আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট এ আপনাকে স্বাগতম

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি
সব প্রশ্ন অর্থনৈতিক আকিকা আকীদা নামায আখিরাত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আদব আখলাক ইতিহাস ঈদ-কুরবানী ঈমান তাওহীদ রিসালাত জানাযা-কবর যিয়ারত জান্নাত-জাহান্নাম জিহাদ তাফসীর ত্বহারাত পবিত্রতা সফর জুমআ তারাবীহ নফল সালাত বিতর পোশাক-পরিচ্ছেদ ফারায়েজ ফিতরা বিচার-আচার বিবাহ-তালাক মানত যাকাত যিকির/দুআ/আমল রোজা লেনদেন শিরক-বিদআত সাধারণ দান-সদকাহ সিরাত/সামায়েল সুন্নাত হজ্জ হাদীস ও উসূলুল হাদীস হালাল হারাম বিবিধ কুরআন হাদীস বাতিল ফিরকা দাওয়াত ও তাবলিগ জাদু-টোনা মসজিদ মুসাফির রমযান সুদ-ঘুষ হালাল ইতিকাফ কাজা/কাফফারা গুনাহ জায়েয তায়াম্মুম ব্যক্তিগত ও তাবলিগ সদকাহ বিদআত কসর তাওবা জিন-পরি ব্যবসা-বাণিজ্য বই অসিয়ত
প্রশ্নঃ 2170
স্ত্রীকে এক তালাক দিলে প্রথম তৌহুরের মধ্যে ফিরিয়ে নিলে বিবাহ করা লাগে না, জানার বিষয় হল স্ত্রী ঔষধ সেবনের মাধ্যমে তৌহুরের মেয়াদ বাড়াতে পার বে কিনা?যদডি বাড়ায় তবে তার হুকুম কি?
21 Jan 2026

ওষুধ সেবন কর তহুরের মেয়াদ বাড়ালে কোন সমস্যা নেই। এই সময়ে ভিতর ফিরিয়ে নিলে বিবাহ করা লাগবে ন। তবে তালাকটি হতে হবে ফিরিয়ে নেয়া যায় এমন তালাক।

প্রশ্নঃ 2151
আস্ সালামু আলায়কুম– ভাই আমি কাউকে না জানিয়ে উকিলের মাধ্যমে বিয়ে করেছিলাম। আমার পরিবার ও মেয়ের পরিবারের কেউ জানতোনা। একজন মুফতী বলেছিল যে বিয়ে হবে কিন্তু বিয়ের পরে থেকেই সংসারে ঝগড়া শুরু হয় — সংসারে কোন বরকত ছিলনা। এক পর্যkায়ে একদিন ফোনে খুব ঝগড়া বেধে যায় এবং আমার মূখ থেকে বের হয় — এক তালাক- দুই তালাক- তিন তালাক— এমন অবস্থায় কী করণীয়? আমি এবং ঐ মেয়েটা এখন খুব অনুতপ্ত। অনেক আলেম বলেছে যে-বিয়েও হয়েছে তালাকও হয়েছে। এই বিষয়টা একটু খোলাশা করেন। মেয়েটার মানষিক অবস্থা ভালনা। আমিও অনুতপ্ত, দয়া করে একটা পরামর্শ দেন।নতুন করে সবার সামনে আবার বিয়ে করা যাবে কিনা? সমাধান হবে কি না?
21 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালমা। আপনি পরিবারকে না জানালেও বিয়ে বৈধ হয়েছিল। তিন তালাক দেয়ার পর সে চিরদিনের জন্য আপনার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। আপনারা এখন স্বামী-স্ত্রী নন। অবিলম্বে আপনাদের পৃথক হতে হবে। মানুষ মারা গেলে যেভাবে চিরদিনির জন্য পৃথক হয়ে যায় এক্ষেত্রেও তাই। এখন আপনদের একত্রিত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। নতুন করে বিয়ে করলেও হবে না।

প্রশ্নঃ 2101
হযরত মুহাম্মদ (সা:) বলেছেন যে, যদি কেউ পিতা-মাতার অমতে বিবাহ করে তবে তার বিবাহ বাতিল। আমার প্রশ্ন হল – পিতা-মাতার অমতে বিবাহ কি কোনো ভাবে বৈধ করার উপায় আছে কি না? কুরআন ও সুন্নাহ আনুযায়ী জানাবেন দয়া করে। (তাছাড়া আমার বিবাহ হয়েছে ৪ বছর আামাদের কিছু দিন পর বাচ্চা হবে)
19 Jan 2026

উক্ত হাদীসটি মেয়েদের ক্ষেত্রে। বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া 51 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 2094
আমাদের দুই জনের মাঝে কথা কাটাকাটি হইতেছিলো মিথ্যা কথা বলা নিয়ে কয়েকদিন যাবত, আমি আজ বিকালে রাগে বলছি যে তুমি মিথ্যা বলবাই আমাকে,আমার তোমাকে দরকার নাই,তুমি নিজে তালাক দেও নাইলে আমারে অধিকার দাও, তখন সে আর কিছু বলে নাই । অনেকক্ষণ পরে আইসা আমাকে কল দিয়ে বলে (ঠিক এভাবেই) তোমাকে অধিকার দিলাম (তালাকের অধিকার বলে নাই), (বলে রাখি,আমরা যে যার বাবার বাসায় থাকি,তাই কলেই কথা হয় সব) পরে আমি কান্নাকটি করি আর তাঁকে বলি যে তুমি বললা কেন, তখন আবার সে বলে থাক সরি অধিরকার উঠায় নিলাম (সে তালাক শব্দ উচ্চারণ ও করে নাই,খালি অধিকার বলছে) তারপর আমি একটু রাগ করেই বললাম যে এইগুলা কি মজা করার জিনিস যে দিলা আবার উঠায় নিলা,তুমি কি চাইছিলা আমি আসলেই বলে দেই! তখন আবার সে বলে,(বল বল শুনি ) তখন আমি বলি যা আমি তোমার তালাক গ্রহণ করলাম।সাথে সাথেই সে বলে যে লাভ নাই আমি উঠায় নিছিলাম। রাতে পরে সে আরো ঘেটে বের করে যে মেবি তালাক হয়ে গেছে,পরে দুই জনই কান্নাকাটি, কারণ আমরা এমন চাই না, কোনো নিয়ত আমাদের নাই,আবার আমাদের বিয়ের সময় তালাকের কোনো শর্ত ও দেয়া নাই ।আমরা কাউকে বলিও নাই এইসব যে হইছে, কিন্তু একটু আগে আমি কান্না করতে করতে আমার আম্মুকে জানাইছি,তিনি বলল উনার এই বিষয়ে জানা নাই । এখন কি আসলেই তালাক হয়ে গেছে?? হয়ে গেলেই বা এখন আমরা কি করবো?? আমরা একসাথে থাকতে চাই, উত্তর দিন প্লিস
19 Jan 2026

আপনারা আপনাদের বিবাহের সব কাগজ নিয়ে স্বশরীরে দুজন কোন বিজ্ঞ আলেমের নিকট উপস্থিত হয়ে সমাধাণ জেনে নিন।

প্রশ্নঃ 2052
কেউ যদি তার স্ত্রীকে যথা নিয়মে (এক বারে ৩ তালাক বা তিন মাসে তিন তালাক) দেয় এবং সময় অতিক্রম হয়ে যায় তবে কি তার পূর্বের স্ত্রীকে পুনরায় বিবাহ করে ফিরিয়ে নিতে পারবে? যদি তার পূর্বের স্ত্রীর অন্য কোথাও বিবাহ না হয়। দলিলসহ জানতে চাই।
18 Jan 2026

তিন তালাক দিলে ইদ্দতের সময় অতিবাহত হোক বা না হোক অন্য কোথাও বিবাহ ছাড়া উক্ত স্ত্রীকে পূনরায় বিবাহ করা জায়েজ নেই। এই বিষয়ে আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, فَإِن طَلَّقَهَا فَلاَ تَحِلُّ لَهُ مِن بَعْدُ حَتَّىَ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ অথাৎ যদি স্বামী স্ত্রীকে (তিন) তালাক দেয় তাহলে সেই স্ত্রী তার জন্য হালাল নয় যতক্ষন না স্ত্রী অন্য স্বামীকে বিবাহ না করে। সূরা বাকারাহ-২৩০। উল্লেখ্য এখানে বিবাহ দ্বারা বিবাহের পর সহবাস উদ্দেশ্য । একটি হাদীস দ্বারা এটা জানা যায়। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৬৩৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫৯৯। সহীহ মুসলিম থেকে হাদীসের আরবী পাঠটি নিচে দিয়ে দিলাম। عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ جَاءَتِ امْرَأَةُ رِفَاعَةَ إِلَى النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- فَقَالَتْ كُنْتُ عِنْدَ رِفَاعَةَ فَطَلَّقَنِى فَبَتَّ طَلاَقِى فَتَزَوَّجْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الزَّبِيرِ وَإِنَّ مَا مَعَهُ مِثْلُ هُدْبَةِ الثَّوْبِ فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَقَالَ أَتُرِيدِينَ أَنْ تَرْجِعِى إِلَى رِفَاعَةَ لاَ حَتَّى تَذُوقِى عُسَيْلَتَهُ وَيَذُوقَ عُسَيْلَتَكِ . قَالَتْ وَأَبُو بَكْرٍ عِنْدَهُ وَخَالِدٌ بِالْبَابِ يَنْتَظِرُ أَنْ يُؤْذَنَ لَهُ فَنَادَى يَا أَبَا بَكْرٍ أَلاَ تَسْمَعُ هَذِهِ مَا تَجْهَرُ بِهِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم-.

প্রশ্নঃ 2027
একটা ছেলে ও একটা মেয়ের মধ্যে বিয়ে করবো এ চুক্তি হয়। মাঝে মধ্যেও কোনো কথাবার্তা বা আলাপ হতো না। অতঃপর বিয়ের বয়স হলে ছেলে তার পরিবারে বিষয়টি জানায়,সব দেখেশুনে ছেলের পরিবার সম্মতি জানায়। মেয়ের পরিবারেও কোনো দ্বিমত ছিল না,তবে তাদের আপত্তি শুধু ছেলেমেয়ে দুজন একই গ্রামের। তারা একই গ্রামে সম্বন্ধ করতে নারাজ। আর এজন্য বিয়েটা হচ্ছে না। এখন ছেলেমেয়ে দুজন পরিবারে না জানিয়ে বা পালিয়ে বিয়ে করে,এতে কোনো অন্যায় হবে? উত্তরটা জানা খুব দরকার।
18 Jan 2026

হ্যাঁ, পালিয়ে বিয়ে করা অন্যায় হবে এবং মেয়ের অভিভাবক ব্যতিত মেযের বিয়ে সহীহ হবে না। যারা এই সমস্যায় পড়েছে তাদের উচিত অভিভাকদের এটা বুঝানো যে, এক গ্রামে বিয়ে হওয়া কোন সমস্যার কারণ নয়। আর আপনার বক্তব্য একটা ছেলে ও একটা মেয়ের মধ্যে বিয়ে করবো এ চুক্তি হয় এটা শয়তানের কাজ। কোন নারী-পুরুষের মধ্যে এমন চুক্তি হতে পারে না।

প্রশ্নঃ 1973
আসসালামু আলাইকুম স্যার, আমি আমার বিয়ের আগে তালাকের বিধান নিয়ে একটা ভিডিও দেখি, এর পর থেকে তালাকের কথা সবসময় আমার মাথায় ঘোরে আমি এই সমস্যা থেকে কিভাবে ভাবে মুকৃতি পেতে পারি। আমি বর্তমানে বিবাহিত এখনো আমার তালাকের কথা টা মাথায় ঘোরে আমি আমার স্ত্রী কে উদ্দেশ্য কখনো তালাক বলিনি, কিন্তু সবসময় আমার মনে তালাক শব্দ টা ভাসে, আজকে মাগরিব সালাতের সময় আমার বার বার তালাকে কথা মনে হচ্ছিলো, তাই আমি বাইরে এসে জোরে শব্দ করে ৩/৪ তালাক বলি, এখানে আমার তালাক বলার  উদ্দেশ্য ছিলো তালাকে চিন্তা  আমার মাথা থেকে মুছে ফেলা, আমি আমার স্ত্রী কে উদ্দেশ্য তালাক বলিনি,  শব্দ করে তালাক বলার কারণে কি আমার স্ত্রী সাথে তালাক হবে?
17 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, তালাক হবে না। ভবিষ্যতে এমন করবেন না। আল্লাহর কাছে সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য দুঅ করুন। 

প্রশ্নঃ 1976
১৩ রজব ১৪৪৭ | ০২ নিয়ত ছাড়া ডিভোর্সে স্বাক্ষর, জনাব, আমার বিয়ের প্রায় ৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর গত ১ মাস পূর্বে পরকিয়া সংক্রান্ত কারনে আমার স্ত্রীকে মা ও তাহার দুই মামার কাছে কোর্টের মাধ্যমে তাহাকে বাড়ী নিয়ে যাওয়ার জন্য হস্তান্তর করি। উল্লেখ ছিল যে, তাহাকে বুঝিয়ে সংশোধনের জন্য বাড়ী পাঠানো হয়েছে। আমাদের পরিবারে দুই জন ছেলে সন্তান আছে। একজনের বয়স ৭ ও আরেক জনের বয়স ৪ বছর। আমার পরিবারের চাপে আমি আমার স্ত্রীকে গত ৩০/১১/২০২৫ইং তারিখে কোর্টের ডিভোর্স পত্র উকিল সাহেব নিজে তাহার বাড়ীতে পাটিয়েছি। ডিভোর্স পত্রে স্বাক্ষর করার সময় আমি শুধু চোখে দেখে না পড়ে স্বাক্ষর করি। কিন্তু ডিভোর্স দেওয়া আমার নিয়ত ছিল না। তখন আমার মা উপস্থিত থেকে আমাকে বাধ্য করল স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য । উল্লেখ্য যে ডিভোর্স নামায় তিন তালাক লেখা ছিল। কিন্তু আমি আল্লাহ উপর ভরসা বলতে পারি  আমার স্ত্রীকে নিয়ত ছিল না  তালাক দেই। কিন্তুু আমার মার চাপে তালাকনামা আমি না পড়েই স্বাক্ষর করি। আমার স্ত্রী ডিভোর্স পত্র পাওয়ার পর আমাকে ফোন দেয়। তখন আমি না বুঝে বলেছি যে, তোমার সাথে ইসলামীম বিধান অনুযায়ী কথা বলা হারাম। সে মানতে রাজি না। সে আমার কাছে জীবন ভিক্ষা চায়, আর জীবনে এইরকম কাজ করবে না বলে আমাকে আশ্বাস দেয়। তখন আমি বলেছি যে, তোমার সাথে কথা বলা আমার পক্ষে সম্ভব না। আমি শুধু আমার সন্তানের সাথে কথা বলব। পরবর্তীতে আমাকে না জানিয়ে আমার বাড়ীতে চলে আসে। আমার মা বাবা তাহাকে বাড়ীতে ঢুকতে দেইনি। সে আমার এলাকার কয়েকজন মুরুব্বী আমার স্ত্রীকে আমার নিকট হস্তান্তরের চেষ্ঠা করে। আমি তাদেরকে জানিয়ে দেয়, কোর্টের মাধ্যমে ডিভোর্স পত্র  পাঠিয়ে দিয়েছি। এটা না বুঝে আমি মুরুব্বীদের বলেছি যে, ইসলামের আইন অনুযায়ী তাহাকে গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তখন আমি নিজেকে আমার স্ত্রীর কাছ হইতে সেইভ হওয়ার জন্য থানা হইতে পুলিশ আনি। সে পুলিশ দেখে পালিয়ে রাতের বেলায় বাবার বাড়ী কুমিল্লায় চলে যায়। আমার উল্লেখিত বর্ণনা অনুযায়ী তাহাকে কি আমি আবার পুনরায় আমার পরিবারে আনা যাবে কি। দয়া করে উত্তম সমাধান দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।
17 Jan 2026

নিয়ত ছাড়া ডিভোর্স লেটারে স্বাক্ষর করলে তালাক হবে না। আপনারা সংসার করতে পারবেন শরীয়াহ অনুযায়ী।  কিন্তু নিয়ত যদি না থাকে তাহলে কেন আপনি “তোমার সাথে ইসলামীম বিধান অনুযায়ী কথা বলা হারাম” এ কথা বলেছেনে তা আমার বোধগম্য নয়। নিয়ত থাকলে চিরতরে হারাম। 

প্রশ্নঃ 1936
আমার এক দোস্ত বিয়ে করেছে আল্লাহকে সাক্ষী রেখে…অর্থাৎ অন্য কোন মানুষ সেখানে ছিলনা…..ছেরৈ ও মেয়ে ২ জনে নিজেরাই কবুল বলেছে… কোন হুজুরও ছিল না . এটা কি ইসলাম অনুমতি দেয়?
16 Jan 2026

না, এটা ইসলাম অনুমোদন করে না।

প্রশ্নঃ 1924
আমার এক মুসলিম বন্ধু নাম তার শাহেদ হাসান সে এক হিন্দু মেয়ে জবা বিশ্বাসকে ভালবাসে। উভয়ে নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী গত ৪ঠা আগষ্ট ২০১৭ রোজ শুক্রবার রাত ১১-১০ মিনিটে ফেসবুকের মাধ্যমে বিবাহ করেছে। বন্ধু শাহেদ হাসান পাঁচ ওয়াক্ত নামায রোযা এবং শরীয়াত অনুযায়ী যথাসাধ্য দ্বীনের কাজগুলি সঠিকভাবে করে যাবার চেষ্টা করে। অন্যদিকে জবা বিশ্বাস তার ধর্ম মানে কিন্তু কোন আচার-অনুষ্ঠান করেনা। তবে সে এই বিয়ের পুর্বে উপোষ থেকে শিবমন্দিরে উপস্থিত হয়ে পুরোহিতের মাধ্যমে তার মানত পুজা করেই এ বিয়েতে তাদের ধর্ম অনুযায়ী বিয়ে করেছে। শাহেদ হাসান তার ধর্মানুযায়ী তাকে তিনবার কবুল বলতে বললে জেবা বিশ্বাস যথারীতি তাই করেছে। অন্তর থেকে তারা এখন উভয় উভয়কে স্বামী-স্ত্রী হিসাবে নিজেদের গন্য করে। প্রসঙ্গত: তারা দুজনে দুই জেলায় ব্যবধান প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। শাহেদ হাসান পুর্বে বিবাহ করেছিলো কিন্তু তার স্ত্রী প্রায় সাত বছর আগে ইন্তেকাল করেছেন। তারপর শাহেদ হাসান আর বিবাহ করেননি। শাহেদ হাসান যে পুর্বে বিবাহ করেছিলেন তা জবা বিশ্বাসকে জানিয়েছেন এবং জবা বিশ্বাস সানন্দে তা মেনেও নিয়েছেন। আমার জানামতে তারা এখন অব্দি শারীরিকভাবে মিলিত হয়নি। বিবাহ পুর্ব দেখা সাক্ষাৎ হয়েছে তবে কোন শারীরিক মিলন ঘটেনি। শাহেদ হাসান তাকে এ পথ থেকে ফেরানোর যথেষ্ঠ চেষ্টা নিয়েছে কিন্তু সফল না হওয়াতে বিবাহ করেছে। জবা বিশ্বাস অনার্স তৃতীয় বর্ষে ঢাকা ইডেন কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে। শাহেদ হাসান ব্যবসা করেন। শাহেদ হাসানে আগের পক্ষের দুটি সন্তান আছে। তারা বিবাহ শাদী করে নিজ পরিবারে বসবাস করে। শাহেদ হাসানকে তারা আর্থিক সহযোগিতা করে থাকে। এ বিয়েতে সরেজমিনে কোন সাক্ষী সাবুদ না থাকলেও ফেসবুকের তাদের কাছের বন্ধুরা প্রায় সবাই বিবাহের কথা এবং তারা স্বামী-স্ত্রী এটা জানেন। শাহেদ হাসান এখন জবা বিশ্বাসের সম্পুর্ন ভরন-পোষন দিয়ে আসছে। জবা বিশ্বাস ফাইনাল পরীক্ষা না দেয়া পর্যন্ত এ বিবাহের কথা তার পরিবারের কাছে গোপন রাখতে চাইছে। শাহেদ হাসান জবা বিশ্বাসকে ধর্মান্তরিত হবার জন্য কোন চাপ সৃষ্টি করেননি। তবে তার বিশ্বাস একদিন সে ঠিকই মুসলিম হবে। কারন এর মধ্যেই জবা বিশ্বাস কিভাবে নামায আদায় করতে হয় তা জানতে চেয়েছে। এমতবস্থায় আপনাদের কাছে প্রশ্ন এ বিবাহ কতটুকু বৈধ বলে গণ্য হবে বা পরবর্তী করনীয় কি [উভয়ের জন্য]? দ্বিতীয় প্রশ্ন আমি শুনেছি কোন মুসলিম যদি কোন অমুসলিমকে বিবাহ করেন তাহলে ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী যে মুসলিম অমুসলিমকে বিবাহ করার কারনে তার বংশের পুর্ব পুরুষসহ সে নিজে বিশেষ সওয়াবের অধিকারী হবেন-কথাটি ঠিক? অনুগ্রহ পুর্বক যথাসম্ভব দ্রুত উত্তর প্রত্যাশা করছি। কারন আপনাদের জবাবের উপর ওদের দুজনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এবং স্বামী-স্ত্রীর মিলন ঘটবে।
16 Jan 2026

আপনার বন্ধুর উদ্দেশ্য ভাল, এটা প্রশ্ন থেকে মনে হচ্ছে। তবে কথা হলো কোন মুসলিম কোন হিন্দু মেয়েকে বিবাহ করতে পারবে না। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্ট করে বলেছেন, وَلاَ تَنكِحُواْ الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ وَلأَمَةٌ مُّؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُ তোমরা মুশরিক মহিলাদের বিবাহ করো না যতক্ষন না তারা ঈমান আনে আর একজন মূমিন দাসী এবং মুশরিক থেকে উত্তম যদিও মুশরিক মহিলা তোমাদেরকে বিমোহীত করে। সূরা বাকারা, আয়াত নং ২২১। সুতরাং উক্ত বিয়ে হয় নি। এই বিষয়ে সকল আলেম ও ফকীহ একমত। তবে ঐ মেয়েটি মুসলিম হলে আপনার বন্ধু তার সাথে শরয়ী নিয়মে বিবাহ করতে পারে। ফেসবুকে বিবাহ এটা বিয়ের মত একটি পবিত্র বিষয়ের সাথে মানায় না। সামাজিকভাবে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বিবাহ হওয়া উচিত। দ্বিতীয়ত অমুসলিমকে বিবাহ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: অমুসলিম মুসলিম হওয়ার পর, অমুসলিম থাকা অবস্থায় নয়।

প্রশ্নঃ 1910
আসসালামু আলাইকুম, ইসলামে কণে দেখার নিয়ম? বর কি বিয়ের আগে কণে দেখতে পারবে হাদিস এর আলোকে /দলিল সহ জানাবেন, সীরাতুন্নবী কোন লেখক পড়বো? জাজাকাল্লাহ খাইরান
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিয়ের আগে বর কনেকে দেখে নিবে। তেমনি কনেও বরকে দেখে নিবে। হাদীসে এই ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে। নিচের হাদীসটি দেখুন: عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ كُنْتُ عِنْدَ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَأَخْبَرَهُ أَنَّهُ تَزَوَّجَ امْرَأَةً مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- أَنَظَرْتَ إِلَيْهَا قَالَ لاَ. قَالَ فَاذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّ فِى أَعْيُنِ الأَنْصَارِ شَيْئًا সাহাবী আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্নিত তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মহানবীর সা. নিকট এসে বলল, আমি একজন আনসারী রমণীকে বিয়ে করতে চাচ্ছি। এ কথা শুনে মহানবী সা. বললেন, মেয়েটিকে দেখে নাও। কেননা আনসারীদের চোখে আবার সমস্যা থাকে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫৫০। অন্য হাদীসে আছে, عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ أَرَادَ أَنْ يَتَزَوَّجَ امْرَأَةً ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ : اذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا ، فَإِنَّهُ أَحْرَى أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا ، فَفَعَلَ ، فَتَزَوَّجَهَا আনাস ইবনে মালিক রা. বলেন, মুগিরা ইবনে শুবা রা. একজন নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। এটা শুনে রাসূলূল্লাহ্ সা. তাকে জিজ্ঞাস করলেন, তুমি যাও এবং তাকে দেখে নাও। তোমার এই দর্শন তোমাদের মাঝে দাম্পত্য জীবনের প্রণয়-ভালোবাসা গভীর হবার বড় সহায়ক হবে। তখন তিনি তাই করলেন এবং বিবাহ করলেন। সুনানু ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৮৬৫। শায়খ শুয়াইব আর নাউত এবং শায়খ আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সীরাতুন্নাবীর জন্য আররাহীকুল মাখতুম পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 1906
আসসালামু আলাইকুম। ভাই আমি কিছুদিন পর বিয়ে করব ভাবছি তাই এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমার জানা দরকার। ১। স্বামী-স্ত্রী রাতে একসাথে নফল নামাজ পড়া যাবে কিনা? এবং ফরজ নামাজও। ২। শশুর এর কাছে কিছু দাবী করলে সেটাকে যৌতুক বলে কিন্তু শশুর যদি স্বেচ্ছাই কিছু দিতে চাই তবে তার মাসয়ালা কি? ৩। শুনেছি জন্ম নিয়ন্ত্রন পদ্ধতি ইসলামে হারাম তবে সন্তান বিরতির ইসলামী বিধান কি? ৪। বাসর ঘরে এমন কোনো দোয়া বা আমল আছে কি? যা করলে কোনদিন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হবে না ও শয়তান ধোকা দিতে পারবেনা?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
পাশাপাশি দাঁড়িয়ে জামাত করা যাবে না। স্ত্রী পিছনে দাঁড়ালে সমস্যা নেই। নফল-ফরজ একই হুকুম। তবে পুরুষেরা মসজিদে আর মেয়েরা বাড়িতে নামায পড়বে এটাই সুন্নাত। ২।স্বেচ্ছাই কিছু দিলে সমস্যা নেই। ৩। স্থায়ী পদ্ধতি করলে হারাম হবে। প্রয়োজনে স্বাময়ীক কোন পদ্ধতি গ্রহন করলে সমস্যা নেই। ৪। রাহে বেলায়াত গ্রন্থে এসব দুআ ও যিকির বিস্তারিত আছে। আপনি বইটি সংগ্রহ করে পড়ুন।

