আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট এ আপনাকে স্বাগতম

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি
সব প্রশ্ন অর্থনৈতিক আকিকা আকীদা নামায আখিরাত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আদব আখলাক ইতিহাস ঈদ-কুরবানী ঈমান তাওহীদ রিসালাত জানাযা-কবর যিয়ারত জান্নাত-জাহান্নাম জিহাদ তাফসীর ত্বহারাত পবিত্রতা সফর জুমআ তারাবীহ নফল সালাত বিতর পোশাক-পরিচ্ছেদ ফারায়েজ ফিতরা বিচার-আচার বিবাহ-তালাক মানত যাকাত যিকির/দুআ/আমল রোজা লেনদেন শিরক-বিদআত সাধারণ দান-সদকাহ সিরাত/সামায়েল সুন্নাত হজ্জ হাদীস ও উসূলুল হাদীস হালাল হারাম বিবিধ কুরআন হাদীস বাতিল ফিরকা দাওয়াত ও তাবলিগ জাদু-টোনা মসজিদ মুসাফির রমযান সুদ-ঘুষ হালাল ইতিকাফ কাজা/কাফফারা গুনাহ জায়েয তায়াম্মুম ব্যক্তিগত ও তাবলিগ সদকাহ বিদআত কসর তাওবা জিন-পরি ব্যবসা-বাণিজ্য বই অসিয়ত
প্রশ্নঃ 2078
রাসুলের আগমনের পূর্বে সবায় কোন ধর্মের অনুসারি ছিলেন?
18 Jan 2026

রাসূলের আগমনের পূর্বে মানুষ কোন নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারী ছিল না। বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষেরা ভিন্ন ভিন্ন দেব-দেবীর পূজা করত। তবে খুব অল্প সংখ্যক মানুষ তাওহীদের অনুসারী ছিল বলে মনে করা হয়।

প্রশ্নঃ 1767
আসসালামু আলাইকুম: ঈসায়ী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দিন বা তারিখ শুরু হয় রাত ১২:০০ টার পর। ইসলামী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দিন বা তারিখ কখন থেকে শুরু হয়। যেমন: শুক্র বার কখন কোন সময় থেকে শুরু হবে এবং শেষ হবে বা ২১ রমজান কখন থেকে কখন পর্যন্ত?
13 Jan 2026

ইসলামী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দিন শুরু হয় সূর্যাস্তোর পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। ২১ রমজান শুর হয় ২০রোজার ইফতার থেকে।

প্রশ্নঃ 1679
মহা নবী (সা) এর সাথে বিয়ের সময় আয়িশা (রা) এর বয়স কত ছিল? এক লেখক দাবি করেছেন ১৭-১৮ বছর। তা কতটুকু সত্য। লেখাটির লিংকঃ http://markajomar.com/?p=1569
08 Jan 2026

এই বিষয়ে আয়েশা রা. নিজে একটি হাদীসে বলেন, تَزَوَّجَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا بِنْتُ سِتِّ سِنِينَ অর্থ: নবী সা. আমাকে বিবাহ করেন, তখন আমি ৬ বছরের। সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৩৮৯৪। সুনানু নাসায়ীর বর্ণনা হলো, تزوجني رسول الله صلى الله عليه و سلم وأنا بنت ست ودخل علي وأنا بنت تسع سنين وكنت ألعب بالبنات রাসূলুল্লাহ সা. আমাকে ৬ বছর বয়সে বিবাহ করেন, ৯ বছর বয়সে সংসার শুরু হয় আর এই সময় আমি মেয়েদের সাথে খেলা-ধুলা করতাম। সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ৩৩৭৮। সুতরাং বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

প্রশ্নঃ 1170
Assalamualaikum. Informed from a facebook source that some successor and poor ashek of Rasulluah (swt) performed hijrot to Sindhu due to zulm in Arab. They got shelter from Hindu King Dahir. Then Muslim sultan performed zulm on Dahir and his family. My question is that whether zulm in Arab on them is authentic or did those people do anything wrong? Any references.
