ حُجْرِ بن عَبْدِ الْجَبَّارِ بن وَائِلِ بن حُجْرٍ، قَالَتْ: سَمِعْتُ عَمَّتِي أُمَّ يَحْيَى بنتَ عَبْدِ الْجَبَّارِ بن وَائِلِ بن حُجْرٍ، عَنْ أَبِيهَا عَبْدِ الْجَبَّارِ، عَنْ عَلْقَمَةَ عَمِّهَا، عَنْ وَائِلِ بن حُجْرٍ، قَالَ: جِئْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: فساق الحديث . وفيه : يا وائل بن حجر: إِذَا صَلَّيْتَ فَاجْعَلْ يَدَيْكَ حِذَاءَ أُذُنَيْكَ، وَالْمَرْأَةُ تَجْعَلُ يَدَيْهَا حِذَاءَ ثَدْيَيْهَا.
অর্থঃ হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ) বলেন আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর দরবারে হাজির হলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন হে ওয়াইল ইবনে হাজ্র ! যখন তুমি নামাজ শুরু করবে তখন কান বরাবর হাত উঠাবে । আর মহিলারা হাত উঠাবে বুক বরাবর । (আল মুজামুল কাবীর, তাবারানী ২২/২৭২, হাদীসটি হাসান। ) সাহাবায়ে কেরামের আছারের আলোকে
عن أبي إسحاق عن الحارث عن علي قال : إذا سجدت المرأة فلتحتفز ولتلصق فخذها ببطنها
অর্থঃ হযরত আলী রাঃ বলেন মহিলা যখন সেজদা করবে তখন সে যেন খুব জড়সড় হয়ে সেজদা এবং উভয় উরু পেটের সাথে মিলিয়ে রাখে । মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক ৩/১৩৮ অনুচ্ছেদ মহিলার তাকবীর, কিয়াম, রুকু ও সিজদা । মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ২/৩০৮ তাবেয়ীগণের কথার আলোকেঃ
قال هشيم : أخبرنا شيخ لنا قال :قال سمعت عطاء سئل عن المرأة كيف ترفع يديها في الصلاة ؟قال حذو ثديها
অর্থঃ হযরত আতা ইবনে আবি রাবাহ এর কাছে জানতে চাওয়া হল নামাযে মহিলা কতটুকু হাত উঠাবে? তিনি বললেন বুক বরাবর । মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১/২৭০। মোটকথা, রাসূল সাঃ এর হাদীস, ছাহাবায়ে কেরামের কথা ও তাবেয়ীগণের ফাতাওয়ার আলোকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বুঝা যায়, মহিলাদের নামাজ কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুরুষের নামায থেকে ভিন্ন। আর এই ভিন্নতার ভিত্তি হল মহিলাদের সতর ও পর্দার অধিক সংরক্ষণের বিবেচনা ।
শুধু নামায বিষয়ে শায়েখের কোন বই নেই, তবে রাহে বেলায়াত বইয়ে নামায সম্পর্কে একটি আলাদা অধ্যায় আছে। এছাড়া আল ফিকহুল আকবারসহ কয়েকটি বইয়ে নামায বিষয়ে বিক্ষিপ্ত কিছু আলোচনা আছে।
প্রশ্নঃ 203
is it valid if a girl marry without ffathers will if not what should she do. Is it fard toinvolved a islamicorganization. they said it is command of Allah to live jamaa.I want to know what is jamaa means.
23 Dec 2025
পিতার অনুমতি ছাড়া বিবাহ হবে কিনা, এভাবে করলে কি করতে হবে এই বিষয়ে জানার জন্য এই আমাদের দেয়া ৪১ নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন। আর জামায়াতের অর্থ হলো, রাসূলুল্লাহ সা. মুক্তিপ্রাপ্ত বা সুপথপ্রাপ্ত দলের পরিচিতি হিসেবে বলেছেন: তারা জামাআত। জামাআত শব্দটি আরবী জাম (الجمع) থেকে গৃহীহ, যার অর্থ একত্রিত করা, জমায়েত করা, ঐক্যবদ্ধ করা (ঞড় মধঃযবৎ, পড়ষষবপঃ, ঁহরঃব, নৎরহম ঃড়মবঃযবৎ, লড়রহ) ইত্যাদি। জামাআত (جماعة) অর্থ জনগণ, জনগোষ্ঠি, বা সমাজ (পড়সসঁহরঃু, ংড়পরবঃু). কুরআন ও হাদীসে জামাআত এবং ইজতিমা-কে ফিরকা ও ইফতিরাক-এর বিপরীতে ব্যবহার করা হয়েছে। ফিরকা অর্থ দল, গ্রপ ইত্যাদি। এ অর্থে আরবীতে হিযব, কাউম, জামইয়্যাহ (حزب، قوم، جمعية) ইত্যাদি শব্দ ব্যবহৃত হয়। আর জামাআত অর্থ দলবিহীন সম্মিলিত জনগোষ্ঠী বা সমাজ। যে কোনো স্থানে অবস্থানরত সকল মানুষকে জামাআত বলা হয়। জামাআতের মধ্য থেকে কিছু মানুষ পৃথক হলে তাকে ফিরকা বা দল বলা হয়। মনে করুন একটি মসজিদের মধ্যে ১০০ জন মুসল্লী বসে আছেন। এরা মসজিদের জামাআত। এদের মধ্যে কম বা বেশি সংখ্যক মুসল্লী যদি পৃথকভাবে একত্রিত হয়ে মসজিদের এক দিকে বসেন তবে তারা একটি ফিরকা, কাওম বা হিযব, অর্থৎ দল, গ্রপ বা সম্প্রদায় বলে গণ্য, কিন্তু তারা জামাআত বলে গণ্য নয়। যেমন, উপর্যুক্ত ১০০ জনের মধ্য থেকে ৫ জন এক কোনে পৃথক হয়ে বসলেন, আর দশ জন অন্য কোণে পৃথক হয়ে বসলেন এবং অন্য কোণে আরো কয়েকজন একত্রিত হলেন। এখন আমরা ইফতিরাক ও জামাআতের রূপ চিন্তা করি। মূলত মসজিদের জামাআত ভেঙ্গে ইফতিরাক এসেছে। তিনটি ফিরকা মূল জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। আর বাকি যারা কোনো দল বা ফিরকা গঠন না করে দলবিহীনভাবে রয়ে গিয়েছেন তারা নিজেদেরকে জামাআত বলতে পারেন। আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অবস্থা এরূপই। এটি মূলত কোনো দল বা ফিরকা নয়। সাহাবী-তাবিয়ীগণের অনুসরণে যারা মূল ধারার উপর অবস্থান করছেন এবং কোনো দল বা ফিরকা তৈরি করেন নি তারাই আল-জামাআত। বিস্তারিত জানতে দেখুন কুরআন সুন্নাহের আলোকে ইসলামী আকীদা পৃষ্ঠা ৫৭৬-৫৮২।
প্রশ্নঃ 202
মুহতারাম আস সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন : অযু করার সময় কুলি করা এবং নাকে পানি নেওয়া কি একই কি সাথে করতে হবে নাকি আগে কুলি করে পরে নাকে পানি নিতে হবে এবং ঘাড় মাসেহ করা কি সুন্নাত, যদি সুন্নাত না হয় তাহলে যদি কেউ করে তা কি বিদাত হবে?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
কুলি আর নাকে পানি এক সাথেও করা যায় আবার আালাদা আলাদাও করা যায়, দুই ধরনের হাদীসই আছে। আপনার যেভাবে সুবিধা হয় সেভাবে করবেন। আর ঘাড় মাসেহ করার ব্যাপারে কয়েকটি দূর্বল হাদীস বর্ণিত আছে। তার একটি হলো,
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من توضأ ومسح عنقه لم غل بالأغلال يوم القيامة
অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি ওযু করবে এবং ঘাড় মাসেহ করবে কিয়ামতের দিন তাকে শিকল পরানো হবে না। তারীখ আসবাহান, ১/২৪২। এই বিষয়ে বিভিন্ন হাদীসের বিশ্লেষন শেষে মোল্লা আলী কারী হানাফী রাহ. বলেন,
قال أئمتنا إن مسح الرقبة مستحب أو سنة
অর্থ: আমাদের ইমামগণ বলেছেন, ঘাড় মাসেহ করা মুস্তাহাব অথবা সুন্নাত। আল-আসরারুল মারফুয়াহ, পৃষ্ঠা- ৩১৫। কোন কোন আলেম বিদআত বলেছেন। তবে দলিলের আলোকে বিদআত নয় বলেই মনে হয়।
প্রশ্নঃ 475
জনাব, আস সালামু আলাইকুম : ১. জুমার ২ রাকাত ফরয নামাযের আগে আমরা যে ৪ রাকাআত কাবলাল জুমা পরি এটা কি সাহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত? ২. আমাদের মসজিদে অনেক মুমিন ভাইকে বলতে শুনি ৪ রাকাআত বাদাল জুমা না পড়লে গুনাহ হবে এটা কতটুকো সত্য?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।রাসূলুল্লাহ সা. জুমুআর ফরজ সালাতের পূর্বে সুন্নাত সালাত আদায়ের জন্য বলেছেন। সহীহ বুখারীর এই হাদীসটি লক্ষ করুন:

عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَتَطَهَّرَ بِمَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ ثُمَّ ادَّهَنَ ، أَوْ مَسَّ مِنْ طِيبٍ ثمَّ رَاحَ فَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ اثْنَيْنِ فَصَلَّى مَا كُتِبَ لَهُ ثُمَّ إِذَا خَرَجَ الإِمَامُ أَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الأُخْرَى

সালমান ফারসী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন ভালভাবে গোসল করে তেল বা সুগন্ধি ব্যবহার করে (মসজিদে) গমন করবে অতঃপর (মসজিদে) কাউকে না ডিঙিয়ে সাধ্যানুযায়ী নামায পড়বে এবং যখন ইমাম খুতবা দেয়ার জন্য বের হবে তখন চুপ করে তা শুনবে, তার এক জুমুআ থেকে অপর জুমুআর মাঝের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯১০। এই হাদীসে রাকআত সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয় নি। আলেমগণ বলেছেন দুই রাকআত থেকে শুরু করে যত ইচ্ছা পড়বে, যত বেশী পড়বে সওয়াব ততো বেশী হবে। রাকআত সংখ্যার ব্যাপারে বিভিন্ন সাহবী থেকে বিভিন্ন সংখ্যা বর্ণিত আছে। দুই রকআত. চার রাকআত ইত্যাদি। চার রাকআতের বিষয়ে নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন:

عبد الرزاق عن الثوري عن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن السلمي قال كان عبد الله يأمرنا أن نصلي قبل الجمعة أربعا وبعدها أربعا حتى جاءنا علي فأمرنا أن نصلي بعدها ركعتين ثم اربعا.

অর্থ: ( তাবেঈ) আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী বলেন, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে জুমুআর পূর্বে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর আলী রা. আমাদেরকে জুমুআর পর প্রথমে দুই রাকআত এরপর চার রাকআত পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুসান্নাফু আব্দুর রায্যাক, হাদীস নং ৫৫২৫। এই হাদীসটির বিষয়ে শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, وهذا سند صحيح لا علة فيه অর্থ: এটা সহীহ সনদ, তাতে কোন সমস্যা নেই।সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, ১০১৬ নং হাদীসের আলোচনা। উক্ত সহীহ হাদীসটি দ্বারা আমারা জানতে পারলাম যে, প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. চার রাকআত ক্ববলাল জুমুয়া পড়ার আদেশ দিয়েছেন। উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা আমরা বুঝলাম যে, জুমুআর আগে নামায সুন্নাত, তবে রাসূলুল্লাহ সা. থেকে রাকআত সংখ্যা বিষয়ে কোন কিছু বর্ণিত হয়নি। সুতরাং যে যতটুকু ইচ্ছা করে ততোটুকু পড়তে পারে। একজন সাহবী থেকে চার রাকআত পড়ার নির্দেশ এসেছে তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় চার রাকআতও পড়া যায় এবং এটাও সুন্নাত। জুমুআর পরে সুন্নত নামায সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত। সুতরাং জুমুআর পরে নামায পড়া সুন্নাত। আমাদেরকে সুন্নাতের অনুস্বরণ করতে হবে।

প্রশ্নঃ 474
জনাব,আস সালামু আলাইকুম, বিড়াল ক্রয় বিক্রয় জায়েজ কি না? জাজাকাল্লাহু খাইরান।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

এই বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ বিদ্যমান।আলেমদের অনেকেই জায়েজ বলেছেন। কিন্তু সহীহ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. কুকুর, বিড়াল ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪০৯৮। তবে পাহার বা এ জাতীয় কোন প্রয়োজনে ক্রয়-বিক্রয় জায়েজ বলে মনে হয়।

