আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট এ আপনাকে স্বাগতম

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি
সব প্রশ্ন অর্থনৈতিক আকিকা আকীদা নামায আখিরাত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আদব আখলাক ইতিহাস ঈদ-কুরবানী ঈমান তাওহীদ রিসালাত জানাযা-কবর যিয়ারত জান্নাত-জাহান্নাম জিহাদ তাফসীর ত্বহারাত পবিত্রতা সফর জুমআ তারাবীহ নফল সালাত বিতর পোশাক-পরিচ্ছেদ ফারায়েজ ফিতরা বিচার-আচার বিবাহ-তালাক মানত যাকাত যিকির/দুআ/আমল রোজা লেনদেন শিরক-বিদআত সাধারণ দান-সদকাহ সিরাত/সামায়েল সুন্নাত হজ্জ হাদীস ও উসূলুল হাদীস হালাল হারাম বিবিধ কুরআন হাদীস বাতিল ফিরকা দাওয়াত ও তাবলিগ জাদু-টোনা মসজিদ মুসাফির রমযান সুদ-ঘুষ হালাল ইতিকাফ কাজা/কাফফারা গুনাহ জায়েয তায়াম্মুম ব্যক্তিগত ও তাবলিগ সদকাহ বিদআত কসর তাওবা জিন-পরি ব্যবসা-বাণিজ্য বই অসিয়ত
প্রশ্নঃ 2164
হুজুর সালাম রইল। বিতের সালাত কি ভাবে পরব জদি একটু বুজিয়ে বলতেন তাহলে আমরা অনেকে উপকিত হইতাম
21 Jan 2026

আমাদের সমাজে যেভাবে বিতর পড়া হয় সেভাবে পড়বেন। বিতর পড়ার আরো কয়েকটি পদ্ধতি আছে। তিনটি পদ্ধতি শায়েখ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহি. রাহে বেলায়াত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। প্রয়োজনে সেখানে দেখুন।

প্রশ্নঃ 2154
আপনি এক ভাইয়ের প্রশ্নের উত্তরে নিম্নলিখিত ভাবে বলিয়াছেন যে- বিতর সুন্নাত কি ওয়াজিব সে বিষয়ে নিচের হাদীসটি দেখুনعَنْ أَبِى أَيُّوبَ الأَنْصَارِىِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم-الْوِتْرُ حَقٌّ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ فَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُوتِرَ بِخَمْسٍ فَلْيَفْعَلْ وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُوتِرَ بِثَلاَثٍ فَلْيَفْعَلْ وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُوتِرَ بِوَاحِدَةٍ فَلْيَفْঅর্থ: আবু আয়্যুব আনসারী রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, বিতর প্রতিটি মুসলিমের উপর আবশ্যক সুতরাং যে ৫ রাকআত আদায় করতে চায়সে তাই করবে, যে তিন রাকআত আদায় করতে চায়যে তাই করবে এবং যে এক রাকআত বিতর আদায় করতে চায় সে তা্ করেবে। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪২৪; সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ১৭১১। শায়খ শুয়াইব আরনাউত রহ.এবং শায়খ আলবানীর রহ.সহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণহাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, الْوِتْرُ حَقٌّ فَمَنْ لَمْ يُوتِرْ فَلَيْسَ مِنَّا الْوِتْرُ حَقٌّ فَمَنْ لَمْ يُوتِرْ فَلَيْسَ مِنَّا الْوِتْرُ حَقٌّ فَمَنْ لَمْ يُوتِرْ فَلَيْسَ مِنَّا বিতর আবশ্যক, যে বিতর পড়বে না সে আমাদের অন্তর্ভক্ত না, বিতর আবশ্যক, যে বিতর পড়বে না সে আমাদের অন্তর্ভক্ত না, বিতর আবশ্যক, যে বিতর পড়বে না সে আমাদের অন্তর্ভক্ত না। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪২১। শায়খ শুয়াইব আরনাউত রহ. হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। হাদীসের ভিত্তিতে ওয়াজিব বলেই মনে হয়। কিন্তু সহীহ আত্-তিরমিযী-প্রথম খন্ড, পর্ব-3 (আবওয়াবুল বিতর- বিতর নামাজ) এ উল্লেখিত অনুচ্ছেদ-2 এর 453 ও 454 তে স্পষ্ট করিয়া উল্লেখ করা হইয়াছে যে, বিতরের নামাজ ফরয নামাজের মত জরুরী নামাজ নয়। বরং এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিষ্ঠিত সুন্নাত নামাজ। -সহীহ। সহীহুত তারগীব-(590) এ সম্পর্কে আপনার মতামত বা বক্তব্য জানতে চাই এবং দয়া করিয়া সবিস্তারে ও রেফারেন্স সহ ব্যাখ্যা করিবেন।
21 Jan 2026

আপনি লিখেছেন যে, স্পষ্ট করিয়া উল্লেখ করা হইয়াছে যে, বিতরের নামাজ ফরয নামাজের মত জরুরী নামাজ নয়। বরং এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিষ্ঠিত সুন্নাত নামাজ। । কে এই কথাটি উল্লেখ করেছে? তার পরিচয় স্পষ্ট করে বলুন।দ্বিতীয়ত, বিতরের নামাজ ফরয নামাজের মত জরুরী নামাজ নয়। এই কথায় তো আমাদের কথা। প্রশ্ন হলো, বিতর সাধারণ সুন্নাতের মত নাকি তার গুরুত্ব বেশী যাকে অনেকে ওয়াজিব বলে। আমরা হাদীস উল্লেখ করে দেখিয়েছি এই নামাযের গুরুত্ব সাধারণ সুন্নাতের চেয়ে বেশী। অনেকে সুন্নাত বলে, এটা ঠিক আছে তবে আমরা ওয়াজিব বলে এটা বুঝাতে চেয়েছি যে, গুরুত্বের দিক দিয়ে বিতর অন্যান্য সুন্নাত নামায থেকে অনেক উপরে।হাদীস থাকলে আর বিস্তারিত রেফারেন্স লাগে না। হাদীস দুটি আবার পড়ুন আর আপনিই সিদ্ধান্ত নিন যে, এটা কোন পর্যায়ের সুন্নাত? আশা করি বুঝতে পেরেছেন। প্রয়োজনে 01734717299

প্রশ্নঃ 2057
তাহাজ্জুদ এর নামাজ আদায়ের সুন্নতি নিয়ম জানতে চাই। এবং কখন আদায় উত্তম?
18 Jan 2026

তাহাজ্জুদ নামাযের স্পেশাল কোন নিয়ম নেই। অন্যান্য সুন্নাত নামাযের মত ঘুম থেকে উঠে মধ্য বা শেষ রাতে আদায় করবেন।

