আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট এ আপনাকে স্বাগতম

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি
সব প্রশ্ন অর্থনৈতিক আকিকা আকীদা নামায আখিরাত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আদব আখলাক ইতিহাস ঈদ-কুরবানী ঈমান তাওহীদ রিসালাত জানাযা-কবর যিয়ারত জান্নাত-জাহান্নাম জিহাদ তাফসীর ত্বহারাত পবিত্রতা সফর জুমআ তারাবীহ নফল সালাত বিতর পোশাক-পরিচ্ছেদ ফারায়েজ ফিতরা বিচার-আচার বিবাহ-তালাক মানত যাকাত যিকির/দুআ/আমল রোজা লেনদেন শিরক-বিদআত সাধারণ দান-সদকাহ সিরাত/সামায়েল সুন্নাত হজ্জ হাদীস ও উসূলুল হাদীস হালাল হারাম বিবিধ কুরআন হাদীস বাতিল ফিরকা দাওয়াত ও তাবলিগ জাদু-টোনা মসজিদ মুসাফির রমযান সুদ-ঘুষ হালাল ইতিকাফ কাজা/কাফফারা গুনাহ জায়েয তায়াম্মুম ব্যক্তিগত ও তাবলিগ সদকাহ বিদআত কসর তাওবা জিন-পরি ব্যবসা-বাণিজ্য বই অসিয়ত
প্রশ্নঃ 2173
আসসাল্মু আলাইকুম, জনাব আপনাদের ৫৪৯ নং প্রশ্নের উত্তরে হযরত আয়েশা রা. বলেন, مَنْ حَدَّثَكَ أَنَّ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم رَأَى رَبَّهُ فَقَدْ كَذَبَ وَهْوَ يَقُولُ {لاَ تُدْرِكُهُ الأَبْصَارُ} অর্থ: যে বলবে যে, মুহাম্মাদ সা. তার রবকে দেখেছে সে মিথ্যা বলবে। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, চোখসমূহ তাকে দেখতে পাবে না। যেই হাদিস টির নং উল্লেখ করেছেন সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৩৮০। এটা কোন প্রকাশনীর? আমি যাচাই করতে পারছি না। ধন্যবাদ।
21 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এটা মাকতাবাতুশ শামেলার ফাতহুল বারীর নাম্বার অনুযায়ী। যে কোন প্রকাশনীর ফাতহুল বারীতে মিলাতে পারবেন। কিতাবুত তাওহীদের এর ৪নং বাব। আশা করি পেয়ে যাবেন।

প্রশ্নঃ 2168
আসসালামু আলাইকুম, ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার এর বই এ হাদিস গুলর যেই রেফারেন্স নং থাকে সেগুলো কোন প্রকাশনীর,অথবা কোথা থেকে আনা হয়েছে? যেমনঃ- স্যার এর রাহে বেলায়েত বইয়ে ৫৭৫ পৃষ্ঠার একটা হাদিস – আয়েশা (রাঃ) বলেন কিছু মানুষ রাসুলুল্লাহ (সঃ) কে গণক – পুরহিতদের বিষয়ে প্রশ্ন করেন । তখন তিনি বলেন, এরা কিছুই নয় । তারা বলেঃ হে আল্লাহর রাসুল তারা তো কখনও কখনও এমন সব কথা বলে যা সত্য বলে প্রমানিত হয় । তখন রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন – জিন ( ফেরেশতাগনের কথাবার্তা থেকে ) একটি সত্য চুরি করে শ্রবণ করে, এরপর সে মুরগীর মত শব্দ করে তা তাঁর ওলির কানের মধ্যে ঢেলে দেয়। তখন জিনের ওলিগন (যাদুকর ) এর সাথে শত মিথ্যা মিশ্রিত করে। বুখারী ( ৭৯- কিতাবুত তিব, ৪৫- বাবুল কাহানাহ ) ৫/২১৭৩), মুসলিম ( ৩৯- কিতাবুস সালাম, ৩৫- তাহ্রীমিল কাহানাহ) ৪/১৭৫০) এই ২১৭৩ ও ১৭৫০ ইসলামিক ফাউনডেশন এর ২১৭৩ ও ১৭৫০ অথবা তাওহীদ পাবলিকেশন এর ২১৭৩ ও ১৭৫০ এর কোনোটার সাথে মিল পাচ্ছি না। এবং কোথায় মিল পাব? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো। আল্লাহ আপনাদের সঠিক উত্তর দেয়ার তৌফিক দান করুক।
21 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার রহ. এর বই এ হাদিস গুলর যেই রেফারেন্স নং থাকে সেগুলো কোন প্রকাশনীর তা বইয়ের শেষে দেয়া আছে। আপনি সেখান থেকে দেখে নেবেন। দ্বিতীয়ত যখন অধ্যায় ও পরিচ্ছেদের কথা উল্লেখ থাকে তখন তো যে কোন লাইব্রেরীর কিতাবে খুঁজে পাওয়া যাবে। যেমন আপনি যেটার কথা উল্লেখ করেছেন।৭৯নং অধায়, যার শিরোনাম কিতাবুত তিব এবং ৪৫ ন্ং পরিচ্ছেদ, যার শিরোনাম, বাবুল কাহানাহ। এভাবে খুঁজলে তো না পাওয়ার কথা নয়। তাছাড়া রাহে বেলায়াতে ভারতীয় নুসখার রেফারেন্সও দেয়া আছে। এটা তো আমাদের সকল মাদ্রাসায় পড়ানো হয়। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 2162
সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যা গ্রন্থ ফাতহুল বারী কি বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে? এর কোন ডাউনলোড লিংক আছে কি?
21 Jan 2026

আমাদের জানা নেই। অনুবাদ না হওয়ারই কথা। আর এটার অনুবাদ পড়েও তেমন কোন উপকার হবে বলে মনেও হয় না।

প্রশ্নঃ 2097
ফাজরের 'সলাতের পর সূরাহ ইয়াসিন ও মাগরিবের 'সলাতের পর সূরাতুল ওয়াক্বিয়াহ পাঠ সম্পর্কিত হাদীসগুলি কি গ্রহণযোগ্য?
19 Jan 2026

প্রতি রাতে সূরা ওক্বিয়াহ আমল করলে কি ধন সম্পদ বৃদ্ধি পায় এই অর্থের একটি হাদীস বর্ণিত আছে। তবে হাদিসটি যয়ীফ। হাদীসটি হলোمَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْوَاقِعَةِ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ لَمْ تُصِبْهُ فَاقَةٌ أَبَدًا যে ব্যক্তি প্রতি রাত্রে সূরা ওয়াকিয়া পড়বে, অভাব তাকে স্পর্শ করতে পারবে না। শুয়াবুল ইমান, হাদীস নং ২২৬৯। তবে হাদীসটি যয়ীফ। দেখুন, সিলাসিলাতুয যয়ীফা, হাদীস নং ২৮৯। অভাব মোচনের জন্য আপনি নিম্নের দুআ দুটি বিভিন্ন সময় পড়বেন। প্রথম দুআটি দু্ই সাজদার মাঝে পড়বেন। ১। اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى وَارْحَمْنِى وَاهْدِنِى وَعَافِنِى وَارْزُقْنِى সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭০২৫। رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ সূরা আল-বাকরা, আয়াত নং ২০১। 

ফজরের সালাতের পর সূরা ইয়াসিন পড়ার ফজিলতের কোন গ্রহনযোগ্য হাদীস নেই। কিছু দূর্বল হাদীসে আছে।  

প্রশ্নঃ 2069
গাযওয়া ই হিন্দ এই নামে কি কোনো হাদীস আছে, অনুগ্রহ করে জানাবেন।
18 Jan 2026

গাযওয়া হিন্দের বিষয়ে কয়েকটি হাদীস বর্ণিত আছে। তার ভিতর একটি হলো: সাওবান রা. বলেন, قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : عصابتان من أمتي أحرزهما الله من النار عصابة تغزو الهند وعصابة تكون مع عيسى بن مريم عليهما السلام রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, আমার উম্মাতের দুটি দলকে আল্লাহ তায়ালা জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবেন। একটি দল হলেঅ যারা হিন্দুস্থানের গাওয়াতে অংশগ্রহণ করবেন আর অপর দল হলো যারা ইসা. আ. এর সাথে থাকবেন। সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ৩১৭৫; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২২৪৪৯। শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহী বলেলেছন আর শায়খ শুয়াইবর আর নাউত হাসান বলেছেন। এছাড়া আবু হুরাইরা রা. থেকে আরো কয়েকটি হাদীস বর্ণিত আছে। তবে সেগুলোর সনদে দূর্বলতা আছে।

প্রশ্নঃ 2056
প্রশ্ন-একটি হাদীসে আছে রাসূল (স:) এর উম্মতের হায়াত ১০০০ বসর। অন্য একটি হাদীসের ইঙ্গিত ১৫০০ বসর। এর মধ্যে ১৪৫১ বসর পার হয়েছে আর সামনে আছে ৪৯ বসর এই হাদীসের আলোকে বুঝা যায় লাসূল (স:) এর উম্মত আগামী ৫০ বসরের মধ্যে সব মারা য়াবে। এব্যপারে আপনাদের মতামত বিস্তারতি জানতে চাই। ১ম হাদীসটি আছে দালায়ালে নবুয়াহ এর মধ্যে ২য় হাদীসটি আছে মুসনাদে আহমাদে মধ্যে।
18 Jan 2026

হাদীসগুলোর আরবী পাঠ লিখে পাঠালে আমাদের জন্য উত্তর দেয়া সহজ হবে। এই ধরণের হাদীস সাধারণত বানোয়াট হয়।

প্রশ্নঃ 2034
আসসালামু আলাইকুম। শাইখের কাছে আমার একটা বিষয় জানার ছিল। আশা করি উত্তর পাব ইনশা আল্লাহ। মুহাম্মদ ইবনু হাকাম (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন রোগের মধ্যে সংক্রমণ নেই; শুভ-অশুভ লক্ষণ বলে কিছু নেই। পেঁচায় কুলক্ষণ নেই এবং সফর মাসে অকল্যাণ নেই। [বুখারী (ইফাঃ) – ৫৩৪৬] এখানে রোগের মধ্যে সংক্রমণ নেই বলতে কি বুঝানো হচ্ছে? জাযাকাল্লাহ খাইরান।
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সে যুগে কিছু মানুষের বিশ্বাস অনেকটা এরকম হয়েছিল যে, রোগ নিজ ইচ্ছায় একজনের থেকে আরেক জনের কাছে যায়। রাসূলুল্লাহ সা. এই ধারণাকে ছুড়ে ফেলে দেয়ার জন্য বলেছেন রোগের মধ্যে সংক্রমণ নেই । আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 1992
আস সালামু আলাকুম । ওষুধ খাবার সময় বিসমিল্লাহ বলার বিধান কি?
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সহীহ হাদীসে খাবার খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ বলার কথা রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ১৮৫৮। ইমাম তিরমিযী রাহ. এবং শায়খ যাহাবী রাহ.সহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সে হিসাবে ওষুধ খাওয়ার আগেও বিসমিল্লাহ বলা সুন্নাত।

প্রশ্নঃ 1991
নবুয়ত ও রিসালাতের মধ্যে পার্থক্য কী?
18 Jan 2026

এই প্রসঙ্গে স্যার রহ. এর একটি আলোচনা তুলে দিলাম। আশা করি এখানে আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর যথাযথ পাবেন। শায়খ ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. বলেছেন, ঈমানের অন্যতম বিষয় আল্লাহর রাসূলগণে বিশ্বাস করা। মানুষের প্রতি মহান স্রষ্টার করুণা অসীম। তিনি তাকে তার দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও গুণাবলী দান করা ছাড়াও তাকে মঙ্গলের পথ প্রদর্শনের জন্য যুগে যুগে বিভিন্ন সমাজের মধ্যে থেকে বিভিন্ন মানুষকে বেছে নিয়ে তাঁদের কাছে ওহীর মাধ্যমে সঠিক পথের সন্ধান দান করেছেন। আল্লাহর মনোনীত এসকল মানুষকে ইসলামের পরিভাষায় নবী বা রাসূল বলা হয়। নবী (النبيّ) অর্থ সংবাদদাতা এবং রাসূল (الرسول) অর্থ প্রেরিত বা দূত। আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী লাভ করে যারা মানুষদেরকে আল্লাহর পথের নির্দেশনা দেন তাঁদেরকে নবী ও রাসূল বলা হয়। তবে সকল নবী-রাসূলের নাম বা পরিচয় আমরা জানি না। এ প্রসঙ্গে ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙঙ্গীর রহ. বলেন, কুরআনে ২৫ জন নবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে: আদম, ইদরীস, নূহ, হুদ, সালিহ, ইবরাহীম, লূত, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব, ইউসূফ, আইয়ূব, শুয়াইব, মূসা, হারূন, ইউনূস, দাউদ, সুলাইমান, ইল্ইয়াস, ইল্ইয়াসা, যুলকিফল, যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা, মুহাম্মাদ (عليهم الصلاة والسلام)। উযাইরকে ইহূদীগণ আল্লাহর পুত্র বলে দাবি করত। কিন্তু কুরআনে তাঁর নবুয়ত সম্পর্কে কিছুই বলা হয় নি। আবূ হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (r) বলেন: مَا أَدْرِيْ أعُزَيْرٌ نَبِيُّ هُوَ أَمْ لاَ আমি জানি না যে, উযাইর নবী ছিলেন কি না। মূসা (আ)-এর খাদিম হিসাবে ইউশা ইবনু নূন-এর নাম হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণিত কোনো সহীহ হাদীসে অন্য কোনো নবীর নাম উল্লেখ করা হয় নি। কোনো কোনো যয়ীফ হাদীসে আদম আ.এর পুত্র শীস-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কুরআন-হাদীস থেকে অন্য কোনো নবীর নাম জানা যায় না। কুরআন কারীমে উল্লিখিত নবী-রাসূলগণকে আমরা নির্দিষ্টভাবে আল্লাহর মনোনীত নবী হিসেবে বিশ্বাস করি। তাঁদের সবাইকে আমরা ভালবাসি ও শ্রদ্ধা করি। আমরা বিশ্বাস করি যে, তারা সবাই নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী পবিত্র মানুষ ছিলেন। তাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পরিপূর্ণভাবে পালন করেছেন। তাঁরা সবাই আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও নবী ছিলেন। এঁদের নবুয়ত বা রিসালত আমরা অস্বীকার করি না। কেউ যদি এঁদের কারো নবুয়ত বা রিসালাত অস্বীকার করে অথবা এঁদের অবমাননা করে তবে সে অবিশ্বাসী বা কাফির বলে গণ্য হবে। কুরআন-হাদীসে যাদেরকে নবী হিসেবে উল্লেখ করা হয় নি তাদের কাউকে আমরা নির্দিষ্টরূপে আল্লাহর মনোনীত নবী বলতে পারি না। অন্য কোনো মানুষের সম্পর্কেই আমরা বলতে পারি না যে, তিনি আল্লাহর নবী ছিলেন। তবে আমরা বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ যুগে যুগে আরো অনেক নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন, যারা আল্লাহর মনোনীত প্রিয় পুত-পবিত্র, নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী বান্দা ছিলেন। তাঁরা তাঁদের প্রতি প্রদত্ত দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করেছেন। তাঁদের নাম বা বিবরণ আমরা জানি না। আল-ফিকহুল আকবার, বঙ্গানুবাদ ও ব্যাখ্যা, পৃষ্ঠা ১৭২।

প্রশ্নঃ 1776
হাতের নখ কাটলে কি, গোসল ফরয হয়? চুল কাটলে হকুম কি? এই র্মমে কোন সহীহ হাদিস আছে কি?
13 Jan 2026

