আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট এ আপনাকে স্বাগতম

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি
সব প্রশ্ন অর্থনৈতিক আকিকা আকীদা নামায আখিরাত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আদব আখলাক ইতিহাস ঈদ-কুরবানী ঈমান তাওহীদ রিসালাত জানাযা-কবর যিয়ারত জান্নাত-জাহান্নাম জিহাদ তাফসীর ত্বহারাত পবিত্রতা সফর জুমআ তারাবীহ নফল সালাত বিতর পোশাক-পরিচ্ছেদ ফারায়েজ ফিতরা বিচার-আচার বিবাহ-তালাক মানত যাকাত যিকির/দুআ/আমল রোজা লেনদেন শিরক-বিদআত সাধারণ দান-সদকাহ সিরাত/সামায়েল সুন্নাত হজ্জ হাদীস ও উসূলুল হাদীস হালাল হারাম বিবিধ কুরআন হাদীস বাতিল ফিরকা দাওয়াত ও তাবলিগ জাদু-টোনা মসজিদ মুসাফির রমযান সুদ-ঘুষ হালাল ইতিকাফ কাজা/কাফফারা গুনাহ জায়েয তায়াম্মুম ব্যক্তিগত ও তাবলিগ সদকাহ বিদআত কসর তাওবা জিন-পরি ব্যবসা-বাণিজ্য বই অসিয়ত
প্রশ্নঃ 2120
আসালামুআলাইকুম ওয়া রহমাতোল্লাহি ওয়া বারাকাতিহ……পাক পাঞ্জা কি?…..আমার এক বড় ভাই আংটি ব্যবহার করেন, তাতে আরবিতে লেখা আল্লহ মোহাম্মদ ফাতেমা হাসান হুসাইন। আমি বলেছি এই আংটি ব্যবহার করা যাবেনা। তখন সে পাক পাঞ্জা কথাটি উল্লেখ করে। এ সম্পর্কে জানা থাকলে দয়া করে জানাবেন।
20 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই বিষয়ে শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. হাদীসের নামে জালিয়াতি গ্রন্থে লিখেছেন আহল বাইতের মধ্য থেকে রাসূলুল্লাহ সা.-এর সাথে আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসাইন (রা)-কে একত্রিত করে পাঁচজনের একত্রিত বিশেষ মর্যাদা জ্ঞাপক অনেক বানোয়াট ও মিথ্যা কথা পাক-পাঞ্জাতন নামে প্রচলিত আছে। পাক-পাঞ্জাতন বিষয়ক সকল কথা বানোয়াট ও জঘন্য মিথ্যা কথা। আলী ও ফাতিমা- রদিয়াল্লাহু আনহুমা-কে কেন্দ্র করে মুর্খরা অনেক বানোয়াট, আজগুবি ও মিথ্যা কথা রটনা করেছে। যেমন: ফাতিমা (রা) একদিন একটি পাখির গোশত খেতে চান। আলী (রা) অনেক চেষ্টা করেও পাখিটি ধরতে পারেন না। …. জঘন্য মিথ্যা কথা। হাদীসের নামে জালিয়াতি, পৃষ্ঠা নং ৪০৩। উল্লেখ্য শিয়ারা পাক পাঞ্জাতনে বিশ্বাস করে থাকে। আর এদের নামে আংটি ব্যবহার করা সুস্পষ্ট শিরক। কারণ এদের নামে আংটি ব্যবহারের অর্থ হলো আল্লাহ ছাড়া বাকী চার জনও ভাল-মন্দের মালিক বিশ্বাস করা। আর এটা শিরক।

প্রশ্নঃ 2106
দুআর পরে মুখে হাত বোলানো কি বিদআত?
19 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। শায়েখ বিন বাজ রা. বলেছেন, দুয়ার পর চেহারাতে হাত বোলানো বা মাসেহ করা বিদআত নয়। তবে না করায় ভাল।ইবনে হাজার আসকালানী রহ.সহ অনেক আলেম এটাকে ভাল বলেছেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন:

প্রশ্নঃ 2071
শিরকে আকবারের ক্ষেত্রে অজ্ঞতা বা Ignorance থাকলে সেটা কি ইরতিদাদ হিসেবে গণ্য হবে? যেমন অনেকে কবরপুজা,পীরপুজা, পীরের কাছে জান্নাত চাওয়া ইত্যাদির শিরক হবার ব্যাপারে যদি শিরককারী অজ্ঞ থাকে, তাহলে সেটা ইরতিদাদ হবে কিনা? তাদেরকে এটা যে শিরক, সে সম্পর্কে অবহিত করার পরও যদি তারা শিরকে লিপ্ত থাকে, তাহলে কি এ অবস্থাকেও অজ্ঞতা বলা যাবে? নাকি সেটা চূড়ান্ত ধর্মত্যাগ বলে গণ্য হবে?
18 Jan 2026

না, চুড়ান্ত ধম্যতাগ তো নয়ই আদৌ ধর্মত্যাগই বলা যাবে না। তবে তারা শিরক নাম বড় গোনাহতে লিপ্ত এটা ঠিক। তাদেরকে ভালভাবে বুঝাতে হবে। বিচার আল্লাহর কাছে।

প্রশ্নঃ 1964
আসসালামু আলাইকুম জি, আমি অনেক আলিম এর কাছে শুনেছি যে ফাজায়েলে আমল নামক কিতাবে শিরক ও বিদআতের কাহিনী আছে, তাই এই কিতাবের তালিম কি মসজিদে করা যাবে বা তাতে অংশগ্রহণ করা যাবে? এই কিতাবে আছে যে রসুলুল্লাহ যে কবরে শুয়ে আছেন, সেই মাটি আল্লাহর আরশের থেকে উত্তম এবং কাবা ঘর থেকেও উত্তম, দুনিয়ার সবকিছু থেকে উত্তম, এই কথাটির কোন ভিত্তি আছে কি?
17 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মানব রচিত সব কিতাবেই ভুল আছে। সুতরাং সর্বাবস্থায় সাবধান থাকতে হবে। ভুলগুলো বাদ দিয়ে সঠিক বিষয় তালিমের ব্যবস্থা করা উচিত।

প্রশ্নঃ 1954
আমার প্রশ্ন, যেখানে রাসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, সকল নব উদ্ভাবিত কাজ থেকে বেঁচে থাকবে, কারণ প্রত্যেক বিদয়াতই পথভ্রষ্টতা, তাহলে কেন ফকীহগণ বিদয়াতকে দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন (হাসানা ও সাইয়িআত) আর কিছু কিছু বিদয়াতকে হাসানা বলে তাকে জায়েজ করেছেন?
17 Jan 2026

পরিভাষায় বিদআত দুই প্রকার নয়। বিদআত সবই পরিতাজ্য। বিস্তারিত জানতে পড়ুন, শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. লিখিত এহ্ইয়াউস সুনান বইটি।

প্রশ্নঃ 1914
আসসালামু আলাইকুম। জনৈক ইমাম সাহেব একদিন বললেন, নাফসে মুতমায়িন্নাহ্ এর একটি বৈশিষ্ট্য হলো সবসময় প্রবৃত্তির বিরোধীতা করা। তিনি আরো বললেন, প্রবৃত্তির বিরোধিতা এমন একটি গুন যে যদি এ বৈশিষ্ট্য কোন কাফিরেরও থাকে তাহলে সে সাধক হয়ে যায়। তারপর তিনি নিম্নোক্ত কাহিনী বর্ননা করলেন, একদা খাজা মইনুদ্দীন চিশতির এমন কঠিন অসুখ হয় যে কোনক্রমেই তিনি সেরে উঠেনননা। তার ভক্তরা বলল যে, এক হিন্দু সাধক আছে, সে কোন অসুস্থ্য ব্যাক্তির দিকে তাকালেই সে সুস্হ্য হয়ে যায়। এরপর অনিচ্ছা সত্ত্বেও খাজা মইনুদ্দীন চিশতিকে তার কাছে নিয়ে গেলে সেই সাধক তার দিকে তাকানো মাত্রই তিনি সুস্হ্য হয়ে যান। তাকে( সাধক) এর কারন জিজ্ঞেস করলে সে বলে যে, সবসময় সে প্রবৃত্তির বিরোধিতা করে চলে। পরে সে মুসলিম হয়। এখানে আল্লাহ ব্যাতিত অন্য কেউ সুস্হ্য করার ক্ষমতা রাখে এরকম ধারনা রয়েছে কী? এই ঘটনায় বিশ্বাস কী শিরক? হলে বড় শিরক নাকি ছোট শিরক? এমন ইমামের পেছনে স্বলাত আদায় করা যাবে কী? বিদ্র: উক্ত ইমাম সাহেবকে সহিহ আকীদার বলেই মনে হয়। তিনি কোরআন সুন্নাহর প্রতি খুবই গুরুত্ব দেন। তার অন্য একটি বক্তব্য উল্লেখ করলে হয়তো ধারনাটি পরিস্কার হবে: তিনি বলেছেন, পীর বা ওলীআল্লাহদের কাছে কোন কিছু চাওয়া বৈধ নয় । ওলীরা, নবীগন (আ.) যেমন আল্লাহর কাছেই চাইতেন, আপনারাও আল্লাহর কাছে চাইবেন। শুধুমাত্র ওলীদের কবর জিয়ারত করা বৈধ তবে জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাওয়াও বৈধ নয়। এখন প্রথমোক্ত ঘটনার সাথে শিরক সম্পর্কযুক্ত না হলে এটার (কারো দৃষ্টিতে রোগমুক্ত হওয়আ ) ব্যাখ্যা ও হুকুম কী? যাযাকুমুল্লাহ।
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এভাবে রোগ সারতে পারে। হয়তো যাদুর প্রভাবে এমন হয়। তবে খাজা মইনু্দ্দিন চিশতী রহ. কোন হিন্দু সাধকের কাছে গিয়েছে এটা বিশ্বাস হয় না। তিনি নিজেই তো বড় মাপের মানুষ ছিলেন। রোগ থেকে মুক্ত হওয়ার দুআ-জিকির নিশ্চয় তিনি জানতেন। হিন্দু ডাক্তার কবিরাজের কাছে যেতে পারেন তবে সাধকের কাছে যাবেন এটা অবিশ্বাস্য। তবে আপনি উক্ত ইমাম সাহেবের কাছে উক্ত ঘটনার উৎস সম্পর্কে জানতে পারেন। দ্বিতীয়ত হিন্দু থাক অবস্থায় কিভাবে তিনি নফসে আম্মারা বিপরীত কাজ করলেন। নফসে আম্মারার বিপরীত করলে তো প্রথমেই তাকে মুসলিম হতে হবে। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1889
আসসালামুআলাইকুম । জনৈক ইমাম সাহেব একদিন বললেন, নাফসে মুতমায়িন্নাহ্ এর একটি বৈশিষ্ট্য হলো সবসময় প্রবৃত্তির বিরোধীতা করা । তিনি আরো বললেন, প্রবৃত্তির বিরোধিতা এমন একটি গুন যে যদি এ বৈশিষ্ট্য কোন কাফিরেরও থাকে তাহলে সে সাধক হয়ে যায় । তারপর তিনি নিম্নোক্ত কাহিনী বর্ননা করলেন, একদা খাজা মইনুদ্দীন চিশতির এমন কঠিন অসুখ হয় যে কোনক্রমেই তিনি সেরে উঠেনননা। তার ভক্তরা বলল যে, এক হিন্দু সাধক আছে, সে কোন অসুস্থ্য ব্যাক্তির দিকে তাকালেই সে সুস্হ্য হয়ে যায়। এরপর অনিচ্ছা সত্ত্বেও খাজা মইনুদ্দীন চিশতিকে তার কাছে নিয়ে গেলে সেই সাধক তার দিকে তাকানো মাত্রই তিনি সুস্হ্য হয়ে যান। তাকে (সাধক) এর কারন জিজ্ঞেস করলে সে বলে যে, সবসময় সে প্রবৃত্তির বিরোধিতা করে চলে। পরে সে মুসলিম হয়। এখানে আল্লাহ ব্যাতিত অন্য কেউ সুস্হ্য করার ক্ষমতা রাখে এরকম ধারনা রয়েছে কী? এই ঘটনায় বিশ্বাস কী শিরক? হলে বড় শিরক নাকি ছোট শিরক? এমন ইমামের পেছনে স্বলাত আদায় করা যাবে কী? বিদ্র: উক্ত ইমাম সাহেবকে সহিহ আকীদার বলেই মনে হয়। তিনি কোরআন সুন্নাহর প্রতি খুবই গুরুত্ব দেন। তার অন্য একটি বক্তব্য উল্লেখ করলে হয়তো ধারনাটি পরিস্কার হবে: তিনি বলেছেন, পীর বা ওলীআল্লাহদের কাছে কোন কিছু চাওয়া বৈধ নয়। ওলীরা, নবীগন (আ.) যেমন আল্লাহর কাছেই চাইতেন, আপনারাও আল্লাহর কাছে চাইবেন। শুধুমাত্র ওলীদের কবর জিয়ারত করা বৈধ তবে জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাওয়াও বৈধ নয়। এখন প্রথমোক্ত ঘটনার সাথে শিরক সম্পর্কযুক্ত না হলে এটার (কারো দৃষ্টিতে রোগমুক্ত হওয়আ) ব্যাখ্যা ও হুকুম কী? যাযাকুমুল্লাহ।
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এভাবে রোগ সারতে পারে। হয়তো যাদুর প্রভাবে এমন হয়। তবে খাজা মইনু্দ্দিন চিশতী রহ. কোন হিন্দু সাধকের কাছে গিয়েছে এটা বিশ্বাস হয় না। তিনি নিজেই তো বড় মাপের মানুষ ছিলেন। রোগ থেকে মুক্ত হওয়ার দুআ-জিকির নিশ্চয় তিনি জানতেন। হিন্দু ডাক্তার কবিরাজের কাছে যেতে পারেন তবে সাধকের কাছে যাবেন এটা অবিশ্বাস্য। তবে আপনি উক্ত ইমাম সাহেবের কাছে উক্ত ঘটনার উৎস সম্পর্কে জানতে পারেন। দ্বিতীয়ত হিন্দু থাক অবস্থায় কিভাবে তিনি নফসে আম্মারা বিপরীত কাজ করলেন। নফসে আম্মারার বিপরীত করলে তো প্রথমেই তাকে মুসলিম হতে হবে। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1808
আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আপনি বলেছেন বাংলাদেশে প্রচলিত তাবলীগ হচ্ছে বিদআত। কি কারনে বিদআত দলিল সহ জানালে উপকৃত হবো। এছাড়া সুন্নি এবং শিয়ার মধ্যে পার্থক্য কি কি? শিয়ারা কি মুসলিম?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি বলেছেন বাংলাদেশে প্রচলিত তাবলীগ হচ্ছে বিদআত। এখানে আপনি বলতে আপনি কাকে বুঝিয়েছেন। আমরা তো কখনো একথা বলি নি। শিয়া-সুন্নির ভিতর পার্থক্যসহ আপনার প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর জানতে দেখুন, ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহি.রচিত ইসলামী আকীদা বইটি।

প্রশ্নঃ 1619
আসসালামু আলাইকুম। অনেক আলেম ছোটো দরূদ হিসাবে এই দুটি পড়া যাবে বলেছে। কিন্তু এটা বেদাত কিনা তা বুঝতে পারছি না। দরূদ হিসাবে ” সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ” অথবা ” আল্লাহুম্মা সাল্লিয়ালা সায়্যিদিনা মোহাম্মদ ” এই দুটি পড়া যাবে নাকি বেদাত হবে?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বী, এই দুটি পড়া যাবে।

প্রশ্নঃ 242
আসসালামু আলাইকুম। আমি অস্ট্রেলিয়া থাকি। অফিসে বড়দিন এবং দিওয়ালি উপলক্ষে দুপুরের খাবারের ব্যবস্তা করা হয়। সাধারণত এটা বড়দিন এবং দিওয়ালি এর এক মাস আগেই হয়। মুসলিম দের জন্য হালাল খাবার রাখা হয়। এই খাবার খাওয়া কি জায়েজ? জাজাকাল্লাহ খাইরান।
25 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অন্য ধর্মের ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে তারা যদি মুসলিমদের হালাল খাবার দেন তাহলে খেতে সমস্যা নেই। তবে তাদের জবেহ করা পশুর গোশত খাওয়া যাবে না। মোট কথা হালাল খাবার, ফলমূল হলে খাওয়া জায়েজ আছে। বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন

প্রশ্নঃ 1571
আসসালামু আলাইকুম। আমি রাসুলুল্লাহ (সা) এর উপর দরুদ বা সালাম বলার সময় সীরাতের অনেক ঘটনা মনে করার চেষ্টা করি, এতে তার উপর মহব্বত সৃষ্টি হয়। এটা কি বিদআত?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, এটা বিদআত নয়। বরং এটা ভাল।

প্রশ্নঃ 1417
কিছু ভাই বিশ্বাস করে আমাদের রাসুল(দঃ) নূরের তৈরি। আমাকে একটু পবিত্র কোরআন শরিফ এবং হাদিসের আলোকে এর ব্যাখ্যা দিলে ওই ভাইকে বুজাতে সুবিধা হত।
06 Jan 2026

যারা এমন বিশ্বাস করে তাদেরকে আপনি বুঝাতে পারবেন না। কারণ এই ভ্রান্ত বিশ্বাসের পক্ষে সাফাই গাওয়ার জন্য মানুষের অভাব নেই। বরং আপনি বলুন রাসূল সা. নূরের তৈরী কোথায় আছে? তারা আপনাকে দলীল দিবে। তবে আপনি মনে রাখবেন প্রতিটি দলীলই বানোয়াট হাদীস।

প্রশ্নঃ 1389
আসসালামু আলাইকুম, আমার আব্বা ৭ মাস আগে মারা গিয়েছেন। আমার চাচারা তার চল্লিশা করার জন্য উদ্গ্রিব ছিল। বিভিন্ন কারনে তা পিছে যায়। এখন তারা এটা করতে চান। আমি জানি এটা বিদাআত এবং আমি ইহা চরমভাবে ঘৃনা করি। আমি তাদেরকে এই ব্যাপারে নসিহত করি নাই (এটা আমার পক্ষে একটু কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে)। এখন আমার প্রশ্ন হল, যেহেতু ৭ মাস পেরিয়ে গেসে তাই এটা কি আমি শুধুমাত্র মুসলিমদের খাওয়ানোর নিয়তে করতে পারি? আর এই চল্লিশা কোন পর্যায়ের পাপ আমাকে একটু জানাবেন।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, অনেক সময় সামাজিক অবস্থার কারণে আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়। আপনি যেমন পড়েছেন। আপনি যেহেতু জানেন যে, এটা বিদআত সুতরাং আপনি নিয়ত করবেন মানুষকে খাওয়ানো যেমনটি সহীহ হাদীসে মানুষকে খাওয়াতে বলা হয়েছে। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ১৮৮৫। আপনার পিতার জন্য মানুষকে খাওয়াচ্ছেন এমন নিয়তই করবেন না। আশা করি সমস্যা থেকে মুক্ত থাকবেন।