প্রশ্নঃ 201
Assalamualikum, অমার কিছু প্রশ্ন ১. সফরে থাকা অবস্থায় কি অবশ্যই সালাত কসর করতে হবে?২. প্রসাব-পায়খানার পরে কি ঢিলা ও কুলুপ দুইটিই ব্যবহার করতে হবে না কি যে কোন একটি?৩. পুরুষ ও মহিলার নামাযে কি ভীন্নতা আছে (হাত বাধা, রুকু, সিজদা ইত্যাদি) | স্যারের fb id থাকলে লিংটা জানাবেন
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, সফরে থাকা অবস্থায় জামায়াতে ইমামের পিছনে নামায না পড়লে কসর করা আবশ্যক। হযরত আয়েশা রা. বলেন,
فُرِضَتِ الصَّلاَةُ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ هَاجَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَفُرِضَتْ أَرْبَعًا وَتُرِكَتْ صَلاَةُ السَّفَرِ عَلَى الأُولَى
অর্থ: সালাত দুরাকআত ফরজ করা হয়েছিল। এরপর নবীয়্যুল্লাহ সা. হিজরত করেন। তখন চার রাকআত ফরজ করা হয়। আর সফরের সালাতকে পূর্বের অবস্থায় রাখা হয়। সহীহ বুখারী হাদীস নং.৩৯৩৫। হযরত আয়েশা রা. অন্য হাদীসে বলেন,
فُرِضَتِ الصَّلاَةُ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ فِى الْحَضَرِ وَالسَّفَرِ فَأُقِرَّتْ صَلاَةُ السَّفَرِ وَزِيدَ فِى صَلاَةِ الْحَضَرِ
অর্থ: সফর এবং হাদর ( সাধারণ) উভয় অবস্থাতেই সালাত দুই রাকাত করে ফরজ করা হয়েছিল। এরপর সফরের সালাত ঠিক রাখা হয় আর হাদরের (মুকিম তথা সাধারনণঅবস্থার ) সালাতে বৃদ্ধি করা হয়। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৬০২। তবে জামায়াতে ইমামের পিছনে নামায পড়লে পুরো নামায পড়তে হবে। কেননা রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
قَالَ إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَلاَ تَخْتَلِفُوا عَلَيْهِ
অর্থ: ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাকে অনুস্বরণের জন্য সুতরাং তোমরা তার বিপরীত করবে না। …………. (হাদীসটি অনেক লম্বা। )সহীহ বুখারী, হাদীস নং৭২২। ঢিলা কুলুপের বিষয়ে ৭৬নং প্রশ্নের উত্তরে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। পুরুষ ও মহিলাদের নামাযের বিষয়ে ২৮ নং প্রশ্নের উত্তরে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। দয়া করে সেগুলো দেখুন। ফেসবুক আইডিটি নিচে দেয়া হল। www.facebook.com/Dr.KhandakerAbdullahJahangir
প্রশ্নঃ 200
মুহতারাম আস সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: একটা গরু দিয়ে কয়জন এর আকিকা দেওয়া যাবে? আলহামদুলিল্লাহ গত সপ্তাহে আমার একটা কন্যা সন্তান হয়েছে। আমার ভাই এর দুইটা সন্তান (এক ছেলে, এক মেয়ে) আছে। কিন্তু উনি তাদের আকিকা দেন নাই। একটা গরু দিয়ে কি এই তিন জনের আকিকা দেওয়া যবে? আমার দাদি আমার আকিকা দিয়েছিল আমার ফুফুর বিয়ের সময়। এটা কি সহিহ হবে, যদি না হয় তবে আমাকে কি আবার আমার আকিকা দিতে হবে?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আকীকার ক্ষেত্রে সুন্নাত হলো ছাগল, ভেড়া বা এজাতীয় পশু জবেহ করা। ছেলের জন্য দুটি আর মেয়ের জন্য একটি। তবে ছেলের জন্যও একটা দেয়া যায়, এটা হাদীসে আছে। সকল ক্ষেত্রে আমাদের সুন্নাতের অনুস্বরণ করা উচিৎ। গরু দিয়ে আকীকা রাসূলুল্লাহ সা. কিংবা সাহাবীগণ করেননি। তবে আলেমগণ গরু দিয়ে আকীকা করাকে জায়েজ বলেছেন।আবার এক পশুতে একাধিক আকীকাও সাহবীগণ দেননি। তবে আলেমগণ কুরবানীর উপর কিয়াস করে বলেন, বড় পশুতে একাদিক কুরবানী দেয়া জায়েজ। সে হিসেবে প্রশ্নেল্লিখেত তিন জনের জন্য একটি গরু যথেষ্ট হবে।
প্রশ্নঃ 199
খাবারের পর প্লেটে যদি কিছু খাবার থেকে যায়, খাবারে অরুচির কারণে যদিও জানি খাবর সম্পূর্ন শেষ করার কথা ইসলামে বলা আছে। আর প্লেটের সেই অবশিষ্ট খাবার যদি কোনো পশু/পাখিকে খাওয়ানো হয়,এই ক্ষেেএ ইসলাম কি বলে?
23 Dec 2025
না, এক্ষেত্রে কোন পশু-পাখিকে খাওয়ালে কোন অসুবিধা নেই।
প্রশ্নঃ 198
আসসালামু আলাইকুম, আমি জানতে চাচ্ছিলাম যে, ক্রিকেট বা ফুটবল খেলায় ম্যাচ প্রতি টাকা নেওয়া কি ইসলাম সম্মত? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো।
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
খেলা যদি জায়েজ হয় তাহলে খেলার জন্য পারশ্রমিক নেয়া জায়েজ। আর জায়েজ না হলে পারিশ্রমিক নেয়াও না জায়েজ।
প্রশ্নঃ 197
আসসালামু আলাইকুম। ভাই, আমার প্রশ্ন ২ টি প্রাথমঃ আমি কি আমার খালত বোনের মেয়ে কে বিয়ে করতে পারবো? দ্বিতীয়ঃ ইসলামে বিবাহের ক্ষেত্রে অভিভাবকের পাশাপাশি সন্তানের মতামতেরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যদি কোন পুরুষ এবং মহিলা সব দিয়েই বিয়ের উপযুক্ত হয়। আর সেই পুরুষ যদি কোন পছন্দের মেয়ের পরিবারে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পর সেটা যদি প্রত্যাখ্যাত হয়। তখন কি করণীয় যখন বাবা মা মেয়েকে জোরপূর্বক অন্যথায় তার ইচ্ছার বিরুদ্ধ এ বিয়ে দিয়ে দিতে চায়?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
হ্যাঁ, খালাতো বোনের মেয়েকে বিবাহ করা যাব। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হলে কিছু করার নেই। বিবাহের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার উচিৎ ছেলে-মেয়েদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া আর ছেলে-মেয়েদেরকেও মনে রাখতে হবে তারা যেন ছোট-খাটো কারণে পিতা-মাতার অবাধ্য না হন। অনেক সময় বয়স কম হওয়া কিংবা অনভিজ্ঞতা ইত্যদির কারণে ছেলে-মেয়েরা হটকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন যা তার ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়ায়। আর পিতা-মাতা সর্বদা সন্তানের কল্যান চান, তাদের অভিজ্ঞতাও বেশী থাকে ফলে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তারা সঠিক ও কল্যানকর সিদ্ধান্তই নিয়ে থাকেন। তাই পিতা-মাতার সিদ্ধান্ত মেনে নেয়াই শ্রেয়।
প্রশ্নঃ 196
আসসালামু আলাইকুম, স্যার। আমি সিফাত, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, মিটফোর্ড ঢাকা, তে ৪র্থ বর্ষে পড়ছি। একটা ব্যাপারে আপনার সাহায্য দরকার। আবু জেহেল বদরের যুদ্ধের আগে কাবার গিলাফ ধরে যে দুয়া করেছিল, এই হাদীসটা বুখারী, আস-সাহীহ এর কোন কিতাব, ও কোন বাব এ আছে আমাকে একটু জানাবেন কি? আমার কাছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও তাওহীদ পাবলিকেশন উভয় সংস্করণই আছে, আলহামদুলিল্লাহ। ওয়াসসালাম।
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আবু জেহেল বদর যুদ্ধও পূর্বে নিজেদের বিজয় চেয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন বলে সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে। তবে কাবার গিলাফ ধরার কথা পাওয়া যায় না। নিচের হাদীসটি লক্ষ করুন।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ ثَعْلَبَةَ بْنِ صُعَيْرٍ الْعُذْرِيِّ ؛ أَنَّ أَبَا جَهْلٍ قَالَ يَوْمَ بَدْرٍ : اللَّهُمَّ أَقْطَعُنَا لِلرَّحِمِ ، وَآتَانَا بِمَا لاَ يُعْرَفُ ، فَأَحِنْهُ الْغَدَاةَ ، قَالَ : فَكَانَ ذَلِكَ اسْتِفْتَاحًا مِنْهُ ، فَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ : {إِنْ تَسْتَفْتِحُوا فَقَدْ جَاءَكُمَ الْفَتْحُ ، وَإِنْ تَنْتَهُوا فَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ} الآيَةَ
অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে সালাবাহ বলেন, আবু জেহেল বদরের দিন বলল, হে আল্লাহ! (মুহাম্মাদ) আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আত্মীয়তা ছিন্নকারী, সে এমন কিছু নিয়ে এসেছে যে বিষয়ে আমাদের জানাশোনা নেই। সুতরাং আগামীকাল তাকে ধ্বংস করুন। তিনি বলেন, সেটাই ছিল তার থেকে বিজয় চাওয়া। আর এসম্পর্কেই অবতীর্ণ হয় এই আয়াত যদি তোমরা বিজয় চাও অবশ্যই তা তোমাদের কাছে আসবে আর যতি তোমরা বিরত থাক তাহলে সেটা হবে তোমাদের জন্য কল্যানকর। ………… (সূরা আনফাল ১৯-) । মুসান্নিফ ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৭৪২৯। মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২৩৭১০। শায়খ শুয়াইব আরনাউত হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। তাফসীরে ইবনে কাসীর, তাফসীরে বাগাবী সহ অনেক তাফসীরগ্রন্থে উক্ত আয়াতের তাফসীরে বর্ণিত আছে যে, আবু জেহেলের দোয়ার পরিপেক্ষিতে উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। বিস্তারিত জানতে সেগুলো দেখতে পারেন। তবে কুতুবে সিত্তাতে এ বিষয়ে কোন হাদীস পাওয়া যায় না।
প্রশ্নঃ 195
আমরা অনেকেই কোরবানির পশুর ভুঁড়ির কোনও ভাগ কিন্তু মাংস ভাগের নিয়ম অনুযায়ী করি না । । এইটা কতটা সঠিক।
23 Dec 2025
প্রশ্নটি স্পষ্ট নয়। যদি এক পশুতে কয়েকজন ভাগে কুরবানী দেন তাহলে ভুঁড়িও সমান ভাগ করতে হবে। আর যদি গরীবদের জন্য দেয় ভাগ উদ্দেশ্যে হয় যতটা সম্ভব কুরবানীর গোশত-ভূড়ি গরীবদেরকে দিতে হবে। এক্ষেত্রে শরীয়ত আমাদেরকে কোন পরিমাণ নির্ধারণ করে দেয়নি। তবে আমারা যেভাবে বন্টন করি তা ভাল। সুতরাং ভুড়ির ভাগ মাংসের ভাগের মত না করলেও কোন সমস্যা নেই। এতে কুরবানীর কোন সমস্যা হবে না।কুরবানী দ্বারা আমাদের উদ্দ্যেশ্য হতে হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালাকে খুশি করা। প্রশ্নটি স্পষ্ট নয়। যদি এক পশুতে কয়েকজন ভাগে কুরবানী দেন তাহলে ভুঁড়িও সমান ভাগ করতে হবে। আর যদি গরীবদের জন্য দেয় ভাগ উদ্দেশ্যে হয় যতটা সম্ভব কুরবানীর গোশত-ভূড়ি গরীবদেরকে দিতে হবে। এক্ষেত্রে শরীয়ত আমাদেরকে কোন পরিমাণ নির্ধারণ করে দেয়নি। তবে আমারা যেভাবে বন্টন করি তা ভাল। সুতরাং ভুড়ির ভাগ মাংসের ভাগের মত না করলেও কোন সমস্যা নেই। এতে কুরবানীর কোন সমস্যা হবে না। কুরবানী দ্বারা আমাদের উদ্দ্যেশ্য হতে হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালাকে খুশি করা।
প্রশ্নঃ 194
আসসালামু আলাইকুম, বর্তমানে হাফেজা,আলেমা ও দীনদার মুসলিম বোনরা ফেসবুকের মাধ্যমে দীন প্রচার করছেন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে ফেসবুকে দীন প্রচারের জন্য ইসলামের কোন মূলনীতি গুলো মেনে চলতে হবে
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আলাদা কোন মূলনীতি অনুস্বরণ করতে হবে না। বরং সাধারণ যে মূলনীতি আছে সেগুলো মেনে চললেই হবে। কারো অহেতুক সমালোচনা না করে ইসলামের সহীহ বিষয়টি মানুষকে জানাতে হবে। কথা যেন যুক্তি ভিত্তিক ও দলীল ভিত্তিক হয় সেদিকে সর্বদা খেয়াল রাখতে হবে।
প্রশ্নঃ 193
মুহতারাম,আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হলো, আমার দাদার জমির খাজনা বাকী হওয়ায় তা খাস হওয়ার আশংকা দেখা দেয় যার ফলে আমার দাদা আমার বাবাকে বলে তুই এই জমির খাজনা দিয়ে জমি তোর নামে করে নে। তখন আমার বাবা এই জমির জন্য বেশ কিছু টাকা খরচ করে এবং জমি তার নামে করে নেয় তখন আমার বাবা আমার দাদার সংসারের বড় ছেলে ছিল এবং নিজের টাকা সংসারে খরচ করতো। এখন আমার চাচাগণ ঐ জমি সকলের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার দাবী করছে। এ সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আপনার আব্বার যে টাকা খরচ হয়েছে সেই টাকা কিংবা সেই টাকার পরিমাণ সম্পদ তিনি ওয়ারিসদের থেকে নিয়ে নিবেন। আর জমি সকল ওয়ারিসদের মাঝে ইসলামি আইন অনুযায়ী বন্টিত হবে।
প্রশ্নঃ 192
আসসালামু আলাইকুম ১-আল্লাহ সুবহানাল্লাহু ওয়াতাআলা বিয়ের জন্য কোন বয়স নির্ধারন করে দেন নি। কিন্তু বাংলাদেশ সংবিধান এ ২১ বছর(ছেলে) ও ১৮(মেয়ে) নির্ধারন করেছে। অনুর্ধ ২১ এবং ১৮ যারা তারা যদি বিয়ে করে তবে বাল্যবিবাহ আইনে এটি দন্ডনীয় অপরাধ। এর জন্য জেল ও খাটতে হয়। এখন কেউ যদি জন্ম নিবন্ধন এ বয়স পরিবর্তন করে এ আইন থেকে মুক্তি পেতে চায় তবে কি সেটা কি তার জন্য বৈধ হবে কিনা?সে কি আল্লাহ সুবাহানাল্লাহু ওয়া তাআলা এর কাছে প্রতারণা কারী হিসেবে গন্য হবে?দলিলসহ জানাবেন। ২-ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ২০ বছর হওয়া প্রয়োজন। কোন ১৭-১৮ বছরের ছেলে যদি জরুরী জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনে তার বয়স বাড়িয়ে দিয়ে জন্ম সনদ বানিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স বানিয়ে নেয় তবে এক্ষেত্রে হুকুম কি? ৩-অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানের বয়স কমিয়ে দেয় যাতে পরবর্তিতে চাকরি পেতে অসুবিধা না হয়। এটা কি বৈধ?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
বিবাহের জন্য বয়স কমানো বা চাকুরির জন্য বয়স কমানোই একইরূপ বিষয়। মিথ্যা সর্বদাই নিষিদ্ধ। মিথ্যা মূলত বড় গুনাহের কাজ। আমরা কোনোভাবেই মিথ্যাকে বৈধ বলতে পারি না। বান্দার নিজের ওজর নিজে বুঝবেন। মিথ্যা বলার মত কোনো ওজর তার আছে কিনা তিনি তাঁর মাবুদের সাথে তা বুঝবেন। ইসলামী শরীয়তে ১৮ বছরের পূর্বে বিবাহ করা বৈধ, তবে জরুরী নয়। সাধারণভাবে ১৮ বছর বয়সে বিবাহ করলে সমস্যা হয় না। এজন্য মিথ্যা থেকে মুক্ত থাকার জন্য চেষ্টা করা দরকার। চাকরীর জন্য মূলত যোগ্যতা সৃষ্টি, আল্লাহর কাছে দুআ ও চেষ্টা করাই মূল। সরকারী, বেসরকারী কোনো সম্মানজনক কাজ হলেই হলো। মিথ্যা ভাবে বয়স কমিয়ে মিথ্যার পাপ ছাড়া তেমন লাভ হয় বলে মনে হয় না। প্রথম থেকেই পিতামাতা মিথ্যা দিয়ে সন্তানের জীবন শুরু করলেন। প্রথমেই তারা বিশ্বাস করে নিলেন যে, সত্য বললে আমার সন্তানের ভাত হবে না! ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য বয়সসীমা নির্ধারণ রাষ্ট্রের অধিকারের অংশ। এটিকে শরীয়তের পরিভাষায় মাসালিহ মুরসালাহ বলা হয়। দেশের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রয়োজনে শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক নয় এমন নীতিমালা বা বিধিবিধান রাষ্ট্র তৈরি করতে পারে। এ সকল বিধান মান্য করা মুসলিম নাগরিকের ধর্মীয় দায়িত্ব। ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য বয়স পরিবর্তন কয়েকটি অন্যায়ের জন্ম দেয়: মিথ্যা, রাষ্ট্রীয় বিধান অমান্য এবং কম বয়সে গাড়ি চালাতে যেয়ে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বৃদ্ধি।
প্রশ্নঃ 191
১. কোরবানী কি সচ্চল পরিবারের প্রধানের উপর ওয়াজিব নাকি যার কাছে নিছাব পরিমান সম্পদ আছে (জিলহজ্বের ১০-১১-১২ তারিখ পর্যন্ত) তার উপর। নিছাবের কথাটি কি হাদিস থেকে এসেছে নাকি ওলামাদের ফাতোয়া? পরিবারের সজ্ঞা কি? ২. সামর্থ্য তাকলে পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সকলের কি কোরবানী করতে হয়? ৩. স্বামী স্ত্রী দুইজনের কাছে আলাদাভাবে নিছাব পরিমান সম্পদ আছে কিন্তু তাদের পরিবারের প্রাপ্তবয়স্কের সংখ্যা ৫ জন। এই ৫ জনের ন্যুন্যতম কোরবানীর হকুম ক? ৪. ১টি উট বা গরু দিয়ে ৭ জনের কোরবানী বলতে কি ৭ জন নিছবের মালিক, সামর্থ্যবান পরিবারের প্রধানকে বুঝায়? নাকি প্রত্যেক নিছাবের মালিকের/সামর্থ্যবানের পরিবারের সদস্যও উন্তর্ভুক্ত? ৬. মহিষ দিয়ে কোরবানী করার হাদিস কি? ৭. মা বাবা জিবীত, বাবার সম্পদ আছে কিন্তু মার নাই; সন্তানের উপর এর হকুম কি? ৮. রাসুলের এবং মৃত ব্যক্তির কোরবানী করার হকুম কি? ৯. কোরবানীতে আঁকিকা দেয়া কেন বৈধ হবে বা হবে না? কয়টি কোরবানী এক ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সমান হবে? সহী হাদিসের আলোকে উত্তর দিলে উপকৃত হব। ভিডিও ক্লিপ বা লিঙ্ক এখন অনেকের মত আমার কাছে ও বিরক্তিকর। text এ হলে তা সংগ্রহে রাখা ও শেয়ার করা সহজ হয়। কেউ আন্দজিক, অসুবিধা নাই কিংবা ফাতোয়া জাতীয় উত্তর না দিলেই খুশি হব।
23 Dec 2025
জিলহজ্ব মাসের দশ তারিখে আল্লাহ তায়ালার কাছে সবচেয়ে উত্তম আমল হলো কোরবানী করা। কোরবানীর বিভিন্ন বিষয়ে আলেম ও ইমামগণের মাঝে মতভেদ আছে। এখানে আমরা কুরআন ও হাদীসের আলোকে বিষয়গুলো আলোচনা করছি। ১। কুরআনুল কারীমের সূরা কাওসারে আল্লাহ তায়ালা কুরবানীর আদেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, (আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত)
من كان له مال فلم يضح فلا يقربن مصلانا و قال مرة : من وجد سعة فلم يذبح فلا يقربن مصلانا
অর্থ: যার সাধ্য ছিল কুরবানী দেওয়ার, কিন্তু দিল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে উপস্থিত না হয়। মুসতাদরক হাকীম, হাদীস নং ৭৫৬৫; সহীহুত তারগীব লিল আলবানী, ১/২৬৪। হাকীম ও যাহাবী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আলবানী হাসান বলেছেন। উপরুক্ত আয়াত ও হাদীসের ভিত্তিতে মনে হয় যে, কুরবানী করা ওয়াজিব। যদিও অনেক ইমাম ও আলেম কুরবানীকে সুন্নাত বলেছেন। ২। কুরবানী সবার উপর ওয়াজিব নয়। বরং যার সামর্থ আছে তার উপর ওয়াজিব। উপরের হাদীস থেকে আমারা তা বুঝতে পারি। এই সামর্থ্য শব্দটিকেই নিসাব শব্দে বলা হয়। সামর্থ কখন হবে কিংবা নিসাব পরিমাণ সম্পদ কতটুকু এই ব্যাপারে হাদীসে স্পষ্ট কিছু নেই। এই কারণেই আলেমগনের মধ্যে এব্যাপারে মতভেদ হয়েছে। এই বিষয়ে আলেমগণের মতামত জানতে দেখুন, আল-ফিকহুল ইসলামিয়্যু ওয়া আদিল্লাতুহু, ৩/৬০১। ৩। উপরের হাদীস থেকে আমরা জানলাম যে, সামর্থ্য আছে এমন প্রত্যেকের উপর কোরবানী ওয়াজিব। আর সামর্থ্য বলতেই নিসাব বুঝানো হয়। এ থেকে জানা যায় যে, স¦ামী এবং স্ত্রীর উভয়ের সামর্থ্য থাকলে উভয়ের উপরই কোরবানী ওয়াজিব। কারো কুরবানী অন্যের জন্য যথেষ্ট হবে না। নিচের হাদীস দুটি লক্ষ্য করুন:
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ هِشَامٍ ، وَكَانَ قَدْ أَدْرَكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَذَهَبَتْ بِهِ أُمُّهُ زَيْنَبُ ابْنَةُ حُمَيْدٍ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ بَايِعْهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم هُوَ صَغِيرٌ فَمَسَحَ رَأْسَهُ وَدَعَا لَهُ ، وَكَانَ يُضَحِّي بِالشَّاةِ الْوَاحِدَةِ عَنْ جَمِيعِ أَهْلِهِ
অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে হিশাম থেকে বর্ণিত (তিনি রাসূলুল্লাহ সা. কে পেয়েছিলেন), তারা আম্মা যায়নাব বিনতে হুমাইদ তাকে রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সা. কে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি ওকে বায়াত করুন। তখন রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, সে তো ছোট। তিনি তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং তার জন্য দোয়া করলেন। আর তিনি তার পরিবারের সকলের পক্ষ থেকে একটি ছাগল দ্বারা কুরবানী করেছিলেন। সহীহ বুখারী হাদীস নং ৭২১০।
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يُضَحِّيَ ، اشْتَرَى كَبْشَيْنِ عَظِيمَيْنِ ، سَمِينَيْنِ ، أَقْرَنَيْنِ ، أَمْلَحَيْنِ مَوْجُوءَيْنِ ، فَذَبَحَ أَحَدَهُمَا عَنْ أُمَّتِهِ ، لِمَنْ شَهِدَ لِلَّهِ ، بِالتَّوْحِيدِ ، وَشَهِدَ لَهُ بِالْبَلاَغِ، وَذَبَحَ الآخَرَ عَنْ مُحَمَّدٍ ، وَعَنْ آلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ
অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. যখন কুরবানী দেয়ার ইচ্ছা করতেন তখন দুটি বিশাল বড় সাইযের সুন্দর দেখতে খাসী করা কাটান দেওয়া পুরুষ মেষ বা ভেড়া ক্রয় করতেন। তাঁর উম্মতের যারা তাওহীদ ও তাঁর রিসালাতের সাক্ষ দিয়েছেত তাদের পক্ষ থেকে একটি কুরবানী করতেন এবং অন্যটি মুহাম্মাদ সা. এবং মুহামাদ সা. এর পরিবারের পক্ষ থেকে কুরবানী করতেন। ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩১২২; মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ২৫৮২৫। হাদীসটি হাসান। এই হাদীস দুটির ভিত্তিতে ইমাম মালেক, ইমাম আহমাদ প্রমুখ ফকীহ বলেন একটি পরিবারের পক্ষ থেকে একটি কুরবানী যথেষ্ট হবে। দেখুন, সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ১৫৮৭; তুহফাতুল আহওযী, ১৪২৫ নং হাদীসের আলোচনা; মুয়াত্তা মালিক,হাদীস নং ১০৩৩। পরিবার বলতে স্বামী, স্ত্রী এবং সন্তানদের বুঝায়। আর সাধারনত একটি পরিবারে পরিবার প্রধানের উপরই কুরবানী ওয়াজিব হয়। সুতরাং এই হাদীস দুটি দ্বারা স্পষ্ট ভবে প্রমাণিত হয় না যে, পরিবারের অন্য সদস্যদের সামর্থ থাকলেও একটি কুরবানীই সকলের জন্য যথেষ্ট হবে। পক্ষান্তরে প্রথম হাদীসে আমরা দেখেছি যার সামর্থ্য আছে সেই কুরবানী দিবে। এজন্য ইমাম আবূ হানীফা, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক প্রমুখ ফকীহ একই পরিবারেও একাধিক ব্যক্তির সামর্থ্য থাকলে প্রত্যেকের জন্য কুরবানী দেওয়া প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেছেন। মহান আল্লাহই ভাল জানেন। শেষ কথা: মানুষের জীবনের সমস্যা ব্যাপক। কুরআন হাদীস সীমিত । তাই অনেক কিছুই সরাসরি কুরআন বা হাদীস থেকে পাওয়া যায় না। আর আমরা আপনার প্রশ্নের যে উত্তর দিলাম এটাই ফতোয়া। সুতরাং সবকিছু সহীহ হাদীস দ্বারা দিতে হবে, ফতোয়া দেয়া যাবে না এমন কথা না বলাই শ্রেয়। যেসব ব্যাপারে হাদীস পাওয়া যায় না সেসব বিষয়ে মুজতাহিদ আলেমগণের কথায় আমাদের মানতে হবে। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন। তিনিই সব বিষয়ে ভাল জানেন। এক সাথে এত প্রশ্ন করবেন না। বাকী প্রশ্নগুলো পরবর্তীতে আবার করবেন।
প্রশ্নঃ 190
মুহতারাম,আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হলো,আমি শুনেছি যে, শুক্রবার অর্থাৎ জুমার দিন ঈদ হলে এবং ঈদের নামাজ জামাতে আদায় করলে ঐ দিন জুমার নামাজ আদায় না করলেও চলে। একথাটি পবিত্র কুর-আন ও হাদিসের আলোকে কতখানি সত্য
23 Dec 2025
এ বিষয়ে একটি হাদীসের অর্থ নির্ণয়ে মুহাদ্দিস ও ফকীহগণ মতভেদ করেছেন। হাদীসটি নিম্নরুপ:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : اجْتَمَعَ عِيدَانِ فِي يَوْمِكُمْ هَذَا ، فَمَنْ شَاءَ أَجْزَأَهُ مِنَ الْجُمُعَةِ ، وَإِنَّا مُجَمِّعُونَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. রাসূলুল্লাহ সা. বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আজ তোমাদের দুইটা ঈদ একত্র হয়েছে। যে চায় তার জন্য (ঈদের নমাায) জুমুআ হিসাবে যথেষ্ট। তবে আমরা উভয় নামাযই আদায় করব। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৩১১। হাদীসটি সহীহ। অন্য একজন সাহাবী থেকেও সহীহ সনদে এমনটি বর্ণিত আছে। এ হাদীসের ভিত্তিতে কোনো কোনো মুহাদ্দিস ও ফকীহ বলেছেন যে, জুমুআর দিনে ঈদ হলে জুমুআর সালাত ঐচ্ছিক হয়ে যায়। তবে অধিকাংশ মুহাদ্দিস ও ফকীহ এ মতটির বিরোধিতা করেছেন। তারা বলেন, মরুবাসী বেদুঈনদের জন্য জুমুআর সালাত ফরয নয়। এরূপ অনেক মরুবাসী বেদুঈন ঈদের দিনে ঈদ পালনের জন্য মদীনায় আগমন করতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) মূলত তাদের জন্য এ কথা বলেছিলেন। অর্থাৎ তোমরা মরুবাসীরা যারা চাও তারা চলে যেতে পার। তবে আমরা- মদীনাবাসীগণ জুমুআর সালাত আদায় করব। তোমরা ইচ্ছা করলে সে পর্যন্ত থাকতেও পার। নিম্নের বর্ণনাটি এ ব্যাখ্যা প্রমাণ করে:
الشَّافِعِىُّ أَخْبَرَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِى عُبَيْدٍ مَوْلَى ابْنِ أَزْهَرَ قَالَ : شَهِدْتُ الْعِيدَ مَعَ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ فَجَاءَ فَصَلَّى ثُمَّ انْصَرَفَ فَخَطَبَ فَقَالَ : إِنَّهُ قَدِ اجْتَمَعَ لَكُمْ فِى يَوْمِكُمْ هَذَا عِيدَانِ فَمَنْ أَحَبَّ مِنْ أَهْلِ الْعَالِيَةِ أَنْ يَنْتَظِرَ الْجُمُعَةَ فَلْيَنْتَظِرْهَا ، وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَرْجِعَ فَلْيَرْجِعْ فَقَدْ أَذِنْتُ لَهُ
অর্থ: ইমাম শাফেয়ী রহ.,ইমাম মালেক রহ. থেকে তিনি ইবনে শিহাব যুহরী রহ. থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু উবাইদ বলেন, আমি ঈদের দিন উসমান রা. এর সাথে ছিলাম। তিনি আসলেন, নামায পড়ালেন অতঃপর খুৎবা দিতে গিয়ে বললেন, তোমাদের জন্য আজ দুটি ঈদ একত্র হয়েছে। গ্রাম থেকে যারা এসেছে তারা যদি চাই জুমুআর নামাযের জন্য অপেক্ষা করতে পারে আর যদি চাই ফিরে যেতে পারে। আমি তাদের অনুমতি দিলাম। আসসুনানুল কুবরা লিলবাইহাক্কী, হাদীস নং ৬৫১৬। ইমাম বাইহাক্কী রহ, বলেন, সনদ সহীহ। উক্ত হাদীসে আমরা দেখছি যে, উসমান রা. শুধু মরুবাসী বেদুঈনদের মানুষদের অনুমতি দিয়েছেন, শহরবাসীকে নয়। এর বিষয়টি এমন যে রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বিষয়টি না জানলে তার পক্ষে ইবাদতের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। অন্য একটি হাদীসে আছে,
عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ : اجْتَمَعَ عِيدَانِ عَلَى عَهْدِ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- فَقَالَ :্র مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَجْلِسَ مِنْ أَهْلِ الْعَالِيَةِ فَلْيَجْلِسْ فِى غَيْرِ حَرَجٍ
অর্থ: উমার ইবনে আব্দুল আযীয রহ. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. এর সময় দুটি ঈদ একত্র হলো (ঈদ ও জুমুআ)। তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ সা.) বললেন, গ্রামের লোকদের মধ্যে যে বসতে চাই তার বসতে কোন সমস্যা নেই। আসসুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং ৬৫১৫। হাদীসটি মুরসাল। আরো একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. থেকে এমন বক্তব্য পাওয়া যায়। তবে হাদীসটিকে ইমাম বায়হাক্কী যয়ীফ বলেছেন। দেখুন, আস-সুনানুল কুবরা, হাদীস নং ৬৫১৪। উপরুক্ত দলীল সমূহের ভিত্তিতে প্রতীয়মান হয় যে, শহরবাসীর জন্য ঈদ ও জুমুআ উভয় নামাযই আদায় করতে হবে। আর মরুবাসী বেদুঈন লোকেরা চাইল শহরে এসে জুমুআ আদায় করতে পারে, না করলেও সমস্যা নেই। ইমাম আবু হানীফা, ইমাম শাফেয়ী, ইমাম মালেক সহ অধিকাংশ আলিম ও ফকীহের অভিমত এটাই। শরহে আবু দাউদ লিল আইনি, ৪/৩৯৭; আল-ইসতিযকার,২/৩০৭; সুবুলস সালাম, ২/৫২; কিতাবুল উম্ম. ২/২৩৯। শেষ কথা: উপরের আলোচনার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি যে,অধিকাংশ আলেমের নিকট যাদের উপর জুমুআর ওয়াজিব তাদের জন্য ঈদের দিনেও জুমুআ পড়তে হবে। আর যদি ধরেও নেই যে, ইচ্ছাধিকার সবার জন্য তবুও জুমুআর নামায আদায় করা সুন্নাত ও উত্তম। কেননা হাদীসে আমার দেখেছি যে, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, আমরা জুমুআ আদায় করব। আল্লাহ তায়ালা ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 189
আমাদের দেশের প্রচলিত ফাতোয়া হল কুরবানীর সাথে এক ভাগা দিয়ে আকিকা দেয়া জায়েজ। আমার প্রশ্নঃ এই ফাতোয়ার ভিত্তি কুরাআন ও হাদিসে আছে কি না? থাকলে জানাবেন।
23 Dec 2025
ওয়া আলাইমকুমুস সালাম।
কুরবাণী ও আক্বীকা একই পশু দ্বারা দেয়া জায়েজ আছে কিনা তা নিয়ে মতভেদ আছে। একদল আলেম বলেন,জায়েজ আছে অন্য অরেক দল বলেন জায়েজ নেই। যারা বলেন জায়েজ আছে তাদের বক্তব্যের মূল ভিত্তি হলো, কুরআনের একটি আয়াত। তা হলো,
قُلْ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
অর্থ: আপনি বলুন, নিশ্চয় আমার সালাত, আমার নুসুক আমার জীবন, আমার মরন সবই বিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহরা জন্য। সূরা আন-য়াম, আয়তা ১৬২। উক্ত আয়াতে নুসুক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। আভিধানিক অর্থে নুসুক বলা হয় এমন পশুকে যা আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের জন্য জবেহ করা হয়। দেখুন, আল-মুজামুল ওয়াসীত, পৃষ্ঠা ৯৫৭। আর কুরবানী ও আক্বীকা উভয়টি দ্বারাই যেহেতু আল্লাহ তায়ালা নৈকট্য লাভ উদ্দেশ্য তাই একই পশুতে কুরবানী ও আক্বীকা করা জায়েজ হবে। উল্লেখ হানাফী ও শাফেয়ী মাজহাবের আলেমগন এটাকে জায়েজ বলেছেন। তবে সর্বাবস্থায় মনে রাখতে হবে আকীকা জন্মের সপ্তম দিনে ছাগল বা এ জাতীয় ছোট পশু দিয়ে দেয়া সুন্নত। রাসূলুল্লাহ সা. কিংবা সাহাবীগণ গরু বা উট দিয়ে কখনো আকীকা দেন নি। আমাদের উচিৎ সুন্নাতের অনুসরন করা।
প্রশ্নঃ 188
যারা আরবী জানেনা, মোটামুটি ইন্টার কিংবা অনার্স পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে তাদের জন্য কুরআন বুঝার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজতর কোন তাফসীর গ্রন্থের নাম জানালে খুবই উপকৃত হব।
23 Dec 2025
আপনি কুরআন বুঝার জন্য মুফতী শফী রহ. লিখিত মাওলানা মহিউদ্দিন খান অনূদিত মারেফুল কুরআন, মাওলানা ত্বকী উসমানী লিখিত তাওযীহুল কুরআন এবং সৈয়্যদ কুতুব শহীদ রচিত তাফসীর ফি যিলালিল কুরআন পড়তে পারেন। এই তাফসীরগুলো আমাদের দেশের লাইব্রেরীর সমূহে যাবে।
প্রশ্নঃ 187
আমার নিকট আত্মিয় যেমন ফুফু, খালা, মামা ইত্যাদি এদের উপার্জন হালাল না হলে তাদের বাড়ি যাওয়া এবং খাওয়া যাবে কি? না খেলে আবার সম্পর্ক ভাল থেকে না। এখন কোনটা করা উচিত?
23 Dec 2025
তাদের বাড়ি যাওয়া যাবে তবে খাবার হালাল না হলে খাওয়া জায়েজ হবে না। আপনাকে কৌশলে এড়িয়ে যেতে হবে। একান্ত যদি খেতেই হয় তাহলে খাবার পরিমান টাকা-পয়সা দান করার কথা কোন কোন আলেম বলে থাকেন। তাদের বাড়ি যাওয়া যাবে তবে খাবার হালাল না হলে খাওয়া জায়েজ হবে না। আপনাকে কৌশলে এড়িয়ে যেতে হবে। একান্ত যদি খেতেই হয় তাহলে খাবার পরিমান টাকা-পয়সা দান করার কথা কোন কোন আলেম বলে থাকেন।
প্রশ্নঃ 186
আমার প্রশ্নঃ ১। সাহাবাদের নামের শেষে আমরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলে দুয়া করি। এবং আগের নবিদের ক্ষেত্রে আমরা আলাইহিস সালাম বলে দুয়া করি। কিন্তু আগের নবিদের স্ত্রি বা মাতা (আসিয়া/ হাযেরা/সারাহ) ক্ষেত্রে দুয়ার জন্য কি ব্যবহার করব? রাদিয়াল্লাহু আনহু না আলাইহিস সালাম? আল্লাহ আপনাকে উত্তম বদলা দান কারুন। আমিন।
23 Dec 2025
এক্ষেত্রে ইসলাম কোন কিছু নির্দিষ্ট করে দেয়নি। আপনার কাছে যে দোয়াটি ভাল লাগে আপনি সে দোয়াটি পড়তে পারেন। তবে সাধারণত আলাইহাস সালাম পড়া হয়।
প্রশ্নঃ 185
মুহতারাম,আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হলো- মিলাদ ও কিয়াম করা নিয়ে যদি কোন সহীহ দলিল দেন তাহলে খুব ভাল হয়- আমি এ বিষয় নিয়ে খুব প্রব্লেমে আছি।
23 Dec 2025
মীলাদ ও কিয়াম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন, আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স প্রকাশিত, ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত এহইয়াউস সুনান বইয়ের ৫১৬-৫৬২ পৃষ্ঠা।
প্রশ্নঃ 184
মুহতারাম,আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হলো- আমার এক ছোট ভাই তার মামাতো বোনকে পালিয়ে বিয়ে করেছে এক বছর হলো কিন্তু এখনো মেয়ের বাবা মেনে নেয়নি কিন্তু হাদিস অনুযায়ী এই বিয়ে বাতিল তাহলে তাদের সামনে এখন কী করণীয়? আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মেয়ের পিতা-মাতার সাথে যোগাযোগ করি কিন্তু তারা মেনে নিবে না- উত্তর জানাবেন স্যার।
23 Dec 2025
আপনার প্রশ্নের জন্য শুকরান ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের বিধান। বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামী শরীয়তে এব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাসূল সা. এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। পারিবারিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অধিকাংশ ইমাম ও ফকীহগণের নিকট ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ নেই। তবে ইমাম আবু হানীফা রহ. সহ কতিপয় ফকীহ বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে জায়েজ বলেছেন। প্রখ্যাত মালেকী ফকীহ আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে রুশদ আন্দালুসী র. বলেন,
اختلف العلماء هل الولاية شرط من شروط صحة النكاح أم ليست بشرط؟ فذهب مالك إلى أنه لا يكون النكاح إلا بولي وأنها شرط في الصحة في رواية أشهب عنه وبه قال الشافعي وقال أبو حنيفة وزفر والشعبي والزهري: إذا عقدت المرأة نكاحها بغير ولي وكان كفؤا جاز وفرق داود بين البكر والثيب فقال باشتراط الولي في البكر وعدم اشتراطه في الثيب
অর্থ: বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী শর্ত কি শর্ত নয় এই বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম মালেক র. মত পোষন করেছেন যে, ওলী ছাড়া বিবাহ হবে না। বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য (ওলী) শর্ত। এমন মতই পোষন করেছেন ইমাম শাফেয়ী রা.। ইমাম আবু হানীফা, জুফার, শাবী ও জুহরী র. বলেছেন, যদি মহিলা ওলী ছাড়া বিবাহ করবে আর স্বামী যদি তার কুফু (সর্বদিক দিয়ে যোগ্য) হয় তাহলে জায়েজ হবে। বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ২/৮(শামেলা)। এই সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন, আলমাবসুত লিস-সারখসী, ৬/৫৩; আলমাউসায়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৭/৯৪ও ৩১/৩২১; আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবা ৪/৪৫। কিতাবুল উম্ম লিশ-শাফেয়ী,৭/১৫৬। যে ইমামগন ওলী ছাড়া বিবাহ বাতিল বলেছেন তাদের দলীল: আবু মুসা আশয়ারী রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, অর্থাৎ ওলী ছাড়া বিবাহ নয়। لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِىٍّ আবু দাউদ, হাদীস নং ২০৮৭; তিরমিযী, হাদীস নং ১১০১;মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৯৭৬১। হাদীসটি সহীহ। শায়খ আরনাউত এবং আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত অন্য হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন,
أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ
অর্থাৎ যে মহিলা ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করবে তার বিবাহ বাতিল। তিনি ৩ বার তা বলেছেন। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১১০২; মুসনাদে আহমাদ,হাদীস নং ২৫৩৬৫। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন আর শায়খ শুয়াইব আরনাউত সহীহ বলেছেন। উপরক্ত হাদীস সমূহের ভিত্তিতে ইমাম মালেক, শাফেয়ী, আহমাদ র. সহ অধিকাংশ আলেম ওলী ছাড়া বিবাহকে বাতিল বলেছেন। যে সব ইমাম ও ফকীহ ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ বলেছেন তাদের দলীল: তাবেঈদের মধ্যে ইমার জুহরী ও শাবী এরপরে ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ, মুহাম্মাদ, জুফার সহ কিছু সংখক মুজতাহিদ কিছু শর্ত সাপেক্ষে ওলী ছাড়া বিবাহ কে জায়েজ বলেছেন। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১.কুফু হতে হবে। ২.মেয়েটি বালেগা, বুঝমান হতে হবে। আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবায়া, ৪/৪৫; আলমাবসুত লিস-সারাখসী,৬/৬১ ও ৫/১৬। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
فلا جناح عليكم فيما فعلن في أنفسهن بالمعروف
অর্থাৎ মহিলারা নিজেদের ব্যাপারে সৎ ভাবে যা করবে (বিয়ের ক্ষেত্রে) সে বিষয়ে তোমাদের কোন দোষ নেই। সূরা বাকারাহ-২৩৪ অন্য এক আয়াতে তালাক সম্পর্কে আলোচনার এক পর্যায়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, تنكح زوجا غيره. حتى অথাৎ যতক্ষন না তারা অন্য স্বামীকে বিবাহ না করে। সূরা বাকারাহ-২৩০। অন্য প্রসংগে আল্লাহর বাণী,
فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ
অর্থাৎ তোমরা তাদেরকে তাদের স্বামীদের কে বিবাহ করা থেকে বাধা দিবে না। সূরা বাকারাহ-২৩২ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا অর্থাৎ মেয়েরা ওলীদের চেয়ে নিজের ব্যাপারে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৪২১। الأيم অর্থ স্বামীহীন মহিলা, পূর্বে স্বামী থাকুক বা না থাকুক। আলমজামুল ওয়াসীত। বর্তমান সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৌদী আলেম শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আলমুনজিদ ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের ক্ষেত্রে বলেছেন,
المسألة اجتهادية ، واختلف فيها الأئمة ، فإنه إذا كان أهل بلد يعتمدون المذهب الحنفي كبلادكم وبلاد الهند وباكستان وغيرها ، فيصححون النكاح بلا ولي ، ويتناكحون على هذا ، فإنهم يقرّون على أنكحتهم ، ولا يطالبون بفسخها
অর্থাৎ এটি একটি ইজতিহাদি মাসআলা, ইমামগণ এক্ষেত্রে ইখতিলাফ করেছেন। সুতরাং যে সব দেশের মানুষেরা হানাফী মাজহাবের উপর নির্ভর করে, ওলী ছাড়া বিবাহবে বৈধ মনে করে এবং এভাবে তাদের বিয়ে হয় যেমন, ভারত, পাকিস্থান ইত্যদি, তাহলে তাদের বিবাহের স্মীকৃতি দেয়া হবে । বাতিল করতে বলা হবে না। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, শরীয়তে বিবাহে মেয়েদের জন্য ওলী থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণভাবে যৌবনের শুরুতে যুবক-যুবতী সহজেই বয়সের উন্মাদনায় বিভ্রান্ত হয় এবং নিজের চোখের ভাল লাগার উপর নির্ভর করেই সঙ্গী পছন্দ করে। বিবাহের ক্ষেত্রে চোখের পছন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবন ও আগত প্রজন্মের কল্যাণের কথাও চিন্তা করতে হবে। এজন্য ইসলামে বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর মতমতের সাথে অভিভাবকের মতামতেরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সুতরাং মেয়েদের জন্য আবশ্যক হলো ওলীর অনুমতি নিয়ে বিবাহ করা। আর আমাদের উচিৎ বিবাহের সময় মানুষদের কে ওলীর অনুমতির বিষয়ে উৎসাহিত করা,ওলী ছাড়া বিয়ে করতে নিষেধ করা এবং ওলী থাকার কল্যান বর্ণনা করা। যারা ইতিমধ্যে ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করেছে তাদের বিষয়ে কথা হলো যেহেতু তারা একটি ফিকহী মত গ্রহন করেছেন আর বিষয়টি ইজতিহাদী এবং ইখতিলাফী তাই তাদেরকে নতুন করে বিবাহ করতে হবে না। তবে এই ঘৃনিত কাজের জন্য তাদের লজ্জিত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 183
দারিয়ে প্রসাব কি জায়েয আছে? ১টা হাদিস নাকি আছে যে নবী এমন করেছিলেন? আর কেও বলতেছে যে তিরমিযি তে নাকি হাদিস আছে যেখানে নিষেধ করছেন,এখন সহি আসলে কি একটু জানাবেন নবী নাকি যখন করছিলেন সেটা নাকি উনার কমর ব্যাথা ছিল দেখে করছিলেন? এই বিষয় এর হাদিস গুলা একটু জানাবেন
23 Dec 2025
বিভিন্ন হাদীসের আলোকে স্পষ্ট যে, রাসূল সা. এর সাধারণ অভ্যাস ছিল বসে প্রস্রাব করা। একটি ঘটনা পাওয়া যায় যে, তিনি দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেছেন। সুতরাং সুন্নাত এবং স্বাভাবিক নিয়ম হলো, বসে প্রসাব করা । তবে দাঁড়িয়ে প্রসাব করা না জায়েজ নয়।
প্রশ্নঃ 182
জুমাআর দিনে ঈদ হলে কেও যদি ঈদ এর সালাত জামাতে পরে তবে তার জন্য কি জুমার সালাতে আসা জারুরি? নাকি সে জোহরের সালাত আদায় করবে? হাদিসের দলিল সহ জানালে খুশি হব। আল্লাহ আপনাকে উত্তম বদলা দান করুন।
23 Dec 2025
এ বিষয়ে একটি হাদীসের অর্থ নির্ণয়ে মুহাদ্দিস ও ফকীহগণ মতভেদ করেছেন। হাদীসটি নিম্নরুপ:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : اجْتَمَعَ عِيدَانِ فِي يَوْمِكُمْ هَذَا ، فَمَنْ شَاءَ أَجْزَأَهُ مِنَ الْجُمُعَةِ ، وَإِنَّا مُجَمِّعُونَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. রাসূলুল্লাহ সা. বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আজ তোমাদের দুইটা ঈদ একত্র হয়েছে। যে চায় তার জন্য (ঈদের নমাায) জুমুআ হিসাবে যথেষ্ট। তবে আমরা উভয় নামাযই আদায় করব। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৩১১। হাদীসটি সহীহ। অন্য একজন সাহাবী থেকেও সহীহ সনদে এমনটি বর্ণিত আছে। এ হাদীসের ভিত্তিতে কোনো কোনো মুহাদ্দিস ও ফকীহ বলেছেন যে, জুমুআর দিনে ঈদ হলে জুমুআর সালাত ঐচ্ছিক হয়ে যায়। তবে অধিকাংশ মুহাদ্দিস ও ফকীহ এ মতটির বিরোধিতা করেছেন। তারা বলেন, মরুবাসী বেদুঈনদের জন্য জুমুআর সালাত ফরয নয়। এরূপ অনেক মরুবাসী বেদুঈন ঈদের দিনে ঈদ পালনের জন্য মদীনায় আগমন করতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) মূলত তাদের জন্য এ কথা বলেছিলেন। অর্থাৎ তোমরা মরুবাসীরা যারা চাও তারা চলে যেতে পার। তবে আমরা- মদীনাবাসীগণ জুমুআর সালাত আদায় করব। তোমরা ইচ্ছা করলে সে পর্যন্ত থাকতেও পার। নিম্নের বর্ণনাটি এ ব্যাখ্যা প্রমাণ করে:
الشَّافِعِىُّ أَخْبَرَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِى عُبَيْدٍ مَوْلَى ابْنِ أَزْهَرَ قَالَ : شَهِدْتُ الْعِيدَ مَعَ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ فَجَاءَ فَصَلَّى ثُمَّ انْصَرَفَ فَخَطَبَ فَقَالَ : إِنَّهُ قَدِ اجْتَمَعَ لَكُمْ فِى يَوْمِكُمْ هَذَا عِيدَانِ فَمَنْ أَحَبَّ مِنْ أَهْلِ الْعَالِيَةِ أَنْ يَنْتَظِرَ الْجُمُعَةَ فَلْيَنْتَظِرْهَا ، وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَرْجِعَ فَلْيَرْجِعْ فَقَدْ أَذِنْتُ لَهُ
অর্থ: ইমাম শাফেয়ী রহ.,ইমাম মালেক রহ. থেকে তিনি ইবনে শিহাব যুহরী রহ. থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু উবাইদ বলেন, আমি ঈদের দিন উসমান রা. এর সাথে ছিলাম। তিনি আসলেন, নামায পড়ালেন অতঃপর খুৎবা দিতে গিয়ে বললেন, তোমাদের জন্য আজ দুটি ঈদ একত্র হয়েছে। গ্রাম থেকে যারা এসেছে তারা যদি চাই জুমুআর নামাযের জন্য অপেক্ষা করতে পারে আর যদি চাই ফিরে যেতে পারে। আমি তাদের অনুমতি দিলাম। আসসুনানুল কুবরা লিলবাইহাক্কী, হাদীস নং ৬৫১৬। ইমাম বাইহাক্কী রহ, বলেন, সনদ সহীহ। উক্ত হাদীসে আমরা দেখছি যে, উসমান রা. শুধু মরুবাসী বেদুঈনদের মানুষদের অনুমতি দিয়েছেন, শহরবাসীকে নয়। এর বিষয়টি এমন যে রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বিষয়টি না জানলে তার পক্ষে ইবাদতের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। অন্য একটি হাদীসে আছে,
عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ : اجْتَمَعَ عِيدَانِ عَلَى عَهْدِ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- فَقَالَ :্র مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَجْلِسَ مِنْ أَهْلِ الْعَالِيَةِ فَلْيَجْلِسْ فِى غَيْرِ حَرَجٍ
অর্থ: উমার ইবনে আব্দুল আযীয রহ. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. এর সময় দুটি ঈদ একত্র হলো (ঈদ ও জুমুআ)। তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ সা.) বললেন, গ্রামের লোকদের মধ্যে যে বসতে চাই তার বসতে কোন সমস্যা নেই। আসসুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং ৬৫১৫। হাদীসটি মুরসাল। আরো একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. থেকে এমন বক্তব্য পাওয়া যায়। তবে হাদীসটিকে ইমাম বায়হাক্কী যয়ীফ বলেছেন। দেখুন, আস-সুনানুল কুবরা, হাদীস নং ৬৫১৪। উপরুক্ত দলীল সমূহের ভিত্তিতে প্রতীয়মান হয় যে, শহরবাসীর জন্য ঈদ ও জুমুআ উভয় নামাযই আদায় করতে হবে। আর মরুবাসী বেদুঈন লোকেরা চাইল শহরে এসে জুমুআ আদায় করতে পারে, না করলেও সমস্যা নেই। ইমাম আবু হানীফা, ইমাম শাফেয়ী, ইমাম মালেক সহ অধিকাংশ আলিম ও ফকীহের অভিমত এটাই। শরহে আবু দাউদ লিল আইনি, ৪/৩৯৭; আল-ইসতিযকার,২/৩০৭; সুবুলস সালাম, ২/৫২; কিতাবুল উম্ম. ২/২৩৯। শেষ কথা: উপরের আলোচনার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি যে,অধিকাংশ আলেমের নিকট যাদের উপর জুমুআর ওয়াজিব তাদের জন্য ঈদের দিনেও জুমুআ পড়তে হবে। আর যদি ধরেও নেই যে, ইচ্ছাধিকার সবার জন্য তবুও জুমুআর নামায আদায় করা সুন্নাত ও উত্তম। কেননা হাদীসে আমার দেখেছি যে, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, আমরা জুমুআ আদায় করব। আল্লাহ তায়ালা ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 181
মুহতারাম আস সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: জুম্মার ফরজ নামাজের পুর্বকালে তাহিয়াতুল মসজিদ ছাড়া কাবলাল জুম্মা সুন্নাত নামাজ পড়তে হবে কি? জুম্মার ফরজ নামাজের পরে কত রাকাত সুন্নাত পড়তে হবে? বিস্তারিত জানাবেন।
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
মসজিদে প্রবেশ করে বসার পূর্বে রাসূলুল্লাহ সা. দুরাকআত সালাত আদায় করতে বলেছেন। জুমুআর দিনেও এই দুরাকআত সালাত আদায় করতে হবে। তবে এই সালাত আদায় না করে জুমুআর সুন্নাত আদায় করলেও তা আদায় হয়ে যাবে। আর যদি মসজিদের মধ্যে না বসেই কেউ জুমআর সুন্নাত আদায় করে তাহলেও তার তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় হয়ে যাবে বলে আলেমগণ বলেছেন।
প্রশ্নঃ 180
মুহতারাম। আস সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্নঃ আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে আপনি অবগত। এই অবস্থায় কোন মহিলা কি মুখ ও হাতের কবজি পর্যন্ত খোলা রেখে পুরুষের সাথে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরী করতে পারবে? এতে করে কি পর্দা রক্ষা হবে? এভাবে চাকুরী করা কি জায়েজ হবে? বিস্তারিত জানালে খুশী হবো।
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
একান্ত বাধ্য না হলে পুরুষদের মধ্যে কোনো অবস্থাতেই চাকরী করা ঠিক নয়। পোশাকের পর্দা ছাড়াও পর্দার একটি বড় দিক নারী পুরুষের একত্রে অবস্থান বর্জন করা। একান্ত বাধ্য হলেই শুধু নিজের পোশাকের পরিপূর্ণ পর্দাসহ চাকরী করবেন এবং সাথে সাথে পুরুষ সহকর্মীদের সাথে বা পাশে বসা ও তাদের সাথে খোশগল্প সম্পূর্ণ বর্জন করবেন। এরূপ গল্পগুজব ক্রমান্বয়ে অন্তর থেকে তাকওয়া দূর করে দেয়, এমনকি পারিবারিক জীবনও ভাল লাগে না; বরং কর্মস্থলে এসে গল্প করতেই অধিক ভাল লাগে। এগুলো মুমিন-মুমিনার জন্য অত্যন্ত কঠিন অবক্ষয়।
প্রশ্নঃ 179
একজন বড় ভাই তার ছোট ভাইকে সর্ব্বোচ্চ কোন স্তর পর্যন্ত শাসন করতে পারবে
23 Dec 2025
এটা মূলত পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপর নির্ভর করে । পিতা যদি জীবিত থাকে তখন শাসন মূলত তার দায়িত্ব। পিতা যদি না থাকে আর বড় ভাই ছোট ভাইয়ের অভিভাবক হয় তাহলে শাসনের দায়িত্ব বড় ভাইয়ের উপর। মোটকথা কাগজে কলমে এটা লেখা সম্ভব নয়। অবস্থায় বলে দিবে বড় ভাই ছোট ভাইকে কতটুকু শাসন করতে পারবে।
প্রশ্নঃ 178
মুহতারাম। আস সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্নঃ ঘোড়ার মাংস, চিংড়ি, কাকড়া, কচ্ছপ খাওয়া জায়েজ কিনা?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
চিংড়ি খাওয়া জায়েজ, কোন সমস্যা নেই। তবে অন্যগুলোর ব্যাপারে আলেমদের মাঝে মতভেদ আছে। এগুলো না খাওয়ায় উত্তম।
প্রশ্নঃ 177
বেহেশতিজেওর বই সমনধে ঝানতে চাই। এই বই এর 3 অংশে যে শব কাহীনি আছে এবং তাবিঝ আছে তাকি ভাল।
23 Dec 2025
বেহেশতি জেওর একটি প্রাথমিক ফিকহি কিতাব। সাধারণ মানুষদের জন্য এটা সংকলন করা হয়েছে। তাবিজের বিষয়ে জানতে দেখুন, রাহে বেলায়াত বইটির শেষ অধ্যায়।
প্রশ্নঃ 176
ওযু করার সঠিক নিয়ম ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করলে উপকৃত হবো।
23 Dec 2025
ওযু করার নিয়ম ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হলো: প্রথমে নিয়ত করবে এরপর তিনবার করে কুলি করবে এবং নাকে পানি দিবে। এরপর মুখ তিনবার ধুবে। এরপর হাত তিনবার কুনুহ সহ ধুবে। অতঃপর পুরা মাথা একবার মাসেহ করবে। এরপর টাকনু সহ দুপা তিনবার ধুবে। হাত ও পা ধোয়ার ক্ষেত্রে আগে ডান তারপর বাম।
প্রশ্নঃ 169
Assalamualaikum, sir,I want to know about la majhabi. If i do not follow only one imam its call la majhab in our socity. but I try to my best what i known about hadith to follow. I am not a student of madrasa do not read in islamic study. I accept some alem who are in sohi akdia (that i mind) as example Abdullah jahangir, motiur rahman madani, mufti kazi ibrahim, abdur razzak bin yousuf, sohidullah khan madani. kamal uddin jafari also some other alem. If it is Enough for me to pray for allah? Or i am needed to follow any imam from our 4 imam. Hope you will understand my Quistion.
23 Dec 2025
Wa Alaikumus Salam Wa Rahmatullah. What you do is the same that the followers of Madhabs do. They also accept some scholars and follow them. The main duty of a Muslim is to follow the Quran and Sunnah. But the most of the muslims can not study them. So the depend of mazhabs or scholars. You should try your best to study the Quran and sunnah yourself. If not possible, you should follow one Alim and make your decision depending on Sunnah, not on your personal trend or choice.
প্রশ্নঃ 175
বাংলাদেশে আমরা আরাফার দিনের সিয়াম কত তারিখে রাখব? সাউদিতে যেদিন হাজী সাহেব্ রা আরাফাতে অবস্থান করেন সেই দিন না বাংলাদেসের ৯ জিলহাজ্জ। কেননা চাদের হিসাবে সৌদি তে যেদিন আরাফা সেদিন বাংলাদেশ এ ৮ তারিখ হয় (সাধারনত)। আবার বাংলাদেশে ৯ জিলহাজ্জ তারিখে তো হাজী সাহেব্ রা আরাফাতে থাকেন না। এমাতবস্থায় আমরা বাংলাদেসের হিসাবে না সাউদির হিসাবে সিয়াম রাখব?
23 Dec 2025
অধিকাংশ আলেমের নিকট স্থানীয় তারিখ অনুযায়ী ৯ জিলহজ্জ রোজা রাখবে। তবে কেউ কেউ বলেছেন, হাজীরা যেদিন আরাফায় থাকবে সেদিন রোজা রাখবে।
প্রশ্নঃ 174
Now a days some brothers with Sahih Aqida are saying that we are suppose to follow Saudi for starting Ramadan, yaumul arafat fasting and celebration of Eid occassions. In relevance to their logic they are interpreting the hadiths accordingly. It seems OK when they present their arguments. I have read the relevant fiqh of Abd al-Aziz ibn Baz. In counter to their logic what are we suppose to do now?
23 Dec 2025
হাদীস শরীফে চাঁদ দেখে সিয়াম ও ঈদুল ফিতরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর অর্থ এ নয় যে, যে কেউ যেখানে ইচ্ছা চাঁদ দেখলেই ঈদ করা যাবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে তার সাক্ষ্য গৃহীত হলে বা চাঁদ দেখা প্রমাণিত হলেই শুধু ঈদ করা যাবে। রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও সমাজের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ঈদ পালন করতে নির্দেশ দিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:
الْفِطْرُ يَوْمَ يُفْطِرُ النَّاسُ وَالأَضْحَى يَوْمَ يُضَحِّي النَّاسُ
যে দিন সকল মানুষ ঈদুল ফিত্র পালন করবে সে দিনই ঈদুল ফিত্র-এর দিন এবং যেদিন সকল মানুষ ঈদুল আযহা পালন করবে সে দিনই ঈদুল আযহার দিন। তিরমিযী, আস-সুনান ৩/১৬৫ (কিতাবুস সাওম, বাবু মা জাআ ফিল ফিতরি ওয়াল আদহা মাতা ইয়াকূনু) তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। প্রসিদ্ধ তাবিয়ী মাসরূক বলেন, আমি একবার আরাফার দিনে, অর্থাৎ যিলহাজ্জ মাসের ৯ তারিখে আয়েশা (রা)-এর নিকট গমন করি। তিনি বলেন, মাসরূককে ছাতু খাওয়াও এবং তাতে মিষ্টি বেশি করে দাও। মাসরূক বলেন, আমি বললাম, আরাফার দিন হিসাবে আজ তো রোযা রাখা দরকার ছিল, তবে আমি একটিমাত্র কারণে রোযা রাখি নি, তা হলো, চাঁদ দেখার বিষয়ে মতভেদ থাকার কারণে আমার ভয় হচ্ছিল যে, আজ হয়ত চাঁদের দশ তারিখ বা কুরবানীর দিন হবে। তখন আয়েশা (রা) বলেন:
اَلنَّحْرُ يَوْمَ يَنْحَرُ الإِمَامُ وَالْفِطْرُ يَوْمَ يُفْطِرُ الإِمَامُ
যেদিন রাষ্ট্রপ্রধান কুরবানীর দিন হিসাবে পালন করবেন সে দিনই কুরবানীর দিন। আর যেদিন রাষ্ট্রপ্রধান ঈদুল ফিতর পালন করবে সে দিনই ঈদের দিন। বাইহাকী, আস-সুনানুল কুবরা ৫/১৭৫; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ৩/১৯০; মুনযিরী, তারগীব ২/৬৮। মুনযিরী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। মুমিনের জন্য নিজ দেশের সরকার ও জনগণের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে ঈদ করা রাসূলুল্লাহ সা.-এর নির্দেশ। অন্য দেশের খবর তো দূরের কথা যদি কেউ নিজে চাঁদ দেখেন কিন্তু রাষ্ট্র তার সাক্ষ্য গ্রহণ না করে তাহলে তিনিও একাকী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বিপরীতে ঈদ করতে পারবেন না। সাহাবী-তাবিয়ীগণ বলেছেন যে, এক্ষেত্রে ভুল হলেও ঈদ, হজ্জ, কুরবানী সবই আদায় হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে ভুলের জন্য মুমিন কখনোই দায়ী হবেন না। ইবনু হাজার, তালখীসুল হাবীর ২/২৫৬। বর্তমানে সারা বিশ্বে একদিনে ঈদ বিষয়ে অনেক কথা বলা হচ্ছে। তবে সকল দেশে একদিনে ঈদ পালনের নামে একই দেশে একাধিক দিনে ঈদ পালন নিঃসন্দেহে ইসলামী নির্দেশনার সাথে সাংঘর্ষিক। বিষয়টি নিয়ে তাত্ত্বিক গবেষণা ও মতবিনিময় অবশ্যই হতে পারে। রাষ্ট্র যদি ঐকমত্যের ভিত্তিতে অন্য কোনো দেশের চাঁদ দেখার সাক্ষ্য গ্রহণ করে ঘোষণা দেয় তবে জনগণ তা অনুসরণ করবে। তবে আমাদের বুঝতে হবে যে, মহান আল্লাহ ইসলামকে সহজ-পালনীয় করেছেন। বর্তমানে প্রযুক্তির উৎকর্ষতার কারণে বিশ্বের কোথাও চাঁদ উঠলে সকল দেশেই তা জানা সম্ভব। কিন্তু অতীতে তা ছিল না। আর দূরবর্তী এলাকার চাঁদের খবর নিতে কেউ চেষ্টা করেন নি। মদীনায় চাঁদ দেখার পরে -ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আযহায় রাতারাতি বা ৯ দিনের মধ্যে- দ্রুত দূরবর্তী অঞ্চলে সংবাদ প্রদানের চেষ্টা বা সর্বত্র একই দিনে ঈদ হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করার চেষ্টা রাসূলুল্লাহ সা. বা খুলাফায়ে রাশেদীন করেন নি। সাহাবীগণের যুগ থেকেই একাধিক দিবসে ঈদ হয়েছে। মুসলিম, আস-সহীহ ২/৭৬৫ (কিতাবুস সাওম, বাবু … লিকুল্লি বালাদিন রুইয়াতুহুম)। একাধিক দিনে ঈদ পালন বিষয়ক হাদীসটি উদ্ধৃত করে ইমাম তিরমিযী বলেন:
وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ لِكُلِّ أَهْلِ بَلَدٍ رُؤْيَتَهُمْ
আলিমগণের সিদ্ধান্ত এ হাদীসের উপরেই: প্রত্যেক দেশের মানুষ তাদের নিজেদের চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করবে । তিরমিযী, আস-সুনান ৩/৭৬ (কিতাবুস সাওম, বাবু …লিকুল্লি আহলি বালাদিন রুইয়াতুহুম)। বস্তুত, সাহাবী-তাবিয়ীগণ ও পরবর্তী আলিমগণ বিভিন্ন দেশে একাধিক দিনে ঈদ পালনকে ইসলামী নির্দেশনার বিরোধী বলে গণ্য করেন নি। পক্ষান্তরে একই রাষ্ট্রের মধ্যে বা একই ইমামের (রাষ্ট্রপ্রধানের) অধীনে একাধিক দিনে ঈদ পালনকে সকলেই নিষিদ্ধ, অবৈধ ও ইসলামী নির্দেশনার সাথে সাংঘর্ষিক বলে গণ্য করেছেন। শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বায রহ. একই দিনে সারা বিশ্বে ঈদ আদায় করার কথা বলেন নি।
প্রশ্নঃ 173
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, আমি জানতে চাচ্ছিলাম যে, রাফউল ইয়াদাইন ছাড়া নামাজ কি সুন্নাহ নির্দেশিত? এই ব্যাপারে যদি সহিহ হাদীস থাকে তাহলে জানালে খুব উপকৃত হবো।
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। রাফয়ে ইয়াদায়ন করার ব্যাপারে হাদীস কয়েক ধরনের। কোন হাদীসে একবার (শুধু নিয়্যত করার সময়) কোন হাদীসে ৩ বার, কোন হাদীসে প্রত্যেক ওঠা-বসার সময় ইত্যাদী। আমার মনে হয়ে আপনি প্রথমটি অর্খাৎ শুধু নিয়ত করার সময় বাদে অন্য সময় রাফয়ে না করলে নামায হবে কিন তা জানতে চেয়েছেন। হ্যাঁ, এমন করলেও নামায সুন্নাহ সম্মত হবে। হাদীসটি দেখুন: –
حدثنا هناد حدثنا وكيع عن سفيان عن عاصم بن كليب عن عبد الرحمن بن الأسود عن علقمة قال قال عبد الله [بن مسعود] : ألا أصلي بكم صلاة رسول الله صلى الله عليه و سلم ؟ فصلى فلم يرفع يديه إلا في أول مرة
অর্থ: আলকমাহ থেকে বণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেন, আমি কি তোমাদেরকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সা. এর নামায পড়ব না? এরপর তিনি নামায পড়লেন, তিনি শুধু একবারই হাত উঠালেন। জামে তিরমিযী, হাদীস নং ২৫৭। হাদীসটি বর্ণনা করার পর ইমম তিরমিযী বলেন,
حديث ابن مسعود حديث حسن وبه يقول غير واحد من أهل العلم من أصحاب النبي صلى الله عليه و سلم والتابعين
ইবনে মাসউদ রা. এর হাদীসটি হাসান। এভাবে আমল করতে বলেছেন, অনেক সাহাবী ও তাবেঈ। قال الشيخ الألباني : صحيح শায়েখ আলবানী রহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। দেখুন, সহীহ ও যয়ীফ সুনানে তিরমিযী,হাদীস নং ২৫৭। অন্যান্য মুহাদ্দিসগণও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আরো বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন রফেউল ইয়াদাইন নিয়ে ঝগড়ার নিরসন
প্রশ্নঃ 172
ইসলামে বিয়ের আগে প্রেম হারাম। আমি যদি কোন কারনে খুব কষ্টে না পেরে প্রেমের সম্পর্কে থাকি তাহলে কি আমার নামাজ আমার রোজা আমার সবরকম ভাল আমল গুলা আল্লাহতালার কাছে গ্রহণীয় হবে?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
মানুষ মাত্রই ভুল করে থাকে। তাওবা করলে আল্লাহ তায়ালা সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেন। একটা গোনাহর কাজে লিপ্ত হলে অন্য নেক আমল নষ্ট হয়ে যাবে, বিষয়টি এরকম ন। গোনাহর কাজের জন্য গোনাহ হবে আবার সওয়াবের কাজের জন্য সওয়াব হবে। আপনি যে গোনাহর কথা বলেছেন তা খুবই জঘন্য পাপ। এর থেকে বের হওয়া একান্ত প্রয়োজন। তার একটি পথ এটা হতে পারে যে, উভয় পরিবারের সম্মতিতে আপনারা শুধু বিয়েটা এখন করে নিন। এরপর যে যার অবস্থানে থেকে পড়াশোনা করতে থাকুন। যখন আপনার সচ্ছল হবেন কিংবা সংসার করার মত পরিবেশ হবে তখন সংসার শুরু করবেন। তবে একটা কথা বলে রাখি অভিভাবক ছাড়া বিবাহ হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে। আর কোন অযুহাতেই এই ধরনের সম্পর্ক ইসলামা সমর্থন করে না। আল্লাহ আপনাদের সহায় হোন। আমীন।
প্রশ্নঃ 171
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। টাকনুর নিচে কাপর পড়ে সালাত আদায় করলে অজু নস্ট হবে কি না?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।না, টখনুর নিচে কাপড় পরে সালাত আদায় করলে ওযু নষ্ট হয় না। তবে টাখনুর নিচে কাপড় পরা সর্বাবস্থায় মারাত্নক গোনাহের কাজ । আবু হুরায়রা রা, থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
مَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ مِنَ الإِزَارِ فَفِي النَّارِ.
অর্খাৎ টাখনুর নিচের যে অংশে পায়জামা (পরিধানের পোশাক) থাকবে তা জাহান্নামে যাবে। সহীহ বুখারী,হাদীস নং ৫৭৮৭। পায়জামা বলতে এখানে লুঙ্গি, প্যান্ট এবং অন্যান্য সকল পোশাক উদ্দেশ্য। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন।
প্রশ্নঃ 170
বাসর রাতের শরীয়তসম্মত আমল কি কি?
23 Dec 2025
বাসর রাতই দম্পতির জীবনের শ্রেষ্ঠতম আনন্দঘন রাত। মানবীয় প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রেররণায় নবদম্পতি পরস্পরকে আপন করে নেবে। তবে শুরুতেই দুআ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে হাদীস শরীফে। বর তার নববধূর মাথার সম্মুখভাবে হাত রেখে আল্লাহর নাম নেবে এবং আল্লাহর কাছে নববধুর কল্যান কামনা করে এবং সকল অকল্যান থেকে আশ্রয় চেয়ে দুআ করবে। এছাড়া আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এবং অন্যান্য সাহাবী পরামর্শ দিয়েছেন যে, স্বামী নববধুকে পিছনে নিয়ে একত্রে দু রাকআত সালাত আদায় করে আল্লাহর কাছে সম্প্রীতি, বরকত ও কল্যানের জন্য দোয়া করবে। বিস্তারিত জানার জন্য পড়ুন শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহ. রচিত আদাবুয যিফাফ বইটি।
প্রশ্নঃ 168
১. বিতির এর সালাতে আমারা ৩য় রাকাতে কিরাত এর পর তাকবির বলে রাফা ইয়াদাইন করে হাত বেধে কুনুত পরি এর সহিহ দলিল আছে কিনা? থাকলে জানতে চাই। ২. হাজিদের ঈদ এর সালাত পরা লাগে না কেন?
23 Dec 2025
১। বিতর সালাত বিষয়ে দেয়া আমাদের উত্তরগুলো দেখুন।
২। হাজীগণ হজ্বের বিভিন্ন কাজে লিপ্ত থাকেন এবং মুসাফিরের হুকুমে থাকেন তাই শরীয়ত তাদের জন্য ঈদের নামাজ ওয়াজিব করে নি।
প্রশ্নঃ 167
মুহতারাম। আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হল ১. বিতির এর সালাতের শেষ রাকাতে কুনুত এর আগে তাকবির সহ যে রাফাউল ইয়াদাইন করে হাত বেধে কুনুত পরার যে নিয়ম চালু আছে, তার দলিল সম্পরকে। আমি জানতে চাই কুনুত এর আগে তাকবির বলা এবং রাফাউল ইয়াদাইন করে হাত বাধার কোন সহিহ দলিল আছে কিনা। ২. বিতির এর সালাতের দিতীয় রাকাতে বইঠক এর কোন সহিহ দলিল আছে কিনা।
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আপনার প্রথম প্রশ্নের মধ্যে তিনিটি বিষয় রয়েছে। ১। বিতর নামাযে তাকবীর দিয়ে কুনুত। ২। কুনুতের সময় হাত উঠানো। ৩। কুনুতের পূর্বে নতুন করে হাত বাঁধা। নিচে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো। বিতর নামাযে তাকবীর দিয়ে কুুনুত: তাকবীর দিয়ে কুনুত পড়ার বিষয়ে একটি হাদীসে বর্ণিত আছে,
كَانَ عَبْدُ اللهِ لَا يَقْنُتُ إِلَّا فِي الْوِتْرِ، وَكَانَ يَقْنُتُ قَبْلَ الرُّكُوعِ، يُكَبِّرُ إِذَا فَرَغَ مِنْ قِرَاءَتِهِ حِينَ يَقْنُتُ
অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. শুধু বিতরের সালাতেই কুনুত পড়তেন। আর তিনি রুকুর পূর্বে কুনুত পড়তেন। যখন কুরআন পড়া শেষ করতেন তখন তাকবীর দিয়ে কুনুত পড়তেন। শরহে মুশকিলিল আছার, হাদীস নং ৪৫০৪, ১১/৩৭৪। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাতে (হাদীস নং ৭০২১)ভিন্ন সনদে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে অনুরুপ বর্ণিত আছে। উভয় হাদীসের সনদে দূর্বলতা আছে। তবে দ্বিতীয় হাদীসটি প্রথম হাদীসের বক্তব্যকে সমর্থন করায় শায়খ শুয়াইব আর নাউত প্রথম হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। দেখুন: শরহে মুশকিলিল আছার, ১১/৩৭৪। এই হাদীসে আমরা দেখছি সাহবী ইবনে মাসউদ কুনুত পড়ার পূর্বে তাকবীর দিতেন। কুনুতের সময় হাত উঠানো: ফজরের নামাযের কুনুতের সময় উমার রা. হাত উঠাতেন বলে বর্ণিত আছে। হাদীসটি হলো,
عَنْ أَبِى عُثْمَانَ قَالَ : صَلَّيْتُ خَلْفَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَرَأَ ثَمَانِينَ آيَةً مِنَ الْبَقَرَةِ ، وَقَنَتَ بَعْدَ الرُّكُوعِ ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى رَأَيْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهِ ، وَرَفَعَ صَوْتَهُ بِالدُّعَاءِ حَتَّى سَمِعَ مَنْ وَرَاءَ الْحَائِطِ
অর্থ: আবী উসমান রহ. বলেন, আমি উমার রা. এর পিছনে নামায আদায় করলাম তিনি সূরা বাকারাহ থেকে আশিটি আয়াত তেলাওয়াত করলেন। তিনি রুকুর পরে কুনুত পড়লেন এবং তার দুহাত উত্তোলন করলেন এমন কি আমি তার বগলের সাদা অংশ দেখে ফেললাম। তিনি এতো উচ্চস্বরে দোয়া করলেন যে, দেয়ালের পিছনে যারা আছে তারাও শুনতে পেলো। আস-সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং ৩২৭৪। একই হাদীস আরো দুটি সনদে তিনি উল্লেখ করেছেন। দেখুন ৩২৭৩ এবং ৩২৭৫ নং হাদীস। ৩২৭৫ নং হাদীসের পরে ইমাম বায়হাক্কী রহ. বলেছেন,
وَهَذَا عَنْ عُمَرَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ صَحِيحٌ
এটা উমার রা. থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত। উপরের হাদীসটি আরো বর্ণিত আছে মুসান্নিফে ইবনে আবি শায়বাতে। হাদীস নং ৭১১৪ এবং ৭১১৫। এই হাদীসটির সমস্ত বর্ণনাগুলো একত্র করলে দেখা যায় এটা ফজরের নামাযের ঘটনা। আর বিভিন্ন সনদে হাদীসটি বর্ণিত হওয়ায় হাদীসটি সহীহ কিংবা হাসান পর্যায়ের হবে। এই হাদীস থেকে বুঝা যায় দুআ কুনুত পড়ার সময় হাত উঠানো যায়। তবে হাত উঠিয়ে তিনি আমাদের দেশের মোনাজাত করার মত করতেন না কান পর্যন্ত উঠাতেন তা স্পষ্ট নয়। কোন কোন সাহবী থেকে বর্ণিত আছে যে, তারা মোনাজাতের মত করে হাত তুলতেন। কুনুতের পূর্বে নতুন করে হাত বাঁধা: এই মর্মে কোন হাদীস বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নেই। তবে এই ভাবে বিতর পড়াকে আলেমগণ সুন্নাহ সম্মত বলেছেন। আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য এসম্পর্কে আমাদের দেয়া অন্য প্রশ্নর উত্তর দেখুন।
প্রশ্নঃ 166
May the peace of allah be upon on you,.i am from west bengle, mursidabad.. Amar prasna -about taqdir ami jantam je (1) allah manus create korechen .2)manur ke free will dewa ache and 3) according to this the exam would be happend ..,. But in your book i have gotten 1) allahor will and knowladge a sob hoi (islami aqida-pg-344,346) 1) allah knows all.2) alahor capture a sob. These are in my knowldge but sir i dont understand that sob allaho ichchai hoi..wassalam
23 Dec 2025
আল্লাহর বিশেষণের বিষয়ে বৈপরীত্য কল্পনার একটি দিক তাকদীর। কুরআন ও হাদীস থেকে আমরা আল্লাহর অনাদি-অনন্ত, সর্বব্যাপী জ্ঞানের কথা, তাঁর ক্ষমতা ও ইচ্ছার কথা জানতে পারি এবং পাশাপাশি আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতা, ন্যায়বিচার ও করুণার কথা জানতে পারি। অনেকে এ দু বিশেষণের মধ্যে বৈপরীত্য কল্পনা করেছেন। প্রথম বিশেষণের মাধ্যমে আমরা জানি যে, মহান আল্লাহর অনাদিকাল থেকে তাঁর সৃষ্টির মধ্যে কে, কখন, কিভাবে কি কর্ম করবে তা সবই জানেন। আমরা কুরআন ও হাদীসের মাধ্যমে জানি যে, মহান আল্লাহ তাঁর এ জ্ঞান লাওহে মাহফুযে লিপিবদ্ধ করে রাখেন। আমরা আরো জানি যে, মহান আল্লাহর রুবূবিয়্যাতের ন্যূনতম দাবি যে, তাঁর জ্ঞানের অগোচরে ও ইচ্ছার বাইরে পৃথিবীতে কিছুই ঘটতে পারবে না। এ থেকে কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, তাহলে মানুষ যা কিছু করে তা আল্লাহর নির্দেশেই করে, কাজেই মানুষের কর্মের জন্য তাকে অপরাধী বলে গণ্য করা যায় না। এরা মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা, আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতা ও কর্মফল বিষয়ক আয়াত ও হাদীসগুলো বিভিন্ন ব্যাখ্যা করে বাতিল করেন। অপরদিকে কেউ কেউ মনে করেন যে, আল্লাহর জ্ঞান, লিখন ও ইচ্ছার এ সকল বিষয় তাঁর ন্যায়পরায়ণতার বিশেষণের সাথে সাংঘর্ষিক। কাজেই ন্যায়পরায়ণতার বিশেষণ গ্রহণ করে অন্যান্য বিশেষণ ব্যাখ্যা করে বাতিল করতে হবে। আসলে এ সবই আল্লাহর বিশেষণকে মানুষের বিশেষণের সাথে তুলনা করার ফল। আল্লাহর ক্ষেত্রে তাঁর সর্বব্যাপী জ্ঞান, লিখনি ও ইচ্ছার সাথে মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা, ও ন্যায়বিচারের কোনোরূপ বৈপরীত্য নেই। মুমিন সরল ও সহজ অর্থে উভয় প্রকারের বিশেষণ বিশ্বাস করবেন। সমন্বয়ের জন্য এ বিষয়ক মূলনীতি অনুসরণ করবেন। কোনোভাবেই একটি প্রমাণ করার জন্য অন্যটি ব্যাখ্যা করে বাতিল করবেন না। তাকদীরে বিশ্বাস অর্থ আল্লাহর জ্ঞান ও আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতা উভয় বিশেষণে সমানভাবে বিশ্বাস করা।
আল্লাহর নির্ধারণে অবিশ্বাস করলে আল্লাহর জ্ঞান ও ক্ষমতায় অবিশ্বাস করা হয়। আর মানুষের স্বাধীন ইচ্ছায় অবিশ্বাস করলে আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতা ও করুণায় অবিশ্বাস করা হয়। এ অবিশ্বাসের শুরু মহান আল্লাহর বিশেষণ ও কর্মকে মানুষের বিশেষণ বা কর্মের মত বলে বিশ্বাস করা থেকে। আল্লাহর সকল বিশেষণ সমানভাবে প্রত্যয়ের সাথে বিশ্বাস করলে এ বিষয়ে কোনো অস্পষ্টতা থাকে না। একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে। মনে করুন, আল্লাহর নির্ধারণ যে, বিষ মৃত্যু আনে। মানুষকে আল্লাহ জ্ঞান দান করেছেন যে, বিষ মৃত্যু আনে। এরপরও কেউ বিষ পান করলে সে মৃত্যু বরণ করবে। তবে তা আল্লাহর ইচ্ছা ও জ্ঞান অনুসারে ঘটবে। আল্লাহ তাঁর অনন্ত জ্ঞানে জানেন যে, নির্দিষ্ট ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ে স্বেচ্ছায়, বাধ্য হয়ে, জেনে বা না-জেনে বিষ পান করবে। তিনি তাঁর এ জ্ঞান লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি ইচ্ছা করলে ঐ ব্যক্তির ইচ্ছা শক্তি হরণ করে তাকে বিষপান থেকে বিরত রাখতে পারেন বা বিষের ক্রিয়া নষ্ট করে বিষপানকারীকে মৃত্যু থেকে রক্ষা করতে পারেন। আল্লাহর জ্ঞান, লিখনি বা তাকদীর অনুসারে বিষপানকারীর মৃত্যু আসবে অথবা আসবে না। বিষপানকারী বিষপানে তার ইচ্ছা, অনিচ্ছা ও কর্ম অনুসারে পাপ বা পুণ্য লাভ করবে। বিস্তারিত জানতে পড়ুন, আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত আল-ফিকহুল আকবার পৃষ্ঠা ১৭৮-১৮৩।
প্রশ্নঃ 165
মুনাজাত কি দিয়ে আরম্ভ করা সুন্নাত? দলিল সহ জানাবেন।
23 Dec 2025
এমন কোন সুনির্দিষ্ট দুআ নেই যার মাধ্যমে দুআ বা মুনাজাত আরম্ভ করা সুন্নাত। তবে দুআ করার কিছু আদব আছে। যেমন,দুআর শুরতে ও শেষে দরুদ শরীফ পাঠ করা, দুআর মধ্যে ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম বলা, দুআর সময় ক্বিবলামুখী হওয়া ও দুই হাত বুক পর্যন্ত কিংবা তারো বেশী উঠানো ইত্যাদি। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত রাহে বেলায়াত বইটি।
প্রশ্নঃ 164
আসসালামু আলাইকুম, স্যার, আমি আমার আগের প্রশ্নের সাথে কিছু যোগ করতে চাই। আমি যে মেয়েকে বিয়ে করতে চাই তাকে আমার মা গতকাল বলে এসেছে তুমি আমার ছেলের পথ থেকে সরে যাও। তোমাকে আমার ছেলে ছাড়া কেউ পছন্দ করছে না। আমি তার সাথে গত মাসের ২১ তারিখের আগে সর্বশেষ কথা বলেছিলাম। তাতে আমার কাছে তাকে ধার্মিকা ও শরীয়ত সমপরকে অবহিতা মনে হয়েছে। কখনই তাকে মানসিক প্রতিবন্ধী মনে হয়নি। তাকে যখন দেখি আমার মনে হয়নি তার ভ্রূ প্লাক। তাকে আমার কাছে অনেক সুন্দরী মনে হয়েছে ও লম্বাও আমার কাছাকাছি মনে হয়েছে। অথচ আমার মা আমাকে বলেছে তার ভ্রূ প্লাক করা, খাটো, পাগল, মেকআপ করা বলেছে। আমার জানামতে সে নেকাবসহ বোরখা পরে। আমার সাবেক স্ত্রীর সাথে বিয়ের আগের দিন তার ছবি দেখে বলেছিলাম সে ভ্রু প্লাক করে। কিন্তু তখন এটাকে গুরুত্ব দেয়নি। বলেছিল বিয়ের পর নিষেধ করলে ঠিক হয়ে যাবে। তার মেকআপ ছিল অথচ বিয়ের আগ পর্যন্ত আমার মা ভাবি কেউই বুঝতে পারেনি। আমি আমার মাকে প্রায় দেড়মাস আগে আমার পছন্দের মেয়েটিকে দেখতে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু আমার মা আমার অনুরোধ রাখেনি। তাদের পছন্দের মেয়েকে আমার উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টার সাথে সাথে আমার পছন্দের মেয়ের প্রতি আমার দু্রবলতা বেড়েছে। তাকে গতকাল চরমভাবে অপমান করার কারণে আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। তার স্কুলে গিয়ে তাকে এভাবে অপমান করাটা আমাকে ভীষণভাবে পীড়িত করছে। আমি তাকে মার্চ এর ৪ তারিখে দেখেছিলাম। আমি তার লেখাপড়া, চাকরি প্রভৃতি জানার পর আমার নিজের বরণনা দিয়ে বললাম আমি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়লেও আমি নিজেকে সাধ্যমত নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছি ও আমি ক্লাস ফোর থেকে নামাজ পড়ি। সে বলল মানুষের ঈমানটাই আসল। আমি এটা শুনে খুব খুশি হলাম। আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে অনারস মাষ্টারস করেছি অথচ আমার পিতামাতা আমার মতামতের মূল্য দেয়না। এখন আমি কি করব স্যার? তারা আমাকে হুমকি দিচ্ছে ঐ মেয়েকে বিয়ে করলে তারা আমার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করবে। আমি আমার পিতামাতাকে হারাতে চাই না আবার এই কষ্টও সহ্য করতে পারছি না।
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আপনার পিতামাতকে লোভী ও ধর্মবিমূখ মনে হচ্ছে। মেয়েটিকে হুমকি দেয়া তার জন্য বড় ধরনের অপরাধ। আপনি সবর করুন। নিচের দু্আগুলো পড়ুন। ইনশাআল্লাহ একটা সমাধান পাবেন। তবে তাদের কথামত ধর্মহীন কোন মেয়েকে অবশ্যই বিয়ে করবেন ন। আপনার পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করার অধিকার আপনার আছে। আপনি রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো নফল সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। এছাড়া কুরআনের এই দুআটিও সালাতে এবং অন্যান্য সময় বারবার পড়বেন,
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনার সব সংকট দূর করে দেন।
প্রশ্নঃ 163
fazaeel ee amal grontho gulo somporke apnader motamot ki?
23 Dec 2025
ফাযায়েলে আমল জাতীয় গ্রন্থ, তারগীব তারহীব ইত্যাদি গ্রন্থে সহীহ, যয়ীফ ও জাল হাদীস বিদ্যমান। এরূপ অনেক গ্রন্থেই বিদ্যমান। পাঠকদের উচিত হাদীস যাচায় বিষয়ে মুহাদ্দিসদের মতের উপর নির্ভর করা এবং যাচাই ছাড়া কোনো হাদীস গ্রহণ না করা
প্রশ্নঃ 162
বাংলাদেশে মাদরাসা শিক্ষা এবং সাধারণ শিক্ষা পাঠক্রম: ইতিহাস এবং তুলনা artical banglata chai
23 Dec 2025
আমরা এখানে মাসআলা মাসায়েল বিষয়ে আলচনা করি। আর্টিকেল নয়। এই বিষয়ে একটি আরবী আর্টিকেল আছে পড়ে নিতে পারেন।
প্রশ্নঃ 161
পায়ে হাত দিয়ে সালাম করার বিধান
23 Dec 2025
বিস্তারিত জানতে এহইয়াউস সুনান (৩৮৬পৃষ্ঠা থেকে ৩৮৮পৃষ্ঠা) পড়ুন। এক কথায় এরূপ করা সুন্নাত নয় ও ইসলামী আদব নয়।
প্রশ্নঃ 160
প্রিয় স্যার, আচ্ছালামু আলাইকুম, আমাদের দেশে প্রায় সকল মসজিদের মেহরাবে এক পার্শ্বে আল্লাহ অপর পার্শ্বে মুহাম্মদ (ﷺ) লেখা থাকে। এই লেখাটা ঠিক কি না? এছাড়া উক্ত নামের নীচেই কাবা এর ছবি এবং রওজা মুবারকের গম্বুজ ও থাকে। এটা কি শরীয়ত সম্মত কি না। মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীতে অনুরুপ কিছু লেখা/ছবি আছে কি? মোঃ জাহিদুল আলম
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
এরূপ লেখা ঠিক নয়। (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু) ও (মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ) দুটি বাক্য লেখা যেতে পারে, তবে সালাতে দাঁড়ালে মুসল্লীর নজরে পড়ার স্থানের উপরে লেখা উচিত। কেবলার দিকে এরূপ ছবি রাখাও ঠিক নয়। মসজিদে ননবীতে মাথার উপরে পিলার ও ঝাড়বাতিতে (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ) লেখা আছে এবং আরো অনেক আয়াত ও হাদীস লেখা আছে।
প্রশ্নঃ 159
Will my salah and other ibadah be accepted by Allah?
23 Dec 2025
You are eating from your income. So, there is no problem. It is your Fardh (obligatory) Duty to serve your parents. So stay with them and serve them. Try your best to make all expenses from your income. Pray to Allah for your parents hedayat. In any case you are not permitted to misbehave with them. See Sura Luqman 15 ayat
প্রশ্নঃ 158
Assalamu alaikum .. Sir I hv some problm on wearing of leather belt in namaz . As it permissible in namaz or not if not thn it makrooh or haram or other subcategory plz help . And also if leather is taken through halal way from animal like Ox ..cow etc. Plz hlp with refence.
23 Dec 2025
Wa Alaikumus Salam Wa Rahmatullah. No problem in wearing leather belt in namaz.
প্রশ্নঃ 157
to know about one hadeet regarding prophet (pbuh) is made of nur.
23 Dec 2025
It is a false and baseless hadith. in furfura shareef website which is conducted by hooghly furfuras,there have mentioned one point regarding aqidah that the soul of our nabi(s.a) is present where discuss about the religion of islam. is it correct or not please specify valuable information about this. Ans: It is not correct. They should proof their theory by explicit text from Quran or Hadith.
প্রশ্নঃ 156
Sir, The man who said Allah is everywhere Can I pray (Shala) behind him?
23 Dec 2025
কথাটি ঠিক নয়। তবে যে মুসলিম এ কথা বলেন তাকে সরাসরি কাফির বলা যাবে না। কারণ কুরআনের বিভিন্ন বক্তব্যের এটি একটি ভুল ব্যাখ্যা। আল্লাহ বলেছেন তিনি বান্দার কাছে এবং সাথে। তিনি বলেছেন তিনি আল্লাহ আসমানে এবং যমীনে। এ সকল আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা থেকে এরূপ কথা এসেছে। আমরা কথাটিকে ভুল ও ইসলাম বিরোধী বলব এবং সঠিক কথা মানুষদের বুঝাব। তবে এরূপ ব্যাখ্যা মুমিনের জন্য একটি ওজর। এরূপ ওজরের কারণে এরূপ ব্যক্তিকে সরাসরি কাফির বলা যায় না। আর যাকে কাফির বলা যায় না তার পিছনে সালাত পড়া বৈধ। বিশেষত অন্য কোনো ভাল ইমান না পেলে তার পিছনে পড়তে হবে। জামাতে সালাত বাদ দেওয়া যাবে না। বিস্তারিত আল-ফিকহুল আকবার এবং ইসলামী আকীদা বইদুটিতে পড়ুন।
প্রশ্নঃ 155
আস-সালামু আলাইকুম, শায়খ আপনার কাছে অনুরোধ কোন ব্যক্তি যদি নামাজরত আবস্হায় থাকে তবে তার সামনে দিয়ে যাওয়ার বিধান ও হাদিস বর্ননা করবেন কি? খুব উপকৃত হতাম।
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। নামাযরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাওয়া জায়েজ নেই। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
لَوْ يَعْلَمُ الْمَارُّ بَيْنَ يَدَيِ الْمُصَلِّي مَاذَا عَلَيْهِ لَكَانَ أَنْ يَقِفَ أَرْبَعِينَ خَيْرًا لَهُ مِنْ أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ قَالَ أَبُو النَّضْرِ لاَ أَدْرِي أَقَالَ أَرْبَعِينَ يَوْمًا ، أَوْ شَهْرًا ، أَوْ سَنَةً
নামাযরত ব্যক্তির সামানে দিয়ে যাতায়াতকারী ব্যক্তি যদি জানতো এতে কি পরিমাণ গুনাহ হয় তাহলে সে সামনে দিয়ে যাওয়ার চেয়ে চল্লিশ ( দিন,মাস কিংবা বছর উদ্দেশ্য, বর্ণনা স্পষ্ট নয়) দাঁড়িয়ে থাকাকে উত্তম মনে করত। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫১০। মুসনাদে বায-যারে (হাদীস নং ৩৭৮২) আছে চল্লিশ বছর। তবে সামনে কতুটুকু পরিমান জায়গার মধ্যে যেতে পারবে না সে বিষয়ে মতভেদ আছে। হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন,
وَاخْتُلِفَ فِي تَحْدِيدِ ذَلِكَ فَقِيلَ إِذَا مَرَّ بَيْنَهُ وَبَيْنَ مِقْدَارِ سُجُودِهِ ، وَقِيلَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ قَدْرَ ثَلَاثَةِ أَذْرُعٍ وَقِيلَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ قَدْرَ رَمْيَةٍ بِحَجَرٍ
অর্থ: এর সীমা নিয়ে মতভেদ আছে। কারো মতে, সিজাদা দেয়ার স্থান পর্যন্ত, কেউ কেউ বলেন, তিন হাত, আবার কেউ কেউ বলেন, পাথর নিক্ষেপ করলে যতুটুকু যায় সেই পরিমাণ। ফাতহুল বারী, ১/৫৮৫ (শামেলা)। এজন্য সর্বদা সালাতরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাওয়া পরিহার করবেন। একান্ত বাধ্য হলে অন্তত দু কাতার দূর থেকে যাবেন।
প্রশ্নঃ 154
assalamualaikum,sir, emamer pisone sura fatiha pora ki foroj? othoba konsomay sura fatiha porta hobe? sura fatiha emamer pisona na porlay namaj hobe ki?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
ইমাম ও একাকী নামায আদায়কারী ব্যক্তির জন্য সূরা ফাতিহা পডতে হবে। তবে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে কি না এই নিয়ে আলেমদের মাঝে কয়েকটি মত রয়েছে রয়েছে। এক. নামাযে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে। দুই. ফজর, মাগরিব ও এশার নামাযে অর্থাৎ যে সব নামাযে স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় সে সব নামাযে সূরা ফাতিহা পড়বে না। অর যে সব নামাযে কুরআন নিঃশব্দে পড়া হয় অর্থাৎ জোহর এবং আসরের নামাযে পড়া মুস্তাহাব। তিন. ফজর, মাগরিব ও এশার নামাযে অর্থাৎ যে সব নামাযে স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় সে সব নামাযে সূরা ফাতিহা পড়বে না। অর যে সব নামাযে কুরআন নিঃশব্দে পড়া হয় অর্থাৎ জোহর এবং আসরের নামাযে পড়া আবশ্যক। চার. কোন সময়ই ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়বে না। দলীলের আলোকে মনে হয় সরব নামাযে, অর্থাৎ স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামাযে সূরা ফাতিহা পড়া লাগবে না আর নীরব নামাযে, অর্থাৎ নিঃশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামাযে ইমামের পিছনে মুক্তাদিও সূরা পড়বেন। দলিলসহ বিস্তারিত আলোচনা ইনশা আল্লাহ পরবর্তীতে ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে প্রচার করা হবে।
প্রশ্নঃ 153
বর্তমানে বাজারে যে সকল perfume পাওয়া যায় সেগুলোর ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম কি?আমি JOVAN- black musk নামক একটি perfume gift পেয়েছি। এটি ব্যবহার করতে ইতস্তত বোধ হচ্ছে। আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার এ ব্যাপারে তাঁর মতামত ব্যাক্ত করলে কৃতজ্ঞ হব। perfume টার ingredients গুলো attachment এ দিয়ে দিলাম। ওয়াসসালামু আলাইকুম।
23 Dec 2025
এলকোহল একটি কেমিক্যাল টার্ম, এ দ্বারা সর্বদা মদ বুঝানো হয় না। পারফিউমে ব্যবহৃত এলকোহল সাধারণত মাদক হয় না, অনেক সময় বিষাক্ত হয়, যা পান করলে মাতাল না হলেও মৃত্যু হতে পারে। এ ধরনের এলকোহল মিশ্রিত পারফিউম ব্যবহার বা এলকোহল মিশ্রিত পানি দিয়ে জীবানুমুক্ত হওয়া ইত্যাদি বৈধ। এতে দেহ বা পোশাক নাপাক হবে না।
প্রশ্নঃ 152
আস-সালামু আলাইকুম। বিদ আত মুক্ত আমল করব কিভাবে? এক এক জন এক এক ভাবে ব্যাখ্যা করে । কোণটা সঠিক বোজার উপায় কি?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আপনি একজন গবেষক আলেমের পরামর্শ নিয়ে চলুন। যে আলিমকে ইলম ও আমলে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয় তার পরামর্শ গ্রহণ করুন। পাশাপাশি নিজে অধ্যয়ন করতে থাকুন।
প্রশ্নঃ 151
Hujur amar meyer boyos 8 mash. Ami ki eid er por meyer name akika korte parbo? R apni India asle janaben. Amar mobile no. 9339021234. Apnar kach theke ami anek kichu sikhchi.
23 Dec 2025
জন্মের ৭ দিনে আকীকা করা সুন্নাত। তখন না করে থাকলে যে কোন সময় করতে পারবেন সমস্যা নেই।
প্রশ্নঃ 150
Sir said Allah is with us. I want to know how Allah with us.
23 Dec 2025
মহান আল্লাহর বিষয়ে কিভাবে প্রশ্নটিই অবান্তর। মহান আল্লাহ নিজেই বলেছেন, তিনি আমাদের সাথে এবং নিকটে।তিনি সর্বদা আমাদের সবকিছু দেখছেন, শুনছেন এবং আমাদের হেফাযত ও রহমত করছেন। তাঁর বিশেষণগুলো ব্যাখ্যাতীত ভাবে বিশ্বাস করাই ঈমানের দাবি। আল-ফিকহুল আকবারের বঙ্গানুবাদ ও ব্যাখ্যাটি পাঠ করলে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
প্রশ্নঃ 149
আক্বীকা আদায় না করে ঐ ব্যক্তি কোরবানি আদায় করতে পারবে কি? আমার আক্বীকা আদায় করেনি আমার বাবা মা আমি আক্বীকা আদায় না করে কোরবানি আদায় করতে পারবো কি?
23 Dec 2025
আকীকা করা সুন্নাত বা মুস্তাহাব আর কোরবানী করা ওয়াজিব। কোরবানীর সাথে আকীকার কোন সম্পর্ক নেই। আকীকা করা না হলেও কোরবানী যার উপর ওয়াজিব তাকে অবশ্যই কোরবানী করতে হবে।
প্রশ্নঃ 148
QUESTION ABOUT PERFUME
23 Dec 2025
এলকোহল একটি কেমিক্যাল টার্ম, এ দ্বারা সর্বদা মদ বুঝানো হয় না। পারফিউমে ব্যবহৃত এলকোহল সাধারণত মাদক হয় না, অনেক সময় বিষাক্ত হয়, যা পান করলে মাতাল না হলেও মৃত্যু হতে পারে। এ ধরনের এলকোহল মিশ্রিত পারফিউম ব্যবহার বা এলকোহল মিশ্রিত পানি দিয়ে জীবানুমুক্ত হওয়া ইত্যাদি বৈধ। এতে দেহ বা পোশাক নাপাক হবে না।
প্রশ্নঃ 147
mansur hallaj somporke apnader motamot janaben and Ibn Taymiyyah sufi der bepare and tar ek fatwa te fanafilla bepare ze akida poshon poshon koreche ta ki correct? answer gulo bistarito bhabe janaben.
23 Dec 2025
মানসূর হাল্লাজ সম্পর্কে প্রশ্ন ও উত্তর সবই অপ্রয়োজনীয় কাজ। কবরে বা হাশরে এ বিষয়ে কোনো মুসলিমকে প্রশ্ন করা হবে না। কোটি কোটি মুসলিমের মধ্যে তিনি একজন। তার কর্ম ও মতামত খুবই আপত্তিকর ছিল। তার লেখা বইগুলোও আপত্তিকর বিষয়ে ভরা। সাধারণ ভাবে তার যুগের আলিমগণ তাকে বিভ্রান্ত বলেছেন। কেউ কেউ তাকে ভাল মনে করেন এবং তার খারাপ কথাগুলোর জন্য ওজর বলেন। মানুষের দৃষ্টিতে মানুষের বিচার হবে বাহ্যিক কর্মের ভিত্তিতে। এ বিচারে তিনি বিভ্রান্তিকর মত ও কর্মের অনুসারী ছিলেন। মহান আল্লাহই ভাল জানেন। ইবন তাইমিয়া নিজেও একজন সুফী ছিলেন। তার গ্রন্থাবলির মধ্যে তাসাউফ বিষয়ে অনেক রচনা রয়েছে। অনেক সুফির তিনি প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি সুফিদের বিভ্রান্তির প্রতিবাদ করেছেন।
প্রশ্নঃ 146
Ekjon non Muslim ki wudu or gushal er dara pobitro hote parbe?
23 Dec 2025
যে সব শরয়ী হুকুম পালনের জন্য ওযু করতে হয় অমুসলিমেদের উপর সেই সব হুকুম প্রযোজ্য নয়। যেমন, নামায রোজা। সুতরাং তাদের পবিত্র হওয়ার কোন অর্থ নেই।
প্রশ্নঃ 145
Amra jani je salat er jonno wudu kora fard. kintu quran sporsho korbar jonno wudu kora nicher konti hote pare. 1. fard 2. wajib 3. sunnat 4. mustahab
23 Dec 2025
ফরজ। বিস্তারিত জানার জন্য এই বিষয়ে প্রদত্ত অন্য প্রশ্নের উত্তর দেখুন।
প্রশ্নঃ 144
আসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন এই পৃথিবীতে কুফরি কালাম এর অস্তিত্ত আছে কি? অনেকে বলে এর প্রয়োগ মানুষের ক্ষতি করার জন্য করা হয়। যেমনঃ কারো আর্থিক ক্ষতি, বা কোন কুমারী মেয়ের যথা সময় বিয়ে না হয়া। এরুপ ক্ষেত্রে অনেকে বলেন যে ওনার উপর জাদু করা হয়েছে বা সেই কুমারীকে কুফরী কালাম দ্বারা বিয়ে বন্ধ করে রেখেছে। এই কথার কি কোন ভিত্তি আছে? আর যদি থাকে এর লক্ষণ এবং এর থেকে প্রতিকার কি? কি আমল করলে এর থেকে পরিত্রণ পাওয়া যাবে। আমি কোন হুজুর এর উপর ভরসা করতে পারছি না। তাই জাহাঙ্গির হুজুরই আমার শেষ ভরসা। দয়া করে উত্তর টা আমি সরাসরি জাহাঙ্গির হুজুর থেকে আশা করছি
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
কুফরী কালাম বা যাদুর মাধ্যমে মানুষের শারীরিক ও আর্থক করা যায়। কুরআন ও হাদীসে যাদু ব্যবহারকে কুফর বলে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাদুকর মূলত পূজা ও শিরকের মাধ্যমে জিনের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। যেমন ধুপ, সুগন্ধি ইত্যাদি উৎসর্গ করা, কোনো পশু বা পাখি জবাই করা, জিন বা শয়তানের সাহায্য প্রার্থনা করা, তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে মন্ত্র পাঠ করা ইত্যাদি। এগুলো সবই শিরক। অনেক সময় মুসলিম যাদুকরকে প্রতারিত করতে শয়তান জিন এরুপ শিরকী মন্ত্রের সাথে কুরআনের আয়াত বা দুয়া সংযুক্ত করে রাখে। কুরআনের আয়াত বা দুয়ার আগে, পরে বা মধ্যে শয়াতনের পছন্দনীয় বা অর্চনামূলক দু-একটা বাক্য রেখে দেয়। এরুপ শিরক ছাড়াও বিভিন্ন প্রকারের কুফর ও মহাপাপের মাধ্যমে শয়তারকে সন্তুষ্ট করতে হয়। যেমন কুরআনের অবমাননা, কুরআনের আয়াত উল্টে লেখা, নাপাকি দিয়ে লেখা, জঘন্য অশ্লীলতায় লিপ্ত হওয়া, ঘৃন্য নাপাকীর মধ্যে বা নাপাক অবস্থায় থাকা, মানুষ হত্যা ইত্যাদী। এসকল কর্মের মাধ্যমে যাদুকর সামান্য কিছু অস্বাভাবিক ক্ষমতা অর্জন করে। যেমন ভেল্কি দেখানো, সত্য-মিথ্যা মিশ্রিত কিছু অজানা বা গায়েবী কথা বলা, মনের কথা বলঅ, বান-টোনা ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষের ক্ষতি করা ইত্যাদী। এদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কুরআন ও হাদীসে অনেক দোয়া ও যিকির উল্লেখ আছে। বিস্তারিত জানতে দেখুন ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত রাহে বেলায়াত গ্রন্থের নতুন সংস্করনের রোগব্যাধি ও ঝাড়ফুঁক অধ্যায়টি।
প্রশ্নঃ 143
amar question ta holo: আমি এবং আমার স্ত্রী, আমার শ্বশুর এর বাসায় খাওয়া দাওয়া করি। আমার শ্বশুর এর উপার্জিত অর্থের উপর কিছুটা সন্দেহ আছে আমার হালাল হারাম এর বিষয়এ। তার বাসার এই খাদ্য খাওয়ার ফলে আমদের (আমি এবং আমার স্ত্রী) কি কোন ক্ষতি হচ্ছে? উপার্জিত অর্থের দারা খাদ্য হালাল-হারাম হয়ে যাওয়া এই বিষয়ে বিস্তারিত বললে ভাল হতো।
23 Dec 2025
সহীহ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, دع ما يريبك إلى ما لا يريبك অর্থ: যা তোমাদের সন্দেহে ফেলে দেয় তা পরিহার করে যা সন্দেহে ফেলে না তা গ্রহন কর। সুতরাং সন্দেহ হলে আপনার জন্য এখানে খাবার খাবেন না খাওয়াই উত্তম। আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের স্টুডিও এর কার্যক্রম শুরু হলে উপার্জিত অর্থের দ্বারা খাদ্য হালাল-হারাম হয়ে যাওয়া বিষয়ে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লহ।
প্রশ্নঃ 142
TOUCHING QURAN
23 Dec 2025
বিভিন্ন সহীহ হাদীসের আলোকে উম্মাতের প্রায় সকল ইমাম ও ফকীহ একমত যে, ওযু বা গোসল বিহীন অবস্থায় কুরআন কারীম সরাসরি স্পর্শ করা জায়েজ নয়। তবে বর্তমানে কতিপয় ফকীহ ওয বিহীন অবস্থায় কুরআন স্পর্শ বৈধ বলেছেন। সংক্ষেপে বিষয়টি আলোচনা করছি। নাপাক অবস্থায় ও ওযু বিহীন অবস্থায় কুরআন স্পর্শ করার নিষেধাজ্ঞায় সহীহ হাদীস বর্ণিত । ইবন উমার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেন: لا يَمَسَّ الْقُرْآنَ إِلاَّ طَاهِرٌ পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ কুরআন স্পর্শ করবে না। হাদীসটি সহীহ। হাইসামী, মাজমাউয যাওয়ায়িদ ১/৬১৬; আলবানী, সহীহুল জামি ২/১২৮৪, নং ৭৭৮০। অন্য হাদীসে তাবিয়ী আব্দুল্লাহ ইবন আবূ বাকর ইবন মুহাম্মাদ ইবন আমর ইবন হাযম আনসারী (৬৫-১৩৫ হি) বলেন, আমার দাদা সাহাবী আমর ইবন হাযমকে (রা) রাসূলুল্লাহ সা. যে পত্র লিখেছিলেন, তাতে তিনি লিখেছিলেন: أَنْ لا يَمَسَّ اَلْقُرْآنَ إِلَّا طَاهِرٌ পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ কুরআন স্পর্শ করবে না। এ হাদীসটি অনেককগুলো সনদে বর্ণিত। প্রত্যেক সনদেই কিছু দুর্বলতা বিদ্যমান। তবে সবগুলি সনদের ভিত্তিতে ইমাম আহমদ ইবন হাম্বাল, ইমাম ইসহাক ইবন রাহওয়াইহি, ইমাম হাকিম, ইমাম যাহাবী, শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী ও অন্যান্য প্রাচীন ও সমকালীন মুহাদ্দিস হাদীসটিকে সহীহ বলে নিশ্চিত করেছেন। মালিক, আল-মুআত্তা ১/১৯৯; আলবানী, ইরওয়াউল গালীল ১/১৫৮-১৬১, নং ১২২। উপরের হাদীসগুলোর ভিত্তিতে অপবিত্র - অর্থাৎ গোসল ফরয থাকা অবস্থায় অথবা অযু-বিহীন- অবস্থায় কুরআন মাজীদ স্পর্শ করা নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে চার মাযহাবের ইমামগণ-সহ মুসলিম উম্মাহর প্রায় সকল ফকীহ এ বিষয়ে একমত। আল-মাউসূআতুল ফিকহিয়্যাতুল কুওয়াইতিয়্যা ১৬/২৪০; ২৩/২১৬; ৩৫/৩৩৩; ৩৮/৬। প্রসিদ্ধ হাম্বালী ফকীহ ইবন কুদামা (৬২০ হি) বলেন:
وَلا يَمَسُّ الْمُصْحَفَ إلَّا طَاهِرٌ يَعْنِي طَاهِرًا مِنْ الْحَدَثَيْنِ جَمِيعًا، ... وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ وَالشَّافِعِيِّ وَأَصْحَابِ الرَّأْيِ ، وَلَا نَعْلَمُ مُخَالِفًا لَهُمْ إلَّا دَاوُد فَإِنَّهُ أَبَاحَ مَسَّهُ
উভয় প্রকারের নাপাকি থেকে পবিত্র না হয়ে কুরআন স্পর্শ করা বৈধ নয়। ... আর এটি অন্য তিন ইমাম- মালিক, শাফিয়ী ও হানাফীগণেরও মত। একমাত্র (তৃতীয় হিজরী শতকের প্রসিদ্ধ ফকীহ) দাঊদ যাহিরী (২০১-২৭০ হি) ছাড়া আর কেউ এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। একমাত্র তিনিই অপবিত্র (ওযূ বা গোসল ছাড়া) কুরআন স্পর্শ বৈধ বলেছেন। ইবন কুদামা, আল-মুগনী ১/২৫৬। সাহাবীগণের মধ্যে আলী, ইবন মাসঊদ, সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাস, সায়ীদ ইবন যাইদ, সালমান ফারিসী, আব্দুল্লাহ ইবন উমার (রা.) ও অন্যান্য ফকীহ সাহাবী ওযূ বা গোসল বিহীন অবস্থায় কুরআন স্পর্শ করা নিষেধ করেছেন। কুরতুবী, তাফসীর (জামিউ আহকামিল কুরআন) ১/২২৫-২২৭। ইবন তাইমিয়া (রাহ) বলেন, এদের বিপরীতে কোনো সাহাবী ওযূ বিহীন অবস্থায় কুরআন স্পর্শ করা বৈধ বলেছেন বলে জানা যায় না। ইবন তাইমিয়া, মাজমূউল ফাতাওয়া ২১/২৬৬। উল্লেখ যে, ফকীহগণ শিশু-কিশোর ছাত্র-ছাত্রীর জন্য ওযূ ছাড়া কুরআন স্পর্শ বৈধ বলেছেন। কারণ শিক্ষার জন্য বারবার কুরআন স্পর্শ করা তাদের জন্য প্রয়োজন এবং তারা নাবালেগ হওয়ার কারণে তাদের জন্য শরীয়তের বিধান প্রযোজ্য নয়। এছাড়া কুরআনের তাফসীর, হাদীসগ্রন্থ, ও কুরআন সম্বলিত অন্যান্য সকল গ্রন্থ ওযূ ও গোসলবিহীন অবস্থায় স্পর্শ করা বৈধ বলে তাঁরা একমত। ড. ওয়াহবাহ যুহাইলী, আল-ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু ১/৩৯৫; আল-মাউসূআতুল ফিকহিয়্যাতুল কুআইতিয়্যাহ ১৬/৫৩।
প্রশ্নঃ 141
মায়ের দিকে নেক নজরে তাকালে কবুল হজ্বের সয়াব পাওয়া যাই, কথাটা ঠিক।
23 Dec 2025
এই মর্মে একটি হাদীস শুয়াবুল ইমান গ্রন্থে উল্লেখ আছে। তবে হাদীসটি যয়ীফ অথবা জাল। হাদীসটি হলো,
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَا مِنْ وَلَدٍ بَارٍّ يَنْظُرُ نَظْرَةَ رَحْمَةٍ إِلَّا كَتَبَ اللهُ بِكُلِّ نَظْرَةٍ حَجَّةً مَبْرُورَةً ، قَالُوا: وَإِنْ نَظَرَ كُلَّ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ ؟ قَالَ: نَعَمْ، اللهُ أَكْبَرُ وَأَطْيَبُ
অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যখন কোন সৎ সন্তান রহমতের দৃষ্টিতে তার পিতা-মাতার দিকে তাকায় তখন আল্লাহ তায়ালা তার জন্য একটি কবুল হজ্বের সওয়াব লিখেন। সাহাবীরা বললেন, যদি প্রতিদিন একশ বার তাকায়? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আল্লাহু আকবার। শুয়াবুল ঈমান লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং৭৪৭২। হাদীসটির হুকুম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন, সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, হাদীস নং৬২৭৩। সম্ভবত প্রশ্নেক্ত কথাটি এই হাদীস থেকেই এসেছে। তবে হাদীসটি যেহেতু সহীহ বা হাসান পর্যায়ের নয় তাই দলীল হিসাবে বিবেচিত হবে না। আল্লাহ তায়ালা ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 140
about firka
23 Dec 2025
দেওবন্দি ফিরকা বলে কোন ফিরকা নেই। পাক-ভারত উপমহাদেশে কওমী মাদরাসা হিসেবে পরিচিত মাদারাসাগুলো ভারতের দেওবন্দ মাদরাসার আদর্শে পরিচালিত হয়। তাদের মধ্যে ভাল ও মন্দ থাকতে পারে। তবে সাধারণভাবে ভারতীয় উপমহাদের ইসলামী শিক্ষা ও দাওয়াতের তাদের অবদান সবচেয়ে বেশি।
প্রশ্নঃ 139
আসসালামু আলাইকুম। শায়েখ আমার প্রশ্ন হল নিজের পিতাকে ছাড়া অন্য কাউকে পিতা ডাকা নিষেধ হলে । আপন শ্বশুর কে বাবা অথবা আব্বু বলা যাবে কি? আমার বাবা আমাদের দুই ভাই বোন কে রেথে মারা যায়। তার পর আমার দাদা আমার মাকে আমার ছোট চাচা সঙ্গে বিয়ে দেন। এখন তার সংসারেই আছি। তাকে আমরা বাবা ডাকতে পারবো কি না? একটু ব্যাখা করে বলবেন।
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
শ্বশুর সম্মানসূচক আব্বা বলা যাবে আর চাচাকেও আব্বা বলা যাবে বলা যাবে, কারণ সূরা বাকারার ১৩৩ নং আয়তে চাচাকে ও দাদাকে পিতা হিসাবে বলা হয়েছে। আমরা আশা করছি আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট স্টুডিও কার্যকর করতে পারলে আমরা আপনার প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে প্রচার করর, ইনশা আল্লাহ। আপনারা দুআ করুন।
প্রশ্নঃ 138
assalamu-alaikum.amer prosno holo subahanALLAH, Alhamdulillah, La-illaha illah, ALLAHuakhbar. ai jikir somuher fozilot ki? ai jikir gulo neomito korle ALLAH amader dunia o akhirate ki ki neamot dan korben? jummahr din er kichu amol somondhe bolben ki? ki amol korle gunha thake maff paowa jabe?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রশ্নে বর্ণিত আমলটি সকালে, সন্ধায়, দিনের বেলা, নামাযের পরে বিভিন্ন সময় করা যায়। এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন, ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত সহীহ মাসনুন ওযীফা এবং রাহে বেলায়াত বই দুটি। উক্ত আমলের ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত একটি হাদীস নিম্নরূপ:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ جَاءَ الْفُقَرَاءُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا ذَهَبَ أَهْلُ الدُّثُورِ مِنَ الأَمْوَالِ بِالدَّرَجَاتِ الْعُلاَ وَالنَّعِيمِ الْمُقِيمِ يُصَلُّونَ كَمَا نُصَلِّي وَيَصُومُونَ كَمَا نَصُومُ وَلَهُمْ فَضْلٌ مِنْ أَمْوَالٍ يَحُجُّونَ بِهَا وَيَعْتَمِرُونَ وَيُجَاهِدُونَ وَيَتَصَدَّقُونَ قَالَ أَلاَ أُحَدِّثُكُمْ بِأَمْرٍ إِنْ أَخَذْتُمْ بِهِ أَدْرَكْتُمْ مَنْ سَبَقَكُمْ وَلَمْ يُدْرِكْكُمْ أَحَدٌ بَعْدَكُمْ وَكُنْتُمْ خَيْرَ مَنْ أَنْتُمْ بَيْنَ ظَهْرَانَيْهِ إِلاَّ مَنْ عَمِلَ مِثْلَهُ تُسَبِّحُونَ وَتَحْمَدُونَ وَتُكَبِّرُونَ خَلْفَ كُلِّ صَلاَةٍ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ فَاخْتَلَفْنَا بَيْنَنَا فَقَالَ بَعْضُنَا نُسَبِّحُ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ وَنَحْمَدُ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ وَنُكَبِّرُ أَرْبَعًا وَثَلاَثِينَ فَرَجَعْتُ إِلَيْهِ فَقَالَ تَقُولُ سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ حَتَّى يَكُونَ مِنْهُنَّ كُلِّهِنَّ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ
অর্থ: আবু হুরায়রা রা.থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, কিছু দরিদ্র লোক নবী সা. এর কাছে এসে বললেন, ধনীরা তাদের সম্পদ দান করে আমাদের চেয়ে মর্যাদার দিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তারা আমাদের মত সালাত আদায় করে, রোজা রাখে। কিন্তু তারা দান-সদাকা করে, জিাহাদ করে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, আমি কি তোমাদের এমন একটি আমলের বিষয়ে অবহিত করব না যা করলে তোমরা তোমাদের অগ্রবর্তীদের সমান হয়ে যাবে আর কেউ তোমাদের পরে তোমাদের মত মর্যাদা পাবে না আর তোমরা হবে সময়ের সবচেয়ে উত্তম মানুষ তবে যারা অনুরুপ আমল করবে তারা এমন মর্যাদা পাবে? তোমরা প্রত্যেক সালাতের পরে তেত্রিশ বার করে তাসবীহ পড়বে, হামদ পেশ করবে এবং আল্লাহর বড়ত্ব পেশ করবে। এরপর এরপর আমরা মতভেদে লিপ্ত হলাম। কেউ বলল, তাসবীহ ও হামদ তেত্রিশ বার আর তাকবীর চৌত্রিশ বার । এরপর আবার আমরা তাঁর কাছে গেলাম। তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ, আলহামদুল্লিাহ, আল্লাহু আকবার প্রত্যেকটিই তেত্রিশবার। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৮৪৩। অন্য সহীহ হাদীসে আল্লাহু আকবার চৌত্রিশ বারের কথাও বলা হয়েছে। জুমুয়ার দিনের ফজিলত ও আমল নিয়ে অনেক হাদীস বর্ণিত আছে। সহীহ হাদীসে এই দিনে রাসূলুল্লাহ সা. বেশী বেশী করে দরুদ পাঠ করার কথা বলেছেন। সূরা কাহফ পাঠ করার কথাও সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে। এছাড়া জুমুয়ার সালাতে যাওয়ার জন্য অনেক আদব শিক্ষা দিয়েছেন রাসূলুল্লাহ সা.। এগুলির মধ্যে রয়েছে জুুমুয়ার দিনে গোসল করা, সুগন্ধি মাখা এবং সবচেয়ে ভাল পোশাক পরিধান করা, হেঁটে যাওয়া, সকাল সকাল মসজিদে উপস্থিত হওয়া, মসজিদে প্রবেশ করে কিছু সুন্নাত-নফল সালাত আদায়া করা, মসজিদের মধ্যে আগেই উপস্থিত কোন মুসল্লিকে কষ্ট না দেওয়া, কারো ঘাঁড়ের উপর দিয়ে না যাওয়া, দুই জনের মাঝে ঠেলে বসে না পড়া, ইমামের নিকটবর্তী হয়ে বসা, নীরবে মনোযোগের সাথে ইমামের বক্তৃতা শ্রবণ করা ইত্যাদী। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন, ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত, খুতবাতুল ইসলাম পৃষ্ঠ ১৬৭।
প্রশ্নঃ 137
Imam abu hanifa ki abiin chilio na tabe -- Ṫabiin chilo?
23 Dec 2025
ইমাম আবু হানীফা রহ. ৮০ হিজরীতে জন্ম গ্রহণ করেন। সাহাবীদের কেউ কেউ ১১০ হিজরী সাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। কাজেই ইমাম আবু হানীফা রহ. জন্য কোন কোন সাহবীর সাথে সাক্ষাৎ করা বা শিক্ষা গ্রহণ করা খুবই সম্ভব ছিল। বাস্তবে কতজন সাহাবীর সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল সে বিষয়ে বিতর্ক আছে। কোন কোন জীবনীকারগণের বর্ণনায় ৭ জন সাহাবীর সাথে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল বলে উল্লেখ আছে। বাস্তবে প্রায় সাকল জীবনীকার, রিজালবিদ ও ঐতিহাসিক একমত যে, সাহাবী আনাস ইবনে মালিক রা.এর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল। সুতরাং তিন তাবেয়ী ছিলেন। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর অনূদিত ও ব্যাখ্যাকৃত আল-ফিকহুল আকবার বইটির প্রথম পরিচ্ছেদ।
প্রশ্নঃ 136
১. কুরবানি ও আকিকা একই পশু দিয়ে হবে কিনা? ২. কুরবানির দিন এটি আদায় করা য়াবে কিনা? ৩.একটি পশু এর আনেক গুলো ভাগ থাকে,(হতে পারে ৩,৫,৭,টি) ৪. কুরবানির আংশিদারের ক্ষেত্রে কিভাবে এটি নির্বাচন করা যাবে?
23 Dec 2025
একই পশু দ্বারা কুরবানী ও আক্বীকা এবং কুরবানীর দিনে আক্বীকা রাসূলুল্লাহ সা. কিংবা সাহাবীদের থেকে পাওয়া যায় না।আক্বীকা সন্তান জন্ম হওয়ার আনন্দ আর কুরবানী ভিন্ন আনন্দ, দুটিকে এক করে ফেলা উচিৎ নয়। আমাদের উচিৎ সুন্নাত অনুযায়ী আলাদা দিনে আলাদা পশু দ্বারা আক্বীকা করা । তবে ফকিহগণ বলেছেন যদি কেউ কুরবানীর দিনে আক্বীকা দেয় কিংবা একই পশু দ্বারা কুরবানী ও আক্বীকা দেয় তাহলে জায়েয হবে। প্রশ্নের বাকী অংশ স্পপষ্ট নয়। নতুন করে স্পষ্ট করে প্রশ্ন করুন।
প্রশ্নঃ 135
আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হচ্ছে মুসাফাহ দুই হাতে করতে হয় না এক হাতে?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
বিভিন্ন হাদীস থেকে মুসাফাহা বা হাত মেলানোর আদব ও সুন্নাত জানা যায়। যেমন, মুসাফাহার সময় আল্লাহর প্রশংসা করা, ইসতিগফার করা, দুআ করা ইত্যাদী। মুসাফাহা অবশ্যই ডান হাতে হতে হবে। ওযর ব অক্ষমতা ছাড়া বাম হাত মেলানো ইসলামী আদবের ঘোর পরিপন্থি। একে অপরের শুধু ডান হাত ধরবেন, না অপরের ডান হাতকে নিজের দুহাতের মধ্যে রাখবেন তা নিয়ে আলিমগণ মতভেদ করেছেন। হাদীসের আলোকে বুঝা যায় যে, এক হাতে বা দুহাতে যে কোন ভাবে ডান হাত মেলালেই মুসাফাহা হবে। হাদীস শরীফে বারংবার হাত মেলানোর কথা এবং ডান হাত মেলানোর কথা বলা হয়েছে। এতে বুঝা যায় যে, শুধু ডান হাত মেলালেই হবে। তবে ইমাম বুখারী উল্লেখ করেছেন যে, প্রসিদ্ধ দুজন তাবি-তাবিয়ী হাম্মাদ ইবনু যায়িদ (মৃত্যু ১৭৯হি.) এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (১৮১হি.) দু হাতে মুসাফাহ করেছেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত খুতবাতুল ইসলাম বইটির ৪২৬ পৃষ্ঠা।
প্রশ্নঃ 134
আমার সব গুলো প্রশ্নর দিলে খুশি হব সে বলে যদি চাকুরি হয় তাহলে অনেক যোগ্য মানুষকে চাকুরি দেয়ার চেষ্টা করবে ইনশাআল্লাহ বিনা ঘুষ নিয়ে এখানে শরীয়া কি বলে
23 Dec 2025
আপনার প্রশ্ন স্পষ্ট নয়। তবে মনে হচ্ছে আপনি আপনার নেক নিয়্যাতের বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। এটা আপনার ভাল নিয়্যাত যে, আপনি চাকরী পেলে অন্যদেরকে বিনা ঘুষে চাকরী দেবেন।
প্রশ্নঃ 133
Shaykh, Assalamualikum wa rohmatullahi wa baratuhu. amar prosno ta holo- Allahr kace dua korar pore to amader biswas rakhte hobe je amader dua kobul hobei ingsha Allah. amra kontar bepare biswas rakhbo? 1. amra Allahr kace ja cheyeci Allah thik oitai deben ei biswas korbo, or 2. Allah je 3 vabe dua koubl koren sei 3 rokomer 1 rokom vabe dua kobul korben eita biswas korbo? Allah to sokol duai 3 rokomer 1 rokom vabe kobul koren.
23 Dec 2025
আল্লাহ তায়ালা আমাদের দোয়া কবুল করেন। সেটা সঙ্গে সঙ্গে হতে পারে, পরেও হতে পারে। কিংবা যা আমরা চাই তার চেয়ে উত্তম কোন কিছু দিতে পারেন। বিস্তারিত জানতে অনুগ্রহ পূর্বক রাহে বেলায়াত পুস্তকের দুআ অধ্যায়টি, ষষ্ঠ সংস্করণ ১০৫-১৭৩ পৃষ্ঠা পড়ন। এছাড়া আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের স্টুডিওটি কার্যকর হলে আমরা আপনার প্রশ্ন ও এ জাতীয় প্রশ্নগুলোর বিস্তারিত উত্তর ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে প্রচার করব, ইনশা আল্লাহ।
প্রশ্নঃ 132
আসসালামু আলাইকুম। আমার দীঘ দিন ধরে চাকুরি খুজতে কিন্তু পাচ্ছে না। আর এ কারনে সে বিয়েও করছে না তাকে বাসা থেকে অনেকবার বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে কিন্তু সে বিয়ে করে না বলে আগে চাকুরি পেয়ে নি তারপর বিয়ে কিন্তু তার কিছু মেয়ে বন্ধু আছে তাকে যিনার কথা বললে বলে বিয়ের সময় সব বন্ধ করে দিবে এখন আমার প্রশ্ন হল আমার ভাইকে চকুরির ব্যপারে কাউকে ঘুষ দিয়া কি ঠিক হবে কেননা সে তো যিনা ছাড়ছে না আর তার এই চকুরির ব্যাপারে কোনো রকম সাহায্য করা কি ঠিক হবে আর যদি সে ওই ঘুষের টাকা টা চাকুরির পর বিনা সওয়াবের আশায় দান করে দেয় তাহলে কি হবে?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
যিনার কাছে যেতেও কুরআনে নিষেধ করা হয়েছে। সুতরাং কোন ভাবেই যিনা বা ব্যাভিচারে লিপ্ত হওয়া যাবে না। ঘুষ নিয়ে চাকরীর বিষয়ে আমাদের দেয়া অন্য প্রশ্নের উত্তর দেখুন। অবৈধ টাকা সওয়াবের আশা না করে গরীবদেরকে দিয়ে দিতে হবে।
প্রশ্নঃ 131
AMAR JUHORER WAQT A JODI NAMAJE KHUBI AGROHO BERE JAI TO ASORER SALATE THIK TAR BIPORIT R AIM TAHAJJOT SALAT NIYOMITO ADAY KORTE CHAI KINTU KONO VABEI PARCHINA,HE KONO SIJDATE AMAR MONER THEKE ONEK KICHUR CHAOAR ACHE SETA ARBITE HOITO AMI JANINA AMI KIVABE CHABO,JEMON AMAR SONSARE KONO SOMOSSA ETA ARBITE AMAR JANA NEI AMI SAJDAI KIVABABE BOLBO JANALE KHUB UPOKRITO HOBO INSALLAH
23 Dec 2025
আপনি মনকে ভাল কাজের উপর দৃঢ় করুন। আর বেশী বেশী দোয়া করতে থাকুন। ইনশাআল্লাহ, আপনি নিয়মিত নামায আদায় করতে পারবেন। তাহাজ্জুদ সহ অন্যান্য নফল আদায় করাও আপনার জন্য তখন সহজ হয়ে যাবে। সিজদায় কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত দোয়া কিংবা কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত দোয়ার অর্থের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যে কোন দোয়া পাঠ করা যায়। আরবী ছাড়া অন্য ভাষা তথা মাতৃভাষায় দোয়া করার ব্যাপারে সামান্য মতভেদ আছে।কোন কোন হানাফী ফিকহার কিতাবে মাকরুহ বলা হয়েছে। কেউ কেউ মাকরুহ তানযীহ বলেছেন আবার কেউ কেউ মাকরুহ তাহরীমা বলেছেন। তবে অধিকাংশ আলেম জায়েজ বলেছেন। এক্ষেত্রে আমাদের উচিৎ হলো কুরআন সুন্নাতে বর্ণিত কোন দোয়া পাঠ করা। আর যদি কুরআন-সুন্নাতে বর্ণিত দোয়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কোন দোয়া সিজদাতে মাতৃভাষায় পাঠ করে তবে আশা করয যায় না-জায়েজ হবে না, জায়েজ হবে। আল্লাহ ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 130
Sir, sinha name ta kmn? Ar ortho janta chai. Amr boner jna ai name rakha ki jukti songoto hba?
23 Dec 2025
আরবীতে সিনহা শব্দটি সানাহ শব্দমূল থেকে এসেছে। যার অর্থ পচা, বাসী নষ্ট ইত্যাদী। সুতরাং এই নাম রাখা যক্তি সংগত হবে না।
প্রশ্নঃ 129
stock business, election, jakat
23 Dec 2025
১। স্টক বিজনেস মূলত হারাম নয়। তবে যদি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যের দাম বাড়ানো উদ্দেশ্য হয় তাহেল হারাম হবে। ২। ভোট পদ্ধতি হারাম এটা বলা উচিৎ নয়। কোনো কিছুকে হারাম বলতে সুস্পষ্ট দলিল প্রয়োজন। ভোট দেওয়াই হারাম এটি বলা সঠিক নয়। ভোট অর্থ মতামত প্রকাশ বা সমর্থন। ইসলাম শূরা বা পরামর্শ ভিত্তিক ব্যবস্থার নির্দেশনা দেয়। এজন্য ইসলামে মতপ্রকাশ, পরামর্শ বা সমর্থনের হাজারো নমুনা রয়েছে। শাসক নির্বাচনেও তারা জনগনের মতামত গ্রহণ করেছেন। উমার (রা) ওফাতের পূর্বে আশারায়ে মুবাশ্শারার ৬ জন সাহাবীকে কমিটি করে দেন। তাদের মধ্য থেকে আব্দুর রাহমান ইবন আওফ (রা) বলেন, আমি শাসক হব না। আপনারা চাইলে আমাকে দায়িত্ব দেন, আমি জনগণের সাথে পরামর্শ করে আপনাদের মধ্য থেকে কাউকে খলিফা ঘোষণা করব। তিন দিন যাবৎ জনগণের সাথে পরামর্শের পরে তিনি উসমান (রা)- কে খলিফা ঘোষণা করেন। (সহীহ বুখারী, কিতাবুল আহকাম, বাব কাইফা উবাইউন নাসুল ইমাম)। ব্যক্তিগতভাবে মত বা সমর্থন প্রকাশের ক্ষেত্রে অনেক সময় অসুবিধা থাকে। এজন্য পরবর্তী সময়ে গোপন ব্যালটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাজেই গোপন ব্যালটে বা প্রকাশ্যে শাসক বা প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট প্রদানকে সরাসরি হারাম বলা সঠিক নয়। ভোট ব্যবস্থার শরীআহ বিরোর্ধী বিষয়গুলোকে নির্ধারিত দলিলের মাধ্যমে হারাম বলা যেতে পারে। এমনকি কোনো বৈধ ব্যবস্থাকে শুধু অপকারিতা বা ক্ষতিকর দিকগুলোর অজুহাতে সুস্পষ্ট দলিল ছাড়া হারাম বলা সঠিক নয়। ৩। আপনি যদি নিশ্চিত হন যে, গ্রহীতা যাকাত গ্রহণের মত অসচ্ছল তবে তাকে যাকাত দেওয়ার সময় জানানো জরুরী নয় যে এটা যাকাতের সম্পদ বা টাকা। যাকাত দেয়ার সময় নিয়্যাত করবেন যে আমি এটা যাকাত হিসাবে দিচ্ছি।
প্রশ্নঃ 128
Where is Allah and he has any shape.can he come down in the earth.please tell me details with Quran sun ah.
23 Dec 2025
প্রথম প্রশ্নের উত্তর জানতে এ সম্পর্কিত অন্য প্রশ্নের উত্তর দেখুন। দ্বিতীয় প্রশ্নের আকার বলতে যদি দেহ মনে করা হয় তবে আল্লাহ তালার কোন আকার নেই। তবে কুরআনে আল্লাহ তায়ালার হাত, চেহারা, চোখ ইত্যাদীর কথা উল্লেখ আছে। তবে এগুলোর স্বরুপ আমাদের কাছে অজ্ঞাত। তা শুধু আল্লাহ তায়ালাই জানেন। তাঁর কোন কিছুই সৃষ্ট কোন কিছুর সাথে সাদৃশ্য রাখে না। মহান আল্লাহর অন্য একটি বিশেষণ নুযূল বা অবতরণ। এ অর্থের একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেন:
يَنْزِلُ رَبُّنَا كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ يَقُولُ مَنْ يَدْعُونِى فَأَسْتَجِيبَ لَهُ مَنْ يَسْأَلُنِى فَأُعْطِيَهُ مَنْ يَسْتَغْفِرُنِى فَأَغْفِرَ لَهُ
প্রতি রাতে যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে তখন আমাদের মহিমান্বিত মহা-কল্যাণময় প্রতিপালক নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করেন। তিনি বলেন: আমাকে ডাকার কেউ আছ কি? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। আমার কাছে চাওয়ার কেউ আছ কি? আমি তাকে প্রদান করব। আমার কাছে ক্ষমা চাওয়ার কেউ আছ কি? আমি তাকে ক্ষমা করব। বুখারী, আস-সহীহ ১/৩৮৪; মুসলিম, আস-সহীহ ১/৫২২ (মুসাফিরীন, তারগীব ফিদদুআ... আখিরিল্লাইল) আহলুস সুন্নাতের ইমামগণ বলেন: এটি মহান আল্লাহর একটি বিশেষণ। আমরা সরল অর্থে বিশ্বাস করি যে, মহান আল্লাহ অতুলনীয়, তিনি আরশের ঊর্ধ্বে অধিষ্ঠান গ্রহণ করেন এবং তিনি যখন এবং যেভাবে ইচ্ছা অবতরণ করেন। তাঁর অবতরণ কোনোভাবেই কোনো সৃষ্টির অবতরণের মত নয়। তাঁর অবতরণের স্বরূপ ও প্রকৃতি কি তা আমরা জানি না এবং জানার চেষ্টাও করি না। ইমাম আবূ হানীফা (রা) কে মহান আল্লাহর অবতরণ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি উত্তরে বলেন: ينزل بلا كيف মহান আল্লাহ অবতরণ করেন, কোনোরূপ পদ্ধতি বা স্বরূপ ব্যতিরেকে। বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত ২/৩৮০; মোল্লা আলী কারী, শারহুল ফিকহিল আকবার, পৃ ৬৯।
প্রশ্নঃ 125
আসসালামু আলাইকুম। শায়েখ আমি সালাফি আলেমদের কাছ থেলে জেনেছি আল্লাহ আরশে বিরাজমান আর তাঁর ইলম সর্বত্র বিরাজমান কিন্তু দেওবন্দী আলেমরা বলে আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান? এ ব্যাপারে আপনার মতামত জানতে চাই?
22 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান এই কথাটি সঠিক নয়। তেমনি তিনি আরশে বিরাজমান এভাবে বলাও ঠিক না। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ
অর্থ: নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আকাশ সমূহ এবং পৃথিবীকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। এরপর তিনি আরশে ইসতিওয়া করেছে। সূরা, আশুরা আয়াত,৫৪। আরশের উপর ইসতিওয়া আল্লাহ তায়ালার একটি বিশেষণ। তিনি সর্বত্র বিরাজমান নন। কুরআনে সাত স্থানে বলা হয়েছে যে, মহান আল্লাহ আরশের উপর ইসতিওয়া করেছেন। আরবীতে কোনো কিছুর উপর ইসতিওয়া অর্থ তার ঊর্ধ্বে অবস্থান । সালাতের নিষিদ্ধ সময় বর্ণনা করে রাসূলুল্লাহ (সা.) একজন প্রশ্নকারীকে বলেন:
حَتَّى تَسْتَوِىَ الشَّمْسُ عَلَى رَأْسِكَ كَالرُّمْحِ ، فَإِذَا اسْتَوَتْ عَلَى رَأْسِكَ كَالرُّمْحِ فَدَعِ الصَّلاَةَ
(সালাত বৈধ থাকবে) যতক্ষণ না সূর্য তোমার মাথার উপরে তীরের মত ইসতিওয়া (ঊর্ধ্বে অবস্থান) করবে। যখন সূর্য তোমার মাথার উপর তীরের মত ইসতিওয়া (ঊর্ধ্বে অবস্থান) করবে তখন সালাত পরিত্যাগ করবে। বাইহাকী, আস-সুনানুল কুবরা ২/৪৫৫; ইবন মাজাহ, আস-সুনান ১/৩৯৭। হাদীসটি সহীহ। মহান আল্লাহর আরশের ঊর্ধ্বে অবস্থান বা আরশের ঊর্ধ্বে থাকার বিশেষণটি কুরআন ও হাদীস দ্বারা দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণিত। তবে এর প্রকৃতি ও স্বরূপ অজ্ঞাত। অজ্ঞাতকে অজ্ঞাত রেখে কুরআনের অন্যান্য বক্তব্যের ন্যায় এ বক্তব্যও স্বীকার ও বিশ্বাস করা মুমিনের জন্য জরুরী। দ্বিতীয় হিজরী শতক থেকেই তাবিয়ী ও তাবি-তাবিয়ী ইমামগণ এবং পরবর্তী মুহাদ্দিস ও ফকীহগণ বলেন: মহান আল্লাহ আরশের উপর অধিষ্ঠান গ্রহণ করেন। তাঁর এ অধিষ্ঠান বা অবস্থানের স্বরূপ আমরা জানি না এবং জানতে চেষ্টাও করি না। বরং বিশ্বাস করি যে, তাঁর এ অধিষ্ঠান কোনোভাবেই কোনো সৃষ্টির বিশেষণ বা কর্মের মত নয়। তাঁর অতুলনীয়ত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থান তিনি গ্রহণ করেন। ইমাম আবূ হানীফা রহিমাহুল্লাহ তাঁর ওসীয়াত গ্রন্থে লিখেছেন:
نُقِرُّ بِأَنَّ اللهَ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَكُوْنَ لَهُ حَاجَةٌ إِلَيْهِ وَاسْتِقْرَارٌ عَلَيْهِ، وَهُوَ الْحَافِظُ لِلْعَرْشِ وَغَيْرِ الْعَرْشِ، فَلَوْ كَانَ مُحْتَاجاً إِلَيْهِ لَمَا قَدِرَ عَلَى إِيْجَادِ الْعَالَمِ وَتَدْبِيْرِهِ كَالْمَخْلُوْقِين، وَلَوْ صَارَ مُحْتَاجاً إِلَى الْجُلُوْسِ وَالْقَرَارِ فَقَبْلَ خَلْقِ الْعَرْشِ أَيْنَ كَانَ اللهُ تَعَالَى؟ فَهُوَ مُنَزَّهٌ عَنْ ذَلِكَ عُلُوًّا كَبِيْراً
আমরা স্বীকার ও বিশ্বাস করি যে, মহান আল্লাহ আরশের উপর অধিষ্ঠান গ্রহণ করেন, আরশের প্রতি তাঁর কোনোরূপ প্রয়োজন ব্যতিরেকে এবং আরশের উপরে স্থিরতা-উপবেশন ব্যতিরেকে। তিনি আরশ ও অন্য সবকিছুর সংরক্ষক। তিনি যদি আরশের মুখাপেক্ষী হতেন তাহলে বিশ্ব সৃষ্টি করতে ও পরিচালনা করতে পারতেন না, বরং তিনি মাখলূকের মত পরমুখাপেক্ষী হতেন। আর যদি তাঁর আরশের উপরে উপবেশন করার প্রয়োজনীয়তা থাকে তবে আরশ সৃষ্টির পূর্বে তিনি কোথায় ছিলেন? কাজেই আল্লাহ এ সকল বিষয় থেকে পবিত্র ও অনেক অনেক ঊর্ধ্বে। ইমাম আবূ হানীফা, আল-ওয়াসিয়্যাহ, পৃ. ৭৭। ইমাম আযমের এ বক্তব্য উল্লেখ করে মোল্লা আলী কারী হানাফী বলেন: এ বিষয়ে ইমাম মালিক (রাহ) খুবই ভাল কথা বলেছেন। তাঁকে আল্লাহর আরশের উপরে ইসিতিওয়া বা অধিষ্ঠান বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন:
اَلاِسْتِوَاءُ مَعْلُوْمٌ وَالْكَيْفُ مَجْهُوْلٌ وَالسُّؤَالُ عَنْهُ بِدْعَةٌ وَالإِيْمَانُ بِهِ وَاجِبٌ
ইসতিওয়া বা অধিষ্ঠান পরিজ্ঞাত, এর পদ্ধতি বা স্বরূপ অজ্ঞাত, এ বিষয়ে প্রশ্ন করা বিদআত এবং এ বিষয় বিশ্বাস করা জরুরী। মোল্লা আলী কারী, শারহুল ফিকহিল আকবার, পৃ. ৭০। আল্লাহর সত্তা যেমন সৃষ্টির মত নয়, তেমনি তাঁর বিশেষণাবলিও সৃষ্টির মত নয়। সকল মানবীয় কল্পনার ঊর্ধ্বে তাঁর সত্তা ও বিশেষণ। এ প্রসঙ্গে ইমাম মালিক বলেন:
الله في السماء وعلمه في كل مكان لا يخلو من علمه مكان
আল্লাহ আসমানে (ঊর্ধ্বে) এবং তাঁর জ্ঞান সকল স্থানে। কোনো স্থানই মহান আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে নয়। আব্দুল্লাহ ইবন আহমদ, আস-সুন্নাহ ১/১০৭, ১৭৪, ২৮০; আর্জুরী, আশ-শরীয়াহ ২/২২৪-২২৫; ইবন আব্দুল র্বার, আত-তামহীদ ৭/১৩৮। এপ্রসঙ্গে পঞ্চম হিজরী শতকের প্রসিদ্ধ মালিকী ফকীহ ও মুহাদ্দিস ইবন আব্দুল র্বার ইউসুফ ইবন আব্দুল্লাহ (৪৬৩ হি) বলেন:
علماء الصحابة والتابعين الذين حملت عنهم التآويل في القرآن قالوا في تأويل هذه الآية هو على العرش وعلمه في كل مكان وما خالفهم في ذلك أحد يحتج بقوله
সাহাবী-তাবিয়ী আলিমগণ, যাদের থেকে কুরআনের ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হয়েছে, তারা এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, তিনি আরশের উপরে এবং তাঁর জ্ঞান সর্বত্র। দলিল হিসেবে গ্রহণ করার মত একজন আলিমও তাঁদের এ মতের বিরোধিতা করেন নি। ইবন আব্দুল র্বার, আত-তামহীদ ৭/১৩৮-১৩৯। ইমামদ্বয়ের বক্তব্য থেকে সুস্পষ্ট যে, ইসতিওয়া শব্দটিকে তাঁরা সাধারণ আরবী অর্থেই গ্রহণ করেছেন। মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে এ শব্দটির অর্থ অস্পষ্ট, দ্ব্যর্থবোধক, মুতাশাবিহ, রূপক বা অজ্ঞাত বলে দাবি করেন নি। বরং তাঁরা বলেছেন যে, এ শব্দটির অর্থ জ্ঞাত বিষয়, এর মধ্যে কোনো অস্পষ্টতা, রূপকতা বা দ্ব্যর্থতা নেই। অর্থাৎ আরবী ভাষায় অন্যন্য সকল ক্ষেত্রে ইসতিওয়া আলা বলতে যা বুঝানো হয় এখানেও সেই অর্থই গ্রহণ করতে হবে, অর্থাৎ ঊর্ধ্বত্ব। এখানে অর্থটি রূপক বা অজ্ঞাত বলে দাবি করার সুযোগ নেই। তবে ইসতিওয়ার স্বরূপ বা ব্যাখ্যা অজ্ঞাত (মুতাশাবিহ)। এ অজ্ঞাত বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়ে জ্ঞাত বিষয়কে বিশ্বাস করাই মুমিনের দায়িত্ব। ইসতিওয়া ও অন্যান্য বিশেষণ বিষয়ে ইমাম আহমদ ইবন হাম্বালের মূলনীতি ও আকীদা ব্যাখ্যা করে আবূ বাকর খাল্লাল আহমদ ইবন মুহাম্মাদ (৩১১ হি) বলেন:
وكان يقول إن الله عز وجل مستو على العرش المجيد … وكان يقول في معنى الاستواء هو العلو والارتفاع ولم يزل الله تعالى عاليا رفيعا قبل أن يخلق عرشه فهو فوق كل شيء والعالي على كل شيء وإنما خص الله العرش لمعنى فيه مخالف لسائر الأشياء والعرش أفضل الأشياء وأرفعها فامتدح الله نفسه بأنه على العرش أستوى أي عليه علا ولا يجوز أن يقال أستوى بمماسة ولا بملاقاة تعالى الله عن ذلك علوا كبيرا والله تعالى لم يلحقه تغير ولا تبدل ولا تلحقه الحدود قبل خلق العرش ولا بعد خلق العرش. وكان ينكر على من يقول إن الله في كل مكان بذاته لأن الأمكنة كلها محدودة وحكي عن عبد الرحمن بن مهدي عن مالك أن الله تعالى مستو على عرشه المجيد كما أخبر وأن علمه في كل مكان ولا يخلوا شيء من علمه وعظم عليه الكلام في هذا واستبشعه
ইমাম আহমদ বলতেন, মহান আল্লাহ আরশের উপর অধিষ্ঠিত। … অধিষ্ঠিত হওয়ার অর্থ তিনি এর ঊর্ধ্বে। মহান আল্লাহ আরশ সৃষ্টির পূর্ব থেকেই সবকিছুর ঊর্ধ্বে। তিনি সকল কিছুর ঊর্ধ্বে এবং সকল কিছুর উপরে। এখানে আরশকে উল্লেখ করার কারণ আরশের মধ্যে এমন বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অন্য কোনো কিছুর মধ্যে নেই। তা হলো আরশ সবচেয়ে মর্যাদাময় সৃষ্টি এবং সব কিছুর ঊর্ধ্বে। মহান আল্লাহ নিজের প্রশংসা করে বলেছেন যে, তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠিত, অর্থাৎ তিনি আরশের ঊর্ধ্বে। আরশের উপরে অধিষ্ঠানের অর্থ আরশ স্পর্শ করে অবস্থান করা নয়। মহান আল্লাহ এরূপ ধারণার অনেক ঊর্ধ্বে। আরশ সৃষ্টির পূর্বে এবং আরশ সৃষ্টির পরে মহান আল্লাহ একই অবস্থায় রয়েছেন; কোনোরূপ পরিবর্তন তাঁকে স্পর্শ করে নি, কোনো গণ্ডি বা সীমা তাঁকে সীমায়িত করতে পারে না। যারা বলেন যে, মহান আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান তাদের কথা তিনি অস্বীকার ও প্রতিবাদ করতেন। কারণ সকল স্থানই গণ্ডি বা সীমায় আবদ্ধ। তিনি আব্দুর রাহমান ইবন মাহদী থেকে, তিনি ইমাম মালিক থেকে উদ্ধৃত করতেন: মহান আল্লাহ মহা-পবিত্র আরশের ঊর্ধ্বে সমাসীন এবং তাঁর জ্ঞান-ইলম সর্বত্র বিদ্যমান। কোনো স্থানই তাঁর জ্ঞানের আওতার বাইরে নয়। আল্লাহর সর্বত্র বিরাজমান কথাটি ইমাম আহমদ ঘৃণ্য বলে গণ্য করতেন। আহমদ ইবনু হাম্বাল, আল-আকীদাহ, আবূ বাকর খাল্লালের বর্ণনা, পৃষ্ঠা ১০২-১১১। শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলবী বলেন:
وهو فوق العرش كما وصف نفسه، لكن لا بمعنى التحيز ولا الجهة، بل لا يعلم كنه هذا التفوق والاستواء إلا هو…
তিনি আরশের ঊর্ধ্বে, যেভাবে তিনি নিজের বিষয়ে বলেছেন। এর অর্থ কোনো দিক বা স্থানে সীমাবদ্ধ হওয়া নয়। বরং এ ঊর্ধ্বত্বের এবং অধিষ্ঠানের প্রকৃতি তিনি ছাড়া কেউ জানে না…। শাহ ওয়ালি উল্লাহ, আল-আকীদাতুল হাসানাহ, পৃষ্ঠা ৩। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স প্রকাশিত আল-ফিকহুল আকবার পৃষ্ঠা ২৫৮।
প্রশ্নঃ 124
আস-সালামু আলাইকুম, স্যার হস্তমৈথুন করার ফলে রোজা ভঙ্গ হয়, এই রোজার জন্য কাজা বা এর অন্যান্য বিধান কি?
22 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহতমাতুল্লাহ।
প্রথমত: এ বিষয়টি যিনি বলেছেন তিনি সম্ভবত কুরআন অধ্যয়ন করেন নি। কুরআনে হুরের বিষয়টির সাথে যৌনতা, দৈহিক সম্পর্ক ইত্যাদির সামান্যতম আবেশ নেই। বারংবার বলা হয়েছে যে, তাদেরকে জোড়া বানিয়ে দেওয়া হবে হুরের সাথে। আরবী ও অন্যান্য লিঙ্গ সচেতন ভাষায় সাধারণ বিধিবিধানে পুংলিঙ্গ ব্যবহার করেই বিধিবিধান প্রদান করা হয়। এরপরও হুর শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ নয়। নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই শব্দটি ব্যবহৃত হয়। আর মানবীয় প্রকৃতির সাথে একটি সুসমঞ্জস। মানুষ প্রকৃতিগতভাবে আত্মা ও মনের শান্তির জন্য জোড়া চায়। জান্নাতে মহান আল্লাহ তাদেরকে জোড়া প্রদান করবেন; যেন তারা মানবীয় প্রকৃতির প্রশান্তি ও পরিতৃপ্তির পূর্ণতা লাভ করতে পারে। দ্বিতীয়ত: এ বিষয়টি যিনি বলেছেন তিনি সম্ভবত অন্য কোনো ধর্মগ্রন্থও অধ্যয়ন করেন নি। বাইবেল, বেদ, রামায়ন, মহাভারত ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থে অশ্লীলতার ছড়াছড়ি পর্নোগ্রাফিকেও হার মানায়। পিতা-কন্যার ব্যভিচার, ভাই-বোনের ভ্যবিচার, শ্বশুর-পুত্রবধুর ব্যভিচার, পিতার স্ত্রীদের প্রকাশ্যে ধর্ষণ, উলঙ্গ হয়ে নাচানাচি, মাতলামি ইত্যাদির বর্ণনায় পবিত্র বাইবেল পরিপূর্ণ। সাধারণ বিষয়ের বর্ণনাতেও অশ্লীল উপমা ও রূপক ব্যবহার করা হয়েছে। পক্ষান্তরে কুরআনে স্বাভাবিক যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ক বর্ণনাও সকল অশ্লীতার ছোয়া থেকে মুক্ত। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, ইহূদী, খৃস্টান, হিন্দু বা অন্য ধর্মের কোনো কোনো অনুসারী নিজেদের ধর্মগ্রন্থের অপবিত্রতম পর্নোগ্রাফীর চেয়েও অশ্লীল গল্পগুলোকে ধর্মগ্রন্থের ভাবগাম্ভির্যের সাথে সাংঘর্ষিক মনে না করলেও কুরআনের মধ্যে বিদ্যমান অশ্লীলতা বা দৈহিকতার সামান্যতম ছোয়ামুক্ত হুর বিষয়ক বক্তব্যগুলোকে ধর্মগ্রন্থের ভাবগাম্ভীর্যের সাথে অসামাঞ্জস্য বলে দাবি করেন।
প্রশ্নঃ 109
আমাদের এলাকায় চরমোনাই পীরের অনেক অনুসারী। এবিদআতী অনুসারীরা ইদানিং মহিলাদের দিয়ে দল গঠন করে বাড়ী বাড়ী যেয়ে চরমোনাই পীরের লেখা বই দিয়ে অসচেতন-অর্ধ শিক্ষিত মহিলাদের ধর্ম পালনের জন্য তালিম দিচ্ছে। এঘটনা বর্ননা দিয়েছেন আমার মা। আমার মাসহ আরো কিছু আলিম-ফাজিল পাশ মেয়েদের নিয়ে দাওয়াতী কর্যক্রম চালাতে চায়। এ তালিমী বা দাওয়াতী কর্যক্রম চালাতে তারা কোন কিতাব-এর অনুসরন করবে? আমাকে কোরআন ও সহি হাদিসের আলোকে এমন একটি #কিতাব#-এর নাম জানান, যে #কিতাব# থেকে তারা অতি সহজে মা-বোনদের বুঝাতে পারে।
22 Dec 2025
কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক সহীহ দাওয়াত দেয়ার জন্য অন্য কোন দল বা মতের সমালোচনা মূলত কোনো ভাল ফল দেয় না। এতে এসকল দলের কেউ পরিবর্তনও হয় না। আমাদের দায়িত্ব হলো আমাদের সাধ্যমত সহীহ দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আপনি কুরআন কারীম ও সহীহ সুন্নাহ নির্ভর দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। এজন্য সংক্ষিপ্ত ভাল কোনো তাফসীরের গ্রন্থ গ্রহণ করবেন। যেমন তাফসীর তাওযীহুল কুরআন। সহীহ হাদীসগ্রন্থগুলোর মধ্যে রিয়াদুস সালিহীন গ্রন্থটি সংক্ষেপ ও উপকারী। এরপর আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট প্রকাশিত ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর লিখিত রাহে বেলায়াতএহইয়াউস সুনান গ্রন্থ দুটি রাখতে পারেন। এছাড়া উপকারী সহীহ পুস্তক অনুসন্ধান করতে থাকুন।
প্রশ্নঃ 116
কুরআনে হূরের বিষয়টি কি কুরআনের ভাবগাম্ভিয্যের সাথে সাংঘর্ষিক নয়?
22 Dec 2025
প্রথমত: এ বিষয়টি যিনি বলেছেন তিনি সম্ভবত কুরআন অধ্যয়ন করেন নি। কুরআনে হুরের বিষয়টির সাথে যৌনতা, দৈহিক সম্পর্ক ইত্যাদির সামান্যতম আবেশ নেই। বারংবার বলা হয়েছে যে, তাদেরকে জোড়া বানিয়ে দেওয়া হবে হুরের সাথে। আরবী ও অন্যান্য লিঙ্গ সচেতন ভাষায় সাধারণ বিধিবিধানে পুংলিঙ্গ ব্যবহার করেই বিধিবিধান প্রদান করা হয়। এরপরও হুর শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ নয়। নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই শব্দটি ব্যবহৃত হয়। আর মানবীয় প্রকৃতির সাথে একটি সুসমঞ্জস। মানুষ প্রকৃতিগতভাবে আত্মা ও মনের শান্তির জন্য জোড়া চায়। জান্নাতে মহান আল্লাহ তাদেরকে জোড়া প্রদান করবেন; যেন তারা মানবীয় প্রকৃতির প্রশান্তি ও পরিতৃপ্তির পূর্ণতা লাভ করতে পারে।
দ্বিতীয়ত: এ বিষয়টি যিনি বলেছেন তিনি সম্ভবত অন্য কোনো ধর্মগ্রন্থও অধ্যয়ন করেন নি। বাইবেল, বেদ, রামায়ন, মহাভারত ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থে অশ্লীলতার ছড়াছড়ি পর্নোগ্রাফিকেও হার মানায়। পিতা-কন্যার ব্যভিচার, ভাই-বোনের ভ্যবিচার, শ্বশুর-পুত্রবধুর ব্যভিচার, পিতার স্ত্রীদের প্রকাশ্যে ধর্ষণ, উলঙ্গ হয়ে নাচানাচি, মাতলামি ইত্যাদির বর্ণনায় পবিত্র বাইবেল পরিপূর্ণ। সাধারণ বিষয়ের বর্ণনাতেও অশ্লীল উপমা ও রূপক ব্যবহার করা হয়েছে। পক্ষান্তরে কুরআনে স্বাভাবিক যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ক বর্ণনাও সকল অশ্লীতার ছোয়া থেকে মুক্ত। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, ইহূদী, খৃস্টান, হিন্দু বা অন্য ধর্মের কোনো কোনো অনুসারী নিজেদের ধর্মগ্রন্থের অপবিত্রতম পর্নোগ্রাফীর চেয়েও অশ্লীল গল্পগুলোকে ধর্মগ্রন্থের ভাবগাম্ভির্যের সাথে সাংঘর্ষিক মনে না করলেও কুরআনের মধ্যে বিদ্যমান অশ্লীলতা বা দৈহিকতার সামান্যতম ছোয়ামুক্ত হুর বিষয়ক বক্তব্যগুলোকে ধর্মগ্রন্থের ভাবগাম্ভীর্যের সাথে অসামাঞ্জস্য বলে দাবি করেন।
প্রশ্নঃ 127
আস-সালামু আলাইকুম, স্যার হস্তমৈথুন করার ফলে রোজা ভঙ্গ হয়, এই রোজার জন্য কাজা বা এর অন্যান্য বিধান কি?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
প্রথমত: এ বিষয়টি যিনি বলেছেন তিনি সম্ভবত কুরআন অধ্যয়ন করেন নি। কুরআনে হুরের বিষয়টির সাথে যৌনতা, দৈহিক সম্পর্ক ইত্যাদির সামান্যতম আবেশ নেই। বারংবার বলা হয়েছে যে, তাদেরকে জোড়া বানিয়ে দেওয়া হবে হুরের সাথে। আরবী ও অন্যান্য লিঙ্গ সচেতন ভাষায় সাধারণ বিধিবিধানে পুংলিঙ্গ ব্যবহার করেই বিধিবিধান প্রদান করা হয়। এরপরও হুর শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ নয়। নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই শব্দটি ব্যবহৃত হয়। আর মানবীয় প্রকৃতির সাথে একটি সুসমঞ্জস। মানুষ প্রকৃতিগতভাবে আত্মা ও মনের শান্তির জন্য জোড়া চায়। জান্নাতে মহান আল্লাহ তাদেরকে জোড়া প্রদান করবেন; যেন তারা মানবীয় প্রকৃতির প্রশান্তি ও পরিতৃপ্তির পূর্ণতা লাভ করতে পারে। দ্বিতীয়ত: এ বিষয়টি যিনি বলেছেন তিনি সম্ভবত অন্য কোনো ধর্মগ্রন্থও অধ্যয়ন করেন নি। বাইবেল, বেদ, রামায়ন, মহাভারত ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থে অশ্লীলতার ছড়াছড়ি পর্নোগ্রাফিকেও হার মানায়। পিতা-কন্যার ব্যভিচার, ভাই-বোনের ভ্যবিচার, শ্বশুর-পুত্রবধুর ব্যভিচার, পিতার স্ত্রীদের প্রকাশ্যে ধর্ষণ, উলঙ্গ হয়ে নাচানাচি, মাতলামি ইত্যাদির বর্ণনায় পবিত্র বাইবেল পরিপূর্ণ। সাধারণ বিষয়ের বর্ণনাতেও অশ্লীল উপমা ও রূপক ব্যবহার করা হয়েছে। পক্ষান্তরে কুরআনে স্বাভাবিক যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ক বর্ণনাও সকল অশ্লীতার ছোয়া থেকে মুক্ত। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, ইহূদী, খৃস্টান, হিন্দু বা অন্য ধর্মের কোনো কোনো অনুসারী নিজেদের ধর্মগ্রন্থের অপবিত্রতম পর্নোগ্রাফীর চেয়েও অশ্লীল গল্পগুলোকে ধর্মগ্রন্থের ভাবগাম্ভির্যের সাথে সাংঘর্ষিক মনে না করলেও কুরআনের মধ্যে বিদ্যমান অশ্লীলতা বা দৈহিকতার সামান্যতম ছোয়ামুক্ত হুর বিষয়ক বক্তব্যগুলোকে ধর্মগ্রন্থের ভাবগাম্ভীর্যের সাথে অসামাঞ্জস্য বলে দাবি করেন।
প্রশ্নঃ 123
বেরেলভী ইমামের পিছনে সালাত
22 Dec 2025
বেরেলভীদের ভিতর কয়েকটি উপদল আছে। তারা সবাই বিদআত ভালবাসেন। অনেকে সুস্পষ্ট শিরকের মধ্যে লিপ্ত। সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন কুফর-শিরক পাওয়া গেলে তার পিছনে সালাত আদায় করা যাবে না। কিন্তু সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন কুফর-শিরক না পাওয়া পর্যন্ত কোনো অজুহাতে জামাআত বা জুমুআ ত্যাগ করা যাবে না। আপনি যদি অন্য কোন ভাল ইমামের পিছনে সালাত আদায়ের সুযোগ পান তাহলে ভাল, নইলে এরুপ পাপী ইমামের পিছনেই সালাত আদায় করতে হবে। নেককার ইমামের পিছনে সালাত আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। প্রসিদ্ধ কালামবিদ ইমাম আবুল হাসান আশয়ারী র. (৩২৪হি.) বলেন,
ومن ديننا أن نصلي الجمعة والأعياد وسائر الصلوات والجماعات خلف كل بر وفاجر كما روى أن عبد الله بن عمر رضى الله عنهم كان يصلي خلف الحجاج
অর্থ: আর আমাদের দীনের অন্যতম দিক যে, আমরা জুমুয়ার সালাত, ঈদগুলো এবং অন্যান্য সকল সালাত এবং জামাআত নেককার ও বদকারের পিছনে আদায় করি। যেমনিভাবে বর্ণিত আছে,আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের পিছনে সালাত আদায় করতেন (মুসান্নিফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস নং ১৪১৭৫)। আল-ইবানাহ আন উসূলিদ দিয়ানাহ, ১/২০। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে পড়ন ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার রচিত আল-ফিকহুল আকবার পৃষ্ঠা ৩৩৭-৩৭৯ এবং রাহে বেলায়াত পৃষ্ঠা ৫৬৩-৫৬৮।
প্রশ্নঃ 122
ইস্তেগফারের নিয়ম
22 Dec 2025
আমাদের অনেকই এই أستغفر الله رب من كل ذنب, وأتوب إليه দিয়ে ইস্তেগফার করি । কিন্তু কিছুদিন পূর্বে এক আলেম সাহেব বলেন, এই ইস্তেগফার কোন হাদিসের কিতাবে নেই, এবং কেউ দেখাতে পারবেও না । জানার বিষয় হল তার কথা সঠিক কি না? জানিয়ে বাদিত করবেন। আমাদরে অনইে এই أستغفر الله رب من كل ذنب, وأتوب إليه দিয়ে ইস্তগেফার করি । কন্তিু কছিুদনি র্পূবে এক আলমে সাহবে বলনে, এই ইস্তগেফার কোন হাদসিরে কতিাবে নইে, এবং কউে দখোতে পারবওে না । জানার বষিয় হল তার কথা সঠকি কি না? জানযি়ে বাদতি করবনে। ইস্তিগফারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিষয় মুমিন-মনের উপলব্ধি। মানব মনের একটি অতি আকর্ষণীয় কাজ অন্যের অন্যায়গুলো বড় করে দেখা ও নিজের অন্যায়কে ছোট ও যুক্তিসঙ্গত বলে মনকে প্রবোধ দেওয়া। আমরা একাকী বা একত্রে যখনই চিন্তাভাবনা বা গল্প করি, তখনই সাধারণত অন্যের অন্যায়গুলো আলোচনা করি। মুমিনের আত্মিক জীবন ধ্বংসে এটি অন্যতম কারণ। মুমিনকে সদা সর্বদা নিজের পাপের কথা চিন্তা করতে হবে। এমনকি আল্লাহর অগণিত নিয়ামতের বিপরীতে তাঁর ইবাদতের দুর্বলতাকেও পাপ হিসাবে গণ্য করে সকাতরে সর্বদা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। সকল প্রকার পাপকে কঠিন, ভয়াবহ ও নিজের জীবনের জন্য ধ্বংসাত্মক বলে দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করে বারবার ক্ষমা চাইতে হবে। এ পাপবোধ নিজেকে সংকুচিত করার জন্য নয়। এ পাপবোধ আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিজেকে ভারমুক্ত, পবিত্র, উদ্ভাসিত ও আল্লাহর নৈকট্যের পথে এগিয়ে নেয়ার জন্য। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ বলেছেন:
إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَأَنَّهُ فِي أَصْلِ جَبَلٍ يَخَافُ أَنْ يَقَعَ عَلَيْهِ وَإِنَّ الْفَاجِرَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَذُبَابِ وَقَعَ عَلَى أَنْفِهِ فَقَالَ لَهُ هكَذَا فَطَارَ
মুমিন ব্যক্তি তাঁর পাপকে খুব বড় করে দেখেন, যেন তিনি পাহাড়ের নিচে বসে আছেন, ভয় পাচ্ছেন, যে কোনো সময় পাহাড়টি ভেঙ্গে তাঁর উপর পড়ে যাবে। আরা পাপী মানুষ তার পাপকে খুবই হালকাভাবে দেখেন, যেন একটি উড়ন্ত মাছি তার নাকের ডগায় বসেছে, হাত নাড়ালেই উড়ে যাবে। বুখারী (৮৩-কিতাবুদ দাআওয়াত, ৪-বাবুত তাওবাহ) ৫/২৩২৪ (ভারতীয় : ২/৯৩৩); তিরমিযী (৩৮-কিতাব সিফাতিল কিয়ামাহ, ১৫-বাব..সিফাত আওয়ানিল হাওয) ৪/৫৬৮ (ভা ২/৭৬)। হুহহু এই বাক্যে ইসতিগফার হাদীসে পাওয়া যায় না। তবে এই বাক্য দ্বারাও ইসতিগফার করা যাবে, কেননা মুমিন যে কোনো ভাষায় আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন। ভাষা বা বাক্যের চেয়ে মনের অনুশোচনা ও আবেগ বেশি প্রয়োজনীয়। তবে রাসূলুল্লাহ সা.-এর শেখানো বাক্য ব্যবহার করা উত্তম। সাধারণভাবে বিভিন্ন হাদীসে ইসতিগফারের জন্য আসতাগফিরুল্লাহ (আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাচ্ছি ) এবং কখনো এর সাথে ওয়া আতূবু ইলাইহি (এবং আমি তাঁর কাছে তাওবা করছি) বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে কয়েকটি মাসনূন বাক্য উল্লেখ করছি: ১। أَستَغْفِرُ اللهَ উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লা-হ। অর্থ: আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ৩০০। হাদীসটি সহীহ। ২। أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লা-হা ওয়া আতূবু ইলাইহি। অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি ও তাঁর দিকে ফিরে আসছি। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১১৬।
৩। رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ (أنْتَ) التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ (الغَفُوْرُ)
উচ্চারণ : রাব্বিগ্ ফিরলী, ওয়া তুব আলাইয়্যা, ইন্নাকা আনতাত তাওয়া-বুর রাহীম। দ্বিতীয় বর্ণনয় রাহীম-এর বদলে: গাফূর। অর্থ: হে আমার প্রভু, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি মহান তাওবা কবুলকারী করুণাময়। দ্বিতীয় বর্ণনায়: তাওবা কবুলকারী ও ক্ষমাকারী। সুনানু ইবনে মাজাহ, হাদীস নং৩৮১৪; সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ৩৪৩৪। হাদীসটি সহীহ।
৩। (৩ বার) أَسْتَغْفِرُ اللهَ (الْعَظِيْمَ) الَّذِيْ لاَ إلهَ إِلاَّ هُوَ الحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লা-হাল্ (আযীমাল্) লাযী লা- ইলা-হা ইল্লা- হুআল হাইউল কাইঊমু ওয়া আতূবু ইলাইহি। অর্থ: আমি মহান আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও সর্ব সংরক্ষক, এবং তাঁর কাছে তাওবা করছি। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ১৫১৭। হাদীসটি সহীহ।
৪। (সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার) اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لا إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِيْ فَاغْفِرْ لِيْ فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা, আনতা রাব্বী, লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা, খালাক্বতানী, ওয়াআনা আবদুকা, ওয়াআনা আলা- আহদিকা ওয়াওয়াঅ্দিকা মাস তাতাঅ্তু। আঊযু বিকা মিন শাররি মা- স্বানাতু, আবূউ লাকা বিনিমাতিকা আলাইয়্যা, ওয়াআবূউ লাকা বিযামবি। ফাগ্ফিরলী, ফাইন্নাহু লা- ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা- আনতা। অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি আমার প্রভু, আপনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আমি আপনার কাছে প্রদত্ত অঙ্গিকার ও প্রতিজ্ঞার উপরে রয়েছি যতটুকু পেরেছি। আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি আমি যে কর্ম করেছি তার অকল্যাণ থেকে। আমি আপনার কাছে প্রত্যাবর্তন করছি আপনি আমাকে যত নিয়ামত দান করেছেন তা-সহ এবং আমি আপনার কাছে প্রত্যাবর্তন করছি আমার পাপ-সহ। অতএব, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আপনি ছাড়া কেউ পাপ ক্ষমা করতে পারে না। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৩০৬। কুরআন কারীমে মুমিনগণকে বারবার তাওবা ও ইসতিগফার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাওবা ও ইসতিগফারের জন্য ক্ষমা, পুরস্কার ও মর্যাদা ছাড়াও জাগতিক উন্নতি ও বরকতের সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে। অনুরূপভাবে বিভিন্ন হাদীসে ইসতিগফারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসতিগফার আল্লাহর অন্যতম যিক্র। যিক্রের সাধারণ ফযীলত ইস্তিগফারকারী লাভ করবেন। এ ছাড়াও ইস্তিগফারের অতিরিক্ত মর্যাদা ও সাওয়াব রয়েছে। আবু হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন:
وَاللهِ إِنِّي لأَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ فِي الْيَوْمِ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِينَ مَرَّةً
আল্লাহর কসম! আমি দিনের মধ্যে ৭০ বারেরও বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাওবা করি। বুখারী (৮৩-কিতাবুদ দাআওয়াত, ৩-বাব ইসতিগফারিন নাবিয়্যি) ৫/২৩২৪
প্রশ্নঃ 118
Sir, I request for you. Please answer the question. Furfura pir said that, Fufura established free from Shirk Bidyat. Now, dear sir,I want to know about Furfura established free from Shirk Bidyat. Please give evidence for Quran Sunnah. Thanks
22 Dec 2025
ফুরফুরার প্রথম ও মূল পীর আবু বকর সিদ্দিকী রহি. মারা গেছেন ১৯৩৯ ইং সনে। এরপর তার সন্তানগণ বহু পথ ও মতে বিভক্ত হয়েছেন। তাঁর বড় ছেলে ছিলেন আব্দুল হাই সিদ্দিকী। তিনি ১৯৭৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার বড় ছেলে ছিলেন আব্দুল কাহহার সিদ্দীকী। তিনি ২০০৬ সালে মৃত্যু বরণ করেন। আব্দুল কাহ্হার সিদ্দীকী শিরক-বিদআতের কঠোর বিরোধী ছিলেন। তার দরবার ও ভক্তদের মধ্য থেকে দিন শিরক বিদআত উৎখাতের জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেন। তাঁর ছেলে আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী পিতার স্থলে কাজ করছেন। তিনিও শিরক বিদআত থেকে মুক্ত থাকতে সদা-সচেষ্ট। তবে এর পাশাপাশি বর্তমানের ফুরফুরার মূল পীর আবু বকর সিদ্দিকীর বংশধরদের মধ্যে অনেকেই বিদআতের পক্ষে সোচ্চার। বিস্তারিত জানতে ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর লিখিত ফুরফুরার পীর আবু জাফর সিদ্দিকী রচিত আল মাউযুআত বইটি পড়ন।
প্রশ্নঃ 121
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। ব্যবসায় মহিলা ক্রেতা
22 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
যেহেতু দোকানের সামনে খোলা থাকে, লোকজন যাওয়া-আসা করে এবং অনেক সময় দোকানে কর্মচারী থাকে তাই এটা নির্জন অবস্থার মধ্যে পড়বে না। আপনি তাদের দিকে তাকােেবন না, প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথাও তাদের সাথে বলবেন না।
প্রশ্নঃ 119
At Foroj prayer about dowa before salam
22 Dec 2025
হ্যাঁ, আপনি প্রচলিত দুআ মাসুরা সহ কুরআন বা হাদীসে বর্ণিত যে কোনো দুআ বা কিংবা কুরআন বা হাদীসে বর্ণিত দুয়ার অর্থের সাথে মিল রেখে যে কোন দুআ পড়তে পারেন। ছয়টি দুআ মাসুরা সহ এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ন ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত রাহে বেলায়াত বইয়ের ৩৮৩-৩৮৯পৃষ্ঠা।
প্রশ্নঃ 120
আল্লাহ খুশি হলে তিনটি জিনিস প্রেরণ করেন বূষ্টি,মেহমান, ও কন্যসন্তান দেন। ---- সত্যতা কত টুকু?
22 Dec 2025
এটা কোন হাদীস নয়। তবে বৃষ্টি আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নিয়ামত। কুরআনে অনেক জায়গায় বৃষ্টিকে আল্লাহ তায়ালার নিদর্শন বলা হয়েছে। কন্যা সন্তানের পিতা জান্নাতে যাবেন বলে সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে। মেহমানদেরকে ইসলামে সম্মান দিতে বলা হয়েছে।
প্রশ্নঃ 117
hanafi madhab er witr salat er niyom ki correct?
22 Dec 2025
হ্যাঁ, হানাফী মাজাহাবের বিতর সালাতের নিয়ম সঠিক। রাসূলুল্লাহ সা. বিত্র সালাত বিভিন্ন পদ্ধতিতে আদায় করেছেন বলে সহীহ হাদীসে প্রমাণিত। হানাফী মাযহাবে যে পদ্ধতিতে বিতর পড়া হয় সেটি উক্ত সহীহ পদ্ধতিগুলোর একটি। তা হলো দু রাকআতের শেষে বসে আত-তাহিয়্যাতু পাঠ করে উঠে দাড়িয়ে তৃতীয় রাকআত আদায় করা। আল্লামা ইবনে হাযাম জাহেরী রহ. আল মুহল্লা (২/৮২) বলেছেন,
والوتر وتهجد الليل ينقسم على ثلاثة عشر وجها، أيها أفعل أجزأه
বিতর ও রাতের তাহাজ্জুদ ১৩ টি পদ্ধতি রয়েছে। যে কোন এক পদ্ধতিতে পড়লেই যথেষ্ট হবে। এরপর তিনি দলীল সহ ১৩ পদ্ধতিই উল্লেখ করেছেন। ১২ নং পদ্ধতি উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন,
والثاني عشر: أن يصلي ثلاث ركعات، يجلس في الثانية، ثم يقوم دون تسليم و يأتي بالثالثة، ثم يجلس ويتشهد ويسلم، كصلاة المغرب. وهو اختيار أبي حنيفة
১২নং তিন রাকআত নামায পড়বে, দ্বিতীয় রাকআতে বসবে, এরপর সালাম না ফিরিয়ে উঠবে এবং তৃতীয় রাকআত পড়বে। তারপর বসে তাশাহুদু পড়ে সালাম ফিরাবে মাগরিবের নামাযের মত। আর এটা আবু হানীফা পছন্দ করেছেন। এরপর তিনি এই মতের পক্ষে নিচের হাদীস দ্বারা দলীল দিয়েছেন।
عن سعد بن هشام أن عائشة حدثته : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم كان لا يسلم في ركعتي الوتر
অর্থ: আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. বিত্রের দুই রাকআতে সালাম ফিরাতেন না। সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং ১৬৯৮। মুসতাদরক হাকিম, হাদীস নং ১১৩৯। ইমাম জাহবী এবং হাকিম রহ. বলেছেন, হাদীসটি বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী। অনেক সাহবী রা. থেকে এমন কথা বর্ণিত আছে। ইবনে উমার রা. থেকে এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, صلاة المغرب وتر النهار فأوتروا صلاة الليل মাগরিব হলো দিনের বিত্র, তোমরা রাতের বিত্র আদায় করো। মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৪৮৪৭। শায়খ শুয়াইব আরনাউত বলেছেন, বর্ণনাকারীগণ ছিকাহ। এখানে রাসূলুল্লাহ সা. মাগরিবের নামযকে বিতরের নামাযের সাথে সাদৃশ্য দিয়েছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেছেন,
الْوِتْرُ ثَلاَثٌ رَكَعَاتٍ كَصَلاَةِ الْمَغْرِبِ
বিতর মাগরিবের মত তিন রাকআত। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৬৮৮৯। বর্ণনাকারীগণ ছিকাহ। অন্য সনদেও হাদীসটি বর্ণিত আছে। মুহাম্মাদ ইবন নাসর আল-মারওয়াযী (২৯৪) লিখিত কিতাব সালাতিল বিতর গ্রন্থে অনেক সাহাবী এবং তাবিয়ী থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, তারা মাগরিবের মত তিন রাকআত বিতর আদায় করতেন। (পৃষ্ঠা ২৯৪) একটি হাদীসে মাগরিবের মত তিন রাকাআত বিতর পড়তে নিষেধ করা হয়েছে এবং ৫ বা ৭ রাকআত বিতর পড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ হাদীসটি দ্বারা অনেকে প্রমাণ করেন যে, দ্বিতীয় রাকআতে বৈঠক করে তিন রাকআত বিতর পড়া সঠিক নয়। হাদীসটি নিম্নরূপ:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لاَ تُوتِرُوا بِثَلاَثٍ أَوْتِرُوا بِخَمْسٍ أَوْ سَبْعٍ ، وَلاَ تُشَبِّهُوا بِصَلاَةِ الْمَغْرِبِ
আবু হুরায়রা রা. রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, তিন রাকআত বিতর পড়ো না, পাঁচ বা সাত রাকআত পড়ো। মাগরিবের নামাযের সাথে সাদৃশ্য করো না। সুনানে দারে কুতনী, হাদীস নং ১৬৫০। ইমাম দারে কুতনী বলেছেন, হাদীসটির রাবীগণ ছিকাহ। এখানে লক্ষনীয় যে, মাগরিবের মত বিতর না পড়ার এ হাদীসটিতে এবং এ অর্থের অন্যান্য হাদীসে পদ্ধতিগত পার্থক্যের কোন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, বরং রাকআতের পার্থক্যকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সুস্পষ্টত বলা হয়েছে, সালাতুল বিত্র মাগরিবের মত তিন রাকআত না পড়ে পাঁচ বা সাত রাকআত পড়। অর্থাৎ তিন রাকআত পড়লেই তা মাগরিবের মত হয়ে গেল, যে পদ্ধতিতেই তা পড়া হোক না কেন। এখন যদি কেউ ধারণা করেন, দ্বিতীয় রাকাতে না বসে তিন রাকআত বিতর পড়ে তিনি এ হাদীসটির উপর আমল করলেন তবে তার এ ধারণাকে সঠিক বলা কষ্টকর। এ হাদীসটির বাহ্যিক নির্দেশনা থেকে আমরা এতটুকুই প্রমাণ করতে পারি যে, তিন রাকআত বিতর পড়া বৈধ নয়, বরং ৫ বা ৭ রাকআত পড়তে হবে। তবে এর বিপরীতে অনেক সহীহ হাদীসে তিন রাকআত বিতর পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেও তিন রাকআত বিতর পড়েছেন বলে বর্ণিত হয়েছে। এ সকল হাদীসের আলোকে উপরের নিষেধার্থক হাদীসটির অর্থ হলো, শুধু তিন রাকআত বিতর পড়া বৈধ,তবে ৫ বা ৭ রাকতআত পড়া উত্তম। এ অর্থে আয়েশা (রা) বলেন,
لاَ تُوتَرُ بِثَلاَثٍ بُتْرٍ ، صَلِّ قَبْلَهَا رَكْعَتَيْنِ ، أَوْ أَرْبَعًا
তুমি শুধু তিন রাকআত বিতর পড়বে না, তুমি তিন রাকআতের পূর্বে দু রাকআত বা চার রাকআত (কিয়ামুল্লাইল সালাত) পড়বে। মুসান্নফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৬৮৯৮। হাদীসটির সনদ সহীহ বলে প্রতীয়মান। উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, হানাফী মাজাহাবের বিত্র নামায সুন্নাহ সম্মত। মুমিনগণের উচিৎ পদ্ধতিবিষয়ক বিতর্কে লিপ্ত না হওয়া। যে পদ্ধতি আপনার নিকট অধিক গ্রহনযোগ্য সে পদ্ধতিতে বিতর আদায় করুন এবং হাদীসে প্রমাণিত অন্যান্য পদ্ধতিকে সম্মান করুন। আল্লাহ সবচেয়ে ভাল জানেন। বিস্তারিত জানতে পড়ুন ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত রাহে বেলায়াত ৪১৩-৪১৭।
প্রশ্নঃ 115
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। সকল ধর্মানুসারীই দাবি করেন যে, তাঁর ধর্মই সঠিক বা শ্রেষ্ঠ, তাহলে ইসলামের সঠিকত্ব বা শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার উপায় কী?
22 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু
আমি আসলেই আপনার প্রশ্নগুলোর কথা ভুলে গিয়েছিলাম। নানাবিধ ব্যস্ততাই কারণ। আপনার মেইল দেখে মনে পড়ল। প্রথম প্রশ্ন: সকল ধর্মানুসারীই দাবি করেন যে, তাঁর ধর্মই সঠিক বা শ্রেষ্ঠ, তাহলে ইসলামের সঠিকত্ব বা শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার উপায় কী? ধর্ম কী ও কেন এ দুটি প্রশ্নের উত্তরের মধ্যেই এ উত্তর নিহিত। প্রথমত: সকল ধর্মানুসারীর মতেই ধর্ম হলো ঐশ্বরিক (ফরারহব) ব্যবস্থা যা মহান স্রষ্টা ওহীর বা ধর্মগ্রন্থের মাধ্যমে কোনো রাসূল বা ধর্মপ্রবর্তকের মাধ্যমে মানব জাতিকে প্রদান করেছেন। এজন্য যে কোনো ধমের্র ধর্মগ্রন্থ (scripture) রয়েছে। ধমের্র সাথে ধর্মগ্রন্থের তুলনা করলেই কোন ধর্ম শ্রেষ্ঠ তা সহজে বুঝা যায়। বিশ্বের অধিকাংশ ধর্মগ্রন্থের সাথে সেই ধমের্র তুলনা করলেই আমরা দেখি যে, ধর্মানুসারীদের ধমের্র সাথে ধর্মগ্রন্থের ধমের্র মিল খুবই কম। বাইবেলের বিধিবিধান ও ধর্মবিশ্বাসের সাথে চাচের্র খৃস্টধমের্র তুলনা করলে এবং বেদ-গীতার সাথে প্রচলিত হিন্দু ধমের্র তুলনা করলেই তা নিশ্চিত জানা যায়। অর্থাৎ প্রচলিত ধর্মগুলোর ধর্মগ্রন্থই প্রমাণ করে যে, তাদের প্রচলিত বা আচরিত ধর্ম বিশ্বাস সঠিক নয়। তারা ধর্মগ্রন্থের অধিকাংশ নির্দেশনা পালন করেন না, বরং বিপরীত চলেন ও ধর্মগ্রন্থ নিষিদ্ধ বিষয়কে ধর্ম বলে বিশ্বাস করেন। খৃস্টধমের্র ত্রিত্ববাদ, প্রায়শ্চিত্ববাদ, মূলপাপতত্ত্ব, কর্মহীন বিশ্বাসেই মুক্তির তত্ত্ব ইত্যাদি কোনো কিছুই বাইবেলে নেই, বরং বাইবেলে এর বিপরীত বিষয়গুলো সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান। প্রচলিত বাইবেলের পুরাতন ও নতুন নিয়ম নিশ্চিত প্রমাণ করে যে, সাধু পল প্রচারিত ও বর্তমান খৃস্টজগত আচরিত খৃস্টধর্ম নামক ধর্মটি সঠিক নয়। হিন্দু ধর্ম ও অন্যান্য ধমের্র ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রায় একইরূপ। ইসলাম ধমের্র বিষয়টি একেবারেই ব্যতিক্রম। প্রচলিত ইসলাম ধমের্র বিধিবিধান, বিশ্বাস ও আচার আচরণ সবই কুরআন ভিত্তিক ও কুরআন সমর্থিত। মুসলিমগণ ধর্ম কতটুকু পালন করেন সেটি ভিন্ন কথা। তবে কুরআন নির্দেশিত কোনো অধর্মকে তারা ধর্ম হিসেবে বিশ্বাস বা পালন করেন না। শুধু তাই নয়। বিশ্বের সকল ধর্মগ্রন্থই প্রমাণ করে যে, ইসলামই সঠিক ধর্ম। সকল ধমের্র প্রচলিত বিশ্বাস ও কমের্র মধ্যে এমন অনেক বিষয় বিদ্যমান যা সে ধমের্র ধর্মগ্রন্থ ছাড়াও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ নিন্দনীয় বলে ঘোষণা করেছে। পক্ষান্তরে ইসলামী ধর্ম বিশ্বাস ও ধর্মীয় কমের্র মধ্যে এমন একটি বিষয়ও নেই যা অন্য কোনো ধর্মগ্রন্থ নিন্দনীয় বলে ঘোষণা করেছে। সাধারণত ইসলাম বিরোধীগণ জিহাদ ও নারী অধিকারের মত দু-একটি বিষয় উত্থাপন করতে চান যে, এগুলো অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের আলোকে খারাপ বা অন্যায়। তাঁদের নিজেদের ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়ন না করার কারণে অথবা সত্য গোপনের জন্য তারা এ কথা বলেন। প্রকৃত সত্য হলো, বাইবেল, বেদ, গীতা, মহাভারত, রামায়ণ ইত্যাদি সকল ধর্মগ্রন্থে বিদ্যমান জিহাদ ও নারী অধিকারের অবস্থা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। ধর্মগ্রন্থগুলোর নির্দেশনায় ইসলামই এ দুটি বিষয়ে সর্বোচ্চ মানবিকতা ও অধিকার নিশ্চিত করেছে। এভাবে আমরা দেখছি যে, প্রত্যেক ধমের্র সাথে সে ধমের্র ধর্মগ্রন্থের তুলনামূলক অধ্যয়ন এবং সকল ধর্মগ্রন্থের মূল শিক্ষার সাথে প্রচলিত সকল ধমের্র তুলনামূলক অধ্যয়ন প্রমাণ করে যে, ইসলামই একমাত্র সঠিক ধর্ম। দ্বিতীয়ত: সকল ধর্মানুসারীই বিশ্বাস বা দাবি করেন যে, ধমের্র উদ্দেশ্য মানুষকে সত্যিকার সৎ মানুষে পরিণত করা। এ দাবি ও বাস্তবতার মধ্যে তুলনা করলেও কোন ধর্ম শ্রেষ্ঠ তা সহজেই জানা যায়। বস্তুত নিয়মিত সুষম খাদ্যগ্রহণ ও স্বাস্থ্যসম্মত নিয়মে না চলে সপ্তাহে, মাসে বা বছরে অল্পবেশি ভিটামিন, মহা-পুষ্টিকর খাদ্য বা ঔষধ গ্রহণ করে প্রকৃত দৈহিক সুস্থতা অর্জন করা যায় না। তেমনি নিয়মিত সুষম বিশ্বাস, ইবাদত ও পাপমুক্ত পবিত্র জীবন যাপন না করে মাঝে মাঝে আনুষ্ঠানিকতা করে প্রকৃত আত্মিক সুস্থতা, পবিত্রতা ও সততা অর্জন করা যায় না। আর এ দিক থেকে একমাত্র ইসলামই জীবনঘনিষ্ট ধর্ম যা ধার্মিক মানুষকে প্রকৃত সৎ মানুষে পরিণত করে। ইসলাম ধমের্র বিধিবিধান এমন যে, মহান আল্লাহর সাথে সার্বক্ষণিক প্রেমের ও স্মরণের সম্পর্ক তৈরি হয়।
পাঁচ ওয়াক্ত নামায, সাপ্তাহিক নামায, রোযা, যাকাত, দৈনন্দিন সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইবাদত ইত্যাদি পালনের মাধ্যমে নিয়মিত বাধ্যতামূলক আত্মীক-আধ্যাত্মিক অনুশীলন অব্যাহত থাকে। এজন্য ধর্ম পালনকারী ধার্মিক মুসলিম সমাজের অন্যদের তুলনায় অধিকতর সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত হন। পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনে তিনি অপেক্ষাকৃত অধিক সচেতন হন। অন্যান্য ধর্মে এরূপ নিয়মিত ইবাদত ও অনুশীলন অনুপস্থিত বা ঐচ্ছিক। ফলে মানুষ মহান আল­াহর সাথে নিয়মিত প্রেমের সম্পর্ক থেকে বঞ্চিত। হিন্দু ধর্মে বর্ণপ্রথার কারণে সংখ্যাগরিষ্ট হিন্দু মূলত ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়ন ও ইবাদত পালনের সকল সুযোগ থেকেই বঞ্চিত। হিন্দু ধর্ম মূলত খাওয়া- না খাওয়া, ও কিছু আচার-অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এখানে বিশ্বাস, সততা, কর্ম, বিধিবিধান, আধ্যাত্মিকা ইত্যাদি গৌণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সাধু পলের খৃস্টধমের্র কর্মহীন বিশ্বাস, বিশ্বাসে মুক্তি ও পাপমোচন তত্ত্বের কারণে দুর্নীতি, ব্যভিচার, যৌন নিপীড়ন, মাদকতা ইত্যাদি বিষয় ধার্মিক খৃস্টান ও পোপ-পাদরিদের মধ্যেই ব্যাপক, অধার্মিক খৃস্টানদের তো কথাই নেই। এখানেও ত্রিত্ববাদে বিশ্বাসই মূল, দুর্নীতি মুক্ত হওয়া, মাদকমুক্ত হওয়া, জুলুম মুক্ত হওয়া ইত্যাদির কোনো মূল্য নেই। সকলের জন্যই মুক্তি নিশ্চিত। দুনিয়ার আইন কোনো রকমে ফাঁকি দিতে পারলেই হলো। ফলে কেউ আল­াহর প্রেম অর্জন বা তাঁর অসন্তুষ্টি বর্জনের আকাঙ্খায় পাপ, জুলুম, ব্যভিচার, অনাচার, মাদকদ্রব্য ইত্যাদি বর্জন করেন না। কেউ তা করলে একান্তুই আইনের ভয়ে করেন। আর আইনের ভয় প্রকৃত সৎ মানুষ তৈরি করে না, বরং বকধার্মিক ও ঠক তৈরি করে।
প্রশ্নঃ 113
Assalamu alaikum, Sir Q: Mobile parts and tv remot ar dokane business and job kora hala hobe ki?
22 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
এক্ষেত্রে মূলনীতি হলো যে জিনিসের ব্যবহার হারাম ও হালাল উভয় কাজে সমান ভাবে কিংবা হালাল কাজে বেশী হয় সেই জিনিসের ব্যবসা এবং সেই জিনিসের প্রতিষ্ঠানে চাকুরী জায়েজ। মোবাইলের ব্যবহার যেহেতু হালাল কাজে বেশী হয় তাই মোবাইলের ব্যবসা এবং মোবাইলের দোকানে চাকুরী জায়েজ। আর টেলিভিশনের ব্যহার যেহেতু খারাপ কাজেই বেশী হয় তাই টেলিভিশনের ব্যবসা বা এর দোকানে চাকুরী করা জায়েজ নয়। এর থেকে বিরত থাকা জরুরী। উল্লেখ্য যে, কম্পিউটারের ক্ষেত্রে সমস্যা নেই।
প্রশ্নঃ 112
শায়েখ আসসালামু আলাইকুম । আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে, বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানি থেকে ডাক্তারদের বিভিন্ন জিনিস উপহার দেওয়া হয় । কোন ডাক্তার সেই জিনিসগুলো গ্রহণ করলে সেটা কী ঘুষ হিসেবে গণ্য হবে?
22 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
হ্যাঁ, এটা ঘুষ হিসাবেই গণ্য। কারণ এটা কোন কিছুর বিনিময় ছাড়াই চিকিৎসক পেয়ে থাকে এবং এই কারণে চিকিৎসক রোগীর জন্য সর্বোচ্চ উপকারী ও সহজ ঔষধ লেখার চেয়ে নিজের জন্য বা কোম্পানির জন্য অধিক উপকারী ঔষধ লিখতে প্ররোচিত হন। এ ধরণের সুবিধাগুলো সবই অনৈতিক ও হারাম
প্রশ্নঃ 111
আসসালামু আলাইকুম। সার আমার বয়স ২৩ বছর। আমার বিয়ে হয়নি। আমার সমস্যা ছেলেদের মতো দাড়ি, গোঁফ উঠতে শুরু করেছে। আর কোন সমস্যা নেই। এ নিয়ে আমি সব সময় মানুষিকভাবে বিপর্যস্ত থাকি। কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করে না। কোথাও যেতে ইচ্ছা করে না। পড়া শোনা তে ও মন বসাতে পারছি না। সব সময় টেনশন কাজ করে। কিছুই ভালো লাগে না। এখন আমি কি করব জানালে উপকৃত হব ইনসাআল্লহ।
22 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার বিপর্যস্ত হওয়ার কোন কারণ নেই। মোটেও টেনশন করবেন না। বর্তমানে চিকিৎসায় এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। আপনি একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পড়াশোনা ও অন্যান্য প্রয়োজনীও কাজে মন দিন। আমরা দুআ করি আল্লাহ আপনাকে দ্রুত সুস্থ করে দিন।
প্রশ্নঃ 110
Assalamualykum, ami khas porda korar try korci n din mene cholar try korci, ami job korte chayna kintu amar baba amak job sara bia dibenna, n amar proti osontusto thakben, now baba k khusi kore bia korar jonno amar ki job kora uchit naki amar doa o sobor kora uchit, may der job ar sorto gulo ki? Bangladesh Islami Bank a ki job kora jaej hobe akjon mohilar? Apner gyan dia amar upokar korun.plz
22 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আপনার পিতার সন্তুষ্টির জন্য আপনার চাকুরী করতে কোন বাধা নেই। মেয়েরা প্রয়োজনে চাকুরী করতে পারেন। আপনি পর্দার সাথে যাওয়া আসা করবেন। যেখানে শুধু মহিলারা কাজ করে এমন জায়গায় কাজ করবেন। শরয়ী পর্দা যেন কোন ভাবেই লংঘিত না হয় সেদিকে খেয়াল করবেন। মহিলাদের জন্য ইসলামী ব্যাংকে চাকুরী করা জায়েজ।
প্রশ্নঃ 108
assalamualaikum warahmatullah ..., ami mosjide gele amake chilla zawar jonno bole ..unara bole tar kothar cheye kar kotha uttom hote pare ze manushke allaher dike ahoban kore... erpor bole 4-5 diner jonno amader shathe diner mehnote chole ashen ... abbu ammuke bole ashen ... ekhon ami jodi oderke bujhai dolil dei ora to shunbe na ... ami bolsilam ze ami online tablig kori ierf.com e... ekhon ami kivabe jukti diye uttor dibo? oderke bujhaite parbo na ...onek jon okhane pore amar piche lagbe ....kete ashte hobe
22 Dec 2025
আপনাকে ধন্যবাদ। আপনি নিঃসন্দেহ ভাল কাজ করছেন। তারা যা করছে তাও ভাল কাজ। আপনার যদি সময় সুযোগ হয় তাহলে তাদের সাথে দাওয়াতি কাজে অংশ নিবেন। যেতে না পারলে তাদেরকে বুঝিয়ে বলবেন।
প্রশ্নঃ 107
assalamu alaikum kamon acen? hujur amar ekta proshno muslim ra kono kisu amol korte hole quran hadish er dolil lagbe tai amateur proshno chand grohon surjo grohon er bepare amader deshe manusher kisu darona ace oi somoy kono gorboboti mohila naki sute parbe na boste parbe na khete parbe na r o onek kisu agula quran hadish shommoto kina. a bepare islam ki bole. please janaben. khub upokrito hobo zezak allah khayer
22 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আপনি যা লিখেছেন, সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ অবস্থায় গভবর্তী মহিলা শুতে বসতে... পারবে না তা সম্পূর্ণ কুসংস্কার, কুরআন হাদীসে এর কোন ভিত্তি নেই। সূর্যগ্রহনের সময় রাসূল সা. লোকদেরকে নিয়ে নামায আদায় করতেন এবং নামায আদায় করতে বলেছেন। আবু মাসউদ রা. বলেন, নবী সা. বলেছেন,
قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لاَ يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ مِنَ النَّاسِ وَلَكِنَّهُمَا آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللهِ فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُمَا فَقُومُوا فَصَلُّوا
কারো মৃত্যুর জন্য সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ লাগে না। কিন্তু এই দুটি আল্লাহর নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। যখন তোমারা তা দেখবে তখন নামায আদায় করবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১০৪১। বিস্তারিত জানতে দেখুন: সহীহ বুখারী, কিতাবুল কুসুফ (গ্রহণ লাগা অধ্যায়)। সুতরাং আমাদের উচিৎ এমন হলে নামায আদায় করা আর কুসংস্কার থেকে বিরত থাকা।
প্রশ্নঃ 106
বাংলাদেশ ব্যাংকে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে চাকুরী করা যাবে কিনা? এবং আর আয় হালাল কিনা?
22 Dec 2025
না। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সুদভিত্তিক কোন ব্যাংকে এই পদে চাকুরী করা কারো জন্য জায়েয হবে না এবং এখান থেকে উপার্জিত অর্থ কারো জন্য হালাল নয়। হররত জাবের রা. বলনে,
لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ
অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. সুদ গ্রহীতা, দাতা, লখেক, সাক্ষীদ্বয় প্রত্যকেরে উপর লানাত (অভিশাপ) দিয়েছেন এবং বলেছেন (পাপরে দিক থেকে) সবাই সমান। সহীহ মুসলমি, হাদীস নং৪১১৭। আর প্রশ্নোক্ত কাজটি সুদ লেখার অন্তর্ভূক্ত। সুতরাং আমাদরে জন্য আবশ্যক এমন চাকুরী থকেে বিরত থাকা।
প্রশ্নঃ 105
Salam, before sleeping, Is it sunnah to keep the head in the north direction?
22 Dec 2025
না, উত্তর দিকে মাথা রেখে ঘুমানো সুন্নাত নয়। তবে ডান কাঁধে ঘুমানো সুন্নাত। হযরত বারা ইবনে আযিব রা. বলেন,
كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ نَامَ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَنِ
অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিছানায় আসতেন তখন ডান কাঁধের উপর ঘুমাতেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৩১৫
প্রশ্নঃ 104
is the money earned by working in bank halal? can one stay in a banker relatives house when his parents are going abroad for a month? he has other relatives, but there are nonmahram (female cousins). only in the house of banker there is non-mahram. where should he stay? In the bankers home or other relatives home where non-mahram is present?
22 Dec 2025
সুদভিত্তিক ব্যাংকে কাজ করে উপার্জিত অর্থ হালাল নয়। তবে শরীয়াহ অনুযায়ী পরিচালিত ব্যাংকে কাজ করে উপার্জিত অর্থ হালাল হবে না। কেননা হররত জাবরে রা. বলনে,
لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ
র্অথ: রাসূলুল্লাহ সা. সুদ গ্রহীতা, দাতা, লখেক, সাক্ষীদ্বয় প্রত্যকেরে উপর লানাত (অভশিাপ) দয়িছেনে এবং বলছেনে (পাপরে দকি থকে) সবাই সমান। সহীহ মুসলমি, হাদীস নং৪১১৭।
আর আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হলো আপনার জন্য উচিৎ হবে মাহরাম ব্যাংকার আত্মীয়ের বাসায় টাকা দিয়ে খাওয়া দাওয়া করা।
প্রশ্নঃ 103
আমার প্রশ্ন হলো: নওমুসলিম এর ঘরে দাওয়াত খাওয়ার বিধান কি? বিশেষ করে বিয়ের দাওয়াত।
22 Dec 2025
নওমুসলিম আর মুসলিমের একই। নওমুসলিম আর মুসলিমের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। সুতরাং নওমুসলিমের ঘরে বিয়ের দাওয়াত খাওয়া খাওয়া যাবে এবং মুসলিমদের সাথে যেমন আচরণ করতে হয়ে তাদের সাথেও সেই আচরণ করতে হবে।
প্রশ্নঃ 102
শাওয়াল মাসের রোজা তিনটি রাখলে হবে না ছয়টি রাখতে হবে জানালে ভালো হয়
22 Dec 2025
আবূ আইয়্যুব আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ
যে রামাদান মাসের রোজা রাখে এরপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখে তাহলে এটা তার জন্য সারা বছর রোজা রাখার মত। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪২৫। হাদীসে বর্ণিত উক্ত ফজিলতের জন্য আপনাকে ছয়টি রোজাই রাখতে হবে। তিনটি রাখলে চলবে না। তবে তিনটি রাখলে সাধারণ নফল রোজার সওয়াব হবে।
প্রশ্নঃ 101
আসসালামু আলাইকুম স্যার। আমি জামাতে সালাত আদায়ের চেষ্টা করি। আমি কিছুদিন আগে জানলাম আমাদের মসজিদের ঈমাম সাহেব তাবিজ দেন যাহা সহীহ হাদিস মতে শিরক। আমি একজন আলেমের থেকে শুনেছি যে, যে ব্যাক্তি শিরক করে তিনার পিছনে নামাজ হবে না। এছাড়া তিনি আরো অনেক কবিরা গুনাহে লিপ্ত, আমার জামায়েত সালাত আদায় করা ওয়াজিব। এমতাবস্থায়, আমার কি করণিয়?
22 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
যদি কোন মসজিদের নিয়মিত নিযুক্ত ইমাম পাপী হন তবে তার নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ পাপী হবেন। সাধারণ মুসল্লি যদি অন্য কোন ভাল ইমামের পিছনে সালাত আদায়ের সুযোগ পান তাহলে ভাল, নইলে এরুপ পাপী ইমামের পিছনেই সালাত আদায় করতে হবে। নেককার ইমামের পিছনে সালাত আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন কুফর-শিরক না পাওয়া পর্যন্ত কোনো অজুহাতে জামাআত বা জুমুআ ত্যাগ করা যাবে না। ঐক্য বজায় রেখে উত্তম ইমামের জন্য চেষ্টা করতে হবে। আর আপনি যে শিরকের কথা উল্লেখ করেছেন সম্ভবত তা এমন নয় যে, তার পিছনে সালাতই আদায় করা যাবে না। কারণ শিরকের অনেক পর্যায় আছে। সব শিরকই এই পর্যায়ের নয় যে, শিরক কারীর পিছনে সালাত আদায় করা যাবে না। প্রসিদ্ধ কালামবিদ ইমাম আবুল হাসান আশয়ারী র. (৩২৪হি.) বলেন,
ومن ديننا أن نصلي الجمعة والأعياد وسائر الصلوات والجماعات خلف كل بر وفاجر كما روى أن عبد الله بن عمر رضى الله عنهم كان يصلي خلف الحجاج
অর্থ: আর আমাদের দীনের অন্যতম দিক যে, আমরা জুমুয়ার সালাত, ঈদগুলো এবং অন্যান্য সকল সালাত এবং জামাআত নেককার ও বদকারের পিছনে আদায় করি। যেমনিভাবে বর্ণিত আছে,আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের পিছনে সালাত আদায় করতেন (মুসান্নিফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস নং ১৪১৭৫)। আল-ইবানাহ আন উসূলিদ দিয়ানাহ, ১/২০। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে পড়ন ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার রচিত আল-ফিকহুল আকবার পৃষ্ঠা ৩৩৭-৩৭৯ এবং রাহে বেলায়াত পৃষ্ঠা ৫৬৩-৫৬৮
প্রশ্নঃ 100
আসসালামু আলাইকুম আমি একটি কোম্পানীতে চাকুরি করি। আমাদের কোম্পানীর মালিক প্রতিবছর রোজার ঈদের পূর্বে যাকাতের টাকা প্রদান করে (যারা নিতে ইচ্ছুক তাদের লিষ্ট জমা দিয়ে)। আমার প্রশ্ন হলোঃ আমার যাকাত নেয়ার মতো অবস্থা নেই। আল্লাহর রহমতে আমি যথেষ্ট পেয়েছি। আমি যদি যাকাতের টাকাটা গ্রহণ করে আমার এলাকার কোন গরীব লোককে প্রদান করি তাহলে কোন গুনাহ বা সওয়াব হবে কি?
22 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
না, প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিতে আপনার জন্য যাকাতের টাকা গ্রহন করা জায়েজ হবে না। কারণ যাকাত প্রদানের সময় যাকাত গ্রহীতাকে সম্পদের মালিক বানাতে হয় আর আপনি নিলে সেটা হচ্ছে না। তবে যদি মালিক আপনাকে উকিল (মাধ্যম) বানিয়ে আপনার কাছে আপনার এলাকার গরীবদের জন্য যাকাতের টাকা প্রেরন করে তাহলে জায়েজ হবে। অথবা আপনি যদি বলেন, আমি এই টাকা নেব না, গ্রামে গরীব মানুষদেরকে দেব আর মালিক দেন তাহলে জায়েজ হবে।
প্রশ্নঃ 99
আসসালামু লাইকুম? স্যার আমার একটা উওর দিবেন পিলিজ? আমার এক ভাই তার! প্যমেলিতে পায় তার মা আর তার স্তীর জগরা হয়! এখন কি তি তার স্তীর কে অন্য কোনো খানে রাখলে কি তার মায়ের সাথে কি বেভিচার করা হবে কি মা বাবা এবং স্তীর তাদের হক কি বাবে পালন করবো পিলিজ বলবেন? সরিয়তের আলোকে জানতে চাই? আমি আপনার একটা ছাএ?
22 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
সন্তানের উপর ফরজ মা-বাবার খেদমত করা। পুত্রবধূর জন্য আবশ্যক নয়। তবে মহিলাদের জন্য উচিৎ হলো স্বামীর পিতা-মাতার ভাল-মন্দের প্রতি লক্ষ রাখা। মা আর স্ত্রীর মাঝে যদি ঝগড়া বা মনোমালিন্য হয় তাহলে উচিৎ হলো স্ত্রীর জন্য অন্য কোন বাড়ির ব্যবস্থা করা। এতে কোন অন্যায় হবে না। তবে সর্বদা মায়ের খেদমতের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। মা, বাব ও স্ত্রীর প্রয়োজনয়ীও সকল চাহিদা পূরণ করলেই তাদের হক আদায় করা হয়ে যাবে।
প্রশ্নঃ 98
স্যার আমি একটা নিয়োগের ৩টা পরীক্ষার মধ্যে ২টি পরীক্ষায় আল্লাহর রহমতে পাস করেছি। শুধু ভাইভা পরীক্ষা বাকী। এখন গত কয়েক বার নিয়োগে রিপোর্ট যোগাযোগ ছাড়া চাকরী হয়না। যোগাযোগ করে চাকরী হলে যে টাকা আয় হয় তা হালাল হবে কী? এই ভাবে চাকরী হলে তা জান্নাতে যেতে প্রতিবন্ধক হবে কী?
22 Dec 2025
ঘুষ সর্বাবস্থায় হারাম। আপনি যদি কোন কারনে বাধ্য হন তাহলে এর জন্য আল্লাহ কাছে তওবা করবেন। যোগ্যতা থাকা সত্তে¡ও যোগাযোগ ছাড়া চাকরী যদি না হয় তাহলে যোগাযোগের (ঘুষের) মাধ্যমে চাকরী নিলে আশা করা যায় বেতনের টাকা হারাম হবে না তবে ঘুষের গোনাহর জন্য আপনাকে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে, মাফ চাইতে হবে।
প্রশ্নঃ 97
Assalamualaikum, Questions given here are my mothers 1. Im a diabetic patient, however sometimes when I walk in the road my body get touched with other people of the road and takes place not from my own will. Is there will be any gunah for it. 2. Can I go to any market wearing borkhah? If I go so will there be any gunah. 3. If anyone dies and arrange Ziafot and gives meat to eat will there be any gunah to eat that meat?
22 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সলাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
( ১) না। অনিচ্ছা সত্ত্বেও যদি এমন কখনো হয়ে যায় তাহলে গুনাহ হবে না।
(২) হ্যাঁ। আপনি বোরকা পরে প্রয়োজনীয় যে কোন জায়াগায় যেতে পারবেন।
(৩) মৃত ব্যক্তির সওয়াবের উদ্দেশ্যে খানা-পিনার আয়োজন করা বিদআত। সুতরাং এমন খানা-পিনা থেকে বিরত থাকা উচিৎ। তবে খেয়ে ফেললে আশা করা যায় গুনাহ হবে না।
প্রশ্নঃ 96
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ জনাব আমি এক সেট বাংলায় অনুবাদিত বুখারী কিনতে চাই কোন প্রকাশনীর কিনলে ভাল হয় জানালে উপকৃত হবাে।
22 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

