প্রশ্নঃ 2029
কুরবানীর সাথে ভাগে আকিকা দেওয়া যাবে কিনা? দলিলসহ জানতে চাই।
18 Jan 2026
কুরবাণী ও আক্বীকা একই পশু দ্বারা দেয়া জায়েজ আছে কিনা তা নিয়ে মতভেদ আছে। একদল আলেম বলেন,জায়েজ আছে অন্য অরেক দল বলেন জায়েজ নেই। যারা বলেন জায়েজ আছে তাদের বক্তব্যের মূল ভিত্তি হলো, কুরআনের একটি আয়াত। তা হলো, قُلْ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ অর্থ: আপনি বলুন, নিশ্চয় আমার সালাত, আমার নুসুক আমার জীবন, আমার মরন সবই বিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহরা জন্য। সূরা আন-য়াম, আয়তা ১৬২। উক্ত আয়াতে নুসুক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। আভিধানিক অর্থে নুসুক বলা হয় এমন পশুকে যা আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের জন্য জবেহ করা হয়। দেখুন, আল-মুজামুল ওয়াসীত, পৃষ্ঠা ৯৫৭। আর কুরবানী ও আক্বীকা উভয়টি দ্বারাই যেহেতু আল্লাহ তায়ালা নৈকট্য লাভ উদ্দেশ্য তাই একই পশুতে কুরবানী ও আক্বীকা করা জায়েজ হবে। উল্লেখ হানাফী ও শাফেয়ী মাজহাবের আলেমগন এটাকে জায়েজ বলেছেন। তবে সর্বাবস্থায় মনে রাখতে হবে আকীকা জন্মের সপ্তম দিনে ছাগল বা এ জাতীয় ছোট পশু দিয়ে দেয়া সুন্নত। রাসূলুল্লাহ সা. কিংবা সাহাবীগণ গরু বা উট দিয়ে কখনো আকীকা দেন নি। আমাদের উচিৎ সুন্নাতের অনুসরন করা।
প্রশ্নঃ 1980
আসসালামুয়ালাইকুম! বাংলাদেশের ঈদের আগের দিন আমাদের এখানে ঈদ হয়। কিন্তু আমি সবসময় দেশে কুরবানি দেই। কারন দেশে অনেক গরিব মানুষ আছে, আত্মীয় স্বজন আছে, তাই বন্টন সঠিক হয়। আর এখানে তো খুঁজলেও গরিব মানুষ পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে কুরবানি আর রোজা রাখতে চাইলে কি নিয়মে রাখতে হবে? তাছাড়া দেশে এবং এখানে টাইম — সমস্যা আছে।
17 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি যেখানে আছেন সেখানকার আমলগুলো সেখানকার তারিখ অনুযায়ী করবেন। যেমন, আরাফার রোজা সেখানকার ৯জিলহজ্জ রাখবেন। আর আপনার কুরবানী যেখানে হবে সেখানে সেখানকার তারিখ অনুযায়ী কুরবানী হবে। টেনশনের কোন কারণ নেই। সবই স্বাভাবিক নিয়মে হবে।
প্রশ্নঃ 1979
আব্বা মা হজ্জে গেছে, আমাকে কি উনাদের নামে আবার কুরবানী দিতে হবে?
17 Jan 2026
না, তাদের জন্য আপনাকে কুরবানী দিতে হবে না।
প্রশ্নঃ 1966
ভাই আসসালামু আলাইকুম, কুরবানিতে ৭ ভাগ আর ৭ নামের মধ্যে পার্থক্য কি কুরান হাদিছের আলোকে একটু বুঝিয়ে বলবেন?
17 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কথা হলো, একটি গরু সাত জনের পক্ষ থেকে কুরবানী দেয়া যায়। এটা সহীহ হাদীসসম্মত। আপনার প্রশ্ন বুঝতে পারছি না।
প্রশ্নঃ 1965
আসসালামু আলইকুম। প্রতি কোরবানী ঈদে আমরা ভাইরা কেউ 10000 কেউ 15000 বা কেউ 12000 টাকা বাবাকে দিলে বাবা অন্য আরো 2-3 জনের সাথে শরীকে কোরবানী দেয়। আমার ভাইদের আয় রোজগার ভালো, তাই আপতদৃষ্টিতে মনে হয় তাদের উপর ও কোরবানী ওয়াজিব হয়ে আছে।আর আমার উপর ও ঈদের মাাসে বেতন বোনাস মিলে কোরবানী ওয়াজিব হওয়ার উপক্রম।
১. আমার প্রশ্ন হল এইভাবে বাবাকে টাকা দিয়ে, শুধু বাবাই পরিবারের পক্ষ থেকে কোরবানী দিলে আমাদের কোরবানী কি আদাই হবে?
২. আর যেহেতু কোরবানী একটা ইবাদত তাই আমার খুব ইচ্ছা হয় বাবাকে কোরবানীর জন্য টাকা না দিয়ে আমি নিজেই কাউকে শরীক না করে একটা পশু আল্লাহর রাস্তায় কোরবানী দিতে। এই ব্যাপারে সুপরার্মশ আশা করছি?
৩. বাবার এখন আয় রোজগার নেই, আমরা ভাইরা টাকা দিয়ে পরিবার চালাই, তাহলে বাবার কোরবানী না দিলে কি তার গুনাহ হবে? সে ক্ষেত্রে আমরা ভাইরা হয়ত আলাদা আলাদা কোরবানী দিলাম?
17 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১। আপনার প্রত্যেক ভাই আলাদা আলাদা কুরবানী করবে। সেই হিসাব করে প্রতি ভাই যদি কমপক্ষে গরুর এক ভাগের টাকা বাবার কাছে দেন আর তিনি কুরবানীর পশু কেনার এবং কুরবানী দেয়ার বিষয়গুলো দেখাশোনা করেন তাহলে সমস্যা নেই। ২। শরীয়দের দৃষ্টিতে কোন সমস্যা নেই। তবে সামাজিকতা রক্ষার জন্য আপনি আপনার বাবার সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলে ভাল হয়। ৩। না, আপনার বাবা গুনাহগার হবে না।
প্রশ্নঃ 1962
আসসালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্ন হলোঃ কুরবানী অংশের সাথে কি আকিকা দেওয়া যাবে? আর আর কুরবানী করার পর যাদের পক্ষ থেকে কোরবানি হবে, তাদের নাম কি বলতে হবে?
17 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এটা সুন্নাত নয়। সুন্নাত হলো শিশু জন্মের সপ্তম দিনে একটি ছোট পশু তথা ছাগল-ভেড়া দিয়ে আকীকা করা।আর কুরাবানী কুরবানীর সময় করা। তবে আলেমদের একাংশ একই পশুতে কুরবানী ও আকীকা জায়েজ বলেছেন। কুরবানীর পরে নাম বলা লাগবে না।
প্রশ্নঃ 1959
আসসালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্ন হলো- একটা গরু ২ থেকে ৭ জন ভাগে কুরবানী করা যাবে কিনা? ভাগে কুরবানী করার নিয়ম কি?
17 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। একটি গরু সাত ভাগে কুরবানী দেয়া যাবে। এই বিষয়ে আলেমগণ ঐক্যমত। দুয়েক জন দল ছুট বাদে। সাত জনের পক্ষ থেকে দিবে এই নিয়তই করবে।
প্রশ্নঃ 1958
আসসালামু আলাইকুম। আমি স্যারের একজন ভক্ত। একটা প্রশ্ন: কোরবানির পশু রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই বান্দার সকল গুনাহ মাফ হয়। হাদিসটি কি সহিহ। জানালে খুব খুশি হব।
17 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীসটি উচ্চমানের সহীহ নয়। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ১৫৭২
প্রশ্নঃ 1957
আসসালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্ন হলো- কোরবানি করা আপনারা বলছেন যে–ওয়াজিব। কিন্তু আবু বক্কর, উমর ফারুক অনেক সময় কুরবানি করতেন না। আব্দুল্লাহ ইবনে অমর, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস,বেলাল প্রমুখ সাহাবি থেকে বর্ণনা পাওয়া যায়।
17 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আল্লাহ সূরা কাওসারে কুরবানী করার আদেশ দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, সামর্থ থাকা সত্তেও কুরবানী না করলে ইদগাতে যেন না আসে। আল-মুসাতারক লিল-হাকেম, হাদীস নং ৩৪৬৮। হাদীসটিকে শায়খ আলবানী হাসান বলেছেন। কেউ কেউ সহীহ বলেছেন। সহীহ ওযীফ তারগীব, হাদীস নং ১০৮৭। এসব বিবেচনায় আলেমদের একটি অংশ বলেছেন, ওয়াজিব। কুরআন ও হাদীসের ভাষ্যের দিকে তাকালে ওয়াজিবই মনে হয়। তবে ওয়াজিবটা হলো আমলের দিকে দিয়ে। বিশ্বাসের দিক দিয়ে সুন্নাতই মনে করতে হবে। আর কুরবানী সুন্নাত বলার ফলাফল মধ্যপ্রাচ্য ভোগ করছে। সেখানে সামর্থ থাকা সত্তেও অধিকাংশ মানুষ কুরবানী করে না। সেখানে কুরবানীর ঈদ যে, ধনী-গরীবের মহামিলনের উৎসব সেটা মনেই হয় না। আরেকটি কথা মনে রাখবেন যারা সুন্নাত বলেছেন, তারা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বলেছেন। তাদের নিকট সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ওয়াজিবের স্থানে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। শেষ কথা বলি আপনার নিকট কুরবানী করা সুন্নাত হওয়ার অর্থ যেন এটা না হয় যে, বাচাঁ গেল, যেহেতু সুন্নাত তাহলে আর কুরবানী করা লাগবে না। সাহাবীদের কেউ কেউ করাবনী করেন নি এর থেকে প্রমানিত হয় যে, ফরজ নয়। কারণ কুরআন ও হাদীসের ভাষ্য থেকে ফরজ মনে করারও অবকাশ আছে।
প্রশ্নঃ 1952
আসসালামুআলাইকুম,যদি ধনীকারোর কুরবানির পশু হারিয়ে যায় বা মারা যায় তার কি কোন মাসালা আছে?আর গরীব কারোর কুরবানির পশু হারিয়ে যা বা মারা যায় তার মাসালা কি? জানালে খুব উপকার হবে।
16 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ধনী হলে পূনরায় পশু কিনে কুরবানী করতে হবে। আর গরীব হলে পূনরায় কেনা আবশ্যক নয়।
প্রশ্নঃ 1951
কুরবানি বিষয়ে একটু জানতে চাচ্ছি। আমার স্বামী চাকুরী করে এবং আমিও চাকুরী করি এক্ষেত্রে আমার স্বামী ও আমার পক্ষ থেকে কি আলাদা আলাদা কুরবানি দিতে হবে?
