আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট এ আপনাকে স্বাগতম

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি
সব প্রশ্ন অর্থনৈতিক আকিকা আকীদা নামায আখিরাত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আদব আখলাক ইতিহাস ঈদ-কুরবানী ঈমান তাওহীদ রিসালাত জানাযা-কবর যিয়ারত জান্নাত-জাহান্নাম জিহাদ তাফসীর ত্বহারাত পবিত্রতা সফর জুমআ তারাবীহ নফল সালাত বিতর পোশাক-পরিচ্ছেদ ফারায়েজ ফিতরা বিচার-আচার বিবাহ-তালাক মানত যাকাত যিকির/দুআ/আমল রোজা লেনদেন শিরক-বিদআত সাধারণ দান-সদকাহ সিরাত/সামায়েল সুন্নাত হজ্জ হাদীস ও উসূলুল হাদীস হালাল হারাম বিবিধ কুরআন হাদীস বাতিল ফিরকা দাওয়াত ও তাবলিগ জাদু-টোনা মসজিদ মুসাফির রমযান সুদ-ঘুষ হালাল ইতিকাফ কাজা/কাফফারা গুনাহ জায়েয তায়াম্মুম ব্যক্তিগত ও তাবলিগ সদকাহ বিদআত কসর তাওবা জিন-পরি ব্যবসা-বাণিজ্য বই অসিয়ত
প্রশ্নঃ 2176
আসসালামু আলাইকুম। আমি বর্তমানে বুয়েটে পড়ছি। আমার খুব ইচ্ছা, যাতে আমি কুরয়ানের অর্থ বুঝতে পারি। আমার এমন একটি বই য়ের পরামর্শ দিলে খুবই খুশি হতাম যার মাধ্যমে আমি সহজে কুরয়ানের বাংলা অনুবাদ করতে পারি। ধন্যবাদ।
24 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না,ভাই কোন বই দ্বারা এটা সম্ভব নয়। আপনাকে একজন অভিজ্ঞ শিক্ষকের তত্বাকধানে আরবী ভাষা শিখতে হবে কুরআন বুঝার জন্য। তিনি যে বই নির্বাচন করেন সেই বইয়ের মাধ্যমে আপনি আরবী ভাষা শিখে কুরআন বুঝতে পারবেন।

প্রশ্নঃ 2070
আসসালামু আলাইকুম ! বয়স্ক পুরুষ, মহিলা ও শিশু-কিশোরদের কুরআন ও দীন শিক্ষা-এই বেপারে বিস্তারিত একটু জানাবেন কি? আমি কুরআন সুর করে শিখতে চাই ও হাফেজ হতে চাই ইনশাল্লাহ
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার প্রশ্নটি অস্পষ্ট, আপনি ঠিক কী জানতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। তবে মনে হচ্ছে আপনি কীভাবে এখন হাফেজ হতে পারেন তার উপায় জানতে চেয়েছেন। বয়স্ক মহিলাদের কোন মাদ্রাসা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে বলে আমার জানা নেই। আপনি যেখানে থাকেন সেখানে কোন হাফেজা শিক্ষিকার মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে কুরআন সুন্দর করে শিখতে পারেন এবং হাফেজ হতে পারেন।

প্রশ্নঃ 2007
আসসালামুয়ালাইকুম, আমি কুরাআন শিখতে চাই, কুরআন এর ভাষা পরলে আমি যেন বুঝতে পারি আল্লাহ কি বোঝাতে চেয়েছেন আপনাদের কি online ভিত্তিক কার্যক্রম আছে বা বাংলাদেশে নির্ভরযোগ্য online প্রতিষ্ঠান? থাকলে জানাবেন। আর আপনারা যদি শুরু করেন তাহলে খুব ভাল হয়।
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই মুহুর্তে আমাদের এই কার্য্যক্রম নেই। আমি আপনার অনুরোধটি কতৃপক্ষকে জানাব ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্নঃ 1990
কুরবানির গোশত ও অন্যান্য বিষয়ে কুরআন হাদীস কি বলে? আকিকার নিয়ম কি? বিতর নামাজের নিয়ম কি? দয়াকরে বিস্তারিত জানাবেন।
18 Jan 2026

কুরবানীর গোশত নিজে খেতে হবে এবং আত্নীয় ও গরীবদেরকে খাওয়াতে হেব। চামড়ার টাকা গরীবদেরকে দিতে হবে। এই বিষয়ে শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. লিখেছেন, আল্লাহ বলেন: لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الأَنْعَامِ فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ যেন তারা নিজেদের কল্যাণের স্থানসমূহে হাযির হতে পারে এবং তিনি তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু থেকে যে রিযক দান করেছেন তার উপর নির্দিষ্ট দিনগুলিতে আল্লাহর নাম যিক্র করে। অতঃপর তোমরা তা থেকে খাও এবং দুস্থ-দরিদ্রদেরকে খেতে দাও। হাযেরীন, তাহলে, দুস্থ-দরিদ্রদেরকে খাওয়ানো আগ্রহ ওদ উদ্দেশ্য কুরবানীর অবিচ্ছেদ্য অংশ। কুরবানীর গোশত তিনভাগ করে একভাগ পরিবারের, একভাগ আত্মীয়দের এবং একভাগ দরিদ্রদের প্রদানের রীতি আছে। এরূপ ভাগ করা একটি প্রাথমিক হিসাব মাত্র। যাদের সারা বৎসর গোশত কিনে খাওয়ার মত সচ্ছলতা আছে তারা চেষ্টা করবেন যথাসম্ভব বেশি পরিমান গোশত দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করতে। আর যারা কিছুটা অসচ্ছল এবং সাধারণভাবে পরিবার ও সন্তানদের গোশত কিনে খাওয়াতে পারেন না, তারা প্রয়োজনে পরিবারের জন্য বেশি পরিমান রাখতে পারেন। তবে কুরবানীর আগে আমার পরিবার কি পরিমান গোশত পাবে, অথবা বাজার দর হিসেবে গোশত কিনতে হলে কত লাগত এবং কুরবানী দিয়ে আমার কি পরিমাণ সাশ্রয় হলো ইত্যাদি চিন্তা করে কুরবানী দিলে তা আর কুরবানী হবে না। খুতবাতুল ইসলাম, পৃষ্ঠা নং ৩৮৬। বিতরের নামায অনেক পদ্ধতিতে আদায় করা যায়। আল্লামা ইবনে হাযাম জাহেরী রহ. আল মুহল্লা (২/৮২) বলেছেন, والوتر وتهجد الليل ينقسم على ثلاثة عشر وجها، أيها أفعل أجزأه বিতর ও রাতের তাহাজ্জুদ ১৩ টি পদ্ধতি রয়েছে। যে কোন এক পদ্ধতিতে পড়লেই যথেষ্ট হবে। তার মধ্যে তিনটি পদ্ধতি শায়খ শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রাহে বেলায়াত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আমাদের দেশে সাধারণত যে পদ্ধতিতে বিতর পড়া হয় সেটা সহীহ। এই প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনে হাযাম জাহেরী রহ. আল মুহল্লা (২/৮২) বলেছেন, والثاني عشر: أن يصلي ثلاث ركعات، يجلس في الثانية، ثم يقوم دون تسليم و يأتي بالثالثة، ثم يجلس ويتشهد ويسلم، كصلاة المغرب. وهو اختيار أبي حنيفة ১২নং তিন রাকআত নামায পড়বে, দ্বিতীয় রাকআতে বসবে, এরপর সালাম না ফিরিয়ে উঠবে এবং তৃতীয় রাকআত পড়বে। তারপর বসে তাশাহুদু পড়ে সালাম ফিরাবে মাগরিবের নামাযের মত। আর এটা আবু হানীফা পছন্দ করেছেন। বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া 117 ও 167 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন। আরো দেখুন রাহে বেলায়াত গ্রন্থের বিতর অধ্যায়।