আপনাকে ধন্যবাদ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত বুখারী শরীফের বাংলা অনুবাদ ক্রয় করুন।

প্রশ্নঃ 95
কেউ যদি ঈদ-উল ফিতর পালনের জন্য গ্রামের বাড়ীতে যায় সে কী কসর সালাত আদায় করবে?
22 Dec 2025
যদি তার গ্রামে বাড়ী-ঘর থাকে, পিতা-মাতা বা আত্মীয়-স্বজন থাকে তবে সে সালাত কসর করবে না, পুরো নামায আদায় করবে।আর যদি সেখানে তার বাড়ী-ঘর না থাকে এবং তিনি অন্য কোথায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন তাহলে সে গ্রামের বাড়িতে এসে পনের দিনের কম থাকার নিয়ত করলে কসর সালাত আদায় করবে।
প্রশ্নঃ 94
আসসালামু আলাইকুম, শাওয়াল মাসের সাওম কি আমি ঈদের পরের দিন থেকে রাখতে পারব? নাকি ঈদের ৩ দিন পর? যেহেতু আমি ঈদের তৃতীয় দিন থেকে শাওম শুরু করেছি। কুরান হাদিসের আলোকে জানতে চাই।
22 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করা জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। হ্যাঁ। শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা ঈদের পরের দিন থেকেই রাখতে পারবেন। শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ছাড়া যে কোন দিনে এই ছয়টি রোজা রাখা যাবে। ধারবাহিকভাবেও রাখা যায় আবার বিচ্ছিন্নভাবেও রাখা যায়। আবূ আইয়্যুব আনসারী রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ
যে রামাদান মাসের রোজা রাখে এরপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখে তাহলে এটা তার জন্য সারা বছর রোজা রাখার মত। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪২৫।
প্রশ্নঃ 92
সাধারনত বাংলাদেশের জমীতে পুরা সময়ই পানি দিয়ে ফসল ফলাতে হয় । আমার জানার বিষয় হল, এই সমস্ত জমীতে ওশর না যাকাত আদায় করতে হবে? যদি ওশর আদায় করতে হয় তাহলে কোন পদ্ধতিতে আদায় করতে হবে? কোন জমীতে ওশর এবং কোন জমীতে যাকাত আদায় করতে হয় জানালে উপকৃত হব।
21 Dec 2025
প্রথমেই আপনাকে জানতে হবে যে, যাকাত ও উশর কোনো ভিন্ন বিষয় নয়। ফসলের যাকাতের নামই উশর। উৎপাদিত ফসলের যাকাতের নাম হল উশর। পার্থক্য হলো সাধারণত টাকা-পয়সা বা সোনারূপার যাকাত আড়াই পার্সেন্ট হারে আদায় করতে হয় আর ফসলের যাকাতের ক্ষেত্রে পানি দিয়ে ফলালে ৫% আর বৃষ্টির পানি দিয়ে ফলালে ১০% হারে আদায় করতে হয়। সুতরাং বাংলাদেশের যে সমস্ত জমিতে পুরো সময়ই পানি দিয়ে ফসল ফলাতে হয় সেখানে ফসলের ৫% যাকাত দিতে হবে। যেমন, ১০০ মন ধান হলে ৫ মন ধান অথবা ৫ মন ধানের মূল্য যাকাত বা উশর দিতে হবে। যখন ফসল হবে তখনই ফসলের যাকাত দিতে হয়। আব্দুল্লাহ ইবনে ইবনে উমার রা. বলেন রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
فِيمَا سَقَتِ السَّمَاءُ وَالْعُيُونُ ، أَوْ كَانَ عَثَرِيًّا الْعُشْرُ وَمَا سُقِيَ بِالنَّضْحِ نِصْفُ الْعُشْرِ
বৃষ্টির পানি, প্রবাহিত ঝর্ণার পানি বা মাটির স্বাভাবিক আদ্রতা থেকে (কোন সেচ ব্যবস্থা ছাড়া ) যে ফসল উৎপাদিত হয়, সে ফল ও ফসলের এক দশমাংস (১০%) যাকাত আদায় করতে হবে। আর সেচের মাধ্যমে যে ফল ফসল উৎপন্ন করা হয় তা থেকে এক দশমাংসের অর্ধেক (২০ ভাগের একভাগ বা ৫%) যাকাত প্রদান করতে হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪৮৩। উশর বা ফসলের যাকাতের নিসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনটি মত রয়েছে: ১। হানাফী মতানুসারে উশরের কোন নিসাব নেই। অল্প বা বেশী সকল পরিমাণ ফলমুল, শাকসবজী ও ফসলের জাকাত আদায় করতে হবে। ২। অন্য তিন ইমাম: মালিক, শাফেয়ী, আহমাদ ও হানাফী মাজহাবের ইমাম আবূ ইউসুফ ও অন্যান্য অনেক ফকীহের রা. মতে ভূমির উৎপাদন ৬৫৩ কিলোগ্রাম (প্রায় ১৭ মন) বা তার বেশী হলে যাকাত প্রদান করতে হবে। এর কম হলে যাকাত ফরজ হবে না। ৩। হানাফী মাজহাবের অন্য ইমাম, ইমাম মুহাম্মাদের র. এর মতে ভূমির উৎপাদন কমপক্ষে ৯৯০ কিলোগ্রাম (প্রায় ২৫ মন) হলে তাতে যাকাত ফরজ হবে। বিভিন্ন দলীল প্রমাণের দিক থেকে দ্বিতীয় মতটিই শক্তিশালী মনে হয়, তবে যেহেতু আমাদের দেশের সংখাগরিষ্ঠ মুসলিম হানাফী মত অনুস্বরণ করেন, সেহেতু আমরা প্রথম মতকেই উশরের ক্ষেত্রে মানদন্ড হিসাবে গ্রহণ করার পক্ষে। এই মতটি সাবধানতা মূলক এবং দরিদ্রদের জন্য উপকারী। মহান আল্লাহই ভাল জানেন। দলীল সহ বিস্তারিত জানতে পড়ন ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার রচিত বাংলাদেশে ফসল বা উসরের যাকাত গুরুত্ব ও প্রয়োগ বইটি।
প্রশ্নঃ 91
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। জনাব আমার প্রশ্ন হলো মানুষ মারা/ইন্তেকাল করলে কবরে রাখার সময় উত্তরদিকে মাথা দিয়ে কিবলার দিকে মুখ করে রাখা হয় কিন্তু পশু জবেহ করার সময় দক্ষিণ দিকে মাথা রাখা হয় কেন?
21 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। প্রশ্নেল্লিখিত বিষয় দুটি রাসূলুল্লাহ সা. এর যুগ থেকে এভাবেই হয়ে আসছে। বিষয়দুটিতে সব ইমাম ও ফকীহদের ঐক্যমত আছে যে, এগুলো এভাবেই সুন্নত। নিচে বিষয়দুটি সম্পর্কে আলোচনা করা হল। আশা করি আপনি আপনার উত্তর পেয়ে যাবেন। মানুষ মারা গেলে কবরে রাখার ইসলামী পদ্ধতি হলো, মৃতের শরীরকে তার ডান পাশ্বের উপর শোয়াতে হবে। চেহারা থাকবে ক্বিবলমুখী। তার মাথা ও পা থাকবে ক্বিবলার ডানে এবং বামে। অর্থাৎ ক্বিবলার দিকে আড়াআড়ি ভাবে ক্বিবলামুখী করে ডান পার্শ্বের উপর শোয়াতে হবে। রাসূরুল্লাহ সা. এর যুগ থেকে এখনো পর্যন্ত এমন ভাবেই আমল হয়ে আসছে। নিম্নের হাদীসটি দেখুন:
عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ حَدَّثَهُ - وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ - أَنَّ رَجُلاً سَأَلَهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الْكَبَائِرُ فَقَالَ ্র هُنَّ تِسْعٌ গ্ধ. فَذَكَرَ مَعْنَاهُ زَادَ وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ الْمُسْلِمَيْنِ وَاسْتِحْلاَلُ الْبَيْتِ الْحَرَامِ قِبْلَتِكُمْ أَحْيَاءً وَأَمْوَاتًا
উবাইদ ইবনে ইমাইয় তার পিতা (একজন সাহাবী) থেকে বর্ণনা করেন যে, একজন লোক রাসূল সা. কে কবীরা গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি বললেন তা নয়টি। এরপর তিনি সেগুলো উল্লেখ করলেন। তিনি আরো বৃদ্ধি করলেন, পিতা মাতার অবাদ্ধ হওয়া এবং বায়তুল হারাম কে হালাল মনে করা যেটা মৃত ও জীবিত অবস্থায় তোমাদের ক্বিবলা। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং২৮৭৭। আলবানী রহ. হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। এই হাদীস থেকে মৃত ব্যক্তির ক্বিবলামুখী করে রাখা সুন্নত এটা বুঝে আসে। আরো একটি হাদীস দেখুন: আবু কাতাদাহ রা. বলেন,
أَنَّ النَّبِىَّ -صلى الله عليه وسلم- حِينَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ سَأَلَ عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ مَعْرُورٍ فَقَالُوا : تُوُفِّى وَأَوْصَى بِثُلُثِهِ لَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ، وَأَوْصَى أَنْ يُوَجَّهَ إِلَى الْقِبْلَةِ لَمَّا احْتُضِرَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- :্র أَصَابَ الْفِطْرَةَ وَقَدْ رَدَدْتُ ثُلُثَهُ عَلَى وَلَدِهِ গ্ধ. ثُمَّ ذَهَبَ فَصَلَّى عَلَيْهِ وَقَالَ :্র اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَأَدْخِلْهُ جَنَّتَكَ وَقَدْ فَعَلْتَ
নবী সা. মদীনায় এসে বারা ইবনে মারুফের কথা জিজ্ঞাসা করলেন। লোকেরা বলল, তিনি মারা গেছেন। আর তিনি অসিয়ত করে গেছেন যে, আপনাকে তাঁর সম্পদের অর্ধেক দিয়ে দিবে এবং কবরে ক্বিবলার দিকে রাখাবে। তখন রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, সে খুবই ভাল কাজ করেছে আর আমি তার সন্তানকে তার একতৃতীয়াংশ (যা তিনি রাসূল সা. কে দিয়েছিলেন) ফিরিয়ে দিলাম। এরপর তিনি গেলেন এবং তার কবরের উপর নামায পড়লেন । এরপর দোয়া করলেন, হে আল্লাহ তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও, তার উপর দয়া কর, তাকে জান্নাত দাও। আসসুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং ৬৮৪৩। আবু হাফস উমার ইবনে আলী আশ-শাফেয়ী (৮০৪ হি.) রহ.হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আলবাদরুল মুনীর ফি তাখরীজিরল আহাদীস ওয়াল আছার, ৭/২৫১। এই হাদীস থেকে আমরা জানতে পারলাম যে কবরে ক্বিবলার দিকে রাখার অসিয়তকে রাসূল সা. উত্তম কাজ হিসেবে প্রসংসা করেছেন। আল্লামা ইবনে হাজম জাহেরী রহ. (মৃত্যু ৪৫৬ হি.) বলেন,
مَسْأَلَةٌ: وَيُجْعَلُ الْمَيِّتُ فِي قَبْرِهِ عَلَى جَنْبِهِ الْيَمِينِ, وَوَجْهُهُ قُبَالَةَ الْقِبْلَةِ, وَرَأْسُهُ وَرِجْلاَهُ إلَى يَمِينِ الْقِبْلَةِ, وَيَسَارِهَا, عَلَى هَذَا جَرَى عَمَلُ أَهْلِ الإِسْلاَمِ مِنْ عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إلَى يَوْمِنَا هَذَا, وَهَكَذَا كُلُّ مَقْبَرَةٍ عَلَى ظَهْرِ الأَرْضِ
অর্থ: মাসয়ালা: মৃত ব্যাক্তিবে কবরের ভিতর তার ডান পার্শ্বের উপর রাখতে হবে, তার চেহারা থাকবে ক্বিবলার দিকে এবং মাথা আর পা থাকবে ডান ও বাম দিকে। এভাবেই রাসূলুল্লাহ সা. এর যুগ থেকে এ পর্যন্ত মুসলমানদের আমল অব্যাহত রযেছে। আর মাটির উপর প্রতিটি কবর এমনই। আলমুহাল্লা লি ইবনে হাজম: ৫/১৭৩ (মাসয়ালা-৬১৫)। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহ. আহকামুল জানায়েজ কিতাবে উক্ত মত পোষন করেছেন। এবং তিনি ইবনে হাজম রহ. এর এই বক্তব্য সেখানে নিয়ে এসেছেন। আহকামুল জানায়েজ: ১০৩নং হাদীসের আলোচনায়। আর আমাদের দেশে এভাবে মৃত ব্যক্তিকে শোয়লে মাথা উত্তর দিকেই যায়। অবশ্য ক্বিবলা থেকে যেসব এলাকা পূর্বদিকে নেই সেখানে এভাবে শোয়ালে মৃতের মাথা উত্তর দিকে থাকবে না। পশু জবেহ করার ক্ষেত্রে ইসলামী পদ্ধতি হলো, পশুকে ক্বিবলামুখী করে শোয়াতে হবে। রাসূুল্লাহ সা. জবাইয়ের সময় শোয়াতেন বলে সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে। ক্বিবলমুখী করার ব্যাপারে সাহাবীদের কর্ম সহীহ সূত্রে পাওয়া যায়। এরপর ডান হাত দ্বারা ছুরি ধরে আর বাম হাত দ্বারা পশুর মাথা ধরে জবেহ করতে হবে। সকল আলেম ও ফকীহ এই ব্যাপারে ঐক্যমত পোষন করেছেন। দলীল: হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত আছে যে,
أن رسول الله صلى الله عليه و سلم أمر بكبش وأخذ الكبش فأضجعه ثم ذبحه
রাসূলুল্লাহ সা. একটি দুম্বা নিয়ে আসার জন্য আদেশ করলেন। দুম্বা নিয়ে আসা হলো। তিনি পশুটিকে শোয়ালেন তারপর জবেহ করলেন। সহীহ মুসলিম: হাদীস নং ১৯৬৭। ইবনে উমার থেকে সহীহ সনদে জবেহ করার সময় পশু ক্বিবলামুখী করার কথা উল্লেখ আছে। নিচে তাঁর থেকে বর্ণিত মাওকুফ হাদীসগগুলো উল্লেখ করা হলো:
عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُمَا : أَنَّهُ كَانَ يَسْتَحِبُّ أَنْ يَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ إِذَا ذَبَحَ
অর্থ: নাফে ইবনে উমার থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি পশু জবেহ করার সময় ক্বিবলামুখী হওয়াকে ভালবাসতেন। আসসুনানুল কুবরা : হাদীস নং১৯৬৪৭
عن نافع أن بن عمر كان يكره أن يأكل ذبيحة ذبحه لغير القبلة
অর্থ: নাফে বর্ণনা করেন যে, যে পশুকে ক্বিবলামুখী করে জবেহ করা হয়নি ইবনে উমার তার গোশত খাওয়াকে অপছন্দ করতেন। মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক: হাদীস নং ৮৫৮৫। শায়খ আলবানী বলেছেন,সনদ সহীহ। মানাসিকুল হাজ্ব ওয়াল উমরাহ:১/৩৪ একটি মারফু হাদীসেও ক্বিবলমুখী করার কথা উল্লেখ আছে, তবে হাদীসটি সহীহ নয়। হাদীসটি নিম্নরুপ: হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রা. বলেন,
ذَبَحَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- كَبْشَيْنِ يَوْمَ الْعِيدِ فَلَمَّا وَجَّهَهُمَا قَالَ فَذَكَرَ الدُّعَاءَ ثُمَّ قَالَ :্র اللَّهُمَّ مِنْكَ وَلَكَ عَنْ مُحَمَّدٍ وَأُمَّتِهِ গ্ধ. وَسَمَّى وَذَبَحَ. وَفي رواية أخري وَجَّهَهُمَا إِلَى الْقِبْلَةِ حِينَ ذَبَحَ
রাসূলুল্লাহ সা. একবার ঈদের দিন দুইটি দুম্বা জবেহ করলেন। যখন পশুদুটিকে অভিমুখী করলেন অন্য বর্ণনায় ক্বিবলমুখী করলেন তখন উক্ত দুয়া পড়লেন এবং বিসমিল্লাহ বলে জবেহ করলেন। আসসুনানুল কুবরা লিল-বায়হাক্কী: হাদীস নং ১৯৬৫৭। হাদীসটি সহীহ নয়। সহীহ মুসলিমের উক্ত হাদীসের ব্যখ্যায় ইমাম নববী রহ. বলেন,
وَاتَّفَقَ الْعُلَمَاء وَعَمَل الْمُسْلِمِينَ عَلَى أَنَّ إِضْجَاعهَا يَكُون عَلَى جَانِبهَا الْأَيْسَر ؛ لِأَنَّهُ أَسْهَل عَلَى الذَّابِح فِي أَخْذ السِّكِّين بِالْيَمِينِ ، وَإِمْسَاك رَأْسهَا بِالْيَسَارِ
আলেমগন ঐক্যমত পোষণ করেছেন এবং মুসলমানদের আমল এর উপরে যে, পশুকে জবেহ করার সময় তার বাম পাশ্বের উপর শোয়াতে হবে কেননা ডানহাত দ্বারা ছুরি ধরে আর বাম হাত দ্বারা মাথা ধরে জবেহ করার জন্য এটা সবচেয়ে সহজ পদদ্ধতি। শরহে নববী আলা মুসলিম :৬/৪৬০। কাজী ইয়াজ রহ. বলেন,
سُنة فى صفة الذبح ، من إضجاعه برفق ، ولا تذبح قائمة ولا باركة ، ومضى العمل باضجاعها على الشق الاْيسر ؛ لأنه أهنأ لمناولة ذبحها باليمين وإمساك رأسها باليسار
অর্থ: জবেহ করার ক্ষেত্রে সুন্নাত হলো, কোমল ভাবে শোয়াতে হবে। দাঁড় করিয়ে কিংবা বসিয়ে জবেহ করা যাবে না। আমল অব্যাহত আছে এভাবে যে, পশুকে বাম পার্শ্বের উপর শোয়াতে হবে, কেননা ডান হাত দ্বারা ছুরি ধরা এবং বাম হাত দ্বারা মাথা ধরে জবেহ করার জন্য এটাই সবচেয়ে উপযোগী সহজ পদ্ধতি। শরহে সহীহ মুসলিম লিল কাজী ইয়াজ: ৬/২১০। এই বিষয়ে ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেন,
وأحب في الذبيحة أن توجه إلى القبلة
অর্থ: ক্বিবলামুখী করে জবেহ করা আমার নিকট অধিক প্রিয়। মারিফাতুস সুনান লিল- বায়হাক্কী:১৪/৪৫। আর আমাদের দেশে ক্বিবলমুখী করে বাম পাশ্বের উপর শোয়ালে মাথা দক্ষিন দিকে আর পা উত্তর দিকে থাকে। আর যেসব এলাকা ক্বিবলা থেকে পূবর্ দিকে নয় তাদের ক্ষেত্রে মাথা দক্ষিনে থাকবে না। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, হাদীস ও উম্মতের কর্মধারা প্রমাণ করে যে, এই দুটি বিষয় এভাবেই সুন্নাত। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুষ দান করুন।
প্রশ্নঃ 81
আমাদের বাসায় এক মহিলা এসে আমার নানার কাছে ফাতিহার কথা বলে কিছু পানি আর ভাত তরকারি এনে দিল আর ফাতিহা শেষ হওয়ার পর ভাত গুলো রেখে পানি গুলো নিয়ে উনি ছলে গেলেন। এখন এই ভাত গুলো খাওয়া জায়েয কি না?
20 Dec 2025
এটা এক ধরনের মূর্খতাপূর্ণ সুন্নাহ বিরোধী বিদআত কাজ। ফাতিহা নামে কোন অনুষ্ঠান বা আমলের অস্তিত্ব শরীয়তে নেই। সুতরাং এমন অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। আপনার প্রশ্নে বর্নিত ভাতও না খাওয়া উচিৎ। বিস্তারিত জানতে পড়ুন, প্রফেসার ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত এহইয়াউস সুনান বইটি।
প্রশ্নঃ 77
স্যার সালাম নিবেন,আশাকরি ভাল আছেন। আমার একটা প্রশ্ন জন্মদিন পালন নিয়ে ইসলামের আসল সমাধান টা কি? আমি বিব্রতবধ করি জখন সকালে উঠে দেখি আমার মোবাইলে শুভ জন্মদিন বলে একাধিক মে-সেজ / -ফেসবুক খুলে দেখি ১২৯টারও বেশি । আমি কি করব বুঝতে পারছিনা? তাদের এই শুভকামনার জবাবই বা কি দিবো?বৈধ উপায়ে পালনের সুযোগ আছে কি-না? যেমন অনেকে বই উপহার দেয়, আবার অনেকে দোয়া করে ইত্যাদি জানালে খুশি হব। ।
20 Dec 2025
জন্মদিন পালন করা ইসলামে জায়েজ নেই। কোন সাহাবী, তাবেঈ কিংবা তাবে তাবেঈ কারো জন্মদিন পালন করেননি । সুতরাং কাউকে কিছু হাদিয়া দিয়ে কিংব অন্য কোন উপায়ে জন্মদিন পালন করা যাবে না।
প্রশ্নঃ 90
ami dr.abdullah jahangir sir er aih-ea-us sunan, rahe balayet, monajat o namaj boi porasi and bar bar portesi . amer mone namajer modhe dua monajat bisoea kiso prosno jagase kindly sir amake answer diben khob bipode asi, ai dua / monajat korte gea bid-at na hoea jai? 1. eaka or jamat e foroj namaj sese dua masura porer por onno kono dua pora jabe ki? or allah r kase banglai kono kiso chaoa jabe ki? 2.eaka foroj namaj porar por haat tule monajat kora jabe ki? 3.tahajoot namaj e dua masura porer por salam firanor agae allahr kase banglai kiso chaoa jabe ki? naki salam firanor por haat tule masnoon dua pore banglai allahor kase kiso chaite hobe?
21 Dec 2025
দুআ মাসূরা অর্থ কুরআন কিংবা হাদীস শরীফে বর্ণিত দুআ। সুতরাং ফরজ সালাতের শেষ বৈঠকে আপনি এক বা একাধিক দুআ মাসূরা পড়তে পারেন। তবে দুআ মাসূরা ব্যতিত অন্য কোন দুআ কিংবা বাংলায় দুআ করা যাবে না। আর ফরজ নামায শেষে আপনি হাত তুলে দুআ করতে পারবেন, কোন সমস্যা নেই।
প্রশ্নঃ 89
আস-সালামু আলাইকুম হুজুর তছবি গুনা সুন্নত কিনা এ সম্পর্কে সহি ও জইফ কোন হাদীস আছে কিনা?
21 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। সালাতুত তাসবীহ বিষয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো যিকেরের মূল চারটি বাক্য: তাসবীহ সুবহানাল্লাহ তাহমীদ আল-হামদু লিল্লাহ তাহলীল লা- ইলাহা ইল্লল্লাহ এবং তাকবীর আল্লাহু আকবার । সালাতুত তাসবীহ -এর মধ্যে সালাতরত অবস্থায় এ যিক্রগুলো পাঠ করা হয়। চার রাকআত সালাতে প্রতি রাকআতে ৭৫ বার করে চার রাকআতে মোট ৩০০ বার উক্ত যিক্রগুলো আদায় করা হয়।
عَنْ أَبِى رَافِعٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- لِلْعَبَّاسِ يَا عَمِّ أَلاَ أَصِلُكَ أَلاَ أَحْبُوكَ أَلاَ أَنْفَعُكَ قَالَ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ يَا عَمِّ صَلِّ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ تَقْرَأُ فِى كُلِّ رَكْعَةٍ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَسُورَةٍ فَإِذَا انْقَضَتِ الْقِرَاءَةُ فَقُلِ اللَّهُ أَكْبَرُ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ خَمْسَ عَشْرَةَ مَرَّةً قَبْلَ أَنْ تَرْكَعَ ثُمَّ ارْكَعْ فَقُلْهَا عَشْرًا ثُمَّ ارْفَعْ رَأْسَكَ فَقُلْهَا عَشْرًا ثُمَّ اسْجُدْ فَقُلْهَا عَشْرًا ثُمَّ ارْفَعْ رَأْسَكَ فَقُلْهَا عَشْرًا ثُمَّ اسْجُدِ الثَّانِيَةَ فَقُلْهَا عَشْرًا ثُمَّ ارْفَعْ رَأْسَكَ فَقُلْهَا عَشْرًا قَبْلَ أَنْ تَقُومَ فَتِلْكَ خَمْسٌ وَسَبْعُونَ فِى كُلِّ رَكْعَةٍ وَهِىَ ثَلاَثُمِائَةٍ فِى أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ فَلَوْ كَانَتْ ذُنُوبُكَ مِثْلَ رَمْلِ عَالِجٍ لَغَفَرَهَا اللَّهُ لَكَ . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَنْ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَقُولَهَا فِى كُلِّ يَوْمٍ قَالَ فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ أَنْ تَقُولَهَا فِى كُلِّ يَوْمٍ فَقُلْهَا فِى جُمُعَةٍ فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ أَنْ تَقُولَهَا فِى جُمُعَةٍ فَقُلْهَا فِى شَهْرٍ . فَلَمْ يَزَلْ يَقُولُ لَهُ حَتَّى قَالَ فَقُلْهَا فِى سنة.
অর্থ: আব রাফে (আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস) রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. তাঁর চাচা আব্বাস (রা)-কে বলেন: চাচাজি, আমি আপনাকে একটি বিশেষ উপহার ও বিশেষ অনুদান প্রদান করব, যা পালন করলে আল্লাহ আপনার ছোট, বড়, ইচ্ছাকৃত, অনিচ্ছাকৃত, প্রকাশ্য, গোপন সকল গোনাহ ক্ষমা করবেন। তা এই যে, আপনি চার রাকআত সালাত আদায় করবেন। প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহা ও অন্য যে কোনো একটি সূরা পাঠ করবেন। প্রথম রাকআতে সূরা ফাতিহা ও অন্য যে কোনো সূরা পাঠের পর দাঁড়ানো অবস্থায় ১৫ বার বলবেন سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ للهِ، وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ، وَاللهُ أَكْبَر উচ্চারণ: সুবহা-নাল্লাহ, ওয়ালহামদুলিল্লাহ, ওয়ালা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লা-হু আকবার । এরপর রুকুতে গিয়ে রুকু অবস্থায় উপরের যিক্রগুলো ১০ বার, রুকু থেকে উঠে দাঁড়ানো অবস্থায় ১০ বার, সাজদা রত অবস্থায় ১০ বার, প্রথম সাজদা থেকে উঠে বসা অবস্থায় ১০ বার, দ্বিতীয় সাজদায় ১০ বার এবং দ্বিতীয় সাজদা থেকে উঠে (বসা অবস্থায়) ১০ বার। এ মোট এক রাকআতে ৭৫ বার (চার রাকআতে মোট ৩০০ বার)। সম্ভব হলে আপনি প্রতিদিন একবার, না হলে প্রতি সপ্তাহে একবার, না হলে প্রতি মাসে একবার, না হলে প্রতি বছর একবার, না হলে সারা জীবনে একবার এ সালাত আপনি আদায় করবেন। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৪৮২। সালাতুত তাসবীহ সংক্রান্ত অধিকাংশ হাদীসই অত্যন্ত যয়ীফ সনদে বর্ণিত। একমাত্র এ হাদীসটিকে অনেক মুহাদ্দিস সহীহ হিসাবে গ্রহণ করেছেন। যদিও অনেক মুহাদ্দিস হাদীসটির ভাব ও ভাষা বিষয়েও আপত্তি করেছেন। ইমাম তিরমিযী প্রখ্যাত তাবে-তাবেয়ী আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক (১৮১ হি) থেকে সালাতুত তাসবীহ-এর আরেকটি নিয়ম উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে এ অতিরিক্ত যিক্র আদায়ের নিয়ম: নামায শুরু করে শুরুর দুআ বা সানা পাঠের পরে ১৫ বার, সূরা ফাতিহা ও অন্য কোনো সূরা শেষ করার পরে ১০ বার, রুকুতে ১০ বার, রুকু থেকে উঠে ১০ বার, প্রথম সাজদায় ১০ বার, দুই সাজাদার মাঝে ১০ বার ও দ্বিতীয় সাজদায় ১০ বার মোট ৭৫ বার প্রতি রাকআতে। অর্থাৎ, এ নিয়মে কিরাআতের পূর্বে ও পরে দাঁড়ানো অবস্থায় ২৫ বার তাসবীহ পাঠ করা হয় আর দ্বিতীয় সাজদার পরে বসা অবস্থায় কোনো তাসবীহ পড়া হয় না। পূর্বের হাদীসে বর্ণিত নিয়মে কিরাআতের পূর্বে কোনো তাসবীহ নেই। দাঁড়ানো অবস্থায় শুধু কিরাআতের পরে ১৫ বার তাসবীহ পড়তে হবে। প্রত্যেক রাকআতে দ্বিতীয় সাজদার পরে বসে ১০ বার তাসবীহ পড়তে হবে। ইবনুল মুবারক বলেন, যদি এ সালাত রাত্রে আদায় করে তবে দু রাকআত করে তা আদায় করবে। অর্থাৎ, দু রাকআত শেষে সালাম ফিরিয়ে আবার দু রাকআত আদায় করবে। আর দিনের বেলায় ইচ্ছা করলে একত্রে চার রাকআত অথবা ইচ্ছা করলে দু রাকআত করেও আদায় করতে পারে। সালাতুত তাসবীহ-এ রুকু ও সাজদায় প্রথমে রুকু ও সাজদার তাসবীহ সুবহানার রাব্বিয়্যাল আযীম ও সুবহানা রাব্বিয়্যাল আলা নূন্যতম তিন বার করে পাঠ করার পরে অতিরিক্ত তাসবীহগুলো পাঠ করতে হবে। তিরমিযী (আবওয়াবুস সালাত, সালাতুত তাসবীহ) ২/৩৪৭-৩৫০ (ভারতীয় ১/১০৯); আবূ দাউদ ২/২৯, নং ১২৯৭, (ভারতীয় ১/১৮৩); সুনানু ইবনি মাজাহ ১/৪৪২, নং ১৩৮৬, ১৩৮৭, (ভারতীয় ১/৯৯); মুসতাদরাক হাকিম ১/৪৬৩-৪৬৪, সহীহ ইবনু খুযাইমা ২/২৩-২৪, হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ২/২৮১-২৮৩, আলবানী, সহীহুত তারগীব ১/৩৫৩-৩৫৫।
প্রশ্নঃ 88
আস্সালামু আলাইকু ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমার প্রশ্ন হল আমি ঘুমের গড়ে অনেক ভাল এবং খারাপ সপ্ন দেখে থাকি এই সপ্ন সম্পকে আমাদের কি বিশ্বাস থাকা উচিৎ?
21 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। নবীদের স্বপ্ন ওহী হিসাবে গণ্য। অন্যান্য মানুষের স্বপ্নের ব্যাপারে হাদীসের স্পষ্ট নির্দেশনা আছে। নিচে দলীলসহ বিস্তারিত আলোচনা করা হল: নবী রাসূলদের স্বপ্ন ওহী। তাঁরা স্বপে যা দেখেন তা সত্য। ইবনে আব্বাস রা. বলেন, رؤيا الأنبياء وحي অর্থ: নবীদের স্বপ্ন ওহী। আলমুসতাদরিক লিল-হাকীম, হাদীস নং ৩৬১৩। হাকীম রহ. বলেন, হাদীসটি বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ। কিন্তু তারা বর্ণনা করেনি। ইমাম যাহাবী তালখীস এর মধ্যে বলেছেন, হাদীসটি বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী। হযরত আয়েশা রা. বলেন,
أَوَّلُ مَا بُدِئَ بِهِ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْوَحْيِ الرُّؤْيَا الصَّادِقَةُ فِي النَّوْمِ فَكَانَ لاَ يَرَى رُؤْيَا إِلاَّ جَاءَتْ مِثْلَ فَلَقِ الصُّبْحِ
যার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে প্রথম ওহী আসা শুরু হয় তা হল সত্য স্বপ্ন। তিনি যা দেখতেন ভোরের আলোর মত তা সত্য হত। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৯৮৩। ইমাম বখারী রহ. তার সহীহ গ্রন্থে বলেছেন,
قَالَ عَمْرٌو سَمِعْتُ عُبَيْدَ بْنَ عُمَيْرٍ يَقُولُ : إِنَّ رُؤْيَا الأَنْبِيَاءِ وَحْيٌ ثمَّ قَرَأَ :{إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ}
আমর বলেছেন, আমি উবায়েদ ইবনে উমায়েরকে বলতে শুনেছি, নিশ্চয় নবীদের স্বপ্ন ওহী। এরপর তিনি কুরআনের উপরুক্ত আয়াত তেলাওয়াত করেন। (উবায়েদ ইবনে উমায়ের ইবনে আব্বাসের ছাত্র) । সহীহ বুখারী হাদীস নং ৮৫৯। উপরুক্ত দলীলসমূহ দ্বারা স্পষ্ট যে, নবীদের স্বপ্ন ওহী ও সত্য। উম্মতের সকলে এ ব্যাপারে একমত। আমরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্বপ্ন দেখি। এই সব স্বপ্নের ব্যাপারে আমাদের কি বিশ্বাস রাখতে সে বিষয়ে আবু সাইদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
إِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ رُؤْيَا يُحِبُّهَا فَإِنَّمَا هِيَ مِنَ اللهِ فَلْيَحْمَدِ اللَّهَ عَلَيْهَا وَلْيُحَدِّثْ بِهَا ، وَإِذَا رَأَى غَيْرَ ذَلِكَ مِمَّا يَكْرَهُ فَإِنَّمَا هِيَ مِنَ الشَّيْطَانِ فَلْيَسْتَعِذْ مِنْ شَرِّهَا ، وَلاَ يَذْكُرْهَا لأَحَدٍ فَإِنَّهَا لاَ تَضُرُّهُ
তোমাদরে কউে যদি এমন স্বপ্ন দখেে যা সে পছন্দ কর,ে তাহলে জানবে যে তা আল্লাহর পক্ষ থকেে দখোনো হয়ছে। তখন সে যনে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করে ও অন্যদরে কাছে র্বণনা কর। আর যদি স্বপ্ন অপছন্দরে হয়, তাহলে বুঝে নবেে এটা শয়তানরে পক্ষ থকেে হয়ছে। তখন সে শয়তানরে ক্ষতি থকেে আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় র্প্রাথনা করবে আর এ স্বপ্নরে কথা কারো কাছে বলবে না। কারণ খারাপ স্বপ্ন তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৯৮৫ আবু কাতাদাহ রা থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ مِنَ اللَّهِ فَإِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ مَا يُحِبُّ فَلاَ يُحَدِّثُ بِهَا إِلاَّ مَنْ يُحِبُّ وَإِنْ رَأَى مَا يَكْرَهُ فَلْيَتْفِلْ عَنْ يَسَارِهِ ثَلاَثًا وَلْيَتَعَوَّذْ بِاللَّهِ مِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشَرِّهَا وَلاَ يُحَدِّثْ بِهَا أَحَدًا فَإِنَّهَا لَنْ تَضُرَّهُ
সত্য স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে । যখন তোমাদের কেউ এমন স্বপ্ন দেখে যা সে ভালবাসে তাহলে তাহলে তা এমন লোকদের কাছেই শুধু বলবে যে তাকে ভালবাসে। আর যদি এমন স্বপ্ন দেখে যা সে অপছন্দ করে তাহলে বাম দিকে তিন বার থুথু ফেলে এবং আল্লাহর কাছে শয়তানের অনিষ্ঠতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবে। আর এই স্বপ্নের কথা কারো কাছে বলবে না। কেননা তা তার কোন ক্ষতিকরতে পারবে না। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৬১। হযরত জাবির রা. বলেন,
جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ رَأَيْتُ فِى الْمَنَامِ كَأَنَّ رَأْسِى قُطِعَ. قَالَ فَضَحِكَ النَّبِىُّ -صلى الله عليه وسلم- وَقَالَ ্র إِذَا لَعِبَ الشَّيْطَانُ بِأَحَدِكُمْ فِى مَنَامِهِ فَلاَ يُحَدِّثْ بِهِ النَّاسَ
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামরে কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি স্বপ্নে দখেছে, আমার মাথা কটেে ফলো হয়ছে। এ কথা শুনে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হসেে ফলেলনে। আর বললনে : ঘুমরে মধ্যে শয়তান তোমাদরে কারো সাথে যদি দুষ্টুমি কর, তবে তা মানুষরে কাছে বলবে না। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৬৮। হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
إن الرؤيا تقع على ما تعبر و مثل ذلك رجل رفع رجله فهو ينتظر فهو متى يضعها فإذا رأى أحدكم رؤيا فلا يحدث بها إلا ناصحا أو عالما
অর্থ: স্বপ্ন ব্যখ্যা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হয়। তাই যখন তোমাদের কেউ স্বপ্ন দেখে সে যেন কল্যানকামী ব্যক্তি ও আলেম ব্যাতিত অন্য কারো নিকট তা বর্ণনা না করে। মুসতাদরিকে হাকেম, হাদীস নং ৮১১৭। হাকেম রহ. বলেছেন হাদীসটর সনদ সহীহ। আল্লামা জাহাবী রহ. তালখীস এর মধ্যে হাদীরটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ আলবানীও বলেছেন, হাদীসটি সহীহ। (সহীহ ও জয়ীফ জামিউস সগীর, হাদীস নং ২৪৯২) উপরের হাদীসগুলোতে থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, ভাল স্বপ্ন আল্লাহ তায়ালার দান। ভাল স্বপ্ন দেখলে আল্লাহর প্রসংসা করতে হবে এবং প্রিয় মানুষদেরকে বলা যবে । খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে হয়। এমন স্বপ্ন দেখলে বাম দিকে তিন বার থুথু ফেলতে হবে এবং শয়তানের অকল্যান থেকে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে। আর খারাপ স্বপ্ন কারো কাছে বলা যাবে না। তবে মনে রাখতে খারাপ স্বপ্ন দেখলে মানুষের কোন ক্ষতি হয় না বা তা মানুষকে কোন ক্ষতি করতে পারে না। এই অর্থের আরো হাদীস বিভিন্ন সাহাবী থেকে সহীহসূত্রে বর্ণিত আছে। হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : الرُّؤْيَا الْحَسَنَةُ مِنَ الرَّجُلِ الصَّالِحِ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ
রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, সৎ লোকদের থেকে ভাল স্বপ্ন নবুওয়াতের ৪৬ ভাগের এক ভাগ। (অর্থাৎ সত্য স্পষ্ট)। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৯৮৩। কোন হাদীসে ৪৫ ভাগের একভাগ আবার কোন হাদীসে ৭০ ভাগের এক ভাগের কথাও বর্ণিত আছে। এই হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম নববী বলেন, আল্লামা খাত্তবী রহ. বলেছেন
وانما كانت جزءا من أجزاء النبوة في حق الأنبياء دون غيرهم وكان الأنبياء صلوات الله وسلامه عليهم يوحي اليهم في منامهم كما يوحي اليهم في اليقظة
অর্থ: এটা নবীদের ক্ষেত্রে প্রযোয্য, অন্যান্যদের ক্ষেত্রে নয়। কেননা নবীদের নিকট জাগ্রত অবস্থায় যেমন ওহী আসত তেমনি ঘুমের ভিতরেও আসত। শরহে নববী আলা মুসলিম, হাদীস নং ২২৬৪। এই হাদীসের অবশ্য অন্যান্য ব্যাখ্যাও আছে। অনেকে এই হাদীসের অপব্যাখ্যা করে ওলী, দরবেশ কিংব আল্লাহর প্রিয় মানুষদের স্বপ্নকে দলীল হিসাবে সাব্যস্ত করতে চায়। কিন্তু এটা ঠিক না। নবী-রাসূণগণ বাদে অন্যদের স্বপ্ন দলীল হতে পারে না, সুন্নত হতে পারে না। স্বপ্নের মাধ্যমে কোন ইবাদত সাব্যস্ত হয় না, তদ্রুপ স্বপ্নের মাধ্যমে কোন হাদীসের সত্যতাও যাচাই করা যায় না। স্বপ্ন একান্ত ব্যক্তিগত আবেগ অনুভুতির ব্যাপার। কাশফ, ইলহামের ব্যাপারেও একই কথা প্রযোয্য। এই বিষয়ে আরো জানতে পড়ুন ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত এহ্ইয়াইস সুনান বইয়ের ২০৮ থেকে ২১৪ পৃষ্ঠা । আল্লহ তায়ালা আমাদের সঠিক বিষয় বুঝার তাওফীক দিন, আমীন।
প্রশ্নঃ 87
কবর জিয়ারতের সময় কুরআন তিলাওয়াত করা যাবে কি?
20 Dec 2025
কবর জিয়ারতের সময় কুরআন তেলাওয়াতের বিষয়টি সুন্নাহ সম্মত নয়। রাসূলুল্লাহ সা. কবর জিয়ারতের সময় কুরআন শরীফের কোন সূরাহ পড়েছেন এমন জানা যায় না। কবর জিয়ারত কিভাবে করতে হয় তা আমরা আবু বুরদাতা রা. থেকে বর্ণিত এই হাদীস থেকে জানতে পারি । তিনি বলেন,
كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ يُعَلِّمُهُمْ إِذَا خَرَجُوا إِلَى الْمَقَابِرِ ، كَانَ قَائِلُهُمْ يَقُولُ : السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ ، نَسْأَلُ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ
রাসূলুল্লাহ সা. মানুষদেরকে শিক্ষা দিতেন, যখন তারা কবরের কাছে যাবে তখন বলবে, হে মূমিন, মুসলিম ঘরবাসী তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ চাহে তো আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হবো। আমরা আমাদের জন্য এবং তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৫৪৭। শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সুতরাং কবর জিয়ারতের সময় কুরআন তেলাওয়াতের প্রয়োজন নেই।
প্রশ্নঃ 86
স্যার আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমার প্রশ্ন হল: পবিত্রতা অর্জনের জন্য পানি ব্যবহারের পূর্বে ডিলা-কুলুপ ব্যবহারের বিধান কি? আমরা অনেকেই মনে করি পানি ব্যবহারের পূর্বে ডিলা-কূলুপ ব্যবহার না করলে তার পবিত্রতা অর্জন হয় না। এছাড়া বলা হয় ডিলা-কূলুপ না নিলে তার হাতের খাবার খাওযা যাবে না?
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। পবিত্রতা অর্জনের জন্য শুধু ঢিলা কিংবা শুধু পানি কিংবা উভয়টি ব্যবহার করা যেতে পারে। শুধু পানি ব্যবহার করা শুধু ঢিলা ব্যবহার করা থেকে উত্তম। হাদীসে এমনটিই পাওয়া যায়। ঢিলা ও পানি উভয়টি একসাথে ব্যবহার করা ব্যাপারে হাদীসে তেমন পাওয়া যায় না। তবে উভয়টি এক সাথে ব্যবহার করাকে আলেমগণ সবচেয়ে উত্তম বলেছেন। আর ঢিলা ব্যবহার না করলে তার হাতের খাবার খাওয়া যাবে না এ কখা ঠিক না। নিচে দলীলসহ বিস্তারিত আলোচনা করা হল: শুধু ঢিলা ব্যবহারের দলীল:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ اتَّبَعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَخَرَجَ لِحَاجَتِهِ فَكَانَ لاَ يَلْتَفِتُ فَدَنَوْتُ مِنْهُ فَقَالَ ابْغِنِي أَحْجَارًا أَسْتَنْفِضْ بِهَا ، أَوْ نَحْوَهُ ، وَلاَ تَأْتِنِي بِعَظْمٍ ، وَلاَ رَوْثٍ فَأَتَيْتُهُ بِأَحْجَارٍ بِطَرَفِ ثِيَابِي فَوَضَعْتُهَا إِلَى جَنْبِهِ وَأَعْرَضْتُ عَنْهُ فَلَمَّا قَضَى أَتْبَعَهُ بِهِنَّ
হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি নবী সা. সাথে ছিলাম আর তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হলেন। তখন তিনি এদিক ওদিক তাকালেন না। আমি তার নিকটবর্তী হলাম। তিনি বললেন, কিছু পাথর কিংবা এ জাতীয় কোন বস্তু নিয়ে আস, তা দ্বারা আমি ইস্তেনজা করব। হাড় কিংব গোবর নিয়ে আসবে না। আমি আমার কাপড়ের আঁচলে কিছু পাথর নিয়ে আসলাম এবং তার পাশে রাখলাম। এরপর সেখান থেকে চলে আসলাম। তিনি যখন তার প্রয়োজন পূর্ণ করলেন সেগুলো ব্যবহার করলেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫৫
عَنْ سَلْمَانَ قَالَ قِيلَ لَهُ قَدْ عَلَّمَكُمْ نَبِيُّكُمْ -صلى الله عليه وسلم- كُلَّ شَىْءٍ حَتَّى الْخِرَاءَةَ. قَالَ فَقَالَ أَجَلْ لَقَدْ نَهَانَا أَنْ نَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ لِغَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِىَ بِالْيَمِينِ أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِىَ بِأَقَلَّ مِنْ ثَلاَثَةِ أَحْجَارٍ أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِىَ بِرَجِيعٍ أَوْ بِعَظْمٍ
হযরত সালমান ফারসী রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, তাকে বলা হল, তোমাদের নবী তোমাদের সব কিছু শিক্ষা দেয় এমনকি পেশাব পায়খানার বিষয়েও? তিনি বলেন, তখন তিনি বললেন, হ্যা, তিনি আমাদের নিষেধ করেছেন কিবলার দিকে মুখ করে পেশাব পায়খানা করতে, ডান হাত দ্বারা ইস্তেনজা করতে, তিনটার কমে পাথর ব্যবহার করতে এবং হাড় ও গোবর দ্বারা ইস্তেনজা করতে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৬২ শুধু পানি ব্যবহারের দলীল:
عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَدْخُلُ الْخَلاَءَ فَأَحْمِلُ أَنَا وَغُلاَمٌ إِدَاوَةً مِنْ مَاءٍ وَعَنَزَةً يَسْتَنْجِي بِالْمَاءِ
আতা ইবনে আবী মায়মুনাহ থেকে বর্ণিত, তিনি আনাস ইবনে মালিক রা. কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ সা.পায়খানায় যেতেন আর আমি এবং একজন বালক পানির পাত্র ও লাঠী বহন করতাম। তিন তা দ্বারা ইস্তেনজা করতেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫২।
عن أبي هريرة : عن النبي صلى الله عليه و سلم قال نزلت هذه الآية في أهل قباء { فيه رجال يحبون أن يتطهروا والله يحب المطهرين } قال كانوا يستنجون بالماء فنزلت هذه الآية فيهم
হযরত আবু হুরায়রা রা. রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, এই আয়াত সেখানে কিছু লোক আছে যারা পবিত্রতা অর্জন করতে ভালবাসে আর আল্লাহও তাদের ভালবাসেন কুবা বাসীদের ক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বলেন তারা পানি দ্বারা ইস্তেনজা করত তাই তাদের ক্ষেত্রে এই আয়াত তাদের ক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছে। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩১০০। হাদীসটি সহীহ। উভয়টি একসাথে ব্যবহারের দলীল:
عن ابن عباس قال: لما نزلت هذه الآية في أهل قباء {فيه رجال يحبون أن يتطهروا والله يحب المتطهرين} فسألهم رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا: إنا نتبع الحجارة الماء
অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, যখন কুবা বাসীদের ক্ষেত্রে এই আয়াত নাযিল হল সেখানে কিছু লোক আছে যারা পবিত্রতা অর্জন করতে ভালবাসে আর আল্লাহও তাদের ভালবাসেন তখন রাসূলুল্লাহ সা. তাদেরকে প্রশ্ন করলেন, তারা বলল,আমার ঢিলার পরে পানি ব্যবহার করি মুসানাদে বাযযার। হাদীসটি মুহাদ্দিসদের সর্বাক্যমতে দূর্বল। আল্লামা নুরুদ্দীন হাইছামী বলেন,
رواه البزار وفيه محمد بن عبد العزيز بن عمر الزهري ضعفه البخاري والنسائي وغيرهما
হাদীসটি বাযযার বর্ণনা করেন, সনদে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আযীয ইবনে উমার আযযুহরী নামে একজন বর্ণনাকারী আছে যাকে ইমাম বুখারী ও নাসায়ী ও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ দূর্বল বলেছেন। মাজমাউজ ঝাও-ইদ, হাদীস নং১০৫৩। এছাড়াও এই সনদে আব্দুল্লাহ ইবনে শাবীব নামে একজন রাবী আছেন যাকে মুহাদ্দিসগণ অত্যন্ত দূর্বল বলেছে। লিসানুল মিযান, নং ৪২৭৩। তার পূর্ণ নাম আব্দুল্লাহ ইবনে শাবীব আর রবঈ আবু সাইদ আল মাদানী আলইখবারী। তবে তৃতীয় হিজরী শতকের প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিক আবূ যাইদ আমর ইবন শুব্বা বাসরী (২৬২ হি) সম্পূর্ণ পৃথক সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, হাদীসটির ভিত্তি ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আমর ইবন শুব্বাহ, তারীখুল মাদীনাতিল মুনাওয়ারা (বৈরুত, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১৯৯৬ খৃ) ১/৩৩: শাইখ আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ দুওয়াইশ, তাম্বীহুল কারী আলা তাকবিয়াতি মা যাআফাহুল আলবানী (শামিলা), পৃষ্ঠা ৬২। হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত আছে তিনি বলেছেন, فَأَتْبِعُوا الْحِجَارَةَ الْمَاءَ অর্থ: তোমার পাথরের সাথে পানি ব্যবহার কর। আস-সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্কী, হাদীস নং ৫২৯। আল্লামা জাইলায়ী রহ. বলেছেন, এটা একটি ভাল আছার। নাসবুর র-ইয়হা, ১/২১৯। আর সনদে বিচ্ছন্নতার কারণে শাইখ আলবানী বলেছেন, ভাল নয়। সিলসিলাতুন দ-ইফাহ, হাদীস নং ১০৩১। আলেমগণ দুটাকে একা সাথে ব্যবহার করাকে উত্তম বলেছেন, ফিকহের কিতাবগুলোতে তা উল্লেখ আছে। আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রহি. (১২৫২হি.)বলেন,
اعْلَمْ أَنَّ الْجَمْعَ بَيْنَ الْمَاءِ وَالْحَجَرِ أَفْضَلُ ، وَيَلِيهِ فِي الْفَضْلِ الِاقْتِصَارُ عَلَى الْمَاءِ ، وَيَلِيهِ الِاقْتِصَارُ عَلَى الْحَجَرِ وَتَحْصُلُ السُّنَّةُ بِالْكُلِّ
অর্থ: জানা আবশ্যক যে, পাথর ও পানি একসাথে ব্যবহার করা সবচেয়ে উত্তম। উত্তমের দিক দিয়ে তার নিকটবর্তী হল শুধু পানি আর তার নিকটবর্তী হল শুধু ঢিলা। তবে প্রত্যেক পদ্ধতির মাধ্যমেই সুন্নাত আদায় হবে। রদ্দুল মুহতার, ৩/৪১। আরো দেখুন, আলওয়াসিত লিল ইমাম গাযালী (৫০৫ হি.), ১/৩১০; আল ফিকহ ফি আহমাদ ইবনে হাম্বাল লি ইবনে কুদামা আলমাকদিসী, ১/৯৫; হিলয়াতুল উলামা, ১/৭১; আল ফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবা,১/৮২। উপরের আলোচনা থেকে আমরা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, ঢিলা ও পানি একসাথে ব্যবহার করা সবচেয়ে উত্তম এরপর শুধু পানি এরপর শুধু ঢিলা। সুতরাং ঢিলা ব্যবহার না করলে তার হাতের খাবার খাওয়া যায় না এ কথা সম্পূর্ণ বাতিল। আল্লাহ সবচেয়ে ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 85
মানুষ মারা গেলে মেজবান হয়। এই মেজবানের খাবার খাওয়া জায়েয কি না?
20 Dec 2025
ভাই আপনি এই ভিডিও ক্লিপটি দেখতে পারেন। মৃত্যু উপলক্ষে খাওয়া দাওয়া ও মিষ্টি বিতরণের বিধান !
প্রশ্নঃ 84
Aussalamu alykum, I want to know that is the Salatul Tasbi performed Shahi or not..
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। সালাতুত তাসবীহ বিষয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো যিকেরের মূল চারটি বাক্য: তাসবীহ সুবহানাল্লাহ তাহমীদ আল-হামদু লিল্লাহ তাহলীল লা- ইলাহা ইল্লল্লাহ এবং তাকবীর আল্লাহু আকবার । সালাতুত তাসবীহ -এর মধ্যে সালাতরত অবস্থায় এ যিক্রগুলো পাঠ করা হয়। চার রাকআত সালাতে প্রতি রাকআতে ৭৫ বার করে চার রাকআতে মোট ৩০০ বার উক্ত যিক্রগুলো আদায় করা হয়।
عَنْ أَبِى رَافِعٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- لِلْعَبَّاسِ يَا عَمِّ أَلاَ أَصِلُكَ أَلاَ أَحْبُوكَ أَلاَ أَنْفَعُكَ قَالَ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ يَا عَمِّ صَلِّ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ تَقْرَأُ فِى كُلِّ رَكْعَةٍ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَسُورَةٍ فَإِذَا انْقَضَتِ الْقِرَاءَةُ فَقُلِ اللَّهُ أَكْبَرُ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ خَمْسَ عَشْرَةَ مَرَّةً قَبْلَ أَنْ تَرْكَعَ ثُمَّ ارْكَعْ فَقُلْهَا عَشْرًا ثُمَّ ارْفَعْ رَأْسَكَ فَقُلْهَا عَشْرًا ثُمَّ اسْجُدْ فَقُلْهَا عَشْرًا ثُمَّ ارْفَعْ رَأْسَكَ فَقُلْهَا عَشْرًا ثُمَّ اسْجُدِ الثَّانِيَةَ فَقُلْهَا عَشْرًا ثُمَّ ارْفَعْ رَأْسَكَ فَقُلْهَا عَشْرًا قَبْلَ أَنْ تَقُومَ فَتِلْكَ خَمْسٌ وَسَبْعُونَ فِى كُلِّ رَكْعَةٍ وَهِىَ ثَلاَثُمِائَةٍ فِى أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ فَلَوْ كَانَتْ ذُنُوبُكَ مِثْلَ رَمْلِ عَالِجٍ لَغَفَرَهَا اللَّهُ لَكَ . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَنْ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَقُولَهَا فِى كُلِّ يَوْمٍ قَالَ فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ أَنْ تَقُولَهَا فِى كُلِّ يَوْمٍ فَقُلْهَا فِى جُمُعَةٍ فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ أَنْ تَقُولَهَا فِى جُمُعَةٍ فَقُلْهَا فِى شَهْرٍ . فَلَمْ يَزَلْ يَقُولُ لَهُ حَتَّى قَالَ فَقُلْهَا فِى سنة
অর্থ: আব রাফে (আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস) রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. তাঁর চাচা আব্বাস (রা)-কে বলেন: চাচাজি, আমি আপনাকে একটি বিশেষ উপহার ও বিশেষ অনুদান প্রদান করব, যা পালন করলে আল্লাহ আপনার ছোট, বড়, ইচ্ছাকৃত, অনিচ্ছাকৃত, প্রকাশ্য, গোপন সকল গোনাহ ক্ষমা করবেন। তা এই যে, আপনি চার রাকআত সালাত আদায় করবেন। প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহা ও অন্য যে কোনো একটি সূরা পাঠ করবেন। প্রথম রাকআতে সূরা ফাতিহা ও অন্য যে কোনো সূরা পাঠের পর দাঁড়ানো অবস্থায় ১৫ বার বলবেন سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ للهِ، وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ، وَاللهُ أَكْبَر উচ্চারণ: সুবহা-নাল্লাহ, ওয়ালহামদুলিল্লাহ, ওয়ালা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লা-হু আকবার । এরপর রুকুতে গিয়ে রুকু অবস্থায় উপরের যিক্রগুলো ১০ বার, রুকু থেকে উঠে দাঁড়ানো অবস্থায় ১০ বার, সাজদা রত অবস্থায় ১০ বার, প্রথম সাজদা থেকে উঠে বসা অবস্থায় ১০ বার, দ্বিতীয় সাজদায় ১০ বার এবং দ্বিতীয় সাজদা থেকে উঠে (বসা অবস্থায়) ১০ বার। এ মোট এক রাকআতে ৭৫ বার (চার রাকআতে মোট ৩০০ বার)। সম্ভব হলে আপনি প্রতিদিন একবার, না হলে প্রতি সপ্তাহে একবার, না হলে প্রতি মাসে একবার, না হলে প্রতি বছর একবার, না হলে সারা জীবনে একবার এ সালাত আপনি আদায় করবেন। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৪৮২। সালাতুত তাসবীহ সংক্রান্ত অধিকাংশ হাদীসই অত্যন্ত যয়ীফ সনদে বর্ণিত। একমাত্র এ হাদীসটিকে অনেক মুহাদ্দিস সহীহ হিসাবে গ্রহণ করেছেন। যদিও অনেক মুহাদ্দিস হাদীসটির ভাব ও ভাষা বিষয়েও আপত্তি করেছেন। ইমাম তিরমিযী প্রখ্যাত তাবে-তাবেয়ী আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক (১৮১ হি) থেকে সালাতুত তাসবীহ-এর আরেকটি নিয়ম উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে এ অতিরিক্ত যিক্র আদায়ের নিয়ম: নামায শুরু করে শুরুর দুআ বা সানা পাঠের পরে ১৫ বার, সূরা ফাতিহা ও অন্য কোনো সূরা শেষ করার পরে ১০ বার, রুকুতে ১০ বার, রুকু থেকে উঠে ১০ বার, প্রথম সাজদায় ১০ বার, দুই সাজাদার মাঝে ১০ বার ও দ্বিতীয় সাজদায় ১০ বার মোট ৭৫ বার প্রতি রাকআতে। অর্থাৎ, এ নিয়মে কিরাআতের পূর্বে ও পরে দাঁড়ানো অবস্থায় ২৫ বার তাসবীহ পাঠ করা হয় আর দ্বিতীয় সাজদার পরে বসা অবস্থায় কোনো তাসবীহ পড়া হয় না। পূর্বের হাদীসে বর্ণিত নিয়মে কিরাআতের পূর্বে কোনো তাসবীহ নেই। দাঁড়ানো অবস্থায় শুধু কিরাআতের পরে ১৫ বার তাসবীহ পড়তে হবে। প্রত্যেক রাকআতে দ্বিতীয় সাজদার পরে বসে ১০ বার তাসবীহ পড়তে হবে। ইবনুল মুবারক বলেন, যদি এ সালাত রাত্রে আদায় করে তবে দু রাকআত করে তা আদায় করবে। অর্থাৎ, দু রাকআত শেষে সালাম ফিরিয়ে আবার দু রাকআত আদায় করবে। আর দিনের বেলায় ইচ্ছা করলে একত্রে চার রাকআত অথবা ইচ্ছা করলে দু রাকআত করেও আদায় করতে পারে। সালাতুত তাসবীহ-এ রুকু ও সাজদায় প্রথমে রুকু ও সাজদার তাসবীহ সুবহানার রাব্বিয়্যাল আযীম ও সুবহানা রাব্বিয়্যাল আলা নূন্যতম তিন বার করে পাঠ করার পরে অতিরিক্ত তাসবীহগুলো পাঠ করতে হবে। তিরমিযী (আবওয়াবুস সালাত, সালাতুত তাসবীহ) ২/৩৪৭-৩৫০ (ভারতীয় ১/১০৯); আবূ দাউদ ২/২৯, নং ১২৯৭, (ভারতীয় ১/১৮৩); সুনানু ইবনি মাজাহ ১/৪৪২, নং ১৩৮৬, ১৩৮৭, (ভারতীয় ১/৯৯); মুসতাদরাক হাকিম ১/৪৬৩-৪৬৪, সহীহ ইবনু খুযাইমা ২/২৩-২৪, হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ২/২৮১-২৮৩, আলবানী, সহীহুত তারগীব ১/৩৫৩-৩৫৫।
প্রশ্নঃ 83
স্যার নামাজের ভিতর কিছু খেয়ে ফেললে নামাজ থাকে না কিন্তু শুনেছি কিন্তু অযুও থাকে না, এটা কি ঠিক স্যার?
20 Dec 2025
নামাযের মধ্যে কিছূ খেলে নামায ভেঙ্গে যায়। তবে অযু ভাঙ্গে না। আপনি যা শুনেছেন তা ঠিক নয়।
প্রশ্নঃ 82
স্যার, বাংলাদেশ ব্যাংক এ Computer Operator (IT Division) পোষ্টে চাকুরী করা জায়েজ হবে কি না?
20 Dec 2025

আপনাকে ধন্যবাদ । সুদ ভিত্তিক ব্যাংকে এই পদে চাকুরী করা জায়েয নয়। হররত জাবের রা. বলেন,

لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ

অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. সুদ গ্রহীতা, দাতা, লেখক, সাক্ষীদ্বয় প্রত্যেকের উপর লানাত (অভিশাপ) দিয়েছেন এবং বলেছেন (পাপের দিক থেকে) সবাই সমান। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং৪১১৭। সুতরাং আমাদের জন্য আবশ্যক এমন চাকুরী থেকে বিরত থাকা।