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। ইতিহাস থেকে জানা যায়, সিংহলের শাসক কর্তৃক হাজ্জাজের কাছে প্রেরিত উপঢৌকন জলদস্যুরা লুট করে মুসলিম বিধবা নারী ও শিশুবাহী আরব জাহাজ দেবল বন্দরে আটকে রাখে। এই খবর পেয়ে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আক্রান্ত জাহাজ, শিশু ও নরনারীদের মুক্তির জন্য সিন্ধুর রাজা দাহিরের কাছে চিঠি লিখেন। কিন্তু দাহির তাতে কোনো কর্ণপাত করেননি। এতে হাজ্জাজ ক্ষুব্ধ হয়ে মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে দাহিরের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এভাবেই সিন্ধুর শেষ হিন্দু রাজা দাহিরের পতনের মধ্য দিয়ে মুহাম্মদ বিন কাসিম সেখানে ইসলামের ঝাণ্ডা তুলে ধরেন। এটা হলো দাহিরের রাজ্যে বা দাহিরের উপর আক্রমনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। আপনি যেটা বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সা. কিছু মানুষকে সিন্ধুতে হিজরত করার অনুমতি দিলে তারা সেখানে গেলে দাহির তাদের আশ্রয় দেয়। আর পরবর্তীতে মুসলিম খলীফা এই কারণে তাকে শাস্থি দেয়। এটা সম্পূর্ণ যুক্তিবহির্ভূত এবং ইতিহাসের বিপরীত কথা। মুসলিম খলীফা মুসলিমদের আশ্রয় দেওয়ার কারণে কাওকে শাস্থি দিবে, এটা মানা যায় না। আর দাহিরের মত একজন অত্যাচারী লোক মুসলিমদের সাহায্য করবে, এটাও হতে পারে না। সুতরাং আপনি যে ঘটনা উল্লেখ করেছেন তা কোন বিচারেই সঠিক হতে পারে না।

প্রশ্নঃ 1124
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমি জানতে চাচ্ছি মওলানা আকরাম খাঁ (রহঃ) তার লেখা তাফসীরুল কুরআনে আবু হুরায়রা (রাঃ) যে অভিযোগ করেছেন তা কত টুকু সত্য? (ওনার উক্ত বইয়ে পরেছিলাম আবু হুরায়রা (রাঃ) ৬ বছর বয়সে রাসুল (সাঃ) কাছে প্রথম আসেন)
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কী অভিযোগ করেছেন আমার জানা নেই। বিস্তারিত জানালে উত্তর দিতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্নঃ 912
আসসালামু আলাইকুম জনাব। আশা করি সুস্থ্যতার সাথে এ দ্বীনী কাজ করে যাচ্ছেন। একটি সহযোগিতার প্রয়োজন ছিল... ওয়ায়েস কুরুনীর বিষয়ে মাগফুর, মারহুম ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের একটি লেকচার ছিলো। ওটার লিংক দেয়া যাবে? জাযাকাল্লাহ....
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নিচে লিংক দেয়া হলো। সমস্য হলে সার্স দিবেন এটা লিখ নবীর প্রেমে ওয়াস করনি ৩২ দন্ত গুনি-গুনি সব দন্ত উপাড়িলেন উহু করলেন না, এ মিথ্যা গল্পের ..

