আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট এ আপনাকে স্বাগতম

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি
সব প্রশ্ন অর্থনৈতিক আকিকা আকীদা নামায আখিরাত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আদব আখলাক ইতিহাস ঈদ-কুরবানী ঈমান তাওহীদ রিসালাত জানাযা-কবর যিয়ারত জান্নাত-জাহান্নাম জিহাদ তাফসীর ত্বহারাত পবিত্রতা সফর জুমআ তারাবীহ নফল সালাত বিতর পোশাক-পরিচ্ছেদ ফারায়েজ ফিতরা বিচার-আচার বিবাহ-তালাক মানত যাকাত যিকির/দুআ/আমল রোজা লেনদেন শিরক-বিদআত সাধারণ দান-সদকাহ সিরাত/সামায়েল সুন্নাত হজ্জ হাদীস ও উসূলুল হাদীস হালাল হারাম বিবিধ কুরআন হাদীস বাতিল ফিরকা দাওয়াত ও তাবলিগ জাদু-টোনা মসজিদ মুসাফির রমযান সুদ-ঘুষ হালাল ইতিকাফ কাজা/কাফফারা গুনাহ জায়েয তায়াম্মুম ব্যক্তিগত ও তাবলিগ সদকাহ বিদআত কসর তাওবা জিন-পরি ব্যবসা-বাণিজ্য বই অসিয়ত
প্রশ্নঃ 2161
মুসলিম হবার জন্য কি এটা জরুরি যে আল্লাহ কথায় আসে। না শুধু আল্লাহ একজন আসেন এটাই যথেষ্ট?
21 Jan 2026

অন্যান্য সকল জরুরী বিষয়ের সাথে আল্লাহ আছেন এতটুকু বিশ্বাসই মুসলিম হওয়ার জন্য যথেষ্ট।কোথায় আছে এটা জরুরী নয়। তবে এই বিষয়টি সম্পর্কেও সঠিক ধারণা থাকা উচিত।

প্রশ্নঃ 2119
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আশা করি আপনারা ভালো আছেন। অনেকদিন হয় কোন প্রশ্ন করা হয় না। চেস্টা করি অন্যের প্রশ্ন করা থেকে নিজের প্রশ্ন খোঁজ করা। আল্লাহ্ সুবহানুতায়ালা আপনাদের চেষ্টা কবুল করুন। আমিন। আজকে জুম্মার খুতবায় ইমাম সাহেব ওয়াজ করলেন আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ব্যপারে। উনি বলল যে, আমাদের নবী হায়াতুন্নবী। কবরে নাকি উনি জিন্দা আছেন। এমনও তার অনেক আশেক আছেন যারা উনার কবরে গিয়ে সালাম দিলে আমাদের নবী যে উত্তর দেন সেটা উনারা শুনতে পায়। আমি যতটুকু জানি সেটা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কবরে গিয়ে সালাম দিলে উনি সালাম এর উত্তরদিয়ে থাকেন কিন্তু এটা আমাদের জগতের কারো শুনার কথা না। আমি জানি কবরে বারজাখ বা মধ্যবর্তী জীবন। কিন্তু এটা মনে করা কি ঠিক যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মত মানে আমরা যেভাবে জীবিত আছি সেভাবে জীবিত আছেন? আর এ আকিদা কি পোষণ করা যাবে? আর হায়াতুন্নবী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই। জাজাকাল্লাহ খইরান ভাই।
20 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনার আকীদা ঠিক আছে। রাসূলুল্লাহ সা. কে দেয়া সালামের উত্তর কোন মানুষ শুনতে পারে এটা ঠিক নয়। হায়াতুল আম্বিয়া বিষয়ে শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তাঁর, ইসলামী আকীদা গ্রন্থে। যার শিরোনাম তাঁর ওফাত বিষয়ক বিতর্ক। পৃষ্ঠা ২২২। সেখানে আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি বলেছেন, অনেক সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে যে, মুমিন বিশ্বের যেখানে থেকেই দরুদ ও সালাম পাঠ করবেন, ফিরিশতাগণ সেই সালাত ও সালাম রাসূলুল্লাহ সা.-এর রাওযা মুবারাকায় পৌঁছিয়ে দেবেন। উপরের হাদীসগুলি থেকে প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ সা.-এর ইন্তেকালের পরে তাঁকে এক প্রকারের জীবন দান করা হয়েছে। এই জীবন বারযাখী জীবন, যা একটি বিশেষ সম্মান ও গায়েবী জগতের একটি অবস্থা। এ বিষয়ে হাদীসে যতটুকু বলা হয়েছে ততটুকুই বলতে হবে। হাদীসের আলোকে আমরা বলব, এই অপার্থিব ও অলৌকিক জীবনে তাঁর সালাত আদায়ের সুযোগ রয়েছে। কেউ সালাম দিলে আল্লাহ তাঁর রূহ মুবারাককে ফিরিয়ে দেন সালামের জবাব দেওয়ার জন্য। রাওযার পাশে কেউ দরুদ বা সালাত পাঠ করলে তিনি তা শুনেন, আর দূর থেকে পাঠ করলে তা তাঁর নিকট পৌঁছানো হয়। এর বেশি কিছুই বলা যাবে না। বাকি বিষয় আল্লাহর উপর ছেড়ে দিতে হবে। বুঝতে হবে যে, উম্মাতের জানার প্রয়োজন নেই বলেই রাসূলুল্লাহ সা. বাকি বিষয়গুলি বলেন নি। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1933
আসসালামু আলাইকুম… মানুষের ইবাদাত কবুল না হওয়ার শর্ত কি? কেউ যদি হারাম রুজি বাদ দিলো,রিয়াও হয়না তার,গীবতও বন্ধ করলো,সত্য কথা বলা শুরু করলো, মা-বাবার সাথে ভালো ব্যবহার শুরু করলো,সুদ বাদ দিয়ে দিলো… এরপরেও কি কোনো কারণ আছে যার জন্য ইবাদাত কবুল হবেনা?
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইসলামের আদিষ্ট বিষয়গুলো পালন করতে হবে আর নিষিদ্ধ বিষয়গুলো বর্জন করতে হবে এটাই মূল কথা। এরপরও পাপ হয়ে যাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। ভাল কাজ করলে সওয়াব হবে আর খারাপ কাজ করলে সওয়াব হবে। ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য আপনি যে লিস্ট তৈরী করেছেন তা আমরা পাই নি। তবে এগুলো থেকে বেচে থাকা প্রত্যেকের জন্য অপরিহার্য।

প্রশ্নঃ 1923
আসসালামু আলাইকুম… আমি আগে জানতাম গীবত মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার মতো একটা কাজ!! কিন্তু অজানা বশত আমার সাথে চলাফেরা করা অনেক মানুষের গীবত করে ফেলেছি! এই পাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় টা কি একটু বলবেন?
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যেগুলো হয়ে গেছে তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আর ভবিষ্যতে না করার সংকল্প করুন।

প্রশ্নঃ 1897
আসসালামু আলাইকুম… আমি আগে জানতাম গীবত মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার মতো একটা কাজ!! কিন্তু অজানা বশত আমার সাথে চলাফেরা করা অনেক মানুষের গীবত করে ফেলেছি! এই পাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় টা কি একটু বলবেন?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যেগুলো হয়ে গেছে তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আর ভবিষ্যতে না করার সংকল্প করুন।

প্রশ্নঃ 1848
আসসালামু আলাইকুম… আমি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছি… পড়াশুনার আলোচনা করার জন্য মাঝে মাঝে মেয়েদের সাথে কথা বলতে হয়.. কখনো সরাসরি কখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে… এই কথা বলার মাধ্যমে কি আমার যেনা হবে? আমি খুব ভয়ে আছি…
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এমন পড়াশোনা তো না করাই উচিৎ যে পড়াশোনার করার জন্য মেয়েদের সাথে নিয়মিত কথা বলার প্রয়োজন হয়। তাছাড়া মেয়েদের সাথে কথা বলা ছাড়াও পড়াশোনা করা যায়। কথা বলার মাধ্যমেই পরবর্তীতে আপনি গোনাহে জড়িয়ে যেতে পারেন। সুতরাং যে কোন ওযুহাতেই হোক মেয়েদের সাথে কথাবার্তা বন্ধ রাখুন। আল্লাহ অবশ্যই আপনাকে সাহায্য করবেন।

প্রশ্নঃ 1570
আসসালামু আলাইকুম, ঈমান ঠিক রাখার উপাায় কি? শয়তানের হাত থেকে বাচার উপায় কি? মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জাতে আল্লাহর পথে চলতে পারি তার প্রাত্থিক কিছু আমল বললে খুসি হাতাম।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ঈমান ঠিক রাখতে হবে আমলের মাধ্যমে। ফরজ ইবাদাতগুলো সঠিক সময়ে সঠিক নিয়মে আদায় করতে হবে। নফল ইবদাত ও দান-সদকা বেশী বেশী করতে হবে। সকাল-সন্ধ্যার ও অন্যন্য সময়ের জিকির-দুআগুলো যতটা সম্ভব বেশী আদায় করতে হবে। মানুষদেরকে ইসলামের পথে দাওয়াত দিতে হবে। বিভন্ন জিকির, দুআ ও আমল জানতে পড়ুন ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত রাহে বেলায়াত বইটি।

প্রশ্নঃ 1536
আসসালামুয়ালাইকুম আমি কিভাবে জানবো যে আমার ইমান আছে। কারণ আমি অনেক পাপ করেছি। এমন কোন পাপ নেই যা আমি করিনি। আমি নামাজের প্রতি অমনোযোগী। আমি শুধু জানতে চাই কিভাবে বুঝবো যে আমার, ঈমান আছে।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি যদি আল্লাহকে ইলাহ হিসেবে মেনে নেন, মুহাম্মাদ সা. কে শেষ নবী হিসেবে বিশ্বাস করেন, আসমানী কিতাবেগুলো বিশ্বাস করেন, ফেরেশতা আছে বিশ্বাস করেন, আখেরাত- আখেরাতের হিসাব নিকাশ বিশ্বাস করেন, তাকদীর বা ভাগ্যে বিশ্বাস করেন তাহলে বুঝবেন আপনার ঈমান আছে। যেহেতু আপনার পাপের অনুভূতি আছে এটাও প্রমাণ আপনার ঈমান আছে। নামাযের প্রতি মনোযোগী হওয়ার চেষ্টা করুন, ধর্মীয় বই বেশী পড়ুন, আলেমদের ওয়াজ শুনুন, ভালো মানুষদের সাথে থাকুন, হারাম থেকে রিবত থাকুন আর আল্লাহর কাছে বেশী করে দুআ করুন, আল্লাহ যেন খাঁটি মূ’মিন হিসেবে আপনাকে কবুুল করে।

প্রশ্নঃ 1509
অনেক আলেম ইমাম বলে বিদআত ২ প্রকার…… তার মধ্যে বিদাআতে হাসানা সমাজে ভালো অর্থে প্রচলিত আছে এবং এটি নেকির কাজ…… কিন্তু বিদআত তো বিদআত ই হয় এর আবার ভালো খারাপ কি, একটু বুঝিয়ে বলবেন?
06 Jan 2026

বিদআতের কোন প্রকারভেদ নেই। বিদআত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, مَنْ أَحْدَثَ فِى أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ যে আমাদের এই ধর্মে নতুন কিছু প্রবেশ করাবে যা তাতে ছিল না তাহলে সেটা প্রত্যাখ্যাত। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৫৮৯; শরহে সুন্নাহ,হাদীস নং ১০৩। সুতরাং ধর্মের নামে নতুন উদ্ভাবিত সকল কর্মই বিদআত। আর সকল বিদআতই প্রত্যাখ্যাত। বিদআতের মধ্যে হাসানাহ বলতে কিছু নেই। বিস্তারিত জানতে দেখুন, শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. লিখিত এহ্ইয়াউস সুনান বইটি।

প্রশ্নঃ 1501
১। কি কি কাজ ও কথার মাধ্যমে শিরক হয় অর্থ্যাৎ ছোট বড় সব ধরনের শিরকের সিরিয়ালি লিস্ট দিবেন দয়া করে? ২। নফল সালাতের পর হাত তুলে দোয়া করা যায়। তবে যদি হাত না তুলে সিজদায় গিয়ে বাংলা ও আরবি যে কোন ভাবে দোয়া করি তাহলে কি করা যাবে?
06 Jan 2026

১। ভাই, শিরক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. এর ইসলামী আকীদা এবং তাঁর বঙ্গাবানুবাদকৃত আল-ফিকহুল আকবার বই দুটি অধ্যায়ন করুন। সব লিষ্ট এখানে দেয়া সম্ভব নয়। এক কথায় বলা যায় আল্লাহ ব্যাতিত অন্য কারো কাছে চাওয়া এই নিয়তে যে সে আল্লাহর কাছ থেকে নিয়ে এসে দেবে থেকে শুরু করে আল্লাহ কোন সিফাত বা গুন অন্য কারো মাঝে আছে বিশ্বাস করা এবং আল্লাহর সত্তার সাথে কাউকে শরীক করা সবকিছুই শিরক।

২। সাজদাতে আরবী মাসনুন দুআ করবেন। তবে আরবী দুআ শেখার আগ পর্যন্ত বাংলাতে অর্থাৎ মাতৃভাষাতে দুআ করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1468
যে সব রাজনৈতিক দল ব্যভিচারিনী বা পতিতালয়ের লাইসেন্স দেয়, সুদী ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়, মদের লাইসেন্স দেয়, কোরআনে বর্নিত আল্লাহর আইন বাদ দিয়ে নিয়েই আইন তৈরি করে যা আল্লাহর আইন বিরুধী, তাদেরকে সমর্থন করলে কিংবা সেই সব দলের কর্মী হলে ঈমান থাকবে?
06 Jan 2026

কুরআন-হাদীসের অকাট্য দলীল দ্বরা সাব্যস্ত বিধানকে কেও অস্বীকরা করলে তার ঈমান থাকবে না। তবে যদি অস্বীকার না করে কিন্তু মানে না তাহলে সে গুনাগগার হবে কিন্তু বেঈমান হবে না। সুতরাং কেউ যদি মনে করে মদ হালাল, আল্লাহর আইন অচল তাহলে তার ঈমান থাকবে না। আপনি সবকর্মকে এভাবে বিশ্লেষণ করুন।

প্রশ্নঃ 1458
আসসালামু আলাইকুম স্যার, গতকাল আমাদের এখানে ইছালে ছওয়াব মাহফিল গেলো। সেখানে ছারছিনা শরিফের পির এসে ওয়াজ করার পুর্বে প্রথমে বলল জিকির দিয়ে শুরু করব আমরা, তা উনি বলল, সলাতের নিয়াত আছে, রোজার নিয়াত আছে তেমনি জিকিরের ও নিয়াত আছে। তাই আপনারা আমার সাথে এই নিয়াত করুন, আমি আমার ক্বলবের মোতাওয়াজা করছি, আমার ক্বলব আমার পিরের মোতায়াজা করছে আমার পিরের ক্বলব আল্লাহ্ আরশ এর দিকে মোতায়াজ্জা করে আমি জিকির করছি অবশ্য আরো বাড়তি কথা ছিলো বলতে পারছি না। স্যার, আমরা জানি উচ্চস্বরে সম্মিলিত জিকির এমনিতেই সুন্নাতের খেলাফ তার উপর জিকির একটা বৈধ ইবাদত আর ইবাদতের ক্ষেত্রে যদি আমার মন আমার পিরের দিকে ধাবিত করি আল্লাহ্ সুবহানুতায়ালার দিকে না করে সেটা কি শিরক হবে না? যদি শিরক হয় তাহলে, আমার প্রশ্ন আমার চাচা সহ অনেকেই ছারছিনা শরিফের মুরিদ (আমি নই) মাঝে মাঝে আমাদের মসজিদের ইমাম না থাকলে আমার চাচা জমাত সলাত পড়ায়। (যদিও উনার পড়া শুদ্ধ না) তো এমন আকিদা পোষণকারী যেকোন লোকের পিছনে জমাতে সলাত পড়ার ব্যাপারে জানতে চাচ্ছি। দয়া করে জানাবেন।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমস সালাম। জিকির করার এমন নিয়ত বা নিয়ম কুরআন হাদীসে নেই। এটা শিরক। এমন লোকের পিছনে সালাত আদায় করা ঠিক নয়। তবে উপায় না থাকলে জামাত ত্যাগ করবেন না, পড়া যদি এতটুকু সহীহ হয় যে, অর্থ পাল্টে যায় না তাহলে তার পিছনেই সালাত আদায় করবেন।

প্রশ্নঃ 1435
আস-সালামু আলাইকুম ১. কিছু দিন ধরে আমার মনের ভিতর রাসুল (সাঃ) সম্পর্কে খারাব ধারণার উদভব ঘটছে যা আমাকে আনেক কষ্ট দিচ্ছে আমি এগুলি মনে করতে চাইছিনা, আমি রব্বানা লা তুজি কুলুবানা পড়ছি কিন্তুু কোন ভাবেই আমার পিছন ছাড়ছেনা এখন কি করতে পারি?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রাসূলুল্লাহ সা. এর জীবনে তো এমন কিছু নেই, যার কারণে তার প্রতি খারাপ ধারণা করা যায়। কাফেররাও তো তাকে আল-আমীন উপাধী দিয়েছে। সুতরাং কেন আপনার মনে তাঁর সম্পর্কে খারাপ ধারণা আসছে তা বুঝতে পারছি না। আপনাকে বলি কোন বিষয়েই গভীর চিন্তাভাবনা করবেন না। সকল কাজে এবং কথায় স্বাভাবিকতা বজায় রাখুন। বেশী করে দুআ করুন। আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত নিররযীম বেশী বেশী পড়ুন। ইনশাআল্লাহ আপনি এই মানসিক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

প্রশ্নঃ 1400
আসসালামুয়ালাইকুম, হুজুর আমি এমন একটা বিষয়ে দ্বিধাদন্ধে পরেছি যে এটার জন্য আমার ঈমান নিয়ে সংশয় দেখা দিচ্ছে। আমি আল্লাহর কাছে যে বিষয় নিয়ে দোয়া করি সেটাই বৃথা যায়। যা কিছু পেতে চাই তা নিয়ে দোয়া করলে সেটা আর হয় না। মাঝখানে দোয়া করাই ছেড়ে দিয়েছিলাম কিন্তু রাহেবেলায়েত বই এ দেখলাম দোয়া করা পরিত্যাগ করা উচিত না। কিন্তু দোয়া করে লাভ কি? ধরুন সবাই কোন একটা চাকরির জন্য চেষ্টা করছে, চাকরি কার হবে? যে বেশি পরিশ্রম করেছে সেই, তাহলে এখানে দোয়ার ভূমিকা কি? আর যদি দোয়ার ভূমিকা থাকে তাহলে বিধর্মী কারো চাকরি হওয়ার কথা না। কারন তারা তো আল্লাহর কাছে দোয়া না করে অন্য কোথাও দোয়া করে, কিন্তু চাকরি তো সব ধর্মের পরিশ্রমি লোকেরাই পায়। আবার অনেক সময় শুনি ভাগ্যে যা আছে মানুষ তাই পায়, তাহলেও এখানে দোয়ার বিষয় আসছে না। এইসব কিছু আমার মনের ভিতড় দারুন যন্ত্রনা সৃষ্টি করে। অনুগ্রহ করে উত্তর দিবেন।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, পৃথিবী তার গতিতে চলবে। এখান আল্লাহ তায়ালা মুসলিম-অমুসলিম সকলকে রিযিক দান করবেন। মূল ফয়সালা হবে আখেরাতে। সুতরাং এখানে আল্লাহ মুসলিমকে রিযিক দেবেন আর অন্যদেরকে দেবেন না এটা ঠিক নয়। এমন হলে তো কিয়ামতে বিচারের দরকার ছিল না, বিচার দুনিয়াতেই হয়ে যাবে। এই পৃথিবীর ধন-সম্পদ আল্লাহ তায়ালার কাছে একটি মাছির ডানার পরিমান মূল্যেরও না।সুতরাং পৃথিবীকে তার গতিতে চলতে দিতে হবে। দ্বিতীয়ত আপনার দুআ সঙ্গে সঙ্গে কবুল হয়ে যাবে বিষয়টি এমন নয়। তবে দুআ কবুল হতে অনেক সময় সময় লাগে সুতরাং আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে। যেমনটি আল্লাহ তায়লা সূরা আসরে বলেছেন। দুআর ভুমিকা অবশ্যই আছে। তবে তার চেয়েও বেশী গুরুত্বপূর্ণ হলো ধৈর্য। আপনি ধৈর্য ধরুন একদিন ফল পাবেন। হতে পারে আজকের কষ্টের বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা আখেরাতে আপনার জন্য বিরাট পুরুস্কার রেখে দিয়েছেন। আল্লাহ তো কুরআন শরীফে বলেছেন, তিনি মুমিনদের ধণসম্পদ নষ্টকরার দ্বারা, ভয় দ্বারা এমনকি জীবনে নিয়ে নিয়েও পরীক্ষা নেন। সুতরাং ভাই অস্থির হবেন না, সবর করুন। একদিন আল্লাহ তায়ালা আপনাকে উত্তম প্রতিফল দিবেন ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্নঃ 1252
আসসালামু আলাইকুম রাহেবেলায়েত বইয়ের বিভিন্ন বিষয়ের দোয়াগুলো (নামাজের দোয়া না) তাহাজ্জুত এবং অন্যান্য নফল নামাজের সাজদাহতে পাঠ করতে বেশি উৎসাহিত করা হয়েছে। এখন আমি যদি তাহাজ্জুতে উঠতে না পারি সে ক্ষেত্রে নফল নামাজ ছাড়াও ফরজ নামাজের আগে পরে যে সুন্নত নামাজ পড়া হয় এবং বেতেরের নামাজের সাজদাহ ও শেষ বৈঠকে কি দোয়া গুলো পাঠ করা যাবে? আল্লাহ আপনাদের এই সেবার উত্তম প্রতিদান দান করুন, আমীন।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বী, আপনি সকল নফল-সুন্নাত সালাতে উক্ত দুআগুলো পাঠ করতে পারবেন।

প্রশ্নঃ 1250
আসসালামু আলাইকুম। মুনাফিকি থেকে বাঁচার জন্য কোন দোয়া বা আমল থাকলে জানতে চাই। আল্লাহ আপনাদের রহম করুন…
05 Jan 2026

মুনাফেকী থেকে বাঁচতে হলে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামাতের সাথে আদায় করুন। হাদীসে যেসব কাজকে মুনাফেকীর আলামত বলা হয়েছে অর্থঅৎ মিথ্যা বলা, ওয়াদা ভঙ্গ করা, গালি দেয়া পরিহার করুন। ইসলামের সকল বিধি-বিধান যথাসাধ্য পালন করুন। আল্লাহ আমাদের সকলকে ইমানের উপর থাকার তাওফিক দান করুন।

প্রশ্নঃ 1248
আসসালামু আলাইকুম, নাউজুবিল্লাহিমিন জালিক বলার অর্থ কি?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। কোন খারাপ কাজ বা কথা শুনলে বলা হয় উক্ত বাক্যটি। যার অর্থ হলো আমি উক্ত কাজ বা কথা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

প্রশ্নঃ 1182
আসসালামু আলাইকুম। আমার আব্বুর কাছে এক গরীব হিন্দু পূজার জন্য নারিকেল চেয়েছিল। তো আমার আব্বু ঐ লোকটিকে নারিকেল দিয়েছিল। এতে কি আমার আব্বু গোনাহগার হবে?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। পূজার জন্য নারিকেল দিলে বড় ধরণের গুনাহ হবে। কারণ পূজাতে আল্লাহর সাথে শিরক করা হয় আর কোন কিছু দিলে শিরকে সহযোগিতা করা হয়। পূজার জন্য কোন ধরণের সহযোগিতা করা যাবে না। তবে খাওয়ার জন্য দিলে বা পূজা বাদে অন্য কোন কাজের জন্য দিলে গুনাহ হবে না বরং সওয়াব হবে।

প্রশ্নঃ 1145
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া শরিয়ত এর বিধান আছে কি, থাকলে কার কাছ থেকে জানা উচিত?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। স্বপ্ন সম্পর্কে গবেষনা না করাই উচিত। ব্যাখ্যা চাওয়ারও দরকার নেই। ভাল স্বপ্ন দেখলে ভাল আর খারপা স্বপ্ন শয়তানে পক্ষ থেকে আসে এমন বিশ্বাস থাকতে হবে। আমরা এখানে স্বপ্নের ব্যাখা দেই না। স্বপ্ন সম্পর্কে আরো জানতে আমাদের দেয়া 88 নম্বর প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 1126
আসসালামু আলাইকুম। আমার পরিবার থেকে আমাকে কোনদিন নামাজ পড়াও শিখাইনি। ইসলাম সম্পর্কে যা শিখেছি তা সম্পুর্ন আল্লাহর ইচ্ছায়। দীর্ঘদিন যাবত পাচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সহিত আদায় করি। এখন আমি অনার্স ২য় বর্ষে পড়াশোনা করি। মাঝে মাঝে আপনাদের আস সুন্নাহ ট্রাস্টের মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে যাই। কিন্তু এখানকার ছাত্রদের দেখে আমার খুব আফসোস হয়। কেন আমি এদের মত হতে পারলাম না? এই আফসোস আমাকে দিন দিন কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। কি করব বুঝতে পারছিনা। এখন খুব খুব মনে চায় একজন ভালো আলেম হতে। কিন্তু এখন কি তা সম্ভব?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনার ইচ্ছাটা খুবই ভাল ও কল্যানকর। আপনার ইচ্ছা পূরণ অসম্ভব নয়। তবে সবার যে আলেম হতে হবে বিষয়টি এরকমও নয়, আপনি আপনার জায়গায় থেকে ইসলামের খেদমত করতে পারেন। আপনি যেহেতু আমাদের মসজিদে মাঝে মধ্যে জুমুআর নামায পড়নে তাই আপনার জন্য উচিৎ হলো আমাদের খতীব সাহেব তথা আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের হাদীস বিভাগের প্রধান শায়খ জাকারিয়া বিন আব্দুল ওয়াহহাব এর সাথে দেখা করে তার পরামর্শ নেয়া। আশা করি আপনি সঠিক পথের সন্ধান পাবেন। আমরা দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাকে দীনের দায়ী হিসাবে কবুল করেন।

প্রশ্নঃ 1115
আসসালামু আলাইকুম, ১. আমরা হোটেলে যে সকল মাংস খেয়ে থাকি সেগুলো তো আমরা জানিনা আল্লাহর নাম নিয়ে জবাই করা হয়েছে কিনা। সেক্ষেত্রে এইগুলো খাওয়া কি হারাম হবে? ২. আমরা অনেক সময় হয়তো মনের অজান্তে কিংবা অনিচ্ছায় শিরকী কথাবার্তা বলে ফেলি। এর ফলে আল্লাহ্ পাক কি আমাদের জাহান্নামে দিবেন? আর এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কি হবে?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

১. মুসলিম দেশে মুসলিম মালিক কর্তৃক পরিচালেত হোটেলগুলোর মাংস হালাল বলে্ ধরে নিতে হবে। তবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত কোন তথ্য থাকলে অর্থাৎ আল্লাহর নামে জবেহ করা হয়নি নিশ্চিতভাবে জানা থাকলে খাওয়া হারাম হবে। অমুসলিমদেশ সমূহে হালাল মাংসের হোটেল খোঁজ করে সেখানে খেতে হবে।

২. এমন হয়ে গেলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, আশা করি তিনি ক্ষমা করে দিবেন। সতর্ক থাকতে হবে শিরকী কোন কথা-বার্তা যেন কোন অবস্থাতেই মুখে না আসে।

প্রশ্নঃ 1076
আসসালামুয়ালাইকুম। মুহতারাম, কোন একটি নির্দিষ্ট মাযহাক অনুসারে আমল করা কি সকলের জন্য ওয়াজিব? যদি সকলের জন্য ওয়াজিব না হয় তাহলে এমন কোন মাপকাঠি বা শিক্ষাগত যোগ্যতা কি নির্দিষ্ট আছে যাদের কাছে যাওয়া ওয়াজিব? উত্তর ওয়া আলাইকুমুস সালাম। একজন মুসলিমের জন্য কুরআন-সুন্নাহ মানা ফরজ। সুতরাং একজন মুসলিমকে কুরআন-সুন্নাহই মানতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ মুসলিম এবং সাধারণ আলিমগণ কুরআন-সুন্নাহ থেকে মাসআলা-মাসায়েল জানতে অক্ষম। তাই তাদেরকে এমন কাউকে না কাউকে অনুসরণ করতে হবে যে কুরআন-সুন্নাহ থেকে মাসআলা জানতে সক্ষম। আর এভাবে কাউকে অনুসরণ করার নামই মাজহাব। তার মধ্যে চারটি মাজহাব প্রসিদ্ধ। আর এর কোন একটি মানাই সাধারণ মুসলিমের জন্য নিরাপদ । কোন মাসআলার দলীল যয়ীফ হলে আপনি কোন বিজ্ঞ আলেমের পরামর্শে সহীহ দলীল অনুযায়ী আমল করতে পারেন তবে কখনোই নিজের সিদ্ধান্ত নিবেন না। আর যারা কুরআন-সুন্নাহ থেকে মাসআলা জানতে সক্ষম তাদের তো কাউকে অনুসরণের প্রয়োজন নেই। তবে এমন ব্যক্তি পৃথিবীতে খুব কমই আছে। এই ধরণের একটি প্রশ্নের জবাবে আমাদের দেয়া 0155 নং প্রশ্নের উত্তরে শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. ইংরেজীতে লিখেছিলেন, What you do is the same that the followers of Madhabs do. They also accept some scholars and follow them. The main duty of a Muslim is to follow the Quran and Sunnah. But the most of the muslims can not study them. So the depend of mazhabs or scholars. You should try your best to study the Quran and sunnah yourself. If not possible, you should follow one Alim and make your decision depending on Sunnah, not on your personal trend or choice.।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। একজন মুসলিমের জন্য কুরআন-সুন্নাহ মানা ফরজ। সুতরাং একজন মুসলিমকে কুরআন-সুন্নাহই মানতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ মুসলিম এবং সাধারণ আলিমগণ কুরআন-সুন্নাহ থেকে মাসআলা-মাসায়েল জানতে অক্ষম। তাই তাদেরকে এমন কাউকে না কাউকে অনুসরণ করতে হবে যে কুরআন-সুন্নাহ থেকে মাসআলা জানতে সক্ষম। আর এভাবে কাউকে অনুসরণ করার নামই মাজহাব। তার মধ্যে চারটি মাজহাব প্রসিদ্ধ। আর এর কোন একটি মানাই সাধারণ মুসলিমের জন্য নিরাপদ । কোন মাসআলার দলীল যয়ীফ হলে আপনি কোন বিজ্ঞ আলেমের পরামর্শে সহীহ দলীল অনুযায়ী আমল করতে পারেন তবে কখনোই নিজের সিদ্ধান্ত নিবেন না। আর যারা কুরআন-সুন্নাহ থেকে মাসআলা জানতে সক্ষম তাদের তো কাউকে অনুসরণের প্রয়োজন নেই। তবে এমন ব্যক্তি পৃথিবীতে খুব কমই আছে। এই ধরণের একটি প্রশ্নের জবাবে আমাদের দেয়া 0155 নং প্রশ্নের উত্তরে শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. ইংরেজীতে লিখেছিলেন, What you do is the same that the followers of Madhabs do. They also accept some scholars and follow them. The main duty of a Muslim is to follow the Quran and Sunnah. But the most of the muslims can not study them. So the depend of mazhabs or scholars. You should try your best to study the Quran and sunnah yourself. If not possible, you should follow one Alim and make your decision depending on Sunnah, not on your personal trend or choice.

