ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনাদের মূল বাড়ী যদি কুমিল্লাতে হয় তাহলে আপনি ওখানে পূর্ণ নামায পড়বেন আর যদি অন্য কোথাও মূল বাড়ী হয় তাহলে কসর করবেন। ইমামের পিছনে সর্বাবস্থায় পূর্ণ নামায পড়তে হয়। ২। ঈদের দিনে কুলাকুলি করার ব্যাপারে কোনা হাদীস পাওয়া যায় না। সুতরাং কুলাকুলি না করাই উত্তম। স্বাভাবিক অবস্থায় কোলাকুলি করার কোন কথা রাসূলুল্লাহ সা. বা সাহাবীদের থেকে পাওয়া যায় না বরং নিষেধাজ্ঞা পাওয়া যায় তবে দূরবর্তী সফর থেকে ফিরে এলে সাহাবীরা কুলাকুলি করতেন বলে হাদীসে পাওয়া যায়। নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন: عن أنس قال كان أصحاب النبي : إذا تلاقوا تصافحوا وإذا قدموا من سفر تعانقوا হযরত আনাস রা. বলেন, রাসূলের সাহাবীরা যখন একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করতেন তখন মুসাফা করতেন আর যখন সফর থেকে ফিরতেন তখন কুলাকুলি করতেন। আল-মুজামুল আওসাত লিত-ত্ববারনী, হাদীস নং ৯৭। শায়খ আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।সিলসিলাতু সহীহা, হাদীস নং ২৬৪৭। সাধারণ অবস্থায় কোলাকুলি করতে রাসূল সা. নিষেধ করেছেন। নিচের হাদীসিটি দেখুন: عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : قُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ ، أَيَنْحَنِي بَعْضُنَا لِبَعْضٍ ؟ قَالَ : لاَ . قُلْنَا أَيُعَانِقُ بَعْضُنَا بَعْضًا ؟ قَالَ : لاَ ، وَلَكِنْ تَصَافَحُوا. হযরাত আনাস রা. বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! একে অপরের দেখা সাক্ষাতের সময় কি ঝুকা যায়? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, কোলাকুলি করা যায়? তিনি বললেন, না । তবে মুসাফাহ করবে। সুনানু ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৭০২। শায়খ আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সুতরাং আমাদের উচিত সফর থেকে ফিরে কোলাকুলি করা অন্যান্য সময় মুসাফা করা। ৩। হ্যাঁ, জুমুআর ফরজ নামাযের আগে চার রাকআত সুন্নাতপড়া হাদীস সম্মত। নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন: عبد الرزاق عن الثوري عن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن السلمي قال كان عبد الله يأمرنا أن نصلي قبل الجمعة أربعا وبعدها أربعا حتى جاءنا علي فأمرنا أن نصلي بعدها ركعتين ثم اربعا অর্থ: ( তাবেঈ) আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী বলেন, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে জুমুআর পূর্বে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর আলী রা. আমাদেরকে জুমুআর পর প্রথমে দুই রাকআত এরপর চার রাকআত পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুসান্নাফু আব্দুর রায্যাক, হাদীস নং ৫৫২৫। এই হাদীসটির বিষয়ে শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, وهذا سند صحيح لا علة فيه অর্থ: এটা সহীহ সনদ, তাতে কোন সমস্যা নেই। সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, ১০১৬ নং হাদীসের আলোচনা। উক্ত সহীহ হাদীসটি দ্বারা আমারা জানতে পারলাম যে, প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. চার রাকআত ক্ববলাল জুমুয়া পড়ার আদেশ দিয়েছেন। তবে চার রাকআত নির্দিষ্ট নয়। কম বেশী করা যাবে। বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া 354 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ৭৮ কিলোমিটারের বেশী দূরে গেলে তখন কসর করতে হয়ে। যাওয়া -আসা মিলে নয়, শুধু যেতেই হবে ৭৮ কিলো। সুতরাং আপনি পূর্ণ নামায আদায় করবেন, কসর করবেন না।