আপনি যে বইটির কথা উল্লেখ করেছেন সে সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। এই বিষয়ে আপনি আর-রাহীকুল মাখতুম নামক বইটি পড়তে পারেন। ২। জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পড়ার বিষয়ে শায়েখ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রাহে বেলায়াত বইয়ে লিখেছেন, এ সময়ে সূরা ফাতিহা পড়ার বিষয়ে সাহাবীগণ মতভেদ করেছেন। তাবিয়ী তালহা ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আউফ বলেন: صَلَّيْتُ خَلْفَ ابْنِ عَبَّاسٍ عَلَى جَنَازَةٍ فَقَرَأَ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ (وَجَهَرَ) … (فَسَأَلْتُهُ) قَالَ لِيَعْلَمُوا أَنَّهَا سُنَّةٌ (إِنَّهُ مِنْ السُّنَّةِ أَوْ مِنْ تَمَامِ السُّنَّةِ) আমি ইবনু আব্বাস (রা)-এর পিছনে জানাযার সালাত আদায় করি। তিনি সূরা ফাতিহা পাঠ করেন (সশব্দে) … আমি তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলে: যেন তারা জানে যে, এটি সুন্নাত (এটি সুন্নাতের অংশ বা সুন্নাতের পূর্ণতার অংশ)। অন্য হাদীসে আবূ উমামা (রা) বলেন: السُّنَّةُ فِي الصَّلاةِ عَلَى الْجَنَازَةِ أَنْ يَقْرَأَ فِي التَّكْبِيرَةِ الأُولَى بِأُمِّ الْقُرْآنِ مُخَافَتَةً ثُمَّ يُكَبِّرَ ثَلاثًا وَالتَّسْلِيمُ عِنْدَ الآخِرَةِ সালাতুল জানাযায় সুন্নাত নিয়ম প্রথম তাকবীরের পর সূরা ফাতিহা চুপে চুপে পাঠ করা, এরপর তিনটি তাকবীর বলা এবং শেষ তাকবীরের সময় সালাম বলা। হাদীসটি সহীহ।অন্য হাদীসে তাবিয় নাফি বলেন: إِنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ y كَانَ لاَ يَقْرَأُ فِي الصَّلاَةِ عَلَى الْجَنَازَةِ আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রা) সালাতুল জানাযায় কুরআনের কিছুই পাঠ করতেন না। হাদীসটি সহীহ। অন্য সহীহ হাদীসে আবূ সাঈদ মাকবুরী বলেন, আমি আবূ হুরাইরা (রা)-কে প্রশ্ন করলাম, সালাতুল জানাযা কিভাবে আদায় করব। তিনি বলেন: فَإِذَا وُضِعَتْ كَبَّرْتَ فَحَمِدْتَ اللهَ وَصَلَّيْتَ عَلَى نَبِيِّهِ ثُمَّ قُلْتَ: اللّهُمَّ… যখন মৃতদেহ রাখা হবে তখন তাকবীর বলবে, অতপর আল্লাহর হামদ- প্রশংসা করবে, নবী সা.-এর উপর সালাদ পড়বে, অতঃপর দুআ করবে…। সাহাবীগণের মতভেদের কারণে ফকীহগণও মতভেদ করেছেন। অধিকাংশ ফকীহ সালাতুল জানাযায় সূরা ফাতিহা পাঠ আবশ্যক বলেছেন। হানাফী ফকীহগণের মতে প্রথম তাকবীরের পর আল্লাহর গুণবর্ণনা বা সানা পাঠ করতে হবে। তবে হামদ-সানা বা দুআর উদ্দেশ্যে সূরা ফাতিহা পাঠ করা যাবে। মোল্লা আলী কারী, শুরনুবলালী ও অন্যান্য হানাফী ফকীহ এ সময়ে সূরা ফাতিহা পাঠ করা মুস্তাহাব বলেছেন।এভাবে আমরা দেখছি যে, হাদীস ও ফিকহের আলোকে সালাতুল জানাযার প্রথম তাকবীরের পর সূরা ফাতিহা পাঠ করাই উত্তম। রেফারেন্সসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন, রাহে বেলায়াত বইটি।