প্রশ্নঃ 1898
আমার এক মুসলিম বন্ধু নাম তার শাহেদ হাসান সে এক হিন্দু মেয়ে জবা বিশ্বাসকে ভালবাসে। উভয়ে নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী গত ৪ঠা আগষ্ট ২০১৭ রোজ শুক্রবার রাত ১১-১০ মিনিটে ফেসবুকের মাধ্যমে বিবাহ করেছে। বন্ধু শাহেদ হাসান পাঁচ ওয়াক্ত নামায রোযা এবং শরীয়াত অনুযায়ী যথাসাধ্য দ্বীনের কাজগুলি সঠিকভাবে করে যাবার চেষ্টা করে। অন্যদিকে জবা বিশ্বাস তার ধর্ম মানে কিন্তু কোন আচার-অনুষ্ঠান করেনা। তবে সে এই বিয়ের পুর্বে উপোষ থেকে শিবমন্দিরে উপস্থিত হয়ে পুরোহিতের মাধ্যমে তার মানত পুজা করেই এ বিয়েতে তাদের ধর্ম অনুযায়ী বিয়ে করেছে। শাহেদ হাসান তার ধর্মানুযায়ী তাকে তিনবার কবুল বলতে বললে জেবা বিশ্বাস যথারীতি তাই করেছে। অন্তর থেকে তারা এখন উভয় উভয়কে স্বামী-স্ত্রী হিসাবে নিজেদের গন্য করে। প্রসঙ্গত: তারা দুজনে দুই জেলায় ব্যবধান প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। শাহেদ হাসান পুর্বে বিবাহ করেছিলো কিন্তু তার স্ত্রী প্রায় সাত বছর আগে ইন্তেকাল করেছেন। তারপর শাহেদ হাসান আর বিবাহ করেননি। শাহেদ হাসান যে পুর্বে বিবাহ করেছিলেন তা জবা বিশ্বাসকে জানিয়েছেন এবং জবা বিশ্বাস সানন্দে তা মেনেও নিয়েছেন। আমার জানামতে তারা এখন অব্দি শারীরিকভাবে মিলিত হয়নি। বিবাহ পুর্ব দেখা সাক্ষাৎ হয়েছে তবে কোন শারীরিক মিলন ঘটেনি। শাহেদ হাসান তাকে এ পথ থেকে ফেরানোর যথেষ্ঠ চেষ্টা নিয়েছে কিন্তু সফল না হওয়াতে বিবাহ করেছে। জবা বিশ্বাস অনার্স তৃতীয় বর্ষে ঢাকা ইডেন কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে। শাহেদ হাসান ব্যবসা করেন। শাহেদ হাসানে আগের পক্ষের দুটি সন্তান আছে। তারা বিবাহ শাদী করে নিজ পরিবারে বসবাস করে। শাহেদ হাসানকে তারা আর্থিক সহযোগিতা করে থাকে। এ বিয়েতে সরেজমিনে কোন সাক্ষী সাবুদ না থাকলেও ফেসবুকের তাদের কাছের বন্ধুরা প্রায় সবাই বিবাহের কথা এবং তারা স্বামী-স্ত্রী এটা জানেন। শাহেদ হাসান এখন জবা বিশ্বাসের সম্পুর্ন ভরন-পোষন দিয়ে আসছে। জবা বিশ্বাস ফাইনাল পরীক্ষা না দেয়া পর্যন্ত এ বিবাহের কথা তার পরিবারের কাছে গোপন রাখতে চাইছে। শাহেদ হাসান জবা বিশ্বাসকে ধর্মান্তরিত হবার জন্য কোন চাপ সৃষ্টি করেননি। তবে তার বিশ্বাস একদিন সে ঠিকই মুসলিম হবে। কারন এর মধ্যেই জবা বিশ্বাস কিভাবে নামায আদায় করতে হয় তা জানতে চেয়েছে। এমতবস্থায় আপনাদের কাছে প্রশ্ন এ বিবাহ কতটুকু বৈধ বলে গণ্য হবে বা পরবর্তী করনীয় কি [উভয়ের জন্য]? দ্বিতীয় প্রশ্ন আমি শুনেছি কোন মুসলিম যদি কোন অমুসলিমকে বিবাহ করেন তাহলে ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী যে মুসলিম অমুসলিমকে বিবাহ করার কারনে তার বংশের পুর্ব পুরুষসহ সে নিজে বিশেষ সওয়াবের অধিকারী হবেন-কথাটি ঠিক? অনুগ্রহ পুর্বক যথাসম্ভব দ্রুত উত্তর প্রত্যাশা করছি। কারন আপনাদের জবাবের উপর ওদের দুজনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এবং স্বামী-স্ত্রীর মিলন ঘটবে।
14 Jan 2026

আপনার বন্ধুর উদ্দেশ্য ভাল, এটা প্রশ্ন থেকে মনে হচ্ছে। তবে কথা হলো কোন মুসলিম কোন হিন্দু মেয়েকে বিবাহ করতে পারবে না। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্ট করে বলেছেন, وَلاَ تَنكِحُواْ الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ وَلأَمَةٌ مُّؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُ তোমরা মুশরিক মহিলাদের বিবাহ করো না যতক্ষন না তারা ঈমান আনে আর একজন মূমিন দাসী এবং মুশরিক থেকে উত্তম যদিও মুশরিক মহিলা তোমাদেরকে বিমোহীত করে। সূরা বাকারা, আয়াত নং ২২১। সুতরাং উক্ত বিয়ে হয় নি। এই বিষয়ে সকল আলেম ও ফকীহ একমত। তবে ঐ মেয়েটি মুসলিম হলে আপনার বন্ধু তার সাথে শরয়ী নিয়মে বিবাহ করতে পারে। ফেসবুকে বিবাহ এটা বিয়ের মত একটি পবিত্র বিষয়ের সাথে মানায় না। সামাজিকভাবে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বিবাহ হওয়া উচিত। দ্বিতীয়ত অমুসলিমকে বিবাহ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: অমুসলিম মুসলিম হওয়ার পর, অমুসলিম থাকা অবস্থায় নয়।

প্রশ্নঃ 1885
আসসালামু আলাইকুম, ইসলামে কণে দেখার নিয়ম? বর কি বিয়ের আগে কণে দেখতে পারবে হাদিস এর আলোকে /দলিল সহ জানাবেন, সীরাতুন্নবী কোন লেখক পড়বো? জাজাকাল্লাহ খাইরান
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিয়ের আগে বর কনেকে দেখে নিবে। তেমনি কনেও বরকে দেখে নিবে। হাদীসে এই ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে। নিচের হাদীসটি দেখুন: عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ كُنْتُ عِنْدَ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَأَخْبَرَهُ أَنَّهُ تَزَوَّجَ امْرَأَةً مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- أَنَظَرْتَ إِلَيْهَا قَالَ لاَ. قَالَ فَاذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّ فِى أَعْيُنِ الأَنْصَارِ شَيْئًا সাহাবী আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্নিত তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মহানবীর সা. নিকট এসে বলল, আমি একজন আনসারী রমণীকে বিয়ে করতে চাচ্ছি। এ কথা শুনে মহানবী সা. বললেন, মেয়েটিকে দেখে নাও। কেননা আনসারীদের চোখে আবার সমস্যা থাকে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫৫০। অন্য হাদীসে আছে, عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ أَرَادَ أَنْ يَتَزَوَّجَ امْرَأَةً ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ : اذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا ، فَإِنَّهُ أَحْرَى أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا ، فَفَعَلَ ، فَتَزَوَّجَهَا আনাস ইবনে মালিক রা. বলেন, মুগিরা ইবনে শুবা রা. একজন নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। এটা শুনে রাসূলূল্লাহ্ সা. তাকে জিজ্ঞাস করলেন, তুমি যাও এবং তাকে দেখে নাও। তোমার এই দর্শন তোমাদের মাঝে দাম্পত্য জীবনের প্রণয়-ভালোবাসা গভীর হবার বড় সহায়ক হবে। তখন তিনি তাই করলেন এবং বিবাহ করলেন। সুনানু ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৮৬৫। শায়খ শুয়াইব আর নাউত এবং শায়খ আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সীরাতুন্নাবীর জন্য আররাহীকুল মাখতুম পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 1882
আসসালামু আলাইকুম। ভাই আমি কিছুদিন পর বিয়ে করব ভাবছি তাই এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমার জানা দরকার। ১। স্বামী-স্ত্রী রাতে একসাথে নফল নামাজ পড়া যাবে কিনা? এবং ফরজ নামাজও। ২। শশুর এর কাছে কিছু দাবী করলে সেটাকে যৌতুক বলে কিন্তু শশুর যদি স্বেচ্ছাই কিছু দিতে চাই তবে তার মাসয়ালা কি? ৩। শুনেছি জন্ম নিয়ন্ত্রন পদ্ধতি ইসলামে হারাম তবে সন্তান বিরতির ইসলামী বিধান কি? ৪। বাসর ঘরে এমন কোনো দোয়া বা আমল আছে কি? যা করলে কোনদিন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হবে না ও শয়তান ধোকা দিতে পারবেনা?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে জামাত করা যাবে না। স্ত্রী পিছনে দাঁড়ালে সমস্যা নেই। নফল-ফরজ একই হুকুম। তবে পুরুষেরা মসজিদে আর মেয়েরা বাড়িতে নামায পড়বে এটাই সুন্নাত। ২।স্বেচ্ছাই কিছু দিলে সমস্যা নেই। ৩। স্থায়ী পদ্ধতি করলে হারাম হবে। প্রয়োজনে স্বাময়ীক কোন পদ্ধতি গ্রহন করলে সমস্যা নেই। ৪। রাহে বেলায়াত গ্রন্থে এসব দুআ ও যিকির বিস্তারিত আছে। আপনি বইটি সংগ্রহ করে পড়ুন।

প্রশ্নঃ 1846
আসসালামু আলাইকুম। একটি বাচ্চা ছেলের মা বাবার মধ্যে সম্পর্ক ভালো নয়। বাবা মাদকাসক্ত এবং বাচ্চাকে আদর করে না। এক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের পর মা কি তার বাচ্চাকে নিজের কাছে রাখতে পারে? বাচ্চা সহ অন্যত্র বিয়ে করার বিধান কী?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সন্তানের যাবতীয় খরচের ভার পিতার। প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত নিজের কাছে রেখে দেখা-শোনা করতে পারবে। তবে খরচ পিতার। প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর সন্তান তার পিতার অধীনে চলে যাবে। তবে পিতা-মাতার সম্মতির ভিত্তিতে যে কোন যায়গায় সন্তান থাকতে পারে। মা নতুন বিবাহ করলে নতুন স্বামী আগের স্বামীর সন্তানের দায়িত্ব নিতে বাধ্য নন।

প্রশ্নঃ 1824
আসসালামু আলাইকুম, ভাই, একটা মেয়েকে আমি পছন্দ করি। তবে ওই মেয়ের প্রায় এক বছর আগে একজাগায় বিয়ে হয়েছিল কিন্তু কোন কারণবসত এক সপ্তাহের মধ্যে সে চলে আসে এবং আর কোন যোগাযোগ তাদের সাথে করেনি। এই অবস্থাতে আমি কি সেই মেয়েকে বিয়ে করতে পারব? আর যদি না পারি তাহলে করনীয় কি?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। তালাক বা ডিভোর্স ছাড়া শুধু চলে আসলে তাকে বিয়ে করা যাবে না। তালাক প্রাপ্তা হওয়ার পর ইদ্দত পালন শেষ হলে কেবল আপনি তাকে বিবাহ করতে পারবেন। যদি তালাকপ্রাপ্তা না হয় তাহলে তালকের ব্যবস্থা করুন, তারপর ইদ্দত পালন শেষে বিয়ে করতে পারবেন।

প্রশ্নঃ 1800
বিবাহের কবুল কয়বার বলতে হবে একবার না তিন বার
13 Jan 2026

একবার বললেই বিয়ে হয়ে যায়। তিন বার বলা না জায়েজ নয়।

প্রশ্নঃ 1731
আস সালামুআলাইকুম আমি আবুধাবি থেকে মো: বায়হান বলছি, আমি যখন আমার স্ত্রী কে বলি আজ থেকে তোমাকে তিন তালাক দিলাম, তখন বা সেই সময় আমার স্ত্রীর রিতুস্রাব ছিল তাহলে তালাক হয়ে যাবে কি? শ্রদ্ধেয় স্যার আমি আপনার কাছে থেকে খুব শিগ্রই উত্তর টা বলে আশা করছি। ধন্যবাদ
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনার প্রশ্নের উত্তর সম্ভবত পেয়েছেন। আপনার স্ত্রী তালাক হয়ে গেছে। আপনারা চিরদিনের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। ঋতুস্রাবের সময় তালাক দেয়া পাপ, তবে তালাক হয়ে যাবে। প্রয়োজনে 01734717299

প্রশ্নঃ 1728
আস সালামুআলাইকুম, আমি জানতে চাচ্ছি স্ত্রী তালাক ব্যাপারে আমি আমার স্ত্রী কে এ ভাবে বলেছি আজ থেকে তোমাকে ৩ তালাক দিলাম। -এটাকি তালাক হয়ে যাবে?
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এভাবে যদি না হয় তাহলে আর কীভাবে হবে। তালাক হয়ে গেছে। আপনার চিরদিনের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন।

প্রশ্নঃ 1680
আসসালামুয়ালাইকুম, আমার প্রশ্ন হচ্ছে শুক্রবারে বিয়ে করা কি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত সুন্নত? যদি সুন্নত হয় তবে এ ক্ষেত্রে সামাজিক প্রচলনে দেখা যায় যে, বিয়ে শুক্রবারে হলেও বিয়ে পড়ানো হয় রাতে আর আরবি হিসেবে সন্ধ্যার (চন্দ্র উদয়) পরে দিন (বার) পরিবর্তন হয়ে যায়, অর্থাৎ শনিবার হয়ে যায়। এক্ষেত্রে কি শুক্রবারে বিয়ের সুন্নত আদায় হল?
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, শুক্রবারে বিবাহ করা সুন্নাত নয়। হাদীসে শুক্রবারে বিবাহ করার কথা বলা হয় নি। তবে অনেক আলেম শুক্রবারের বিশেষ ফজিলতের কারণে শুক্রবারে বিবাহ করাকে মুস্তাহাব বলেছেন। শরীয়তের দৃষ্টিতে শুক্রবার হলো বৃহ:বার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত।

প্রশ্নঃ 1665
আসসালামুআলাইকুম, শায়েখ আশা করি ভাল আছেন। আমি কুরআনের অনুবাদ পড়ার সময় সূরা নুরের এই ৩২ নং আয়াতটা বুঝতে পারি নাই। এখানে সৎকর্মপরায়নদের কথা উল্লেখ করে বলা হয় যে তাদের বিয়ে দিতে তাহলে কি আসৎরা কি বিয়ে করতে পারবে না? বিষয়টা বুঝিয়ে বলবেন প্লিজ… আমার জন্য দোআ করবেন… তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। (সূরা নুর ৩২)
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এখানে যারা সৎ তাদেরকে বিয়ে দিতে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। অসৎদের বিয়ে দেয়া যাবে না এমন কথা আয়াতে বলা হয় নি। কুরআনে সবসময় এই ধরণের বিপরীত অর্থ নেয়া যায় না। ইমাম কুরতুবী বলেছেন, এখানে সৎ বলতে ইমানদার উদ্দেশ্য।

প্রশ্নঃ 1613
আসসালামু আলাইকুম, আমি আমার স্ত্রী নিয়ে চট্টগ্রামে থাকি। আমার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া। আমাদের ৭ মাস আগে বিয়ে হয়েছে। আমি মজা করে তাকে জিজ্ঞেস করেছি যে আমার সাথে সংসার করতে কেমন লাগছে। সে মজা করে বলছে, ভালো লাগছে না, আমি বাড়িতে চলে যাব। বাড়ি বলতে সে বলছে যে, হয় আমার বাড়ি বা তার মায়ের বাসায় থাকবে। তখন, আমি বলেছি যে, সেখানে তো আমাকে পাবে না। তখন সে মজা করে বলেছে যে, স্বামীর দেয়া খাবার খেতে ভাল লাগছে না, তাই চলে যাবে। আমি জানি যে, তালাকের বিষয়ে মজাও করা যায় না। তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করি যে, তুমি কি মজা করে আলাদা হওয়ার কথা বলছ। সে বলছে না আমি সেটা বোঝাই নাই, দুজন দুই জায়গায় থাকার কথা বলছি, আর যদি আলাদা হওয়া বোঝাইও আমি তো তালাকের কথা বলি নাই। তখন থেকে আমার দুশ্চিন্তা হচ্ছে যে, আমাদের মধ্যে কি তালাকের মত কোনো কিছু হয়েছে কিনা। হে শায়েখ, আপনি যদি এ ব্যাপারে আমাকে জানাতেন তাহলে অনেক উপকৃত হতাম।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, তালাকের মত কিছু হয় নি। দুশ্চিন্তা করার কারণ নেই। আল্লাহ আপনাদের ভালো রাখুন।

প্রশ্নঃ 1611
আসসালামু আলাইকুম, স্বামী সরকারী নিয়মে তালাকের নোটিশ পাঠাল চেয়ারম্যানের মাধ্যমে যে তিন মাস পর তালাক কার্যকর হবে। এর পর দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে সে তালাক বাতিল করে স্ত্রীকে নিতে চায়। এক্ষেত্রে দুটো ব্যাপার, ক. নোটিশে “এক তালাক” লেখা, খ. নোটিশে “তিন তালাক” লেখা। আমার জানামতে যদি “এক তালাক” লেখা থাকে তবে তো কোনো প্রশ্ন নেই। প্রশ্ন ১: যদি “তিন তালাক” লেখা থাকে তবে কি সে তিন মাস অতিবাহিত হবার আগে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারবে? সে যখন তালাক দিয়েছে তখন এটা মেনেই দিয়েছে যে তিনমাস পর তালাক কার্যকর হবে। সে উকিলের মাধ্যমে নোটিশ পাঠিয়েছে, এক তালাক বা তিন তালাকের বিষয়টি সে অবহিত নয় বা জ্ঞানে নেই, নোটিশ পেপারে লেখার গুরুত্বও সে জানে না। এক্ষেত্রে প্রশ্ন ২. তিন তালাক লেখা থাকলে এটি কি তিন তালাক বলে গন্য হবে?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইসলামী আইনে তালাক দেয়ার পর তা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই। যেহেতু সে লেখার সময় ৩ তালাকের নিয়ত করেছে, তাই তিন তালাক কার্যকর হবে। চার মাজহাবের আলেমদের ঐক্যমতে একসাথে তিন তালাক দিলে তালাকই পতিত হবে। তবে আলেমদের একাংশের মতে একসাথে তিন তালাক দিলে এক তালাক হবে।

প্রশ্নঃ 1513
Assalamualaikum, Amar sami amak 1talak dia akta notice e pthai. 3 mas por talak karjokor koye jai. Se akon onno mohilar sathe songsar korce. Ami amar sami ke fire pate chai. Islam e ki kono kisu upai ace take firiye anar. Ami onnek buzaci but tini fire nai. Apnara ki kono babe amak sahajjo korte eparen.
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আল্লাহর কাছে দুআ করুন। আর যেহেতু সে আপনাকে চাচ্ছে না তাহলে আপনি কেন তার জন্য সময় নষ্ট করছেন। আমার মনে হয় আপনার বিকল্প ভাবা উচিত। আপনি নামাযে এবং অন্যান্য সময় আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন আল্লাহ তালাকে আপনাকে একটি উত্তম বিনিময় দান করেন। আমরাও এই দুআ করি।

প্রশ্নঃ 1503
আসসালামু আলাইকুম, আমি আমার মা, ছোট বোন এবং পরিচিতি আরও ৪ জন সহকারে কাজীর বাড়ী গিয়ে বিয়ে করি এ বিয়েতে আমার বাবার সম্মতি নেই। এখন এই বিয়েটি বৈধ। অনুগ্রহ করে জানাবেন
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমু সালাম। অধিকাংশ আলেমের মতে অভভাবকের অনমতি ব্যতিত মেয়েদের বিবাহ বৈধ নয়। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া 51 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 1461
আসসালামু আলাইকুম। আমি বিবাহ করেছি এক বছর আগে মেয়ের অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া তবে তার মা আমাদের এই বিবাহ দিয়েছেন। এর আগে দুই বার আমার অভিভাবকে পাঠিয়েছিলাম বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে তার বাবা বলেছিল আমাদের পড়ালেখা শেষে আমাদের বিয়ে দিবা। আমার উদ্দেস্য ছিলো তাকে ছহি ইসলাম শিখানো । আমি এখনো তার সাথে ফোনে যোগাযগ রাখি। মেয়ের পিতা জানে না। আমি কি করব?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অভিভাবক ছাড়া মেয়েদের বিবাহ জায়েজ আছে কি না তা নিয়ে বিতর্ক আছে। যদি জায়েজ আছে ধরে নেয়া হয় তাহলেও এই ধরণের বিয়েতে অনেক জটিলতা সৃষ্টি হয়। আপনাদের যেহেতু বিবাহ হয়ে গেছে এখন আপনার অভিভাবকদের বিষয়টি বলে সবকিছু ফয়সালা করে ফেলুন। আর আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা চান। বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া 51 নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 1429
Assalamualaikum, jonab amader muslim society te akn dekha jay j biye walima ak shate hoy. Half payment thake bor er pokko theke r Half payment koner pokko theke. Ete jodi konnar pokker kunu apotthi na thake . Tahole ki walimar sunnot aday hobe . Jodi kosto kore janan tahole kub e upokrito hobo. Zazaka-Allahu-Khaira
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, একটি বিষয় লক্ষ্য করুন। ওয়ালিমা করবে ছেলের পরিবার। মেয়ের পরিবার নয়। এই ওয়ালিমা করার ক্ষেত্রে কেউ যদি তাদের আর্থিক সহায়তা করে তাহলে করতে পারে। স্বাভাবিক সহযোগিতার মত। এক্ষেত্রে মেয়ের পরিবার এবং অন্যান্য যে কোন মানুষ সমান। তবে প্রথা মানতে গিয়ে যদি মেয়ের পরিবার থেকে ছেলের পরিবার কিছু গ্রহন কর বা মেয়ের পরিবার দেয় তাহলে জায়েজ হবে না। কারণ এতে সমস্যা দুটি। এক. ইসলাম বিরোধী এই ধরনের প্রথা মানাকে ইসলাম সমর্থন করে না। দুই, অনেক সময় মেয়ের পরিবার অনিচ্ছা বা আর্থিক সচ্চলতা না থাকা সত্ত্বেও শুধু প্রথার কারণে দিতে বাধ্য হয়। এটা যৌতুকেরই একটা প্রকার। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। এক্ষেত্র মেয়ের পরিবারের কেউ থাকা না থাকা সমান।

প্রশ্নঃ 1383
ইসলামে হালালা/হিল্লা বিয়ে করার বিধান কি আছে? যদি কেউ ফতুয়া দেয় হালালা/হিল্লা বিয়ে দেওয়ার জন্য এবং যার জন্য দেওয়া হয় এই দুজন এর জন্য ইসলাম এ কি কোন শাস্তির কথা বলা হয়েছে? যদি কোন বেক্তির স্ত্রী তাকে divorce পত্র পাঠানোর পর সে গ্রহন না করে। কিন্তু স্ত্রী যোগাযগ না রাখার কারনে স্বামী যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কোন লাভ হয় নি। যার ফলে দের বছর পর্যন্ত তাদের মাঝে যোগাযোগ বিছিন্ন থাকে। এখন স্ত্রী আবার সংসার করতে রাজি হয়েছে। এখন কি তারা সংসার করতে পারবে? যদি পারে তাহলে কি ভাবে? কোরয়ান ও হাদিসের দলিল দিয়ে জানালে উপক্রিত হব। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুক।
05 Jan 2026

হিল্লা বিয়ে বলতে ইসলামে কিছু নেই। সমাজে হিল্লা বিয়ে বলে যা চালু রয়েছে তা হারাম। এ সম্পর্কে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, لعن رسول الله صلى الله عليه و سلم المحل والمحلل له রাসূলুল্লাহ সা. হালালকারী এবং যার জন্য হালাল করা হয় তার উপর লানাত দিয়েছেন। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ১১২০। ইমাম তিরমিযীসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। যে ফতোয় দেয় সে তো অজ্ঞতার কারণে দেয়। না জেনে ফতোয়া দেয়া নিষেধ। ২। দেখুন, ডিভোর্স বা তালাক মেয়েরা দিতে পারে না। তালাক দেওয়র অধিকার একমাত্র পুরুষের। তবে পুরষ তথা স্বামী যদি স্ত্রীকে ডিভোর্স নেওয়ার অধিকার দিয়ে থাকে তাহলে মেয়েরা তালাক নিতে পারবে। যেভাবে তালাক নিবে সেভাবে তাদের উপর হুকুম আহকাম প্রয়োগ হবে। এক তালাক নিলে এক তালাকের হুকুম। বেশী নিলে সে হুকুম। বায়ান নিলে বায়ানের হুকুম আর রজয়ী নিলে তার হুকুম। কিভাবে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছে তা জানিয়ে লিখুন অথবা স্থানীয় কোন আলেমের নিকট হতে বিস্তারিত জেনে নিন।

প্রশ্নঃ 1354
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। কেমন আছেন ভাই? আমার মেজো ভাই প্রায় ৩-৪ বছর হয়েছে বিয়ে করেছে। তারা একে অপরকে আগে থেকেই পছন্দ করতো। ভাই একটি সরকারি চাকুরি করতো কিন্তু পরবর্তীতে বেতনের অবহেলার কারণে চাকুরিটা ছেড়ে দেয়। অর্থাৎ সে তখন বেকার। তখনি-ই বিয়েটা পারিবারিক ভাবেই হয়েছে। বাবা মোহরানা ৪ লক্ষ টাকা ধার্য করেছে এবং তা থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকার উপহারসামগ্রী মেয়েকে দিয়েছে। বাকি থাকলো তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা। যা এখনোও পরিশোধ করা হয় নি। কিন্তু মোহরানা ধার্য করার আগেই ভাই বাবাকে ১ লক্ষ টাকা ধার্য করতে বলেছিল। কিন্তু বাবা একমত হলেও মোহরানা ধার্যের সময় মেয়ে পক্ষের বাবা বেশি ডিম্যান্ড করার কারণে বাবা হয়তো বিষয়টা বুজতে না পেরে এই রকম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। বাবা খুব-ই নরম মনের মানুষ। ভাই এই বিষয়টা নিয়ে বাবার সাথে মন খারাপ করেছে। আমি তখন ইসলাম সম্পর্কে জানতে শুরু করেছিলাম। তাই বিয়ের বিধি-বিধান সম্পর্কে এতটা আমিও জানতাম না। তাও, আমার স্বল্প জ্ঞান দিয়ে তাদের বুঝানোর চেষ্টা করেছি। যাই হোক, আমরা যৌথ পরিবারে থাকি। যেখানে পর্দার বিষয়ে ভাবীরা সচেতন নয়। স্বাভাবিক ভাবেই কিছু দিন হাসি-খুশি সংসার হলেও, কিছু দিন পর ভাই ভাবীর মাঝে রাগ, অভিমান, জঘরার সৃষ্টি হয়। ভাবীও অনেক সময় রাগ করে মারাত্মকভাবে নিজেই নিজের ক্ষতি করতে চায়। ব্লেড দিয়ে হাত ও কাটে। ভাইও সে সময় বেকারত্ব জীবন কাটাচ্ছিল। এমতাবস্থায় তারোও মন খারাপ থাকতো বিধায় স্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভালো মতন কথা-বার্তাও বলতো না। এইরকম অবস্থা চলাকালীন সময়ে একদিন ভাবী একটি চিঠি লিখে বাসা থেকে না বলে তাদের বাসায় চলে যায়। এইরকম অবস্থা ভাই, ছোটবেলায় সিনেমা-নাটকে দেখতাম। আর এইবার বাস্তবে নিজ পরিবারে দেখলাম। খুব-ই দুঃখ লাগছে এই বিষয়গুলা দেখে। আমার বাবা-চাচারা ভাবীকে আনতে গেলে তারা বলেঃ- ছেলে কোন চাকরি পেলে ২ বছর পড়ে মেয়েকে দিবে। অনেক দিন যাবার পর মেয়ের বাবা আবার বলে, ছেলে, মেয়েকে নিয়ে থাকতে চাইলে, মেয়ের বাবার নিজস্ব একটা বাসা আছে সেইখানে থাকতে হবে, ছেলের পরিবারের সাথে থাকতে তারা দিবেই না। বিষয়টা আমার পরিবার, ভাইকে আর জানাই নি। কারন সে তা মানবে না বরং আরো রাগ করবে। ২ বছর তো হয়ে গেলো, ভাই অনেকবার বলছে, ভাবীর সাথে অন্য কোন ছেলের সাথে রিলেশন চলছে। মানুষও ভাবীকে অন্য ছেলের সাথে দেখেছে। কথাগুলার সত্যতা কতটুকু তা আমি জানি না। এমতাবস্থায়, এইসব জানার পর আমার ভাই ও পরিবার, এই সম্পর্ক রাখতে চাচ্ছে না। কিন্তু, বাকি যে ৩,৫০,০০০ টাকা মোহরানা যা এখনো পরিশোধ করা হয় নি, তা আমার বাবার জন্য দেয়া খুব-ই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর ভাই তো মাত্র নতুন একটা চাকরী পেয়েছে। তার পক্ষেও এত টাকা দেওয়া সম্ভব না। এখন আমার পরিবারের কি করা উচিত? মানুষ বলে, এমনেই চুপ করে বসে থাকো, তাদের প্রয়োজনে এমনিতেই সরে যাবে। কিন্তু আমি এই কথাটার সাপোর্ট করি না। আমি সবার ছোট ছেলে, আমার কথার মূল্যায়ন হয়তো সবাই দেয় না। আল্লাহ্ আমায় মাফ করুন। তাই আমি চাই, আপনি ভাই কুরআন-হাদিস অনুসারে সমাধান দেন। জাযাকাল্লাহু খাইরান। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ভাল রাখুন। এই ধরণের বিয়েতে এমন ঘটনা খুবই স্বাভাবিক। এখন যদি আপনার ভাই তাকে তালাক দেয় কিংবা তারা তালাকি নিয়ে নেয় তবুও মোহরানার টাকা আপনার ভাইকে দিতেই হবে। এটা শরয়ী আইন। তবে মেয়ে যদি তালাক নিয়ে নেয় আর মোহরানার টাকা ক্ষমা করে দেয় তা হলে আপনাদের টাকা দেয়া লাগবে না। আমার মনে হয় কিছুদিন অপেক্ষা করা ভাল, মেয়ে যদি না আসতে চাই তাহলে তারা মোহরানার দাবী ছেড়ে দিয়ে মেয়েকে তালাক নিয়ে নেবে। মনে রাখতে হবে বিয়ে হয়ে গেলে মোহরানা দেয়া বাধ্যতামূলক। তবে মেয়ে যদি মাপ করে দেয় তাহলে মাপ হয়ে যায়।

