প্রশ্নঃ 2155
আস সুন্নাহ ট্রাস্ট এর কি কোন বিকাশ নাম্বার আছে যেখানে টাকা পাঠন যাবে?
21 Jan 2026
এই বিষয়ে আপনি আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের সেক্রেটারী সাহেবের সাথে কথা বলুন। নাম্বার 01718136962
প্রশ্নঃ 10
Apnara ki gopon vabe kono gorib femily sahajjo koren???? Ami akjon meye. Amar duita vai ache bidesh ferot akhon beker tader jonno sahajjer kub proyojon tader ei bekarotto jeno sojjer sima periye geche. Ami bibahito amar sami ache 3 bacca amar samir income mota moti Alhamdulillah. Kintu amar bekar vaider mathar upor tar gorboti bow abong amar ma ache ami jototuk pari sahajjo kori kintu tader sompurno sahajjo korar moto poristiti amar ney tader pora lekha o temon ney bole valo chakri o pacchena. Apnara jodi sompurno khobor niye gopon vabe amar duita vai ke allahor usila hisebe sahajjo koren amar ma ar vabi oder jonno khub valo upokar hobe amar vabi gorvo boti kub osohai tara. Apni onek voye voye apnader kace sahajjer abedon korchi eta amar sami jante parle amar upor rag korbe. Bisoy ta apnar aktu dekben doya kore
16 Dec 2025
আমাদের এখানে বর্তমানে এরকম কোনো প্রজেক্ট চালু নাই বোন। শুকরান জাযাকুমুল্লাহ।
প্রশ্নঃ 1969
আসসালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্ন হলো — আমি সাউদি আরবে একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকুরীরত আছি। আমার ডিউটি সকাল ৭ টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। কিন্তু আমার যে কাজ— তা প্রতিদিন ১ বা দেড় ঘন্টা আগে শেষ হয়ে যায় কিন্তু আমরা প্রতিদিন ১০ ঘন্টা কর্মসময় লিখি এমনকি কোনদিন যদি অতিরিক্ত সময় কাজ করি তবে ১ বা দেড় ঘন্টা অভার টাইম লিখি — এখন আমাদের এই কাজটি কি ঠিক হয় কিনা—- কম সময় কাজ করে বেশী সময় খাতায় লেখার ইসলামী বিধান কি?
17 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এখানে দুটো বিষয়। তাহলো কোম্পানীর সাথে আপনার চুক্ত কী? যদি নির্দিষ্ট কাজের হয় তাহলে কাজ শেষ হলে আপনার ডিউটি শেষ। আর যদি সময়ের হয় তাহলে কাজ শেষ হলেও আপনি বাসায় যেতে পারবেন না। সময় শেষ করে যেতে হবে। সময়ের চুক্তি হলে অতিরিক্ত কাজের জন্য টাকা নিতে পারবেন। আর কাজের চুক্তি হলে পারবেন না। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।
প্রশ্নঃ 1950
আপনারা কি বন্যাকবলিত দের সাহায্যে কোন কর্মসূচী গ্রহন করেছেন? যদি করেন তা হলে সেখানে দান করার বাবস্থা কি?
16 Jan 2026
হ্যাঁ, আমরা বন্যা কবলিতদের সাহায্যের জন্য কর্মসূচী গ্রহন করেছি। বিস্তারিত জানতে ফোন করুর 01762629439
প্রশ্নঃ 1893
যে সকল লোক সুদে জর্জরিত হয়ে গেছে কিন্তু সুদ থেকে মুক্ত হতে পারছেনা। তাদের তেমন সম্পদও নাই যে ঋণ পরিশোধ করবে। এখন তারা কিভাবে ঋণ ও সুদ থেকে মুক্তি পাবে। কোন রকম সংসার খরচ চালাতেও নতুন করে ঋণ নিতে হচ্ছে। মোট কথা ঋণের দুষ্ট চক্রে আটকা পড়ে গেছে। মুক্তির উপায় জানা থাকলে জানিয়ে উপকৃত করবেন। আমিন!
14 Jan 2026
যারা ঋণ নেয় তাদের একটা অভ্যাস হয়ে যায় সব সময় ঋণ নেয়া। প্রয়োজনে হোক বা অপ্রয়োজনে। সুতরাং ঋণ থেকে বাঁচতে হলে প্রথমে এই মানসিকতা বদলাতে হবে। সংসারের স্বাভাবিক খরচ মিটাতে এখন আর আগের দিনের মত কষ্ট হওয়ার কথা নয়। কারণ এখন মানুষের সামনে ছোট-বড় অনেক কাজ, সহজেই সেই কাজ পেতে পারে। সুতরাং স্বাভাবিক খরচের ক্ষেত্রে ঋণ নেয়া বাদ দিতে হবে। আর যে ঋণ নেয়া হয়েছে সে ঋণ অল্প অল্প করে পরিষোধের ব্যবস্থা করতে হবে। সুদ দিবে না, বলবে মূল টাকাটা দিতে পারবো, সুদ দিতে পারবো ন। এতে টাকা যিনি পাবেন তিনি রাগান্বিত হবেন বটে তবে তার টাকার স্বার্থে ঋণ গ্রহীতার কোন ক্ষতি করবে না। সর্বাবস্থায় ঋন মুক্তির জন্য আল্লাহ তায়ালার কাছে দুআ করতে হবে।
প্রশ্নঃ 1877
কোরবানী ওয়াজীব হওয়ার নেসাবের শর্ত কি কি?ব্যাংক সেভিং একাউন্ট। ডিপিএস একাউন্ট। অন্যের কাছে পাওনা টাকা। জমি বন্ধকি বাবদ অন্যের কাছে নিজের অর্থ জমা। গৃহপালিত পশুর ক্রয় মূল্য বা বর্তমান মূল্য। গাছ-গাছালী চাষযোগ্য জমির মূল্য। বর্তমান মাসিক আয়। নিজের ও পরিবারের দৈনন্দিন খরচ ইত্যাদি হিসাব কিভাবে করা উচিৎ? এর মধ্যে কোনটা শর্তের বাইরে কোনটা শর্তের ভিতরে?
14 Jan 2026
সকল ঋন পরিষোধ করার পর যদি আপনার কাছে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রোপার অথবা সাড়ে সাত তোলা সোনার মূল্য পরিমান টাকা থাকে তাহলে আপনার উপর কুরবানী ওয়াজিব। গাছ-গাছালী ও জমিজমা নেসাবের অন্তর্ভূক্ত নয়।জমি বন্ধক বাবদ জমা রাখা টাকা এবং ব্যাংকে থাকা টাকা নেসাবের মধ্যে অন্তভূক্ত হবে।চাষাবাদ এবং দুধ খাওয়ান পশু বাদে অন্যান্য গৃহ পালিত পশু যেগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে পোষা হয় সেগুলো নেসাবের অন্তর্ভূক্ত। অন্যের কাছে পাওনা টাকাও নেসাবের অন্তর্ভূক্ত।
প্রশ্নঃ 1873
আসসালামু আলাইকুম, আমার এক বন্ধু ও কয়েকজন মিলে ব্যবসা করে। আমাকে প্রস্তাব দেওয়ার আমি ২ লক্ষ টাকা দিয়েছি। আমি শুধু বিনিয়োগকারী। তারা অর্থ ও শ্রম উভয় দেন। আমাদের মধ্যে কোন চুক্তি নাই যে, আমাকে লাভের কত ভাগ দিবে। লাভের আনুমানিক ধারণা দিয়েছিল। তবে নির্দিষ্ট কোন টাকা দিবে না। লাভ কম হলে কম, বেশী হলে বেশী দিবে। যেমন কখনো ১ বছর পর ৫০,০০০/- দিয়েছে। আবার ৬ মাস পর ২০,০০০/- দিয়েছে। এমতাবস্থায় এই লাভ কি হালাল? হালাল না হলে গৃহীত অর্থ যা আমি খরচ করে ফেলেছি তা কি করতে পারি?
14 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি তাদের সাথে চুক্তি করে নিন যে, লাভের এত শতাংশ আপনি পাবেন। তাহলে সচ্ছ থাকতে পারবেন। তবে যেভাবে নিয়েছেন তাতে নাজায়েজ কিছু হয় নি।
প্রশ্নঃ 1773
আস সালামু আলাইকুম … আমি আপনাদের ট্রাস্টে দানের টাকা পাঠানোর উপায়টা জানতে চাই। কোন বিকাশ নম্বর বা অন্য কোন উপায় জানাবেন?
13 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি এই নাম্বারে টাকা টাঠাতে পারেন। পাঠানোর আগে এবং পরে যোগাযোগ করে নিবেন। এটা আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের সেক্রেটারী সাহেবের নাম্বার। 01718136962
প্রশ্নঃ 1768
আচ্ছালামু আলাইকুম. স্যার, আমি একটি বিষয় জানতে চাই, স্যার আমি এক জন কাতার প্রবাসী, এখানে একজন লোক মারা,আমরা কয়েক জন মিলে লাশ দেশে পাঠাই, বিদেশ আসার সময়, এক হিন্দু ভদ্রলোকের কাছ থেকে বেশকিছু টাকা শুধে আনে, আমি ব্যাক্তিগত ভাবে টাকাটা দিয়ে দেই, তার ঋণ কি শোধ হবে? কারণ অনেক বলে, এভাবে ঋণ শোধ হবেনা, তোর টাকাটাই বিফলে গেছে। (লোকটির স্ত্রী, 11বছরের মেয়ে, 7/8 মাসের ছেলে, আর2 ভাই আছে ভিন্ন)
13 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, ঋণ শোধ হয়ে গেছে। যে কোন মানুষ যে কাউকে সাহায্য করতে পারে। এটা তারই একটি উদাহরণ।
প্রশ্নঃ 752
আসসালামু আলাইকুম উস্তায,
একটা প্রশ্ন ছিল,
ইন্সুইরেন্স কোম্পানীতে তো চাকরি করা হারাম, আমার এক বন্ধু মেটলাইফ ইন্সুইরেন্স কোম্পানিতে চাকরি পেয়েছে।
এখন সে চাচ্ছে যে, অন্য কোথাও চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত এখানে ঢুকে থাকতে এবং নতুন চাকরি খুজতে।
আর এখানকার টাকা গুলো খরচ না করে জমা রাখতে। পরে কোথাও দান করে দিবে।
আর এখানে ঢুকে থাকলে, এটার অভিজ্ঞতা সে তার সিভি তে যোগ করতে পারবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এটা করা ঠিক হবে কিনা?
31 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এটা খুব ভালো কাজ নয়। তবে মন্দের ভালো হিসেবে করতে পারেন। টাকাগুলো জমা রাখার দরকার নেই। পাওয়ার সাথে সাথে গরীবদেরকে দিয়ে দিবে।
প্রশ্নঃ 1747
সাড়ে বায়ান্ন তোলা রোপার দাম কত?
08 Jan 2026
৫০ হাজার টাকার মত। আপনি জুয়েলারী দোকানে গিয়ে শুনে নিলে সবচেয়ে ভাল হয়।
প্রশ্নঃ 1654
আসসালামু আলাইকুম। আংকেল আমার প্রশ্ন হল কেউ যদি নিছক শারিরীক ব্যায়ামের উদ্দেশ্যৈ কোন টাকার খেলায় অংশগ্রহণ করে তবে সেটা বৈধ হবে কিনা। যেমন : কেউ এমন একটা ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহন করল যেখানে চুক্তি হয়েছে যে বিজয়ী দল বিজিত দল থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ লাভ করবে।
07 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বৈধ হবে না, এটা জুয়া।
প্রশ্নঃ 1642
আসসালামু আলাইকুম. ১. কোন অফিসের কর্মকর্তা / কর্মচারী অফিসের কোন কাজে বাহিরে গেলে TA এবং DA যে টাকা পাওয়া যায়, তার মধ্যে কিছু টাকা বেচে গেলে কী টাকা কর্মকর্তা / কর্মচারি রাখতে পারবে? ধরুন ঢাকা যাওয়ার জন্য বরাদ্ধ করা হলো, ১০০০ টাকা, আর কেউ যদি ৮০০ টাকায় যাওয়া-আসা ও খাওয়া বাবদ খরছ করল, বাকী ২০০ টাকা কি নিজের কাছে রাখতে পারবে, না কি অফিসে জমা দিতে হবে। নিজের কাছে রাখলে এটা কি হালাল হবে?
07 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। টাকা কিভাবে দেয় সেটা দেখতে হবে। যদি এমন শর্তে দেয় যে যত টাকা লাগবে তার অতিরিক্ত ফেরৎ দিতে হবে আর বেশী লাগলে দেয়া হবে তাহলে খরচের অতিরিক্ত টাকা ফেরৎ দিতে হবে। আর যদি এভাবে দেয় যে, এত টাকা এই ভ্রমনের জন্য বরাদ্দ, বেশী লাগলে দেয়া হবে না তাহলে খরচের অতিরিক্ত টাকা ফেরৎ দিতে হবে না। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। প্রয়োজনে 01734717299
প্রশ্নঃ 1606
আসছালামু আলাইকুম। এক লোকের জামাতা হঠাৎ মারা যায়। মৃত্যু ব্যক্তি একটি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। মৃত্যু ব্যক্তির সন্তান তথা পরিবারের ভরণপোষনের জন্য সংস্থা থেকে কিছু টাকার সঞ্চয় পত্র কিনে পোস্ট অফিসে রেখে দেন। ঐ টাকা দিয়ে শুধুমাত্র বাসা ভাড়া (২৩০০০) ও সন্তানদের লেখাপড়া চলে। এছাড়া ঐ পরিবোরের অন্য কোন আয় নেই। প্রশ্ন হলো ঐভাবে তারা টাকা রাখতে পারবে কি না? যদি না পারে তাহলে তারা কিভাবে ব্যবস্থা নিতে পারে? উত্তর দিয়ে বাধিত করবেন।
07 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমরা তাদের জন্য দুআ করি, আল্লাহ যেন তাদেরকে ভাল রাখেন। এভাবে টাকা রেখে যে টাকা পাওয়া যায় তা মূলত সুদ। সুতরাং এই টাকা নেয়া হালাল হবে না। ঐ লোকের আত্নীয়দের উচিত টাকাগুলো কোনভাবে ব্যবসার কাজে লাগিয়ে তাদের সহায়তা করা।
প্রশ্নঃ 1560
আমরা ২ ভাই ১ বোন বাবার রেখে যাওয়া ৫ কাঠা জমি আর মায়ের ১ কাঠা জমি কে কতটুকু পাবেন জানালে উপকৃত হতাম।
07 Jan 2026
আপনাদের জমিকে মোট ৫ ভাগ করবেন। আপনি পাবেন ২ ভাগ, আপনার ভাই ২ ভাগ আর আপনার বোন এক ভাগ।
প্রশ্নঃ 1553
আসসালামু আলাইকুম। হুজুর আমি আর আমার বাবা, আমাদের একটাই জমি ছিলো সেটা বিক্রি করে ঢাকা তে একটা দোকান দিছি। আমরা ইন্ডাস্টিয়াল বেল্ট বিয়ারিং চেইন সাপ্লাই করি। দোকান দেওয়ার প্রথম কয়েক মাস ভালো চলছে। কিন্তু কয়েকটা পার্টি চলে যাওয়াতে ২/৩ মাস থেকে দোকানে কোন বিক্রি নাই। হুজুর কোন আমল বা দোয়া আছে যেটা করলে আমাদের দোকানের মালামাল বিক্রি হবে। আমার জন্য দোয়া করবেন।
07 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনে কোন লাইব্রেরী থেকে একটি “রাহে বেলায়াত” বই সংগ্র করবেন। সেখানে আপনার উপযোগী অনেক দোয়া পাবেন। সেগুলো আমল করবেন।
প্রশ্নঃ 6
আমার বয়স ২৭, আমার পিতা ২ বিয়ে করেছেন, প্রথম পরিবারের ভরণপোষণ তিনি আজীবন ঠিকঠাক ভাবে আদায় করেছেন, এবং তিনি প্রথম পরিবারের সাথে থাকেন, আমি যখন ছোট ১১ বছর বয়স তখন তিনি আমাদেরকে ছেড়ে চলে যায় আম্মুকে মিথ্যা পরকিয়ার অপবাদ দিয়ে, পরে আম্মু চাকরি করতেন, আর আমাকে আমার পিতা শুধু আমার হোস্টেলের খরচ টুকু দিতেন, আর আমার ছোট ভাই তখন তার বয়স ৫ নানুর বাড়ি থাকতো তার খরচ আম্মু বহন করত, ৮ বছর পর তিনি পুনরায় আমাদেরকে বাসা ভাড়া করে দিয়ে ১০বছর ভরণপোষণ চালিয়েছেন, তারপর তিনি আবার চলে যান, আর আসেনি, বড় ব্যবসায়ী উনার ধনসম্পদের কোন কমতি নেই, আমি ছোটখাটো চাকরি করে মাসে ১৫হাজার টাকা ইনকাম করে বাসা ভাড়া দেওয়ার পর তেমন কিছু থাকেনা,উনি প্রথম পরিবারের সাথেই আছেন, শরীয়ত অনুযায়ী উনার ভাস্য হলো আর কোন দায়বদ্ধতা নেই আমাদের উপর, এবং হানাফি ফিক্বহেও ছেলে সন্তানের ১৫বছরের পিতার কোন দায়বদ্ধতা নেই, এবং উনার সম্পদ উনি যাকে ইচ্ছে তাকে দিতে পারবেন, এই মাসআলার ভিত্তিতে সব সম্পদ প্রথম পরিবারকে হেবা করে দিয়েছে, আমি আমার মা ছোট ভাই এবং সংসারের খরচ বহন করছি যেভাবেই হোক কারণ আমার দায়িত্ব।
আমার প্রশ্ন হলো;
১-বালেগ সন্তান যদি ধনি পিতার চেয়ে গরীব হয় তখন শরীয়তের সমাধান কি?(যদিও শরীয়ত অনুযায়ী বৈধ ফয়সালাটি উনি নিয়েছেন)
২-আর উনি উনার সম্পদ হেবা করার বিষয়টি শরীয়ত মেনে করেছেন, এই ক্ষেত্রে যারা আমার মত বাস্তুভিটা থাকার স্থায়ী কোন জায়গা নাই শরীয়ত কোন সমাধান দিয়েছে কিনা?
৩-প্রতি বছর উনি অনেক দান সদকা করেন, সেগুলো আমাদের নেওয়া বৈধ হবে কিনা?