প্রশ্নঃ 1908
আসসালামু আলাইকুম। আমি বর্তমানে বুয়েটে পড়ছি। আমার খুব ইচ্ছা, যাতে আমি কুরয়ানের অর্থ বুঝতে পারি। আমার এমন একটি বই য়ের পরামর্শ দিলে খুবই খুশি হতাম যার মাধ্যমে আমি সহজে কুরয়ানের বাংলা অনুবাদ করতে পারি। ধন্যবাদ।
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না,ভাই কোন বই দ্বারা এটা সম্ভব নয়। আপনাকে একজন অভিজ্ঞ শিক্ষকের তত্বাকধানে আরবী ভাষা শিখতে হবে কুরআন বুঝার জন্য। তিনি যে বই নির্বাচন করেন সেই বইয়ের মাধ্যমে আপনি আরবী ভাষা শিখে কুরআন বুঝতে পারবেন।

প্রশ্নঃ 1887
সুরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াতের মাঝের অংশে বলা হয়েছে কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তার কাছে তার অনুমতি ছাড়া? মাআরেফুল কোরআনের তাফসিরে বলা হয়েছে তবে আল্লাহর কিছু খাস বান্দা আছেন, যারা তার অনুমতি সাপেক্ষে তা করতে পারবেন, অন্যথায় নয়। এর পর রাসুল (সাঃ) এর সর্বপ্রথম সুপারিশ এর ব্যাপারে বলা হয়েছে। – এই কিছু খাস বান্দা তা করতে পারবেন সম্পর্কে জানতে চাই। তারা কারা হতে পারে? এতে কি বায়াত হওয়া / কোন ব্যাক্তি ওছিলা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে?
14 Jan 2026

দেখুন আল্লাহর কাছ প্রিয় এমন কোন বান্দাকে আল্লাহ সুযোগ দিতে পারেন, তার মানে এই নয় ইচ্ছা করলেই পারবে। এই বান্দারা নবী হতে পারেন কিংবা আল্লাহর প্রিয় অন্যরাও হতে পারে। এতে বায়াত হওয়ার কোন সুযোগ সৃষ্টি হয় নি। কারণ ইচ্ছা করলেই তো তারা সুপারিশ করতে পারবে না। বরং প্রচলিত বায়াতকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এই বলে যে, আল্লাহর কাছে অনুমতি ব্যতিত সুপারিশের কোন সুযোগ নেই।

প্রশ্নঃ 1860
বাংলা উচ্চারন সহ কুরআন পড়লে কি সোয়াব পাওয়া যাবে নাকি পড়ার অনুমতি নেই?
14 Jan 2026

কুরআন শরীফ আরবী শিখে পড়তে হবে । বাংলা উচ্চারণে কুরআন পড়া যাবে না, এটা নিষিদ্ধ।

প্রশ্নঃ 1746
তাফসীর ফি যিলালিল কুরআন কতটুকু নির্ভরযোগ্য? আর এর রচয়িতা সাইয়িদ কুতুব শহীদ এর ইলমি যোগ্যতা,আকীদা ও ফিকহি মানহাজ সম্পর্কে জানতে চাই।
08 Jan 2026

কোন যোগ্যতার অভাব তার নেই। তিনি সহী আকীদার মানুষ। তবে মানুষ হিসাবে ভুলভ্রান্তি সবার হয়, তারও হয়েছে।এই বিষয়ে স্যার রহ. এর মতামত জানতে দেখুন, আমাদের দেয়া 0174 ও 395 নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 748
আসসালামুয়ালাইকুম। আমি বাংলায় শিক্ষিত। ভাল আরবি জানিনা। আমাকে ভালো একটি কোরানের তাফসিরে বইএর নাম বলুন যাতে আমি কোরআন সহজে বুজতে পারি।
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, কুরআন ভালভাবে বুঝতে হলে আরবী ভাষা জানার বিকল্প নেই। তাই ভাল হয় যদি আপনি আরবী ভাষা মোটামুটি আয়ত্ব করেন। বাংলা ভাষায় ভাল তাফসীর গ্রন্হ হিসাবে আপনি তাফসীরে ইবনে কাসীরের বাংলা তরজামা পড়তে পারেন। সংক্ষিপ্ত অনুবাদ ও তাফসীরের জন্য শায়খ তকী উসমানী লিখিত তাওযীহুল কুরআন পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 1710
কোরআন না বুঝে পড়লেও প্রত্যেকটি হরফ ১০ নেকি করে ছওয়াব? এই বিষয় বিস্তারিত জানতে চাই।
08 Jan 2026

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছন, مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا لاَ أَقُولُ الم َرْفٌ وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلاَمٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ যে ব্যক্তি কিতাবুল্লাহর একটি হরফ পড়বে তারে একটি সওয়াব হবে আর একটি সওয়াব দশটি সওয়াবের সমান। আমি এমন বলি না যে, আলিফ-লাম-মিম একটি হরফ বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মিম একটি হরফ। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ৩১৫৮। ইমাম তিরমিযীসহ মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। উক্ত হাদীসে অর্থ বুঝার কোন শর্ত করা হয় নি। সুতরাং অর্থ না বুঝে পড়লেও সওয়াব হবে। তবে কুরআনের বক্তব্য বুঝার জন্য অর্থ বুঝে পড়া অপরিহার্য্য।

প্রশ্নঃ 1702
সূরা বাকারা, আয়াত ৩৮ আল্লাহ্ বলেনঃ আমি হুকুম করলাম, তোমরা সবাই নীচে নেমে যাও…। আমার প্রশ্ন হচ্ছে এখানে সবাই বলতে কি শুধু আদম আঃ ও মা হাওয়া বুঝানো হয়েছে? আমরা সাধারণত সবাই বলতে ২ এর অধিক বুঝি। কোরআনে এমন কোন আয়াত বা হাদিস আছে যে সেখানে বলা হয়েছে বেহেস্তে শুধু আদম আঃ ও মা হাওয়া ছিল, বেহেস্তে ওনাদের কোন সন্তান ছিল না, দুনিয়াতে আসার পর সন্তান জন্ম হলো?
08 Jan 2026

সবাই বলেতে আদম ও হাওয়া আ. উদ্দেশ্য।পূর্ববর্তী দুটি আয়াত থেকে স্পষ্ট যে, সেখানে তাদের সন্তান ছিল না। বরং তার দুজনই ছিলেন আর শয়তান তাদেরকে ধোকা দিলেন ফলে আল্লাহ তাদেরকে সেখান থেকে বের করে দিলেন। আরবীতে দুজনের বা একজনের ক্ষেত্রেও বহু বচবচনের সর্বনাম ব্যবহার হয়।