প্রশ্নঃ 617
আসসালামুয়ালাইকুম, https://www.facebook.com/shadakfeni/posts/1420388521320499?__mref=message_bubble আমার দেয়া লিঙ্ক এ যে ঘটনাটি দেয়া আছে এবং যে গাছটির ছবি দেয়া আছে সত্য কিনা দয়া করে একটু জানাবেন
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এটা সত্য মর্মে কোন তথ্য আমরা পাই নি।

প্রশ্নঃ 461
এক হিন্দু ভাই কথায় কথায় বললেন, ১৯৭১ এ যুদ্ধের সময় গনীমতের মাল বলে বলে বাংলাদেশের মুসলমানরা এদেশের হিন্দুদের গরু ছাগল বিভিন্ন খাদ্য বস্তা ইত্যাদি নিয়ে যেত! কিচ্ছু বলা যেতনা! আমি হিন্দু ভাইকে বুঝালাম ঐটা সন্ত্রাস, ধর্মব্যবসা। ইসলাম নয়। শায়েখের কাছে গনীমতের মাল কি আর ৭১ সালের ঐ ধরনের ঘটনা কি মালে গনীমত? বিস্তারিত জানতে চাই। এতে অমুসলিমদেরকে দাওয়াত দিতে বেশ উপকার হবে।
29 Dec 2025
না, ১৯৭১ সালের হিন্দুদের সম্পদ গনীমতের সম্পদ নয়। কারণ যুদ্ধের ময়দানে বিরোধী পক্ষের ফেলে যাওয়া সম্পদই কেবল গনীমতের সম্পদ হিসাবে গন্য।আরো সহজে বললে মুসলিম বাহিনী কাফের বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে কাফের বাহিনী পরাজিত হয়ে চলে যাওয়ার সময় যেসব সম্পদ যুদ্ধের ময়দানে রেখে যায় সেগুলোই হলো গনীমতের সম্পদ। এর বাইরে বিজিত এলাকার যে কোন সম্পদ নেয়ায় লুটপাট এবং সন্ত্রাস হিসাবে গণ্য।
প্রশ্নঃ 403
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ, আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালোই আছেন। আমার নিকটাত্নীয়দের মধ্যে একজন শিয়া আলেম এবং ঐতিহাসিকদের লিখা পড়ে জান্নাতী সাহাবী উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেন। আমি তাকে সতর্ক করে আবু দাউদের আশারায়ে মুবাশশেরা সংক্রান্ত হাদীসটি দেখালে তিনি হাদীসটি সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি আমাকে পালটা প্রশ্ন করেন- ১। উসমান (رضي الله عنه) নবীজি ﷺ কে আল্লাহ ও রাসূলের আইনের বাইরে গিয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার বায়আত নিতে বাধ্য করেছিলেন। ২। উসমান (رضي الله عنه) এর খিলাফতকালে তিনি রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন পদে তার আত্নীয়দের নিয়োগ দেন, এই ব্যাপারে অন্যান্য সাহাবীগণ (رضي الله عنهم) তার কাছে কৈফিয়ত তাইলে তিনি বলেন, আল্লাহ বলেছেন তোমরা রক্তের সম্পর্ককে অস্বীকার করো না। আমি আমার আত্নীয়দের প্রতি ইনসাফ করেছি, মুহাম্মদ ﷺ তার আত্নীয়দের ঠকিয়েছেন (نعوذ بالله من ذلك)। ৩। জান্নাতে যাওয়ার জন্য সাহাবীগণ (رضي الله عنهم) ইসলাম গ্রহণের পর থেকে আমৃত্যু প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। জীবিত অবস্থায় জান্নাতে যাওয়ার সুসংবাদ ঐ সময়ে অতি গুরুত্বপূর্ণ খবর হওয়ার কথা। ১০ জন সাহাবীর (رضي الله عنهم) জান্নাতে যাওয়ার হাদীসটা বুখারী বা মুসলিমে আসলো না কেনো? উসমান (رضي الله عنه) এর মত এমন জঘন্য একজন মানুষকে (نعوذ بالله من ذلك) আল্লাহ কিভাবে জীবিত অবস্থাতেই জান্নাতের সুসংবাদ দিলেন?