৪- বেশ কয়েক জন মাদ্রাসা পড়ুয়ার খরচ উনি অতীতে বহন করেছেন (যখন আমার ছোট ভাইকে আমার আম্মা চালাতো) এবং বর্তমানেও অনেকের বহন করেন, এই ক্ষেত্রে উনার এই আচরণের জন্য শরীয়তের নির্দেশনা কি?
৫-শেষবার চলে যাওয়ার পর আম্মুর সাথে ৬বছরে কোন কথা বলেনি, এবং আমাদের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ রাখতে অস্বস্তি বোধ করেন, (শরীয়ত অনুযায়ী বাধ্য নই যোগাযোগের ব্যপারটা) এই ধরণের অসহায় মহিলাদের ক্ষেত্রে শরীয়তের সহায় কি?
[বি:দ্র: বাংলাদেশের সবাই হানাফি ফিক্বহ্ অনুযায়ী চলি, তাই শরীয়ত বলতে হানাফি মাযহাবের ফয়সালা উদ্দেশ্য]
09 Dec 2025
আপনার পিতার সঠিক কাজ করেন নি। তিনি তার দুই পরিবারের সন্তানদের এক চোখে দেখবেন। মারা যাওয়ার পর তার সম্পদ শরীয়াহ অনুযায়ী ওয়ারিশরা পাবে। জীবিত থাকা কালীণ যদি সন্তানদের দেন তাহলে সবাইকে সমান ভাবে দিবেন। তবে যদি কেউ অর্থনৈতিকভাবে দূর্বল হয় তাহলে জীবতি থাককালীণ তাকে অন্য সন্তানদের থেকে একটু বেশী দিতে পারেন। তবে মারা যাওয়ার পর এই সুযোগ আর থাকবে না। সবাই শরীয়াহ অনুযায়ী মিরাছ পাবে। প্রথম পরিবারের সন্তানদের তিনি হেবা করে অন্যদের বঞ্চিত করার অধিকার ইসলাম তাকে দেয় নি। হেবা করলে সকল সন্তানকে করতে হবে। নিজের সন্তানদের পথে বসিয়ে বাইরে দান করার এই কথাও ইসলাম কাউকে বলে নি। রবং দান করার ক্ষেত্রেও ভারসাম্যতা রক্ষা করেতে হাদীসে নির্দেশে দেয়া হয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো তিনি কিছু মানবেন না। কারণ কোন জিদ বশত তিনি এই ধরণের কাজ করেছেন। আমার পরামর্শ হলো আপনি আপনার পিতার সাথে সরাসরি কথা বলে, বুঝিয়ে এগুলোর সমাধাণ করেন। আল্লাহর কাছে দুআ করবেন। আমরা দুআ করি আল্লাহ তায়ালা আপনার আব্বাকে সঠিক বুঝ দান করুন।
প্রশ্নঃ 1285
Assalamualikum, Ami 4 years NGO te (accountant) job kori.Ami unmerried,joto traning or office er kaje baire gele kokhono borka khuli nai.But aber amader workshop cox bazar hoy tai 9 talay amra thaktem 11 tala workshop hoto tai borka na pore full hata threepis mathai hijab ba orna pore meeting kori.cox bazar theke aser din amer pura muk a bisfora te ami vugchi.Borka na pore three pis pore shotor dhakay ki ami allahortorof theke shasti pai bole amer maze maze mone hoy.Aber mone hoy borka na porle ki hobe ami to shothor dhakesi.A bepare apner montobbo ki janaben.
05 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। পুরো শরীল পোশাক দ্বারা ঢাকতে হবে, এটাই পর্দা। বিশেষ নামের কোন পোশাক উদ্দেশ্য নয়। প্রয়োজনে মুখ খুললে আশা করি আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দিবেন। তবে মুখ ঢাকতে হবে এটাই অধিকাংশ ফকিহের মত।
প্রশ্নঃ 1246
আসসালামু আলাইকুম, আমরা কয়েকজন মিলে কিছু টাকা দিয়ে একটি জমি বন্ধক নিয়ছি। এই জমি আর একজন কে ৩০ হাজার টাকা চুক্তিতে ১ বছরের জন্য দিয়েছি। এভাবে জমি বন্ধক নিয়ে নির্দিষ্ট টাকায় ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাউকে চুক্তিতে দেওয়া কি বৈধ? দলিল সহ উত্তর দিলে খুবই উপকৃত হব।
05 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আলেমদের সর্বাক্যমতে আপিনি যেটা বলেছেন অর্থাৎ বন্ধক রাখা জমি বন্ধক রাখা এটা জায়েজ নেই। এমনকি আপনি এ জমি চাষাবাদ করে তার ফসলের নিতে পারবেন না। এই জমি থেকে কোন ধরণের উপকার আপনি নিতে পারবেন না। এই জমি থেকে উৎপাদিত ফসলের মালিক হবে জমির মালিক। আপনি চাষাবাদ করতে চাইলে জমির মালিকের কাছে থেকে অনুমতি নিয়ে চাষাবাদ করতে পারবেন, তখন চাষাবাদের পারশ্রমিক আপনারা নিবেন। এই প্রসঙ্গে ইমাম বাইহাক্কী রহ. বলেন, وروينا عن فضالة بن عبيد ، أنه قال : كل قرض جر منفعة فهو وجه من وجوه الربا ، وروينا عن ابن مسعود ، وابن عباس ، وعبد الله بن سلام ، وغيرهم في معناه (রাসূলের সাহাবী) ফুজালা ইবনে উবাইদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এমন প্রতেক ঋন যা ঋনদাতাকে উপকার করে তা সুদের একটি প্রকার। সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, ইবনে আব্বাস,আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম,এবং অন্যান্যদের থেকে এই ধরণের কথা বর্ণিত আছে। সুনানুল কুবারা, হাদীস নং ২৫২৫। অন্যান্য ইমামদের মতামত ও দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন, আল-ইসলাম সুয়াল ও জবাব, প্রশ্ন নং 140078। প্রশ্নটি হল هل يجوز للمرتهن الانتفاع بالرهن ؟
প্রশ্নঃ 1217
আস সালামু আলায় কুম । আগের প্রশ্ন গুলার উত্তর দেওয়ার জন্য জাঝাকাল্লাহ খাইরান। আগের প্রশ্ন এ জিজ্ঞাসা করেছিলাম ছবি বিষয় । আপনাদের পরামর্শ মত এখন ইন শা আল্লাহ মানুষ ও প্রাণী এর ছবি ছাড়া কাজ করার চেষ্টা করতেছি। আমার জন্য দোয়া করবেন। আজকের প্রশ্ন হল আপনারা হয়তবা জানেন যে, ওয়েবসাইট এর এইচটিএমএল বা ওয়ার্ডপ্রেস থিম ও ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন বানানো যায় যেটা নিজের বা অন্য কোন মার্কেট প্লেস এ বিক্রয় করা হয়। আর এই বিক্রয় এড় পর ফ্রী সাপোর্ট ও দিতে হয় যেমন ধরেন বাজারে টিভি ফ্রিজ কেনার পর বিক্রয় উত্তর সেবা থাকে সে রকম। আমার প্রশ্ন হল আমি যদি ইসলামের সকল বিধি বিধান মেনে থিম বা প্লাগিন বানাই এবং বিক্রয় করি কিন্তু যেহেতু আমি জানি না কে আমার থিম বা প্লাগিন কিন্তেছে বিক্রয় এর পর দেখা গেল ক্রেতা কোন গানের সাইট বা ভিডিও এর সাইট বা ইসলাম এ নিষিদ্ধ কোন জিনিস এর সাইট এ আমার থিম বা প্লাগিন টা ব্যাবহার করবে যদিও আমি তাদের উদ্দেশ্য করে ওগুলা বানাই নাই । এখন যদি তারা সাপোর্ট চায় আর আমি সাপোর্ট দেই তাহলে কি আমি গুনাহ গার হব? এ সম্পর্কে ইসলামের বিধি বিধান কি বা আমার কি করনিয় আছে?
05 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন জেনে আমাদের অনেক ভাল লাগলো। আমরা আল্লাহ তায়ালার শুকরী আদায় করছি। আপনি উক্ত ব্যবসা করতে পারবেন, জায়েজ আছে। যেমন, কম্পিউটারের ব্যাবসা জায়েজ। তবে যদি সুযোগ থাকে তাহলে এমন ব্যবসা করা উচিৎ যা সর্বদিক থেকে পরিচ্ছন্ন থাকে।হালাল-হারামের সন্দেহের কোন অবকাশ না থাকে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন।
প্রশ্নঃ 1185
মুহতারাম, আসসালামুআলাইকুম। আমার কিছু প্রশ্নের উত্তর পাই নি। আমার একটি প্রশ্ন আছে যে সরকারি চাকরি শেষে প্রাপ্ত পেনশনে তো সুদ হয়ত অনেক ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে সেটা কি হালাল হবে নাকি হারাম? আরো ১টু জানার ইচ্ছা ছিল যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা সুদ ভিত্তিক হওয়ায় যদি সেখানে চাকরি করা হারাম হয় বা সুদের সাথে সম্পর্ক আছে জন্য হারাম হয় তাহলে আমরা তো সবাই সেদিক থেকে কোন না কোনোভাবে সুদের সাথে সম্পর্কিত আছিই। । কারন আমাদের সরকারী অর্থনীতি ব্যবস্থাই তো সুদ ভিত্তিক।আমরা চাইলেই এখান থেকে বের হতে পারব না। আমার মনে হয় এর দায়ভার পুরটাই সরকারের। । আর বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চাকরি পাওয়া টা আসলেই অনেক কঠিন যদিওবা সবার রিজিক এর মালিক আল্লাহ সুবহানাহুতাআলা। সেদিক থেকে সরকারি চাকরিতে ব্যাংক ১টি লোভনীয় সেক্টর। ১এ খুব ভালো বেতন তার উপর অন্যান্য সুবিধা যেমন নিজের বাড়ি বা এলাকা থেকে চাকরি করা যায়। এমতাবস্থায় আসলে কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারছি না। দয়া করে আরো ভালো পরিষ্কার করে বলবেন।
04 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই 1131 নং প্রশ্রের উত্তরে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে। আবারো দিচ্ছি। টাকা যতদিন ব্যক্তির হাতে না আসবে ততদিন তার মালিক ব্যক্তি নয়। পেনশেনের টাকা সরাকরের তহবিলে থাকে চাইলেও চাকুরীজীবি ব্যক্তি তা গ্রহন করতে পারে না। তাই তার সুদ হওয়া না হওযার বিষয়টি ব্যক্তির উপর আসবে না। আলেমগণ এই টাকাকে সুদ বলেন নি। এই বিষয়ে একটি প্রশ্রের জবাবে স্যার রহ. বলেছেন, একটি প্রশ্নের উত্তরে স্যার রহ. বলেছেন, প্রভিডেন্ট ফান্ডের ইন্টারেস্ট অধিকাংশ আলেমের মতে সুদ নয়, হালাল। তবে কোন কোন আলেম হারাম বলেছেন। তবে হারাম নয় বলেই মনে হয়। 0224 নং প্রশ্নের উত্তরে। ব্যাংকে চাকুরী জায়েজ কি না, এ সম্পর্কে স্যার রহ. এর তত্বাবধানে এখান থেকে অন্তত তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে। 0093 নং প্রশ্নের উত্তরটি আমি হুবুহ দিয়ে দিলাম। (104) সুদভিত্তিক ব্যাংকে কাজ করে উপার্জিত অর্থ হালাল নয়। তবে শরীয়াহ অনুযায়ী পরিচালিত ব্যাংকে কাজ করে উপার্জিত অর্থ হারাম হবে না। কেননা হররত জাবরে রা. বলনে, لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ র্অথ: রাসূলুল্লাহ সা. সুদ গ্রহীতা, দাতা, লখেক, সাক্ষীদ্বয় প্রত্যকেরে উপর লানাত (অভশিাপ) দয়িছেনে এবং বলছেনে (পাপরে দকি থকে) সবাই সমান। সহীহ মুসলমি, হাদীস নং ৪১১৭। আর আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হলো আপনার জন্য উচিৎ হবে মাহরাম ব্যাংকার আত্নীয়ের বাসায় টাকা দিয়ে খাওয়া দাওয়া করা। উল্লেখ্য প্রশ্নের দ্বিতীয় অংশটি ছিল ব্যাংকার (সুদ ভিত্তিক) আত্নীয়ের বাসায় নিয়মিত থেকে খাওয়া যাবে কি না? স্যার বলেছেন, টাকা দিয়ে খেতে হবে। 106 নং প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকে ডাটা এন্ট্রি চাকুরী জায়জে কি না? উত্তরটি আমি হুবহু দিয়ে দিলাম। 106 না। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সুদভিত্তিক কোন ব্যাংকে এই পদে চাকুরী করা কারো জন্য জায়েয হবে না এবং এখান থেকে উপার্জিত অর্থ কারো জন্য হালাল নয়। হররত জাবের রা. বলনে, لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ র্অথ: রাসূলুল্লাহ সা. সুদ গ্রহীতা, দাতা, লখেক, সাক্ষীদ্বয় প্রত্যকেরে উপর লানাত (অভিশাপ) দিয়েছেন এবং বলেছেন (পাপরে দিক থেকে) সবাই সমান। সহীহ মুসলমি, হাদীস নং ৪১১৭। আর প্রশ্নোক্ত কাজটি সুদ লেখার অন্তর্ভূক্ত। সুতরাং আমাদরে জন্য আবশ্যক এমন চাকুরী থকেে বিরত থাকা। 82 নং প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকুরী জায়েজ কি না? উত্তর ছিল একই রকম। এখন আসি দ্বিতীয় বিষয়ে আপনি বলেছেন যেহেতু সরকারের সকল অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সুদ ভিত্তিক তাহলে কোন সেক্টরেই কর্ম কর জায়েজ হবে না। আপনার এই চিন্ত সঠিক নয়। আপনার কাজ হলো কাজ করা, যার কাজ করবেন তিনি কোথা থেকে অর্থ দিবেন সেটা তার ব্যাপার তবে আপনি যে কাজটি করছেন সেটা হালাল হতে হবে। অন্যান্য সেক্টর হালাল কাজের অন্তভূক্ত আর ব্যাংকে যে কাজটি করছেন সেই কাজটিই স্বয়ং হারাম। অর্থাৎ ব্যাংকের কাজই তো সুদ লেখা, সাক্ষী থাকা, যাবতীয় কাজই সুদ বিষয়ক আর এগুলো হাদীসের আলোকে সব হারাম। সুদের দায়ভার সরকারের কিন্তু সুদ লেখা এবং সুদের অন্যান্য কাজের দায়ভার আপনারও। আরো একটা উদাহরণ দিই। মনে করেন আপনি কোন দোকানে চাকুরী করেন। দোকানের মালিক মাস শেষে আপনাকে সম্মানী দেবেন। তিনি কোথা থেকে দিবেন সেটা আপনার দেখার বিষয় নয়। কিন্তু ঐ দোকানে যা কিছু বিক্রি করা হয় তা হালাল কি না তা আপনাকে দেখতে হবে। যেমন, যদি মদের দোকান হয় তাহলে আপনার জন্য ঐ দোকানে কাজ করা জায়েজ হবে না। হালাল পন্য হলে জায়েজ। সুদ মদ থেকেও নিকৃষ্ট। সুদভিত্তিক ব্যাংক মদের দোকানের থেকেও নিকৃষ্ট। মদের দোকানে যেমন কাজ করা জায়েজ নেই এক কাথায় বলতে গেলে সুদের দোকানেও কাজ করা জায়জ হবে না। এরপরও অস্পষ্টতা থাকলে 01734717299 যোগাযোগ করুন।
প্রশ্নঃ 1176
আসসালামু আলাইকুম হুন্ডি ব্যবসা কি শরীয়ত সম্মত? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো। আল্লাহ হাফেজ
04 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমরা যতদূর জানতে পেরেছে হু্ন্ডি হলো সরকারী ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে অর্থ লেনদেনের একটি ব্যবস্থা। সরকারকে ফাঁকি দেয়ার কারণে এটা জায়েজ হবে না।
প্রশ্নঃ 1173
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ প্রিয় এডমিন ভাই। আশা করি পরম করুনাময় আল্লাহ সুবহানু তায়ালার রহমতে ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ্আ মিও ভাল আছি। ভাই, এর পুর্বে আমি আপনার কাছে জানতে চেয়েছিলাম শেয়ার বা স্টক বিজনেস করা যাবে কি যে কোম্পানি গুলা সরাসরি সুদের লেনদেন করে না। আপনার উত্তর হ্যা ছিলো। জাযাকাল্লাহ খইরান। ভাই, আজকে আমার যে প্রশ্ন তাহলো, আমি শেয়ার ব্যবসা করে থাকি টেকনিক্যাল ও ফান্ডামেন্টাল বেজের উপর।তারপর আমি যথেষ্ট সময় পরিশ্রম দিয়ে দিয়ে একটা শেয়ার আমাকে নির্বাচন করতে হয় শেয়ারটা থেকে আমি কি প্রফিট করতে পারব নাকি পারব না। আর আমাকে এ কাজটি মানে টেকনিক্যাল এনালাইসিস শিখতে দির্ঘ ৪/৫ বছর ও যথেষ্ট শ্রম লেগেছে।এখন আমার প্রশ্ন হলো কেউ আমাকে বলল ভাই আপনি আমাকে এখানে সাহায্য করবেন আমি এর বিনিময়ে একটা পারসেন্ট দিবো। মানে আমি তাকে ব্যবসা করিয়ে দিবো আর এর বিনিময়ে উনি আমাকে যেমন ১০% প্রফিট দিলো তার ১০০% প্রফিট থেকে। তা ও আবার উনার প্রফিট করার পর। এই শর্তে। আর লস হতে পারে সেটা আমি অন্য কোন শেয়ার দিয়ে পুষিয়ে দিবো এই শর্তে। তারপর ও এই ব্যবসায় লস করতে হবে এই মন-মানসিকতায় ইনভেস্টমেন্ট করতে হবে এটাও শর্ত থাকবে। যেহেতু আমরা টেকনিক্যাল এনালাইসিস করে শেয়ার buy sell করে থাকি সেহেতু সাধারণত তেমন লস গুনতে হয় না। এককথায় টোটালি পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে আমি কি কাউকে এভাবে শেয়ারে ইনভেস্টমেন্ট করিয়ে একটা পারসেন্টিস নিতে পারি?