প্রশ্নঃ 1691
মেয়েরা কি নন-মাহরাম পুরুষের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারবে? আজকাল ইউটিউবে অনেক মহিলা ক্বারীর তিলাওয়াতের ভিডিও দেখা যায়, এমনকি মেয়েদেরকে বিভিন্ন কুরআন তিলাওয়াতের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেও দেখা যায়, এটা জায়েজ আছে কি?
08 Jan 2026

এগুলো শয়তানের নতুন চক্রান্ত। এসব থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

প্রশ্নঃ 1639
একজন হিফজ এর ছাত্রী হায়েজ অবস্থায় কুরআন কিভাবে তিলাওয়াত করবে?
07 Jan 2026

হায়েজ অবস্থায় কুরআন তেলাওয়াত করা যাবে না, এটাই অধিকাশ ফকীহ ও আলেমের মত।ঋতুমতী নারী জুনুবি তথা বড় অপবিত্র ব্যক্তির ন্যায়, কারণ উভয়ের উপর গোসল ফরয। আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, ্রأن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يعلمهم القرآن وكان لا يحجزه عن القرآن إلا الجنابة নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে কুরআন শিক্ষা দিতেন, জানাবত ব্যতীত কোনো বস্তু তাকে কুরআন থেকে বিরত রাখত না”। সুনানু ইবনু মাজাহ, হাদীস নং ৫৯৪, সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ১৪৬। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার রহি. হাসান বলেছেন। এই বিষয়ে ইমাম তিরমিযী রহ. বলেন, وهو قول أكثر أهل العلم من أصحاب النبي صلى الله عليه و سلم والتابعين ومن بعدهم مثل سفيان [ الثوري ] و ابن المبارك و الشافعي و أحمد و إسحق قالوا لا تقرأ الحائض [ ولا ] الجنب من القرآن شيئا وإلا طرف الآية والحرف ونحو ذلك ورخصوا للجنب والحائض في التسبيح والتهليل অধিকাংশ সাহাবী, তাবেই এবং পরবর্তী অধিকাংশ আলেম, যাদের মধ্যে রয়েছেন সুফিয়ান সাউরী, ইবনুল মুবারক, শাফেয়ী, আহমাদ,ইসহাক রা., তাদের মত হলো ঋতুস্রাবী মহিলা এবং গোসল ফরজ এমন ব্যক্তি কুরআন পড়তে পারবে না। তবে আয়াতের কোন অংশ বা হরফ পড়তে পারবে। তবে তাসীবহ তাহলীল এর উদ্দেশ্যে কুরআনের কোন আয়াত পড়তে পারবে। সুনানু তিরমিযী হাদীস নং ১৩১ এর আলোচনা। কোন কোন আলেম হায়েজ আবস্থায় মুখস্ত কুরআন পড়াকে বৈধ বলেছেন। তবে না পড়ার ভিতরই অধিক সতর্কতা নিহিত। বিস্তারিত জানতে দেখুন

