ওয়াআলাইকুমুস সালাম। না, স্যার রহ. এর এই বিষয়ে কোন বই নেই। তবে আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট থেকে হজ্জ্বের উপর একটি বই প্রকাশ করা হবে ইনশাআল্লাহ।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যে তাওয়াফের পর সায়ী করতে হবে সে তাওয়াফেই শুধু রমল করতে হবে। যে তাওয়াফের পর সায়ী নেই সে তাওয়াফে রমলও করতে হবে না।সুতরাং আপনি যদি প্রথমেই তাওয়াফে কুদুমের পর সায়ি করেন তাহলে আপনাকে কুদুমের মধ্যে রমল করতে হবে। আর যদি আপনি তাওয়াফে ইফাদার পরে সায়ী করেন তাহলে তাওয়াফে ইফাদাতে রমল করতে হবে। তাওয়াফে কুদুমের পর সায়ি করলে তাওয়াফে ইফাদাতে রমল করতে হবে না।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইহরাম অবস্থায় মুখ ঢাকা তথা কাপড় লাগিয়ে মুখ ঢাকা নিষেধ। তাই, এমন ভাবে মুখ ঢাকতে হবে যাতে মুখে কাপড় না লাগে। বর্তমানে ইহরাম অবস্থায় মুখ ঢাকার জন্য বাজারে বিশেষ ধরের টুপি পাওয়া যায় সেগুলো সংগ্রহ করতে পারেন। হাত ও পা ঢাকবেন না। না, এই সব কারণে দম ওয়াজিব হবে না।
ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার রহ. জ্বিলহজ্ব মাসের আমল সম্পর্কে খুতবাতুল ইসলাম কিতাবে বলেছেন, বিভিন্ন সহীহ হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে, যুলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয়। সহীহ বুখারী অন্যান্য গ্রন্থে সংকলিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الأَيَّامِ يَعْنِي أَيَّامَ الْعَشْرِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ وَلا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ যুলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনে নেক আমল করা আল্লাহর নিকট যত বেশি প্রিয় আর কোনো দিনের আমল তাঁর নিকট তত প্রিয় নয়। সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর পথে জিহাদও কি এ দশদিনের নেক আমলের চেয়ে আল্লাহর নিকট প্রিয়তর নয়? তিনি বলেন, না, আল্লাহর পথে জিহাদও প্রিয়তর নয়, তবে ঐ ব্যক্তি ছাড়া, যে ব্যক্তি নিজের প্রাণ ও সম্পদ নিয়ে জিহাদে বেরিয়ে গেল এবং কোনো কিছুই আর ফিরে এলো না (সম্পদও শেষ হলো, সেও শহীদ হলো)।সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৬৯; সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ২৪৪০। অন্য হাদীসে তিনি বলেন: أَفْضَلُ أَيَّامِ الدُّنْيَا الْعَشْرُ، يَعْنِيْ عَشْرَ ذِيْ الْحَجَّةِ দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি ফযীলতের দিন হলো যুলহাজ্জ মাসের প্রথম এ দশ দিন। হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ৩/২৫৩, ৪/১৭; আলবানী, সহীহহুত তারগীব ২/১৫। হাসীসটি সহীহ। বিস্তারিত জানতে দেখুন, খুতবাতুল ইসলাম বইয়ের জ্বিলকদ মাসের শেষ খুতবা। আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, يُكَفِّرُ السَّنَةَ الْمَاضِيَةَ وَالْبَاقِيَةَ তা পূর্বের ও পরের এক বছরের গোনাহের কাফফারা। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ২৮০৪। যিনি যেখানে থাকবেন সেখান কার ৮ জ্বিলহজ্জ্ব এই রোজা রাখবেন। আবার কোন কোন আলেম বলেছেন, হাজীরা যেদিন আরাফাতে থাকবেন সেদিন এই রোজা রাখতে হবে। যে কোন একদিন রাখলেই হযে যাবে আশা করা যায়।