আসলে এটাই আমার প্রশ্ন স্যার। প্লিজ জানাবেন। আল্লাহ্সু বহানুতা য়ালা আপনাকে জাযাখায়ের দান করুন। আমিন।
04 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এখানে বিষয়টি এমন দাড়াচ্ছে যে, আপনারা দুজন মিলে ব্যবসা করছেন। তবে আপনার কাজ একটা আর তার কাজ আরেকটা। এটা জায়েজ হবে বলেই মনে হচ্ছে। তবে আরো একটু পরিচ্ছন্ন এভাবে করা যায় যে, আপনি ব্যবসার অংশীদার না হয়ে তাকে কাজ করে দেয়ার বিনিময়ে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক নিবেন। যেমন, আমি এই কাজটি করে দেব আমাকে এত টকা দিতে হবে। বিষটি আরো বিস্তারিত জানতে এই না্ম্বারে ফোন করতে পারেন, 01818529415
প্রশ্নঃ 1168
As-salamu Alaikum. I want to buy some books. Could you please let me know, what are the best option to pay by online or available methods?
04 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনি এই নাম্বারে যোগাযোগ করলে বই ক্রয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন: 01734717299
প্রশ্নঃ 1117
ইসলামী বিধান মতে জমি বন্ধক নেয়া বা দেয়ার নিয়ম-কানুন কি?
04 Jan 2026
ইসলামী বিধানমতে জমি বন্ধক দেয়ার ও নেয়ার নিয়ম হলো, বন্ধক দাতা যে টাকা গ্রহিতার কাছে থেকে নিবেন প্রতি বছর ফসলের বিনিময়ে সে টাকা থেকে একটি যৈাক্তিক পরিমাণ টাকা কমে যাবে। যেমন যদি কেউ ১লক্ষ টাকার বিনিময়ে একটি জমি বন্ধক রাখলো। আর ঐ জমিতে ১০হাজার টাকার ফসল প্রতি বছর হয় তাহলে প্রতি বছর এক লাখ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা কমে যাবে। উল্লেখ্য ফসলের দাম নির্ধারনের ক্ষেত্রে কিছুটা কমবেশী করা যেতে পারে, তবে অযৈাক্তিক কোন দাম যেন নির্ধারণ না করা হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া এই ধরনের কোন চুক্তি করা যেতে পারে, যেখানে ফসলের বিনিময়ে জমির মালিক অর্থ পাবে। বর্তমানে আমাদের দেশে যা করা হয় অর্থাৎ টাকা নিয়ে যতদিন টাকা দিতে পারবে না ততদিন জমির ফসল বন্ধকগ্রহিতার এরপর যখন টাকা দিবে তখন পূর্ণ টাকা নিয়ে জমি ফিরিয়ে দেয়া এটা সম্পূর্ণ সুদ। এই সুদ থেকে আমাদের অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।
প্রশ্নঃ 1081
Assalamualaiqum. Muhtaram, omuslimderkay ki Qurbanir ghusto deya jabay?
04 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, কুরবানীর গোশত অমুসলিমকে দেয়া জায়েজ।
প্রশ্নঃ 973
সরকারি চাকরিতে (জি পি এফ ) সাধারণ ভবিষত টাকা জমানো সর্ম্পকে জানতে চাই?
03 Jan 2026
যে টাকাটা সরকার বাধ্যতামূলকভাবে রেখে দেয় সেেই টাকা এবং তার থেকে যে লাভ দেয় তা নেয়া জায়েজ। আর নিজ থেকে অতিরিক্ত যে টাকা যা চাকুরীজীবিগণ রাখেন সেই টাকাটা নিবে, সেই টাকা থেকে প্রাপ্ত লাভ নেয় জায়েজ হবে না।
প্রশ্নঃ 825
আস্সলামু আলাইকুম, শ্রদ্ধেয় হুজুর, হাদিস কোরান এর আলোকে শবগুজার রাত সম্পর্কে জানতে চাই। টংগি ইস্তেমা মাঠে প্রতি বৃহস্পতি বার বিশেষ ভাবে এই রাত পালন করা হয়। শবগুজার রাত কি হাদিস কোরান সম্মত না বিদাত? যানিয়ে বাধিত করবেন। আব্দুর রহিম/নাটোর/01712669027
01 Jan 2026
সহীহ হাদীসে বৃহ:বার রোজা রাখার কথা আছে। এর বাইরে এই রাতকে বিশেষভাবে পালন করারা কোন দলীল আমারা পাই নি।
প্রশ্নঃ 823
আছসালমু ওয়ালাইকুম আমার পচনো হলো আমি একজনের কাছে কিচু মোটা অংকের টাকা পেতাম একন তার কাচথেক নিতে পারছিনা বা তাকে কিছু বলতে পারছি না এখন আমি টাকা টা কি ভাবে পেতেপারি আমাকে একটু জানাবেন আমি একজন সাধারন খেটেখাওয়া মানুষ উওর টির অপেকায়রয়লাম আললাহাফে
01 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাকে এই সমস্যা থেকে মুক্ত করেন। আপনি এই দুআটি সালাতের সাজাদাতে, শেষে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ، اللَّهُمَّ أْجُرْنِيْ فِيْ مُصِيْبَتِيْ وَأَخْلِفْ لِيْ خَيْرًا مِنْهَا উচ্চারণ: ইন্না- লিল্লা-হি ওয়া ইন্না- ইলাইহি রা-জিঊন। আল্লা-হুম্মাঅ্ জুরনী ফী মুসীবাতী ওয়া আখলিফ লী খাইরাম মিনহা-। অর্থ: নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় তাঁর কাছেই আমরা ফিরে যাব। হে আল্লাহ আপনি আমাকে এ বিপদ মুসিবতের পুরস্কার প্রদান করুন এবং আমাকে এর পরিবর্তে এর চেয়ে উত্তম কিছু প্রদান করুন। উম্মুল মুমিনীন উম্মু সালামাহ (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে সা.বলতে শুনেছি, যদি কোনো মুসলিম বিপদগ্রস্ত হয়ে এ কথাগুলো বলে তাহলে আল্লাহ তাকে অবশ্যই উক্ত ক্ষতির পরিবর্তে উত্তম বিষয় দান করে ক্ষতিপূরণ করে দিবেন। উম্মু সালামাহ বলেন, আমার স্বামী আবু সালামাহর মৃত্যুর পরে আমি চিন্তা করলাম, আবু সালামার চেয়ে আর কে ভাল হতে পারে! … তারপরও আমি এ কথাগুলো বললাম। তখন আল্লাহ আমাকে আবু সালামার পরে রাসূলুল্লাহকে সা. স্বামী হিসাবে প্রদান করেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২১২৫। এছাড়াও আপনি আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত রাহে বেলায়াত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ২৬, ১৫৭ নং যিক্র পাঠ করে দুআ করবেন। মহান আল্লাহর ইসম আযম ও দরুদ সাধ্যমত বেশি করে পড়বেন এবং পড়ার ফাঁকেফাঁকে নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে দুআ করবেন। উল্লেখ্য আপনি সুন্নাত-নফল সালাতের সাজদাতে, দুই সাজদার মাঝে, শেষ বৈঠকে, সালাতের বাইরে বিভিন্ন সময়ে উক্ত দুআগুলো পাঠ করতে পারেন।
প্রশ্নঃ 822
আস-সালামুআলাইকুম। আমার প্রশ্ন হল আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহিমাহুল্লাহ স্যার কি বিতির এর সালাত ৩ রাকাত পরতেন? আর যদি ৩ রাকাত পরে থাকেন তাহলে ২য় রাকাতের তাশাহুদের পরের ১রাকাত এ উনার আমল টা জানালে উপকৃত হতাম। (৩য় রাকাতে সুরা মিলানোর পর পুনরায় হাত তুলে তাকবির তাহরিমা করতেন কিনা, কুনুত কি মুনাজাতের মত হাত তুলে পরতেন নাকি হাত ধরা অবস্থায় পরতেন, কুনুত রুকুর আগে নাকি পরে পরতেন, এবং কোন কুনুত টি বেশি পরতেন। ) আশা করি আমার প্রশ্নের উত্তর পাবো।
01 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। স্যার রহ. ফরজ সালাত ছাড়া অন্য কোন সালাত সাধারণত মসজিদে পড়তেন না। আর তাঁকে আমরা কখনোই মসজিদে বিতর সালাত আদায় করতে দেখি নি। সুতরাং তাঁর ব্যক্তিগত আমল সম্পর্কে বলতে পারবো না। তবে তিনি উভয় পদ্ধতিকেই সুন্নাহ সম্মত বলতেন। বিতির সালাতের আদায় পদ্ধতিতে নিয়ে তিনি রাহে বেলায়াত গ্রন্থের ৪১৩-৪৩০ পৃষ্ঠায় সুন্দর আলোচনা করেছেন। আপনি দেখে নিতে পারেন।
প্রশ্নঃ 815
আমি বিবাহিত, তবে আমার স্ত্রী আমার কাছে থাকে না, তাই আমি মাঝে মাঝে আমার স্ত্রীর সাথে কথা বলতে বলতে হ্স্তমৈথুন করে ফেলি, আমি জানি এটা পাপ, তবুও মাঝে মাঝে নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে পারি না। এখন আমি কী করতে পারি। আমার পাপ হয়ে যাচ্ছে, এমন করার ইচ্ছা না থাকলেও আমার এমন হয়ে যায়, পরামর্শ চাই।
01 Jan 2026
আপনি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। স্ত্রীকে আপনার কাছে নিয়ে যাওয়র চেষ্টা করুন অথবা অল্প কয়েকদিন পর পর বাড়ি যাতায়াত করুন। । আর ফোনে আলাপ করার সময় বৈবাহীক বিষয়ে আলাপ করবেন না। স্বভাবিক কথা বার্তা বলবেন।
প্রশ্নঃ 785
বাসাবাড়ি মর্ডগেজ দেয়া নেয়া সম্পর্কে ইসলামের আলোকে বিস্তারিত জানতে চাই।
01 Jan 2026
যে কোন বন্ধকের ক্ষেত্রে ইসলামী নিয়ম হলো বন্ধক দেয়া জিনিসের দ্বারা বন্ধ গ্রহীতা কোন ধরণের উপকার নিতে পারবে না। যদি উপকার নেয় তাহলে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অর্থাৎ যদি কেউ ২০০০ হাজার টাকার বিনিময়ে কারো কাছে বাড়ি বন্ধক দেয় তাহলে বন্ধক গ্রহীতার জন্য জায়েজ নেই সেই ঘরে থাকা বা ভাড়া দেয়া। তবে যদি থাকা বা ভাড়া দেয়ার বিনিময়ে প্রতিমাসে কিছু টাকা কাটা যায়, যেমন প্রতিমাসে দুই হাজার টাকা কাটা যাবে এমন চুক্তি হলো, তাহলে থাকা বা ভাড়া দেয়া জায়েজ হবে। আমাদের দেশে সাধারণত যেটা হয় অর্থা বন্ধক গ্রহীতা বন্ধকী সম্পত্তি ভোগ করে আর এর বিনিময় কোন কিছু দেয় না, যখন বন্ধকদাতা তার টাকা ফেরৎ দেয় তখন বন্ধকী সম্পত্তি দিয়ে দেয়, এটা জায়েজ নেই। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।
প্রশ্নঃ 726
আমার ভাল একটা চাকুরী দরকার, বর্তমান চাকুরীর বেতনে পরিবার চালাতে কষ্ট হইতাছে, বর্তমান চাকুরিটি বেশী ভাল না, চুক্তিভিত্তিক কাজ, এ অবস্থায় আমি ভালও চাকুরী পাওয়ার জন্য কি আমল করতে পারি?
31 Dec 2025
আমরা দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাকে এই সমস্যা থেকে নাজাত দেন। আপান রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো সুন্নাত সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। এছাড়া এই দুআটিও সুন্নাত সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বারবার পড়বেন, رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ এবং এই দুআটি দুই সাজদার মাঝে বেশী বেশী পাঠ করুন: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى وَارْحَمْنِى وَاهْدِنِى وَارْزُقْنِى. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭০২৩।
প্রশ্নঃ 689
espected sir Salam.is the munafa of Paribarik sonchoypotro of Bangladesh bank halal or harm? Regards
31 Dec 2025
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে কোন ধরণের মুনাফায় হারাম। কারণ ব্যাংটির আয়ের উৎসই তো হারাম টাকা। তারা মানুষের টাকা সুদে লাগায় এরপর সুদ থেকে মুনাফা দেয়।
প্রশ্নঃ 679
আসসালামু আলাইকুম। আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে একত্রে কিছু টাকা জমা করি। কিছু দিন পর আমাদের একজন বন্ধু মারা যায়। সে কোন নমিনী ঠিক করে যায় নি। এখন তার বাবা আমাদের সাথে ব্যবসা চালিয়ে যেতে চাচ্ছেন। উল্লেখ্য তার মা, ভাই, বোন ও সন্তানসম্ভবা স্ত্রী রয়েছে। এমতাবস্থায় আমাদের কি করা উচিৎ? আমরা কি তার ছোট ভাইকে জমাকৃত সহ অংশীদার হিসেবে নিব নাকি জমাকৃত টাকা বন্টন করে দিব? বন্টন করতে হলে কিভাবে করব, আমাদের দায়িত্ব কতটুকু? দয়া করে জানাবেন।
30 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আপনাদের উচিত হল, আপনারা আপনাদের মৃত বন্ধুর টাকা তার পরিবারের লোকদের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া।পরিবারের উচিত হল সেই টাকাসহ মৃতব্যক্তির রেখে যাওয়া সকল সম্পদ ইসলামী মিরাসের নিয়ম অনুসারে বন্টন করা। উল্লেখ্য যে, সম্পদ বন্টনের ক্ষেত্রে সম্ভব্য সন্তানও মিরাসের অংশ পাবে।
প্রশ্নঃ 643
Assalamu Alaikum Dear Huzur,Please prescribe hair style according to Hadith, if any one continuously shave hair of head, is it Sunnah?Please clarify Hair Style of Muslim according to Hadith and Sharia.Sincerely yours
30 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিধর্মীদের সাথে, মহিলা পুরুষের সাথে, পুরুষ মহিলার সাথে এবং ফাসেক-ফুজ্জারদের সাথে সাদৃশ্য হয় এমন কোন হেয়ার স্টাইল গ্রহনযোগ্য নয়। এর বাইরে যে কোন স্টাইল গ্রহনযোগ্য। রাসূলুল্লাহ সা. সাধারনত বাবরী চুল রাখতেন। বিস্তারিত জানতে ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত আর আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত কুরআর-সুন্নাহর আলোকে পোশাক, পর্দা ও দেহ-সজ্জা বইটি দেখুন। শামাইলে তিরমিযী বইটিও দেখতে পারেন।
প্রশ্নঃ 628
Can I give my Zakat money to build Mosjid? In my village, our Mosjid is re-constructing. During this Eid-ul-azha, My villagers wanted to announce a amount for building our Mosjid from me, thats why I had to declare 5000 taka to give them for this purpose. Although I had given some amount already for this purpose. Now they want 5000 taka more as a regular chada (Bengali).
When I had to declare to give them 5000 taka, I didnt have wish(niot) that I will give it from my Zakat.
Now my question – Can I give this total 10000/- taka from my Zakat money? If not total, then what amount? Please explain in detail. Thanks, Md. Ear Ali Molla
30 Dec 2025
যাকাতের টাকা মসজিদে দেয়া যাবে না। যাকাতের টাকা দিয়ে মসজিদ-মাদরাসা বানানো যাবে না। ব্যক্তিকেই যাকাত দিতে হয়।
প্রশ্নঃ 598
আসসালামু আলাইকুম, স্যার ইসলামী ব্যাংকে টাকা ডিপজিট এবং ডিপিএস করা জায়েজ হবে কি? উত্তরটা জানালে উপকৃত হব ।
30 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইসলামী ব্যাংক যদি আপনার টাকা ইসলামী পদ্ধতিতে ব্যবাসাতে লাগায় তাহলে জায়েয হবে। তবে অধিকাংশ সময়েই তা হয় না। স্যার রহ. এই ধরণের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন জায়েয হবে না।
প্রশ্নঃ 591
আসসালামু আলাইকুম, সার ইসলামী ব্যাংকে টাকা ডিপজিট এবং ডিপিএস করা জায়েজ হবে কি? উত্তরটা জানালে উপকৃত হবো ।
30 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইসলামী ব্যাংক যদি আপনার টাকা ইসলামী পদ্ধতিতে ব্যবসাতে লাগায় তাহলে জায়েয হবে। তবে অধিকাংশ সময়েই তা হয় না। স্যার রহ. এই ধরণের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন জায়েয হবে না।
প্রশ্নঃ 586
আসসালুঅলাইকুম। আমার একটা প্রশ্ন ছিল। অনেকেই সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার আগে আগত সন্তানের জন্য বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করে থাকে। অনেকেই সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার আগে কেনাকাটা ক্রয় করতে নিষেধ করে। ইসলামিক দৃষ্টিতে আগে কেনাকাটা করতে নিষেধ আছে কি?
30 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইসলামের দৃষ্টিতে কোন সমস্যা নেই। যে মনে করে আগে কিনতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে মানুষ একবারে সবকিছু কিনতে পারে না। তাই আগ থেকেই অল্প অল্পে করে কিনে, এতে কোন অসুবিধা নেই।
প্রশ্নঃ 576
আসসালামু আলাইকুৃম
আমার পিতা কিছু ধান বিক্রি করেছেন এই শর্তে যে, তিনি এখন দাম গ্রহণ করবেন না। যখন প্রয়োজন হবে তখন বাজারে ঐ ধানের যে দাম থাকবে সেই দামে মূল্য গ্রহণ করবেন। মূলতঃ বাড়িতে ধান রাখার জায়গা না থাকায় বাজারের মূল্য বৃদ্ধির সুযোগ গ্রহণ করার জন্য এভাবে বিক্রি করেছেন। এটি জায়েজ হবে কিনা?
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, এই শর্তে ধান বিক্রি করা যাবে না। বরং ধানের দাম নির্দিষ্ট করতে হবে। এভাবে বিক্রি ঝপড়া ফাসাদের একটা কারণ। ইসলাম সব ধরণের ঝগড়া ফাসাদকে নির্মূল করতে চাই।
প্রশ্নঃ 554
আমি একজন ব্যবসায়ী বাকী নগদ দুটোতেই বিক্রয় করি নগদে যেটা ১০টাকায় বিক্রয় করি বাকীতে সেটা ১২টাকায় বিক্রয় করি কারণ-
১। টাকা দেবে ১৫দিন,১মাস,৬মাস পরে। ২। টাকা দেয়ার সময় কিছু কম দেয়। এখন এটাকি সুদের পর্যায় পরে শরীয়তে কি এভাবে বিক্রয়ের কোন নিষেধ আছে?