আমরা এতদিন দেখে এসেছি যে গরু কুরবানির ক্ষেত্রে ৭ ভাগ দেয়া হয় ৭ জনের পক্ষ থেকে — এটা সহিহ কিনা। এক বাড়ীর ৬ ভাই যদি আয়-উপার্জন করে এবং তাদের যদি আলাদা আলাদা সংসার থাকে সেক্ষেত্রে তাদের কোরবাণী কি নিয়মে হবে? প্রত্যেকে আলাদা আলাদা ভাগ দিবে নাকি সকলে একত্রে টাকা দিয়ে একসাথে কুরবানি দিবে?
16 Jan 2026
আপনি যদি কুরবানীর নেসাব পরিমান সম্পদের মালিক হন তাহলে আপনার উপর কুরবানী ওয়াজিব। আপনার স্বামীকেউ কুরাবনী দিতে হবে, আপনাকেও দিতে হবে। বড় পশু অর্থাৎ গরু, মহিষ, উটে ৭ জন কুরবানী দেয়া যায়, এটা সহীহ এবং সঠিক কথা। উম্মতের কর্মধারা এর উপরই শত শত বছর চলে আসছে। বেশ কিছু সহীহ হাদীসে এই কথা বলা আছে। প্রত্যেকের উপরই কুরবানী ওয়াজিব। গরু হলে এক গরুতে সবাই ভাগি হতে পারে, সমস্যা নেই।
প্রশ্নঃ 1946
আসসালামুয়ালাইকুম। আমাকে এক ভাই অনুরুধ করছে আপনাদের কাছে নীচের প্রশ্নগুলি করতে। প্রশ্নগুলি হোলঃ
১। স্বামী ইনকাম করে এবং নিয়মিত কোরবানী করে। স্ত্রী কোন চাকুরী করে না, গৃহিণী। তাহলে স্ত্রী উপর কোরবানী করা কি ওয়াজিব/সুন্নতে মুয়াক্কাদা? উল্লেখ্য যে স্বামীর আর্থিক অবস্থা এমন যে ইচ্ছে করলে স্ত্রীর কোরবানীর খরচ স্বামী যোগাড় করতে পারবে। ২। ভাই এর আর্থিক অবস্থা এখন ভালো নয়, তাই এই বছর কোরবানী দিবেনা কিন্তু আগে নিয়মিত কোরবানী দিত। এই অবস্থায় নিজের স্ত্রীর নামে কোরবানী না দিয়ে ভাই এর নামে কোরবানী দেওয়া কি উত্তম হবে?
16 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১। স্ত্রীর উপর কুরবানী ওয়াজিব/সুন্নাত কিছুই না। স্বামীর আর্থিক অবস্থা ভাল থাকার কারণে স্ত্রীর উপর কুরবানী ওয়াজিব/সুন্নাত হয় না। ২। ভাই এর আর্থিক অবস্থা এখন ভালো নয়, তাই এই বছর কোরবানী দিবেনা । যদি নাই দেয় তাহলে উত্তম হওয়া না হওয়া কী বুঝলাম না। যার উপর কুরবানী ওয়াজিব তাকে কুরবানী দিতে হবে, উত্তম-অনুত্তমের কিছু নেই। ভাইয়ের উপর ওয়াজিব হলে ভাই নিজের পক্ষ থেকে কুরবানী দিবে। নিজের ওয়াজিব আদায়ের পর অন্য কারো পক্ষ থেকে নফল হিসাবে কুরবানী দিতে পারবে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। প্রয়োজনে 01734717299
প্রশ্নঃ 1902
আসসালামু আলাইকুম
১। যদি কোন আত্মীয় বা প্রতিবেশী কুরবানি দিয়েছেন তাহলে কি উনাকে আমাদের কুরবানীর গোস্ত দেয়া যাবে কি? না দিলে কি কোন সমস্যা হবে কি?
২। আমাদের এক আত্মীয় গত কয়েক বছর ধরে আমাদের কুরবানীর গোস্ত নেয় (ক্ষোভের কারনে) না কিন্তু আমরা গোস্ত দিয়ে আসি কিন্তু উনারা ফিরত দেয়। এখন আমাদের করণীয় কি? গোস্ত কি দিবো না দিব না?
৩। কুরবানীর গোস্ত কতদিন রেখে আমরা খেতে পারব?
৪। কুরবানীর গোস্ত কোন অমুসলিম প্রতিবেশী কে বা কোন অমুসলিমকে দেয়া জায়েজ কি?
14 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যে কুরবানী দেয় তাকেও কুরাবনীর গোশত দেয়া যায়। না দিলে সমস্যা হবে কেন? ২। আপনাদের ইচ্ছা। আপনারা আপনাদের সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন। ৩। যত দিন খুশি কুরবানীর গোশত ততদিন রাখা যাবে। ৪। অমুসলিম প্রতিবেশীকেও কুরবানীর গোশত দেয়া যা। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ১৯৪৩।
প্রশ্নঃ 1881
আসসালামু আলাইকুম ১। যদি কোন আত্মীয় বা প্রতিবেশী কুরবানি দিয়েছেন তাহলে কি উনাকে আমাদের কুরবানীর গোস্ত দেয়া যাবে কি? না দিলে কি কোন সমস্যা হবে কি?
২। আমাদের এক আত্মীয় গত কয়েক বছর ধরে আমাদের কুরবানীর গোস্ত নেয় (ক্ষোভের কারনে) না কিন্তু আমরা গোস্ত দিয়ে আসি কিন্তু উনারা ফিরত দেয়। এখন আমাদের করণীয় কি? গোস্ত কি দিবো না দিব না?
৩। কুরবানীর গোস্ত কতদিন রেখে আমরা খেতে পারব?
৪। কুরবানীর গোস্ত কোন অমুসলিম প্রতিবেশী কে বা কোন অমুসলিমকে দেয়া জায়েজ কি?
14 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যে কুরবানী দেয় তাকেও কুরাবনীর গোশত দেয়া যায়। না দিলে সমস্যা হবে কেন? ২। আপনাদের ইচ্ছা। আপনারা আপনাদের সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন। ৩। যত দিন খুশি কুরবানীর গোশত ততদিন রাখা যাবে। ৪। অমুসলিম প্রতিবেশীকেও কুরবানীর গোশত দেয়া যা। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ১৯৪৩।
প্রশ্নঃ 1878
আসসালামু আলাইকুম
১। কুরবানির মাংস ৩ ভাগ করতে হয়। একভাগ নিজের জন্য, একভাগ গরিব মিসকিন আর একভাগ আত্মীয়দের/প্রতিবেশীর জন্য। এইটা কি সুন্নাত সম্মত? এক আলেমকে বলতে শুনেছি হাদিসে আত্মীয়ের ভাগ বলে কিছু নাই আর যেটা আছে ওইটা জাল, উনি বলেছেন ৩ ভাগ হবে এক ভাগ নিজেরা খাবে, এক ভাগ জমা রাখবে আর একভাগ গরিব মিসকিনকে দিবে। কেউ যদি ইচ্ছা করে তাইলে নিজের ভাগ থেকে আত্মীয়কে দিতে পারে। এই বিষয়ে জানতে চাচ্ছি। তাহলে কি কুরবানির মাংস আত্মীয়ের ভাগ বলে কিছু নাই?