প্রশ্নঃ 966
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ভাই। আশা করি পরম করুনাময় আল্লাহ্ সুবহানুতায়ালার অশেষ রহমতে ভালো আছেন। ভাই, আমার ফুফা কথা প্রশংগে বলে যে নবী কারীম সঃ এর উসিলা করে দোয়া করতে হবে। উনি এটা বুঝাইছে যে যা কিছু চাইতে হয় আল্লাহ্ সুবহানুতায়ালার কাছে নবীর মাধ্যমে চাইতে হবে। আমি বললাম যে না ফুফা যা কিছুই চাইতে হয় সরাসরি আল্লাহর কাছেই হবে। উনি বলেন কোরআনে আল্লাহ বলছেন আল্লাহর রসুল কে অনুসরণ করো। আমি বললাম অনুসরণ করা আর উসিলা করে আল্লাহর কাছে চাওয়া এক জিনিস না। আমরা যা কিছুই চাইব একমাত্র আল্লাহর কাছেই চাইব এখানে কাউকেই উসিলা করা যাবে না। তারপর আমি বললাম যদি কেউ হযরত মোহাম্মদ সঃ এর কাছেও কিছু চায় তাহলে সে শির্ক করল। উল্টো উনার ভাব আর অভিব্যক্তি এমন করল মনে হলো আমিওই শির্ক করছি। উনি ভাবছে হয়ত আমার আকিদাই ভুল বা আমি বিশাল ভুলের মধ্য আছি। আসলে অনেক আলেম উলামা ও অন্যান্য বই পত্র পড়ে আমি এই আকিদাই পোষন করি যে আমরা সেই হাদিস অনুসারে যদি একটা জুতার ফিতাও চাইতে হয় তাহলে পরম করুনাময় আল্লাহর নিকট চাই আর রসুল হলো আমাদের মডেল তাকে ১০০% অনুসরণ করে জীবন সাজাবো আর আমার প্রিয় নবী মোহাম্মাদ সঃ কে আমার পরিবারের সদস্যদের থেকেও বেশি ভালো বাসব। প্রিয় নবী সঃ আমার শ্রেস্ট মডেল। আর এ দুয়াও করি আল্লাহ যেনো আমার নবীকে (সঃ) কেয়ামতের ময়দানে আমাদের নাজাতের উসিলা করে দেয়। আমার প্রশ্ন হলো ভাই, আমার আকিদা কি সহীহ? আমি কোন ভুলের মধ্য নেইতো? দয়াকরে আমাকে একটু জানিয়ে বাধিত করবেন। আল্লাহ সুবহানুতায়ালা আপনাকে জাযাকাল্লাহ দান করুন। আমিন।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনার আকীদা ঠিক আছে। তবে রাসূলুল্লাহ স. ওসীলা করে দুআ চাওয়া আর রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে কোন কিছু চাওয়া কিন্তু এক নয়। জীবিত ব্যক্তির কাছে সরাসরি দুনিয়ার কোন জিনিস যেমন, টাক পয়সা ইত্যাদী চাওয়া যেতে পারে তবে অপার্থিব কোন বিষয় যেমন, রোগ থেকে সুস্থতা কামনা, চিন্তামুক্ত থাকা কামনা এগুলো শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার কাছেই চাইতে হবে। অর মৃত ব্যক্তির কাছে পার্থিব, অপাথিভব কোন কিছু্ চাওয়া যাবে না, শিরক হবে। আর রাসূলুল্লাহ সা. ওসীলা কর দুআ চাওয়া শিরক নয়, জায়েজ আছে। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. এর পরামর্শে এক ব্যক্তি তাঁর ওসীলা দিয়ে দুআ করেছেন বলে উল্লেখ আছে। সুনানু তিরমিযী. হাদীস নং ৩৫৭৮। হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী এবং শায়খ আলবানী রহ. সহীহ বলেছেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া 36 নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 870
আল্লাহর অবস্থান সম্পর্কে যদি কারও ভুল জ্ঞান থাকে ( যেমন- আল্লাহ সবত্র বিরাজমান), তাহলে কি সে সালাত অথবা সিয়াম ত্যাগ করার মত গুনাহগার হবে?
02 Jan 2026

আল্লাহ সম্পর্কে এমন বিশ্বাস থাকাটা গোমরাহী, গুনাহের কাজ। তবে অন্য কোন গুনাহের সাথে এর তুলনা করা নিস্প্রয়োজন।

প্রশ্নঃ 609
আসসালামু আলাইকুম, আস সুন্নাহ, বা কিতাব আস সুন্নাহ বইটি কি ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ.এর ছেলের কিতাব? এই কিতাবটি কি মক্কা ও মদিনার আলিমগন দ্বারা স্বীকৃত? এর ভিতরে যে কথা গুলো আছে তা কি ইসলামী আক্কীদা পরিপন্থি নয়? কয়েকজন আলেম/মুফতি এই বইয়ের বরাত দিয়ে বলছেন এটাই মক্কা ও মদিনার আলিমগন এর আক্কীদা এবং কুরান এবং হাদিস এর পরেই তারা এই ভ্রান্ত কিতাব এর গুরুত্ব দেয়। এই কিতাব সম্পরকে জানতে চাই।
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আসসুন্নাহ কিতাবটি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের ছেলে আব্দুল্লাহ কর্তৃক আকিদার বিষয়ে লিখা একটি কিতাব। কিতাবটির প্রথম অধ্যায়টি জাহমিয়া সম্প্রদায়ের আকিদার বিরুদ্ধে লিখা হয়েছে, সম্ভবত তাই খতিব বাগদাদী, ইমাম জাহবী ও অন্যান্য ইমামগন কিতাবটির নাম আররদ্দ আলাল জাহমীয়া বলে উল্লেখ করেছেন। এটি আকিদার বিষয়ে একটি গ্রহনযোগ্য কিতাব। কোন কিতাব গ্রহণযোগ্য হওয়ার অর্থ এই নয় যে তাতে কোন ভুল থাকতে পারেনা। কিতাবটি ড: মুহাম¥দ বিন সাঈদ উম¥ুল ক্বুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষকের অধিনে তাহক্বিক করে এর উপর ডক্টরেট অর্জন করেছেন। ড: মুহাম¥দ বিন সাঈদ তার তাহক্বিকে এই কিতাবের সকল হাদিস ও প্রত্যেক কথার প্রামান্যতা নিয়ে পর্যালোচনা করেছেন। আপনি এই বইটি সংগ্রহ করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 593
মুহতারামঃ আসসালামু আলাইকুম। আমি youtube এর একটি ভিডিওর লিঙ্ক দিলাম। please শুনে মতামত দিবেন। এই ভিডিও তে দাবি করা হয়েছে তার তথাকথিত মুরশেদ এতদিন বাংলাদেশ এ আসার ইজাজত রাসুল (স) এর কাছ থেকে পান নি তাই আসতে পারেন নি, এর পর রাসুল (স) ইজাজত দিলে এসেছেন। এবং রাসুল (স) নাকি বলেছেন (সরাসরি তারা রাসুল (স) এর আওয়াযে শুনেছেন) তাদের কে কাবুল করআ হয়েছে। https://www.youtube.com/watch?v=pScDTfAco2g
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. বেঁচে থাকা কালীন এই প্রশ্নের বিষয়ে তাঁর সাথে আলোচনা করেছিলাম। তিনি আমাকে যা বলেছিলেন তার সারকথা নিম্নরুপ: আমরা সবাই জানি মুহাম্মাদ সা. এর উম্মতদের মধ্যে মর্যাদার দিক দিয়ে সাহাবীদের স্থান সর্বাগ্রে। পৃথিবীর কোন ওলী, কোন দরবেশ বা আলেম মর্যদার দিকে দিয়ে সাহাবীদের সমান নয়। কুরআন ও হাদীসে সাহাবীদের মর্যাদার বিষয়টি বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। এবার নিচের হাদীস তিনটি ভালভাবে লক্ষ্য করুন,

১। عَنْ أَبِي سَعِيدٍ ، قَالَ : اسْتَأْذَنَ أَبُو مُوسَى عَلَى عُمَرَ فَقَالَ : السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَأَدْخُلُ ؟ قَالَ عُمَرُ : وَاحِدَةٌ ، ثُمَّ سَكَتَ سَاعَةً ، ثُمَّ قَالَ : السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَأَدْخُلُ ؟ قَالَ عُمَرُ : ثِنْتَانِ ، ثُمَّ سَكَتَ سَاعَةً فَقَالَ : السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَأَدْخُلُ ؟ فَقَالَ عُمَرُ : ثَلاَثٌ ، ثُمَّ رَجَعَ ، فَقَالَ عُمَرُ لِلْبَوَّابِ : مَا صَنَعَ ؟ قَالَ : رَجَعَ ، قَالَ : عَلَيَّ بِهِ ، فَلَمَّا جَاءَهُ ، قَالَ : مَا هَذَا الَّذِي صَنَعْتَ ؟ قَالَ : السُّنَّةُ ، قَالَ : آلسُّنَّةُ ؟ وَاللَّهِ لَتَأْتِيَنِّي عَلَى هَذَا بِبُرْهَانٍ أَوْ بِبَيِّنَةٍ أَوْ لأَفْعَلَنَّ بِكَ ، قَالَ : فَأَتَانَا وَنَحْنُ رُفْقَةٌ مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ : يَا مَعْشَرَ الأَنْصَارِ أَلَسْتُمْ أَعْلَمَ النَّاسِ بِحَدِيثِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ؟ أَلَمْ يَقُلْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الاِسْتِئْذَانُ ثَلاَثٌ ، فَإِنْ أُذِنَ لَكَ ، وَإِلاَّ فَارْجِعْ فَجَعَلَ القَوْمُ يُمَازِحُونَهُ ، قَالَ أَبُو سَعِيدٍ : ثُمَّ رَفَعْتُ رَأْسِي إِلَيْهِ فَقُلْتُ : فَمَا أَصَابَكَ فِي هَذَا مِنَ العُقُوبَةِ فَأَنَا شَرِيكُكَ. قَالَ : فَأَتَى عُمَرَ فَأَخْبَرَهُ بِذَلِكَ ، فَقَالَ عُمَرُ : مَا كُنْتُ عَلِمْتُ بِهَذَا

আবূ সাঈদ (রা.) হতে র্বণতি, তনিি বলনে, আবূ মূসা (রা.) উমর (রা.)-এর নকিট অনুমতি চযে়ে বলনে, আসসালামু আলাইকুম, আমি কি আসতে পার? উমর (রা.) বলনে, এক। আবূ মূসা (রা.) কছিুক্ষণ চুপ থাকলনে। তনিি আবারও সালাম দিয়ে বলনে, আমি কি ভতিরে আসতে পার? উমর (রা.) বলনে, দুই। তারপর আবূ মূসা (রা.) অল্প সময় নীরবতা অবলম্বন করলনে। তনিি আবার বললনে, আসসালামু আলাইকুম, আমি কি আসতে পার? উমর (রা.) বললনে, তিনি এবার চলে যতেে লাগলনে। উমার (রা.) প্রহরীকে জজ্ঞিসে করলনে, তিনি কি করছনে? প্রহরী বলল, তিনি চলে গছেনে। তিনি বললনে, তাকে আমার নিকট ফিরিয়ে নিয়ে এসো। তারপর তিনি উমারের সামনে এলে তিনি প্রশ্ন করলনে, আপনি এরকম করলনে কনে? তিনি বললনে, আমি সুন্নাত পালন করছে। উমর (রা.) বললনে, সুন্নাত পালন করছেনে? আল্লাহর কসম! এর সপক্ষে আপনাকে দলীল-প্রমাণ উপস্থাপন করতে হব, তা না হলে আমি আপনার ব্যবস্থা করছি (র্অথাৎ- শাস্তি দবি)। র্বণনাকারী বলনে, তারপর তনিি (আবূ মূসা) আমাদরে নকিট আসলনে। আমরা কয়জন আনসার বন্ধু একসাথে বসে ছলিাম। তনিি বললনে, হে আনসার সম্প্রদায়! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস সর্ম্পকে কি তোমরা সবার চাইতে বশেি জ্ঞাত নও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলনেনি যে, তিনবার অনুমতি চাইতে হব? তারপর তোমাকে অনুমতি দলিে তো দলি, নতুবা ফরিে যাব। উপস্থতি লোকজন তার সাথে কৌতুক করতে লাগল। আবূ সাঈদ (রা.) বলনে, এবার আমি মাথা তুলে তার দকিে তাকালাম এবং বললাম, আপনার উপর এ ব্যাপারে কোন শাস্তি হলে আমি আপনার অংশীদার হব। রাবী বলনে, তারপর তিনি উমাররে নিকট এসে এ ঘটনা বললনে। উমার (রা.) বললনে, আমি এ সর্ম্পকে জানতাম না। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ২৬৯০।হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযীসহ মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

২। عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ أَنَّهُ قَالَ جَاءَتِ الْجَدَّةُ إِلَى أَبِى بَكْرٍ الصِّدِّيقِ تَسْأَلُهُ مِيرَاثَهَا فَقَالَ مَا لَكِ فِى كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى شَىْءٌ وَمَا عَلِمْتُ لَكِ فِى سُنَّةِ نَبِىِّ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- شَيْئًا فَارْجِعِى حَتَّى أَسْأَلَ النَّاسَ. فَسَأَلَ النَّاسَ فَقَالَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ حَضَرْتُ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- أَعْطَاهَا السُّدُسَ. فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ هَلْ مَعَكَ غَيْرُكَ فَقَامَ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ فَقَالَ مِثْلَ مَا قَالَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَৃ

অর্থ: ক্ববিসা ইবনে যুয়াইব রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একজন দাদী আবু বকর সিদ্দিক রা. এর কাছে এসে তার মিরাস চাইলেন। তখন তিনি বলেন, কুরআনে তোমার (মিরাস পাওয়ার) বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই, হাদীসেও তোমার বিষয়ে কিছু আছে বলে আমি জানি না। তুমি ফিরে যাও, আমি লোকদের কাছে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি। তিনি লোকদের কাছে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন তখন মুগিরা ইবনে শুবা রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে উপস্থিত ছিলাম, তিনি দাদীকে এক ষষ্ঠমাংস দিয়েছেন। আবু বকর রা. বলেন, তুমি ছাড়া আর কেউ কি বিষয়টি জানে? তখন মুহাম্মাদ ইবনে সালামা দাঁড়ালেন এবং মুগিরা যেমন বলেছেন তেমন বললেন। … সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ২১০১; সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ২৮৯৬।হাদীসটির সকল বর্ণনাকারীকেই মুহাদ্দিসগণ ছিকাহ বলেছেন। হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী হাসান সহীহ বলেছেন। তবে ক্ববিসা আবু বকর রা. পেয়েছেন কিনা তা নিয়ে বিতর্ক আছে। হাদীসটির উপর আমল সহীহ হওয়ার বিষয়ে সকল আলেম একমত।

৩। عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- أَرْسَلَتْ إِلَى أَبِى بَكْرٍ الصِّدِّيقِ تَسْأَلُهُ مِيرَاثَهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْهِ بِالْمَدِينَةِ وَفَدَكٍ وَمَا بَقِىَ مِنْ خُمْسِ خَيْبَرَ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ إِنَّمَا يَأْكُلُ آلُ مُحَمَّدٍ – -صلى الله عليه وسلم- – فِى هَذَا الْمَالِ وَإِنِّى وَاللَّهِ لاَ أُغَيِّرُ شَيْئًا مِنْ صَدَقَةِ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- عَنْ حَالِهَا الَّتِى كَانَتْ عَلَيْهَا فِى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- وَلأَعْمَلَنَّ فِيهَا بِمَا عَمِلَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَأَبَى أَبُو بَكْرٍ أَنْ يَدْفَعَ إِلَى فَاطِمَةَ شَيْئًا فَوَجَدَتْ فَاطِمَةُ عَلَى أَبِى بَكْرٍ فِى ذَلِكَ – قَالَ – فَهَجَرَتْهُ فَلَمْ تُكَلِّمْهُ حَتَّى تُوُفِّيَتْ

উরবা ইবনে যুবায়রে র্বণনা করছেনেৃ আয়শা হতে র্বণতি ফাতমিা রাসুলুল্লাহ-এর সম্পদ হতে তার প্রাপ্য মীরাছ এর দাবী করে আবু বকর এর নকিট পাঠালনে, যা আল্লাহ তালা রাসুলুল্লাহ কে মদীনা ও ফদিাক এর ফাই এবং খায়বাররে অবশষ্টি এক-পঞ্চমাংশ হতে প্রদান করছেলিনে। তখন আবু বকর বললনে, রাসুলুল্লাহ বলে গয়িছেনে, আমাদরে নবীদরে পরত্যিক্ত সম্পদে কোন মীরাছ বন্টন করা হবে না। কনেনা আমাদরে রাখয়িা যাওয়া সকল কছিু ছদকা হয়ে যাব। মোহাম্মদ এর পরবিারর্বগ তা হতে ভরণ পোষণ গ্রহণ করব। আমি আল্লাহর শপথ করে বলতছে, মুহাম্মদ এর আমলে ছদকাহর যে ব্যবস্থা জারী ছলি, তা আমি পরর্বিতন করব না। এই ব্যপারে আমি সইে কাজই করব যা রাসুলুল্লাহ করে গয়িছেনে। অতএব আবু বকর ফাতমিা কে তা হতে মীরাছ প্রদান করতে অস্বীকার করলনে। যার ফলে ফাতমো রাগান্বতি হয়ে আবু বকর এর সাথে সংস্রব ত্যাগ করলনে। তনিি মৃত্যূ র্পযন্ত তার সাথে আর কোন কথাই বলনে নাই। … সহীহ মুসলমি, হাদীস নং ৪৬৭৯। আমরা প্রথম হাদীসে দেখছি, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন তিনবার অনুমতি চাওয়ার পর অনুমতি না দিলে ফিরে যাও এটা উমার রা. জানতেন না। আবু মুসা রা. যখন বললেন তখন তিনি তাঁকে এর স্বপক্ষে সাক্ষী হাজির করতে বললেন। তিনি বলেন নি দাঁড়াও আমি রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছ থেকে বিষয়টি জেনে নিই। যদি মৃত্যুর পর রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছ থেকে কোন কিছু জেনে নেয়া সম্ভব হতো তাহলে উমার রা. তাই করতেন। একজন প্রথম সারীর সাহাবীর পক্ষে যখন এটা সম্ভব নয় তখন কোন ওলীর পক্ষে কি এটা সম্ভব? দ্বিতীয় হাদীসে আমরা দেখছি, দাদীর মিরাছ পাওয়া বিষয়ে আবু বকর রা. জানা ছিল না। যখন একজন দাদী মিরাস দাবী করল তখন তিনি বললেন, আমি লোকদের কাছে জিজ্ঞাসা করে দেখি। যদি মৃত্যুর পর রাসূলুল্লাহ সা. এর সাথে কথা বলার সুযোগ থাকতো তাহলে তো তিনি বলতেন, দাঁড়াও, আমি রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে শুনে দেখি। আবু বকরের মত সাহাবী, ইসলামের প্রথম খলীফার পক্ষে মৃত্যুর পরে রাসূলের সাথে কথা বলা যেখানে অসম্ভব সেখানে কোথায় ওলী আর কোথায় মুরশিদ? এভাবে তৃতীয় হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারি, ফাতিমা রা.কে মিরাস দিতে অস্বীকার করায় তিন আবু বকর রা. এর সাথে কথা বলা পর্যন্ত বন্ধ করে দেন। তার অর্থ হলো ফাতেমা রা. মনে করতেন তিনি মিরাসের হকদার। কিন্তু তিনি কখনো তো রাসূলুল্লাহ সা. এর কবরের কাছে গিয়ে জানতে গেলেন না মিরাস পাবেন কিনা? তিনি তো রাসূলুল্লাহ সা. এর সবচেয়ে আদরের মেয়ে ছিলেন। তাহলে কি রাসূলের কাছে ফাতেমার চেয়েও ঐসব কথিত পীর-মুরশিদ বেশী প্রিয়? উপরের আলোচনা থেকে আশা করি বুঝতে পেরেছেন, রাসূলুল্লাহ সা. এর ওফাতের পরে কোন বিষয়ে তার সাথে আলোচনা করার দাবী করা সম্পূর্ণ ভন্ডামী, কুসংস্কার ও মিথ্যা কথা। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এই ধরনের পীর-মুরশিদ থেকে হেফাজত করুন।

প্রশ্নঃ 592
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ, বিশ্বখ্যাত ইমাম ও প্রখ্যাত অলি হযরত আবদুল ওহাব শারানী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বর্ণনা করেছেন- كل من كان متعلقا بنبى او رسول اوولى فلابد ان يحضره وياخذه بيده فى الشدائد- অর্থাৎ যে কেউ কোন নবী-রসূল বা ওলীর সাথে সম্পৃক্ত হবে অবশ্যই উক্ত নবী-রসূল ও ওলী তার (ভক্তের) কঠিন বিপদ-আপদে উপস্থিত হয়ে সমস্ত আপদ-বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। (এ ক্ষমতা আল্লাহ্ তাআলা তাঁদেরকে দান করেছেন। কাজী সানা উল্লাহ্ পানি পত্থি রহমাতুল্লাহি আলায়হি বর্ণনা করেন- আউলিয়ায়ে কেরাম তাদের ভক্তদের সাহায্য এবং শক্রদের শাস্তি প্রদান করেন। [তাফসীরে মাজহারী] হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রহমাতুল্লাহি আলায়হি তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন, ওলীকুলের সম্রাট হুজুর গাউসে পাক সৈয়্যদুনা আবদুল কাদের জিলানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ইরশাদ করেন- من استغاث بى فى كربة كشفت عنه ومن نادانى باسمى فى شدة فرجت عنه- অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোন দুঃখ ও মুসিবতে আমার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে, তার দুঃখ-বেদনা দূর হয়ে যাবে, আর যে বিপদের মুহূর্তে আমার নাম নিয়ে আমাকে আহ্বান করবে সে বিপদ হতে রক্ষা পাবে। মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলায়হি এও বলেছেন, হুজুর গাউসে পাকের এই পবিত্র কালাম (বাণী) পরীক্ষা করা হয়েছে, অতঃপর তা বিশুদ্ধভাবে পরীক্ষত ও প্রমাণিত হয়েছে। [নুযহাতুল হাতিরিল ফাতির ফী মানাকিবে আশ্শায়খ আবদিল কাদির জিলানী রাদ্বি.] আপনি কি দয়া করে শায়ককে জিজ্ঞাসা করবেন উপরের তথ্যগুলো সঠিক কিনা?
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

শায়খ রা. মারা যাওয়ার পূর্বে এই প্রশ্নের বিষয়ে আমি তাঁর সাথে আলোচনা করেছিলাম। তিনি যা বলেছেন তার সারকথা হলো: ইসলাম আমাদের দেশে দুই ধরনের।একটি কথিত ওলী-আউলিয়াদের বাণী নির্ভর ইসলাম আর একটি হলো কুরআন-সুন্নাহ নির্ভর ইসলাম। আপনি যদি প্রথম প্রকারের ইসলাম মানেন তাহলে এই প্রশ্নের বিষয়ে আপনার সাথে আমাদের কোন কথা নেই আর যদি দ্বিতীয় প্রকারের ইসলাম মানেন অর্থাৎ কুরঅঅন-সুন্নাহ নির্ভর ইসলাম মানেন তাহলে লক্ষ্য করুন: তিনি কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা বইয়ের ৪৩০ পৃষ্ঠা বলেছেন, আল্লাহ কাউকে কোনরূপ ক্ষমতা প্রদান করেন নি। মহান আল্লাহ সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেছেন যে, তিনি কখনোই কাউকে এরূপভাবে ক্ষমতা দেন নি। মহান আল্লাহ বলেন:

وَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ وَلِيٌّ مِنَ الذُّلِّ وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا

বল, প্রশংসা আল্লাহরই যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেন নি, তাঁরা ক্ষমতায়-রাজত্বে কোনো শরীক নেই এবং যিনি দুর্দশাগ্রস্ত হন না যে- কারণে তাঁর অভিভাবকের বা সাহায্যকারীর প্রয়োজন হতে পারে। সুতরাং সসম্ভ্রমে তাঁর মাহাত্ম্য ঘোষণা কর। সূরা (১৭) বানী ইসরাঈল: ১১১ আয়াত। আরো দেখুন: সূরা (১৮) কাহাফ: ২৬ ও সূরা (১৩) রাদ: ৪১ আয়াত। এক আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন:

قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ لا يَمْلِكُونَ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلا فِي الأَرْضِ وَمَا لَهُمْ فِيهِمَا مِنْ شِرْكٍ وَمَا لَهُ مِنْهُمْ مِنْ ظَهِيرٍ

বল, তোমরা আহ্বান কর তাদেরকে যাদেরকে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে (ইলাহ) মনে করতে, তারা আকাশ-মণ্ডলী এবং পৃথিবীতে অণুপরিমাণ কিছুর মালিক নয় এবং এতদুভয়ে তাদের কোনো অংশও নেই এবং তাদের কেউ মহান আল্লাহর সহায়কও নয়। সূরা (৩৪) সাবা: ২২ আয়াত। এ বিষয়টি সকল মুশরিকের সকল উপাস্যের বিষয়েই প্রযোজ্য। মুর্তি, প্রতিমা, তারকা, ফিরিশতাগণ, নবীগণ, ওলীগণ, জিন্নগণ বা অন্য যাদেরই ইবাদত করত মুশরিকগণ সকলের ক্ষেত্রেই উত্তর একই। তাঁরা কেউই আসমানের বা যমিনের এক অনুপরিমাণ মালিকানা রাখেন না। আসমান-যমিনের কোথাও তাদের কোনো অংশীদারিত্ব নেই এবং মহান আল্লাহ তাদের কারো সহযোগিতার প্রত্যাশী নন, কেউ তাকে কোনোরূপে সাহায্য সহযোগিতা করেন না। অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন:

ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ لَهُ الْمُلْكُ وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ مَا يَمْلِكُونَ مِنْ قِطْمِيرٍ

তিনিই আল্লাহ তোমাদের প্রতিপালক। রাজত্ব-মালিকানা তাঁরই। এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তারা তো খেজুরের আঁটির আবরণেরও মালিক নয়। সূরা (৩৫) ফাতির: ১৩ আয়াত। খৃস্টানগণ ঈসা মাসীহ (আ)-কে মহান আল্লাহর যাত বা সত্তার অংশ ও অবতার (এড়ফ রহপধৎহধঃব) হিসেবে ইবাদত করে। এ ছাড়া তারা মরিয়ম (আ)-কে সান্তা বা মহান আল্লাহর বিশেষ করুণাপ্রাপ্ত ওলী হিসেবে ইবাদত করে। তার মুর্তিতে বা ফিলিস্তিনে বিদ্যমান তার কবরে সাজদা করে, মানত করে, তার আশীর্বাদ ও বর প্রার্থনা করে। মহান আল্লাহ তাদেরকে বিশ্ব পরিচালনায় কিছু ক্ষমতা দিয়েছেন বলে তারা বিশ্বাস করে। মহান আল্লাহ তাদের মানবত্ব ও অক্ষমতা বর্ণনা করে বলেন:

مَا الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ إِلا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ وَأُمُّهُ صِدِّيقَةٌ كَانَا يَأْكُلانِ الطَّعَامَ انْظُرْ كَيْفَ نُبَيِّنُ لَهُمُ الآَيَاتِ ثُمَّ انْظُرْ أَنَّى يُؤْفَكُونَ قُلْ أَتَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لا يَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّا وَلا نَفْعًا وَاللَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

মরিয়ম-তনয় মাসীহ তো কেবল একজন রাসূল; তার পূর্বে বহু রাসূল গত হয়েছে এবং তার মাতা সত্যনিষ্ঠ ছিল। তারা উভয়ে খাদ্যাহার করত। দেখ, তাদের জন্য আয়াত কিরূপ বিশদভাবে বর্ণনা করি, আরো দেখ, তারা কিভাবে সত্য বিমুখ হয়! বল, তোমরা কি আল্লাহ ব্যতীত এমন কিছুর ইবাদত কর যার কোনোই ক্ষমতা নেই তোমাদের ক্ষতি করার বা উপকার করার? আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। সূরা (৫) মায়িদা: ৭৫-৭৬ আয়াত। উক্ত আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি আল্লাহ তায়ালা কোন ওলী বা কোন ব্যক্তিকে এমন কোন ক্ষমতা প্রদান করেন নি যার মাধ্যমে সে মৃত থাকা অবস্থায় স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে কাউকে কোন ধরনের সাহায্য করতে পারে। বরং এই ধরনের সাহায্য আল্লাহ তায়ালার কাজ। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে সাহায্য চাওয়া সম্পর্কে তিনি উক্ত বইয়ের ৪০৩ ও ৪৯৮ পৃষ্ঠায় বলেন, প্রার্থনা করা বা ডাকার বিষয়বস্তু দুই প্রকারের হতে পারে। এক প্রকার লৌকিক বা জাগতিক সাহায্য-সহযোগিতা যা মানুষ স্বাভাবিকভাবে করতে পারে। এ সকল বিষয় প্রকৃতিগতভাবে একজন মানুষ আরেকজনের নিকট চেয়ে থাকে এবং মানুষ জাগতিকভাবে তা প্রদান করতে পারে। যেমন, কারো কাছে টাকাপয়সা চাওয়া, সাহায্য চাওয়া, পানিতে পড়ে গেলে উঠানোর জন্য সাহায্য চাওয়া, মাথার বোঝা পড়ে গেলে উঠাতে সাহায্য চাওয়া, ইত্যাদি, ইত্যাদি অগণিত। জাতি, ধর্ম, বিশ্বাস ও অবিশ্বাস নির্বিশেষে সকলেই এ ধরনের সাহায্য প্রার্থনা করে। দ্বিতীয় প্রকার প্রার্থনা বা ডাকা অলৌকিক বা অপার্থিব। জাগতিক মাধ্যম ও উপকরণ ছাড়া অলৌকিক সাহায্য, ত্রাণ ইত্যাদি প্রার্থনা করা। এ জাতীয় প্রার্থনা শুধুমাত্র কোনো ধর্মের অনুসারী বা বিশ্বাসী করেন। বিশ্বাসী কেবলমাত্র আল্লাহ ঈশ্বর বা সর্বশক্তিমান বলে যাকে বিশ্বাস করেন, অথবা যার সাথে ইশ্বরের বিশেষ সম্পর্ক ও যার মধ্যে ঐশ্বরিক ক্ষমতা আছে, তার কাছেই এরূপ প্রার্থনা করেন বা তাকেই এভাবে ডাকেন। দৃশ্যমান বা অদৃশ্য উপস্থিত কোনো মানুষ, জিন্ন বা ফিরিশতার কাছে লৌকিক ও জাগতিক সাহায্য ও ত্রাণ প্রার্থনা করা যায়। কিন্তু অলৌকিক ত্রাণ একমাত্র মহান আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে চাওয়া যায় না। দূরে অবস্থিত বা অনুপস্থিত কারো কাছে লৌকিক বা অলৌকিক সাহায্য চাওয়া এবং উপস্থিত বা অনুপস্থিত কারো কাছে অলৌকিক সাহায্য চাওয়া শিরক। নুমান ইবনু বাশীর (রা) বলেন, নবীজী বলেন : الدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ দুআ বা প্রার্থনাই ইবাদত। একথা বলে তিনি কুরআনের আয়াত পাঠ করলেন (সূরা গাফির (মুমিন) : ৬০):

وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ

তোমাদের প্রভু বলেন: তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব বা তোমাদের প্রার্থনা পূরণ করব। নিশ্চয় যারা আমার ইবাদত থেকে অহঙ্কার করে (আমার কাছে প্রার্থনা না করে) তারা শীঘ্রই লাঞ্ছিত অপমানিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তিরমিযী, আস-সুনান ৫/২১১; আবু দাউদ, আস-সুনান ২/৭৬; ইবনু মাজাহ, আস-সুনান ২/১২৫৮; ইবনু হিব্বান, আস-সুনান ৩/১৭২; হাকিম, আল-মুসতাদরাক ১/৬৬৭। হাদীসটি সহীহ। দুআ, কেন্দ্রিক শিরকের বিষয়ে শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলবী (রাহ) বলেন: মুশরিকগণ আল্লাহ ছাড়া অন্যদের নিকট হাজত বা প্রয়োজন মেটানোর জন্য সাহায্য প্রার্থনা করত। অসুস্থ ব্যক্তির সুস্থতা, দরিদ্র ব্যক্তির সচ্ছলতা ইত্যাদি প্রয়োজনে তারা তাদের নিকট প্রার্থনা করত। এ সকল উদ্দেশ্য পূরণ হওয়ার জন্য তারা তাদের নামে মানত করত। তারা আশা করত যে, এ সকল মানতের মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে এবং বিপদাপদ কেটে যাবে। তারা বরকত লাভের উদ্দেশ্যে এ সকল উপাস্যের নাম পাঠ করত। একারণে আল্লাহ তাদেরকে নির্দেশ দিলেন যে, তারা সালাতের মধ্যে বলবে: إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ আমরা শুধু তোমরই ইবাদত করি, শুধু তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। সূরা (১) ফাতিহা: ৪ আয়াত। মহান আল্লাহ বলেন: فَلا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا সুতরাং আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাউকে ডেক না। সূরা (৭২) জিন্ন: ১৮ আয়াত। একটি উদাহরণ থেকে আমরা লৌকিক ত্রাণ প্রার্থনা বা ডাকা এবং শিরকী ত্রাণ প্রার্থনা বা ডাকার মধ্যে পার্থক্য বুঝার চেষ্টা করি। মনে করুন আমার গরুটি পালিয়ে যাচ্ছে। আমি সামনে কোনো মানুষ দেখে বা কোনো মানুষ থাকতে পারে মনে করে চিৎকার করে বললাম, ভাই, আমার গরুটি একটু ধরে দেবেন! অথবা আমি পথ চিনতে পারছি না, তাই কোনো মানুষকে দেখে অথবা কোনো বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে ভিতরে মানুষ আছে অনুমান করে চিৎকার করে বলছি, ভাই অমুক স্থানে কোন দিক দিয়ে যাব একটু বলবেন! এখানে আমি লৌকিক সাহায্য প্রার্থনা করছি। ঐ মানুষের মধ্যে কোনো অলৌকিকত্ব বা ঐশ্বরিক গুণ কল্পনা করছি না। ঐ ব্যক্তির ব্যক্তিগত পরিচয়ও আমার কাছে কোনো গুরুত্ব বহন করে না। আমি জানি যে, স্বাভাবিকভাবে একজন মানুষ একটি গরু ধরতে পারে বা উক্ত স্থানের একজন বাসিন্দা স্বাভাবিকভাবে পথটি চিনবে বলে আশা করা যায়। এজন্য আমি তার থেকে এই লৌকিক সাহায্য প্রার্থনা করছি। যদি কোথাও এই প্রকারের জাগতিক সমস্যা হয় এবং সেখানে কোনো মানুষজন না থাকে তাহলে উপস্থিত অদৃশ্য ফিরিশতাগণের নিকটও সাহায্য চাওয়া যেতে পারে বলে একটি দুর্বল সনদের হাদীস থেকে জানা যায়। মুমিন জানেন যে, আল্লাহর অগণিত ফিরিশতাগণ পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছেন। এছাড়া অদৃশ্য সৃষ্টি জীনেরাও বিভিন্ন স্থানে চলাচল করে। উপরের পরিস্থিতিতে যদি কোনো দৃশ্যমান মানুষকে না দেখে তিনি অদৃশ্য ফিরিশতা বা জ্বিনের কাছে লৌকিক সাহায্য চান তাহলে তা জায়েয হবে। কারণ তিনি কোনো নির্দিষ্ট সৃষ্টির মধ্যে ঈশ্বরত্ব বা অলৌকিকত্ব কল্পনা করছেন না। তথায় কোন্ ফিরিশতা আছেন বা কোন্ জ্বিন রয়েছেন তাও তিনি জানেন না বা জানা তার কাছে কোনো গুরুত্ব বহন করে না। তিনি জানেন যে, এখানে কোনো ফিরিশতা বা জ্বিন থাকতে পারেন। আল্লাহর অন্য কোনো বান্দাকে দেখছি না, কাজেই এখানে উপস্থিত আল্লাহর অদৃশ্য বান্দাদের কাছে একটু সাহায্য চেয়ে দেখি কী হয়। ইবনু মাসঊদ (রা) থেকে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন:

إِنَّ لِلهِ عَزَّ وَجَلَّ مَلاَئِكَةً سِوَى الْحَفَظَةِ يَكْتُبُوْنَ مَا سَقَطَ مِنْ وَّرَقِ الشَّجَرِ فَإِذَا أَصَابَ أَحَدَكُمْ عَرْجَةٌ بِأَرْضِ فَلاَةٍ فَلْيُنَادِ أَعِيْنُوا عِبَادَ اللهِ يَرْحَمُكُمُ اللهُ تَعَالَى

