সত্য কথা বলে কি খুশি রাখা যায় না? মিথ্যা তো মিথ্যাই।
আপনি উভয় ফ্লাটের মূল্য হিসাব করবেন। তারপর টাকা দুই ভাগ করবেন। এভাবে ভাগ করে যত টাকা আপনার কাছে বেশী থাকে সেগুলো ডেভেলপারকে দিবেন, বাকী টাকা আপনার ছোট ভাই দিবেন। যেমন, আপনার মায়ের ফ্লাটের দাম উদাহরণস্বরূপ ৪০ লক্ষ টাকা, বাবারটার দাম ৬০ লাখ টাক। দুটো মিলে ১ কোটি টাকা। ভাগ করলে ৫০ লক্ষ হয়। আপনার ফ্লাটের দাম যেহেতু ৪০ লাখ টাকা সে জন্য আপনি আপনার কাছে থাকা ১০ লাখ টাকা রেখে দিবেন আর ১০ লাখ টাকা ডেভেলপারকে দিবেন। তাহলে আপনার ৫০ লাখ পূর্ণ হবে। আপনার ভাই ডেভেলপারকে বাকী থাকা ১০ লাখ টাকা দিবেন। এভাবে আপনাদের দুজনরই মূল্যের দিকে দিয়ে ৫০ লাখ পূর্ণ হবে।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমাদের দেশে কিছু মানুষের নাম এমন আছে যাদের নামের শুরুতে আবদ শব্দটি আছে। কিন্তু মানুষ তাদেরকে ডাকার সময় আবদ শব্দটি বাদ দিয়ে দেয়। এতে গুনাহ হয় এটা বলা কঠিন তবে এভাবে না ডেকে আবদ্ শব্দটি সহকারে ডাকা ভাল এবং উত্তম ও সতর্কতা।
রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে যদি অর্থের প্রয়োজন হয় তাহলে সরকার সেটা জনগণের কাছে থেকে নিতে পারে। সুতারাং আয়কর না দিলে আপনার গুনাহ হবে, কঠিন গুনাহ হবে। সুদের টাকা আপনার নিজের টাকা নয়। তাই সুদের টাকা দিয়ে আয়কর দেয়া যাবে না। আল্লাহ তায়ালার খুশির জন্য যাকাত দেন, ভাল কথা, সাথে সাথে সুদের লেনদেনও বর্জন করতে হবে। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দাড়ি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহ. বলেছেন, দাড়ি পুরুষের জন্য বিশেষ সৌন্দর্য ও পৌরুষ প্রকাশক। রাসূলুল্লাহ সা. নিজে বড় দাড়ি রাখতেন, উম্মাতকে বড় দাড়ি রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং দাড়ি ছোট করতে এবং মুণ্ডন করতে নিষেধ করেছেন।রাসূলুল্লাহ সা.-এর আকৃতির বর্ণনায় আলী (রা) বলেন, كان عـظـيـم اللـحـيـة তিনি অনেক বড় দাড়ির অধিকারী ছিলেন। হাদীসটি হাসান। ইবনু হিব্বান, আস-সহীহ ১৪/২১৬-২১৭; আল-মাকদিসী, আল-আহাদীস আল-মুখতারাহ ২/৩৬৯; হাইসামী, মাওয়ারিদুয যামআন ৭/২১-২২; আলবানী, সহীহুল জামি ২/৮৭৩। মুসলিম সংকলিত অন্য হাদীসে জাবির ইবনু সামুরা (রা) বলেন, كان كـثـيـر شـعـر اللـحـيـة রাসূলুল্লাহ সা.-এর দাড়ি ছিল বেশি বা ঘন। মুসলিম, আস-সহীহ ৪/১৮২৩। ইয়াদিয আল-ফারিসী বর্ণিত ও আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা) অনুমোদিত হাদীসে তিনি বলেন, قـد مـلأت لحـيته ما بيـن هذه إلى هذه، قد مـلأت نحـره তাঁর দাড়ি তাঁর বক্ষ পূর্ণ করে ফেলেছিল। হাদীসটি হাসান। তিরমিযী, আশ-শামাইল, পৃ. ৩৫১; আলবানী, মুখতাসারুশ শামাইল, পৃ.২০৮-২০৯। এভাবে আমরা দেখছি যে, রাসূলুল্লাহ সা. বড় দাড়ি রেখেছেন।