প্রশ্নঃ 1346
আসসালামু আলাইকুম। আমার বয়স ২২ বছর, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়াশোনা শেষ করতে আরও তিন বছর সময় লেগে যাবে। পরিবারে বিয়ের ব্যাপারে কোনো উদ্যগ নেই কিন্তু আমি বিয়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। আল্লাহর রহমতে ইতমধ্যে একজন দ্বীনদার ছেলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব আসছে। ছেলেটিকে আমি চিনি ও জানি। বিয়ের ব্যাপারে সে আমার পরিবারের সাথে কথা বলেছে এবংসার্বিকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছে। আল্লাহর রহমতে সবাই রাজি বাবার ছেলেও পছন্দ কিন্তু আমার বাবা এখন বিয়ে দিতে রাজি নন। তাকে অনেক বোঝানো হয়েছে কিন্তু আমার পড়াশোনা শেষ না হওয়ার আগে তিনি কোনমতেই বিয়ে দিতে রাজি নন। কিন্তু আমি পাপ থেকে বেচে থাকতে চাই। এ ক্ষেত্রে যদি বিয়ে করলে সেটা বৈধ হবে কিনা?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম, আমরা আপনার জন্য দোয়া করি। আল্লাহ যেন আপনাকে এই সমস্যা থেকে মুক্ত করেন। মেয়েরা অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে বিয়ে করবে। এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। তবে অভিভাবক যদি বিয়ে দিতে অনাগ্রহী হয়, আর মেয়ে গুনাহে লিপ্ত হওয়ার আশংকা করে, তাহলে সে নিজে বিয়ে করতে পারবে। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا অর্থাৎ মেয়েরা ওলীদের চেয়ে নিজের ব্যাপারে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৪২১। الأيم অর্থ স্বামীহীন মহিলা, পূর্বে স্বামী থাকুক বা না থাকুক। আলমজামুল ওয়াসীত।

প্রশ্নঃ 1333
কিছু প্রশ্ন অনেকদিন ধরে মনে মনে ঘুরপাক খাচ্ছে, কিন্তু কোনমতেই সঠিক উত্তর পাচ্ছি না ৷ আশা করি কোরআন-হাদীসের আলোকে সঠিক উত্তর পাব ৷ কোন প্রশ্ন যদি ভুলকরে করে থাকি তাহলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি ৷ ১ – ইসলামে তো বিধবা বিবাহ জায়েজ যতদূর জানি ৷ এখন কথা হচ্ছে কোন বিধবার যদি একাধিক সন্তান থাকে এবং ঐ বিধবা যদি আবারও বিয়ে করে তাহলে ঐসব সন্তান কি বিধবার সাথেই থাকবে নাকি বিধবার মৃত স্বামীর আত্নীয় যেমন বাবা-মা, ভাই-বোন, চাচা-চাচীর সাথে থাকবে? আর ঐসব সন্তানদের কে লালন-পালন করবে? এক জায়গায় দেখেছিলাম যে বিধবা নাকি আবার বিয়ে করলে আগের ঘরের সন্তানদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায় মানে সন্তানরা বিধবা থেকে আলাদা হয়ে যায় এটা কি ঠিক? আর বিধবা যদি আবার বিয়ে করতে চায় কিন্তু সন্তানরা বাধা দেয় তখন বিধবার করণীয় কি? সে কি ঐসব সন্তানদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে আবার বিযে করতে পারবে? আর সন্তানরা যদি মেনে নেয় তখন বিধবার নতুন স্বামীকে কি তারা বাবা বলে সম্বোধন করবে? আর নতুন স্বামীর এক্ষেত্রে করণীয় কি? ২- স্বামী কি স্ত্রীর আগের ঘরের সন্তানদের ভরনপোষণ দিতে বাধ্য?
05 Jan 2026

১। সন্তানের ভরন- পোষন ও লালন-পালনের যাবতীয় দায়িত্ব পিতার। সুতরাং তালাক হওয়ার পর সন্তানের দায়ত্ব পিতার। সন্তান ছোট থাকলে তাকে দেখ-ভাল করার নৈতিক দায়িত্ব মায়ের। বিধবা বিবাহ করলে আগের সন্তানদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয় না। এমনকি ঐ মহিলা মারা গেলে তার সম্পদে সকল স্বামীর সন্তানেরা ওয়ারিস হবে। বিধবা বিয়ে করতে চাইলে সন্তানদের বাধা দেয়া উচিৎ নয়। বিবাহ মানুষের চরিত্রকে হেফাজত করে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তা্ই বাধা দেয়া জায়েজ নয়। সম্পর্ক ছিন্ন করে বিয়ে করার দরকার নেই, সম্পর্ক ঠিক রেখেই বিয়ে করবে। বিধবার নতুন স্বামীকে তারা বাবা বললে কোন গুনাহ হবে না, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাবাই বলা উচিৎ, যাতে স্বাভাবিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে। নতুন স্বামী তাদেরকে সন্তানের মতই মনে করবে তবে নতুন স্বামীর থেকে ঐ সন্তানেরা আইনত কোন মিরাছ পাবে না। ২। না, স্বামী স্ত্রীর আগের ঘরের সন্তানদের ভরন-পোষণ দিতে বাধ্য নয়। বাকী প্রশ্নুগলো একটা একটা করে আবার করবেন।

প্রশ্নঃ 1325
assalamu alaikum, amar ak porichito bhai october/november (2016) mashe tar wife ar shathe onek jhogra hoy. ak porjaye oi bhai tar wife ke bolen tomar ar shathe ar ghor korbona. tini akotha rager mathay bolen. abong tini janten na osposto shobdo/bakko dara talak hoye jete pare. ar oi bhai ai kotha bolar shomoy tar niyot talaker silo kina tate uni shondihan. ar 4-5 din por tara abar mile jay. kintu ajke (18-01-2017) abaro onek raga ragi hoy. abong ak porjaye oi bhai abaro rag kore tar wife ke bole felen tumi ghor theke ber hoye jau, tar wife abaro jiggesh koren je tumi ki sure? tini bolen ai bar final, tumi chole jau. ai bar oi bhai janen je osposto shobdo/bakko dara talak hoye. kintu tini bolen niyot talaker silo na. abaro jeggesh korle tini confuse hoye jan tar niyoter bepare. ullekkho je tar wife akhon pregnent (1 mash 7 din). akhon ki talak karjokor hobe? hole total koy talak hoyese?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অস্পষ্ট শব্দে তালাক দেয়াকে আরবীতে কিনায় শব্দে তালাক বলে। আর কিনায়া শব্দ ব্যবহার করলে নিয়ত থাকা জরুরী। নিয়ত না থাকলে তালাক হয় না। তালাকের নিয়ত থাকলে এক তালাকে বায়ান পতিত হবে। অর্থা্ৎ তাদেরকে পূনরায় বিবাহ করতে হবে। ঐ লোক যদি প্রথমবার এবং দ্বিতীয়বার, দু্বারই তালাকের নিয়ত করে তাহলে মোট দুই তালাক হবে। আর যদি প্রথম বার নিয়ত না করে তাহলে এক তালাক হবে। আর যদি কোন বারই তালাকের নিয়ত না করে তাহলে কোন তালাকই হবে না। নিয়তের ব্যাপারে সন্দেহ হলে বিবাহ করে নেবে। আলইনায়াহ শারহুল হিদায়াহ ৫/১৯৯: আলজাওহারুন নায়্যিরাহ,৪/১১৫। উল্লেখ্য ব্যক্তি মোট তিন তালাকের মালিক। মোট তিনবার তালাক দিলে সেই স্ত্রী আর ফিরিয়ে নেয়া যায় না।

প্রশ্নঃ 1304
আলহামদুলিল্লাহ, আমি আমার গত প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি,একটা জায়গায় আর একটু পরিষ্কার হতে চাই,আমার গত প্রশ্নটি ছিল, আসসালামু আলাইকুম, একটা বিয়ে সংক্রান্ত বিষয় জানতে চাচ্ছিলাম,জানালে খুব উপকৃত হতাম। ছাত্র অবস্থায় পাত্রপাত্রীর দুই পরিবারের সম্মতিতে আকদ করে রাখাটা জায়েজ হবে কিনা? বিয়ের পর যেহেতু স্ত্রীর ভরণপোষণ স্বামীর নেয়ার কথা তাই এক্ষেত্রে যেহেতু ছাত্র অবস্থায় বিয়ে হচ্ছে তাই যদি ব্যাপারটা দুই পরিবারের সম্মতির ভিত্তিতে এমন হয় যে আকদ টা হয়ে থাকবে, চাকরী পাওয়া পর্যন্ত ছেলের খরচ ছেলের বাবার আর মেয়ের খরচ মেয়ের বাবার অর্থাৎ আগে যেমন চলছিল তেমন, ছেলে চাকরী পেলে একটা ওয়ালীমাহ করে মেয়েকে বাসায় নিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে চাকরী না পাওয়া পর্যন্ত ছেলে মেয়ে সহ অবস্থান ও করবে না। আগের মত পড়ালেখা করে যাবে। হয়ত কথাবার্তা,দেখা সাক্ষাত ইত্যাদি হবে। এভাবে বিয়ে জায়েজ হবে কি না? এক্ষেত্রে যদি ছেলে মেয়ে নিজের ইচ্ছায় পড়ালেখার সময়টা শেষ হওয়া পর্যন্ত আলাদা থাকতে চায় সেক্ষেত্রে কি হবে? এখানে ওই ১২০ দিনের স্ত্রী থেকে আলাদা থাকতে পারবে না ওই নিয়মটি প্রযোজ্য হবে? আর হলে যারা বিয়ে করে স্ত্রীকে রেখে ৪ মাসের বেশি বাইরে থাকে তারা কি হারাম কাজ করে?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। স্ত্রীর অনুমতিতে দিলে ৪ মাসের পরেও স্বামী বাইরে থাকতে পারে। সুতরাং আপনারাও পড়া লেখা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আলাদা থাকতে পারবেন। তবে আলাদা না থাকাটাই শরীয়তের কাম্য।

প্রশ্নঃ 1242
This Question from one of my Brother and I need also = কোন স্ত্রী যদি রাগের মাথায় তার স্বামীকে ৩ বার তালাক বলে তাহলে কি তালাক হয়ে যাবে? দলিলসহ জানতে চাই।
05 Jan 2026

ভাই, তালাক তো কেউ ভালবেসে দেয় না, রাগের মাথাতেই দেয়। যেভাবেই তালাক দিক পতিত হবে। রাগের মাথায় তালাক দিলে হবে না আর রাগ না হলে হবে এমন কোন পার্থক্য কুরআন হাদীসে নেই। তালাক দিলে হবে এটাই বলা আছে। এটা এমন একটি বিষয় যার দলীল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে খুব প্রয়োজন হরে সূরা বাকারা ২২৯ এবং ২৩০ নং আয়াত দেখতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1241
আসসালামু আলাইকুম, একটা বিয়ে সংক্রান্ত বিষয় জানতে চাচ্ছিলাম,জানালে খুব উপকৃত হতাম। ছাত্র অবস্থায় পাত্রপাত্রীর দুই পরিবারের সম্মতিতে আকদ করে রাখাটা জায়েজ হবে কিনা? বিয়ের পর যেহেতু স্ত্রীর ভরণপোষণ স্বামীর নেয়ার কথা তাই এক্ষেত্রে যেহেতু ছাত্র অবস্থায় বিয়ে হচ্ছে তাই যদি ব্যাপারটা দুই পরিবারের সম্মতির ভিত্তিতে এমন হয় যে আকদ টা হয়ে থাকবে, চাকরী পাওয়া পর্যন্ত ছেলের খরচ ছেলের বাবার আর মেয়ের খরচ মেয়ের বাবার অর্থাৎ আগে যেমন চলছিল তেমন, ছেলে চাকরী পেলে একটা ওয়ালীমাহ করে মেয়েকে বাসায় নিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে চাকরী না পাওয়া পর্যন্ত ছেলে মেয়ে সহ অবস্থান ও করবে না। আগের মত পড়ালেখা করে যাবে। হয়ত কথাবার্তা,দেখা সাক্ষাত ইত্যাদি হবে। এভাবে বিয়ে জায়েজ হবে কি না?
05 Jan 2026

হ্যাঁ, জায়েজ হবে। তবে স্বামী-স্ত্রী সহ-অবস্থঅন করতে পারবে না এমন শর্ত প্রযোয্য হবে না। তারা স্বামী-স্ত্রীর মত অবস্থান করতে পারবেন। এবং এটা পরিপূর্ণ বিয়ে বলে গণ্য হবে। স্ত্রীর দায়িত্ব স্বামীর তবে অন্যরা দিলে সেটা ইহসান, ভাল কাজের অন্তর্ভূক্ত।

প্রশ্নঃ 1132
Assalamualaikum Baba vi ar onumoti sara ki kono meye biye korte pare. Se jodi prapto boyoska hoi.
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। পিতা-মাতা তথা অভিভাবক (আরবীতে ওলি) ছাড়া মেয়েদের বিবাহের বিষয়ে স্যার রহ. বেঁচে থাককালীন একটি প্রশ্নের উত্তর তাঁর তত্বাবধানে দেয়া হয়েছিল। যা ছিল আমাদের দেয়া 51 নং প্রশ্নের উত্তর। সেটা এখানে দিয়ে দিলাম।

ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের বিধান। বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামী শরীয়তে এব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাসূল সা. এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। পারিবারিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অধিকাংশ ইমাম ও ফকীহগণের নিকট ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ নেই। তবে ইমাম আবু হানীফা রহ. সহ কতিপয় ফকীহ বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে জায়েজ বলেছেন। প্রখ্যাত মালেকী ফকীহ আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে রুশদ আন্দালুসী র. বলেন,

اختلف العلماء هل الولاية شرط من شروط صحة النكاح أم ليست بشرط؟ فذهب مالك إلى أنه لا يكون النكاح إلا بولي وأنها شرط في الصحة في رواية أشهب عنه وبه قال الشافعي وقال أبو حنيفة وزفر والشعبي والزهري: إذا عقدت المرأة نكاحها بغير ولي وكان كفؤا جاز وفرق داود بين البكر والثيب فقال باشتراط الولي في البكر وعدم اشتراطه في الثيب

অর্থ: বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী শর্ত কি শর্ত নয় এই বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম মালেক র. মত পোষন করেছেন যে, ওলী ছাড়া বিবাহ হবে না। বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য (ওলী) শর্ত। এমন মতই পোষন করেছেন ইমাম শাফেয়ী রা.। ইমাম আবু হানীফা, জুফার, শাবী ও জুহরী র. বলেছেন, যদি মহিলা ওলী ছাড়া বিবাহ করবে আর স্বামী যদি তার কুফু(সর্বদিক দিয়ে যোগ্য)হয় তাহলে জায়েজ হবে। বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ২/৮(শামেলা)।

এই সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন, আলমাবসুত লিস-সারখসী, ৬/৫৩; আলমাউসায়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৭/৯৪ও ৩১/৩২১; আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবা ৪/৪৫। কিতাবুল উম্ম লিশ-শাফেয়ী,৭/১৫৬। যে ইমামগন ওলী ছাড়া বিবাহ বাতিল বলেছেন তাদের দলীল: আবু মুসা আশয়ারী রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, অর্থাৎ ওলী ছাড়া বিবাহ নয়। لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِىٍّ আবু দাউদ, হাদীস নং ২০৮৭; তিরমিযী, হাদীস নং ১১০১;মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৯৭৬১। হাদীসটি সহীহ।

শায়খ আরনাউত এবং আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত অন্য হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন,

أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ অর্থাৎযে মহিলা ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করবে তার বিবাহ বাতিল। তিনি ৩ বার তা বলেছেন। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১১০২; মুসনাদে আহমাদ,হাদীস নং ২৫৩৬৫। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন আর শায়খ শুয়াইব আরনাউত সহীহ বলেছেন। উপরক্ত হাদীস সমূহের ভিত্তিতে ইমাম মালেক, শাফেয়ী, আহমাদ র. সহ অধিকাংশ আলেম ওলী ছাড়া বিবাহকে বাতিল বলেছেন।

যে সব ইমাম ও ফকীহ ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ বলেছেন তাদের দলীল: তাবেঈদের মধ্যে ইমার জুহরী ও শাবী এরপরে ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ, মুহাম্মাদ, জুফার সহ কিছু সংখক মুজতাহিদ কিছু শর্ত সাপেক্ষে ওলী ছাড়া বিবাহ কে জায়েজ বলেছেন। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১.কুফু হতে হবে। ২.মেয়েটি বালেগা, বুঝমান হতে হবে। আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবায়া,৪/৪৫; আলমাবসুত লিস-সারাখসী,৬/৬১ ও ৫/১৬। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

فلا جناح عليكم فيما فعلن في أنفسهن بالمعروف

অর্থাৎ মহিলারা নিজেদের ব্যাপারে সৎ ভাবে যা করবে (বিয়ের ক্ষেত্রে) সে বিষয়ে তোমাদের কোন দোষ নেই। সূরা বাকারাহ-২৩৪ অন্য এক আয়াতে তালাক সম্পর্কে আলোচনার এক পর্যায়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, تنكح زوجا غيره. حتى অথাৎ যতক্ষন না তারা অন্য স্বামীকে বিবাহ না করে। সূরা বাকারাহ-২৩০।

অন্য প্রসংগে আল্লাহর বাণী, فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ অর্থাৎ তোমরা তাদেরকে তাদের স্বামীদের কে বিবাহ করা থেকে বাধা দিবে না। সূরা বাকারাহ-২৩২ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا অর্থাৎ মেয়েরা ওলীদের চেয়ে নিজের ব্যাপারে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৪২১। الأيم অর্থ স্বামীহীন মহিলা, পূর্বে স্বামী থাকুক বা না থাকুক। আলমজামুল ওয়াসীত।

বর্তমান সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৌদী আলেম শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আলমুনজিদ ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের ক্ষেত্রে বলেছেন, المسألة اجتهادية ، واختلف فيها الأئمة ، فإنه إذا كان أهل بلد يعتمدون المذهب الحنفي كبلادكم وبلاد الهند وباكستان وغيرها ، فيصححون النكاح بلا ولي ، ويتناكحون على هذا، فإنهم يقرّون على أنكحتهم ، ولا يطالبون بفسخها অর্থাৎ এটি একটি ইজতিহাদি মাসআলা, ইমামগণ এক্ষেত্রে ইখতিলাফ করেছেন।

সুতরাং যে সব দেশের মানুষেরা হানাফী মাজহাবের উপর নির্ভর করে, ওলী ছাড়া বিবাহকে বৈধ মনে করে এবং এভাবে তাদের বিয়ে হয় যেমন, ভারত, পাকিস্থান ইত্যদি, তাহলে তাদের বিবাহের স্মীকৃতি দেয়া হবে । বাতিল করতে বলা হবে না। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, শরীয়তে বিবাহে মেয়েদের জন্য ওলী থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সাধারণভাবে যৌবনের শুরুতে যুবক-যুবতী সহজেই বয়সের উন্মাদনায় বিভ্রান্ত হয় এবং নিজের চোখের ভাল লাগার উপর নির্ভর করেই সঙ্গী পছন্দ করে। বিবাহের ক্ষেত্রে চোখের পছন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবন ও আগত প্রজন্মের কল্যাণের কথাও চিন্তা করতে হবে। এজন্য ইসলামে বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর মতমতের সাথে অভিভাবকের মতামতেরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

সুতরাং মেয়েদের জন্য আবশ্যক হলো ওলীর অনুমতি নিয়ে বিবাহ করা। আর আমাদের উচিৎ বিবাহের সময় মানুষদের কে ওলীর অনুমতির বিষয়ে উৎসাহিত করা,ওলী ছাড়া বিয়ে করতে নিষেধ করা এবং ওলী থাকার কল্যান বর্ণনা করা। যারা ইতিমধ্যে ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করেছে তাদের বিষয়ে কথা হলো যেহেতু তারা একটি ফিকহী মত গ্রহন করেছেন আর বিষয়টি ইজতিহাদী এবং ইখতিলাফী তাই তাদেরকে নতুন করে বিবাহ করতে হবে না। তবে এই ঘৃনিত কাজের জন্য তাদের লজ্জিত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1096
মোবাইল এ বিয়ে করলে নাকি বিয়ে হইনা? তাইলে যারা প্রবাসে আছেন (মেয়ে) তাদের কেও বিয়ে করতে চাইলে তারা কি করতে পারে? এ ব্যাপার শরিয়ত এর বিধান কি? দয়া করে জানালে খুশি হবো।
04 Jan 2026

মোবইল বিয়ে হয় কি হয় না সে প্রশ্নের উত্তর জানার আগে বলুন ছেলে এবং মেয়ে দুই দেশে থেকে বিয়ে করবে কোন প্রয়োজনে? বিয়ে করে যে সব প্রয়োজনে তার কোন কিছু দুই দেশে থেকে কি পূরণ করা সম্ভব? তাহলে মোবাইলে বিয়ে করা কি নিরেট নির্বু্দ্ধিতা নয় কি? এবং দেশে এসে বিয়ে করা সঠিক কাজ না মোবাইলে বিয়ে করে জটিলতা পাকানো সঠিক? আমাকে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাঠান তারপর আমি আপনাকে বাকী কথাগুলো বলবে। বিজ্ঞ আলেমগণ এই সব মোবাইলে বিয়ে কে চরম ঘৃনা করেন।

প্রশ্নঃ 1092
আসসালামু আলাইকুম। বিভিন্ন ইন্টারনেট সাইটে নিচের হাদীসটির উদ্ধৃত্তি দেয়। হাদীসটির বিশুদ্ধতা জানতে চাই…. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন নারীকে বিবাহ করবে (কেবল) তার ক্ষমতার কারণে আল্লাহ তাআলা তার অসহায়ত্বই বৃদ্ধি করবেন। যে ব্যক্তি কোন নারীকে বিবাহ করবে তার সম্পদের লোভে, আল্লাহ তাআলা তার দারিদ্র্যই বৃদ্ধি করবেন, যে ব্যক্তি কোন নারীকে বিবাহ করবে তার বংশমর্যাদার কারণে আল্লাহ তাআলা তার হীনতাই বৃদ্ধি করবেন আর যে ব্যক্তি কোন নারীকে বিবাহ করবে নিজ দৃষ্টি সংযতকরণ, চরিত্রের হেফাযত ও আত্মীয়তা রক্ষার উদ্দেশ্যে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য তার স্ত্রীকে এবং স্ত্রীর জন্য তাকে কল্যাণময় করবেন। (তবারানী, আলআওসাত, হাদীস : ২৩৪২)
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। উক্ত হাদীসটি যয়ীফ জিদ্যান তথা চরম পর্যায়ের দূর্বল হওয়ার ব্যাপারে মুহা্িদ্দসগণ একমত। কোন কোন মুহাদ্দিস জাল বলেছেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন, সিলসিলাতুত যয়ীফাহ, হাদীস নং ১০৫৫; আল-ইসলাম সুয়াল ও  ওয়াাব, ফতোয়া নং২৩০২০২; মারকাযুল ফাতওয়া, ফাতওয়া নং ৩২২৭২।

প্রশ্নঃ 1051
ইসলামে কি ৪ এর অধিক বিয়ে করা যাবে? আমি ওমানে দেখেছি একজন ওমানী ৪ এর অধিক বিয়ে করেছে? আপনি এটাকে কিভাবে দেখবেন?
04 Jan 2026

ভাই, চার জনের বেশী স্ত্রীকে একসাথে রাখা যাবে না। বিয়ে চারের অধিক না করা বলতে এটা বুঝানো হয়েছে। পক্ষান্তরে যদি কেই চার স্ত্রীর কাউকে তালাক দিয়ে আবার আরেকটা বিয়ে করে তাহলে সমস্যা নেই। এই হিসাবে কোন পরিসংখ্যান নেই।

প্রশ্নঃ 1042
আসসালামু আলাইকুম, আমরা গোপনে বিয়ে করেছি প্রায় ৭ বছর। বিয়ের ২ বছর পর মেয়ের বাবা-মা জানলে তারা সম্মতি দেয়। কিন্তু আমার পরিবারে আমার ছোট বোন ছাড়া আজ পর্যন্ত কেউ জানেনা বা আমি জানায়নি। উল্লেখ্য, বিয়ের পরেও আমরা যার যার পরিবারের সাথে থেকে আসছি। সম্প্রতি আমার পরিবার মেয়ের পরিবারকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু আমার পরিবার কে বলা সম্ভব না যে আমরা পূর্বে বিয়ে করেছি। এখন নতুন করে বিয়ে পড়া যাবে কি? পূর্বের বিয়ের কি হবে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো। আল্লাহ হাফেজ
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নতুন করে বিয়ে পড়ানো একটি আনুষ্ঠিনিকতা মাত্র। এর কোন কার্যকারিতা নেই। এতে আপনার আগের বিয়ের কোন ক্ষতি হবে না। আপনি চিন্তা করবেন না। নুতন করে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্য করুন। তবে এভাবে পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করা ঠিক নয়।