বান্দার সাথে তার সংরক্ষণে নিয়োজিত ফিরিশতাগণ ছাড়াও আল্লাহর অনেক ফিরিশতা আছেন যারা সারা বিশ্বে কোথায় কোন গাছের পাতা পড়ছে তাও লিখেন। যদি তোমাদের কেউ কোনো নির্জন প্রান্তরে আটকে পড়ে বা অচল হয়ে পড়ে তাহলে সে ডেকে বলবে: হে আল্লাহর বান্দাগণ তোমরা সাহায্য কর, আল্লাহ তোমাদের রহমত করুন। ইবনু আবী শাইবা, আল-মুসান্নাফ ৬/৯১, আবু ইয়ালা, আল-মুসনাদ ৯/১৭৭, তাবারানী, আল-মুজামুল কাবীর ১০/২১৭, ১৭/১১৭, বাইহাকী, শুআবুল ঈমান ১/১৩৮, ৬/১২৮, হাইসামী, মাজমাউয় যাওয়াইদ ১০/১৩২, মুনাবী, ফাইযুল কাদীর ১/৩০৭, শওকানী, তুহফাতুয যাকিরীন, পৃ. ১৫৫, আলবানী, যায়ীফাহ ২/১০৮-১১০, নং ৬৫৫, যায়ীফুল জামিয়, পৃ. ৫৫, ৫৮, নং ৩৮৩, ৪০৪। হাদীসটির সনদ যয়ীফ। এ প্রকার লৌকিক বা জাগতিক সাহায্য প্রার্থনা করার ক্ষেত্রে যদি কেউ অনুপস্থিত কাউকে ডাকেন বা অনুপস্থিত কারো কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন তাহলে তা শিরক হবে। যেমন, কারো রিকশা উল্টে গেছে বা গাড়িটি খাঁদে পড়েছে, তখন স্বাভাবিক লৌকিক কর্ম যে, সে কাউকে দেখতে পাক বা না পাক, সে চিৎকার করে সাহায্য চাইবে: কে আছ একটু সাহায্য কর। এখানে সে লৌকিক সাহায্য চাচ্ছে। কিন্তু যদি সে এ সময়ে সেখানে অনুপস্থিত কোনো জীবিত বা মৃত মানুষকে ডাকতে থাকে তাহলে সে শিরকে লিপ্ত হবে। কারণ সে মনে করছে, অনুপস্থিত অমুক ব্যক্তি সদা সর্বদা সবত্র বিরাজমান বা সদা সর্বদা সকল স্থানের সবকিছু তার গোচরিভূত। কাজেই, তিনি দূরবর্তী স্থান থেকে আমাকে দেখতে পাচ্ছেন বা আমার ডাক শুনতে পাচ্ছেন এবং দূর থেকে অলৌকিকভাবে আমার বিপদ কাটিয়ে দেওয়ার মতো অলৌকিক ক্ষমতা তার আছে। এভাবে সে একটি নির্দিষ্ট সৃষ্টির মধ্যে অলৌকেকত্ব, ঐশ্বরিক শক্তি বা মহান আল্লাহর গুণাবলী আরোপ করে শিরকে নিপতিত হয়েছে। এছাড়াও সে মহান আল্লাহর ক্ষমতাকে ছোট বলে মনে করেছে। এ প্রার্থনাকারী বা আহ্বানকারী ঐ বিশেষ ব্যক্তির মধ্যে যে ক্ষমতা কল্পনা করেছে তা একান্তভাবেই মহান আল্লাহর জন্য নির্ধারিত। এ প্রাথনাকারী এই গুণাবলীকে শুধুমাত্র আল্লাহর বলে মনে করে না। সে বিশ্বাস করে যে, এই ক্ষমতার মধ্যে আল্লাহর শরীক আছে। এই ক্ষমতাটি যেমন আল্লাহর আছে, তেমনি অমুক ব্যক্তিরও আছে। তবে সে সম্ভবত তার কল্পনার মানুষটির ক্ষমতাকে এ ক্ষেত্রে আল্লাহর ক্ষমতার চেয়ে বেশি বা দ্রুত বলে বিশ্বাস করে। এজন্যই সে আল্লাহকে না ডেকে তাকে ডেকেছে। এক্ষেত্রে মুশরিকদের দাবি যে, এ সকল খাজা বাবা, সাঁই বাবা, মা, সান্তা, সেন্ট, ফিরিশতা বা জ্বিনদেরকে আল্লাহই ক্ষমতা প্রদান করেছেন। ক্ষমতা মূলত আল্লাহরই, তিনি এদেরকে কিছু বা সকল ক্ষমতা প্রদান করেছেন। শিরকের হাকীকাত বিষয়ে শাহ ওয়ালি উল্লাহ (রাহ)-এর বক্তব্যে আমরা তা দেখেছি। উক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, মৃত কোন ওলীর কাছে কোন ধরনের সাহায্য চাওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে সুস্পষ্ট শিরক। উক্ত বক্তব্য তাঁরা দিয়েছেন কি না তা স্পষ্ট নয়। তবে যদি তাঁরা দিয়ে থাকেনও তাহলে আমরা বলবো মানুষ ভুলের উর্ধ্বে নয়। আমরা তাদের শ্রদ্ধা করি, ভালবাসি। আল্লাহ তাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে জান্নাত তাদের বাসস্থান বানান। আমীন।

প্রশ্নঃ 589
Can I read Quranic Duas in the Sujud? Is it Ok?
30 Dec 2025

হ্যঁ, আপনি সুন্নত-নফল সালাতের সাজাদর মধ্যে কুরআন-হাদীসরে দুআ পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 544
আসসালামুলাইকুম। আমার প্রথম প্রশ্ন হল, ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গির (র) সারের পর এখন কে প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন? দিতীয় প্রশ্ন হল একটি বইতে দেখলাম আল্লাহর নামের ফাজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে সংকলক আল্লাহর বিভিন্ন নামের ১০০ বার বা ৭০ বার জিকিরে বিভিন্ন ফজিলত বর্ণনা করেছেন। এগুলোর কোনটার দলিল আছে কি না? এবং শুধু আল্লাহর বিভিন্ন নাম ধরে জিকির করা যাবে কিনা? যেমন ইয়া রাহমানু, ইয়া রাহিমু, ইয়া রাজ্জাকু ইত্তাদি? যাযাকুমুল্লাহ
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। স্যার রহ. বেঁচে থাকা কালীন কিছু ব্যক্তিকে প্রশ্নের উত্তর লেখার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। যারা উত্তর লিখে স্যার রহ. কে দেখাতেন, কোন সমস্যা থাকলে তিনি ঠিক করে দিতেন আর না থাকলে সেভাবেই রেখে দিতেন। বর্তমানে আগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। তবে যে প্রশ্নের উত্তরের ক্ষেত্রে কোন সমস্যা পরিলক্ষিত হবে সে ক্ষেত্রে ট্রাস্টের পক্ষ একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে, যাদের কাছে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করতে হবে। উক্ত কমিটিতে আছেন, মুফতি জাকারিয়া বিন আব্দুল ওয়াহাব, বিভাগীয় প্রধান, উলুমুল হাদীস বিভাগ, জামিয়াতুস সুন্নাহ, ঝিনাইদহ এবং মুফতি মুহাম্মাদ শহিদুল্লাহ, বিভাগীয় প্রধান, কিতাব বিভাগ, জামিয়াতুস সুন্নাহ, ঝিনাইদহ। এছাড়া অন্য কোথাও হতে সাহায্য নেয়া হলে তার পরিচিতি উত্তরের শেষে দেয়া হয়। যেমনটি আপনি আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরের ক্ষেত্রে দেখতে পাবেন। আল্লাহ তায়ালার কোন নাম ধরে ১০০ বার বা ৭০ বার জিকির করার কোন ফজিলত হাদীসে নেই। আর শুধু আল্লাহর বিভিন্ন নাম ধরে যেমন, ইয়ার রাহিমু, ইয়া রাহমানু ইত্যদি বলে জিকির করা যাবে না। এভাবে যিকির করা মর্মে কোন হাদীস বর্ণিত হয় নি। তবে কেউ এভাবে আল্লাহকে ডাকলে জায়েজ হবে। দেখুন আল-ইসলাম সুয়াল ও জাওয়াব, শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ, ফাতওয়া নং ১২৭৩১৬, ২২৪৫৭।