নখ বা চুল কাটলে গোসল, ওযু বা তায়াম্মুম কোন কিছু ফরজ হয় না। বরং নখ ও চুল নিয়মিত কাটা সওয়াবের কাজ। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে ইসলাম সব সময় উৎসাহিত করে।

প্রশ্নঃ 93
আস সালামু আলায়কুম, ইসলামে যুদ্ধ ক্ষেত্রে কোন মুসলিম মারা গেলে তাকে কি শহীদ বলা যাবে? যদি যায় তাহলে এমন আর কোন কোন ক্ষেত্র আছে যেখানে নির্দিষ্ট ব্যাক্তি মারা গেলে তাকে শহীদ বলা যাবে? আমার জানা মতে কোন জায়গায় নেই তারপরও অজানা থাকতে পারে। একটু বিস্তারিত বলবেন দয়া করে।
21 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।  রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,

مَا تَعُدُّونَ الشُّهَدَاءَ فِيكُمْ ؟ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، مَنْ قُتِلَ فِي سَبيلِ اللهِ فَهُوَ شَهِيدٌ . قَالَ: إِنَّ شُهَدَاءَ أُمَّتِي إِذَاً لَقَليلٌ.  قالوا: فَمَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: مَنْ قُتِلَ فِي سَبِيلِ الله فَهُوَ شَهِيدٌ، وَمَنْ مَاتَ فِي سَبِيلِ الله فَهُوَ شَهِيدٌ، وَمَنْ مَاتَ فِي الطَّاعُونِ فَهُوَ شَهِيدٌ، وَمَنْ مَاتَ فِي البَطْنِ فَهُوَ شَهِيدٌ، وَالغَرِيقُ شَهِيدٌ

“তোমরা তোমাদের মাঝে কোন কোন ব্যক্তিকে শহীদ বলে গণ্য কর?” সকলেই বলে উঠল, ’হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে যে নিহত হয়, সেই শহীদ।’ তিনি বললেন, “তাহলে তো আমার উম্মতের মধ্যে শহীদ খুবই অল্প।” লোকেরা বলল, ’তাহলে তাঁরা কে কে হে আল্লাহর রাসূল?’ তিনি বললেন, “যে আল্লাহর পথে নিহত হয় সে শহীদ, যে আল্লাহর পথে মারা যায় সে শহীদ, যে প্লেগ রোগে মারা যায় সে শহীদ, যে পেটের রোগে প্রাণ হারায়, সে শহীদ এবং যে পানিতে ডুবে মারা যায় সেও শহীদ।” সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৫৪। 

এ হাদীস থেকে বুঝা যায়, দূর্ঘটনায় মারা গেলেও আল্লাহ রাসূল সা. তাদের শহীদ বলেছেন। আল্লাহ রাস্তায় স্বাভাবিক মারা গেলেও তাদেরকে শহীদ বলেছেন। তবে এই ধরণের শহীদদেরকে স্বাভাবিক নিয়মে গোসল দিয়ে কাফন পরিয়ে দাফন করতে হবে। সওয়াবের দিক দিয়ে তারা শহীদ হিসেবে গণ্য, দুনিয়ার হুকুমের দিকে দিয়ে নয়। পরিভাষায় এই শহীদদেরকে হুকমী শহীদ বলা হয়। 

আর যারা যুদ্ধে নিহত হয় তারা সর্বোচ্চ স্তরের শহীদ, দুনিয়ার হুকুমের দিক দিয়ে তারা শহীদ হিসেবে গণ্য, তাই  তাদেরকে গোসল ও কাফন ব্যতীত দাফন করতে হবে। পরিভাষায় তাদের হাকীকী শহীদ বলে।  

প্রশ্নঃ 1757
ওজুতে গাড় মাসেহ করা জায়েয কিনা?আমি শুনেছি এটা নাকি বিদাত.দলিল সহ জানাবেন.ধন্যবাদ।
08 Jan 2026

ঘাড় মাসেহ করার ব্যাপারে কয়েকটি দূর্বল হাদীস বর্ণিত আছে।

তার একটি হলো, قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من توضأ ومسح عنقه لم غل بالأغلال يوم القيامة অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি ওযু করবে এবং ঘাড় মাসেহ করবে কিয়ামতের দিন তাকে শিকল পরানো হবে না। তারীখ আসবাহান, ১/২৪২। এই বিষয়ে বিভিন্ন হাদীসের বিশ্লেষন শেষে মোল্লা আলী কারী হানাফী রাহ. বলেন, قال أئمتنا إن مسح الرقبة مستحب أو سنة অর্থ: আমাদের ইমামগণ বলেছেন, ঘাড় মাসেহ করা মুস্তাহাব অথবা সুন্নাত। আল-আসরারুল মারফুয়াহ, পৃষ্ঠা- ৩১৫। কোন কোন আলেম বিদআত বলেছেন। তবে দলিলের আলোকে বিদআত নয় বলেই মনে হয়।

প্রশ্নঃ 1671
আসসালামু আলাইকুম……মওলানা আকরাম খাঁ (রহঃ) তার লেখা তাফসীরুল কুরআনে আবু হুরায়রা (রাঃ) বয়স নিয়ে যে আলোচনা করেছেন তা কতটুকু নির্ভর যোগ্য? Screenshot Upload করার কোন option পেলাম না । তাই দয়া করে নিচের লিংকের বইটির ৪০৫ – ৪০৭ পৃষ্ঠা একটু দেখুন- http://www.pathagar.com/book/detail/1664
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।ইমাম ইবনে কুতাইবার বক্তব্য দিয়ে তিনি মূলত বুঝাতে চেয়েছেন যে, আবু হুরায়রা যেহেতু রাসূলের থেকে হাদীস শুনে নি তাই তার হাদীস গ্রহনযেগ্য নয়। একটা একদম ভুল কথা। সাহাবী যদি কোন কথা রাসূলের থেকে না শুনে রাসূলের দিকে সম্পৃক্ত করে বলে তাকে হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষায় মুরসালুস সাহাবী বলে। আর মুরসালুস সাহবী দলীলযোগ্য এবংমানের দিক দিয়ে মুত্তাসিল ( রাসূল সা. থেকে সরাসরি শোনা হাদীসকে মুত্তাসিল বলা হয় হয়) হাদীসের মত। এই প্রসঙ্গে আল্লামা সাখাবী রহ. বলেন,

مرسل الصحابي: هو الخبر الذي أرسله الصحابي الصغير عن النبي - صلى الله عليه وسلم - ; كابن عباس، وابن الزبير، ونحوهما ممن لم يحفظ عن النبي - صلى الله عليه وسلم - إلا اليسير، وكذا الصحابي الكبير فيما ثبت عنه أنه لم يسمعه إلا بواسطة.

মুরসালুস সাহবী অর্থাৎ যে হাদীস কোন ছোট সাহাবী নবী সা. থেকে বর্ণনা করেন”

প্রশ্নঃ 1641
নবীজি সা: কে সৃষ্টি না করা হলে পৃথিবী সৃষ্টি করা হতনা এই হাদিস টি অনেকে মুসলিম শরীফের সহীহ হাদিস বলে এই তাদের কি উত্তর দেয়া যায়
07 Jan 2026

এই হাদীসটি মুহাদ্দিসদের সর্বাক্যমতে জাল। মুসলিম শরীফে নেই। যারা বলে তাদেরকে বলবেন, তাহলে মুসলিম শরীফ থেকে দেখাও? এতেই সমাধান হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ 1616
নামাজে একই ব্যক্তির আজান, আকামত এবং ইমামতি করা যাবে কিনা?
07 Jan 2026

জ্বী, যাবে।

প্রশ্নঃ 1482
পুরুষ এর জন্য কি কোন অবস্থায় GOLD ব্যবহার করা জায়েয আছে? এক ভাই এর কাছ থেকে শুনলাম উনি নাকি হাদিস এ কিছু কারণ পেয়েছে যে সব কারণে GOLD ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু আমি রাসুল (সাঃ) এর হাদিস জানি যেখানে উনি রেশমি কাপড় আর GOLD কে পুরুষ এর জন্য হারাম বলেছেন। দয়া করে রেফারেন্স দিয়ে এই বিষয়ে যত সহি, জাল এবং জয়িফ হাদিস আছে আমাকে জানাবেন। কারণ ওই ভাই কে রেফারেন্স ছাড়া বলে লাভ হবে না।
06 Jan 2026

না, পুরুষ মানুষে কোন অবস্থাতেই স্বর্ণ ব্যবহার করতে পারবে না। এই ব্যাপারে আলিমগণ একমত। হাদীসের প্রতিটি কিতাবে এই সম্পর্কে বহু হাদীস বিদ্যমান। সব হাদীস লেখা সম্ভব নয়। শুধু একটা হাদীস দিয়ে দিচ্ছি। আর আপনি তাকে বলুন কোথায় পরা হালাল হওয়ার ব্যাপারে বলা হয়েছে। এবার হাদীসটি দেখুন: عن أبي موسى أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال : إن الله عز و جل أحل لإناث أمتي الحرير والذهب وحرمه على ذكورها আবু মুসা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা আমার উম্মাতের মহিলাদের জন্য স্বর্ণ ও রেশমকে হালাল করেছেন এবং পুরুষদের জন্য সেগুলোকে হারাম করেছেন। সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ৫২৬৫; মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ১৯৫২৫। হাদীসটিকে শায়খ আলবানী, শায়খ শুয়াইব আরনাউত রহ.সহ সকল মুহাদ্দিসগণ সহীহ বলেছেন। এই হাদীসে স্পষ্ট বলা হয়েছে স্বর্ণ মুসলিম পুরুষদের জন্য হালাল নয়। এবং এব্যাপরে কোন মতভেদও নেই। ঐ ব্যক্তি কেন এমন বলেছেন তা বোধগম্য নয়।

প্রশ্নঃ 1476
১/ তারাবীহ্ সালাত সারা মাস কি জামাতে পড়তে হবে নাকি মাঝে মাঝে একাই পড়তে হবে? আর জামাতে পড়লে খুব দ্রুত রুকু সিজদা এবং কুরআন তিলাওয়াত করে তাহলে কি সালাত হবে? ২/ আমি শুনেছি যে, তারাবীহ্ ও তাহাজ্জুদ একই সালাত এবং ৮ রাকাত কি পড়া যায়? সঠিক কোনটি? কুরআন ও হাদিসের আলোকে জানতে চাই।
06 Jan 2026