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। মুহরিম ব্যক্তি এমন জুতা বা স্যান্ডেল পরবে না যা পরলে টাখনু ঢেকে যায়। টাখনু ঢেকে যায় এমন জুতা বা মোজা পরা নিষেধ। উপরিভাগ ঢাকলে কোন সমস্যা নেই। টাখুন ঢাকা হলে হাদীসে নিষেধ আছে। নিচের হাদীসটি দেখুন: عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَجُلاً قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ مَا يَلْبَسُ الْمُحْرِمُ مِنَ الثِّيَابِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : لاَ يَلْبَسُ الْمُحْرِمُ الْقَمِيصَ ، وَلاَ السَّرَاوِيلَ ، وَلاَ الْبُرْنُسَ ، وَلاَ الْخُفَّيْنِ إِلاَّ أَنْ لاَ يَجِدَ النَّعْلَيْنِ فَلْيَلْبَسْ مَا هُوَ أَسْفَلُ مِنَ الْكَعْبَيْنِ আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একজন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সা. কে জিজ্ঞাসা করলেন, মুহরিম ব্যক্তি কি ধরনের পোশাক পরিধান করবে? তখন নবী সা. বললেন, মুহরিম ব্যক্তি জামা,পাগড়ি, পায়জামা, টুপী এবং মোজা। যদি তার জুতা (টাখনুর নিচে থাকে এমন জুতা উদ্দেশ্য) না থাকে তা হলে মোজা পরবে, তবে মোজা দুটি পায়ের গিরার নিচ হতে কেটে নিবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৭৫৪। উপরের হাদীসে আমরা দেখছি টাখনু ঢেকে যায় এমন মোজা পরতে রাসূলুল্লা স. নিষেধ করেছেন।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। দুইটি বিষয়েই হাদীস আছে। তবে উভয় হাদীসই চরম পর্যায়ের দূর্বল। তবে একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ স. বলেছেন, مَنْ صَلَّى لِلَّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا فِى جَمَاعَةٍ يُدْرِكُ التَّكْبِيرَةَ الأُولَى كُتِبَتْ لَهُ بَرَاءَتَانِ بَرَاءَةٌ مِنَ النَّارِ وَبَرَاءَةٌ مِنَ النِّفَاقِ অর্থ: যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার জন্য ৪০ দিন জামায়আতে তাকবীরে উলার সাথে সালাত আদায় করবে যে জাহান্নাম থেকে এবং নিফাকী থেকে মু্ক্তি পাবে। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ২৪১। শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, হাদীসটি হাসান।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মুজদালিফাতে রাত্রীযাপন কালে বিতর নামায পড়তে হবে বলে অধিকাংশ আলেম বলেছেন। শায়খ আলবানীসহ কিছু আলেম বলেছেন পড়া লাগবে না। তবে পড়ার ভিতরেই অধিক সতর্কতা। যারা বলেন পড়া লাগবে না তাদের দলীল: হযরত জাবের রা. বলেন, أَتَى الْمُزْدَلِفَةَ فَصَلَّى بِهَا الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ بِأَذَانٍ وَاحِدٍ وَإِقَامَتَيْنِ وَلَمْ يُسَبِّحْ بَيْنَهُمَا شَيْئًا ثُمَّ اضْطَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- حَتَّى طَلَعَ الْفَجْرُ অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. মুজদালিফাতে এসে মাগরিব ও এশার সালাত এক আজান এবং দুই ইকামতে আদায় করলেন। দুই সালাতের মাঝে তিনি আর কোন সালাত আদায় করেন নি। এরপর রাসূলুল্লাহ সা. ঘুমালেন। এভাবে ফজর হয়ে গেল। … সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩০০৯। এই হাদীসে এশার সালাতের পর ঘুমিয়েছেন বলে উল্লেখ আছে। তাই এই আলেমগণ মনে করছেন তিনি বিতর সালাত পড়েন নি। অবশ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই যে, তিনি বিতর সালাত আদায় করেন নি। আব্দুল্লাহ বিন বাযসহ অধিকাংশ আলেমের মতে পড়তে হবে। দলীল: আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন أَوْصَانِي خَلِيلِي صلى الله عليه وسلم بِثَلاَثٍ صِيَامِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَرَكْعَتَيِ الضُّحَى ، وَأَنْ أُوتِرَ قَبْلَ أَنْ أَنَامَ অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. আমাকে অসিয়ত করেছেন তিনটি জিনিসের অসিয়ত করেছেন (অন্য বর্ণনায়: কখনো না ছাড়ার অসিয়ত করেছেন)। ১. প্রতি মাসে তিনিটি করে রোজা। ২.