প্রশ্নঃ 457
আমার প্রশ্ন নিচের অংশ নিয়ে। ………যে সময়ের ঘটনা এটা তখন কি ক্রিতদাসীর সাথে সহবাসে বাভিচার হত না? আমি অনেক মন কষ্টে আসি দয়া করে আমাকে একটু বুঝিয়ে বলবেন আসলে কি? আমরা জানি বাভিচার এর শাস্তি অনেক কঠিন সেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসবেন এটা কিভাবে হয়? এরপর সাহাবী আব্দুল্লাহ্ ইবনে রাওয়াহা যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এ ঘটনা সবিস্তারে বর্ণনা করলেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন ভাবে হাসলেন যে, তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত দৃস্টিগোচর হয়েছিল। link: http://www.quraneralo.com/how-we-can-protect-ourselves-from-lies/ প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ্ ইবনে রাওয়াহা রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার তাঁর স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তার ক্রিতদাসীর সাথে সহবাসে লিপ্ত হয়। তাঁর স্ত্রী হঠাৎ তাদেরকে ঐ অবস্থায় দেখে ফেলেন এবং রাগের মাথায় দা নিয়ে কোপাতে আসে। কিন্তু ইত্যবসরে তিনি তাঁর কর্ম সম্পাদন করে ফেলেছেন। তাঁর স্ত্রী এসে বললেন যে, যদি আমি তোমাদেরকে ঐ অবস্থায় পেতাম তাহলে তোমার মাথা কেটে ফেলতাম। তিনি বললেন: আমি কি করেছি? তাঁর স্ত্রী বললেন: যদি সত্যিই তুমি কিছু না করে থাক, তাহলে এখন এ অবস্থায় কুরআন পাঠ করতে পারবে কি? আব্দুল্লাহ্ ইবনে রাওয়াহা সাথে সাথে পড়া শুরু করলেন: شهدت بأن وعد الله حق = وأن النار مثوى الكافرينا وأن العرش فوق الماء طاف = وفوق العرش رب العالمينا وتحمله ملائكة كرام = ملائكة الإله مقربينا [1] মূলতঃ এটা ছিল একটি কবিতার কিছু অংশ। কিন্তু তাঁর স্ত্রী এর মাঝে আর কুরআনের মাঝে পার্থক্য বুঝতেন না। বরং যখন তিনি পড়ছিলেন তখন তাঁর স্ত্রী মনে করেছিলেন যে, কুরআন পড়ছে। আর যদি সে এ অবস্থায় কুরআন পড়তে পারে তাহলে নিশ্চয় সে কাউকে স্পর্শ করে নি। অবশেষে তাঁর স্ত্রী বললেন যে, আমি আল্লাহর কিতাবের উপর বিশ্বাস স্থাপন করলাম এবং আমার দেখাটাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করলাম। এরপর সাহাবী আব্দুল্লাহ্ ইবনে রাওয়াহা যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এ ঘটনা সবিস্তারে বর্ণনা করলেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন ভাবে হাসলেন যে, তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত দৃস্টিগোচর হয়েছিল।
29 Dec 2025
উক্ত ঘটনাটি যে হাদীসে বর্ণিত আছে সেই হাদীসটি যয়ীফ (দুর্বল), সহীহ নয়। সুতরাং এই ঘটনাটি সত্য এটা বলা যাবে না।এই ধরনের হাদীস দ্বারা কোন ধরনের দলীল দেয়া যায় না। তবে তৎকালীন সময়ে সকল সমাজে এবং সকল দেশে দাস-দাসীর প্রচলন ছিল। ইসলাম চেয়েছে এই ব্যবস্থা না থাকুক। কারণ বিভিন্ন গোনাহের কাফ্ফারা হিসাবে দাস-দাসী স্বাধীন করার হুকুম ইসলাম দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা. বিভিন্ন হাদীসে দাস-দাসীকে স্বাধীন করার কথা বলেছেন, স্বাধীন করার ফজিলত বর্ণনা করেছেন। সাহাবীগণ হাজার হাজার দাস-দাসীকে স্বাধীন করে দিয়েছেন, এমনকি অনেক সময় অন্যের কাছ থেকে কিনেছেনই এই উদ্দেশ্যে যে,তাকে স্বাধীন করে দিবেন। কিন্তু তৎকালীন বিশ্বপরিস্থিতির কারণে পুরোপুরি রুপে এই ব্যবস্থা নিষিদ্ধ করা হয় নি। মালিক কর্তৃক দাসীর সাথে সহবাস করা বৈধ ছিল। তবে অন্যের দাসীর সাথে বৈধ নয়। আর এটা ছিল ঐ দাসীর স্বাধীন হওয়ার পথে একধাপ উন্নতি। কারণ যখন মালিক তার দাসীর সাথে সহবাস করতো আর তার থেকে কোন সন্তান হতো তখন ঐ মালিকের জন্য জায়েজ ছিল না ঐ দাসীকে বিক্রি করা। তার সামনে দুটি পথ ছিল। হয়তো তাকে স্ত্রী হিসাবে রেখে দেওয়া অথবা স্বাধীন করে দেয়া। আর ঐ সন্তানও মালিকের সন্তান হিসাবে গন্য হতো এবং স্বাধীন হতো। অর্থাৎ দাসীর সাথে সহবাসের অনুমতি ছিল মূলত স্বাধীন হওয়ার একটি প্রক্রিয়া। সুতরাং এটা আদৌ ব্যাভিচার নয়। (এছাড়া ব্যভিচারের সন্তান কখনো ব্যাভিচারকারীর সন্তান হিসাবে গণ্য হয় না। ) বরং মানুষে যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে তারই একটি ব্যবস্থা। আশা করি আপনি মূল বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।
প্রশ্নঃ 442
আসসালামু আলাইকুম, ১.মাজহাব মানতে হবে অ্যাই রকম কি কোনো বাধ্যবাঁধকতা আছে, না থাকলে ক্যানো মানব? ২. তারাবির নামায কয় রাকাত পরতে হবে? এর স্বপক্ষে কোন সাহি হাদিস আছে?
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
সাধারণ মানুষ এবং এমন আলেম যারা কুরআন ও হাদীস থেকে মাসআলা বের করতে পারে না তাদেরকে কোন না কোন আলেমের মতামত অনুযায়ী চলতে হয়। কোন হাদীস সহীহ, কোনটা সহীহ নয়, কোন হাদীসের ব্যাখ্যা কি হবে, কুরআনের কোন আয়াতের তাফসীর বা ব্যখ্যা কি হবে এইসব বিষয়ে কোন না কোন আলেমের মতামত তাকে শুনতে হয়। আর এটাই মাজহাব মানা। সুতরাং এমন মানুষদের জন্য মাজহাব মানা ছাড়া কেন বিকলপ নেই। এবং এমন প্রত্যেকেই মাজহাব মানে। হয়ত সে প্রসিদ্ধ চার মাজহাব মানে কিংবা অন্য কোন আলেমের মতামত মেনে চলে। এই বিষয়ে অনেকগুলো স্যারের ভিডিও ক্লিপ আছে, সেগুলো দেখলে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে। তারাবীহ বা রামাদানের কিয়ামুল লাইল: রামাদানে কিয়ামুল্লাইল আদায়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) অন্য সময়ের থেকে অধিক তাকিদ প্রদান করেছেন। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه
অর্থ: যে ব্যক্তি রমজান মাসে ঈমানের সাথে সওয়াবের নিয়তে নামায পড়বে তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০০৯ এজন্য রামাদানের কিয়ামুল্লাইলকে উম্মাতের আলিমগণ অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সুন্নাত মুআক্কাদা বলে গণ্য করেছেন। সাহাবীগণ রামাদানে তাঁর পিছনে জামাআতে কিয়ামুল্লাইল পালন করতে অতীব আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু ফরয হওয়ার আশঙ্কায় তিনি একাকী তা আদায় করতেন এবং সাহাবীদেরকে এভাবে আদায় করতে পরামর্শ দেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৬১। পাশাপাশি তিনি জামাআতে রামাদানের কিয়াম আদায়ের ফযীলতে বলেন:
مَنْ قَامَ مَعَ الإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ كُتِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ
যে ব্যক্তি ইমামের কিয়ামুল্লাইল শেষ করা পর্যন্ত ইমামের সাথে কিয়ামুল্লাইল আদায় করবে তার জন্য পুরো রাত কিয়াম পালনের সাওয়াব লেখা হবে। জামে তিরমিযী হাদীস নং ৮০৬। হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযী ও শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেনে। সাহাবীগণ ও পরবর্তী প্রজন্মের মুসলিমগণ রামাদানের কিয়ামুল্লাইল আদায়ের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। যেহেতু শেষ রাতে উঠে তা আদায় করা অনেকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়, এজন্য অনেকেই সালাতুল ইশার পরেই মসজিদে বা বাড়িতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করে ঘুমাতেন। যারা কুরআনের ভাল কারী বা হাফিয ছিলেন না তারা অনেক সময় কোনো ভাল কারী বা হাফিযের পিছনে মসজিদে বা বাড়িতে ছোট জামাত করে তা আদায় করতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে ও তাঁর ওফাতের পরে প্রায় কয়েক বৎসর এভাবেই চলে। খলীফা উমার (রা) লক্ষ্য করেন যে, এভাবে মদীনার মসজিদে নববীতে ছোট ছোট জামাতে বা পৃথকভাবে একাকী অনেকেই সালাতুল ইশার পরে কিয়ামুল্লাইল আদায় করছেন। তখন তিনি সাহাবী উবাই ইবন কাবকে বলেন, মানুষেরা দিবসে সিয়াম পালন করেন, কিন্তু অনেকেই ভাল হাফিয বা কারী নন; কাজেই আপনি তাদেরকে নিয়ে জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করেন। পাশাপাশি তিনি সুলাইমান ইবন আবী হাসমাহ (রা) নামক অন্য সাহাবীকে মহিলাদের নিয়ে মসজিদের শেষ প্রান্তে পৃথক জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করার নির্দেশ দেন। মহিলাদের জামাতের ইমামতি তামীম দারী (রা) নামক অন্য সাহাবীও করতেন। খলীফা উসমান ইবন আফ্ফনের (রা) সময়ে তিনি সুলাইমান ইবন আবী হাসমাহ (রা)-এর ইমামতিতে পুরুষ ও মহিলাদের এক জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায়ের ব্যবস্থা করেন। মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান, আল-মুআত্তা (আব্দুল হাই লাখনবী, আত-তালীক আল-মুমাজ্জাদ-সহ) পৃ ১/৩৫৫; ইবনু আবী শাইবা; আল-মুসান্নাফ ২/২২২। অধিকাংশ মানুষ জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করতে থাকেন। তবে অনেক সাহাবী, তাবিয়ী ও যারা ভাল হাফিয ও আবিদ ছিলেন তারা সালাতুল ইশার পরে অথবা মধ্য রাতে ও শেষ রাতে একাকী রামাদানের কিয়ামুল্লাইল আদায় করতেন। সহীহ হাদীসে হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. স্বয়ং সাহাবীদের কে নিয়ে কয়েক দিন রমজানের এই বিশেষ নামায তথা তারাবীহ নামায পড়েছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০১২। রাসূল সা. থেকে সহীহ সনদে ঐরাতগুলোর তারাবীহর রাকআত সংখা নিয়ে কোন হাদীস বর্ণিত নেই। মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে রাসূল সা. ২০ রাকআত পড়েছেন মর্মে যে হাদীসটি বর্ণিত আছে তা সর্বাক্যমতে দূর্বলু। কারন ঐ হাদিসের সনদে আবু শায়বা ইবরাহীম ইবনে উসমান নামে একজন রাবী আছেন যাকে ইমাম আহমাদ, বুখারী, আবু দাউদ সহ সকল মুহাদ্দিস দূর্বল কিংব মাতরুক (পরিত্যক্ত) বলেছেন। দেখুন, তাহযীবুত তাহযীব, ১/১২৫, তরজামা ২৫৭। সহীহ হাদীস প্রমাণিত যে, রাতের নামাযে রাসূলুল্লাহ সা. এর রাকআত সংখা বিভিন্ন রকম ছিল। নিচে সংক্ষেপে বর্নণা করা হল:
عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَقَالَتْ مَا كَانَ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ ، وَلاَ فِي غَيْرِهَا عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًا ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ قَالَ يَا عَائِشَةُ إِنَّ عَيْنَيَّ تَنَامَانِ ، وَلاَ يَنَامُ قَلْبِي
অর্থ: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান হযরত আয়েশা রা.কে জিজ্ঞাসা করেন, রমাদান মাসে রাসূলুল্লাহ সা.এর নামায কেমন ছিল? তিনি বললেন, তিনি রামাদান এবং অন্য সময়ে ১১রাকআতের বেশী বাড়াতেন না। তিনি প্রথমে ৪ রাকআত পড়তেন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতায় বিস্মিত হবে। এরপর আবার ৪ রাকআত পড়তেন। তুমি তার সোন্দর্য ও দীর্ঘতায় বিস্মিত হবে। এরপর ৩ রাকআত পড়তেন। ……….. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০১৩। হযরত আয়েশা রা. থেকে অন্য বর্নণায় আছে:
عن عائشة قالت : كان النبي صلى الله عليه و سلم يصلي من الليل تسع ركعات [ قال ] وفي الباب عن أبي هريرة وزيد بنخالد والفضل بن عباس
অর্থ: হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. রাত্রে ৯ রাকআত পড়তেন । জামে তিরমিযী, হাদীস নং৪৪৩। হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাসান সহীহ আর শাইখ আলবানী বলেছেন, সহীহ। আয়েশা রা. থেকে আরেক বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. কোন কারণে রাতের বেলায় নামায না পড়তে পারলে দিনের বেলায় ১২ রাকআত পড়তেন। জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৪৪৫। হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযী ও শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
عن ابن عباس قال : كان النبي صلى الله عليه و سلم يصلي من الليل ثلاث عشر ركعة
হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা, রাতে ১৩ রাকআত নামায পড়তেন। জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৪৪২। হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযী ও শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। বর্ণনা বিভিন্ন প্রকার হওয়ার কারণে ইমাম তিরমিযী বলেছেন,
وأكثر ما روي عن النبي صلى الله عليه و سلم في صلاة الليل ثلاث عشرة ركعة مع الوتر وأقل ما وصف من صلاته بالليل تسع ركعات
রাতের নামাযের ব্যাপারে নবী সা. থেকে যা বর্ণনা করা হয় তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী হল বিতরসহ ১৩ রাকআত আর সবচেয়ে কম হল ৯ রাকআত। উপরের আলোচনা থেকে আমরা নিশ্চিত করেই বলতে পারি যে, রাতের নামায, রামাদান মাসে হোক কিংব অন্য সময় হোক রাসূলুল্লাহ সা. রাকআত সংখা নির্দিষ্ট করেননি। সাহবীদের থেকেও তারাবীর রাকআত সংখা নিয়ে বর্ণনা গুলোর মধ্যে ভিন্নতা আছে। নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল: হযরত উমর রা. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, তার সময়ে লোকেরা মসজিদে জামায়াতের সাথে বিশ রাকআত নামায আদায় করেছেন। হাদীসটি নিম্নরুপ:
عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ : كَانُوا يَقُومُونَ عَلَى عَهْدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ فِى شَهْرِ رَمَضَانَ بِعِشْرِينَ رَكْعَةً – قَالَ – وَكَانُوا يَقْرَءُونَ بِالْمِئِينِ ، وَكَانُوا يَتَوَكَّئُونَ عَلَى عُصِيِّهِمْ فِى عَهْدِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ مِنْ شِدَّةِ الْقِيَامِ
অর্থ: সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, লোকেরা উমার রা. আমলে রমজান মাসে বিশ রাকআত নামায পড়ত। তিনি বলেন, তারা একশ আয়াত পড়ত। দাড়িয়ে থাকতে কষ্ট হত তাই তারা উসমান রা. এর যুগে লাঠিতে ভর দিত। আস-সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং ৪৮০১। হাদীসটি সহীহ। ইমাম নববী, বদরুদ্দীন আইনি, আল্লামা যাইলায়ী, ইবনে হুমাম সব প্রমূখ মুহাদ্দীস হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। দেখুন, আল-মাজমু আলা শারহিল মুহাজ্জাব ৪/৩২; উমদাতুল কারী ৪/৪৮৫; তাবয়ি-নুল হাকাউক শারহে কানযুদ দাক-য়ীক ২/৩৪৯। তবে শায়খ আলবানী ও আব্দুর রহমান মুবারকপুরী এই দুই আহলে হাদীস আলেম বলেছেন হাদীসটি সহীহ নয়। তাদের কথা ইলমের দৃষ্টিতে গ্রহনযোগ্য নয়। এই হাদীসটির বক্তব্যকে সমর্থন করে অনেক গুলো দূর্বল ও সনদ বিচ্ছিনন হাদীস (যে হাদীসের সনদ থেকে কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে যায় তাকে সনদ বিচ্ছিন্ন বা মুনকাতি হাদীস বলে)। তার কিছু নিচে দেয় হল: ১। উক্ত সাহবী (সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে) দূর্বল সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كنا نقوم في زمان عمر بن الخطاب بعشرين ركعة والوتر
অর্থ: আমরা উমার রা. যুগে বিশ রাকআত নামাযপড়তাম ও বিতর পড়তাম। মারিফাতুস সুনান লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং১৩৬৫। ২। ইয়জিদ ইবনে রুমান থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,
كَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فِي رَمَضَانَ بِثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ رَكْعَةً
অর্থ: মানুষেরা উমার ইবনে খাত্তারব রা. এর সময় তেইশ রাকআত (বেতার সহ) নামায পড়ত। মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং ৩০৩। ইয়াজিদ ইবনে রুমান উমার রা. কে পাননি তাই হাদীসটির সনদ মুনকাতি। (উমদাতুল কারী ৪/৪৮৫)। ৩। আব্দুর রহমান আস সুলামী হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণনা করেন যে,
دَعَا الْقُرَّاءَ فِى رَمَضَانَ ، فَأَمَرَ مِنْهُمْ رَجُلاً يُصَلِّى بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً. قَالَ : وَكَانَ عَلِىٌّ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ يُوتِرُ بِهِمْ
অর্থ: তিনি (আলী রা.) যারা কোরআন পড়তে পারে তাদেরকে ডাকলেন। তারপর তাদের একজনকে লোকদেরকে নিয়ে বিশ রাকআত নামায পড়াতে আদেশ দিলেন। আব্দুর রহমান আসসুলামী বলেন, আলী রাযি. তাদেরকে নিয়ে বিতর পড়লেন। আসসুনানুল কুরবা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং ৪৮০৪। এই হাদীসটির সহীহ বা যয়ীফ হওয়ার ব্যাপারে কোন বায়হাক্কী রহ. কোন মন্তব্য করেন নি। এই কিতাবের ৪৮০৫ নং হাদীসে পৃথক সনদে আলী রা. থেকে বিশ রাকআত তারাবীহ পড়ার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন বলে বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে তিনি দূর্বল বলেছেন। এছাড়াও আরো অনেকগুলো সনদ দূর্বল হাদীস বিভিন্ন কিতাবে উল্লেখ আছে। এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, হযরত উমার রা. এর যুগ থেকে বিশ রাকআত তারাবীহ সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত এবং অনেকগুলো দূর্বল হাদীস একে সমর্থন করছে, সুতরাং আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, বিশ রাকআত তারাবীহ সুন্নাহ সম্মত। সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে অন্য হাদীসে বর্ণিত আছে যে, উমার রা. উবাই ইবনে কাব এবং তামীম দারেমীকে আট রাকআত তারাবীহ পড়ানোর জন্য আদেশ দিয়েছেন। যার আরবী জানেন তাদের জন্য হাদীসটির মূল পাঠ নিম্নরূপ:
عَنْ مَالِكٍ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ ، أَنَّهُ قَالَ : أَمَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ وَتَمِيمًا الدَّارِيَّ أَنْ يَقُومَا لِلنَّاسِ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً قَالَ : وَقَدْ كَانَ الْقَارِئُ يَقْرَأُ بِالْمِئِينَ ، حَتَّى كُنَّا نَعْتَمِدُ عَلَى الْعِصِيِّ مِنْ طُولِ الْقِيَامِ ، وَمَا كُنَّا نَنْصَرِفُ إِلاَّ فِي فُرُوعِ الْفَجْرِ
মুয়ত্তা মালেক, হাদীস নং ৩০২। হাদীসটির সনদ সহীহ। সহীহ সনদে সাহাবী সাইব ইবরে ইয়াযীদ থেকে আরো একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। হাদীসটি নিম্নরূপ :
عبد الرزاق عن داود بن قيس وغيره عن محمد بن يوسف عن السائب بن يزيد أن عمر جمع الناس في رمضان على أبي بن كعب وعلى تميم الداري على إحدى وعشرين ركعة يقرؤون بالمئين وينصرفون عند فروع الفجر
অর্থ: উমার রা. মানুষদেরকে একত্র করে উবাই ইবনে কাব এবং তামীম দারেমীকে ২১ রাকআত পড়ানোর জন্য ইমাম বানিয়ে দিলেন। তারা শত শত আয়াত পাঠ করতেন এবং ফজরের সময় ফিরে আসতেন। মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ৭৭৩০। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, সাহাবীগণও মনে করতেন না যে, তারবীহর নামায নির্দিষ্ট । তবে অধিকাংশ আলেম তারাবীহ নামায ২০ রাকআত আদায় করারা পক্ষে মত দিয়েছেন। নিচে চার মাজাহাব ও অনুসৃত আলেমগণের মতামত সংক্ষেপে বর্ণনা করা হল: ১। ইমাম বায়হাক্কী রহ বলেছেন, দুই বর্ণনার (আট ও বিশ) মাঝে এভাবে সমন্বয় কারা যায় যে, প্রথমে তারা আট রাকআত পড়ত পরে বিশ রাকআত পড়ত। আসসুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং ৪৮০২। রাকআত সংখা নিয়ে চার মাযহাব ও অন্যান্য ইমামগণের বক্তব্য: ২। হানাফী মাজহাব:
يُسْتَحَبُّ أَنْ يَجْتَمِعَ النَّاسُ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ بَعْدَ الْعِشَاءِ فَيُصَلِّيَ بِهِمْ إمَامُهُمْ خَمْسَ تَرْوِيحَاتٍ ، كُلُّ تَرْوِيحَةٍ بِتَسْلِيمَتَيْنِ ، وَيَجْلِسَ بَيْنَ كُلِّ تَرْوِيحَتَيْنِ مِقْدَارَ تَرْوِيحَةٍ ، ثُمَّ يُوتِرَ بِهِمْ
অর্থ: মুস্তাহাব হলো লোকেরা রমজান মাসে ইশার পরে একত্রিত হবে এং ইমাম তাদেরকে নিয়ে পাঁচটি বিরতি দিয়ে নামায পড়বেন আর প্রত্যেকটি বিরতি হবে দুই সালাম বিশিষ্ট (অর্থাৎ বিশ রাকআত)। প্রত্যেক দুই বিরতির মাঝে সমপরিমান সময় বসে থাকবেন । এরপর তিনি তাদেরকে নিয়ে বিতর পড়বেন। হেদায়া ১/৭০। বিস্তারিত জানতে দেখুন: ফাতহুল কদীর ২/৪৪৬। ৩। মালেকী মাজহাব: মালেকী মাজহাবের প্রবীণ আলেম আল্লামা বাজী রহ. তার রচিত মুয়ত্তার ব্যাখ্যা গ্রন্থে (১/২০৮) তারবীহ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন,
وروى نافع مولى ابن عمر : أنه أدرك الناس يصلون بتسع وثلاثين ركعة. يوترون بثلاث. وهو الذى اختاره مالك
অর্থ: মাওলা ইবনে উমার নাফে রহ. বর্ণনা করেন যে, তিনি মানুষদেরকে ৩৯ রাকআত নামায পড়তে দেখেছেন। তারা তিন রাকআত বিতর পড়ত । আর ইমাম মালেক রহ. এটাই পছন্দ করেছেন। দেখুন: আত-তারাবীহ, লেখক: আতিয়্যাহ মুহাম্মাদ সালিম, পৃষ্ঠা ১৫৯-১৬০। ৪। শাফেয়ী মাজহাব: ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেন,
فَأَمَّا قِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ فَصَلاَةُ الْمُنْفَرِدِ أَحَبُّ إلى منه وَرَأَيْتهمْ بِالْمَدِينَةِ يَقُومُونَ بِتِسْعٍ وَثَلاَثِينَ وَأَحَبُّ إلى عِشْرُونَ لأَنَّهُ روى عن عُمَرَ وَكَذَلِكَ يَقُومُونَ بِمَكَّةَ وَيُوتِرُونَ بِثَلاَثٍ
অর্থ: রমজানের নামায একাকী পড়াই আমার নিকট উত্তম। আমি মদীনাবাসীদেরকে দেখেছি তারা ৩৯ রাকআত পড়ে । তবে বিশ রাকআত আমার নিকট অধিক প্রিয়। কেননা উমার রাযি. থেকে তা প্রামানিত। আর এমনই (২০ রাকআত) পড়ে মক্কাবাসীগন। আর তারা তিন রাকআত বিতর পড়ে। কিতাবুল উম্ম লিশ শাফেয়ী ১/১৪২। ৫। হাম্বলী মাজহাব: প্রখ্যত হাম্বলী আলোম ইবনে কুদামা আল মুকাদ্দেসী (৬২০হি.) বলেন,
قَالَ وَقِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ عِشْرُونَ رَكْعَةً يَعْنِي صَلَاةَ التَّرَاوِيحِ وَهِيَ سُنَّةٌ مُؤَكَّدَةٌ
অর্থ: রমজানের মাসের নাময অর্থাৎ তারবীহ বিশ রাকআত। এবং তা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। আল মুগনী ফি ফিকহী ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল ৩/৩৮৭। ৬। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার রহ. বলেন,
فَإِنَّهُ قَدْ ثَبَتَ أَنَّ أبي بْنَ كَعْبٍ كَانَ يَقُومُ بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً فِي قِيَامِ رَمَضَانَ وَيُوتِرُ بِثَلَاثِ . فَرَأَى كَثِيرٌ مِنْ الْعُلَمَاءِ أَنَّ ذَلِكَ هُوَ السُّنَّةُ ؛ لِأَنَّهُ أَقَامَهُ بَيْن الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَلَمْ يُنْكِرْهُ مُنْكِرٌ
অর্থ: এটা সাব্যস্ত যে, উবাই ইবন কাব রাযি. মানুদেরকে নিয়ে রমজানে বিশ রাকআত তারাবী ও তিন রাকআত বিতর পড়িয়েছিলেন। অধিকাংশ আলেম এটাকেই সুন্নত মনে করেন। কেননা তিনি তার করেছিলেন মুহাজির ও আনসারদের উপস্থিতিতে আর তার কোন রকম আপত্তি করেন নি। মাজমউল ফাতাওয়া ২৩/ ১১২। উপরের আলোচনা থেকে আমরা দেখতে পাই যে, তারাবীহ নামায রাসূলুল্লাহ সা. থেকে সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত। যারা বেশী কোরআন পড়তে পারেন তারা বাড়িতে একা একা উক্ত নামায পড়বে। আর তারাবীহর রাকআত সংখা বিশ হযরত উমার রা. থেকে সহীহ সনদে সাব্যস্ত। আর অধিকাংশ আলেমও বিশ রাকআতকে সুন্নাত মনে করেন। তবে শাইখ আলবানী সহ কোন কোন আলেম আট রাকআতের মত গ্রহন করেছেন। সুতরাং আমাদের মত সাধারণ মানুষদের কর্তব্য হল অধিকাংশ আলোম যে বিষয়টিকে সুন্নাত বলেছেন সেটা মেনে নেয়া এবং সেই অনুযায়ী আমল করা। তবে কেউ যদি এর কম বা বেশী পড়তে চান তাতে কোন অসুবিধা নেই। এমনটিই বলেছেন বিশেষজ্ঞ আলেমগণ। কেননা এটা সুন্নত নামায, রাকআত সংখা উদ্দেশ্য নয়। বিস্তারিত জানতে ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত আল-ফিকহুল আকবার দেখুন।
প্রশ্নঃ 434
মুহতারাম, আসসালামুআলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহ। আমাদের মত সাধারন মানুষ যাদের দ্বীনি এলেম প্রায় নেই তারা ধর্ম পালনে বেশ সমস্যার মধ্যে পড়ি।দুই প্রকার বিষয় নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে ইদানিং খুব দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ। প্রথম হলঃ তাবলিগ, জামায়াতে ইসলাম ও আহলে হাদিস। আহলে হাদিস ও জামায়াতের দৃষ্টিতে তাবলীগ ইসলামের ক্ষতি করছে কারন তাবলীগ সৎ কাজের উপদেশ দেয় ঠিকই কিন্তু অসৎ কাজের নিষেধ করেনা। আর আহলে হাদিসের ভাইয়েরাতো তাবলীগ ওয়ালাদের বিদয়াতী ও জাহান্নামি বরতে দ্বিধা করেনা। আমি ব্যক্তিগতভাবে জামায়াতে ইসলামিকে অপছন্দ করি অনেক কারনে সেগুলো না হয় এখানে আনলামনা। দ্বিতীয় হলঃ হানাফি এবং আহলে হাদিস। আহলে হাদিসের দৃষ্টিতে হানাফিদের নামাজই হবেনা। আবার হানাফিদের দৃষ্টিতে আহলে হাদিস গোড়া এবং ভুল পথে। আবার আহলে হাদিস মনে করে যে, হানাফিদের আমলকৃত বেশিরভাগ হাদিসই জাল। অর্থ্যাৎ, এই দুই দলের একদল আরেক দলকে প্রতিনিয়তঃ ঘায়েল করার চেষ্টায় ব্যস্ত। এই অবস্থায় আমরা কি করব- (১) তাবলীগ, জামায়াতে ইসলাম বা আহলে হাদিসের কোনটা সঠিক এবং কোনটা ভুল? (২) হানাফি বা আহলে হাদীসের কোনটা সঠিক এবং কোনটা ভুল? দয়া করে জানালে উপকৃত হব।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আপনি যে সমস্যার কথা বলেছেন সেটি মুসলিম উম্মাহর অন্যতম সমস্যা। এ বিষয়ে আমাদের অনেকগুলো ভিডিও ক্লিপ বিদ্যমান। সুযোগ থাকলে সেগুলো দেখুন। এছাড়া এহইয়াউস সুনান বইটি পড়ন। ঈদের তাকবীর ও হাত বাঁধার বিধান বই দুটিও পড়তে পারেন। সংক্ষেপে আমার পরামর্শ হলো: (১) সকল দলীয় চেতনা পরিহার করুন। তবলীগ, জামাত, আহলে হাদীস, হানাফী সকলকেই মুসলিম হিসেবে মহব্বত করুন এবং সকলের ভাল কাজে সহযোগিতা, অংশগ্রহণ ও দুআ করুন। (২) আহলে হাদীস আলিমদের অনেক কিছুই ভাল, কিন্তু খুঁটিনাটি ফিকহী বিষয় নিয়ে প্রান্তিক ঝগড়া উম্মাতের বিভক্তির অন্যতম কারণ। আমার মতে মূলধারার হানাফী মতের সাথে থাকুন। পাশাপাশি যে সকল বিষয়ে হানাফী মতের দলিল দুর্বল বলে মনে হয় সে বিষয়ে আপনার সাধ্যমত অনুসন্ধান করুন। আপনি নিশ্চিত হলে সহীহ হাদীসের উপর আমল করুন। তবে অন্য আমলকে কখনোই বাতিল বলবেন না। (৩) উপরের বইগুলো পড়ার পরে আপনার কোনো পরামর্শ বা প্রশ্ন থাকলে যোগাযোগ করবেন। আল্লাহ ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 424
আচ্ছা আমি কি কোন অমুসলিম এর জন্য দুআ করতে পারবো? দুআটি এরকম -হে আল্লাহ তুমি তাকে হেদায়েত কর
28 Dec 2025
জ্বী, পারবেন। এতে কোন সমস্যা নেই। আমাদের প্রত্যেকেরই এরকম দুআ করা উচিত।
প্রশ্নঃ 419
১. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করা কতটুকু সুন্নাত সম্মত? ২. আমাদের নবীর আমলে মহিলারা মসজিদে গিয়ে কি সালাত আদায় করত? ৩. মা আয়েশা রা. মসজিদে গিয়ে কি সালাত আদায় করতেন?
28 Dec 2025
রাসূলুল্লাহ সা. মহিলাদের বাড়িতে সালাত আদায় করাকে উত্তম বলেছেন। তবে তাদেরকে তিনি মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সা. এর আমলে মহিলারা মসজিদে যেতেন বলে সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে। আয়েশা রা. মহিলাদের মসজিদে যাওয়া অপছন্দ করতেন। নিচের হাদীসদুটি লক্ষ্য করুন
عن بن عمر عن النبي صلى الله عليه و سلم قال : لا تمنعوا النساء أن يخرجن إلى المساجد وبيوتهن خير لهن
অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. থেকে বর্নিত, নবী সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা মহিলাদেরকে মসজিদে যেতে বাধা দিও না। তবে তাদের ঘরই তাদের জন্য উত্তম। মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ৫৪৭১; সুনানু আবি দাউদ, হাদীস নং ৫৬৭। হাদীসটি সহীহ। শায়খ শুয়াইব আরনাউত এবং শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
عَنْ يَحْيَى – وَهُوَ ابْنُ سَعِيدٍ – عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهَا سَمِعَتْ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- تَقُولُ لَوْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- رَأَى مَا أَحْدَثَ النِّسَاءُ لَمَنَعَهُنَّ الْمَسْجِدَ كَمَا مُنِعَتْ نِسَاءُ بَنِى إِسْرَائِيلَ قَالَ فَقُلْتُ لِعَمْرَةَ أَنِسَاءُ بَنِى إِسْرَائِيلَ مُنِعْنَ الْمَسْجِدَ قَالَتْ نَعَمْ
অর্থ: ইয়াহইয়া ইবনে সাইদ, আমরাহ বিনতে আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করনে যে,তিনি আয়েশা রা. কে বলতে শুনেছেন, যদি রাসূলুল্লাহ সা, মহিলাদের বর্তমান অবস্থা দেখতেন তাহলে তাদেরকে মসজিদে যেতে নিষেধ করতেন। যেমনিভাবে বনি-ইসরাইলের মহিলাদের নিষেধ করা হয়েছিল। ইয়াহহিয়া ইবনে সাইদ বলেন, আমি আমরাহকে বললাম, বনি-ইসরাইলের মহিলাদেরকে কি মসজিদে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০২৭। উপরের হাদীসদুটি থেকে একথাও স্পষ্ট যে, মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার অনুমতি আছে তবে ঘরে সালাত আদায় করাই তাদের জন্য উত্তম এবং রাসূলুল্লাহ সা. এর যুগে এবং পরবতীর্তে অনেক মহিলাই মসজিদে সালাত আদায় করতো।
প্রশ্নঃ 418
আসসালামু আলাইকুম, স্যার আপনার কাছে আমারেএকটি প্রশ্ন হল তাকদীর বা ভাগ্য কি? . আমাদের ভবিষ্যৎ কি হবে তাকি আগে থেকেই আল্লাহ নির্ধারিত করে দিয়াছে? যেমন আমি পরীক্ষা তে ফেল করলাম আমি কি বলতে পারব যে পড়ালেখা করিনি এই জন্য পাস করলামনা নাকি বলব তাকদিরে ছিলনা তাই পাস করতে পারলাম না।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আল্লাহর বিশেষণের বিষয়ে বৈপরীত্য কল্পনার একটি দিক তাকদীর। কুরআন ও হাদীস থেকে আমরা আল্লাহর অনাদি-অনন্ত, সর্বব্যাপী জ্ঞানের কথা, তাঁর ক্ষমতা ও ইচ্ছার কথা জানতে পারি এবং পাশাপাশি আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতা, ন্যায়বিচার ও করুণার কথা জানতে পারি। অনেকে এ দু বিশেষণের মধ্যে বৈপরীত্য কল্পনা করেছেন। প্রথম বিশেষণের মাধ্যমে আমরা জানি যে, মহান আল্লাহ অনাদিকাল থেকে তাঁর সৃষ্টির মধ্যে কে, কখন, কিভাবে কি কর্ম করবে তা সবই জানেন। আমরা কুরআন ও হাদীসের মাধ্যমে জানি যে, মহান আল্লাহ তাঁর এ জ্ঞান লাওহে মাহফুযে লিপিবদ্ধ করে রাখেন। আমরা আরো জানি যে, মহান আল্লাহর রুবূবিয়্যাতের ন্যূনতম দাবি যে, তাঁর জ্ঞানের অগোচরে ও ইচ্ছার বাইরে পৃথিবীতে কিছুই ঘটতে পারবে না। এ থেকে কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, তাহলে মানুষ যা কিছু করে তা আল্লাহর নির্দেশেই করে, কাজেই মানুষের কর্মের জন্য তাকে অপরাধী বলে গণ্য করা যায় না। এরা মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা, আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতা ও কর্মফল বিষয়ক আয়াত ও হাদীসগুলো বিভিন্ন ব্যাখ্যা করে বাতিল করেন। অপরদিকে কেউ কেউ মনে করেন যে, আল্লাহর জ্ঞান, লিখন ও ইচ্ছার এ সকল বিষয় তাঁর ন্যায়পরায়ণতার বিশেষণের সাথে সাংঘর্ষিক। কাজেই ন্যায়পরায়ণতার বিশেষণ গ্রহণ করে অন্যান্য বিশেষণ ব্যাখ্যা করে বাতিল করতে হবে। আসলে এ সবই আল্লাহর বিশেষণকে মানুষের বিশেষণের সাথে তুলনা করার ফল। আল্লাহর ক্ষেত্রে তাঁর সর্বব্যাপী জ্ঞান, লিখনি ও ইচ্ছার সাথে মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা, ও ন্যায়বিচারের কোনোরূপ বৈপরীত্য নেই। মুমিন সরল ও সহজ অর্থে উভয় প্রকারের বিশেষণ বিশ্বাস করবেন। সমন্বয়ের জন্য এ বিষয়ক মূলনীতি অনুসরণ করবেন। কোনোভাবেই একটি প্রমাণ করার জন্য অন্যটি ব্যাখ্যা করে বাতিল করবেন না।
তাকদীরে বিশ্বাস অর্থ আল্লাহর জ্ঞান ও আল্লাহরন্যায়পরায়ণতা উভয় বিশেষণে সমানভাবে বিশ্বাস করা। আল্লাহর নির্ধারণে অবিশ্বাস করলে আল্লাহর জ্ঞান ও ক্ষমতায় অবিশ্বাস করা হয়। আর মানুষের স্বাধীন ইচ্ছায় অবিশ্বাস করলে আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতা ও করুণায় অবিশ্বাস করা হয়। এ অবিশ্বাসের শুরু মহান আল্লাহর বিশেষণ ও কর্মকে মানুষের বিশেষণ বা কর্মের মত বলে বিশ্বাস করা থেকে। আল্লাহর সকল বিশেষণ সমানভাবে প্রত্যয়ের সাথে বিশ্বাস করলে এ বিষয়ে কোনো অস্পষ্টতা থাকে না। একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে। মনে করুন, আল্লাহর নির্ধারণ যে, বিষ মৃত্যু আনে। মানুষকে আল্লাহর জ্ঞান দান করেছেন যে, বিষ মৃত্যু আনে। এরপরও কেউ বিষ পান করলে সে মৃত্যু বরণ করবে। তবে তা আল্লাহর ইচ্ছা ও জ্ঞান অনুসারে ঘটবে। আল্লাহ তাঁর অনন্ত জ্ঞানে জানেন যে, নির্দিষ্ট ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ে স্বেচ্ছায়, বাধ্য হয়ে, জেনে বা না-জেনে বিষ পান করবে। তিনি তাঁর এ জ্ঞান লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি ইচ্ছা করলে ঐ ব্যক্তির ইচ্ছা শক্তি হরণ করে তাকে বিষপান থেকে বিরত রাখতে পারেন বা বিষের ক্রিয়া নষ্ট করে বিষপানকারীকে মৃত্যু থেকে রক্ষা করতে পারেন। আল্লাহর জ্ঞান, লিখনি বা তাকদীর অনুসারে বিষপানকারীর মৃত্যু আসবে অথবা আসবে না। বিষপানকারী বিষপানে তার ইচ্ছা, অনিচ্ছা ও কর্ম অনুসারে পাপ বা পুণ্য লাভ করবে। বিস্তারিত জানতে পড়ুন, আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত কুরআন সুন্নাহের আলোকে ইসলামী আকীদা পৃষ্ঠা,৩৩৯-৩৪৭; আল ফিকহুল আকবার পৃষ্ঠা ১৭৮-১৮৩।
প্রশ্নঃ 384
m.facebook.com/notes/ijharul-islam-al-kawsary/ইমাম-মালিক-রহ-এর-নামে-জাহাঙ্গীর-স্যারের-ভিত্তিহীন-আকিদা-প্রচার/394422344040517/?refid=21_rdrহানাফি নামা পরিত হ্ ওয়া আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের একটা পলিটিক্স। জ্যাঁ তার বিভিন্ন বক্তব্যে বুঝা যায়। অথচ তিনি নিজেই একজন আহলে হাদিসের কাণ্ডারী m.facebook.com/notes/ijharul-islam-al-kawsary/ইমাম-আবু-হানিফা-রহ-কে-যেভাবে-জাহমী-মুতাজেলী-বানালেন-খোন্দকার-আব্দুল্লাহ-জাহাঙ্গী/382678515214900/?refid=21_rdr m.facebook.com/notes/ijharul-islam-al-kawsary/ইমাম-শাফেয়ী-রহ-এর-আকিদার-নামে-জাহাঙ্গীর-স্যারের-জাল-বর্ণনা-প্রচার/382987215184030/?refid=21_rdr আসসালামু আলাইকুম, স্যার সম্পর্কে ইযহারুল হক্ব কাউসারী এই ধরণের মন্তব্য করছেন এবং খারাপ কথাও, এর জবাব আমার দরকার, আমাকে উত্তর দিন স্যার দয়া করে আর এই মিথ্যুকদের মিথ্যা ও জালিয়াতি ফাস করে দিন এর আগেও ইবনে তাইমিয়া নিয়ে মিথ্যাচার করে সে ধরা খেয়েছিল, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুণ আমীন
28 Dec 2025
আমি (এ্যাডমিন) আপনার প্রশ্নটি নিয়ে স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, আমি কখনো নিজেকে হানাফী কিংবা আহলেহাদীস বা কিংবা অন্য কোন মাজহাবী হিসেবে পরিচয় দেয় নি। সুতরাং আমাকে কারো কান্ডারী বা অন্য কিছু বানানো সুস্পষ্ট মিথ্যাচার। মিথ্যাচারের বিচার আল্লাহ তায়ালার কাছে।
প্রশ্নঃ 345
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর চাই, অনুগ্রহ পূর্বক বিস্তারিত ভাবে উত্তর দিবেন আমি যতদূর জানি, মাদ্রাসার ফাজেল (বি.এ) ক্লাশ থেকে শুরু করে কামেল (এম.এ) পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তকে জুমার নামাযের প্রথম শর্ত হিসাবেই বলা হয়েছে যে, ইসলামী রাষ্ট্রের খলিফা বা তার প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকলে জুমা বৈধ হবে না। সেখানে আরও বলা আছে, যে এলাকায় ইসলামের শাসন কায়েম আছে সেখানেই জুমা পড়তে হবে। এবং শরীয়াহ মোতাবেক যে কোন দণ্ড প্রয়োগ করার ক্ষমতাধারী ব্যক্তিরাই জুমার নামাযের ইমামতি করার অধিকার রাখেন। যারা এ কথার সমালোচনা করেন তাদেরকে অনুরোধ করব তারা যেন ফেকাহর যেকোন গ্রন্থ, যেমন- হেদায়াহ (১ম খণ্ড জুমা অধ্যায়, পৃঃ ১৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ), ফেকাহ ই কুদুরি, কাজী খান, মুহিত এ সুরুক্সি থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক শ্রেণীর ইসলাম শিক্ষার যে কোন বই পড়ে দেখেন। . অথচ বিশ্বের সর্বত্র মসজিদের ইমামরা মসজিদ কমিটির দুই পয়সার কেনা গোলাম বৈ কিছু নয়, যদিও তারাই আবার জুমার নামাযের ইমামতি করেন। মাদ্রাসায় লেখা পড়া করার সুবাদে তারা খুব ভালো করেই অবগত আছেন যে, তাদের জুমা তো দুরের কথা ওয়াক্তিয়া নামাযের ইমামতি করানোরও কোন যোগ্যতাও নেই। কারণ ইমাম শব্দের অর্থই হচ্ছে নেতা বা শাসক। অথচ এই সব দুই পয়সার মোল্লারাই ইমাম সেজে মসজিদ কমিটির সুদখোর, ঘুষখোর নেতা সাহেবদের কাছে চাকরী বাচানোর জন্য সদা সর্বদা কাচুমাচু হয়ে থাকেন। ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী কোন দণ্ড দেওয়া দূরে থাক, একটা টিকটিকির মুন্ডুপাত করার ক্ষমতাও কি এরা রাখেন? . জুমা এবং ঈদের নামাযের যে শর্তগুলো দেওয়া আছে তা না থাকলে জুমা এবং ঈদের নামায যে সহীহ্ হয় না এ ব্যাপারে তারা ভালো করেই জানেন। তাই তারা জুমার দিনে স্বতন্ত্রভাবে ফরজের পরে চার রাকাত এহতিয়াতুয যোহর পড়েন। অর্থাৎ পাছে জুমা কবুল না হয় এই সন্দেহে তারা গোপনে এহতিয়াতুয যোহর পড়েন। এহেন কর্ম করে একই সাথে তারা আল্লাহ এবং সরলপ্রাণ মুলমানদের সাথে ধোঁকাবাজি করে চলছেন। এর প্রমাণ স্বরূপ বলা যায়, তাদের অনুসরণীয় আলেম হাকীমুল উম্মত হিসাবে পরিচিত মাওলানা আশরাফ আলী থনভীর মাসআলা মাসায়েলের বই বেহেশতী জেওরের ২য় খণ্ডের জুমা অধ্যায়ের ২৫৮-২৫৯ পৃষ্ঠার ৬ নং মাসলায় বলা হয়েছে যদি কোন আলেম সন্দেহ বশতঃ জুমার পর এহতিয়াতুয যোহর (আখেরী যোহর) পড়িতে চায়, তবে এইরূপে পড়িবে যেন কেহ জানিতে না পারে। এখানে আমার প্রশ্ন, জুমার মত ইসলামের অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সাধারণ মুসলমানদেরকে জানতে না দিয়ে তা গোপন করার উদ্দেশ্য কী? যাইহোক, সন্দেহ নেই যে ফিকাহ বইগুলিতে জুমআর ব্যাপারে যে মাসআলাগুলি লেখা আছে তা সত্য কিন্তু এ সত্যগুলি এখন বইয়ে রেখে লাভ কী? সব জায়গায় তো মিথ্যার জয়জয়াকার, কাজেই বই থেকেও সত্যগুলি উঠিয়ে কিছুটা আধুনিক(!) করা যায় না? (যেহেতু সত্যগুলি ইমাম সাহেবরাই মানছেন না, অহেতুক আমাদের মাঝে বিতর্ক রেখে লাভ কী?)
28 Dec 2025
ইসলামের মূল দলিল কুরআন এবং সুন্নাহ। কুরআন এবং হাদীসে জুমআ পড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে কিন্তু রাষ্ট্র প্রধান বা রাষ্ট্র প্রধানের প্রতিনিধির উপস্থিতি শর্ত করা হয়নি। সুতরাং জুমআ সহিহ হওয়ার জন্য রাষ্ট্র প্রধান বা রাষ্ট্র প্রধানের প্রতিনিধির উপস্থিতির শর্ত জুড়ে দেয়া কোনো মতেই সমচিত নয়। আর আপনি যে কিতাবগুলোর উদ্ধৃতি দিয়েছেন এগুলোই হানাফী ফিকহের একমাত্র কিতাব নয়। অন্যান্য সমস্ত হানাফী ফিকহের কিতাবের আলোকে একথা বুঝা যায় যে, রাষ্ট্র প্রধান বা রাষ্ট্র প্রধানের প্রতিনিধির উপস্থিতির অর্থ হলো জুমআর ইমাম রাষ্ট্র প্রধান নিয়োগ দিবে অথবা জুমআর ইমামের ইমামতিতে রাষ্ট্র প্রধানের সম্মতি থাকবে। আমাদের দেশের মধ্যে জুমআ যেভাবে হচ্ছে রাষ্ট্র প্রধানের সম্মতি তাতে রয়েছে। এটা রাষ্ট্র প্রধানের প্রতিনিধির স্থলাভিষিক্ত বলা যায়। আমরা খুব সংক্ষেপে আপনাকে কিছু দিকনির্দেশনা উপস্থাপন করলাম। বিস্তারিত জানতে ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে আমরা এ বিষয়ে কিছু লেখব।
প্রশ্নঃ 314
allah has 99 names and who memorised it he will go to jannah.in tirmiji is this hadis is sahih and every name in this hadis is ok. i heard about this hadis that there is some problem of allahs name.
28 Dec 2025
আপনি যে হাদীসটির কথা উল্লেখ করেছেন সেটি একই সনদে অনেকগুলো কিতাবে বর্ণনা করা হয়েছে। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫০৭; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং ৮০৮; মুসতাদরক হাকীম, হাদীস নং ৪১। সনদসহ হাদীসটির কিছু অংশের মূল আরবী পাঠ হলো (তিরমিযী থেকে নেয়া) ;
حدثنا إبراهيم بن يعقوب الجوزجاني حدثني صفوان بن صالح حدثنا الوليد بن مسلم حدثنا شعيب بن أبي حمزة عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة قال :قال رسول الله صلى الله عليه و سلم إن لله تعالى تسعة وتسعين اسما من أحصاها دخل الجنة এই হাদীসের বিষয়ে ইাম তিরমিযী বলেন, هذا حديث غريب حدثنا به غير واحد عن صفوان بن صالح ولا نعرفه إلا من حديث صفوان بن صالح وهو ثقة عند أهل الحديث
অর্থ: এই হাদীসটি গরীব, সফওয়ান থেকে অনেকেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে সফওয়ান ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেছেন বলে জানা যায় না।আর সে মুহাদ্দিসদের নিকট ছিকাহ। অর্থাৎ ইমাম তিরমিযীর বক্তব্য হলো হাদীসটির সনদ গ্রহনযোগ্য। ইমাম যাহাবী রহ. বলেন,
لم يخرجا الأسامي لتفرد الوليد بها وليس ذا بعلة فالوليد أوثق وأحفظ من أبي اليمان وعلي بن عياش
অর্থ: ইমাম বুখারী ও মুসলিম (আল্লাহ তায়ালার) নামগুলো উল্লেখ করেননি কারন ওলীদ (একজন রাবী) একাকী বর্ণনা করেছেন। তবে এটা কোন ইল্লত (সমস্যা) নয়। কেননা ওলীদ আবিল ইয়ামান এবং আলী ইবনে আয়্যাশ থেকে অধিক ছিকাহ এবং ভাল মুখস্ত রাখেন। (উল্লেখ্য যে, সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে (আল্লাহ তায়ালার) নামগুলো ছাড়া হাদীসটি আবু হুরায়রা রা. থেকে অন্য সনদে বর্ণিত আছে। ইমাম জাহাবী সেদিকে ইশারা করেছেন)। এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ইমাম যাহাবী রহ. হাদীসটির সনদকে সহীহ মনে করেছেন। শায়খ শুয়াইব আরনাউত বলেন, قال شعيب الأرنؤوط : رجاله ثقات অর্থ: হাদীসটির রাবীগণ ছিকাহ। (সহীহ ইবনে হিব্বান এর তালীক)। উল্লেখ্য আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, হাদীসটির সনদ সহীহ। তবে উল্লেখিত নামগুলো হাদীসের অংশ কিনা এই নিয়ে বিতর্ক আছে। এই বিষয়ে মুহাদ্দিস মুহম্মাদ ইবনে ইসমাইল আমীর সানয়ানী (মৃত্যু ১১৮২ হি.) বলেন,
…وساق الترمذي وابن حبان الأسماء والتحقيق أن سردها إدراج من بعض الرواة اتفق الحفاظ من أئمة الحديث أن سردها إدراج من بعض الرواة …
তিরমিযী ও ইবনে হিব্বান নামগুলো উল্লেখ করেছেন। তবে গবেষনালব্ধকথা হলো যে, এই নামগুলো কোন এক রাবী কর্তৃক হাদীসের মধ্যে প্রবেশ করেছে। হাফেজে হাদীসগণ একমত যে, এই নামগুলো কোন একজন রাবী থেকে হাদীসের মধ্যে প্রবেশ করা হয়েছে। সুবুলুস সালাম, ৪/১০৮। তবে এই হাদীসে উল্লেখিত নামগুলো আল্লাহ তায়ালার নাম এবং এই নামগুলে ব্যতিত আল্লাহ তায়ালার আরো নাম আছে। এই নামগুলো ছাড়া আল্লাহ তায়ালার কোন নাম নেই বিষয়টি এমন নয়।
প্রশ্নঃ 207
video lecture on aqida
23 Dec 2025
আকীদা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে স্যারের লিখিত বই ইসলামী আকীদা, আল-ফিকহুল আকবারএ্হইয়াউস সুনান বইগুলো পড়ুন। এই বর্তমানে আকীদা ও এ্হইয়াউস সুনান এর উপর স্যারের ক্লাস চলছে। আপনি আমাদের চ্যানেলে গিয়ে ভিডিওগুলো দেখতে পারেন। https://www.youtube.com/user/SunnahTrust
প্রশ্নঃ 185
মুহতারাম,আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হলো- মিলাদ ও কিয়াম করা নিয়ে যদি কোন সহীহ দলিল দেন তাহলে খুব ভাল হয়- আমি এ বিষয় নিয়ে খুব প্রব্লেমে আছি।
23 Dec 2025
মীলাদ ও কিয়াম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন, আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স প্রকাশিত, ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত এহইয়াউস সুনান বইয়ের ৫১৬-৫৬২ পৃষ্ঠা।
প্রশ্নঃ 156
Sir, The man who said Allah is everywhere Can I pray (Shala) behind him?
23 Dec 2025
কথাটি ঠিক নয়। তবে যে মুসলিম এ কথা বলেন তাকে সরাসরি কাফির বলা যাবে না। কারণ কুরআনের বিভিন্ন বক্তব্যের এটি একটি ভুল ব্যাখ্যা। আল্লাহ বলেছেন তিনি বান্দার কাছে এবং সাথে। তিনি বলেছেন তিনি আল্লাহ আসমানে এবং যমীনে। এ সকল আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা থেকে এরূপ কথা এসেছে। আমরা কথাটিকে ভুল ও ইসলাম বিরোধী বলব এবং সঠিক কথা মানুষদের বুঝাব। তবে এরূপ ব্যাখ্যা মুমিনের জন্য একটি ওজর। এরূপ ওজরের কারণে এরূপ ব্যক্তিকে সরাসরি কাফির বলা যায় না। আর যাকে কাফির বলা যায় না তার পিছনে সালাত পড়া বৈধ। বিশেষত অন্য কোনো ভাল ইমান না পেলে তার পিছনে পড়তে হবে। জামাতে সালাত বাদ দেওয়া যাবে না। বিস্তারিত আল-ফিকহুল আকবার এবং ইসলামী আকীদা বইদুটিতে পড়ুন।
প্রশ্নঃ 150
Sir said Allah is with us. I want to know how Allah with us.
23 Dec 2025
মহান আল্লাহর বিষয়ে কিভাবে প্রশ্নটিই অবান্তর। মহান আল্লাহ নিজেই বলেছেন, তিনি আমাদের সাথে এবং নিকটে।তিনি সর্বদা আমাদের সবকিছু দেখছেন, শুনছেন এবং আমাদের হেফাযত ও রহমত করছেন। তাঁর বিশেষণগুলো ব্যাখ্যাতীত ভাবে বিশ্বাস করাই ঈমানের দাবি। আল-ফিকহুল আকবারের বঙ্গানুবাদ ও ব্যাখ্যাটি পাঠ করলে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
প্রশ্নঃ 144
আসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন এই পৃথিবীতে কুফরি কালাম এর অস্তিত্ত আছে কি? অনেকে বলে এর প্রয়োগ মানুষের ক্ষতি করার জন্য করা হয়। যেমনঃ কারো আর্থিক ক্ষতি, বা কোন কুমারী মেয়ের যথা সময় বিয়ে না হয়া। এরুপ ক্ষেত্রে অনেকে বলেন যে ওনার উপর জাদু করা হয়েছে বা সেই কুমারীকে কুফরী কালাম দ্বারা বিয়ে বন্ধ করে রেখেছে। এই কথার কি কোন ভিত্তি আছে? আর যদি থাকে এর লক্ষণ এবং এর থেকে প্রতিকার কি? কি আমল করলে এর থেকে পরিত্রণ পাওয়া যাবে। আমি কোন হুজুর এর উপর ভরসা করতে পারছি না। তাই জাহাঙ্গির হুজুরই আমার শেষ ভরসা। দয়া করে উত্তর টা আমি সরাসরি জাহাঙ্গির হুজুর থেকে আশা করছি
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
কুফরী কালাম বা যাদুর মাধ্যমে মানুষের শারীরিক ও আর্থক করা যায়। কুরআন ও হাদীসে যাদু ব্যবহারকে কুফর বলে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাদুকর মূলত পূজা ও শিরকের মাধ্যমে জিনের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। যেমন ধুপ, সুগন্ধি ইত্যাদি উৎসর্গ করা, কোনো পশু বা পাখি জবাই করা, জিন বা শয়তানের সাহায্য প্রার্থনা করা, তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে মন্ত্র পাঠ করা ইত্যাদি। এগুলো সবই শিরক। অনেক সময় মুসলিম যাদুকরকে প্রতারিত করতে শয়তান জিন এরুপ শিরকী মন্ত্রের সাথে কুরআনের আয়াত বা দুয়া সংযুক্ত করে রাখে। কুরআনের আয়াত বা দুয়ার আগে, পরে বা মধ্যে শয়াতনের পছন্দনীয় বা অর্চনামূলক দু-একটা বাক্য রেখে দেয়। এরুপ শিরক ছাড়াও বিভিন্ন প্রকারের কুফর ও মহাপাপের মাধ্যমে শয়তারকে সন্তুষ্ট করতে হয়। যেমন কুরআনের অবমাননা, কুরআনের আয়াত উল্টে লেখা, নাপাকি দিয়ে লেখা, জঘন্য অশ্লীলতায় লিপ্ত হওয়া, ঘৃন্য নাপাকীর মধ্যে বা নাপাক অবস্থায় থাকা, মানুষ হত্যা ইত্যাদী। এসকল কর্মের মাধ্যমে যাদুকর সামান্য কিছু অস্বাভাবিক ক্ষমতা অর্জন করে। যেমন ভেল্কি দেখানো, সত্য-মিথ্যা মিশ্রিত কিছু অজানা বা গায়েবী কথা বলা, মনের কথা বলঅ, বান-টোনা ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষের ক্ষতি করা ইত্যাদী। এদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কুরআন ও হাদীসে অনেক দোয়া ও যিকির উল্লেখ আছে। বিস্তারিত জানতে দেখুন ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত রাহে বেলায়াত গ্রন্থের নতুন সংস্করনের রোগব্যাধি ও ঝাড়ফুঁক অধ্যায়টি।
প্রশ্নঃ 137
Imam abu hanifa ki abiin chilio na tabe -- Ṫabiin chilo?
23 Dec 2025
ইমাম আবু হানীফা রহ. ৮০ হিজরীতে জন্ম গ্রহণ করেন। সাহাবীদের কেউ কেউ ১১০ হিজরী সাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। কাজেই ইমাম আবু হানীফা রহ. জন্য কোন কোন সাহবীর সাথে সাক্ষাৎ করা বা শিক্ষা গ্রহণ করা খুবই সম্ভব ছিল। বাস্তবে কতজন সাহাবীর সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল সে বিষয়ে বিতর্ক আছে। কোন কোন জীবনীকারগণের বর্ণনায় ৭ জন সাহাবীর সাথে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল বলে উল্লেখ আছে। বাস্তবে প্রায় সাকল জীবনীকার, রিজালবিদ ও ঐতিহাসিক একমত যে, সাহাবী আনাস ইবনে মালিক রা.এর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল। সুতরাং তিন তাবেয়ী ছিলেন। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর অনূদিত ও ব্যাখ্যাকৃত আল-ফিকহুল আকবার বইটির প্রথম পরিচ্ছেদ।
প্রশ্নঃ 133
Shaykh, Assalamualikum wa rohmatullahi wa baratuhu. amar prosno ta holo- Allahr kace dua korar pore to amader biswas rakhte hobe je amader dua kobul hobei ingsha Allah. amra kontar bepare biswas rakhbo? 1. amra Allahr kace ja cheyeci Allah thik oitai deben ei biswas korbo, or 2. Allah je 3 vabe dua koubl koren sei 3 rokomer 1 rokom vabe dua kobul korben eita biswas korbo? Allah to sokol duai 3 rokomer 1 rokom vabe kobul koren.