উঠবে না। দয়া করে আমাকে এমন কিছু বাংলা/ইংরেজী/আরবী বই এর নাম বলুন যেখানে উসমান (رضي الله عنه) এবং অন্যান্য সাহাবাগনের (رضي الله عنهم) উপর আরোপিত সকল মিথ্যাচারের যথোপযুক্ত জবাব দেয়া হয়েছে। ভালো থাকবেন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ, جزاك اللهُ خيرًا
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আপনার বন্ধুকে প্রশ্ন করুন, তিনি কুরআন বিশ্বাস করেন কি না? তিনি কি কুরআনকে অধিক নির্ভরযোগ্য মনে করেন না ইতিহাসকে? মহান আল্লাহ কুরআন কারীমে বলেছেন:
وَالسَّابِقُونَ الأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُم بِإِحْسَانٍ رَّضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُواْ عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
প্রথম অগ্রগামী মুহাজিরগণ ও আনসারগণ, এবং যারা তাদের সুন্দরভাবে অনুসরণ করেছে আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট এবং আল্লাহ তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাত…। (সূরা তাওবা: ১০০ আয়াত) কুরআনের এ আয়াতটি নিশ্চিত করে যে, খাদিজা, আলী, আবূ বকর, উসমান, যুবাইর ইবনুল আওয়াম ও অন্যান্য সকল মুহাজির সাহাবী যারা প্রথম অগ্রগামী হিসেবে ইসলাম গ্রহণ করেন তাঁদের উপর আল্লাহ সন্তুষ্ট এবং তাঁদের জন্য আল্লাহ জান্নাত প্রস্তুত করে রেখেছেন। কুরআনের এ সাক্ষ্যর পরেও যে ব্যক্তি তার জান্নাতী হওয়ায় সন্দেহ পোষণ করেন তিনি মূলত কুরআনের বাণীকেই বিশ্বাস করেন না। যারা বিশ্বাস করেন যে, আলী বংশের একজন ইমাম বা পীরের সাহচর্যে যেয়ে একজন মানুষ এক দিনেই বড় বুজুর্গ হয়ে যেতে পারে, অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে দীর্গ ২৩ বৎসর জীবন কাটিয়েও সাহাবীগণ ঈমান শিখতে পারেন নি তিনি মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেই অবমাননা করেন। শীয়া মতবাদ অনুসারে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যর্থ নবী ছিলেন মুহাম্মাদ (সা.)! নাউযু বিল্লাহ! তিনি দীর্ঘ ২৩ বছর জীবনপাত করেও মাত্র এক ডজনের বেশি মানুষকে ঈমান শেখাতে পারেন নি। উসমান (রা) বা অন্যান্য সাহাবীদের বিরুদ্ধে বর্ণিত ঘটনাবলি সবই তাঁদের মৃত্যুর প্রায় ১৫০/২০০ বছর পরে জনশ্রুতি নির্ভর ঐতিহাসিক বর্ণনার মাধ্যমে লিপিবদ্ধ। প্রায় সকল বর্ণনায় শীয়া ঐতিহাসিকদের বর্ণনা বা সংকলন। নিম্নের বিষয়গুলো লক্ষ্য করুন: রাসূলুল্লাহ সা.