প্রশ্নঃ 1514
আসসালামুয়ালাইকুম। আমার মনে প্রায়ই কিছু অবানতর প্রশ্ন জাগে। যেমনঃ ১। কে নবী বা কে রাসুল তা কিভাবে নির্ধারন হলো? অনেকের থেকে শুনছি যে যাদের কাছে অহি আসে তারাই কি নবী। এটা যদি সত্যি হয় তবে মরিয়ম আঃ কে কেন নবী বলা হয় না? আল্লাহ বলেনঃ আর যখন ফেরেশতা বলল হে মারইয়াম!, আল্লাহ তোমাকে পছন্দ করেছেন এবং তোমাকে পবিত্র পরিচ্ছন্ন করে দিয়েছেন। আর তোমাকে বিশ্ব নারী সমাজের উর্ধ্বে মনোনীত করেছেন। হে মারইয়াম! তোমার পালনকর্তার উপাসনা কর এবং রুকুকারীদের সাথে সেজদা ও রুকু কর। এ হলো গায়েবী সংবাদ, যা আমি আপনাকে পাঠিয়ে থাকি। আর আপনি তো তাদের কাছে ছিলেন না, যখন প্রতিযোগিতা করছিল যে, কে প্রতিপালন করবে মারইয়ামকে এবং আপনি তাদের কাছে ছিলেন না, যখন তারা ঝগড়া করছিলো। যখন ফেরেশতাগণ বললো, হে মারইয়াম আল্লাহ তোমাকে তাঁর এক বানীর সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম হলো মসীহ-মারইয়াম-তনয় ঈসা, দুনিয়া ও আখেরাতে তিনি মহাসম্মানের অধিকারী এবং আল্লাহর ঘনিষ্ঠদের অন্তর্ভূক্ত। সুরা ইমরান ৩:৪২-৪৫ এই আয়াত সমূহ প্রমাণ করে যে মরিয়ম আঃ এর কাছে অহি আসছিল। ২। মহিলা কোন নবী নেই বা হতে পারবেন না। এটা কি কোরআনে কোথাও বলা আছে? ৩। আল্লাহ্ বলেনঃ হে মারইয়াম! তোমার পালনকর্তার উপাসনা কর এবং রুকুকারীদের সাথে সেজদা ও রুকু কর সুরা ইমরান ৩:৪৩ এই আয়াত কি মহিলাদের জামাতে নামাজ পড়ার দলিল হতে পারে? ৪। আমাকে এক শিয়া ভাই বলছিল যে আমীন শব্দটি সূরা ফাতিহার পর কোরআনে নাই। এই শব্দটি খিস্টানরা ব্যবহার করে। তাদের চক্রান্তেই মুসলমানেরা আমীন অতিরিক্ত যোগ করছে। আমি নিজেও চেক করছি। সূরা ফাতিহার পর আমীন নেই। আমীন শব্দটি কোরআনে কোথাও আছে কি? আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুক।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। শায়খ ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. বলেছেন, ঈমানের অন্যতম বিষয় আল্লাহর রাসূলগণে বিশ্বাস করা। মানুষের প্রতি মহান স্রষ্টার করুণা অসীম। তিনি তাকে তার দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও গুণাবলী দান করা ছাড়াও তাকে মঙ্গলের পথ প্রদর্শনের জন্য যুগে যুগে বিভিন্ন সমাজের মধ্যে থেকে বিভিন্ন মানুষকে বেছে নিয়ে তাঁদের কাছে ওহীর মাধ্যমে সঠিক পথের সন্ধান দান করেছেন। আল্লাহর মনোনীত এসকল মানুষকে ইসলামের পরিভাষায় নবী বা রাসূল বলা হয়। নবী (النبيّ) অর্থ সংবাদদাতা এবং রাসূল (الرسول) অর্থ প্রেরিত বা দূত। আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী লাভ করে যারা মানুষদেরকে আল্লাহর পথের নির্দেশনা দেন তাঁদেরকে নবী ও রাসূল বলা হয়। তবে সকল নবী-রাসূলের নাম বা পরিচয় আমরা জানি না। এ প্রসঙ্গে ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙঙ্গীর রহ. বলেন, কুরআনে ২৫ জন নবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে: আদম, ইদরীস, নূহ, হুদ, সালিহ, ইবরাহীম, লূত, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব, ইউসূফ, আইয়ূব, শুয়াইব, মূসা, হারূন, ইউনূস, দাউদ, সুলাইমান, ইল্ইয়াস, ইল্ইয়াসা, যুলকিফল, যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা, মুহাম্মাদ (عليهم الصلاة والسلام)। উযাইরকে ইহূদীগণ আল্লাহর পুত্র বলে দাবি করত।কিন্তু কুরআনে তাঁর নবুয়ত সম্পর্কে কিছুই বলা হয় নি। আবূ হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: مَا أَدْرِيْ أعُزَيْرٌ نَبِيُّ هُوَ أَمْ لاَ আমি জানি না যে, উযাইর নবী ছিলেন কি না। মূসা (আ)-এর খাদিম হিসাবে ইউশা ইবনু নূন-এর নাম হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণিত কোনো সহীহ হাদীসে অন্য কোনো নবীর নাম উল্লেখ করা হয় নি। কোনো কোনো যয়ীফ হাদীসে আদম আ. এর পুত্র শীস-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কুরআন-হাদীস থেকে অন্য কোনো নবীর নাম জানা যায় না। কুরআন কারীমে উল্লিখিত নবী-রাসূলগণকে আমরা নির্দিষ্টভাবে আল্লাহর মনোনীত নবী হিসেবে বিশ্বাস করি। তাঁদের সবাইকে আমরা ভালবাসি ও শ্রদ্ধা করি। আমরা বিশ্বাস করি যে, তারা সবাই নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী পবিত্র মানুষ ছিলেন। তাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পরিপূর্ণভাবে পালন করেছেন। তাঁরা সবাই আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও নবী ছিলেন। এঁদের নবুয়ত বা রিসালত আমরা অস্বীকার করি না। কেউ যদি এঁদের কারো নবুয়ত বা রিসালাত অস্বীকার করে অথবা এঁদের অবমাননা করে তবে সে অবিশ্বাসী বা কাফির বলে গণ্য হবে। কুরআন-হাদীসে যাদেরকে নবী হিসেবে উল্লেখ করা হয় নি তাদের কাউকে আমরা নির্দিষ্টরূপে আল্লাহর মনোনীত নবী বলতে পারি না। অন্য কোনো মানুষের সম্পর্কেই আমরা বলতে পারি না যে, তিনি আল্লাহর নবী ছিলেন। তবে আমরা বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ যুগে যুগে আরো অনেক নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন, যারা আল্লাহর মনোনীত প্রিয় পুত-পবিত্র, নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী বান্দা ছিলেন। তাঁরা তাঁদের প্রতি প্রদত্ত দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করেছেন। তাঁদের নাম বা বিবরণ আমরা জানি না। আল-ফিকহুল আকবার, বঙ্গানুবাদ ও ব্যাখ্যা, পৃষ্ঠা ১৭২। অমরা জানলাম, ওহী পাওয়া এবং তা প্রচার করার দায়িত্ব যারা পালন করবেন তারা নবী-রাসূল আ.। মারইয়াম আ. এর ক্ষেত্রে শুধু তাকে কিছু বিষয় আল্লাহ তায়ালা জানিয়েছেন, তাঁকে সেগুলো প্রচার করতে বলেন নি। সুতরাং তিনি সর্বাক্যমতে নবী নন। ২। নবী-রাসূল আর আসবেন না। সুতরাং মহিলা নবী হতে পারে কী পারে না এই প্রশ্ন এখন অবান্তর। এখন দেখতে হবে নবী রাসূলদের নামের যে তালিকা কুরআন-হাদীসে আছে সেখানে কোন মহিলা নবীর নাম আছি কী না এবং কুরআন-হাদীসে কোন মহিলা নবী এসেছেন মর্মে কোন তথ্য আছে কী না। নবী রাসূলদের যে নামের তালিকা কুরআন-হাদীস থেকে পাওয়া যায় তাতে কোন মহিলা নবীর নাম নেই। এবং কুরআন বা হাদীসে কোন মহিলা নবী হয়েছেন মর্মে কোন তথ্য নেই। সুতরাং মহিলা নবী নেই এটা বলা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। এবং সকল আলেম এ ব্যাপারে ঐক্যমত। ৩। দেখুন, আমরা মুহাম্মদ সা. এর উম্মাত। মুহাম্মাদ সা. আমাদেরকে ইবাদতে যাবতীয় নিয়ম-কানুন শিখিয়েছেন। তিনি মহিলারা জামাতে যাবে কী যাবে না তাও স্পষ্ট করে বলেছেন, সুতরাং মুহাম্মদ সা. মহিলাদের জামাতে নামাযের ব্যাপারে কী বলেছেন সেটা আমাদের কাছে মুখ্য। মারইয়াম আ. এর কাছে কী হুকুম এসেছে সেটা মুখ্য নয়। মহিলাদের জামাতে নামায পড়া জায়েজ। না জায়েজ নয়। রাসূলুল্লাহ সা. এই বিষয়ে বলেছেন, لاَ تَمْنَعُوا النِّسَاءَ أَنْ يَخْرُجْنَ إِلَى الْمَسَاجِدِ ، وَبُيُوتُهُنَّ خَيْرٌ لَهُنَّ তোমরা মহিলাদেরকে মসজিদে যাওয়া থেকে বাধা দিও না তবে তাদের ঘর তাদের জন্য উত্তম। মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ৫৪৭১; সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ৫৬৭; সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯০০; সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১০১৭। সুতরাং মহিলাদের জামাতে যাওয়র হুকুম রাসূল সা. এর বক্তব্য থেকে জানুন। মারইয়াম আ. এর উপর আরোপিত হুকুম থেকে নয়। ৪। দেখুন, কুরআনে অসংখ্য বার বলা হয়েছে, আল্লাহ এবং তার রাসূলকে অনুসরন কর।وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا রাসূল যা নিয়ে আসে তা গ্রহন কর যা থেকে নিষেধ করেতে তা প্রত্যখ্যা কর,তা থেকে বিরত থাকে। সূরা হাশর, আয়াত ৭। সুতরাং কুরআন যেমন মুসলমানের দলীল হাদীসও তেমনি মুসলমানের দলীল। আপনার প্রশ্ন থেকে মনে হচ্ছে কেউ আপনার কাছে হাদীসকে হালকা করে ্উপস্থাপন করেছে। একটি জিনিস মনে রাখবেন হাদীস ছাড়া কুরআনের ্উপর আমল করা কিছুতেই সম্ভব নয়। যেমন, সালাত। কুরআনে শুধু সালাত কায়েমের কথা বলা হয়েছে, বিস্তারিত কিছু বলা হয় নি। আমীন বলার কথা কুরআনে নেই। তবে সহীহ হাদীসে আছে। সুতরাং আমীন বলা ইহুদী চক্রান্ত নয় বরং নিষেধ করাই ইহুদী চক্রান্ত। আর শিয়া জাতির উৎপত্তিই তো ইহুদী চক্রান্ত থেকে। সুতরাং শিয়া মতের কারো কাছ থেকে ধর্ম শিখতে যাবেন না, তারা আপনাকে চক্রান্তে ফেলে দেবে যেভাবে তার চক্রান্তের শিকার হয়েছে। এবার আমীন বলা সংক্রান্ত হাদীসটি দেখুন, عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِذَا قَالَ الإِمَامُ {غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ ، وَلاَ الضَّالِّينَ} فَقُولُوا آمِينَ ، فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلاَئِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ. হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যখন ইমাম গয়রিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দোয়াল্লিন বলবে তখন তোমরা আমীন বলো। যার আমীন বলা ফেরেস্তাতের আমীন বলার সাথে মিলে যাবে তার পূর্বের সকল গোনাহ মাফ হয়ে যাবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৮২, ৪৪৭৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৪০। সুতরাং আমীন বলাকে ইহুদী চক্রান্ত বলা কতো বড় শিয়া চক্রান্ত একটু চিন্তা করুন। আর আমীন শুধু মানুষ বলে না ফেরেস্তারাও বলে। আপনি ধর্ম সংক্রান্ত কোন আলোচনা শিয়াদের সাথে করতে যাবেন না। কারণ এতে আপনি বিভ্রান্তিতে পড়ে যেতে পারেন। শিয়াদের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন শায়েখ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহ রচিত ইসলামী আকীদা এবং আল-ফিকহুল আকবার বই দুটি। শেষে আবারে আপনাকে বলি কুরআন ও হাদীস মিলেই ইসলাম। শুধু কুরআন দ্বারা সবকিছু জানা সম্ভব নয়। সুতরাং হাদীস যেন আপনার কাছে হালকা না হয়ে যায়। যদি উত্তরটি পান তাহলে আমাকে জানাবেন। অথবা ফোন করবেন 01734717299