ভাই, এই বিষয়ে স্যার রহ. এর তত্বাবধানে একটি প্রশ্নের উত্তর দেয় হয়েছিল। আমি সেই উত্তরটি এখানে দিয়ে দিচ্ছি। প্রশ্নটি ছিল 0053 নং প্রশ্ন। তারাবীহ বা রামাদানের কিয়ামুল লাইল: রামাদানে কিয়ামুল্লাইল আদায়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) অন্য সময়ের থেকে অধিক তাকিদ প্রদান করেছেন। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه অর্থ: যে ব্যক্তি রমজান মাসে ঈমানের সাথে সওয়াবের নিয়তে নামায পড়বে তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। 1 এজন্য রামাদানের কিয়ামুল্লাইলকে উম্মাতের আলিমগণ অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সুন্নাত মুআক্কাদা বলে গণ্য করেছেন। সাহাবীগণ রামাদানে তাঁর পিছনে জামাআতে কিয়ামুল্লাইল পালন করতে অতীব আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু ফরয হওয়ার আশঙ্কায় তিনি একাকী তা আদায় করতেন এবং সাহাবীদেরকে এভাবে আদায় করতে পরামর্শ দেন। 2 পাশাপাশি তিনি জামাআতে রামাদানের কিয়াম আদায়ের ফযীলতে বলেন: مَنْ قَامَ مَعَ الإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ كُتِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ যে ব্যক্তি ইমামের কিয়ামুল্লাইল শেষ করা পর্যন্ত ইমামের সাথে কিয়ামুল্লাইল আদায় করবে তার জন্য পুরো রাত কিয়াম পালনের সাওয়াব লেখা হবে। 3 ইমাম তিরমিযী ও শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেনে। সাহাবীগণ ও পরবর্তী প্রজন্মের মুসলিমগণ রামাদানের কিয়ামুল্লাইল আদায়ের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। যেহেতু শেষ রাতে উঠে তা আদায় করা অনেকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়, এজন্য অনেকেই সালাতুল ইশার পরেই মসজিদে বা বাড়িতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করে ঘুমাতেন। যারা কুরআনের ভাল কারী বা হাফিয ছিলেন না তারা অনেক সময় কোনো ভাল কারী বা হাফিযের পিছনে মসজিদে বা বাড়িতে ছোট জামাত করে তা আদায় করতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে ও তাঁর ওফাতের পরে প্রায় কয়েক বৎসর এভাবেই চলে। খলীফা উমার (রা) লক্ষ্য করেন যে, এভাবে মদীনার মসজিদে নববীতে ছোট ছোট জামাতে বা পৃথকভাবে একাকী অনেকেই সালাতুল ইশার পরে কিয়ামুল্লাইল আদায় করছেন। তখন তিনি সাহাবী উবাই ইবন কাবকে বলেন, মানুষেরা দিবসে সিয়াম পালন করেন, কিন্তু অনেকেই ভাল হাফিয বা কারী নন; কাজেই আপনি তাদেরকে নিয়ে জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করেন। পাশাপাশি তিনি সুলাইমান ইবন আবী হাসমাহ (রা) নামক অন্য সাহাবীকে মহিলাদের নিয়ে মসজিদের শেষ প্রান্তে পৃথক জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করার নির্দেশ দেন। মহিলাদের জামাতের ইমামতি তামীম দারী (রা) নামক অন্য সাহাবীও করতেন। খলীফা উসমান ইবন আফ্ফনের (রা) সময়ে তিনি সুলাইমান ইবন আবী হাসমাহ (রা)-এর ইমামতিতে পুরুষ ও মহিলাদের এক জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায়ের ব্যবস্থা করেন। 4 অধিকাংশ মানুষ জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করতে থাকেন। তবে অনেক সাহাবী, তাবিয়ী ও যারা ভাল হাফিয ও আবিদ ছিলেন তারা সালাতুল ইশার পরে অথবা মধ্য রাতে ও শেষ রাতে একাকী রামাদানের কিয়ামুল্লাইল আদায় করতেন। সহীহ হাদীসে হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. স্বয়ং সাহাবীদের কে নিয়ে কয়েক দিন রমজানের এই বিশেষ নামায তথা তারাবীহ নামায পড়েছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০১২। রাসূল সা. থেকে সহীহ সনদে ঐরাতগুলোর তারাবীহর রাকআত সংখা নিয়ে কোন হাদীস বর্ণিত নেই। মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে রাসূল সা. ২০ রাকআত পড়েছেন মর্মে যে হাদীসটি বর্ণিত আছে তা সর্বাক্যমতে দূর্বলু। কারন ঐ হাদিসের সনদে আবু শায়বা ইবরাহীম ইবনে উসমান নামে একজন রাবী আছেন যাকে ইমাম আহমাদ, বুখারী, আবু দাউদ সহ সকল মুহাদ্দিস দূর্বল কিংব মাতরুক (পরিত্যক্ত) বলেছেন। 5 সহীহ হাদীস প্রমাণিত যে, রাতের নামাযে রাসূলুল্লাহ সা. এর রাকআত সংখা বিভিন্ন রকম ছিল। নিচে সংক্ষেপে বর্নণা করা হল: عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَقَالَتْ مَا كَانَ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ ، وَلاَ فِي غَيْرِهَا عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًا ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ قَالَ يَا عَائِشَةُ إِنَّ عَيْنَيَّ تَنَامَانِ، وَلاَ يَنَامُ قَلْبِي অর্থ: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান হযরত আয়েশা রা.কে জিজ্ঞাসা করেন, রমাদান মাসে রাসূলুল্লাহ সা.এর নামায কেমন ছিল? তিনি বললেন, তিনি রামাদান এবং অন্য সময়ে ১১রাকআতের বেশী বাড়াতেন না। তিনি প্রথমে ৪ রাকআত পড়তেন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতায় বিস্মিত হবে। এরপর আবার ৪ রাকআত পড়তেন। তুমি তার সোন্দর্য ও দীর্ঘতায় বিস্মিত হবে। এরপর ৩ রাকআত পড়তেন। ……….. 6হযরত আয়েশা রা. থেকে অন্য বর্নণায় আছে: عن عائشة قالت : كان النبي صلى الله عليه و سلم يصلي من الليل تسع ركعات [ قال ] وفي الباب عن أبي هريرة وزيد بنخالد والفضل بن عباس অর্থ: হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. রাত্রে ৯ রাকআত পড়তেন ।7 ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাসান সহীহ আর শাইখ আলবানী বলেছেন, সহীহ। আয়েশা রা. থেকে আরেক বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. কোন কারণে রাতের বেলায় নামায না পড়তে পারলে দিনের বেলায় ১২ রাকআত পড়তেন। জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৪৪৫। হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযী ও শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। عن ابن عباس قال : كان النبي صلى الله عليه و سلم يصلي من الليل ثلاث عشر [ ركعة হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা, রাতে ১৩ রাকআত নামায পড়তেন। 8 ইমাম তিরমিযী ও শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। বর্ণনা বিভিন্ন প্রকার হওয়ার কারণে ইমাম তিরমিযী বলেছেন, وأكثر ما روي عن النبي صلى الله عليه و سلم في صلاة الليل ثلاث عشرة ركعة مع الوتر وأقل ما وصف من صلاته بالليل تسع ركعات রাতের নামাযের ব্যাপারে নবী সা. থেকে যা বর্ণনা করা হয় তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী হল বিতরসহ ১৩ রাকআত আর সবচেয়ে কম হল ৯ রাকআত। উপরের আলোচনা থেকে আমরা নিশ্চিত করেই বলতে পারি যে, রাতের নামায, রামাদান মাসে হোক কিংব অন্য সময় হোক রাসূলুল্লাহ সা. রাকআত সংখা নির্দিষ্ট করেননি। সাহবীদের থেকেও তারাবীর রাকআত সংখা নিয়ে বর্ণনা গুলোর মধ্যে ভিন্নতা আছে। নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল: হযরত উমর রা. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, তার সময়ে লোকেরা মসজিদে জামায়াতের সাথে বিশ রাকআত নামায আদায় করেছেন। হাদীসটি নিম্নরুপ: عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ : كَانُوا يَقُومُونَ عَلَى عَهْدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ فِى شَهْرِ رَمَضَانَ بِعِشْرِينَ رَكْعَةً – قَالَ – وَكَانُوا يَقْرَءُونَ بِالْمِئِينِ ، وَكَانُوا يَتَوَكَّئُونَ عَلَى عُصِيِّهِمْ فِى عَهْدِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ مِنْ شِدَّةِ الْقِيَامِ অর্থ: সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, লোকেরা উমার রা. আমলে রমজান মাসে বিশ রাকআত নামায পড়ত। তিনি বলেন, তারা একশ আয়াত পড়ত। দাড়িয়ে থাকতে কষ্ট হত তাই তারা উসমান রা. এর যুগে লাঠিতে ভর দিত। 9 ইমাম নববী, বদরুদ্দীন আইনি, আল্লামা যাইলায়ী, ইবনে হুমাম সব প্রমূখ মুহাদ্দীস হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। 10 তবে শায়খ আলবানী ও আব্দুর রহমান মুবারকপুরী এই দুই আহলে হাদীস আলেম বলেছেন হাদীসটি সহীহ নয়। তাদের কথা ইলমের দৃষ্টিতে গ্রহনযোগ্য নয়। এই হাদীসটির বক্তব্যকে সমর্থন করে অনেক গুলো দূর্বল ও সনদ বিচ্ছিনন হাদীস (যে হাদীসের সনদ থেকে কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে যায় তাকে সনদ বিচ্ছিন্ন বা মুনকাতি হাদীস বলে)। তার কিছু নিচে দেয় হল: ১। উক্ত সাহবী (সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে) দূর্বল সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন, كنا نقوم في زمان عمر بن الخطاب بعشرين ركعة والوتر অর্থ: আমরা উমার রা. যুগে বিশ রাকআত নামাযপড়তাম ও বিতর পড়তাম। মারিফাতুস সুনান লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং১৩৬৫। ২। ইয়জিদ ইবনে রুমান থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, كَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فِي رَمَضَانَ بِثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ رَكْعَةً অর্থ: মানুষেরা উমার ইবনে খাত্তারব রা. এর সময় তেইশ রাকআত (বেতার সহ) নামায পড়ত। 11 ইয়াজিদ ইবনে রুমান উমার রা. কে পাননি তাই হাদীসটির সনদ মুনকাতি। 12 ৩। আব্দুর রহমান আস সুলামী হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণনা করেন যে, دَعَا الْقُرَّاءَ فِى رَمَضَانَ ، فَأَمَرَ مِنْهُمْ رَجُلاً يُصَلِّى بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً. قَالَ : وَكَانَ عَلِىٌّ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ يُوتِرُ بِهِمْ অর্থ: তিনি (আলী রা.) যারা কোরআন পড়তে পারে তাদেরকে ডাকলেন। তারপর তাদের একজনকে লোকদেরকে নিয়ে বিশ রাকআত নামায পড়াতে আদেশ দিলেন। আব্দুর রহমান আসসুলামী বলেন, আলী রাযি. তাদেরকে নিয়ে বিতর পড়লেন। 13 এই হাদীসটির সহীহ বা যয়ীফ হওয়ার ব্যাপারে কোন বায়হাক্কী রহ. কোন মন্তব্য করেন নি। এই কিতাবের ৪৮০৫ নং হাদীসে পৃথক সনদে আলী রা. থেকে বিশ রাকআত তারাবীহ পড়ার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন বলে বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে তিনি দূর্বল বলেছেন। এছাড়াও আরো অনেকগুলো সনদ দূর্বল হাদীস বিভিন্ন কিতাবে উল্লেখ আছে। এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, হযরত উমার রা. এর যুগ থেকে বিশ রাকআত তারাবীহ সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত এবং অনেকগুলো দূর্বল হাদীস একে সমর্থন করছে, সুতরাং আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, বিশ রাকআত তারাবীহ সুন্নাহ সম্মত। সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে অন্য হাদীসে বর্ণিত আছে যে, উমার রা. উবাই ইবনে কাব এবং তামীম দারেমীকে আট রাকআত তারাবীহ পড়ানোর জন্য আদেশ দিয়েছেন। যার আরবী জানেন তাদের জন্য হাদীসটির মূল পাঠ নিম্নরুপ: عَنْ مَالِكٍ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ ، أَنَّهُ قَالَ : أَمَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ وَتَمِيمًا الدَّارِيَّ أَنْ يَقُومَا لِلنَّاسِ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً قَالَ : وَقَدْ كَانَ الْقَارِئُ يَقْرَأُ بِالْمِئِينَ ، حَتَّى كُنَّا نَعْتَمِدُ عَلَى الْعِصِيِّ مِنْ طُولِ الْقِيَامِ ، وَمَا كُنَّا نَنْصَرِفُ إِلاَّ فِي فُرُوعِ الْفَجْرِ মুয়ত্তা মালেক, হাদীস নং ৩০২। হাদীসটির সনদ সহীহ। সহীহ সনদে সাহাবী সাইব ইবরে ইয়াযীদ থেকে আরো একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। হাদীসটি নিম্নরুপ: عبد الرزاق عن داود بن قيس وغيره عن محمد بن يوسف عن السائب بن يزيد أن عمر جمع الناس في رمضان على أبي بن كعب وعلى تميم الداري على إحدى وعشرين ركعة يقرؤون بالمئين وينصرفون عند فروع الفجر অর্থ: উমার রা. মানুষদেরকে একত্র করে উবাই ইবনে কাব এবং তামীম দারেমীকে ২১ রাকআত পড়ানোর জন্য ইমাম বানিয়ে দিলেন। তারা শত শত আয়াত পাঠ করতেন এবং ফজরের সময় ফিরে আসতেন। মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ৭৭৩০। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, সাহাবীগণও মনে করতেন না যে, তারবীহর নামায নির্দিষ্ট । তবে অধিকাংশ আলেম তারাবীহ নামায ২০ রাকআত আদায় করারা পক্ষে মত দিয়েছেন। নিচে চার মাজাহাব ও অনুসৃত আলেমগণের মতামত সংক্ষেপে বর্ণনা করা হল: ১। ইমাম বায়হাক্কী রহ বলেছেন, দুই বর্ণনার (আট ও বিশ) মাঝে এভাবে সমন্বয় কারা যায় যে, প্রথমে তারা আট রাকআত পড়ত পরে বিশ রাকআত পড়ত। আসসুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং ৪৮০২। রাকআত সংখা নিয়ে চার মাযহাব ও অন্যান্য ইমামগণের বক্তব্য: ২। হানাফী মাজহাব: يُسْتَحَبُّ أَنْ يَجْتَمِعَ النَّاسُ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ بَعْدَ الْعِشَاءِ فَيُصَلِّيَ بِهِمْ إمَامُهُمْ خَمْسَ تَرْوِيحَاتٍ ، كُلُّ تَرْوِيحَةٍ بِتَسْلِيمَتَيْنِ ، وَيَجْلِسَ بَيْنَ كُلِّ تَرْوِيحَتَيْنِ مِقْدَارَ تَرْوِيحَةٍ ، ثُمَّ يُوتِرَ بِهِمْ অর্থ: মুস্তাহাব হলো লোকেরা রমজান মাসে ইশার পরে একত্রিত হবে এং ইমাম তাদেরকে নিয়ে পাঁচটি বিরতি দিয়ে নামায পড়বেন আর প্রত্যেকটি বিরতি হবে দুই সালাম বিশিষ্ট (অর্থাৎ বিশ রাকআত)। প্রত্যেক দুই বিরতির মাঝে সমপরিমান সময় বসে থাকবেন । এরপর তিনি তাদেরকে নিয়ে বিতর পড়বেন। হেদায়া ১/৭০14 ৩। মালেকী মাজহাব: মালেকী মাজহাবের প্রবীণ আলেম আল্লামা বাজী রহ. তার রচিত মুয়ত্তার ব্যাখ্যা গ্রন্থে (১/২০৮) তারবীহ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, وروى نافع مولى ابن عمر : أنه أدرك الناس يصلون بتسع وثلاثين ركعة. يوترون بثلاث. وهو الذى اختاره مالك অর্থ: মাওলা ইবনে উমার নাফে রহ. বর্ণনা করেন যে, তিনি মানুষদেরকে ৩৯ রাকআত নামায পড়তে দেখেছেন। তারা তিন রাকআত বিতর পড়ত । আর ইমাম মালেক রহ. এটাই পছন্দ করেছেন। 15 ৪। শাফেয়ী মাজহাব: ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেন, فَأَمَّا قِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ فَصَلاَةُ الْمُنْفَرِدِ أَحَبُّ إلى منه وَرَأَيْتهمْ بِالْمَدِينَةِ يَقُومُونَ بِتِسْعٍ وَثَلاَثِينَ وَأَحَبُّ إلى عِشْرُونَ لأَنَّهُ روى عن عُمَرَ وَكَذَلِكَ يَقُومُونَ بِمَكَّةَ وَيُوتِرُونَ بِثَلاَثٍ অর্থ: রমজানের নামায একাকী পড়াই আমার নিকট উত্তম। আমি মদীনাবাসীদেরকে দেখেছি তারা ৩৯ রাকআত পড়ে । তবে বিশ রাকআত আমার নিকট অধিক প্রিয়। কেননা উমার রাযি. থেকে তা প্রামানিত। আর এমনই (২০ রাকআত) পড়ে মক্কাবাসীগন। আর তারা তিন রাকআত বিতর পড়ে। 16 ৫। হাম্বলী মাজহাব: প্রখ্যত হাম্বলী আলোম ইবনে কুদামা আল মুকাদ্দেসী (৬২০হি.) বলেন, قَالَ ( وَقِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ عِشْرُونَ رَكْعَةً يَعْنِي صَلَاةَ التَّرَاوِيحِ وَهِيَ سُنَّةٌ مُؤَكَّدَةٌ অর্থ: রমজানের মাসের নাময অর্থাৎ তারবীহ বিশ রাকআত। এবং তা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। 17 শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার রহ. বলেন, فَإِنَّهُ قَدْ ثَبَتَ أَنَّ أبي بْنَ كَعْبٍ كَانَ يَقُومُ بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً فِي قِيَامِ رَمَضَانَ وَيُوتِرُ بِثَلَاثِ . فَرَأَى كَثِيرٌ مِنْ الْعُلَمَاءِ أَنَّ ذَلِكَ هُوَ السُّنَّةُ ؛ لِأَنَّهُ أَقَامَهُ بَيْن الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَلَمْ يُنْكِرْهُ مُنْكِرٌ অর্থ: এটা সাব্যস্ত যে, উবাই ইবন কাব রাযি. মানুদেরকে নিয়ে রমজানে বিশ রাকআত তারাবী ও তিন রাকআত বিতর পড়িয়েছিলেন। অধিকাংশ আলেম এটাকেই সুন্নত মনে করেন। কেননা তিনি তার করেছিলেন মুহাজির ও আনসারদের উপস্থিতিতে আর তার কোন রকম আপত্তি করেন নি। মাজমউল ফাতাওয়া ২৩/ ১১২। উপরের আলোচনা থেকে আমরা দেখতে পাই যে, তারাবীহ নামায রাসূলুল্লাহ সা. থেকে সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত। যারা বেশী কোরআন পড়তে পারেন তারা বাড়িতে একা একা উক্ত নামায পড়বে। আর তারাবীহর রাকআত সংখা বিশ হযরত উমার রা. থেকে সহীহ সনদে সাব্যস্ত। আর অধিকাংশ আলেমও বিশ রাকআতকে সুন্নাত মনে করেন। তবে শাইখ আলবানী সহ কোন কোন আলেম আট রাকআতের মত গ্রহন করেছেন। সুতরাং আমাদের মত সাধারণ মানুষদের কর্তব্য হল অধিকাংশ আলোম যে বিষয়টিকে সুন্নাত বলেছেন সেটা মেনে নেয়া এবং সেই অনুযায়ী আমল করা। তবে কেউ যদি এর কম বা বেশী পড়তে চান তাতে কোন অসুবিধা নেই। এমনটিই বলেছেন বিশেষজ্ঞ আলেমগণ। কেননা এটা সুন্নত নামায, রাকআত সংখা উদ্দেশ্য নয়। আরো জানতে ড.খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত আল-ফিকহুল আকবার দেখুন।

প্রশ্নঃ 1452
আসসালামু আলাইকুম। অহংকার,হিংসা,রিয়া এগুলো থেকে বাচার কোন সহীহ দোয়া থাকলে জানাবেন। আবদুল্লা জাহাঙ্গীর স্যারের বই পড়েছি কিন্তু একটা বিষয় ক্লিয়ার হতে পারছি না। ফরজ নামাজের পড়ে একা একা হাত তুলে দোয়া করলেও কি বিদআত হবে? উল্লেখ্য হাত তুলে দোয়া করতে মনের আকুতি মিনতি ভালভাবে প্রকাশ করা যায়
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এগুলো থেকে বাাঁচার একটি উপায় সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে আর তা হলো পরস্পর সালাম দেয়া। এর বাইরে কোন দুআ আছে কি না আমাদের জানা নেই। ফরজ নামাজের পরে একা একা হাত তুলে দোয়া করলে কি বিদআত হবে না।