23 Dec 2025
আল্লাহ তায়ালা আমাদের দোয়া কবুল করেন। সেটা সঙ্গে সঙ্গে হতে পারে, পরেও হতে পারে। কিংবা যা আমরা চাই তার চেয়ে উত্তম কোন কিছু দিতে পারেন। বিস্তারিত জানতে অনুগ্রহ পূর্বক রাহে বেলায়াত পুস্তকের দুআ অধ্যায়টি, ষষ্ঠ সংস্করণ ১০৫-১৭৩ পৃষ্ঠা পড়ন। এছাড়া আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের স্টুডিওটি কার্যকর হলে আমরা আপনার প্রশ্ন ও এ জাতীয় প্রশ্নগুলোর বিস্তারিত উত্তর ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে প্রচার করব, ইনশা আল্লাহ।
প্রশ্নঃ 128
Where is Allah and he has any shape.can he come down in the earth.please tell me details with Quran sun ah.
23 Dec 2025
প্রথম প্রশ্নের উত্তর জানতে এ সম্পর্কিত অন্য প্রশ্নের উত্তর দেখুন। দ্বিতীয় প্রশ্নের আকার বলতে যদি দেহ মনে করা হয় তবে আল্লাহ তালার কোন আকার নেই। তবে কুরআনে আল্লাহ তায়ালার হাত, চেহারা, চোখ ইত্যাদীর কথা উল্লেখ আছে। তবে এগুলোর স্বরুপ আমাদের কাছে অজ্ঞাত। তা শুধু আল্লাহ তায়ালাই জানেন। তাঁর কোন কিছুই সৃষ্ট কোন কিছুর সাথে সাদৃশ্য রাখে না। মহান আল্লাহর অন্য একটি বিশেষণ নুযূল বা অবতরণ। এ অর্থের একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেন:
يَنْزِلُ رَبُّنَا كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ يَقُولُ مَنْ يَدْعُونِى فَأَسْتَجِيبَ لَهُ مَنْ يَسْأَلُنِى فَأُعْطِيَهُ مَنْ يَسْتَغْفِرُنِى فَأَغْفِرَ لَهُ
প্রতি রাতে যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে তখন আমাদের মহিমান্বিত মহা-কল্যাণময় প্রতিপালক নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করেন। তিনি বলেন: আমাকে ডাকার কেউ আছ কি? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। আমার কাছে চাওয়ার কেউ আছ কি? আমি তাকে প্রদান করব। আমার কাছে ক্ষমা চাওয়ার কেউ আছ কি? আমি তাকে ক্ষমা করব। বুখারী, আস-সহীহ ১/৩৮৪; মুসলিম, আস-সহীহ ১/৫২২ (মুসাফিরীন, তারগীব ফিদদুআ... আখিরিল্লাইল) আহলুস সুন্নাতের ইমামগণ বলেন: এটি মহান আল্লাহর একটি বিশেষণ। আমরা সরল অর্থে বিশ্বাস করি যে, মহান আল্লাহ অতুলনীয়, তিনি আরশের ঊর্ধ্বে অধিষ্ঠান গ্রহণ করেন এবং তিনি যখন এবং যেভাবে ইচ্ছা অবতরণ করেন। তাঁর অবতরণ কোনোভাবেই কোনো সৃষ্টির অবতরণের মত নয়। তাঁর অবতরণের স্বরূপ ও প্রকৃতি কি তা আমরা জানি না এবং জানার চেষ্টাও করি না। ইমাম আবূ হানীফা (রা) কে মহান আল্লাহর অবতরণ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি উত্তরে বলেন: ينزل بلا كيف মহান আল্লাহ অবতরণ করেন, কোনোরূপ পদ্ধতি বা স্বরূপ ব্যতিরেকে। বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত ২/৩৮০; মোল্লা আলী কারী, শারহুল ফিকহিল আকবার, পৃ ৬৯।
প্রশ্নঃ 125
আসসালামু আলাইকুম। শায়েখ আমি সালাফি আলেমদের কাছ থেলে জেনেছি আল্লাহ আরশে বিরাজমান আর তাঁর ইলম সর্বত্র বিরাজমান কিন্তু দেওবন্দী আলেমরা বলে আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান? এ ব্যাপারে আপনার মতামত জানতে চাই?
22 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান এই কথাটি সঠিক নয়। তেমনি তিনি আরশে বিরাজমান এভাবে বলাও ঠিক না। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ
অর্থ: নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আকাশ সমূহ এবং পৃথিবীকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। এরপর তিনি আরশে ইসতিওয়া করেছে। সূরা, আশুরা আয়াত,৫৪। আরশের উপর ইসতিওয়া আল্লাহ তায়ালার একটি বিশেষণ। তিনি সর্বত্র বিরাজমান নন। কুরআনে সাত স্থানে বলা হয়েছে যে, মহান আল্লাহ আরশের উপর ইসতিওয়া করেছেন। আরবীতে কোনো কিছুর উপর ইসতিওয়া অর্থ তার ঊর্ধ্বে অবস্থান । সালাতের নিষিদ্ধ সময় বর্ণনা করে রাসূলুল্লাহ (সা.) একজন প্রশ্নকারীকে বলেন:
حَتَّى تَسْتَوِىَ الشَّمْسُ عَلَى رَأْسِكَ كَالرُّمْحِ ، فَإِذَا اسْتَوَتْ عَلَى رَأْسِكَ كَالرُّمْحِ فَدَعِ الصَّلاَةَ
(সালাত বৈধ থাকবে) যতক্ষণ না সূর্য তোমার মাথার উপরে তীরের মত ইসতিওয়া (ঊর্ধ্বে অবস্থান) করবে। যখন সূর্য তোমার মাথার উপর তীরের মত ইসতিওয়া (ঊর্ধ্বে অবস্থান) করবে তখন সালাত পরিত্যাগ করবে। বাইহাকী, আস-সুনানুল কুবরা ২/৪৫৫; ইবন মাজাহ, আস-সুনান ১/৩৯৭। হাদীসটি সহীহ। মহান আল্লাহর আরশের ঊর্ধ্বে অবস্থান বা আরশের ঊর্ধ্বে থাকার বিশেষণটি কুরআন ও হাদীস দ্বারা দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণিত। তবে এর প্রকৃতি ও স্বরূপ অজ্ঞাত। অজ্ঞাতকে অজ্ঞাত রেখে কুরআনের অন্যান্য বক্তব্যের ন্যায় এ বক্তব্যও স্বীকার ও বিশ্বাস করা মুমিনের জন্য জরুরী। দ্বিতীয় হিজরী শতক থেকেই তাবিয়ী ও তাবি-তাবিয়ী ইমামগণ এবং পরবর্তী মুহাদ্দিস ও ফকীহগণ বলেন: মহান আল্লাহ আরশের উপর অধিষ্ঠান গ্রহণ করেন। তাঁর এ অধিষ্ঠান বা অবস্থানের স্বরূপ আমরা জানি না এবং জানতে চেষ্টাও করি না। বরং বিশ্বাস করি যে, তাঁর এ অধিষ্ঠান কোনোভাবেই কোনো সৃষ্টির বিশেষণ বা কর্মের মত নয়। তাঁর অতুলনীয়ত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থান তিনি গ্রহণ করেন। ইমাম আবূ হানীফা রহিমাহুল্লাহ তাঁর ওসীয়াত গ্রন্থে লিখেছেন:
نُقِرُّ بِأَنَّ اللهَ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَكُوْنَ لَهُ حَاجَةٌ إِلَيْهِ وَاسْتِقْرَارٌ عَلَيْهِ، وَهُوَ الْحَافِظُ لِلْعَرْشِ وَغَيْرِ الْعَرْشِ، فَلَوْ كَانَ مُحْتَاجاً إِلَيْهِ لَمَا قَدِرَ عَلَى إِيْجَادِ الْعَالَمِ وَتَدْبِيْرِهِ كَالْمَخْلُوْقِين، وَلَوْ صَارَ مُحْتَاجاً إِلَى الْجُلُوْسِ وَالْقَرَارِ فَقَبْلَ خَلْقِ الْعَرْشِ أَيْنَ كَانَ اللهُ تَعَالَى؟ فَهُوَ مُنَزَّهٌ عَنْ ذَلِكَ عُلُوًّا كَبِيْراً
আমরা স্বীকার ও বিশ্বাস করি যে, মহান আল্লাহ আরশের উপর অধিষ্ঠান গ্রহণ করেন, আরশের প্রতি তাঁর কোনোরূপ প্রয়োজন ব্যতিরেকে এবং আরশের উপরে স্থিরতা-উপবেশন ব্যতিরেকে। তিনি আরশ ও অন্য সবকিছুর সংরক্ষক। তিনি যদি আরশের মুখাপেক্ষী হতেন তাহলে বিশ্ব সৃষ্টি করতে ও পরিচালনা করতে পারতেন না, বরং তিনি মাখলূকের মত পরমুখাপেক্ষী হতেন। আর যদি তাঁর আরশের উপরে উপবেশন করার প্রয়োজনীয়তা থাকে তবে আরশ সৃষ্টির পূর্বে তিনি কোথায় ছিলেন? কাজেই আল্লাহ এ সকল বিষয় থেকে পবিত্র ও অনেক অনেক ঊর্ধ্বে। ইমাম আবূ হানীফা, আল-ওয়াসিয়্যাহ, পৃ. ৭৭। ইমাম আযমের এ বক্তব্য উল্লেখ করে মোল্লা আলী কারী হানাফী বলেন: এ বিষয়ে ইমাম মালিক (রাহ) খুবই ভাল কথা বলেছেন। তাঁকে আল্লাহর আরশের উপরে ইসিতিওয়া বা অধিষ্ঠান বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন:
اَلاِسْتِوَاءُ مَعْلُوْمٌ وَالْكَيْفُ مَجْهُوْلٌ وَالسُّؤَالُ عَنْهُ بِدْعَةٌ وَالإِيْمَانُ بِهِ وَاجِبٌ
ইসতিওয়া বা অধিষ্ঠান পরিজ্ঞাত, এর পদ্ধতি বা স্বরূপ অজ্ঞাত, এ বিষয়ে প্রশ্ন করা বিদআত এবং এ বিষয় বিশ্বাস করা জরুরী। মোল্লা আলী কারী, শারহুল ফিকহিল আকবার, পৃ. ৭০। আল্লাহর সত্তা যেমন সৃষ্টির মত নয়, তেমনি তাঁর বিশেষণাবলিও সৃষ্টির মত নয়। সকল মানবীয় কল্পনার ঊর্ধ্বে তাঁর সত্তা ও বিশেষণ। এ প্রসঙ্গে ইমাম মালিক বলেন:
الله في السماء وعلمه في كل مكان لا يخلو من علمه مكان
আল্লাহ আসমানে (ঊর্ধ্বে) এবং তাঁর জ্ঞান সকল স্থানে। কোনো স্থানই মহান আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে নয়। আব্দুল্লাহ ইবন আহমদ, আস-সুন্নাহ ১/১০৭, ১৭৪, ২৮০; আর্জুরী, আশ-শরীয়াহ ২/২২৪-২২৫; ইবন আব্দুল র্বার, আত-তামহীদ ৭/১৩৮। এপ্রসঙ্গে পঞ্চম হিজরী শতকের প্রসিদ্ধ মালিকী ফকীহ ও মুহাদ্দিস ইবন আব্দুল র্বার ইউসুফ ইবন আব্দুল্লাহ (৪৬৩ হি) বলেন:
علماء الصحابة والتابعين الذين حملت عنهم التآويل في القرآن قالوا في تأويل هذه الآية هو على العرش وعلمه في كل مكان وما خالفهم في ذلك أحد يحتج بقوله
সাহাবী-তাবিয়ী আলিমগণ, যাদের থেকে কুরআনের ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হয়েছে, তারা এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, তিনি আরশের উপরে এবং তাঁর জ্ঞান সর্বত্র। দলিল হিসেবে গ্রহণ করার মত একজন আলিমও তাঁদের এ মতের বিরোধিতা করেন নি। ইবন আব্দুল র্বার, আত-তামহীদ ৭/১৩৮-১৩৯। ইমামদ্বয়ের বক্তব্য থেকে সুস্পষ্ট যে, ইসতিওয়া শব্দটিকে তাঁরা সাধারণ আরবী অর্থেই গ্রহণ করেছেন। মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে এ শব্দটির অর্থ অস্পষ্ট, দ্ব্যর্থবোধক, মুতাশাবিহ, রূপক বা অজ্ঞাত বলে দাবি করেন নি। বরং তাঁরা বলেছেন যে, এ শব্দটির অর্থ জ্ঞাত বিষয়, এর মধ্যে কোনো অস্পষ্টতা, রূপকতা বা দ্ব্যর্থতা নেই। অর্থাৎ আরবী ভাষায় অন্যন্য সকল ক্ষেত্রে ইসতিওয়া আলা বলতে যা বুঝানো হয় এখানেও সেই অর্থই গ্রহণ করতে হবে, অর্থাৎ ঊর্ধ্বত্ব। এখানে অর্থটি রূপক বা অজ্ঞাত বলে দাবি করার সুযোগ নেই। তবে ইসতিওয়ার স্বরূপ বা ব্যাখ্যা অজ্ঞাত (মুতাশাবিহ)। এ অজ্ঞাত বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়ে জ্ঞাত বিষয়কে বিশ্বাস করাই মুমিনের দায়িত্ব। ইসতিওয়া ও অন্যান্য বিশেষণ বিষয়ে ইমাম আহমদ ইবন হাম্বালের মূলনীতি ও আকীদা ব্যাখ্যা করে আবূ বাকর খাল্লাল আহমদ ইবন মুহাম্মাদ (৩১১ হি) বলেন:
وكان يقول إن الله عز وجل مستو على العرش المجيد … وكان يقول في معنى الاستواء هو العلو والارتفاع ولم يزل الله تعالى عاليا رفيعا قبل أن يخلق عرشه فهو فوق كل شيء والعالي على كل شيء وإنما خص الله العرش لمعنى فيه مخالف لسائر الأشياء والعرش أفضل الأشياء وأرفعها فامتدح الله نفسه بأنه على العرش أستوى أي عليه علا ولا يجوز أن يقال أستوى بمماسة ولا بملاقاة تعالى الله عن ذلك علوا كبيرا والله تعالى لم يلحقه تغير ولا تبدل ولا تلحقه الحدود قبل خلق العرش ولا بعد خلق العرش. وكان ينكر على من يقول إن الله في كل مكان بذاته لأن الأمكنة كلها محدودة وحكي عن عبد الرحمن بن مهدي عن مالك أن الله تعالى مستو على عرشه المجيد كما أخبر وأن علمه في كل مكان ولا يخلوا شيء من علمه وعظم عليه الكلام في هذا واستبشعه
ইমাম আহমদ বলতেন, মহান আল্লাহ আরশের উপর অধিষ্ঠিত। … অধিষ্ঠিত হওয়ার অর্থ তিনি এর ঊর্ধ্বে। মহান আল্লাহ আরশ সৃষ্টির পূর্ব থেকেই সবকিছুর ঊর্ধ্বে। তিনি সকল কিছুর ঊর্ধ্বে এবং সকল কিছুর উপরে। এখানে আরশকে উল্লেখ করার কারণ আরশের মধ্যে এমন বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অন্য কোনো কিছুর মধ্যে নেই। তা হলো আরশ সবচেয়ে মর্যাদাময় সৃষ্টি এবং সব কিছুর ঊর্ধ্বে। মহান আল্লাহ নিজের প্রশংসা করে বলেছেন যে, তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠিত, অর্থাৎ তিনি আরশের ঊর্ধ্বে। আরশের উপরে অধিষ্ঠানের অর্থ আরশ স্পর্শ করে অবস্থান করা নয়। মহান আল্লাহ এরূপ ধারণার অনেক ঊর্ধ্বে। আরশ সৃষ্টির পূর্বে এবং আরশ সৃষ্টির পরে মহান আল্লাহ একই অবস্থায় রয়েছেন; কোনোরূপ পরিবর্তন তাঁকে স্পর্শ করে নি, কোনো গণ্ডি বা সীমা তাঁকে সীমায়িত করতে পারে না। যারা বলেন যে, মহান আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান তাদের কথা তিনি অস্বীকার ও প্রতিবাদ করতেন। কারণ সকল স্থানই গণ্ডি বা সীমায় আবদ্ধ। তিনি আব্দুর রাহমান ইবন মাহদী থেকে, তিনি ইমাম মালিক থেকে উদ্ধৃত করতেন: মহান আল্লাহ মহা-পবিত্র আরশের ঊর্ধ্বে সমাসীন এবং তাঁর জ্ঞান-ইলম সর্বত্র বিদ্যমান। কোনো স্থানই তাঁর জ্ঞানের আওতার বাইরে নয়। আল্লাহর সর্বত্র বিরাজমান কথাটি ইমাম আহমদ ঘৃণ্য বলে গণ্য করতেন। আহমদ ইবনু হাম্বাল, আল-আকীদাহ, আবূ বাকর খাল্লালের বর্ণনা, পৃষ্ঠা ১০২-১১১। শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলবী বলেন:
وهو فوق العرش كما وصف نفسه، لكن لا بمعنى التحيز ولا الجهة، بل لا يعلم كنه هذا التفوق والاستواء إلا هو…
তিনি আরশের ঊর্ধ্বে, যেভাবে তিনি নিজের বিষয়ে বলেছেন। এর অর্থ কোনো দিক বা স্থানে সীমাবদ্ধ হওয়া নয়। বরং এ ঊর্ধ্বত্বের এবং অধিষ্ঠানের প্রকৃতি তিনি ছাড়া কেউ জানে না…। শাহ ওয়ালি উল্লাহ, আল-আকীদাতুল হাসানাহ, পৃষ্ঠা ৩। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স প্রকাশিত আল-ফিকহুল আকবার পৃষ্ঠা ২৫৮।
প্রশ্নঃ 115
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। সকল ধর্মানুসারীই দাবি করেন যে, তাঁর ধর্মই সঠিক বা শ্রেষ্ঠ, তাহলে ইসলামের সঠিকত্ব বা শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার উপায় কী?
22 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু
আমি আসলেই আপনার প্রশ্নগুলোর কথা ভুলে গিয়েছিলাম। নানাবিধ ব্যস্ততাই কারণ। আপনার মেইল দেখে মনে পড়ল। প্রথম প্রশ্ন: সকল ধর্মানুসারীই দাবি করেন যে, তাঁর ধর্মই সঠিক বা শ্রেষ্ঠ, তাহলে ইসলামের সঠিকত্ব বা শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার উপায় কী? ধর্ম কী ও কেন এ দুটি প্রশ্নের উত্তরের মধ্যেই এ উত্তর নিহিত। প্রথমত: সকল ধর্মানুসারীর মতেই ধর্ম হলো ঐশ্বরিক (ফরারহব) ব্যবস্থা যা মহান স্রষ্টা ওহীর বা ধর্মগ্রন্থের মাধ্যমে কোনো রাসূল বা ধর্মপ্রবর্তকের মাধ্যমে মানব জাতিকে প্রদান করেছেন। এজন্য যে কোনো ধমের্র ধর্মগ্রন্থ (scripture) রয়েছে। ধমের্র সাথে ধর্মগ্রন্থের তুলনা করলেই কোন ধর্ম শ্রেষ্ঠ তা সহজে বুঝা যায়। বিশ্বের অধিকাংশ ধর্মগ্রন্থের সাথে সেই ধমের্র তুলনা করলেই আমরা দেখি যে, ধর্মানুসারীদের ধমের্র সাথে ধর্মগ্রন্থের ধমের্র মিল খুবই কম। বাইবেলের বিধিবিধান ও ধর্মবিশ্বাসের সাথে চাচের্র খৃস্টধমের্র তুলনা করলে এবং বেদ-গীতার সাথে প্রচলিত হিন্দু ধমের্র তুলনা করলেই তা নিশ্চিত জানা যায়। অর্থাৎ প্রচলিত ধর্মগুলোর ধর্মগ্রন্থই প্রমাণ করে যে, তাদের প্রচলিত বা আচরিত ধর্ম বিশ্বাস সঠিক নয়। তারা ধর্মগ্রন্থের অধিকাংশ নির্দেশনা পালন করেন না, বরং বিপরীত চলেন ও ধর্মগ্রন্থ নিষিদ্ধ বিষয়কে ধর্ম বলে বিশ্বাস করেন। খৃস্টধমের্র ত্রিত্ববাদ, প্রায়শ্চিত্ববাদ, মূলপাপতত্ত্ব, কর্মহীন বিশ্বাসেই মুক্তির তত্ত্ব ইত্যাদি কোনো কিছুই বাইবেলে নেই, বরং বাইবেলে এর বিপরীত বিষয়গুলো সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান। প্রচলিত বাইবেলের পুরাতন ও নতুন নিয়ম নিশ্চিত প্রমাণ করে যে, সাধু পল প্রচারিত ও বর্তমান খৃস্টজগত আচরিত খৃস্টধর্ম নামক ধর্মটি সঠিক নয়। হিন্দু ধর্ম ও অন্যান্য ধমের্র ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রায় একইরূপ। ইসলাম ধমের্র বিষয়টি একেবারেই ব্যতিক্রম। প্রচলিত ইসলাম ধমের্র বিধিবিধান, বিশ্বাস ও আচার আচরণ সবই কুরআন ভিত্তিক ও কুরআন সমর্থিত। মুসলিমগণ ধর্ম কতটুকু পালন করেন সেটি ভিন্ন কথা। তবে কুরআন নির্দেশিত কোনো অধর্মকে তারা ধর্ম হিসেবে বিশ্বাস বা পালন করেন না। শুধু তাই নয়। বিশ্বের সকল ধর্মগ্রন্থই প্রমাণ করে যে, ইসলামই সঠিক ধর্ম। সকল ধমের্র প্রচলিত বিশ্বাস ও কমের্র মধ্যে এমন অনেক বিষয় বিদ্যমান যা সে ধমের্র ধর্মগ্রন্থ ছাড়াও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ নিন্দনীয় বলে ঘোষণা করেছে। পক্ষান্তরে ইসলামী ধর্ম বিশ্বাস ও ধর্মীয় কমের্র মধ্যে এমন একটি বিষয়ও নেই যা অন্য কোনো ধর্মগ্রন্থ নিন্দনীয় বলে ঘোষণা করেছে। সাধারণত ইসলাম বিরোধীগণ জিহাদ ও নারী অধিকারের মত দু-একটি বিষয় উত্থাপন করতে চান যে, এগুলো অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের আলোকে খারাপ বা অন্যায়। তাঁদের নিজেদের ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়ন না করার কারণে অথবা সত্য গোপনের জন্য তারা এ কথা বলেন। প্রকৃত সত্য হলো, বাইবেল, বেদ, গীতা, মহাভারত, রামায়ণ ইত্যাদি সকল ধর্মগ্রন্থে বিদ্যমান জিহাদ ও নারী অধিকারের অবস্থা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। ধর্মগ্রন্থগুলোর নির্দেশনায় ইসলামই এ দুটি বিষয়ে সর্বোচ্চ মানবিকতা ও অধিকার নিশ্চিত করেছে। এভাবে আমরা দেখছি যে, প্রত্যেক ধমের্র সাথে সে ধমের্র ধর্মগ্রন্থের তুলনামূলক অধ্যয়ন এবং সকল ধর্মগ্রন্থের মূল শিক্ষার সাথে প্রচলিত সকল ধমের্র তুলনামূলক অধ্যয়ন প্রমাণ করে যে, ইসলামই একমাত্র সঠিক ধর্ম। দ্বিতীয়ত: সকল ধর্মানুসারীই বিশ্বাস বা দাবি করেন যে, ধমের্র উদ্দেশ্য মানুষকে সত্যিকার সৎ মানুষে পরিণত করা। এ দাবি ও বাস্তবতার মধ্যে তুলনা করলেও কোন ধর্ম শ্রেষ্ঠ তা সহজেই জানা যায়। বস্তুত নিয়মিত সুষম খাদ্যগ্রহণ ও স্বাস্থ্যসম্মত নিয়মে না চলে সপ্তাহে, মাসে বা বছরে অল্পবেশি ভিটামিন, মহা-পুষ্টিকর খাদ্য বা ঔষধ গ্রহণ করে প্রকৃত দৈহিক সুস্থতা অর্জন করা যায় না। তেমনি নিয়মিত সুষম বিশ্বাস, ইবাদত ও পাপমুক্ত পবিত্র জীবন যাপন না করে মাঝে মাঝে আনুষ্ঠানিকতা করে প্রকৃত আত্মিক সুস্থতা, পবিত্রতা ও সততা অর্জন করা যায় না। আর এ দিক থেকে একমাত্র ইসলামই জীবনঘনিষ্ট ধর্ম যা ধার্মিক মানুষকে প্রকৃত সৎ মানুষে পরিণত করে। ইসলাম ধমের্র বিধিবিধান এমন যে, মহান আল্লাহর সাথে সার্বক্ষণিক প্রেমের ও স্মরণের সম্পর্ক তৈরি হয়।
পাঁচ ওয়াক্ত নামায, সাপ্তাহিক নামায, রোযা, যাকাত, দৈনন্দিন সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইবাদত ইত্যাদি পালনের মাধ্যমে নিয়মিত বাধ্যতামূলক আত্মীক-আধ্যাত্মিক অনুশীলন অব্যাহত থাকে। এজন্য ধর্ম পালনকারী ধার্মিক মুসলিম সমাজের অন্যদের তুলনায় অধিকতর সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত হন। পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনে তিনি অপেক্ষাকৃত অধিক সচেতন হন। অন্যান্য ধর্মে এরূপ নিয়মিত ইবাদত ও অনুশীলন অনুপস্থিত বা ঐচ্ছিক। ফলে মানুষ মহান আল­াহর সাথে নিয়মিত প্রেমের সম্পর্ক থেকে বঞ্চিত। হিন্দু ধর্মে বর্ণপ্রথার কারণে সংখ্যাগরিষ্ট হিন্দু মূলত ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়ন ও ইবাদত পালনের সকল সুযোগ থেকেই বঞ্চিত। হিন্দু ধর্ম মূলত খাওয়া- না খাওয়া, ও কিছু আচার-অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এখানে বিশ্বাস, সততা, কর্ম, বিধিবিধান, আধ্যাত্মিকা ইত্যাদি গৌণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সাধু পলের খৃস্টধমের্র কর্মহীন বিশ্বাস, বিশ্বাসে মুক্তি ও পাপমোচন তত্ত্বের কারণে দুর্নীতি, ব্যভিচার, যৌন নিপীড়ন, মাদকতা ইত্যাদি বিষয় ধার্মিক খৃস্টান ও পোপ-পাদরিদের মধ্যেই ব্যাপক, অধার্মিক খৃস্টানদের তো কথাই নেই। এখানেও ত্রিত্ববাদে বিশ্বাসই মূল, দুর্নীতি মুক্ত হওয়া, মাদকমুক্ত হওয়া, জুলুম মুক্ত হওয়া ইত্যাদির কোনো মূল্য নেই। সকলের জন্যই মুক্তি নিশ্চিত। দুনিয়ার আইন কোনো রকমে ফাঁকি দিতে পারলেই হলো। ফলে কেউ আল­াহর প্রেম অর্জন বা তাঁর অসন্তুষ্টি বর্জনের আকাঙ্খায় পাপ, জুলুম, ব্যভিচার, অনাচার, মাদকদ্রব্য ইত্যাদি বর্জন করেন না। কেউ তা করলে একান্তুই আইনের ভয়ে করেন। আর আইনের ভয় প্রকৃত সৎ মানুষ তৈরি করে না, বরং বকধার্মিক ও ঠক তৈরি করে।
প্রশ্নঃ 107
assalamu alaikum kamon acen? hujur amar ekta proshno muslim ra kono kisu amol korte hole quran hadish er dolil lagbe tai amateur proshno chand grohon surjo grohon er bepare amader deshe manusher kisu darona ace oi somoy kono gorboboti mohila naki sute parbe na boste parbe na khete parbe na r o onek kisu agula quran hadish shommoto kina. a bepare islam ki bole. please janaben. khub upokrito hobo zezak allah khayer
22 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আপনি যা লিখেছেন, সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ অবস্থায় গভবর্তী মহিলা শুতে বসতে... পারবে না তা সম্পূর্ণ কুসংস্কার, কুরআন হাদীসে এর কোন ভিত্তি নেই। সূর্যগ্রহনের সময় রাসূল সা. লোকদেরকে নিয়ে নামায আদায় করতেন এবং নামায আদায় করতে বলেছেন। আবু মাসউদ রা. বলেন, নবী সা. বলেছেন,
قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لاَ يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ مِنَ النَّاسِ وَلَكِنَّهُمَا آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللهِ فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُمَا فَقُومُوا فَصَلُّوا
কারো মৃত্যুর জন্য সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ লাগে না। কিন্তু এই দুটি আল্লাহর নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। যখন তোমারা তা দেখবে তখন নামায আদায় করবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১০৪১। বিস্তারিত জানতে দেখুন: সহীহ বুখারী, কিতাবুল কুসুফ (গ্রহণ লাগা অধ্যায়)। সুতরাং আমাদের উচিৎ এমন হলে নামায আদায় করা আর কুসংস্কার থেকে বিরত থাকা।
প্রশ্নঃ 88
আস্সালামু আলাইকু ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমার প্রশ্ন হল আমি ঘুমের গড়ে অনেক ভাল এবং খারাপ সপ্ন দেখে থাকি এই সপ্ন সম্পকে আমাদের কি বিশ্বাস থাকা উচিৎ?
21 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। নবীদের স্বপ্ন ওহী হিসাবে গণ্য। অন্যান্য মানুষের স্বপ্নের ব্যাপারে হাদীসের স্পষ্ট নির্দেশনা আছে। নিচে দলীলসহ বিস্তারিত আলোচনা করা হল: নবী রাসূলদের স্বপ্ন ওহী। তাঁরা স্বপে যা দেখেন তা সত্য। ইবনে আব্বাস রা. বলেন, رؤيا الأنبياء وحي অর্থ: নবীদের স্বপ্ন ওহী। আলমুসতাদরিক লিল-হাকীম, হাদীস নং ৩৬১৩। হাকীম রহ. বলেন, হাদীসটি বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ। কিন্তু তারা বর্ণনা করেনি। ইমাম যাহাবী তালখীস এর মধ্যে বলেছেন, হাদীসটি বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী। হযরত আয়েশা রা. বলেন,
أَوَّلُ مَا بُدِئَ بِهِ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْوَحْيِ الرُّؤْيَا الصَّادِقَةُ فِي النَّوْمِ فَكَانَ لاَ يَرَى رُؤْيَا إِلاَّ جَاءَتْ مِثْلَ فَلَقِ الصُّبْحِ
যার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে প্রথম ওহী আসা শুরু হয় তা হল সত্য স্বপ্ন। তিনি যা দেখতেন ভোরের আলোর মত তা সত্য হত। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৯৮৩। ইমাম বখারী রহ. তার সহীহ গ্রন্থে বলেছেন,
قَالَ عَمْرٌو سَمِعْتُ عُبَيْدَ بْنَ عُمَيْرٍ يَقُولُ : إِنَّ رُؤْيَا الأَنْبِيَاءِ وَحْيٌ ثمَّ قَرَأَ :{إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ}
আমর বলেছেন, আমি উবায়েদ ইবনে উমায়েরকে বলতে শুনেছি, নিশ্চয় নবীদের স্বপ্ন ওহী। এরপর তিনি কুরআনের উপরুক্ত আয়াত তেলাওয়াত করেন। (উবায়েদ ইবনে উমায়ের ইবনে আব্বাসের ছাত্র) । সহীহ বুখারী হাদীস নং ৮৫৯। উপরুক্ত দলীলসমূহ দ্বারা স্পষ্ট যে, নবীদের স্বপ্ন ওহী ও সত্য। উম্মতের সকলে এ ব্যাপারে একমত। আমরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্বপ্ন দেখি। এই সব স্বপ্নের ব্যাপারে আমাদের কি বিশ্বাস রাখতে সে বিষয়ে আবু সাইদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
إِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ رُؤْيَا يُحِبُّهَا فَإِنَّمَا هِيَ مِنَ اللهِ فَلْيَحْمَدِ اللَّهَ عَلَيْهَا وَلْيُحَدِّثْ بِهَا ، وَإِذَا رَأَى غَيْرَ ذَلِكَ مِمَّا يَكْرَهُ فَإِنَّمَا هِيَ مِنَ الشَّيْطَانِ فَلْيَسْتَعِذْ مِنْ شَرِّهَا ، وَلاَ يَذْكُرْهَا لأَحَدٍ فَإِنَّهَا لاَ تَضُرُّهُ
তোমাদরে কউে যদি এমন স্বপ্ন দখেে যা সে পছন্দ কর,ে তাহলে জানবে যে তা আল্লাহর পক্ষ থকেে দখোনো হয়ছে। তখন সে যনে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করে ও অন্যদরে কাছে র্বণনা কর। আর যদি স্বপ্ন অপছন্দরে হয়, তাহলে বুঝে নবেে এটা শয়তানরে পক্ষ থকেে হয়ছে। তখন সে শয়তানরে ক্ষতি থকেে আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় র্প্রাথনা করবে আর এ স্বপ্নরে কথা কারো কাছে বলবে না। কারণ খারাপ স্বপ্ন তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৯৮৫ আবু কাতাদাহ রা থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ مِنَ اللَّهِ فَإِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ مَا يُحِبُّ فَلاَ يُحَدِّثُ بِهَا إِلاَّ مَنْ يُحِبُّ وَإِنْ رَأَى مَا يَكْرَهُ فَلْيَتْفِلْ عَنْ يَسَارِهِ ثَلاَثًا وَلْيَتَعَوَّذْ بِاللَّهِ مِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشَرِّهَا وَلاَ يُحَدِّثْ بِهَا أَحَدًا فَإِنَّهَا لَنْ تَضُرَّهُ
সত্য স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে । যখন তোমাদের কেউ এমন স্বপ্ন দেখে যা সে ভালবাসে তাহলে তাহলে তা এমন লোকদের কাছেই শুধু বলবে যে তাকে ভালবাসে। আর যদি এমন স্বপ্ন দেখে যা সে অপছন্দ করে তাহলে বাম দিকে তিন বার থুথু ফেলে এবং আল্লাহর কাছে শয়তানের অনিষ্ঠতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবে। আর এই স্বপ্নের কথা কারো কাছে বলবে না। কেননা তা তার কোন ক্ষতিকরতে পারবে না। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৬১। হযরত জাবির রা. বলেন,
جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ رَأَيْتُ فِى الْمَنَامِ كَأَنَّ رَأْسِى قُطِعَ. قَالَ فَضَحِكَ النَّبِىُّ -صلى الله عليه وسلم- وَقَالَ ্র إِذَا لَعِبَ الشَّيْطَانُ بِأَحَدِكُمْ فِى مَنَامِهِ فَلاَ يُحَدِّثْ بِهِ النَّاسَ
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামরে কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি স্বপ্নে দখেছে, আমার মাথা কটেে ফলো হয়ছে। এ কথা শুনে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হসেে ফলেলনে। আর বললনে : ঘুমরে মধ্যে শয়তান তোমাদরে কারো সাথে যদি দুষ্টুমি কর, তবে তা মানুষরে কাছে বলবে না। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৬৮। হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
إن الرؤيا تقع على ما تعبر و مثل ذلك رجل رفع رجله فهو ينتظر فهو متى يضعها فإذا رأى أحدكم رؤيا فلا يحدث بها إلا ناصحا أو عالما
অর্থ: স্বপ্ন ব্যখ্যা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হয়। তাই যখন তোমাদের কেউ স্বপ্ন দেখে সে যেন কল্যানকামী ব্যক্তি ও আলেম ব্যাতিত অন্য কারো নিকট তা বর্ণনা না করে। মুসতাদরিকে হাকেম, হাদীস নং ৮১১৭। হাকেম রহ. বলেছেন হাদীসটর সনদ সহীহ। আল্লামা জাহাবী রহ. তালখীস এর মধ্যে হাদীরটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ আলবানীও বলেছেন, হাদীসটি সহীহ। (সহীহ ও জয়ীফ জামিউস সগীর, হাদীস নং ২৪৯২) উপরের হাদীসগুলোতে থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, ভাল স্বপ্ন আল্লাহ তায়ালার দান। ভাল স্বপ্ন দেখলে আল্লাহর প্রসংসা করতে হবে এবং প্রিয় মানুষদেরকে বলা যবে । খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে হয়। এমন স্বপ্ন দেখলে বাম দিকে তিন বার থুথু ফেলতে হবে এবং শয়তানের অকল্যান থেকে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে। আর খারাপ স্বপ্ন কারো কাছে বলা যাবে না। তবে মনে রাখতে খারাপ স্বপ্ন দেখলে মানুষের কোন ক্ষতি হয় না বা তা মানুষকে কোন ক্ষতি করতে পারে না। এই অর্থের আরো হাদীস বিভিন্ন সাহাবী থেকে সহীহসূত্রে বর্ণিত আছে। হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : الرُّؤْيَا الْحَسَنَةُ مِنَ الرَّجُلِ الصَّالِحِ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ
রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, সৎ লোকদের থেকে ভাল স্বপ্ন নবুওয়াতের ৪৬ ভাগের এক ভাগ। (অর্থাৎ সত্য স্পষ্ট)। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৯৮৩। কোন হাদীসে ৪৫ ভাগের একভাগ আবার কোন হাদীসে ৭০ ভাগের এক ভাগের কথাও বর্ণিত আছে। এই হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম নববী বলেন, আল্লামা খাত্তবী রহ. বলেছেন
وانما كانت جزءا من أجزاء النبوة في حق الأنبياء دون غيرهم وكان الأنبياء صلوات الله وسلامه عليهم يوحي اليهم في منامهم كما يوحي اليهم في اليقظة
অর্থ: এটা নবীদের ক্ষেত্রে প্রযোয্য, অন্যান্যদের ক্ষেত্রে নয়। কেননা নবীদের নিকট জাগ্রত অবস্থায় যেমন ওহী আসত তেমনি ঘুমের ভিতরেও আসত। শরহে নববী আলা মুসলিম, হাদীস নং ২২৬৪। এই হাদীসের অবশ্য অন্যান্য ব্যাখ্যাও আছে। অনেকে এই হাদীসের অপব্যাখ্যা করে ওলী, দরবেশ কিংব আল্লাহর প্রিয় মানুষদের স্বপ্নকে দলীল হিসাবে সাব্যস্ত করতে চায়। কিন্তু এটা ঠিক না। নবী-রাসূণগণ বাদে অন্যদের স্বপ্ন দলীল হতে পারে না, সুন্নত হতে পারে না। স্বপ্নের মাধ্যমে কোন ইবাদত সাব্যস্ত হয় না, তদ্রুপ স্বপ্নের মাধ্যমে কোন হাদীসের সত্যতাও যাচাই করা যায় না। স্বপ্ন একান্ত ব্যক্তিগত আবেগ অনুভুতির ব্যাপার। কাশফ, ইলহামের ব্যাপারেও একই কথা প্রযোয্য। এই বিষয়ে আরো জানতে পড়ুন ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত এহ্ইয়াইস সুনান বইয়ের ২০৮ থেকে ২১৪ পৃষ্ঠা । আল্লহ তায়ালা আমাদের সঠিক বিষয় বুঝার তাওফীক দিন, আমীন।
প্রশ্নঃ 75
স্যার আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। আমার প্রশ্ন হলো, মৃত্যুর পর আত্মার উপর না শরীরের শাস্তি হবে?
20 Dec 2025
কবরে আযাব হবে, সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত। আত্মার উপর হবে নাকি শরীরে উপর হবে তা স্পষ্ট নয়। তবে মূল আযাব আত্মার উপর হবে আর আত্মার সাথে শরীরের একটি সম্পর্ক থাকেবে বলে আলেমগণ মনে করেন। বিস্তারিত নিম্নে: অনেকগুলো সহীহ হাদীসে কবরের আযাব হওয়ার কথা উল্লোখ আছে। হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত হাদীস,
أَنَّ يَهُودِيَّةً دَخَلَتْ عَلَيْهَا فَذَكَرَتْ عَذَابَ الْقَبْرِ فَقَالَتْ لَهَا أَعَاذَكِ اللَّهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ فَسَأَلَتْ عَائِشَةُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ عَذَابِ الْقَبْرِ فَقَالَ نَعَمْ عَذَابُ الْقَبْرِ قَالَتْ عَائِشَةُ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدُ صَلَّى صَلاَةً إِلاَّ تَعَوَّذَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْر زَادَ غُنْدَرٌ عَذَابُ الْقَبْرِ حَقٌّ
অর্থ: একজন ইহুদী মহিলা তাঁর (আয়েশা রা.) কাছে এসে কবরের আযাবের কথা উল্লেখ করে তাঁকে বললেন, আল্লাহ তোমাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন। আয়েশা রা. রাসূলুল্লাহ সা. কে কবরের আযাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি বললেন, হ্যাঁ, কবরের আযাব আছে। আয়েশা রা. বলেন, আমি দেখেছি রাসূলুল্লাহ সা. যখনই নামায পড়তেন তখনই কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাইতেন। অন্য বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, কবরের আযাব সত্য। সহীহ বুখারী,হাদীস নং ১৩৭২। আযাব কিভাবে হবে সে ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসগুলো নিম্নেরূপ:
عَنْ زَاذَانَ عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ : خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فِى جَنَازَةِ رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْرِ وَلَمَّا يُلْحَدْ فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- وَجَلَسْنَا حَوْلَهُ كَأَنَّمَا عَلَى رُءُوسِنَا الطَّيْرُ وَفِى يَدِهِ عُودٌ يَنْكُتُ بِهِ فِى الأَرْضِ فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ : ্র اسْتَعِيذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا - زَادَ فِى حَدِيثِ جَرِيرٍ هَا هُنَا - وَقَالَ : وَإِنَّهُ لَيَسْمَعُ خَفْقَ نِعَالِهِمْ إِذَا وَلَّوْا مُدْبِرِينَ حِينَ يُقَالُ لَهُ : يَا هَذَا مَنْ رَبُّكَ وَمَا دِينُكَ وَمَنْ نَبِيُّكَ قَالَ هَنَّادٌ قَالَ : وَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِهِ فَيَقُولاَنِ لَهُ : مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ : رَبِّىَ اللَّهُ. فَيَقُولاَنِ لَهُ : مَا دِينُكَ فَيَقُولُ : دِينِى الإِسْلاَمُ. فَيَقُولاَنِ لَهُ : مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِى بُعِثَ فِيكُمْ قَالَ فَيَقُولُ : هُوَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم-. فَيَقُولاَنِ : وَمَا يُدْرِيكَ فَيَقُولُ : قَرَأْتُ كِتَابَ اللَّهِ فَآمَنْتُ بِهِ وَصَدَّقْتُ زَادَ فِى حَدِيثِ جَرِيرٍ : فَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ (يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا) الآيَةَ. ثُمَّ اتَّفَقَا قَالَ : فَيُنَادِى مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ : أَنْ قَدْ صَدَقَ عَبْدِى فَأَفْرِشُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا إِلَى الْجَنَّةِ وَأَلْبِسُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ قَالَ : فَيَأْتِيهِ مِنْ رَوْحِهَا وَطِيبِهَا قَالَ : وَيُفْتَحُ لَهُ فِيهَا مَدَّ بَصَرِهِ قَالَ : وَإِنَّ الْكَافِرَ فَذَكَرَ مَوْتَهُ قَالَ : وَتُعَادُ رُوحُهُ فِى جَسَدِهِ وَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِهِ فَيَقُولاَنِ : مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ : هَاهْ هَاهْ هَاهْ لاَ أَدْرِى. فَيَقُولاَنِ لَهُ : مَا دِينُكَ فَيَقُولُ : هَاهْ هَاهْ لاَ أَدْرِى. فَيَقُولاَنِ : مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِى بُعِثَ فِيكُمْ فَيَقُولُ : هَاهْ هَاهْ لاَ أَدْرِى. فَيُنَادِى مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ : أَنْ كَذَبَ فَأَفْرِشُوهُ مِنَ النَّارِ وَأَلْبِسُوهُ مِنَ النَّارِ وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا إِلَى النَّارِ قَالَ : فَيَأْتِيهِ مِنْ حَرِّهَا وَسَمُومِهَا قَالَ : وَيُضَيَّقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى تَخْتَلِفَ فِيهِ أَضْلاَعُهُ زَادَ فِى حَدِيثِ جَرِيرٍ قَالَ : ثُمَّ يُقَيَّضُ لَهُ أَعْمَى أَبْكَمُ مَعَهُ مِرْزَبَّةٌ مِنْ حَدِيدٍ لَوْ ضُرِبَ بِهَا جَبَلٌ لَصَارَ تُرَابًا قَالَ : فَيَضْرِبُهُ بِهَا ضَرْبَةً يَسْمَعُهَا مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ إِلاَّ الثَّقَلَيْنِ فَيَصِيرُ تُرَابًا قَالَ ثُمَّ تُعَادُ فِيهِ الرُّوحُ
অর্থ: হযরত বারা ইবনে আযেব রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সা. এর সাথে এক আনসারী ব্যক্তির জানাযার জন্য বের হলাম, আমরা যখন সেখানে পৈাছলাম তখন পর্যন্ত কবর খনন সম্পন্ন হয় নি। তখন রাসূলুল্লাহ সা. বসলেন, আমরাও তাঁর চার পাশে বসে গেলাম, যেন আমাদের মাথার উপর পাখি। তাঁর হাতে একটি কাঠি ছিল, যা দ্বারা তিনি মাটিতে দাগ কাটছিলেন। অতঃপর তিনি তার মাথা উঠালেন এবং বললেন তোমরা আল্লাহর কাছে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাও। তিনি দুইবার বা তিনবার তা বললেন। ...অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি বললেন, (মৃত ব্যক্তির রুহ) যে ফেরেস্তা তার সাথে চলে তাদের জুতার পায়ের আওয়াজ শুনতে পান। ফেরেস্তারা তাকে বলে তোমার প্রতি পালক কে? তোমার ধর্ম কি? এই ব্যক্তি কে যাকে তোমাদের মাঝে পাঠানো হয়েছিল? আরেক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন,তার কাছে দুইজন ফেরেস্তা এসে বসবেন ও বলবেন, তোমার প্রতিপালক কে? সে বলবে আমার রব আল্লাহ। এরপর ফেরেস্তাদ্বয় জিজ্ঞাসা করবেন, তোমার ধর্ম কি? সে বলবে আমার দ্বীন ইসলাম। এরপর তারা জিজ্ঞাসা করবেন, এই ব্যক্তি কে যাকে তোমাদের মাঝে পাঠানো হয়েছিল? সে বলবে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ফেরেস্তারা বলবেন, তুমি কিভাবে এগুলো জানলে? সে বলবে আমি আল্লাহর কিতাব দেখেছি, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি এবং তাকে সত্য বলে মনে করেছি। এক বর্ণনায় আছে এটাই হল আল্লাহ তায়ালার বাণী আল্লাহ তায়ালা ঈমানদারদের পা কে দৃঢ় করবেন... এর অর্থ। তখন আকাশ থেকে একজন ঘোষনাকারী ঘোষনা করবেন, আমার বান্দা সত্য বলেছে, তোমরা তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছেয়ে দাও, তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের পোশাক বিছিয়ে দাও। তিনি বলেন, তার কাছে সুঘ্রান আসবে এবং তার দৃষ্টি সীমা বৃদ্ধি পাবে। রাসূলুল্লাহ সা. কাফেরের মৃত্যুর অবস্থা বর্ণনা করে বলেন, তার রুহকে তার শরীরের মধ্যে প্রবেশ করানো হবে। এরপর দুজন ফেরেস্তা তার কাছে বসে জিজ্ঞাসা করবেন, তোমর প্রতিপালক কে? সে বলবে, হায়,হায়, আমি জানি না। এরপর ফেরেস্তারা প্রশ্ন করবে, তোমার ধর্ম কি? সে বলবে, হায়, হায়, আমি জানি না। তারপর ফেরেস্তারা প্রশ্ন করবে, এই ব্যক্তি কে যাকে তোমাদের নিকট পাঠানো হয়েছিল? সে বলবে, হায়, হায়, আমি জানি না। তখন আকাশ থেকে একজন ঘোষনাকারী বলবে, সে মিথ্যা বলেছে, তাকে জাহন্নামের বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জাহান্নামের পোশাক পরিয়ে দাও, তার দিকে জাহান্নামের একটি দরজা খুলে দাও। তারদিকে আগুন আসতে থাকবে। তার উপর তার কবর এমন ভাবে সংকীর্ণ হয়ে যাবে যে, তার দুই পার্শ্ব একে অপরের ভিতর ঢুকে যাবে। আরেক বর্ণনায় আছে, তার জন্য একজন বোবা অন্ধ ফেরেস্তা নিযুক্ত করা হবে, তার কাছে থাকবে লোহর লাঠি, যখন তা দ্বারা কোন পাহাঢ়কে আঘাত করা হয় তখন পাহাঢ় মাটি হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, তা দ্বারা সে তাকে এমন ভাবে আঘাত করবে যে, মানুষ ও জ্বীন ছাড়া পূর্ব-পশ্চিমের সব প্রাণী তা শুনতে পাবে। তিনি বলেন, তারপর আবার তার ভিতরে রুহ প্রবেশ করানো হবে। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৭৫৩। হাদীসটি সহীহ। শাইখ আলবানী সহ মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا قُبِضَ أَتَتْهُ مَلاَئِكَةُ الرَّحْمَةِ بِحَرِيرَةٍ بَيْضَاءَ ، فَتَقُولُ : اخْرُجِي إِلَى رَوْحِ اللَّهِ ، فَتَخْرُجُ كَأَطْيَبِ رِيحِ مِسْكٍ حَتَّى إِنَّهُمْ لِيُنَاوِلُهُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا يَشُمُّونَهُ ، حَتَّى يَأْتُونَ بِهِ بَابَ السَّمَاءِ ، فَيَقُولُونَ : مَا هَذِهِ الرِّيحُ الطَّيِّبَةُ الَّتِي جَاءَتْ مِنَ الأَرْضِ ؟ وَلاَ يَأْتُونَ سَمَاءً إِلاَّ قَالُوا مِثْلَ ذَلِكَ ، حَتَّى يَأْتُونَ بِهِ أَرْوَاحَ الْمُؤْمِنِينَ فَلَهُمْ أَشَدُّ فَرَحًا بِهِ مِنْ أَهْلِ الْغَائِبِ بِغَائِبِهِمْ ، فَيَقُولُونَ : مَا فَعَلَ فُلاَنٌ ؟ فَيَقُولُونَ : دَعُوهُ حَتَّى يَسْتَرِيحَ ، فَإِنَّهُ كَانَ فِي غَمِّ الدُّنْيَا ، فَيَقُولُ : قَدْ مَاتَ ، أَمَا أَمَاتَكُمْ ؟ فَيَقُولُونَ : ذُهِبَ بِهِ إِلَى أُمِّهِ الْهَاوِيَةِ ، وَأَمَّا الْكَافِرُ فَيَأْتِيهُ مَلاَئِكَةُ الْعَذَابِ بِمُسْحٍ ، فَيَقُولُونَ : اخْرُجِي إِلَى غَضِبِ اللَّهِ ، فَتَخْرُجُ كَأَنْتَنِ رِيحِ جِيفَةٍ فَتَذْهَبُ بِهِ إِلَى بَابِ الأَرْضِ.
অর্থ: আবু হুরায়রা রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, যখন মূমিন মৃত্যু বরণ করেন তখন রহমতের ফেরেস্তারা সাদা রেশমী কাপড় নিয়ে তার কাছে আসেন এবং বলেন, আল্লাহ শান্তির দিকে বের হও। তখন সে এমন অবস্থায় বের হয় যেন উত্তম সুগন্ধি। আর ফেরেস্তারা একে অপরে সেই সুগন্ধি গ্রহন করেন। এভাবে তারা তাকে নিয়ে আকাশের দরজার কাছে নিয়ে আসে। (সেখানে দায়িত্ব থাকা ফেরেস্তারা) বলেন, এই উত্তম সুগন্ধি কিসের যা পৃথিবী থেকে এসেছে? তারা যে আকাশের কাছেই যাবে তার দায়িত্ব থাকা ফেরেস্তারা অনুরুপ বলবেন। এভাবে তারা তাকে মূমিনদের রুহুর কাছে নিয়ে আসে, তার তাকে দেখে ফেরেস্তাদের থেকেও বেশী খুশি হয়। তারা জিজ্ঞাসা করবে, অমুকের খবর কি? ফেরেস্তারা বলবে, তাকে ছেড়ে দাও, সে বিশ্রাম নিবে কেননা সে দুনিয়ার কষ্টের মধ্যে ছিল। সে (রুহ) বলবে, সে তো মারা গেছে, তোমাদের কাছে আসে নি? তারা বলবে তাকে হাবিয়া (একটি জাহান্নামের নাম) নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পক্ষান্তবে কাফের, তাদের কাছে আযাবের ফেরেস্তারা দুর্গন্ধ কাপড় নিয়ে তার কাছে আসে আর বলে, আল্লাহর ক্রোধের দিকে বের হও। তখন সে এমন অবস্থায় বের হয় যেন তা পঁচা দুর্গন্ধ কাপড়। তারা তাকে নিয়ে পৃথিবীর দরজায় নিয়ে যায়। সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং ৩০১৪। শাইখ আলবানীসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। দেখন সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব,হাদীস নং৩৫৫৯ ও সিলসিলাতুস সহীহাহ হাদীস নং ১৩০৯। উপরুক্ত হাদীসদুটি দ্বারা বুঝা যায়, আযাব রুহ এবং শরীর উভয়টির উপরই হবে। এই সম্পর্কে আল্লামা ইবনে তাইমিয়া বলেন,
فَاعْلَمْ أَنَّ مَذْهَبَ سَلَفِ الْأُمَّةِ وَأَئِمَّتِهَا أَنَّ الْمَيِّتَ إذَا مَاتَ يَكُونُ فِي نَعِيمٍ أَوْ عَذَابٍ وَأَنَّ ذَلِكَ يَحْصُلُ لِرُوحِهِ وَلِبَدَنِهِ وَأَنَّ الرُّوحَ تَبْقَى بَعْدَ مُفَارَقَةِ الْبَدَنِ مُنَعَّمَةً أَوْ مُعَذَّبَةً وَأَنَّهَا تَتَّصِلُ بِالْبَدَنِ أَحْيَانًا فَيَحْصُلُ لَهُ مَعَهَا النَّعِيمُ وَالْعَذَابُ . ثُمَّ إذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ الْكُبْرَى أُعِيدَتْ الْأَرْوَاحُ إلَى أَجْسَادِهَا وَقَامُوا مِنْ قُبُورِهِمْ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ ... وَهَذَا كُلُّهُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ عِنْدَ عُلَمَاءِ الْحَدِيثِ وَالسُّنَّةِ
অর্থ: জেনে রাখা দরকার যে, পূর্ববর্তী উম্মাত এর্ব ইমামদের মত হল, মৃত্যুর পরে মানুষ আযাব অথব নিয়ামতের মধ্যে থাকবে। আর এটা তার রুহ এবং শরীরের সাথে সম্পৃক্ত হবে। রুহ শরীর থেকে বিচ্ছন্ন অবস্থায় আযাব অথবা নিয়ামতের মধ্যে থাকবে। তবে কখনো কখনো শরীরের সাথে যুক্ত হবে আর তখন তার রুহের সাথে শরীরো আযাব বা নিয়ামাতে শরীক হবে। এরপর যখন কিয়ামত হবে তখন রুহগুলোকে শরীরের মধ্যে প্রবেশ করানো হবে আর তারা আল্লাহ রব্বুল আলামীনের উদ্দেশ্যে কবর থেকে উঠবে। সুন্নাহ ও হাদীসের আলেমগণ একথার উপর ঐক্যমত। মাজমাউল ফাতাওয়া,৪/২৮৪। শাইখ উসাইমিন রহ. বলেন,
الأصل أنه على الروح ، لأن الحكم بعد الموت للروح ، والبدن جثة هامدة ، ولهذا لا يحتاج البدن إلى إمداد لبقائه ، فلا يأكل ولا يشرب ، بل تأكله الهوام ، فالأصل أنه على الروح
অর্থ. মূল কথা হল আযাব রুহের উপরই হবে । কেননা মৃত্যুর পর হুকুম রহের উপর। আর শরীর তখন একটা অষাঢ় দেহ। এই কারণেই তখন তা (শরীর) বাকী থাকার জন্য কোন সাহায্যের মুকাপেক্ষী হয় না, কোন কিছু খায় না, পান করে না। বরং পোকমাকড়ই তাকে খেয়ে ফেলে। সুতরাং মূল হল আযাব রুহুর উপরই হবে। উপরের আলোচনা থেকে জানা গেল যে, কবরের আযাব হবে এটা সত্য। এটাকে অস্বীকার করার উপায় নেই। আর আযাব মূলত রুহর উপর হবে তবে রুহুর সাথে শরীরের একটা গভীর সংযোগ থাকবে। আল্লাহ ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 57
আসসালামু আলাইকু,স্যার আপনার মতামতের জন্য একটি জরুরী বিষয় তুলে ধরলাম দয়া করে কুরআন, হাদিসের আলকে মতামত দিবেন ! যদি কেও বা কারো দর্শন বলে যে, কালিমা তয়াবা লা ইলাহা ইল্লা আল্লাহ এর সাথে মুহাম্মাদুর রাসুল উল আল্লাহ পড়লে শিরক হবে তাহলে কি করনীয়?
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
এপর্যন্ত কোন ব্যক্তি এবং কারো দর্শন এধরনের কথা বলেনি এবং কালেমায়ে তায়্যিবায় লা ইলাহা ইল্লা আল্লাহ এর সাথে মুহাম্মাদুর রাসুল উল আল্লাহ পড়লে শিরক হবে এধরনের কোন ঈঙ্গিত কোরআন হাদীসে কোথাও নেই। এক্ষেত্রে আপনার উচিৎ হল, উনি যেই রাজনৈতিক দলের ভক্ত সেই দলের কোন আলেমকে বিষয়টি অবহিত করে তাকে বোঝানের চেষ্টা করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।
প্রশ্নঃ 56
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতু্ল্লাহ। পূর্ববতী নবীদের উপর ঈমান আনা কী জুরুরী?
20 Dec 2025
ওয়াআলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ । জনাব গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নটি করার জন্য আল্লাহ আপনাকে দুনিয়া ও আখেরাতে উত্তম প্রতিদান দান করুন। নিম্নেআপনার উল্লেখিত বিষয়ে আলোচনা করা হল। যেমনিভাবে আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর উপর ঈমান আনা জরুরী এবং ঠিক তেমনি পূর্ববর্তি নবীগণের উপরও ঈমান আনা অনুরুপভাবে জরুরী। এবং তা দ্বীনের একটি রুকন। এমনকি তাদের একজনকে অস্বীকার করা প্রত্যেক নবীকে অস্বীকার করার শামিল। কোরআন ও হাদীসের বিভিন্ন জায়গায় এব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোরাআনের আলোকেঃ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا آمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي نَزَّلَ عَلَى رَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي أَنْزَلَ مِنْ قَبْلُ وَمَنْ يَكْفُرْ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا (النساء:136)
অর্থঃ হে ঈমানদারগণ তোমরা ঈমান আনয়ন কর আল্লাহর প্রতি, তাঁর রাসূল (সাঃ ) এর প্রতি, ঐ কিতাবের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাঁর রাসূল ( সাঃ) এর উপর এবং ঐ কিতাব সমূহের প্রতি যা তিনি তাঁর পূর্বে নাযিল করেছেন। আর যে ব্যক্তি অস্বীকার করবে আল্লাহকে, তাঁর ফিরিস্তাদেরকে, তাঁর কিতাব সমূহকে, তাঁর রাসূলগণকে আর শেষ দিবসকে তারা অবশ্যই তারা চরমপর্যায়ে বিভ্রান্ত। সূরা, আন-নিসা, আয়াত, ১৩৬। অন্য একটি আয়াতে আল্লাহ বলেন:
قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِنْ رَبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ
অর্থঃ তোমরা বল আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি, এবং যা নাযিল হয়েছে আমাদের প্রতি, ইব্রাহীম, ঈসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব, ও তাঁর বংশধরদের নিকট তার প্রতি। এবং যা তাঁদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে মূসা, ঈসা ও অন্যান্য নবীকে তার প্রতি। আমরা তাদের মধ্যে কোন পার্থক্য করিনা।সূরা বাকারা, আয়াত, ১৩৬। হাদীসের আলোকেঃ
عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه ، ومما جاء فيه : ( قَالَ : فَأَخْبِرْنِي عَنْ الْإِيمَانِ ؟ قَالَ : أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ ، وَمَلَائِكَتِهِ ، وَكُتُبِهِ ، وَرُسُلِهِ ، وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ، وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ
অর্থঃ (ওমর ইবনে খাত্তার রাঃ থেকে বর্ণীত এবং এটা হযরত জীবরিল আঃ ও নবী সাঃ এর মাঝে কথপোকথন মূলক) তিনি ( জীবরিল আঃ) বললেন : আমাকে ঈমান সম্পর্কে অবহিত করুন। তখন তিনি বললেন :আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেস্তাদের প্রতি, তাঁর কিতাব সমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি এবং শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনয়ন করা । আর ঈমান আনয়ন করা তাকদীরের ভাল মন্দের প্রতি।মুসলিম শরীফ, হাদীস নং ১০২। উপরোক্ত আয়াতদ্বয়ে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে আমাদের নবী (সাঃ) এর প্রতি ঈমান আনার আদেশ দেয়ার পাশাপাশি পূর্ববর্তি নবীদের উপরও ঈমান আনার আদেশ করেছেন। এবং হাদীসে জীবরীলের মধ্যে রাসূল (সাঃ) কে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার পর তিনি রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনার কথা উল্লেখ করেছেন, যা দ্বারা বুঝা যায় আমাদের নবী সাঃ এর উপর ঈমান আনা যেমন জরুরী ঠিক তেমনিভাবে পূর্ববর্তি নবীদের উপরও ঈমান আনা জরুরী। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন । আমীন।
প্রশ্নঃ 37
আস-সালামু আলাইকুম। মুহতারাম, আরশের উপর আল্লাহর সমাসীন হওয়ার বিষয়ে স্পষ্টভাবে জানতে চাই।
20 Dec 2025