ফজরের পূর্বের দুই রাকআত সালাত। ৩. ঘুমের পূর্বে বিতর সালাত। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৮১। এই হাদীসে বিতরের কথা বলা হয়েছে কোন সময় ছাড়া যাবে না। এই হাদীস থেকে আরো একটি বিষয় বুঝে আসছে। তা হলো বিতর তাহাজ্জুদের অংশ নয়। অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, مَنْ خَافَ أَنْ لاَ يَقُومَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ فَلْيُوتِرْ أَوَّلَهُ وَمَنْ طَمِعَ أَنْ يَقُومَ آخِرَهُ فَلْيُوتِرْ آخِرَ اللَّيْلِ যে ব্যক্তি ভয় করবে যে, সে শেষ রাত্রে উঠতে পারবে না সে যেন প্রথম রাত্রেই বিতর পড়ে আর যে আশা করে যে, সে শেষ রাত্রে উঠতে পারবে সে শেষ রাত্রে বিতর পড়বে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮০২। এই হাদীসে স্পষ্ট বলা হয়েছে প্রথম রাত্রেও বিতর পড়া যায় সুতরাং রাসূলুল্লাহ সা. যে বিতর পড়েন নি তাওতো স্পষ্ট বলা যাচ্ছে না। তাছড়া ঐ হাদীসে স্পষ্ট নেইও যে, তিনি বিতর পড়েন নি। এই সব দলীলের ভিত্তিতে অধিকাংশ আলেম বলেন, সব সময়ই বিতর সালাত আদায় করতে হবে। আল্লাহ ভাল জানেন।
না, এতে কোন সমস্যা নেই। তবে হজে যাওয়ার সামর্থ থাকলে আগে হজ করা উচিৎ।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। বইটিতে অনেক উপকারী বিষয় আছে। আবার অনেক মনগড়া আমলের কথাও আছে। এই দুআগুলো হাদীস সম্মত নয়।
ওয়া আলাইকুুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
উমরা আদায়ের নিয়মঃ ক) মক্কায় প্রবেশের পর মিকাত থেকে ইহরাম করে মক্কা পৌঁছানর পরে গোছল করা মুসাহাব, কারণ রাসুলুল্লাহ (সঃ) তা করেছিলেন। এরপর মসজিদে প্রবেশ করিয়ে বলবেনঃ
بسم الله والصلاة والسلام على رسول الله، أعوذ بالله العظيم وبوجهه الكريم، وسلطانه القديم، من الشيطان الرجيم، اللهم افتح لى أبواب رحمتك.
বিসমিল্লাহ, ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহর উপর দরুদ ও সালাম। আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে মহান আল্লাহর, তাঁর সম্মানিত চেহারা, তাঁর অনাদি ক্ষমতার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ আপনি আমার জন্য আপনার রহমতের – কল্যাণের দরজাগুলো খুলে দিন। খ) তাওয়াফের নিয়মঃ – কাবাঘরের কাছে পৌঁছে উমরা পালনকারী তালবিয়া (লাব্বাইকা…) পাঠ বন্ধ করবেন। এরপর হাজরে আসওয়াদের (কাল পাথরের) কাছে পৌঁছে সম্ভব হলে بِسْمِ اللهِ وَاللهُ أَكْبَرُ. বিসমিল্লাহি ওয়া আল্লাহু আকবার বলে তাতে হাত দিয়ে স্পর্শ করবেন এবং চুমু দিবেন। ভীড় থাকলে ঠেলাঠেলি করে মানুষকে কষ্ট দেয়া ঠিক হবেনা। বরং সম্ভব হলে শুধুমাত্র হাত দিয়ে বা লাঠি দিয়ে স্পর্শ করবেন এবং হাতে বা লাঠিতে চুমু দিবেন। যদি তাও সম্ভব না হয় তাহলে দুর থেকে হাত দিয়ে اللهُ أَكْبَرُ আল্লাহ আকবার বলে ইশারা করবেন, ঈশারা করার পর হাতে চুমা খাবেন না। – এরপর কাবা শরীফকে বামে রেখে তাওয়াফ শুারু করবেন। – রুকনে ইয়েমানী বা কাবাঘরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে পৌঁছানর পর সম্ভব হলে بِسْمِ اللهِ وَاللهِ أَكْبَرُবিসমিল্লাহি ওয়া আল্লাহ আকবার বাاللهُ أَكْبَرُ আল্লাহ আকবার বলে রুকনে ইয়েমানীকে স্পর্শ করবেন। তাকবীল একবারই বলতে হবে। ভীড়ের কারণে রুকনে ইয়েমানী স্পর্শ করা সম্ভব না হলে স্বাভাবিক ভাবে তাওয়াফ করে এগিয়ে যাবেন। হাত দিয়ে রুকনে ইয়েমানীর দিকে ঈশারা করার দরকার নেই, হাদীসে তা বলা হয়নি। – তাওয়াফ করার সময়ে কোন নির্দিষ্ট দোয়া নেই। কাজেই তওয়াফ কারা কালীন কুরআন তিলাওয়াত, বা তাসবীহ-তাহলীল বা জিকির করতেন পারেন, বা যে কোন ভাষায় যে কোন দোয়া করতে পারেন। শুধুমাত্র প্রতি চক্করের শেষে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর শেখান নীচের দোয়া বলবেনঃ