প্রশ্নঃ 2019
সালাতুত তাসবীহ এর বিধান/নিয়ম সম্পর্কে জানতে চাই।
18 Jan 2026

সালাতুত তাসবীহ বিষেয়ে শাায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহি. রাহে বেলায়াত বইয়ে লিখেছেন: যিকিরের মূল চারটি বাক্য: তাসবীহ সুবহানাল্লাহ তাহমীদ আল-হামদু লিল্লাহ, তাহলীল লা- ইলাহা ইল্লল্লাহ এবং তাকবীর আল্লাহু আকবার। সালাতুত তাসবীহ-এর মধ্যে সালাতরত অবস্থায় এ যিকিরগুলো পাঠ করা হয়। চার রাকআত সালাতে প্রতি রাকআতে ৭৫ বার করে চার রাকআতে মোট ৩০০ বার উক্ত যিকিরগুলো আদায় করা হয়। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা, তাঁর চাচা আব্বাস (রা)-কে বলেন: চাচাজি, আমি আপনাকে একটি বিশেষ উপহার ও বিশেষ অনুদান প্রদান করব, যা পালন করলে আল্লাহ আপনার ছোট, বড়, ইচ্ছাকৃত, অনিচ্ছাকৃত, প্রকাশ্য, গোপন সকল গোনাহ ক্ষমা করবেন। তা এই যে, আপনি চার রাকআত সালাত আদায় করবেন। প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহা ও অন্য যে কোনো একটি সূরা পাঠ করবেন। প্রথম রাকআতে সূরা ফাতিহা ও অন্য যে কোনো সূরা পাঠের পর দাঁড়ানো অবস্থায় ১৫ বার বলবেন: سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ للهِ، وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ، وَاللهُ أَكْبَر উচ্চারণ: সুবহা-নাল্লাহ, ওয়াল হামদুলিল্লাহ, ওয়ালা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লা-হু আকবার ।সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ১২৯৯, সুনানু ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৩৮৭। এরপর রুকুতে গিয়ে রুকু অবস্থায় উপরের যিকিরগুলো ১০ বার, রুকু থেকে উঠে দাঁড়ানো অবস্থায় ১০ বার, সাজদা রত অবস্থায় ১০ বার, প্রথম সাজদা থেকে উঠে বসা অবস্থায় ১০ বার, দ্বিতীয় সাজদায় ১০ বার এবং দ্বিতীয় সাজদা থেকে উঠে (বসা অবস্থায়) ১০ বার। এ মোট এক রাকআতে ৭৫ বার (চার রাকআতে মোট ৩০০ বার)। সম্ভব হলে আপনি প্রতিদিন একবার, না হলে প্রতি সপ্তাহে একবার, না হলে প্রতি মাসে একবার, না হলে প্রতি বছর একবার, না হলে সারা জীবনে একবার এ সালাত আপনি আদায় করবেন। সালাতুত তাসবীহ সংক্রান্ত অধিকাংশ হাদীসই অত্যন্ত যয়ীফ সনদে বর্ণিত। একমাত্র এ হাদীসটিকে অনেক মুহাদ্দিস সহীহ হিসাবে গ্রহণ করেছেন। যদিও অনেক মুহাদ্দিস হাদীসটির ভাব ও ভাষা বিষয়েও আপত্তি করেছেন। ইমাম তিরমিযী প্রখ্যাত তাবে-তাবেয়ী আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক (১৮১ হি) থেকে সালাতুত তাসবীহ-এর আরেকটি নিয়ম উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে এ অতিরিক্ত যিকিরগুলো আদায়ের নিয়ম: নামায শুরু করে শুরুর দুআ বা সানা পাঠের পরে ১৫ বার, সূরা ফাতিহা ও অন্য কোনো সূরা শেষ করার পরে ১০ বার, রুকুতে ১০ বার, রুকু থেকে উঠে ১০ বার, প্রথম সাজদায় ১০ বার, দুই সাজাদার মাঝে ১০ বার ও দ্বিতীয় সাজদায় ১০ বার মোট ৭৫ বার প্রতি রাকআতে। অর্থাৎ, এ নিয়মে কিরাআতের পূর্বে ও পরে দাঁড়ানো অবস্থায় ২৫ বার তাসবীহ পাঠ করা হয় আর দ্বিতীয় সাজদার পরে বসা অবস্থায় কোনো তাসবীহ পড়া হয় না। পূর্বের হাদীসে বর্ণিত নিয়মে কিরাআতের পূর্বে কোনো তাসবীহ নেই। দাঁড়ানো অবস্থায় শুধু কিরাআতের পরে ১৫ বার তাসবীহ পড়তে হবে। প্রত্যেক রাকআতে দ্বিতীয় সাজদার পরে বসে ১০ বার তাসবীহ পড়তে হবে। ইবনুল মুবারক বলেন, যদি এ সালাত রাত্রে আদায় করে তবে দু রাকআত করে তা আদায় করবে। অর্থাৎ, দু রাকআত শেষে সালাম ফিরিয়ে আবার দু রাকআত আদায় করবে। আর দিনের বেলায় ইচ্ছা করলে একত্রে চার রাকআত অথবা ইচ্ছা করলে দু রাকআত করেও আদায় করতে পারে। সালাতুত তাসবীহ-এ রুকু ও সাজদায় প্রথমে রুকু ও সাজদার তাসবীহ সুবহানার রাব্বিয়্যাল আযীম ও সুবহানা রাব্বিয়্যাল আলা নূন্যতম তিন বার করে পাঠ করার পরে অতিরিক্ত তাসবীহগুলো পাঠ করতে হবে। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন, শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত রাহে বেলায়াত বইটি।

প্রশ্নঃ 1866
আসসালামু আলাইকুম, বেতের নামায সঠিক ভাবে আদায় করার নিয়ম অথবা পদ্ধতি জানাবেন কি। মামুন, ০১৭১১০৮০৮৯৪, বাংলাদেশ
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমাদের দেশে যেভাবে বিতর নামায পড়া হয় সেটা সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতি। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া 117, 167, 168 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 1667
Assalamualicum,Tahajjut namaz nofol na ki sunnut.(2 ti book a 2 rokom pelam). Ref. shoho janaben.Inshaallah.
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নফল আর সুন্নাত মূলত একই জিনিস। করলে সওয়াব না করলে গুনাহ নেই। তাহাজ্জুদও সেরকম। অবশ্য কুরআনে তাহাজ্জুদকে নফল বলা হয়েছে। وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَّكَ আর রাত্রের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় কর নফল (অতিরিক্ত) হিসাবে। সূরা বনী ইসরাইল, আয়াত ৭৯। সুতরাং এই নিয়ে বাড়াবাড়ি করার দরকার নেই। ফরজ বাদে সকল আমলকে নফল-বা সুন্নাত বলা যায়।