29 Dec 2025
না, এটা সুদ হবে না। তবে বিষয়টি ক্রেতাকে বললে ভাল হয়।
প্রশ্নঃ 506
আসসালামুয়ালাইকুম, স্যার আপনার কাছে দোয়া ও অবস্থা পরিবর্তনের আমলের জ্ঞান প্রার্থী। স্যার আমি গ্রাজুয়েশন শেষ করে বেশ কয়েক মাস ধরে বেকার আছি, এ দিকে আমাকে সাপোর্ট দিতে গিয়ে আমার বাবা (অবসর প্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবি) ঋনগ্রস্থ হয়েছেন ও আমার পরিবার আর্থীক ভাবে সংকটে পড়েছে। এটা আমাকে প্রচন্ড রকমের মানুষিক পীড়া দেয়। স্যার এমন কোন কি আমল আছে যার মাধ্যমে আল্লাহ আমার ডাক শুনবেন এবং আমাকে চাকরি লাভ সহ ঋন পরিশোধ ও পরিবারের পাশে দাড়াতে তৌফিক দান করবেন? আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমীন
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিপদ-সংকটে সবর করার মধ্যেই রয়েছে মূমিনের সফলতা। অনেক সময় আল্লাহ তায়ালা এই বিপদাপদ দ্বরা তাঁর প্রিয় বান্দাদের পরীক্ষা করেন। সুতরাং আপনি দুঃশ্চিন্তা করবেন না। আল্লাহর কাছে দুআ করুন আশা করি আপনার সমস্যা দূর হয়ে যাবে। আপনি রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো নফল সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। এছাড়া কুরআনের এই দআটিও সালাতে এবং অন্যান্য সময় বারবার পড়বেন, رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনার সব সংকট দূর করে দেন।
প্রশ্নঃ 492
আসসালামু আলাইকুম হুজুর, Middle ক্লাস familyr মানুষ তাদের সেভিংস অনেক সময় ফিক্সড deposit করে রাখে ভবিষ্যতের জন্য, Islamic শরিয়াহ মতে এটা কতটুকু জায়েজ? ফিক্সড deposit এর ইন্টারেস্ট (লভ্যাংশ) দরিদ্রদের মাঝে বন্টন করে দিলে কি গুনাহ থেকে মুক্তি মিলবে? দয়া করে আমাকে এর উত্তর জানাবেন। ধন্যবাদ !
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। fixed deposit করা হারাম। সুতরাং এর থেকে বিরত থাকতে হবে। কোন কারণে হারাম সম্পদ হাতে আসলে তা সওয়াবের নিয়ত ব্যতিত দরিদ্রদেরকে দিয়ে দিতে হবে।
প্রশ্নঃ 489
Assalamu Alaikum Sheikh. I would like to know keeping money in Bangladesh post sonchoy potro (tin mas ontor munafa vitik or pensioners bond)? Jazakallah
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
এটা সুদের অন্তভূক্ত। এই কাজ থেকে বিরত থাকুন।
প্রশ্নঃ 486
আস সালামুআলাইকুম, বিড়াল ক্রয় বিক্রয় জায়েজ কি না? জাজাকাল্লাহুখিরান।
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
এই বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ বিদ্যমান।আলেমদের অনেকেই জায়েজ বলেছেন। কিন্তু সহীহ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. কুকুর, বিড়াল ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪০৯৮। তবে পাহার বা এ জাতীয় কোন প্রয়োজনে ক্রয়-বিক্রয় জায়েজ বলে মনে হয়।
প্রশ্নঃ 482
সারে সাত ভরি স্বর্ণের কম হলেও কি যাকাত দিতে হবে..?
আর আমরা তো জানি যে কারো কাছে যদিসারে সাত ভরি স্বর্ণ থাকে এবং এগুলো এক বছর অতিক্রম করে তখন তাঁর যাকাত দিতে হয়,,, প্লীজ একটু বুঝিয়ে বলবেন,, যাঝাকাল্লাহ খাইর
29 Dec 2025
যাকাতের ক্ষেত্রে স্বর্ণের নিসাব হলো স্বর্ণ সাড়ে সাত ভরি হতে হবে। এবং এক বছর থাকতে হবে। এর কম হলে স্বর্ণের যাকাত দিতে হবে না।
প্রশ্নঃ 478
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ,
আমার এক রক্ত সম্পর্কীয় আত্নীয় হযরত উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নিয়ে বাজে ধারনা পোষণ করেন। তাকে জীবিত অবস্থায় ১০ জন সাহাবীর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্তির হাদীসটি দেখিয়ে সতর্ক করলে তিনি এই হাদীসের ব্যাপারে আমার মনে সংশয় সৃষ্টির চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে বুখারী ও মুসলিমে উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে জান্নাতী হিসেবে যে সব হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো তার সামনে পেশ করি। তখন তিনি দাবী করেন হাদীস হচ্ছে শুধুমাত্র কুরআনের ব্যাখ্যা, কুরআনের ব্যাখ্যা দেয়া ছাড়াও নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনে অসংখ্য কথা বলেছেন, অসংখ্য কাজ করেছেন। এগুলো হাদীসের অন্তর্গত নয়। তিনি বলেন উসমানকে (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) জান্নাতী হিসেবে ঘোষনা করা আল্লাহর কোনো মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হয়ে থাকতে পারে। যেমন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রুমা কূপ খননের জন্য উসমানকে (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) অনুরোধ করলে তিনি তা রাখেননি। কিন্তু পরবর্তীতে যখন এই কুপ খননকারীর জান্নাত প্রাপ্তির ঘোষনা দেন তখন উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) কুপ খনন করে দেন। পরিশেষে তিনি এই কথা বলেন যে যদি উসমান জান্নাতে যায় তাহলে জাহান্নামে যাওয়ার মত মানুষ থাকবে না আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এই ব্যাক্তির সাথে রক্ত সম্পর্কীয় আত্নীয়তা, সামাজিক ও অন্যান্য সম্পর্ক রক্ষার ব্যাপারে কি করণীয়? তার সাথে আমি কিরূপ আচরণ করবো? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন। জাঝাকুমুল্লাহু খাইরান।
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আপনার আত্মীয়কে প্রশ্ন করুন, তিনি কুরআন বিশ্বাস করেন কি না? তিনি কি কুরআনকে অধিক নির্ভরযোগ্য মনে করেন না ইতিহাসকে? মহান আল্লাহ কুরআন কারীমে বলেছেন:
وَالسَّابِقُونَ الأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُم بِإِحْسَانٍ رَّضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُواْ عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
প্রথম অগ্রগামী মুহাজিরগণ ও আনসারগণ, এবং যারা তাদের সুন্দরভাবে অনুসরণ করেছে আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট এবং আল্লাহ তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাত…। (সূরা তাওবা: ১০০ আয়াত) কুরআনের এ আয়াতটি নিশ্চিত করে যে, খাদিজা, আলী, আবূ বকর, উসমান, যুবাইর ইবনুল আওয়াম ও অন্যান্য সকল মুহাজির সাহাবী যারা প্রথম অগ্রগামী হিসেবে ইসলাম গ্রহণ করেন তাঁদের উপর আল্লাহ সন্তুষ্ট এবং তাঁদের জন্য আল্লাহ জান্নাত প্রস্তুত করে রেখেছেন। কুরআনের এ সাক্ষ্যর পরেও যে ব্যক্তি তার জান্নাতী হওয়ায় সন্দেহ পোষণ করেন তিনি মূলত কুরআনের বাণীকেই বিশ্বাস করেন না। যারা বিশ্বাস করেন যে, আলী বংশের একজন ইমাম বা পীরের সাহচর্যে যেয়ে একজন মানুষ এক দিনেই বড় বুজুর্গ হয়ে যেতে পারে, অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে দীর্গ ২৩ বৎসর জীবন কাটিয়েও সাহাবীগণ ঈমান শিখতে পারেন নি তিনি মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেই অবমাননা করেন। শীয়া মতবাদ অনুসারে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যর্থ নবী ছিলেন মুহাম্মাদ (সা.)! নাউযু বিল্লাহ! তিনি দীর্ঘ ২৩ বছর জীবনপাত করেও মাত্র এক ডজনের বেশি মানুষকে ঈমান শেখাতে পারেন নি। উসমান (রা) বা অন্যান্য সাহাবীদের বিরুদ্ধে বর্ণিত ঘটনাবলি সবই তাঁদের মৃত্যুর প্রায় ১৫০/২০০ বছর পরে জনশ্রুতি নির্ভর ঐতিহাসিক বর্ণনার মাধ্যমে লিপিবদ্ধ। প্রায় সকল বর্ণনায় শীয়া ঐতিহাসিকদের বর্ণনা বা সংকলন। নিম্নের বিষয়গুলো লক্ষ্য করুন: নিম্নের বিষয়গুলো লক্ষ্য করুন: রাসূলুল্লাহ সা.-এর পরিজন ও বংশধরের প্রতি এ ভালবাসা ও ভক্তি কখনোই তাঁর সহচর ও সাহাবীগণের প্রতি ভালবাসার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কিন্তু শীয়াগণ পরিবার ও বংশধরের ভালবাসার নামে সাহাবীগণের প্রতি বিদ্বেষ, ঘৃণা ও কুৎসা রটনায় লিপ্ত হয় এবং সাহাবীগণের প্রতি বিদ্বেষকে ঈমানের অংশ বানিয়ে নেয়। তারা ইহূদীদের ষড়যন্ত্রে বিভ্রান্ত হয়ে সাহাবীগণকে ইসলামের শত্র বলে গণ্য করে। তারা নবী-পরিবারের ভালবাসাকে সাহাবীগণের ভালবাসার পরিপন্থী বলে গণ্য করে। এ বিষয়ে অগণিত মিথ্যা তারা প্রচার করে। গত কয়েক শতাব্দী যাবত পাশ্চাত্য-প্রাচ্যবিদগণও সাহাবীগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন। এ সকল প্রচারের একটিই উদ্দেশ্য: ইসলামের মর্মমূলে আঘাত করা ও ইসলামের সৌধকে ভেঙ্গে ফেলা। সাহাবীগণের সততা প্রশ্নবিদ্ধ হলে ইসলামের সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়; কারণ কেবলমাত্র তাঁদের মাধ্যমেই ইসলাম প্রচারিত হয়েছে। সাহাবীগণের সততায় অবিশ্বাস করার অর্থ রাসূলুল্লাহ সা.-এর নবুওয়ত অবিশ্বাস করা। যারা মনে করেন যে, অধিকাংশ সাহাবী স্বার্থপর, অবিশ্বাসী বা ধর্মত্যাগী ছিলেন, তাঁরা নিঃসন্দেহে মনে করেন যে, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা. একজন ব্যর্থ নবী ছিলেন (নাঊযূ বিল্লাহ!)। লক্ষ মানুষের সমাজে অজ্ঞাত অখ্যাত দু-চার জন মুনাফিক থাকা কোনো অসম্ভব বিষয় নয়। কিন্তু সুপরিচিত সাহাবীগণের সততায় সন্দেহ পোষণ করলে রাসূলুল্লাহ সা.-এর ব্যর্থতার দাবি করা হয়। একজন ধর্ম প্রচারক যদি নিজের সহচরদের হৃদয়গুলিকে ধার্মিক বানাতে না পারেন, তবে তিনি কিভাবে অন্যদেরকে ধার্মিক বানাবেন! তাঁর আদর্শ শুনে, ব্যবহারিকভাবে বাস্তবায়িত দেখে ও তাঁর সাহচর্যে থেকেও যদি মানুষ সততা অর্জন করতে না পারে, তবে শুধু সে আদর্শ শুনে পরবর্তী মানুষদের সততা অর্জনের কল্পনা বাতুলতা মাত্র। আজ যিনি মনে করেন যে, কুরআন পড়ে তিনি সততা শিখেছেন, অথচ মুহাম্মাদ সা.-এর কাছে কুরাআন পড়ে, জীবন্ত কুরআনের সাহচর্যে থেকেও আবূ বকর, উমার, উসমান, আবূ হুরাইরা, আমর ইবনুল আস, মুআবিয়া, আবূ মূসা আশআরী রা. বা অন্য কোনো সাহাবী সততা শিখতে পারেন নি, তিনি মূলত মুহাম্মাদ সা.-এর নবুওয়তকেই অস্বীকার করেন। শীয়াগণ কাউকে দেবতা ও কাউকে দানব বানিয়েছেন। দুটি বিষয়ই মানবীয় প্রকৃতির সাথে সাংঘর্ষিক। মানবীয় দুর্বলতার সাথে সততার কোনো বৈপরীত্য নেই। সাহাবীগণ মানুষ ছিলেন; মানবীয় দুর্বলতার ঊর্ধ্বে ছিলেন না। মানবতার সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষকের সাহচর্যে মানুষের মধ্যে সর্বোচ্চ সততা ও বেলায়াত তাঁরা অর্জন করেছিলেন। কোনো স্কুলের সফলতা যেমন ছাত্রদের পাশের হারের উপর নির্ভর করে, তেমনি ধর্মপ্রচারকের সফলতা নির্ভর করে তাঁর সাহচর্য-প্রাপ্তদের ধার্মিকতার উপর। কাজেই নুবুওয়াতে বিশ্বাসের অনির্বার্য দাবি সাহাবীগণের সততায় বিশ্বাস। আর এ বিশ্বাসই নিশ্চিত করেছে কুরআন ও হাদীস। এখানে সংক্ষেপে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করছি: (১) কুরআনে বারবার সাহাবীগণের প্রশংসা করা হয়েছে, তাঁদের ধার্মিকতার সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।মক্কা বিজয়ের পূর্বের ও পরের সকল সাহাবীকে জান্œাতের সুসংবাদ প্রদান করে আল্লাহ বলেন:
لا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُولَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنَ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلا وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ
তোমাদের মধ্যে যারা (মক্কা) বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং সংগ্রাম করেছে তারা এবং পরবর্তীরা সমান নয়; তারা মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ তাদের চেয়ে যারা পরবর্তীকালে ব্যয় করেছে এবং সংগ্রাম করেছে। তবে আল্লাহ উভয়কেই কল্যাণের (জান্নাতের) প্রতিশ্রতি দিয়েছেন।সূরা (৫৭) হাদীদ: ১০ আয়াত। রাসূলুল্লাহসা.এর সকল সাহাবীর ঢালাও প্রশংসা করে ও তাঁদের ধার্মিকতা, সততা ও বিশ্বস্ততার ঘোষণা দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন:
وَلَكِنَّ اللَّهَ حَبَّبَ إِلَيْكُمْ الإِيمَانَ وَزَيَّنَهُ فِي قُلُوبِكُمْ وَكَرَّهَ إِلَيْكُمْ الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ أُوْلَئِكَ هُمْ الرَّاشِدُونَ
কিন্তু আল্লাহ তোমাদের নিকট ঈমানকে প্রিয় করেছেন এবং তাকে তোমাদের হৃদয়গ্রাহী করেছেন। তিনি কুফ্র, পাপ ও অবাধ্যতাকে তোমাদের নিকট অপ্রিয় করেছেন। তারাই সৎপথ অবলম্বনকারী। সূরা (৪৯) হুজুরাত, ৭ আয়াত। সাহাবীগণের মধ্যে মতভেদ হয়েছে এবং কখনো কখনো যুদ্ধবিগ্রহ হয়েছে। ভুল বুঝাবুঝি, সামাজিক প্রেক্ষাপট, ষড়যন্ত্র ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে দুজন সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তির মধ্যে বিরোধ, মামলা বা যুদ্ধ হতে পারে। শুধু যুদ্ধ বা বিরোধের কারণে কাউকে অপরাধী বলা যায় না। যুদ্ধবিগ্রহ ঐতিহাসিক সত্য। তবে সেগুলিতে কার কি ভূমিকা ছিল সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ক ইতিহাস লেখা হয়েছে ঘটনার প্রায় ২০০ বৎসর পর শীয়া মতবাদ প্রভাবিত আব্বাসী শাসনামলে শীয়াগণের বর্ণনার উপর নির্ভর করে। কুরআন ও হাদীস সাহাবীগণের মর্যাদা ও সততা নিশ্চিত করেছে। এ সকল যুদ্ধবিগ্রহের অযুহাতে তাঁদের কারো নামে কুৎসা রটনা বা বিদ্বেষ পোষণ করার অর্থ কুরআন ও হাদীসের অগণিত নির্দেশনা জনশ্রতির কারণে বাতিল করে দেওয়া। কোনো কোর্টে যদি কোনো দলের নেতৃস্থানীয় কাউকে অপরাধী বলে রায় দেওয়া হয় তবে সে দলের অনুসারীরা রায়কে মিথ্যা বলবেন কিন্তু নেতার সততায় বিশ্বাস হারাবেন না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ অতি-সাম্প্রতিক বিষয়। তারপরও সকলেই শুধু ইতিহাস বিকৃতির কথা বলেন। ঐতিহাসিকরা যদি কোনো নেতার অপরাধের অনেক তথ্য পেশ করেন তবুও তার অনুসারীরা সে তথ্য বিশ্বাস করবেন না। তাহলে মুমিন কিভাবে রাসূলুল্লাহ সা.-এর সহচরদের বিষয়ে কুরআন প্রমাণিত সততার সাক্ষ্যের বিপরীতে ইতিহাসের বর্ণনার উপর নির্ভর করবেন? আমরা শুধু এতটুকুই বলব যে, যুদ্ধ বিগ্রহ ঘটেছে, কিন্তু কার কী ভূমিকা তা আমরা এতদিন পরে ইতিহাসের বর্ণনার উপর নির্ভর করে নির্ধারণ করতে পারব না। তবে কুরআন ও হাদীসের বর্ণনার উপর নির্ভর করে আমরা তাঁদের পরিপূর্ণ সততা ও বেলায়াতে বিশ্বাস করি। আমরা মনে করি যে, তাঁদের যুদ্ধ-বিগ্রহ ইত্যাদি ভুল বুঝাবুঝি ও ইজতিহাদী মতপার্থক্যের কারণেই ঘটেছে। এতে তাঁদের তাকওয়া ও বেলায়াত (আল্লাহর ওলী হওয়ার মর্যাদা) ক্ষতিগ্রস্থ হয় নি।
আরেকটি বিষয় দেখুন, যদি ইহূদীদেরকে প্রশ্ন করা হয়: শ্রেষ্ঠ মানুষ কারা? তারা একবাক্যে বলবেন: আমাদের নবী মূসার (আ) সহচরগণ। যদি খৃস্টানদেরকে প্রশ্ন করা হয়: শ্রেষ্ঠ মানুষ কারা? তারা একবাক্যে বলবেন: আমাদের নবী ঈসার (আ) হাওয়ারী-সহচরগণ। আর যদি শীয়াদেরকে প্রশ্ন করা হয় নিকৃষ্ট-ঘৃণ্যতম মানুষ কারা? তবে তারা একবাক্যে বলবেন: আমাদের নবী মুহাম্মাদ সা.এর সহচরগণ!! শীয়াদেরকে প্রশ্ন করুন: সবচেয়ে ভাল মানুষ কারা? তারা বলবেন: আলী (রা)-এর সাথীগণ। তাদেরকে প্রশ্ন করুন: সবচেয়ে খারাপ মানুষ কারা? তারা একবাক্যে বলবেন: মুহাম্মাদ সা.-এর সাথীগণ!! কাউকে ভালবাসার অতি স্বাভাবিক প্রকাশ তার সাথে জড়িত সকলকে ভালবাসা ও সম্মান করা। এমনকি তাদের কোনো অপরাধ প্রমাণিত হলেও অজুহাত খুঁজে তা বাতিল করতে চেষ্টা করা। কারণ প্রিয়তমের সাথীদেরকে খারাপ কল্পনা করতে মন মানে না। আর কারো সঙ্গীসাথীকে সর্বোচ্চ ঘৃণা করার সুনিশ্চিত অর্থ ঐ ব্যক্তির প্রতি ভালবাসা না থাকা। কাজেই মুহাম্মাদ সা.-এর সাথীদেরকে পথভ্রষ্ট প্রমাণ করা ও তাঁদেরকে ঘৃণা করা যাদের ধর্মের মূল ভিত্তি তাঁদের থেকে মুহাম্মাদ সা.-এর হাদীস বা দীন শিক্ষা করা কি সম্ভব? যদি তিনি তার অবস্থান থেকে ফিরে না আসেন তাহলে তাকে সামাজিকভাবে বয়কট করুন। তার সাথে উঠা-বসা লেনদেন বন্ধ করুন।
প্রশ্নঃ 476
আস-সালামু আলাইকুম।
১. কোন স্বামী যদি তালাক না দেয় কিন্তু তার স্ত্রী যদি ডিভোর্স দেয় তারা কি পরবর্তীতে সংসার করতে পারবে?