[البقرة ২০১] رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّار
রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতান, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতান, ওয়া ক্কিনা আযাবান নার। হে আমাদের প্রভু, পামাদেরকে দুনিয়ার (পার্থিব) জীবনে কল্যাণ ও মঙ্গল দান কারন, পরকালের জীবনকে কল্যাণ ও মঙ্গলময় করুন এবং আমাদেরকে দোযখের শাস্তি থেকে রক্ষ করুন। এই তাওয়াফের সময় কেবল পুরুষদের জন্য নিচের দুটি বিষয় সুন্নাতঃ ১) ইদতিবা অর্থাৎ গায়ে জড়ান চাদরের মধ্যভাগ ডান বগলের নিচে রেখে দুই প্রান্ত বাম কাঁধের উপরে রাখা। এতে ডান কাঁধ খোলা থাকবে। সাত চক্কর তাওয়াফের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এভাবে করা সুন্নাত। তবে তাওয়াফ ছাড়া অন্য সময়ে ইদতিবা করবেন না, স্বাভাকিব ভাবে দুই কাঁধ ঢেকে চাদর পরবেন। বিশেষতঃ নামাজের সময়ে অবশ্যই দুই কাঁধ ঢেকে রাখবেন। ২) রমল, অর্থাৎ দৌড়ানর ভঙ্গিতে ছোট পদক্ষেপে তাওয়াফ করা। সাত চক্করের মধ্যে শুধু প্রথম ৩ চক্করে রমল করতে হবে। বাকী ৪ চক্করে স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন। – ৭ চক্কর তাওয়াফের পর সম্ভব হলে মাকামে ইব্রাহীমের পিছনে, অথবা হারামের যে কোন স্থানে ২ রাকাত নামায আদায় করবেন। প্রথম রাকাতে সুরা কাফিরুন ও দ্বিতীয় রাকাতে কুল হুয়াল্লাহ আহাদ সরা পড়া সুন্নাত। – নামাযের পর সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদে ডান হাত দিয়ে তা স্পর্শ করা সুন্নাত। এরপর সায়ী করার জন্য সাফার দিকে যাবেন। গ) সায়ী করার নিয়মঃ সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে করণীয়ঃ – সম্ভব হলে সাফা পাহাড়ের উপরে ওঠা উত্তম, অসুবিধা হলে এর পাদদেশে দাঁড়াবেন এবং নিচের আয়াতটি পড়বেনঃ
[البقرة ১৫৮] إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ.
ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআইরিল্লাহ, ফামান হাজ্জাল বাইতা আওইতামারা ফালা জুনাহা আলাইহি আঁইয়াত্তাওয়াফা বিহিমা ওয়ামান তাতওয়াআ খাইরান ফাইন্নাল্লাহা শাকিরুন আলীম। নিশ্চয় সাফা এবং মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন সমুহের অন্তর্ভুক্ত, কাজেই যে ব্যক্তি হজ্জ বা উমরা করবে তাঁর জন্য এদুয়ের মাঝে সায়ী করা অনুচিত হবে না। আর যদি কেউ বেশী করে ভাল কাজ করে তাহলে আল্লাহ কৃতজ্ঞ ও জ্ঞানী। – এরপর মুস্তাহাব হল কিবলামুখি হয়ে বলবেঃ الحَمْدُ لِلّهِ اللهُ أَكْبَرُ আলহামদু লিল্লাহ আল্লাহু আকবার। এরপর বলবেঃ
لَاإلَهَ إلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ. لَا إِلَهَ إلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَاشَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الًمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِيْ وَيُمِيْتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٌ. لَا إلَهَ إِلَّا اللهُ، وَحْدَهُ، أَنْجَزَ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ.