প্রশ্নঃ 1612
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু। শাইখ আমার নফল ইবাদতের সওয়াব অন্য কাউকে দিতে পারবো কি?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দৈহিক নফল ইবাদতের সওয়াব অন্য কাউকে দেয়া যায় মর্মে কোন হাদীস পাওয়া যায় না। তবে দান সদকা করে তার সওয়াব অন্যকে দেওয়া যায়। হাদীসে আছে, أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُم ، أَخَا بَنِي سَاعِدَةَ تُوُفِّيَتْ أُمُّهُ وَهْوَ غَائِبٌ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ أُمِّي تُوُفِّيَتْ وَأَنَا غَائِبٌ عَنْهَا فَهَلْ يَنْفَعُهَا شَيْءٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ بِهِ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ قَالَ فَإِنِّي أُشْهِدُكَ أَنَّ حَائِطِي الْمِخْرَافَ صَدَقَةٌ عَلَيْهَا. সাদ ইবনে উবাদা রা. এর অনুপস্থিতিতে তাঁর আম্মা মারা গেলেন। তিনি নবী সা. এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার অনুপস্থিতিতে আমার আম্মা মারা গিয়েছেন, যদি আমি তার জন্য কোন কিছু সাদকা করি তাহলে কি তা তাঁর কোন উপকারে আসবে? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, তাহলে আমি আপনাকে সাক্ষী করে বলছি, মিখরাফের আমার বড় খেজুর বাগানটি তার জন্য দান করে দিলাম। সহীহ বুখারী,হাদীস নং ১৭৬২। জামে তিরমিযী, হাদীস নং৩৬৫০। তিরমিযীতে হাদীসটি একটু বিস্তারিত বর্ণিত আছে। আলেমদের একাংশ অবশ্য বলেছেন, দান-সদাকার মত নামায-রোজার সওয়াবও দান করা যাবে। বিস্তারিত জানতে দেখুন

প্রশ্নঃ 1586
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। ১. শাইখ যদি রাতে তাহাজ্জুদ সালাতের নিয়ত করে ঘুমাই, আর অনিচ্ছাকৃত ভাবে, আমাদের দেশের সময় অনুযায়ী ফজরের সালাতের আগে ঘুম ভাঙ্গে, তখন কি করবো? বিতর পরে তারপর ফজরের সুন্নাত পড়বো কি? অনেক সময়, জামাতের সময় হয়ে যায়, তখন আর বিতর সালাত পড়া হয় না। এমন মুহূর্তে করণীয় কি? ২. সামনে রমজান আসছে। ইফতারের সময়সূচীতে, হানাফি ক্যালেন্ডারে কিছু সময় পরে, আর আহলে হাদিসদের ক্যালেন্ডারে কিছু সময় আগে দেউয়া থাকে (বুঝানোর জন্য নাম নেউয়া হল)। আবার হাদিসে, সূর্য ডুবার সাথে সাথে ইফতার করতে বলা হয়েছে। বিলম্ব করতে মানা করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে বলেন, আপনি যদি নিশ্চিত হন, সূর্য ডুবে গেছে, তাহলে ইফতার করবেন। কিন্তু এখন আমরা সাধারন মানুষ, ক্যালেন্ডার দেখে অথবা আজান শুনে ইফতার করি। এখন কারা ইফতার বিলম্ব করে করছে বুঝতে পারছি না। ৩. পুরুষদের জন্য চুলে ও দাড়িতে কালো কলপ লাগানো কি নিষেধ? মহিলারা চুলে কালো কলপ দিতে পারবে কি? যাজাকাল্লাহু খাইরা। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীসে এই সময় শুধুমাত্র দুরাকআত ফজরের সু্ন্নাত আদায় করতে বলা হয়েছে। হাদীসটি লক্ষ্য করুন: عَنْ يَسَارٍ مَوْلَى ابْنِ عُمَرَ قَالَ رَآنِى ابْنُ عُمَرَ وَأَنَا أُصَلِّى بَعْدَ طُلُوعِ الْفَجْرِ فَقَالَ يَا يَسَارُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- خَرَجَ عَلَيْنَا وَنَحْنُ نُصَلِّى هَذِهِ الصَّلاَةَ فَقَالَ لِيُبَلِّغْ شَاهِدُكُمْ غَائِبَكُمْ لاَ تُصَلُّوا بَعْدَ الْفَجْرِ إِلاَّ سَجْدَتَيْنِ . ইয়াসার বলেন, আমি একবার ফজর (সুবহে সাদিক) উদিত হওয়ার পর সালাত আদায় করছিলাম তখন ইবনে উমার রা. বলেন, ওহে ইয়াসার, একদা আমরা এই সময় সালাত আদায় করছিলাম তখন রাসূলুল্লাহ সা. আমাদের কাছে আসলেন এবং বললেন, উপস্থিতরা অনুপস্থিতদের নিকট পৌছে দিবে যে, তোমরা ফজর (সুবহে সাদিক) উদিত হওয়ার পর দুই রাকআত ছাড়া কোন সালাত আদায় করবে না। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ১২৮০, মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ৫৮১১। শায়খ শুয়াইব আরনাউত রহ. এবং শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সুতরাং বিতর সালাত দিনের বেলায় কাজা আদায় করবেন। ২। আপনি আপনার এলকাই যে সূচীটি সর্বাধিক প্রচলিত সেই অনুযায়ী ইফতার করবেন। যে সূচিই মানেন রোজা হয়ে যাবে। ৩। পুরুষ ও মহিলার সবার জন্যই কালো কালি ব্যবহার নিষেধ। তবে রোগের কারণে অল্প বয়সে চুল পাকলে অনেকেই বলেন জায়েজ আছে।