প্রশ্নঃ 80
আমি যদি কোন মৃত ব্যাক্তির পক্ষ হতে তার কাজা নামাজ আদায় করি তা কি বিদআত হবে?
20 Dec 2025
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমাদের সমাজে কোথাও কোথাও এই আমলটি দেখা যায়। তবে এটা সুন্নাহ সম্মত নয়। হাদীস শরীফে কোথাও মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কাজা নামায আদায় করার কথা বলা হয়নি। তবে হজ্জ করার কথা বলা হয়েছে। সুতরাং অনর্থক এই কাজ থেকে বিরত থাকা আমাদের সকলের কর্তব্য।
প্রশ্নঃ 79
বাংলাদেশে প্রচলিত ফাতিহা, ওরশ, (সবে মেরাজ, সবে কদর) এর নামে তকবিরের মাধ্যমে খানা খাওয়া কি জায়েয?
20 Dec 2025
আপনাকে ধন্যবাদ। প্রচলিত ফাতিহা, ওরশ, সবে মেরাজ, সবে কদরের নামে খাওয়া দাওয়া সবই জঘন্য বানোয়াট ও খেলাফে সুন্নাত কাজ। সাহবী, তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ী ও পূর্ববর্তী মুসলিমগণ কখনো মৃত্যু দিবস কিংবা জন্মদিবসে কোন অনুষ্ঠান আয়োজ করেননি, খাবার বিতরণ করেননি। এমন অনুষ্ঠানের খাবার গ্রহণ করার অর্থই হলো এই সুন্নাত বিরোধী কাজকে সহায়তা করা সুতরাং এমন খানা খাওয়া আমাদের বর্জন করতে হবে। বিস্তারিত জানতে পড়ুন, প্রফেসার ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত এহইয়াউস সুনান বইটি।
প্রশ্নঃ 78
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, স্যার শুধু রুকু পেলেই কি নামাজের সেই রাকাত পাওয়া যাবে? সানা ও সুরা ফাতিহা পড়ার সময় যদি না পাই তবুও কি সেই রাকাত পাবো? তাড়াহুড়ো করে রুকু পেলেই কি সেই রাকাত সালাতের অন্তর্ভুক্ত হবে?
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। হ্যাঁ, শুধু রুকু পেলেই ঐ রাকায়াত পেয়েছে বলে গন্য হবে। চার ইমাম সহ অধিকাংশ ইমাম ও ফকীহর অভিমত এটাই। তাড়াহুড়ো করে রুকু পেলেও রাকয়াত রাকায়াত পেয়েছে বলেই ধর্তব্য হবে। তবে হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. তাড়াহুড়ো করতে নিষেধ করেছেন। বিস্তারিত নিম্নরুপ: আল্লামা ইবনুল মুনযির (মৃত্যু ৩১৯ হি.) বলেন,
وَمِمَّنْ قَالَ إِنَّ مَنْ أَدْرَكَ الْإِمَامَ رَاكِعًا فَقَدْ أَدْرَكَ الرَّكْعَةَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، وَمَيْمُونُ بْنُ مِهْرَانَ، وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، وَالْأَوْزَاعِيُّ، وَالشَّافِعِيُّ، وَأَحْمَدُ، وَإِسْحَاقُ، وَأَبُو ثَوْرٍ، وَحُكِيَ ذَلِكَ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، وَالنُّعْمَانِ وَفِيهِ قَوْلٌ ثَانٍ: قَالَهُ أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ: مَنْ أَدْرَكَ الْقَوْمَ رُكُوعًا فَلَا يَعْتَدَّ بِالرَّكْعَةِ
অর্থ: যে ব্যক্তি ইমামকে রুকুতে পেল সে রাকায়াত পেল একথা যারা বলেন, তাদের ভিতর রয়েছেন সাইদ ইবনে মুসায়্যাব, মায়মুন ইবনে মিহরন, সুফইয়ান সাউরী, আউযায়ী, শাফেয়ী, আহমাদ, ইসহাক, আবু ছাওর। আর এমনই বর্ণিত আছে মালেক ইবনে আনাস ও নুমান (আবু হানীফা) থেকে। এই বিষয়ে আরেকটি মত হল, যে ব্যক্তি লোকদেরকে রুকুতে পাই সে ঐরুকুকে রাকয়াত হিসাবে গন্য করবে না। এটা বলেছেন আবু হুরায়রা র.। আল-আউসাত ফিস-সুনানি ওয়াল ইজমা ওয়াল ইখতিলাফ: ৪/১৯৬, ২০২৫ নং হাদীসের আলোচনায়। আরো দেখুন, আলফিকহুল ইসলামিয়্যু ওয়া আদিল্লাতহু:২/৩২৫। এই বিষয়ে দলীলসমূহের কিছু নিচে বর্ণণা করা হল:
১. عَنْ أَبِي بَكْرَةَ أَنَّهُ انْتَهَى إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهْوَ رَاكِعٌ فَرَكَعَ قَبْلَ أَنْ يَصِلَ إِلَى الصَّفِّ فَذَكَرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ زَادَكَ اللَّهُ حِرْصًا ، وَلاَ تَعُدْ
অর্থ: আবু বাকরতা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূর সা. নামাযে রুকু করছেন এঅবস্থায় তিনি তাঁর কাছে উপনীত হলেন। তখন তিনি কাতারে পৌছার পূর্বেই রুকু করলেন। এরপর বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সা. এর নিকট বললেন। তখন রাসলুল্লাহ সা. বললেন, আল্লাহ তোমার আগ্রহ বৃদ্ধি করে দিন, আর এমন করেব না।সহীহ বুখারী: হাদীস নং ৭৮৩। এই হাদীস থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, মুসল্লী যদি ইমামকে রুকুতে পায় তাহলে সে রাকায়াত পেয়েছে হিসাবেই ধরা হবে। কারন এই সাহাবী জামায়াতে নামায পড়তে গিয়ে ইমামকে তথা রাসূলুল্লাহ সা. কে রুকুতে পেয়েছেন আর রাসূল সা. তাঁর প্রশংসা করেছেন এবংতাকে পূনরায় নামায পড়তে আদেশ করেননি।
২. عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم - إِذَا جِئْتُمْ إِلَى الصَّلاَةِ وَنَحْنُ سُجُودٌ فَاسْجُدُوا وَلاَ تَعُدُّوهَا شَيْئًا وَمَنْ أَدْرَكَ الرَّكْعَةَ فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلاَةَ
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন,রাসূল সা. বলেছেন, আমরা সিজদায় থাকাকালীন যখন তোমরা নামাযে আসবে তখন তোমরা সিজাদাহ করবে আর ওটাকে রাকয়াত হিসাবে গণনা করবে না। এবং যে ব্যক্তি রুকু পেল সে নামায তথা রাকয়াত পেল । সুনানে আবু দাউদ: হাদীস নং ৮৯৩, সহীহ ইবনু খুজায়মা: হাদীস নং ১২১। মুসতাদরকে হাকেম: হাদীস নং ৭৮৩। হাদিসটির সনদে কিছুটা দুর্বলতা আছে তবে এই অর্থের অনেকগুলো সহীহ হাদীস থাকায় হাফেজ জাহাবী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। হাকেম রহ. বলেছেন, বলেছেন সহীহুল ইসনাদ। শাইখ আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। এই হাদীসটি সম্পর্কে বিস্তারিত জন্য দেখুন, সহীহ আবু দাউদ:হাদীস নং ৮৩২।
৩. عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ عَنْ رَجُلٍ عَنِ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ إِذَا جِئْتُمْ وَالإِمَامُ رَاكِعٌ فَارْكَعُوا ، وَإِنْ سَاجِدًا فَاسْجُدُوا ، وَلاَ تَعْتَدُّوا بِالسُّجُودِ إِذَا لَمْ يَكُنْ مَعَهُ الرُّكُوعُ
তাবেঈ আব্দুল আযীয ইবনে রুফা একজন লোক থেকে তিনি রাসূল সা. থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সা. বলেছেন, ইমাম রুকুতে থাকা অবস্থায় যখন তোমরা আসবে তখন তেমরা রুকু করবে আর সিজদায় থাকা অবস্থায় আসলে সিজদাহ করবে। তবে যখন সিজদার সাথে রুকু থাকবে না তখন তাকে রাকয়াত হিসাবে গন্য করবে না। আসসুনানুল কুবরা: হাদীস নং ২৬৭৯। শায়খ আলবানী রহ. সহীহ আবু দাউদ এর মধ্যে উক্ত হাদীসটি উল্লেখ করে বলেছেন,
قلت: وإسناده صحيح؛ إن كان الرجل الذي لم يسمَّ صحابيّاً، ولعله الراجح؛فإن عبد العزيز بن رفيع تابعي جليل، روى عن جماعة من الصحابة؛ منهم العبادلة:ابن عمر وابن عباس وابن الزبير. وسواءَّ كان هو واحداً من هؤلاء أو رجلاً آخر من الصحابة؛ فالصحابة كلهم عدول
আমি বলব, হাদীসটির সনদ সহীহ; যে ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি তিনি যদি সাহাবী হন আর এটাই এখানে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। কেননা আব্দুল আযীয ইবনে রুফা একজন বড়মাপের তাবেঈ। তিনি অনেক সাহাবী থেকে হাদীস বর্ণনা করেন। তাদের মধ্যে রয়েছে ইবনে উমার, ইবনে আব্বাস, ইবনে জুবায়ের। বর্ণনাকারী এই সহাবীদের কেউ হোক কিংবা অন্য কোন সাহাবী হোক সমান কথা। কেননা সকল সাহাবী আদেল (ন্যায়পরায়ণ)। সহীহ আবু দাউদ: হাদীস নং৮৩২। এছাড়াও সাহাবীর নাম সহ হাদীসটি উক্ত তাবেয়ী থেকে পাওয়া যায় । শায়খ আলবনী রহ. সিলসিলাতুস সহীহাহ কিতাবে বলেছেন এই হাদীসটি ইসহাক ইবনে মানসরি আলমারওযী মাসাইলে আহমাদ কিতাবে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি নিম্নরুপ:
৪. عبد العزيز بن رفيع عن ابن مغفل المزني قال : قال النبي صلى الله عليه وسلم إذا وجدتم الإمام ساجدا فاسجدوا أو راكعا فاركعوا أو قائما فقوموا و لا تعدوا بالسجود إذا لم تدركوا الركعة
আব্দুল আযীয ইবনে রুফা ইবনে মুগফ্ফাল আলমুযানী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূল সা. বলেছেন, যখন তোমরা ইমামকে সিজদারত অবস্থায় পাবে তখন তোমরা সিজদাহ করবে, যখন রুকুরত পাবে তখন রুকু করবে আর যখন দাড়ানো অবস্থায় পাবে তখন দাড়াবে। রুকু না পেলে সিজদাকে রাকয়াত হিসাবে গণ্য করবে না। হাদীসটি উল্লেখ করার পর শায়খ আলবনী বলেছেন, এটা সহীহ সনদ, এর বর্ণনাকারী সবাই ছিকাহ,বুখারী মুসলিমের রাবী। বিস্তারিত দেখুন, সিলসিলাতুস সহীহাহ হাদীস নং ১১৪৪। মারফু হাদীসের পাশাপাশি অনেক সাহবী থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত আছে তারা রুকু পাওয়াকে রাকয়াত পাওয়া হিসাবেই গণ্য করতেন। তার কিছু নিম্নরুপ:
৫. عن مالك عن نافع :أن عبد الله بن عمر بن الخطاب كان يقول إذا فاتتك الركعة فقد فاتتك السجدة
ইমাম মালেক রহ. নাফে থেকে বর্ণনা করেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. বলতেন, যখন তোমার থেকে রুকু ছুটে গেল তখন তোমার থেকে সিজদাহ ছুটে গেল। মুয়ত্তা মালেক: হাদীস নং ১৬।
৬. هُبَيْرَة بن يَرِيم عَنْ عَلِيٍّ، وَابْنِ مَسْعُودٍ، قَالا: مَنْ لَمْ يُدْرِكِ الرَّكْعَةَ فَلا يَعْتَدُّ بِالسَّجْدَةِ
হুবাইরা ইবনে মারয়াম আলী ও ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তারা বলেছেন, যে রুকু পাবে না সে সিজদাহকে রাকয়াত হিসাবে গণ্য করবে না। আলমুজামুল কাবীর লিত-তবরনী: হাদীস নং ৯২৪৬ । আল্লামা হ্য়াছামী বলেছেন, বর্ণনাকারীগন ছিকাহ। মাজমাউজ ঝাওইদ: হাদীস নং ২৪০২ একই সনদে বর্ণিত আরেকটি হাদীস,
৭. هُبَيْرَة بن يَرِيم عن بن مسعود قال من فاته الركوع فلا يعتد بالسجود
হুবাইরা ইবনে মারয়াম আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, যার রুকু ছুটে যাবে সে যেন সিজদাহকে রাকয়াত গন্য না করে। মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক: হাদীস নং ৩৩৭২।
৮. عَنْ أَبِى الأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ يَعْنِى ابْنَ مَسْعُودٍ قَالَ : مَنْ لَمْ يُدْرِكِ الإِمَامَ رَاكِعًا لَمْ يُدْرِكْ تِلْكَ الرَّكْعَةَ
আবুল আহওয়াস আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিি ন বলেছেন,যে ইমামকে রুকু অবস্থায় পেল না সে ঐরাকয়াত পেল না। আসসুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্কী: হাদীস নং ২৬৮১। শায়খ আলবানী বলেছেন, সনদ সহীহ। ইরওউল গলীল: ৪৯৬ নং হাদীসের আলোচনায়।
৯. عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ قَالَ : خَرَجْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ يَعْنِى ابْنَ مَسْعُودٍ مِنْ دَارِهِ إِلَى الْمَسْجِدِ ، فَلَمَّا تَوَسَّطْنَا الْمَسْجِدَ رَكَعَ الإِمَامُ ، فَكَبَّرَ عَبْدُ اللَّهِ وَرَكَعَ وَرَكَعْتُ مَعَهُ ، ثُمَّ مَشَيْنَا رَاكِعَيْنِ حَتَّى انْتَهَيْنَا إِلَى الصَّفِّ حِينَ رَفَعَ الْقَوْمُ رُءُوسَهُمْ ، فَلَمَّا قَضَى الإِمَامُ الصَّلاَةَ قُمْتُ وَأَنَا أَرَى أَنِّى لَمْ أُدْرِكْ ، فَأَخَذَ عَبْدُ اللَّهِ بِيَدِى وَأَجْلَسَنِى ، ثُمَّ قَالَ : إِنَّكَ قَدْ أَدْرَكْتَ
যায়দ ইবনে ওহাব বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ এর সাথে তাঁর বাড়ী থেকে মসজিদে গেলাম। আমরা যখন মসজিদের মাঝে তখন ইমাম রুকুতে গেল তখন আব্দুল্লাহ তাকদিয়ে রুকুতে গেলেন, আমিও তাঁর সাথে গেলাম। এরপর আমরা রুকু অবস্থায় হাঁটতে হাঁটতে কাতারে পৌছলাম, এই সময়ের মধ্যে মুসল্লীরা তাদের মাথা উঠালো। যখন ইমাম নামায শেষ করলেন তখন আমি এই ভেবে দাড়ালাম যে আমি ঐরাকয়াত পায়নি। তখন আব্দুল্লাহ আমাকে হাত ধরে বসিয়ে দিয়ে বললেন, তুমি রাকয়াত পেয়েছ। আসসুনাসনুল কুবরা লিলবায়হাক্কী; হাদীস নং ২৬৯০। শায়খ আলবানী বলেছেন সনদ সহীহ। ইরওউল গলীল:৪৯৬ নং হাদীসের আলোচনায়।
১০. عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ : إذَا جِئْت وَالإِمَامُ رَاكِعٌ فَوَضَعْتَ يَدَيْك عَلَى رُكْبَتَيْك قَبْلَ أَنْ يَرْفَعَ رَأْسَهُ ، فَقَدْ أَدْرَكْت
নাফে ইবনে উমার থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন ইমামের রুকু অবস্থায় যখন আসবে তখন যদি ইমামের মাথা তোলার পূর্বেই তুমি তোমার হাত হাঁটুর উপর রাখ তাহলে তুমি রাকয়াত পাবে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা: হাদীস নং ২৫৩৪। শায়খ আলবানী বলেছেন,সনদ সহীহ। ইরওউল গলীল:৪৯৬ নং হাদীসের আলোচনায়।
১১. عَنْ خَارِجَةَ بْنِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ: أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ، كَانَ يَرْكَعُ عَلَى عَتَبَةِ الْمَسْجِدِ وَوَجْهُهُ إِلَى الْقِبْلَةِ, ثُمَّ يَمْشِي مُعْتَرِضًا عَلَى شِقِّهِ الْأَيْمَنِ ثُمَّ يَعْتَدُّ بِهَا إِنْ وَصَلَ إِلَى الصَّفِّ أَوْ لَمْ يَصِلْ
খারিজা ইবনে যাইদ ইবনে ছাবিত বর্ণনা করেন যে, যাইদ ইবনে ছাবিত মসজিদের চৌকাঠে রুকু করতেন আর তাঁর চেহারা ক্বিবলামখী থাকত। এরপর হেঁটে হেঁটে সামনে যেতেন। তিনি এটাকে রাকয়াত হিসাবে গণ্য করতেন, কাতরে পৌছান কিংবা না পৌছান। শরহে মায়ানিল আছার: হাদীস নং ২৩২৬। শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, সনদ ভাল। ইরওউল গলীল: ৪৯৬ নং হাদীসের আলোচনায়। উক্ত মাসয়ালার ক্ষেত্রে নিজের মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে শায়খ আলবানী রহ. বলেন,
وردت عن جماعة من الصحابة بأسانيد صحيحة أن مدرك الركوع مدرك للركعة، ولم يصح عن أحد منهم خلاف ذلك
একদল সাহাবী থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, যে রুকু পাবে সে রাকয়াত পাবে। একজন সাহাবী থেকেও সহীহ সূত্রে এর বিপরীত বর্ণিত নেই। সহীহ আবু দাউদ: ৮৩২ নং হাদীসের আলোচনায়। তাড়াহুড়ো না করার দলীল:
عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : إذا أتيتم الصلاة فلا تأتوها وأنتم تسعون وأتوها تمشون وعليكم السكينة فما أدركتم فصلوا وما فاتكم فاقضوا
অর্থ: আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, তোমরা তাড়াহুড়ো করে নামাযে আসবে না, ধীরস্থীর ভাবে আসবে। ইমামের সাথে যতটুকু পাবে পড়বে আর যা পাবে না পরে পড়বে। সুনানু নাসায়ী: হাদীস নং ৮৬১। শায়খ আলবনী বলেছেন, হাদীসটি সহীহ। এই হাদীসে পষ্টভাবে তাড়াহুড়ো করে নামাযে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে যেভাবেই হোক রুকু পেলে রাকয়াত রাকায়অত পেয়েছে বলেই গন্য হবে। উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, হাদীসের আলোকে মুসল্লাীর রুকু পাওয়াকে রাকায়াত পাওয়া হিসাবেই ধরা হবে। আর নামাযে ধীরস্থীর ভাবে আসতে হবে, তাড়াহুড়ো করা যাবে না। ইমামের সাথে যতটুকু পাওয়া যায় ততটুকু আদায় করতে হবে বাদবাকী পরে পড়তে হবে। তবে তার অর্থ এই নয় যে, পুরো নামায পাওয়া জন্য কোন চেষ্টা থাকবে না, মনে কোন চিন্তা থাকবে না। এই হাদীসে শুধু নামাযের জন্য মাসজিদে আসার সময় শান্ত ভাবে আসতে বলা হয়েছে। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন।
প্রশ্নঃ 76
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। মুহতারাম,কোন ছাহাবী বা তাবেয়ী কখন অনারব ভাষায় জুমআর দ্বিতীয় খুতবা দিয়েছেন কিনা দলীলের আলোকে জানালে কৃতজ্ঞ হব।
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। কোন সাহাবী বা তাবেঈ জুমুয়ার কোন খুৎবা আরবী ছাড়া অন্য কোন ভাষায় দিয়েছেন বলে জানা যায় না। তবে তাঁরা আরবী ভাষায় ব্যবহার হয় এমন দুচারটা অন্য ভাষার শব্দ খুৎবার মধ্যে ব্যবহার করতেন। এছাড়াও আঞ্চলিক আরবী ভাষায় সাহাবী তাবেয়ীগন খুৎবাহ দিতেন বলে জানা যায়। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন খুতবাতুল ইসলাম বইটির ভূমিকা, পৃষ্ঠা ১৩-২৮।
প্রশ্নঃ 75
স্যার আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। আমার প্রশ্ন হলো, মৃত্যুর পর আত্মার উপর না শরীরের শাস্তি হবে?
20 Dec 2025
কবরে আযাব হবে, সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত। আত্মার উপর হবে নাকি শরীরে উপর হবে তা স্পষ্ট নয়। তবে মূল আযাব আত্মার উপর হবে আর আত্মার সাথে শরীরের একটি সম্পর্ক থাকেবে বলে আলেমগণ মনে করেন। বিস্তারিত নিম্নে: অনেকগুলো সহীহ হাদীসে কবরের আযাব হওয়ার কথা উল্লোখ আছে। হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত হাদীস,
أَنَّ يَهُودِيَّةً دَخَلَتْ عَلَيْهَا فَذَكَرَتْ عَذَابَ الْقَبْرِ فَقَالَتْ لَهَا أَعَاذَكِ اللَّهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ فَسَأَلَتْ عَائِشَةُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ عَذَابِ الْقَبْرِ فَقَالَ نَعَمْ عَذَابُ الْقَبْرِ قَالَتْ عَائِشَةُ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدُ صَلَّى صَلاَةً إِلاَّ تَعَوَّذَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْر زَادَ غُنْدَرٌ عَذَابُ الْقَبْرِ حَقٌّ
অর্থ: একজন ইহুদী মহিলা তাঁর (আয়েশা রা.) কাছে এসে কবরের আযাবের কথা উল্লেখ করে তাঁকে বললেন, আল্লাহ তোমাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন। আয়েশা রা. রাসূলুল্লাহ সা. কে কবরের আযাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি বললেন, হ্যাঁ, কবরের আযাব আছে। আয়েশা রা. বলেন, আমি দেখেছি রাসূলুল্লাহ সা. যখনই নামায পড়তেন তখনই কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাইতেন। অন্য বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, কবরের আযাব সত্য। সহীহ বুখারী,হাদীস নং ১৩৭২। আযাব কিভাবে হবে সে ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসগুলো নিম্নেরূপ:
عَنْ زَاذَانَ عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ : خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فِى جَنَازَةِ رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْرِ وَلَمَّا يُلْحَدْ فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- وَجَلَسْنَا حَوْلَهُ كَأَنَّمَا عَلَى رُءُوسِنَا الطَّيْرُ وَفِى يَدِهِ عُودٌ يَنْكُتُ بِهِ فِى الأَرْضِ فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ : ্র اسْتَعِيذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا - زَادَ فِى حَدِيثِ جَرِيرٍ هَا هُنَا - وَقَالَ : وَإِنَّهُ لَيَسْمَعُ خَفْقَ نِعَالِهِمْ إِذَا وَلَّوْا مُدْبِرِينَ حِينَ يُقَالُ لَهُ : يَا هَذَا مَنْ رَبُّكَ وَمَا دِينُكَ وَمَنْ نَبِيُّكَ قَالَ هَنَّادٌ قَالَ : وَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِهِ فَيَقُولاَنِ لَهُ : مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ : رَبِّىَ اللَّهُ. فَيَقُولاَنِ لَهُ : مَا دِينُكَ فَيَقُولُ : دِينِى الإِسْلاَمُ. فَيَقُولاَنِ لَهُ : مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِى بُعِثَ فِيكُمْ قَالَ فَيَقُولُ : هُوَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم-. فَيَقُولاَنِ : وَمَا يُدْرِيكَ فَيَقُولُ : قَرَأْتُ كِتَابَ اللَّهِ فَآمَنْتُ بِهِ وَصَدَّقْتُ زَادَ فِى حَدِيثِ جَرِيرٍ : فَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ (يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا) الآيَةَ. ثُمَّ اتَّفَقَا قَالَ : فَيُنَادِى مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ : أَنْ قَدْ صَدَقَ عَبْدِى فَأَفْرِشُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا إِلَى الْجَنَّةِ وَأَلْبِسُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ قَالَ : فَيَأْتِيهِ مِنْ رَوْحِهَا وَطِيبِهَا قَالَ : وَيُفْتَحُ لَهُ فِيهَا مَدَّ بَصَرِهِ قَالَ : وَإِنَّ الْكَافِرَ فَذَكَرَ مَوْتَهُ قَالَ : وَتُعَادُ رُوحُهُ فِى جَسَدِهِ وَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِهِ فَيَقُولاَنِ : مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ : هَاهْ هَاهْ هَاهْ لاَ أَدْرِى. فَيَقُولاَنِ لَهُ : مَا دِينُكَ فَيَقُولُ : هَاهْ هَاهْ لاَ أَدْرِى. فَيَقُولاَنِ : مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِى بُعِثَ فِيكُمْ فَيَقُولُ : هَاهْ هَاهْ لاَ أَدْرِى. فَيُنَادِى مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ : أَنْ كَذَبَ فَأَفْرِشُوهُ مِنَ النَّارِ وَأَلْبِسُوهُ مِنَ النَّارِ وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا إِلَى النَّارِ قَالَ : فَيَأْتِيهِ مِنْ حَرِّهَا وَسَمُومِهَا قَالَ : وَيُضَيَّقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى تَخْتَلِفَ فِيهِ أَضْلاَعُهُ زَادَ فِى حَدِيثِ جَرِيرٍ قَالَ : ثُمَّ يُقَيَّضُ لَهُ أَعْمَى أَبْكَمُ مَعَهُ مِرْزَبَّةٌ مِنْ حَدِيدٍ لَوْ ضُرِبَ بِهَا جَبَلٌ لَصَارَ تُرَابًا قَالَ : فَيَضْرِبُهُ بِهَا ضَرْبَةً يَسْمَعُهَا مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ إِلاَّ الثَّقَلَيْنِ فَيَصِيرُ تُرَابًا قَالَ ثُمَّ تُعَادُ فِيهِ الرُّوحُ
অর্থ: হযরত বারা ইবনে আযেব রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সা. এর সাথে এক আনসারী ব্যক্তির জানাযার জন্য বের হলাম, আমরা যখন সেখানে পৈাছলাম তখন পর্যন্ত কবর খনন সম্পন্ন হয় নি। তখন রাসূলুল্লাহ সা. বসলেন, আমরাও তাঁর চার পাশে বসে গেলাম, যেন আমাদের মাথার উপর পাখি। তাঁর হাতে একটি কাঠি ছিল, যা দ্বারা তিনি মাটিতে দাগ কাটছিলেন। অতঃপর তিনি তার মাথা উঠালেন এবং বললেন তোমরা আল্লাহর কাছে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাও। তিনি দুইবার বা তিনবার তা বললেন। ...অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি বললেন, (মৃত ব্যক্তির রুহ) যে ফেরেস্তা তার সাথে চলে তাদের জুতার পায়ের আওয়াজ শুনতে পান। ফেরেস্তারা তাকে বলে তোমার প্রতি পালক কে? তোমার ধর্ম কি? এই ব্যক্তি কে যাকে তোমাদের মাঝে পাঠানো হয়েছিল? আরেক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন,তার কাছে দুইজন ফেরেস্তা এসে বসবেন ও বলবেন, তোমার প্রতিপালক কে? সে বলবে আমার রব আল্লাহ। এরপর ফেরেস্তাদ্বয় জিজ্ঞাসা করবেন, তোমার ধর্ম কি? সে বলবে আমার দ্বীন ইসলাম। এরপর তারা জিজ্ঞাসা করবেন, এই ব্যক্তি কে যাকে তোমাদের মাঝে পাঠানো হয়েছিল? সে বলবে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ফেরেস্তারা বলবেন, তুমি কিভাবে এগুলো জানলে? সে বলবে আমি আল্লাহর কিতাব দেখেছি, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি এবং তাকে সত্য বলে মনে করেছি। এক বর্ণনায় আছে এটাই হল আল্লাহ তায়ালার বাণী আল্লাহ তায়ালা ঈমানদারদের পা কে দৃঢ় করবেন... এর অর্থ। তখন আকাশ থেকে একজন ঘোষনাকারী ঘোষনা করবেন, আমার বান্দা সত্য বলেছে, তোমরা তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছেয়ে দাও, তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের পোশাক বিছিয়ে দাও। তিনি বলেন, তার কাছে সুঘ্রান আসবে এবং তার দৃষ্টি সীমা বৃদ্ধি পাবে। রাসূলুল্লাহ সা. কাফেরের মৃত্যুর অবস্থা বর্ণনা করে বলেন, তার রুহকে তার শরীরের মধ্যে প্রবেশ করানো হবে। এরপর দুজন ফেরেস্তা তার কাছে বসে জিজ্ঞাসা করবেন, তোমর প্রতিপালক কে? সে বলবে, হায়,হায়, আমি জানি না। এরপর ফেরেস্তারা প্রশ্ন করবে, তোমার ধর্ম কি? সে বলবে, হায়, হায়, আমি জানি না। তারপর ফেরেস্তারা প্রশ্ন করবে, এই ব্যক্তি কে যাকে তোমাদের নিকট পাঠানো হয়েছিল? সে বলবে, হায়, হায়, আমি জানি না। তখন আকাশ থেকে একজন ঘোষনাকারী বলবে, সে মিথ্যা বলেছে, তাকে জাহন্নামের বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জাহান্নামের পোশাক পরিয়ে দাও, তার দিকে জাহান্নামের একটি দরজা খুলে দাও। তারদিকে আগুন আসতে থাকবে। তার উপর তার কবর এমন ভাবে সংকীর্ণ হয়ে যাবে যে, তার দুই পার্শ্ব একে অপরের ভিতর ঢুকে যাবে। আরেক বর্ণনায় আছে, তার জন্য একজন বোবা অন্ধ ফেরেস্তা নিযুক্ত করা হবে, তার কাছে থাকবে লোহর লাঠি, যখন তা দ্বারা কোন পাহাঢ়কে আঘাত করা হয় তখন পাহাঢ় মাটি হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, তা দ্বারা সে তাকে এমন ভাবে আঘাত করবে যে, মানুষ ও জ্বীন ছাড়া পূর্ব-পশ্চিমের সব প্রাণী তা শুনতে পাবে। তিনি বলেন, তারপর আবার তার ভিতরে রুহ প্রবেশ করানো হবে। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৭৫৩। হাদীসটি সহীহ। শাইখ আলবানী সহ মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا قُبِضَ أَتَتْهُ مَلاَئِكَةُ الرَّحْمَةِ بِحَرِيرَةٍ بَيْضَاءَ ، فَتَقُولُ : اخْرُجِي إِلَى رَوْحِ اللَّهِ ، فَتَخْرُجُ كَأَطْيَبِ رِيحِ مِسْكٍ حَتَّى إِنَّهُمْ لِيُنَاوِلُهُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا يَشُمُّونَهُ ، حَتَّى يَأْتُونَ بِهِ بَابَ السَّمَاءِ ، فَيَقُولُونَ : مَا هَذِهِ الرِّيحُ الطَّيِّبَةُ الَّتِي جَاءَتْ مِنَ الأَرْضِ ؟ وَلاَ يَأْتُونَ سَمَاءً إِلاَّ قَالُوا مِثْلَ ذَلِكَ ، حَتَّى يَأْتُونَ بِهِ أَرْوَاحَ الْمُؤْمِنِينَ فَلَهُمْ أَشَدُّ فَرَحًا بِهِ مِنْ أَهْلِ الْغَائِبِ بِغَائِبِهِمْ ، فَيَقُولُونَ : مَا فَعَلَ فُلاَنٌ ؟ فَيَقُولُونَ : دَعُوهُ حَتَّى يَسْتَرِيحَ ، فَإِنَّهُ كَانَ فِي غَمِّ الدُّنْيَا ، فَيَقُولُ : قَدْ مَاتَ ، أَمَا أَمَاتَكُمْ ؟ فَيَقُولُونَ : ذُهِبَ بِهِ إِلَى أُمِّهِ الْهَاوِيَةِ ، وَأَمَّا الْكَافِرُ فَيَأْتِيهُ مَلاَئِكَةُ الْعَذَابِ بِمُسْحٍ ، فَيَقُولُونَ : اخْرُجِي إِلَى غَضِبِ اللَّهِ ، فَتَخْرُجُ كَأَنْتَنِ رِيحِ جِيفَةٍ فَتَذْهَبُ بِهِ إِلَى بَابِ الأَرْضِ.
অর্থ: আবু হুরায়রা রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, যখন মূমিন মৃত্যু বরণ করেন তখন রহমতের ফেরেস্তারা সাদা রেশমী কাপড় নিয়ে তার কাছে আসেন এবং বলেন, আল্লাহ শান্তির দিকে বের হও। তখন সে এমন অবস্থায় বের হয় যেন উত্তম সুগন্ধি। আর ফেরেস্তারা একে অপরে সেই সুগন্ধি গ্রহন করেন। এভাবে তারা তাকে নিয়ে আকাশের দরজার কাছে নিয়ে আসে। (সেখানে দায়িত্ব থাকা ফেরেস্তারা) বলেন, এই উত্তম সুগন্ধি কিসের যা পৃথিবী থেকে এসেছে? তারা যে আকাশের কাছেই যাবে তার দায়িত্ব থাকা ফেরেস্তারা অনুরুপ বলবেন। এভাবে তারা তাকে মূমিনদের রুহুর কাছে নিয়ে আসে, তার তাকে দেখে ফেরেস্তাদের থেকেও বেশী খুশি হয়। তারা জিজ্ঞাসা করবে, অমুকের খবর কি? ফেরেস্তারা বলবে, তাকে ছেড়ে দাও, সে বিশ্রাম নিবে কেননা সে দুনিয়ার কষ্টের মধ্যে ছিল। সে (রুহ) বলবে, সে তো মারা গেছে, তোমাদের কাছে আসে নি? তারা বলবে তাকে হাবিয়া (একটি জাহান্নামের নাম) নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পক্ষান্তবে কাফের, তাদের কাছে আযাবের ফেরেস্তারা দুর্গন্ধ কাপড় নিয়ে তার কাছে আসে আর বলে, আল্লাহর ক্রোধের দিকে বের হও। তখন সে এমন অবস্থায় বের হয় যেন তা পঁচা দুর্গন্ধ কাপড়। তারা তাকে নিয়ে পৃথিবীর দরজায় নিয়ে যায়। সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং ৩০১৪। শাইখ আলবানীসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। দেখন সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব,হাদীস নং৩৫৫৯ ও সিলসিলাতুস সহীহাহ হাদীস নং ১৩০৯। উপরুক্ত হাদীসদুটি দ্বারা বুঝা যায়, আযাব রুহ এবং শরীর উভয়টির উপরই হবে। এই সম্পর্কে আল্লামা ইবনে তাইমিয়া বলেন,
فَاعْلَمْ أَنَّ مَذْهَبَ سَلَفِ الْأُمَّةِ وَأَئِمَّتِهَا أَنَّ الْمَيِّتَ إذَا مَاتَ يَكُونُ فِي نَعِيمٍ أَوْ عَذَابٍ وَأَنَّ ذَلِكَ يَحْصُلُ لِرُوحِهِ وَلِبَدَنِهِ وَأَنَّ الرُّوحَ تَبْقَى بَعْدَ مُفَارَقَةِ الْبَدَنِ مُنَعَّمَةً أَوْ مُعَذَّبَةً وَأَنَّهَا تَتَّصِلُ بِالْبَدَنِ أَحْيَانًا فَيَحْصُلُ لَهُ مَعَهَا النَّعِيمُ وَالْعَذَابُ . ثُمَّ إذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ الْكُبْرَى أُعِيدَتْ الْأَرْوَاحُ إلَى أَجْسَادِهَا وَقَامُوا مِنْ قُبُورِهِمْ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ ... وَهَذَا كُلُّهُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ عِنْدَ عُلَمَاءِ الْحَدِيثِ وَالسُّنَّةِ
অর্থ: জেনে রাখা দরকার যে, পূর্ববর্তী উম্মাত এর্ব ইমামদের মত হল, মৃত্যুর পরে মানুষ আযাব অথব নিয়ামতের মধ্যে থাকবে। আর এটা তার রুহ এবং শরীরের সাথে সম্পৃক্ত হবে। রুহ শরীর থেকে বিচ্ছন্ন অবস্থায় আযাব অথবা নিয়ামতের মধ্যে থাকবে। তবে কখনো কখনো শরীরের সাথে যুক্ত হবে আর তখন তার রুহের সাথে শরীরো আযাব বা নিয়ামাতে শরীক হবে। এরপর যখন কিয়ামত হবে তখন রুহগুলোকে শরীরের মধ্যে প্রবেশ করানো হবে আর তারা আল্লাহ রব্বুল আলামীনের উদ্দেশ্যে কবর থেকে উঠবে। সুন্নাহ ও হাদীসের আলেমগণ একথার উপর ঐক্যমত। মাজমাউল ফাতাওয়া,৪/২৮৪। শাইখ উসাইমিন রহ. বলেন,
الأصل أنه على الروح ، لأن الحكم بعد الموت للروح ، والبدن جثة هامدة ، ولهذا لا يحتاج البدن إلى إمداد لبقائه ، فلا يأكل ولا يشرب ، بل تأكله الهوام ، فالأصل أنه على الروح
অর্থ. মূল কথা হল আযাব রুহের উপরই হবে । কেননা মৃত্যুর পর হুকুম রহের উপর। আর শরীর তখন একটা অষাঢ় দেহ। এই কারণেই তখন তা (শরীর) বাকী থাকার জন্য কোন সাহায্যের মুকাপেক্ষী হয় না, কোন কিছু খায় না, পান করে না। বরং পোকমাকড়ই তাকে খেয়ে ফেলে। সুতরাং মূল হল আযাব রুহুর উপরই হবে। উপরের আলোচনা থেকে জানা গেল যে, কবরের আযাব হবে এটা সত্য। এটাকে অস্বীকার করার উপায় নেই। আর আযাব মূলত রুহর উপর হবে তবে রুহুর সাথে শরীরের একটা গভীর সংযোগ থাকবে। আল্লাহ ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 74
ফরজ নামাজের পর জামাতের সাথে মুনাজাত করা জাবে কী।
20 Dec 2025
এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ । নিচে এব্যাপারে আরেকটু বিস্তারিত আলোচনা করার প্রয়াস পাচ্ছি । আশা করি আপনি তাতে আপনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন। এক্ষেত্রে তিনটি বিষয় আলোচ্য: (১) নামাযের পরে মুনাজাত করা, (২) মুনাজাত করার সময় হাত উঠানো এবং (৩) উপস্থিত সকলেই সমবেতভাবে জামাতে যিকর ও মুনাজাত করা। (১) নামাযের পরে মুনাজাত করা। নামায মুমিনের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। নামাযের শেষে মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তি ও আবেগ আসে। এই সময়ে তাড়াহুড়ো করে উঠে চলে যাওয়া মুমিনের উচিত নয়। নামাযের পরে যতক্ষণ সম্ভব নামাযের স্থানে বসে দুআ মুনাজাত ও যিকিরে রত থাকা উচিত। মুমিন যদি কিছু না করে শুধুমাত্র বসে থাকেন তাও তাঁর জন্য কল্যাণকর। নামাযের পরে যতক্ষণ মুসল্লী নামাযের স্থানে বসে থাকবেন ততক্ষণ ফিরিশতাগণ তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করবেন বলে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.)বলেছেন:
إَذَا صَلَّى الْمُسْلِمُ ثُمَّ جَلَسَ فِيْ مُصَلاَّهُ لَمْ تَـزَلِ الْمَلاَئِكَةُ تَدْعُو لَهُ اَللَّهُمَّ اغْـفِـرْ لَـهُ اَللَّهُمَّ ارْحَـمْهُ مَا لَـمْ يُـحْدِثْ أَوْ يَـقُمْ
যদি কোনো মুসলিম সালাত আদায় করে, এরপর সে তাঁর সালাতের স্থানে বসে থাকে, তবে ফিরিশতাগণ অনবরত তাঁর জন্য দুআ করতে থাকেন : হে আল্লাহ একে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ, একে রহমত করুন। যতক্ষণ না সে ওযু নষ্ট করে বা তাঁর স্থান থেকে উঠে যায় ততক্ষণ। হাদীসের শিক্ষার আলোকে আমারা দেখতে পাই যে, পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পরে কিছু সময় বসে যিক্র ও মুনাজাত করা সুন্নাত সম্মত গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল। পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পরের দুআ কবুল হয় বলে হাদীস শরীফে বলা হয়েছে। হযরত আবু উমামা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ(সা.)-কে প্রশ্ন করা হলো: কোন্ দুআ সবচেয়ে বেশি শোনা হয় বা কবুল করা হয়? তিনি উত্তরে বলেন:
جَـوْفُ الليـلِ الآخِـرُ، ودُبـُر الصلواتِ الـمكتـوبات
রাত্রের শেষ অংশ ও ফরয নামাযের শেষে (দুআ বেশি কবুল হয়)। এভাবে আমরা বুঝতে পারি যে, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পরে দুআ করা একটি সুন্নাত সম্মত নেক আমল। সুতরাং আমাদের সকলেরই উচিত নামাযের শেষে কিছু সময় যিকর ও মুনাজাতে কাটানো। এধরনের আরো কিছু দোয়া নামাযের পর রাসূল সাঃ করতেন। (২)হাত তুলে মুনাজাত করা। দুআ-মুনাজাতের একটি আদব হলো, দুই হাত তুলে দুআ করা। এই অর্থে একটি হাদীসে বলা হয়েছে: নিশ্চয় আল্লাহ লাজুক দয়াবান। যখন কোনো মানুষ তাঁর দিকে দুখানা হাত উঠায় (দুআ করতে), তখন তিনি তা ব্যর্থ ও শূন্যভাবে ফিরিয়ে দিতে লজ্জা পান। অন্য বর্ণনায় সালমান ফারসী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
مَا رَفَـعَ قَـوْمٌ أَكُـفَّـهُمْ إِلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ يَسْأَلُوْنَهُ شَيْئًا إِلاَّ كَـانَ حَـقًّا عَـلَى اللهِ أَنْ يَـضَـعَ فِـيْ أَيْدِيْـهِمْ الَّذِيْ سَأَلُوْا
যখনই কিছু মানুষ আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়ার জন্য তাদের হাতগুলিকে উঠাবে, তখনই আল্লাহর উপর হক্ক (রহমতের দায়িত্ব) হয়ে যাবে যে তারা যা চেয়েছে তা তিনি তাদের হাতে প্রদান করবেন। হাফিয হাইসামী উল্লেখ করেছেন যে, হাদীসটির সনদ সহীহ। অন্য হাদীসে মালিক ইবনু ইয়াসার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন:
إِذَا سَأَلْتُمْ اللَّهَ فَاسْأَلُوهُ بِبُطُونِ أَكُفِّكُمْ وَلا تَسْأَلُوهُ بِظُهُورِهَا
তোমরা যখন আল্লাহর কাছে চাইবে, তখন হাতের পেট দিয়ে চাইবে, হাতের পিঠ দিয়ে চাইবে না। হাদীসটির সনদ গ্রহণযোগ্য। রাসূলূল্লাহ ((সা.) বিভিন্ন সময়ে হাত উঠিয়ে দুআ করতেন। আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন:
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ r يَرْفَعُ يَدَيْهِ يَدْعُو حَتَّى إِنِّي لأَسْأَمُ لَهُ مِمَّا يَرْفَعُهُمَا يَدْعُو اللَّهُمَّ فَإِنَّمَا أَنَا بَشْرٌ فَلا تُعَذِّبْنِي بِشَتْمِ رَجُلٍ شَتَمْتُهُ أَوْ آذَيْتُهُ
রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর হাত দুখানা উঠিয়ে দুআ করতেন, এমনকি আমি তাঁর (দীর্ঘ সময়) হাত উঠিয়ে দুআ করাতে ক্লান্ত ও অস্থির হয়ে পড়তাম; তিনি এভাবে দুআয় বলতেন : হে আল্লাহ, আমি একজন মানুষ মাত্র। আমি কোনো মানুষকে গালি দিয়ে ফেললে বা কষ্ট দিলে আপনি সেজন্য আমাকে শাস্তি দিবেন না। এ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, অন্যান্য সময়ের ন্যায় নামাযের পরেও মুনাজাতের সময় হাত উঠানো উত্তম। তবে যে ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সা.) সর্বদা ফযীলত বাদ দিয়েছেন, সেক্ষেত্রে ফযীলত বাদ দেওয়াই সুন্নাত। যেমন, কিবলামুখী হয়ে মুনাজাত করা মুস্তাহাব। কিন্তু নামাযের পরে ইমামের জন্য এই মুস্তাহাব পরিত্যাগ করাই সুন্নাত। অনেক হাদীস থেকে আমরা দেখতে পাই যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) অনেক সময়, বরং অধিকাংশ সময় দুআ-মুনাজাতের জন্য হাত উঠাতেন না। বরং শুধু মুখে দুআ-মুনাজাত করতেন। সাহাবীগণ থেকেও আমরা অনুরূপ কর্ম দেখতে পাই। এ সকল ক্ষেত্রে আমরা কী করব? আমরা কি বলব যে, এ সকল ক্ষেত্রেও হাত উঠিয়ে দুআ করা উত্তম এবং হাত না উঠানো অনুচিত? তাহলে তো স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কর্ম অনুচিত পর্যায়ের হয়ে গেল। না কি আমরা বলব যে, এ সকল ক্ষেত্রে হাত উঠানো উত্তম, তবে না উঠালেও দোষ নেই? সেক্ষেত্রে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাজ অনুত্তম বলে গণ্য হলো। না কি বলব যে, এ সকল ক্ষেত্রে হাত না উঠানোই উত্তম, তবে হাত উঠানোতে দোষ নেই? অথবা বলব যে, এ সকল ক্ষেত্রে হাত উঠানো জায়েয নয়? তাহলে হাত উঠানোর ফযীলতে বর্ণিত হাদীসের কী হবে? এ থেকে আমরা বুঝতে পারি, যে সকল সময়ে তিনি দুআ-মুনাজাতে হাত উঠিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে সেখানে হাত উঠানো সুন্নাত বলে গণ্য হবে। যেমন আরাফার মাঠে, ইসতিসকার দুআয়, যুদ্ধে শুরুতে, বিশেষ আবেগের ক্ষেত্রে, ইত্যাদি। আর যেখানে ও যে সময়ে তিনি হাত উঠাননি বলে জানা গিয়েছে সেখানে হাত না-উঠানো সুন্নাত। অধিকাংশ নিয়মিত মাসনূন দুআ এই প্রকারের। বিভিন্ন হাদীস থেকে আমরা আরো বুঝতে পারি যে, এ সকল মুনাজাত পালনের সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) দু হাত তুলে মুনাজাত করেন নি। আমরা দেখছি যে, সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ঘুরে বসা, ঠোট নাড়া, কথা বলা ইত্যাদি সব কিছুর বর্ণনা দিচ্ছেন, কিন্তু কখনোই বলছেন না যে, তিনি দুই হাত তুলে এই কথাগুলি বলেছিলেন। শুধু পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পরের মুনাজাতের ক্ষেত্রেই নয়, অধিকাংশ নিয়মিত দুআ- মুনাজাতের ক্ষেত্রেই তিনি হাত উঠাতেন না। উপরের বিষয়গুলি সবই সর্বজন স্বীকৃত বিষয়। এ সকল তথ্যের বিষয়ে কোনো মতভেদ আছে বলে জানি না। নামাযের পরে সামষ্টিক মুনাজাতের পক্ষের কোনো আলেমও কোথাও উল্লেখ করেন নি বা দাবী করেন নি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বা সাহাবীগণ কখনো ফরয সালাতের সালাম ফেরানোর পরে উপস্থিত মুসাল্লীদের নিয়ে সমবেতভাবে দুআ করেছেন বলে কোনো হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নামাযের পরে দুআয় একাকী হাত উঠানোর বিষয়ে কিছু কথা বর্ণিত হয়েছে। গত শতাব্দীর কোন কোন আলেম উল্লেখ করেছেন যে, একদিন ফজরের নামাযের পরে ঘুরে বসে রাসূলুল্লাহ (সা.) হাত তুলে দুআ করেছিলেন। তাঁরা বলেন, ইবনে আবী শাইবা বর্ণনা করেছেন, ইয়াযিদ ইবনুল আসওয়াদ (রা) বলেন:
صَلَّيْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ r الْفَجْرَ فَلَمَّا سَلَّمَ انْحَرَفَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ وَدَعَا
আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে ফজরের নামায আদায় করলান। তিনি সালামের পরে ঘুরে বসলেন এবং দুই হাত উঠালেন ও দুআ করলেন। এই হাদীসটি মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ও অন্যান্য গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। তবে এ সকল গ্রন্থে সংকলিত হাদীসের ভাষা নিুরূপ: আসওয়াদ বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা. এর সাথে ফজরের নামায আদায় করলান। তিনি সালাম ফেরানোর পরে ঘুরে বসলেন। কোন গ্রন্থেই এবং দুই হাত উঠালেন ও দুআ করলেন এই অতিরিক্ত কথাটুকু নেই। এজন্য আল্লামা মুফতী আমীমুল ইহসান বলেছেন, হাদীসটি নাযীর হুসাইন মুঙ্গীরী এভাবে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তিনি কোনো গ্রন্থে তা খুঁজে পান নি এবং এর সনদ জানতে পারেন নি। অন্য হাদীসে ফাদল ইবনু আব্বাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
الصَّلاةُ مَثْنَى مَثْنَى تَشَهَّدُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ وَتَخَشَّعُ وَتَضَرَّعُ وَتَمَسْكَنُ وَتَذَرَّعُ وَتُقْنِعُ يَدَيْكَ يَقُولُ تَرْفَعُهُمَا إِلَى رَبِّكَ مُسْتَقْبِلا بِبُطُونِهِمَا وَجْهَكَ وَتَقُولُ يَا رَبِّ يَا رَبِّ وَمَنْ لَمْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَهُوَ كَذَا وَكَذَا، (فَهِيَ خِدَاجٌ)
সালাত দুই রাকআত, দুই রাকআত করে, প্রত্যেক দুই রাকআতে তাশাহ্হুদ পাঠ করবে, বিনীত হবে, কাতর হবে, অসহায়ত্ব প্রকাশ করবে, বেশি করে সাহায্যা প্রার্থনা করবে এবং তোমার দুই হাত প্রভুর দিকে উঠিয়ে দুই হাতের পেট তোমার মুখের দিকে করবে এবং বলবে: হে প্রভু, হে প্রভু। যে এরূপ না করলো তার সালাত অসম্পূর্ণ। এই হাদীসে নামাযের পরে হাত তুলে দোওয়া করার কথা বলা হয়েছে। তবে স্পষ্টতই হাদীসটি নফল নামাযের বিষয়ে, যা দুই রাকআত করে পড়তে হয়। সর্বোপরি হাদীসটির সনদ অত্যন্ত দুর্বল। ইমাম বুখারী, উকাইলী, যাহাবী প্রমুখ মুহাদ্দিস হাদীসটির দুর্বলতা উল্লেখ করেছেন। আরেকটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রা) এক ব্যক্তিকে দেখেন যে, সে সালাত শেষ করার পূর্বে তার দুই হাত উত্থিত করে রেখেছে। ঐ ব্যক্তি সালাত শেষ করলে তিনি বলেন:
إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ r لَـمْ يَكُـنْ يَرْفَـعُ يَدَيْهِ حَتَّى يَفْرُغَ مِنْ صَلاَتِهِ
রাসূলুল্লাহ (সা.) সালাত থেকে বিরত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর দুই হাত উঠাতেন না। হাদীসটির সনদ গ্রহণযোগ্য। সালাত শেষের আগে হাত উঠাতেন না থেকে মনে হয় সালাত শেষের পরে রাসূলুল্লাহ (সা.) হাত তুলতেন। এখানে ফরয বা নফল সালাতের কথা উল্লেখ করা নেই। তবে যে ব্যক্তিকে ইবনু যুবাইর কথাটি বলেছিলেন সে ব্যক্তি বাহ্যত নফল সালাত আদায় করছিল এবং এজন্যই একাকী সালাতের মধ্যে দুই হাত তুলে দোওয়া করছিল। তার পরেও এই হাদীসের ভিত্তিতে আমরা দাবি করতে পারি যে, তিনি নফল ও ফরয উভয় সালাতের পরেই হাত তুলে দুআ করতেন। তবে অন্যান্য অগণিত সহীহ হাদীস, যেগুলিতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ফরয সালাতের পরের দুআ, যিকর, বক্তৃতা ও অন্যান্য কর্মের বিবরণ বিস্তারিতভাবে দেওয়া হয়েছে সেগুলি থেকে জানা যায় যে, তিনি ৫ ওয়াক্ত ফরয সালাতের পরের দুআ-মুনাজাত করার সময় হাত তুলতেন না। সে সকল হাদীস ও এ হাদীসটির সমন্বয়ে আমরা ধারণা করতে পারি যে, তিনি সম্ভবত মাঝে মাঝে সালাত শেষে দুআ-মুনাজাতের জন্য হাত তুলতেন বা নফল সালাতে দুআ করলে সালাত শেষে হাত তুলে দুআ করতেন। এ সবই একা একা হাত তুলে দুআ করার বিষয়ে। ফরয নামাযের পরে মুক্তাদীদেরকে নিয়ে সমবেতভাবে হাত তুলে বা হাত না তুলে দুআ তিনি কখনো করেননি। এ বিষয়ে কারো কোনো দ্বিমত আছে বলে আমাদের জানা নেই। (৩) উপস্থিত সকলেই সমবেতভাবে জামাতে যিকর ও মুনাজাত করা। নামাযের পরে জামাতবদ্ধ মুনাজাত গত কয়েকশত বৎসর যাবৎ চালু হয়েছে। তাতে কোনো প্রকারের ফযীলত আছে বলে আমি জানতে পারি নি। রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবীগণের যুগে এইরূপ মুনাজাতের প্রচলন ছিল না বিধায় কোনো কোনো আলিম একে বিদআত বলেছেন। আমরা জানি যে, নামাযের পরে মুনাজাত করা ও মুনাজাতে হাত উঠানোর ফযীলত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। একাকী মুনাজাত করলে এই দুইটি ফযীলতই পলিত হয়। সমবেতভাবে মুনাজাত করার কোনো ফযীলত হাদীসে উল্লেখ করা হয় নি। এক্ষেত্রে আমাদের আশা হলো, একজন মুনাজাত করবেন এবং সমবেত সকলেই আমিন বলবেন, এতে হয়ত আল্লাহ সকলের আবেদনে মুনাজাতটি কবুল করবেন। এ জন্য অবশ্যই ইমামকে জোরে জোরে সবাইকে শুনিয়ে মুনাজাত করতে হবে। এতে মাসবূক মুসাল্লীদের নামায আদায় বিঘ্নিত হবে। আর ইমাম যদি মনে মনে মুনাজাত করেন তবে তো কিছুই হলো না। ইমাম একাকী মুনাজাত করলেন। মুক্তাদিগণ কিছুই না করে হাত তুললেন ও নামালেন। পক্ষান্তরে একাকী মুনাজাত করলে নিজের মনের আবেগ ও প্রয়োজন অনুসারে মুনাজাত করা যায়। এতে মুনাজাতের ফযীলত ও মূল উদ্দেশ্য পুরোপুরি সাধিত হয়, কিন্তু কারো নামাযের ক্ষতি হয় না। এভাবে আমরা বুঝতে পারছি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাতই উত্তম। কিন্তু আমরা বিষয়টিকে উল্টে ফেলেছি। তাছাড়া রাসূল সাঃ পরের যুগগুলিতেও সাহাবী, তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীগণের যুগেও কেউ কখনো ফরয নামাযের পরে সমবেতভাবে হাত তুলে মুনাজাত করেননি। তাঁরা সুযোগ পেলে এই সময়ে ব্যক্তিগতভাবে যিক্র ও মুনাজাত করতেন। ) হাদীস থেকে বুঝা যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)যিকর ও মুনাজাত একাকী পালন করতেন। জামাতে উপস্থিত সাহাবীগণের সাথে একত্রে তা আদায় করতেন না। কখনোই সাহাবীগণ নামাযের পরের মুনাজাতে তাঁর সাথে শরীক হয়েছেন বলে বর্ণিত হয় নি। প্রায় অর্ধ শত সাহাবী থেকে বর্ণিত মুতাওয়াতির পর্যায়ের হাদীসগুলির একটি হাদীসেও বর্ণিত হয় নি যে, একদিন একটি বারও তিনি মুক্তাদিগণের সাথে একত্রে মুনাজাত করেছেন। পক্ষান্তরে সাধারণ ফযীলত জ্ঞাপক হাদীসের আলোকে অনেক আলিম একে সমর্থন করেছেন। তাঁরা এই জামাতবদ্ধ মুনাজাত-কে মুস্তাহাব বলেছেন। চার ইমাম ও পূর্ববর্তী সকল ফকীহ বলেছেন যে সালামের মাধ্যমে নামায শেষ হয়ে যায়। হাদীস শরীফেও বলা হয়েছে যে তাকবীর দিয়ে সালাত শুরু এবং সালামেই সালাত শেষ। এগুলির সাথে সঙ্গতি রক্ষার জন্য তাঁরা বলেছেন যে, এই মুনাজাত নামাযের কোনো অংশ নয়। নামাযের পরে অতিরিক্ত একটি মুস্তাহাব কাজ। নামায সালামের সাথে সাথেই শেষ হয়ে যায়, তবে কেউ যদি এর পরে অন্য কোনো মুস্তাহাব কাজ করে তাহলে দোষ নেই। এখানে মূল হলো মনের আবেগসহ মাসনূন মুনাজাতগুলি পালন করা। নামাযের পরে মুনাজাতের ক্ষেত্রে একাকী মুনাজাতই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রীতি। এছাড়া মনোযোগ আনয়ন ও মাসনূন বাক্য পালনের জন্যও একাকী মুনাজাত উত্তম। জামাতে ইমামের সাথেও মুনাজাত করা যেতে পারে। তবে সদাসর্বদা এইরূপ জামাতবদ্ধ মুনাজাত করা, একে জরুরী মনে করা বা তা পরিত্যাগকারীকে খারাপ মনে করা খুবই অন্যায়। আল্লাহ আমাদেরকে সহীহ বুঝ দান করুন । আমীন।
প্রশ্নঃ 73
আস-সালামু আলাইকুম। আমি একজন চাকুরিজিবি। আলহামদুলিল্লাহ, প্রতি বছর যাকাত প্রদান করি। আমার প্রশ্ন হল আমার স্ত্রির যে গহনা আছে (সারে ৭ ভরির কম, আনুমানিক ৫ ভরি) তার যাকাত আমাকে বা তাকে দিতে হবে কিনা? উল্লেখ যে, আমার স্ত্রির নিজের কোন আয় নেই, এবং তার নামে বেঙ্ক এ কোন টাকাও নেই।
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। না, আপনার স্ত্রীর উপর যাকাত ফরজ নয়। কারণ শুধু স্বর্ণ থাকলে সাড়ে ৭ ভরির কমে যাকাত ফরজ হয় না। আর সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণ থাকলে সেগুলো ব্যবহৃত গহনা হলেও যাকাত দিতে হবে। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. গহনার যাকাত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে গহনার যাকাত দিতে হবে কি না এই বিষয়ে আলেমদের মাঝে কিছুটা মতভেদ আছে আর সহীহ সুন্নাহর আলোকে গহনার যাকাত ওয়াজিব হওয়ার মতটিই শক্তিশালী । নিচে গহনার যাকাত ওয়াজিব হওয়ার দলীল উল্লেখ করা হলো:
১. عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ امْرَأَةً أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- وَمَعَهَا ابْنَةٌ لَهَا وَفِى يَدِ ابْنَتِهَا مَسَكَتَانِ غَلِيظَتَانِ مِنْ ذَهَبٍ فَقَالَ لَهَا ্র أَتُعْطِينَ زَكَاةَ هَذَا গ্ধ. قَالَتْ لاَ. قَالَ ্র أَيَسُرُّكِ أَنْ يُسَوِّرَكِ اللَّهُ بِهِمَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ سِوَارَيْنِ مِنْ نَارٍ গ্ধ. قَالَ فَخَلَعَتْهُمَا فَأَلْقَتْهُمَا إِلَى النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- وَقَالَتْ هُمَا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَلِرَسُولِهِ
অর্থ: আমর ইবনে শুয়াইব তার পিতা থেকে তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, একজন মহিলা রাসূলুল্লাহ সা. এর নিকট আসলেন, তার সাথে তার মেয়ে ছিল আর মেয়েটির হাতে ছিল স্বর্ণের দুটি মোটা চুরি। রাসূলুল্লাহ সা. তাকে বললেন, তুমি কি এর জাকাত দাও? সে বলল, না। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, তোমাকে কি এটা আনন্দ দিবে যে, কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তায়ালা তোমাকে (এর কারণে) আগুনের চুরি পরিয়ে দিবে। বর্ণনাকারী সাহাবী বলেন, তখন সে ঐচুরি দুটি নবী সা. এর কাছে দিল এবং বলল, এদুটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ১৫৬৫। সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং ২৪৭৯। হাদীসটিকে কোন কোন মুহাদ্দিস হাসান বলেছেন আবার কোন কোন মুহাদ্দিস সহীহ বলেছেন। শাইখ আলবানী রহ . ও শাইখ শুয়াইব আরনাউত হাসান বলেছেন। দেখুন: সহীহ আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩৯৬: সুনানে আবু দাউদ, তালীক শুয়াইব আর নাউত, হাদীস নং ১৫৬৩। মুহাম্মাদ ইবনে কাত্তান (৬২৮হি.) বলেছেন, সনদ সহীহ। বায়ানুল ওহমী ওয়াল ইহাম, ৫/৩৬৬ । আল্লামা ইবনে হাজার রহ. বলেছেন, সনদ শক্তিশালী। বুলুগুল মারম,১/২৫৫।
২. عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادِ بْنِ الْهَادِ أَنَّهُ قَالَ دَخَلْنَا عَلَى عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- فَقَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَرَأَى فِى يَدِى فَتَخَاتٍ مِنْ وَرِقٍ فَقَالَ ্র مَا هَذَا يَا عَائِشَةُ গ্ধ. فَقُلْتُ صَنَعْتُهُنَّ أَتَزَيَّنُ لَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ ্র أَتُؤَدِّينَ زَكَاتَهُنَّ গ্ধ. قُلْتُ لاَ أَوْ مَا شَاءَ اللَّهُ. قَالَ ্র هُوَ حَسْبُكِ مِنَ النَّارِ
অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ ইবনে হাদী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা আয়েশা রা. এর কাছে গেলাম। তখন তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সা. আমার কাছে আসলেন। তখন তিনি আমার হাতে রুপার একটি আংটি দেখে বললেন, এটা কি? আয়েশা! আমি বললাম, আমি এটা বনিয়েছি আপনার সামনে সজ্জিত হওয়ার জন্য। তখন রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, তুমি তার যাকাত দাও? আমি বললাম না। তখন তিনি বললেন, তোমার জাহান্নামে যাওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ১৫৬৭। হাদীসটি সহীহ। আল্লামা বদরুদ্দিন আইনি ও শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। দেখুন, উমদাতুল কারী,১৩/৪৫৬; সহীহ আবু দাউদ,হাদীস নং ১৩৯৮। আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী ও হাকিম রহ. বলেছেন, হাদীসটির সনদ বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী। দেখুন,আত-তালখিসুল হাবীর, ২/৩৯০; আলমুসতাদরক লিল হাকিম, হাদীস নং ১৪৩৭। উপরের হাদীস দুটি থেকে স্পষ্ট যে, গহনার যাকাত দেয়া ওয়াজিব। সুতরাং আলেমদের মাঝে মতভেদ থাকলেও আমাদের জন্য উচিৎ ও অধিকতর নিরাপদ হলো অলংকারের যাকাত আদায় করা। নতুবা এটা আমাদের জন্য জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হয়ে যেতে পারে। সুতরাং আপনার স্ত্রীর জন্য আবশ্যক হল তার অলংকারের যাকাত দেয়া। আল্লাহ আমাদের দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন।
প্রশ্নঃ 72
আমার মায়ের বয়স ৬৩ বছর। তিনি একটি জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় ২/৩ মাসের মধ্যে তাঁর অপারেশন দরকার। যদিও তিনি এই মুহূর্তে মোটামুটি স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারেন আলহামদুলিল্লাহ, কিন্তু অপারেশন না করালে ডাক্তারগণ আশংকা করছেন ২/৩ বছরের মধ্যে প্যারালাইসিস হয়ে যেতে পারে। এমতাবস্থায় উনি চাচ্ছেন অপারেশনের আগে এমন কিছু ভালো কাজ করে যেতে যেন যদি অপারেশনে উনি না বাঁচেন তাহলে যেন আল্লাহর কাছে ভালো কিছু নিয়ে যেতে পারেন। আমরা বলেছি ভালো করে তাওবা-ইস্তিগফার করতে। প্রশ্ন ১- দয়া করে এমন কিছু কাজ বলুন যেন উনি মৃত্যুর আগে সেগুলো করে যেতে পারেন। আমাদের দেখামতে, উনি উনার জীবনে আল্লাহর বিধানমতো চলতে চেষ্টা করেছেন, আলহামদুলিল্লাহ্। স্পেসিফিক্যালি, উনার একটি ফ্ল্যাট আছে, উনি ভাবছেন এমন একটি নিয়্যত করবেন কিনা যে যদি অপারেশনে ভালো হয়ে যান, তাহলে সেটি বিক্রি করে আরেকবার হাজ্জ্ব করতে যাবেন (উনি একবার হাজ্জ্ব করেছেন)। উল্লেখ্য, আমার বাবা আল্লাহর রহমতে আর্থিকভাবে সচ্ছল, সুতরাং উনি ফ্ল্যাট বিক্রি করলে আমাদের (সন্তানদের) সমস্যা হবেনা ইনশাআল্লাহ। প্রশ্ন ২- উনার এই চিন্তাটা শরীয়তের দৃষ্টিতে কেমন? এর চেয়ে ভালো কোন অপশন বলতে পারেন কি (যদি থাকে) যেটা উনি ফ্ল্যাট বিক্রি করা টাকা দিয়ে করতে পারেন? জাযাকাল্লাহু খাইরান কাসিরাহ।
20 Dec 2025
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার আম্মা যে কাজ করার ইচ্ছা করছেন তাকে আরবীতে নযর বলে আর বাংলায় বলে মান্নত। বিপদে আপদে নযর বা মানত না করে দান করাই উত্তম। মানত হলো শর্ত সাপেক্ষ দান: এটি হলে আমি এটি করব। আর দান বা সাদাকা হলো নিঃশর্ত দান। মানত না করে দান করাই উত্তম। মান্নত করতে রাসূল সা. নিষেধ করেছেন। ইবনে উমার রা. বলেন,
: نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ، عَنِ النَّذْرِ قَالَ إِنَّهُ لاَ يَرُدُّ شَيْئًا وَإِنَّمَا يُسْتَخْرَجُ بِهِ مِنَ الْبَخِيلِ
অর্থ: নবী সা. মান্নত করা থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, মান্নত কোন কিছু কে বাধা দিতে পারে না। এদ্বারা শুধুমাত্র কৃপনের থেকে কিছু সম্পদ বের করা হয়। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৬০৮। এমন অর্থের আরো হাদীস অন্যান্য সাহাবী থেকে বর্ণিত আছে। সুতরাং আপনার আম্মার উচিৎ মান্নত করা থেকে বিরত থাকা। তবে তিনি অপারেশনের পূর্বে ঐ ফ্লাটটি বা অন্য কোন সম্পদ দান করতে পারেন। সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে, সদকা অর্থাৎ নফল দান বিপদ আপদ থেকে মুক্ত রাখে। এবিষয়ে একটি হাদীস উল্লেখ করা হলো,
حُذَيْفَةَ قَالَ : كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ عُمَرَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، فَقَالَ أَيُّكُمْ يَحْفَظُ قَوْلَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْفِتْنَةِ قُلْتُ أَنَا كَمَا قَالَهُ قَالَ إِنَّكَ عَلَيْهِ ، أَوْ عَلَيْهَا - لَجَرِيءٌ قُلْتُ فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَوَلَدِهِ وَجَارِهِ تُكَفِّرُهَا الصَّلاَةُ وَالصَّوْمُ وَالصَّدَقَةُ وَالأَمْرُ وَالنَّهْيُ
অর্থ: সাহাবী হুযায়ফা রা. বলেন, আমরা উমার রা. এর কাছে বসেছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের কে ফিৎনার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সা. এর হাদীস মুখস্ত রেখেছ? আমি বললাম, আমি, তিনি (রাসূলুল্লাহ সা.) যেভাবে বলেছেন ( সেভাবে মুখস্ত রেখেছি)। উমার রা. বললেন, তুমি তো খুব সাহসী মানুষ। আমি বললাম, (রাসূল সা. বলেছেন,) পরিবার, ধন সম্পদ, সন্তান সন্ততি এবং প্রতিবেশীদের নিয়ে মানুষ যে ফিতনা বা বিপদ আপদে পড়ে নামায, রোজা, দান সদকা, সৎ কাজের আদেশ ও অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ তা দূর করে দেয়। সহীহ বুখারী, হাদীস নং হাদীস নং ৫২৫। এই বিষয়ে সহীহ ও যয়ীফ সনদে আরো অনেক হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীস থেকে স্পষ্ট যে, দান সদকা সকল প্রকার বিপদ আপদ থেকে মুক্ত রাখে। উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে, শরীয়তের দৃষ্টিতে মান্নত কাম্য নয় বরং দান সদকা করা শরীয়তের দৃষ্টিতে কাম্য। সর্বাবস্থায় মানত করলে তা পূরণ করতে হবে। কুরআনের অনেক আয়াত ও বহু হাদীসে দান করার জন্য ব্যাপক উৎসাহ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন।
প্রশ্নঃ 71
আস- সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। শায়েখ,আপনার কাছে আমার জানার বিষয় হল, আমরা যে কাপড়ের মোজা পরি তার মাসাহ করা বৈধ হবে কি? দলীল সহ জানালে উপকৃত হব।
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুম সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে মুবারকবাদ। নিচে এব্যাপারে আলোচনা করা হল । আশা করি আপনি তাতে উত্তর খুজে পাবেন ইনশা আল্লাহ। মোজা বুঝাতে আরবীতে দুটি শব্দ রয়েছে: খুফ্ফ (الخف) অর্থাৎ চামড়ার মোজা এবং জাওরাব (الجورب) অর্থাৎ কাপড়, পশম ইত্যাদির মোজা। প্রথম প্রকারের মোজার উপর মাসাহ করার বিষয়টি রাসূল সাঃ থেকে সন্দেহাতীত ভাবে মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা প্রমাণিত । হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ বলেন: একদল হাফেজে হাদীসের স্পষ্ট বক্তব্য হল খুফ্ফাইনের (চামড়ার মোজার উপর) মাসাহ করার বিষয়টি রাসূল সাঃ থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণীত।ফাতহুল বারী (খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৮৫)। এব্যাপারে হযরত মুগীরা ইবরে শুবা রাঃ থেকে বর্ণীত আছে তিনি বলেন: وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَمَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ অর্থঃ আর তিনি তাঁর মাথা মাসাহ করলেন এবং চামড়ার মোজার উপর মাসাহ করলেন। বুখারী, আস-সহীহ, হাদীস নং(২০৪)। মুসলিম, আস - সহীহ, হাদীস নং (৬৪৯)। বুখারী এবং মুসলিম দ্বিতীয় প্রাকারের মোজা তথা জাওরাব বা কাপড়ের মোজার উপর রাসূল সা. মাসাহ করেছেন কিনা তা সহীসূত্রে পাওয়া যায় না। ফলে এবিষয়ে ইমামদের মাঝে মতবিরোধ পরিলক্ষিত হয়। তবে গ্রহনযোগ্য মত হল, যদি মোটা হয়,মজবুত হয়, পায়ের সাথে এটে থাকে, চলাচল করার মত হয় তাহলে আশা করা যায় মাসাহ করা যাবে। যেমন ইমাম আহমাদ রহঃ বলেছেন : যদি তার উপর হাটাচলা যায় এবং তা পায়ের সাথে লেগে থাকে তাহলে তার উপর মাসাহ করতে কোন সমস্যা নেই । (ইবনে কুদামা, আল মুগনি, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৭৬। ) হানাফী মাযহাবের উলামায়ে কেরামের মধ্য হতে ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ ও মুহাম্মাদ রহঃ এর মতে মোজা যদি মোটা হয় তাহলে তার উপর মাসাহ করা জায়েয। ইমাম আবু হানীফা রহঃ ভিন্নমত পোষণ করলেও শেষ জীবনে ছাহেবাইনের মত গ্রহন করেন। যেমন আল্লামা কাসানী রহঃ বলেন:
وَإِنْ كَانَا ثَخِينَيْنِ لَا يَجُوزُ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ وَعِنْدَ أَبِي يُوسُفَ ، وَمُحَمَّدٍ يَجُوزُ . وَرُوِيَ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ أَنَّهُ رَجَعَ إلَى قَوْلِهِمَا فِي آخِرِ عُمُرِهِ
তবে যদি পুরু এবং মোটা হয় সে ক্ষেত্রে আবু হানীফার মতে জায়েজ নেই । আর ছাহেবাইন রহঃ এর নিকট তার উপর মাসাহ করা বৈধ। বর্ণীত আছে যে, আবু হানীফা রহঃ জীবনের শেষ দিকে ছাহেবাইনের মত গ্রহন করেছেন।বাদাইউস সানাইয়ী, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১০। আবু হানীফা রহঃ ছাহেবাইনের মত গ্রহন করার বিষয়টি তিরমিযী রহঃ উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন:
سمعت صالح بن محمد الترمذي قال سمعت أبا مقاتل السمرقندي يقول دخلت على أبي حنيفة في مرضه الذي مات فيه فدعا بماء فتوضأ وعليه جوربان فمسح عليهما ثم قال فعلت اليوم شيئا لم أكن أفعله مسحت على الجوربين وهما غير منعلين 
অর্থঃ (ইমাম তিরমিযী রহঃ বলেন:) আমি সালেহ ইবনে মুহাম্মাদ কে বলতে শুনেছি, আমি আবু মুকাতিলকে বলতে শুনেছি যে, আমি আবু হানিফার নিকটে তার মৃত্যু পূর্ব অবস্থায় গমন করলাম। তিনি ওজু করার জন্য পানি আনতে বললেন অতপর ওজু করলেন । আর তিনি তার পায়ে থাকা জাওরাবের উপর মাসাহ করলেন। এরপর বললেন : আমি আজ যেটা করলাম তা ইতিপূর্ব কখন করিনি। আমি শুধু জাওরাবের উপর মাসাহ করলাম । তিরমিযী, আস-সুনান, খন্ড ১,পৃষ্ঠা ১৬৯, তাহকীক, আহমাদ শাকের। (প্রকাশক, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বইরুত, লেবানন)। মোটকথাঃ জাওরাব বা কাপড়ের মোজার উপর মাসাহ করার ব্যাপারে ইমামদের মাঝে মতবিরোধ আছে, তবে গ্রহনযগ্য মত হল,যদি তা মোটা হয়,মজবুত হয়, পায়ের সাথে এটে থাকে, চলাচল করার মত হয় তাহলে আশা করা যায় মাসাহ করা যাবে। সুতরাং আমাদের মুজা যদি মজবুত হয়, পায়ের সাথে এটে থাকে, চলাচল করার মত হয় তাহলে তার উপর মাসেহ করা যাবে। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বিষয়ের উপর আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
প্রশ্নঃ 70
আপনি এক টিভি প্রশ্ন উত্তরে বলেছেন বুকের উপর হাত রাখার কোন সহি দলিল নাই। স্বালাতে মুবাশশির বইটির লেখক আব্দুল হামীদ ফাইযী তার বইতে লিখছে মহানবী(সঃ)উভায় হাতকে বুকের উপর রাখতেন দলিল হিসাবে বলছেন আবুদাউদ ৭৫৯ নংইবনে খুযাইমাহ ৪৭৯ নংআহমাদ মুসনাদ, আবিশ শায়খ প্রমুখ। বুকের উপরেই হাত বাঁধা সুন্নাহতে প্রমাণিত। সিফাতু স্বালাতিন নাবী(সঃ) আলবানী।
20 Dec 2025
আপনাকে ধন্যবাদ। সহীহ হাদীসে সাহাবী ওয়ায়েল ইবনে হুজর রা. রাসূলুল্লাহ সা. এর নামাযের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন,
ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى
অর্থাৎ (রাসূলুল্লাহ সা. ) তাঁর ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখলেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯২৩। সহীহ বুখারীতে এই বিষয়ে বর্ণিত আরেকটি হাদীস হলো,
عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ كَانَ النَّاسُ يُؤْمَرُونَ أَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ الْيَدَ الْيُمْنَى عَلَى ذِرَاعِهِ الْيُسْرَى فِي الصَّلاَةِ. قَالَ أَبُو حَازِمٍ لاَ أَعْلَمُهُ إِلاَّ يَنْمِي ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
তাবেঈ আবু হাযিম সাহাবী সাহল ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, মানুষদের আদেশ দেওয়া হতো সালাতের মধ্যে ডান হাত বাম হাতের বাহুর উপর রাখতে। আবু হাযিম বলেন, এই নির্দেশকে তিনি নাবীউল্লাহ সা. এর প্রতি সম্পৃক্ত করেছেন বলেই আমি জানি। সহীহ বুখারী, হাদীস নং৭৪০। হাত রাখার ব্যাপারে সহীহ সূত্রে অনেক সাহাবী থেকে শুধু এতটুকুই জানা যায় অর্থাৎ বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা। হাত রাখার স্থান নিয়ে বর্ণিত হাদিসগুলো একটিও ইলমী গবেষণার আলোকে সহীহ নয়। ইমাম তিরমিযী রহ. এর বক্তব্য আমাদের এই বিষয়ে একটি সঠিক সমাধান দিতে পারে। অন্য একজন সাহাবী থেকে উপরের অনুরুপ একটি হাদীস বর্ণনা করে তিনি বলেছেন,
والعمل على هذا عند أهل العلم من أصحاب النبي صلى الله عليه و سلم والتابعين ومن بعدهم يرون ا يضع الرجل يمينه على شماله في الصلاة ورأى بعضهم أن يضعهما فوق السرة ورأى بعضهم أن يضعهما تحت السرة وكل ذلك واسع عندهم
অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. এর সাহাবী, তাবেয়ী এবং পরবর্তী আলেমদের নিকট আমল এর উপরই। তারা মনে করেন ব্যক্তি নামাযের মধ্যে তার ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখবে। তাদের কেউ কেউ মনে করেন নাভির উপর রাখবে আবার কেউ কেউ মনে করেন নাভীর নিচে রাখবে। তাদের নিকট উভয় পদ্ধতি গ্রহনের অবকাশ আছে। জামে তিরমিযী,২৫২ নং হাদীসের আলোচনা। সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে আমরা সহজেই বুঝতে পারি যে, এই বিষয়ে মাতামাতি না করে আমাদের উচিৎ যে কোন একটি পদ্ধতির উপর আমল করা। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত সালাতের মধ্যে হাত বাঁধার বিধান, একটি হাদীসতাত্ত্বিক পর্যালোচনা বইটি।
প্রশ্নঃ 69
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। মুহতারাম, তারাবীহ সালাতের রাকাত নিয়ে প্রায়ই তর্ক বিতর্ক হচ্ছে কেউ বলছে আট রাকাত কেউ বলছে বিশ রাকাত আসলে কত রাকাত দলিলের বিশ্লেষণ সহ উত্তর দিলে আমরা উপকৃত হব।
20 Dec 2025
প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে শুকরান। তারাবীহ বা রামাদানের কিয়ামুল লাইল: রামাদানে কিয়ামুল্লাইল আদায়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) অন্য সময়ের থেকে অধিক তাকিদ প্রদান করেছেন। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه
অর্থ: যে ব্যক্তি রমজান মাসে ঈমানের সাথে সওয়াবের নিয়তে নামায পড়বে তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০০৯ এজন্য রামাদানের কিয়ামুল্লাইলকে উম্মাতের আলিমগণ অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সুন্নাত মুআক্কাদা বলে গণ্য করেছেন। সাহাবীগণ রামাদানে তাঁর পিছনে জামাআতে কিয়ামুল্লাইল পালন করতে অতীব আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু ফরয হওয়ার আশঙ্কায় তিনি একাকী তা আদায় করতেন এবং সাহাবীদেরকে এভাবে আদায় করতে পরামর্শ দেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৬১। পাশাপাশি তিনি জামাআতে রামাদানের কিয়াম আদায়ের ফযীলতে বলেন:
مَنْ قَامَ مَعَ الإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ كُتِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ
যে ব্যক্তি ইমামের কিয়ামুল্লাইল শেষ করা পর্যন্ত ইমামের সাথে কিয়ামুল্লাইল আদায় করবে তার জন্য পুরো রাত কিয়াম পালনের সাওয়াব লেখা হবে। জামে তিরমিযী হাদীস নং ৮০৬। হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযী ও শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেনে। সাহাবীগণ ও পরবর্তী প্রজন্মের মুসলিমগণ রামাদানের কিয়ামুল্লাইল আদায়ের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। যেহেতু শেষ রাতে উঠে তা আদায় করা অনেকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়, এজন্য অনেকেই সালাতুল ইশার পরেই মসজিদে বা বাড়িতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করে ঘুমাতেন। যারা কুরআনের ভাল কারী বা হাফিয ছিলেন না তারা অনেক সময় কোনো ভাল কারী বা হাফিযের পিছনে মসজিদে বা বাড়িতে ছোট জামাত করে তা আদায় করতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে ও তাঁর ওফাতের পরে প্রায় কয়েক বৎসর এভাবেই চলে। খলীফা উমার (রা) লক্ষ্য করেন যে, এভাবে মদীনার মসজিদে নববীতে ছোট ছোট জামাতে বা পৃথকভাবে একাকী অনেকেই সালাতুল ইশার পরে কিয়ামুল্লাইল আদায় করছেন। তখন তিনি সাহাবী উবাই ইবন কাবকে বলেন, মানুষেরা দিবসে সিয়াম পালন করেন, কিন্তু অনেকেই ভাল হাফিয বা কারী নন; কাজেই আপনি তাদেরকে নিয়ে জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করেন। পাশাপাশি তিনি সুলাইমান ইবন আবী হাসমাহ (রা) নামক অন্য সাহাবীকে মহিলাদের নিয়ে মসজিদের শেষ প্রান্তে পৃথক জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করার নির্দেশ দেন। মহিলাদের জামাতের ইমামতি তামীম দারী (রা) নামক অন্য সাহাবীও করতেন। খলীফা উসমান ইবন আফ্ফনের (রা) সময়ে তিনি সুলাইমান ইবন আবী হাসমাহ (রা)-এর ইমামতিতে পুরুষ ও মহিলাদের এক জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায়ের ব্যবস্থা করেন। মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান, আল-মুআত্তা (আব্দুল হাই লাখনবী, আত-তালীক আল-মুমাজ্জাদ-সহ) পৃ ১/৩৫৫; ইবনু আবী শাইবা; আল-মুসান্নাফ ২/২২২। অধিকাংশ মানুষ জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করতে থাকেন। তবে অনেক সাহাবী, তাবিয়ী ও যারা ভাল হাফিয ও আবিদ ছিলেন তারা সালাতুল ইশার পরে অথবা মধ্য রাতে ও শেষ রাতে একাকী রামাদানের কিয়ামুল্লাইল আদায় করতেন। সহীহ হাদীসে হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. স্বয়ং সাহাবীদের কে নিয়ে কয়েক দিন রমজানের এই বিশেষ নামায তথা তারাবীহ নামায পড়েছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০১২। রাসূল সা. থেকে সহীহ সনদে ঐরাতগুলোর তারাবীহর রাকআত সংখা নিয়ে কোন হাদীস বর্ণিত নেই। মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে রাসূল সা. ২০ রাকআত পড়েছেন মর্মে যে হাদীসটি বর্ণিত আছে তা সর্বাক্যমতে দূর্বলু। কারন ঐ হাদিসের সনদে আবু শায়বা ইবরাহীম ইবনে উসমান নামে একজন রাবী আছেন যাকে ইমাম আহমাদ, বুখারী, আবু দাউদ সহ সকল মুহাদ্দিস দূর্বল কিংব মাতরুক (পরিত্যক্ত) বলেছেন। দেখুন, তাহযীবুত তাহযীব, ১/১২৫, তরজামা ২৫৭। সহীহ হাদীস প্রমাণিত যে, রাতের নামাযে রাসূলুল্লাহ সা. এর রাকআত সংখা বিভিন্ন রকম ছিল। নিচে সংক্ষেপে বর্নণা করা হল:
عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَقَالَتْ مَا كَانَ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ ، وَلاَ فِي غَيْرِهَا عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًا ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ قَالَ يَا عَائِشَةُ إِنَّ عَيْنَيَّ تَنَامَانِ ، وَلاَ يَنَامُ قَلْبِي
অর্থ: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান হযরত আয়েশা রা.কে জিজ্ঞাসা করেন, রমাদান মাসে রাসূলুল্লাহ সা.এর নামায কেমন ছিল? তিনি বললেন, তিনি রামাদান এবং অন্য সময়ে ১১রাকআতের বেশী বাড়াতেন না। তিনি প্রথমে ৪ রাকআত পড়তেন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতায় বিস্মিত হবে। এরপর আবার ৪ রাকআত পড়তেন। তুমি তার সোন্দর্য ও দীর্ঘতায় বিস্মিত হবে। এরপর ৩ রাকআত পড়তেন। ........... সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০১৩। হযরত আয়েশা রা. থেকে অন্য বর্নণায় আছে:
عن عائشة قالت : كان النبي صلى الله عليه و سلم يصلي من الليل تسع ركعات [ قال ] وفي الباب عن أبي هريرة وزيد بنخالد والفضل بن عباس
অর্থ: হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. রাত্রে ৯ রাকআত পড়তেন । জামে তিরমিযী, হাদীস নং৪৪৩। হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাসান সহীহ আর শাইখ আলবানী বলেছেন, সহীহ। আয়েশা রা. থেকে আরেক বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. কোন কারণে রাতের বেলায় নামায না পড়তে পারলে দিনের বেলায় ১২ রাকআত পড়তেন। জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৪৪৫। হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযী ও শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
عن ابن عباس قال : كان النبي صلى الله عليه و سلم يصلي من الليل ثلاث عشر [ ركعة
হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা, রাতে ১৩ রাকআত নামায পড়তেন। জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৪৪২। হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযী ও শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। বর্ণনা বিভিন্ন প্রকার হওয়ার কারণে ইমাম তিরমিযী বলেছেন,
وأكثر ما روي عن النبي صلى الله عليه و سلم في صلاة الليل ثلاث عشرة ركعة مع الوتر وأقل ما وصف من صلاته بالليل تسع ركعات
রাতের নামাযের ব্যাপারে নবী সা. থেকে যা বর্ণনা করা হয় তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী হল বিতরসহ ১৩ রাকআত আর সবচেয়ে কম হল ৯ রাকআত। উপরের আলোচনা থেকে আমরা নিশ্চিত করেই বলতে পারি যে, রাতের নামায, রামাদান মাসে হোক কিংব অন্য সময় হোক রাসূলুল্লাহ সা. রাকআত সংখা নির্দিষ্ট করেননি। সাহবীদের থেকেও তারাবীর রাকআত সংখা নিয়ে বর্ণনা গুলোর মধ্যে ভিন্নতা আছে। নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল: হযরত উমর রা. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, তার সময়ে লোকেরা মসজিদে জামায়াতের সাথে বিশ রাকআত নামায আদায় করেছেন। হাদীসটি নিম্নরুপ:
عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ : كَانُوا يَقُومُونَ عَلَى عَهْدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ فِى شَهْرِ رَمَضَانَ بِعِشْرِينَ رَكْعَةً - قَالَ - وَكَانُوا يَقْرَءُونَ بِالْمِئِينِ ، وَكَانُوا يَتَوَكَّئُونَ عَلَى عُصِيِّهِمْ فِى عَهْدِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ مِنْ شِدَّةِ الْقِيَامِ
অর্থ: সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, লোকেরা উমার রা. আমলে রমজান মাসে বিশ রাকআত নামায পড়ত। তিনি বলেন, তারা একশ আয়াত পড়ত। দাড়িয়ে থাকতে কষ্ট হত তাই তারা উসমান রা. এর যুগে লাঠিতে ভর দিত। আস-সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং ৪৮০১। হাদীসটি সহীহ। ইমাম নববী, বদরুদ্দীন আইনি, আল্লামা যাইলায়ী, ইবনে হুমাম সব প্রমূখ মুহাদ্দীস হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। দেখুন, আল-মাজমু আলা শারহিল মুহাজ্জাব ৪/৩২; উমদাতুল কারী ৪/৪৮৫; তাবয়ি-নুল হাকাউক শারহে কানযুদ দাক-য়ীক ২/৩৪৯। তবে শায়খ আলবানী ও আব্দুর রহমান মুবারকপুরী এই দুই আহলে হাদীস আলেম বলেছেন হাদীসটি সহীহ নয়। তাদের কথা ইলমের দৃষ্টিতে গ্রহনযোগ্য নয়। এই হাদীসটির বক্তব্যকে সমর্থন করে অনেক গুলো দূর্বল ও সনদ বিচ্ছিনন হাদীস (যে হাদীসের সনদ থেকে কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে যায় তাকে সনদ বিচ্ছিন্ন বা মুনকাতি হাদীস বলে)। তার কিছু নিচে দেয় হল: ১। উক্ত সাহবী (সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে) দূর্বল সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كنا نقوم في زمان عمر بن الخطاب بعشرين ركعة والوتر
অর্থ: আমরা উমার রা. যুগে বিশ রাকআত নামাযপড়তাম ও বিতর পড়তাম। মারিফাতুস সুনান লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং১৩৬৫। ২। ইয়জিদ ইবনে রুমান থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,
كَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فِي رَمَضَانَ بِثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ رَكْعَةً
অর্থ: মানুষেরা উমার ইবনে খাত্তারব রা. এর সময় তেইশ রাকআত (বেতার সহ) নামায পড়ত। মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং ৩০৩। ইয়াজিদ ইবনে রুমান উমার রা. কে পাননি তাই হাদীসটির সনদ মুনকাতি। (উমদাতুল কারী ৪/৪৮৫)। ৩। আব্দুর রহমান আস সুলামী হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণনা করেন যে,
دَعَا الْقُرَّاءَ فِى رَمَضَانَ ، فَأَمَرَ مِنْهُمْ رَجُلاً يُصَلِّى بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً. قَالَ : وَكَانَ عَلِىٌّ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ يُوتِرُ بِهِمْ
অর্থ: তিনি (আলী রা.) যারা কোরআন পড়তে পারে তাদেরকে ডাকলেন। তারপর তাদের একজনকে লোকদেরকে নিয়ে বিশ রাকআত নামায পড়াতে আদেশ দিলেন। আব্দুর রহমান আসসুলামী বলেন, আলী রাযি. তাদেরকে নিয়ে বিতর পড়লেন। আসসুনানুল কুরবা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং ৪৮০৪। এই হাদীসটির সহীহ বা যয়ীফ হওয়ার ব্যাপারে কোন বায়হাক্কী রহ. কোন মন্তব্য করেন নি। এই কিতাবের ৪৮০৫ নং হাদীসে পৃথক সনদে আলী রা. থেকে বিশ রাকআত তারাবীহ পড়ার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন বলে বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে তিনি দূর্বল বলেছেন। এছাড়াও আরো অনেকগুলো সনদ দূর্বল হাদীস বিভিন্ন কিতাবে উল্লেখ আছে। এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, হযরত উমার রা. এর যুগ থেকে বিশ রাকআত তারাবীহ সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত এবং অনেকগুলো দূর্বল হাদীস একে সমর্থন করছে, সুতরাং আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, বিশ রাকআত তারাবীহ সুন্নাহ সম্মত। সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে অন্য হাদীসে বর্ণিত আছে যে, উমার রা. উবাই ইবনে কাব এবং তামীম দারেমীকে আট রাকআত তারাবীহ পড়ানোর জন্য আদেশ দিয়েছেন। যার আরবী জানেন তাদের জন্য হাদীসটির মূল পাঠ নিম্নরূপ:
عَنْ مَالِكٍ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ ، أَنَّهُ قَالَ : أَمَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ وَتَمِيمًا الدَّارِيَّ أَنْ يَقُومَا لِلنَّاسِ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً قَالَ : وَقَدْ كَانَ الْقَارِئُ يَقْرَأُ بِالْمِئِينَ ، حَتَّى كُنَّا نَعْتَمِدُ عَلَى الْعِصِيِّ مِنْ طُولِ الْقِيَامِ ، وَمَا كُنَّا نَنْصَرِفُ إِلاَّ فِي فُرُوعِ الْفَجْرِ মুয়ত্তা মালেক, হাদীস নং ৩০২। হাদীসটির সনদ সহীহ। সহীহ সনদে সাহাবী সাইব ইবরে ইয়াযীদ থেকে আরো একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। হাদীসটি নিম্নরূপ :
عبد الرزاق عن داود بن قيس وغيره عن محمد بن يوسف عن السائب بن يزيد أن عمر جمع الناس في رمضان على أبي بن كعب وعلى تميم الداري على إحدى وعشرين ركعة يقرؤون بالمئين وينصرفون عند فروع الفجر
অর্থ: উমার রা. মানুষদেরকে একত্র করে উবাই ইবনে কাব এবং তামীম দারেমীকে ২১ রাকআত পড়ানোর জন্য ইমাম বানিয়ে দিলেন। তারা শত শত আয়াত পাঠ করতেন এবং ফজরের সময় ফিরে আসতেন। মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ৭৭৩০। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, সাহাবীগণও মনে করতেন না যে, তারবীহর নামায নির্দিষ্ট । তবে অধিকাংশ আলেম তারাবীহ নামায ২০ রাকআত আদায় করারা পক্ষে মত দিয়েছেন। নিচে চার মাজাহাব ও অনুসৃত আলেমগণের মতামত সংক্ষেপে বর্ণনা করা হল: ১। ইমাম বায়হাক্কী রহ বলেছেন, দুই বর্ণনার (আট ও বিশ) মাঝে এভাবে সমন্বয় কারা যায় যে, প্রথমে তারা আট রাকআত পড়ত পরে বিশ রাকআত পড়ত। আসসুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং ৪৮০২। রাকআত সংখা নিয়ে চার মাযহাব ও অন্যান্য ইমামগণের বক্তব্য: ২। হানাফী মাজহাব:
يُسْتَحَبُّ أَنْ يَجْتَمِعَ النَّاسُ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ بَعْدَ الْعِشَاءِ فَيُصَلِّيَ بِهِمْ إمَامُهُمْ خَمْسَ تَرْوِيحَاتٍ ، كُلُّ تَرْوِيحَةٍ بِتَسْلِيمَتَيْنِ ، وَيَجْلِسَ بَيْنَ كُلِّ تَرْوِيحَتَيْنِ مِقْدَارَ تَرْوِيحَةٍ ، ثُمَّ يُوتِرَ بِهِمْ
অর্থ: মুস্তাহাব হলো লোকেরা রমজান মাসে ইশার পরে একত্রিত হবে এং ইমাম তাদেরকে নিয়ে পাঁচটি বিরতি দিয়ে নামায পড়বেন আর প্রত্যেকটি বিরতি হবে দুই সালাম বিশিষ্ট (অর্থাৎ বিশ রাকআত)। প্রত্যেক দুই বিরতির মাঝে সমপরিমান সময় বসে থাকবেন । এরপর তিনি তাদেরকে নিয়ে বিতর পড়বেন। হেদায়া ১/৭০। বিস্তারিত জানতে দেখুন: ফাতহুল কদীর ২/৪৪৬। ৩। মালেকী মাজহাব: মালেকী মাজহাবের প্রবীণ আলেম আল্লামা বাজী রহ. তার রচিত মুয়ত্তার ব্যাখ্যা গ্রন্থে (১/২০৮) তারবীহ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন,
وروى نافع مولى ابن عمر : أنه أدرك الناس يصلون بتسع وثلاثين ركعة. يوترون بثلاث. وهو الذى اختاره مالك
অর্থ: মাওলা ইবনে উমার নাফে রহ. বর্ণনা করেন যে, তিনি মানুষদেরকে ৩৯ রাকআত নামায পড়তে দেখেছেন। তারা তিন রাকআত বিতর পড়ত । আর ইমাম মালেক রহ. এটাই পছন্দ করেছেন। দেখুন: আত-তারাবীহ, লেখক: আতিয়্যাহ মুহাম্মাদ সালিম, পৃষ্ঠা ১৫৯-১৬০। ৪। শাফেয়ী মাজহাব: ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেন,
فَأَمَّا قِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ فَصَلاَةُ الْمُنْفَرِدِ أَحَبُّ إلى منه وَرَأَيْتهمْ بِالْمَدِينَةِ يَقُومُونَ بِتِسْعٍ وَثَلاَثِينَ وَأَحَبُّ إلى عِشْرُونَ لأَنَّهُ روى عن عُمَرَ وَكَذَلِكَ يَقُومُونَ بِمَكَّةَ وَيُوتِرُونَ بِثَلاَثٍ
অর্থ: রমজানের নামায একাকী পড়াই আমার নিকট উত্তম। আমি মদীনাবাসীদেরকে দেখেছি তারা ৩৯ রাকআত পড়ে । তবে বিশ রাকআত আমার নিকট অধিক প্রিয়। কেননা উমার রাযি. থেকে তা প্রামানিত। আর এমনই (২০ রাকআত) পড়ে মক্কাবাসীগন। আর তারা তিন রাকআত বিতর পড়ে। কিতাবুল উম্ম লিশ শাফেয়ী ১/১৪২। ৫। হাম্বলী মাজহাব: প্রখ্যত হাম্বলী আলোম ইবনে কুদামা আল মুকাদ্দেসী (৬২০হি.) বলেন,
قَالَ( وَقِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ عِشْرُونَ رَكْعَةً يَعْنِي صَلَاةَ التَّرَاوِيحِ وَهِيَ سُنَّةٌ مُؤَكَّدَةٌ
অর্থ: রমজানের মাসের নাময অর্থাৎ তারবীহ বিশ রাকআত। এবং তা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। আল মুগনী ফি ফিকহী ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল ৩/৩৮৭। ৬। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার রহ. বলেন,
فَإِنَّهُ قَدْ ثَبَتَ أَنَّ أبي بْنَ كَعْبٍ كَانَ يَقُومُ بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً فِي قِيَامِ رَمَضَانَ وَيُوتِرُ بِثَلَاثِ . فَرَأَى كَثِيرٌ مِنْ الْعُلَمَاءِ أَنَّ ذَلِكَ هُوَ السُّنَّةُ ؛ لِأَنَّهُ أَقَامَهُ بَيْن الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَلَمْ يُنْكِرْهُ مُنْكِرٌ
অর্থ: এটা সাব্যস্ত যে, উবাই ইবন কাব রাযি. মানুদেরকে নিয়ে রমজানে বিশ রাকআত তারাবী ও তিন রাকআত বিতর পড়িয়েছিলেন। অধিকাংশ আলেম এটাকেই সুন্নত মনে করেন। কেননা তিনি তার করেছিলেন মুহাজির ও আনসারদের উপস্থিতিতে আর তার কোন রকম আপত্তি করেন নি। মাজমউল ফাতাওয়া ২৩/ ১১২। উপরের আলোচনা থেকে আমরা দেখতে পাই যে, তারাবীহ নামায রাসূলুল্লাহ সা. থেকে সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত। যারা বেশী কোরআন পড়তে পারেন তারা বাড়িতে একা একা উক্ত নামায পড়বে। আর তারাবীহর রাকআত সংখা বিশ হযরত উমার রা. থেকে সহীহ সনদে সাব্যস্ত। আর অধিকাংশ আলেমও বিশ রাকআতকে সুন্নাত মনে করেন। তবে শাইখ আলবানী সহ কোন কোন আলেম আট রাকআতের মত গ্রহন করেছেন। সুতরাং আমাদের মত সাধারণ মানুষদের কর্তব্য হল অধিকাংশ আলোম যে বিষয়টিকে সুন্নাত বলেছেন সেটা মেনে নেয়া এবং সেই অনুযায়ী আমল করা। তবে কেউ যদি এর কম বা বেশী পড়তে চান তাতে কোন অসুবিধা নেই। এমনটিই বলেছেন বিশেষজ্ঞ আলেমগণ। কেননা এটা সুন্নত নামায, রাকআত সংখা উদ্দেশ্য নয়। বিস্তারিত জানতে ড.খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত আল-ফিকহুল আকবার দেখুন।
প্রশ্নঃ 68
ফিতরা কয় শ্রেণীর মানুষের মাঝে বন্টন করতে হবে?
20 Dec 2025
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। যাকাত যাদেরকে দেয়া যায় ফিতরাও তাদেরকে দেয়া যায়। আর কুরআনে তাদের পরিচিতি দেয়া হয়েছে এই আয়াতে:
إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ
অর্থ: সাদকা (যাকাত ) পাওয়ার অধিকারী হলো, দরিদ্র, মিসকিন, সরকারের পক্ষ থেকে যাকাত আদায়ের জন্য নিযুক্ত লোক, অমুসলিমদেরকে ইসলামের দিকে আকষর্নের জন্য ( এটা সরকারের পক্ষ থেকে হতে হবে), গোলাম আযাদের জন্য, ঋনগ্রস্থ ব্যক্তির ঋন পরিষোধের জন্য, মুজাহিদ, মুসাফির। সূরা তাওবা, আয়াত ৬০। এই আয়াত থেকে আমরা জানতে পারি যে, যাকাত উল্লেখিত আট শ্রেনীর মানুষকে দেয়া যায়। তেমনিভাবে সদকাতুল ফিতরও এই আট শ্রেণীর মানুষকে দেয়া যায়।বিস্তারিত জানতে দেখুন, আলফিক্হ আলা মাজাহিবিল আরবা ১/৪৮৪-৪৮৬।
প্রশ্নঃ 67
পণ্যের যাকাত দিতে গেলে কি মূলধন হিসাব করব নাকি ঐসময় দোকানে যত টাকার পণ্য আছে তার হিসাব করব?
20 Dec 2025
পণ্যের যাকাত আদায় করতে হবে মূলধন সহ। শুধু দোকানের পণ্যের যাকাত দিলেই যথেষ্ট হবে না বরং যাকাত আদায়যোগ্য সমস্ত সম্পদের যাকাত দিতে হবে।
প্রশ্নঃ 66
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। শায়েখ, আপানার কাছে আমার জানার বিষয় হল, জামাতে সালাত আদায় করার সময় মুক্তাদিরা কখন দাড়িয়ে কাতার সোজা করবে?
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। ইকামতের শুরুতেই মুসল্লিরা দাড়িয়ে যাবে এবং কাতার সোজা করবে। সাহাবীদের আমল এমনই ছিল। তাঁরা একামত শুরু হওয়ার সাথে সাথে দাঁড়িয়ে কাতার সোজা করতেন। আর কাতার সোজা করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাসূলুল্লাহ সা. এই ব্যাপারে আদেশ দিয়েছেন। তবে ইমাম সাহেব মসজিদে আসার পূর্বে মুক্তাদীদের নামাযে দাড়াতে রাসূল (স.) নিষেধ করেছেন। এই কারনে অধিকাংশ আলেমের মতে ইমাম সাহেব না থাকা অবস্থায় মুক্তাদীরা ইকামতের সময় নামাযে দাড়াবে না। দলীল নিম্নরূপ:
.১عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ الصَّلاَةَ كَانَتْ تُقَامُ لِرَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَيَأْخُذُ النَّاسُ مَصَافَّهُمْ قَبْلَ أَنْ يَقُومَ النَّبِىُّ -صلى الله عليه وسلم- مَقَامَهُ
হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. কে দেখা গেলে ইকামত শুরু করা হত। আর তিনি তাঁর জায়গায় পৌছানোর পূর্বেই লোকেরা তাদের কাতার গ্রহন করতেন (অর্থাৎ কাতার সোজা করে দাড়িয়ে থাকতেন)। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬০৬। উল্লেখ্য সহীহ মুসলিমের এই স্থানে এই বিষয়ে আরো কয়েকটি হাদীস বর্ণিত আছে যা উক্ত হাদীসের বক্তব্যকে সমর্থন করে।
.عن بن جريج قال أخبرني بن شهاب أن الناس كانوا ساعة يقول المؤذن الله أكبر الله أكبر يقيم الصلاة يقوم الناس إلى الصلاة فلا يأتي النبي صلى الله عليه و سلم مقامه حتى يعدل الصفوف
ইবনে জুরাইজ বলেন, আমাকে ইবনে শিহাব বলেছেন যে, মুয়াজ্জিন আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার বলে ইকামত শুরু করা মাত্রই লোকেরা নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে যেত এবং রাসূলুল্লাহ সা. নিজের জায়গায় পৌছাতে পৌছাতে কাতার সোজা হয়ে যেত। মুসান্নফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ১৯৪২। হাদীসটির সনদে সাহাবীর নাম নেই তাই হাদীসটি মাকতু। তবে উপরে বর্ণিত সহীহ হাদীস এই বক্তব্যকে সমর্থন করছে। উপরুক্ত হাদীসদ্বয় দ্বারা আমারা জানতে পারছি যে, স্বাভাবিক অবস্থায় ইকামতের শুরুতেই মুক্তাদীরা নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে যাবে এবং দ্রুত কাতার সোজা করবে। কাতার সোজা করার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সা. খুবই গুরুত্ব দিতেন। এই বিষয়ে অনেক হাদীস বর্ণিত আছে। নিচে একটি হাদীস উল্লেখ করা হল।
النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ يَقُولُ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَتُسَوُّنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ وُجُوهِكُمْ
অর্থ: সাহাবী নুমান বিন বাশীর বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা অবশ্যই তোমাদের কাতার সোজা করবে অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করে দিবেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং৭০৭ তবে ইমাম সাহেব উপস্থিত না থাকলে অধিকাংশ আলেমের নিকট মুক্তাদীরা দাড়াবে না। ইমাম সাহেবকে দেখার পর দাড়াবে। এই বিষয়ে স্পষ্ট হাদীস আছে।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ تَقُومُوا حَتَّى تَرَوْنِي وَعَلَيْكُمْ بِالسَّكِينَةِ
আব্দুল্লাহ ইবনে আবি কাতাদাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল (স.) বলেছেন, যখন নামাযের ইকামত দেয়া হবে তখন তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত দাড়াবে না। চুপ করে বসে থাকবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৩৮। উপরের আলোচনা থেকে আমারা বুঝতে পারলাম যে, জামায়াতে সালাত আদায় করার সময় মুক্তাদীরা ইকামতের শুরুতেই দাড়াবে এবং কাতার সোজা করবে তবে ইমাম সাহেব উপস্থিত না থাকলে ইমাম সাহেব আসার পর দাঁড়াবে। আল্লাহ ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 65
একজন মানুষ বিদেশে কায়িক প্ররিশ্রম করে । তাই সে দেশে একজন রোজাদারের সেহরী ও ইফতার দিয়ে মনে করছে তার রোজার হক হয়ে যাচ্ছে । এটা কি তার রোজার কাফফারা?
20 Dec 2025
প্রশ্ন করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। না, এর দ্বারা তার রোজার কাফফারা হচ্ছে না। এটা তার ভুল ও বিপজ্জনক চিন্তা। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيَ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ
অর্থ: রামাদান মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে......তোমাদের মধ্যে যে রামাদান মাস পাবে সে যেন রোজা রাখে। সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৫। সুতরাং প্রত্যেক সুস্থ মুসলিমের উপর রামাদানের রোজা রাখা ফরজ । অসুস্থতার জন্য রোজা রাখতে না পারলে সুস্থ হওয়ার পর তা আদায় করতে হবে। আর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলেই কেবল ফিদিয়া দিতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, ফিদিয়া সেহরী ইফতার দিয়ে নয় বরং একজন মিসকিনকে দুবেলা খাবার বা খাবারের টাকা দিয়ে আদায় করতে হবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ
অর্থ: তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকবে কিংবা সফরে থাকবে তাহলে তার জন্য অন্য দিনগুলো, (অর্থাৎ সে পরে সুস্থ হলে কিংবা সফর থেকে ফিরে আসলে যে রোজাগুলো রাখতে পারে নাই সেগুলো রাখবে)। আর যারা রোজা রাখতে গিয়ে কষ্টের শিকার হবে তাদের উপর আবশ্যক হল ফিদিয়া একজন মিসকীনকে খাবার খাওয়ানো। সূরা বাকারাহ, আয়াত: ১৮৪। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন, কষ্টের শিকার ব্যক্তি দ্বারা উদ্দেশ্য হল প্রচন্ড বৃদ্ধ মানুষ ( যারা রোজা রাখতে পারে না)। তাফসীরে ইবনে কাসীর, সূরা বাকারাহ, আয়াত ১৮৪। আধুনিক ফিকহী কিতাব আল ফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু এর লেখক ড. ওহুবাহ আয যুহায়লি বলেন,
وتجب الفدية أيضاً بالاتفاق على المريض الذي لا يرجى برؤه، لعدم وجوب الصوم عليه
অর্থ: সর্বাক্যমতে ফিদিয়া ওয়াজিব হবে এমন অসুস্থ ব্যক্তির উপর যার সুস্থ হওয়ার ব্যাপারে আশা করা যায় না। কেননা তার উপর তখন রোজা ওয়াজিব থাকে না। আল ফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু, ২/৬০৫। আরো দেখুন: আল ফিকহ আলা মাযাহিবিল আরবা ১/৪৪৫। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, প্রশ্নেল্লোখিত ব্যক্তির জন্য এভাবে রোজা না রেখে কাউকে সেহরী ইফতার করানো শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ নেই। সুস্থ ব্যক্তিকে অবশ্যই রোজা রাখতে হবে। সুস্থ হওয়ার আশা নেই এমন অসুস্থ ব্যক্তিই কেবল ফিদিয়া দিতে পারবে তথা তার উপর ফিদিয়া দেয়া ওয়াজিব। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন।
প্রশ্নঃ 64
কীভাবে রোজার নিয়ত করবো
20 Dec 2025
প্রশ্ন করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। নিয়্যাত হলো হৃদয়ের সংকল্প। ইবনে হাজার রহ. ফতাহুল বারীতে বলেছেন, নিয়্যাতের জায়গা হল অন্তর। অন্যান্য আলেমদের বক্তব্যসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন ফাতহুল বারী, হাদীস নং ১। যে দিন রোজা রাখবেন তার আগের রাত্রে মনে মনে সংকল্প করবেন যে, আমি আজ রোজা রাখব। হাদীস শরীফে আছে, উম্মুল মূমিনীন হাফসা রা. বলেন, রাসূল সা. বলেছেন,
قال من لم يجمع الصيام قبل الفجر فلا صيام له
অর্থ: যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে রোজার নিয়্যাত না করবে তার রোজা হবে না। জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৭৩০; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৭০০। হাদীসটি সহীহ। আলবানী রহ. সহীহ বলেছেন। তবে ফকীহদের কেউ কেউ বলেছেন, সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে যাওয়ার পূর্বে নিয়্যাত করলেও জায়েজ হবে। অবশ্য নফল রোজার নিয়্যাত সর্বাক্যমতে সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত করা যায়। দেখুন জামে তিরমিযী ৭৩০ নং হাদীসের আলোচনা।
প্রশ্নঃ 63
তারাবীহ সালাতের রাকাত সংখ্যা কত?
20 Dec 2025
প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে শুকরান। তারাবীহ বা রামাদানের কিয়ামুল লাইল: রামাদানে কিয়ামুল্লাইল আদায়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) অন্য সময়ের থেকে অধিক তাকিদ প্রদান করেছেন। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه
অর্থ: যে ব্যক্তি রমজান মাসে ঈমানের সাথে সওয়াবের নিয়তে নামায পড়বে তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০০৯ এজন্য রামাদানের কিয়ামুল্লাইলকে উম্মাতের আলিমগণ অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সুন্নাত মুআক্কাদা বলে গণ্য করেছেন। সাহাবীগণ রামাদানে তাঁর পিছনে জামাআতে কিয়ামুল্লাইল পালন করতে অতীব আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু ফরয হওয়ার আশঙ্কায় তিনি একাকী তা আদায় করতেন এবং সাহাবীদেরকে এভাবে আদায় করতে পরামর্শ দেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৬১। পাশাপাশি তিনি জামাআতে রামাদানের কিয়াম আদায়ের ফযীলতে বলেন:
مَنْ قَامَ مَعَ الإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ كُتِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ
যে ব্যক্তি ইমামের কিয়ামুল্লাইল শেষ করা পর্যন্ত ইমামের সাথে কিয়ামুল্লাইল আদায় করবে তার জন্য পুরো রাত কিয়াম পালনের সাওয়াব লেখা হবে। জামে তিরমিযী হাদীস নং ৮০৬। হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযী ও শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেনে। সাহাবীগণ ও পরবর্তী প্রজন্মের মুসলিমগণ রামাদানের কিয়ামুল্লাইল আদায়ের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। যেহেতু শেষ রাতে উঠে তা আদায় করা অনেকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়, এজন্য অনেকেই সালাতুল ইশার পরেই মসজিদে বা বাড়িতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করে ঘুমাতেন। যারা কুরআনের ভাল কারী বা হাফিয ছিলেন না তারা অনেক সময় কোনো ভাল কারী বা হাফিযের পিছনে মসজিদে বা বাড়িতে ছোট জামাত করে তা আদায় করতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে ও তাঁর ওফাতের পরে প্রায় কয়েক বৎসর এভাবেই চলে। খলীফা উমার (রা) লক্ষ্য করেন যে, এভাবে মদীনার মসজিদে নববীতে ছোট ছোট জামাতে বা পৃথকভাবে একাকী অনেকেই সালাতুল ইশার পরে কিয়ামুল্লাইল আদায় করছেন। তখন তিনি সাহাবী উবাই ইবন কাবকে বলেন, মানুষেরা দিবসে সিয়াম পালন করেন, কিন্তু অনেকেই ভাল হাফিয বা কারী নন; কাজেই আপনি তাদেরকে নিয়ে জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করেন। পাশাপাশি তিনি সুলাইমান ইবন আবী হাসমাহ (রা) নামক অন্য সাহাবীকে মহিলাদের নিয়ে মসজিদের শেষ প্রান্তে পৃথক জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করার নির্দেশ দেন। মহিলাদের জামাতের ইমামতি তামীম দারী (রা) নামক অন্য সাহাবীও করতেন। খলীফা উসমান ইবন আফ্ফনের (রা) সময়ে তিনি সুলাইমান ইবন আবী হাসমাহ (রা)-এর ইমামতিতে পুরুষ ও মহিলাদের এক জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায়ের ব্যবস্থা করেন। মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান, আল-মুআত্তা (আব্দুল হাই লাখনবী, আত-তালীক আল-মুমাজ্জাদ-সহ) পৃ ১/৩৫৫; ইবনু আবী শাইবা; আল-মুসান্নাফ ২/২২২। অধিকাংশ মানুষ জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করতে থাকেন। তবে অনেক সাহাবী, তাবিয়ী ও যারা ভাল হাফিয ও আবিদ ছিলেন তারা সালাতুল ইশার পরে অথবা মধ্য রাতে ও শেষ রাতে একাকী রামাদানের কিয়ামুল্লাইল আদায় করতেন। সহীহ হাদীসে হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. স্বয়ং সাহাবীদের কে নিয়ে কয়েক দিন রমজানের এই বিশেষ নামায তথা তারাবীহ নামায পড়েছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০১২। রাসূল সা. থেকে সহীহ সনদে ঐরাতগুলোর তারাবীহর রাকআত সংখা নিয়ে কোন হাদীস বর্ণিত নেই। মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে রাসূল সা. ২০ রাকআত পড়েছেন মর্মে যে হাদীসটি বর্ণিত আছে তা সর্বাক্যমতে দূর্বলু। কারন ঐ হাদিসের সনদে আবু শায়বা ইবরাহীম ইবনে উসমান নামে একজন রাবী আছেন যাকে ইমাম আহমাদ, বুখারী, আবু দাউদ সহ সকল মুহাদ্দিস দূর্বল কিংব মাতরুক (পরিত্যক্ত) বলেছেন। দেখুন, তাহযীবুত তাহযীব, ১/১২৫, তরজামা ২৫৭। সহীহ হাদীস প্রমাণিত যে, রাতের নামাযে রাসূলুল্লাহ সা. এর রাকআত সংখা বিভিন্ন রকম ছিল। নিচে সংক্ষেপে বর্নণা করা হল:
عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَقَالَتْ مَا كَانَ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ ، وَلاَ فِي غَيْرِهَا عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًا ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ قَالَ يَا عَائِشَةُ إِنَّ عَيْنَيَّ تَنَامَانِ ، وَلاَ يَنَامُ قَلْبِي
অর্থ: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান হযরত আয়েশা রা.কে জিজ্ঞাসা করেন, রমাদান মাসে রাসূলুল্লাহ সা.এর নামায কেমন ছিল? তিনি বললেন, তিনি রামাদান এবং অন্য সময়ে ১১রাকআতের বেশী বাড়াতেন না। তিনি প্রথমে ৪ রাকআত পড়তেন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতায় বিস্মিত হবে। এরপর আবার ৪ রাকআত পড়তেন। তুমি তার সোন্দর্য ও দীর্ঘতায় বিস্মিত হবে। এরপর ৩ রাকআত পড়তেন। ........... সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০১৩। হযরত আয়েশা রা. থেকে অন্য বর্নণায় আছে:
عن عائشة قالت : كان النبي صلى الله عليه و سلم يصلي من الليل تسع ركعات [ قال ] وفي الباب عن أبي هريرة وزيد بنخالد والفضل بن عباس
অর্থ: হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. রাত্রে ৯ রাকআত পড়তেন । জামে তিরমিযী, হাদীস নং৪৪৩। হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাসান সহীহ আর শাইখ আলবানী বলেছেন, সহীহ। আয়েশা রা. থেকে আরেক বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. কোন কারণে রাতের বেলায় নামায না পড়তে পারলে দিনের বেলায় ১২ রাকআত পড়তেন। জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৪৪৫। হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযী ও শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
عن ابن عباس قال : كان النبي صلى الله عليه و سلم يصلي من الليل ثلاث عشر [ ركعة
হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা, রাতে ১৩ রাকআত নামায পড়তেন। জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৪৪২। হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযী ও শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। বর্ণনা বিভিন্ন প্রকার হওয়ার কারণে ইমাম তিরমিযী বলেছেন,
وأكثر ما روي عن النبي صلى الله عليه و سلم في صلاة الليل ثلاث عشرة ركعة مع الوتر وأقل ما وصف من صلاته بالليل تسع ركعات
রাতের নামাযের ব্যাপারে নবী সা. থেকে যা বর্ণনা করা হয় তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী হল বিতরসহ ১৩ রাকআত আর সবচেয়ে কম হল ৯ রাকআত। উপরের আলোচনা থেকে আমরা নিশ্চিত করেই বলতে পারি যে, রাতের নামায, রামাদান মাসে হোক কিংব অন্য সময় হোক রাসূলুল্লাহ সা. রাকআত সংখা নির্দিষ্ট করেননি। সাহবীদের থেকেও তারাবীর রাকআত সংখা নিয়ে বর্ণনা গুলোর মধ্যে ভিন্নতা আছে। নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল: হযরত উমর রা. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, তার সময়ে লোকেরা মসজিদে জামায়াতের সাথে বিশ রাকআত নামায আদায় করেছেন। হাদীসটি নিম্নরুপ:
عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ : كَانُوا يَقُومُونَ عَلَى عَهْدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ فِى شَهْرِ رَمَضَانَ بِعِشْرِينَ رَكْعَةً - قَالَ - وَكَانُوا يَقْرَءُونَ بِالْمِئِينِ ، وَكَانُوا يَتَوَكَّئُونَ عَلَى عُصِيِّهِمْ فِى عَهْدِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ مِنْ شِدَّةِ الْقِيَامِ
অর্থ: সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, লোকেরা উমার রা. আমলে রমজান মাসে বিশ রাকআত নামায পড়ত। তিনি বলেন, তারা একশ আয়াত পড়ত। দাড়িয়ে থাকতে কষ্ট হত তাই তারা উসমান রা. এর যুগে লাঠিতে ভর দিত। আস-সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং ৪৮০১। হাদীসটি সহীহ। ইমাম নববী, বদরুদ্দীন আইনি, আল্লামা যাইলায়ী, ইবনে হুমাম সব প্রমূখ মুহাদ্দীস হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। দেখুন, আল-মাজমু আলা শারহিল মুহাজ্জাব ৪/৩২; উমদাতুল কারী ৪/৪৮৫; তাবয়ি-নুল হাকাউক শারহে কানযুদ দাক-য়ীক ২/৩৪৯। তবে শায়খ আলবানী ও আব্দুর রহমান মুবারকপুরী এই দুই আহলে হাদীস আলেম বলেছেন হাদীসটি সহীহ নয়। তাদের কথা ইলমের দৃষ্টিতে গ্রহনযোগ্য নয়। এই হাদীসটির বক্তব্যকে সমর্থন করে অনেক গুলো দূর্বল ও সনদ বিচ্ছিনন হাদীস (যে হাদীসের সনদ থেকে কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে যায় তাকে সনদ বিচ্ছিন্ন বা মুনকাতি হাদীস বলে)। তার কিছু নিচে দেয় হল: ১। উক্ত সাহবী (সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে) দূর্বল সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كنا نقوم في زمان عمر بن الخطاب بعشرين ركعة والوتر
অর্থ: আমরা উমার রা. যুগে বিশ রাকআত নামাযপড়তাম ও বিতর পড়তাম। মারিফাতুস সুনান লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং১৩৬৫। ২। ইয়জিদ ইবনে রুমান থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,
كَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فِي رَمَضَانَ بِثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ رَكْعَةً
অর্থ: মানুষেরা উমার ইবনে খাত্তারব রা. এর সময় তেইশ রাকআত (বেতার সহ) নামায পড়ত। মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং ৩০৩। ইয়াজিদ ইবনে রুমান উমার রা. কে পাননি তাই হাদীসটির সনদ মুনকাতি। (উমদাতুল কারী ৪/৪৮৫)। ৩। আব্দুর রহমান আস সুলামী হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণনা করেন যে,
دَعَا الْقُرَّاءَ فِى رَمَضَانَ ، فَأَمَرَ مِنْهُمْ رَجُلاً يُصَلِّى بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً. قَالَ : وَكَانَ عَلِىٌّ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ يُوتِرُ بِهِمْ
অর্থ: তিনি (আলী রা.) যারা কোরআন পড়তে পারে তাদেরকে ডাকলেন। তারপর তাদের একজনকে লোকদেরকে নিয়ে বিশ রাকআত নামায পড়াতে আদেশ দিলেন। আব্দুর রহমান আসসুলামী বলেন, আলী রাযি. তাদেরকে নিয়ে বিতর পড়লেন। আসসুনানুল কুরবা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং ৪৮০৪। এই হাদীসটির সহীহ বা যয়ীফ হওয়ার ব্যাপারে কোন বায়হাক্কী রহ. কোন মন্তব্য করেন নি। এই কিতাবের ৪৮০৫ নং হাদীসে পৃথক সনদে আলী রা. থেকে বিশ রাকআত তারাবীহ পড়ার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন বলে বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে তিনি দূর্বল বলেছেন। এছাড়াও আরো অনেকগুলো সনদ দূর্বল হাদীস বিভিন্ন কিতাবে উল্লেখ আছে। এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, হযরত উমার রা. এর যুগ থেকে বিশ রাকআত তারাবীহ সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত এবং অনেকগুলো দূর্বল হাদীস একে সমর্থন করছে, সুতরাং আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, বিশ রাকআত তারাবীহ সুন্নাহ সম্মত। সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে অন্য হাদীসে বর্ণিত আছে যে, উমার রা. উবাই ইবনে কাব এবং তামীম দারেমীকে আট রাকআত তারাবীহ পড়ানোর জন্য আদেশ দিয়েছেন। যার আরবী জানেন তাদের জন্য হাদীসটির মূল পাঠ নিম্নরূপ:
عَنْ مَالِكٍ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ ، أَنَّهُ قَالَ : أَمَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ وَتَمِيمًا الدَّارِيَّ أَنْ يَقُومَا لِلنَّاسِ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً قَالَ : وَقَدْ كَانَ الْقَارِئُ يَقْرَأُ بِالْمِئِينَ ، حَتَّى كُنَّا نَعْتَمِدُ عَلَى الْعِصِيِّ مِنْ طُولِ الْقِيَامِ ، وَمَا كُنَّا نَنْصَرِفُ إِلاَّ فِي فُرُوعِ الْفَجْرِ
মুয়ত্তা মালেক, হাদীস নং ৩০২। হাদীসটির সনদ সহীহ। সহীহ সনদে সাহাবী সাইব ইবরে ইয়াযীদ থেকে আরো একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। হাদীসটি নিম্নরূপ :
عبد الرزاق عن داود بن قيس وغيره عن محمد بن يوسف عن السائب بن يزيد أن عمر جمع الناس في رمضان على أبي بن كعب وعلى تميم الداري على إحدى وعشرين ركعة يقرؤون بالمئين وينصرفون عند فروع الفجر
অর্থ: উমার রা. মানুষদেরকে একত্র করে উবাই ইবনে কাব এবং তামীম দারেমীকে ২১ রাকআত পড়ানোর জন্য ইমাম বানিয়ে দিলেন। তারা শত শত আয়াত পাঠ করতেন এবং ফজরের সময় ফিরে আসতেন। মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ৭৭৩০। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, সাহাবীগণও মনে করতেন না যে, তারবীহর নামায নির্দিষ্ট । তবে অধিকাংশ আলেম তারাবীহ নামায ২০ রাকআত আদায় করারা পক্ষে মত দিয়েছেন। নিচে চার মাজাহাব ও অনুসৃত আলেমগণের মতামত সংক্ষেপে বর্ণনা করা হল: ১। ইমাম বায়হাক্কী রহ বলেছেন, দুই বর্ণনার (আট ও বিশ) মাঝে এভাবে সমন্বয় কারা যায় যে, প্রথমে তারা আট রাকআত পড়ত পরে বিশ রাকআত পড়ত। আসসুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং ৪৮০২। রাকআত সংখা নিয়ে চার মাযহাব ও অন্যান্য ইমামগণের বক্তব্য: ২। হানাফী মাজহাব:
يُسْتَحَبُّ أَنْ يَجْتَمِعَ النَّاسُ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ بَعْدَ الْعِشَاءِ فَيُصَلِّيَ بِهِمْ إمَامُهُمْ خَمْسَ تَرْوِيحَاتٍ ، كُلُّ تَرْوِيحَةٍ بِتَسْلِيمَتَيْنِ ، وَيَجْلِسَ بَيْنَ كُلِّ تَرْوِيحَتَيْنِ مِقْدَارَ تَرْوِيحَةٍ ، ثُمَّ يُوتِرَ بِهِمْ
অর্থ: মুস্তাহাব হলো লোকেরা রমজান মাসে ইশার পরে একত্রিত হবে এং ইমাম তাদেরকে নিয়ে পাঁচটি বিরতি দিয়ে নামায পড়বেন আর প্রত্যেকটি বিরতি হবে দুই সালাম বিশিষ্ট (অর্থাৎ বিশ রাকআত)। প্রত্যেক দুই বিরতির মাঝে সমপরিমান সময় বসে থাকবেন । এরপর তিনি তাদেরকে নিয়ে বিতর পড়বেন। হেদায়া ১/৭০। বিস্তারিত জানতে দেখুন: ফাতহুল কদীর ২/৪৪৬। ৩। মালেকী মাজহাব: মালেকী মাজহাবের প্রবীণ আলেম আল্লামা বাজী রহ. তার রচিত মুয়ত্তার ব্যাখ্যা গ্রন্থে (১/২০৮) তারবীহ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন,
وروى نافع مولى ابن عمر : أنه أدرك الناس يصلون بتسع وثلاثين ركعة. يوترون بثلاث. وهو الذى اختاره مالك
অর্থ: মাওলা ইবনে উমার নাফে রহ. বর্ণনা করেন যে, তিনি মানুষদেরকে ৩৯ রাকআত নামায পড়তে দেখেছেন। তারা তিন রাকআত বিতর পড়ত । আর ইমাম মালেক রহ. এটাই পছন্দ করেছেন। দেখুন: আত-তারাবীহ, লেখক: আতিয়্যাহ মুহাম্মাদ সালিম, পৃষ্ঠা ১৫৯-১৬০। ৪। শাফেয়ী মাজহাব: ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেন,
فَأَمَّا قِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ فَصَلاَةُ الْمُنْفَرِدِ أَحَبُّ إلى منه وَرَأَيْتهمْ بِالْمَدِينَةِ يَقُومُونَ بِتِسْعٍ وَثَلاَثِينَ وَأَحَبُّ إلى عِشْرُونَ لأَنَّهُ روى عن عُمَرَ وَكَذَلِكَ يَقُومُونَ بِمَكَّةَ وَيُوتِرُونَ بِثَلاَثٍ
অর্থ: রমজানের নামায একাকী পড়াই আমার নিকট উত্তম। আমি মদীনাবাসীদেরকে দেখেছি তারা ৩৯ রাকআত পড়ে । তবে বিশ রাকআত আমার নিকট অধিক প্রিয়। কেননা উমার রাযি. থেকে তা প্রামানিত। আর এমনই (২০ রাকআত) পড়ে মক্কাবাসীগন। আর তারা তিন রাকআত বিতর পড়ে। কিতাবুল উম্ম লিশ শাফেয়ী ১/১৪২। ৫। হাম্বলী মাজহাব: প্রখ্যত হাম্বলী আলোম ইবনে কুদামা আল মুকাদ্দেসী (৬২০হি.) বলেন,
قَالَ ( وَقِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ عِشْرُونَ رَكْعَةً يَعْنِي صَلَاةَ التَّرَاوِيحِ وَهِيَ سُنَّةٌ مُؤَكَّدَةٌ
অর্থ: রমজানের মাসের নাময অর্থাৎ তারবীহ বিশ রাকআত। এবং তা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। আল মুগনী ফি ফিকহী ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল ৩/৩৮৭। ৬। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার রহ. বলেন,
فَإِنَّهُ قَدْ ثَبَتَ أَنَّ أبي بْنَ كَعْبٍ كَانَ يَقُومُ بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً فِي قِيَامِ رَمَضَانَ وَيُوتِرُ بِثَلَاثِ . فَرَأَى كَثِيرٌ مِنْ الْعُلَمَاءِ أَنَّ ذَلِكَ هُوَ السُّنَّةُ ؛ لِأَنَّهُ أَقَامَهُ بَيْن الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَلَمْ يُنْكِرْهُ مُنْكِرٌ
অর্থ: এটা সাব্যস্ত যে, উবাই ইবন কাব রাযি. মানুদেরকে নিয়ে রমজানে বিশ রাকআত তারাবী ও তিন রাকআত বিতর পড়িয়েছিলেন। অধিকাংশ আলেম এটাকেই সুন্নত মনে করেন। কেননা তিনি তার করেছিলেন মুহাজির ও আনসারদের উপস্থিতিতে আর তার কোন রকম আপত্তি করেন নি। মাজমউল ফাতাওয়া ২৩/ ১১২। উপরের আলোচনা থেকে আমরা দেখতে পাই যে, তারাবীহ নামায রাসূলুল্লাহ সা. থেকে সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত। যারা বেশী কোরআন পড়তে পারেন তারা বাড়িতে একা একা উক্ত নামায পড়বে। আর তারাবীহর রাকআত সংখা বিশ হযরত উমার রা. থেকে সহীহ সনদে সাব্যস্ত। আর অধিকাংশ আলেমও বিশ রাকআতকে সুন্নাত মনে করেন। তবে শাইখ আলবানী সহ কোন কোন আলেম আট রাকআতের মত গ্রহন করেছেন। সুতরাং আমাদের মত সাধারণ মানুষদের কর্তব্য হল অধিকাংশ আলোম যে বিষয়টিকে সুন্নাত বলেছেন সেটা মেনে নেয়া এবং সেই অনুযায়ী আমল করা। তবে কেউ যদি এর কম বা বেশী পড়তে চান তাতে কোন অসুবিধা নেই। এমনটিই বলেছেন বিশেষজ্ঞ আলেমগণ। কেননা এটা সুন্নত নামায, রাকআত সংখা উদ্দেশ্য নয়। বিস্তারিত জানতে ড.খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত আল-ফিকহুল আকবার দেখুন।
প্রশ্নঃ 62
1) Bank er ATM BOOTH e Service Support Engineer hisebe job kora jabe ki? 2) Government job ki halal hobe?
20 Dec 2025
জ্বী হা, ব্যাংকের এ টি এম বুথে সেবা বা সাপোর্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজ করা যাবে। তাতে সমস্যা নেই। পাশাপাশি সরকারি চাকরিও করা যাবে যদি শরীয়তের দৃষ্টিতে কাজটি হারাম না হয়ে থাকে।
প্রশ্নঃ 61
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। মুহতারাম, হজ্জের গুরুত্ব, ফযীলত, করণীয় এবং বর্জনীয় বিষয়গুলো জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ । প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়গুলি নিম্নে সংক্ষেপে দেওয়া হল। হজ্জের গুরুত্বঃ হজ্জ ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ। নামায, রোযা, যাকাত ইত্যাদির মত হজ্জও একটি ফরয আঈন ইবাদত। কেউ হজ্জের আবশ্যকীয়তা বা ফরয হওয়া অস্বীকার করলে তাকে অমুসলিম বলে গণ্য করা হবে। আর যদি কোন সক্ষম ব্যক্তি হজ্জ ফরয মানা সত্বেও তা আদায় না করেন তাহলে তিনি কঠিন পাপের মধ্যে নিপতিত হবেন এবং ঈমান নষ্ট হওয়ার ভয় রয়েছে। আল্লাহ বলেছেন:
وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلا
বাইতুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম প্রত্যেক ব্যক্তির উপর আল্লাহর জন্য হজ্জ আদায় করা ফরয। (সূরা আলে ইমরান,আয়াত ৯৭) নিজের ও পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচ মিটিয়ে মক্কা শরীফে যাওয়ার খরচ বহনের ক্ষমতা হলেই মুসলিম পুরষ ও মহিলার জন্য জীবনে একবার হজ্জ আদায় করা ফরয হয়ে যায়। এমনকি কারো যদি নিজের প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি থাকে, যে জমির ফসল না হলেও তার বৎসর চলে যায়, অথবা অতিরিক্ত বাড়ি থাকে যে বাড়ি তার ব্যবহার করতে হয় না, বরং ভাড়া দেওয়া, অথচ যে বাড়ির ভাড়া না হলেও তার বছর চলে যায় তবে সেই জমি বা বাড়ি বিক্রয় করে হজ্জে যাওয়া ফরয হবে বলে অনেক ফকীহ সুস্পষ্টত উল্লেখ করেছেন। আর হজ্জ ফরয হওয়ার পরেও হজ্জ না করে মৃত্যুবরণ করাকে কোনো কোনো হাদীসে ইহূদী-খৃস্টান হয়ে মরা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ বলেন:
إِنَّ عَبْداً صَحَّحْتُ لَهُ جِسْمَهُ وَوَسَّعْتُ عَلَيْهِ فِيْ الْمَعِيْشَةِ تَمْضِيْ عَلَيْهِ خَمْسَةُ أَعْوَامٍ لاَ يَفِدُ إِلَيَّ لَمَحْرُوْمٌ
যে বান্দার শরীর আমি সুস্থ রেখেছি এবং তার জীবনযাত্রায় সচ্ছলতা দান করেছি, এভাবে পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও সে আমার ঘরে আগমন করল না সে সুনিশ্চিত বঞ্চিত ও হতভাগা। (সহী ইবনে হিব্বান, তাহকীক, শুয়াইব আরনাউত, হাদীস নং ৩৭০৩) হাদীসটিকে শাইখ আলবানী সহী বলেছেন,সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হাদীস নং ১১৬৬। যখন যে বয়সেই তা ফরয হোক তা যতশীঘ্র সম্ভব আদায় করতে হবে। প্রকৃত সত্য কথা হলো, হজ্জ যৌবনকাল ও শক্তির সময়ের ইবাদত। কোনো বৃদ্ধ মানুষ সঠিকভাবে হজ্জ আদায় করতে পারেন না। সম্পূর্ণ বৈরি আবহাওয়ায়, লক্ষলক্ষ মানুষের ভিড়ের মধ্যে মাইলের পর মাইল হাঁটা, দৌঁড়ানো, কাঁকর নিক্ষেপ করা ইত্যাদি ইবাদতের সুন্নাত পর্যায় রক্ষা করা তো দূরের কথা ওয়াজিব পর্যায় ঠিক রাখাও বৃদ্ধ ব্যক্তির জন্য কষ্টকর। এজন্য যুবক বয়সের হজ্জই প্রকৃত ও পরিপূর্ণ হজ্জ হতে পারে। হজ্জের ফযীলতঃ কুরআন ও হাদীসে অগণিত স্থানে বারংবার হজ্জের গুরত্ব ও ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন:
مَنْ حَجَّ لِلَّهِ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ
যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য নিবেদিতভাবে, সর্বপ্রকার পাপ, অন্যায় ও অশ্লীলতা মুক্ত হয়ে হজ্জ আদায় করলো, সে নবজাতক শিশুর মত নিষ্পাপ হয়ে ঘরে ফিরল। (সহীহ বুখারী হাদীস নং ১৫২১)
الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا وَالْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلا الْجَنَّةُ
একবার উমরা আদায়ের পরে দ্বিতীয়বার যখন উমরা আদায় করা হয়, তখন দুই উমরার মধ্যবর্তী গোনাহ আল্লাহ মাফ করে দেন। আর পুণ্যময়-পরোপকারময় হজ্জের একমাত্র পুরস্কার হলো জান্নাত। (বুখারী,হাদীস নং ১৭৭৩,মুসলীম হাদীস নং ৩৩৫৫)
تَابِعُوا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَإِنَّهُمَا يَنْفِيَانِ الْفَقْرَ وَالذُّنُوبَ كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ وَالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَلَيْسَ لِلْحَجَّةِ الْمَبْرُورَةِ ثَوَابٌ إِلاَّ الْجَنَّةُ
তোমরা বারবার হজ্জ ও উমরা আদায় কর, কারণ কর্মকারের ও স্বর্ণকারের আগুন যেমন লোহা ও সোনা-রূপার ময়লা মুছে ফেলে তেমনিভাবে এ দুই ইবাদত দারিদ্র্য ও পাপ মুছে ফেলে। আর পুণ্যময়-পরোপকারময় হজ্জের একমাত্র পুরস্কার হলো জান্নাত। হাদীসটি সহীহ (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৮১০) হজ্জের মাধ্যমে গোনাহ মাফ ছাড়াও রয়েছে অগণিত পুরস্কার ও সাওয়াব। হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে, হাজী যখন বাড়ি থেকে বের হন তখন থেকে তার প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহ তাকে অগণিত নেকী প্রদান করেন, তার ব্যয়িত প্রতিটি টাকার বহুগুণ এমনকি ৭০০ গুণ সাওয়াব প্রদান করেন বলে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। বিভিন্ন হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন যে, আল্লাহ হাজীর দুআ ও ইসতিগফার কবুল করেন এবং হাজী সাহেব যাদের জন্য দুআ করেন তাদেরকেও আল্লাহ ক্ষমা করেন। হজ্জের সবচেয়ে বরকতময় দিন হলো আরাফাতের দিন। বিভিন্ন হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে, আরাফাতের দিনে আল্লাহ যত মানুষকে ক্ষমা করেন অন্য কোনো দিনে অত মানুষকে ক্ষমা করেন না। আরাফাতের দিনে সমবেত হাজীদের জীবনের পাপগুলি তিনি ক্ষমা করেন। হাদীসটিকে শাইখ আলবানী হাসান লিগাইরিহী বলেছেন। (সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব হাদীস নং ১১১২) এছাড়াও হজ্জের মাধ্যমে ব্যক্তির মানসিকতা প্রশস্ততা লাভ করে, বৃহৎ মানব গোষ্ঠীর সকল জাতি ও বর্ণের পাশাপাশি সমাবেশ ঘটে। পরস্পরে বর্ণগত, ভাষাগত, দেশগত, জাতিগত সকল হিংসা, বিদ্বেষ ও রেষারেষি হজ্জপালনকারীর হৃদয় থেকে মুছে যায়। সে হৃদয় দিয়ে অনুভব করে বিশ্ব কত বড় আর সকল মুসলিম কত আপন। মুসলিম জাতির মধ্যে সাম্য, ঐক্য ও সহযোগিতার প্রবণতা সৃষ্টি হয়। হজ্জে করণীয় এবং বর্জণীয় বিষয় সমূহঃ নির্ধারিত স্থান থেকে ইহরাম করে মক্কায় যেয়ে জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখে মক্কার প্রান্তরে আরাফাত নামক স্থানে অবস্থান করা ও এর আগে ও পরে কাবাঘর তাওয়াফ করা, সাফা-মারওয়া সাঈ করা, মিনায় অবস্থান করা, মিনার জামারাতগুলিতে কাঁকর নিক্ষেপ করা, হজ্জের কুরবানী বা হাদী জবাই করা, মাথা মুন্ডন করা, এ সকল কর্মের মধ্যে আল্লাহর যিকির করা, দোয়া করা ইত্যাদি হলো হজ্জের কার্যসমূহ। মূলত আরাফাতের দিন দুপুর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের মাঠে অবস্থান করে আল্লাহর যিকর ও দুআয় কাটানোই মূলত হজ্জ। যারা হজ্জে যাচ্ছেন তারা এ বিষয়ে খেয়াল রাখবেন। ফ্রী খাবার জোগাড় করতে, হাজীদের সাথে গল্প করতে বা খাওয়া দাওয়ার পিছনে অযথা সময় নষ্ট করবেন না। যথাসাধ্য একাকী হয়ে জীবনের সকল পাপ স্মরণ করে নিজেকে দুনিয়ার সবচেয়ে পাপী মনে করে আল্লাহর কাছে দুআ ও ইসতিগফার করুন। ক্লান্তি লাগলে আল্লাহর যিকর করুন। রাসূলল্লাহ (সাঃ) বলেন:
خَيْرُ الدُّعَاءِ دُعَاءُ يَوْمِ عَرَفَةَ وَخَيْرُ مَا قُلْتُ أَنَا وَالنَّبِيُّونَ مِنْ قَبْلِي لا إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
সর্বশ্রেষ্ট দুআ হলো আরাফাতের দিনের দুআ। আর আমি এবং আমার পূর্বের নবীগণ সর্বশ্রেষ্ঠ যে কথাটি বলেছি তা হলো: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুআ আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর। আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, এবং প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। হাদীসটি হাসান(সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫৮৫) অধিকাংশ সময় হাজি সাহেব কিছু ইবাদত বন্দেগি, তাওয়াফ, সায়ী, দোয়া-মুনাজাত করেন। এরপর মানবীয় প্রকৃতি অনুসারে সাথীদের সাথে গল্পগুজব ও কথাবার্তায় রত হয়ে পড়েন। আর গল্প ও কথাবার্তার অর্থই হলো অকারণ বাজে কথায় সময় নষ্ট করা অথবা অনুপস্থিত কোনো মানুষের আলোচনা-সমালোচনা করে গীবত ও অপবাদের মত ভয়ঙ্কর পাপে লিপ্ত হওয়া। গল্প-গুজবের মধ্যে এ দুটি ক্ষতি ছাড়া কোনো লাভ নেই। কেউবা বাজারে ঘুরাঘুরি করে সময় নষ্ট করেন অথবা পাপময় দৃশ্য দেখে পাপ কামায় করেন। এস্ বিষয়, বিশেষ করে গীবত ও পরচর্চা করা বা শোনা, টেলিভিশনে বা বাস্তবে অসুন্দর, তাকওয়াবিহীন বা আপত্তিকর দৃশ্য দেখা বা গল্প করা বা আল্লাহর ভয় ও যিক্র মন থেকে সরিয়ে দেয় এমন গল্পগুজব থেকে যথাসাধ্য আত্মরক্ষা করুন। হজ্জের আহকামগুলি সুন্দরভাবে জেনে নেবেন। বিশেষ করে সুন্নাত জানার ও মানার জন্য প্রাণপনে চেষ্টা করবেন। অমুক কাজ জায়েয, ভাল ইত্যাদি বিষয় দেখবেন না। বরং দেখবেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও সাহাবীগণ কিভাবে কোন্ কাজটি করেছেন। তাঁরা যে কর্ম যেভাবে করেছেন হুবহু সেভাবে তা পালন করুন। তারা যা করেন নি তা বর্জন করুন। এভাবে হুবহু রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর তরীকা অনুসারে ইবাদত পালন করতে পারা সৌভাগ্যের লক্ষণ। এতেই রয়েছে কবুলিয়্যাতের নিশ্চয়তা। বিশেষত মদীনা শরীফে ইবাদত-বন্দেগী, যিয়ারাত, দুআ ইত্যাদি সকল বিষয়ে অবশ্যই হুবহু সুন্নাতের মধ্যে থাকবেন। বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য ইমাম সংকলিত হাদীসে রাসূলুল্লহ (সাঃ) বলেন:
الْمَدِينَةُ حَرَمٌ مَا بَيْنَ عَائِرٍ إِلَى كَذَا مَنْ أَحْدَثَ فِيهَا فِيهَا حَدَثًا أَوْ آوَى مُحْدِثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لا يُقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَلا عَدْلٌ
আইর থেকে অমুকস্থান পর্যন্ত মদীনার সমস্ত এলাকা মহাসম্মানিত হারাম বা পবিত্রস্থান। এ স্থানের মধ্যে যদি কেউ নব-উদ্ভাবিত কোনো কর্ম করে, অথবা কেনো নব-উদ্ভাবককে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় তাহলে তার উপর আল্লাহর লানত, ফিরিশতাগণের লানত এবং সকল মানুষের লানত। তার থেকে তাওবা, কাফ্ফারা বা ফরয-নফল কোনো ইবাদতই কবুল করা হবে না। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮৩৬) বড় ভয়ঙ্কর কথা। এত কষ্ট করে সাওয়াব অর্জনের জন্য সেই পবিত্রভূমিতে যেয়ে অভিশাপ অর্জন করে আসা! আরো ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, হাজীরা মদীনায় গেলেই নব-উদ্ভাবিত কর্ম বেশি করেন। মসজিদে নববীতে, রাওযা শরীফে, বাকী গোরস্থানে, উহদের শহীদদের গোরস্থানে, খন্দকের মসজিদগুলিতে, কুবা ও অন্যান্য মসজিদে ও অন্যান্য স্থানে যিয়ারত, সালাত, দুআ ইত্যাদি ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে হাজীগণ আবেগ ও অজ্ঞতার সংমিশ্রণে অনেকভাবে সুন্নাতের ব্যতিক্রম নব-উদ্ভাবিত পদ্ধতি অনুসরণ করেন। সাবধান হোন! যিয়ারতের সময় রাসূলুল্লাহ ৎ কি বলতেন, কিভাবে দাঁড়াতেন, কি করতেন তা সহীহ হাদীসের আলোকে জেনে নিন। কুবা, খন্দক, কিবলাতাইন ও অন্যান্য স্থানে গমন ও সালাত আদায়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও সাহাবীগণের হুবহু পদ্ধতি সহীহ হাদীসের আলোকে জেনে নিন। তাঁরা যা করেন নি তা বিষবৎ পরিত্যাগ করুন। সাওয়াব কামাতে গিয়ে অভিশাপ ও ধ্বংস কামাই করবেন না। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিকভাবে হজ্জম পালন করার তাওফীক দান করুন । হজ্জের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়াদির বিস্তারিত আলোচনা এ পরিসরে সম্ভব নয়। তবে অধিকাংশ হাজী হজ্জের নিয়মকানুন মেনে চললেও হজ্জ বিষয়ক মূল নির্দেশনার বিষয়ে সচেতন হন না। মহান আল্লাহ হজ্জ প্রসঙ্গে বলেছেন:
الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَعْلُومَاتٌ فَمَنْ فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ
এখানে মহান আল্লাহ হজ্জের সময় বিশেষ করে তিনটি বিষয় বর্জন করতে নির্দেশ দিলেন: (১) অশালীনতা, (২) পাপকর্ম ও (৩) ঝগড়া-বিতর্ক। অধিকাংশ হাজীই এ তিন প্রকারের পাপে লিপ্ত হয়ে পড়েন। (১) পর্দাহীনতা: হজ্জে লক্ষ লক্ষ নারী ও পুরুষ জমায়েত হন। অধিকাংশ হাজীই পর্দার বিধান জানেন না। বিশেষত মহিলাদের জামাতে ও মসজিদে সালাত আদায়ের সুন্নাত নির্দেশিত নিয়ম ও বিধান না জানার কারণে প্রায় সকল মহিলা হাজী এবং তাদের পুরুষ সাথী হজ্জের সফরে অনেক অনেক কবীরা গোনাহে লিপ্ত হয়ে পড়েন। যেমন পরিপূর্ণ পর্দা ছাড়া রাস্তায়, মসজিদে বা হজ্জের ময়দানে গমন, মসজিদে সালাত আদায় বা তাওয়াফের জন্য পুরুষদের ভীড়ের মধ্যে ঠেলাঠেলি ও ধাক্কাধাক্কিতে লিপ্ত হওয়া, পুরুষদের মধ্যে সালাতের জামাতে দাড়িয়ে পড়া, মসজিদের পুরুষদের দৃষ্টির মধ্যেই পরিধেয় পোশাক ঠিক করার জন্য নিজের ফরয সতর অনাবৃত করা, পুরুষদের মধ্যে ওযূ করা... ইত্যাদি। এছাড়া হজ্জের সময় হোটেল বা বাসায় এক কক্ষে কয়েকজন মহিলা অবস্থান করেন। স্বভাবতই এক মহিলার মাহরাম অন্য মহিলার মাহরাম নন। কিন্তু মহিলারা অনেক সময় গাইর মাহরাম পুরুষদের সামনে পূর্ণ পর্দা রক্ষা করেন না। অন্যের মাহরামের সামনে নিজেকে পূর্ণ আবৃত করেন না। ফলে একজন মহিলা বা পুরুষ হজ্জের চল্লিশ দিনের সফরে পর্দাহীনতার এত পাপ করেন যা হয়ত তিনি দেশের চল্লিশ বছরেও করেন নি। হজ্জে আগত অধিকাংশ মানুষই এরূপ। ফলে অনেকে আবার মনে করতে থাকেন হজ্জের সময় হয়ত পর্দা তেমন লাগে না! মহান আল্লাহ আমাদেরকে হেফাযত করুন। (২) পাপকর্ম: হজ্জের সময় সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে, লক্ষলক্ষ মানুষের ভিড়ে হাজী সাহেব প্রায়ই বিরক্তি, রাগারাগি, গীবত, অন্যান্য হাদীসের সমালোচনা ইত্যাদি পাপে লিপ্ত হয়ে পড়েন। (৩) ঝগড়-বিতর্কঃ হজ্জের অন্যতম কর্ম ঝগড়া-বিতর্ক। হজ্জের সফরের ৩৫/৪০ দিনে হাজী সাহেব প্রায় ৪০ বৎসরের ঝগড়া-বিতর্ক করেন। দেশে সাংসারিক কাজে অতি ব্যস্ত থাকার কারণে বিতর্কের সময় পাওয়া যায় না। হজ্জের সময় অনেক অলস সময় পাওয়া যায়, ফলে বিতর্ক-ঝগড়া খুবই জমে। এছাড়া সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে নতুন মানুষদের মধ্যে ভাল মানুষেরাও আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। বিমান বন্দরে, বিমানের মধ্যে, জিদ্দা হজ্জ টার্মিনালে, মক্কার আবাসস্থলে, মসজিদে হারামে, মিনা-মুযদালিফা-আরাফায়, মদীনায় ... সকল স্থানেই হাজী সাহেবগণ অতি সাধারণ বিষয় নিয়ে ঝগড়া-বিতর্কে জাড়িয়ে পড়েন। এগুলো সবই হজ্জের মূল সাওয়াব নষ্ট করে দেয়। বিশেষ করে হজ্জের সময় বিভিন্ন মাযহাব ও মতের মুসলিম একত্রিত হন। এজন্য ধর্মীয় মাসআলা নিয়ে ভয়ঙ্কর সব বিতর্ক ও বিদ্বেষ শুরু হয়ে যায়। এক্ষেত্রে সর্বদা নিজের গোনাহ এবং মহান আল্লাহর সানিধ্যের কথা মনে করতে হবে। অন্যকে নিয়ে ভাবনা ত্যাগ করতে হবে। নিজের নিকট গ্রহণযোগ্য মাসআলা অনুসরণের পাশাপাশি অন্যদের মত নিয়ে বিতর্ক বা নিজের মতের প্রাধান্য প্রমাণের চেষ্টা বর্জন করতে হবে। আমরা সকলেই হজ্জ মাবরূর পরিভাষা ব্যবহার করি। কিন্তু হজ্জ মাবরূর কী? রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন: إطعام الطعام وطيب الكلام/ لين الكلام খাদ্য খাওয়ানো এবং সুন্দর-বিন কথা বলাই হলো হজ্জের র্বির বা হজ্জে মাবরূর। (আল মুজামুল আওসাত হাদীস নং ১৫২৪, হাইছামী হাদীসের সনদটিকে সহীহ বলেছেন, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ,হাদীস নং ৫২৬৬) পানাহার নিয়ে সকল প্রকারের বিতর্ক পরিহার করে অন্যকে খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবে। পুরো হজ্জের সফরে যদি কারো সাথে কঠোর বা কর্কশ কথা না বলে সকল অবস্থায় সকলের সাথে সুন্দর, বিন্ম্র ও আন্তরীকতাময় কথা বলতে পারি তবে আমরা মাবরূর হজ্জ অর্জন করার আশা করতে পারি।
প্রশ্নঃ 60
আস-সালাম আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ । মুহতারাম ! রাসূল সাঃ কি যিলহজ্জ মাসে বিশেষ কোন আমলের তাকিদ দিয়েছেন? সংক্ষেপে জানালে উপকৃত হব।
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে মোবারক বাদ। রাসূল (সা.) তার উম্মতকে প্রতিটি মূহুর্তেই আমলের মধ্যে থাকার জন্য তাকিদ দিয়েছে। বিশেষকরে জিলহজ্জ মাসের প্রথম তের দিন সময়ের প্রতি লক্ষ্য রাখার ব্যাপারে অধিক পরিমাণে গুরুত্বারোপ করেছেন। নিম্নে যিলহজ্জ মাসের প্রথম তের দিনের আমলসমূহ কুরআন হাদীসের আলোকে তুলে ধরা হল: আল্লাহ তায়ালা বলেন:
لإن شكرتم لأزيدنكم وإن كفرتم إن عذابي لشديد
অর্থঃ যদি তোমরা আমার নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় কর তাহলে আমি তোমাদের নিয়ামত বৃদ্ধি করে দিব । আর যদি তোমরা নাশুকরিয়া কর তাহলে (জেনে রেখ ) আমার আযাব বড় কঠিন। আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের মাঝে অতি মুল্যবান একটি নিয়ামত হল জিবন,যা আল্লাহর বেধে দেয়া কিছু সময়ের সমষ্টি। মানুষের জিবনের প্রতিটি মুহূর্তই অতি মুল্যবান, অতি গুরুত্বপুর্ণ। সময়ের গুরুত্ব বর্ননা করতে গিয়ে আল্লাহ বলেন:
والعصر. إن الإنسان لفي خسر
সময়ের শফত। নিশ্চয় মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। সূরা আসর,আয়াত ১-২। প্রথমতঃ কোরানে আল্লাহ যা কিছু বলেছেন সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তিনি যা শফত করে বলেছেন তা আরো এবং আরো গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আল্লাহ শফতের সাথে সময়কে উল্লেখ করার কারণে তাই সময়ের গুরুত্বও আধিক্যে পৌছেছে। দ্বিতীয়তঃ সময়ের শফত করার পরেই তিনি যা বলেছেন তা হল মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। আমরা একটু লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারি যে, মানুষের, বিশেষ করে মুসলমানদের সবচেয়ে বড়ক্ষতি তথা আখেরাত ধ্বংসের মূল কারণ হল সময়ের অবমূল্যায়ন। সময় নষ্ট করার ক্ষতি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সা. বলেন:
لَمْ يَتَحَسَّـرْ أَهْلُ الْجَنَّةِ إِلاَّ عَلَى سَاعَةٍ مَرَّتْ بِهِمْ لَمْ يَذْكُـرُوْا اللهَ تَعَالَى فِيْهَا
জান্নাতের অধিবাসীগণ দুনিয়ার কোনো কিছুর জন্য আফসোস করবেন না, শুধুমাত্র যে মুহূর্তগুলি আল্লাহর যিক্র ছাড়া অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে সেগুলির জন্য তাঁরা আফসোস করবেন। (হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদদ ১০/৭৩ হাদীসটির সনদ মোটামুটি গ্রহণযোগ্য)। পৃথিবীর যে দেশের, যে জাতির, যে ধর্মের, যে বর্ণের যেই সময়ের মুল্যায়ন করবে তার জিবনই হয়ে উঠবে ধন্য,সাফল্যমন্ডিত। পৃথিবীর সব সফল ব্যক্তিদের জিবনীতে চোখ বুলালে সফলতার পেছনে মূল কারণ হিসেবে সময়ের গুরুত্ব এবং এর সঠিক ব্যবহারের বিষয়টিই পরিষ্কারভাবে বুঝা যায়। তবে অন্যান্য ধর্মাবলম্বি ভাই-বোনদের ক্ষেত্রে এসুসংবাদ কেবল দুনিয়ার জীবনেই বরাদ্দ। আখেরাতে তাদের কোন হিস্সা নেই। পক্ষান্তরে মুসলমানদের জন্য এসুসংবাদ কেবল দুনিয়ার জন্য নয় বরং আখেরাতেও তারা হবেন ধন্য যদি সময়ের মুল্যায়ন করে সময় নামক নিয়ামতের যথাযথ শুকরিয় আদায় করেন। উপরন্ত আল্লাহ অনুগ্রহ করে বান্দার জন্য কিছু সময়কে নির্ধারণ করেছেন, দিয়েছেন বিশেষ মর্যাদা, করেছেন মহিমাময়। জিলহজ্জের প্রথম তেরদিন ঠিক এমনই মহিমান্বিত,মহিমাময় । অতএব আমাদের উচিৎ কোরান হাদীসের আলোকে যিলহজ্জ মাসের আমল সমূহ জেনে নিয়ে বেশি বেশি নেক আমলের প্রতি মনোযোগি হওয়া। প্রথম দশদিনের আমলঃ এ মাসের দশ তারিখে আমরা ঈদুল আযহা বা কুরবানীর ঈদ আদায় করি। এদিনে সামর্থবান মুসলমানদের উপর কোরবানী বা নির্ধারিত পশু জবেহ করা ওয়াজীব। আল্লাহ তায়ালা বলেন: فصل لربك وانحر অর্থঃ তুমি তোমার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর এবং কোরবানী কর। সূরা আল- কাউসার,আয়াত,২। হযরত আয়েশা রাঃ বলেন :রাসূল সাঃ এরশাদ করেন,কোরবানীর দিন আদমের বেটা যত আমলই করে তার মধ্যে কোরবানীর আমলই হল আল্লাহর কাছে সবচে প্রিয় আমল । (তিরমিযী) এছাড়াও এ মাসের প্রথম দশটি দিন মুমিনের জন্য অত্যন্ত ফযীলতের। সহী বুখারীতে এসেছে রাসূল সাঃ বলেন:যুলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনে নেক আমল করা আল্লাহর নিকট যত প্রিয় আর কোন দিনের আমল তাঁর নিকট তত প্রিয় নয়। সাহাবীরা প্রশ্ন করলেন, হে আল্ল্হার রাসূল সাঃ আল্লাহর পথে জিহাদও কি এ দশদিনের নেক আমলের চেয়ে প্রিয় নয়? তিনি বললেন, না, আল্লাহর পথে জিহাদও প্রিয় নয়। তবে ঐ ব্যক্তি ছাড়া,যে ব্যক্তি নিজের প্রাণ ও সম্পদ নিয়ে জিহাদে গেল এবং কোন কিছুই আর ফিরে এলো না। (বুখারী,আস-সহীহ,১/৩২৯) অন্য হাদীসে তিনি বলেন,দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি ফযিলতের দিন হল যুলহাজ্জ মাসের প্রথম দশদিন। (হাদীসটি সহীহ,হাইসামী,মাজমাউয যাওয়ায়েদ,৩/২৫৩) তাই আল্লাহর নযে়ামত ও বশিষে অনুগ্রহ মনে করে এই দশকে সাধ্যমতো নকে আমলরে পাবন্দী করা একান্ত প্রয়োজন। । সকল প্রকার ইবাদতই নেক আমল। ফরয ইবাদত তো সঠিক সময়ে সঠিকভাবে করতেই হবে। পাশাপাশি অন্যান্য নফল ইবাদতের প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে। যেমন, যিকর,দুআ,ইসতিগফার,নফল নামজ,নফল রোযা,কুরান তেলাওয়াত,দান ইত্যাদি। হাদীস শরীফে বিশেষ করে তিন প্রকার ইবাদত এ দিনগুলিতে পালনের জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়েছে: কিয়ামুল্লাইল বা রাতের নামায,সিয়াম ও যিকর। বিশেষত যুলহাজ্জ মাসের ৯ তারিখে যেদিন হাজিগন আরাফার মাঠে অবস্থান করেন সে দিন যারা হজ্জে যান না তাদেরকে সিয়াম পালন করতে বিশেষভাবে উৎসাহ দিয়েছেন। রাসূল সাঃ বলেন: আমি আশা করি আরাফার দিবসের সিয়াম বিগত বছর ও আগামী বছরের কাফ্ফারা হবে। (মুসলিম আস-সহীহ ২/৮১৯)। অপর একটি হাদীসে তিনি বলেন:যুলহাজ্জ মাসের প্রথম দশদিনের চেয়ে আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাময় কোনদিন নেই। এবং এবং নেক আমল করার জন্য এগুলির চেযে বেশি প্রিয় দিন আর নেই। অতএব তোমরা এদিনগুলিতে বেশি বেশি তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তাহমীদ (আলহামদু লিল্লাহ), তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাকবীর (আল্লাহু আকবার) আদায় করবে। অন্য বর্ণনায়: বেশি বেশি তাহলীল, তাকবীল ও আল্লাহর যিকর করবে। (হাদীসটি সহীহ। হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ২/৩৯) বিভিন্ন হাদীসে এই দশকে বিশেষ কছিু আমলরে কথাও র্বণতি হয়ছে। যেমন ১. চুল, নখ, মোচ ইত্যাদি না কাটা যলিহজ্বরে চাঁদ দখোর পর থকেে কুরবানীর আগ র্পযন্ত নজিরে নখ, চুল, মোচ, নাভীর নচিরে পশম ইত্যাদি না কাটা। এটা মুস্তাহাব আমল। হযরত উম্মে সালামা রা. হতে র্বণতি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেনে-
إذا رأيتم هلال ذي الحجة وأراد أحدكم أن يضحي فليمسك عن شعره وأظفاره
তোমরা যদি যলিহজ্ব মাসরে চাঁদ দখেতে পাও আর তোমাদরে কউে কুরবানী করার ইচ্ছা করে তবে সে যনে স্বীয় চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাক। -সহীহ মুসলমি, হাদীস : ১৯৭৭; জামে তরিমযিী, হাদীস : ১৫২৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৭৯১; সুনানে নাসায়ী, হাদীস : ৪৩৬২; সহীহ ইবনে হবিবান, হাদীস : ৫৮৯৭ যে ব্যক্তি কুরবানী করতে সক্ষম নয় সেও এ আমল পালন করব। র্অথাৎ নজিরে চুল, নখ, গোঁফ ইত্যাদি কাটবে না; বরং তা কুরবানীর দিন কাটব। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. হতে র্বণতি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করছেনে-
أمرت بيوم الأضحى جعله الله عيدا لهذه الأمة. قال له رجل :يا رسول الله! أرأيت إن لم أجد إلا منيحة أنثى أفأضحي بها؟ قال : لا، ولكن خذ من شعرك وأظفارك وتقص شاربك وتحلق عانتك، فذلك تمام أضحيتك
আমি কুরবানীর দনি সর্ম্পকে আদষ্টি হয়ছেি (অর্থাৎ এ দিবসে কুরবানী করার আদশে করা হয়ছে। আল্লাহ তাআলা তা এ উম্মতরে জন্য ঈদ হসিাবে নর্ধিারণ করছেনে। এক ব্যক্তি আরজ করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আমার কাছে শুধু একটি মানীহা থাকে র্অথাৎ যা শুধু দুধপানরে জন্য দওেয়া হয়ছে? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললনে, না; বরং সদেনি তুমি তোমার চুল কাটবে (মুন্ডাবে বা ছোট করব), নখ কাটব, মোচ এবং নাভীর নিচে নচিরে পশম পরষ্কিার করব। এটাই আল্লাহর কাছে তোমার র্পূণ কুরবানী বলে গণ্য হব। মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৬৫৭৫; সহীহ ইবনে হবিবান, হাদীস : ৭৭৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৭৮৯; সুনানে নাসায়ী, হাদীস : ৪৩৬৫ র্অথাৎ যারা কুরবানী করতে সক্ষম নয় তারাও যনে মুসলমানদরে সাথে ঈদরে আনন্দ ও খুশি উদযাপনে অংশীদার হয়। তারা এগুলো কর্তন করেও পরিপূর্ণ সওয়াবরে অধকিারী হব। অনুরূপভাবে হাজীদরে সাদৃশ্য অবলম্বনকারী হব। ২. ঈদরে দনি ছাড়া বাকি নয় দনি রোযা রাখা আশারায়ে যলিহজ্বরে আরকেটি বশিষে আমল হল, ঈদুল আযহার দনি ছাড়া প্রথম নয় দনি রোযা রাখা। হাদীস শরীফে র্বণতি হয়ছে,ে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই নয়টি দবিসে (যলিহজ্ব মাসরে প্রথম নয় দনি) রোযা রাখতনে। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৪৩৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ২২২৩৪; সুনানে নাসায়ী, হাদীস : ২৪১৬ অন্য হাদীসে হযরত হাফসা রা. র্বণনা করনে-
أربع لم يكن يدعهن النبي صلى الله عليه وسلم : صيام عاشوراء والعشر وثلاثة أيام من كل شهر وركعتين قبل الغداة
চারটি আমল নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো ছাড়তনে না। আশুরার রোযা, যলিহজ্বরে প্রথম দশকরে রোযা, প্রত্যকে মাসরে তনি দনিরে রোযা, ফজররে আগে দুই রাকাত সুন্নত নামায। -সুনানে নাসায়ী, হাদীস :২৪১৫; সহীহ ইবনে হবিবান, হাদীস : ৬৪২২; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদীস : ৭০৪২; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ২৬৩৩৯ ৩. বশিষেভাবে নয় তারখিরে রোযা রাখা যলিহজ্বরে প্রথম নয় দনিরে মধ্যে নবম তারখিরে রোযা র্সবাধকি ফযীলতর্পূণ। সহীহ হাদীসে এই দবিসরে রোযার ফযীলত র্বণতি হয়ছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেনে-
صيام يوم عرفة أحتسب على الله أن يكفر السنة التي بعده والسنة التي قبله
আরাফার দনিরে (নয় তারখিরে) রোযার বষিয়ে আমি আল্লাহর নকিট আশাবাদী যে, তিনি এর দ্বারা বগিত এক বছর ও আগামী বছররে গুনাহ মটিযি়ে দবিনে। -সহীহ মুসলমি, হাদীস : ১১৬২; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৪২৫; জামে তরিমযিী, হাদীস : ৭৪৯; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ১৭৩০ আরকে হাদীসে এসেছে-
من صام يوم عرفة غفر له سنتين متتابعتين
যে ব্যক্তি আরাফার দনি রোযা রাখবে তার লাগাতার দুই বছররে (গুনাহ ক্ষমা করা হব। -মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদীস : ৭৫৪৮; মাজমাউয যাওয়াইদ, হাদীস : ৫১৪১ এভাবে আমরা দেখেছি, যুলহাজ্জ মাসের এদশদিন মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক মুমিনের চেষ্টা করা দরকার এদিনগুলিতে বেশি বেশি নেক আমল করার । যারা যলিহজ্বরে নয় রোযা রাখতে সক্ষম হবে না তারা যনে অন্তত এই দনিরে রোযা রাখা থকেে বঞ্চতি না হয়। আল্লাহ তাআলা আশারায়ে যলিহজ্বরে মতো অন্যান্য বশিষে বশৈষ্ট্যিমন্ডতি দনিগুলোতে ইবাদত-বন্দগেী করার তাওফীক দনি। আমীন পরবর্তী তিন দিনের আমলঃ ১১, ১২ ও ১৩ তারিখে আল্লাহর যিকরের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ বলেন:
وَاذْكُرُوا اللَّهَ فِي أَيَّامٍ مَعْدُودَاتٍ فَمَنْ تَعَجَّلَ فِي يَوْمَيْنِ فَلا إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَنْ تَأَخَّرَ فَلا إِثْمَ عَلَيْهِ لِمَنِ اتَّقَى
তোমরা নির্দিষ্ট সংখ্যক দিনগুলিতে আল্লাহর যিক্র করবে। যদি কেউ তাড়াতাড়ি করে দুদিনে চলে আসে তবে তার কোনো পাপ নেই, আর যদি কেউ বিলম্ব করে তবে তারও কোনো পাপ নেই, এ তার জন্য যে তাকওয়া অবলম্বন করে । সূরা বাকারা: ২০৩ আয়াত। এভাবে আমরা দেখছি যে, যুলহাজ্জ মাসে প্রথম ১৩ দিন বিশেষভাবে আল্লাহর যিকরের জন্য নির্ধারিত। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে উক্ত দিন সমূহে বেশি বেশি নেক আমল করার তাওফীক দিন । আমীন।
প্রশ্নঃ 59
কষ্ট করে ট্রেনে চড়ে গিয়ে কিশোর শোলাকিয়ায় নামাজ পড়া কি বেশি সওয়াব? বিশ্ব এজতেমার মুনাজাতে শরীক হওয়াতে কি বিশেষ কোন ফযীলত আছে?
20 Dec 2025
বেশি সওয়াবের আশায় ঈদের নামাজ পড়ার জন্য শোলাকিয়ায় যাওয়া একটি অনর্থক কাজ। কেননা সওয়াবের আশা করা যায় যদি সফরটি কোন নেক আমলের উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে। আর শোলাকিয়া গিয়ে ঈদের নামাজ পড়া কোন ইবাদত বা নেক আমল নয়। অর্থাৎ অন্যমাঠে ঈদের নামায পড়া আর শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ পড়া সমান বিষয়। সুতরাং শোলাকিয়া ঈদের মাঠে ঈদের নামায পড়ার মধ্যে বেশি সওয়ার আছে মনে করলে বিদআত হয়ে যাবে।তবে যদি এই উদ্দেশ্যে যাওয়া হয়ে থাকে যে, ইমাম সাহেবের বয়ানের মাধ্যমে কিছু এলেম অর্জন হবে বা আল্লাহর উদ্দেশ্যে বন্ধুদের সাথে সাক্ষাত করা যাবে তাহলে সওয়াবের আশা করা যায়। কেননা এই নেক আমল বা সওয়াবের কাজ। বিশ্বএজতেমার ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমনই, অর্থাৎ এজতেমায় ওয়াজ শোনার জন্য, দাওয়াতের কাজে নাম লেখানোর জন্য অথবা বড় কোন আলেম এসেছেন, তার সাথে দেখা করে সালাম দেয়া ইত্যাদি এগুলো সওয়াবের কাজ। কিন্তু এই উদ্দেশ্যে যাওয়া যে, সেখানে অনেক মানুষ দোয়া করছে ফলে উক্ত দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এটা দোষণীয় এবং আপত্তিকর। কারন শেখার জন্য মানুষ লাগে, দোয়ার জন্য মানুষ লাগে না। বান্দা যখন যে অবস্থাতেই আল্লাহর কাছে একাগ্রচিত্তে চান আল্লাহ তার ডাকে সাড়ে দেন। আল্লাহ বলেন:
وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ
অর্থঃ আমার বান্দা যখন আমার সম্বন্ধে তোমাকে প্রশ্ন করে আমি তো নিকটেই। প্রার্থনাকারী যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে আমি তার প্রার্থনায় সাড়া দিই। সুতরাং তারাও আমার ডাকে সাড়া দিক এবং আমার প্রতি ঈমান আনুক, যাতে তারা সঠিক পথে চলতে পারে। সূরা- বাকারা, আয়াত- ১৮৬। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন।
প্রশ্নঃ 58
(খতমে বুখারী) সাওয়াব, বরকত, অসুস্থতা থেকে সুস্থ হওয়ার আশায় খতমে বুখারী করা কি বিদআত?
20 Dec 2025
প্রথমে আমাদের বুঝতে হবে যে, আমাদের দেশে খতমে বুখারীর অনুষ্ঠানের অবস্থা কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। ১)বছরের শেষে বুখারী শরীফ সমাপ্তির দিন বিশেষ দরস হয় যেখানে উক্ত বিভাগের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও অনেকে উপস্থিত হয়ে থাকেন । তবে কেউ এটাকে দ্বীনের বিষয় বা সওয়াবের উপলক্ষ মনে করে না। ২)বছরের শেষে বুখারী শরীফ সমাপ্তির দিন বিশেষ দরস হয় যেখানে উক্ত বিভাগের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও অনেকে উপস্থিত হয়ে থাকেন । পাশাপাশি এটাকে বিশেষ বরকতের কারন মনে করা হয়। ৩)কেউ কোন বালা-মসীবতে পড়লে বিপদ মুক্তির জন্য বা সওয়াবের আশায় বুখারী শরীফ খতম করা হয়। উপরে উল্লেখিত প্রথম প্রকারের খতমে বুখারী বৈধ, কোন সমস্যা নেই বরং এসে যতটুকু হাদীস শুনল বা দ্বীনের কথা শিখল ততোটুকু এলেম শিক্ষার সওয়াব পাবে। এর চেয়ে বেশি কিছু অর্থাৎ বিশেষ কোন বরকত লাভ হবে না। কিন্তু দিত্বীয় এবং তৃতীয় প্রকারের খতমে বুখারী সওয়াবের উপলক্ষ বা বিপদ-আপদ থেকে মুক্তির উপায় মনে করার কারনে বিদআত হিসাবে পরিগণিত হবে। কেননা ঈসালে সাওয়াবের জন্য হাদীস তেলাওয়াত করা, অসুস্থ হলে বা যে কোন মুসিবতে পড়লে হাদীস পাঠ করে দুআ করার কোন নজীর না রাসূলে শিক্ষায় রয়েছে, না সাহাবায়ে কেরামের জীবনে রয়েছে, না খাইরুল কুরুনে রয়েছে। সাহাবায়ে কেরামের জীবনেও বালা-মসীবত এসেছে কিন্তু তাঁরা একদিনও একটি হাদীস পড়ে দুআ করেন নি। অথচ তাঁরা আমাদের তুলনায় রাসূল সা. কে বেশী ভাল বাসতেন, বেশী অনুসরণ করতেন। এমতাবস্থায় আমরা যদি একাজটিকে সওয়াব লাভের সতন্ত্র একটি উপায় মনে করি তাহলে আমরা নিঃসন্দেহে বিদআতের মধ্যে নিপতিত হব। বিদআত থেকে দূরে থাকার ব্যাপারে রাসূল সা. কঠিন ভাষায় সতর্ক করেছেন। জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাঃ বলেন, রাসূল সা. বলতেন:
شر الأمور محدثاتها وكل محدثةبدعة وكل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار
অর্থঃ সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হল, যা (দ্বীনের নামে আবিষ্কৃত)নতুন বিষয়। আর(এমন) সব নতুন বিষয় বিদআত। আর প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতাই জাহান্নামে। শায়েখ আলবানী হাদীসটি কে সহীহ বলেছেন। সুনানে তিরমিযী,তাহকীক,আলবানী,৩/১৮৮(১৫৭৮),কিতাব, সালাতুল ঈদাইন, বাব, কায়ফাল খুতবা। আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণীত,তিনি বলেন,রাসূল সাঃ বলেছেন:
مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ
অর্থঃ দ্বীনের বিষয় নয় এমন কোন বিষয়কে যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনে সৃষ্টি করবে তা প্রত্যাক্ষাত হবে। বুখারী,আস সহীহ,হাদীস নং ২৬৯৭। বিপদ মুক্তির ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা হলো, বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি ইউনূস (আ)-এর মত নিজে দুআ ইউনূস বা অন্যান্য সুন্নাহ সম্মত দুআ পড়ে মনের আবেগে আল্লাহর কাছে কাঁদবেন এবং বিপদমুক্তি প্রার্থনা করবেন। একজনের বিপদে অন্যজন কাঁদবেন, এমনটি নয়। হাদীস শরীফে বলা হয়েছে যে, দুআ ইউনূস পাঠ করে দুআ করলে আল্লাহ্ কবুল করবেন। (লা ইলাহা ইলা আনতা সুবহানাকা ইন্নী কুনতুম মিনায যালিমীন) অর্থ- আপনি ছাড়া কোনো মাবূদ নেই, আপনি মহা-পবিত্র, নিশ্চয় আমি অত্যাচারীদের অন্তভূক্ত হয়েছি। নিজে দুআ করার পাশাপাশি জীবিত কোনো আলিম-বুজুর্গের কাছে দুআ চাওয়াতে অসুবিধা নেই। তবে সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, নিজের জন্য নিজের দুআই সর্বোত্তম দুআ।
এছাড়া দুআর ক্ষেত্রে মনের আবেগ ও অসহায়ত্বই দুআ কবুলের সবচেয়ে বড় অসীলা। আর বিপদগ্রস্ত মানুষ যতটুকু আবেগ নিয়ে নিজের জন্য কাঁদতে পারেন, অন্য কেউ তা পারে না। অনেকে মনে করেন,আলিম-বুজুর্গের সুপারিশ বা মধ্যস্ততা ছাড়া আল্লাহর নিকট দুআ বোধহয় কবুল হবে না। এ ধরনের চিন্তা সুস্পষ্ট শিরক। ইসলামের বিধিবিধান শিখতে, আত্মশুদ্ধির কর্ম শিখতে, কর্মের প্রেরণা ও উদ্দীপনা পেতে বা আল্লাহর জন্য ভালোবাসা নিয়ে আলেম ও বুজুর্গগণের নিকট যেতে হয়। প্রার্থনা, বিপদমুক্তি ইত্যাদির জন্য একমাত্র আল্লাহর কাছেই চাইতে হয়, অন্য কারো কাছে নয়। কথিত আছে ইমাম বুখারী রহঃ নাকি এই কিতাবের কাজ শেষ করার পর আল্লাহর কাছে দুআ করেছিলেন যে, যে ব্যক্তি তাঁর এই কিতাব প্রথম থেশে পর্যন্ত পড়ে দুআ করবে আল্লাহ যেন তার দুআ কবুল করেন। অথচ বুখারী রহঃ এই কিতাব রচনার প্রেক্ষাপটের নির্ভরযগ্য কোন কিতাবে এমন কোন কথা পাওয়া যায় না। সহী বুখারী রচনার কয়েক শতাব্দি পর পর্যন্ত ইমাম বুখারী রচিত এ গ্রন্থের চর্চা, তার খেদমত অত্যন্ত ব্যাপকভাবে হয়েছে । কিন্তু কোথাও তা খতমের নজীর পাওয়া যায় না। তাছাড়া বুখারী রহঃ এর মত বিশুদ্ধ আকীদার ধারক ব্যক্তির দিকে এমন কথার নিসবত করা গর্হিত এবং বানোয়াট। আল্লাহ আমাদেরকে সর্বাবস্থায় বিদআত থেকে হেফাযত করুক। আমীন।
প্রশ্নঃ 57
আসসালামু আলাইকু,স্যার আপনার মতামতের জন্য একটি জরুরী বিষয় তুলে ধরলাম দয়া করে কুরআন, হাদিসের আলকে মতামত দিবেন ! যদি কেও বা কারো দর্শন বলে যে, কালিমা তয়াবা লা ইলাহা ইল্লা আল্লাহ এর সাথে মুহাম্মাদুর রাসুল উল আল্লাহ পড়লে শিরক হবে তাহলে কি করনীয়?
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
এপর্যন্ত কোন ব্যক্তি এবং কারো দর্শন এধরনের কথা বলেনি এবং কালেমায়ে তায়্যিবায় লা ইলাহা ইল্লা আল্লাহ এর সাথে মুহাম্মাদুর রাসুল উল আল্লাহ পড়লে শিরক হবে এধরনের কোন ঈঙ্গিত কোরআন হাদীসে কোথাও নেই। এক্ষেত্রে আপনার উচিৎ হল, উনি যেই রাজনৈতিক দলের ভক্ত সেই দলের কোন আলেমকে বিষয়টি অবহিত করে তাকে বোঝানের চেষ্টা করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।
প্রশ্নঃ 56
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতু্ল্লাহ। পূর্ববতী নবীদের উপর ঈমান আনা কী জুরুরী?
20 Dec 2025
ওয়াআলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ । জনাব গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নটি করার জন্য আল্লাহ আপনাকে দুনিয়া ও আখেরাতে উত্তম প্রতিদান দান করুন। নিম্নেআপনার উল্লেখিত বিষয়ে আলোচনা করা হল। যেমনিভাবে আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর উপর ঈমান আনা জরুরী এবং ঠিক তেমনি পূর্ববর্তি নবীগণের উপরও ঈমান আনা অনুরুপভাবে জরুরী। এবং তা দ্বীনের একটি রুকন। এমনকি তাদের একজনকে অস্বীকার করা প্রত্যেক নবীকে অস্বীকার করার শামিল। কোরআন ও হাদীসের বিভিন্ন জায়গায় এব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোরাআনের আলোকেঃ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا آمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي نَزَّلَ عَلَى رَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي أَنْزَلَ مِنْ قَبْلُ وَمَنْ يَكْفُرْ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا (النساء:136)
অর্থঃ হে ঈমানদারগণ তোমরা ঈমান আনয়ন কর আল্লাহর প্রতি, তাঁর রাসূল (সাঃ ) এর প্রতি, ঐ কিতাবের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাঁর রাসূল ( সাঃ) এর উপর এবং ঐ কিতাব সমূহের প্রতি যা তিনি তাঁর পূর্বে নাযিল করেছেন। আর যে ব্যক্তি অস্বীকার করবে আল্লাহকে, তাঁর ফিরিস্তাদেরকে, তাঁর কিতাব সমূহকে, তাঁর রাসূলগণকে আর শেষ দিবসকে তারা অবশ্যই তারা চরমপর্যায়ে বিভ্রান্ত। সূরা, আন-নিসা, আয়াত, ১৩৬। অন্য একটি আয়াতে আল্লাহ বলেন:
قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِنْ رَبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ
অর্থঃ তোমরা বল আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি, এবং যা নাযিল হয়েছে আমাদের প্রতি, ইব্রাহীম, ঈসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব, ও তাঁর বংশধরদের নিকট তার প্রতি। এবং যা তাঁদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে মূসা, ঈসা ও অন্যান্য নবীকে তার প্রতি। আমরা তাদের মধ্যে কোন পার্থক্য করিনা।সূরা বাকারা, আয়াত, ১৩৬। হাদীসের আলোকেঃ
عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه ، ومما جاء فيه : ( قَالَ : فَأَخْبِرْنِي عَنْ الْإِيمَانِ ؟ قَالَ : أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ ، وَمَلَائِكَتِهِ ، وَكُتُبِهِ ، وَرُسُلِهِ ، وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ، وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ
অর্থঃ (ওমর ইবনে খাত্তার রাঃ থেকে বর্ণীত এবং এটা হযরত জীবরিল আঃ ও নবী সাঃ এর মাঝে কথপোকথন মূলক) তিনি ( জীবরিল আঃ) বললেন : আমাকে ঈমান সম্পর্কে অবহিত করুন। তখন তিনি বললেন :আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেস্তাদের প্রতি, তাঁর কিতাব সমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি এবং শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনয়ন করা । আর ঈমান আনয়ন করা তাকদীরের ভাল মন্দের প্রতি।মুসলিম শরীফ, হাদীস নং ১০২। উপরোক্ত আয়াতদ্বয়ে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে আমাদের নবী (সাঃ) এর প্রতি ঈমান আনার আদেশ দেয়ার পাশাপাশি পূর্ববর্তি নবীদের উপরও ঈমান আনার আদেশ করেছেন। এবং হাদীসে জীবরীলের মধ্যে রাসূল (সাঃ) কে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার পর তিনি রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনার কথা উল্লেখ করেছেন, যা দ্বারা বুঝা যায় আমাদের নবী সাঃ এর উপর ঈমান আনা যেমন জরুরী ঠিক তেমনিভাবে পূর্ববর্তি নবীদের উপরও ঈমান আনা জরুরী। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন । আমীন।
প্রশ্নঃ 55
কাউকে মুশরিক বলার অর্থ কি তাকে কাফিরও বলা? মুশরিক মাত্রই কি কাফির? শাসকের অন্যায় কাজের সমালোচনা করা কি জায়েজ?
20 Dec 2025
হ্যাঁ। কাউকে মুশরিক বলার অর্থ তাকে কাফেরও বলা। মুশরিক মাত্রই কাফের। বিষযটি নিচে বিস্তারিত আলোচনা হল। কুফ্র আরবী শব্দ। কুফ্র এর আভিধানিক অর্থ হলো অবিশ্বাস, অস্বীকার, অকৃতজ্ঞতা ইত্যাদি। ইসলামী পরিভাষায় আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের (স.) উপর এবং ঈমানের রুকনগুলোতে বিশ্বাস না থাকাকেই কুফর বলে। শিরক শব্দটিও আরবী। শিরক এর আভিধানিক অর্থ হলো অংশীদার করা বা বানানো, সহযোগী বানানো ইত্যদী। আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে আল্লাহর কোনো বিষয়ে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করা বা আল্লাহর প্রাপ্য কোনো ইবাদত আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য পালন করা বা আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকাকে ইসলামী পরিভাষায় শিরক বলে। ইসলামী পবিভাষায় বিশ্বাসের অবিদ্যমানতাই কুফর বা অবিশ্বাস। আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের উপর এবং ঈমানের রুকনগুলিতে বিশ্বাস না থাকাকেই ইসলামের পরিভাষায় কুফর বলে গণ্য। অস্বীকার, সন্দেহ, দ্বিধা, হিংসা, অহংকার, ইত্যাদি যে কোন কারনে যদি কারো মধ্যে ঈমান বা দৃঢ় প্রত্যয়ের বিশ্বাস অনুপস্থিত থাকে তবে তাকে ইসলামী পরিভাষায় কুফর বলে গণ্য করা হয়। অনুরুপভাবে মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে কোনো বিষয়ে তাঁর সমতুল বা সমকক্ষ বা তাঁর সাথে তুলনীয় বলে বলে বিশ্বাস করার মাধ্যমে আল্লাহর একত্ব ও অতুলনীয়ত্ব অস্বীকার করাও কুফর। তবে এ পর্যায়ের কুফরকে ইসলামের পরিভাষায় শিরক বলা হয়। কুফর ও শিরক পরস্পর অবিচ্ছ্যেভাবে জড়িত। কাউকে কোনোভাবে কোনো বিষয়ে মহান আল্লাহর সমকক্ষ বা তুলনীয় মনে করার অর্থই তাঁর একত্বে অবিশ্বাস বা কুফরী করা। আল্লাহর তাওহীদ ও রাসূলগণের দাওয়াতে অবিস্বাস না করে কেউ শিরক করতে পারে না। কাজেই মুশরিক মাত্রই কাফের বলে গণ্য হবে। অপরদিকে কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ না মেনে ঈমানের কোনো রুকন অবিশ্বাস করলে তা শুধু কুফর বলে গণ্য। সুতরাং কাফের মাত্রই মুশরিক নয়। যেমন যদি কেউ আল্লাহর অস্তিত্বে বা তাঁর প্রতিপালনের একত্বে অবিশ্বাস করে বা মুহাম্মাদ (স.) এর রিসালাত, খাতমুন নবুওয়াত ইত্যাদি অস্বীকার করে তবে তা কুফ্র হলেও বাহ্যত তা শিরক নয়। কারণ এরুপ ব্যক্তি সুস্পষ্ট ভাবে কাউকে আল্লাহর সাথে তুলনীয় দাবি করছে না। তবে প্রকৃতপক্ষে এরুপ কুফরের সাথেও শিরক জড়িত। কারন এরুপ ব্যক্তি কোন না কোন ভাবে এ জড় বিশ্বকে মহান আল্লাহর মত অনাদি-অনন্ত বলে বিশ্বাস করছে, বিশ্ব পরিচালনায় প্রকৃতি বা অন্য কোন শক্তিকে বিশ্বাস করছে। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, কাউকে মুশরিক বলার অর্থই হলো তাকে কাফেরও বলা। মুশরিক মাত্রই কাফের। তবে সকল কাফের সাধারণ ভাবে মুশরিক নয়। একটি কথা মনে রাখা জরুরী যে, কেউ কুফুরী কোন কাজ করলেই তাকে কাফের বলা যায় না। সমাজের অনেক মানুষই নিজেকে মুমিন ও তাওহীদে বিশ্বাসী বলে দাবি করার পরেও বিভিন্ন প্রকার শিরক ও কুফরের মধ্যে লিপ্ত থাকেন। এদের এ সকল কর্ম শিরক বা কুফর বলে আমরা নিশ্চিত জানার পরেও এদেরকে কাফির বা মুশরিক বলার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা ইসলামের নির্দেশ। কোনো কর্মকে শিরক বা কুফর বলা এবং কোনো ব্যক্তিকে কাফের বা মুশরিক বলার মাঝে অনেক পার্থক্য রয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. বলেন, রাসূল সা. বলেছেন,
إِذَا كَفَّرَ الرَّجُلُ أَخَاهُ فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُمَا
যদি কোনো ব্যক্তি তার ভাইকে কাফের বলে,তবে এ কথা দুজনের একজনের উপর প্রযোয্য হবে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬০। আবু জার রা. বলেন, রাসূল সা. বরেছেন,
مَنْ دَعَا رَجُلاً بِالْكُفْرِ أَوْ قَالَ عَدُوَّ اللَّهِ. وَلَيْسَ كَذَلِكَ إِلاَّ حَارَ عَلَيْهِ
যদি কেউ কোন মানুষকে কুফুরির সাথে জড়িত করে আহহ্বান করে অথবা তাকে বলে হে আল্লাহর শত্রু আর সে তা না হয়, তবে তা বক্তার উপর বর্তবে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬১ আরো বিস্তারিত জানার জন্য পড়ুন কুরআন সুন্নাহের আলোকে ইসলামী আকীদা এই বইটি। শাসকের অন্যায় কাজের সমালোচনা জায়েজ। শুধু জায়েজই নয় আবশ্যিক কর্তব্যও বটে। রাষ্ট্র, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার বা শাসক-প্রশাসকের পাপের ক্ষেত্রে মুমিনের দায়িত্ব ঘৃনা ও আপত্তি। শাসক বা প্রশাসকের পাপ বা অন্যায় কাজ দুপ্রকার, তাদের জীবনের ব্যক্তিগত অন্যায় কাজ এবং অন্যায় কাজের নির্দেশনা বা অন্যায় নির্ভর আইন,নীতি বা বিধান প্রণয়ন। সকলক্ষেত্রে মুমিনদের নূনতম দায়িত্ব অন্যায় কাজকে ঘৃনা করা। এরপর মুমিন সাধ্যমত আপত্তি ও প্রতিবাদ করবেন। এরুপ অন্যায় কাজ মেনে নেওয়া, স্বীকৃতি দেওয়া, এবিষয়ে তাদের অনুসরণ করা বা এর পক্ষে অবস্থান নেওয়া মুমিনের জন্য নিষিদ্ধ। তবে অন্যান্য বিষয়ে রাষ্ট্রীয় আনুগত্য বজায় রেখে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে সমালোচনা করতে হবে,আপত্তি ও প্রতিবাত জানাতে হবে। কোন ভাবেই আইন অমান্য, শৃঙ্খলা ভঙ্গ কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবে না। উম্মে সালামা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
إِنَّهُ يُسْتَعْمَلُ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ فَتَعْرِفُونَ وَتُنْكِرُونَ فَمَنْ كَرِهَ فَقَدْ بَرِئَ وَمَنْ أَنْكَرَ فَقَدْ سَلِمَ وَلَكِنْ مَنْ رَضِىَ وَتَابَعَ গ্ধ. قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلاَ نُقَاتِلُهُمْ قَالَ لاَ مَا صَلَّوْا
অচিরেই তোমাদের উপর অনে শাসক প্রশাসক আসবে যারা ন্যায় ও অন্যায় উভয় প্রকার কাজ করবে। যে ব্যক্তি তাদের অন্যায়কে ঘৃনা করবে সে অন্যায়ের অপরাধ থেকে মুক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি আপত্তি করবে সে (আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে ) নিরাপত্তা পাবে। কিন্তু যে এসকল অন্যায় কাজ মেনে নেবে বা তাদের অনুসরণ করবে (সে বাচঁতে পারবে না)। সাহাবীগণ বললেন হে আল্লাহর রাসূল আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকরব না? তিনি বললেন, না, যতক্ষন তারা সালাত আদায় করবে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং১৮৫৪। আউফ ইবনে মালিক রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
أَلاَ مَنْ وَلِىَ عَلَيْهِ وَالٍ فَرَآهُ يَأْتِى شَيْئًا مِنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ فَلْيَكْرَهْ مَا يَأْتِى مِنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ وَلاَ يَنْزِعَنَّ يَدًا مِنْ طَاعَةٍ
তোমরা হুশিয়ার! তোমাদের কারো উপর যদি কেন শাসক প্রশাসক নিযুক্ত হন এবং সে দেখতে পায় যে,উক্ত শাসক বা প্রশাসক আল্লাহর অবাধ্যতার কোন কাজে লিপ্ত হচ্ছেন, তবে সে যেন আল্লাহর অবাধ্যতার উক্ত কর্মকে ঘৃনা করে, কিন্তু আনুগত্য থেকে হাত গুটিয়ে নিবে না। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং১৮৫৫। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, সাধ্যমত শাসকের অন্যায় কাজের সমালোচনা করা, প্রতিবাদ করা প্রতেক মুমিনের দায়িত্ব। তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে রাষ্টের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখতে হবে। রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয় এমন কাজ করা যাবে না । আল্লাহ সবাইকে তাওফীক দিন। কাউকে মুশরকি বলার র্অথ কি ত্যাকে কাফরিও বলা? মুশরকি মাত্রই কি কাফরি? শাসকরে অন্যায় কাজরে সমালোচনা করা কি জায়জে? হ্যাঁ। কাউকে মুশরিক বলার অর্থ তাকে কাফেরও বলা। মুশরিক মাত্রই কাফের। বিষযটি নিচে বিস্তারিত আলোচনা হল। কুফ্র আরবী শব্দ। কুফ্র এর আভিধানিক অর্থ হলো অবিশ্বাস, অস্বীকার, অকৃতজ্ঞতা ইত্যাদি। ইসলামী পরিভাষায় আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের (স.) উপর এবং ঈমানের রুকনগুলোতে বিশ্বাস না থাকাকেই কুফর বলে। শিরক শব্দটিও আরবী। শিরক এর আভিধানিক অর্থ হলো অংশীদার করা বা বানানো, সহযোগী বানানো ইত্যদী। আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে আল্লাহর কোনো বিষয়ে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করা বা আল্লাহর প্রাপ্য কোনো ইবাদত আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য পালন করা বা আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকাকে ইসলামী পরিভাষায় শিরক বলে। ইসলামী পবিভাষায় বিশ্বাসের অবিদ্যমানতাই কুফর বা অবিশ্বাস। আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের উপর এবং ঈমানের রুকনগুলিতে বিশ্বাস না থাকাকেই ইসলামের পরিভাষায় কুফর বলে গণ্য। অস্বীকার, সন্দেহ, দ্বিধা, হিংসা, অহংকার, ইত্যাদি যে কোন কারনে যদি কারো মধ্যে ঈমান বা দৃঢ় প্রত্যয়ের বিশ্বাস অনুপস্থিত থাকে তবে তাকে ইসলামী পরিভাষায় কুফর বলে গণ্য করা হয়। অনুরুপভাবে মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে কোনো বিষয়ে তাঁর সমতুল বা সমকক্ষ বা তাঁর সাথে তুলনীয় বলে বলে বিশ্বাস করার মাধ্যমে আল্লাহর একত্ব ও অতুলনীয়ত্ব অস্বীকার করাও কুফর। তবে এ পর্যায়ের কুফরকে ইসলামের পরিভাষায় শিরক বলা হয়। কুফর ও শিরক পরস্পর অবিচ্ছ্যেভাবে জড়িত। কাউকে কোনোভাবে কোনো বিষয়ে মহান আল্লাহর সমকক্ষ বা তুলনীয় মনে করার অর্থই তাঁর একত্বে অবিশ্বাস বা কুফরী করা। আল্লাহর তাওহীদ ও রাসূলগণের দাওয়াতে অবিস্বাস না করে কেউ শিরক করতে পারে না। কাজেই মুশরিক মাত্রই কাফের বলে গণ্য হবে। অপরদিকে কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ না মেনে ঈমানের কোনো রুকন অবিশ্বাস করলে তা শুধু কুফর বলে গণ্য। সুতরাং কাফের মাত্রই মুশরিক নয়। যেমন যদি কেউ আল্লাহর অস্তিত্বে বা তাঁর প্রতিপালনের একত্বে অবিশ্বাস করে বা মুহাম্মাদ (স.) এর রিসালাত, খাতমুন নবুওয়াত ইত্যাদি অস্বীকার করে তবে তা কুফ্র হলেও বাহ্যত তা শিরক নয়। কারণ এরুপ ব্যক্তি সুস্পষ্ট ভাবে কাউকে আল্লাহর সাথে তুলনীয় দাবি করছে না। তবে প্রকৃতপক্ষে এরুপ কুফরের সাথেও শিরক জড়িত। কারন এরুপ ব্যক্তি কোন না কোন ভাবে এ জড় বিশ্বকে মহান আল্লাহর মত অনাদি-অনন্ত বলে বিশ্বাস করছে, বিশ্ব পরিচালনায় প্রকৃতি বা অন্য কোন শক্তিকে বিশ্বাস করছে। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, কাউকে মুশরিক বলার অর্থই হলো তাকে কাফেরও বলা। মুশরিক মাত্রই কাফের। তবে সকল কাফের সাধারণ ভাবে মুশরিক নয়। একটি কথা মনে রাখা জরুরী যে, কেউ কুফুরী কোন কাজ করলেই তাকে কাফের বলা যায় না। সমাজের অনেক মানুষই নিজেকে মুমিন ও তাওহীদে বিশ্বাসী বলে দাবি করার পরেও বিভিন্ন প্রকার শিরক ও কুফরের মধ্যে লিপ্ত থাকেন। এদের এ সকল কর্ম শিরক বা কুফর বলে আমরা নিশ্চিত জানার পরেও এদেরকে কাফির বা মুশরিক বলার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা ইসলামের নির্দেশ। কোনো কর্মকে শিরক বা কুফর বলা এবং কোনো ব্যক্তিকে কাফের বা মুশরিক বলার মাঝে অনেক পার্থক্য রয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. বলেন, রাসূল সা. বলেছেন,
إِذَا كَفَّرَ الرَّجُلُ أَخَاهُ فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُمَا
যদি কোনো ব্যক্তি তার ভাইকে কাফের বলে,তবে এ কথা দুজনের একজনের উপর প্রযোয্য হবে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬০। আবু জার রা. বলেন, রাসূল সা. বরেছেন,
مَنْ دَعَا رَجُلاً بِالْكُفْرِ أَوْ قَالَ عَدُوَّ اللَّهِ. وَلَيْسَ كَذَلِكَ إِلاَّ حَارَ عَلَيْهِ
যদি কেউ কোন মানুষকে কুফুরির সাথে জড়িত করে আহহ্বান করে অথবা তাকে বলে হে আল্লাহর শত্রু আর সে তা না হয়, তবে তা বক্তার উপর বর্তবে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬১ আরো বিস্তারিত জানার জন্য পড়ুন কুরআন সুন্নাহের আলোকে ইসলামী আকীদা এই বইটি। শাসকের অন্যায় কাজের সমালোচনা জায়েজ। শুধু জায়েজই নয় আবশ্যিক কর্তব্যও বটে। রাষ্ট্র, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার বা শাসক-প্রশাসকের পাপের ক্ষেত্রে মুমিনের দায়িত্ব ঘৃনা ও আপত্তি। শাসক বা প্রশাসকের পাপ বা অন্যায় কাজ দুপ্রকার, তাদের জীবনের ব্যক্তিগত অন্যায় কাজ এবং অন্যায় কাজের নির্দেশনা বা অন্যায় নির্ভর আইন,নীতি বা বিধান প্রণয়ন। সকলক্ষেত্রে মুমিনদের নূনতম দায়িত্ব অন্যায় কাজকে ঘৃনা করা। এরপর মুমিন সাধ্যমত আপত্তি ও প্রতিবাদ করবেন। এরুপ অন্যায় কাজ মেনে নেওয়া, স্বীকৃতি দেওয়া, এবিষয়ে তাদের অনুসরণ করা বা এর পক্ষে অবস্থান নেওয়া মুমিনের জন্য নিষিদ্ধ। তবে অন্যান্য বিষয়ে রাষ্ট্রীয় আনুগত্য বজায় রেখে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে সমালোচনা করতে হবে,আপত্তি ও প্রতিবাত জানাতে হবে। কোন ভাবেই আইন অমান্য, শৃঙ্খলা ভঙ্গ কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবে না। উম্মে সালামা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
إِنَّهُ يُسْتَعْمَلُ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ فَتَعْرِفُونَ وَتُنْكِرُونَ فَمَنْ كَرِهَ فَقَدْ بَرِئَ وَمَنْ أَنْكَرَ فَقَدْ سَلِمَ وَلَكِنْ مَنْ رَضِىَ وَتَابَعَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلاَ نُقَاتِلُهُمْ قَالَ لاَ مَا صَلَّوْا
অচিরেই তোমাদের উপর অনে শাসক প্রশাসক আসবে যারা ন্যায় ও অন্যায় উভয় প্রকার কাজ করবে। যে ব্যক্তি তাদের অন্যায়কে ঘৃনা করবে সে অন্যায়ের অপরাধ থেকে মুক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি আপত্তি করবে সে (আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে) নিরাপত্তা পাবে। কিন্তু যে এসকল অন্যায় কাজ মেনে নেবে বা তাদের অনুসরণ করবে (সে বাচঁতে পারবে না)। সাহাবীগণ বললেন হে আল্লাহর রাসূল আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকরব না? তিনি বললেন, না, যতক্ষন তারা সালাত আদায় করবে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং১৮৫৪। আউফ ইবনে মালিক রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
أَلاَ مَنْ وَلِىَ عَلَيْهِ وَالٍ فَرَآهُ يَأْتِى شَيْئًا مِنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ فَلْيَكْرَهْ مَا يَأْتِى مِنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ وَلاَ يَنْزِعَنَّ يَدًا مِنْ طَاعَةٍ
তোমরা হুশিয়ার! তোমাদের কারো উপর যদি কেন শাসক প্রশাসক নিযুক্ত হন এবং সে দেখতে পায় যে,উক্ত শাসক বা প্রশাসক আল্লাহর অবাধ্যতার কোন কাজে লিপ্ত হচ্ছেন, তবে সে যেন আল্লাহর অবাধ্যতার উক্ত কর্মকে ঘৃনা করে, কিন্তু আনুগত্য থেকে হাত গুটিয়ে নিবে না। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং১৮৫৫। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, সাধ্যমত শাসকের অন্যায় কাজের সমালোচনা করা, প্রতিবাদ করা প্রতেক মুমিনের দায়িত্ব। তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে রাষ্টের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখতে হবে। রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয় এমন কাজ করা যাবে না । আল্লাহ সবাইকে তাওফীক দিন।
প্রশ্নঃ 54
আমার একটি থ্রি পিচের দোকান আছে। এই দোকানে থ্রি পিচের শো র জন্য ডল ব্যবহার করি। এই গুলো কোন ভাল মন্দ বিশ্বাস থেকে নয় । এই টা জায়েয আছে কি না? বা এইভাবে ব্যবসা করলে হালাল হবে কি না? সহীহ ভাবে জানতে চাই। বিষয় টি জানা খুব জরুরী। আশা করি উত্তর দিবেন
20 Dec 2025
এই ধরনের ডল বা পুতুল বা মূর্তি যাই বলি না কেন ইসলামী শরীয়তে তা হারাম, যদিও ভাল বা মন্দ কোন বিশ্বাস না থাক কিংবা ইবাদত বা পূজার উদ্দেশ্যে না হয়। দলীল নিম্নরুপ:
১. عَنْ أَبِى الْهَيَّاجِ الأَسَدِىِّ قَالَ قَالَ لِى عَلِىُّ بْنُ أَبِى طَالِبٍ أَلاَّ أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- أَنْ لاَ تَدَعَ تِمْثَالاً إِلاَّ طَمَسْتَهُ وَلاَ قَبْرًا مُشْرِفًا إِلاَّ سَوَّيْتَهُ
হযরত আবী হায়্যায র. বলেন, আমাকে আলী রা. বললেন, আমি কি তোমাকে এমন একটি বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করব না যে বিষয়ে রাসূল সা. আমাকে উৎসাহিত করেছেন যে, তুর্মি দেখা মাত্র মূর্তিভেঙ্গে ফেলবে আর উঁচু কবর সমান করে দিবে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৬৯।
২. قَالَ عَمْرُو بْنُ عَبَسَةَ السُّلَمِىُّ فَقُلْتُ وَبِأَىِّ شَىْءٍ أَرْسَلَكَ قَالَ أَرْسَلَنِى بِصِلَةِ الأَرْحَامِ وَكَسْرِ الأَوْثَانِ وَأَنْ يُوَحَّدَ اللَّهُ لاَ يُشْرَكُ بِهِ شَىْءٌ
হযরত আমর ইবনে আবাসাহ আস-সুলামী রা. বলেন আমি রাসূল সা. কে বললাম, আল্লাহ তায়ালা কি দায়িত্ব দিয়ে আপনাকে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন, তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, আত্নীয়তার বন্ধন অটুট রাখার জন্য, মূর্তিভাঙ্গার জন্য আর আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠার জন্য যে, তার সাথে কাউকে শরীক করা হবে না।
৩. أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم-أَتَانِى جِبْرِيلُ فَقَالَ إِنِّى كُنْتُ أَتَيْتُكَ الْبَارِحَةَ فَلَمْ يَمْنَعْنِى أَنْ أَكُونَ دَخَلْتُ عَلَيْكَ الْبَيْتَ الَّذِى كُنْتَ فِيهِ إِلاَّ أَنَّهُ كَانَ فِى بَابِ الْبَيْتِ تِمْثَالُ الرِّجَالِ وَكَانَ فِى الْبَيْتِ قِرَامُ سِتْرٍ فِيهِ تَمَاثِيلُ وَكَانَ فِى الْبَيْتِ كَلْبٌ فَمُرْ بِرَأْسِ التِّمْثَالِ الَّذِى بِالْبَابِ فَلْيُقْطَعْ فَيَصِيرَ كَهَيْئَةِ الشَّجَرَةِ وَمُرْ بِالسِّتْرِ فَلْيُقْطَعْ وَيُجْعَلْ مِنْهُ وِسَادَتَيْنِ مُنْتَبَذَتَيْنِ يُوَطَآنِ وَمُرْ بِالْكَلْبِ فَيُخْرَجْ فَفَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- وَكَانَ ذَلِكَ الْكَلْبُ جَرْوًا لِلْحَسَنِ أَوِ الْحُسَيْنِ تَحْتَ نَضَدٍ لَهُ فَأَمَرَ بِهِ فَأُخْرِجَ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَفِى الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَأَبِى طَلْحَةَ
হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, আমার নিকট জিব্রীল আ. এসে বললেন, একটু আগে আমি আপনার কাছে এসেছিলাম কিন্তু আপনার কাছে আপনার ঘরে আমাকে প্রবেশ করতে বিরত রেখেছিল ঘরের দরজায় থাকা মানুষের প্রতিমূতি, ঘরের ভিতরে থাকা ছবি যুক্ত পর্দা এবং কুকুর। সুতরাং আপনি দরজায় থাকা প্রতিমূর্তির ব্যাপারে নির্দেশ দিন যেন কেটে ফেলা হয় তখন সেটা গাছের আকৃতির মত হয়ে যাবে। আর পর্দার ব্যাপারে নির্দেশ দিন যেন তা কেটে ফেলা হয় এবং পাপোশ বানানো হয়। আর কুকুরটিকে বের করতে বলেন। তখন রাসূল সা. তা করলেন। আর কুকুরটি ছিল হাসান বা হুসাইনের, সেটি তাদের খাটের নিচে ছিল। তিনি তা বের করার নির্দেশ দিলেন আর তা বের করা হল। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৮০৬। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ আর শাইখ আলবানী বলেছেন, সহীহ। এই হাদীসটিতে সুস্পষ্ট যে ইবাদতের নিয়তে কিংবা ভ্রান্ত বিশ্বাস ছাড়াও কোন মূর্তি বা পুতুল রাখা যাবে না। কেননা উক্ত ঘরে কোন মূর্তি ইবাদতের জন্য বা ভ্রান্ত বিশ্বাসে যে রাখা হয়নি এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। উপরের হাদীসগুলোর ভিত্তিতে আলেমগণ একমত যে, যে কোন প্রাণীর এবং মানুষের যে কোন ধরনের পুতুল বা মূর্তি রাখা বা বানানো হারাম। সুতরাং আপনার জন্য জায়েজ হবে না সেগুলো প্রদর্শন করা। তবে পুতুলের মুখের স্থানটি যদি সমান হয় অথবা মুখ না থাকে তাহলে সমস্যা নেই।কিন্তু এই মূর্তি থাকার কারণে মূল ব্যবসা হারাম হবে না। এই ধরনের গুনাহর কাজ থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। আল্লাহ ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 53
ঢাকায় পরীক্ষা দিতে যাব । পরিবেশ ভাল হরে থাকব এবং পরিবেশ খারাপ হলে ঝিনাইদহ চলে আসব। এমতাবস্থায় আমি মুকিম নাকি মুসাফির?
20 Dec 2025
প্রশ্নে বর্ণীত অবস্থায় আপনি মুসাফির। তবে যদি আপনি পনের দিন বা তার বেশি দিন অবস্থানের নিয়ত করেন তাহলে আপনি মুকিম হয়ে যাবেন এবং নামায পূর্ণ করে পড়তে হবে।
প্রশ্নঃ 52
বিড়ালের উচ্ছিষ্ট কি পাক? যদি কোন তরকারির ডিস থেকে বিড়াল ১ টুকরো মাছ উঠিয়ে খায় তবে কি ডিসের সব তরকারি নষ্ট হবে?
20 Dec 2025
হা বিড়ালের উচ্ছিষ্ঠ পাক,বিড়াল কোনকছিুতে মুখ দিলে বা খেলে তা নাপাক হয়ে যায় না বরং পাক থাকে। এব্যাপারে একটি হাদীসে এসেছে, আবু কাতাদাহ রাঃ বলেন: রাসূল সা. বলেছেন:
إِنَّهَا لَيْسَتْ بِنَجَسٍ إِنَّمَا هِىَ مِنَ الطَّوَّافِينَ عَلَيْكُمْ أَوِ الطَّوَّافَاتِ
র্অথঃ নিশ্চয় বিড়াল অপবিত্র নয়, সে তোমাদের নিকট বশেী বশেী বিচরনণকারী প্রাণীদের অন্তর্ভুক্ত। শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলছেন এবং তিরমিযী রহঃ হাসান সহী বলছেনে। তিরমিযী, আস সুনান, তাহকীক, আহমাদ শাকরে ও আলবানী-১/১৫৩ ;হাদীস নং-৯২, ইমাম তিরমিযী রহঃ বলেন: অধকিাংশ সাহাবী, তাবেয়ী এবং শাফী রহঃ ও আহমাদ রহঃ সহ পরবর্তি উলামায়ে কেরাম এই মত পোষণ করছেনে। প্রগুক্ত। একবার দাউদ ইবনে সালেহ এর আম্মাকে দিয়ে তার মনিব হারিসা সহ (গোশত ও গম একত্রে মিশিয়ে প্রস্তুতকৃত খাদ্য বিশেষ) আয়েশা (রা.) এর নিকট পাঠালেন। তিনি বলেন: আমি তাকে নামাযরত পেলাম। তিনি আমাকে তা রেখে দেওয়ার জন্য ইশারা করলেন। এরপর বিড়াল এসে তার থেকে খেলো । নামাজ শেষে আয়েশা (রা.) বিড়ালের মুখ দেয়া স্থান থেকে খেলেন এবং বললেন,, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় বিড়াল অপবিত্র নয়, সে তোমাদের নিকট বিচরনণকারী প্রাণীদের অন্তর্ভুক্ত। আর আমি রাসুল (সা.) কে বিড়ালের ঝুটা মিশ্রিত পানি দ্বারা অযু করতে দেখেছি। আবু দাউদ-১/২৯; হাদীস নং-৭৬। আল্লামাহ ইবনে আব্দুল বার, শাইখ আলবানী সহ অন্যান্য আলেমগন হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আল্লামাহ ইবনে আব্দুল বার বলেন: ইরাক ও হিযাযের প্রায় সব তাবেঈ উক্ত মত ব্যক্ত করেছেন। পরবর্তি জমহুর উলামায়ে কেরাম ও ইমামগণ বিড়ালের ঝুটাকে পবিত্র বলেছেন। যেমন মালেক রহঃ, লাইছ রহঃ, আওযায়ী রহঃ, সুফিয়ান সাওরী রহঃ, শাফেয়ী রহঃ, আহমাদ ইবনে হাম্বাল রহঃ ইত্যাদি। আলইসতিযকার-১/১৬৪। আবু হুরাইরা রাঃ অপর এক হাদীসে রাসূল সাঃ থেকে বর্ননা করেন, রাসূল সাঃ বলেন:
يُغْسَلُ الإِنَاءُ إِذَا وَلَغَ فِيهِ الْكَلْبُ سَبْعَ مَرَّاتٍ أُولاَهُنَّ أَوْ أُخْرَاهُنَّ بِالتُّرَابِ وَإِذَا وَلَغَتْ فِيهِ الْهِرَّةُ غُسِلَ مَرَّةً
অর্থঃ কুকুরে মুখ দিয়েছে এমন পাত্র সাতবার ধৌত করতে হবে,প্রথমবার বা (বর্ননাকারীর সন্দেহ) শেষবার মাটি দিয়ে। আর যেপাত্রে বিড়াল মুখ দিবে তা একবার ধৌত করতে হবে। ইমাম তিরমিযী রহঃ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন এবং শায়েখ আলবানী রহঃ সহীহ বলেছেন। তিরমিযী,আস-সুনান,তাহকীক,শায়েখ আলবানী রহঃ, ১/১৫১, হাদীস নং৯১। এহাদীসের আলোকে ইমাম আবু হানীফা রহঃ বিড়ালের ঝুটাকে মাকরুহ বলেছেন। তবে অজু করলে তা যথেষ্ঠ হবে বলেও মত দিয়েছেন। ইবনে আব্দুল বার রহঃ বলেন:আবু হানীফা রহঃ এর বিপরীতে তার ছাত্ররা বিড়ালের ঝুটাকে পবিত্র বলেছেন। আল-ইসতিজকার, ১/১৬৫, কিতাব, আত-তাহারাত, বাব, আত-তুহুর লিলউযুই।
প্রশ্নঃ 51
পিতা মাতার অনুমতি ছাড়া বিয়ের ব্যাপারে দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন। হবে কি হবে না। বিশেষ করে বর্তমানে যে সকল বিয়ে অলি ছাড়া হয়। যদি না হয় তাহলে যারা না জেনে করেছেন তাদের ব্যাপারে রুলিংস কি? ধন্যবাদ।
20 Dec 2025
আপনার প্রশ্নের জন্য শুকরান ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের বিধান। বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামী শরীয়তে এব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাসূল সা. এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। পারিবারিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অধিকাংশ ইমাম ও ফকীহগণের নিকট ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ নেই। তবে ইমাম আবু হানীফা রহ. সহ কতিপয় ফকীহ বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে জায়েজ বলেছেন। প্রখ্যাত মালেকী ফকীহ আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে রুশদ আন্দালুসী র. বলেন,
اختلف العلماء هل الولاية شرط من شروط صحة النكاح أم ليست بشرط؟ فذهب مالك إلى أنه لا يكون النكاح إلا بولي وأنها شرط في الصحة في رواية أشهب عنه وبه قال الشافعي وقال أبو حنيفة وزفر والشعبي والزهري: إذا عقدت المرأة نكاحها بغير ولي وكان كفؤا جاز وفرق داود بين البكر والثيب فقال باشتراط الولي في البكر وعدم اشتراطه في الثيب
অর্থ: বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী শর্ত কি শর্ত নয় এই বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম মালেক র. মত পোষন করেছেন যে, ওলী ছাড়া বিবাহ হবে না। বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য (ওলী) শর্ত। এমন মতই পোষন করেছেন ইমাম শাফেয়ী রা.। ইমাম আবু হানীফা, জুফার, শাবী ও জুহরী র. বলেছেন, যদি মহিলা ওলী ছাড়া বিবাহ করবে আর স্বামী যদি তার কুফু (সর্বদিক দিয়ে যোগ্য) হয় তাহলে জায়েজ হবে। বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ২/৮(শামেলা)। এই সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন, আলমাবসুত লিস-সারখসী, ৬/৫৩; আলমাউসায়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৭/৯৪ও ৩১/৩২১; আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবা ৪/৪৫। কিতাবুল উম্ম লিশ-শাফেয়ী,৭/১৫৬। যে ইমামগন ওলী ছাড়া বিবাহ বাতিল বলেছেন তাদের দলীল: আবু মুসা আশয়ারী রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, অর্থাৎ ওলী ছাড়া বিবাহ নয়। لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِىٍّ আবু দাউদ, হাদীস নং ২০৮৭; তিরমিযী, হাদীস নং ১১০১;মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৯৭৬১। হাদীসটি সহীহ। শায়খ আরনাউত এবং আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত অন্য হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন,
أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ
অর্থাৎ যে মহিলা ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করবে তার বিবাহ বাতিল। তিনি ৩ বার তা বলেছেন। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১১০২; মুসনাদে আহমাদ,হাদীস নং ২৫৩৬৫। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন আর শায়খ শুয়াইব আরনাউত সহীহ বলেছেন। উপরক্ত হাদীস সমূহের ভিত্তিতে ইমাম মালেক, শাফেয়ী, আহমাদ র. সহ অধিকাংশ আলেম ওলী ছাড়া বিবাহকে বাতিল বলেছেন। যে সব ইমাম ও ফকীহ ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ বলেছেন তাদের দলীল: তাবেঈদের মধ্যে ইমার জুহরী ও শাবী এরপরে ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ, মুহাম্মাদ, জুফার সহ কিছু সংখক মুজতাহিদ কিছু শর্ত সাপেক্ষে ওলী ছাড়া বিবাহ কে জায়েজ বলেছেন। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১.কুফু হতে হবে। ২.মেয়েটি বালেগা, বুঝমান হতে হবে। আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবায়া, ৪/৪৫; আলমাবসুত লিস-সারাখসী,৬/৬১ ও ৫/১৬। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
فلا جناح عليكم فيما فعلن في أنفسهن بالمعروف
অর্থাৎ মহিলারা নিজেদের ব্যাপারে সৎ ভাবে যা করবে (বিয়ের ক্ষেত্রে) সে বিষয়ে তোমাদের কোন দোষ নেই। সূরা বাকারাহ-২৩৪ অন্য এক আয়াতে তালাক সম্পর্কে আলোচনার এক পর্যায়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, تنكح زوجا غيره. حتى অথাৎ যতক্ষন না তারা অন্য স্বামীকে বিবাহ না করে। সূরা বাকারাহ-২৩০। অন্য প্রসংগে আল্লাহর বাণী,
فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ
অর্থাৎ তোমরা তাদেরকে তাদের স্বামীদের কে বিবাহ করা থেকে বাধা দিবে না। সূরা বাকারাহ-২৩২ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন,
الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا
অর্থাৎ মেয়েরা ওলীদের চেয়ে নিজের ব্যাপারে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৪২১। الأيم অর্থ স্বামীহীন মহিলা, পূর্বে স্বামী থাকুক বা না থাকুক। আলমজামুল ওয়াসীত। বর্তমান সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৌদী আলেম শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আলমুনজিদ ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের ক্ষেত্রে বলেছেন,
المسألة اجتهادية ، واختلف فيها الأئمة ، فإنه إذا كان أهل بلد يعتمدون المذهب الحنفي كبلادكم وبلاد الهند وباكستان وغيرها ، فيصححون النكاح بلا ولي ، ويتناكحون على هذا ، فإنهم يقرّون على أنكحتهم ، ولا يطالبون بفسخها
অর্থাৎ এটি একটি ইজতিহাদি মাসআলা, ইমামগণ এক্ষেত্রে ইখতিলাফ করেছেন। সুতরাং যে সব দেশের মানুষেরা হানাফী মাজহাবের উপর নির্ভর করে, ওলী ছাড়া বিবাহবে বৈধ মনে করে এবং এভাবে তাদের বিয়ে হয় যেমন, ভারত, পাকিস্থান ইত্যদি, তাহলে তাদের বিবাহের স্মীকৃতি দেয়া হবে । বাতিল করতে বলা হবে না। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, শরীয়তে বিবাহে মেয়েদের জন্য ওলী থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণভাবে যৌবনের শুরুতে যুবক-যুবতী সহজেই বয়সের উন্মাদনায় বিভ্রান্ত হয় এবং নিজের চোখের ভাল লাগার উপর নির্ভর করেই সঙ্গী পছন্দ করে। বিবাহের ক্ষেত্রে চোখের পছন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবন ও আগত প্রজন্মের কল্যাণের কথাও চিন্তা করতে হবে। এজন্য ইসলামে বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর মতমতের সাথে অভিভাবকের মতামতেরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সুতরাং মেয়েদের জন্য আবশ্যক হলো ওলীর অনুমতি নিয়ে বিবাহ করা। আর আমাদের উচিৎ বিবাহের সময় মানুষদের কে ওলীর অনুমতির বিষয়ে উৎসাহিত করা,ওলী ছাড়া বিয়ে করতে নিষেধ করা এবং ওলী থাকার কল্যান বর্ণনা করা। যারা ইতিমধ্যে ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করেছে তাদের বিষয়ে কথা হলো যেহেতু তারা একটি ফিকহী মত গ্রহন করেছেন আর বিষয়টি ইজতিহাদী এবং ইখতিলাফী তাই তাদেরকে নতুন করে বিবাহ করতে হবে না। তবে এই ঘৃনিত কাজের জন্য তাদের লজ্জিত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 50
Assalamualikum.amr questions holo outsorsing ki halal na haram?amr family financial support er jonno Ami out sorsing Kore income korte chai.at a ki kora have?
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
প্রথমেই আমরা দেখব আউট সোর্সিং কি? আউটর্সোসিং তথা ফ্রল্যিান্সিং শব্দরে মূল র্অথ হল মুক্ত পশো। র্অথাৎ মুক্তভাবে কাজ করে আয় করার পশো। আর একটু সহজ ভাবে বললে ইন্টারনেট ব্যাবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতষ্ঠিান বিভিন্ন ধরনরে কাজ করিয়ে নেয়। নিজের প্রতষ্ঠিানের বাইরে অন্য কাউকে দিয়ে এসব কাজ করানোকে আউটর্সোসিং বলে আর যারা আউটর্সোসিংয়ের কাজ করে দেন, তাঁদরেকে ফ্রল্যিান্সার বলে। আউটসোর্সিং উপার্জন জায়েজ। তবে এই শর্তে যে, কাজটি হালাল হতে হবে, হারাম হতে পারবে না (সুদ ভিত্তিক ব্যাংক এবং হারাম পণ্যের কোম্পানীর কাজ হারামের অন্তর্ভূক্ত হবে) এবং যে সময়ে কাজ করবেন, ঐ সময়ে অন্যকারো কাজ করার ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ থাকা যাবে না। যেমন, আপনি কোন প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেন, সেই প্রতিষ্ঠানের সাথে আপনার চুক্তি হলো সকল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আপনি কাজ করবেন এই অবস্থায় আপনার জন্য জায়েজ হবে না ঐ সময়ের মধ্যে আউটসোর্সিং উপার্জন করা। কারণ আপনি প্রতিষ্ঠানের সাথে উক্ত সময়ে প্রতিষ্ঠানের কাজ করবেন বলে ওয়াদা বদ্ধ। এবং ঐ সময়ে প্রতিষ্ঠানের কাজ করা আপনার আমানতের অন্তভ‚ক্ত। আর পবিত্র কোরআন ও হাদীসে ওয়াদা পালন ও আমানত রক্ষা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমানত রক্ষা ও ওয়াদা পালনের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
১. يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَوْفُواْ بِالْعُقُودِ
হে ঈমানদারগণ, তোমরা তোমাদের চুক্তি পূর্ণ কর। সূরা মায়েদা-১।
২. ا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَخُونُواْ اللَّهَ وَالرَّسُولَ وَتَخُونُواْ أَمَانَاتِكُمْ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ
হে ঈমানদারগণ তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের খেয়ানত করবে না। এবং নিজেদের আমানতের খেয়ানত করবে না । এমন অবস্থায় যে, তোমরা জান। সূরা আনফাল-২৭
৩. يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لا تَفْعَلُون كَبُرَ مَقْتًا عِندَ اللَّهِ أَن تَقُولُوا مَا لا تَفْعَلُونَ
হে ঈমানদারগণ তোমরা যা করবে না তা বলবে কেন? আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃন্য বিষয় হলো তোমরা এমন বিষয় বলা যা তোমরা করবে না। সূরা সফ্- ১-২
৪. إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا
নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা আমানতকে তার প্রাপ্য ব্যক্তির উপর পৌছে দিবে। সূরা নিসা-৫৮। মূমিনের গুণাবলীর বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
،وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ
আর যারা তাদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। সূরা মূমিনূন-৮। আর হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন,(আবু হুরায়রা রা.থেকে বর্ণিত),
آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلاَثٌ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ.
মুনাফিকের নিদর্শন তিনটি, ১. মিথ্যা কথা বলে, ২. ওয়াদা ভঙ্গ করে, ৩. আমানতের খেয়ানত করে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৩। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে,আমানতের খেয়ানত করা এবং ওয়াদা ভঙ্গ করা খুবই ঘৃনিত কাজ। সুতরাং এই জঘন্য কাজ থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। মোটকথা শরীয়তে আউটসোর্সিং আয় জায়েজ। তবে শর্ত হলো ১. মূল কাজটি হালাল হতে হবে। ২. অন্যকারো সাথে চুক্তিবদ্ধ সময়ে করা যাবে না, নিজের অবসর সময়ে করতে হবে। আল্লাহ ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 49
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লা...এলাকায় একধরনের লোন প্রচলিত আছে কেউ এক বছরের জন্য ১ লাখ টাকা দিলে তাকে ১ বছর পর ১লাখ ২৫ হাজার টাকা ফেরত দিতে হয়,কখনো অতিরিক্ত ২৫ হাজার টাকা লোন দেবার সময় কেটে নেয়া হয় অর্থাত ১ লাখ টাকা না দিয়ে অতিরিক্ত ২৫ হাজার টাকা কেটে ৭৫ হাজার টাকা দেয়া হয় সেটাকে এলাকায় খাজনা বলে থাকে। প্রচলিত এই লোন ব্যক্তি পর্যায়ে আদান প্রদান হচ্ছে। কুরআন ও হাদিসের আলোকে জানতে চাই
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। উল্লেখিত লেনদেন এক কথায় হারাম। কারণ এটা সুদ। নিচে দলীল সহ বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হলো: এই লেনদেনটি যেহেতু সুদ তাই প্রথমে সুদ সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে। সুদকে আরবীতে রিবা বলে। যার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে অতিরিক্ত বা বেশী। ইসলামী পরিভাষায় সুদের অর্থ: আল্লামা আব্দুল আযীয বিন বায বলেন,
هو الزيادة في أحد النوعين من المال على النوع الآخر، هذا إذا كانا من جنس واحد، كالذهب بالذهب والفضة بالفضة والبر بالبر والشعير بالشعير ونحو ذلك، إذا زاد أحدهما على الآخر يقال له ربا، شرع
অর্থাৎ লেনদেনের সময় একজাতীয় পণ্যের একটিকে আরেকটির তুলনায় বেশী দেয়া। যেমন, সোনার বিনিময়ে সোনা, রুপার বিনিমেয়ে রুপা, ....যখন একটিকে আরেকটির চেয়ে বেশী দেয়া হবে তখন তাকে সুদ বলা হবে। আল্লামা আবুল বারাকাত আন-নাসাফী আল হানাফী বলেন,
فَضْلُ مَالٍ بِلَا عِوَضٍ فِي مُعَاوَضَةِ مَالٍ بِمَالٍ
অর্থাৎ পণ্য লেনদেনের সময় বিনিময় ছাড়া অতিরিক্ত পণ্যই সুদ। আল্লামা আব্দুল্লাহ ইবনে মাহমুদ আলমাউসুলি আল হানাফী বলেন,
الزيادة المشروطة في العقد ، وهذا إنما يكون عند المقابلة بالجنس
অর্থাৎএক জাতীয় পণ্যের বিনিময়ের চুক্তিতে শর্তকৃত অতিরিক্ত অংশ হলো সুদ। মোট কথা সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা বা শস্য ইত্যাদির বিনিময়কালে কম-বেশি দেয়া নেয়াই হলো সুদ। এ থেকে আমরা জানতে পারছি যে, কাউকে টাকা, সোনা, রূপা ইত্যাদি প্রদান করে পরে তার থেকে প্রদত্ত পরিমানের চেয়ে বেশি টাকা, সোনা, রূপা ইত্যাদি গ্রহণ করাই সূদ। কাউকে ১ হাজার টাকা দিয়ে তার কাছ থেকে ১ হাজার ১ টাকা নিলে এক টাকা সূদ বলে গন্য হবে। উপরে দেলনদেনে ৭৫ হাাজার টাকা দিয়ে ১ লক্ষ টাকা নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত ২৫ হাজার টাকা সুদ। অনুরূপভাবে এক লক্ষ টাকা দিয়ে পরে তার থেকে এক লক্ষের বেশি যে টাকাই নেওয়া হোক না কেন তা ইসলামী শরীয়াতে সূদ বলে গণ্য। সুদের সম্পর্কে ধারণা দিতে গিয়ে আবু সাইদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল (সা.) বলেছেন,
الذَّهَبُ بِالذَّهَبِ وَالْفِضَّةُ بِالْفِضَّةِ وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ وَالْمِلْحُ بِالْمِلْحِ مِثْلاً بِمِثْلٍ يَدًا بِيَدٍ فَمَنْ زَادَ أَوِ اسْتَزَادَ فَقَدْ أَرْبَى الآخِذُ وَالْمُعْطِى فِيهِ سَوَاءٌ
অর্থ: সোনার বিনিময়ে সোনা, রুপার বিনিময়ে রুপা, গমের বিনিময়ে গম, জবের বিনিময়ে জব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর এবং লবণের বিনিময়ে লবন বিক্রি করবে সমান সমান নগদ নগদ। সুতরাং যে বেশী গ্রগন করবে কিংবা প্রদান করবে সে সুদী কারবার করল। দাতা ও গ্রহীতা এক্ষেত্রে সমান। উল্লেখ্য যে, তখনকার সময় সোনা-রুপাই ছিল মুদ্রা। হযরত আবু হুরাইরা রা. এবং আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত তার বলেন,
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَعْمَلَ رَجُلاً عَلَى خَيْبَرَ فَجَاءَهُ بِتَمْرٍ جَنِيبٍ ، فَقَالَرَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم كُلُّ تَمْرِ خَيْبَرَ هَكَذَا فَقَالَ : لاَ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّا لَنَأْخُذُ الصَّاعَ مِنْ هَذَا بِالصَّاعَيْنِ {وَالصَّاعَيْنِ} بِالثَّلاَثَةِ فَقَالَ : لاَ تَفْعَلْ بِعِ الْجَمْعَ بِالدَّرَاهِمِ ثمَّ ابْتَعْ بِالدَّرَاهِمِ جَنِيبًا
রাসূল সা. খয়বারে এক ব্যক্তিকে জাকাত আদায়ের জন্য নিযুক্ত করলেন। সে তাঁর নিকটে উৎকৃষ্টমানের খেজুর নিয়ে আসলো। রাসূল সা. বললেন, খয়বারের সব খেজুর কি একই মানের? সে বলল, আল্লাহর শপথ হে আল্লাহর রাসূল! না, বিষয়টি এমন নয়। আমরা উন্নতমানের খেজুরের এক সা বিক্রি করি নিম্নমানের খেজুরের দুই সা এর বিনিময়ে এবং দুই সা কে তিন সা এর বিনিময়ে। রাসূল সা. বললেন, তুমি এমন করবে না।নিম্নমানের খেজুর বিক্রি করবে দিরহাম দ্বারা এরপর উন্নতমানের খেজুর ক্রয় করবে দিরহাম দ্বারা। সহীহ বুখারী: হাদীস নং ৪২৪৫। উবাদা ইবনে সামেত, উমার (রা.) সহ আরো অনেক সাহাবী থেকে এই অর্থের অনেক হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীস অনুধাবনের জন্য একটি উদাহরণ দেখুন। মনে করুন বাজারে খুব ভাল চাউল ৬০ টাকা এবং কমা চাউল ৪০ টাকা। তাহলে তিন কেজি কমা চাউল বিক্রয় করলে ২ কেজি ভাল চাউল কেনা যায়। কিন্তু ক্উে যদি ক্রয় বিক্রয় না করে সরাসরি তিন কেজি কমা চাউল দিয়ে দুই কেজি ভাল চাউল গ্রহণ করে তবে এক কেজি সূদ বলে গণ্য হবে। ইসলাম বাজারে ক্রয়বিক্রয়ে ধারা বৃদ্ধি করতে উৎসাহ দেয়। কোনো অজুহাতেই সূদ গ্রহণ বৈধ করে নি। এই সব হাদীসের ভিত্তিতে সমস্ত আলেম একমত যে, মুদ্রার বিনিময়ে মুদ্রা (যদি এক জাতীয় হয়) কমবেশী করে বিনিময় করা হারাম। আর টাকা যেহেতু মুদ্রা তাই টাকার ক্ষেত্রেও কমবেশী করে বিনিময় হারাম হবে। সুতরাং একলক্ষ টাকা দিয়ে পরবর্তীতে এর চেয়ে বেশী নেয়া নিঃসন্দেহ সুদ। এটা পরিহার করতে হবে। সুদের ভয়াবহাতা সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لاَ يَقُومُونَ إِلاَّ كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُواْ إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا فَمَن جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِّن رَّبِّهِ فَانتَهَىَ فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ وَمَنْ عَادَ فَأُوْلَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ (২৭৫)
অর্থ: যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতে দন্ডায়মান হবে সেভাবে, যেভাবে দন্ডায়মান হয় ঐ ব্যক্তি, শয়তান যাকে মোহবিষ্ট করে দেয়। তাদের এ অবস্থার কারণ এই যে, তারা বলেছে, ক্রয় বিক্রয় ও তো সুদেরই মত! অথচ আল্লাহ তায়ালা ক্রয় বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। অতঃপর যার কাছে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে উপদেল এসেছে এবং বিরত হয়েছে, যা পূর্বে হয়ে গেছে তা তার এবং সেই বিষয়টি আল্লাহ তায়ালার জিম্মাই। আর যারা পূনরায় সুদ খাবে তারা জাহান্নামে যাবে। সূরা বাকারাহ, আয়াত ২৭৬। হযরত জাবির রা. বলেন,
لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ
রাসূল সা. সুদ দাতা, গ্রহীতা, লেখক, সাক্ষীদ্বয় সবার উপর লানাত দিয়েছেন এবং বলেছেন, তারা সবাই সমান। সহীহ মুসলিম, ৪১৭৭। আল্লাহ আমাদের যাবতীয় হারাম কাজ থেকে বেঁেচ থাকার তাওফীক দান করুন।
প্রশ্নঃ 48
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। মুহতারাম, আপনার কাছে আমার কাছে আমার জানার বিষয় হল, আউস ও খাজরাজের লোকেরা কোন ধর্মের মানুষ ছিলেন?
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। নিম্নে আপনার প্রশ্নের উত্তর প্রদত্ত হল । আউস ও খাজরাজ গেত্রের লোকেরা আরবের অন্যান্য মানুষদের মতই ইব্রাহীম আঃ এর ধর্মের অনুসারী ছিলেন। এধর্মের ভিতরে তারা বিভিন্ন ধরনের বিকৃতি সাধন করেন এবং তারা শিরকে লিপ্ত হন। তারা আল্লাহর একত্বে বিশ্বাসী ছিলেন। তবে আল্লাহর রহমত লাভের জন্য ফিরিশতা, জিন, নবী, ওলীগণ, তাদের প্রতিমা বা স্মৃতিবিজড়িত স্থান ও দ্রব্যের পুজা করতেন। এছাড়া নানাবিধ কুসংস্কার তাদের মধ্যে প্রসার লাভ করে।
প্রশ্নঃ 47
Is Sheikh Albani the best muhaddis in thise century
20 Dec 2025
শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহ. তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসদের অন্যতম ছিলেন। হাদীস শাস্ত্রে তাঁর খেদমত ব্যাপক।তবে তিনি বর্তমান সময়ের বেস্ট মুহাদ্দিস ছিলেন এটা এক কথায় বলা কঠিন। বিষয়টি আপেক্ষিক। কারো নিকট তিনি বেস্ট মুহাদ্দিস আবার কারো নিকট নন। আর এরূপ কথা বলা উচিতও নয়। এগুলো অতিভক্তিমূলক কথা মাত্র। শাইখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী একজন বড় মুহাদ্দিস ছিলেন এক কথাটুকুই তাঁর মূল্যায়নের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। আল্লাহ সবচেয়ে ভাল জানেন। আল্লাহ শাইখ আলবানীকে তাঁর কর্মের যোগ্য পুরস্কার দান করুন ও তাকে রহমত করুন। আমাদের আবেগকে সুন্নাতের অনুগত করার তাওফীক দান করুন।
প্রশ্নঃ 46
পরিবার পরিজন ছেড়ে ৪০ দিন বা এক বছরের জন্য তাবলীগে যাওয়া প্রসংগে কিছু জানতে চাই।
20 Dec 2025
তাবলীগে যাওয়া ভাল কাজ। যদি কেউ পরিবারের সাথে সমন্বয় করে তাদের ফরজ হক আদায় করে যেতে পারেন তাহলে হতে পারে। তবে এই ধরনের যাওয়ার ব্যাপারে দ্বীন শরীয়ত কোথাও উৎসাহ দেয়া হয়নি। রাসূল সাঃ এবং সাহাবায়ে কেরামের কেউ দ্বিনী দাওয়াতের ক্ষেত্রে সময়সীমা নির্ধারন করেন নি।রাসূল সাঃ এর কাছে সাহাবায়ে কেরাম এসেছেন । বিশদিন থাকার পর পাঠিয়ে দিয়েছেন। বললেন না যে, চল্লিশ দিন বা একমাস বা দুই মাস পূর্ণ করে যাও। কোন নির্দ্দিষ্ট সময়সীমা না বেধে যে কয়দিন পারবেন থাকবেন এরপর চলে এসে পরবর্তিতে আবার যাবেন,এটার নাম হল দ্বীন এবং এটা নফল। সুতরাং এবিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি না করা এবং নফলকে ফরযের পর্যায়ে না নিয়ে যাওয়াই উচিৎ। যদি দিন তারিখের মধ্যে বিশেষ ফযিলত আছে মনে করা হয় তাহলে তা বিদআতে পরিনত হবে। আল্লাহ আমাদেরকে বিদআত থেকে হেফাযত করুন। আমীন।
প্রশ্নঃ 45
ফেতরার বন্টন ঈদের সালাতের আগে না পরে?
20 Dec 2025
প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দান করুন। প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়ে নিচে সামান্য আলোচনা করা হল, আশা করি আপনি তাতে আপনার উত্তর খুঁজে পাবেন। ইনশাল্লাহ। ঈদের নামাজে বের হওয়ার পূর্বে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা মুস্তাহাব। ইমাম তিরমিযী রহঃ বলেন, উলামায়ে কেরামের নিকট মুস্তাহাব হল, ব্যক্তি সুবহে সাদিকের পর থেকে নিয়ে ঈদের নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বপর্যন্ত সময়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করবে। কেননা রাসূল সাঃ ঈদের নামাজে বের হওয়ার পূর্বে তা আদায় করতেন। পাশাপাশি দরিদ্রশ্রেণীর মানুষেরা মানুষের দ্বারে দ্বারে বেড়ানো থেকে মুক্ত হয়ে নামাজে শরীক হতে পারে। ইবনে উমার রাঃ থেকে বর্ণীত একটি হাদীসে এসেছে
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- أَمَرَ بِإِخْرَاجِ زَكَاةِ الْفِطْرِ أَنْ تُؤَدَّى قَبْلَ خُرُوجِ النَّاسِ إِلَى الصَّلاَةِ
(অর্থঃ)রাসূল সাঃ ঈদের নামাজে বের হওয়ার পূর্বে ফিতরা আদায় করার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। মুসলিম, আস-সহীহ, কিতাব,আয-যাকাত, বাব, আল আমর বিইখরাজি যাকাতিল ফিতর ক্ববলাস সালাত, হাদীস নং ২৩৩৬। তবে যদি কেউ এক-দুইদিন পূর্বে তা দিয়ে দেয় তা যায়েয আছে এবং তার ফিতরা আদায় হয়ে যাবে। আল-মুগনি, বাব, সাদাকাতুল ফিতর,মাসআলাতু তাকদীমুল ফিতর ক্ববলাল ঈদ বিইয়াওমাইনি খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৪৯৪। বুখারীতে এসেছে
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا ، قَالَ : فَرَضَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم صَدَقَةَ الْفِطْرِ .....وَكَانُوا يُعْطُونَ قَبْلَ الْفِطْرِ بِيَوْمٍ ، أَوْ يَوْمَيْنِ.
(অর্থঃ) ইবনে উমার রাঃ থেকে বর্ণীত, তিনি বলেন, রাসূল সাঃ সাদাকাতুল ফিতর ফরয করেছেন। ...আর সাহাবায়ে কেরাম ফিতরের পূর্বে(রমজানের রোজা একটি বা দুইটা বাকী থাকতে) তা আদায় করতেন। বুখারী, হাদীস নং ১৫১১। সহীহ ইবনে হিব্বানে এসেছে:
أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر بإخراج زكاة الفطر أن تؤدى قبل خروج الناس، وأن عبد الله كان يؤديها قبل ذلك بيوم أو يومين
(অর্থঃ) রাসূল সাঃ ঈদের নামাজে বের হওয়ার পূর্বে ফিতরা আদায় করার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। আর আব্দুল্লাহ (ইবনে উমার) রাঃ ঈদের একদিন বা দুইদিন আগে ফিতরা আদায় করতেন। সহীহ ইবনে হিব্বান, তাহকীক, শুয়াইব আরনাউত, খন্ড-৮,পৃষ্ঠা-৯৩। শায়েখ শুয়াইব আরনাউত বলেন, হাদীসের সনদটি সহীহ, সহীহ মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী। আর নামাজের পরে দেয়ার বিষয়ে উলামায়ে কেরামের মতামত দেখলে বুঝা যায় যে, তাদের মতে এবিষয়টি মাকরুহ বা অপছন্দনীয়। ইবনে হাযাম রহঃ হারাম বলেছেন। ফাতহুল ক্বাদীরের লেখক আল্লামা ইবনে হুমাম রহঃ বলেন: যদি ঈদুল ফিতরের দিন ফিতরা কেউ না তাহলে তা তাদের থেকে রহিত হবে না, বরং পরবর্তিতে তা আদায় করা আবশ্যক। ফাতহুল ক্বাদীর খন্ড ৪ পৃষ্ঠা ২৬২। (শামিলা)। তাছাড়া পরবর্তিতে আদায় করলে ঈদের নামাজের পূর্বে দেয়ার যে ফযিলত ছিল তা পাওয়া যাবে না বরং তা সাধারন সদকা হিসাবে গণ্য হবে। হাদীসে এসেছে:
مَنْ أَدَّاهَا قَبْلَ الصَّلاَةِ فَهِىَ زَكَاةٌ مَقْبُولَةٌ وَمَنْ أَدَّاهَا بَعْدَ الصَّلاَةِ فَهِىَ صَدَقَةٌ مِنَ الصَّدَقَاتِ.
(অর্থঃ) নামাজের পূর্বে যেটা আদায় করা হল সেটা মাকবুল যাকাত আর যেটা নামাজের পরে আদায় করা হল দান। সুনানে আবু দাউদ,বাব, যাকাতুল ফিতর, খন্ড ২,পৃষ্ঠা ২৫,তাহকীক, শায়েখ আলবানী। উক্ত হাদীসের ব্যাক্ষায় ড. ঝুহাইলী বলেন: সাদকা দ্বারা উদ্দেশ্য হল অন্যান্য সময়ের ন্যায় সাধারন দান। আল ফিকহুল ইসলামীয়্যু ওয়া আদিল্লাতুহু,খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৬২, মাকতাবাতু থানবী, দেওবন্দ। ফাতহুল ক্বাদীরের লেখক আল্লামা ইবনে হুমাম রহঃ বলেন: যদি ঈদুল ফিতরের দিন ফিতরা কেউ না তাহলে তা তাদের থেকে রহিত হবে না, বরং পরবর্তিতে তা আদায় করা আবশ্যক। ফাতহুল ক্বাদীর খন্ড ৪পৃষ্ঠা ২৬২। (শামিলা)। মোটকথা, ঈদের দিন ফযরের পর থেকে ঈদের নামাজের আগে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা মুস্তাহাব। তবে যদি কেউ এক-দুইদিন আগে তা দিয়ে দেয় তবে তা আদায় হয়ে যাবে। ঈদের নামাজের পর পর্যন্ত বিলম্ব করা সকল ইমামদের মতে মাকরুহ। তবে তা যততাড়াতাড়ি সম্ভব দিয়ে দিতে হবে এবং সেটা সাধারন দান হিসাবে গণ্য হবে। অতএব আমাদের উচিৎ ঈদের নামাজের পর্বেই তা আদায় করার মাধ্যমে রাসূল সা. এর সুন্নাতের অনুসরণ করা। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সবসময় রাসূল সা. এর সুন্নাতের এত্তেবা করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
প্রশ্নঃ 44
আসসালামু আলাইকুম, আমার বাবা গত বছর (২০১৪ ইং) রমজানের রোজার ৩/৪ টি রাখার পর অসুস্থ হয়ে পরে। যার কারণে আর রোযা রাখা সম্ভব হয়নি। এখনো পুরাপুরি সুস্থ হয়নি। তবে আল্লাহ চাহেতো এবার রমযানের রোযা রাখার নিয়াত করেছে। এখন আমার প্রশ্ন হলো এ অবস্থায় পূর্বের রোযার হুকুম কি হবে? তিনি পূর্বের রোযা রাখার ব্যাপারে অনেকটা (অসুস্থতার কারনে) অপারগতা প্রকাশ করছেন। পূর্বের রোযা কি ফিদিয়া কিংবা মিসকিনকে খাওয়ানোর দ্বারা আদায় হবে?
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অসুস্থতার জন্য রোজা রাখতে না পারলে সুস্থ হওয়ার পর তা আদায় করতে হবে। আর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে ফিদিয়া দিতে হবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ
অর্থ: তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকবে কিংবা সফরে থাকবে তাহলে তার জন্য অন্য দিনগুলো, (অর্থাৎ সে পরে সুস্থ হলে কিংবা সফর থেকে ফিরে আসলে যে রোজাগুলো রাখতে পারেনি সেগুলো রাখবে)। আর যারা রোজা রাখতে গিয়ে কষ্টের শিকার হবে তাদের উপর আবশ্যক হল ফিদিয়া একজন মিসকীনকে খাবার খাওয়ানো। সূরা বাকারাহ, আয়াত: ১৮৪। এই আয়াতের ভিত্তিতে আলেগণের সর্বাক্যমতে যদি সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে তার জন্য ফিদিয়া দেয়া যাবে না। আর যদি সুস্থ হওয়ার আশা না থাকে তাহলে ফিদিয়া দিতে হবে। আধুনিক ফিকহী কিতাব আল ফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু এর লেখক ড. ওহুবাহ আঝ-ঝুহায়লি বলেন,
وتجب الفدية أيضاً بالاتفاق على المريض الذي لا يرجى برؤه، لعدم وجوب الصوم عليه
অর্থ: সর্বাক্যমতে ফিদিয়া ওয়াজিব হবে এমন অসুস্থ ব্যক্তির উপর যার সুস্থ হওয়ার ব্যাপারে আশা করা যায় না। কেননা তার উপর তখন রোজা ওয়াজিব থাকে না। আল ফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু, ২/৬০৫। আরো দেখুন: আল ফিকহ আলা মাযাহিবিল আরবা, ১/৪৪৫। উপরুক্ত দলীল সমূহে ভিত্তিতে যা বোঝা যায় তা হল, আপনার পিতা যেহেতু আগামী রমযানে রোযা রাখার ইচ্ছা করছেন, এতে বোঝা যাচ্ছে তিনি এমন অসুস্থ নন যে, তার সুস্থ হওয়া অসম্ভব, তাই আপনার পিতাকে অপেক্ষা করতে হবে। যদি তিনি সুস্থ হয়ে যান তাহলে রোজা কাযা করবেন আর যদি পরবর্তিতে এমন হয় যে তার সুস্থ হওয়ার ব্যাপারে কোন আশা করা যাচ্ছে না তখন ফিদিয়া দিতে হবে। আল্লাহ ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 43
সালাতুল জানাযায় তাকবীর গুলোর সময় হাত উঠাতে হবে কি না? দলীল সহ জানালে উপকৃত হব।
20 Dec 2025
গুরুত্বপূর্ণ এই পশ্নটি করার জন্য আপনারক শুকরান। নিম্নে আপনার প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়ে আলোচনা করা হল। উলামায়ে কেরাম এব্যাপারে একমত যে, জানাযার নামাজে প্রথম তাকবীরে হাত উঠানো সুন্নাত। কিন্তু পরবর্তি তাকবীর গুলোরতে হাত উঠাতে হবে কিনা এব্যাপারে উলামায়ে কেরামের মাঝে কিছুটা মতবিরোধ পরিলক্ষিত হয়। শাফেয়ী এবং হাম্বলী মাযহাব শাফেয়ী এবং হাম্বলী মাযহাবের উলামায়ে কেরাম সহ ইবনুল মুনযিরী রহঃ, শায়েখ ইবনে বায রহঃ, ইবনে উসায়মীন রহঃ এর মতে পরবর্তি তাকবীর গুলোতেতে হাত উঠানো সুন্নাত। দলীলঃ
: رأيتُ رسول الله - صلَّى الله عليه وسلَّم - يرفع يدَيْه مع التكبير عن وائل بن حُجْر قال رواه أحمد (4/ 316) ونحوه الطيالسي (1021) والدَّارِمي (1/ 285)
অর্থঃ ওয়ায়েল ইবনে হজর রাঃ থেকে বর্ণীত তিনি বলেন: রাসূল সাঃ কে তাকবীরের সাথে হাত উঠাতে দেখেছি। মুসনাদে আহামদ, ৪/৩১৬,তয়ালিসী, (১০২১), দারেমী, ১/ ২৮৫। শায়েখ আলবানী রহঃ হাদীসের সনদটিকে হাসান বলেছেন। উক্ত হাদীসটি ব্যাপক অর্থে এসেছে, অর্থাৎ নির্দিষ্ট করে কোন নামাজের কথা উল্লেখ করা হয়নি । ফলে জানাযার নামাযকেও শামিল করবে বলে এমতের উলামায়ে কেরাম মত প্রকাশ করেছেন।
حديث عمر: أنَّه كان يَرفع يديه مع كلِّ تكبيرة في الجنازة وفي العيد، رواه البيهقيُّ (3/ 293) والأثرم، وفيه ابن لهيعة، وابن لهيعة ضعيفُ الحفظ، ولذلك فهو يعتبر به في الشَّواهد والمُتابَعات، ولا يكون حجَّة إذا تفرَّد، إلا إن روى عنه العبادلةُ كما عُرِف في محلِّه
ইবনে উমর রাঃ জানাজার নামাযে এবং ঈদের নামাযের প্রত্যেক তাকবীরে হাত উুঠাতেন । বায়হাকী, ৩/২৯৩, হানাফী এবং মালেকী মাযহাব জাহেরুর রেওয়াত অনূযায়ী হানাফী মাযহাবের উলামায়ে কেরাম এবং মালেকী মাযাহাবের উলামায়ে কেরাম এবং সুফিয়ান ছাওরী রহঃ ও ইবনে আবি লাইলা রাহঃ এর মতে জানাযার অন্যান্য তাকবীর গুলোতে হাত উঠাতে হবে না। এমতের উলামায়ে কেরাম বলেন শরীয়তের কোন বিষয় সাব্যস্ত হওয়ার জন্য দলীল প্রয়োজন। আর এব্যাপারে কোন দলীল পাওযা যায় না । ইবনে হাযাম রহঃ বলেন: প্রথম তাকবীর ছাড়া অন্যান্য তাকবীর গুলোতে হাত উঠানোর বিষয়টি রাসূল সাঃ থেকে প্রমানীত নেই । তিনি বলেন: রাসূল সাঃ মাথা নিচু করার সময় এবং মাথা উঠানোর সময় হাত উঠাতেন। আর এই বিষয়টি জানাযায় নেই । তাই অন্যান্য তাকবীরের সময় হাত উঠাতে হবে না। আল্লাম শাওকনী রহঃ বলেন: এব্যাপারে প্রমাণযগ্য কোন কিছু রাসূল সাঃ খেকে প্রমাণীত নেই । এবং ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীগণের বক্তব্যতেও এব্যাপারে কোন দলীল নেই। সুতরাং উচিৎ হল হাত উঠানোর বিষয়টি প্রথম তাকবীরের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ রাখা। নাইলুল আওতার ৫/ ৫৫ । শায়েখ আলবানী রহঃ বলেন: এটা (জানাযার প্রথম তাকবীর ছাড়া অন্যান্য তাকবীরগুলোতে হাত উঠানো) সুন্নাত নয়। কারন রাসূল সাঃ এর থেকে প্রমানীত নয়। আর ইবনে ওমর এর বিষয়টি এটাকে সু্ন্নাত বানাতে পারেনা । তামামুল মিন্নাহ, ১/৩৪৮।
প্রশ্নঃ 42
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। মুহতারাম আপনার কাছে কয়েকটি বিষয় জানতে চাই। অনুগ্রহ করে কোরআন হাদীসের আলোকে জানালে কৃতজ্ঞ হব। ১)দাফনের সময় কোন মাসনূন দোয়া আছে কি না?২)দাফনের পর সুন্নাত সম্মত কাজগুলো কি কি?৩)দাফনের পর মাটির ঢিলা কবরের ভিতর রাখা সুন্নাত কি না?
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
গুরুত্বপূর্ণগুলো করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যাবাদ। নিম্নে আপনার প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়ে আলোচনা করা হল। আশাকরি আপনি তাতে আপনার উত্তর খুঁজে পাবেন। ইনশাল্লাহ। ১) জ্বী হা, দাফনের সময় মাসনূন দোয়া আছে। যিনি কবরে মৃত ব্যাক্তিকে কবরে নামাবেন তিনি নামানোর সময় নিম্নের দোয়াটি পাঠ করবেন। হাদীসেএসেছে রাসূল সাঃ যখন কোন ব্যাক্তিকে কবরে রাখতেন তখন তিনি এই দোয়াটি পাঠ করতেন।
عن نافع عن ابن عمر : أن النبي صلى الله عليه و سلم كان إذا أدخل الميت القبر قال مرة بسم الله وبالله وعلى ملة رسول الله وقال مرة بسم الله وبالله وعلى سنة رسول الله صلى الله عليه و سلم
তিরমিযী রহঃ এই সনদে হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন এবং শায়েখ আলবানী রহঃ সহীহ বলেছেন। সুনানে তিরমিযী, ৩/৩৬৪,তাহকীক, আহমাদ শাকের এবং আলবানী। ২) দাফনের পর সুন্নাত হল, কিছুক্ষণ অবস্থান করা এবং মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা। এব্যাপারে হাদীসে এসেছে
عن عثمان بن عفان قال : كان النبي صلى الله عليه و سلم إذا فرغ من دفن الميت وقف عليه فقال استغفروا لأخيكم وسلوا له بالتثبيت فإنه الآن يسأل
অথ....হযরত উসমান ইবনে আফ্ফান রাঃ থেকে বণীত তিনি বলেন: নবী সাঃ যখন দাফনের কাজ শেষ করতেন তখন সেখানে অবস্থান করতেন এবং বলতেন: তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা চাও । এবং তার জন্য দৃঢ়তা কামনা কর, কারন তাবে এখন জিজ্ঞাসা করা হবে। হাদীসটিকে শায়খ আরবানী সহীহ বলেছেন। সুনানে আবু দাউদ,২/২৩৪ (৩২২১)। হাকেম রহঃ সনদের ভিত্তিতে সহীহ বলেছেন। মুসতাদরাকে হাকেম ১/৩৭০ (১৩৭২)। ৩) দাফনের সময় মাটির ঢিলা নয়, বরং তিনবার স্বাভাবিকমাটি কবরে দেয়া মুস্তাহাব। এব্যাপারে একটি হাদীসে এসেছে
عن أبي هريرة رضي الله عنه : أَنَّ رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم صَلى عَلى جِنَازَةٍ، ثُمَّ أَتَى قَبْرَ المَيِّتِ فَحَثَى عَليهِ مِنْ قِبَل رَأْسِهِ ثَلاثاً
হযরত আবু হরায়রা রাঃ রাসূল সাঃ থেকে বননা করেন যে, তিনি একবার জানাজার নামাজ আদায় করে মৃত ব্যক্তির কবরের কাছে আসলেন এবং তার মাথার দিক থেকে তিন বার মাটি দিলেন। ইবনে মাজা ১/৪৯৯। ইবনুল কাত্তান হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন বায়ানুল ওহমী ওয়াল ইহাম,৫/২৭ নং পৃষ্ঠাতে। এবং হাদীসের সনদকে হাফেজ ইবনে হাজার সহীহ বলেছেন, তালখীসুল হাবীর ২/১৩৯ পৃষ্ঠা।
প্রশ্নঃ 41
Tahiyatul mosjid shuru korasi othoba ak rakat por jodi foroj namajer ekamot hoy,tokhon namaj sarar podhoti ki? salam firate hobe ki?
20 Dec 2025
তাহিয়্যাতুল মাসজিদ পড়া অবস্থায় ফরজ নামায শুরু হলে করণীয়এবং ফরজ নামাযের সময় নফল শুরু করার বিধান: হযরত আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন,
إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ صَلاَةَ إِلاَّ الْمَكْتُوبَة
অর্থ: যখন নামাযের ইকামত দেয়া হয় তখন ফরজ নামায ছাড়া অন্য কোন নামায নেই। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭১০। উক্ত হাদীসের ভিত্তিতে আলেমগণ ঐক্যমত পোষন করেছেন যে ফরজ নামাযের ইকামত হলে কোন নফল নামায শুরু করা যাবে না। তবে হানাফী এবং মালেকী মাযহাবের আলেমগন বিশেষ সর্তসাপেক্ষে শুধুমাত্র ফজরের দুই রাকআত সুন্নত নামায পড়ার অনুমতি দিয়েছেন। শর্তসমূহ নিম্মরুপ: ১. রাকআত পাওয়া যাবে এমন নিশ্চয়তা থাকা। ২. মসজিদের বাইরে অথবা পিছনের দিকে কাতার থেকে দূরে কোথাও পড়া। ইমাম নববী রহ. উক্ত হাদীসটির ব্যাখ্যায় বলেন,
فِيهَا النَّهْي الصَّرِيح عَنْ اِفْتِتَاح نَافِلَة بَعْد إِقَامَة الصَّلَاة ، سَوَاء كَانَتْ رَاتِبَة كَسُنَّةِ الصُّبْح وَالظُّهْر وَالْعَصْر أَوْ غَيْرهَا ، وَهَذَا مَذْهَب الشَّافِعِيّ وَالْجُمْهُور ، وَقَالَ أَبُو حَنِيفَة وَأَصْحَابه : إِذَا لَمْ يَكُنْ صَلَّى رَكْعَتَيْ سُنَّة الصُّبْح صَلَّاهُمَا بَعْد الْإِقَامَة فِي الْمَسْجِد مَا لَمْ يَخْشَ فَوْت الرَّكْعَة الثَّانِيَة . وَقَالَ الثَّوْرِيّ : مَا لَمْ يَخْشَ فَوْت الرَّكْعَة الْأُولَى . وَقَالَتْ طَائِفَة : يُصَلِّيهِمَا خَارِج الْمَسْجِد وَلَا يُصَلِّيهِمَا بَعْد الْإِقَامَة فِي الْمَسْجِ
এই হাদীসের ভিতর স্পষ্ট ভাবে ইকামতের পরে নফল নামায পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। চাই সেটা সুন্নাতে রাতেব হোক, যেমন, ফজর, যোহর, আসরের সুন্নত হোক বা অন্য সুন্নত হোক (যেমন, তাহিয়্যাতুল মসজিদ)। এটাই ইমাম শাফেয়ী এবং জমহুর উলামায়ে কেরামের অভিমত। আবু হানিফা এবং তার ছাত্ররা বলেছেন, ফজরের সুন্নত না পড়তে পারলে মসজিদের মধ্যে পড়ে নিবে যদি দ্বিতীয় রাকআত ছুটে না যায়। ইমাম ছাওরি বলেছেন, যদি প্রথম রাকআত ছুটে না যায়। একদল আলেম এই অভিমত ব্যক্ত করেছন যে, ইকামতের পর মসজিদের বাইরে পড়বে, ভিতরে পড়বে ন। শরহুন নববী আলা সহীহ মুসলিম ৩/২৮। তিনি আরো বলেছেন, وقال مالك مثله ان لم يخف فوت الركعة فان خافه صلى مع الامام এবং মালেক রহ. অনুরুপ মত পোষন করেন, যদি রাকআত ছুটে যাওয়ার আশংকা না থাকে। সুতরাং যদি নামায ছুটে যাওয়ার ভয় করে তাহলে ইমামের সাথে ফরজ নামায পড়বে। আলমাজমু ফি শরহিল মুহাযযাব ৪/২১২ আল্লামা আনোয়ার শাহ্ কাশ্মীরী উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন,
قال الظواهر : من كان يصلي فأقيمت انقطعت صلاته وليس هذا عند أحد ، وأما إذا أقيمت فلا يشرع في صلاة إلا في سنتي الفجر عند الأحناف والموالك ، ومذهب الأحناف أن يأتي بهما بشرط وجدان الركعة وأدائهما خارج المسجد ، وأما الموالك فقال مالك : يأتي بهما خارج المسجد بشرط رجاء وجدان الركعتين
আহলে জাহেরগণ বলেছেন, যখন কোন ব্যক্তি (সুন্নত) নামায পড়ে আর ফরজ নামাযের ইকামত দেয়া হয় তখন সে সুন্নত নামায ছেড়ে দিবে। অন্য কেউ এমন কথা বলেনি। পক্ষান্তরে যখন ইকামত দেয়া হয় তখন সুন্নত নামায শুরু করা যাবে না। তবে হানাফী এবং মালেকীদের নিকটে ফজরের সুন্নত আদায় করবে। হানাফীদের অভিমত হলো রাকআত পাওয়া যাবে এবং মসজিদের বাইরে আদায় করবে এই শর্তে আদায় করা যাবে।আর ইমাম মালেক র. বলেছেন, মসজিদের বাইরে এই শর্তে আদায় করা যাবে যে, দুই রাকআত পাওয়ার আশা থাকবে। আলআরফুশ শাজি লিল কাশ্মীরী ১/৪৭০ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.), আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.), আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা.), আবু দারদা (রা.) প্রমুখ সাহাবী এবং কতিপয় তাবেয়ী থেকেও বর্ণিত আছে যে, তারা ফজরের জামায়াত শুরু হওয়ার পরেও মসজিদের বাইরে, রাস্তায় বা দূরবর্তী কোন কোণে সুন্নাত পড়ে জামাতে শরীক হতেন। শরহে মায়ানিল আছার ১/২৫৪-২৫৬। তবে অনেকগুলো হাদীসে রাসূল সা. ফজরের জামাতয়াত শুরু হলে সুন্নত পড়তে নিষেধ করেছেন। যেমন: মালিক ইবনে বুহাইনা (রা.) থেবে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন,
أُقِيمَتْ صَلاَةُ الصُّبْحِ فَرَأَى رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- رَجُلاً يُصَلِّى وَالْمُؤَذِّنُ يُقِيمُ فَقَالَ أَتُصَلِّى الصُّبْحَ أَرْبَعًا.
ফজরের ইকামত শুরু হলো।রাসূল (সা.) দেখেন মুয়াজ্জিনের ইকামতের সময় এক ব্যক্তি নামায (সুন্নত নামায) পড়ছে। তখন তিনি বলেন, তুমি কি ফজরের সালাহ চার রাকআত আদায় করবে। মুসলিম, হাদীস নং৭১১। অন্য হাদীসে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেন,
أقيمت صلاة الصبح فقام رجل يصلي الركعتين فجذب رسول الله صلى الله عليه و سلم بثوبه فقال أتصلي الصبح أربعا
ফজরের নামাযের ইকামতের পরে এক ব্যক্তি দু রাকআত সুন্নত পড়তে শুরু করে, তখন রাসূল (সা.) তার কাপড় ধরে টান দিয়ে বললেন,তুমি কি ফজর চার রাকআত পড়বে। মুসানাদে আহমাদ, হাদীস নং ২১৩০। শায়খ শুয়াইব আরনাউত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। উক্ত হাদীসের ভিত্তিতে কিছু কিছু আলেম বলেন, সুন্নত বা নফল নামায পড়াকালীন সময়ে যদি ফরজ নামায শুরু হয়ে যায় তাহলে সুন্নত ছেড়ে দিয়ে ফরজে শরীক হতে হবে। তবে অধিকাংশ আলেমের মতে সুন্নাত ছেড়ে দিবে না বরং হালকাভাবে আদায় করবে। নিচে বিস্তারিত বর্ণনা করা হল: আল্লামা কাশ্মীরী র. উক্ত হাদীসের আলোচনায় বলেন,
ذهب طائفةٌ من أهل الظواهر إلى ظاهر الحديث، وقالوا: إن أُقِيمَتِ الصلاةُ وهو في خلال الصلاة بَطَلَتِ صلاته، ولم يَذْهَب إليه أحدٌ من الأئمة غيرها. وقال الجمهور: بل يُتِمُّها ولا يقطعها
আহলে জাহেরদের একটি দল হাদীসের বাহ্যিক অর্থ গ্রহন করেন। তারা বলেন, সুন্নত নামায পড়া অবস্থায় ফরজ নামাযের ইকামত দিলে সুন্নত বাতিল হয়ে যায়। তারা ছাড়া ইমামদের কেউ এমন কথা বলেননি। অধিকাংশ আলেম বলেছেন, সুন্নত পূর্ণ করবে, ছেড়ে দিবে না। ফাইজুল বারী ফি শরহি সহীহ বুখারী ২/৪২২। প্রখ্যাত হাম্বলী ফকীহ শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে কুদামাহ আল মুকাদ্দেসী বলেন,
وإذا أقيمت الصلاة فلا صلاة إلا المكتوبة فإن كان نافلة أتمها إلا أن يخشى فوات الجماعة فيقطعها
যখন ফরজ নামাযের ইকামত দেয়া হয় তখন ফরজ ব্যতিত অন্য কোন নামায নেই। যদি ঐসময় নফল (সুন্নত) নামায পড়তে থাকে তাহলে পূর্ণ করবে। তবে জামায়াত ছুটে যাওয়ার আশংকা থাকলে ছেড়ে দিবে। ঝা-দুল মুসতাক্বনী ১/৫৩ সউদি আরবের প্রখ্যাত হাম্বলী ফকীহ আল্লামা শানকিতি বলেন,
أن تقام الصلاة وأنت في أثناء الصلاة، فإن غلب على ظنك أنك سوف تتم الصلاة قبل أن يركع الإمام ويمكنك أن تدرك الركعة معه فحينئذ تتم الصلاة على قول جماهير العلماء، خلافاً للظاهرية وأهل الحديث، حيث قالوا: إذا أقيمت الصلاة -حتى ولو غلب على ظنك أنك تدرك الإمام في ركوعه- فإنك تقطع هذه الصلاة، ولو كنت في آخرها؛ لظاهر قوله صلى الله عليه وسلم: ( فلا صلاة إلا المكتوبة ) والصحيح مذهب الجمهور؛ لأن الله يقول -كما في التنزيل- : { وَلا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ } [محمد:৩৩]، فنهانا عن إبطال العمل، والنبي صلى الله عليه وسلم يقول: ( إن خير أعمالكم الصلاة )، فنهانا الله عن إبطال العمل، والصلاة عمل، فلا نبطلها إلا بوجه بين، فإنه إذا غلب على ظنك أنك مدرك للركعة جمعت بين الأمرين، والقاعدة: (الجمع بين النصين أولى من العمل بأحدهما وترك الآخر)
অর্থ: নামাযের ইকামত দেয়া হচ্ছে আর তুমি সুন্নত নামায পড়ছো এই অবস্থায় যদি তোমার ধারণায় প্রবল হয় যে, ইমাম সাহেব রুকু করার পূর্বেই তুমি সুন্নত শেষ করতে পারবে এবং তোমার পক্ষে তার সাথে রাকআত পাওয়া সম্ভব তাহলে জমহুর উলামায়ে কেরামের অভিমত হলো তুমি সুন্নত নামায পূর্ণ করবে। আহলে জাহের এবং আহলে হাদীসগণ এর বিপরীত মত পোষন করেন। তারা বলেন, যখন ইকামত দেয়া হবে তখন তুমি এই নামায ছেড়ে দিবে, যদিও তোমার ধারণায় প্রবল হয় যে, তুমি ইমাম কে রুকুতে পাবে, কিংবা তুমি নামাযের শেষ দিকে থাক। উক্ত হাদীসের জাহেরী অর্থ গ্রহন করে তারা একথা বলেন।সহীহ হলো জমহুরের মাজহাব। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,তোমরা তোমাদের আমলকে নষ্ট করো না। (সূরা মুহাম্মাদ:৩৩)। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আমল বাতিল করতে নিষেধ করেছেন। আর রাসুল সা. বলেছেন, তোমাদের সবচেয়ে উত্তম আমল হলো নামায। (ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ২৭৭)। হাদীসটি সহীহ। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আমল বাতিল করতে নিষেধ করেছেন আর নামায হলো আমল সুতরাং সুষ্পষ্ট কারণ ছাড়া আমরা আমল বাতিল করব না। তাই যখন তোমার ধারণায় প্রবল হবে যে, তুমি রাকআত পাবে তখন উভয়টিকে (কুরআন ও হাদীস) একত্রিত করবে। আর কায়দা হলো একটির উপর আমল করে আরেকটি ছেড়ে দেয়া থেকে দুই নসের মাঝে সমন্বয়সাধন করা উত্তম। শারহু ঝাদিল মুসতানকী ৬/৫৮ কুতুবুল ফিক্হ গ্রন্থাকার বলেছেন,
وإن أقيمت الصلاة وهو في صلاة نافلة قد أحرم بها من قبل ; أتمها خفيفة, ولا يقطعها ; إلا أن يخشى فوات الجماعة ; لقول الله تعالى : وَلَا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ فإن خشي فوت الجماعة, قطع النافلة ; لأن الفرض أهم
আর যদি ব্যক্তি নফল নামায পড়া অবস্থায় ফরজের ইকামত দেয়া হয় যে নফলের তাহরীমা সে আগেই করেছিল তাহলে হালকা ভাবে সে তা পূর্ণ করবে।ছেড়ে দেবে না। তবে যদি জামায়াত ছুটে যাওয়ার আশংকা করে তাহলে ছেড়ে দিবে। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তোমরা তোমাদের আমলকে নষ্ট করো না। তবে যদি সে জামায়ত ছুটে যাওয়ার আশংক করে তাহলে নফল ছেড়ে দিবে। কেননা ফরজ অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কুতুবুল ফিক্হ ৩/৬৫। এই সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন আল ইনসাফ ২/১৫২ উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, অধিকাংাশ আলেমের মতে ফরজ নামায শুরু হলেই তাহিয়্যাতুল মাসজিদ ছেড়ে দেয়া যাবে না। বরং ফরজ ছুটে যাওয়ার আশংকা না থাকলে তা পূর্ণ করবে। তবে যদি ফরজ ছুটে যাওয়ার আশংকা থাকে তাহলে সহীহ মতানুযায়ী ছালামের মাধ্যমে সুন্নত ছেড়ে দিবে। কেননা আলী রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল (সা.) বলেছেন,
مفتاح الصلاة الطهور وتحريمها التكبير وتحليلها التسليم
অর্থ: নামাযের চাবি হলো পবিত্রতা আর তার সূচনা হলো তাকবীর আর শেষ হলো সালাম। আল্লাহ তায়লা সবচেয়ে ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 40
(সামনের কাতারের কাউকে টেনে নেয়ার পর উক্ত ফাকা জায়গা পূরণ করা) একা নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে যদি সামনের কাতারের কাউকে টেনে নেওয়া হয় তাহলে সামনের কাতারের ফাঁকা জায়গা কিভাবে পূরণ করবো?
20 Dec 2025
এক্ষেত্রে দুই পাশের মুসুল্লিরা চেপে এসে উক্ত ফাঁকা জায়গা পূরণ করবে। হাদীস শরীফে এভাবে সরে এসে ফাঁকা জায়গা পূরণ করাকে অনেক সওয়াবে বিষয় হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বারা ইবনে আযেব রাঃ থেকে বর্ণীত এক হাদীসে তিনি বলেন:
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول إن الله وملائكته يصلون على الذين يصلون الصفوف الأول وما من خطوة أحب إلى الله من خطوة يمشيها العبد يصل بها صفا
অর্থঃ রাসূল সা.বলতেন: নিশ্চয় আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা রহমতের দুয়া করেন ঐ ব্যক্তিদের জন্য যারা কাতারগুলোতে মিলেমিলে দাড়ায়। আর আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হাটা-চলা হল, যা কাতারের সাথে মিলে দাড়ানোর জন্য হয়ে থাকে। সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব,১/১২২, বাব, আত তারগীব ফী ওয়াসলিস সুফুফ ওয়া সাদ্দিল ফারজ। শায়েখ আলবানী হাদীসটি সহী লিগায়রিহী বলেছেন। আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণীত অপর একটি হাদীসে রাসূল সা. বলেন:
إن الله عز و جل وملائكته عليهم السلام يصلون على الذين يصلون الصفوف ومن سد فرجة رفعه الله بها درجة
অর্থঃ নিশ্চয় আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা রহমতের দোয়া করেন ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের জন্য যারা কাতারের সাথে মিলে দাড়ায়। আর যারা ফাকা জায়গা বন্ধ করে আল্লাহ তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। শায়েখ শুয়াইব হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বাল,তাহকীক,শুয়াইব আরনাইত, ৬/৮৯ (২৪৬৩১) বাব, হাদীসু সায়্যিদাতু আয়েশা রাঃ। আবু হুরাইরা রাঃ রাসূল সা. থেকে বর্ণানা করেন, তিনি বলেছেন:
من سد فرجة في صف رفعه الله بها في الجنة درجة، وبنى له في الجنة بيتاً
অর্থঃ যে ব্যক্তি কাতারের ফাকা জায়গা পূরণ করবে আল্লাহ জান্নাতে তার মর্যাদা বাড়িয়ে দিবেন এবং জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মান করবেন। আত-তারগীব ওয়াত তারহীব,৩/৩০ (২০০৯)। নামাযের ভিতর প্রয়োজনে হাটা-চলা করার বৈধতার ব্যাপারে চারমাযহাবের উলামায়ে কেরাম একমত। হানাফী উলামায়ে কেরাম বলেন:যদি ব্যক্তি শরীয়ত সম্মত প্রয়োজনে নামাযের মধ্যে হাটা-চলা করে (কেবলামুখি অবস্থায়) তাহলে তার নামায নষ্ট হবে না। ফাতওয়াযে হিন্দিয়্যাতে এসেছে:
وَلَوْ مَشَى فِي صَلَاتِهِ مِقْدَارَ صَفٍّ وَاحِدٍ لَمْ تَفْسُدْ صَلَاتُهُ وَلَوْ كَانَ مِقْدَارَ صَفَّيْنِ إنْ مَشَى دَفْعَة وَاحِدَةً فَسَدَتْ صَلَاتُهُ وَإِنْ مَشَى إلَى صَفٍّ وَوَقَفَ ثُمَّ إلَى صَفٍّ لَا تَفْسُدُ كَذَا فِي فَتَاوَى قَاضِي خَانْ
অর্থঃযদি ব্যক্তি নামাযে এক কাতার পরিমান হেটে যায় তার নামায নষ্ট হবে না। আর যদি দুই কাতার পরিমান হেটে যায়,সেক্ষেত্রে মাঝের কাতারে না থামলে নামায হবে না। যদি থামে তাহলে নামায হয়ে যাবে ভাঙ্গবে না। ফাতওয়ায়ে কাজী খানে এমনই আছে। ৩/৩১৯, কিতাব, আস সালাম, বাব, ফী মা ইফছিদুহা। ফাতওয়ায়ে শামীতে ইবনে আবেদীন রহঃ বলেন:
مَشَى مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ هَلْ تَفْسُدُ إنْ قَدْرَ صَفٍّ ثُمَّ وَقَفَ قَدْرَ رُكْنٍ ثُمَّ مَشَى وَوَقَفَ كَذَلِكَ وَهَكَذَا لَا تَفْسُدُ ، وَإِنْ كَثُرَ مَا لَمْ يَخْتَلِفْ الْمَكَانُ
অর্থঃব্যক্তি কিবলামুখি হয়ে হাটলো, তার নামায কি নষ্ট হয়ে যাবে, যদি এক কাতার পরিমাণ হেটে এক রুকুন পরিমান থেমে থেকে আবার হাটে এবং এপরিমান থেমে থেকে এভাবে হাটতে থাকে? তার নামায নষ্ট হবে না যদিও হাটার পরিমান বেশী হয়ে থাকে, যদি নামাযের জায়গা ভিন্ন না হয়। (যেমন মসজিদের সীমানার বাইরে চলে যওয়া)। কিতাব, আস সালাত, বাব, মাশইউল মুসুল্লি মুস্তাকবিলাল কিবলাতি।
প্রশ্নঃ 39
(তাহিয়্যাতুল মাসজিদ) মসজিদে প্রবেশ করার পর যদি দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মাসজিদ পড়ার প্রয়োজনীয় সময় না পাওয়া যায় তাহলে মুসুল্লি জামাতের অপেক্ষায় দাড়িয়ে থাকবে নাকি বসে থাকবে। বসে থাকা নাকি মাকরুহ। আবার কেউ কেই বলেন, ইমাম সাহেব দাড়ানোর আগে দাড়িয়ে থাকা আদবের খেলাফ। উত্তম পন্থা কোনটি । হাদীসের আলোকে জানতে চাই।
20 Dec 2025
মসজিদে প্রবেশ করে বসার আগে দুই রাকাত নামাজ পড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। আবু কাতাদা রাঃ থেকে বর্ণীত একটি হাদীসে এসেছে, রাসূল সাঃ বলেন:
إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمْ الْمَسْجِدَ فَلَا يَجْلِسْ حَتَّى يُصَلِّيَ رَكْعَتَيْنِ
অর্থঃ তোমাদের কেউ যখনই মসজিদে প্রবেশ করবে সে যেন দুই রাকাত নামাজ পড়া বসে না পড়ে । বুখারী, আস সহীহ, কিতাব, আস সালাত, বাব,ইজা দাখালাল মাসজিদা। উক্ত হাদীসের ভিত্তিতে ইমাম নববী রহঃ বলেন:
أجمع العلماء على استحباب تحية المسجد ، ويكره أن يجلس من غير تحية بلا عذر؛ لحديث أبي قتادة المصرح بالنهي
অর্থঃ এব্যাপারে উলামায়ে কেরাম একমত যে, তাহিয়্যাতুল মসজিদ (মসজিদে ঢুকে দুই রাকাত নামাজ পড়া) মুস্তাহাব এবং কোন কারন ছাড়া নামাজ না পড়ে বসে পড়া মাকরুহ। মাজমু খন্ড ৩, র্পষ্ঠা ৫৫৪। অতএব এ নামাজের ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়া উচিৎ। শুধু নামাজের আগে নয় বরং যখনই আমরা মসজিদে প্রবেশ করব তখনই দুই নামাজ পড়ে বসব । সময় যদি কম থাকে ফরয,ওয়াজীব, সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ঠিক রেখে নামাজ শেষ করব। প্রথম রাকাতে থাকা অবস্থায় ইক্বামত শুরু হয়ে গেলে নামাজ ছেড়ে দিয়ে জামাতে শরীক হবো। সর্বঅবস্থায় হাদীসের অনুস্বরণ করার চেষ্টা করব। তবে যদি একান্তই নামায পড়ার সুযোগ না থাকে তাহলে বসার তুলনায় দাড়িয়ে অপেক্ষা করাই উত্তম। কারন না বসে দাড়িয়ে অপেক্ষা করাটা হাদীসের সাথে বেশি সামঞ্জস্য। এক্ষেত্রে হাদীসের ব্যাক্ষা না করে ফুক্বাহায়ে কেরামের কথার ব্যাক্ষা করে বলব, দাড়িয়ে অনর্থক হাটা চলা করা বা কোন কারন ছাড়া এদিকে সেদিকে তাকিয়ে থাকাকে তাঁরা মাকরুহ বা আদবের খেলাফ বলেছেন। আল্লাহ আমাদেরকে বুঝে শুনে আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
প্রশ্নঃ 38
সললু কামা রয়াইতুমুনি উসলিল এখানে পুরুষ বা মহিলা আলাদা করা হয়নাই কোন জয়ীফ হাদীস দিয়েও পারথাক্য প্রমানিত নেই তাই দলিল সহ জানতে চাই যে মহিলাদের নামাজে কোন পারথাক্য আছে কি হাদীসে নামবার কিতাবের নাম রাবী সহ জানাবেন
20 Dec 2025
প্রশ্নে উল্লেখিত হাদীসে পুরুষ ও মহিলার নামাযের মাঝে পার্থক্য না করা হলেও অন্যান্য অনেক হাদীসে, ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ী গণের কথার আলোকে জানতে পারি যে, কিছু কিছু বিষয়ে পুরুষ এবং মহিলার নাামাযের মাঝে পার্থক্য রয়েছে । নিম্নে কয়েকটি দলীল উল্লেখ করা হল। হাদীসের আলোকেঃ
أخبرناه أبو بكر محمد بن محمد أنبأ أبو الحسين الفسوي ثنا أبو علي اللؤلؤي ثنا أبو داود ثنا سليمان بن داود أنبأ بن وهب أنبأ حيوة بن شريح عن سالم بن غيلان عن يزيد بن أبي حبيب : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم مر على امرأتين تصليان فقال إذا سجدتما فضما بعض اللحم إلى الأرض فإن المرأة ليست في ذلك كالرجل
অর্থঃ (ইমাম বায়হাকী রহঃ ) আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মাদ এর সুত্রে তাবেয়ী য়াযীদ ইবনে আবী হাবীব এর থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নামাযরত দুই মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন । তখন তাদেরকে (সংশোধনের উদ্দেশে) বললেন, যখন সেজদা করবে তখন শরীর যমীনের সাথে মিলিয়ে দিবে । কেননা মহিলারা এ ক্ষেত্রে পুরুষের মত নয়। (সুনানে কুবরা ২ খন্ড, ২২৩ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ৩০১৬। ) প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ আওনুল বারী (১/৫২০) তে লিখেছেন উল্লেখিত হাদীসটি সকল ইমামের উসূল অনুযায়ী দলীল হিসাবে পেশ করার যোগ্য ।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن عَبْدِ اللَّهِ الْحَضْرَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَتْنِي مَيْمُونَةُ بنتُ حُجْرِ بن عَبْدِ الْجَبَّارِ بن وَائِلِ بن حُجْرٍ، قَالَتْ: سَمِعْتُ عَمَّتِي أُمَّ يَحْيَى بنتَ عَبْدِ الْجَبَّارِ بن وَائِلِ بن حُجْرٍ، عَنْ أَبِيهَا عَبْدِ الْجَبَّارِ، عَنْ عَلْقَمَةَ عَمِّهَا، عَنْ وَائِلِ بن حُجْرٍ، قَالَ: جِئْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: فساق الحديث . وفيه : يا وائل بن حجر: إِذَا صَلَّيْتَ فَاجْعَلْ يَدَيْكَ حِذَاءَ أُذُنَيْكَ، وَالْمَرْأَةُ تَجْعَلُ يَدَيْهَا حِذَاءَ ثَدْيَيْهَا.
অর্থঃ হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ) বলেন আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর দরবারে হাজির হলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন হে ওয়াইল ইবনে হাজ্র ! যখন তুমি নামাজ শুরু করবে তখন কান বরাবর হাত উঠাবে । আর মহিলারা হাত উঠাবে বুক বরাবর । (আল মুজামুল কাবীর, তাবারানী ২২/২৭২, হাদীসটি হাসান। ) সাহাবায়ে কেরামের আছারের আলোকে
عن أبي إسحاق عن الحارث عن علي قال : إذا سجدت المرأة فلتحتفز ولتلصق فخذها ببطنها
অর্থঃ হযরত আলী রাঃ বলেন মহিলা যখন সেজদা করবে তখন সে যেন খুব জড়সড় হয়ে সেজদা এবং উভয় উরু পেটের সাথে মিলিয়ে রাখে । মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক ৩/১৩৮ অনুচ্ছেদ মহিলার তাকবীর, কিয়াম, রুকু ও সিজদা । মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ২/৩০৮ তাবেয়ীগণের কথার আলোকেঃ
قال هشيم : أخبرنا شيخ لنا قال :قال سمعت عطاء سئل عن المرأة كيف ترفع يديها في الصلاة ؟قال حذو ثديها
অর্থঃ হযরত আতা ইবনে আবি রাবাহ এর কাছে জানতে চাওয়া হল নামাযে মহিলা কতটুকু হাত উঠাবে? তিনি বললেন বুক বরাবর । মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১/২৭০। মোটকথা, রাসূল সাঃ এর হাদীস, ছাহাবায়ে কেরামের কথা ও তাবেয়ীগণের ফাতাওয়ার আলোকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বুঝা যায়, মহিলাদের নামাজ কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুরুষের নামায থেকে ভিন্ন। আর এই ভিন্নতার ভিত্তি হল মহিলাদের সতর ও পর্দার অধিক সংরক্ষণের বিবেচনা ।
প্রশ্নঃ 37
আস-সালামু আলাইকুম। মুহতারাম, আরশের উপর আল্লাহর সমাসীন হওয়ার বিষয়ে স্পষ্টভাবে জানতে চাই।
20 Dec 2025