২। আরাফাতের দিন (৯ জিলহাজ্জ) রোযা রাখতে বলেছেন রাসূল (সাঃ)। সৌদিতে যেদিন ৯ জিলহাজ্জ সেদিন আমাদের এখানে ৮ জিলহাজ্জ। এখন আমরা কবে রোযা রাখব আমাদের দেশের ৮ জিলহাজ্জ না ৯ জিলহাজ্জ? আর এবার ৯ জিলহাজ্জ আমাদের দেশে শুক্রবার এক্ষেত্রে কি করনীয়?
৩। আমাকে একজন বলেছে যে, কেউ যদি দৈনিক ১০০০ বার দরুদ শরিফ পাঠ করবে সে একদিন রাসূল (সাঃ) স্বপ্নে দেখবে। এইটা নাকি হাদিসে কুদছি। আমি এই বিষয়টা জানতে চাচ্ছি। ৪। যখন কোন শিশু জন্ম নেয় তখন তার শরীরের ১০টা অংশ আল্লাহ্ এর জিকির করতে থাকে। সে বড় হতে থাকে আর পাপ করতে থাকে এতে তার শরীরের ওই অংশগুলো আল্লাহ্ এর জিকির বন্ধ করে দেয়। সেজন্য ১০ লতিফা দিয়ে ওই অংশগুলোর আল্লাহ্ এর জিকির ফিরিয়ে আনতে হয়। এই বিষয়টার সত্যতা জানতে চাচ্ছি আর একটু বিস্তারিত আলোচনা করলে খুশি হতাম। আমার প্রশ্নে কোন ভুলত্রুটি থাকলে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন। যাযাকাল্লাহ্ খাইরান
14 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কুরবানীর গোশত তিন ভাগ করা আবশ্যক নয়। আলেমগণ মুস্তাহাব বলেছেন। তবে ঐ আলেম যা বলেছেন এমন কথা কেউ বলেন নি। আপনার পক্ষে বেশী দান করা সম্ভব হলে বেশী করবেন। আবার পরিবারের লোক সংখ্যা বেশী হলে নিজেরা বেশী করে রাখতে পারবেন। কোন নির্দিষ্ট ভাগ ইসলামে করে দেয়া হয় নি। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন, فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ তোমরা কুরবানীর গোশত খাও এবং গরীবদেরকে খাওয়াও। সূরা হাজ্জ, আয়াত ২৮। এখানে তোমরা খাও বলতে আত্নীয়রাও এসে যায়। আল্লাহ ভাল জানেন। ২। আরাফার দিন অর্থ হলো ৯ জ্বিলহজ্জ। যেমনি ভাবে কুরবানীর দিন অর্থ হলো ১০ জ্বিলহজ্জ। সুতরাং আমাদের দেশে ৯ জিলহজ্জ শুক্রবার রোজা রাখতে হবে। কোন কোন আলেম বলেছেন, সৌদি আরবের আরাফার দিন হিসাবে রোজা রাখলেও হবে। ৩। এ ব্যাপারে আমাদের জানা নেই। ৪। এই বিষয়েও আমাদের জানা নেই। এগুলো সুন্নাত থেকে দূরে রাখার কৌশল।
প্রশ্নঃ 1876
আসসালামু আলাইকুম, আমি প্রতিবছরই আমাদের কুরবানির পশু আমি নিজেই জবাই করি, কিন্তু এ বছর আমার বিবি pregnent সে কথা থেকে শুনছে এ অবস্থায় যাতে আমি কোন কিছু জবাই না করি, এ কথার স ত্য কত টুকু? দয়া করে জানাবেন
14 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার স্ত্রী যা শুনেছে তা আদৌ সত্য নয়। আপনি জবাই করতে পারেন, কোন সমস্যা নেই।
প্রশ্নঃ 1870
কুরবানি করার সময় নাম দেয়ার কারণ কি? (বিদ্রঃ আমাদের দেশে সাধারনত ৭ নামে কুরবানি দেয়)
14 Jan 2026
এটা আমাদের দেশের একটা প্রথা। ইসলামের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই।
প্রশ্নঃ 1618
নয়জন মিলে দুইটা গরু কুরবানী করলে কি হবে?
07 Jan 2026
হ্যাঁ, হবে। জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রা. বলেন, أَنَّ النَّبِىَّ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ الْبَقَرَةُ عَنْ سَبْعَةٍ وَالْجَزُورُ عَنْ سَبْعَةٍ নবী সা. বলেছেন, গরু সাত জনের পক্ষ থেকে এবং উট সাত জনের পক্ষ থেকে। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ২৮১০। শায়খ আলবানী রহ. এবং অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
প্রশ্নঃ 1116
কোরবাণী ও আক্বীকার শর্ত ও গোশত বন্টন সম্পর্কে জানতে চাই।
04 Jan 2026
কুরবানী ও আক্বকীর গোশতকে তিন ভাগ করে একভাগ নিজেদের জন্য, একভাগ আত্নীয়স্বজনদের জন্য এবং আরেকভাগ গরীব-মিসকিনদের দেয়াকে আলেমগণ মুস্তাহাব বলেছেন। পরিবার বড় হলে বেশী গোশত রাখাতে কোন অসুবিধা নেই। তবে সর্বাবস্থায় চেষ্টা করতে হবে যত বেশী সম্ভব গরীবদেরকে দিতে হবে। সব গোশত রেখে দিলেও কুরবানী ও আক্বকী আদায় হয়ে যাবে। তবে এটা নৈতিকতা বিরোধী।
প্রশ্নঃ 1108
Assalamualaiqum. Muhtaram, omuslimderkay ki Qurbanir ghusto deya jabay?
04 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, কুরবানীর গোশত অমুসলিমকে দেয়া জায়েজ।
প্রশ্নঃ 1010
আমি এবং আমার স্ত্রী দুজনই জব করি। আমাদের দুজনেরই কুরবানী করা ওয়াজিব। আমাদের ২টা বেবি আছে। আমি জানি যে গরুতে ৭ নামে কুরবানী করা যায় এবং নাবালক শিশুদের নামেও কুরবানী দেওয়া যায়। এখন আমরা একটা গরু ২ নামে কুররানী দিলে ভাল হবে? নাকি একটা গরুতে শিশুদের নাম সহ ৪ চার নামে কুরবানী দিলে ভাল হবে? উত্তম কোনটা? আমাদের প্রিয় নবী সাঃ কিংবা কোন সাহাবী কি নাবালক শিশুদের নামে কুরবানী দিয়েছেন? এই রকম কোন হাদিস কি আছে?
03 Jan 2026
আপনি ইচ্ছা করলে আপনার নাবালক ছেলে-মেয়েদের পক্ষ থেকেও কুরবানী করতে পারেন। এবং সেটাই উত্তম হবে। হাদীসে পরিবারের পক্ষ থেকে কুরবানী করার কথা আছে। অবশ্য নাবালক কথাটি কোন হাদীসে স্পষ্টে উল্লেখ আছে বলে আমার জানা নেই। হাদীসটি দেখুন: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يُضَحِّيَ، اشْتَرَى كَبْشَيْنِ عَظِيمَيْنِ، سَمِينَيْنِ، أَقْرَنَيْنِ، أَمْلَحَيْنِ مَوْجُوءَيْنِ، فَذَبَحَ أَحَدَهُمَا عَنْ أُمَّتِهِ، لِمَنْ شَهِدَ لِلَّهِ، بِالتَّوْحِيدِ، وَشَهِدَ لَهُ بِالْبَلاَغِ، وَذَبَحَ الآخَرَ عَنْ مُحَمَّدٍ، وَعَنْ آلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ র্অথ: রাসূলুল্লাহ সা. যখন কুরবানী দয়োর ইচ্ছা করতনে তখন দুটি বশিাল বড় সাইযরে সুন্দর দখেতে খাসী করা কাটান দওেয়া পুরুষ মষে বা ভড়ো ক্রয় করতনে। তাঁর উম্মতরে যারা তাওহীদ ও তাঁর রসিালাতরে সাক্ষ দয়িছেতে তাদরে পক্ষ থকেে একটি কুরবানী করতনে এবং অন্যটি মুহাম্মাদ সা. এবং মুহামাদ সা. এর পরবিাররে পক্ষ থকেে কুরবানী করতনে। ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩১২২; মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ২৫৮২৫। হাদীসটি হাসান।
প্রশ্নঃ 1007
Assalamualiqum. Kono Bangladeshi Hajji jodi Makkah-tay tar Hajjerr jony poshu Qurbani dei, tobay takay ki Bangkadeshay Qurbani Eid-er somoy tar namay arekti Qubani ditay hobay?