প্রশ্নঃ 1307
আসসালামু আলাইকুম। ১৩০৬ নাম্বার উত্তরে যে চার রাকাত নামাজের কথা আছে, তা কি এক সালামেই পড়বো নাকি দুই রাকাত করে পড়বো। ঈশার পর আমরা যে দুই রাকাত সুন্নাত পড়ি সেটা কি তখন না পড়লেও হবে। এই চার রাকাতের পর শুধু এক রাকাত বিতির পড়লে কি হবে?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যখন চার রাকআত পড়বেন তখন দুই রাকআত হয়ে যাচ্ছেই। না পড়লেও হবে এই প্রশ্ন তো অবান্তর। ্উক্ত চার রাকআতের পর এক রাকআত বিতর পড় হবে তবে সুন্নাত হলো আরো কিছু নামায পড়ে তার পর পড়া । নিচের হাদীসটি দেখুন: عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ بِتُّ فِي بَيْتِ خَالَتِي مَيْمُونَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ زَوْجِ النَّبِيِّ : وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عِنْدَهَا فِي لَيْلَتِهَا فَصَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ ثُمَّ جَاءَ إِلَى مَنْزِلِهِ فَصَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ ثُمَّ نَامَ ثُمَّ قَامَ ثُمَّ قَالَ نَامَ الْغُلَيِّمُ ، أَوْ كَلِمَةً تُشْبِهُهَا ثُمَّ قَامَ فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ فَجَعَلَنِي عَنْ يَمِينِهِ فَصَلَّى خَمْسَ رَكَعَاتٍ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ نَامَ حَتَّى سَمِعْتُ غَطِيطَهُ ، أَوْ خَطِيطَهُ ، ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার খালা, রাসূলুল্লাহ সা. এর স্ত্রী মায়মুনা রা. এর গৃহে রাত কাটালাম। সে দিন রাসূলুল্লাহ সা. তার কাছে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সা. ইশার (ফরজ) নামায পড়ে তার ঘরে আসলেন এবং চার রাকআত নামায পড়লেন। এরপর তিনি ঘুমালেন তারপর আবার উঠে নামায পড়লেন এবং বললেন, শিুশুটি ঘুমিয়ে পড়েছে। অত:পর তিনি আবার উঠলেন এবং আমিও তার সাথে উঠলাম এবং তাঁর বাম দিকে নামাযে দাঁড়ালাম। তিনি আমকে ডান দিকে দাঁড় করালেন এবং ৫ রাকআত নামায পড়লেন তার আবার দুই রাকআত পড়লেন (ফজরের দুই রাকআত সুন্নাত) এর আবার তিনি হালকা ঘুমালেন তারপর ফজরের নামাযের উদ্দে্শ্যে মসজিদে গেলেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৭। সুতরাং বিতর পড়ার আগে আরো কিছু নামায পড়বেন। আর না পড়লে বিতর তিন রাকআত পড়াই ভাল। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1306
আসসালামু আলাইকুম, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, যে ব্যক্তি ইশার পরে চার রাকাত সালাত আদায় করে, এটা তার জন্য লায়লাতুল ক্বদরে চার রাকাত সালাত আদায় করার মতোই। মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহঃ ২/৩৪২। আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন, ইশার পরে চার রাকাত সালাত লায়লাতুল ক্বদরে চার রাকাত সালাত আদায় করার মতোই। মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহঃ ২/৩৪২। হাদিস টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবেন ।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। উভয় হাদীসের বর্ণনাকারীগণ ছীকাহ।

এছাড়া আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকেও উক্ত অর্থের হাদীস সহী সনদে বর্ণিত আছে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং৭৩৫৩। উক্ত হাদীসের সমর্থনে একটি হাদীস সহীহ বুখারীতে আছে। সেখানে আছে রাসূলুল্লাহ সা. ইশার পরে চার রাকআত সালাত আদায় করেছেন। হাদীস নং ১১৭।

অর্থাৎ চারকাত পড়ার বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সা. থেকে সহীহভাবে প্রমানিত আর ফজিলতের বিষয়টি সাহাবীদের থেকে সহীহভাবে প্রমানিত। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আল-ইসলাম সুয়াল ও জওয়াব, প্রশ্ন নং ১৭৫৯১৪ (আরবী)।

প্রশ্নঃ 1213
আসসালামু আলাইকুম। স্যার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহঃ) (আল্লাহ্ উনাকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন), উনার লেখা ও কথায়, আলহামদুলিল্লাহ্ আমি অনেক অনুপ্রানিত হয়েছি। ১. স্যার সহিহ হাদিস থেকে বলেছিলেন রাতে ঘুমানোর আগে কিছু নফল সালত পড়ে অন্তত ঘুমাতে। আমি রাত প্রায় ১১ টার দিকে ঘুমানোর আগে দুই দুই করে চার রাকাত অথবা অন্তত মাত্র দুই রাকাত নফল সালাত পড়ি। তারপর সবশেষে মাত্র ১ রাকাত বিতর পড়ি। শুধু মাত্র ১ রাকাত। তবে মাঝে মাঝে ১ রাকাত না পড়ে ৩ রাকাত বিতর পড়ি । দ্বিতীয় রাকাতে না বসে একটানা তিন রাকাত পড়ি অথবা দুই রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে পড়ে এক রাকাত পড়ি। এইভাবে আমি অন্যান্য সহিহ হাদিসের উপরও আমল করি । আমার প্রশ্ন হল, এশার ফরজ ও সুন্নাত সালাত পড়া শেষ করে শুধু মাত্র ১ রাকাত বিতর পড়তে পারবো কি? কারন অনেক সময় কোন প্রয়োজন থেকে যায়। আর রাতের সালাত বা কিয়ামুল লাইল শেষ করে সবশেষে শুধু মাত্র ১ রাকাত বিতর পড়া যাবে কি? আমি যতটুকু জানতে পেরেছি, বিতর সালাত ১ রাকাতও পড়া যায়। লেখা বড় হওয়ার কারণে আমি এইখানে হাদিসগুলা উল্লেখ করলাম না। ২. রুকুর পড়ে দু হাত তুলে দুয়া কুনুত পড়ার পড়ে মাসনূন দুয়া পড়া যাবে কি? যেমনঃ- আল্লাহর প্রশংশা, রাসুল (সাঃ) এর প্রতি সালাম ও দুরুদ, সেজদায় ও সালাম ফিরানোর আগে – পড়ে যে দুয়াগুলা পড়ি ইত্যাদি পড়া যাবে কি? আসসালামু আলাইকুম।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনি রাহে বেলায়াত থেকে বিতর সংক্রান্ত আলোচনাটি পড়লে আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর দলীলসহ জানতে পারবেন। ৪১৩ নং পৃষ্ঠ থেকে শুরু (সর্বশেষ সংস্করণ)। সংক্ষেপে উত্তর হলো, বিতর সালাত রাসূলুল্লাহ সা. শেষ রাত্রে কিয়ামুল্লাইল আদায় করার পর পড়তেন। এটাই সবচেয়ে উত্তম। স্যার যেটা বলেছেন ঘুমানোর আগে পড়া এটা যারা শেষ রাত্রে উঠতে পারবে না তাদের জন্য। কোন নফল সালাত ছাড়া রাসূলুল্লাহ সা. এক রাকাত বিতর পড়েছেন বলে আমার জানা নেই। তবে এক রাকআত পড়ার অনুমতি সহীহ হাদীসে আছে। শুধু বিতর পড়লে অন্তত তিন রাকআত পড়াই ভাল বলে মনে হয়। দুআ কুনুত নিদিষ্ট কোন দুআ নয়। ঐসময় যে কোন দুআ পড়া যায়। অনেকগুলো দুআ এক সঙ্গেও পড়া যায়। আবারো বলছি আপনি রাহে বেলায়াতের বিতর অধ্যায় পড়ুন। আপনার সমস্যা আর থাকবে না।