তিনি দাড়ির যত্ন নিতেন এবং বেশি বেশি দাড়ি পরিপাটি করতেন ও আঁচড়াতেন। সাহাবীগণও এভাবে বড় দাড়ি রাখতেন বলে বিভিন্ন হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তিনি দাড়িতে খেযাব ব্যবহার করেন নি বলেই অধিকাংশ বর্ণনার আলোকে বুঝা যায়। কারণ তাঁর দাড়ি প্রায় সবই কাল ছিল। মাথায় গোটা বিশেক চুল এবং নিচের ঠোটের নিচের দাড়িগুচ্ছের (বাচ্চা দাড়ির) মধ্যে গোটা দশেক দাড়ি মাত্র সাদা হয়েছিল। এছাড়া দু কানের পাশে কলির কিছু চুল পাকতে শুরু করেছিল। ইবনু হাজার আসকালানী, ফাতহুল বারী ৬/৫৭-৫৭২। তৎকালীন যুগে মুশরিক ও অগ্নি উপাসকদের মধ্যে দাড়ি ছোট করে রাখা বা দাড়ি মুণ্ডন করার রীতি প্রচলিত ছিল। রাসূলুল্লাহ e তাঁর উম্মাতকে বিশেষভাবে এ সকল অমুসলিম সম্প্রদায়ের বিরোধিতা করতে এবং বড় দাড়ি রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাদীসে আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা.বলেছেন, خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ أَحْـفُوا (انْهَكُوا) الشَّوَارِبَ وَأَوْفُوا (أَعْـفُوا) اللِّـحَى (أَمَرَ e بِإِحْفَاءِ الشَّوَارِبِ وَإِعْفَاءِ اللِّحْيَةِ) তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা কর, গেঁফগুলি ছেটে ফেল বা ছোট কর এবং দাড়িগুলি বড় কর (অন্য বর্ণনায়: তিনি গোঁফ ছাটতে এবং দাড়ি ছাটা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। ) বুখারী, আস-সহীহ ৫/২২০৯; মুসলিম, আস-সহীহ ১/২২২। অন্য বর্ণনায় তাবিয়ী নাফি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ وَفِّرُوا اللِّحَى وَأَحْفُوا الشَّوَارِبَ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا حَجَّ أَوِ اعْتَمَرَ قَـبَضَ عَلَى لِحْـيَتِهِ فَمَا فَضَلَ أَخَذَهُ তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা কর, দাড়ি বাড়াও বা বড় কর এবং গোঁফ খাট কর। নাফি বলেন, ইবনু উমার (রা) যখন হজ্জ অথবা উমরা পালন করতেন, তখন (হজ্জ বা উমরা পালনের শেষে মাথার চুল মুণ্ডন করার সময়) নিজের দাড়ি মুষ্টি করে ধরতেন এবং মুষ্টির অতিরিক্ত দাড়ি কর্তন করতেন। বুখারী, আস-সহীহ ৫/২২০৯। ফকীগণের মতামত: (১) ফকীহগণ একমত যে দাড়ি রাখা ইবাদত (ফরয, ওয়াজিব অথবা সুন্নাত)। তবে এ ইবাদতের সীমার বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন। কেউ বলেছেন দাড়ির দৈর্ঘের কোনো সীমা নেই। যত বড়ই হোক তা ছাটা যাবে না। শুধু অগোছালো দাড়ি ছাটা যাবে। কেউ বলেছেন এ ইবাদতের সীমা একমুষ্টি পর্যন্ত। এর অতিরিক্ত দাড়ি কেটে ফেলাই সুন্নাত। (২) ফকীহগণ সকলেই দাড়ি কাটা বা মুণ্ডন করা নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন (হারাম বা মাকরূহ তাহরীমী)। (৩) অনেক ফকীহ একমুষ্টির অতিরিক্ত দাড়ি কাটা বৈধ, উত্তম বা ওয়াজিব বলে উল্লেখ করেছেন। (৪) কোনো মুহাদ্দিস, ফকীহ, ইমাম বা আলিম এক মুষ্টির কম দাড়ি রাখার সুস্পষ্ট অনুমতি দিয়েছেন বলে জানা যায় না। যারা দাড়ি থেকে কিছু ছাটার অনুমতি দিয়েছেন তাদের প্রায় সকলেই সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, একমুষ্টির অতিরিক্তই শুধু কাটা যাবে। দ্বিতীয়-তৃতীয় শতকের কোনো কোনো ফকীহ মুষ্টির কথা উল্লেখ না করে সামান্য ছাটা যাবে, বা মুশরিকদের অনুকরণ না হয় এরূপ ছাটা যাবে বলে উল্লেখ করেছেন। আবূ ইউসূফ, কিতাবুল আসার ১/২৩৪; ইবনু আবী শাইবা, আল-মুসান্নাফ ৫/২২৫; ইবনু আব্দুল র্বার, আত-তামহীদ ২৪/১৪৫-১৪৬; নববী, শারহু সহীহি মুসলিম ৩/১৪৯; কাসানী, বাদাইউস সানাইয় ২/৩২৭; মারগীনানী, হিদাইয়া ১/১২৩; ইবনুল হুমাম, শারহু ফাতহিল কাদীর ২/৩৫২; ইবনু হাজার, ফাতহুল বারী ১০/৩৫০; আইনী, আল-বিনাইয়া শারহুল হিদাইয়া ৩/৬৮২; ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ, মানারুস সাবীল ১/২১; মারয়ী ইবনু ইউসূফ, দলীলুত তালিব ১/২১; মুহাম্মাদ হাজাবী, আল-ইকনা ১/২০; শাওকানী, নাইলুল আওতার ১/১১০-১১২, ১৩৬; মুনাবী, ফাইদুল কাদীর ১/১৯৮, ৫/১৯৩; মুবারকপূরী, তুহফাতুল আহওয়াযী ৮/৩৬-৩৯। (৫) প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের মধ্যে হাম্বালী ও শাফিয়ী মাযহাবের আলিমদের মতে দাড়ি যত বড়ই হোক তা ছাটা বা কাটা যাবে না; কারণ রাসূলুল্লাহ সা.তা বড় করতে ও লম্বা করতে নির্দেশ দিয়েছেন, কোনোভাবে তা কাটতে বা ছাটতে অনুমতি দেন নি। হাম্বালী মাযহাবের অন্য একটি বর্ণনা ও মালিকি মাযহাব অনুসারে একমুষ্টির অতিরিক্ত দাড়ি কর্তন করা বৈধ বা মুবাহ।হানাফী মাযহাবের দৃষ্টিতে একমুষ্টির অতিরিক্ত দাড়ি কর্তন করাই সুন্নাত। কুরাআন-সুন্নাহর আলোকে পোশাক পর্দা ও দেহসজ্জা পৃষ্ঠা, ৩৩৬-৩৫১ (সংক্ষেপিত)। বিস্তারিত জানতে দেখুন, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত, আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স ঝিনাইদহ থেকে প্রকাশিত কুরআন-সুন্নাহর আলোকে পোশাক, পর্দা ও দেহ-সজ্জা বইটি। পৃষ্ঠা ৩৩৬-৩৫১।
গুনাহ হবে এমন বলা যায় না, তবে এজাতীয় কথা না বলাই উচিৎ।
হযরত আনাস রা. এবং আবু সাইদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত এই হাদীসটি দেখুন: أَنَّ النَّبِىَّ -صلى الله عليه وسلم- زَجَرَ عَنِ الشُّرْبِ قَائِمًا নবী সা. দাড়িয়ে পান করার কারণে ধমক দিয়েছেন। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৫৩৯৩. ৫৩৯৬। আবার কিছু কিছু হাদীসে অনুমতির বিষয়টি পাওয়া যায়।
আপনার প্রশ্রয়ে আপনার স্ত্রী আপনার বাব-মায়ের সাথে বেয়াদবি করলে আপনার গুনাহ হবে। অন্যথায় হবে না। স্ত্রীর সম্পদ বিনা অনুমতিতে খরচ করা যাবে না।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই কাজের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে খৃষ্টান ধর্ম প্রচার কাজে সাহায্য করা হচ্ছে। তাই আপনার উচিত দ্রুত এই কাজ বর্জন করা। আপনি অন্য কোন নির্ভেজাল হালাল পেশা খুঁজুন। আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাকে প্রয়োজন পরিমাণ হালাল রিযিকের ব্যবস্থা করে দেন।