প্রশ্নঃ 1390
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবরের উপর খেজুরের ডাল পূতে ছিলেন কেন?
05 Jan 2026

রাসূলুল্লাহ সা. একবার দুটি কবরে ডাল পুতেছিলেন। কেন এমন করেছিলেন তা হাদীসেই আছে। তিনি বলেছেন, যতদিন ডাল দুটি ভিজা থাকবে ততদিন তাদের কবরের আযাব হবে না। আলআদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং ৭৩৫। হাদীসটিকে শায়খ আলবানী রাহ. সহীহে বলেছেন। তবে মনে রাখবেন রাসূলুল্লাহ সা. কোনভাবে জেনেছিলেন যে, ডাল পুতলে কবরের আজাব হবে না।আর অন্যদের জন্য জানার কোন সুযোগ নেই তাই ডাল পুতলে কবরের আযাব মাফ হবে এমন বিশ্বাস রাখা যাবে না।

প্রশ্নঃ 1373
kon hadith er man kemon, sohih, hasan, joif etc amon kono apps ase ki. or aigulo kothai pabo.
05 Jan 2026

কোন হাদীসের মান কেমন তা জানতে হলে অবশ্যই আরবী ভাষা জানা থাকতে হবে। আরবী ভাষা না জানলে এটা সম্ভব নয়। বর্তমানে অধিকাংশ হাদীসের সহীহ যয়ীফ নির্ণয় করা হয়ে গেছে। আরবী ভাষা জানলে আপনি এসব কিতাব দেখে জানতে পারবেন। হাদীসের মান জানতে ইন্টারনেটেরও সহায়তা নেয়া যায়। তবে এখানেও আরবী ভাষা শর্ত। অন্যান্য ভাষায় এই কাজ খুব কমই হয়েছে। আরো জানতে চাইলে 01734717299

প্রশ্নঃ 1367
বাচ্চাদেরকে কাঁধে নিতে পারবো কিনা? আমাকে একজন বলছে যে কাঁধে ফেরেশতা থাকে। তাই কাঁধে বাচ্চা নেওয়া যাবে না। এই নিয়ে হাদিস বা কোরআনের কোন নির্দেশ আছে কিনা বা বাচ্চাদেরকে কাঁধে নিতে কোন নিষেধ আছে কিনা?
05 Jan 2026

বাচ্চাদের কাঁধে নিতে কোন সমস্যা নেই। যিনি একথা বলেছেন তিনি তার মস্তিস্কপ্রসূত কথা বলেছেন।

প্রশ্নঃ 1343
assalamualikum. eider rater kono ibadot ki asa hadiser aloka janaben.ater gorotto koto tuku.
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, ঈদের রাতে স্পেশাল কোন আমল গ্রহনযোগ্যসূত্রে পাওয়া যায় না। তবে কোন জাল-বানোয়াট বর্ণনা আছে।

প্রশ্নঃ 1268
১/ তারাবীহ্ সালাত সারা মাস কি জামাতে পড়তে হবে নাকি মাঝে মাঝে একাই পড়তে হবে? আর জামাতে পড়লে খুব দ্রুত রুকু সিজদা এবং কুরআন তিলাওয়াত করে তাহলে কি সালাত হবে? ২/ আমি শুনেছি যে, তারাবীহ্ ও তাহাজ্জুদ একই সালাত এবং ৮ রাকাত কি পড়া যায়? সঠিক কোনটি? কুরআন ও হাদিসের আলোকে জানতে চাই।
05 Jan 2026

ভাই, এই বিষয়ে স্যার রহ. এর তত্বাবধানে একটি প্রশ্নের উত্তর দেয় হয়েছিল। আমি সেই উত্তরটি এখানে দিয়ে দিচ্ছি। প্রশ্নটি ছিল 63 নং প্রশ্ন। তারাবীহ বা রামাদানের কিয়ামুল লাইল: রামাদানে কিয়ামুল্লাইল আদায়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) অন্য সময়ের থেকে অধিক তাকিদ প্রদান করেছেন। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه অর্থ: যে ব্যক্তি রমজান মাসে ঈমানের সাথে সওয়াবের নিয়তে নামায পড়বে তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। 1 এজন্য রামাদানের কিয়ামুল্লাইলকে উম্মাতের আলিমগণ অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সুন্নাত মুআক্কাদা বলে গণ্য করেছেন। সাহাবীগণ রামাদানে তাঁর পিছনে জামাআতে কিয়ামুল্লাইল পালন করতে অতীব আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু ফরয হওয়ার আশঙ্কায় তিনি একাকী তা আদায় করতেন এবং সাহাবীদেরকে এভাবে আদায় করতে পরামর্শ দেন। 2 পাশাপাশি তিনি জামাআতে রামাদানের কিয়াম আদায়ের ফযীলতে বলেন: مَنْ قَامَ مَعَ الإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ كُتِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ যে ব্যক্তি ইমামের কিয়ামুল্লাইল শেষ করা পর্যন্ত ইমামের সাথে কিয়ামুল্লাইল আদায় করবে তার জন্য পুরো রাত কিয়াম পালনের সাওয়াব লেখা হবে। 3 ইমাম তিরমিযী ও শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেনে। সাহাবীগণ ও পরবর্তী প্রজন্মের মুসলিমগণ রামাদানের কিয়ামুল্লাইল আদায়ের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। যেহেতু শেষ রাতে উঠে তা আদায় করা অনেকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়, এজন্য অনেকেই সালাতুল ইশার পরেই মসজিদে বা বাড়িতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করে ঘুমাতেন। যারা কুরআনের ভাল কারী বা হাফিয ছিলেন না তারা অনেক সময় কোনো ভাল কারী বা হাফিযের পিছনে মসজিদে বা বাড়িতে ছোট জামাত করে তা আদায় করতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে ও তাঁর ওফাতের পরে প্রায় কয়েক বৎসর এভাবেই চলে। খলীফা উমার (রা) লক্ষ্য করেন যে, এভাবে মদীনার মসজিদে নববীতে ছোট ছোট জামাতে বা পৃথকভাবে একাকী অনেকেই সালাতুল ইশার পরে কিয়ামুল্লাইল আদায় করছেন। তখন তিনি সাহাবী উবাই ইবন কাবকে বলেন, মানুষেরা দিবসে সিয়াম পালন করেন, কিন্তু অনেকেই ভাল হাফিয বা কারী নন; কাজেই আপনি তাদেরকে নিয়ে জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করেন।

পাশাপাশি তিনি সুলাইমান ইবন আবী হাসমাহ (রা) নামক অন্য সাহাবীকে মহিলাদের নিয়ে মসজিদের শেষ প্রান্তে পৃথক জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করার নির্দেশ দেন। মহিলাদের জামাতের ইমামতি তামীম দারী (রা) নামক অন্য সাহাবীও করতেন। খলীফা উসমান ইবন আফ্ফনের (রা) সময়ে তিনি সুলাইমান ইবন আবী হাসমাহ (রা)-এর ইমামতিতে পুরুষ ও মহিলাদের এক জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায়ের ব্যবস্থা করেন। 4 অধিকাংশ মানুষ জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করতে থাকেন। তবে অনেক সাহাবী, তাবিয়ী ও যারা ভাল হাফিয ও আবিদ ছিলেন তারা সালাতুল ইশার পরে অথবা মধ্য রাতে ও শেষ রাতে একাকী রামাদানের কিয়ামুল্লাইল আদায় করতেন। সহীহ হাদীসে হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. স্বয়ং সাহাবীদের কে নিয়ে কয়েক দিন রমজানের এই বিশেষ নামায তথা তারাবীহ নামায পড়েছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০১২। রাসূল সা. থেকে সহীহ সনদে ঐরাতগুলোর তারাবীহর রাকআত সংখা নিয়ে কোন হাদীস বর্ণিত নেই। মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে রাসূল সা. ২০ রাকআত পড়েছেন মর্মে যে হাদীসটি বর্ণিত আছে তা সর্বাক্যমতে দূর্বলু। কারন ঐ হাদিসের সনদে আবু শায়বা ইবরাহীম ইবনে উসমান নামে একজন রাবী আছেন যাকে ইমাম আহমাদ, বুখারী, আবু দাউদ সহ সকল মুহাদ্দিস দূর্বল কিংব মাতরুক (পরিত্যক্ত) বলেছেন। 5 সহীহ হাদীস প্রমাণিত যে, রাতের নামাযে রাসূলুল্লাহ সা. এর রাকআত সংখা বিভিন্ন রকম ছিল। নিচে সংক্ষেপে বর্নণা করা হল: عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَقَالَتْ مَا كَانَ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ ، وَلاَ فِي غَيْرِهَا عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًا ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ قَالَ يَا عَائِشَةُ إِنَّ عَيْنَيَّ تَنَامَانِ، وَلاَ يَنَامُ قَلْبِي অর্থ: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান হযরত আয়েশা রা.কে জিজ্ঞাসা করেন, রমাদান মাসে রাসূলুল্লাহ সা.এর নামায কেমন ছিল? তিনি বললেন, তিনি রামাদান এবং অন্য সময়ে ১১রাকআতের বেশী বাড়াতেন না। তিনি প্রথমে ৪ রাকআত পড়তেন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতায় বিস্মিত হবে। এরপর আবার ৪ রাকআত পড়তেন। তুমি তার সোন্দর্য ও দীর্ঘতায় বিস্মিত হবে। এরপর ৩ রাকআত পড়তেন। ……….. 6হযরত আয়েশা রা. থেকে অন্য বর্নণায় আছে: عن عائشة قالت : كان النبي صلى الله عليه و سلم يصلي من الليل تسع ركعات [ قال ] وفي الباب عن أبي هريرة وزيد بنخالد والفضل بن عباس অর্থ: হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. রাত্রে ৯ রাকআত পড়তেন ।7 ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাসান সহীহ আর শাইখ আলবানী বলেছেন, সহীহ। আয়েশা রা. থেকে আরেক বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. কোন কারণে রাতের বেলায় নামায না পড়তে পারলে দিনের বেলায় ১২ রাকআত পড়তেন। জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৪৪৫। হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযী ও শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। عن ابن عباس قال : كان النبي صلى الله عليه و سلم يصلي من الليل ثلاث عشر [ ركعة হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা, রাতে ১৩ রাকআত নামায পড়তেন। 8 ইমাম তিরমিযী ও শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। বর্ণনা বিভিন্ন প্রকার হওয়ার কারণে ইমাম তিরমিযী বলেছেন, وأكثر ما روي عن النبي صلى الله عليه و سلم في صلاة الليل ثلاث عشرة ركعة مع الوتر وأقل ما وصف من صلاته بالليل تسع ركعات রাতের নামাযের ব্যাপারে নবী সা. থেকে যা বর্ণনা করা হয় তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী হল বিতরসহ ১৩ রাকআত আর সবচেয়ে কম হল ৯ রাকআত।

উপরের আলোচনা থেকে আমরা নিশ্চিত করেই বলতে পারি যে, রাতের নামায, রামাদান মাসে হোক কিংব অন্য সময় হোক রাসূলুল্লাহ সা. রাকআত সংখা নির্দিষ্ট করেননি। সাহবীদের থেকেও তারাবীর রাকআত সংখা নিয়ে বর্ণনা গুলোর মধ্যে ভিন্নতা আছে। নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল: হযরত উমর রা. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, তার সময়ে লোকেরা মসজিদে জামায়াতের সাথে বিশ রাকআত নামায আদায় করেছেন। হাদীসটি নিম্নরুপ: عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ : كَانُوا يَقُومُونَ عَلَى عَهْدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ فِى شَهْرِ رَمَضَانَ بِعِشْرِينَ رَكْعَةً – قَالَ – وَكَانُوا يَقْرَءُونَ بِالْمِئِينِ ، وَكَانُوا يَتَوَكَّئُونَ عَلَى عُصِيِّهِمْ فِى عَهْدِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ مِنْ شِدَّةِ الْقِيَامِ অর্থ: সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, লোকেরা উমার রা. আমলে রমজান মাসে বিশ রাকআত নামায পড়ত। তিনি বলেন, তারা একশ আয়াত পড়ত। দাড়িয়ে থাকতে কষ্ট হত তাই তারা উসমান রা. এর যুগে লাঠিতে ভর দিত। 9 ইমাম নববী, বদরুদ্দীন আইনি, আল্লামা যাইলায়ী, ইবনে হুমাম সব প্রমূখ মুহাদ্দীস হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। 10 তবে শায়খ আলবানী ও আব্দুর রহমান মুবারকপুরী এই দুই আহলে হাদীস আলেম বলেছেন হাদীসটি সহীহ নয়। তাদের কথা ইলমের দৃষ্টিতে গ্রহনযোগ্য নয়। এই হাদীসটির বক্তব্যকে সমর্থন করে অনেক গুলো দূর্বল ও সনদ বিচ্ছিনন হাদীস (যে হাদীসের সনদ থেকে কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে যায় তাকে সনদ বিচ্ছিন্ন বা মুনকাতি হাদীস বলে)। তার কিছু নিচে দেয় হল:

১। উক্ত সাহবী (সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে) দূর্বল সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন, كنا نقوم في زمان عمر بن الخطاب بعشرين ركعة والوتر অর্থ: আমরা উমার রা. যুগে বিশ রাকআত নামাযপড়তাম ও বিতর পড়তাম। মারিফাতুস সুনান লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং১৩৬৫। ২। ইয়জিদ ইবনে রুমান থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, كَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فِي رَمَضَانَ بِثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ رَكْعَةً অর্থ: মানুষেরা উমার ইবনে খাত্তারব রা. এর সময় তেইশ রাকআত (বেতার সহ) নামায পড়ত। 11 ইয়াজিদ ইবনে রুমান উমার রা. কে পাননি তাই হাদীসটির সনদ মুনকাতি। 12 ৩। আব্দুর রহমান আস সুলামী হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণনা করেন যে, دَعَا الْقُرَّاءَ فِى رَمَضَانَ ، فَأَمَرَ مِنْهُمْ رَجُلاً يُصَلِّى بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً. قَالَ : وَكَانَ عَلِىٌّ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ يُوتِرُ بِهِمْ অর্থ: তিনি (আলী রা.) যারা কোরআন পড়তে পারে তাদেরকে ডাকলেন। তারপর তাদের একজনকে লোকদেরকে নিয়ে বিশ রাকআত নামায পড়াতে আদেশ দিলেন। আব্দুর রহমান আসসুলামী বলেন, আলী রাযি. তাদেরকে নিয়ে বিতর পড়লেন। 13 এই হাদীসটির সহীহ বা যয়ীফ হওয়ার ব্যাপারে কোন বায়হাক্কী রহ. কোন মন্তব্য করেন নি। এই কিতাবের ৪৮০৫ নং হাদীসে পৃথক সনদে আলী রা. থেকে বিশ রাকআত তারাবীহ পড়ার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন বলে বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে তিনি দূর্বল বলেছেন।