প্রশ্নঃ 1209
আমি যদি বেতর নামাজ ১ রাকাত আদায় করি তাহলে সুরা ফাতিহার পর কোন সুরা পড়ব? সুরা এখলাস পড়লে সহি হবে কি না?
04 Jan 2026

সূরা ফাতিহার পর কোন নামাযেই নির্দিষ্ট কোন সূরা নেই। আপনি যে কোন সূরা পড়তে পারেন। তবে বিতর নামায তিন বা তাহাজ্জুদ সহ আরো বেশী রাকআত পড়া উচিৎ।

প্রশ্নঃ 1079
বিতির নামাজ পড়ার নিয়মগুলো কি কি? দলিলসহ দিবেন। কুনুত পড়ার আগে কি হাত উঠাতে হবে।
04 Jan 2026

বিতর নামাযের অনেকগুলো নিয়ম আছে। আমাদের দেশে যে নিয়মে বিতর পড়া হয় তাও সহীহ। বিতরের মোট বারটি পদ্ধতি উল্লেখ করেছেন ইবনে হাযাম জাহেরী তার বিখ্যাত আল-মুহাল্ল কিতাবে। তার ভিতর তিনটি নিয়ম ড. শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রাহে বেলায়াত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। উক্ত নিয়মগুলোসহ বিতর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন রাহে বেলায়াত ৪২৩-৪৩০ পৃষ্ঠা। এছাড়া আমাদের দেয়া 0105, 0153 নং প্রশ্নের উত্তরে আপনি অনেক তথ্য জানতে পারবেন। সেগুলো দেখতে পারেন। কুনুতের সময় হাত উঠানো: ফজরের নামাযের কুনুতের সময় উমার রা. হাত উঠাতেন বলে বর্ণিত আছে। হাদীসটি হলো, عَنْ أَبِى عُثْمَانَ قَالَ : صَلَّيْتُ خَلْفَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَرَأَ ثَمَانِينَ آيَةً مِنَ الْبَقَرَةِ ، وَقَنَتَ بَعْدَ الرُّكُوعِ ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى رَأَيْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهِ ، وَرَفَعَ صَوْتَهُ بِالدُّعَاءِ حَتَّى سَمِعَ مَنْ وَرَاءَ الْحَائِطِ. অর্থ: আবী উসমান রহ. বলেন, আমি উমার রা. এর পিছনে নামায আদায় করলাম তিনি সূরা বাকারাহ থেকে আশিটি আয়াত তেলাওয়াত করলেন। তিনি রুকুর পরে কুনুত পড়লেন এবং তার দুহাত উত্তোলন করলেন এমন কি আমি তার বগলের সাদা অংশ দেখে ফেললাম। তিনি এতো উচ্চস্বরে দোয়া করলেন যে, দেয়ালের পিছনে যারা আছে তারাও শুনতে পেলো। আস-সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং৩২৭৪। একই হাদীস আরো দুটি সনদে তিনি উল্লেখ করেছেন। দেখুন ৩২৭৩ এবং ৩২৭৫ নং হাদীস। ৩২৭৫ নং হাদীসের পরে ইমাম বায়হাক্কী রহ. বলেছেন, وَهَذَا عَنْ عُمَرَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ صَحِيحٌ এটা উমার রা. থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত। উপরের হাদীসটি আরো বর্ণিত আছে মুসান্নিফে ইবনে আবি শায়বাতে। হাদীস নং ৭১১৪ এবং ৭১১৫। এই হাদীসটির সমস্ত বর্ণনাগুলো একত্র করলে দেখা যায় এটা ফজরের নামাযের ঘটনা। আর বিভিন্ন সনদে হাদীসটি বর্ণিত হওয়ায় হাদীসটি সহীহ কিংবা হাসান পর্যায়ের হবে। এই হাদীস থেকে বুঝা যায় দুআ কুনুত পড়ার সময় হাত উঠানো যায়। তবে হাত উঠিয়ে তিনি আমাদের দেশের মোনাজাত করার মত করতেন না কান পর্যন্ত উঠাতেন তা স্পষ্ট নয়। কোন কোন সাহবী থেকে বর্ণিত আছে যে, তারা মোনাজাতের মত করে হাত তুলতেন। আশা করি আপনি আপনার উত্তর পেয়েছেন।

প্রশ্নঃ 1071
তাহাজ্জুদ নামাজ কি প্রতিদিন এবং কোনো বন্ধ না দিয়া পড়া জায়েজ আছে?
04 Jan 2026

হ্যাঁ, তাহাজ্জুদ নামায প্রতিদিন কোন বিরতী ছাড়া পড়া জায়েজ আছে।

প্রশ্নঃ 1065
মুহতারাম, নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠার এবং কম ঘুমিয়ে (৩ -৪ ঘণ্টা ঘুমিয়ে) শরীর সুস্থ রাখার কোন আমল আছে কি? বিশেষ করে, কিয়ামুল্লাইল এর অভ্যাস কিভাবে করা যেতে পারে? মেহেরবানি করে পরামর্শ দিবেন।
04 Jan 2026

কিয়ামুল্লাইল এর জন্য আপনাকে ঘুম খুব একটা কমাতে হবে না। আপনি একটু আধা ঘন্টা বা ৪৫ মিনিট আগে ঘুমাবেন আর ফজরের সালাতের সময় শুরু হওয়ার ৩০-৪০ মিনিট পূর্বে ঘুম থেকে উঠবেন। দশ মিনিটে পবিত্র হয়ে সালাত শুরু করবেন। ফজর শুরুর আগ পর্যন্ত ২০-৩০ মিনিট সময় পাবেন। এভাবে আপনি কিয়ামুল্লাইল নিয়মিত আদায় করতে পারেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কিয়ামুল্লাইল আদায় করার তাওফীক দিন।