২. কোন মেয়ের বয়স যদি ২৭ বছর হয়, সে যদি কোন ছেলেকে বিয়ে করে পরিবারকে না জানিয়ে অথবা পরিবারের লোকেরা এখন জানলে মানবে না কিন্তু পরে জানলে মেনে নিবে - যেহেতু বিয়ের আগে প্রেম তরা পাপ তাইজন্য বিয়ে করবে - তাহলে কি তাদের বিয়ে বৈধ হবে? পরবর্তীতে পরিবারের লোকদের সামনে কি তাদের আবার বিয়ে করতে হবে? ছেলে-মেয়ে ২ জনেই নামাজ পড়ে, মেয়েটি পর্দা করে এবং ইসলামী আইন মানতে চায় - ঐ মেয়ের ইবাদত কী আল্লাহ কবুল করবেন?
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১। স্বামী স্ত্রীকে তালাক (ডিভোর্স) নেয়ার অধিকার দিলে স্বামী তালাক না দিলেও স্ত্রী নিজেকে নিজে তালাক নিতে পারেন। এক্ষেত্রে স্ত্রীর তালাকই চূড়ান্ত বলে গণ্য। তবে আপনি স্থানীয় কোন আলেমের সাথে এই বিষয়ে কথা বলুন। তিনি বিস্তারিত শুনে সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন।আপনি যতটুকু লিখেছেন শুধু এতটুকুতে কোন ফয়সালা দেয়া সম্ভব নয়। ২। পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করা হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে। আর এভাবে বিয়ে করলে পরবর্তীতে বিভিন্ন জটিলাত সৃষ্টি হয়। তাই তাদের জানিয়েই বিয়ে করা উচিত। তবে একান্ত বাধ্য হয়ে এমন করলে আশা করা যায় বিয়ে হয়ে যাবে এবং তার ইবদাত আল্লাহর নিকট কবুল হবে।
ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের বিধান। বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামী শরীয়তে এব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাসূল সা. এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। পারিবারিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অধিকাংশ ইমাম ও ফকীহগণের নিকট ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ নেই। তবে ইমাম আবু হানীফা রহ. সহ কতিপয় ফকীহ বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে জায়েজ বলেছেন। প্রখ্যাত মালেকী ফকীহ আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে রুশদ আন্দালুসী র. বলেন,
اختلف العلماء هل الولاية شرط من شروط صحة النكاح أم ليست بشرط؟ فذهب مالك إلى أنه لا يكون النكاح إلا بولي وأنها شرط في الصحة في رواية أشهب عنه وبه قال الشافعي وقال أبو حنيفة وزفر والشعبي والزهري: إذا عقدت المرأة نكاحها بغير ولي وكان كفؤا جاز وفرق داود بين البكر والثيب فقال باشتراط الولي في البكر وعدم اشتراطه في الثيب
অর্থ: বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী শর্ত কি শর্ত নয় এই বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম মালেক র. মত পোষন করেছেন যে, ওলী ছাড়া বিবাহ হবে না। বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য (ওলী) শর্ত। এমন মতই পোষন করেছেন ইমাম শাফেয়ী রা.। ইমাম আবু হানীফা, জুফার, শাবী ও জুহরী র. বলেছেন, যদি মহিলা ওলী ছাড়া বিবাহ করবে আর স্বামী যদি তার কুফু (সর্বদিক দিয়ে যোগ্য) হয় তাহলে জায়েজ হবে। বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ২/৮(শামেলা)। এই সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন, আলমাবসুত লিস-সারখসী, ৬/৫৩; আলমাউসায়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৭/৯৪ও ৩১/৩২১; আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবা ৪/৪৫। কিতাবুল উম্ম লিশ-শাফেয়ী,৭/১৫৬। যে ইমামগন ওলী ছাড়া বিবাহ বাতিল বলেছেন তাদের দলীল: আবু মুসা আশয়ারী রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, অর্থাৎ ওলী ছাড়া বিবাহ নয়। لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِىٍّ আবু দাউদ, হাদীস নং ২০৮৭; তিরমিযী, হাদীস নং ১১০১;মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৯৭৬১। হাদীসটি সহীহ। শায়খ আরনাউত এবং আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত অন্য হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন,
أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ
অর্থাৎযে মহিলা ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করবে তার বিবাহ বাতিল। তিনি ৩ বার তা বলেছেন। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১১০২; মুসনাদে আহমাদ,হাদীস নং ২৫৩৬৫। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন আর শায়খ শুয়াইব আরনাউত সহীহ বলেছেন। উপরক্ত হাদীস সমূহের ভিত্তিতে ইমাম মালেক, শাফেয়ী, আহমাদ র. সহ অধিকাংশ আলেম ওলী ছাড়া বিবাহকে বাতিল বলেছেন। যে সব ইমাম ও ফকীহ ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ বলেছেন তাদের দলীল: তাবেঈদের মধ্যে ইমার জুহরী ও শাবী এরপরে ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ, মুহাম্মাদ, জুফার সহ কিছু সংখক মুজতাহিদ কিছু শর্ত সাপেক্ষে ওলী ছাড়া বিবাহ কে জায়েজ বলেছেন। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১.কুফু হতে হবে। ২.মেয়েটি বালেগা, বুঝমান হতে হবে। আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবায়া, ৪/৪৫; আলমাবসুত লিস-সারাখসী,৬/৬১ ও ৫/১৬। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
فلا جناح عليكم فيما فعلن في أنفسهن بالمعروف
অর্থাৎ মহিলারা নিজেদের ব্যাপারে সৎ ভাবে যা করবে (বিয়ের ক্ষেত্রে) সে বিষয়ে তোমাদের কোন দোষ নেই। সূরা বাকারাহ-২৩৪ অন্য এক আয়াতে তালাক সম্পর্কে আলোচনার এক পর্যায়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, تنكح زوجا غيره. حتى অথাৎ যতক্ষন না তারা অন্য স্বামীকে বিবাহ না করে। সূরা বাকারাহ-২৩০। অন্য প্রসংগে আল্লাহর বাণী,
فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ
অর্থাৎ তোমরা তাদেরকে তাদের স্বামীদের কে বিবাহ করা থেকে বাধা দিবে না। সূরা বাকারাহ-২৩২ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا অর্থাৎ মেয়েরা ওলীদের চেয়ে নিজের ব্যাপারে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৪২১। الأيم অর্থ স্বামীহীন মহিলা, পূর্বে স্বামী থাকুক বা না থাকুক। আলমজামুল ওয়াসীত। বর্তমান সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৌদী আলেম শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আলমুনজিদ ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের ক্ষেত্রে বলেছেন,
المسألة اجتهادية ، واختلف فيها الأئمة ، فإنه إذا كان أهل بلد يعتمدون المذهب الحنفي كبلادكم وبلاد الهند وباكستان وغيرها ، فيصححون النكاح بلا ولي ، ويتناكحون على هذا ، فإنهم يقرّون على أنكحتهم ، ولا يطالبون بفسخها
অর্থাৎ এটি একটি ইজতিহাদি মাসআলা, ইমামগণ এক্ষেত্রে ইখতিলাফ করেছেন। সুতরাং যে সব দেশের মানুষেরা হানাফী মাজহাবের উপর নির্ভর করে, ওলী ছাড়া বিবাহবে বৈধ মনে করে এবং এভাবে তাদের বিয়ে হয় যেমন, ভারত, পাকিস্থান ইত্যদি, তাহলে তাদের বিবাহের স্মীকৃতি দেয়া হবে । বাতিল করতে বলা হবে না। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, শরীয়তে বিবাহে মেয়েদের জন্য ওলী থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণভাবে যৌবনের শুরুতে যুবক-যুবতী সহজেই বয়সের উন্মাদনায় বিভ্রান্ত হয় এবং নিজের চোখের ভাল লাগার উপর নির্ভর করেই সঙ্গী পছন্দ করে। বিবাহের ক্ষেত্রে চোখের পছন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবন ও আগত প্রজন্মের কল্যাণের কথাও চিন্তা করতে হবে। এজন্য ইসলামে বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর মতমতের সাথে অভিভাবকের মতামতেরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সুতরাং মেয়েদের জন্য আবশ্যক হলো ওলীর অনুমতি নিয়ে বিবাহ করা। আর আমাদের উচিৎ বিবাহের সময় মানুষদের কে ওলীর অনুমতির বিষয়ে উৎসাহিত করা,ওলী ছাড়া বিয়ে করতে নিষেধ করা এবং ওলী থাকার কল্যান বর্ণনা করা। যারা ইতিমধ্যে ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করেছে তাদের বিষয়ে কথা হলো যেহেতু তারা একটি ফিকহী মত গ্রহন করেছেন আর বিষয়টি ইজতিহাদী এবং ইখতিলাফী তাই তাদেরকে নতুন করে বিবাহ করতে হবে না। তবে এই ঘৃনিত কাজের জন্য তাদের লজ্জিত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 462
আসসালামুয়ালাইকুম হুজুর,
আমার প্রশ্ন হল রাব্বি নাম রাখা জায়েজ হবে কিনা? রাব্বি নামে কেউ আমাকে ডাকলে সেটা শিরক হবে কিনা। বিস্তারিত জানালে খুশি হব। আল্লাহ আপনাকে নেক হায়াত দান করুন।
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
রাব্বি নাম রাখবেন না। আবদুর রাব্ব রাখতে পারেন। সেক্ষেত্রে আব্দুর রব্ব বলে ডাকতে হবে, রব বলে ডাকা যাবে না।
প্রশ্নঃ 449
পিয়াজ রসুন স্টক করা যাবে কি?
29 Dec 2025
স্টকের কারণে কৃত্তিম সংকট সৃষ্টি হয়ে দাম বৃদ্ধি পেয়ে মানুষ ভোগান্তিতে পড়লে জায়েজ নেই। অন্যথায় জায়েজ।
প্রশ্নঃ 445
আস্-সালামুআলাইকুম।
১. রিযিক প্রাপ্ত হওয়ার আমল কি কি আছে? সূরা ওয়াকিয়া প্রতিদিন পরলে রিযিক বারবে এমন শুনেছিলাম, কোন সহীহ হাদিসে আছে কি? bus এর মাঝে থাকার সময় নামায কাযা হলে কি ইশার সাথে আসর, মাগরিব কসর হিসেবে পড়তে হবে?
কোন আমল বেশি করলে আল্লাহ রিযিকের ব্যবস্থা তাড়াতাড়ি করবেন?
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
রিযিকের জন্য এই দুআটি দুই সাজদার মাঝে এবং অন্যান্য সময় বারবার পাঠ করুন।
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى وَارْحَمْنِى وَاهْدِنِى وَعَافِنِى وَارْزُقْنِى
এছাড়া কুরআনের এই দুআটিও নামাযে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পড়বেন,
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
এবং যে কোন প্রয়োজনের জন্য
রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো নফল সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় পাঠ করতে থাকুন। আর সূরা ওয়াকীয়া পড়ার হাদীসটি যয়ীফ তবে আপনি পড়তে পারেন।
প্রশ্নঃ 443
আসসালামু আলাইকুম
আমার ১টি প্রশ্ন জানতে চাইতেছি.দয়াকরে উওর দিলে খুশি হব. প্রশ্ন টা হল, বিয়ে কার সাথে হবে সেটা কি আল্লাহ (swt) আগে থেকে দায্ (টিক)করে রেকে চেন?এবং বিয়ে তারাতারি হবার জন্য কি কোন বিশেষ আমল আছে?কারণ আমার পারিবারিক ভাবে এবং মেয়ের সম্মতিতে আমার বিয়ে টিক হয়েছিল হটাত করে মেয়ে বলে আমি confuse জানিনা কি করব। এর আগে ২/৩ অন্য জায়গাতে আমাকে দেখে না বলে দেয়।
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
সব বিষয়ই আল্লাহ তায়ালার কাছে নির্ধারিত আছে।দ্রুত বিবাহের জন্য রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো নফল সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। এছাড়া কুরআনের এই দুআ দুটিও সালাতে এবং অন্যান্য সময় বারবার পড়বেন,
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ এবং رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
আল্লাহ আপনাকে উক্ত সমস্যা থেকে মুক্তি দিন।
প্রশ্নঃ 440
আসসালামুআলাইকুম,
স্যার, আমার প্রশ্ন হলো ব্যাংক বা বীমা থেকে প্রাপ্ত সুদের টাকা নিজেদের বাসা বাড়ির কাজে লাগানো হয়েছে। এখন সেই সুদের টাকা ইসলামের মাসআলা অনুযায়ী ব্যায় করতে চাই। প্রাপ্ত সুদের সম পরিমাণ টাকা ব্যায় করলেই হবে না কোন কাফফারা দিতে হবে? কোন কোন খাতে সুদের টাকা ব্যায় করা যাবে? দয়া করে দলিল সহকারে জানাবেন। আবিদুল ইসলাম, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল।
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
সুদের টাকা আপনি গরবীদেরকে সওয়াবের নিয়ত ছাড়া দিয়ে দিবেন। কাফফারা দিতে হবে না, প্রাপ্ত সুদের সমপরিমান টাকা দিয়ে দিবেন।রাসূলুল্লাাহ সা. নিষেধ করার পর তাঁর বেঁচে থাকা সময়ের মধ্যে কোন মানুষ সুদ নেয় নি। সুতরাং হাদীসে এই বিষয়ে কোন নির্দেশান পাওয়া যাবে না। সুদের টাকা মূলত অন্যের টাকা। যেহেতু মালিক পাওয়া যাচ্ছে না তাই গরীবদেরকে দিয়ে দিতে হবে। হাদীসে এর কোন খাত উল্লেখ নেই।
প্রশ্নঃ 436
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ
সূদী ব্যাংকে account করিয়ে দেয়া জায়েজ হবে কি? আমি personally এই ব্যাংকে service করতাম। এখন ছেড়ে দিয়েছি। কিন্ত বাইরে থেকে account করিয়ে দেওয়ার সুযোগ আছে। আমি করতে চাইছি না,কিন্তু আমার এক দাদা বলছেন যে সুধুমাত্র account করে দেওয়াতে কোনো সমস্যা নেই..যুক্তি হিসাবে তিনি বলছেন..সাধারন মানুষের যেহেতু account করা এই india তে প্রায় বাধ্যতামুলক,সেহেতু তাদের ভোগান্তি থেকে বাচাতে এটা জায়েজ হবে…তাই শায়েখ প্লিজ উত্তর দেবেন…
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
শুধুমাত্র ভোগান্তি থেকে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে এ্যাকাউন্ট করা হলে আশা করি আপনার গুনাহ হবে না। তবে যদি কোন ধরনের সুদের লেনদেন করবে বলে আপনি জানতে পারেন তাহলে আপনি এ্যাকাউন্ট করে দিবেন না।
প্রশ্নঃ 433
আসসালামু আলাইকুম,
আমি কুরআনের বাংলা তাফসীর সংগ্রহ করে পড়তে চাই। কোন তাফসীরটি তুলনামূলকভাবে অধিক উত্তম হবে পরামর্শ দিলে উপকৃত হব। জাজাকাল্লাহু খাইরান
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আপনি তাফসীরে ইবনে কাসীর পড়বেন। এটিই তুলনামূলভাবে অধিক উত্তম। অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীরের জন্য শায়খ ত্বকী উসমানী লিখেত তাওযীহুল কুরআন পড়তে পারেন।
প্রশ্নঃ 429
রাসূলুল্লাহ সা. গোসলের পর ওযু করতেন না। সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ২৫২; আবু দাউদ, হাদীস নং ২৫০; তিরমিযী, হাদীস নং ১০৭। ইমাম তিরমিযীসহ মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। প্রশ্ন হলঃ এই গোসল কি স্বাভাবিক গোসল নাকি ফরজ গোসল নাকি শরিয়াত সম্মত অন্য কোন পদ্ধতি। ফরজ গোসল কি যে কোন সময় করা যা নাকি শুধু শারীরিক অপবিত্রতার পরে করতে হয়, বিস্তারিত । প্লিজ
28 Dec 2025
উক্ত হাদীসে ফরজ গোসলের কথাই বলা হয়েছে। তবে এখনো মূল কথা হলো যদি কেউ ফরজ গোসলের মত করে গোসল করে তাহলে তাকে আর ওযু করতে হবে না। কিছু অপবিত্রতার কারণে গোসল ফরজ হয়। গোসল যদি ফরজই না হয় তাহলে ফরজ গোসল করবেন কিভাবে? তবে ফরজ গোসলের মত গোসল করা যায়।
প্রশ্নঃ 427
Question 1: Seven years ago a muslim lady got married with a hindu boy making him muslim . Now there is a son in that family. The problem is that the lady has observed along seven years that the boy doesnt only say prayer anytime but also doesnt keep raja during Ramadan. Now the lady is in doubt that wheter the boy had been a muslim in a real sense. As a result of that the lady has asked the boy to make the document and take the clearance from any concerned authority stating that he had been a muslim. But the boy says that I will do it later but not now.