প্রশ্নঃ 1318
আচ্ছালামু আলাইকুম, মোবাইলে কুরান তেলাওয়াত শুনে শুনে কি অন্য কোন কাজ করা যাবে যেমন পড়া শুনা বা লিখালিখির কাজ?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কুরআনের সম্মানার্থে এমনটি না করায় শ্রেয়।

প্রশ্নঃ 1314
আসসালামুয়ালাইকুম। আমি বেলজিয়ামে থাকি। অনেকে দেখি ইমামতি করার সময় সূরা ফাতেহার শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম শব্দ করে পড়ে। আমি অনলাইন কোরআনে দেখেছি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সূরা ফাতিহার আয়াত হিসাবে লিখা আছে। আসলে কি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সূরা ফাতিহার আয়াত? যদি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সূরা ফাতিহার আয়াত হয় তবে বাংলাদেশের ইমাম সাহেব কেন বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম শব্দ করে পড়ে না?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সূরা ফাতিহার আয়াত কিনা তা নিয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ আছে। কেই বলেন, সূরা ফাতিহার আয়াত কেউ বলে না। যারা আয়াত মনে করেন এবং যারা তাদের অনুসরণ করেন তারা শব্দ করে পড়েন । আর যারা সূরা ফাতিহার আয়াত মনে করেন না এবং যারা তাদের অনুসরণ করেন তারা নি:শব্দে পড়েন । উভয়টির যে কোন একটির উপর আমল করলেই নামায সহীহ হবে।

প্রশ্নঃ 1221
মুহাম্মদ সঃ কি সর্বশ্রেষ্ঠ নবী? কোরআনে কি কোথাও এটা বলা আছে?
05 Jan 2026

প্রথমেই আমাদের মনে রাখা দরকার শরীয়তের দলীল সাব্যস্ত হয় কুরআন ও সুন্নাহ তথা হাদীস দ্বারা। শুধু কুরআন দ্বারা নয়। সুতরাং সব হুকুম কুরআনে থাকতে হবে এরকম নয়। বরং কুরআনে বিষয়সমূহের সারকথা আনা হয় আর হাদীসে তার ব্যাখ্যা করা হয়। যেমন সালাত। কুরআনে শুধু সালাত আদায়ের কথা বলা হয়েছে। আর হাদীসে তার বিস্তারিত বিধিবিধান আলোচিত হয়েছে। সুতরাং সবকিছু কুরআনে থাকতে হবে বিষয়টি এমন নয়। সকল ইমাম ও আলেম একমত যে, রাসূলুল্লাহ সা. সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। কুরআনে স্পষ্টভাবে একথাটি না থাকলেও বহু জায়গায় ইঙ্গিত করা হয়েছে। বিশেষত বহু জায়গায় বলা হয়েছে মুহাম্মাদ বিশ্বের সকল মানুষের জন্য প্রেরিত। অন্য কোন নবীকে বিশ্বের সকল মানুষের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে কুরআনে এমন কথা নেই। সহীহ হাদীসে স্পষ্টভাবেই উল্লেখ আছে মুহাম্মাদ সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। নীচের হাদীসটি লক্ষ করুন: عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ فُضِّلْتُ عَلَى الأَنْبِيَاءِ بِسِتٍّ أُعْطِيتُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ وَأُحِلَّتْ لِىَ الْغَنَائِمُ وَجُعِلَتْ لِىَ الأَرْضُ طَهُورًا وَمَسْجِدًا وَأُرْسِلْتُ إِلَى الْخَلْقِ كَافَّةً وَخُتِمَ بِىَ النَّبِيُّونَ . অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, আমাকে ছয়টি জিনিস দ্বারা নবীদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে, আমাকে দেয়া হয়েছে জামিউল কালিম (অল্প কথায় অনেক কিছু ব্যক্ত করার যোগ্যতা), আমাকে ভয় (মুহাম্মাদ সা. কে দেখে কাফেরদের ভয় পাওয়া উদ্দেশ্য) দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে, আমার জন্য গণীমত হালাল করা হয়েছে, আমার জন্য সমস্ত ভুমি কে সাজদার জায়গা বানানো হয়েছে, আমাকে সকল সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে এবং আমার দ্বারা নবীদের আগমনের ধারা শেষ হয়েছে। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ৫২৩। দেখুন এই হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. স্পষ্ট করেই বলেছেন তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। শ্রেষ্ঠত্বের একটি কারন হলো তাকে সকল সৃষ্টির হেদায়াতের জন্য পাঠানে হয়েছে। কুরআনে এই গুনটির কথা বহু জায়াগায় বলা হয়েছে যে, মুহাম্মাদ সা. কে সমস্ত সৃষ্টি জগাতের উদ্দেশ্যে পাঠানে হয়েছে। যেমন সূরা সাবা, আয়াত ২৮, সূরা আরফ, আয়াত ১৫৮, সূরা ফুরকান আয়াত, ১। এছাড়া শ্রেষ্ঠত্বের আরেকটি কারণ হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে তিনি শেষ নবী। কুরআনেও এটা বলা হয়েছে। দেখুন সূরা আহযাব, আয়াত ৪০। আশা করি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। আরো দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন, আল-ইসলাম সুয়াল ও জবাব, প্রশ্ন নং ৮৩৪১৭ (আরবী)।

প্রশ্নঃ 1211
আপন ভাই-বোনের মধ্যে বিয়ে ইসলামে নাজায়েজ। পবিত্র কোরআনে সূরা ফাতির এর আয়াত নং ৪৩ এবং সুরা রুম এ আয়াত নং ৩০ আল্লাহ বলেনঃ আল্লাহর রীতি-নীতিতে বা আল্লাহর বিধানে কোন পরিবর্তন পাবে না বা পরিবর্তন নেই। তাহলে আমার প্রশ্নঃ আদম আঃ এর সন্তানদের ক্ষেত্রে কি ভাবে ভাই-বোন (এক জোড়ার একজনের সাথে অন্য জোড়ার একজন) এর মধ্যে বিয়ে হয়েছিল? আসলে কি ভাই-বোন এর মধ্যে বিয়ে হয়েছিল? যদি এই ঘঠণা সত্যি হয় তবে কোরআনে বা হাদিসে কোথায় এটা বলা আছে? বিস্তারিত জানতে চাই। আর যদি সত্যি না হয় তবে কিভাবে বংশ বৃদ্ধি হয়েছিল?
04 Jan 2026