এছাড়াও আরো অনেকগুলো সনদ দূর্বল হাদীস বিভিন্ন কিতাবে উল্লেখ আছে। এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, হযরত উমার রা. এর যুগ থেকে বিশ রাকআত তারাবীহ সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত এবং অনেকগুলো দূর্বল হাদীস একে সমর্থন করছে, সুতরাং আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, বিশ রাকআত তারাবীহ সুন্নাহ সম্মত। সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে অন্য হাদীসে বর্ণিত আছে যে, উমার রা. উবাই ইবনে কাব এবং তামীম দারেমীকে আট রাকআত তারাবীহ পড়ানোর জন্য আদেশ দিয়েছেন। যার আরবী জানেন তাদের জন্য হাদীসটির মূল পাঠ নিম্নরুপ: عَنْ مَالِكٍ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ ، أَنَّهُ قَالَ : أَمَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ وَتَمِيمًا الدَّارِيَّ أَنْ يَقُومَا لِلنَّاسِ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً قَالَ : وَقَدْ كَانَ الْقَارِئُ يَقْرَأُ بِالْمِئِينَ ، حَتَّى كُنَّا نَعْتَمِدُ عَلَى الْعِصِيِّ مِنْ طُولِ الْقِيَامِ ، وَمَا كُنَّا نَنْصَرِفُ إِلاَّ فِي فُرُوعِ الْفَجْرِ মুয়ত্তা মালেক, হাদীস নং ৩০২। হাদীসটির সনদ সহীহ। সহীহ সনদে সাহাবী সাইব ইবরে ইয়াযীদ থেকে আরো একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। হাদীসটি নিম্নরুপ: عبد الرزاق عن داود بن قيس وغيره عن محمد بن يوسف عن السائب بن يزيد أن عمر جمع الناس في رمضان على أبي بن كعب وعلى تميم الداري على إحدى وعشرين ركعة يقرؤون بالمئين وينصرفون عند فروع الفجر অর্থ: উমার রা. মানুষদেরকে একত্র করে উবাই ইবনে কাব এবং তামীম দারেমীকে ২১ রাকআত পড়ানোর জন্য ইমাম বানিয়ে দিলেন। তারা শত শত আয়াত পাঠ করতেন এবং ফজরের সময় ফিরে আসতেন। মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ৭৭৩০। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, সাহাবীগণও মনে করতেন না যে, তারবীহর নামায নির্দিষ্ট । তবে অধিকাংশ আলেম তারাবীহ নামায ২০ রাকআত আদায় করারা পক্ষে মত দিয়েছেন। নিচে চার মাজাহাব ও অনুসৃত আলেমগণের মতামত সংক্ষেপে বর্ণনা করা হল:

১। ইমাম বায়হাক্কী রহ বলেছেন, দুই বর্ণনার (আট ও বিশ) মাঝে এভাবে সমন্বয় কারা যায় যে, প্রথমে তারা আট রাকআত পড়ত পরে বিশ রাকআত পড়ত। আসসুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং ৪৮০২। রাকআত সংখা নিয়ে চার মাযহাব ও অন্যান্য ইমামগণের বক্তব্য: ২। হানাফী মাজহাব: يُسْتَحَبُّ أَنْ يَجْتَمِعَ النَّاسُ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ بَعْدَ الْعِشَاءِ فَيُصَلِّيَ بِهِمْ إمَامُهُمْ خَمْسَ تَرْوِيحَاتٍ ، كُلُّ تَرْوِيحَةٍ بِتَسْلِيمَتَيْنِ ، وَيَجْلِسَ بَيْنَ كُلِّ تَرْوِيحَتَيْنِ مِقْدَارَ تَرْوِيحَةٍ ، ثُمَّ يُوتِرَ بِهِمْ অর্থ: মুস্তাহাব হলো লোকেরা রমজান মাসে ইশার পরে একত্রিত হবে এং ইমাম তাদেরকে নিয়ে পাঁচটি বিরতি দিয়ে নামায পড়বেন আর প্রত্যেকটি বিরতি হবে দুই সালাম বিশিষ্ট (অর্থাৎ বিশ রাকআত)। প্রত্যেক দুই বিরতির মাঝে সমপরিমান সময় বসে থাকবেন । এরপর তিনি তাদেরকে নিয়ে বিতর পড়বেন। হেদায়া ১/৭০14

৩। মালেকী মাজহাব: মালেকী মাজহাবের প্রবীণ আলেম আল্লামা বাজী রহ. তার রচিত মুয়ত্তার ব্যাখ্যা গ্রন্থে (১/২০৮) তারবীহ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, وروى نافع مولى ابن عمر : أنه أدرك الناس يصلون بتسع وثلاثين ركعة. يوترون بثلاث. وهو الذى اختاره مالك অর্থ: মাওলা ইবনে উমার নাফে রহ. বর্ণনা করেন যে, তিনি মানুষদেরকে ৩৯ রাকআত নামায পড়তে দেখেছেন। তারা তিন রাকআত বিতর পড়ত । আর ইমাম মালেক রহ. এটাই পছন্দ করেছেন। 15

৪। শাফেয়ী মাজহাব: ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেন, فَأَمَّا قِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ فَصَلاَةُ الْمُنْفَرِدِ أَحَبُّ إلى منه وَرَأَيْتهمْ بِالْمَدِينَةِ يَقُومُونَ بِتِسْعٍ وَثَلاَثِينَ وَأَحَبُّ إلى عِشْرُونَ لأَنَّهُ روى عن عُمَرَ وَكَذَلِكَ يَقُومُونَ بِمَكَّةَ وَيُوتِرُونَ بِثَلاَثٍ অর্থ: রমজানের নামায একাকী পড়াই আমার নিকট উত্তম। আমি মদীনাবাসীদেরকে দেখেছি তারা ৩৯ রাকআত পড়ে । তবে বিশ রাকআত আমার নিকট অধিক প্রিয়। কেননা উমার রাযি. থেকে তা প্রামানিত। আর এমনই (২০ রাকআত) পড়ে মক্কাবাসীগন। আর তারা তিন রাকআত বিতর পড়ে। 16

৫। হাম্বলী মাজহাব: প্রখ্যত হাম্বলী আলোম ইবনে কুদামা আল মুকাদ্দেসী (৬২০হি.) বলেন, قَالَ ( وَقِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ عِشْرُونَ رَكْعَةً يَعْنِي صَلَاةَ التَّرَاوِيحِ وَهِيَ سُنَّةٌ مُؤَكَّدَةٌ অর্থ: রমজানের মাসের নাময অর্থাৎ তারবীহ বিশ রাকআত। এবং তা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। 17 শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার রহ. বলেন, فَإِنَّهُ قَدْ ثَبَتَ أَنَّ أبي بْنَ كَعْبٍ كَانَ يَقُومُ بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً فِي قِيَامِ رَمَضَانَ وَيُوتِرُ بِثَلَاثِ . فَرَأَى كَثِيرٌ مِنْ الْعُلَمَاءِ أَنَّ ذَلِكَ هُوَ السُّنَّةُ ؛ لِأَنَّهُ أَقَامَهُ بَيْن الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَلَمْ يُنْكِرْهُ مُنْكِرٌ অর্থ: এটা সাব্যস্ত যে, উবাই ইবন কাব রাযি. মানুদেরকে নিয়ে রমজানে বিশ রাকআত তারাবী ও তিন রাকআত বিতর পড়িয়েছিলেন। অধিকাংশ আলেম এটাকেই সুন্নত মনে করেন। কেননা তিনি তার করেছিলেন মুহাজির ও আনসারদের উপস্থিতিতে আর তার কোন রকম আপত্তি করেন নি। মাজমউল ফাতাওয়া ২৩/ ১১২। উপরের আলোচনা থেকে আমরা দেখতে পাই যে, তারাবীহ নামায রাসূলুল্লাহ সা. থেকে সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত। যারা বেশী কোরআন পড়তে পারেন তারা বাড়িতে একা একা উক্ত নামায পড়বে। আর তারাবীহর রাকআত সংখা বিশ হযরত উমার রা. থেকে সহীহ সনদে সাব্যস্ত। আর অধিকাংশ আলেমও বিশ রাকআতকে সুন্নাত মনে করেন। তবে শাইখ আলবানী সহ কোন কোন আলেম আট রাকআতের মত গ্রহন করেছেন। সুতরাং আমাদের মত সাধারণ মানুষদের কর্তব্য হল অধিকাংশ আলোম যে বিষয়টিকে সুন্নাত বলেছেন সেটা মেনে নেয়া এবং সেই অনুযায়ী আমল করা। তবে কেউ যদি এর কম বা বেশী পড়তে চান তাতে কোন অসুবিধা নেই। এমনটিই বলেছেন বিশেষজ্ঞ আলেমগণ। কেননা এটা সুন্নত নামায, রাকআত সংখা উদ্দেশ্য নয়। আরো জানতে ড.খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত আল-ফিকহুল আকবার দেখুন।

প্রশ্নঃ 1267
আসসালামু আলাইকুম,আমি আগের উত্তরগুলো পেয়ে খুব খুশি হয়েছি কারণ আপনারা খুব দ্রুত উত্তরগুলো দিচ্ছেন। আল্লাহ্ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন এবং আল্লাহ্ আপনাদের এই মহৎ কাজটি চালিয়ে যাওয়ার জন্য তোৈফিক দিন (আমিন)। ১/ এমন কি কোন পাপ আছে যেটা করলে আগের সমস্ত আমল নষ্ট হয়ে যায়? ২/ যিনি উত্তরগুলো দিচ্ছেন উনার শিক্ষাগত যোগ্যতা দয়া করে বলবেন? আর পারসোনাল ইমেইল-এ তো উত্তরগুলো পাচ্ছি না এই সাইটে এসেই তো দেখতে হচ্ছে কেন দয়া করে বলবেন?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আগের সমস্ত আমল কিভাবে নষ্ট হয় এই বিষয়ে বেশ কিছু আয়াত আছে। সেগুলোর মূল বক্তব্য হলো মুসলিম থেকে মুরতাদ হলে গেলে বা আল্লাহর কুরআনকে অস্বীকার করলে তার সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে যায়। আমি দুটি আয়াত এখানে দিয়ে দিচ্ছি: وَمَن يَرْتَدِدْ مِنكُمْ عَن دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُوْلَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَأُوْلَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ (217) যারা তাদের ধর্মত্যাগ করে (ইসলম ধর্ম) কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে তাদের দুনিয়ার ও আখেরাতে সমস্ত আমল নষ্ট হয়ে যাবে, তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী। এবং সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। সূরা বাকারাহ, আয়তা ২১৭। إِنَّ الَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ حَقٍّ وَيَقْتُلُونَ الِّذِينَ يَأْمُرُونَ بِالْقِسْطِ مِنَ النَّاسِ فَبَشِّرْهُم بِعَذَابٍ أَلِيمٍ (21) أُولَئِكَ الَّذِينَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَمَا لَهُم مِّن نَّاصِرِينَ (22) নিশ্চয় যারা আমার নিদর্শণসমূহকে অস্বীকার করবে, নবীদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করবে এবং মানুষদের মধ্য থেকে যারা ন্যায়নীতির কথা বলে তাদেরকে হত্যা করবে তাদেকে আপনি যন্ত্রনাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দিন। তারাই হলো ঐ সমস্ত লোক দুনিয়াতে এবং আখেরাত যাদের আমল নষ্ট হয়ে যাবে এবং তাদের কোন সাহায্যকারী নেই। সূরা আল-ইমরান, আয়াত ২১-২২। ২। প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখার জন্য একজনকে দায়িত্ব দেয়া আছে। তবে প্রয়োজন হলে তিনি অন্যদের সাহায্য নিয়ে থাকেন। এর চেয়ে বেশী এখানে লিখতে চাচ্ছি না। প্রয়োজনে 01734717299

প্রশ্নঃ 1258
১/ যয়ীফ হাদীস এর আমল কি করা যাবে? ১২৪০ নং প্রশ্নের উত্তর থেকে জানতে পারলাম যে শুরা হাশরের আমলটা যয়ীফ। আমি যে মসজিদে সালাত পড়ি সেই মসজিদের ইমাম হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে দাওরা করেছে তিনি বললেন যে যয়ীফ হাদীস আমল করা যাবে। তাই তিনি নিয়মিত ফজরের সালাতের পর মুসুল্লিদেরকে নিয়ে শুরা হাশরের আমল করে?
05 Jan 2026

এই ধরণের আমলের ক্ষেত্রে হাদীস যয়ীফ হলেও আমল করা করা যায় বলে আলেমরা বলেছেন। তবে মুসল্লিদেরকে নিয়ে একসাথে সারা বছর করা উচিৎ নয়। বরং সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত আমলগুলোকে আরো বেশী গুরুত্ব দেয়া উচিত।

প্রশ্নঃ 1247
১২২৭ নং প্রশ্নের হাদিসটি হুজুর বুখারী শরিফ দিয়ে মিলিয়ে খেদলাম সেখানে আবুল ওয়ালিদ (রঃ) এর হাদীস রহিয়াছে। সঠিকটি জানালে খুশী হব।
05 Jan 2026

আপনি হয়ত জানেন না, প্রতিটি বইয়ের হাদীসের নাম্বার এক রকম না। আমি যেটা দিয়েছি ফাতহুল বারী কিতাবের নাম্বার অনুযায়ী দিয়েছি। আমি আপনার জন্য অধ্যায় ও পরিচ্ছেদের নাম দিয়ে দিলাম। পরিচ্ছেদ:باب أَفْضَلِ الاِسْتِغْفَارِ. অধ্যায়: كتاب الدعوات. সমস্যা থাকলে জানাবেন: 01734717299

প্রশ্নঃ 1189
হাদীসে আসে পতি সুম ওবৃহশ পতি বারে আল্লাহ্ মানুসদের মাপ করে দেন। তবে যার আততীয়ের সাথে ঝগড়া আছে তাকে মাপ করেন না হুলডে রেখে দেন। তাহলে হজ কে্রে কি মাপ নেয়া জাবে। বা হজ কোন কাজে আসবে।
04 Jan 2026
বান্দার হকের সাথে সম্পৃক্ত পাপগুলো বান্দার কাছ থেকে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া মাফ হওয়া কঠিন। আত্নীয়দের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা বড় গুনাহ। এটা বান্দান হকের সাথেও সম্পৃক্ত। এক্ষেত্রে করণীয় হলো ঝগড়া-ঝামেলা মিটিয়ে ফেলা। বান্দর হক ছাড়া অন্যান্য ছোট-বড় গুনাহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উপলক্ষে ক্ষমা করে থাকেন। তবে প্রতিটি সৎ আমলের প্রতিফল আল্লাহ দিবেন। একটি পাপের কারণে অন্য আমলের সওয়াব থেকে আল্লাহ বঞ্চিত করবেন না। আত্নীয়দের সাথে ঝগড়া থাকলে সালাত-সাওম-হজ্জ্ব কোন কাজে আসবে না এমন নয়। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন।
প্রশ্নঃ 1157
মুহতারাতামঃ আসসালামু আলাইকুম। ইদানিং facebook এ একটি post এ একটি হাদিস দেখতে পেলাম যাতে লিখা আছে যে ব্যক্তি রাতে ডান কাতে শুয়ে একশতবার সুরা এখলাস পাঠ করবে কেয়ামতের দিন তার পারওয়ারদিগার তাকে ডেকে বলবেন হে বান্দা তুমি ডান দিক দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ কর (হাদিসে কুদসি)। এই হাদিসটি কি সহিহ?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দীসটির মূল পাঠ হলো: 2898 – حدثنا محمد بن مرزوق البصري حدثنا حاتم بن ميمون أبو سهل عن ثابت البناني عن أنس بن مالك : عن النبي صلى الله عليه و سلم قال من قرأ كل يوم مائتي مرة قل هو الله أحد محي عنه ذنوب خمسين سنة إلا أن يكون عليه دين وبهذا الإسناد عن النبي صلى الله عليه و سلم قال من أراد أن ينام على فراشه فنام على يمينه ثم قرأ قل هو الله أحد مائة مرة إذا كان يوم القيامة يقول له الرب يا عبدي أدخل على يمينك الجنة قال أبو عيسى هذا حديث غريب من حديث ثابت عن أنس وقد روي هذا الحديث من غير هذا الوجه أيضا عن ثابت قال الشيخ الألباني : ضعيف হাদীসটি যয়ীফ বা দূর্বল। ইমাম তিরমিযী এদিকে ইশারা করেছেন। এবং শায়খ আলবানী রহ. দূর্বল বলেছেন। আরো দেখুন, ফাতাওয়া জান্নাত দায়েমাা, ফাতাওয়া নং ২১৬৮৩।