প্রশ্নঃ 1206
আসসালামু আলাইকুম ১. তসবীহ টিপে জিকির করা কি বিদআত? ২. কোন ব্যক্তি কোমরে ব্যাথার কারণে রুকু সেজদা ঠিকমত করতে পারে না। তাহলে কি সে পুরো নামাজ চেয়ারে বসে পরতে পারবে?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১। শায়খ ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. বলেছেন, যিকর গণনার জন্য দানা বা তাসবীহ্ ব্যবহার করা না জায়েজ বা বিদআত নয়। তবে হাতের আঙ্গুল দ্বারা গণনা করা উত্তম দলীলসহ এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন রাহে বেলায়াত ২৩০-২৩৩ পৃষ্ঠা। ২। কোন ব্যক্তি যদি মাটিতে বসে ইশারায় রুকু সাজদা দিয়ে সালাত আদায় করতে পারে তাহলে সে মাটিতে বসেই ইশারাতে রুকু সাজদা দিয়ে সালাত আদায় করবে। আর যদি দাঁড়াতে পারে কিন্তু রুকু সাজদা দিতে পারে না সে ব্যক্তি প্রসিদ্ধ ও গ্রহনযোগ্য মতানুযায়ী দাঁড়িয়ে ইশারাতে রুকু সাজদা দিয়ে সালাত আদায় করবে। দাঁড়িয়ে কিংবা মাটিতে বসে ইশারায় রুকু সাজদা দিয়ে যে ব্যক্তি সালাত আদায় করতে পারবে না সে ব্যক্তিই শুধু চেয়ারে বসে সালাত আদায় করতে পারে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন, শায়খ আব্দুল মালেক হাফিজাহুল্লাহ লিখিত এই প্রবন্ধটি চেয়ারে বসে নামায : একটি প্রশ্ন ও তার উত্তর (দারুল উলূম করাচী-এর নতুন ফতওয়ার আলোকে)। মাসিক আলকাউসার, এপ্রিল ২০১৩। আপনি এভাবে বিষয়টি চিন্তা করুন।

প্রশ্নঃ 1097
১. আমার মনে মাঝেমধ্যে শিরকী, কুফরী চিন্তা-ভাবনা উদয় হয়। আবার যখন আল্লাহ পাকের কথা স্মরণ করি তখন কেমন যেন একটা ছবি আমার চোখে ভেসে ওঠে। কিন্তু আমিতো জানি আল্লাহ পাকের কোনো ছবি-মুর্তি নেই। আমি বুঝতে পারি যে, এগুলো বিশ্বাস করলে আমার ঈমান ধ্বংস হয়ে যাবে। আমার প্রশ্ন হছে যে, যখন এই বিষয়গুলি যখন আমার মনে আসে তখন আমার ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে কিনা? ২. আমরা যারা সাধারণ মুসলিম অনেকেই ছোট শিরকের মধ্যে ডুবে আছি। তো প্রশ্ন হচ্ছে যে, বারবার অনিচ্ছাকৃতভাবে শিরক করে যদি প্রতিবারই তাওবা করি তাহলে কি মহান আল্লাহ মাফ করবেন?
04 Jan 2026

কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী চলার চেষ্টা করুন। এইসব চিন্তা, প্রশ্ন একদম মাথায় আনবেন না, আপনার ইমান ঠিকই আছে, আপনি সঠিক পথের উপর আছেন। তওবা যদি নির্ভেজাল মনে করে তাহলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন তবে প্রানপণ চেষ্টা করবেন যেন পূনরায় পাপ কাজে না জড়ান।

প্রশ্নঃ 1038
আস-সালামু আলাইকুম, ওজুর সময় ঘাড় মাসেহ করা সুন্নাহ না বিদআত? রেফারেন্স সহ উত্তরটা দিলে খুবই উপকৃত হতাম। জাযাকাল্লাহ খাইরান
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। স্যার রহ. বেঁচে থাকাকালীন এই বিষয়ে তাঁর তত্বাবধানে একটি প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছিল । প্রশ্ন নং ১৮৮। সেটা এখানে দিয়ে দিলাম। ঘাড় মাসেহ করার ব্যাপারে কয়েকটি দূর্বল হাদীস বর্ণিত আছে। তার একটি হলো, قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من توضأ ومسح عنقه لم غل بالأغلال يوم القيامة অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি ওযু করবে এবং ঘাড় মাসেহ করবে কিয়ামতের দিন তাকে শিকল পরানো হবে না। তারীখ আসবাহান, ১/২৪২। এই বিষয়ে বিভিন্ন হাদীসের বিশ্লেষন শেষে মোল্লা আলী কারী হানাফী রাহ. বলেন, قال أئمتنا إن مسح الرقبة مستحب أو سنة অর্থ: আমাদের ইমামগণ বলেছেন, ঘাড় মাসেহ করা মুস্তাহাব অথবা সুন্নাত। আল-আসরারুল মারফুয়াহ, পৃষ্ঠা- ৩১৫। কোন কোন আলেম বিদআত বলেছেন। তবে দলিলের আলোকে বিদআত নয় বলেই মনে হয়।

প্রশ্নঃ 1037
হুজুর ভাল আছেন আমার নানা মারা গেছেন আমার মামারা ৪০ দিনের দীন জানা জার সব মানুষ কে খানা খাওয়াবে অনেক ব লছে এটা নাকি বেদাত আমরা এখন কি করব আপনি আমাকে একটা পরমশ দিবেন
04 Jan 2026

আলহামদুলিল্লাহ। হ্যাঁ, এটা বিদআত। এই জঘন্য বিদআত থেকে দূরে থাকা আবশ্যক। মূমিনের জন্য প্রত্যেকটি কাজে সুন্নাতের অনুসরণ করা জরুরী। রাসূলুল্লাহ সা., তাঁর সহাবী, তাবেয়ী এবং তাবে তাবেয়ীদের যুগে মানুষ মারা গেলে আমাদের দেশের মত খানাপিনার কোন আয়োজন করা হতো না। এমনকি কারো ইন্তেকালের পর তাঁরা তার জন্য দোয়া করার উদ্দেশ্যেও কোথাও একত্র হননি। সুতরাং খানার আয়োজন করা, খান খাওয়া সুন্নাত নয়। কুরআনে কারীমে মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। হাদীস শরীফে মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা, দোয়া ও দান-সদকা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তাঁদের উদ্দেশ্যে জীবিত ব্যক্তির এ সকল কর্মের সাওয়াব তারাঁ লাভ করবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মৃত ব্যক্তির দায়িত্বে হজ্জ পালন বাকী থাকলে তা তাঁর পক্ষ থেকে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, وَالَّذِينَ جَاؤُو مِن بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالإِيمَانِ وَلا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلاًّ لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَّحِيمٌ অর্থ: (মূমিনদের থেকে যারা মারা যায় )তাদের পরে যারা দুনিয়াতে আসবে তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের এবং যারা ঈমাণের সাথে আমাদের অগ্রগামী হয়েছে তাদের ক্ষমা করে দাও আর আমাদের হৃদয়ে মূমিনদের ব্যাপারে কোন বিদ্বেষ সৃষ্টি করো না। নিশ্চয় আপনি সহনশীল দয়াময়। সূরা হাশর, আয়াত ১০। হাদীস শরীফে আছে, বুরদাতা রা. বলেন, كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ يُعَلِّمُهُمْ إِذَا خَرَجُوا إِلَى الْمَقَابِرِ ، كَانَ قَائِلُهُمْ يَقُولُ : السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ ، نَسْأَلُ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ রাসূলুল্লাহ সা. মানুষদেরকে শিক্ষা দিতেন, যখন তারা কবরের কাছে যাবে তখন বলবে, হে মূমিন, মুসলিম ঘরবাসী তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ চাহে তো আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হবো। আমরা আমাদের জন্য এবং তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৫৪৭। শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আবু হুরয়রা রা. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, إذا مات الإنسان انقطع عنه عمله إلا من ثلاثة إلا من صدقة جارية أو علم ينتفع به أو ولد صالح يدعو له যখন মানুষ মারা যায় তখন তার আমল তার বন্ধ হয়ে যায় তবে তিনটি ( আমল চলতে থাকে), সাদকায়ে জারিয়া, উপকারী ইলম (জ্ঞান), সৎ সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৬৩১। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা.বলেন, ، أَنَّ رَجُلاً قَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أُمِّي افْتُلِتَتْ نَفْسَهَا وَأُرَاهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ أَفَأَتَصَدَّقُ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ تَصَدَّقْ عَنْهَا একজন লোক নবী সা. কে বললেন, আমার আম্মা মারা গেছেন। আমি ধারণা করছি যদি তিনি কথা বলতে পারতেন তাহলে দান সাদকা করতেন। আমি কি তার জন্য দান করবো? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, হ্যাঁ, তাঁর জন্য দান করো। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৬০। অন্য আরেকটি হাদীসে আছে, أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُم ، أَخَا بَنِي سَاعِدَةَ تُوُفِّيَتْ أُمُّهُ وَهْوَ غَائِبٌ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ أُمِّي تُوُفِّيَتْ وَأَنَا غَائِبٌ عَنْهَا فَهَلْ يَنْفَعُهَا شَيْءٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ بِهِ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ قَالَ فَإِنِّي أُشْهِدُكَ أَنَّ حَائِطِي الْمِخْرَافَ صَدَقَةٌ عَلَيْهَا সাদ ইবনে উবাদা রা. এর অনুপস্থিতিতে তাঁর আম্মা মারা গেলেন। তিনি নবী সা. এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার অনুপস্থিতিতে আমার আম্মা মারা গিয়েছেন, যদি আমি তার জন্য কোন কিছু সাদকা করি তাহলে কি তা তাঁর কোন উপকারে আসবে? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, তাহলে আমি আপনাকে সাক্ষী করে বলছি, মিখরাফের আমার বড় খেজুর বাগানটি তার জন্য দান করে দিলাম। সহীহ বুখারী,হাদীস নং ১৭৬২। জামে তিরমিযী, হাদীস নং৩৬৫০। তিরমিযীতে হাদীসটি একটু বিস্তারিত বর্ণিত আছে। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, মানুষ মারা গেলে বাড়িতে আনুষ্ঠানিক কোন খাওয়া দাওয়ার আয়োজন সুন্নাহ সম্মত নয়। আর সুন্নাতের বাইরের কোন কাজের দ্বারা সওয়াবের আশা করা যায় না।আর যদি সওয়াব হয়ও তবুও ঐ এক বেলা খাওয়ানোর সওয়াব অথচ হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ সা. আমাদেরকে সদকায়ে জারিয়ামূলক দান সাদকার কথা বলেছেন। আর ৪০ দিন করা স্পষ্ট বিদআত। আপনার প্রশ্নের উত্তরে বলছি, এই ধরনের সুন্নাহ বিরোধী, বিদআত কাজ বর্জন করুন। সুন্নাহের দিকে ফিরে আসুন। এ সম্পর্কে শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. বলেছেন, মৃত্যু পরবর্তী জীবনের সফলতা, মুক্তি, শান্তি ও নেয়ামত লাভের ইচ্ছা ও চেষ্টা সকল ধর্মের অনুসারিগণই করেন। এই জাতীয় সকল কর্ম একান্তই ধর্মীয় ও বিশ্বাসভিত্তিক। বিভিন্ন জাতির মধ্যে ধর্মহীনতা ও অজ্ঞানতার প্রসারের ফলে এ বিষয়ে অনেক কুসংস্কার ও উদ্ভট ধারণা বিরাজমান। যেমন, অনেক সমাজে মনে করা হয়, মৃতের জীবত আত্মীয়স্বজনের দান, খাদ্য প্রদান বা কিছু অনুষ্ঠান পালনের উপরে মৃতব্যক্তির পারলৌকিক মুক্তি নির্ভরশীল। ইসলামে এ সকল কুসংস্কারের মূলোৎপাটন করা হয়েছে। ইসলামের শিক্ষা অনুসারে মানুষের পারলৌকিক মুক্তি, শান্তি ও সফলতা নির্ভর করে তার নিজের কর্মের উপরে। সৎকর্মশীল মানুষের মৃত্যুর পরে বিশ্বের কোথাও কিছু না করা হলে, এমনকি তাঁর দেহের সৎকার করা না হলেও তাঁর কিছুই আসে যায় না। অপরদিকে জীবদ্দশায় যিনি শিরক, কুফর, ইসলাম বিরোধিতা, ইসলামের বিধিনিষেধের ও ইসলামী কর্ম ও আচরণের প্রতি অবজ্ঞা, জুলুম, অত্যাচার, অবৈধ উপার্জন, ফাঁকি, ধোঁকা ইত্যাদিতে লিপ্ত থেকেছেন তার জন্য তার মৃত্যুর পরে বিশ্বের সকল মানুষ একযোগে সকল প্রকার শ্রাদ্ধ, অনুষ্ঠান, প্রার্থনা ইত্যাদি করলেও তার কোনো লাভ হবে না। তবে যদি কোনো ব্যক্তি বিশুদ্ধ ঈমানসহ ইসলামের ছায়াতলে থেকে সৎকর্ম করে মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে জীবিত ব্যক্তিগণ তাঁর জন্য প্রার্থনা করলে প্রার্থনার কারণে দয়াময় আল্লাহ তাঁর সাধারণ অপরাধ ক্ষমা করতে পারেন বা তাকে সাওয়াব ও করুনা দান করতে পারেন। এছাড়া এই ধরনের মানুষের কল্যাণের উদ্দেশ্যে কোনো জীবিত মানুষ দান বা জনকল্যাণমূলক কর্ম করলে সেই কর্মের সাওয়াব করুনাময় আল্লাহ উক্ত মৃতব্যক্তিকে প্রদান করতে পারেন। এই ধরনের কর্মকে সাধারণত আরবিতে ঈসালে সাওয়াব ও ফারসিতে সাওয়াব রেসানী বলা হয় যার অর্থ: সাওয়াব পৌঁছানো। তাহলে আমরা দেখছি যে, মানুষের মুক্তি নির্ভর করে মূলত নিজের কর্মের উপর। তবে বিশুদ্ধ ঈমানদার সৎ মানুষদের জন্য দোয়া ও দান করা যায়। কুরআন কারীমে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। হাদীস শরীফে মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা, দোয়া ও দান-সদকা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের উদ্দেশ্যে জীবিত ব্যক্তির এ সকল কর্মের সাওয়াব তাঁরা লাভ করবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মৃতের দায়িত্বে হজ্জপালন বাকি থাকলে তা তাঁর পক্ষ থেকে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এগুলি সাধারণ নির্দেশনা ও ফযীলতমূলক হাদীস। এখন আমাদের দেখতে হবে রাসূলুল্লাহ r ও তাঁর সাহাবায়ে কেরাম এই ফযীলতের কর্মটি কী-ভাবে পালন করেছেন। অর্থাৎ এই কর্মটির ক্ষেত্রে সুন্নাত কী তা জানতে হবে। এখানে উল্লেখ্য যে, দোয়া বা দান-সদকার জন্য কোনো প্রকার সমাবেশ, অনুষ্ঠান বা দিন তারিখের কোনো প্রকারের ফযীলত বা গুরুত্ব আছে সে কথা কোনো হাদীসে কখনো বলা হয়নি। এছাড়া কুরআন খতম, কালেমা খতম ইত্যাদি ইবাদত পালন করে মৃত ব্যক্তিদের জন্য সাওয়াব দান করলে তাঁরা এ সকল ইবাদতের সাওয়াব পাবেন বলে কোনো হাদীসে কোনো প্রকারে বলা হয়নি। রাসূলুল্লাহ সা. ও সাহাবীদের যুগে কারো ইন্তেকালের পরে তার জন্য দোয়া করার উদ্দেশ্যে পরবর্তী সময়ে কখনো কোনোভাবে তাঁরা জমায়েত হননি। কারো মৃত্যু হলে নিকটাত্মীয়গণের জন্য তিনি দিন শোক প্রকাশের বিধান রয়েছে ইসলামের। এই তিন দিনে সমাজের মানুষেরা মৃতের আত্মীয়গণকে সমবেদনা জানাতে ও শোক প্রকাশ করতে তাঁদের বাড়িতে আসতেন। এছাড়া মৃত ব্যক্তির জানাযার নামাযের ও দাফনের পরে আর কখনো তাঁকে কেন্দ্র করে ৩ দিনে, ৭ দিনে, ৪০ দিনে বা মৃত্যুদিনে বা অন্য কোনো সময়ে মাসিক, বাৎসরিক বা কোনোভাবে তাঁর কবরের কাছে, অথবা বাড়িতে বা অনুষ্ঠানকারীর বাড়িতে বা অন্য কোথাও কোনোভাবে তাঁরা কোনো অনুষ্ঠান করেননি বা কোনো জমায়েতও করেননি। মৃত ওলী, প্রিয়জন বা বুজুর্গের জন্য দোয়া ও ঈসালে সাওয়াবের ক্ষেত্রে তাঁদের সুন্নাত ছিল ব্যক্তিগতভাবে দোয়া করা এবং সুযোগ সুবিধা ও আগ্রহ অনুযায়ী ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের জন্য দান-সাদকা ও হজ্ব ওমরা বা কুরবানি করা। সুযোগমত কোন প্রকারের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া তাঁদের কবর যিয়ারত করে তাঁদেরকে সালাম দেওয়া ও তাঁদের জন্য দোয়া করা। রাসূলুল্লাহ সা. -এর ইন্তেকালের পরে প্রায় একশত বৎসরের মধ্যে খুলাফায়ে রাশেদীন ও সাহাবীগণ একটিবারও তাঁর কুলখানী, ইসালে সাওয়াব, ওরস ইত্যাদি উপলক্ষ্যে তাঁর ওফাত দিনে বা অন্য কোনো দিনে, কোনো রকম দিন নির্ধারণ করে বা না-করে, মদীনায় বা অন্য কোথাও কখনোই কোনো অনুষ্ঠান, সমাবেশ, মাহফিল, খানাপিনা কিছুই করেননি। মৃত বুজুর্গ বা প্রিয়জনদের জন্য দোয়া করার ও সাওয়াব প্রেরণের আগ্রহ ও প্রয়োজনীয়তা তাঁদের ছিল। এবিষয়ের হাদীসগুলি তাঁরা জানতেন। এজন্য জমায়েত হওয়া, বিভিন্ন দিনে, নিয়মিত বা অনিয়মিত মৃতের কবরে, বাড়িতে বা অন্য কোথাও কোনো অনুষ্ঠান করা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল। কিন্তু কখনই তাঁরা তা করেননি। তাঁরা সকল প্রকারের জমায়েত, আনুষ্ঠানিকতা বর্জন করেছেন। কোনো প্রকারের দিন তারিখ মাস বার পালন-করা বর্জন করেছেন। সকল প্রকারের কুলখানী, ওরস, জমায়েত বা অনুষ্ঠান তাঁরা বর্জন করেছেন। তাঁরা ব্যক্তিগত ও অনানুষ্ঠানিক দোয়া ও দানকেই এ সকল ক্ষেত্রে একমাত্র পদ্ধতি বলে মনে করেছেন। প্রকৃতপক্ষে মৃত বুজুর্গ বা প্রিয়জনের জন্য সদা সর্বদা সুযোগ ও আবেগ অনুসারে দোয়া করাই ছিল তাঁদের স্থায়ী ও নিয়মিত সুন্নাত। এছাড়া কোনো কিছুই তাঁরা নিয়মিত করেননি। কারো পিতামাতা বা কোনো আপনজন ইন্তিকাল করলে হয়ত ইন্তিকালের পরেই তাঁদের জন্য কিছু দান করেছেন, জমি ওয়াকফ করেছেন বা অনুরূপ জনকল্যণমূলক কোনো কাজ করেছেন। কেউ বা তাঁদের হজ্ব বাকি থাকলে হজ্ব আদায় করে দিয়েছেন। কখনো মৃত ব্যক্তির বন্ধুদেরকে হাদিয়া প্রদান করেছেন বা ছাগল জবেহ করে তার গোশত তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে তাদেরকে ইকরাম করেছেন মৃত ব্যক্তির ইকরামের অংশ হিসেবে। ঈসালে সাওয়াব বা মৃতের জন্য সাওয়াব প্রেরণের জন্য সর্বদা দোয়া করাই ছিল তাঁদের নিয়মিত সুন্নাত। এখন আমাদের সমাজে মৃতব্যক্তিদের জন্য দোয়ার উদ্দেশ্যে অথবা তাদের জন্য দান-সদকার সময়ে বিভিন্ন পদ্ধতিতে আমরা জমায়েত হই ও অনুষ্ঠান করি। এ সকল অনুষ্ঠান নিঃসন্দেহে খেলাফে-সুন্নাত বা সুন্নাত বিরোধী। বিভিন্ন ওজর ও অজুহাতের এগুলি জায়েয বলা হয়েছে। কিন্তু অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে যে, কেউ যদি পূর্ণ সুন্নাত অনুযায়ী অনানুষ্ঠানিকভাবে দান-সাদকা ও দোয়া করেন তাহলে অনেক মুসলমান তাঁর কর্মকে খুবই অপছন্দ করবেন। এভাবে তাঁরা রাসূলুল্লাহ সা. -এর সুন্নাতকে অপছন্দ করছেন। এহ্ইয়াউস সুনান, পৃষ্ঠা ৩৮৮-৩৯১। বিস্তারিত জানতে এই বইটির ৩৮৮-৩৯৯ পৃষ্ঠা দেখুন।