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলক, ওয়ালাহুল হামদু, ইয়ুহয়ী ওয়া ইয়ুমীতু, অহুয়া আলা কুাল্লি শাইয়িন কাদীর। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু, আনজাযা ওয়াদাহু, ওয়া নাসারা আবদাহু, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু। অর্থাৎঃ আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ, নেই তিনি একক, তাঁর কোন শরীক বা অংশীদার নেই। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসা তাঁরই, তিনিই জীবন দেন, মৃত্যু দেন এবং তিনি সর্বশক্তিমান। আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তিনি একক, তিনি তাঁর ওয়াদা বাস্তবায়িত করেছেন,তাঁর বান্দাকে বিজয়ী করেছেন এবং তিনি একাই সকল বিরোধী শক্তিকে পরাজিত করেছেন। এরপর হাত তুলে ইচ্ছামত আল্লাহর কাছে দোয়া চাইবেন। সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ীর সময়ে করণীয়ঃ – সাফা থেকে নেমে হেঁটে মারওয়ার দিকে যেতে হবে সবুজ চিহ্ণের কাছে এলে পুরুষেরা দৌড়াবেন দ্বিতীয় সবুজ চিহ্ণ পর্যন্ত। এরপর স্বাভাবিকভাবে হেঁটে মারওয়া পাহাড়ে পৌঁছে উপরে বর্ণিত তাকবীর, তাহলীল ও দোয়ার পর সেখান থেকে সাফার দিকে এগোতে হবে। মহিলারা সর্বদা স্বভাবিকভাবে হাঁটবেন, তাদের জন্য দৌড়ান সুন্নাত নয়। – সাফা থেকে মারওয়া পর্যন্ত গেলে এক বার সায়ী হয়, আবার মারওয়া থেকে সাফা গেলে আরেক সায়ী হয়। এভাবে ৭ বার সায়ী করতে হবে। এতে সাফা থেকে শুরু হবে এবং মাওয়াতে গিয়ে শেষ হবে। – সায়ী করার সময় যত বেশী সম্ভব দোয়া ও যিকর করা উচিত। এছাড়া ওজু অবস্থায় সায়ী করা উচিত। তবে ওজু ছাড়াও সায়ী জায়েজ হবে, কিন্তু তাওয়াফ ওজু ছাড়া হবেই না। ঘ) সায়ীর পরে করণীয়ঃ ৭ বার সায়ী করার পর পুরুষেরা মাথা টাক করাবেন, অথবা চুল ছাঁটাবেন। পুরুষদের জন্য টাক করা উত্তম। তামাত্তু কারীর জন্য ছাঁটানো উত্তম, তিনি হজ্জের পরেটাক করবেন। টাক করা বা ছাঁটনো উভয় ক্ষেত্রেই পুরো মাথার চুল কাটতে বা ছাঁটতে হবে। আংশিক ছাঁটানো বা কাটানো জায়েজ নয়। মেয়েরা সর্বাবস্থায় নখ পরিমাণ চুল ছাঁটবেন।
ওয়া আলাইকুুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
উমরা আদায়ের নিয়মঃ
ক) মক্কায় প্রবেশের পর মিকাত থেকে ইহরাম করে মক্কা পৌঁছানর পরে গোছল করা মুসাহাব, কারণ রাসুলুল্লাহ (সঃ) তা করেছিলেন। এরপর মসজিদে প্রবেশ করিয়ে বলবেনঃ
بسم الله والصلاة والسلام على رسول الله، أعوذ بالله العظيم وبوجهه الكريم، وسلطانه القديم، من الشيطان الرجيم، اللهم افتح لى أبواب رحمتك.