প্রশ্নঃ 1041
বাবা, বড় ভাই বা চাচা জীবিত থাকা সত্তেও কোন নারী যদি একাকী বা পালিয়ে বিয়ে করে তাহলে ঐ বিয়ে কি বৈধ হবে?
04 Jan 2026

আপনার প্রশ্নের জন্য শুকরান, ওলী (অভিভাবক) ছাড়া মেয়েদের বিবাহের বিধান: বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামী শরীয়তে এব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাসূল সা. এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। পারিবারিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অধিকাংশ ইমাম ও ফকীহগণের নিকট ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ নেই। তবে ইমাম আবু হানীফা রহ. সহ কতিপয় ফকীহ বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে জায়েজ বলেছেন। প্রখ্যাত মালেকী ফকীহ আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে রুশদ আন্দালুসী র. বলেন, اختلف العلماء هل الولاية شرط من شروط صحة النكاح أم ليست بشرط؟ فذهب مالك إلى أنه لا يكون النكاح إلا بولي وأنها شرط في الصحة في رواية أشهب عنه وبه قال الشافعي وقال أبو حنيفة وزفر والشعبي والزهري: إذا عقدت المرأة نكاحها بغير ولي وكان كفؤا جاز وفرق داود بين البكر والثيب فقال باشتراط الولي في البكر وعدم اشتراطه في الثيب অর্থ: বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী শর্ত কি শর্ত নয় এই বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম মালেক র. মত পোষন করেছেন যে, ওলী ছাড়া বিবাহ হবে না। বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য (ওলী) শর্ত। এমন মতই পোষন করেছেন ইমাম শাফেয়ী রা.। ইমাম আবু হানীফা, জুফার, শাবী ও জুহরী র. বলেছেন, যদি মহিলা ওলী ছাড়া বিবাহ করবে আর স্বামী যদি তার কুফু (সর্বদিক দিয়ে যোগ্য) হয় তাহলে জায়েজ হবে। বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ২/৮(শামেলা)। এই সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন, আলমাবসুত লিস-সারখসী, ৬/৫৩; আলমাউসায়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৭/৯৪ও ৩১/৩২১; আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবা ৪/৪৫। কিতাবুল উম্ম লিশ-শাফেয়ী,৭/১৫৬। যে ইমামগন ওলী ছাড়া বিবাহ বাতিল বলেছেন তাদের দলীল: আবু মুসা আশয়ারী রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন,لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِىٍّ অর্থাৎ ওলী ছাড়া বিবাহ নয়।আবু দাউদ, হাদীস নং ২০৮৭; তিরমিযী, হাদীস নং ১১০১;মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৯৭৬১। হাদীসটি সহীহ। শায়খ আরনাউত এবং আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত অন্য হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ অর্থাৎযে মহিলা ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করবে তার বিবাহ বাতিল। তিনি ৩ বার তা বলেছেন। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১১০২; মুসনাদে আহমাদ,হাদীস নং ২৫৩৬৫। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন আর শায়খ শুয়াইব আরনাউত সহীহ বলেছেন। উপরক্ত হাদীস সমূহের ভিত্তিতে ইমাম মালেক, শাফেয়ী, আহমাদ র. সহ অধিকাংশ আলেম ওলী ছাড়া বিবাহকে বাতিল বলেছেন। যে সব ইমাম ও ফকীহ ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ বলেছেন তাদের দলীল: তাবেঈদের মধ্যে ইমার জুহরী ও শাবী এরপরে ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ, মুহাম্মাদ, জুফার সহ কিছু সংখক মুজতাহিদ কিছু শর্ত সাপেক্ষে ওলী ছাড়া বিবাহ কে জায়েজ বলেছেন। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১.কুফু হতে হবে। ২.মেয়েটি বালেগা, বুঝমান হতে হবে। আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবায়া,৪/৪৫; আলমাবসুত লিস-সারাখসী,৬/৬১ ও ৫/১৬। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, فلا جناح عليكم فيما فعلن في أنفسهن بالمعروف অর্থাৎ মহিলারা নিজেদের ব্যাপারে সৎ ভাবে যা করবে (বিয়ের ক্ষেত্রে) সে বিষয়ে তোমাদের কোন দোষ নেই। সূরা বাকারাহ-২৩৪ অন্য এক আয়াতে তালাক সম্পর্কে আলোচনার এক পর্যায়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, تنكح زوجا غيره. حتى অথাৎ যতক্ষন না তারা অন্য স্বামীকে বিবাহ না করে। সূরা বাকারাহ-২৩০। অন্য প্রসংগে আল্লাহর বাণী, فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ অর্থাৎ তোমরা তাদেরকে তাদের স্বামীদের কে বিবাহ করা থেকে বাধা দিবে না। সূরা বাকারাহ-২৩২ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا অর্থাৎ মেয়েরা ওলীদের চেয়ে নিজের ব্যাপারে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৪২১। الأيم অর্থ স্বামীহীন মহিলা, পূর্বে স্বামী থাকুক বা না থাকুক। আলমজামুল ওয়াসীত। বর্তমান সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৌদী আলেম শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আলমুনজিদ ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের ক্ষেত্রে বলেছেন, المسألة اجتهادية ، واختلف فيها الأئمة ، فإنه إذا كان أهل بلد يعتمدون المذهب الحنفي كبلادكم وبلاد الهند وباكستان وغيرها ، فيصححون النكاح بلا ولي ، ويتناكحون على هذا ، فإنهم يقرّون على أنكحتهم ، ولا يطالبون بفسخها অর্থাৎ এটি একটি ইজতিহাদি মাসআলা, ইমামগণ এক্ষেত্রে ইখতিলাফ করেছেন। সুতরাং যে সব দেশের মানুষেরা হানাফী মাজহাবের উপর নির্ভর করে, ওলী ছাড়া বিবাহবে বৈধ মনে করে এবং এভাবে তাদের বিয়ে হয় যেমন, ভারত, পাকিস্থান ইত্যদি, তাহলে তাদের বিবাহের স্মীকৃতি দেয়া হবে । বাতিল করতে বলা হবে না। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, শরীয়তে বিবাহে মেয়েদের জন্য ওলী থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণভাবে যৌবনের শুরুতে যুবক-যুবতী সহজেই বয়সের উন্মাদনায় বিভ্রান্ত হয় এবং নিজের চোখের ভাল লাগার উপর নির্ভর করেই সঙ্গী পছন্দ করে। বিবাহের ক্ষেত্রে চোখের পছন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবন ও আগত প্রজন্মের কল্যাণের কথাও চিন্তা করতে হবে। এজন্য ইসলামে বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর মতমতের সাথে অভিভাবকের মতামতেরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সুতরাং মেয়েদের জন্য আবশ্যক হলো ওলীর অনুমতি নিয়ে বিবাহ করা। আর আমাদের উচিৎ বিবাহের সময় মানুষদের কে ওলীর অনুমতির বিষয়ে উৎসাহিত করা,ওলী ছাড়া বিয়ে করতে নিষেধ করা এবং ওলী থাকার কল্যান বর্ণনা করা। যারা ইতিমধ্যে ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করেছে তাদের বিষয়ে কথা হলো যেহেতু তারা একটি ফিকহী মত গ্রহন করেছেন আর বিষয়টি ইজতিহাদী এবং ইখতিলাফী তাই তাদেরকে নতুন করে বিবাহ করতে হবে না। তবে এই ঘৃনিত কাজের জন্য তাদের লজ্জিত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1032
Jonab, Assalamu alaikum. ami fb te akta meyer sathe porichito hoi. Meyeti dharmik, namaj kalam nofol roja sob palon kore agulo bivinno prosner maddhome jante pari. Actually ami khutai khutai ber kori tar amol gulo. Amra chatting e kortam kotha boltam na. Tarpor amr valo lagle ami take biyer prostab dei. She barite janate bole. ami tar ma vai der sathe kotha boli tara amr joggotai sontusto o hoi. amr family thekeo raji hoi.kintu biyer jonno shomoy chawya hoi. kintu er moddhe amra ake onno ke valobeshe feli……….r familite raji korate dui akta mitthar ashroy nei……….jemon amr shomoy dorkar 2 bosor kintu she bolte bole je 1 bosor boliyen pore ami manage kore nibo…..abar amr salary say 10000 she bolte bole 15000….amio tai boli…avabe kisu mitthar ashroy nei. Jokhon tar bari te raji hoi tokhon meye tir sathe amar mobile a kotha shuru hoi. Amra islami jibon japoner khettre du jonei akmot r biyetao islami sunnat mote biye korbo, a kothai raji hoi. akhon prosno hosse… 1.Avabe biye korata ki islami shoriyot mote grohonio ba jayez hobe? 2.amra kotha boltesi akhon regular….she khettre shoriyoter bidhan ki?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি ইসলামী অনুযায়ী চলতে চাচ্ছেন জানতে পেরে আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। আমরা দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাকে সঠিক পতে পরিচালিত করেন। এবার আপনার প্রশ্নের উত্তরে আসি। প্রথম কথা হলো বিয়ে এভাবে ছেলে-মেয়ের মধ্যে কথা বলা্ শরীয়তে নিষিদ্ধ। আপনি অবিলম্বে তার সাথে কথা বলা পরিত্যাগ করুন। দ্বিতীয় বিষয় হলো, আপনারা এখনই বিয়ে করে ফেলুন। পরিবারকে বলুন আমরা এখনই আকদ করে রাখতে চাই, যাতে আমরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি, কথা-বার্তা বলতে পারি। এখাকে বিয়ে করতে সমস্যা নেই, তবে সমস্যা হলো ঐ মেয়ের সাথে আপনার কথা বলা। ফেসবুকে হোক কিংবা সরাসরি হোক, লিখিত হোক বা মৌখিক হোক কোন গায়রে মাহরাম যুবতী মেয়ের সাথে আপনি অপ্রয়োজনীও কথা বলতে পারবেন না। সুতরাং আপনারা বিয়ে করে ফেলুন এবং অতীত কর্মের জন্য আল্লাহ তায়ালার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন।

প্রশ্নঃ 1025
Assalamualaikum, amar vai amr biye tik koreche 6mnth por date tik koreche. Ami and jar shate biye tik hoyeche amra 2jn family te bolechilam tahole akth porie deyar jonno. But koekjn reltv boltese akth porale naki 3mnth er moddhe konna k husband er bari tule nite hoy ajonno engagement poranur jonno. Islam er ashole nirdesh ta ki akth and engagement shompor k . R biye arkokom eto delay korle ki gunah hobe. Doa kore ans dile kub e upokrito hobo. Zazaka-Allahu-Khaira
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১। ইসলামী পরিভাষায় আকদ অর্থ হলো ইজাব (বিবাহের প্রস্তাব) এবং কবুল (প্রস্তাবগ্রহন) এর মাধ্যমে বিবাহ সম্পূর্ণ হওয়া। অর্থা আকদ হওয়া মানে বিবাহ হয়ে যাওয়া। পক্ষান্তরে engagement একটি বিধর্মী কালচার। কন্যাকে আংটি পরানোকে engagement বলা হয়। এর সাথে বিবাহের কোন সম্পর্ক নেই। ইসলাম এই ধরনের অনুষ্ঠানের কোন স্থান নেই। ২। আকদ হলে তিন মাসের মধ্যে কন্যাকে স্বামীর বাড়ি যেতে হয় এটা একটা কুসংস্কারমূলক কথা । ইসলাম এই ধরনের কোন নির্দেশ দেয় নি। ইসলামের নির্দেশনা হলো বিবাহের পর স্ত্রীর ভরন-পোষনের দায়িত্ব স্বামীর। যদি মেয়ের বাবা বা ছেলের বাবা বা অন্য কেউ স্বেচ্ছায় মেয়ের ভরন-পোষনের দায়িত্ব নেন তাহলে কোন সমস্যা নেই। যেমন, আপনার প্রশ্ন অনুযায়ী আপনার পিতা আপনাকে ৬ মাস নিজ বাড়িতে রেখে আপনার সকল দায়িত্ব পালন করতে পারেন যেটা মূলত আপনার স্বামীর উপর আবশ্যক। সুতরাং আপনারা এখন বিয়ে করতে পারেন। এবং ৬মাস বা তার চেয়েও বেশী সময় আপনি পিত্রালয়ে বসবাস করতে পারেন। আর এটাই আপনাদের জন্য কল্যানকর মনে হচ্ছে।

প্রশ্নঃ 1022
আসসালামু আলাইকুম। আমি একজন তরুন ডাক্তার। আল্লাহর মেহেরবানীতে আমি ইসলাম পালনের চেষ্টা করি। আমি স্ত্রী হিসেবে একজন ধার্মিক মেয়েকে চাচ্ছি। আমার পরিবার একটি মেয়েকে পছন্দ করেছে। মেয়েটি একটি কওমী মাদ্রাসায় দাওরা হাদিস পড়ছে। আমার কি এটাতে আগানো উচিত হবে?আমি নিজে কখনো মাদ্রাসায় পড়িনি এবং সালাফী বক্তাদের অনুসরন করি।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আল্লাহর শুকরিয়া যে, আপনি একজন ধার্মিক মেয়েকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন। আপনি মেয়েটিকে বিয়ে করতে পারেন, আশা করি এটা আপনার জন্য কল্যানকর হবে। আপনি সালাফী বক্তাদের অনুসরন করেন আর আপনার স্ত্রী হয়তো হানাফী আলেমদের অনুসরন করবে। কোন কোন আমলের বিষয়ে একাধিক সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি রয়েছে, সেক্ষেত্রে আপনি তার উপর নিজের মতামত চাপাতে যাবেন না। আবার সে কোন কিছু বললে আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে। মূল দায়িত্ব আপনার। আমরা আপনার জন্য দুআ করি যেন তিনি আপনাদের সুখের সংসার উপহার দেন।

প্রশ্নঃ 991
আমার এক বন্ধু, সে ও তার স্ত্রী কোন এক কারনে পারিবারিক ভাবে ৩/৪ বছর আগে বিবাহবিচ্ছেদ (তালাক)করে। এখন তারা নিজেদের ভুলগুলো বুঝতে পেরে আবার তারা নতুন করে বিয়ে করতে চাচ্ছে। এখন কি তারা নতুন করে বিয়ে করতে পারবে। ইসলামের বিধানে এখন তাদের করনিয় কি? সুরা বাকারার ২২৮-২৪০ আয়াতের ব্যাখ্যা কি এই বিয়ের অনুমতি দেয়?
03 Jan 2026

উল্লিখিত নারীরা ছাড়া অন্যদেরকে তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে, যে স্বীয় সম্পদ দ্বারা প্রয়াসী হবে তাদের সাথে বিবাহবন্ধনে, ব্যভিচারে নয়। অতএব তাদের নিকট থেকে তোমরা যে আনন্দ উপভোগ করেছ (সে কারণে) তাদের ধার্যকৃত মোহর তাদেরকে প্রদান করবে। আর মোহর নির্ধারিত থাকার পরও কোনো বিষয়ে পরস্পর সম্মত হলে তাতে তোমাদের কোনো অপরাধ হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। -সূরা নিসা : ২৪

প্রশ্নঃ 986
Please see below answer from your website, But my question is is there any rule in islam to make / call 3 talak at a time? Please replay what in rule in quaran hadis about talak?
03 Jan 2026

ক সময়ে তিন তালাক দিলে, এক বাক্যে দিক কয়েক বাক্যে দিক, প্রসিদ্ধ চার ইমাম এবং অন্যান্য প্রায় সকল আলেমের নিকট তিন তালাকই পতিত হব। তাকে ফিরিয়ে নেয়ার কোন সুযোগ নেই। তবে যদি পরে অন্যত্র বিয়ে হওয়ার পর সেই স্বামী মারা যাই অথবা সেখান থেকে তালাকপ্রাপ্ত হয় তাহলেই কেবল আগের স্বামীর সাথে বিয়ে করত পারবে। সূরা বাকারা, আয়াত ২৩০।

প্রশ্নঃ 959
আসসালামু আলাইকুম, আমি ওবায়দুল্লাহ সোহাগ, আমি ঢাকাতে থাকি। আমি শুনেছি যে কোন মেয়ে যদি বাবার অনুমতি ছাড়া বিয়ে করে তাহলে ইসলামি বিধানুযায়ি সে বিয়ে বাতিল। কিন্তু কথা হলো যখন এই বিষয়টি আমি স্থানীয় এক আলেমের কাছে জানতে চাইলাম তখন তিনি বললেন এটা জায়েয। দয়া করে বিষয়টি জানাবেন।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আপনার প্রশ্নের জন্য শুকরান, ওলী (অভিভাবক, বাবা থাকলে বাবা, না থাকলে অন্য কেউ) ছাড়া মেয়েদের বিবাহের বিধান: বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামী শরীয়তে এব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাসূল সা. এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। পারিবারিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অধিকাংশ ইমাম ও ফকীহগণের নিকট ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ নেই। তবে ইমাম আবু হানীফা রহ. সহ কতিপয় ফকীহ বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে জায়েজ বলেছেন। প্রখ্যাত মালেকী ফকীহ আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে রুশদ আন্দালুসী র. বলেন, اختلف العلماء هل الولاية شرط من شروط صحة النكاح أم ليست بشرط؟ فذهب مالك إلى أنه لا يكون النكاح إلا بولي وأنها شرط في الصحة في رواية أشهب عنه وبه قال الشافعي وقال أبو حنيفة وزفر والشعبي والزهري: إذا عقدت المرأة نكاحها بغير ولي وكان كفؤا جاز وفرق داود بين البكر والثيب فقال باشتراط الولي في البكر وعدم اشتراطه في الثيب অর্থ: বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী শর্ত কি শর্ত নয় এই বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম মালেক র. মত পোষন করেছেন যে, ওলী ছাড়া বিবাহ হবে না। বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য (ওলী) শর্ত। এমন মতই পোষন করেছেন ইমাম শাফেয়ী রা.। ইমাম আবু হানীফা, জুফার, শাবী ও জুহরী র. বলেছেন, যদি মহিলা ওলী ছাড়া বিবাহ করবে আর স্বামী যদি তার কুফু (সর্বদিক দিয়ে যোগ্য)হয় তাহলে জায়েজ হবে। বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ২/৮ (শামেলা)। এই সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন, আলমাবসুত লিস-সারখসী, ৬/৫৩; আলমাউসায়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৭/৯৪ও ৩১/৩২১; আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবা ৪/৪৫। কিতাবুল উম্ম লিশ-শাফেয়ী,৭/১৫৬। যে ইমামগন ওলী ছাড়া বিবাহ বাতিল বলেছেন তাদের দলীল: আবু মুসা আশয়ারী রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, অর্থাৎ ওলী ছাড়া বিবাহ নয়। لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِىٍّ আবু দাউদ, হাদীস নং ২০৮৭; তিরমিযী, হাদীস নং ১১০১;মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৯৭৬১। হাদীসটি সহীহ। শায়খ আরনাউত এবং আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত অন্য হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ অর্থাৎযে মহিলা ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করবে তার বিবাহ বাতিল। তিনি ৩ বার তা বলেছেন। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১১০২; মুসনাদে আহমাদ,হাদীস নং ২৫৩৬৫। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন আর শায়খ শুয়াইব আরনাউত সহীহ বলেছেন। উপরক্ত হাদীস সমূহের ভিত্তিতে ইমাম মালেক, শাফেয়ী, আহমাদ র. সহ অধিকাংশ আলেম ওলী ছাড়া বিবাহকে বাতিল বলেছেন। যে সব ইমাম ও ফকীহ ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ বলেছেন তাদের দলীল: তাবেঈদের মধ্যে ইমার জুহরী ও শাবী এরপরে ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ, মুহাম্মাদ, জুফার সহ কিছু সংখক মুজতাহিদ কিছু শর্ত সাপেক্ষে ওলী ছাড়া বিবাহ কে জায়েজ বলেছেন। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১.কুফু হতে হবে। ২.মেয়েটি বালেগা, বুঝমান হতে হবে। আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবায়া,৪/৪৫; আলমাবসুত লিস-সারাখসী,৬/৬১ ও ৫/১৬। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, فلا جناح عليكم فيما فعلن في أنفسهن بالمعروف অর্থাৎ মহিলারা নিজেদের ব্যাপারে সৎ ভাবে যা করবে (বিয়ের ক্ষেত্রে) সে বিষয়ে তোমাদের কোন দোষ নেই। সূরা বাকারাহ-২৩৪ অন্য এক আয়াতে তালাক সম্পর্কে আলোচনার এক পর্যায়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, تنكح زوجا غيره. حتى অথাৎ যতক্ষন না তারা অন্য স্বামীকে বিবাহ না করে। সূরা বাকারাহ-২৩০। অন্য প্রসংগে আল্লাহর বাণী, فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ অর্থাৎ তোমরা তাদেরকে তাদের স্বামীদের কে বিবাহ করা থেকে বাধা দিবে না। সূরা বাকারাহ-২৩২ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا অর্থাৎ মেয়েরা ওলীদের চেয়ে নিজের ব্যাপারে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৪২১। الأيم অর্থ স্বামীহীন মহিলা, পূর্বে স্বামী থাকুক বা না থাকুক। আলমজামুল ওয়াসীত। বর্তমান সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৌদী আলেম শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আলমুনজিদ ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের ক্ষেত্রে বলেছেন, المسألة اجتهادية ، واختلف فيها الأئمة ، فإنه إذا كان أهل بلد يعتمدون المذهب الحنفي كبلادكم وبلاد الهند وباكستان وغيرها ، فيصححون النكاح بلا ولي ، ويتناكحون على هذا ، فإنهم يقرّون على أنكحتهم ، ولا يطالبون بفسخها অর্থাৎ এটি একটি ইজতিহাদি মাসআলা, ইমামগণ এক্ষেত্রে ইখতিলাফ করেছেন। সুতরাং যে সব দেশের মানুষেরা হানাফী মাজহাবের উপর নির্ভর করে, ওলী ছাড়া বিবাহবে বৈধ মনে করে এবং এভাবে তাদের বিয়ে হয় যেমন, ভারত, পাকিস্থান ইত্যদি, তাহলে তাদের বিবাহের স্মীকৃতি দেয়া হবে । বাতিল করতে বলা হবে না। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, শরীয়তে বিবাহে মেয়েদের জন্য ওলী থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণভাবে যৌবনের শুরুতে যুবক-যুবতী সহজেই বয়সের উন্মাদনায় বিভ্রান্ত হয় এবং নিজের চোখের ভাল লাগার উপর নির্ভর করেই সঙ্গী পছন্দ করে। বিবাহের ক্ষেত্রে চোখের পছন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবন ও আগত প্রজন্মের কল্যাণের কথাও চিন্তা করতে হবে। এজন্য ইসলামে বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর মতমতের সাথে অভিভাবকের মতামতেরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সুতরাং মেয়েদের জন্য আবশ্যক হলো ওলীর অনুমতি নিয়ে বিবাহ করা। আর আমাদের উচিৎ বিবাহের সময় মানুষদের কে ওলীর অনুমতির বিষয়ে উৎসাহিত করা,ওলী ছাড়া বিয়ে করতে নিষেধ করা এবং ওলী থাকার কল্যান বর্ণনা করা। যারা ইতিমধ্যে ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করেছে তাদের বিষয়ে কথা হলো যেহেতু তারা একটি ফিকহী মত গ্রহন করেছেন আর বিষয়টি ইজতিহাদী এবং ইখতিলাফী তাই তাদেরকে নতুন করে বিবাহ করতে হবে না। তবে এই ঘৃনিত কাজের জন্য তাদের লজ্জিত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 955
৯২৫ নাম্বার প্রশ্নের জবাবের জন্য ধন্যবাদ। আমি অত্যন্ত সংকটময় সময় পার করছি। আমার বাসায় মা-বাবার সাথে আমার স্ত্রীর সম্পর্কের আরও অবনতি হয়েছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে আমার স্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, সে অত্যন্ত মুখরা, বদমেজাজি ও অহঙ্কারি যা বিবাহের পূর্বে আমার জানা ছিল না। আমার মা-বাবার ইচ্ছা আমি হয় তাকে পরিত্যাগ করি আর না হয় তাদের থেকে আলাদা হয়ে যাই। এই কঠিন পরিস্থিতিতে আমি আসসুন্নাহ ট্রাষ্ট এর সম্মানিত ওলামায়ে কেরাম এর নিকট বিশেষ দোয়াপ্রারথী। মাঝে মাঝে সুইসাইড এর চিন্তা মাথায় চলে আসে । এমতাবস্থায় আমার করনীয় কি? আমি চাচ্ছি সে নিজ থেকে আমার কাছে মুক্তি চাক। এমন কোন আমল বা তদবির আছে কি যা করলে সে নিজেই ডিভোর্স চাইবে?
03 Jan 2026

ভাই, আমরা আপনার জন্য দুআ করি, আল্লাহ যেন আপনাকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। আপনার কাছে রাহে বেলায়াত বই থাকলে সেখান থেকে বিপদমু্ক্তির কিছু কিছু দুআ পাঠ করুন। যেমন, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ২৬, ১৫৭, ১৩৫, ১৮৫ নং জিকিরগুলো। বিবাহ বিচ্ছেদ খুবই বেদনাদায়ক কাজ। সর্বদিক থেকে চেষ্টা করার পর এই নিয়ে ভাবতে হবে। দুই পরিবারের মুরুব্বীরা বসে সমাধানের চেষ্টা করতে পারে। আপনিও একান্ত মূহুর্তে বুঝাতে পারেন। তবে আপনাকে আরো সময় নিয়ে ভাবতে হবে। কোন উপায় যদি বের করা যায় তাহলে বিবাহ টিকিয়ে রাখার তাহলে তাই করতে হবে। এই বিষয়টি নিয়ে পরামর্শের জন্য আপনি নিচের নাম্বারে ফোন করুন। নাম্বারটি আমাদের হাদীস বিভাগের প্রধানের। আশা করি তিনি আপনাকে সঠিক পরামর্শ দিবেন। 01818529415

প্রশ্নঃ 952
এক্সট্রিম সিচুয়েশন এ বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য দোয়া করা যাবে কি?
03 Jan 2026

এক্সট্রিম সিচুয়েশনটা কি বিস্তারিত লিখে পাঠান। তাহলে উত্তর দেয়া সহজ হবে।

প্রশ্নঃ 932
সদ্য বিবাহিত এক ব্যাক্তি আমার কাছে জানতে চেয়েছে মোহরানার বিধান সম্পর্কে। বিবাহের কিছু দিন আগে ছেলে পক্ষের লোক গিয়েছিল মেয়ের ওভিভাবকের কাছে বিয়ের বিষয়ে কথা বলতে,সিদ্ধান্ত হল ছেলে বিয়েতে কোন যৌতুক নিবেনা শরীয়তের যাবতীয় নিয়ম মেনেই এই বিবাহ সম্পন্ন হবে । কথা বলার একপর্যায় মেয়ের বাবার সাথে মোহরানা বিষয়ে কথা হয়। মেয়ের বাবা ৬০ হাজার টাকা মোহরানা নির্ধারণ করায় রাজি হন। কিন্তু বিবাহের দিন মেয়ে পক্ষের লোকযন কিছুতেই ৬০ হাজার টাকা মোহরানা মেনে নেয়নি বরং তারা ছেলের কাছে ৫লক্ষ টাকা মোহরানা দাবি করেন এ সময় মেয়ের বাবা ছিল নিরব। এতে ছেলে পক্ষের সম্মতি নাথাকা সত্তেও তারা ৫লক্ষ টাকা মোহরানা নির্ধারণ করে বিবাহ রেজিষ্ট্রি করে জাবিতীয় কাজ সমাপ্ত করেন। ছেলের পক্ষে ৫লক্ষ টাকা মোহরানা পরিশধ করা কখনই সম্ভবনা। এবিষয়ে হানাফি মাযহাবের দলিলসহ সমাধান চাই।
03 Jan 2026