-এর পরিজন ও বংশধরের প্রতি এ ভালবাসা ও ভক্তি কখনোই তাঁর সহচর ও সাহাবীগণের প্রতি ভালবাসার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কিন্তু শীয়াগণ পরিবার ও বংশধরের ভালবাসার নামে সাহাবীগণের প্রতি বিদ্বেষ, ঘৃণা ও কুৎসা রটনায় লিপ্ত হয় এবং সাহাবীগণের প্রতি বিদ্বেষকে ঈমানের অংশ বানিয়ে নেয়। তারা ইহূদীদের ষড়যন্ত্রে বিভ্রান্ত হয়ে সাহাবীগণকে ইসলামের শত্র বলে গণ্য করে। তারা নবী-পরিবারের ভালবাসাকে সাহাবীগণের ভালবাসার পরিপন্থী বলে গণ্য করে। এ বিষয়ে অগণিত মিথ্যা তারা প্রচার করে। গত কয়েক শতাব্দী যাবত পাশ্চাত্য-প্রাচ্যবিদগণও সাহাবীগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন। এ সকল প্রচারের একটিই উদ্দেশ্য: ইসলামের মর্মমূলে আঘাত করা ও ইসলামের সৌধকে ভেঙ্গে ফেলা। সাহাবীগণের সততা প্রশ্নবিদ্ধ হলে ইসলামের সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়; কারণ কেবলমাত্র তাঁদের মাধ্যমেই ইসলাম প্রচারিত হয়েছে। সাহাবীগণের সততায় অবিশ্বাস করার অর্থ রাসূলুল্লাহ সা.-এর নবুওয়ত অবিশ্বাস করা। যারা মনে করেন যে, অধিকাংশ সাহাবী স্বার্থপর, অবিশ্বাসী বা ধর্মত্যাগী ছিলেন, তাঁরা নিঃসন্দেহে মনে করেন যে, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা. একজন ব্যর্থ নবী ছিলেন (নাঊযূ বিল্লাহ!)। লক্ষ মানুষের সমাজে অজ্ঞাত অখ্যাত দু-চার জন মুনাফিক থাকা কোনো অসম্ভব বিষয় নয়। কিন্তু সুপরিচিত সাহাবীগণের সততায় সন্দেহ পোষণ করলে রাসূলুল্লাহ সা.-এর ব্যর্থতার দাবি করা হয়। একজন ধর্ম প্রচারক যদি নিজের সহচরদের হৃদয়গুলিকে ধার্মিক বানাতে না পারেন, তবে তিনি কিভাবে অন্যদেরকে ধার্মিক বানাবেন! তাঁর আদর্শ শুনে, ব্যবহারিকভাবে বাস্তবায়িত দেখে ও তাঁর সাহচর্যে থেকেও যদি মানুষ সততা অর্জন করতে না পারে, তবে শুধু সে আদর্শ শুনে পরবর্তী মানুষদের সততা অর্জনের কল্পনা বাতুলতা মাত্র। আজ যিনি মনে করেন যে, কুরআন পড়ে তিনি সততা শিখেছেন, অথচ মুহাম্মাদ সা.-এর কাছে কুরাআন পড়ে, জীবন্ত কুরআনের সাহচর্যে থেকেও আবূ বকর, উমার, উসমান, আবূ হুরাইরা, আমর ইবনুল আস, মুআবিয়া, আবূ মূসা আশআরী রা. বা অন্য কোনো সাহাবী সততা শিখতে পারেন নি, তিনি মূলত মুহাম্মাদ সা.-এর নবুওয়তকেই অস্বীকার করেন। শীয়াগণ কাউকে দেবতা ও কাউকে দানব বানিয়েছেন। দুটি বিষয়ই মানবীয় প্রকৃতির সাথে সাংঘর্ষিক। মানবীয় দুর্বলতার সাথে সততার কোনো বৈপরীত্য নেই। সাহাবীগণ মানুষ ছিলেন; মানবীয় দুর্বলতার ঊর্ধ্বে ছিলেন না। মানবতার সর্বশ্্েরষ্ঠ শিক্ষকের সাহচর্যে মানুষের মধ্যে সর্বোচ্চ সততা ও বেলায়াত তাঁরা অর্জন করেছিলেন। কোনো স্কুলের সফলতা যেমন ছাত্রদের পাশের হারের উপর নির্ভর করে, তেমনি ধর্মপ্রচারকের সফলতা নির্ভর করে তাঁর সাহচর্য-প্রাপ্তদের ধার্মিকতার উপর। কাজেই নুবুওয়াতে বিশ্বাসের অনির্বার্য দাবি সাহাবীগণের সততায় বিশ্বাস। আর এ বিশ্বাসই নিশ্চিত করেছে কুরআন ও হাদীস। এখানে সংক্ষেপে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করছি: (১) কুরআনে বারবার সাহাবীগণের প্রশংসা করা হয়েছে, তাঁদের ধার্মিকতার সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।মক্কা বিজয়ের পূর্বের ও পরের সকল সাহাবীকে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করে আল্লাহ বলেন:
لا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُولَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنَ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلا وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ
তোমাদের মধ্যে যারা (মক্কা) বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং সংগ্রাম করেছে তারা এবং পরবর্তীরা সমান নয়; তারা মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ তাদের চেয়ে যারা পরবর্তীকালে ব্যয় করেছে এবং সংগ্রাম করেছে। তবে আল্লাহ উভয়কেই কল্যাণের (জান্নাতের) প্রতিশ্রতি দিয়েছেন।সূরা (৫৭) হাদীদ: ১০ আয়াত। রাসূলুল্লাহসা.এর সকল সাহাবীর ঢালাও প্রশংসা করে ও তাঁদের ধার্মিকতা, সততা ও বিশ্বস্ততার ঘোষণা দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন:
وَلَكِنَّ اللَّهَ حَبَّبَ إِلَيْكُمْ الإِيمَانَ وَزَيَّنَهُ فِي قُلُوبِكُمْ وَكَرَّهَ إِلَيْكُمْ الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ أُوْلَئِكَ هُمْ الرَّاشِدُونَ
কিন্তু আল্লাহ তোমাদের নিকট ঈমানকে প্রিয় করেছেন এবং তাকে তোমাদের হৃদয়গ্রাহী করেছেন। তিনি কুফ্র, পাপ ও অবাধ্যতাকে তোমাদের নিকট অপ্রিয় করেছেন। তারাই সৎপথ অবলম্বনকারী। সূরা (৪৯) হুজুরাত, ৭ আয়াত। সাহাবীগণের মধ্যে মতভেদ হয়েছে এবং কখনো কখনো যুদ্ধবিগ্রহ হয়েছে। ভুল বুঝাবুঝি, সামাজিক প্রেক্ষাপট, ষড়যন্ত্র ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে দুজন সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তির মধ্যে বিরোধ, মামলা বা যুদ্ধ হতে পারে। শুধু যুদ্ধ বা বিরোধের কারণে কাউকে অপরাধী বলা যায় না। যুদ্ধবিগ্রহ ঐতিহাসিক সত্য। তবে সেগুলিতে কার কি ভূমিকা ছিল সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ক ইতিহাস লেখা হয়েছে ঘটনার প্রায় ২০০ বৎসর পর শীয়া মতবাদ প্রভাবিত আব্বাসী শাসনামলে শীয়াগণের বর্ণনার উপর নির্ভর করে। কুরআন ও হাদীস সাহাবীগণের মর্যাদা ও সততা নিশ্চিত করেছে। এ সকল যুদ্ধবিগ্রহের অযুহাতে তাঁদের কারো নামে কুৎসা রটনা বা বিদ্বেষ পোষণ করার অর্থ কুরআন ও হাদীসের অগণিত নির্দেশনা জনশ্রতির কারণে বাতিল করে দেওয়া। কোনো কোর্টে যদি কোনো দলের নেতৃস্থানীয় কাউকে অপরাধী বলে রায় দেওয়া হয় তবে সে দলের অনুসারীরা রায়কে মিথ্যা বলবেন কিন্তু নেতার সততায় বিশ্বাস হারাবেন না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ অতি-সাম্প্রতিক বিষয়। তারপরও সকলেই শুধু ইতিহাস বিকৃতির কথা বলেন। ঐতিহাসিকরা যদি কোনো নেতার অপরাধের অনেক তথ্য পেশ করেন তবুও তার অনুসারীরা সে তথ্য বিশ্বাস করবেন না। তাহলে মুমিন কিভাবে রাসূলুল্লাহ সা.