জানাজার নামায একবার পড়াই সুন্নাত। একাধিক পড়া সুন্নাত নয়।
জীবিত থাকাকালীন যাদের দেখা জায়েজ মারা যাওয়ার পরও তাদের দেখা জায়েজ আর জীবিত থাকাকালীন যাদের দেখা জায়েজ নেই মারা গেলেও তাদের দেখা জায়েজ নেই।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মহিলারা জানাযার সালাতে অংশ নিবে কিনা সে বিষয়ে সাহাবদের মাঝে কিছুটা মতভেদ আছে। যার ইবনে মাসউদ রা. এবং ইবনে উমার রা. বিষয়টিকে অপছন্দ করেছেন আবার ইবনে আব্বাস রা. নুমতি দিয়েছেন। ইমাম কুরতুবী বলেছেন অধিকাংশ আলেমের নিকট মাকরুহ তানযীহ। ইমাম মালেক রহ. অনুমতি দিয়েছেন আর ইমাম আবু হানীফা রা. বলেছেন, মহিলাদের জন্য জানাযাতে অংশ নেয়া উচিত নয়। এই বিষয়ে উমদাতুল কারী গ্রন্থে ইমাম বদরুদ্দীন আইনি যা বলেছেন তার মূল পাঠ হলো, وقال القرطبي ظاهر الحديث يقتضي أن النهي للتنزيه وبه قال جمهور أهل العلم وقال ابن المنذر روينا عن ابن مسعود وابن عمر وعائشة وأبي أمامة أنهم كرهوا ذلك للنساء وكرهه أيضا إبراهيم والحسن ومسروق وابن سيرين والأوزاعي وأحمد وإسحاق وقال الثوري اتباع النساء الجنائز بدعة وعن أبي حنيفة لا ينبغي ذلك للنساء وروى إجازة ذلك عن ابن عباس والقاسم وسالم والزهري وربيعة وأبي الزناد ورخص فيه مالك وكرهه للشابة وعند الشافعي مكروه وليس بحرام উমদাতুল কারী, ১২/২৬০-৬১। অধিকাংম আলেমের মতামতের ভিত্তিতে মনে হয় সাধারণ অবস্থায় মহিলাদের জানাযার সালাতে অংশ না নেয়াটাই ভলো, অংশ নেয়া হারাম বা নিষিদ্ধ নয়। তবে মসজিদুল হারামে ফরজ সালাতের পর জানাযা আসলে মহিলারা অংশ নেয়াটা্ই উচিত বলে মনে হয়। নিচের হাদীসটি লক্ষ করুন: عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ عَائِشَةَ لَمَّا تُوُفِّيَ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَتْ ادْخُلُوا بِهِ الْمَسْجِدَ حَتَّى أُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَأُنْكِرَ ذَلِكَ عَلَيْهَا فَقَالَتْ وَاللَّهِ لَقَدْ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى ابْنَيْ بَيْضَاءَ فِي الْمَسْجِدِ سُهَيْلٍ وَأَخِيهِ قَالَ مُسْلِم سُهَيْلُ بْنُ دَعْدٍ وَهُوَ ابْنُ الْبَيْضَاءِ أُمُّهُ بَيْضَاءُ আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান আয়েশা রা. থেকে বর্ণণা করেন যে, যখন সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রা. ইন্তেকাল করেন তখন আয়েশা রা. বললেন, তোমরা তাকে মসজিদে নিয়ে আসো যাতে আমি তার জানাযার সালাতে অংশ নিতে পারি। কেউ কেউ বিষয়টি (মসজিদে জানাযার সালাত) অপছন্দ করলো, তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কসম রাসূলুল্লাহ সা. বায়দার দুই ছেলে সুহাইল এবং তার ভাইয়ের জানাযার সালাত মসজিদে পড়িয়েছিলেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৬১৭। এই হাদীসে আমরা