প্রশ্নঃ 1148
আসসালামু আলাইকুম, আমার আজকের প্রশ্ন রাজনৈতিক দলে যোগ দেয়া নিয়ে, কোথাকার কোন পরিবেশ জানিনা, দয়া করে পরিবেশ বিন্নটা অনুযায়ী মাসায়েল আলাদা হইলে তাও উল্লেখ করবেন – কারণ এটাও প্রশ্নের ২য় পার্ট;প্রশ্ন ১নিচের ৩ হাদিস সব ইসলামি দলেই ব্যাবহার করছে বাংলাদেশে, ও তারা দলের দিকে ডাকছে- দাওয়াত বলতে তারা দলে যাওয়া বুঝাচ্ছে, তারা বলছে দলে না ঢুকলে নামাজ পড়া না পড়া স্বাধীনতায় থাকে কিন্তু দলে ঢুকলে সে নামাজ কাজা করেনা- তাহলে প্রশ্ন হলও – এই ৩ হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা কি বা এই হাদিস থেকে আমরা সঠিক কি কি আমল করতে পারি সুন্নাত অনুযায়ী? * হাদিস গুলো নিম্নরূপঃ হযরত আবু দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এরশাদ করেছেন কোন জঙ্গল কিংবা জনপদে তিনজন লোকও যদি বসবাস করে এবং সেখানে তারা যদি (জামাতবদ্ধভাবে) নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা না করে তবে তাদের উপর শয়তান অবশ্যই আধিপত্য বিস্তার করবে। অতএব জামায়াতবদ্ধ হয়ে থাকা তোমাদের অবশ্য কর্তব্য। কেননা পাল থেকে বিচ্ছিন্ন ছাগলকে নেকড়ে বাঘ সহজেই খেয়ে ফেলে। কেউ যদি মনে করে, জামাতবদ্ধ বা সংগঠিত হয়ে থাকার প্রয়োজন নেই- তাহলে তার জন্য উপরোক্ত দৃষ্টান্তই যথেষ্ট। সুতরাং শয়তানের আক্রমণ থেকে নিজের ঈমান ও আমলকে হেফাজত করতে হলে সংঘবদ্ধ জীবন যাপন করতে হবে। নতুবাঃযে ব্যক্তি সংগঠন থেকে এক বিঘত পরিমাণ বাইরে চলে গেল, সে ইসলামের রজ্জুকে তার গলদেশ থেকে খুলে ফেললো, যতক্ষণ না সে পুনরায় এসে যোগ দেবে। দল ছারা ইমাম নেই, ইমাম ছারা ইসলাম নাই, আনুগত্য ছারা দল নেই এরকম একটি হাদিস (হযরত হারেসুল আশআরী থেকে বর্ণিত, মুসনাদে আহমদ,তিরমিজী। ) তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকতেই হবে যারা মানবজাতিকে কল্যাণের পথে ডাকবে। সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অন্যায় ও অসৎ কাজে বাধা প্রদান করবে। আর এরাই হবে সফলকাম। সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন ২ঃ অনেকে কিসব পরিবেশ পরিস্তিতি এর দোহাই দেয়, কেউ বলে ডান হাত না হয় বাম হাত দিয়ে খেতে হবে। দয়া করে এই বিষয়ে আর্টিকেল লিখে প্রকাশ করুন অথবা থাকলে উত্তরের সাথে বইয়ের নাম টিও রেফার করে দিলে কৃতজ্ঞ থাকবো।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কুরআন-হাদীসে মুসলিমদের ঐক্যের কথা বলা হয়েছে। দলে দলে ভাগ হতে হবে বলা হয় নি। বরং দলাদলি করতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে আধুনিক রাজনীতি দীনী দাওয়াতের একটি অংশ। এই দাওয়াত অংশ নেয়া অবশ্যই ভাল কাজ। তবে অন্য দল যারা মানুষকে ইসলামের দিকে আহ্ববান করছে তাদেরকে ঘৃনা করা খারাপ কাজ। নিজেদেরকে একে অপরের পরিপূরক মনে করতে হবে। বিস্তারিত জানতে পড়ুন, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. এর লেখা কুরআন সুন্নাহর আলোকে জামায়াত ও এক্য এবং তার বই ইসলামের নামে জঙ্গিবাদএহইয়াউস সুনান

প্রশ্নঃ 1091
নিচের হাদিসটি কি সহি? রেফারেন্স সহ বিস্তারিত জানতে চাই ।আযান ও ইকামতের মাঝে দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না
04 Jan 2026

আপনার উল্লেখিত হাদীসটির আরবী পাঠ হলো:

عن أنس بن مالك قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم الدعاء لا يرد بين الأذان والإقامة। 

সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ২১২; মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ১২৬০৬।

হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী সহীহ বলেছেন। শায়খ শুয়াইব আরনাউত ও শায়খ আলবানীসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণও সহী বলেছেন।

প্রশ্নঃ 1064
আসসালামুয়ালাইকুম। মুহতারাম, হাজ্জ পরবর্তী চল্লিশ দিন দুআ বা ইবাদাত কবুলের কোন দলিল আছে কি? হাদিস থেকে জানাবেন।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই ধরনের কোন হাদীস আছে বলে আমাদের জানা নেই।

প্রশ্নঃ 956
স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেশত এই বিষয়ে হাদিসটি কতুটুকু সঠিক? আর এই বিষয় সম্পর্কিত কোন হাদিস আছে কিনা?
03 Jan 2026

এটি হাদীস নয় । স্ত্রীর প্রতি স্বামীর হক বা স্বামীর আনুগত্য বিষয়ে অনেকে উপরের কথাকে হাদীস হিসেবে পেশ করে থাকে। যার আরবী হল, الجنة تحت أقدام الأزواج । কিন্তু এ শব্দ-বাক্যে কোনো হাদীস পাওয়া যায় না। সুতরাং এটিকে হাদীস হিসেবে বলা যাবে না। তবে কিছু বর্ণনায় এর মর্মার্থ পাওয়া যায়। মুআত্তা মালেক”

প্রশ্নঃ 918
(সমাজে প্রচলিত নিচের ৪ টি ঘটনা সঠিক ঘটনা কিনা? দয়া করে জানাবেন -(আমি সংক্ষিপ্ত ভাবে বলছি) ১. শাদ্দাদের বেহেশত এর ঘটনা। মৃত্যু বেহেশতে ১ পা বাইরে ১ পা রেখে, দিন রাতের মাঝে সন্ধ্যায়য়। ২. নুহ (আ:) এর প্লাবনে বুড়ির ঘটনা। তাকে নিতে ভুলে যান, বুড়ি টের পায়নি প্লাবন শেষ। ৩. এক ঘন্টা সৃষ্টি নিয়ে চিন্তায় ৬০ হাজার বছর ইবাদতের সমান সাওয়াব। ৪. ওয়ায়েস কুরুনি (রা:) এর দাত ভাঙার ঘটনা। তিনি নাকি রাসুল (স:) এর কোন দাত ভেংগেছিলো বুঝতে না পেরে নিজের সব সেই মহব্বতে… আর যদি এই ৪ বিষয় রিলেটেড কোন অন্য বা ভিন্ন সঠিক বর্ণনা থাকে তবে তাও জানাবেন। ইনশাআল্লা। আলহামদুলিল্লাহ্। জাযাকাল্লাহ খাইর
02 Jan 2026

প্রশ্নে উল্লেখিত প্রতিটি বর্ণনায় বানোয়াট। কুরআন বা গ্রহনযোগ্য কোন হাদীসে এই সব কথা নেই। এগুলো বর্ণনা করা বা বিশ্বাস করা যাবে না।

প্রশ্নঃ 897
নিন্মোক্ত হাদিসসমূহ কোন কিতাবের কত নম্বর হাদিস? তোমরা দ্বীনকে খাটি করো, অল্প আমলেই নাজাত পাবে
02 Jan 2026

হাদীসটি হাকীম রহ. সংকলিত আল-মুসতাদররক কিতাবে বর্ণিত আছে। হাদীস নং ৭৮৪৪। তবে হাদীসটি যয়ীফ। ইমাম যাহাবী রহ. বলেছেন, হাদীসটি সহীহ নয়। হাদীসটির মূল পাঠ নিম্নরূপ: حدثنا أبو العباس محمد بن يعقوب ثنا بحر بن نصر حدثنا عبد الله بن وهب أخبرني يحيى بن أيوب المصري عن عبيد الله بن زحر عن الوليد بن عمران عن عمرو بن مرة الجملي عن معاذ بن جبل رضي الله عنه : أنه قال لرسول الله صلى الله عليه و سلم حين بعثه إلى اليمن : يا رسول الله أوصني قال : اخلص دينك يكفك العمل القليل هذا حديث صحيح الإسناد و لم يخرجاه تعليق الذهبي قي التلخيص : غير صحيح“

প্রশ্নঃ 863
হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন যে, আমার কথা যে মানলো না, তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই (সে আমার উম্মত নয় এই হাদিসটির প্রমাণসহ এমন কোন হাদিস থাকলে দয়া করে আমাকে দিবেন।
02 Jan 2026

কুরআন শরীফে আল্লাহ তায়ালা বহু জায়গায় রাসূলুল্লাহ সা. কে মানতে বলেছেন। তাঁকে মানার উপরই ইসলাম ধর্মের ভিত্তি। তাঁর কথা না মেনে তার উম্মত থাকবেন এটা কি হতে পারে? এখানে হাদীসে দরকার কেন বুঝতে পারছি না।

প্রশ্নঃ 854
একজন মুমিন পুরুষের জন্য খারাপ ও চরিত্রহীন মহিলাকে হারাম করা হয়েছে এ সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসে কি বলা হয়েছে?
02 Jan 2026

এই কথা এসেছে একটি আয়াতরে মর্ম বুঝার ক্ষেত্রে মতানৈক্যের কারণে। আয়াতটি হলো সূরা নূরের ২৪ নং আয়াত। আপনি আয়াতটির অর্থ দেখুন। আর সঠিক তাফসীর ও ব্যাখ্যা সম্পর্কে ইমাম বাগাবী বলেছেন, قال أكثر المفسرين: الخبيثات من القول والكلام للخبيثين من الناس. { وَالْخَبِيثُون } من الناس، { لِلْخَبِيثَاتِ } من القول، [والكلام] (২) ، { وَالطَّيِّبَاتُ } من القول، { لِلطَّيِّبِينَ } من الناس ، { وَالطَّيِّبُونَ } من الناس، { لِلطَّيِّبَاتِ } من القول، والمعنى: أن الخبيث من القول لا يليق إلا بالخبيث من الناس والطيب لا يليق إلا بالطيب من الناس، فعائشة لا يليق بها الخبيثات من القول لأنها طيبة رضي الله عنها فيضاف إليها طيبات الكلام من الثناء الحسن [وما يليق بها] (৩) . অধিকাংশ মুফাসসির বলেছেন, খারাপ কথা খারাপ লোকদের জন্য উপযোগী আর খারাপ লোক খারাপ কথার উপযোগী এবং ভাল কথা ভাল লোকদের উপযোগী আর ভাল লোকেরা ভাল কথার উপযোগী। অর্থাৎ খারাপ কথা খারাপ লোকের উপযোগী আর ভাল কথা ভাল লোকের উপযোগী। আয়েশা রা. এর সাথে কোন অশ্লীলতা যুক্ত হতে পারে না, কেননা তিনি পবিত্র। তার ব্যপারে ভাল কথাই বলতে হবে এবং তার উপযোগী কথাই বলতে হবে। এই ব্যখাটা নেয়ায় উত্তম। তাহালে জটিলতা থাকে না। এর বাইরে খারাপ লোকের জন্য খারাপ স্ত্রী এবং খারাপ মহিলার জন্য খারাপ স্বামী এই ব্যাখ্যা নিলে কিছুটা জটিলতা আছে। কোন কোন মুফাসসির অবশ্য এই ব্যাখ্যটাও করেছেন। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 763
সহীহ হাদিস অনুসরণ করতে গিয়ে যদি ফেতনার সৃষ্টি হয় তখন আমর কি করা উচিত?
01 Jan 2026

সহীহ হাদীস মানলে তো ফিৎনা হয় না, ফিৎনা হয় যখন সমাজে সহীহ হাদীস মোতাবেক কোন আমল চালু থাকে আর বিকল্প আরেকটি সহীহ হাদীস দ্বারা আমল শুরু হয় তখন। আপনি এই বিষয়টি ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (র.) এর মুখ থেকে জানতে ইউটিউবে সার্স করুন নামাযে হাত কোথায় রাখব শিরোনামে।

প্রশ্নঃ 722
ফরজ সালাতের পর ঈমাম সাহেবের সাথে সম্বলিত মুনাজাত করা যাবে কী?
31 Dec 2025

এই বিষয়ে আমাদের দেয়া ২৯ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দেখুন। সংক্ষেপে বলি রাসূলুল্লাহ সা. বা সাহাবীদের থেকে এটা পাওয়া যায় না

প্রশ্নঃ 715
আসসালামু আলাইকুম? আচ্ছা ভাই একই গ্রন্থের ভিতরে প্রকাশনী ভিন্ন হওয়ার কারনে হাদিস কেন কম বেশি হয়? বিস্তারিত জানাবেন। ইনশা আল্লাহ
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ ভাই, প্রকাশনী ভিন্ন হওয়ার কারণে হাদীসের নাম্বার দেয়ার ক্ষেত্রে কখনো কখনে কম বেশী হয়। হাদীস কমবেশী হয় না। যেমন, কোন কোন সময় রাসূলুল্লাহ স. থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করারা পর সে বিষয়ে কোন একজন সাহাবীর কথা কিতাবে থাকে। এখন নাম্বার দেয়ার ক্ষেত্রে কোন কোন গ্রন্থে রাসূলের কথাকে এবং সাহাবীর কথাকে দুইট হাদীস বানিয়ে নাম্বার দেয় আবার কোন কোন কিতাবে উভয়টিকে একই নাম্বারের অধিনে নিয়ে আসা হয়। এভাবে বিভিন্ন কারণে নাম্বারের কমবেশী হয়, মূল হাদীস খুব কমই কমবেশী হয়।

প্রশ্নঃ 706
আমার প্রশ্ন হোল আপনি এর আগে কোন এক জায়গায় বলছিলেন যে, আমরা যে জানি ১৮ হাজার মাখলুকাতের কথা এটা নাকি ভুল? যে হাদিস থেকে এই থেকে এই কথা আসসে তা নাকি বানোয়াট? আপনি কি একটু কষ্ট করে আপনার এই কথার প্রমান দিতে পারেন সত্য সুন্নাহের আলোকে কি রেফারেন্স দিয়ে উত্তর দেবেন?
31 Dec 2025