ওয়া আলাইকুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে মুবারকবাদ। মহান আল্লাহর বিশেষণ বিষয়ে চার ইমামসহ পূর্ববর্তী ইমামগণের মূলণীতি হলো কুরাআন ও হাদীসে মহান আল্লাহর বিষয়ে যা বলা হয়েছে তা সরল অর্থে বিশ্বাস করা, তুলনা ও ব্যাখ্যা বর্জন করা। বিষয়টি বিস্তারিত জানতে ইমাম আবূ হানীফা (রাহ) রচিত আলি-ফিকহুল আকবার: বঙ্গানুবাদ ও ব্যাখ্যা বইটি পড়তে আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। এখানে মহান আল্লাহর আরশের উপর ইসতিওয়া প্রসঙ্গটি উল্লেখ করছি। কুরআনে সাত স্থানে বলা হয়েছে যে, মহান আল্লাহ আরশের উপর ইসতিওয়া করেছেন।আরবীতে কোনো কিছুর উপর ইসতিওয়া অর্থ তার ঊর্ধ্বে অবস্থান (rise over, mount, settle)। সালাতের নিষিদ্ধ সময় বর্ণনা করে রাসূলুল্লাহ (সা.) একজন প্রশ্নকারীকে বলেন:

حَتَّى تَسْتَوِىَ الشَّمْسُ عَلَى رَأْسِكَ كَالرُّمْحِ ، فَإِذَا اسْتَوَتْ عَلَى رَأْسِكَ كَالرُّمْحِ فَدَعِ الصَّلاَةَ

(সালাত বৈধ থাকবে) যতক্ষণ না সূর্য তোমার মাথার উপরে তীরের মত ইসতিওয়া (ঊর্ধ্বে অবস্থান) করবে। যখন সূর্য তোমার মাথার উপর তীরের মত ইসতিওয়া (ঊর্ধ্বে অবস্থান) করবে তখন সালাত পরিত্যাগ করবে। আমরা ইসতিওয়া-র অনুবাদে উপরে অবস্থান বা অধিষ্ঠান শব্দ ব্যবহার করব, ইনশা আল্লাহ। জাহমী-মুতাযিলীগণ এ বিশেষণ অস্বীকার করেছেন। তারা দাবি করেন, আরশের উপরে অধিষ্ঠান কোনোভাবেই মহান আল্লাহর বিশেষণ হতে পারে না; কারণ মহান আল্লাহর জন্য এভাবে অবস্থান পরিবর্তন বা কোনো কিছুর উপরে স্থিতি গ্রহণের মত মানবীয় কর্ম অশোভনীয় এবং তাঁর অতুলনীয়ত্বের সাথে সাংঘর্ষিক। এছাড়া মহান আল্লাহ বলেছেন যে, তিনি বান্দার সাথে ও নিকটে।কাজেই তিনি আরশের উপর থাকতে পারেন না। বরং তাঁরা দাবি করেন যে, মহান আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান; তাঁকে কোনো স্থান বা দিকে সীমাবদ্ধ করা তাঁর অতুলনীয়ত্বের পরিপন্থী। তারা দাবি করেন, আরশে অধিষ্ঠান গ্রহণের অর্থ আরশের নিয়ন্ত্রণ, দখল বা ক্ষমতা গ্রহণ। সাহাবী, তাবিয়ী ও তাবি-তাবিয়ী ইমামগণ মহান আল্লাহর আরশের উপর অধিষ্ঠান বা ইসতিওয়ার বিশেষণটি সরল অর্থে গ্রহণ করেছেন। দ্বিতীয় হিজরী শতক থেকেই তাবিয়ী ও তাবি-তাবিয়ী ইমামগণ এবং পরবর্তী মুহাদ্দিস ও ফকীহগণ জাহমীগণের এ মত কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং একে কুরআন অস্বীকার বলে গণ্য করেছেন। এ বিষয়ে তাঁরা বলেন: মহান আল্লাহর আরশের উপরে অবস্থান বা আরশের ঊর্ধ্বে থাকার বিশেষণটি কুরআন ও হাদীস দ্বারা দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণিত। তবে এর প্রকৃতি ও স্বরূপ অজ্ঞাত। অজ্ঞাতকে অজ্ঞাত রেখে কুরআনের অন্যান্য বক্তব্যের ন্যায় এ বক্তব্যও স্বীকার ও বিশ্বাস করা মুমিনের জন্য জরুরী। তাঁরা বলেন: মহান আল্লাহ আরশের উপর অধিষ্ঠান গ্রহণ করেন। তাঁর এ অধিষ্ঠান বা অবস্থানের স্বরূপ আমরা জানি না এবং জানতে চেষ্টাও করি না। বরং বিশ্বাস করি যে, তাঁর এ অধিষ্ঠান কোনোভাবেই কোনো সৃষ্টির বিশেষণ বা কর্মের মত নয়। তাঁর অতুলনীয়ত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থান তিনি গ্রহণ করেন। যখন মানুষ কল্পনা করে যে, মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মতই; তিনি একই সাথে আরশের উপরে এবং বান্দার নিকটবর্তী হতে পারেন না- তখনই কুরআনের এ দুটি নির্দেশনার মধ্যে বৈপরীত্য আছে বলে কল্পনা হয়। মূল বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মহান আল্লাহ সৃষ্টির মত নন। কাজেই নৈকট্য ও ঊর্ধ্বত্ব উভয়কে সমানভাবে বিশ্বাস করে এর স্বরূপ ও প্রকৃতি আল্লাহর উপর ন্যস্ত করলে কুরআনের সকল নির্দেশনা বিশ্বাস ও মান্য করা হয়। আর নৈকট্যের অজুহাতে তাঁকে সর্বত্র বিরাজমান বলে দাবি করলে, তিনি কোথায় আছেন তা জানি না বলে দাবি করলে, আরশ কোথায় তা জানি না বলে দাবি করলে বা তাঁর আরশের উপর অধিষ্ঠানের আয়াতগুলো ব্যাখ্যার নামে অস্বীকার করলে কুরআন ও হাদীসের অগণিত বক্তব্য অস্বীকার করা হয়, যা কুফরীর নামান্তর। ইমাম আবূ হানীফা রহিমাহুল্লাহ তাঁর ওসীয়াত গ্রন্থে লিখেছেন:

نُقِرُّ بِأَنَّ اللهَ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَكُوْنَ لَهُ حَاجَةٌ إِلَيْهِ وَاسْتِقْرَارٌ عَلَيْهِ، وَهُوَ الْحَافِظُ لِلْعَرْشِ وَغَيْرِ الْعَرْشِ، فَلَوْ كَانَ مُحْتَاجاً إِلَيْهِ لَمَا قَدِرَ عَلَى إِيْجَادِ الْعَالَمِ وَتَدْبِيْرِهِ كَالْمَخْلُوْقِين، وَلَوْ صَارَ مُحْتَاجاً إِلَى الْجُلُوْسِ وَالْقَرَارِ فَقَبْلَ خَلْقِ الْعَرْشِ أَيْنَ كَانَ اللهُ تَعَالَى؟ فَهُوَ مُنَزَّهٌ عَنْ ذَلِكَ عُلُوًّا كَبِيْراً

আমরা স্বীকার ও বিশ্বাস করি যে, মহান আল্লাহ আরশের উপর অধিষ্ঠান গ্রহণ করেন, আরশের প্রতি তাঁর কোনোরূপ প্রয়োজন ব্যতিরেকে এবং আরশের উপরে স্থিরতা-উপবেশন ব্যতিরেকে। তিনি আরশ ও অন্য সবকিছুর সংরক্ষক। তিনি যদি আরশের মুখাপেক্ষী হতেন তাহলে বিশ্ব সৃষ্টি করতে ও পরিচালনা করতে পারতেন না, বরং তিনি মাখলূকের মত পরমুখাপেক্ষী হতেন। আর যদি তাঁর আরশের উপরে উপবেশন করার প্রয়োজনীয়তা থাকে তবে আরশ সৃষ্টির পূর্বে তিনি কোথায় ছিলেন? কাজেই আল্লাহ এ সকল বিষয় থেকে পবিত্র ও অনেক অনেক ঊর্ধ্বে। ইমাম আযমের এ বক্তব্য উল্লেখ করে মোল্লা আলী কারী হানাফী বলেন: এ বিষয়ে ইমাম মালিক (রাহ) খুবই ভাল কথা বলেছেন। তাঁকে আল্লাহর আরশের উপরে ইসিতিওয়া বা অধিষ্ঠান বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন:

اَلاِسْتِوَاءُ مَعْلُوْمٌ وَالْكَيْفُ مَجْهُوْلٌ وَالسُّؤَالُ عَنْهُ بِدْعَةٌ وَالإِيْمَانُ بِهِ وَاجِبٌ

ইসতিওয়া বা অধিষ্ঠান পরিজ্ঞাত, এর পদ্ধতি বা স্বরূপ অজ্ঞাত, এ বিষয়ে প্রশ্ন করা বিদআত এবং এ বিষয় বিশ্বাস করা জরুরী। ইমাম সায়িদ নাইসাপূরী হানাফী বলেন:

حكي عن أبي حنيفة t في رسالته إلى مقاتل بن سليمان جواب كتابه، في فصل منها: وأما قوله تعالى على العرش استوى حقا، فإنّما ننتهي من ذلك إلى ما وصف كتابُ ربنا في قوله تعالى {ثم استوى على العرش}، وتَعْلَمَنَّ أنه كما قال، ولا ندعي في استوائه على العرش علما، ونزعم أنه قد استوى، ولا يشبه استواؤه باستواء الخلق، فهذا قولنا في الاستواء على العرش

ইমাম আবূ হানীফা থেকে বর্ণিত, তিনি (তাঁর সমসাময়িক দেহে বিশ্বাসী মুফাস্সির) মুকাতিল ইবন সুলাইমান (১৫০ হি)-এর পত্রের উত্তরে লেখা তাঁর পত্রের একটি অনুচ্ছেদে লিখেন: মহান আল্লাহ বলেছেন: তিনি আরশের উপর ইসিতওয়া (অধিষ্ঠান বা অবস্থান) গ্রহণ করেছেন। সত্যই তিনি তা করেছেন। আমাদের রবের কিতাব এ বিষয়ে যা বর্ণনা করেছেন সেখানেই আমরা থেমে যাই। আল্লাহ বলেছেন: অতঃপর তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠান গ্রহণ করলেন। আপনি নিশ্চিত জানুন যে, তিনি যা বলেছেন বিষয়টি তা-ই। আমরা তাঁর অধিষ্ঠান বিষয়ে কোনো জ্ঞানের দাবি করি না। আমরা মনে করি তিনি অধিষ্ঠান গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর অধিষ্ঠান সৃষ্টির অধিষ্ঠানের অনুরূপ বা তুলনীয় নয়। আরশের উপর অধিষ্ঠানের বিষয়ে এটিই আমাদের বক্তব্য। আমরা বলেছি, মহান আল্লাহর আরশের ঊর্ধ্বে থাকা অস্বীকার করার জন্য জাহমী-মুতাযিলীগণ তাঁর নৈকট্য বিষয়ক আয়াতগুলোকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করে দাবি করতেন যে, তিনি আত্মার মত বা বাতাসের মত। আত্মা যেমন দেহের সর্বত্র বিদ্যমান এবং বাতাস যেমন পৃথিবীর সর্বত্র বিদ্যমান তেমনি মহান আল্লাহ সৃষ্টি জগতের সর্বত্র বিরাজমান। এভাবে তাঁরা আল্লাহকে অতুলনীয় বলে প্রমাণ করার দাবিতে তাঁকে আত্মা ও বাতাসের সাথে তুলনা করতেন। উপরন্তু তারা তাঁকে সৃষ্টির অংশ বানিয়ে ফেলেন। বিশ্বজগত সৃষ্টির পূর্বে মহান আল্লাহ তাঁর অনাদি সত্তায় বিদ্যমান ছিলেন। তিনি তাঁর সত্তার বাইরে ও নিম্নে বিশ্বজগত সৃষ্টি করেন। তাঁর সত্তা বিশ্বজগতের সর্বত্র বিরাজমান বলার অর্থ একথা দাবি করা যে, মহান আল্লাহ বিশ্ব জগতকে তাঁর সত্তার অভ্যন্তরে সৃষ্টি করেছেন!! অথবা বিশ্ব জগত সৃষ্টির পরে তিনি এর অভ্যন্তরে সর্বত্র প্রবেশ করেছেন!!! এগুলো সবই মহান আল্লাহর নামে ওহী-বহির্ভুত বানোয়াট অশোভনীয় ধারণা। আল্লাহর সত্তা যেমন সৃষ্টির মত নয়, তেমনি তাঁর বিশেষণাবলিও সৃষ্টির মত নয়। সকল মানবীয় কল্পনার ঊর্ধ্বে তাঁর সত্তা ও বিশেষণ। কাজেই মহান আল্লাহর আরশের উপরে অধিষ্ঠান এবং বান্দার নৈকট্য উভয়ই সত্য এবং মুমিন উভয়ই বিশ্বাস করেন। উভয়ের মধ্যে বৈপরীত্য কল্পনা করা মানবীয় সীমাবদ্ধতার ফসল। তদুপরি জাহমীদের এ বিভ্রান্তি দূর করতে ইমামগণ বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। এ প্রসঙ্গে ইমাম মালিক বলেন:

الله في السماء وعلمه في كل مكان لا يخلو من علمه مكان

আল্লাহ আসমানে (ঊর্ধ্বে) এবং তাঁর জ্ঞান সকল স্থানে। কোনো স্থানই মহান আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে নয়। ইমাম আযম আবূ হানীফা থেকেও অনুরূপ বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন ইমাম বাইহাকী।এ প্রসঙ্গে পঞ্চম হিজরী শতকের প্রসিদ্ধ মালিকী ফকীহ ও মুহাদ্দিস ইবন আব্দুল র্বার ইউসুফ ইবন আব্দুল্লাহ (৪৬৩ হি) বলেন:

علماء الصحابة والتابعين الذين حملت عنهم التآويل في القرآن قالوا في تأويل هذه الآية هو على العرش وعلمه في كل مكان وما خالفهم في ذلك أحد يحتج بقوله

সাহাবী-তাবিয়ী আলিমগণ, যাদের থেকে কুরআনের ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হয়েছে, তারা এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, তিনি আরশের উপরে এবং তাঁর জ্ঞান সর্বত্র। দলিল হিসেবে গ্রহণ করার মত একজন আলিমও তাঁদের এ মতের বিরোধিতা করেন নি। ইমামদ্বয়ের বক্তব্য থেকে সুস্পষ্ট যে, ইসতিওয়া শব্দটিকে তাঁরা সাধারণ আরবী অর্থেই গ্রহণ করেছেন। মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে এ শব্দটির অর্থ অস্পষ্ট, দ্ব্যর্থবোধক, মুতাশাবিহ, রূপক বা অজ্ঞাত বলে দাবি করেন নি। বরং তাঁরা বলেছেন যে, এ শব্দটির অর্থ জ্ঞাত বিষয়, এর মধ্যে কোনো অস্পষ্টতা, রূপকতা বা দ্ব্যর্থতা নেই। অর্থাৎ আরবী ভাষায় অন্যন্য সকল ক্ষেত্রে ইসতিওয়া আলা বলতে যা বুঝানো হয় এখানেও সেই অর্থই গ্রহণ করতে হবে, অর্থাৎ ঊর্ধ্বত্ব। এখানে অর্থটি রূপক বা অজ্ঞাত বলে দাবি করার সুযোগ নেই। তবে ইসতিওয়ার স্বরূপ বা ব্যাখ্যা অজ্ঞাত (মুতাশাবিহ)। এ অজ্ঞাত বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়ে জ্ঞাত বিষয়কে বিশ্বাস করাই মুমিনের দায়িত্ব। কুরআন কয়েকটি বিষয় আমাদেরকে জানায়: (১) মহান আল্লাহ অনাদি অনন্ত, কোনো কিছুর মুখাপেক্ষী নন এবং সবই তাঁর মুখাপেক্ষী, (২) মহান আল্লাহ কোনো সৃষ্টির সাথে তুলনীয় নন, (৩) মহান আল্লাহ সৃষ্টির এক পর্যায়ে আরশ সৃষ্টি করেন এবং আরশের উপর অধিষ্ঠান গ্রহণ করেন এবং (৪) মহান আল্লাহ তাঁর বান্দার নিকটবর্তী। সাহাবীগণ বিষয়গুলো সবই সরল অর্থে বিশ্বাস করেছেন এবং এ বিষয়ে কোনো বৈপরীত্য অনুভব করেন নি। কারণ আল্লাহর অমুখাপেক্ষী হওয়া, অতুলনীয় হওয়া, নিকটবর্তী হওয়া এবং আরশের উপর অধিষ্ঠিত হওয়া কোনোটিই মানবীয় বুদ্ধির সাথে সাংঘর্ষিক নয় বা অসম্ভব নয়। কাজেই ওহীর মাধ্যমে যা আল্লাহ জানিয়েছেন তা নিয়ে বিতর্ক করা বিভ্রান্তি বৈ কিছুই নয়। সমস্যার শুরু হয় যখন মানুষ এগুলোর গভীর স্বরূপ সন্ধানে ব্যস্ত হয়। আল্লাহ যদি অমুক্ষাপেক্ষী হন তাহলে আরশের ঊর্ধ্বে অধিষ্ঠানের দরকার কি? আরশের ঊর্ধ্বে অধিষ্ঠান গ্রহণ না করলে এ কথা বারবার বলার দরকার কী? অধিষ্ঠান অর্থ যদি ক্ষমতা গ্রহণ হয় তবে কাকে হটিয়ে তিনি ক্ষমতা দখল করলেন? শুধু আরশের ক্ষমতা গ্রহণের অর্থ কী? এরূপ জিজ্ঞাসা মানুষকে বিভ্রান্ত করে। এসবের সহজ সমাধান ওহীর সবগুলো বিষয় সরলভাবে বিশ্বাস করা। মহান আল্লাহ বলেছেন তিনি অমুক্ষাপেক্ষী ও অতুলনীয় এবং তিনিই বলেছেন তিনি আরশের ঊর্ধ্বে অধিষ্ঠান করেছেন। এ থেকে আমরা বুঝি যে, কোনোরূপ মুখাপেক্ষিতা বা প্রয়োজন ছাড়াই আল্লাহ তা করেছেন এবং তাঁর এ বিশেষণ কোনোভাবেই কোনো সৃষ্টির সাথে তুলনীয় নয়। তবে কেন করেছেন, কিভাবে করেছেন বা এর স্বরূপ কী তা তিনি আমাদের বলেন নি। এগুলি নিয়ে প্রশ্ন করা বা উত্তরের সন্ধান করা দীনের মধ্যে নব-উদ্ভাবন বা বিদআত। কারণ সাহাবীগণ কখনো এরূপ প্রশ্ন বা উত্তর সন্ধান করেন নি। ইমাম আবূ হানীফা উল্লেখ করেছেন যে, মানবীয় সহজাত প্রকৃতিই মহান আল্লাহর ঊর্ধ্বত্ব প্রমাণ করে। মানুষ প্রকৃতিগতভাবে আল্লাহকে ডাকতে ঊর্ধ্বমুখি হয়। এছাড়া হাদীসে এ ঊর্ধ্বত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন:

مَنْ قَالَ لاَ أَعْرِفُ رَبِّيْ فِيْ السَّمَاءِ أَوْ فِيْ الأَرْضِ فَقَدْ كَفَرَ وَكَذَا مَنْ قَالَ إَنَّهُ عَلَى الْعَرْشِ وَلاَ أَدْرِيْ الْعَرْشَ أَفِيْ السَّمَاءِ أَوْ فِيْ الأَرْضِ لأَنَّ اللهَ يَقُوْلُ: الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى وَاللهُ تَعَالَى يُدْعَى مِنْ أَعْلَى لاَ مِنْ أَسْفَلَ لَيْسَ مِنْ وَصْفِ الرُّبُوْبِيَّةِ وَالأُلُوْهِيَّةِ فِيْ شَيْءٍ وَعَلَيْهِ مَا رُوِىَ فِيْ الْحَدِيْثِ أَنَّ رَجُلاً أَتَى إِلَى النَّبِيِّ r بِأَمَةٍ سَوْدَاءَ فَقَالَ: وَجَبَ عَلَيَّ عِتْقُ رَقَبَةٍ، أَفَتُجْزِئُ هَذِهِ؟ فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ r: أَمُؤْمِنَةٌ أَنْتِ؟ فَقَالَتْ: نَعَمْ. فَقَالَ: أَيْنَ اللهُ فَأَشَارَتْ إِلَى السَّمَاءِ. فَقَالَ: اعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ.

যদি কেউ বলে যে, আমার রব্ব আকাশে না পৃথিবীতে তা আমি জানি না তবে সে কাফির হয়ে যাবে। যদি কেউ বলে যে, তিনি আরশের উপরে, কিন্তু আরশ কোথায়- আসমানে না যমিনে- তা আমি জানি না তবে সেও অনুরূপ। কারণ আল্লাহ বলেছেন: দয়াময় আল্লাহ আরশের উপরে সমাসীন। মহান আল্লাহকে ডাকতে হয় ঊর্ধে, নিম্নে নয়। নিম্নে থাকা রুবূবিয়্যাত বা উলূহিয়্যাতের কোনো বিশেষত্ব নয়। আর এ অর্থেই হাদীসে বর্ণিত হয়েছে : এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট একটি কাফ্রী দাসীকে নিয়ে আগমন করে বলে যে, তাকে একটি দাস মুক্ত করতে হবে। এ দাসীকে মুক্ত করলে কি তার দায়িত্ব পালন হবে? তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) উক্ত দাসীকে বলেন, তুমি কি ঈমানদার? সে বলে: হ্যাঁ। তিনি বলেন: আল্লাহ কোথায়? সে আসমানের দিকে ইশারা করে। তখন তিনি বলেন: একে মুক্ত করে দাও, এ নারী ঈমানদার। আকীদা তাহাবিয়ার ব্যাখ্যায় ইবন আবীল ইজ্জ হানাফী বলেন: শাইখুল ইসলাম আবূ ইসমাঈল আনসারী (৪৮১ হি) তাঁর আল-ফারূক গ্রন্থে আবূ মুতী বালখী পর্যন্ত সনদে উদ্ধৃত করেছেন, আবূ মুতী বলেন, আবূ হানীফাকে (রাহ) প্রশ্ন করলাম: যে ব্যক্তি বলে, আমার রব্ব আসমানে না যমীনে তা আমি জানি না, তার বিষয়ে আপনার মত কি? তিনি বলেন: এ ব্যক্তি কাফির। কারণ আল্লাহ বলেছেন: দয়াময় আল্লাহ আরশের উপরে সমাসীন, আর তাঁর আরশ সপ্ত আসমানের উপরে। আমি (আবু মুতী) বললাম: যদি সে বলে, তিনি আরশের উপরে, কিন্তু সে বলে: আরশ কি আসমানে না যমীনে তা আমি জানি না, তাহলে কি হবে? তিনি (আবূ হানীফা) বলেন: তাহলেও সে কাফির। কারণ সে তাঁর আসমানে বা ঊর্ধে হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে, আর যে ব্যক্তি তাঁর ঊর্ধ্বত্ব অস্বীকার করবে সে কাফির। ... ইসতিওয়া ও অন্যান্য বিশেষণ বিষয়ে ইমাম আহমদ ইবন হাম্বালের মূলনীতি ও আকীদা ব্যাখ্যা করে আবূ বাকর খাল্লাল আহমদ ইবন মুহাম্মাদ (৩১১ হি) বলেন:

وكان يقول إن الله عز وجل مستو على العرش المجيد ... وكان يقول في معنى الاستواء هو العلو والارتفاع ولم يزل الله تعالى عاليا رفيعا قبل أن يخلق عرشه فهو فوق كل شيء والعالي على كل شيء وإنما خص الله العرش لمعنى فيه مخالف لسائر الأشياء والعرش أفضل الأشياء وأرفعها فامتدح الله نفسه بأنه على العرش أستوى أي عليه علا ولا يجوز أن يقال أستوى بمماسة ولا بملاقاة تعالى الله عن ذلك علوا كبيرا والله تعالى لم يلحقه تغير ولا تبدل ولا تلحقه الحدود قبل خلق العرش ولا بعد خلق العرش. وكان ينكر على من يقول إن الله في كل مكان بذاته لأن الأمكنة كلها محدودة وحكي عن عبد الرحمن بن مهدي عن مالك أن الله تعالى مستو على عرشه المجيد كما أخبر وأن علمه في كل مكان ولا يخلوا شيء من علمه وعظم عليه الكلام في هذا واستبشعه

ইমাম আহমদ বলতেন, মহান আল্লাহ আরশের উপর অধিষ্ঠিত। ... অধিষ্ঠিত হওয়ার অর্থ তিনি এর ঊর্ধ্বে। মহান আল্লাহ আরশ সৃষ্টির পূর্ব থেকেই সবকিছুর ঊর্ধ্বে। তিনি সকল কিছুর ঊর্ধ্বে এবং সকল কিছুর উপরে। এখানে আরশকে উল্লেখ করার কারণ আরশের মধ্যে এমন বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অন্য কোনো কিছুর মধ্যে নেই। তা হলো আরশ সবচেয়ে মর্যাদাময় সৃষ্টি এবং সব কিছুর ঊর্ধ্বে। মহান আল্লাহ নিজের প্রশংসা করে বলেছেন যে, তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠিত, অর্থাৎ তিনি আরশের ঊর্ধ্বে। আরশের উপরে অধিষ্ঠানের অর্থ আরশ স্পর্শ করে অবস্থান করা নয়। মহান আল্লাহ এরূপ ধারণার অনেক ঊর্ধ্বে। আরশ সৃষ্টির পূর্বে এবং আরশ সৃষ্টির পরে মহান আল্লাহ একই অবস্থায় রয়েছেন; কোনোরূপ পরিবর্তন তাঁকে স্পর্শ করে নি, কোনো গণ্ডি বা সীমা তাঁকে সীমায়িত করতে পারে না। যারা বলেন যে, মহান আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান তাদের কথা তিনি অস্বীকার ও প্রতিবাদ করতেন। কারণ সকল স্থানই গণ্ডি বা সীমায় আবদ্ধ। তিনি আব্দুর রাহমান ইবন মাহদী থেকে, তিনি ইমাম মালিক থেকে উদ্ধৃত করতেন: মহান আল্লাহ মহা-পবিত্র আরশের ঊর্ধ্বে সমাসীন এবং তাঁর জ্ঞান-ইলম সর্বত্র বিদ্যমান। কোনো স্থানই তাঁর জ্ঞানের আওতার বাইরে নয়। আল্লাহর সর্বত্র বিরাজমান কথাটি ইমাম আহমদ ঘৃণ্য বলে গণ্য করতেন। ইমাম তাহাবী (রাহ) বলেন:

وَتَعَالَى عَنِ الْحُدُودِ وَالْغَايَاتِ، وَالأَرْكَانِ وَالأَعْضَاءِ وَالأَدَوَاتِ، لا تَحْوِيهِ الْجِهَاتُ السِّتُّ كَسَائِرِ الْمُبْتَدَعَاتِ. .... وَالْعَرْشُ وَالْكُرْسِيُّ حَقٌّ، وَهُوَ مُسْتَغْنٍ عَنِ الْعَرْشِ وَمَا دُونَهُ، مُحِيطٌ بِكُلِّ شَيْءٍ وَفَوْقَهُ

আল্লাহ্ তাআলা সীমা-পরিধি, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও উপাদান-উপকরণের বহু ঊর্ধ্বে। যাবতীয় উদ্ভাবিত সৃষ্ট বস্তুর ন্যায় তাঁকে ষষ্ঠ দিক পরিবেষ্টন করতে পারে না। আল্লাহর আরশ ও কুরসী (আসন) সত্য। আরশ ও তার নীচে যা কিছু বিদ্যমান সব কিছু থেকে তিনি অমুখাপেক্ষী। তিনি সকল কিছুকে পরিবেষ্টনকারী এবং সকল কিছুর ঊর্ধ্বে। অর্থাৎ তিনি তাঁর সৃষ্ট দিক, স্থান ও সীমার ঊর্ধ্বে। তবে সৃষ্টির সীমা যেখানে শেষ তার ঊর্ধ্বে তাঁর মহান আরশ। আরশ সকল সৃষ্টিকে পরিবেষ্টন করে বিদ্যমান। তিনি তারও ঊর্ধ্বে। কাজেই তিনি সকল কিছুর ঊর্ধ্বে এবং সকল কিছুকে পরিবেষ্টনকারী। শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলবী বলেন:

وهو فوق العرش كما وصف نفسه، لكن لا بمعنى التحيز ولا الجهة، بل لا يعلم كنه هذا التفوق والاستواء إلا هو...

তিনি আরশের ঊর্ধ্বে, যেভাবে তিনি নিজের বিষয়ে বলেছেন। এর অর্থ কোনো দিক বা স্থানে সীমাবদ্ধ হওয়া নয়। বরং এ ঊর্ধ্বত্বের এবং অধিষ্ঠানের প্রকৃতি তিনি ছাড়া কেউ জানে না...। বস্তুত চার ইমামসহ সালাফ সালিহীন বা ইসলামের প্রথম চার প্রজন্মের সকল বুজুর্গ একই আকীদা অনুসরণ করতেন। তাঁরা সকলেই কুরআন ও সহীহ হাদীসে বর্ণিত বিশেষণগুলোকে সরল অর্থে বিশ্বাস করতে এবং ব্যাখ্যা ও তুলনা বর্জন করতে নির্দেশ দিতেন। এ প্রসঙ্গে ইমাম বুখারী প্রথম হিজরী শতকের দুজন প্রসিদ্ধ তাবিয়ীর মত উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেন:

قال أبو العالية (استوى إلى السماء) ارتفع.. وقال مجاهد (استوى) علا (على العرش)

(প্রসিদ্ধ তাবিয়ী মুহাদ্দিস ও ফকীহ রুফাই ইবন মিহরান) আবুল আলিয়া (৯০ হি) বলেন: আসমানের প্রতি ইসতিওয়া করেছেন অর্থ: আসমানের উপরে থেকেছেন। (অন্য প্রসিদ্ধ তাবিয়ী মুফাস্সির ও ফকীহ ইমাম) মুজাহিদ (১০৪ হি) বলেন: আরশের উপর ইসতিওয়া করেছেন অর্থ আরশের ঊর্ধ্বে থেকেছেন। ইমাম আবূ হানীফার সমসাময়িক প্রসিদ্ধ তাবি-তাবিয়ী মুহাদ্দিস ও মুজতাহিদ ফকীহ ইমাম আওযায়ী আব্দুর রাহমান ইবন আমর (১৫৭ হি) বলেন:

كنا والتابعون متوافرون نقول إن الله على عرشه ونؤمن بما وردت به السنة من صفاته

যে সময়ে তাবিয়ীগণ বহু সংখ্যায় বিদ্যমান ছিলেন সে সময়ে আমরা বলতাম: মহান আল্লাহ তাঁর আরশের উপরে এবং সুন্নাতে (হাদীসে) মহান আল্লাহর যা কিছু বিশেষণ বর্ণিত হয়েছে তা আমার বিশ্বাস করি। মহান আল্লাহর বিশেষণ ব্যাখ্যায় কিছু বলার অর্থ মহান আল্লাহ সম্পর্কে মানবীয় যুক্তি, বুদ্ধি বা ইজতিহাদ দিয়ে কিছু বলা। আর মহান আল্লাহর বিষয়ে ইজতিহাদ করে কিছু বলা যাবে না। এজন্য ইমাম আবূ হানীফা (রাহ) বলেন:

لا ينبغي لأحد أن ينطق في الله تعالى بشئ من ذاته، ولكن يصفه بما وصف سبحانه به نفسه، ولا يقول فيه برأيه شيئاً تبارك الله تعالى رب العالمين

মহান আল্লাহর বিষয়ে নিজের পক্ষ থেকে কিছু বলা কারো জন্য বৈধ নয়; বরং তিনি নিজের জন্য যে বিশেষণ ব্যবহার করেছেন তাঁর বিষয়ে শুধু সে বিশেষণই ব্যবহার করতে হবে। এ বিষয়ে নিজের মত, যুক্তি বা ইজতিহাদ দিয়ে কিছুই বলা যাবে না। মহাপবিত্র, মহাসম্মানিত-মহাকল্যাণময় আল্লাহ বিশ্বজগতের প্রতিপালক। ইমাম শাফিয়ীর ছাত্র আবূ সাওর বলেন, ইমাম শাফিয়ী বলেন:

القول في السُّنّة التي وردت وأنا عليها، ورأيتُ أصحابنا عليها أهل الحديث الذين رأيتُهم وأخذتُ عنهم ـ مثل: سفيان الثّوريّ ومالك وغيرهما ـ : الإقرار بشهادة أن لا إله إلا الله وأنّ محمّدًا رسول الله، وأنّ الله ـ تعالى ـ على عرشه في سمائه، يقرب من خلقه كيف شاء، وأنّ الله تعالى ينزل إلى السّماء الدُّنيا كيف شاء

সুফিয়ান সাওরী, মালিক ও অন্যান্য যে সকল মুহাদ্দিসকে আমরা দেখেছি এবং তাঁদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছি, আমাদের সে সব সাথী এবং আমি যে সুন্নাত আকীদার উপর রয়েছি তা হলো এরূপ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবূদ নেই, এবং মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর রাসূল, এবং মহান আল্লাহ তাঁর আরশের উপরে তাঁর আসমানের ঊর্ধ্বে, তিনি যেভাবে ইচ্ছা করেন সেভাবে বান্দার নিকটবর্তী হন এবং তিনি যেভাবে ইচ্ছা করেন সেভাবে প্রথম আসমানে অবতরণ করেন। মহান আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান এরূপ বিশ্বাসকে ইমামগণ অত্যন্ত ঘৃণা করতেন। এ মতকে তারা সর্বেশ্বরবাদ বা সর্বজীবে ঈশ্বর মতবাদ বলে গণ্য করতেন। বাশ্শার ইবন মূসা খাফ্ফাফ বলেন:

جاء بشر بن الوليد الكندي إلى القاضي أبي يوسف فقال له تنهاني عن الكلام وبشر المريسي وعلي الأحول وفلان يتكلمون قال وما يقولون قال يقولون الله في كل مكان فقال أبو يوسف علي بهم فانتهوا إليهم وقد قام بشر فجيء بعلي الأحول وبالآخر شيخ فقال أبو يوسف ونظر إلى الشيخ لو أن فيك موضع أدب لأوجعتك فأمر به إلى الحبس وضرب الأحول وطوف به

বিশর ইবন ওলীদ কিন্দী কাযী আবূ ইউসুফের নিকট আগমন করে বলেন: আপনি তো আমাকে ইলমুল কালাম থেকে নিষেধ করেন, কিন্তু বিশর আল-মারীসী, আলী আল-আহওয়াল এবং অমুক ব্যক্তি কালাম নিয়ে আলোচনা করছে। আবূ ইউসুফ বলেন: তারা কী বলছে? তিনি বলেন: তারা বলছে যে, আল্লাহ সকল স্থানে বিরাজমান। তখন আবূ ইউসুফ বলেন: তাদেরকে ধরে আমার কাছে নিয়ে এস। তখন তারা তাদের নিকট গমন করে। ইত্যবসরে বিশর আল-মারীসী উক্ত স্থান পরিত্যাগ করেছিলেন। এজন্য আলী আহওয়াল এবং অন্য একজন বৃদ্ধ ব্যক্তিকে ধরে আনা হয়। আবূ ইউসুফ বৃদ্ধ ব্যক্তিটির দিকে দৃষ্টিপাত করে বলেন: আপনার দেহে শাস্তি দেওয়ার মত স্থান থাকলে আমি আপনাকে বেত্রাঘাতের নির্দেশ দিতাম। তিনি উক্ত বৃদ্ধকে কারারুদ্ধ করার নির্দেশ দেন এবং আলী আহওয়ালকে বেত্রাঘাত করা হয় এবং রাস্তায় ঘুরানো হয়। এ বিষয়ে উদ্ধৃতিগুলোর তথ্যসূত্র জানতে ও বিস্তারিত আলোচনা পড়তে আবারো আপপনকে ইমাম আবূ হানীফা (রাহ) রচিত আলি-ফিকহুল আকবার: বঙ্গানুবাদ ও ব্যাখ্যা বইটি পড়তে আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।

প্রশ্নঃ 36
জীবিত ব্যাক্তির অসীলা দিয়ে দোআ করা যাবে কি না?
20 Dec 2025
গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে শুকরান, মুবারকবাদ। নিম্নে আপনার প্রশ্নের উত্তর সহ আরেকটু বিস্তারিত দেওয়ার প্রয়াস পাচ্ছি। বিষয়টি সহজে বুঝতে প্রথমে কয়েকটি ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার সময় কোনো কিছুর দোহাই বা বা ওসীলা দেওয়া কয়েকভাবে হতে পারে: ১) মহান আল্লাহর পবিত্র নাম ও গুণাবলির দোহাই দেওয়া। ২) নিজের কোনো ভাল কর্মের দোহাই দেওয়া। ৩) কারো দুআর দোহাই দেওয়া। ৪) কারো ব্যক্তিগত মর্যাদা বা অধিকারের দোহাই দেওয়া। প্রথমত: মহান আল্লাহর পবিত্র নাম ও গুণাবলির দোহাই দেওয়া যেমন বলা যে, হে আল্লাহ, আপনার রহমান নামের গুণে, বা গাফ্ফার নামের ওসীলায় আমার দুআ কবুল করুন। এরূপ দোহাই দেওয়া কুরআন- হাদীসের নির্দেশ এবং দুআ কবুল হওয়ার কারণ। দিত্বীয়তঃ নিজের কোনো ভাল কর্মের দোহাই বা ওসীলা দিয়ে আল্লাহর কাছে দুআ করা। নিজের কোনো ভাল কর্মের দোহাই বা ওসীলা দিয়ে আল্লাহর কাছে দুআ করলে কবুল হয় বলে হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, অতীত যুগের তিনজন মানুষ বিজন পথে চলতে চলতে বৃষ্টির কারণে এক পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় গ্রহণ করে। প্রবল বর্ষণে একটি বিশাল পাথর গড়িয়ে পড়ে তাদের গুহার মুখ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে গুহাটি তাদের জীবন্ত কবরে পরিণত হয়। এ ভয়ানক বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য তারা দুআ করতে মনস্থ করেন। এবং আল্লাহ তাদের দোয়া কবুল করেন এবং পাথরটি সরে যায়। অনুরূপভাবে নিজের ঈমান, মহব্বত ইত্যাদির ওসীলা দিয়ে দুআ চাওয়াও এ প্রকারের ওসীলার অন্তর্ভক্ত । বুরাইদাহ আসলামী (রা) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সা.-এর সাথে মসজিদে প্রবেশ করে দেখেন এক ব্যক্তি সালাতরত অবস্থায় দুআ করছে হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি, এ ওসীলায় (এদ্বারা) যে, আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি, আপনিই আল্লাহ, আপনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। আপনিই একক, অমুখাপেক্ষী, যিনি জন্মদান করেননি ও জন্মগ্রহণ করেননি এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :যার হাতে আমার জীবন তাঁর শপথ করে বলছি, নিশ্চয় এই ব্যক্তি আল্লাহর কাছে তাঁর ইসমু আযম ধরে প্রার্থনা করেছে, যে নাম ধরে ডাকলে তিনি সাড়া দেন এবং যে নাম ধরে চাইলে তিনি প্রদান করেন। তিরমিযী, আস-সুনান ৫/৫১৫; আবূ দাউদ, হাকিম ও অন্যান্য মুহাদ্দিস হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। এখানে আমরা দেখছি যে, ঈমান ও শাহাদতের ওসীলা দিয়ে দুআ চাওয়া হয়েছে। বিভিন্নভাবে এরূপ দুআ করা যায়, যেমন: হে আল্লাহ, আমি গোনাহগার, আমি অমুক কর্মটি আপনার সন্তুষ্টির জন্য করেছিলাম, সেই ওসীলায় আমার প্রার্থনা কবুল করুন। তৃতীয়ত: কারো দুআর দোহাই দেওয়া। কারো দুআর ওসীলা দেওয়ার অর্থ এ কথা বলা যে, হে আল্লাহ, অমুক আমার জন্য দুআ করেছেন, আপনি আমার বিষয়ে তাঁর দুআ কবুল করে আমার হাজত পূরণ করে দিন। নেককার মুত্তাকী মুমিনদের নিকট দুআ চাওয়া সুন্নাত সম্মত রীতি। এবং হাদীস দ্বারা প্রমাণীত। হাদীসে আনাস ইবনু মালিক (রা) বলেন:
إِنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ t كَانَ إِذَا قَحَطُوا اسْتَسْقَى بِالْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَقَالَ اللَّهُمَّ إِنَّا كُنَّا نَتَوَسَّلُ إِلَيْكَ بِنَبِيِّنك r فَتَسْقِينَا وَإِنَّا نَتَوَسَّلُ إِلَيْكَ بِعَمِّ نَبِيِّنَا فَاسْقِنَا قَالَ فَيُسْقَوْنَ
উমার (রা) যখন অনাবৃষ্টিতে আক্রান্ত হতেন তখন আব্বাস ইবনু আব্দুল মুত্তালিবকে (রা) দিয়ে বৃষ্টির দুআ করাতেন, অতঃপর বলতেন: হে আল্লাহ আমরা আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওসীলায় আপনার নিকট প্রার্থনা করতাম ফলে আপনি আমাদের বৃষ্টি দান করতেন। এখন আমরা আপনার নিকট প্রার্থনা করছি আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চাচার ওসীলায়, অতএব আপনি আমাদেরকে বৃষ্টি দান করুন। আনাস (রা) বলেন, তখন বৃষ্টিপাত হতো। বুখারী, আস-সহীহ ১/৩৪২, ৩/১৩৬০। আব্বাস (রা) নিম্নের বাক্যগুলি বলে দুআ করলে আল্লাহ বৃষ্টি দিতেন:
اللهم إنه لم ينزل بلاء إلا بذنب ولم يكشف إلا بتوبة وقد توجه القوم بي إليك لمكانى من نبيك وهذه أيدينا إليك بالذنوب ونواصينا إليك بالتوبة فاسقنا الغيث
হে আল্লাহ, পাপের কারণ ছাড়া বালা-মুসিবত নাযিল হয় না এবং তাওবা ছাড়া তা অপসারিত হয় না। আপনার নবীর সাথে আমার সম্পর্কের কারণে মানুষেরা আমার মাধ্যমে আপনার দিকে মুখ ফিরিয়েছে। এ আমাদের পাপময় হাতগুলি আপনার দিকে প্রসারিত এবং আমাদের ললাটগুলি তাওবায় আপনার নিকট সমর্পিত, অতএব আপনি আমাদেরকে বৃষ্টি দান করুন। ইবনু হাজার, ফাতহুল বারী, ২/৪৯৭। এ হাদীসেও স্পষ্ট যে, আব্বাস (রা) বৃষ্টির জন্য দুআ করেছেন উমার (রা) আব্বাসের (রা) দুআর ওসীলা দিয়ে দুআ করেছেন। তাঁর কথা থেকে বুঝা যায় যে, যতদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবিত ছিলেন, ততদিন খরা বা অনাবৃষ্টি হলে তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে দুআ চাইতেন এবং সে দুআর ওসীলায় আল্লাহ তাদের বৃষ্টি দান করতেন। তাঁর ওফাতের পরে যেহেতু আর তাঁর কাছে দুআ চাওয়া যাচ্ছে না, সেহেতু তাঁর চাচা আব্বাসের (রা) কাছে দুআ চাচ্ছেন এবং দুআর ওসীলা দিয়ে আল্লাহর কাছে বৃষ্টি প্রার্থনা করছেন। চতুর্থত: কোনো ব্যক্তি তাঁর মর্যাদা বা অধিকারের দোহাই দেওয়া। আল্লাহর কাছে দুআ করার ক্ষেত্রে ওসীলা বা দোহাই দেওয়ার চতুর্ত পর্যায় হলো, কোনো ব্যক্তির, বা তাঁর মর্যাদার বা তাঁর অধিকারের দোহাই দেওয়া। যেমন জীবিত বা মৃত কোনো নবী-ওলীর নাম উল্লেখ করে বলা: হে আল্লাহ অমুকের ওসীলায়, বা অমুকের মর্যাদার ওসীলায় বা অমুকের অধিকারের অসীলায় আমার দুআ কবুল করুন। এরূপ দুআ করার বৈধতার বিষয়ে আলিমদের মধ্যে ব্যাপক মতভেদ রয়েছে। অনেক আলিম এরূপ দুআ করা বৈধ বলেছেন। তাদের বর্ণনার সার-সংক্ষেপ যে, খলীফা হযরর উসমান (রা)-এর সময়ে এক ব্যক্তি তাঁর দরবারে একটি প্রয়োজনে যায়। কিন্তু খলীফা তার প্রতি দষ্টিৃপাত করেন না। লোকটি উসমান ইবনু হানীফের (রা) নিকট গমন করে তাকে খলীফা উসমানের নিকট তার জন্য সুপারিশ করতে অনুরোধ করে। তখন উসমান ইবনু হানীফ লোকটিকে একটি দোয়া শিখিয়ে দেন, যা রাসূল সাঃ এর এক অন্ধ ছাহাবী অন্ধত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য রাসূল সাঃ এর কাছে দোয়া চাইলে তিনি তাকে শিখিয়ে দিয়েছিলেন। লোকটি এভাবে দুআ করার পরে খলীফা উসমান (রা) তার প্রয়োজন মিটিয়ে দেন। দোয়াটি নিম্নরূপঃ
أَنَّ رَجُلا ضَرِيرَ الْبَصَرِ أَتَى النَّبِيَّ r فَقَالَ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يُعَافِيَنِي قَالَ إِنْ شِئْتَ دَعَوْتُ وَإِنْ شِئْتَ صَبَرْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ قَالَ فَادْعُهْ قَالَ فَأَمَرَهُ أَنْ يَتَوَضَّأَ فَيُحْسِنَ وُضُوءَهُ (فيحسن ركعتين) وَيَدْعُوَ بِهَذَا الدُّعَاءِ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ وَأَتَوَجَّهُ إِلَيْكَ بِنَبِيِّكَ مُحَمَّدٍ r نَبِيِّ الرَّحْمَةِ، (يا محمد) إِنِّي تَوَجَّهْتُ بِكَ إِلَى رَبِّي فِي حَاجَتِي هَذِهِ لِتُقْضَى لِيَ (يا محمد إني أَتَوَجَّهُ بِكَ إلى اللهِ أَنْ يَقْضِيَ حَاجَتِيْ) (فَيُجْلِيْ لِيْ عَنْ بَصَرِي) اللَّهُمَّ فَشَفِّعْهُ فِيَّ (وشَفِّعْنِي فِيْهِ) (اللهم شَفِّعْهُ فِيَّ وَشَفِّعْنِيْ فِيْ نَفْسِيْ)
একজন অন্ধ ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আগমনে করে বলে, আমার জন্য দুআ করুন, যেন আল্লাহ আমাকে সুস্থতা দান করেন। তিনি বলেন: তুমি যদি চাও আমি দুআ করব, আর যদি চাও তবে সবর কর, সেটাই তোমার জন্য উত্তম। লোকটি বলে: আপনি দুআ করুন। তখন তিনি তাকে নির্দেশ দেন, সে যেন সুন্দর করে ওযূ করে (অন্য বর্ণনায়: এবং দু রাকাত সালাত আদায় করে) এবং এই দুআ করে: হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি এবং আপনার দিকে মুখ ফিরাচ্ছি (মনোনিবেশ করছি) আপনার নবী মুহাম্মাদের দ্বারা, যিনি রহমতের নবী, হে মুহাম্মাদ, আমি মুখ ফিরাচ্ছি (মনোনিবেশ করছি) আপনার দ্বারা আমার প্রতিপালকের দিকে আমার এ প্রয়োজনটির বিষয়ে, যেন তা মেটানো হয়। (অন্য বর্ণনায়: যেন তিনি তা মিটিয়ে দেন, যেন তিনি আমার দৃষ্টি প্রদান করেন। ) হে আল্লাহ আপনি আমার বিষয়ে তার সুপারিশ কবুল করুন (অন্য বর্ণনায়: আমার বিষয়ে তাঁর সুপারিশ কবুল করুন এবং তাঁর জন্য আমার সুপারিশ কবুল করুন। অন্য বর্ণনায়: আমার বিষয়ে তাঁর সুপারিশ কবুল করুন এবং আমার বিষয়ে আমার নিজের সুপারিশও কবুল করুন। ) তিরমিযী, আস-সুনান ৫/৫৬৯; হাকিম, আল-মুসতাদরাক ১/৭০০, ১/৭০৭; হাকিম ও অন্যান্য মুহাদ্দিসণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। এ হাদীসে অন্ধ লোকটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট দুআ চেয়েছে। তিনি দুআ করেছেন এবং তাকে শিখিয়ে দিয়েছেন তাঁর দুআর ওসীলা দিয়ে মহান আল্লাহর কাছে নিজে দুআ করতে। লোকটি সেভাবে দুআ করেছে। এ থেকে বুঝা যায় যে, শুধু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দুআর ওসীলাই নয়, উপরন্তু তাঁর ইন্তেকালের পরেও তাঁর ওসীলা দিয়ে দুআ চাওয়াও বৈধ। তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাড়া অন্য কোনো ফিরিশতা, নবী, সাহাবী, তাবিয়ী বা ওলী-আল্লাহর ওসীলা দিয়ে দুআ চাওয়ার কোনো কথা কোনো হাদীসে বা সাহাবী-তাবিয়ীগণের বক্তব্যে পাওয়া যায় না। কোনো কোনো আলিম কেবলমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ব্যক্তিসত্তার ওসীলা দিয়ে আল্লাহর কাছে দুআ করা জায়েয বলেছেন। অন্য কারো ওসীলা দিয়ে দুআ চাওয়া নাজায়েয বলেছেন। তাঁদের মতে, কারো মৃত্যুর পরেও তাঁর ওসীলা দিয়ে দুআ করা জায়েয বলার পরে রাসূলুল্লাহ সা. কে বাদ দিয়ে অন্য কারো ওসীলা দিয়ে দুআ করা তাঁর সাথে বেয়াদবী ছাড়া কিছুই নয়। পক্ষান্তরে অন্য অনেক আলিম কোনো জীবিত বা মৃত ব্যক্তির, তাঁর মর্যাদার বা তাঁর অধিকারের দোহাই দিয়ে আল্লাহর কাছে দুআ করা অবৈধ ও নাজায়েয বলে গণ্য করেছেন। তাঁরা বলেন যে, এরূপ কোনো জীবিত বা মৃত কারো ব্যক্তিসত্তার ওসীলা দিয়ে দুআ চাওয়ার কোনোরূপ নযির কোনো সহীহ ও প্রসিদ্ধ হাদীসে বা সাহাবী-তাবিয়ীগণের মধ্যে পাওয়া যায় না। এছাড়া নবীগণ ও যাদের নাম মহান আল্লাহ ওহীর মাধ্যমে জানিয়েছেন তাঁরা ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির বিষয়ে সুনিশ্চিতভাবে কখনোই বলা যায় না যে, উক্ত ব্যক্তি আল্লাহর প্রিয় বা আল্লাহর কাছে তাঁর কোনো বিশেষ মর্যাদা বা অধিকার আছে। সর্বোপরি তাঁরা উপরে উল্লেখিত উমার (রা) কর্তৃক আব্বাসের ওসীলা প্রদানকে দলীল হিসেবে পেশ করেন। যদি কারো দুআর ওসীলা না দিয়ে তাঁর সত্তার ওসীলা দেওয়া জায়েয হত তবে উমার (রা) ও সাহাবীগণ কখনোই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে বাদ দিয়ে আব্বাস (রা)-এর দোয়ার ওসীলা পেশ করতেন না। শাহ ওয়ালি উল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলবী তাঁর আল-বালাগুল মুবীন গন্থে উমার (রা)-এর হাদীসটি উদ্ধৃত করে বলেন: এই ঘটনায় প্রতীয়মান হয় যে, মৃত ব্যক্তিকে অসিলা করা শরীয়ত বিরোধী। যদি শরীয়ত সিদ্ধ হইত হযরত ওমর (রা) হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অসিলা করিয়াই দোআ করিতেন। কারণ, মৃত বা জীবিত যে কোন ব্যক্তির চেয়েই হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ফযীলত সীমাহীন-অনন্ত। তাহই হযরত ওমর (রা) এই কথা বলেন নাই যে, হে আল্লাহ, ইতি পূর্বে তো আমরা তোমার নবীকে অসীলা করিয়া দোআ করিতাম। কিন্তু এখন তিনি আমাদের মধ্যে বিদ্যমান নাই তাই আমরা তাঁহার রুহু মোবারককে অসিলা করিয়া তোমার কাছে আরযী বেশ করিতেছি। তাই কোন মৃত ব্যক্তিকে অসিলা করা মোটেই বৈধ নহে। এবং জীবিত ব্যক্তির ব্যক্তি স্বত্তার ওসীলা দিয়ে দোয়া করার কথাও কোরান হাদীসে কোথাও পাওয়া যায় না। বরং জীবিত ব্যক্তির দোওয়ার ওসীলা দিয়ে দোয়া করার কথা একাধিক হাদীসে পাওয়া যায়। ইমাম আবূ হানীফা (রাহ), ইমাম আবূ ইউসূফ (রাহ) ও ইমাম মুহাম্মাদ (রাহ) সকলেই একমত যে কারো অধিকার বা মর্যাদার দোহাই দিয়ে আল্লাহর কাছে দুআ চাওয়া মাকরূহ। আল্লামা ইবনু আবিল ইয্য হানাফী বলেন:
قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ وَصَاحِبَاهُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ : يُكْرَهُ أَنْ يَقُولَ الدَّاعِي: أَسْأَلُكَ بِحَقِّ فُلانٍ، أَوْ بِحَقِّ أَنْبِيَائِكَ وَرُسُلِكَ ، وَبِحَقِّ الْبَيْتِ الْحَرَامِ ، وَالْمَشْعَرِ الْحَرَامِ، وَنَحْوِ ذَلِكَ
ইমাম আবূ হানীফা (রাহ) ও তাঁর সঙ্গীদ্বয় বলেছেন: আমি অমুকের অধিকার বা আপনার নবী-রাসূলগণের অধিকার, বা বাইতুল হারামের অধিকার বা মাশআরুল হারামের অধিকারের দোহাই দিয়ে চাচ্ছি বা প্রার্থনা করছি বলে দুআ করা মাকরূহ। আল্লামা আলাউদ্দীন কাসানী (৫৮৭ হি) বলেন:
...وَيُكْرَهُ لِلرَّجُلِ أَنْ يَقُولَ فِي دُعَائِهِ أَسْأَلُك بِحَقِّ أَنْبِيَائِك وَرُسُلِك وَبِحَقِّ فُلانٍ لأنَّهُ لا حَقَّ لأحَدٍ عَلَى اللَّهِ
আমি আপনার নবী-রাসূলগণের অধিকারের দোহাই দিয়ে চাচ্ছি এবং অমুকের অধিকারের দোহাই দিয়ে চাচ্ছি বলে দুআ করা মাকরূহ; কারণ মহান আল্লাহর উপরে কারো কোনো অধিকার নেই। উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা বুঝা যায় যে,প্রথম তিন প্রকারের ওসীলা গ্রহন করা বৈধ। এমনকি কোনটি উত্তম । কিন্তু চতুর্থ প্রকার তথা ব্যক্তি স্বত্তার ওসীলা দিয়ে দোয়া করা অপছন্দনিয় যা থেকে বেচে থাকা আমাদের উচিত জীবিত হোক বা মৃত হোক । আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।
প্রশ্নঃ 35
মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত । এটা সহী কি না জানতে চাই?
20 Dec 2025
এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করার জন্য মুবারকবাদ। নিম্নে আপনার প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়ে আলোকপাত করা হল। الجنة تحت أقدام الأمهات মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত এখানে মায়ের মর্যাদা বুঝানো হয়েছে। তবে হাদীসটি উলামায়ে কেরামের ঐক্যমতে এই শব্দে জাল বা বানোয়াট । রাসূল সাঃ থেকে সহীভাবে হাদীটি প্রমাণীত নয়। কারন এই হাদীসের সনদে মূসা ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আতা রয়েছে যিনি মিথ্যাবাদী এবং অগ্রহনযোগ্য ব্যক্তি । তবে ভাবমর্ম সহী। পিতামাতার সাথে সদাচারন করার ব্যাপারে কোরআন এবং হাদীসে অসংখ্য জায়গায় স্পষ্টভাবে বারবার নির্দেশ এসেছে। যে সমস্ত উলামায়ে কেরাম হাদীসটিকে জাল বলেছেন তাঁরা হলেন, হাফেজ ইবনে আদী রহঃ, ইমাম উকায়লী রহঃ, ইমাম আবু যুরআহ রহঃ, ইমাম দারেকুতনী রহঃ, ইবনে হিব্বান রহঃ, ইমাম যাহাবী রহঃ, ইবনে হাজার রহঃ, এবং আলবানী রহঃ হাদীসটি সিলসিলায়ে যয়ীফাহ এর ভিতর উল্লেখ করে হাদীসটিকে জাল বলেছেন। পিতামাতার সাথে সদাচারন করার ব্যাপারে কোরআনের বাণীঃ
وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا
অর্থঃ আর তোমার প্রতিপালক ফয়সালা করেছেন যে, তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং পিতামাতার সাথে ভালব্যাবহার করবে। তোমার বর্তমানে তাদের একজন বা উভয়েই বার্ধ্যকে পৌছে যায় তাহলে তাদের সামনে উফ শব্দটুকুও করবে না এবং তাদেরকে ধুমুক দিবে না । তাদের সাথে সুন্দরভাবে কথা বলবে। সূরা আল-ইসরা, আয়াত,২৩। এব্যাপারে হাদীসের বাণীঃ
حديث معاوية بن جاهمة أنه جاء النبي صلى الله عليه وسلم قال : يا رسول الله أردتُ أن أغزو ، وقد جئت أستشيرك فقال : هل لك أم ؟ قال : نعم ، قال : فالزمها ؛ فإن الجنة تحت رجليها
অর্থঃ মুয়াবিয়া ইবনে জাহিমা রাঃ নামের এক ছাহাবী রাসূল সাঃ এর কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল সাঃ আমি যুদ্ধ করতে চাই। আর আমি আপনার কাছে পরামর্শ চাইতে এসেছি। তখন রাসূল সাঃ বললেন: তোমার মা কি বেঁচে আছেন। তখন ছাহাবীটি বললেন হা আছেন। তখন রাসূলে আকরাম সাঃ বললেন: তুমি তার কাছেই থেকে যাও। কেননা জান্নাত তো তাঁর পায়ের নিচে।নাসায়ী, তাবারানী, হাদীসের সনদ হাসান । তবে হাকিম রহঃ এবং যাহাবী রহঃ সহীহ বলেছেন আর মুনযিরী রহঃ স্বীকৃতি দিয়েছেন। অতএব কোরআন এবং হাদীসের নির্দেশনা অনুযায়ী সবসময় পিতামাতার সাথে ভালব্যাবহার করা এবং তারা কষ্ট পায় এমন কথা বা কাজ করা থেকে বিরত থাকা আমাদের একান্ত কর্তব্য। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুন। আমীন।
প্রশ্নঃ 34
কোরআনে আছে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে গেলে কাফের হয়ে যায় । তাহলে কি আমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে গেলে কাফের হয়ে যাব?
20 Dec 2025
প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। নিচে আপনর প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়ে আলোচানা করা হল, আশা করি আপনি তাতে আাপনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন। ইনশাল্লাহ। মানব প্রকৃতির একটি বিশেষ দিক আনন্দের সময়ে আল্লাহকে ভুলে থাকা কিন্তু বিপদে পড়লে বেশি বেশি দুআ করা। নিঃসন্দেহে এ আচরণ মহান প্রতিপালকের প্রকৃত দাসত্বের অনুভূতির সাথে সাংঘর্ষিক। কুরআনে বিভিন্ন স্থানে এ স্বভাবের নিন্দা করা হয়েছে। এক স্থানে আল্লাহ বলেন:
وَإِذَا أَنْعَمْنَا عَلَى الإِنْسَانِ أَعْرَضَ وَنَأَى بِجَانِبِهِ وَإِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ فَذُو دُعَاءٍ عَرِيضٍ
যখন আমি মানুষকে নিয়ামত প্রদান করি তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় ও দূরে সরে যায়। আর যখন কোনো অমঙ্গল বা কষ্ট তাকে স্পর্শ করে তখন সে লম্বা চওড়া দুআ করে। মুমিনের উচিত নিয়ামতের মধ্যে থাকলে তার স্থায়িত্ব প্রার্থনা করা ও সকল অকল্যাণ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া। কোনো অসুবিধা থাকলে তার কাছে আশ্রয় ও মুক্তি চাওয়া। আর এরূপ অন্তরের দুআই আল্লাহ কবুল করেন। আবু হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَسْتَجِيبَ اللَّهُ لَهُ عِنْدَ الشَّدَائِدِ وَالْكَرْبِ فَلْيُكْثِرْ الدُّعَاءَ فِي الرَّخَاءِ যে ব্যক্তি চায় যে কঠিন বিপদ ও যন্ত্রণা-দুর্দশার সময় আল্লাহ তার প্রার্থনায় সাড়া দিবেন, সে যেন সুখশান্তির ও সচ্ছলতার সময় বেশি বেশি আল্লাহর কাছে দুআ করে। হাদীসটি সহীহ। আবার যখন দুআ করি তখন তৎক্ষণাৎ ফল আশা করি। বিশেষত বিপদে, সমস্যায় বা দুশ্চিন্তায় আক্রান্ত হলে। দুচার দিন দুআ করে ফল না পেলে আমরা হতাশ হয়ে দুআ করা ছেড়ে দি। এ হতাশা ও ব্যস্ততা ক্ষতি ও গোনাহের কারণ। কখনোই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। কোরআনে এসেছে :
لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيم
অর্থঃ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল,অতি দয়ালু। সূরা ঝুমার, আয়াত, ৫৩। অপর একটি আয়াতে আল্লাহ বলেন:
وَلَا تَيْأَسُوا مِنْ رَوْحِ اللَّهِ إِنَّهُ لَا يَيْأَسُ مِنْ رَوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ
অর্থঃ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না । কেবল মাত্র কাফের সম্প্রদায়ই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়। সূরা ইউসুফ,আয়াত-৮৭। আমাদের বুঝতে হবে যে, দুআ করা একটি ইবাদত ও অপরিমেয় সাওয়াবের কাজ। আমি যত দুআ করব ততই লাভবান হব। আমার সাওয়াব বৃদ্ধি পাবে, আল্লাহর সাথে আমার একান্ত রহমতের সম্পর্ক তৈরি হবে। সর্বোপরি আল্লাহ আমার দুআ কবুল করবেনই। তবে তিনিই ভাল জানেন কিভাবে ফল দিলে আমার বেশি লাভ হবে। আবু হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
لاَ يَزَالُ يُسْتَجَابُ لِلْعَبْدِ مَا لَمْ يَدْعُ بِإِثْمٍ أَوْ قَطِيعَةِ رَحِمٍ مَا لَمْ يَسْتَعْجِلْ
বান্দা যতক্ষণ পাপ বা আত্মীয়তার ক্ষতিকারক কোনো কিছু প্রার্থনা না করে ততক্ষণ তার দুআ কবুল করা হয়, যদি না সে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বলা হলো : ইয়া রাসূলাল্লাহ, ব্যস্ততা কিরূপ? তিনি বলেন : প্রার্থনাকারী বলতে থাকে দুআ তো করলাম, দুআ তো করলাম ; মনে হয় আমার দুআ কবুল হলো না। এভাবে সে হতাশ হয়ে পড়ে এবং তখন দুআ করা ছেড়ে দেয়। আনাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন :
لا يَزَالُ الْعَبْدُ بِخَيْرٍ مَا لَمْ يَسْتَعْجِلْ قَالُوا وَكَيْفَ يَسْتَعْجِلُ قَالَ يَقُولُ قَدْ دَعَوْتُ رَبِّي فَلَمْ يَسْتَجِبْ لِي
বান্দা যতক্ষণ না ব্যস্ত ও অস্থির হয়ে পড়ে ততক্ষণ সে কল্যাণের মধ্যে থাকে। সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন: ব্যস্ত হওয়া কিরূপ? তিনি বলেন: সে বলে আমি তো দুআ করলাম কিন্তু দুআ কবুল হলো না। হাদীসটি হাসান। প্রত্যেক মুমিনের উপর দায়িত্ব, আল্লাহর রহমত, ক্ষমা ও ভালবাসার প্রতি দৃঢ় প্রত্যয় রাখা। আল্লাহ আমাকে ভালবাসেন, তিনি আমাকে ক্ষমা করবেন এবং তিনি আমাকে অবশ্যই সাহায্য করবেন। এ দৃঢ় প্রত্যয় মুমিনের অন্যতম সম্বল ও মহোত্তম সম্পদ। অন্তরের গভীর থেকে মনের আকুতি ও সমর্পণ মিশিয়ে নিজের সবকিছু আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। সাথে সাথে সুদৃঢ় প্রত্যয় রাখতে হবে, আল্লাহ অবশ্যই আমার প্রার্থনা শুনবেন। ইবনু উমার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন:
إِذَا سَأَلْتُمْ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ أَيُّهَا النَّاسُ فَاسْأَلُوهُ وَأَنْتُمْ مُوقِنُونَ بِالإِجَابَةِ فَإِنَّ اللَّهَ لا يَسْتَجِيبُ لِعَبْدٍ دَعَاهُ عَنْ ظَهْرِ قَلْبٍ غَافِلٍ
হে মানুষেরা, তোমরা যখন আল্লাহর কাছে চাইবে, তখন কবুল হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে চাইবে; কারণ কোনো বান্দা অমনোযোগী অন্তরে দুআ করলে আল্লাহ তার দুআ কবুল করেন না। হাদীসটি হাসান। অন্য হাদীসে আবু হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন:
ادْعُوا اللَّهَ وَأَنْتُمْ مُوقِنُونَ بِالإِجَابَةِ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ لا يَسْتَجِيبُ دُعَاءً مِنْ قَلْبٍ غَافِلٍ لاهٍ
তোমরা আল্লাহর কাছে দুআ করার সময় দৃঢ়ভাবে (একীন) বিশ্বাস রাখবে যে, আল্লাহ নিশ্চয় কবুল করবেন। আর জেনে রাখ, আল্লাহ কোনো অমনোযোগী বা অন্য বাজে চিন্তায় রত মনের প্রার্থনা কবুল করেন না। ব্যাক্তিগত, পারিবারিক বা সামাজিক যে কোন প্রকৃত সম্ভাব্য সমস্যাকে নিয়েই আমাদের চিন্তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে খারাপ দিকটা নিয়েই আবর্তিত হয়। অথচ সমস্যা থেকে উত্তরণের বাস্তব চেষ্টার পাশাপাশি সকল অবস্থায় ভাল চিন্তা করা এবং আল্লাহর রহমতে সকল বিপদ কেটে যাবেই এরুপ সুদৃঢ় আশা রাখা মুমিনের ঈমানের দাবী এবং সাওয়াবের কাজ। যে বান্দা আল্লাহর রহমতের আশা করতে পারেনা সে তো আল্লাহর প্রতি সুধারনা পোষণ করতে পারল না। হাদীসে এসেছে حسن الظن ( بالله) من حسن العبادة অর্থঃ আল্লাহর প্রতি সুধারনা পোষণ করা উত্তম ইবাদত। আবু দাউদ,( কিতাবুল আদব,বাব, হুসনিয যন) ৪/৩০০ হাদীস নং ৪৯৯৩। হযরত আবু হুরাইরা রাঃ থেকে বর্ণীত অপর একটি হাদীসে এসেছে রাসূল সাঃ বলেন: أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي وَأَنَا مَعَهُ إِذَا دَعَانِي আমার বান্দা আমার বিষয়ে যেরূপ ধারণা করে আমি সেখানেই থাকি। আমার বান্দা যখন আমাকে ডাকে তখন আমি তার সাথে থাকি। মোটকথা, বান্দার অন্তরে আল্লাহর রহমতের আশা তার ঈমানের পরিমান অনুপাতে থেকে থাকে। অর্থাৎ যার যতটুকু ঈমান আছে সে ততোটুকু আল্লাহর রহমতের আশা করে থাকে। কাফেরদের সামান্য পরিমানও ঈমান নেই তাই তারা পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ । অনুরুপভাবে কোন মুসলামন যখন পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে যায় তখন তার একাজটি কাফেরদের অবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে যায় এবং এটাকে কুফুরী হিসাবে গণ্য করা হয়। অতএব আমাদের উচিত সবসময় সবধরনের হতাশা থেকে নিজেকে বিরত রাখা। সঠিক বিষয় আল্লাহই ভাল জানেন। আল্লাহ আমাদেরকে সবসময় পরিপূর্ণ ঈমানের সাথে থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন। এব্যাপারে বিস্তারিত জানতে পাঠককে ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত রাহে বেলায়াত বইটি পড়ার জন্য অনুরোধ করছি।
প্রশ্নঃ 33
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। শায়েখ, আপনার কাছে আমার জানার বিষয় হল, রমযান মাসে কেউ মারা গেলে কি তার কোন সওয়াল-জওয়াব হবে?
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে শুকরান । নিম্নে আপনার প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়ে স্বল্পপরিসরে আলোচনা করা হল । আশা করি তাতে আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন। দুনিয়ার জীবনে যে ব্যাক্তিই গুনাহ বা অপরাধ করবে, কবরে সে ব্যক্তিই শাস্তির যগ্য (আল্লাহর কাছে তাওবা করে মাফ পেয়ে গেলে ভিন্ন কখা)। সে যেদিনেই মৃতবরণ করুক, এক্ষেত্রে দিন-তারিখ বা সময়ের কোন শ্রেষ্ঠত্য নেই। কারন সওয়াব বা ফযীলত বান্দার আমলের ওপর নির্ভর করে। একটি হাদীসে জুমআর দিনে মৃতবরনের ফযীলতের বিষয়ে বলা হলেও তা অত্যন্ত দুর্বল একাধিক সনদ একত্রিত করার পরও হাদীসটির দুর্বলতা দূর হয়নি। -হাদীসের আরবী উচ্চারণ নিম্নরুপ:
القبر ما من مسلم يموت يوم الجمعة أو ليلة الجمعة إلا وقاه الله فتنة
অর্থঃ যে ব্যাক্তিই জুমআর দিনে বা রাতে মৃত বরণ করবে আল্লাহ তাকে কবরের ফেতনা থেকে রক্ষা করবেন। শায়খ আলবানী রহঃ হাদীসটি তার আহকামুল জানাইয গ্রন্থে এনে বলেছেন: সনদের সমষ্টির ভিত্তিতে হাদীসটি সহীহ বা হাসান। খন্ড,১ পৃষ্ঠ,৩৫। কিন্তু তুহফাতুল আহওযী গ্রন্থের লেখক তার কিতাবে হাদীসটিকে ইনকিতা এর ভিত্তিতে দুর্বল বলেছেন। খন্ড,৩ পৃষ্ঠ,১৩৮। আর শায়খ শুয়াইব আরনাউত বলেন: হাদীসটির সনদ দুর্বল্ । আলবানী রহঃআহকামুল জানাইজ গ্রন্থে হাদীসটিকে হাসান বা সহীহ বলার ক্ষেত্রে ভুল করেছেন। মুসনাদে আহমাদ,তাহকীক,শুয়াইব আরনাউত,খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৬৯। তবে যদি কেউ রোজায় থাকা অবস্থায় মারা যায় তাহলে তার ব্যাপারে কল্যাণের আশা করা যেতে পারে। একটি হাদীসে এসেছে রাসূল সাঃ বলেন:
ومن صام يوما ابتغاء وجه الله ختم له بها دخل الجنة
অর্থঃ যে ব্যাক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একদিন রোজা রাখল, এ অবস্থাতে তার মৃত্যু ঘটল সে ব্যাক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে। হাদীসটি সহীহ লিগয়রিহী এবং সনদের সকল রাবী ছিকাহ, তবে মুনকাতি। মুসনাদে আহমাদ, তাহকীক,শুয়াইব আরনাউত,খন্ড,৫ পৃষ্ঠা ৩৯১। শায়খ আলবানী বলেন: হাদীসের সনদটি সহীহ। আহকামুল জানাইজ, খন্ড,১ পৃষ্ঠা ৪৩। হায়সামী রহঃ বলেন:উসমান ইবনে মুসলিম ছাড়া সনদের সকল রাবী সহীহের রাবী। তবে তিনি ছিকাহ। মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, খন্ড, ৭ পৃষ্ঠ,১৪০। উপরের আলোচনা দ্বারা একথা স্পষ্টভাবেই বুঝা যায় যে, নিসক রমজানের দিবসে মারা যাওয়ার ব্যাপারে কোন সহীহ বা দুর্বল হাদীস বর্ণীত হয়নি। যা আছে তা শুক্রুবার কিংবা রোজা থাকা অবস্থায় মারা যাওয়ার ক্ষেত্রে। আল্লা্হ আমাদেরকে উত্তম মৃত্যু দান করুন। আমীন।
প্রশ্নঃ 32
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। গায়েবানা জানাযার বিধান সম্পর্কে সংক্ষেপে জানতে চাই।
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
প্রশ্নটি করার জন্য আল্লাহ আপনাকে জাযা দান করুন। নিচে এ বিষয়ে সামান্য আলোচনা করা হল, আশা করি আপনি তাতে আপনার উত্তর খুঁজে পাবেন। ইনশাল্লাহ। বিষয়ে জানাযা শরীয়ত অনুমোদন করে কি না এব্যাপারে উলামায়ে কেরামের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে। শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযাহাবের উলামায়ে কেরামের মতে তা বৈধ। এব্যাপারে হাদীসে এসেছে
عن أبي هريرة رضي الله عنه: أن النبي صلى الله عليه وسلم نعى النجاشي في اليوم الذي مات فيه، وخرج بهم إلى المصلى فصف بهم وكبر عليه أربعاً
অর্থঃ আবু হুরাইরা রাঃ থেকে বর্ণীত, নবী সা.নাজ্জশীর মৃত্যুর দিন তার মৃত্যুর সংবাদ সাহাবীদেরকে জানালেন এবং তাদেরকে নিয়ে ঈদগাহে বের হলেন এবং তাদেরকে নিয়ে কাতার সোজা করে তার জানাযার নামাজ আদায় করলেন। বুখারী,আস সহীহ, বাব,আর রজুলু ইয়ানআ ইলা আহলিল মায়্যিত, হাদীস নং ১২৪৫। অপরদিকে হানাফী এবং মালেকী মাযহাবের উলামায়ে কেরামের মতে সাধারনভাবে গায়েবানা জানাযা বৈধ নয়। রাসূল সা.বাদশা নাজাশীর গায়েবানা জানাযা করার ঘটনাটি একান্তই রাসূল সা. এর সাথে বিশেষায়িত। কেননা রাসূল সাঃ এর জীবদ্দশায় তাঁর অগণিত সাহাবী, আত্নীয়স্বজন ও আপনজন মৃত্যু বরণ করেছেন। অনেকেই তাঁর থেকে দূরে জিহাদের ময়দানে, বন্দি অবস্থায় বা দূরের কোন শহরে বা গ্রামে অবস্থান কালে ইন্তেকাল করেছেন। কেউ তাঁর কাছে থেকে ইন্তেকাল করলে তিনি সাধারনত তাঁর জানাযা পড়তেন। তিনি কখোন কারো মৃতদেহের অনুপস্থিতিতে তার জানাযা পড়াননি। শুধুমাত্র একটি ব্যতিক্রম ছিল আবিসিনিয়ার শাসক নাজাশীর ইন্তেকাল । সাহাবীগণ আবিসিনিয়ায় হিজরত করলে তাঁদের সংস্পর্শে এসে তিনি ইসলাম গ্রহন করেন । তাঁর দেশে আর কেউ ইসলাম গ্রহন করেনি। যেদিন নাজাশী ইন্তেকাল করেন। সেই দিনই রাসূলুল্লাহ সাঃ তাঁর ছাহাবীগণকে তাঁর ইন্তেকালের সংবাদ প্রদান করেন এবং গায়েবানা জানাযার নামাজ আদায় করেন। তবে মুহাক্কিক উলামায়ে কেরামের মতে ব্যক্তি যদি এমন দেশে মৃত্যু বরণ করে যেখানে তার জানাযার নামাজ পড়ার মত কেউ নেই সেক্ষেত্রে তার জানাযার নামাজ পড়া যাবে, অন্যথায় নয়। এ মত গ্রহন করেছেন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহঃ ও তাঁর ছাত্র ইবনে কায়্যিম রহঃ। ইবনে কায়্যিম রহঃ তাঁর যাদুল মাআদ নামক প্রসিদ্ধ কিতাবে বলেন
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: الصواب أن الغائب إن مات ببلدٍ لم يصلَّ عليه فيه، صلي عليه صلاة الغائب، كما صلى النبي صلى الله عليه وسلم على النجاشي لأنه مات بين الكفار ولم يُصلَّ عليه، وإن صلي عليه حيث مات لم يصلَّ عليه صلاة الغائب، لأن الفرض قد سقط بصلاة المسلمين عليه.
অর্থঃ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহঃ বলেছেন: সঠিক কথা হল, অনুপস্থিত ব্যক্তি যদি এমন দেশে মারা যায় যেখানে তার জানাযার নামাজ পড়ার মত কেউ নেই তাহলে তার জন্য গায়েবানা জানাযা পড়া হবে। যেমন রাসূল সা. নাজাশীর জন্য পড়েছিলেন। কেননা তিনি কাফেরদের মাঝে মৃত্যুবরণ করেছিলেন এবং তার জানাযার নামাজ পড়া হয়েছিলো না। আর যদি ব্যক্তি যেখানে মৃত্যুবরণ করে সেখানে তার জানাযার নামাজ পড়া হয় তাহলে তার জন্য গায়েবানা জানাযা পড়া হবে না। কেননা অন্যান্য মুসলমানরা তার জানাযার নামাজ পড়ার কারণে অন্যদের উপর থেকে ফরযিয়্যাত রহিত হয়ে গেছে। বাব, আস সালাত আলাল জানাইয, খন্ড ১,পৃষ্ঠা ৫০০ (শামিলা) আল্লাহ আমাদেরকে সবসময় সুন্নাত অনুযায়ী আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
প্রশ্নঃ 31
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। সকল মানুষ পরস্পর ভাই ভাইএই হাদিসটি সুনানে আবু দাউদ,আদাব অধ্যায়ে বা অন্য কোন নির্ভরযোগ্য গ্রন্থে আছে কিনা? একজন ডঃ স্যার একটি আর্টিকেল এ হাদিসটি এনেছেন।
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। নিচে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেয়া হল । জ্বী হ্যা ভাই, এমর্মে একটি হাদীস আছে যার আরবী উচ্চারণ হল - الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ । আর অর্থ হল মুসলমান মুসলমানের ভাই। হাদীসটি সকল নির্ভরযগ্য হাদীস গ্রন্থে এসেছে। নিম্নে কিছু গ্রন্থের তালিকা দেয়া হল। ১) বুখারী, আস- সহীহ, হাদিস নং, ২৪৪২, অধ্যায়, কিতাবু বাদ্ইল ওহী, পরিচ্ছেদ, লা ইয়াযলিমুল মুসলিমু... ২) মুসলিম, আস-সহীহ, হাদিস নং, ৬৭০৬, অধ্যায়, আল বির ওসসিলাহ, পরিচ্ছেদ, তাহরীমু জুলমিল মুসলিম। ৩) আবু দাউদ, আস-সুনান, কিতাবুল আদাব, বাবুল মুওয়াখাত, খন্ড-২, পৃষ্ঠা-৬৭০। (ভারতীয় সংস্করন) ৪) সুনানে তিরমিযী, তাহকীক, শাকের ও আলবানী। কিতাব - তাফসীরুল কোরআন,বাব-সুরা তাওবা। হাদীস নং ৩০৮৭।
প্রশ্নঃ 30
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। মুহতারাম, ঈদের নামায সহীহ হওয়ার জন্য ঈদের মাঠ ওয়াক্ফ হওয়া শতী কিনা? কুরআনের হাদীসের আলোকে জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
উক্ত ঈদের মাঠে ঈদের নামাজ সহীহ হবে। ঈদগাহের জন্য ওয়াক্বফকৃত জমি হওয়া শর্ত নয় বরং ব্যক্তি মালিকানায় রয়েছে এমন জমিতেও ঈদের নামাজ আদায় হবে। আর ঈদগাহ ওয়াক্বফকৃত হোক বা না হোক উভয় অবস্থায় নামাজের সাওয়াবের মধ্যে কোন কম বেশি হবে না। প্রমাণ
جاء في بفتح الباري (2/44كتاب العيدين)عن أبي سعيد الخدري قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يخرج يوم الفطر والأضحى إلى المصلى فأول شيئ يبدأ به الصلاة ...إلخ
ঈদগাহের জন্য জমি ওয়াক্বফ শর্ত নয়ঃ সাধারণভাবে যে সকল শর্ত পাওয়া গেলে জুমআর সালাত ওয়াজীব হয় সে সকল শর্ত পাওয়া গেলে ঈদের সালাতও ওয়াজীব হয়। যেমন ঈদের সালাত এমন স্থানে আদায় করতে হবে, যেখানে সকলের প্রবেশ করার সাধারণ অনুমতি রয়েছে। তবে ঈদগাহের জমি ওয়াক্বফ হওয়া শর্ত নয় বরং মালিকানাধীন জায়গায় মালিকের অনুমতিতে ঈদের সালাত আদায় করা বৈধ হবে। (ফতুয়ায়ে মাহমুদিয়া, ১২/৪৭৭-৪৭৮) এমনকি ঈদগাহ ব্যতীত যে কোন সাধারণ মাঠেও ঈদের সালাত আদায় করা বৈধ। সরকারী মাঠে সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে ঈদের সালাত আদায় করা যাবে। (ফতুয়ায়ে মাহমুদিয়া, ১২/৪৮২-৪৮৩) ঈদগাহের জমি ওয়াক্বফ হওয়া না হওয়ার পার্থক্যঃ ঈদগাহের জমি ওয়াক্বফ হওয়া না হওয়ার পার্থক্য হল, ওয়াক্বফিয়া ঈদগাহে কোন হস্তক্ষেপ বৈধ নয়। পক্ষান্তরে ঈদগাহ ওয়াক্বফ করা না হলে ঈদগাহ স্থানান্তর করে উক্ত জায়গাকে মসজিদ, মাদরাসা বা যে কোন কাজে মালিক ব্যবহার করতে পারবে। তবে ঈদগাহের জমি ওয়াক্বফিয়া হওয়া না হওয়ার সাথে ঈদের সালাতের সাওয়াবের কোন তারতম্য হবে না। (ফতুয়ায়ে মাহমুদিয়া, ১২/৫১৪)
প্রশ্নঃ 29
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। মুহতারাম, ফরজ নামাজের পর সম্মিলিত ভাবে মোনাজাত করা যাবে কি না এব্যাপারে কোরআন হাদীসের আলোকে আপনার মতামত জানতে চাই।
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ । নিচে এব্যাপারে আরেকটু বিস্তারিত আলোচনা করার প্রয়াস পাচ্ছি । আশা করি আপনি তাতে আপনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন। এক্ষেত্রে তিনটি বিষয় আলোচ্য: (১) নামাযের পরে মুনাজাত করা, (২) মুনাজাত করার সময় হাত উঠানো এবং (৩) উপস্থিত সকলেই সমবেতভাবে জামাতে যিকর ও মুনাজাত করা। (১) নামাযের পরে মুনাজাত করা। নামায মুমিনের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। নামাযের শেষে মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তি ও আবেগ আসে। এই সময়ে তাড়াহুড়ো করে উঠে চলে যাওয়া মুমিনের উচিত নয়। নামাযের পরে যতক্ষণ সম্ভব নামাযের স্থানে বসে দুআ মুনাজাত ও যিকিরে রত থাকা উচিত। মুমিন যদি কিছু না করে শুধুমাত্র বসে থাকেন তাও তাঁর জন্য কল্যাণকর। নামাযের পরে যতক্ষণ মুসল্লী নামাযের স্থানে বসে থাকবেন ততক্ষণ ফিরিশতাগণ তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করবেন বলে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.)বলেছেন:
إَذَا صَلَّى الْمُسْلِمُ ثُمَّ جَلَسَ فِيْ مُصَلاَّهُ لَمْ تَـزَلِ الْمَلاَئِكَةُ تَدْعُو لَهُ اَللَّهُمَّ اغْـفِـرْ لَـهُ اَللَّهُمَّ ارْحَـمْهُ مَا لَـمْ يُـحْدِثْ أَوْ يَـقُمْ
যদি কোনো মুসলিম সালাত আদায় করে, এরপর সে তাঁর সালাতের স্থানে বসে থাকে, তবে ফিরিশতাগণ অনবরত তাঁর জন্য দুআ করতে থাকেন : হে আল্লাহ একে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ, একে রহমত করুন। যতক্ষণ না সে ওযু নষ্ট করে বা তাঁর স্থান থেকে উঠে যায় ততক্ষণ। হাদীসের শিক্ষার আলোকে আমারা দেখতে পাই যে, পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পরে কিছু সময় বসে যিক্র ও মুনাজাত করা সুন্নাত সম্মত গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল। পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পরের দুআ কবুল হয় বলে হাদীস শরীফে বলা হয়েছে। হযরত আবু উমামা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ(সা.)-কে প্রশ্ন করা হলো: কোন্ দুআ সবচেয়ে বেশি শোনা হয় বা কবুল করা হয়? তিনি উত্তরে বলেন :
جَـوْفُ الليـلِ الآخِـرُ، ودُبـُر الصلواتِ الـمكتـوبات
রাত্রের শেষ অংশ ও ফরয নামাযের শেষে (দুআ বেশি কবুল হয়)। এভাবে আমরা বুঝতে পারি যে, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পরে দুআ করা একটি সুন্নাত সম্মত নেক আমল। সুতরাং আমাদের সকলেরই উচিত নামাযের শেষে কিছু সময় যিকর ও মুনাজাতে কাটানো। এধরনের আরো কিছু দোয়া নামাযের পর রাসূল সাঃ করতেন। (২) হাত তুলে মুনাজাত করা। দুআ-মুনাজাতের একটি আদব হলো, দুই হাত তুলে দুআ করা। এই অর্থে একটি হাদীসে বলা হয়েছে: নিশ্চয় আল্লাহ লাজুক দয়াবান। যখন কোনো মানুষ তাঁর দিকে দুখানা হাত উঠায় (দুআ করতে), তখন তিনি তা ব্যর্থ ও শূন্যভাবে ফিরিয়ে দিতে লজ্জা পান। অন্য বর্ণনায় সালমান ফারসী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন :
مَا رَفَـعَ قَـوْمٌ أَكُـفَّـهُمْ إِلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ يَسْأَلُوْنَهُ شَيْئًا إِلاَّ كَـانَ حَـقًّا عَـلَى اللهِ أَنْ يَـضَـعَ فِـيْ أَيْدِيْـهِمْ الَّذِيْ سَأَلُوْا
যখনই কিছু মানুষ আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়ার জন্য তাদের হাতগুলিকে উঠাবে, তখনই আল্লাহর উপর হক্ক (রহমতের দায়িত্ব) হয়ে যাবে যে তারা যা চেয়েছে তা তিনি তাদের হাতে প্রদান করবেন। হাফিয হাইসামী উল্লেখ করেছেন যে, হাদীসটির সনদ সহীহ। অন্য হাদীসে মালিক ইবনু ইয়াসার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন:
إِذَا سَأَلْتُمْ اللَّهَ فَاسْأَلُوهُ بِبُطُونِ أَكُفِّكُمْ وَلا تَسْأَلُوهُ بِظُهُورِهَا
তোমরা যখন আল্লাহর কাছে চাইবে, তখন হাতের পেট দিয়ে চাইবে, হাতের পিঠ দিয়ে চাইবে না। হাদীসটির সনদ গ্রহণযোগ্য। রাসূলূল্লাহ ((সা.) বিভিন্ন সময়ে হাত উঠিয়ে দুআ করতেন। আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন :
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ r يَرْفَعُ يَدَيْهِ يَدْعُو حَتَّى إِنِّي لأَسْأَمُ لَهُ مِمَّا يَرْفَعُهُمَا يَدْعُو اللَّهُمَّ فَإِنَّمَا أَنَا بَشْرٌ فَلا تُعَذِّبْنِي بِشَتْمِ رَجُلٍ شَتَمْتُهُ أَوْ آذَيْتُهُ
রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর হাত দুখানা উঠিয়ে দুআ করতেন, এমনকি আমি তাঁর (দীর্ঘ সময়) হাত উঠিয়ে দুআ করাতে ক্লান্ত ও অস্থির হয়ে পড়তাম; তিনি এভাবে দুআয় বলতেন : হে আল্লাহ, আমি একজন মানুষ মাত্র। আমি কোনো মানুষকে গালি দিয়ে ফেললে বা কষ্ট দিলে আপনি সেজন্য আমাকে শাস্তি দিবেন না। এ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, অন্যান্য সময়ের ন্যায় নামাযের পরেও মুনাজাতের সময় হাত উঠানো উত্তম। তবে যে ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সা.) সর্বদা ফযীলত বাদ দিয়েছেন, সেক্ষেত্রে ফযীলত বাদ দেওয়াই সুন্নাত। যেমন, কিবলামুখী হয়ে মুনাজাত করা মুস্তাহাব। কিন্তু নামাযের পরে ইমামের জন্য এই মুস্তাহাব পরিত্যাগ করাই সুন্নাত। অনেক হাদীস থেকে আমরা দেখতে পাই যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) অনেক সময়, বরং অধিকাংশ সময় দুআ-মুনাজাতের জন্য হাত উঠাতেন না। বরং শুধু মুখে দুআ-মুনাজাত করতেন। সাহাবীগণ থেকেও আমরা অনুরূপ কর্ম দেখতে পাই। এ সকল ক্ষেত্রে আমরা কী করব? আমরা কি বলব যে, এ সকল ক্ষেত্রেও হাত উঠিয়ে দুআ করা উত্তম এবং হাত না উঠানো অনুচিত? তাহলে তো স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কর্ম অনুচিত পর্যায়ের হয়ে গেল। না কি আমরা বলব যে, এ সকল ক্ষেত্রে হাত উঠানো উত্তম, তবে না উঠালেও দোষ নেই? সেক্ষেত্রে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাজ অনুত্তম বলে গণ্য হলো। না কি বলব যে, এ সকল ক্ষেত্রে হাত না উঠানোই উত্তম, তবে হাত উঠানোতে দোষ নেই? অথবা বলব যে, এ সকল ক্ষেত্রে হাত উঠানো জায়েয নয়? তাহলে হাত উঠানোর ফযীলতে বর্ণিত হাদীসের কী হবে? এ থেকে আমরা বুঝতে পারি, যে সকল সময়ে তিনি দুআ-মুনাজাতে হাত উঠিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে সেখানে হাত উঠানো সুন্নাত বলে গণ্য হবে। যেমন আরাফার মাঠে, ইসতিসকার দুআয়, যুদ্ধে শুরুতে, বিশেষ আবেগের ক্ষেত্রে, ইত্যাদি। আর যেখানে ও যে সময়ে তিনি হাত উঠাননি বলে জানা গিয়েছে সেখানে হাত না-উঠানো সুন্নাত। অধিকাংশ নিয়মিত মাসনূন দুআ এই প্রকারের। বিভিন্ন হাদীস থেকে আমরা আরো বুঝতে পারি যে, এ সকল মুনাজাত পালনের সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) দু হাত তুলে মুনাজাত করেন নি। আমরা দেখছি যে, সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ঘুরে বসা, ঠোট নাড়া, কথা বলা ইত্যাদি সব কিছুর বর্ণনা দিচ্ছেন, কিন্তু কখনোই বলছেন না যে, তিনি দুই হাত তুলে এই কথাগুলি বলেছিলেন। শুধু পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পরের মুনাজাতের ক্ষেত্রেই নয়, অধিকাংশ নিয়মিত দুআ- মুনাজাতের ক্ষেত্রেই তিনি হাত উঠাতেন না। উপরের বিষয়গুলি সবই সর্বজন স্বীকৃত বিষয়। এ সকল তথ্যের বিষয়ে কোনো মতভেদ আছে বলে জানি না। নামাযের পরে সামষ্টিক মুনাজাতের পক্ষের কোনো আলেমও কোথাও উল্লেখ করেন নি বা দাবী করেন নি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বা সাহাবীগণ কখনো ফরয সালাতের সালাম ফেরানোর পরে উপস্থিত মুসাল্লীদের নিয়ে সমবেতভাবে দুআ করেছেন বলে কোনো হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নামাযের পরে দুআয় একাকী হাত উঠানোর বিষয়ে কিছু কথা বর্ণিত হয়েছে। গত শতাব্দীর কোন কোন আলেম উল্লেখ করেছেন যে, একদিন ফজরের নামাযের পরে ঘুরে বসে রাসূলুল্লাহ (সা.) হাত তুলে দুআ করেছিলেন। তাঁরা বলেন, ইবনে আবী শাইবা বর্ণনা করেছেন, ইয়াযিদ ইবনুল আসওয়াদ (রা) বলেন:
صَلَّيْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ r الْفَجْرَ فَلَمَّا سَلَّمَ انْحَرَفَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ وَدَعَا
আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে ফজরের নামায আদায় করলান। তিনি সালামের পরে ঘুরে বসলেন এবং দুই হাত উঠালেন ও দুআ করলেন। এই হাদীসটি মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ও অন্যান্য গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। তবে এ সকল গ্রন্থে সংকলিত হাদীসের ভাষা নিুরূপ: আসওয়াদ বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা. এর সাথে ফজরের নামায আদায় করলান। তিনি সালাম ফেরানোর পরে ঘুরে বসলেন। কোন গ্রন্থেই এবং দুই হাত উঠালেন ও দুআ করলেন এই অতিরিক্ত কথাটুকু নেই। এজন্য আল্লামা মুফতী আমীমুল ইহসান বলেছেন, হাদীসটি নাযীর হুসাইন মুঙ্গীরী এভাবে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তিনি কোনো গ্রন্থে তা খুঁজে পান নি এবং এর সনদ জানতে পারেন নি। অন্য হাদীসে ফাদল ইবনু আব্বাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
الصَّلاةُ مَثْنَى مَثْنَى تَشَهَّدُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ وَتَخَشَّعُ وَتَضَرَّعُ وَتَمَسْكَنُ وَتَذَرَّعُ وَتُقْنِعُ يَدَيْكَ يَقُولُ تَرْفَعُهُمَا إِلَى رَبِّكَ مُسْتَقْبِلا بِبُطُونِهِمَا وَجْهَكَ وَتَقُولُ يَا رَبِّ يَا رَبِّ وَمَنْ لَمْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَهُوَ كَذَا وَكَذَا، (فَهِيَ خِدَاجٌ)
সালাত দুই রাকআত, দুই রাকআত করে, প্রত্যেক দুই রাকআতে তাশাহ্হুদ পাঠ করবে, বিনীত হবে, কাতর হবে, অসহায়ত্ব প্রকাশ করবে, বেশি করে সাহায্যা প্রার্থনা করবে এবং তোমার দুই হাত প্রভুর দিকে উঠিয়ে দুই হাতের পেট তোমার মুখের দিকে করবে এবং বলবে: হে প্রভু, হে প্রভু। যে এরূপ না করলো তার সালাত অসম্পূর্ণ। এই হাদীসে নামাযের পরে হাত তুলে দোওয়া করার কথা বলা হয়েছে। তবে স্পষ্টতই হাদীসটি নফল নামাযের বিষয়ে, যা দুই রাকআত করে পড়তে হয়। সর্বোপরি হাদীসটির সনদ অত্যন্ত দুর্বল। ইমাম বুখারী, উকাইলী, যাহাবী প্রমুখ মুহাদ্দিস হাদীসটির দুর্বলতা উল্লেখ করেছেন। আরেকটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রা) এক ব্যক্তিকে দেখেন যে, সে সালাত শেষ করার পূর্বে তার দুই হাত উত্থিত করে রেখেছে। ঐ ব্যক্তি সালাত শেষ করলে তিনি বলেন:
إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ r لَـمْ يَكُـنْ يَرْفَـعُ يَدَيْهِ حَتَّى يَفْرُغَ مِنْ صَلاَتِهِ.
রাসূলুল্লাহ (সা.) সালাত থেকে বিরত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর দুই হাত উঠাতেন না। হাদীসটির সনদ গ্রহণযোগ্য। সালাত শেষের আগে হাত উঠাতেন না থেকে মনে হয় সালাত শেষের পরে রাসূলুল্লাহ (সা.) হাত তুলতেন। এখানে ফরয বা নফল সালাতের কথা উল্লেখ করা নেই। তবে যে ব্যক্তিকে ইবনু যুবাইর কথাটি বলেছিলেন সে ব্যক্তি বাহ্যত নফল সালাত আদায় করছিল এবং এজন্যই একাকী সালাতের মধ্যে দুই হাত তুলে দোওয়া করছিল। তার পরেও এই হাদীসের ভিত্তিতে আমরা দাবি করতে পারি যে, তিনি নফল ও ফরয উভয় সালাতের পরেই হাত তুলে দুআ করতেন। তবে অন্যান্য অগণিত সহীহ হাদীস, যেগুলিতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ফরয সালাতের পরের দুআ, যিক্র, বক্তৃতা ও অন্যান্য কর্মের বিবরণ বিস্তারিতভাবে দেওয়া হয়েছে সেগুলি থেকে জানা যায় যে, তিনি ৫ ওয়াক্ত ফরয সালাতের পরের দুআ-মুনাজাত করার সময় হাত তুলতেন না। সে সকল হাদীস ও এ হাদীসটির সমন্বয়ে আমরা ধারণা করতে পারি যে, তিনি সম্ভবত মাঝে মাঝে সালাত শেষে দুআ-মুনাজাতের জন্য হাত তুলতেন বা নফল সালাতে দুআ করলে সালাত শেষে হাত তুলে দুআ করতেন। এ সবই একা একা হাত তুলে দুআ করার বিষয়ে। ফরয নামাযের পরে মুক্তাদীদেরকে নিয়ে সমবেতভাবে হাত তুলে বা হাত না তুলে দুআ তিনি কখনো করেননি। এ বিষয়ে কারো কোনো দ্বিমত আছে বলে আমাদের জানা নেই। (৩) উপস্থিত সকলেই সমবেতভাবে জামাতে যিক্র ও মুনাজাত করা। নামাযের পরে জামাতবদ্ধ মুনাজাত গত কয়েকশত বৎসর যাবৎ চালু হয়েছে। তাতে কোনো প্রকারের ফযীলত আছে বলে আমি জানতে পারি নি। রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবীগণের যুগে এইরূপ মুনাজাতের প্রচলন ছিল না বিধায় কোনো কোনো আলিম একে বিদআত বলেছেন। আমরা জানি যে, নামাযের পরে মুনাজাত করা ও মুনাজাতে হাত উঠানোর ফযীলত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। একাকী মুনাজাত করলে এই দুইটি ফযীলতই পলিত হয়। সমবেতভাবে মুনাজাত করার কোনো ফযীলত হাদীসে উল্লেখ করা হয় নি। এক্ষেত্রে আমাদের আশা হলো, একজন মুনাজাত করবেন এবং সমবেত সকলেই আমিন বলবেন, এতে হয়ত আল্লাহ সকলের আবেদনে মুনাজাতটি কবুল করবেন। এ জন্য অবশ্যই ইমামকে জোরে জোরে সবাইকে শুনিয়ে মুনাজাত করতে হবে। এতে মাসবূক মুসাল্লীদের নামায আদায় বিঘিত হবে। আর ইমাম যদি মনে মনে মুনাজাত করেন তবে তো কিছুই হলো না। ইমাম একাকী মুনাজাত করলেন। মুক্তাদিগণ কিছুই না করে হাত তুললেন ও নামালেন। পক্ষান্তরে একাকী মুনাজাত করলে নিজের মনের আবেগ ও প্রয়োজন অনুসারে মুনাজাত করা যায়। এতে মুনাজাতের ফযীলত ও মূল উদ্দেশ্য পুরোপুরি সাধিত হয়, কিন্তু কারো নামাযের ক্ষতি হয় না। এভাবে আমরা বুঝতে পারছি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাতই উত্তম। কিন্তু আমরা বিষয়টিকে উল্টে ফেলেছি। তাছাড়া রাসূল সাঃ পরের যুগগুলিতেও সাহাবী, তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীগণের যুগেও কেউ কখনো ফরয নামাযের পরে সমবেতভাবে হাত তুলে মুনাজাত করেননি। তাঁরা সুযোগ পেলে এই সময়ে ব্যক্তিগতভাবে যিক্র ও মুনাজাত করতেন। ) হাদীস থেকে বুঝা যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) যিকর ও মুনাজাত একাকী পালন করতেন। জামাতে উপস্থিত সাহাবীগণের সাথে একত্রে তা আদায় করতেন না। কখনোই সাহাবীগণ নামাযের পরের মুনাজাতে তাঁর সাথে শরীক হয়েছেন বলে বর্ণিত হয় নি। প্রায় অর্ধ শত সাহাবী থেকে বর্ণিত মুতাওয়াতির পর্যায়ের হাদীসগুলির একটি হাদীসেও বর্ণিত হয় নি যে, একদিন একটি বারও তিনি মুক্তাদিগণের সাথে একত্রে মুনাজাত করেছেন। পক্ষান্তরে সাধারণ ফযীলত জ্ঞাপক হাদীসের আলোকে অনেক আলিম একে সমর্থন করেছেন। তাঁরা এই জামাতবদ্ধ মুনাজাত-কে মুস্তাহাব বলেছেন। চার ইমাম ও পূর্ববর্তী সকল ফকীহ বলেছেন যে সালামের মাধ্যমে নামায শেষ হয়ে যায়। হাদীস শরীফেও বলা হয়েছে যে তাকবীর দিয়ে সালাত শুরু এবং সালামেই সালাত শেষ। এগুলির সাথে সঙ্গতি রক্ষার জন্য তাঁরা বলেছেন যে, এই মুনাজাত নামাযের কোনো অংশ নয়। নামাযের পরে অতিরিক্ত একটি মুস্তাহাব কাজ। নামায সালামের সাথে সাথেই শেষ হয়ে যায়, তবে কেউ যদি এর পরে অন্য কোনো মুস্তাহাব কাজ করে তাহলে দোষ নেই। এখানে মূল হলো মনের আবেগসহ মাসনূন মুনাজাতগুলি পালন করা। নামাযের পরে মুনাজাতের ক্ষেত্রে একাকী মুনাজাতই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রীতি। এছাড়া মনোযোগ আনয়ন ও মাসনূন বাক্য পালনের জন্যও একাকী মুনাজাত উত্তম। জামাতে ইমামের সাথেও মুনাজাত করা যেতে পারে। তবে সদাসর্বদা এইরূপ জামাতবদ্ধ মুনাজাত করা, একে জরুরী মনে করা বা তা পরিত্যাগকারীকে খারাপ মনে করা খুবই অন্যায়। আল্লাহ আমাদেরকে সহীহ বুঝ দান করুন । আমীন। এব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানতে ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত মুনাজাত ও নামাজ বইটি পড়ার জন্য অনুরোধ করছি।
প্রশ্নঃ 28
tabij babohar kora ki shirk? kara tabij babohar korta parba?
20 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া ওয়া রহমাতুল্লাহ।