আপনি যে দুটি আয়াতের কথা উল্লেখ করেছেন সেখানে কোথাও নেই আল্লাহর বিধানে কোন পরবর্তন হবে না। এই ধরনের মিথ্যা ও অপূর্ণাঙ্গ কথার দ্বারা বিপদগামীরা মুসলিমদেরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। দেখা যাক সেখানে কী আছে: সূরা রুম এর ৩০ নম্বর আয়াতের একটি অংশ হলো: لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّه এর বাংলা সরল অর্থ: আল্লাহর সৃষ্টিতে কোন পরিবর্তন নেই। তাফসিরকারকগণ বলেছেন এর অর্থ হলো: মানুষ যখন জন্ম নেয় তখন মানুষ ইসলাম ধর্মের উপরই জন্ম নেয়। পরে বাবা-মারা তাকে অন্য পথে নিয়ে যায়। এই যে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে ইসলাম ধর্মের উপর সৃষ্টি করেন তাতে কোন পরিবর্তন নেই। অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা কাউকে ইসলামের উপর সৃষ্টি করেন আবার কাউকে অন্য ধর্মের উপর সৃষ্টি করেন তা নয়। বরং এক্ষেত্রে সবাই সমান, আল্লাহর এই কাজে কোন পরিবর্তন করেন না। এবার আসি সূরা ফাতির প্রসঙ্গে। উক্ত আয়াতটি হলো فَهَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا سُنَّتَ الْأَوَّلِينَ فَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّتِ اللَّهِ تَبْدِيلًا আয়াতটির বাংলা অর্থ হলো: তারা কি পূর্ববর্তীদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য করে না? তুমি আল্লাহর কর্মপন্থায় কোন পরিবর্তন পাবে না। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণ বলেছেন,যে সব জাতি পূর্বে আল্লাহর নিদর্শন, আল্লাহর বিধানকে মিথ্যা বলেছে তাদেরকে আল্লাহ তায়ালা শাস্থি দিয়েছেন। এখানে আল্লাহ তায়ালা কাফেরদেরকে হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, তারা যেন পূর্ববর্তীদের শাস্তির বিষয়টি মনে রাখে, তারা যদি পূর্ববর্তীদের মত আল্লাহর বিধানকে অস্বীকার করে তাহলে তাদেরও শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। আর যারাই আল্লাহর বিধানকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে তাদেরই শাস্তির সম্মুখী হতে হবে আল্লাহ তায়ালার এই রীতিতে কোন পরিবর্তন নেই। অর্থাৎ কাফেরদের ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালার বিধান হলো তাদেরকে শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। আল্লাহ তায়ালার এই বিধানে এই রীতিতে কোন পরিবর্তন হবে না। বিস্তারিত জানতে দেখুন, তাফসীরে ইবনে কাসীর, উক্ত আয়াতের তাফসীর। এবার দেখবো শরয়ী বিধানের ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা কোন পরিববর্তন করেন কি না: আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: مَا نَنسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِّنْهَا أَوْ مِثْلِهَا আয়াতটির সরল অর্থ হলো: আমি যে আয়াতই রহিত করি কিংবা ভুলিয় দেই তখন তার পরিবর্তে দান করি তার চেয়ে উত্তম বা তারম মত কোন আয়াত। তাফসীরকারকগণ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন: আল্লাহ তায়ালা কখনো কখনো আগের বিধানকে রহিত করে নতুন বিধান চালু করেন। তাহলে বুঝা গেলা শরয়ী আহাকামের পরিবর্তন হতে পারে। বিস্তারিত জানতে দেখুন, তাফসীরে ইবনে কাসীর, উক্ত আয়াতের তাফসীর। আপনি যে দুটি আয়াত উল্লেখ করছেন এমন আরো একটি আয়াত কুরআনে আছে। সেটি সম্পর্কে্ও আলোচনা করছি, যাতে আপনার ভুল ভেঙ্গে যায়। আয়াতটি হলোالَّذِينَ آمَنُواْ وَكَانُواْ يَتَّقُونَ (63) لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَياةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ لاَ تَبْدِيلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ আয়াতটির অর্থ হলো: যারা ঈমান এনেছে এবং মুত্তকি তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়া এবং আখেরাতে সুসংবাদ। আল্লাহর কথায় কোন পরিবর্তন নেই। এটাই সফলতা। সূরা ইউনুস,আয়াত ৬৩,৬৪। এই আয়াতে আল্লাহর কথায় কোন পরিবর্তন নেই অর্থ হলো মূমিনদের জন্য যে দুনিয়া এবং আখেরাতে আল্লাহ তায়ালা কল্যান রেখে দিয়েছেন, মুমিনরা জান্নাতে যাবে আল্লাহ তায়ালার এই কথায় বা বিধানে কোন পরিবর্তন নেই। ভাই সবশেষে একটা পরামর্শ দেই, কুরআনের কোন আয়াত সম্পর্কে মন্তব্য করার পূর্বে তাফসীরসহ আয়াতটি ভালভাবে পড়া উচিৎ। আর আদম আঃ সময় বিধান ছিল ভাইবোন বিয়ে হওয়া জায়েজ। এটা শরয়ী বিধান। সুতরাং পরিবর্তন হওয়া কোন সমস্যা নয়। আশা করি আপনার মনের সংশয় দূর হবে। এরপরও কোন অস্পষ্টতা থাকলে পূনরায় প্রশ্ন করবেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন।

প্রশ্নঃ 1072
তাজবীদ সহকারে কুরআন পাঠ করা কতটা জরুরি?
04 Jan 2026

অর্থের পরিবর্তন যেন না হয় এতটুকু তাজবীদের সাথে কুরআন পড়া আবশ্যক, একান্ত জরুরী। এর বাইরে যতটা সম্ভব ভাল করে পড়ার চেষ্টা করবেন।

প্রশ্নঃ 1044
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ স্যার। আমি যখন একা একা হাটি তখন মুখস্ত তেলোয়াত পড়তে ইচ্ছে করে মনে মনে। আসলে এভাবে হেটে হেটে অনুচ্চস্বরে তেলোয়াত পড়া যাবে কি?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জী যাবে। কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 988
আসসালামুআলাইকুম, পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াতে সেজদার আয়াত পাঠ করেছি। আবার তখন সূর্যও পুরোপুরি উঠে নাই। (মানে তখন সূর্য উঠতেছে) তাহলে আমি সেজদা টা কখন আদায় করব? যখন পাঠ করেছি তখনি নাকি সূর্য পুরোপুরি উঠার পর?
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুুস সালাম। সূর্য পুরোপুরি উঠার পর করবেন।

প্রশ্নঃ 938
আস সালামু আলায় কুম শায়েখ, আরবী সঠিক উচ্চারন সহ সেখার জন্য অনলাইন এ কোন ফ্রী সাইট সম্পর্কে জানাবেন দয়া করে। অনলাইন এ অনেক গুলা আছে কিন্তু কোনটা সঠিক ভাবে শেখাচ্ছে সেই বিষয় সন্ধেহ কাজ করে। এজন্য জানতে চাচ্ছি আপনাদের বিশ্বস্ত কোন সাইট আছে কিনা?জাঝাকাল্লাহ খাইরান।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, আমাদের এই ধরনের কোন কার্যক্রম নেই।