প্রশ্নঃ 1023
আসসালামু আলাইকুম! ইসলামে পায়ে ধরে সালাম করার নিয়ম আছে কী? কাউকে না করলেও নিজের মা বাবাকে করা যাবে কী বা কাকে করা যাবে? কারণ মায়ের পায়ের নিচে তো সন্তানের বেহেশত। কোরআন ও হাদীসের আলোকে জানা্লে উপকৃত হবো।
03 Jan 2026

এই বিষয়ে শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীল রহ. এহ্ইয়াউস সুনান বইয়ে বলেছেন, কদমবুসীর রীতি: একজন মুসলমানের সাথে অন্যের দেখা হলে সালাম দেওয়া বা আস-সালামু আলাইকুম বলা ও উত্তর প্রদান করা ইসলামী সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ সা. -এর দরবারে তাঁর ২৩ বৎসরের নবুয়তী জিন্দেগিতে তাঁর লক্ষাধিক সাহাবীর কেউ কেউ দুই একবার এসেছেন। কেউ কেউ সহস্্রাধিকবার এসেছেন। এসকল ক্ষেত্রে তাঁদের সুন্নাত ছিল সালাম প্রদান। কখনো কখনো দেখা হলে তাঁরা সালামের পরে হাত মিলিয়েছেন, বা মুসাফাহা করেছেন। দুএকটি ক্ষেত্রে তাঁরা একজন আরেক জনের হাতে বা কপালে চুমু খেয়েছেন বা কোলাকুলি করেছেন। যয়ীফ বা অনির্ভরযোগ্য কয়েকটি ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনায় দেখা যায় কেউ রাসূলুল্লাহ সা. -এর পায়ে চুমু খেয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সা. ২৩ বৎসরের নবুয়তী জিন্দেগিতে লক্ষ মানুষের অগণিতবার আগমনেরে ঘটনার মধ্যে মাত্র ৪/৫টি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। সেই বর্ণনাগুলি প্রায় সবই যয়ীফ বা দুর্বল ও অনির্ভরযোগ্য। এ সকল ঘটনায় কোনো সুপরিচিত সাহাবী তাঁর পদচুম্বন করেননি, করেছেন নতুন ইসলাম গ্রহণ করতে আসা কয়েকজন বেদুঈন বা ইহুদি, যারা দরবারে থাকেনি বা দরবারের আদব ও সুন্নাত জানত-না। আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, ফাতেমা, বেলাল (রা) ও তাঁদের মতো অগণিত প্রথম কাতারের শত শত সাহাবী প্রত্যেকে ২৩ বৎসরে কমপক্ষে ১০ হাজার বার তাঁর দরবারে প্রবেশ করেছেন। কিন্তু কেউ কখনো একবারও তাঁর কদম মুবারকে চুমু খাননি বা সেখানে হাত রেখে সেই হাতে চুমু খাননি। কাজেই উপরোক্ত ৩/৪টি ব্যতিক্রম ঘটনার আলোকে বড়জোর পায়ে চুমু খাওয়া জায়েয বলা যেতে পারে। আমরা বলতে পারি বিশেষ ক্ষেত্রে আবেগের ফলে বা ক্ষমা চাওয়ার জন্য যদি কেউ কারো পা জড়িয়ে ধরে বা পায়ে চুমু খায় তা না-জায়েয হবে না। কিন্তু এই লক্ষ লক্ষ ঘটনার মধ্যে ব্যতিক্রম ৩/৪ টি ঘটনাকে যদি আমরা সুন্নাত মনে করি তাহলে নিঃসন্দেহে তা মূল সুন্নাতকে নষ্ট করবে। যা আমাদের সমাজে ঘটছে। অনেককেই মুখে সালাম দেওয়ার চেয়ে কদমবুছির গুরুত্ব বেশি প্রদান করি। অনেকে কদমবুছিকেই সালাম করা বলি। অনেকে মুখে সালাম প্রদান করি-না শুধু কদমবুছি করি। একবার চিন্তা করুন। রাসূলুল্লাহ সা. -এর ২৩ বৎসরের নবুয়তী জীবনের প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অগণিত ভক্ত সাহাবী তাঁর দরবারে আসছেন। দরবারে বসে আছেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সা., আল্লাহর মহত্ত্বম শ্রেষ্ঠতম খলীল ও হাবীব, যার ভক্তি ও ভালবাসা আল্লাহর কাছে নাজাতের অন্যতম ওসীলা। তাঁর দরবারে আসছেন মানব ইতিহাসের অতুলনীয় ভক্তবৃন্দ, যারা জীবনের ঊর্ধ্বে ভালবেসেছেন, ভক্তি করেছেন ও সম্মান প্রদর্শন করেছেন রাসূলুল্লাহ সা. -কে। এই দরবারের এসব আগন্তুকের কেউই কদমবুসী বা কমদমুছি করছেন না। সবাই এসে সালাম দিয়ে দরবারে বসছেন। সালাম দিয়ে দরবার ত্যাগ করছেন। কখনো হয়ত মোসাফাহা হচ্ছে। এই হলো দরবারে নববী। ২৩ বৎসরের দরবারে শুধুমাত্র তিন চার জন্য নবাগত, দরবারের সুন্নাতের সাথে অপরিচিত মানুষ পায়ে চুমু খেয়েছেন বলে কোনো কোনো হাদীসে জানা যায়। এবার আমাদের একটি দরবার বা মাজলিস চিন্তা করি। দরবারে বসে আসেন একজন ধর্মীয় নেতা, দরবারে প্রতিদিন আসছেন অগণিত ভক্ত। প্রতিটি আগন্তুক আগমনের সঙ্গে সঙ্গে সালাম করছেন, মুসাফাহা করছেন, এরপর হাতে বা পায়ে চুমুখাচ্ছেন। প্রতিটি আগন্তুক বা অধিকাংশ আগন্তুক ভক্তির প্রাবল্যে ও মুক্তির আকুতিতে নেতার পদযুগর স্পর্শ করে নিজেকে ধন্য করছেন।দুটি দরবারের চিত্র কি এক হলো? একজন সুন্নাত প্রেমিক সুন্নী মুসলিমের মনে কি কষ্ট লাগবে-না যে রাসূলে আকরামের সা. দরবারের সুন্নাত নষ্ট হয়ে মৃত্যবরণ করছে দেখে। আমাদের কেউ হয়ত বলবেন : অসুবিধা কি? সালাম তো প্রচলিত আছেই। আমরা শুধু অতিরিক্ত একটি জায়েয কাজ প্রচলন করেছি। সুন্নাত প্রেমিকের কাছে অনেক অসুবিধা আছে। জায়েয কাজকে সুন্নাত বা রীতিতে পরিণত করার ফলে রাসূলুল্লাহ সা. -এর দরবারের সুন্নাতটি মৃত্যুবরণ করেছে। তাঁর দরবারের পরিপূর্ণ সুন্নাতটি এখন অর্ধেক সুন্নাতে পরিণত হয়েছে। তাঁর ১৬ আনা আমাদের কাছে ৮ আনা হয়ে গেল! আমরা এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছি যে, এ সকল দরবারে বা সমাজের কোথাও যদি কেউ যদি নবীজির সা. দরবারের পরিপূর্ণ সুন্নাতের উপর আমল করে, অর্থাৎ সাহাবীদের মতো শুধু সালাম করে দরবারে বসে পড়ে বা মাঝে মাঝে মুসাফাহা করে, তাহলে তাকে শুধু অপূর্ণ নয় বরং খারাপ মনে করা হবে। এখন চিন্তা করুন আমরা রাসূলুল্লাহ সা. -এর সুন্নাত অপছন্দ করার ক্ষেত্রে কোথায় চলে গেছি! হয়ত আমাদের কারো একথাও মনে হতে পারে : কী আশ্চর্য, শ্রেষ্ঠ নবী, শ্রেষ্ঠ হাদী, শ্রেষ্ঠ মুরশিদ আল্লাহর খলীল ও হাবীব মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা., যার ভক্তি ও ভালবাস ঈমান ও নাজাত তাঁকে কদমবুছি বা কদমমুছি করছেন-না আবু বকর, ওমর, ওসমান, আলী, আবু হুরাইরা, সালমান, আবু দারদা, বিলাল ও অগণিত মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণ (রাদিআল্লাহু আনহুম), এমনকি তাঁর আহলে বাইত, তাঁর কলিজার টুকরা সন্তানগণ, ফাতেমা, হাসান, হুসাইন কেউই তাঁর কদমবুছি বা কদম মুছি করছেন না। তাঁরা আবার কেমন ভক্ত, কেমন মুহেব্বীন? লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ! প্রথম যুগের মহান অনুসারীরা সুন্নাত ও জায়েযের পার্থক্য বুঝতেন। সুন্নাতের স্তর বুঝতেন। সাহাবীদের দরবার দেখুন। আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, হাসান, হুসাইন (রাদিআল্লাহু আনহুম) প্রমুখ হাজার হাজার সাহাবীর দরবার দেখুন। সালামই পরিপূর্ণ সুন্নাত। উপরের দুই চারিটি ঘটনার উপর নির্ভর করে কোথাও তাঁরা পায়ে চুমু খাওয়ার প্রচলন করেননি। প্রথম যুগের তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীগণের অবস্থাও তা-ই ছিল। এহইয়াস সুনান, পৃষ্ঠা, ৩৮৬-৩৮৮। পিতা-মাতার ক্ষেত্রেও একই হুকুম। আল্লাহ তায়ালা ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1000
আসসালামু আলাইকুম! চট্টগ্রামে মানুষের মৃত্যুর পর ৪দিনের ফাতেহা বা চল্লিশ দিনের ফাতেহা (গরু জবা্খই করে খাওয়ানো) হয়। এটা সম্পর্কে ইসলামের বিধান কি? এটা যায়েজ কী? দয়া করে কোনআন বা হাদীসের আলোকে জানালে উপকৃত হবো।
03 Jan 2026

এই সব অনুষ্ঠান করা সুন্নাহ ভিরোধী কাজ। রাসূলু্ল্লাহ সা. ও তার সাহাবীগণ এসব করেন নি। এ সম্পর্কে শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. বলেছেন, মৃত্যু পরবর্তী জীবনের সফলতা, মুক্তি, শান্তি ও নেয়ামত লাভের ইচ্ছা ও চেষ্টা সকল ধর্মের অনুসারিগণই করেন। এই জাতীয় সকল কর্ম একান্তই ধর্মীয় ও বিশ্বাসভিত্তিক। বিভিন্ন জাতির মধ্যে ধর্মহীনতা ও অজ্ঞানতার প্রসারের ফলে এ বিষয়ে অনেক কুসংস্কার ও উদ্ভট ধারণা বিরাজমান। যেমন, অনেক সমাজে মনে করা হয়, মৃতের জীবত আত্মীয়স্বজনের দান, খাদ্য প্রদান বা কিছু অনুষ্ঠান পালনের উপরে মৃতব্যক্তির পারলৌকিক মুক্তি নির্ভরশীল। ইসলামে এ সকল কুসংস্কারের মূলোৎপাটন করা হয়েছে। ইসলামের শিক্ষা অনুসারে মানুষের পারলৌকিক মুক্তি, শান্তি ও সফলতা নির্ভর করে তার নিজের কর্মের উপরে। সৎকর্মশীল মানুষের মৃত্যুর পরে বিশ্বের কোথাও কিছু না করা হলে, এমনকি তাঁর দেহের সৎকার করা না হলেও তাঁর কিছুই আসে যায় না। অপরদিকে জীবদ্দশায় যিনি শিরক, কুফর, ইসলাম বিরোধিতা, ইসলামের বিধিনিষেধের ও ইসলামী কর্ম ও আচরণের প্রতি অবজ্ঞা, জুলুম, অত্যাচার, অবৈধ উপার্জন, ফাঁকি, ধোঁকা ইত্যাদিতে লিপ্ত থেকেছেন তার জন্য তার মৃত্যুর পরে বিশ্বের সকল মানুষ একযোগে সকল প্রকার শ্রাদ্ধ, অনুষ্ঠান, প্রার্থনা ইত্যাদি করলেও তার কোনো লাভ হবে না। তবে যদি কোনো ব্যক্তি বিশুদ্ধ ঈমানসহ ইসলামের ছায়াতলে থেকে সৎকর্ম করে মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে জীবিত ব্যক্তিগণ তাঁর জন্য প্রার্থনা করলে প্রার্থনার কারণে দয়াময় আল্লাহ তাঁর সাধারণ অপরাধ ক্ষমা করতে পারেন বা তাকে সাওয়াব ও করুনা দান করতে পারেন। এছাড়া এই ধরনের মানুষের কল্যাণের উদ্দেশ্যে কোনো জীবিত মানুষ দান বা জনকল্যাণমূলক কর্ম করলে সেই কর্মের সাওয়াব করুনাময় আল্লাহ উক্ত মৃতব্যক্তিকে প্রদান করতে পারেন। এই ধরনের কর্মকে সাধারণত আরবিতে ঈসালে সাওয়াব ও ফারসিতে সাওয়াব রেসানী বলা হয় যার অর্থ: সাওয়াব পৌঁছানো। তাহলে আমরা দেখছি যে, মানুষের মুক্তি নির্ভর করে মূলত নিজের কর্মের উপর। তবে বিশুদ্ধ ঈমানদার সৎ মানুষদের জন্য দোয়া ও দান করা যায়। কুরআন কারীমে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। হাদীস শরীফে মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা, দোয়া ও দান-সদকা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের উদ্দেশ্যে জীবিত ব্যক্তির এ সকল কর্মের সাওয়াব তাঁরা লাভ করবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মৃতের দায়িত্বে হজ্জপালন বাকি থাকলে তা তাঁর পক্ষ থেকে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এগুলি সাধারণ নির্দেশনা ও ফযীলতমূলক হাদীস। এখন আমাদের দেখতে হবে রাসূলুল্লাহ r ও তাঁর সাহাবায়ে কেরাম এই ফযীলতের কর্মটি কী-ভাবে পালন করেছেন। অর্থাৎ এই কর্মটির ক্ষেত্রে সুন্নাত কী তা জানতে হবে। এখানে উল্লেখ্য যে, দোয়া বা দান-সদকার জন্য কোনো প্রকার সমাবেশ, অনুষ্ঠান বা দিন তারিখের কোনো প্রকারের ফযীলত বা গুরুত্ব আছে Ñ সে কথা কোনো হাদীসে কখনো বলা হয়নি। এছাড়া কুরআন খতম, কালেমা খতম ইত্যাদি ইবাদত পালন করে মৃত ব্যক্তিদের জন্য সাওয়াব দান করলে তাঁরা এ সকল ইবাদতের সাওয়াব পাবেন বলে কোনো হাদীসে কোনো প্রকারে বলা হয়নি। রাসূলুল্লাহ r ও সাহাবীদের যুগে কারো ইন্তেকালের পরে তার জন্য দোয়া করার উদ্দেশ্যে পরবর্তী সময়ে কখনো কোনোভাবে তাঁরা জমায়েত হননি। কারো মৃত্যু হলে নিকটাত্মীয়গণের জন্য তিনি দিন শোক প্রকাশের বিধান রয়েছে ইসলামের। এই তিন দিনে সমাজের মানুষেরা মৃতের আত্মীয়গণকে সমবেদনা জানাতে ও শোক প্রকাশ করতে তাঁদের বাড়িতে আসতেন। এছাড়া মৃত ব্যক্তির জানাযার নামাযের ও দাফনের পরে আর কখনো তাঁকে কেন্দ্র করে ৩ দিনে, ৭ দিনে, ৪০ দিনে বা মৃত্যুদিনে বা অন্য কোনো সময়ে মাসিক, বাৎসরিক বা কোনোভাবে তাঁর কবরের কাছে, অথবা বাড়িতে বা অনুষ্ঠানকারীর বাড়িতে বা অন্য কোথাও কোনোভাবে তাঁরা কোনো অনুষ্ঠান করেননি বা কোনো জমায়েতও করেননি। মৃত ওলী, প্রিয়জন বা বুজুর্গের জন্য দোয়া ও ঈসালে সাওয়াবের ক্ষেত্রে তাঁদের সুন্নাত ছিল ব্যক্তিগতভাবে দোয়া করা এবং সুযোগ সুবিধা ও আগ্রহ অনুযায়ী ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের জন্য দান-সাদকা ও হজ্ব ওমরা বা কুরবানি করা। সুযোগমত কোন প্রকারের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া তাঁদের কবর যিয়ারত করে তাঁদেরকে সালাম দেওয়া ও তাঁদের জন্য দোয়া করা। রাসূলুল্লাহ r -এর ইন্তেকালের পরে প্রায় একশত বৎসরের মধ্যে খুলাফায়ে রাশেদীন ও সাহাবীগণ একটিবারও তাঁর কুলখানী, ইসালে সাওয়াব, ওরস ইত্যাদি উপলক্ষ্যে তাঁর ওফাত দিনে বা অন্য কোনো দিনে, কোনো রকম দিন নির্ধারণ করে বা না-করে, মদীনায় বা অন্য কোথাও কখনোই কোনো অনুষ্ঠান, সমাবেশ, মাহফিল, খানাপিনা কিছুই করেননি। মৃত বুজুর্গ বা প্রিয়জনদের জন্য দোয়া করার ও সাওয়াব প্রেরণের আগ্রহ ও প্রয়োজনীয়তা তাঁদের ছিল। এবিষয়ের হাদীসগুলি তাঁরা জানতেন। এজন্য জমায়েত হওয়া, বিভিন্ন দিনে, নিয়মিত বা অনিয়মিত মৃতের কবরে, বাড়িতে বা অন্য কোথাও কোনো অনুষ্ঠান করা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল। কিন্তু কখনই তাঁরা তা করেননি। তাঁরা সকল প্রকারের জমায়েত, আনুষ্ঠানিকতা বর্জন করেছেন। কোনো প্রকারের দিন তারিখ মাস বার পালন-করা বর্জন করেছেন। সকল প্রকারের কুলখানী, ওরস, জমায়েত বা অনুষ্ঠান তাঁরা বর্জন করেছেন। তাঁরা ব্যক্তিগত ও অনানুষ্ঠানিক দোয়া ও দানকেই এ সকল ক্ষেত্রে একমাত্র পদ্ধতি বলে মনে করেছেন। প্রকৃতপক্ষে মৃত বুজুর্গ বা প্রিয়জনের জন্য সদা সর্বদা সুযোগ ও আবেগ অনুসারে দোয়া করাই ছিল তাঁদের স্থায়ী ও নিয়মিত সুন্নাত। এছাড়া কোনো কিছুই তাঁরা নিয়মিত করেননি। কারো পিতামাতা বা কোনো আপনজন ইন্তিকাল করলে হয়ত ইন্তিকালের পরেই তাঁদের জন্য কিছু দান করেছেন, জমি ওয়াকফ করেছেন বা অনুরূপ জনকল্যণমূলক কোনো কাজ করেছেন। কেউ বা তাঁদের হজ্ব বাকি থাকলে হজ্ব আদায় করে দিয়েছেন। কখনো মৃত ব্যক্তির বন্ধুদেরকে হাদিয়া প্রদান করেছেন বা ছাগল জবেহ করে তার গোশত তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে তাদেরকে ইকরাম করেছেন মৃত ব্যক্তির ইকরামের অংশ হিসেবে। ঈসালে সাওয়াব বা মৃতের জন্য সাওয়াব প্রেরণের জন্য সর্বদা দোয়া করাই ছিল তাঁদের নিয়মিত সুন্নাত। এখন আমাদের সমাজে মৃতব্যক্তিদের জন্য দোয়ার উদ্দেশ্যে অথবা তাদের জন্য দান-সদকার সময়ে বিভিন্ন পদ্ধতিতে আমরা জমায়েত হই ও অনুষ্ঠান করি। এ সকল অনুষ্ঠান নিঃসন্দেহে খেলাফে-সুন্নাত বা সুন্নাত বিরোধী। বিভিন্ন ওজর ও অজুহাতের এগুলি জায়েয বলা হয়েছে। কিন্তু অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে যে, কেউ যদি পূর্ণ সুন্নাত অনুযায়ী অনানুষ্ঠানিকভাবে দান-সাদকা ও দোয়া করেন তাহলে অনেক মুসলমান তাঁর কর্মকে খুবই অপছন্দ করবেন। এভাবে তাঁরা রাসূলুল্লাহ r -এর সুন্নাতকে অপছন্দ করছেন। এহইয়াউস সুনান, পৃষ্ঠা ৩৮৮-৩৯১। বিস্তারিত জানতে এই বইটির ৩৮৮-৩৯৯ পৃষ্ঠা দেখুন।