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এপ্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়ে নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হল। আশা করি তাতে আপনি আপনার উত্তর খুঁজে পাবেন। ইসলাম আমাদেরকে এমন একটি জীবন পদ্ধতি প্রদান করেছে যে, যদি কোনো মানুষ ইসলামের এ নিয়মগুলো ন্যূনতমভাবেও মেনে চলে তবে সাধারণভাবে সে সুস্বাস্থ্য লাভ ও রক্ষা করতে পারবে। পরিমিত পানাহার, পরিচ্ছন্নতা, অলসতা, অশ্লীলতা ও পাপ বর্জন, পরিমিত পরিশ্রম, বিশ্রাম, বিনোদন, ঘুম, স্বাস্থ্য সতর্কতা, পরিবার ও অন্যান্য মানুষের অধিকার পালন, নিয়মিত ইবাদত ও যিকর-দুআর মাধ্যমে আমরা দৈহিক ও মানসিক সুস্থতাময় একটি সুন্দর ভারসাম্যপূর্ণ জীবন লাভ করতে পারি। এরপরও রোগব্যাধি বা অসুস্থতা আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নিজেদের বা আপনজনদের অসুস্থতা আমাদের প্রায়ই আক্রান্ত করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অসুস্থতার কারণ আমাদের অনিয়ম বা অন্যায়। তবে অনেক সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা হিসেবেও মানুষ সাময়িক রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে। অসুস্থতার সাথে দুআ ও যিকরের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। সুস্থতা অর্জনে চিকিৎসার পাশাপাশি দুআর কার্যকরিতা পরীক্ষিত। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকগণ অপারগ হওয়ার পর দুআর মাধ্যমে মানুষ সুস্থতা লাভ করেন। বিশেষত জিন বা যাদু সংশ্লিষ্ট অসুস্থতা এবং মানসিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে যিকর ও দুআর উপরেই নির্ভর করা হয়। এক্ষেত্রে কুসংস্কার, অস্পষ্টতা ও সঠিক জ্ঞানের অভাবে অনেক মুমিন শিরক ও অন্যান্য পাপে জড়িয়ে পড়েন। এজন্য এখানে এ বিষয়ক কয়েকটি মূলনীতি অতি সংক্ষেপে উল্লেখ করছি।

১. অসুস্থতার মধ্যেও মুমিনের কল্যাণ অসুস্থতার ক্ষেত্রে মুমিনের সর্বপ্রথম করণীয় অস্থিরতা ও হতাশা থেকে অন্তরকে মুক্ত রাখা। মুমিন বিশ্বাস করেন যে, সকল বিপদ, কষ্ট মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ঈমানী পরীক্ষা, গোনাহের ক্ষমা বা মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য আসে। আমরা দেখেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা যে, মুমিন দেহ, মন, সম্পদ ও পরিজনের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সুস্থতার জন্য সকল প্রকারের সতর্কতা ও নিয়মনীতি পালন করবেন। পাশাপাশি তিনি সর্বদা সর্বান্তকরণে সার্বক্ষণিক সুস্থতা ও সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য দুআ করবেন। এরপরও কোনো রোগব্যধিতে আক্রান্ত হলে বা কোনোরূপ বিপদাপদে নিপতিত হলে তাকে নিজের জন্য কল্যাণকর বলে সাধ্যমত প্রশান্তির সাথে গ্রহণ করবেন। দ্রুতই অসুস্থতা বা বিপদ কেটে যাবে বলে প্রত্যয়ের সাথে বিশ্বাস করবেন। জাগতিক জীবনের সামান্য কয়েক দিনের একটু কষ্টের পরীক্ষায় ধৈর্য ও প্রশান্তির মাধ্যমে মহান আল্লাহর অফুরন্ত রহমত, প্রেম ও অনন্ত জীবনের অভাবনীয় মর্যাদা লাভ করা মুমিনের জন্য বড় নিয়ামত বলে গণ্য। অধৈর্য মূল অসুস্থতা বা বিপদের কষ্ট কমায় না। উপরন্তু অধৈর্যজনিত হতাশা, অস্থিরতা ও বিলাপের কারণে কষ্ট বৃদ্ধি পায়, মুমিন অফুরন্ত সাওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়ে পাপে নিপতিত হয়। সর্বোপরি হতাশা ও অস্থিরতার কারণে বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়। পক্ষান্তরে ধৈর্য ও সাওয়াবের আশা মূল বিপদের কষ্ট না কমালেও কষ্টকে সহনীয় করে তোলে, মুমিন অফুরন্ত সাওয়াব ও বরকত লাভ করেন এবং বিপদ থেকে বের হওয়ার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়। মহান আল্লাহ বলেন:

وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ

আমি তোমাদেরকে কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা অবশ্যই পরীক্ষা করব। আপনি সুসংবাদ প্রদান করুন ধৈর্যশীলদের, যারা তাদের উপর বিপদ আসলে বলে, আমরা তো আল্লাহ্রই এবং নিশ্চিতভাবে তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্র্তনকারী। এরাই তো তারা যাদের প্রতি তাদের রবের কাছ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ এবং রহমত বর্ষিত হয়, আর এরা সৎপথে পরিচালিত। আবূ হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُصِبْ مِنْهُ আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে কিছু বিপদ-কষ্ট প্রদান করেন। সুহাইব (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেন:

عَجَبًا لأَمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ وَلَيْسَ ذَاكَ لأَحَدٍ إِلاَّ لِلْمُؤْمِنِ إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ

মুমিনের বিষয়টি বড়ই আজব! তার সকল অবস্থাই তার জন্য কল্যাণকর। মুমিন ছাড়া অন্য কেউই এ অবস্থা অর্জন করতে পারে না। যদি সে আনন্দ-কল্যাণ লাভ করে তবে সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং এর ফলে সে কল্যাণ লাভ করে। আর যদি সে বিপদ-কষ্টে পতিত হয় তবে সে ধৈর্য্যধারণ করে এবং এভাবে সে কল্যাণ লাভ করে। আবূ সাঈদ খুদরী ও আবূ হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেন:

مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبٍ وَلا وَصَبٍ وَلا هَمٍّ وَلا حُزْنٍ وَلا أَذًى وَلا غَمٍّ حَتَّى الشَّوْكَةِ يُشَاكُهَا إِلاَّ كَفَّرَ اللَّهُ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ

যে কোনো ক্লান্তি, অসুস্থতা, দুশ্চিন্তা, মনোবেদনা, কষ্ট, উৎকণ্ঠা যাই মুসলিমকে স্পর্শ করুক না কেন, এমনকি যদি একটি কাঁটাও তাকে আঘাত করে, তবে তার বিনিময়ে আল্লাহ তার গোনাহ থেকে কিছু ক্ষমা করবেন। আবূ হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জ্বর সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। তখন এক ব্যক্তি জ্বরকে গালি দেয় বা জ্বর সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করে। তখন রাসূলুল্লাহ সা. বলেন:

لا تَسُبَّهَا فَإِنَّهَا تَنْفِي الذُّنُوبَ كَمَا تَنْفِي النَّارُ خَبَثَ الْحَدِيدِ

তুমি জ্বর সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করো না; কারণ আগুন যেমন লোহার ময়লা দূর করে তেমনি জ্বর পাপ দূরীভূত করে। হাদীসটি সহীহ। আবূ মূসা আশআরী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেন:

إِذَا مَرِضَ الْعَبْدُ أَوْ سَافَرَ، كُتِبَ لَهُ مِثْلُ مَا كَانَ يَعْمَلُ مُقِيمًا صَحِيحًا

মানুষ সুস্থ অবস্থায় নিজ বাড়ি বা শহরে অবস্থান কালে যত নেক আমল করে তার অসুস্থতা বা সফরের অবস্থায়ও তার আমলনামায় অনুরূপ সাওয়াব লেখা হয়। রোগমুক্তি আমাদের কাম্য। এরপরও অনেক সময় মুমিন অসুস্থতার অফুরন্ত সাওয়াবের দিকে তাকিয়ে দুনিয়ার অস্থায়ী অসুস্থতাকেই বেছে নেন। তাবিয়ী আতা বলেন, আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) আমাকে বলেন:

أَلا أُرِيكَ امْرَأَةً مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ قُلْتُ بَلَى قَالَ هَذِهِ الْمَرْأَةُ السَّوْدَاءُ (امْرَأَةٌ طَوِيلَةٌ سَوْدَاءُ عَلَى سِتْرِ الْكَعْبَةِ) أَتَتْ النَّبِيَّ r فَقَالَتْ إِنِّي أُصْرَعُ وَإِنِّي أَتَكَشَّفُ فَادْعُ اللَّهَ لِي قَالَ إِنْ شِئْتِ صَبَرْتِ وَلَكِ الْجَنَّةُ وَإِنْ شِئْتِ دَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُعَافِيَكِ فَقَالَتْ أَصْبِرُ فَقَالَتْ إِنِّي أَتَكَشَّفُ فَادْعُ اللَّهَ لِي أَنْ لا أَتَكَشَّفَ فَدَعَا لَهَا

আমি কি তোমাকে একজন জান্নাতী মহিলা দেখাব না? আমি বললাম: হ্যাঁ, অবশ্যই দেখাবেন। তিনি বলেন: এ কাল মহিলা (কাবা ঘরের গিলাফ সংলগ্ন লম্বা কাল এ মহিলা)। সে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট এসে বলে, হে আল্লাহর রাসূল, আমি অজ্ঞান হয়ে যায় (মুর্ছারোগ/মৃগীরোগ আক্রান্ত) এবং অচেতন অবস্থায় আমার কাপড়চোপড় সরে যায়। আল্লাহর কাছে আমার জন্য দুআ করুন। রাসূলুল্লাহ সা. বলেন: তুমি যদি চাও তবে ধৈর্য ধারণ কর, তাহলে তুমি জান্নাত লাভ করবে। আর তুমি যদি চাও তবে আমি তোমার জন্য আল্লাহর কাছে সুস্থতার দুআ করব। তখন মহিলা বলেন, আমি ধৈর্য ধরব; তবে অচেতন অবস্থায় আমার কাপড় সরে যায়, আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন যেন আমার কাপড় সরে না যায়। তখন তিনি তার জন্য দুআ করেন। এখানে রাসূলুল্লাহ (সা.) এ মহিলাকে দুনিয়ার সাময়িক কষ্টের বিনিময়ে জান্নাতের উচ্চ মর্যাদ লাভের জন্য উৎসাহ দেন এবং মহিলাও সে পরামর্শ গ্রহণ করেন। তবে বিষয়টি ইচ্ছাধীন; কোনো মুমিন যদি ঈমানের এরূপ শক্তি অনুভব না করেন, অথবা সুস্থতার মাধ্যমে অন্যান্য ইবাদত করার সুদৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করেন তবে তিনি অবশ্যই চিকিৎসার চেষ্টা করবেন। সর্বাবস্থায় হতাশা বা অতীত নিয়ে মনোকষ্ট অনুভব করা যাবে না। কখনোই মনে করা যাবে না যে, যদি আমি এরূপ করতাম তাহলে হয়ত এরূপ হতো, অথবা এরূপ না করলে হয়ত এরূপ হতো না। এ ধরনের আফসোস মুমিনের জন্য নিষিদ্ধ। বিপদ এসে যাওয়ার পর মুমিন আর অতীতকে নিয়ে আফসোস করবেন না। বরং আল্লাহর সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। রাসূলুল্লাহ সা. এভাবেই নির্দেশনা দিয়েছেন। ২. চিকিৎসা ও ঝাড়ফুঁক অসুস্থতার ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিতীয় দায়িত্ব চিকিৎসার চেষ্টা করা। বিভিন্ন হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বারবার চিকিৎসার নির্দেশ ও উৎসাহ প্রদান করেছেন, ঝাড়ফুঁক অনুমোদন করেছেন এবং তাবিজ-তাগা ইত্যাদি নিষেধ করেছেন। এক হাদীসে উসামা ইবন শারীক (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেন:

يَا عِبَادَ اللَّهِ تَدَاوَوْا فَإِنَّ اللَّهَ لَمْ يَضَعْ دَاءً إِلاَّ وَضَعَ لَهُ شِفَاءً أَوْ قَالَ دَوَاءً إِلاَّ دَاءً وَاحِدًا .... الْهَرَمُ

হে আল্লাহর বান্দাগণ, তোমরা ঔষধ ব্যবহার কর। আল্লাহ যত রোগ সৃষ্টি করেছেন সকল রোগেরই ঔষধ সৃষ্টি করেছেন, একটিমাত্র ব্যধি ছাড়া ... সেটি বার্ধক্য। হাদীসটি হাসান সহীহ। অন্য হাদীসে জাবির (রা) বলেন, রাসূলূল্লাহ সা. বলেন:

لِكُلِّ دَاءٍ دَوَاءٌ فَإِذَا أُصِيبَ دَوَاءُ الدَّاءِ بَرَأَ بِإِذْنِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ

প্রত্যেক রোগেরই ঔষধ বিদ্যমান। যদি কোনো রোগের সঠিক ঔষধ প্রয়োগ করা হয় তবে আল্লাহর অনুমতিতে রোগমুক্তি লাভ হয়। এ অর্থে আবূ দারদা (রা), আবূ খুযামা (রা), কাইস ইবন মুসলিম (রা), আব্দুল্লাহ ইবন মাসঊদ (রা), আবূ হুরাইরা (রা) ও অন্যান্য সাহাবী থেকে বিভিন্ন সহীহ সনদে অনেকগুলো হাদীস বর্ণিত। চিকিৎসা গ্রহণ ও প্রদানের পাশাপাশি তিনি নিজে মাঝে মাঝে ঝাড়-ফুঁক প্রদান করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ব্যবহৃত বা অনুমোদিত কিছু দুআ আমরা পরবর্তী অনুচ্ছেদে উল্লেখ করব, ইনশা আল্লাহ। এছাড়া তিনি শিরকমুক্ত সকল দুআ ও ঝাড়ফুঁক অনুমোদন করেছেন। আউফ ইবন মালিক (রা) বলেন, আমরা জাহিলী যুগে ঝাড়ফুঁক করতাম। আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, এ সকল ঝাড়ফুঁকের বিষয়ে আপনার মত কী? তিনি বলেন

اعْرِضُوا عَلَيَّ رُقَاكُمْ لَا بَأْسَ بِالرُّقَى مَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ شِرْكٌ

তোমাদের ঝাড়ফুঁকগুলো আমার সামনে পেশ কর। যতক্ষণ না কোনো ঝাড়ফুঁকের মধ্যে শিরক থাকবে ততক্ষণ তাতে কোনো অসুবিধা নেই। জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রা) বলেন:

لَدَغَتْ رَجُلا مِنَّا عَقْرَبٌ وَنَحْنُ جُلُوسٌ مَعَ رَسُولِ اللَّه ِ rفَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرْقِي قَالَ مَنْ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَنْفَعَ أَخَاهُ فَلْيَفْعَلْ

আমরা রাসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট বসে ছিলাম। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তিকে একটি বিচ্ছু কামড় দেয়। তখন এক ব্যক্তি বলেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি একে ঝাড়ফুঁক প্রদান করব? তিনি বলেন: তোমাদের কেউ যদি তার ভাইয়ের উপকার করতে পারে তবে সে যেন তা করে। অন্য হাদীসে আয়েশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) তার ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় একজন মহিলা তাঁকে ঝাড়ফুঁক করছিলেন। তখন তিনি বলেন: عَالِجِيهَا بِكِتَابِ الله তাকে কুরআন দিয়ে চিকিৎসা-ঝাড়ফুঁক কর। হাদীসটি সহীহ। উপরের হাদীসগুলোর আলোকে আমরা দেখছি যে, ঝাড়ফুঁকের দুটি পর্যায় রয়েছে: মাসনূন ও জায়েয বা মুবাহ। আমরা ইতোপূর্বে সুন্নাত ও জায়েযের পার্থক্য জেনেছি। ঝাড়ফুঁক একদিকে দুআ হিসেবে ইবাদত। অন্যদিকে চিকিৎসা হিসেবে জাগতিক কর্ম। রাসূলুল্লাহ সা. যে সকল দুআ ব্যবহার করেছেন বা অনুমোদন করেছেন তা মাসনূন ঝাড়ফুঁক হিসেবে গণ্য। এছাড়া যে কোনো ভাষার শিরক-মুক্ত যে কোনো বাক্য বা কথা দ্বারা ঝাড়ফুঁক দেওয়া বৈধ বলে তাঁর নির্দেশনা থেকে আমরা জানতে পারি। মাসনূন ঝাড়ফুঁকের ক্ষেত্রে সর্বদা ফুঁক দেওয়া প্রমাণিত নয় এবং জরুরীও নয়। রাসূলুল্লাহ সা. কর্ম ও অনুমোদন থেকে আমরা দেখি যে, তিনি ঝাড়ফুঁক-এর ক্ষেত্রে কখনো শুধু মুখে দুআটি পাঠ করেছেন, ফুঁক দেন নি। কখনো তিনি দুআ পাঠ করে ফুঁক দিয়েছেন, কখনো লালা মিশ্রিত ফুঁক দিয়েছেন, কখনো ফুঁক দেওয়া ছাড়াই রোগীর গায়ে হাত দিয়ে দুআ পাঠ করেছেন, অথবা দুআ পাঠের সময়ে বা দুআ পাঠের পরে রোগীর গায়ে বা ব্যাথ্যার স্থানে হাত বুলিয়ে দিয়েছেন এবং কখনো ব্যাথা বা ক্ষতের স্থানে মুখের লালা বা মাটি মিশ্রিত লালা লাগিয়ে দুআ পাঠ করেছেন, অথবা তিনি এরূপ করতে শিক্ষা দিয়েছেন। সকল ক্ষেত্রে তিনি সশব্দে দুআ পাঠ করতেন বলেই প্রতীয়মান হয়। এজন্য ঝাড়ফুঁকের ক্ষেত্রে দুআটি জোরে বা সশব্দে পাঠ করাই সুন্নাত। ঝাড়ফুঁকের আয়াত বা দুআ সশব্দে পাঠের মাধ্যমে সুন্নাত পালন ছাড়াও অন্যান্য কল্যাণ বিদ্যমান। মনে মনে পড়লে অনেক সময় দ্রুততার আগ্রহে দুআর বাক্যগুলো বিশুদ্ধভাবে পড়া হয় না, আর সশব্দে পড়লে পাঠের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত হয়। এছাড়া রোগী ও উপস্থিত মানুষেরা আয়াত বা দুআ শ্রবণের বরকত লাভ করেন এবং তা নিজেরা শিখতে পারেন। আল্লাহর যিকর শ্রবণের মাধ্যমে রোগীর হৃদয়ের প্রশান্তি বাড়ে। সর্বোপরি শিরকযুক্ত বা দুর্বোধ্য-অবোধ্য দুআ পাঠের প্রবণতা রোধ হয়। কুরআনের আয়াত বা দুআ লিখে তা ধুয়ে পানি পান করার বিষয়ে সহীহ বা গ্রহণযোগ্য কোনো হাদীস পাওয়া যায় না। তবে সাহাবী ও তাবিয়ীগণের যুগ থেকে অনেক আলিম তা করেছেন। অধিকাংশ ফকীহ এরূপ করা জায়েয বলে গণ্য করেছেন। তবে শর্ত হলো পবিত্র কালি দিয়ে পবিত্র দ্রব্যে এরূপ আয়াত বা দুআ লিখে তা পানি দিয়ে ধুয়ে পান করা। গোসলের বিষয়ে অনেকে আপত্তি করেছেন। অনেকে মূল বিষয়টিকেই না-জায়েয বলে গণ্য করেছেন। পানি পড়া, তেল পড়া ইত্যাদি বিষয় সুন্নাতে পাওয়া যায় না। রাসূলুল্লাহ সা. রোগীকে ফুঁক দিয়েছেন বা রোগীর সামনে দুআ পাঠ করেছেন। দুআ পড়ে পানি, তেল, কালজিরা, মধু বা অন্য কিছুতে ফুঁক দিয়ে সেগুলো ব্যবহার করার কোনো নমুনা আমরা হাদীসে পাই না। তবে কোনো কোনো সাহাবী থেকে এরূপ কর্ম বর্ণিত। তাবিয়ীগণের যুগেও তা বহুল প্রচলিত ছিল। এজন্য প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের ফকীহগণ-সহ প্রায় সকল আলিম ও ফকীহ তা বৈধ বলেছেন। ৩. তাবিজ ও সূতা ঝাড়ফুঁক ও দুআর মাধ্যমে চিকিৎসা অনুমোদন করলেও তাবিজ, রশি, সুতা ইত্যাদির ব্যবহার রাসূলুল্লাহ সা. বারবার নিষেধ করেছেন। এক হাদীসে উকবা ইবনু আমির আল-জুহানী (রা) বলেন,

أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ r أَقْبَلَ إِلَيْهِ رَهْطٌ فَبَايَعَ تِسْعَةً وَأَمْسَكَ عَنْ وَاحِدٍ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ بَايَعْتَ تِسْعَةً وَتَرَكْتَ هَذَا قَالَ إِنَّ عَلَيْهِ تَمِيمَةً فَأَدْخَلَ يَدَهُ فَقَطَعَهَا فَبَايَعَهُ وَقَالَ مَنْ عَلَّقَ تَمِيمَةً فَقَدْ أَشْرَكَ

একদল মানুষ রাসূলুল্লাহ সা. -এর কাছে আগমন করেন। তিনি তাদের নয় জনের বাইয়াত গ্রহণ করেন এবং একজনের বাইয়াত গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। তারা বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি নয় জনের বাইয়াত গ্রহণ করলেন কিন্তু একে পরিত্যাগ করলেন? তিনি বলেন, এর দেহে একটি তাবিজ আছে। তখন তিনি তার হাত ঢুকিয়ে তাবিজটি ছিড়ে ফেলেন। এরপর তিনি তার বাইয়াত গ্রহণ করেন এবং বলেন: যে তাবিজ ঝুলালো সে শিরক করল। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা)-এর স্ত্রী যাইনাব (রা) বলেন,

انَ عَبْدُ اللَّهِ إِذَا جَاءَ مِنْ حَاجَةٍ فَانْتَهَى إِلَى الْبَابِ تَنَحْنَحَ ... وَإِنَّهُ جَاءَ ذَاتَ يَوْمٍ فَتَنَحْنَحَ قَالَتْ وَعِنْدِي عَجُوزٌ تَرْقِينِي مِنْ الْحُمْرَةِ فَأَدْخَلْتُهَا تَحْتَ السَّرِيرِ فَدَخَلَ فَجَلَسَ إِلَى جَنْبِي فَرَأَى فِي عُنُقِي خَيْطًا قَالَ مَا هَذَا الْخَيْطُ قَالَتْ قُلْتُ خَيْطٌ أُرْقِيَ لِي فِيهِ قَالَتْ فَأَخَذَهُ فَقَطَعَهُ ثُمَّ قَالَ إِنَّ آلَ عَبْدِ اللَّهِ لأَغْنِيَاءُ عَنْ الشِّرْكِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ r يَقُولُ: إِنَّ الرُّقَى وَالتَّمَائِمَ وَالتِّوَلَةَ شِرْكٌ قَالَتْ قُلْتُ لِمَ تَقُولُ هَذَا وَاللَّهِ لَقَدْ كَانَتْ عَيْنِي تَقْذِفُ وَكُنْتُ أَخْتَلِفُ إِلَى فُلانٍ الْيَهُودِيِّ يَرْقِينِي فَإِذَا رَقَانِي سَكَنَتْ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ إِنَّمَا ذَاكَ عَمَلُ الشَّيْطَانِ كَانَ يَنْخُسُهَا بِيَدِهِ فَإِذَا رَقَاهَا كَفَّ عَنْهَا إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكِ أَنْ تَقُولِي كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ r يَقُولُ: أَذْهِبْ الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسِ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لا شِفَاءَ إِلا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لا يُغَادِرُ سَقَمًا

ইবনু মাসঊদ (রা) যখন বাড়িতে আসতেন তখন আওয়াজ দিয়ে আসতেন। ... একদিন তিনি এসে আওয়াজ দিলেন।তখন আমার ঘরে একজন বৃদ্ধা আমাকে ঝাড়ফুঁক করছিল। আমি বৃদ্ধাকে চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখি। ইবনু মাসঊদ (রা) ঘরে ঢুকে আমার পাশে বসেন। এমতাবস্থায় তিনি আমার গলায় একটি সুতা দেখতে পান। তিন বলেন, এ কিসের সুতা? আমি বললাম, এ ফুঁক দেওয়া সুতা। যাইনাব বলেন, তখন তিনি সুতাটি ধরে ছিড়ে ফেলেন এবং বলেন, আব্দুল্লাহর পরিবারের শিরক করার কোনো প্রয়োজন নেই। আমি রাসূলুল্লাহ সা.-কে বলতে শুনেছি: ঝাড়-ফুঁক, তাবীজ-কবজ এবং মিল-মহব্বতের তাবীজ শিরক। যাইনাব বলেন, তখন আমি আমার স্বামী ইবনু মাসঊদকে বললাম, আপনি এ কথা কেন বলছেন? আল্লাহর কসম, আমার চক্ষু থেকে পানি পড়ত। আমি অমুক ইহূদীর কাছে যেতাম। সে যখন ঝেড়ে দিত তখন চোখে আরাম বোধ করতাম। তখন ইবনু মাসঊদ (রা) বলেন: এ হলো শয়তানের কর্ম। শয়তান নিজ হাতে তোমার চক্ষু খোচাতে থাকে। এরপর যখন ফুঁক দেওয়া হয় তখন সে খোচানো বন্ধ করে। তোমার জন্য তো যথেষ্ট ছিল যে, রাসূলুল্লাহ সা. যা বলতেন তা বলবে। তিনি বলতেন: অসুবিধা দূর করুন, হে মানুষের প্রতিপালক, সুস্থতা দান করুন, আপনিই শিফা বা সুস্থতা দানকারী, আপনার শিফা (সুস্থতা প্রদান বা রোগ নিরাময়) ছাড়া আর কোনো শিফা নেই, এমনভাবে শিফা বা সুস্থতা দান করুন যার পরে আর কোনো অসুস্থতা-রোগব্যাধি অবশিষ্ট থাকবে না। তাবিয়ী ঈসা ইবনু আবি লাইলা বলেন,

دخلنا على عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُكَيْمٍ وَهُوَ مَرِيضٌ نَعُودُهُ فَقِيلَ لَهُ لَوْ تَعَلَّقْتَ شَيْئًا فَقَالَ أَتَعَلَّقُ شَيْئًا وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ r مَنْ تَعَلَّقَ شَيْئًا وُكِلَ إِلَيْهِ

আমরা সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনু উকাইম আবূ মাবাদ জুহানীকে (রা) অসুস্থ অবস্থায় দেখতে গেলাম। আমরা বললাম, আপনি কোনো তাবিজ ব্যবহার করেন না কেন? তিনি বলেন: আমি তাবিজ নেব? অথচ রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: যদি কেউ দেহে (তাবিজ জাতীয়) কোনো কিছু লটকায় তবে তাকে উক্ত তাবিজের উপরেই ছেড়ে দেওয়া হয়। হাদীসটি হাসান। তাবিয়ী উরওয়া ইবনুয যুবাইর বলেন:

دَخَلَ حُذَيْفَةُ t عَلَى مَرِيْضٍ فَرَأَى فِيْ عَضُدِهِ سَيْراً فَقَطَعَهُ أَو انْتَزَعَهُ ثُمَّ قَالَ: وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللهِ إِلاَّ وَهُمْ مُشْرِكُوْنَ

সাহাবী হুযাইফা (রা) একজন অসুস্থ মানুষকে দেখতে যান। তিনি লোকটির বাজুতে একটি রশি দেখতে পান। তিনি রশিটি কেটে দেন বা টেনে ছিড়ে ফেলেন এবং বলেন : অধিকাংশ মানুষই আল্লাহর উপর ঈমান আনে এবং তারা শিরকে লিপ্ত থাকে। আবূ বাশীর আনসারী (রা) বলেন, আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহ সা.-এর সাথে ছিলাম। মানুষেরা সবাই যখন বিশ্রামরত ছিল তখন তিনি এক দূত পাঠিয়ে ঘোষণা করেন:

لا يَبْقَيَنَّ فِي رَقَبَةِ بَعِيرٍ قِلادَةٌ مِنْ وَتَرٍ أَوْ قِلادَةٌ إِلاَّ قُطِعَتْ

কোনো উটের গলায় কোনো রশি, ধনুকের রশি  বা মালা থাকলে তা অবশ্যই কেটে ফেলতে হবে। ইমাম মালিক হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন: বদ-নযর থেকে রক্ষা পেতে এরূপ সুতা ব্যবহার করা হতো। রুআইফি ইবন সাবিত (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. আমাকে বলেন:

يَا رُوَيْفِعُ لَعَلَّ الْحَيَاةَ سَتَطُولُ بِكَ بَعْدِي فَأَخْبِرْ النَّاسَ أَنَّهُ مَنْ عَقَدَ لِحْيَتَهُ أَوْ تَقَلَّدَ وَتَرًا أَوْ اسْتَنْجَى بِرَجِيعِ دَابَّةٍ أَوْ عَظْمٍ فَإِنَّ مُحَمَّدًا r مِنْهُ بَرِيءٌ

হে রুআইফি, হয়ত তুমি আমার পরেও জীবিত থাকবে। তুমি মানুষদেরকে জানাবে যে, যদি কোনো ব্যক্তি তার দাড়ি বক্র করে বা গিট দেয়, সুতা, রশি বা ধনুকের রশি লটকায় অথবা গোবর বা হাড় দিয়ে ইসতিনজা করে তবে আমার সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। হাদীসটি সহীহ। কূফার প্রসিদ্ধ তাবিয়ী ফকীহ ইবরাহীম নাখয়ী বলেন:

كَانُوا يَكْرَهُونَ التَّمَائِمَ كُلَّهَا ، مِنَ الْقُرْآنِ وَغَيْرِ الْقُرْآنِ

তাঁরা (সাহাবীগণ) সকল তাবিজই মাকরূহ বা অপছন্দনীয় বলে গণ্য করতেন, কুরআনের তাবিজ হোক আর কুরআন ছাড়া অন্য কিছু হোক। এ সকল হাদীস থেকে জানা যায় যে, লিখিত কোনো কাগজ বা দ্রব্য তাবিজ হিসেবে লটকানো, দুআ বা মন্ত্রপূত কোনো সুতা শরীরে ব্যবহার, সাধারণ কোনো সুতা বদ-নযর কাটাতে মানুষ বা প্রাণীর দেহে লটকানো বা মনোবাসনা পূরণ করতে কোথাও সুতা বাঁধা বা লটকে রাখ সবই নিষিদ্ধ ও শিরক। এ বিষয়ক একটি অতি প্রাচীন শিরক মনোবাসনা পূরণের জন্য ইচ্ছা বা নিয়েত (রিংয) করে সুতা বেঁধে রাখা। বিশ্বের সকল দেশেই এরূপ কর্ম দেখা যায়। কোনো গাছ, মূর্তি, মন্দির, মাযার, দরগা, জলাশয় বা অনুরূপ স্থানে মনোবাঞ্চনা প্রকাশ করে (রিংয করে) সুতা বাঁধা, টাকা ফেলা, নাম বা ইচ্ছা লিখে কাগজ লিখে রাখা ইত্যাদি এ জাতীয় শিরক। আরবের কাফিরদের মধ্যেও এরূপ কর্ম প্রচলিত ছিল। এর একটি দিক ছিল তারা যাত আনওয়াত নামক একটি বৃক্ষে তাদের অস্ত্রাদি টাঙিয়ে রেখে দিত। এ প্রসঙ্গে আবু ওয়াকিদ লাইসি (রা) বলেন: মক্কা বিজয়ের পরে আমরা রাসূলুল্লাহ সা. -এর সাথে হুনাইনের যুদ্ধের জন্য যাত্রা করি। তখন আমরা নও মুসলিম। চলার পথে তিনি মুশরিকদের একটি (বরই) গাছের কাছ দিয়ে যান, যে গাছটির নাম ছিল যাত আনওয়াত। মুশরিকগণ এ গাছের কাছে বরকতের জন্য ভক্তিভরে অবস্থান করত এবং তাদের অস্ত্রাদি বরকতের জন্য ঝুলিয়ে রাখত। আমাদের কিছু মানুষ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, মুশরিকদের যেমন যাতু আনওয়াত আছে আমাদেরও অনুরূপ একটি যাতু আনওয়াত নির্ধারণ করে দেন। তখন রাসূলুল্লাহ সা. বললেন,

سُبْحَانَ اللَّهِ هَذَا كَمَا قَالَ قَوْمُ مُوسَى اجْعَلْ لَنَا إِلَهًا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتَرْكَبُنَّ سُنَّةَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ

সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর কসম, মূসার কওম যেরূপ বলেছিল: মুশরিকদের মূর্তির মতো আমাদেরও মূর্তির দেবতা দাও, তোমরাও সেরূপ বললে। যাঁর হাতে আমার জীবন তাঁর কসম, তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের সুন্নাত (শিরক ও অবক্ষয়ের পথ ও পদ্ধতি) অনুসরণ করবে। হাদীসটি সহীহ। মুসলিম, হিন্দু, খৃস্টান ও সকল ধর্মের অনুসারীদের মধ্যেই এ শিরক প্রচলিত। চার্চ, মন্দির বা দরগার খাদিমগণ দুবার সেখানে যাওয়ার রীতি প্রচলন করে থাকেন। একবার মনোবাঞ্চনা বলে সুতা বেঁধে আসতে হবে। এরপর বাসনা পূর্ণ হলে দ্বিতীয়বার যে কোনো একটি সুতা খুলে আসতে হবে। এভাবে ভক্ত দুবারই কিছু হাদিয়া-নৈবদ্য নিয়ে যান। এতে পুরোহিত বা খাদিমগণ উপকৃত হন। আলিম ও ফকীগণ তাবিজের বিষয়ে কিছু মতভেদ করেছেন। তাঁদের মতে তাবিজ দু প্রকারের। প্রথমত: যে তাবিজে দুর্বোধ্য বা অবোধ্য কোনো নাম, শব্দ বা বাক্য, কোনো প্রকারের বৃত্ত, দাগ, আঁক অথবা বিভিন্ন সংখ্যা লেখা হয়। এগুলির সাথে অনেক সময় কুরআনের আয়াত বা হাদীস লেখা হয়। এ প্রকারের তাবিজ ফকীহগণের সর্বসম্মত মতে হারাম। এগুলোতে শিরক থাকার সম্ভাবনা খুবই বেশি। কারণ এ সকল দুর্বোধ্য নাম, শব্দ, দাগ বা সংখ্যা শয়তানের নাম, প্রতীক বা শয়তানকে সন্তুষ্ট করার জন্য ব্যবহৃত বলেই বুঝা যায়। তা না হলে এ সকল অর্থহীন বিষয় তাবিজে সংযুক্ত করার দরকার কী? দ্বিতীয় প্রকারের তাবিজ যে তাবিজে কুরআনের আয়াত, হাদীসের বাক্য অথবা সুস্পষ্ট অর্থের শিরকমুক্ত কোনো বাক্য লিখে দেওয়া হয়। এ ধরনের তাবিজ ব্যবহার কোনো কোনো সাহাবী-তাবিয়ী ও পরবর্তী অনেক আলিম ও ফকীহ জায়েয বলেছেন। তাঁরা তাবিজকে ঝাড়ফুঁকের মত একই বিধানের বলে গণ্য করেছেন। বিশেষত অমুসলিম গণক, সন্যাসী ও কবিরাজদের সুস্পষ্ট শিরক থেকে মুসলিমদেরকে রক্ষা করতে কুরআন ও হাদীসের দুআ দিয়ে তাবিজ ব্যবহার অনেক প্রসিদ্ধ আলিম বৈধ বলে গণ্য করেছেন। অন্যান্য অনেক আলিম দ্বিতীয় প্রকারের তাবিজকেও হারাম বলে গণ্য করেছেন। তাঁরা বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবীগণের হাদীসগুলোতে এরূপ কোনো পার্থক্য ছাড়াই তাবিজ ব্যবহার নিষেধ করা হয়েছে। ঝাড়ফুঁকের ক্ষেত্রে যেরূপ অনুমোদন তিনি প্রদান করেছেন সেরূপ কোনো অনুমোদন তাবিজের ক্ষেত্রে কোনো হাদীসে পাওয়া যায় না। কাজেই কুরআন, হাদীস বা সুস্পষ্ট অর্থবোধক শিরকমুক্ত বাক্য দ্বারা ঝাড়ফুঁক বৈধ হলেও এগুলো দ্বারা তাবিজ ব্যবহার বৈধ নয়। সামগ্রিক বিবেচনায় তাবিজ ব্যবহার বর্জন করা এবং শুধু ঝাড়ফুঁক ও দুআর উপর নির্ভর করাই মুমিনের জন্য উত্তম ও নিরাপদ। কারণ: (১) এতে শিরকে নিপতিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে নিরাপত্তা পাওয়া যায়। যে বিষয়টি শিরক অথবা জায়েয হতে পারে তা বর্জন করা নিরাপদ।

(২) রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবীগণের সুন্নাত পালন করা হয়। তাঁরা ঝাড়ফুঁক করেছেন, কিন্তু তাবিজ ব্যবহার করেছেন বলে সহীহ বর্ণনা নেই।

(৩) ঝাড়ফুঁক ও দুআর মাধ্যমে মুমিনের সাথে আল্লাহর সম্পর্ক গভীর হয়। মুমিন নিজে কুরআনের আয়াত বা দুআ পাঠ করেন অথবা শুনেন। এতে অফুরন্ত সাওয়াব ছাড়াও আল্লাহর যিকরের মাধ্যমে আত্মার শক্তি অর্জিত হয়, যা জিন, যাদু ও মনোদৈহিক রোগ দূরীকরণে খুবই সহায়ক। ঝাড়ফুঁক বা দুআর অর্থ চিকিৎসা পরিত্যাগ নয়। যেহেতু চিকিৎসা গ্রহণ সুন্নাতের বিশেষ নির্দেশনা সেহেতু চিকিৎসার পাশাপাশি দুআ করতে হবে। দুআর মাধ্যমে সঠিক ঔষধ প্রয়োগের তাওফীক লাভ হতে পারে। আল্লাহ আমাদেরকে সর্বক্ষেত্রে কল্যাণ দান করুন। আমীন। আরো বিস্তারিত জানতে ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত রাহে বেলায়াত বইটি পড়ার জন্য অনুরোধ করছি।

প্রশ্নঃ 2
একদিন জুমার নামাজের সময় ইমাম সাহেব ভুল করেন, সাথে সাথে কিছু মুসল্লী তকবির দেয় এবং ইমাম সাহেব শেষ বৈঠকে সেজদাহে সাহু দিয়ে দিয়ে নামাজ শেষ করেন। কিন্তু সালাম ফিরানোর পরে কিছু মুসল্লী নামাজ দ্বিতীয় বার পড়তে জোর করে এবং ইমাম তাদের কথায় দ্বিতীয় বার নামাজ পড়ান। আমি দ্বিতীয় বার নামাজ পড়ি নাই।
04 Dec 2025
ভুল হলে সাজদায়ে সাহু দিলে নামায সহীহ হবে। সুতরাং নতুন করে আর পড়ার দরকার নেই। ইমাম সাহেবে সাথে জোরাজুরি করা ঠিক হয় নি।
প্রশ্নঃ 27
সপ্তম দিনের আগে কি আকিকা দেওয়া যাবে?
20 Dec 2025

প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে আল্লাহ আপনাকে উত্তম জাযা দান করুন। উল্লেখিত বিষয়ে কিঞ্চিত আলোচনা করা হল। আশাকরি আপনি তাতে আপনার উত্তর খুঁজে পাবেন, ইনশাল্লাহ। উলামায়ে কেরাম এব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন যে, শিশুর জন্মের ৭ ম দিনে আকীকা দেয়া সুন্নাত। ছেলের পক্ষথেকে ২ টি ছাগল এবং মেয়ের পক্ষ থেকে ১ টি ছাগল। এপ্রসঙ্গে আয়শা রাঃ থেকে বর্ণীত একটি হাদীসে রাসূল সাঃ বলেন:

عن الغلام شاتان مكافئتان وعن الجارية شاة

অর্থঃ ছেলে সন্তানের পক্ষ থেকে দুইটি উপযুক্ত ছাগল এবং মেয়ে সন্তানের পক্ষ থেকে একটি ছাগল। সুনানে তিরমিযী, তাহকীক আহমাদ শাকের এবং আলবানী, হাদীস নং ১৫১৩। তিরমিযী রহঃ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। ৭ ম দিনের পূর্বে বা পরে আকীকা দিলে তা যথেষ্ঠ হবে কি না এব্যাপারে উলামায়ে কেরামের দুই ধরনের মত রয়েছে। তবে গ্রহনযগ্য মত হল, ৭ ম দিনের আগে বা পরে দিলেও তা যথেষ্ঠ হবে। যেমন ইবনে কাইয়্যিম রহ বলেন:

اليوم السابع - استحباب وإلا فلو ذبح عنه في الرابع أو الثامن أو العاشر أو ما بعده : أجزأت تحفة المودود بأحكام المولود ) ص 63 )

অর্থঃ সপ্তম দিন সুন্নাত, তবে যদি ৪ র্থ দিনে বা ৮ ম দিনে কিংবা ১০ বা তার পরবর্তি দিনে তার পক্ষ থেকে আকীকা দেয়া হয় তাহলে তা যথেষ্ঠ হবে। তুহফাতুল মাওদূদ বি আহকামীল মাওলূদ পৃষ্ঠা নং ৬৩ ( শামিলা) তবে আমাদের উচিৎ সর্বাস্থায় আল্লাহর রাসূলের সুন্নাত অনুযায়ী আমল করার। আল্লাহ আমাদেরকে তাওফীক দান করুন। আমীন।

প্রশ্নঃ 26
Is it strongly prohibited to touch the Holy Quran without wudu (ablution)? Would you please cite reference from Hadis? We want to memorize from Quran while we are travelling. It is quite tough to have wudu all time in that state. What will be your suggestion?
20 Dec 2025

মূল্যবান একটি প্রশ্ন করার জন্য আপনাকে মুবারকবাদ। উল্লেখিত প্রশ্নের উত্তর সহজে বোধগম্য হওয়ার জন্য আমরা প্রথমে অপবিত্রতাকে দুইভাগে ভাগ করে নিতে পারি । একঃ হদসে আসগার বা ছোট পবিত্রতা যে ক্ষেত্রে ওজু করলেই পবিত্রতা হাসিল হয়ে যায়, গোছলের প্রয়োজন হয় না। দুইঃ হদসে আকবার বা বড় ধরনের অপবিত্রতা যে ক্ষেত্রে ব্যক্তির উপর গোছল আবশ্যক হয়। চার মাযহাব, শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বায সহ সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামায়ে কেরাম এব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন যে, হদসে আসগার অথবা হদসে আকবার কোন অবস্থাতেই ব্যক্তি কোরআন স্পর্শ করতে পারবে না। দলীলঃ মহান আল্লাহ বলেনঃ (لا يمسه إلا المطهرون (الواقعة অর্থঃ তা (কোরআন) কেবলমাত্র পবিত্র ব্যক্তিরাই স্পর্শ করতে পারবে। (সূরা ওয়াকিয়া, আয়াত ৭৯)। আর কোরআন স্পর্শ করা ছাড়া প্রথম প্রকারের অপবিত্র ব্যক্তি মুখে মুখে তেলাওয়াত করতে পারবে। কিন্তু দিত্বীয় প্রকারের অপবিত্র ব্যক্তির জন্য এটাও বৈধ নয়। দলীলঃ

عن علي رضي الله عنه : أن النبي صلى الله عليه وسلم خرج من الغائط وقرأ شيئا من القرآن وقال :هذا لمن ليس بجنب أما الجنب فلا ولا آية

হযরত আলী রাঃ থেকে বর্ণীত, তিনি বলেন যে,নবী সাঃ ইস্তেঞ্জাখানা (বাথরুম) থেকে বের হয়ে কোরআনের কিছু অংশ তেলাওয়াত করলেন এবং বললেন:এটা (অপবিত্র অবস্থায় কোরআন তেলাওয়াত করার বিধান) ঐ ব্যক্তির জন্য যে জুনুবি (২য় প্রকারের অপবিত্র ব্যক্তি) নয়। পক্ষান্তরে জুনুবী ব্যক্তির জন্য একটি আয়াতও বৈধ নয়।মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বল, হাদীস নং ৮৭২, তাহকীক শুয়াইব আরনাউত, হাদীসের সনদটি হাসান।

প্রশ্নঃ 25
kaporar mojar upor mas a kora jaby ki na. aktu janaly upokrito hobo.
20 Dec 2025

ওয়া আলাইকুম সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে মুবারকবাদ। নিচে এব্যাপারে আলোচনা করা হল । আশা করি আপনি তাতে উত্তর খুজে পাবেন ইনশা আল্লাহ। মোজা বুঝাতে আরবীতে দুটি শব্দ রয়েছে: খুফ্ফ (الخف) অর্থাৎ চামড়ার মোজা এবং জাওরাব (الجورب) অর্থাৎ কাপড়, পশম ইত্যাদির মোজা। প্রথম প্রকারের মোজার উপর মাসাহ করার বিষয়টি রাসূল সাঃ থেকে সন্দেহাতীত ভাবে মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা প্রমাণিত । হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ বলেন: একদল হাফেজে হাদীসের স্পষ্ট বক্তব্য হল খুফ্ফাইনের (চামড়ার মোজার উপর) মাসাহ করার বিষয়টি রাসূল সাঃ থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণীত।ফাতহুল বারী (খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৮৫)। এব্যাপারে হযরত মুগীরা ইবরে শুবা রাঃ থেকে বর্ণীত আছে তিনি বলেন: وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَمَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ অর্থঃ আর তিনি তাঁর মাথা মাসাহ করলেন এবং চামড়ার মোজার উপর মাসাহ করলেন। বুখারী, আস-সহীহ, হাদীস নং(২০৪)। মুসলিম, আস - সহীহ, হাদীস নং (৬৪৯)। বুখারী এবং মুসলিম দ্বিতীয় প্রাকারের মোজা তথা জাওরাব বা কাপড়ের মোজার উপর রাসূল সা. মাসাহ করেছেন কিনা তা সহীসূত্রে পাওয়া যায় না। ফলে এবিষয়ে ইমামদের মাঝে মতবিরোধ পরিলক্ষিত হয়। তবে গ্রহনযোগ্য মত হল, যদি মোটা হয়,মজবুত হয়, পায়ের সাথে এটে থাকে, চলাচল করার মত হয় তাহলে আশা করা যায় মাসাহ করা যাবে। যেমন ইমাম আহমাদ রহঃ বলেছেন : যদি তার উপর হাটাচলা যায় এবং তা পায়ের সাথে লেগে থাকে তাহলে তার উপর মাসাহ করতে কোন সমস্যা নেই । (ইবনে কুদামা, আল মুগনি, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৭৬। ) হানাফী মাযহাবের উলামায়ে কেরামের মধ্য হতে ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ ও মুহাম্মাদ রহঃ এর মতে মোজা যদি মোটা হয় তাহলে তার উপর মাসাহ করা জায়েয। ইমাম আবু হানীফা রহঃ ভিন্নমত পোষণ করলেও শেষ জীবনে ছাহেবাইনের মত গ্রহন করেন। যেমন আল্লামা কাসানী রহঃ বলেন:

وَإِنْ كَانَا ثَخِينَيْنِ لَا يَجُوزُ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ وَعِنْدَ أَبِي يُوسُفَ ، وَمُحَمَّدٍ يَجُوزُ . وَرُوِيَ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ أَنَّهُ رَجَعَ إلَى قَوْلِهِمَا فِي آخِرِ عُمُرِهِ

তবে যদি পুরু এবং মোটা হয় সে ক্ষেত্রে আবু হানীফার মতে জায়েজ নেই । আর ছাহেবাইন রহঃ এর নিকট তার উপর মাসাহ করা বৈধ। বর্ণীত আছে যে, আবু হানীফা রহঃ জীবনের শেষ দিকে ছাহেবাইনের মত গ্রহন করেছেন।বাদাইউস সানাইয়ী, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১০। আবু হানীফা রহঃ ছাহেবাইনের মত গ্রহন করার বিষয়টি তিরমিযী রহঃ উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন:

سمعت صالح بن محمد الترمذي قال سمعت أبا مقاتل السمرقندي يقول دخلت على أبي حنيفة في مرضه الذي مات فيه فدعا بماء فتوضأ وعليه جوربان فمسح عليهما ثم قال فعلت اليوم شيئا لم أكن أفعله مسحت على الجوربين وهما غير منعلين

অর্থঃ (ইমাম তিরমিযী রহঃ বলেন:) আমি সালেহ ইবনে মুহাম্মাদ কে বলতে শুনেছি, আমি আবু মুকাতিলকে বলতে শুনেছি যে, আমি আবু হানিফার নিকটে তার মৃত্যু পূর্ব অবস্থায় গমন করলাম। তিনি ওজু করার জন্য পানি আনতে বললেন অতপর ওজু করলেন । আর তিনি তার পায়ে থাকা জাওরাবের উপর মাসাহ করলেন। এরপর বললেন : আমি আজ যেটা করলাম তা ইতিপূর্ব কখন করিনি। আমি শুধু জাওরাবের উপর মাসাহ করলাম । তিরমিযী, আস-সুনান, খন্ড ১,পৃষ্ঠা ১৬৯, তাহকীক, আহমাদ শাকের । (প্রকাশক, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বইরুত, লেবানন)। মোটকথাঃ জাওরাব বা কাপড়ের মোজার উপর মাসাহ করার ব্যাপারে ইমামদের মাঝে মতবিরোধ আছে, তবে গ্রহনযগ্য মত হল,যদি তা মোটা হয়,মজবুত হয়, পায়ের সাথে এটে থাকে, চলাচল করার মত হয় তাহলে আশা করা যায় মাসাহ করা যাবে। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বিষয়ের উপর আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

প্রশ্নঃ 24
AMRA JY KAPORAR MUGA PORI TAR UPOR MAS KORA JABY KI NA. DOLIL SOHO ANS DILY UPKRITO HOBO.
20 Dec 2025

ওয়া আলাইকুম সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে মুবারকবাদ। নিচে এব্যাপারে আলোচনা করা হল । আশা করি আপনি তাতে উত্তর খুজে পাবেন ইনশা আল্লাহ। মোজা বুঝাতে আরবীতে দুটি শব্দ রয়েছে: খুফ্ফ (الخف) অর্থাৎ চামড়ার মোজা এবং জাওরাব (الجورب) অর্থাৎ কাপড়, পশম ইত্যাদির মোজা। প্রথম প্রকারের মোজার উপর মাসাহ করার বিষয়টি রাসূল সাঃ থেকে সন্দেহাতীত ভাবে মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা প্রমাণিত । হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ বলেন: একদল হাফেজে হাদীসের স্পষ্ট বক্তব্য হল খুফ্ফাইনের (চামড়ার মোজার উপর) মাসাহ করার বিষয়টি রাসূল সাঃ থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণীত।ফাতহুল বারী (খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৮৫)। এব্যাপারে হযরত মুগীরা ইবরে শুবা রাঃ থেকে বর্ণীত আছে তিনি বলেন: وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَمَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ অর্থঃ আর তিনি তাঁর মাথা মাসাহ করলেন এবং চামড়ার মোজার উপর মাসাহ করলেন। বুখারী, আস-সহীহ, হাদীস নং(২০৪)। মুসলিম, আস - সহীহ, হাদীস নং (৬৪৯)। বুখারী এবং মুসলিম দ্বিতীয় প্রাকারের মোজা তথা জাওরাব বা কাপড়ের মোজার উপর রাসূল সা. মাসাহ করেছেন কিনা তা সহীসূত্রে পাওয়া যায় না। ফলে এবিষয়ে ইমামদের মাঝে মতবিরোধ পরিলক্ষিত হয়। তবে গ্রহনযোগ্য মত হল, যদি মোটা হয়,মজবুত হয়, পায়ের সাথে এটে থাকে, চলাচল করার মত হয় তাহলে আশা করা যায় মাসাহ করা যাবে। যেমন ইমাম আহমাদ রহঃ বলেছেন : যদি তার উপর হাটাচলা যায় এবং তা পায়ের সাথে লেগে থাকে তাহলে তার উপর মাসাহ করতে কোন সমস্যা নেই । (ইবনে কুদামা, আল মুগনি, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৭৬। ) হানাফী মাযহাবের উলামায়ে কেরামের মধ্য হতে ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ ও মুহাম্মাদ রহঃ এর মতে মোজা যদি মোটা হয় তাহলে তার উপর মাসাহ করা জায়েয। ইমাম আবু হানীফা রহঃ ভিন্নমত পোষণ করলেও শেষ জীবনে ছাহেবাইনের মত গ্রহন করেন। যেমন আল্লামা কাসানী রহঃ বলেন:

وَإِنْ كَانَا ثَخِينَيْنِ لَا يَجُوزُ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ وَعِنْدَ أَبِي يُوسُفَ ، وَمُحَمَّدٍ يَجُوزُ . وَرُوِيَ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ أَنَّهُ رَجَعَ إلَى قَوْلِهِمَا فِي آخِرِ عُمُرِهِ

তবে যদি পুরু এবং মোটা হয় সে ক্ষেত্রে আবু হানীফার মতে জায়েজ নেই । আর ছাহেবাইন রহঃ এর নিকট তার উপর মাসাহ করা বৈধ। বর্ণীত আছে যে, আবু হানীফা রহঃ জীবনের শেষ দিকে ছাহেবাইনের মত গ্রহন করেছেন।বাদাইউস সানাইয়ী, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১০। আবু হানীফা রহঃ ছাহেবাইনের মত গ্রহন করার বিষয়টি তিরমিযী রহঃ উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন:

سمعت صالح بن محمد الترمذي قال سمعت أبا مقاتل السمرقندي يقول دخلت على أبي حنيفة في مرضه الذي مات فيه فدعا بماء فتوضأ وعليه جوربان فمسح عليهما ثم قال فعلت اليوم شيئا لم أكن أفعله مسحت على الجوربين وهما غير منعلين

অর্থঃ (ইমাম তিরমিযী রহঃ বলেন:) আমি সালেহ ইবনে মুহাম্মাদ কে বলতে শুনেছি, আমি আবু মুকাতিলকে বলতে শুনেছি যে, আমি আবু হানিফার নিকটে তার মৃত্যু পূর্ব অবস্থায় গমন করলাম। তিনি ওজু করার জন্য পানি আনতে বললেন অতপর ওজু করলেন । আর তিনি তার পায়ে থাকা জাওরাবের উপর মাসাহ করলেন। এরপর বললেন : আমি আজ যেটা করলাম তা ইতিপূর্ব কখন করিনি। আমি শুধু জাওরাবের উপর মাসাহ করলাম । তিরমিযী, আস-সুনান, খন্ড ১,পৃষ্ঠা ১৬৯,তাহকীক, আহমাদ শাকের। (প্রকাশক, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বইরুত, লেবানন)। মোটকথাঃ জাওরাব বা কাপড়ের মোজার উপর মাসাহ করার ব্যাপারে ইমামদের মাঝে মতবিরোধ আছে, তবে গ্রহনযগ্য মত হল,যদি তা মোটা হয়,মজবুত হয়, পায়ের সাথে এটে থাকে, চলাচল করার মত হয় তাহলে আশা করা যায় মাসাহ করা যাবে। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বিষয়ের উপর আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

প্রশ্নঃ 23
নাকের পানি টানলে যদি তা গলা দিয়ে চলে যায় তাহলে রোজা ভাঙ্গবে কি না?
20 Dec 2025
হা, রোজা অবস্থায় যদি নাকের পানি টানা হয় এবং তা গলা দিয়ে চলে যায় তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে।
প্রশ্নঃ 22
আসসালামু আলাইকুম. রাসূলুল্লাহ সঃ কিসের তৈরি? কেউ বলেন তিনি নুরের তৈরি; আবার কেউ বলেন তিনি মাটির তৈরি। তিনি মুলত কিসের তৈরি এসম্পর্ক্যে কুরআন ও হাদিসে যে বর্ণনা আছে তা উল্লেখ পূর্বক প্রশ্নের সঠিক উত্তর চাই! ধন্যবাদ।
20 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নটি করার জন্য আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। নিচে এবিষয়ে সামান্য আলোচনা করা হল, আশা করি আপনি তাতে আপনার উত্তর খুঁজে পাবেন ইনশাল্লাহ। রাসূল সাঃ সৃষ্টিগতভাবে আমাদের মতই মানুষ ছিলেন নূরের তৈরি ছিলেন না। কুরআন-হাদীসে বারংবার উল্লেখ করা হয়েছে যে রাসূলুল্লাহ সা. অন্যদের মতই মানুষ। এমনকি যুগে যুগে নবী-রাসূলদের দাওআত অস্বীকার করার ক্ষেত্রে অবিশ্বাসীদের প্রধান দাবি ছিল যে নবীগণ তো মানুষ মাত্র এরা আল্লাহর নবী হতে পারেন না। আল্লাহ যদি কাউকে পাঠাতেই চাইতেন তবে ফিরিশতা পাঠিয়ে দিতেন। যেহেতু এরা মানুষ সেহেতু এদের নুবুওয়াতের দাবি মিথ্যা। এদের কথার প্রতিবাদে নবীগণ তাদেরকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে আমরা তোমাদের মত মানুষ এ কথা ঠিক তবে এর অর্থ এই নয় যে মানুষ হলে আল্লাহর ওহী ও নুবুওয়াতের মর্যাদা লাভ করা যায় না। বরং আল্লাহ মানুষদের মধ্য থেকেই যাকে ইচ্ছা নবী বা রাসূল হিসেবে বেছে নেন এ বিষয়ে এখানে কয়েকটি আয়াত এবং হাদীস উল্লেখ করা হল। বাশার بَشَرٌ অর্থ মানুষ মানুষগণ বা মানুষজাতি (man, human being, men, mankind( কুরআন কারীমে প্রায় ৪০ স্থানে বাশারশব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে এই একই অর্থে। একবচন ও বহুবচন উভয় অর্থেই শব্দটি ব্যবহৃত হয়। কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে যে রাসূলুল্লাহ সা. বাশার বা মানুষ। এছাড়া উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি অন্যদের মত মানুষ। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন:

وَقَالُوا لَنْ نُؤْمِنَ لَكَ حَتَّى تَفْجُرَ لَنَا مِنَ الأَرْضِ يَنْبُوعًا أَوْ تَكُونَ لَكَ جَنَّةٌ مِنْ نَخِيلٍ وَعِنَبٍ فَتُفَجِّرَ الأَنْهَارَ خِلالَهَا تَفْجِيرًا أَوْ تُسْقِطَ السَّمَاءَ كَمَا زَعَمْتَ عَلَيْنَا كِسَفًا أَوْ تَأْتِيَ بِاللَّهِ وَالْمَلائِكَةِ قَبِيلا أَوْ يَكُونَ لَكَ بَيْتٌ مِنْ زُخْرُفٍ أَوْ تَرْقَى فِي السَّمَاءِ وَلَنْ نُؤْمِنَ لِرُقِيِّكَ حَتَّى تُنَزِّلَ عَلَيْنَا كِتَابًا نَقْرَؤُهُ قُلْ سُبْحَانَ رَبِّي هَلْ كُنْتُ إِلا بَشَرًا رَسُولا وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَنْ يُؤْمِنُوا إِذْ جَاءَهُمُ الْهُدَى إِلا أَنْ قَالُوا أَبَعَثَ اللَّهُ بَشَرًا رَسُولا

এবং তারা বলে কখনই আমরা আপনার প্রতি ঈমান আনব না যতক্ষণ না আপনি আমাদের জন্য ভূমি হতে একটি ঝর্ণাধারা উৎসারিত করবেন। অথবা আপনার একটি খেজুরের ও আঙ্গুরের বাগান হবে যার ফাঁকে ফাঁকে আপনি নদী-নালা প্রবাহিত করে দেবেন। অথবা আপনি যেমন বলে থাকেন তদনুযায়ী আকাশকে খণ্ড-বিখণ্ড করে আমাদের উপর ফেলবেন অথবা আল্লাহ ও ফিরিশতাগণকে আমাদের সামনে এনে উপস্থিত করবেন। অথবা আপনার একটি অলংকৃত স্বর্ণ নির্মিত গৃহ হবে। অথবা আপনি আকাশে আরোহণ করবেন তবে আমরা আপনার আকাশ আরোহণে কখনো বিশ্বাস করব না যতক্ষণ না আপনি আমাদের (আসমান থেকে) একটি কিতাব অবতীর্ণ করবেন যা আমরা পাঠ করব। বল পবিত্র আমার প্রতিপালক (সুবহানাল্লাহ!)! আমি তো কেবলমাত্র একজন মানুষ একজন রাসূল। আর মানুষের কাছে যখন হেদায়েতের বানী আসে তখন তো তারা শুধু একথা বলে ঈমান আনয়ন করা থেকে বিরত থাকে যে আল্লাহ কি একজন মানুষকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন সূরা-আল ইসরা আয়াত ৯০-৯৪। অর্থাৎ কাফিরদের দাবি যে, আল্লাহর রাসূল হওয়ার অর্থ আল্লাহর ক্ষমতার কিছু অংশ লাভ করা। পক্ষান্তরে মহান আল্লাহ জানালেন যে, রাসূল হওয়ার অর্থ আল্লাহর নিদের্শ অনুসারে প্রচারের দায়িত্ব লাভ, ক্ষমতা লাভ নয়; ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন:

قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلا صَالِحًا وَلا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا

বল: আমি তো তোমাদের মত একজন মানুষ মাত্র আমার প্রতি ওহী পাঠানো হয়েছে যে, তোমাদের মা বুদ (উপাস্য) একমাত্র একই মা বুদ। অতএব যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার প্রতিপালকের ইবাদতে কাউকে শরীক না করে। সূরা-আল কাহাফ, আয়াত, ১১০। রাসূলুল্লাহ সা. বারবার তাঁর উম্মতকে বিষয়টি শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি একদিকে যেমন আল্লাহ তাঁকে যে মর্যাদা দান করেছেন তা তাঁর উম্মতরক জানিয়েছেন, ঠিক তেমনিভাবে বারবার তাঁর উম্মতকে শিখিয়েছেন যে, তিনি একজন মানুষ। এক হাদীসে আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সা. সালাতের মধ্যে ভুল করেন। সালামের পরে সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করেন, হে আল্লাহর রাসূল, সালাতের কি কোনো নতুন বিধান নাযিল হয়েছে? তিনি বলেন: তোমরা এ প্রশ্ন করছ কেন? তারা বলেন: আপনি এমন এমন করেছেন। তখন তিনি সালাত পূর্ণ করেন এবং বলেন:

إِنَّهُ لَوْ حَدَثَ فِي الصَّلاةِ شَيْءٌ لَنَبَّأْتُكُمْ بِهِ وَلَكِنْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ أَنْسَى كَمَا تَنْسَوْنَ فَإِذَا نَسِيتُ فَذَكِّرُونِي

সালাতের নিয়ম পরিবর্তন করা হলে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে জানাতাম। কিন্তু আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ মাত্র। তোমরা যেমন ভুল কর আমিও তেমনি ভুল করি। যদি আমি কখনো ভুল করি তবে তোমরা আমাকে মনে করিয়ে দেবে। বুখারী, আস সাহীহ,কিতাব, বাদউল ওহী, বাব,আত তাওয়াজ্জুহু নাহওয়াল কিবলাতি, হাদীস নং ৪০১। উপরের অর্থে আবূ হুরাইরা, জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ, আনাস ইবনু মালিক, ও অন্যান্য সাহাবী (রাদিয়াল্লাহুম) থেকে অনেক হাদীস সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম ও সিহাহ সিত্তার অন্যান্য গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। উপরের আয়াত ও হাদীসসমূহে আমরা দেখতে পেলাম যে, আল্লাহ রাসূল সা. কে বিভিন্ন আয়াতে মানুষ বলেছেন এবং রাসূল সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও বিভিন্ন হাদীসে নিজেকে মানুষ বলেছেন। রাসূল সা. কে মানুষ বলার পাশাপাশি অনেক আয়াতে মহান মর্যাদার দিক লক্ষ্য করে নূর, বা আল্লাহর নূর,বলা হয়েছে এবং মুফাস্সিরগণ সেখানে নূর অর্থ কুরআন, ইসলাম,মুহাম্মাদ (সা.),ইত্যাদি অর্থ গ্রহণ করেছেন । তবে সেসমস্ত স্থানে রাসূল সা. কে হেদায়াতের আলো ও সঠিক পথের নির্দেশক হিসেবে,নূরবলা হয়েছে, সৃষ্টিগতভাবে নয়। মহান আল্লাহ বলেন:

يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُـنِيرًا

হে নবী, আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষীরূপে এবং সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহবানকারীরূপে এবং আলোকোজ্জ্বল (নূর-প্রদানকারী) প্রদীপরূপে। সূরা- আল আহযাব, আয়াত, ৪৫-৪৬। অপর এক আয়াতে আল্লাহ বলেন:

يَاأَهْلَ الْكِـتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُـبَيِّنُ لَكُمْ كَثِيرًا مِمَّا كُنْتُمْ تُخْفُونَ مِنْ الْكِتَابِ وَيَعْفُو عَنْ كَثـِيـرٍ قَدْ جَاءَكُمْ مِنْ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِيـنٌ

হে কিতাবীগণ, আমার রাসূল তোমাদের নিকট এসেছেন, তোমরা কিতাবের যা গোপন করতে তিনি তার অনেক তোমাদের নিকট প্রকাশ করেন এবং অনেক উপেক্ষা করে থাকেন। আল্লাহর নিকট হতে এক নূর ও স্পষ্ট কিতাব তোমাদের নিকট এসেছে। সূরা-আল মায়েদা, আয়াত ১৫। এই আয়াতে নূর বা জ্যোতি বলতে কি বুঝানো হয়েছে সে বিষয়ে মুফাস্সিরগণ মতভেদ করেছেন। কেউ বলেছেন,এখানে নূর অর্থ কুরআন, কেউ বলেছেন, ইসলাম, কেউ বলেছেন, মুহাম্মাদ (সা.)। যারা এখানে নূরঅর্থ মুহাম্মাদ (সা.) বুঝিয়েছেন, তাঁরা দেখেছেন যে, স্পষ্ট কিতাববলতে কুরআনকে বুঝানো হয়েছে। কাজেই নূরবলতে মুহাম্মাদ (সা.)- কে বুঝানোই স্বাভাবিক। এ বিষয়ে ইমাম তাবারী বলেন,

يَعْنِي بِالنُّورِ مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ, الَّذِي أَنَارَ اللَّهُ بِهِ الْحَقَّ, وَأَظْهَرَ بِهِ الإِسْلاَمَ, وَمَحَقَ بِهِ الشِّرْكَ فَهُوَ نُورٌ لِمَنِ اسْتَنَارَ بِهِ يُبَيِّنُ الْحَقَّ, وَمِنْ إِنَارَتِهِ الْحَقَّ تَبْيِينُهُ لِلْيَهُودِ كَثِيرًا مِمَّا كَانُوا يُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ

নূর (আলো) বলতে এখানে মুহাম্মাদ (সা.)-কে বুঝানো হয়েছে, যাঁর দ্বারা আল্লাহ হক্ক বা সত্যকে আলোকিত করেছেন,ইসলামকে বিজয়ী করেছেন এবং র্শিককে মিটিয়ে দিয়েছেন। কাজেই যে ব্যক্তি তাঁর দ্বারা আলোকিত হতে চায় তার জন্য তিনি আলো। তিনি হক্ক বা সত্য প্রকাশ করেন।তাঁর হক্ককে আলোকিত করার একটি দিক হলো যে, ইহূদীরা আল্লাহর কিতাবের যে সকল বিষয় গোপন করত তার অনেক কিছু তিনি প্রকাশ করেছেন। তাফসীর, তাবারী,৬/১৬১। উপরের আলোচনা থেকে আমরা দেখতে পেলাম যে, কুরআন কারীমে সত্যের দিশারী, হেদায়াতের আলো ও সঠিক পথের নির্দেশক হিসেবে কুরআন কারীমকে নূরবলা হয়েছে। অনুরূপভাবে কোনো কোনো আয়াতে নূর শব্দের ব্যাখ্যায় কোনো কোনো মুফাস্সির রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বা ইসলামকে বুঝানো হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন। কুরআন কারীমের এ সকল বর্ণনা থেকে বুঝা যায় না যে, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.), কুরআন বা ইসলাম নূরের তৈরী বা নূর থেকে সৃষ্ট। আমরা বুঝতে পারি যে, এখানে কোনো সৃষ্ট, জড় বা মূর্ত নূর বা আলো বুঝানো হয় নি। রাসূলুল্লাহ সা., ইসলাম ও কুরআন কোনো জাগতিক, জড়, ইন্দ্রিয়গাহ্য বা মূর্ত আলো নয়। এ হলো বিমূর্ত, আত্মিক, আদর্শিক ও সত্যের আলোকবর্তিকা, যা মানুষের হৃদয়কে বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাসের অন্ধকার থেকে বিশ্বাস, সত্য ও সুপথের আলোয় জ্যোতির্ময় করে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এব্যাপারে সঠিক আকীদা পোষণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন। এব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য পাঠককে ইসলামী আকীদা ও হাদীসের নামে জালিয়াতি বইটি পড়তে অনুরোধ করছি।

প্রশ্নঃ 21
কোন ধরণের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে মুছাফির হওয়া যায় । এবং দুরুত্ব কতটুকু?
20 Dec 2025

প্রশ্নটি করার জন্য আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। নিম্নে এ বিষয়ে আলোচনা করা হল, আশা করি আপনি তাতে আপনার উত্তর খুঁজে পাবেন। ইনশাল্লাহ। কোন ব্যক্তি যদি ১৫ দিনের কমসময় অবস্থানের নিয়তে কমপক্ষে ৪৮ মাইল(যা কিলোমিটার হিসাবে প্রায় সাড়ে ৭৭ কিলোমিটার) দূরুত্বে গমন করার ইচ্ছাকরে, তাহলে শহরবাসী নিজ শহরের সীমা ও গ্রামবাসী নিজ ইউনিয়ন বা পৌরসভার সীমা অতিক্রম করার পর থেকে মুসাফির বলে গন্য হবে। তখন থেকেই নামাজের কসর সহ মুসাফিরের অন্যান্য হুকুম তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। (শামী-২/৫৯৯-৬০২, হিন্দিয়া-১/১৩৭, আহসানুল ফাতাওয়া-৪/৯৪-৯৫) সফরের দূরুত্ব বিষয়ে আলেমদের মাছে কিছুটা মতভেদ আছে তবে গ্রহনযগ্য মতানুসারে ৪৮ মাইল বা সাড়ে ৭৭ কিলোমিটার। এবিষয়ক অধিকাংশ রেওয়ায়েতগুলোতে সফরের দূরুত্বসীমা প্রসঙ্গে আরবাআতু বুরুদ শব্দ (চার বুরদ)এসেছে। আর ৪ বারিদ হল, ৪৮ মাইল যা, কিলোমিটার হিসাবে প্রায় সাড়ে ৭৭ কিলোমিটার। ইমাম মালিক রহঃ থেকে বর্ণীত -

بلغه أن عبد الله بن عباس :كان يقصر الصلاة في مثل ما بين مكة والطائف وفي مثل ما بين مكة وعسفان وفي مثل ما بين مكة وجدة قال مالك وذلك أربعة برد وذلك أحب ما تقصر إلى فيه الصلاة قال مالك لا يقصر الذي يريد السفر الصلاة حتى يخرج من بيوت القرية ولا يتم حتى يدخل أول بيوت القرية أو يقارب ذلك موطأ مالك ما يجب فيه قصر الصلاة

আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ সম্পর্কে জেনেছি যে, তিনি মক্কা ও তায়েফ, মক্কা ও আসফান, এবং মক্কা ও জিদ্দার সফরে নামাজ কসর করতেন। ইমাম মালেক রহঃ বলেন: এ দূরুত্ব হচ্ছে চার বারীদ। আমার মতে এটাই হচ্ছে কসরের দূরুত্ব। তিনি আরো বলেন: নিজ এলাকার বসতি থেকে বের হওয়ার পর কসর আরম্ভ করবে এবং পুনরায় বসতিতে ফিরে আসার পর পূর্ণ নামাজ পড়বে। ইমাম মালেক, মুয়াত্তা,বাব,মা ইযাজীবু ফীহি ক্বসরুস সালাত। উল্লেখ্য, মক্কা থেকে জিদ্দার দূরুত্ব হল ৭২ কিলোমিটার । মক্কা থেকে তায়েফের দূরুত্ব হল ৮৮ কিলোমিটার এবং মক্কা থেকে আসফানের দূরুত্ব হল ৮০ কিলোমিটার । বুখারীতে এসেছে-

وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ ، وَابْنُ عَبَّاسٍ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُم ، يَقْصُرَانِ وَيُفْطِرَانِ فِي أَرْبَعَةِ بُرُدٍ وَهْيَ سِتَّةَ عَشَرَ فَرْسَخًا. َ. باب فِي كَمْ يَقْصُرُ الصَّلاَة

অর্থঃ আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাঃ ও আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ চার বারীদ দূরুত্বের সফরে নামাজ কসর করতেন এবং রোযা না রাখার অবকাশ গ্রহন করতেন। চার বারীদ হল ষোল ফারসাখ। বাব, ফী কাম ইউকসারুস সালাত। তিন মাইল সমান এক ফরসাখ। তাহলে ১৬ ফরসখ = ৪৮ মাইল। অন্য এক বর্ননায় এসেছে:

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ سُئِلَ أنقصر ا لصلاة إلَى عَرَفَةَ قَالَ لَا وَلَكِنْ إلَى عُسْفَانَ وَإِلَى جُدَّةَ وَإِلَى الطَّائِفِ2 وَإِسْنَادُهُ صَحِيحٌ التلخيص الحبير في تخريج أحاديث الرافعي الكبير

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ কে জিজ্ঞাসা করা হল, আরাফার উদ্দেশ্যে মক্কা ত্যাগ করলে কি পথিমধ্যে কি নামাজ কসর করতে যাবে? তিনি উত্তরে বললেন না। তবে আসফান, জিদ্দা ইত্যাদি স্থানের উদ্দেশ্যে সফর করলে নামাজ কসর করা যাবে। কিতাব,সালাতুল মুসাফীরনি। ইবনে হাজার হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। তালখীসুর হাবীর, ২/৪৬। আল্লাহ আমাদেরকে সব আমল জেনে বুঝে করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

প্রশ্নঃ 20
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লা। প্রশ্ন : আমার গ্রামের বাড়ী রাজশাহী শহর হতে ৮০ - ৯০ কিঃমিঃ দূরে। গ্রামে আমার আব্বা-আম্মা ও অন্যান্য ভাইয়েরা বসবাস করে। আমি রাজশাহী শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করি। আমি ও আমার স্ত্রী গ্রামের বাড়ী গেলে নামায আমরা কি কসর করবো না স্বাভাবিক ভাবে পড়বো। কোরআন ও হাদীসের আলোকে বিস্তারিত ভাবে জানাবেন।
20 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