আপনার প্রশ্ন থেকে এটা স্পষ্ট যে, কাবিননামাতে ৫ লক্ষ টাকা লেখা হয়েছে আর ছেলে তাতে স্বাক্ষর করেছে। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে লেখাটায় মোহরের সর্বশেষ চুক্তি বলে গণ্য হবে। যেহেতু ছেলে তাতে স্বাক্ষর করেছে তাই মোহর ৫ লক্ষ টাকায় নির্ধারিত হয়ে গেছে। তবে স্বামী ও স্ত্রী যদি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে স্বামী স্ত্রীর থেকে মোহর কমিয়ে নেয় তাহলে সেটা সর্বক্যমতে জায়েজ হবে। উক্ত সমস্যাতে এটাই সমাধানের পথ। বাদাইস সানাই্উস কিতাবে আছে, وَتَجُوزُ الزِّيَادَةُ فِي الْمَهْرِ إذَا تَرَاضَيَا بِهَا وَالْحَطُّ عَنْهُ إذَا رَضِيَتْ بِهِ ؛ لِقَوْلِهِ تَعَالَى : { وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَاضَيْتُمْ بِهِ مِنْ بَعْدِ الْفَرِيضَةِ অর্থ: মোহরের ক্ষেত্র্রে কম-বেশী কর জায়েজ হবে যখন তারা দুজন (স্বামী-স্ত্রী) রাজী থাকবে। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, মোহর নির্ধারনের পরে তোমরা সন্তুষ্ট হয়ে যা করবে তাতে কোন দোষ নেই।সূরা নিসা, আয়ত নং ৪।বাদা্ইউস সানাইয়া, ৬/১৯। আল্লামা কামাল ইবনে হুমাম বলেছেন, وَثَبَتَ صِحَّةُ الْحَطِّ شَرْعًا فِي الْمَهْرِ بِقَوْلِهِ تَعَالَى { وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَاضَيْتُمْ بِهِ مِنْ بَعْدِ الْفَرِيضَةِ } فَبَيَّنَ أَنَّهُمَا إذَا تَرَاضَيَا بَعْدَ تَقْدِيرِ الْمَهْرِ عَلَى حَطِّ بَعْضِهِ أَوْ زِيَادَتِهِ جَازَ অর্থ: শরীয়তে মোহর কম করার বিষয়টি সাবস্ত আছে। কেননা, কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, মোহর নির্ধারনের পরে তোমরা সন্তুষ্ট হয়ে যা করবে তাতে কোন দোষ নেই।সূরা নিসা, আয়ত নং ৪। এই আয়াতটি বর্ণনা করছে যে, যখন তারা দুজন (স্বামী ও স্ত্রী) মোহর নির্ধারনের পর মোহর কম-বেশী করা উপর রাজী থাকবে তখন তা জায়েজ হবে। ফাতহুল কাদীর, ১৫/২৮০। আল্লাহ তায়ালা ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 925
আমার স্ত্রীর সাথে আমার মা-বাবার বনিবনা হয় না। আমার পিতা আমার স্ত্রীকে পরিত্যাগ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এক্ষেত্রে আমার করনীয় কি?
02 Jan 2026

ভাই, বনাবনি হয় না হওয়ার কারণ কিন্তু আপনি কিছু্ লেখেন নি। অনেক সময় বাবা-মা পুত্রবধুর প্রতি অন্যায় আচরণ করেন আর পুত্রবধু যখন সেই আচরণ সহ্য করেন না তখন পিতা-মতা পুত্রবধুর প্রতি বিরাগভাজন হয়ে যায়। এমন কিছু হলে সে ক্ষেত্রে তালাক দেয়ার প্রশ্নই আসে না। আর যদি স্ত্রীর দোষ হয়ে থাকে তাহলে দোষটা কোন পর্যায়ের তা দেখতে হবে। যদি সে শরীয়তের কোন বিষয় লংঘন করে, তাকে বলা সত্ত্বেও ফিরে না আসে সেক্ষেত্রে তালাক দেয়া যেতে পারে। আর যদি স্বাভাবিক কোন অন্যায় করে থাকে তাহলে তো আর তাকে তালাকের মত বিশাল শাস্থি দিতে পারেন না। মনে রাখবেন তালাক দিলে খুব ভেবে চিন্তে দিতে হবে। আর এক তালাকের বেশী দেয়া যাবে না যাতে পরবর্তীতে ফিরিয়ে নিতে হলে কোন সমস্যা না হয়। আপনি বিস্তারিত কারণ লিখে পাঠালে আমাদের জন্য উত্তর দেয়া সহজ হবে।

প্রশ্নঃ 924
আসসালামু আলাইকুম, আমি জানতে চাই যে, মেয়ের বাবা যদি মেয়ের বিয়ের অনুমতি দিয়ে দেন কিন্তু মেয়ের বাবা বয়ষ্ক এবং অসুস্থ হবার কারণে যদি মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত হতে না পারেন (মেয়ের বাবার বাড়ী বরিশাল, বিয়ে হবে ঢাকাতে), তাহলে মোবাইলে মেয়ের বাবার অনুমতি নিয়ে অন্য কেউ বিয়ে পড়াতে পারবেন কিনা? আর এই ক্ষেত্রে বিয়ের দিন শুধু ছেলে কবুল করলেই হবে, নাকি মেয়েকেও কবুল বলতে হবে? (আমি জানি যে মেয়েকে স্বাক্ষীর সামনে কবুল বলতে হয় না) ধন্যবাদ।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মেয়ের বাবার অনুমতি হলেই হবে, উপস্থিত থাকা জরুরী নয়। বিয়ের ক্ষেত্রে এক পক্ষ থেকে প্রস্তাব করতে হয় আর আরেক পক্ষ থেকে গ্রহন করতে হয় যাকে আমরা ইজাব-কবুল বলি। মেয়ের অনুমতি নিয়ে যদি কেউ প্রস্তাব করে আর ছেলে তা কবুল বলে গ্রহন করে এতে বিয়ে হয়ে যাবে। মেয়ের কবুল বলা শর্ত নয়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত বিয়ে হয়ে যাবে। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 908
আচ্ছালামু আলাইকুম, দুই পক্ষই রাজি এই শর্তে কোন হুজুর যদি দুইজন সাক্ষীর (পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ) উপস্থিতিতে কোন রেজিট্রেশন (কাবিন) এবং মোহরনা নির্ধারণ ছাড়াই পাত্র-পাত্রীকে কবুল পড়িয়ে বিয়ে দেয়,তাহলে কি ওই বিয়ে হয়ে যাবে?
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, বিবাহ হয়ে যাবে। রেজিষ্ট্রেশন বিবাহের জন্য শর্ত নয়। তবে বর্তমানে নিরাপত্তার জন্য এটা জরুরী হয়ে পড়েছে। তবে মোহরানা নির্ধারন না করলেও মহরে মিছিল দিতে হবে।

প্রশ্নঃ 902
জনাব, আস্সলামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। আমি একটি ব্যাক্তিগত বিষয় সর্ম্পকে জানতে চাচ্ছি যে, আমি বিবহীত এবং আমার একটি ছেলে সন্তান আছে যার বয়স মাত্র ১০মাস চলতেছে। বিগত ৪/৫ মাস ধরে আমার স্ত্রীর নিয়মিত পিরিয়ড হয়ে আসছে, তার হিসাব অনুসারে গত জুলাই মাসের ২২ তারিখ ছিল ওর পিরিয়ডের সমায় কিন্তু এখনও হয়নি(আজ ১৬ অগাস্ট)। সহবাসের সময় আমরা সেইফ পিরিয়ড মেন্টেন করি/চেষ্টা করি। আমার প্রশ্ন হচ্ছে-এমতাবস্থায় সে যদি কনসিভ করে থাকে তাহলে আমার এই ছোট (১০মাস বয়সি) বাচ্ছার একটু সমস্যা হবে বলে আমার স্ত্রী ধারণা করে, কিন্তু সে এখনও নিশ্চিত নয় যে সে কনসিভ করছে কি না। সে আমার কাছে জানতে চায় যে ইসলামী শরীয়তে কোন সুযোগ আছে কি না দুই বাচ্ছার মাঝখানে বিরতি নেয়ার? যদি সে কনসিভও করে। আমি আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি যে- ইসলমী শরীয়তের বিধান অনুসারে একটি বাচ্ছা নেয়ার অনন্ত কত মাস /বছর পর্যন্ত বিরতী নেয়া যায়? এবং আমি নিশ্চিত নয় যে আমার স্ত্রী কনসিভ করছে কি না, এমতাবস্থায় কি কোনধরনের ঔষুধ সেবন করা যাবে কি না? শরীয়তের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা করলে খুবই উপকৃত হব।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। যদি কনাসিভ কর ফেলে তাহলে গর্ভপাত করার কোন সুযোগ নেই। একটু কষ্ট হলেও মেনে নিতে হবে। তবে মায়ের জীবনের আশংকা থাকলে সেক্ষেত্রে কেবল গর্ভপাত করতে পারেন। আপনি পরীক্ষা করান। যদি কনসিভ করে থাকে তাহলে তা ফেলে দেওয়ার জন্য কোন ঔষুধ সেবন করতে পারবেন না। আর যদি কনসিভ না করে তাহলে অন্য কোন সমস্যা থাকলে সে সমস্যার জন্য ঔষুধ সেবন করতে পারবে। একটি বাচ্চা নেয়ার পর এতটুকু সময় বিলম্ব করে আরেকটি নিতে হবে যাতে আগের বাচ্চার এবং মায়ের স্বাস্থগত কোন সমস্যা না হয়। ইসলাম এক্ষেত্রে কোন সময়সীমা নির্ধারণ কর দেয় নি। এই বিষয়ে ইউটিউবে ড. আব্দুল্লঅহ জাহাঙ্গীর স্যারের রহ. একটি আলোচনা আছে। শিরোনাম: গর্ভের সন্তান কখন নষ্ট করা যায় একটু কষ্ট করে দেখে নিলে আপনাদের জন্য ভাল হবে ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্নঃ 893
Salam. One of my relative got pregnant within few months of her marriage. She is a working woman.when she came to know that the baby is a girl,Her mother in law started torture her mentally. Her husband did not spend any money for her treatment and forced her to continue her job.they did not take any care during pregnancy. Her daughter was born at her father house and when she go back to her husband home after 4 months mental torture started again and she was forced to leave home with her baby. After few months they send devorce letter.her husband did not bear any cost of the child. According to islam will such people be punished in this world or in akhirat? If so what is the punishment
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। বোন! আসলে ছেলে হওয়া অথবা মেয়ে হওয়া এটি মহান আল্লাহর সিদ্ধান্ত। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ছেলে,আর যাকে ইচ্ছা মেয়ে দান করেন। আবার কাউকে তিনি কোন সন্তান ই দেন না। যদি আপনার রিলেটিভের মেয়ে সন্তানের কারণেই তার উপরে যুলুম-নির্যাতন করা হয়ে থাকে,তাহলে তারা মূলত মহান আল্লাহর উপরেই রাগ প্রকাশ করছে যে,আল্লাহ তুমি মেয়ে দিয়ে ভুল করেছ!!!নাউজুবিল্লাহি মিন যালিক। তাদের একথা ও মনে রাখা উচিত আধুনিক ডাক্তারগণ বলেছেন যে,মেয়ে হওয়ার জন্য স্বামী দায়ী,মানে স্বামীর কারনে ই মেয়ে সন্তান পেটে আসে। প্রশ্নের বিবরন অনুযায়ী মেয়ে সন্তান প্রসব করার কারনে নির্যাতন করা,তালাক দেওয়া তাদের বড় ধরনের জুলুম হয়েছে,মানুষের অধিকার হরণ করেছে। এই জন্য অত্যাচারিত ব্যক্তির নিকট ক্ষমা না চাইলে কিয়ামতের দিন তারা মহান আল্লাহর দরবারে ধৃত হবে। ইসলামের দৃষ্টিতে সন্তান যতদিন দুধ পান করবে ততদিন তার মায়ের নিকট থাকবে,এবং এরপর ও সন্তান যদি মায়ের নিকট থাকতে চায় তাহলে থাকতে পারবে। তবে সর্ব হালতে সন্তান প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত যাবতীয় খরচ পিতাকে ই বহন করতে হবে। যদি পিতা এ ক্ষেএে কোন ধরণের খামখেয়ালী করেন, তাহলে তিনি অবশ্যই সন্তানের অধিকার খর্ব করার অপরাধে মহান আল্লাহর নিকট ধৃত হবেন। ইসলামী আইন অনুযায়ী স্বামী সন্তানের যাবতীয় খরচ বহন করব। আল্লাহ আপনাদের সহায় হোক এবং আপনাদেরকে উত্তম বিনিময় দান করুক। আমিন।

প্রশ্নঃ 877
বিবাহের বয়সসীমা ইসলামী আইন অনুযায়ী কত? বর্তমানে প্রত্যেক পরিবারেই এটা বলা হয় যে, প্রতিষ্ঠিত না হয়ে বিয়ে করা যাবে না। লেখাপড়া শেষ করে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে বয়স ৩৫ বছর হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে পরিবারের সম্মতি ছাড়া বিয়ে করা যাবে কিনা? বিবাহের বয়স হলে পরিবারের থেকে বিবাহ না দিলে প্রতিষ্ঠিত হবার আগমূহূর্ত পর্যন্ত যত আপরাধ হবে তার দায়ভার কি পরিবারের উপর বর্তাবে কিনা? আশা করি আমার প্রশ্নটি বুঝতে পেরেছেন।
02 Jan 2026

ইসলাম বিবাহের কোন বয়স নির্ধারণ করে দেয় নি। এটি স্থান কাল পাত্রের চাহিদা অনুযায়ী হবে। বয়স হয়ে গেলে মা-বাবার উচিত ছেলে-মেয়েদের বিবাহের ব্যবস্থা করা। যদি তারা অবহেলা করেন তাহলে তাদেরকে কৌশলের সাথে বুঝাতে হবে। এরপরও যদি তারা রাজী না হয় তাহলে ছেলেরা অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই বিবাহ করতে পারবে। ছেলেদের বিবাহরে ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতি শর্ত নয়। তবে মেয়েদের ক্ষেত্রে হাদীসে অভিভাবক ব্যতিত বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে। আর মেয়েদের ক্ষেত্রে এমন সমস্যা হয়ও কম। মা-বাবার অবহেলার কারণে সন্তানোর গুনাহের কাজে জড়ালে পিতা-মাতা অবশ্যই গুনাহগার হবে।

প্রশ্নঃ 876
১ দিরহাম = কত টাকা? বিবাহের সর্বনিন্ম দেনমোহর কত?
02 Jan 2026

বর্তমানে এক দিরহাম বাংলাদেশী মুদ্রায় ২৫০ টকার মত। বিবাহের সর্বনিম্ন মোহর নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। হানাফী মাজাহাবের আলেমগণ বলেছেন ১০ দিরহমা।

প্রশ্নঃ 855
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। হিল্লা বিবাহ সম্পর্কে জানতে চাই
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হিল্লা বিবাহ হারাম। হাদীসে রাসূলুল্লাহ (স.) বলছেনে, لَعَنَ اللَّهُ الْمُحَلِّلَ وَالْمُحَلَّلَ لَه র্অথ: হিল্লা বিয়েতে অংশগ্রহণকারী পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের উপর আল্লাহর লানাত। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ২০৭৮। হাদীসটি সহীহ।

প্রশ্নঃ 837
দ্রুত বিবাহের এবং নেক স্ত্রী বিয়ে করার কোনো আমল আছে? থাকলে তা কি?
02 Jan 2026

আপনি এই দুআটি সালাতের সাজদাতে দুই সাজদার মাঝে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করবেন। رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا (74 সূরা ফুরকান, আয়তা ৭৪।

প্রশ্নঃ 830
আচ্ছালামু আলাইকুম,আমার প্রশ্ন হলোঃ ১) আমার একটা মেয়ের সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে। দুই পরিবার ই রাজি,কিন্তু সমস্যা হলো তারা আধুনিক সিস্টেমে বিয়ের অনুষ্ঠান করতে চায়,তা বাদে বর্তমানে বিয়ের যা যা কুপ্রথা আছে সবি ফলো করতে চায়। আমার প্রশ্ন হলো,ঠিক এই অবস্থায় যদি এগুলো আমরা প্রতিরোধ না করতে পারি,তবে আমরা নিজেরা বিয়ে করতে পারবো কি না দুই পরিবারের গার্ডিয়ানের অনুপস্থিতি ব্যতীত। আর যেহেতু দুই পরিবারের ই বিয়েতে সম্মতি আছে,সেহেতু আমাদের বিয়ে জায়েজ হবে কি না? ২) আর একটা বেপার হলো,যদি গার্ডিয়ান যে দেন-মোহর ফিক্সড করে,আর স্বামী-স্ত্রী সমঝোতা করে যদি অন্য কোন মোহর গার্ডিয়ানের অজান্তে ফিক্সড করে তবে দ্বিতীয়টা দেওয়া কি জায়েজ হবেনা? মানে স্ত্রী যেটা নিতে চায়,যদিও গার্ডিয়ানেরা এর কিছুই জানেনা।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আপনাদের ইসলামের পথে অবিচল থাকার তাওফিক দিন। অঅপনার দুজন অটুট থাকুন এ কথার উপরে যে আমরা ইসলাম বিরোধী কোন ধরনের অনুষ্ঠান চাই না, আমরা ইসলামী পরিবেশে বিবাহ চাই। আর সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় দুআ করতে থাকুন। ইনশাআল্লাহ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আপনারা আলাদাভাবে বিয়ে করলেও বিয়ে হযে যাবে তবে পরিবারের সাথে বিয়ে করাই উত্তম। এতেই কল্যান নিহিত। আপনারা তাদের বুঝাতে থাকুন এবং নিজেদের বক্তব্যে অটল থাকুন। আল্লাহ আমাদের সকল বিষয়কে সহজ করে দিন।

প্রশ্নঃ 783
পরিবারের অনুমতি ছাড়া ২ জনের ইচ্ছায় বিয়ে কি কবুল হয়?
01 Jan 2026

আপনার প্রশ্ন অস্পষ্ট। স্পষ্ট করে লিখুন কি জানতে চান। পিতা-মাতার অনুমতি ব্যতিত বিবাহরে বিষয়ে জানতে আমাদের দেয়া ৫১ নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 698
This is the case of one of my sisters: আমার কেস টা হলোঃ আমি শশ্বর,শাস্বরি,ননদ আর দেবরের সাথে ঢাকায় থাকি। আমার স্বামি থাকে আশুগঞ্জ,ওইখানে তার চাকরী। আমার এই ঢাকার বাসায় আমার শশ্বর,শাস্বরি,ননদ সারাদিন আমাকে বাপ-মা তুলে গালি দেয়। আমার ননদ এর বয়স ৩০ বছর, সে অবিবাহিত,সে যখন অফিস থেকে বাসায় ফেরে আমাকে বকতে থাকে। আমি স্বামীকে একথা গুলো বললেও সে আমাকে চুপ থাকতে বলে। উল্লেখ্য যে আমার স্বামী আমাকে তার কাছে ও নিতে চায়না। আমার ভরন-পোষণ আমার শস্বুর বাড়ির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়,কারণ আমার স্বামী টাকা পেয়ে সব তার মাকে দিয়ে দেয়। সে সপ্তাহে দুই দিন বাসায় আসে। আমরা কোন প্রাইভেট কথা বলতে পারিনা,সবি তাদের সামনে বলতে হয়। আর এই দুইদিনের সারাদিন সে বন্ধুদের সাথে কাটায় আর আমার সাথে তার রাতে দেখা হয়। আর এখানে তারা আমার সব প্রাইভেট বেপারে ও হস্তক্ষেপ করে এমনকি আমি কবে বাচ্চা নেব সে বেপারেও। প্রসংগত, আমার স্বামী ওইভাবে নামায পড়েনা, আমি যতটুক পারি তাকে বোঝাই। ঠিক এই মুহুর্তে তার সাথে আমার কন্টিনিউ করাটা খুব কোঠিন হয়ে যাচ্ছে। ইসলামিক উপায়ে আমার এখন কি করা উচিত?
31 Dec 2025

আপনি বিষটি নিয়ে আপনার স্বামীর সাথে একান্ত মূহুর্তে আলোচনা করুন। আপনার পিতা-মাতার সাথেও আলোচনা করুন আর দুআ করতে থাকুন। বিশেষ করে নিচের দুআ গুলো : রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো সুন্নাত সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। এছাড়া কুরআনের এই দুআ দুটিও সুন্নাত সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বারবার পড়বেন, رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ এবং رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

প্রশ্নঃ 687
আসসালামু আলাইকুম। আমার বয়স ৩৩। আমি সামুদা কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেড এ ২০১৩ এর ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ থেকে প্রসেস কেমিস্ট পদে চাকরি করছি মুন্সিগঞ্জ এ। আমার দুই ভাই ভাবিসহ ঢাকায় থাকা। আমার বাবা মা মেহেরপুরে বাড়িতে থাকেন। ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে আমার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের আগে খোজ নিয়ে জানতে পারি মেয়ে মডারন, তার মা ঝগড়াটে, তার বাবার যৌন কেলেংকারি আছে ও খারাপ লোক। কিনতু আমার বাবা মা আমাকে বোঝায় যে মেয়ে ভাল ও নামাজ এবং পরদা করে। আমার উপর তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ সৃষটি করে। আমি এস্তেখারা করে কিছুতেই তাকে বিয়ে করতে ইচ্ছে করছিল না। কিন্তু শেষ পরযনত আমি সেখানে যেতে বাধ্য হয়। সেখানে গিয়ে আমি মেয়েটাকে ভালভাবে বুঝতে পারিনি। আমি যে প্রশ্নগুলো করি তার ইতিবাচক উত্তর দেয়। যেমন নামাজ পরে, পরদা কতে ইত্যাদি। ঐ দিনই আমার বিয়ে পড়িয়ে দেয়া হয়। আরো কিছু মিথ্যা তথ্য দেয়। কিনতু বিয়ের পর দেখা গেল যে অজু গোসল এর ফরজ, নামায এর পদ্ধতি, সুরা কিছুই জানে না। আমার খুব মন খারাপ হয়ে গেল। তারপর অনেক ভেবে চিনতে সংসার করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তার সাথে প্রথম তিন মাস মেলামেশা করতে পেরেছিলাম। কিন্তু এরপর থেকে আমাকে অপছন্দ ও বিচ্ছেদ চায়তে শুরু করল। এর চার মাস পর তার সাথে আমার বিচছেদ হয়ে গেল। গত মাসে আমি একটি মেয়েকে পছনদ করেছি। মেয়েটি ধারমিক, পাচ ওয়াকত নামাজ পড়ে। সকালে কুরআন পড়ে। তার মা মারা গেছে এবং কিছুটা গরিব। সে ইংরেজিতে অনারস মাস্টারস করে একটি ইসকুল এ চাকরি করে। মেয়েটির একটি ছেলের সাথে বিয়ে হয়েছিল বছর দুই আাগে এবং বিচছেদ হয়েছে বছরখানেক। ছেলেটি ধারমিক ছিল না এবং মেয়েটিকে পরদা করতে বাধা দিত ও দূরব্যবহার করতো। আমি এস্তেখারা করে তাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু আমার বাবা মা একটি এইচএসসি পরীক্ষারথী মেয়ের সাথে বিয়ে দিতে চায়। তার খোজ নিয়ে জানতে পেরেছি সে ঝগড়াটে, কলেজে চিতকার চেচামেচি করে যদিও আমার বাবা তাকে ধারমিক বলছে। তার বাবার আরথিক অবস্থা ভাল এবং মাসজিদের ইমাম। আবার আমি যাকে পছন্দ করেছি তার পিতাও মাসজিদের ইমাম। আমি যাকে পছন্দ করেছি তার সাথে আমার বাবা মা কিছুতেই দিবে না এবং আমার বাবা মা যাকে পছন্দ করেছে তাকে আমি বিয়ে করতে মোটেও ইচছুক না। আমার পছনদের মেয়েকে আমি নিজে দেখেছি এবং সেও আমাকে পছনদ করেছে। তার বাবা ভাইরাও আমার সাথে তাকে বিয়ে দিতে চায়। তার চরিত্র সম্পরকে প্রায় সবাই ভাল বলেছে। কেউ কেউ তাকে কিছুটা অসুস্থ বলেছে। এ অবসথায় আমি যদি বাবা মাকে না জানিয়ে তাকে বিয়ে করি তাহলে কি আমার অপরাধ হবে। আশা করি দ্রুত উত্তর দিবেন। তাহলে আমি কৃতজ্ঞ থাকব ইনশা আল্লাহ।
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিবাহের ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতি নেয়া মেয়েদের জন্য আবশ্যক। ছেলেদের জন্য অভিভাবকের অনুমতি নেয়া ইসলামের দৃষ্টিতে আবশ্যক নয়। আপনি আপনার পিতা-মাতাকে রাজী করাতে চেষ্টা করুন। না হলে আপনি তাদের অনুমতি ছাড়ই বিবাহ করতে পারবেন।