03 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, বাংলাদেশে তার কুরবানী দেয়ার প্রয়োজন নেই।
প্রশ্নঃ 997
আসসালামু আলাইকুম. কুরবানি ঈদে আমাদের সমাজের ঈমাম/মুনশি গরু জবাই করে। জবাই করার সময় যার নামে কুরবানি হবে তার নাম আগে বলে। পরিবারের অভিভাবক বা বাবার নাম বলতে হয়। তার পরে ইমাম/মুনশি কিছু একটা মুখে পড়ে গলায় ছুরি চালায় মানে জবাই করে। এটাই কি সঠিক নিয়ম। নাকি শুধু বিসমিল্লাহ আল্লাহ আকবার বলে জবাই করতে হবে/
একটু বুঝিয়ে বলবেন।
03 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে জবেহ করলেই জবেহ সহীহ হয়ে যাবে । তবে কোন কোন হাদীসে উল্লেখ আছে রাসূলুল্লাহ সা. কুরবানীর পশু জবেহ করার সময় নিচের দুআগুলো পড়তেন: إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ عَلَى مِلَّةِ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا ، وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ ، إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لاَ شَرِيكَ لَهُ ، وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ ، اللَّهُمَّ مِنْكَ وَلَكَ ، وَعَنْ مُحَمَّدٍ وَأُمَّتِهِ بِاسْمِ اللهِ ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ । সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ২৭৯৫; আসসুনানুল কুররা, ইমাম বায়হাক্কী, হাদীস নং ১৯৬৫৭। হাদীসটিকে শায়খ শুয়াইব আরনাউত হাসান্ বলেছেন। শায়খুল ইসলাম ইবতে তায়মিয়া রহ. এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি উপরের দুআগুলো পড়তে বলেছেন। তিনি এর সাথে আরো কিছু যোগ করেছেন। দেখুন, মাজমাউল ফাতাওয়া, ২৬/৩০৯। সুতরাং আপনাদের ইমাম সাহেব কোন ভুল আমল করেন না। আল্লাহ তাঁকে এবং আপনাকে কুরআন-সুন্নাহর উপর অটল রাখুন।
প্রশ্নঃ 994
মৃত মানষের নামে কি কুরবানী দেয়া উচিৎ? দলিল সহ জানাবেন
03 Jan 2026
{ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَاضَيْتُمْ بِهِ مِنْ بَعْدِ الْفَرِيضَةِ} অর্থ: “মোহর নির্ধারনের পরে তোমরা সন্তুষ্ট হয়ে যা করবে তাতে কোন দোষ নেই। ” সূরা নিসা, আয়ত নং ৪। বিস্তারিত জানতে দেখুন, ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত “খুতবাতুল ইলাম” বইটির বিবাহ সম্পর্কীত খুতবাটি। আল্লাহ তায়ালা ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 993
সুদ খোরের সাথে কুরবানি দেওয়া যাবে কি?
03 Jan 2026
কুরবানীর পশু যদি কেউ হারাম টাকা দিয়ে কিনে তাহলে তার সাথে ভাগাভাগি কর কুরবানী দেয়া জায়েজ নেই। অর্থাৎ একটি গরু যদি কয়েকজন মিলে কুরবানী দেয় আর তাদের কোন একজনের টাকা হারাম হয় তাহলে কারো কুরবানী জায়েজ হবে না। যদি আপনার আশংকা হয় সে সুদের টাকা দিয়ে কুরবানীতে ভাগ রেখেছে তাহলে তার সাথে কুরবানী করবেন না। যদি নিশ্চিত হন কুরবানীর পশু কেনার ক্ষেত্রে সে হালাল টাকা দিয়েছে তাহলে কুরবানী হয়ে যাবে। আর সুদ যে মহাগুনাহ তা বলাল অপেক্ষা রাখে না।
প্রশ্নঃ 984
আমরা ৪ ভাই বাবা মার অধীনে আছি, মানে এখনও আমাদের ৪ ভাইয়ের মধ্যে কেউ আলাদা হই নাই। ২ ভাই বিবাহিত। এর মধ্যে ২ ভাই চাকুরী করি, আর এক জন বিজনেস করে, বাকি জন এখনও ছাত্র। আপনার কাছে প্রশ্ন হল আমাদের পরিবারের শুধু আমার বাবা কোরবানি দিলে কি আমাদের সবার কোরবানি আদায় হয়ে যাবে? অবশ্য বাবা কে কোরবানির জন্য আমরা ৩ ভাই টাকা দিয়ে থাকি। আমাদের কে কি আলাদা ভাবে কোরবানি করতে হবে?
আশা করি উত্তর টি জানাবেন।
03 Jan 2026
আপনারা তিন ভাইয়ের যদি ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে আর সে সম্পদ যদি কুরবানীর নিসাব পরিমান হয় তাহলে আপনাদের প্রত্যেকের উপর কুরবানী ওয়াজিব। শুধু আপনার পিতার পক্ষ থেকে কুরবানী দেয়া যথেষ্ট নয়। তবে যদি আপনারা নিসাব পরিমান সম্পদের মালিক না হন তাহলে কোন সমস্যা নেই। নিসাব হলো সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা কিংবা এই মূল্য পরিমান টাকা-পয়সা কিংবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থাকা। আপনার প্রশ্ন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন, আমাদের দেয়া 974 নং প্রশ্নের উত্তর।
প্রশ্নঃ 983
বে-নামাজির সাথে কোরবান দেওয়া যায়েজ কিনা? সমাজে অনেকে ছেলে-মেয়ের নামে কোরাবান দেয়। মা-বাবা নামাজ পড়লেও ছেলে-মেয়ে নামাজ পড়ে না। এই ক্ষেত্রে বে-নামাজি ছেলে-মেয়ের নামে এক সাথে কোরবান হবে কিনা?
03 Jan 2026
কুরবানী দিতে হয় আল্লাহর নামে, ব্যক্তির পক্ষ থেকে। নামায না পড়া বিরাট গুনাহ, তবে বে-নামাযী কুরবানী দিলে তা সীহহ হবে না বা বে-নামাযীর পক্ষ থেকে কেউ কুরবানী দিলে হবে না বিষয়টি এরকম নয়। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।
প্রশ্নঃ 974
আচ্ছালামু আলাইকুম,কুরবানী ওয়াজীব হওয়ার শর্ত কি? মানে কোন ব্যক্তি কত টাকা কি রকম ইনকাম করলে বা সব খরচের পর কত টাকা থাকলে তার উপর কুরবানী ওয়াজীব হয়? আর সেক্ষেত্রে কত টাকা মিনিমাম ইনকাম করলে অন্যের সাথে ভাগে কুরবানী দেওয়া যায়? একটু ডিটেইল জানাবেন প্লীস।
03 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কুরবানী একটি বড় ইবাদাত। কুরআনে সূরা কাউসারে কুরাবনী করতে আদেশ করা হয়েছে এবং অনেকগুলো সহীহ হাদীসে কুরবানী করার জন্য উৎসাহ দেয়া হয়েছে, সামর্থ থাকা সত্ত্বেও কুরবানী পরিত্যাগকারীকে ধমক দেয়া হয়েছে। কুরাবনী দেয়া অধিকাংশ আলেমের মতে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও করবানী না করা মাকরুহ। এই বিষয়ে বিখ্যাত ফিকহী বিশ্বকোষ আল-মাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ এর ভাষ্য হলো, ذَهَبَ جُمْهُورُ الْفُقَهَاءِ ، وَمِنْهُمُ الشَّافِعِيَّةُ وَالْحَنَابِلَةُ ، وَهُوَ أَرْجَحُ الْقَوْلَيْنِ عِنْدَ مَالِكٍ ، وَإِحْدَى رِوَايَتَيْنِ عَنْ أَبِي يُوسُفَ إِلَى أَنَّ الأُْضْحِيَّةَ سُنَّةٌ مُؤَكَّدَةٌ . وَهَذَا قَوْل أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَبِلاَلٍ وَأَبِي مَسْعُودٍ الْبَدْرِيِّ وَسُوَيْدِ بْنِ غَفَلَةَ وَسَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَعَطَاءٍ وَعَلْقَمَةَ وَالأْسْوَدِ وَإِسْحَاقَ وَأَبِي ثَوْرٍ وَابْنِ الْمُنْذِرِ অর্থ: অধিকাংশ ফকীহ মত পোষন করেছেন যে, কুরবানী সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। তাদের মধ্যে আছেন, শাফেয়ী ও হাম্বলীগণ, ইমাম মালেক (দুই মতের মধ্যে প্রাধান্যপ্রাপ্ত), আবু ইউসুফ (এক মতানুযায়ী) রহ.। একই মত পোষন করেছেন, আবু বকর রা., উমার রা., বিলাল রা., আবু মাসউদ আল-বাদারী, সুয়াইদ ইবনে গফলাহ, সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব, আাতা, আলকামাহ, আসওয়াদ, ইসহাক, আবু সাওর ইবনে মুনযির। আল-মাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৫/৭৬। কেননা রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, إِذَا دَخَلَتِ الْعَشْرُ وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّىَ فَلاَ يَمَسَّ مِنْ شَعَرِهِ وَبَشَرِهِ شَيْئًا অর্থ: যখন জ্বিলহজ্জের দশ তারিখ আসবে আর তোমাদের কেউ কুরবানী করতে চাইবে তখন সে যেন তার চুল এবং চামড়ার কোন কিছু স্পর্শ না করে। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৫২৩২। উক্ত হাদীসে কুরবানী করাকে চাওয়া তথা ইচ্ছা এর উপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সুতরাং কুরবানী ওয়জিব নয় সুন্নাত। নচিরে হাদীস দুটি লক্ষ্য করুন: عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ هِشَامٍ ، وَكَانَ قَدْ أَدْرَكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَذَهَبَتْ بِهِ أُمُّهُ زَيْنَبُ ابْنَةُ حُمَيْدٍ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ بَايِعْهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم هُوَ صَغِيرٌ فَمَسَحَ رَأْسَهُ وَدَعَا لَهُ ، وَكَانَ يُضَحِّي بِالشَّاةِ الْوَاحِدَةِ عَنْ جَمِيعِ أَهْلِهِ র্অথ: আব্দুল্লাহ ইবনে হশিাম থকেে র্বণতি (তিনি রাসূলুল্লাহ সা. কে পয়েছেলিনে), তারা আম্মা যায়নাব বনিতে হুমাইদ তাকে রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে নয়িে গয়িছেলিনে। তনিি রাসূলুল্লাহ সা. কে বললনে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি ওকে বায়াত করুন। তখন রাসূলুল্লাহ সা. বললনে, সে তো ছোট। তিনি তার মাথায় হাত বুলয়িে দলিনে এবং তার জন্য দোয়া করলনে। আর তনিি তার পরবিাররে সকলরে পক্ষ থকেে একটি ছাগল দ্বারা কুরবানী করছেলিনে। সহীহ বুখারী হাদীস নং ৭২১০। أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يُضَحِّيَ ، اشْتَرَى كَبْشَيْنِ عَظِيمَيْنِ ، سَمِينَيْنِ ، أَقْرَنَيْنِ ، أَمْلَحَيْنِ مَوْجُوءَيْنِ ، فَذَبَحَ أَحَدَهُمَا عَنْ أُمَّتِهِ ، لِمَنْ شَهِدَ لِلَّهِ ، بِالتَّوْحِيدِ ، وَشَهِدَ لَهُ بِالْبَلاَغِ ، وَذَبَحَ الآخَرَ عَنْ مُحَمَّدٍ ، وَعَنْ آلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ. র্অথ: রাসূলুল্লাহ সা. যখন কুরবানী দয়োর ইচ্ছা করতনে তখন দুটি বশিাল বড় সাইযরে সুন্দর দখেতে খাসী করা কাটান দওেয়া পুরুষ মষে বা ভড়ো ক্রয় করতনে। তাঁর উম্মতরে যারা তাওহীদ ও তাঁর রসিালাতরে সাক্ষ দয়িছেতে তাদরে পক্ষ থকেে একটি কুরবানী করতনে এবং অন্যটি মুহাম্মাদ সা. এবং মুহামাদ সা. এর পরবিাররে পক্ষ থকেে কুরবানী করতনে। ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩১২২; মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ২৫৮২৫। হাদীসটি হাসান। এই হাদীস দুটরি ভত্তিতিে ইমাম মালকে, ইমাম আহমাদ,ইমাম শাফয়েী রাহ. প্রমুখ ফকীহ বলনে একটি পরবিাররে পক্ষ থকেে একটি কুরবানী যথষ্টে হব। ইমাম শাফয়েী রহ. আরো বলনে, প্রত্যেকের জন্য জীবনে একবার কুরবানী দেয়া সুন্নাত। দখেুন, সুনানু তরিমযিী, হাদীস নং ১৫০৫; তুহফাতুল আহওযী, ১৪২৫ নং হাদীসরে আলোচনা; মুয়াত্তা মালকি,হাদীস নং ১০৩৩। হানাফী মাজাহাবের আলেমগণের মতে কুরবানী ওয়াজিব। এই বিষয়ে বিখ্যাত ফিকহী বিশ্বকোষ আল-মাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ এর ভাষ্য হলো, وَذَهَبَ أَبُو حَنِيفَةَ إِلَى أَنَّهَا وَاجِبَةٌ . وَهَذَا الْمَذْهَبُ هُوَ الْمَرْوِيُّ عَنْ مُحَمَّدٍ وَزُفَرَ وَإِحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ عَنْ أَبِي يُوسُفَ . وَبِهِ قَال رَبِيعَةُ وَاللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ وَالأَْوْزَاعِيُّ وَالثَّوْرِيُّ وَمَالِكٌ فِي أَحَدِ قَوْلَيْهِ অর্থ: আবু হানিফা রাহ. এর মতে কুরবানী ওয়াজিব। আরো যে সব ফকহী উক্তমত পোষন করেছেন তারা হলেন, ইমাম মুহাম্মাদ, আবু ইউসুফ ((এক মতানুযায়ী), যুফার রহ.। অন্যান্যদের মধ্যে এই মত পোষন করেছেন, রবি, লাইস ইবনে সাদ, আওযায়ী, ছাওরী এবং ইমাম মালেক রহ. (এক মতানুযায়ী)। আল-মাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৫/৭৭। তাদের দলীল হলো রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, : مَنْ كَانَ لَهُ سَعَةٌ ، وَلَمْ يُضَحِّ ، فَلاَ يَقْرَبَنَّ مُصَلاَّنَا. অর্থ: যার সামর্থ আছে অথচ কুরবানী করছে না সে যেন ঈদগাহে (সালাত আদায় করতে) না আসে। সুনানু ইবনু মাজাহ, হাদীস নং ৩১২৩; আল-মুসতাদরক, ইমাম হাকিম, হাদীস নং ৭৫৬৫। হাদীসটিকে ইমাম হাকীম ও শায়খ যাহাবী রহ. সহীহ বলেছেন এবং শায়খ আলবানী হাসান বলেছেন। সামর্থ্যবান ব্যক্তিকে আমাদের দেশে নিসাব পরিমান মালিক বলা হয়। হানাফী মাজহাব অনুযায়ী সামর্থ্য আছে অর্থাৎ নিসাবের অধিকারী প্রত্যেকের উপর কুরবাণী ওয়াজিব। এক পরিবারের একাধিক সদস্যদের সামর্থ্য থাকলে প্রত্যেকের উপরই কুরবানী ওয়াজিব। এই বিষয়ে ইমাম ও আলেমগণের মতামত এবং তাদের দলীল বিস্তারিত জানতে দেখুন, আল-ফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু, ৪/২৪৫-৪৬; আল-মাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৫/৭৬-৭৭; আল-ফিকহ আলা মাজাহিবির আরবা, ১/১১০৭। এবার আসি আপনার মূল প্রশ্নের উত্তরে। যার কুরবানী করার সামর্থ্য বা সক্ষমতা আছে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব বা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। সামর্থ্য বা সক্ষমতা কোন ব্যক্তির আছে তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। এই বিষয়ে আল-ফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু এর ভাষ্য হলো, والمقصود بالقدرة عند الحنفية، هو اليسار أي يسار الفطرة ، وهو أن يكون مالكاً مئتي درهم الذي هو نصاب الزكاة، أو متاعاً يساوي هذا المقدار زائداً عن مسكنه ولباسه، أو حاجته وكفايته هو ومن تجب عليه نفقتهم والقادر عليها عند المالكية: هو الذي لا يحتاج إلى ثمنها لأمر ضروري في عامه. ولو استطاع أن يستدين استدان. والمستطيع عليها عند الشافعية : هو من يملك ثمنها زائداً عن حاجته وحاجة من يعوله يوم العيد وأيام التشريق، لأن ذلك وقتها، مثل زكاة الفطر، فإنهم اشترطوا فيها أن تكون فاضلة عن حاجته مَمونة يوم العيد وليلته فقط.