প্রশ্নঃ 922
স্যার… আমার মেয়ের বয়স দুই বছর। শুরু থেকেই রাতে ঘুমায় না। ঘুম পড়লেও কিছুক্ষন পর খুব কান্না করে জেগে যায়। আমি আয়তাল কুরসী, সূরা ফাতিহা,সূরা ইখলাস, ফালাক,নাস এবং সূরা বাকারার শেষের দুই আয়াত পরে ফুঁক দেই ….. কিন্তু তার পরও একই অবস্হা। তাবিজ ব্যবহার শির্ক জানি….তাই ব্যবহার করি না। দুই বছর যাবত একই অবস্তা.. অনুগ্রহ করে সাহায্য করবেন স্যার।
02 Jan 2026

আমরা দুআ করি আল্লাহ আপনার এই সমস্যা দূর করে দিন। আপনি আপনার বর্ণিত আমলগুলোর পাশাপাশি সকল বিকাল সাতবার এই দুআটি পড়ে শিশুকে ফুঁক দিবেন। রাতে যখন ঘুম ভেঙে যাবে তখনও এই দুআ বারবার পড়ে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করবেন। حَسْبِىَ اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ

প্রশ্নঃ 811
আসসালামুয়ালাইকুম। সম্প্রতি ডাঃ জাকির নায়েক এর এক প্রশ্ন উত্তর নিয়ে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মতামত দিচ্ছেন। প্রশ্নটি হচ্ছে মহানবী সাঃ এর কাছে শাফাআত চাওয়া নিয়ে। বোখারী শরীফে (তাহহিদ প্রকাশনী) আছেঃ হাদিস নং-৩৩৫। জাবির ইব্নু আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-বলেনঃ আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে, যা আমার পুর্বে কাউকেও দান করা হয়নি। (১) আমাকে এমন প্রভাব দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে যে, একমাস দূরত্বেও তা প্রতিফলিত হয়; (২) সমস্ত যমীন আমার জন্য পবিত্র ও সালাত আদায়ের উপযোগী করা হয়েছে। কাজেই আমার উম্মতের যে কোন লোক ওয়াক্ত হলেই সালাত আদায় করতে পারবে; (৩) আমার জন্য গানীমাতের মাল হালাল করে দেওয়া হয়েছে, যা আমার পূর্বে আর কারো জন্য হালাল করা হয়নি; (৪) আমাকে (ব্যাপক) শাফাআতের অধিকার দেওয়া হয়েছে (৫) সমস্ত নবী প্রেরিত হতেন কেবল তাঁদের সম্প্রদায়ের জন্য, আর আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে সমগ্র মানব জাতির জন্য। (৪৩৮, ৩১২২; মুসলিম ৫/১, হাঃ ৫২১ আহমাদ ১৪২৬৮) (আ.প্র. ৩২৩, ই.ফা. ৩২৮) প্রশ্নঃ মহানবী সাঃ এর কাছে শাফাআত চাওয়া যাবে কিনা? চাইলে শিরক হবে কিনা?
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মহানবী সা. এর কাছে শাফায়াত চাওয়া যাবে না। তেমনি অন্য কোন ওফাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছেও শাফায়াত চাওয়া যাবে না। মানুষ মারা গেলে তার কোন কিছু করার ক্ষমতা থাকে না। কারো কথাও শুনতে পারে না। সুতরাং এটিা শিরক হবে । দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন: আল-ইসলাম, সুয়াল ও জওয়াব, মুহাম্মাদ সালেহ আলমুনাজ্জিদ, ফতোয়া নং ১৩২৬২৪ (আরবী)। উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যাসহ শাফায়াত বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা, পৃষ্ঠা নং ৩২১-৩২৮।

প্রশ্নঃ 779
আসসালামু আলা ওয়ালায়কুম. আমি জানি আল্লাহতায়ালা শিরক কখনও মাফ করবেন না…। আর এটাও জানি যে যারা আল্লাহতায়ালা ব্যতীত অন্য কারোর এবাদাত করবেন তাদের আল্লাহতায়ালা জাহান্নাম এ নিক্ষেপ করবেন… এখন আমার প্রশ্ন হল যাদের কাছে আল্লাহতায়ালার তওহীদবাদের দাওয়াত পৌছবেনা তাদের কি হবে?
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রকৃতিগতভাবেই প্রতিটি মানুষের অন্তরে এটা আছে যে, সৃষ্টিকর্তা একজন আছেন। যিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। আর আল্লাহ তায়ালা সাধ্যের অতিরিক্ত কোন কিছু মানুষের উপর চাপান নি। এখন সত্যই যদি কারো কাছে ইসলামের দাওয়াত না পৌছায় অবশ্যই আল্লাহ তার প্রতি জুলুম করবেন না। এই বিষয়টি আল্লাহর উপরই ছেড়ে দিই। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফীক দিন। আমীন।

প্রশ্নঃ 761
তাবিজ, মাল্লি, অষ্টধাতু বাঁধা কি শিরক? সহীহ হাদিস কি স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা আছ যে এটা শিরক? এর সহীহ হাদীসের দলিল সহ প্রমাণ পাঠাবেন দয়া করে।
01 Jan 2026

অসংখ্য হাদীসে তাবিজ ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে, তাবিজকে শিরক বলা হয়েছে। আমি শুধু একটি হাদীস উল্লেখ করছি, বাকীগুলো ড. খোনন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত রাহে বেলায়াত বইয়ের ৬ষ্ঠ অধ্যায় থেকে জেনে নিবেন। সাহাবী উকবা ইবনে আমির আলজুহানী রা. বলেন, أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَقْبَلَ إِلَيْهِ رَهْطٌ، فَبَايَعَ تِسْعَةً وَأَمْسَكَ عَنْ وَاحِدٍ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، بَايَعْتَ تِسْعَةً وَتَرَكْتَ هَذَا؟ قَالَ: إِنَّ عَلَيْهِ تَمِيمَةً فَأَدْخَلَ يَدَهُ فَقَطَعَهَا، فَبَايَعَهُ، وَقَالَ: مَنْ عَلَّقَ تَمِيمَةً فَقَدْ أَشْرَكَ অর্থ: একদল মানুষ রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে আগমন করলেন। তিনি তাদের নয় জনের বাইয়াত গ্রহন করেন এবং একজনের বাইয়াত গ্রহন থেকে বিরত থাকেন। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি নয় জনের বাইয়াত গ্রহন করলেন কিন্তু একে পরিত্যাগ করলেন? তিনি বললেন, এর দেহে একটি তাবিজ রয়েছে । তখন তিনি তার হাত ঢুকিয়ে তাবিজটি ছিড়ে ফেলেন। এরপর তিনি বাইয়াত গ্রহন করেন এবং বলেন, যে তাবিজ ঝুলালো সে শিরক করলো। মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ১৪৪২২। হাদীসটিকে মুহাদ্দিগণ সহীহ বলেছেন। তাবিজ সংক্রান্ত বিস্তারিত জানতে উক্ত বইটি দেখুন।

প্রশ্নঃ 688
আস সালামু আলাইকুম স্যার আপনার কাছে একটি ছোট প্রশ্ন আমি কিভাবে সত্যের উপর টিকে থাকবো সমাজ আজ শিরিক বিদাতে কলুষিত এখন আমি কি করতে পারি।
31 Dec 2025

এই ভিডিওটা দেখলে আপনি উত্তর পাবেন।

প্রশ্নঃ 704
আসসালামুয়ালাইকুম। প্রশ্নঃ ঔষধ খাওয়া কিংবা ঔষধ খাওয়ার জন্য সুস্থ্য হওয়া মনে করা কি শিরক? ইসলামে ঔষধ খাওয়ার বিষয়টি বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব। আরেকটা প্রশ্নঃ স্যারের মৃত্যুরপর এইসব প্রশ্নের উত্তর কে/কারা দেন? ওনাদের পরিচিতি জানাবেন কি? আল্লাহ্ আপনাদের খেদমত কবুল করুক। আমীন।
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমু স সালাম। ঔষুধ খাওয়া বা অন্য কোন জায়েজ চিকিৎসা নেয়া কোন অন্যায় নয়। বরং সুন্নত। কোন মুসলিম এমন চিন্তা কর না যে ঔষধই তাকে ভাল করেছে। সে সব সময় মনে করে ঔষুধের মাধ্যমে আল্লাহ তাকে ভাল করেছে। হ্যাঁ, যদি কেউ মনে করে ঔষধই তাকে ভাল করেছে তাহলে শিরক হবে। স্যার রহ. ইন্তেকালের পূর্বে যারা এই দায়িত্বে ছিল তারাই আছে। তবে স্যার যে কাজ করতেন সে কাজ করেন আমাদের এখান কার আলেমগণ। বিস্তারিত জানতে 01792108768

প্রশ্নঃ 602
সালাত শেষে ঈমামের সাথে মুনাজাত করা জাবে কী. সহি আকিদার আলেমগন বলেছেন আমার রাসূল এই মুনাজাত করেননি. তাহলে আমাদের ইমাম মুনাজাত করলে আমারা কী করবো?
30 Dec 2025

আপনার ভাল না লাগলে আপনি করবেন না। বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া ২৯ নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 480
আস সালামু আলাইকুম, স্যার ১. পহেলা বৈশাখ এ মঙ্গল শোভাযাত্রায় যে মূর্তিগুলো আনা তা হয় তা পূজার উদ্দেশ্যে নয় বা এই মূর্তিগুলো থেকে কিছু চাওয়ার আশাও করা হয় না বরং মিত্র পক্ষ এবং শত্রু পক্ষের চিহ্ন হিসাবে ব্যবহার করা হয় তথাপিও এই শোভাযাত্রায় অংশগ্রহন করা শিরক কেন? ২. পহেলা বৈশাখ বা অন্যান্য সময়ে যে কোন ধরনের মুখোশ ব্যবহার করাই কি হারাম? যদি কেউ যুদ্ধের সময় কোন পশুর মুখোশ বা শিরস্ত্রানে শিং বা এই জাতীয় কিছু ব্যবহান করে, সেটা কি হারাম হবে?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

১. প্রথমত, শোভাযাত্রায় মঙ্গল হয় এই বিশ্বাস কুফরী। এটা শিরকী চিন্তা। মঙ্গলের মালিক আল্লাহ তায়ালা। শোভযাত্রার মাধ্যমে মঙ্গল হয় এটা বস্তু পূজার অন্তর্ভূক্ত। দ্বিতীয়ত, মূর্তিগুলোর কাছে চাওয়া হয় না, পূজা করা হয় না, এটা একশতভাগ ঠিক কিন্তু এটা হিন্দুদের ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ, তাই এটা হারাম হবে। বিধর্মীদের ধর্মের সাথে সাদৃশ্য হয় এমন যে কোন কিছু হারাম। এছাড়া হাদীসে আমরা যে কোন ধরনের প্রাণীর মূর্তি থেকে বিরত থাকার কথা দেখতে পায় । নিচের হাদীসগুলো লক্ষ করুন:

১.عَنْ أَبِى الْهَيَّاجِ الأَسَدِىِّ قَالَ قَالَ لِى عَلِىُّ بْنُ أَبِى طَالِبٍ أَلاَّ أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- أَنْ لاَ تَدَعَ تِمْثَالاً إِلاَّ طَمَسْتَهُ وَلاَ قَبْرًا مُشْرِفًا إِلاَّ سَوَّيْتَهُ

অর্থ: হযরত আবী হায়্যায র. বলেন, আমাকে আলী রা. বললেন, আমি কি তোমাকে এমন একটি বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করব না যে বিষয়ে রাসূল সা. আমাকে উৎসাহিত করেছেন? সেটা হলো তুমি দেখা মাত্র মূর্তি ভেঙ্গে ফেলবে আর উঁচু কবর সমান করে দিবে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৮৭।

২.قَالَ عَمْرُو بْنُ عَبَسَةَ السُّلَمِىُّ فَقُلْتُ وَبِأَىِّ شَىْءٍ أَرْسَلَكَ قَالَ ্র أَرْسَلَنِى بِصِلَةِ الأَرْحَامِ وَكَسْرِ الأَوْثَانِ وَأَنْ يُوَحَّدَ اللَّهُ لاَ يُشْرَكُ بِهِ شَىْءٌ

অর্থ: হযরত আমর ইবনে আবাসাহ আস-সুলামী রা. বলেন আমি রাসূল সা. কে বললাম, আল্লাহ তায়ালা কি দায়িত্ব দিয়ে আপনাকে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন, তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখার জন্য, মূর্তিভাঙ্গার জন্য আর আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠার জন্য যে, তার সাথে কাউকে শরীক করা হবে না। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৯৬৭।

৩.أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- ্র أَتَانِى جِبْرِيلُ فَقَالَ إِنِّى كُنْتُ أَتَيْتُكَ الْبَارِحَةَ فَلَمْ يَمْنَعْنِى أَنْ أَكُونَ دَخَلْتُ عَلَيْكَ الْبَيْتَ الَّذِى كُنْتَ فِيهِ إِلاَّ أَنَّهُ كَانَ فِى بَابِ الْبَيْتِ تِمْثَالُ الرِّجَالِ وَكَانَ فِى الْبَيْتِ قِرَامُ سِتْرٍ فِيهِ تَمَاثِيلُ وَكَانَ فِى الْبَيْتِ كَلْبٌ فَمُرْ بِرَأْسِ التِّمْثَالِ الَّذِى بِالْبَابِ فَلْيُقْطَعْ فَيَصِيرَ كَهَيْئَةِ الشَّجَرَةِ وَمُرْ بِالسِّتْرِ فَلْيُقْطَعْ وَيُجْعَلْ مِنْهُ وِسَادَتَيْنِ مُنْتَبَذَتَيْنِ يُوَطَآنِ وَمُرْ بِالْكَلْبِ فَيُخْرَجْ فَفَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- وَكَانَ ذَلِكَ الْكَلْبُ جَرْوًا لِلْحَسَنِ أَوِ الْحُسَيْنِ تَحْتَ نَضَدٍ لَهُ فَأَمَرَ بِهِ فَأُخْرِجَ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَفِى الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَأَبِى طَلْحَةَ

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, আমার নিকট জিব্রীল আ. এসে বললেন, একটু আগে আমি আপনার কাছে এসেছিলাম কিন্তু আপনার কাছে আপনার ঘরে আমাকে প্রবেশ করতে বিরত রেখেছিল ঘরের দরজায় থাকা মানুষের প্রতিমূতি, ঘরের ভিতরে থাকা ছবি যুক্ত পর্দা এবং কুকুর। সুতরাং আপনি দরজায় থাকা প্রতিমূর্তির ব্যাপারে নির্দেশ দিন যেন কেটে ফেলা হয় তখন সেটা গাছের আকৃতির মত হয়ে যাবে। আর পর্দার ব্যাপারে নির্দেশ দিন যেন তা কেটে ফেলা হয় এবং পাপোশ বানানো হয়। আর কুকুরটিকে বের করতে বলেন। তখন রাসূল সা. তা করলেন। আর কুকুরটি ছিল হাসান বা হুসাইনের, সেটি তাদের খাটের নিচে ছিল। তিনি তা বের করার নির্দেশ দিলেন আর তা বের করা হল। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৮০৬।

ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ আর শাইখ আলবানী বলেছেন, সহীহ। এই হাদীসটিতে সুস্পষ্ট যে ইবাদতের নিয়তে কিংবা ভ্রান্ত বিশ্বাস ছাড়াও কোন মূর্তি বা পুতুল রাখা যাবে না। কেননা উক্ত ঘরে কোন মূর্তি ইবাদতের জন্য বা ভ্রান্ত বিশ্বাসে যে রাখা হয়নি এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। উপরের হাদীসগুলোর ভিত্তিতে আলেমগণ একমত যে, যে কোন প্রাণীর এবং মানুষের যে কোন ধরনের পুতুল বা মূর্তি হারাম এবং শিরকের অন্তভূক্ত। তৃতীয়ত, শত্রু ও মিত্র পক্ষের চিহ্ন হিসাবে মূর্তি ব্যবহার করা এটা হিন্দুদের ধর্মের অংশ। কারণ হিন্দু ধর্ম মতে, অশুভ শক্তির বিনাশ আর ধর্ম রক্ষায় যুগে যুগে দেবতাদের আবির্ভাব হয়েছে। তেমনি অসুর কূলের হাত থেকে দেবগণকে রক্ষায় দেবী দুর্গার আগমন ঘটে। পৃথিবীতে যখনই ধর্মের গ্লানি হয় এবং পাপ বৃদ্ধি পায় তখনই দেবতারা শরীর ধারণ করে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন। তেমনি অসুর শক্তির হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে দেবতাদের তেজরশ্মি থেকে আবির্ভূত হন দেবী দুর্গা। অসুরদের অত্যাচারে দেবতাদের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। ব্রহ্মার বর পেয়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল অসুররাজ মহিষাসুর। যুদ্ধে অসুর বাহিনীর কাছে পরাস্ত হয়ে সিংহাসন হারিয়েছিলেন দেবতা ইন্দ্র। স্বর্গে দেবতাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। সমস্যার সমাধানের জন্য ভগবান বিষ্ণুর দ্বারস্থ হন দেবতারা।