প্রশ্নঃ 883
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন; কোরআন শরীফে ৩০ আয়াত বিশিষ্ট একটি সূরা আছে, যা তার তেলাওয়াতকারীকে ক্ষমা করে না দেয়া পর্যন্ত তার জন্য সুপারিশ করতেই থাকবে। সূরাটি হলো তাবারাকাল্লাযী
02 Jan 2026

প্রথম হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী এবং শায়খ আলবানী হাসান বলেছেন। দ্বিতীয় হাদীসটিকেও ইমাম তিরমিযী হাসান বলেছেন।

প্রশ্নঃ 860
আসসালামু আলাইকুম। অনেক সময় অজু থাকে না, অথবা যান বাহনে থাকি আর এই এ অবস্থায় মোবাইলে কোরআন শরিফের তিলাওয়াত শুনার সময় সিজদার আয়াত শুনলে সেটার জন্য কি তেলাওয়াতের সিজদা আদায় করতে হবে? আশা করি উত্তর টি জানাবেন।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, রেকর্ড শুনলে তেলাওয়াতের সিজদা দেয়া লাগবে না। তবে লাইভ অনুষ্ঠানে সিজদার আয়াত শুনলে সিজদা দিতে হবে।

প্রশ্নঃ 849
খারাপ পুরুষদের জন্যূ রয়েছে খারাপ নারী ও মুমিন পুরুষের জন্য রয়েছে ভালো চরিত্রে নারী মুমিন পুরুষের জন্য খারাপ চরিত্রের নারীকে হারাম করা হয়েছে এই সম্পর্কে কুরআনে ও হাদিসে কি বলা আছে?
02 Jan 2026

খারাপ পুরুষদরে জন্য রয়ছেে খারাপ নারী ও মুমিন পুরুষরে জন্য রয়ছেে ভালো চরত্রিরে নারী। মুমিন পুরুষরে জন্য খারাপ চরত্রিরে নারীকে হারাম করা হয়ছে। এই কথা এসেছে একটি আয়াতরে মর্ম বুঝার ক্ষেত্রে মতানৈক্যের কারণে। আয়াতটি হলো সূরা নূরের ২৪ নং আয়াত। আপনি আয়াতটির অর্থ দেখুন। আর সঠিক তাফসীর ও ব্যাখ্যা সম্পর্কে ইমাম বাগাবী বলেছেন, قال أكثر المفسرين: الخبيثات من القول والكلام للخبيثين من الناس. { وَالْخَبِيثُون } من الناس، { لِلْخَبِيثَاتِ } من القول، [والكلام] ، { وَالطَّيِّبَاتُ } من القول، { لِلطَّيِّبِينَ } من الناس ، { وَالطَّيِّبُونَ } من الناس، { لِلطَّيِّبَاتِ } من القول، والمعنى: أن الخبيث من القول لا يليق إلا بالخبيث من الناس والطيب لا يليق إلا بالطيب من الناس، فعائشة لا يليق بها الخبيثات من القول لأنها طيبة رضي الله عنها فيضاف إليها طيبات الكلام من الثناء الحسن [وما يليق بها] . অধিকাংশ মুফাসসির বলেছেন, খারাপ কথা খারাপ লোকদের জন্য উপযোগী আর খারাপ লোক খারাপ কথার উপযোগী এবং ভাল কথা ভাল লোকদের উপযোগী আর ভাল লোকেরা ভাল কথার উপযোগী। অর্থাৎ খারাপ কথা খারাপ লোকের উপযোগী আর ভাল কথা ভাল লোকের উপযোগী। আয়েশা রা. এর সাথে কোন অশ্লীলতা যুক্ত হতে পারে না, কেননা তিনি পবিত্র। তার ব্যপারে ভাল কথাই বলতে হবে এবং তার উপযোগী কথাই বলতে হবে। এই ব্যখাটা নেয়ায় উত্তম। তাহালে জটিলতা থাকে না। এর বাইরে খারাপ লোকের জন্য খারাপ স্ত্রী এবং খারাপ মহিলার জন্য খারাপ স্বামী এই ব্যাখ্যা নিলে কিছুটা জটিলতা আছে। কোন কোন মুফাসসির অবশ্য এই ব্যাখ্যটাও করেছেন। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 795
আসসালামুআলাইকুম, কুরআনের তাফসির (ব্যাখ্যা সহ) পড়তে চাই। কোন সাজেশন দিবেন প্লীজ। আহসান প্রকাশনীর (মাওলানা মুহাম্মদ মুসা অনুঅনূদিত) কুরআনের বাংলা অনুবাদ পড়ে শেষ করলাম। কিন্তু এখন আরো বিস্তারিত আলোচনা সহ অনুবাদ পড়তে চাই।
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি কুরআনের তাফসীরেরর জন্য মাও. মুহিউদ্দিন খান রহ. অনুদিত মারেফুল কুরআন এবং তাফসীরে ইবনে কাসির পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 691
Assalamualaikum.Sir, I want to buy a Bangla Meaning Al-Quran. Which writer is better. Please informe me immediately.
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি শায়খ ত্বকী উসমানী রচিত আর মাকতাবাতুল আশরাফ থেকে বাংলায় প্রকাশিত তাওযীহুল কুরআন পড়তে পারেন। এছাড়া মাওলানা মুহিউদ্দীন খান অনুতিদ মারেফুল কুরআন দেখতে পারেন তাফসীর জনান জন্য।

প্রশ্নঃ 542
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ কোন লেখকের বাংলা অনুবাদ করা কুরআন ভাল?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই প্রশ্নের উত্তর যখন লিখছি তখন স্যার আল্লাহ সান্নিধ্যে চলে গেছেন। তবে স্যার রহ. বলতেন সংক্ষিপ্ত তাফসীরসহ অনুবাদের জন্য ত্বকী উসমানী হাফি. লিখিত তা্ওযিহুল কুরআন আর বিস্তারিত তাফসীরসহ অনুবাদের জন্য ইবনে কাসীর পড়েব।

প্রশ্নঃ 503
May peace of almighty Allah(swt) be upon you.Actually I need suggestion or help.I am an engineering student.I can read quran.Now I wanna understand the meaning.Is there any book or any resource from where I can understand the arabic grammer and understand the meaning.
29 Dec 2025

আরবী ভাষা এবং ব্যকরণ শিখতে হলে আপনাকে অবশ্যই একজন শিক্ষকের সাহায্য নিতে হবে। শুধু বই দ্বারা আরবী ভাষা শেখা সম্ভব নয়। আরবী শেখার প্রাথমিক পর্বে আপনি শায়খ আবু তাহের মিসবাহ রচিত এসো আরবী শিখি বইটি পড়তে পারেন। আল্লাহ তায়ালা আপনার সৎ ইচ্ছা কবুল করুন।