والقادر عليها عند الحنابلة: هو الذي يمكنه الحصول على ثمنها ولو بالدين، إذا كان يقدر على وفاء دينه অর্থ: হানাফী আলেমদের নিকট সক্ষমতা দ্বারা উদ্দেশ্য কারো কাছে তার এবং তার অধিনস্থ অন্যান্যদের বাসস্থান, পোশাক এবং নিতপ্রয়োজনীও দ্রব্যাদির বাইরে ২০০ দিরহাম রোপা বা এই পরিমান সম্পদ থাকা। (২০০ দিরহাম হলো সাড়ে বায়ান্ন তোলা রোপা)। মালেকীদের নিকট কারো কাছে যদি নিত্য প্রয়োজনীও ব্যায় মেটানোর পর কুরাবানী দেয়ার মত সম্পদ থাকে, যা এক বছরের মধ্যে তার প্রয়োজন হবে না তাহলে সে সক্ষম বলে বিবেচিত। শাফেয়ী আলেমদের নিকট কুরবানীর দিনগুলোতে যদি কোন ব্যক্তির কাছে নিত্য প্রয়োজনীও ব্যায় মেটানোর পর কুরবানী দেয়ার মত সম্পদ থাকে তাহলে সেই সামর্থবান ব্যক্তি। হাম্বলীদের নিকট যদি কোন ব্যক্তি কুরবানী দেয়ার মত সম্পদ অর্জন করতে পারে সে সামথ্যবান ব্যক্তি । এমনকি ঋন নিয়ে কুরবানী করে যদি ঋন পরিষোধ করতে সক্ষম হয় তাহলে সেও তাদের নিকট কুরবানী করতে সক্ষম বলে বিবেচিত। আল-ফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু, ৪/২৫০। আরো জানতে দেখুন, আল-মাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৫/৮০; আল-ফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবা ১/১১০৯। হানাফী মাজহাবে সক্ষম ব্যক্তির (অর্থাৎ কুরবানীর নেসাব পরিমান সম্পদ আছে এমন ব্যক্তির) পরিচয় আরো বিস্তারিত এভাবে বলা যায়: প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তষ্কি সম্পন্ন প্রত্যকে মুসলমি নর-নারী, যে ১০ যলিহজ্ব ফজর থকেে ১২ যলিহজ্ব র্সূযাস্ত র্পযন্ত সময়রে মধ্যে (নিত্য)প্রয়োজনরে অতরিক্তি (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান এবং অন্যান্য জরুরী জিনিসপত্ররে অতরিক্তি)নিসাব পরমিাণ সম্পদরে মালিক হবে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজবি। টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা, অলঙ্কার, বসবাস ও খোরাকরি প্রয়োজন আসে না এমন জমি প্রয়োজন অতরিক্তি বাড়ি, ব্যবসায়কি পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কুরবানীর নসোবরে ক্ষত্রেে হসিাবযোগ্য। আর নিসাব হল র্স্বণরে ক্ষত্রেে সাড়ে সাত (৭.৫)ভরি রূপার ক্ষত্রেে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি, টাকা-পয়সা ও অন্যান্য বস্ত্তর ক্ষত্রেে নিসাব হল এর মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যরে সমপরমিাণ হওয়া। আর সোনা বা রূপা কিংবা টাকা-পয়সা এগুলোর কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নিসাব পরমিাণ না থাকে কিন্তু প্রয়োজন অতরিক্তি একাধকি বস্ত্ত মিলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যরে সমপরমিাণ হয়ে যায় তাহলওে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজবি। – আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানযি়া ১৭/৪০৫(মাসিক আলকাউসার, অক্টোবর, ২০১২ থেকে নেয়া)। আমাদের দেশে সাধারণত হানাফী মাজাহাবের মতামত মেনে চল হয় তাহলে আপনার জন্য হানাফী মাজাহাবরের মতামত অনুযায়ী চলাই উচিত হবে। তাছাড়া সুন্নাত বলার কারণে অনকে দশেে কুরাবনীর মত এই মহা সওয়াবরে কাজ থকেে মানুষ দূরে সরে যাচ্ছ। আর কুরআনে কুরবানী করতে আদশে দয়ো হয়ছে। সুতরাং কুরবানী ওয়াজবি বলার মধ্যইে সতর্কতা। অন্যের সাথে কুরবানী করার ক্ষেত্রে মিনিমাম ইনকাম ধর্তব্য নয় বরং আপনার সক্ষমতা আছে কি নেই এটাই ধর্তব্য। সামর্থ্য থাকলে আপনি একাও দিতে পারেন আবার অন্যের সাথ ভাগেও দিতে পারেন। আল্লাহ ভাল জাননে।
প্রশ্নঃ 971
আসসালামু আলাইকুম, আমার বাবা, মা নাই, বাবার যে জমি ছিল তা বাবার অসুস্থতার জন্য সব বন্ধক রাখা হয়। বড় ভাই চাকরি করে, তার মত সে তার স্ত্রী ও ২ ছেলে নিয়ে ঢাকায় থাকে । আমার মেঝ ভাইও ঢাকায় চাকরি করে সেও একা থাকে, আমি নিজেও একটা প্রতিষ্ঠানে ১৫০০০টাকা বেতনের চাকরি করি ও পড়ি, পড়া ও থাকা খাওয়ার খরচ দিয়ে আমার কাছে কোন মাসে ১/২ হাজার টাকা থাকে আবার কোন মাসে থাকে না । আমার প্রশ্ন হলঃ এ আবস্থায় আমার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব হবে কিনা? বা আমার তিন ভাই মিলে কি কুরবানী করতে হবে? এ আবস্থায় কুরবানীর ব্যাপারে আমার একা বা আমাদের কি করনীয়?
03 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমি এই বিষয়ে কয়েকজন আলেমের সাথে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, সতর্কতাবশত কুরাবনী দেয়া উচিৎ। অল্প টাকা দিয়ে আপনি একটি ছাগল কিনে কুরবাণী দিয়ে দিবেন।
প্রশ্নঃ 895
কুরবানী এবং আকিকা নিয়ে স্যার এর কোনো বিস্তারিত আলোচনা অথবা বই অথবা কোনো টপিকস আছে কি? লিংক দিলে উপকৃত হবো
02 Jan 2026
কুরবানী নিয়ে স্যার রহ এর আলোচনার জন্য খুতবাতুল ইসলাম বইয়ের জিলহাজ্ব মাসের প্রথম খুতবা দেখুন। আর আকিকা বিষয়ে স্যার রাহ .এর তত্ববাধানে আমাদের দেয়া 136 ও 200 নং প্রশ্নের উত্তর দেখতে পারেন। এছাড়া ইউটিউবে কুরবানী-আকিকা নিয়ে স্যার রহ, এর কিছু ভিডিও ক্লিপ আছে। সেগুলোও দেখতে পারেন।
প্রশ্নঃ 227
স্যার, যদি ঈদের নামাজে ইমাম ২য় রাকাতে ঈদের নামাজের তাকবির না দিয়েই রুকু তে চলে যায়, এবং মুক্তাদিরা লোকমা দেওয়ার পরে তাকবির দেয়,তোহলে সে ক্ষেত্রে নামাজের কোন ক্ষতি হবে কিনা? আর ঈদের নামাজে সাহু সিজদা দেওয়া যাবে কিনা? জানতে চাই।
24 Dec 2025
প্রশ্নঃ 200
মুহতারাম আস সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: একটা গরু দিয়ে কয়জন এর আকিকা দেওয়া যাবে? আলহামদুলিল্লাহ গত সপ্তাহে আমার একটা কন্যা সন্তান হয়েছে। আমার ভাই এর দুইটা সন্তান (এক ছেলে, এক মেয়ে) আছে। কিন্তু উনি তাদের আকিকা দেন নাই। একটা গরু দিয়ে কি এই তিন জনের আকিকা দেওয়া যবে? আমার দাদি আমার আকিকা দিয়েছিল আমার ফুফুর বিয়ের সময়। এটা কি সহিহ হবে, যদি না হয় তবে আমাকে কি আবার আমার আকিকা দিতে হবে?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আকীকার ক্ষেত্রে সুন্নাত হলো ছাগল, ভেড়া বা এজাতীয় পশু জবেহ করা। ছেলের জন্য দুটি আর মেয়ের জন্য একটি। তবে ছেলের জন্যও একটা দেয়া যায়, এটা হাদীসে আছে। সকল ক্ষেত্রে আমাদের সুন্নাতের অনুস্বরণ করা উচিৎ। গরু দিয়ে আকীকা রাসূলুল্লাহ সা. কিংবা সাহাবীগণ করেননি। তবে আলেমগণ গরু দিয়ে আকীকা করাকে জায়েজ বলেছেন।আবার এক পশুতে একাধিক আকীকাও সাহবীগণ দেননি। তবে আলেমগণ কুরবানীর উপর কিয়াস করে বলেন, বড় পশুতে একাদিক কুরবানী দেয়া জায়েজ। সে হিসেবে প্রশ্নেল্লিখেত তিন জনের জন্য একটি গরু যথেষ্ট হবে।
প্রশ্নঃ 195