কিন্তু মহিষাসুরকে রুদ্ধ করার কৌশল খুঁজে পাচ্ছিলেন না কেউই। কারণ ব্রহ্মার বর অনুযায়ী কোনো পুরুষ বা দেবতারা মহিষাসুরকে বধ করতে পারবে না। সেই কারণেই অসুর নিধনে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরের তেজ থেকে জন্ম হয় মহামায়ার। ইনিই দুর্গা। একজন দেবতা দুর্গাকে অস্ত্র দিলেন, অন্যজন দিলেন বাহন। এরপর যুদ্ধে দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করেন। (দৈনিক আমাদের সময় ১২-১০-২০১৫ইং) অর্থাৎ হিন্দুদের দেবতাদের শত্রু অসুর তথা অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে অসুরদের থেকে দেবতাদের রক্ষা করেন দেবী দুর্গা। এই কারণেই হিন্দুরা দেবী দুর্গার পূজা করেন।এখন আপনি চিন্তা করুন, শত্রু ও মিত্র পক্ষের চিহ্ন হিসাবে মূর্তি ব্যবহার করাকে আপনি কি বলবেন? এটা সুস্পষ্ট শিরক। ২। প্রয়োজনে মুখোশ ব্যবহার করা জায়েজ। যুদ্ধের ময়দানে মানুষের মুখোশ পরা যেতে পারে। কিন্তু প্রাণীর সাথে সাদৃশ্য এমন কোন মুখোশ পরা যাবে না। উপরের হাদীসগুলো থেকে স্পষ্ট।সাহাবীগণ এমন শিংসহ মুখোশ পরেছেন বলে জানা যায় না। পহেলা বৈশাখ শত শত বছর ধরে পালন হয়ে আসছে কিন্তু বৈশাখী পূজা শুরু হয়েছে অল্প কিছু দিন।আরো জানতে পড়ুন, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের লেখা প্রবন্ধ পহেলা বৈশাখ। ইন্টারনেট থেকেও পড়া যাবে আবার খুতবাতুল ইসলাম বই থেকেও পড়া যাবে। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 421
আসসালামু আলাই্কুম, আমার কিছু জরুরী প্রশ্ন ছিল, যা নিয়ে আমি বেশ কিছুদিন যাবত সমস্যার মধ্যে আছি। দয়া করে সমাধান দিয়ে আমার উপকার করবেন। ১) আমার দাদা-দাদি মাজার ভক্ত ছিলেন। উনাদের কবরে জিয়ারত করা এবং উনাদের জন্য ইস্তেগফার করা কি জায়েজ হবে? উনারা বিশ্বাস করতেন মাজার উছিলা দিয়ে আল্লাহর কাছে চাইলে অনেক কাজে সফল হওয়া যায় বা মাজারে মানত করলে পরীক্ষায় পাশ করা যায়। এসব কি শিরক? ২) নামাজের ওয়াক্তে আমি যদি এমন কোনো স্থানে থাকি যেখানের আশে পাশের মসজিদের ইমাম মাজার সমর্থক, তবে কি আমার ঐ মুহুর্তে সেই ইমামের পেছনে নামাজ পড়া জায়েজ হবে? নাকি বাসায় গিয়ে পড়ব? আমার কাছে স্পষ্ট প্রমাণ নেই ঐ ইমামরা শিরকে লিপ্ত কি না।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
মাজারের উসিলা দিয়ে আল্লাহর কাছে চাওয়া, মাজারে মান্নত করা নিঃসন্দেহ শিরকী কাজ। তবে শুধু এই কাজের জন্য আপনার দাদা-দাদী মুশরিক হয়ে যান নি, তারা না জেনে এমনটি করেছেন। সুতরাং তাদের কবার জিয়ারত করা, তাদের জন্য ইস্তেগফার করাতে কোন সমস্যা নেই। বরং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, তাদের জন্য দুআ করা আপনার দায়িত্ব। তাকফীর তথা কাফের কখন হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন, ইসলামী আকীদা, পৃষ্ঠা ৫১৭-৫২১। দ্ব্যর্থহীন শিরকে লিপ্ত হওয়ার নিশ্চিত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত এরুপ পাপী ইমামের পিছনে সালাত আদায় করতে হবে। বাড়িতে পড়া যাবে না। জামাত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে পাপী ইমামের পিছনে সালাত বিষয়ে আমাদের দেয়া অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখুন।
প্রশ্নঃ 328
মুহতারাম আসসালামু আলাইকুম। আমি বাংলাদেশের একটি ইসলামী ব্যাংকে চাকুরী করি। সুদমুক্ত ব্যাংক লেনদেনের নিয়মে পরিচালিত এই ব্যাংকে কিছু অসাধু অফিসারের কারনে সুদের লেনদেন হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ব্যাংকের উধ্বতন কর্মকর্তাগণ এই ধরনের সুদ বন্ধের ব্যপারে শিথিলতা প্রদর্শন করে। তারপর সুদের দারা অর্জিত আয় ব্যাংকের মূল আয়ের সাথে একিভুত হয়। যদিও ব্যাংকের সকল পর্যায়ের অফিসারগণ সুদের সাথে সরাসরি জড়িত নয় তবে বিষয়টা কারো অজানা নয়। অর্থাৎ প্রায় সবাই স্বীকার করে যে আমাদের আয়ের সবটুকু সুদ মুক্ত নয় এক্ষেত্রে এই ধরনের ব্যাংকে চাকুরি করা হালাল হবে কি? আর এক্ষেত্রে আমি কি করতে পারি? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
ইসলামী ব্যাংকসমূহে শরয়ী বিধিবিধান মেনে চলার সুযোগ আছে। তাই আপনি আপনার কাছের লেনদেনগুলো সুদমুক্তভাবে করুন। আপনি যদি আপনার কাজের মধ্যে সুদের কোন লেনদেন করেন তাহলে আপনার বেতন হারাম হবে না। আল্লাহ আমদের সবাইকে ইসলামী বিধিবিধান অনুযায়ী চলার তাওফীক দিন।
প্রশ্নঃ 321
আসসালামু আইলাকুম হুজুর কারো মৃত্যুর কিছু দিন পর দুয়া করা মানুষ কে দাওাত করে খাওয়ানো কি বিদাত? এর কুরআন এবং সুন্নাহ এর দলিল কি?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
কোন কাজ সুন্নাত হওয়ার জন্য শরয়ী দলীল প্রয়োজন। এই ধরনের খাওয়ানোর কথা কোন হাদীসে উল্লেখ নেই। রাসূলুল্লাহ সা. তাঁর সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাবে তাবেয়ীদের যুগে মানুষ মারা গেলে আমাদের দেশের মত খাওয়া-দাওয়ার কোন আয়োজন করা হতো না। এমনকি কারো ইন্তেকালের পর তাঁরা তার জন্য দোয়া করার উদ্দেশ্যেও কোথাও একত্র হননি। সুতরাং খানার আয়োজন করা, খান খাওয়া সুন্নাত নয়। কুরআনে কারীমে মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। হাদীস শরীফে মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা, দোয়া ও দান-সদকা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তাঁদের উদ্দেশ্যে জীবিত ব্যক্তির এ সকল কর্মের সাওয়াব তারাঁ লাভ করবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মৃত ব্যক্তির দায়িত্বে হজ্জ পালন বাকী থাকলে তা তাঁর পক্ষ থেকে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
وَالَّذِينَ جَاؤُو مِن بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالإِيمَانِ وَلا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلاًّ لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَّحِيمٌ
অর্থ: (মূমিনদের থেকে যারা মারা যায় )তাদের পরে যারা দুনিয়াতে আসবে তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের এবং যারা ঈমাণের সাথে আমাদের অগ্রগামী হয়েছে তাদের ক্ষমা করে দাও আর আমাদের হৃদয়ে মূমিনদের ব্যাপারে কোন বিদ্বেষ সৃষ্টি করো না। নিশ্চয় আপনি সহনশীল দয়াময়। সূরা হাশর, আয়াত ১০। হাদীস শরীফে আছে, বুরদাতা রা. বলেন,
كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ يُعَلِّمُهُمْ إِذَا خَرَجُوا إِلَى الْمَقَابِرِ ، كَانَ قَائِلُهُمْ يَقُولُ : السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ ، نَسْأَلُ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ
রাসূলুল্লাহ সা. মানুষদেরকে শিক্ষা দিতেন, যখন তারা কবরের কাছে যাবে তখন বলবে, হে মূমিন, মুসলিম ঘরবাসী তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ চাহে তো আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হবো। আমরা আমাদের জন্য এবং তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৫৪৭। শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আবু হুরয়রা রা. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
إذا مات الإنسان انقطع عنه عمله إلا من ثلاثة إلا من صدقة جارية أو علم ينتفع به أو ولد صالح يدعو له
যখন মানুষ মারা যায় তখন তার আমল তার বন্ধ হয়ে যায় তবে তিনটি ( আমল চলতে থাকে), সাদকায়ে জারিয়া, উপকারী ইলম (জ্ঞান), সৎ সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৬৩১। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা.বলেন,
،أَنَّ رَجُلاً قَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أُمِّي افْتُلِتَتْ نَفْسَهَا وَأُرَاهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ أَفَأَتَصَدَّقُ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ تَصَدَّقْ عَنْهَا
একজন লোক নবী সা. কে বললেন, আমার আম্মা মারা গেছেন। আমি ধারণা করছি যদি তিনি কথা বলতে পারতেন তাহলে দান সাদকা করতেন। আমি কি তার জন্য দান করবো? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, হ্যাঁ, তাঁর জন্য দান করো। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৬০। অন্য আরেকটি হাদীসে আছে,
أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُم ، أَخَا بَنِي سَاعِدَةَ تُوُفِّيَتْ أُمُّهُ وَهْوَ غَائِبٌ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ أُمِّي تُوُفِّيَتْ وَأَنَا غَائِبٌ عَنْهَا فَهَلْ يَنْفَعُهَا شَيْءٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ بِهِ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ قَالَ فَإِنِّي أُشْهِدُكَ أَنَّ حَائِطِي الْمِخْرَافَ صَدَقَةٌ عَلَيْهَا
সাদ ইবনে উবাদা রা. এর অনুপস্থিতিতে তাঁর আম্মা মারা গেলেন। তিনি নবী সা. এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার অনুপস্থিতিতে আমার আম্মা মারা গিয়েছেন, যদি আমি তার জন্য কোন কিছু সাদকা করি তাহলে কি তা তাঁর কোন উপকারে আসবে? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, তাহলে আমি আপনাকে সাক্ষী করে বলছি, মিখরাফের আমার বড় খেজুর বাগানটি তার জন্য দান করে দিলাম। সহীহ বুখারী,হাদীস নং ১৭৬২। জামে তিরমিযী, হাদীস নং৩৬৫০। তিরমিযীতে হাদীসটি একটু বিস্তারিত বর্ণিত আছে। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, মানুষ মারা গেলে বাড়িতে আনুষ্ঠানিক কোন খাওয়া দাওয়ার আয়োজন সুন্নাহ সম্মত নয়। আর সুন্নাতের বাইরের কোন কাজের দ্বারা সওয়াবের আশা করা যায় না।আর যদি সওয়াব হয়ও তবুও ঐ এক বেলা খাওয়ানোর সওয়াব অথচ হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ সা. আমাদেরকে সদকায়ে জারিয়ামূলক দান সাদকার কথা বলেছেন। আপনার প্রশ্নের উত্তরে বলছি, এই ধরনের সুন্নাহ বিরোধী কাজে অংশ গ্রহনের অর্থ হলো এই কাজকে উৎসাহিত করা সুতরাং এমন অনুষ্ঠান বর্জন করাই আপনার জন্য উত্তম। প্রচলিত সুন্নাহ বিরোধী যে কোন মিলাদ মাহফিল যাওয়া ও খাওয়া থেকে বিরত থাকা একজন মূমিনের জন্য আবশ্যক। শিয়ারা প্রথম মিলাদ শুরু করে বলে ইতিহাসে জানা যায়। বিস্তারিত জানতে পড়ুন, প্রফেসার ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত এহইয়াউস সুনান বইটির ৩৮৮ থেকে ৩৯৬ পৃষ্ঠা এবং খুতবাতুল ইসলাম বইটির ১৯নং খুতবা।
প্রশ্নঃ 317
আসসালামু আইলাকুম ১. হুজুর কারো মৃত্যুর কিছু দিন পর দুয়া করা মানুষ কে দাওাত করে খাওয়ানো কি বিদাত? এর কুরআন এবং সুন্নাহ এর দলিল কি? ২. মিলাদ এর খাবার খাওা কি হারাম? যদি হারাম হয় এবং কাউ যদি খাবার দেন কি করব? ৩. এই মিলাদ কুরআন এবং সুন্নাহ এ না থাকে তাহলে ক এই মিলাদ বানালও?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
কোন কাজ সুন্নাত হওয়ার জন্য শরয়ী দলীল প্রয়োজন। এই ধরনের খাওয়ানোর কথা কোন হাদীসে উল্লেখ নেই। রাসূলুল্লাহ সা. তাঁর সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাবে তাবেয়ীদের যুগে মানুষ মারা গেলে আমাদের দেশের মত খাওয়া-দাওয়ার কোন আয়োজন করা হতো না। এমনকি কারো ইন্তেকালের পর তাঁরা তার জন্য দোয়া করার উদ্দেশ্যেও কোথাও একত্র হননি। সুতরাং খানার আয়োজন করা, খান খাওয়া সুন্নাত নয়। কুরআনে কারীমে মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। হাদীস শরীফে মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা, দোয়া ও দান-সদকা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তাঁদের উদ্দেশ্যে জীবিত ব্যক্তির এ সকল কর্মের সাওয়াব তারাঁ লাভ করবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মৃত ব্যক্তির দায়িত্বে হজ্জ পালন বাকী থাকলে তা তাঁর পক্ষ থেকে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
وَالَّذِينَ جَاؤُو مِن بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالإِيمَانِ وَلا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلاًّ لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَّحِيمٌ
অর্থ: (মূমিনদের থেকে যারা মারা যায়) তাদের পরে যারা দুনিয়াতে আসবে তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের এবং যারা ঈমাণের সাথে আমাদের অগ্রগামী হয়েছে তাদের ক্ষমা করে দাও আর আমাদের হৃদয়ে মূমিনদের ব্যাপারে কোন বিদ্বেষ সৃষ্টি করো না। নিশ্চয় আপনি দয়ার্দ্র দয়াময়। সূরা হাশর, আয়াত ১০। হাদীস শরীফে আছে, বুরদাতা রা. বলেন,
كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ يُعَلِّمُهُمْ إِذَا خَرَجُوا إِلَى الْمَقَابِرِ ، كَانَ قَائِلُهُمْ يَقُولُ : السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ ، نَسْأَلُ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ
রাসূলুল্লাহ সা. মানুষদেরকে শিক্ষা দিতেন, যখন তারা কবরের কাছে যাবে তখন বলবে, হে মূমিন, মুসলিম ঘরবাসী তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ চাহে তো আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হবো। আমরা আমাদের জন্য এবং তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৫৪৭। শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আবু হুরয়রা রা. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
إذا مات الإنسان انقطع عنه عمله إلا من ثلاثة إلا من صدقة جارية أو علم ينتفع به أو ولد صالح يدعو له
যখন মানুষ মারা যায় তখন তার আমল তার বন্ধ হয়ে যায় তবে তিনটি ( আমল চলতে থাকে), সাদকায়ে জারিয়া, উপকারী ইলম (জ্ঞান), সৎ সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৬৩১। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা.বলেন,
،أَنَّ رَجُلاً قَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أُمِّي افْتُلِتَتْ نَفْسَهَا وَأُرَاهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ أَفَأَتَصَدَّقُ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ تَصَدَّقْ عَنْهَا
একজন লোক নবী সা. কে বললেন, আমার আম্মা মারা গেছেন। আমি ধারণা করছি যদি তিনি কথা বলতে পারতেন তাহলে দান সাদকা করতেন। আমি কি তার জন্য দান করবো? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, হ্যাঁ, তাঁর জন্য দান করো। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৬০। অন্য আরেকটি হাদীসে আছে,
أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُم، أَخَا بَنِي سَاعِدَةَ تُوُفِّيَتْ أُمُّهُ وَهْوَ غَائِبٌ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ أُمِّي تُوُفِّيَتْ وَأَنَا غَائِبٌ عَنْهَا فَهَلْ يَنْفَعُهَا شَيْءٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ بِهِ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ قَالَ فَإِنِّي أُشْهِدُكَ أَنَّ حَائِطِي الْمِخْرَافَ صَدَقَةٌ عَلَيْهَا
সাদ ইবনে উবাদা রা. এর অনুপস্থিতিতে তাঁর আম্মা মারা গেলেন। তিনি নবী সা. এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার অনুপস্থিতিতে আমার আম্মা মারা গিয়েছেন, যদি আমি তার জন্য কোন কিছু সাদকা করি তাহলে কি তা তাঁর কোন উপকারে আসবে? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, তাহলে আমি আপনাকে সাক্ষী করে বলছি, মিখরাফের আমার বড় খেজুর বাগানটি তার জন্য দান করে দিলাম। সহীহ বুখারী,হাদীস নং ১৭৬২। জামে তিরমিযী, হাদীস নং৩৬৫০। তিরমিযীতে হাদীসটি একটু বিস্তারিত বর্ণিত আছে। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, মানুষ মারা গেলে বাড়িতে আনুষ্ঠানিক কোন খাওয়া দাওয়ার আয়োজন সুন্নাহ সম্মত নয়। আর সুন্নাতের বাইরের কোন কাজের দ্বারা সওয়াবের আশা করা যায় না।আর যদি সওয়াব হয়ও তবুও ঐ এক বেলা খাওয়ানোর সওয়াব অথচ হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ সা. আমাদেরকে সদকায়ে জারিয়ামূলক দান সাদকার কথা বলেছেন। আপনার প্রশ্নের উত্তরে বলছি, এই ধরনের সুন্নাহ বিরোধী কাজে অংশ গ্রহনের অর্থ হলো এই কাজকে উৎসাহিত করা সুতরাং এমন অনুষ্ঠান বর্জন করাই আপনার জন্য উত্তম। প্রচলিত সুন্নাহ বিরোধী যে কোন মিলাদ মাহফিল যাওয়া ও খাওয়া থেকে বিরত থাকা একজন মূমিনের জন্য আবশ্যক। শিয়ারা প্রথম মিলাদ শুরু করে বলে ইতিহাসে জানা যায়। বিস্তারিত জানতে পড়ুন, প্রফেসার ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত এহইয়াউস সুনান বইটির ৩৮৮ থেকে ৩৯৬ পৃষ্ঠা এবং খুতবাতুল ইসলাম বইটির ১৯নং খুতবা।
প্রশ্নঃ 279
স্যার আস-সালামু আলাইকুম, আশা করি আপনি খুব ভালো আছেন। আমার প্রশ্নের উত্তর তাড়াতাড়ি দিলে ভালো হতো। আমি মেডিটেশন করতে চাই। এটা কি শিরয়ত সম্মত কি না জানতে চাই। এটা কি কোনো শির্ক হবে কিনা। আর আমি একজন ছাত্র তাই আমার লেখাপড়ার জন্য আত্মবিশ্বাস দরকার। তাই আত্মবিশ্বাস বাড়ার জন্য আমাকে সুন্নাহ সম্মত কিছু নিয়ম বলুন। আশা করি আমার প্রশ্নের উত্তর আপনি খুব দ্রুত দিবেন।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালালাম।
আপনি মেডিটেশনে যাবেন। এর অনেক ক্ষতিকর দিক রয়েছে। বরং আপনি সুন্নাহ সম্মত দুয়া ও যিকিরে মনোনিবেশ করুন। এর মাধ্যমে আপনি আল্লাহ তায়ালার প্রিয়পাত্র হয়ে উঠবেন আর আপনার আত্নবিশ্বাসও বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ।
প্রশ্নঃ 275
সরকারি চাকরি করতে গিয়ে নিজের অনিচ্ছা সত্ত্বেও কি রাষ্ট্রীয় শিরক্ করা যাবে? সরকারি চাকরির পুলিশ ভেরিফিকেশনে অনিচ্ছা সত্ত্বেও যদি পুলিশকে ঘুষ দেয়া লাগে, তাহলে চাকরি ও বেতন কি হালাল হবে?
27 Dec 2025
ঘুষ সর্ববাস্থায় হারাম। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকুরী না হলে ঘুষ দিয়ে চাকুরী নিলে বেতন হালাল হবে, হারাম হবে না। তবে এজন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আপনি যদি কোন কারনে বাধ্য হন তাহলে এর জন্য আল্লাহ কাছে তওবা করবেন। যোগ্যতা থাকা সত্তে¡ও যোগাযোগ ছাড়া চাকরী যদি না হয় তাহলে যোগাযোগের (ঘুষের) মাধ্যমে চাকরী নিলে আশা করা যায় বেতনের টাকা হারাম হবে না তবে ঘুষের গোনাহর জন্য আপনাকে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে, মাফ চাইতে হবে।
প্রশ্নঃ 163
fazaeel ee amal grontho gulo somporke apnader motamot ki?
23 Dec 2025
ফাযায়েলে আমল জাতীয় গ্রন্থ, তারগীব তারহীব ইত্যাদি গ্রন্থে সহীহ, যয়ীফ ও জাল হাদীস বিদ্যমান। এরূপ অনেক গ্রন্থেই বিদ্যমান। পাঠকদের উচিত হাদীস যাচায় বিষয়ে মুহাদ্দিসদের মতের উপর নির্ভর করা এবং যাচাই ছাড়া কোনো হাদীস গ্রহণ না করা
প্রশ্নঃ 160
প্রিয় স্যার, আচ্ছালামু আলাইকুম, আমাদের দেশে প্রায় সকল মসজিদের মেহরাবে এক পার্শ্বে আল্লাহ অপর পার্শ্বে মুহাম্মদ (ﷺ) লেখা থাকে। এই লেখাটা ঠিক কি না? এছাড়া উক্ত নামের নীচেই কাবা এর ছবি এবং রওজা মুবারকের গম্বুজ ও থাকে। এটা কি শরীয়ত সম্মত কি না। মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীতে অনুরুপ কিছু লেখা/ছবি আছে কি? মোঃ জাহিদুল আলম
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
এরূপ লেখা ঠিক নয়। (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু) ও (মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ) দুটি বাক্য লেখা যেতে পারে, তবে সালাতে দাঁড়ালে মুসল্লীর নজরে পড়ার স্থানের উপরে লেখা উচিত। কেবলার দিকে এরূপ ছবি রাখাও ঠিক নয়। মসজিদে ননবীতে মাথার উপরে পিলার ও ঝাড়বাতিতে (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ) লেখা আছে এবং আরো অনেক আয়াত ও হাদীস লেখা আছে।
প্রশ্নঃ 152
আস-সালামু আলাইকুম। বিদ আত মুক্ত আমল করব কিভাবে? এক এক জন এক এক ভাবে ব্যাখ্যা করে । কোণটা সঠিক বোজার উপায় কি?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আপনি একজন গবেষক আলেমের পরামর্শ নিয়ে চলুন। যে আলিমকে ইলম ও আমলে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয় তার পরামর্শ গ্রহণ করুন। পাশাপাশি নিজে অধ্যয়ন করতে থাকুন।
প্রশ্নঃ 81
আমাদের বাসায় এক মহিলা এসে আমার নানার কাছে ফাতিহার কথা বলে কিছু পানি আর ভাত তরকারি এনে দিল আর ফাতিহা শেষ হওয়ার পর ভাত গুলো রেখে পানি গুলো নিয়ে উনি ছলে গেলেন। এখন এই ভাত গুলো খাওয়া জায়েয কি না?
20 Dec 2025
এটা এক ধরনের মূর্খতাপূর্ণ সুন্নাহ বিরোধী বিদআত কাজ। ফাতিহা নামে কোন অনুষ্ঠান বা আমলের অস্তিত্ব শরীয়তে নেই। সুতরাং এমন অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। আপনার প্রশ্নে বর্নিত ভাতও না খাওয়া উচিৎ। বিস্তারিত জানতে পড়ুন, প্রফেসার ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত এহইয়াউস সুনান বইটি।
প্রশ্নঃ 85
মানুষ মারা গেলে মেজবান হয়। এই মেজবানের খাবার খাওয়া জায়েয কি না?
20 Dec 2025
ভাই আপনি এই ভিডিও ক্লিপটি দেখতে পারেন। মৃত্যু উপলক্ষে খাওয়া দাওয়া ও মিষ্টি বিতরণের বিধান !
প্রশ্নঃ 80
আমি যদি কোন মৃত ব্যাক্তির পক্ষ হতে তার কাজা নামাজ আদায় করি তা কি বিদআত হবে?
20 Dec 2025
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমাদের সমাজে কোথাও কোথাও এই আমলটি দেখা যায়। তবে এটা সুন্নাহ সম্মত নয়। হাদীস শরীফে কোথাও মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কাজা নামায আদায় করার কথা বলা হয়নি। তবে হজ্জ করার কথা বলা হয়েছে। সুতরাং অনর্থক এই কাজ থেকে বিরত থাকা আমাদের সকলের কর্তব্য।
প্রশ্নঃ 58
(খতমে বুখারী) সাওয়াব, বরকত, অসুস্থতা থেকে সুস্থ হওয়ার আশায় খতমে বুখারী করা কি বিদআত?
20 Dec 2025
প্রথমে আমাদের বুঝতে হবে যে, আমাদের দেশে খতমে বুখারীর অনুষ্ঠানের অবস্থা কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। ১)বছরের শেষে বুখারী শরীফ সমাপ্তির দিন বিশেষ দরস হয় যেখানে উক্ত বিভাগের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও অনেকে উপস্থিত হয়ে থাকেন । তবে কেউ এটাকে দ্বীনের বিষয় বা সওয়াবের উপলক্ষ মনে করে না। ২)বছরের শেষে বুখারী শরীফ সমাপ্তির দিন বিশেষ দরস হয় যেখানে উক্ত বিভাগের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও অনেকে উপস্থিত হয়ে থাকেন । পাশাপাশি এটাকে বিশেষ বরকতের কারন মনে করা হয়। ৩)কেউ কোন বালা-মসীবতে পড়লে বিপদ মুক্তির জন্য বা সওয়াবের আশায় বুখারী শরীফ খতম করা হয়। উপরে উল্লেখিত প্রথম প্রকারের খতমে বুখারী বৈধ, কোন সমস্যা নেই বরং এসে যতটুকু হাদীস শুনল বা দ্বীনের কথা শিখল ততোটুকু এলেম শিক্ষার সওয়াব পাবে। এর চেয়ে বেশি কিছু অর্থাৎ বিশেষ কোন বরকত লাভ হবে না। কিন্তু দিত্বীয় এবং তৃতীয় প্রকারের খতমে বুখারী সওয়াবের উপলক্ষ বা বিপদ-আপদ থেকে মুক্তির উপায় মনে করার কারনে বিদআত হিসাবে পরিগণিত হবে। কেননা ঈসালে সাওয়াবের জন্য হাদীস তেলাওয়াত করা, অসুস্থ হলে বা যে কোন মুসিবতে পড়লে হাদীস পাঠ করে দুআ করার কোন নজীর না রাসূলে শিক্ষায় রয়েছে, না সাহাবায়ে কেরামের জীবনে রয়েছে, না খাইরুল কুরুনে রয়েছে। সাহাবায়ে কেরামের জীবনেও বালা-মসীবত এসেছে কিন্তু তাঁরা একদিনও একটি হাদীস পড়ে দুআ করেন নি। অথচ তাঁরা আমাদের তুলনায় রাসূল সা. কে বেশী ভাল বাসতেন, বেশী অনুসরণ করতেন। এমতাবস্থায় আমরা যদি একাজটিকে সওয়াব লাভের সতন্ত্র একটি উপায় মনে করি তাহলে আমরা নিঃসন্দেহে বিদআতের মধ্যে নিপতিত হব। বিদআত থেকে দূরে থাকার ব্যাপারে রাসূল সা. কঠিন ভাষায় সতর্ক করেছেন। জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাঃ বলেন, রাসূল সা. বলতেন:
شر الأمور محدثاتها وكل محدثةبدعة وكل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار
অর্থঃ সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হল, যা (দ্বীনের নামে আবিষ্কৃত)নতুন বিষয়। আর(এমন) সব নতুন বিষয় বিদআত। আর প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতাই জাহান্নামে। শায়েখ আলবানী হাদীসটি কে সহীহ বলেছেন। সুনানে তিরমিযী,তাহকীক,আলবানী,৩/১৮৮(১৫৭৮),কিতাব, সালাতুল ঈদাইন, বাব, কায়ফাল খুতবা। আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণীত,তিনি বলেন,রাসূল সাঃ বলেছেন:
مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ
অর্থঃ দ্বীনের বিষয় নয় এমন কোন বিষয়কে যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনে সৃষ্টি করবে তা প্রত্যাক্ষাত হবে। বুখারী,আস সহীহ,হাদীস নং ২৬৯৭। বিপদ মুক্তির ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা হলো, বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি ইউনূস (আ)-এর মত নিজে দুআ ইউনূস বা অন্যান্য সুন্নাহ সম্মত দুআ পড়ে মনের আবেগে আল্লাহর কাছে কাঁদবেন এবং বিপদমুক্তি প্রার্থনা করবেন। একজনের বিপদে অন্যজন কাঁদবেন, এমনটি নয়। হাদীস শরীফে বলা হয়েছে যে, দুআ ইউনূস পাঠ করে দুআ করলে আল্লাহ্ কবুল করবেন। (লা ইলাহা ইলা আনতা সুবহানাকা ইন্নী কুনতুম মিনায যালিমীন) অর্থ- আপনি ছাড়া কোনো মাবূদ নেই, আপনি মহা-পবিত্র, নিশ্চয় আমি অত্যাচারীদের অন্তভূক্ত হয়েছি। নিজে দুআ করার পাশাপাশি জীবিত কোনো আলিম-বুজুর্গের কাছে দুআ চাওয়াতে অসুবিধা নেই। তবে সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, নিজের জন্য নিজের দুআই সর্বোত্তম দুআ।
এছাড়া দুআর ক্ষেত্রে মনের আবেগ ও অসহায়ত্বই দুআ কবুলের সবচেয়ে বড় অসীলা। আর বিপদগ্রস্ত মানুষ যতটুকু আবেগ নিয়ে নিজের জন্য কাঁদতে পারেন, অন্য কেউ তা পারে না। অনেকে মনে করেন,আলিম-বুজুর্গের সুপারিশ বা মধ্যস্ততা ছাড়া আল্লাহর নিকট দুআ বোধহয় কবুল হবে না। এ ধরনের চিন্তা সুস্পষ্ট শিরক। ইসলামের বিধিবিধান শিখতে, আত্মশুদ্ধির কর্ম শিখতে, কর্মের প্রেরণা ও উদ্দীপনা পেতে বা আল্লাহর জন্য ভালোবাসা নিয়ে আলেম ও বুজুর্গগণের নিকট যেতে হয়। প্রার্থনা, বিপদমুক্তি ইত্যাদির জন্য একমাত্র আল্লাহর কাছেই চাইতে হয়, অন্য কারো কাছে নয়। কথিত আছে ইমাম বুখারী রহঃ নাকি এই কিতাবের কাজ শেষ করার পর আল্লাহর কাছে দুআ করেছিলেন যে, যে ব্যক্তি তাঁর এই কিতাব প্রথম থেশে পর্যন্ত পড়ে দুআ করবে আল্লাহ যেন তার দুআ কবুল করেন। অথচ বুখারী রহঃ এই কিতাব রচনার প্রেক্ষাপটের নির্ভরযগ্য কোন কিতাবে এমন কোন কথা পাওয়া যায় না। সহী বুখারী রচনার কয়েক শতাব্দি পর পর্যন্ত ইমাম বুখারী রচিত এ গ্রন্থের চর্চা, তার খেদমত অত্যন্ত ব্যাপকভাবে হয়েছে । কিন্তু কোথাও তা খতমের নজীর পাওয়া যায় না। তাছাড়া বুখারী রহঃ এর মত বিশুদ্ধ আকীদার ধারক ব্যক্তির দিকে এমন কথার নিসবত করা গর্হিত এবং বানোয়াট। আল্লাহ আমাদেরকে সর্বাবস্থায় বিদআত থেকে হেফাযত করুক। আমীন।
প্রশ্নঃ 28
tabij babohar kora ki shirk? kara tabij babohar korta parba?
20 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া ওয়া রহমাতুল্লাহ।