Some extra information : The boy has not any job right now and is beared totally by the income of that lady. The boy goes to visit his hindu family whenever he gets time. . In this condition what the lady can or should do…
28 Dec 2025
আপনার প্রশ্ন থেকে স্পষ্ট যে, ঐ ছেলে প্রকৃতপক্ষে মুসলিম হয় নি। শুধুমাত্র বিয়ের জন্য মুসলিম হয়েছি এ কথা বলেছে। আপনি প্রথমে যত দ্রুত সম্ভব তার থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন, তালাক নয়, তার থেকে আলাদা থাকা শুরু করবেন। এরপর তাকে বলবেন, তার বিষয়টি স্পষ্ট করতে। যদি সে প্রকৃত পক্ষে মুসলিম হয়, ইসলামী আইন-কানুন মেনে চলে তাহলে আলহামদুলিল্লাহ। পুনরায় সংসার শুরু করবেন। আর যদি মুসলিম না হয় তাহলে তালাক ডিভোর্স দিবেন। কোন মুসলিম মেয়ের জন্য জায়েজ নেই হিন্দু ধর্মের কোন ছেলের সাথে বিবাহ করা।
প্রশ্নঃ 416
কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক যদিও দেশের সুদী অর্থনীতির নেতৃত্ব দিয়ে থাকে, এর অধিকাংশ বিভাগের (প্রায় ৭৫%) কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সুদের কোন সম্পর্ক নেই অর্থাৎ সুদ গ্রহণ, প্রদান, সুদের হিসাব-নিকাশকরণ, লেখা, সাক্ষী হওয়া ইত্যাদি ব্যতিরেকেই এখানে পুরো ক্যারিয়ার চাকুরি করা সম্ভব। এমতাবস্থায়, উক্ত প্রতিষ্ঠানে সুদের সাথে সরাসরি সম্পর্কহীন বিভাগে কাজ করা শরীয়াহ্-সম্মত হবে কি? বিশেষ করে এমন কারো জন্য যার চাকুরিতে প্রবেশের বয়স-সীমা (সরকার নির্ধারিত) শেষ হয়েছে।
28 Dec 2025
আপনার কাজের সাথে সুদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। তাই এটাকে হারাম বলা কঠিন। অন্য কোনো সুযোগ না থাকলে এ চাকরী করা যাবে বলেই মনে হয়। তবে সাধারণ নিয়ম হলো যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এক শাখার কর্মকর্তাকে অন্য শাখায় বদলী করা হয়। এভাবে আপনাকে যে কোনো সময়ে সুদ লেখা বা সুদের হিসাবের মধ্যে প্রবেশ করতে হতে পারে। সর্বাবস্থায় এটি বর্জন করতে পারলে ভাল।
প্রশ্নঃ 406
আমি মো: মতিউর রহমান। পাক্শ, ঈশ্বরদী, পাবনা মোবা:-০১৭৪৯-৬৭৮১২১
ক) প্রশ্ন :-ঈমাম শাফিই (র:) এর মাযহাবের কোন ঈমামের পিছনে, হানাফি মাযহাবের কোন ব্যাক্তির নামায আদাই হবে কিনা?
খ) ৪ মাযহাব বলতে কি বুঝানো হয়েছে?
গ) মাযহাবের কারনে আমলের কোন ভিন্নতা আছে কিনা, থাকলে কি কি?
28 Dec 2025
ইসলামের প্রথমযুগ থেকেই অর্থাৎ সাহাবীদের আমল থেকেই ফিকহী বিভিন্ন বিষয়ে আলেমগণের মাঝে মতভেদ বিদ্যমান। এই মতভেদের কারণ কুরআন ও হাদীসের ব্যাখ্যার ভিন্নতা কিংবা একই বিষয়ে কয়েক ধরনের সহীহ হাদীস থাকা। আর ফিকহী এই মতভেদের ্নামই মাজহাব। প্রথমদিকে অনেকগুলো মাজহাব বিদ্যমান ছিল। এরপর কালের পরিক্রমায় প্রসিদ্ধ চারটি মাজহাব ছাড়া বাকীগুলো প্রায় হারিয়ে গেছে।
প্রসিদ্ধ চারটি মাজহাব হলো হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী, হাম্বলী। এক মাজহাবের ইমামের পিছনে অন্য যে কোন মাজহাবের অনুসারীর নাময সহীহ হবে। মাজহাবের কারণে অর্থাৎ কুরআন ও হাদীসের ব্যাখ্যঅর ভিন্নতার কারণে এবং অনেক ক্ষেত্রে একই বিষয়ে কয়েক ধরনের হাদীস থাকার কারণে আমলের মাঝেও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। আর এর কোন নির্দিষ্ট সংখা নেই। মনে রাখবেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য কুরআন ও সুন্নাহ মানা। মাজহাব কুরআন সুন্নাহ মানার একটি মাধ্যম। আর সাধারণ মানুষের পক্ষে কোন একটি মাজহাব (তা এই চার মাজহাব হোক কিংবা অন্য কোন একজন আলেমের মত হোক) মানতেই হয়, কেননা তার পক্ষে কুরআন হাদীস থেকে সরাসরি জানা সম্ভব নয়।
প্রশ্নঃ 391
আসসালামুয়ালাইকুম,
আমি একটি প্রাইভেট উনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রি্ক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছি। বর্তমানে কম্পানির চাকরি গুলো রেফারেন্স ছাড়া হয়না বললেই চলে, রেফারেন্স না থাকলে ইন্টারভিউ এর জন্যেই ডাকে না। এমতাবস্থায় আমিও যদি কারো রেফারেন্স বা সুপারিশের মাধ্যমে চাকরি নেই তাহলে সেটা কি জায়েয হবে?
কোন কম্পানি যদি ফ্রীজ, মোবাইল, আয়রন এই গুলো উৎপাদনের পাশাপশি টিভি ও বানায় তাহলে কি সেই কম্পানিতে কাজ করা ঠিক হবে? সেই কম্পানির ফ্যাক্টরিতে কাজ করলে অন্যান্য প্রোডাক্টের সাথে টিভি উৎপাদনের সাথেও থাকতে হবে। আবার সেই কম্পানির সার্ভিসিং এ কাজ করলে অন্যান্য প্রোডাক্টের সাথে টিভির ও সার্ভিসিং করতে হবে। এ দিকে টিভি মানুষ ভাল কাজে ব্যাবহার করবে না, এটা সবাই জানে। এরকম কম্পানিতে চাকরি পেলে করা যাবে কি?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তির যোগ্যতা সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদানই মূলত রেফারেন্স। যোগ্য ব্যক্তির জন্য সত্য সুপারিশ ইসলামের উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। যদি আপনার যোগ্যতা থাকে তাহলে কারো সুপারিশে চাকরী হলে তা না জায়েজ হবে না। তবে ঘুষ দেয়া সর্বাবস্থায় হারাম।
প্রশ্নঃ 380
১) মোবাইল সার্ভিসিং কি হালাল ব্যবসা?
২) কম্পিউটার সার্ভিসিং কি হালাল ব্যবসা?
জরুরী ভিত্ততে জানাবেন। কুরআন হাদিসের ভিত্ততে উত্তর দিবেন।
28 Dec 2025
মোবাইল ও কম্পিউটার সার্ভির্সি হালাল কাজ। কোন সমস্যা নেই।
প্রশ্নঃ 364
আসসালামু আলাইকুম,
আমি বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবসা ফরেক্স সর্ম্পকে জানতে চাচ্ছি। এটা হালাল না হারাম? যাযাকাল্লাহ, সাদিক
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আপনি এই ব্যবসার ধরণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে পুনরায় প্রশ্ন করুন।
প্রশ্নঃ 358
মোবাইল, ট্যাব, বা কম্পিউটারে যদি কুরান বাংলা, তেলাওয়াত, হাদিস বই, ওয়াজ মাহাফিল, ইসলামিক বই থাকে তাহলে তা কি নাপাক অবস্তাই ধরা বা মোবাইল নিয়ে কি বাথরুমে ঢোকা যাবে?
28 Dec 2025
না, মোবাইলের ভিতর এই সব থাকলে নাপাক অবস্থায় ধরতে তবা মোবাইল নিয়ে বাথরুমে যাওয়াতে কোন সমস্যা নেই। তবে যদি স্কীনে যদি এগুলো থাকে তাহলে স্কীন থেকে সরিয়ে বাথরুম যাবেন।
প্রশ্নঃ 346
আসসালামু আলাইকুম স্যার।
মুদি বা চা বা পান বা সুপার স্টোর ইত্যাদি ব্যবসায়ে সিগারেট, বিড়ি, গুল, জর্দা, ভেজাল মাল ইত্যাদি বিক্রিত মূনাফা এবং ব্যবসায়ের অন্যান্য দ্রব্যর বিক্রিত মূনাফার সাথে মিশ্রিত করে আয় করলে উক্ত সমষ্টি আয়ের বিধান কি হবে? এমতাবস্থায় কুরআন ও সহীহ্ সুন্নাহর আলোকে বিধান ও উক্ত সমস্যা সমাধানের উপায় কি জানালে খুবই উপকৃত হব। – জাযাকাল্লাহু খইরান।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আমাদের উচিৎ যে কোন ধরনের হারাম ব্যবসা থেকে বিরত থাকা। কেননা হালাল ব্যবসার মধ্যে আল্লাহ বরকত দান করেন আর হারামের মধ্যে কোন বরকত থাকে না। আপনার প্রশ্নের উত্তরে বলছি মোট মুনাফর যতটুকু হালাল পন্যের ব্যবসা থেকে অর্জিত ততটুটু হালাল আর যতটুটু হারাম পন্যের ব্যবসা থেকে অর্জিত ততটুকু হারাম। সমাধানের উপায় খুবই সহজ। সিগারেট এবং এ জাতীয় পন্যগুলো বিক্রি বন্ধ করে দিতে হবে, এতে আপনার কোন ক্ষতি হবে না। মানুষ না না বুঝে মনে করে হারাম ব্যবসা ছেড়ে দিলে তার আয় কমে যাবে, এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারনা। বরং হারাম থেকে মুক্ত সম্পদের ভিতরেই কল্যান ও বরকত।
প্রশ্নঃ 319
আসসালামু আলাইকুম
স্যার আমি একটি টিশার্ট কম্পানীর জন্য অনলাইনে টিশার্ট ডিজাইন ও বিক্রয়ের জন্য বিজ্ঞাপন দেই। আমার প্রশ্ন হল ডিজাইনে কোনো বের ছবি সংযুক্ত করা কি বৈধ হবে? আর মেয়েদের জন্য টিশার্ট ডিজাইন ও বিজ্ঞাপন দেয়া কি বৈধ হবে? (সকল ক্রেতা মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের অধিবাসী)
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
হাদীসে প্রাণীর ছবির ব্যাপারে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আছে। রাসূলুল্লাহ সা.বলেন,
إِنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا عِنْدَ اللهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْمُصَوِّرُونَ
অর্থ: কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে কঠিন আজাবের সম্মুখীন হবে ছবি অংকনকারী। সহীহ বুখারী,হাদীস নং ৫৯৫০। অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেন,
من صور صورة في الدنيا يكلف يوم القيامة ان ينفخ فيه الروح وليس بنافخ
যে ব্যক্তি দুনিয়ায় ছবি আঁকবে কিয়ামতের দিন তাকে তার (ঐ ছবির ) মধ্যে প্রান দেয়ার জন্য বলা হবে আর সে প্রান দিতে পারবে না। মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ২১২৬। শায়খ শুয়াইব আরনাউত বলেছেন, সনদ সহীহ।
প্রশ্নঃ 312
আমার বয়স ২৬ বছর। আমার বিগত জীবনে অনেক মানুষের থেকে টাকা লোন করেছিলাম এবং অনেক অধিকার নষ্ট করেছি। ওই সকল লোকদের অনেকের সাথে যোগাযোগ করারও আর কোনো মাধ্যম নাই।আর যাদের সাথে যোগাযোগ আছে তাদের লোন বা অধিকার ফিরিয়ে দিতে আমি সচেষ্ট, কিন্তু বর্তমানে আমার আর্থিক অবস্থা তেমন নয়। যখনই সম্ভব হবে পরিশোধ করে দিবো। আমার জন্য আপনি কি উপদেশ দিবেন। আমি জাহান্নাম থেকে বাচতে চাই, কবর আজাব থেকে বাচতে চাই। আমার জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন আমাকে মাফ করে দেন।
28 Dec 2025
আপনি যাদের অধিকার নষ্ট করেছেন তাদেরকে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেবার যথাসাধ্য চেষ্টা করুন। আর আল্লাহ তায়ালার কাছে সাহায্য ও ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিজের অসুবিধা ও কষ্ট স্বীকার করে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে থাকুন। এতে আপনার তাওবার আন্তরিকতা প্রমাণিত হবে। আশা করি আল্লাহ তায়ালা আপনাকে ক্ষমা করে দিবেন। আমরা আপনার জন্য দোয়া করি যেন আল্লাহ তায়ালা আপনাকে ক্ষমা করে দেন।
প্রশ্নঃ 304
আসসালামু আলাইকুম
ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর সারের কাছে এই বিষয়টা জানতে চাচ্ছি
ফরেক্স ব্যবসা । ইহা কি হালাল না হারাম? কুরআন ও হাদিসের আলোকে উত্তর দিলে অত্যান্ত খুশি হবো। আমি নিজে কিছু ইনভেস্ট করেছি এখন আমি কি এটা করেবো না বন্ধ করে দিবে। আমি ইউরো ইসডি ডলার ক্রয়-বিক্রয় করি। দীঘ মেয়াদি লেনদেন করি।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
প্রশ্নটি আরো স্পষ্ট করে করলে ভাল হতো। যাই হোক আমরা জানতে পেরেছে যে, অনেক দেশের সেন্ট্রাল ব্যাংক কর্তৃক তাদের মুদ্রার একটা ইন্টারেস্ট রটে থাক। আপনি ফরক্সে ট্রডে করলে সইে ইন্টারস্টে রটে আপনার বলোয়ও প্রযোজ্য হব। এই ইন্টারেস্ট মুসলমিদরে জন্য হারাম। এই ঝামলো দূর করার জন্য প্রায় সব ব্রোকার আজকাল ইন্টারেস্ট ফ্রি একাউন্ট / ইসলামকি একাউন্ট / মুসলমি ফ্রন্ডেলি একাউন্ট সার্পোট করে যখোনে ঐ ইন্টারেস্ট হসিাব হয় না। তাহলে সেন্ট্রাল ব্যাংক ইন্টারেস্ট যত হারাম সেটা থকেে আমরা মুক্ত। মুদ্রা ব্যবসার ক্ষেত্রে মূল বিষয় হল একই মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে মূল্য কম বেশী করা যাবে না। সমান হতে হবে। যেমন বাংলাদেশী টাকা ১০ টাকা ১১ টাকার দ্বারা বিক্রি করা যাবে না। ১০ টাকা ১০টাকাতেই বিক্রি করতে হবে। আর সমান সমান করে লেনদেন করলেও নগদ হতে হবে, বাকীতে হলে জায়েজ হবে না। মুদ্রা ভিন্না হলে লেনদেনের ক্ষেত্রে মূল্য কম বেশী করা যাবে। তবে শর্ত হলো নগদ লেনদেন হতে হবে। যেমন ১ ডলার বাজার মূল্য ৮০/৯০/১০০ যাই হোক বিক্রয় করা যাবে। তবে এই লেনদেন হতে হবে নগদ, বাকীতে হলে জায়েজ হবে না। যেমন কোন মাসের ১ তারিখ ডলার দিবেন আর টাকা নিবেন ২০ তারিখে এটা জায়েজ নেই। ডলার বুঝে পেয়ে টাকা বুঝে দিতে হবে, একই মাজলিসে। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
الذَّهَبُ بِالذَّهَبِ وَالْفِضَّةُ بِالْفِضَّةِ وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ وَالْمِلْحُ بِالْمِلْحِ مثلاً بِمثلٍ سَوَاءً بِسَوَاءٍ يَدًا بِيَدٍ فَإِذَا اخْتَلَفَتْ هَذِهِ الأَصْنَافُ فَبِيعُوا كَيْفَ شِئْتُمْ إِذَا كَانَ يَدًا بِيَدٍ
অর্থ: স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রোপার বিনিময়ে রোপার বিনিময়ে রোপা, গমের বিনিময়ে গম, জবের বিনিময়ে জব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর, লবনের বিনিময়ে লেনদেন হতে হবে সমান সমান, নগদ নগদ। আর যখন এই শ্রেনীগুলো ভিন্ন্ হবে (অর্থাৎ স্বর্ণের বিনিময়ে রোপা বা খেজুরের বিনিময়ে জব) তাহলে যেভাবে ইচ্ছা বিক্রি কর তবে নগদ নগদ।সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪১৪৭। আরো দেখুন, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২১৭৫।
প্রশ্নঃ 240
Is Interest of General Provident Fund halal?