বিসমিল্লাহ, ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহর উপর দরুদ ও সালাম। আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে মহান আল্লাহর, তাঁর সম্মানিত চেহারা, তাঁর অনাদি ক্ষমতার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ আপনি আমার জন্য আপনার রহমতের – কল্যাণের দরজাগুলো খুলে দিন।
খ) তাওয়াফের নিয়মঃ – কাবাঘরের কাছে পৌঁছে উমরা পালনকারী তালবিয়া (লাব্বাইকা…) পাঠ বন্ধ করবেন। এরপর হাজরে আসওয়াদের (কাল পাথরের) কাছে পৌঁছে সম্ভব হলে بِسْمِ اللهِ وَاللهُ أَكْبَرُ বিসমিল্লাহি ওয়া আল্লাহু আকবার বলে তাতে হাত দিয়ে স্পর্শ করবেন এবং চুমু দিবেন। ভীড় থাকলে ঠেলাঠেলি করে মানুষকে কষ্ট দেয়া ঠিক হবেনা। বরং সম্ভব হলে শুধুমাত্র হাত দিয়ে বা লাঠি দিয়ে স্পর্শ করবেন এবং হাতে বা লাঠিতে চুমু দিবেন। যদি তাও সম্ভব না হয় তাহলে দুর থেকে হাত দিয়ে اللهُ أَكْبَرُ আল্লাহ আকবার বলে ইশারা করবেন, ঈশারা করার পর হাতে চুমা খাবেন না। – এরপর কাবা শরীফকে বামে রেখে তাওয়াফ শুারু করবেন। – রুকনে ইয়েমানী বা কাবাঘরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে পৌঁছানর পর সম্ভব হলে بِسْمِ اللهِ وَاللهِ أَكْبَرُ বিসমিল্লাহি ওয়া আল্লাহ আকবার বা اللهُ أَكْبَرُ আল্লাহ আকবার বলে রুকনে ইয়েমানীকে স্পর্শ করবেন। তাকবীল একবারই বলতে হবে। ভীড়ের কারণে রুকনে ইয়েমানী স্পর্শ করা সম্ভব না হলে স্বাভাবিক ভাবে তাওয়াফ করে এগিয়ে যাবেন। হাত দিয়ে রুকনে ইয়েমানীর দিকে ঈশারা করার দরকার নেই, হাদীসে তা বলা হয়নি। – তাওয়াফ করার সময়ে কোন নির্দিষ্ট দোয়া নেই। কাজেই তওয়াফ কারা কালীন কুরআন তিলাওয়াত, বা তাসবীহ-তাহলীল বা জিকির করতেন পারেন, বা যে কোন ভাষায় যে কোন দোয়া করতে পারেন। শুধুমাত্র প্রতি চক্করের শেষে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর শেখান নীচের দোয়া বলবেনঃ
[البقرة ২০১] رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّار
রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতান, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতান, ওয়া ক্কিনা আযাবান নার। হে আমাদের প্রভু, পামাদেরকে দুনিয়ার (পার্থিব) জীবনে কল্যাণ ও মঙ্গল দান কারন, পরকালের জীবনকে কল্যাণ ও মঙ্গলময় করুন এবং আমাদেরকে দোযখের শাস্তি থেকে রক্ষ করুন। এই তাওয়াফের সময় কেবল পুরুষদের জন্য নিচের দুটি বিষয় সুন্নাতঃ ১) ইদতিবা অর্থাৎ গায়ে জড়ান চাদরের মধ্যভাগ ডান বগলের নিচে রেখে দুই প্রান্ত বাম কাঁধের উপরে রাখা। এতে ডান কাঁধ খোলা থাকবে। সাত চক্কর তাওয়াফের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এভাবে করা সুন্নাত। তবে তাওয়াফ ছাড়া অন্য সময়ে ইদতিবা করবেন না, স্বাভাকিব ভাবে দুই কাঁধ ঢেকে চাদর পরবেন। বিশেষতঃ নামাজের সময়ে অবশ্যই দুই কাঁধ ঢেকে রাখবেন। ২) রমল, অর্থাৎ দৌড়ানর ভঙ্গিতে ছোট পদক্ষেপে তাওয়াফ করা। সাত চক্করের মধ্যে শুধু প্রথম ৩ চক্করে রমল করতে হবে। বাকী ৪ চক্করে স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন। – ৭ চক্কর তাওয়াফের পর সম্ভব হলে মাকামে ইব্রাহীমের পিছনে, অথবা হারামের যে কোন স্থানে ২ রাকাত নামায আদায় করবেন। প্রথম রাকাতে সুরা কাফিরুন ও দ্বিতীয় রাকাতে কুল হুয়াল্লাহ আহাদ সরা পড়া সুন্নাত। – নামাযের পর সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদে ডান হাত দিয়ে তা স্পর্শ করা সুন্নাত। এরপর সায়ী করার জন্য সাফার দিকে যাবেন।