-এর সহচরদের বিষয়ে কুরআন প্রমাণিত সততার সাক্ষ্যের বিপরীতে ইতিহাসের বর্ণনার উপর নির্ভর করবেন? আমরা শুধু এতটুকুই বলব যে, যুদ্ধ বিগ্রহ ঘটেছে, কিন্তু কার কী ভূমিকা তা আমরা এতদিন পরে ইতিহাসের বর্ণনার উপর নির্ভর করে নির্ধারণ করতে পারব না। তবে কুরআন ও হাদীসের বর্ণনার উপর নির্ভর করে আমরা তাঁদের পরিপূর্ণ সততা ও বেলায়াতে বিশ্বাস করি। আমরা মনে করি যে, তাঁদের যুদ্ধ-বিগ্রহ ইত্যাদি ভুল বুঝাবুঝি ও ইজতিহাদী মতপার্থক্যের কারণেই ঘটেছে। এতে তাঁদের তাকওয়া ও বেলায়াত (আল্লাহর ওলী হওয়ার মর্যাদা) ক্ষতিগ্রস্থ হয় নি। আরেকটি বিষয় দেখুন, যদি ইহূদীদেরকে প্রশ্ন করা হয়: শ্রেষ্ঠ মানুষ কারা? তারা একবাক্যে বলবেন: আমাদের নবী মূসার (আ) সহচরগণ। যদি খৃস্টানদেরকে প্রশ্ন করা হয়: শ্রেষ্ঠ মানুষ কারা? তারা একবাক্যে বলবেন: আমাদের নবী ঈসার (আ) হাওয়ারী-সহচরগণ। আর যদি শীয়াদেরকে প্রশ্ন করা হয় নিকৃষ্ট-ঘৃণ্যতম মানুষ কারা? তবে তারা একবাক্যে বলবেন: আমাদের নবী মুহাম্মাদ সা.এর সহচরগণ! শীয়াদেরকে প্রশ্ন করুন: সবচেয়ে ভাল মানুষ কারা? তারা বলবেন: আলী (রা)-এর সাথীগণ। তাদেরকে প্রশ্ন করুন: সবচেয়ে খারাপ মানুষ কারা? তারা একবাক্যে বলবেন: মুহাম্মাদ সা.-এর সাথীগণ! কাউকে ভালবাসার অতি স্বাভাবিক প্রকাশ তার সাথে জড়িত সকলকে ভালবাসা ও সম্মান করা। এমনকি তাদের কোনো অপরাধ প্রমাণিত হলেও অজুহাত খুঁজে তা বাতিল করতে চেষ্টা করা। কারণ প্রিয়তমের সাথীদেরকে খারাপ কল্পনা করতে মন মানে না। আর কারো সঙ্গীসাথীকে সর্বোচ্চ ঘৃণা করার সুনিশ্চিত অর্থ ঐ ব্যক্তির প্রতি ভালবাসা না থাকা। কাজেই মুহাম্মাদ সা.-এর সাথীদেরকে পথভ্রষ্ট প্রমাণ করা ও তাঁদেরকে ঘৃণা করা যাদের ধর্মের মূল ভিত্তি তাঁদের থেকে মুহাম্মাদ সা.-এর হাদীস বা দীন শিক্ষা করা কি সম্ভব?
প্রশ্নঃ 226
আসসালামু আলাইকুম। স্যার কেমন আছেন? আপনার সাইটের youtube channel এ দ্বীন প্রতিষ্টা এর ৪ পর্বের আলোচনা আছে। যা ইসলামিক টিভি তে টেলিকাস্ট হয়েছিল। অই প্রোগ্রামের চতুর্থ পর্বে ভিডিওতে ৮ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড পরে বলেছিলেন মক্কার অধিকাংশ মানুষ ইসলামে আসার পর রাস্ট্র প্রতিষ্টা হয়েছিল। কিন্তু আর রাহিকুল মাখতুম এ আছে মক্কা রাষ্ট্র প্রতিষ্টার সময় অধিকাংশ মানুষ কাফের ছিল। এই ব্যাপার একটু ক্লিয়ার করবেন কী? আমি চিটাগং এ থাকি। আপনার সরাসরি যোগাযোগ করতে পারলে আরও ভাল হত। জাযাকাল্লাহ খায়ের। আসসালামু আলাইকুম
24 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
বিষয়টি জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন: মক্কার অধিকাংশ মানুষ ইসলাম আসার পর ইসলাম গ্রহণ করেছিল নাকি ইসলামী রাষ্ট প্রতিষ্ঠার পরও কাফিরদের
প্রশ্নঃ 208
ইসলামী নেতা নির্বাচনের পদ্ধতি কি? হযরত উমর (রা), হযরত ওসমান(রা), হযরত আলী (রা) কোন পদ্ধতিতে খলিফা নির্বাচিত হয়ে ছিল? দুটি প্রশ্নের উত্তর কামনা করছি।