দেখতে পাচ্ছি আয়েশা রা. মসজিদে জানাযার সালাতে অংশ নিয়েছিলেন। সুতরাং যারা মসজিদের ভিতরে আছেন সে সব মহিলাদের জন্য সালাতে অংশ নেয়াটাই ভাল, তবে অংশ না নিলেও কোন সমস্যা নেই। শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ বলেছেন, জানাযার সালাত পুরুষ মহিলা উভয়ের জন্য শরীয়তসম্মত। জানাযার সালাতে অংশ নেয়ার যে বিশেষ ফজিলতের কথা সহীহ হাদীস সমূহে উল্লেখ আছে তা সবার জন্য সমান। আল-ইসলাম সুয়াল ও জবাব, প্রশ্ন নং192960। বিস্তারিত জানতে দেখুন, মারকাযুল ফাতাওয়া (ইন্টারনেট, আরবী), ফতোয়া নং ৮১০৪। আল্লাহ তায়ালা ভাল জানেন।
রাসূলুল্লাহ স. যাকে জান্নাতে সংবাদ দিয়ে ছিলেন তার আজাব হবে এটা সঠিক বলে মেনে নেয়া যায় না। এটা বানোয়াট বলেই মনে হচ্ছে। হাদীসে বা ইতিহাসে এমন কোন ঘটনা সহীহ বা ্গ্রহনযোগ্য সূত্রে উল্লেখ আছে বলে আমারদের জানা নেই। আরবী পাঠসহ জানালে বিষয়টি বিশ্লেষণ সহজ হবে।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সহীহ হাদীস অনুযায়ী একাধিক জানাযা করার কোন সুযোগ নেই। রাসূলুল্লাহ সা. কারো একাধিক জানাযা করেছেন বরে জানা যায় না। তবে কোন কোন আলেম এই শর্তে একাধিক জানাযার অনুমতি দিয়েছেন যে, যারা পূর্বের জানাযাতে অংশ নেয় নি তারা অংশ নিবে। গায়েবানা জানাযা্ও সুন্নাহসম্মত নয় । এই বিষয়ে শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সা. এর বেশি আমল ও কম আমলের মধ্যে সামাঞ্জস্য না-রাখার ফলে খেলাফে-সুন্নাতের মধ্যে নিপতিত হওয়ার আরেকটি উদাহরণ গায়েবানা জানাযার রীতি প্রচলন করা। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় তাঁর অগণিত সাহাবী, আত্মীয়স্বজন ও আপনজন মৃত্যু বরণ করেছেন। অনেকেই তাঁর থেকে দূরে জিহাদের ময়দানে, বন্দি অবস্থায় বা দূরের কোনো শহরে বা গ্রামে অবস্থানকালে ইন্তেকাল করেছেন। কেউ তাঁর কাছে থেকে ইন্তেকাল করলে তিনি সাধারণত তাঁর জানাযা পড়তেন। তিনি কখনো কারো মৃতদেহের অনুপস্থিতিতে তার জানাযা পড়াননি। শুধুমাত্র একটি ব্যতিক্রম ছিল আবিসিনিয়ার শাসক নাজাশীর ইন্তেকাল। সাহাবীগণ আবিসিনিয়ায় হিজরত করলে তাঁদের সংস্পর্শে এসে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর দেশে আর কেউ ইসলাম গ্রহণ করেনি। যেদিন নাজাশী ইন্তেকাল করেন সেই দিনই রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবীগণকে তাঁর ইনতেকালের সংবাদ প্রদান করেন এবং গায়েবানা জানাযার নামায আদায় করেন। জীবনে সর্বদা যা বর্জন করেছেন এই একটি ঘটনায় তিনি তা করলেন। তাহলে আমরা কী বলব ও কী করব? আমরা বলতে পারি যে, বিষয়টি তাঁর জন্য খাস ছিল। আল্লাহ তাআলা নাজাসীকে মর্যাদা প্রদান করে তাঁর মৃতদেহ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চাক্ষুস করে দেন এবং তিনি জানাযা আদায় করেন। অথবা বলতে পারি যে, বিশেষ পরিস্থিতিতে যদি কোনো মুসলমান এমন কোনো