আমরা অনেকেই কোরবানির পশুর ভুঁড়ির কোনও ভাগ কিন্তু মাংস ভাগের নিয়ম অনুযায়ী করি না । । এইটা কতটা সঠিক।
23 Dec 2025
প্রশ্নটি স্পষ্ট নয়। যদি এক পশুতে কয়েকজন ভাগে কুরবানী দেন তাহলে ভুঁড়িও সমান ভাগ করতে হবে। আর যদি গরীবদের জন্য দেয় ভাগ উদ্দেশ্যে হয় যতটা সম্ভব কুরবানীর গোশত-ভূড়ি গরীবদেরকে দিতে হবে। এক্ষেত্রে শরীয়ত আমাদেরকে কোন পরিমাণ নির্ধারণ করে দেয়নি। তবে আমারা যেভাবে বন্টন করি তা ভাল। সুতরাং ভুড়ির ভাগ মাংসের ভাগের মত না করলেও কোন সমস্যা নেই। এতে কুরবানীর কোন সমস্যা হবে না।কুরবানী দ্বারা আমাদের উদ্দ্যেশ্য হতে হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালাকে খুশি করা। প্রশ্নটি স্পষ্ট নয়। যদি এক পশুতে কয়েকজন ভাগে কুরবানী দেন তাহলে ভুঁড়িও সমান ভাগ করতে হবে। আর যদি গরীবদের জন্য দেয় ভাগ উদ্দেশ্যে হয় যতটা সম্ভব কুরবানীর গোশত-ভূড়ি গরীবদেরকে দিতে হবে। এক্ষেত্রে শরীয়ত আমাদেরকে কোন পরিমাণ নির্ধারণ করে দেয়নি। তবে আমারা যেভাবে বন্টন করি তা ভাল। সুতরাং ভুড়ির ভাগ মাংসের ভাগের মত না করলেও কোন সমস্যা নেই। এতে কুরবানীর কোন সমস্যা হবে না। কুরবানী দ্বারা আমাদের উদ্দ্যেশ্য হতে হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালাকে খুশি করা।
প্রশ্নঃ 191
১. কোরবানী কি সচ্চল পরিবারের প্রধানের উপর ওয়াজিব নাকি যার কাছে নিছাব পরিমান সম্পদ আছে (জিলহজ্বের ১০-১১-১২ তারিখ পর্যন্ত) তার উপর। নিছাবের কথাটি কি হাদিস থেকে এসেছে নাকি ওলামাদের ফাতোয়া? পরিবারের সজ্ঞা কি? ২. সামর্থ্য তাকলে পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সকলের কি কোরবানী করতে হয়? ৩. স্বামী স্ত্রী দুইজনের কাছে আলাদাভাবে নিছাব পরিমান সম্পদ আছে কিন্তু তাদের পরিবারের প্রাপ্তবয়স্কের সংখ্যা ৫ জন। এই ৫ জনের ন্যুন্যতম কোরবানীর হকুম ক? ৪. ১টি উট বা গরু দিয়ে ৭ জনের কোরবানী বলতে কি ৭ জন নিছবের মালিক, সামর্থ্যবান পরিবারের প্রধানকে বুঝায়? নাকি প্রত্যেক নিছাবের মালিকের/সামর্থ্যবানের পরিবারের সদস্যও উন্তর্ভুক্ত? ৬. মহিষ দিয়ে কোরবানী করার হাদিস কি? ৭. মা বাবা জিবীত, বাবার সম্পদ আছে কিন্তু মার নাই; সন্তানের উপর এর হকুম কি? ৮. রাসুলের এবং মৃত ব্যক্তির কোরবানী করার হকুম কি? ৯. কোরবানীতে আঁকিকা দেয়া কেন বৈধ হবে বা হবে না? কয়টি কোরবানী এক ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সমান হবে? সহী হাদিসের আলোকে উত্তর দিলে উপকৃত হব। ভিডিও ক্লিপ বা লিঙ্ক এখন অনেকের মত আমার কাছে ও বিরক্তিকর। text এ হলে তা সংগ্রহে রাখা ও শেয়ার করা সহজ হয়। কেউ আন্দজিক, অসুবিধা নাই কিংবা ফাতোয়া জাতীয় উত্তর না দিলেই খুশি হব।
23 Dec 2025
জিলহজ্ব মাসের দশ তারিখে আল্লাহ তায়ালার কাছে সবচেয়ে উত্তম আমল হলো কোরবানী করা। কোরবানীর বিভিন্ন বিষয়ে আলেম ও ইমামগণের মাঝে মতভেদ আছে। এখানে আমরা কুরআন ও হাদীসের আলোকে বিষয়গুলো আলোচনা করছি। ১। কুরআনুল কারীমের সূরা কাওসারে আল্লাহ তায়ালা কুরবানীর আদেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, (আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত)
من كان له مال فلم يضح فلا يقربن مصلانا و قال مرة : من وجد سعة فلم يذبح فلا يقربن مصلانا
অর্থ: যার সাধ্য ছিল কুরবানী দেওয়ার, কিন্তু দিল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে উপস্থিত না হয়। মুসতাদরক হাকীম, হাদীস নং ৭৫৬৫; সহীহুত তারগীব লিল আলবানী, ১/২৬৪। হাকীম ও যাহাবী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আলবানী হাসান বলেছেন। উপরুক্ত আয়াত ও হাদীসের ভিত্তিতে মনে হয় যে, কুরবানী করা ওয়াজিব। যদিও অনেক ইমাম ও আলেম কুরবানীকে সুন্নাত বলেছেন। ২। কুরবানী সবার উপর ওয়াজিব নয়। বরং যার সামর্থ আছে তার উপর ওয়াজিব। উপরের হাদীস থেকে আমারা তা বুঝতে পারি। এই সামর্থ্য শব্দটিকেই নিসাব শব্দে বলা হয়। সামর্থ কখন হবে কিংবা নিসাব পরিমাণ সম্পদ কতটুকু এই ব্যাপারে হাদীসে স্পষ্ট কিছু নেই। এই কারণেই আলেমগনের মধ্যে এব্যাপারে মতভেদ হয়েছে। এই বিষয়ে আলেমগণের মতামত জানতে দেখুন, আল-ফিকহুল ইসলামিয়্যু ওয়া আদিল্লাতুহু, ৩/৬০১। ৩। উপরের হাদীস থেকে আমরা জানলাম যে, সামর্থ্য আছে এমন প্রত্যেকের উপর কোরবানী ওয়াজিব। আর সামর্থ্য বলতেই নিসাব বুঝানো হয়। এ থেকে জানা যায় যে, স¦ামী এবং স্ত্রীর উভয়ের সামর্থ্য থাকলে উভয়ের উপরই কোরবানী ওয়াজিব। কারো কুরবানী অন্যের জন্য যথেষ্ট হবে না। নিচের হাদীস দুটি লক্ষ্য করুন:
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ هِشَامٍ ، وَكَانَ قَدْ أَدْرَكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَذَهَبَتْ بِهِ أُمُّهُ زَيْنَبُ ابْنَةُ حُمَيْدٍ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ بَايِعْهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم هُوَ صَغِيرٌ فَمَسَحَ رَأْسَهُ وَدَعَا لَهُ ، وَكَانَ يُضَحِّي بِالشَّاةِ الْوَاحِدَةِ عَنْ جَمِيعِ أَهْلِهِ
অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে হিশাম থেকে বর্ণিত (তিনি রাসূলুল্লাহ সা. কে পেয়েছিলেন), তারা আম্মা যায়নাব বিনতে হুমাইদ তাকে রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সা. কে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি ওকে বায়াত করুন। তখন রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, সে তো ছোট। তিনি তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং তার জন্য দোয়া করলেন। আর তিনি তার পরিবারের সকলের পক্ষ থেকে একটি ছাগল দ্বারা কুরবানী করেছিলেন। সহীহ বুখারী হাদীস নং ৭২১০।
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يُضَحِّيَ ، اشْتَرَى كَبْشَيْنِ عَظِيمَيْنِ ، سَمِينَيْنِ ، أَقْرَنَيْنِ ، أَمْلَحَيْنِ مَوْجُوءَيْنِ ، فَذَبَحَ أَحَدَهُمَا عَنْ أُمَّتِهِ ، لِمَنْ شَهِدَ لِلَّهِ ، بِالتَّوْحِيدِ ، وَشَهِدَ لَهُ بِالْبَلاَغِ، وَذَبَحَ الآخَرَ عَنْ مُحَمَّدٍ ، وَعَنْ آلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ
অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. যখন কুরবানী দেয়ার ইচ্ছা করতেন তখন দুটি বিশাল বড় সাইযের সুন্দর দেখতে খাসী করা কাটান দেওয়া পুরুষ মেষ বা ভেড়া ক্রয় করতেন। তাঁর উম্মতের যারা তাওহীদ ও তাঁর রিসালাতের সাক্ষ দিয়েছেত তাদের পক্ষ থেকে একটি কুরবানী করতেন এবং অন্যটি মুহাম্মাদ সা. এবং মুহামাদ সা. এর পরিবারের পক্ষ থেকে কুরবানী করতেন। ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩১২২; মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ২৫৮২৫। হাদীসটি হাসান। এই হাদীস দুটির ভিত্তিতে ইমাম মালেক, ইমাম আহমাদ প্রমুখ ফকীহ বলেন একটি পরিবারের পক্ষ থেকে একটি কুরবানী যথেষ্ট হবে। দেখুন, সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ১৫৮৭; তুহফাতুল আহওযী, ১৪২৫ নং হাদীসের আলোচনা; মুয়াত্তা মালিক,হাদীস নং ১০৩৩। পরিবার বলতে স্বামী, স্ত্রী এবং সন্তানদের বুঝায়। আর সাধারনত একটি পরিবারে পরিবার প্রধানের উপরই কুরবানী ওয়াজিব হয়। সুতরাং এই হাদীস দুটি দ্বারা স্পষ্ট ভবে প্রমাণিত হয় না যে, পরিবারের অন্য সদস্যদের সামর্থ থাকলেও একটি কুরবানীই সকলের জন্য যথেষ্ট হবে। পক্ষান্তরে প্রথম হাদীসে আমরা দেখেছি যার সামর্থ্য আছে সেই কুরবানী দিবে। এজন্য ইমাম আবূ হানীফা, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক প্রমুখ ফকীহ একই পরিবারেও একাধিক ব্যক্তির সামর্থ্য থাকলে প্রত্যেকের জন্য কুরবানী দেওয়া প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেছেন। মহান আল্লাহই ভাল জানেন। শেষ কথা: মানুষের জীবনের সমস্যা ব্যাপক। কুরআন হাদীস সীমিত । তাই অনেক কিছুই সরাসরি কুরআন বা হাদীস থেকে পাওয়া যায় না। আর আমরা আপনার প্রশ্নের যে উত্তর দিলাম এটাই ফতোয়া। সুতরাং সবকিছু সহীহ হাদীস দ্বারা দিতে হবে, ফতোয়া দেয়া যাবে না এমন কথা না বলাই শ্রেয়। যেসব ব্যাপারে হাদীস পাওয়া যায় না সেসব বিষয়ে মুজতাহিদ আলেমগণের কথায় আমাদের মানতে হবে। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন। তিনিই সব বিষয়ে ভাল জানেন। এক সাথে এত প্রশ্ন করবেন না। বাকী প্রশ্নগুলো পরবর্তীতে আবার করবেন।
প্রশ্নঃ 189
আমাদের দেশের প্রচলিত ফাতোয়া হল কুরবানীর সাথে এক ভাগা দিয়ে আকিকা দেয়া জায়েজ। আমার প্রশ্নঃ এই ফাতোয়ার ভিত্তি কুরাআন ও হাদিসে আছে কি না? থাকলে জানাবেন।
23 Dec 2025
ওয়া আলাইমকুমুস সালাম।
কুরবাণী ও আক্বীকা একই পশু দ্বারা দেয়া জায়েজ আছে কিনা তা নিয়ে মতভেদ আছে। একদল আলেম বলেন,জায়েজ আছে অন্য অরেক দল বলেন জায়েজ নেই। যারা বলেন জায়েজ আছে তাদের বক্তব্যের মূল ভিত্তি হলো, কুরআনের একটি আয়াত। তা হলো,
قُلْ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
অর্থ: আপনি বলুন, নিশ্চয় আমার সালাত, আমার নুসুক আমার জীবন, আমার মরন সবই বিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহরা জন্য। সূরা আন-য়াম, আয়তা ১৬২। উক্ত আয়াতে নুসুক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। আভিধানিক অর্থে নুসুক বলা হয় এমন পশুকে যা আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের জন্য জবেহ করা হয়। দেখুন, আল-মুজামুল ওয়াসীত, পৃষ্ঠা ৯৫৭। আর কুরবানী ও আক্বীকা উভয়টি দ্বারাই যেহেতু আল্লাহ তায়ালা নৈকট্য লাভ উদ্দেশ্য তাই একই পশুতে কুরবানী ও আক্বীকা করা জায়েজ হবে। উল্লেখ হানাফী ও শাফেয়ী মাজহাবের আলেমগন এটাকে জায়েজ বলেছেন। তবে সর্বাবস্থায় মনে রাখতে হবে আকীকা জন্মের সপ্তম দিনে ছাগল বা এ জাতীয় ছোট পশু দিয়ে দেয়া সুন্নত। রাসূলুল্লাহ সা. কিংবা সাহাবীগণ গরু বা উট দিয়ে কখনো আকীকা দেন নি। আমাদের উচিৎ সুন্নাতের অনুসরন করা।
প্রশ্নঃ 136
১. কুরবানি ও আকিকা একই পশু দিয়ে হবে কিনা? ২. কুরবানির দিন এটি আদায় করা য়াবে কিনা? ৩.একটি পশু এর আনেক গুলো ভাগ থাকে,(হতে পারে ৩,৫,৭,টি) ৪. কুরবানির আংশিদারের ক্ষেত্রে কিভাবে এটি নির্বাচন করা যাবে?
23 Dec 2025
একই পশু দ্বারা কুরবানী ও আক্বীকা এবং কুরবানীর দিনে আক্বীকা রাসূলুল্লাহ সা. কিংবা সাহাবীদের থেকে পাওয়া যায় না।আক্বীকা সন্তান জন্ম হওয়ার আনন্দ আর কুরবানী ভিন্ন আনন্দ, দুটিকে এক করে ফেলা উচিৎ নয়। আমাদের উচিৎ সুন্নাত অনুযায়ী আলাদা দিনে আলাদা পশু দ্বারা আক্বীকা করা । তবে ফকিহগণ বলেছেন যদি কেউ কুরবানীর দিনে আক্বীকা দেয় কিংবা একই পশু দ্বারা কুরবানী ও আক্বীকা দেয় তাহলে জায়েয হবে। প্রশ্নের বাকী অংশ স্পপষ্ট নয়। নতুন করে স্পষ্ট করে প্রশ্ন করুন।
প্রশ্নঃ 95
কেউ যদি ঈদ-উল ফিতর পালনের জন্য গ্রামের বাড়ীতে যায় সে কী কসর সালাত আদায় করবে?
22 Dec 2025
যদি তার গ্রামে বাড়ী-ঘর থাকে, পিতা-মাতা বা আত্মীয়-স্বজন থাকে তবে সে সালাত কসর করবে না, পুরো নামায আদায় করবে।আর যদি সেখানে তার বাড়ী-ঘর না থাকে এবং তিনি অন্য কোথায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন তাহলে সে গ্রামের বাড়িতে এসে পনের দিনের কম থাকার নিয়ত করলে কসর সালাত আদায় করবে।
প্রশ্নঃ 30
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। মুহতারাম, ঈদের নামায সহীহ হওয়ার জন্য ঈদের মাঠ ওয়াক্ফ হওয়া শতী কিনা? কুরআনের হাদীসের আলোকে জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
উক্ত ঈদের মাঠে ঈদের নামাজ সহীহ হবে। ঈদগাহের জন্য ওয়াক্বফকৃত জমি হওয়া শর্ত নয় বরং ব্যক্তি মালিকানায় রয়েছে এমন জমিতেও ঈদের নামাজ আদায় হবে। আর ঈদগাহ ওয়াক্বফকৃত হোক বা না হোক উভয় অবস্থায় নামাজের সাওয়াবের মধ্যে কোন কম বেশি হবে না। প্রমাণ
جاء في بفتح الباري (2/44كتاب العيدين)عن أبي سعيد الخدري قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يخرج يوم الفطر والأضحى إلى المصلى فأول شيئ يبدأ به الصلاة ...إلخ
ঈদগাহের জন্য জমি ওয়াক্বফ শর্ত নয়ঃ সাধারণভাবে যে সকল শর্ত পাওয়া গেলে জুমআর সালাত ওয়াজীব হয় সে সকল শর্ত পাওয়া গেলে ঈদের সালাতও ওয়াজীব হয়। যেমন ঈদের সালাত এমন স্থানে আদায় করতে হবে, যেখানে সকলের প্রবেশ করার সাধারণ অনুমতি রয়েছে। তবে ঈদগাহের জমি ওয়াক্বফ হওয়া শর্ত নয় বরং মালিকানাধীন জায়গায় মালিকের অনুমতিতে ঈদের সালাত আদায় করা বৈধ হবে। (ফতুয়ায়ে মাহমুদিয়া, ১২/৪৭৭-৪৭৮) এমনকি ঈদগাহ ব্যতীত যে কোন সাধারণ মাঠেও ঈদের সালাত আদায় করা বৈধ। সরকারী মাঠে সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে ঈদের সালাত আদায় করা যাবে। (ফতুয়ায়ে মাহমুদিয়া, ১২/৪৮২-৪৮৩)
ঈদগাহের জমি ওয়াক্বফ হওয়া না হওয়ার পার্থক্যঃ ঈদগাহের জমি ওয়াক্বফ হওয়া না হওয়ার পার্থক্য হল, ওয়াক্বফিয়া ঈদগাহে কোন হস্তক্ষেপ বৈধ নয়। পক্ষান্তরে ঈদগাহ ওয়াক্বফ করা না হলে ঈদগাহ স্থানান্তর করে উক্ত জায়গাকে মসজিদ, মাদরাসা বা যে কোন কাজে মালিক ব্যবহার করতে পারবে। তবে ঈদগাহের জমি ওয়াক্বফিয়া হওয়া না হওয়ার সাথে ঈদের সালাতের সাওয়াবের কোন তারতম্য হবে না। (ফতুয়ায়ে মাহমুদিয়া, ১২/৫১৪)