মসজিদে হারানো সংবাদ প্রচার করা যাবে না। হাদীসে এসেছে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, مَنْ سَمِعَ رَجُلاً يَنْشُدُ ضَالَّةً فِى الْمَسْجِدِ فَلْيَقُلْ لاَ رَدَّهَا اللَّهُ عَلَيْكَ فَإِنَّ الْمَسَاجِدَ لَمْ تُبْنَ لِهَذَا যখন কোন মানুষকে শুনবে মসজিদে হারানো বস্তু সম্পর্কে সংবাদ দিতে তখন বলেবে, আল্লাহ যেন, তা তোমাকে না ফিরিয়ে দেন। কোননা মসজিদকে এই কাজের জন্য বানানো হয় নি। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৬৮। তবে মৃত সংবাদ প্রচার করা জায়েজ বলে মনে হয়। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নামায জায়েয না হওয়ার কোন কারণ নেই। নামায জায়েয হবে।
মসজিদের নামেরে চেয়ে উভয় গোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান হাজার গুন বেশী জরুরী। মসিজদের যদি আদৌ কোন নাম না থাকে তাহলেও কোন সমস্যা নেই। কোন গোষ্ঠীর নামে মসজিদের নাম রাখার চেয়ে ইমাম সাহেবে যে নাম রেখেছেন এমন নাম রাখা অধিক উত্তম। মসজিদের পূর্ব নাম থাকলে যেহেতু শান্তি বাধাগ্রহস্থ হচ্ছে সুতরাং পরের নামটি বহাল থাকুক। জমাদ্দার গোষ্ঠী যেহেতু তাদের নিজের নামে মসজিদের নাম রাখতে বলছে না, সুতরাং তাদের দোষরপ করার প্রয়োজন নেই।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সমজিদে থাকা ও খাওয়া জায়েজ। এই বিষয়ে অগনিত হাদীস বর্ণিত আছে। সেসব হাদীসে আমরা দেখতে পাই যে, সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ সা. এর যুগে মসজিদে খেতেন এবং ঘুমাতেন কিন্তু কোন দিন তিনি নিষেধ করেন নি বা অপছন্দ করেন নি। নিচের হাদীস তিনটি দেখলে বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। ১। عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَنَامُ وَهُوَ شَابٌّ عَزْبٌ لَا أَهْلَ لَهُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَسْجِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلّ আব্দুল্লাহ্ ইবনু ওমর (রাঃ) অবিবাহিত যুবক ছিলেন, যিনি রাসূল (ছাঃ)-এর যুগে মসজিদে ঘুমাতেন। সুনানু নাসাঈ, হাদীস নং ৭২২।
শায়খ আলবানীসহ মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। ২। عَبْدَ اللهِ بْنَ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ الزُّبَيْدِيَّ ، يَقُولُ : كُنَّا نَأْكُلُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ فِي الْمَسْجِدِ الْخُبْزَ وَاللَّحْمَ. মসজিদে খাওয়া-দাওয়া করাও বৈধ। ছাহাবী আব্দুল্লাহ বিন হারেছ (রাঃ) বলেন, আমরা রাসূল (ছাঃ)-এর যামানায় মসজিদে রুটি ও গোশত খেতাম। সুনানু ইবনু মাজাহ, হাদীস নং ৩৩০০; সহীহ ইবনু হিব্বান, হাদীস নং ১৬৫৭। শায়খ শুয়াই আরনাউত এবং শায়খ আলবানী রহিমাহুমাল্লহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। হযরত সাহল ইবনে সাদ রা. বলেন, جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ بَيْتَ فَاطِمَةَ فَلَمْ يَجِدْ عَلِيًّا فِي الْبَيْتِ، فَقَالَ: أَيْنَ ابْنُ عَمِّكِ؟ قَالَتْ: كَانَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ شَيْءٌ فَغَاضَبَنِي فَخَرَجَ فَلَمْ يَقِلْ عِنْدِي، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ لِإِنْسَانٍ: انْظُرْ أَيْنَ هُوَ، فَجَاءَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، هُوَ فِي الْمَسْجِدِ رَاقِدٌ، فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ وَهُوَ مُضْطَجِعٌ قَدْ سَقَطَ رِدَاؤُهُ عَنْ شِقِّهِ وَأَصَابَهُ تُرَابٌ، فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ يَمْسَحُهُ عَنْهُ، وَيَقُولُ: قُمْ أَبَا تُرَابٍ، قُمْ أَبَا تُرَابٍ. একদিন রাসূলুল্লাহ সা. হযরত ফাতেমার ঘরে এসে আলীকে (রা.) পাননি। জিজ্ঞেস করলেন, আলী কোথায়? ফাতেমা বললেন, আমাদের দুজনে মধ্যে কিছু রাগারাগি হয়েছে। ফলে তিনি রাগ করে এখানে বাইরে চলে গেছেন। রাসূলুল্লাহ সা. একজনকে বললেন, তাকে একটু খুঁজে দেখ কোথায়। লোকটি এসে জানাল, আলী মসজিদে ঘুমিয়ে আছেন। রাসূলুল্লাহ সা. এসে দেখলেন আলী শুয়ে আছেন। শরীর এক পাশ থেকে চাদর পড়ে গেছে। আর গায়ে ধুলো-বালি লেগে রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা. তাঁর গায়ের বালি ঝেঁড়ে দিচ্ছেন আর বলছেন আবু তোরাব উঠ উঠ। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৪৪১। উপরুক্ত হাদীসগুলো দ্বারা আমরা জানতে পারলাম মসজদে থাকা খাওয়া জাযেজ। সাহবীদের কর্ম।