প্রশ্নঃ 1052
আসসালামুয়ালাইকুম। আমি বিতর নামাজ প্রথমে ২ রাকাত পড়ে সালাম ফিরে পরে ১ রাকাত পড়ি। ১ রাকাতে সূরা ফাতিহা এবং অন্য সুরার পর পরই দোয়া কুনুত রুকুর আগে পড়ি। এখন মনে হচ্ছে যে অন্য সূরা এবং দোয়া কুনুত একই সূরা। মাজখানে তাকবির বা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পড়ি না। আমার নিয়ম কি ঠিক আছে? আমার প্রশ্ন নিচে দেওয়া হল। বিতর নামাজে দোয়া কুনুত পড়তে ভুলে গেলে কি সাহু সিজদা দিতে হবে? দোয়া কুনুত পড়ার আগে কি বিসমিল্লাহির রাহ মানির রাহিম পড়তে হবে? দোয়া কুনুত পড়ার আগে (ফাতিহা+অন্য সুরার পর পরই) আল্লাহু-আকবর বলতে হবে? আল্লাহু-আকবর বলে প্রচলিত নিয়ম অনুযাই হাত তুলতে হবে?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কোন আমলই না জেনে করা আমারদের জন্য ভাল কাজ নয়। আমল করার অগে আমাদের উচিৎ বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞাত ব্যক্তির নিকট থেকে জেনে নেয়া। এবার আপনার প্রশ্নে আসি। ১. হ্যাঁ, সাজদায়ে সাহু ওয়াজি হবে। ২. না, পড়তে হয় না। ৩. হ্যাঁ, আল্লাহু আকবার বলতে হবে। ৪. প্রচলিত নিয়মে তুললেও সহীহ হবে। আবার ভিন্ন নিয়মও আছে। তাকবীর দিয়ে কুনুত পড়ার বিষয়ে হাদীসটি লক্ষ্য করুন, كَانَ عَبْدُ اللهِ لَا يَقْنُتُ إِلَّا فِي الْوِتْرِ، وَكَانَ يَقْنُتُ قَبْلَ الرُّكُوعِ، يُكَبِّرُ إِذَا فَرَغَ مِنْ قِرَاءَتِهِ حِينَ يَقْنُتُ অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. শুধু বিতরের সালাতেই কুনুত পড়তেন। আর তিনি রুকুর পূর্বে কুনুত পড়তেন। যখন কুরআন পড়া শেষ করতেন তখন তাকবীর দিয়ে কুনুত পড়তেন। শরহে মুশকিলিল আছার, হাদীস নং ৪৫০৪, ১১/৩৭৪। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাতে (হাদীস নং ৭০২১)ভিন্ন সনদে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে অনুরুপ বর্ণিত আছে। উভয় হাদীসের সনদে দূর্বলতা আছে। তবে দ্বিতীয় হাদীসটি প্রথম হাদীসের বক্তব্যকে সমর্থন করায় শায়খ শুয়াইব আর নাউত প্রথম হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। দেখুন: শরহে মুশকিলিল আছার, ১১/৩৭৪। এই হাদীসে আমরা দেখছি সাহবী ইবনে মাসউদ কুনুত পড়ার পূর্বে তাকবীর দিতেন। বিতর পড়ার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে দেখুন রাহে বেলায়াত গ্রন্থের বিতর সম্পর্কীত আলোচনা। এছাড়াও আমাদের দেয়া 167 এবং 117 নং প্রশ্নের উত্তর দেখতে পারেন।

প্রশ্নঃ 805
ঘুম থেকে সঠিক সময়ে বা তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য উঠার কোনো দুআ আছে কি?
01 Jan 2026

আপনি নিজের মত করে আল্লাহর কাছে ঘুম থেকে সময়মত উঠার জন্য দুআ করবেন। আর আধুনিক যন্ত্রগুলোর সাহায্য নিবেন।

প্রশ্নঃ 620
আসসালামুয়ালাইকুম, তাহাজ্জুদ নামাজ এর বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাই…।
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। তাহাজ্জুদ নামায দুই দুই রাকআত করে ঘুম থেকে উঠে পড়বেন। রাসূলুল্লাহ সা. থেকে ৮ এবং তার চেয়ে বেশী রাকআত পড়ার কথা সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে। তাহাজ্জুদের পর বিতর নামায পড়া উত্তম। বিস্তারিত জানতে হাদীসের কিতাব সমূহে কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ অধ্যায়গুলো দেখতে পারেন।

প্রশ্নঃ 564
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ সুর্য ওঠার পরে ইশরাক নামাজ পড়ার পরে আরও নামাজ পড়তে চাইলে কী নিয়ত করতে হবে? শুধু নফল নিয়ত করলে কি হবে?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সাধারণ নফল নামাযের নিয়ত করবেন। মনে রাখবেন নিয়ত মনের বিষয়ে মুখে করার বিষয় নয়। মনে এটা রাখতে হবে যে আমি নফল নামায পড়ছি।

প্রশ্নঃ 546
বিতির সালাত যদি কাযা হয়ে যায় তাহলে কি সেই কাযা আদায় করতে হবে?
29 Dec 2025

নিচের হাদীসটি দেখুন: عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- كَانَ إِذَا فَاتَتْهُ الصَّلاَةُ مِنَ اللَّيْلِ مِنْ وَجَعٍ أَوْ غَيْرِهِ صَلَّى مِنَ النَّهَارِ ثِنْتَىْ عَشْرَةَ رَكْعَةً অর্থ: হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. থেকে যখন কোন কারণে রাতের নামায ছুটে যেত তখন তিনি বার রাকআত আদায় করতেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭৭৭। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সা. সাধারণত রাতে বিতরসহ এগার রাকআত আদায় করতেন। আর কোন কারণে না পড়তে পারলে দিনের বেলায় বার রাকআত পড়তেন। সুতরাং এই হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, রাতের বেলায় কেউ বিতর আদায় না করলে দিনের বেলায় সাধারণ অভ্যাসের চেয়ে এক রাকআত বেশী আদায় করবেন। আপনি যদি বিতর তিন রাকআত পড়েন তাহলে দিনের বেলায় চার রাকআত নামায পড়বেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আল-ইসলাম সুয়াল ও জাওয়াব, শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ, ফাতওয়া নং ৬৫৬৯২।