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এপ্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়ে নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হল। আশা করি তাতে আপনি আপনার উত্তর খুঁজে পাবেন। ইসলাম আমাদেরকে এমন একটি জীবন পদ্ধতি প্রদান করেছে যে, যদি কোনো মানুষ ইসলামের এ নিয়মগুলো ন্যূনতমভাবেও মেনে চলে তবে সাধারণভাবে সে সুস্বাস্থ্য লাভ ও রক্ষা করতে পারবে। পরিমিত পানাহার, পরিচ্ছন্নতা, অলসতা, অশ্লীলতা ও পাপ বর্জন, পরিমিত পরিশ্রম, বিশ্রাম, বিনোদন, ঘুম, স্বাস্থ্য সতর্কতা, পরিবার ও অন্যান্য মানুষের অধিকার পালন, নিয়মিত ইবাদত ও যিকর-দুআর মাধ্যমে আমরা দৈহিক ও মানসিক সুস্থতাময় একটি সুন্দর ভারসাম্যপূর্ণ জীবন লাভ করতে পারি। এরপরও রোগব্যাধি বা অসুস্থতা আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নিজেদের বা আপনজনদের অসুস্থতা আমাদের প্রায়ই আক্রান্ত করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অসুস্থতার কারণ আমাদের অনিয়ম বা অন্যায়। তবে অনেক সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা হিসেবেও মানুষ সাময়িক রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে। অসুস্থতার সাথে দুআ ও যিকরের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। সুস্থতা অর্জনে চিকিৎসার পাশাপাশি দুআর কার্যকরিতা পরীক্ষিত। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকগণ অপারগ হওয়ার পর দুআর মাধ্যমে মানুষ সুস্থতা লাভ করেন। বিশেষত জিন বা যাদু সংশ্লিষ্ট অসুস্থতা এবং মানসিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে যিকর ও দুআর উপরেই নির্ভর করা হয়। এক্ষেত্রে কুসংস্কার, অস্পষ্টতা ও সঠিক জ্ঞানের অভাবে অনেক মুমিন শিরক ও অন্যান্য পাপে জড়িয়ে পড়েন। এজন্য এখানে এ বিষয়ক কয়েকটি মূলনীতি অতি সংক্ষেপে উল্লেখ করছি।

১. অসুস্থতার মধ্যেও মুমিনের কল্যাণ অসুস্থতার ক্ষেত্রে মুমিনের সর্বপ্রথম করণীয় অস্থিরতা ও হতাশা থেকে অন্তরকে মুক্ত রাখা। মুমিন বিশ্বাস করেন যে, সকল বিপদ, কষ্ট মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ঈমানী পরীক্ষা, গোনাহের ক্ষমা বা মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য আসে। আমরা দেখেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা যে, মুমিন দেহ, মন, সম্পদ ও পরিজনের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সুস্থতার জন্য সকল প্রকারের সতর্কতা ও নিয়মনীতি পালন করবেন। পাশাপাশি তিনি সর্বদা সর্বান্তকরণে সার্বক্ষণিক সুস্থতা ও সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য দুআ করবেন। এরপরও কোনো রোগব্যধিতে আক্রান্ত হলে বা কোনোরূপ বিপদাপদে নিপতিত হলে তাকে নিজের জন্য কল্যাণকর বলে সাধ্যমত প্রশান্তির সাথে গ্রহণ করবেন। দ্রুতই অসুস্থতা বা বিপদ কেটে যাবে বলে প্রত্যয়ের সাথে বিশ্বাস করবেন। জাগতিক জীবনের সামান্য কয়েক দিনের একটু কষ্টের পরীক্ষায় ধৈর্য ও প্রশান্তির মাধ্যমে মহান আল্লাহর অফুরন্ত রহমত, প্রেম ও অনন্ত জীবনের অভাবনীয় মর্যাদা লাভ করা মুমিনের জন্য বড় নিয়ামত বলে গণ্য। অধৈর্য মূল অসুস্থতা বা বিপদের কষ্ট কমায় না। উপরন্তু অধৈর্যজনিত হতাশা, অস্থিরতা ও বিলাপের কারণে কষ্ট বৃদ্ধি পায়, মুমিন অফুরন্ত সাওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়ে পাপে নিপতিত হয়। সর্বোপরি হতাশা ও অস্থিরতার কারণে বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়। পক্ষান্তরে ধৈর্য ও সাওয়াবের আশা মূল বিপদের কষ্ট না কমালেও কষ্টকে সহনীয় করে তোলে, মুমিন অফুরন্ত সাওয়াব ও বরকত লাভ করেন এবং বিপদ থেকে বের হওয়ার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়। মহান আল্লাহ বলেন:

وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ

আমি তোমাদেরকে কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা অবশ্যই পরীক্ষা করব। আপনি সুসংবাদ প্রদান করুন ধৈর্যশীলদের, যারা তাদের উপর বিপদ আসলে বলে, আমরা তো আল্লাহ্রই এবং নিশ্চিতভাবে তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্র্তনকারী। এরাই তো তারা যাদের প্রতি তাদের রবের কাছ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ এবং রহমত বর্ষিত হয়, আর এরা সৎপথে পরিচালিত। আবূ হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُصِبْ مِنْهُ আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে কিছু বিপদ-কষ্ট প্রদান করেন। সুহাইব (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেন:

عَجَبًا لأَمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ وَلَيْسَ ذَاكَ لأَحَدٍ إِلاَّ لِلْمُؤْمِنِ إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ

মুমিনের বিষয়টি বড়ই আজব! তার সকল অবস্থাই তার জন্য কল্যাণকর। মুমিন ছাড়া অন্য কেউই এ অবস্থা অর্জন করতে পারে না। যদি সে আনন্দ-কল্যাণ লাভ করে তবে সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং এর ফলে সে কল্যাণ লাভ করে। আর যদি সে বিপদ-কষ্টে পতিত হয় তবে সে ধৈর্য্যধারণ করে এবং এভাবে সে কল্যাণ লাভ করে। আবূ সাঈদ খুদরী ও আবূ হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেন:

مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبٍ وَلا وَصَبٍ وَلا هَمٍّ وَلا حُزْنٍ وَلا أَذًى وَلا غَمٍّ حَتَّى الشَّوْكَةِ يُشَاكُهَا إِلاَّ كَفَّرَ اللَّهُ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ

যে কোনো ক্লান্তি, অসুস্থতা, দুশ্চিন্তা, মনোবেদনা, কষ্ট, উৎকণ্ঠা যাই মুসলিমকে স্পর্শ করুক না কেন, এমনকি যদি একটি কাঁটাও তাকে আঘাত করে, তবে তার বিনিময়ে আল্লাহ তার গোনাহ থেকে কিছু ক্ষমা করবেন। আবূ হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জ্বর সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। তখন এক ব্যক্তি জ্বরকে গালি দেয় বা জ্বর সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করে। তখন রাসূলুল্লাহ সা. বলেন:

لا تَسُبَّهَا فَإِنَّهَا تَنْفِي الذُّنُوبَ كَمَا تَنْفِي النَّارُ خَبَثَ الْحَدِيدِ

তুমি জ্বর সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করো না; কারণ আগুন যেমন লোহার ময়লা দূর করে তেমনি জ্বর পাপ দূরীভূত করে। হাদীসটি সহীহ। আবূ মূসা আশআরী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেন:

إِذَا مَرِضَ الْعَبْدُ أَوْ سَافَرَ، كُتِبَ لَهُ مِثْلُ مَا كَانَ يَعْمَلُ مُقِيمًا صَحِيحًا

মানুষ সুস্থ অবস্থায় নিজ বাড়ি বা শহরে অবস্থান কালে যত নেক আমল করে তার অসুস্থতা বা সফরের অবস্থায়ও তার আমলনামায় অনুরূপ সাওয়াব লেখা হয়। রোগমুক্তি আমাদের কাম্য। এরপরও অনেক সময় মুমিন অসুস্থতার অফুরন্ত সাওয়াবের দিকে তাকিয়ে দুনিয়ার অস্থায়ী অসুস্থতাকেই বেছে নেন। তাবিয়ী আতা বলেন, আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) আমাকে বলেন:

أَلا أُرِيكَ امْرَأَةً مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ قُلْتُ بَلَى قَالَ هَذِهِ الْمَرْأَةُ السَّوْدَاءُ (امْرَأَةٌ طَوِيلَةٌ سَوْدَاءُ عَلَى سِتْرِ الْكَعْبَةِ) أَتَتْ النَّبِيَّ r فَقَالَتْ إِنِّي أُصْرَعُ وَإِنِّي أَتَكَشَّفُ فَادْعُ اللَّهَ لِي قَالَ إِنْ شِئْتِ صَبَرْتِ وَلَكِ الْجَنَّةُ وَإِنْ شِئْتِ دَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُعَافِيَكِ فَقَالَتْ أَصْبِرُ فَقَالَتْ إِنِّي أَتَكَشَّفُ فَادْعُ اللَّهَ لِي أَنْ لا أَتَكَشَّفَ فَدَعَا لَهَا