প্রশ্নঃ 659
আসসালামু ওয়ালাইকুম, প্রশ্ন: আমি একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করি। একটা মেয়ের সাথে আমার ১৩ বছরের সম্পর্ক (দুর থেকে দেখা বা ফোনে কথা বলা)। মহান আল্লাহে পক্ষ থেকে আমাদের উভয়ের ভিতর দ্বীনের কিছু ইলম আসায় (আলহামদুলিল্লাহ) এখন জানি যে এ সম্পর্ক শরিয়াত সম্মত না বা হারাম, যদিও আমাদের ভিতরে কখনও কোন গোপন কার্যকলাপ হয় নি। আমরা দু জনেই যথা নিয়মিত নামায বা অন্যান্য ইবাদত করি (মুসলিম হিসাবে যা করা দরকার) আমাদের উভয়ের বিয়ের বয়স হয়ে গেছে। তাই এ পাপ থেকে তাওবা করে আমরা উভয়ে এখন বিয়ের মাধ্যমে আমাদের সম্পর্ককে বৈধ করতে ইচ্ছুক। মেয়ের বাব মা আমাকে ভালো হিসেবে চেনে ও জানে, কিন্ত আমার সাথে তাদের মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজি না বরং তারা তাকে বিয়ের জন্য অন্য কোন ধনি বা সরকারি চাকুরীজীবী ছেলে ঠিক করেছে বা করছে। (অনেকের জানা মতে সে ছেলের চরিত্র ভালো না এবং দ্বীনদ্বার না, যদিও মেয়ে দ্বীনদ্বার এবং মেয়ে নিজেই ছেলের খারাবি সম্পর্কে জানে)। তাই আমরা কোন উপায় না পেয়ে মেয়ের একমাত্র ছোট ভাই (১৯) এবং পরিচিত এক ভাই-এ দুজনকে মেয়ের পক্ষে স্বাক্ষী (স্ব-ইচ্ছায়) রেখে আমারা কোর্টম্যারেজ করি, এখন আমাদের বিয়ে কি বৈধ হবে? অতপরঃ মেয়ের পিতা মাতা যদি মেনে নেয় তাহলে কি বৈধ হবে? যদি না নেয়, সেক্ষেত্র দুজনে একসাথে সংসার করতে চাইলে আমাদের কি করা উচিৎ? (আমি এই দ্বীনদ্বার মেয়েকে স্ত্রী হিসেবে পাইতে ভিষন আগ্রহী!!) বিঃ দ্রঃ -নিচের লিংকে শাইখ আব্দুল্লাহ আল কাফীর লেখা পড়ে আমি উপরের সিদ্ধানত নিয়েছিলাম । মেয়ের পিতা মাতাকে রাজী করানোর জন্য কি করা যেতে পারে, একটু পরামর্শ দেওয়া যাবে কি? যখন তারা রাসূলের হাদীস মানছে না – রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, إِذَا خَطَبَ إِلَيْكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَزَوِّجُوهُ إِلَّا تَفْعَلُوا تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ عَرِيضٌ তোমাদের নিকট যদি এমন পাত্র বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে আসে যার দ্বীনদারী ও চরিত্র তোমাদের নিকট পছন্দসই, তবে তার সাথে তোমাদের কন্যাদের বিবাহ দিয়ে দাও। যদি তোমরা এরূপ না কর (দ্বীনদার ও চরিত্রবান পাত্রকে প্রত্যাখ্যান কর এবং তাদের সাথে কন্যাদের বিবাহ না দাও) তবে এর কারণে পৃথিবীতে অনেক বড় ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি হবে। (তিরমিযী) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কুমারী মেয়েকে তার সম্মতি ছাড়া বিয়ে দেয়া যাবে না। * তারা মেয়ের পছন্দ ও আমার দেওয়া প্রস্তাব কোনটাই মানছে না । * সুতরাং আমি আর কি করতে পারি, কি করে তাদের রাজি করাতে পারি, যদিও আমার কোন সমস্যা নেই, ঐ দ্বীনদার মেয়েকে পাওয়ার সকল যোগ্যতা আমার আছে । *যদি আবার বিয়ে করতে হয়, তাহলে আগের দেনমোহর কি ঠিক রাখতে হবে, না নতুন করে বাধতে হবে?
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। স্যার রহ. বেঁচে থাকাকালীন এমন একটি প্রশ্নের জবাবে যা লেখা হয়েছিল তা নিচে দেওয় হলো: অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে সাংসারিক জীবনে অনেক অশান্তি হয়। তাই অভিভাবকের অনুমতি ব্যতিত বিবাহ করা উচিৎ নয়। হাদীসে অভিাভাবক ছাড়া মেয়েদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে।তবে একটি সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে, الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলা তার নিজের ব্যাপারে অভিভাবক থেকে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫৪ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে সাংসারিক জীবনে অনেক অশান্তি হয়। তাই অভিভাবকের অনুমতি ব্যতিত বিবাহ করা উচিৎ নয়। হাদীসে অভিাভাবক ছাড়া মেয়েদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে।তবে একটি সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে, الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলা তার নিজের ব্যাপারে অভিভাবক থেকে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫৪১। এই হাদীসের ভিত্তিতে অনেক ফকিহ বলেছেন, অভিভাবক ছাড়াও প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলারা বিবাহ করতে পারবে। সুতরাং যে সমাজে এই মতটি প্রচলিত সেখানে অভিভাবক ছাড়া বিয়ে হয়ে গেলে এটাকে সহীহ হয়েছে বলেই ধরে নিতে হবে। কিন্তু যাদের বিয়ে হয়নি তাদের ক্ষেত্রে অভিভাবক ছাড় বিয়ে হবে না এ কথাই বলতে হবে। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া ৫১ নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 627
কোন মেয়ে তার স্বামীকে তালাক দিলে, ৪ মাস পরে তারা চাইলে আবার সংসার করতে পারবে কি?
30 Dec 2025

আপনার প্রশ্ন অস্পষ্ট । তবে যদি তিন তালাক না হয় পরবর্তীতে নতুন করে বিবাহের মাধ্যমে ঘর-সংসার করতে পারবে।

প্রশ্নঃ 626
দেন মোহর বাকি রেখে বিকাহ করা কি জ্য়েজ? বিস্তারিত জানাবেন। ধন্যবাদ
30 Dec 2025

হাদীসে বিয়ের আগেই দেন মোহর পরিশোধের কথা আছে। তবে পরে দিলেও হবে বলে ফকীহগণ বলেছেন।

প্রশ্নঃ 603
সরকারী চাকুরীর provident fund এর টাকার সূদ কি হারাম?
30 Dec 2025

বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে অধিকাংশ আলেম বলেন হারাম হবে না।

প্রশ্নঃ 568
তারাতারি বিয়ে করার জন্য কোন কোন দুয়া পড়ব?
29 Dec 2025

নিম্নের দুআ দটি পড়বেন: رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ 1 رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا2 .

প্রশ্নঃ 563
আসসালামু ওয়ালাইকুম, আমি একটি মেয়েকে পছন্দ করি, আমি যথেষ্ট দ্বীন মেনে চলার চেস্টা করি (মুসলিম হিসাবে যা করা দরকার)। আমারা একে অপারকে বিয়ে (আমরা পড়াশুনা শেষ করেছি এবং আমি চাকরি করি) করতে চাই কিন্তু মেয়ের পিতা মাতা রাজি না থাকায় আমরা কোন উপায় না পেয়ে মেয়ের একমাত্র ছোট ভাই (১৯) এবং পরিচিত এক ভাই-এ দু জনকে মেয়ের পক্ষে স্বাক্ষী (স্ব-ইচ্ছায়) রেখে আমারা কোর্টম্যারেজ করি, এখন আমাদের বিয়ে কি বৈধ হবে? অতপরঃ মেয়ের পিতা মাতা যদি মেনে নেয় তাহলে কি বৈধ হবে?
29 Dec 2025

অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে সাংসারিক জীবনে অনেক অশান্তি হয়। তাই অভিভাবকের অনুমতি ব্যতিত বিবাহ করা উচিৎ নয়। হাদীসে অভিাভাবক ছাড়া মেয়েদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে।তবে একটি সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে, الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলা তার নিজের ব্যাপারে অভিভাবক থেকে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫৪১। এই হাদীসের ভিত্তিতে অনেক ফকিহ বলেছেন, অভিভাবক ছাড়াও প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলারা বিবাহ করতে পারবে। সুতরাং যে সমাজে এই মতটি প্রচলিত সেখানে অভিভাবক ছাড়া বিয়ে হয়ে গেলে এটাকে সহীহ হয়েছে বলেই ধরে নিতে হবে। কিন্তু যাদের বিয়ে হয়নি তাদের ক্ষেত্রে অভিভাবক ছাড় বিয়ে হবে না এ কথাই বলতে হবে। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া ৪৮৮ নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 557
আসসালামুয়ালাইকুম, স্যার আমার প্রশ্ন হল একজন সাবালক ছেলে এবং মেয়ে নিজেরা কাজি অফিস এ গিয়ে বিয়ে করে, ইসলামিক আইনে এই বিয়ে কি ইসলাম এ গ্রহনযোগ্য? ছেলে এবং মেয়ে দুজনের বাবা-মা জীবিত আছেন তবে উনারা বিয়ে সম্পর্কে জানে না। দয়া করে আমার প্রশ্নের উত্তর দিলে উপকৃত হবো।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে সাংসারিক জীবনে অনেক অশান্তি হয়। তাই অভিভাবকের অনুমতি ব্যতিত বিবাহ করা উচিৎ নয়। হাদীসে অভিাভাবক ছাড়া মেয়েদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে।তবে একটি সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে, الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলা তার নিজের ব্যাপারে অভিভাবক থেকে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫৪১। এই হাদীসের ভিত্তিতে অনেক ফকিহ বলেছেন, অভিভাবক ছাড়াও প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলারা বিবাহ করতে পারবে। সুতরাং যে সমাজে এই মতটি প্রচলিত সেখানে অভিভাবক ছাড়া বিয়ে হয়ে গেলে এটাকে সহীহ হয়েছে বলেই ধরে নিতে হবে। কিন্তু যাদের বিয়ে হয়নি তাদের ক্ষেত্রে অভিভাবক ছাড় বিয়ে হবে না এ কথাই বলতে হবে। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া ৪৮৮ নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 552
আসসালামু আলাইকুম, স্যার, আমি আমার আগের প্রশ্নের সাথে কিছু যোগ করতে চাই। আমি যে মেয়েকে বিয়ে করতে চাই তাকে আমার মা গতকাল বলে এসেছে তুমি আমার ছেলের পথ থেকে সরে যাও। তোমাকে আমার ছেলে ছাড়া কেউ পছন্দ করছে না। আমি তার সাথে গত মাসের ২১ তারিখের আগে সর্বশেষ কথা বলেছিলাম। তাতে আমার কাছে তাকে ধার্মিকা ও শরীয়ত সমপরকে অবহিতা মনে হয়েছে। কখনই তাকে মানসিক প্রতিবন্ধী মনে হয়নি। তাকে যখন দেখি আমার মনে হয়নি তার ভ্রূ প্লাক। তাকে আমার কাছে অনেক সুন্দরী মনে হয়েছে ও লম্বাও আমার কাছাকাছি মনে হয়েছে। অথচ আমার মা আমাকে বলেছে তার ভ্রূ প্লাক করা, খাটো, পাগল, মেকআপ করা বলেছে। আমার জানামতে সে নেকাবসহ বোরখা পরে। আমার সাবেক স্ত্রীর সাথে বিয়ের আগের দিন তার ছবি দেখে বলেছিলাম সে ভ্রু প্লাক করে। কিন্তু তখন এটাকে গুরুত্ব দেয়নি। বলেছিল বিয়ের পর নিষেধ করলে ঠিক হয়ে যাবে। তার মেকআপ ছিল অথচ বিয়ের আগ পর্যন্ত আমার মা ভাবি কেউই বুঝতে পারেনি। আমি আমার মাকে প্রায় দেড়মাস আগে আমার পছন্দের মেয়েটিকে দেখতে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু আমার মা আমার অনুরোধ রাখেনি। তাদের পছন্দের মেয়েকে আমার উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টার সাথে সাথে আমার পছন্দের মেয়ের প্রতি আমার দু্রবলতা বেড়েছে। তাকে গতকাল চরমভাবে অপমান করার কারণে আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। তার স্কুলে গিয়ে তাকে এভাবে অপমান করাটা আমাকে ভীষণভাবে পীড়িত করছে। আমি তাকে মার্চ এর ৪ তারিখে দেখেছিলাম। আমি তার লেখাপড়া, চাকরি প্রভৃতি জানার পর আমার নিজের বরণনা দিয়ে বললাম আমি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়লেও আমি নিজেকে সাধ্যমত নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছি ও আমি ক্লাস ফোর থেকে নামাজ পড়ি। সে বলল মানুষের ঈমানটাই আসল। আমি এটা শুনে খুব খুশি হলাম। আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে অনারস মাষ্টারস করেছি অথচ আমার পিতামাতা আমার মতামতের মূল্য দেয়না। এখন আমি কি করব স্যার? তারা আমাকে হুমকি দিচ্ছে ঐ মেয়েকে বিয়ে করলে তারা আমার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করবে। আমি আমার পিতামাতাকে হারাতে চাই না আবার এই কষ্টও সহ্য করতে পারছি না।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আপনার পিতামাতকে লোভী ও ধর্মবিমূখ মনে হচ্ছে। মেয়েটিকে হুমকি দেয়া তার জন্য বড় ধরনের অপরাধ। আপনি সবর করুন। নিচের দু্আগুলো পড়ুন। ইনশাআল্লাহ একটা সমাধান পাবেন। তবে তাদের কথামত ধর্মহীন কোন মেয়েকে অবশ্যই বিয়ে করবেন ন। আপনার পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করার অধিকার আপনার আছে। আপনি রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো নফল সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। এছাড়া কুরআনের এই দআটিও সালাতে এবং অন্যান্য সময় বারবার পড়বেন, رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনার সব সংকট দূর করে দেন।

প্রশ্নঃ 540
আসসালামুয়ালাইকুম, আমি জাহিদুল, জনাব আমি জানতে চাচ্ছি যে; একজন সাবালক ছেলে আর একজন সাবালিকা মেয়ে যদি কাজি অফিসে গিয়ে নিজেদের পুর্ণ সম্মতিতে;বিয়ে করে (তাদের পরিবার এই বিয়ের কথা জানে না) তাহলে কি এই বিয়েটা ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী জায়েজ হবে? ঐ ছেলে আর মেয়ে কি নিজেদেরকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে; পরিচয় দিতে পারবে? পুরোপুরি ভাবে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে চলাফেরা করতে পারবে?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অভিভাবকের পরামর্শ ছাড়া বিবাহের অনেক ক্ষতিকর দিক রয়েছে। অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েরা আবেগের কারণে অনকে সময় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। এটা সর্বজন স্বীকৃত। এছাড়া অনুমতি ছাড়া মেয়েদের বিবাহ করাকে রাসূলুল্লাহ সা. নিষেধ করেছেন। সুতরাং কোন ছেলে-মেয়ের জন্য উচিত নয় অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করা। বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া ৪৮৮নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 523
আসসালামু আলাইকুম, স্যার আমি একটি মেয়েকে পছন্দ করি। মেয়েটির পরিবারের সার্বিক অবস্থা আমার পরিবার থেকে নিচে। আমার বাবা-মা দুজনেই মাদরাসায় উচ্চশিক্ষিত। কিন্তু মেয়ে কিংবা মেয়ের পরিবারের কেউই মাদরাসায় শিক্ষিত নয় তবে তারা ইসলামী বিধান তথা নামাজ-রোযা-পর্দা এগুলো পালন করে সঠিকভাবে। তাদের মধ্যে আকিদাগত তথা পীরবাদ এমন কোনো সমস্যাও পাই নি। তাদের গ্রামের বাড়ি আমাদের থেকে বহুদূরে। আমার বর্তমান সমস্যা হলো আমি মেয়েটিকে বিবাহ করতে চাই। কিন্তু আমার বাবা-মা এই মেয়ের ব্যাপারে রাজি নয়। তাদের আপত্তি মেয়ের গ্রামের এলাকা ও তাদের পারিবারিক অবস্থা তথা নন-আলেম ও আর্থিক এইগুলো। কিন্তু আমি মেয়েকে অনেক পছন্দ করি। তার চরিত্র ও দ্বীনী বিষয় আমাকে আকৃষ্ট করেছে। এইক্ষেত্রে আমার করণীয় কি?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিবাহ এমন একটি বিষয় যেখানে মুরুব্বীদের মতামত মেনে চলা একান্ত কর্তব্য। তারা বহুদিন ধরে সংসার করার কারণে তাদের মধ্যে এই বিষয়ে অনেক অভিজ্ঞতা সৃষ্টি হয়। এই অভিজ্ঞতার আলোকে তারা বুঝতে পারেন কেমন পরিবারের বা কেমন ছেলে-মেয়েকে বিবাহ করা উচিৎ। যারা এখনো বিবাহ করেন নি তারা এই অভিজ্ঞতা পাবে কোথায়? আপনাদের ন্যায় বয়সের ছেলে-মেয়েরা আবেগের কারণে অনেক সময় এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে যা পরববর্তীতে সারা জীবনের কান্না হয়ে দাঁড়ায়। ং সুতরাং যেহেতু আপনার বাবা-মা এই বিবাহে রাজি নয় তাই আপনার জন্য উচিৎ হলো এখান থেকে সরে আসা। আশা করি এর ভিতরে আল্লাহ আপনার জন্য কল্যান রেখেছেন। আমরা আপনার জন্য দুআ করি যেন আল্লাহ আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার তাওফিক দেন।

প্রশ্নঃ 513
আসসালামুয়ালাইকুম, ৩ বছর আগে আমি বাবা মা কে না জানিয়ে বিয়ে করি। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল হালাল সম্পর্ক করা এবং জিনা থেকে বাঁচা। কিছুদিন আগে বিভিন্ন জায়গা থেকে শুনি এই বিয়ে বৈধ নয়। যেহেতু আমি এবং আমার স্বামী আল্লাহ কে ভয় করি আমরা বিভিন্ন মাদ্রাসার হুজুর দের এ বেপারে জিজ্ঞেস করলে তারা বলে বিয়ে বৈধ। আমরা গুনাহ থেকে বাঁচতে চাই। দয়া করে আমাদের সঠিক ফতোয়া দিন। এবং করনীয় কি জানান।
29 Dec 2025

অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে সাংসারিক জীবনে অনেক অশান্তি হয়। তাই অভিভাবকের অনুমতি ব্যতিত বিবাহ করা উচিৎ নয়। হাদীসে অভিাভাবক ছাড়া মেয়েদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে।তবে একটি সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে, الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলা তার নিজের ব্যাপারে অভিভাবক থেকে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫৪১। এই হাদীসের ভিত্তিতে অনেক ফকিহ বলেছেন, অভিভাবক ছাড়াও প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলারা বিবাহ করতে পারবে। সুতরাং যে সমাজে এই মতটি প্রচলিত সেখানে অভিভাবক ছাড়া বিয়ে হয়ে গেলে এটাকে সহীহ হয়েছে বলেই ধরে নিতে হবে। কিন্তু যাদের বিয়ে হয়নি তাদের ক্ষেত্রে অভিভাবক ছাড় বিয়ে হবে না এ কথাই বলতে হবে। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া ৪৮৮ নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 493
যদি কোন মুসলিম ছেলে মেয়ে তাদের অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া (কোর্ট মেরেজ) বিয়ে করে তাহলে কি তাদের সাংসারিক জীবনে যেনার পাপ হবে? তাছাড়া তাদের মেলামেশার ফলে যে সন্তান হবে সেটা কি জারজ/অবৈধ বলা যাবে? দয়া করে একটু বিস্তারিত বলবেন…
29 Dec 2025

অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে সাংসারিক জীবনে অনেক অশান্তি হয়। তাই অভিভাবকের অনুমতি ব্যতিত বিবাহ করা উচিৎ নয়। হাদীসে অভিাভাবক ছাড়া মেয়েদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে।তবে একটি সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে,

الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا

প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলা তার নিজের ব্যাপারে অভিভাবক থেকে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫৪১। এই হাদীসের ভিত্তিতে অনেক ফকিহ বলেছেন, অভিভাবক ছাড়াও প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলারা বিবাহ করতে পারবে। সুতরাং যে সমাজে এই মতটি প্রচলিত সেখানে অভিভাবক ছাড়া বিয়ে হয়ে গেলে এটাকে সহীহ হয়েছে বলেই ধরে নিতে হবে। কিন্তু যাদের বিয়ে হয়নি তাদের ক্ষেত্রে অভিভাবক ছাড় বিয়ে হবে না এ কথাই বলতে হবে। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া ৪৮৮ নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 488
আমার প্রশ্ন হল -মেয়ে যদি বাবা-মাকে না জানিয়ে বিবাহ করে তাহলে বিবাহ শুদ্ধ হবে কি না?
29 Dec 2025

হাদীসে মেয়েদেরকে অভিভাবক ছাড়া বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে। সুতরাং মেয়েদের জন্য উচিৎ হবে না মা-বাবাকে না জানিয়ে বিবাহ করা।

ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের বিধান। বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামী শরীয়তে এব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাসূল সা. এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। পারিবারিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অধিকাংশ ইমাম ও ফকীহগণের নিকট ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ নেই। তবে ইমাম আবু হানীফা রহ. সহ কতিপয় ফকীহ বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে জায়েজ বলেছেন। প্রখ্যাত মালেকী ফকীহ আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে রুশদ আন্দালুসী র. বলেন,

اختلف العلماء هل الولاية شرط من شروط صحة النكاح أم ليست بشرط؟ فذهب مالك إلى أنه لا يكون النكاح إلا بولي وأنها شرط في الصحة في رواية أشهب عنه وبه قال الشافعي وقال أبو حنيفة وزفر والشعبي والزهري: إذا عقدت المرأة نكاحها بغير ولي وكان كفؤا جاز وفرق داود بين البكر والثيب فقال باشتراط الولي في البكر وعدم اشتراطه في الثيب

অর্থ: বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী শর্ত কি শর্ত নয় এই বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম মালেক র. মত পোষন করেছেন যে, ওলী ছাড়া বিবাহ হবে না। বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য (ওলী) শর্ত। এমন মতই পোষন করেছেন ইমাম শাফেয়ী রা.। ইমাম আবু হানীফা, জুফার, শাবী ও জুহরী র. বলেছেন, যদি মহিলা ওলী ছাড়া বিবাহ করবে আর স্বামী যদি তার কুফু (সর্বদিক দিয়ে যোগ্য) হয় তাহলে জায়েজ হবে। বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ২/৮(শামেলা)। এই সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন, আলমাবসুত লিস-সারখসী, ৬/৫৩; আলমাউসায়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৭/৯৪ও ৩১/৩২১; আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবা ৪/৪৫। কিতাবুল উম্ম লিশ-শাফেয়ী,৭/১৫৬। যে ইমামগন ওলী ছাড়া বিবাহ বাতিল বলেছেন তাদের দলীল: আবু মুসা আশয়ারী রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, অর্থাৎ ওলী ছাড়া বিবাহ নয়। لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِىٍّ আবু দাউদ, হাদীস নং ২০৮৭; তিরমিযী, হাদীস নং ১১০১;মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৯৭৬১। হাদীসটি সহীহ। শায়খ আরনাউত এবং আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত অন্য হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন,

أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ

অর্থাৎযে মহিলা ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করবে তার বিবাহ বাতিল। তিনি ৩ বার তা বলেছেন। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১১০২; মুসনাদে আহমাদ,হাদীস নং ২৫৩৬৫। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন আর শায়খ শুয়াইব আরনাউত সহীহ বলেছেন। উপরক্ত হাদীস সমূহের ভিত্তিতে ইমাম মালেক, শাফেয়ী, আহমাদ র. সহ অধিকাংশ আলেম ওলী ছাড়া বিবাহকে বাতিল বলেছেন। যে সব ইমাম ও ফকীহ ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ বলেছেন তাদের দলীল: তাবেঈদের মধ্যে ইমার জুহরী ও শাবী এরপরে ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ, মুহাম্মাদ, জুফার সহ কিছু সংখক মুজতাহিদ কিছু শর্ত সাপেক্ষে ওলী ছাড়া বিবাহ কে জায়েজ বলেছেন। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১.কুফু হতে হবে। ২.মেয়েটি বালেগা, বুঝমান হতে হবে। আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবায়া, ৪/৪৫; আলমাবসুত লিস-সারাখসী,৬/৬১ ও ৫/১৬। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

فلا جناح عليكم فيما فعلن في أنفسهن بالمعروف

অর্থাৎ মহিলারা নিজেদের ব্যাপারে সৎ ভাবে যা করবে (বিয়ের ক্ষেত্রে) সে বিষয়ে তোমাদের কোন দোষ নেই। সূরা বাকারাহ-২৩৪ অন্য এক আয়াতে তালাক সম্পর্কে আলোচনার এক পর্যায়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

تنكح زوجا غيره. حتى

অথাৎ যতক্ষন না তারা অন্য স্বামীকে বিবাহ না করে। সূরা বাকারাহ-২৩০। অন্য প্রসংগে আল্লাহর বাণী,

فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ

অর্থাৎ তোমরা তাদেরকে তাদের স্বামীদের কে বিবাহ করা থেকে বাধা দিবে না। সূরা বাকারাহ-২৩২ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন,

الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا

অর্থাৎ মেয়েরা ওলীদের চেয়ে নিজের ব্যাপারে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৪২১। الأيم অর্থ স্বামীহীন মহিলা, পূর্বে স্বামী থাকুক বা না থাকুক। আলমজামুল ওয়াসীত। বর্তমান সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৌদী আলেম শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আলমুনজিদ ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের ক্ষেত্রে বলেছেন,

المسألة اجتهادية ، واختلف فيها الأئمة ، فإنه إذا كان أهل بلد يعتمدون المذهب الحنفي كبلادكم وبلاد الهند وباكستان وغيرها ، فيصححون النكاح بلا ولي ، ويتناكحون على هذا ، فإنهم يقرّون على أنكحتهم ، ولا يطالبون بفسخها