প্রশ্নটি করার জন্য আল্লাহ আপনাকে পুরুষ্কৃত করুন। নিচে এব্যাপারে আলোচনা করা হল,আপনি তাতে আপনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন, ইনশাল্লাহ। আপনি যেহেতু রাজশাহী শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন এবং শহর থেকে আপনার গ্রমের বাড়ীর দূরুত্ব ৮০-৯০ কিলোমিটার তাই আপনি ১৫ দিনের কম সময় অবস্থানের নিয়তে গ্রমের বাড়ীতে গেলে নামাজ কসর করে পড়বেন যদি গ্রামের বাড়িতে আপনার জন্য নির্ধারিত পৃথক কোন ঘর না থাকে। আর যদি পৃথক কোন ঘর আপনার জন্য আপনি করে থাকেন বা আপনার পিতা করে রাখেন তাহলে আপনি পথে মুসাফির থাকবেন এবং গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পরে মুকিম হয়ে যাবেন এবং নামায পূর্ণকরে আদায় করবেন । এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা নিম্নে দেয়া হল। মূল আলোচনা সহজে বুঝার জন্য ভূমিকা স্বরুপ কয়েকটি জরুরী বিষয় জেনে রাখা দরকার। ১) মানুষ যেখানে জন্মগ্রহন করে বা স্থায়ীভাবে বসবাস করে সেটা হলো তার স্থায়ী বাসস্থান বা ওয়াতনে আসলী, আর যেখানে অস্থায়ীভাবে বসবাস করে, হোক পনেরো দিন বা তার বেশি সেটা হল তার ওয়াতনে ইক্বামাত বা অস্থায়ী বাসস্থান। ২) মুসাফির যখন সফর থেকে তার স্থায়ী বাসস্থানে ফিরে আসে তখন ইকামত বা অবস্থানের নিয়ত না করলেও মুকীম হয়ে যায়। ৩) যদি কেউ স্থায়ী বসবাসের স্থান ত্যাগ করে অন্য কোথাও স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে তাহলে সেটাই তার স্থায়ী বসবাসের স্থানের হিসাবে গন্য হবে এবং নামাজ পূর্ণভাবে আদায় করতে হবে। এবং আগের ওয়াতনে আসলী বাতিল হয়ে যাবে। সুতরাং আগের ওয়াতনে আসলী বা স্থায়ী বসবাসের স্থানে পনের দিনের কম সময়ের জন্য বেড়াতে গেলে সেখানে ব্যক্তি মুসাফির হিসাবে গন্য হবে এবং কসর পড়তে হবে। ৪) যদি ব্যাক্তি ওয়াতনে ইকামত বা অস্থায়ী অবস্থান স্থান থেকে সফর করে বা আরেকটি অবস্থানস্থান গ্রহন করে অথবা পূর্বের স্থায়ী বাসস্থানে ফিরে আসে তাহলে আগের অস্থায়ী বাসস্থান বাতিল হয়ে যাবে। সুতরাং আগের ওয়াতনে ইকামতে অল্প সময়ের জন্য ফিরে এলে কসর পড়তে হবে। কসরের দূরুত্বসীমা সফর বিষয়ক অধিকাংশ রেওয়ায়েতগুলোতে সফরের দূরুত্বসীমা প্রসঙ্গে আরবাআতু বুরুদ শব্দ (চার বুরদ)এসেছে। আর ৪ বারিদ হল, ৪৮ মাইল। ইমাম মালিক রহঃ থেকে বর্ণীত -

بلغه أن عبد الله بن عباس :كان يقصر الصلاة في مثل ما بين مكة والطائف وفي مثل ما بين مكة وعسفان وفي مثل ما بين مكة وجدة قال مالك وذلك أربعة برد وذلك أحب ما تقصر إلى فيه الصلاة قال مالك لا يقصر الذي يريد السفر الصلاة حتى يخرج من بيوت القرية ولا يتم حتى يدخل أول بيوت القرية أو يقارب ذلك موطأ مالك ما يجب فيه قصر الصلاة

আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ সম্পর্কে জেনেছি যে, তিনি মক্কা ও তায়েফ, মক্কা ও আসফান, এবং মক্কা ও জিদ্দার সফরে নামাজ কসর করতেন। ইমাম মালেক রহঃ বলেন: এ দূরুত্ব হচ্ছে চার বারীদ। আমার মতে এটাই হচ্ছে কসরের দূরুত্ব। তিনি আরো বলেন: নিজ এলাকার বসতি থেকে বের হওয়ার পর কসর আরম্ভ করবে এবং পুনরায় বসতিতে ফিরে আসার পর পূর্ণ নামাজ পড়বে। ইমাম মালেক, মুয়াত্তা,বাব,মা ইযাজীবু ফীহি ক্বসরুস সালাত। উল্লেখ্য, মক্কা থেকে জিদ্দার দূরুত্ব হল ৭২ কিলোমিটার । মক্কা থেকে তায়েফের দূরুত্ব হল ৮৮ কিলোমিটার এবং মক্কা থেকে আসফানের দূরুত্ব হল ৮০ কিলোমিটার । বুখারীতে এসেছে-

وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ ، وَابْنُ عَبَّاسٍ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُم ، يَقْصُرَانِ وَيُفْطِرَانِ فِي أَرْبَعَةِ بُرُدٍ وَهْيَ سِتَّةَ عَشَرَ فَرْسَخًا. َ. باب فِي كَمْ يَقْصُرُ الصَّلاَة

অর্থঃ আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাঃ ও আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ চার বারীদ দূরুত্বের সফরে নামাজ কসর করতেন এবং রোযা না রাখার অবকাশ গ্রহন করতেন। চার বারীদ হল ষোল ফারসাখ। বাব, ফী কাম ইউকসারুস সালাত। তিন মাইল সমান এক ফরসাখ। তাহলে ১৬ ফরসখ = ৪৮ মাইল। অন্য এক বর্ননায় এসেছে:

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ سُئِلَ أنقصر ا لصلاة إلَى عَرَفَةَ قَالَ لَا وَلَكِنْ إلَى عُسْفَانَ وَإِلَى جُدَّةَ وَإِلَى الطَّائِفِ2 وَإِسْنَادُهُ صَحِيحٌ التلخيص الحبير في تخريج أحاديث الرافعي الكبير

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ কে জিজ্ঞাসা করা হল, আরাফার উদ্দেশ্যে মক্কা ত্যাগ করলে কি পথিমধ্যে কি নামাজ কসর করতে যাবে? তিনি উত্তরে বললেন না। তবে আসফান, জিদ্দা ইত্যাদি স্থানের উদ্দেশ্যে সফর করলে নামাজ কসর করা যাবে। কিতাব,সালাতুল মুসাফীরনি। ইবনে হাজার হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। তালখীসুর হাবীর, ২/৪৬। আর কিলোমিটারের হিসাবে ৪৮ মাইল প্রাই সাড়ে ৭৭ কিলোমিটারের সমান। কসরের সময়সীমা এব্যাপারে উলামায়ে কেরামের মাঝে মতবিরোধ আছে। তবে গ্রহনযগ্য মত হল, সফরে কোন স্থানে পনেরো দিন বা তার বেশি সময় অবস্থানের নিয়ত করলে পূর্ণ নামাজ পড়বে। আর যদি পনের দিনের কম সময় থাকার নিয়ত করে তাহলে কসর করবে। যদি এমন হয় যে, সুনির্দিষ্টভাবে কত দিন অবস্থান করবে তা নির্ধারন করা সম্ভব হল না। আর আজ যাব, কালা যাব করতে করতে পনের দিনের বেশি অতিবাহিত হয়ে গেল তবুও কসরই করতে থাকবে। আলমুগনী গ্রন্থে এসছে:

عَنْ ابْنِ عُمَرَ ، وَابْنِ عَبَّاسٍ ، أَنَّهُمَا قَالَا : إذَا قَدِمْتَ وَفِي نَفْسِكَ أَنْ تُقِيمَ بِهَا خَمْسَ عَشْرَةَ لَيْلَةً فَأَكْمِلْ الصَّلَاةَ

অর্থঃ আব্দুল্লাহ ইবনে উমার ও আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ বলেন, যদি তুমি কোন স্থানে পনেরো দিন অবস্থানের নিয়ত কর তাহলে পূর্ণ নামাজ আদায় করবে। কিতাব,সালাতুল মুসাফীরনি। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাঃ থেকে বর্ণীত তিনি বলেন; من أقام خمسة عشر يوما أتم الصلاة যে পনের দিন অবস্থানের নিয়ত করল সে পূর্ণ নামাজ আদায় করবে জামে তিরমিযীতে, বাব, কাম তুকসারুস সালাত, তাহকীক, আহমাদ শাকের এবং আলবানী। কোন জায়গা থেকে কসর শুরু করব? মুসাফরি যখন শহররে মহল্লা বা গ্রামরে সীমানা অতক্রিম করবে এবং শহররে আবাসকি বাড়ঘির ছেড়ে যাবে তখন থেকে নামায কসর করতে পারবেন। কেননা নবী (সা.) মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় মাদীনার বাইরে জুলহুলায়ফা নামক স্থানে এসে কসর পড়েছেন। হাদীসে এসেছে হজরত আলী (রা.) বসরা থেকে সিফ্ফিনের উদ্দেশ্যে বের হলেন তিনি জোহর পড়লনে চার রাকাত। তারপর বললনে, আমরা যদি এ বাড়িটি অতিক্রম করতাম তবে দুই রাকাতই পড়তাম। (মুসান্নাফু আবি শাইবা : ৮২৫৩, তাহজবিুল আছার : ১১৭২, মুয়াত্তা মালকে, আছারুস সুনান : ৬৪/২)। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিকভাবে দ্বীন মানার তাওফীক দান করুন। আমীন।

প্রশ্নঃ 19
বাংলা উচ্চারণ দেখে পড়লে কোরআন পড়া হবে কি না?
20 Dec 2025
প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে জাযাকাল্লাহ। নিম্নে এ বিষয়ে কিঞ্চিত আলোচনা করা হল, আশা করি আপনি তাতে আপনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন ইনশাল্লাহ। বাংলা উচ্চারন দেখে পড়লে কোরআন পড়া তো হবেই না, বরং কোরআন পড়তে গিয়ে ঈমানবিরেধি কথা বলার কারনে ঈমান চলে যেতে পারে। কারন কোরআন একটি ভাষা, একটি কথা যার উচ্চারণের ভুলত্রুটির কারনে অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায়। যেমন, ه এবং ح উভয়েরই বাংলা উচ্চারনে হা বলি বা লিখি। অথচ আরবীতে উভয়ের উচ্চারণস্থল ভিন্ন ভিন্ন(ه উচ্চরণ করতে হয় হলক বা কন্ঠনালির শুরু হতে আর ح উচ্চারণ করতে হয় কন্ঠনালির মাঝখান হতে) এবং উচ্চারণের এ ভিন্নতার কারণে অর্থের মাঝেও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। উদাহরণস্বরুপ, আলহামদু লিল্লাহ বলার সময় যদি হা এর উচ্চরন কন্ঠনালির শুরু থেকে হয় তাহলে আল্লাহকে গালি দেয়া হল আর যদি উচ্চারনটি কন্ঠনালির মাঝখান থেকে হয় তাহলে আল্লাহর প্রশংসা করা হল। বিষয়টি শুধু এস্থানের সাথেই সীমাবদ্ধ নয় বরং কোরআনের প্রত্যেকটি স্থানের সাথেই গভীরভাবে জড়িত। সুতরাং এব্যাপারে আমাদের সাবধান থাকতে হবে। কোরআন আরবীতেই শুদ্ধভাবে পড়ার চেষ্টা করবেন । যদি কোথাও ভুল হয়ে যায় তাহলে বান্দা আন্তরিক হলে আশা করা যায় আল্লাহ মাফ করবেন। আল্লাহ আমাদের সকলকে সহী শুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াত তাওফীক দান করুন। আমীন।
প্রশ্নঃ 18
সাহরী খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে কেউ যদি অপবিত্র হয়ে যায় তাহলে তার রোযা হবে কি না।
20 Dec 2025

প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। নিম্নে আপনার প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়ে আলোচনা করা হল। আশা করি তাতে আপনি আপনার উত্তর পাবেন। ইনশাল্লাহ। রোজা সহীহ হওয়ার জন্য পবিত্রতা শর্ত নয়। সুতরাং কেউ যদি স্ত্রী সহবাসের মাধ্যমে বা স্বপ্নদোষের মাধ্যমে জুনুবী বা বড় ধরনের অপবিত্র হয়ে যায় এবং এ অবস্থাতে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়ে যায় (যেমন কেউ ফজরের পূর্বে বা রাতে স্ত্রী সহবাস করে ঘুমিয়ে গেল এবং ফজরের আযানের পর ঘুম থেকে জাগ্রত হল বা সাহরী খেয়ে ঘুমিয়ে গেল এবং স্বপ্নদোষ হল। এরপর সে ফজরের ওয়াক্তে ঘুম থেকে উঠল) তাহলে তার রোজার কোন ক্ষতি হবে না। এ মর্মে আয়েশা রাঃ এবং উম্মে সালামা রাঃ থেকে বর্ণীত একটি হাদীসে এসেছে তারা বলেন:

كَانَ يُدْرِكُهُ الْفَجْرُ وَهُوَ جُنُبٌ مِنْ أَهْلِهِ ثُمَّ يَغْتَسِلُ وَيَصُوم

(অর্থ) রাসূল সা. স্ত্রী সহবাসের কারনে জুনুবী, এঅবস্থাতে ফজরের ওয়াক্ত হয়ে যেত। এরপর তিনি গোছল করতেন এবং রোজা রাখতেন। বুখারী, আস-সহীহ, হাদীস নং ১৯২৬। ইমাম তিরমিযী রহঃ বলেন: অধিকাংশ সাহাবায়ে কেরামের আমল এ হাদীস অনুযায়ী ছিলো। তিরমিযী, আস সুনান,কিতাব, আস সাওম,বাব, আল জুনুবু ইদরিকুহুল ফাজরু। তবে এ অবস্থায় থেকে ফজরের নামাজ কাজা করা বা জামাত তরক করা একেবারেই অনুচিত । বরং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গোছল সেরে পবিত্র হয়ে জামাতে শরীক হতে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে পরিপূর্ণভাবে ইসলাম পালন করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

প্রশ্নঃ 17
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। মুহতারাম, যে ব্যক্তি আত্যহত্যা করে মৃত্যুবরণ করে তার সাথে আমাদের মুয়ামালা বা আচরণ কেমন হবে দয়া করে কুরআন হাদীসের আলোকে জানাবেন।
20 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। নিম্নে উক্ত বিষয়ে আলোচনা করা হল। আশা করি আপনি তাতে আপনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন ইনশাল্লাহ। আত্যহত্যা করার হুকুমঃ আত্যহত্যা নিঃসন্দেহে কবীরা গুনাহ এবং মূলত এটি একটি কুফরী গোনাহ যার শাস্তি অনন্তকাল জাহান্নাম। একজন মানুষ আত্যহত্যা করার কারণ কয়েকটি হতে পারে। প্রথমতঃব্যক্তি যখন আত্যহত্যা করে তখন সে সাধারনত আলাহর রহমত হতে নিরাশ হয়েই এই জঘন্য পাপকাজে লিপ্ত হয়। কারণ কোনোরূপ আশা থাকলে কেউ আত্মহত্যা করেন না। যখন কেউ চিন্তা করে যে, আমার জীবনের উন্নতির, কল্যাণের বা ভালর কোনো আশা আর নেই তখনই সে আত্মহত্যা করে। আর এ হলো মহান আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া কুফুরী। কোরআনে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হতে বারবার নিষেধ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন:

وَلَا تَيْأَسُوا مِنْ رَوْحِ اللَّهِ إِنَّهُ لَا يَيْأَسُ مِنْ رَوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ

অর্থঃ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না । কেবল মাত্র কাফের সম্প্রদায়ই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়। সূরা ইউসুফ,আয়াত-৮৭। দ্বিতীয়তঃ সে বৈধ মনে করে আত্যহত্যা করবে। এক্ষেত্রেও তার এ কাজ কোরআন হাদীসের দৃষ্টিতে কুফুরী হিসাবে বিবেচিত হবে। কোরআন ও হাদীসে হালালকে হারাম মনে করা এবং হারামকে হালাল বা বৈধ মনে করাকে কঠিনভাবে নিষেধ করা হয়েছে এবং এটাকে কুফুরী হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। তৃতীয়তঃ উক্তব্যক্তি নিজের উপর নিয়ন্ত্রন হারিয়ে বা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে এই ভয়াবহ অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে। উপরের দুটি অবস্থায় আত্মহত্যাকারীর ক্ষমার কোনোই আশা থাকে না। তৃতীয় পর্যায়ের লোকটির ক্ষমার সামান্য একটু সম্ভাবনা থাকে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আত্মহত্যাকারী ব্যক্তির বিষয়ে আমরা জানিনা যে, সে কোন অবস্থাতে আত্যহত্যার পথ বেছে নিল। সে যে অবস্থাতে বা যে কারনেই আত্যহত্যা করুক নিঃসন্দেহে এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং কবীরাহ গুনাহ। রাসূল সা. আত্যহত্যাকারীর ব্যাপারে চিরদিন জাহান্নামে থাকার মত ভয়াবহ শাস্তির কথাও হাদীস শরীফে একাধিকবার উল্লেখ করেছেন। হযরত আবু হুরাইরা রাঃ থেকে বর্ণীত এক হাদীসে রাসূল সা. বলেন:

مَن تردى من جبل فقتل نفسه فهو في نار جهنم يتردى فيه خالداً مخلداً فيها أبداً ، ومَن تحسَّى سمّاً فقتل نفسه فسمُّه في يده يتحساه في نار جهنم خالداً مخلداً فيها أبداً ، ومَن قتل نفسه بحديدة فحديدته في يده يجأ بها في بطنه في نار جهنم خالداً مخلداً فيها أبداً

অর্থঃ যে ব্যক্তি আত্যহত্যার উদ্দেশ্যে পাহাঢ় থেকে পড়ে মৃত্যুবরণ করবে সে জাহান্নামের আগুনে চিরোদিন পড়তে থাকবে। আর যে বিষ পান করে আত্যহত্যা করবে বিষ তার হাতে থাকবে এবং জাহান্নামের আগুনে চিরদিন সে তা পান করতে থাকবে। আর যে লোহার টুকরা দিয়ে আত্যহত্যা করবে উক্ত লোহার টুকরা তার হাতে থাকবে এবং জাহান্নামের আগুনে সে চিরদিন তা পেটের ভিতর ঢুকাতে থাকবে। বুখারী,আস সহীহ, বাব, শুরবিস সাম্মি, হাদীস নং ৫৭৭৮। সাবেত ইবনে দহহাক রাঃ থেকে বর্ণীত একটি হাদীসে তিনি বলেন:

مَن قتل نفسه بشيء في الدنيا عذب به يوم القيامة

অর্থঃ যে ব্যক্তি দুনিয়ার কোন জিনিস দ্বারা আত্যহত্যা করল কিয়ামতের দিন তাকে তা দ্বারা শাস্তি দেয়া হবে। বুখারী, আস সাহীহ, হাদীস নং ৬৬৪৭। মুসলিম, আস সহীহ, হাদীস নং ৩১৬। জুনদুব ইবনে আব্দুল্লাহ রাঃ এর সূত্রে বর্ণীত একটি হাদীসে আছে:

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : كان فيمن كان قبلكم رجل به جرح فجزع فأخذ سكيناً فحز بها يده فما رقأ الدم حتى مات . قال الله تعالى : بادرني عبدي بنفسه حرمت عليه الجنة

অর্থঃ তোমাদের পূর্বে একব্যক্তির শরীরে যখম ছিলো সে ধৈর্যহারা হয়ে পড়ল একটি ছুরি দ্বারা নিজের হাত কেটে ফেলল এবং রক্ত বন্ধ হলনা। অবশেষে লোকটি মারা গেল। আল্লাহ তায়ালা বললেন: আমার বান্দা তাড়াহুড়া করেছে তার জন্য জান্নাত হারাম। বুখারী, আস সহীহ, হাদীস নং ৩৪৬৩। এ সকল হাদীস প্রমাণ করে যে, আত্মহত্যাকারীর জন্য মুক্তির আশা নেই। সে অনন্তকাল জাহান্নামে থাকবে। রাসূল সা. আত্যহত্যা কারীর জানাযার নামাজে শরীক হতে অস্বীকার করেন। জাবের ইবনে সামুরা রাঃ থেকে বর্ণীত তিনি বলেন:

أُتي النبي صلى الله عليه وسلم برجل قتل نفسه بمَشاقص فلم يصل عليه

অর্থঃ তীর দ্বারা আত্যহত্যা করেছে এমন এক ব্যক্তিকে রাসূল সাঃ এর কাছে আনা হল ক্ন্তিু তিনি তার জানাযার নামাজ পড়লেন না। বুখারী আস সহীহ, বাব,তারকুস সালাতি আলা ক্বাতিলি নাফসিহী, হাদীস নং ২৩০৯। তার জানাযার নামাজঃ ইমাম নববী রহঃ বলেন: উপরোক্ত হাদীসের আলোকে উমার ইবনে আব্দুল আজীজ এবং আওজায়ী রহঃ বলেন আত্যহত্যা কারীর জানাজার নামাজ পড়া যাবে না। পক্ষান্তরে হাসান বসরী, ইমাম নাখয়ী, ইমাম মালেক, ইমাম আবু হানীফা এবং ইমাম শাফী রহঃ সহ অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের মতে আত্যহত্যা কারীর জানাযার নামাজ পড়তে হবে। কেননা রাসূল সা. নিজে এমন ব্যক্তির জানাযার নামাজে শরীক না হলেও সাহাবয়ে কেরামকে এব্যাপারে অনুমতি প্রদান করেছেন এবং সাহাবায়ে কেরাম তার জানাযার নামাজ পড়েছেন। যেমন তিনি ইসলামের শুরুর যুগে কেউ ঋনি হয়ে মারা গেলে (ঋন আদায়ে অবহেলা করার ব্যাপারে সতর্ক করার জন্য) তার জানাযায় শরীক হতেন না এবং সাহাবায়ে কেরামকে তার জানাযায় শরীক হতে আদেশ করতেন। তিনি বলতেন: صَلُّوا عَلَى صَاحِبكُمْ (তোমরা তোমাদের সাথীর জানাযার নামাজ পড়)। বুখারী, আস-সহীহ, হাদীস নং ২২৮৯। কাজী ইয়াজ বলেন, সকল উলামায়ে কেরামের মত হল, প্রত্যেক মুসলমানের জানাযার নামাজ পড়া হবে। ব্যাক্তি হোক হদের শাস্তি প্রাপ্ত, রজমকৃত, আত্যহত্যাকারী কিংবা অবৈধ সন্তান। (শরহুন নববী আলা মুসলিম, ৩/৪০৫। কিতাব, আলজানাইয, বাব, তারকুস সালাত আলাল কাতিলি নাফসিহি। (শামিলা) এ হিসাবে উলামায়ে কেরামের মতে সুন্নাত হল, আলেম বা শ্রেষ্ঠব্যাক্তিরা আত্যহত্যাকারীর জানাযায শরীক হবেনা বরং সাধারন মানুষদের মাধ্যমে তার জানাযার নামাজ সম্পূর্ণ করা হবে। চিরোদিন জাহান্নামে থাকাঃ উপরের হাদীসগুলোতে আমরা দেখেছি যে, রাসূলুল্লাহ .... বারবার বলেছেন যে, আত্মহত্যাকারী অনন্তকাল জাহান্নামে থাকবে। এর বিপরীতে মূলত কোনো হাদীস নেই। তবে দু-একটি হাীসের প্রাসঙ্গিক নিরর্শনা ও ইসলামের মূলনীতির আলোকে আলিমগণ বলেছেন যে, যে ব্যক্তি তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করবে সে চিরদিন জাহান্নামে থাকবে না যদিও সে কবীরা গুনাহে লিপ্ত হয়। উপরে উাল্লেখিত হাদীসগুলোতে আত্যহত্যাকারীর চিরদিন জাহান্নামে থাকার যে কথা এসেছে উলামায়ে কেরাম এ হাদীসের ব্যাক্ষায় বলেন, যে ব্যক্তি বৈধমনে করে আত্যহত্যা করবে সে তা বৈধ মনে করার কারণে কাফের হয়ে যাবে। অথবা যদি কেউ আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে আত্মহত্যা করে তবে তাকে অনন্তকাল জাহান্নামে থাকতে হবে। যদি সে এটাকে বৈধ মনে না করে বা আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এ মহাপাপ করে ফেলে তবে তার মুক্তির আশা করা যায়। আল্লাহর ইচ্ছায় সে একদিন জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে ইনশাল্লাহ। কারন কোরআনে মহান দয়াময় আল্লাহ একমাত্র শিরক ছাড়া অন্য সকল গুনাহ মাফ করে দেয়ার ওয়াদা করেছেন। তিনি বলেন: إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ (অর্থঃ) নিশ্চই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার বিষয়কে ক্ষমা করবেন না। আর তিনি অন্যান্য গুনাহের ব্যাপারে যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দিবেন। সূরা নিসা-১১৬। আর আত্মহত্যা শিরক বা কুফর পর্ায়ে না গেলে আমার আশা করতে দয়াময় আল্লাহ তাকে একদিন মাফ করে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবেন। তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়াঃ হা তাদের জন্য দোয়া করা যেতে পারে। একটি হাদীসে এসেছে রাসূল সাঃ এমন ব্যাক্তির জন্য দোয়া করেছেন। হযরত তুফাইল ইবরে আমর দাউসি রাঃ থেকে বর্ণীত একটি হাদীসে এসেছে:

فلما هاجر النبي صلى الله عليه وسلم إلى المدينة هاجر إليه الطفيل بن عمرو وهاجر معه رجل من قومه فاجتووا المدينة فمرض فجزع فأخذ مشاقص له فقطع بها براجمه فشخبت يداه حتى مات، فرآه الطفيل بن عمرو في منامه فرآه وهيئته حسنة، ورآه مغطيا يديه! فقال له: ما صنع بك ربك؟ فقال: غفر لي بهجرتي إلى نبيه صلى الله عليه وسلم. فقال: ما لي أراك مغطيا يديك؟ قال: قيل لي: لن نصلح منك ما أفسدت. فقصها الطفيل على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اللهم وليديه فاغفر...

অর্থঃ যখন নবী সাঃ মদীনায় হিজরত করলেন তুফাইল ইবরে আমর রাঃ রাসূল সাঃ এর কাছে হিজরত করলেন এবং তার গোত্রের একটি লোক তার সাথে হিজরত করল। যখন তারা মদীনায় পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হল তখন সে কয়েকটি তির নিয়ে তা দ্বারা আঙ্গুলের গিরা কেটে ফেলল এবং দুইহাতা দিয়ে বিরামহীনভাবে রক্ত ঝরতে লাগল এবং অবশেষে সে মৃত্যুবরণ করল। হযরত তুফাইল রাঃ স্বপ্নে তাকে ভাল অবস্থায় দেখতে পেলেন। তবে তার দুই হাত ঢাকা ছিলো। তখন তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন তোমার প্রতিপালক তোমার সাথে কেমন আচরণ করেছেন। উত্তরে তিনি বললেন রাসূল সাঃ এর কাছে হিজরত করার কারণে আমাকে মাফ করে দেয়া হয়েছে। তখন তুফাইল রাঃ তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসা করল তোমার হাত ঢাকা দেখছি কেন? তিনি বললেন, আমাকে বলা হল, তোমার যে অংশ তুমি নষ্ট করেছে তা আমি ঠিক করে দিবনা। রাসূল সাঃ এর কাছে এঘটনা শোনানের পর রাসূল সাঃ আল্লাহর কাছে তার জন্য ক্ষমা চেয়ে বললেন, হে আল্লাহ তুমি তার দুই হাতকে মাফ করে দাও। মুসলিম, আস সহীহ খন্ড ১,পৃষ্ঠা ৭৬ হাদীস নং ৩২৬। মোটকথা, আত্যহত্যা অত্যন্ত মারত্নক একটি কবীরাহ গুনাহ। এব্যাপারে রাসূল সা. এর পক্ষথেকে চিরদিন জাহান্নামে থাকার মত কঠোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি কাজটি কুফুরী হিসাবে গণ্য হওয়ারও সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। যদি আল্লাহ দয়া করে তাকে অন্য কোন ভাল কাজের বিনিময়ে জাহান্নাম থেকে উদ্ধার করেন তাহলে সেটা ভিন্ন কথা। তবে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার আশা একেবারেই কম। কিন্তু কেউ যদি একাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে তাহলে তার জন্য দোয়া করাতে কোন দোষ নেই। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাকে মাফ করলেও করতে পারেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে উত্তম মৃত্যু দান করুন। আমীন।

প্রশ্নঃ 16
আস- সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ, কবর, মাজার, রওজা এবং জিয়ারত এগুলো কি আরবী শব্দ? তাহলে এগুলোর সহজ-সরল বাংলা অর্থগুলো কী হবে এবং এগুলোর সংজ্ঞাগুলো কী হবে দয়া করে জানাবেন।
20 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার প্রশ্নে উল্লেখিত শব্দগুলো আরবী। নিচে শব্দগুলোর অর্থ দেয়া হল। জিয়ারত = পরিদর্শন করা, সাক্ষাত করা । মাজার = পরিদর্শনস্থল। যে সমস্ত ওলী আওলিয়াদের কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মানুষ সেখানে গমন করে থাকে মাজার বলতে আমরা সে সমস্ত কবর স্থানকে বুঝে থাকি। কবর = যেখানে মৃতব্যক্তিকে দাফন করা হয়। রওজা = বাগান, কবর।

প্রশ্নঃ 15
আওস ও খাজরাজ গোত্রের লোকেরা কোন ধর্মের মানুষ ছিল?
20 Dec 2025
আউস ও খাজরাজ গেত্রের লোকেরা আরবের অন্যান্য মানুষদের মতই ইব্রাহীম আঃ এর ধর্মের অনুসারী ছিলেন। এধর্মের ভিতরে তারা বিভিন্ন ধরনের বিকৃতি সাধন করেন এবং তারা শিরকে লিপ্ত হন। তারা আল্লাহর একত্বে বিশ্বাসী ছিলেন। তবে আল্লাহর রহমত লাভের জন্য ফিরিশতা, জিন, নবী, ওলীগণ, তাদের প্রতিমা বা স্মৃতিবিজড়িত স্থান ও দ্রব্যের পুজা করতেন। এছাড়া নানাবিধ কুসংস্কার তাদের মধ্যে প্রসার লাভ করে।
প্রশ্নঃ 14
জিনা প্রমাণিত হওয়ার জন্য ৪ জন স্বাক্ষী কেন প্রয়োজন?
20 Dec 2025

প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। নিম্নে আপনার প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়ে আলোচনা করা হল। আশা করি আপনি তাতে আপনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন। ইনশাল্লাহ। মহান আল্লাহ সমস্ত মাখলুকাতের মধ্য হতে মানুষকে সবচেয়ে সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন। মানুষ লাভ করেছে সর্বশ্রেষ্ঠ মাখলুকাতের সুমহান মর্যাদা। উদ্দেশ্য একটাই, মানুষ তাঁর সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর ইবাদত করবে। সবসময় সবক্ষেত্রে তাঁর এবং তাঁর রাসূল সাঃ এর দিকনির্দেশনা মেনে চলবে। সর্বাত্নক চেষ্টা করবে নিজেকে জান্নাতিদের সফলকাম কাঁতারে শামিল করার জন্য। শতচেষ্টার পরেও প্রকাশ্য দুশমন শয়তানের প্ররোচনায়, প্রবৃত্তির তাড়নায় কখন কখন মানুষ তার প্রতিপালককে ভুলে যায়। বিচ্যুত হয় সঠিক পথ থেকে, আর লিপ্ত হয় নানা রকম অপকর্মে। হাতছাড়া করে ফেলে শ্রেষ্ঠত্যের মহান গুন। তারপরেও ইসলাম চাই মানুষ তার পাপ কর্মের ব্যাপারে লজ্জিত আর অনুতপ্ত হয়ে ফিরে আসুক আল্লাহর দিকে। তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়ে ফিরে পাক তার হারানো সম্মান। আর তার পাপকর্মটি গোপন থাকুক অন্যান্য মানুষের নিকট। কেউ যদি তার দোষত্রুটি জেনে ফেলে তাকে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে উক্ত দোষ গোপন রাখতে। উপরোন্ত তা গোপন রাখার ব্যাপারে হাদীস শরীফে ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে। এক হাদীসে তিনি বলেন:

مَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَة

যে ব্যাক্তি কোন মুসলমানের দোষ গোপন করবে আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন করবেন। বুখারী, আস-সহীহ, হাদীস নং ২৪৪২। মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ৬৭৪৩। পাশাপাশি কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে দোষচর্চা করতে। বিদায় হজ্জের ভাষণে রাসূলে কারীম সাঃ বলেন:

فَإِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ وَأَعْرَاضَكُمْ بَيْنَكُمْ حَرَامٌ

অর্থঃ তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ, তোমাদের সম্মান পরষ্পরের জন্য হারাম (সম্মানিত)। বুখারী, আস-সহীহ, হাদীস নং ৬৭। মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ৪৪৭৮। কোরআনুল কারীমে মহান আল্লাহ কারো দোষচর্চা বা গীবত করাকে মৃতভাইয়ের গোশত খাওয়ার সাথে তুলনা করেছে।এরশাদ হয়েছে:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَحِيمٌ

অর্থঃ হে মুমিনগণ ! তোমরা অধিকাংশ ধারনা থেকে বিরত থাক ; কারণ কিছু কিছু ধারণা পাপ। আর তোমরা একে অপরের দোষ তালাশ করনা। আর কেউ যেন কারো পশ্চাতে দোষচর্চা না করে। তোমাদের মধ্যে কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করে? বস্তুত তোমরা তো এটাকে অপছন্দই করো। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর ; আল্লাহ তাওবা কবুল কারী, পরম দয়ালু। সূরা-হুজরাত, আয়াত-১২। অনুরুপভাবে অযৌক্তিক বা বিনা কারনে কাউকে হত্যা করার ব্যাপারে ইসলাম ঘোর বিরোধী। কোরআনে কারীমে বিনা কারনে একজনের হত্যাকে সমস্ত মানুষকে হত্যা করার সাথে তুলনা করেছে। মহান আল্লাহ বলেন:

مَنْ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا

অর্থঃ যে ব্যাক্তি কোন হত্যাকান্ড ছাড়া বা দুনিয়ায় কোন ধবংসাত্ম ক কাজ করা ছাড়া কাউকে হত্যা করল সে যেন সকল মানুষকেই হত্যা করল। সূরা মায়িদা, আয়াত নং ৩২। কোন অপরাধ অথবা গুরুত্বপূর্ণ কোন বিচারকাজ সম্পাদন করার জন্য ইসলাম উক্ত বিষয়ে নিশ্চিত হতে বা শক্তিশালী করতে সাক্ষীর ব্যাবস্থা করেছে। সকল ক্ষেত্রে এক, দুই বা তিনজন সাক্ষী নির্ধারণ করলেও যিনার ক্ষেত্রে চারজন সাক্ষীর শর্তরোপ করা হয়েছে। কোরআনে কারীমে এরশাদ হয়েছে :

وَاللَّاتِي يَأْتِينَ الْفَاحِشَةَ مِنْ نِسَائِكُمْ فَاسْتَشْهِدُوا عَلَيْهِنَّ أَرْبَعَةً مِنْكُمْ

অর্থঃ তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য হতে চারজন সাক্ষী তলব কর। সূরা নিসা, আয়াত-১৫। চারজনের কম হলে উক্ত সাক্ষ্য গ্রহনযগ্য তো হবেই না, উল্টা তাদের উপরই অপবাদের শাস্তি হিসাবে আশিবার বেত্রাঘাতের বিধান দিয়েছে ইসলাম । এপ্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক এরশাদ করেন:

لَوْلَا جَاءُوا عَلَيْهِ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَإِذْ لَمْ يَأْتُوا بِالشُّهَدَاءِ فَأُولَئِكَ عِنْدَ اللَّهِ هُمُ الْكَاذِبُونَ

অর্থঃ তারা কেন এব্যাপারে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করেনি? যেহেতু তারা সাক্ষী উপস্থিত করেনি সে কারনে তারা আল্লাহর নিকট মিথ্যাবাদী। সূরা নূর,আয়াত-১৩। অপর একটি আয়াতে আল্লাহ বলেন:

وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَاجْلِدُوهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً وَلَا تَقْبَلُوا لَهُمْ شَهَادَةً أَبَدًا وَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ

অর্থঃ যাহার সাধ্ববী নারীদের ব্যাপারে অপবাদ আরোপ করে এবং চারজন সাক্ষী উপস্থিত করেনা, তাদেরবে আশিটি বেত্রঘাত করবে এবং কখন তাদের সাক্ষ্য গ্রহন করবে না । মুমিনের জন্য এটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সূরা নূর, আয়াত-৪। হযরত আবু হুরাইরা রাঃ থেকে বর্ণীত একটি হাদীসে আছে

سعد بن عبادة قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم: يا رسول الله، أرأيت إن وجدت مع امرأتي رجلا، أمهل حتى آتي بأربعة شهداء؟ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: نعم

হযরত সাদ ইবনে উবাদাহ রাঃ রাসূল সাঃ কে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল সাঃ আমি যদি আমার স্ত্রীর সাথে কাউকে দেখি তাহলে আমি কি চারজন সাক্ষী উপস্থিত করা পর্যন্ত ছেড়ে দিব? উত্তরে রাসূল সাঃ বললেন : হা।শায়েখ শুয়াইব আরনাউত বলেন; হাদীসের সনদটি সহীহ। সহী ইবনে হিব্বান, তাহকীক, শুয়াইব আরনাউত, হাদীস নং ৪৪০৯। মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ১৪৯৮। কাউকে কোন অপরাধে লিপ্ত দেখে তাকে বিচারকের নিকট সোপর্দ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আতপক্ষ সমর্থনের মাধ্যমে বিচার ছাড়া কেউ শাস্তি দিতে পারবে না। এ প্রক্রিয়ার বাইরে স্বয়ং রাষ্ট্রপ্রধান বা প্রধান বিচারপতিও কাউকে শাস্তি দিতে পারবে না । খলীফা উমার রাঃ আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাঃ কে বলেন:

لَوْ رَأَيْتَ رَجُلاً عَلَى حَدٍّ زِنًا ، أَوْ سَرِقَةٍ وَأَنْتَ أَمِيرٌ فَقَالَ شَهَادَتُكَ شَهَادَةُ رَجُلٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ قَالَ صَدَقْتَ

অর্থঃ আপনি শাসক থাকা অবস্থায় যদি কাউক ব্যভিচারের অপরাধে বা চুরির অপরাধে রত দেখতে পান তাহলে তার বিচারের বিধান কী? ( নিজের দেখাতেই কি বিচার করতে পারবেন?) আব্দুর রহমান রাঃ বললেন, আপনার সাক্ষ্যও একজন সাধারন মুসলিমের সাক্ষ্যের সমান। উমার রাঃ বলেন,আপনি ঠিকই বলেছেন। বুখারী আস-সহীহ, কিতাবুল ফিতান, বাব, আশ্ শাহাাদাত তাকুনু ইনদাল হাকীম। অর্থৎ রাষ্ট্রপ্রধান নিজের হাতে বিচার তুলে নিতে পারবেন না । এমনকি তার সাক্ষ্যের অতিরিক্ত কোন মূল্যও নেই। রাষ্ট্রপ্রধানের একার সাক্ষ্যে কোন বিচার হবে না । বিধিমোতাবেক দুই জন বা চারজন সাক্ষীর কমে বিচারক কারো বিচার করতে পারবেন না। অন্য ঘটনায় উমার রাঃ রাত্রে মদীনায় ঘোরাফেরা করার সময় একব্যাক্তিকে ব্যভিচারে লিপ্ত দেখতে পান। তিনি পরদিন সাহাবীগণকে জিজ্ঞাসা করেন, যদি রাষ্ট্রপ্রধান কাউকে ব্যভিচারে লিপ্ত দেখতে পান তাহলে তিনি কি শাস্তি প্রদান করতে পারবেন? তখন আলী রাঃ বলেন, কখনই না। আপনি ছাড়া আরো তিনজন প্রত্যক্ষ্য সাক্ষী যদি অপরাধের সাক্ষ্য না দেয় তাহলে আপনার উপরের মিথ্যা অপবাদের শাস্তি প্রয়োগ করা হবে। আল কানযুল আকবার ১/২২৭ । এটা স্পষ্ট বিষয় যে, চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্যর ভিত্তিতে জিনা প্রমাণীত হওয়া এক বিরাট কঠিন বিষয়। একারনেই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহঃ বলেন:ইসলামের শুরু থেকে এপর্যন্ত সাক্ষ্যর ভিত্তিতে জিনা প্রমাণীত হয়নি। যা হয়েছে তা স্বীকরোক্তির ভিত্তিতে হয়েছে। এব্যাপারে ইসলামের সর্বোচ্চ এ সতর্কতা গ্রহন বা কঠিন শর্তারোপের কারন হল, মানুষের জীবন অতি মূল্যাবান। আর ইসলামের উদ্দে্শ্য হল, অপরাধকে নিয়ন্ত্রণ করা, অপরাধীকে নির্মুল করা নয়। বিচারকের ভুলে অপরাধী বেচে যাক কিন্তু তার ভুলে যেন নিরাপরাধ শাস্তি না পাই এবং কম অপরাধী বেশি শাস্তি না পাই। এজন্য ইসলামে হুদুদকে কঠিন করা হয়েছে এবং হুদুদের ব্যাবস্থাপনা আরো বেশি কঠিন করা হেয়েছে। বিচারক সর্বাত্নক চেষ্টা করবে মৃত্যুদন্ড না দেয়ার জন্য। ফুক্বাহায়ে কেরাম এব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন যে, অপরাধের পূর্ণতার ব্যাপারে সামান্যতম সন্দেহ থাকলেও আর মৃত্যুদন্ড দেয়া যাবে না। কারন, বিচারকের ভুলে নিরাপরাধের বা কম অপরাধীর বেশি শাস্তি হওয়ার চেয়ে অপরাধীর মুক্তি বা বেশি অপরাধের জন্য কম শাস্তি বাঞ্চনীয়। তারপরেও যখন এই জঘণ্য কর্মটি চারজন ব্যাক্তি প্রত্যক্ষ্য করতে সক্ষম হয় তাহলে বুঝতে হবে সে ব্যাক্তি অধঃপতনের সর্বনিম্ম পর্যয়ে পৌছে গেছে এবং এই কর্মটি প্রকাশ্যে করেছে। এই অবস্থায় ব্যাপক স্বার্থে ইসলাম তাকে দুনিয়া থেকে বিদায় দেয়ার অনুমতি প্রদান করে। আল্লাহ আমাদেরকে পরিপূর্ণ তাকওয়া অর্জন করার তাওফীক দান করুন।

প্রশ্নঃ 13
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। মুহতারাম, রুকু এবং সেজদায় সর্বাধিক কতবার তাসবীহ পাঠ করা যায়? জোড় বিজোড়ের ব্যাপারে কোরআন হাদীস কি বলে?
20 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। নিম্নে আপনার প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়ে আলোচনা করা হল । আশা করি আপনি তাতে আপনার উত্তর খুঁজে পাবেন। ইনশাল্লাহ। রুকু এবং সেজদায় কমপক্ষে তিনবার তাসবীহ পাঠ করা সুন্নাত। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাঃ থেকে বর্ণীত আছে যে, রাসূল সাঃ বলেন:

إِذَا رَكَعَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ سُبْحَانَ رَبِّىَ الْعَظِيمِ وَذَلِكَ أَدْنَاهُ وَإِذَا سَجَدَ فَلْيَقُلْ سُبْحَانَ رَبِّىَ الأَعْلَى ثَلاَثًا وَذَلِكَ أَدْنَاهُ

অর্থঃ যখন তোমাদের কেউ রুকু করবে তখন সে যেন তিনবার সুবহানা রাব্বীয়াল আযীম বলে। আর এটা হল সর্বনিম্ম পরিমান। আর যখন সেজদা করে তখন সে যেন তিনবার বলে সুবহানা রাব্বীয়াল আলা। আর এটা হল সর্বনিম্ম পরিমান। সুনানে আবু দাউদ, কিতাব,আস-সালাত, বাব, মা ইয়াকুলু ফিররুকুঈ ওয়াস সুজুদী। জমহুর উলামায়ে কেরামের মতে একবার পড়লেও যথেষ্ঠ হবে। এক্ষেত্রে ফরয হল রুকু এবং সেজদায় এক তাসবীহ পরিমান সময় কাটানো। হযরত আবু হুরাইরা রাঃ থেকে বর্ণীত এক হাদীসে এসেছে

أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَدَخَلَ رَجُلٌ فَصَلَّى فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَرَدَّ وَقَالَ ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ فَرَجَعَ يُصَلِّي كَمَا صَلَّى ثُمَّ جَاءَ فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ ثَلاَثًا فَقَالَ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أُحْسِنُ غَيْرَهُ فَعَلِّمْنِي فَقَالَ إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلاَةِ فَكَبِّرْ ثُمَّ اقْرَأْ مَا تَيَسَّرَ مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ ثُمَّ ارْكَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ رَاكِعًا ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَعْتَدِلَ قَائِمًا ثُمَّ اسْجُدْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ سَاجِدًا ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ جَالِسًا وَافْعَلْ ذَلِكَ فِي صَلاَتِكَ كُلِّهَا

অর্থঃ রাসূল সাঃ মসজিদে প্রবেশ করার পর এক ব্যাক্তি প্রবেশ করে রাসূল সাঃ কে সালাম দিলেন এবং রাসূল সাঃ সালামের জবাব দিয়ে বলেন:ফিরে গিয়ে নামাজ পড় কেননা তুমি নামাজ পড়নি। লোকটি ফিরে গিয়ে পূর্বের ন্যায় আবার নামাজ আদায় করলেন এবং ফিরে এসে রাসূল সাঃ কে সালাম প্রদান করলেন। রাসূল সাঃ আবার লোকটিকে বললেন: তুমি ফিরে গিয়ে নামাজ পড়। কেননা তুমি নামাজ পড়নি। এভাবে তিনবার বললেন। অতঃপর লোকটি বললেন: ঐ সত্বার কসম, যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, আমি এর চেয়ে সুন্দর করে নামাজ আদায় করতে পারিনা। সুতরাং আপনি আমাকে শিখিয়ে দিন। তখন রাসূল সাঃ বললেন: যখন তুমি নামাজে দাড়াবে তখন তাকবির দিবে। এরপর কোরআনের যে অংশ তোমার কাছে সহজ সে অংশ থেকে পড়বে। অতঃপর রুকু করবে শান্ত হয়ে যাওয়া পর্যন্ত, তারপর মাথা উঠাবে এবং সোজা হয়ে দাড়াবে। এরপর সেজদা করবে শান্ত হয়ে যাওয়া পর্যন্ত। এরপর সেজদা থেকে মাথা উঠিয়ে শান্ত হয়ে বসবে। আর পুরা নামাজ এভাবে আদায় করবে।বুখারী,আস-সহীহ, হাদীস নং ৭৫৭। তবে সর্বাধিক কতবার পড়া যায় এব্যাপারে হাদীসে সীমাবদ্ধ করা হয়নি । যে যেই পরিমান পড়বে সে সেই পরিমান সাওয়াবের অধিকারী হবে। ইনশাল্লাহ। তাছাড়া রাসূলে কারীম সাঃ রুকু এবং সেজদায় অধিক সময় ব্যায় করতেন বলে বিভিন্ন হাদীস থেকে জানা যায়। এ অধিক সময়ে তিনি কতবার তাসবীহ পাঠ করেছে তা গননা করাও একটি দুঃসাধ্য ব্যাপার। অনুরুপভাবে জোড়-বিজোড়ের ব্যাপারেও কোরআন ও নির্ভরযগ্য কোন হাদীসে কিছু বলা হয়নি। একটি হাদীসে এসেছে

رُوِيَ أَنَّهُ عليه السلام كَانَ يَخْتِمُ بِالْوِتْرِ يَعْنِي فِي تَسْبِيحَاتِ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ

অর্থঃ বর্ণীত আছে যে, রাসূল সাঃ বিজোড়ের মাধ্যমে শেষ করতেন।অর্থাৎ রুকু ও সেজদার তাসবীহ এর ক্ষেত্রে। হাদীসটি মারগিনানী রহঃ তার হেদায়া গ্রন্থে আল আওকাত তুকরাহু ফিহাস সালাত পরিচ্ছেদে এনেছেন। আল্লামা ঝাইলায়ী রহঃ হাদীসটির ব্যাপারে বলেন: গরীব জিদ্দান। নাসবুর রাইয়াহ, বাবু সিফাতিস সালাহ। আর ইবনে হাজার আস ক্বালানী রহঃ বলেন: লাম আজিদহু (হাদীসটি আমি পাইনি)। আদ দিরায়াহ, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১৪৭, হাদীস নং ১৭৬। হযরত আনাস রাঃ থেকে বর্ণীত আছে তিনি বলেন:

ما رأيت أحدا أشبه صلاة بصلاة رسول الله صلى الله عليه و سلم من هذا الفتى يعني عمر بن عبد العزيز فحزرنا في ركوعه عشر تسبيحات وفي سجوده عشر تسبيحات

অর্থঃ আমি রাসূল সাঃ এর নামাজের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ নামাজ এই যুবক ছাড়া (অর্থৎ ওমর ইবনে আব্দুল আজীজ রহঃ) কাউকে পড়তে দেখিনি। আমি তার রুকুতে দশ তাসবীহ গণনা করলাম এবং সেজদায় দশ তাসবীহ গণনা করলাম। নাসায়ী, আস-সুনান, তাহকীক, আলবানী রহঃ, হাদীস নং ১১৩৫। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সবক্ষেত্রে তাাঁর রাসূল সাঃ এর সুন্নাত অনুযায়ী আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন । আর সঠিক বিষয় একমাত্র তিনিই ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 12
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। শায়েখ, কোন একটি ভোজসভার কিছু লোক খাবারের পর একটি ড্রামে হাত ধুলে উক্ত ড্রামের পানি দ্বারা অজু করা যাবে কিনা?
20 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে মুবারকবাদ। নিম্নে আপনার প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়ে সামান্য আলোকপাত করা হল। আশা করি আপনি তাতে আপনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন । ইনশাল্লাহ। যদি এক দুইজন ব্যাক্তি হাত ধোয় তাহলে পানির রং, ঘ্রাণ, স্বাদ পরিবর্তন না হওয়ার কারনে তা দ্বারা অজু করা বৈধ হবে । কিন্তু যদি এমন হয় যে, হাত ধোয়ার কারনে পানির রং, ঘ্রাণ, স্বাদ পরিবর্তন হয়েগেছে তাহলে উক্ত পানি দ্বার পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ হবে না।

প্রশ্নঃ 11
আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হচ্ছে নামায এ আমরা সেজদাই যে দুয়া গুলো পরি, আমি কি সে দুয়া গুলর পাশাপাশি নিজের মত করে বাংলাতে দুয়া করতে পারব। দয়া করে উত্তর দিবেন। আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন আমিন।
20 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

ভাই আপনি এই ভিডিওটা দেখুন আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবে আশা করি। সিজদায় বাংলা দুআ করা যাবে কি?

প্রশ্নঃ 5
আসসালামু আলাইকুম,। একজনের বাবা এবং বোন যেনায় জরিত ১৫ বছর যাবত সে দেখছে। তার বোনের পেটে তার বাবার একটা সন্তানও হয় সেটাকে তারা এবর্সন করে।তার বোনের বিয়ে হয়ে গেছে মেয়েও আছে এখন ও তারা বাবা মেয়ে যেনা করে৷ এটা সে জানে যে এটা কেউ জানে না। এখন সে কি তার পরিবার থেকে আলাদা থাকবে। একজন দ্বায়ী বলেছে তার পরিবার তার জন্য হারাম।তাকে চলে যেতে বলছে। কিন্ত সে তো বলতেছে তারা যায় করুক তাদের মাঝেই তো জান্নাত। তার পরিবারের সবাই প্রায় যেনাই লিপ্ত। তার বড় বোনের একটা মেয়ে আছে। হয়ত তার নানাই তার বাবা।
04 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

ঐ ব্যক্তি অবিলম্বে ঐ পরিবার ছেড়ে চলে যাবে। এই পাপিষ্ঠ পরিবারে থাকলে সেও পাপী হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সুতরাং সে অন্য কোথাও বসবাস করবে। এবং প্রয়োজন ছাড়া তাদের সাথে যোগাযোগ রাখারও দরকার নেই।

প্রশ্নঃ 464
আস-সওয়ালাম আলাইকুম। ১. কোন স্বামী যদি তালাক না দেয় কিন্তু তার স্ত্রী যদি ডিভোর্স দেয় তারা কি পরবর্তীতে সংসার করতে পারবে? ২. কোন মেয়ের বয়স যদি ২৭ বছর হয়, সে যদি কোন ছেলেকে বিয়ে করে পরিবারকে না জানিয়ে অথবা পরিবারের লোকেরা এখন জানলে মানবে না কিন্তু পরে জানলে মেনে নিবে - যেহেতু বিয়ের আগে প্রেম তরা পাপ তাইজন্য বিয়ে করবে - তাহলে কি তাদের বিয়ে বৈধ হবে? পরবর্তীতে পরিবারের লোকদের সামনে কি তাদের আবার বিয়ে করতে হবে? ছেলে-মেয়ে ২ জনেই নামাজ পড়ে, মেয়েটি পর্দা করে এবং ইসলামী আইন মানতে চায়-ঐ মেয়ের ইবাদত কী আল্লাহ কবুল করবেন?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

১। স্বামী স্ত্রীকে তালাক (ডিভোর্স) নেয়ার অধিকার দিলে স্বামী তালাক না দিলেও স্ত্রী নিজেকে নিজে তালাক নিতে পারেন। এক্ষেত্রে স্ত্রীর তালাকই চূড়ান্ত বলে গণ্য। তবে আপনি স্থানীয় কোন আলেমের সাথে এই বিষয়ে কথা বলুন। তিনি বিস্তারিত শুনে সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন।আপনি যতটুকু লিখেছেন শুধু এতটুকুতে কোন ফয়সালা দেয়া সম্ভব নয়। ২। পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করা হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে। আর এভাবে বিয়ে করলে পরবর্তীতে বিভিন্ন জটিলাত সৃষ্টি হয়। তাই তাদের জানিয়েই বিয়ে করা উচিত। তবে একান্ত বাধ্য হয়ে এমন করলে আশা করা যায় বিয়ে হয়ে যাবে এবং তার ইবাদত আল্লাহর নিকট কবুল হবে। ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের বিধান। বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামী শরীয়তে এব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাসূল সা. এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। পারিবারিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অধিকাংশ ইমাম ও ফকীহগণের নিকট ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ নেই। তবে ইমাম আবু হানীফা রহ. সহ কতিপয় ফকীহ বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে জায়েজ বলেছেন। প্রখ্যাত মালেকী ফকীহ আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে রুশদ আন্দালুসী র. বলেন,

اختلف العلماء هل الولاية شرط من شروط صحة النكاح أم ليست بشرط؟ فذهب مالك إلى أنه لا يكون النكاح إلا بولي وأنها شرط في الصحة في رواية أشهب عنه وبه قال الشافعي وقال أبو حنيفة وزفر والشعبي والزهري: إذا عقدت المرأة نكاحها بغير ولي وكان كفؤا جاز وفرق داود بين البكر والثيب فقال باشتراط الولي في البكر وعدم اشتراطه في الثيب

অর্থ: বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী শর্ত কি শর্ত নয় এই বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম মালেক র. মত পোষন করেছেন যে, ওলী ছাড়া বিবাহ হবে না। বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য (ওলী) শর্ত। এমন মতই পোষন করেছেন ইমাম শাফেয়ী রা.। ইমাম আবু হানীফা, জুফার, শাবী ও জুহরী র. বলেছেন, যদি মহিলা ওলী ছাড়া বিবাহ করবে আর স্বামী যদি তার কুফু (সর্বদিক দিয়ে যোগ্য) হয় তাহলে জায়েজ হবে। বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ২/৮(শামেলা)। এই সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন, আলমাবসুত লিস-সারখসী, ৬/৫৩; আলমাউসায়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৭/৯৪ও ৩১/৩২১; আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবা ৪/৪৫। কিতাবুল উম্ম লিশ-শাফেয়ী,৭/১৫৬। যে ইমামগন ওলী ছাড়া বিবাহ বাতিল বলেছেন তাদের দলীল: আবু মুসা আশয়ারী রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, অর্থাৎ ওলী ছাড়া বিবাহ নয়। لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِىٍّ আবু দাউদ, হাদীস নং ২০৮৭; তিরমিযী, হাদীস নং ১১০১;মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৯৭৬১। হাদীসটি সহীহ। শায়খ আরনাউত এবং আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত অন্য হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন,

أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ

অর্থাৎ যে মহিলা ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করবে তার বিবাহ বাতিল। তিনি ৩ বার তা বলেছেন। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১১০২; মুসনাদে আহমাদ,হাদীস নং ২৫৩৬৫। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন আর শায়খ শুয়াইব আরনাউত সহীহ বলেছেন। উপরক্ত হাদীস সমূহের ভিত্তিতে ইমাম মালেক, শাফেয়ী, আহমাদ র. সহ অধিকাংশ আলেম ওলী ছাড়া বিবাহকে বাতিল বলেছেন। যে সব ইমাম ও ফকীহ ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ বলেছেন তাদের দলীল: তাবেঈদের মধ্যে ইমার জুহরী ও শাবী এরপরে ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ, মুহাম্মাদ, জুফার সহ কিছু সংখক মুজতাহিদ কিছু শর্ত সাপেক্ষে ওলী ছাড়া বিবাহ কে জায়েজ বলেছেন। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১.কুফু হতে হবে। ২.মেয়েটি বালেগা, বুঝমান হতে হবে। আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবায়া, ৪/৪৫; আলমাবসুত লিস-সারাখসী,৬/৬১ ও ৫/১৬। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, فلا جناح عليكم فيما فعلن في أنفسهن بالمعروف অর্থাৎ মহিলারা নিজেদের ব্যাপারে সৎ ভাবে যা করবে (বিয়ের ক্ষেত্রে) সে বিষয়ে তোমাদের কোন দোষ নেই। সূরা বাকারাহ-২৩৪ অন্য এক আয়াতে তালাক সম্পর্কে আলোচনার এক পর্যায়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, تنكح زوجا غيره. حتى অথাৎ যতক্ষন না তারা অন্য স্বামীকে বিবাহ না করে। সূরা বাকারাহ-২৩০। অন্য প্রসংগে আল্লাহর বাণী, فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ অর্থাৎ তোমরা তাদেরকে তাদের স্বামীদের কে বিবাহ করা থেকে বাধা দিবে না। সূরা বাকারাহ-২৩২ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا অর্থাৎ মেয়েরা ওলীদের চেয়ে নিজের ব্যাপারে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৪২১। الأيم অর্থ স্বামীহীন মহিলা, পূর্বে স্বামী থাকুক বা না থাকুক। আলমজামুল ওয়াসীত। বর্তমান সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৌদী আলেম শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আলমুনজিদ ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের ক্ষেত্রে বলেছেন,

المسألة اجتهادية ، واختلف فيها الأئمة ، فإنه إذا كان أهل بلد يعتمدون المذهب الحنفي كبلادكم وبلاد الهند وباكستان وغيرها ، فيصححون النكاح بلا ولي ، ويتناكحون على هذا ، فإنهم يقرّون على أنكحتهم ، ولا يطالبون بفسخها

অর্থাৎ এটি একটি ইজতিহাদি মাসআলা, ইমামগণ এক্ষেত্রে ইখতিলাফ করেছেন। সুতরাং যে সব দেশের মানুষেরা হানাফী মাজহাবের উপর নির্ভর করে, ওলী ছাড়া বিবাহবে বৈধ মনে করে এবং এভাবে তাদের বিয়ে হয় যেমন, ভারত, পাকিস্থান ইত্যদি, তাহলে তাদের বিবাহের স্মীকৃতি দেয়া হবে । বাতিল করতে বলা হবে না। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, শরীয়তে বিবাহে মেয়েদের জন্য ওলী থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণভাবে যৌবনের শুরুতে যুবক-যুবতী সহজেই বয়সের উন্মাদনায় বিভ্রান্ত হয় এবং নিজের চোখের ভাল লাগার উপর নির্ভর করেই সঙ্গী পছন্দ করে। বিবাহের ক্ষেত্রে চোখের পছন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবন ও আগত প্রজন্মের কল্যাণের কথাও চিন্তা করতে হবে। এজন্য ইসলামে বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর মতমতের সাথে অভিভাবকের মতামতেরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সুতরাং মেয়েদের জন্য আবশ্যক হলো ওলীর অনুমতি নিয়ে বিবাহ করা। আর আমাদের উচিৎ বিবাহের সময় মানুষদের কে ওলীর অনুমতির বিষয়ে উৎসাহিত করা,ওলী ছাড়া বিয়ে করতে নিষেধ করা এবং ওলী থাকার কল্যান বর্ণনা করা। যারা ইতিমধ্যে ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করেছে তাদের বিষয়ে কথা হলো যেহেতু তারা একটি ফিকহী মত গ্রহন করেছেন আর বিষয়টি ইজতিহাদী এবং ইখতিলাফী তাই তাদেরকে নতুন করে বিবাহ করতে হবে না। তবে এই ঘৃনিত কাজের জন্য তাদের লজ্জিত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 465
আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন? মহানবী (সাঃ) এর জন্মদিন পালন করার সুন্নত উপায় ওই দিন রোজা রাখা, এছাড়া তিনি প্রতি সোমবার রোজা রাখতেন । এখন প্রস্ন হল আমাদের নিজেদের জন্মদিনে কি আমরা রোজা করতে পারব এবং প্রতি সোমবারের মত নিজেদের জন্মবারেও কি প্রতি সপ্তাহে ওই দিন রোজা রাখা যাবে?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

১. রাসূলুল্লাহ সা. জন্মবার পালন করেছেন, জন্মদিন নয়। রাসূলুল্লাহ সা. সোমবার জন্মগ্রহণ করেছেন এবং নবুওয়াত পেয়েছেন। তাই তিনি রোজা রেখে এইবার পালন করেছেন। আপনি যদি জন্মবার পালন করতে চান তাহলে আপনকে নবুওয়াত পেতে হবে। এটা সম্ভব নয়।

২. রাসূলুল্লাহ সা. জন্মবার পালন করেছেন, কিন্তু কোন সাহাবী পালন করেন নি। যদি রাসূলুল্লাহ সা. ব্যতিত অন্য কারো জন্মবার পালন করার অনুমতি থাকতো তাহলে সাহাবীরা নিজেদের জন্মবার পালন করতেন। কারণ সাহাবীগন রা. ছিলেন তাঁর আদর্শ অনুসরনের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী তৎপর। সুতরাং কেউ যদি নিজের জন্মবার পালন করে সেটা হবে সুস্পষ্ট বিদআত। তাই এই কাজ করবেন না।

প্রশ্নঃ 467
1) May I recite Tashahud out of prayer to send Salam to Prophet Mohammad? 2) Is Arabic month Rojob better than Shobe Qodor? 3) Suggest me a Bangla Islamic Book where I can get Duas for day- night and Dua after salat Thank You in advance
29 Dec 2025

১। সালাতের বাইরে সালাম পাঠানোর জন্য তাশাহুদু পড়ার কথা কোন হাদীসে নেই। আপনি অন্যভাবে সালাতের বাইরে রাসূলুল্লাহ সা. এর উপর সালাম পাঠাবেন।

২। না, রজব মাস শবে কদর থেকে উত্তম নয়। ৩। আপনি সালাতের পরে দুআ ও জিকির বিষয়ে এবং অন্যান্য দুআ ও জিকির সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ন, আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত, ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত রাহে বেলায়ত বইটি।

প্রশ্নঃ 468
আস সালামু আলাইকুম, স্যার ১. পহেলা বৈশাখ এ মঙ্গল শোভাযাত্রায় যে মূর্তিগুলো আনা তা হয় তা পূজার উদ্দেশ্যে নয় বা এই মূর্তিগুলো থেকে কিছু চাওয়ার আশাও করা হয় না বরং মিত্র পক্ষ এবং শত্রু পক্ষের চিহ্ন হিসাবে ব্যবহার করা হয় তথাপিও এই শোভাযাত্রায় অংশগ্রহন করা শিরক কেন? ২. পহেলা বৈশাখ বা অন্যান্য সময়ে যে কোন ধরনের মুখোশ ব্যবহার করাই কি হারাম? যদি কেউ যুদ্ধের সময় কোন পশুর মুখোশ বা শিরস্ত্রানে শিং বা এই জাতীয় কিছু ব্যবহান করে, সেটা কি হারাম হবে?
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
১. প্রথমত, শোভাযাত্রায় মঙ্গল হয় এই বিশ্বাস কুফরী। এটা শিরকী চিন্তা। মঙ্গলের মালিক আল্লাহ তায়ালা। শোভযাত্রার মাধ্যমে মঙ্গল হয় এটা বস্তু পূজার অন্তর্ভূক্ত। দ্বিতীয়ত, মূর্তিগুলোর কাছে চাওয়া হয় না, পূজা করা হয় না, এটা একশতভাগ ঠিক কিন্তু এটা হিন্দুদের ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ, তাই এটা হারাম হবে। বিধর্মীদের ধর্মের সাথে সাদৃশ্য হয় এমন যে কোন কিছু হারাম। এছাড়া হাদীসে আমরা যে কোন ধরনের প্রাণীর মূর্তি থেকে বিরত থাকার কথা দেখতে পায় । নিচের হাদীসগুলো লক্ষ করুন:

১. عَنْ أَبِى الْهَيَّاجِ الأَسَدِىِّ قَالَ قَالَ لِى عَلِىُّ بْنُ أَبِى طَالِبٍ أَلاَّ أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- أَنْ لاَ تَدَعَ تِمْثَالاً إِلاَّ طَمَسْتَهُ وَلاَ قَبْرًا مُشْرِفًا إِلاَّ سَوَّيْتَهُ
অর্থ: হযরত আবী হায়্যায র. বলেন, আমাকে আলী রা. বললেন, আমি কি তোমাকে এমন একটি বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করব না যে বিষয়ে রাসূল সা. আমাকে উৎসাহিত করেছেন? সেটা হলো তুমি দেখা মাত্র মূর্তি ভেঙ্গে ফেলবে আর উঁচু কবর সমান করে দিবে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৮৭।

২. قَالَ عَمْرُو بْنُ عَبَسَةَ السُّلَمِىُّ فَقُلْتُ وَبِأَىِّ شَىْءٍ أَرْسَلَكَ قَالَ ্র أَرْسَلَنِى بِصِلَةِ الأَرْحَامِ وَكَسْرِ الأَوْثَانِ وَأَنْ يُوَحَّدَ اللَّهُ لاَ يُشْرَكُ بِهِ شَىْءٌ
অর্থ: হযরত আমর ইবনে আবাসাহ আস-সুলামী রা. বলেন আমি রাসূল সা. কে বললাম, আল্লাহ তায়ালা কি দায়িত্ব দিয়ে আপনাকে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন, তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখার জন্য, মূর্তিভাঙ্গার জন্য আর আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠার জন্য যে, তার সাথে কাউকে শরীক করা হবে না। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৯৬৭।

৩. أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- ্র أَتَانِى جِبْرِيلُ فَقَالَ إِنِّى كُنْتُ أَتَيْتُكَ الْبَارِحَةَ فَلَمْ يَمْنَعْنِى أَنْ أَكُونَ دَخَلْتُ عَلَيْكَ الْبَيْتَ الَّذِى كُنْتَ فِيهِ إِلاَّ أَنَّهُ كَانَ فِى بَابِ الْبَيْتِ تِمْثَالُ الرِّجَالِ وَكَانَ فِى الْبَيْتِ قِرَامُ سِتْرٍ فِيهِ تَمَاثِيلُ وَكَانَ فِى الْبَيْتِ كَلْبٌ فَمُرْ بِرَأْسِ التِّمْثَالِ الَّذِى بِالْبَابِ فَلْيُقْطَعْ فَيَصِيرَ كَهَيْئَةِ الشَّجَرَةِ وَمُرْ بِالسِّتْرِ فَلْيُقْطَعْ وَيُجْعَلْ مِنْهُ وِسَادَتَيْنِ مُنْتَبَذَتَيْنِ يُوَطَآنِ وَمُرْ بِالْكَلْبِ فَيُخْرَجْ فَفَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- وَكَانَ ذَلِكَ الْكَلْبُ جَرْوًا لِلْحَسَنِ أَوِ الْحُسَيْنِ تَحْتَ نَضَدٍ لَهُ فَأَمَرَ بِهِ فَأُخْرِجَ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَفِى الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَأَبِى طَلْحَةَ
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, আমার নিকট জিব্রীল আ. এসে বললেন, একটু আগে আমি আপনার কাছে এসেছিলাম কিন্তু আপনার কাছে আপনার ঘরে আমাকে প্রবেশ করতে বিরত রেখেছিল ঘরের দরজায় থাকা মানুষের প্রতিমূতি, ঘরের ভিতরে থাকা ছবি যুক্ত পর্দা এবং কুকুর। সুতরাং আপনি দরজায় থাকা প্রতিমূর্তির ব্যাপারে নির্দেশ দিন যেন কেটে ফেলা হয় তখন সেটা গাছের আকৃতির মত হয়ে যাবে। আর পর্দার ব্যাপারে নির্দেশ দিন যেন তা কেটে ফেলা হয় এবং পাপোশ বানানো হয়। আর কুকুরটিকে বের করতে বলেন। তখন রাসূল সা. তা করলেন। আর কুকুরটি ছিল হাসান বা হুসাইনের, সেটি তাদের খাটের নিচে ছিল। তিনি তা বের করার নির্দেশ দিলেন আর তা বের করা হল। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৮০৬। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ আর শাইখ আলবানী বলেছেন, সহীহ। এই হাদীসটিতে সুস্পষ্ট যে ইবাদতের নিয়তে কিংবা ভ্রান্ত বিশ্বাস ছাড়াও কোন মূর্তি বা পুতুল রাখা যাবে না। কেননা উক্ত ঘরে কোন মূর্তি ইবাদতের জন্য বা ভ্রান্ত বিশ্বাসে যে রাখা হয়নি এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। উপরের হাদীসগুলোর ভিত্তিতে আলেমগণ একমত যে, যে কোন প্রাণীর এবং মানুষের যে কোন ধরনের পুতুল বা মূর্তি হারাম এবং শিরকের অন্তভূক্ত। তৃতীয়ত, শত্রু ও মিত্র পক্ষের চিহ্ন হিসাবে মূর্তি ব্যবহার করা এটা হিন্দুদের ধর্মের অংশ। কারণ হিন্দু ধর্ম মতে, অশুভ শক্তির বিনাশ আর ধর্ম রক্ষায় যুগে যুগে দেবতাদের আবির্ভাব হয়েছে। তেমনি অসুর কূলের হাত থেকে দেবগণকে রক্ষায় দেবী দুর্গার আগমন ঘটে। পৃথিবীতে যখনই ধর্মের গ্লানি হয় এবং পাপ বৃদ্ধি পায় তখনই দেবতারা শরীর ধারণ করে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন। তেমনি অসুর শক্তির হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে দেবতাদের তেজরশ্মি থেকে আবির্ভূত হন দেবী দুর্গা। অসুরদের অত্যাচারে দেবতাদের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। ব্রহ্মার বর পেয়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল অসুররাজ মহিষাসুর। যুদ্ধে অসুর বাহিনীর কাছে পরাস্ত হয়ে সিংহাসন হারিয়েছিলেন দেবতা ইন্দ্র। স্বর্গে দেবতাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। সমস্যার সমাধানের জন্য ভগবান বিষ্ণুর দ্বারস্থ হন দেবতারা। কিন্তু মহিষাসুরকে রুদ্ধ করার কৌশল খুঁজে পাচ্ছিলেন না কেউই। কারণ ব্রহ্মার বর অনুযায়ী কোনো পুরুষ বা দেবতারা মহিষাসুরকে বধ করতে পারবে না। সেই কারণেই অসুর নিধনে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরের তেজ থেকে জন্ম হয় মহামায়ার। ইনিই দুর্গা। একজন দেবতা দুর্গাকে অস্ত্র দিলেন, অন্যজন দিলেন বাহন। এরপর যুদ্ধে দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করেন। (দৈনিক আমাদের সময় ১২-১০-২০১৫ইং) অর্থাৎ হিন্দুদের দেবতাদের শত্রু অসুর তথা অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে অসুরদের থেকে দেবতাদের রক্ষা করেন দেবী দুর্গা। এই কারণেই হিন্দুরা দেবী দুর্গার পূজা করেন।এখন আপনি চিন্তা করুন, শত্রু ও মিত্র পক্ষের চিহ্ন হিসাবে মূর্তি ব্যবহার করাকে আপনি কি বলবেন? এটা সুস্পষ্ট শিরক।
২। প্রয়োজনে মুখোশ ব্যবহার করা জায়েজ। যুদ্ধের ময়দানে মানুষের মুখোশ পরা যেতে পারে। কিন্তু প্রাণীর সাথে সাদৃশ্য এমন কোন মুখোশ পরা যাবে না। উপরের হাদীসগুলো থেকে স্পষ্ট।সাহাবীগণ এমন শিংসহ মুখোশ পরেছেন বলে জানা যায় না। পহেলা বৈশাখ শত শত বছর ধরে পালন হয়ে আসছে কিন্তু বৈশাখী পূজা শুরু হয়েছে অল্প কিছু দিন।আরো জানতে পড়ুন, ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের লেখা প্রবন্ধ পহেলা বৈশাখ। ইন্টারনেট থেকেও পড়া যাবে আবার খুতবাতুল ইসলাম বই থেকেও পড়া যাবে। আল্লাহ ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 1
আসসালামুআলাইকুম,আমি একজন মেয়ে।আমরা তিন বোন ।কোন ভাই নেই।দুইবোনের বিয়ে হয়ে গেছে।আমার আব্বুর বয়স হয়েছে । আমরা তিন বোন ছাড়া আব্ব্বু আম্মুকে দেখার আর কেউ নেই।আপুরা নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত।তারা খেয়াল রাখতে পারেনা।আব্বু চাচ্ছেন আমি যেন পড়াশোনাটা কম্পিলিট করে বিসিএস পরীক্ষা দেই।আমি পরিপূর্ণ পর্দা করি।আমার প্রশ্নটা হলো ,আমি যদি নিজেকে ফেতনা মুক্ত রেখে,সরকারী চাকরী করতে চাই সেটা কি জায়েজ হবে।আমি স্কুল,কলেজের পড়াশোনা পর্দা ঠিক রেখেই সম্পন্ন করেছি আলহামদুলিল্লাহ
03 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

চাকুরী করা ছাড়া যদি আপনার ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা না থাকে তাহলে অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে চাকুরী করতে পারেন। বিয়ের পরে স্বামীর অনুমতি নিতে হবে। বাইরে কাজ করা মূলত পুরুষদের কাজ। বিশেষ জরুরী পরিস্থিতিতে মেয়েরা পূর্ণ পর্দার সাথে বাইরে কাজ করতে পারে। 

আল্লাহ তায়ালা কুরআনে মুসলিম মহিলাদেরকে বলেছেন,

وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى

তোমরা তোমাদের বাড়ি ঘরের মধ্যে থাকো, প্রাচীন জাহেলী যুগের মহিলাদের মত নিজেদের প্রাদর্শন করো না। সূরা আহযাব, আয়াত নং ৩৩। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেছেন,

الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ

পুরুষরা মহিলাদের উপর কর্তৃত্ব করবে, কারণ আল্লাহ একজনকে অন্যজনের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেনএবং পুরুষেরা তাদের টাকা পয়সা খরচ করে। বিদায় হজ্জের ভাষনে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,

وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللَّهِ وَلَكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لاَ يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ أَحَدًا تَكْرَهُونَهُ. فَإِنْ فَعَلْنَ ذَلِكَ فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ

তোমরা তাদের লজ্জাস্থানকে হালাল করেছো আল্লাহর কালিমা দ্বারা… তাদের খাবার-দাবার ও পোশাকের দায়িত্ব তোমাদের ওপর। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩০০৯;সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ১৯০৭। আলেমদের এ ব্যাপারে ঐক্যমত পোষন করেছেন যে, স্ত্রীর ভরন-পোষনের দায়িত্ব স্বামীর। আলমাউসুয়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৪১/৩৫। উপরের আয়াত ও হাদীস থেকে জানা যায়, মহিলাদের দায়িত্ব হলো ঘর সামলানো আর পুরুষের দায়িত্ব হলো পরিবারের আর্থিক দিকটি সামলানো। এর বাইরে গেলে পৃথীবির স্বাভাবিক ভারসম্য নষ্ট হয়। আমরা দেখছি ইউরোপ-আমেরিকাতে মহিলারা বাইরে কাজ করে এমন পর্যায় গিয়েছে যে, অনেকেই পরিবার গঠন করতে, সন্তান নিতে রাজী নয়। ফলসরূপ জনসংখ্যা কমে যাচ্ছে। স্বাভাবিক ভারসম্য নষ্ট হচ্ছে আর সেখানে পুরুষরা মহিলাদের কোন দায়িত্ব নিতেও রাজী নয়। আমাদের দেশের অনেক মহিলা বিদেশে গিয়ে রান্নাবান্না ও ঘর গোছানের কাজ করে। যখন তারা বিদেশে গিয়ে এটা করে তখন সবাই সেটাকে বিশেষ কাজ মনে করে আর ঐ একই কাজ যখন নিজের বাড়িতে করে তখন সেটাকে তারা কাজ মনে করে না। এটার কারণ আমাদের মাথা পঁচে গিয়েছে। সুস্থ চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। উপার্জনের নামে মহিলাদের বাইরে বের হওয়ার অবাধ সুযোগ দিয়ে জাতিকে দিন দিন ধ্বংসের দিকেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে মনে হয়। সুতরাং স্বামীর আর্থিক অবস্থা ভাল হওয়া সত্বেও স্ত্রী চাকরি করলে স্বামী দাইয়ুসের অন্তর্ভুক্ত হবে কি হবে না এবার আপনি চিন্তা করুন।

প্রশ্নঃ 466
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ, আমার এক রক্ত সম্পর্কীয় আত্নীয় হযরত উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নিয়ে বাজে ধারনা পোষণ করেন। তাকে জীবিত অবস্থায় ১০ জন সাহাবীর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্তির হাদীসটি দেখিয়ে সতর্ক করলে তিনি এই হাদীসের ব্যাপারে আমার মনে সংশয় সৃষ্টির চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে বুখারী ও মুসলিমে উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে জান্নাতী হিসেবে যে সব হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো তার সামনে পেশ করি। তখন তিনি দাবী করেন হাদীস হচ্ছে শুধুমাত্র কুরআনের ব্যাখ্যা, কুরআনের ব্যাখ্যা দেয়া ছাড়াও নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনে অসংখ্য কথা বলেছেন, অসংখ্য কাজ করেছেন। এগুলো হাদীসের অন্তর্গত নয়। তিনি বলেন উসমানকে (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) জান্নাতী হিসেবে ঘোষনা করা আল্লাহর কোনো মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হয়ে থাকতে পারে। যেমন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রুমা কূপ খননের জন্য উসমানকে (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) অনুরোধ করলে তিনি তা রাখেননি। কিন্তু পরবর্তীতে যখন এই কুপ খননকারীর জান্নাত প্রাপ্তির ঘোষনা দেন তখন উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) কুপ খনন করে দেন। পরিশেষে তিনি এই কথা বলেন যে যদি উসমান জান্নাতে যায় তাহলে জাহান্নামে যাওয়ার মত মানুষ থাকবে না আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এই ব্যাক্তির সাথে রক্ত সম্পর্কীয় আত্নীয়তা, সামাজিক ও অন্যান্য সম্পর্ক রক্ষার ব্যাপারে কি করণীয়? তার সাথে আমি কিরূপ আচরণ করবো? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন। আসসালামু আলাইকুম, জাঝাকুমুল্লাহু খাইরান।
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আপনার আত্মীয়কে প্রশ্ন করুন, তিনি কুরআন বিশ্বাস করেন কি না? তিনি কি কুরআনকে অধিক নির্ভরযোগ্য মনে করেন না ইতিহাসকে? মহান আল্লাহ কুরআন কারীমে বলেছেন:
وَالسَّابِقُونَ الأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُم بِإِحْسَانٍ رَّضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُواْ عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
প্রথম অগ্রগামী মুহাজিরগণ ও আনসারগণ, এবং যারা তাদের সুন্দরভাবে অনুসরণ করেছে আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট এবং আল্লাহ তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাত…। (সূরা তাওবা: ১০০ আয়াত) কুরআনের এ আয়াতটি নিশ্চিত করে যে, খাদিজা, আলী, আবূ বকর, উসমান, যুবাইর ইবনুল আওয়াম ও অন্যান্য সকল মুহাজির সাহাবী যারা প্রথম অগ্রগামী হিসেবে ইসলাম গ্রহণ করেন তাঁদের উপর আল্লাহ সন্তুষ্ট এবং তাঁদের জন্য আল্লাহ জান্নাত প্রস্তুত করে রেখেছেন। কুরআনের এ সাক্ষ্যর পরেও যে ব্যক্তি তার জান্নাতী হওয়ায় সন্দেহ পোষণ করেন তিনি মূলত কুরআনের বাণীকেই বিশ্বাস করেন না। যারা বিশ্বাস করেন যে, আলী বংশের একজন ইমাম বা পীরের সাহচর্যে যেয়ে একজন মানুষ এক দিনেই বড় বুজুর্গ হয়ে যেতে পারে, অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে দীর্গ ২৩ বৎসর জীবন কাটিয়েও সাহাবীগণ ঈমান শিখতে পারেন নি তিনি মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেই অবমাননা করেন। শীয়া মতবাদ অনুসারে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যর্থ নবী ছিলেন মুহাম্মাদ (সা.)! নাউযু বিল্লাহ! তিনি দীর্ঘ ২৩ বছর জীবনপাত করেও মাত্র এক ডজনের বেশি মানুষকে ঈমান শেখাতে পারেন নি। উসমান (রা) বা অন্যান্য সাহাবীদের বিরুদ্ধে বর্ণিত ঘটনাবলি সবই তাঁদের মৃত্যুর প্রায় ১৫০/২০০ বছর পরে জনশ্রুতি নির্ভর ঐতিহাসিক বর্ণনার মাধ্যমে লিপিবদ্ধ। প্রায় সকল বর্ণনায় শীয়া ঐতিহাসিকদের বর্ণনা বা সংকলন। নিম্নের বিষয়গুলো লক্ষ্য করুন: নিম্নের বিষয়গুলো লক্ষ্য করুন: রাসূলুল্লাহ সা.-এর পরিজন ও বংশধরের প্রতি এ ভালবাসা ও ভক্তি কখনোই তাঁর সহচর ও সাহাবীগণের প্রতি ভালবাসার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কিন্তু শীয়াগণ পরিবার ও বংশধরের ভালবাসার নামে সাহাবীগণের প্রতি বিদ্বেষ, ঘৃণা ও কুৎসা রটনায় লিপ্ত হয় এবং সাহাবীগণের প্রতি বিদ্বেষকে ঈমানের অংশ বানিয়ে নেয়। তারা ইহূদীদের ষড়যন্ত্রে বিভ্রান্ত হয়ে সাহাবীগণকে ইসলামের শত্র বলে গণ্য করে। তারা নবী-পরিবারের ভালবাসাকে সাহাবীগণের ভালবাসার পরিপন্থী বলে গণ্য করে। এ বিষয়ে অগণিত মিথ্যা তারা প্রচার করে। গত কয়েক শতাব্দী যাবত পাশ্চাত্য-প্রাচ্যবিদগণও সাহাবীগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন। এ সকল প্রচারের একটিই উদ্দেশ্য: ইসলামের মর্মমূলে আঘাত করা ও ইসলামের সৌধকে ভেঙ্গে ফেলা। সাহাবীগণের সততা প্রশ্নবিদ্ধ হলে ইসলামের সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়; কারণ কেবলমাত্র তাঁদের মাধ্যমেই ইসলাম প্রচারিত হয়েছে। সাহাবীগণের সততায় অবিশ্বাস করার অর্থ রাসূলুল্লাহ সা.-এর নবুওয়ত অবিশ্বাস করা। যারা মনে করেন যে, অধিকাংশ সাহাবী স্বার্থপর, অবিশ্বাসী বা ধর্মত্যাগী ছিলেন, তাঁরা নিঃসন্দেহে মনে করেন যে, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা. একজন ব্যর্থ নবী ছিলেন (নাঊযূ বিল্লাহ!)। লক্ষ মানুষের সমাজে অজ্ঞাত অখ্যাত দু-চার জন মুনাফিক থাকা কোনো অসম্ভব বিষয় নয়। কিন্তু সুপরিচিত সাহাবীগণের সততায় সন্দেহ পোষণ করলে রাসূলুল্লাহ সা.-এর ব্যর্থতার দাবি করা হয়। একজন ধর্ম প্রচারক যদি নিজের সহচরদের হৃদয়গুলিকে ধার্মিক বানাতে না পারেন, তবে তিনি কিভাবে অন্যদেরকে ধার্মিক বানাবেন! তাঁর আদর্শ শুনে, ব্যবহারিকভাবে বাস্তবায়িত দেখে ও তাঁর সাহচর্যে থেকেও যদি মানুষ সততা অর্জন করতে না পারে, তবে শুধু সে আদর্শ শুনে পরবর্তী মানুষদের সততা অর্জনের কল্পনা বাতুলতা মাত্র। আজ যিনি মনে করেন যে, কুরআন পড়ে তিনি সততা শিখেছেন, অথচ মুহাম্মাদ সা.-এর কাছে কুরাআন পড়ে, জীবন্ত কুরআনের সাহচর্যে থেকেও আবূ বকর, উমার, উসমান, আবূ হুরাইরা, আমর ইবনুল আস, মুআবিয়া, আবূ মূসা আশআরী রা. বা অন্য কোনো সাহাবী সততা শিখতে পারেন নি, তিনি মূলত মুহাম্মাদ সা.-এর নবুওয়তকেই অস্বীকার করেন। শীয়াগণ কাউকে দেবতা ও কাউকে দানব বানিয়েছেন। দুটি বিষয়ই মানবীয় প্রকৃতির সাথে সাংঘর্ষিক। মানবীয় দুর্বলতার সাথে সততার কোনো বৈপরীত্য নেই। সাহাবীগণ মানুষ ছিলেন; মানবীয় দুর্বলতার ঊর্ধ্বে ছিলেন না। মানবতার সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষকের সাহচর্যে মানুষের মধ্যে সর্বোচ্চ সততা ও বেলায়াত তাঁরা অর্জন করেছিলেন। কোনো স্কুলের সফলতা যেমন ছাত্রদের পাশের হারের উপর নির্ভর করে, তেমনি ধর্মপ্রচারকের সফলতা নির্ভর করে তাঁর সাহচর্য-প্রাপ্তদের ধার্মিকতার উপর। কাজেই নুবুওয়াতে বিশ্বাসের অনির্বার্য দাবি সাহাবীগণের সততায় বিশ্বাস। আর এ বিশ্বাসই নিশ্চিত করেছে কুরআন ও হাদীস। এখানে সংক্ষেপে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করছি: (১) কুরআনে বারবার সাহাবীগণের প্রশংসা করা হয়েছে, তাঁদের ধার্মিকতার সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।মক্কা বিজয়ের পূর্বের ও পরের সকল সাহাবীকে জান্œাতের সুসংবাদ প্রদান করে আল্লাহ বলেন:
لا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُولَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنَ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلا وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ
তোমাদের মধ্যে যারা (মক্কা) বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং সংগ্রাম করেছে তারা এবং পরবর্তীরা সমান নয়; তারা মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ তাদের চেয়ে যারা পরবর্তীকালে ব্যয় করেছে এবং সংগ্রাম করেছে। তবে আল্লাহ উভয়কেই কল্যাণের (জান্নাতের) প্রতিশ্রতি দিয়েছেন।সূরা (৫৭) হাদীদ: ১০ আয়াত। রাসূলুল্লাহসা.এর সকল সাহাবীর ঢালাও প্রশংসা করে ও তাঁদের ধার্মিকতা, সততা ও বিশ্বস্ততার ঘোষণা দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন:
وَلَكِنَّ اللَّهَ حَبَّبَ إِلَيْكُمْ الإِيمَانَ وَزَيَّنَهُ فِي قُلُوبِكُمْ وَكَرَّهَ إِلَيْكُمْ الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ أُوْلَئِكَ هُمْ الرَّاشِدُونَ
কিন্তু আল্লাহ তোমাদের নিকট ঈমানকে প্রিয় করেছেন এবং তাকে তোমাদের হৃদয়গ্রাহী করেছেন। তিনি কুফ্র, পাপ ও অবাধ্যতাকে তোমাদের নিকট অপ্রিয় করেছেন। তারাই সৎপথ অবলম্বনকারী। সূরা (৪৯) হুজুরাত, ৭ আয়াত। সাহাবীগণের মধ্যে মতভেদ হয়েছে এবং কখনো কখনো যুদ্ধবিগ্রহ হয়েছে। ভুল বুঝাবুঝি, সামাজিক প্রেক্ষাপট, ষড়যন্ত্র ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে দুজন সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তির মধ্যে বিরোধ, মামলা বা যুদ্ধ হতে পারে। শুধু যুদ্ধ বা বিরোধের কারণে কাউকে অপরাধী বলা যায় না। যুদ্ধবিগ্রহ ঐতিহাসিক সত্য। তবে সেগুলিতে কার কি ভূমিকা ছিল সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ক ইতিহাস লেখা হয়েছে ঘটনার প্রায় ২০০ বৎসর পর শীয়া মতবাদ প্রভাবিত আব্বাসী শাসনামলে শীয়াগণের বর্ণনার উপর নির্ভর করে। কুরআন ও হাদীস সাহাবীগণের মর্যাদা ও সততা নিশ্চিত করেছে। এ সকল যুদ্ধবিগ্রহের অযুহাতে তাঁদের কারো নামে কুৎসা রটনা বা বিদ্বেষ পোষণ করার অর্থ কুরআন ও হাদীসের অগণিত নির্দেশনা জনশ্রতির কারণে বাতিল করে দেওয়া। কোনো কোর্টে যদি কোনো দলের নেতৃস্থানীয় কাউকে অপরাধী বলে রায় দেওয়া হয় তবে সে দলের অনুসারীরা রায়কে মিথ্যা বলবেন কিন্তু নেতার সততায় বিশ্বাস হারাবেন না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ অতি-সাম্প্রতিক বিষয়। তারপরও সকলেই শুধু ইতিহাস বিকৃতির কথা বলেন। ঐতিহাসিকরা যদি কোনো নেতার অপরাধের অনেক তথ্য পেশ করেন তবুও তার অনুসারীরা সে তথ্য বিশ্বাস করবেন না। তাহলে মুমিন কিভাবে রাসূলুল্লাহ সা.-এর সহচরদের বিষয়ে কুরআন প্রমাণিত সততার সাক্ষ্যের বিপরীতে ইতিহাসের বর্ণনার উপর নির্ভর করবেন? আমরা শুধু এতটুকুই বলব যে, যুদ্ধ বিগ্রহ ঘটেছে, কিন্তু কার কী ভূমিকা তা আমরা এতদিন পরে ইতিহাসের বর্ণনার উপর নির্ভর করে নির্ধারণ করতে পারব না। তবে কুরআন ও হাদীসের বর্ণনার উপর নির্ভর করে আমরা তাঁদের পরিপূর্ণ সততা ও বেলায়াতে বিশ্বাস করি। আমরা মনে করি যে, তাঁদের যুদ্ধ-বিগ্রহ ইত্যাদি ভুল বুঝাবুঝি ও ইজতিহাদী মতপার্থক্যের কারণেই ঘটেছে। এতে তাঁদের তাকওয়া ও বেলায়াত (আল্লাহর ওলী হওয়ার মর্যাদা) ক্ষতিগ্রস্থ হয় নি। আরেকটি বিষয় দেখুন, যদি ইহূদীদেরকে প্রশ্ন করা হয়: শ্রেষ্ঠ মানুষ কারা? তারা একবাক্যে বলবেন: আমাদের নবী মূসার (আ) সহচরগণ। যদি খৃস্টানদেরকে প্রশ্ন করা হয়: শ্রেষ্ঠ মানুষ কারা? তারা একবাক্যে বলবেন: আমাদের নবী ঈসার (আ) হাওয়ারী-সহচরগণ। আর যদি শীয়াদেরকে প্রশ্ন করা হয় নিকৃষ্ট-ঘৃণ্যতম মানুষ কারা? তবে তারা একবাক্যে বলবেন: আমাদের নবী মুহাম্মাদ সা.এর সহচরগণ!! শীয়াদেরকে প্রশ্ন করুন: সবচেয়ে ভাল মানুষ কারা? তারা বলবেন: আলী (রা)-এর সাথীগণ। তাদেরকে প্রশ্ন করুন: সবচেয়ে খারাপ মানুষ কারা? তারা একবাক্যে বলবেন: মুহাম্মাদ সা.-এর সাথীগণ!! কাউকে ভালবাসার অতি স্বাভাবিক প্রকাশ তার সাথে জড়িত সকলকে ভালবাসা ও সম্মান করা। এমনকি তাদের কোনো অপরাধ প্রমাণিত হলেও অজুহাত খুঁজে তা বাতিল করতে চেষ্টা করা। কারণ প্রিয়তমের সাথীদেরকে খারাপ কল্পনা করতে মন মানে না। আর কারো সঙ্গীসাথীকে সর্বোচ্চ ঘৃণা করার সুনিশ্চিত অর্থ ঐ ব্যক্তির প্রতি ভালবাসা না থাকা। কাজেই মুহাম্মাদ সা.-এর সাথীদেরকে পথভ্রষ্ট প্রমাণ করা ও তাঁদেরকে ঘৃণা করা যাদের ধর্মের মূল ভিত্তি তাঁদের থেকে মুহাম্মাদ সা.-এর হাদীস বা দীন শিক্ষা করা কি সম্ভব? যদি তিনি তার অবস্থান থেকে ফিরে না আসেন তাহলে তাকে সামাজিকভাবে বয়কট করুন। তার সাথে উঠা-বসা লেনদেন বন্ধ করুন।
প্রশ্নঃ 473
মুহতারামঃ আসসালামুয়ালাইকুম। আমার প্রশ্ন হল মহিলারা হায়েয অবস্থায় শোবার সময় সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস পরে শরির মাসাহ করতে পারবে কিনা? যাযাকুমুল্লাহ।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

অধিকাংশ আলেমের মতে হায়েজ ও নিফাসের সময় কুরআন পড়া বৈধ নয়। তবে দুআ ও জিকির হিসাবে পড়াকে তারা জায়েজ বলেছেন। যেহেতু শোবার সময় শরীর মাসেহ করার জন্য সূরাগুলো পড়া হয় দুআ হিসাবে তাই নাজায়েজ হবে না।

প্রশ্নঃ 472
আমি কিভাবে আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের সকল অডিও ভিডিও পেতে পারি?
29 Dec 2025

আপনি দু’ভাবে পেতে পারেন। সরাসরি আমাদের এখানে এসে অথব ইউটিউবের মাধ্যমে। এছাড়া আমাদের ওয়েবসাইডেও অডিও ভিডিও নামে দুটা জায়গা আছে। ওখান থেকেও পেতে পারেন।

প্রশ্নঃ 471
আসসালামু আলাইকুম, ১. ওমরার সম্পূর্ণ নিয়ম কি ( সফরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত)? ২. প্রতি চক্কর (তাওয়াফ) এর সময় কি আলাদা আলাদা দোয়া পরতে হয়।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

উমরা আদায়ের নিয়মঃ

ক) মক্কায় প্রবেশের পর মিকাত থেকে ইহরাম করে মক্কা পৌঁছানর পরে গোছল করা মুসাহাব, কারণ রাসুলুল্লাহ (সঃ) তা করেছিলেন। এরপর মসজিদে প্রবেশ করিয়ে বলবেনঃ

بسم الله والصلاة والسلام على رسول الله، أعوذ بالله العظيم وبوجهه الكريم، وسلطانه القديم، من الشيطان الرجيم، اللهم افتح لى أبواب رحمتك.

বিসমিল্লাহ, ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহর উপর দরুদ ও সালাম। আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে মহান আল্লাহর, তাঁর সম্মানিত চেহারা, তাঁর অনাদি ক্ষমতার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ আপনি আমার জন্য আপনার রহমতের – কল্যাণের দরজাগুলো খুলে দিন।

খ) তাওয়াফের নিয়মঃ – কাবাঘরের কাছে পৌঁছে উমরা পালনকারী তালবিয়া (লাব্বাইকা…) পাঠ বন্ধ করবেন। এরপর হাজরে আসওয়াদের (কাল পাথরের) কাছে পৌঁছে সম্ভব হলে بِسْمِ اللهِ وَاللهُ أَكْبَرُ বিসমিল্লাহি ওয়া আল্লাহু আকবার বলে তাতে হাত দিয়ে স্পর্শ করবেন এবং চুমু দিবেন। ভীড় থাকলে ঠেলাঠেলি করে মানুষকে কষ্ট দেয়া ঠিক হবেনা। বরং সম্ভব হলে শুধুমাত্র হাত দিয়ে বা লাঠি দিয়ে স্পর্শ করবেন এবং হাতে বা লাঠিতে চুমু দিবেন। যদি তাও সম্ভব না হয় তাহলে দুর থেকে হাত দিয়ে اللهُ أَكْبَرُ আল্লাহ আকবার বলে ইশারা করবেন, ঈশারা করার পর হাতে চুমা খাবেন না। – এরপর কাবা শরীফকে বামে রেখে তাওয়াফ শুারু করবেন। – রুকনে ইয়েমানী বা কাবাঘরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে পৌঁছানর পর সম্ভব হলে بِسْمِ اللهِ وَاللهِ أَكْبَرُ বিসমিল্লাহি ওয়া আল্লাহ আকবার বা اللهُ أَكْبَرُ আল্লাহ আকবার বলে রুকনে ইয়েমানীকে স্পর্শ করবেন। তাকবীল একবারই বলতে হবে। ভীড়ের কারণে রুকনে ইয়েমানী স্পর্শ করা সম্ভব না হলে স্বাভাবিক ভাবে তাওয়াফ করে এগিয়ে যাবেন। হাত দিয়ে রুকনে ইয়েমানীর দিকে ঈশারা করার দরকার নেই, হাদীসে তা বলা হয়নি। – তাওয়াফ করার সময়ে কোন নির্দিষ্ট দোয়া নেই। কাজেই তওয়াফ কারা কালীন কুরআন তিলাওয়াত, বা তাসবীহ-তাহলীল বা জিকির করতেন পারেন, বা যে কোন ভাষায় যে কোন দোয়া করতে পারেন। শুধুমাত্র প্রতি চক্করের শেষে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর শেখান নীচের দোয়া বলবেনঃ

[البقرة ২০১] رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّار

রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতান, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতান, ওয়া ক্কিনা আযাবান নার। হে আমাদের প্রভু, পামাদেরকে দুনিয়ার (পার্থিব) জীবনে কল্যাণ ও মঙ্গল দান কারন, পরকালের জীবনকে কল্যাণ ও মঙ্গলময় করুন এবং আমাদেরকে দোযখের শাস্তি থেকে রক্ষ করুন। এই তাওয়াফের সময় কেবল পুরুষদের জন্য নিচের দুটি বিষয় সুন্নাতঃ ১) ইদতিবা অর্থাৎ গায়ে জড়ান চাদরের মধ্যভাগ ডান বগলের নিচে রেখে দুই প্রান্ত বাম কাঁধের উপরে রাখা। এতে ডান কাঁধ খোলা থাকবে। সাত চক্কর তাওয়াফের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এভাবে করা সুন্নাত। তবে তাওয়াফ ছাড়া অন্য সময়ে ইদতিবা করবেন না, স্বাভাকিব ভাবে দুই কাঁধ ঢেকে চাদর পরবেন। বিশেষতঃ নামাজের সময়ে অবশ্যই দুই কাঁধ ঢেকে রাখবেন। ২) রমল, অর্থাৎ দৌড়ানর ভঙ্গিতে ছোট পদক্ষেপে তাওয়াফ করা। সাত চক্করের মধ্যে শুধু প্রথম ৩ চক্করে রমল করতে হবে। বাকী ৪ চক্করে স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন। – ৭ চক্কর তাওয়াফের পর সম্ভব হলে মাকামে ইব্রাহীমের পিছনে, অথবা হারামের যে কোন স্থানে ২ রাকাত নামায আদায় করবেন। প্রথম রাকাতে সুরা কাফিরুন ও দ্বিতীয় রাকাতে কুল হুয়াল্লাহ আহাদ সরা পড়া সুন্নাত। – নামাযের পর সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদে ডান হাত দিয়ে তা স্পর্শ করা সুন্নাত। এরপর সায়ী করার জন্য সাফার দিকে যাবেন।

গ) সায়ী করার নিয়মঃ সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে করণীয়ঃ – সম্ভব হলে সাফা পাহাড়ের উপরে ওঠা উত্তম, অসুবিধা হলে এর পাদদেশে দাঁড়াবেন এবং নিচের আয়াতটি পড়বেনঃ

[البقرة ১৫৮] إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ

ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআইরিল্লাহ, ফামান হাজ্জাল বাইতা আওইতামারা ফালা জুনাহা আলাইহি আঁইয়াত্তাওয়াফা বিহিমা ওয়ামান তাতওয়াআ খাইরান ফাইন্নাল্লাহা শাকিরুন আলীম। নিশ্চয় সাফা এবং মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন সমুহের অন্তর্ভুক্ত, কাজেই যে ব্যক্তি হজ্জ বা উমরা করবে তাঁর জন্য এদুয়ের মাঝে সায়ী করা অনুচিত হবে না। আর যদি কেউ বেশী করে ভাল কাজ করে তাহলে আল্লাহ কৃতজ্ঞ ও জ্ঞানী। – এরপর মুস্তাহাব হল কিবলামুখি হয়ে বলবেঃ الحَمْدُ لِلّهِ اللهُ أَكْبَرُ আলহামদু লিল্লাহ আল্লাহু আকবার। এরপর বলবেঃ

لَاإلَهَ إلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ. لَا إِلَهَ إلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَاشَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الًمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِيْ وَيُمِيْتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٌ. لَا إلَهَ إِلَّا اللهُ، وَحْدَهُ، أَنْجَزَ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলক, ওয়ালাহুল হামদু, ইয়ুহয়ী ওয়া ইয়ুমীতু, অহুয়া আলা কুাল্লি শাইয়িন কাদীর। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু, আনজাযা ওয়াদাহু, ওয়া নাসারা আবদাহু, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু। অর্থাৎঃ আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ, নেই তিনি একক, তাঁর কোন শরীক বা অংশীদার নেই। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসা তাঁরই, তিনিই জীবন দেন, মৃত্যু দেন এবং তিনি সর্বশক্তিমান। আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তিনি একক, তিনি তাঁর ওয়াদা বাস্তবায়িত করেছেন,তাঁর বান্দাকে বিজয়ী করেছেন এবং তিনি একাই সকল বিরোধী শক্তিকে পরাজিত করেছেন। এরপর হাত তুলে ইচ্ছামত আল্লাহর কাছে দোয়া চাইবেন।

সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ীর সময়ে করণীয়ঃ সাফা থেকে নেমে হেঁটে মারওয়ার দিকে যেতে হবে সবুজ চিহ্ণের কাছে এলে পুরুষেরা দৌড়াবেন দ্বিতীয় সবুজ চিহ্ণ পর্যন্ত। এরপর স্বাভাবিকভাবে হেঁটে মারওয়া পাহাড়ে পৌঁছে উপরে বর্ণিত তাকবীর, তাহলীল ও দোয়ার পর সেখান থেকে সাফার দিকে এগোতে হবে। মহিলারা সর্বদা স্বভাবিকভাবে হাঁটবেন, তাদের জন্য দৌড়ান সুন্নাত নয়। – সাফা থেকে মারওয়া পর্যন্ত গেলে এক বার সায়ী হয়, আবার মারওয়া থেকে সাফা গেলে আরেক সায়ী হয়। এভাবে ৭ বার সায়ী করতে হবে। এতে সাফা থেকে শুরু হবে এবং মাওয়াতে গিয়ে শেষ হবে। – সায়ী করার সময় যত বেশী সম্ভব দোয়া ও যিকর করা উচিত। এছাড়া ওজু অবস্থায় সায়ী করা উচিত। তবে ওজু ছাড়াও সায়ী জায়েজ হবে, কিন্তু তাওয়াফ ওজু ছাড়া হবেই না।

ঘ) সায়ীর পরে করণীয়ঃ ৭ বার সায়ী করার পর পুরুষেরা মাথা টাক করাবেন, অথবা চুল ছাঁটাবেন। পুরুষদের জন্য টাক করা উত্তম। তামাত্তু কারীর জন্য ছাঁটানো উত্তম, তিনি হজ্জের পরেটাক করবেন। টাক করা বা ছাঁটনো উভয় ক্ষেত্রেই পুরো মাথার চুল কাটতে বা ছাঁটতে হবে। আংশিক ছাঁটানো বা কাটানো জায়েজ নয়। মেয়েরা সর্বাবস্থায় নখ পরিমাণ চুল ছাঁটবেন।

প্রশ্নঃ 470
সারে সাত ভরি স্বর্ণের কম হলেও কি যাকাত দিতে হবে..? আর আমরা তো জানি যে কারো কাছে যদিসারে সাত ভরি স্বর্ণ থাকে এবং এগুলো এক বছর অতিক্রম করে তখন তাঁর যাকাত দিতে হয়, প্লীজ একটু বুঝিয়ে বলবেন, যাঝাকাল্লাহ খাইর
29 Dec 2025

যাকাতের ক্ষেত্রে স্বর্ণের নিসাব হলো স্বর্ণ সাড়ে সাত ভরি হতে হবে। এবং এক বছর থাকতে হবে। এর কম হলে স্বর্ণের যাকাত দিতে হবে না।

প্রশ্নঃ 469
১. ইমাম সাহেব সুন্নাত সালাত (ফজর, যোহর এর সুন্নাত) আদায় না করে কি ফরয সালাতের ইমামতি করতে পারবেন না? দেখা যাচ্ছে ইমাম সাহেব যখন আসলেন তখন সুন্নাত সালাত আদায় এর জন্য পর্যাপ্ত সময় নাই। অর্থাৎ জামাতের সময় হয়ে গেছে। ২. কোন কারনে ইমাম সাহেবের এক ওয়াক্ত বা কয়েক ওয়াক্ত নামায কাযা হয়ে গেছে এবং তার এই কাযা নামায আদায় করা হয় নি। এমতাবস্থায় কি তিনি অন্য ওয়াক্তের নামাযের ইমামতি করতে পারবেন? অর্থাৎ কাযা নামায ব্যতিরেকে কি অন্য ওয়াক্তের নামাযের ইমামতি করা যায়?
29 Dec 2025

ইমাম সাহেব সুন্নাত সালাত না পড়লেও সালাতে ইমামতি করতে পারবেন। কোন সমস্যা নেই। কাজা নামায ব্যতিরেকে অন্য ওয়াক্তের নামাযের ইমামতিতে কোন সমস্যা নেই।


কপিরাইট স্বত্ব © ২০২৫ আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট - সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত| Design & Developed By Biz IT BD