কবলাল জুমুআ অর্থই হলো জুমুআর ফরজের আগের নামায। যদি নাই থাকে তাহলে যত খুশি পড়া যায় কিভাবে? আসলে তারা বলতে চান আমাদের দেশে যে চার রাকআত পড়া হয়ে এই সংক্রান্ত হাদীস দুর্বল। তবে তাদের কথা ঠিক নয়। তার যাকে বেশী মানেন সেই শায়খ আলবানীর রহ. বলেছেন সহীহ। এই সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের উত্তর ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহ. ্এর তত্বাবধানে দিয়েছিলাম। সেই উত্তরটিই আপনার জন্য দিয়ে দিলাম। আশা করি আপনি তৃপ্ত হবেন। রাসূলুল্লাহ সা. জুমুআর ফরজ সালাতের পূর্বে সুন্নাত সালাত আদায়ের জন্য বলেছেন। সহীহ বুখারীর এই হাদীসটি লক্ষ করুন: عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَتَطَهَّرَ بِمَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ ثُمَّ ادَّهَنَ ، أَوْ مَسَّ مِنْ طِيبٍ ثمَّ رَاحَ فَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ اثْنَيْنِ فَصَلَّى مَا كُتِبَ لَهُ ثُمَّ إِذَا خَرَجَ الإِمَامُ أَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الأُخْرَى সালমান ফারসী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন ভালভাবে গোসল করে তেল বা সুগন্ধি ব্যবহার করে (মসজিদে) গমন করবে অতঃপর (মসজিদে) কাউকে না ডিঙিয়ে সাধ্যানুযায়ী নামায পড়বে এবং যখন ইমাম খুতবা দেয়ার জন্য বের হবে তখন চুপ করে তা শুনবে, তার এক জুমুআ থেকে অপর জুমুআর মাঝের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯১০। এই হাদীসে রাকআত সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয় নি। আলেমগণ বলেছেন দুই রাকআত থেকে শুরু করে যত ইচ্ছা পড়বে, যত বেশী পড়বে সওয়াব ততো বেশী হবে। রাকআত সংখ্যার ব্যাপারে বিভিন্ন সাহবী থেকে বিভিন্ন সংখ্যা বর্ণিত আছে। দুই রকআত. চার রাকআত ইত্যাদি। চার রাকআতের বিষয়ে নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন: عبد الرزاق عن الثوري عن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن السلمي قال كان عبد الله يأمرنا أن نصلي قبل الجمعة أربعا وبعدها أربعا حتى جاءنا علي فأمرنا أن نصلي بعدها ركعتين ثم اربعا. অর্থ: ( তাবেঈ) আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী বলেন, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে জুমুআর পূর্বে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর আলী রা. আমাদেরকে জুমুআর পর প্রথমে দুই রাকআত এরপর চার রাকআত পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুসান্নাফু আব্দুর রায্যাক, হাদীস নং ৫৫২৫। এই হাদীসটির বিষয়ে শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, وهذا سند صحيح لا علة فيه অর্থ: এটা সহীহ সনদ, তাতে কোন সমস্যা নেই।সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, ১০১৬ নং হাদীসের আলোচনা। উক্ত সহীহ হাদীসটি দ্বারা আমারা জানতে পারলাম যে, প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. চার রাকআত ক্ববলাল জুমুয়া পড়ার আদেশ দিয়েছেন। উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা আমরা বুঝলাম যে, জুমুআর আগে নামায সুন্নাত, তবে রাসূলুল্লাহ সা. থেকে রাকআত সংখ্যা বিষয়ে কোন কিছু বর্ণিত হয়নি। সুতরাং যে যতটুকু ইচ্ছা করে ততোটুকু পড়তে পারে। একজন সাহবী থেকে চার রাকআত পড়ার নির্দেশ এসেছে তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় চার রাকআতও পড়া যায় এবং এটাও সুন্নাত। জুমুআর পরে সুন্নত নামায সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত। সুতরাং জুমুআর পরে নামায পড়া সুন্নাত। আমাদেরকে সুন্নাতের অনুস্বরণ করতে হবে।

প্রশ্নঃ 699
হুজুর আমার নাম ইয়াসিন। আমার বাড়ি কোলকাতায়। আমার প্রশ্ন হল সবেবারাত এবং সবেকদর সময় দল্ল বদ্ধ ভাবে কবর যিয়ারাত করা যাবে। হাদিস টা একটু পাঠিয়ে দিন।
31 Dec 2025

ভাই, শবে কদর বা বরাতে দলবদ্ধ হয়ে কবর জিয়ারতের কোন হাদীস নেই। আমাদের ওয়েব সাইডে এ সম্পর্কে লেখা আছে। দেখে নিতে পারেন।

প্রশ্নঃ 690
রসুল (সা.) বলেন : তোমাদের প্রত্যেকেই একজন দায়িত্বশীল। আর (কেয়ামত দিবসে) তোমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। দয়া করে এই হাদিসের পূর্ণ দলিলটা জানাবেন।
31 Dec 2025

হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমসহ বহু কিতাবে আছে। দেখূন,সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৮৯৩, ২৪০৯, ২৭৫১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৮২৮। পূর্ণ হাদীসটির আরবী পাঠ নিম্ররূপ: عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ كُلُّكُمْ رَاعٍ وَزَادَ اللَّيْثُ قَالَ يُونُسُ كَتَبَ رُزَيْقُ بْنُ حُكَيْمٍ إِلَى ابْنِ شِهَابٍ – وَأَنَا مَعَهُ يَوْمَئِذٍ بِوَادِي الْقُرَى – هَلْ تَرَى أَنْ أُجَمِّعَ وَرُزَيْقٌ عَامِلٌ عَلَى أَرْضٍ يَعْمَلُهَا وَفِيهَا جَمَاعَةٌ مِنَ السُّودَانِ وَغَيْرِهِمْ وَرُزَيْقٌ يَوْمَئِذٍ عَلَى أَيْلَةَ فَكَتَبَ ابْنُ شِهَابٍ – وَأَنَا أَسْمَعُ – يَأْمُرُهُ أَنْ يُجَمِّعَ يُخْبِرُهُ أَنَّ سَالِمًا حَدَّثَهُ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ يَقُولُ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ الإِمَامُ رَاعٍ وَمَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَالرَّجُلُ رَاعٍ فِي أَهْلِهِ وَهْوَ مَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ فِي بَيْتِ زَوْجِهَا وَمَسْؤُولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا وَالْخَادِمُ رَاعٍ فِي مَالِ سَيِّدِهِ وَمَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ- قَالَ وَحَسِبْتُ أَنْ قَدْ قَالَ – وَالرَّجُلُ رَاعٍ فِي مَالِ أَبِيهِ وَمَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَمَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ.

প্রশ্নঃ 656
এই আমল সম্বন্ধে জানতে চাই? লিঙ্ক সবার নিচে দিলাম। দারিদ্র থেকে মুক্তি লাভের পরীক্ষিত আমল হযরত ইমাম মালেক (রহ.) হজরত ইবনে উমর [রা.] থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার এক ব্যক্তি হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললো: ইয়া রাসুলাল্লাহ! ﷺ দুনিয়া আমার থেকে বিমুখ হয়েছে এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শণ করেছে। রাসুল ﷺ বললেন, তুমি কি ফেরেশতাদের দোয়া ও আল্লাহর সব সৃষ্টিজীবের তাসবীহ পড় না? যে তাসবীহের কারণে তাদেরকে রিজিক দেয়া হয়? সুবহে সাদেকের সময় তুমি সে তাসবীহ একশবার করে পড়বে, তাহলে দেখবে দুনিয়া তোমার কাছে তুচ্ছ হয়ে আসবে। লোকটি চলে গেল। এবং এ দোয়াটি পড়তে লাগল। কিছুদিন পরে আবার সে ফিরে এসে বললো ইয়া রাসুলাল্লাহ! ﷺ আমার কাছে এত অধিক সম্পদ জমা হয়েছে যেগুলো হেফাজত করার মত কোনো জায়গা আমার কাছে নেই। [জিয়াউন্নবী-৫/৯০২] আরবি দোআঃ سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم أستغفر الله বাংলা উচ্চারণঃ সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম। আসতাগফিরুল্লাহ। অর্থঃ আল্লাহ তায়ালা সব অসম্পূর্ণতা থেকে পবিত্র এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁরই। মহান আল্লাহ পবিত্র। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করছি। [মুসনাদে আবু ইয়ালা-৬৬৭১, ইবনুস সুন্নি-৫৫১, ইবনে কাসির-৫/১৩৭, মুসতাদরাকে হাকেম-১৮৮৬, তারগিবুত তারহিব-২৮১৫ এর বরাতে-রূহুল মাআনী-৮/২৬৬, জিয়াউন্নবী-৫/৯০২ ] https://www.facebook.com/photo.php?fbid=1079408535433698set=pb.100000936849495.-2207520000.1463748360.type=3theater
30 Dec 2025

উক্ত হাদীসটি সর্বাক্যমতে দুর্বল। দুর্বল হাদীস দ্বরা দলীল দেয়া যায় না। তবে শর্তানুসারে আমল করা যায়।

প্রশ্নঃ 631
দেশ প্রেম ঈমানের অঙ্গ এমন একটি হাদিস প্রচলিত আছে। তবে আমি এটাও শুনেছি এটা একটি জাল হাদিস । এটা কি আসলেই জাল হাদিস?
30 Dec 2025

হ্যাঁ, এটা জাল হাদীস।

প্রশ্নঃ 613
শাইখ আব্দুর রউফের বইয়ে একটি হাদীস পড়লাম। রাসুলুল্লাহ(স) বলেছেন, আহলে হাদীসদের সভাব হবে তারা কোন কাজের ক্ষেত্রে বলবে রাসুলুল্লাহ(স) বলেছেন তাই এ কাজটি কর, রাসুলুল্লাহ(স) এভাবে করতেন তাই করতেন তাই এভাবে কর। ( মিফতাহুল জান্নাত বিল ইহতিজাজে ফিস সুন্নাত, পৃ: ৬৮, ইমাম সুয়ুতি) এই হাদিসের সনদের তাহকীক জানতে চাই। দলিলসহ জানাবেন। জাযাকাল্লাহু খাইরহ।
30 Dec 2025

রাসূলুল্লাহ সা. এর যুগে আহলে হাদীস নামে কোন পরিভাষা ছিল না। সুতরাং হাদীসের ভিতর আহলে হাদীস শব্দ আসতে পারে না। আর যে কিতাবের রেফারেন্স দিয়েছেন হাদীসের ক্ষেত্রে এমন কিতাবের রেফারেন্স গ্রহনযোগ্য নয়। তারপরও যদি কথিত এই হাদীসটির আরবী পাঠ দিতে পারেন তাহলে দেখা যাবে।

প্রশ্নঃ 570
আসসালামু আলাইকুম । শায়েখ! আপনার নামে এক দ্বীনি ভাই অনেক অভিযোগ করল। তার মধ্যে মুয়াম্মাল ইবনু ইসমাঈল নামক একজন সিক্বাহ রাবীকে ইমাম বুখারীর বরাতে মুনকারুল হাদীস বানিয়েছেন। ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এর মতন একজন যঈফুল হাদীসকে অগণিত যঈফ সনদে তাদীল প্রকাশ করেছেন। এগুলো কেন হলো? জবাব দানে আপনার মর্জি হয়।
29 Dec 2025

ইমাম আবু হানীফা যঈফুল হাদীস এটা সর্ম্পর্ণ ভুল, অইলমী কথা। বিশেষ এক শ্রেনীর লোক আবু হানীফার নামে না জেনে কথা বলেন। আলফিকহুল আকবারের ভুীমকা পড়ুন, আবু হানীফা সম্পর্কে জানতে পারবেন। কোন কিতাবের কোথায় মুয়াম্মাল ইবনু ইসমাইল কে সিকাহ বানিয়েছেন তা লিখে প্রশ্ন করুন। শুধু এতটুকু লেখায় যথেষ্ট নয়্।

প্রশ্নঃ 558
আসসালামুয়ালাইকুম। আমদের মাসজিদের ইমাম সাহেব হাদিস বললেন, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাহ বিল্লাহ এই কালেমেটি ৯৯ টি রোগের ওষুধ, যার একটি রোগ হল দুশ্চিন্তা, যদিও তিনি হাদিসের reference উল্লেখ করেন নি। হাদিস টি সহিহ কি না এবং হলে এর reference জানতে চাই। যাযাকুমুল্লাহ।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। হাদীসটি মুসতাদরক হাকিম (হাদীস নং ১৯৯০) এবং আলমুজামুল আওসাত (হাদীস নং৫০২৮)। হাদীসটির মধ্যে একজন বর্ণনাকারী আছেন যার নাম বিশর ইবন রাফে। তিনি যয়ীফ। সুতরাং হাদীসটির সনদ দূর্বল।

প্রশ্নঃ 545
স্যার, আস-সালামু-আলাইকুম. আমি বেশ কয়েকজন বক্তাকে বলেতে শুনেছি যে কোন এক সাহাবী নামাজের মাধ্যমে তিনি তার মৃত সন্তানকে জীবিত করেছেন। এব্যাপারে আপনার মতামত জানেতে চাই
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিষয়টি কোন সহীহ কিংবা যয়ীফ হাদীসে আমরা পাই নি। আর এই ধরনের ঘটনা জাল হওয়াটাই যুক্তিযুক্ত। আল্লাহ তায়ালা ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 534
আসসালামু আলাইকুম। শায়েখ এর কাছে আমার একটি প্রশ্ন.হযরত বিলাল (রা:) শিন উচ্চারণ করতে গেলে ছীন হত।তাই রাসুল(স.) বলেছেন, বিলালের ছীন ই তোমাদের শিন। এই হাদীসটি কি সহীহ? শুকরান…
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীসটি সর্বাক্যমতে জাল বা বানোয়াট।মোল্লা আলী ক্বারী রাহ.সহ আরো অনেক মুহাদ্দিস হাদীসটিকে জাল বলেছেন।