অর্থাৎ এটি একটি ইজতিহাদি মাসআলা, ইমামগণ এক্ষেত্রে ইখতিলাফ করেছেন। সুতরাং যে সব দেশের মানুষেরা হানাফী মাজহাবের উপর নির্ভর করে, ওলী ছাড়া বিবাহবে বৈধ মনে করে এবং এভাবে তাদের বিয়ে হয় যেমন, ভারত, পাকিস্থান ইত্যদি, তাহলে তাদের বিবাহের স্মীকৃতি দেয়া হবে । বাতিল করতে বলা হবে না। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, শরীয়তে বিবাহে মেয়েদের জন্য ওলী থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণভাবে যৌবনের শুরুতে যুবক-যুবতী সহজেই বয়সের উন্মাদনায় বিভ্রান্ত হয় এবং নিজের চোখের ভাল লাগার উপর নির্ভর করেই সঙ্গী পছন্দ করে। বিবাহের ক্ষেত্রে চোখের পছন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবন ও আগত প্রজন্মের কল্যাণের কথাও চিন্তা করতে হবে। এজন্য ইসলামে বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর মতমতের সাথে অভিভাবকের মতামতেরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সুতরাং মেয়েদের জন্য আবশ্যক হলো ওলীর অনুমতি নিয়ে বিবাহ করা। আর আমাদের উচিৎ বিবাহের সময় মানুষদের কে ওলীর অনুমতির বিষয়ে উৎসাহিত করা,ওলী ছাড়া বিয়ে করতে নিষেধ করা এবং ওলী থাকার কল্যান বর্ণনা করা। যারা ইতিমধ্যে ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করেছে তাদের বিষয়ে কথা হলো যেহেতু তারা একটি ফিকহী মত গ্রহন করেছেন আর বিষয়টি ইজতিহাদী এবং ইখতিলাফী তাই তাদেরকে নতুন করে বিবাহ করতে হবে না। তবে এই ঘৃনিত কাজের জন্য তাদের লজ্জিত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 444
আসসালামু আলাইকুম। স্যারের কাছে আমার প্রশ্ন, আমার ভাই তার বউকে ঝগড়ার পর তার মায়ের সামনে তিন তালাক বলেছে। এরপর ভাবির মা তার মেয়েকে নিয়ে চলে গেছেন। এই তালাক কি হয়ে গেছে? নাকি ভাবিকে ফেরত আনার কোন উপায় আছে? এক্ষেত্রে বিধান কি?
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
হ্যাঁ, আপনার ভাবী তালাক হয়ে গেছে। তাকে ফিরিয়ে নেয়ার কোন উপায় নেই। তবে যদি ঐমহিলার অন্য কোথাও পরবতীর্তে বিয়ে হয় আর সেই স্বামী তাকে তালাক দেয় অথবা মারা যায় তাহলে আপনার ভাই তাকে বিয়ে করতে পারবে। এছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ নেই।
প্রশ্নঃ 425
দেন মহর কেও যদি বিয়ের সময় না দিতে পারেন,বা পরে দিতে চান এ বেপারে ইসলাম কি বলে। অনেকের দেখা যাই তার বউ এর থেকে মাফ চেয়ে নেন। এ বেপারে বিস্তারিত জানতে চাচ্ছি।
28 Dec 2025
হাদীসে বিয়ের সময়ই মহর দেয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে পরে দিলেও হবে। মাফ চাওয়া যাবে না। কারণ অনেক সময় সামাজিক চাপের করণে স্ত্রী মুখে মাফ করার কথা বলে বটে কিন্তু মূলত সে মাফ করে না।
প্রশ্নঃ 383
আসসালামুয়ালাইকুম। স্বামী মারা গেলে স্ত্রীর কি ঘরে ৪০ দিন থাকা বাধ্যতামুলক? এই ব্যপারে ইসলামের সঠিক বিধান কি?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
স্বামী মারা গেলে স্ত্রীকে চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করতে হবে। এই সময়ে বিনা প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে যেতে পারবে ন। প্রয়োজনে বাইরে গেলেও রাত্রে অবশ্যই বাড়িতে থাকতে হব। তবে যদি গর্ভবতী হয় তাহলে সন্তান প্রসব পর্যন্ত ইদ্দত পালন করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا فَعَلْنَ فِي أَنفُسِهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ
অর্থ: তোমাদের মধ্যে কেউ স্ত্রী রেখে মারা গেলে ঐ স্ত্রী নিজেকে চার মাস দশদিন আটকে রাখবে। … সূরা বাকরাহ, আয়াত নং ২৩৪।
প্রশ্নঃ 368
বিবাহের সুন্নাত পদ্ধতি জানতে চাই? বিশেষ করে বিয়ে পরানোর পদ্ধতি।
28 Dec 2025
দু’জন পুরুষ সাক্ষী কিংবা একজন পুরুষ আর দুইজন মহিলার সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিবাহ পড়াতে হবে। সাক্ষীগন দেখবেন বর ও কনে বিবাহে সম্মত কিনা। কনের কাছে তারা সরাসরি জিজ্ঞসা করবে অথবা কনের পক্ষ থেকে কোন উকিল (প্রতিনিধি) আসলে তার কাছে থেকেও জেনে নিতে পারবে। এরপর বিবাহের খুৎবা দিতে হবে।
প্রশ্নঃ 355
আসসালামুয়ালাইকুম, স্যারের কাছে আমার কিছু প্রশ্ন ছিল, বিয়ের জন্য আমার মা বাবা ছেলে দেখছেন, তাদের একজনকে পছন্দও হয়েছে, তারা সেখানে কথা আগাতে চান। কথা বলা অথবা প্রশ্ন করার সুযোগ যদি আমি পাই তাহলে কি কি ব্যাপারে প্রশ্ন করা উচিত? এবং কিভাবে করা উচিত? ছেলের বাবা সুদী ব্যাংকে চাকরী করতো কিন্তু জামাতে নামাজ পড়ে, ছেলে ডাক্তার এবং তার ইনকাম হালাল। তবে তার দাঁড়ি নাই, আচার ব্যাবহার ভালো, নামাজী। এই ছেলেকে কি বিয়ে করতে অসুবিধা আছে?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
হ্যাঁ, এই ছেলেকে আপনি বিবাহ করতে পারেন, কোন অসুবধা নেই। দাঁড়ির বিষয়টি বিয়ের পরে সমাধান করে নিবেন। আপনি তাঁকে বলবেন আমাকে ইসলামী হুকাম-আহকাম পূর্ণরূপে পালন করতে দিতে হবে। এছাড়া আপনার ব্যক্তিগত কোন প্রয়োজনীও বিষয় থাকলে তাও জেনে নিবেন।
প্রশ্নঃ 340
আসসালামু আলাইকুম আমি এক তাফসির কিতাবে পরেছি জান্নাতে ঈসা (আ) এর মা মারিয়াম (আ) এর সাথে রাসুলুল্লাহ (স) এর বিয়ে হবে। হাদিসটা সহিহ কিনা জানতে চাই। আল্লাহ আপনাকে উত্তম বদলা দান করুন। আমিন
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
এই বিষয়ে বর্ণিত সমস্ত হাদীসই যয়ীফ কিংবা মুনকার, সহীহ বা গ্রহনযোগ্য পর্যায়ের নয়। বিস্তারিত জানতে দেখুন, সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, হাদীস নং ৮১২ এবং ৫৮৮৫।
প্রশ্নঃ 335
আসসালামু আলাইকুম আমার বয়স ২৬ বছর। আমি (এইস এস সি) পড়াকালীন পাচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতাম। এখন নামাজ হয় কোনো সময় তিন বা কোনো সময় দুই ওয়াক্ত। আমি অনেক চেস্টা করেও অনেক গোপন পাপ ছাড়তে পারছি না। এখনও বিবাহ হয়নি। এ অবস্থায় আমি মুনাফেক হয়ে গেছি কি না জানাবেন। আমি নিজেকে সম্পুন ইসলামের মধে আনার জন্য কি করব, বিস্তারিত জানাবেন। আমি খুব ভয়ে থাকি, নিজের ক্যরিয়য়ার নিয়ে। আমি নিজেকে কিভাবে বদলাতে পারি। আমি সব সময় ভয় পায় যে আমি মারা গেলে জাহান্নামে চলে যাব। এখন কি করা উচিত, নিজেকে ভাল করার জন্য।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আপনি যে পাপকে পাপ মনে করছেন এটাই প্রমাণ যে, আপনি মূমিন, মুনাফিক নন। আপনি জামাতে সালাত আদায় করার এবং সবধরনের গুনাহ ছেড়ে দেয়ার দৃঢ ইচ্ছা করুন। সালাতের সাজদার ভিতর আপনার সমস্যার কথা আল্লাহর কাছে বলুন। ইনশাআল্লাহ আপনি সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।
প্রশ্নঃ 290
আচ্ছালামুউলাইকুম আচ্ছালাম। স্যার,আমার কন্যা এক হিন্দু ছেলেকে রেজিষ্ট্রি আমার অগোচরে বিয়ে করে। আমি তাদের মেনে নিয়েছি। তৎপরবর্তী তারা স্কলারশীপ নিয়ে বিদেশে চলে যায়। মেয়ে ও জামাই দুজনেই পি এই ডি ডিগ্রি সম্পন্ন করে বিদেশেই অবস্থান করছে। বিদেশ যাবার দুই বছর পর জামাই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আমার জানামতে পাচ ওয়াক্ত সালাত আদায়সহ ইসলামের অন্যান্য নির্দেশ পালন করছে। তাদের একটি ছেলে হয়েছে। তার আকিকাও দেযা হয়েছে। জামাই দাড়ি রেখে চেষ্টা করে সব সুন্নত পালন করতে। বিদেশে থাকার কারনে পাসপোর্ট সমস্যার কারনে তার হিন্দু নামটিই রয়ে গেছে। তবে মনে প্রানে সে নিজেকে একজন খাটি মুসলমান মনে করে। আমার প্রশ্ন এ বিয়ে এবং তার এ নাম রাখা ইসলাম মোতাবেক সঠিক কিনা? নাহলে কি করা উচিৎ? বলাবাহুল্য সে ধর্মীয় কোন ব্যাপারে প্রশ্ন থাকলে আমার কাছে জানতে চাই। যেমন তার ছেলের মুসলমানী কিভাবে দেবে। তার ছেলে এখন দু বছর বয়স। আমি আজ আপনাদের আলসুন্নাহ ট্রাষ্টের ওয়েবসাইট তাকে পাঠিয়েছি এবং কি কি করতে হবে -তা সব এখানে পাবে বলে জানিয়েছি। নিজের মনের শান্তির জন্য এ প্রশ্নের উত্তর আমার জানা প্রয়োজন। অনুগ্রহ করে দ্রুত (বাংলায়)জানালে বড় উপকার হয়। আমার ইমেইল আইডি দিয়েছি।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
যদি হিন্দু নামের মধ্যে শিরক জাতীয় কোন কিছু না থাকে তাহলে উক্ত নাম রেখে দেওয়া জাযেজ হবে। যেমন নিমাই, দুলাল, বাবু, শিমুল। আর যদি শিরক জাতীয় কোন কিছু থাকে তাহলে জায়েজ হবে না। যেমন কৃষ্ণ দাস। এই অবস্থায় পাসপোর্টে নাম বদল করা সম্ভন না হলেও নিজেদের ভিতর তাকে একটি ভাল নামে পরিচিত হতে হবে। বর্তমানে ইহুদী ও খৃষ্টানদের মাঝেও খাৎনা চালু আছে, বিশেষ করে ইহুদীদের মাঝে। তাই স্থানীয় যে কোন হাসপাতালে গিয়ে খাৎনা করানো যাবে।
প্রশ্নঃ 284
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: বিয়ের মহর পরে দেওয়া যাবে কি? দেওয়া গেলে কত দিনের মধ্যে দিতে হবে। সেটার জন্যে বউকে কি সময় বলে দিতে হবে? কতটুকু পরে দেওয়া যাবে? মহর হিসেবে কি কি জিনিস দেওয়া যাবে? মেয়ের বাবা নাই, সেক্ষেত্রে কাকা বা মামার মধ্যে কে উকিল হতে পারবেন? কাকা আসতে না পারলে মামা কি উকিল হতে পারবেন? ওলিমা ১, ২ বছর পরে করা যাবে কি? অলিমা তে কি গোশ্ত কিনে অলিমা করা যাবে?
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
হাদীসে বিয়ের সময়ই মহর দেয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ফকীহগণ বলেছেন পরে দিলেও হবে। এক্ষেত্রে পরিমাণ ও সময় নির্দিষ্ট করা নেই। টাকা-পয়সা, গহন বা যে কোন সম্পদ দ্বারা মোহর দেয় যায়। পিতার অনুপস্থিতিতে চাচা-মামা উকিল হতে পারবে। ওলিমা কত দিনের মধ্যে করতে হবে এ ব্যাপারে একটি যয়ীফ হাদীস আসে। হাদীসটি হলো রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
الْوَلِيمَةُ أَوَّلَ يَوْمٍ حَقٌّ ، وَالثَّانِيَ مَعْرُوفٌ ، وَالثَّالِثَ رِيَاءٌ وَسُمْعَةٌ
ওলিমা প্রথম দিনই হওয়া দরকার, দ্বিতীয় দিনেও ভাল আর তৃতীয় দিনে লোক দেখানে। (সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৭৪৭; সুনানু ইবনে মাজাহ,হাদীস নং ১৯১৫। হাদীসটি সর্বাক্যমতে যয়ীফ। হাদীসটি যেহেতু দূর্বল তাই আমরা বলতে পারি প্রথম দুই দিনের ভিতর ওলিমা করা সবচেয়ে ভাল। এই সময়ে করতে না পারলে যতটা সম্ভব দ্রুত করবে।
প্রশ্নঃ 264
আমি আমার স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে, তার ভাই চাচা ও নানার উপস্থিতিতে এক বৈঠকে তালাক দিয়েছি। কিন্তু তালাক দিতে আমার মন চাইছিলো না, আমি খুব কান্না করেছিলাম, খুব কষ্ট হচ্ছিলো, কিন্তু উপস্থিত সকলের পিড়াপীড়িতে তালাকনামায় সিগনেচার করতে এবং মুখে বলতে বাধ্য হয়েছিলাম, আমাকে যা বলতে শিখিয়ে দিয়েছিল আমি তাই বলেছি, আমি বলেছি আমি রোকসানাকে তিন তালাক, বাইন তালাক দিলাম। তালাকের পর থেকেই আমি খুব অনুতপ্ত এবং খুব কষ্ট পাচ্ছি। আমি কি কোনভাবে আমার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে পারবো?
27 Dec 2025
এই স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার কোন পদ্ধতি নেই। যদি কোথাও ঐ স্ত্রীর বিবাহ হয় আর ঐ স্বামী মারা যায় কিংবা তালাক দেয় তাহলে কেবলমাত্র ঐমহিলাকে বিবাহ করতে পারেন। দ্বিতীয় কোন পথ নেই। সমাজে যা প্রচলিত আছে তা নাজায়েজ, হারাম।
প্রশ্নঃ 246
আসসালামু আলাইকুম। দয়া করে আমাকে যত দ্রুত সম্ভব নিম্নোক্ত বিষয় সম্পর্কে কি বিধান হবে জানাবেনঃ- আমার একজন বন্ধু ছয় বছর ধরে একজনের সাথে প্রেম করছে এবং সে এখন মেয়েটিকে বিয়ে করতে চাচ্ছে এই উদ্দেশ্যে যে তাদের ভিতর পাপ যেন আর না হয়। ভবিষ্যৎ এ পরিবারের সবাই তাদের বিয়েটাকে মেনে নেবে বলে আশা রাখে কিন্তু এই মুহুর্তে মেয়ের বা ছেলের পরিবারের কাছে বিষয়টি গোপন থাকবে। এমতাবস্থায় মেয়ের পক্ষে কোন অভিভাবক না থাকলে বিয়ে শরিয়ত সম্মত হবে কিনা?
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
এই বয়সে ছেলে মেয়েরা আবেগের কারণে এবং অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। তাই পিতা-মাতার সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ায় সবার জন্য কল্যানকর। সুতরাং ছেলে-মেয়েদের জন্য উচিৎ হলো অভিভাবক ছাড়া বিবাহ না করা। আর হাদীসে মেয়েদের অভিভাবক ছাড়া বিবাহ নিষেধ করা হয়েছে। সুতরাং তাদের জন্য এভাবে বিবাহ করা ঠিক হবে না। আপনার প্রশ্নের জন্য শুকরান ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের বিধান। বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামী শরীয়তে এব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাসূল সা. এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। পারিবারিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অধিকাংশ ইমাম ও ফকীহগণের নিকট ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ নেই। তবে ইমাম আবু হানীফা রহ. সহ কতিপয় ফকীহ বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে জায়েজ বলেছেন। প্রখ্যাত মালেকী ফকীহ আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে রুশদ আন্দালুসী র. বলেন,
اختلف العلماء هل الولاية شرط من شروط صحة النكاح أم ليست بشرط؟ فذهب مالك إلى أنه لا يكون النكاح إلا بولي وأنها شرط في الصحة في رواية أشهب عنه وبه قال الشافعي وقال أبو حنيفة وزفر والشعبي والزهري: إذا عقدت المرأة نكاحها بغير ولي وكان كفؤا جاز وفرق داود بين البكر والثيب فقال باشتراط الولي في البكر وعدم اشتراطه في الثيب
অর্থ: বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী শর্ত কি শর্ত নয় এই বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম মালেক র. মত পোষন করেছেন যে, ওলী ছাড়া বিবাহ হবে না। বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য (ওলী) শর্ত। এমন মতই পোষন করেছেন ইমাম শাফেয়ী রা.। ইমাম আবু হানীফা, জুফার, শাবী ও জুহরী র. বলেছেন, যদি মহিলা ওলী ছাড়া বিবাহ করবে আর স্বামী যদি তার কুফু (সর্বদিক দিয়ে যোগ্য) হয় তাহলে জায়েজ হবে। বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ২/৮(শামেলা)। এই সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন, আলমাবসুত লিস-সারখসী, ৬/৫৩; আলমাউসায়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৭/৯৪ও ৩১/৩২১; আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবা ৪/৪৫। কিতাবুল উম্ম লিশ-শাফেয়ী,৭/১৫৬। যে ইমামগন ওলী ছাড়া বিবাহ বাতিল বলেছেন তাদের দলীল: আবু মুসা আশয়ারী রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, অর্থাৎ ওলী ছাড়া বিবাহ নয়। لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِىٍّ আবু দাউদ, হাদীস নং ২০৮৭; তিরমিযী, হাদীস নং ১১০১;মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৯৭৬১। হাদীসটি সহীহ। শায়খ আরনাউত এবং আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত অন্য হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন,
أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ
অর্থাৎযে মহিলা ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করবে তার বিবাহ বাতিল। তিনি ৩ বার তা বলেছেন। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১১০২; মুসনাদে আহমাদ,হাদীস নং ২৫৩৬৫। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন আর শায়খ শুয়াইব আরনাউত সহীহ বলেছেন। উপরক্ত হাদীস সমূহের ভিত্তিতে ইমাম মালেক, শাফেয়ী, আহমাদ র. সহ অধিকাংশ আলেম ওলী ছাড়া বিবাহকে বাতিল বলেছেন। যে সব ইমাম ও ফকীহ ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ বলেছেন তাদের দলীল: তাবেঈদের মধ্যে ইমার জুহরী ও শাবী এরপরে ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ, মুহাম্মাদ, জুফার সহ কিছু সংখক মুজতাহিদ কিছু শর্ত সাপেক্ষে ওলী ছাড়া বিবাহ কে জায়েজ বলেছেন। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১.কুফু হতে হবে। ২.মেয়েটি বালেগা, বুঝমান হতে হবে। আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবায়া, ৪/৪৫; আলমাবসুত লিস-সারাখসী,৬/৬১ ও ৫/১৬। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
فلا جناح عليكم فيما فعلن في أنفسهن بالمعروف
অর্থাৎ মহিলারা নিজেদের ব্যাপারে সৎ ভাবে যা করবে (বিয়ের ক্ষেত্রে) সে বিষয়ে তোমাদের কোন দোষ নেই। সূরা বাকারাহ-২৩৪ অন্য এক আয়াতে তালাক সম্পর্কে আলোচনার এক পর্যায়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
تنكح زوجا غيره. حتى
অর্থাৎ যতক্ষন না তারা অন্য স্বামীকে বিবাহ না করে। সূরা বাকারাহ-২৩০। অন্য প্রসংগে আল্লাহর বাণী,
فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ
অর্থাৎ তোমরা তাদেরকে তাদের স্বামীদের কে বিবাহ করা থেকে বাধা দিবে না। সূরা বাকারাহ-২৩২ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন,
الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا
অর্থাৎ মেয়েরা ওলীদের চেয়ে নিজের ব্যাপারে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৪২১। الأيم অর্থ স্বামীহীন মহিলা, পূর্বে স্বামী থাকুক বা না থাকুক। আলমজামুল ওয়াসীত। বর্তমান সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৌদী আলেম শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আলমুনজিদ ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের ক্ষেত্রে বলেছেন,
المسألة اجتهادية واختلف فيها الأئمة ، فإنه إذا كان أهل بلد يعتمدون المذهب الحنفي كبلادكم وبلاد الهند وباكستان وغيرها، فيصححون النكاح بلا ولي ، ويتناكحون على هذا ، فإنهم يقرّون على أنكحتهم ، ولا يطالبون بفسخها
অর্থাৎ এটি একটি ইজতিহাদি মাসআলা, ইমামগণ এক্ষেত্রে ইখতিলাফ করেছেন। সুতরাং যে সব দেশের মানুষেরা হানাফী মাজহাবের উপর নির্ভর করে, ওলী ছাড়া বিবাহবে বৈধ মনে করে এবং এভাবে তাদের বিয়ে হয় যেমন, ভারত, পাকিস্থান ইত্যদি, তাহলে তাদের বিবাহের স্মীকৃতি দেয়া হবে । বাতিল করতে বলা হবে না। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, শরীয়তে বিবাহে মেয়েদের জন্য ওলী থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণভাবে যৌবনের শুরুতে যুবক-যুবতী সহজেই বয়সের উন্মাদনায় বিভ্রান্ত হয় এবং নিজের চোখের ভাল লাগার উপর নির্ভর করেই সঙ্গী পছন্দ করে। বিবাহের ক্ষেত্রে চোখের পছন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবন ও আগত প্রজন্মের কল্যাণের কথাও চিন্তা করতে হবে। এজন্য ইসলামে বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর মতমতের সাথে অভিভাবকের মতামতেরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সুতরাং মেয়েদের জন্য আবশ্যক হলো ওলীর অনুমতি নিয়ে বিবাহ করা। আর আমাদের উচিৎ বিবাহের সময় মানুষদের কে ওলীর অনুমতির বিষয়ে উৎসাহিত করা,ওলী ছাড়া বিয়ে করতে নিষেধ করা এবং ওলী থাকার কল্যান বর্ণনা করা। যারা ইতিমধ্যে ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করেছে তাদের বিষয়ে কথা হলো যেহেতু তারা একটি ফিকহী মত গ্রহন করেছেন আর বিষয়টি ইজতিহাদী এবং ইখতিলাফী তাই তাদেরকে নতুন করে বিবাহ করতে হবে না। তবে এই ঘৃনিত কাজের জন্য তাদের লজ্জিত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 228
আজ থেকে তিন বছর পূর্বে ইসমোতারা রানার সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে বসে, কয়েক মাস পর পারিবারিকভাবে ও আনুষ্ঠানিকভাবে আবার ইসমোতারাকে নিয়ে যায়। কিছু দিন পর ইসমোতারার মা ও রানার মায়ের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপর রানার মা ইসমোতারাকে তার পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেয়। রানাও কোন খোজ খবর নেয় না। ইসমোতারা নিজের ভরণ পোষন দাবি করে কোর্টে রানার বিরুদ্ধে কেস করে। বর্তমানে কেস চলছে,২ বছরেও কোন রায় হয় নি। এমতাবস্থায় অন্যত্র রিকাত নামের একটি ছেলের সাথে ইসমোতারা বিয়ে বসতে চাচ্ছে। যেহেতু রানার সাথে দীর্ঘ দিন যোগাযোগ নাই, তাই (৪/৫ মাস) Back Date এ রানাকে Divorce দিয়ে (চলতি তারিখে) রিকাতের সাথে বিয়ে রেজিস্ট্রী করে রাখলে (অবশ্য ৪/৫ মাস পরে কবুল পড়ানো হবে) ইসলামী শরীয়াতে বিবাহ হবে কি না?
24 Dec 2025
বিয়ের ক্ষেত্রে ইজাব-কবুল মূল শর্ত। আর তালাকপ্রাপ্তা নারীর ক্ষেত্রে এই ইজাব কবুলটি হতে হবে পূর্বের স্বামী কর্তৃক তালাক দেয়ার তিন মাসিক পর। ব্যাক ডেটে তালাক গ্রহনযোগ্য নয়। রেজিস্ট্রি ইসলামের দৃষ্টিতে জরুরি নয়, তবে নিরাপত্তার জন্য একটি ভাল বিষয়। সুতরাং ইসমোতারার জন্য এখন করণীয় হলো শরীয়ত মোতাবেক তালাক গ্রহন করা এবং তিন মাসিক পর ইজাব কবুলের মাধ্যমে অন্য কারো সাথে বিয়েতে বসা। ব্যাক ডেটে কিছু করাই মিথ্যা। আর ব্যাক ডেটে তালাক বা বিবাহ অবৈধ।
প্রশ্নঃ 217
আসসালামু আলাইকুম আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে, যে সকল মেয়েদের সময় মত বিয়ে হচ্ছে না তাদের জন্য সুন্নত সম্মত কি কি ইবাদাত রয়েছে? যা থেকে তারা এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারে ।
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
সকল ফরজ নামাযের পর আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। তাহাজ্জুদ নামায আদায় করে আল্লাহর কাছে দোয়া করা যেতে পারে, কারণ এই সময় দোয়া কবুল হয় বলে সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে। সকাল বিকাল যে সব মাসসনুন দোয়া আছে সেগুলো পাঠ করা যায়। । রাহে বেলায়াত গ্রন্থেও ১৮৮ ও ১৯২ নং দোয়া পড়বেন। সহীহ মাসনুন ওযীফা গ্রন্থে সকাল বিকালের মাসনুন দোয়াগুলো সহজে পাওয়া যায়। আল্লাহ আমাদেরকে সকল বিপদাপদ থেকে নিরাপদে রাখুন।
প্রশ্নঃ 205
আস্সালামু আলাইকুম। স্যার, ১। আমাদের সমাজে হিল্লা বিয়ের প্রচলন দেখা যায়,কোরআন ও হাদীসের আলোকে এর কোন বৈধতা আছে কী? ২। জ্বীন সমন্ধে কোরআনে সূরা আছে, আবার এ দেশের অনেক বড় বড় ওলামায়ে কেরাম গণ জ্বীন পালেন,জ্বীনের সাথে কথা বলেন কাউকে আবার জ্বীনে ধরেন- কোরআন হাদীসের আলোকে এটা কতটুকু যুক্তি সম্মত?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ
১। না, হিল্লা বিয়ে নামে আমাদের সমাজে যা প্রচলিত আছে তা হারাম। ইসলামে এর কোন ভিত্তি নেই। রাসূলুল্লাহ সা. একে কঠিন ভাবে নিষেধ করেছেন।
২। জ্বীন আল্লাহ তায়ালার একটি সৃষ্টজীব। কুরআন হাদীস থেকে এটা স্পষ্ট। আর তারা বিভিন্ন সময়ে কারণে অকারণে মানুষের ক্ষতি করে থাকে এটাও সত্য। বিস্তারিত জানতে দেখুন, রাহে বেলায়াত বইটির ২০১৩ ইং সংস্করনের শেষ অধ্যায়। 
প্রশ্নঃ 203
is it valid if a girl marry without ffathers will if not what should she do. Is it fard toinvolved a islamicorganization. they said it is command of Allah to live jamaa.I want to know what is jamaa means.
23 Dec 2025
পিতার অনুমতি ছাড়া বিবাহ হবে কিনা, এভাবে করলে কি করতে হবে এই বিষয়ে জানার জন্য এই আমাদের দেয়া ৪১ নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন। আর জামায়াতের অর্থ হলো, রাসূলুল্লাহ সা. মুক্তিপ্রাপ্ত বা সুপথপ্রাপ্ত দলের পরিচিতি হিসেবে বলেছেন: তারা জামাআত। জামাআত শব্দটি আরবী জাম (الجمع) থেকে গৃহীহ, যার অর্থ একত্রিত করা, জমায়েত করা, ঐক্যবদ্ধ করা (ঞড় মধঃযবৎ, পড়ষষবপঃ, ঁহরঃব, নৎরহম ঃড়মবঃযবৎ, লড়রহ) ইত্যাদি। জামাআত (جماعة) অর্থ জনগণ, জনগোষ্ঠি, বা সমাজ (পড়সসঁহরঃু, ংড়পরবঃু). কুরআন ও হাদীসে জামাআত এবং ইজতিমা-কে ফিরকা ও ইফতিরাক-এর বিপরীতে ব্যবহার করা হয়েছে। ফিরকা অর্থ দল, গ্রপ ইত্যাদি। এ অর্থে আরবীতে হিযব, কাউম, জামইয়্যাহ (حزب، قوم، جمعية) ইত্যাদি শব্দ ব্যবহৃত হয়। আর জামাআত অর্থ দলবিহীন সম্মিলিত জনগোষ্ঠী বা সমাজ। যে কোনো স্থানে অবস্থানরত সকল মানুষকে জামাআত বলা হয়। জামাআতের মধ্য থেকে কিছু মানুষ পৃথক হলে তাকে ফিরকা বা দল বলা হয়। মনে করুন একটি মসজিদের মধ্যে ১০০ জন মুসল্লী বসে আছেন। এরা মসজিদের জামাআত। এদের মধ্যে কম বা বেশি সংখ্যক মুসল্লী যদি পৃথকভাবে একত্রিত হয়ে মসজিদের এক দিকে বসেন তবে তারা একটি ফিরকা, কাওম বা হিযব, অর্থৎ দল, গ্রপ বা সম্প্রদায় বলে গণ্য, কিন্তু তারা জামাআত বলে গণ্য নয়। যেমন, উপর্যুক্ত ১০০ জনের মধ্য থেকে ৫ জন এক কোনে পৃথক হয়ে বসলেন, আর দশ জন অন্য কোণে পৃথক হয়ে বসলেন এবং অন্য কোণে আরো কয়েকজন একত্রিত হলেন। এখন আমরা ইফতিরাক ও জামাআতের রূপ চিন্তা করি। মূলত মসজিদের জামাআত ভেঙ্গে ইফতিরাক এসেছে। তিনটি ফিরকা মূল জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। আর বাকি যারা কোনো দল বা ফিরকা গঠন না করে দলবিহীনভাবে রয়ে গিয়েছেন তারা নিজেদেরকে জামাআত বলতে পারেন। আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অবস্থা এরূপই। এটি মূলত কোনো দল বা ফিরকা নয়। সাহাবী-তাবিয়ীগণের অনুসরণে যারা মূল ধারার উপর অবস্থান করছেন এবং কোনো দল বা ফিরকা তৈরি করেন নি তারাই আল-জামাআত। বিস্তারিত জানতে দেখুন কুরআন সুন্নাহের আলোকে ইসলামী আকীদা পৃষ্ঠা ৫৭৬-৫৮২।