ওয়া আলাইকুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে মুবারকবাদ। মহান আল্লাহর বিশেষণ বিষয়ে চার ইমামসহ পূর্ববর্তী ইমামগণের মূলণীতি হলো কুরাআন ও হাদীসে মহান আল্লাহর বিষয়ে যা বলা হয়েছে তা সরল অর্থে বিশ্বাস করা, তুলনা ও ব্যাখ্যা বর্জন করা। বিষয়টি বিস্তারিত জানতে ইমাম আবূ হানীফা (রাহ) রচিত আলি-ফিকহুল আকবার: বঙ্গানুবাদ ও ব্যাখ্যা বইটি পড়তে আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। এখানে মহান আল্লাহর আরশের উপর ইসতিওয়া প্রসঙ্গটি উল্লেখ করছি। কুরআনে সাত স্থানে বলা হয়েছে যে, মহান আল্লাহ আরশের উপর ইসতিওয়া করেছেন।আরবীতে কোনো কিছুর উপর ইসতিওয়া অর্থ তার ঊর্ধ্বে অবস্থান (rise over, mount, settle)। সালাতের নিষিদ্ধ সময় বর্ণনা করে রাসূলুল্লাহ (সা.) একজন প্রশ্নকারীকে বলেন:

حَتَّى تَسْتَوِىَ الشَّمْسُ عَلَى رَأْسِكَ كَالرُّمْحِ ، فَإِذَا اسْتَوَتْ عَلَى رَأْسِكَ كَالرُّمْحِ فَدَعِ الصَّلاَةَ

(সালাত বৈধ থাকবে) যতক্ষণ না সূর্য তোমার মাথার উপরে তীরের মত ইসতিওয়া (ঊর্ধ্বে অবস্থান) করবে। যখন সূর্য তোমার মাথার উপর তীরের মত ইসতিওয়া (ঊর্ধ্বে অবস্থান) করবে তখন সালাত পরিত্যাগ করবে। আমরা ইসতিওয়া-র অনুবাদে উপরে অবস্থান বা অধিষ্ঠান শব্দ ব্যবহার করব, ইনশা আল্লাহ। জাহমী-মুতাযিলীগণ এ বিশেষণ অস্বীকার করেছেন। তারা দাবি করেন, আরশের উপরে অধিষ্ঠান কোনোভাবেই মহান আল্লাহর বিশেষণ হতে পারে না; কারণ মহান আল্লাহর জন্য এভাবে অবস্থান পরিবর্তন বা কোনো কিছুর উপরে স্থিতি গ্রহণের মত মানবীয় কর্ম অশোভনীয় এবং তাঁর অতুলনীয়ত্বের সাথে সাংঘর্ষিক। এছাড়া মহান আল্লাহ বলেছেন যে, তিনি বান্দার সাথে ও নিকটে।কাজেই তিনি আরশের উপর থাকতে পারেন না। বরং তাঁরা দাবি করেন যে, মহান আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান; তাঁকে কোনো স্থান বা দিকে সীমাবদ্ধ করা তাঁর অতুলনীয়ত্বের পরিপন্থী। তারা দাবি করেন, আরশে অধিষ্ঠান গ্রহণের অর্থ আরশের নিয়ন্ত্রণ, দখল বা ক্ষমতা গ্রহণ। সাহাবী, তাবিয়ী ও তাবি-তাবিয়ী ইমামগণ মহান আল্লাহর আরশের উপর অধিষ্ঠান বা ইসতিওয়ার বিশেষণটি সরল অর্থে গ্রহণ করেছেন। দ্বিতীয় হিজরী শতক থেকেই তাবিয়ী ও তাবি-তাবিয়ী ইমামগণ এবং পরবর্তী মুহাদ্দিস ও ফকীহগণ জাহমীগণের এ মত কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং একে কুরআন অস্বীকার বলে গণ্য করেছেন। এ বিষয়ে তাঁরা বলেন: মহান আল্লাহর আরশের উপরে অবস্থান বা আরশের ঊর্ধ্বে থাকার বিশেষণটি কুরআন ও হাদীস দ্বারা দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণিত। তবে এর প্রকৃতি ও স্বরূপ অজ্ঞাত। অজ্ঞাতকে অজ্ঞাত রেখে কুরআনের অন্যান্য বক্তব্যের ন্যায় এ বক্তব্যও স্বীকার ও বিশ্বাস করা মুমিনের জন্য জরুরী। তাঁরা বলেন: মহান আল্লাহ আরশের উপর অধিষ্ঠান গ্রহণ করেন। তাঁর এ অধিষ্ঠান বা অবস্থানের স্বরূপ আমরা জানি না এবং জানতে চেষ্টাও করি না। বরং বিশ্বাস করি যে, তাঁর এ অধিষ্ঠান কোনোভাবেই কোনো সৃষ্টির বিশেষণ বা কর্মের মত নয়। তাঁর অতুলনীয়ত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থান তিনি গ্রহণ করেন। যখন মানুষ কল্পনা করে যে, মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মতই; তিনি একই সাথে আরশের উপরে এবং বান্দার নিকটবর্তী হতে পারেন না- তখনই কুরআনের এ দুটি নির্দেশনার মধ্যে বৈপরীত্য আছে বলে কল্পনা হয়। মূল বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মহান আল্লাহ সৃষ্টির মত নন। কাজেই নৈকট্য ও ঊর্ধ্বত্ব উভয়কে সমানভাবে বিশ্বাস করে এর স্বরূপ ও প্রকৃতি আল্লাহর উপর ন্যস্ত করলে কুরআনের সকল নির্দেশনা বিশ্বাস ও মান্য করা হয়। আর নৈকট্যের অজুহাতে তাঁকে সর্বত্র বিরাজমান বলে দাবি করলে, তিনি কোথায় আছেন তা জানি না বলে দাবি করলে, আরশ কোথায় তা জানি না বলে দাবি করলে বা তাঁর আরশের উপর অধিষ্ঠানের আয়াতগুলো ব্যাখ্যার নামে অস্বীকার করলে কুরআন ও হাদীসের অগণিত বক্তব্য অস্বীকার করা হয়, যা কুফরীর নামান্তর। ইমাম আবূ হানীফা রহিমাহুল্লাহ তাঁর ওসীয়াত গ্রন্থে লিখেছেন:

نُقِرُّ بِأَنَّ اللهَ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَكُوْنَ لَهُ حَاجَةٌ إِلَيْهِ وَاسْتِقْرَارٌ عَلَيْهِ، وَهُوَ الْحَافِظُ لِلْعَرْشِ وَغَيْرِ الْعَرْشِ، فَلَوْ كَانَ مُحْتَاجاً إِلَيْهِ لَمَا قَدِرَ عَلَى إِيْجَادِ الْعَالَمِ وَتَدْبِيْرِهِ كَالْمَخْلُوْقِين، وَلَوْ صَارَ مُحْتَاجاً إِلَى الْجُلُوْسِ وَالْقَرَارِ فَقَبْلَ خَلْقِ الْعَرْشِ أَيْنَ كَانَ اللهُ تَعَالَى؟ فَهُوَ مُنَزَّهٌ عَنْ ذَلِكَ عُلُوًّا كَبِيْراً

আমরা স্বীকার ও বিশ্বাস করি যে, মহান আল্লাহ আরশের উপর অধিষ্ঠান গ্রহণ করেন, আরশের প্রতি তাঁর কোনোরূপ প্রয়োজন ব্যতিরেকে এবং আরশের উপরে স্থিরতা-উপবেশন ব্যতিরেকে। তিনি আরশ ও অন্য সবকিছুর সংরক্ষক। তিনি যদি আরশের মুখাপেক্ষী হতেন তাহলে বিশ্ব সৃষ্টি করতে ও পরিচালনা করতে পারতেন না, বরং তিনি মাখলূকের মত পরমুখাপেক্ষী হতেন। আর যদি তাঁর আরশের উপরে উপবেশন করার প্রয়োজনীয়তা থাকে তবে আরশ সৃষ্টির পূর্বে তিনি কোথায় ছিলেন? কাজেই আল্লাহ এ সকল বিষয় থেকে পবিত্র ও অনেক অনেক ঊর্ধ্বে। ইমাম আযমের এ বক্তব্য উল্লেখ করে মোল্লা আলী কারী হানাফী বলেন: এ বিষয়ে ইমাম মালিক (রাহ) খুবই ভাল কথা বলেছেন। তাঁকে আল্লাহর আরশের উপরে ইসিতিওয়া বা অধিষ্ঠান বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন:

اَلاِسْتِوَاءُ مَعْلُوْمٌ وَالْكَيْفُ مَجْهُوْلٌ وَالسُّؤَالُ عَنْهُ بِدْعَةٌ وَالإِيْمَانُ بِهِ وَاجِبٌ

ইসতিওয়া বা অধিষ্ঠান পরিজ্ঞাত, এর পদ্ধতি বা স্বরূপ অজ্ঞাত, এ বিষয়ে প্রশ্ন করা বিদআত এবং এ বিষয় বিশ্বাস করা জরুরী। ইমাম সায়িদ নাইসাপূরী হানাফী বলেন:

حكي عن أبي حنيفة t في رسالته إلى مقاتل بن سليمان جواب كتابه، في فصل منها: وأما قوله تعالى على العرش استوى حقا، فإنّما ننتهي من ذلك إلى ما وصف كتابُ ربنا في قوله تعالى {ثم استوى على العرش}، وتَعْلَمَنَّ أنه كما قال، ولا ندعي في استوائه على العرش علما، ونزعم أنه قد استوى، ولا يشبه استواؤه باستواء الخلق، فهذا قولنا في الاستواء على العرش

ইমাম আবূ হানীফা থেকে বর্ণিত, তিনি (তাঁর সমসাময়িক দেহে বিশ্বাসী মুফাস্সির) মুকাতিল ইবন সুলাইমান (১৫০ হি)-এর পত্রের উত্তরে লেখা তাঁর পত্রের একটি অনুচ্ছেদে লিখেন: মহান আল্লাহ বলেছেন: তিনি আরশের উপর ইসিতওয়া (অধিষ্ঠান বা অবস্থান) গ্রহণ করেছেন। সত্যই তিনি তা করেছেন। আমাদের রবের কিতাব এ বিষয়ে যা বর্ণনা করেছেন সেখানেই আমরা থেমে যাই। আল্লাহ বলেছেন: অতঃপর তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠান গ্রহণ করলেন। আপনি নিশ্চিত জানুন যে, তিনি যা বলেছেন বিষয়টি তা-ই। আমরা তাঁর অধিষ্ঠান বিষয়ে কোনো জ্ঞানের দাবি করি না। আমরা মনে করি তিনি অধিষ্ঠান গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর অধিষ্ঠান সৃষ্টির অধিষ্ঠানের অনুরূপ বা তুলনীয় নয়। আরশের উপর অধিষ্ঠানের বিষয়ে এটিই আমাদের বক্তব্য। আমরা বলেছি, মহান আল্লাহর আরশের ঊর্ধ্বে থাকা অস্বীকার করার জন্য জাহমী-মুতাযিলীগণ তাঁর নৈকট্য বিষয়ক আয়াতগুলোকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করে দাবি করতেন যে, তিনি আত্মার মত বা বাতাসের মত। আত্মা যেমন দেহের সর্বত্র বিদ্যমান এবং বাতাস যেমন পৃথিবীর সর্বত্র বিদ্যমান তেমনি মহান আল্লাহ সৃষ্টি জগতের সর্বত্র বিরাজমান। এভাবে তাঁরা আল্লাহকে অতুলনীয় বলে প্রমাণ করার দাবিতে তাঁকে আত্মা ও বাতাসের সাথে তুলনা করতেন। উপরন্তু তারা তাঁকে সৃষ্টির অংশ বানিয়ে ফেলেন। বিশ্বজগত সৃষ্টির পূর্বে মহান আল্লাহ তাঁর অনাদি সত্তায় বিদ্যমান ছিলেন। তিনি তাঁর সত্তার বাইরে ও নিম্নে বিশ্বজগত সৃষ্টি করেন। তাঁর সত্তা বিশ্বজগতের সর্বত্র বিরাজমান বলার অর্থ একথা দাবি করা যে, মহান আল্লাহ বিশ্ব জগতকে তাঁর সত্তার অভ্যন্তরে সৃষ্টি করেছেন!! অথবা বিশ্ব জগত সৃষ্টির পরে তিনি এর অভ্যন্তরে সর্বত্র প্রবেশ করেছেন!!! এগুলো সবই মহান আল্লাহর নামে ওহী-বহির্ভুত বানোয়াট অশোভনীয় ধারণা। আল্লাহর সত্তা যেমন সৃষ্টির মত নয়, তেমনি তাঁর বিশেষণাবলিও সৃষ্টির মত নয়। সকল মানবীয় কল্পনার ঊর্ধ্বে তাঁর সত্তা ও বিশেষণ। কাজেই মহান আল্লাহর আরশের উপরে অধিষ্ঠান এবং বান্দার নৈকট্য উভয়ই সত্য এবং মুমিন উভয়ই বিশ্বাস করেন। উভয়ের মধ্যে বৈপরীত্য কল্পনা করা মানবীয় সীমাবদ্ধতার ফসল। তদুপরি জাহমীদের এ বিভ্রান্তি দূর করতে ইমামগণ বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। এ প্রসঙ্গে ইমাম মালিক বলেন:

الله في السماء وعلمه في كل مكان لا يخلو من علمه مكان

আল্লাহ আসমানে (ঊর্ধ্বে) এবং তাঁর জ্ঞান সকল স্থানে। কোনো স্থানই মহান আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে নয়। ইমাম আযম আবূ হানীফা থেকেও অনুরূপ বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন ইমাম বাইহাকী।এ প্রসঙ্গে পঞ্চম হিজরী শতকের প্রসিদ্ধ মালিকী ফকীহ ও মুহাদ্দিস ইবন আব্দুল র্বার ইউসুফ ইবন আব্দুল্লাহ (৪৬৩ হি) বলেন:

علماء الصحابة والتابعين الذين حملت عنهم التآويل في القرآن قالوا في تأويل هذه الآية هو على العرش وعلمه في كل مكان وما خالفهم في ذلك أحد يحتج بقوله

সাহাবী-তাবিয়ী আলিমগণ, যাদের থেকে কুরআনের ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হয়েছে, তারা এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, তিনি আরশের উপরে এবং তাঁর জ্ঞান সর্বত্র। দলিল হিসেবে গ্রহণ করার মত একজন আলিমও তাঁদের এ মতের বিরোধিতা করেন নি। ইমামদ্বয়ের বক্তব্য থেকে সুস্পষ্ট যে, ইসতিওয়া শব্দটিকে তাঁরা সাধারণ আরবী অর্থেই গ্রহণ করেছেন। মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে এ শব্দটির অর্থ অস্পষ্ট, দ্ব্যর্থবোধক, মুতাশাবিহ, রূপক বা অজ্ঞাত বলে দাবি করেন নি। বরং তাঁরা বলেছেন যে, এ শব্দটির অর্থ জ্ঞাত বিষয়, এর মধ্যে কোনো অস্পষ্টতা, রূপকতা বা দ্ব্যর্থতা নেই। অর্থাৎ আরবী ভাষায় অন্যন্য সকল ক্ষেত্রে ইসতিওয়া আলা বলতে যা বুঝানো হয় এখানেও সেই অর্থই গ্রহণ করতে হবে, অর্থাৎ ঊর্ধ্বত্ব। এখানে অর্থটি রূপক বা অজ্ঞাত বলে দাবি করার সুযোগ নেই। তবে ইসতিওয়ার স্বরূপ বা ব্যাখ্যা অজ্ঞাত (মুতাশাবিহ)। এ অজ্ঞাত বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়ে জ্ঞাত বিষয়কে বিশ্বাস করাই মুমিনের দায়িত্ব। কুরআন কয়েকটি বিষয় আমাদেরকে জানায়: (১) মহান আল্লাহ অনাদি অনন্ত, কোনো কিছুর মুখাপেক্ষী নন এবং সবই তাঁর মুখাপেক্ষী, (২) মহান আল্লাহ কোনো সৃষ্টির সাথে তুলনীয় নন, (৩) মহান আল্লাহ সৃষ্টির এক পর্যায়ে আরশ সৃষ্টি করেন এবং আরশের উপর অধিষ্ঠান গ্রহণ করেন এবং (৪) মহান আল্লাহ তাঁর বান্দার নিকটবর্তী। সাহাবীগণ বিষয়গুলো সবই সরল অর্থে বিশ্বাস করেছেন এবং এ বিষয়ে কোনো বৈপরীত্য অনুভব করেন নি। কারণ আল্লাহর অমুখাপেক্ষী হওয়া, অতুলনীয় হওয়া, নিকটবর্তী হওয়া এবং আরশের উপর অধিষ্ঠিত হওয়া কোনোটিই মানবীয় বুদ্ধির সাথে সাংঘর্ষিক নয় বা অসম্ভব নয়। কাজেই ওহীর মাধ্যমে যা আল্লাহ জানিয়েছেন তা নিয়ে বিতর্ক করা বিভ্রান্তি বৈ কিছুই নয়। সমস্যার শুরু হয় যখন মানুষ এগুলোর গভীর স্বরূপ সন্ধানে ব্যস্ত হয়। আল্লাহ যদি অমুক্ষাপেক্ষী হন তাহলে আরশের ঊর্ধ্বে অধিষ্ঠানের দরকার কি? আরশের ঊর্ধ্বে অধিষ্ঠান গ্রহণ না করলে এ কথা বারবার বলার দরকার কী? অধিষ্ঠান অর্থ যদি ক্ষমতা গ্রহণ হয় তবে কাকে হটিয়ে তিনি ক্ষমতা দখল করলেন? শুধু আরশের ক্ষমতা গ্রহণের অর্থ কী? এরূপ জিজ্ঞাসা মানুষকে বিভ্রান্ত করে। এসবের সহজ সমাধান ওহীর সবগুলো বিষয় সরলভাবে বিশ্বাস করা। মহান আল্লাহ বলেছেন তিনি অমুক্ষাপেক্ষী ও অতুলনীয় এবং তিনিই বলেছেন তিনি আরশের ঊর্ধ্বে অধিষ্ঠান করেছেন। এ থেকে আমরা বুঝি যে, কোনোরূপ মুখাপেক্ষিতা বা প্রয়োজন ছাড়াই আল্লাহ তা করেছেন এবং তাঁর এ বিশেষণ কোনোভাবেই কোনো সৃষ্টির সাথে তুলনীয় নয়। তবে কেন করেছেন, কিভাবে করেছেন বা এর স্বরূপ কী তা তিনি আমাদের বলেন নি। এগুলি নিয়ে প্রশ্ন করা বা উত্তরের সন্ধান করা দীনের মধ্যে নব-উদ্ভাবন বা বিদআত। কারণ সাহাবীগণ কখনো এরূপ প্রশ্ন বা উত্তর সন্ধান করেন নি। ইমাম আবূ হানীফা উল্লেখ করেছেন যে, মানবীয় সহজাত প্রকৃতিই মহান আল্লাহর ঊর্ধ্বত্ব প্রমাণ করে। মানুষ প্রকৃতিগতভাবে আল্লাহকে ডাকতে ঊর্ধ্বমুখি হয়। এছাড়া হাদীসে এ ঊর্ধ্বত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন:

مَنْ قَالَ لاَ أَعْرِفُ رَبِّيْ فِيْ السَّمَاءِ أَوْ فِيْ الأَرْضِ فَقَدْ كَفَرَ وَكَذَا مَنْ قَالَ إَنَّهُ عَلَى الْعَرْشِ وَلاَ أَدْرِيْ الْعَرْشَ أَفِيْ السَّمَاءِ أَوْ فِيْ الأَرْضِ لأَنَّ اللهَ يَقُوْلُ: الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى وَاللهُ تَعَالَى يُدْعَى مِنْ أَعْلَى لاَ مِنْ أَسْفَلَ لَيْسَ مِنْ وَصْفِ الرُّبُوْبِيَّةِ وَالأُلُوْهِيَّةِ فِيْ شَيْءٍ وَعَلَيْهِ مَا رُوِىَ فِيْ الْحَدِيْثِ أَنَّ رَجُلاً أَتَى إِلَى النَّبِيِّ r بِأَمَةٍ سَوْدَاءَ فَقَالَ: وَجَبَ عَلَيَّ عِتْقُ رَقَبَةٍ، أَفَتُجْزِئُ هَذِهِ؟ فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ r: أَمُؤْمِنَةٌ أَنْتِ؟ فَقَالَتْ: نَعَمْ. فَقَالَ: أَيْنَ اللهُ فَأَشَارَتْ إِلَى السَّمَاءِ. فَقَالَ: اعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ.

যদি কেউ বলে যে, আমার রব্ব আকাশে না পৃথিবীতে তা আমি জানি না তবে সে কাফির হয়ে যাবে। যদি কেউ বলে যে, তিনি আরশের উপরে, কিন্তু আরশ কোথায়- আসমানে না যমিনে- তা আমি জানি না তবে সেও অনুরূপ। কারণ আল্লাহ বলেছেন: দয়াময় আল্লাহ আরশের উপরে সমাসীন। মহান আল্লাহকে ডাকতে হয় ঊর্ধে, নিম্নে নয়। নিম্নে থাকা রুবূবিয়্যাত বা উলূহিয়্যাতের কোনো বিশেষত্ব নয়। আর এ অর্থেই হাদীসে বর্ণিত হয়েছে : এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট একটি কাফ্রী দাসীকে নিয়ে আগমন করে বলে যে, তাকে একটি দাস মুক্ত করতে হবে। এ দাসীকে মুক্ত করলে কি তার দায়িত্ব পালন হবে? তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) উক্ত দাসীকে বলেন, তুমি কি ঈমানদার? সে বলে: হ্যাঁ। তিনি বলেন: আল্লাহ কোথায়? সে আসমানের দিকে ইশারা করে। তখন তিনি বলেন: একে মুক্ত করে দাও, এ নারী ঈমানদার। আকীদা তাহাবিয়ার ব্যাখ্যায় ইবন আবীল ইজ্জ হানাফী বলেন: শাইখুল ইসলাম আবূ ইসমাঈল আনসারী (৪৮১ হি) তাঁর আল-ফারূক গ্রন্থে আবূ মুতী বালখী পর্যন্ত সনদে উদ্ধৃত করেছেন, আবূ মুতী বলেন, আবূ হানীফাকে (রাহ) প্রশ্ন করলাম: যে ব্যক্তি বলে, আমার রব্ব আসমানে না যমীনে তা আমি জানি না, তার বিষয়ে আপনার মত কি? তিনি বলেন: এ ব্যক্তি কাফির। কারণ আল্লাহ বলেছেন: দয়াময় আল্লাহ আরশের উপরে সমাসীন, আর তাঁর আরশ সপ্ত আসমানের উপরে। আমি (আবু মুতী) বললাম: যদি সে বলে, তিনি আরশের উপরে, কিন্তু সে বলে: আরশ কি আসমানে না যমীনে তা আমি জানি না, তাহলে কি হবে? তিনি (আবূ হানীফা) বলেন: তাহলেও সে কাফির। কারণ সে তাঁর আসমানে বা ঊর্ধে হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে, আর যে ব্যক্তি তাঁর ঊর্ধ্বত্ব অস্বীকার করবে সে কাফির। ... ইসতিওয়া ও অন্যান্য বিশেষণ বিষয়ে ইমাম আহমদ ইবন হাম্বালের মূলনীতি ও আকীদা ব্যাখ্যা করে আবূ বাকর খাল্লাল আহমদ ইবন মুহাম্মাদ (৩১১ হি) বলেন:

وكان يقول إن الله عز وجل مستو على العرش المجيد ... وكان يقول في معنى الاستواء هو العلو والارتفاع ولم يزل الله تعالى عاليا رفيعا قبل أن يخلق عرشه فهو فوق كل شيء والعالي على كل شيء وإنما خص الله العرش لمعنى فيه مخالف لسائر الأشياء والعرش أفضل الأشياء وأرفعها فامتدح الله نفسه بأنه على العرش أستوى أي عليه علا ولا يجوز أن يقال أستوى بمماسة ولا بملاقاة تعالى الله عن ذلك علوا كبيرا والله تعالى لم يلحقه تغير ولا تبدل ولا تلحقه الحدود قبل خلق العرش ولا بعد خلق العرش. وكان ينكر على من يقول إن الله في كل مكان بذاته لأن الأمكنة كلها محدودة وحكي عن عبد الرحمن بن مهدي عن مالك أن الله تعالى مستو على عرشه المجيد كما أخبر وأن علمه في كل مكان ولا يخلوا شيء من علمه وعظم عليه الكلام في هذا واستبشعه

ইমাম আহমদ বলতেন, মহান আল্লাহ আরশের উপর অধিষ্ঠিত। ... অধিষ্ঠিত হওয়ার অর্থ তিনি এর ঊর্ধ্বে। মহান আল্লাহ আরশ সৃষ্টির পূর্ব থেকেই সবকিছুর ঊর্ধ্বে। তিনি সকল কিছুর ঊর্ধ্বে এবং সকল কিছুর উপরে। এখানে আরশকে উল্লেখ করার কারণ আরশের মধ্যে এমন বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অন্য কোনো কিছুর মধ্যে নেই। তা হলো আরশ সবচেয়ে মর্যাদাময় সৃষ্টি এবং সব কিছুর ঊর্ধ্বে। মহান আল্লাহ নিজের প্রশংসা করে বলেছেন যে, তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠিত, অর্থাৎ তিনি আরশের ঊর্ধ্বে। আরশের উপরে অধিষ্ঠানের অর্থ আরশ স্পর্শ করে অবস্থান করা নয়। মহান আল্লাহ এরূপ ধারণার অনেক ঊর্ধ্বে। আরশ সৃষ্টির পূর্বে এবং আরশ সৃষ্টির পরে মহান আল্লাহ একই অবস্থায় রয়েছেন; কোনোরূপ পরিবর্তন তাঁকে স্পর্শ করে নি, কোনো গণ্ডি বা সীমা তাঁকে সীমায়িত করতে পারে না। যারা বলেন যে, মহান আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান তাদের কথা তিনি অস্বীকার ও প্রতিবাদ করতেন। কারণ সকল স্থানই গণ্ডি বা সীমায় আবদ্ধ। তিনি আব্দুর রাহমান ইবন মাহদী থেকে, তিনি ইমাম মালিক থেকে উদ্ধৃত করতেন: মহান আল্লাহ মহা-পবিত্র আরশের ঊর্ধ্বে সমাসীন এবং তাঁর জ্ঞান-ইলম সর্বত্র বিদ্যমান। কোনো স্থানই তাঁর জ্ঞানের আওতার বাইরে নয়। আল্লাহর সর্বত্র বিরাজমান কথাটি ইমাম আহমদ ঘৃণ্য বলে গণ্য করতেন। ইমাম তাহাবী (রাহ) বলেন:

وَتَعَالَى عَنِ الْحُدُودِ وَالْغَايَاتِ، وَالأَرْكَانِ وَالأَعْضَاءِ وَالأَدَوَاتِ، لا تَحْوِيهِ الْجِهَاتُ السِّتُّ كَسَائِرِ الْمُبْتَدَعَاتِ. .... وَالْعَرْشُ وَالْكُرْسِيُّ حَقٌّ، وَهُوَ مُسْتَغْنٍ عَنِ الْعَرْشِ وَمَا دُونَهُ، مُحِيطٌ بِكُلِّ شَيْءٍ وَفَوْقَهُ

আল্লাহ্ তাআলা সীমা-পরিধি, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও উপাদান-উপকরণের বহু ঊর্ধ্বে। যাবতীয় উদ্ভাবিত সৃষ্ট বস্তুর ন্যায় তাঁকে ষষ্ঠ দিক পরিবেষ্টন করতে পারে না। আল্লাহর আরশ ও কুরসী (আসন) সত্য। আরশ ও তার নীচে যা কিছু বিদ্যমান সব কিছু থেকে তিনি অমুখাপেক্ষী। তিনি সকল কিছুকে পরিবেষ্টনকারী এবং সকল কিছুর ঊর্ধ্বে। অর্থাৎ তিনি তাঁর সৃষ্ট দিক, স্থান ও সীমার ঊর্ধ্বে। তবে সৃষ্টির সীমা যেখানে শেষ তার ঊর্ধ্বে তাঁর মহান আরশ। আরশ সকল সৃষ্টিকে পরিবেষ্টন করে বিদ্যমান। তিনি তারও ঊর্ধ্বে। কাজেই তিনি সকল কিছুর ঊর্ধ্বে এবং সকল কিছুকে পরিবেষ্টনকারী। শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলবী বলেন:

وهو فوق العرش كما وصف نفسه، لكن لا بمعنى التحيز ولا الجهة، بل لا يعلم كنه هذا التفوق والاستواء إلا هو...

তিনি আরশের ঊর্ধ্বে, যেভাবে তিনি নিজের বিষয়ে বলেছেন। এর অর্থ কোনো দিক বা স্থানে সীমাবদ্ধ হওয়া নয়। বরং এ ঊর্ধ্বত্বের এবং অধিষ্ঠানের প্রকৃতি তিনি ছাড়া কেউ জানে না...। বস্তুত চার ইমামসহ সালাফ সালিহীন বা ইসলামের প্রথম চার প্রজন্মের সকল বুজুর্গ একই আকীদা অনুসরণ করতেন। তাঁরা সকলেই কুরআন ও সহীহ হাদীসে বর্ণিত বিশেষণগুলোকে সরল অর্থে বিশ্বাস করতে এবং ব্যাখ্যা ও তুলনা বর্জন করতে নির্দেশ দিতেন। এ প্রসঙ্গে ইমাম বুখারী প্রথম হিজরী শতকের দুজন প্রসিদ্ধ তাবিয়ীর মত উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেন:

قال أبو العالية (استوى إلى السماء) ارتفع.. وقال مجاهد (استوى) علا (على العرش)

(প্রসিদ্ধ তাবিয়ী মুহাদ্দিস ও ফকীহ রুফাই ইবন মিহরান) আবুল আলিয়া (৯০ হি) বলেন: আসমানের প্রতি ইসতিওয়া করেছেন অর্থ: আসমানের উপরে থেকেছেন। (অন্য প্রসিদ্ধ তাবিয়ী মুফাস্সির ও ফকীহ ইমাম) মুজাহিদ (১০৪ হি) বলেন: আরশের উপর ইসতিওয়া করেছেন অর্থ আরশের ঊর্ধ্বে থেকেছেন। ইমাম আবূ হানীফার সমসাময়িক প্রসিদ্ধ তাবি-তাবিয়ী মুহাদ্দিস ও মুজতাহিদ ফকীহ ইমাম আওযায়ী আব্দুর রাহমান ইবন আমর (১৫৭ হি) বলেন:

كنا والتابعون متوافرون نقول إن الله على عرشه ونؤمن بما وردت به السنة من صفاته

যে সময়ে তাবিয়ীগণ বহু সংখ্যায় বিদ্যমান ছিলেন সে সময়ে আমরা বলতাম: মহান আল্লাহ তাঁর আরশের উপরে এবং সুন্নাতে (হাদীসে) মহান আল্লাহর যা কিছু বিশেষণ বর্ণিত হয়েছে তা আমার বিশ্বাস করি। মহান আল্লাহর বিশেষণ ব্যাখ্যায় কিছু বলার অর্থ মহান আল্লাহ সম্পর্কে মানবীয় যুক্তি, বুদ্ধি বা ইজতিহাদ দিয়ে কিছু বলা। আর মহান আল্লাহর বিষয়ে ইজতিহাদ করে কিছু বলা যাবে না। এজন্য ইমাম আবূ হানীফা (রাহ) বলেন:

لا ينبغي لأحد أن ينطق في الله تعالى بشئ من ذاته، ولكن يصفه بما وصف سبحانه به نفسه، ولا يقول فيه برأيه شيئاً تبارك الله تعالى رب العالمين

মহান আল্লাহর বিষয়ে নিজের পক্ষ থেকে কিছু বলা কারো জন্য বৈধ নয়; বরং তিনি নিজের জন্য যে বিশেষণ ব্যবহার করেছেন তাঁর বিষয়ে শুধু সে বিশেষণই ব্যবহার করতে হবে। এ বিষয়ে নিজের মত, যুক্তি বা ইজতিহাদ দিয়ে কিছুই বলা যাবে না। মহাপবিত্র, মহাসম্মানিত-মহাকল্যাণময় আল্লাহ বিশ্বজগতের প্রতিপালক। ইমাম শাফিয়ীর ছাত্র আবূ সাওর বলেন, ইমাম শাফিয়ী বলেন:

القول في السُّنّة التي وردت وأنا عليها، ورأيتُ أصحابنا عليها أهل الحديث الذين رأيتُهم وأخذتُ عنهم ـ مثل: سفيان الثّوريّ ومالك وغيرهما ـ : الإقرار بشهادة أن لا إله إلا الله وأنّ محمّدًا رسول الله، وأنّ الله ـ تعالى ـ على عرشه في سمائه، يقرب من خلقه كيف شاء، وأنّ الله تعالى ينزل إلى السّماء الدُّنيا كيف شاء

সুফিয়ান সাওরী, মালিক ও অন্যান্য যে সকল মুহাদ্দিসকে আমরা দেখেছি এবং তাঁদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছি, আমাদের সে সব সাথী এবং আমি যে সুন্নাত আকীদার উপর রয়েছি তা হলো এরূপ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবূদ নেই, এবং মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর রাসূল, এবং মহান আল্লাহ তাঁর আরশের উপরে তাঁর আসমানের ঊর্ধ্বে, তিনি যেভাবে ইচ্ছা করেন সেভাবে বান্দার নিকটবর্তী হন এবং তিনি যেভাবে ইচ্ছা করেন সেভাবে প্রথম আসমানে অবতরণ করেন। মহান আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান এরূপ বিশ্বাসকে ইমামগণ অত্যন্ত ঘৃণা করতেন। এ মতকে তারা সর্বেশ্বরবাদ বা সর্বজীবে ঈশ্বর মতবাদ বলে গণ্য করতেন। বাশ্শার ইবন মূসা খাফ্ফাফ বলেন:

جاء بشر بن الوليد الكندي إلى القاضي أبي يوسف فقال له تنهاني عن الكلام وبشر المريسي وعلي الأحول وفلان يتكلمون قال وما يقولون قال يقولون الله في كل مكان فقال أبو يوسف علي بهم فانتهوا إليهم وقد قام بشر فجيء بعلي الأحول وبالآخر شيخ فقال أبو يوسف ونظر إلى الشيخ لو أن فيك موضع أدب لأوجعتك فأمر به إلى الحبس وضرب الأحول وطوف به

বিশর ইবন ওলীদ কিন্দী কাযী আবূ ইউসুফের নিকট আগমন করে বলেন: আপনি তো আমাকে ইলমুল কালাম থেকে নিষেধ করেন, কিন্তু বিশর আল-মারীসী, আলী আল-আহওয়াল এবং অমুক ব্যক্তি কালাম নিয়ে আলোচনা করছে। আবূ ইউসুফ বলেন: তারা কী বলছে? তিনি বলেন: তারা বলছে যে, আল্লাহ সকল স্থানে বিরাজমান। তখন আবূ ইউসুফ বলেন: তাদেরকে ধরে আমার কাছে নিয়ে এস। তখন তারা তাদের নিকট গমন করে। ইত্যবসরে বিশর আল-মারীসী উক্ত স্থান পরিত্যাগ করেছিলেন। এজন্য আলী আহওয়াল এবং অন্য একজন বৃদ্ধ ব্যক্তিকে ধরে আনা হয়। আবূ ইউসুফ বৃদ্ধ ব্যক্তিটির দিকে দৃষ্টিপাত করে বলেন: আপনার দেহে শাস্তি দেওয়ার মত স্থান থাকলে আমি আপনাকে বেত্রাঘাতের নির্দেশ দিতাম। তিনি উক্ত বৃদ্ধকে কারারুদ্ধ করার নির্দেশ দেন এবং আলী আহওয়ালকে বেত্রাঘাত করা হয় এবং রাস্তায় ঘুরানো হয়। এ বিষয়ে উদ্ধৃতিগুলোর তথ্যসূত্র জানতে ও বিস্তারিত আলোচনা পড়তে আবারো আপপনকে ইমাম আবূ হানীফা (রাহ) রচিত আলি-ফিকহুল আকবার: বঙ্গানুবাদ ও ব্যাখ্যা বইটি পড়তে আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।