প্রশ্নঃ 168
১. বিতির এর সালাতে আমারা ৩য় রাকাতে কিরাত এর পর তাকবির বলে রাফা ইয়াদাইন করে হাত বেধে কুনুত পরি এর সহিহ দলিল আছে কিনা? থাকলে জানতে চাই। ২. হাজিদের ঈদ এর সালাত পরা লাগে না কেন?
23 Dec 2025
১। বিতর সালাত বিষয়ে দেয়া আমাদের উত্তরগুলো দেখুন।
২। হাজীগণ হজ্বের বিভিন্ন কাজে লিপ্ত থাকেন এবং মুসাফিরের হুকুমে থাকেন তাই শরীয়ত তাদের জন্য ঈদের নামাজ ওয়াজিব করে নি।
প্রশ্নঃ 167
মুহতারাম। আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হল ১. বিতির এর সালাতের শেষ রাকাতে কুনুত এর আগে তাকবির সহ যে রাফাউল ইয়াদাইন করে হাত বেধে কুনুত পরার যে নিয়ম চালু আছে, তার দলিল সম্পরকে। আমি জানতে চাই কুনুত এর আগে তাকবির বলা এবং রাফাউল ইয়াদাইন করে হাত বাধার কোন সহিহ দলিল আছে কিনা। ২. বিতির এর সালাতের দিতীয় রাকাতে বইঠক এর কোন সহিহ দলিল আছে কিনা।
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আপনার প্রথম প্রশ্নের মধ্যে তিনিটি বিষয় রয়েছে। ১। বিতর নামাযে তাকবীর দিয়ে কুনুত। ২। কুনুতের সময় হাত উঠানো। ৩। কুনুতের পূর্বে নতুন করে হাত বাঁধা। নিচে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো। বিতর নামাযে তাকবীর দিয়ে কুুনুত: তাকবীর দিয়ে কুনুত পড়ার বিষয়ে একটি হাদীসে বর্ণিত আছে,
كَانَ عَبْدُ اللهِ لَا يَقْنُتُ إِلَّا فِي الْوِتْرِ، وَكَانَ يَقْنُتُ قَبْلَ الرُّكُوعِ، يُكَبِّرُ إِذَا فَرَغَ مِنْ قِرَاءَتِهِ حِينَ يَقْنُتُ
অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. শুধু বিতরের সালাতেই কুনুত পড়তেন। আর তিনি রুকুর পূর্বে কুনুত পড়তেন। যখন কুরআন পড়া শেষ করতেন তখন তাকবীর দিয়ে কুনুত পড়তেন। শরহে মুশকিলিল আছার, হাদীস নং ৪৫০৪, ১১/৩৭৪। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাতে (হাদীস নং ৭০২১)ভিন্ন সনদে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে অনুরুপ বর্ণিত আছে। উভয় হাদীসের সনদে দূর্বলতা আছে। তবে দ্বিতীয় হাদীসটি প্রথম হাদীসের বক্তব্যকে সমর্থন করায় শায়খ শুয়াইব আর নাউত প্রথম হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। দেখুন: শরহে মুশকিলিল আছার, ১১/৩৭৪। এই হাদীসে আমরা দেখছি সাহবী ইবনে মাসউদ কুনুত পড়ার পূর্বে তাকবীর দিতেন। কুনুতের সময় হাত উঠানো: ফজরের নামাযের কুনুতের সময় উমার রা. হাত উঠাতেন বলে বর্ণিত আছে। হাদীসটি হলো,
عَنْ أَبِى عُثْمَانَ قَالَ : صَلَّيْتُ خَلْفَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَرَأَ ثَمَانِينَ آيَةً مِنَ الْبَقَرَةِ ، وَقَنَتَ بَعْدَ الرُّكُوعِ ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى رَأَيْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهِ ، وَرَفَعَ صَوْتَهُ بِالدُّعَاءِ حَتَّى سَمِعَ مَنْ وَرَاءَ الْحَائِطِ
অর্থ: আবী উসমান রহ. বলেন, আমি উমার রা. এর পিছনে নামায আদায় করলাম তিনি সূরা বাকারাহ থেকে আশিটি আয়াত তেলাওয়াত করলেন। তিনি রুকুর পরে কুনুত পড়লেন এবং তার দুহাত উত্তোলন করলেন এমন কি আমি তার বগলের সাদা অংশ দেখে ফেললাম। তিনি এতো উচ্চস্বরে দোয়া করলেন যে, দেয়ালের পিছনে যারা আছে তারাও শুনতে পেলো। আস-সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং ৩২৭৪। একই হাদীস আরো দুটি সনদে তিনি উল্লেখ করেছেন। দেখুন ৩২৭৩ এবং ৩২৭৫ নং হাদীস। ৩২৭৫ নং হাদীসের পরে ইমাম বায়হাক্কী রহ. বলেছেন,
وَهَذَا عَنْ عُمَرَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ صَحِيحٌ
এটা উমার রা. থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত। উপরের হাদীসটি আরো বর্ণিত আছে মুসান্নিফে ইবনে আবি শায়বাতে। হাদীস নং ৭১১৪ এবং ৭১১৫। এই হাদীসটির সমস্ত বর্ণনাগুলো একত্র করলে দেখা যায় এটা ফজরের নামাযের ঘটনা। আর বিভিন্ন সনদে হাদীসটি বর্ণিত হওয়ায় হাদীসটি সহীহ কিংবা হাসান পর্যায়ের হবে। এই হাদীস থেকে বুঝা যায় দুআ কুনুত পড়ার সময় হাত উঠানো যায়। তবে হাত উঠিয়ে তিনি আমাদের দেশের মোনাজাত করার মত করতেন না কান পর্যন্ত উঠাতেন তা স্পষ্ট নয়। কোন কোন সাহবী থেকে বর্ণিত আছে যে, তারা মোনাজাতের মত করে হাত তুলতেন। কুনুতের পূর্বে নতুন করে হাত বাঁধা: এই মর্মে কোন হাদীস বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নেই। তবে এই ভাবে বিতর পড়াকে আলেমগণ সুন্নাহ সম্মত বলেছেন। আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য এসম্পর্কে আমাদের দেয়া অন্য প্রশ্নর উত্তর দেখুন।
প্রশ্নঃ 43
সালাতুল জানাযায় তাকবীর গুলোর সময় হাত উঠাতে হবে কি না? দলীল সহ জানালে উপকৃত হব।
20 Dec 2025
গুরুত্বপূর্ণ এই পশ্নটি করার জন্য আপনারক শুকরান। নিম্নে আপনার প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়ে আলোচনা করা হল। উলামায়ে কেরাম এব্যাপারে একমত যে, জানাযার নামাজে প্রথম তাকবীরে হাত উঠানো সুন্নাত। কিন্তু পরবর্তি তাকবীর গুলোরতে হাত উঠাতে হবে কিনা এব্যাপারে উলামায়ে কেরামের মাঝে কিছুটা মতবিরোধ পরিলক্ষিত হয়। শাফেয়ী এবং হাম্বলী মাযহাব শাফেয়ী এবং হাম্বলী মাযহাবের উলামায়ে কেরাম সহ ইবনুল মুনযিরী রহঃ, শায়েখ ইবনে বায রহঃ, ইবনে উসায়মীন রহঃ এর মতে পরবর্তি তাকবীর গুলোতেতে হাত উঠানো সুন্নাত। দলীলঃ