25 Dec 2025
প্রভিডেন্ট ফান্ডের ইন্টারেস্ট অধিকাংশ আলেমের মতে সুদ নয়, হালাল। তবে কোন কোন আলেম হারাম বলেছেন। তবে হারাম নয় বলেই মনে হয়।
প্রশ্নঃ 222
আমাদের সমাজে যেসব এনজিও বা বীমা কোমপানীগুলো ছড়িয়ে রয়েছে তাদের কাছ থেকে টাকা ঊঠানো বা সনঞচয়ী হিসাবে টাকা জমা রাখা এবং তাদের নীতি অনুসারে যেকোন আরথিক লেনদেন কি ইসলামি শরিয়ত কি অনুমোদন দেয়? জানালে খুবই উপকার হয়।
24 Dec 2025
সুদ ভিত্তিক কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে যে কোন ধরনের আর্থিক লেনদেন হারাম। সুতরাং সুদ ভিত্তিক কোন এনজিও বা বীমা কোম্পানীর সাথে আপনি উক্ত আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন না।
প্রশ্নঃ 221
আমাদের সমাজে যেসব এনজিও বা বীমা কোমপানীগুলো ছড়িয়ে রয়েছে তাদের কাছ থেকে টাকা ঊঠানো বা সনঞচয়ী হিসাবে টাকা জমা রাখা এবং তাদের নীতি অনুসারে যেকোন আরথিক লেনদেন কি ইসলামি শরিয়ত কি অনুমোদন দেয়? জানালে খুবই উপকার হয়।
24 Dec 2025
সুদ ভিত্তিক কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে যে কোন ধরনের আর্থিক লেনদেন হারাম। সুতরাং সুদ ভিত্তিক কোন এনজিও বা বীমা কোম্পানীর সাথে আপনি উক্ত আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন না।
প্রশ্নঃ 474
জনাব,আস সালামু আলাইকুম, বিড়াল ক্রয় বিক্রয় জায়েজ কি না? জাজাকাল্লাহু খাইরান।
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
এই বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ বিদ্যমান।আলেমদের অনেকেই জায়েজ বলেছেন। কিন্তু সহীহ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. কুকুর, বিড়াল ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪০৯৮। তবে পাহার বা এ জাতীয় কোন প্রয়োজনে ক্রয়-বিক্রয় জায়েজ বলে মনে হয়।
প্রশ্নঃ 106
বাংলাদেশ ব্যাংকে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে চাকুরী করা যাবে কিনা? এবং আর আয় হালাল কিনা?
22 Dec 2025
না। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সুদভিত্তিক কোন ব্যাংকে এই পদে চাকুরী করা কারো জন্য জায়েয হবে না এবং এখান থেকে উপার্জিত অর্থ কারো জন্য হালাল নয়। হররত জাবের রা. বলনে,
لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ
অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. সুদ গ্রহীতা, দাতা, লখেক, সাক্ষীদ্বয় প্রত্যকেরে উপর লানাত (অভিশাপ) দিয়েছেন এবং বলেছেন (পাপরে দিক থেকে) সবাই সমান। সহীহ মুসলমি, হাদীস নং৪১১৭। আর প্রশ্নোক্ত কাজটি সুদ লেখার অন্তর্ভূক্ত। সুতরাং আমাদরে জন্য আবশ্যক এমন চাকুরী থকেে বিরত থাকা।
প্রশ্নঃ 104
is the money earned by working in bank halal? can one stay in a banker relatives house when his parents are going abroad for a month? he has other relatives, but there are nonmahram (female cousins). only in the house of banker there is non-mahram. where should he stay? In the bankers home or other relatives home where non-mahram is present?
22 Dec 2025
সুদভিত্তিক ব্যাংকে কাজ করে উপার্জিত অর্থ হালাল নয়। তবে শরীয়াহ অনুযায়ী পরিচালিত ব্যাংকে কাজ করে উপার্জিত অর্থ হালাল হবে না। কেননা হররত জাবরে রা. বলনে,
لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ
র্অথ: রাসূলুল্লাহ সা. সুদ গ্রহীতা, দাতা, লখেক, সাক্ষীদ্বয় প্রত্যকেরে উপর লানাত (অভশিাপ) দয়িছেনে এবং বলছেনে (পাপরে দকি থকে) সবাই সমান। সহীহ মুসলমি, হাদীস নং৪১১৭।
আর আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হলো আপনার জন্য উচিৎ হবে মাহরাম ব্যাংকার আত্মীয়ের বাসায় টাকা দিয়ে খাওয়া দাওয়া করা।
প্রশ্নঃ 464
আস-সওয়ালাম আলাইকুম।
১. কোন স্বামী যদি তালাক না দেয় কিন্তু তার স্ত্রী যদি ডিভোর্স দেয় তারা কি পরবর্তীতে সংসার করতে পারবে?
২. কোন মেয়ের বয়স যদি ২৭ বছর হয়, সে যদি কোন ছেলেকে বিয়ে করে পরিবারকে না জানিয়ে অথবা পরিবারের লোকেরা এখন জানলে মানবে না কিন্তু পরে জানলে মেনে নিবে - যেহেতু বিয়ের আগে প্রেম তরা পাপ তাইজন্য বিয়ে করবে - তাহলে কি তাদের বিয়ে বৈধ হবে? পরবর্তীতে পরিবারের লোকদের সামনে কি তাদের আবার বিয়ে করতে হবে? ছেলে-মেয়ে ২ জনেই নামাজ পড়ে, মেয়েটি পর্দা করে এবং ইসলামী আইন মানতে চায়-ঐ মেয়ের ইবাদত কী আল্লাহ কবুল করবেন?
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
১। স্বামী স্ত্রীকে তালাক (ডিভোর্স) নেয়ার অধিকার দিলে স্বামী তালাক না দিলেও স্ত্রী নিজেকে নিজে তালাক নিতে পারেন। এক্ষেত্রে স্ত্রীর তালাকই চূড়ান্ত বলে গণ্য। তবে আপনি স্থানীয় কোন আলেমের সাথে এই বিষয়ে কথা বলুন। তিনি বিস্তারিত শুনে সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন।আপনি যতটুকু লিখেছেন শুধু এতটুকুতে কোন ফয়সালা দেয়া সম্ভব নয়।
২। পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করা হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে। আর এভাবে বিয়ে করলে পরবর্তীতে বিভিন্ন জটিলাত সৃষ্টি হয়। তাই তাদের জানিয়েই বিয়ে করা উচিত। তবে একান্ত বাধ্য হয়ে এমন করলে আশা করা যায় বিয়ে হয়ে যাবে এবং তার ইবাদত আল্লাহর নিকট কবুল হবে।
ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের বিধান। বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামী শরীয়তে এব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাসূল সা. এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। পারিবারিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অধিকাংশ ইমাম ও ফকীহগণের নিকট ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ নেই। তবে ইমাম আবু হানীফা রহ. সহ কতিপয় ফকীহ বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে জায়েজ বলেছেন। প্রখ্যাত মালেকী ফকীহ আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে রুশদ আন্দালুসী র. বলেন,
اختلف العلماء هل الولاية شرط من شروط صحة النكاح أم ليست بشرط؟ فذهب مالك إلى أنه لا يكون النكاح إلا بولي وأنها شرط في الصحة في رواية أشهب عنه وبه قال الشافعي وقال أبو حنيفة وزفر والشعبي والزهري: إذا عقدت المرأة نكاحها بغير ولي وكان كفؤا جاز وفرق داود بين البكر والثيب فقال باشتراط الولي في البكر وعدم اشتراطه في الثيب
অর্থ: বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী শর্ত কি শর্ত নয় এই বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম মালেক র. মত পোষন করেছেন যে, ওলী ছাড়া বিবাহ হবে না। বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য (ওলী) শর্ত। এমন মতই পোষন করেছেন ইমাম শাফেয়ী রা.। ইমাম আবু হানীফা, জুফার, শাবী ও জুহরী র. বলেছেন, যদি মহিলা ওলী ছাড়া বিবাহ করবে আর স্বামী যদি তার কুফু (সর্বদিক দিয়ে যোগ্য) হয় তাহলে জায়েজ হবে। বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ২/৮(শামেলা)। এই সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন, আলমাবসুত লিস-সারখসী, ৬/৫৩; আলমাউসায়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৭/৯৪ও ৩১/৩২১; আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবা ৪/৪৫। কিতাবুল উম্ম লিশ-শাফেয়ী,৭/১৫৬। যে ইমামগন ওলী ছাড়া বিবাহ বাতিল বলেছেন তাদের দলীল: আবু মুসা আশয়ারী রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, অর্থাৎ ওলী ছাড়া বিবাহ নয়। لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِىٍّ আবু দাউদ, হাদীস নং ২০৮৭; তিরমিযী, হাদীস নং ১১০১;মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৯৭৬১। হাদীসটি সহীহ। শায়খ আরনাউত এবং আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত অন্য হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন,
أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ
অর্থাৎ যে মহিলা ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করবে তার বিবাহ বাতিল। তিনি ৩ বার তা বলেছেন। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১১০২; মুসনাদে আহমাদ,হাদীস নং ২৫৩৬৫। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন আর শায়খ শুয়াইব আরনাউত সহীহ বলেছেন। উপরক্ত হাদীস সমূহের ভিত্তিতে ইমাম মালেক, শাফেয়ী, আহমাদ র. সহ অধিকাংশ আলেম ওলী ছাড়া বিবাহকে বাতিল বলেছেন। যে সব ইমাম ও ফকীহ ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ বলেছেন তাদের দলীল: তাবেঈদের মধ্যে ইমার জুহরী ও শাবী এরপরে ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ, মুহাম্মাদ, জুফার সহ কিছু সংখক মুজতাহিদ কিছু শর্ত সাপেক্ষে ওলী ছাড়া বিবাহ কে জায়েজ বলেছেন। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১.কুফু হতে হবে। ২.মেয়েটি বালেগা, বুঝমান হতে হবে। আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবায়া, ৪/৪৫; আলমাবসুত লিস-সারাখসী,৬/৬১ ও ৫/১৬। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
فلا جناح عليكم فيما فعلن في أنفسهن بالمعروف
অর্থাৎ মহিলারা নিজেদের ব্যাপারে সৎ ভাবে যা করবে (বিয়ের ক্ষেত্রে) সে বিষয়ে তোমাদের কোন দোষ নেই। সূরা বাকারাহ-২৩৪ অন্য এক আয়াতে তালাক সম্পর্কে আলোচনার এক পর্যায়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
تنكح زوجا غيره. حتى
অথাৎ যতক্ষন না তারা অন্য স্বামীকে বিবাহ না করে। সূরা বাকারাহ-২৩০। অন্য প্রসংগে আল্লাহর বাণী,
فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ
অর্থাৎ তোমরা তাদেরকে তাদের স্বামীদের কে বিবাহ করা থেকে বাধা দিবে না। সূরা বাকারাহ-২৩২ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন,
الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا
অর্থাৎ মেয়েরা ওলীদের চেয়ে নিজের ব্যাপারে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৪২১। الأيم অর্থ স্বামীহীন মহিলা, পূর্বে স্বামী থাকুক বা না থাকুক। আলমজামুল ওয়াসীত। বর্তমান সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৌদী আলেম শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আলমুনজিদ ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের ক্ষেত্রে বলেছেন,
المسألة اجتهادية ، واختلف فيها الأئمة ، فإنه إذا كان أهل بلد يعتمدون المذهب الحنفي كبلادكم وبلاد الهند وباكستان وغيرها ، فيصححون النكاح بلا ولي ، ويتناكحون على هذا ، فإنهم يقرّون على أنكحتهم ، ولا يطالبون بفسخها
অর্থাৎ এটি একটি ইজতিহাদি মাসআলা, ইমামগণ এক্ষেত্রে ইখতিলাফ করেছেন। সুতরাং যে সব দেশের মানুষেরা হানাফী মাজহাবের উপর নির্ভর করে, ওলী ছাড়া বিবাহবে বৈধ মনে করে এবং এভাবে তাদের বিয়ে হয় যেমন, ভারত, পাকিস্থান ইত্যদি, তাহলে তাদের বিবাহের স্মীকৃতি দেয়া হবে । বাতিল করতে বলা হবে না। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, শরীয়তে বিবাহে মেয়েদের জন্য ওলী থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণভাবে যৌবনের শুরুতে যুবক-যুবতী সহজেই বয়সের উন্মাদনায় বিভ্রান্ত হয় এবং নিজের চোখের ভাল লাগার উপর নির্ভর করেই সঙ্গী পছন্দ করে। বিবাহের ক্ষেত্রে চোখের পছন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবন ও আগত প্রজন্মের কল্যাণের কথাও চিন্তা করতে হবে। এজন্য ইসলামে বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর মতমতের সাথে অভিভাবকের মতামতেরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সুতরাং মেয়েদের জন্য আবশ্যক হলো ওলীর অনুমতি নিয়ে বিবাহ করা। আর আমাদের উচিৎ বিবাহের সময় মানুষদের কে ওলীর অনুমতির বিষয়ে উৎসাহিত করা,ওলী ছাড়া বিয়ে করতে নিষেধ করা এবং ওলী থাকার কল্যান বর্ণনা করা। যারা ইতিমধ্যে ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করেছে তাদের বিষয়ে কথা হলো যেহেতু তারা একটি ফিকহী মত গ্রহন করেছেন আর বিষয়টি ইজতিহাদী এবং ইখতিলাফী তাই তাদেরকে নতুন করে বিবাহ করতে হবে না। তবে এই ঘৃনিত কাজের জন্য তাদের লজ্জিত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 465
আসসালামু আলাইকুম,
কেমন আছেন? মহানবী (সাঃ) এর জন্মদিন পালন করার সুন্নত উপায় ওই দিন রোজা রাখা, এছাড়া তিনি প্রতি সোমবার রোজা রাখতেন । এখন প্রস্ন হল আমাদের নিজেদের জন্মদিনে কি আমরা রোজা করতে পারব এবং প্রতি সোমবারের মত নিজেদের জন্মবারেও কি প্রতি সপ্তাহে ওই দিন রোজা রাখা যাবে?