প্রশ্নঃ 379
Assalamualikum.sir, muntakhaf Hadith by m.Muhammad eusuf kantalavi,what is read by tabling, is it,s all Hadith sahih.please let me know.
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
মুন্তাখাবুল হাদীস একটি ভাল হাদীসগ্রন্থ। অধিকাংশ হাদীসই সহীহ বা হাসান পর্যায়ের। কিছু যয়ীফ হাদীসও বিদ্যমান। অধিকাংশ হাদীসের বইই এরূপ। বইটি পড়তে কোন সমস্যা নেই। কোনো হাদীসের বিষয়ে সন্দেহ বা প্রশ্ন হলে মুহাদ্দিসদের সিদ্ধান্ত জানতে হবে। মুমিন সর্বদা তথ্য যাচাই করে গ্রহণ করেন।
প্রশ্নঃ 370
আসসালামু আলাইকুম। স্বামী মারা গেলে, স্ত্রী যদি স্বামীর জন্য দুয়া করে তা নাকি কাজে আসে না?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
স্বামীর জন্য স্ত্রী দুআ করলে, স্ত্রীর জন্য স্বামী দুআ করলে এবং যে কোন মুসলিমের জন্য অন্য মুসলিমের দুআ কাজে আসবে। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
وَالَّذِينَ جَاؤُو مِن بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالإِيمَانِ وَلا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلاًّ لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَّحِيمٌ
অর্থ: (মূমিনদের থেকে যারা মারা যায় )তাদের পরে যারা দুনিয়াতে আসবে তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের এবং যারা ঈমাণের সাথে আমাদের অগ্রগামী হয়েছে তাদের ক্ষমা করে দাও আর আমাদের হৃদয়ে মূমিনদের ব্যাপারে কোন বিদ্বেষ সৃষ্টি করো না। নিশ্চয় আপনি দয়ার্দ্র দয়াময়। সূরা হাশর, আয়াত ১০। সুতরাং আমাদের উচিৎ আমাদের সকল আত্মীয় স্বজন ও সকল মুসলিমের জন্য দুআ করা ।
প্রশ্নঃ 342
আসসালামু আলাইকুম আমার প্রশ্নঃ ১। ঈসা আ এর সাথে ইমাম মাহাদির দেখা হওয়ার কোন সহিহ হাদিস আছে কিনা। আল্লাহ আপনার উত্তম বদলা দান কারুন
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
প্রথমত, পশ্চিম দিকে কবে সূর্য উঠবে, দাজ্জাল কবে আসবে, ঈসা আ: এর সঙ্গে ইমাম মাহদীর দেখা হবে কি না এই ধরনের ভবিষ্যতের বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করা একজন মূমিনের জন্য অবান্তর। তবুও আপনার প্রশ্নের উত্তরে বলছি এ বিষয়ে স্পষ্ট কোন কিছু হাদীসে উল্লেখ নেই তবে একটি হাদীসে উল্লেখ আছে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا نَزَلَ ابْنُ مَرْيَمَ فِيكُمْ وَإِمَامُكُمْ مِنْكُمْ
অর্থ: তোমাদের কেমন লাগবে যখন ইবনে মারইয়াম (ইসা আ.) তোমাদের কাছে আসবেন অথচ তোমাদের ইমাম তোমাদের মধ্য থেকেই হবে? অনেক আলেম বলেন, এখানে তোমাদের ইমাম বলতে ইমাম মাহদীকে বুঝানো হয়েছে।
প্রশ্নঃ 315
আসসালামু আলাইকুম। আল্লাহর রসুল কত বছর বয়ষে নবুয়াত পেয়েছিলেন? একজন আলেম কে বলতে শুনলাম যখন আসমান, জমীন, ও কোন নবী কে সৃষ্টি করা হয়নি তখন আল্লাহর রসুল কে সৃষ্টি করেছেন। আর এটি বোখারী শরিফের হাদীস বলছেন। আপনার কাছে জানতে চাই।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
যখন আসমান, জমীন ও কোন নবী কে সৃষ্টি করা হয়নি তখন আল্লাহর রসুল কে সৃষ্টি করছেনে এমন কথা কোন হাদীসে বলা হয় নি। এটা ভুল কথা। আর বুখারীতেও নেই অন্য কোন হাদীসের কিতাবেও নেই। এটা একটা হাদীসে ভুল ব্যাখ্যা। হাদীসটি হলো,
عن أبي هريرة قال قالوا : يا رسول الله متى وجبت لك النبوة ؟ قال وآدم بين الروح والجسد
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, কখন আপনার জন্য নবুওয়াত সাব্যস্ত হয়েছে? তিনি বলেন, তখন আদাম শরীর ও রুহ এর মাঝে ছিল। (অর্থাৎ তখনো আদম আ. কে সৃষ্টি করা হয় নি)। জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬০৯। হাদীসটি সহীহ। হাদীসে যেটা বলা হয়েছে সেটা ছিল আল্লাহ তায়ালা নির্ধারন সংক্রান্ত রুহের জগতের বিষয়, দুনিয়ার বিষয় নয়। রুহের জগতে আমাদের সবাইকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তার মানে এই নয় যে, তখন আমাদের জন্ম হয়েছিল। সুতরাং এটা বলা যাবে না যে, রাসূলুল্লাহ সা. তখনই নবুওয়াত পেয়েছিলেন বরং তাঁর জন্য নবুওয়াত আল্লাহ নির্ধারন করেছিলেন। আর দুনিয়াতে জন্ম নেয়ার পর ৪০ বছর বয়সে নবুওয়াত পেয়েছিলেন।
প্রশ্নঃ 295
প্রয়োজন বোধে জ্ঞান আহরনের জন্য সূদুর চীন দেশে যাও -এই হাদীসটি কি সহী?
27 Dec 2025
অধিকাংশ মুহাদ্দিস হাদীসটিকে জাল বলে উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ একে অত্যন্ত দূর্বল বলে উল্লেখ করেছেন। সনদ বিচারে দেখা যায় দুজন অত্যন্ত দূর্বল রাবী, যারা মিথ্যা হাদীস বর্ণনা করতেন শুধুমাত্র তারাই হাদীসটিকে রাসূলুল্লাহ সা. এর কথা হিসাবে প্রচার করেছেন। আরো দেখুন ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার লিখিত: ”হাদীসের নামে জালিয়াতি” [পৃষ্ঠা-৪৫০।]
প্রশ্নঃ 251
انْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ, قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : خُذُوا الْعَطَاءَ مَا دَامَ عَطَاءً ، فَإِذَا كَانَ رِشْوَةً عَلَى الدِّينِ فَلا تَأْخُذُوهُ وَلَسْتُمْ بِتَارِكِيهِ, يَمْنَعُكُمْ مِنْ ذَلِكَ الْفَقْرُ وَالْمَخَافَةُ, أَلا إِنَّ رَحَى بَنِي مَرْجٍ قَدْ دَارَتْ, أَلا وَإِنَّ رَحَى الإِيمَانِ دَائِرَةٌ, فَدُورُوا مَعَ الْكِتَابِ حَيْثُ مَا دَارَ, أَلا وَإِنَّ الْكِتَابَ وَالسُّلْطَانَ سَيَفْتَرِقَانِ, فَلا تُفَارِقُوا الْكِتَابَ, أَلا إِنَّهُ سَيَكُونُ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ يَقْضُونَ لأَنْفُسِهِمْ مَالا يَقْضُونَ لَكُمْ, إِنْ عَصَيْتُمُوهُمْ قَتَلُوكُمْ وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ أَضَلُّوكُمْ . قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ نَصْنَعُ ؟ قَالَ : كَمَا صَنَعَ أَصْحَابُ عِيسَى بْنِ مَرْيَمَ نُشِرُوا بِالْمَنَاشِيرِ وَحُمِلُوا عَلَى الْخَشَبِ, مَوْتٌ فِي طَاعَةِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنْ حَيَاةٍ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ মুহতারাম, আচ্ছালামু আলা্ইকুম, উপরোক্ত হাদীসটি সহীহ না জঈফ? জঈফ হলে তার ভিত্তি কি? যদি কুরআন ও অন্য কোন হাদীসের সাথে এর কোন সংঘর্ষ আছে কি না? এবং এই হাদীস গ্রহণ করা যাবে কি না? দয়াকরে জানাবেন। উম্মে ত্বা-হা, কুয়েত হতে।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
উক্ত হাদীসটি ইমাম তবারনী আল-মুজামূল কাবীর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। হাদীস নং ১৬৫৯৯। হাদীসটি বিভিন্ন কারনে যয়ীফ। প্রথমত যে ব্যক্তি হাদীসটি সাহাবী মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি তাঁর থেকে শোনেন নি। তার নাম ইয়াজিদ ইবনে মারছাদ। এছাড়া এই হাদীসের একজন বর্ণনাকারীর (তার নাম ওদীন ইবনে আতা) ব্যাপারে বিতর্ক আছে। আল্লামা হায়ছামী উক্ত হাদীসটির বিশ্লেষনে বলেছেন,
رواه الطبراني . ويزيد بن مرثد لم يسمع من معاذ والوضين بن عطاء وثقه ابن حبان وغيره وضعفه جماعة وبقية رجاله ثقات
ইমাম তবারনী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইয়াজিদ ইবনে মারছাদ মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে শুনেন নি। আর ওদীন ইবনে আতাকে ইবনে হিব্বান এবং অনেকেই ছিকাহ বলেছেন আর একদল মুহাদ্দিস তাকে দূর্বল বলেছেন। মাজমাউজ জাও-ইদ, হাদীস নং ৯২০৮।
সুতরাং উক্ত হাদীসটিকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না।
প্রশ্নঃ 250
মুহতারাম আস সালামু আলাইকুম। জান্নাতে যাওয়ার জন্য হাদীসের আালোকে কিছু কাজের কথা জানতে চাই।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
হাদীসে আছে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সা. কে বলেন,
يا رسول الله! نبئني بما يباعدني من عذاب الله، ويدخلني الجنة .قال تعبدُ الله ولا تشركُ به شيئاً وتقيمُ الصلاة المكتوبة وتؤدّي الزكاة المفروضة وتصومُ رمضان وتحجّ وتعتمرُ وانظر ما تحبّ من النّاس أن يأتوه إليك فافعله بهم وما كرهت أن يأتوه إليك فذرهم منه
অর্থ: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে এমন কিছু আমল সম্পর্কে অবহিত করুন যা আমাকে আল্লাহর আযাব থেকে বিরত রাখবে এবং জান্নাতের নিকটবর্তী করবে। তখন তিনি রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোন কাউকে শরীক করবে না, ফরজ নামায যথাযথ ভাবে আদায় করবে, ফরজ যাকত আদায় করবে, রমজান মাসে রোজা রাখবে, হজ্ব ও ওমরা করবে এবং তুমি মানুষদের থেকে যে ধরনের আচার-ব্যবহার আশা করো তাদের সাথে সে ধরনের আচার-ব্যবহার করো আর তাদের থেকে যে ধরনের আচার-ব্যবহার অপছন্দ করো তুমি তাদের সাথে সে ধরনের আচার-ব্যবহার পরিহার করো। আল-কুনা ওয়াল আসমা লিদ-দুলাবি, হাদীস নং২৮৯; সিলসিলাতুস সহীহা, হাদীস নং ৩৫০৮।
হাদীসটির সনদগত ভাবে দূর্বল তবে এই কথাগুলো বিভিন্ন সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত। উক্ত হাদীস থেকে জান্নাতে যাওয়ার জন্য প্রয়েজনিও আমলসমূহ জানতে পারলাম। এগুলোর সাথে সর্বপ্রকার হারাম ও মাকরুহ কাজ থেকে বিরত থাকা, পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সু-স্পর্ক রাখা, বান্দার হক আদায় করা, সন্দেহপূর্ণ কাজ থেকে বিরত থাকা, মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা, বেশী বেশী নফল নামায ও রোজা রাখা, নামাযের পরে ও অন্যান্য সময়ের মাসনুন দোয়াগুলো যথা সমায়ে পড়া, জিকির করা ইত্যাদি নেক আমল আমাদের জান্নাতে যাওয়ার পথকে সুগম করবে ইনশাআল্লাহ।
প্রশ্নঃ 196
আসসালামু আলাইকুম, স্যার। আমি সিফাত, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, মিটফোর্ড ঢাকা, তে ৪র্থ বর্ষে পড়ছি। একটা ব্যাপারে আপনার সাহায্য দরকার। আবু জেহেল বদরের যুদ্ধের আগে কাবার গিলাফ ধরে যে দুয়া করেছিল, এই হাদীসটা বুখারী, আস-সাহীহ এর কোন কিতাব, ও কোন বাব এ আছে আমাকে একটু জানাবেন কি? আমার কাছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও তাওহীদ পাবলিকেশন উভয় সংস্করণই আছে, আলহামদুলিল্লাহ। ওয়াসসালাম।
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আবু জেহেল বদর যুদ্ধও পূর্বে নিজেদের বিজয় চেয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন বলে সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে। তবে কাবার গিলাফ ধরার কথা পাওয়া যায় না। নিচের হাদীসটি লক্ষ করুন।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ ثَعْلَبَةَ بْنِ صُعَيْرٍ الْعُذْرِيِّ ؛ أَنَّ أَبَا جَهْلٍ قَالَ يَوْمَ بَدْرٍ : اللَّهُمَّ أَقْطَعُنَا لِلرَّحِمِ ، وَآتَانَا بِمَا لاَ يُعْرَفُ ، فَأَحِنْهُ الْغَدَاةَ ، قَالَ : فَكَانَ ذَلِكَ اسْتِفْتَاحًا مِنْهُ ، فَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ : {إِنْ تَسْتَفْتِحُوا فَقَدْ جَاءَكُمَ الْفَتْحُ ، وَإِنْ تَنْتَهُوا فَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ} الآيَةَ
অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে সালাবাহ বলেন, আবু জেহেল বদরের দিন বলল, হে আল্লাহ! (মুহাম্মাদ) আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আত্মীয়তা ছিন্নকারী, সে এমন কিছু নিয়ে এসেছে যে বিষয়ে আমাদের জানাশোনা নেই। সুতরাং আগামীকাল তাকে ধ্বংস করুন। তিনি বলেন, সেটাই ছিল তার থেকে বিজয় চাওয়া। আর এসম্পর্কেই অবতীর্ণ হয় এই আয়াত যদি তোমরা বিজয় চাও অবশ্যই তা তোমাদের কাছে আসবে আর যতি তোমরা বিরত থাক তাহলে সেটা হবে তোমাদের জন্য কল্যানকর। ………… (সূরা আনফাল ১৯-) । মুসান্নিফ ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৭৪২৯। মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২৩৭১০। শায়খ শুয়াইব আরনাউত হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। তাফসীরে ইবনে কাসীর, তাফসীরে বাগাবী সহ অনেক তাফসীরগ্রন্থে উক্ত আয়াতের তাফসীরে বর্ণিত আছে যে, আবু জেহেলের দোয়ার পরিপেক্ষিতে উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। বিস্তারিত জানতে সেগুলো দেখতে পারেন। তবে কুতুবে সিত্তাতে এ বিষয়ে কোন হাদীস পাওয়া যায় না।
প্রশ্নঃ 183
দারিয়ে প্রসাব কি জায়েয আছে? ১টা হাদিস নাকি আছে যে নবী এমন করেছিলেন? আর কেও বলতেছে যে তিরমিযি তে নাকি হাদিস আছে যেখানে নিষেধ করছেন,এখন সহি আসলে কি একটু জানাবেন নবী নাকি যখন করছিলেন সেটা নাকি উনার কমর ব্যাথা ছিল দেখে করছিলেন? এই বিষয় এর হাদিস গুলা একটু জানাবেন
23 Dec 2025
বিভিন্ন হাদীসের আলোকে স্পষ্ট যে, রাসূল সা. এর সাধারণ অভ্যাস ছিল বসে প্রস্রাব করা। একটি ঘটনা পাওয়া যায় যে, তিনি দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেছেন। সুতরাং সুন্নাত এবং স্বাভাবিক নিয়ম হলো, বসে প্রসাব করা । তবে দাঁড়িয়ে প্রসাব করা না জায়েজ নয়।
প্রশ্নঃ 157
to know about one hadeet regarding prophet (pbuh) is made of nur.
23 Dec 2025
It is a false and baseless hadith. in furfura shareef website which is conducted by hooghly furfuras,there have mentioned one point regarding aqidah that the soul of our nabi(s.a) is present where discuss about the religion of islam. is it correct or not please specify valuable information about this. Ans: It is not correct. They should proof their theory by explicit text from Quran or Hadith.
প্রশ্নঃ 141
মায়ের দিকে নেক নজরে তাকালে কবুল হজ্বের সয়াব পাওয়া যাই, কথাটা ঠিক।
23 Dec 2025
এই মর্মে একটি হাদীস শুয়াবুল ইমান গ্রন্থে উল্লেখ আছে। তবে হাদীসটি যয়ীফ অথবা জাল। হাদীসটি হলো,
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَا مِنْ وَلَدٍ بَارٍّ يَنْظُرُ نَظْرَةَ رَحْمَةٍ إِلَّا كَتَبَ اللهُ بِكُلِّ نَظْرَةٍ حَجَّةً مَبْرُورَةً ، قَالُوا: وَإِنْ نَظَرَ كُلَّ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ ؟ قَالَ: نَعَمْ، اللهُ أَكْبَرُ وَأَطْيَبُ
অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যখন কোন সৎ সন্তান রহমতের দৃষ্টিতে তার পিতা-মাতার দিকে তাকায় তখন আল্লাহ তায়ালা তার জন্য একটি কবুল হজ্বের সওয়াব লিখেন। সাহাবীরা বললেন, যদি প্রতিদিন একশ বার তাকায়? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আল্লাহু আকবার। শুয়াবুল ঈমান লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং৭৪৭২। হাদীসটির হুকুম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন, সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, হাদীস নং৬২৭৩। সম্ভবত প্রশ্নেক্ত কথাটি এই হাদীস থেকেই এসেছে। তবে হাদীসটি যেহেতু সহীহ বা হাসান পর্যায়ের নয় তাই দলীল হিসাবে বিবেচিত হবে না। আল্লাহ তায়ালা ভাল জানেন।

কপিরাইট স্বত্ব © ২০২৫ আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট - সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত| Design & Developed By Biz IT BD