প্রশ্নঃ 34
কোরআনে আছে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে গেলে কাফের হয়ে যায় । তাহলে কি আমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে গেলে কাফের হয়ে যাব?
20 Dec 2025
প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। নিচে আপনর প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়ে আলোচানা করা হল, আশা করি আপনি তাতে আাপনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন। ইনশাল্লাহ। মানব প্রকৃতির একটি বিশেষ দিক আনন্দের সময়ে আল্লাহকে ভুলে থাকা কিন্তু বিপদে পড়লে বেশি বেশি দুআ করা। নিঃসন্দেহে এ আচরণ মহান প্রতিপালকের প্রকৃত দাসত্বের অনুভূতির সাথে সাংঘর্ষিক। কুরআনে বিভিন্ন স্থানে এ স্বভাবের নিন্দা করা হয়েছে। এক স্থানে আল্লাহ বলেন:
وَإِذَا أَنْعَمْنَا عَلَى الإِنْسَانِ أَعْرَضَ وَنَأَى بِجَانِبِهِ وَإِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ فَذُو دُعَاءٍ عَرِيضٍ
যখন আমি মানুষকে নিয়ামত প্রদান করি তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় ও দূরে সরে যায়। আর যখন কোনো অমঙ্গল বা কষ্ট তাকে স্পর্শ করে তখন সে লম্বা চওড়া দুআ করে। মুমিনের উচিত নিয়ামতের মধ্যে থাকলে তার স্থায়িত্ব প্রার্থনা করা ও সকল অকল্যাণ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া। কোনো অসুবিধা থাকলে তার কাছে আশ্রয় ও মুক্তি চাওয়া। আর এরূপ অন্তরের দুআই আল্লাহ কবুল করেন। আবু হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَسْتَجِيبَ اللَّهُ لَهُ عِنْدَ الشَّدَائِدِ وَالْكَرْبِ فَلْيُكْثِرْ الدُّعَاءَ فِي الرَّخَاءِ যে ব্যক্তি চায় যে কঠিন বিপদ ও যন্ত্রণা-দুর্দশার সময় আল্লাহ তার প্রার্থনায় সাড়া দিবেন, সে যেন সুখশান্তির ও সচ্ছলতার সময় বেশি বেশি আল্লাহর কাছে দুআ করে। হাদীসটি সহীহ। আবার যখন দুআ করি তখন তৎক্ষণাৎ ফল আশা করি। বিশেষত বিপদে, সমস্যায় বা দুশ্চিন্তায় আক্রান্ত হলে। দুচার দিন দুআ করে ফল না পেলে আমরা হতাশ হয়ে দুআ করা ছেড়ে দি। এ হতাশা ও ব্যস্ততা ক্ষতি ও গোনাহের কারণ। কখনোই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। কোরআনে এসেছে :
لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيم
অর্থঃ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল,অতি দয়ালু। সূরা ঝুমার, আয়াত, ৫৩। অপর একটি আয়াতে আল্লাহ বলেন:
وَلَا تَيْأَسُوا مِنْ رَوْحِ اللَّهِ إِنَّهُ لَا يَيْأَسُ مِنْ رَوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ
অর্থঃ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না । কেবল মাত্র কাফের সম্প্রদায়ই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়। সূরা ইউসুফ,আয়াত-৮৭। আমাদের বুঝতে হবে যে, দুআ করা একটি ইবাদত ও অপরিমেয় সাওয়াবের কাজ। আমি যত দুআ করব ততই লাভবান হব। আমার সাওয়াব বৃদ্ধি পাবে, আল্লাহর সাথে আমার একান্ত রহমতের সম্পর্ক তৈরি হবে। সর্বোপরি আল্লাহ আমার দুআ কবুল করবেনই। তবে তিনিই ভাল জানেন কিভাবে ফল দিলে আমার বেশি লাভ হবে। আবু হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
لاَ يَزَالُ يُسْتَجَابُ لِلْعَبْدِ مَا لَمْ يَدْعُ بِإِثْمٍ أَوْ قَطِيعَةِ رَحِمٍ مَا لَمْ يَسْتَعْجِلْ
বান্দা যতক্ষণ পাপ বা আত্মীয়তার ক্ষতিকারক কোনো কিছু প্রার্থনা না করে ততক্ষণ তার দুআ কবুল করা হয়, যদি না সে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বলা হলো : ইয়া রাসূলাল্লাহ, ব্যস্ততা কিরূপ? তিনি বলেন : প্রার্থনাকারী বলতে থাকে দুআ তো করলাম, দুআ তো করলাম ; মনে হয় আমার দুআ কবুল হলো না। এভাবে সে হতাশ হয়ে পড়ে এবং তখন দুআ করা ছেড়ে দেয়। আনাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন :
لا يَزَالُ الْعَبْدُ بِخَيْرٍ مَا لَمْ يَسْتَعْجِلْ قَالُوا وَكَيْفَ يَسْتَعْجِلُ قَالَ يَقُولُ قَدْ دَعَوْتُ رَبِّي فَلَمْ يَسْتَجِبْ لِي
বান্দা যতক্ষণ না ব্যস্ত ও অস্থির হয়ে পড়ে ততক্ষণ সে কল্যাণের মধ্যে থাকে। সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন: ব্যস্ত হওয়া কিরূপ? তিনি বলেন: সে বলে আমি তো দুআ করলাম কিন্তু দুআ কবুল হলো না। হাদীসটি হাসান। প্রত্যেক মুমিনের উপর দায়িত্ব, আল্লাহর রহমত, ক্ষমা ও ভালবাসার প্রতি দৃঢ় প্রত্যয় রাখা। আল্লাহ আমাকে ভালবাসেন, তিনি আমাকে ক্ষমা করবেন এবং তিনি আমাকে অবশ্যই সাহায্য করবেন। এ দৃঢ় প্রত্যয় মুমিনের অন্যতম সম্বল ও মহোত্তম সম্পদ। অন্তরের গভীর থেকে মনের আকুতি ও সমর্পণ মিশিয়ে নিজের সবকিছু আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। সাথে সাথে সুদৃঢ় প্রত্যয় রাখতে হবে, আল্লাহ অবশ্যই আমার প্রার্থনা শুনবেন। ইবনু উমার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন:
إِذَا سَأَلْتُمْ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ أَيُّهَا النَّاسُ فَاسْأَلُوهُ وَأَنْتُمْ مُوقِنُونَ بِالإِجَابَةِ فَإِنَّ اللَّهَ لا يَسْتَجِيبُ لِعَبْدٍ دَعَاهُ عَنْ ظَهْرِ قَلْبٍ غَافِلٍ
হে মানুষেরা, তোমরা যখন আল্লাহর কাছে চাইবে, তখন কবুল হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে চাইবে; কারণ কোনো বান্দা অমনোযোগী অন্তরে দুআ করলে আল্লাহ তার দুআ কবুল করেন না। হাদীসটি হাসান। অন্য হাদীসে আবু হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন:
ادْعُوا اللَّهَ وَأَنْتُمْ مُوقِنُونَ بِالإِجَابَةِ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ لا يَسْتَجِيبُ دُعَاءً مِنْ قَلْبٍ غَافِلٍ لاهٍ
তোমরা আল্লাহর কাছে দুআ করার সময় দৃঢ়ভাবে (একীন) বিশ্বাস রাখবে যে, আল্লাহ নিশ্চয় কবুল করবেন। আর জেনে রাখ, আল্লাহ কোনো অমনোযোগী বা অন্য বাজে চিন্তায় রত মনের প্রার্থনা কবুল করেন না। ব্যাক্তিগত, পারিবারিক বা সামাজিক যে কোন প্রকৃত সম্ভাব্য সমস্যাকে নিয়েই আমাদের চিন্তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে খারাপ দিকটা নিয়েই আবর্তিত হয়। অথচ সমস্যা থেকে উত্তরণের বাস্তব চেষ্টার পাশাপাশি সকল অবস্থায় ভাল চিন্তা করা এবং আল্লাহর রহমতে সকল বিপদ কেটে যাবেই এরুপ সুদৃঢ় আশা রাখা মুমিনের ঈমানের দাবী এবং সাওয়াবের কাজ। যে বান্দা আল্লাহর রহমতের আশা করতে পারেনা সে তো আল্লাহর প্রতি সুধারনা পোষণ করতে পারল না। হাদীসে এসেছে حسن الظن ( بالله) من حسن العبادة অর্থঃ আল্লাহর প্রতি সুধারনা পোষণ করা উত্তম ইবাদত। আবু দাউদ,( কিতাবুল আদব,বাব, হুসনিয যন) ৪/৩০০ হাদীস নং ৪৯৯৩। হযরত আবু হুরাইরা রাঃ থেকে বর্ণীত অপর একটি হাদীসে এসেছে রাসূল সাঃ বলেন: أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي وَأَنَا مَعَهُ إِذَا دَعَانِي আমার বান্দা আমার বিষয়ে যেরূপ ধারণা করে আমি সেখানেই থাকি। আমার বান্দা যখন আমাকে ডাকে তখন আমি তার সাথে থাকি। মোটকথা, বান্দার অন্তরে আল্লাহর রহমতের আশা তার ঈমানের পরিমান অনুপাতে থেকে থাকে। অর্থাৎ যার যতটুকু ঈমান আছে সে ততোটুকু আল্লাহর রহমতের আশা করে থাকে। কাফেরদের সামান্য পরিমানও ঈমান নেই তাই তারা পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ । অনুরুপভাবে কোন মুসলামন যখন পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে যায় তখন তার একাজটি কাফেরদের অবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে যায় এবং এটাকে কুফুরী হিসাবে গণ্য করা হয়। অতএব আমাদের উচিত সবসময় সবধরনের হতাশা থেকে নিজেকে বিরত রাখা। সঠিক বিষয় আল্লাহই ভাল জানেন। আল্লাহ আমাদেরকে সবসময় পরিপূর্ণ ঈমানের সাথে থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন। এব্যাপারে বিস্তারিত জানতে পাঠককে ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত রাহে বেলায়াত বইটি পড়ার জন্য অনুরোধ করছি।
প্রশ্নঃ 33
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। শায়েখ, আপনার কাছে আমার জানার বিষয় হল, রমযান মাসে কেউ মারা গেলে কি তার কোন সওয়াল-জওয়াব হবে?
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে শুকরান । নিম্নে আপনার প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়ে স্বল্পপরিসরে আলোচনা করা হল । আশা করি তাতে আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন। দুনিয়ার জীবনে যে ব্যাক্তিই গুনাহ বা অপরাধ করবে, কবরে সে ব্যক্তিই শাস্তির যগ্য (আল্লাহর কাছে তাওবা করে মাফ পেয়ে গেলে ভিন্ন কখা)। সে যেদিনেই মৃতবরণ করুক, এক্ষেত্রে দিন-তারিখ বা সময়ের কোন শ্রেষ্ঠত্য নেই। কারন সওয়াব বা ফযীলত বান্দার আমলের ওপর নির্ভর করে। একটি হাদীসে জুমআর দিনে মৃতবরনের ফযীলতের বিষয়ে বলা হলেও তা অত্যন্ত দুর্বল একাধিক সনদ একত্রিত করার পরও হাদীসটির দুর্বলতা দূর হয়নি। -হাদীসের আরবী উচ্চারণ নিম্নরুপ:
القبر ما من مسلم يموت يوم الجمعة أو ليلة الجمعة إلا وقاه الله فتنة
অর্থঃ যে ব্যাক্তিই জুমআর দিনে বা রাতে মৃত বরণ করবে আল্লাহ তাকে কবরের ফেতনা থেকে রক্ষা করবেন। শায়খ আলবানী রহঃ হাদীসটি তার আহকামুল জানাইয গ্রন্থে এনে বলেছেন: সনদের সমষ্টির ভিত্তিতে হাদীসটি সহীহ বা হাসান। খন্ড,১ পৃষ্ঠ,৩৫। কিন্তু তুহফাতুল আহওযী গ্রন্থের লেখক তার কিতাবে হাদীসটিকে ইনকিতা এর ভিত্তিতে দুর্বল বলেছেন। খন্ড,৩ পৃষ্ঠ,১৩৮। আর শায়খ শুয়াইব আরনাউত বলেন: হাদীসটির সনদ দুর্বল্ । আলবানী রহঃআহকামুল জানাইজ গ্রন্থে হাদীসটিকে হাসান বা সহীহ বলার ক্ষেত্রে ভুল করেছেন। মুসনাদে আহমাদ,তাহকীক,শুয়াইব আরনাউত,খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৬৯। তবে যদি কেউ রোজায় থাকা অবস্থায় মারা যায় তাহলে তার ব্যাপারে কল্যাণের আশা করা যেতে পারে। একটি হাদীসে এসেছে রাসূল সাঃ বলেন:
ومن صام يوما ابتغاء وجه الله ختم له بها دخل الجنة
অর্থঃ যে ব্যাক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একদিন রোজা রাখল, এ অবস্থাতে তার মৃত্যু ঘটল সে ব্যাক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে। হাদীসটি সহীহ লিগয়রিহী এবং সনদের সকল রাবী ছিকাহ, তবে মুনকাতি। মুসনাদে আহমাদ, তাহকীক,শুয়াইব আরনাউত,খন্ড,৫ পৃষ্ঠা ৩৯১। শায়খ আলবানী বলেন: হাদীসের সনদটি সহীহ। আহকামুল জানাইজ, খন্ড,১ পৃষ্ঠা ৪৩। হায়সামী রহঃ বলেন:উসমান ইবনে মুসলিম ছাড়া সনদের সকল রাবী সহীহের রাবী। তবে তিনি ছিকাহ। মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, খন্ড, ৭ পৃষ্ঠ,১৪০। উপরের আলোচনা দ্বারা একথা স্পষ্টভাবেই বুঝা যায় যে, নিসক রমজানের দিবসে মারা যাওয়ার ব্যাপারে কোন সহীহ বা দুর্বল হাদীস বর্ণীত হয়নি। যা আছে তা শুক্রুবার কিংবা রোজা থাকা অবস্থায় মারা যাওয়ার ক্ষেত্রে। আল্লা্হ আমাদেরকে উত্তম মৃত্যু দান করুন। আমীন।
প্রশ্নঃ 22
আসসালামু আলাইকুম. রাসূলুল্লাহ সঃ কিসের তৈরি? কেউ বলেন তিনি নুরের তৈরি; আবার কেউ বলেন তিনি মাটির তৈরি। তিনি মুলত কিসের তৈরি এসম্পর্ক্যে কুরআন ও হাদিসে যে বর্ণনা আছে তা উল্লেখ পূর্বক প্রশ্নের সঠিক উত্তর চাই! ধন্যবাদ।
20 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নটি করার জন্য আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। নিচে এবিষয়ে সামান্য আলোচনা করা হল, আশা করি আপনি তাতে আপনার উত্তর খুঁজে পাবেন ইনশাল্লাহ। রাসূল সাঃ সৃষ্টিগতভাবে আমাদের মতই মানুষ ছিলেন নূরের তৈরি ছিলেন না। কুরআন-হাদীসে বারংবার উল্লেখ করা হয়েছে যে রাসূলুল্লাহ সা. অন্যদের মতই মানুষ। এমনকি যুগে যুগে নবী-রাসূলদের দাওআত অস্বীকার করার ক্ষেত্রে অবিশ্বাসীদের প্রধান দাবি ছিল যে নবীগণ তো মানুষ মাত্র এরা আল্লাহর নবী হতে পারেন না। আল্লাহ যদি কাউকে পাঠাতেই চাইতেন তবে ফিরিশতা পাঠিয়ে দিতেন। যেহেতু এরা মানুষ সেহেতু এদের নুবুওয়াতের দাবি মিথ্যা। এদের কথার প্রতিবাদে নবীগণ তাদেরকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে আমরা তোমাদের মত মানুষ এ কথা ঠিক তবে এর অর্থ এই নয় যে মানুষ হলে আল্লাহর ওহী ও নুবুওয়াতের মর্যাদা লাভ করা যায় না। বরং আল্লাহ মানুষদের মধ্য থেকেই যাকে ইচ্ছা নবী বা রাসূল হিসেবে বেছে নেন এ বিষয়ে এখানে কয়েকটি আয়াত এবং হাদীস উল্লেখ করা হল। বাশার بَشَرٌ অর্থ মানুষ মানুষগণ বা মানুষজাতি (man, human being, men, mankind( কুরআন কারীমে প্রায় ৪০ স্থানে বাশারশব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে এই একই অর্থে। একবচন ও বহুবচন উভয় অর্থেই শব্দটি ব্যবহৃত হয়। কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে যে রাসূলুল্লাহ সা. বাশার বা মানুষ। এছাড়া উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি অন্যদের মত মানুষ। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন:

وَقَالُوا لَنْ نُؤْمِنَ لَكَ حَتَّى تَفْجُرَ لَنَا مِنَ الأَرْضِ يَنْبُوعًا أَوْ تَكُونَ لَكَ جَنَّةٌ مِنْ نَخِيلٍ وَعِنَبٍ فَتُفَجِّرَ الأَنْهَارَ خِلالَهَا تَفْجِيرًا أَوْ تُسْقِطَ السَّمَاءَ كَمَا زَعَمْتَ عَلَيْنَا كِسَفًا أَوْ تَأْتِيَ بِاللَّهِ وَالْمَلائِكَةِ قَبِيلا أَوْ يَكُونَ لَكَ بَيْتٌ مِنْ زُخْرُفٍ أَوْ تَرْقَى فِي السَّمَاءِ وَلَنْ نُؤْمِنَ لِرُقِيِّكَ حَتَّى تُنَزِّلَ عَلَيْنَا كِتَابًا نَقْرَؤُهُ قُلْ سُبْحَانَ رَبِّي هَلْ كُنْتُ إِلا بَشَرًا رَسُولا وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَنْ يُؤْمِنُوا إِذْ جَاءَهُمُ الْهُدَى إِلا أَنْ قَالُوا أَبَعَثَ اللَّهُ بَشَرًا رَسُولا

এবং তারা বলে কখনই আমরা আপনার প্রতি ঈমান আনব না যতক্ষণ না আপনি আমাদের জন্য ভূমি হতে একটি ঝর্ণাধারা উৎসারিত করবেন। অথবা আপনার একটি খেজুরের ও আঙ্গুরের বাগান হবে যার ফাঁকে ফাঁকে আপনি নদী-নালা প্রবাহিত করে দেবেন। অথবা আপনি যেমন বলে থাকেন তদনুযায়ী আকাশকে খণ্ড-বিখণ্ড করে আমাদের উপর ফেলবেন অথবা আল্লাহ ও ফিরিশতাগণকে আমাদের সামনে এনে উপস্থিত করবেন। অথবা আপনার একটি অলংকৃত স্বর্ণ নির্মিত গৃহ হবে। অথবা আপনি আকাশে আরোহণ করবেন তবে আমরা আপনার আকাশ আরোহণে কখনো বিশ্বাস করব না যতক্ষণ না আপনি আমাদের (আসমান থেকে) একটি কিতাব অবতীর্ণ করবেন যা আমরা পাঠ করব। বল পবিত্র আমার প্রতিপালক (সুবহানাল্লাহ!)! আমি তো কেবলমাত্র একজন মানুষ একজন রাসূল। আর মানুষের কাছে যখন হেদায়েতের বানী আসে তখন তো তারা শুধু একথা বলে ঈমান আনয়ন করা থেকে বিরত থাকে যে আল্লাহ কি একজন মানুষকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন সূরা-আল ইসরা আয়াত ৯০-৯৪। অর্থাৎ কাফিরদের দাবি যে, আল্লাহর রাসূল হওয়ার অর্থ আল্লাহর ক্ষমতার কিছু অংশ লাভ করা। পক্ষান্তরে মহান আল্লাহ জানালেন যে, রাসূল হওয়ার অর্থ আল্লাহর নিদের্শ অনুসারে প্রচারের দায়িত্ব লাভ, ক্ষমতা লাভ নয়; ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন:

قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلا صَالِحًا وَلا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا

বল: আমি তো তোমাদের মত একজন মানুষ মাত্র আমার প্রতি ওহী পাঠানো হয়েছে যে, তোমাদের মা বুদ (উপাস্য) একমাত্র একই মা বুদ। অতএব যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার প্রতিপালকের ইবাদতে কাউকে শরীক না করে। সূরা-আল কাহাফ, আয়াত, ১১০। রাসূলুল্লাহ সা. বারবার তাঁর উম্মতকে বিষয়টি শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি একদিকে যেমন আল্লাহ তাঁকে যে মর্যাদা দান করেছেন তা তাঁর উম্মতরক জানিয়েছেন, ঠিক তেমনিভাবে বারবার তাঁর উম্মতকে শিখিয়েছেন যে, তিনি একজন মানুষ। এক হাদীসে আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সা. সালাতের মধ্যে ভুল করেন। সালামের পরে সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করেন, হে আল্লাহর রাসূল, সালাতের কি কোনো নতুন বিধান নাযিল হয়েছে? তিনি বলেন: তোমরা এ প্রশ্ন করছ কেন? তারা বলেন: আপনি এমন এমন করেছেন। তখন তিনি সালাত পূর্ণ করেন এবং বলেন:

إِنَّهُ لَوْ حَدَثَ فِي الصَّلاةِ شَيْءٌ لَنَبَّأْتُكُمْ بِهِ وَلَكِنْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ أَنْسَى كَمَا تَنْسَوْنَ فَإِذَا نَسِيتُ فَذَكِّرُونِي

সালাতের নিয়ম পরিবর্তন করা হলে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে জানাতাম। কিন্তু আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ মাত্র। তোমরা যেমন ভুল কর আমিও তেমনি ভুল করি। যদি আমি কখনো ভুল করি তবে তোমরা আমাকে মনে করিয়ে দেবে। বুখারী, আস সাহীহ,কিতাব, বাদউল ওহী, বাব,আত তাওয়াজ্জুহু নাহওয়াল কিবলাতি, হাদীস নং ৪০১। উপরের অর্থে আবূ হুরাইরা, জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ, আনাস ইবনু মালিক, ও অন্যান্য সাহাবী (রাদিয়াল্লাহুম) থেকে অনেক হাদীস সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম ও সিহাহ সিত্তার অন্যান্য গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। উপরের আয়াত ও হাদীসসমূহে আমরা দেখতে পেলাম যে, আল্লাহ রাসূল সা. কে বিভিন্ন আয়াতে মানুষ বলেছেন এবং রাসূল সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও বিভিন্ন হাদীসে নিজেকে মানুষ বলেছেন। রাসূল সা. কে মানুষ বলার পাশাপাশি অনেক আয়াতে মহান মর্যাদার দিক লক্ষ্য করে নূর, বা আল্লাহর নূর,বলা হয়েছে এবং মুফাস্সিরগণ সেখানে নূর অর্থ কুরআন, ইসলাম,মুহাম্মাদ (সা.),ইত্যাদি অর্থ গ্রহণ করেছেন । তবে সেসমস্ত স্থানে রাসূল সা. কে হেদায়াতের আলো ও সঠিক পথের নির্দেশক হিসেবে,নূরবলা হয়েছে, সৃষ্টিগতভাবে নয়। মহান আল্লাহ বলেন:

يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُـنِيرًا

হে নবী, আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষীরূপে এবং সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহবানকারীরূপে এবং আলোকোজ্জ্বল (নূর-প্রদানকারী) প্রদীপরূপে। সূরা- আল আহযাব, আয়াত, ৪৫-৪৬। অপর এক আয়াতে আল্লাহ বলেন:

يَاأَهْلَ الْكِـتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُـبَيِّنُ لَكُمْ كَثِيرًا مِمَّا كُنْتُمْ تُخْفُونَ مِنْ الْكِتَابِ وَيَعْفُو عَنْ كَثـِيـرٍ قَدْ جَاءَكُمْ مِنْ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِيـنٌ

হে কিতাবীগণ, আমার রাসূল তোমাদের নিকট এসেছেন, তোমরা কিতাবের যা গোপন করতে তিনি তার অনেক তোমাদের নিকট প্রকাশ করেন এবং অনেক উপেক্ষা করে থাকেন। আল্লাহর নিকট হতে এক নূর ও স্পষ্ট কিতাব তোমাদের নিকট এসেছে। সূরা-আল মায়েদা, আয়াত ১৫। এই আয়াতে নূর বা জ্যোতি বলতে কি বুঝানো হয়েছে সে বিষয়ে মুফাস্সিরগণ মতভেদ করেছেন। কেউ বলেছেন,এখানে নূর অর্থ কুরআন, কেউ বলেছেন, ইসলাম, কেউ বলেছেন, মুহাম্মাদ (সা.)। যারা এখানে নূরঅর্থ মুহাম্মাদ (সা.) বুঝিয়েছেন, তাঁরা দেখেছেন যে, স্পষ্ট কিতাববলতে কুরআনকে বুঝানো হয়েছে। কাজেই নূরবলতে মুহাম্মাদ (সা.)- কে বুঝানোই স্বাভাবিক। এ বিষয়ে ইমাম তাবারী বলেন,

يَعْنِي بِالنُّورِ مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ, الَّذِي أَنَارَ اللَّهُ بِهِ الْحَقَّ, وَأَظْهَرَ بِهِ الإِسْلاَمَ, وَمَحَقَ بِهِ الشِّرْكَ فَهُوَ نُورٌ لِمَنِ اسْتَنَارَ بِهِ يُبَيِّنُ الْحَقَّ, وَمِنْ إِنَارَتِهِ الْحَقَّ تَبْيِينُهُ لِلْيَهُودِ كَثِيرًا مِمَّا كَانُوا يُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ

নূর (আলো) বলতে এখানে মুহাম্মাদ (সা.)-কে বুঝানো হয়েছে, যাঁর দ্বারা আল্লাহ হক্ক বা সত্যকে আলোকিত করেছেন,ইসলামকে বিজয়ী করেছেন এবং র্শিককে মিটিয়ে দিয়েছেন। কাজেই যে ব্যক্তি তাঁর দ্বারা আলোকিত হতে চায় তার জন্য তিনি আলো। তিনি হক্ক বা সত্য প্রকাশ করেন।তাঁর হক্ককে আলোকিত করার একটি দিক হলো যে, ইহূদীরা আল্লাহর কিতাবের যে সকল বিষয় গোপন করত তার অনেক কিছু তিনি প্রকাশ করেছেন। তাফসীর, তাবারী,৬/১৬১। উপরের আলোচনা থেকে আমরা দেখতে পেলাম যে, কুরআন কারীমে সত্যের দিশারী, হেদায়াতের আলো ও সঠিক পথের নির্দেশক হিসেবে কুরআন কারীমকে নূরবলা হয়েছে। অনুরূপভাবে কোনো কোনো আয়াতে নূর শব্দের ব্যাখ্যায় কোনো কোনো মুফাস্সির রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বা ইসলামকে বুঝানো হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন। কুরআন কারীমের এ সকল বর্ণনা থেকে বুঝা যায় না যে, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.), কুরআন বা ইসলাম নূরের তৈরী বা নূর থেকে সৃষ্ট। আমরা বুঝতে পারি যে, এখানে কোনো সৃষ্ট, জড় বা মূর্ত নূর বা আলো বুঝানো হয় নি। রাসূলুল্লাহ সা., ইসলাম ও কুরআন কোনো জাগতিক, জড়, ইন্দ্রিয়গাহ্য বা মূর্ত আলো নয়। এ হলো বিমূর্ত, আত্মিক, আদর্শিক ও সত্যের আলোকবর্তিকা, যা মানুষের হৃদয়কে বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাসের অন্ধকার থেকে বিশ্বাস, সত্য ও সুপথের আলোয় জ্যোতির্ময় করে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এব্যাপারে সঠিক আকীদা পোষণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন। এব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য পাঠককে ইসলামী আকীদা ও হাদীসের নামে জালিয়াতি বইটি পড়তে অনুরোধ করছি।

প্রশ্নঃ 17
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। মুহতারাম, যে ব্যক্তি আত্যহত্যা করে মৃত্যুবরণ করে তার সাথে আমাদের মুয়ামালা বা আচরণ কেমন হবে দয়া করে কুরআন হাদীসের আলোকে জানাবেন।
20 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। নিম্নে উক্ত বিষয়ে আলোচনা করা হল। আশা করি আপনি তাতে আপনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন ইনশাল্লাহ। আত্যহত্যা করার হুকুমঃ আত্যহত্যা নিঃসন্দেহে কবীরা গুনাহ এবং মূলত এটি একটি কুফরী গোনাহ যার শাস্তি অনন্তকাল জাহান্নাম। একজন মানুষ আত্যহত্যা করার কারণ কয়েকটি হতে পারে। প্রথমতঃব্যক্তি যখন আত্যহত্যা করে তখন সে সাধারনত আলাহর রহমত হতে নিরাশ হয়েই এই জঘন্য পাপকাজে লিপ্ত হয়। কারণ কোনোরূপ আশা থাকলে কেউ আত্মহত্যা করেন না। যখন কেউ চিন্তা করে যে, আমার জীবনের উন্নতির, কল্যাণের বা ভালর কোনো আশা আর নেই তখনই সে আত্মহত্যা করে। আর এ হলো মহান আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া কুফুরী। কোরআনে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হতে বারবার নিষেধ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন:

وَلَا تَيْأَسُوا مِنْ رَوْحِ اللَّهِ إِنَّهُ لَا يَيْأَسُ مِنْ رَوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ

অর্থঃ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না । কেবল মাত্র কাফের সম্প্রদায়ই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়। সূরা ইউসুফ,আয়াত-৮৭। দ্বিতীয়তঃ সে বৈধ মনে করে আত্যহত্যা করবে। এক্ষেত্রেও তার এ কাজ কোরআন হাদীসের দৃষ্টিতে কুফুরী হিসাবে বিবেচিত হবে। কোরআন ও হাদীসে হালালকে হারাম মনে করা এবং হারামকে হালাল বা বৈধ মনে করাকে কঠিনভাবে নিষেধ করা হয়েছে এবং এটাকে কুফুরী হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। তৃতীয়তঃ উক্তব্যক্তি নিজের উপর নিয়ন্ত্রন হারিয়ে বা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে এই ভয়াবহ অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে। উপরের দুটি অবস্থায় আত্মহত্যাকারীর ক্ষমার কোনোই আশা থাকে না। তৃতীয় পর্যায়ের লোকটির ক্ষমার সামান্য একটু সম্ভাবনা থাকে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আত্মহত্যাকারী ব্যক্তির বিষয়ে আমরা জানিনা যে, সে কোন অবস্থাতে আত্যহত্যার পথ বেছে নিল। সে যে অবস্থাতে বা যে কারনেই আত্যহত্যা করুক নিঃসন্দেহে এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং কবীরাহ গুনাহ। রাসূল সা. আত্যহত্যাকারীর ব্যাপারে চিরদিন জাহান্নামে থাকার মত ভয়াবহ শাস্তির কথাও হাদীস শরীফে একাধিকবার উল্লেখ করেছেন। হযরত আবু হুরাইরা রাঃ থেকে বর্ণীত এক হাদীসে রাসূল সা. বলেন:

مَن تردى من جبل فقتل نفسه فهو في نار جهنم يتردى فيه خالداً مخلداً فيها أبداً ، ومَن تحسَّى سمّاً فقتل نفسه فسمُّه في يده يتحساه في نار جهنم خالداً مخلداً فيها أبداً ، ومَن قتل نفسه بحديدة فحديدته في يده يجأ بها في بطنه في نار جهنم خالداً مخلداً فيها أبداً

অর্থঃ যে ব্যক্তি আত্যহত্যার উদ্দেশ্যে পাহাঢ় থেকে পড়ে মৃত্যুবরণ করবে সে জাহান্নামের আগুনে চিরোদিন পড়তে থাকবে। আর যে বিষ পান করে আত্যহত্যা করবে বিষ তার হাতে থাকবে এবং জাহান্নামের আগুনে চিরদিন সে তা পান করতে থাকবে। আর যে লোহার টুকরা দিয়ে আত্যহত্যা করবে উক্ত লোহার টুকরা তার হাতে থাকবে এবং জাহান্নামের আগুনে সে চিরদিন তা পেটের ভিতর ঢুকাতে থাকবে। বুখারী,আস সহীহ, বাব, শুরবিস সাম্মি, হাদীস নং ৫৭৭৮। সাবেত ইবনে দহহাক রাঃ থেকে বর্ণীত একটি হাদীসে তিনি বলেন:

مَن قتل نفسه بشيء في الدنيا عذب به يوم القيامة

অর্থঃ যে ব্যক্তি দুনিয়ার কোন জিনিস দ্বারা আত্যহত্যা করল কিয়ামতের দিন তাকে তা দ্বারা শাস্তি দেয়া হবে। বুখারী, আস সাহীহ, হাদীস নং ৬৬৪৭। মুসলিম, আস সহীহ, হাদীস নং ৩১৬। জুনদুব ইবনে আব্দুল্লাহ রাঃ এর সূত্রে বর্ণীত একটি হাদীসে আছে:

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : كان فيمن كان قبلكم رجل به جرح فجزع فأخذ سكيناً فحز بها يده فما رقأ الدم حتى مات . قال الله تعالى : بادرني عبدي بنفسه حرمت عليه الجنة

অর্থঃ তোমাদের পূর্বে একব্যক্তির শরীরে যখম ছিলো সে ধৈর্যহারা হয়ে পড়ল একটি ছুরি দ্বারা নিজের হাত কেটে ফেলল এবং রক্ত বন্ধ হলনা। অবশেষে লোকটি মারা গেল। আল্লাহ তায়ালা বললেন: আমার বান্দা তাড়াহুড়া করেছে তার জন্য জান্নাত হারাম। বুখারী, আস সহীহ, হাদীস নং ৩৪৬৩। এ সকল হাদীস প্রমাণ করে যে, আত্মহত্যাকারীর জন্য মুক্তির আশা নেই। সে অনন্তকাল জাহান্নামে থাকবে। রাসূল সা. আত্যহত্যা কারীর জানাযার নামাজে শরীক হতে অস্বীকার করেন। জাবের ইবনে সামুরা রাঃ থেকে বর্ণীত তিনি বলেন:

أُتي النبي صلى الله عليه وسلم برجل قتل نفسه بمَشاقص فلم يصل عليه

অর্থঃ তীর দ্বারা আত্যহত্যা করেছে এমন এক ব্যক্তিকে রাসূল সাঃ এর কাছে আনা হল ক্ন্তিু তিনি তার জানাযার নামাজ পড়লেন না। বুখারী আস সহীহ, বাব,তারকুস সালাতি আলা ক্বাতিলি নাফসিহী, হাদীস নং ২৩০৯। তার জানাযার নামাজঃ ইমাম নববী রহঃ বলেন: উপরোক্ত হাদীসের আলোকে উমার ইবনে আব্দুল আজীজ এবং আওজায়ী রহঃ বলেন আত্যহত্যা কারীর জানাজার নামাজ পড়া যাবে না। পক্ষান্তরে হাসান বসরী, ইমাম নাখয়ী, ইমাম মালেক, ইমাম আবু হানীফা এবং ইমাম শাফী রহঃ সহ অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের মতে আত্যহত্যা কারীর জানাযার নামাজ পড়তে হবে। কেননা রাসূল সা. নিজে এমন ব্যক্তির জানাযার নামাজে শরীক না হলেও সাহাবয়ে কেরামকে এব্যাপারে অনুমতি প্রদান করেছেন এবং সাহাবায়ে কেরাম তার জানাযার নামাজ পড়েছেন। যেমন তিনি ইসলামের শুরুর যুগে কেউ ঋনি হয়ে মারা গেলে (ঋন আদায়ে অবহেলা করার ব্যাপারে সতর্ক করার জন্য) তার জানাযায় শরীক হতেন না এবং সাহাবায়ে কেরামকে তার জানাযায় শরীক হতে আদেশ করতেন। তিনি বলতেন: صَلُّوا عَلَى صَاحِبكُمْ (তোমরা তোমাদের সাথীর জানাযার নামাজ পড়)। বুখারী, আস-সহীহ, হাদীস নং ২২৮৯। কাজী ইয়াজ বলেন, সকল উলামায়ে কেরামের মত হল, প্রত্যেক মুসলমানের জানাযার নামাজ পড়া হবে। ব্যাক্তি হোক হদের শাস্তি প্রাপ্ত, রজমকৃত, আত্যহত্যাকারী কিংবা অবৈধ সন্তান। (শরহুন নববী আলা মুসলিম, ৩/৪০৫। কিতাব, আলজানাইয, বাব, তারকুস সালাত আলাল কাতিলি নাফসিহি। (শামিলা) এ হিসাবে উলামায়ে কেরামের মতে সুন্নাত হল, আলেম বা শ্রেষ্ঠব্যাক্তিরা আত্যহত্যাকারীর জানাযায শরীক হবেনা বরং সাধারন মানুষদের মাধ্যমে তার জানাযার নামাজ সম্পূর্ণ করা হবে। চিরোদিন জাহান্নামে থাকাঃ উপরের হাদীসগুলোতে আমরা দেখেছি যে, রাসূলুল্লাহ .... বারবার বলেছেন যে, আত্মহত্যাকারী অনন্তকাল জাহান্নামে থাকবে। এর বিপরীতে মূলত কোনো হাদীস নেই। তবে দু-একটি হাীসের প্রাসঙ্গিক নিরর্শনা ও ইসলামের মূলনীতির আলোকে আলিমগণ বলেছেন যে, যে ব্যক্তি তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করবে সে চিরদিন জাহান্নামে থাকবে না যদিও সে কবীরা গুনাহে লিপ্ত হয়। উপরে উাল্লেখিত হাদীসগুলোতে আত্যহত্যাকারীর চিরদিন জাহান্নামে থাকার যে কথা এসেছে উলামায়ে কেরাম এ হাদীসের ব্যাক্ষায় বলেন, যে ব্যক্তি বৈধমনে করে আত্যহত্যা করবে সে তা বৈধ মনে করার কারণে কাফের হয়ে যাবে। অথবা যদি কেউ আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে আত্মহত্যা করে তবে তাকে অনন্তকাল জাহান্নামে থাকতে হবে। যদি সে এটাকে বৈধ মনে না করে বা আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এ মহাপাপ করে ফেলে তবে তার মুক্তির আশা করা যায়। আল্লাহর ইচ্ছায় সে একদিন জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে ইনশাল্লাহ। কারন কোরআনে মহান দয়াময় আল্লাহ একমাত্র শিরক ছাড়া অন্য সকল গুনাহ মাফ করে দেয়ার ওয়াদা করেছেন। তিনি বলেন: إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ (অর্থঃ) নিশ্চই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার বিষয়কে ক্ষমা করবেন না। আর তিনি অন্যান্য গুনাহের ব্যাপারে যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দিবেন। সূরা নিসা-১১৬। আর আত্মহত্যা শিরক বা কুফর পর্ায়ে না গেলে আমার আশা করতে দয়াময় আল্লাহ তাকে একদিন মাফ করে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবেন। তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়াঃ হা তাদের জন্য দোয়া করা যেতে পারে। একটি হাদীসে এসেছে রাসূল সাঃ এমন ব্যাক্তির জন্য দোয়া করেছেন। হযরত তুফাইল ইবরে আমর দাউসি রাঃ থেকে বর্ণীত একটি হাদীসে এসেছে:

فلما هاجر النبي صلى الله عليه وسلم إلى المدينة هاجر إليه الطفيل بن عمرو وهاجر معه رجل من قومه فاجتووا المدينة فمرض فجزع فأخذ مشاقص له فقطع بها براجمه فشخبت يداه حتى مات، فرآه الطفيل بن عمرو في منامه فرآه وهيئته حسنة، ورآه مغطيا يديه! فقال له: ما صنع بك ربك؟ فقال: غفر لي بهجرتي إلى نبيه صلى الله عليه وسلم. فقال: ما لي أراك مغطيا يديك؟ قال: قيل لي: لن نصلح منك ما أفسدت. فقصها الطفيل على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اللهم وليديه فاغفر...

অর্থঃ যখন নবী সাঃ মদীনায় হিজরত করলেন তুফাইল ইবরে আমর রাঃ রাসূল সাঃ এর কাছে হিজরত করলেন এবং তার গোত্রের একটি লোক তার সাথে হিজরত করল। যখন তারা মদীনায় পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হল তখন সে কয়েকটি তির নিয়ে তা দ্বারা আঙ্গুলের গিরা কেটে ফেলল এবং দুইহাতা দিয়ে বিরামহীনভাবে রক্ত ঝরতে লাগল এবং অবশেষে সে মৃত্যুবরণ করল। হযরত তুফাইল রাঃ স্বপ্নে তাকে ভাল অবস্থায় দেখতে পেলেন। তবে তার দুই হাত ঢাকা ছিলো। তখন তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন তোমার প্রতিপালক তোমার সাথে কেমন আচরণ করেছেন। উত্তরে তিনি বললেন রাসূল সাঃ এর কাছে হিজরত করার কারণে আমাকে মাফ করে দেয়া হয়েছে। তখন তুফাইল রাঃ তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসা করল তোমার হাত ঢাকা দেখছি কেন? তিনি বললেন, আমাকে বলা হল, তোমার যে অংশ তুমি নষ্ট করেছে তা আমি ঠিক করে দিবনা। রাসূল সাঃ এর কাছে এঘটনা শোনানের পর রাসূল সাঃ আল্লাহর কাছে তার জন্য ক্ষমা চেয়ে বললেন, হে আল্লাহ তুমি তার দুই হাতকে মাফ করে দাও। মুসলিম, আস সহীহ খন্ড ১,পৃষ্ঠা ৭৬ হাদীস নং ৩২৬। মোটকথা, আত্যহত্যা অত্যন্ত মারত্নক একটি কবীরাহ গুনাহ। এব্যাপারে রাসূল সা. এর পক্ষথেকে চিরদিন জাহান্নামে থাকার মত কঠোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি কাজটি কুফুরী হিসাবে গণ্য হওয়ারও সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। যদি আল্লাহ দয়া করে তাকে অন্য কোন ভাল কাজের বিনিময়ে জাহান্নাম থেকে উদ্ধার করেন তাহলে সেটা ভিন্ন কথা। তবে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার আশা একেবারেই কম। কিন্তু কেউ যদি একাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে তাহলে তার জন্য দোয়া করাতে কোন দোষ নেই। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাকে মাফ করলেও করতে পারেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে উত্তম মৃত্যু দান করুন। আমীন।


কপিরাইট স্বত্ব © ২০২৫ আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট - সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত| Design & Developed By Biz IT BD