23 Dec 2025
রাসূলুল্লাহ সা.-এর আগমনের সময় সমগ্র বিশ্বের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ছিল মূলত বংশতান্ত্রিক। রাষ্ট্রের মালিক রাজা। তার অন্যান্য সম্পদের মতই রাষ্ট্রের মালিকানাও লাভ করবে তার বংশধরেরা। রাজ্যের সকল সম্পদ-এর মত জনগণও রাজার মালিকানাধীন। রাজা নির্বাচন বা রাজ্যপরিচালনা বিষয়ে তাদের কোনো মতামত প্রকাশের সুযোগ বা অধিকার নেই। রাসূলুল্লাহ সা. সর্বপ্রথম একটি আধুনিক জনগণতান্ত্রিক পরামর্শ-ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। এ ব্যবস্থার দুটি বিশেষ দিক ছিল:
(১) রাজা ও প্রজার সম্পর্ক মালিক ও অধীনস্থের নয়, বরং মালিক ও ম্যানেজারের। তবে মালিক রাজা নন। রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। রাজা তাদের খলীফা বা প্রতিনিধি বা ম্যানেজার হিসেবে তা পরিচালনা করবেন। জনগণই তাকে মনোনিত করবেন এবং জনগণ তাকে সংশোধন বা অপসারন করবেন।
(২) রাষ্ট্রপ্রধান নির্ধারণ করা একটি জাগতিক কর্ম এবং তা জনগণের কর্ম। জনগণের পরামর্শের ভিত্তিতে তা সম্পন্ন হবে। পরামর্শের ধরন নির্ধারিত নয়। যুগ, দেশ ও জাতির অবস্থা অনুসারে তা পরিবর্তিত হতে পারে। ইসলামী ব্যবস্থায় পূর্ববর্তী শাসক কাউকে মনোনয়ন না দিয়ে বিষয়টি জনগণের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দিতে পারেন। অথবা জনগণের পরামর্শ ও স্বীকৃতির ভিত্তিতে যোগ্য কাউকে মনোনয়ন দিতে পারেন। সবচেয়ে বেশি যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয় নি; কারণ সবচেয়ে যোগ্য নির্ণয়ে সমাজে অকারণ সংঘাত তৈরি করে। ইসলামে জনগণের পরামর্শ ও স্বীকৃতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরামর্শ ও স্বীকৃতি থাকলে নিজ পুত্র বা বংশের কাউকে পরবর্তী শাসক হিসেবে মনোনয়ন দিতে কোনোভাবে নিষেধ করা হয় নি। মূলত বিষয়টি দেশ, কাল ও সমাজের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এ ব্যবস্থার আওতায় রাসূলুল্লাহ সা. কাউকে মনোনিত না করে উম্মাতকে সরাসরি নির্বাচনের মুখোমুখি রেখে যান। আবূ বকর (রা) নেতৃবৃন্দের সাথে পরামর্শক্রমে উমারকে (রা) পরবর্তী শাসক হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে যান। উমার (রা) ৬ জনের একটি কমিটিকে মনোনয়ন দেন, যারা জনগণের পরামর্শের ভিত্তিতে তাঁদের মধ্য থেকে উসমানকে (রা) মনোনয়ন দেন। উসমান (রা)-এর শাহাদতের পরে মদীনার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ পরামর্শের মাধ্যমে আলী (রা)-কে শাসক মনোনিত করেন। আলী (রা) তাঁর ইন্তেকালের পূর্বে তাঁর পুত্র হাসান (রা)-কে পরবর্তী শাসক হিসেবে মনোনয়ন দেন।

কপিরাইট স্বত্ব © ২০২৫ আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট - সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত| Design & Developed By Biz IT BD