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
১. রাসূলুল্লাহ সা. জন্মবার পালন করেছেন, জন্মদিন নয়। রাসূলুল্লাহ সা. সোমবার জন্মগ্রহণ করেছেন এবং নবুওয়াত পেয়েছেন। তাই তিনি রোজা রেখে এইবার পালন করেছেন। আপনি যদি জন্মবার পালন করতে চান তাহলে আপনকে নবুওয়াত পেতে হবে। এটা সম্ভব নয়।
২. রাসূলুল্লাহ সা. জন্মবার পালন করেছেন, কিন্তু কোন সাহাবী পালন করেন নি। যদি রাসূলুল্লাহ সা. ব্যতিত অন্য কারো জন্মবার পালন করার অনুমতি থাকতো তাহলে সাহাবীরা নিজেদের জন্মবার পালন করতেন। কারণ সাহাবীগন রা. ছিলেন তাঁর আদর্শ অনুসরনের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী তৎপর। সুতরাং কেউ যদি নিজের জন্মবার পালন করে সেটা হবে সুস্পষ্ট বিদআত। তাই এই কাজ করবেন না।
প্রশ্নঃ 1
আসসালামুআলাইকুম,আমি একজন মেয়ে।আমরা তিন বোন ।কোন ভাই নেই।দুইবোনের বিয়ে হয়ে গেছে।আমার আব্বুর বয়স হয়েছে । আমরা তিন বোন ছাড়া আব্ব্বু আম্মুকে দেখার আর কেউ নেই।আপুরা নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত।তারা খেয়াল রাখতে পারেনা।আব্বু চাচ্ছেন আমি যেন পড়াশোনাটা কম্পিলিট করে বিসিএস পরীক্ষা দেই।আমি পরিপূর্ণ পর্দা করি।আমার প্রশ্নটা হলো ,আমি যদি নিজেকে ফেতনা মুক্ত রেখে,সরকারী চাকরী করতে চাই সেটা কি জায়েজ হবে।আমি স্কুল,কলেজের পড়াশোনা পর্দা ঠিক রেখেই সম্পন্ন করেছি আলহামদুলিল্লাহ
03 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
চাকুরী করা ছাড়া যদি আপনার ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা না থাকে তাহলে অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে চাকুরী করতে পারেন। বিয়ের পরে স্বামীর অনুমতি নিতে হবে। বাইরে কাজ করা মূলত পুরুষদের কাজ। বিশেষ জরুরী পরিস্থিতিতে মেয়েরা পূর্ণ পর্দার সাথে বাইরে কাজ করতে পারে।
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে মুসলিম মহিলাদেরকে বলেছেন,
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى
তোমরা তোমাদের বাড়ি ঘরের মধ্যে থাকো, প্রাচীন জাহেলী যুগের মহিলাদের মত নিজেদের প্রাদর্শন করো না। সূরা আহযাব, আয়াত নং ৩৩। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেছেন,
الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ
পুরুষরা মহিলাদের উপর কর্তৃত্ব করবে, কারণ আল্লাহ একজনকে অন্যজনের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেনএবং পুরুষেরা তাদের টাকা পয়সা খরচ করে। বিদায় হজ্জের ভাষনে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللَّهِ وَلَكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لاَ يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ أَحَدًا تَكْرَهُونَهُ. فَإِنْ فَعَلْنَ ذَلِكَ فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ
তোমরা তাদের লজ্জাস্থানকে হালাল করেছো আল্লাহর কালিমা দ্বারা… তাদের খাবার-দাবার ও পোশাকের দায়িত্ব তোমাদের ওপর। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩০০৯;সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ১৯০৭। আলেমদের এ ব্যাপারে ঐক্যমত পোষন করেছেন যে, স্ত্রীর ভরন-পোষনের দায়িত্ব স্বামীর। আলমাউসুয়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৪১/৩৫। উপরের আয়াত ও হাদীস থেকে জানা যায়, মহিলাদের দায়িত্ব হলো ঘর সামলানো আর পুরুষের দায়িত্ব হলো পরিবারের আর্থিক দিকটি সামলানো। এর বাইরে গেলে পৃথীবির স্বাভাবিক ভারসম্য নষ্ট হয়। আমরা দেখছি ইউরোপ-আমেরিকাতে মহিলারা বাইরে কাজ করে এমন পর্যায় গিয়েছে যে, অনেকেই পরিবার গঠন করতে, সন্তান নিতে রাজী নয়। ফলসরূপ জনসংখ্যা কমে যাচ্ছে। স্বাভাবিক ভারসম্য নষ্ট হচ্ছে আর সেখানে পুরুষরা মহিলাদের কোন দায়িত্ব নিতেও রাজী নয়। আমাদের দেশের অনেক মহিলা বিদেশে গিয়ে রান্নাবান্না ও ঘর গোছানের কাজ করে। যখন তারা বিদেশে গিয়ে এটা করে তখন সবাই সেটাকে বিশেষ কাজ মনে করে আর ঐ একই কাজ যখন নিজের বাড়িতে করে তখন সেটাকে তারা কাজ মনে করে না। এটার কারণ আমাদের মাথা পঁচে গিয়েছে। সুস্থ চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। উপার্জনের নামে মহিলাদের বাইরে বের হওয়ার অবাধ সুযোগ দিয়ে জাতিকে দিন দিন ধ্বংসের দিকেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে মনে হয়। সুতরাং স্বামীর আর্থিক অবস্থা ভাল হওয়া সত্বেও স্ত্রী চাকরি করলে স্বামী দাইয়ুসের অন্তর্ভুক্ত হবে কি হবে না এবার আপনি চিন্তা করুন।
প্রশ্নঃ 466
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ,
আমার এক রক্ত সম্পর্কীয় আত্নীয় হযরত উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নিয়ে বাজে ধারনা পোষণ করেন। তাকে জীবিত অবস্থায় ১০ জন সাহাবীর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্তির হাদীসটি দেখিয়ে সতর্ক করলে তিনি এই হাদীসের ব্যাপারে আমার মনে সংশয় সৃষ্টির চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে বুখারী ও মুসলিমে উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে জান্নাতী হিসেবে যে সব হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো তার সামনে পেশ করি। তখন তিনি দাবী করেন হাদীস হচ্ছে শুধুমাত্র কুরআনের ব্যাখ্যা, কুরআনের ব্যাখ্যা দেয়া ছাড়াও নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনে অসংখ্য কথা বলেছেন, অসংখ্য কাজ করেছেন। এগুলো হাদীসের অন্তর্গত নয়। তিনি বলেন উসমানকে (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) জান্নাতী হিসেবে ঘোষনা করা আল্লাহর কোনো মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হয়ে থাকতে পারে। যেমন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রুমা কূপ খননের জন্য উসমানকে (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) অনুরোধ করলে তিনি তা রাখেননি। কিন্তু পরবর্তীতে যখন এই কুপ খননকারীর জান্নাত প্রাপ্তির ঘোষনা দেন তখন উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) কুপ খনন করে দেন। পরিশেষে তিনি এই কথা বলেন যে যদি উসমান জান্নাতে যায় তাহলে জাহান্নামে যাওয়ার মত মানুষ থাকবে না আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এই ব্যাক্তির সাথে রক্ত সম্পর্কীয় আত্নীয়তা, সামাজিক ও অন্যান্য সম্পর্ক রক্ষার ব্যাপারে কি করণীয়? তার সাথে আমি কিরূপ আচরণ করবো? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন। আসসালামু আলাইকুম, জাঝাকুমুল্লাহু খাইরান।
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আপনার আত্মীয়কে প্রশ্ন করুন, তিনি কুরআন বিশ্বাস করেন কি না? তিনি কি কুরআনকে অধিক নির্ভরযোগ্য মনে করেন না ইতিহাসকে? মহান আল্লাহ কুরআন কারীমে বলেছেন:
وَالسَّابِقُونَ الأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُم بِإِحْسَانٍ رَّضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُواْ عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
প্রথম অগ্রগামী মুহাজিরগণ ও আনসারগণ, এবং যারা তাদের সুন্দরভাবে অনুসরণ করেছে আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট এবং আল্লাহ তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাত…। (সূরা তাওবা: ১০০ আয়াত) কুরআনের এ আয়াতটি নিশ্চিত করে যে, খাদিজা, আলী, আবূ বকর, উসমান, যুবাইর ইবনুল আওয়াম ও অন্যান্য সকল মুহাজির সাহাবী যারা প্রথম অগ্রগামী হিসেবে ইসলাম গ্রহণ করেন তাঁদের উপর আল্লাহ সন্তুষ্ট এবং তাঁদের জন্য আল্লাহ জান্নাত প্রস্তুত করে রেখেছেন। কুরআনের এ সাক্ষ্যর পরেও যে ব্যক্তি তার জান্নাতী হওয়ায় সন্দেহ পোষণ করেন তিনি মূলত কুরআনের বাণীকেই বিশ্বাস করেন না। যারা বিশ্বাস করেন যে, আলী বংশের একজন ইমাম বা পীরের সাহচর্যে যেয়ে একজন মানুষ এক দিনেই বড় বুজুর্গ হয়ে যেতে পারে, অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে দীর্গ ২৩ বৎসর জীবন কাটিয়েও সাহাবীগণ ঈমান শিখতে পারেন নি তিনি মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেই অবমাননা করেন। শীয়া মতবাদ অনুসারে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যর্থ নবী ছিলেন মুহাম্মাদ (সা.)! নাউযু বিল্লাহ! তিনি দীর্ঘ ২৩ বছর জীবনপাত করেও মাত্র এক ডজনের বেশি মানুষকে ঈমান শেখাতে পারেন নি। উসমান (রা) বা অন্যান্য সাহাবীদের বিরুদ্ধে বর্ণিত ঘটনাবলি সবই তাঁদের মৃত্যুর প্রায় ১৫০/২০০ বছর পরে জনশ্রুতি নির্ভর ঐতিহাসিক বর্ণনার মাধ্যমে লিপিবদ্ধ। প্রায় সকল বর্ণনায় শীয়া ঐতিহাসিকদের বর্ণনা বা সংকলন। নিম্নের বিষয়গুলো লক্ষ্য করুন: নিম্নের বিষয়গুলো লক্ষ্য করুন: রাসূলুল্লাহ সা.-এর পরিজন ও বংশধরের প্রতি এ ভালবাসা ও ভক্তি কখনোই তাঁর সহচর ও সাহাবীগণের প্রতি ভালবাসার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কিন্তু শীয়াগণ পরিবার ও বংশধরের ভালবাসার নামে সাহাবীগণের প্রতি বিদ্বেষ, ঘৃণা ও কুৎসা রটনায় লিপ্ত হয় এবং সাহাবীগণের প্রতি বিদ্বেষকে ঈমানের অংশ বানিয়ে নেয়। তারা ইহূদীদের ষড়যন্ত্রে বিভ্রান্ত হয়ে সাহাবীগণকে ইসলামের শত্র বলে গণ্য করে। তারা নবী-পরিবারের ভালবাসাকে সাহাবীগণের ভালবাসার পরিপন্থী বলে গণ্য করে। এ বিষয়ে অগণিত মিথ্যা তারা প্রচার করে। গত কয়েক শতাব্দী যাবত পাশ্চাত্য-প্রাচ্যবিদগণও সাহাবীগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন। এ সকল প্রচারের একটিই উদ্দেশ্য: ইসলামের মর্মমূলে আঘাত করা ও ইসলামের সৌধকে ভেঙ্গে ফেলা। সাহাবীগণের সততা প্রশ্নবিদ্ধ হলে ইসলামের সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়; কারণ কেবলমাত্র তাঁদের মাধ্যমেই ইসলাম প্রচারিত হয়েছে। সাহাবীগণের সততায় অবিশ্বাস করার অর্থ রাসূলুল্লাহ সা.-এর নবুওয়ত অবিশ্বাস করা। যারা মনে করেন যে, অধিকাংশ সাহাবী স্বার্থপর, অবিশ্বাসী বা ধর্মত্যাগী ছিলেন, তাঁরা নিঃসন্দেহে মনে করেন যে, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা. একজন ব্যর্থ নবী ছিলেন (নাঊযূ বিল্লাহ!)। লক্ষ মানুষের সমাজে অজ্ঞাত অখ্যাত দু-চার জন মুনাফিক থাকা কোনো অসম্ভব বিষয় নয়। কিন্তু সুপরিচিত সাহাবীগণের সততায় সন্দেহ পোষণ করলে রাসূলুল্লাহ সা.-এর ব্যর্থতার দাবি করা হয়। একজন ধর্ম প্রচারক যদি নিজের সহচরদের হৃদয়গুলিকে ধার্মিক বানাতে না পারেন, তবে তিনি কিভাবে অন্যদেরকে ধার্মিক বানাবেন! তাঁর আদর্শ শুনে, ব্যবহারিকভাবে বাস্তবায়িত দেখে ও তাঁর সাহচর্যে থেকেও যদি মানুষ সততা অর্জন করতে না পারে, তবে শুধু সে আদর্শ শুনে পরবর্তী মানুষদের সততা অর্জনের কল্পনা বাতুলতা মাত্র। আজ যিনি মনে করেন যে, কুরআন পড়ে তিনি সততা শিখেছেন, অথচ মুহাম্মাদ সা.-এর কাছে কুরাআন পড়ে, জীবন্ত কুরআনের সাহচর্যে থেকেও আবূ বকর, উমার, উসমান, আবূ হুরাইরা, আমর ইবনুল আস, মুআবিয়া, আবূ মূসা আশআরী রা. বা অন্য কোনো সাহাবী সততা শিখতে পারেন নি, তিনি মূলত মুহাম্মাদ সা.-এর নবুওয়তকেই অস্বীকার করেন। শীয়াগণ কাউকে দেবতা ও কাউকে দানব বানিয়েছেন। দুটি বিষয়ই মানবীয় প্রকৃতির সাথে সাংঘর্ষিক। মানবীয় দুর্বলতার সাথে সততার কোনো বৈপরীত্য নেই। সাহাবীগণ মানুষ ছিলেন; মানবীয় দুর্বলতার ঊর্ধ্বে ছিলেন না। মানবতার সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষকের সাহচর্যে মানুষের মধ্যে সর্বোচ্চ সততা ও বেলায়াত তাঁরা অর্জন করেছিলেন। কোনো স্কুলের সফলতা যেমন ছাত্রদের পাশের হারের উপর নির্ভর করে, তেমনি ধর্মপ্রচারকের সফলতা নির্ভর করে তাঁর সাহচর্য-প্রাপ্তদের ধার্মিকতার উপর। কাজেই নুবুওয়াতে বিশ্বাসের অনির্বার্য দাবি সাহাবীগণের সততায় বিশ্বাস। আর এ বিশ্বাসই নিশ্চিত করেছে কুরআন ও হাদীস। এখানে সংক্ষেপে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করছি: (১) কুরআনে বারবার সাহাবীগণের প্রশংসা করা হয়েছে, তাঁদের ধার্মিকতার সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।মক্কা বিজয়ের পূর্বের ও পরের সকল সাহাবীকে জান্œাতের সুসংবাদ প্রদান করে আল্লাহ বলেন:
لا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُولَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنَ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلا وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ
তোমাদের মধ্যে যারা (মক্কা) বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং সংগ্রাম করেছে তারা এবং পরবর্তীরা সমান নয়; তারা মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ তাদের চেয়ে যারা পরবর্তীকালে ব্যয় করেছে এবং সংগ্রাম করেছে। তবে আল্লাহ উভয়কেই কল্যাণের (জান্নাতের) প্রতিশ্রতি দিয়েছেন।সূরা (৫৭) হাদীদ: ১০ আয়াত। রাসূলুল্লাহসা.এর সকল সাহাবীর ঢালাও প্রশংসা করে ও তাঁদের ধার্মিকতা, সততা ও বিশ্বস্ততার ঘোষণা দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন:
وَلَكِنَّ اللَّهَ حَبَّبَ إِلَيْكُمْ الإِيمَانَ وَزَيَّنَهُ فِي قُلُوبِكُمْ وَكَرَّهَ إِلَيْكُمْ الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ أُوْلَئِكَ هُمْ الرَّاشِدُونَ
কিন্তু আল্লাহ তোমাদের নিকট ঈমানকে প্রিয় করেছেন এবং তাকে তোমাদের হৃদয়গ্রাহী করেছেন। তিনি কুফ্র, পাপ ও অবাধ্যতাকে তোমাদের নিকট অপ্রিয় করেছেন। তারাই সৎপথ অবলম্বনকারী। সূরা (৪৯) হুজুরাত, ৭ আয়াত। সাহাবীগণের মধ্যে মতভেদ হয়েছে এবং কখনো কখনো যুদ্ধবিগ্রহ হয়েছে। ভুল বুঝাবুঝি, সামাজিক প্রেক্ষাপট, ষড়যন্ত্র ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে দুজন সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তির মধ্যে বিরোধ, মামলা বা যুদ্ধ হতে পারে। শুধু যুদ্ধ বা বিরোধের কারণে কাউকে অপরাধী বলা যায় না। যুদ্ধবিগ্রহ ঐতিহাসিক সত্য। তবে সেগুলিতে কার কি ভূমিকা ছিল সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ক ইতিহাস লেখা হয়েছে ঘটনার প্রায় ২০০ বৎসর পর শীয়া মতবাদ প্রভাবিত আব্বাসী শাসনামলে শীয়াগণের বর্ণনার উপর নির্ভর করে। কুরআন ও হাদীস সাহাবীগণের মর্যাদা ও সততা নিশ্চিত করেছে। এ সকল যুদ্ধবিগ্রহের অযুহাতে তাঁদের কারো নামে কুৎসা রটনা বা বিদ্বেষ পোষণ করার অর্থ কুরআন ও হাদীসের অগণিত নির্দেশনা জনশ্রতির কারণে বাতিল করে দেওয়া। কোনো কোর্টে যদি কোনো দলের নেতৃস্থানীয় কাউকে অপরাধী বলে রায় দেওয়া হয় তবে সে দলের অনুসারীরা রায়কে মিথ্যা বলবেন কিন্তু নেতার সততায় বিশ্বাস হারাবেন না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ অতি-সাম্প্রতিক বিষয়। তারপরও সকলেই শুধু ইতিহাস বিকৃতির কথা বলেন। ঐতিহাসিকরা যদি কোনো নেতার অপরাধের অনেক তথ্য পেশ করেন তবুও তার অনুসারীরা সে তথ্য বিশ্বাস করবেন না। তাহলে মুমিন কিভাবে রাসূলুল্লাহ সা.-এর সহচরদের বিষয়ে কুরআন প্রমাণিত সততার সাক্ষ্যের বিপরীতে ইতিহাসের বর্ণনার উপর নির্ভর করবেন? আমরা শুধু এতটুকুই বলব যে, যুদ্ধ বিগ্রহ ঘটেছে, কিন্তু কার কী ভূমিকা তা আমরা এতদিন পরে ইতিহাসের বর্ণনার উপর নির্ভর করে নির্ধারণ করতে পারব না। তবে কুরআন ও হাদীসের বর্ণনার উপর নির্ভর করে আমরা তাঁদের পরিপূর্ণ সততা ও বেলায়াতে বিশ্বাস করি। আমরা মনে করি যে, তাঁদের যুদ্ধ-বিগ্রহ ইত্যাদি ভুল বুঝাবুঝি ও ইজতিহাদী মতপার্থক্যের কারণেই ঘটেছে। এতে তাঁদের তাকওয়া ও বেলায়াত (আল্লাহর ওলী হওয়ার মর্যাদা) ক্ষতিগ্রস্থ হয় নি। আরেকটি বিষয় দেখুন, যদি ইহূদীদেরকে প্রশ্ন করা হয়: শ্রেষ্ঠ মানুষ কারা? তারা একবাক্যে বলবেন: আমাদের নবী মূসার (আ) সহচরগণ। যদি খৃস্টানদেরকে প্রশ্ন করা হয়: শ্রেষ্ঠ মানুষ কারা? তারা একবাক্যে বলবেন: আমাদের নবী ঈসার (আ) হাওয়ারী-সহচরগণ। আর যদি শীয়াদেরকে প্রশ্ন করা হয় নিকৃষ্ট-ঘৃণ্যতম মানুষ কারা? তবে তারা একবাক্যে বলবেন: আমাদের নবী মুহাম্মাদ সা.এর সহচরগণ!! শীয়াদেরকে প্রশ্ন করুন: সবচেয়ে ভাল মানুষ কারা? তারা বলবেন: আলী (রা)-এর সাথীগণ। তাদেরকে প্রশ্ন করুন: সবচেয়ে খারাপ মানুষ কারা? তারা একবাক্যে বলবেন: মুহাম্মাদ সা.-এর সাথীগণ!! কাউকে ভালবাসার অতি স্বাভাবিক প্রকাশ তার সাথে জড়িত সকলকে ভালবাসা ও সম্মান করা। এমনকি তাদের কোনো অপরাধ প্রমাণিত হলেও অজুহাত খুঁজে তা বাতিল করতে চেষ্টা করা। কারণ প্রিয়তমের সাথীদেরকে খারাপ কল্পনা করতে মন মানে না। আর কারো সঙ্গীসাথীকে সর্বোচ্চ ঘৃণা করার সুনিশ্চিত অর্থ ঐ ব্যক্তির প্রতি ভালবাসা না থাকা। কাজেই মুহাম্মাদ সা.-এর সাথীদেরকে পথভ্রষ্ট প্রমাণ করা ও তাঁদেরকে ঘৃণা করা যাদের ধর্মের মূল ভিত্তি তাঁদের থেকে মুহাম্মাদ সা.-এর হাদীস বা দীন শিক্ষা করা কি সম্ভব? যদি তিনি তার অবস্থান থেকে ফিরে না আসেন তাহলে তাকে সামাজিকভাবে বয়কট করুন। তার সাথে উঠা-বসা লেনদেন বন্ধ করুন।
প্রশ্নঃ 473
মুহতারামঃ আসসালামুয়ালাইকুম।
আমার প্রশ্ন হল মহিলারা হায়েয অবস্থায় শোবার সময় সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস পরে শরির মাসাহ করতে পারবে কিনা? যাযাকুমুল্লাহ।
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
অধিকাংশ আলেমের মতে হায়েজ ও নিফাসের সময় কুরআন পড়া বৈধ নয়। তবে দুআ ও জিকির হিসাবে পড়াকে তারা জায়েজ বলেছেন। যেহেতু শোবার সময় শরীর মাসেহ করার জন্য সূরাগুলো পড়া হয় দুআ হিসাবে তাই নাজায়েজ হবে না।
প্রশ্নঃ 472
আমি কিভাবে আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের সকল অডিও ভিডিও পেতে পারি?
29 Dec 2025
আপনি দু’ভাবে পেতে পারেন। সরাসরি আমাদের এখানে এসে অথব ইউটিউবের মাধ্যমে। এছাড়া আমাদের ওয়েবসাইডেও অডিও ভিডিও নামে দুটা জায়গা আছে। ওখান থেকেও পেতে পারেন।
প্রশ্নঃ 470
সারে সাত ভরি স্বর্ণের কম হলেও কি যাকাত দিতে হবে..?
আর আমরা তো জানি যে কারো কাছে যদিসারে সাত ভরি স্বর্ণ থাকে এবং এগুলো এক বছর অতিক্রম করে তখন তাঁর যাকাত দিতে হয়, প্লীজ একটু বুঝিয়ে বলবেন, যাঝাকাল্লাহ খাইর
29 Dec 2025
যাকাতের ক্ষেত্রে স্বর্ণের নিসাব হলো স্বর্ণ সাড়ে সাত ভরি হতে হবে। এবং এক বছর থাকতে হবে। এর কম হলে স্বর্ণের যাকাত দিতে হবে না।