গ) সায়ী করার নিয়মঃ সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে করণীয়ঃ – সম্ভব হলে সাফা পাহাড়ের উপরে ওঠা উত্তম, অসুবিধা হলে এর পাদদেশে দাঁড়াবেন এবং নিচের আয়াতটি পড়বেনঃ
[البقرة ১৫৮] إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ
ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআইরিল্লাহ, ফামান হাজ্জাল বাইতা আওইতামারা ফালা জুনাহা আলাইহি আঁইয়াত্তাওয়াফা বিহিমা ওয়ামান তাতওয়াআ খাইরান ফাইন্নাল্লাহা শাকিরুন আলীম। নিশ্চয় সাফা এবং মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন সমুহের অন্তর্ভুক্ত, কাজেই যে ব্যক্তি হজ্জ বা উমরা করবে তাঁর জন্য এদুয়ের মাঝে সায়ী করা অনুচিত হবে না। আর যদি কেউ বেশী করে ভাল কাজ করে তাহলে আল্লাহ কৃতজ্ঞ ও জ্ঞানী। – এরপর মুস্তাহাব হল কিবলামুখি হয়ে বলবেঃ الحَمْدُ لِلّهِ اللهُ أَكْبَرُ আলহামদু লিল্লাহ আল্লাহু আকবার। এরপর বলবেঃ
لَاإلَهَ إلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ. لَا إِلَهَ إلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَاشَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الًمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِيْ وَيُمِيْتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٌ. لَا إلَهَ إِلَّا اللهُ، وَحْدَهُ، أَنْجَزَ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলক, ওয়ালাহুল হামদু, ইয়ুহয়ী ওয়া ইয়ুমীতু, অহুয়া আলা কুাল্লি শাইয়িন কাদীর। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু, আনজাযা ওয়াদাহু, ওয়া নাসারা আবদাহু, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু। অর্থাৎঃ আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ, নেই তিনি একক, তাঁর কোন শরীক বা অংশীদার নেই। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসা তাঁরই, তিনিই জীবন দেন, মৃত্যু দেন এবং তিনি সর্বশক্তিমান। আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তিনি একক, তিনি তাঁর ওয়াদা বাস্তবায়িত করেছেন,তাঁর বান্দাকে বিজয়ী করেছেন এবং তিনি একাই সকল বিরোধী শক্তিকে পরাজিত করেছেন। এরপর হাত তুলে ইচ্ছামত আল্লাহর কাছে দোয়া চাইবেন।
সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ীর সময়ে করণীয়ঃ সাফা থেকে নেমে হেঁটে মারওয়ার দিকে যেতে হবে সবুজ চিহ্ণের কাছে এলে পুরুষেরা দৌড়াবেন দ্বিতীয় সবুজ চিহ্ণ পর্যন্ত। এরপর স্বাভাবিকভাবে হেঁটে মারওয়া পাহাড়ে পৌঁছে উপরে বর্ণিত তাকবীর, তাহলীল ও দোয়ার পর সেখান থেকে সাফার দিকে এগোতে হবে। মহিলারা সর্বদা স্বভাবিকভাবে হাঁটবেন, তাদের জন্য দৌড়ান সুন্নাত নয়। – সাফা থেকে মারওয়া পর্যন্ত গেলে এক বার সায়ী হয়, আবার মারওয়া থেকে সাফা গেলে আরেক সায়ী হয়। এভাবে ৭ বার সায়ী করতে হবে। এতে সাফা থেকে শুরু হবে এবং মাওয়াতে গিয়ে শেষ হবে। – সায়ী করার সময় যত বেশী সম্ভব দোয়া ও যিকর করা উচিত। এছাড়া ওজু অবস্থায় সায়ী করা উচিত। তবে ওজু ছাড়াও সায়ী জায়েজ হবে, কিন্তু তাওয়াফ ওজু ছাড়া হবেই না।
ঘ) সায়ীর পরে করণীয়ঃ ৭ বার সায়ী করার পর পুরুষেরা মাথা টাক করাবেন, অথবা চুল ছাঁটাবেন। পুরুষদের জন্য টাক করা উত্তম। তামাত্তু কারীর জন্য ছাঁটানো উত্তম, তিনি হজ্জের পরেটাক করবেন। টাক করা বা ছাঁটনো উভয় ক্ষেত্রেই পুরো মাথার চুল কাটতে বা ছাঁটতে হবে। আংশিক ছাঁটানো বা কাটানো জায়েজ নয়। মেয়েরা সর্বাবস্থায় নখ পরিমাণ চুল ছাঁটবেন।