: رأيتُ رسول الله - صلَّى الله عليه وسلَّم - يرفع يدَيْه مع التكبير عن وائل بن حُجْر قال رواه أحمد (4/ 316) ونحوه الطيالسي (1021) والدَّارِمي (1/ 285)
অর্থঃ ওয়ায়েল ইবনে হজর রাঃ থেকে বর্ণীত তিনি বলেন: রাসূল সাঃ কে তাকবীরের সাথে হাত উঠাতে দেখেছি। মুসনাদে আহামদ, ৪/৩১৬,তয়ালিসী, (১০২১), দারেমী, ১/ ২৮৫। শায়েখ আলবানী রহঃ হাদীসের সনদটিকে হাসান বলেছেন। উক্ত হাদীসটি ব্যাপক অর্থে এসেছে, অর্থাৎ নির্দিষ্ট করে কোন নামাজের কথা উল্লেখ করা হয়নি । ফলে জানাযার নামাযকেও শামিল করবে বলে এমতের উলামায়ে কেরাম মত প্রকাশ করেছেন।
حديث عمر: أنَّه كان يَرفع يديه مع كلِّ تكبيرة في الجنازة وفي العيد، رواه البيهقيُّ (3/ 293) والأثرم، وفيه ابن لهيعة، وابن لهيعة ضعيفُ الحفظ، ولذلك فهو يعتبر به في الشَّواهد والمُتابَعات، ولا يكون حجَّة إذا تفرَّد، إلا إن روى عنه العبادلةُ كما عُرِف في محلِّه
ইবনে উমর রাঃ জানাজার নামাযে এবং ঈদের নামাযের প্রত্যেক তাকবীরে হাত উুঠাতেন । বায়হাকী, ৩/২৯৩, হানাফী এবং মালেকী মাযহাব জাহেরুর রেওয়াত অনূযায়ী হানাফী মাযহাবের উলামায়ে কেরাম এবং মালেকী মাযাহাবের উলামায়ে কেরাম এবং সুফিয়ান ছাওরী রহঃ ও ইবনে আবি লাইলা রাহঃ এর মতে জানাযার অন্যান্য তাকবীর গুলোতে হাত উঠাতে হবে না। এমতের উলামায়ে কেরাম বলেন শরীয়তের কোন বিষয় সাব্যস্ত হওয়ার জন্য দলীল প্রয়োজন। আর এব্যাপারে কোন দলীল পাওযা যায় না । ইবনে হাযাম রহঃ বলেন: প্রথম তাকবীর ছাড়া অন্যান্য তাকবীর গুলোতে হাত উঠানোর বিষয়টি রাসূল সাঃ থেকে প্রমানীত নেই । তিনি বলেন: রাসূল সাঃ মাথা নিচু করার সময় এবং মাথা উঠানোর সময় হাত উঠাতেন। আর এই বিষয়টি জানাযায় নেই । তাই অন্যান্য তাকবীরের সময় হাত উঠাতে হবে না। আল্লাম শাওকনী রহঃ বলেন: এব্যাপারে প্রমাণযগ্য কোন কিছু রাসূল সাঃ খেকে প্রমাণীত নেই । এবং ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীগণের বক্তব্যতেও এব্যাপারে কোন দলীল নেই। সুতরাং উচিৎ হল হাত উঠানোর বিষয়টি প্রথম তাকবীরের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ রাখা। নাইলুল আওতার ৫/ ৫৫ । শায়েখ আলবানী রহঃ বলেন: এটা (জানাযার প্রথম তাকবীর ছাড়া অন্যান্য তাকবীরগুলোতে হাত উঠানো) সুন্নাত নয়। কারন রাসূল সাঃ এর থেকে প্রমানীত নয়। আর ইবনে ওমর এর বিষয়টি এটাকে সু্ন্নাত বানাতে পারেনা । তামামুল মিন্নাহ, ১/৩৪৮।
প্রশ্নঃ 39
(তাহিয়্যাতুল মাসজিদ) মসজিদে প্রবেশ করার পর যদি দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মাসজিদ পড়ার প্রয়োজনীয় সময় না পাওয়া যায় তাহলে মুসুল্লি জামাতের অপেক্ষায় দাড়িয়ে থাকবে নাকি বসে থাকবে। বসে থাকা নাকি মাকরুহ। আবার কেউ কেই বলেন, ইমাম সাহেব দাড়ানোর আগে দাড়িয়ে থাকা আদবের খেলাফ। উত্তম পন্থা কোনটি । হাদীসের আলোকে জানতে চাই।
20 Dec 2025
মসজিদে প্রবেশ করে বসার আগে দুই রাকাত নামাজ পড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। আবু কাতাদা রাঃ থেকে বর্ণীত একটি হাদীসে এসেছে, রাসূল সাঃ বলেন:
إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمْ الْمَسْجِدَ فَلَا يَجْلِسْ حَتَّى يُصَلِّيَ رَكْعَتَيْنِ
অর্থঃ তোমাদের কেউ যখনই মসজিদে প্রবেশ করবে সে যেন দুই রাকাত নামাজ পড়া বসে না পড়ে । বুখারী, আস সহীহ, কিতাব, আস সালাত, বাব,ইজা দাখালাল মাসজিদা। উক্ত হাদীসের ভিত্তিতে ইমাম নববী রহঃ বলেন:
أجمع العلماء على استحباب تحية المسجد ، ويكره أن يجلس من غير تحية بلا عذر؛ لحديث أبي قتادة المصرح بالنهي
অর্থঃ এব্যাপারে উলামায়ে কেরাম একমত যে, তাহিয়্যাতুল মসজিদ (মসজিদে ঢুকে দুই রাকাত নামাজ পড়া) মুস্তাহাব এবং কোন কারন ছাড়া নামাজ না পড়ে বসে পড়া মাকরুহ। মাজমু খন্ড ৩, র্পষ্ঠা ৫৫৪। অতএব এ নামাজের ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়া উচিৎ। শুধু নামাজের আগে নয় বরং যখনই আমরা মসজিদে প্রবেশ করব তখনই দুই নামাজ পড়ে বসব । সময় যদি কম থাকে ফরয,ওয়াজীব, সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ঠিক রেখে নামাজ শেষ করব। প্রথম রাকাতে থাকা অবস্থায় ইক্বামত শুরু হয়ে গেলে নামাজ ছেড়ে দিয়ে জামাতে শরীক হবো। সর্বঅবস্থায় হাদীসের অনুস্বরণ করার চেষ্টা করব। তবে যদি একান্তই নামায পড়ার সুযোগ না থাকে তাহলে বসার তুলনায় দাড়িয়ে অপেক্ষা করাই উত্তম। কারন না বসে দাড়িয়ে অপেক্ষা করাটা হাদীসের সাথে বেশি সামঞ্জস্য। এক্ষেত্রে হাদীসের ব্যাক্ষা না করে ফুক্বাহায়ে কেরামের কথার ব্যাক্ষা করে বলব, দাড়িয়ে অনর্থক হাটা চলা করা বা কোন কারন ছাড়া এদিকে সেদিকে তাকিয়ে থাকাকে তাঁরা মাকরুহ বা আদবের খেলাফ বলেছেন। আল্লাহ আমাদেরকে বুঝে শুনে আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

কপিরাইট স্বত্ব © ২০২৫ আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট - সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত| Design & Developed By Biz IT BD