দেশে ইন্তেকাল করেন যেখানে কোনোভাবে তাঁর জানাযা আদায় করা হবে না, সেক্ষেত্রে মুসলিম দেশের প্রধান বিশেষভাবে তাঁর জন্য জানাযা আদায় করবেন। কিন্তু কোনো অবস্থায় আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একদিনের কাজকে আমাদের রীতি বানিয়ে নিতে পারি-না। তাহলে তাঁর সবসময়ের রীতি আমরা বর্জন করব। এভাবেই আমরা বিদআতের মধ্যে নিপতিত হব। এহইয়াউস সুনান, পৃষ্ঠা ৩৭৪। স্যার রহ. জ্বিলহজ্ব মাসের আমল সম্পর্কে খুতবাতুল ইসলাম কিতাবে বলেছেন, বিভিন্ন সহীহ হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে, যুলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয়। সহীহ বুখারী অন্যান্য গ্রন্থে সংকলিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الأَيَّامِ يَعْنِي أَيَّامَ الْعَشْرِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ وَلا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ যুলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনে নেক আমল করা আল্লাহর নিকট যত বেশি প্রিয় আর কোনো দিনের আমল তাঁর নিকট তত প্রিয় নয়। সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর পথে জিহাদও কি এ দশদিনের নেক আমলের চেয়ে আল্লাহর নিকট প্রিয়তর নয়? তিনি বলেন, না, আল্লাহর পথে জিহাদও প্রিয়তর নয়, তবে ঐ ব্যক্তি ছাড়া, যে ব্যক্তি নিজের প্রাণ ও সম্পদ নিয়ে জিহাদে বেরিয়ে গেল এবং কোনো কিছুই আর ফিরে এলো না (সম্পদও শেষ হলো, সেও শহীদ হলো)।সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৬৯; সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ২৪৪০। অন্য হাদীসে তিনি বলেন: أَفْضَلُ أَيَّامِ الدُّنْيَا الْعَشْرُ، يَعْنِيْ عَشْرَ ذِيْ الْحَجَّةِ দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি ফযীলতের দিন হলো যুলহাজ্জ মাসের প্রথম এ দশ দিন। হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ৩/২৫৩, ৪/১৭; আলবানী, সহীহহুত তারগীব ২/১৫। হাসীসটি সহীহ। বিস্তারিত জানতে দেখুন, খুতবাতুল ইসলাম বইয়ের জ্বিলকদ মাসের শেষ খুতবা।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এ ক্ষেত্রে জীবতদের ব্যপারে যে হুকুম মৃতদের ব্যাপরেও সেই হুকুম। অর্থাৎ মৃত পুরুষের চেহারা যে কোন নারী দেখতে পারবে। মৃত মহিলা বয়স্ক হলে আশা করা যায় পুরুষ মানুষ দেখলে সমস্যা হবে না।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার প্রশ্নে উল্লেখিত শব্দগুলো আরবী। নিচে শব্দগুলোর অর্থ দেয়া হল। জিয়ারত = পরিদর্শন করা, সাক্ষাত করা । মাজার = পরিদর্শনস্থল। যে সমস্ত ওলী আওলিয়াদের কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মানুষ সেখানে গমন করে থাকে মাজার বলতে আমরা সে সমস্ত কবর স্থানকে বুঝে থাকি। কবর = যেখানে মৃতব্যক্তিকে দাফন করা হয়। রওজা = বাগান, কবর।