প্রশ্নঃ 197
আসসালামু আলাইকুম। ভাই, আমার প্রশ্ন ২ টি প্রাথমঃ আমি কি আমার খালত বোনের মেয়ে কে বিয়ে করতে পারবো? দ্বিতীয়ঃ ইসলামে বিবাহের ক্ষেত্রে অভিভাবকের পাশাপাশি সন্তানের মতামতেরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যদি কোন পুরুষ এবং মহিলা সব দিয়েই বিয়ের উপযুক্ত হয়। আর সেই পুরুষ যদি কোন পছন্দের মেয়ের পরিবারে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পর সেটা যদি প্রত্যাখ্যাত হয়। তখন কি করণীয় যখন বাবা মা মেয়েকে জোরপূর্বক অন্যথায় তার ইচ্ছার বিরুদ্ধ এ বিয়ে দিয়ে দিতে চায়?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
হ্যাঁ, খালাতো বোনের মেয়েকে বিবাহ করা যাব। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হলে কিছু করার নেই। বিবাহের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার উচিৎ ছেলে-মেয়েদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া আর ছেলে-মেয়েদেরকেও মনে রাখতে হবে তারা যেন ছোট-খাটো কারণে পিতা-মাতার অবাধ্য না হন। অনেক সময় বয়স কম হওয়া কিংবা অনভিজ্ঞতা ইত্যদির কারণে ছেলে-মেয়েরা হটকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন যা তার ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়ায়। আর পিতা-মাতা সর্বদা সন্তানের কল্যান চান, তাদের অভিজ্ঞতাও বেশী থাকে ফলে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তারা সঠিক ও কল্যানকর সিদ্ধান্তই নিয়ে থাকেন। তাই পিতা-মাতার সিদ্ধান্ত মেনে নেয়াই শ্রেয়।
প্রশ্নঃ 192
আসসালামু আলাইকুম ১-আল্লাহ সুবহানাল্লাহু ওয়াতাআলা বিয়ের জন্য কোন বয়স নির্ধারন করে দেন নি। কিন্তু বাংলাদেশ সংবিধান এ ২১ বছর(ছেলে) ও ১৮(মেয়ে) নির্ধারন করেছে। অনুর্ধ ২১ এবং ১৮ যারা তারা যদি বিয়ে করে তবে বাল্যবিবাহ আইনে এটি দন্ডনীয় অপরাধ। এর জন্য জেল ও খাটতে হয়। এখন কেউ যদি জন্ম নিবন্ধন এ বয়স পরিবর্তন করে এ আইন থেকে মুক্তি পেতে চায় তবে কি সেটা কি তার জন্য বৈধ হবে কিনা?সে কি আল্লাহ সুবাহানাল্লাহু ওয়া তাআলা এর কাছে প্রতারণা কারী হিসেবে গন্য হবে?দলিলসহ জানাবেন। ২-ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ২০ বছর হওয়া প্রয়োজন। কোন ১৭-১৮ বছরের ছেলে যদি জরুরী জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনে তার বয়স বাড়িয়ে দিয়ে জন্ম সনদ বানিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স বানিয়ে নেয় তবে এক্ষেত্রে হুকুম কি? ৩-অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানের বয়স কমিয়ে দেয় যাতে পরবর্তিতে চাকরি পেতে অসুবিধা না হয়। এটা কি বৈধ?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
বিবাহের জন্য বয়স কমানো বা চাকুরির জন্য বয়স কমানোই একইরূপ বিষয়। মিথ্যা সর্বদাই নিষিদ্ধ। মিথ্যা মূলত বড় গুনাহের কাজ। আমরা কোনোভাবেই মিথ্যাকে বৈধ বলতে পারি না। বান্দার নিজের ওজর নিজে বুঝবেন। মিথ্যা বলার মত কোনো ওজর তার আছে কিনা তিনি তাঁর মাবুদের সাথে তা বুঝবেন। ইসলামী শরীয়তে ১৮ বছরের পূর্বে বিবাহ করা বৈধ, তবে জরুরী নয়। সাধারণভাবে ১৮ বছর বয়সে বিবাহ করলে সমস্যা হয় না। এজন্য মিথ্যা থেকে মুক্ত থাকার জন্য চেষ্টা করা দরকার। চাকরীর জন্য মূলত যোগ্যতা সৃষ্টি, আল্লাহর কাছে দুআ ও চেষ্টা করাই মূল। সরকারী, বেসরকারী কোনো সম্মানজনক কাজ হলেই হলো। মিথ্যা ভাবে বয়স কমিয়ে মিথ্যার পাপ ছাড়া তেমন লাভ হয় বলে মনে হয় না। প্রথম থেকেই পিতামাতা মিথ্যা দিয়ে সন্তানের জীবন শুরু করলেন। প্রথমেই তারা বিশ্বাস করে নিলেন যে, সত্য বললে আমার সন্তানের ভাত হবে না! ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য বয়সসীমা নির্ধারণ রাষ্ট্রের অধিকারের অংশ। এটিকে শরীয়তের পরিভাষায় মাসালিহ মুরসালাহ বলা হয়। দেশের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রয়োজনে শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক নয় এমন নীতিমালা বা বিধিবিধান রাষ্ট্র তৈরি করতে পারে। এ সকল বিধান মান্য করা মুসলিম নাগরিকের ধর্মীয় দায়িত্ব। ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য বয়স পরিবর্তন কয়েকটি অন্যায়ের জন্ম দেয়: মিথ্যা, রাষ্ট্রীয় বিধান অমান্য এবং কম বয়সে গাড়ি চালাতে যেয়ে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বৃদ্ধি।
প্রশ্নঃ 184
মুহতারাম,আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হলো- আমার এক ছোট ভাই তার মামাতো বোনকে পালিয়ে বিয়ে করেছে এক বছর হলো কিন্তু এখনো মেয়ের বাবা মেনে নেয়নি কিন্তু হাদিস অনুযায়ী এই বিয়ে বাতিল তাহলে তাদের সামনে এখন কী করণীয়? আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মেয়ের পিতা-মাতার সাথে যোগাযোগ করি কিন্তু তারা মেনে নিবে না- উত্তর জানাবেন স্যার।
23 Dec 2025
আপনার প্রশ্নের জন্য শুকরান ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের বিধান। বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামী শরীয়তে এব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাসূল সা. এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। পারিবারিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অধিকাংশ ইমাম ও ফকীহগণের নিকট ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ নেই। তবে ইমাম আবু হানীফা রহ. সহ কতিপয় ফকীহ বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে জায়েজ বলেছেন। প্রখ্যাত মালেকী ফকীহ আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে রুশদ আন্দালুসী র. বলেন,
اختلف العلماء هل الولاية شرط من شروط صحة النكاح أم ليست بشرط؟ فذهب مالك إلى أنه لا يكون النكاح إلا بولي وأنها شرط في الصحة في رواية أشهب عنه وبه قال الشافعي وقال أبو حنيفة وزفر والشعبي والزهري: إذا عقدت المرأة نكاحها بغير ولي وكان كفؤا جاز وفرق داود بين البكر والثيب فقال باشتراط الولي في البكر وعدم اشتراطه في الثيب
অর্থ: বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী শর্ত কি শর্ত নয় এই বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম মালেক র. মত পোষন করেছেন যে, ওলী ছাড়া বিবাহ হবে না। বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য (ওলী) শর্ত। এমন মতই পোষন করেছেন ইমাম শাফেয়ী রা.। ইমাম আবু হানীফা, জুফার, শাবী ও জুহরী র. বলেছেন, যদি মহিলা ওলী ছাড়া বিবাহ করবে আর স্বামী যদি তার কুফু (সর্বদিক দিয়ে যোগ্য) হয় তাহলে জায়েজ হবে। বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ২/৮(শামেলা)। এই সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন, আলমাবসুত লিস-সারখসী, ৬/৫৩; আলমাউসায়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৭/৯৪ও ৩১/৩২১; আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবা ৪/৪৫। কিতাবুল উম্ম লিশ-শাফেয়ী,৭/১৫৬। যে ইমামগন ওলী ছাড়া বিবাহ বাতিল বলেছেন তাদের দলীল: আবু মুসা আশয়ারী রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, অর্থাৎ ওলী ছাড়া বিবাহ নয়। لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِىٍّ আবু দাউদ, হাদীস নং ২০৮৭; তিরমিযী, হাদীস নং ১১০১;মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৯৭৬১। হাদীসটি সহীহ। শায়খ আরনাউত এবং আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত অন্য হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন,
أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ
অর্থাৎ যে মহিলা ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করবে তার বিবাহ বাতিল। তিনি ৩ বার তা বলেছেন। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১১০২; মুসনাদে আহমাদ,হাদীস নং ২৫৩৬৫। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন আর শায়খ শুয়াইব আরনাউত সহীহ বলেছেন। উপরক্ত হাদীস সমূহের ভিত্তিতে ইমাম মালেক, শাফেয়ী, আহমাদ র. সহ অধিকাংশ আলেম ওলী ছাড়া বিবাহকে বাতিল বলেছেন। যে সব ইমাম ও ফকীহ ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ বলেছেন তাদের দলীল: তাবেঈদের মধ্যে ইমার জুহরী ও শাবী এরপরে ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ, মুহাম্মাদ, জুফার সহ কিছু সংখক মুজতাহিদ কিছু শর্ত সাপেক্ষে ওলী ছাড়া বিবাহ কে জায়েজ বলেছেন। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১.কুফু হতে হবে। ২.মেয়েটি বালেগা, বুঝমান হতে হবে। আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবায়া, ৪/৪৫; আলমাবসুত লিস-সারাখসী,৬/৬১ ও ৫/১৬। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
فلا جناح عليكم فيما فعلن في أنفسهن بالمعروف
অর্থাৎ মহিলারা নিজেদের ব্যাপারে সৎ ভাবে যা করবে (বিয়ের ক্ষেত্রে) সে বিষয়ে তোমাদের কোন দোষ নেই। সূরা বাকারাহ-২৩৪ অন্য এক আয়াতে তালাক সম্পর্কে আলোচনার এক পর্যায়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, تنكح زوجا غيره. حتى অথাৎ যতক্ষন না তারা অন্য স্বামীকে বিবাহ না করে। সূরা বাকারাহ-২৩০। অন্য প্রসংগে আল্লাহর বাণী,
فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ
অর্থাৎ তোমরা তাদেরকে তাদের স্বামীদের কে বিবাহ করা থেকে বাধা দিবে না। সূরা বাকারাহ-২৩২ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا অর্থাৎ মেয়েরা ওলীদের চেয়ে নিজের ব্যাপারে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৪২১। الأيم অর্থ স্বামীহীন মহিলা, পূর্বে স্বামী থাকুক বা না থাকুক। আলমজামুল ওয়াসীত। বর্তমান সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৌদী আলেম শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আলমুনজিদ ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের ক্ষেত্রে বলেছেন,
المسألة اجتهادية ، واختلف فيها الأئمة ، فإنه إذا كان أهل بلد يعتمدون المذهب الحنفي كبلادكم وبلاد الهند وباكستان وغيرها ، فيصححون النكاح بلا ولي ، ويتناكحون على هذا ، فإنهم يقرّون على أنكحتهم ، ولا يطالبون بفسخها
অর্থাৎ এটি একটি ইজতিহাদি মাসআলা, ইমামগণ এক্ষেত্রে ইখতিলাফ করেছেন। সুতরাং যে সব দেশের মানুষেরা হানাফী মাজহাবের উপর নির্ভর করে, ওলী ছাড়া বিবাহবে বৈধ মনে করে এবং এভাবে তাদের বিয়ে হয় যেমন, ভারত, পাকিস্থান ইত্যদি, তাহলে তাদের বিবাহের স্মীকৃতি দেয়া হবে । বাতিল করতে বলা হবে না। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, শরীয়তে বিবাহে মেয়েদের জন্য ওলী থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণভাবে যৌবনের শুরুতে যুবক-যুবতী সহজেই বয়সের উন্মাদনায় বিভ্রান্ত হয় এবং নিজের চোখের ভাল লাগার উপর নির্ভর করেই সঙ্গী পছন্দ করে। বিবাহের ক্ষেত্রে চোখের পছন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবন ও আগত প্রজন্মের কল্যাণের কথাও চিন্তা করতে হবে। এজন্য ইসলামে বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর মতমতের সাথে অভিভাবকের মতামতেরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সুতরাং মেয়েদের জন্য আবশ্যক হলো ওলীর অনুমতি নিয়ে বিবাহ করা। আর আমাদের উচিৎ বিবাহের সময় মানুষদের কে ওলীর অনুমতির বিষয়ে উৎসাহিত করা,ওলী ছাড়া বিয়ে করতে নিষেধ করা এবং ওলী থাকার কল্যান বর্ণনা করা। যারা ইতিমধ্যে ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করেছে তাদের বিষয়ে কথা হলো যেহেতু তারা একটি ফিকহী মত গ্রহন করেছেন আর বিষয়টি ইজতিহাদী এবং ইখতিলাফী তাই তাদেরকে নতুন করে বিবাহ করতে হবে না। তবে এই ঘৃনিত কাজের জন্য তাদের লজ্জিত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 172
ইসলামে বিয়ের আগে প্রেম হারাম। আমি যদি কোন কারনে খুব কষ্টে না পেরে প্রেমের সম্পর্কে থাকি তাহলে কি আমার নামাজ আমার রোজা আমার সবরকম ভাল আমল গুলা আল্লাহতালার কাছে গ্রহণীয় হবে?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
মানুষ মাত্রই ভুল করে থাকে। তাওবা করলে আল্লাহ তায়ালা সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেন। একটা গোনাহর কাজে লিপ্ত হলে অন্য নেক আমল নষ্ট হয়ে যাবে, বিষয়টি এরকম ন। গোনাহর কাজের জন্য গোনাহ হবে আবার সওয়াবের কাজের জন্য সওয়াব হবে। আপনি যে গোনাহর কথা বলেছেন তা খুবই জঘন্য পাপ। এর থেকে বের হওয়া একান্ত প্রয়োজন। তার একটি পথ এটা হতে পারে যে, উভয় পরিবারের সম্মতিতে আপনারা শুধু বিয়েটা এখন করে নিন। এরপর যে যার অবস্থানে থেকে পড়াশোনা করতে থাকুন। যখন আপনার সচ্ছল হবেন কিংবা সংসার করার মত পরিবেশ হবে তখন সংসার শুরু করবেন। তবে একটা কথা বলে রাখি অভিভাবক ছাড়া বিবাহ হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে। আর কোন অযুহাতেই এই ধরনের সম্পর্ক ইসলামা সমর্থন করে না। আল্লাহ আপনাদের সহায় হোন। আমীন।
প্রশ্নঃ 164
আসসালামু আলাইকুম, স্যার, আমি আমার আগের প্রশ্নের সাথে কিছু যোগ করতে চাই। আমি যে মেয়েকে বিয়ে করতে চাই তাকে আমার মা গতকাল বলে এসেছে তুমি আমার ছেলের পথ থেকে সরে যাও। তোমাকে আমার ছেলে ছাড়া কেউ পছন্দ করছে না। আমি তার সাথে গত মাসের ২১ তারিখের আগে সর্বশেষ কথা বলেছিলাম। তাতে আমার কাছে তাকে ধার্মিকা ও শরীয়ত সমপরকে অবহিতা মনে হয়েছে। কখনই তাকে মানসিক প্রতিবন্ধী মনে হয়নি। তাকে যখন দেখি আমার মনে হয়নি তার ভ্রূ প্লাক। তাকে আমার কাছে অনেক সুন্দরী মনে হয়েছে ও লম্বাও আমার কাছাকাছি মনে হয়েছে। অথচ আমার মা আমাকে বলেছে তার ভ্রূ প্লাক করা, খাটো, পাগল, মেকআপ করা বলেছে। আমার জানামতে সে নেকাবসহ বোরখা পরে। আমার সাবেক স্ত্রীর সাথে বিয়ের আগের দিন তার ছবি দেখে বলেছিলাম সে ভ্রু প্লাক করে। কিন্তু তখন এটাকে গুরুত্ব দেয়নি। বলেছিল বিয়ের পর নিষেধ করলে ঠিক হয়ে যাবে। তার মেকআপ ছিল অথচ বিয়ের আগ পর্যন্ত আমার মা ভাবি কেউই বুঝতে পারেনি। আমি আমার মাকে প্রায় দেড়মাস আগে আমার পছন্দের মেয়েটিকে দেখতে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু আমার মা আমার অনুরোধ রাখেনি। তাদের পছন্দের মেয়েকে আমার উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টার সাথে সাথে আমার পছন্দের মেয়ের প্রতি আমার দু্রবলতা বেড়েছে। তাকে গতকাল চরমভাবে অপমান করার কারণে আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। তার স্কুলে গিয়ে তাকে এভাবে অপমান করাটা আমাকে ভীষণভাবে পীড়িত করছে। আমি তাকে মার্চ এর ৪ তারিখে দেখেছিলাম। আমি তার লেখাপড়া, চাকরি প্রভৃতি জানার পর আমার নিজের বরণনা দিয়ে বললাম আমি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়লেও আমি নিজেকে সাধ্যমত নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছি ও আমি ক্লাস ফোর থেকে নামাজ পড়ি। সে বলল মানুষের ঈমানটাই আসল। আমি এটা শুনে খুব খুশি হলাম। আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে অনারস মাষ্টারস করেছি অথচ আমার পিতামাতা আমার মতামতের মূল্য দেয়না। এখন আমি কি করব স্যার? তারা আমাকে হুমকি দিচ্ছে ঐ মেয়েকে বিয়ে করলে তারা আমার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করবে। আমি আমার পিতামাতাকে হারাতে চাই না আবার এই কষ্টও সহ্য করতে পারছি না।
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আপনার পিতামাতকে লোভী ও ধর্মবিমূখ মনে হচ্ছে। মেয়েটিকে হুমকি দেয়া তার জন্য বড় ধরনের অপরাধ। আপনি সবর করুন। নিচের দু্আগুলো পড়ুন। ইনশাআল্লাহ একটা সমাধান পাবেন। তবে তাদের কথামত ধর্মহীন কোন মেয়েকে অবশ্যই বিয়ে করবেন ন। আপনার পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করার অধিকার আপনার আছে। আপনি রাহে বেলায়েত গ্রন্থের ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ১৫৭, ১৮৮, ১৯২ নং দুআগুলো নফল সালাতের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় বেশী বেশী পাঠ করুন। এছাড়া কুরআনের এই দুআটিও সালাতে এবং অন্যান্য সময় বারবার পড়বেন,
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনার সব সংকট দূর করে দেন।
প্রশ্নঃ 51
পিতা মাতার অনুমতি ছাড়া বিয়ের ব্যাপারে দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন। হবে কি হবে না। বিশেষ করে বর্তমানে যে সকল বিয়ে অলি ছাড়া হয়। যদি না হয় তাহলে যারা না জেনে করেছেন তাদের ব্যাপারে রুলিংস কি? ধন্যবাদ।
20 Dec 2025
আপনার প্রশ্নের জন্য শুকরান ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের বিধান। বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামী শরীয়তে এব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাসূল সা. এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। পারিবারিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অধিকাংশ ইমাম ও ফকীহগণের নিকট ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ নেই। তবে ইমাম আবু হানীফা রহ. সহ কতিপয় ফকীহ বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে জায়েজ বলেছেন। প্রখ্যাত মালেকী ফকীহ আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে রুশদ আন্দালুসী র. বলেন,
اختلف العلماء هل الولاية شرط من شروط صحة النكاح أم ليست بشرط؟ فذهب مالك إلى أنه لا يكون النكاح إلا بولي وأنها شرط في الصحة في رواية أشهب عنه وبه قال الشافعي وقال أبو حنيفة وزفر والشعبي والزهري: إذا عقدت المرأة نكاحها بغير ولي وكان كفؤا جاز وفرق داود بين البكر والثيب فقال باشتراط الولي في البكر وعدم اشتراطه في الثيب
অর্থ: বিবাহের ক্ষেত্রে ওলী শর্ত কি শর্ত নয় এই বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম মালেক র. মত পোষন করেছেন যে, ওলী ছাড়া বিবাহ হবে না। বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য (ওলী) শর্ত। এমন মতই পোষন করেছেন ইমাম শাফেয়ী রা.। ইমাম আবু হানীফা, জুফার, শাবী ও জুহরী র. বলেছেন, যদি মহিলা ওলী ছাড়া বিবাহ করবে আর স্বামী যদি তার কুফু (সর্বদিক দিয়ে যোগ্য) হয় তাহলে জায়েজ হবে। বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ২/৮(শামেলা)। এই সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন, আলমাবসুত লিস-সারখসী, ৬/৫৩; আলমাউসায়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৭/৯৪ও ৩১/৩২১; আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবা ৪/৪৫। কিতাবুল উম্ম লিশ-শাফেয়ী,৭/১৫৬। যে ইমামগন ওলী ছাড়া বিবাহ বাতিল বলেছেন তাদের দলীল: আবু মুসা আশয়ারী রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, অর্থাৎ ওলী ছাড়া বিবাহ নয়। لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِىٍّ আবু দাউদ, হাদীস নং ২০৮৭; তিরমিযী, হাদীস নং ১১০১;মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৯৭৬১। হাদীসটি সহীহ। শায়খ আরনাউত এবং আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত অন্য হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন,
أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ
অর্থাৎ যে মহিলা ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করবে তার বিবাহ বাতিল। তিনি ৩ বার তা বলেছেন। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১১০২; মুসনাদে আহমাদ,হাদীস নং ২৫৩৬৫। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন আর শায়খ শুয়াইব আরনাউত সহীহ বলেছেন। উপরক্ত হাদীস সমূহের ভিত্তিতে ইমাম মালেক, শাফেয়ী, আহমাদ র. সহ অধিকাংশ আলেম ওলী ছাড়া বিবাহকে বাতিল বলেছেন। যে সব ইমাম ও ফকীহ ওলী ছাড়া বিবাহ জায়েজ বলেছেন তাদের দলীল: তাবেঈদের মধ্যে ইমার জুহরী ও শাবী এরপরে ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ, মুহাম্মাদ, জুফার সহ কিছু সংখক মুজতাহিদ কিছু শর্ত সাপেক্ষে ওলী ছাড়া বিবাহ কে জায়েজ বলেছেন। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১.কুফু হতে হবে। ২.মেয়েটি বালেগা, বুঝমান হতে হবে। আলফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবায়া, ৪/৪৫; আলমাবসুত লিস-সারাখসী,৬/৬১ ও ৫/১৬। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
فلا جناح عليكم فيما فعلن في أنفسهن بالمعروف
অর্থাৎ মহিলারা নিজেদের ব্যাপারে সৎ ভাবে যা করবে (বিয়ের ক্ষেত্রে) সে বিষয়ে তোমাদের কোন দোষ নেই। সূরা বাকারাহ-২৩৪ অন্য এক আয়াতে তালাক সম্পর্কে আলোচনার এক পর্যায়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, تنكح زوجا غيره. حتى অথাৎ যতক্ষন না তারা অন্য স্বামীকে বিবাহ না করে। সূরা বাকারাহ-২৩০। অন্য প্রসংগে আল্লাহর বাণী,
فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ
অর্থাৎ তোমরা তাদেরকে তাদের স্বামীদের কে বিবাহ করা থেকে বাধা দিবে না। সূরা বাকারাহ-২৩২ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন,
الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا
অর্থাৎ মেয়েরা ওলীদের চেয়ে নিজের ব্যাপারে অধিক হকদার। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৪২১। الأيم অর্থ স্বামীহীন মহিলা, পূর্বে স্বামী থাকুক বা না থাকুক। আলমজামুল ওয়াসীত। বর্তমান সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৌদী আলেম শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আলমুনজিদ ওলী ছাড়া মেয়েদের বিবাহের ক্ষেত্রে বলেছেন,
المسألة اجتهادية ، واختلف فيها الأئمة ، فإنه إذا كان أهل بلد يعتمدون المذهب الحنفي كبلادكم وبلاد الهند وباكستان وغيرها ، فيصححون النكاح بلا ولي ، ويتناكحون على هذا ، فإنهم يقرّون على أنكحتهم ، ولا يطالبون بفسخها
অর্থাৎ এটি একটি ইজতিহাদি মাসআলা, ইমামগণ এক্ষেত্রে ইখতিলাফ করেছেন। সুতরাং যে সব দেশের মানুষেরা হানাফী মাজহাবের উপর নির্ভর করে, ওলী ছাড়া বিবাহবে বৈধ মনে করে এবং এভাবে তাদের বিয়ে হয় যেমন, ভারত, পাকিস্থান ইত্যদি, তাহলে তাদের বিবাহের স্মীকৃতি দেয়া হবে । বাতিল করতে বলা হবে না। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, শরীয়তে বিবাহে মেয়েদের জন্য ওলী থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণভাবে যৌবনের শুরুতে যুবক-যুবতী সহজেই বয়সের উন্মাদনায় বিভ্রান্ত হয় এবং নিজের চোখের ভাল লাগার উপর নির্ভর করেই সঙ্গী পছন্দ করে। বিবাহের ক্ষেত্রে চোখের পছন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবন ও আগত প্রজন্মের কল্যাণের কথাও চিন্তা করতে হবে। এজন্য ইসলামে বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর মতমতের সাথে অভিভাবকের মতামতেরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সুতরাং মেয়েদের জন্য আবশ্যক হলো ওলীর অনুমতি নিয়ে বিবাহ করা। আর আমাদের উচিৎ বিবাহের সময় মানুষদের কে ওলীর অনুমতির বিষয়ে উৎসাহিত করা,ওলী ছাড়া বিয়ে করতে নিষেধ করা এবং ওলী থাকার কল্যান বর্ণনা করা। যারা ইতিমধ্যে ওলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করেছে তাদের বিষয়ে কথা হলো যেহেতু তারা একটি ফিকহী মত গ্রহন করেছেন আর বিষয়টি ইজতিহাদী এবং ইখতিলাফী তাই তাদেরকে নতুন করে বিবাহ করতে হবে না। তবে এই ঘৃনিত কাজের জন্য তাদের লজ্জিত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে ভাল জানেন।

কপিরাইট স্বত্ব © ২০২৫ আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট - সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত| Design & Developed By Biz IT BD