প্রশ্নঃ 283
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: ১. কুরআনে জের, জবর, পেশ যুক্ত করেছেন হাজ্জাজ বিন ইউসুফ – ইনি কি সেই যিনি আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা) কে হত্যা করেছিল? ২. উমরা বা হাজ্জ এ গিয়ে বেশি বেশি তাওয়াফ করা ভাল নাকি অন্যান্য নফল ইবাদাত? তাওয়াফ এর ক্ষেত্রে কি বাবা,মা, স্ত্রি সকলের পক্ষ থেকে করা যাবে? ৩. হাজ্জ বা উমরাহ বিষয়ে স্যার এর একটি বই বের হওয়ার কথা ছিল, সেটি কি বের হয়েছে?
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ
১। কুরআন শরীফে মূলত হরকত লাগিয়েছেন হযরত আলী রা.। হাজ্জাহ বিন ইউসুফও কিছু কাজ করেছেন। অন্য দিকে আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়েরসহ অনেক নেককার মানুষকে তিনি শহীদ করেছেন।
২। হজ্বের সময় বেশী তাওয়াফ করাই উত্তম।
৩। জি, হজ্জের আধ্যাত্মিক শিক্ষা – সংগ্রহ করুন।
প্রশ্নঃ 263
আসসালামু আলাইকুম। স্যার আমার বাসা ঝিনাইদহে। আমাদের এলাকাতে বিজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কুরআন শরীফ শেখার প্রচলন আছে। এইটি শুদ্ধ কি না? আমি ১ টা কুরআন (অনুবাদ সহ) কিনতে চাই? কোনটা কিনলে ভাল হয় জানাবেন দয়া করে।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আপনি মাওলানা ত্বকী উসমানী রচিত বাংলায় অনূদিত তাওযীহুল কুরআন কিনতে পারেন।
প্রশ্নঃ 261
কুরআনের তাফসীর কোন লেখকের কিনব?
27 Dec 2025
তাফসীরে ইবনে কাসির, মারেফূল কুরআন কিনতে পারেন। সংক্ষিপ্ত তাফসীরের জন্য তাওযীহুল কুরআন কিনতে পারেন।
প্রশ্নঃ 230
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: ১. কুরান তিলাওয়াত এর ক্ষেত্রে বিশ্ববিখ্যাত কারী আল আফাসী এর সূর (মাকামাত) ও ঊচ্ছারন (তাজবিদ) এর হুবুহু অনুকরন করা জাবে কিনা? ২. অন্যান্য মুসলিম দেশের কারিদের দেখি তেলাওয়াত এর সময় অর্থের দিকে খেয়াল করে আয়াত কে ভেঙ্গে ভেঙ্গে পরেন যা আমাদের দেশের হাফিজ বা ক্বারীগণ করেন না… এক্ষেত্রে করণীয় কি? ৩. কুরান তেলাওয়াত এর নিয়ম, বিভিন্ন ইমামদের মতামত এবং মাকামাত-তাজবিদ এর উদ্ভাবন বিষয়ে কি কোন বাংলা বই আছে?
24 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
সহীহ ভাবে কুরআন তেলাওয়াত করে এমন যে কোন ক্বারীকে তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে অনুকরণ করেত কোন সমস্যা নেই। অর্থ বুঝে তেলাওয়াত করা নিঃসন্দেহে উত্তম। তাজবীদের বিভিন্ন বই বাজারে পাওয়া যায় তবে শুধু বই দ্বারাই সহীহ তেলাওয়াত শেখা সম্ভব নয়, বিশুদ্ধ তেলাওয়াত একজন ভাল ক্বারী সাহেবের কাছ থেকে শিখতে হবে।
প্রশ্নঃ 188
যারা আরবী জানেনা, মোটামুটি ইন্টার কিংবা অনার্স পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে তাদের জন্য কুরআন বুঝার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজতর কোন তাফসীর গ্রন্থের নাম জানালে খুবই উপকৃত হব।
23 Dec 2025
আপনি কুরআন বুঝার জন্য মুফতী শফী রহ. লিখিত মাওলানা মহিউদ্দিন খান অনূদিত মারেফুল কুরআন, মাওলানা ত্বকী উসমানী লিখিত তাওযীহুল কুরআন এবং সৈয়্যদ কুতুব শহীদ রচিত তাফসীর ফি যিলালিল কুরআন পড়তে পারেন। এই তাফসীরগুলো আমাদের দেশের লাইব্রেরীর সমূহে যাবে।
প্রশ্নঃ 116
কুরআনে হূরের বিষয়টি কি কুরআনের ভাবগাম্ভিয্যের সাথে সাংঘর্ষিক নয়?
22 Dec 2025
প্রথমত: এ বিষয়টি যিনি বলেছেন তিনি সম্ভবত কুরআন অধ্যয়ন করেন নি। কুরআনে হুরের বিষয়টির সাথে যৌনতা, দৈহিক সম্পর্ক ইত্যাদির সামান্যতম আবেশ নেই। বারংবার বলা হয়েছে যে, তাদেরকে জোড়া বানিয়ে দেওয়া হবে হুরের সাথে। আরবী ও অন্যান্য লিঙ্গ সচেতন ভাষায় সাধারণ বিধিবিধানে পুংলিঙ্গ ব্যবহার করেই বিধিবিধান প্রদান করা হয়। এরপরও হুর শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ নয়। নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই শব্দটি ব্যবহৃত হয়। আর মানবীয় প্রকৃতির সাথে একটি সুসমঞ্জস। মানুষ প্রকৃতিগতভাবে আত্মা ও মনের শান্তির জন্য জোড়া চায়। জান্নাতে মহান আল্লাহ তাদেরকে জোড়া প্রদান করবেন; যেন তারা মানবীয় প্রকৃতির প্রশান্তি ও পরিতৃপ্তির পূর্ণতা লাভ করতে পারে।
দ্বিতীয়ত: এ বিষয়টি যিনি বলেছেন তিনি সম্ভবত অন্য কোনো ধর্মগ্রন্থও অধ্যয়ন করেন নি। বাইবেল, বেদ, রামায়ন, মহাভারত ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থে অশ্লীলতার ছড়াছড়ি পর্নোগ্রাফিকেও হার মানায়। পিতা-কন্যার ব্যভিচার, ভাই-বোনের ভ্যবিচার, শ্বশুর-পুত্রবধুর ব্যভিচার, পিতার স্ত্রীদের প্রকাশ্যে ধর্ষণ, উলঙ্গ হয়ে নাচানাচি, মাতলামি ইত্যাদির বর্ণনায় পবিত্র বাইবেল পরিপূর্ণ। সাধারণ বিষয়ের বর্ণনাতেও অশ্লীল উপমা ও রূপক ব্যবহার করা হয়েছে। পক্ষান্তরে কুরআনে স্বাভাবিক যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ক বর্ণনাও সকল অশ্লীতার ছোয়া থেকে মুক্ত। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, ইহূদী, খৃস্টান, হিন্দু বা অন্য ধর্মের কোনো কোনো অনুসারী নিজেদের ধর্মগ্রন্থের অপবিত্রতম পর্নোগ্রাফীর চেয়েও অশ্লীল গল্পগুলোকে ধর্মগ্রন্থের ভাবগাম্ভির্যের সাথে সাংঘর্ষিক মনে না করলেও কুরআনের মধ্যে বিদ্যমান অশ্লীলতা বা দৈহিকতার সামান্যতম ছোয়ামুক্ত হুর বিষয়ক বক্তব্যগুলোকে ধর্মগ্রন্থের ভাবগাম্ভীর্যের সাথে অসামাঞ্জস্য বলে দাবি করেন।

কপিরাইট স্বত্ব © ২০২৫ আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট - সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত| Design & Developed By Biz IT BD