আমি কি তোমাকে একজন জান্নাতী মহিলা দেখাব না? আমি বললাম: হ্যাঁ, অবশ্যই দেখাবেন। তিনি বলেন: এ কাল মহিলা (কাবা ঘরের গিলাফ সংলগ্ন লম্বা কাল এ মহিলা)। সে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট এসে বলে, হে আল্লাহর রাসূল, আমি অজ্ঞান হয়ে যায় (মুর্ছারোগ/মৃগীরোগ আক্রান্ত) এবং অচেতন অবস্থায় আমার কাপড়চোপড় সরে যায়। আল্লাহর কাছে আমার জন্য দুআ করুন। রাসূলুল্লাহ সা. বলেন: তুমি যদি চাও তবে ধৈর্য ধারণ কর, তাহলে তুমি জান্নাত লাভ করবে। আর তুমি যদি চাও তবে আমি তোমার জন্য আল্লাহর কাছে সুস্থতার দুআ করব। তখন মহিলা বলেন, আমি ধৈর্য ধরব; তবে অচেতন অবস্থায় আমার কাপড় সরে যায়, আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন যেন আমার কাপড় সরে না যায়। তখন তিনি তার জন্য দুআ করেন। এখানে রাসূলুল্লাহ (সা.) এ মহিলাকে দুনিয়ার সাময়িক কষ্টের বিনিময়ে জান্নাতের উচ্চ মর্যাদ লাভের জন্য উৎসাহ দেন এবং মহিলাও সে পরামর্শ গ্রহণ করেন। তবে বিষয়টি ইচ্ছাধীন; কোনো মুমিন যদি ঈমানের এরূপ শক্তি অনুভব না করেন, অথবা সুস্থতার মাধ্যমে অন্যান্য ইবাদত করার সুদৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করেন তবে তিনি অবশ্যই চিকিৎসার চেষ্টা করবেন। সর্বাবস্থায় হতাশা বা অতীত নিয়ে মনোকষ্ট অনুভব করা যাবে না। কখনোই মনে করা যাবে না যে, যদি আমি এরূপ করতাম তাহলে হয়ত এরূপ হতো, অথবা এরূপ না করলে হয়ত এরূপ হতো না। এ ধরনের আফসোস মুমিনের জন্য নিষিদ্ধ। বিপদ এসে যাওয়ার পর মুমিন আর অতীতকে নিয়ে আফসোস করবেন না। বরং আল্লাহর সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। রাসূলুল্লাহ সা. এভাবেই নির্দেশনা দিয়েছেন। ২. চিকিৎসা ও ঝাড়ফুঁক অসুস্থতার ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিতীয় দায়িত্ব চিকিৎসার চেষ্টা করা। বিভিন্ন হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বারবার চিকিৎসার নির্দেশ ও উৎসাহ প্রদান করেছেন, ঝাড়ফুঁক অনুমোদন করেছেন এবং তাবিজ-তাগা ইত্যাদি নিষেধ করেছেন। এক হাদীসে উসামা ইবন শারীক (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেন:

يَا عِبَادَ اللَّهِ تَدَاوَوْا فَإِنَّ اللَّهَ لَمْ يَضَعْ دَاءً إِلاَّ وَضَعَ لَهُ شِفَاءً أَوْ قَالَ دَوَاءً إِلاَّ دَاءً وَاحِدًا .... الْهَرَمُ

হে আল্লাহর বান্দাগণ, তোমরা ঔষধ ব্যবহার কর। আল্লাহ যত রোগ সৃষ্টি করেছেন সকল রোগেরই ঔষধ সৃষ্টি করেছেন, একটিমাত্র ব্যধি ছাড়া ... সেটি বার্ধক্য। হাদীসটি হাসান সহীহ। অন্য হাদীসে জাবির (রা) বলেন, রাসূলূল্লাহ সা. বলেন:

لِكُلِّ دَاءٍ دَوَاءٌ فَإِذَا أُصِيبَ دَوَاءُ الدَّاءِ بَرَأَ بِإِذْنِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ

প্রত্যেক রোগেরই ঔষধ বিদ্যমান। যদি কোনো রোগের সঠিক ঔষধ প্রয়োগ করা হয় তবে আল্লাহর অনুমতিতে রোগমুক্তি লাভ হয়। এ অর্থে আবূ দারদা (রা), আবূ খুযামা (রা), কাইস ইবন মুসলিম (রা), আব্দুল্লাহ ইবন মাসঊদ (রা), আবূ হুরাইরা (রা) ও অন্যান্য সাহাবী থেকে বিভিন্ন সহীহ সনদে অনেকগুলো হাদীস বর্ণিত। চিকিৎসা গ্রহণ ও প্রদানের পাশাপাশি তিনি নিজে মাঝে মাঝে ঝাড়-ফুঁক প্রদান করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ব্যবহৃত বা অনুমোদিত কিছু দুআ আমরা পরবর্তী অনুচ্ছেদে উল্লেখ করব, ইনশা আল্লাহ। এছাড়া তিনি শিরকমুক্ত সকল দুআ ও ঝাড়ফুঁক অনুমোদন করেছেন। আউফ ইবন মালিক (রা) বলেন, আমরা জাহিলী যুগে ঝাড়ফুঁক করতাম। আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, এ সকল ঝাড়ফুঁকের বিষয়ে আপনার মত কী? তিনি বলেন

اعْرِضُوا عَلَيَّ رُقَاكُمْ لَا بَأْسَ بِالرُّقَى مَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ شِرْكٌ

তোমাদের ঝাড়ফুঁকগুলো আমার সামনে পেশ কর। যতক্ষণ না কোনো ঝাড়ফুঁকের মধ্যে শিরক থাকবে ততক্ষণ তাতে কোনো অসুবিধা নেই। জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রা) বলেন:

لَدَغَتْ رَجُلا مِنَّا عَقْرَبٌ وَنَحْنُ جُلُوسٌ مَعَ رَسُولِ اللَّه ِ rفَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرْقِي قَالَ مَنْ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَنْفَعَ أَخَاهُ فَلْيَفْعَلْ

আমরা রাসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট বসে ছিলাম। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তিকে একটি বিচ্ছু কামড় দেয়। তখন এক ব্যক্তি বলেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি একে ঝাড়ফুঁক প্রদান করব? তিনি বলেন: তোমাদের কেউ যদি তার ভাইয়ের উপকার করতে পারে তবে সে যেন তা করে। অন্য হাদীসে আয়েশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) তার ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় একজন মহিলা তাঁকে ঝাড়ফুঁক করছিলেন। তখন তিনি বলেন: عَالِجِيهَا بِكِتَابِ الله তাকে কুরআন দিয়ে চিকিৎসা-ঝাড়ফুঁক কর। হাদীসটি সহীহ। উপরের হাদীসগুলোর আলোকে আমরা দেখছি যে, ঝাড়ফুঁকের দুটি পর্যায় রয়েছে: মাসনূন ও জায়েয বা মুবাহ। আমরা ইতোপূর্বে সুন্নাত ও জায়েযের পার্থক্য জেনেছি। ঝাড়ফুঁক একদিকে দুআ হিসেবে ইবাদত। অন্যদিকে চিকিৎসা হিসেবে জাগতিক কর্ম। রাসূলুল্লাহ সা. যে সকল দুআ ব্যবহার করেছেন বা অনুমোদন করেছেন তা মাসনূন ঝাড়ফুঁক হিসেবে গণ্য। এছাড়া যে কোনো ভাষার শিরক-মুক্ত যে কোনো বাক্য বা কথা দ্বারা ঝাড়ফুঁক দেওয়া বৈধ বলে তাঁর নির্দেশনা থেকে আমরা জানতে পারি। মাসনূন ঝাড়ফুঁকের ক্ষেত্রে সর্বদা ফুঁক দেওয়া প্রমাণিত নয় এবং জরুরীও নয়। রাসূলুল্লাহ সা. কর্ম ও অনুমোদন থেকে আমরা দেখি যে, তিনি ঝাড়ফুঁক-এর ক্ষেত্রে কখনো শুধু মুখে দুআটি পাঠ করেছেন, ফুঁক দেন নি। কখনো তিনি দুআ পাঠ করে ফুঁক দিয়েছেন, কখনো লালা মিশ্রিত ফুঁক দিয়েছেন, কখনো ফুঁক দেওয়া ছাড়াই রোগীর গায়ে হাত দিয়ে দুআ পাঠ করেছেন, অথবা দুআ পাঠের সময়ে বা দুআ পাঠের পরে রোগীর গায়ে বা ব্যাথ্যার স্থানে হাত বুলিয়ে দিয়েছেন এবং কখনো ব্যাথা বা ক্ষতের স্থানে মুখের লালা বা মাটি মিশ্রিত লালা লাগিয়ে দুআ পাঠ করেছেন, অথবা তিনি এরূপ করতে শিক্ষা দিয়েছেন। সকল ক্ষেত্রে তিনি সশব্দে দুআ পাঠ করতেন বলেই প্রতীয়মান হয়। এজন্য ঝাড়ফুঁকের ক্ষেত্রে দুআটি জোরে বা সশব্দে পাঠ করাই সুন্নাত। ঝাড়ফুঁকের আয়াত বা দুআ সশব্দে পাঠের মাধ্যমে সুন্নাত পালন ছাড়াও অন্যান্য কল্যাণ বিদ্যমান। মনে মনে পড়লে অনেক সময় দ্রুততার আগ্রহে দুআর বাক্যগুলো বিশুদ্ধভাবে পড়া হয় না, আর সশব্দে পড়লে পাঠের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত হয়। এছাড়া রোগী ও উপস্থিত মানুষেরা আয়াত বা দুআ শ্রবণের বরকত লাভ করেন এবং তা নিজেরা শিখতে পারেন। আল্লাহর যিকর শ্রবণের মাধ্যমে রোগীর হৃদয়ের প্রশান্তি বাড়ে। সর্বোপরি শিরকযুক্ত বা দুর্বোধ্য-অবোধ্য দুআ পাঠের প্রবণতা রোধ হয়। কুরআনের আয়াত বা দুআ লিখে তা ধুয়ে পানি পান করার বিষয়ে সহীহ বা গ্রহণযোগ্য কোনো হাদীস পাওয়া যায় না। তবে সাহাবী ও তাবিয়ীগণের যুগ থেকে অনেক আলিম তা করেছেন। অধিকাংশ ফকীহ এরূপ করা জায়েয বলে গণ্য করেছেন। তবে শর্ত হলো পবিত্র কালি দিয়ে পবিত্র দ্রব্যে এরূপ আয়াত বা দুআ লিখে তা পানি দিয়ে ধুয়ে পান করা। গোসলের বিষয়ে অনেকে আপত্তি করেছেন। অনেকে মূল বিষয়টিকেই না-জায়েয বলে গণ্য করেছেন। পানি পড়া, তেল পড়া ইত্যাদি বিষয় সুন্নাতে পাওয়া যায় না। রাসূলুল্লাহ সা. রোগীকে ফুঁক দিয়েছেন বা রোগীর সামনে দুআ পাঠ করেছেন। দুআ পড়ে পানি, তেল, কালজিরা, মধু বা অন্য কিছুতে ফুঁক দিয়ে সেগুলো ব্যবহার করার কোনো নমুনা আমরা হাদীসে পাই না। তবে কোনো কোনো সাহাবী থেকে এরূপ কর্ম বর্ণিত। তাবিয়ীগণের যুগেও তা বহুল প্রচলিত ছিল। এজন্য প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের ফকীহগণ-সহ প্রায় সকল আলিম ও ফকীহ তা বৈধ বলেছেন। ৩. তাবিজ ও সূতা ঝাড়ফুঁক ও দুআর মাধ্যমে চিকিৎসা অনুমোদন করলেও তাবিজ, রশি, সুতা ইত্যাদির ব্যবহার রাসূলুল্লাহ সা. বারবার নিষেধ করেছেন। এক হাদীসে উকবা ইবনু আমির আল-জুহানী (রা) বলেন,

أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ r أَقْبَلَ إِلَيْهِ رَهْطٌ فَبَايَعَ تِسْعَةً وَأَمْسَكَ عَنْ وَاحِدٍ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ بَايَعْتَ تِسْعَةً وَتَرَكْتَ هَذَا قَالَ إِنَّ عَلَيْهِ تَمِيمَةً فَأَدْخَلَ يَدَهُ فَقَطَعَهَا فَبَايَعَهُ وَقَالَ مَنْ عَلَّقَ تَمِيمَةً فَقَدْ أَشْرَكَ

একদল মানুষ রাসূলুল্লাহ সা. -এর কাছে আগমন করেন। তিনি তাদের নয় জনের বাইয়াত গ্রহণ করেন এবং একজনের বাইয়াত গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। তারা বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি নয় জনের বাইয়াত গ্রহণ করলেন কিন্তু একে পরিত্যাগ করলেন? তিনি বলেন, এর দেহে একটি তাবিজ আছে। তখন তিনি তার হাত ঢুকিয়ে তাবিজটি ছিড়ে ফেলেন। এরপর তিনি তার বাইয়াত গ্রহণ করেন এবং বলেন: যে তাবিজ ঝুলালো সে শিরক করল। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা)-এর স্ত্রী যাইনাব (রা) বলেন,

انَ عَبْدُ اللَّهِ إِذَا جَاءَ مِنْ حَاجَةٍ فَانْتَهَى إِلَى الْبَابِ تَنَحْنَحَ ... وَإِنَّهُ جَاءَ ذَاتَ يَوْمٍ فَتَنَحْنَحَ قَالَتْ وَعِنْدِي عَجُوزٌ تَرْقِينِي مِنْ الْحُمْرَةِ فَأَدْخَلْتُهَا تَحْتَ السَّرِيرِ فَدَخَلَ فَجَلَسَ إِلَى جَنْبِي فَرَأَى فِي عُنُقِي خَيْطًا قَالَ مَا هَذَا الْخَيْطُ قَالَتْ قُلْتُ خَيْطٌ أُرْقِيَ لِي فِيهِ قَالَتْ فَأَخَذَهُ فَقَطَعَهُ ثُمَّ قَالَ إِنَّ آلَ عَبْدِ اللَّهِ لأَغْنِيَاءُ عَنْ الشِّرْكِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ r يَقُولُ: إِنَّ الرُّقَى وَالتَّمَائِمَ وَالتِّوَلَةَ شِرْكٌ قَالَتْ قُلْتُ لِمَ تَقُولُ هَذَا وَاللَّهِ لَقَدْ كَانَتْ عَيْنِي تَقْذِفُ وَكُنْتُ أَخْتَلِفُ إِلَى فُلانٍ الْيَهُودِيِّ يَرْقِينِي فَإِذَا رَقَانِي سَكَنَتْ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ إِنَّمَا ذَاكَ عَمَلُ الشَّيْطَانِ كَانَ يَنْخُسُهَا بِيَدِهِ فَإِذَا رَقَاهَا كَفَّ عَنْهَا إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكِ أَنْ تَقُولِي كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ r يَقُولُ: أَذْهِبْ الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسِ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لا شِفَاءَ إِلا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لا يُغَادِرُ سَقَمًا

ইবনু মাসঊদ (রা) যখন বাড়িতে আসতেন তখন আওয়াজ দিয়ে আসতেন। ... একদিন তিনি এসে আওয়াজ দিলেন।তখন আমার ঘরে একজন বৃদ্ধা আমাকে ঝাড়ফুঁক করছিল। আমি বৃদ্ধাকে চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখি। ইবনু মাসঊদ (রা) ঘরে ঢুকে আমার পাশে বসেন। এমতাবস্থায় তিনি আমার গলায় একটি সুতা দেখতে পান। তিন বলেন, এ কিসের সুতা? আমি বললাম, এ ফুঁক দেওয়া সুতা। যাইনাব বলেন, তখন তিনি সুতাটি ধরে ছিড়ে ফেলেন এবং বলেন, আব্দুল্লাহর পরিবারের শিরক করার কোনো প্রয়োজন নেই। আমি রাসূলুল্লাহ সা.-কে বলতে শুনেছি: ঝাড়-ফুঁক, তাবীজ-কবজ এবং মিল-মহব্বতের তাবীজ শিরক। যাইনাব বলেন, তখন আমি আমার স্বামী ইবনু মাসঊদকে বললাম, আপনি এ কথা কেন বলছেন? আল্লাহর কসম, আমার চক্ষু থেকে পানি পড়ত। আমি অমুক ইহূদীর কাছে যেতাম। সে যখন ঝেড়ে দিত তখন চোখে আরাম বোধ করতাম। তখন ইবনু মাসঊদ (রা) বলেন: এ হলো শয়তানের কর্ম। শয়তান নিজ হাতে তোমার চক্ষু খোচাতে থাকে। এরপর যখন ফুঁক দেওয়া হয় তখন সে খোচানো বন্ধ করে। তোমার জন্য তো যথেষ্ট ছিল যে, রাসূলুল্লাহ সা. যা বলতেন তা বলবে। তিনি বলতেন: অসুবিধা দূর করুন, হে মানুষের প্রতিপালক, সুস্থতা দান করুন, আপনিই শিফা বা সুস্থতা দানকারী, আপনার শিফা (সুস্থতা প্রদান বা রোগ নিরাময়) ছাড়া আর কোনো শিফা নেই, এমনভাবে শিফা বা সুস্থতা দান করুন যার পরে আর কোনো অসুস্থতা-রোগব্যাধি অবশিষ্ট থাকবে না। তাবিয়ী ঈসা ইবনু আবি লাইলা বলেন,

دخلنا على عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُكَيْمٍ وَهُوَ مَرِيضٌ نَعُودُهُ فَقِيلَ لَهُ لَوْ تَعَلَّقْتَ شَيْئًا فَقَالَ أَتَعَلَّقُ شَيْئًا وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ r مَنْ تَعَلَّقَ شَيْئًا وُكِلَ إِلَيْهِ

আমরা সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনু উকাইম আবূ মাবাদ জুহানীকে (রা) অসুস্থ অবস্থায় দেখতে গেলাম। আমরা বললাম, আপনি কোনো তাবিজ ব্যবহার করেন না কেন? তিনি বলেন: আমি তাবিজ নেব? অথচ রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: যদি কেউ দেহে (তাবিজ জাতীয়) কোনো কিছু লটকায় তবে তাকে উক্ত তাবিজের উপরেই ছেড়ে দেওয়া হয়। হাদীসটি হাসান। তাবিয়ী উরওয়া ইবনুয যুবাইর বলেন:

دَخَلَ حُذَيْفَةُ t عَلَى مَرِيْضٍ فَرَأَى فِيْ عَضُدِهِ سَيْراً فَقَطَعَهُ أَو انْتَزَعَهُ ثُمَّ قَالَ: وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللهِ إِلاَّ وَهُمْ مُشْرِكُوْنَ

সাহাবী হুযাইফা (রা) একজন অসুস্থ মানুষকে দেখতে যান। তিনি লোকটির বাজুতে একটি রশি দেখতে পান। তিনি রশিটি কেটে দেন বা টেনে ছিড়ে ফেলেন এবং বলেন : অধিকাংশ মানুষই আল্লাহর উপর ঈমান আনে এবং তারা শিরকে লিপ্ত থাকে। আবূ বাশীর আনসারী (রা) বলেন, আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহ সা.-এর সাথে ছিলাম। মানুষেরা সবাই যখন বিশ্রামরত ছিল তখন তিনি এক দূত পাঠিয়ে ঘোষণা করেন:

لا يَبْقَيَنَّ فِي رَقَبَةِ بَعِيرٍ قِلادَةٌ مِنْ وَتَرٍ أَوْ قِلادَةٌ إِلاَّ قُطِعَتْ

কোনো উটের গলায় কোনো রশি, ধনুকের রশি  বা মালা থাকলে তা অবশ্যই কেটে ফেলতে হবে। ইমাম মালিক হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন: বদ-নযর থেকে রক্ষা পেতে এরূপ সুতা ব্যবহার করা হতো। রুআইফি ইবন সাবিত (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. আমাকে বলেন:

يَا رُوَيْفِعُ لَعَلَّ الْحَيَاةَ سَتَطُولُ بِكَ بَعْدِي فَأَخْبِرْ النَّاسَ أَنَّهُ مَنْ عَقَدَ لِحْيَتَهُ أَوْ تَقَلَّدَ وَتَرًا أَوْ اسْتَنْجَى بِرَجِيعِ دَابَّةٍ أَوْ عَظْمٍ فَإِنَّ مُحَمَّدًا r مِنْهُ بَرِيءٌ

হে রুআইফি, হয়ত তুমি আমার পরেও জীবিত থাকবে। তুমি মানুষদেরকে জানাবে যে, যদি কোনো ব্যক্তি তার দাড়ি বক্র করে বা গিট দেয়, সুতা, রশি বা ধনুকের রশি লটকায় অথবা গোবর বা হাড় দিয়ে ইসতিনজা করে তবে আমার সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। হাদীসটি সহীহ। কূফার প্রসিদ্ধ তাবিয়ী ফকীহ ইবরাহীম নাখয়ী বলেন:

كَانُوا يَكْرَهُونَ التَّمَائِمَ كُلَّهَا ، مِنَ الْقُرْآنِ وَغَيْرِ الْقُرْآنِ

তাঁরা (সাহাবীগণ) সকল তাবিজই মাকরূহ বা অপছন্দনীয় বলে গণ্য করতেন, কুরআনের তাবিজ হোক আর কুরআন ছাড়া অন্য কিছু হোক। এ সকল হাদীস থেকে জানা যায় যে, লিখিত কোনো কাগজ বা দ্রব্য তাবিজ হিসেবে লটকানো, দুআ বা মন্ত্রপূত কোনো সুতা শরীরে ব্যবহার, সাধারণ কোনো সুতা বদ-নযর কাটাতে মানুষ বা প্রাণীর দেহে লটকানো বা মনোবাসনা পূরণ করতে কোথাও সুতা বাঁধা বা লটকে রাখ সবই নিষিদ্ধ ও শিরক। এ বিষয়ক একটি অতি প্রাচীন শিরক মনোবাসনা পূরণের জন্য ইচ্ছা বা নিয়েত (রিংয) করে সুতা বেঁধে রাখা। বিশ্বের সকল দেশেই এরূপ কর্ম দেখা যায়। কোনো গাছ, মূর্তি, মন্দির, মাযার, দরগা, জলাশয় বা অনুরূপ স্থানে মনোবাঞ্চনা প্রকাশ করে (রিংয করে) সুতা বাঁধা, টাকা ফেলা, নাম বা ইচ্ছা লিখে কাগজ লিখে রাখা ইত্যাদি এ জাতীয় শিরক। আরবের কাফিরদের মধ্যেও এরূপ কর্ম প্রচলিত ছিল। এর একটি দিক ছিল তারা যাত আনওয়াত নামক একটি বৃক্ষে তাদের অস্ত্রাদি টাঙিয়ে রেখে দিত। এ প্রসঙ্গে আবু ওয়াকিদ লাইসি (রা) বলেন: মক্কা বিজয়ের পরে আমরা রাসূলুল্লাহ সা. -এর সাথে হুনাইনের যুদ্ধের জন্য যাত্রা করি। তখন আমরা নও মুসলিম। চলার পথে তিনি মুশরিকদের একটি (বরই) গাছের কাছ দিয়ে যান, যে গাছটির নাম ছিল যাত আনওয়াত। মুশরিকগণ এ গাছের কাছে বরকতের জন্য ভক্তিভরে অবস্থান করত এবং তাদের অস্ত্রাদি বরকতের জন্য ঝুলিয়ে রাখত। আমাদের কিছু মানুষ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, মুশরিকদের যেমন যাতু আনওয়াত আছে আমাদেরও অনুরূপ একটি যাতু আনওয়াত নির্ধারণ করে দেন। তখন রাসূলুল্লাহ সা. বললেন,

سُبْحَانَ اللَّهِ هَذَا كَمَا قَالَ قَوْمُ مُوسَى اجْعَلْ لَنَا إِلَهًا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتَرْكَبُنَّ سُنَّةَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ

সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর কসম, মূসার কওম যেরূপ বলেছিল: মুশরিকদের মূর্তির মতো আমাদেরও মূর্তির দেবতা দাও, তোমরাও সেরূপ বললে। যাঁর হাতে আমার জীবন তাঁর কসম, তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের সুন্নাত (শিরক ও অবক্ষয়ের পথ ও পদ্ধতি) অনুসরণ করবে। হাদীসটি সহীহ। মুসলিম, হিন্দু, খৃস্টান ও সকল ধর্মের অনুসারীদের মধ্যেই এ শিরক প্রচলিত। চার্চ, মন্দির বা দরগার খাদিমগণ দুবার সেখানে যাওয়ার রীতি প্রচলন করে থাকেন। একবার মনোবাঞ্চনা বলে সুতা বেঁধে আসতে হবে। এরপর বাসনা পূর্ণ হলে দ্বিতীয়বার যে কোনো একটি সুতা খুলে আসতে হবে। এভাবে ভক্ত দুবারই কিছু হাদিয়া-নৈবদ্য নিয়ে যান। এতে পুরোহিত বা খাদিমগণ উপকৃত হন। আলিম ও ফকীগণ তাবিজের বিষয়ে কিছু মতভেদ করেছেন। তাঁদের মতে তাবিজ দু প্রকারের। প্রথমত: যে তাবিজে দুর্বোধ্য বা অবোধ্য কোনো নাম, শব্দ বা বাক্য, কোনো প্রকারের বৃত্ত, দাগ, আঁক অথবা বিভিন্ন সংখ্যা লেখা হয়। এগুলির সাথে অনেক সময় কুরআনের আয়াত বা হাদীস লেখা হয়। এ প্রকারের তাবিজ ফকীহগণের সর্বসম্মত মতে হারাম। এগুলোতে শিরক থাকার সম্ভাবনা খুবই বেশি। কারণ এ সকল দুর্বোধ্য নাম, শব্দ, দাগ বা সংখ্যা শয়তানের নাম, প্রতীক বা শয়তানকে সন্তুষ্ট করার জন্য ব্যবহৃত বলেই বুঝা যায়। তা না হলে এ সকল অর্থহীন বিষয় তাবিজে সংযুক্ত করার দরকার কী? দ্বিতীয় প্রকারের তাবিজ যে তাবিজে কুরআনের আয়াত, হাদীসের বাক্য অথবা সুস্পষ্ট অর্থের শিরকমুক্ত কোনো বাক্য লিখে দেওয়া হয়। এ ধরনের তাবিজ ব্যবহার কোনো কোনো সাহাবী-তাবিয়ী ও পরবর্তী অনেক আলিম ও ফকীহ জায়েয বলেছেন। তাঁরা তাবিজকে ঝাড়ফুঁকের মত একই বিধানের বলে গণ্য করেছেন। বিশেষত অমুসলিম গণক, সন্যাসী ও কবিরাজদের সুস্পষ্ট শিরক থেকে মুসলিমদেরকে রক্ষা করতে কুরআন ও হাদীসের দুআ দিয়ে তাবিজ ব্যবহার অনেক প্রসিদ্ধ আলিম বৈধ বলে গণ্য করেছেন। অন্যান্য অনেক আলিম দ্বিতীয় প্রকারের তাবিজকেও হারাম বলে গণ্য করেছেন। তাঁরা বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবীগণের হাদীসগুলোতে এরূপ কোনো পার্থক্য ছাড়াই তাবিজ ব্যবহার নিষেধ করা হয়েছে। ঝাড়ফুঁকের ক্ষেত্রে যেরূপ অনুমোদন তিনি প্রদান করেছেন সেরূপ কোনো অনুমোদন তাবিজের ক্ষেত্রে কোনো হাদীসে পাওয়া যায় না। কাজেই কুরআন, হাদীস বা সুস্পষ্ট অর্থবোধক শিরকমুক্ত বাক্য দ্বারা ঝাড়ফুঁক বৈধ হলেও এগুলো দ্বারা তাবিজ ব্যবহার বৈধ নয়। সামগ্রিক বিবেচনায় তাবিজ ব্যবহার বর্জন করা এবং শুধু ঝাড়ফুঁক ও দুআর উপর নির্ভর করাই মুমিনের জন্য উত্তম ও নিরাপদ। কারণ: (১) এতে শিরকে নিপতিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে নিরাপত্তা পাওয়া যায়। যে বিষয়টি শিরক অথবা জায়েয হতে পারে তা বর্জন করা নিরাপদ।

(২) রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবীগণের সুন্নাত পালন করা হয়। তাঁরা ঝাড়ফুঁক করেছেন, কিন্তু তাবিজ ব্যবহার করেছেন বলে সহীহ বর্ণনা নেই।

(৩) ঝাড়ফুঁক ও দুআর মাধ্যমে মুমিনের সাথে আল্লাহর সম্পর্ক গভীর হয়। মুমিন নিজে কুরআনের আয়াত বা দুআ পাঠ করেন অথবা শুনেন। এতে অফুরন্ত সাওয়াব ছাড়াও আল্লাহর যিকরের মাধ্যমে আত্মার শক্তি অর্জিত হয়, যা জিন, যাদু ও মনোদৈহিক রোগ দূরীকরণে খুবই সহায়ক। ঝাড়ফুঁক বা দুআর অর্থ চিকিৎসা পরিত্যাগ নয়। যেহেতু চিকিৎসা গ্রহণ সুন্নাতের বিশেষ নির্দেশনা সেহেতু চিকিৎসার পাশাপাশি দুআ করতে হবে। দুআর মাধ্যমে সঠিক ঔষধ প্রয়োগের তাওফীক লাভ হতে পারে। আল্লাহ আমাদেরকে সর্বক্ষেত্রে কল্যাণ দান করুন। আমীন। আরো বিস্তারিত জানতে ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত রাহে বেলায়াত বইটি পড়ার জন্য অনুরোধ করছি।

প্রশ্নঃ 468
আস সালামু আলাইকুম, স্যার ১. পহেলা বৈশাখ এ মঙ্গল শোভাযাত্রায় যে মূর্তিগুলো আনা তা হয় তা পূজার উদ্দেশ্যে নয় বা এই মূর্তিগুলো থেকে কিছু চাওয়ার আশাও করা হয় না বরং মিত্র পক্ষ এবং শত্রু পক্ষের চিহ্ন হিসাবে ব্যবহার করা হয় তথাপিও এই শোভাযাত্রায় অংশগ্রহন করা শিরক কেন? ২. পহেলা বৈশাখ বা অন্যান্য সময়ে যে কোন ধরনের মুখোশ ব্যবহার করাই কি হারাম? যদি কেউ যুদ্ধের সময় কোন পশুর মুখোশ বা শিরস্ত্রানে শিং বা এই জাতীয় কিছু ব্যবহান করে, সেটা কি হারাম হবে?
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
১. প্রথমত, শোভাযাত্রায় মঙ্গল হয় এই বিশ্বাস কুফরী। এটা শিরকী চিন্তা। মঙ্গলের মালিক আল্লাহ তায়ালা। শোভযাত্রার মাধ্যমে মঙ্গল হয় এটা বস্তু পূজার অন্তর্ভূক্ত। দ্বিতীয়ত, মূর্তিগুলোর কাছে চাওয়া হয় না, পূজা করা হয় না, এটা একশতভাগ ঠিক কিন্তু এটা হিন্দুদের ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ, তাই এটা হারাম হবে। বিধর্মীদের ধর্মের সাথে সাদৃশ্য হয় এমন যে কোন কিছু হারাম। এছাড়া হাদীসে আমরা যে কোন ধরনের প্রাণীর মূর্তি থেকে বিরত থাকার কথা দেখতে পায় । নিচের হাদীসগুলো লক্ষ করুন:

১. عَنْ أَبِى الْهَيَّاجِ الأَسَدِىِّ قَالَ قَالَ لِى عَلِىُّ بْنُ أَبِى طَالِبٍ أَلاَّ أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- أَنْ لاَ تَدَعَ تِمْثَالاً إِلاَّ طَمَسْتَهُ وَلاَ قَبْرًا مُشْرِفًا إِلاَّ سَوَّيْتَهُ
অর্থ: হযরত আবী হায়্যায র. বলেন, আমাকে আলী রা. বললেন, আমি কি তোমাকে এমন একটি বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করব না যে বিষয়ে রাসূল সা. আমাকে উৎসাহিত করেছেন? সেটা হলো তুমি দেখা মাত্র মূর্তি ভেঙ্গে ফেলবে আর উঁচু কবর সমান করে দিবে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৮৭।

২. قَالَ عَمْرُو بْنُ عَبَسَةَ السُّلَمِىُّ فَقُلْتُ وَبِأَىِّ شَىْءٍ أَرْسَلَكَ قَالَ ্র أَرْسَلَنِى بِصِلَةِ الأَرْحَامِ وَكَسْرِ الأَوْثَانِ وَأَنْ يُوَحَّدَ اللَّهُ لاَ يُشْرَكُ بِهِ شَىْءٌ
অর্থ: হযরত আমর ইবনে আবাসাহ আস-সুলামী রা. বলেন আমি রাসূল সা. কে বললাম, আল্লাহ তায়ালা কি দায়িত্ব দিয়ে আপনাকে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন, তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখার জন্য, মূর্তিভাঙ্গার জন্য আর আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠার জন্য যে, তার সাথে কাউকে শরীক করা হবে না। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৯৬৭।

৩. أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- ্র أَتَانِى جِبْرِيلُ فَقَالَ إِنِّى كُنْتُ أَتَيْتُكَ الْبَارِحَةَ فَلَمْ يَمْنَعْنِى أَنْ أَكُونَ دَخَلْتُ عَلَيْكَ الْبَيْتَ الَّذِى كُنْتَ فِيهِ إِلاَّ أَنَّهُ كَانَ فِى بَابِ الْبَيْتِ تِمْثَالُ الرِّجَالِ وَكَانَ فِى الْبَيْتِ قِرَامُ سِتْرٍ فِيهِ تَمَاثِيلُ وَكَانَ فِى الْبَيْتِ كَلْبٌ فَمُرْ بِرَأْسِ التِّمْثَالِ الَّذِى بِالْبَابِ فَلْيُقْطَعْ فَيَصِيرَ كَهَيْئَةِ الشَّجَرَةِ وَمُرْ بِالسِّتْرِ فَلْيُقْطَعْ وَيُجْعَلْ مِنْهُ وِسَادَتَيْنِ مُنْتَبَذَتَيْنِ يُوَطَآنِ وَمُرْ بِالْكَلْبِ فَيُخْرَجْ فَفَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- وَكَانَ ذَلِكَ الْكَلْبُ جَرْوًا لِلْحَسَنِ أَوِ الْحُسَيْنِ تَحْتَ نَضَدٍ لَهُ فَأَمَرَ بِهِ فَأُخْرِجَ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَفِى الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَأَبِى طَلْحَةَ
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, আমার নিকট জিব্রীল আ. এসে বললেন, একটু আগে আমি আপনার কাছে এসেছিলাম কিন্তু আপনার কাছে আপনার ঘরে আমাকে প্রবেশ করতে বিরত রেখেছিল ঘরের দরজায় থাকা মানুষের প্রতিমূতি, ঘরের ভিতরে থাকা ছবি যুক্ত পর্দা এবং কুকুর। সুতরাং আপনি দরজায় থাকা প্রতিমূর্তির ব্যাপারে নির্দেশ দিন যেন কেটে ফেলা হয় তখন সেটা গাছের আকৃতির মত হয়ে যাবে। আর পর্দার ব্যাপারে নির্দেশ দিন যেন তা কেটে ফেলা হয় এবং পাপোশ বানানো হয়। আর কুকুরটিকে বের করতে বলেন। তখন রাসূল সা. তা করলেন। আর কুকুরটি ছিল হাসান বা হুসাইনের, সেটি তাদের খাটের নিচে ছিল। তিনি তা বের করার নির্দেশ দিলেন আর তা বের করা হল। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৮০৬। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ আর শাইখ আলবানী বলেছেন, সহীহ। এই হাদীসটিতে সুস্পষ্ট যে ইবাদতের নিয়তে কিংবা ভ্রান্ত বিশ্বাস ছাড়াও কোন মূর্তি বা পুতুল রাখা যাবে না। কেননা উক্ত ঘরে কোন মূর্তি ইবাদতের জন্য বা ভ্রান্ত বিশ্বাসে যে রাখা হয়নি এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। উপরের হাদীসগুলোর ভিত্তিতে আলেমগণ একমত যে, যে কোন প্রাণীর এবং মানুষের যে কোন ধরনের পুতুল বা মূর্তি হারাম এবং শিরকের অন্তভূক্ত। তৃতীয়ত, শত্রু ও মিত্র পক্ষের চিহ্ন হিসাবে মূর্তি ব্যবহার করা এটা হিন্দুদের ধর্মের অংশ। কারণ হিন্দু ধর্ম মতে, অশুভ শক্তির বিনাশ আর ধর্ম রক্ষায় যুগে যুগে দেবতাদের আবির্ভাব হয়েছে। তেমনি অসুর কূলের হাত থেকে দেবগণকে রক্ষায় দেবী দুর্গার আগমন ঘটে। পৃথিবীতে যখনই ধর্মের গ্লানি হয় এবং পাপ বৃদ্ধি পায় তখনই দেবতারা শরীর ধারণ করে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন। তেমনি অসুর শক্তির হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে দেবতাদের তেজরশ্মি থেকে আবির্ভূত হন দেবী দুর্গা। অসুরদের অত্যাচারে দেবতাদের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। ব্রহ্মার বর পেয়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল অসুররাজ মহিষাসুর। যুদ্ধে অসুর বাহিনীর কাছে পরাস্ত হয়ে সিংহাসন হারিয়েছিলেন দেবতা ইন্দ্র। স্বর্গে দেবতাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। সমস্যার সমাধানের জন্য ভগবান বিষ্ণুর দ্বারস্থ হন দেবতারা। কিন্তু মহিষাসুরকে রুদ্ধ করার কৌশল খুঁজে পাচ্ছিলেন না কেউই। কারণ ব্রহ্মার বর অনুযায়ী কোনো পুরুষ বা দেবতারা মহিষাসুরকে বধ করতে পারবে না। সেই কারণেই অসুর নিধনে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরের তেজ থেকে জন্ম হয় মহামায়ার। ইনিই দুর্গা। একজন দেবতা দুর্গাকে অস্ত্র দিলেন, অন্যজন দিলেন বাহন। এরপর যুদ্ধে দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করেন। (দৈনিক আমাদের সময় ১২-১০-২০১৫ইং) অর্থাৎ হিন্দুদের দেবতাদের শত্রু অসুর তথা অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে অসুরদের থেকে দেবতাদের রক্ষা করেন দেবী দুর্গা। এই কারণেই হিন্দুরা দেবী দুর্গার পূজা করেন।এখন আপনি চিন্তা করুন, শত্রু ও মিত্র পক্ষের চিহ্ন হিসাবে মূর্তি ব্যবহার করাকে আপনি কি বলবেন? এটা সুস্পষ্ট শিরক।
২। প্রয়োজনে মুখোশ ব্যবহার করা জায়েজ। যুদ্ধের ময়দানে মানুষের মুখোশ পরা যেতে পারে। কিন্তু প্রাণীর সাথে সাদৃশ্য এমন কোন মুখোশ পরা যাবে না। উপরের হাদীসগুলো থেকে স্পষ্ট।সাহাবীগণ এমন শিংসহ মুখোশ পরেছেন বলে জানা যায় না। পহেলা বৈশাখ শত শত বছর ধরে পালন হয়ে আসছে কিন্তু বৈশাখী পূজা শুরু হয়েছে অল্প কিছু দিন।আরো জানতে পড়ুন, ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের লেখা প্রবন্ধ পহেলা বৈশাখ। ইন্টারনেট থেকেও পড়া যাবে আবার খুতবাতুল ইসলাম বই থেকেও পড়া যাবে। আল্লাহ ভাল জানেন।

কপিরাইট স্বত্ব © ২০২৫ আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট - সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত| Design & Developed By Biz IT BD