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নিজ বাড়িতে অল্পদিনের জন্য হলেও স্বাভাবিক নিয়মে নামায পড়তে হবে। কসর করা যাবে না।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। তিন মাইল নয়, তিন দিনের দূরত্ব পরিমান গেলে সফর করতে হয়। যার পরিমান সর্বাক্যমতে ৪৮ মাইল বা ৭৮ কি,মি। আপনি তিনমাইল দূরে গেলে কসর করতে পারবেন না। তবে যদি ৭৮ কি.মি বা তার চেয়ে দূরে কোথাও যান তাহলে রাস্তায় কসর করতে পারবেন।
বাড়ি গেলে নামায পুরো পড়বেন।কসর করবেন না।কসর করতে হয় যখন বাড়ি থেকে ৪৮ মাইল দূরে কোথাও ১৫ দিনের কম দিন থাকার নিয়তে যায় তখন।তবে আপনি বাড়িতে আসার পথে রাস্তায় কসর করবেন।
১৫ দিনের কম থাকার নিয়তে ৭৮-৭৯ কিলোমিটার পথ দূরের কোথাও গেলে কসর করতে হবে। ১৫দিনের বেশী হলে কসর করবে না। তবে রাস্তায় উভয় অবস্থাতেই অর্থাৎ ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত হোক কিংবা বেশী হোক কসর করবে।
না, বাড়িতে গিয়ে কসর করবেন না। পূর্ণ সালাত আদায় করবেন। বাড়ি থেকে অন্য কোথাও গেলে কসর করতে হয়, বাড়িতে গেলে কসর করা যায় না।
ওয়া-আলাইকুমুস সালাম। সফরসম দূরত্বের উদ্দেশে নিজ এলাকার বসতি ত্যাগ করলে অর্থাৎ গ্রামের অধিবাসী নিজ গ্রাম ছাড়লে, শহরের অধিবাসী শহর ত্যাগ করলে এবং সিটি শহরে বসবাসকারী সিটি শহর থেকে বের হওয়ার পর থেকে মুসাফির গণ্য হবে। যে সীমানা থেকে মুসাফির বলে গণ্য হয়েছিল; সেই সীমাতে প্রবেশের পর থেকেই মুকীম হয়ে যাবে। সুতরাংআপনি কসর শুরু করবেন ঢাক শহর পর হওয়ার পর। আর ফেনীতে গিয়ে নিজ গ্রামে প্রবেশের আগ পর্যন্ত। কসর করবেন। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া ১১নং প্রশ্নের উত্তর; মাসিক আলকাউসার, ডিসেম্বর, ২০১৩, প্রশ্ন নং ২৯৮০। আপনি যদি ওয়াক্তের মধ্যেই বাড়ি চলে আসেন তাহলে পুরো নামায আদায় করবেন। আর যদি পরে বাড়ি আসেন তাহলে কসর করবেন। অর্থাৎ বাড়িতে দুই রাকআত পড়বেন। এক্ষেত্রে মূলনীতি হলো সফর কাজা হওয়া নামায কসর করতে হবে, আর মুকীম অবস্থায় কাজা হওয়া নামায পুরা পড়তে হবে, যে অবস্থাতেই থাকুন না কেন।
বরিশাল থেকে ঢাকায় ১৫ দিনের কম থাকার উদ্দেশ্যে গেলে ঢাকায় কসর করতে হবে। তবে জেনে রাখা দরকার কসর করতে হয় যখন একা একা সালাত আদায় করা হয়। মসজিদে যদি জামাতের সাথে সালাত আদায় করেন তাহলে আপনি কসর করবেন না। আবার মসজিদে যদি জামাতের সাথে আদায় না করেন তাহলে কসর করতে হবে। সর্বাবস্থায় জামাতের সাথে সালাত আদায় করাই উচিৎ। কসর হলো চার রাকআত বিশিষ্ট সালাতগুলো দুই রাকআত পড়া। বিস্তারিত স্থানীয় কোন আলেমের কাছ থেকে জেনে নিন।
সফরে থাকা অবস্থায় সালাত ছুটে গেলে কাযা করতে হবে কসর হিসাবে। পূর্ণ সালাত আদায় করবেন না।